Showing posts with label মহাকাশচারী. Show all posts
Showing posts with label মহাকাশচারী. Show all posts

Friday, September 18, 2026

চাঁদে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই এবার ছাড়িয়ে গেল পৃথিবীর সীমানাও! পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে এবার চাঁদের আশপাশকেও সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, মহাকাশে এরই মধ্যে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব বলছে, চাঁদের কাছাকাছি মহাকাশেও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সেনাদের।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-অস্ত্র মোতায়েন, অন্যদিকে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি। যেটা আমরা শুধু এতদিন 'স্টার ওয়ার্স' বা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় দেখেছি, এবার ঠিক সেটাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। কিন্তু মহাকাশে এমন কী ঘটতে যাচ্ছে যার জন্য ২৫ হাজার সেনার এক বিশাল স্পেস ফোর্স তৈরি করছে আমেরিকা? সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে এক নতুন মহাজাগতিক যুদ্ধের পূর্বাভাস।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় ধরনের সামরিক পরিকল্পনার কথা উঠে আসে ওয়াশিংটনের বাইরে বুধবার আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ। সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন মহাকাশের নতুন এই যুদ্ধের ফ্রন্টের কথা জানান। এই চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননের মতে, চীন মহাকাশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধকে মহাকাশে ছড়িয়ে দিতে চায়। আর মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করাই স্পেস ফোর্সের কাজ। এর কয়েক দিন আগেই বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে কার্যকর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েন করেছে।

আগামী পাঁচ বছরে নিজেদের ‘স্পেস ফোর্স’ দ্বিগুণ করে ২৫ হাজারে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা, যার বড় অংশই মোতায়েন থাকবে সরাসরি যুদ্ধের কমব্যাট কমান্ডে। মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের দাবি, চীনের মতো সম্ভাব্য শত্রুরা মহাকাশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মহাকাশ সংকট মোকাবিলায় ২০২৪ সালেই নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গড়ে তুলেছিল বেইজিং। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, তারা যুদ্ধকে মহাকাশে বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করতে হবে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’-কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, যেখানে মহাকাশকে সব ধরনের সামরিকীকরণ থেকে মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবুও পিছপা হচ্ছে না আমেরিকা। মহাকাশে সামরিকীকরণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাশিয়া একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র তৈরি করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর উদ্বেগ বাড়ছে। আমেরিকা চাঁদের চারপাশে যুদ্ধের ছক কষছে, তখন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটা নিয়ে উদ্বেগে সারা বিশ্ব।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

বছর শেষের আগেই ৩ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ইরানের

চলতি বছরের শেষ নাগাদ তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান। রাশিয়ার সহযোগিতায় পায়া, জাফর ও কাওসার নামের এসব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি।

মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার এক বক্তব্যে হাশেমি বলেন, মহাকাশ শিল্পের উন্নয়ন ইরান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনটি ইরানি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, পায়া, জাফর ও কাওসার স্যাটেলাইট তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে তৈরি করা হয়েছে।

ইরান একাধিক উৎক্ষেপণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানান হাশেমি। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে দেশটির কিছু মহাকাশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাশেমি জানান, চাবাহার স্পেস সেন্টারের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর আগে প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। কেন্দ্রটি যোগাযোগ ও রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া নাহিদ-২ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ইরানের যোগাযোগমন্ত্রী। তার দাবি, এই স্যাটেলাইটটি প্রথমবারের মতো কু-ব্যান্ড প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর উন্নয়নকাজে একজন নারী নির্বাহী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্যাটেলাইটটি টেলিযোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হবে।

হাশেমি আরও জানান, নক্ষত্রমণ্ডলে ইরানের ২৪টি স্যাটেলাইট রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি মূল স্যাটেলাইট এবং ছয়টি রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে।

চলতি বছর এসবের মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি স্যাটেলাইটগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। ছবি: মেহের নিউজ এজেন্সি
একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। ছবি: মেহের নিউজ এজেন্সি

Tuesday, September 15, 2026

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার কি ‘স্টার ওয়ার্স’ শুরু করবে দেশটি

তথ্যসূত্র:- আরটিঃ রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে, মহাকাশে তাদের অস্ত্র মোতায়েন করা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি (বাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা) ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন,‘বরাবরের মতো আজও আমরা নিশ্চিত করে বলছি, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত থাকি।’

মেইঙ্ক আরও বলেন, ‘এ কারণেই এখন স্পেস ফোর্সের কাছে কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যেটি শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম। প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে মেইঙ্ক নিজের ওই বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি শুধু জোর দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।

ট্রয় মেইঙ্কের বরাতে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে।

মেইঙ্ক বলেন, ‘শুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও আমরা আমাদের আধিপত্য বজায় রাখি, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটকেও ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব।

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে সেগুলো গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের চালু করা স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রকল্পটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।

রিগ্যানের উচ্চাভিলাষী এ কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা পরিত্যক্ত হয়। এ কর্মসূচির অধীন প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।

গত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনাকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ বলে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘গোল্ডেন ডোম’ কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।

২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া—এ চার দেশ স্যাটেলাইট–বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সফলভাবে সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। সে সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি।

স্টারশিপ রকেট
স্টারশিপ রকেট। ফাইল ছবি: রয়টার্স

Friday, September 4, 2026

মহাকাশে ছায়াযুদ্ধ: যেভাবে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এবার মহাকাশের কক্ষপথে দানা বাঁধছে এক নতুন লড়াই। একে অপরের স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ শনাক্ত করা, অনুসরণ করা, এমনকি অচল বা ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মহাকাশ যুদ্ধের এই নেপথ্য প্রস্তুতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে বেইজিংয়ের তৎপরতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। গত জুনে চীন একটি গোপন চালকবিহীন মহাকাশযান থেকে কক্ষপথে একটি ছোট স্যাটেলাইট অবমুক্ত করে। মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘লিওল্যাবস’ জানায়, ওই ছোট স্যাটেলাইটটি অন্য একটি চীনা স্যাটেলাইটকে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মূল যানে ফিরে আসে।

গবেষকরা বলছেন, চীন এমন ‘হান্টার’ বা শিকারি স্যাটেলাইট তৈরি করছে যা প্রতিপক্ষের মহাকাশযানকে অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজনে সেটিকে ধরে ফেলতে বা জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের প্রধান জেনারেল চান্স সাল্টজম্যান সতর্ক করে বলেছেন, চীনের এই স্থল ও মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র তৈরির গতি অত্যন্ত দ্রুত এবং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি ‘ব্যাপক হুমকি’।

পরাশক্তিদের গোপন প্রযুক্তির লড়াই

পিছিয়ে নেই যুক্তরাষ্ট্রও। চীনের মতো ওয়াশিংটনেরও রয়েছে ছোট শাটল আকৃতির গোপন চালকবিহীন মহাকাশযান। আধুনিক যুদ্ধে স্যাটেলাইট এখন স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ইউক্রেন কিংবা মধ্যপ্রাচ্য সব যুদ্ধেই যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য এবং নেভিগেশনের জন্য স্যাটেলাইট অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন কেবল তথ্য সংগ্রহ নয়, স্যাটেলাইটগুলোকে সক্রিয় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। লেজার দিয়ে সেন্সর অচল করা, জ্যামিং প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা কিংবা সরাসরি অন্য স্যাটেলাইট দখল করে নেওয়া, সবই এখন ভবিষ্যতের মহাকাশ যুদ্ধের অংশ। মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এভারেট ডলম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সক্ষমতা কোনোভাবে ব্যাহত হলে পৃথিবীতে দেশটির বিশাল সামরিক শক্তি পঙ্গু হয়ে পড়বে।

একাট্টা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা

মহাকাশে চীনের আধিপত্য রুখতে মিত্রদের নিয়ে জোট বাঁধছে ওয়াশিংটন। গত বছর সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য মহাকাশে তাদের প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। কলোরাডোর একটি ঘাঁটি থেকে পরিচালিত এই অভিযানে একটি মার্কিন স্যাটেলাইটকে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি ব্রিটিশ স্যাটেলাইটের খুব কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

মজার বিষয় হলো, সেই সময় তাদের নিচ দিয়েই অতিক্রম করছিল চীনের ‘শিয়ান-১২-০১’ স্যাটেলাইট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ছিল বেইজিংয়ের প্রতি একটি ‘কৌশলগত বার্তা’। এর মাধ্যমে মিত্রদেশগুলো তাদের সক্ষমতা ও ঐক্যের জানান দিয়েছে, যাতে চীন তাদের মহাকাশ সম্পদে হস্তক্ষেপ করার সাহস না পায়।

ব্যস্ত কক্ষপথ ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথ ক্রমেই জনাকীর্ণ হয়ে উঠছে। একদিকে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর ১১ হাজার স্টারলিংক স্যাটেলাইট, অন্যদিকে চীনের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা, সব মিলিয়ে মহাকাশ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতেও মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিজ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মহাকাশ এখন ভূ-রাজনীতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের নতুন ময়দান। যেখানে গোপন অভিযান আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাল্টাপাল্টি প্রদর্শনীতে ভবিষ্যতের ‘স্টার ওয়ার্স’ বা মহাকাশ যুদ্ধের সলতে পাকানো হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

মহাকাশ নজরদারিতে মার্কিন বাহিনী। ছবি: রয়টার্স
মহাকাশ নজরদারিতে মার্কিন বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

Tuesday, July 21, 2026

মহাকাশে আকারে বড় বিরল গ্রহের সন্ধান

মহাবিশ্বের অসীম অন্ধকারের গভীরে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি অচেনা গ্রহ। পৃথিবী থেকে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে থাকা তেমনই এক দানবীয় গ্রহের সন্ধান পেয়েছে নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট। নাসার তথ্যমতে, স্থান–কালের তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহটি শনাক্ত করা হয়েছে। চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট সাধারণত নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি থাকা গ্রহগুলো আবিষ্কার করে থাকে। তবে নতুন আবিষ্কৃত এই গ্রহ নিজের নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী বৃহস্পতি গ্রহের মতো দূরবর্তী কক্ষপথে ঘুরছে। নতুন গ্রহটির বিষয়ে নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডায়ানা ড্রাগোমির বলেন, ‘সার্ভে স্যাটেলাইট যখন মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, তখন কেউ ভাবেনি যে এটি কখনো এ ধরনের গ্রহ খুঁজে পেতে সক্ষম হবে। নতুন গ্রহটির ভর আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে ১ দশমিক ৬ গুণ বেশি এবং এর কক্ষপথের দূরত্বও প্রায় এক। এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে স্যাটেলাইটে ধারণ করা পুরোনো তথ্যের মধ্যে সম্ভবত আরও অনেক মাইক্রোলেনসিং গ্রহ লুকিয়ে আছে, যা গবেষকেরা আগে খোঁজার কথা ভাবেননি।’

২০২৩ সালে প্রথম গ্রহটির অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গায়া স্পেস টেলিস্কোপ। সে সময় গায়া টেলিস্কোপের অ্যালার্ট সিস্টেমে দেখা গিয়েছিল একটি নক্ষত্র হঠাৎ অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মহাকাশে যখন একটি নক্ষত্র অন্য একটি দূরবর্তী নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের মহাকর্ষ বলয়ের কারণে পেছনের নক্ষত্রের আলোকে বিবর্ধিত বা বড় করে দেখায়, তখন এ ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে গ্র্যাভিটেশনাল মাইক্রোলেনসিং বলা হয়। আর তাই পরবর্তী সময় বিজ্ঞানীরা টেস স্যাটেলাইটের আর্কাইভে থাকা পুরোনো তথ্য পরীক্ষা করে দেখেন। তাঁরা দেখতে পান টেস স্যাটেলাইটটিও একই মহাজাগতিক ঘটনা রেকর্ড করে রেখেছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, গায়া২৩ব্রা বি’ নামের গ্রহটি একটি কমলা রঙের বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্রের ভর আমাদের সূর্যের ভরের প্রায় ৮০ শতাংশ। গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। টেস স্যাটেলাইটটি সাধারণত পৃথিবীর কাছাকাছি মাত্র ১৫০ আলোকবর্ষের মধ্যে গ্রহ অনুসন্ধান করে। সে তুলনায় এই গ্রহের দূরত্ব অনেক বেশি।

সূত্র: এনডিটিভি

মহাকাশ
মহাকাশ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

Monday, July 13, 2026

মহাকাশে প্রথম সেলফি by জাহিদ হোসাইন খান

মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা কেবল বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়, মানব ইতিহাসের মাইলফলক হিসেবেও চিহ্নিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো মহাকাশে তোলা প্রথম সেলফি। এমন একসময় মহাকাশে সেলফি তোলার ঘটনা জানা যায়, যখন ‘সেলফি’ শব্দটির কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

১৯৬৬ সালের একটি আনুষ্ঠানিক ফটোগ্রাফকে কখনো কখনো মহাকাশের প্রথম সেলফি হিসেবে দাবি করা হয়। খোলা মহাকাশে কোনো মহাকাশচারীর নিজের তোলা প্রথম সেলফি ক্যামেরাবন্দী করেন কিংবদন্তী নভোচারী এডউইন ই বাজ অলড্রিন জুনিয়র। সেই ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল জেমিনি-১২ মহাকাশ অভিযানে। মহাকাশযানের ডকিং কৌশল পরীক্ষা করার লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ১১ নভেম্বর সেই মিশন উৎক্ষেপণ করা হয়। অভিযানের কমান্ডার ছিলেন জেমস এ লভেল জুনিয়র ও পাইলট ছিলেন বাজ অলড্রিন।

১৯৬৬ সালের ১৩ নভেম্বর অলড্রিন তার তিনটি স্পেসওয়াকের মধ্যে দ্বিতীয়টি শুরু করেন। এটি ছিল একটি ২ ঘণ্টা ৬ মিনিটের তারযুক্ত টিথারড স্পেসওয়াক। এই স্পেসওয়াক চলাকালীন তাঁর মূল কাজ ছিল দৃশ্যমান তারকাক্ষেত্রের ছবি তোলা। কাজের ফাঁকেই অলড্রিন একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেন। তিনি স্পেসস্যুটে থাকা অবস্থায় নিজের একটি ছবি তোলেন। সেই ছবিকেই বলা হয় পৃথিবীর বাইরের প্রথম সেলফি। ছবিতে বাজ অলড্রিনকে মহাকাশের গভীর পটভূমিতে তার স্পেসস্যুট এবং হেলমেটের সম্মুখ অংশসহ দেখা যায়। যদিও ছবিতে মহাকাশযানের কিছু অংশ ও পৃথিবীকে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।

পরবর্তী সময়ে অ্যাপোলো–১১ অভিযানে চন্দ্রভ্রমণ করেন নভোচারী বাজ অলড্রিন। তিনি জানান, তাঁর ঝুলিতে একটি প্রথম কীর্তি রয়েছে। বাজ অলড্রিনের সেই ছবি ১৯৬৬ সালের জেমিনি–১২ অভিযানে দিনের বেলায় তোলা হয়। তিনি একটি আলট্রাভায়োলেট (ইউভি) ক্যামেরা ব্যবহার করছিলেন ছবি তোলার সময়। ছবিতে অলড্রিনকে দেখা যায় তাঁর ব্যবহৃত ইউভি ক্যামেরার পাশে। সেই ক্যামেরা যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নভোচারী কার্ল হেনাইজের মস্তিষ্কপ্রসূত যন্ত্র ছিল। আলট্রাভায়োলেট বিকিরণ তারা শোষিত ও নির্গত বিভিন্ন ধরনের বিকিরণের মধ্যে একটি। ইউভি বিকিরণ ভিন্ন একধরনের রঙের পরিসর, যা আমরা দেখতে পাই না।

জেমিনি ১২ যানে ব্যবহৃত ইউভি ক্যামেরা দেখতে সাধারণ ক্যামেরার মতোই ছিল। সেখানে একটি বিশেষ ইউভি লেন্স ও ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, যেন ক্যামেরায় পৌঁছানো ইউভি রশ্মি ছাড়া অন্য সব বিকিরণ ফিল্টার হয়ে যায়। এই ইউভি রশ্মিকে একটি প্রিজমের মাধ্যমে পাঠানো হয়, যেন আলট্রাভায়োলেট আলোর বর্ণালি তৈরি হয়। মিশনে ব্যবহৃত আসল ক্যামেরাটি বর্তমানে স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের সংগ্রহে রয়েছে।

সূত্র: অ্যামেচার ফটোগ্রাফার

মহাকাশে স্পেসওয়াকের সময় প্রথম সেলফি তোলেন বাজ অলড্রিন
মহাকাশে স্পেসওয়াকের সময় প্রথম সেলফি তোলেন বাজ অলড্রিন। ছবি: সংগৃহীত

Wednesday, July 1, 2026

চাঁদে ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করছে নাসা

মাত্র কয়েক মাস আগে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা চাঁদে ঘাঁটি (মুন বেজ) গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তাদের প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণযান, রোভার, ছোট চন্দ্রযান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে একটি বিস্তারিত কৌশল নির্ধারণ করছে নাসা।

গত মঙ্গলবার নাসা ঘোষণা দিয়েছে, তারা অ্যাস্ট্রোবোটিক, ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস, ইনটুইটিভ মেশিনস নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫৯ কোটি ডলার দেবে। এই অর্থের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো চারটি মিশনের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল চাঁদে পৌঁছে দেবে। এর মধ্যে অ্যাস্ট্রোবোটিকই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা দুটি মিশনের দায়িত্ব পেয়েছে।

নাসা আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, মঙ্গলে অভিযান চালানো ‘প্রমিজ’ নামের রোভারকে ভবিষ্যতে চাঁদে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার কথাও ভাবা হচ্ছে।

এসব উদ্যোগ একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর লক্ষ্য হলো, রোবটচালিত যানবাহনের মাধ্যমে চাঁদে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা, যেন ভবিষ্যতে মানব মহাকাশচারীরা চাঁদে গেলে এই অবকাঠামোকে তাঁদের কাজ ও বসবাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

গতকাল মঙ্গলবার নাসাঘোষিত চুক্তিগুলো মূলত চাঁদে একটি স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। সেখানে ভবিষ্যতে মহাকাশচারীরা বসবাস ও কাজ করবেন। নাসার চন্দ্রঘাঁটি কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস গার্সিয়া গালান এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপকে ‘ফেজ–১’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই ধাপ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার।

গত মাসে নাসা এই কর্মসূচির প্রথম ধাপের আওতায় আরও কয়েকটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে চাঁদে প্রথম চাপ-নিয়ন্ত্রিত আবাস নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা আছে। এর মাধ্যমে ২০৩০-এর দশকে ধাপে ধাপে চন্দ্রঘাঁটি সম্প্রসারণে নাসার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নাসার আশা, মহাকাশচারীরা চাঁদে ‘আধা স্থায়ী’ বসতিতে বসবাস ও কাজ করতে পারবেন।

মহাকাশ অভিযানের প্রতিযোগিতায় চীনকে টেক্কা দিতে নাসার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে চীনের মহাকাশ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বারবার সতর্ক করে আসছেন, মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের দ্রুত অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

বাধা মোকাবিলা

এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে নাসাকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

জেফ বেজোসের মালিকানাধীন মহাকাশযান প্রস্তুতকারী সংস্থা ব্লু অরিজিন চলতি বছরের শেষ দিকে তাদের বিশাল রোবোটিক অবতরণযান ব্লু মুনের একটি প্রোটোটাইপ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। চাঁদের দক্ষিণ প্রান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কারণ, সেখানে প্রাকৃতিকভাবে জমাট হওয়া বরফের মজুত থাকার সম্ভাবনা আছে। এই বরফ থেকে ভবিষ্যতে রকেটের জ্বালানি বা পানযোগ্য পানি উৎপাদন করা যেতে পারে।

তবে মে মাসে ব্লু অরিজিন বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তখন তাদের নিউ গ্লেন রকেটটি উৎক্ষেপণ স্থলেই হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়, যা পুনর্নির্মাণ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে ব্লু মুন মিশনের উৎক্ষেপণ কতটা পিছিয়ে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মঙ্গলবার নাসার চন্দ্রঘাঁটি কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস গার্সিয়া গালান ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ব্লু মুন অবতরণযানকে অন্য কোনো উৎক্ষেপণযানে করে পাঠানো হতে পারে। তিনি বলেন, ব্লু অরিজিনের রকেট ও উৎক্ষেপণকেন্দ্রের কাজ যদি নাসার নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে সংস্থাটি ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ বিবেচনা করছে।

এদিকে নিউ গ্লেন দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজাকম্যান স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো বাধা বা সমস্যা দেখা দিলে নাসা তাদের বেসরকারি সহযোগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

৩০০০ কোটি ডলারের প্রশ্ন

ব্লু অরিজিন নাসার একমাত্র অংশীদার নয়। তবে তাদের ব্লু মুন অবতরণযান বেশির ভাগ রোবোটিক মহাকাশযানের তুলনায় অনেক বড়। এটি দুটি সংস্করণে তৈরি হওয়ার কথা, যার একটি মহাকাশচারী বহনের উপযোগী হবে। অপর দিকে মহাকাশযান প্রস্তুতকারী আরেক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স চাঁদে মহাকাশচারী পরিবহনের জন্য তাদের স্টারশিপ রকেট তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য, বিশাল এই যান এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি।

চাঁদের পৃষ্ঠে মালামাল পৌঁছে দিতে নাসার হাতে আরও কয়েকটি বিকল্প আছে। টেক্সাসভিত্তিক ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা পুরোপুরি সফলভাবে একটি চন্দ্রাভিযান সম্পন্ন করেছে। তাদের ব্লু গোস্ট যানটি গত বছর চাঁদের বিষুবীয় অঞ্চলের কাছে সফলভাবে অবতরণ করেছিল।

আর টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনটুইটিভ মেশিনস দুবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবতরণযান পাঠাতে সক্ষম হলেও উভয় ক্ষেত্রেই যানগুলো অবতরণের পর কাত হয়ে পড়েছিল।

নাসার হিসাব অনুযায়ী, চন্দ্রঘাঁটি নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।

এই চন্দ্রঘাঁটি নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন পর্যন্ত এ কর্মসূচির পেছনে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে একটি মনুষ্যবিহীন অভিযান এবং এপ্রিল মাসে চাঁদের চারপাশে ঐতিহাসিক মনুষ্যবাহী অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।

পাঁচ দশকের বেশি সময় পর নাসা এখন আবার মানুষকে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে সেখানে একটি স্থায়ী বসতি গড়ে তোলাও তাদের লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে নাসার সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মুন বেজ’ উদ্যোগের হালনাগাদ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ সময় ব্লু অরিজিন, লুনার আউটপোস্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি নতুন চন্দ্রঘাঁটি প্রকল্পের মডেল প্রদর্শন করে নাসা। ২৬ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে নাসার সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মুন বেজ’ উদ্যোগের হালনাগাদ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ সময় ব্লু অরিজিন, লুনার আউটপোস্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি নতুন চন্দ্রঘাঁটি প্রকল্পের মডেল প্রদর্শন করে নাসা। ২৬ মে, ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

Wednesday, June 10, 2026

চাঁদে অভিযানের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন মাস্ক ও বেজোস, চীনকে কি টেক্কা দিতে পারবেন

প্রকাশ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের পাল্লা দিয়ে মহাকাশসংক্রান্ত গবেষণার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স চাঁদে একটি চন্দ্রঘাঁটি তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। আরেক ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন সংস্থা ব্লু অরিজিন তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য জোরেশোরে তৎপরতা চালাচ্ছে।

২০৩০ সালে চীনের পরিকল্পিত চন্দ্রাভিযানের আগেই চাঁদে মানুষ পাঠানোর নিজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে মার্কিন এই দুই মহাকাশ সংস্থা।

ইলন মাস্ক সাম্প্রতিক পডকাস্ট সাক্ষাৎকার ও কোম্পানির বৈঠকে বলেন, তিনি চাঁদে ‘মুনবেজ আলফা’ নামে একটি ঘাঁটি গড়তে চান।

পাশাপাশি চাঁদের পৃষ্ঠে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণযন্ত্র বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ইলন মাস্কের। এই ঘাঁটি তাঁর পরিকল্পিত এআইভিত্তিক কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ওই নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ১০ লাখ পর্যন্ত স্যাটেলাইট যুক্ত থাকতে পারে।

চাঁদমুখী এই জোরালো পরিকল্পনা স্পেসএক্সের মঙ্গল গ্রহমুখী লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০০২ সালে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাস্ক নিয়মিতভাবে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্নের কথা বলে আসছিলেন। এমনকি গত গ্রীষ্মেও তিনি বলেছিলেন, মঙ্গলে মনুষ্যবিহীন একটি স্টারশিপ মহাকাশযান পাঠাতে চান।

অথচ ইলন মাস্ক এখন বিনিয়োগকারীদের বোঝাতে চাইছেন, স্পেসএক্স মহাকাশ খাতে আধিপত্য বজায় রাখবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিনও তাদের চন্দ্রাভিযানসংক্রান্ত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা চলতি বছর চন্দ্রপৃষ্ঠে মনুষ্যবিহীন যান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

চলতি বছর ব্লু অরিজিন চাঁদে মনুষ্যবিহীন নভোযান পাঠানোর যে পরিকল্পনা করছে, সেটিকে ভবিষ্যতে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নাসার ওই কর্মসূচি পরিচালনায় স্পেসএক্সের স্টারশিপ মহাকাশযানের ওপরও ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হচ্ছে। সিয়াটলভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের চন্দ্রযানটিকে গত সপ্তাহে জনসন মহাকাশ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উৎক্ষেপণের আগে চন্দ্রযানটি ঠিকঠাক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্স—দুটি প্রতিষ্ঠানই নাসার কোটি কোটি ডলারের অর্থায়নে চন্দ্রাভিযানের জন্য অবতরণ যান তৈরি করছে। নাসা এসব যান ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে চাঁদে নভোচারী পাঠাতে চায়, যার শুরু হবে স্পেসএক্সের স্টারশিপ দিয়ে।

প্রথম ১৯৬৯ সালে সফলভাবে চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছিল নাসা। এরপর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তাদের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ১২ মার্কিন নভোচারী চাঁদের মাটিতে হেঁটেছিলেন।

নাসা মনে করে, আবার চাঁদে অভিযান চালানোটা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে।

ইলন মাস্ক সম্প্রতি বলেন, তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে চাঁদে একটি অবস্থান কেন্দ্র গড়তে চান এবং সেখান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চান।

মহাকাশবিষয়ক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রোকিউরএএমের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু চানিন মনে করেন, চাঁদ যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথের সূচনা কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং স্পেসএক্স আগেভাগে সেখানে অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তবে সেই অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহৃত হবে না হবে, তা ঠিক করতে তাদের অগ্রাধিকার থাকবে।

স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ যান স্টারশিপ রকেট এখনো কক্ষপথে কোনো কিছু স্থাপন করতে পারেনি। ২০২৩ সাল থেকে এটিকে ১১ বার উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরেকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে। রকেটটির ওপরের ধাপটি চাঁদে অবতরণ যান হিসেবে কাজ করবে। ২০২৮ সালে চাঁদে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মহাকাশশিল্পে জড়িত অনেকের ধারণা, এই সময়সীমা পূরণ করা কঠিন হবে।

স্টারশিপকে চাঁদে অবতরণের যান হিসেবে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে স্পেসএক্সকে আরও অনেক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—কক্ষপথে আরেকটি ‘ট্যাংকার’ স্টারশিপের মাধ্যমে জ্বালানি ভরার পদ্ধতি অনুশীলন এবং মানুষের যাত্রার আগে চাঁদের অসমতল পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতা প্রমাণ করা।

টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারশিপ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তদারকের দায়িত্বে থাকা ক্যাথি লুয়েডারস বলেন, স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে চাঁদের দিকে মাস্কের মনোযোগের বিষয়টি নাসাকে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সাহায্য করছে।

একসময় নাসায় কাজ করা লুয়েডারস বর্তমানে একজন শিল্পবিষয়ক স্বাধীন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন।

মাস্ক ও বেজোসের মধ্যকার প্রতিযোগিতার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্রাভিযানে জড়িত নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

লুনার আউটপোস্ট নামের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন সাইরাস বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে ২০ বিনিয়োগকারী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।’

সাইরাসের প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে চাঁদে অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে একটি রোভারকে চন্দ্রপৃষ্ঠে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরে চাঁদকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আর ইলনের (মাস্ক) ঘোষণায় বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-02-14%2F7tw6pvqc%2FMoon-1.jpg?rect=1%2C0%2C1119%2C746&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে আয়োজিত এক নৈশভোজে জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক ও ইভাঙ্কা ট্রাম্প। ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

Wednesday, April 1, 2026

মহাকাশ গবেষণা: চাঁদে অভিযানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইলন মাস্ক ও বেজোস

যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের পাল্লা দিয়ে মহাকাশসংক্রান্ত গবেষণার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স চন্দ্রপৃষ্ঠে একটি চন্দ্রঘাঁটি তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। আর আরেক ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন সংস্থা ব্লু অরিজিন তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য জোরেশোরে তৎপরতা চালাচ্ছে। ২০৩০ সালে চীনের পরিকল্পিত চন্দ্রাভিযানের আগেই চাঁদে মানুষ পাঠানোর নিজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে সংস্থা দুটি।

ইলন মাস্ক সাম্প্রতিক পডকাস্ট সাক্ষাৎকার ও কোম্পানির বৈঠকে বলেছেন, তিনি চাঁদে ‘মুনবেজ আলফা’ নামে একটি ঘাঁটি গড়তে চান। পাশাপাশি চাঁদের পৃষ্ঠে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণযন্ত্র বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এই ঘাঁটি তাঁর পরিকল্পিত এআইভিত্তিক কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ওই নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ১০ লাখ পর্যন্ত স্যাটেলাইট যুক্ত থাকতে পারে।

চাঁদমুখী এই জোরালো পরিকল্পনা স্পেসএক্সের মঙ্গল গ্রহমুখী লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০০২ সালে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাস্ক নিয়মিতভাবে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্নের কথা বলে আসছিলেন। এমনকি গত গ্রীষ্মেও তিনি বলেছিলেন, মঙ্গলে মনুষ্যবিহীন একটি স্টারশিপ মহাকাশযান পাঠাতে চান। অথচ ইলন মাস্ক এখন বিনিয়োগকারীদের বোঝাতে চাইছেন যে স্পেসএক্স মহাকাশ খাতে আধিপত্য বজায় রাখবে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিনও তাদের চন্দ্রাভিযান–সংক্রান্ত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা চলতি বছর চন্দ্রপৃষ্ঠে মনুষ্যবিহীন যান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

চলতি বছর ব্লু অরিজিন চাঁদে মনুষ্যবিহীন নভোযান পাঠানোর যে পরিকল্পনা করছে, সেটিকে ভবিষ্যতে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাসার ওই কর্মসূচি পরিচালনায় স্পেসএক্স–এর স্টারশিপ মহাকাশযানের ওপরও ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হচ্ছে। সিয়াটলভিত্তিক এই কোম্পানির চন্দ্রযানটিকে গত সপ্তাহে জনসন মহাকাশ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উৎক্ষেপণের আগে চন্দ্রযানটি ঠিকঠাক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্স—দুটি কোম্পানিই নাসার কোটি কোটি ডলারের অর্থায়নে চন্দ্রাভিযানের জন্য অবতরণ যান তৈরি করছে। নাসা এসব যান ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে নভোচারী চাঁদে পাঠাতে চায়, যার শুরু হবে স্পেসএক্সের স্টারশিপ দিয়ে।

প্রথম ১৯৬৯ সালে সফলভাবে চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছিল নাসা। এরপর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তাদের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ১২ জন মার্কিন নভোচারী চাঁদের মাটিতে হেঁটেছিলেন।

নাসা মনে করে, আবার চাঁদে অভিযান চালানোটা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে।

এদিকে ইলন মাস্ক সম্প্রতি বলেছেন, তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে চাঁদে একটি অবস্থান কেন্দ্র গড়তে চান এবং সেখান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চান।

মহাকাশবিষয়ক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রোকিউরএএম–এর প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু চানিন মনে করেন, চাঁদ যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথের সূচনাকেন্দ্রে পরিণত হয় এবং স্পেসএক্স আগেভাগে সেখানে অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তবে সেই অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহৃত হবে না হবে, তা ঠিক করতে তাদের অগ্রাধিকার থাকবে।

স্পেসএক্স–এর উৎক্ষেপণ যান স্টারশিপ রকেট এখনো কক্ষপথে কোনো কিছু স্থাপন করতে পারেনি। ২০২৩ সাল থেকে এটিকে ১১ বার উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরেকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে। রকেটটির ওপরের ধাপটি চাঁদে অবতরণ যান হিসেবে কাজ করবে। ২০২৮ সালে চাঁদে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মহাকাশ শিল্পে জড়িত অনেকের ধারণা, এই সময়সীমা পূরণ করা কঠিন হবে।

স্টারশিপকে চাঁদে অবতরণের যান হিসেবে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে স্পেসএক্সকে আরও অনেকগুলো ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কক্ষপথে আরেকটি ‘ট্যাংকার’ স্টারশিপের মাধ্যমে জ্বালানি ভরার পদ্ধতি অনুশীলন এবং মানুষের যাত্রার আগে চাঁদের অসমতল পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতা প্রমাণ করা।

মাস্ক ও বেজোসের মধ্যকার প্রতিযোগিতার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্রাভিযানে জড়িত নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। লুনার আউটপোস্ট নামের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন সাইরাস বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে ২০ জন বিনিয়োগকারী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।’

সাইরাসের কোম্পানি ভবিষ্যতে চাঁদে অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে একটি রোভারকে চন্দ্রপৃষ্ঠে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই বছরে চাঁদকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আর ইলনের (মাস্ক) ঘোষণায় বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোস
ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোস

Sunday, January 25, 2026

অবসরে গেলেন মার্কিন মহাকাশচারী সুনিতা

নাসার অভিজ্ঞ মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস অবসরে গেছেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবন শেষে এখন তিনি অবসরপ্রাপ্ত। তবে জীবনের বাকিটা সময় পার করতে তাকে অর্থ-কড়ি নিয়ে ভাবতে হবে না। মোটা অংকের পেনশন পেতে যাচ্ছেন সুনিতা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে তার অবসর কার্যকর হয়েছে। তিনি মহাকাশে ৬০৮ দিন কাটিয়েছেন। যা নাসার মহাকাশচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তিনটি অভিযান, একাধিক মানব মহাকাশ ভ্রমণের রেকর্ড তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সুনিতা ৯টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে মহাকাশযানের বাইরে তিনি মোট ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট সময় কাটিয়েছেন। এটি যেকোনো নারী মহাকাশচারীর জন্য সর্বোচ্চ এবং নাসার ইতিহাসে সামগ্রিকভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ।

এদিকে সুনিতার পেনশনের পরিমাণ নিয়ে জল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, মোটা অংকের অর্থ পেতে যাচ্ছেন তিনি। অবশ্য মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক অঙ্কটি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বার্ষিক প্রায় ৪৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার ফেডারেল সরকার থেকে পেনশন পেতে পারেন। নাসায় তার ২৭ বছরের কর্মজীবনের সঙ্গে ইউএস নেভি ক্যাপ্টেন হিসেবে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতাও যুক্ত করা হয়েছে। সে হিসেবেও তার পেনশনের পরিমাণ বাড়বে। 

ছবি : সংগৃহীত
সুনিতা উইলিয়ামস

Friday, December 5, 2025

মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতে জ্বলজ্বল করছে পবিত্র কাবা

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারী ডন পেটিটের মহাকাশ থেকে তোলা একটি চমকপ্রদ ছবি ইন্টারনেটে আলোড়ন তুলেছে। রাতের বেলা মহাকাশ থেকে তোলা ওই ছবিতে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগর ঝলমল করছে।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উঁচুতে মহাকাশ থেকে ওই ছবি তোলা হয়েছে। ছবিতে ঝলমলে মক্কা নগরের বুকে একটি উজ্জ্বল সাদা রঙের আলোর গোলক দেখা যাচ্ছে। সেটি মক্কার বুকে অবস্থিত পবিত্র কাবা বলেই উল্লেখ করেছেন ডন পেটিট।

ডন পেটিট তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে ছবিটি পোস্ট করেন ২ ডিসেম্বর। এতে তিনি লিখেছেন, মহাকাশের কক্ষপথ (অরবিট) থেকে তোলা ছবিতে সৌদি আরবের মক্কা। মাঝখানের উজ্জ্বল ছোট্ট এলাকাটি কাবা শরিফ, ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র স্থান, যা মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান।

ছবিতে মক্কা নগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ি উপত্যকায় অবস্থিত মক্কার কেন্দ্রে রয়েছে গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম)। লাখ লাখ এলইডি ও সোডিয়াম লাইটের কারণে রাতের বেলা মহাকাশ থেকে মক্কা নগর ঝলমলে দেখায়।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা পবিত্র শহর মক্কায় এ ‘দিব্য আলো’র দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছেন।

একজন লিখেছেন, ‘মহাকাশ থেকে দেখা কাবার আলো একেবারেই আলাদা, যেন রাতের বেলা পৃথিবীর নিজস্ব চিরন্তন আলোয় তার আত্মা জ্বলজ্বল করছে। দিব্য জ্যোতি।’

এই ছবি তোলা ও সবাইকে তা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অনেকে নভোচারী ডন পেটিটকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

পেটিট একজন দক্ষ ‘অ্যাস্ট্রো ফটোগ্রাফার’ ও রসায়ন প্রকৌশলী। মহাকাশ থেকে ছবি তোলার প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো এমন শিল্পকর্মে রূপান্তর করার জন্য তাঁর জগৎজোড়া খ্যাতি রয়েছে।

মহাকাশ থেকে পেটিটের তোলা বিখ্যাত কয়েকটি ছবির মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর মেঘমালার ওপরে চমকপ্রদ নক্ষত্রপথ (স্টার ট্রেইল), মহাদেশীয় চিরহরিৎ বনের ওপর নাটকীয় বজ্রঝড়, মেরু অঞ্চলজুড়ে নৃত্যরত উত্তরীয় আলো (অরোরা)।

নাসার নভোচারী ডন পেটিট তাঁর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে ২ ডিসেম্বর এই ছবি পোস্ট করেন
নাসার নভোচারী ডন পেটিট তাঁর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে ২ ডিসেম্বর এই ছবি পোস্ট করেন। ছবি: ডন পেটিট

Wednesday, November 26, 2025

মহাকাশের প্রথম জরুরি মিশনে সফল চীন

প্রথম জরুরি মহাকাশ উৎক্ষেপণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে চীন। এ মাসের শুরুতে কক্ষপথে একটি মহাকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ক্রু যুক্ত স্পেস স্টেশনে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এই সফলতা পেলো দেশটি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে লং মার্চ-২এফ রকেটে চড়ে মানববিহীন শেনঝো-২২ মহাকাশযান আকাশে উড়াল দেয়। উৎক্ষেপণের পর যানটি সফলভাবে রকেট থেকে পৃথক হয়ে নির্ধারিত কক্ষপথে প্রবেশ করে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, রকেটটি আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে মহাকাশের দিকে ছুটে যাচ্ছে। আর যানটি কক্ষপথে প্রবেশ করার সময় পৃথিবীর পটভূমি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সিসিটিভির তথ্যমতে, তিয়ানগং স্পেস স্টেশনে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সফলভাবে নোঙর করে শেনঝো-২২। যানটিতে চড়ে এ মাসের শুরুতে চীনা তিন নভোচারীকে ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু এর রিটার্ন ক্যাপসুলের জানালায় ফাটল দেখা দেওয়ায় তা বাতিল করা হয়।

২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে শেনঝো মিশনের মাধ্যমে চীন ছয় মাস মেয়াদি অভিযানে নভোচারীদের তিয়ানগংয়ে পাঠাচ্ছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সবসময় একটি ব্যাকআপ রকেট ও শেনঝো মহাকাশযান প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক। সিএমএসএ জানিয়েছে, জিউকুয়ানে পূর্বেই রকেট ও শেনঝো-২২ প্রস্তুত থাকায় মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে জরুরি উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। যেখানে সাধারণত একটি শেনঝো মিশনের প্রস্তুতিতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ ইতিহাসে গত বছর নাসার দুই নভোচারী বোয়িং স্টারলাইনারের ত্রুটির কারণে মাত্র এক সপ্তাহ থাকার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আটকে ছিলেন নয় মাস। পরবর্তীতে নানা বিলম্বের পর তারা স্পেসএক্স ক্যাপসুলে করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। ২০২১ সাল থেকে মহাকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বা তার আগেই চাঁদে নভোচারী পাঠানো।

mzamin

Wednesday, November 19, 2025

মঙ্গলের উদ্দেশে বেজোসের ব্লু অরিজিনের সফল রকেট উৎক্ষেপণ

বহুজাতিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন তাদের শক্তিশালী নিউ গ্লেন রকেটের বাণিজ্যিক উদ্বোধনী মিশনে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ করেছে। নাসা এ রকেট দুটিকে মঙ্গল অভিযানে পাঠিয়েছে। প্রথমবারের মতো সাগরে ভাসমান বার্জে রকেটের বুস্টারটি নিখুঁতভাবে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, বৈরী আবহাওয়ার ফলে উৎক্ষেপণ কার্যক্রম বিলম্ব হয়।  পরে বৃহস্পতিবার বিকেলের স্বচ্ছ আকাশে সাতটি বিই-৪ ইঞ্জিন জ্বলে উঠতেই রকেটটি প্রচণ্ড শব্দ ও ধোঁয়ার বিস্ফোরণে আকাশে উঠে যায়। প্রায় ১০ মিনিট পর প্রথম ধাপের বিশালতম বুস্টারটি ‘জ্যাকলিন’ নামের বার্জে নিখুঁতভাবে অবতরণ করে। যা ব্লু অরিজিনের পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

এদিন নাসার যমজ স্যাটেলাইট এসক্যাপক পিএডিই-কেও কক্ষপথে পাঠানো হয়, যা ব্লু অরিজিনের মাধ্যমে নাসার প্রথম বৈজ্ঞানিক পেলোড পরিবহন। রকেটের উপরের ধাপ উৎক্ষেপণের প্রায় ২০ মিনিট পরই স্যাটেলাইট মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ব্লু অরিজিনের প্রধান নির্বাহী ডেভ লিম্প বলেন, আজ আমরা মিশন পূর্ণ করেছি এবং এতে সাফল্য অর্জন করেছি। দলকে নিয়ে আমি গর্বিত। এমন সাফল্যে প্রতিদ্বন্দ্বী ইলন মাস্কও অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম  এক্সের বার্তায় তিনি লেখেন, অভিনন্দন জেফ বেজোস এবং ব্লু অরিজিন দল!

এসক্যাপক পিএডিই-এর দুটি স্যাটেলাইট- ব্লু এবং গোল্ড আগামী ২২ মাসের যাত্রা শেষে ২০২৭ সালে মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করবে। এরপর ১১ মাস ধরে তারা সৌর বাতাস ও ওই গ্রহের দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়া এবং মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ক্ষয় হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করবে।

স্যাটেলাইট দুটি ক্যালিফোর্নিয়ার রকেট ল্যাব নির্মাণ করেছে এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া। রকেটে আরও ছিল উপগ্রহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভায়াস্যাটের একটি সেকেন্ডারি পেলোড। যা পৃথিবীর উপরে কক্ষপথে টেলেমেট্রি ডেটা রিলে প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সেটিকেও সফল ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্লু অরিজিন বহু বছর ধরে নিউ গ্লেনকে তাদের ভবিষ্যতের কর্মযান হিসেবে গড়ে তুলছে। জন গ্লেনের নামে নামকরণ করা এই ভারী রকেটটি স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর দ্বিগুণ থ্রাস্ট উৎপাদন করতে সক্ষম এবং ফ্যালকনের ভারী যান সমপরিমাণ শক্তি দেওয়ার পাশাপাশি বেশি কার্গো বহনের সুবিধা রাখে।

নাসা এসক্যাপক পিএডিই মিশনের জন্য প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং নিউ গ্লেন উৎক্ষেপণের জন্য ব্লু অরিজিনকে ১৮ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। ব্লু অরিজিন এর আগে প্রধানত তাদের নিউ শেফার্ড সাবঅরবিটাল রকেট দিয়ে মহাকাশ পর্যটন পরিচালনা করত। এখন তারা কক্ষপথে পে-লোড পরিবহন, নাসার আর্টেমিস মিশনের জন্য চন্দ্র অবতরণযান এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের মতো বৃহত্তর প্রকল্পে জোর দিচ্ছে।

তবে স্পেসএক্সের তুলনায় ব্লু অরিজিনের এখনো অনেক দূর যেতে হবে। গত দুই বছরে স্পেসএক্স প্রায় ২৮০টি ফ্যালকন রকেট মিশন সম্পন্ন করেছে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্টারশিপ রকেট নিয়ে আরও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

mzamin

Wednesday, August 13, 2025

প্রশান্ত মহাসাগরে চার মহাকাশচারীর সফল অবতরণ

পাঁচ মাসের সফল মিশন শেষে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন চার মহাকাশচারী। শনিবার স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে প্যারাশুটের মাধ্যমে অবতরণ করে। তাদেরকে স্বাগতম জানিয়েছে মিশন কন্ট্রোল। বলা হয়, বাড়িতে স্বাগতম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, ফিরে আসা মহাকাশচারীরা হলেন- নাসার অ্যানে ম্যাকক্লেইন ও নিকোল আয়ার্স, জাপানের তাকুয়া ওনিশি এবং রাশিয়ার কিরিল পেস্কভ। তারা মার্চে বোয়িংয়ের স্টারলাইনারের আটকে পড়া পরীক্ষামূলক মিশনের পরিবর্তে মহাকাশে পাঠানো হয়।

স্টারলাইনারের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন ত্রুটির কারণে মহাকাশে আটকে পড়েন নাসার মহাকাশচারী বুচ উইলমোর ও সুনি উইলিয়ামস। এক সপ্তাহের পরিকল্পিত যাত্রা গড়িয়ে যায় নয় মাসে। পরে নিরাপত্তার কারণে নাসা সিদ্ধান্ত নেয়, ক্যাপসুলটি খালি অবস্থায় ফেরানো হবে এবং উক্ত দুই মহাকাশচারীকে স্পেসএক্সের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হবে।

বিদায়ের আগে আইএসএস থেকে অ্যানে ম্যাকক্লেইন বলেন, পৃথিবীতে এখন ঝড়ো মুহূর্ত চলছে, মানুষ সংগ্রাম করছে। আমরা চাই এই মিশন হোক একতা ও সহযোগিতার উদাহরণ। তিনি জানান, ফিরে গিয়ে তিনি হিউস্টনে কয়েকদিন বিশ্রামে কাটাতে চান। অপর সদস্যদের আকাক্সক্ষা ছিল গরম শাওয়ার আর এক থালা রসালো বার্গার।

এটি ছিল স্পেসএক্সের মানুষসহ তৃতীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অবতরণ। যা নাসার মহাকাশচারীদের জন্য গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম। ১৯৭৫ সালের অ্যাপোলো-সয়ুজ মিশনের পর এই প্রথমবার কোনো নাসা দল প্রশান্ত মহাসাগরে ফিরল। স্পেসএক্স এই বছর ক্যাপসুল অবতরণের স্থান ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থানান্তর করে, যাতে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

mzamin

Wednesday, March 19, 2025

অবসান হচ্ছে শ্বাসরুদ্ধকর সময়ের, পৃথিবীতে ফিরছেন দুই বিজ্ঞানী

প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। অবশেষে বাড়ি ফিরছেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ৯ মাস আটকে পড়া নভোচারীরা। তারা হলেন নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ও ব্যারি বুচ উইলমোর। তাদের সঙ্গে আছেন গত সেপ্টেম্বরে আটকে পড়া আরও দু’বিজ্ঞানী নাসার নিক হেগ ও রাশিয়ার আলেকজান্দর গরবুনভ। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ১১ টা ৫ মিনিটে ইলোন মাস্কের স্পেসএক্সের তৈরি ড্রাগন মহাকাশ যানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ছাড়েন উইলিয়ামস ও উইলমোর। একই দিন বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত ৩টা এবং ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে পৃথিবীতে তাদের অবতরণ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে তারা ১৭ ঘন্টার সফর করবেন পৃথিবীর দিকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। যাত্রা শুরু করার পর ড্রাগন নামের ওই মহাকাশযানের কমান্ডার নিক হেগ বলেন, ক্রু নাইন ঘরে ফিরছে। ক্রু নাইনের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, মহাকাশে বসবাস করা ও কাজ করা ছিলো সৌভাগ্যের বিষয়।

স্টেশনে থাকা সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জানি আইএসএস খুব দুর্দান্ত মানুষের হাতে আছে। বলেন, সেখানে তোমাদের পরবর্তী কার্যকলাপ দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করবো। উল্লেখ্য, ওই মিশনের প্রতিটি মুহূর্ত সরাসরি সম্প্রচার করে নাসা। এদিকে পৃথিবীতে ফিরে আসার পূর্ব মুহূর্তে খুশিতে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ফ্লাইং কিস বা ‘চুমু’ দেন উইলিয়ামস ও উইলমোর। তাদেরকে পৃথিবীতে অবতরণে সকল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। এসবের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে স্পেস স্যুটগুলো। তাতে কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি। এছাড়া মহাকাশযান অবতরণের আগে আকাশ পরিষ্কার থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পৃথিবীতে অবতরণের পর ওই দুই মহাকাশচারী হাঁটার মতো অবস্থায় থাকবেন না। নিশ্চিতভাবে তাদেরকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

২০২৪ সালের ৫ই জুন আন্তর্জাতিক স্টেশনে ৮ দিন থাকতে হবে এই উদ্দেশে স্টারলাইনার মহাকাশযানে যাত্রা করেন উইলিয়াম ও উইলমোর। তবে টেকনিক্যাল ইস্যুর কারণে ওই দুই ক্রু’কে মহাকাশে রেখেই ফিরে আসতে বাধ্য হয় স্টারলাইনার। এদিকে তাদের দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলন মাস্ক ওই নভোচারীদের দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকার কারণ হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন। তারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে নভোচারীদের মহাকাশ থেকে ফেরত আনতে দীর্ঘসূত্রতা করেন বাইডেন। ফেব্রুয়ারিতে জো রোগানের এক পডকাস্টে মাস্ক বলেন,  তিনি আট মাস আগেই ওই নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে বাইডেন প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দেন। তবে তারা তা প্রত্যাখান করে। কারণ এতে করে নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফুটে উঠার সম্ভাবনা ছিলো। যা ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের নির্বাচনে জয়ের পথে অন্তরায় হতে পারতো।

mzamin

Tuesday, February 25, 2025

গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের

গ্রহাণু থেকে বাণিজ্যিকভাবে খনিজ আহরণের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মহাকাশ বিষয়ক বেসরকারি একটি কোম্পানি। এ সপ্তাহের শেষের দিকে একটি গ্রহাণু থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খনিজ সন্ধান করাই ওই কোম্পানির লক্ষ্য। এতে ব্যবহার করা হবে রোবটচালিত ক্ষুদ্র যান ‘ওডিন’। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমস। এতে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত অ্যাসট্রোফর্জ নামের কোম্পানিটি পৃথিবীর কক্ষপথে আগেই  একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছে। তা পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে সেই মহাকাশ যান।পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানকারী গ্রহাণু ‘২০২২ ওবি৫’কে টার্গেট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তা। অ্যাসট্রোফোর্জের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাট গিয়ালিচ বলেন, যদি এ কাজে তারা সফল হন তাহলে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় বিজনেস হবে।

রোবোটিক যানের অপারেশনও পরিচালনা করছেন তিনি। এই গবেষণায় ‘ওডিন’  হবে অ্যাস্ট্রোফোর্জের দ্বিতীয় মহাকাশযান। ২৬ শে ফেব্রুয়ারি নাগাদ একে মহাকাশে নিয়ে যাবে স্পেসএক্স ফলকন৯ রকেট। একই সঙ্গে থাকবে বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি করা মুন ল্যান্ডার এবং লুনার অরবিটার। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে ওই রকেট।  ‘ফ্যালকন ৯’ থেকে ৪৫ মিনিট পর আলাদা হয়ে যাবে ‘ওডিন’ এবং এককভাবে যাত্রা শুরু করবে। ‘ওডিন’ ০.৬ মাইল দূরত্ব থেকে সাদা-কালো ক্যামেরা ব্যবহার করে ‘২০২২ ওবি৫’ গ্রহাণুর ছবি সংগ্রহ করবে।

সেসব ছবি ওই গ্রহাণুতে থাকা ধাতব বস্তুর আকার পরিমাপ করতে সাহায্য করবে। ওই গ্রহাণুকে এম-টাইপে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এতে ১ লাখ ১৭ হাজার টন প্লাটিনাম আছে। ‘ওডিন’ মহাকাশযান তৈরিতে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। এদিকে তৃতীয় গ্রহাণু মিশনের পরিকল্পনা করছে অ্যাসট্রোফোর্জ। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৬ সালের শুরুতে ওই মিশন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইন স্পেস-এর তথ্য অনুযায়ী অ্যাস্ট্রোফোর্জের প্রথম মিশন (ব্রোকর-১) ২০২৩ সালে কক্ষপথে পৌঁছায়। তবে তা কিউবস্যাটের প্রোটোটাইপ রিফাইনারি প্রযুক্তি সক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়। বৃটেনে অবস্থিত অ্যাস্ট্রয়েড মাইনিং কোর-এর প্রতিষ্ঠাতা মিচ হান্টার-স্কালিয়ন বলেন, ১ কিলোমিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণু যদি প্লাটিনাম বহন করে তাহলে তাতে ১ লাখ ১৭ হাজার টনের মতো প্লাটিনাম থাকার কথা। যা ৬৮০ বছরে বিশ্বব্যাপী প্লাটিনাম সরবরাহের সমান। 

Saturday, February 22, 2025

ধেয়ে আসছে গ্রহাণু, ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ঢাকাও!

নাসা সম্প্রতি এক নতুন গ্রহাণু আবিষ্কার করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘২০২৪ওয়াইআর৪’। গত বছর ২৭ ডিসেম্বর গ্রহাণুটি বিজ্ঞানীদের চোখে প্রথম পড়ে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই গ্রহাণু ক্রমশ পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে এবং ২০৩২ সালে এটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে। তবে এর বিপদ ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম, প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবুও বিজ্ঞানীরা একে পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে, তবে গোটা একটি শহর নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। এই বিপদ-তালিকায় কলকাতা, মুম্বাই, ঢাকার মতো জনবহুল শহরগুলোও রয়েছে। নাসা জানায়, গ্রহাণুটির গতিপথ পূর্ব প্রশান্তমহাসাগরীয় এলাকা, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর অংশ, আফ্রিকা, আরব সাগর ও দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত।

গ্রহাণুটির আকার আনুমানিক ১৩০-৩০০ ফুট চওড়া, যা বিশাল। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি পৃথিবীর কাছাকাছি আসার আগেই মাঝপথে ফেটে যেতে পারে, যার ফলে ৮ মেগাটন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান শক্তি উৎপন্ন হবে। এই শক্তি এতটাই বিপুল যে এটি একটি শহরকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ‘সিটি-কিলার’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে নাসা আশাবাদী, কারণ এরকম অনেক মহাজাগতিক বস্তু আগে পৃথিবীকে বিপদে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলো বিপদ তৈরি করতে পারেনি। গ্রহাণুটিকে প্রথমে ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্টেরয়েড ওয়ার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখা যাবে এপ্রিল মাস পর্যন্ত, তারপর এটি দৃষ্টির বাইরে চলে যাবে এবং ২০২৮ সালে আবার দেখা যাবে। তথ্য: আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

ছবি : সংগৃহীত

Tuesday, February 11, 2025

মহাকাশে যেভাবে আছেন সুনিতা

মহাকাশ থেকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস তার প্রাক্তন উচ্চ বিদ্যালয়, নিডহাম হাই-এর  শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রায় সাত মাস ধরে মহাকাশে আটকে থাকার চ্যালেঞ্জ এবং আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। মূলত ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (ওঝঝ) তার মিশন মাত্র এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু স্টারলাইনার মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরে তাকে এবং তার সহকর্মী নভোচারী বুচ উইলমোরকে পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি সময় মহাকাশে থাকতে হচ্ছে।  

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়াল প্রশ্নোত্তর পর্বের সময়, সুনিতা উইলিয়ামসকে মাইক্রোগ্রাভিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি এটিকে সাঁতার বা উড়ার মতো অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে স্বীকার করেছেন যে মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকার জেরে শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।  উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি এখানে অনেকদিন ধরেই আছি।  এখন আমি মনে করার চেষ্টা করছি কীভাবে হাঁটতে হয়। মহাকাশে আপনি  হাঁটতে পারবেন না। বসতে পারবেন না। শুতে পারবেন না। চোখ বন্ধ করে শুধু ভেসে থাকতে পারবেন। আমি ঠিক সেটাই করছি।’
নিজের বার্তায় সুনিতা জানালেন, মহাকাশে এতদিন থাকতে পেরে তাদের মন্দ লাগছে না। নিজেদের সেখানে বন্দি বলে তারা মনে করছেন না। এখানে তাদের জন্য খাবার, পানি সবই রয়েছে। এটিকে তারা নিজেদের বাড়ি বলেই মনে করছেন। যদি খুব মন খারাপ লাগে তাহলে স্পেস স্টেশনের বাইরে তারা একটু ঘুরে আসছেন। সেখানেও তাদের স্বাধীনতা রয়েছে।
মহাকাশে নিজের স্পেসওয়াক করে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন সুনিতা উইলিয়ামস। মহাকাশযানটির মেরামতির কাজ করতে গিয়ে সুনিতা নিজের অষ্টম স্পেসওয়াক করে ফেলেছেন। সেখানে তার সহযোগী ছিলেন নিক হগ। মহাকাশে স্পেসওয়াক করার সময় তার অভিজ্ঞতার কথা সকলের মধ্যে শেয়ার করেছেন সুনিতা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। সুনিতা এবং বুচ দু’জনেই মহাকাশে একে অপরের বিকল্প হিসেবে রয়েছেন। বোয়িং স্টারলাইনারই  তাদের নতুন বাড়ি। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার কাজ দ্রুত করছে নাসা। তবে যতদিন না তারা নিজেদের ঘরে ফিরছে, ততদিন সেটাই তাদের ঠিকানা।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

mzamin

Saturday, December 28, 2024

সূর্যের কাছে গিয়ে ইতিহাস গড়ল নাসার মহাকাশযান

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার একটি মহাকাশযান গতকাল শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টার দিকে) সফলভাবে সূর্যের কাছাকাছি যেতে সক্ষম হয়েছে। মহাকাশযানটির নাম ‘পার্কার সোলার প্রোব’। এর আগে আর কোনো মহাকাশযান সূর্যের এত কাছাকাছি যেতে পারেনি।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রোবটির একটি ‘আলোক সংকেত’ যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের লরেল শহরে অবস্থিত জনস হপকিনস অ্যাপ্লায়েড ফিজিকস ল্যাবরেটরিতে (এপিএল) এসে পৌঁছেছে। এখান থেকে প্রোবটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

পার্কার সোলার প্রোব ঘণ্টায় প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মাইল গতিতে গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সূর্যের দিকে ছুটতে শুরু করে। এ সময় প্রোবটিকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ ফারেনহাইট বা ৯৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে হয়েছে। এসব প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে অবশেষে তা বাংলাদেশ সময় গতকাল বেলা ১১টার দিকে সূর্যপৃষ্ঠের প্রায় ৩৮ লাখ মাইল কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

২৪ ডিসেম্বর যাত্রার পর থেকে মহাকাশযান বা প্রোবটির সঙ্গে এপিএলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। মহাকাশযানটির প্রোগ্রাম এমন করে ঠিক করা ছিল, তা যদি সফলভাবে সূর্যের কাছাকাছি প্রত্যাশিত স্থানে পৌঁছাতে পারে, তা হলে একটি আলোক সংকেত পাঠাবে। এই সংকেতের জন্যই নাসার বিজ্ঞানীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।

সংকেত পাঠানোর অর্থ হলো, মহাকাশযানটি নিরাপদ আছে এবং ঠিকভাবে কার্যক্রম চালাতে পারছে। আগামী ১ জানুয়ারি মহাকাশযানটি নিজের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পার্কার সোলার প্রোব সূর্যের এতটা কাছাকাছি যাওয়ার ফলে এই নক্ষত্র সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব তথ্য সূর্যের চারপাশের অতি উত্তপ্ত অঞ্চলকে বুঝতে এবং সৌরবায়ুর উৎস শনাক্ত করতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে।

এর আগে সূর্যের কাছাকাছি অঞ্চল প্রদক্ষিণ করে আসা মহাকাশযানগুলো বিজ্ঞানীদের নক্ষত্রটির বায়ুমণ্ডলের বাইরের সীমানা বুঝতে সাহায্য করেছিল।

সূর্যের কাছাকাছি চলে যেতে সক্ষম হয়েছে মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব
সূর্যের কাছাকাছি চলে যেতে সক্ষম হয়েছে মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব। ছবি : নাসা

Sunday, November 24, 2024

স্পেস স্টেশনে রিসাইকেল করা প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খাচ্ছেন সুনীতারা

মহাকাশে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন সুনীতা উইলিয়ামস ( ৫৯) এবং বুচ উইলমোর ( ৬১)। তার মধ্যে অন্যতম খাদ্যের সঙ্কট। জানা গেছে, এমনই অবস্থা বুচ এবং সুনীতারা সেখানে প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খেতে বাধ্য হচ্ছেন! গত জুন মাসে মাত্র ৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস এবং তার সঙ্গী ব্যারি বুচ উইলমোর। কিন্তু সময়মতো পৃথিবীতে ফিরতে পারেননি তারা। কবে ফিরবেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মহাকাশচারীদের কাছে দু ধরনের খাবার থাকে। শুকনো খাবারের মধ্যে থাকে গুঁড়ো দুধ, প্রাতরাশের শস্যজাতীয় খাবার, পিৎজা, চিকেন রোস্ট, টুনা ইত্যাদি। তারা এখন বেশিরভাগই ডিহাইড্রেটেড ক্যাসারোল, স্পেস স্টেশনের ৫৩০-গ্যালন ট্যাঙ্কের পানি দিয়ে তৈরি ফ্রিজের  শুকনো স্যুপ এবং গুঁড়ো দুধের সাথে প্রাতঃরাশে সিরিয়াল খাচ্ছেন। নভোচারীদের ঘাম এবং প্রস্রাবকে তাজা পানিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। নাসার  চিকিৎসকরা গোটা মিশন জুড়ে সুনীতা ও বুচদের ডায়েট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞের মতে, সুনীতাদের কাছে এই ধরনের খাবার থাকলেও তাজা ফল, আনাজের ভান্ডার কমছে। পৃথিবী থেকে ৩ মাস অন্তর আইএসএস-এ খাবার পাঠানো হয়। তাই  রিসাইকেল করা প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খাচ্ছেন সুনীতারা।সপ্তাহখানেক আগে সুনীতা এবং বুচের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই ছবিতে সুনীতাকে দেখে দাবি করেছিলেন যে তার শরীর খারাপ। কারণ, তাকে অবিশ্বাস্য রকমের রোগা লাগছে। মহাকাশে যাওয়ার আগে বুচের যে ছবি দেখা গিয়েছিল এখন তারও বদল ঘটেছে। তাই অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সুনীতা পরে ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেছিলেন, তাকে নিয়ে চিন্তা করার কিছুই হয়নি। তিনি একদম সুস্থ-স্বাভাবিক আছেন। নভোচারীর বক্তব্য ছিল, ‘স্পেস স্টেশনে আসার সময়ে আমার যা ওজন ছিল, এখনও তাই আছে। কিন্তু এখানে থাকতে গেলে প্রতিদিন যে ব্যায়াম করতে হয়, তার কারণে শরীরের গঠনে বদল আসে। ছবি দেখে আপনাদের তাই মনে হচ্ছে আমি ভাল নেই।' সুনীতার এই বার্তা শুনে স্বস্তি পেয়েছেন সকলেই। নাসা বলছে সুনীতা এবং বুচ  ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফিরতে পারেন।

সূত্র :  ইকোনোমিক টাইমস

mzamin