Sunday, July 21, 2013

কাশ্মীরে দ্বিতীয় দিনের মতো কারফিউ

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরে গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো কারফিউ অব্যাহত থাকে। একই সঙ্গে চলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিচ্ছিন্নতাকামী কাশ্মীরিদের ডাকা বন্ধ। গত বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের দক্ষিণে রামবান জেলার গুল গ্রামে বিএসএফের গুলিতে চার বিক্ষোভকারী নিহত ও ৪৩ জন আহত হওয়ার ঘটনায় রাজ্যটি উত্তপ্ত। কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক অশোক প্রসাদ জানান, গত শুক্রবার সকালে জারি করা কারফিউ আজ রোববার সকাল পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার কারফিউ উপেক্ষা করে শ্রীনগরসহ বিভিন্ন স্থানে লোকজন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের সঙ্গে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ৩০ জনের বেশি আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। গত বুধবার জঙ্গি আটকের কথা বলে একটি স্থানীয় মসজিদে বিএসএফের অভিযানের জের ধরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় একজন খাদেমকে প্রহার করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন। পরদিন সকালে রামবান জেলার গুল গ্রামে বিএসএফের ঘাঁটির সামনে বিক্ষোভ করার সময় এই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালালে অন্তত চারজন নিহত হয়। সহিংসতা মোকাবিলায় গতকাল শ্রীনগরসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সিআরপিএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আইএএনএস।

জামিনে মুক্তি পেয়েই নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা নাভালনির

জামিনে সদ্য কারামুক্ত রাশিয়ার পুতিনবিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি বলেছেন, ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় মস্কোর মেয়র নির্বাচনে তিনি লড়বেন এবং জয়ী হবেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরদিন গতকাল শনিবার মস্কোয় সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেন নাভালনি। গত বৃহস্পতিবার উত্তর রাশিয়ার কিরোভ শহরের একটি নিম্ন আদালত নাভালনিকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। নাভালনি ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন। গত শুক্রবার বিচারক আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত নাভালনিকে জামিনে মুক্তির আদেশ দেন। পুতিনের প্রধান সমালোচকদের একজন নাভালনির বিরুদ্ধে এ মামলাকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মুক্তি পাওয়ার পর নাভালনি গতকাল মস্কোয় ফিরে যান। মস্কোর ইয়ারোস্লাভস্কি স্টেশনে সমবেত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তি অফুরান। ক্রেমলিনের ক্ষমতার দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কেউ কারাগারে যাক, সেটা আমরা আর দেখতে চাই না।’ নাভালনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁর জামিনে মুক্তির পেছনেও রাজনীতি আছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত জঙ্গি মোখতার

বেলমোখতার
আলজেরিয়ায় গত জানুয়ারিতে গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা অবরোধের ঘটনায় জঙ্গি নেতা মোখতার বেলমোখতারকে অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন অভিযোক্তারা। তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ, জিম্মি করা ও গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পলাতক মোখতারের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে ধরিয়ে দিতে বা খোঁজ দেওয়ার জন্য ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্কের সংশ্লিষ্ট আদালতের অভিযোক্তা প্রিট ভারারা বলেন, ‘মোখতার নির্দোষ মানুষকে সন্ত্রাসের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন, রক্তপাত ঘটিয়েছেন।’ জঙ্গিরা ১৬ জানুয়ারি পূর্ব আলজেরিয়ার তিগানতুরিন গ্যাস স্থাপনার বিদেশি কর্মীদের বহনকারী দুটি বাস অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্থাপনাটির চত্বরে ঢোকায়। পরে সেনারা অভিযান চালালে সংঘর্ষে ২৯ জঙ্গি ও অন্তত ৩৭ জিম্মি নিহত হন। নিহত জিম্মিদের মধ্যে তিনজন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। জিম্মি-সংকট শেষ হওয়ার দিন অনলাইনে ভিডিও বার্তায় মোখতার দাবি করেন, আল-কায়েদার পক্ষ থেকে তাঁরা ওই কাজ করেন। বিবিসি।

শিগগিরই সরাসরি আলোচনা

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা আবার শুরুর ব্যাপারে জোরালো আশাবাদ জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। গত শুক্রবার তিনি জর্ডানে জানান, আগামী সপ্তাহ বা এর কাছাকাছি কোনো সময়ে দুই পক্ষ ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনায় বসছে। নতুন দফা মধ্যপ্রাচ্য সফরে এসে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের একটি হোটেলে চার দিন ধরে অবস্থান করেন জন কেরি ও তাঁর প্রতিনিধিদল। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি। এরপর শুক্রবার রাতে শান্তি আলোচনা শুরুর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বৈঠকের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে উন্নীত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে এখনই তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলছেন না। প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা শান্তি আলোচনা আবার শুরুর প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির জন্য ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পক্ষের আলোচকদেরই কৃতিত্ব দিয়েছেন কেরি। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে কাছাকাছি আনার জন্য দুই পক্ষের আলোচকেরাই মূল কাজটি করেছেন। কেরির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সরকারের কর্তৃপক্ষ। তবে ফিলিস্তিনের কট্টরপন্থী সংগঠন হামাস আলোচনায় ফিরে যাওয়ার বিরোধিতা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে বিমানে ওঠার ঠিক আগে আম্মানে সাংবাদিকদের জন কেরি বলেন, ‘আমি খুশি মনে জানাচ্ছি যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনায় বসার ব্যাপারে আমরা মতৈক্যে পৌঁছাতে পেরেছি। এটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক এক পদক্ষেপ।’ তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক সায়েব এরেকাত ও ইসরায়েলের প্রধান আলোচক জিপি লিভনি আগামী সপ্তাহে বা এর কাছাকাছি কোনো সময়ে ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনার প্রাথমিক পর্ব শুরু করবেন। এ ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল মূল বিষয়ে খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন কেরি। এরপর থেকে তিনি ছয়বার মধ্যপ্রাচ্য সফর করেছেন। কেরির উদ্যোগের বিষয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা বলেন, শুক্রবার রামাল্লায় প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে কেরির বৈঠক হয়েছে। সেখানে শান্তি আলোচনা শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ইসরায়েলের বিচারমন্ত্রী ও প্রধান আলোচক লিভনি আলোচনা শুরুর ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী। তিনি বলেন, এটা একটা সুযোগ। তবে আমি জানি আলোচনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত তা জটিল পর্যায়েই আছে।
কেরির উদ্যোগকে স্বাগত: কেরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এই আলোচনা নিশ্চিতভাবে শুরু করতে উভয় পক্ষকে ‘সাহস ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন বলেন, এটা খুব আশা জাগানিয়া বিষয় যে অবশেষে শান্তি আলোচনা আবার শুরুর ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে। এএফপি।

মানসুরা শহরে রাতভর সংঘর্ষে নিহত ৩

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে গত শুক্রবার মানসুরা শহরে রাতভর সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। মুরসিকে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল শনিবারও তাঁর হাজারো সমর্থক রাজধানীতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। গতকাল সকালে কায়রোর রাবা আল-আদাওয়াইয়া মসজিদ এলাকায় হাজারো মুরসি-সমর্থক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নাইল ডেলটা অঞ্চলের মানসুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে তিনজন নিহত ও ছয়জন আহত হন। মিসরের সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আগামী দিনে কঠোর হাতে বিক্ষোভকারীদের দমন করা হবে। সেনাবাহিনী ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর আগে গত শুক্রবার মুরসির সমর্থকদের একাংশ কায়রোর রাবা আল-আদাওয়াইয়া মসজিদের কাছে জড়ো হন। রাতে সেখান থেকে অন্তত ১০ হাজার সমর্থক এলিট সেনা দপ্তরের দিকে যাত্রা করেন। তবে পথে সেনারা তাঁদের আটকে দেয়। কায়রোর উপকণ্ঠের নাসর শহরেও মুরসিপন্থীদের বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে মুরসির সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মী-সমর্থক ছাড়াও অন্য কয়েকটি ইসলামি দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। ব্রাদারহুডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান এসাম এল-আরিয়ান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে জনগণের শক্তি রয়েছে। বিক্ষোভে শুধু দলীয় নেতা-কর্মীই নন, বরং সাধারণ নাগরিকেরা দলে দলে অংশ নিচ্ছেন।’
শুক্রবার বিকেলে মুরসির কয়েক শ সমর্থক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে যেতে চাইলে সেনাসদস্যরা বাধা দেন। পরে তাঁরা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন। কায়রোর অন্যান্য অংশেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এদিন মিসরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়ায়ও মুরসির সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন। মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সেনাবাহিনী অবৈধ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেছে বলে অভিযোগ ব্রাদারহুডের। সিরিয়ার যুদ্ধে জড়াবে না মিসর: মিসরের অন্তর্বর্তী সরকারের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমি গতকাল বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধী যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তবে স্বাধীনতা লাভের জন্য দেশটির জনগণের ইচ্ছার প্রতি কায়রোর সমর্থন রয়েছে। গত মাসে কয়েকজন সুন্নি নেতা শিয়া প্রাধান্যপুষ্ট বাশার সরকার ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দেন। মুরসির সংগঠন ব্রাদারহুড এতে সমর্থন জানিয়েছিল। এএফপি ও আল-জাজিরা।

পুরুষ আত্মীয় ছাড়া নারীদের বাজারে যাওয়া নিষিদ্ধ

পাকিস্তানের একটি এলাকায় পুরুষ নিকটাত্মীয় ছাড়া নারীদের বাজারে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছেন স্থানীয় উপজাতীয় ও ধর্মীয় নেতারা। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আফগান সীমান্তবর্তী জেলা কারাকের ধর্মীয় নেতাদের সংগঠন খাটাক ইত্তেহাদ গত শুক্রবার এক বৈঠক করে ওই সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সঙ্গে একজন পুরুষ নিকটাত্মীয় ছাড়া কোনো নারী জেলার কোনো বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করতে পারবে না। খাটাক ইত্তেহাদের জেলা কমিটির প্রধান মাওলানা মির্জাকিম বলেন, ‘পুরুষ আত্মীয় ছাড়া যাঁরা বাজারে যাবেন, তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ তিনি মন্তব্য করেন, নারীরা অশ্লীলতা ছড়ান, যা এই রমজানে পুরুষদের রোজা নষ্ট করে দেয়। রমজান মাসের পর এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে কি না তা জানাননি তিনি। কারাক জেলার একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা গতকাল শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতারা ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তাঁরা এটা বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের বাঘলান প্রদেশের দেহ সালাহ এলাকায় স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা গত মাসের শেষের দিকে অনুরূপ একটি ডিক্রি জারি করেন। এতে স্থানীয় প্রসাধন সামগ্রীর দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ডিক্রির ভাষ্যমতে, এসব দোকান ‘পতিতাবৃত্তির কাজে’ ব্যবহার করা হচ্ছে। তালেবান আমলের মতো অতি কট্টর এ ডিক্রি জারির বিষয়ে স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে জানিয়েছেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের প্রধান ধর্মীয় উপদেষ্টাদের একজন এনায়েতুল্লাহ বালিঘ। তবে তালেবানবিরোধী বলে পরিচিত দেহ সালাহ এলাকায় ওই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এএফপি, বিবিসি ও ডন।

ট্রেভন মার্টিনের ঘটনা ঘটতে পারত আমার ক্ষেত্রেও: ওবামা

হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে ওবামা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ৩৫ বছর আগে তাঁর নিজের ক্ষেত্রেও ট্রেভন মার্টিনের মতো ঘটনা ঘটতে পারত। ফ্লোরিডার কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মার্টিন হত্যার আলোচিত মামলা নিয়ে এই প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন ওবামা। প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজের অতীতে বিভিন্ন বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে অপ্রত্যাশিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। সাংবাদিকেরা হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনির মুখোমুখি হওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। ওবামা এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ খুব কমই আছেন, যাঁরা জাতিগত পরিচয়ের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির শিকার হননি। তিনি বলেন, ‘ট্রেভন মার্টিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফ্রিকান-আমেরিকানরা যন্ত্রণা অনুভব করছে। কারণ, তারা এটাকে দেখছে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের আলোকে, যা কখনোই মুছে যায় না। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ১৭ বছর বয়সী ট্রেভন মার্টিনকে গুলি করে হত্যা করেন স্থানীয় নাগরিক নিরাপত্তা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী জর্জ জিমারম্যান (২৯)। জিমারম্যানের ভাষ্য, তিনি আত্মরক্ষার্থে গুলি করেছিলেন। আদালতের একটি জুরিবোর্ড গত সপ্তাহে জিমারম্যান নির্দোষ বলে রায় দেয়। ওই রায়ের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ফৌজদারি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের শিকার হতে হয়, এ বিষয়েও আফ্রিকান-আমেরিকানরা গভীরভাবে সচেতন। ওবামা আরও বলেন, ‘যখন ট্রেভন মার্টিনকে প্রথমে গুলি করা হয়, তখন আমি বলেছিলাম, আমার সন্তানের ক্ষেত্রেও এটা ঘটতে পারত। অন্যভাবে বলা যায়, ৩৫ বছর আগে আমার ক্ষেত্রেও ট্রেভন মার্টিনের ঘটনা ঘটতে পারত।’ ওবামা অতীতে কেনাকাটা করতে যাওয়ার সময় কীভাবে নজরদারির শিকার হতেন, সেসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে চলেছে, আর এ রকম অভিজ্ঞতার শিকার হয়নি—এমন আফ্রিকান-আমেরিকান খুব কমই আছে। মার্কিন সমাজে জাতিগত সম্পর্ক বিষয়ে এত বিস্তারিত ও খোলাখুলি কথা কমই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। এদিকে জুরিবোর্ডের অন্যতম সদস্য জেসি জ্যাকসন মন্তব্য করেন, ফ্লোরিডার আত্মরক্ষা-সংক্রান্ত আইন ‘স্ট্যান্ড ইয়োর গ্রাউন্ড’-এর কারণে জিমারম্যানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প ছিল না। তিনি আইনটিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান। ওই আইনের আওতায় একজন ব্যক্তি কাউকে নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করলে হত্যার মতো পথ বেছে নিতে পারে। ফ্লোরিডার আইনসভার ডেমোক্রেটিক নেতারা আইনটি হয় বাতিল, না হয় সংশোধন করার দাবি তুলেছেন। বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স।

কোটার দাবিদার কারা by মোঃ আবুসালেহ সেকেন্দার

৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে দেশে লংকাকাণ্ড ঘটে গেছে। শুরু হয়েছে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণআন্দোলন। তবে কোটাধারীরাও বসে নেই; তারাও মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে সুবিধাবাদী একটি গ্র“পও তৎপর। কোটা বিতর্কে আমরা প্রধানত তিনটি পক্ষ এবং তিন ধরনের যুক্তি পাচ্ছি- ক. সাধারণ শিক্ষার্থী : কোটা পদ্ধতি সম্পূর্ণ বাতিল করে মেধার মূল্যায়ন করতে হবে, খ. আওয়ামী ও ছাত্রলীগপন্থী কথিত সাধারণ শিক্ষার্থী : কোটাবিরোধী আন্দোলনে আমাদের সমর্থন আছে; কোটা একেবারে বাতিল করা যাবে না; কিছু সংস্কার করা যেতে পারে, শিবিরপন্থীরা এ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে; গ. আমরা মুক্তিযুদ্ধের সন্তান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড : কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন ষড়যন্ত্রমূলক এবং শিবিরের পাতানো ফাঁদ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা কারও করুণা নয় প্রভৃতি।
মুক্তিযুদ্ধের সন্তান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড নামের সংগঠন দুটির সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট, তারাই একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সন্তান নন। তবে তারা সবাই সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান- এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। ওই সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধাদের সবাই আবার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়। আমরা স্পষ্টতই দেখেছি, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ওই হাইব্রিড মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়। অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন তার বাংলাদেশের প্রতিরক্ষায় সাধারণ মানুষের ভূমিকা শীর্ষক প্রবন্ধে মন্ত্রণালয়ের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভুয়া নাম সংযোজনের অভিযোগ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ওই তালিকায় রাজাকারদেরও রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তথ্য আছে। এ বিষয়টি সাম্প্রতিককালের। কিন্তু এর চেয়ে ভয়াবহ তথ্য রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর গ্রন্থে। ওই গ্রন্থে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গঠিত যুব শিবিরের মহাপরিচালক এসআর মীর্জা বলেছেন, যুদ্ধের পরপরই কর্নেল ওসমানীর স্বাক্ষরে হাজার হাজার সার্টিফিকেট দেয়া হল, যারা কোনোদিন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না (পৃ. ১৩৭)।
দেশে এখন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৮০০। ২০০৯ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭২ হাজার। অন্য আর একটি প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে- কারা মুক্তিযোদ্ধা? বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এর সহজ উত্তর- সার্টিফিকেটধারী অথবা মন্ত্রণালয়/মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট/মুক্তিবার্তা/গেজেটে নামভুক্তরাই মুক্তিযোদ্ধা। সত্যি কি এরাই কেবল মুক্তিযোদ্ধা? এ প্রশ্নের উত্তর- না। এরা কোনোভাবেই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা নয়। তবে হ্যাঁ, এদের মধ্যে ভুয়া ছাড়া প্রায় সবাই অস্ত্র হাতে শত্র“র বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা আর সশস্ত্র যোদ্ধা এক নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রভাগে যারা ছিলেন তারাই সশস্ত্রযোদ্ধা, পশ্চাতে ছিলেন সশস্ত্র যোদ্ধাদের সহযোগী, সাহায্যকারী, আশ্রয়দাতারা। আর এ দুইয়ে মিলেই মুক্তিযোদ্ধা। এ দেশের পাকিস্তানিদের সহযোগী ছাড়া সবাই ছিলেন ওই দলভুক্ত তথা মুক্তিযোদ্ধা। যার সাফল্যকে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন আমজনতার লড়াইয়ের পুঞ্জিত কৃতী বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে ওই সশস্ত্র যোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা গুলিয়ে ফেলার কারণেই যত জট পেকেছে। আর সশস্ত্র যোদ্ধাদের মতো তাদের সহযোগী, সাহায্যকারী, আশ্রয়দাতাদের ভূমিকাও কোনো অংশে কম ছিল না। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও পরবর্তীকালে প্রকাশিত মূলধারা ৭১ গ্রন্থ খ্যাত মঈদুল হাসানের মতে, দেশের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধারা (আমার মতে, সশস্ত্র যোদ্ধারা) আসছে, তখন দেশের মানুষ নিজেরাই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তাদের আশ্রয় দিত, তাদের আহার দিত, আহত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করত, তাদের পথ দেখাত, উৎসাহ দিত। ... মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা দেশের ভেতরে পাকিস্তানিদের প্রায় অচল করে ফেলেছিল। এটা হয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের, যারা অধিকৃত এলাকায় ছিল তাদের সহযোগিতার ফলেই। এটা না হলে মুক্তিযোদ্ধারা কখনোই সফল হতো না।... কাজেই দেশের ভেতরে যেমন নানা প্রতিরোধ গ্র“প, তেমনি নিরস্ত্র মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অবদান মুক্তিযুদ্ধের জন্য ছিল অপরিসীম (পূর্বাপর, পৃ. ১১৩)।
সশস্ত্রযোদ্ধারা যেমন ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করেছেন, তেমনি তাদের সাহায্যকারী-আশ্রয়দাতাদের ঝুঁকিও কোনো অংশে কম ছিল না। যদি পাকিস্তানি বাহিনী অথবা তাদের দোসররা একবার জানত, সশস্ত্র যোদ্ধাদের সহযোগিতা করা হয়েছে; তবে রক্ষা নেই। শুধু সশস্ত্র যোদ্ধাদের সহযোগিতা করার কারণে গ্রামের পর গ্রাম পাকিস্তানিরা জ্বালিয়ে দিয়েছে, নারীদের ধর্ষণ করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে। তাই কতিপয় সশস্ত্র যোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করে শুধু তাদের বা তাদের সন্তান-সন্ততিদের সরকারি চাকরিতে কোটা প্রদান বৈষম্যমূলক। যদি কোটা প্রদান করতেই হয় তবে সশস্ত্রযোদ্ধা, সাহয্যকারী, আশ্রয়দাতা তথা সব মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকেই প্রদান করতে হবে। শুধু সশস্ত্রযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করে কোটা প্রদান অন্যায়। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থীও বটে।
এই কোটা প্রথা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে : ...বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য বিবেচনা করে আমরা বাংলাদেশকে সার্বভৌম গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। এ দেশের সংবিধানও প্রচলিত কোটা প্রথাকে সমর্থন করে না। সংবিধানের ২৯(১) ও (২) অনুচ্ছেদে যথাক্রমে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে এবং কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদে বা জš§স্থানের কারণে কোনো নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না। সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদ নাগরিকদের অনগ্রসর অংশের জন্য চাকরিতে বিশেষ কোটা প্রদান অনুমোদন করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রচলিত কোটা ব্যবস্থায় সেই অনগ্রসর অংশের সুযোগ অতি সামান্য।
সব মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য বা নারী অনগ্রসর নয়। ঢাকা শহর বা জেলা শহরে বসবাসকারী অনেক সচ্ছল পরিবারের সন্তান মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা নারী হিসেবে কোটার সুবিধা ভোগ করেন। সত্যিকার অনগ্রসর যারা, কোটা তাদেরই প্রাপ্য। আমরা বলছি না, মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা নারীদের সবাই অগ্রসর। তবে তাদের সবাইকে অনগ্রসর বলেও মানতে পারছি না। তাই কোটা প্রদানের আগে চিহ্নিত করা হোক সমাজের অনগ্রসর কারা।
অনগ্রসরদের সমাজের মূল স্রোতে আনতে ভিন্নভাবেও সহযোগিতা করা যেতে পারে। কোটার নামে সরকারি চাকরিতে কম যোগ্যদের সুযোগ করে দেয়ার কোনো মানে হয় না। আমরা বলছি না, যারা কোটাধারী সবাই কম যোগ্য। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, কোটার কারণে অধিকতর যোগ্য বা মেধাবীরা সুযোগ না পেয়ে কম মেধাবীরা অধিক হারে সুযোগ পাচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা মেধাবী ছিলেন বলেই তারা দেশের স্বাধীনতার বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন। আমার বিশ্বাস, তাদের সন্তানরাও মেধাবী। আর মেধাবীরা কখনও সুযোগসন্ধানী হয় না। তাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের তাদের জন্য মর্যাদাহানিকর কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হওয়া উচিত। নারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আজ মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নানা পরীক্ষায় তারা ছেলেদের টপকিয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করছেন। বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার কৃতিত্বও তাদের রয়েছে। তাই কোটার নামে তাদের মেধার যে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, সে প্রহসন বন্ধে তাদের আওয়াজ তোলা উচিত।
কোটাপ্রথা বাতিল বা সংস্কারের দাবির মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল অথবা শিবিরের ইন্ধন না খুঁজে সরকারের উচিত গণমানুষের দাবির বাস্তবতা উপলব্ধি করা। ছাত্রলীগেরও উচিত ছাত্রশিবির যাতে এ যৌক্তিক আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে সাধারণ ছাত্রদের তাদের পক্ষে নিতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকা এবং এ আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্রলীগ সর্বদা সোচ্চার সে বিষয়টি আবারও প্রমাণ করা।
মোঃ আবুসালেহ সেকেন্দার : শিক্ষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জনপ্রশাসনে অদক্ষতা বাড়ছে নানা কারণেই by ইকতেদার আহমেদ

ব্যাপক অর্থে আমাদের দেশের প্রশাসন দু’ভাগে বিভক্ত। এর একটি হল সামরিক প্রশাসন আর অপরটি বেসামরিক প্রশাসন। বেসামরিক প্রশাসনের আরেক নাম জনপ্রশাসন। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে কী পদ্ধতি অনুসৃত হবে তা সংবিধান, আইন ও বিধিবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেনা, নৌ ও বিমান এ তিনটি বাহিনীর সমন্বয়ে সামরিক প্রশাসন গঠিত। প্রতিটি বাহিনীর নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ-পরবর্তী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের কঠোর প্রশিক্ষণ অনুশীলন করতে হয়। কর্মকর্তা ও সৈনিক উভয়ের ক্ষেত্রে শারীরিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া কোটা সংক্রান্ত কোনো বিধিবিধান না থাকায় যোগ্য ও মেধাবীরা নিয়োগপ্রাপ্ত হচ্ছেন। জনপ্রশাসনে অধস্তন আদালতের বিচারক ছাড়া অপর সব বিভাগের ক্যাডার ও ক্যাডারবহির্ভূত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা এবং অধিকাংশ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। অধস্তন আদালতের বিচারকরা আগে সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে এলেও উচ্চাদালতের আপিল বিভাগের রায়-পরবর্তী ১৯৯৮ সাল থেকে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হচ্ছেন।
জনপ্রশাসনের সব বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা স্ব-স্ব বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হন। জনপ্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি অনুসৃত হয়। ইংরেজি Quota শব্দটির অর্থ Proportional share যার বাংলা অর্থ আনুপাতিক অংশ। তবে কোটা শব্দটিই বহুল ব্যবহত।
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণ সরকারের নীতির একটি অংশ। তবে যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোটা সংক্রান্ত নীতির প্রয়োগ গণতন্ত্রের বিধানাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং এটি দীর্ঘদিন অনুসৃত হওয়া কাম্য নয়। আমাদের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব মূলনীতির কথা বলা হয়েছে, তার একটি হল সুযোগের সমতা। সুযোগের সমতা বিষয়ে সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের (১), (২) ও (৩) নম্বর দফায় পর্যায়ক্রমিকভাবে বলা হয়েছেÑ (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন। (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমানস্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধা দান নিশ্চিত করবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। (৩) জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে যেসব মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হচ্ছে ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা। এ বিষয়ে ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের (১) ও (২) দফা এবং (৩) নম্বর দফার (ক), (খ) ও (গ) উপদফায় পর্যায়ক্রমিকভাবে বলা হয়েছে- (১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। (২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জš§স্থানের কারণে কোনো নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হবেন না কিংবা সেক্ষেত্রে তার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না। (৩) এ অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই- (ক) নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারে, সে উদ্দেশ্যে তাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হতে, (খ) কোনো ধর্মীয় বা উপসম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মাবলম্বী বা উপসম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান সংবলিত যে কোনো আইন কার্যকর করা হতে, (গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেরূপ যে কোনো শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না। সংবিধানের ১৯ ও ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধানাবলীর প্রতি আলোকপাত করলে পরিলক্ষিত হয় ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সাধারণ অর্থে অর্থাৎ সব ক্ষেত্রে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে, অপরদিকে ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বিশেষ অর্থে অর্থাৎ সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ বিষয়ে রাষ্ট্রকে বিশেষ বিধান প্রণয়নে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন বেসামরিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার যে বিভাজন রয়েছে তা হল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা শতকরা ৩০ ভাগ, জেলা কোটা ১০ ভাগ, মহিলা কোটা ১০ ভাগ, উপজাতি কোটা ৫ ভাগ এবং প্রতিবন্ধী কোটা ১ ভাগসহ সর্বমোট ৫৬ ভাগ। এ ধরনের কোটা সংরক্ষণ মেধা লালনের ক্ষেত্রে কতটুকু সহায়ক তা বিবেচনার দাবি রাখে।
সংবিধানের ২৯(৩)(ক) অনুযায়ী নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়নের পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে তাদের প্রতিনিধিত্ব যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এ বিধানের কার্যকারিতা থাকা উচিত নয়।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, তারাই তো মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কথা। কিন্তু ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটি সংজ্ঞায়িত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সংযোজন ও বিয়োজনের ঘটনা ঘটছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের প্রারম্ভিক যে কোনো পদে নিয়োগ লাভের সুযোগ না থাকায় এ সুযোগটি তাদের সন্তান পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সচেতন দেশবাসীর প্রশ্ন, এ ধরনের সম্প্র্রসারণ কতটুকু যৌক্তিক? তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হবে সে নিশ্চয়তা সবার ক্ষেত্রে দেয়া কি সম্ভব?
নারীরা নিজ মেধা ও যোগ্যতার কারণে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে ভালো করছে। সে বিবেচনায় কোটার মাধ্যমে তাদের সংরক্ষিত রাখার প্রয়োজন আছে, সম্ভবত এমনটি ভাবার অবকাশ কমে আসছে। কোটার কারণে মেধাবীরা নিয়োগ লাভে বঞ্চিত হচ্ছেন। অপরদিকে স্বল্প মেধাবীদের আধিক্য ঘটছে। এভাবে জনপ্রশাসনে স্বল্প মেধাবীর সংখ্যা যত বেশি হবে, জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব তত বেশি নিুগামী হবে। তবে বর্তমানে জনপ্রশাসন যে কাক্সিক্ষত মান রক্ষা করতে পারছে না, তার কারণ শুধু কোটা পদ্ধতি নয়।
২০০১-পরবর্তী জনপ্রশাসনের উপসচিব থেকে সচিব অবধি উচ্চতর পদসমূহে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে কর্মকর্তাদের ওএসডি করার বিধান স্থায়ী রূপ পেয়েছে। এ স্থায়ী রূপ পাওয়া পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, জনপ্রশাসন রাজনৈতিক কারণে দুটি শিবিরে বিভক্ত। এর একটি হচ্ছে আওয়ামীপন্থী আর অপরটি বিএনপি ও জামায়াতপন্থী। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব একজন বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে জনপ্রশাসনবিষয়ক একটি টকশোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ টকশোটি যাদের দেখার সুযোগ হয়েছিল তারা বুঝেছেন একজন সাংবাদিকের জ্ঞানের কাছে দু’জন জ্যেষ্ঠ সচিবের জ্ঞান কত তুচ্ছ। একজন রাজনৈতিক মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) নিয়োগের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিচারে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবীদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। তাদের অধিকাংশের কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর তাদের ওপর অনাহুত ওএসডি’র খড়গ নেমে আসে। এতে করেও মেধাবীরা অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছেন আর অপেক্ষাকৃত স্বল্প মেধাবীরা অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও লোভনীয় পদে আসীন হচ্ছেন।
সরকারের একটি বিশেষায়িত মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৮১ ও ৮৩ ব্যাচের সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিবেচনা না করে পরবর্তী সময় নিয়োগবিধি শিথিল করে ওই বিশেষায়িত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শুধু মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে বিশেষ উদ্দেশ্যে যেসব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে নিুে অবস্থানকারী একজনকে সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ নিয়োগের কারণে বিশেষায়িত মন্ত্রণালয়ভুক্ত বিভাগের জ্যেষ্ঠ, দক্ষ, সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তারা হতবাক, বিস্মিত ও মর্মাহত হন। তাদের অভিমত, এ ধরনের নিয়োগ বিভাগে শুধু শৃঙ্খলাই নষ্ট করে না, বিভাগে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায়ও সহায়ক হয়। সম্প্রতি সরকারি কর্মকমিশন সরকারের বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০০ নম্বরের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করায় নিয়োগ প্রত্যাশী কোটাবহির্ভূতদের মধ্যে এমন ধারণা হচ্ছে যে, কোটাধারীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রারম্ভিক ধাপে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। যদিও কোটাবহির্ভূত নিয়োগ প্রত্যাশীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সরকারি কর্মকমিশন তাদের গৃহীত পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে, তবে কোটাবহির্ভূত নিয়োগ প্রত্যাশীরা তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। সরকারি কর্মকমিশন কর্তৃক আয়োজিত প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় আগে কখনও কোটা পদ্ধতি অনুসৃত হয়নি। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে কোটা থাকলেও তাদের পৃথকভাবে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের আবশ্যকতা ছিল। কিন্তু যখন দেখা গেল, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ হওয়ায় বিশেষ জেলা ও বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রার্থীকে কাক্সিক্ষত ক্যাডার পদ দেয়া যাচ্ছে না, তখন বিশেষ উদ্দেশ্যে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ থেকে ২০০-তে উন্নীত করা হয়। রাজনৈতিক সরকার সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। এতে করে তারা কতটুকু নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ে দেশবাসীর সংশয় রয়েছে।
অন্যান্য দেশে কোটা সংরক্ষণ একটি সাময়িক ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থাটি আমাদের দেশে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বেসামরিক জনপ্রশাসন নিু মেধার কর্মকর্তাদের প্রাধান্যে অকার্যকর হয়ে পড়বে, যার প্রভাব আমরা ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেছি।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জেলা জজ ও সাবেক রেজিস্ট্রার, সুপ্রিমকোর্ট

বদলে গেছে দিনকাল সবাই এখন ডিজিটাল by মোকাম্মেল হোসেন

বিমানবন্দর রেলস্টেশনের প্লাটফরমে পা ছড়িয়ে বসে আছি। ময়মনসিংহগামী যমুনা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর ছাড়লে পাঁচটা-সোয়া পাঁচটার মধ্যে এখানে পৌঁছে যাওয়ার কথা। মনে হচ্ছে ট্রেন লেট হবে। এদেশে ট্রেন লেট হওয়ার বিষয়টিকে কেউ অপরাধ হিসেবে গণ্য করে না। কাজেই এটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। এই মুহূর্তে আমার ভাবনার বিষয় হল মানুষ। চারপাশে অগণিত মানুষের মুখ। প্রতিটি মুখের ভাষা ও অভিব্যক্তি আলাদা। আমি মনোযোগ দিয়ে তার ভাষা বোঝার চেষ্টা করছি। এ সময় নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস প্লাটফরমে প্রবেশ করে হঠাৎ হুইসেল বাজাতেই পাশে বসে থাকা এক যুবক আমাকে সাক্ষী মানল-
: ড্রাইভারের কারবারটা দেখছুইন ভাই! ব্যাটা আমার কান-মান তবদা লাগাইয়া দিছে!
পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় ট্রেন প্লাটফরমে ঢোকার আগেই আমি হাতের আঙুল দিয়ে দুই কানের ছিদ্র বন্ধ করে রেখেছিলাম। ট্রেন থামার পর তাকে বললাম,
: প্লাটফরমের যে পরিবেশ, এইভাবে হুইসেল না মাইরা উপায় কী?
- তাই বইল্যা এই রকম আতকা মাইরা হর্ন বাজাইব? প্লাটফরমে ঢোকবার আগে বাজাইবার পারল না!
: আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনা থেইক্যা শুরু কইরা সাধারণ যানবাহনের চালকের আসনে বইসা থাকা লোকগুলার আক্কল-পছন্দ একেবারেই কম। কী করবাইন, মাইন্যা নেন।
- আর কত মাইন্যা নিবাম! মানতে মানতে তো হাতে লোডা ধরাইয়া দিছে...
কথাবার্তা শুনে যুবকের গন্তব্য অনুমান করা কঠিন হল না। জিজ্ঞেস করলাম-
: মমিসিং যাবাইন?
-।
উপকূল এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়ে চলে যেতেই যুবক বলল-
: ভাই, আপনেরে একটা জিনিস দেখাই!
- কী জিনিস?
: সামনের দিকে তাকাইন!
সামনে তাকালাম। বিপরীত দিকের প্লাটফরমে যাত্রীরা ঢাকাগামী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা একটি প্লাটফরমের চিরাচরিত দৃশ্যের বাইরে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ল না। প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে যুবকের দিকে তাকাতেই সে বলল,
: কিছু দেখলাইন?
আমি না সূচক ভঙ্গিতে মাথা নাড়তেই যুবক বলল,
: ভালা কইরা খেয়াল করুইন।
- করলাম তো!
: একটা মেয়ে দেখতাছুইন না- মোবাইল ফোনে কথা বলতেছে!
- জ্বি।
: আমি প্রায় একঘণ্টা আগে ইস্টিশনে আসছি। আসার পর থেইক্যাই এই সিন দেখতেছি। নন-স্টপ কথা চলতেছে!
ভালো করে লক্ষ্য করলাম। মেয়েটির বয়স খুব বেশি বলে মনে হল না। প্লাটফরমের একপাশে রোদের মধ্যে আপডাউন করতে করতে সে মোবাইল ফোনে কথা বলছে। যুবক গভীর আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল-
: কী বুঝলাইন?
- বাঙালি মোবাইল ফোন হাতে পাইয়া উন্মাদ হইয়া গেছে...
আমার কথা শুনে যুবক হা-হা করে হাসে। যুবকের হাসি শেষ হওয়ার আগেই আমি বললাম-
: তবে মোবাইল ফোনের ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। এর মাধ্যমে সমাজের মানুষ নানাভাবে উপকৃত হইতেছে। আবার বিরিংতালও কম ঘটতেছে না! কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেম হওয়ার পর এক মেয়েরে নর্থবেঙ্গল থেইক্যা ভাগাইয়া টঙ্গিতে আনার পর প্রেমিক গং মেয়েটির বাবা-মার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। বুঝেন ঠেলা!
একটু পরেই আমাদের সামনে পানির বোতল হাতে এক ছেলে উপস্থিত হল। তার ডান হাতের একটা আঙুল ফেটে গিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। এ দৃশ্য দেখে যুবক পকেট থেকে ওয়ান টাইম ড্রেসিং প্যাড বা স্ট্রিপ, মেডিকেল পরিভাষায় যাকে বলা হয় ইলাস্টিক অ্যাডহেসিভ ড্রেসিং- ছেলেটির আঙুলের মাথায় লাগিয়ে দিল। ঘটনা দেখে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
: আপনের পরিচিত নাকি?
- উহু।
: তাইলে?
- বেচারার অবস্থা দেইখ্যা একটু হেলপ করলাম...
অভিভূত হওয়ার মতো কোনো ব্যাপার না। তারপরও ঘটনাটা আমার মনে দাগ কাটল। আমি যুবকের পরোপকারিতায় মুগ্ধ হয়ে বললাম,
: ভাই, পট্টি দেয়ায় আক্রান্ত স্থান নিরাপদ হইল ঠিকই কিন্তু ব্যথা-বেদনা তো দূর হইল না। এর এখন ব্যথানাশক ওষুধ দরকার।
যুবক আমাকে অভিভূত করে দিয়ে পকেট থেকে ব্যথানাশক ট্যাবলেট বের করে ছেলেটির হাতে দিয়ে বলল,
: রোজা রাখছ?
- জে।
: ইফতারির পরে এইটা খাইয়া নিবা।
এ পর্যায়ে যুবককে আমি বললাম,
: ভাই, ব্যথানাশক ট্যাবলেট খাওয়ার পর এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ খাইতে হয়। এরে এন্টাসিড দিবেন না?
আমার কথা শুনে যুবকের চোখে-মুখে দুষ্টুমি ঝিলিক দিল। ছেলেটিকে সে বলল,
: আমার কাছে তো এই মুহূর্তে কোনো এন্টাসিড নাই। ছোট ভাই, তুমি এক কাম কর। ওই যে ওইপাশের প্লাটফরমে দেখতেছ- মোবাইল ফোনে আপুমনি কথা বলতেছে! তার কাছে এন্টাসিড ট্যাবলেট আছে! যাও, একটা লইয়া আস।
যুবকের কথা শেষ হতে না হতেই মেয়েটি রেললাইন পার হয়ে এপারে আসতে লাগল! আমি হেসে যুবককে বললাম,
: ভাই, আপুমনি আপনের মনের ভাব টের পাইয়া এন্টাসিড দিতে নিজেই আগাইয়া আসতেছে...
এপাশের প্লাটফরমের এক কোণায় মোবাইল ফোনে টাকা লোড করার একটা দোকান। মেয়েটি সেই দোকানে গিয়ে টাকা লোড করে পুনরায় ওপাশের প্লাটফরমে ফিরে গেল। এ দৃশ্য দেখে যুবক বলে উঠল-
: কারবার দেখছুইন ভাই! কথা বলতে বলতে মোবাইলের ব্যালেন্স শেষ হইয়া যায়- কিন্তু কথা শেষ হয় না!
দেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোও এটাই চায়। দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টাই মানুষ যাতে কথার ওপর ভাসতে থাকে, সেজন্য একেক কোম্পানি একেক ধরনের কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের ঝাঁপাঝাঁপির মধ্যে পড়ে এক মিনিটের একটা কথা বলতে গিয়ে আমরা আধাঘণ্টা পার করে দিচ্ছি। এতে অর্থহানি ও স্বাস্থ্যহানি তো ঘটছেই। আরও একদিক থেকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কথার উৎসবে যোগ দিয়ে আমরা লিখতে ভুলতে যাচ্ছি। কয়েকদিন আগে আমার বড় ছেলে তাসিন মিয়া একটা বিষয়ে আমাকে অভয় দিয়ে মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠাল- আব্বু, ডোন্ট অরি...। এই হচ্ছে এ যুগে পিতার কাছে পুত্রের পত্র। এখন লোকজনের মধ্যে কথার পরিসর বাড়ছে আর লেখার পরিসর সংক্ষেপ হতে টরে-টক্কা যুগের টেলিগ্রামে পরিণত হচ্ছে। আজকাল ক’জন ছেলেমেয়ে তাদের বাবা-মার কাছে চিঠি লেখে জানি না। তবে ছাত্রজীবনে আমরা মা-বাবা, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে নিয়মিত চিঠি লিখতাম। সেসব চিঠির শুরু ও শেষ ছাড়াও প্রতিটি ছত্রে আবেগ-অনুভূতির নানা আলপনা আঁকা থাকত। আজকাল মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটে বাংলা-ইংরেজির মিশেল দেয়া লেখায় সেসব আবেগের দেখা পাওয়া দুষ্কর। এখন একজন অন্যজনকে মোবাইলে মেসেজ পাঠায়- কুইক আস। অন্যজন উত্তরে লেখে- আসতেছি। ব্যস, মামলা ডিসমিস। এই হচ্ছে এ যুগের চিঠির আকার-আয়তন। একবার কানে এলো, চিঠির আকার নিয়ে আব্বা আম্মাকে বলছেন-
: ছেলে তোমার কাছে লেখে তিন পাতার চিঠি। আর আমার কাছে একপৃষ্ঠাও লেখে না। এর কারণ কী!
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আম্মা আমাকে লেখা এক চিঠির শেষে বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লিখলেন-
: তোমার আব্বার কাছে লেখা চিঠির আকার ছোট হওয়ায় তার আফসোসের অন্ত নাই। তার কাছে লেখা চিঠিগুলো আরেকটু বড় করতে পার না?
বড় আকারের চিঠি লিখতে গিয়ে স্কুলজীবনে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এক সহপাঠী একদিন এসে আমাকে ধরল,
: দোস্ত, তর ভাষাজ্ঞান ভালো। তুই আমার হইয়া বিলকিসরে কমসে কম দশ পৃষ্ঠার একটা চিঠি লেইখ্যা দে। প্লিজ দোস্ত, এইটা আমার জীবন-মরণ সমস্যা।
বন্ধুর পীড়াপীড়িতে আমাদের নিচের ক্লাসে পড়া বিলকিসের উদ্দেশে একটা প্রেমপত্র লিখে ফেললাম। চিঠিটা লেখার পর মনে হল, এত উপমা দিয়ে, এত খাটাখাটনি করে চিঠিটা লিখলাম, প্রকৃত লেখক কে- তা প্রাপক জানবে না, সেটা কী করে হয়! এই ভাবনা থেকে চিঠির এক কোণায় ছোট করে লিখে দিলাম- পত্রলেখক : এমএস। চিঠি লেখার কয়েকদিন পরে টিফিন পিরিয়ডে বিলকিস আমাকে ডাক দিল-
: এই যে শুনেন...
- আমারে বলতেছ!
: জ্বি, আপনেরেই বলতেছি।
- বল।
: আরেকজনরে চিঠি লেইখ্যা দিতে যান কেন? নিজে লেখার সাহস নাই?
সেসময় কোনো মেয়েকে সরাসরি চিঠি লেখার সাহস আসলেই আমার ছিল না। এ সাহস আমি অর্জন করি লবণ বেগমের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর। লবণ বেগমকে চিঠি লেখার ধরন ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। আমি আমার ডায়েরির পৃষ্ঠায় প্রতিদিন লবণ বেগমের উদ্দেশে একটা করে চিঠি লিখতাম। সাতদিন পর পর ডায়েরির পৃষ্ঠাগুলো ফটোকপি করে লবণ বেগমের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতাম। সেসব দিনের স্মৃতি হাতড়িয়ে লবণ বেগম একদিন দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
: তাসিনের আব্বা! আমার প্রতি তোমার প্রেম-প্রীতি, মায়া-মমতা, আবেগ-ভালোবাসা একেবারে শূন্যের কোঠায় নাইম্যা আসছে!
লবণ বেগমের কথায় আপত্তি জানিয়ে আমি বললাম-
: আবেগ-অনুভূতি ঠিকই আছে। তবে সময় পাল্টাইয়া যাওয়ায় তার প্রকাশ ভিন্ন হইয়া গেছে। আমরা এখন ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল মানুষ। ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের মধ্যে বেগ দিছে, আবেগ কাইড়া নিছে। এখন মোবাইল ফোনের বোতাম টিইপ্যা নিমিষেই সবকিছু ফিনিশ কইরা ফেলা যায়। এই অবস্থায় আবেগ-অনুভূতি পরিমাপ করতে যাইয়া শুধু শুধু দুঃখ বাড়াইয়া লাভ কী?
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

বাংলার মাটিতে এদের কবর যেন না হয় by নুরুল ইসলাম বিএসসি

শুরু করার আগে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাই। গণহত্যা, গোষ্ঠী নিধনের মাধ্যমে পরিকল্পিত হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ- আন্তর্জাতিকভাবে এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এসব অপরাধ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রসংঘ এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটিয়েছিল। এ অপরাধগুলোর বিচার যে ট্রাইব্যুনালে হয় সেটাকেই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বলে আমরা জানি ও মানি। এখানে আন্তর্জাতিক উকিল নিয়োগের কোনো প্রশ্নই আসে না।জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান, আপনি সবকিছু হারিয়েছেন। হারানোর আর কিছু বাকি নেই। যে কোনো মূল্যে আপনার সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে দেয়া রায় কার্যকর করে জাতিকে কলংকমুক্ত করতে হবে। আপিলে রায় যদি মৃত্যুদণ্ড থেকে যায়, তা কার্যকর করে এ নরপশুদের বঙ্গোপসাগরে মাছের খাদ্য হিসেবে নিক্ষেপ করতে হবে। যে দেশের প্রতি এদের মমতা নেই, যে দেশের প্রতি এদের বিশ্বাস নেই, এ দেশের মাটিতে এদের দাফনেরও সুযোগ নেই।
১৬ ডিসেম্বরে বিকালে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণের পরও মিরপুর, মোহাম্মদপুরে বৈঠক করে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ পাকিস্তান রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে মানুষ হত্যায় নেমেছিল। আমার কথার যথার্থতা পাওয়া যাবে মামা বাহিনীর প্রধান মামার সঙ্গে কথা বললে। কী সাহস একবার চিন্তা করুন। যে সময় পাকিস্তানিরা অস্ত্র জমা দিচ্ছিল, ওই সময় মুজাহিদ অস্ত্র হাতে মানুষ খুন করছিল। বিএনপি এ মুজাহিদকেই মন্ত্রী বানিয়ে দেশের প্রতি, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, খোদা না করুন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এদের ছেড়ে দেবে। তাই তো ৯০ বছর শাস্তি হওয়ার পরও মানুষ প্রতিবাদ করে। কাদের মোল্লা তো ভি-চিহ্ন দেখিয়ে জাতিকে অপমান করেছে। তার বিশ্বাস, ক্ষমতার পালাবদলে সে বের হয়ে আসবে। এ থেকেই ভিন্নতর মত ও অবিশ্বাসের জন্ম।জামায়াত-শিবির জঙ্গি সংগঠন। এরা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলতে চায়। এ রমজান মাসে পরপর চারদিন হরতাল দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে তারা আবার প্রমাণ করেছে, এরা কোনো ইসলামী দল নয়। এ সিয়াম সাধনার মাসে কোনো সত্যিকারের ইসলামী দল হরতাল করতে পারে না। এ শান্তির মাসে ওরা হরতাল করে, গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে অশান্তি সৃষ্টি করে আল্লাহ ও আল্লাহর নবীর আদর্শের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এদেশ তারা চায় না, এদেশের মাটি তাদের জন্য নয়। পাকিস্তানই এদের আসল ঠিকানা।
আদালতের পর্যবেক্ষণে জামায়াত একটি উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী দল। বিএনপি এখন এ জঙ্গিদের নিয়ে জোটগত নির্বাচন করবে, না জামায়াতকে বহিষ্কার করে নির্বাচন করবে তা দেখার বিষয় হবে। তবে আমার বিশ্বাস, বিএনপির একা চলার শক্তি নেই, লাঠিতে ভর দিয়ে এদের চলতে হয়। লাঠি হল এ জামায়াতিরা। আল্লাহই জানেন, লন্ডনে এ মুহূর্তে মির্জা ফখরুল কোন ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বলেছেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের আন্দোলন। প্রশ্ন হল, একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হরতাল দিয়ে, ঘেরাও দিয়ে, শত মানুষের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে জাতির কী লাভ হবে? যতই চেষ্টা করুন তারেক রহমান এদেশে ফেরত আসতে পারবেন, একথা অনেকে বিশ্বাস করে না।
যে কথা বলছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার হারানোর কিছুই নেই। নিজেকে তো আপনি জাতির জন্য উৎসর্গ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় কে আসবে-যাবে বড় কথা নয়। যেটা আপনি শুরু করেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তা অবশ্যই শেষ করতে হবে। নতুবা জাতি আবার অন্ধকারে পতিত হবে। কোটি কোটি সমর্থক ও কর্মী বিএনপি-জামায়াতের হাতে নিগৃহীত হবে, শত শত বাড়িঘরে আগুন জ্বলবে। একমাত্র আপনিই পারেন এদেশের মানুষকে কলংকমুক্ত করতে, দেশকে আফগানিস্তান থেকে রক্ষা করতে, হানাদারমুক্ত করতে। জামায়াতিরা হানাদার, এদেশ তাদের নয়। এরা এখনও মনেপ্রাণে পাকিস্তানি নাগরিক। গোলাম আযমের রায়ের পর পাকিস্তানে মিছিল হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, জামায়াতিরা পাকিস্তানের অনুসারী। ভিন্ন দেশের নাগরিকদের এদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।
তরুণ প্প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি তাদের উদ্দেশে বলছি, আজকে আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি, শেখ হাসিনার সরকার না এলে এটা করা কি সম্ভব ছিল? যদি জামায়াতিরা পাকিস্তান রক্ষা করে ফেলত, আমাদের এক ঘণ্টা বেঁচে থাকার সুযোগ দিত না। অথচ এ বাংলাদেশ বিদ্বেষীরা দীর্ঘ ৪২ বছর এদেশের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছে, ধনশালী হয়েছে। আর এদের এ সুযোগটি করে দিয়েছে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দল। এরা পুনঃক্ষমতায় এলে দেশের যে বারোটা বাজবে, তরুণ প্রজন্মের এখন একথা উপলব্ধি করার সময় হয়েছে।
নুরুল ইসলাম বিএসসি : সংসদ সদস্য ও কলাম লেখক

রানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কোথায়? by আনু মুহাম্মদ

গত কিছুদিন ধরে বেশ কয়েকটি পত্রিকার অর্ধপৃষ্ঠা জুড়ে বিজিএমইএ’র বিজ্ঞাপন ছাপা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে তারা সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। হাতে হাত ধরে উন্নতির কথা বলেছেন। কিন্তু কী কাজে এই সহযোগিতা দরকার তাদের? গার্মেন্ট খাত পুনর্গঠনের কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন তারা? রানা প্লাজার নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা করে তাতে সহযোগিতা চাইছেন? সব কারখানায় নিয়মিত মজুরি পরিশোধে তদারকিতে সহযোগিতা দরকার? ঈদের আগে সব বকেয়া, বোনাস, ওভারটাইম পরিশোধে তারা আগ্রহী? না, এগুলোর কোনো লক্ষণই নেই। রানা প্লাজা ধসের পর তিন মাস হতে চলল। কয়েক হাজার পরিবারের আহাজারি আর বিলাপ কিছুমাত্র কমেনি। নিহত ও গুরুতর আহত শ্রমিকদের স্বজনদের এ সময়ে টিকে থাকা, বেঁচে থাকার পথই অনিশ্চিত। যারা আহত হয়ে বেঁচে আছেন, তাদের অনেকে পুরোই অন্ধকার দেখছেন চোখে। ‘মরে যাওয়াই ভালো ছিল’- এটাই তাদের এখনকার হাহাকার। তাজরিনের ঘটনার পরেই যেখানে সরকার, মালিক, বিজিএমইএ, বায়ারদের একটু সংযত হওয়ার কথা, নিজেদের স্বার্থে হলেও টেকসই শিল্প গড়ে তোলার জন্য দূরদৃষ্টি নিয়ে শিল্পের শ্রমিকের বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার কথা, সেখানে এটা একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা যে, রানা প্লাজার মতো দুনিয়া কাঁপানো ও দেশ কাঁদানো ঘটনা/হত্যাকাণ্ডের পরও তাদের ভাবভঙ্গির কোনো পরিবর্তনই দেখা যাচ্ছে না। নইলে এটা কী করে সম্ভব যে, লাশের পাহাড় তৈরি করেও- দিন-মাস পার হয়ে যাচ্ছে- এখনও ক্ষতিপূরণের কোনো ঘোষণা নেই? শিল্প পুনর্বিন্যাসের যথাযথ উদ্যোগ নেই? প্রধানমন্ত্রী বিভিন্নজনের কাছে চাঁদা তুলে কিছু টাকা একাংশের হাতে দিয়েছেন। ১১৩০ জন নিহতের পরিবার এবং আহত পঙ্গুদের অধিকাংশ সেটাও পাননি। প্রধানমন্ত্রী যা দিয়েছেন এবং হয়তো সামনে আরও দেবেন, এটাকে প্রাথমিক সহায়তা হয়তো বলা যায়, কিন্তু ক্ষতিপূরণের কী হল?
মানুষের জীবনের কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। কিন্তু যখন কারও অপরাধে অন্য কারও জীবন যায়, কিংবা অচল হয়ে পড়ে কেউ, তখন ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন আসে দুটি কারণে। প্রথমত, নিহত হওয়ার কারণে তার পরিবারের যে অসহায় অবস্থা তাকে আর্থিকভাবে কিছুটা সামাল দেয়া এবং দ্বিতীয়ত, অপরাধী ব্যক্তির জন্য একটা আর্থিক চাপ তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে অন্যরা একই ধরনের অপরাধ না করে।
তাজরিন ফ্যাশনের শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়া হয়েছে ৬ বা ৭ লাখ টাকা করে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল ও মন্ত্রণালয়ের টাকা অর্থাৎ জনগণের টাকা আছে। বিজিএমইএ ও বায়ার আছে, কিন্তু মালিকের কাছ থেকে কোনো টাকার কথা শোনা যায়নি। এখনও নিখোঁজ কয়েকজন বাকি আছে, আহতদের অনেকের চিকিৎসার খবর নেই। রানা প্লাজার ভয়ংকর ঘটনার পর বিজিএমইএ নেতারা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ক্ষতিপূরণের অর্থ অন্তত তাজরিনের চেয়ে কম হবে না। বেশিই হবে। বলেছেন, আহতদের চিকিৎসার সব দায়িত্ব তাদের। মিডিয়ার যতদিন মনোযোগ ছিল ততদিন এসব কথা শোনা গেছে। মিডিয়া সরে গেছে, তাই তাদের কথা আর কাজে যথারীতি ব্যাপক ফারাক। তারা কী আশা করছেন? সময়ে সবাই ভুলে যাবে? দেশের আরও অঘটনে চাপা পড়ে যাবে তাদের সব কলংক?
ক্ষতিপূরণ কত হওয়া উচিত সেটা নিয়ে নানা হিসাব আছে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষারত কয়েকজন প্রবাসী শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি ও দেশের বিদ্যমান মজুরি কাঠামো বিশ্লেষণ করে ক্ষতিপূরণের একটি ছক দিয়েছেন। তাতে ক্ষতিপূরণ দাঁড়ায় সর্বনিু ৯ লাখ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৪ লাখ টাকা (প্রথম আলো, ২৭ মে, ২০১৩)। তাজরিন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়ই আমরা দেখেছিলাম, ১৮৫৫ সালের চরম দুর্ঘটনা আইন অনুযায়ী গড়ে কম করে ধরলেও ক্ষতিপূরণ দাঁড়ায় ৪৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে আইএলওসহ আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মজুরি কাঠামো বিবেচনা করে পরিবারপ্রতি ক্ষতিপূরণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবারই অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অনুপাত অনুযায়ী সরকার শতকরা ৯ ভাগ, বিজিএমইএ শতকরা ১৮ ভাগ, মালিক ২৮ ভাগ এবং ব্র্যান্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান শতকরা ৪৫ ভাগ বহন করবেন।
রানা প্লাজার ভয়ংকর জীবননাশের পর দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে বহু সভা-সম্মেলন হচ্ছে, অনেকরকম প্রতিশ্র“তিও শোনা যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে টাকাও উঠেছে। কিন্তু শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি বিজিএমইএ বা সরকার। ক’দিন আগে বাজেট পাস হল। খুবই স্বাভাবিক ছিল, এই বাজেটে গার্মেন্ট খাতের জন্য সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা থাকবে। কিন্তু বাজেটে এ ধরনের কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি। অথচ গার্মেন্ট খাতের ভঙ্গুর দশার জন্য সরকারের দায় অনেকখানি। ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টরদের এখনও যা সংখ্যা ও ক্ষমতা, তাতে গার্মেন্ট খাতের তত্ত্বাবধানে সরকারের যে কোনো আগ্রহ নেই সেটাই বোঝা যায়। সবকিছু ছেড়ে দেয়া আছে মালিকদের যথেচ্ছাচারের ওপর। কিন্তু কারখানা যদি ভুল স্থান ও ভুল ভবনে স্থাপিত হয়, যদি সেখানে মুনাফার সীমাহীন লোভে ব্যক্তি মালিক শ্রমিক নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা না রাখে, তাহলে সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারেরই। এই কাজ না করলে শিল্প মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় আছে কেন? দুর্যোগ মোকাবেলায় ফায়ার ব্রিগেডকে শক্তিশালী করার বড় পরিকল্পনা খুবই স্বাভাবিক ছিল, বাজেটে তারও প্রতিফলন নেই।
এর মধ্যে গার্মেন্ট খাতকে শায়েস্তা করার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছেন। এটা এক অদ্ভুত ঘোষণা! কারণ বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জিএসপি বা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পায় না, কখনোই পায়নি। বরং অন্য অনেক দেশের তুলনায় ৫ থেকে ১৫ গুণ বেশি শুল্ক দিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্ট পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করে। এরকম বৈষম্যমূলক ও সংরক্ষণবাদী শুল্কনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার বা বিজিএমইএ’কে কখনও কথা বলতে শুনিনি। বরং তারা সবসময় হাতে-পায়ে ধরার পথেই আছেন। যা বাংলাদেশ পায় না, সেটা স্থগিত করার অর্থ কী? সঙ্গত কারণেই গার্মেন্টকে শায়েস্তা করার কথা বলে জিএসপি স্থগিত করায় গার্মেন্টের রফতানি কমারও সম্ভাবনা নেই। গার্মেন্ট শিল্পের মুনাফার বড় ভাগীদার ব্র্যান্ড ও বায়িং হাউস। তারাও নিজেদের স্বার্থেই রফতানি নিশ্চিত করবে। কিন্তু ক্ষতির মুখে পড়ছে বাংলাদেশের রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে অন্যগুলো যেমন- প্লাস্টিক, সিরামিক, খাদ্য, মানুষের চুল, পাখির পালক, খেলনা ইত্যাদি। এগুলো মোট রফতানির শতকরা ১ ভাগেরও কম। এগুলো উদীয়মান শিল্প, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অভিযোগ এদের বিরুদ্ধে শোনা যায়নি। অথচ তারাই শাস্তিপ্রাপ্ত।
রফতানি কমার সম্ভাবনা না থাকলেও মার্কিন ঘোষণার কারণে গার্মেন্ট খাতে এখন ব্র্যান্ড ও বায়ারদের বিভিন্ন স্তর থেকে দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। তারা মার্কিন এই শাস্তির সূত্র ধরে আরও দাম কমানোর চাপ দিতে পারে। দাম কমানোর পর নিজের মুনাফা ধরে রাখতে মালিকরা প্রয়োজনীয় কাজে খরচ আরও কমানোর পথে যেতে পারে। জিএসপির ভয় দেখিয়ে মালিকদেরও শ্রমিকদের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হল। প্রকৃত মজুরি কমাতেও নানা কায়দা-কানুন দেখা যাবে। সবার মুনাফা রক্ষা করতে গিয়ে শ্রমিকের ওপর সব চাপ ফেলার এই ধারা বরাবর চলছে, সেটাই আরও জোরদার করার অবস্থা তৈরি করল ওবামা সরকার। অর্থাৎ শ্রমিক স্বার্থের কথা বলে জিএসপি স্থগিত করলেও শ্রমিকদের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করল তারা।
এটা নিশ্চিত যে, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প বর্তমানের অবস্থায় চলতে পারবে না। বাংলাদেশের গার্মেন্টের সঙ্গে যুক্ত একজন ভারতীয় ব্যবসায়ী সেখানকার এক পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বর্তমানে এই শিল্পে ভারত ও শ্রীলংকার বায়িং হাউস এবং কর্মকর্তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। যৌথ বিনিয়োগ আছে। প্রায় ৪০০টি ভারতীয় বায়িং হাউস কাজ করছে এখানে। সাবকন্ট্রাক্টও দিচ্ছে তারা বাংলাদেশে (দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন, জুন ৩, ২০১৩)। পাশাপাশি ভারত তার দেশে গার্মেন্ট শিল্পকে একটি শক্তপোক্ত জায়গায় দাঁড় করাতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাটশিল্পের মতোই এই পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন ভারতকে গার্মেন্টের ক্ষেত্রেও শক্তিশালী জায়গায় প্রতিষ্ঠা করবে।
একটি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ অবকাঠামো আর শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম শ্রমিকের জীবন ও নিরাপত্তা ছাড়া কিছু লোক কিছুদিন মুনাফার পাহাড় গড়তে পারে, কিন্তু তাতে শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি স্থগিত নিয়ে মাতামাতি, দোষারোপ, কাকুতিমিনতি আর হাতে-পায়ে ধরে কোনো ফল হবে না। এমনিতেও গার্মেন্ট কোনো জিএসপি সুবিধা পায়নি, মার্কিন বাণিজ্যনীতি অনুযায়ী ভবিষ্যতেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকায় নতুন নতুন বাজার সন্ধান করতে হবে। সর্বোপরি, গার্মেন্ট শিল্প সাবালক কাঠামোয় স্থাপন করার জন্য একটি সামগ্রিক পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। তার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ দরকার। নিহত ও আহত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ, গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন এবং সেই সঙ্গে কারখানা ও শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা এর প্রাথমিক ধাপ।
এগুলো না করে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয়ার অর্থ নিজেদের অপরাধ ঢাকা দেয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কী হতে পারে?
আনু মুহাম্মদ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পথে মিসর by তারেক শামসুর রেহমান

মিসরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর কর্তৃক সংসদ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের তা প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে মিসরের রাজনীতি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ অনিশ্চয়তা সেখানে সেনাশাসন দীর্ঘায়িত করবে। আদলি মনসুর যে রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছেন, তাতে আগামী চার মাসের মধ্যে একটি গণভোট, ২০১৪ সালের প্রথম দিকে সংসদ নির্বাচন, এরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা উল্লেখ রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি প্যানেলের নাম তিনি ঘোষণা করবেন, যারা সংবিধানে কিছু পরিবর্তন ও সংশোধন আনবেন। এ সংশোধনীর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সংশোধিত সংবিধানের আলোকে দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন মুসলিম ব্রাদারহুডের এ কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান রাজনীতিতে শুধু অনিশ্চয়তাই বাড়াল না, বরং নানা জটিলতা তৈরি করল। এরই মধ্যে অর্থনীতিবিদ হাজেম এল বেবলেউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাকেও প্রত্যাখ্যান করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড পার্টি।
মিসরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. মোহম্মদ মুরসির অপসারণের পর যে প্রশ্নটি পশ্চিমা বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে বেশি করে, তা হচ্ছে মুরসি কি আসলে ব্যর্থ হয়েছিলেন? জনগণের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র এক বছর আগে। তিনি তার টার্ম শেষ করতে পারেননি। কিন্তু তার আগেই সেনাবাহিনী তাকে অপসারণ করল। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী স্পষ্টই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তবে স্পষ্টতই মুরসি একটি ভুল করেছিলেন। আর তা হচ্ছে সেনাবাহিনীর শক্তিকে তিনি কিছুটা ‘আন্ডারমাইন’ করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সেনাবাহিনী খুব একটা ক্ষমতা দখল করে না। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায় না। এ ক্ষেত্রে মিসরের সামরিক অভ্যুত্থান নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। গত প্রায় ৬২ বছর ধরে মিসরের সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভবে ক্ষমতা পরিচালনা করে আসছে। সাধারণত সেনাবাহিনী দু’ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রথমত আরবিট্রেটর এবং দ্বিতীয়ত রুলার। আরবিট্রেটর মডেলের বড় দুর্বলতা হচ্ছে, এক্ষেত্রে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে ও পরিচালনায় পুরো দায়িত্ব নিতে পারে না। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার যন্ত্রটি থাকে না। দ্বিতীয় মডেলে সেনাবাহিনী সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। কর্নেল আদিব সিশাকলি ১৯৫২ সালে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে আরবিট্রেটরের ভূমিকা থেকে রুলারের ভূমিকায় নিয়ে গিয়েছিলেন। মিসরে সেনাবাহিনী আরবিট্রেটর নয়, বরং সরাসরি রুলার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। কর্নেল নাসেরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর (১৯৫৩-১৯৬১) ভূমিকা ছিল এমনই।
আজকে মিসরে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন কর্নেল নাসের। নাসের সেনাবাহিনীর মধ্যে ফ্রি অফিসার্স ক্লাব গঠন করেছিলেন ১৯৪৯ সালে। এ ফ্রি অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগেই ১৯৫৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থান পরিচালিত হয় এবং কমান্ড কাউন্সিল গঠনে তারা একটি ভূমিকা পালন করেন। এ কমান্ড কাউন্সিল পরে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। মিসরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এ রুলার মডেলের উদ্যোক্তারা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের জš§ দেন। তাই সঙ্গত কারণেই দৃষ্টি থাকবে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ এল সিসির দিকে। তিনি কি পূর্বসূরিদের অনুসরণ করবেন?
জেনারেল এল সিসির পূর্বসূরিরা দল গঠন করে ক্ষমতা করায়ত্ত করেছিলেন। ১৯৫৩-৫৬ সালে নাসের গঠন করেছিলেন ‘লিবারেশন র‌্যালি’। ১৯৫৭-৭০ সময়সীমায় গঠিত হয়েছিল ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন’। উভয় ক্ষেত্রেই লিবারেশন র‌্যালি ও ন্যাশনাল ইউনিয়ন একটি পরিপক্ব রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। ১৯৭১ সালে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদাত গঠন করেছিলেন আরব সোশ্যালিস্ট ইউনিয়ন। আর ১৯৭৯ সালে সাদাত এটাকে ভেঙে গঠন করেছিলেন নিউ ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন। হোসনি মোবারকও একই পথ অনুসরণ করে গেছেন। সুতরাং জেনারেল সিসি যে ক্ষমতা একজন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যাবেন, এটা আমার মনে হয় না। সম্প্রতি জেনারেল সুসি প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাহলে কোন পথে যাচ্ছে মিসর? মিসর থেকে যেসব খবরাখবর আসছে তা কোনো আশার কথা বলছে না। মুরসির পক্ষেও বিশেষ দুটি জনমত রয়েছে। মুরসির সমর্থক মুসলিম ব্রাদারহুড লাখ লাখ লোকের জমায়েত করলে সেনাবাহিনী তাতে গুলি চালায়। এতে মারা যায় ৫২ জন। এর ফলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে- সেনাবাহিনী কোনোমতেই আর মুরসিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনছে না। যদিও তার সমর্থকদের দাবি এটাই। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়। সেনাবাহিনী কি এককভাবে কোনো একটি দল গঠন কিংবা পুনর্গঠিত করে নিজেরা ক্ষমতা পরিচালনা করবে, যেমনটি করেছিলেন আনোয়ার সাদাত কিংবা হোসনি মোবারক? বিকল্প হিসেবে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইসলামপন্থী, লিবারেল ও পশ্চিমা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ধারণ করা কিছু দলের সমন্বয়ে একটি জোট গঠন করা হতে পারে, যারা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ক্ষমতা পরিচালনা করবেন। এমন সম্ভাবনাও রয়েছে, সামরিক অভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠিত হয়েছে, তারাই ক্ষমতা পরিচালনা করবে আরও কিছুদিনের জন্য। তারপর সামরিক জান্তা প্রেসিডেন্ট লির্বাচন দেবে এবং নিজেদের একজন প্রার্থীকে বিজয়ী করে নিয়ে আসবে। এগুলো সবই ক্লাসিকাল থিওরি। সামরিক শাসকরা এভাবেই ক্ষমতা ধরে রাখে ও পরিচালনা করে।
প্রথম দিকে মনে হয়েছিল, সেনাশাসকরা দ্বিতীয় সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তারা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আল বারাদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেনা অভ্যুত্থানকারীরা এটা করেনি। সম্ভবত যাদের নিয়ে ‘ঐক্য’ করতে চেয়েছিল সেনাবাহিনী, আল বারাদির ব্যাপারে তাদের আপত্তি ছিল। বিশেষ করে প্রথমদিকে আল নূর পার্টি সেনা অভ্যুত্থানকে সমর্থন করলেও আল বারাদির ব্যাপারে তাদের ‘রিজার্ভেশন’ আছে। শেষ পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভায় বারাদিকে অন্তর্বর্তীকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় ইসলামপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আল নূর ইসলামপন্থী দল হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা বিশ্বে তাদের সালাফিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ এরা আদি ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। এদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিকভাবে পার্থক্য রয়েছে। ব্রাদারহুড যেভাবে মিসরে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়, আল নূর সেভাবে চায় না। আল নূর বেশ কনজারভেটিভ। সে তুলনায় ব্রাদারহুড অনেকটা লিবারেল। মাত্র দু’বছর আগে গঠিত আল নূর পার্টির মিসরে জনপ্রিয়তা একেবারে কম নয়। বিগত সংসদ নির্বাচনে ব্রাদারহুডের পরেই ছিল তাদের স্থান। সংবিধানে নারী-পুরুষ সমতা বিধান করার উদ্যোগ নিয়েছিল ব্রাদারগুড। কিন্তু আল নূরের তাতে আপত্তি ছিল। মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানেই- সামরিক বাহিনী যখন ক্ষমতা দখল করল, তখন আল নূর পার্টি মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন না করে সমর্থন করে বসল সেনাবাহিনীকে। এতে করে এটা স্পষ্ট যে, আল নূর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়। তাদের এ অবস্থান তাদের একটি সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত করতে পারে। উপরন্তু আল নূরের রাজনৈতিক মতাদর্শ পশ্চিমা বিশ্বে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চাইবে না কট্টরপন্থী অপর একটি ইসলামী দল মিসরে নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা পালন করুক। মুরসিকে উৎখাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের একটা প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। সুতরাং আরেকটি কট্টরপন্থী ইসলামী দল মিসরে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করবে, এটা যুক্তরাষ্ট্র চাইবে না। আল নূর অভ্যুত্থান পরবর্তী মিসরে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইলেও তাতে তারা ব্যর্থই হবে। মনে রাখতে হবে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় স্বার্থ রয়েছে।
‘আরব বসন্ত’ গোটা আরব বিশ্বে পরিবর্তন ডেকে আনলেও এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সেখানে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়েছে, তা বলা যাবে না। বলা যেতে পারে, একটি ইসলামী শক্তির উত্থান ঘটেছে আরব বিশ্বে। আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে আধুনিক মনস্ক গণতান্ত্রিক, লিবারেল শক্তির উত্থান ঘটেছে, তাও কিন্তু বলা যাবে না। তিউনিসিয়ায় এ শক্তির কিছুটা অবস্থান থাকলেও মিসর, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ায় লিবারেলপন্থীদের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই। বরং দেখা গেছে আল-কায়দার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সংগঠনগুলোর প্রতিপত্তি বাড়ছে। আল-কায়দার স্থানীয় সংগঠন সিরিয়া ও লিবিয়ায় যথেষ্ট শক্তিশালী। ইয়েমেনে অনেক আগে থেকেই তাদের ঘাঁটি রয়েছে। মিসরে তারা ঘাঁটি গেড়েছে। ইরাকেও তারা শক্তিশালী। সুতরাং মিসরে আল-কায়দার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলো রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হোক- এটা পশ্চিমা বিশ্ব কোনো দিন চাইবে না। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে মার্কিন স্ট্রাটেজি, তাতে কট্টরপন্থী কোনো ইসলামিক গ্র“পকে সমর্থন করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
প্রথমদিকে মনে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র মুরসিকে সামনে রেখে তাদের স্বার্থ আদায় করে নিতে চায়। মুরসি নিজে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাও করেছেন। কিন্তু মুরসি যখন ধীরে ধীরে মিসরকে একটি ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইলেন, তখন শুধু সমর্থন প্রত্যাহারই নয়, বরং মুরসির বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানকে প্ররোচিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখানেই মার্কিন নীতির বৈপরীত্ব। যুক্তরাষ্ট্র কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থন করে না। এটা তাদের ভাষায় গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার পরিপন্থী। যে কারণে দেখা যায় ষাটের দশকে পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে সেনা অভ্যুত্থানকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করলেও এখন আর সমর্থন করে না। এখন গণতান্ত্রিক শক্তিকে ‘প্রমোট’ করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দেখা গেল, মিসরে একটি নির্বাচিত সরকারকে যখন সেনাবাহিনী উৎখাত করল, তখন যুক্তরাষ্ট্র সেনাশাসকদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেনি। এমনকি ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের যে সেনা সহযোগিতা, তাও বন্ধ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। কারণ মিসরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হচ্ছে সেনাবাহিনী। কোনো রাজনৈতিক দলকে তারা মিত্র হিসেবে বেছে নেয়নি।
মুরসির এক বছরের শাসনামলকে ‘ব্যর্থ’ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। তবে এটা সত্য, তিনি প্রশাসনে দক্ষতা দেখাতে পারেননি। তিনি অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে আদৌ গুরুত্ব দেননি। বেকারত্ব হ্রাসের ব্যাপারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। তরুণ প্রজšে§র যে প্রত্যাশা, তা তিনি পূরণ করতে পারেননি। তিনি বেকার সমস্যার সমাধান, অর্থনীতিকে সচল করার ব্যাপারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বেশি মাত্রায় ইসলামীকরণের দিকে ঝুঁকেছিলেন। এ সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছে তার বিরোধী পক্ষ। তারপরও মাত্র এক বছরের সময়সীমা দিয়ে তাকে বিচার করা যাবে না। জনগণকেই সুযোগ দেয়া উচিত ছিল ব্যালটের সাহায্যে তাকে অপসারণ করার। কিন্তু তা হল না। এতে করে উন্নয়নশীল বিশ্বের অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো আরও উৎসাহিত হবে। মিসরে গণতন্ত্র বিকাশের যে সম্ভাবনা ছিল, সেনা অভ্যুত্থান তাকে রুদ্ধ করে দিল। গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোও পারল না ঐক্যবদ্ধভাবে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। সেনাবাহিনীর সাফল্য এখানেই। এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে মিসর। তবে ব্রাদারহুডের শক্তিকে খাটো করা যাবে না। দীর্ঘস্থায়ী এক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হল মিসর।
নিউইয়র্ক, জুলাই ২০১৩
ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; রাজনৈতিক বিশ্লেষক

কেলেঙ্কারির শেষ নেই সোনালী ব্যাংকে by আবুল কাশেম

এবার সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে উদ্ঘাটিত হয়েছে বড় রকমের কেলেঙ্কারির ঘটনা। জালিয়াতি-অনিয়মের অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটেছে এ শাখায়। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন কোনো কিছু সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি,

মোদিকে সমর্থন দেব না : মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁর দল কখনোই ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন দেবে না। গত শুক্রবার বীরভূম জেলার রামপুরহাটে পঞ্চায়েত নির্বাচনী সমাবেশে মমতা এ কথা বলেন।

মিয়ানমারের চার শহরের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

মিয়ানমারের চারটি শহর থেকে গতকাল শনিবার জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। বৌদ্ধ-মুসলমান দাঙ্গার কারণে গত মার্চে উত্তর মান্দালয় অঞ্চলের ওই চার শহর_মেইকতিলা, ওয়ান্দবিন, মাহ্লায়িং ও থাজিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল।

মিসরে ফের সংঘর্ষ, নিহত ৩-কায়রো সফরে জর্দানের বাদশাহ

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের সংঘর্ষে গত শুক্রবার অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। এরই মধ্যে জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ গতকাল শনিবার মিসরের রাজধানী কায়রো পৌঁছেছেন।

বেলজিয়ামের রাজা ক্ষমতা ছাড়ছেন আজ

বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় আলবার্ত (৭৯) আজ রবিবার ক্ষমতা ছাড়ছেন। বড় ছেলে যুবরাজ ফিলিপের (৫৩) হাতে দায়িত্ব ছাড়ছেন তিনি। বেলজিয়ামে তিনিই প্রথম রাজা, যিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছেন।

মধ্য প্রদেশে ছয় আসামির যাবজ্জীবন-সুইস পর্যটককে গণধর্ষণ

সুইজারল্যান্ডের এক পর্যটককে গণধর্ষণ ও ডাকাতির দায়ে ছয় ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ভারতের মধ্য প্রদেশের এক আদালত। গতকাল শনিবার রাজ্যের দাতিয়া জেলার এক দ্রুত বিচার আদালত এ রায় দেন।

শ্রমিকের বঞ্চনা আরও বাড়বে by কল্পনা আক্তার

সংশোধিত শ্রম আইন কার স্বার্থ রক্ষা করেছে? তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা প্রশমনে তা ভূমিকা রাখতে পারবে কি? এসব নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল হক ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার।

রম আইন উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করবে by মোহাম্মদ ফজলুল হক

সংশোধিত শ্রম আইন কার স্বার্থ রক্ষা করেছে? তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা প্রশমনে তা ভূমিকা রাখতে পারবে কি? এসব নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল হক ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার।

সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই ডেসটিনির পুরো সম্পত্তি by ফখরুল ইসলাম

ডেসটিনির স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। আবার এক বছর হতে চললেও ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়নি।

সাংবাদিক পেটালেন সাংসদ

ইনডিপেনডেন্ট টিভি চ্যানেলের দুই সংবাদকর্মীকে পিটিয়েছেন সরকার-দলীয় সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। এ ঘটনায় সাংসদসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনার পর রাতে ওই সাংসদ টিভি চ্যানেলটির

পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের আপত্তি সুন্দরবনের পাশে এবার জাহাজভাঙা শিল্প! by ইফতেখার মাহমুদ ও এম জসিমউদ্দিন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পর এবার বরগুনার পাথরঘাটায় সুন্দরবনের কাছে দ্বিতীয় জাহাজভাঙা শিল্প স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে জাহাজভাঙা শিল্প ‘মারাত্মক দূষণকারী’ হিসেবে চিহ্নিত।
জাহাজভাঙা শিল্প স্থাপনের জন্য স্থান হিসেবে পাথরঘাটা উপজেলার গাববাড়িয়া চরকে নির্বাচন করা হয়েছে। জায়গাটি সুন্দরবনের পাশে ও বন প্রভাবিত এলাকা। বন আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং বাংলাদেশ স্বাক্ষরিত জাতিসংঘের রামসার কনভেনশন অনুযায়ী, সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোনো শিল্পকারখানা, ভারী ইমারত ও স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ।
সুন্দরবনের এক পাশে বাগেরহাটের রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে পরিবেশবাদীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। এ ছাড়া সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে একটি অবৈধ নৌ-রুট চালু হওয়ায় বনের ক্ষতি হচ্ছে বলে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে। কিন্তু ওই রুটটি বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বনের আরেক পাশে জাহাজভাঙা শিল্প গড়ে তোলা হলে নানামুখী দূষণের কবলে পড়বে সুন্দরবন।
৫২ দশমিক ২৪ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত এই জাহাজভাঙা ইয়ার্ড স্থাপনের জায়গাটি থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার। এর দক্ষিণে টেংরা, চরলাঠিমারা ও হরিণঘাটা নামে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর আয়তনের তিনটি সংরক্ষিত বন রয়েছে। উত্তর দিকে রয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ হেক্টর আয়তনের বন বিভাগের সৃজিত শ্বাসমূলীয় বন। এই তিনটি বনে রয়েছে অসংখ্য শ্বাসমূলীয় বৃক্ষ এবং হরিণ, শূকর, মেছো বাঘ, গুইসাপসহ অসংখ্য বন্য প্রাণী।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাথরঘাটায় এই শিল্প স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। একে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারদলীয় সাংসদ গোলাম সবুর এ ব্যাপারে আগ্রহ ও সম্মতি জানিয়েছেন।
এর আগে আশির দশক থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে জাহাজভাঙা শিল্প স্থাপিত হওয়ায় সেখানকার কয়েক কিলোমিটার এলাকার প্রায় পাঁচ লাখ উপকূলীয় গাছ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশীয় গবেষকেরা দেখিয়েছেন, জাহাজভাঙা শিল্পের কারণে সীতাকুণ্ড উপকূলের মাটি, পানি, মাছ ও সর্বোপরি জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সীতাকুণ্ডে এ পর্যন্ত ১৮০টি জাহাজভাঙার ঘাট স্থাপিত হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৭টি বর্তমানে চালু আছে।
তবে বলেশ্বর নদের তীরে জাহাজভাঙা শিল্প স্থাপিত হলে তাতে সুন্দরবনের জন্য কোনো ক্ষতি হবে না বলে মনে করেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছরের মধ্যে ওই ইয়ার্ডের সমীক্ষার কাজ শেষ করে আগামী বছরের মধ্যে ভৌত অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা যাবে। শিল্প মন্ত্রণালয় জাহাজভাঙা ইয়ার্ড স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের মতামত জানতে চাইলে দুই দপ্তরই আপত্তি জানায়। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ‘পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব বিবেচনায় প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ তথা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) বলেশ্বর নদের তীরকে জাহাজভাঙা শিল্পের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচন করা সমীচীন হবে না।’ অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়, ২০১০ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর জাতীয় জীববৈচিত্র্য মূল্যায়ন ও কর্মপরিকল্পনা-২০২০ তৈরি করেছে। তাতে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের আধার হিসেবে বলেশ্বর নদের মোহনাকে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব বিবেচনা করে এখানে জাহাজভাঙা শিল্প স্থাপন না করার পক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বন বিভাগের আপত্তিপত্রে বলা হয়, পাথরঘাটা ও এর পার্শ্ববর্তী সুন্দরবনে প্রায় ৬০ প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচিত এলাকায় পাঁচ-ছয় কিলোমিটার পশ্চিমে সুন্দরবনের অবস্থান। জাহাজভাঙা শিল্প স্থাপিত হলে ব্যাপক হারে পানি, বায়ু ও শব্দদূষণের কবলে পড়বে সাগর ও সুন্দরবন। এরপর বলেশ্বরতীরের ‘পরিবেশবান্ধব জাহাজভাঙা শিল্প’ স্থাপন করা হবে—এমন তথ্য জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এর জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র দিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হয়। একে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ বিবেচনায় অনুমতি দেওয়ার জন্যও বলা হয় চিঠিতে। পরিবেশ অধিদপ্তর এখনো ছাড়পত্র দেয়নি।
সীতাকুণ্ডের অভিজ্ঞতা: জাতিসংঘের নৌযানসংক্রান্ত চুক্তি ‘ভেসেল কনভেনশন’ অনুযায়ী, কোনো দেশ পুরোনো জাহাজ আমদানি করতে চাইলে অবশ্যই রপ্তানিকারক দেশ থেকে তা বর্জ্যমুক্ত করে আনতে হবে। দেশের উচ্চ আদালতও এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় নির্দেশনা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ পুরোনো জাহাজ আমদানিকারকেরা তা মানছে না। তারা বিষাক্ত বর্জ্যমুক্ত না করেই জাহাজ এনে এখানে ভাঙছেন এবং বর্জ্যগুলো সীতাকুণ্ড উপকূল ও বঙ্গোপসাগরে ফেলছেন।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজ ইউনিয়নভুক্ত দেশের সমুদ্রসীমা থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদের বেশির ভাগই তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও রাসায়সিক পদার্থ পরিবহনকারী। ইউরোপীয় কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব জাহাজের প্রধান গন্তব্য হচ্ছে বাংলাদেশ।
জাহাজভাঙা শিল্প পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম-এর বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, সীতাকুণ্ডে অবস্থিত জাহাজভাঙার ঘাটগুলোকে এখনো সরকার পরিবেশবান্ধব করতে পারেনি। তারা নিয়মিতভাবে উপকূলীয় এলাকা ও বঙ্গোপসাগর দূষণ করে যাচ্ছে। এখন সুন্দরবনের পাশে যদি এ শিল্প স্থাপিত হয়, তাহলে সুন্দরবন দূষণের হুমকিতে পড়বে।
দ্বিতীয় জাহাজভাঙা শিল্প এলাকা: ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বরিশালের দপদপিয়া সেতুর (আবদুর রব সেরনিয়াবাত) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাথরঘাটায় দেশের দ্বিতীয় জাহাজভাঙা শিল্প স্থাপনের ঘোষণা দেন। ওই বছরের ২১ আগস্ট এই শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পাঠায় বরগুনা জেলা প্রশাসন। প্রস্তাব পেয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করে শিল্প মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেয়। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে জাহাজভাঙা শিল্পাঞ্চল স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ গোলাম সবুর প্রথম আলোকে বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পাঞ্চল করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এখানে চার কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন ও ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা শেষ হলেই অবকাঠামো নির্মাণের চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। সুন্দরবন ও আশপাশের পরিবেশের হুমকি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সাংসদ বলেন, এখানে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, এটা সম্পূর্ণ পরিবেশসম্মতভাবে করা হবে।
জানতে চাইলে পটুয়াখালী-বরগুনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মিহির কুমার দো প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাহাজভাঙা শিল্প স্থাপনের জন্য বন অধিদপ্তর থেকে আমাদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল। এলাকাটি পরিবেশ সংকটপূর্ণ হওয়ায় আমরা আপত্তি জানিয়ে লিখিত মতামত পাঠিয়েছি। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।’
সদ্য গঠিত সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, সরকার সুন্দরবনের এক পাশে বাগেরহাটের রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এবার আরেক দিকে জাহাজভাঙা শিল্প এলাকা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে বাংলাদেশের রক্ষাপ্রাচীর এই বনটি ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।
সর্বশেষ সংবাদ শুনতে আপনার মোবাইল ফোন থেকে ডায়াল করুন ২২২১

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নয় : ভেনিজুয়েলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সব চেষ্টা 'বন্ধের' ঘোষণা দিয়েছে ভেনিজুয়েলা। জাতিসংঘের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত নতুন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ারের মন্তব্যের পর এ ঘোষণা এলো।

যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের হার ১০০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বিয়ের হার ৩১.১ শতাংশ। সেখানে ১০০ বছরের মধ্যে এটাই সর্বনিম্ন বিয়ের হার। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের ব্লোয়িং গ্রিন স্টেট ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যামিলি অ্যান্ড ম্যারেজ রিসার্চ (এনসিএফএমআর) এ গবেষণা চালিয়েছে।

ঠায় বসে থাকা ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর!

দীর্ঘ সময় টানা বসে থাকার অভ্যাস ধূমপানের মতো প্রায় সমান বিপজ্জনক বলে রায় দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তামাকের নেশা থাকলে যেমন হৃদরোগ, ব্রেন স্ট্রোক, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, রক্তচাপ বৃদ্ধির প্রবণতা বাড়ে,

মোদির নেতৃত্বে বিজেপির প্রচার কমিটি চূড়ান্ত

ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের জন্য ১২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি চূড়ান্ত করেছে। কয়েকটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।

'পাকিস্তানে বেশি ধর্ষণের শিকার হিন্দু নারীরা'

পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হন হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা। মার্কিন সরকারের স্বতন্ত্র গ্রুপ ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) সম্প্রতি এ দাবি করেছে।

সরাসরি সংলাপে ফিরছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল-আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে প্রাথমিক আলোচনা : কেরি

প্রায় তিন বছর ধরে থেমে থাকা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যকার শান্তি আলোচনা আবার শুরু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত শুক্রবার জানান, সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে দুই পক্ষ মতৈক্যে পৌঁছেছে।

সেদিন আমিও ট্রেভন হতে পারতাম : ওবামা

ফ্লোরিডার কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর ট্রেভন মার্টিন হত্যা মামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে একেবারে ব্যক্তিগত এক অনুভূতির কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

খাদ্যে ভেজাল উদ্বেগজনক-আইন তৈরি ও প্রয়োগ জরুরি

সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের দীর্ঘ দেড় যুগের অব্যাহত গবেষণার ফল থেকে জানা গেছে, ৫৪ শতাংশ খাদ্যের মধ্যে ভেজাল রয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক তথ্য।

রেন্টাল খাতে লুটপাট-অতিরিক্ত জ্বালানি বরাদ্দের যুক্তি নেই

রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের যোগসাজশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকারের বিনা মূল্যে বিতরণকৃত জ্বালানি তেল নিয়ে অনিয়মের গুঞ্জন আগে থেকেই রয়েছে।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-সুইচ চাপুন শুকনো হাতে

বাসার লাইট, ফ্যান এমনকি কম্পিউটারের ক্যাবলের সুইচগুলো চাপার সময় সাবধান থাকুন। কখনো ভেজা হাতে সুইচ চাপ দেবেন না। কারণ ভেজা হাতে সুইচ চাপলে হাতের পানি সুইচের ভেতর তারের সংস্পর্শে আসতে পারে।

ভালো থাকুন-ক্ষতিকর ধূমপান

মানবস্বাস্থ্যের ওপর ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা বলে শেষ করা যায় না। ধূমপানের মাত্র ১০ সেকেন্ডের ভেতর এর নিকোটিন মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। সারা শরীরেও খুব অল্প সময়ে এই নিকোটিন ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যক্তিত্ব-আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

'আমার মনে আছে আমরা গোটা মৃতদেহ খুঁজছিলাম; কিন্তু পাচ্ছিলাম মৃতদেহের টুকরো টুকরো অংশ।' প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একটি ঘটনার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছিলেন হেমিংওয়ে তাঁর 'ডেথ ইন দি আফটারনুন' বইয়ে।

পবিত্র কোরআনের আলো-আজাব নাজিলের বিলম্বে খুশি হওয়ার কারণ নেই

১১০. হাত্তা- ইযাস তাইআসার রুসুলু ওয়া যান্নূ- আন্নাহুম কাদ কুযিবূ জা-আহুম নাসরুনা-, ফানুজজিয়া মান নাশা-উ, ওয়া লা- য়ুরাদ্দু বা'সুনা- 'আনিল কাওমিল মুজরিমীন। সুরা ইউসুফ।

'সরল অঙ্কটি রাজনীতিবিদরা বোঝেন না, তা নয়'

বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেছেন, 'আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, এ নিয়ে এখনো সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি।

অ্যান্টিকোলেস্টেরল ওষুধের বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া by ড. মুনীর উদ্দিন আহমদ

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বয়সোর্ধ্ব প্রতি চারজনের একজন স্ট্যাটিন (statin) গ্রুপের ওষুধ (অ্যাটরভ্যাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন, রসুভ্যাস্ট্যাটিন, সিমভ্যাস্ট্যাটিন, ইমভ্যাস্ট্যাটিন, ফ্লুভ্যাস্ট্যাটিন, প্রেভ্যাস্ট্যাটিন) গ্রহণ করে।

রাজনীতিতে সুবিধাজনক অবস্থান by ড. নিয়াজ আহম্মেদ

রাজনীতিতে মিথ্যাচার ও সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে কথা বলার রেওয়াজ অবাধ তথ্যপ্রবাহের এ যুগে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি এবং পাশাপাশি বিরক্তি ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

অনলাইন থেকে-গান্ধী ও ম্যান্ডেলা

পঁচানব্বইতম জন্মদিন পার করলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। আমরা ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা নিয়ে খতিয়ে দেখতে পারি। দুটি বড় ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে থাকবে : ১৯৬১ সালের সশস্ত্র সংগ্রামে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং ১৯৯৪ সালে সংখ্যালঘু

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপস নয় by মযহারুল ইসলাম বাবলা

বর্তমান ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা। ক্ষমতাপ্রাপ্তির পরক্ষণে বিচারকাজ শুরু না করার কারণে নানা প্রতিষ্ঠান ও মহলের চাপে বিলম্বে হলেও বিচারিক কার্যক্রম সরকার হাতে নেয়।

সিটি নির্বাচনের আলোকে আগামী নির্বাচন by এ এম এম শওকত আলী

একের পর এক সিটি নির্বাচনে বিরোধী দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে। প্রায় প্রতিদিন এ বিষয়ে দুই প্রধান দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে।