Wednesday, February 26, 2025

যুদ্ধের সময় অপহৃত শিশু বিনিময়ের উদ্যোগ রাশিয়া-ইউক্রেনের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অপহৃত শিশু বিনিময়ের উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। বুধবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, ১৬ জন শিশুকে ইউক্রেন থেকে ফেরত আনতে কাজ শুরু করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি রাশিয়ায় থাকা ১০ শিশুকে ইউক্রেনের আত্মীয়দের সঙ্গে পুনর্মিলনেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, আরআইএ-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুশ কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভা বলেছেন, আমাদের কাছে প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট আদেশ রয়েছে যে আমরা কেবল আইনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করি। অর্থাৎ আত্মীয়স্বজন, বাবা-মায়ের আইনি ভিত্তি রয়েছে। তারাই তাদের সন্তানদের যত্ন নিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এসব চ্যানেলের মাধ্যমে এই মুহূর্তে ৯৫ জন শিশুকে ইউক্রেনে তাদের আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ায় তাদের পরিবারের কাছে ফিরেছে ১৭ জন শিশু।

২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার শিশু বিনিময়ের আয়োজন করেছে মস্কো ও কিয়েভ। ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৭৭ জন শিশুকে ফেরত এনেছে কিয়েভ। যার মধ্যে বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইউক্রেনের দাবি এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫০০ জন শিশুকে যুদ্ধকালীন সময়ে বা পরিবারের অজান্তে অধিকৃত অঞ্চলে নিয়ে গেছে রাশিয়া। তারা এই অপহরণকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের চুক্তি অনুযায়ী শিশু অপহরণের ঘটনা গণহত্যার সংজ্ঞাকে পূর্ণ করে। তবে রাশিয়ার দাবি তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দুর্বল শিশুদের সুরক্ষা দিতেই তাদের সরিয়ে নিয়েছে।

২০২৩ সালের মার্চে লভোভা-বেভোভা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তবে এই অভিযোগকে অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখান করেছে রাশিয়া।

mzamin

২০৪০ সালের মধ্যে শেষবারের মতো রাতের আকাশে দৃশ্যমান হবে সাত গ্রহ

সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণায়মান সাতটি গ্রহ—শনি, বুধ, নেপচুন, শুক্র, ইউরেনাস, বৃহস্পতি এবং মঙ্গল অবস্থান করবে একই সরলরেখায়। ২০৪০ সালের মধ্যে শেষবার এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে চলেছে মহাকাশের বুকে। মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার সূর্যাস্তের ঠিক পরেই সাতটি গ্রহ দেখার সর্বোত্তম সুযোগ মিলবে। চারটি গ্রহ - বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি এবং মঙ্গল- খালি চোখে দৃশ্যমান হবে। শনি গ্রহটি দিগন্তের নীচে থাকায় এটি দেখা কঠিন হবে। অন্য দুটি গ্রহ ইউরেনাস এবং নেপচুন দেখতে আপনার একটি টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে। পরিষ্কার আকাশ থাকলে এই গ্রহগুলি দেখার সর্বোত্তম সুযোগ মিলবে।

তবে সাতটি গ্রহ দেখার জন্য সময় খুব সংক্ষিপ্ত । রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ এডওয়ার্ড ব্লুমার বলেন, ‘সাতটি গ্রহকে একসঙ্গে দেখার এটি একটি বিরল সুযোগ’।শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল গত বছরের এপ্রিলে, যখন উত্তর আমেরিকার আকাশে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ চলাকালীন এই সংযোগ দেখা গিয়েছিল। যদিও পুরো সংযোগটি ২৮ ফেব্রুয়ারি দেখা যাবে, এর আগে ২১ জানুয়ারি থেকে সাতটির মধ্যে ছয়টি গ্রহকে আকাশে একত্রে দেখা যাবে। পাঁচ বা ছয়টি গ্রহের সংযোগকে সাধারণত বড় সংযোগ বলা হয়, তবে সাতটি গ্রহের সংযোগ অত্যন্ত বিরল ঘটনা। পৃথিবীসহ আমাদের সৌরজগতের আটটি মূল গ্রহ একই কক্ষপথে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। তবে তাদের প্রদক্ষিণ করার গতি ভিন্ন ভিন্ন হয়। সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধ ৮৮ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে থাকে। অর্থাৎ গ্রহটিতে ৮৮ দিনে ১ বছর হয়।

আবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন। আর নেপচুনের সময় লাগে ৬০ হাজার ১৯০ দিন। অর্থাৎ নেপচুন গ্রহের এক বছরের মানে হলো পৃথিবীর প্রায় ১৬৫ বছর। গ্রহগুলোর গতি ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় কখনো কখনো কিছু গ্রহ সূর্যের একই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। গ্রহগুলো যদি সূর্যের ডান দিকে থেকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তখন সেগুলো পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়। অর্থাৎ আমরা রাতের আকাশে একসঙ্গে কয়েকটি গ্রহকে দেখতে পাই। তবে মাঝেমধ্যে বিরল ঘটনা ঘটে। এই সময় সব কটি গ্রহ এমনভাবে একই রেখায় অবস্থান করে যে এগুলোকে একসঙ্গে পৃথিবী থেকে দেখা যায়।সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকলে বুধ ছাড়া সব কটি গ্রহই পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়। একে গ্রহের কুচকাওয়াজ (প্ল্যানেটারি প্যারেড) বলেও ডাকা হয়ে থাকে।  

সূত্র : বিবিসি

mzamin

রিমান্ডে তাঁর শরীরে অ্যাসিড ছুড়ে মারেন ইসরায়েলি সেনারা, বললেন মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলের সেনা হেফাজতে রিমান্ড চলাকালে দেশটির সেনারা তাঁর শরীরে অ্যাসিডসহ অন্যান্য দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ছুড়ে নির্যাতন করেছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তি পাওয়া এক ফিলিস্তিনি বন্দী।

ইসরায়েলি সেনাদের এমন নৃশংসতার বর্ণনা দেওয়া এই ফিলিস্তিনি হলেন মোহাম্মদ আবু তাবিলা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর আবু তাবিলাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

আবু তাবিলা বলেন, তাঁকে ভীষণভাবে মারধরও করা হয়েছে। তা থেকে বাদ যায়নি তাঁর চোখও। ইসরায়েলি সেনা হেফাজতে নিজের নির্মম অভিজ্ঞতার কথা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তুলে ধরার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

আবু তাবিলা আরও বলেন, গাজা সিটির সিভিল অ্যাফেয়ার্স অফিসের কাছের একটি এলাকা থেকে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁকে অপহরণ করে আল-ইয়াজ্জি পরিবারের একটি বাড়িতে নিয়ে যান।

এ বাড়িতে অ্যাসিড, ক্লোরিন, থালাবাটি পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত তরল পদার্থ, কাপড় ধোলাইয়ে ব্যবহার করা রাসায়নিক দ্রব্য, সাবান ও এয়ার ফ্রেশনার রাখা ছিল। সেনারা এসব দাহ্য রাসায়নিকে তাঁর শরীর ঝলসে দেন বলে জানান আবু তাবিলা।

আবু তাবিলা বলেন, শরীর ঝলসে দেওয়ার পর সেনারা তাঁর অবস্থা দেখে অধিকৃত পশ্চিম তীরে পাঠিয়ে দেন তাঁকে। নিষ্ঠুর নির্যাতনে পিঠ, হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে তৈরি হওয়া ক্ষতচিহ্ন সাংবাদিকদের দেখান তিনি।

‘আমার চোখও বাদ যায়নি (নির্যাতন থেকে)। সেনাদের একজন শক্ত কিছু দিয়ে মোড়ানো দস্তানা হাতে আমার চোখে ঘুষি মারতেন। মারধরের এক পর্যায়ে পড়ে যেতাম মাটিতে’, বলেন এই ফিলিস্তিনি।

আবু তাবিলা বলেন, অ্যাসিড ও অন্যান্য রাসায়নিকের প্রভাবে তাঁর আঘাত পাওয়া চোখ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরও বলেন, কাপড় দিয়ে তাঁর চোখ শক্ত করে বাঁধতেন একজন সেনা। এতে রাসায়নিকের প্রভাবে আক্রান্ত স্থানে জ্বালা-যন্ত্রণা চলতেই থাকত।

ওই বাড়িতে ছাড়াও অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হতো বলে জানান আবু তাবিলা। নির্যাতনের ধরনগুলোর মধ্যে ছিল—মারধর থেকে শুরু করে অপমান ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ। ক্ষুধা ও কনকনে ঠান্ডায় বসে থাকার সাজা তো ছিলই, জানান তাবিলা।

এই ফিলিস্তিনি বলেন, সেনা হেফাজতে থাকার সময় তাঁকে কোনো জামাকাপড় দেওয়া হয়নি। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি কোনো কম্বলও। এভাবে দেড় মাস বন্দী রেখে আহত অবস্থায় আল-রামলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।

দু-তিন সপ্তাহ হাসপাতালে রেখে সেখান থেকে কুখ্যাত ওফার সামরিক কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় আবু তাবিলাকে।

ইসরায়েলি কারাগারে ব্যাপক নির্যাতন

ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকা ফিলিস্তিনি ও মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের সাক্ষ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ব্যাপক বন্দী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতনের কিছু ধরনের মধ্যে রয়েছে দিনে ২৪ ঘণ্টা ও সপ্তাহের ৭ দিনই হাতকড়া পরিয়ে ও শিকলবন্দি করে রাখা। এমনকি ঘুম, খাওয়া ও শৌচাগারে যাওয়ার সময়ও বাঁধন খুলে না দেওয়া।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েলের কট্টর-ডান রাজনীতিবিদ ইতামার বেন গেভির একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে নেগেভ মরু এলাকায় অবস্থিত কেজিয়ত কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালাতে ও অপমানজনক আচরণ করতে দেখা যায়।

ভিডিওর একটি দৃশ্যে এক বন্দীকে হাঁটু গেঁড়ে বসে কারাগারের দেয়ালে রং করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর দিকে অস্ত্র তাক করে ছিলেন একজন ইসরায়েলি সেনা।

বেন গেভির এ দৃশ্য নিয়ে এক্সে লেখেন, ‘কারাগারের দেয়ালটিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের স্লোগান লেখা ছিল। সেই লেখা এভাবে রং করে ঢাকতে বাধ্য করা হয় ওই বন্দীকে।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ওফার সামরিক কারাগার
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ওফার সামরিক কারাগার। ফাইল ছবি: এএফপি

‘মা–বাবাকে জজের মা–বাবা করতে পেরেছি, এটা আমাকে বেশি আনন্দিত করেছে’ by এম জসীম উদ্দীন

বিচারক হতে পেরে আনন্দিত সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হালিমাতুস সাদিয়া। তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বেশি আনন্দিত মা–বাবাকে ‘জজের মা–বাবা’ করতে পেরে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই বলেন তিনি।

হালিমাতুস সাদিয়া ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ছোটবেলায় তিনি কী হতে চেয়েছিলেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় কেউ যখন জানতে চাইত জীবনের লক্ষ্য কী? সহপাঠীরা কেউ বলত চিকিৎসক হবে, কেউ বলত প্রকৌশলী হবে। কিন্তু আমি উত্তরে বলতাম, আমি ভিন্ন কিছু হতে চাই। কিন্তু সেই ভিন্ন কিছু কী, সেটা আমি বলতে পারতাম না। এখন আমি বুঝি, ভিন্ন কিছু হওয়ার অদম্য ইচ্ছা ছিল আমার এবং অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে আল্লাহর রহমতে আমি সফল হতে পেরেছি। তবে এটা আমার শেষ গন্তব্য নয়, পেশাগত জীবনে সাফল্যের যাত্রা শুরুমাত্র।’

কথা হচ্ছিল হালিমাতুসদের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের সবুজ-শ্যামল ছায়াঘেরা একতলা বাড়িতে বসে। তাঁর সাফল্যের খবরে বাড়িতে আসছেন স্বজন–প্রতিবেশীরা। এমন সাফল্যের রহস্য জানতে চাইতেই উত্তর এল, ‘নিষ্ঠা, মনোযোগ আর অধ্যবসায়।’ তবে সাফল্যের পথে যাত্রা সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস হারাতাম, হতাশায় ভুগতাম। কাঁদতাম, আবার পড়াশোনায় ডুবে যেতাম। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। আমি আরও সাহসী হলাম। কান্না মুছে ঘুরে দাঁড়ালাম এবং মনে মনে বললাম, আমি পারব। শেষ পর্যন্ত আমি পেরেছি—এটাই সত্য। এটা আত্মবিশ্বাস, লেগে থাকা আর অধ্যবসায়ের বিজয়।’

শৈশব থেকেই হালিমাতুস সাদিয়া মেধাবী। স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। তিনি বরিশাল নগরের কাউনিয়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। পরে বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পান। ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে মাধ্যমিক এবং ২০১৭ সালে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এরপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১৩তম হন। বাবা বলেছিলেন, ‘তুমি যদি ভিন্ন কিছু হতে চাও, তবে বিচারক হও।’ বাবার এ কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে আইন বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে স্নাতকে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৮৫ এবং স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯৩ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

হালিমাতুসরা দুই ভাই-বোন। বড় ভাই নাজমুল হক মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে স্নাতক করছেন। বাবা মো. রহমান কবির এলাকায় শাহ্ আলম নামে পরিচিত। তিনি স্থানীয় চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। কয়েক বছর হলো অবসর নিয়েছেন। মা নাসিমা আক্তার স্থানীয় লাকুটিয়া পিআরসি ইনস্টিটিউশনের (মাধ্যমিক বিদ্যালয়) জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।

মো. রহমান কবির তাঁর মেয়ের এই সাফল্যে খুব খুশি। বললেন, ‘ও সব সময় চেয়েছে আলাদা কিছু হতে, আমরাও তা–ই চেয়েছি। এখন পেশাগত জীবনেও সাদিয়া আলাদা হোক এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করুক, সেটাই চাই।’

হালিমাতুস সাদিয়া বলেন, এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান তাঁর মা–বাবার। রাতে যখন তিনি পড়াশোনা করতেন, তখন তাঁর মা সারা রাত জেগে থাকতেন। বাবা বটবৃক্ষের মতো সারাক্ষণ ছায়া দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন প্রতিটি মুহূর্তে। মা–বাবাকে গর্বিত করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর ভাষায়, ‘জজ হয়ে যতটা না খুশি হয়েছি, তার চেয়ে আমার মা–বাবাকে জজের মা–বাবা করতে পেরেছি, এটা আমাকে বেশি আনন্দিত করেছে। আমি চাই সন্তানেরা তাঁদের মা–বাবাকে এভাবে গর্বিত করুক।’ সফলতার বিষয়ে তাঁর মত, সফল হতে হলে পড়াশোনার ধারাবাকিতা বজায় রাখা দরকার। কে কত ঘণ্টা পড়ল, সেটার চেয়ে বড় বিষয় কী পড়া হলো, সেটা কতটুকু বুঝে পড়া হলো। তিনি কখনো সময় ধরে পড়েননি। কখনো তিনি সকাল আটটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত পড়তেন। এখনো এক ঘণ্টা পড়েছেন।

একজন বিচারক হিসেবে নিজেকে কেমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, জানতে চাইলে হালিমাতুস সাদিয়া বলেন, ‘মানুষের বিবেক হচ্ছে বড় আদালত। আমি সব সময় বিবেককে প্রধান্য দেব। সততার সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকব। আর বিচারে দীর্ঘসূত্রতা আমাদের দেশে অনেক বড় সমস্যা। আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা থাকবে এটা লাঘবের। আশা করি, এতেও আমি সফল হব। কারণ, আমরা তো হেরে যেতে পৃথিবীতে আসিনি।’

হালিমাতুস সাদিয়া
হালিমাতুস সাদিয়া ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে বাবা–মা–ভাইয়ের সঙ্গে হালিমাতুস সাদিয়া
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে বাবা–মা–ভাইয়ের সঙ্গে হালিমাতুস সাদিয়া। ছবি: প্রথম আলো

যে চুক্তি ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে পারবে না by মাক্সিম স্ক্রিপচেঙ্কো

ইউক্রেনের জনগণ এখনো রুশ বাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ এখন এক দীর্ঘায়িত, কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতি টুকরা ভূমির জন্য লড়াই অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এতে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে ইউক্রেনের সহ্যশক্তি আর পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা।

এই সংকটময় সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন ইউক্রেন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা দ্রুত একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছে। গত সপ্তাহে মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনায় বসেন সৌদি আরবে। সেখানে ইউক্রেনকে রাখা হয়নি। এই বৈঠক ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের নামে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কূটনৈতিক সমাধান অনুসরণ করা উচিত কি না, সেটি ইউক্রেনের জন্য মূল প্রশ্ন নয়। কারণ, শেষ পর্যন্ত যেকোনো যুদ্ধই আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়। বরং আসল প্রশ্ন হলো, সেই আলোচনার শর্ত কী হবে? যদি মূল লক্ষ্য শুধু দ্রুত যুদ্ধ থামানো হয়, তাহলে ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এতে হয়তো যুদ্ধ সাময়িকভাবে স্তিমিত হবে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।

সাম্প্রতিক সময়েই এমন যেকোনোভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতার নজির পাওয়া যায়। ২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়। দুই মাস পর রুশ সেনারা স্থানীয় রুশপন্থী বাহিনীর সহযোগিতায় পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়ে কিছু ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই বছরের আগস্টে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় কিয়েভকে এক অসম শান্তি চুক্তির আলোচনায় বসতে বাধ্য করা হয়। লক্ষ্য ছিল সংঘর্ষ বন্ধ করা।

এ আলোচনার ফলাফল ছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত মিনস্ক-১ চুক্তি। কিন্তু এটি ছয় মাসও টেকেনি। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মস্কোপন্থী বাহিনী ও রাশিয়ার নিয়মিত সেনারা নতুন করে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে। পরবর্তী মাসে ফেব্রুয়ারিতে মিনস্ক-২ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে শর্ত দেওয়া হয়, কিয়েভকে কার্যত রাশিয়ার দখলে চলে যাওয়া দনবাস অঞ্চলের দুটি অংশের ‘বিশেষ মর্যাদা’ স্বীকার করতে হবে।

শেষ পর্যন্ত মিনস্ক চুক্তিগুলো টেকসই শান্তি আনতে কোনো কাজে লাগেনি। চুক্তি হয়েছিল সংঘর্ষ সাময়িকভাবে আটকে রাখার উদ্দেশ্যে। ফলে রাশিয়া দখলকৃত ভূখণ্ডগুলোর ওপর আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ইউক্রেন রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে যায়।

মিনস্ক চুক্তির ব্যর্থতা আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা। ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কোনো সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারবে না। তা বরং পরবর্তী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করবে।

ইউক্রেনের জনগণ তিন বছর ধরে এ যুদ্ধের ভয়াবহতা সহ্য করে আসছে। যেকোনো শান্তি চুক্তিতে অবশ্যই সেই জনগণের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করতে হবে।

যুদ্ধের ধকল একটি বাস্তব বিষয়। এই ক্লান্তির প্রতিফলন ঘটে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনের নাগরিকদের মধ্যে পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা শান্তি আলোচনাকে সমর্থন করেছেন। তবে যখন প্রশ্ন আসে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে, তখন মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ মনে করেছেন, ইউক্রেনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউক্রেনীয় কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে শান্তি চুক্তি করার বিষয়টিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই পরিসংখ্যানগুলো একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে—রাশিয়ার দখলকৃত এলাকা বৈধতা দেবে, এমন কোনো শান্তি চুক্তির পক্ষে ইউক্রেনে ব্যাপক সমর্থন নেই। কোনো ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব যদি এমন চুক্তির পথে হাঁটে, তবে তা জনসাধারণ মেনে নেবে না। এমনকি যদি কূটনৈতিক পর্যায়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ও বাস্তবে তা কার্যকর করার চেষ্টা কঠোর অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে।

এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নীতিনির্ধারকেরা যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠার কথা ভাবেন, তবে তাঁরা ইউক্রেনীয় জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করতে পারেন না। যদি তাঁরা সত্যিই একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি চান, তবে তাঁদের উচিত, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা। আলোচনার টেবিলে ইউক্রেনের পক্ষে শক্ত অবস্থান ধরে রাখা কেবল তখনই সম্ভব, যখন সামরিক ময়দানে তারা সাফল্য অর্জন করতে পারবে আর তাদের মিত্ররা ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত ইউক্রেন নিয়ে তাদের নীতিনির্ধারণে রাশিয়ার বিভ্রান্তিকর প্রচারের ফাঁদে পা না দেওয়া। মস্কো তার দুর্বলতা আড়াল করে কেবল শক্তির ভান দেখিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তুবে রাশিয়া অভ্যন্তরীণভাবে নানা সংকটের মুখে রয়েছে।

রুশ কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে তাদের সামরিক অভিযান দীর্ঘ মেয়াদে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। রুশ প্রতিনিধিরা নাকি বলেছেন, মস্কোর ব্যবসা-বাণিজ্য ফুলেফেঁপে উঠেছে, রেস্তোরাঁগুলো লোকে লোকারণ্য এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে কেবল পশ্চিমা অর্থনীতিই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

রাশিয়ার বার্তাটি স্পষ্ট। তারা যত দিন প্রয়োজন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। আর পশ্চিমারা ধীরে ধীরে এর চাপ সহ্য করতে না পেরে পিছু হটবে। এ ধারণা থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কিছু নীতিনির্ধারক মনে করছেন, এমনকি ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কিছু ছাড় দিয়ে হলেও দ্রুত একটি শান্তি চুক্তি করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

কিন্তু এটি মোটেও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়। রাশিয়াকে তুষ্ট করার মানে হবে তাদের আরও আগ্রাসনের সুযোগ দেওয়া। অতীতে দেখা গেছে, আপসের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাশিয়াকে আরও আগ্রাসী করে তুলেছে।

ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে একটি শক্তিশালী যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তা হতে পারে ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য পদ, দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি বা ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন একটি সুসংগঠিত নিরাপত্তাব্যবস্থা। কিন্তু চুক্তি যা–ই হোক, সেখানে যদি ইউক্রেনের জন্য স্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি থেকেই যাবে।

আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ওয়াশিংটন ইউক্রেনে তাদের ভূমিকাকে পুনর্মূল্যায়ন করবে। অনেক কিছুই অনিশ্চিত। তবে একটি ব্যপার স্পষ্ট, এই যুদ্ধ শুধু হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের লড়াই নয়, এটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার লড়াইও। এখন প্রশ্ন হলো, পশ্চিমা দেশগুলোর নীতি এই লক্ষ্যকে সমর্থন করবে, নাকি শুধু নিজেদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের দিকে ঝুঁকবে? এ প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে এই যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ। 

# মাক্সিম স্ক্রিপচেঙ্কো প্রেসিডেন্ট, ট্রান্সআটলান্টিক ডায়ালগ সেন্টার

ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে একটি শক্তিশালী যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে একটি শক্তিশালী যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ছবি : এএফপি

ইউক্রেনের বিরল খনিজ কী, এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেন চুক্তিতে যাচ্ছে দেশটি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাহিদা অনুযায়ী ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ভূগর্ভস্থ মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে দুই দেশ একটি চুক্তি সইয়ের দ্বারপ্রান্তে আছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় উপপ্রধানমন্ত্রী ওলহা স্টেফানিশিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, চুক্তি নিয়ে এ পর্যন্ত সব আলাপ-আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে। প্রধান প্রায় সব বিবরণ চূড়ান্ত হয়েছে।

ওলহা স্টেফানিশিনা আরও বলেন, ‘আমরা এটি (আলোচনা) দ্রুত সম্পন্ন করে চুক্তি সইয়ের কাজ এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

খনিজ চুক্তি সইয়ের জন্য মার্কিন প্রশাসনের অব্যাহত চাপের মুখে রয়েছে ইউক্রেন। আর এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর তথাকথিত ‘বিজয় পরিকল্পনায়’ প্রথমে খনিজ চুক্তির প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর এ পরিকল্পনা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। মূলত ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন আদায় বজায় রাখতে একটি বাস্তবসম্মত কারণ হিসেবে এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।  

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কিয়েভে বিবিসিকে বলেছেন, এ ধরনের একটি চুক্তি অনেক বড় পুরস্কারের সমান। কারণ, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও নিরাপদ ইউক্রেনের মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করবে।

ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ

কিয়েভের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের’ ৫ শতাংশই রয়েছে ইউক্রেনে। এর মধ্যে রয়েছে  প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টন গ্রাফাইটের সুনির্দিষ্ট মজুত, যা খনিজ সরবরাহে ইউক্রেনকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের একটিতে পরিণত করেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা। গ্রাফাইট বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

ইউরোপের মোট লিথিয়াম ভান্ডারের এক-তৃতীয়াংশই রয়েছে ইউক্রেনে। বর্তমানে ব্যাটারি তৈরির মূল উপাদান লিথিয়াম। এদিকে যুদ্ধ শুরুর আগে টাইটানিয়াম উৎপাদনে ইউক্রেনের বৈশ্বিক হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ। উড়োজাহাজ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্র—সবকিছুতে ব্যবহৃত হয় এ হালকা ধাতু।

আরও কিছু খনিজের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে ইউক্রেনে। অস্ত্র, বায়ুবিদ্যুতের টারবাইন, ইলেকট্রনিক ও আধুনিক বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় ১৭টি উপকরণের এ বিরল খনিজ।

যাহোক, ইউক্রেনে খনিজ সম্পদের ভূগর্ভস্থ কিছু মজুত এরই মধ্যে দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী জুলিয়া স্ভিরিডিয়াঙ্কার মতে, বর্তমানে রাশিয়ার দখলে আছে ইউক্রেনের ৩৫ হাজার কোটি ডলারের খনিজ সম্পদের ভান্ডার।

ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিবিষয়ক কানাডাভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সেকডেভ ২০২২ সালে এক মূল্যায়নে প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে রাশিয়া ইউক্রেনের ৬৩ শতাংশ কয়লাখনি এবং ম্যাঙ্গানিজ, সিজিয়াম, ট্যানটালাম ও বিরল খনিজ ভান্ডারের অর্ধেক দখল করেছে।

সেকডেভের প্রধান রবার্ট মুগাহ বলেন, এ ধরনের খনিজ সম্পদ ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণের ক্ষেত্রে এক ‘কৌশলগত ও অর্থনৈতিক মাত্রা’ যোগ করেছে। খনিজ সম্পদের ভান্ডার দখল করে মস্কো ইউক্রেনের আয়ের উৎসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে এবং নিজস্ব সম্পদের ভিত্তি প্রসারিত করেছে। এতে খনিজ সরবরাহের বৈশ্বিক শৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কেন খনিজ চুক্তি করতে চায়

রবার্ট মুগাহ বলেন, একুশ শতকের অর্থনীতির ভিত্তি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। এসব সম্পদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামরিক শক্তি ও শিল্প অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনীতি ও অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ভূমিকা পালন করে এসব খনিজ।

জিওলজিক্যাল ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের জন্য চুক্তি করতে আগ্রহী হওয়ার কারণ, দেশটি চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। চীন বিশ্বের বিরল খনিজ ভান্ডারের ৭৫ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বিরল খনিজের রপ্তানি নিষিদ্ধ করে চীন। দেশটি এর আগের বছর যুক্তরাষ্ট্রে খনিজ রপ্তানি সীমিত করেছিল।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর ওয়াশিংটন সফরের আগে গত সোমবার হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালৎজ মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে বলেন, ‘অর্থনীতিকে আরও সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনকে এক সুতায় গাঁথার জন্যই এ চুক্তি।’

এর আগে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫০ শতাংশ ভাগ দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে যে পরিমাণ সহায়তা দিয়েছিল, এ ভাগ সেটির প্রতিফলন ঘটাবে। জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমি আমাদের দেশকে বিক্রি করে দিতে পারি না।’

ট্রাম্প এ মাসের শুরুতে বলেছিলেন, ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার। আর তিনি ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে সমমূল্যের প্রবেশাধিকার চান।

তবে জেলেনস্কি বলেছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছে। কিয়েভ আরও জোর দিয়ে বলেছে, তারা এ পর্যন্ত যে সহায়তা পেয়েছে তা ঋণ নয়, বরং অনুদান ছিল। তাই ইউক্রেনের কোনো কিছু ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি যেকোনো চুক্তিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান বলেও জানা গেছে।

সোমবার যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে মার্কিন প্রবেশাধিকারের চুক্তিকে ‘মহাপুরস্কার’ বলে অভিহিত করেছেন।

এ চুক্তিতে ‘প্রতারণার’ যেসব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বরিস। তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে ইউক্রেনের মানুষ যা পাবে তা হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে একটি মুক্ত, সার্বভৌম ও নিরাপদ ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি।’

কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির প্রস্তাবকে ‘ঔপনিবেশিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু কিয়েভ দেশটির খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

আশঙ্কা বাড়াচ্ছে মার্কিন শুল্ক, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনে নজর দিচ্ছে ভারত ও ইইউ

বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে শুক্রবার ভারতের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্পের মার্কিন শুল্কনীতি বিশ্ব বাণিজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য গতিশীলতা পুনর্গঠিত হতে পারে। নয়াদিল্লি এবং ব্রাসেলস তাদের দ্বিতীয় বাণিজ্য ও প্রযুক্তি কাউন্সিলের অধিবেশনও আয়োজন করবে, যা ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বের অনুরূপ। ভারত এবং ইইউ দীর্ঘদিন ধরে একটি মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করার চেষ্টা করছে, কিন্তু সেই অগ্রগতি ধীর গতিতে চলছে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা থমকে আছে। গত সোমবার ‘পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় ভারত-ইইউ অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক এবং ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহন কুমার বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক পটভূমি এখন নির্ধারিত বৈঠকের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।  যদি আমেরিকার সাথে শুল্ক যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের দ্বারা সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ভারত এবং ইইউকে একটি এফটিএ স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতে না পারে, তাহলে আমি জানি না আগামী দিনে কী হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইইউর সাথে বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন যদি না এই ব্লক আরও আমেরিকান তেল ও গ্যাস কেনে। ভারতের উচ্চ শুল্কের সমালোচনাও শোনা গেছে ট্রাম্পের মুখে। এই মাসের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওয়াশিংটন সফর করেন, সেই সময় উভয়পক্ষ দ্বিমুখী বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে সম্মত হয়। কিন্তু ট্রাম্পের স্বভাবের কারণে, বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে দিল্লির উচিত তার অংশীদারিত্বকে একজায়গায় না আটকে রেখে বৈচিত্র্যময় করা।

কুমার বলেন, সাম্প্রতিককালে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বব্যাপী দৃশ্যপট বদলেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর পর শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন ও হামাসের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ। অধ্যাপক মোহন কুমারের কথায়, 'যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভালোভাবেই শুরু হয়েছে, তবে তাদের বৈশ্বিক সম্পর্ক আরও উন্নত করতে হবে এবং কৌশলগত সমন্বয়ের জন্য ইইউর দিকে তাকাতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে হবে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব একই দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তবে যে গতিতে সেই কাজ এগোচ্ছে তাতে হতাশা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক কুমার। শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হলো আগামী বছর থেকে শুরু হওয়া কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত  ইইউর পরিকল্পনা, যা কার্বনসমৃদ্ধ পণ্য উৎপাদনের সময় নির্গত কার্বনের উপর চার্জ আরোপ করবে।

ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা এই পরিকল্পনাটিকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, কারণ দেশটি তার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কয়লা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যদিও তার পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিচাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে। কুমার বলেন, ইইউ ভারতকে নির্গমন কমাতে আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু ব্লকের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া এটি সম্ভব হতে পারে না কারণ দিল্লির ৫০ কোটি দরিদ্র মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত, ক্রমবর্ধমান খরচ সত্ত্বেও পরিবেশ-বান্ধব ইস্পাত তৈরি করে এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য চার্জিং অবকাঠামোর সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে ইইউ-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পরিবেশগত মান পূরণ করতে চেয়েছে। কুমার ইইউকে কার্বন নির্গমন সম্পর্কিত চার্জের বিষয়ে ভারতকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান যাতে একটি এফটিএ দ্রুত সম্পন্ন করা যায় ।

অন্যরা বলেছেন যে, ভারত এবং ইইউ জলবায়ু লক্ষ্যগুলির উপর মনোযোগ দিয়ে তাদের অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার একটি অনন্য সুযোগ পেয়েছে, যা গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে প্রসারিত করতে পারে।  বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রর  পিছিয়ে থাকার কারণে।

ক্লিন টেকনোলজিতে সম্ভাব্য সহযোগিতা
বুলগেরিয়ার প্রাক্তন পরিবেশমন্ত্রী জুলিয়ান পপভ উল্লেখ করেছেন যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ কমে যাওয়ার ফলে এটি কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় সস্তা হয়ে উঠেছে, যা ভারতকে ক্লিন এনার্জির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহ প্রদান করে।

জুলিয়ান বলেন, ‘আমাদের কেবল বাণিজ্যকে উৎসাহিত করলে চলবে না, শিল্প বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্লিন এনার্জিতে। এটিই ভবিষ্যৎ যার মধ্যে  ইইউ এবং ভারত উভয়ের স্বার্থ নিহিত।’

তিনি আরও বলেন, ক্লিন এনার্জিতে চীন যে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে, তার সাথে তাল মেলাতে ভারত এবং ইইউর মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে হবে। ভারতের ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব অরুণা শর্মা একমত পোষণ করেন যে, গবেষণা ও উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা অপরিসীম। কারণ ভারতে বিপুল সংখ্যক প্রতিভা রয়েছে যা এই দেশকে প্রযুক্তিগত পরিষেবার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র করে তুলেছে।

তিনি বলেন, এই সহযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অগ্রণী প্রযুক্তিতেও প্রসারিত হতে পারে। শর্মার মতে, ইইউ ভারতে শিল্প যন্ত্রপাতির একটি প্রধান সরবরাহকারী। আসন্ন আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়কে উৎসাহিত করার জন্য পরিবেশগত পণ্যের সরবরাহ সম্প্রসারণের উপর আলোকপাত করা হতে পারে। হাইড্রোজেন জ্বালানির মতো পণ্য তৈরি করা যেতে পারে। ভারতে সেই মস্তিষ্ক রয়েছে। ভারত একটি সফটওয়্যার হাব, অন্যদিকে চীন একটি হার্ডওয়্যার হাব।

সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

mzamin

ইলন মাস্কের কানাডিয়ান নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে লাখ লাখ মানুষের স্বাক্ষর

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের কানাডিয়ানি নাগরিকত্ব বাতিলের একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির লাখ লাখ মানুষ। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কানাডার উত্তেজনার মধ্যে এ খবর বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, মাস্কের বিরুদ্ধে কানাডার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ দিন আগে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জানিয়ে গণস্বাক্ষরের আয়োজন করা হয়। যাতে এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া ইলন মাস্কের কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বই রয়েছে। তবে অভিবাসন নীতি অনুযায়ী জালিয়াতি, নিজের পরিচয় গোপন অথবা অবৈধভাবে অভিবাসী হলে যে কারও নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারে কানাডা। এই গণস্বাক্ষরের প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক তার এক্সের আইডিতে লিখেছেন, কানাডা সত্যিকার অর্থে কোনো দেশ নয়। যদিও ওই পোস্ট পরে মুছে দেন মাস্ক।

ট্রাম্প একাধিকবার কানাডার রাজনৈতিক নেতাদের উপহাস করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত। এই বক্তব্যের জেরে কানাডার অনেক নাগরিক ক্ষুব্ধ হয়ে ইলন মাস্কের নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন। গণস্বাক্ষরের ওই আবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে সম্পদ এবং শক্তি ব্যবহার করেছেন ধনকুবের মাস্ক। যার মাধ্যমে তিনি বর্তমানে কানাডার সার্বভৌমত্বকে মুছে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। মূলত মায়ের দিকের সম্পর্কের জন্য ইলন মাস্কের কানাডিয়ান নাগরিকত্ব পেয়েছেন।   

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা ট্রাম্প বলেছেন, কানাডার যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হওয়া উচিত। এছাড়া কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের চিড় ধরিয়েছে। ট্রাম্পের হুমকির পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প যে নীতি গ্রহণ করেছেন তা কানাডার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগের সকল নীতির ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছে।

mzamin

বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী বিশ্ববাসী, এককাতারে দেখা যাচ্ছে ৭ গ্রহ

বিরল এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে বিশ্ববাসী। পৃথিবী থেকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে সৌরজগতের সাতটি গ্রহ। জোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’ বা গ্রহের কুচকাওয়াজ। গতকাল মঙ্গলবার, আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর এই দৃশ্য দেখা যাওয়ার কথা। এরপর ২০৪০ সাল পর্যন্ত এমন দৃশ্য অবলোকনের সুযোগ পাবেন না এ গ্রহের বাসিন্দারা।

সৌরজগতের যে সাত গ্রহ এককাতারে এসেছে সেগুলো হলো মঙ্গল, বৃহস্পতি, ইউরেনাস, শুক্র, নেপচুন, বুধ ও শনি। এর মধ্যে বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহ দেখা যাবে খালি চোখে। দিগন্তের নিম্নরেখায় অবস্থান করার কারণে খালি চোখে শনি গ্রহ দেখা হবে কঠিন। আর ইউরেনাস ও নেপচুনকে দেখতে হলে প্রয়োজন হবে টেলিস্কোপের।

মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে এ দৃশ্য ভালোভাবে দেখা যাবে। তবে এককাতারে সাত গ্রহের দেখা মিলবে খুবই অল্প সময়ের জন্য। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শনি ও বুধও অস্ত যাবে বলে এই দুই গ্রহের দেখা পাওয়াটা হবে কঠিন।

লন্ডনভিত্তিক রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ব্লুমার বলেন, এক সারিতে সাতটি গ্রহের দেখা পাওয়ার এ এক বিরল সুযোগ। এ দৃশ্য দেখার জন্য সূর্যাস্তের পর কয়েক মিনিট মাত্র সময় পাওয়া যাবে। কারণ, এরপরই তারা দিগন্তে মিলিয়ে যাবে। তবে এরপরও শুক্র, বৃহস্পতি ও মঙ্গল—এই তিন গ্রহকে বেশ খানিকটা সময় ধরে দেখা যাবে।

পৃথিবীসহ সৌরজগতের আটটি গ্রহ একই কক্ষপথে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। তবে তাদের প্রদক্ষিণ করার গতি ভিন্ন ভিন্ন হয়। গ্রহগুলোর গতি ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় কখনো কখনো কিছু গ্রহ সূর্যের একই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। গ্রহগুলো যদি সূর্যের ডানদিকে থেকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তখন সেগুলো পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়।

সাত গ্রহ এক সারিতে। একে বলা হয় গ্রহের কুচকাওয়াজ
সাত গ্রহ এক সারিতে। একে বলা হয় গ্রহের কুচকাওয়াজ। তথ্যসূত্র: নাসা

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি, ঢাকার দিকে বাহু প্রসারিত করছে চীন

রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের কর্মী, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ১০ দিনের চীন সফরে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি ঘটছে। বেইজিং কর্তৃক শুরু হওয়া এই ‘শুভেচ্ছা সফর’-এর লক্ষ্য হলো ঢাকা এবং নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় দুই দেশের মধ্যে (চীন-ঢাকা)  সম্পর্ক জোরদার করা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন প্রবীণ নেতা আব্দুল মঈন খান বিবিসিকে বলেছেন, এটি মূলত একটি শুভেচ্ছা সফর। যার উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং। এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ কারণ চীন এবার বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি চীনা সরকারি কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বর্ষীয়ান সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়ার কথা। প্রতিনিধিদলের এই সফর এমন এক সময়ে সংঘটিত হচ্ছে যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এবং দিল্লি তাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য হাসিনার সরকার সমালোচিত হয়েছিল, এতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন। চীন বাংলাদেশি নেতা, কর্মী এবং প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করছে, যার মধ্যে ইসলামিক দলগুলোর সদস্যরাও রয়েছেন। এই সপ্তাহের সফরটি জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের মধ্যে একটি বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিএনপির এটি দ্বিতীয়বারের মতো চীন সফর। যা বাংলাদেশে তার অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য বেইজিংয়ের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, চীনের কূটনৈতিক প্রসার এই অঞ্চলে তার প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষারকে প্রতিফলিত করে। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ চীনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে। দুই দেশের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে প্রধানত চীনা রপ্তানি অন্তর্ভুক্ত।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ভারতের সীমিত যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের কথিত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রতিবাদ জানিয়েছে, যার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেছেন যে, তারা (বাংলাদেশ) আমাদের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক চায়’ তা নির্ভর করছে বাংলাদেশের উপর।

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে, বাংলাদেশ চীনের আরও কাছে চলে যেতে পারে। চীনা বিশ্লেষক ঝো বো বিবিসিকে বলেছেন, ভারতের মতো সমগ্র উপমহাদেশকে দিল্লির প্রভাব বলয়ের অধীনে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এই মনোভাব ভারতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এইসব ঘটনার মাঝে বাংলাদেশ আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা সম্ভবত এই বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

ইউক্রেনকে আদৌ কি ন্যাটোতে নেওয়া হবে?

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে নেওয়ার প্রলোভনে অন্ধ হয়ে পড়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সে অন্ধত্বেই অনেকটা অসম একটি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেন নিজের দেশকে। এবার যখন যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তখন আবারও সেই ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বায়না ধরছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

জেলেনস্কি বলেছেন, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের প্রবেশের বিনিময়ে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত আছেন। তবে আদৌ কি এটা সম্ভব! রাশিয়া কি ইউক্রেনের ন্যাটোতে প্রবেশ মেনে নেবে?

জেলেনস্কির সম্প্রাতিক প্রস্তাবের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়েছে দেশটি। সোমবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ ইউক্রেনের ন্যাটো জোটে প্রবেশের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন।

ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেছেন, আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি না যে, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে প্রবেশ করানো এবং তারপরে মার্কিন সৈন্যদের অপরিহার্যভাবে আর্টিকেল ফাইভের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হবে। ইউক্রেনে সরাসরি মার্কিন সৈন্যদের মোতায়েনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি ন্যাটোর আর্টিকেল ফাইভকে পারস্পরিক-প্রতিরক্ষা ধারা বলে উল্লেখ করেন, যা সদস্যদের কোনো মিত্রের প্রতিরক্ষায় সবাই আসতে বাধ্য যদি কোনও রাষ্ট্র আক্রমণের শিকার হয় এবং সাহায্যের অনুরোধ করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র শুধু একবারই তেমন আহ্বান জানিয়েছিল।

এর আগে ইউক্রেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য পদ পেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে রাজি হন ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মূলত সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যায়িত করার পর তার এমন আগ্রহের কথা সামনে আসে। সেদিন জেলেনস্কি বলেন, ‘আপনারা যদি আমাকে এই চেয়ার থেকে সরে যেতে বলেন, তা করতে আমি প্রস্তুত রয়েছি। আর ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদের বিনিময়েও আমি তা করতে পারি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি রাশিয়ার মুখোমুখী হয়ে যাবে। এমনটা ঘটলে এই যুদ্ধ আর ইউক্রেনের সীমানার মধ্যে আটকে থাকবে না। পরাশক্তি দেশগুলো সবাই এই যুদ্ধের অংশ হয়ে পড়ুক সেটা কেউই চাইবে না। তাই আপাতত ইউক্রেনের ন্যাটোতে প্রবেশের বাসনা অপূর্ণই থেকে যাচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রতি অভিমানে, চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মোক্ষম সুযোগ নিয়েছে চীন। পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আরও কাছে টানতে সক্রিয় হয়েছে দেশটি।

হয়তো এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চীন। বিএনপির নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ১০ দিনের সফরে চীন পৌঁছেছে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তারা। প্রতিনিধি দলে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের কর্মী, বুদ্ধিজীবীসহ সাংবাদিকরাও রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর চীন সফর নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

চীন সফররত প্রতিনিধি দলের এক নেতা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, সফরকালে তারা চীনের সরকারি কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সুযোগে চীন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে।

হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অন্যতম বড় বিরোধের কারণ হচ্ছে গত বছরের ৫ আগস্টের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় গ্রহণ। তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করলেও, দিল্লি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিএনপির সিনিয়র নেতা এবং বেইজিং সফররত প্রতিনিধি দলের প্রধান আব্দুল মঈন খান সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, এটি মূলত একটি সৌজন্যমূলক সফর, যা চীনের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এবার চীন এমন একটি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে।

বিএনপি ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব

প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে বিএনপি এবং তাদের মিত্র দলগুলোর নেতাদের সংখ্যা বেশি। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন এই দল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি।

এ ছাড়া, প্রতিনিধি দলে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন, যারা গত বছর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হন।

শেখ হাসিনা ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

বিগত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার সময় শেখ হাসিনা ভারতবান্ধব পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু সেই সঙ্গে তিনি চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। তবে তার পতনের পর চীন বাংলাদেশে নিজেদের কূটনৈতিক প্রভাব আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে জানুয়ারির একটি সফরে, যখন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বেইজিং গিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার, যার বেশিরভাগই চীনা রপ্তানি।

এ ছাড়া, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীও ব্যাপকভাবে চীনা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশের বেশি আসে চীন থেকে।

ভারতের নিষ্ক্রিয়তা ও বাংলাদেশে প্রভাব হারানোর আশঙ্কা

গত ছয় মাসে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যোগাযোগ অনেকটাই সীমিত ছিল। অন্যদিকে, চীন বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে চলেছে।

বিএনপি গত ডিসেম্বরে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে এবং শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ কী ধরনের সম্পর্ক চায়, তা তাদেরই নির্ধারণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি নেতাদের কিছু মন্তব্য একেবারেই অযৌক্তিক।

পাল্টা জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়।

আরও মজবুত হবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও নেপালের মতো বাংলাদেশও এখন ভারত-চীন কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো চীনা বিশ্লেষক ঝো বো বিবিসিকে বলেন, ভারতের উচিত পুরো উপমহাদেশকে তাদের ‘বাড়ির উঠান’ মনে না করা। এই মনোভাব ভারতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক দূরত্ব চীনকে বাংলাদেশের ওপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা: গাজার মতো পরিস্থিতি হবে পশ্চিম তীরে

গাজার পর পশ্চিমতীর। অধিবাসীদের মধ্যে নীরব এক আতঙ্ক। ভয়ে আছেন তারা। গাজার মতো সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। বর্তমানে কার্যত ফাঁকা করে ফেলা হয়েছে জেনিন শরনার্থী শিবির। এর বড় এলাকা বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করেছে ইসরাইল। প্রশস্ত জনাকীর্ণ ওই এলাকার মধ্য দিয়ে তারা রাস্তা তৈরি করছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দীর্ঘ ১৫ মাসের যুদ্ধের পর য্দ্ধুবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরাইল। তবে ওই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার একদিন পরই পশ্চিমতীরে অপারেশন পরিচালনা শুরু করে ইসরাইল। এতে আতঙ্কিত হয়ে পশ্চিমতীরের তুলকারেম শহর ও জেনিনের কমপক্ষে ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। জেনিন পৌরসভার মুখপাত্র বশির মাতাহেন বলেন, জাবালিয়াতে যা হয়েছে তারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে পশ্চিমতীরের জেনিনে। এসময় তিনি গাজার উত্তারঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরের কথা উল্লেখ করেন, যা ১ সপ্তাহের তিক্ত লড়াইয়ের পর  ইসরাইলি সেনাবাহিনী ফাঁকা করে ফেলে। ওই শরণার্থী শিবির বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য। তিনি বলেন, বাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য কমপক্ষে ১২টি বুলডোজার ব্যবহার করা হয় সেখানে। ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয়ের পর ঘরছাড়া ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গা হয় ওই শরণার্থী শিবিরে। তিনি আরো বলেন, সেখানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারদের একটি টিম  লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা দীর্ঘ মেয়াদে সেখানে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় ১ একরের মতো জায়গাজুড়ে তারা পানির ট্যাংক ও জেনারেটর এনে রেখেছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে রোববার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ সেনাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদে সেখানে অবস্থানের আদেশ দেন। কাৎজ বলেন, ওই ক্যাম্প দীর্ঘ সময়ের জন্য ফাঁকা করা হয়েছে। সেখানে যারা বসবাস করতেন তাদের ফিরে আসার কোনো অনুমতি নেই। ২০ বছর আগে হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদার পর পশ্চিমতীরের উত্তরাঞ্চলে চলা মাসব্যাপী ইসরাইলি অপারেশন নজিরবিহীন এক ঘটনা। ড্রোন, হেলিকপ্টারসহ ইসরাইলি সেনারা পশ্চিমতীরে আক্রমণ চালায়। এছাড়া কয়েকযুগের মধ্যে প্রথমবার ভারী ট্যাংক নিয়ে হামলা চালায় তারা। এ বিষয়ে সাবেক সামরিক গোয়েন্দা মিকায়েল মিলশটেইন বলেন, তুলকারেম ও জেনিনে উচ্ছেদ চলমান আছে। তিনি বলেন, আমরা জানি না তাদের কৌশল কী? তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই ইতিপূর্বে পশ্চিমতীরে এমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। হামাস, ইসলামিক জিহাদ ও ইরান সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী দমনের উদ্দেশে ওই অপারেশন পরিচালনা করা হয় বলে দাবি ইসরাইলের। তারা দাবি করে- কয়েক যুগ ধরে শরণার্থী শিবিরে ওই সব গোষ্ঠীর সদস্যদের বসবাস। তবে ফিলিস্তিনিরা বলছেন- তাদের বসতবাড়ি ধ্বংস করে ওই জায়গা বসবাসের অনুপযোগী করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য। ৮৫ বছর বয়সী হাসান-আলি-কাতিব, যিনি ২০ জন সন্তান নিয়ে জেনিনের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন, তিনি বলেন- ইসরাইল, শরণার্থী শিবির ও সেখানকার স্মৃতি মুছে ফেলতে চায়। ইসরাইল ইতিমধ্যে ত্রাণ সংস্থাকে (ইউএনডব্লিউআরএ) দুর্বল করতে প্রচারণা চালিয়েছে। পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত এর সাবেক সদর দপ্তর থেকে এটিকে নিষিদ্ধ করা ও জেনিনে অপারেশন পরিচালনা স্থগিত করতে আদেশ দেয় দেশটি।  ইউএনআরডব্লিউএ’র মুখপাত্র জুলিয়েট টওমা বলেন, আমরা জানি না ইসরাইলের আসল উদ্দেশ্য কী?  তবে আমরা এটা জানি আমাদের শরণার্থী শিবির থেকে অনেক বেশি মানুষকে উৎখাত করা হয়েছে। 
mzamin

জেনারেলের বার্তা পরিষ্কার

ঐক্য, সংহতি, গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আগেও তিনি এসব ইস্যুতে কথা বলেছেন। তবে মঙ্গলবারের মতো সম্ভবত কখনোই নয়। ‘মেসেজ লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার’-মানবজমিনে এ শিরোনাম বহুবার ছাপা হয়েছে। সেনাপ্রধানের রাওয়ার বক্তব্য শুনে এ কথাটিই সবচেয়ে বেশিবার মনে এলো।

এর আগে আগস্টের প্রথম সপ্তায় জাতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও বড় ভূমিকা রেখেছিলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ‘আমরা গুলি চালাবো না’-সশস্ত্র বাহিনীর এই অবস্থান জাতিকে একটি রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিয়েছিল। যতটা সম্ভব রক্তপাত এড়াতে চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান। ইতিহাস নিশ্চয়ই তার এই প্রচেষ্টা স্মরণ করবে। জেনারেল ওয়াকার ক্ষমতার পথে হাঁটেননি। এমনকি জরুরি অবস্থা জারি কিংবা মৌলিক অধিকার খর্ব করে এমন কোনো পদক্ষেপও তিনি নেননি। গতকালও এটা নিশ্চিত করেছেন যে, তার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। দেশ ও জাতিকে সুন্দর জায়গায় রেখে সেনানিবাসে ফেরত যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সেনাপ্রধান এবং সেনাবাহিনীর এ পেশাদারিত্বের প্রশংসা করছেন অনেকেই।

গত সাত মাস বাংলাদেশ নানা ওলটপালটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। অভ্যুত্থান বা বিপ্লব যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এ ধরনের ঘটনার পর এটা কোনো অভাবনীয় পরিস্থিতি নয়। দেশে দেশে এমনটাই হয়। বাংলাদেশেও নানা অস্থিরতা। বিপ্লবের অংশীদারদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। তারা পরস্পরকে বিষোদ্গার করছেন। এমনকি কোথাও কোথাও সংঘাতেও জড়াচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে। এ অবস্থায় সেনাপ্রধান যে সতর্ক বার্তা বা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করতে পারে। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, শত্রুতা নয়। অতীতে আমরা এর বিচ্যুতি দেখেছি। পরিণতিও দেখেছি। এমন অতীতের যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে ব্যাপারেই যেন সতর্ক করলেন সেনাপ্রধান। দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠান যখন ভেঙে গেছে বা ভেঙে পড়েছে তখন সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের সঠিক ভূমিকার ওপরই বহুলাংশে নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ।

নির্বাচন কবে হবে সেটা এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। সরকারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে চলতি বছর ডিসেম্বর কিংবা পরের বছর মার্চের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। যদিও অনেকে এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সেনাপ্রধান এর আগে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। গতকাল সে বার্তা আরও খোলাসা করলেন। জানালেন, ডিসেম্বর বা কাছাকাছি সময়ের মধ্যে অবাধ, স্বচ্ছ ও ইনক্লুসিভ নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পূর্ণ একমত। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে নির্বাচনের একটি স্পষ্ট সময়সীমা পাওয়া গেল। রাওয়ায় দেয়া বক্তব্যে সেনাপ্রধান মূলত যেসব বার্তা দিয়েছেন-   

এক. ঐক্য ও সংহতির পক্ষে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন সেনাপ্রধান। উচ্চারণ করেছেন চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।  বলেছেন, ‘‘আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। পরে বলবেন আমি সতর্ক করিনি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন, তাহলে এই  দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।’’

দুই. নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন সেনাপ্রধান। জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে কিংবা ক্লোজ টু দ্যাট টাইমের মধ্যে ফ্রি, ফেয়ার এবং ইনক্লুসিভ নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে একমত হয়েছেন।

তিন. পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান। বলেছেন, একটা জিনিস আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি। সম্পূর্ণটা তদানীন্তন বিজিবি (তখন নাম ছিল বিডিআর) দ্বারা সংঘটিত। ফুলস্টপ। এখানে কোনো ‘ইফ’ ও ‘বাট’ নেই। পরে এটাও যোগ করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কিংবা বাইরের কোনো শক্তি ইনভলভ ছিল কিনা সেটার তদন্তের জন্য কমিশন করা হয়েছে।

চার. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বার্তা দিয়েছেন সেনাপ্রধান। আইনশৃঙ্খলা খারাপ হওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও বিষোদ্গারকে প্রথম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ছাড়াও বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই অতীতে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজ করেছে। দেশ যে এত বছর স্থিতিশীল ছিল এটার কারণ হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সিভিলিয়ান সবাই মিলে  প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইফেক্টিভ রেখেছি। সে জন্য এতদিন ধরে আমরা একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। এর মধ্যে যারা কাজ করেছে যদি অপরাধ করে থাকে সেটার শাস্তি হবে। অবশ্যই শাস্তি হতে হবে। নাহলে এ জিনিস আবার ঘটবে। আমরা সেটাকে বন্ধ করতে চাই চিরতরে। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে, আমরা এমনভাবে কাজ করবো এসব সংস্থা যেন আন্ডারমাইন না হয়।

শেষ কথা: ইতিহাসে কখনো কখনো এমন হয়। একটি জাতির ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনী কিংবা সেনাপ্রধানকে সুনির্দিষ্ট কাজের বাইরে জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়। ভূমিকা রাখতে হয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনেও। সে ভূমিকাই আরও স্পষ্ট হলো সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বক্তব্যে। বাংলাদেশের ইতিহাস নিশ্চিতভাবেই তাকে স্মরণ রাখবে।  

mzamin

প্রধান উপদেষ্টাকে ফখরুল: শক্ত হাতে সরকার পরিচালনা করুন

শক্ত হাতে সরকার পরিচালনা করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি’র উদ্যোগে ‘২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে’ এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি শক্ত হাতে আপনার সরকারকে পরিচালিত করুন। এই কথা কেউ যেন না বলে, আপনি কোনো পক্ষপাতিত্ব করছেন। সে কথা আমি শুনতে চাই না। আপনি অনেক বিখ্যাত মানুষ। সারাবিশ্বে আপনার নাম আছে। সেটা আপনি রাখবেন। সেটাই আমরা আপনার কাছ থেকে আশা করি। আমরা আশা করবো, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দ্রুত ন্যূনতম সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যান। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং ভবিষ্যতের জন্য সমৃদ্ধি আনবেন, এটাই আমরা আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি।        

দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে, তর্ক-বিতর্ক বন্ধ করে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন। যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার মধ্যে আমরা একটা গণতান্ত্রিক জায়গায় পৌঁছাতে পারি। ‘আমরা না কি শুধু নির্বাচন, নির্বাচন করছি, আমরা সংস্কার করতে চাই না’। এত বড় মিথ্যা প্রচারণা তারা বিভিন্নভাবে চালাচ্ছে। কয়েকজন মানুষ, তারা বিএনপিকে টার্গেট করেছে। মিথ্যা ও অপপ্রচার করে বিএনপিকে হেয় করতে চায়।

ফখরুল বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে গড়ে তুলবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, দেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবার- সেই সুযোগকে আজকে আবার ধ্বংস করে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি পরিকল্পনা ও চক্রান্ত করছেন, কি করে এই গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়কে নস্যাৎ করে দেয়া যায়, কি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যায় এবং একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করা যায়। তারই চক্রান্ত হিসেবে আজকে আমরা দেখছি, বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন পক্ষ থেকে একটা অস্থির অবস্থা সৃষ্টি করা হচ্ছে।   

তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না করলে আমরা কোনো মতেই একটা স্থিতিশীল অবস্থা পাবো না। সেজন্য আমরা বারবার বলে আসছি, দেশে প্রকৃতপক্ষে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এটার জন্য আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। আজকে সেই জায়গায় বিভিন্ন রকম প্রশ্ন তুলে একটা নৈরাজ্যের দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আজকে একটা কালো দিন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এইদিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে দেয়ার জন্য এবং যারা লড়াই করে স্বাধীনতাকে রক্ষা করে তাদের মনোবলকে ভেঙে দেয়ার জন্য ও জাতির মনোবলকে ভেঙে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের শক্ররা পরিকল্পিতভাবে একটি বিদ্রোহ ঘটিয়েছে বিডিআর-এর। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই অত্যন্ত পরিকল্পনার সঙ্গে যারা বাংলাদেশের শক্র তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই বিদ্রোহের ঘটনা ঘটিয়ে সেদিন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর প্রায় ৫৭ জন কর্মকর্তাকে তারা হত্যা করেছে। এই যে একটা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, আমার প্রশ্নটা ওই জায়গায়-সেদিন যিনি রাষ্ট্রের দায়িত্বে ছিলেন, শেখ হাসিনা সেদিন কি ভূমিকা পালন করেছেন, সেদিন সেনাবাহিনী প্রধান কি ভূমিকা পালন করেছেন?

জাতির দুঃসময়ে সেনাবাহিনীর এগিয়ে আসা এবং তাদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের শক্তি। আমরা তাদেরকে সবসময় দেখেছি, জাতির দুঃসময়ে তারা এগিয়ে আসেন। আজকে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকৃতপক্ষে একটা দেশপ্রেমিক ভূমিকা পালন করেছে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সকালে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানীতে সামরিক কবরস্থানে শায়িত পিলখানায় শহীদ সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দু’দিন ধরে হত্যাযজ্ঞ চলা দুর্ভাগ্যজনক। তখন যারা ক্ষমতায় ছিলেন, হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যোগসাজশে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ঘটনাগুলো করতে দেয়া হয়। যে কারণে দু’দিন ধরে পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। 

mzamin

এনাফ

আসছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মারামারি-কাটাকাটি আর কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে সব পক্ষের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, তা না হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। পিলখানার বর্বরতা বিডিআর সদস্যরাই সংঘটিত করেছে। ফুল স্টপ। এখানে কোনো ইফ বা  বাট নাই। কোনো বাহিনীকে অবমূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, আক্রমণ করবেন না। উপদেশ দেন। তা আমরা গ্রহণ করবো।

মঙ্গলবার ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে ‘পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী শহীদ অফিসারদের স্মরণে’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ সেনাকর্মকর্তাদের স্মরণ করেন সেনাপ্রধান। তিনি শহীদদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এখানে আসার পথে তাদের ছবিগুলো দেখছিলাম। আপনারা এগুলো ছবিতে দেখছেন। আমরা কিন্তু এসব চাক্ষুস দেখেছি, বর্বরতার। একটা জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে। এই বর্বরতা কিন্তু কোনো সেনাসদস্য করেননি। সম্পূর্ণটাই তদানীন্তন বিডিআর সদস্য দ্বারা সংঘটিত। ফুল স্টপ। এখানে কোনো ইফ এবং বাট নাই। এখানে যদি ইফ এবং বাট আনেন, এই যে বিচারিক কার্যক্রম এতদিন ধরে হয়েছে ১৬-১৭ বছর ধরে- যারা জেলে আছে, যারা কনভিকটেড সেই বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এই জিনিসটা আমাদের খুব পরিষ্কার করে মনে রাখা প্রয়োজন। এই বিচারিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করবেন না। যে সমস্ত সদস্য শাস্তি পেয়েছে তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। এখানে কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এর মধ্যে উপস্থিত বা ইনভলভ ছিল কিনা এর জন্য কমিশন করা হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান এখানে আছেন। তিনি এটা বের করবেন এবং আপনাদের জানাবেন।

বটমলাইন হচ্ছে, সেনাসদস্য যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা প্রাণ হারিয়েছেন তদানীন্তন বিডিআর সদস্যদের গুলিতে। আমরা নিজেরা এই সমস্ত জিনিস নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছি কেউ কেউ। এই জিনিসটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছি। এটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। আজকে আমি কিছু উপদেশ দিয়ে যাবো। সেটা যদি আপনারা গ্রহণ করেন আপনারা লাভবান হবেন। এটা আপনাদের নিশ্চিত করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরা ভেদাভেদ সৃষ্টি না করি। আমরা নিজেরা ইউনাইটেড থাকি। আমাদের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, কোনো ব্যত্যয় থেকে থাকে, কোনো বিভাজন থেকে থাকে সেটা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবো। এটার জন্য ডানে-বামে দৌড়ে কোনো লাভ হবে না, নিজের ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে না। আমি আপনাদের এই জিনিসটা নিশ্চিত করে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, কিছু কিছু সদস্যের দাবি, তারা ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন শাস্তি পেয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, তারা অযাচিতভাবে শাস্তি পেয়েছেন। এটার জন্য আমি একটা বোর্ড করে দিয়েছি। একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সেই বোর্ডের সদস্য। প্রথম ধাপে ৫১ জন সদস্যের ব্যাপারে আমার কাছে রেকমেন্ডেশন নিয়ে এসেছে। রেকমেন্ডেশনের অধিকাংশ আমি গ্রহণ করেছি। এবং আরও বেশি আমি দিয়েছি। নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীও তাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার স্ট্যান্ডপয়েন্ট হচ্ছে, যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, সেটার জন্য কোনো ছাড় হবে না, বিন্দুমাত্র ছাড় নাই। আমি আপনাদের স্পষ্ট করে দিচ্ছি। এটা একটা ডিসিপ্লিনড ফোর্স, ডিসিপ্লিনড ফোর্সকে ডিসিপ্লিনে থাকতে দেন।

সেনাপ্রধান বলেন, আজকে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সমস্ত বাহিনী সমস্ত অর্গানাইজেশন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খালি সেনাবাহিনী টিকে আছে। বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী টিকে আছে। কেন? বিকজ অব ডিসিপ্লিন। আমি আমার অফিসারদের আদেশ দিয়েছি, যদি সামান্যতম কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে যে কারও বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হয়েছে, অপরাধী কি-না, যদি সামান্য কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে, সেটা তাদের ফেবারে যাবে। এটা হচ্ছে আমার ঢালাও নির্দেশ।

সেই হিসেবে আমার কাছে অনেক প্রস্তাব এসেছে। কোনো কোনো প্রস্তাবে আমি নিজে থেকে যোগ করে আরও বেশি আমি দিয়েছি। ্‌এভাবে পর্যায়ক্রমে অফিসাররা অ্যাপিয়ার করবে, আসবে। তাদের এই জিনিসগুলো আমরা দেখবো। দেখে যদি মনে হয় যে আমাদের কিছু করার আছে আমরা করবো। আমরা ন্যায় নীতিতে প্রতিষ্ঠিত থাকবো ইনশাআল্লাহ।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আপনারা কিছু মনে করবেন না। আজকে আমি একটু পরিষ্কার করে কথা বলতে চাই। আপনাদের সবার হয়তো ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করেন, এটা যদি গ্রহণ করেন, আপনারা লাভবান হবেন। কোনো ক্ষতি হবে না।

আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নাই, একটাই আকাঙ্ক্ষা। দেশ এবং জাতিটাকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে ছুটিতে যাওয়া।  

আই হ্যাড এনাফ, লাস্ট সেভেন-এইট মান্থস আই হ্যাড এনাফ। আমি চাই দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনানিবাসে ফেরত আসবো।

তিনি বলেন, আরেকটা জরুরি বিষয়, আমি ভাবলাম যে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করি। দেশের এই আইনশৃঙ্খলা খারাপ হওয়ার পেছনে কিছু কারণ আছে।

প্রথম কারণটা হচ্ছে, আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য।

যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি, তারা খুব ভালোভাবেই জানে এই সময় যদি এই সমস্ত অপরাধ করা যায়, তাহলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সে কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে। আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি, তাহলে অবশ্যই সম্মিলিতভাবে এটা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই সব সংস্থাই অতীতে দেশের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ কাজ করেছে। খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজ করেছে।

আজকে দেশের যে স্থিতিশীলতা, দেশটাকে যে এত বছর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এটার কারণ হচ্ছে এই সশস্ত্র বাহিনীর বহু সদস্য, সিভিলিয়ান সবাই মিলে এই অর্গানাইজেশনগুলোকে ইফেক্টিভ রেখেছে। সেজন্য আজকে এতদিন ধরে একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি।

এর মধ্যে যারা কাজ করেছে, যদি অপরাধ করে থাকে তার শাস্তিও হতে হবে, না হলে সেই জিনিস আবার ঘটবে। আমরা সেটাকে বন্ধ করতে চাই চিরতরে। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে, আমরা এমনভাবে কাজটা করবো, এই সমস্ত অর্গানাইজেশনগুলোকে যেন আন্ডারমাইন করা না হয়।
আজকে পুলিশ সদস্য কাজ করছে না, একটা বিশাল বড় কারণ হচ্ছে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকে জেলে।

র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই প্যানিকড, গুম-খুনসহ ‘বিভিন্ন দোষোরোপের’ তদন্ত চলছে। অবশ্যই তদন্ত হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এমনভাবে কাজটা করতে হবে, যেন এ অর্গানাইজেশনগুলো আন্ডারমাইন্ড না হয়।

এই অর্গানাইজেশনগুলোকে আন্ডারমাইন করে যদি আপনারা মনে করেন যে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন, এটা হবে না। সেটা সম্ভব না, আমি আপনাদের স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর না। দুই লাখ পুলিশ আছে, বিজিবি আছে, র‌্যাব আছে, আনসার ভিডিপি আছে। আমার আছে ৩০ হাজার সৈন্য। আমি ৩০ হাজার সৈন্য দিয়ে কীভাবে এটা পূরণ করবো? ৩০ হাজার থাকে, তারা চলে যায় ক্যান্টনমেন্টে, আরও ৩০ হাজার আসে। এটা দিয়ে আমরা দিন রাত চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এখানে যে সমস্ত উচ্ছৃঙ্খল কাজ হয়েছে এগুলো আমাদের নিজস্ব তৈরি। এটা আমাদের নিজস্ব ম্যানুফ্রাকচার, এটা আমরা নিজেরা তৈরি করেছি। এই বিপরীতমুখী কাজ করলে দেশে কখনো শান্তিশৃঙ্খলা আসবে না। জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা দেশে ফ্রি ফেয়ার এবং ইনক্লুসিভ একটা নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছি। তার আগে যে সমস্ত সংস্কার করা প্রয়োজন অবশ্যই সরকার সেদিকে খেয়াল করবেন। আমি যতবার ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি তিনি সম্পূর্ণ একমত হয়েছেন। আমি প্রথমেই বলেছিলাম ১৮ মাসের মধ্যে একটা নির্বাচন। আমার মনে হয়, সরকার সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। ড. ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দেশটাকে ইউনাইটেড রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। উনাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে, উনি যেন সফল হতে পারেন। সেদিকে আমরা সবাই চেষ্টা করবো। আমরা একসঙ্গে ইনশাআল্লাহ কাজ করে যাবো।
তিনি বলেন, আসেন আমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি না করে, দেশ জাতি যেন একসঙ্গে থাকতে পারি সেভাবে কাজ করি। আমাদের মধ্যে মতের বিরোধ থাকতে পারে, চিন্তা-চেতনার বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু দিনশেষে যেন আমরা সবাই দেশ ও জাতির দিকে খেয়াল করে সবাই যেন এক থাকতে পারি।

তাহলেই এ দেশ উন্নত হবে, সঠিকপথে পরিচালিত হবে। না হলে আমরা আরও সমস্যার মধ্যে পড়তে যাবো। আমরা ওইদিকে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। পরে বলবেন সতর্ক করিনি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন। মারামারি কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, আমি আজকে বলে দিলাম, না হলে বলবেন যে আপনাদের সতর্ক করিনি, আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই সুখে শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, মারামারি কাটাকাটি। আমরা সেই উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের সেনাবাহিনীর উপরে আক্রমণ কইরেন না। একটা কমন জিনিস আমি দেখতে পাচ্ছি। সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারও কারও। কী কারণে আজ পর্যন্ত আমি এটা খুঁজে পাইনি।

আমরা হচ্ছি একমাত্র ফোর্স, আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দাঁড়িয়ে আছি প্ল্যাটফরমে। নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আমরা সবাই।

আমাদেরকে সাহায্য করেন, আমাদেরকে আক্রমণ কইরেন না। আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেন, আমাদেরকে উপদেশ দেন। কোনো একটা সমস্যা হলে আমি জেনারেল নুরুদ্দিন স্যারের শরণাপন্ন হই। উনি আমাদের উপদেশ দেন। সিনিয়র জেনারেলদের আমি শরণাপন্ন হই। উনারা আমাকে উপদেশ দেন। আমরা অবশ্যই ভালো উপদেশ গ্রহণ করবো। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

সেনাপ্রধান বলেন, আজকে একটু মন খুলে কথা বললাম। এতদিন যে কথা মনের মধ্যে ছিল। সব সময় প্রকাশ করতে পারি না। প্রকাশ করাও যায় না। আজকে প্রকাশ করে ফেললাম। সবার সামনে আমি আমার মনের কথাটা প্রকাশ করে ফেললাম। কাউকে যদি দুঃখ দিয়ে থাকি, আমাকে ক্ষমা করবেন। আসেন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাই। এখানেই আমাদের ছেলেমেয়েরা বাস করবে। তাদের জন্য এমন কোনো স্থান আমরা রেখে না যাই, যেখানে হানাহানি, কাটাকাটি মারামারি হবে। 

mzamin

নাহিদের নয়া যাত্রা

বৈষম্যের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের অগ্রসৈনিক তিনি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন এক সময়ে রূপ নেয় সরকারপতন আন্দোলনে। নাহিদ ইসলামের ডাকে রাজপথে নেমে আসেন এ দেশের আপামর জনতা। কর্তৃত্ববাদী শাসনের যে ইতি গেল আগস্টের ৫ তারিখ হয়েছিল সেই লড়াইয়ে তিনি ছিলেন ছাত্র-জনতার অন্যতম প্রধান নেতা। শেখ হাসিনার দুঃশাসনের পতনের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার উপদেষ্টা পরিষদে নাহিদ ইসলামও অংশ হয়েছিলেন। দায়িত্ব পান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। দীর্ঘ সাড়ে ৬ মাস দায়িত্ব পালনের পর সরকার থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নম্বর মুখ্য সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। আবারো রাজপথে তিনি। ছাত্র-জনতার উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। শুক্রবার হবে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ। মঙ্গলবার পদত্যাগের পর নাহিদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আশা করি দেশে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারে থাকার চেয়ে রাজপথে থাকলে বেশি ভূমিকা রাখতে পারবো। রাজপথ থেকে সরকারে গিয়ে আবার রাজপথে ফিরে আসা নাহিদ ইসলাম তার রাজনৈতিক জীবনে কতোটুকু সফল হবেন সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে নাহিদের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সব পক্ষ। সবার প্রত্যাশা- দেশ ও জাতির কল্যাণে নাহিদ রাজপথে তার সেরাটাই দেবেন। আশীর্বাদ পেয়েছেন সরকারপ্রধান থেকেও। নাহিদের নতুন যাত্রায় শুভ কামনা ছিল উপদেষ্টা পরিষদের।

এদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেয়ার পর নাহিদ মুখোমুখি হন গণমাধ্যমের। বলেন, একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের জন্য আমার রাজপথে থাকা প্রয়োজন; ছাত্র-জনতার কাতারে থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি, সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য এবং গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া শক্তিকে সংহত করতে আমি মনে করেছি যে, সরকারের চেয়ে রাজপথে ভূমিকা বেশি হবে। বাইরে যে সহযোদ্ধারা রয়েছে, তারাও একই চিন্তা করেন। এ কারণেই আমি আজকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

নাহিদ উপদেষ্টা পরিষদের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য কমিটির সদস্য পদও ছেড়েছেন। এসব কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, গত ছয় মাসে আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি কাজ করে যাওয়ার। দুটি মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোতে আমি কিছু কাজ করেছি। ছয় মাস খুবই কম সময়, তারপরও আমি চেষ্টা করেছি। সেই কাজের ফলাফল হয়তো জনগণ পাবে। আজকে থেকে আমি সরকারের দায়িত্বে নেই। নতুন দলের আহ্বায়কের দায়িত্বের প্রশ্নে তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তি ও দল গঠন হচ্ছে, আমার সেখানে অংশ নেয়ার অভিপ্রায় আছে। জনগণের সঙ্গে মিশে আবারো জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মাঠে থেকে কাজ করার লক্ষ্যে আমি পদত্যাগ করেছি। ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্বে আসা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলমও একই পথ অনুসরণ করবেন কিনা? সেই প্রশ্নে নাহিদ বলেন, এখনো গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা তো বাস্তবায়িত হয়নি। বিচার এবং সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এই সরকার গঠন হয়েছিল সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে দুইজন রয়েছে। তারা মনে করেছে তাদের সরকারে থেকে জনগণকে সার্ভ করা উচিত। তারা যদি রাজনীতি করার প্রয়োজন বোধ করেন, তখন হয়তো সরকার ছেড়ে দেবেন।

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা আছে কিনা- এমন প্রশ্নে এই তরুণ নেতা বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই সীমাবদ্ধতা কাটানোর চেষ্টা করেছি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল। আমরা এসে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকা পুলিশকে পেয়েছি। জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের বিষয়টি রয়েছে। জনপ্রশাসন কমিটির একটা দায়িত্বে দুই সপ্তাহের মতো ছিলাম। এই সময়ে যারা ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডিসি ছিল এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের সরানোর দায়িত্ব নিয়েছি। নাহিদ বলেন, আমি আশা করবো, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে। এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সফলতা দেখাতে পারবে।

mzamin

চীন-রাশিয়াকে তৃতীয় কোনো শক্তি আলাদা করতে পারবে না

চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের কোনো সীমা নেই। সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনকলে এ নিশ্চয়তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং। চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়াকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকীতে পুতিন ও জিনপিংয়ের মধ্যে ওই ফোনালাপ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি ঘটাতে দ্রুত একটি চুক্তির চেষ্টা করছেন, তখন তারা এই আলোচনায় অংশ নেন।

মনে করা হচ্ছে, পুতিন ও জিনপিংয়ের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই দুই নেতা তাদের মধ্যে সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং তাদের জোটের দীর্ঘমেয়াদের বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। তারা আভাস দিয়েছেন, এই সম্পর্ক যেকোনো তৃতীয়পক্ষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, চীন-রাশিয়ার সম্পর্কে আছে শক্তিশালী আভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তি এবং ব্যতিক্রমী কৌশলগত মূল। এই সম্পর্ক তৃতীয় কোনো পক্ষ প্রভাবিত করতে পারবে না। দুই দেশের মধ্যকার উন্নয়ন কৌশল এবং পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘ মেয়াদের। এই দুটি দেশ সুপ্রতিবেশী। তাদেরকে আলাদা করা যাবে না।

ওদিকে ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট জিনপিংকে পুতিন সাম্প্রতিক রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগের বিষয়ে অবহিত করেছেন। এক্ষেত্রে রাশিয়া এবং অন্য পক্ষগুলো, যারা উত্তেজনা প্রশমিত করতে চান, তাদের প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক আখ্যায়িত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সি জিনপিং।

mzamin