Sunday, August 21, 2016

লিখিত জবাব দিতে হবে হিলারিকে

হিলারি ক্লিনটন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ই-মেইল ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব লিখিতভাবে দিতে হবে। গত শুক্রবার একটি ফেডারেল আদালত এ রায় দিয়েছেন। জুডিশিয়াল ওয়াচ নামের একটি রক্ষণশীল সংস্থার অনুরোধের ভিত্তিতে বিচারপতি এমেট সুলিভ্যান এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিজস্ব নিরাপদ সার্ভারের বাইরে ব্যক্তিগত সার্ভার থেকেও ই-মেইল আদান-প্রদান করেছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচার হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে—এমন অভিযোগ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতৃত্ব দুই বছর ধরে হিলারির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, তদন্ত ও শুনানি করে যাচ্ছে।
কোমির এ বক্তব্যের ফলে হিলারি কাঠগড়ায় ওঠা থেকে বেঁচে গেলেও তাঁর ই-মেইল সমস্যা কাটেনি। ই-মেইল ব্যবহার প্রশ্নে হিলারি শপথ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য, জুডিশিয়াল ওয়াচ গত মাসে এই মর্মে এক আবেদন করে। একটি ফেডারেল আদালত সেই আবেদনের ভিত্তিতে যে রায় দিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে হিলারিকে ব্যক্তিগতভাবে ভিডিও টেপে ও শপথ নিয়ে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না, তবে জুডিশিয়াল ওয়াচ যেসব প্রশ্ন করতে চায়, লিখিতভাবে তার উত্তর দিতে হবে। বিচারপতি এমেট সুলিভ্যানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুডিশিয়াল ওয়াচকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে হিলারির কাছে তাদের প্রশ্ন পাঠাতে হবে। হিলারিকে এক মাসের মধ্যে তার জবাব দিতে হবে। এই রায়ের ফলে ৮ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে হিলারিকে জবাব পাঠাতে হবে না। ক্যামেরার সামনে জবাবদিহির ঝামেলা থেকেও তিনি বেঁচে গেলেন। তবে ই-মেইল নিয়ে যে বিতর্ক, রিপাবলিকান পক্ষ নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়টাই তা জিইয়ে রাখতে সক্ষম হবে।

তনু, মিতু, আফসানা: খরচযোগ্য জীবন!

তনু, মিতু ও আফসানা। নিহত হওয়ার পরিস্থিতি আলাদা, খুনিদের পরিচয়ও হয়তো। কিন্তু কী মিল তাঁদের সবার বেলায়। খুনিরা ধরা পড়ে না, তাদের নাম-পরিচয়ও জানা যায় না। পুলিশের ভাষায় তারা ‘অজ্ঞাতনামা’ অপরাধী। কিন্তু রাষ্ট্রের কাছেও কি তারা অজ্ঞাতনামাই থেকে যাবে? মিতু হত্যা ইস্যুটা এখন বাবুল আক্তার ইস্যু হয়ে গেছে। তিনি পুলিশ বাহিনীতে সসম্মানে থাকতে পারবেন কি পারবেন না, আলোচনা হয় সেটা নিয়ে। মানুষের মনের প্রশ্ন হলো, কে বা কারা মিতুর হত্যাকারী? যদি ঘটনার সঙ্গে বাবুল আক্তারের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকে তবে তাঁকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হোক, বিচার শুরু করা হোক। আর যদি তাঁকে অভিযুক্ত করার মতো প্রমাণ না থাকে, তাহলে বলা হোক মিতুকে কে খুন করেছে? বাবুল আক্তার-বিষয়ক ধোঁয়ার আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে এই জরুরি প্রশ্নটাই।
কেউ ভোলে না কেউ ভোলে। অনেক প্রশ্ন জমে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের ত্বকীর খুনি কারা? তনুর খুনি কারা? আর সম্প্রতি আফসানা নামের যে তরুণী ছাত্রী নিহত হলেন, কারা তাঁকে হত্যা করেছিল? শুক্রবার রাতের ঘটনা। রংপুরে পুলিশের মারধরে নুরুন্নবী নামের একজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে (প্রথম আলো অনলাইন, ২০ আগস্ট)। পুলিশ বলছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কে আমাদের নিশ্চিত করবে যে হত্যা নয়, এটি আসলে হৃদ্রোগের কেস। পুলিশি হেফাজতে হৃদ্রোগে মৃত্যুর অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে আটককৃত ব্যক্তিদের! ২০১৪ সালে ঢাকার মিরপুরের কালশীতে ঘরে আগুন লাগিয়ে সাতজন আর গুলিতে তিনজনকে হত্যা করা হলো। পরপরই স্ত্রী-সন্তান হত্যার বিচারপ্রার্থী পিতা রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন। এই ১১টি মৃত্যুর সওদাগরের নাম আজও অজানা! চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। চার মাস অতিক্রান্ত, ইস্যুটা মোটামুটি ধামাচাপা।
আরও বেশি উদাহরণ নিষ্প্রয়োজন। এ ধরনের বিস্তর ঘটনা আছে আমাদের চারপাশে। প্রায় প্রতিনিয়তই নিখোঁজ, গুম ও ক্রসফায়ারে লাশ পড়ছে। জানার উপায় নেই, তাদের কতজন অভিযুক্ত আর কতজন পরিস্থিতির শিকার। কিছু মানুষ আবার এগুলো সমর্থনও করেন। কিন্তু আইনের হাতে যে রক্ত লেগে আছে, সেই রক্তাক্ত হাত যে ক্রমেই নিরীহ ব্যক্তিদেরও রক্তাক্ত করছে, এভাবে চললে যে আইনের শাসন বলে কিছু থাকবে না, তা অনেকেই বুঝতে রাজি নন। ‘অপরাধী’ বা জঙ্গি হলেও আইনের বাইরে কাউকে হত্যা করা যায় না। এসব ঘটনা একটা জিনিসই প্রমাণ করে: কিছু জীবন খরচযোগ্য। হতে পারে তারা নারী বা শিশু, হতে পারে সাধারণ নিরীহ পুরুষ। যখন অনেক হত্যার বিচার হয় না, তখন এই ‘অনেকে’ পড়ে যান খরচযোগ্যের তালিকায়। এ ধরনের জীবনকে বলা যায় উদোম জীবন। ইতালীয় রাজনৈতিক দার্শনিক গিওর্গিও আগামবেন বলছেন, ‘উদোম জীবন হলো তছনছ করা জীবন, রাজনৈতিক গুরুত্বহীন জীবন।’ প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের আইনে এদের বলা হতো হোমো সাসের, যাদের হত্যা করলে শাস্তি হবে না। সহিংসতার সামনে তাদের কোনো রক্ষাকবচ নেই, হত্যার সামনে সম্পূর্ণ উদোম এ মানুষেরা। অপরাধী বা শত্রুশ্রেণির না হলেও তারা একধরনের নিষিদ্ধ মানুষ। প্রায়ই তাদের অবস্থা হয় বধযোগ্য প্রাণীর মতো।
আগামবেন বলছেন, আজকে আধুনিক রাষ্ট্রে মানুষ দুভাবে বিভক্ত। একদলের জীবন উদোম (bare life), আরেক দল সার্বভৌম ক্ষমতার (sovereign power) অধিকারী। সার্বভৌম যারা, তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। তারা দায়মুক্ত, বিচারের ঊর্ধ্বে তাদের অবস্থান। যেমন দায়মুক্তি ভোগ করতেন আগেকার যুগের রাজা-বাদশাহরা। আগামবেনের সিদ্ধান্ত, সার্বভৌম ক্ষমতা আইনের সীমা পেরিয়ে গেলে নাগরিকদের অনেকেই সহিংসতার সামনে উদোম হয়ে পড়ে। অনেক সময় কর্তৃত্ববাদী সরকার সমগ্র জনগণকেই হোমো সাসের বানিয়ে ফেলতে পারে। সাধারণত গণহত্যার মধ্যে এই সর্বময় সহিংসতার দায়মুক্তি দেখা যায়। তবে যুদ্ধ ও গণহত্যা ছাড়াও সাধারণ পরিস্থিতিতেও এ ধরনের দায়মুক্ত হত্যালীলা চলতে পারে।
তনু থেকে আফসানা, ত্বকী থেকে রংপুরের ওই নুরুন্নবী পর্যন্ত তাই আমরা দুটি পক্ষ দেখি: একদল হত্যাযোগ্য, খরচযোগ্য, বিচারহীন হত্যার শিকার এবং আরেক দল বিচারের ঊর্ধ্বে থাকা মানুষ। খুনির সংখ্যা অল্প, শিকারের সংখ্যাই বেশি। এই খুনিরা যদি কোনো–না-কোনোভাবে ক্ষমতার সিঁড়ির ওপরের দিকের লোক বা প্রতিষ্ঠান হয়, কিংবা হয় তাদের মদদপুষ্ট, তাহলে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় এনে শাস্তি দেওয়া কঠিন। আফসানার পরিবার অভিযোগ করেছে, রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা রবিন ও তাঁর বন্ধুরা এই হত্যায় জড়িত। আফসানার ভাইয়ের অভিযোগ, ‘আমি তাকে (রবিন) আমার বোনকে হত্যার চার দিন পরেও ফেসবুকে পোস্ট দিতে দেখেছি’ (দ্য ডেইলি স্টার, ২০ আগস্ট ২০১৬)। এমনকি তারা আফসানার পরিবারকে ফোন করে হুমকিও দিচ্ছে। পুলিশ এখনো কিছু জানে না, কাউকে গ্রেপ্তারও করে না।
তনু ও মিতুর জন্য এত আন্দোলন হলো, হত্যাকারীদের ঠিকানা পর্যন্ত তদন্তের হাত যেতেই পারল না। একই কথা ত্বকীর খুনিদের জন্যও খাটে। শুধু একটি-দুটি ক্ষেত্রে নয়, খরচের খাতার নামের তালিকা তো লম্বাই হচ্ছে কেবল। বাংলাদেশে বেশি থেকে আরও বেশি মানুষের জীবন উদোম ও অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। অর্থাৎ দায়মুক্তির ক্ষমতা এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কুখ্যাত মানিক সন্ত্রাস করে পার পাওয়ার পর ধর্ষক হয়ে উঠেছিলেন। একইভাবে প্রতিটি দায়মুক্তি খুনিদের দিচ্ছে আরও বেশি খুনের নজরানা। আর ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়ার নিয়মে খরচযোগ্য জীবনের মালিকের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান!
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com

কৃষ্ণাঙ্গদের কাছে ভোট চাইলেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
এবার কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কাছে সরাসরি ভোট প্রার্থনা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনমত জরিপ অনুযায়ী, দেশের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর কাছে একেবারেই অজনপ্রিয় ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক পার্টিকে পরিত্যাগ করে তাঁকে একবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিমোনেডেলে শুক্রবার রাতে এক নির্বাচনী সভায় এ আহ্বান জানান ট্রাম্প। বর্ণবিদ্বেষমূলকসহ নানা বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত ট্রাম্প জনসমর্থনে পিছিয়ে পড়ে সম্প্রতি তাঁর সুর পাল্টাতে শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র দুই শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার ট্রাম্পকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।  
মিশিগানের সভায় ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং সেই সঙ্গে সেই দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিকদের ভোটের ফায়দা নিয়েছে এই দল। এই দুই জনগোষ্ঠীর ভোট চেয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই রাতে আমি এ দেশের প্রতিটি আফ্রিকান-আমেরিকানের ভোট চাইছি। তাদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এই ভোট চাইছি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মতো নতুন কাউকে বেছে নেওয়ার মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গদের হারানোর কী আছে?...আপনারা দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত। আপনাদের ভালো স্কুল নেই, কাজ নেই।’
কেবল এবারের নির্বাচনে ভোট চেয়েই ক্ষান্ত হননি ট্রাম্প। সাহসী এক ভবিষ্যদ্বাণীও করে ফেলেন। বলেন, ‘আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, আগামী মেয়াদের চার বছর পর পরের নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ আফ্রিকান-আমেরিকানের ভোট আমি পাব। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’ জনপ্রিয়তার নিরিখে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ট্রাম্পের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার সময় বারাক ওবামা প্রায় ৯৩ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গের ভোট পেয়েছিলেন।