Friday, January 6, 2012

ভালোবাসা-কড়ি by সরসিজ আলীম

ত সন্ধ্যায় যে মেয়েকে আজিজ মার্কেট থেকে দশখন্ড রবীন্দ্র রচনাবলী ব্যাগে ভরে শাহবাগের গাড়িতে উঠিয়ে দিতে সাহায্য করেছিলাম, আজ সকাল দশটায় ফোন করে বললো, ‘আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি সরসিজ!’ আমি বললাম, ‘আমিও তোমাকে ভালোবাসি ক্যাটরিনা!’

বিদ্যুৎ সংকট-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন

দেশে বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট রূপ ধারণ করেছে। ভাড়াভিত্তিক ও কুইক রেন্টাল মিলিয়ে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সাতটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে সময়মতো জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ১৬ অক্টোবর সহযোগী একটি দৈনিকে প্রকাশ, কেন্দ্রগুলো সময়মতো উৎপাদনে যেতে না পারলে চুক্তি অনুযায়ী জরিমানা দিতে বাধ্য হবে সরকার। এও সামগ্রিক ক্ষতির একটি দিক। বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন রেলপথ বিভাগ

অপরাহ উইনফ্রে আসছেন ভারতে

বিশ্বখ্যাত টাইমস ও ফবস ম্যাগাজিনের জরিপে পর পর পাঁচবার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী অপরাহ উইনফ্রে। মার্কিন এই টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে আসছেন। টুইটারে এক বার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে তিনি ঘোষনা দিয়েছেন।

শেয়ারবাজারে অস্থিরতা-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখতে হবে

শেয়ারবাজার এখন মাথাব্যথার কারণ। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না বাজারের পতন। বছরখানেক আগে বাজারের সূচক পড়তে শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাজারকে আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায়নি। সরকারের কোনো টোটকাই বাজারের পতন ঠেকাতে পারছে না। পুলিশ আমরণ অনশন পালনরত বিনিয়োগকারীদের তুলে দিলেও তা থেকে এটা প্রমাণ হয় না যে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষুব্ধ নন। সর্বশেষ কর রেয়াতের ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার ঢাকার শেয়ারবাজারে

মনিপুর টু জগন্নাথে শিক্ষার নামে গুণ্ডামি! by ফজলুল বারী

নানা কিসিমের দুর্নীতি-গুণ্ডামি এখন আমাদের দেশটার নিত্য সঙ্গী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে দুর্নীতি-গুণ্ডামি এসব আজকাল ধারণারও সব সীমা-পরিসীমা ছাড়াচ্ছে। আগে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিলো ছাত্র সংগঠনগুলোর বিশেষ করে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-ছাত্রশিবির-ছাত্রসমাজ মার্কা ছাত্র রাজনীতির নামে এক শ্রেণীর তস্করের গুণ্ডামি-দুর্নীতির আধিপত্য! এখন সেখানে ছাত্রলীগ নামধারী গুণ্ডারাই সর্বেসর্বা এবং অপ্রতিরোধ্য!

নারায়ণগঞ্জ কেন কুমিল্লা হলো না? by মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ

কটি ঐতিহাসিক দিনে পরিণত হলো ৫ জানুয়ারি। কারণ এদিন বাংলাদেশে প্রথম বারের মত সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে(ইভিএম) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় অর্ধেকের বেশি ভোট পেয়ে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মনিরুল ইসলাম সাক্কু।

স্মরণ-মানবতার মূর্ত প্রতীক ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারীজি

রিদপুর শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন। প্রভু জগবন্ধু সুন্দরের আদি লীলাভূমি। প্রভু সুন্দরের আদরের দুলাল আধ্যা@ি@@@ক জগতের প্রাণপুরুষ ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারী। তাঁর দিব্যজীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে এ পবিত্র প্রতিষ্ঠানে। তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন ১৯০৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। দিব্যলীলা সংবরণ করে তিনি ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর মহাপ্রয়াণে গমন করেন। আজ ড. ব্রহ্মচারীজির সেই মহাপ্রয়াণ দিবস। ড. ব্রহ্মচারীজির পৈতৃক নিবাস বরিশাল জেলার খালিশাকোটা

সহজ-সরল-দেশ নিয়ে কি গর্ব করব না? by কনকচাঁপা

মাদের দেশের প্রবাসী ভাইয়েরা যাঁরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশকে সমৃদ্ধশালী করছেন, তাঁরা মাঝেমধ্যেই অনেক ভালোবেসে তাঁদের প্রিয় শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানান। সেই সুবাদে আমার সারা পৃথিবী ঘোরা। তো যখন প্রবাসীদের আমন্ত্রণে তাঁদের কাছে যাই, অবধারিতভাবেই এয়ারপোর্টে তাঁরা আমাদের নিতে আসেন। ২৭ বছরের যে অভিজ্ঞতা, তাতে প্রাথমিক অভ্যর্থনার পর যে কথোপকথন হয়, তা নিম্নরূপ। ভাই জার্নিতে কোনো কষ্ট হয়নি তো? হাসিমুখে জবাব দিই

ভালো পুলিশ, খারাপ পুলিশ এবং আমার ক্রিসমাস গিফট by মাহবুব মিঠু

ক্রিসমাসের দু’চারদিন আগে হবে। কাজ শেষ করে মধ্যরাতে ডেরায় ফিরছি। এমনিতে এ্যাডিলেইড খুবই ছোট শহর। বিশ মিনিটের শহর বলা হয়। গাড়িতে করে মাত্র কুড়ি মিনিটে পুরো শহরটাকে চক্কর দেয়া যায়। এখানে শহরের কনসেপ্ট আমাদের দেশের তুলনায় একটু ভিন্ন। সেই ছোট শহর থেকে প্রায় ১২ কিঃমিঃ দূরে উত্তরে থাকি। কাজের জায়গা শহর ছেড়ে আরো দূরে, পশ্চিমে।

কল্পকথার গল্প-রাজনীতি ও কয়েকটি ধার করা জোক by আলী হাবিব

রাজনীতি নিয়েই পড়া যাক। রাজনীতির মাঠ বেশ গরম। একদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নানা রাজনৈতিক খেলা চলছে। অন্যদিকে আজ আবার রোডমার্চ, রাজশাহী অভিমুখে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কে কার প্রার্থী, তা নিয়ে পাবলিকের মধ্যে একটু ধন্দ আছে। কিন্তু প্রচার চলছে জোর। ওদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অভিমুখে যে রোডমার্চ আজ শুরু হবে, তার পরিণতি কি সিলেটের মতো হবে? নানা মুনির নানা মত। কে একজন একটু রসিকতা করে

বাংলানিউজ অনলাইন আড্ডায় জয়া আহসানঃ ভিউয়ারদের তুমুল সাড়া by বিপুল হাসান

‘সময় এগিয়ে যাচ্ছে, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যোগ হচ্ছে নিত্য-নতুন প্রযুক্তি। বদলে যাচ্ছে অনেক পুরনো ধারনা। বাংলানিউজ অনলাইন লাইভ তারকা আড্ডা এমনই একটি নতুনধারার আকর্ষণীয় আয়োজন। এখানে একসঙ্গে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে আড্ডা দিতে পেরে আমি আনন্দিত।’

কালান্তরের কড়চা-বিশ্ব রাজনীতিতে নারীতন্ত্রের কর্তৃত্বের প্রসার by আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

পাকিস্তানের সুন্দরী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার সম্প্রতি যখন ভারত সফর করছিলেন, তখন লন্ডনের ভারতীয় সাংবাদিক বন্ধু আমাকে ঠাট্টা করে বলেছেন, 'এবার সম্ভবত কাশ্মীর সমস্যার একটা সমাধান হয়ে যাবে। দেখছেন, হিনা খারকে দেখে দিলি্লতে মনমোহন সিংয়ের বৃদ্ধ, হাফ বৃদ্ধ মন্ত্রী ও আমলাদের মধ্যে কী রকম চিত্তচাঞ্চল্য শুরু হয়ে গেছে!' আমি তাঁর ঠাট্টাটা প্রথমে বুঝতে না পেরে বলেছি, তোমাদের মন্ত্রিপরিষদে কি কোনো নারী নেই? ভারতীয় বন্ধু আমাকে

যে নির্বাচনে হেরেছেন আমাদের দুই নেত্রী! by ফজলুল বারী

কুমিল্লার প্রথম মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে অভিনন্দন। নির্বাচন কমিশন আর কুমিল্লা সিটির ভোটারদের অভিনন্দন এমন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য। এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম একটি সম্পূর্ণ ইভিএম তথা প্রযুক্তিনির্ভর সফল নির্বাচন। একযোগে পুরো সিটি করপোরেশনে ইভিএমের সাহায্যে নিরুপদ্রব ভোট নেওয়ার পাশাপাশি, পাঁচঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ ফল ঘোষণা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্বের বিশ কোটি মানুষ মাদক সেবন করে

ক গবেষণায় দেখা যায় বিশ্বের প্রায় ২০ কোটি মানুষ নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণ করে। শুক্রবার দ্য ল্যানসিট নামক একটি পত্রিকা এ বিষয়ে এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। ধারনা করা হচ্ছে, ২০০৯ সালে বিশ্বে প্রায় ১৫ কোটি থেকে ২৭ কোটি মানুষ নিষিদ্ধ মাদক সেবন করেছে।

তাদের ‘মানসম্মান’ আছে, লাজ-শরম নেই by সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

ভালো বিষয় নিয়ে লিখতে ভালো লাগে আর খারাপ কিছু নিয়ে লিখতে গেলেও নোংরা মনে হয়। তাই ভেবেছিলাম, ‘মাননীয়’ সংসদ সদস্য কামাল মজুমদারের বিষয় নিয়ে লিখবো না। ইতোমধ্যে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় তার চেহারা-চিত্র তুলে ধরে ক’দিন ধরেই লেখালেখি হচ্ছে। বাংলানিউজেও অস্ট্রেলিয়া থেকে ফজলুল বারী লিখেছেন ‘মণিপুর টু জগন্নাথে শিক্ষার নামে গুণ্ডামি!’

ওবামার নতুন সামরিক কৌশল ইরান ও চীনের উত্থান ঠেকানো

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য নতুন কৌশল পেন্টাগনে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এতে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের চেয়ে চীন এবং ইরানের হুমকি মোকাবেলার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথাও মাথায় রেখেছেন ওবামা। উল্লেখ্য, মন্দার কারণে পেন্টাগনের জন্য আগামী ১০ বছরের ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট হ্রাস করা হয়। এ ব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন সংশোধিত কৌশলে আকারে

ইমরান খানের বিস্ময়কর উত্থান-প্লেবয় ক্রিকেটার থেকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী

ত ডিসেম্বরে করাচিতে সমাবেশ করলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। তার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) এটি সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে ইমরান খান সম্পর্কে বলা হয়_ এখন আপনাদের সামনে এমন একজন মানুষকে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি পাকিস্তানকে রক্ষা করবেন। তার বক্তব্যে পাকিস্তান থেকে মাত্র ৯০ দিনে দুর্নীতি দূর করার ঘোষণা দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সাবেক এ প্লেবয়

২০১২ :বিশ্বে সংঘাতের ক্ষেত্র

ফগানিস্তান : ২০১১ সাল আফগানিস্তানের জন্য কেটে গেল আরেকটি সহিংস বছর। বছরের প্রথম দশ মাসে দেশটিতে নিহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার বেসামরিক নাগরিক। তালেবান জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলা, বন্দুক হামলা, ন্যাটোর হামলায় নিহত হয়েছে এসব সাধারণ নাগরিক। কিন্তু ২০১২ সালের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ন্যাটো নিজেদের বেশ কিছু এলাকা থেকে গুটিয়ে নেবে। ২০১৪ সালে আফগানিস্তানের ন্যাটো সেনা প্রত্যহারের প্রক্রিয়া হিসেবে তা করবে ন্যাটো। এ ছাড়া ২০১২

জবিতে উন্নয়ন ফি নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

লতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ধার্যকৃত উন্নয়ন ফি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারী প্রগতিশীল ছাত্রজোট মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনের তৃতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দু'পক্ষই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে যে আন্দোলন হচ্ছে, তা অযৌক্তিক। তাই এ আন্দোলন বন্ধ করা না হলে কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে কঠোর

আজ শুরু হচ্ছে ‘বাংলালিংক হাছন রাজা লোকোৎসব’

স্টাফ রিপোর্টার: মরমী গানের সাধক হাছন রাজার ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সুনামগঞ্জে বাংলালিংকের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজন করা হয়েছে ৩ দিনব্যাপী হাছন রাজা সৃষ্ট গানের লোকোৎসব। সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ের বালুর মাঠে আজ থেকে এ লোকোৎসব শুরু হচ্ছে। চলবে ৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে হাছন রাজা পরিষদ ও হাছন রাজা ট্রাস্ট। পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে দেশের অন্যতম টেলিকম অপারেটর কোম্পানি বাংলালিংক। গতকাল বিকাল ৩টায় এ উৎসব উদ্বোধন করবেন সংসদ সদস্য আলহাজ মতিউর রহমান। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক কামাল লোহানী। উল্লেখ্য, মরমী সাধক হাছন রাজার জন্ম ২১শে ডিসেম্বর ১৮৫৪ সালে সিলেটের সুনামগঞ্জে। আর মৃত্যুবরণ করেন ৬ই ডিসেম্বর ১৯২২ সালে।

নায়ক দেব খলনায়ক ফেরদৌস

স্টাফ রিপোর্টার: কলকাতার এ সময়ের সর্বাধিক জনপ্রিয় নায়ক দেব। এ যাবৎ তার অভিনীত সব ছবিই ব্যাপক ব্যবসা করেছে। তবে খুব বেশি নয়; বছরে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি ছবিতে অভিনয় করেন এ নায়ক। নতুন বছরে কলকাতার এ জনপ্রিয় নায়ক আসছেন ‘খোকাবাবু’ ছবি নিয়ে। এ ছবিতে দেব তার সঙ্গে নিয়ে আসছেন দুই বাংলার নায়ক ফেরদৌসকে। ‘খোকাবাবু’ ছবির মাধ্যমেই দেব ও ফেরদৌস প্রথমবার একসঙ্গে পর্দায় উপস্থিত হচ্ছেন। ছবিতে দেব অভিনয় করছেন দুষ্ট ধরনের একজন ছেলের চরিত্রে। যাকে সবাই খোকাবাবু বলেই ডাকে। আর অন্যদিকে ফেরদৌস কলকাতার একজন ডাকসাইটে ডনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এতে তার চরিত্রের নাম শঙ্কর দাস। ছবির গল্পে দেখা যায়, খোকাবাবু দেব শঙ্কর দাসের কোম্পানিতে হিসাব বিভাগে চাকরি নেয়। এর মধ্যেই শঙ্কর দাসের একমাত্র বোন পূজার সঙ্গে তার প্রেমালাপ চলে। যখন খোকাবাবু জানতে পারে শঙ্কর দাসের বোন পূজা; আর তখনই কিছু বুদ্ধি বের করে এবং পূজাকে বিয়ে করে। ফেরদৌস বলেন, দেবের সঙ্গে আগে থেকেই আমার একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। যখন ‘খোকাবাবু’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পরিচালক আমাকে প্রস্তাব দিলেন তখন আমি গল্পটি শুনতে চাই। আর গল্পটি শুনে আমার বেশ ভাল লাগে। বলতে গেলে ছবিতে আমি খলনায়ক আর নায়ক হলো দেব। আর সেখান থেকেই ছবিতে অভিনয়। এরপর অভিনয় করতে গিয়ে দেবের সঙ্গে আমার একটি সখ্য গড়ে ওঠে। আশা করছি, আমার ও দেবের একসঙ্গে অভিনীত এ ছবিটি দর্শকের ভাল লাগবে। সেইসঙ্গে আমাদের দু’জনের একসঙ্গে পর্দা উপস্থিতি দর্শকের কাছে ভাল লাগবে। ‘খোকাবাবু’ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন প্রসেনজিত, শুভশ্রীসহ আর অনেকেই।

ভালবাসা দিবসে রিজিয়া

স্টাফ রিপোর্টার: গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের নতুন একক অ্যালবামের কাজ করছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন। এই সময়ে দেশ-বিদেশের স্টেজ প্রোগ্রামের কারণে অবশ্য বেশ কয়েকবারই বাধা এসেছে তার এ অ্যালবামের কাজে। কিন্তু বিদেশ সফর খানিকটা কমিয়ে এনে গত কয়েকদিন ধরে টানা কাজ করে নিজের এ অ্যালবামের কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন রিজিয়া। ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সুর-সংগীতায়োজনে রিজিয়ার এ একক অ্যালবামে স্থান পাচ্ছে মোট ৯টি গান। ইতিমধ্যে সবক’টি গানের কাজ সম্পন্ন করেছেন ফুয়াদ। অ্যালবামটি ভালবাসা দিবস উপলক্ষেই প্রকাশ করবেন বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন রিজিয়া পারভীন। রিজিয়ার এ অ্যালবামে সফট মেলোডি ও সফট রক ঘরানার গানই বেশি স্থান পাচ্ছে।  রিজিয়ার এ অ্যালবামে গান লিখেছেন উপল ইসলাম ও ফুয়াদ। নিজের এ অ্যালবাম সম্পর্কে রিজিয়া পারভীন বলেন, কয়েকদিন টানা কাজ করেছি অ্যালবামের। ৭টি গানের কাজ সম্পূর্ণ শেষ। আর দুটিতে ভয়েস দেয়া বাকি। এগুলোতে ভয়েস দিতে আর দু’-তিনদিন লাগবে। অ্যালবামের কাজ শেষ করতে অনেক দেরি হয়ে গেলেও এখন মনে হচ্ছে ঠিক আমার মনের মতো হয়েছে গানগুলো। সম্পূর্ণ নিজের মতো করে কাজ করতে পেরেছি। আর ফুয়াদ বরাবরের মতোই অনেক ভাল কাজ করেছে। আশা করছি অ্যালবামের গানগুলো শ্রোতাদের ভাল লাগবে।

‘আমি সমাজের চতুর্থ আয়ের একজন মানুষ’

আজ বৈশাখী টেলিভিশনে রাত ৮টা ১০ মিনিটে প্রচার হবে ধারাবাহিক নাটক ‘ফোর্থ ক্লাস সোসাইটি’। রওনক হাসানের ভাবনায় নাটকটি রচনা করেছেন নওমি কামরুন বিধু। ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন সাইফ চন্দন। এতে অভিনয় করেছেন মৌসুমী লক্ষ্মী নাগ। আজকের টেলিফোনে কিছুক্ষণ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন স্টাফ রিপোর্টার
কি করছেন?
জুয়েল মাহমুদের রচনা ও পরিচালনায় ‘বৈরী বাতাস’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছি। এ নাটকের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো আমার কোন নাটকে দ্বৈতচরিত্রে অভিনয় করা হবে। অর্থাৎ একই সঙ্গে মা ও মেয়ের চরিত্রে দেখা যাবে আমাকে।
আজ ‘ফোর্থ ক্লাস সোসাইটি’র নবম পর্ব প্রচার হবে। এ প্রসঙ্গে কিছু বলুন।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে এ ধারাবাহিকে অভিনয়ে বেশ সাড়া পাচ্ছি। এতে আমি পুরান ঢাকার মেয়ে চরিত্রে অভিনয় করেছি। পুরান ঢাকার মেয়ে হলেও আমি নতুন ঢাকায় একটি ফ্ল্যাটে কাজ করি। মোটকথা, আমি সমাজের চতুর্থ আয়ের একজন মানুষ। এ ধারাবাহিকের গল্প গড়ে উঠেছে সব ধরনের ফোর্থ ক্লাস কর্মজীবী লোকজন নিয়ে।
অ্যাপার্টমেন্টের অন্য ফ্ল্যাটের ড্রাইভার রওনককে আপনার কেন পছন্দ?
নাটকে রওনকের নাম সাত্তার ড্রাইভার। বলা যায় সে-ই অ্যাপার্টমেন্টের সব চতুর্থ শ্রেণীর কর্মজীবীদের গাইড করে। কারণ, আমাদের সবার মধ্যে সে-ই একটু শিক্ষিত। ভুলভাল ইংরেজিও বলে।
অন্য ধারাবাহিক প্রসঙ্গে বলুন
ফোর্থ ক্লাস সোসাইটি ছাড়াও বর্তমানে আমি তিনটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছি। এগুলো হলো মাসুম রেজার রচনা ও সৈয়দ আওলাদের পরিচালনায় ‘সাত সওদাগর’, জুয়েল মাহমুদের রচনা ও পরিচালনায় ‘বৈরী বাতাস’ এবং রিপন নবীর পরিচালনায় ‘আপনঘর’।
সমপ্রতি বেশ কয়েকটি একক নাটকেও অভিনয় করেছেন
আহমেদ সুস্ময়ের ‘নস্টালজিয়া এন্ড ক্যাথিড্র’, আবু সুফিয়ান বিপ্লবের ‘চিরকুট’, ফয়সাল রাজিবের পরিচালনায় ‘প্রেম সংসার এবং একটি অনুষঙ্গ’, মকবুল হোসেনের ‘অসমান্তরাল’সহ এরই মধ্যে আরও কয়েকটি নাটকের কাজ করলাম

বিশ্ব মাতাচ্ছে কোলাভেরি ডি

বিনোদন ডেস্ক: গত বছরের শেষের দিকে প্রকাশিত হয়ে যে গানটি জনপ্রিয়তার সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে সেটি হলো সবার পরিচিত ‘কোলাভেরি ডি’। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বই বর্তমানে মেতেছে কোলাভেরি ডি গানটির তালে। শুধু গান নয়, তামিল ভার্সনের এ গানটির মিউজিক ভিডিওটি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী সংগীত পরিচালক আনুরোধ রাবিচন্দর। মাত্র পাঁচ মিনিটে গানটির সুর করেছেন তিনি। আর গানটি গেয়েছেনও কিছু অংশ। লিখেছেন তামিল অভিনেতা ও গায়ক ধনুশ। ধনুশ ভারতের স্বনামধন্য অভিনেতা রজনীকান্তের জামাতা। চার মিনিট আট সেকেন্ডের এ গানটির রেকর্ডিং হয় চেন্নাইয়ের একটি স্টুডিওতে। মূলত এটি আপকামিং তামিল ছবি ‘৩’-এর একটি গান। ধনুশের স্ত্রী এবং রজনীকান্তের মেয়ে ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাবে চলতি বছরই। কিন্তু মুক্তির আগেই ছবির গানটি রেকর্ড গড়লো। গানটির কথা ইংরেজি হলেও এটি ধনুশ গেয়েছেন সম্পূর্ণ তামিল সুর ও স্টাইলে। গানটি প্রকাশিত হয় গত বছরের ১৬ই নভেম্বর। ২৪শে নভেম্বর থেকে গানটি নিয়মিত প্রচার শুরু হয় এমটিভিতে। চ্যানেলটিতে তামিল কোন ছবির গান এটাই প্রথম প্রচার। এখন পর্যন্ত ইউটিউবে গানটির দর্শক ভিউ সংখ্যা ৩০ মিলিয়নের ওপরে। প্রথম ১৮ দিনেই গানটি মোবাইলে ডাউনলোড হয় ২ লাখ ১০ হাজারেরও বেশিবার। এরপর বেশ কয়েকটি ভার্সন প্রকাশিত হয় কোলাভেরি ডি। বিশেষ করে গানটি নতুন ভার্সনে ফিচারিং করে তাক লাগিয়ে দেন ভারতের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী সনু নিগমের চার বছরের পুত্র নিভান নিগম। সম্পূর্ণ নিজস্ব স্টাইলে ধনুশের এ গানটি গেয়ে ছোট নিভান দারুণ চমক দেখিয়েছে বিশ্বকে। খোদ বাবা সনু নিগমও অবাক ছেলের এ জাদুকরি কারিশমা দেখে। লতা মঙ্গেশকর পর্যন্ত নিভানের অসাধারণ গায়কী দেখে অবাক না হয়ে পারেননি। তিনি এ সম্পর্কে বলেন, আমি নিভানের গায়কী দেখে মুগ্ধ হয়েছি, অবাক হয়েছি। নিভান আসলে উপরওয়ালার দেয়া একটি বরদান’। এদিকে ধনুশের গানটির পর নিভান ফিচারিং কোলাভেরি ইউটিউবে চার লাখেরও বেশি মানুষ উপভোগ করেছেন

গেরিলার পর জয়া আহসান

স্টাফ রিপোর্টার: এনটিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে জয়া আহসান অভিনীত অনিমেষ আইচের রচনা ও পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘পথ গেছে বেঁকে’। এর গল্প উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখী দম্পতি আলম ও নীলাকে ঘিরে। তাদের দুই সন্তান সুশী ও মাহের। একদিন বিদেশ থেকে আলমের বন্ধু সোহানা দেশে ফিরে আসে। মেয়েটি আলমের বাসায় ওঠে। আলম তাকে পছন্দ করতো। ঘটনাক্রমে একদিন সোহানা খুন হয়। আর এই খুন হওয়া সোহানা চরিত্রে অভিনয় করেন জয়া আহসান। জয়ার মন্তব্য, বরাবরের মতো এ ধারাবাহিকটিও আমার ক্যারিয়ারের জন্য ভাল একটি সুযোগ সৃষ্টি করবে। কারণ, এর গল্প ভাবনা এবং নির্মাণ আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। এদিকে আলোচিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’র পর নতুন বছরে আরও তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে হাজির হতে যাচ্ছেন জয়া আহসান। তাই চলতি বছরটা নিয়ে জয়ার মনে অনেক স্বপ্নের বুনন চলছে। জয়া বলেন, সত্যি বলতে আমি কখনও পরিকল্পনা নিয়ে কোন কাজ করিনি। সুদূরপ্রসারী ভাবনা আমাকে কখনও ভাবায় না। আমি নিকট ভবিষ্যৎ নিয়ে চলতে পছন্দ করি। শুরু থেকে বেছে বেছে কাজ করার চেষ্টা ছিল আমার মধ্যে। এ বছরও ভাল কিছু কাজ করবো আশা করছি। বিশেষ করে চলচ্চিত্রে। যেমন কলকাতায় অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘আবর্ত’ নামের একটি চলচ্চিত্রের শুটিং করবো। গত বছর রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’ ছবিতে অভিনয় করেছি। এটি মুক্তি পাবে এ বছর। এছাড়া তানিম নূরের ডিজিটাল চলচ্চিত্র ‘ফিরে এসো বেহুলা’ গত বছরের শেষের দিকে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর আমার তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি পাবে। গত বছর ‘গেরিলা’ দিয়ে যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি, আশা করছি সেই রেশ থেকে যাবে চলতি বছরে মুক্তি প্রতীক্ষিত এ তিনটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। এদিকে গেল বছর কিংবা চলতি সময়ের টিভি নাটকগুলোর মূল্যায়ন করতে গিয়ে খানিকটা আক্ষেপ ঝরে পড়ে জয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, এখন অসংখ্য নাটক হচ্ছে। যদিও সেসব দেখে খুব বেশি সুখ পাই না আমি। মনে হচ্ছে নাটকের জায়গাটা দিন দিন গরিব হয়ে উঠছে। এর মধ্যে অনেক নাটক দেখেছি, যার গল্প এবং নির্মাণ ভাবনা মনে হয়েছে বহু পুরনো। মনে হয়েছে এ নাটক আমি বহুবার দেখেছি। আমি আসলে এই একঘেঁয়েমির পরিবর্তন চাই। এক্ষেত্রে টিভি চ্যানেল, নির্মাতা, প্রযোজক ও শিল্পীদের আরও বেশি আন্তরিকতার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি।

রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় পরবর্তী রাউন্ডে

স্পোর্টস রিপোর্টার: ইসলামী ব্যাংক জাতীয় স্কুল ফুটবল ঢাকা মেট্রোপলিটন অঞ্চলের ডি গ্রুপ থেকে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়। গতকাল ফাইনালে তারা শুট আউটে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বিএএফ শাহীন কলেজকে। এর আগে ধানমন্ডি আবাহনী ক্লাব মাঠে গ্রুপের প্রথম রাউন্ডের খেলায় রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় ১-০ গোলে হারায় গভ: হাইস্কুলকে। এ জয়ে গ্রুপের সেমিফাইনালে ওঠে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়। বিজয়ীদের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন তাসবির। একাই গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শুট আউটে ৪-১ গোলে হারায় গভঃ বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত স্কুলকে। নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য ছিল। এ জয়ে গ্রুপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে কসাইটুলি মুসলিম একাডেমী ১-০ গোলে  আগারগাঁও আদর্শ হাইস্কুলকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষ চারে জায়গা করে নেয়। বিজয়ীদের পক্ষে সোয়েব জয়সূচক গোলটি করেন। একই মাঠের চতুর্থ খেলায় বিএএফ শাহীন কলেজ ৩-০ গোলে হারায় গজমহল ট্যানারি হাইস্কুলকে। নাবিল, শাওন ও হোসেন প্রত্যেকেই একটি করে গোল করে শাহীন কলেজকে সেমিফাইনালে তুলে দেয়। গ্রুপের প্রথম সেমিফাইনালে সবুজের জোড়া গোলে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় ২-০ গোলে হারায় বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে। অপর সেমিফাইনালে শাহীন কলেজ শুট আউটে ৫-৪ গোলে কসাইটুলিকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। নির্ধারিত খেলায় কোন দলই গোল পায়নি।

সিটিসেল জাতীয় বাস্কেটবল

স্পোর্টস রিপোর্টার: সিটিসেল জাতীয় বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপে জয় পেয়েছে সাতক্ষীরা, যশোর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা দল। ধানমন্ডির উডেনফ্লোর জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা জেলা দল ৮৬-৩৪ পয়েন্টে হারিয়েছে চাঁদপুর জেলাকে। প্রথমার্ধে  সাতক্ষীরা ৩৬-১৭ পয়েন্টে এগিয়েছিল। জয়ী দলের পক্ষে আসিক-২৪ ও মোবতাসিন-১৭ পয়েন্ট স্কোর করেন।  একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত দিনের অন্য খেলায় যশোর ৬৪-৫৪ পয়েন্টে রাজশাহীকে, ময়মনসিংহ ৭১-৪৫ পয়েন্টে নারায়ণগঞ্জকে, ঢাকা ৯৭-৩৮ পয়েন্টে কুমিল্লাকে, চট্টগ্রাম ৮৫-১৬ পয়েন্টে কুষ্টিয়াকে হারিয়েছে।

জাতীয় হকি শুরু শনিবার

স্পোর্টস রিপোর্টার: চার বছর ২৮তম জাতীয় হকি প্রতিযোগিতা শনিবার থেকে হকি টার্ফে গড়াচ্ছে। চার বছর পর হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় ১৫টি জেলা দলসহ ২১টি দল অংশ নিচ্ছে। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, ‘জাতীয় হকি আয়োজনের ব্যাপারে সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন কেবল খেলা মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে ফেডারেশন।’ ১১ই নভেম্বর ফেডারেশনে এডহক কমিটি আসার পর বিজয় দিবস হকি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার আরও একটি টুর্নামেন্ট গড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে নতুন এই কিমিটি। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ জানান, জাতীয় হকি নিয়মিত না হওয়ায় ভাল মানের খেলোয়াড়ের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। ১৫টি জেলা ও একটি বিভাগীয় দলসহ বিকেএসপি ও চার সার্ভিসেস দল সাত গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে। যেসব জেলা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে এগুলো হলো- ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, গাইবান্ধা, রাজশাহী, জয়পুরহাট, নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা এবং বিভাগীয় দল চট্টগ্রাম। এছাড়া বিকেএসপি’র সঙ্গে চার সার্ভিসেস দলগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশ। লীগ পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা হবে। পরে সুপার লীগের মাধ্যমে সেমিফাইনালের দল নির্ধারিত হবে।

কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংস্থার সদস্যরা। গতকাল সকালে ক্রীড়া সংস্থার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ক্লাব প্রতিনিধিদের একটি দল জেলা প্রশাসক মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছে স্মারকলিপিটি  দেয়। স্মারকলিপিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭০ জন ক্লাব প্রতিনিধির মধ্যে ৬১ জন প্রতিনিধি স্বাক্ষর করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১শে জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও সঠিক সময়ে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরও তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় প্রায় ৪ মাস কমিটি শূন্য অবস্থায় থাকার পর গত ১৮ই নভেম্বর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করাসহ দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। গঠিত আহ্বায়ক কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনা থাকার পরও অদ্যাবধি তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর প্রদানকারী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহমুদ পারভেজ বলেন, সময়মত নির্বাচন না হওয়ায় জেলার ক্রীড়াঙ্গন ঝিমিয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন বিকল্প নেই।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সিদ্দিকুর রহমান স্মারকলিপি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, অবিলম্বে সংস্থার সভা আহ্বান করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদহার আরও বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংকঋণের কয়েকটি ক্ষেত্রে বেঁধে দেওয়া সুদহার প্রত্যাহারের পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংক তার অন্যতম নীতিনির্ধারণী হাতিয়ার রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদের হার বাড়িয়েছে। রেপোর সুদহার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে রিভার্স রেপোর সুদ হার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তারল্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ

ক্লার্কের অপরাজিত ২৫১ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার কোন টেস্ট অধিনায়কের করা চতুর্থ সর্বোচ্চ। অসিদের নেতৃত্বকালে ক্লার্কের চেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংস রয়েছে শুধু সাবেক অধিনায়ক মার্ক টেলর, বব সিম্পসন ও ডন ব্রাডম্যানের। ভারতের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের কীর্তি এটি। আগেরটি ইংলিশ লিজেন্ড গ্রাহাম গুচের। ১৯৯০ সালে লর্ডসে ৩৩৩ রান করেন যা ইংলিশ ব্যাটস-ম্যানদের মধ্যেও এ পর্যন্ত সেরা।
অধিনায়ক হয়ে ১০ টেস্টে প্রায় ৫৫ রান গড় ক্লার্কের। সেঞ্চুরি ৪টি।
সিডনিতে কোন অসি ব্যাটসম্যানের এটাই (ক্লার্কের ২৫১*) সর্বোচ্চ সংগ্রহ।  এখানে ক্লার্কের চেয়ে বড় ইনিংস রয়েছে টিপ ফস্টার (২৮৭) ও ব্রায়ান লারার (২৭৭)।
ক্লার্ক-পন্টিংয়ের ২৮৮ রান চতুর্থ উইকেট জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম সর্বোচ্চ। আর ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ। আগেরটি  ২০০৮ সালে অ্যাডিলেডে একই জুটির তোলা ২১০ রান।
দলীয় ৫০ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে এত বড় পার্টনারশিপ এর আগে দেখা গেছে একবারই মাত্র। তাও ৭৮ বছর আগে। ১৯৩৪-এর সিরিজে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারালেও চতুর্থ উইকেট জুটিতে ডন ব্রাডম্যান ও বিল পন্সফোর্ড  ৩৮৮ রান তুলেছিলেন।
৫০-এর নিচে ৩ উইকেট হারানো চতুর্থ উইকেট জুটিতে ২০০ রানের পার্টনারশিপ গড়ার নজির মোট ১৪ বার। ছয়টিই ভারতের বিপক্ষে। আর এর তিনটি গত তিন বছরে।
সিডনিতে পন্টিংয়ের মোট রান দাঁড়ালো ১৪৮০। সেঞ্চুরি ৬টি। আর কোন মাঠে এমন কীর্তি নেই পন্টিংয়ের।
২০১১ সালে ভারতের এক ম্যাচে তিন বোলার শতাধিক করে রান দেন ছয়বার। এবার যুক্ত হলেন উমেশ যাদব। ২০০০ সালের পর প্রথমবারের মতো ম্যাচে চার বোলারই ১০০-এর ওপর রান দিলেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের।

পাকিস্তানিরাই জেতালো ভিক্টোরিয়াকে

স্পোর্টস রিপোর্টার: তামিম বিতর্ক কোন প্রভাবই ফেলেনি ভিক্টোরিয়ার জয়রথে। এবারের  লীগে গাজী ট্যাংককে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ দিয়ে ৭ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে তারা। গাজী ট্যাংকের সব উইকেট হারিয়ে করা ২১৫ রানের জবাব দিতে নেমে তামিম-এর অভাব বুঝতেই দেননি পাকিস্তানি ওপেনার আহমেদ শেহজাদ। তিনবার জীবন পাওয়া শেহজাদের শতক ভিক্টোরিয়াকে পৌঁছে দেয় জয়ের বন্দরে। তিনি আউট হন ১০২ বলে ১১৫ রান করে। তামিম ইকবাল আর ভিক্টোরিয়ার গভর্নিং বডির সভাপতি লুৎফর রহমান বাদল এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হলেও মাঠে তাদের সরব উপস্থিতি ছিল। দুজনাই মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে দলের জয়ে উৎসাহ যুগিয়েছেন।
সকালে টস জিতে ভিক্টোরিয়ার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। আর তার এই সিদ্ধান্তের সম্মান জানাতেই যেন গাজী ট্যাংকের ওপেনার আসিফ আহমেদ রাতুলকে মাত্র ১ রানে আউট করে সাজঘরে পাঠান আলামিন হোসেন। তখন গাজী ট্যাংকের সংগ্রহ ১৩ রান। তবে গাজী ট্যাংকের আরেক ওপেনার পাকিস্তানি শাহজাব হাসান ৪২ (৫৫) রান নিয়ে দলের প্রাথমিক বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হন। মমিনুল ১৩ (২৪) রানে আউটের পর ৩২ (৬২) রান করে অবদান রাখেন নাসির হোসেন। তবে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুন ফিফটি করে স্কোরকে সম্মানজনক পর্যায়ে নেন। তিনি ৬৭ বল খেলে করেন ৭১ রান।  বিলম্বে শুরু হওয়া ৪৮ ওভারের ম্যাচটিতে ৪৭.৫ ওভার খেলে গাজী ট্যাংক সংগ্রহ করে ২১৫ রান।
ভিক্টোরিয়ার পাকিস্তানি ওপেনার আহম্মেদ শেহজাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন গাজী ট্যাংকের বোলাররা। তবে শেহজাদকে আউট করার সুযোগ মিলেছিল গাজী ট্যাংকের। শেহজাদ তখন ১৭ রানে ছিলেন। দলীয় রান ছিল ২.৪ ওভারে ২২। ২৮তম ওভারে আরেকটি ক্যাচ থেকে মুক্তি পান শেহজাদ। পরের বলেই আবার মো. মিঠুন তাকে স্ট্যাম্পিং করার সুযোগ হাতছাড়া করেন। আর এই তিনবার জীবন পেয়ে নিজের স্কোর তিন অংকে পৌঁছাতে ভুল করেননি শেহজাদ। আহমেদ শেহজাদের ১০২ বলে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় করা ১১৫ রান ও কামরান সাজিদের অপরাজিত ৬২ রানে ম্যাচ অনায়াসে জিতে ভিক্টোরিয়া। সাকিব করেন অপরাজিত ১৩ রান। মাঠে নামার সুযোগ হয়নি আরেক পাকিস্তানি শোয়েব মালিকের। ৪২.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান করে সাকিব আল হাসানের দল।
এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা গোনা তামিম অবশ্য খেলা চলাকালে ড্রেসিংরুমের আশপাশে ছিলেন না। দলের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে। তার সঙ্গে তাল দিয়েছেন লুৎফর রহমান বাদল। তামিমের সঙ্গে তিনিও এক ম্যাচ নিষিদ্ধ। ম্যাচ শেষ হতেই দু’জন মাঠে নেমে সাকিব, শেহজাদকে অভিনন্দনও জানান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : গাজী ট্যাংক ইনিংস: ২১৫/১০; ৪৭.৫ ওভার (মিঠুন ৭১, শাহজাব ৪২, নাসির ৩২, নাজমূল ২৩, বাবু ২১*; আলামিন ৩/৩৯)।
ভিক্টোরিয়া ইনিংস: ২১৯/৩; ৪২.৪ ওভার (শেহজাদ ১১৫, কামরান ৬২*, শাকিব ১৩*; বাবু ১/২৮)। ফল: ভিক্টোরিয়া ৭ উইকেটে জয়ী।

টানা দ্বিতীয় জয় আবাহনী মোহামেডানের

স্পোর্টস রিপোর্টার: ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে আবাহনী ও মোহামেডান। গতকাল ফতুল্লায় প্রাইম ধলেশ্বরকে ১১০ রানের বড় ব্যবধানে আবাহনী আর বিকেএসপিতে সূর্যতরুণকে ৮ উইকেটে হারিয়ে বড় জয় কুড়ায় মোহামেডান। ফতুল্লা ওসমানী স্টেডিয়ামে আবাহনীর বিশাল জয়ের সঙ্গে ছিল অঘটনও। ইনজুরিতে পড়েছেন জাতীয় দলের তারকা ইলিয়াস সানি। আঙুল ফেটে গেছে তার।
আগে ব্যাট করে রজত ভাটিয়ার ৮৭, পিটার ডেভিড ট্রেগোর ৬৮ ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৬২ রানে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭০ রান করে আবাহনী। ধলেশ্বরের পক্ষে মাহবুবুল আলম, ভিক্টর বড়ুয়া ও মুরাদ খান ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে ৪০.৫ ওভারে ১৬০ রানে অল আউট হয়ে যায় প্রাইম ধলেশ্বর। ৪ উইকেট শিকার করেন আবাহনীর আবুল হোসেন। ধলেশ্বরের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন অধিনায়ক শাহরিয়ার । ইফতিখার নাঈম ২৭, মানভিন্দর সিং ২৫ ও নাদিফ চৌধুরী করেন ২৪ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী ইনিংস: ২৭০/৯; ৫০ ওভার (রজত ৮৭, পিটার ৬৮, রিয়াদ ৬২; মাহবুবুল ২/৬৬)। প্রাইম ধলেশ্বর ইনিংস: ১৬০/১০; ৪০.৫ ওভার (শাহরিয়ার ৩৭, ইফতিখার ২৭, মানভিন্দর ২৫ ও নাদিফ ২৪; আবুল ৪/২৪, পিটার ২/১৪, রজত ২/২৩)।
ফল: আবাহনী ১১০ রানে জয়ী।
জয়ের নায়ক ইমরুল-নাঈম
বিকেএসপি’র অপর ম্যাচে মোহামেডানের বোলিং তোপের মুখে আগে ব্যাট করা সূর্যতরুণের সংগ্রহ ছিল ২০৪ রান। ৪ উইকেট শিকার করেন মোহামেডানের ইয়াসিম মর্তুজা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান সংগ্রহ করেন রাজা আলী। জবাব দিতে নেমে সূর্যতরুণের বোলারদের নাকাল বানিয়ে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মোহামেডান। দলের জয় সহজ করে ইমরুল কায়েসের ৯১ ও নাঈম ইসলামের ৬৭ রানের ইনিংস। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৯ রান তোলেন এ দুই জাতীয় তারকা। এতে ২২ বল অব্যবহৃত রেখেই জয় নিশ্চিত করে মোহামেডান। ইমরান নেন ২ উইকেট ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সূর্যতরুণ ইনিংস: ২০৪/৯; ৫০ ওভার (রাজা ৫০, হান্নান সরকার ৩৭, জুপিটার ঘোষ ৩৬, তৌবুর পারভেজ ২৯; ইয়াসিম ৪/৩১, হাম্মাদ আজম ২/২৯, নূর হোসেন ২/৪০)। মোহামেডান ইনিংস: ২০৫/২; ৪৬.২ ওভার (ইমরুল ৯১*, নাঈম ৬৭*, ইমতিয়াজ ২৬; ইমরান ২/৩৬)। ফল: মোহামেডান ৮ উইকেটে জয়ী।

মুনাফা অর্জনে ব্যাংকগুলো অনৈতিক ঝুঁকি নিচ্ছে

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেছেন, অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যাংকগুলো অনৈতিক ঝুঁকি নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় গ্রাহককে লোভের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এতে গোটা অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। গত বুধবার রাতে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজনে একাদশ নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতায় 'ব্যাংকিং খাতে

মহসিন নাকি হোয়াটমোর, জানতে আরও ২ দিন

স্পোর্টস ডেস্ক: পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে ডেভ হোয়াটমোরের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছিল। তবে পাক দলে এ মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকা মহসিন খানেরও চাকরিটা পাকা করার ইচ্ছা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে থাকা কোচদের ৩০ আবেদনপত্রের একটি মহসিন খানের। গতকাল কোচ নির্বাচন সম্পন্ন করেছে পিসিবি’র এ সংক্রান্ত কমিটি। কিন্তু নাম আনছেন না মুখে। আবার যা বললেন, তাতে মহসিন বা হোয়াটমোর যে কারও দিকেই যেতে পারে ইঙ্গিত। কমিটির অন্যতম সদস্য ইন্তিখাব আলম বলেন, ‘কোচ নির্বাচন চূড়ান্ত। কিন্তু নাম বলছি না। তবে পিসিবি চেয়ারম্যান হেড কোচ হিসেবে একজন ব্যাটিং বিশেষজ্ঞকে চাচ্ছিলেন। আমাদের কাছেও এটা ছিল যৌক্তিক।’ বোলিং কোচ আকিব জাভেদ টিকে গেলেও ফিল্ডিং কোচ পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জুলিয়ান ফন্টেইন আছেন ইজাজ আহমেদের সঙ্গে। কোচ নির্বাচনে গঠিত তিন সদস্যের পাক কমিটি এ নিয়ে শেষ বৈঠক করেন গতকাল।

প্রসাধনী পণ্যে নানা ছাড়

মে উঠতে শুরু করেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় শেষ বিকেলে ক্রেতা ও দর্শক সমাগম আগের যে কোনো দিনের চেয়ে বেশি ছিল। সেই সঙ্গে বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় মেলা প্রাঙ্গণ কানায় কানায় ভরে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে উদ্বোধনের পঞ্চম দিনেও বৃহস্পতিবার কিছু প্যাভিলিয়নের সাজসজ্জার কাজ চলছে। এ নিয়ে আয়োজক

খাদ্যকে ছাড়িয়ে গেছে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি

খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গত ডিসেম্বরের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ডিসেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর আগের মাস নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ডিসেম্বরে খাদ্যসূচকে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ৪০

দলকেই প্রাধান্য দিলেন ক্লার্ক

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট বলটি দেখছিলেন ফুটবলের মতোই। সামনে আরও অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ ছিল। ব্রায়ান লারার ৪০০ রানের রেকর্ডের কথা বাদ দিলেও স্বদেশী ম্যাথু হেইডেনের ৩৮০ রান টপকানোর কথাতো ভাবতে পারতেন অনায়াসায়েই। এমনকি আর ৫টি রান করলে ছুঁতে পারতের ব্রাডম্যান আর মার্ক টেইলরকে। কিন্তু তিনি তা ভাবলেন না। তার মাথায় চেপেছিল কিভাবে ম্যাচ ফলদায়ক করা যায়। আর তাই ৩২৯ রান তুলে ব্যক্তির চেয়ে দল বড় মন্ত্রে উজ্জীবিত মাইকেল ক্লার্ক ভারতকে আরেকটু পরে আমন্ত্রণ জানান। আরও আগেই হয়তো জানাতেন কিন্তু অপেক্ষায় ছিলেন হাসির ১৫০ পুরো হওয়ার। তৃতীয় দিনের মাঝ পথে যখন ইনিংস ঘোষণা করেন, তখন তার দলের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৬৫৯। ভারতের চেয়ে তখন অস্ট্রেলিয়া ৪৬৮ রানে এগিয়ে। দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১১৪। আরও ৩৫৪ রানে পিছিয়ে তারা। আজ ও কাল দু’দিন বাকি খেলার। দ্বিতীয় ইনিংসে যাতে ব্যাট করার সময় পাওয়া যায় সে জন্যই আগেভাগে ইনিংস ঘোষণা ক্লার্কের। এখন স্বাগতিকদের ফের মাঠে নামানো গেলেও ম্যাচ বাঁচানো কঠিনই হবে ভারতের জন্য। ঘাটতি মেটাতে তাদের আজ সারা দিন টিকে থাকতে হবে। এরপর শেষদিনেরও মাঝ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারলে সম্ভাবনা থাকবে ড্র করার। বীরেন্দর সেওয়াগ ও রাহুল দ্রাবিড় ফিরে গেছেন। অফ ফর্মে থাকা গৌতম গম্ভীর রানে ফিরেছেন। হ্যাডিনের কল্যাণে জীবন পেয়ে ৬৮ রানে আছেন তিনি। সঙ্গে শচীন আছেন ৮ রানে। শততম শতকের অপেক্ষায় থাকা শচীন খুবই ধীরে চলেছেন। ৮ রান করেন ৪২ বলে। তিনি আজই পূরণ করতে পারেন সোয়াশ’ কোটি ভারতীয়র প্রত্যাশা। রাহুলের টিকে থাকা বড় জরুরি থাকলেও পারেননি তিনি। হিলফেনহসের বল পা বাড়িয়ে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতেই আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন দ্য ওয়াল। কিন্তু বলটি তার ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানে স্টাম্পে। এ সিরিজে তৃতীয়বারের মতো বোল্ড হন তিনি।
গতকাল সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া দিন শুরু করেছিল ৪ উইকেটে ৪৮২ রান নিয়ে। উইকেটের অঙ্ক ঠিক রেখেই আরও ১৭৭ রান যোগ করেন ক্লার্ক ও হাসি জুটি। ২৫১ রানে থাকা ক্লার্ক ৭৮ রান তুললেও মাইকেল হাসি যোগ করেন ৯৫ রান। ম্যাচের প্রথম দিন বিকাল ৪টা ৪৩ মিনিট থেকে তৃতীয় দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ৬২২ রান যোগ করে কেবল পন্টিংয়ের উইকেটটি হারিয়ে। এর মধ্যে অবশ্য সিডনির ১০৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেন ক্লার্ক। এতদিন ধরে টিপ ফস্টারের ২৮৭ রান ছিল এসসিজি’র সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরএ মাঠের ১০০ টেস্টে ৩৭৪৭ জন ব্যাটসম্যান ব্যাটিংয়ে নেমে যা পারেননি তাই করেছেন ক্লার্ক। দুপুরের বিরতিতে যান তিনি ২৯৩ রানে। এরপর ফিরে ১০ মিনিটের মধ্যেই সিডনির প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অসি অধিনায়ক। ইশান্ত শর্মার লেগের দিকে বল ফ্লিক করে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে স্বপ্নের স্কোরে পৌঁছান তিনি। ভারতের কোন বোলারই ক্লার্কের কাছ থেকে সমীহ আদায় করতে পারেননি। মাঠের সবদিকেই সব ধরনের শট খেলেছেন তিনি। পঞ্চম উইকেটে ক্লার্ক হাসি জুটির সংগ্রহ ৩৩৪ রান। হাসির এটি ১৬তম টেস্ট শতক হলেও তৃতীয় দেড় শ’। এটা তার জন্য অনেক স্বস্তির ছিল এজন্য যে, গত ৯ ইনিংসে তিনবার তিনি শূন্য রানে আউট হন।
অসিদের সেরা চার ট্রিপল সেঞ্চুরি
ব্যাটসম্যান     রান     বল     ৪     ৬     প্রতিপক্ষ     মাঠ     ম্যাচশুরু
ম্যাথিউ হেইডেন     ৩৮০     ৪৩৭     ৩৮     ১১     জিম্বাবুয়ে     পার্থ     ৯ই অক্টো ২০০৩
মার্ক টেলর     ৩৩৪*     ৫৬৪     ৩২     ১     পাকিস্তান     পেশোয়ার     ১৫ অক্টো. ১৯৯৮
ডন ব্রাডম্যান     ৩৩৪     ৪৪৮     ৪৬     ০     ইংল্যান্ড     লিডস     ১১ইজুলাই ১৯৩০
মাইকেল ক্লার্ক     ৩২৯*     ৪৬৮     ৩৯     ১     ভারত     সিডনি     ৩রা জানু. ২০১২
টেস্ট অধিনায়কদের ট্রিপল সেঞ্চুরিগুলো
ব্যাটসম্যান     রান     বল     ৪     ৬     প্রতিপক্ষ     মাঠ    ম্যাচশুরু
ববি সিম্পসন (অসি)     ৩১১     ৭৪০     ২৩    ১     ইংল্যান্ড     ম্যানচেস্টার     ২৩ জুলাই ১৯৬৪
গ্রাহাম গুচ (ইং)     ৩৩৩     ৪৮৫     ৪৩     ৩     ভারত     লর্ডস     ২৬ জুলাই১৯৯০
মার্ক টেলর (অসি)     ৩৩৪*    ৫৬৪    ৩২     ১     পাকিস্তান     পেশোয়ার     ১৫ অক্টো.১৯৯৮
ব্রায়ান লারা (ও.ই)     ৪০০*     ৫৮২     ৪৩     ৪     ইংল্যান্ড     সেন্ট জন’স     ১০ এপ্রিল২০০৪
মাহেলা জয়াবর্ধনে (শ্রী)     ৩৭৪     ৫৭২     ৪৩     ১     দঃ আফ্রিকা     কলম্বো     ২৭ জুলাই.২০০৬
ইউনুস খান (পাক)     ৩১৩     ৫৬৮     ২৭     ৪     শ্রীলঙ্কা     করাচি     ২১ ফেব্রু.২০০৯
মাইকেল ক্লার্ক (অসি)     ৩২৯*     ৪৬৮     ৩৯     ১     ভারত     সিডনি     ৩রা জানু.২০১২

সবার আগে দল

বাই যখন মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ সেঞ্চুরির প্রশংসায় ব্যস্ত তখন তিনি নিজে কী ভাবছেন। অবশ্যই দলের কথা। সেই চিন্তা থেকেই অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এবং বিশ্বরেকর্ডের হাতছানি তুচ্ছ করে যথেষ্ট সময় হাতে থাকার পরও ৪ উইকেটে ৬৫৯ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছেন ক্লার্ক। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলেন, 'রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবিনি। ডন ব্র্যাডম্যান এবং মার্ক টেলরের স্কোর আমার মাথায় ছিল না। আমি দলের জন্য রান

নিউ ক্যাসেল’র কাছেও হারলো ম্যান ইউ

স্পোর্টস ডেস্ক: টানা দ্বিতীয় খেলায় হার মেনে শীর্ষ স্থানের সঙ্গে নিজেদের পয়েন্ট পার্থক্য বড় করলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বুধবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের খেলায় নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কাছে এ হার ৩-০ গোলের। নিউক্যাসলের পক্ষে গোলের শুরু করেন স্ট্রাইকার ডেম্বা বা। মওসুমে এটা তার ১৫ নম্বর গোল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেন ইয়োহান কাবায়ি। আর খেলার শেষ মিনিটে সমর্থকদের হতাশা বাড়িয়ে নিজ জালে গোল ঠেলে দেন ম্যানইউ ডিফেন্ডার ফিল জোন্স। নিউক্যাসলের জেমস পার্কের মাঠে এদিন ইংলিশ তারকা ওয়েন রুনিকে মাঠে নামিয়েছিলেন ম্যানইউ কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তবে মাত্র শেষ ১৬ মিনিটের জন্য বদলি হিসেবে খেলতে নেমে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করা ছড়া রুনি কাজের কাজ করতে পারেননি কিছুই। প্রিমিয়ার লীগের আগের ম্যাচে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের কাছে নিজেদের মাঠে ২-৩ গোলে হেরে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকারা। কোচ ফার্গুসন বিরাগ নিয়ে সেই ম্যাচে দলের সেরা তারকা রুনিকে সাইড লাইনে বসিয়ে রাখেন। সস্ত্রীক ডিনারে যাওয়া নিয়ে কোচের সঙ্গে আগের দিনের বিতর্কে ১ লাখ পাউন্ড জরিমানাও করা  হয়েছে রুনিকে। বুধবার নিউক্যাসলের কাছে পরাজয় শেষে ফার্গুসন বলেন, ‘এমন নয় যে সুযোগ শেষ। ম্যান সিটি এগিয়ে আছে ঠিক।’
তবে এ পরাজয়ে আলাদা চিন্তার অবকাশ রয়েছে ফার্গুসনের জন্য। কারণ, টানা দুই হারটা না আবার তিন হয়ে যায়। আগামী রোববার এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে রেড ডেভিলরা মোকাবিলা করবে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানসিটিকে। তবে প্রিমিয়ার লীগে বুধবার দারুণ জয় শেষে স্বাভাবিক উৎফুল্ল প্রকাশ করেন নিউক্যাসল কোচ অ্যালান পারডিউ ‘আমরা জিতেছি, কারণ পুরো খেলাটাই খেলেছি আমরা পরিকল্পনা মাফিক। তাদের খেলতে দেবো না লক্ষ্য ছিল।’ এ দিন খেলার শুরু থেকে স্বাভাবিক ছন্দেই দেখা দেয় রেড ডেভিলরা। আগের ম্যাচে দুই গোল করা বুলগেরিয়ান তারকা দিমিতার বারবাতোভের হেড গোলপোস্টে না লাগলে ম্যানইউ-ই হয়তো খেলায় এগিয়ে যেতো। কিন্তু মাত্র মিনিট পরেই দেম্বা বা’র গোল স্বাগতিকদের গুছিয়ে দেয়ার সঙ্গে বিক্ষিপ্ত করে ম্যানচেস্টার তারকাদের খেলা।

অশোভন কোহলির জরিমানা

স্পোর্টস ডেস্ক: দর্শকদের দিকে অশোভন অঙ্গভঙ্গির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে ভারতের এই মুহূর্তে ফর্মহীন ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলিকে। গতকাল সকালে সিডনি টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে জানানো হয় এ খবর। কোহলির ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ জরিমানা করেন আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে। তার আগে কোহলি শুনানিতে হাজির হন ভারত ম্যানেজার শিবলাল যাদবের সঙ্গে। আর কোহলির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে- মিডিয়াকে  এসব জানান ভারতের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিএস ওয়ালিয়া। ঘটনা ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের। সাফল্যহীন-ক্লান্ত ভারতীয়রা এদিন মাত্র এক উইকেট ফেলতে সক্ষম হয় অসিদের। আর অসিরা সারাদিন বোলিং তুলোধুনো করে তুলেছিল ৩৬৬ রান। এ সময় দড়ির কাছে ফিল্ডিং দিতে যান বিরাট কোহলি। দর্শকদের সঙ্গে উত্তেজনা বিনিময়ের একপর্যায়ে অশালীন আচরণ করেন কোহলি দর্শকদের দিকে। পরে কোহলি বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তার টুইটার ব্লগে। লিখেছেন, আমি মানছি একজন ক্রিকেটারের এমন আচরণ শোভা পায় না। কিন্তু তারা মা-বোনকে নিয়ে এমন বাজে কথা বলছিল যে, মাথা ঠিক রাখা যায় নি।’ তবে কোহলির এমন টুইটে সহানুভূতি পেয়েছেন ইংলিশ তারকা কেভিন পিটারসনের কাছে। কোহলির টুইটে সাড়া দিয়ে পিটারসন লেখেন, হা হা হা হা হা! অসি ভূমিতে তোমায় স্বাগতম!! অস্ট্রেলিয়ার দর্শকরা এমনই। নিজ দল খারাপ করলেও তাদের কাছে নিস্তার পায় না।’ কোহলিকে অভিজ্ঞতা প্রদান করেন পিটারসন।

বিশ্বরেকর্ডের প্রলোভন তুচ্ছ

স্ট্রেলিয়ার প্রতি বিশেষ মমত্ববোধ নিয়ে ক্রিকেট খেলেন মাইকেল ক্লার্ক। বোঝা গিয়েছিল ব্যাঙ্গালোরে জীবনে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করার সময়। হেলমেট রেখে সেদিন ব্যাগিগ্রিন পরেছিলেন তিনি। গতকাল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রিপল সেঞ্চুরির সময় ব্যাগিগ্রিন পরেননি। তাতে কী? একটু পর ক্লার্কের নেওয়া ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্তে ভিন্ন এক ব্যঞ্জনা ছড়িয়ে পড়ল শতাব্দীর প্রাচীন মাঠে। নিজে ৩২৯ রানে অপরাজিত থাকা অবস্থায় তুচ্ছ করলেন বিশ্বরেকর্ডের হাতছানি। পুরোদস্তুর

রাজারহাটে পাঠকজমিনের শীতবস্ত্র বিতরণ

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: মানবজমিনের পাঠকজমিন রাজারহাট শাখার উদ্যোগে গতকাল ৩ শতাধিক দুস্থ, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। প্রেস ক্লাব রাজারহাট চত্বরে শীতবস্ত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজারহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাঠকজমিনের রাজারহাট শাখার প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ আবু নুর মো. আক্তারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাহেনুল ইসলাম ও রাজারহাট থানার ওসি মো. ছাদেকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ জহির উদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আদম আলী সরকার, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি এম আজিজুল হক, পাঠকজমিন রাজারহাট শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল হক রেজা, প্রেস ক্লাব সাঃ সম্পাদক আনিছুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ বাবলু, কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুস সালাম, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

ইসলামী ব্যাংক রসুলপুর শাখায় সাংবাদিকদের মতবিনিময়

ম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নববর্ষ উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংক বসুরহাট শাখার পক্ষ থেকে ১০০ দিনের সেতুবন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জের সব সাংবাদিকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইসলামী ব্যাংক বসুরহাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সানাউল্যাহ। বুধবার ইসলামী ব্যাংক বসুরহাট শাখার কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব-এর প্রতিনিধি আনোয়ার তোহা, সাধারণ সম্পাদক ও ইত্তেফাক প্রতিনিধি জাফর উল্যাহ পলাশ, মানবজমিন প্রতিনিধি নাজিম উদ্দিন খোকন, যুগান্তরের প্রতিনিধি মো. জাফর উল্যাহ, দৈনিক জনতা প্রতিনিধি এহসানুল হক খসরু, সাপ্তাহিক নোয়াখালী কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মাইন উদ্দিন আহাম্মেদ সেলিম ও বার্তা সম্পাদক শরফুদ্দিন শাহীন, নয়া দিগন্ত প্রতিনিধি ফরিদ উদ্দিন, সমকাল প্রতিনিধি তবিবুর রহমান টিপু, যায়যায়দিন প্রতিনিধি মো. ইব্রাহীম জহির, ডেসটিনি প্রতিনিধি সালাউদ্দিন, ভোরের কাগজ প্রতিনিধি বেলায়েত হোসেন চৌধুরী, দৈনিক জাতীয় নিশান-এর প্রতিনিধি মেজবাহ উদ্দিন, বাংলাবাজার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, মুক্ত খবর প্রতিনিধি জাকের হায়দার চৌধুরী সেন্টু, বাংলাদেশ সময় প্রতিনিধি আবদুল মান্নান, দিনকাল প্রতিনিধি ইউনুছ সুমনসহ সাংবাদিকবৃন্দ।

রানে ফিরলেন আশরাফুল

তামিম ইকবালের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনাটি কী জাগিয়ে দিল মোহাম্মদ আশরাফুলকে! গতকাল দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে অপরাজিত ৮৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে পেঁৗছে দিয়েছেন আড়াইশ' ছুঁই ছুঁই স্কোরে। আশরাফুলের ব্যাটে রান মানেই দলের জয়। গতকালও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কলাবাগানের পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান রিফাতউল্লা ৯৫ রানের ইনিংস খেললেও ৪০ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আশরাফুলের ওল্ড ডিওএইচএস। গতকাল রান পেয়েছেন জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়া

দুর্গাপুরে ১০ বাড়িতে হামলা

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: আশুগঞ্জের দুর্গাপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১০টি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তাদের হামলায় ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়, জেলা সদর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগম (৫৫) কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের হাজী কাছম আলীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে জারু মিয়ার বাড়ির লোকজনের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের জের ধরে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বুধবার বিকালে জারু মিয়ার বাড়ির গোলাপ মিয়া ও হাজী কাছম আলীর বাড়ির জসিমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গতকাল বিকালে জারু মিয়ার বাড়ির রোমান মিয়া ও গোলাপ মিয়ার নেতৃত্বে তাদের লোকজন হাজী কাছম আলীর বাড়ির লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে মহিলাসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে জানান হাজী কাছম আলীর বাড়ির আবু সাঈদ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

বিয়ের আসর থেকে কনে উধাও

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: প্রেমের টানে বিয়ের আসর থেকে প্রেমিকের হাত ধরে অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছে শাহারা খাতুন (১৭) নামে এক কনে। বুধবার রাতে উপজেলার অনন্তরামপুর কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই গ্রামের আ. ছাত্তার মিয়ার কলেজ পড়ুয়া কন্যা শাহারা বেগমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গুপিনাথপুর গ্রামের জনৈক বরের বিয়ের দিন-ক্ষণ ঠিক হয়। বুধবার রাতে বর ও তার লোকজন উপস্থিত হয় কনের বাড়িতে। জুব্বা-পাগাড়ি পরা বর বিয়ের জন্য প্রস্তুত। মৌলভী ও কাজীর উপস্থিতিতে বর-কনে পক্ষের লোকজন দেন-মোহর নিয়ে কথা বলছিল। এমন সময় বিয়ে আসরে কানাকানি, কনে পালিয়েছে। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর কনেকে উদ্ধার করতে না পেরে অবশেষে ভোররাতে বরযাত্রীরা বিয়ের আসর ত্যাগ করে। উল্লেখ্য, একই গ্রামের টিক্কা খানের পুত্র সাজু মিয়ার সঙ্গে কনে শাহারা খাতুনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমের টানে তারা অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমায়।

এক বছরে শেয়ারধারী বিও একাউন্ট বেড়েছে ৭ লাখ

এম এম মাসুদ: গত এক বছরে একাউন্টে শেয়ার আছে এমন বেনিফিশিয়ারি ওনার একাউন্টের (বিও) সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭ লাখ। গত বছর জুড়ে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতনের কারণে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী প্রবেশ কমে গেলেও বছর শেষে শেয়ারশূন্য বিও একাউন্টের তুলনায় শেয়ারধারী বিও একাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৩৩ লাখ বিও একাউন্ট থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ১২ লাখ বিও একাউন্টে শেয়ার ছিল। আর ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে শেয়ারধারী বিও একাউন্টের সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাজার অতিমূল্যায়িত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশ তাদের বিও একাউন্টে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দেন। বড় ধরনের মুনাফা নিয়ে এসব বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে বের হয়ে গেলে তাদের বিও একাউন্ট শেয়ারশূন্য হয়ে পড়ে। আর এই কারণে ২০১০ সালের ৩০শে ডিসেম্বর ৩৩ লাখ বিও হিসাবের মধ্যে ২১ লাখ বিও একাউন্টের কোন শেয়ার ছিল না।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৩০শে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে মোট বিও একাউন্ট ছিল ৩২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৮টি। যার মধ্যে মাত্র ১১ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৫টি বিও হিসাবে শেয়ার ছিল। অবশিষ্ট ২০ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৩টি বিও হিসাবে শেয়ার ছিল না। শেয়ার না থাকা এসব বিও’র মধ্যে ১২ লাখ ২৬ হাজার ৮২৮টি বিও একাউন্টে কখনোই কোন শেয়ার ছিল না। বাকি ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪৫টি বিও একাউন্টে এক সময় শেয়ার থাকলেও ডিসেম্বর মাসে ভয়াবহ দরপতন শুরু হলে এসব বিও একাউন্ট থেকে সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হয়। অন্যদিকে, ২০১১ সালের ৩০শে ডিসেম্বর পুঁঁজিবাজারে মোট বিও একাউন্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৫ হাজার ৬২৮টি। যার মধ্যে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬টি বিও একাউন্টে শেয়ার রয়েছে। অবশিষ্ট ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯২টি বিও একাউন্টে কোন শেয়ার নেই। শেয়ার না থাকা এসব বিও একাউন্টের মধ্যে ৪ লাখ ১ হাজার ২১০টিতে কখনই কোন শেয়ার ছিল না। বাকি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ১৮২টি একাউন্টে এক সময় শেয়ার থাকলেও বর্তমানে কোন শেয়ার নেই। সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে শেয়ারসহ বিও একাউন্টধারী বেড়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬১টি। এদের মধ্যে আবার ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫ মাসে শেয়ারধারী বিও একাউন্ট বেড়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪টি এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ মাসে বেড়েছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৬৭টি। সূত্রে মতে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে শূন্য শেয়ার ধারণকারী বিও একাউন্টের সংখ্যা ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪৫টি থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে কমে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ১৮২টিতে নেমে আসে। এ ছাড়াও এ সময় অব্যাহত বিও একাউন্টের সংখ্যা ১২ লাখ ২৬ হাজার ৮২৮ থেকে কমে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ১৮২টি নেমে আসে। অব্যবহৃত বিও একাউন্টের একটা বড় অংশ আইপিওতে আবেদন করার জন্য খোলা হয়ে থাকে। যাদের আইপিও (প্রাথমিক গণ-প্রস্তাব) বিনিয়োগকারী বলা হয়। বাজারে ভাল কোন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে এরা বিও একাউন্ট খুলে আইপিও’র জন্য আবেদন করে। পরবর্তী সময় আইপিও’র শেয়ার লটারিতে বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদের বিও একাউন্টগুলো অব্যবহৃত থেকে যায়। এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, গত বছর অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে বড় ধরনের মুনাফা নিয়ে বের হয়ে গেছে। এসব বিনিয়োগকারী আবার বাজার নতুন করে প্রবেশ করছে। আবার বাজারে বড় ধরনের দরপতনের পর অনেক নতুন বিনিয়োগকারী লাভের আশায় বাজারে প্রবেশ করেছে। সে জন্য কোন কোন ব্যক্তি আইপিও’র জন্য বিও খুললেও বাজারের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এসব বিনিয়োগকারী সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করছে। এগুলো পুঁজিবাজারের জন্য ভাল দিক।

সেঞ্চুরিতেই উত্তর মুশফিকের

ক্লাব ক্রিকেট বোধহয় এমনই! মুহূর্তেই কাউকে খলনায়ক বানিয়ে দেয়, আবার মহানায়ক বানাতেও সময় লাগে না। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে নবাগত দল শেখ জামালের হয়ে খেলতে এসে যা হাতে হাতে প্রমাণ পেলেন মুশফিকুর রহিম। আগের ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে হেরে গিয়ে সমর্থক আর কর্মকর্তাদের তোপের মুখে পড়েন অধিনায়ক মুশফিক। শেষ দিকে স্পিনার মাহমুদুল হাসান লিমনকে নির্বাচন করাটা নাকি মুশফিকের চরম ভুল ছিল। ক্লাবটির একটি মহলের ধারণা,

কয়লার দাম ১০ ডলার বাড়ালো ভারতের ব্যবসায়ীরা

ওয়েছ খছরু ও মিনহাজ উদ্দিন, সিলেট থেকে : ভারতের ব্যবসায়ীরা টনপ্রতি কয়লার দাম বাড়ালো ১০ ডলার। আগে মেঘালয় রাজ্য থেকে আমদানি করা কয়লা টনপ্রতি ৫০ ডলারে ক্রয় করতেন ব্যবসায়ীরা। এখন থেকে ৬০ ডলারে ক্রয় করতে হবে। গতকাল সিলেটের তামাবিল শুল্ক স্টেশনে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল প্রায় ১৫ দিন আগে। ১লা জানুয়ারি থেকে ১০ ডলার বেশি দামে কয়লা ক্রয় করা হবে   পৃষ্ঠা ৫ কলাম ২
। কিন্তু গত বছরের এলসি করা কয়লার দাম বাড়িয়ে দিলে এ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এ কারণে এক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা দেখা দেয় তামাবিল স্থলবন্দরে। আমদানি বন্ধ থাকে কয়লা। এ অবস্থায় গতকাল উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা তামাবিলে বৈঠক করে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় আবারও শুরু হতে যাচ্ছে ভারত থেকে কয়লা আমদানি। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন আগামী রোববার থেকে পুনরায় তামাবিল সীমান্ত দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু হবে। এর আগে ২৩শে ডিসেম্বর থেকে এ অচলাবস্থা বিরাজ করলে বুধবার তা নিরসনের জন্য দফায় দফায় আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক হলেও  কোন সুরাহা হয়নি। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ  মোতায়েন করা হয়েছে। সিলেটের কাস্টমস কমিশনার জাকির হোসেন ও গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. মোকসেদুল মুমিন তামাবিল শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করেন। তামাবিল শুল্ক স্টেশনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে বুধবার সকাল ১০টা  থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ নেতৃবৃন্দ তাদের ১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জিরো পয়েন্ট এলাকায় আলোচনায় মিলিত হন। তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন কয়লা ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন ও মিন্টু মজুমদার, জৈন্তাপুর সতের পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির অন্যতম সদস্য আতাউর রহমান বাবুল ও আব্দুস শুকুর, ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মিন্টু, ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, সরওয়ার হোসেন সেদু, সবুজ বাবু, শামছুদ্দিন, আব্দুস ছালাম, নুরুদ্দিন, কয়লা শ্রমিক সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মিয়া ও সেক্রেটারি বাচ্চু মিয়া প্রমুখ। এ সময় ব্যবসায়ী নেতারা তাদের আগের চুক্তি অনুযায়ী কয়লা আমদানি করতে একমত হন। অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার ধর্মঘট ও ব্যবসায়িক সব ক্ষেত্রে কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তামাবিল স্থলবন্দরকে অশান্ত করার পাঁয়তারা করছে। এতে প্রতিদিন সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমদানিকারকরা জানান, আগের চুক্তি ভঙ্গ করে ৫০ ডলারের পরিবর্তে ৬০ ডলারে কয়লা আমদানি করা হলে তাদের কয়েক লাখ ডলার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার বিকাল ৪টায় তামাবিল জিরো পয়েন্টে স্থানীয় আমদানিকারক ও ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে ১৫-২০ মিনিটের এক সমঝোতা বৈঠক হয়। এ সময় দু’দেশের ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ দাবি উত্থাপন করলেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় সভা মুলতবি করে পরদিন আবার সভা ডাকা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় জিরো পয়েন্ট এলাকায় সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ ও তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাবেক সভাপতি আবদাল মিয়া সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিক যুক্তি উপস্থাপন করেন। কিন্তু তামাবিল সমিতির ব্যবসায়ীরা এক দফা দাবি আদায়ে অনড় থাকায়  কোন সমাধান হয়নি। এ সভায় দুই সমিতির  নেতৃবৃন্দ বৃহস্পতিবার পুনরায় ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা  বৈঠক করতে একমত হন। আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়ায়  গোয়াইনঘাট থানার ৪০ সদস্যের একদল পুলিশ বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তামাবিল স্থলবন্দরে অবস্থান নেয়। গত ২৩শে ডিসেম্বর  থেকে বড়দিন উপলক্ষে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা রপ্তানি বন্ধ রাখে। কিন্তু পরবর্তীতে আর কোন কয়লা বাংলাদেশে রপ্তানি করেনি। কারণ ২০১১ সালে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিটন কয়লা ৫০ ডলার দামে চুক্তি করা ছিল। নতুন বছরে নতুন করে প্রতি টন কয়লা ৬০ ডলার দাম নির্ধারণ করে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি এমদাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ, সাবেক সভাপতি আব্দাল মিয়া, আবদুল হামিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, হাজী কলন্দর আলী, শাহ আলম, শামসুদ্দিন ও ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ। আর ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ট্রেড চেম্বারের সভাপতি মি. থান, সাধারণ সম্পাদক মি. ইয়াং, এবি খাবিয়ান, মি. ঠাকুর, মি. স্টোন, মি. পল। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা জানান, তারা আশা করছেন খুব শিগগিরই আবার কয়লা আমদানি শুরু করা হবে।

মাহমুদুর রহমানকে বিমানবন্দরে হয়রানি

স্টাফ রিপোর্টার: চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার পথে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বিমানবন্দরে বাধা দেয়া হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের নিয়মিত ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময় বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ক্লিয়ারেন্স-এর কথা বলে তাকে দু’ঘণ্টা আটকে রাখে। ওসি ইমিগ্রেশনের কক্ষে তাকে বসিয়ে রাখা হয়। মাহমুদুর রহমানকে বলা হয়, বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এ সময় তিনি বাইরে বের হতে চাইলেও তাকে নিষেধ করা হয়। পরে বিমান ছাড়ার চূড়ান্ত মূহূর্তে তাকে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। বিমানবন্দর থানা ও মাহমুদুর রহমানের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আসিফ যা বলেছিলেন-

স্টাফ রিপোর্টার: বেসরকারি টেলিভিশন ‘বাংলাভিশন’-এর সরাসরি  পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৬
সমপ্রচারিত অনুষ্ঠান ‘ফ্রন্ট লাইন’-এ এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, উনি যেটা বলেছেন, ধরেন জামায়াতে ইসলামীদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। এটা ভাই, আপনার সাথে আমি একটু দ্বিমত পোষণ করি। কারণ আমরা যতটুকু জানি, ওই সময়ে যে, আপনার বিভিন্ন বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, সেটার সাথে জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় কিছু লিডার জড়িত ছিল। এখন অনেক তরুণ লিডার আছে, যারা ওই সময়ে আপনার অবশ্যই জড়িত ছিল না। কিন্তু যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সম্পর্কে তো আপনার একমাত্র দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছাড়া- আমার জানা মতে আর বাকি সবারই, যতটুকু আমি পড়াশোনা করেছি, ইনভলমেন্ট ছিল। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের কি ইনভলমেন্ট ছিল? উনি তখন জামায়াত লিডারও ছিলেন না, উনি কোন বিখ্যাত লোকও ছিলেন না, যুদ্ধাপরাধ করার মতো ক্ষমতাও উনার ছিল না। উনাকে কেনই জড়ানো হয়েছে তা আমি জানি না, ওটা আদালতের রায় বের হলে বুঝতে পারবো।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা অভিযোগ দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার: জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও তার রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রসিকিউশন পুনর্বিন্যস্ত অভিযোগ জমা দেয়। এ অভিযোগ আমলে নেয়া, না নেয়ার বিষয়ে আগামী ৯ই জানুয়ারি
পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৩
আদেশ দেয়া হবে। এর আগে প্রথমবারের অভিযোগ সুবিন্যস্ত না হওয়া ও অগোছালো হওয়ার কারণে ২৬শে ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তা ফেরত দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতেই এই অভিযোগ দাখিল করা হলো। এদিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দান ও গোলাম আযমের মামলা বাতিলের ব্যাপারে তার আইনজীবীর দাখিল করা আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন,  অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে শ্রেণীবদ্ধভাবে ও সুবিন্যস্ত করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আবার দাখিল করা হয়েছে। এ অভিযোগ আমলে নেয়া বা না নেয়ার বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ই জানুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছে। ১২ই ডিসেম্বর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। তাতে ৫২টি অভিযোগ উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল জানায়, অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত ও প্রতিবেদন যথাযথভাবে বিন্যস্ত করা হয়নি। এ জন্য তা পুনর্বিন্যস্ত করে ৫ই জানুয়ারির মধ্যে আবারও দাখিল করতে ওই দিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ফেরত দেয়া হয়। তবে এবারের অভিযোগপত্রে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৬২টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা ও তাদের সঙ্গে চক্রান্তের ৬টি, তাদের সঙ্গে পরিকল্পনার ৩টি, উস্কানি  দেয়ার ২৮টি, সম্পৃক্ততার ২৪টি এবং ব্যক্তিগতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের একটি অভিযোগ রয়েছে।

সারের বস্তায় সিমেন্ট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে কৃষকদের মাঝে বিতরণকৃত রাসায়নিক সারের বস্তায় মাটি, সিমেন্ট ও ইটের টুকরো পাওয়ার অভিযোগে কৃষি অফিস ঘেরাও করেছে কৃষকরা। পাশাপাশি সারের বস্তা ফেরত দিয়ে কৃষি অফিসের সামনে জড়ো করে রাখা হয়েছে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে কৃষি অফিস ঘেরাও করলে হঠাৎ অফিসে তালা দিয়ে কৃষি অফিসার উধাও হয়।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফোরকান শিকদার জানান, রবি মওসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের ভুট্টো আবাদে সহায়তার আওতায় সরকার রাসায়নিক সার বিতরণ করে। গত ২ জানুয়ারি থেকে সদর উপজেলার ৯শ’ ভুট্টো চাষির মাঝে ২৫ কেজি ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) এবং ২৫ কেজি এমওপি (মিউরেট আব পটাশ) রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল থেকে কৃষকরা সারের বস্তাগুলো নিয়ে উপজেলায় হাজির হলে দেখা যায় যে, এগুলো আসলে কোন সার নয়। সব বস্তায় সারের নামে ইট পাথরের গুঁড়ো এবং সিমেন্টের জমাটবাদা টুকরো ভরা।
বড়বিঘাই ইউনিয়নের কৃষক ওহাব খলিফা জানান, ইট দিয়েও সিমেন্টের এসব টুকরো ভাঙা যায় না। এগুলো জমিতে দিলে জমির উর্বরতা নষ্ট হবে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
বল্লবপুর এলাকার কৃষক নজরুল, মাইনুদ্দিন জানান, কৃষকদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসারও জড়িত।
এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মিলে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা উপজেলা চত্বর ত্যাগ করতে থাকেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধা জানান, আপাতদৃষ্টিতে এগুলো সার বলে মনে হচ্ছে না। এটি একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। এর পিছনে কারা জড়িত তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, এগুলো আসলে সার না অন্য কিছু তা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বখাটের উৎপাতে করিমগঞ্জে স্কুলে যেতে পারছে না ফারজানা

করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা: করিমগঞ্জে এক বখাটের উৎপাতে বিদ্যালয়ে  যেতে  পারছে না ফারজানা আক্তার (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রী। তার লেখাপড়া বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সে উপজেলার কান্দাইল উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা আবুল কাশেম উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশে অভিযোগ করেও কোন সুরাহা করতে পারছেন না।
উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কলাবাগ গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে ফারজানা আক্তার স্থানীয় কান্দাইর উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর  ছাত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাকে প্রেম নিবেদনসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছে বানকাটা গ্রামের জালাল উদ্দিনের বখাটে ছেলে মোহাম্মদ (২২)। কিন্তু ফারজানা প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। পরে তারা স্কুল পরিচালনা কমিটিসহ প্রধান শিক্ষকের কাছে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে। এতে মোহাম্মদ  ক্ষিপ্ত  হয়ে মোবাইলে ফারজানার  ছবি তুলে বিকৃত অবস্থায় এলাকায় ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া রাজি না হলে ফারজানাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। তার ভয়ে ফারজানা এখন বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছুল আলম আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এক পত্রে অনুরোধ জানিয়েছেন।

‘অভাবে নয় স্বভাবের কারণে চুরি করি’ -কোটিপতি চোর জয়নালের স্বীকারোক্তি

নূরুজ্জামান: ‘অভাবে নয়, স্বভাবের কারণেই চুরি করেছি। উচ্চশিক্ষিত ছেলের কথায় অনেক আগেই চুরি করা ছেড়েছিলাম। কিন্তু বিমানবন্দরে গেলেই মাথা ওলট-পালট হয়ে যায়। লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শাখায় একটি টেলিভিশন দেখেই জেগে ওঠে চুরির নেশা। টিভি নিয়ে পালানোর সময়ই এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাই।’ এভাবেই বিমানবন্দর থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘ ২০ বছরের চৌর্যবৃত্তির কথা অকপটে স্বীকার করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক কর্মচারী জয়নাল আবেদীন (৫৪)। তিন দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে গতকাল জয়নাল জানিয়েছে, তার দুই স্ত্রীর ঘরে ৫ জন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। সবাই উচ্চশিক্ষিত। বড় ছেলে ইমন বর্তমানে লন্ডনে সিএ পড়ছে। দুই ছেলে ঘরে এনেছে উচ্চশিক্ষিত বউ। আগের স্ত্রী মারা যাওয়ায় নিজেও আরেকটি বিয়ে করেছে। তাকে নিয়েই বর্তমানে সে অবসর সময় কাটাচ্ছে। বিমানবন্দর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আজম বলেন, কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপন ও চুরির পেশা বজায় রাখতেই জয়নাল নিজের বাসায় থাকতো না। থাকতো তার সম্বন্ধী ও হত্যা মামলার আসামির বাড়িতে। তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল চুরির কথা স্বীকার করে বলেছে, অবসরের কারণে মাঝে-মধ্যেই বেড়াতে যাই বিমানবন্দর এলাকায়। আর তখনই জেগে ওঠে আগের চুরির নেশা। বিদেশী ব্রান্ডের দামি জিনিসপত্রের লাগেজ চোখে পড়লেই চুরির স্বভাব জেগে ওঠে। তদন্ত সূত্র জানায়, বিমানের কর্মচারী থাকাকালে জয়নাল প্রায় ২০-২১ বছর ধরে বিমানবন্দর এলাকায় লাগেজসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। এ সময় তার সঙ্গে ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন ও বিমানবন্দরের তিন চোর সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন। বিভিন্ন কৌশলে তারা প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকার মালামাল চুরি করেছে। ইতিমধ্যে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিমানবন্দরের আরেক চোর ও বিমানের চালক বারেককে গ্রেপ্তার করে দু’দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া তার আরেক সহযোগী মোস্তফাকে খোঁজা হচ্ছে। তদন্ত সূত্র জানায়, জয়নাল চুরির কথা স্বীকার করলেও বারেক ধূর্ত। নানা কৌশলে সে চুরির কথা গোপন রাখার চেষ্টা করছে। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ সূত্র জানায়, বিমানবন্দর কেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ চোর দলের নেতা জয়নাল। তার অধীনে বিমানবন্দরে কর্মরত প্রায় ৫২ জন চোর কর্মচারীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গোপন নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চুরির মালামালসহ হাতেনাতে জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগেও গত বছরের ৯ই জানুয়ারি চোরাই লাগেজসহ সে গ্রেপ্তার হয়েছিল। আর্মড সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) আতিকুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকা, আমদানি এলাকা ও লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শাখায় চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা ওত পেতে থাকে। সুযোগ বুঝে মালামাল নিয়ে সটকে পড়ে। তদন্ত সূত্র জানায়, লাগেজ চোর জয়নাল রাজধানীর দক্ষিণ খান থানা এলাকায় ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও কসমেটিক্স সামগ্রীর পাইকারি সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের বাসায় ওইসব চোরাই পণ্যসামগ্রীর গোডাউন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস, কম্বল, জামাকাপড় ও বিদেশী ব্রান্ডের ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল জানিয়েছে, তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। সেখানে নতুন স্ত্রীর নামে চার বিঘা জমি কিনেছে। তৈরি করেছে পাকা বাড়ি। নিজের এলাকায় বিমানের অফিসার হিসেবে পরিচিত। তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, জয়নাল প্রায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। দক্ষিণ খানে নিজের নামে ৫ কাঠা জমি রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রেন্ট-এ কারে তার কয়েকটি প্রাইভেটকার ভাড়ায় চলে। তবে এ বিষয়ে সে এখনও মুখ খোলেনি। তবে পুলিশের কাছে তার সহযোগী হিসেবে সিভিল এভিয়েশন ও বিমানবন্দরের বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নাম ফাঁস করেছে। সে তথ্য অনুযায়ী বিমানবন্দর থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। বিমানবন্দর থানার ওসি সামসুদ্দীন সালেহ আহমেদ বলেন, বিমানবন্দর এলাকার চোর সিন্ডিকেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে সিভিল এভিয়েশন ও বিমানের কতিপয় অসাধু কর্মচারী জড়িত। তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। এপিবিএন সূত্র মতে, এর আগে জয়নালের চোর দলের দুই সদস্য জিএমজি এয়ারলাইন্সের কর্মচারী সিরাজুল ইসলাম ও সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মী দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আমদানি গোডাউন থেকে সাত ড্রাম কেমিক্যাল চুরির সময় ধরা পড়েছিল। সূত্র জানায়, ২০১০ সালে বিমানবন্দর এলাকায় ৩৫২টি চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময়ে চুরি, প্রতারণা ও পাচারকাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭৩ জনকে আটক করা হয়।

টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ জানাতে সিলেট যাচ্ছেন ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার: টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধের প্রতিবাদ জানাতে আগামী ১১ই জানুয়ারি সিলেট যাচ্ছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সংগঠনের নেতা, সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক এডভোকেট শেখ আখতার-উল ইসলাম গতকাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, সিলেট তথা ভাটি অঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে এ বাঁধ রুখতে হবে। উদ্বিগ্ন  পৃষ্ঠা ২০ কলাম ৬
মানুষের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে বিভাগীয় সদরসহ জেলা-উপজেলায় তার সফরের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ড. কামালের সফর সফল করতে সুরমা ও কুশিয়ারা বিধৌত  সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এডভোকেট আখতার। এসব সভা থেকে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য ভারতের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। উপজেলা গণফোরাম সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শিবুপ্রসাদ দাসের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম, সাদিক আহমেদ, বাবর আহমেদ চৌধুরী, আবুল হোসেন মেম্বার, ইশরাক আলী, সাংবাদিকদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, শহিদুর রহমান সুহেদ, এনামুল হক এনাম, শাহিন আলম শাহেদ, এডভোকেট কবির আহমদ বাবর, আবুল হাসনাত ও মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন চান ড. ইউনূস

মানবজমিন ডেস্ক: বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিক্ষিত সমাজকে বাণিজ্যিক স্বার্থসিদ্ধির পরিবর্তে আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ক্ষুদ্রঋণের জনক ড. ইউনূস মঙ্গলবার ভারতের কেরালা রাজ্যের অমৃতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টেকনোলজি ইনহ্যান্স এডুকেশন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে বলেন, সমাজের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবসা, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়। ড. ইউনূস তার বক্তৃতায় মুনাফা উপার্জনের জন্যই ব্যবসা এ তত্ত্ব পরিহার করার এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের গরিব ও অভাবী মানুষের জীবন উন্নত করতে মোবাইল ফোনের মতো আরও ডিজিটাল পণ্য উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সে সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মতো সমস্যাকবলিত দেশগুলোকে উন্মুক্ত প্রযুক্তি সন্ধানেরও আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাদের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বর্তমানে এ ব্যাংকের ৮৩ লাখ ঋণগ্রহীতা রয়েছে বলে জানান।
এসব ঋণগ্রহীতার ৯৭ ভাগই মহিলা। ড. ইউনূস আরও বলেন, এ পদ্ধতির ফলে মানুষ ভিক্ষা করা ছেড়ে দিয়েছে। বর্তমানে ২২ হাজার মানুষ ভিক্ষা করার পরিবর্তে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছে। তার মতে, তিনি যখন গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগই বিদ্যুতের আলোবঞ্চিত ছিল। সোলার হোম সিস্টেমের সাহায্যে অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের দিকে এ সিস্টেম চালুর শুরুতে মাসে মাত্র ১০টি সৌর প্যানেল বিক্রি হতো। বর্তমানে হাজারো ভিক্ষুক প্রতিদিন হাজার হাজার সোলার প্যানেল বিক্রি করছে। ইউনূস আরও বলেন, বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ সোলার প্যানেল বাংলাদেশে কাজ করছে। এ বছরের মাঝের দিকে তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তার মতে, একই ধরনের বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে মোবাইল ফোন জগতেও। সম্মেলনে অমৃতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট স্বামী অমৃতাস্বরূপানন্দ প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপচার্য পি ভেঙ্কটারঞ্জন সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রার বর্ণনা দিয়ে বক্তৃতা করেন।

যুদ্ধাপরাধের বিচার রাজনৈতিক নয়

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা মানুষদের হত্যা করেছে, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদেরই বিচার শুরু হয়েছে। এ বিচার কোন  রাজনৈতিক বিচার নয়। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রেমিনোলজি (বিএসসি)’র দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতা যুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের ও গণহত্যাকারীদের বিচার করার জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। যারা ’৭১-এ হত্যা, লুণ্ঠন ও যুদ্ধাপরাধ করেছে তাদেরই বিচার শুরু হয়েছে। যারা এই ধরনের অপরাধ করেছে একাকী বা দলগতভাবেই তাদের বিচার করা হবে। এ বিচার আমাদের দেশেই হবে এবং তা হবে আন্তর্জাতিক আইনেই। আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর সামরিক শাসকরা অবৈধভাবে এই শাসন ক্ষমতা দখল করেছিল। তিনি আরও বলেন, আমদের স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্যকে সামরিক শাসকরা ধ্বংস করেছে। সামরিক শাসকরা তাদের ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করেছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমেরিকার ভার্জেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন।

জনতা ব্যাংকের দ্যা ব্যাংকার অ্যাওয়ার্ড লাভজনতা ব্যাংকের দ্যা ব্যাংকার অ্যাওয়ার্ড লাভ

লন্ডন ভিত্তিক ‘দ্যা ব্যাংকার’ ম্যাগাজিন জনতা ব্যাংক লিমিটেড-কে ‘দ্যা ব্যাংকার অ্যাওয়ার্ডস-২০১১’ প্রদান করেছে। বিশ্বের ১৪৭ টি দেশের সেরা ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক এ বিরল সম্মান অর্জন করেছে।
দ্যা ব্যাংকার গত এক বছরে ব্যাংক পরিচালনায় অর্জিত প্রবৃদ্ধি ও গুণগত উৎকর্ষতার ভিত্তিতে এ পুরস্কার প্রদান করে। জনতা ব্যাংক এর আগে দ্যা ব্যাংকার্স অ্যাওয়ার্ড, এশিয়ান ব্যাংকিং অ্যাওয়ার্ড এবং ওয়ার্ল্ডস বেস্ট ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড এবং বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।
ব্যাংকের সিইও অ্যান্ড এমডি এস এম আমিনুর রহমান দ্যা ব্যাংকার এর চলতি সংখ্যায় প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে বলেন, শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে জনতা ব্যাংক দেশের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের প্রতিশ্রুত কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে চলেছে। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, পল্লী এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে বিনিয়োগসহ গ্রামাঞ্চলে নতুন নতুন শাখা খোলার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যাংক তার বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ (সিএল) এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ব্যাংক সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা ও ছিন্নমূল জনগণের জীবনধারা উন্নয়নেও কাজ করছে। তদুপরি সুদবিহীন কৃষিঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাংক দারিদ্র্য নিরসনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বৃটেনে ফের আলোচনায় বাংলাদেশী প্রকৌশলী রাজিব

মানবজমিন ডেস্ক: বাংলাদেশী সফটওয়্যার প্রকৌশলী রাজিব করিম বৃটেনে ফের আলোচনার ঝড় তুলেছেন। তিনি বৃটিশ এয়ারওয়েজের একটি বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ স্টাইলে হামলা চালিয়ে কয়েক শ’ মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন অভিযোগে গত মার্চে তাকে জেল দেয়া হয়েছে। কিন্তু জেল থেকে তাকে বন্ধুবান্ধব ও দেশের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কম খরচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্কাইপি ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে না। এ মর্মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। স্কাইপি হলো কম খরচে অনলাইনে ভিডিও লিংক-আপ ব্যবহার করে ফোন সুবিধার মাধ্যম। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাকে এমন সুবিধা দেয়া যায় না। তাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। কারণ, তিনি নিজে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি কম্পিউটার ব্যবহার করে অনেক গোপন তথ্য পাচার করতে পারেন। মুক্তভাবে যে কোন বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। তাকে এমন সুবিধা দেয়া যায় না। তাকে একটি কম্পিউটার সুবিধা দেয়া যায় এবং একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ওপেন করে দেয়া যায়। ২রা জানুয়ারি এ নিয়ে বৃটিশ মিডিয়ায় ফলাও করে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে সেখানে আলোচনার ঝড় চলছে। এতে ৩২ বছর বয়সী রাজিব করিমকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি একটি বৃটিশ এয়ারওয়েজের যুক্তরাষ্ট্রগামী যাত্রীবাহী বিমানে কেবিন ক্রু হিসেবে গিয়ে তাতে বিস্ফোরণের মাধ্যমে হামলা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এতে তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল আল কায়েদার এক নেতা আনওয়ার আল আওলাকির। এ জন্য রাজিব করিমের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগে গত বছর তাকে ৩০ বছরের জেল দেয় উলউইচ ক্রাউন কোর্ট। এ রায় দেন বিচারক ক্যালভার্ট-স্মিথ। তিনি তখন বলেন- বাংলাদেশী বংশোদভূত রাজিব করিমকে তার শাস্তিভোগের পর দেশে ফেরত পাঠানো যাবে। তাকে রাখা হয়েছে ডারবানে এইচএমপি ফ্রাঙ্কল্যান্ডের জেলে। রাজিব করিম দুই সন্তানের জনক। তাকে জেলে এখন একটি পে-ফোন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এতে অনেক বেশি খরচ। ফলে তিনি বন্দিদের জন্য সংবাদপত্র ‘ইনসাইড টাইম’-এ একটি চিঠি লিখেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, জেলখানায় পিআইএন সিস্টেমে আন্তর্জাতিক ফোন কলের খরচ প্রচুর। এক্ষেত্রে একটি প্রকৃত সমাধান হচ্ছে স্কাইপি ব্যবহার করতে দেয়া। এটা ব্যবহারে আইনি বাধা থাকার কথা নয়। কারণ এতে জেলখানার কোন আইন লঙ্ঘন হয় না। স্কাইপি ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে কথা বলা হবে। তার কাছে কল আসবে না। সমপ্রতি আমি স্কাইপি ব্যবহার করে প্রথম একটি কল করার চেষ্টা করি। কিন্তু জেলখানার স্টাফরা আমাকে বাধা দেন।

সাফল্য ব্যর্থতার ৩ বছর

স্টাফ রিপোর্টার: দিন বদল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকারের পাঁচ অগ্রাধিকার প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি হয়েছে কম। অনেক ক্ষেত্রে তা হতাশাজনক। সরকারের তিন বছর পূর্তিতে এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের পাঁচ অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, দারিদ্র্য  ঘোচা ও বৈষম্য রুখো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। তিন বছরের মাথায় সমালোচক ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই অগ্রাধিকার প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সমালোচনা হচ্ছে বেশি।
গত তিন বছরে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি পুরো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি সরকার। দফায় দফায় বেড়েছে নিত্য পণ্যের দাম। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকারের বিষয় সমালোচিত হচ্ছে সরকারের শুরু থেকে। ক্রসফায়ারের সমালোচনা থেকে অনেকটা বেরিয়ে আসতে পারলেও এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে গুমহত্যা। দুর্নীতির সূচকে কিছুটা উন্নতি হলেও দেশের প্রধান প্রধান সেবাখাত এখনও আছে সেই তিমিরেই। তিন বছরে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে এমনটা সরকার বললেও উৎপাদন বাড়াতে করা রেন্টাল এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফাঁদে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে পুরো অর্থনীতি। দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির কারণে ভেস্তে যাওয়ার অবস্থা সরকারের দারিদ্র্য ঘোচানোর প্রতিশ্রুতি।
দ্রব্যমূল্যে পরিস্থিতি: সরকারের বিগত তিন বছরে দ্রব্যমূল্য নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। অথচ সরকারের প্রথম অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল এই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়। বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার রক্ষার বিষয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ক্যাব তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে বাংলাদেশে গত এক বছরে পণ্য এবং সেবার মূল্য গড়ে প্রায় ১২.৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০১১ সালে বাজারে দ্রব্যমূল্য এবং বাড়িভাড়াসহ বেশ কিছু সেবাখাতের মূল্যের হিসাব করে ক্যাব তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ মূল্যবৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে। ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে এসব খাতে গড়ে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭.৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে খাদ্যপণ্যে। এর মধ্যে ভোজ্যতেলে প্রায় ২৬ শতাংশ এবং শাকসবজিতে বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। ২০১১ সালে প্রায় বছর জুড়েই দ্রব্যমূল্যসহ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এর আগের বছরও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি ছিল আলোচনায়। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশ অব বাংলাদেশ টিসিবি’র হিসাবেই ২০১০ সালে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৪২টি পণ্যের দাম বাড়ে আর কমে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি পণ্যের। সরকারের প্রথম দুই বছরে অনেক পণ্যের দাম বাড়ে ৫০ থেকে ১০০ ভাগ পর্যন্ত। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে টিসিবি’র মাধ্যমে কম দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির ঘোষণা দিলেও তিন বছরে এই প্রতিষ্ঠান তেমন সফলতা দেখাতে পারেনি।
আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার: সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত তিন বছরে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি খুব একটা। এই সময়ে বরং অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনার বোঝা বেড়েছে। ক্রসফায়ার, গুপ্তহত্যা, খুন ও গুমসহ সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে সুশীল সমাজ। সমালোচিত হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়। সরকারের প্রথম সময়ে র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ার ও এনকাউন্টার নিয়ে আলোচনা ছিল সর্বত্র। এতে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোতেও ছিল সমালোচনা। সমপ্রতি আর ক্রসফায়ারের খবর তেমন শোনা যায় না। কিন্তু আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে গুপ্তহত্যা ও গুম। এ রকম অনেক ঘটনায় সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা। সামপ্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাতেই চলতি বছর গুম হয়েছেন ৩০ জন। এ পর্যন্ত ১৬ জনের লাশ নদী, হাওর ও জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিএনপি নেতা ও ৫৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের কোন হদিস নেই দু’বছরেও। গত বছরের ২৩শে মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুরে তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীকে ধরতে গিয়ে র‌্যাবের গুলিতে নিরীহ কলেজছাত্র লিমন হোসেনকে পা হারাতে হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩৫৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মারা যান।
গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে ধরে নিয়ে খিলগাঁও থানায় আটক রেখে অপরাধী বলে নির্যাতন করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিচারবিভাগীয় ও পুলিশি তদন্তে খিলগাঁও থানার ওসিসহ তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত এবং আদালতের নির্দেশে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়। অপরদিকে গত শবেবরাতে সাভারের আমিনবাজারে ৬ ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তে সাভার থানার ওসি মাহবুবুর রহমানকে প্রত্যাহার ও এসআই হারেস শিকদার এবং আনোয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়। এছাড়া বিদায়ী বছরে নোয়াখালীতে এক কিশোরকে আটক করে পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝে ছেড়ে দেয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়। এদিকে নরসিংদীর নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে খোদ সরকারেরই ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদের প্রতি। যদিও নিহতের পরিবারের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে অবিযোগ করা হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫৯২ জন এবং আহত হয়েছেন ৪০ হাজার ১৯০ জন। চলতি বছর ইউপি নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৮৩ জন। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ১০ হাজার ৬ শ’ উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী সরকারের ২ বছর ১১ মাসে ৪ সাংবাদিক নিহত, ২৮০ সাংবাদিক আহত ও ৮৮ জন লাঞ্ছিত হয়েছেন। এছাড়া বিরোধী দলের চিফ হুইপের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনা সমালোচিত হয়েছে দেশে-বিদেশে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ক্ষমতার দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছিল। দুই বছরে পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না এলেও তৃতীয় বছর শেষে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রে ভর করে প্রায় ৩০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বেড়েছে। তবে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এই সময়ে চাহিদাকে চেপে রাখে সরকার। ভাড়া করা কেন্দ্রের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে পুরো জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বিগত সময়ে। উৎপাদন বাড়লেও বাড়তি দামে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে বেড়েছে সরকারের ভর্তুকি। এই চাপ সামলাতে সরকার একের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পুরো অর্থনীতিতে। অন্যদিকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। একদিকে যেমন নতুন সংযোগ বন্ধ, অন্যদিকে গ্যাস স্বল্পতার কারণে শিল্পখাতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। আবাসিক সংযোগের ক্ষেত্রে মানুষকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
দুর্নীতির রোধ: দুর্নীতি রোধ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা ছিল সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার। ইশতেহারে বলা ছিল- দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সব  স্তরের ঘুষ, দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনুপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালো টাকা, পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ইশতেহারে দেয়া এসব প্রতিশ্রুতির অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়নি বিগত সময়ে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুদকের দায়ের করা বেশির ভাগ মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় বাতিল করতে সরকারের গঠন করা কমিটি সুপারিশ করেছে। এদিকে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংক এ প্রকল্পে ঋণ দেয়া স্থগিত করায়। বিশ্ব ব্যাংক সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ  তোলে। পরে বিশ্বব্যাংকের পথ ধরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও জাইকা ঋণ সহায়তা বন্ধ রেখেছে। দুর্নীতির অভিযোগ আর সমালোচনার মুখে আবুল হোসেনকে ওই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
দারিদ্র্য ঘোচাও বৈষম্য রুখো: এ খাতে সরকারের ব্যাপক সাফল্যের কথা বলা হলেও  অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এখানে যথেষ্ট অগ্রগতি হবে না। তবে বিগত সময়ে সরকার ন্যাশনাল সার্ভিস কার্যক্রমের আওতায় কর্মসংস্থান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বয়স্ক ও বিধবা ভাতা বাড়িয়েছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ আশ্রয়ন, গৃহায়ণ, আদর্শ গ্রাম কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব দিকে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
অন্যান্য প্রতিশ্রুতি: সরকারের দ্বিতীয় বছরে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে  অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করে সরকার। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সীমান্ত-সংক্রান্ত কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান হয়েছে। অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হয়েছে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীর। তারপরও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার খুব বেশি সফল তা মনে করেন না সংশ্লিষ্টরা। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি না হওয়ায় সমালোচনা আছে খোদ সরকারি দলেই। পদ্মা সেতু নির্মাণ, প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত, প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়সহ অন্য অনেক প্রতিশ্রুতি পূরণেও খুব একটা সাফল্য নেই সরকারের। ঢাকার যানজট নিরসনে বেশ কিছু প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও একটিরও বাস্তবায়ন হয়নি এ পর্যন্ত। ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। পাতাল রেল বা মনোরেল, সার্কুলার রেলপথ এবং এলিভেটেড (উড়াল সড়ক) রাস্তা নির্মাণ করে গণপরিবহন সমস্যার সমাধান, ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকার (অরবিটাল) জলপথ, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার কথা বলা হলেও মহাজোট সরকার এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বিরোধী দল টানা সংসদ বর্জন করে চলেছে। তবে কৃষি ও শিক্ষা খাতে মোটা দাগের সাফল্য রয়েছে বলে মনে করছেন সরকারের সমালোচকরাও।

অর্জন অনেক, জনমনে প্রত্যাশা আরও ছিল

লুৎফর রহমান: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য। সমপ্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নবগঠিত রেল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। সরকারের ভেতর এবং বাইরে থেকে দেখা এই প্রবীণ নেতা মহাজোট সরকারের তিন  পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১
বছরের মূল্যায়ন করে বলেছেন, এই তিন বছরে সরকারের অর্জন অনেক। তবে মানুষের আরও প্রত্যাশা ছিল। সরকার তার নিজস্ব অবস্থান থেকে কাজ করেছে। এই কাজ কারও প্রত্যাশিত হয়েছে, আবার কারও জন্য হয়তো প্রত্যাশিত হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, কৃষি, শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য অভাবনীয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মানবাধিকার ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে অভিজ্ঞ এই নেতা জানিয়েছেন, সমপ্রতি যে গুম ও হত্যার ঘটনা ঘটছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হতে হবে। আর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতায় আসতে হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণ ও কথাবার্তায় সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার এখানে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারতো বলে অনেকে মনে করেন। বিচারকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের তিন বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, মানুষের আরও প্রত্যাশা ছিল। একেক জনের একেক রকম স্টাইল থাকে। শেখ হাসিনা তার নিজস্বতা নিয়ে সরকার পরিচালনা করছেন। তিনি তার মতো করছেন। এটি অনেক জায়গায় মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলেছে, আবার মিলেনি। এটি গণতন্ত্রে থাকবেই।
অন্যদিকে সরকারের তিন বছরের অর্জনের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে কৃষিতে। কৃষিতে তিন বছরে সরকারকে অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সারের দাম কমাতে হয়েছে। কৃষি ঋণ বিতরণ, ১০ টাকায় একাউন্ট করে দেয়াসহ অনেক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে এই তিন বছরে। বিগত বছরে পর পর বাম্পার ফলন হয়েছে। তা না হলে আমরা খাদ্যে মহাসঙ্কটে পড়ে যেতাম। আমাদের সে সমস্যা হয়নি। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগোচ্ছি। শিক্ষায়ও সরকারের অসাধারণ সাফল্য রয়েছে। বছরের প্রথমেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, বই দিতেই তিন মাস চলে গেছে। শিক্ষার্থীদের এই তিন মাস পড়াশোনাই করানো যায়নি। দেশে বিদ্যমান বিরোধিতা ও সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির মধ্যেই এটি একটি বড় সাফল্য। এই সাফল্য আমাদের সকলের।
যুদ্ধাপরাধের বিচার বিলম্ব হচ্ছে- এমন সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, যুদ্ধাপরাদের বিচারে দুু’টি দিক আছে। আন্তর্জাতিক আইনে দেশীয় আদালতে এই বিচার হচ্ছে। এই ধরনের বিচারে আমাদের অতীত কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। ফলে প্রস্তুতিতে সময় লেগেছে। অন্যদিকে সরকার এ বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে পারতো। আরও গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টিকে দেখতে পারতো- এ রকম আলোচনা আছে। এখনও সুযোগ আছে- প্রবীণ ও দক্ষ আইনজীবীদের এই বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার। এটি যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি প্রবীণ আইনজীবীদেরও দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের দায়বোধ থেকে এ কাজে নিজে থেকে এগিয়ে আসা। আদালতও চাইলে তাদেরকে এমিকাস কিউরি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
ভারতের টিপাইমুখ প্রকল্পের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিপাইমুখ ড্যাম হলে প্রতিক্রিয়া হবে ভাটি বাংলার। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় এর প্রভাব পড়বে। এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক নিয়মে যে বর্ষা হয়, হাওর বিলের পানি দিয়ে বোরো চাষ হয় তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে ঠিক কি পরিমাণ ক্ষতি হবে- তা এখনই বলা যাবে না। হয়তো সেখানে একটির জায়গায় দু’টি ফসলও হতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত যে, টিপাইমুখে বাঁধ বা ড্যাম যা-ই হোক এতে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, প্রাণী বৈচিত্র্য ও পরিবেশ বৈচিত্র্য হারাবে। আমি মনে করি এ বিষয়টি নিয়ে একটি যৌথ সমীক্ষার প্রয়োজন। ‘বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবে না ভারত’- ওই বিবৃতিটিই যথেষ্ট নয়। এ জন্য যৌথ সমীক্ষা প্রয়োজন। ভারত আমাদের বন্ধু। তাদের কাছ থেকে আমরা বন্ধুসুলভ আচরণই আশা করি।
আমি ভাটি বাংলার মানুষ। আমি নিজে একজন ভিকটিম হিসেবে বলবো- বিষয়টি যত না রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি সামাজিক। এ নিয়ে ভারতকেও একটু গভীরভাবে ভাবতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দল অনড়, সরকার চাইছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে- এ অবস্থায় সমাধান কোন পথে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা সুপ্রিম কোর্টকে ধ্বংস করে দিচ্ছি। এ থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এ নিয়ে পার্লামেন্টেও আলোচনা করেছি। আমরা বিরোধী দলের জন্যও অপেক্ষা করেছি। তারা যায়নি। এ ছাড়া রায়ে বলা হয়েছে, এই তত্ত্বাবধায়কে প্রধান বিচারপতিদের রাখা যাবে- না। তাদের রাখা না গেলে কাদের রাখা যাবে? আমরা যদি বলি রাজনৈতিক দল থেকে নেয়া যাবে তাহলে এক্ষেত্রেও তারা বিরোধিতা করবে। বলবে, আমাদের তো জিজ্ঞাসা করা হলো না। তারা আলোচনায়ও আসবেন না, সংসদেও আসবেন না- তাহলে সমাধানটা কিভাবে হবে? তাদের এ ধরনের পরামর্শ যারা দেন, তারা রাজনীতিতেও বিশ্বাস করেন না, রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনেও বিশ্বাস করেন না। সংঘাত ও সংঘর্ষের রাজনীতি থেকে ফিরে আসতে হলে এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থেকে ফিরে আসতেই হবে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আমরা ফিরে গেছি। এই অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কোড অব কন্ডাক্ট করা হবে কিনা এ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। বিরোধী দল এ বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে দেখবে বলে আমরা আশা করি। তিনি আরও বলেন, অতীতের কোন সরকার নির্বাচন কমিশন নিয়ে আলোচনা করেনি। প্রেসিডেন্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন গঠনে আলোচনার জন্য। পৃথিবীর সব দেশেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করে। সরকার নির্বাচন করে না। উনারা এখন বলছেন, আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে। তাদের এই বক্তব্যের তো যুক্তি নেই।
সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের, গত তিন বছরে প্রত্যাশিত পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনা আছে। এখানে বিরোধিতা করার সুযোগ আছে। এই যে চট্টগ্রামে পলো গ্রাউন্ড এ বিএনপি’র সমাবেশ করার অনুমতির জন্য তারা আমার কাছে এলো- আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সে সুযোগ দিয়েছি। এটিও তো একটা ইতিবাচক পরিবর্তন। কারণ আমরা সরকারে। বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করাও তো আমাদের দায়িত্ব। এই ইতিবাচক চিন্তা এবং ধারা এগুলোকে প্রকাশ করতে হবে। তুলে ধরতে হবে। এসব বিষয়ে আমাদের আরও সহনশীল হতে হবে, সাহসী হতে হবে।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এটি একার বিষয় নয়। এটি উভয়পক্ষকে করতে হবে। সকলের আচরণের মাধ্যমে প্রত্যেকের নিজের স্বার্থে, গণতন্ত্রের বিকাশের স্বার্থে ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি বলেন, এখন গণতন্ত্রের বড় শক্তি মিডিয়া। আগের আর্মি রুলের মতো, জিয়াউর রহমানের ইয়েস-নো ভোট আর দেশে ফিরবে না। খালেদা জিয়ার সেই আইজ্যা মার্কা নির্বাচন আর দেশে আসবে না। যে দেড় কোটি জাল ভোটের আয়োজন হয়েছিল সেটিও আর ফেরত আসবে না। ইতিবাচক রাজনীতির সংস্কৃতি গড়তে হলে বিরোধী দলকেও ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে।
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় আমি এসেছি। আমি গড্ডলিকা প্রবাহে যাবো না। সেই কারণেই এই কয়দিনের মধ্যে আমি আমার রোডম্যাপ দিয়েছি। এটি এদেশের ক্ষমতার সংস্কৃতিতে একটি নতুন অধ্যায়। এই রোডম্যাপের মাধ্যমে আমি বলে দিয়েছি- কি করতে চাই এবং কি করবো। আমার সামর্থ্য কি আছে। কারণ আমি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়বদ্ধ না। এটি হলো আমার দৃষ্টি। অন্যরা করলে করতেও পারে, আবার না-ও পারে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের বিশাল অর্জন আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে আইন করে প্রধানমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে- দাম বাড়ালো কেন, ফার্নেস অয়েল আনা হলো কেন? দাম বাড়ালেও হবে না, তেল দিয়ে করলেও হবে না, আবার না দিলেও হবে না- তাহলে হবেটা কি?
দ্রব্যমূল্য নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে প্রবীণ এ নেতা বলেন, এটি অনেকটা আন্তর্জাতিক দামের ওপর নির্ভর করে। মুক্ত বাজার অর্থনীতি মানে একেবারে মুক্ত স্বাধীন অর্থনীতি নয়। এখানে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের প্রতিযোগিতার প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু সংবিধান আর স্বাধীনতাই দেননি- তিনি বিএডিসি ও টিসিবি’র মতো প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়েছিলেন। এ দু’টি জিনিস আমাদের জন্য অপরিহার্য। এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে সরকারকেও প্রতিযোগিতায় থাকতে হবে। এছাড়া মন্ত্রীদের কথাবার্তায় ও আচরণে সহনশীল হতে হবে। আরও একটা বিষয় হলো, বাজার অর্থনীতির নামে আমাদের ব্যবসায়ী সমাজও প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে আসেনি। ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আমদানি ও রপ্তানিকারকরা যদি নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করেন, তাহলে মানুষের উপকার হবে। অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি হবে না। এই বিষয়টির সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবিমিশ্র মূল্যায়ন করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, মানবাধিকার বিষয়টি আপেক্ষিক। সামপ্রতিক সময়ে গুম হয়ে যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। এগুলো অবশ্যই আমাদের দেখতে হবে। এটি করা যায় না। আবার দু’-একটা এক্সেস ঘটনা যে ঘটবে না- তা-ও তো বলা যাবে না। তারপরও আমরা একটি স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন করেছি। এই কমিশন অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে।
তিন বছরে দলীয় কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলকে ও জোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তাদের দ্বারাই জনসংযোগটা করতে হবে। স্লোগান দিয়ে যদি কিছু অদক্ষ লোক ঢুকে যায় তাহলে তো হবে না। এটি আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকেই দেখতে হবে। নির্বাচন ছাড়া সাংবিধানিক রাজনীতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আর কোন উপায় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে আহ্বান করবো- আপনারাও সংসদে ফিরে আসুন। আমরা একটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণ করি।
সংসদকে পাশ কাটিয়ে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে ইতিবাচক রাজনৈিতক সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায় না। সব কিছুর পরও দেশটা আমাদের। দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব আমাদের। সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারবো।

কৃষি ও শিক্ষায় পদক্ষেপ ছিল উজ্জ্বল

কাফি কামাল: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। কৃষক
পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৩
নেতা ও সাবেক এ মন্ত্রী এমন এক সময়ে বিএনপি’র মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন যখন রাজনীতিতে পদে পদে ভুল আর ভয়ের দ্বৈরথ। মহাজোট সরকারের তিন বছরের মূল্যায়ন করে তিনি বলেছেন, এ তিন বছর জনগণের হতাশা আর সরকারের ব্যর্থতার সময়কাল। নির্বাচনের আগে দেয়া বহু বর্ণিল প্রতিশ্রুতির একটিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। উল্টো দেশবিরোধী চুক্তি, একতরফা সংবিধান সংশোধনসহ জনমতের বিরুদ্ধে নিয়েছে নানা সিদ্ধান্ত। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টে ভর্তুকি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্য এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। রেমিটেন্স ও বৈদেশিক রিজার্ভে ভাটার টান, শেয়ারবাজারে ধস এবং সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতার কারণে দেশের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে। কূটনৈতিক ব্যর্থতায় হাতছাড়া নানা জাতীয় সম্পদ। অনেকে ধারণা করছেন, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে সরকার বড় ধরনের ব্রেক থ্রু দিতে না পারলে দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় অনিবার্য। এর মধ্যেই সরকারের দুটি খাত কিছুটা সফল। কৃষিতে প্রথম দুই বছর এবং শিক্ষায় পুরো তিন বছর ইতিবাচক পদক্ষেপ আছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা জনশক্তি রপ্তানি খাতে। কারণ দেশের বৈদেশিক আয়ের বড় খাত রেমিটেন্স। এ সরকারের সময়ে নানা দেশ থেকে বিশেষ করে সৌদি আরব, লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল সংখ্যক জনশক্তি ফিরে এসেছে। নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে না, মালয়েশিয়ায়ও বাজার ফিরে পাইনি। ফলে রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। আমরা বিনিয়োগ আকৃষ্ট পরিবেশ ও আস্থা সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম, যা এ সরকার পারেনি। ফলে বিনিয়োগ স্তিমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গৃহায়ণ খাতে। বিদ্যুৎ-গ্যাসের দামবৃদ্ধির কারণে বন্ধ হয়েছে বহু কলকারখানা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। আবার সরকার বিপুল পরিমাণে ঋণ নিয়ে ব্যাংককে সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট ভয়াবহ অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা ঋণ পাচ্ছেন না। কোন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে শুনবেন ব্যাংক টাকা দিতে পারছে না। ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেশের সার্বিক ঊর্ধ্বমুখী ধারাটি এখন নিচের দিকে নেমে এসেছে।
সাবেক এ অধ্যাপক বলেন, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত দুই দশকে কখনও দুই অঙ্কের নিচে নামেনি। এবার রেকর্ড হচ্ছে। রেকর্ড হচ্ছে ডলারের অস্বাভাবিক দামেও। কিন্তু সরকার রিজার্ভের দিকে নজর না দিয়ে নতুন করে নোট ছাপাচ্ছে। খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, মূল্যস্ফীতিই অর্থনীতির সবচেয়ে বাজে ঘটনা। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। সেই মূল্যস্ফীতিতেও রেকর্ড করেছে সরকার। ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থাকে এ সরকার প্রথম থেকেই নেতিবাচকভাবে দেখেছে। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের ঘটনা, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যাপারে অপপ্রচার গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে। বিদেশী সাহায্য সংস্থাগুলো অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। এডিপি বাস্তবায়ন হারে পতন ঘটেছে সাংঘাতিভাবে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া আমাদের জন্য একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। দ্রব্যমূল্য নিয়ে তিনি বলেন, জনগণের হতাশাটা এখানেই যে ক্ষমতায় আসার আগে মহাজোট বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন দফায় দফায় জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষকে ভোগানো দ্রব্যমূল্যের বিষয়টি এতই জটিল হয়ে পড়েছে যে, সবাই বুঝতে পারে সরকারের হাতে এর নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু কেন এ সমস্যা? সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার নামে বিনা টেন্ডারে ইনডেমনিটিসহ দলীয় লোকজনকে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বসানোর অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে দুর্নীতির বিশাল ঘটনা ঘটেছে। যার মাশুল দিতে হচ্ছে এদেশের মানুষকে। পণ্যমূল্য আর ভর্তুকির পুরোটাই যাচ্ছে জনগণের পকেট থেকে।
কূটনৈতিক অদূরদর্শিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের বন্ধুত্ব একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। সবাই ভেবেছিল এবার ভারতের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো একতরফা। মহাজোট সরকার ভারতের সব চাহিদা পূরণ করলেও প্রাপ্তির খাতায় শূন্য। চট্টগ্রাম, মংলাবন্দর ও আশুগঞ্জ স্থলবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে জনগণের দৃষ্টিকে আড়াল করে। কখনও তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। একটি কথা পরিষ্কার বলতে চাই, আমরা এসব ক্ষেত্রে নেতিবাচক নই। অর্থনীতির জন্য কানেকটিভিটির প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে- বন্দর ও করিডোর ব্যবহার করতে দিয়ে আমরা কি পাবো? বলা হয়েছিল, এসব ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে যে আয় হবে তাতে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা কি? একটি পয়সাও আমরা পাচ্ছি না। এতে জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে টানাপড়েনের নেপথ্যে কাজ করেছে- কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে পড়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সামপ্রতিক উত্থান-পতন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে ‘মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক’ বাতিলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ হয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কেন্দ্র করে। আমেরিকাসহ সারাবিশ্বে ড. ইউনূসকে একজন সৃষ্টিশীল, মেধাবী মানুষ হিসাবে জানে, সম্মানের চোখে দেখে। বিশ্ব এখন ইউনূসের নামে বাংলাদেশকে চেনে, বাংলাদেশের নামে তাকে নয়; এটাই বাস্তবতা। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বন্ধু ড. ইউনূসের সঙ্গে সরকারের কলুষিত আচরণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কে চিড় ধরিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্মরণকালের ভয়াবহ দাবি করে তিনি বলেন, এখন যতটা খারাপ আগে কখনও এতটা খারাপ ছিল না। এর জন্য দায়ী সরকারের ভুল নীতি। তারা পুলিশ-র‌্যাবকে ব্যবহার করেছে বিরোধীদল নিপীড়নের কাজে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলাফল লিমন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কাদেরকে পঙ্গু করার ঘটনা। পুলিশি আটক ব্যক্তিকে গণপিটুনির জন্য বিক্ষুব্ধ মানুষের হাতে তুলে দেয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনাও ঘটছে। প্রতিনিয়ত গুম, খুন হচ্ছে। আগে লাশ পাওয়া যেতো এখন লাশও মিলছে না। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে এমনটি হতে পারে না।
মহাজোট সরকারের সাফল্যের দিকগুলো তুলে ধরতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাফল্য কিছুটা দেখা যায় শিক্ষা ও কৃষি দু’টি ক্ষেত্রে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রথম বছরের কিছু পদক্ষেপ ছিল ইতিবাচক। যেমন- কৃষকদের কার্ড করে দেয়া। এর ভিত্তিতে বিদ্যুৎ, তেল ও সার পাওয়া নিশ্চিত হয়। ব্যক্তিগতভাবে এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক বিবেচনা করি। কিন্তু গত বছর থেকে দেখছি সারের মূল্যবৃদ্ধিতে সে সাফল্য মার খাচ্ছে। এ সময় প্রতি বস্তা ইউরিয়ার দাম বেড়েছে ৮০০ টাকা। কৃষকের খরচ বেড়েছে কিন্তু সে অনুপাতে কৃষিপণ্যের দাম পাচ্ছেন না। এছাড়া সরকারের প্রকিউরমেন্ট সব সময়ই মধ্যস্বত্বভোগীদের পক্ষেই গেছে, কৃষকের পক্ষে নয়। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে ভাল কাজ হচ্ছে। সরকার বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিচ্ছে। এ সাফল্যও ম্লান হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্ত্রাসী ঘটনার কারণে। মারামারি, দুর্নীতি আর অনৈতিক কাজে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটছে।
সংসদীয় পদ্ধতিতে বিরোধীদল হিসাবে বিএনপি দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে পারছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, আমরা প্রথম অধিবেশনেই সংসদে গেছি, সহযোগিতা করতে চেয়েছি। সরকার উল্টো আমাদের নেতাদের ব্যাপারে এমন কটূক্তি করেছে, যা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যেই পড়ে না। সবচেয়ে বড় কথা, আলোচনার জন্য আমাদের দেয়া ৩০০০-এর বেশি নোটিশের একটিও গ্রহণ করেননি স্পিকার। জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার সুযোগই দেননি। তাই বাধ্য হয়েই অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকছি। তবে সংসদীয় কমিটির মিটিংয়ে যাচ্ছি, দায়িত্ব পালন করছি। আমরা সংসদে যেতে চাই, ফেরানোর উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। পরিবেশ সৃষ্টি ও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
আন্দোলনে দোদুল্যমানতা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমের মাইন্ড সেট একই ধরনের। মনে করা হয়, লাগাতার হরতাল ও নৈরাজ্যই হচ্ছে কার্যকর আন্দোলন কর্মসূচি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কারণে একটি গুণগত উত্তরণ হয়েছিল।  মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই নির্বাচন হওয়া। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে চায়। ফলে রাজপথের আন্দোলন আগের সে ভূমিকা রাখতে পারছে না। এটাই বাস্তবতা। আন্দোলন ও নৈরাজ্যের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আওয়ামী লীগ মেয়াদপূর্তির একদিন আগেও আমাদের সরাতে পারেনি। তাই আমরা সচেতনভাবেই ওই ধরনের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকতে চাইছি। নেতিবাচক কোন কর্মসূচি দিতে চাই না।
বিএনপি’র আন্দোলন বিক্ষিপ্ত নয় দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি এখন একটি মাত্র ইস্যুতেই আন্দোলনকে কেন্দ্রীভূত করেছে। সেটা হচ্ছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল। এ দাবিতে আমাদের রোড মার্চ সফল হচ্ছে। সাধারণ মানুষ, গ্রামের মহিলারা এতে অংশ নিচ্ছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর পর অনেকেই বলেছিলেন বিএনপি আসুক না আসুক, নির্বাচন হবে। এখন কিন্তু সে কথা কেউ বলতে পারছেন না। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূতও বলেছেন। এমনকি কয়েক দিন আগে একজন প্রখ্যাত সাংবাদিকও বলেছেন, একদলীয় নির্বাচন করতে গেলে জনগণই তা রুখে দেবে। এছাড়া সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীসহ প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহালের দাবি জানাচ্ছে সিপিবি-গণফোরামের মত দলগুলোও। এটাই আমাদের অর্জন, আন্দোলনের সাফল্য। আর সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের কারণে আন্দোলন জোরালো করা যাচ্ছে না। সরকার গুম-খুন করছে, মামলা দিচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের পক্ষে যা মোকাবেলা করা কঠিন।

সংঘাত এড়াতে না পারলে গৃহযুদ্ধ হতে পারে

কাজল ঘোষ: নির্বাচনের দু’বছর থাকতেই বড় দু’দলে বিতর্ক চলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে। আগামী দিনগুলোতে এ সঙ্কটের সুরাহা না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ হতে পারে। এর ওপর রয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট। গুম আর গুপ্তহত্যা তো আছেই। সরকারের পৃষ্ঠা ৪ কলাম ৫
৩ বছরের মূল্যায়নে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ টুডে’র সাবেক সম্পাদক মোহাম্মদ আসাফ্‌উদ্দৌল্লাহ্‌ আরও বলেন, বিএনপির সংসদে না যাওয়ার ঘোষণা তাদের জন্য বড় রকমের রাজনৈতিক ব্যর্থতা। মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সঙ্কট নিয়ে বলেছেন খোলামেলা নানা কথা-
তিন বছরের সাফল্য ও ব্যর্থতা কোথায়?
সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারি। কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের বেশ কিছু দৃশ্যমান সফলতা রয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। গত তিন বছরে কাজের চেয়ে ফ্রন্ট বেশি খোলা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই নতুন শত্রুপক্ষ তৈরি করা হয়েছে। তিন বছরে বড় সফলতা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থাকে, এটি আওয়ামী লীগের প্রথম টার্মে কেন শুরু হয়নি? ছিয়ানব্বইতে জামায়াত তাদের মিত্র ছিল বলেই কি বিচার হয়নি? আর এখন তারা সঙ্গে নেই বলেই কি বিচার করতে হবে? যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে চারপাশে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ঘরে ঘরে যুদ্ধাপরাধী খুঁজে বের করা হবে। এটা কোন আইনের ভাষা হতে পারে না। এটা ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত হতে পারে না। নাগরিকমাত্রেই বিচার চায়, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, রাজনৈতিক, পক্ষপাতদুষ্ট নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। কাল কেটেছে গুম আর গুপ্ত হত্যায়। সবমিলিয়ে মানুষ আতঙ্কিত।
অর্থনীতি কেমন দেখলেন-
দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে ভয়াবহ মাত্রায়। চলতি বছরে যা আরও বাড়তে পারে। বছর শুরু হয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ধাক্কায়। এতে পণ্য মূল্য বাড়বে। অভ্যন্তরীণ ব্যয় নির্বাহ করতে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। এর কোনও সীমা নেই। অর্থবছরের শুরুতে বলা হয়েছিল, ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নেয়া হবে, কিন্তু সেখানে প্রথম ছয় মাসেই নেয়া হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা।
দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। ঘাটতি ব্যয় নির্বাহে সরকার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে করের বোঝা বাড়াচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যুতের দাম আরও বাড়ানো হবে। এ ধরনের ভয় দেখানো কোন সরকারের সুনীতি হতে পারে না। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি’র বাস্তবায়ন অর্থবছরের প্রথম ক’মাসে হয়েছে মাত্র ২৭ ভাগ। ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে সরকার সকল দায় চাপিয়ে দিচ্ছে জনগণের ওপর। অর্থনীতির অবস্থা যেন ঘরের বউকে পেটানোর মতো।
পুঁজিবাজার থেকে ৬০-৯০ হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের চিহ্নিত করা হলো তাদের নাম পর্যন্ত প্রকাশ করা হলো না। তাদের শাস্তি তো অনেক দূরের বিষয়। যে সরকারের এতটুকু সৎ সাহস নেই- সে সরকারের মুখদর্শন করাও উচিত নয়। বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায়। বিনিয়োগ না থাকায় কোন কর্মসংস্থান নেই। দেশে ২ কোটির মতো মানুষ বেকার। অথচ সরকার ঘরে ঘরে চাকরি দেবে বলে একটি অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভোটের লোভে। ইশতেহারের সিকি ভাগও বাস্তবায়ন হয়নি তিন বছরে। দুদককে করা হয়েছে নখদন্তহীন। সেখানে সরকার পক্ষের প্রায় ৮ হাজার মামলা তুলে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর আরও মামলা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা ন্যায়বিচারের লক্ষণ নয়। এটা পক্ষপাতদুষ্ট, অবিচার।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এক বিন্দুও সফলতা নেই। বিদেশ ভ্রমণে কাল কেটেছে মন্ত্রীর। প্রতিবেশী দেশের প্রতি নতজানু নয় অন্তত নির্ভয় হতে ভয় পাবো না- এটিই আমাদের এখানে ঘটেনি। একদিকে শুধু আশার ফুলঝুড়ি আর গালভরা বুলি। আর আমাদের উপহার কাঁটাতারে ঝুলছে ফেলানিদের লাশ। এটা মেনে নেয়া যায় না।
সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল তো সরকারেরই অংশ-
এ দেশে বিরোধী দলকে কখনই ছায়া সরকার হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এখানে যে যখনই সরকারে থাকুক বিরোধী দল হচ্ছে তখন শত্রুপক্ষ। গত তিন বছর বিশ্লেষণ করলে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি’র ভূমিকা খুব ভাল ছিল- এটা বলা যাবে না। রাজপথ ও সংসদ দুই জায়গাতেই বিরোধী দলের সমান ভূমিকা থাকা দরকার। কখনও সংসদে যাবো না- বিএনপি’র এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত অব্যাহত রাখা গণতন্ত্রের জন্য শুভ হতে পারে না। সংসদে কার্যকর ভূমিকা না রাখা বিরোধী দলের বিদায়ী বছরে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
নাগরিক সমাজের ভূমিকাকে কিভাবে দেখছেন-
রাজনৈতিক দলের বাইরে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিক সমাজের উদ্বেগ আমাদের এখানে গত ১৫ বছরের ইতিহাস। রাজনৈতিক দলের মতোই নাগরিক সমাজ দ্বিধাবিভক্ত এমন  অভিযোগ সত্ত্বেও  টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ, তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুতে নাগরিক সমাজ দ্বিধাবিভক্ত ছিল না।  দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এ দেশে যারাই সরকারের সমালোচনা করেন, তাদের ভাল চোখে দেখা হয় না। অন্যায়ভাবে প্রতিপক্ষ ভেবে অপদস্থ করা হয়। আমাদের এখানে নিরপেক্ষতা যেন চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কোন ইস্যুতে যৌক্তিক কারণেও বিরোধিতা করলে তা যদি বিএনপি’র পক্ষে যায় তাহলে আওয়ামী লীগ বলবে, ওই যে বিএনপি। আবার বিএনপি’র বিপক্ষে গেলে বলবে, ওই যে আওয়ামী লীগ। আমাদের গণমাধ্যমের চিত্রও যেন তাই। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার আচার-আচরণ ও উপস্থাপনার ধরন দেখলেই বোঝা যায়, তারা কোন পক্ষ বা মতের।
সংশোধিত সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বড় দু’দলই বাহাসে লিপ্ত-
এ দেশে যিনিই নির্বাচিত হন তিনিই স্বেচ্ছাচারী হয়ে পড়েন। ‘আমি নড়িব না’- এমন অবস্থা চলতে থাকলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল ও ইভিএম নিয়ে যে ধরনের বাহাস চলছে তাতে সামনের দিনে সংঘাত অনিবার্য। আর এ সমস্যা সমাধানে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। নারায়ণগঞ্জের পর কুমিল্লা, নরসিংদীতে এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। উন্নত বিশ্ব, বিশেষত ইউরোপ-আমেরিকায় যখন ইভিএম পদ্ধতিতে ফল জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়ায় এ পদ্ধতি বাতিল হচ্ছে- সেখানে আমরা এ পদ্ধতি প্রয়োগের চিন্তা করছি। ইভিএম পদ্ধতি বাতিল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করলেই বর্তমান সংঘাতময় রাজনীতির অবসান হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ওয়ান ইলেভেনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। নানা আশঙ্কাও কাজ করছে-
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন প্রয়োজন ছিল না। যদি আমরা একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন পেতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের কমিশন তো সরকারের আজ্ঞাবহ। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে প্রেসিডেন্ট সংলাপ শুরু করেছেন। সময় নষ্ট করা ছাড়া এতে কোন ফলাফল আসবে না। কারণ, যার কোন ক্ষমতা নেই তার সঙ্গে সংলাপ করে কি লাভ? তাছাড়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি, তার আগেই তাড়াহুড়া করে সংসদে বিবদমান সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এ বিল কেন বাতিল করা হলো সেটাই বড় প্রশ্ন।
দুই নেত্রীকে কেমন দেখলেন গত তিন বছরে-
রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে জাতিকে ঐকমত্য ও সংহত করা। যিনি এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি রাষ্ট্রনায়ক। তাকে হতে হবে অনেক বেশি ক্ষমাশীল। আমাদের দুর্ভাগ্য তা কখনই পাইনি। ওয়ান ইলেভেনের পর রাজনীতিতে যে গুণগত পরিবর্তন হওয়ার কথা বলা হচ্ছিল তার কিছুই হয়নি। একে অপরের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণু রাজনীতিই যেন আমাদের সংস্কৃতি। দু’জনের কর্মকাণ্ডেই সনু্তষ্টি প্রকাশের কিছু দেখি না। যে প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টি আমরা দু’নেত্রীর কাছ থেকে আশা করেছি তা পাইনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তীর্যকভাবে আঘাত না করে কথা বলতে পারেন না। তিনি আবেগ সংযত করতে পারেন না। বেশির ভাগ সময় কিছু না ভেবেই কথা বলেন। ক্ষমতায় থেকে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন কাজ। জনগণ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতি সমর্থন না করায় শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা কমেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় বিরোধী দলীয় নেত্রী অনেক বেশি সংযত। আবোল-তাবোল কথা কম বলেন। সরকারের কর্মকাণ্ডে বিমুখ মানুষ বিএনপি’র প্রতি ঝুঁকছে। ফলে বিদায়ী বছরগুলোতে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তবে, উনার সংসদে না যাওয়া কোন ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
সামনের দু’বছর কেমন যাবে বলে মনে করেন-
পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে, রাজনীতিতে সংঘাত অনিবার্য। কারও বক্তব্য-বিবৃতিতে বিনয় নেই, সহিষ্ণুতা নেই, সহনশীলতা নেই। দু’টো ট্রেন যখন প্রচণ্ড গতিতে একই লাইনে চলে তখন দুর্ঘটনায় যাত্রীরা মারা যাবে- এটা নিশ্চিত। কথা হচ্ছে, যারা জানে না যে দুর্ঘটনায় মরতে যাচ্ছে তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু যে যাত্রীরা জানে যে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হলে প্রাণে বাঁচা যাবে না- তাদের কথা একবার ভাবুন। আমরা নাগরিকরা দুর্ঘটনাক্রান্ত ট্রেনের সেই অবরুদ্ধ যাত্রী। অনিবার্য সংঘাত থেকে বাঁচতে চলন্ত সেই ট্রেনের অন্তত একটিকে থামতে হবে। একটি সিগন্যালকে ডাউন হতে হবে। আর তা হতে হবে সরকারেরই। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। সুতরাং সংঘাত এড়ানোর দায়িত্বও সরকারের। দ্বিধাবিভক্ত-সংঘাতময় রাজনীতির কারণে দেশে গৃহযুদ্ধ বেধে যেতে পারে। মানুষ সংঘাতময় রাজনীতির পরিবর্তে সমস্যার সমাধান দেখতে চায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, সংসদের দিকে তাকালে মনে হয় সংঘাত যেন দু’টি পরিবারের। মুজিব পরিবার আর জিয়া পরিবার। একে অন্যের ছেলে কি মেয়ে বা বোন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অহোরাত্র গালমন্দ আর কুৎসা চর্চা করা হচ্ছে। আমাদের সংসদে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়, তা কোন শিক্ষিত বা সভ্য মানুষের ভাষা হতে পারে না।