Thursday, February 9, 2017

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা নেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। র‍্যাব এর তদন্ত করছে। তবে এই মুহূর্তে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আমার জানা নেই।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরায় এপিবিএন সদর দপ্তরে কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তাঁর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের জড়িত থাকার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে করা প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিতু হত্যার তদন্ত চলছে। হয়তো শিগগিরই এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সেখানে জানা যাবে কে দোষী।’ দেশে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বেড়ে গেছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’ ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ মেলে। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন পুলিশকে তদন্ত শেষ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। সেই ৪৮ ঘণ্টা এখন পাঁচ বছরে গিয়ে ঠেকেছে। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই মহীউদ্দীন খান আলমগীর ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনির হত্যারহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ৯ অক্টোবর ‘চমক দেওয়া’ সংবাদ সম্মেলনে একজনকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে সেই ব্যক্তিকে ধরেও মামলার কোনো সুরাহা হয়নি। পাঁচ বছরে ৪৬ বার সময় নিয়েও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব।

আরও সাত মামলায় মৃধাকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র

দায়মুক্তি পাওয়া আরও সাত মামলায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বরখাস্ত হওয়া মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধাকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্রগুলো জমা দেওয়া হয়। সাতটি মামলা হলো গুডস সহকারী, সিনিয়র ডেটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর, কার্পেন্টার, রেকর্ড কিপার, ট্রেড অ্যাপ্রেনটিস, শরীরচর্চা শিক্ষক ও রেলওয়ের আদালত পরিদর্শক পদে নিয়োগের মামলা। বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল আজিজ ভূঁইয়া (বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন রাজশাহীর পরিচালক) প্রথম আলোকে বলেন, গুডস সহকারী, সিনিয়র ডেটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর ও কার্পেন্টার পদে রেলে নিয়োগে দুর্নীতির তিন মামলায় অধিকতর তদন্তে ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আবদুল আজিজ দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক ছিলেন।
বাকি চারটি মামলা রেকর্ড কিপার, ট্রেড অ্যাপ্রেনটিস, শরীরচর্চা শিক্ষক ও রেলওয়ের আদালত পরিদর্শক পদে নিয়োগের মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সৈয়দ আহমেদ। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. শাহেনূর গত বছরের ৩ জানুয়ারি ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে করা সাত মামলার নথি অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে ফেরত পাঠান। এসব মামলায় মৃধাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল টাকার বস্তাসহ আটক হন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। মৃধা পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক থাকার সময় রেলের ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৬৯ জন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্ত শেষে মামলা হয় ১৩টি। ২০১২ সাল থেকে দুই বছর পলাতক ছিলেন মৃধা। ২০১৪ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে সেদিন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধে রিট মামলার রায় ১৩ ফেব্রুয়ারি

মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানির সব ওষুধ এবং ১৪টি কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ, বিক্রি বন্ধ ও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনাসংক্রান্ত রিট মামলার রায় ঘোষণার নতুন তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই দিন ঠিক করেন। খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি এই ৩৪টি কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শেষ হয়। রায় ঘোষণার দিন ছিল আজ।
আদালত আগামী সোমবার রায় ঘোষণার নতুন দিন ঠিক করেছেন। যে ২০ ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিকে ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো এক্সিম, এভার্ট, বিকল্প, ডলফিন, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরি, ন্যাশনাল ড্রাগ, নর্থ বেঙ্গল, রেমো কেমিক্যাল, রিড ফার্মা, জানফা, কাফমা, মেডিকো, স্কাই ল্যাব, স্পার্ক, টুডে, ট্রপিক্যাল, ইউনিভার্সেল, স্টার ও সুনিপুণ। যে ১৪টি কোম্পানিকে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো আদদীন, বেঙ্গল, ব্রিস্টল, ক্রিস্টাল, ইন্দোবাংলা, মিল্লাল, এমএসটি, অরবিট, ফার্মিক, ফিনিক্স, সেভ, রাসা, বেলসেন ও আলকাদ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি ১৬ ফেব্রুয়ারি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির দুই মামলার শুনানির নতুন তারিখ পড়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারি। আজ বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এই তারিখ ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদিন প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তাঁর পক্ষে আদালতে সময় আবেদন করা হয়েছে।
আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এই দুটি দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে পৃথক দুটি আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়া আবেদন করেছেন। ওই দুটি আবেদন উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত মামলা দুটির নতুন তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন। গত বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় আদালতের প্রতি অনাস্থা জানান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই দিন এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের ধার্য দিনে তিনি এ অনাস্থা জানান। আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা অনাস্থার আবেদন ও মামলার কার্যক্রম মুলতবির আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ মামলায় আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আজ ৯ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য উপস্থাপনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টসংক্রান্ত মামলার বিচারকাজ চলছে। এ দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আর ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়াসহ চারজন।

নাক দিয়ে ঢুকে গেল তেলাপোকা, তারপর...

ধরুন, আপনি গভীর ঘুমে অচেতন। মাঝরাতে একটি তেলাপোকা আপনার নাকের একটি ফুটো দিয়ে ঢুকে গেল। আপনি টের পেলেন না। আপনার চোখের পেছনে সেটা আঁচড় কাটতে লাগল। এমন ঘটনার কথা ভাবা যায়? এমন ঘটনা অবাস্তব মনে হলেও সত্যি সত্যি এই দুঃস্বপ্নের রাত এসেছিল ভারতের ৪২ বছরের এক নারীর জীবনে। আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই নারী ঘুম থেকে ওঠার পর দারুণ অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। চোখের পেছনের দিকে যন্ত্রণাকর অনুভূতি টের পাচ্ছিলেন তিনি। দ্রুত স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ছুটে গিয়ে নাক পরিষ্কার করান। বাসায় ফিরে আসার পরও যন্ত্রণাকর অনুভূতিটা টের পাচ্ছিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর পরীক্ষায় আসল ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হয়।
চেন্নাইয়ের স্টানলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ এম এন শঙ্কর বলেন, ‘প্রথমে ভেতরের দিকে ক্ষুদ্র পায়ের নড়াচড়া দেখলাম। আরও ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু একটা দেখা গেল। একপর্যায়ে বোঝা গেল, এটা তেলাপোকা।’ চিকিৎসক জানান, নাকের গর্ত দিয়ে বেশ ভেতরের দিকে ঢুকে গিয়েছিল তেলাপোকাটি। সেটির অবস্থান ছিল খুলির কাছে। তেলাপোকাটি জীবিতই ছিল। চিকিৎসক শংকর একধরনের যন্ত্র ব্যবহার করে তেলাপোকাটিকে জীবিত অবস্থায় খুলির ভেতর থেকে টেনে বাইরে নিয়ে আসেন। এই প্রক্রিয়ায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে। বাইরে আনার পরও তেলাপোকাটি পা ছুড়ছিল। প্রায় তিন দশক ধরে চিকিৎসা পেশায় আছেন শংকর। তিনি জানান, পেশাজীবনে এমন ঘটনা প্রথমই দেখেছেন তিনি। চিকিৎসক জানান, ওই নারী ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। তবে নাকের ভেতরে তেলাপোকা ঢুকে যাওয়ার ঘটনায় তিনি বিব্রত।

যুক্তরাষ্ট্রে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য হাতানোর অভিযোগ

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার একজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণে অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তি এসব তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন বা কারও কাছে বিক্রি করেছেন বলে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গত বুধবার হেরল্ড মার্টিন নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য সরানোর এই অভিযোগ আনা হয়। আজ বৃহস্পতিবার এএফপির খবরে জানানো হয়েছে, অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের তথ্য ফাঁস করার ঘটনার মতো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। হেরল্ড মার্টিন তাঁর বাড়িতে ও গাড়িতে ৫০ টেরাবাইটস সমপরিমাণ ডেটা ও কাগজপত্র স্তূপ করে রেখেছিলেন।
সূত্রমতে, ২০ বছর ধরে বিপুল পরিমাণে তথ্য সরিয়ে ফেলেন। এর মধ্যে বিদেশি সরকারের কম্পিউটার হ্যাক করার মতো স্পর্শকাতর কৌশলও রয়েছে। ঠিকাদারি চুক্তি অমান্য করে নিরাপত্তা সংস্থার বিভিন্ন ধরনের তথ্য সরিয়ে ফেলার মতো ‘স্বেচ্ছাচারী মনোবৃত্তি’ দেখানোর দায়ে হেরল্ড মার্টিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে স্নোডেনের বিষয়টির সঙ্গে তফাত হচ্ছে, মার্টিন গুপ্তচরবৃত্তির জন্য অভিযুক্ত হননি। গত অক্টোবরে রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলিরা বলেন, তাঁরা আশা করেন, মার্টিনের বিরুদ্ধে চরবৃত্তির অভিযোগ আনা হবে।

অখিলেশ যেখানে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে

কাওয়াল নামে সবুজে সবুজ যে গ্রামে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে প্রথম গোলমালটা বেধেছিল, সেখানে এখন একাধিক পুলিশ চৌকি বারোমাস তিন শ পঁয়ষট্টি দিন সজাগ। সেচের যে খাল পেরিয়ে গ্রামে যেতে হয়, তার কিনারেই প্রথম চৌকি। বাইরের লোকদের সেখানেই প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রামেও জায়গায় জায়গায় এক-দুজন করে পুলিশি প্রহরা। এমনিতে বোঝার উপায় নেই, কিন্তু মানুষের মনে যে একটা পাঁচিল উঠে গেছে, কথা বললেই তা বোঝা যায়।
সাড়ে তিন বছর কেটে গেছে। এখনো সবাই সাবধািন। তিন বছর আগে লোকসভার ভোট দেখতে কাওয়াল গ্রামে ঢুঁ মেরেছিলাম। মানুষের মনে ক্রোধ ও ক্ষোভের গনগনে আগুন টের পাওয়া গিয়েছিল তখনো। হিন্দু জাঠদের রাগ ছিল সমাজবাদী পার্টির ওপর। মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশের ওপর। কারণ, মুলায়মের ছেলে নাকি মুসলমানদের আড়াল করে জাঠদের বেশি ধরপাকড় করেছেন। ঘরছাড়া হিন্দুদের গ্রামে ফেরাতে তিনি নাকি ততটা গা করছেন না। যত প্রলেপ শুধু মুসলমানদের ক্ষতে। অবাক লেগেছিল মুসলমানদের আচরণেও। তাদের অভিযোগ, মুসলমানের ভোটে জেতা মুলায়মের দল নাকি বেছে বেছে হিন্দুদের আগলে রাখছে। ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমান পরিবারগুলোকে দেখছে না। নিরপরাধ মুসলমানদের ছাড়াতে অখিলেশের পুলিশ গা করছে না। অপরাধ ও অপরাধীর চেয়ে তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে ধর্ম। বোঝা গিয়েছিল, কাওয়ালের কোনো সম্প্রদায়কেই প্রশাসন খুশি করতে পারেনি। সেই কাওয়াল এখন অদ্ভুত রকমের শান্ত। দাঙ্গার কথা তুললে সবাই সাবধানি। সামাজিক পাঁচিল এখন আরও উঁচু। একেবারে উপায় না থাকলে হিন্দুর জমিতে মুসলমান বা মুসলমানের জমিতে হিন্দু জন-মজুর কাজে যান না। সমাজপতিরা চেষ্টার অন্ত রাখেননি। কিন্তু তবু ভেঙে যাওয়া মনের সঙ্গে মনের জোড় লাগানো যায়নি। লোকসভা ভোটের পর বিজেপির রাজ্য নেতাদের আগলহীন কথাবার্তাও টেনশন বাড়িয়ে তোলে। গো-মাংস নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বাড়াবাড়ি সন্দেহের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রামের মানুষের মধ্যে মাখো মাখো যে ব্যাপারটা বছর কয়েক আগেও ছিল, দাঙ্গার বীভৎসতা তা চেঁছে তুলে নিয়েছে। কথায় বলে, সব সংকটের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সম্ভাবনার বীজ। মুজাফ্ফরনগরের এই দাঙ্গার মধ্যে রাজনৈতিক লাভের সম্ভাবনাপূর্ণ বীজের সন্ধান পেয়েছেন মায়াবতী। পশ্চিম-উত্তর প্রদেশে তাই তিনি চরকি-ঘোরা ঘুরছেন। মুজাফ্ফরনগরের চরখাওল, পুরকাজি, মীরাপুর ও বুড়ানা কেন্দ্র বহেনজি মায়াবতীর দল বিএসপির দখলে। সদর ও খাতৌলির দখল যথাক্রমে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় লোকদলের। সহজেই বোঝা যায়, এই তল্লাটে ২০১২ সালে মায়াবতীর দখল কেমন ছিল। সেই প্রভাব অবশ্যই ছারখার হয়ে যায় ২০১৪ সালের মোদি নামক সুনামিতে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, মোদি-মাহাত্ম্য এবারও সবাইকে ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেবে। কেন তা পারবে না, মুজাফ্ফরনগর সদরে তাঁর ট্রান্সপোর্টের অফিসে বসে সেই ব্যাখ্যাটা দিলেন কাশিম রাজা জায়দি। তাঁর কথায়, ‘তিনটি কারণ। প্রথম কারণ, রাজ্যবাসী জানে না, বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। বাকি দলগুলোর ক্ষেত্রে যেমন সবার জানা। দ্বিতীয় কারণ, তিন বছর আগে সারা দেশের কাছেই নরেন্দ্র মোদি ছিলেন এক অচেনা-অজানা চরিত্র। তিনি কী রকম, কতটা তাঁর করার ক্ষমতা, কী পারেন কী পারেন না, আজ তা সবাই জেনে গেছে। সেই জৌলুশটা আজকের মোদির কিন্তু নেই। তৃতীয় কারণ, বাবা মুলায়ম, কাকা শিবপাল, পিতৃবন্ধু আজম খান ও অমর সিংয়ের প্রভাব থেকে নিজেকে এক ঝটকায় মুক্ত করে অখিলেশ এই ক মাসে তাঁর ভাবমূর্তি অন্যভাবে গড়ে তুলেছেন। এই চাপ ও ভারমুক্ত অখিলেশ এই মুহূর্তে “আননোন কমোডিটি”। রাহুলকে পাশে নিয়ে তিনি একটা নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। বিজেপি ও মোদির কাছে সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ তাহলে অখিলেশ তো শুধু বিজেপি নয়, মায়াবতীর কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ? উত্তরটা দিলেন বিএসপির স্থানীয় বিধায়ক নূর সেলিম রানার নিকটাত্মীয় নাদিম রানা।
‘অবশ্যই। চ্যালেঞ্জটা কী মারাত্মক জানেন? আমরা মনে-প্রাণে মায়াবতীর সমর্থক। আমার ঘরের লোক বিএসপির বিধায়ক। অনেক ভালো কাজও করেছেন নূর সেলিম রানা। কিন্তু আমরাই এবার অখিলেশকে চাইছি। চাইছি রাজ্যটাকে সর্বনাশের হাত থেকে বাঁচাতে। মুসলমান ভোটে ভাগাভাগি হলে বিজেপি দাপিয়ে জিতবে।’ গলা নামিয়ে নাদিম বললেন, ‘দিল্লিতে মোদি ও রাজ্যে বিজেপি এলে পাড়ায় পাড়ায় একেকটা কাওয়াল সৃষ্টি হবে। জমি এতটাই তেতে আছে।’ কী আশ্চর্য, মায়াবতীর গলায়ও একই সুর। এখান থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে কায়রানা। সেখানে মুসলমানপ্রধান এলাকা থেকে কয়েক শ হিন্দু পরিবার আজ বছর দুয়েক ঘরছাড়া। ঘরছাড়াদের ফেরাতে সরকার উদ্যোগহীন, ঘরছাড়াদের মধ্যেও ফেরায় প্রবল অনীহা। বিজেপি এই গৃহহীনদের সঙ্গে কাশ্মীরের হিন্দুদের তুলনা টেনে আসর গরম করছে। মায়াবতীও হাতিয়ার করেছেন সরকারি নিষ্ক্রিয়তাকে। সবার সঙ্গে তুলনা টেনে বলছেন, ‘২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। রাজ্যে একটাও দাঙ্গা হতে দিইনি। অখিলেশের পাঁচ বছরে ছোট-বড় পাঁচ শ দাঙ্গা হয়েছে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সংখ্যাটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আমিই তাই সেরা বিকল্প।’ বলছেন বটে, তবে অখিলেশের তুলনায় সেই ভরসা আদায় করতে পারছেন না। কাশিম রাজা জায়দি এরও ব্যাখ্যা দিলেন এইভাবে, ‘অখিলেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এই পাঁচ বছরে ওঠেনি। তা ছাড়া তিনি কখনো বিজেপির দিকে পা বাড়াবেন না। বহেনজি মায়াবতী সম্পর্কে এ দুই বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। দুই ক্ষেত্রেই ওর ট্র্যাক রেকর্ড সবার জানা।’

ক্ষমতার লড়াইয়ে শশীকলা ও পনিরসেলভাম

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সদ্য পদত্যাগ করা মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভাম ও তাঁর উত্তরসূরি শশীকলা নটরাজন মুখোমুখি অবস্থানে। দলের এক বৈঠকের পর গত রোববার পদত্যাগ করা পনিরসেলভাম বলেছেন, পদত্যাগ করতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি তাঁকে পদে বহাল রাখতে ‘আস্থা ভোট’ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে শশীকলা বলেছেন, দলের মধ্যে কোনো বিদ্রোহ সহ্য করা হবে না। পনিরসেলভাম গত মঙ্গলবার রাতে জয়ললিতার সমাধিস্থলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বের হয়ে বলেন, জয়ললিতাই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। অথচ রোববার তাঁকে না জানিয়ে বিধায়কদের সভা ডাকা হয়। সেখানে শশীকলা ও অন্যদের চাপে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পনিরসেলভাম বলেন, জয়ললিতার অসুস্থতার সময় তাঁকে একবারও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এ জন্য শশীকলাকে দায়ী করেন তিনি। গতকাল বুধবার পনিরসেলভাম জানিয়েছেন, জয়ললিতার মৃত্যুর কারণ জানতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন তিনি।
একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রচারাভিযান চালিয়ে জনগণ ও এআইএডিএমকের নেতা-কর্মীদের মনোভাব জানা হবে। হাসপাতালে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাঁর সঙ্গে কে দেখা করতে পারবেন, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শশীকলাই সে সিদ্ধান্ত নিতেন। চলতি সপ্তাহেই এক সংবাদ সম্মেলনে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা জয়ললিতার দেহে বিষক্রিয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, হৃদ্রোগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে শশীকলা গতকাল সকালে তাঁর বাড়িতে দলীয় বিধায়কদের সভা ডেকেছিলেন। তাতে দলের ১৩৪ জন বিধায়কের প্রায় সবাই যোগ দেন। এখন রাজ্যপাল সি বিদ্যাসাগর রাও মুম্বাই থেকে তামিলনাড়ু ফেরার পর জানা যাবে পনিরসেলভাম আস্থা ভোটের সুযোগ পাবেন কি না। রোববার রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। রাজ্যপাল না থাকায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না শশীকলাও। তামিলনাড়ুর পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যাসাগর রাও। সেই কাজেই মুম্বাই গেছেন তিনি।

অভিযুক্ত নাভালনি

রাশিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গতকাল বুধবার দেশটির কিরভ শহরের একটি আদালত মন্তব্য করেছেন। রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে নাভালনিকে।
তাঁর এক আইনজীবী বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাশিয়ার আইন অনুযায়ী নাভালনি নির্বাচনে লড়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বড় সমালোচক বলে পরিচিত রুশ এই নেতা। রয়টার্স

প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে ডাকপ্রধানের আয় ১০ গুণ!

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের চেয়ে ডাক বিভাগের প্রধান আহমেদ ফাহুয়ার আয় বেশি। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বেতনের চেয়ে ফাহুয়ার আয় ১০ গুণ। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে প্রধান নির্বাহী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ডাক বিভাগে যোগ দেন আহমেদ ফাহুয়ার। গত এক বছরে তিনি প্রায় ৫৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করেছেন। এই আয় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বেতনের ১০ গুণ। এরই মধ্যে ম্যালকম টার্নবুল দেশটির রাষ্ট্রীয় ডাক অপারেটরকে আহ্বান জানিয়েছেন, ডাক বিভাগের প্রধান নির্বাহীকে দেওয়া বেতন যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়। এ আয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল। তিনি বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ফাহুয়ারের পারিশ্রমিক খুবই বেশি।’ অস্ট্রেলিয়ান পোস্ট ব্যাপারটিকে আমলে নিয়ে জানিয়েছে,
গত বছর প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষতির হাত থেকে লাভের পথে ফেরানোয় ফাহুয়ারকে প্রায় ১২ লাখ ডলার (অস্ট্রেলীয়) বোনাস হিসেবে অতিরিক্ত প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া বেতনের পাশাপাশি পেনশনসহ আরও আনুষঙ্গিক সুবিধা ভাতাও দেওয়া হয়। ডাকের চেয়ারম্যান জন স্ট্যানহোপ অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে বলেন, ‘এটি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা এবং আমাদের প্রতিযোগিতামূলকভাবেই বেতন পরিশোধ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, কুরিয়ারের ক্ষেত্রে তাঁদের বিক্রি হয়েছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। বিশ্বসেরা কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএল এবং ফেডএক্সের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে। ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ান সিনেটে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার ডাক বিভাগের বার্ষিক বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের পর বন্ধ রয়েছে। বেতন কাঠামোর প্রতিবেদনের ব্যাপারে জন স্ট্যানহোপ বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনো অভাব সেখানে নেই।’

ট্রাম্পকে ভোট, ভাঙল ২২ বছরের সংসার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে নানা কারণে আলোচিত। সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়ে তিনি বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে। এরই মধ্যে তাঁকে ভোট দেওয়ায় সংসার জীবনের ইতি টেনেছেন এক নারী। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ায় দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন গেইল ম্যাককরমিক নামের ৭৩ বছর বয়সী এক নারী। ক্যালিফোর্নিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক চললেও বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা হয়তো এবারই প্রথম ঘটল। রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, গেইল ম্যাককরমিক ক্যালিফোর্নিয়ার একজন অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী। ম্যাককরমিক বলেন, গত বছর তাঁর স্বামী বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও মধ্যাহ্নভোজের সময় ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানান।
স্বামীর মুখে এ কথা শুনে হতবাক হয়ে যান ম্যাককরমিক। কারণ ট্রাম্পের প্রতি স্বামীর সমর্থনকে তিনি ‘চুক্তি ভঙ্গকারী’ হিসেবেই দেখেছেন। এতগুলো বছর একই সঙ্গে সংসার করার পর এমন অভিজ্ঞতার মুখে পড়া গেইল ম্যাককরমিক বলছেন, ‘ভাবতেই পারছিলাম না যে সে ট্রাম্পকে ভোট দেবে।’ তিনি মনে করেন, রিপাবলিকান পার্টির ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র শামিল। সাবেক এই কারারক্ষী বলেন, ‘ওই কথায় মনে হচ্ছিল নিজে নিজেকে বোকা বানিয়ে ফেললাম। এটা এমন একটা ব্যাপার যা আগে আমাকে মুখোমুখি হতে হয়নি। ওই সময় আমার উপলব্ধি হলো, বিয়ের পর আসলেই অনেক কিছুই বদলে গেছে। কম বয়সে অনেক কিছু কখনো মেনে নিতাম না অথচ বিয়ের পর সেসব অনেক কিছুই গ্রহণ করে এসেছি আমি! মনে হলো সব বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে হবে। তাই আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম।’ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার কারণে দেশটিতে ঘরে ঘরে বিভক্তি তৈরি হয়েছে বলে বলছেন অনেক বিশ্লেষক। অনেক মার্কিন নাগরিকদের মতে, তাঁদের আবেগে এতটা ক্ষত কখনো তৈরি হয়নি।

টঙ্গীতে ঝুটের আগুনে স্লিপার পুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ

ঝুটের আগুনে পুড়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের টঙ্গী অংশ। এ কারণে ওই রেললাইনে বেশ কিছু সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। আগুন নেভানোর পর একটি লাইনে কিছু ট্রেন চলাচল করলেও অপর লাইন বন্ধ আছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের টঙ্গী রেলব্রিজের (উত্তরাংশে) নিচে ঝুটভর্তি থাকা বস্তার স্তূপে সকাল ছয়টার দিকে আগুন লাগে। আগুনের শিখায় রেললাইনের কাঠের কয়েকটি স্লিপার পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের কর্মী ও রেল প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে যান। টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিটের কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভান। সিগারেটের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নেভার পর ডাউন লাইনে কিছু ট্রেন চলাচল করছে। তবে আপলাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে। টঙ্গীর স্টেশন মাস্টার মো. হালিমুজ্জামান বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ধূমকেতু ও টঙ্গীগামী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশনে এবং জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি টঙ্গী জংশনে যাত্রাবিরতি করছে।

মামলার রায় ২৬ ফেব্রুয়ারি

রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে পরিত্যক্ত পানির পাইপের মধ্যে পড়ে শিশু মো. জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার রায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। গতকাল এ মামলায় আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। গত বছরের ৪ অক্টোবর ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় ১১ জন এবং আসামিপক্ষে তিনজন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে। এ মামলার আসামিরা হলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আর হাউসের মালিক আবদুস সালাম,
রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, জাফর আহমেদ ও দীপক কুমার ভৌমিক। ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটার দিকে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে বাসার পাশে পরিত্যক্ত পানির পাম্পের কাছে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পাম্পের একটি পরিত্যক্ত দেড় ফুট ব্যাসের গভীর পাইপে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানেও জিহাদকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরদিন বেলা তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে। এরপর একদল উদ্যমী তরুণের চেষ্টায় শিশু জিহাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন ফকির শাহজাহানপুর থানায় এ মামলা করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলা ও বিপজ্জনকভাবে গভীর পাইপের মুখ খোলা রাখার অভিযোগ আনা হয়।

এখনো অন্ধকারে র‍্যাব

তদন্তের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম ব্যর্থতার উদাহরণ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলা। পাঁচ বছরে ৪৬ বার সময় নিয়েও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব। তদন্তের এই ব্যর্থতা নিয়ে নিহত সাগর-রুনির পরিবার ও স্বজনেরা ক্ষুব্ধ, ব্যথিত। এদিকে গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের এএসপি মহিউদ্দিনকে আগামী ২১ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলে মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে এর আগে র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। এখন সেই সব প্রতিবেদন র‍্যাবের হাতে। কিন্তু সেখান থেকে পাওয়া দুজন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ বহনকারী ব্যক্তি এখনো শনাক্ত হয়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত সাংবাদিক দম্পতির চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত চলছে গ্রিলকাটা সন্দেহভাজন চোর ও ডাকাতের বিষয়েও।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোট আটজনের মধ্যে ছয়জন এখনো কারাগারে। তবে এই হত্যা মামলার প্রথম দিকের তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, একদল চোর এই দম্পতিকে খুন করেছে। যদিও এর পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ দেখাতে পারেননি তাঁরা। গত ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ মেলে। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন পুলিশকে তদন্ত শেষ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। সেই ৪৮ ঘণ্টা এখন পাঁচ বছরে গিয়ে ঠেকেছে। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই মহীউদ্দীন খান আলমগীর ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনির হত্যারহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ৯ অক্টোবর ‘চমক দেওয়া’ সংবাদ সম্মেলনে একজনকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে সেই ব্যক্তিকে ধরেও মামলার কোনো সুরাহা হয়নি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পরে প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ও পরে ডিবি এই মামলার তদন্তভার পায়।
ডিবির তৎকালীন দুজন কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তাঁরা বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁরা চারজনের একটি চোরের দলকে ধরেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন মাহফুজ। মাহফুজকে নিয়ে ঘটনার ১০ দিন পর ওই এলাকায় যায় পুলিশ। মাহফুজ কর্মকর্তাদের দেখিয়ে দেন, কীভাবে ওই বাড়ির পাশে থাকা একটি মাঠে তাঁরা চারজন একত্রিত হন। এরপর মাহফুজ পাইপ বেয়ে উঠে দেখিয়ে দেন কীভাবে রাতের বেলা পাইপ বেয়ে তিনি চারতলায় উঠেছিলেন। ওই চোরের দলের কথামতো গলিয়ে ফেলা কিছু সোনার টুকরাও উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বাসা থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপগুলো উদ্ধার করা যায়নি। সবকিছু উদ্ধার না করে মামলার প্রতিবেদন দিলে বিষয়টি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে না বলে মত দেন ডিবির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। শেষ পর্যন্ত তাঁরা মামলার তদন্ত থেকে পিছিয়ে যান। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় (২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল) হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র‍্যাব মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তভার পেয়েই ভিসেরা পরীক্ষার জন্য কবর থেকে সাগর-রুনির লাশ উত্তোলন করে র‍্যাব। র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানান, ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাঁদের মৃত্যুর আগে কোনো প্রকার বিষাক্ত বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করানো হয়নি। আর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ছুরিকাঘাতে রক্তক্ষরণ ও আঘাতের কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
২০১৪ সালের আগস্টে আদালতে দেওয়া মামলার তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে র‍্যাব জানায়, হত্যার স্থান থেকে জব্দ করা আলামতগুলোর মধ্য থেকে ছুরি, ছুরির বাঁট ও বঁটিতে খুনির আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা পাওয়া যায় কি না, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া সাগর ও রুনির পরনের কাপড়, যে কাপড় দিয়ে সাগরের হাত ও পা বাঁধা হয়েছিল, গ্রিলের অংশ, ঘটনাস্থলে পাওয়া চুল, ভাঙা গ্রিলের পাশে পাওয়া মোজা, দরজার লক, দরজার চেইন, ছিটকিনি রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে পাঠানো হয়। মামলায় গ্রেপ্তার করা আটজনসহ, সন্দেহভাজন ও নিহত সাগর-রুনির নিকটাত্মীয়—এ রকম মোট ২১ জনের লালা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন, সাগর-রুনির স্বজন, সহকর্মীসহ মোট ১৫০ জনের জবানবন্দি নিয়েছে র‍্যাব। এরপর ২০১৫ সালের ৭ জুন আদালতে দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে র‍্যাব জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে ফরেনসিক ও রাসায়নিক পরীক্ষার পর সেখান থেকে দুজন অজ্ঞাত পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ বৃত্তান্ত পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাব সদর দপ্তরের তদন্ত ও ফরেনসিক শাখার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ওই দুজনকে খুঁজে বের করতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ১৩০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এই মামলার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যেসব আলামত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলোর রিপোর্ট হাতে এসেছে। এগুলোর আলোকে তদন্ত করছি।’ গত বছরের ২ অক্টোবর আদালতে জমা দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে র‍্যাব জানায়, ‘ঘটনাস্থল থেকে চুরি হওয়া ল্যাপটপ বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা জানার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পত্রালাপ অব্যাহত আছে। হত্যার শিকার দম্পতি সাংবাদিক হওয়ায় এখনো তাঁদের অনেক সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রিলকাটা সন্দিগ্ধ চোর ও ডাকাতের বিষয়েও নিবিড়ভাবে তদন্ত অব্যাহত আছে।’ তবে কবে নাগাদ এই মামলার অভিযোগপত্র বা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দীন বলেন, ‘সহসাই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’ তবে তিনি দিন-তারিখ স্পষ্ট করেননি।
তারপরও কারাবাস
সব মিলিয়ে এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তা প্রহরী এনামুল, পলাশ রুদ্র পাল এবং নিহত দম্পতির বন্ধু তানভীর রহমান। তাঁদের মধ্যে প্রথম পাঁচজনই গত বছরের আগস্টে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র হত্যার ঘটনায় র‍্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হন। প্রথম পাঁচজন ও নিরাপত্তারক্ষী এনামুল এখনো এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাস করছেন। কর্মকর্তারা জানান, এই আটজনের কারও বিরুদ্ধে সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত থাকার ন্যূনতম প্রমাণও মেলেনি। বিচার না পেয়ে নিহত সাগরের মা সালেহা খানম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তদন্তকারীদের ওপর আমার আর কোনো ভরসা নেই। এখন ভরসা শুধু ওপরওয়ালার ওপর।’

দেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট প্রস্তুত

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বাংলাদেশের এই জাতীয় সংগীত এত দিন পৃথিবীর আকাশ-বাতাসেই শোনা যেত। আগামী মে মাসের পর তা মহাকাশেও ছড়িয়ে পড়বে। বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব ক্ষুদ্রাকৃতির কৃত্রিম উপগ্রহ (ন্যানো স্যাটেলাইট) ‘ব্র্যাক অন্বেষা’র মহাকাশে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি শেষ হওয়ায় এই আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
কেবল জাতীয় সংগীত নয়, মহাকাশ থেকে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, নদী, ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে নগর, পাহাড়-সাগর—সবকিছুরই পর্যায়ক্রমিক আলোকচিত্রও এই উপগ্রহ থেকে পাওয়া যাবে। উন্নত দেশগুলো বেশ আগেই কৃত্রিম উপগ্রহের মালিক হয়েছে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানই শুধু এর মালিক। আগামী মার্চে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হবে। মে থেকে তা মহাকাশে ঘুরে বেড়াবে। উপগ্রহটির ওজন প্রায় এক কেজি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা এবং বর্তমানে জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (কিউটেক) গবেষণারত বাংলাদেশি তিন শিক্ষার্থীর তৈরি এই উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জেএএক্সএ) কাছে গতকাল বুধবার হস্তান্তর করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল জাপানে এক অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিব কিউটেক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কৃত্রিম উপগ্রহটি গ্রহণ করেন। পরে তা জেএএক্সএর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানটি জাপানের কিতাকিউশু থেকে ঢাকায় ব্র্যাকের মহাখালী ক্যাম্পাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানে সৈয়দ সাদ আন্দালিব বলেন, এর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। শুধু ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই নন,
দেশে মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করেন এবং কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাঠানো ছবি ব্যবহার করেন, তাঁরাও এই ঘটনাকে দেশের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, এত দিন বাংলাদেশ মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ভারতের কাছ থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের নেওয়া ছবি কিনত। এতে বৈদেশিক মুদ্রা খরচের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে তা বাংলাদেশের ভূমিরূপ ও প্রকৃতি বোঝার উপযোগী হতো না। দেশীয় কৃত্রিম উপগ্রহ হলে আগের ওই সমস্যা থেকে বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে মুক্তি পাবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, এটা বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এর মাধ্যমে মহাকাশবিজ্ঞান বাংলাদেশের মানুষের হাতের নাগালে এল। এই পথ ধরে দেশ মহাকাশ গবেষণায় আরও অনেক দূরে এগিয়ে যাবে। মূলত বাংলাদেশের তিন-চারটি সংস্থা গবেষণায় কৃত্রিম উপগ্রহের নেওয়া ছবি ব্যবহার করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস), ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম), স্পারসো ও আবহাওয়া অধিদপ্তর। সিইজিআইএসের উপনির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন আমরা বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহের নেওয়া ছবি নিয়ে গবেষণা করি। দেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ থাকলে তা আমাদের আরও গভীর ও ভালোমতো গবেষণা করতে সহায়তা করবে।’ গত বছরের জুনে কৃত্রিম উপগ্রহটি বানানোর জন্য কিউটেকের সঙ্গে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি হয়। কিউটেকের ল্যাবরেটরি অব স্পেস ক্র্যাফট এনভায়রনমেন্ট ইন্টারঅ্যাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তত্ত্বাবধানে এটা বানানোর কাজে যুক্ত হন তিন শিক্ষার্থী রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরা,
আবদুল্লা হিল কাফি ও মায়সূন ইবনে মনোয়ার। স্যাটেলাইটের নকশা প্রণয়ন থেকে চূড়ান্ত কাঠামো তৈরির সব কাজই করেছেন এই শিক্ষার্থীরা। গতকাল জাপানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এই শিক্ষার্থীরা জানান, উপগ্রহটির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ যুক্ত করা হয়েছে, যা এখান থেকে ডাউনলোড করা যাবে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে এবং কিউটেকের শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহায়তায় এই উপগ্রহটি তৈরি করা হয়েছে। এটি দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতায় ১০ সেন্টিমিটার করে। এটির কাজ সম্পর্কে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ন্যানো স্যাটেলাইট প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর মো. খলিলুর রহমান বলেন, এটা মহাকাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জলাভূমি, নগরায়ণ ও কৃষি পরিস্থিতির উচ্চমানের ছবি পাঠাতে সক্ষম। ৪০০ কিলোমিটার ওপরের কক্ষপথে উৎক্ষেপণের পর এটি প্রতিদিন ১৬ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ঘুরে যাবে দিনে চার থেকে পাঁচবার। এ সময় কৃত্রিম উপগ্রহটি থেকে ছবিও ডাউনলোড করা যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কৃত্রিম উপগ্রহটি বাংলাদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই একটি গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরির কাজ করছেন ব্র্যাকের আরেক দল শিক্ষার্থী। জাপানে কৃত্রিম উপগ্রহটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কিউটেকের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইউজি অই, ল্যাবরেটরি অব স্পেস ক্র্যাফট এনভায়রনমেন্ট ইন্টারঅ্যাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক মেংগু চো, জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (রাজনৈতিক)
জিয়াউল আবেদিন প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যোগ দেন কিউটেকের সাবেক সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান খান। কৃত্রিম উপগ্রহ হস্তান্তর উপলক্ষে ব্র্যাক ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি তোশিয়ুকি নোগুচি প্রমুখ। বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থার (স্পারসো) সদস্য ও মহাকাশ বিজ্ঞানী হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য ক্ষুদ্রাকৃতির কৃত্রিম উপগ্রহ বেশি উপযোগী। কেননা, এর মাধ্যমে অল্প খরচে এবং সহজ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে পাঠানো বাংলাদেশের ছবি আমরা পেতে পারব। দেশের কৃষি, পরিবেশ, বন, নদী থেকে শুরু করে যেকোনো ভৌগোলিক ছবি পাওয়া সম্ভব হবে। এত দিন এসব ছবি আমাদের বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে কিনতে হতো।’

কক্সবাজার থেকে সরতে চাইছে না রোহিঙ্গারা

কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে নেওয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও তাঁরা সেখানে যেতে অনাগ্রহী। টেকনাফ ও উখিয়ার নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের নেতারা এ কথা বলছেন। অধিকার ও মর্যাদা পেলে নিজ দেশ মিয়ানমারেই ফিরে যেতে চান তাঁরা। এ জন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে ঠেঙ্গারচর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন।
গতকাল বুধবার সকালে তিনি নৌবাহিনীর স্পিডবোটে করে সেখানে যান। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে সরিয়ে নেওয়া হবে। সাংসদ মইন উদ্দীন খান বাদল ৬ ফেব্রুয়ারি সংসদে বলেন, রোহিঙ্গারা একবার ঠেঙ্গারচরে ঢুকে পড়লে তাদের আর ফেরত পাঠানো যাবে না। এটি ভবিষ্যতে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে স্পিডবোটে করে ঠেঙ্গারচ​ের যান প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব। তাঁর সঙ্গে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাও ছিলেন। সামরিক সচিব যাওয়ার আগেই ঠেঙ্গারচরে অবস্থান করছিলেন হাতিয়ার সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মোহাম্মদ রেজাউল করিম, নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নবজ্যোতি খীসা, হাতিয়া থানার ওসি মো. গোলাম ফারুক। হাতিয়ার ইউএনও খোন্দকার মোহাম্মদ রেজাউল করিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব প্রায় দুই ঘণ্টা ঠেঙ্গারচরে ছিলেন। তিনি চরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে আনা নিয়ে সরকারি চিন্তাভাবনার অংশ হিসেবে তিনি চর দেখতে এসেছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ঠেঙ্গারচরে হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য হেলিপ্যাড নির্মাণ, নৌযান ভেড়ানোর জন্য জেটি তৈরি, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করাসহ আরও কিছু অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব। চরের গাছ কাটা যাতে বন্ধ রাখা হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে বলেছেন তিনি। হাতিয়ার সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী বলেন, রোহিঙ্গাদের হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসনের কথা ভাবছে সরকার। মূলত এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব জায়গাটি ঘুরে গেলেন।
তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে দ্রুত কিছু অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপড়া এলাকার নিবন্ধিত দুটি শিবিরে প্রায় ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন অনিবন্ধিত শিবিরে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তিনটি সীমান্ত ছাউনিতে সন্ত্রাসী হামলার পর সে দেশের সেনা-পুলিশ রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। দমন-পীড়নের শিকার হয়ে গত তিন মাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে নতুন করে আরও প্রায় ৬৭ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে। তারা টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় থাকছে। উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক বলেন, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কথা বললে তারা (রোহিঙ্গারা) শিবির ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যাবে। তখন রোহিঙ্গাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, মিয়ানমার সরকার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করলে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতে রোহিঙ্গারা ঠেঙ্গারচরে যেতে রাজি হবে না। এ বিষয়ে টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দুদু মিয়া বলেন, মিয়ানমারে টিকতে না পেরে এ দেশে এসেছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই তাঁরা খুশি হতেন। পর্যটন বিকাশ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ কক্সবাজারকে ঘিরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা অন্তরায় হতে পারে বলে মনে করেন কক্সবাজার নাগরিক সমাজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সরানোর চেষ্টা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক সরানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি অন্য রকমও হতে পারে। রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে সরানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো নির্দেশনা পাননি তিনি। যদিও সরকার এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য সেখানে আগে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ করা হবে। এরপর এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তখন রোহিঙ্গাদের সেখানে যেতে অনীহা থাকবে না।

জিন্নাহর ঢাকা সফর কার্জন হলে ভাষণ ছাত্রদের প্রতিবাদ

১৯৪৮ সালের মার্চে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন যখন চলছে, পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন খাজা নাজিমুদ্দীন। গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসবেন ১৯ মার্চ। মুখ্যমন্ত্রীর ভয় ছিল, ওই সময় গভর্নর জেনারেল ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পড়লে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সংগ্রাম পরিষদের কাছে ৮-দফা শান্তি প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর শান্তি প্রস্তাব সাগ্রহে মেনে নেয় দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। এ বিষয়ে তমদ্দুন মজলিস-প্রধান অধ্যাপক আবুল কাসেমের ছিল প্রকাশ্য উৎসাহ।
তবে সংগ্রাম পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ তোয়াহা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, এ পর্যায়ে আন্দোলন স্থগিত করা হলে তা আর সহজে শুরু করা যাবে না। তাঁকে সমর্থন জানান আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ। সাধারণ ছাত্ররাও আন্দোলন স্থগিতের বিরুদ্ধে। তবু সংগ্রাম পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতেরই জয় হয়। ১৫ মার্চ থেকে আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকায় এসে জিন্নাহ সাহেব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে কী মতামত প্রকাশ করবেন, সে সম্পর্কে কারও স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও প্রগতিশীল ছাত্র ও রাজনৈতিক মহলে কিছুটা আশঙ্কা ছিল। বাস্তবে সে আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হয়। একনায়কী স্বভাবের জিন্নাহ ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের নাগরিক সংবর্ধনা সভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে বিশেষ সমাবর্তনের ছাত্রসভায় বেশ জোরালো ভাষায় বলেন, পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। যারা এর বিরোধিতা করে, তারা পাকিস্তানের দুশমন। তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। কার্জন হলে উপস্থিত কিছুসংখ্যক ছাত্র তখনই ‘নো-নো’ বলে প্রতিবাদ করে ওঠেন। কিন্তু তাতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। একটু থেমে তিনি তাঁর রাজনৈতিক বক্তৃতা ঠিকই চালিয়ে যান উর্দুভাষিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে এবং সব রকম প্রগতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিপক্ষে। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র আস্থা ছিল না। ভাষা আন্দোলনের পথে এ ঘটনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, পাকিস্তানবাসী বাঙালি-অবাঙালি জনতার ওপর পাকিস্তানের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ব্যক্তিগত প্রবল প্রভাব ছিল। বলতে হয়, তাঁর প্রতি ছিল অন্ধ মুগ্ধতা। রাষ্ট্রভাষা উর্দু বা বাংলার রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে জনতার ধারণা খুব স্পষ্ট ছিল না। সে মুহূর্তে তাদের কেউ বুঝিয়ে দেয়নি,
উর্দু একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হলে বাংলাভাষী মানুষ পাকিস্তান রাষ্ট্রের উন্নয়নের পটভূমিতে কতটা পিছিয়ে পড়বে। শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে প্রশ্নটা ঢেউ তুললেও সেখানে ছিল জিন্নাহ বনাম বাংলা রাষ্ট্রভাষা নিয়ে দোদুল্যমানতা। কিন্তু যে ছাত্র যুব সমাজ পাকিস্তান আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে, তাদের বড়সড় অংশে ‘পাকিস্তানি বাদশাহ’র অসংগত বক্তব্য মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। জিন্নাহর এ বক্তৃতা ছাত্রসমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিক্ষুব্ধ কিছু ছাত্র রেসকোর্স ময়দান থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষান্ত হননি, জিন্নাহ-বন্দনায় তৈরি বেশ কয়েকটি তোরণ ভাঙচুর করেন। তাঁরা জিন্নাহর ছবি নষ্ট করেন। এ ঘটনা তখনকার জন্য অভাবিত। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে একাত্তরের মার্চে। তবু জিন্নাহর ঢাকা সফর ভাষা আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় বিরূপ প্রভাবও সৃষ্টি করে। তমদ্দুন মজলিসসহ মধ্যপন্থীরা এ বিষয়ে সাময়িক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই স্থগিত আন্দোলনের শক্তিমান প্রকাশ ঘটাতে ছাত্রদের প্রায় চার বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, যদিও তাদের চেষ্টায় ত্রুটি ছিল না। অবস্থা তৎকালীন রাজনৈতিক মহলে এমন ছিল যে জিন্নাহর অগণতান্ত্রিক বক্তৃতার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেননি। একমাত্র ফজলুল হক সাহেব প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানান, যা সংবাদপত্রে প্রকাশ পায়। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ তোয়াহার ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যে পরিণত হয়।
আহমদ রফিক: ভাষাসংগ্রামী, কবি ও রবীন্দ্র-গবেষক

নেই মাঠ, কমিউনিটি সেন্টারে থানা

উত্তর ও দক্ষিণ মুগদাপাড়ায় দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। অথচ মহল্লার শিশু-কিশোরদের কোনো খেলার মাঠ ও পার্ক নেই। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। এই এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একমাত্র কমিউনিটি সেন্টারটি চার বছর ধরে দখল করে রেখেছে মুগদা থানার পুলিশ। ফলে ডিএসসিসির এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিকেরা।
অবিলম্বে বিকল্প স্থানে থানার কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মুগদাপাড়া সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সংসদের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, খেলার মাঠ ও পার্ক না থাকায় মহল্লার শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও নেই। সারা দিন চারদেয়ালের ঘরে তাদের বন্দী থাকতে হয়। এতে একসময় তাদের একটি অংশ মাদকাসক্তিতে ঝুঁকে পড়ে। সন্ধ্যার পর মহল্লার অলিগলিতে ভাসতে থাকে গাঁজার গন্ধ। অবিলম্বে সরকারকে মুগদাপাড়ায় মাঠ ও পার্কের ব্যবস্থা করতে হবে। দক্ষিণ মুগদাপাড়ার বাজার রোডের স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল আহমেদ বলেন, আগে এই কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিদিন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। কিন্তু ২০১২ সালের ৫ জুন থানার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে।
অথচ এই এলাকায় ডিএসসিসির বিকল্প কোনো কমিউনিটি সেন্টার নেই। অবিলম্বে কমিউনিটি সেন্টার থেকে থানাটি স্থানান্তর করা দরকার। ওই দুটি এলাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। ওয়াসা রোড, মদিনাবাগ, খালপাড় রোড, বিশ্বরোড, দক্ষিণ মুগদাপাড়া বাজার রোড, স্কুল গলি, ৭ নম্বর রোড, ব্যাংক কলোনি, আরব বেকারি রোড, জান্নাতবাগ রোড, শান্তিকানন, ওয়াপদা গলি, জিরো পয়েন্ট, সরদারবাড়ি রোড, বড় মসজিদ রোড, মুগদা প্রধান সড়ক এলাকা নিয়ে উত্তর মুগদাপাড়া ও দক্ষিণ মুগদাপাড়া এলাকা গঠিত। এই ওয়ার্ডে ভোটারসংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। গতকাল বুধবার এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তর ও দক্ষিণ মুগদাপাড়ায় যাতায়াতের প্রধান সড়ক বিশ্বরোড, বাজার রোড ও হাসপাতাল রোড। এর মধ্যে খানাখন্দে ভরা বিশ্বরোড ও বাজার রোডের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা স্তূপ হয়ে আছে। বাতাসে উড়ছে ধুলাবালু। নাক-মুখ চেপে চলাচল করছে পথচারীরা। ধুলাবালু থেকে বাঁচতে দোকানিদের সড়কে পানি ছিটাতে দেখা গেছে। সড়কে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা চলছে প্রচুর।
মহল্লার সড়ক সরু হওয়ায় রিকশা ছাড়া অন্য যানবাহন চলে না। এ ছাড়া বিশ্বরোডের পূর্ব পাশের ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট ও মালামাল রেখে তা দখল করে রেখেছেন দোকানিরা। এতে পথচারীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মদিনাবাগের বাসাবাড়িতে আছে গ্যাসের সংকট। এলাকায় মশার ব্যাপক উপদ্রব। খালপাড় রোডের স্থানীয় বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, মহল্লার অলিগলিতে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। বাসিন্দারা মশার কামড়ে অতিষ্ঠ। কয়েল জ্বালিয়েও মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে রাখতে হয়৷ মশার উপদ্রব দিনে দিনে বাড়ছে৷ মহল্লার নালাগুলো পরিষ্কার করা হয় না। এসব নালা থেকেই মশা জন্মায়। মদিনাবাগের একটি গলিতে ক্রিকেট খেলছিল মহল্লার কয়েকটি শিশু। রাসেল ও নাজমুল বলে, তাদের এলাকায় কোনো খেলার মাঠ নেই। গলি ফাঁকা পেলে এর মধ্যেই ক্রিকেট খেলে। তবে অনেক সময় দৌড়াতে গিয়ে ইট-পাথরে হোঁচট খেতে হয়। এতে মহল্লার অনেক শিশু আহত হয়।

পরীক্ষা হবে, শুধু আসবে না সাকিবুল

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ রমিজউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির নিচতলার ২৮ নম্বর কক্ষের দ্বিতীয় সারির চতুর্থ বেঞ্চে ছিল সাকিবুল ইসলামের আসন। এখানে বসেই এসএসসি (মাধ্যমিক) পরীক্ষা দিত সে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আবার পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু সাকিবুল আর বসবে না এই আসনে, খাতায় লিখবে না উত্তর। কারণ, গত মঙ্গলবার পরীক্ষা দিতে আসার পথেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। সাকিবুলের এই অকালমৃত্যু মানতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। সাকিবুলের চাচা জসিম উদ্দিন বলেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করতে ১০-১২ বছর আগে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় আসেন সাকিবুলের বাবা জাহাঙ্গীর আলম।
দক্ষিণ বাড্ডায় বাসা ভাড়া নেন এবং দুই ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করান। বড় ছেলে রাকিবুল ইসলাম গত বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হয়েছে। দুর্ঘটনায় ছোট ছেলে সাকিবুলকে হারিয়ে জাহাঙ্গীর এখন বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। মা ফরিদা ইয়াসমিনও ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বনানীর বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিবা শাখার বাণিজ্য বিভাগের (ডি গ্রুপ) ছাত্র ছিল সাকিবুল। তার শ্রেণিশিক্ষক মিলন কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, সাকিবুলের মৃত্যুতে স্কুলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি গতকাল সকালে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়েছে। তিনি বলেন, মায়ের সঙ্গেই স্কুলে আসা-যাওয়া করত। কোনো কারণে তার মা স্কুলে আসতে না পারলে সাকিবুলও আসত না। স্বজনেরা বলছেন, গত মঙ্গলবার সকালে একটি বাসে দক্ষিণ বাড্ডার বাসা থেকে মায়ের সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিল সাকিবুল। সকাল নয়টার দিকে বাস মহাখালী সিগন্যালে আটকে পড়লে সাকিবুল ও তার মা বাস থেকে নেমে সিগন্যাল পার হন। এরপর সাকিবুল একটি বাসে ও দুই-তিন বাস পেছনের একটিতে তার মা ওঠেন। মা ঠিকভাবে বাসে উঠতে পারলেন কি না, তাই নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল সাকিবুলের। তাই বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করে বারবার তাকাচ্ছিল পেছনে। আর এ সময় সাকিবুলের মাথায় সড়কের পাশের ল্যাম্পপোস্টের আঘাত লাগে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মঙ্গলবার বাদ এশা নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটীতে সাকিবুলদের গ্রামের বাড়িতে তার দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতেই বনানী থানায় একটি মামলা হয়েছে। বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সাকিবুলের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত চালককে আসামি করে মামলা করেছেন। গতকাল রাত নয়টা পর্যন্ত আসামিকে শনাক্ত করা যায়নি। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। বাস মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, শিগগিরই চালকের পরিচয় পাওয়া যাবে। সাকিবুলের শ্রেণিশিক্ষক মিলন কুমার বিশ্বাস বলেন, পড়ালেখা ছাড়া অন্য কিছুতে মন ছিল না সাকিবুলের। স্কুলে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নামও সাকিবুল, পুরো নাম সাকিবুল হাসান। সাকিবুল হাসান প্রথম আলোকে বলে, শহীদ রমিজউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের একই কক্ষে বসে পরীক্ষা দিয়েছে তারা। সাকিবুল ইসলামের সঙ্গে গত রোববার তার শেষ কথা হয়েছিল। ওই দিন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা ছিল। মঙ্গলবার পরীক্ষা চলাকালে সাকিবুল ইসলামের আসন ফাঁকা ছিল। শিক্ষক জানিয়েছিলেন একটি দুর্ঘটনা হয়েছে, যার জন্য সাকিবুল ইসলামের পরীক্ষার হলে আসতে এক ঘণ্টার মতো দেরি হতে পারে। কিন্তু সে আর আসেনি। পরীক্ষার পর সহপাঠীরা জানতে পারে সাকিবুল ইসলাম মারা গেছে।

সাতরাস্তার সংযোগ সড়কে দলীয় কার্যালয় বহাল

তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড় থেকে সামনে উড়ালসড়ক থেকে নেমে পশ্চিম দিকে মোড় নিলেই ফুটপাতজুড়ে দেখা যাবে ভাঙা স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ আর গাছের বড় বড় টুকরা। পাশেই ফুটপাত থাকলেও দেখা যায় না। কারণ, সেখানে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২ নম্বর ইউনিট কার্যালয়।
কিছু দূর গেলে ফুটপাতজুড়ে দেখা যাবে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড ও ইউনিট কার্যালয়। গতকাল বুধবার দুপুরে এলাকায় গিয়ে এই অবস্থা দেখা যায়। এই সংযোগ সড়কটিতে এখন পর্যন্ত গাড়ির বডি তৈরির কারখানা বহাল রয়েছে। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাস খানেক আগে এখানকার ফুটপাতগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা হলেও দলীয় কার্যালয়গুলোয় হাত দেওয়া হয়নি। শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল। মূলত পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়ে দখলমুক্ত করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কার্যালয়ের জন্য ফুটপাতে হাঁটার উপায় নেই। এলাকায় এ ধরনের আরও কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন দলের বা অঙ্গসংগঠনের। অভিযানে এসব স্থাপনাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রশীদ বিষয়টি অস্বীকার করে গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, থানা থেকে কোনো অবৈধ স্থাপনা এড়িয়ে যাওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ সিটি করপোরেশনের।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে আবারও অভিযান করতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বুলডোজারও দিতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ প্রান্তের মিনি ট্রাকস্ট্যান্ড রোড ঘুরে দেখা গেল সড়কটি আগের তুলনায় আরও সরু হয়ে গেছে। চলছে বড় বড় কাভার্ড ভ্যানের বডি তৈরির কাজ। তেজগাঁও শিল্প এলাকার মদিনা মসজিদের উত্তর পাশের ৩০ ফুট চওড়া এই সংযোগ সড়কের কোথাও কোথাও গাড়িতে রং লাগানোর কাজও চলছে। সড়কের যেটুকু অংশ খালি, সেখানে লোহা ও ইস্পাতের অংশ রাখা। এতে যানবাহন আটকে যাচ্ছে। চলতে চলতে পথচারী হোঁচট খাচ্ছেন। তানভীর মোটরস, রুমা মোটরস, মায়ের দোয়া, নিউ হাসান মোটরস, জনি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসসহ বিভিন্ন দোকান বা গ্যারেজের সামনে চলছে কাজ। মাঝেমধ্যেই ব্যক্তিগত গাড়িচালকেরা চিৎকার দিলে চলার মতো রাস্তা করে দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগ করা হলে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, একাধিকবার উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হলেও আবার ওয়ার্কশপ গড়ে ওঠে। চলাচলের রাস্তাটি ওয়ার্কশপ হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানীতে উৎসবের আমেজ

শীতটা চলেই গেল। গাছের শাখা থেকে ঝরে পড়ছে পুরোনো মলিন পাতা। কোথাও কোথাও উঁকি দিচ্ছে কচি সবুজ পাতারা। ফুরফুরে মেজাজের হালকা শীতল বাতাস। বাইরে বেরোলেই মন ভালো করা আবহাওয়া। কদিন পরই বসন্ত। প্রকৃতির এই সাজ সাজ রব এখন নগরবাসীর মনেও। নগরে চলছে বইমেলা, নাট্যোৎসবসহ নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীতে। মাথায় ফুল। একটু পর পর মুঠোফোনে ছবি তোলা। একই রং ও ঢঙের পোশাক। শ্রাবণী ইসলাম ও লাবনী ইসলাম দুই বোন। একজন ঢাকায় থাকেন, অন্যজন খুলনায়। খুলনার লাবনী বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছেন। সারা দিন টইটই করে ঘুরে বেড়ানো দুজনকে বইমেলায় পাওয়া গেল। তাঁদের দুই বোনের মতো অনেকেই ঘুরছেন এসব অনুষ্ঠান-উৎসবে। এক উৎসব শেষ হতে না হতেই আরেক উৎসব এসে হাজির। সাংস্কৃতিক অঙ্গন এখন মানুষের পদচারণায় মুখর। নানান বয়সী মানুষ ছুটে বেড়াচ্ছে এই উৎসব থেকে ওই উৎসবে। এ মাসে ঢাকায় বিভিন্ন উৎসব হয় বলেই বেড়াতে এসেছেন লাবনী ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বোনকে নিয়ে সারা দিনই ঘুরছি। চারুকলায় দেখলাম সুন্দর সুন্দর ব্যাগ, ফ্রেম প্রদর্শন করছে। এখন বইমেলায় আসছি। ভালোই লাগছে।’ মাসজুড়ে শুরু হওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইপ্রেমী ছাড়াও ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। গতকাল বুধবার বিকেলে দেখা যায়, খুব বেশি ভিড় না হলেও প্রায় সব স্টলেই কমবেশি মানুষ বই নেড়েচেড়ে দেখছেন। বইমেলার পাশেই মাইকে ভেসে আসছে নাটকের সংলাপ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে চলছে বুদ্ধি নাটকের মঞ্চায়ন। ভেতরে গিয়ে দেখা গেল দর্শকভর্তি গ্যালারি।
মেলা ঘুরে বই হাতেও অনেকে এসেছেন। নাটকের সংলাপে কখনো কখনো হেসে উঠছেন দর্শক। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আয়োজনে ফেব্রুয়ারিজুড়েই চলবে এই নাট্যোৎসব। প্রতিদিন দুটি নাটক প্রদর্শন করা হয়। বিকেল সারে চারটা থেকে শুরু হয় নাটক। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ স্লোগানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গতকাল থেকে শুরু করেছে অমর একুশের অনুষ্ঠানমালা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও দর্শকের সমাগম ছিল ভালোই। নাটক, কবিতা, সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি চলবে প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। জোটের এই অনুষ্ঠান ১৭ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে। হ্যান্ডিক্যাম, ইস্ত্রি, টাইপরাইটার, রেডিও, গয়নার বাক্স, ক্যালকুলেটরসহ পরিত্যক্ত সব প্রয়োজনীয় জিনিস দেয়ালে সাঁটানো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের মনোযোগ দিয়ে দেখছিলেন এসব পরিত্যক্ত জিনিসপত্র। এসব জিনিসপত্র দিয়েই শিল্পী মিনহাজ মারজু তৈরি করেছেন তাঁর একটি শিল্পকর্ম। আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবিমেলা ৯’ উপলক্ষে করা হয়েছে এই শিল্পকর্মটি। দেশ-বিদেশের বিখ্যাত আলোকচিত্রীদের ছবির প্রদর্শনী চলছে উৎসবের মূল ভেন্যু শিল্পকলা একাডেমিতে। জুবায়ের বলেন, ‘ঘুরতে ঘুরতে এখানে চলে এলাম। গুণী শিল্পীদের কাজ দেখতে পারা সৌভাগ্যের ব্যাপার।’ ছবিমেলায় প্রদর্শিত ছবির চরিত্রগুলো হঠাৎ হঠাৎ জীবন্ত মনে হয়। আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের কাজগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবিমেলা-৯ চলবে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সবার সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সশস্ত্র বাহিনীসহ সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে গতকাল বুধবার আয়োজিত ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) ২০১৬-১৭ কোর্সের গ্র্যাজুয়েশন প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার চায় না, দেশে এমন কিছু ঘটুক, যাতে চলমান উন্নয়নে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপীই একটি উদ্বেগজনক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে সরকার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও এই গণসচেতনতা সৃষ্টির কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সমাজের সর্বস্তরের জনগণের প্রতিও নিজ নিজ সন্তানের দিকে খেয়াল আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও আমাদের নৌবাহিনীর সাবমেরিন ছিল না। সম্প্রতি অত্যাধুনিক সাবমেরিন নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়ে আমাদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী। ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় একইভাবে সেনা ও বিমানবাহিনীকে চৌকস ও পেশাদারি করে তোলা হয়েছে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয়েছে। বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে এফ-৭ বিজি যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে নতুন ট্যাংক,
এপিসি, সেল্ফ প্রোপেলড আর্টিলারি গান সংযোজনের পাশাপাশি ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইলের পরিচালনায় পারদর্শিতা, মেইনটেন্যান্স কাজে পেশাদারি ও সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্টাফ কলেজে সেনাবাহিনীর ৪১টি, নৌবাহিনীর ৩৫টি এবং বিমানবাহিনীর ৩৭টি স্টাফ কোর্স সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ৯৯৮ জন কর্মকর্তাও এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেছেন। নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে আপনাদের জীবনের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য একটি দিন। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আজ আপনারা সমরবিজ্ঞানের ওপর উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেছেন। আমার বিশ্বাস, এ প্রশিক্ষণ অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালনে এবং যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনাদের আরও আত্মপ্রত্যয়ী হতে শেখাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এ বছর ১৪ জন নারী কর্মকর্তা গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ডিএনসিএসসির ২০১৬-১৭ কোর্সের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। এ বছর ২৮০ জন কর্মকর্তা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১৫৮ জন, নৌবাহিনীর ২৭ জন, বিমানবাহিনীর ২৪ জন এবং ৭১ জন বিদেশ থেকে আসা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কূটনীতিকেরা, উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন–ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে রকিব কমিশনের বিদায়

নির্বাচন-ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করে গতকাল বুধবার বিদায় নিয়েছে রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, এই কমিশন তার পাঁচ বছরের মেয়াদে তা ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ মনে করেন, তাঁর কমিশনের কোনো ব্যর্থতা নেই।
গতকাল বুধবার বিদায়ের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পাঁচ বছরের মেয়াদে সবকিছুতেই তাঁরা সফল হয়েছেন এবং জাতির সামনে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করেছেন। গতকাল সর্বশেষ অফিস করার মাধ্যমে কাজী রকিবউদ্দীন, নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ ও জাবেদ আলী পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করেছেন। কমিশনার মো. শাহনেওয়াজের মেয়াদ শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিদায়ী কমিশনের সাফল্য-ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান কমিশন যা করে গেছে, তাতে কমিশনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বিদায়ের আগে তাদের বলে যাওয়া উচিত, তারা কী কী ভালো কাজ করেছে। আর কোথায় কোথায় সমস্যা দেখেছে। নতুন কমিশনকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য হলেও তাদের এ কাজটি করা উচিত।
যত অনিয়ম
বিদায়ী কমিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। এর অধীনে জাতীয় সংসদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। কমিশন সচিবালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এত বেশি নির্বাচন করার সুযোগ অতীতের কোনো কমিশন পায়নি। এই কমিশনের অধীনে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করেন। পরের বছর রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জয় পান বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। নির্বাচনী অনিয়মের শুরু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ নেয়নি। প্রায় ভোটারবিহীন এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দেড় শতাধিক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দুই পর্ব মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়। প্রথম দুই ধাপে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জয় পান।
পরের ধাপগুলোতে দেশব্যাপী কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারার সংস্কৃতি শুরু হয় এবং বেশির ভাগ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। গত বছরের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন নিয়েও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আছে। এই কমিশনের অধীনে সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তার আগে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সীমাহীন অনিয়মের মধ্য দিয়ে। এ দুটি নির্বাচনে অনেক জায়গায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রও জমা দিতে পারেননি। অনেক জায়গায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনিয়মে অংশ নেন। কিন্তু কমিশন থেকে এসব অনিয়ম প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ক্ষমাপ্রার্থনা
আইনে অনিয়ম প্রমাণিত হলে নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে। কিন্তু এই কমিশন ইউপি নির্বাচনে অনিয়ম-সংক্রান্ত প্রার্থীদের অভিযোগ আমলেই নেয়নি। উল্টো এক চিঠিতে সব প্রার্থীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের চরভৈরবী ইউনিয়নের এক প্রার্থী হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। হাইকোর্ট কমিশনকে অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। কমিশন সেই আদেশ আমলে নেয়নি। এ জন্য হাইকোর্ট কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় সিইসি ও চার কমিশনার গত ২৬ নভেম্বর আদালতে গিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। উপজেলা নির্বাচনের পর বিরোধী দলসহ সমালোচকদের অনেকে বর্তমান কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। এ বিষয়ে নিজেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরতে গিয়ে কমিশনার জাবেদ আলী টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কোমর দুলিয়ে বলেছিলেন, ‘মেরুদণ্ড তো ঠিকই আছে।’ বিদায়ী কমিশন সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সময় লাগে,
কিন্তু ভাঙতে সময় লাগে না। দুই দশকে অন্য কমিশন যা অর্জন করেছে, বর্তমান কমিশন তা বিসর্জন দিয়েছে। নতুন কমিশন আগের অবস্থানে ফিরে যেতে চাইলে তাকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। এদিকে নির্বাচন-ব্যবস্থা ধ্বংস করার অভিযোগ সম্পর্কে বিদায়ী সিইসি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা নির্বাচন-ব্যবস্থাকে দুর্বল অবস্থায় নিয়ে যাইনি। দেশে কথায় কথায় মারামারি বেড়ে গেছে। এটা একধরনের সামাজিক অবক্ষয়।’ দেড় শতাধিক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার বিষয়টি আইনেই আছে। মাঠ ছেড়ে দিলে তো প্রতিপক্ষ গোল দেবেই। এটা রাজনীতির খেলা। কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, নতুন কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেবে। নিয়োগ পাওয়া পাঁচজন হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম ও মো. রফিকুল ইসলাম। তাঁদের শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত কমিশনার শাহনেওয়াজ একা দায়িত্ব পালন করবেন।

সংকটেও আশা–জাগানিয়া

নয় বছর বয়সী যমজ সন্তানের মা আমেনা বেগম। মেয়ে ইফতিদা জাহান অটিজমে, ছেলে তৌহিদুর রহমান সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। দুই সন্তানের চিকিৎসা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় অনেক রাত নির্ঘুম কেটেছে তাঁর। তবে দুই বছর ধরে একটু একটু করে আশার আলো দেখছেন তিনি। টানা চিকিৎসায় ধীরে হলেও হাঁটতে শিখছে তৌহিদুর, ইফতিদাও আগের চেয়ে সুস্থির।
এ জন্য নগরের প্রতিবন্ধীসেবা ও সাহায্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আমেনা বেগমের। হালিশহরের বি ব্লকের বাসিন্দা আমেনা বেগম প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রেই সময় কাটান। মেয়ে ইফতিদা কেন্দ্রের অটিস্টিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। গত সোমবার কেন্দ্রে গেলে কথা হয় আমেনা বেগমের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘স্বামীর আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। বাচ্চাদের বিশেষ চিকিৎসার সামর্থ্য ছিল না। পরিচিত একজনের মাধ্যমে বাচ্চাদের নিয়ে কেন্দ্রে আসি। এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে।’ নগরের নয়াবাজার গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় ঢুকতেই চোখে পড়বে প্রতিবন্ধীসেবা ও সাহায্যকেন্দ্র চট্টগ্রামের সাইনবোর্ড। আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কের আট নম্বর বাসাটিই এখন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে চালু হয়েছে কেন্দ্রটি। সরকারি এই কেন্দ্রে সেবা দেওয়া হয় শনি থেকে বুধবার। রয়েছে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির সেবা। যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ বিনা মূল্যে কেন্দ্র থেকে এসব সেবা নিতে পারেন। পাঁচ বছরের শিশু দেবব্রত নাথ একসময় সোজা হয়েও দাঁড়াতে পারত না। নিয়মিত চিকিৎসায় এখন মায়ের হাত ধরে এলোমেলো পায়ে হলেও হেঁটে বেড়াতে শিখেছে সে। এক বছর ধরে টুকটাক কথাও বলছে। ছেলের উন্নতির কথা বলতে গিয়ে মা প্রীতি রানীর মুখের হাসি কেবলই চওড়া হচ্ছিল। কেন্দ্রের চিকিৎসক শামিমা নাসরিন বলেন, নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ পেলে প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিবন্ধিতা অনেকখানি কমানো সম্ভব। পূর্ণবয়স্ক পক্ষাঘাত, বাত বা এ ধরনের রোগীরাও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সুস্থ ও কর্মক্ষম হতে পারেন। কেন্দ্রে ফিজিওথেরাপি নিতে স্ত্রীর সঙ্গে এসেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব শামসুল হক। বছরখানেক আগে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। দুই সপ্তাহ ধরে বিনা মূল্যে কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেন্দ্রের খোঁজ পাওয়ার আগে নয়াবাজার থেকে নিয়মিত চকবাজারে গিয়ে ফিজিওথেরাপি নিতে হতো। অর্থের অভাবে নিয়মিত নিতেও পারতেন না।
তবে এখন তাঁর কপালে নেই দুশ্চিন্তার ভাঁজ। প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কেন্দ্রে সেবা দেওয়া হয়। চালু হওয়ার পর গত জানুয়ারি পর্যন্ত ২১ হাজার ২০৪ জন এ কেন্দ্র থেকে সেবা পেয়েছেন। কেন্দ্রের একটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে শিশুদের খেলার কক্ষ হিসেবে। অটিজম কর্নারে চলছে অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম। ১০ জন শিশুকে এখানে বর্ণ পরিচিতি, আচরণ ইত্যাদি শেখানো হয়। সেবা মিললেও এ কেন্দ্রের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। শহরের মূল কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরের হওয়ায় কেন্দ্রে আশপাশের রোগীই বেশি দেখা গেল। প্রয়োজনের তুলনায় কেন্দ্রের ভেতরের আয়তনটাও বেশ ছোট। ছোট ছোট কক্ষে চলছে চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম। কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই, প্রতি মাসে বাসাভাড়া বাবদ সরকারি বরাদ্দ ২০ হাজার টাকা। বরাদ্দ কম থাকায় চাইলেও বড় বাড়ি ভাড়া নেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এক বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে আছে ফিজিওথেরাপিতে ব্যবহৃত কয়েকটি যন্ত্রপাতি। কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, শহরের মূল কেন্দ্রে হলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ত। এ ছাড়া কেন্দ্রের প্রচারও কম। দুজন চিকিৎসক ছাড়াও ফিজিওথেরাপি সহকারী ও টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন চারজন। দীর্ঘদিন ধরে স্পিচ থেরাপিস্টের পদটি খালি। কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী–বিষয়ক কর্মকর্তা সিতারা ফেরদৌস বলেন, নষ্ট যন্ত্রপাতি ঠিক করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নতুন যন্ত্র পাওয়া যাবে। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্যও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের আয়তন বাড়ানো গেলে সেবার মানটা আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।

কম খরচে ইচ্ছাপূরণ

সৌদি আরবপ্রবাসী শওকত আলী। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর বছর তিনেক আগে দেশে ফেরেন। পরিবারের জন্য খুঁজতে থাকেন পছন্দের একটি আবাস। তবে মাথায় ছিল, তা যেন হয় সাধ্যের মধ্যে। অবশেষে নগরের জয়নগর এলাকায় পান ১ হাজার ৩০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। সব মিলিয়ে তাঁর ব্যয় হয় ৬৫ লাখ টাকা। শওকত আলীর মতো প্রবাসী, ব্যাংকার, সরকারি চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী,
ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকেরা তুলনামূলকভাবে ছোট ও কম দামের ফ্ল্যাট কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এসব অ্যাপার্টমেন্টের দাম মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকায় বিক্রিও হচ্ছে বেশি। এসব অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি গ্রাহকদের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কথা মাথায় রেখে কোম্পানিগুলোও একের পর এক প্রকল্প চালু করছে। এসব ভবনে বসবাসের বাইরে অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও রাখছে কোম্পানিগুলো। আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ বর্গফুটের আকৃতির ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য ৩৫ থেকে ৮০ লাখ টাকা। সিপিডিএল, এমডিসি, এপিক, এয়ারবেল, স্যানমারসহ বিভিন্ন আবাসনপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের ফ্ল্যাট বিক্রি করছে। রিহ্যাবের প্রেস অ্যান্ড মিিডয়া কমিটির আহ্বায়ক এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী বলেন, এবারের আবাসন মেলায়ও কমবেশি সব প্রতিষ্ঠান ছাড় দিচ্ছে। গ্রাহকেরা নিজের সামর্থ্য আর ইচ্ছার সমন্বয় করতে পারবেন। প্রবাসী শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামে বাড়ি থাকলেও নগরে মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো আবাস ছিল না। প্রবাসে থাকার সময়ই চিন্তা ছিল নগরে একটি ফ্ল্যাট কেনার। তবে দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। তবে এখন যে ফ্ল্যাটটি কিনেছি, তার দাম সামর্থ্যের মধ্যেই ছিল। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হয়েছে।’ সিপিডিএলের ব্যবস্থাপক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) আমজাদ হোসেন জানান, ৪০-৬০ লাখ টাকা দামের ফ্ল্যাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে, মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজনই এ দামের ফ্ল্যাটের গ্রাহক। এ ছাড়া প্রবাসীরাও এ ধরনের ফ্ল্যাট কিনছেন। তাঁরা ফ্ল্যাট কিনতে চাইলেও অনেক সময় দামের কারণে তা সম্ভব হয় না। কেননা বড় আকারের অ্যাপার্টমেন্টের দাম কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। মূল্য সহনীয় হওয়ায় তাঁরা ছোট ও মাঝারি সাইজের ফ্ল্যাট বুকিং দিচ্ছেন। গ্রাহকদের চাহিদার বিষয় চিন্তা করে নগরের পাথরঘাটায় ছোট ও মাঝারি আকারের ফ্ল্যাট প্রকল্প চালু রয়েছে বলে জানান আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, ‘ডাউন টাউন সিপিডিএল’ নামের এ প্রকল্পে তিনটি ভবন রয়েছে। অ্যাপার্টমেন্টগুলোর আয়তন ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ বর্গফুটের। মোট ১৪০টি অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে। নগরের কর্নেলহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চকবাজার, জামালখান, পাথরঘাটা, আন্দরকিল্লা, চট্টেশ্বরী,
চন্দনপুরা, কালা মিয়া বাজার, ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা ও কাতালগঞ্জ এলাকায় ছোট ও মাঝারি সাইজের ফ্ল্যাট প্রকল্প রয়েছে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর। এপিকের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস খুরশীদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, নগরের ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, লালখান বাজার, চন্দনপুরা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, কালা মিয়া বাজার এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প রয়েছে। এসব এলাকায় চালু থাকা প্রকল্পে তিন কক্ষবিশিষ্ট ফ্ল্যাটের আকার ১২৫০ বর্গফুট। তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে অন্তত ২০০ গ্রাহক তাঁদের কার্যালয়ে এসে এ ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন। অর্ধেকের বেশি আগ্রহী গ্রাহক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কয়েকজন বুকিংও দিয়েছেন। এ ছাড়া চলতি মাসে আরও ২০টি অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিহ্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে ছোট আকারের ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়ছে। এলাকাভেদে দামের রকমফের রয়েছে। নাসিরাবাদ এলাকায় যেখানে বর্গফুটপ্রতি দাম ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা, কর্নেলহাট, আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকায় এর দাম পড়ে সাতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া জামালখান এলাকায় ফ্ল্যাটের বর্গফুটপ্রতি দাম ৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে সামর্থ্যের মধ্যেও ফ্ল্যাট মিলবে। সর্বনিম্ন ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন গ্রাহকেরা।

বেহালার সুরে মোহনীয় সন্ধ্যা

বেহালায় ধ্রুপদ, রবীন্দ্রসংগীত, রজনীকান্ত ও আধুনিক গানের সুর শুনিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করলেন ভায়োলিনিস্টি চট্টগ্রামের শিল্পীরা। ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংগঠনের ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এই আসরের। সংগঠনের উপদেষ্টা রাশেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ আনোয়রা আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বড়ুয়া। আসরের সঞ্চালনা করেন প্রবীর পাল। কথামালায় বক্তারা বলেন, সব দেশেই সৃষ্টিশীল মানুষরা বেহালার প্রতি অনুরাগী। আর এই সুরেলা যন্ত্রের চর্চা যত বেশি হবে ততই যুব সমাজ সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার দিকে আকৃষ্ট হবে। সুরের আয়োজন শুরু হয় সংগঠনের শিল্পীদের সমবেত ইমন রাগ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর শিল্পীরা বেহালায় রবীন্দ্রনাথের প্রার্থনা পর্বের গান ‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও’ বাজিয়ে শোনান। সমবেত বাদনের পর বেহালায় দ্বৈতভাবে রাগ যোগ ও রাগ পাহাড়ি খাম্বাজ বাজান হোমায়রা আফরাঈম ও আনিলা নওশীন। তাঁদের পর স্নিগ্ধা দেব বাজিয়ে শোনান ‘মোর ভাবনারে কী হাওয়ায় মাতাল’ গানটি।
তন্ময় সরকার ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’ ও ‘তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’ দুটি গান। আসরে দেশাত্মবোধক গান বাজিয়ে শোনান আনিলা নওশীন, রওনাক ইবতিসামা চৌধুরী ও সাজ্জাদুল ইসলাম। নাবিলা নুসরাত, পর্ণা বড়ুয়া ও রাহেলা রিজওয়ানা চৌধুরী পরিবেশন করেন বেশ কয়েকটি পুরোনো দিনের গান। সবশেষে শিল্পীরা পরিবেশন করে রাগ খাম্বাজ। শিল্পীদের তবলায় ত্রিদীব বৈদ্য ও প্রান্ত ভট্টাচার্য, কি-বোর্ডে সুজন ও পারকিউশনে ফারুক আহমেদ সহযোগিতা করেন।

গল্পটা মোগলাই খাবারের

তন্দুরি চিকেন, চিকেন হারিয়ালি কাবাব, চিকেন রেশমি কাবাব, চিকেন ভর্তা, মাটন হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি, মাটন কড়াইসহ নানা পদের খাবারের সমাহার। ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন দামের এসব খাবারের মধ্যে একটি মিল রয়েছে। তা হলো, এগুলো সবই মোগলাই খাবার। পাওয়া যাবে রোদেলা বিকেল রেস্তোরাঁয়। কেবল এসব পদ নয়, এই রেস্তোরাঁর মোগলাই খাবারের মেনুটা বেশ লম্বা। রোদেলা বিকেলের গল্পটা তাই মোগলাই খাবারের বললে ভুল হবে না।
নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম পাড়ার এই রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে ভোজনরসিকদের মন জয় করেছে। অবশ্য লোকজন কেবল মোগলাই খাবার খেতে এই রেস্তোরাঁয় ভিড় করেন ভাবলে ভুল হবে। এখানকার দেশি অর্থাৎ খাটি বাংলা খাবারও কম জনপ্রিয় নয়। এ ছাড়া রান্নায় নানা দেশের মসলা ও বিশুদ্ধ উপকরণ ব্যবহার করে এই রেস্তোরাঁ। এই কারণে ক্রেতা-ভোক্তাদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে রোদেলা বিকেল। মোগলাই, বাংলা, থাই ও চায়নিজ খাবারের মুখরোচক পদ আছে রোদেলা বিকেলে। বাংলা খাবারের মধ্যে মুরগির দুই ধরনের, গরুর দুই ধরনের ও ছাগলের তিন ধরনের পদ পাওয়া যাবে এই রেস্তোরাঁয়। রয়েছে চিনিগুঁড়া চালের ভাতসহ ৬০ টাকা থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে পাঁচ ধরনের ভাত। এখানে ১৫০ টাকায় চিতল মাছের কোপ্তা, ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় কাচকি, বোয়াল, কোরাল, চিতল, রুপচাঁদা, ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন দামের ১৭টি বিশেষ বাংলা খাবারের পদ মিলবে। এখানকার বিশেষ দুপুরের খাবারের প্যাকেজের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে চিনিগুঁড়া চালের ভাত, মেজবানি মাংস, দেশি মসুরের ডাল ও আলুভর্তা দিয়ে তৈরি ২৪০ টাকা দামের প্যাকেজটি। মোগলাই খাবারের মধ্যে প্রতি পিস তন্দুরি চিকেন ১১০ টাকায়, চার পিস চিকেন রেশমি কাবাব ২৮০ টাকায়, চার পিস চিকেন হারিয়ালি কাবাব ২৫০ টাকায়, বিফ বটি কাবাব ২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে চার ধরনের মাছের কাবাব, ২৯০ টাকায় চিকেন ভর্তা, ২৬০ টাকায় চিকেন মাসালা ও ২৪০ টাকায় চিকেন লিভার ফ্রাইসহ সাত ধরনের চিকেন কারির পদ পাবেন এখানে।
রয়েছে খাসি ও গরুর দুই ধরনের পদ। এ ছাড়া সালাদ খেতে চাইলে পাবেন মিক্সড রায়তা সালাদ, অনিয়ন সালাদ ও মিক্সড সালাদ নামে তিন ধরনের সালাদ। গার্লিক নান, লাচ্ছা পরোটাসহ ২৫ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ছয় ধরনের নান ও পরোটা পাওয়া যবে রোদেলা বিকেলে। থাই ও চায়নিজ খাবারের মধ্যে রয়েছে ফ্রায়েড অন্থন, চিকেন প্রন কেশুনাট সালাদ ও চার ধরনের স্যুপ। এ ছাড়া চিকেন ফ্রায়েড রাইস, মিক্সড ফ্রায়েড রাইস, চিকেন নুডলস ও মিক্সড নুডলস পাওয়া যাবে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকার মধ্যে। রয়েছে বিভিন্ন দামের ১৩ ধরনের জুস। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জমজমাট থাকে এই রেস্তোরাঁ। তবে প্রতি শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত বিশেষ খাবারের আয়োজন থাকে রোদেলা বিকেলে। এ সময়টাতে এখানে মিলবে ঘিয়ে ভাজা পেপার পরোটা, চিনিগুঁড়া চালের রুটি, সুজির হালুয়া, খাসির পায়া, খাসির আখনি, বিফ নলা, দেশি গরুর কালো ভুনা, দেশি মুরগির স্যুপ, মিক্সড ভেজিটেবল, খাসির মাথা দিয়ে ছোলার ডাল ও গরুর দুধের সরের চা। সম্পূর্ণ ওয়াইফাইযুক্ত রোদেলা বিকেলে একসঙ্গে খাবার খেতে পারে ১২৫ জন। রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাইনু সাবের বলেন, ‘আমরা খাবারে শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান ব্যবহার করি না। খাবারের মান নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, তাই রান্নাঘর উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। যে–কেউ চাইলেই খাবার বানানোর পুরো প্রক্রিয়া দেখে নিতে পারবে।’ খাবারের পাশাপাশি এই রেস্তোরাঁয় মিলবে নয় পদের মিষ্টি। এসব পদের মধ্যে প্রতি কেজি রসমালাই, রসগোল্লা, রাবরি সন্দেশ, গুড় সন্দেশ, ছানা জিলাপি, কাজু বরফি ও ডায়াবেটিক সন্দেশ কিনতে গুনতে হবে এক হাজার টাকা।

ভবনে ঝোপঝাড়, খসে পড়ছে ইট

প্রায় তিন শ বছরের পুরোনো লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া জমিদারবাড়ি কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে। ১০০ কক্ষবিশিষ্ট অপূর্ব নির্মাণশৈলীর জমিদারবাড়িটি বর্তমানে একরকম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কালের সাক্ষী এই স্থাপত্য নিদর্শন রক্ষার দাবি জানিয়েছে পদুয়ার জনসাধারণ। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল এই বাড়িটি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি বাইরের অংশ, অপরটি ভেতরের। বাইরের অংশে আছে কাচারিঘর। যেখানে জমিদারেরা বৈঠক করতেন, প্রজাদের অভিযোগ শুনতেন ও বিচার করতেন। ভেতরের অংশটি হলো অন্দরমহল।
বাড়িটির চারদিকে আছে বড় বড় পুকুর, দিঘি ও মন্দির। তবে এখন সর্বত্র আগাছা ও ঝোপ–জঙ্গলে ভরে গেলে। দরজা, জানালার কোনো চিহ্ন নেই। দেয়ালে ও বড় ফটকে জন্মেছে বটের চারা। বাড়ির আঙিনা ও ভেতরের অংশে বাসা বেঁধেছে সাপ। এই বাড়ির প্রতিবেশী সাধন মিত্র বলেন, দীর্ঘদিন এই জমিদারবাড়ির সংস্কার না হওয়ায় মূল ভবন থেকে ইট খসে পড়ছে। দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। লোহাগাড়া মোস্তাফিজুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান বলেন, জমিদার রামমোহন গুপ্ত ১৭০০ সালের শেষের দিকে এই ভবন নির্মাণ করেন। ১৯৪৮ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হয়ে গেলে এই বাড়ির দুর্দশার শুরু। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় রাজাকারেরা বাড়িটিতে আগুন দেয়। বহু মূল্যবান পুরাকীর্তি লুট করে। কালের সাক্ষী এই ভবন সরকারিভাবে সংরক্ষণ প্রয়োজন। পদুয়ার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন পরিষদের উপদেষ্টা এস কে শামসুল আলম বলেন, পদুয়া জমিদারবাড়ির সংরক্ষণের দাবি অনেক দিনের।
এই ভবনকে অবিলম্বে পুরাকীর্তির স্বীকৃতি দিয়ে সংস্কার করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন বলেন, পদুয়া জমিদারবাড়ি এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। এটি সংস্কারে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিজনূর রহমান প্রথম আলোকে জানান, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে বর্তমান সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমিদারবাড়িটি সংরক্ষণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রচারণায় সরগরম অলিগলি

পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌর শহর। সকাল-সন্ধ্যা ভোটারের দ্বারে প্রার্থী। চায়ের কাপে, আড্ডায় আলোচনার ঝড়—কোন প্রার্থী পৌরবাসীর কল্যাণে বেশি ভূমিকা রাখবেন, চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ চিত্র বাঘাইছড়ি পৌর এলাকার। পৌর নির্বাচন ঘিরে এখন প্রচারণায় সরগরম অলিগলি। এটি বাঘাইছড়ি পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচন। ২০১২ সালে ৮ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন হয়। এতে মেয়র নির্বাচিত হন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সমঅধিকার –সমর্থিত প্রার্থী মো. আলমগীর কবির।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন—আওয়ামী লীগ প্রার্থী জেলা কমিটির সদস্য মো. জাফর আলী খান, বিএনপির প্রার্থী উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. ওমর আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান। তবে কোনো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল প্রার্থী দেয়নি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন নিয়ে দুই দলেই অসন্তোষ বিরাজ করছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় দলের সব নেতা-কর্মী নামবেন কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে প্রার্থীদের আশা শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রতীকের জন্য হলেও কেউ বিরোধিতা করতে পারবেন না। বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মো. ওমর আলী বলেন, ‘আমাদের দলীয় কোন্দল এখন ধীরে ধীরে কমে আসছে। আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা করছি। এখানে যাঁরা ক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনকারী। আমাকে পছন্দ না হলেও তাঁরা অবশ্যই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন।’ আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী মো. জাফর আলী খান দাবি করেন, ‘কোনো দলীয় কোন্দল নেই। তবে মনোনয়ন না পাওয়ায় একজনের একটু ক্ষোভ ছিল। আমাদের জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনিও আমার পক্ষে প্রচারণা করছেন। আশা রাখছি এবার নৌকা প্রতীক জয়ী হবে।’ ২ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেয়র প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। ওই দিন বেলা তিনটা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাফর আলী খান পশ্চিম লাইল্যা ঘোনা, মুসলিম ব্লক, মাস্টারপাড়া ও বাঘাইছড়ি গ্রামে গণসংযোগ করেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মো. ওমর আলী ওই দিন প্রচারণা চালান গুচ্ছগ্রাম, এফ ব্লক,
চৌমুহনী ও মাদ্রাসাপাড়ায়। বাঘাইছড়ি গ্রামের ভোটার বিপিনি চাকমা ও মাদ্রাসাপাড়ার ভোটার মো. আবদুল কমির বলেন, ‘গত নির্বাচনে বড় দুই দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সুযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়। এবারও দেখা যাচ্ছে দুই দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। তবে আমরা চাই এলাকার উন্নয়ন। যিনি এতে ভূমিকা রাখবেন, তাঁকেই বেছে নেওয়া হবে।’ নির্বাচনের মূল আলোচনা মেয়র প্রার্থীদের ঘিরে হলেও কাউন্সিলর প্রার্থীরাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা প্রচারণা চালাচ্ছেন সমান তালে। নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫ জন ও সংরক্ষিত আসনে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাঘাইছড়ি পৌরসভার ভোটারসংখ্যা রয়েছে ১০ হাজার ১৭৭। গত ৮ জানুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জমির উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশে ওই দিনে কোথাও নির্বাচন হচ্ছে না। সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্য কর্মকর্তার সংকট থাকবে না। এখন পর্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে প্রচারণা চলছে।

বিজয় লক্ষ্মী বর্মণের আবৃত্তিতে মুগ্ধ দর্শক

আবৃত্তি সংগঠন ক্বণনের ৩১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের বাচিকশিল্পী বিজয়লক্ষ্মী বর্মণ মুগ্ধ করলেন চট্টগ্রামের দর্শকদের। গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে আয়োজিত এই আসরে আবৃত্তি, কথামালা ও স্বরচিত কবিতাপাঠ। সংগঠনের সভাপতি মোসতাক খন্দকারের সভাপতিত্বে আসরের শুরুতে কথামালায় অংশ নেন কবি ও সাংবাদিক স্বপন দত্ত, বাংলাদেশের আবৃত্তিশিল্পী শফিকুল ইসলাম ও ভারতের আবৃত্তিশিল্পী বিজয়লক্ষ্মী বর্মণ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন হিমাদ্রী রাহা। বিজয়লক্ষ্মী বর্মণ আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পাখির পালক’ কবিতাটি, কাজী নজরুল ইসলামের ‘বর প্রার্থনা’, জীবনানন্দ দাশের ‘এখানে আকাশ নীল’, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘যেতে যেতে’, প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নীলকণ্ঠ’, আল মাহমুদের ‘নিদ্রিতা মায়ের নাম’সহ বেশ কিছু কবিতা আবৃত্তি করেন। সব শেষে মোসতাক খন্দকার আবৃত্তি করেন শামসুর রাহমানের ‘তোমার চলে যাওয়ার পর’, ইয়াসিনুর রহমানের ‘পাথর’ ও ইব্রাহিম আজাদের ‘উৎসর্গ’ কবিতাটি।

ত্বকী হত্যার বিচারের দাবির কর্মসূচিতে হামলা, আহত ৩

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ৪৮ মাস পূর্তিতে খুনের নির্দেশদাতা ও সব হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহাসহ তিনজন আহত হন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
এই হামলা সম্পর্কে রাতে প্রেসক্লাবে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি সাংবাদিকদের বলেন, শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে এ ধরনের হামলা স্বাভাবিক ঘটনা। তিনি বলেন, কারা এ হামলা চালিয়েছে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব। কারণ, গোটা শহীদ মিনার এলাকা পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। বেলা তিনটায় চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে প্রথমে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে। সন্ধ্যার পর একই দাবিতে একই স্থানে মোম শিখা প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। কর্মসূচি শেষ করে সাংস্কৃতিক জোট ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের বেশির ভাগ কর্মী চলে যাওয়ার পর এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ধীমান সাহা ছাড়াও বাসদ কর্মী এস এম কাদির ও করিম আহত হন। ঘটনা সম্পর্কে আহত ধীমান সাহা বলেন, প্রথমে তিনজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচির ব্যানার কেটে ফেলেন। মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড ছুড়ে ফেলে দেন। তিনজনেরই মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল। তিনি এর প্রতিবাদ জানালে হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন।
তাঁকে রক্ষায় বাসদ কর্মী কাদির ও করিম এগিয়ে এলে তাঁদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়। তখন আরও সাত-আটজন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহীদ মিনারের বেদির সামনে কড়ইগাছ কুপিয়ে আতঙ্ক সৃষ্ট করেন। তখন উপস্থিত মানুষের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, আজমেরী ওসমান ত্বকীকে হত্যা করেছেন। আজমেরীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বেরিয়ে আসবে কার নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। তিনি বলেন, শামীম ওসমানের নির্দেশ ছাড়া এ হত্যাকাণ্ড হয়নি। তাঁকেও বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, জেলা খেলাঘরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, ন্যাপ সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ, বর্তমান সভাপতি জিয়াউল ইসলাম ও গণসংহতি আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন।