Monday, December 16, 2019
মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা: গান by মুনতাসীর মামুন

গান যে ভালোবাসে না সে খুন করতে পারে- এমন একটি কথার চল ছিল বলে শুনেছিলাম। পরে ভেবে দেখেছি, গান আসলে মানুষকে ভাসিয়ে দিতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় শোনা গানগুলি যখন আজো শুনি তখন সে কথা মনে পড়ে।
মুক্তিযুদ্ধে আমরা ১১টি সেক্টরের কথা বলি। কিন্তু এর পাশাপাশি আরেকটি সেক্টর ছিল যাকে বলা যেতে পারে বারো নাম্বার সেক্টর- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিবিসি যে ভূমিকা রেখেছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রও ১৯৭১ সালে সে ভূমিকা রেখেছিল। স্বাধীন বাংলা বেতারের গানগুলি শোনার জন্য কী আকুল আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। এসব গান বারবার মনে করিয়ে দিত, বেঁচে থাকতে হবে। একদিনের কথা মনে আছে। গভীর রাত, নিঃশব্দ, মাঝে মাঝে পাকিস্তানি সৈন্যদের জিপ বা ট্রাকের শব্দ। বিবিসির অনুরোধের আসর শুনছি। হঠাৎ শুনলাম, বাংলাদেশের নোয়াখালী থেকে এক শ্রোতা অনুরোধ করেছেন জোন বায়েজের একটি গানের জন্য। জোন বায়েজ সুরেলা গলায় গাইতে লাগলেন, ‘উই শ্যাল ওভার কাম সাম ডে’। আমার চোখে আচম্বিতে পানি চলে এল কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মনে হলো- না অতিক্রম আমরা করব- সব করা যাবে, বিজয়ী আমরা হবোই।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র [এরপর থেকে কেন্দ্র] এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল গান। কেন্দ্র নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে এখানে আমি আর তার বয়ান দেব না এবং এ বিবরণে তা প্রাসঙ্গিকও নয় তেমন। তবুও বলবো, এর ভূমিকা বাদ দিয়ে কোনো রচনা সম্পূর্ণ হবে না।
উনিশ শতকের শেষার্ধ বা বলা চলে বিশ শতকের গোড়া থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত রচিত গানই প্রচারিত হতো কেন্দ্র থেকে। সাদামাটা ভাষায় বলা যায় দেশাত্মবোধক, গণজাগরণমূলক সেইসব গান। সেখানে রবীন্দ্রনাথ তো ছিলেনই, ছিলেন নজরুল, অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে সেই সময়ের গোবিন্দ হালদার পর্যন্ত। সেই সব গান বঙ্গভঙ্গের সময়, চল্লিশের দশকে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের সময় মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই একইভাবে বাঙালিকে প্রণোদনা জুগিয়েছিল এবং তা সামগ্রিকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের গান হিসেবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এসব পুরনো গানের পাশাপাশি গীতিকাররা বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের লিখলেন নতুন নতুন গান। গাইলেন বিখ্যাত সব শিল্পীরা। সেই সব গান নিয়মিত প্রচারিত হতে লাগল কেন্দ্র থেকে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বাইরে যে সব গান গাওয়া হয়েছে সেগুলি এ আলোচনায় আসবে না। স্বাধীন বাংলা বেতারের গানগুলি নিয়ে আলোচনা করব। আলোচনা করব প্রধানত : পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা কী করেছিলেন তা নিয়ে।
কেন্দ্র থেকে মূলত চার ধরণের গান প্রচারিত হয়েছে- উনিশ শতকের শেষার্ধ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত রচিত গান যাকে বলা হতো স্বদেশী সঙ্গীত। এ গানগুলির অধিকাংশ রচয়িতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুল প্রসাদ সেন প্রমুখ। যেমন-
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি-রবীন্দ্রনাথ
কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট-নজরুল
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি : অজ্ঞাত
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা : দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
মোদের গরব মোদের আশা : অতুল প্রসাদ সেন
মায়ের দেয়া মোটা কাপড় : রজনীকান্ত সেন
ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে : মুকুন্দু দাস
মানুষ হ’ মানুষ হ’ আবার তোরা মানুষ; গুরু সদয় গুপ্ত
মুক্তির মন্দির সোপান তলে: মোহিনী সেন
এর দিকে গাওয়া আইপিটিএ বা গণসংস্থার গাওয়া গানগুলি যার মধ্যে সলিল চৌধুরীর সুরারোপিত গানগুলিই বেশি প্রচার করা হতো। যেমন-
মানব না এই বন্ধনে : সলিল চৌধুরী
শোন দেশের ভাই ভগিনী : হেমাঙ্গ বিশ্বাস
বিচারপতি তোমার বিচার : সলিল চৌধুরী
গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা : ভুপেন হাজারিকা
বিশ শতকের শুরু থেকেই এ গানগুলির [ক্রম ১-৯] সঙ্গে বাঙালি পরিচিত। স্বদেশি গান যারা লিখেছিলেন ও সুর করেছিলেন তারা দুটি বিষয়ে খেয়াল রেখেছিলেন।
গানের বাণী
গানের সুর। গানের কথায় যেন দেশের কথা, দেশকে ভালোবাসার কথা মূর্ত হয়। আবেগের সৃষ্টি হয়। বিশ শতকে যে স্বদেশি গানের শুরু হয়েছিল তাতে মার্গ সঙ্গীতের প্রভাব ছিল। রবীন্দ্রনাথ থেকে অতুল প্রসাদ সবাই বাউল, ভাটিয়ালি সারি গানের সুরে জোর দিয়েছিলেন। যে কারণে স্বদেশী গান নি¤œ বর্গের মানুষের কাছেও আদৃত হয়েছিল এবং কালে তা ধ্রুপদী সঙ্গীতে পরিণত হয়েছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা রেখেছিলেন। লিখেছেন নীহাররঞ্জন রায়- “যে সমস্ত গানকে আশ্রয় করিয়া বাঙালীর মর্মবাণী সেদিন ভাষা পাইয়াছিল, সে সব গান প্রায় সমস্ত রবীন্দ্রনাথের রচনা এবং এই সময়কার রচনা”।
১৯৭১ সালে রবীন্দ্রনাথের লেখা গানই কেন্দ্র থেকে বেশি প্রচারিত হয়েছে। ষাটের দশকে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আমাদের যে লড়াই তাই প্রতিফলিত হয়েছে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে। রবীন্দ্রনাথের যেসব গান প্রচারিত হয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা যেতে পারে-
আমার সোনার বাংলা
আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি
আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে
ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা
বাঁধ ভেঙ্গে দাও, বাঁধ ভেঙ্গে দাও
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
বাংলার মাটি বাংলার জল
যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক
আমি ভয় করবো না ভয় করবো না
বাংলার মাটি বাংলার জল
শুভ কর্মপণে ধরো নির্ভয় গান
সঙ্কোচের বিহ্বলতা, নিজের অপমান
ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়
দেশে দেশে ভ্রমি যব দুখ গান গাহিয়ে
এবার তোরা মরা গাঙে বান এসেছে
এবার মরা গাঙে বান এসেছে
এরপর বোধহয় স্থান ছিল কাজী নজরুল ইসলামের। কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তাঁর গানের তালিকায় আছে-
এই শিকল পরা ছল
ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
চল চল চল
দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাপার
তোরা সব জয়ধ্বনী কর
মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম
জাগো অনশন বন্দী ওঠরে যতো
জাগো নারী বসীন শিখা
একি অপরূপ রূপে মা তোমার
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
বিশ শতকের চল্লিশ দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গণনাট্য সংঘের অনেকে বিভিন্ন ভাষায় গান রচনা করেছিলেন। সুর দিয়েছিলেন বা লিখেছিলেন যেমন, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, বিনয় রায়, সলিল চৌধুরী প্রমুখ। তাঁরা বিভিন্ন স্বদেশী গানও কোরাসের মাধ্যমে ‘গণসঙ্গীতে’ রূপান্তর করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গান তাঁরা অনেক গেয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে খাজা আহম্মদ আব্বাস লিখেছিলেন-
‘‘For through famine or invasion, imperialist oppression or proletarian upsurge, the voice of Tagore remains the voice of Bengal consoling, exhorting the people of great unhappy land.” [অনুরাধা রায়, চল্লিশ দশকে বাংলায় গণসঙ্গীত আন্দোলন]
গণনাট্য সংঘের আন্দোলনের সময় গাওয়া সলিল চৌধুরী, হেমাঙ্গ বিশ্বাস বা ভুপেন হাজারিকার গানই বেশি প্রচারিত হয়েছে বিশেষ করে সলিল চৌধুরীর যেমন
আমার প্রতিবাদের ভাষা
মানব না এই বন্ধনে
বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা
৪. ঢেউ ছুটছে কারা ছুটছে
এ গানের ক্ষেত্রেও তিনি লোকগীতির সুর ভেঙে সুর দেওয়ার কাজ করেছেন। “জীবনে জীবনে, যোগ করার আগ্রহে অধিকাংশ সময় গণসঙ্গীতকাররা লোকগীতির ভাষা ও সুর ধর করতেন।” তবে, সলিল চৌধুরী ছিলেন বিপরীত। “তার সাংগঠনিক শিক্ষার সবচেয়ে প্রভাবশালী উপাদান ছিল পাশ্চাত্য সঙ্গীত। পিতার সংগৃহীত অজস্র সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও নিগ্রো স্পিরিচুয়ালের মতো পশ্চিমা লোকসঙ্গীতের রেকর্ড শুনে তিনি বড় হয়েছেন।” [ঐ]
ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত যে সব গান রচিত হয়েছিল ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের বিরুদ্ধে সেগুলি পুনঃপ্রচার হয়েছে। এর অধিকাংশ ঢাকা বা চট্টগ্রামের স্টুডিও রেকর্ড বা ঢাকায় প্রকাশিত গ্রামোফোন রেকর্ড। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গাজী মাজহারুল আনোয়ার রচিত সিনেমার গান। ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’। [সুরকার : আনোয়ার পারভেজ] কেন্দ্রের অধিবেশনের শুরু ও শেষ হতো এই গান দিয়ে। বেলাল মোহাম্মদ এর একটি তালিকা দিয়েছেন [রবীন্দ্র ও নজরুলগীতি বাদে]
কেঁদো না কেঁদো না মাগো
জনতার সংগ্রাম চলবেই : সিকান্দার আবু জাফর, সুরকার : শেখ লুৎফর রহমান
সোনা সোনা সোনা : আব্দুল লতিফ : সুরকার : আবদুল লতিফ, শিল্পী শাহনাজ রহমাতুল্লাহ
সালাম সালাম হাজার সালাম : ফজল-এ- খোদা
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল : আবু বকর সিদ্দিক, সুরকার: সাধন সরকার
আমার নেতা/ তোমার নেতা শেখ মুজিব : আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, সুরকার: সমর দাস
রক্তেই যদি ফোটে জীবনের : শামসুল হুদা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো : আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, সুরকার: আলতাফ মাহমুদ
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্টুডিয়োতে যে সব গান রেকর্ড করা হয়েছিল তারও একটি তালিকা দিয়েছেনÑ
আমি শুনেছি আমার মায়ের কান্না- ফজল-এ-খোদা- শিল্পী মান্না হক
নোঙর তোল তোল সময়- নঈম গরহর সুরকার: নয়ীম গওহর
একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে- গোবিন্দ হালদার-শিল্পী আপেল মাহমুদ
ও বগিলারে কেন বা আলু- হরলাল রায়-শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়
অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা- টি এইচ শিকদার
অত্যাচারের পাষাণ কারা- আল মোজাহেদী
সোনায় মোড়ানো বাংলা মোদের-গীতিকার ও সুরকার মোকসেদ আলী সাই-শিল্পী আবদুল জব্বার ও কোরাস
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর-গীতিকার ও সুরকার, শিল্পী : আপেল মাহমুদ ও রথীন্দ্রনাথ রায়
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে- গোবিন্দ হালদার-শিল্পী স্বপ্না রায়
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে- গোবিন্দ হালদার- সুরকার সমর দাস
আমি এক বাংলার মুক্তি সেনা- নেওয়াজিস খান
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম-শহীদুল ইসলাম
জগৎবাসী বাংলাদেশকে যাও দেখিয়া- সরদার আলাউদ্দীন
রুখে দাঁড়াও- সরদার আলাউদ্দীন
মানুষ হ মানুষ হ- গুরু সদয় দত্ত- কামরুল হাসান- বেলাল মোহাম্মদ প্রমুখ
বলাবাহুল্য তালিকাটি অসম্পূর্ণ। আসলে কেন্দ্রের ইতিহাস লেখা হলেও, কারা কিভাবে গান লিখেছেন, কী কী গান লিখেছেন, তার অভিঘাত কী ছিল, সম্পূর্ণ গানের তালিকা- এ সম্পর্কে তথ্য প্রায় নেই বললেই চলে। বেলাল মোহাম্মদের ঐ তালিকা ছাড়া অন্যান্য তথ্য থেকে কিছু গানের তালিকা পাই। ধরে নিতে পারি তার কিছু কেন্দ্রের স্টুডিওতে রেকর্ড করা হয়েছিল। যেমন-
অনেক ভুলের মাশুল তো ভাই- অনল চট্টোপাধ্যায়, সুর অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়
আমাদের চেতনার সৈকতে- নাজিম মাহমুদ, সুর সাধন সরকার
আজি সপ্ত সাগর ওঠে উচ্চলিয়া-সত্যেন সেন, সুর অজিত রায়
আমরা তো সৈনিক শান্তির সৈনিক-আখতার হোসেন- সুর সেলিম রেজা
উঠলোরে ঝড়- দিন বদলের পালা-ওমর শেখ
একুশ আসে জানাতে বিশে^- লোকমান হোসেন জাকির
এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার আকাশে- খান আতাউর রহমান [এটি খুব সম্ভব আগে রেকর্ড করা]
ও বাজান চল যাই চল- জসিম উদ্দিন
ওরে ভাইরে ভাই বাংলাদেশে বাঙালি আর নাই- আনিসুল হক চৌধুরী, সুর শেখ লুৎফর রহমান
ও হে কাল চাঁদ-রুহুল আমিন প্রামাণিক, সুর আবদুল আজীজ বাচ্চু
ওরে মাঝি দে নৌকা- শহীদ সাবের, সুর শেখ লুৎফর রহমান
কারখানাতে খেত খামারে- এনামুল হক, সুর আলতাফ মাহমুদ
কে কে যাবি আয়রে- ইন্দ্র মোহন রাজবংশী-ঐ
ঘুমের দেশে ঘুম ভাঙাতে- বদরুল হাসান, সুর আলতাফ মাহমুদ
চলছে মিছিল চলবে মিছিল- দিলওয়ার, সুর অজিত রায়
জলপথ প্রান্তরে সাগরের বন্দরে- মুস্তাফিজুর রহমান, সুর সমর দাশ
ডিম পাড়ে হাঁসে খায় বাগদাসে- ফেরদৌস হোসেন ভুঁইয়া, সুর সুখেন্দু চক্রবর্তী
তারা এ দেশের সবুজ ধানের শীষে – মো. মনিরুজ্জামান, সুর সমর দাশ
দূর হতে আসে ঐ মৃত্যুর পরোয়ানা- চিরঞ্জীব দাশ শর্মা-ঐ
নিষ্ফল কভু হয় না এ ধারায়- নাজিম সেলিম বুলবুল-ঐ
প্রাণে প্রাণ মিল করে দাও- স্বাধীন দাশ গুপ্ত-ঐ
ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য-সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সুর শেখ লুৎফর রহমান
মিলিত প্রাণের কলরবে- হাসান হাফিজুর রহমান, সুর শেখ লুৎফর রহমান
মানুষের ভালোবাসি ঐ মোর অপরাধ- সত্যেন সেন-ঐ
মুুজিব বাইয়া যাও রে- মোহাম্মদ শফি
মাগো তোমার সোনার মানিক- রাহাত খান, সুর-সুখেন্দু চক্রবর্তী
যায় যদি যাক প্রাণ- আবু হেনা মোস্তফা কামাল-ঐ
রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি-আবুল কাশেম সন্দীপ-সুজেয় শ্যাম
লাঞ্ছিত নিপীড়িত জনতার জয়-মতলুব আলী, সুর শেখ লুৎফর রহমান
স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে- আখতার হোসেন অজিত রায়
এ তালিকাও অসম্পূর্ণ বলে আমার ধারণা। তবে, একটি বিষয় লক্ষণীয় ১৯০৫-এর পর থেকে স্বদেশী গানের বিষয়ের যে কথা ও সুর, সে ঐতিহ্য মেনেই রচিত হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের গান’ [ কেন্দ্র রেকর্ডকৃত]। কামাল লোহানী বলেছিলেন, সে সময় সব সবকিছুর অভাব ছিল, গীতিকার সুরকার, গায়কের। কিন্তু অভাব বোধ হয়নি। কারণ যার যা সম্বল তাই নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন প্রবল উৎসাহে।
স্বাধীন বাংলা বেতারে পরিবেশিত গান খবরেরও বিষয় ছিল, যেমন-
“স্বাধীন বাঙলা বেতারে ‘আন্তর্জাতিক গণসঙ্গীত’ (স্টাফ রিপোর্টার)-
কলকাতা, ২ জুন- আজ ‘স্বাধীন বাঙলা বেতার কেন্দ্র’ থেকে প্রচারিত ‘অগ্নিশিখা’ নামক এক অনুষ্ঠানে ‘আন্তর্জাতিক’ গণ-সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
ঐ ‘আন্তর্জাতিক’ সঙ্গীত ছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কৃত ‘ইন্টারন্যাশনাল’-এর বঙ্গানুবাদ। ঐ অনুষ্ঠানেই নজরুলের প্রসিদ্ধ ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’ সঙ্গীত এবং সুকান্ত’র ‘বন্ধু তোমার ছাড়ো উদ্বেগ সুতীক্ষ্ম কর চিত্ত’ কবিতাও পরিবেশন করা হয়েছে।” [কালান্তর, ৩.৬.১৯৭১]
সব গানই যে জনপ্রিয় হয়েছিল তা নয়। রাষ্ট্রভাষা, ঊনসত্তরকে ভিত্তি করে কেন্দ্রের স্টুডিও থেকে রেকর্ডকৃত যে সব গান জনপ্রিয় হয়েছিল এবং এখনও জনপ্রিয়, সেগুলি হলো, যেমন-
জয় বাংলা বাংলার জয়
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু, সিরাজুল আলম খান ও নিউক্লিয়াস প্রসঙ্গ by আ স ম আবদুর রব

প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের সম্মিলিত ফসল হচ্ছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের নায়ক হচ্ছে সিরাজুল আলম খান। কেউ কেউ এ সত্যকে বলি দিয়ে ইতিহাস রচনা করতে চাচ্ছে। সিরাজুল আলম খান ৬০-৭০ দশকে লক্ষ লক্ষ তরুন ছাত্রসমাজের কাছে ছিলেন স্বাধীনতার বাতিঘর-স্বপ্নের সারথী।
তিনি ছিলেন তরুন ছাত্র ও যুব সমাজকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করার-মূল প্রেরণাদাতা ও পথপ্রদর্শক। বঙ্গবন্ধু উপাধির পরিকল্পনা, পতাকা উত্তোলন, ইশতেহার পাঠ, জয়বাংলা বাহিনী ও বিএলএফ গঠন সহ ছাত্র ও যুবসমাজের মননে স্বাধীনতার স্বপ্ন বপন করার অসাধ্য কর্মকান্ডের অদৃশ্য নায়ক সিরাজুল আলম খান। স্বাধীনতার অন্তঃপ্রান সিরাজুল আলম খান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত ও খুবই আস্থাভাজন। যারা অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না বা আংশিক জড়িত থাকলেও পুর্ণাঙ্গ বিষয় জানেন না। তারা কিউক্লিয়াস, জয়বাংলা বাহিনী, বিএলএফ এর কর্মযজ্ঞ নিয়ে কীভাবে অভিমত প্রদান করেন? সিরাজুল আলম খানের একটি রাজনৈতিক জীবনালেখ্য বীর সংগ্রামী শামসুদ্দিন পেয়ারা দীর্ঘ ৩৬ বছর তাগিদ দিয়ে ক্ষুদ্র আকারে প্রকাশ করতে পেরেছেন। এটা সিরাজুল আলম খান এর জীবনীগ্রন্থ নয়, স্মৃতিকথাও নয়-স্বাধীন বাংলার জন্য যা করেছেন তার অংশ বিশেষ।
এই বই নিয়ে বিষোদগার বা ক্রোধের যে মাত্রা দেখলাম, কৃতজ্ঞতার যে প্রকাশ দেখলাম, শ্রদ্ধাবোধের যে নমুনা দেখলাম, দ্বিমতের যে বর্ননা দেখলাম এতে আমার এক নবতর উপলব্ধির জন্ম হয়েছে। সে উপলব্ধি হচ্ছে, জাতি হিসেবে আমরা চিরকাল অকৃতজ্ঞ। যে দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে স্ব পরিবারে হত্যা করতে পারে, তাজউদ্দিন আহমেদ সহ জাতীয় চার নেতা এবং শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করতে পারে, ১৫ আগষ্টকে নাজাত দিবস পালন করতে পারে, যে দেশের মানুষ ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শেষে জয় পাকিস্তান বলেছিলো বলে যারা স্বাক্ষী দিতে পারে, সেখানে পদ-পদবীবিহীন সিরাজুল আলম খানকে অস্বীকার বা তুচ্ছ করা কোন বিষয়ই নয়। বাঙালীর বৈশিষ্ট নিয়ে ঐতিহাসিক টমাস বেবিংটন মেকলে বলেছেন (বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত ভারতে হিষ্টিং ইংলেন্ডে তার বিচার প্রবন্ধের আরশাদ আজিজ এর বঙ্গানুবাদ) ‘মহিষের কাছে সিং-এর যা মূল্য, বাঘের কাছে থাবার যে গুরুত্ব, মৌমাছির কাছে যেমন হুল, পুরানা গ্রিক কবিতা অনুশারে নারীর জন্য সৌন্দর্য যা বাঙালীর কাছে প্রতারনা তূলনীয় মূল্যবান। এরা লম্বা লম্বা প্রতিজ্ঞা করে, প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার সুন্দর অজুহাত দেখায়, প্রতারণা-মিথ্যা হলফ, জালিয়াতি, এসব তারা আত্মরক্ষার্থে কিংবা অন্যের ক্ষতি করার জন্যে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না’। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, বঙ্গবন্ধুর আত্মদান আমাদের হীনমন্যতা ধূয়ে-মুছে দিতে পারেনি। আমরা আত্ম রক্ষার্থে বা কারো ক্ষতি করতে মিথ্যা অস্ত্র ব্যবহারে অতুলনীয়।
বিষোদগার করার জন্যেই কেউ যদি মানসিক প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তাহলে যে কোন বিষয়কে টেনে হিচড়ে বিষোদগারের উপযোগী করা যায়। তার একটি উদাহরণ, বঙ্গবন্ধু ৭ই জুন ১৯৬৬ মঙ্গলবার ‘কারাগারের রোজনামচা’য় লেখেছেন ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন ভালই করেছে, আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ প্রদেশে হরতাল এবং পাকিস্তান অবজারভার হেড লাইন করেছে ‘হরতাল’ বলে। এখনে বঙ্গবন্ধু কেন ইত্তেফাকের কথা উল্লেখ করেন নাই-কোন মতলবে ইত্তেফাক ও মানিক মিয়ার অবদান অস্বীকার করেছেন, বিষোদগারকাররীরা বিবেকের তাড়নায় এ প্রশ্ন উত্থাপন করে শেষে বলতে পারেন কেন বঙ্গবন্ধু ইত্তেফাক ও মানিক মিয়ার অবদান অস্বীকার করে ইতিহাস বিকৃত করেছেন জানি না। সিরাজুল আলম খানকেও তেমনি টেনে হিচড়ে বিষোদগারের উপকরণে পরিণত করছেন, উনার সব অবদানকে অস্বীকারের ক্রোধে আত্মিক সন্তুষ্টি লাভ করেছেন-এসব বিষয়ে সিরাজুল আলম খান প্রতিবাদ করার বিন্দুমাত্র তাগিদ অনুভব করেন না। এককালে যারা মনে করতো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করলে রাষ্ট্র থাকে না বা দেশপ্রেম থাকে না-তেমনি আজ কেউ কেউ মনে করছে নিউক্লিয়াস, বিএলএফ, সিরাজুল আলম খানকে অস্বীকার না করলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হয় না। তারা উভয়ই ক্রোধ, প্রতিহিংসা আর ঘৃণার আওতাধীন। রাষ্ট্র নির্মানে ভূমিকা বা অবদানের স্বীকৃতি কারো প্রত্যায়ন পত্র দিয়ে নির্ধারিত হয় না। স্বাধীনতা বা রাষ্ট্রীয় রাজনীতির প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু ও সিরাজুল আলম খান এর কথা হয়েছে কতবার তা কেবল তারাই জানেন। আর সিরাজুল আলম খান নিজেই বলেছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে কথা হয়েছে সেটাও বিষোদগারকারীগন অস্বীকার করেছেন। তারা বলতে চেয়েছেন তাদের জানার বাইরে বঙ্গবন্ধু কারো সাথে কথা বলতে পারেন না, তাদের জানার বাইরে বঙ্গবন্ধুর বাসায় কেউ যেতে পারেন না-এসব বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর জন্য খুবই অপমানজনক।
আমাদের রাষ্ট্র ক্ষমতার সংস্কৃতি ভয়াবহ। পক্ষে থাকলে গৌরব ও সম্মান আর বিপক্ষে থাকলে অপমান-অসম্মান। আমাদের সত্য পরিবর্তন হয়ে যায় ক্ষমতার আলোকে। ক্ষমতার দম্ভে সত্যকে হত্যা করা যায়-এটাও অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তারা মনে করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস কেবল তাদের জন্য বরাদ্দ। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। এতে রয়েছে অসখ্য মানুষের অবদান। মুক্তিযুদ্ধের পিছনে সামগ্রিক ধারণা-কর্মকান্ড এবং মৌলিক চিন্তাধারার সাথে অনেকের অজ্ঞতা রয়েছে-যা থাকাই স্বাভাবিক। যে যতটুকু জড়িত-যতটুকু শুনেছেন সে ততটুকুই বলতে পারবেন-এসবের বাইরে রয়েছে বিরাট ইতিহাস। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য দুটি ধারার কর্মকান্ডের ফসল। জাতি হিসেবে আমরা অকৃতজ্ঞ ও হীনমন্য। অন্যের কৃতিত্ব-অবদান-আত্মত্যাগকে অস্বীকার করে নিজের ভাবমুর্তি এবং খ্যাতি বাড়ানো যে ভয়ংকর অন্যায় সেটা আমরা অনেকেই জানি না। আমরা অনেকেই কাজ করেছি ইতিহাসে স্থান নেয়ার জন্য আর অনেকেই কাজ করেছেন ইতিহাস নির্মানের জন্য। বঙ্গবন্ধু ও সিরাজুল আলম খান এর সম্পর্ক, সম্পর্কের গভীরতা-নৈকট্য-উচ্চতা নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই-জানাও নেই।
আমরা বর্তমানের স্বার্থ-সংঘাতের ভিত্তিতে অতীতের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ৭১ এর অনেক বীর সিপাহ সালার, সেক্টর কমান্ডার এবং বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্তদের পাকিস্তানী চর বা রাজাকার বলতেও দ্বিধাবোধ করিনি। এসব বলার মাধ্যমে যে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হয়-এইটুকু উপলব্ধি আমাদের হয় না। দলীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতি যে কী ভয়ংকর তার প্রমাণ হচ্ছে ১৫ই আগষ্ট। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে খুন করার পর-সিঁড়িতে লাশ রেখেই দলীয় নেতারা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সেই মন্ত্রী পরিষদের প্রথম বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর নামে শোক প্রস্তাব উত্থাপনের কেউ প্রয়োজন মনে করেননি। বরং হাসি ঠাট্টাছলে টুপি আর ড্রেস কোড নিয়ে কথা হয়েছে। সেই সরকারই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি আইন প্রণয়ন করে। এই দেশেই ১৫ই আগষ্টকে নাজাত দিবস পালন করার মানুষ ছিলো। যারা বঙ্গবন্ধুকে স্ব পরিবারে হত্যায় জড়িত ছিলো তাদেরকে “সূর্য সন্তান” বলে আখ্যায়িত করা হতো। সেখানে বাঙালির ‘জাতিরাষ্ট্র’ বাংলাদেশ গঠনে যিনি ৬২ সাল থেকে গোপন সংগঠন, ৬ দফা-১১ দফা আন্দোলনের কৌশল প্রণয়ন, সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই রাজনৈতিক উইং বিএলএফ এবং সামরিক উইং জয়বাংলা বাহিনী গঠন করেন, পতাকা নির্মান ও উত্তোলন, ইশতেহার প্রণয়ন ও ঘোষণা, বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদানের পরিকল্পনা করেন এবং বঙ্গবন্ধু কাল্ট সৃষ্টিতে যার অবদান সবচেয়ে বেশী সেই সিরাজুল আলম খানকে ক্ষমা চাইতে হবে-অর্বাচীন বালক, ষড়যন্ত্রকারী বলে সম্মান দেওয়া হচ্ছে এটাই কম কিসে? স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মানে যুক্ত থাকার অপরাধে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শেখ ফজলুল হক মনি সহ তাদেরকে খুন করে আমরা জাতি হিসেবে অকৃতজ্ঞ তার প্রমাণ দিয়েছি। সিরাজুল আলম খানকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় বিচারের সম্মুখীন করা বা অপঘাতে মৃত্যু যে এখনো হয়নি, তাতেই তাকে ভাগ্যবান মনে করছি। সিরাজুল আলম খান কৃতিত্ব নিতে চাইলে নিজেই বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদান করতে পারতেন-পতাকা উত্তোলন করতে পারতেন-ইশতেহার পাঠ করতে পারতেন কিন্তু তা না করে যার দ্বারা যে কাজ তার দ্বার সেই কাজ সম্পন্ন করাকেই কর্তব্য মনে করেছেন-নিজের কৃতিত্বকে তুচ্ছ করে দেখেছেন। তিনি স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত প্রাণ।
আমরা কতিপয় যারা স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে একটু অবদানের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম তারা গত ৪৮ বছর ধরে প্রতিদিন রেডিও, টিভি সংবাদপত্রে জনসভায় ও স্মৃতিচারণে আমাদের ভূমিকা-অবদান নিয়ে কথা বলে যাচ্ছি কিন্তু সেই অবদানের কথা আর শেষ হচ্ছে না। আর সিরাজুল আলম খান গত ৪৮ বছরে একদিনও কোন রেডিও-টিভি বা পত্র-পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেননি। পত্রিকায় কোন লেখা পাঠান নি, জনসভা বা কোন আলোচনা সভায় স্মৃতিচারণ করেননি। গত ৪৮ বছরে কখনও দলীয় পদ বা সরকারী পদ-পদবী গ্রহণ করেননি। আমরা অনেকেই মন্ত্রী-এমপি হয়েছি, গাড়ি-বাড়ীর মালিক হয়েছি, সংসার পরিবারের অধিকারী হয়েছি। শুধু একজন সিরাজুল আলম খান রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে নিজেকে উৎসর্গ করে সংসার জীবন ত্যাগ করেছেন, ব্যক্তিগত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই-এসবের প্রতি তাঁর কোন মোহও নেই। এই প্রজন্মে এমন অসাধারণ মানুষ খুব দুর্লভ।
গত ৪৮ বছরে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বাগাড়ম্বর করে যাচ্ছি। সেখানে সিরাজুল আলম খান জাতির উত্থান পতনের কারণ, সভ্যতার ক্রমবিকাশের পিছনে মূল চালিকা শক্তি কি, সমাজের অভ্যন্তরে নতুন সমাজ শক্তির উদ্ভব এসব সমাজ শক্তির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের আন্তঃসম্পর্ক, সমাজ শক্তি সমূহের রাজনৈতিক ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন। একুশ শতকের বাঙালী অর্থাৎ বাঙালী এখন তৃতীয় জাগরনের পর্যায়ে রয়েছে। এই জাগরণ বাঙালী জীবনে নবতর সামাজিক উপাদানে সমৃদ্ধ-জাতিসত্বার উচ্চতর বিকাশ নিয়ে নতুন তত্ত্ব নির্মান করেছেন। স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে তত্ত্বগত দিক নির্দেশনার প্রয়োজনে শাসনতন্ত্র ও শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা প্রণয়ন করেন ড. জিল্লুর রহমান খান সহ যৌথভাবে। সিরাজুল আলম খান বাংলাদেশের সমাজ অভ্যন্তরে শ্রেনী শক্তি-রাজনৈতিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বাঙালী জাতীয়তাবাদের বিকশিত রূপ-রাজনৈতিক প্রযুক্তি নিয়ে অবিরাম গবেষণা করে যাচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বজাতির স্বভাব সম্মন্ধে অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন যদিও জাতি হিসেবে বাঙালী পরশ্রীকাতরতার জাতি। ‘পরশ্রীকাতরতা’ দুনিয়ার কোন ভাষা খুঁজিয়া পাওয়া যাবে না, একমাত্র বাংলা ভাষা ছাড়া। বঙ্গবন্ধুর এই গভীর উপলব্ধির নির্মম শিকার হয়েছেন নিজেই, নিজের দল আওয়ামী লীগ দ্বারা। বাংলাদেশের মত রাজনৈতিক বিপ্লবের ফসল যে সকল রাষ্ট্র নির্মান হয়েছে-সে সকল দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতির জনক বা স্থপতিদের অবদানের কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া, তুরষ্কের সংবিধানের প্রস্তাবনায় তাদের মহান নেতাদের অবদান উল্লেখ করে (হো চি মিন-সান ইয়াৎ সেন-মাও সেতুং-কিম ইল সুং-কামাল আতাতুর্ক) সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করেছে কেবলমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া। বাংলাদেশের ৭২ এর সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর নাম একবারও উচ্চারিত হয়নি-কোন অবদানের কথাই বলা হয়নি। এমন কি ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার কথা ৭২ এর সংবিধানে উল্লেখ নেই। সে পরশ্রীকাতরতায় সিরাজুল আলম খান জাতির নিকট অপমানিত-লাঞ্চিত হবেন না তা কী করে সম্ভব? দলীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতা-রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে সরকারী ইতিহাস নির্মানের প্রবনতার বাইরে যখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নির্মিত হবে তখন সিরাজুল আলম খান সহ যার যা অবদান তা লিপিবদ্ধ হবে।
দলীয় স্তাবকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার চেয়ে সরকারী পদ পদবী নিয়ে ব্যস্ত ছিলো-এসব নিয়ে আমাদের কোন আত্ম উপলব্ধি নেই। ৬০-৭০ দশক ছিলো অভ্যূত্থান-পাল্টা অভ্যূত্থানের বিশ্ব। সরকার উৎখাত এবং রক্তপাতের বিশ্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম বিরোধীতাকারী পরাশক্তি ছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিআইএ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এটা সকলেরই জানা। এরমধ্যেই চিলির জাতীয়তাবাদী নেতা সালভেদর আলেন্দেকে হত্যা করা হয়েছে। এতকিছুর পরও বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তা দেয়ার বিশেষ কোন উদ্যোগ কেন নেয়া হয়নি? কেন রক্ষী বাহিনী বা সেনাবাহিনীর প্রবল নিরাপত্তার চাদরে ৩২ নং ধানমন্ডি ঢেকে দেয়া হয়নি? এগুলোর মূল্যয়ন করা অতীব জরুরী। বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরুদ্ধে কিছু ঘটছে এটা বাতাসে বাতাসে গুঞ্জন চলছিলো। কিন্তু দলীয় স্তাবকগণ এসবকে গুরুত্ব না দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবহেলাকেই নিশ্চিত করেছে। অভ্যূত্থান-পাল্টা অভ্যূত্থানের বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এটা বুঝার জন্যে মহামতি লেলিন হওয়ার দরকার ছিলো না। উপমহাদেশের অহিংসের নেতা মহাত্মা গন্ধী সহিংসতার শিকার এটার জানার পরও বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা যারা নিশ্চিত করলো না-তারা জাতির কতবড় সর্বনাশের ভাগিদার-তা নির্ধারণ করা উচিত। সিরাজুল আলম খান প্রথম ব্যক্তি যিনি বুঝতে পেরেছিলেন উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে যেমন রক্ষা করা সম্ভব হবে না তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসেই বঙ্গবন্ধুর নিকট লিখিত ১৫ দফা উপস্থাপন করেছিলেন। তাঁর ১ম দফাই ছিলো অসম্পূর্ণ সশস্ত্র যুদ্ধ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় বাংলাদেশেকে পুনর্গঠনের বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত একটি ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ দ্বারা পরিচালিত হবে। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়া সকল দল ও গ্রুপ এর সমন্বয়ে গঠিত এই সরকারের প্রধান থাকবেন বঙ্গবন্ধু। ৩নং দফায় ছিলো বঙ্গবন্ধুর মর্যাদায় বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু থাকবেন সকল দলের উর্ধ্বে। প্রয়োজনে তিনি রাজধানীর বাইরে অবস্থান করবেন। তাঁকে কেন্দ্র করে বাঙালী জাতির চেতনা বিকাশের ধারা প্রবাহিত হবে। ৫নং দফায় ছিলো চিরাচরিত প্রথার সেনাবাহিনী গঠন না করে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় জাতীয় পর্যায়ে ‘রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী’ গঠন করা হবে। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈনিক, ‘এফএফ’ এবং ‘বিএলএফ’ সহ সশস্ত্র যোদ্ধাদের নিয়ে এই বাহিনী তৈরী হবে। এর সমান্তরাল অন্য কোন বাহিনী থাকবে না। উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে যদি ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠন হতো এবং চিরাচারিত সেনাবাহিনীর বিপরীতে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধাদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠিত হতো তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যা কোন ক্রমেই সম্ভব হতো না-এইসব মৌলিক সত্য আমাদেরকে অনুধাবন করতে হবে।
বাঙালীর বৈশিষ্ট অনুধাবনে সমকালীন সবচেয়ে বড় ঘটনা বঙ্গবন্ধু হত্যা। বঙ্গবন্ধু হত্যা কী পরিমাণ অকৃতজ্ঞ জাতিতে আমাদেরকে পরিণত করেছে তা আমাদের যেমন উপলব্ধিতে নেই-তেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডকে দোষারোপের বৃত্তেই আবদ্ধ করে রেখেছি কোন আত্ম সমালোচনা নেই।
মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার আশংকা প্রকাশিত হওয়ার পরও তৎকালীন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সর্দার প্যাটেল যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেননি-যা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার ভারত স্বাধীন হলো বইয়ে উল্লেখ করেছেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন এ আমাদের চিরকালের লজ্জা আর দুঃখ যে আমাকে আজ কবুল করতে হচ্ছে একেবারে প্রাথমিকতম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও আমরা অপরাগ হয়েছি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যার বাইরেও বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিয়ে এমন একটা আত্ম সমালোচনা আমাদের কারো আছে ? মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এর ‘ভারত স্বাধীন হল’ বই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর। কারণ তাঁর মতামত এবং মূল্যায়নের সাথে অনেকেই একমত হতে পারবেন না। এ কারণে তিনি মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর বই প্রকাশ করতে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সিরাজুল আলম খানও যদি ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হল’ বা ‘বঙ্গবন্ধুর সাথে স্মৃতিকথা’ লিখে যান হয়তো অনেক অজানা কথা আমরা জানতে পারবো।
যাদের আত্মবিশ্বাসহীনতা প্রবল তারা মনে করছেন সিরাজুল আলম খানকে হেয় না করতে পারলে ইতিহাসে জায়গা পাওয়া যাবে না। কিন্তু এসব প্রশ্নে সিরাজুল আলম খান কোন উত্তর দেয়ার প্রয়োজনই মনে করেন নি। যারা সমালোচনা করছেন তাদের বিরাট সুবিধা হলো এই ভেবে যে সিরাজুল আলম খান কারো কথার কোন জবাব দেবেন না। আমরা যারা বাগাড়ম্বরের অভিযাত্রী তারা কারো বিরোধীতা করতে গিয়ে তাকে প্রতিপক্ষ করে ফেলি এবং মাটির তলায় ঢেকে দিয়ে শান্তি অনুভব করি। সেখানে সিরাজুল আলম খান টুশব্ধটি করেননি এমনকি ব্যক্তিতভাবে কোন অভিযোগ করেননি। সিরাজুল আলম খান এর প্রজ্ঞা, মানসিক গঠন, জীবনবোধ, রাজনৈতিক দর্শন বুঝতে আমাদেরকে অনেককাল অপেক্ষা করতে হবে।
বিবেকের তাড়নায় সিরাজুল আলম খানকে তুচ্ছ করতে যতো উৎসাহী তার চেয়ে ভালো হতো জনগণের নেতাকে ‘বঙ্গবন্ধু উপধি’ প্রদান করা হলো কার পরিকল্পনা ও নিদের্শে-এ সত্য প্রকাশ করলে, আরো ভালো হতো বঙ্গবন্ধু শব্দের উদ্ভাবক সংগ্রামী রেজাউল হক চৌধুরী মোস্তাক এর নাম উচ্চারণ করলে। গত ৫০ বছরে এ গভীর সত্য একবারও উচ্চরিত হয়নি-এতেই বুঝা যায় নৈতিক উচ্চতা থেকে সত্যকে প্রকাশ করা হচ্ছে না। বরং সত্যকে মাটি চাপা দেয়া হচ্ছে। এই একটা বিষয় দিয়েই বুঝা যায় সিরাজুল আলম খান এর বিরুদ্ধে বিষোদগারকারীগণ ইতিহাসের সত্য অনুসন্ধানের জন্য নয়-ইতিহাস থেকে অন্যদের অবদান মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
মহান নেতা ফিদেল কাস্ট্রো বলেছেন ‘এই যে নক্ষত্রের আলো সেও একদিন নিভে যাবে, সূর্য একদিন আর আলো দিবে না, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, সুতরাং কোন কিছুতেই আমি জাহির করার কিছু দেখি না, ব্যক্তি হিসেবে আমাদের ভূমিকা খুবই সীমিত এবং আমাদের উচিৎ এই সীমাবদ্ধ ভূমিকাটুকু সঠিকভাবে পালন করা’-সিরাজুল আলম খান এই চেতনারই স্বার্থক উত্তরাধিকার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ▼ 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...