Thursday, September 19, 2019

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা: অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ আসন্ন? by জনাথান মার্কাস

হামলার পর জ্বলছে সৌদি তেল স্থাপনা
হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করছে এই হামলা তারা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এর পেছনে আছে ইরান। আর ইরান এর সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্কের কথা জোর গলায় অস্বীকার করছে।
সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার ওপর নাটকীয় হামলার পর তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সৌদি আরবের এই তেলস্থাপনাগুলো গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে খু্বই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এগুলো যে কতটা নাজুক অবস্থায় আছে, এই হামলা সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি আরব, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের মদত আছে। সৌদি আরবের এসব বিমান সরবরাহ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। বহু দিন ধরে সৌদি আরব হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু প্রতিপক্ষও যে পাল্টা হামলার ক্ষমতা রাখে, সৌদি তেল স্থাপনার ওপর এই আঘাত তারই প্রমাণ।
তবে এই ঘটনা সেই পুরোনো বিতর্ককে আবার উস্কে দিয়েছে- হুথি বিদ্রোহীদের ইরান কী পরিমাণ সামরিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এমনিতেই অস্থিতিশীল। সেখানে এই সর্বশেষ ঘটনা যেন পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।
কিন্তু এই হামলা একই সঙ্গে ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং কৌশলের ব্যর্থতাও ফুটিয়ে তুলেছে।
সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার ব্যাপারে নানা দাবি এবং পাল্টা দাবির মধ্যে অনেক তথ্য এখনো অজানা।
হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন টার্গেটে আগেও ড্রোন এবং মিসাইল হামলা চালিয়েছে। কিন্তু ড্রোন হামলা থেকে তারা খুব সীমিত সাফল্যই পেয়েছে।
তবে এবারের যে হামলা সেটা এমন মাত্রার যে তার সঙ্গে আগেরগুলোর কোন তুলনাই চলে না। বহুদূর থেকে যেরকম ব্যাপক মাত্রায় যে ধরণের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে, তার নজির নেই।

মিসাইল না ড্রোন

এই হামলার ব্যাপারে আরেকটি প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত। হামলায় কি 'আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল' (ইউএভি) ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি নতুন কোন ধরণের মিসাইল। যদি মিসাইল ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন তার সংকেত পেল না?
আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে হামলার পেছনে ইরাকের কোন ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠী ছিল, নাকি স্বয়ং ইরানই জড়িত?
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কিন্তু কোন সময় নষ্ট না করে সরাসরি তেহরানের দিকে আঙ্গুল তুলছেন এই ঘটনার জন্য। ঘটনার ব্যাপারে কোন গোয়েন্দা তথ্যের জন্য পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেননি।
কয়েকঘন্টা পর অবশ্য মার্কিন সূত্রগুলো দাবি করতে থাকে মোট ১৭টি স্থানে এই ড্রোন হামলা হয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসব হামলা হয়েছে উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বলতে চাইছে এই হামলা হয়েছে ইরান বা ইরাকের দিক থেকে, দক্ষিণের ইয়েমেন থেকে নয়।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা এই হামলা ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তথ্য জানাবে। হামলায় ব্যবহৃত যেসব ড্রোন টার্গেট পর্যন্ত যেতে পারেনি, সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কোন দিক থেকে হামলা

২০০৮ সালে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলেছিল, হুথি বিদ্রোহীদের কাসেফ-ওয়ান ড্রোনের সঙ্গে ইরানের আবাবিল-টি ড্রোনের ব্যাপক সাদৃশ্য আছে। জাতিসংঘের দলটি তাদের রিপোর্টে বলেছিল, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি আছে, ইরান সেটি ভঙ্গ করেছে এবং হুথি বিদ্রোহীদের নানা রকম অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
কাসেফ-ওয়ান কিংবা আবাবিল-টি ড্রোন বড়জোর ১০০ বা ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বে যেতে পারে। ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে খুরাইস তেল ক্ষেত্রের দূরত্ব প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার। যেসব টার্গেটে হামলা হয়েছে, তার মধ্যে এই তেলক্ষেত্রই ইয়েমেনের সবচেয়ে কাছে।
কাজেই ইয়েমেনের দিক থেকে যদি এই হামলা হয়ে থাকে, তাহলে এবারের ড্রোনগুলো নিশ্চিতভাবেই একেবারে ভিন্ন ডিজাইনের, যেগুলো অনেক বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে পারে এবং অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
ইরান এবং সম্ভবত হুথি বিদ্রোহীদেরও হয়তো আরও দূরপাল্লার ড্রোন আছে। কিন্তু এপর্যন্ত ইয়েমেনের যুদ্ধে সেধরণের ড্রোনের ব্যবহার দেখা যায়নি।
আরেকটা জল্পনা হচ্ছে, হামলায় হয়তো ক্রুজ মিসাইলও ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। হয়তো ইরাক বা ইরান থেকে এই ক্ষেপনাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। কিন্তু এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের দরকার হবে।

সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি কতটা

কিন্তু শেষ বিচারে এসব খুঁটি-নাটি তথ্যের কোন মানে দাঁড়ায় না। কারণ কূটনৈতিক ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব ইরানের নির্মম শত্রু। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে মনস্থির করে ফেলেছে। পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন জাহাজে হামলার জন্য তারা ইরানকেই দোষী করছে।
ইরান তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ জিব্রালটারে আটক হওয়ার পর পাল্টা একটি ব্রিটিশ জাহাজ জব্দ করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের তেল স্থাপনার বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের যত হামলা, তার সবকটিতে ইরানের হাতের ছাপ স্পষ্ট।
কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ব্যাপারে তারা কী করবে বা কী করার ক্ষমতা রাখে?
এর উত্তর হচ্ছে, সম্ভবত খুব বেশি কিছু করার ক্ষমতা নেই।
ইয়েমেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই শক্তভাবে সৌদি আরবের পক্ষে। কিন্তু এই যুদ্ধের ব্যাপারে মার্কিন কংগ্রেসে অতটা উৎসাহ নেই। কংগ্রেসে এমন মত প্রবল হচ্ছে যে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে এই সৌদি বিমান হামলার কোন মানে নেই। একটা গরীব দেশের ওপর এই হামলা এক বড় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন যদিও সৌদি আরবের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন জোগাচ্ছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কথা বলছে, বাস্তবে তেহরানের কাছে তারা কিন্তু নানা ধরণের বার্তা দিচ্ছে।
একদিকে মনে হচ্ছে মি. ট্রাম্প যেন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটা মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চান। তিনি মাত্রই তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে বরখাস্ত করেছেন। জন বোল্টন হচ্ছেন সেরকম একজন কট্টরপন্থী, যিনি কিনা যে কোন পন্থায় ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতায় পালাবদলের পক্ষে।
ইরান এবং হুথি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যে ধরণের কৌশল নিয়েছে, সেটা শক্তিমানের বিরুদ্ধে দুর্বলের লড়াইয়ের চিরাচরিত কৌশল। বেশিরভাগ কৌশল যেন রুশদের কাছ থেকে ধার করা- যে কোন কিছু অস্বীকার করা, ছায়াযুদ্ধ, সাইবার হামলা এবং প্রপাগান্ডা যুদ্ধ।
তেহরান ভালো করেই জানে, মিস্টার ট্রাম্প মুখে যত কথাই বলুন, আসলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোন যুদ্ধে জড়াতে চান না, বরং যুদ্ধ থেকে বের করে আনতে চান। এর ফলে ইরানই বরং এখন পাল্টা সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে।
কিন্তু যে কোন মূহুর্তে যে কারও একটা ভূল হিসেবের কারণে একটা সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে, যেটা আসলে কেউই চায় না।
যেসব সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে

চোখ খুলুন, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করুন: -সুচিকে জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচিকে দু’চোখ খোলার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ইয়াংহি লি। তিনি বলেছেন, ম্যাডাম স্টেট কাউন্সেল আপনার চোখ খুলুন। শুনুন। হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করুন (রোহিঙ্গাদের কথা)। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগে আপনার নৈতিক কর্তৃত্বকে ব্যবহার করুন। মঙ্গলবার মানবাধিকার কাউন্সিলকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন ইয়াংহি লি। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক। প্রায় চার বছর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সুচির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কাছে এমনটা প্রত্যাশা করেননি ইয়াংহি লি এবং অন্যরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

ইয়াংহি লি বলেছেন, দশকের পর দশক মুক্ত ও গণতান্ত্রিক মিয়ানমারের জন্য একটানা লড়াই করেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেল অং সান সুচি। তার কাছে জানতে চাই তার দেশে এখন যা ঘটছে, তিনি  কি সত্যিকারভাবে আজকের এই অবস্থাকে দেখতে চেয়েছেন? ইয়াংহি লি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানোর পরও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নিষ্পেষণের যে ধারা তা ভেঙে দিতে কিছুই করেনি মিয়ানমার। এখনও রাখাইনে যেসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন তারা সেই একই করুণ পরিণতির শিকার, যেমনটা ২০১৭ সালের আগস্টে তাদের সঙ্গে ঘটেছিল। তিনি আরো বলেন, তাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। স্বীকৃতি নেই। নিয়মিত সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। অবাধে চলাচল করতে পারে না। খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা নির্বাহ ও চাকরির ক্ষেত্রে তাদের কোনো সুবিধা নেই বললেই চলে। ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার দাবি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সব করেছে তারা এবং প্রত্যাবর্তনে বিলম্বের জন্য তারা বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে দায়ী করে। কিন্তু আমি যে তথ্য পেয়েছি তাতে আমাকে বিশ্বাস করতে হয় যে, আসল সত্য এর উল্টো।

তিনি বলতে চেয়েছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সব করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এক্ষেত্রে বিলম্বের জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়ী মিয়ানমার। ইয়াংহি লি বলেন, স্যাটেলাইটের ছবিতে ৩৪টি শিবির নির্মাণের দৃশ্য দেখা গেছে। এগুলো কি উদ্দেশে নির্মাণ করা হয়েছে বা হচ্ছে তা অস্পষ্ট। তিনি বলেন, দৃশ্যত মনে হচ্ছে মিয়ানমারে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা ও যারা ফিরে যাবেন তাদেরকে সেখানে আটক রাখা হবে। তিনি আরো বলেছেন, উত্তর রাখাইনে এমন নির্মাণকাজ দেখা গেছে স্যাটেলাইটের ছবিতে। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি সামরিক ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো ধ্বংস করে দিয়ে সেখানে।

রাখাইনে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে ৩৯২টি গ্রাম। এর মধ্যে ৩২০টি গ্রাম পুনঃমেরামতের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। শতকরা ৪০ ভাগ গ্রামকে পুরোপুরি মিশিয়ে দেয়া হয়েছে মাটির সঙ্গে। ইয়াংহি লি বলেন, এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে ২০১৮ সালে কিছু এবং ২০১৯ সালে বাকিগুলোতে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করতে যে মিয়ানমার প্রস্তুত, এসব বিষয় তাদের এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে যায়। আমি আরো দেখেছি, মিয়ানমারের ভূমি আইনের অধীনে কোনো এলাকা পুড়ে গেলে সেই এলাকার মালিকানা চলে যায় সরকারের হাতে। এই অবস্থায় যদি রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে রাজি হন তাহলে তারা ফিরে গিয়ে কি পাবেন?

ইয়াংহি লি আরো বলেন, আমার বিশ্বাস সার্বিকভাবে এজন্য জবাবদিহিতা প্রয়োজন। সফল প্রত্যাবাসনের জন্য এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমনটা হলে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী যে সহিংসতা চালাচ্ছে তার ইতি ঘটবে। নিশ্চিত হবে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বসবাস। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান লড়াই নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর। তিনি অভিযোগ করেন, এক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে ভারি গোলা, গুলির লড়াই চলছে। বেসামরিক এলাকাগুলোতে স্থলবোমা পেতে রাখা  হচ্ছে। এর ফল হিসেবে মারা যাচ্ছেন বেসামরিক মানুষ।

৩৬ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে ফ্লু, মারা যেতে পারে ৮ কোটি মানুষ

মাত্র ৩৬ ঘন্টার মধ্যে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে ফ্লু। এমনটা হলে বিশ্বে মারা পড়বে ৮ কোটি মানুষ। এ সতর্কবাণী দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাবেক প্রধান ডা. গ্রো হারলেম ব্রান্ডটল্যান্ড।  বিশ্বের উচ্চ পদস্থ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তার লেখা ‘এ ওয়ার্ল্ড অ্যাট রিস্ক’ শিরোনামের এক রিপোর্টে তিনি ও তার সঙ্গী গবেষকরা এসব কথা বলেছেন। বলা হয়েছে, যদি এমন ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই বিশ্ব নেতাদের। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ।

রিপোর্টে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে একশত বছর আগে স্পেনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া ফ্লুর কথা। তাতে আক্রান্ত হয়েছিল বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ। আর মারা গিয়েছিলেন কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষ। এখন আগের চেয়ে মানুষের দেশান্তরী হওয়া বা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এখন যদি ওই একই রকম ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘটে তাহলে তার প্রতিক্রিয়া হবে খুবই ভয়াবহ। এক্ষেত্রে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ওই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন ডব্লিউএইচও’র সাবেক প্রধানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিষয়ক অভিজ্ঞদের একটি টিম- দ্য গ্লোবাল প্রিপেয়ার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড (জিপিএমবি)। বুধবার প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে এমন মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন বাস্তব। দ্রুত বিস্তার লাভের সক্ষমতা আছে এসব রোগের। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক কোটি মানুষ মারা যেতে পারেন। তাতে বিঘ্নিত হতে পারে অর্থনীতি। অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে জাতীয় নিরাপত্তা।

ওই রিপোর্টে ইবোলার মতো মহামারির প্রাদুর্ভাবের প্রস্তুতির বিষয়ে খুবই কম পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। এর আগের রিপোর্টেও জিপিএমবি বেশ কিছু সুপারিশ উত্থাপন করেছিল। কিন্তু বিশ্বনেতারা তার প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছেন বলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সুপারিশগুলোর অনেকটাই খুব দুর্বলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অথবা আদৌ বাস্তবায়ন করাই হয়নি। অথবা বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। ওই রিপোর্টে বিশ্বের একটি মানচিত্র যুক্ত করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে কোথায় কোথায় সংক্রমণ ঘটতে পারে। এর আগে ছড়িয়ে পড়েছিল ইবোলা, জাইকা, নিপা ভাইরাস এবং ৫ রকমের ফ্লু। এর মধ্যে আছে ওয়েস্ট নিল ভাইরাস। এটি এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে কাজ করে। সৃষ্টি করে ইয়েলো ফিভার, ডেঙ্গু, প্লেগ, মাঙ্কিপক্স।

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুর মহামারি যে ক্ষতি করেছিল তা তুলে ধরা হয়েছে ওই রিপোর্টে। এতে বলা হয়, আধুনিক সময়ে উন্নত প্রযুক্তির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এমন ভাইরাস বা ফ্লুর প্রাদুর্ভাব হলে তা আরো দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়বে। কারণ, বিমানে করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাচ্ছে। ফলে বাতাসবাহিত ফ্লু দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে। তাতে মারা যেতে পারেন ৫ কোটি থেকে ৮ কোটি মানুষ।

কী হবে যুবলীগের ট্রাইব্যুনালে? by কাজী সোহাগ

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ে আত্মবিচারে নেমেছে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। গঠন করেছে ট্রাইব্যুনাল। এ নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি  দিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিষয়টি নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ক্ষোভের কথা জেনে সংগঠনের অভিযোগবিদ্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে যুবলীগ। যুবলীগ ট্রাইব্যুনালের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এদিকে যুবলীগ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ বেশ কয়েক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম প্রকাশ করে এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। কয়েক নেতা জানান, সাধারণত ট্রাইব্যুনালে তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতে হয়। এক্ষেত্রে চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসীর তথ্য-প্রমাণ কি হবে। কাগজে-কলমে তো আর চাঁদাবাজি হয় না। সংগঠনটির পক্ষ থেকে পত্রিকায় দেয়া বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব অভিযোগ তদন্ত করবে যুবলীগ ট্রাইব্যুনাল। সাম্প্রতিক সময়ে যুবলীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ নিজস্ব ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তদন্ত করবে। এতে আরও বলা হয়েছে, যুবলীগের কোন নেতা বা কোন শাখার বিরুদ্ধে যদি কারও অভিযোগ থাকে তাহলে তা আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠাতে পারেন। তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে যুবলীগের কোন নেতা বা শাখার(যে পর্যায়েরই হোক না কেন) বিরুদ্ধে নুন্যতম অভিযোগের যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষনিকভাবে ওই ব্যক্তি ও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যুবলীগ।

যদি অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে তাহলে সংশ্লিষ্ট থানায় তাৎক্ষনিকভাবে অভিযোগটি পাঠাবে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা গ্রহণের জন্য ওই থানাকে অনুরোধ করবে। এসব বিষয়ে যুবলীগের সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এদিকে একই বিষয় নিয়ে যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, সমপ্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেসব তথ্য ও বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চায় যুবলীগ। সংগঠনের ভেতর কেউ যেন নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধ না করে সেজন্য শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি নিয়ে চলে এ সংগঠন। এজন্য আওয়ামী যুবলীগের নিজস্ব ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এ ট্রাইব্যুনালে যুবলীগের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে তা তদন্ত ও অনুসন্ধান করা হয়। দোষী নেতা-কর্মী তিনি যেই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। যুবলীগ ট্রাইব্যুনাল প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,যুবলীগ তো নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছে, তারা এ ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। তারা নিজেরাই শুনানির ব্যবস্থা করেছে। ভালো কথা, শুভ উদ্যোগ। যুবলীগ নিজেদের সংকট, অনিয়মের অভিযোগ সমাধান করবে। এটা আমরা পর্যবেক্ষণ করব। জঙ্গি দমনের মত চাঁদাবাজদের মোকাবেলা করা হবে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন,এ ব্যপারে প্রধানমন্ত্রী তথ্য পাচ্ছেন। দলের লোকের বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব সেল আছে। যত বড় নেতাই হোক, যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক, কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের ব্যক্তিদের ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যপারে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তাতে জিরো টলারেন্সের বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। এ ব্যপারে জোর তদন্ত চলছে। সবই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে তেমন নয়। কিছু কিছু প্রশাসনিক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলা হয়েছে, যারাই অপকর্ম করবে- দলের লোক হোক, আর বাইরের লোক হোক, যত প্রভাবশলী হোক সবার সঙ্গে আইনের ভাষায় কথা বলবে।

এদিকে যুবলীগ নিয়ে দলীয় প্রধানের সমালোচনার পর রোববার থেকে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংগঠনটির বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কার্যালয়ের আশপাশে উপস্থিতি কমে গেছে। গত শনিবার ১৪ই সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগের পাশাপাশি যুবলীগের কতিপয় নেতার কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা মহানগর যুবলীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা শোভন-রাব্বানীর (ছাত্রলীগ থেকে অপসারিত দুই শীর্ষ নেতা) চেয়েও খারাপ। সভায় যুবলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এরা তো জন্মদিন (শেখ হাসিনার) পালনের নামে চাঁদাবাজি করতে পারে, এমনভাবে আমার জন্মদিন পালনের দরকার নেই। যুবলীগের কিছু নেতার বিরুদ্ধে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আমার কাছে আছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও বেপরোয়া চলাচল বরদাশত করা হবে না। এরপর যুবলীগ নিয়ে তার কাছে আসা নানা অভিযোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান,এসব বন্ধ করুন। তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে। এরপরই যুবলীগের চেয়ারম্যান সংগঠনের নেতাকর্মীদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সোচ্চার হন। তিনি নেতাকর্মীদের যেকোনো ধরণের অপরাধ থেকে দূরে থাকতে হুশিয়ার করেন।

ক্যাসিনোতে অভিযান: সেই যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন বাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে  গুলশানের বাসা থেকে তাকে আটক করেছে র‌্যাবের একটি টিম। অন্যদিকে ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ১৪২ জন নারী পুরুষকে আটক করেছে র‌্যাবের আরেকটি টিম। ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদরদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। ওই ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদ। ক্লাবের আড়ালে তিনি সেখানে জুয়া ও মদের আসর বসাতেন। সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল জুয়া সামগ্রি, মাদক, ও নগদ ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে ক্লাবে অভিযান চালানোর পাশপাশি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তাকে আটক করা হয়। রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে বস্তিতে বেড়ে উঠা খালেদ যুবলীগের নেতা হওয়ার পর চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জুয়া ও মদের আসর বসিয়ে অর্থ আয় করতেন। নিজে দেহরক্ষীসহ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতেন। তার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও দলীয় সূত্রে তথ্য পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও নির্দেশ দেন তিনি। খালেদসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আরেক নেতার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তার পর যুবলীগের পক্ষ থেকে অপরাধ তদন্তে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। তৎপরতা বাড়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। একটি সূত্র জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের এমন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিগগির সাড়াশি অভিযান চালানো হবে। যাদের বিরুদ্ধে সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ আছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পাকড়াও করবে। র‌্যাব জানিয়েছে, গতকাল বিকাল চারটা থেকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য তার গুলশান ২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কের বাসাটি ঘিরে রাখা হয়। বাড়িটির তিন তলার এ-৩ ফ্ল্যাটেই দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি থাকেন। গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি বাসায় প্রবেশ করেন। রাত সাড়ে আটটার পর একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে খালেদকে নিয়ে যান র‌্যাব সদস্যরা। র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয় অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগ খালেদকে গেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার বাসা থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার কারণে বাসায় থাকা আরও দুটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নগদ ১০ লাখ টাকা ও কিছু ডলার উদ্ধার করা হয়েছে ওই বাসা থেকে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, প্রায় চার বছর ধরে খালেদ ওই বাসায় থাকেন।

খালেদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: যুবলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, খিলগাঁও, মুগদা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। এসব এলাকার সমস্ত টেন্ডার তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার বিভিন্ন জোনের টেন্ডারে তার হস্তক্ষেপ থাকে। খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, গুলিস্তান এলাকায় যত লেগুনা চলে প্রতিটি লেগুনা থেকে তিনি চাঁদা নেন। কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর, মেরাদিয়া ও কমলাপুর গরুরহাটের নিয়ন্ত্রণ থাকে তার কাছে। সেখান থেকে বড় অংকের টাকা নেন। এছাড়া মতিঝিল, ফকিরাপুল ও আশেপাশের এলাকায় স্থায়ী অস্থায়ী অন্তত ১৭টি ক্যাসিনো তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। আর প্রতিটি ক্যাসিনো থেকে দিনে ১ লাখ টাকা করে নেন। খিলগাঁও রেলগেটে অবৈধভাবে একটি মাছের বাজার বসিয়ে সেখান থেকে চাঁদা তুলেন। খিলগাঁও কাঁচাবাজারে দীর্ঘদিন ধরে সভাপতিত্ব করছেন খালেদ। সেখান থেকেও চাঁদা নেন। রেলওয়ের জমি দখল করে ভবন নির্মান ও ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

মুঠোফোনে নান্দনিক ছবি by আক্কাস মাহমুদ

যার হাতে স্মার্টফোন, সে–ই ফটোগ্রাফার। এখন এমনটা বলাই যায়। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে এবং দামি স্মার্টফোনের সুবাদে আমরা সবাই ফটোগ্রাফার। তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু আমি স্মার্টফোনে ছবি তুলেই যাচ্ছি, সেটা ছবি হচ্ছে কি না বা আলো-ছায়া, কম্পোজিশন, ফ্রেমিং, নন্দনতত্ত্ব—এগুলো খেয়াল করছি কি না?
তবে আপনাকে দিয়ে সম্ভব। যদি আপনি ওপরের বিষয়গুলো একটু খেয়াল করে, ছবি কেন তুলছি সে প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার জানা থাকে, তবে নিশ্চয়ই আপনিও একজন নানন্দিক ফোন ক্যামেরার আলোকচিত্রী বা ‘মুঠোফোনোগ্রাফার’ হয়ে যাবেন!
আমার দীর্ঘদিন হলো রমনা পার্কে প্রাতর্ভ্রমণে যাই। রমনা পার্কে সকালে আলো–ছায়া, আলোর লুকোচুরি, শিশিরের ঘ্রাণ আমাকে টানে, খালি চোখে আমার প্রাণ জুড়ায়।
রমনা পার্কে শীতের সকালে আলোর রশ্মি। ছবি: লেখক
বছরখানেক হয় আমি আমার স্মার্টফোনটি সঙ্গে করে নিয়ে যাই, প্রথম দিন গাছের আলো–ছায়ার একটি ছবি তুলে ফোনের পর্দায় দেখে নিজেই মুগ্ধ হই! একি আমাদের শত বছরের পুরোনো রমনা রূপ? আলো একটু গাঢ় করে ফেসবুকে পোস্ট নেই! বন্ধুদের প্রশংসায় আমার উৎসাহ বাড়ে। তারপর থেকে আমি অবিরাম স্মার্টফোনে মোবাইল ফটোগ্রাফি করেই যাচ্ছি।
আমার মোবাইল ফটোগ্রাফি দেখে অনেকেই মন্তব্য করেন যে সত্যিই কি এটা আমাদের রমনা পার্ক?
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া—মানুষের প্রশংসা পাই। আমি তৃপ্তির হাসি হাসি। আর বলি, জি ভাই, আমাদের সে ঢাকার ‘অক্সিজেন জোন’ রমনাই এটা।
আপনিও পারবেন শুধু আপনার অন্তর্দৃষ্টি বা একটু নন্দনতত্ত্বে মিশিয়ে ব্যবহার যুক্ত করে চেষ্টা করুন। আপনিও হয়ে যাবেন স্মার্ট যুগের স্মার্ট ফটোগ্রাফার।
আকাশ এত নীল ছিল না। সম্পাদনা করে বাড়ানো হয়েছে।
স্মার্টফোনে ফটোগ্রাফি নিয়ে একটু কারিগরি দিক বা আমার কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি—এখন ছবি তোলার একটি সহজ মাধ্যম স্মার্টফোন ক্যামেরা। সবার কাছেই এটা পৌঁছে গেছে। আপনি ইন্টারনেটে ইউটিউব ঘাঁটলেই অনেক অজানা বিষয়ও জানতে পারবেন।
আমি যখন রমনায় আলো–ছায়ার ছবি তুলি, তখন আমি সূর্যের মুখোমুখি থাকি ঠিকই, কিন্তু কৌশলে গাছের আড়ালে বা অন্য উপায়ে সূর্যের আলো সরাসরি ফোনে পড়তে দিই না।
ফ্রেমিং বা কম্পোজিশন আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিখুঁত ফ্রেমিং বা কম্পোজিশনের দিকে নজর রাখতে হবে। আর তা আপনার নান্দনিক বোধ দিয়ে।

আপনার মূল্যবান স্মার্টফোনে জুম রয়েছে। কিন্তু খুব প্রয়োজন না হলে ভুলেও জুমে হাত দেবেন না। কারণ, মোবাইল জুম আপনার ভালো ছবিকে নষ্ট করে দেবে।
ছবি তুলতে আলোর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। বেশ আলোতেও ভালো ছবি উঠবে। আবার প্রায় অন্ধকার অর্থাৎ কম আলোতেও ভালো ছবি উঠবে। সে ক্ষেত্রে আপনার হাতের স্মার্টফোনটিতেই এডিট অপশন আছে, তা ব্যবহার করে কম সুন্দর ছবিকেই চমৎকার ছবিতে রূপান্তর করা যায়। তবে এডিট যত কম করবেন, ছবি তত নিখুঁত হবে। স্যাচুরেশন খুব বাড়াবেন না, তাতে সুন্দর ছবিটি অতিরঞ্জিত মনে হবে।
স্মার্টফোনের ক্যামেরায় একটি বিল্ট–ইন ফ্ল্যাশ আছে। খুব প্রয়োজন না হলে ওই ফ্ল্যাশেও হাত দেবেন না। আমি কখনোই রমনা পার্কে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করিনি। ভালো ছবি পেতে হলে ফ্ল্যাশ লাইট এড়িয়ে চলুন।

রমনায় এখন অনেকে শুরু করেছেন মোবাইল ফটোগ্রাফি। তাঁদের মধ্যে দু–একজন এখন অসাধারণ মোবাইল ফটোগ্রাফিও করছেন। এখন আমি তাঁদের মোবাইল ফটোগ্রাফির দারুণ ভক্ত হয়ে গেছি।
আপনিও পারবেন তাঁদের একজন হতে, শুধু আপনার দরকার সাহস করে জড়িত করা এবং ছবি তোলায়—মুখ্য বিষয়গুলো যেমন ডকুমেন্টেশন, ফ্রেমিং বা কম্পোজিশন এবং নন্দনতত্ত্বের সঠিক ব্যবহার।
>>>লেখক: ফটোগ্রাফি চর্চার প্রধান নির্বাহী ও আলোকচিত্রী।

ক্যারিয়ারের সুবিধার্থে ব্রেক্সিট সমর্থন করেছিলেন জনসন: -ক্যামেরনের আত্মজীবনী

নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সুবিধার্থে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বিচ্ছেদ বা ব্রেক্সিট সমর্থন করেছিলেন বৃটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ২০১৬ সালে যখন ব্রেক্সিট গণভোট অনুষ্ঠিত হয় তখন ব্রেক্সিটের ওপর বিশ্বাস করেননি তিনি। সমপ্রতি এমনটা জানিয়েছেন বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটেনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গণভোটের পরপরই পদত্যাগ করেন তিনি। তিনি ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ছিলেন। পদত্যাগের পর এই প্রথম নিজের কোনো উত্তরসূরির বিপক্ষে এমন সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও দ্য টাইমস।
খবরে বলা হয়, দ্য টাইমসের রোববারের সংস্করণ সানডে টাইমস’এ ডেভিড ক্যামেরনের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক বইয়ের কিছু অংশ প্রকাশ করা হয়। তাতে জনসন সম্পর্কে উল্লিখিত মন্তব্য করেছেন তিনি। টাইমসে প্রকাশিত সারাংশে, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য মাইকেল গোভকে একজন ‘সফেন ফারাজি সমর্থক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ক্যামেরন। তিনি লিখেছেন, ‘গোভ ও জনসন ছিলেন, বিশেষজ্ঞদের অগ্রাহ্যকারী, সত্য-বিকৃতকারী লোকরঞ্জনবাদের যুগের রাষ্ট্রদূত।’
গোভের বিরুদ্ধে তার ও জনসনের প্রতি অনানুগত থাকার অভিযোগ এনেছেন সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। নিজের সাবেক ওই সহকর্মীকে নিয়ে ক্যামেরন লিখেন, তার মধ্যে একটি গুণ উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে: অনানুগত্য। প্রথমে আমার প্রতি ও পরে বরিসের প্রতি অনানুগত্য।
এর আগে শনিবারও ক্যামেরনের বইটির আরো কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে জনসন ও গোভকে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের প্রচারণায় ‘আতঙ্কজনক’ আচরণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন ক্যামেরন।
প্রসঙ্গত, কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্যামেরন। ইইউ’তে থাকার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ বৃটিশ জনগণ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেন। ফলাফল প্রকাশের পরপরই পদত্যাগ করেন ক্যামেরন। বৃটেনের প্রায় ২শ’ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।
নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, ব্রেক্সিট বৃটেনের জন্য ভালো হবে না খারাপ হবে সেটি ভাবছিলেন না জনসন। তিনি ভাবছিলেন, তার জন্য সবচেয়ে ভালো অপশন কোনটি হবে। ক্যামেরন লিখেন, কনজারভেটিভ পার্টির যেকোনো জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও রোমান্সের ভাবমূর্তি নিয়ে ব্রেক্সিটের পক্ষে অবস্থান নিতো, তিনিই দলের মধ্যমণিতে পরিণত হতেন। জনসন চাননি দলের অন্য কোনো প্রভাবশালী সদস্য এই ভূমিকা পালন করুক- বিশেষ করে, মাইকেল গোভ যেন ওই মুকুট না পরতে পারেন। তার এমন আচরণে আমি যে উপসংহারে পৌঁছেছি, সেটি হচ্ছে, তিনি নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের স্বার্থে এমন একটি অপশন বেছে নিয়েছেন যেটিতে তিনি বিশ্বাস করেন নি।
উল্লেখ্য, ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তেরেসা মে। কিন্তু তিনিও ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন। তার পর আসেন জনসন। সম্প্রতি বেশকিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত অন্যতম। আদালতে তার এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। ইতিমধ্যে স্কটল্যান্ডের শীর্ষ আদালত তার এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছে। তিনি বহুবার বলেছেন, চুক্তি সহ হোক বা চুক্তি ছাড়া, আগামী ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করাই তার মূল লক্ষ্য। কিন্তু ক্যামেরন তার বইয়ে লিখেছেন, ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ব্যক্তিগত পর্যায়ে দ্বিতীয় একটি গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। ইইউর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শেষে ওই গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনার কথা তুলেছিলেন তিনি।

বিশ্বের জনপ্রিয় শহরের তালিকায় শীর্ষে ব্যাংকক

পর্যটকরা একটু ফুরসত পেলেই ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। বিমানে চড়ে অন্য দেশে গিয়ে অন্তত দুই রাত না থাকলে যেন ভ্রমণপিপাসুদের মন ভরে না। ঘুরে বেড়ানোর জন্য তাদের প্রিয় কিছু শহর আছে। এক্ষেত্রে শীর্ষে আছে ব্যাংকক। আর্থিক সেবা সংস্থা মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল ডেস্টিনেশন সিটিস ইনডেক্সে টানা চতুর্থবারের মতো এই সম্মান পেলো থাইল্যান্ডের রাজধানী।
ব্যাংকক
জানা গেছে, ২০১৮ সালে ২ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার বিদেশি পর্যটক ব্যাংককে ঘুরে বেড়িয়েছেন ও রাতে থেকেছেন। তাদের মধ্যে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও যুক্তরাজ্যের ভ্রমণপ্রেমী ছিলেন বেশি।
প্যারিস
র‌্যাংকিংয়ে দুই ও তিন নম্বরে আছে যথাক্রমে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডন। দুটি শহরেই ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক সমাগম দেখা গেছে গত বছর। তবে শীর্ষ দশে কেবল লন্ডনেই বিদেশি পর্যটক ৪ শতাংশ কমেছে।
লন্ডন
মাস্টারকার্ডের ইনডেক্সে ২০০ শহরের র‌্যাংকিং করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০০৯ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী বিমান ভ্রমণ করে পৌঁছে রাতে থাকা পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে ৭৬ শতাংশ।
সিঙ্গাপুর
এশিয়ার দেশগুলোতে গত এক দশকে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে ৯ শতাংশ। শীর্ষ দশ জনপ্রিয় শহরের মধ্যে ব্যাংকক ছাড়া সিঙ্গাপুর পাঁচে, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ছয়ে ও জাপানের টোকিও আছে নয় নম্বরে।
দুবাই
তবে ২০১৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে বিদেশি পর্যটকরা খরচ করেছেন ৩০০ কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯১ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা! প্রতিদিন তাদের ব্যয় হয়েছে গড়ে ৫৫৩ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় ব্যাংককে পর্যটকরা গড়ে খরচ করেছেন ১৮৪ মার্কিন ডলার।
কুয়ালালামপুর
২০১৮ সালের বিদেশি পর্যটক সংখ্যায় শীর্ষ ১০ শহর
১. ব্যাংকক (থাইল্যান্ড): ২ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার
২. প্যারিস (ফ্রান্স): ১ কোটি ৯১ লাখ
৩. লন্ডন (ইংল্যান্ড):১ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার
৪. দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত): ১ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার
৫. সিঙ্গাপুর: ১ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার
৬. কুয়ালালামপুর (মালয়েশিয়া):১ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার
নিউ ইয়র্ক সিটি
৭. নিউ ইয়র্ক সিটি (যুক্তরাষ্ট্র): ১ কোটি ৩৬ লাখ
ইস্তানবুল
৮. ইস্তানবুল (তুরস্ক): ১ কোটি ৩৪ লাখ
টোকিও
৯. টোকিও (জাপান):১ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার
আনাতালিয়া
১০. আনাতালিয়া (তুরস্ক): ১ কোটি ২৪ লাখ ১০ হাজার
>>>সূত্র: সিএনএন ট্রাভেল

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পালকি থেকে রাজহংস by চৌধুরী আকবর হোসেন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্ত হলো আরেকটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। এ নিয়ে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার উড়োজাহাজ হলো ১০টি। অর্ডার করার পর একে একে এগুলো পেতে প্রায় ১১ বছর লেগে গেলো।

২০০৮ সালে মার্কিন আকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ২১০ কোটি মার্কিন ডলারে তিনটি মডেলের ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ অর্ডার দেওয়া হয়।

অন্যান্য যানবাহনের মতো উড়োজাহাজেরও নিবন্ধন করতে হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বাংলাদেশি সব এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার স্বতন্ত্র রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করে। নিবন্ধন নম্বর অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজকে আলাদাভাবে চেনা যায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজগুলোর অবশ্য আলাদা নামকরণও হয়েছে। এটি ব্যতিক্রম একটি দিক। তবে দীর্ঘ বা স্বল্পমেয়াদে ভাড়া করে আনা আকাশযানের বেলায় আলাদা নাম রাখা হয় না।

উড়োজাহাজের নামকরণের ক্ষেত্রে প্রথমে বিমানের কর্মীদের কাছ থেকে নাম চাওয়া হয়। সেগুলোর প্রাথমিক তালিকা তৈরির পর চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তার পছন্দে ১০টি বিমানের রাখা হয়। এগুলো হলো পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খী, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।

পালকি (এস২-এএফও)
তিনটি মডেলের মধ্যে প্রথমেই ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ শুরু করে বোয়িং। ২০০৮ সালে ক্রয় আদেশ দেওয়ার পর ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর একটি ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রথম বিমান বহরে যুক্ত হয়। এর নাম ‘পালকি’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএফও। ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০১২২। এতে ৩৫টি বিজনেস ক্লাস ও ৩৮৪টি ইকোনমি আসন রয়েছে। এছাড়া আছে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের তৈরি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন (জিই৯০-১১৫বি)। উড়োজাহাজটি বর্তমানে ঢাকা-জেদ্দা রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ব্যবহার হচ্ছে।

অরুণ আলো (এস২-এএফপি)
২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর বিমানকে আরেকটি ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ সরবরাহ করে বোয়িং। এর নাম রাখা হয় ‘অরুণ আলো’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএফপি। ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০১২৩। এটি বর্তমানে চট্টগ্রাম-মদিনা, ঢাকা-মদিনা ও ঢাকা জেদ্দা রুটে ব্যবহার হচ্ছে। এই উড়োজাহাজে রয়েছে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের তৈরি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন (জিই৯০-১১৫বি)। এতে আছে ৩৫টি বিজনেস ক্লাস ও ৩৮৪টি ইকোনমি আসন।

আকাশ প্রদীপ (এস২-এএইচএম)
২০১১ সালে দুটি ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ পাওয়ার পর আবারও দীর্ঘ অপেক্ষা। এরপর ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আরেকটি ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ সরবরাহ করে বোয়িং। এর নাম রাখা হয় ‘আকাশ প্রদীপ’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইচএম। ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০১২০। এতে রয়েছে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের তৈরি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন (জিই৯০-১১৫বি)। উড়োজাহাজটি বর্তমানে ঢাকা-জেদ্দা রুটে ব্যবহার হচ্ছে।

রাঙা প্রভাত (এস২-এএইচএন)
বিমান চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ অর্ডার করেছিল। এই্ সিরিজের সবশেষ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হয় ২০১৮ সালের ২১ মার্চ। এর নাম রাখা হয় ‘রাঙা প্রভাত’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইচএন। ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০১২১। এটি বিমান বহরের চতুর্থ ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ। এতে রয়েছে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের তৈরি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন (জিই৯০-১১৫বি)। উড়োজাহাজটি বর্তমানে ঢাকা-লন্ডন ও ঢাকা-জেদ্দা রুটে ব্যবহার হচ্ছে।

মেঘদূত (এস২-এএইচও)
চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর আকাশযান পাঠানো শেষে বিমানকে ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু করে বোয়িং। অর্ডার দেওয়া দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের প্রথমটি বিমান বহরে আসে ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর। এর নাম রাখা হয় ‘মেঘদূত’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইচও, ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০৩৩৪। বিমানের দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের বিজনেস ক্লাস ১২টি ও ইকোনমি আসন ১৫০টি। এতে আছে আমেরিকা ও ফ্রান্সের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকানাধীন সিএফএম ইন্টারন্যাশনালের তৈরি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন (সিএফএম ৫৬-৭বিই)। উড়োজাহাজটি বর্তমানে ঢাকা-দিল্লি, ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাস্কাট, ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-ব্যাংকক ও ঢাকা-সিলেট রুটে ব্যবহার হচ্ছে।

ময়ূরপঙ্খী (এস২-এএইচভি)
দ্বিতীয় বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ বিমান বহরে যুক্ত হয় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর। এর নাম রাখা হয় ‘ময়ূরপঙ্খী’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইচভি, ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০৩৩৫। এতেও রয়েছে সিএফএম ইন্টারন্যাশনালের তৈরি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন (সিএফএম ৫৬-৭বিই)। উড়োজাহাজটি বর্তমানে ঢাকা-সিঙ্গাপুর, ঢাকা-ব্যাংকক ও ঢাকা-সিলেট রুটে ব্যবহার হচ্ছে।

আকাশবীণা (এস২-এজেএস)
চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ পাওয়ার পর ফের দীর্ঘ অপেক্ষা। প্রায় আড়াই বছর পর ২০১৮ সালে ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সরবরাহ শুরু করে বোয়িং। ওই বছরের ১৯ আগস্ট দেশে আসে প্রথম ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। এর নাম রাখা হয় ‘আকাশবীণা’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এজেএস, ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০১২৬। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ‘আকাশবীণা’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিন বিমানটির প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এতে বিজনেস ক্লাস ২৪টি ও ইকোনমি আসন ২৪৭টি। এছাড়া আছে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের তৈরি জেট ইঞ্জিন (জিইএনএক্স-১বি৬৭)। ইঞ্জিনটির ফ্লন্ট ফ্যান কেস ও ফ্যান ব্লেড কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি। ‘আকাশবীণা’ বর্তমানে ঢাকা-সিলেট-লন্ডন, ঢাকা-দাম্মাম, ঢাকা-লন্ডন ও ঢাকা-দোহা রুটে ব্যবহার হচ্ছে।

হংসবলাকা (এস২-এজেটি)
বিমানের দ্বিতীয় ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ঢাকায় এসে পৌঁছায় ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর রাতে। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের এভারেট থেকে কোনও যাত্রাবিরতি ছাড়াই টানা ১৫ ঘণ্টা এটি উড়িয়ে নিয়ে আসেন পাইলট স্মল স্কি, মো. আমিনুল, শোয়েব চৌধুরী ও ফার্স্ট অফিসার আনিতা রহমান। এর নাম রাখা হয় ‘হংসবলাকা’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এজেটি, ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০১২৭। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে ‘হংসবলাকা’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে বিজনেস ক্লাসের সংখ্যা ২৪টি, ইকোনমি আসন ২৪৭টি। এছাড়া আছে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের তৈরি জেট ইঞ্জিন (জিইএনএক্স-১বি৬৭)। ইঞ্জিনটির ফ্লন্ট ফ্যান কেস ও ফ্যান ব্লেড কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি।

গাঙচিল (এস২-এজেভি)
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে তৃতীয় ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার যুক্ত হয় এ বছরের ২৫ জুলাই। দেশে পৌঁছার পর এটিকে ওয়াটার স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। এর নাম রাখা হয় ‘গাঙচিল’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এজেভি, ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০১২৫। গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করেন। একই দিন বিকালে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আবুধাবি যাওয়ার মধ্য দিয়ে উড়োজাহাজটির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। এতে বিজনেস ক্লাস ২৪টি ও ইকোনমি আসন ২৪৭টি। এছাড়া আছে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের তৈরি জেট ইঞ্জিন (জিইএনএক্স-১বি৬৭)। ইঞ্জিনটির ফ্লন্ট ফ্যান কেস ও ফ্যান ব্লেড কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি। এটি ঢাকা-কুয়েত, ঢাকা-আবুধাবি ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-দোহা রুটে ব্যবহার হচ্ছে।

রাজহংস (এস২-এজেইউ)
২০০৮ সালে ক্রয় চুক্তির সবশেষ উড়োজাহাজ দেশে এসেছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর। এর নাম রাখা হয়েছে ‘রাজহংস’। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এজেইউ, ম্যানুফ্যাকচারার সিরিয়াল নম্বর (এমএসএন) ৪০১২৪। এতে বিজনেস ক্লাস ২৪টি ও ইকোনমি আসন ২৪৭টি। এতে রয়েছে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের তৈরি জেট ইঞ্জিন (জিইএনএক্স-১বি৬৭)। ইঞ্জিনটির ফ্লন্ট ফ্যান কেস ও ফ্যান ব্লেড কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি।

বিমানের চারটি ড্রিমলাইনার টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। উড়োজাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণ হয় ইলেক্ট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এগুলো ওজনে হালকা। ভূমি থেকে বিমানগুলোর উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এগুলোর প্রতিটির ককপিট থেকে টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে।

চীনা জেএফ-১৭: ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গোপন অস্ত্র! by চার্লি গাও

২০১৯ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে যে সঙ্ঘাত হয়েছে, সেটা ভারতীয় বিমান বাহিনীকে ব্যাপকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভাষ্যমতে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি মিগ-২১ বাইসন বিমান ভূপাতিত হয়েছে, কিন্তু পাকিস্তান বিমান বাহিনীর কিছুই হয়নি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো জুলাইয়ে প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারের ভাষ্যমতে, এই সঙ্ঘাতকালেই প্রথমবারের মতো চীনা জেএফ-১৭ ‘থান্ডার’ জঙ্গি বিমান ব্যবহার করেছে পাকিস্তান।

জেএফ-১৭ অনেকটা নতুন এক-ইঞ্জিনবিশিষ্ট জঙ্গি বিমান। অন্যান্য হালকা জঙ্গি বিমান যেমন এফ-১৬, গ্রিপেন, মিগ-২৯এর মতো রফতানিযোগ্য বিমানের সাথে প্রতিযোগিতার জন্যই এটা তৈরি করা হয়েছে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীই (পিএএফ) এই বিমানের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী, তাই এ বিমানের ব্যাপারে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তথ্য রয়েছে চীনা মার্কেটিং দলিলপত্রে। তবে জুলাইয়ে প্রকাশিত সাক্ষাতকারে একজন পাইলট যে মতামত দিয়েছেন, তাতে উঠে এসেছে কিভাবে অধিকাংশ প্রতিকূল প্রতিপক্ষ – সুখোই এবং এফ-১৬ এর মতো বিমানের মোকাবেলায় কিভাবে এটা টিকে থাকে।

সীমান্ত সঙ্ঘাতের পর জেএফ-১৭ বিমানের ব্যবহার করা হয়েছে সীমান্ত টহলের কাজে। এই টহলকালীন কিছু ঘটনায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্বেরও সু-৩০এমকে বিমানের উপস্থিতি রাডারে টের পেয়েছেন তিনি।

তবে, এর অর্থ এই নয় যে এই দূরত্বে জেএফ-১৭ বিমান মিসাইল দিয়ে প্রতিপক্ষের বিমানকে ধ্বংস করতে পারবে। জেএফ-১৭ বিমানে প্রধান যে মিসাইলটি ব্যবহৃত হয়, সেটা হলো পিএল-১২, যেটা (২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী) এখনও সমন্বয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সত্যিকারের সীমান্ত সঙ্ঘাতের সময় পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানগুলো এআইএম-১২০সি-৫ এএমআরএএএম মিসাইল ছুড়েছিল, যেটা ওই দূরত্বকে অতিক্রম করতে পারে। ফলে ভারতীয় বিমানগুলোকে সেখানে রক্ষণশীল অবস্থানে যেতে হয় এবং মিসাইলগুলোর আঘাত এড়ানোর চেষ্টা করে তারা। তবে এই মিসাইলে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যেহেতু পিএল-১২ মিসাইলের রেঞ্জও একইরকম। তাই এই মিসাইলগুলোও হয়তো ওই দূরত্ব থেকে কোন ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারবে না।

তবে জেএফ-১৭ বিমান যদি এই দূরত্বে কোন বিমানকে আঘাত হানার সুযোগ পায়, তাহলে তারা ভারতীয় বিমান বাহিনীর সু-৩০এমকেআই থেকে হয়তো এগিয়ে থাকবে। এনডিটিভির এক রিপোর্ট অনুসারে, রাশিয়ান আর-৭৭ মিসাইলগুলো ৮০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে পারে না।

জেএফ-১৭ বিমানের পাইলট বলেছেন যে, সু-৩০ বিমানের মিসাইলের সীমাবদ্ধতা সত্বেও এই বিমানটি পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর জন্য একটা বড় হুমকি। কারণ সু-৩০ বিমানের ইঞ্জিন অনেক শক্তিশালী এবং তাদের আকাশে ম্যানিউভারিং সক্ষমতাও অনেক বেশি। সেই কারণেই এগুলোকে আঘাত করাটা অনেক কঠিন।

তবে পাইলট এটাও বলেন যে, তিনি সু-৩০ বিমান নিয়ে অতটা চিন্তিত নন, কারণ এফ-১৬ বিমানের এএমআরএএএমের বিরুদ্ধে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং এটা অনেক বেশি শক্তিশালী মিসাইল।

এনআরসি’র নামে আসামে যা হচ্ছে তা বিপজ্জনক: -মানবজমিনকে শীর্ষেন্দু by কাজল ঘোষ

আসামের নাগরিক তালিকা বা এনআরসি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। বলেছেন, এনআরসি’র নামে আসামে যা হচ্ছে তা বিপজ্জনক। সরকার যেভাবে তাড়াতে চাইছে এটা সম্ভব নয়। শুধু এনআরসি নয়। খ্যাতনামা এই লেখক কথা বলেছেন তাঁর লেখালেখি, প্রেম, ভালোবাসা, চোর, ভূত প্রীতি, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আর লেখক হওয়া নিয়ে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের শেকড় এদেশেই। টান অনুভব করেন জন্মভিটের জন্য।

বলেন, অনেক আগেই দেশ হারিয়ে গেছে। আমি এ দেশের লোক নই ভাবতে আমার কষ্ট হয়। আমার আইডেন্টিটি হারিয়ে গেছে। কিন্তু টানটা রয়ে গেছে। রাজনীতির কারণে যে দেশভাগ তার ফল আজও বইতে হচ্ছে। এ দেশে যতদিন ছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি আছি সেই দেশে। দ্যাটস নট এ হোম, জাস্ট হোম। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলছিলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। শরতের সকালে এক চিলতে রোদ মাথায় নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রশস্ত লাল দালানের উঁচুতলায় বাতিঘরে বসে কথাগুলো বলছিলেন তিনি।
ছেলেবেলায় ময়মনসিংহের সময়কাল মনে করে খ্যাতনামা এই লেখক বলেন, এটা আমার জন্মভূমি। দেশভাগের বাস্তবতায় আজ ওপারে। তবুও পরিযায়ী পাখির মতো আমি এখানে ছুটে আসি। নিজের লেখক সত্তা নিয়ে নিজেরই প্রশ্ন। শীর্ষেন্দু মনে করেন, তিনি বাই চান্স লেখক। বলেন, লেখক হবো এমন চিন্তা মাথায় নিয়ে লিখেছি বিষয়টি তা নয়। আমি আসলে বাই চান্স লেখক। প্রথাগত লেখক সংজ্ঞার মধ্যে আমি পড়ি না।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২রা নভেম্বর ময়মনসিংহে। পিতা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। ছেলেবেলা কেটেছে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিভিন্ন অংশে। প্রথম চাকরি স্কুলশিক্ষক হিসেবে। পরে আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন। যৌবনে ভয়ানকভাবে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন, জীবনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন এবং একসময় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত মা-বাবা তাঁকে শ্রী শ্রী অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের কাছে নিয়ে যান। ঠাকুরের সান্নিধ্যে জীবন বদলে যায় মানুষটির।

নিজের লেখা প্রথম দুটি গল্প ফেরত এসেছিল দেশ পত্রিকার দপ্তর থেকে। তৃতীয়টি পাঠানোর পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যদি এটি ছাপা না হয়, তাহলে লেখালেখিই ছেড়ে দেবেন। ‘জলতরঙ্গ’ নামে সেই তৃতীয় গল্পটিই ছিল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ছাপা হওয়া প্রথম লেখা। প্রথম উপন্যাস ঘুণপোকা লিখেছিলেন সাগরময় ঘোষের তাগাদায়। ঘুণপোকার শ্যামল চরিত্রটি অনেকটা তাঁর নিজের আদলেই গড়া।
আশি বছরের ঊর্ধ্ব এই লেখকের জীবনবোধ, সাহিত্য চর্চা, লেখক হওয়া, নানা বিশ্বাসে বন্দি জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। পাঠকের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন ঢাকার বাতিঘরে। পাঠক আর লেখকের মেলবন্ধনে সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন বাতিঘর প্রধান দীপঙ্কর দাশ।

শীর্ষেন্দু বলেন, ছেলেবেলায় দুরন্ত ছিলাম। এতটাই দুরন্ত যে, আমার ডাক নাম হয়ে গেল দুষ্টুর সমার্থক। পাড়ার সকলে রুনু নামে ডাকতো। পাড়ায় কোনো দুষ্টু ছেলেমেয়ে দেখলে বলতো এটা রুনুর মতো হয়েছে। খেলাধুলা ছিল আমার পছন্দের বিষয়। আর বই পড়ার অভ্যেস ছিল। হাতের কাছে যা পেতাম তাই পড়তাম।
জীবনে প্রেম করতে পারিনি। কোনো প্রেমিকা ছিল না। আমার প্রেমগুলো ছিল একতরফা। একতরফা অনেককেই ভালোবেসেছিলাম। পরে একজনই আমাকে ভালোবেসেছিল। যাকে পেয়ে যাওয়ায় আর কাউকে খুঁজতে হয়নি।

ভারত সরকার এনআরসি’র নামে আসামে যা করতে চাইছে তা বিপজ্জনক। সরকার যেভাবে তাড়াতে চাইছে সেটা সম্ভব নয়। এতগুলো লোককে এভাবে তাড়ানো সম্ভব- এটা মনে হয় না। যদিও পশ্চিমবঙ্গের চিত্র ভিন্ন। সেখানে ব্যবসায়িক, চাকরিসহ নানা কারণে বহু ধরনের লোকের বাস। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বাংলা ভাষা কি সংকটে আছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলা হচ্ছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা। ভাবুন তো যদি এর সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত হতো; বাংলাদেশ যদি আলাদা রাষ্ট্র না হতো তাহলে বাংলা হতো পুরো ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রভাষা। কাজেই সব মিলিয়ে যে পরিস্থিতি তাতে বাংলা ভাষা কোনো ধরনের হুমকিতে আছে বলে আমার কাছে তা মনে হয় না।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অনেক লেখায় চোরদের প্রতি মমতার প্রকাশ রয়েছে। আবার ভূতদেরও তিনি তাঁর লেখায় এঁকেছেন মানবিকভাবে। বিজ্ঞানমনস্কতার এ যুগে এগুলো একধরনের রহস্যের জন্ম দেয়। শীর্ষেন্দুর সোজাসাপ্টা জবাব, চোরদের নিয়ে আমি নির্মম হতে পারি না। মনে হয়, চোর আমার বাসায় এলে তাকে কাছে বসিয়ে দু’চারটি কথা বলি। ভূত বিষয়ক অনেক লেখা পড়ে বাচ্চারা আমাকে ফোন করে বলে যে, সে আর ভূতকে ভয় পাচ্ছে না। তখন আমার ভালো লাগে। মনে হয়, যাক লেখাটি মনে ধরেছে।

প্রসঙ্গ যখন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে এলে একটি বিষয় ভালো লাগে, তা হলো এখানে পাঠক বেড়েছে। একবার কোথাও যাচ্ছি লঞ্চে করে। হঠাৎ একটি ছেলে আমার বই নিয়ে এসে অটোগ্রাফ চাইলো। অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, তুমি এখানে বই পেলে কোথায়? বললো, লঞ্চের মধ্যেই আপনার বই বিক্রি হচ্ছে। বিস্মিত হয়েছিলাম। এখন সময় বদলেছে। একসময় বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা রয়্যালটি পেতাম। এখন তা কমছে। কারণ বই অনেক বেশি পাইরেসি হচ্ছে। ফলে আগের মতো রয়্যালটি পাই না।

লেখালেখির জগৎ
বই পড়তে পড়তেই একসময় ইচ্ছে জাগলো লিখতে পারি কিনা? ধীরে ধীরে গল্প, কবিতা এসবের চর্চা শুরু করি। প্রথমদিকে এসব লেখা কোথাও ছাপা হতো না। ষোল সতেরো বছর বয়স। খুব বিক্ষিপ্ত জীবন কেটেছে। আমাকে পড়াশুনার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হলো কুচবিহার। সেখানকার হোস্টেলে লম্বা সময় কেটেছে। এ সময় পরিবারের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বিচ্ছিন্নতা। তখন থেকেই মাথায় লেখার ভূত চাপে। ১৯৬৭ সালের কথা। সে সময় দেশ পত্রিকায় একটি গল্প ছাপা হলো। প্রথম উপন্যাস বের হলো-ঘুণপোকা। তখন আমার লেখার পাঠক ছিল না। খুব কষ্ট পেতাম। এত কষ্ট করে লিখি কিন্তু পাঠক পড়ে না কেন? পাঠক আমার লেখা প্রত্যাখ্যান করে কেন? একবার প্রচার হয়েছিল একটি ছেলে সতেরবার ঘুণপোকা বইটি পড়ে আত্মহত্যা করেছিল। ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমার ভাগ্য ভালো, দীর্ঘদিন পর আমার সেই লেখাগুলোই এ প্রজন্মের পাঠকরা গ্রহণ করেছে। পড়তে শুরু করেছে। কপাল ভালো এখনকার পাঠক আমার লেখা বুঝতে পারে, এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। পাঠকরা যখন আমার লেখা সাদরে গ্রহণ করতে শুরু করলো তখন মনে হলো আমি যেন কবর থেকে ওঠে এলাম।

নিজ আয়নায়
আমি আসলে অবৈজ্ঞানিক বা আনসায়েন্টিফিক লেখক। আমি আমার লেখার কথা নিজেই ভুলে যাই। হঠাৎ কোনো চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করলে সে বিষয়ে বলতে পারবো না। কারণ, যে লেখা বেরিয়েছে তা হয়তো আর পড়া হয়ে ওঠেনি। রাস্তায় দাঁড়িয়ে হয়তো কোনো মারামারির দৃশ্য দেখছি কিছু না বুঝেই। নিজের পরিচয় দিতে আমি বরাবরই লজ্জাবোধ করি। আশেপাশের ভিড় থেকে কেউ এগিয়ে এসে হয়তো আমাকে বললো, আপনাকে দেখতে অনেকটা শীর্ষেন্দুর মতো মনে হচ্ছে। আমি লজ্জাবনত হয়ে বলি, লোকে তাই বলে। আমার লেখালেখি হাতে দলা পাকিয়ে সুতো কাটার মতো। একটি লাইন থেকেই আমার উপন্যাসের জন্ম। যেভাবে একটি দলা পাকাতে পাকাতে তা থেকে সুতো বের হয়। ঠিক তেমনি কোনো একটি লাইন আমি পেয়ে গেলে তা থেকেই বড় উপন্যাসের জন্ম। আমার মনে হয় উপন্যাসের চরিত্রগুলো আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে। মনে হয়, আমি নিজে চরিত্রগুলো সৃষ্টি করিনি, ওরাই আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে। উপন্যাসে বাস্তবতাকে যেভাবে আঁকা যায় ছোট লেখায় তা হয় না।

সভ্যতার বর্তমান সংকট
পৃথিবীর অবস্থা খুব খারাপ হচ্ছে দিনকে দিন। পৃথিবী ধীর ধীরে ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স বা প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারাচ্ছে। আমার মনে হয়, পৃথিবীর ধ্বংস খুব বেশি দূরে নয়। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায় কিনা এটাই দেখার বিষয়। এই যে আমাজন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, তাতে আগুন লাগেনি; আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এটাও করা হয়েছে ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে। সেখানে পৃথিবীর বড় বড় কেম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগ চিন্তা নিয়ে এগুচ্ছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো মানতেই চাইছেন না জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির কথা। কাজেই উপমহাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংকট বাড়ছে। চারদিকে কেবল দালান ওঠছে। কৃষিজমি কমছে। পৃথিবীর বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বন্ধের জন্য যে ধরনের কাজ করা দরকার বড় দেশগুলো তা নিয়ে ভাবছে না। উল্টো তারা এ সমস্যায় আরো জল ঢেলে দিচ্ছে।

প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
ষোল সতেরো বছর বয়সেই মনে হয়েছিল কিছু করতে পারবো না। লেখালেখি করে জীবন কাটাবো। লেখার শুরুটা ছিল প্রত্যাখ্যানের। আমি লিখে খ্যাতি, পুরস্কার, অর্থ উপার্জন করতে চাইনি। চেয়েছি শুধু সাড়া মিলুক। নিজেকে সেলিব্রেটি ভাবতে অভ্যস্ত নই। সাদামাটা জীবন যাপন করি। বারবার যা চেয়েছি তা হলো, আমার লেখার তরঙ্গ যেন পাঠকের অন্তরকে স্পর্শ করে। যেকোনো বিশ্বাস আত্মীকরণ না হলে; অন্তয না হলে তা সুইসাইডাল হয়। আর একটি কথা, পাঠকের সঙ্গে আপস নয়। আমার লেখা আমি লিখবো। তা পাঠক নেবে কিনা সেটা সময় বলবে। কিন্তু পাঠকের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করলে লেখক হওয়া যাবে না।

সাদা পাথরের স্বর্গরাজ্যে by দেবাশীষ রনি

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর
সৌন্দর্যের প্রাচুর্যে ভরা সিলেট বিভাগ। সবখানে ছড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন সব পর্যটনকেন্দ্র। সবুজে মোড়া পাহাড়ের কোলঘেঁষা পাথুরে নদী, ঝরনা, বন, চা-বাগান, নীল জলরাশির হাওর; কী নেই এখানে! সিলেটের এমন প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের পর্যটক আর ভ্রমণপ্রিয় মানুষ ভিড় জমান। সিলেটের অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম নয়নাভিরাম ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদের উৎসমুখে এর অবস্থান।
সিলেটের সীমান্তবর্তী একটি নদের নাম ধলাই। ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে এসেছে এটি। ধলাই নদের উৎসমুখে পাঁচ একর জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সাদা সাদা পাথর। ওপারে উঁচু পাহাড়ে ঘেরা সবুজের মায়াজাল। সেখান থেকে নেমে আসা ঝরনার অশান্ত শীতল পানির অস্থির বেগে বয়ে চলা। গন্তব্য তৃষ্ণার্ত ধলাইয়ের বুক। স্বচ্ছ নীল জল, সাদা পাথর আর পাহাড়ের সবুজ মিলেমিশে যেন একাকার। ধলাইয়ের বুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের বিছানা শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে হাজার গুণ।
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর
সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ঝরনার পানির তীব্র স্রোত নয়ন জুড়ায়। শীতল জলের স্পর্শে প্রাণ জুড়িয়ে যায় নিমিষে। পাথরের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে চলা পানির কলকল শব্দে যেন পাগল করা ছন্দ। বরফ গলার মতো ঠাণ্ডা সেই পানি। বেশিক্ষণ গা ভেজালে শরীরে শীতের কাঁপন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর
শহরের যান্ত্রিকতা ফেলে কয়েকদিন আগে সকালবেলা গাড়িতে করে যাত্রা শুরু। গন্তব্য ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর। সঙ্গী বেশ কয়েকজন। সিলেট নগরের আম্বরখানা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কটির চারপাশে শুধু সবুজ চা বাগান। দেখলে মনে হয় নীল আকাশ যেন সবুজ গালিচার ওপর তাঁবু টানিয়েছে। সড়কটি ধরে চলতে চলতে সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় মন। দু’হাতে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করতে পারলে মন্দ হতো না!
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর
সংস্কারকাজ চলায় বিমানবন্দর থেকে বাকিটা পথের কিছু কিছু স্থান নাজুক। তবে বছরখানেক আগে দেখেছিলাম রাস্তার বেহাল দশা। সেই তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো বলা চলে। এই সড়ক দিয়ে ভোলাগঞ্জ বাজারে পৌঁছাতে সময় লাগে দুই ঘণ্টার মতো।
ভোলাগঞ্জ বাজার ফেরিঘাট
ভোলাগঞ্জ বাজার ফেরিঘাট
ফেরিঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে মূল গন্তব্য সাদাপাথরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। নৌকা যত সামনে এগোয়, মুগ্ধতা ততই বাড়তে থাকে। ধলাই নদের স্বচ্ছ নীল জলে নৌকা চলতে চলতে চোখে পড়ে মেঘালয়ের আকাশছোঁয়া পাহাড়। মনে হচ্ছিল আকাশে হেলানো উঁচু উঁচু পাহাড়ের সারি।
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে যাওয়ার নৌপথ
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে যাওয়ার নৌপথ
চারপাশের চোখধাঁধানো সব দৃশ্য দেখতে দেখতে ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাই নদের উৎসমুখে। তীরে ভেড়ে নৌকা। তীরে নামতেই চোখে আটকে যায় পাথরের স্তূপে। পাথরগুলো সব সাদা। ছোট, মাঝারি, বোল্ডার আকৃতির পাথর। সাদার মধ্যে নিকষ কালো পাথরও আছে। কোনোটি খয়েরি। যেন এলাকাজুড়ে পাথরের বিছানা।
পাথর মাড়িয়ে ঝরনার আবাহন। কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও কোমর পানি। কোথাও তারও অনেক বেশি। পাথরের ওপর দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে তৃষ্ণার্ত ধলাইয়ের মুখে। ধলাইয়ের বুকে সেই জলে নেমে নিজেকে শীতল করি। অনেকক্ষণ গা ভেজানোর পর প্রচণ্ড গরমেও শরীরে শীতের কাঁপন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। বিকালবেলা অসম্ভব সুন্দরকে বিদায় জানিয়ে ফেরার পথ ধরি। মন বলছিল, আহ! কত অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমার এই দেশ!
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর
যেভাবে যাবেন
*সড়কপথ: সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভোলাগঞ্জ বাজার। ভাড়া জনপ্রতি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। চাইলে লেগুনা কিংবা অন্য অন্যান্য গাড়ি ভাড়া করেও যাওয়া যায়। ভোলাগঞ্জ বাজারের ফেরিঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করতে হবে। ভাড়া যাওয়া-আসা মিলিয়ে ৮০০ টাকা।
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে যাওয়ার নৌপথ
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে যাওয়ার নৌপথ
*নৌপথ: সিলেট শহর থেকে বাদাঘাট হয়ে উমাইরগাঁও। সেখান থেকে সরাসরি ভোলাগঞ্জের নৌকা ভাড়া করা যায়। ভাড়া ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা।
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর
সচেতনতা ও সতর্কতা
*সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে তা নষ্টের কারণ হওয়া ঠিক নয়। পরিবেশ হুমকিতে পড়ে এমন কিছু অবশ্যই করা উচিত হবে না। পলিথিন বা প্লাস্টিকের বোতলসহ পরিবেশ বিপন্ন হয় তেমন কিছু মনের অজান্তেও ফেলে আসা ঠিক নয়। প্রকৃতিকে বেঁচে থাকতে দিতে হবে তার নিজের মতো করে।
*পর্যটন স্থানটি ভারত সীমান্তবর্তী। তাই সীমান্তের কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো। ঘুরে বেড়ানোর সময় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আর ভুলেও গভীর পানিতে নামা যাবে না। তীব্র স্রোতের কবলে পড়লে সাঁতার জানা মানুষেরও বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
>>>ছবি: লেখক

চীনা ‘ঋণের ফাঁদে’ বাংলাদেশ? by যোবায়ের আহমেদ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে দৃশ্যত সফল হয়েছে। এই সফরে উভয় পক্ষ বহু চুক্তি সম্পাদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে প্রায় ১৭০০ কোটি ডলারের ঋণ প্রদানের দু’টি চুক্তি। বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএমইসি) প্রকল্প সংক্রান্ত কাজ ত্বরান্বিত করতেও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো, ৩০০ কোটি জনসংখ্যা বিশিষ্ট এই চার দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা।
২০১৬ সালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত আংশীদারিত্বে পরিণত করে চীন ও বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে চীনা বিনিয়োগ বেড়েছে হু হু করে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ হিসেবে বেইজিং ও ঢাকা ২১৫০ কোটি ডলারের বিভিন্ন চুক্তি সই করেছে, যার আওতায় রয়েছে বহু জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্প। এখন পর্যন্ত, বাংলাদেশে বিআরআই-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুত বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৮০০ কোটি ডলার বলে অনুমান করছে বৃটিশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।
গত কয়েক বছরে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে  চীন বাংলাদেশে বেশি অর্থ প্রবাহিত করেছে।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে রেকর্ড হারে। ওই বছর দেশটিতে প্রায় ৩৬০ কোটি ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি। এই অংকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই অবশ্য চীনের একার, যা ১০০ কোটি ডলারের চেয়েও বেশি।
২০২২ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের যেই উচ্চাবিলাশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ, তা পূরণে চীনা অর্থের ওপর ক্রমবর্ধমনভাবে নির্ভর করছে দেশটি। পদ্মা নদীর ওপর বৃহৎ সড়ক-রেল প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মান করছে চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। সেতুর সঙ্গে থাকা রেল সংযোগ নির্মানে ৩০০ কোটি ডলার দিয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংক।
ঢাকা-ভিত্তিক পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এস মনসুর বলেন, ‘চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুখবর। কারণ, এতে করে অর্থায়নের নতুন উৎস সৃষ্টি হলো। বাংলাদেশের মতো বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের প্রচলিত উৎসসমূহ যথেষ্ট নয়।’ মনসুর বলেন, চীনা বিনিয়োগের অন্যান্য সুবিধাও রয়েছে। তার ভাষ্য, ‘এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে করে জাপান ও ভারতের মতো দেশগুলোও এগিয়ে এসে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ হয়।’
২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। অনেক চীনা কোম্পানি এসব অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী। যেমন, চট্টগ্রামের পাশে এমন একটি অঞ্চলে জিন্ডুন প্রেসার ভেসেল কো লিমিটেড প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।
ঋণের ফাঁদ?
দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর চীনা বিনিয়োগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গ্রহীতা হলো বাংলাদেশ। কিন্তু এই পরিস্থিতি নিয়ে সবাই আশাবাদী নন। অনেকেই সতর্ক করে বলছেন যে, চীনা অর্থের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভবরতা ঢাকাকে বেইজিং-এর আজ্ঞাবহ করে তুলবে। সমালোচকরা এক্ষেত্রে শ্রীলংকার প্রসঙ্গ তুলে আনেন। দেশটিতে সরকার ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে হাম্বানটোটা নামে বন্দরের দায়িত্ব ৯৯ বছরের জন্য চীনকে দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে মনসুর বলেন, চীন থেকে ঋণ অর্থায়নের বদলে সরাসরি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই বাংলাদেশের জন্য বেশি লাভজনক। মনসুর বলেন, চীনা বিনিয়োগ ইকুইটি ও ঋণ, দুইভাবেই আসছে। বর্তমানে অবকাঠামো প্রকল্পসমূহ মূলত ঋণ অর্থায়নের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু আমি ঋণ নয়, ইকুইটি নিয়ে বেশি আগ্রহী হব।
অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, বাংলাদেশ ঋণের জালে পড়ছে, এমনটা বলার সময় এখনও আসেনি। ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের সামগ্রিক বহিঃঋণের পরিমাণ ছিল ৩৩১০ কোটি ডলার। কিন্তু সেই হিসাবে চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের অংশ তেমন বড় নয়।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশকে চীনের দেওয়া ঋণের পরিমাণ মোট ঋণের মাত্র ৬ শতাংশ।’ তবে তিনি বলেন, কী শর্ত মোতাবেক ঋণ প্রদান করা হয়েছে, সেই ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। চীনা অর্থনীতিকে ‘ঋণের ফাঁদ’ বলতেও রাজি হননি তিনি। তার ভাষ্য, ‘এই ঋণের ঝুঁকি ও সুযোগ দুইই আছে। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে এখন পর্যন্ত, সেই অনুযায়ী ঋণের ফাঁদের মতো অবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যায় না।’
তবে সংশয়বাদীরা বাংলাদেশের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
যে কারণে ভারত উদ্বিগ্ন
আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বাণিজ্য ও বিনিয়োগই সবসময় শেষ কথা নয়। ২০১৬ সালে, দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সোনাদিয়ায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানে চীনের প্রস্তাব নীরবেই নিষ্ক্রিয় করে দেয় সরকার। নয়াদিল্লি ওই প্রকল্পের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিল। ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বিপপুঞ্জের কাছে চীনা উপস্থিতি তৈরি হতো।
কিন্তু তারপরও দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব নয়াদিল্লির জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে। ব্রাসেল-ভিত্তিক সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের গবেষণা পরিচালক সিগফ্রায়েড ওলফের মতে, ভারতের জন্য এই চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত কারণে। ওলফ বলেন, ‘শ্রীলংকায় বন্দর রয়েছে চীনের। পাকিস্তানের গাদার-এ রয়েছে। মিয়ানমারেও বন্দর নির্মান করছে। এতে করে ভারতের মনে হচ্ছে যে, চীন চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলছে। এটি হলো ভারতীয় উদ্বেগের সামরিক দিক।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলছেন, বিনিয়োগ প্রবাহিত করার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবও বিস্তার করছে চীন। তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ সরকারের ওপর চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারার বিষয়টিই ভারতের জন্য একটি হুমকি।’ এই প্রভাবের অর্থনৈতিক দিকও থাকতে পারে। ওলফ বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে চীন অন্যান্য দেশকে বাজার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এখন আফ্রিকার দেশগুলোতে ফরাসি ও জার্মান কোম্পানিগুলোর জন্য কোনো কাজ পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’
>>>(জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের ওয়েবসাইট থেকে অনূদিত।)

পুতিনের টার্গেট ইন্টারনেট! by অর্ণব সান্যাল

প্রথম আলো, ২৪ মার্চ ২০১৯: একটা সময় ছিল, যখন টেলিভিশন ও বেতারই ছিল সংবাদ পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু টিম বার্নার্স লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব আবিষ্কারের পর থেকে ধীরে ধীরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। এখন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সংবাদের অনেকগুলো বিকল্প উৎস তৈরি হয়ে গেছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের একনায়ক ঘরানার শাসকেরা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের দেশে শাসক হিসেবে একমেবাদ্বিতীয়ম। দিন দিন নিজের ক্ষমতার পরিধি তিনি বাড়িয়েই চলেছেন। এবার হাত দিয়েছেন ইন্টারনেটের দুনিয়ায়। অন্তর্জালে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সব আয়োজন শেষ করে এনেছেন পুতিন। এবার জাল গুটিয়ে আনার পালা। এই কাজ শেষ হলেই রুশ ভার্চ্যুয়াল জগৎ নিয়ন্ত্রণের ‘সুইচ’ চলে আসবে পুতিনের পকেটে।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছিল। ১৯৯১ সালের ১৯ আগস্ট যখন মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে ‘ক্যু’ সংঘটিত হয়েছিল, তখন সোভিয়েতের সব টিভি চ্যানেলে বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছিল। বোকা বাক্সের সামনে বসে থাকা রুশ জনগণের বোঝারও উপায় ছিল না যে, দেশে ওলট-পালট ঘটে যাচ্ছে! ক্রেমলিনে তখন চলছিল বুলেট-বোমার কাব্য, আর রুশ জনগণের ড্রয়িংরুমের বোকা বাক্সে চলছিল নাচগান।
বোকা বাক্স দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর দিন এখন আর নেই। ইন্টারনেট পুরো পৃথিবীকে একটি ছোট গণ্ডির মধ্যে এনে ফেলেছে। সেই ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয় নেওয়াও কঠিন। সেই কষ্টসাধ্য কাজটিই করতে চাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সাবেক সোভিয়েত আমলের অভিজ্ঞতা থেকে ভালোই শিখেছেন একসময়কার এই কেজিবি এজেন্ট। তিনি বুঝেছেন যে, জনগণকে যত কম জানানো যায় ততই মঙ্গল। এরা যত বেশি জানে, তত বেশি বোঝে! সুতরাং জনগণের জানা-বোঝার সুযোগ সীমিত করে দেওয়াই ক্ষমতা সংরক্ষণের উৎকৃষ্ট উপায়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের দেশে শাসক হিসেবে একমেবাদ্বিতীয়ম। দিন দিন নিজের ক্ষমতার পরিধি তিনি বাড়িয়েই চলেছেন। এবার হাত দিয়েছেন ইন্টারনেটের দুনিয়ায়। ছবি: রয়টার্স
রুশ সংস্থা লেভাদা সেন্টার সম্প্রতি একটি জরিপ করেছে। তাতে দেখা গেছে, টেলিভিশনের ওপর রাশিয়ার জনগণের আস্থা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম টিভি চ্যানেলের ওপর রুশদের আস্থার পরিমাণ ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। উল্টো দিকে তথ্যের ইন্টারনেটভিত্তিক উৎসের ওপর রুশদের আস্থা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। যদিও রাশিয়ার বয়স্ক মানুষেরা এখনো টেলিভিশন থেকে সংবাদ পেতেই অভ্যস্ত, কিন্তু ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইন্টারনেটনির্ভরতা অনেক বেশি।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, রাশিয়ায় জাতীয় টেলিভিশনের একচেটিয়া আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে ইউটিউব। রাশিয়ার ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ৮২ শতাংশই সংবাদ পেতে ইউটিউবে চোখ রাখছেন। রুশদের মধ্যে ইউটিউবে সংবাদ খোঁজার প্রবণতা বেশি। রাশিয়ায় পুতিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অন্যতম আলেক্সেই নাভালনি। তিনি খুব ভালো করেই জানেন, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেলে তাঁর খবরাখবর আসার আশা নেই। তাই দুটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রচার করছেন নাভালনি। গত বছর এই দুটি ইউটিউব চ্যানেলের দর্শকসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৫ লাখ সাবস্ক্রাইবার পান তিনি।
অর্থাৎ এটি স্পষ্ট যে, খবরের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক উৎসের প্রতি রুশদের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। আর এতেই কপালের ভাঁজ বাড়ছে পুতিনের। ক্রেমলিন এখন সরকারবিরোধী প্রোপাগান্ডা থামাতে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজছে। লন্ডনের কিংস কলেজের শিক্ষক ও রুশ ইন্টারনেট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি আসমোলোভ বলেন, ‘ইন্টারনেটকে কীভাবে টিভি চ্যানেলে রূপান্তর করা যায়—সরকার এখন সেই চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, এর জন্য শুধু কঠোর নিয়মকানুন যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট অবকাঠামো ও কনটেন্টের প্রবাহের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।
অন্তর্জালে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সব আয়োজন শেষ করে এনেছেন পুতিন। এবার জাল গুটিয়ে আনার পালা। এই কাজ শেষ হলেই রুশ ভার্চুয়াল জগৎ নিয়ন্ত্রণের ‘সুইচ’ চলে আসবে পুতিনের পকেটে। ছবি: এএফপি
পুতিনের সরকার সেই পথেই হাঁটতে শুরু করেছে। সরকারবিরোধী কথাবার্তাকে ‘ফেক নিউজ’-এর তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি রাশিয়ায় ফেক নিউজ প্রতিরোধে নতুন আইন পাস হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই আইনে স্বাক্ষরও করে দিয়েছেন। নতুন আইনের আওতায়, যে তথ্যকে সরকারের কাছে মিথ্যা বলে মনে হবে, তা নিষিদ্ধ করে দেওয়া যাবে। এ ছাড়া যে তথ্যকে জনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কারণ বলে মনে করবে সরকার, সেটিও নিষিদ্ধ করা যাবে। এর শাস্তি হিসেবে ৪ লাখ রুবল (প্রায় ৬ হাজার ১০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে যেকোনো ওয়েবসাইট ব্লকও করে দিতে পারবে সরকার।
বিজনেস ইনসাইডার অবশ্য বলছে, যে দোষের শাস্তি নিশ্চিত করতে এই আইন পাস করা হয়েছে, সেই দোষে দুষ্ট রাশিয়াই! বিশ্বে যত ফেক নিউজ তৈরি হয়, তার একটি বড় অংশই আসে রাশিয়া থেকে। ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এই অভিযোগ করেছে। অন্য সরকার ও অধিকার সংস্থাগুলোও রাশিয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছে।
তবে পুতিনের সরকারের দাবি, পুরো বিশ্বেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ফেক নিউজ তৈরি করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন প্রোপাগান্ডা তৈরি করছে। এসব সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর জন্যই কঠোর আইন প্রয়োজন।
ইন্টারনেটে বিধি-নিষেধ আরোপের সরকারি কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সম্প্রতি রাশিয়ায় বিক্ষোভও হয়েছে। ছবি: এএফপি
ব্লুমবার্গ বলছে, নতুন আইন ব্যবহার করে স্রেফ এক সুইচ টিপে পুরো রাশিয়ার তথ্যপ্রবাহ থমকে দিতে পারবেন পুতিন। এই নকশাতেই তৈরি করা হয়েছে ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক আইনটি। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই সোলদাতোভ বলেন, ‘কোনো বিদেশি হুমকি বা ফেসবুক-গুগলকে ঠেকাতে এই আইন করা হয়নি। ওই কাজ এখনই পারে রুশ সরকার। বেসামরিক বিক্ষোভের সময় কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেটের পুরো ট্রাফিক সিস্টেমই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই আইনের আওতায়। ফলে সরকারবিরোধী প্রচার সহজেই শনাক্ত করে বন্ধ করা যাবে।’
চীনের পথ ধরছে রাশিয়া?
ইন্টারনেটের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ চীনের তৈরি। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে নিজেদের আলাদা করে ফেলে চীন। ওই ব্যবস্থাকে ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ বলে অভিহিত করা হয়। এখনো ফেসবুক ঘাঁটি গাড়তে পারেনি চীনে। বৈশ্বিক ইন্টারনেটের জগৎ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন চীন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের পথেই হাঁটতে চাইছে রাশিয়া। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন। চীন তো শুরু থেকেই কঠোর নিয়মকানুন আরোপ করে রেখেছে। আর রাশিয়া বৈশ্বিক ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যুক্ত হয়েছে অনেক আগেই। ইন্টারনেটের বৈশ্বিক অবকাঠামোয় রাশিয়ার বড় বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছে। রাশিয়ায় সার্ভার স্থাপন করেছে গুগলের মতো টেক জায়ান্ট। তার চেয়ে বড় কথা, ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে রুশরা। সেই অভ্যাস সমূলে উৎপাটন করা কঠিন। এতে করে নতুন করে জনবিক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে হ্যাঁ, বন্ধ করার চেয়ে, ইচ্ছে হলেই বন্ধ করতে পারি—এমন বার্তা বেশি কাজে দেয়। এতে করে ফেসবুক, গুগলের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানও নিজেদের গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। ফেক নিউজ ঠেকাতে নিপীড়নমূলক আইন পাস করে সেটিই করতে চাইছেন পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার অধ্যাপক রংবিন হান বলেন, ‘চীনের দেখানো পথেই যাচ্ছে রাশিয়া। রাজনৈতিক মতভিন্নতা উচ্ছেদ করতে পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ করার দরকার পড়ে না। এর চেয়ে অনলাইন কনটেন্টগুলো ফিল্টার করলেই চলে। সেটিই চমৎকার উপায়।’
ইন্টারনেট পুতিনের হবে?
গত কয়েক বছর ধরেই ফেসবুক, গুগল, টুইটার, লিংকডইনসহ বিভিন্ন বড় বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দৌড়ের ওপর রেখেছে ক্রেমলিন। অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে সেন্সর করতে চাইছে পুতিনের সরকার। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাশিয়ায় সার্ভার স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
৬৬ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর রুশ জনগণের আস্থা কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে, ঠেকেছে ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০০৬ সালের পর এবারই তা সর্বনিম্ন। ছবি: রয়টার্স
অনলাইন নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে মস্কোভিত্তিক গোষ্ঠী রসকমসনাবোদা। এই গোষ্ঠীর হিসাব বলছে, বর্তমানে মোট ৮০ হাজার ওয়েবসাইটকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা আগোরা বলছে, ২০১৫ সাল থেকে সাইবার আক্রমণের দায়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মামলা হয়েছে রাশিয়ায়, রায় হয়েছে ১৪৩টিতে। রুশ তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানায় ঢোকানো হচ্ছে পুতিনপন্থীদের। এর জন্য বলপ্রয়োগও করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে সরকারের হাতে।
ওদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ৬৬ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের ওপর রুশ জনগণের আস্থা কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে, ঠেকেছে ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০০৬ সালের পর এবারই তা সর্বনিম্ন। অথচ ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তা পৌঁছেছিল ৭১ শতাংশে।
অর্থাৎ, লক্ষণ খুব একটা ভালো নয়। দেশের ইন্টারনেট দুনিয়ায় থাবা বসিয়ে কত দিন স্বস্তিতে থাকতে পারেন পুতিন, তাই এখন দেখার বিষয়।

বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের বড় কারণ ব্রিটিশ সরকারের নীতি

বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ (ফাইল ছবি)
সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, কেবল খরার কারণে বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ হয়নি। বাংলার মন্বন্তর নামে পরিচিত ভয়াবহ ওই খাদ্যাভাবের ঘটনায় উপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের নীতির বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে।  ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ওই গবেষণায় এ সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাজির করা হয়েছে। উনিশ শতকের ৭০ এর দশক থেকে বিশ শতাব্দীর ৪০এর দশক পর্যন্ত হওয়া ৬টি দুর্ভিক্ষের সময় মাটির আদ্রর্তার পরিমাণ পরিমাপ করে তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে ওই গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, আগেও ১৩৫০ বঙ্গাব্দের ভয়াবহ ওই দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্টার চার্চিলের নীতির প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা উঠে এসেছে।
১৮৭৩ সাল থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত হওয়া ৬টি দুর্ভিক্ষের সময়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। কোন দুর্ভিক্ষের সময় মাটির আর্দ্রতার পরিমাণ কেমন ছিল, গবেষকরা তার ভিত্তিতেই তাদের সিদ্ধান্ত টেনেছেন। দেখা গেছে, ওই ৬ দুর্ভিক্ষের ৫টির প্রধান কারণ মাটির আদ্রতার পরিমাণ ভয়াবহভাবে কমে যাওয়া। ১৮৯৬-৯৭ সালে উত্তর ভারতে আদ্রতার পরিমাণ ১১ শতাংশ কমে যে খাদ্য সংকট হয়েছিল, তাতে প্রাণ হারিয়েছিল ৫০ লাখ মানুষ।
তবে ওই গবেষণার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ খরা নয়। দুর্ভিক্ষের তিন বছর আগেই ভারতের পূর্বাঞ্চল ১৯৪০ সালের বেশিরভাগ সময় ছিল খরার কবলে, ১৯৪১ সালে এসে অবস্থা ভয়াবহ রূপ নেয়।  পত্রিকাগুলো তখন উপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে পত্রিকার পাতায় ছাপতে শুরু করে কলকাতার রাস্তায় পড়ে থাকা না খেয়ে মরা মানুষের ছবি। তবে যে বছর ওই দুর্ভিক্ষ প্রবল আকার নেয় বলে প্রচলিত আছে, সেই ১৯৪৩ সালে গড়পড়তা বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকই ছিল।
গান্ধীনগরের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনলজির অধ্যাপক ও এই গবেষণার প্রধান গবেষক বিমল মিশ্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার নামের সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটা ছিল এক অভাবনীয় দুর্ভিক্ষ; এর জন্য বৃষ্টিপাত কম হওয়া যতোটা দায়ী, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী সরকারি নীতির ব্যর্থতা। ওই গবেষণা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ফসলে পোকার আক্রমণের বিস্তৃতির পাশাপাশি আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিয়ানমার ব্রিটিশদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় তীব্র ধস নেমেছিল, দুর্ভিক্ষের বড় কারণ সেটাই।
অবশ্য ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতামত ভিন্ন। তিনি ১৯৮১ সালে বলেছিলেন, দুর্ভিক্ষের সময়ও বাংলা অঞ্চলে পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান ছিল। যুদ্ধকালিন মুদ্রাস্ফীতি আর ফটকা ক্রেতা ও মজুদদারদের দৌরত্বের কারণে খাদ্যের দাম গরীব মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গিয়েছিল।   ‘চার্চিলস এম্পায়ার’ নামে বইয়ের লেখক রিচার্ড টয়ীও মনে করেন, বাংলার এই দুর্ভিক্ষ চার্চিলের জীবনের সবচেয়ে খারাপ রেকর্ডগুলোর একটি। তার মতে, “ইউরোপে জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তখন তিনি এতই ব্যস্ত যে বাংলার এই দুর্ভিক্ষ নিয়ে লোকজন তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও তিনি এটাকে পাত্তা দেননি।”
এদিকে জার্মানিবাসী বাঙালি মধুশ্রী মুখার্জি সহযোগীদের নিয়ে ৭ বছর ধরে অজানা অনেক নথিপত্র ঘেঁটে ২০১০ সালে একটি বই লেখেন, যার নাম ‘চার্চিলস সিক্রেট ওয়ার' বা ‘চার্চিলের গোপন যুদ্ধ'৷ তাদের দাবি, চার্চিল নিজে সরাসরি বাংলার মন্বন্তরের জন্য দায়ী ছিলেন৷ বাংলায় যখন খাদ্য সংকট চলছে, সেটা মোকাবেলায় তিনি কোনও পদক্ষেপই নেন নি। বরং তার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ইউরোপের বেসামরিক মানুষদের জন্য খাদ্য মওজুদ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতে যখন খাদ্যের অভাবে মানুষ মরছে, তখন তার পাশ দিয়েই অস্ট্রেলিয়া থেকে এক লাখ সত্তর হাজার গম বহনকারী জাহাজ গেছে ইউরোপে।বাংলায় ত্রাণ সাহায্য পাঠানোর হাজার আবেদন সত্ত্বেও তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে সেই কাজ করতে দেন নি৷ এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও চার্চিল ও তাঁর মন্ত্রীরা সেই অনুমতি দেন নি৷
বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় কলকাতায় ত্রাণ বিতরণ