Monday, January 26, 2026
মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু, বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই
দ্য কাশ্মির মনিটরের এক খবরে বলা হয়, টালির কর্মজীবন দীর্ঘ সময়ের। বিশেষত তিনি বিবিসির দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান প্রতিবেদক ও ভারতীয় ব্যুরো প্রধান হিসেবে সংবাদমাধ্যমটির সবচেয়ে বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বর ছিলেন। তার সংবেদনশীল, নিরপেক্ষ এবং জটিল রাজনীতিকে সহজভাবে উপস্থাপনের ধরণ শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল।
সাংবাদিকতার মান বুঝাতে পারদর্শী ছিলেন টালি। ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলো সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজ, গবেষক ও সরকারের বাইরে থেকে বহু ব্যক্তি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বস্ত তথ্যের প্রতীক হিসেবে। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশাজীবীরা শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন এবং তার কাজকে আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও মার্ক টালি
একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন খ্যাতনামা এই সাংবাদিক। বেশ কয়েক বছর আগে দিল্লি থেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টালি জানান, ২৫ মার্চ ঢাকার অবস্থা স্বাভাবিক বুঝাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তাকে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখায়।
মার্ক টালি বলেন, অনুমোদন পেয়ে ঢাকার শাঁখারীবাজারে যাই। সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। আমি বেশ কিছু ছবি তুললাম। হঠাৎ এক পাঞ্জাবি পুলিশ এসে আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমার চলাচলসংক্রান্ত ফাইল দেখে আমাকে আটক করায় ওই পুলিশকে ধমক দেন। ওসি সম্ভবত বাঙালি ছিলেন। ওসির সাহস দেখে আমি মুগ্ধ হই। ওই সময় এটি ছিল অনন্যসাধারণ এক কাজ। আমি তার জন্য গর্ববোধ করি।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে মার্ক টালি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশার আলো। রেডিওতে কান পেতে সকাল-সন্ধ্যা বিবিসিতে মার্ক টালির কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকত পুরো দেশ। তার কণ্ঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ত তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের বুকেও। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।
১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দেন টালি। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে ১৯৬৫ সালে ভারতে চলে আসেন। কর্মজীবনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষ্য হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থেকে শুরু করে ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, অপারেশন ব্লু স্টার ও এর ফলশ্রুতিতে সংঘটিত ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ড, শিখবিরোধী দাঙ্গা, রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য।
বিবিসিতে এসব ঘটনার সংবাদ অত্যন্ত সহজ ও সাবলিলভাবে তুলে ধরেছেন।
১৯৯৪ সালের জুলাইয়ে মার্ক টালি বিবিসি থেকে পদত্যাগ করেন। জন বার্ট নামের এক সহকর্মীর সঙ্গে বাদানুবাদ হওয়ার ইস্তফা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বার্টকে ‘ভীত হয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো’ এবং ‘বিবিসির নিম্নমুখীতা ও সহকর্মীদের নৈতিকভাবে দুর্বল করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই তিনি স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা ও নয়া দিল্লিতে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন।

Thursday, October 30, 2025
গাজা যুদ্ধের সংবাদে ‘পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগে ১৫০ লেখক নিউইয়র্ক টাইমস বর্জন করছেন
ওই অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষরকারীরা লিখেছেন, নিউইয়র্ক টাইমস যদি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের জন্য দায় স্বীকার না করে এবং গাজায় চালানো ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সত্যিকারের ও নৈতিক প্রতিবেদন না দেয়, তাহলে কোনো ব্যক্তির লেখা নিবন্ধ সংবাদকক্ষ বা সম্পাদক পর্ষদের জন্য কোনো ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে কাজ করবে না। বরং তাদের এই অসদাচরণ চালিয়ে যাওয়ারই অনুমতি দেবে।
লেখকেরা আরও যোগ করেছেন, ‘আমরা কেবল আমাদের শ্রম প্রত্যাহারের মাধ্যমেই সেই প্রভাবশালী কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি, যা টাইমস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিথ্যাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য ব্যবহার করে আসছে।’
চিঠিতে রিমা হাসান, চেলসি ম্যানিং, রাশিদা তালিব, স্যালি রুনি, ইলিয়া সুলেইমান, গ্রেটা থুনবার্গ, ভিয়েট থান এনগুয়েন এবং ডেভ জিরিন-এর মতো কয়েক ডজন সুপরিচিত কর্মী, শিল্পী ও মার্কিন রাজনীতিবিদ স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে লেখকেরা আরও লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও লেখকদের প্রতি আমাদের কর্তব্য হলো, নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা থেকে বিরত থাকা এবং তাদের ভুলগুলো স্বীকার করতে বাধ্য করা। যাতে গণহত্যা, নির্যাতন ও বাস্তুচ্যুতিকে তারা কখনো বৈধতা দিতে না পারে।’
নিউইয়র্ক টাইমস বর্জনে যোগ দেওয়া অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন ক্রিস হেজেস, মার্ক ল্যামন্ট হিল, নুরা ইরাকাত, বিজয় প্রশাদ, মারিয়াম কাবা, রবিন ডি জি কেলি, মোহাম্মদ আল-কুরদ, সুসান স্ট্রাইকার, জিয়া টোলেন্টিনো, ইভ এল ইউইং, ডিন স্পেড, নাইল ফোর্ট, সুসান আবুলহাওয়া এবং রশিদ খালিদি।
তিন দাবি
স্বাক্ষরকারীরা নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন—
১. পত্রিকাটি যেন ‘ফিলিস্তিনবিরোধী পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে পর্যালোচনা করে’ এবং ফিলিস্তিন কভারেজের জন্য নতুন সম্পাদকীয় মান তৈরি করে। স্বাক্ষরকারীরা নতুন সোর্সিং (উৎস যাচাই) ও রেফারেন্স পদ্ধতি, সেই সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বর্ণনা দিতে পত্রিকার ব্যবহৃত শব্দভান্ডারের জন্য একটি নতুন স্টাইল গাইড চেয়েছেন। চিঠিতে এমন সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে, যাঁরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন।
২. লেখকেরা নিউইয়র্ক টাইমসকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ‘Screams Without Words’ (স্ক্রিমস উইদাউট ওয়ার্ডস) শিরোনামের একটি প্রবন্ধ প্রত্যাহার করতে বলেছেন। ওই প্রবন্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল, হামাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি নারীদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন করেছে।
লেখকেরা লিখেছেন, ওই প্রবন্ধটি মূলত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্সের একজন প্যারামেডিকের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে লেখা হয়েছিল। অথচ প্রবন্ধটিতে যে কিবুৎসে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়, পরে সেখানকার একজন মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।
তাঁরা আরও লিখেছেন, ওই প্রতিবেদনের লেখকদের মধ্যে একজন আনাত শোয়ার্টজকে পরে পত্রিকাটি তদন্তের আওতায় আনে। কারণ জানা যায়, তিনি গাজাকে ‘কসাইখানায়’ পরিণত করার আহ্বান জানানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে লাইক দিয়েছিলেন।
প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার আগে হামলায় নিহত কথিত যৌন নিপীড়নের শিকার মেয়েদের পরিবারের সদস্যরা বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, যা গল্পের দাবিগুলোর সঙ্গে মেলেনি। তবে সেই সাক্ষাৎকারগুলোর কোনোটিই নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়নি।
৩. চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ডকে ইসরায়েলের ওপর মার্কিন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানানোর দাবি করেছেন।
স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, তাঁদের দাবিগুলো ‘অসম্ভব বা অযৌক্তিক’ নয়। লেখকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, পত্রিকাটি ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে এইডস সংকটের সময় তার স্টাইল গাইড হালনাগাদ করেছিল এবং ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকে হামলার পর ভুল সংবাদের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিল।
লেখকেরা চিঠিতে আরও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক টাইমসের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী কোনো সংবাদপত্র নেই। পশ্চিমা বিশ্বের সংবাদকক্ষগুলোতে সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা এই পত্রিকার কভারেজ অনুসরণ করেন। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের “কাগজের দলিল” হিসেবে গণ্য করা হয়।’
স্বাক্ষরকারীরা আরও যোগ করেছেন, ‘ইসরায়েল গাজায় জাতিগত নিধনে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে নিউইয়র্ক টাইমস দখলদার বাহিনীর যুদ্ধাপরাধকে আড়াল করেছে, ন্যায্যতা দিয়েছে এবং সরাসরি অস্বীকার করেছে। এভাবে তারা ইসরায়েলি সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্য মাইক হিসেবে কাজ করার দশকব্যাপী অভ্যাস বজায় রেখেছে।’
![]() |
| নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে নিউইয়র্ক টাইমসের ভবন। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Tuesday, October 7, 2025
বিভুরঞ্জন সরকার যে প্রশ্নগুলো রেখে গেলেন by নাদিম মাহমুদ
সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার পাঁচ দশক ধরে দুহাত ভরে লিখে গিয়েছিলেন। তাঁর সর্বশেষ লেখাটি এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন, তা আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে, আশঙ্কার পথ তৈরি করছে।
বিভুরঞ্জন সরকার গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। যেদিন তিনি নিখোঁজ হন, সেদিন (২১ আগস্ট) ভোর পাঁচটায় সিদ্ধেশ্বরী থেকে ‘খোলা চিঠি’ আকারে তাঁর সর্বশেষ লেখাটি লিখেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে। তাঁর সেই লেখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলেও তাঁর বিদায়ে আমাদের ‘ভঙ্গুর সাংবাদিকতা’ একখণ্ড প্রতিচ্ছবি অঙ্কন করে গেছে, যা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি বলে মনে করছি।
বিভুরঞ্জন মৃত্যুর আগপর্যন্ত ছিলেন আজকের পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লিখে পরিচিত পাওয়া এই সাংবাদিকের শেষ জীবনে যে ধকল গেছে, তা বুঝতে হলে তাঁর খোলা চিঠিকে আমাদের পড়তেই হবে। সেই চিঠিতে তিনি এমন কিছু বিষয়ের আলোকপাত করে গেছেন, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলোচনায় হয়তো আমাদের আগামীর বিভুরঞ্জন সরকারদের বাঁচাতে সাহায্য করবে।
বিভুরঞ্জন সরকারকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন; কিংবা তাঁর পেশাদারি সম্পর্কে জানেন, তাঁদের কাছে তিনি ছিলেন একজন সজ্জন ও ন্যায়নিষ্ঠ সাংবাদিক, যিনি কিনা তাঁর চোখে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসংগতির বিষয়ে ক্রমাগত লিখেছেন; কিন্তু দিন শেষে, তিনি নিজেই নানা অসংগতির সঙ্গে বসবাস করে গেছেন, নিজের নীতির সঙ্গে আপসের সাহস না দেখালেও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তাঁকে নানা সময় বিচলিত করে রেখেছিল, যা তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে। একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকদের প্রাত্যহিক জীবন কী ধরনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা তাঁর পাঁচ দশকের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় তুলে ধরেছেন বর্ষীয়ান এই কলামিস্ট।
বিভুরঞ্জন সরকার তাঁর সেই আলোচিত খোলা চিঠিতে লিখছেন, ‘আমি লিখেছি সত্যের পক্ষে, মানুষের পক্ষে, দেশের পক্ষে; কিন্তু আজ যখন নিজের জীবনকে দেখি, অনুভব করি সত্য লিখে বাঁচা সহজ নয়। আমার পেশা আমাকে শিখিয়েছে, সত্য প্রকাশ করা মানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার নাম।’
আর এই ঝুঁকি নিয়ে আমাদের দেশের হাজারো সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। কেউ পারছেন, আবার কেউ ঘুণে ধরা সিস্টেমের সঙ্গে আপস করে নিয়েছেন। শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সৎ সাংবাদিকতা করা কেবল দুরূহ নয়, জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণও বটে।
গণমাধ্যমগুলো মালিকপক্ষের বুকপকেট থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে তাঁবেদারি কিংবা তুষ্ট করার সাংবাদিকতায় বেশি চর্চিত হচ্ছে। শাসকদের বিরুদ্ধে গেলে শাসকেরা লাল চোখ দেখান পত্রিকার মালিকদের বা সম্পাদকদের। এই চর্চা কয়েক বছর ধরে চলে আসার পরিপ্রেক্ষিতে ‘নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতা’ কিংবা সীমাবদ্ধ প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমগুলো কাভার করতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, যাঁরা এই ‘বনসাই জার্নালিজম’ করতে পারেন না, তাঁদের বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।
ফলে সংবাদমাধ্যমগুলোই চাচ্ছে না আমাদের সাংবাদিকেরা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করুক। এর মূল কারণ হচ্ছে, সরকার কিংবা ক্ষমতাশালী অংশের বিরুদ্ধে গিয়ে সাংবাদিকতা করতে গেলে যে চাপ আসবে, তা সহ্য করার সক্ষমতা সব গণমাধ্যমের থাকে না। বিজ্ঞাপন হারানোর ভয় থেকে শুরু করে করপোরেট হাউসগুলোর মালিকপক্ষের ব্যবসার কথা বিবেচনা করে একধরনের আপসের সম্পাদকীয় নীতিমালা করতে হচ্ছে। ফলে পাঠকেরা অনেক সময় ডিপ জার্নালিজম দেখার সুযোগ পান না।
অভিযোগ আছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হতো, তাতে ভয়ের সংস্কৃতি চর্চা হয়েছে; কিন্তু গণ-অভুত্থানের পর আমরা এই অভিযোগ থেকে সংবাদমাধ্যমগুলোকে দূরে রাখতে পারিনি। তাঁর প্রমাণ মেলে প্রয়াত সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের লেখায়। তিনি বলছেন, গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমের অবস্থা আরও কাহিল হয়েছে। মন খুলে সমালোচনা করার কথা প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন; কিন্তু তাঁর প্রেস বিভাগ তো মনখোলা নয়। মিডিয়ার যাঁরা নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরা সবাই আতঙ্কে থাকেন সব সময়। কখন না কোনো খবর বা লেখার জন্য ফোন আসে। তুলে নিতে হয় লেখা বা খবর!
এমন অভিযোগ আমরা ঢাকার অনেক সাংবাদিকের মুখে শুনছি। সর্বশেষ বিভুরঞ্জন সরকার যে অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চিত্র অঙ্কন করে গেছেন, তা সত্যিই বেদনাদায়ক। সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতা না থাকলে দেশে কখনোই গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরবে না, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমকে শক্তিশালী করার চেষ্টা না থাকলে কোনো ঐকমত্য কিংবা সংস্কার বিফলে যাবে।
সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় এই পেশায় এসে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কয়েক দশক ধরে এমন প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছি। অনেক তারকা সাংবাদিক এসে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাটুকু করার যখন চেষ্টা করে দিন শেষে আর্থিক দৈন্যের শিকার হন, তখন স্বভাবত এই পেশাকে তাঁরা ‘গুডবাই’ জানিয়ে তুলনামূলক বেশি বেতনের চাকরি লুফে নিচ্ছেন। ফলে সাংবাদিকতায় মেধাবীদের যে বিচরণ, তা কমতে শুরু করেছে। বিভুরঞ্জন সরকার তাঁর সেই খোলা চিঠিতে এমনই এক অভিযোগ করে গেছেন। তিনি লিখেছেন, আজকের সময়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ অন্য রূপ। অনেকেই সুবিধা, স্বার্থ, সামাজিক মর্যাদা বা আর্থিক স্বার্থের জন্য সত্যকে আড়াল করে লেখেন।
আর এসব করতে গিয়ে ক্ষতির শিকার তিনি কিংবা তাঁর পরিবার। বাবার লেখালেখির প্রভাব গিয়ে পড়ে সন্তানদের শিক্ষালয়ে বা পেশায়। বিভুরঞ্জনের ক্ষেত্রে সেটি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করে গেছেন, যা আমাদের অবাক করেছে। একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সততা। এই সততাকে আড়াল করলে সাংবাদিকের যে অবয়ব আসে বড়ই বেমানান। এই পেশার মানুষগুলোকে আমরা মুখে মুখে ‘মহান পেশা’ দাবি করে পিঠ চাপড়ালেও দিন শেষে একজন সৎ সাংবাদিকের আর্থিক সচ্ছলতা অনেকটাই বিভুরঞ্জনের মতো।
৫০ বছর সাংবাদিকতা করার পর ঢাকার বুকে যদি কোন মাথা গোঁজার নিজের জায়গা না থাকে, মাস শেষে যদি অন্যের কাছে ধার-দেনা করতে হয়, তাহলে এই পেশা আদৌ কোনো ‘হেলদি’ পেশা হতে পারে না।
এই শহরে হাজারো সাংবাদিক আছেন। পেটের দায়ে তাঁরা সীমাহীন পরিশ্রম করে টিকে থাকার লড়াই করে যাচ্ছেন; কিন্তু একসময় এসে তাঁদের অনেকের উপলব্ধি হয়, মাস শেষে তিনি যে বেতন পাচ্ছেন এই শহরের রিকশাচালকেরা তার চেয়ে বেশি আয় করেন। নিজের স্ত্রী-সন্তানদের ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। এসব যাতনা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ‘সুবিধাবাদী’র খাতায় নাম লেখান। সরকারকে খুশি করার জন্য সাংবাদিকতার পকেটে ঢোকে অ্যাক্টিভিজম। আর এসব করে অনেকেই আর্থিক সচ্ছলতা গড়েন, গাড়ি-বাড়ি করেন।
এই সংখ্যা কেবলই মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কপালে জুটলেও বিভুরঞ্জনদের ক্যাটাগরি অনেকটাই প্রশস্ত। চাকরি করে আর্থিক নিরাপত্তা না পাওয়া সাংবাদিকেরা ‘অনিয়ম ও নানা ধরনের তদবিরে’ জড়িয়ে পড়ে সাংবাদিকতার বারোটা বাজিয়ে ছাড়ছেন। প্লট, বিদেশভ্রমণ থেকে শুরু করে নানান সুবিধাপ্রাপ্ত এসব সাংবাদিকের কাছে সততার বড়াই করে এগিয়ে চলা বিভুরঞ্জনরা পরাজিত হন।
এসব জীবন্ত অভিজ্ঞতা দেখার পর কোন ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয় পাস করে আর্থিক টানাপোড়েনের পেশাকে গ্রহণ করতে চাইবে? এই যে এত এত গণমাধ্যম আমাদের, কই এসব সংবাদমাধ্যম কি সাহস দিয়ে বলতে পারছে, আসুন আমরা একটি শক্তিশালী নীতিমালা করি, যেখানে থাকবে সাংবাদিকদের আর্থিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা?
হ্যাঁ, সাংবাদিকদের বেতনকাঠামোর জন্য ওয়েজ বোর্ড আছে; কিন্তু দীর্ঘদিন নবায়ন না হওয়া কিংবা সেই ওয়েজ বোর্ড অনুসরণ না করা সংবাদপত্রগুলো দিনের পর দিন প্রতারণা করে যাচ্ছে, মালিকপক্ষ বেতন নিয়ে তাইরেনাইরে করছে, তার হিসাব কয়জন কষে? পেশাদারি বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করার অভিপ্রায় যে নেই, তা নয়; কিছু সংবাদমাধ্যম সেই নীতিমালা অনুসরণ করে। তবে সেটি হাতে গোনা।
আমাদের শত শত গণমাধ্যমের প্রয়োজন নেই। এক ডজন গণমাধ্যম যদি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চাটুকু করে, সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন দেয়, অন্যান্য পেশার মতো তাঁদের সুযোগ-সুবিধা দেয়, তাহলে আমরা এভাবে বিভুরঞ্জনদের হারাতাম না।
সাংবাদিকতায় বিভুরঞ্জনদের না রাখতে পারার দায় অবশ্যই আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোর রয়েছে। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে না পারা বিভুরঞ্জনরা এই পৃথিবীকে বিদায় জানালেও আগামীর বিভুরঞ্জনদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে সংস্কার করতেই হবে।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোকে যদি সরকার গুরুত্ব দিত, তাহলে অন্তত গণ-অভ্যুত্থানে মুক্ত গণমাধ্যমের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলে পূরণ হতো। বিভুরঞ্জন আমাদের দেখিয়ে দিলেন, তোমরা যদি ন্যায়ের পথে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে চাও, তাহলে এই পেশায় সুস্থতা নিয়ে চিন্তা করো। আমরা চাই, ভবিষ্যতে কোনো বিভুরঞ্জন সরকার এ রকম খোলা চিঠি না লেখেন।
* ড. নাদিম মাহমুদ, গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল: nadim. ru@gmail. com
- (মতামত লেখকের নিজস্ব)
| বিভুরঞ্জন সরকার। ছবি : সংগৃহীত |
Sunday, August 31, 2025
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক হত্যা নিয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা কি ভাবছেন by ওরি নির
বিপরীতে অদূরেই থাকা ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা পুরোপুরি নীরব ছিলেন দুই বছর ধরে। সোমবারের হত্যাকাণ্ডের পর অবশ্য ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট ইন ইসরায়েল একটি বিরল—হোক তা দায়সারা—বিবৃতি দিয়ে সেই নীরবতা সামান্য ভঙ্গ করেছে। বিবৃতিতে তারা ‘গভীরভাবে শোকাহত’ বলে জানিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কোনো রকম সংহতি প্রকাশ করেনি, কোনো রকম সহমর্মিতা জানায়নি, সহকর্মী হিসেবে কোনো ক্ষোভ জানায়নি।
অনেক বছর আগে যখন হারেৎজ–এর প্রতিনিধি হিসেবে পশ্চিম তীর ও গাজার সংবাদ সংগ্রহের কাজ করতাম, তখন আমি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও পেশাদার প্রতিবেদনের ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করতাম। কোনো রকম আর্থিক প্রাপ্তিযোগ ছাড়াই তাঁরা তাঁদের সময় ও শ্রম ব্যয় করতেন ইসরায়েলি সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার জন্য। তাঁরা বেশির ভাগই ছিলেন দেশপ্রেমী ও গর্বিত ফিলিস্তিনি, যাঁরা বিশ্বাস করতেন যে ফিলিস্তিনিদের কাহিনিগুলো ইসরায়েলি গণমাধ্যমের সাহায্যে ইসরায়েলি জনগণের সামনে তুলে ধরা গেলে তাঁদের অবস্থাটা জানানো যাবে।
আমি একাই নই। আমরা সহকর্মীরা, অন্যান্য ইসরায়েলি ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমের পশ্চিম তীর ও গাজার প্রতিনিধিরা একই কাজ করেছেন। নাবুলেস নামের একজন ফিলিস্তিনি আমার সহকর্মী ছিলেন প্রথম ইন্তিফাদার সময়। তিনি ফিলিস্তিনি দৈনিক আল-কুদস–এর প্রতিনিধি হিসেবে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের ঘটনাগুলোর প্রতিবেদন তৈরি করতেন। সে সময় তিনি প্রায় প্রতি সন্ধ্যাতেই তিন থেকে চারজন ইসরায়েলি সাংবাদিকের ফোন পেতেন। তাঁদের তিনি সারা দিনের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতেন। অনেক সময় আমরা টেলিফোনেই শুনতে পেতাম যে তাঁর স্ত্রী তাঁর চার বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এভাবে তিনি বছরের পর বছর পারিবারিক সন্ধ্যাটা ত্যাগ করেছেন শুধু আমাদের সহযোগিতা করতে।
অনেক সময় আমাদের পেশাগত সম্পর্ক রূপান্তরিত হতো সত্যিকারের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বে। আমরা তাঁদের ওপর নির্ভর করতাম খবর ও ঘটনাগুলো জানতে, তাঁরা আমাদের সহযোগিতার প্রত্যাশা করতেন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে, ইসরায়েলি আমলাতন্ত্রের কাছে পৌঁছাতে, কিংবা শুধু ইসরায়েলি সমাজকে সম্যকভাবে বুঝতে। একটি ফিলিস্তিনি দৈনিকে আমার এক সহকর্মী মাঝেমধ্যেই আমাকে ফোন করে জটিল হিব্রু অভিব্যক্তির সহজ অর্থ জানতে চাইতেন।
আবার যখন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আমাদের সহকর্মী ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করত, আমরা তার প্রতিবাদ জানাতাম। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে (পিএলও) সমর্থন দেওয়ায় একবার পূর্ব জেরুজালেমের দৈনিক আল-শায়াব পত্রিকার সম্পাদক আকরাম হানিয়াকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েল সরকার।
আমরা তখন এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি তুলে প্রচারণা চালাই। আর কোনো রকম সহিংসতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ হানিয়ার বিরুদ্ধে ছিল না। তখন একাধিক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন যে তাঁর কাজকর্ম ভীষণভাবে রাজনৈতিক। সে সময় আমি ‘আমরা সবাই আকরাম হানিয়া’ নামে একটি নিবন্ধ লিখি হারেৎজ–এ।
এ ছাড়া তাঁর একটি ছোট গল্পও আরবি থেকে অনুবাদ করে হারেৎজ–এর সাহিত্য সাময়িকীতে ছেপেছিলাম। হানিয়াকে অবশ্য পূর্ব জেরুজালেম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় পিএলওর অন্যতম প্রধান সমঝোতাকারীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কোনো সন্দেহ নেই, এসব সাংবাদিকের সবাই দেশপ্রেমী ফিলিস্তিনি। তাঁরা তাঁদের জনগণের স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পেশাগতভাবে আমাদের মতো তাঁরাও সত্যের প্রতি অনুগত, ঘটনার প্রতি দায়বদ্ধ।
আমি জানি যে এগুলো অনেক আগের কথা। ৭ অক্টোবর (হামাসের ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলা ও জিম্মি অপহরণ) এবং তার পর থেকে এত সব বিপর্যয়কর ঘটনা ঘটেছে যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেড়ে গেছে। হ্যাঁ, একদা যেমন ছিল, তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক আর তেমন নেই।
কিন্তু যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ১৮৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক গাজায় নিহত হয়েছেন, তখন এটা প্রত্যাশা করা কি অযৌক্তিক, ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা কিছু একটা করবেন? কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট তো এসব হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগই নথিবদ্ধ করেছে।
এটাও কি খুব বেশি প্রত্যাশা হয়ে যায় যে গাজার একটি তাঁবুতে যখন এ মাসের প্রথম দিকে তাঁদেরই পাঁচজন সহকর্মীকে ইসরায়েল সরকার হত্যা করেছে, তখন ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা সোচ্চার হয়ে উঠবেন? এমনকি যদি সরকারি ভাষ্য অনুসারে এই পাঁচজনের একজন হামাসের সঙ্গে জড়িত থেকে থাকেন, তাহলেও?
ইসরায়েলে বেশ কয়েকটি সাংবাদিক সমিতি সক্রিয় আছে। এ মাসের প্রথম দিকে আনাস আল-শরিফ ও তাঁর আল–জাজিরার সহকর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে কেউ একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি। ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় এত সাংবাদিককে হত্যা করা হলো, মাত্র গুটিকয় এ বিষয়ে মুখ খুলেছে।
অথচ ইসরায়েলি গণমাধ্যম গাজার সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে, খবর ও তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের ব্যবহার করে। তাহলে কি তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা বিবৃতি দেওয়া ছাড়া আর বেশি কিছু করতে পারে না?
খুব অল্প কয়েকজন ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিক গাজা উপত্যকায় যেতে পারেন এবং তা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে। একমাত্র গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিকেরাই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ও জীবন বিসর্জন দিয়ে প্রকৃত তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করছেন। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম, যারা গাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চায়, গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ছাড়া তারা অচল, অন্ধ।
উদ্বেগ প্রকাশ করা, কিছুটা সংহতি প্রদর্শন করা তো পেশাগত সহমর্মিতা বা খবর সংগ্রহের দায়বদ্ধতার চেয়ে বেশি কিছু। এটা তো মানবতার বিষয়।
গাজায় যেসব হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল হত্যা করেছে, তাদের কারোর চেয়ে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের রক্ত অধিকতর লাল নয়। অনেক সাংবাদিকই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের বা কাজের সময় নয়; বরং নিজ বাসায় পরিবারের সঙ্গে নিহত হয়েছেন। তারপরও তাঁরা আমাদের সহকর্মী, সাংবাদিক।
আর তাই গাজায় তাঁদের সহকর্মীদের উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা নৈতিক অবমাননায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন। বিগত ৬৯০ দিনের বেশি সময় ধরে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের চরম দুর্দশাকে ঠিকমতো তুলে না ধরা বা পুরোপুরি উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে তাঁরা পেশাগত নৈতিকতার যে অবমাননা করে চলেছিলেন, এটা তা আরও বাড়িয়ে দিল।
অথচ ফিলিস্তিনিদের ক্রমাগত বিমানবিকীকরণে ইসরায়েলি জনগণের সঙ্গে তাল না মিলিয়ে ইসরায়েলের সাংবাদিকদের তো উচিত ছিল মানবতা ও সহমর্মিতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের। আপনি হয়তো বলবেন যে এটা তো এক হাস্যকর সারল্যে পূর্ণ এক প্রত্যাশা। তবে আমি এটা মনে করতে চাই যে ইসরায়েলের মূলধারার গণমাধ্যম এখনো এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশে সক্ষম।
* ওরি নির, ওয়াশিংটনভিত্তিক ইসরায়েলি সাংবাদিক। হারেৎজ–এ প্রকাশিত তাঁর লেখাটি ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করেছেন আসজাদুল কিবরিয়া
| ইসরায়েলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের শেষকৃত্যে সহকর্মীরা। ছবি : রয়টার্স |
Wednesday, August 27, 2025
গাজার নাসের হাসপাতালে নৃশংস হামলা, পাঁচ সাংবাদিকসহ নিহত ২০
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে আল জাজিরার সাংবাদিকও রয়েছেন। এছাড়া প্যালেস্টাইন টিভির একজন ক্যামেরাম্যানও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তার নাম হুসইেন আল মারসি। আর আল জাজিরার নিহত সাংবাদিকের নাম মোহাম্মদ সালমান। বার্তা সংস্থা এপির হয়ে কাজ করতেন এমন এক নারী সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার নাম মারিয়াম আবু দাগ্গা। ইসরাইলের হামলায় আরেক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তিনি ফটোসাংবাদিক ছিলেন। তাকে মোয়াজ আবু তহা নামে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র আনাদোলুকে নিশ্চিত করেছে যে, তিউনিশিয়ার মরোক্ক নিউজে কাজ করা আহমেদ আবু আজিজ নামের এক সাংবাদিকও প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরাইলের হামলায় আগেই আহত হয়েছিলেন এই গণমাধ্যমকর্মী। ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ বলেছে, ইসরাইলের হামলায় ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকার্যক্রম পরিচালনার সময় হতাহতের শিকার হন তারা।
হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরাইল। বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। দাবি করেছে কোনোভাবেই সাংবাদিক হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়নি। এই বিমান হামলার বিষয়ে জরুরি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে তেল আবিব।
গাজায় সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেই তেল আবিবের হামলায় বহু সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেককেই টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
উপত্যকাটির সরকারি মিডিয়া দপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৪৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরাইল। যারা বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হয়ে কাজ করেছেন। ইসরাইল আন্তর্জাতিক কোনো মিডিয়ার সাংবাদিককে সেখানে প্রবেশ করতে দেয় না। তাই স্থানীয় সাংবাদিকেরাই সংবাদমাধ্যমগুলোর একমাত্র খবর সংগ্রহের উপায় ছিলেন। তবে ইসরাইলের টার্গেট হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তারা।

Tuesday, August 26, 2025
ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় আরও ৫ সাংবাদিক নিহত
গাজা সিভিল ডিফেন্স সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আজ হাসপাতালে হামলার তথ্য জানিয়েছেন। নিহত পাঁচ সাংবাদিক হলেন রয়টার্সের সংবাদিক হুসাম আল-মাসরি, আল-জাজিরার সংবাদিক মোহাম্মদ সালামা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগা, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আহমেদ আবু আজিজ ও ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মোয়াজ আবু তাহা।
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ২২ মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ২০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাঁদের প্রায় সবাই ফিলিস্তিনি। সবশেষ চলতি মাসেই গাজা নগরীতে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলের হামলায় আল-জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন।
আজ আল-নাসের হাসপাতালে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, হামলার ঘটনা যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ। সংঘাতে জড়িত নয়, এমন কোনো ব্যক্তি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে জন্য তারা দুঃখিত।
ইসরায়েলের হামলায় নিজেদের সংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে আল-জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, সত্যের কণ্ঠ রোধ করার পরিকল্পিত অভিযানের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। আরেক বিবৃতিতে রয়টার্স বলেছে, সংবাদকর্মী হুসাম আল-মাসরির মৃত্যুতে তারা ‘বিপর্যস্ত’।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। ইসরায়েল থেকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসা হয় প্রায় আড়াই শ জনকে। সেদিন থেকে গাজায় নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
এ ছাড়া ৬ আগস্ট থেকে গাজা নগরী দখলে শুরু করা ইসরায়েলের অভিযানে ১ হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে উপত্যকাটির সিভিল ডিফেন্স সংস্থা। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, নগরীর জেইতুন ও সাবরা এলাকায় হামলায় চালিয়ে এ ভবনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়ে আছেন।
নেতানিয়াহুর কৌশল বদল
সম্প্রতি গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ওই প্রস্তাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় বন্দী থাকা ইসরায়েলের অর্ধেক জিম্মি মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গাজায় বর্তমানে জীবিত ও মৃত মিলে ৫০ জন জিম্মি রয়েছেন। এ প্রস্তাবের সঙ্গে গত মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার মিল রয়েছে।
উইটকফের ওই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল হামাস। যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যস্থতাকারীরা এরপর ইসরায়েলের কাছ থেকে জবাব আশা করছিল। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি গাজা থেকে সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার এবং সংঘাত পুরোপুরি শেষ করার আলোচনা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি।
একই সময়ে গাজা নগরী নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ব্যাপক হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। এটিও নেতানিয়াহুর কৌশলের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। সিএনএনকে তাঁরা বলেছেন, গাজায় নতুন করে ব্যাপক সামরিক চাপের হুমকি সংঘাত বন্ধের জন্য ইসরায়েলের শর্তগুলো মেনে নিতে হামাসকে আরও নমনীয় করে তুলবে। এতে গাজায় ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, গাজা নিয়ে নেতানিয়াহুর নতুন কৌশল জেরুজালেম নয়; বরং ওয়াশিংটন থেকে এসেছে। বিগত কয়েক সপ্তাহে গাজা নগরীতে ইসরায়েলের অভিযানের বারবার সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব তাঁর প্রশাসন দিয়েছে, তার বিপরীতে গিয়ে যুদ্ধ বন্ধে হামাসকে পুরোপুরি নির্মূলের কথা বলছেন তিনি।
গত সপ্তাহে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘হামাসকে যখন মোকাবিলা করা হবে এবং নির্মূল করা হবে, তখনই বাকি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে পারব আমরা। এটা যত দ্রুত করা হবে, সফলতার সম্ভাবনা ততই বাড়বে।’
![]() |
| ডানে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মোয়াজ আবু তাহা। তিনি ফিলিস্তিনের পাশাপাশি বিদেশের কিছু গণমাধ্যমের জন্য কাজ করতেন। তাঁর পাশেই মরিয়ম আবু দাগা। তিনি এপির ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ছিলেন। ইসরায়েলের হামলায় আজ দুজনেই নিহত হন। ছবি: এএফপি |
Monday, May 5, 2025
মুক্তগণমাধ্যম দিবসে বক্তারা: স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সম্পাদক পরিষদ। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য রাখেন, সম্পাদক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারে থাকি আর না থাকি, নির্দ্বিধায়, দৃঢ়চিত্তে, স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমরা বরাবরই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন নিপীড়ন হয়েছে এবং যে সমস্ত আইনকানুন দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল তার বিপক্ষে আমরা লড়াই করেছি। এখনো করছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। আমরা কখনো অন্যায়ভাবে অন্যের মতকে চাপিয়ে দেয়া সমর্থন করবো না। আরেকজনের মতের স্বাধীনতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেবো। সেটাতে আমাদের বিশ্বাস থাকুক, আর নাই থাকুক। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমাদের অন্যতম বিষয়। যেটি আমরা আমাদের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচিতেও রেখেছি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিএনপিই সর্বপ্রথম কাজ করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমার দলই তো প্রথম, যারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে ওপেন করেছিল ১৯৭৫ সালে। তার আগে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশালের সময় চারটি ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সব সংবাদপত্রকে স্বাধীন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা বলছি না যে, আমরা ধোয়া তুলসিপাতা। কিন্তু এ কথা নিশ্চয় বলতে পারি নিঃসন্দেহে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য অনেক বেশি কাজ করেছে বিএনপি। আমাদের সময় সংবাদপত্র ও সংবাদকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। আমরা এখনো পর্যন্ত বিশ্বাস করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম বলছে, তারা যা বলছে তা ঠিক অন্যেরা ভুল। তা না হলে সে ফ্যাসিস্ট, ভারত ও আওয়ামী লীগের দোসর। এটা ঠিক না। আমি আগেও বলেছি যে, এতটুকু কথা কেটে প্রচার করে দেয় যে, আমি ভারতীয় দোসর। এটা যেন না হয় সে জন্য আমাদের সজাগ হওয়া উচিত। বিশেষ করে আমরা যারা বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই তাদের দায়িত্বটা অনেক বেশি। তরুণদেরও এটা মাথায় রাখতে হবে। তা না হলে হাজার হাজার তরুণের রক্ত এবং ১৫ বছর ৬০ লাখ মানুষের লড়াই ম্লান হয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমাদের উপলব্ধি করতে হবে- গণমাধ্যম জনগণের সেবায় নিয়োজিত। দেশপ্রেমিক, সমাজকে উন্নত করতে চাই, বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, মত প্রকাশে বিশ্বাস করি এবং আমাদের সমস্ত কাজ সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। আমাদের গণমাধ্যম মুক্ত না। শেখ হাসিনা রিজিম জনধিকৃত হয়েছিলেন তার অন্যতম কারণ ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না। আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ অনেক আইনে ভিকটিম হয়েছিলাম। তবে এখনকার যে ব্যাপারটা সতিকারার্থে আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা ভায়োলেন্ট মামলা চলছে। এটা কীভাবে সম্ভব? তিনি বলেন, এটা সাংবাদিকতা এবং আমাদের অসম্মানের কারণ। এটার অর্থ এই নয় যে কেউ দোষ করেনি। দোষ করে থাকলে সঠিকভাবে মামলা করে তাকে শাস্তি দেন। আমরা কেউই তার পাশে দাঁড়াবো না। ৬ থেকে ৭ মাস হয়ে গেছে তারা এই মামলায় পড়েছেন। এক কদমও এগোয় নাই ইনভেস্টিগেশনের ব্যাপারে। এই মুহূর্তে ১৩ জন সাংবাদিক জেলে আছেন। আমি আবার বলি তারা যদি অপরাধ করে থাকেন অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু ৭-৮ মাস তারা জেলে কোনো বেইল (জামিন) পাচ্ছেন না। তাদের কোনো আইনি প্রক্রিয়া চলছে না, বিচার হচ্ছে না। তাহলে এইটা কি চলতে থাকবে?
আলোচনা সভায় দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যে দেশে প্রশ্ন করার জন্য সাংবাদিকের চাকরি যায়, সেই দেশে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছি। খুব অবাক লাগে, আমি বিস্মিত হই। জানি না আমি কাকে দায়ী করবো। আমি কি সরকারকে দায়ী করবো, না মালিককে দায়ী করবো। না সাংবাদিক ইউনিয়ন কী করেছে সে প্রশ্ন রাখবো। আমি মনে করি আমরা সম্পাদক পরিষদও ব্যর্থ হয়েছি। যাই হোক আত্মসমালোচনা দরকার যে, আমরা কতোটুকু করতে পেরেছি। স্বীকার করতেই হবে যে, পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে অনেকখানি। এক বছর আগে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থা এখন আর নেই। অনেকখানি পাল্টেছে। তবে আমরা হতাশ হচ্ছি বেশ কিছু অ্যাকশনের কারণে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ভেতরে যে অনৈক্য, বিভাজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। আমি আশা করবো- পত্রিকায় পত্রিকায়, ইদানীং আবার টেলিভিশনে টেলিভিশনে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, এটা অবিলম্বে বন্ধ হবে। তা না হলে আমরা যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করছি, সেটা ব্যাহত হবে। বিচ্যুত হবো সেই উদ্দেশ্য থেকে। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র হবে না- এটা পরিষ্কার। গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে, আমাদের কথা বলতে দিতে হবে, লিখতে দিতে হবে। আবার এটাও বলতে হবে, আমরা হঠকারিতা চাই না।
নিউএজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, যখন সারা দুনিয়ায় প্রতি বছর একবার করে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করা হয় তার মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয় সারা পৃথিবীতে গণমাধ্যম নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করে। বাংলাদেশে আজকে আমরা মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছি। ঠিক এক বছর আগেও এইদিনে আমরা এই দিবসটি পালন করেছিলাম। কিন্তু এই দুটি দিবসের মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য সূচিত হয়েছে। পার্থক্য সূচিত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। সেটা আমরা ইতিবাচকভাবে নিয়ে যেতে পারি এটা শুধু গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরই নির্ভর করে না। সেটা নির্ভর করে প্রধানত যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, আইন প্রণয়ন করেন। বাংলাদেশ মুক্তগণমাধ্যমের তালিকায় সারা বিশ্বের কয়েকশ’ দেশের নিচে অবস্থান করছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের পরিচালকবৃন্দ আইনকানুনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। তার জন্য রাজনীতিকরা প্রধান দায়ী।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জুলাই-আগস্টের পরিবর্তনের পর প্রায় সকল বিষয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে যেভাবে এগোবার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা মহত্ত্ব চেষ্টা। গণমাধ্যম আসলে কতোটা মুক্ত বা মুক্ত হতে পারে। গত ৫৩-৫৪ বছরের মধ্যে বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় আছে এর মতো উদার দৃষ্টিভঙ্গি সরকার আসেনি। আগামীতে আসবে কিনা জানি না। যারাই ক্ষমতায় যাবেন তারা এই নীতিটাকে কীভাবে প্রণয়ন করবেন, কী করে বাস্তবায়ন করবেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যত মামলা হয়েছিল সে মামলাগুলোর অনেকগুলো এখনো রয়ে গেছে। এটা ড. ইউনূসের মতো মানুষ যিনি বলেন ‘আপনারা প্রাণ ভরে সমালোচনা করেন, আমারও সমালোচনা করতে পারেন।’ উনি মামলাগুলো তুললো না কেন? আপনি যদি অবাধ, মুক্ত সাংবাদিকতা চান কোনো ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর প্রতিষ্ঠা করার কিংবা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে তাদের অঙ্গীকার রাখতে চাই। আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংগ্রাম, অঙ্গীকার আছে যে, আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ লড়াইটা করবো। রাষ্ট্রের এমন কোনো আইন থাকা চলবে না, যাতে সরকার গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরতে পারে। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি চাইলেন আর অনেকগুলো গণমাধ্যম খুলে ফেললেন, এ জায়গাটা বন্ধ হওয়া দরকার। গণমাধ্যমের মালিকানার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকার দরকার। যাতে সেখানে কোনো একচেটিয়া স্বার্থ কায়েম না হয় এবং একচেটিয়া স্বার্থের সেবক হিসেবেও গণমাধ্যম না দাঁড়ায়। এটা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার গত ১৬ বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর যে দলীয়করণ নীতি চালিয়েছে, গণমাধ্যমও তার বাইরে ছিল না। সুতরাং গণমাধ্যমকে এই ফ্যাসিজমের ভেতর থেকে বের করে আনতে আমাদের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। কারণ বিগত সময়ে মিডিয়া ও ফ্যাসিজমের যে সম্পর্ক ছিল, সে আধিপত্য থেকে যদি মিডিয়া বের না হয়, তাহলে জুলাই পরবর্তী যে মুক্তগণমাধ্যমের চিন্তা আমরা করছি, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দেরি হচ্ছে। এই সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। তাহলেই আমরা বলতে পারবো জুলাই পরবর্তী যে গণমাধ্যম আমরা চেয়েছিলাম, তা দৃশ্যমান হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমের মালিকানার বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হওয়া উচিত বলে মনে করি। কারণ অনেক করপোরেট মালিক বা একটি গোষ্ঠী গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে। ফলে তাতে গণমানুষের কথা না উঠে বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ধারণ করে। তাই করপোরেট মালিকানায় কতোগুলো গণমাধ্যম থাকতে পারবে, তা নিয়ে আমাদের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

Monday, April 18, 2011
উইকিলিকস—জনগণের গোয়েন্দা সংস্থা by জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ
যদিও আজকের তিউনিশিয়া, মিসর এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি উল্লিখিত কথাগুলোর মাধ্যমে সহজেই বর্ণনা করা যায়, আসলে কিন্তু কথাগুলো রচিত হয়েছিল ১৬৬১ সালে। লেখক ক্লেমেন্ট ওয়াকার। বিষয় ১৬৪০-এর দশকে ইংরেজ গৃহযুদ্ধের সময়ে জনপ্রিয় চরমপন্থা।
প্রকাশনার ইতিহাস এবং জনগণ কী পড়তে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের ইতিহাসে সময়কালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারও ২০০ বছর আগেই ছাপাখানা আবিষ্কৃত হয়েছে। তত দিনে ছাপাখানার অভিগম্যতাও বেড়েছে। আর ডাকব্যবস্থা সৃষ্টির ফলে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে প্রথম দিককার সংবাদপত্র প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। ‘বিতরণ পদ্ধতিকে চালিত করে প্রযুক্তি’—আজকের এই প্রবচনের বহু দৃষ্টান্তের দেখা মিলবে ইতিহাস ঘাঁটলে।
গৃহযুদ্ধের সময়কালে শুধু সুপ্রতিষ্ঠিত ছাপাখানার মালিক ও পুস্তকবিক্রেতারাই পত্রিকা প্রকাশ করছিলেন না, পাশাপাশি ততটা মর্যাদাসম্পন্ন নন, এমন পেশার মানুষও নিজেদের পত্রিকা প্রকাশ করছিলেন। ১৬৪০-এর দশকে জন ডিলিংহাম নামের এক দর্জি মডারেট ইন্টেলিজেন্সার নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন চার বছর ধরে। তাতে স্থান পায় গৃহযুদ্ধে কী ঘটছে সেসব খবরাখবর। (সংঘর্ষের খবর পরিবেশনে পরিমিতি বজায় রাখার চেষ্টার ফলে কিছু দিনের মধ্যেই গিলবার্ট ম্যাবটের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে হয় তাঁকে। ম্যাবট তখন ছাপাখানার লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্বে। অলিভার ক্রমওয়েলের প্রকাশ্য সমর্থক কোনো পত্রিকাকে ইন্টেলিজেন্সার-এর জায়গায় নিয়ে আসতে চাচ্ছিলেন ম্যাবট।)
প্রচারণাধর্মী পুস্তিকা, পাণ্ডুলিপি ও ছোট ছোট নিউজলেটারও নিয়মিত প্রকাশিত হতো। তাতে রচয়িতার ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন ঘটত। অভিজাত ব্যক্তিদের মধ্যে তখন এমন ভাবনাও দেখা দিয়েছিল, জনগণ (ওয়াকারের বর্ণনা অনুসারে) ধীরে ধীরে এত উৎসুক ও উদ্ধত হয়ে পড়ছে যে তারা অধীনতার জন্য যথেষ্ট বিনয়ী আর থাকবে না কোনো দিন—এতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
আজ এক ছোট সংগঠন হিসেবে উইকিলিকস সে সব র্যাডিকেল প্রকাশনার ঐতিহ্যের ভেতরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত, যারা ‘সরকার-বিষয়ক সব গূঢ় রহস্য’ জনগণের সামনে হাজির করতে সচেষ্ট। বাস্তব পরিস্থিতির কারণে কতগুলো বৃহৎ মিডিয়াগোষ্ঠীর সঙ্গে আমরা কাজ করেছি, তবে ৫০টি আঞ্চলিক প্রকাশনা, অ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠী ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান পর্যন্তও বিস্তৃত করেছি সহযোগিতার সম্পর্ক—তাদের রাষ্ট্র এবং কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত শত শত, কিংবা কিছু ক্ষেত্রে হাজার হাজার, দলিল আগেভাগে যেন তারা দেখতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেসব জনপ্রিয় সংবাদপত্রের বিস্তার ঘটে, তাদের আদর্শের প্রতিও সৎ থেকেছে উইকিলিকস। মার্কিন চতুর্থ স্তম্ভের চমৎকার ব্যবচ্ছেদ হিসেবে গণ্য রুথলেস ক্রিটিসিজম বইতে ইতিহাসবিদ জন বেক্কেন দেখাচ্ছেন, ‘একসময় কয়েক ডজন ভাষায় শত শত পত্রিকা প্রকাশিত হতো। তাতে যেমন ছিল শ্রমজীবীদের রাজনৈতিক সংগঠন কর্তৃক প্রকাশিত আঞ্চলিক ও স্থানীয় দৈনিক, তেমনি ছিল পারস্পরিক সহায়তা সংস্থা এবং জাতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলোর সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা।’
এসব সংবাদপত্রের ভূমিকা শুধু খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ থাকত না, বেক্কেনের ভাষায় এরা এমন একটা জায়গা তৈরি করত, যেখানে পাঠকেরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক করতে পারত। প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমজীবীদের প্রতিষ্ঠানগুলো কী কাজ করছে, পাঠক তা জানতে পারত এবং অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক রূপান্তরে সমর্থন জোগাতে তাদের উদ্বুদ্ধ করা যেত।
এখন ব্লগ-বিশ্বকে জনগণের চিন্তাভাবনার বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করার ক্ষেত্র হিসেবে যথার্থভাবেই গণ্য করা হয়। তবে সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক গণমাধ্যমের ধারণা পেতে ফিরে যেতে হবে সেসব শ্রমজীবী প্রকাশনার ঐতিহ্যে। উদাহরণ দিয়ে বলছি, ১৯২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সম্পাদক মিলে একটি কো-অপারেটিভ খবর-সংগ্রহ সংস্থা গঠন করেন। নাম ফেডারেটেড প্রেস। উদ্দেশ্য মূলধারার সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব মোকাবিলা। ১৯৪০-এর দশক পর্যন্ত উদ্যোগটি জারি ছিল, মোটামুটি ১৫০টি প্রকাশনা তাদের সেবা নিত।
সেই সময়ে শ্রমিক আন্দোলনের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম প্রচণ্ড জনপ্রিয় ছিল। এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সর্ববৃহৎ বামপন্থী জার্নাল অ্যাপিল টু রিজন-এর সাপ্তাহিক প্রচারসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত লাখ।
কিন্তু ইউরোপে যখন শ্রেণীসংঘাত তীব্র হয়ে উঠল, তখন প্রতিষ্ঠিত মহল এসব প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাল। মার্কিন মুলুকে ১৯১৭ সালে গুপ্তচরবৃত্তি আইনে যুদ্ধ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ যুক্তি প্রদর্শনও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলো। ইউজিন ডেবস হলেন প্রথম দিককার অন্যতম ভিকটিম। তিনি আমেরিকান সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা। ১৯১৮ সালে এই শ্রমিক নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় শান্তির পক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার অপরাধে। ১০ বছরের সাজা হয় তাঁর।
নিউইয়র্ক টাইমস দুই দশক ধরে নিজ চরিত্রের সঙ্গে সংগতি রেখে ডেবসকে শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ১৮৯৪ সালের ৯ জুলাই এক সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি লিখে, ‘ডেবস আইন ভঙ্গকারী, মানবজাতির শত্রু। তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকা এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে ম্যালা কথা হয়েছে।’
পত্রিকাটিতে আরও বলা হয়, ‘এখন বাচালতা ত্যাগ করে কাজ শুরু করার সময় এসেছে। যদি ডেবসের আশপাশে কোনো কারাগার থেকে থাকে, তাহলে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া উচিত। এবং তাঁর দেওয়া কুশিক্ষার ফলে যে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা অবশ্যই দমন করতে হবে ...মনে রাখা ভালো, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো বন্ধু এ দেশের সেনাদের হাতে কোনো দিন মারা পড়েনি—মরেছে শুধু শত্রুরা।’
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের আগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর নৈপুণ্য এবং আজ উইকিলিকসের বিরুদ্ধে তাদের বৈরী আচরণ কোনোটাই বিস্ময়কর লাগে না। সরকারের বৈরী মনোভাবের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রিয় প্রকাশকদের মোকাবিলা করতে হয় রাজস্বের উৎস হিসেবে বিজ্ঞাপনী বাস্তবতা। বিশ্লেষক জেমস কারেনের মতে, বিশ শতকের প্রথম দিকের ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি হেরাল্ড-এর পাঠকসংখ্যা টাইমস, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও গার্ডিয়ান-এর মিলিত পাঠকসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ ছিল। পত্রিকাটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। বিশ্বের সবচেয়ে প্রচারিত ২০টি দৈনিকের অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এর প্রধান পাঠক শ্রমজীবী জনগণ হওয়ায় এটি লোভনীয় বিজ্ঞাপনী বাজার গড়ে তুলতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন ঘাটতির আরেক শিকার উদারপন্থী নিউজ ক্রনিক্যাল। ১৯৬০ সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়—ডানপন্থী ডেইলি মেইল-এ আত্তীকৃত হয়। যদিও পত্রিকাটির প্রচারসংখ্যা ছিল গার্ডিয়ান-এর ছয় গুণেরও বেশি।
বিজ্ঞাপনের ওপর উইকিলিকসের এই নির্ভরতা নেই, সত্য। বরং প্রকাশনা হিসেবে আমাদের আরেক ধরনের আর্থিক সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। ব্যাংক অব আমেরিকা, ভিসা (লন্ডনে রেজিস্ট্রিকৃত ভিসা ইউরোপসহ), মাস্টারকার্ড, পেপাল, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, সুইস পোস্টফিন্যান্স, মানিবুকারস ও অন্যান্য আর্থিক কোম্পানির আইনবহির্ভূত আর্থিক অবরোধ আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব? এসব কোম্পানি তো ওয়াশিংটনের কৃপাধন্য থাকতে মরিয়া।
ইতিহাসের দীর্ঘ পথে চোখ রাখলে দেখা যায়, উইকিলিকসের অবস্থান সেই সম্মানিত ঐতিহ্যের ভেতরে যা স্বাধীনতার সুযোগ বিস্তৃত করে, জনগণের সামনে ‘সরকারের সব গূঢ় রহস্য’ উন্মোচন করার চেষ্টা চালানোর মাধ্যমে। এক অর্থে, গণমাধ্যম আসলে যা হওয়া উচিত—জনগণের গোয়েন্দা সংস্থা, শূকরের সামনে যে মুক্তা দেয়—উইকিলিকস তার-ই বিশুদ্ধ অভিব্যক্তি।
নিউ স্টেটসম্যান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ: উইকিলিকসের এডিটর-ইন-চিফ।
Monday, October 4, 2010
বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বিটিভির সংবাদ by মুস্তাফিজুর রহমান
এই বার্তাটিতে আতঙ্কিত বা ভীত হওয়ার তেমন কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ বিটিভির সংবাদ প্রচারের এই নির্দেশনাটি অনেক আগেই ছিল। বিটিভির সংবাদ প্রচারের এই শর্ত মেনেই স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো তাদের নিজস্ব অনুষ্ঠান ও সংবাদ প্রচার করে আসছিল। তবে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মে এই নীতিমালা শিথিল করে সংবাদ প্রচারের বাধ্যবাধকতাটি উঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হলো, নতুন করে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে যদি বিটিভির উল্লিখিত দুটি সংবাদ আবার প্রচার করা শুরু হয়, তাহলে কী লাভ আর কী-ই বা ক্ষতি। ফ্যাক্স বার্তা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার, তথ্য মন্ত্রণালয় চাইছে দেশের আপামর জনগণ বিটিভির সংবাদ দেখুক। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এ যুগে কোনো দর্শক কিংবা পাঠককে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া কি সম্ভব?
বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা প্রায় ৩৫টি। সারা দেশে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আর বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড বাদ দিয়ে আরও রয়েছে ১১টি স্যাটেলাইট চ্যানেল। সাধারণ পাঠকেরা যখন বাড়িতে একটি বা দুটি সংবাদপত্র রাখেন, তখন তা নির্বাচন করার সময় পত্রিকাটির গুণগত মানের সঙ্গে আরও যে বিষয়টি অন্যতম বিবেচ্য হিসেবে কাজ করে, তা হচ্ছে পাঠকের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি।
টেলিভিশন চ্যানেল নির্বাচনের সময় নিজস্ব পছন্দের এই বিষয়টি অত্যন্ত জোরেশোরে কাজ করে, বিশেষ করে সংবাদ প্রচারের সময়। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো যার যা আদর্শ অনুযায়ী বা কর্তার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ, অনুষ্ঠান ও টক শো প্রচার করে থাকে, তা যতই নিরপেক্ষতার ছদ্মাবরণে থাকুক না কেন। বিগত সরকার কিংবা বর্তমান সরকার প্রায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁদেরই সম্প্রচার লাইসেন্স দিয়েছে, যাঁরা তাঁদের ঘনিষ্ঠ। সে কারণে দর্শকদের মধ্যেও একটি বিভাজন লক্ষ করা যায়। যাঁরা বর্তমান সরকারের সাফল্যগাথা শুনতে বা দেখতে আগ্রহী, তাঁরা বিটিভি ছাড়াও সরকারদলীয় মতাদর্শের চ্যানেলগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন। অন্যদিকে যাঁরা বিরোধীদলীয় সমর্থক, তাঁরা তাঁদের মতাদর্শের চ্যানেলগুলো টিউন করেন।
কিন্তু মুশকিল হলো বেচারা দর্শকের। তার একমাত্র ভরসা তিন-চার ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও দেড়/দুই ইঞ্চি প্রশস্ত একটি বস্তু (এসওএস), যার নাম রিমোট কন্ট্রোল। আজকাল প্রায় প্রতিটি টিভির সঙ্গে এই যন্ত্রটি থাকে। যাঁরা টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান দেখে থাকেন, তাঁরা প্রায় প্রতি মুহূর্তেই তাঁদের পছন্দের অনুষ্ঠানমালা খুঁজে থাকেন এর সাহায্যে। এমনকি এই ছোট্ট যন্ত্রটির সাহায্যে আমি অনেককে দেখেছি অনুষ্ঠানের মাঝখানের বিজ্ঞাপন বিরতির সময় চ্যানেল বদলিয়ে অন্য চ্যানেলে গিয়ে কিছু একটা দেখে পুনরায় ওই চ্যানেলে ফিরে আসতে, যদি তাঁর ওই অনুষ্ঠানটি ভালো লাগে। আর যদি বিজ্ঞাপন বিরতির আগের অনুষ্ঠানটির চেয়েও পছন্দনীয় কোনো অনুষ্ঠান তিনি চ্যানেল বদলাতে গিয়ে পেয়ে যান, তাহলে হয়তো আগের অনুষ্ঠানটি দেখা অসম্পূর্ণ রেখেই নতুন খুঁজে পাওয়া অনুষ্ঠানটি দেখতে শুরু করে দেন।
বিটিভির সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রেও তা-ই। যাঁরা বিটিভির সংবাদ দেখবেন, তাঁদের চ্যানেলে চ্যানেলে প্রচার করে দেখানোর প্রয়োজন নেই। আর যাঁরা দেখবেন না, তাঁদের সব কটি চ্যানেলে একই সংবাদ প্রচার করেও দেখানো সম্ভব নয়। তবে এখানে প্রসঙ্গক্রমে এসে যায় নীতিমালার বিষয়টি। বেসরকারি টেলিভিশনের জন্য একটি নীতিমালা জরুরিভিত্তিতে প্রণয়ন করা উচিত। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ১৯৯৮ ও ২০০৮ সালে যে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমান কারিগরি উৎকর্ষের কথা বিবেচনায় রেখে আবারও নতুন করে তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। এ প্রসঙ্গে বিটিভির কথাও বলা যেতে পারে। কবে, কখন বিটিভির নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল, তা এখন বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। তাই বিটিভির জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা করা প্রয়োজন। তথ্য মন্ত্রণালয় এই বিষয়টিও ভেবে দেখতে পারে।
তথ্য মন্ত্রণালয় যদি বিটিভির সংবাদ বাংলাদেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে প্রচারের নির্দেশ অব্যাহত রাখে, বিশেষ করে রাত আটটার প্রাইম টাইমে, তাহলে হাতে গোনা দু-একটি চ্যানেল বাদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অধিকাংশ চ্যানেল। আমি নিজে একটি চ্যানেলে প্রধান নির্বাহী থাকাকালে দেখেছি, কী প্রাণান্তকর চেষ্টা করে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের কর্মীদের প্রাইম টাইমে এক মিনিট বিজ্ঞাপন সময় বিক্রি করতে হয় সামান্য অর্থের বিনিময়ে। এখন যদি এই প্রাইম টাইম অর্থাৎ রাত আটটা থেকে আটটা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে না থাকে, তাহলে অবশ্যই টিভি চ্যানেলগুলো একটি অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়বে।
যতক্ষণ দর্শককের হাতে রিমোট কন্ট্রোল আছে, ততক্ষণ কোনো কিছুই জোর করে দেখানো সম্ভব নয়। এই ছোট্ট যন্ত্রটির সাহায্যে আপনি বিশ্ব পরিভ্রমণ করতে পারেন মুহূর্তেই। তাই এখন দর্শকই ঠিক করবে, সে কী দেখবে। তাকে বাধ্য করে কোনো অনুষ্ঠান কিংবা সংবাদ দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।
পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই, বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিগত চরম উৎকর্ষের সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত সত্যিই অর্থহীন। তথ্য মন্ত্রণালয় তার ফ্যাক্স বার্তায় পাঠানো বিটিভির সংবাদ সব বাংলাদেশি স্যাটেলাইট টিভিতে প্রচারের নির্দেশটি পুনর্বিবেচনার অবকাশ রাখে।
মুস্তাফিজুর রহমান: চলচ্চিত্রনির্মাতা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক।
mustafizz_rahman@yahoo.com
BNM Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1536)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

