Monday, November 7, 2011

পুতিনের বিরুদ্ধে বউ ‘পেটানো’র অভিযোগ

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে এবার বউ ‘পেটানো’র অভিযোগ উঠেছে। রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে কর্মরত অবস্থায় পুতিন তাঁর স্ত্রী লুদমিলাকে পেটাতেন। এ ছাড়া অনেক নারীর সঙ্গে তাঁর ‘বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক’ ছিল। জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার প্রকাশিত নথিতে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই নথির বরাত দিয়ে গত বৃহস্পতিবার ডেইলি মেইল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিন ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালে পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেন শহরে সোভিয়েত গোয়েন্দা কার্যক্রমের প্রধান ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মান গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাবেক পশ্চিম জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির নথিগুলোতে দাবি করা হয়, ওই সময় এক দোভাষী এজেন্টের সঙ্গে পুতিনের স্ত্রী লুদমিলার বন্ধুত্ব হয়। পুতিনের স্ত্রী ওই এজেন্টকে তাঁদের দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে কথা বলেন। লুদমিলা ওই এজেন্টকে জানান, তাঁর স্বামী পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করে থাকেন। এ ছাড়া অনেক নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক ছিল।
এ গোপন নথিগুলো আবিষ্কার করেন বিএনডির বিশেষজ্ঞ ইরিচ সচমিদত-ইয়েনবম। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাটির ওপর কয়েকটি গ্রন্থের লেখক।
জার্মান পত্রিকা ব্লিদ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে অবৈধ একটি শিশুকে ফেলে বিলাসবহুল গাড়িতে করে পুতিনের জার্মানি ত্যাগের যে গুজব রয়েছে, গোপন নথিগুলো প্রকাশিত হওয়ায় এ গুজব আরও জোরালো হলো।
নথিগুলো এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস-এর মতে, ২০১১ সালের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় পুতিনের নাম দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

কিউবায় ব্যক্তিগত বাড়ি কেনাবেচার আইন অনুমোদন

কিউবায় প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত বাড়ি কেনাবেচার আইন অনুমোদিত হয়েছে। ১০ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। কিউবার নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারাই কেবল এই আইনের আওতায় পড়বে।
প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটিতে মুক্তবাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে যেসব সংস্কার সাধিত হচ্ছে, নতুন আইনটি এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে রাউল কাস্ত্রোর সরকার ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসা করারও অনুমতি দিয়েছে।
কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির দৈনিক গ্রানাডা জানিয়েছে, নতুন আইনটি সম্পর্কে সরকারের প্রজ্ঞাপনে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এ আইনের আওতায় দুই পক্ষের মধ্যে বেসরকারিভাবে আর্থিক লেনদেনও হতে পারবে।
কমিউনিস্ট সরকারবিরোধী অর্থনীতিবিদ অসকার এস্পিনোসা নতুন আইন সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পত্তির অধিকারের স্বীকৃতি দেশকে এগিয়ে নেবে।
গত অক্টোবরে গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের অধিকার অনুমোদনের পর বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত এ আইন পাস হলো।
তবে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন কোনো যানবাহন কেনা এখনো বেশ কঠিন। ১৯৫৯ সালে বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতা গ্রহণের পর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
বাবা-মায়েরা তাঁদের সম্পত্তি সন্তানসন্ততিকে দিয়ে যেতে পারতেন। তবে নতুন করে কোনো সম্পত্তি কেনা বা বেচার অধিকার ছিল না।

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাবেন আন্না হাজারে

আন্না হাজারে গতকাল শুক্রবার বলেছেন, ভারতের ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকার পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশনে জন লোকপাল বিল পাস না করলে যে পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তিনি সেখানে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাবেন। ১৯ দিনের ‘মৌনব্রত’ ভঙ্গ করার পর রাজঘাটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
হাজারে বলেন, ‘যাঁরা বিলটি পাস করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাব। যদি পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশনে বিল পাস না হয়, তাহলে আমি সেখানে গিয়ে প্রচারণা চালাব এবং বলব কংগ্রেসকে ভোট দেবেন না।

কিউবায় ব্যক্তিগত বাড়ি কেনাবেচার আইন অনুমোদন

কিউবায় প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত বাড়ি কেনাবেচার আইন অনুমোদিত হয়েছে। ১০ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। কিউবার নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারাই কেবল এই আইনের আওতায় পড়বে।
প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটিতে মুক্তবাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে যেসব সংস্কার সাধিত হচ্ছে, নতুন আইনটি এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে রাউল কাস্ত্রোর সরকার ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসা করারও অনুমতি দিয়েছে।
কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির দৈনিক গ্রানাডা জানিয়েছে, নতুন আইনটি সম্পর্কে সরকারের প্রজ্ঞাপনে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এ আইনের আওতায় দুই পক্ষের মধ্যে বেসরকারিভাবে আর্থিক লেনদেনও হতে পারবে।
কমিউনিস্ট সরকারবিরোধী অর্থনীতিবিদ অসকার এস্পিনোসা নতুন আইন সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পত্তির অধিকারের স্বীকৃতি দেশকে এগিয়ে নেবে।
গত অক্টোবরে গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের অধিকার অনুমোদনের পর বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত এ আইন পাস হলো।
তবে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন কোনো যানবাহন কেনা এখনো বেশ কঠিন। ১৯৫৯ সালে বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতা গ্রহণের পর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
বাবা-মায়েরা তাঁদের সম্পত্তি সন্তানসন্ততিকে দিয়ে যেতে পারতেন। তবে নতুন করে কোনো সম্পত্তি কেনা বা বেচার অধিকার ছিল না।

মিয়ানমারের কারাগারে অনশনরত বন্দীদের পানি সরবরাহ বন্ধ

মিয়ানমারের কারাগারগুলোতে অনশন করার শাস্তি হিসেবে ১৫ জন রাজনীতিককে খাওয়ার পানি না দেওয়ার খবরে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অ্যামনেস্টি জানায়, ধারণা করা হচ্ছে, ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে আটজন পুরুষ বন্দীকে এমন কক্ষে রাখা হয়েছে, যেগুলো কুকুর রাখার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এই কক্ষগুলোতে কোনো জানালা ও শয্যা নেই এবং মাটিতে কোনো মাদুরও নেই।
মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, অনশনে অংশ নেওয়ার শাস্তি হিসেবে বন্দীদের খাওয়ার পানি সরবরাহ বন্ধ করায় অনশনকারী বন্দীরা পানিশূন্যতায় ভুগে দ্রুত মারা যেতে পারেন এবং এ জন্য কারাগার কর্তৃপক্ষকেই দায়িত্ব বহন করতে হবে।

নয়াদিল্লিতে তিব্বতির আত্মাহুতির চেষ্টা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির চীনা দূতাবাসের সামনে গতকাল শুক্রবার নির্বাসিত এক তিব্বতি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মাহুতির চেষ্টা চালান। পুলিশের সময়োচিত পদক্ষেপে তাঁর সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই তরুণ বিক্ষোভকারী দূতাবাসের সামনে বাস থেকে নেমেই স্লোগান দিতে দিতে নিজের শরীরে জ্বালানি তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় কর্তব্যরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এর মধ্যে অবশ্য ওই বিক্ষোভকারী তরুণের পায়জামা পুড়ে যায়। এতে তাঁর দুই পা সামান্য দগ্ধ হয়।
নয়াদিল্লির পুলিশের মুখপাত্র এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি। নয়াদিল্লির তিব্বতিদের সংগঠন জানিয়েছে, গতকালের আত্মাহুতির চেষ্টা চালানো ২৫ বছরের তরুণের নাম শেরাব তিসেদর।
গত মার্চ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে বাস করা তিব্বতি বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও তাঁদের নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা দালাই লামাকে দেশে ফিরতে দেওয়ার দাবিতে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মাহুতির চেষ্টা করছেন।

চীন ও রাশিয়ার গুপ্তচরেরা অনলাইনে তথ্য চুরি করছে

সাইবার হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানির গোপন তথ্য চুরি করছে রাশিয়া ও চীন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। প্রতিবেদনটি গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে চীন ও রাশিয়া বলেছে, এটি কাণ্ডজ্ঞানহীন ও অপেশাদারি অভিযোগ।
ফরেন স্পাইজ স্টিলিং ইউএস ইকোনমিক সিক্রেটস ইন সাইবারস্পেস শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার গুপ্তচরবৃত্তিতে চীন ও রাশিয়ার গোয়েন্দারা সবচেয়ে সক্রিয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাইবার-নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানান, তাঁদের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সাইবার হামলার শিকার হয়। হ্যাকাররা তাদের নানা তথ্য চুরি করেছে। ধারণা করা হয়, এসব হামলা চীনের হ্যাকাররা চালায়। তবে কারা সত্যিই এ ধরনের হামলা পরিচালনা করছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ব্যবসাসংক্রান্ত তথ্য, সামরিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে মেরিন ও ড্রোন এবং মেডিকেল ও ফার্মাসিউটিক্যাল-বিষয়ক গোপন তথ্য চুরি করার ব্যাপারে সাইবার গুপ্তচরদের ঝোঁক সবচেয়ে বেশি।
অভিযোগ নাকচ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লেই গতকাল শুক্রবার বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সাইবার হামলা বহু দেশ থেকে চালানো হয়। কারা এ হামলা চালায়, তা-ও শনাক্ত করা যায় না।

টানাপোড়েন সত্ত্বেও পাকিস্তানকে সহায়তার অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রের

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। এর পরও ইসলামাবাদে বেসামরিক সহায়তা জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে এই টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ মানববিহীন বিমানযোগে (ড্রোন) হামলার ঘটনা হলেও তা বন্ধ করছে না ওয়াশিংটন।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের সর্বশেষ অবস্থা এবং এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনটি গত বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে পেশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে পাকিস্তান সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সব সময় সহজ নয়। তারপর আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গত মে মাসে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে যুক্তরাষ্ট্র আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর থেকে ইসলামাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে দ্রুত অবনতি ঘটছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানের কাবুলে মার্কিন দূতাবাস ও ন্যাটোর কার্যালয়ে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্ককে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই হাক্কানিকে সহযোগিতা করছে। এ অবস্থায় হাক্কানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
এর পরও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানে বেসামরিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। গত অর্থবছরে পাকিস্তানকে সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দিলেও চলতি অর্থবছরে সেই সহায়তা ১ দশমিক ১ ডলারে নেমে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছর কী পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে কয়েক বছর মেয়াদি বেসামরিক সহায়তা জোরদার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
আফগানিস্তান বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চলমান সহিংসতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, নারীর প্রতি বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থাই আফগানিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে আমরা ধারণা করছি।’
যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ বেসামরিক সহযোগিতা দিয়েছে এবং আফগান সরকারকে নিজেদের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মুখে পাকিস্তানে ড্রোন হামলার নিয়মকানুন আরও কঠোর করেছে মার্কিন প্রশাসন। তবে ড্রোন হামলা বন্ধের বিষয়টি তারা নাকচ করে দিয়েছে।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত বৃহস্পতিবার জানায়, সিআইএ ও মার্কিন সেনাবাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। অবশ্য কূটনৈতিক মহল এর বিপক্ষে।

৫২০ দিন পর মুক্ত আলোয়

সাজানো মঙ্গল গ্রহে দেড় বছরের বেশি সময় কাটিয়ে দুনিয়ার আলো-বাতাসে ফিরেছেন ছয় নভোচারী। ৫২০ দিন পর গতকাল শুক্রবার তাঁরা প্রকাশ্যে এসেছেন।
মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে মস্কোর একটি গবেষণাগারে এই মহড়ার আয়োজন করে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা। এ জন্য ছয় নভোচারীকে দীর্ঘ ৫২০ দিন একটি বড় টিউবের মধ্যে বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ওই টিউবের মধ্যে মঙ্গল গ্রহের অনুরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। তৈরি করা হয় লাল গ্রহটির মতো ভূপৃষ্ঠও। সেখানে নভোচারীরা হেঁটে বেড়ান।
মহড়ায় অংশ নেওয়া ছয় ক্রুর মধ্যে একজন চীনা, একজন ইতালীয়, একজন ফরাসি এবং বাকি তিনজন রুশ। গতকাল টিউবের দরজা খুলে দেওয়ার পর একে একে বেরিয়ে আসেন ছয়জনই। এ সময় তাঁরা বেশ হাসিখুশি ছিলেন। এত দিন স্বল্প পরিসরে আবদ্ধ থাকায় শরীরের ওপর দৃশ্যমান কোনো প্রভাব ছিল না।
পরীক্ষামূলক এই অভিযানের কমান্ডার রাশিয়ার তিন ক্রুর একজন আলেক্সি সিতোয়ভ বলেন, ‘ক্রু সদস্যরা ৫২০ দিনের অভিযান শেষ করেছে। সফলভাবেই কর্মসূচি শেষ হয়েছে এবং সবার স্বাস্থ্য ভালো আছে। এখন আমরা পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত।’

ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দেবে না যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কলম্বিয়া

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কলম্বিয়া গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিনের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের প্রশ্নে জাতিসংঘে কোনো ভোটাভুটি হলে তারা ভোটদান থেকে বিরত থাকবে। জাতিসংঘের এক কূটনীতিক এ কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, ফিলিস্তিনের সদস্যপদের প্রশ্নে কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তারা ভেটো দেবে। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কলম্বিয়া এ ঘোষণা দেওয়ায় ফিলিস্তিনের সদস্যপদ নিশ্চিত করাটা আরও কঠিন হয়ে গেল।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে জাতিসংঘের এক কূটনীতিক বলেন, ‘আজ আমরা এখানে যে কথা জানতে পেরেছি, তাতে মনে হচ্ছে, নিরাপত্তা পরিষদে নয়টি ভোট নিশ্চিত করার কোনো পথ আর ফিলিস্তিনের জন্য থাকল না।’
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর সদস্যপদ পেয়েছে ফিলিস্তিন। এর প্রতিবাদে ইউনেসকোকে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ভোটদানে বিরত থাকার কারণ গতকাল শুক্রবার ব্যাখ্যা করার কথা ছিল ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এ ছাড়া ব্রিটেনের এক কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ আগামী বুধবার পার্লামেন্টে এ বিষয়ে তাঁর দেশের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন।
ফিলিস্তিনের সদস্যপদের প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির কোনো চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে কূটনীতিকেরা বলছেন, ফিলিস্তিনের প্রস্তাব পাস হবে বলে মনে হচ্ছে না।
১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হতে হলে প্রস্তাবের পক্ষে কমপক্ষে নয়টি ভোট প্রয়োজন হয়। কিন্তু পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র আগেই বলে রেখেছে, তারা এ প্রস্তাবে ভেটো দেবে। আর কোনো স্থায়ী সদস্য ভেটো দেওয়া মানে ওই প্রস্তাব আর আলোর মুখ দেখবে না।
তবে পরিষদের ছয় সদস্য ব্রাজিল, চীন, ভারত, রাশিয়া, লেবানন ও দক্ষিণ আফ্রিকা প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। অপর সদস্য জার্মানি এখনো তাদের অবস্থান জানায়নি।
তবে কূটনীতিকেরা বলছেন, জার্মানি হয়তো ভোটদানে বিরত থাকতে পারে অথবা বিপক্ষে ভোট দিতে পারে। পর্তুগালও এখনো তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। তবে এই দেশটিও ভোটদানে বিরত থাকতে পারে।
এ ছাড়া বসনিয়ার তিন আদিবাসী নেতা এখনো ফিলিস্তিনের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। সে ক্ষেত্রে এই দেশটিও ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে গ্যাবোন ও নাইজেরিয়া ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকেরা।
ফিলিস্তিনের সদস্যপদের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জানিয়েছে, কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
গাজা অভিমুখে দুটি জাহাজ: অবরুদ্ধ গাজায় পৌঁছানোর জন্য ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সাংবাদিকদের নিয়ে দুটি জাহাজে করে রওনা হয়েছেন আয়ারল্যান্ড ও কানাডার ফিলিস্তিনপন্থী দুটি সংগঠনের কিছু কর্মী।
তবে ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজ দুটিকে আটকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আয়োজকেরা জানান, আইরিশ সাওয়িরিজ ও কানাডিয়ান তাহরির নামের দুটি জাহাজ তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বন্দর থেকে রওনা হয়েছে।
কানাডিয়ান বোট টু গাজা প্রচারণার মুখপাত্র ডেনিস কোসিম বলেন, ‘জাহাজ দুটি ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত জলভাগের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং জাহাজে যারা আছে, তাদের বলে দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী যদি তাদের আটক করার চেষ্টা করে, তাহলে তারা যেন বাধা না দেয়।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের হুমকি

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত বৃহস্পতিবার আবার পেট্রলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দলের নেতারা কেন্দ্রীয়মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন বলেহুমকি দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দেশে ফিরলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজ্য সচিবালয় মহাকরণে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার এক বছরে ১১ বার পেট্রোলিয়ামপণ্যের মূল্য বাড়িয়েছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সাংসদেরা আজ সকালে কলকাতায় এক জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁরা আর এই সরকারের জনবিরোধী নীতি মানতে রাজি নন। তাই মন্ত্রিসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রীদের অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তাঁরা।’
জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় ইউপিএ সরকার বৃহস্পতিবার শরিক দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফাভাবে পেট্রলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ওই দিন রাতেই ভারতের তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি একযোগে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি এক রুপি ৮২ পয়সা বাড়িয়ে দেয়। এতে পেট্রলের লিটারপ্রতি দাম গিয়ে দাঁড়ায় ৭৩ রুপি ১০ পয়সায়।
গতকাল সকালে কলকাতায় তৃণমূল ভবনে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির জরুরি বৈঠক বসে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রীদের ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দুপুরে সেই সিদ্ধান্তের কথা মমতাকে জানানো হয়। পরে মমতা সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে কার্যকর করলে কেন্দ্রীয় ইউপিএ সরকারের পতন হবে। কারণ, কংগ্রেসের এককভাবে সরকার চালানোর ক্ষমতা নেই।’
মমতা বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। জনগণের কোনো অসুবিধা আমরা মেনে নিতে পারি না। তাই আমরা পেট্রোলিয়ামপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ করছি। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারে থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার সেভাবে আমাদের মূল্যায়ন করছে না। তাই আমাদের সাংসদেরা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত আমি সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে অপেক্ষা করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

সিরিয়ায় আরব শান্তিচুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়

সিরিয়ার হোমস শহরে গতকাল শুক্রবার সেনাদের গুলিতে আরও দুই বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ আরব লিগের পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্তিচুক্তি রক্ষা করতে সত্যিই আগ্রহী কি না, তা পরখ করতে সিরিয়াজুড়ে আরও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সরকারবিরোধীরা। এ নিয়ে ওই চুক্তির কার্যকারিতার ব্যাপারে সংশয় দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ২০ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যেসব ঘটনা ঘটছে, তা আভাস দেয় না সিরিয়ার সরকার সত্যিই ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ধরপাকড়, নির্যাতন ও হত্যা বন্ধের বিষয়ে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, দামেস্ক সরকার যদি তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ না করে এবং প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হোমস শহরসহ অন্যান্য শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে, তবে আরব লিগ পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করে।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এক বিবৃতিতে জানায়, সেনারা ট্যাংক থেকে হোমস শহরের কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর গুলি ছুড়েছে। এ সময় হোমস শহরের বাবা আম্রো এলাকায় একজন নারীসহ মোট দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়। হোমস শহরের কাছাকাছি অন্যান্য এলাকায়ও গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল জুমার নামাজ শেষে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজে শত শত বিক্ষোভকারীকে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। তারা আসাদবিরোধী স্লোগান দিয়ে রাজধানীর ঐতিহাসিক মিদান এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

পবিত্র হজ পালিতঃ ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান by ফেরদৌস ফয়সাল

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনা নিয়ে গতকাল শনিবার পবিত্র হজ পালন করেছেন। হজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এবার ২৫ লাখেরও বেশি মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালন করেন।

ইরানেও পশ্চিমা আগ্রাসন আসন্ন?

ধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে একের পর এক সরকারের পতন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা তাদের আসন পাকাপোক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিউনেসিয়া, মিসর, লিবিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের আবার চোখ পড়েছে ইরানের দিকে। এরই মধ্যে মার্কিন শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা ইরানে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইসরায়েল বলেছে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির আগেই ইরানকে থামাতে হবে।

রাহুল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কংগ্রেসের প্রধান হচ্ছেন?

য়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের প্রধান হতে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। এতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের ষষ্ঠ সদস্য হিসেবে কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করবেন তিনি। ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও কংগ্রেসের বর্তমান প্রধান সোনিয়া গান্ধীর ছেলে রাহুল। রাজীব গান্ধী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বড় ছেলে। রাহুল ২০০৭ সাল থেকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

পাকিস্তান বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উন্নতি করেছেঃ হিনা রাব্বানি

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার বলেছেন, গত কয়েক মাসে দেশটি বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ উন্নতি করেছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ভারতের সঙ্গে আসন্ন বাণিজ্য আলোচনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদের মতৈক্যের কথা উল্লেখ করেন।

ফিরে দেখাঃ জেমস হেনরি লি হান্ট by ইমরান রহমান

৭৮৪ সালের ১৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন বিশিষ্ট ইংরেজ প্রাবন্ব্দিক, কবি সমালোচক জেমস হেনরি লি হান্ট। তার জন্মস্থান লন্ডনের সাউথগেট। তার বাবা ছিলেন একজন আইনজীবী। হান্টের পড়াশোনা হয় ক্সাইসল্টস হসপিটালে। পরবর্তী সময়ে ক্সাইসল্ট হসপিটালের বর্তমান আবাসিক ভবনগুলোর একটির নামকরণ হয়েছে হান্টের নামে।

স্মরণ- শিল্পপতি ও দরদী মানুষ জহরুল ইসলাম by মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান

বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে আলহাজ জহরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু একজন সফল শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীই ছিলেন না, পাশাপাশি ছিলেন এক হৃদয়বান মানুষ ও বিশিষ্ট সমাজসেবক। ১৯৯৫ সালের ১৯ অক্টোবর জস্লরুল ইসলাম পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। ১৯২৮ সালের আগসল্ট মাসে তার জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার ভাগলপুরে।

রাজউকের প্লট by ফখরুজ্জামান চৌধুরী

প্রতিশ্রুতি দান এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের উজ্জ্বল নিদর্শন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউকের উত্তরা-পূর্বাচল প্রকল্প।
শিব গড়তে বাঁদর গড়ার কাজে সিদ্ধহস্ত দু’বছরের ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ জরুরি সরকারের আমলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে প্লটের জন্য আগ্রহীদের কাছে দরখাস্ত আহ্বান করে ঘোষণা দিয়েছিল রেকর্ড সময়ে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই প্লট বরাদ্দদানের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

ক্ষেত্র তৈরি না করে এক মঞ্চে ওঠা অর্থহীন! by আবদুর রহিম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ে একই মঞ্চ থেকে (১৭ অক্টেবর) বক্তব্য পেশ করার সরকার প্রচারিত খবরে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও আশার আলো দেখেছিল। কিন্তু বেগম জিয়া জানিয়ে দিলেন, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বর্তমান সরকারের নির্যাতনমূলক আচরণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের অনীহা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেতিবাচক নীতির কারণে তিনি সে সম্মেলনে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। বেগম জিয়ার এ সিদ্ধান্তকে সরকারদলীয় চিফ স্লইপ, বিরোধীদলীয় নেত্রীর রাজনৈতিক দীনতা বলে আখ্যায়িত করেন। প্রশ্ন হলো এক মঞ্চ থেকে দুই বিপরীত মেরুর দুই নেত্রীর একই বিষয় নিয়ে ভাষণ দেয়ার ক্ষেত্র কি তৈরি হয়েছে? মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই নেত্রী সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে বক্তব্য পেশ করলে, তা কি কার্যত কোনো সুফল বয়ে আনত? বেগম জিয়া সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের সাফল্যের বর্ণনা দেন এবং বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। হয়তো, সম্মেলন স্থলে গিয়ে তিনি তার একই মনোভাব প্রকাশ করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে আগের তুলনায় সাধারণ্যে অনেক সংযত বক্তব্য পেশ করলেও তার সরকারের বিরুদ্ধে কারও সমালোচনা মুখ বুজে হজম করার পাত্রী তিনি নন। এমন পরিস্থিতিতে সঙ্গত কারণে মনে করার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে যে, এক মঞ্চ থেকে দু’নেত্রীর প্রস্তাবিত বক্তৃতা একটি হাস্যকর রণক্ষেত্রে রূপান্তরিত হতে পারত। সে ক্ষেত্রে কি শেখ হাসিনা তার বিগত সরকার আমলের চিত্র তুলে ধরলে এবং সঙ্গে সঙ্গে খালেদা সরকারের কার্যকলাপের বিবরণ দিলে কুরুক্ষেত্রে পরিণত হতো না বঙ্গবন্ব্দু সম্মেলন কেন্দ্র (আগের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র)? এমন পরিস্থিতিতে দু’পক্ষের ‘সাহসী স্বেচ্ছাসেবীরা’ পরস্পরের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। দু’পক্ষের স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ নিজ নেত্রীর মান-ইজ্জত রক্ষার নিমিত্তে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারেও হয়তো কুণ্ঠাবোধ করত না। স্বপ্নের মিলনমেলা তখন রূপান্তরিত হতো এক মহা ট্র্যাজেডি নাটকে, যা ওয়ার্ল্ড মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর একটি খবর হিসেবে পরিণত হতে পারত। ওতে আমাদের অলরেডি আক্রান্ত ভাবমূর্তি কি বৃদ্ধি পেত? শোকর আলহামদুলিল্লাহ! অল্পের ওপর দিয়ে গেছে সম্ভাব্য সুনামি। সিরিয়াসলি বলছি, পৃথিবীতে সমস্যা যত আছে সমাধান আছে তার চেয়ে বেশি। দুই যুধ্যমান দেশ বা রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা আনতে হলে প্রথমে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করতে হয় অতি সংযতভাবে ও গোপনীয়তা বজায় রেখে। বিশ্ব রাজনীতিতে কেউ কি আঁচ করতে পেরেছিল চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সল্ট্র্যাটেজিক বন্ব্দু বলে পরিচিত হবে? অতি সংগোপনে সুপার ডিপ্লোম্যাট মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার দ্বারা ক্ষেত্র প্রস্তুতের পরই প্রেসিডেন্ট নিক্সন ১৯৭১ সালের এক মাহেন্দ্রক্ষণে পিকিং বিমানবন্দরে পা রাখেন। পাশের ভারতে দেখেছি বিপরীত মেরুতে অবস্থানকারী কংগ্রেস ও সিপিএম (কমিউনিসল্ট পার্টি, মার্কসবাদী) একই মঞ্চে থেকে নির্বাচন করেনি? পরে অবস্থানগত কারণে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হওয়ার ঘটনা সবার জানা। আবার ভারতীয় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করে ভারতীয় রাজনীতি, বিশেষ করে কমিউনিসল্টশাসিত পশ্চিম বাংলায় প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। একাধারে তিনি কমিউনিসল্ট ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বস্লদিন সংগ্রাম চালিয়ে যান। মতপার্থক্য ভুলে গিয়ে পুনরায় কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বর্তমানে মহাসুখে বিশ্বের সর্ববৃহত্ রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে দিল্লির মসনদের অতি কাছের মানুষ এখন মমতা দেবী। হঠাত্ করে যেমন বন্ব্দু হওয়া যায় না, তেমনি বিনা কারণে কেউ শত্রুও হয় না। সময় নিয়ে এ বিষয়ে এগুতে বা পেছাতে হয়—যখন যা প্রয়োজন। তবে শত্রুকে মিত্রতে পরিণত করতে হলে অতি সতর্কতার সঙ্গে পর্দার অন্তরাল থেকে ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হয়। শুধু একটি ঘোষণা দিয়ে দিলেই দুর্বল প্রতিপক্ষ সবল শক্তির ডাকে সাড়া দেবে তেমন আশা করা ঠিক নয়। তবে মিলন ঘটানোর পেছনে যারা অনুঘটকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তারা কখনও লোক সম্মুখে এসেছিলেন বলে আমার জানা নেই। ফল ফলাতে হলে ক্ষেত্র আগে প্রস্তুত করতে হয়। সারহীন নিরস জমিতে সরস ফল ফলানোর চেষ্টা বৃথা। সমঝোতায় পৌঁছার জন্য প্রয়োজন উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য এজেন্ডা। প্রতিবেশী দু’দেশের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে দলমত নির্বিশেষে একটি সম্মেলন করা এখন একান্ত প্রয়োজন। সরকার এমন উদ্যোগ নিলে দেশপ্রেমিক কোনো দল সে সম্মেলনে উপস্থিত না হয়ে পারবে না। আমাদের দেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দু’দেশের সম্পর্কের ক্রমাবনতি ঘটায় সারাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে দলে দলে। এ দুর্যোগ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা অত্যাবশ্যক। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে যুক্তফদ্ধন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুসলিম লীগকে, বলতে গেলে সমূলে উত্পাটন করার পেছনে ছিল কিছু দেশপ্রেমী ছাত্র-যুবক ও রাজনীতিবিদ। কমন এজেন্ডা থাকলেই তবে কমন শত্রুর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব। মওলানা ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ, শের-এ-বাংলার কৃষক শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম, বামপন্থী নেতা হাজি দানেশের গণতন্ত্রী দল এক মঞ্চে শরিক হতে পেরেছে পর্দার আড়ালে থাকা কিছু নিঃস্বার্থ লোকের একনিষ্ঠ চেষ্টার ফলে। পাঠকদের কাছে আমার বিশেষ নিবেদন, উপরোক্ত মন্তব্য লেখা হয়েছিল বেগম জিয়ার দারিদ্র্য বিমোচন সম্মেলনে না যাওয়ার ঘোষণা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরপরই। আমি যা আশঙ্কা করেছিলাম, অবস্থাদৃষ্টে প্রমাণ হলো যে, দু’নেত্রীর একই মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দেয়াটা মোটেই সুখপ্রদ হতো না। স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সম্মেলন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলতে চাই, তিনি সত্যিকারভাবে চেয়েছিলেন দু’নেত্রীকে একই মঞ্চে এনে দেশে নতুন রাজনৈতিক কালচার সৃষ্টি করতে, তা করতে পারলে ভালো হতো—বিশেষ করে স্পিকারের নিজের জন্য। ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকা সমপ্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, সরকারের সঙ্গে স্পিকারের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক প্রবিশন থাকা সত্ত্ব্বেও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একই সময় দেশে অনুপস্থিত থাকাকালে স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তা ছাড়া দৃশ্যত স্পিকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি পার্লামেন্টে বিরোধী দলকে নিয়ে আসতে পারছেন না। হাউসে আসন বণ্টনের বিষয়ে তিনি সরকারি দলের সমর্থন ছাড়া এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। এ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (১৭ অক্টোবর) দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ক সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে তার স্বভাবসুলভ তির্যক ও রসালো মন্তব্য করেছেন। সম্মেলনে উপস্থিত থাকলে বেগম জিয়া চুপ করে তা হজম করতেন, তেমন মনে হয় না। স্পিকার আবদুল হামিদের ভাষায়, সম্মেলনটি ছিল ‘সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক’। কথাটা কি ঠিক? তা যদি হতো তাহলে তা করা যেত, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য যেসব সংস্থা কাজ করছে এবং সে বিষয়ে অভিজ্ঞ বিজ্ঞজনদের দ্বারা। দারিদ্র্য একটি সর্বগ্রাসী বিশ্ব সমস্যা; তা নিরূপণ করার নিমিত্তে এবং জাতিসংঘের অর্থায়নে উন্নয়নশীল দেশের পাঁচতারা হোটেল (এর থেকে বড় ভেন্যু থাকলে তাতে) গুলোয় বিশাল অর্থ ব্যয়ে নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আঞ্চলিক ও বিশ্বসম্মেলন হচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু জাতিসংঘের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৃথিবীতে বুভুক্ষু জনসংখ্যা সমানে বেড়ে চলেছে। আগামী ৫০ বছরে অবস্থা আরও করুণ রূপ ধারণ করবে বলে মন্তব্য বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানীদের। এ ধরনের একটি সম্মেলন আয়োজনে প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, যা দিয়ে কয়েক হাজার নিরন্ন মানুষের এক মাস আহার জোগানো যায়। মাদার তেরেসা বলেছেন, হাজার লোককে খাওয়াতে না পার, অন্তত একটি লোকের অন্নসংস্থান করো। সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা স্বাধীন বিশ্বে এত জ্যামিতিক হারে বাড়ত না। এ প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করতে চাই। বছর ত্রিশেক আগের ঘটনা। উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী রাবীণ মজুমদারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক বক্তা বলেন, দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী ওস্তাদ মোহাম্মদ খসরু জাতীয় পুরস্কার হিসেবে পাওয়া সোনার অমূল্য মেডেলটি বিক্রি করেন তার গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য। অতএব বক্তা গুণী শিল্পীকে সোনার মেডেল না দিয়ে নগদ অর্থ প্রদান করার প্রস্তাব রাখেন। কিন্তু সে মুহূর্তে অনুষ্ঠান আয়োজকরা মেডেলের বিকল্প অর্থ দিতে পারেননি পাবনার কৃতী সন্তান নন্দিত উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী বারীণ মজুমদারকে। হয়তো সেই মেডেলটি আজও সযতনে সংরক্ষণ করছে, বারীন মজুমদার-পুত্র উদীয়মান সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। ফিরে যাই পূর্বালোচনায়। সব বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে পছন্দ করেন সাবেক আমলা ও রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের অধীনে নিযুক্ত (পরে স্ব-ইচ্ছায় বিযুক্ত) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। তিনি মনে করেন, সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে বেগম জিয়া সম্মেলনে যোগ দেননি। দল ছাড়া বেগম জিয়া বা শেখ হাসিনাকে কি ভাবা যায়! বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য বেগম জিয়া হিসাব-নিকাশ করেই সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বেগম জিয়া যদি আগে সম্মেলনে যোগদানের বিষয়ে হামিদ সাহেবকে কথা দিয়ে থাকেন, তাহলে তার সে সিদ্ধান্তটি স্পিকার সাহেবকে জানানো উচিত ছিল। এ কথা বেগম জিয়াকে স্বীকার করতে হবে হামিদ সাহেব তো তার সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। রাজনীতি ও কূটনীতিতে এমন তো হতেই পারে।
এই সেদিন হিলারি ক্লিনটন মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বলেন, উই হ্যাভ অ্যাগ্রিড টু ডিস অ্যাগ্রি (পরস্পর ভিন্নমত পোষণ করার ব্যাপারে একমত হয়েছি আমরা)। যার যেটা ভালো তা বলতে দোষ কী! পদত্যাগে অভ্যস্ত ড. আকবর আলি আমাদের আলোচ্য বিষয় নন। দিন তিনেক আগে তিনি রেগুলেটরি রিফর্মস কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দিয়ে স্বয়ং খবর সৃষ্টি করেছেন। তার কথা শুনলে আমাদের নোয়াখালী শহরের অপ্রতিরোধ্য ফুটবলার রাজা মিয়ার চেহারা ভেসে ওঠে স্মৃতিপটে। রাজা মিয়ার পায়ে বল পড়লে দুই পক্ষের গোলকিপার সন্ত্রস্ত হয়ে থাকত—গোলপোসল্ট পেলেই হয়, আপন-পর বিচার না করে বল গোলে ঢোকার বিরল সাফল্য রাজা মিয়া অর্জন করেছিল। ড. মুনিরুজ্জামান মিঞার ভাষ্যমতে, বেগম জিয়া সরকারের সামপ্রতিক কয়েকটি আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। হাইকোর্টে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলের ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তি ও সাবেক বিএনপিদলীয় এমপি কারারুদ্ধ পিন্টুর কাছ থেকে অত্যাচারের মাধ্যমে কিছু কথা আদায়ের লক্ষ্যে নির্যাতনের বিষয়, বেগম জিয়ার সম্মেলন বর্জনের কারণ হতে পারে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মনে করেন।

হঠাৎ করে সম্মান আদায়ের এত দরকার পড়ছে কেন? by আতাউস সামাদ

রমী শিল্পী শাহ আবদুল করিম গত হয়েছেন মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে। তিনি গান লিখতেন, গান গাইতেন, গানের মাধ্যমে জীবন সম্পর্কে তাঁর দর্শন ছড়িয়ে দিতেন। বাউলের বাউল ফকির লালন শাহের ভক্ত ছিলেন শাহ আবদুল করিম। তাঁর নিজের ভক্তের সংখ্যাও কম নয়। এদিকে লালন শাহ’র মৃত্যুবার্ষিকী সমাগত। এরকম সময়ে লোকউত্সব করলে, তাও সিলেটে, লালন শাহ’র সঙ্গে হাসন রাজা ও শাহ আবদুল করিমকে মনে করতেই হয়।

মালদ্বীপে সাগরতলে মন্ত্রিসভার বৈঠকঃ পরিবেশ শৃগ্ধখলা রক্ষা এখন জরুরি

পৌরাণিক উপাখ্যানের মতো শোনা গেলেও ঘটনাটি সম্পূর্ণ বাস্তব। সারাবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন সম্পন্ন করেছে মালদ্বীপ সরকার। প্রেসিডেন্ট ভবন বা স্থলভাগের অন্য কোথাও নয়। তারা মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন সাগরতলে অর্থাত্ প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। স্বভাবতই এ অভূতপূর্ব বৈঠকের খবর বিশ্ববাসী তথা বিশ্বনেতাদের নজর কেড়েছে।

দুর্নীতি নির্মূলে সরকারের অঙ্গীকারঃ ভূতের মুখে রামনাম

ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য নিরসন দিবস পালন করা হলো। রাজধানীর কেন্দ্রীয় আয়োজনের দিকেই মানুষের নজর ছিল বেশি। ‘জাতীয় ঐক্য রুখবে দারিদ্র্য’ শীর্ষক প্রচারণায় মানুষকে দারিদ্র্যমুক্তির খোয়াব দেখানোর কসরত যে এমনভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে সেটা নিশ্চয়ই আয়োজকরা ভেবে দেখেননি। দুই নেত্রীকে এক টেবিলে এনে জাতীয় ঐক্যের চমক সৃষ্টির উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়।