Tuesday, October 4, 2011

নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিট-বিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৭০০

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে গত শনিবার সন্ধ্যায় ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ (ওয়াল স্ট্রিট দখল করো) আন্দোলনের ৭০০-এর বেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংক ও আর্থিক-প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সরকার কেবল ধনীদের স্বার্থ রক্ষা করছে, যাঁরা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ।
করপোরেট স্বার্থ রক্ষা ও রাজনীতিতে করপোরেট প্রভাবের বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহ আগে বিক্ষোভকারীরা প্রথমে লোয়ার ম্যানহাটনের একটি ছোট পার্ক দখল করে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন। শনিবার তাঁদের ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভ ব্রুকলিন ব্রিজ পর্যন্ত চলে আসে। আন্দোলনকারীরা ওয়াল স্ট্রিটের ‘করপোরেট রাজত্বের’ অবসানের দাবিতে ১৭ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিটের কাছে লোয়ার ম্যানহাটনে রাস্তার পাশে শিবির করেছেন। তাঁরা ২০ হাজার লোককে ওই এলাকায় জড়ো করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এদিকে কয়েক শতাধিক বিক্ষোভকারী ম্যানহাটনে বেসরকারি মালিকানাধীন জুকোট্টি পার্কে শিবির করে অবস্থান করছেন। আন্দোলনকারীদের মতে, তাঁরা দেশের বাকি ৯৯ শতাংশ লোকের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করছেন।
ওয়াল স্ট্রিটের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘করপোরেট লোভের’ বিরুদ্ধে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সাবেক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। সন্ধ্যার সময় বিক্ষোভকারীরা বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু ব্রুকলিন ব্রিজে চলে আসেন এবং ব্রিজের ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
নিউইয়র্ক পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, বারবার সতর্ক করার পরও বিক্ষোভকারীরা ফুটপাত ছেড়ে গাড়ি চলাচলের লেনে নেমে পড়েন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের বেশির ভাগকেই গ্রেপ্তার করা হয় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে।
মুখপাত্র বলেন, কয়েক ঘণ্টা পর অবশ্য অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদের এক দিন আটকে রাখা হবে কিংবা আদালতে পাঠানো হবে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে আটটার দিকে গাড়ি চলাচলের জন্য ব্রিজটি খুলে দেয় পুলিশ। এদিকে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জানান, পুলিশ তাঁদের ব্রিজের যান চলাচলের লেন দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। পরে পুলিশ তাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘেরাও করে গ্রেপ্তার শুরু করে।
বিক্ষোভকারী রবার্ট কামিচো বিবিসিকে বলেন, এই বিক্ষোভ নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) বিপক্ষে নয়। এটি অসামঞ্জস্য ক্ষমতার অধিকারী ১ শতাংশ লোকের বিপক্ষে ৯৯ শতাংশ লোকের বিক্ষোভ। তিনি বলেন, ‘আমরা নৈরাজ্যবাদী নই। আমরা সন্ত্রাসী নই। আমি ৪৮ বছরের এক প্রৌঢ়। ১ শতাংশ ধনী যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ করছে।’
এক বিবৃতিতে বিক্ষোভ-কারীরা বলেন, আরব জাগরণে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁরা এই প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করেছেন। অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আমরা আর নীরব থাকতে পারি না।’
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও রাস্তা অবরোধ করার অভিযোগে প্রায় ৮০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। গ্রেপ্তার ও পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে গত শুক্রবার প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ ব্যানার নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ সদর দপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের সামনেও বিক্ষোভ করেছেন।
‘যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরগুলোতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন শহরে নিয়মিতভাবে ছোটখাটো বিক্ষোভ হচ্ছে। করপোরেট লোভ ও ব্যাংকের বন্ধকী সম্পদ দখল বন্ধের দাবিতে রাইট টু দ্য সিটি নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে শনিবার বোস্টন শহরে ব্যাংক অব আমেরিকার কার্যালয়ের সামনে প্রায় তিন হাজার লোক বিক্ষোভ করেছেন।

পুতিনের অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হবে

পাঁচ বছরের মধ্যে রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিশালী দেশের একটিতে পরিণত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য খাতের প্রসার ও নতুনত্ব আনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের এই নতুন রূপকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে পুতিন ২০১২ সালের মার্চে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
কিন্তু পুতিনের রাশিয়ার অর্থনৈতিক সংস্কারের ওই পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত সুদূর পরাহত। তিনি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও অর্থনীতিবিদেরা এরই মধ্যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ, ২০০০-০৮ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে, বিশেষ করে, ২০০৪ সালে পুতিন ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহ প্রদান এবং তেলের ওপর স্বনির্ভরতা আনার পদক্ষেপ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত গতিহীন হয়ে পড়ে। যদিও ১৯৯৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর পুতিন অন্তত ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল রাখতে পেরেছিলেন, তদুপরি তেলের উচ্চমূল্য তার ওই সাফল্যের বেশির ভাগই ম্লান করে দিয়েছিল।
নব্বইয়ের দশকে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী ও বর্তমানে মস্কোর হাইয়ার স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষণা পরিচালক ইয়েভজেনি ইয়াসিন বলেন, পুতিন যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো তাঁর আগের কথারই পুনরাবৃত্তি।
বরিস ইয়েলৎসিনের পদত্যাগের পর ২০০০ সালে পুতিন প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁর অর্থমন্ত্রী জার্মান গ্রেফ অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনতে ‘স্ট্র্যাটেজি ২০১০’ উপস্থাপন করেন। ইয়েভজেনি ইয়াসিনের মতে, গ্রেফের ওই প্রকল্পই আবার নতুন করে গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা উচিত। কারণ, অনেকে প্রকল্পটির ৩৫ শতাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে দাবি করলেও বাস্তবে ১৫ শতাংশও হয়নি।

পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফ অভিযোগ করেছেন, আফগানিস্তান যুদ্ধের ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এক্সপ্রেস ২৪/৭কে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোশাররফ এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, হাক্কানি জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর পাকিস্তান বাহিনীর যেটুকু প্রভাবই থাক না কেন, তা ব্যবহার করা উচিত। হাক্কানি গোষ্ঠী যাতে সীমান্ত অতিক্রম না করে, সে ব্যাপারে তাদের জানানো উচিত। সীমান্তবর্তী আফগানিস্তান অংশে হাক্কানি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দায়ী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেনের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জের ধরে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের দুই মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। মুলেন বলেছিলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিস ইনটেলিজেন্স (আইএসআই) হাক্কানি নেটওয়ার্ককে প্রকৃত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পাকিস্তানের এই সংস্থাটিই সম্প্রতি কাবুলে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালাতে জঙ্গিদের নির্দেশ দিয়েছে।
মুলেনের এই মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, পরস্পরকে দায়ী করার খেলা বন্ধ করা উচিত। অভিন্ন শত্রুদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানকে একই সঙ্গে কাজ করতে হবে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সারা বিশ্বের উচিত পাকিস্তানের অবস্থান সম্পর্কে জানা। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের স্বার্থ ভূলুণ্ঠিত করা বন্ধ না করা পর্যন্ত দেশ দুটির মধ্যে আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে না।
তবে মোশাররফ জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শান্তি সন্ধিৎসু তালেবানের সঙ্গে আলোচনার ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, সব পশতুন যেমন তালেবান নয়, তেমনি সব তালেবানও আবার পশতুন নয়। তিনি বলেন, শান্তি চায় এমন তালেবানকে শনাক্ত করতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় বসতে হবে।
মোশাররফ বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দ্বিমুখী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করছে।

বরিশালে মৃৎশিল্পীদের সম্মাননা প্রদান


যাঁদের হাতের ছোঁয়ায় মাটি প্রতিমায় রূপ নিয়ে অপরূপ সৌন্দর্য লাভ করে সেই মৃৎশিল্পীদের সম্মাননা জানিয়েছে বরিশাল মৃৎশিল্পী সম্মাননা উদ্যাপন পরিষদ। গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর কালীবাড়ি রোডের ধর্মরক্ষিণী সভাগৃহে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৪০ জন মৃৎশিল্পীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক নিসার হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মৃৎশিল্পীদের পক্ষ থেকে বিনোদ পাল বলেন, 'পূর্বপুরুষের পেশা হিসেবে ৩০ বছর ধরে কাজ করছি।
এত দিন পর সম্মান পেয়ে খুব ভালো লাগছে। তবে সাহায্য তো দূরের কথা, প্রতিমা তৈরির ন্যায্য দামও কেউ কেউ দিতে চায় না। দ্রব্যমূল্য বাড়লেও প্রতিমা তৈরির মজুরির দাম বাড়েনি। তাই এ পেশায় থেকে পেট চালাতে কষ্ট হয়। মৃৎশিল্পের করুণ অবস্থা দেখে সন্তানরাও এ পেশায় আসতে চায় না। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই পেশাটি হারিয়ে যাবে।'

অন্য বক্তারা বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী একটি শিল্প হলো মৃৎশিল্প। কিন্তু সারা বছরই তাঁরা অবহেলিত থাকেন। শুধু পূজা এলেই তাঁদের ডাক পড়ে। সব মিলিয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত এ শিল্পটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে এ রকম ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে মৃৎশিল্পীরাও উৎসাহিত হবেন।
রাখাল চন্দ্র দের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বরিশালের পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য, জনতা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক বলরাম পোদ্দার, প্রেসক্লাবের সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল, মৃৎশিল্পী সম্মাননা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক বিজয় কৃষ্ণ দে প্রমুখ। সভা শেষে ৪০ জন মৃৎশিল্পীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও কাপড় দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্যাক্তা সুশান্ত ঘোষ বলেন, পূজা উদ্যাপন পরিষদের ব্যানারে ২০০৯ সালে প্রথম মৃৎশিল্পীদের সম্মাননা দেওয়া শুরু হয়। এর পর থেকে অমৃত লালের পরিবারের সহযোগিতায় এবার নিয়ে তিনবার এই সম্মাননার আয়োজন করা হলো। বরিশাল সদর, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া উপজেলার মৃৎশিল্পীদের এ সম্মাননা জানানো হয়।

ঠাকুরগাঁও হাসপাতাল ঘেরাও অবরোধ


ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনদের পক্ষ নিয়ে এলাকাবাসী গতকাল সোমবার হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। তারা হাসপাতালের সামনের সড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত ব্যক্তি হলেন সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ শাহিন হোসেন (৩৫)। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে তঁাঁর বাবা ফরিদ আলী নাম উল্লেখ না করে কর্তব্যরত ডাক্তারের নামে গতকাল সদর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। থানার ওসি গোপাল চক্রবর্তী জানান, 'এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত চলছে, তদন্তের পরই মামলা রুজু করা হবে।'

শাহিনের স্বজনরা জানান, বুকে ব্যথা নিয়ে গত রবিবার মধ্যরাতে শাহিন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কোনো ছাড়পত্র না দিয়েই তাৎক্ষণিক রোগীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে একটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আত্মীয়স্বজন রাতেই শাহিনের লাশ বাড়ি নিয়ে যান। কিন্তু এর পরপরই হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স গিয়ে আবার লাশ নিয়ে আসে। এতে শাহিনের আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীর সন্দেহ হয়। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল সকাল ১১টার দিকে কয়েক শ মানুষ হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষুব্ধ লোকজন হাসপাতালের সামনের সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পুলিশ গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে রাস্তা থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্তের জন্য শাহিনের লাশ মর্গে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৪টার দিকে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রুস্তম আলী বলেন, 'যেহেতু ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে তাই লাশ পুনরায় হাসপাতালে এনে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'


মিরসরাইয়ে এবার শোকে ঢাকা পূজা



মিরসরাই ট্র্যাজেডির শিকার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ ১১ জনের পরিবারে নেই পূজার আনন্দ। গত রবিবার থেকে সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা শুরু হলেও ওই পরিবারের সবার মনের মধ্যে চাপা ব্যথা। তাই মিরসরাইয়ের মঘাদিয়া ও মায়ানী ইউনিয়নের ছয় গ্রামে আবারও দেখা দিল মাতম। নিহত স্কুলছাত্ররা হলো প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাজু চন্দ্র দাশ; আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আনন্দ দাশ, নবম শ্রেণীর সূর্য চন্দ্র নাথ, অষ্টম শ্রেণীর ধ্রুব নাথ, লিটন দাশ, উজ্জ্বল চন্দ্র নাথ, রূপন চন্দ্র নাথ, টিটু জলদাশ, কাজল চন্দ্র নাথ ও জুয়েল বড়ুয়া। ঘটনার দিন রাতে ছেলেকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে ভেবে মারা যান হরনাথ। উপজেলার ১১ নম্বর মঘাদিয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া, সরকার টোলা, দরগাহপাড়া এবং ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের মধ্যম মায়ানী ও পূর্ব মায়ানী গ্রামে ওদের বাড়ি।

গত রবিবার ষষ্ঠী ও গতকাল সোমবার সপ্তমী সম্পন্ন করেছেন পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারাও। কিন্তু ধ্রুব, সাজু, লিটনদের ঘরে এর কোনো ছোঁয়া ছিল না। আনন্দ দাশদের মতো শিক্ষার্থীদের ঘরে ঘরে আনন্দ ঢাকা পড়েছে শোকের আবহে।
গত বছরের এই দিনে পূজা উদ্যাপনকালে আনন্দঘন একটি মুহূর্তে সবার প্রিয় ধ্রুব নাথকে নিয়ে ছবির ফ্রেমে বন্দি হয়েছিলেন বাবা ধীরেন্দ্র কুমার নাথসহ স্বজনরা। সেই ছবি এ পরিবারের জন্য এখন কেবলই স্মৃতি হয়ে রইল। বছর ঘুরে এখন সেই একটি ছবিই চোখের সামনে নিয়ে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা স্মরণ করছেন তাঁরা। মিরসরাইয়ের আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ধ্রুব নাথ ছিল সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। তার মামা ডা. সমীর চন্দ্র নাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাদের পরিবারে এবার পূজা উদ্যাপিত হচ্ছে বটে, কিন্তু কোনো আনন্দ নেই। ধ্রুবকে ছাড়া আমাদের পূজা হতে পারে না। ও ছিল সবার নয়নের মধ্যমণি।'
মঘাদিয়া ইউনিয়নের সরকারটোলা এলাকার বাসিন্দা কেশব চন্দ্র দাশের ঘরেও চলছে নীরব অশ্রুপাত। মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে হারানো ছেলে লিটন চন্দ্র দাশের ছবি হাতে কাঁদছেন মা মণি বালা দাশ।
স্মরণকালের যে সড়ক দুর্ঘটনায় কেঁদেছিল সারা দেশ, সেই দুর্ঘটনার নাম মিরসরাই ট্র্যাজেডি। গত ১১ জুলাই মিরসরাইয়ের আবুতোরাব-বড়তাকিয়া সড়কের দক্ষিণ সৈদালী এলাকার ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৩৭ ছাত্রসহ ৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরো চার শিক্ষার্থী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আটজন ঘটনাস্থলে এবং দুই ছাত্র হাসপাতালে মারা যায়। ছেলের শোকে হরনাথ মারা যান দুর্ঘটনার দিন রাতেই।
হরনাথের পরিবারেও চলছে নীরব শোক। ঘটনার দুই মাসেরও বেশি সময় পরে দুর্গাপূজা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তাঁদের শোকগাথা। হরনাথের ছেলে অজয় চন্দ্র দাশ জানায়, 'সেদিন আমার মৃত্যু হয়েছে ভেবে বাবা মারা গেছেন স্ট্রোক করে। গত বছরও এই দিনে বাবা জীবিত ছিলেন। এবার তিনি নেই, আমাদের পূজা নেই। নেই পূজার আনন্দও।' হরনাথ মঘাদিয়া ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের মৃত কৃষ্ণ চন্দ্র দাশের ছেলে। হরনাথের ঘরে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান।
দুর্গাপূজা আসার পরও এলাকা আনন্দের পরিবর্তে নতুন করে যেন শোকে স্তব্ধ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির নিজামী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কাজল নাথ মারা গেছে হাসপাতালে। তার পরিবারের শোক একটু বেশি। অন্য বাড়িগুলোতেও পূজার আনন্দের বদলে শোক আর বেদনা বিরাজ করছে। বুধবার (আগামীকাল) আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিহত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যাব।' এই ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচটি মণ্ডপেই শোকের আবহ বিরাজ করছে বলে জানান চেয়ারম্যান।
আবু তোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯ জন শিক্ষার্থী আমার বিদ্যালয়ের ছাত্র। এদের মধ্যে সাতজনই অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে যেকোনো উপলক্ষ সামনে এলে। তখনই ফের শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।'

মানুষ মানুষের জন্য...



সাঈদুন্নাহার (৪৩) জিবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছেন। অধ্যাপক ডা. মির্জা ইকবালের তত্ত্বাবধানে আইসিইউতে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, সাঈদুনাহারকে বাঁচাতে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন। তাঁর স্বামী মীর ইশতিয়াক আলী সীমিত আয়ের একজন সরকারি চাকরিজীবী। তাঁর পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার জন্য এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছে।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা_মীর ইশতিয়াক আলী, সেভিংস অ্যাকাউন্ট নম্বর-১৬৪.১০১.৩২৪৯৭৪, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, মিরপুর সার্কেল-১০ শাখা, ঢাকা। মোবাইল ফোন নম্বর-০১৭২৭৪৫৮১৬১, ০১৯১২৫৪৯১১৫।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ


ত ২ অক্টোবর কালের কণ্ঠের ১৫ পাতায় 'ঘাটাইলে সংসদ সদস্য ডা. মতিউর লাঞ্ছিত' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম লেবু।

প্রতিবাদে তিনি উল্লেখ করেন_প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, এমপির সভায় মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তিনি দৌড়ে সভাস্থল ত্যাগ করেছেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মঞ্চ ভাঙচুর ও পুলিশ প্রহরায় এমপিকে ঢাকায় পাঠানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। এ ধরনের কোনো বক্তব্য তিনি সংবাদকর্মীদের দেননি। প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবেশন করা হয়েছে।

লেকে মাছ ধরার অপরাধে মারধরের পর এবার এজাহার


লেকে মাছ ধরার অপরাধে মা ও ছেলেকে মারধরের পর এবার বরগুনার আমতলী থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিতা শিউলী বেগমের অভিযোগ, মারধরের ঘটনাটি পত্রিকায় প্রকাশের জের ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের ভাই সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মজিবর রহমান বাদী অনুপম মজুমদারকে এজাহারটি করতে বাধ্য করেছেন। ওসি বলছেন, এজাহারটি তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, 'নদী বাঁধ দিয়ে লেক; মাছ ধরায় মা-ছেলেকে পেটালেন পৌর মেয়রের ভাই' শীর্ষক সংবাদ গত সোমবার কালের কণ্ঠের ২-এর পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মজিবর রহমান ক্ষিপ্ত হন। নির্যাতিতা শিউলী বেগমের অভিযোগ, ঘটনার পর মজিবর রহমান আমতলী লঞ্চঘাট এলাকার অনন্যা বেকারির মালিক অনুপম মজুমদারকে বাধ্য করেছেন, তাঁর ভাই আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার করতে। গতকাল থানায় এজাহারটি দায়ের করলেও সেটি মামলা হিসেবে বিকেল পর্যন্ত রুজু করা হয়নি। ঘটনার পর থেকে শিউলী বেগমের ভাই আফজাল হোসেন পলাতক রয়েছেন। মুঠাফোনে আফজালের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, কয়েক বছর ধরে লঞ্চঘাট এলাকার অনন্যা বেকারির মালিক অনুপম মজুমদারের সঙ্গে তাঁর স্বামী বেকারির ব্যবসা করে আসছেন। এ সময়ে তিনি অনুপমের কাছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দেনা হয়েছেন। রবিবার দুপুরে অনুপম নিজেই তাঁর (নুরুন্নাহার) কাছ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকার বকেয়া নিয়েছেন। নুরুন্নাহারের দাবি, অনুপমের সঙ্গে তাঁর স্বামীর ব্যবসায়ীক সম্পর্ক ভালো। পৌরসভার সাবেক কমিশনারের চাপে পড়ে তিনি মিথ্যা এজাহার করেছে।

এজাহার দায়েরের কথা স্বীকার করে অনুপম মজুমদার মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, আফজালের কাছে তাঁর দুই লাখ ৩৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই টাকা চাইতে গেলে রবিবার তিনি প্রাণনাশের হুমকি দেন। রবিবার দোকানে আফজালের স্ত্রী ছিলেন, তাঁর কাছ থেকে আপনি টাকা এনেছেন। তা হলে কী করে তিনি আপনাকে হুমকি দিয়েছেন_এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।
মজিবর রহমান মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রায় এক বছর আগে বকেয়া টাকার কারণে আফজালকে মালামাল দেওয়া বন্ধ করে দেয় অনুপম। তখন আমি অনুপমকে বলে মালামাল পুনরায় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সম্প্রতি বকেয়া টাকা না দেওয়ায় অনুপম অভিযোগ করলে আমি বলেছি, ওদের বিচার করতে পারব না, থানায় গিয়ে বিষয়টি জানাও।' অভিযোগ দাখিলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

বাসচাপায় শিশুর মৃত্যু, প্রতিবাদে গাড়ি ভাঙচুর, আটক ২


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেপরোয়া গতির বাসচাপায় পশ্চিম মেড্ডার চাইল্ড কেয়ার কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র আরিফুল ইসলাম তৌহিদের (৭) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার পশ্চিম মেড্ডার মার্কাজপাড়ায় নানাবাড়ির সামনে আইসক্রিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকার সময় ওভারটেক করা বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ লোকজন অন্তত ৪০টি বাস ও ট্রাক ভাঙচুর করে। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধের মুখে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে আটক করেছে।

সড়ক পরিবহন সমিতির নেতাদের দাবি, ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোনসেট ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁরা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এলাকাবাসী ও তৌহিদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তৌহিদ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর বাইপাস সড়কের মার্র্কাজপাড়ায় তার নানাবাড়ির সামনে আইসক্রিম হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কুমিল্লাগামী একটি বাস অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করার সময় তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ সাংবাদিকদের জানান, শতাধিক গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অবরোধ চলাকালে স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে পূর্বাঞ্চলীয় মালিক সমিতির সব পরিবহন ধর্মঘট শুরু করবে বলে তিনি জানান।

রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা আজ

ৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে নারায়ণগঞ্জে। হিন্দুদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ভক্তদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। সব বয়সী নর-নারী নতুন পোশাক পরে মাকে প্রণাম ও দর্শন করতে বের হচ্ছে। আজ মহাষ্টমী উপলক্ষে চাষাঢ়া রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার পাঁচটি উপজেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা ১৮৭টি।
এর মধ্যে শহরে ৩৮টি। এসব পূজামণ্ডপ ঘিরে রয়েছে ভক্তদের প্রবল আগ্রহ-উদ্দীপনা। রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা শুরু হবে সকাল ১১টায়। স্বামী একনাথানন্দ বলেন, 'এ বছর আমরা সাড়ে সাত বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী বর্ষা চক্রবর্তীকে মাতৃদেবীরূপে পূজা দেব।' বর্ষা টানবাজার এলাকার ব্যবসায়ী শিবু চক্রবর্তীর মেয়ে।

আওয়ামী লীগ হচ্ছে গোঁয়ার গোবিন্দের দল : হান্নান শাহ


ওয়ামী লীগকে গোঁয়ারগোবিন্দের দল আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা নেই। তারা হচ্ছে গোঁয়ারগোবিন্দের দল। ক্ষমতায় এলে প্রতাপ দেখিয়ে বেড়ায়। আর ক্ষমতায় না থাকলে ইঁদুরের মতো গর্ত থেকে বের করতে হয়।
গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাগ্রত জনতা ফোরামের আয়োজিত 'রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন, তথা ভুলুণ্ঠিত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রেক্ষিত বাংলাদেশ' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

হান্নান শাহ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে র‌্যাবকে ব্যবহার করছে বর্তমান সরকার। তাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। হান্নান শাহ আরো বলেন, 'আমাদের সেমিফাইনাল খেলা শেষ। এবার আপনারা খেলে আসুন।' হান্নান শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বলেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তাঁর দেওয়া শর্তগুলো পূরণ হওয়া ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
সংগঠনের উপদেষ্টা টি এম গিয়াস উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাগ্রত জনতা ফোরামের চেয়ারম্যান শরীফ চৌধুরী প্রমুখ।

পুরস্কার নির্ধারণে টিআইবির বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতার অভিযোগ!


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সচেতন নাগরিক কমিটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ আয়োজিত তথ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পুরস্কার নির্ধারণ নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচক কমিটির রায় উপেক্ষা করে টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটি নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়েছে। তবে টিআইবি বলছে, তিন বিচারক নয়, চার বিচারকের গড় নম্বরে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও তথ্য প্রাপ্তিতে আইনি গোপনীয়তার সংস্কৃতি পরিহারের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে টিআইবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটি তিন দিনব্যাপী তথ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শহরের সরকারি হরিমোহন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মেলায় প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী দেয়ালিকা ও সংবাদ সংগ্রহ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় সরকারি ২৫টি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৪২টি স্টল অংশ নেয়। সমাপনী দিনে মেলায় অংশ নেওয়া স্টলগুলোর মধ্যে 'শ্রেষ্ঠ স্টল' হিসেবে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে (এলজিইডি)।
একইভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার লাভ করে যথাক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। অভিযোগ উঠেছে পুরস্কার প্রদানের স্বচ্ছতা নিয়ে। শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণে নির্বাচক কমিটির রায়কে উপেক্ষা করে টিআইবি নিজেদের পছন্দমতো শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করেছে। সূত্র জানায়, মেলা শুরু হওয়ার আগেই মেলায় অংশ নেওয়া স্টলগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুব্রত পাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানা রাজিয়া ও সরকারি হরিমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফকে। কমিটির সদস্যদের জানানো হয়, তথ্য উপস্থাপনের জন্য ২৫ নম্বর ও সাজসজ্জার জন্য ২৫ নম্বর_সর্বমোট ৫০ নম্বরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করতে হবে। কমিটির সদস্যরা মেলা শুরুর দিনেই সনাকের সরবরাহ করা নম্বরপত্রে শ্রেষ্ঠ স্টল হিসেবে এলজিইডিকে প্রথম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভাকে দ্বিতীয় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করেন। কিন্তু চূড়ান্ত ঘোষণার সময় কলেজকে বাদ দেওয়া হয়।
সূত্র আরো জানায়, তিন সদস্যের এক সদস্য সরকারি কলেজকে ৪৮, এলজিইডিকে ৪৬, ফায়ার সার্ভিসকে ৪৪ ও পৌরসভাকে ৪২ নম্বর দিয়েছেন। কমিটির সদস্য কলেজ অধ্যক্ষ তাঁর প্রতিষ্ঠানকে কম নম্বর দিয়েছেন।কমিটির সদস্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুব্রত পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা পৃথকভাবে নম্বর লিখে জমা দিলেও সম্মিলিতভাবে পুরস্কার পাওয়ার তালিকায় কলেজের নাম ছিল। পরে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা তিনজনের নম্বর কম্পাইল করে দেব কি না_এমন প্রশ্ন করা হলে টিআইবি কর্তৃপক্ষ নিজেরাই করে নেবে বলে আমাদের কাছ থেকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নিয়ে চলে যায়। আমরা সরল বিশ্বাসে তাতে স্বাক্ষর করে দিয়েছি।'হরিমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফ বলেন, 'আমাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে পরে তারা (টিআইবি) কী করেছে, বলতে পারব না। আমি নম্বর দিয়ে তাদের কাছে জমা দিয়েছি। আমার তালিকায় সরকারি কলেজ ছিল।'কলেজ অধ্যক্ষ সুলতানা রাজিয়া বলেন, 'যেহেতু আমার কলেজ অংশ নিয়েছে, সেহেতু আমাকে বিচারক প্যানেলে রাখার সময় আমি বিচারক থাকতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। তারা (টিআইবি কর্তৃপক্ষ) বারবার অনুরোধ করায় কমিটিতে ছিলাম। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা এ প্রতিষ্ঠানই যে দুর্নীতির আশ্রয় নেবে, ভাবতে পারিনি।' তিনি জানান, কমিটির অন্যান্য সদস্য সরকারি কলেজকে প্রথম স্থান দিতে চাইলেও তিনি (অধ্যক্ষ) তাঁদের বিপক্ষে মত দিয়ে তৃতীয় স্থান নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে ফলাফল জমা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমিটির মতামত উপেক্ষা করে পুরস্কার প্রদানের লিখিত প্রতিবাদ জানাবেন তাঁরা।এ ব্যাপারে টিআইবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা ব্যবস্থাপক সৌমেন দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, টিআইবির ঢাকা অফিসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সাধন কুমার দাসসহ চারজন বিচারকের গড় নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'তিন বিচারকের গড় নম্বরে সরকারি কলেজ ছিল। পরে চারজনের গড় করতে গিয়েই বাদ পড়ে গেছে।' তবে কলেজ অধ্যক্ষ সুলতানা রাজিয়া অভিযোগ করেন, চার বিচারকের কথা আগে তাঁদের জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক সংঘাতে ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত by রাজীব আহমেদ

ণমানে ভালো অবস্থান, আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি, বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া, চীনে শ্রমের দাম বেড়ে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি_সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে বিরাট সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। বাংলাদেশে অর্থনীতির সূচকগুলো যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে মধ্য আয়ের দেশ হতে বেশি বছর বাকি নেই। দেশের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সমস্যার সমাধান হলে দেশে ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে। এ লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে। জাপান এ দেশে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা গড়ে তোলার জন্য জমি চেয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম স্পোর্টস সু প্রস্তুতকারক নাইকি, রিবক ও এডিডাস বাংলাদেশে কারখানা করতে চায়।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে হাতের কাছে ‘বড় ডাক্তার’রা by রিয়াদুল করিম

ক্ষ্মীপুরের মুদি দোকানি জাকির হোসেনের নাক ও গলায় সমস্যা। স্থানীয় চিকিৎসক বলেছেন, ঢাকায় ‘বড় ডাক্তার’কে দেখাতে। কিন্তু অত টাকা তিনি কোথায় পাবেন! তাই আর ‘বড় ডাক্তার’ দেখানো হচ্ছিল না। কয়েক দিন আগে তিনি শুনেছেন, এখন প্রতিদিন বিকেলে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বড় ডাক্তাররা’ মাত্র ২০০ টাকায় রোগী দেখেন।

৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ! by এহসানুল হক

বৈধভাবে সরকারি চাকরি করছেন প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। সরকারের বিভিন্ন সমাপ্ত প্রকল্পের এই লোকবলকে বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজস্ব খাতে। 'অসাধু বাণিজ্যের' মাধ্যমে শুধু স্থায়ী সরকারি চাকরি বাগানোই নয়, মোটা অঙ্কের টাকাও হাতানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কমপক্ষে পাঁচ বছরের মাথায় রাজস্ব বাজেটের অধীনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। এই মধ্যবর্তী সময়কে নিয়মিত চাকরি বা চাকরিকাল গণনা করে তাঁদের বকেয়া বেতনও ধরা হয়েছে। আর এই বকেয়া বেতন বাবদ সরকারের রাজস্ব খাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা।

খা খা করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা কমপ্লেক্স by হাকিম বাবুল

ড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৯টা। সরকারি অফিস শুরুর সময়। অথচ শ্রীবরদী উপজেলা কমপ্লেক্সে তখন সুনসান নীরবতা। বেশির ভাগ সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলছে। দু-একটির দরজা খোলা পাওয়া গেলেও ভেতরে উঁকি দিয়ে কর্মকর্তাদের দেখা মিলল না। শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে গতকাল সোমবার সকালের দৃশ্য ছিল এমন। স্থানীয় লোকজন জানান, বেশির ভাগ সরকারি কর্মকর্তা কর্মস্থল শ্রীবরদীতে থাকেন না। তাঁরা নিজেদের মর্জিমাফিক অফিসে আসা-যাওয়া করেন। কর্তাব্যক্তিদের দেখাদেখি অধস্তন কর্মচারীরাও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে ঢোকেন। সব মিলিয়ে শ্রীবরদী উপজেলা কমপ্লেক্স সরব হতে হতে সকালের সূর্য চলে আসে প্রায় মাথার ওপর।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, হত্যা, লুটপাট, অগি্নসংযোগসহ ২০টি অভিযোগ এনেছেন ট্রাইব্যুনাল। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি) এবং ৩(২)(এইচ) ধারায় এ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩০ অক্টোবর। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হলো সাঈদীর বিরুদ্ধে। ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই প্রথম বিচার শুরু হলো।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল তিনজনের by সাব্বির রহমান খান

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০১১ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, লুঙ্মেবার্গ ও কানাডার তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন ব্রুস বয়েটলার, জুলস হফমান ও রালফ স্টাইনম্যান। গতকাল সোমবার স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। রোগ প্রতিরোধে শরীরের প্রতিরোধক ক্ষমতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার প্রেক্ষাপটে তাঁদের এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। গবেষণায় রোগব্যবস্থার প্রাথমিক পর্যায় নিয়ে কাজ করেন বয়েটলার ও হফমান। আর স্টাইনম্যান রোগ প্রতিরোধের পরবর্তী ধাপগুলোর কার্যকারিতা বোঝার জন্য ডেনড্রিটিক কোষ শনাক্ত করার কাজ করেন। পুরস্কারের অর্থের অর্ধেক পাবেন বয়েটলার ও হফমান আর বাকি অর্ধেক পাবেন স্টাইনম্যান।

বেদখল হওয়া হাবিবুর রহমান হল উদ্ধার

গন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হয়ে যাওয়া ১২টি হলের অন্যতম ড. হাবিবুর রহমান হল। গতকাল সোমবার সেটি দখলে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সকাল ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন ও কোতোয়ালি জোনের পুলিশের সহকারী কমিশনার রাজীব আল মাসুদ উপস্থিত থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হলটি বুঝিয়ে দেন।
হল উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শওকত জাহাঙ্গীর, হল উদ্ধার কমিটির সভাপতি ড. নুরুল মোমেন, ভারপ্রাপ্ত প্ররক্ষক অশোক কুমার সাহা, ছাত্রলীগের নেতা-কমী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে হলটি তাঁরা দখলে নেবেন। তাঁর ঘোষণার এক দিন পরই গতকাল ড. হাবিবুর রহমান হল দখলে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হল উদ্ধারের ফলে ছাত্রী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মিষ্টিও বিতরণ করেছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে এক আইনের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ওই আইনের ২৭(৪) ধারা বাতিল ও কলেজ আমলের বেদখল হওয়া ১২টি হল উদ্ধারের জন্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে টানা চার দিন আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত বুধবার দুর্গাপূজার আগাম ছুটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। এর পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। আগামী ৮ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সংহতি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ রবিবার তাঁর সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, আগামী অর্থবছরে ছাত্রীদের জন্য বাণী ভবনে এক হাজার আসনবিশিষ্ট হল নির্মাণ, দুটি নতুন বাস চালু ও চারটি হল অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে ড. হাবিবুর রহমান হল বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে নেওয়া হবে। এক দিন পর গতকাল ২৬ বছর আগে বেদখল হওয়া ড. হাবিবুর রহমান হল বুঝে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বংশালের মালিটোলার গোলক পাল লেনে হলটি অবস্থিত। এর জায়গার পরিমাণ ২৫.৭৭ কাঠা। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা প্রশাসক এক সপ্তাহের মধ্যে হলটি ছাড়ার জন্য অবৈধ দখলদারদের নির্দেশ দেয়। গতকাল এক সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় হলটি দখলে নেয়।
বেদখল হলগুলোর অবস্থা : ১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এরশাদ সরকারের সময় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের এ হলগুলো একের পর এক হাতছাড়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী (ইনভেন্টরি) তৈরির জন্য ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মসিমুহিত হক অ্যান্ড কম্পানির সঙ্গে ১৮ লাখ টাকার চুক্তি করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালের ২৯ জুন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বেদখল হওয়া হলগুলোর মধ্যে পাঁচটি সরকারের সহযোগিতায় খুব সহজেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদের বিবরণী তৈরির কাজ শুরু হলে অবৈধ দখলে থাকা হলগুলোর জমি এবং ধূপখোলা মাঠের বৈধ কাগজপত্র ও বিভিন্ন তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খুব সহজেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলগুলোর একটি পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের ৮২ ঝুলন বাড়ি লেনে অবস্থিত শহীদ শাহাবুদ্দিন হল। এই হলটি কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আমিনুল হক বিপ্লব দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্টার সিনেমা হলের পাশে ওয়াইজঘাটের ৮ ও ৯ নম্বর জিএল পার্থ লেনে অবস্থিত তিব্বত হল, আরমানিটোলার ৬ নম্বর এ সি রায় রোডের আবদুর রহমান হল, মাহুতটুলীর ১ নম্বর শরৎচন্দ্র রোডের শহীদ আনোয়ার শফিক হল এবং পাটুয়াটুলীর ১৬ ও ১৭ নম্বর রমাকান্ত নন্দী লেনে অবস্থিত শহীদ আজমল হোসেন হল খুব সহজেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
বেদখল হওয়া অন্য হলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাবাজারের ১নং ঈশ্বর দাস লেনের বাণী ভবন হলের একাংশ (অন্য অংশটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দখলে রয়েছে), ১৭ ও ২০ যদুনাথ বসাক লেনের আবদুর রউফ মজুমদার হল, ১৫ ও ১৬ যদুনাথ বসাক লেনের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান হল, টিপু সুলতান রোডের গোপীমোহন বসাক লেনের শহীদ নজরুল হল, মালিটোলায় ২৬ মোগলটুলির বজলুর রহমান হল এবং ২৬ পাটুয়াটুলীর কর্মচারী আবাস (ছাত্র-কর্মচারী উভয়ই থাকত)।
ড. হাবিবুর রহমান হল উদ্ধার প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আরিফ ও ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হল উদ্ধারে সহযোগিতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অশেষ ধন্যবাদ। তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের জন্য আরো কিছু হল নির্মাণ করে দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।'
ভারপ্রাপ্ত প্ররক্ষক অশোক কুমার সাহা বলেন, 'আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ড. হাবিবুর রহমান হল উদ্ধার করতে পেরেছি। আশা করছি আরো কিছু হল শিগগির উদ্ধার করতে পারব।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের আন্তরিকতার ফসল আজকের ড. হাবিবুর রহমান হল উদ্ধার। আমরা সরকারের কাছে আরো চারটি হল অধিগ্রহণের জন্য আবেদন করেছি। অচিরেই এর ফল পাব বলে আশা করছি।'

চরম বিপর্যয়ের আগেই জনগণের দাবি মেনে নিন : ফখরুল

লীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে_প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে দলটি বলেছে, 'চরম বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার আগেই জনগণের দাবি মেনে নিন।'
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী জনগণের মনের কথা বুঝতে ও চোখের ভাষা পড়তে ব্যর্থ হয়েছেন।
 দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, শেয়ারবাজারে বিপর্যয়, অর্থনীতির বিপর্যস্ত অবস্থা, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দেশের মানুষের আশা ভঙ্গ করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, বাস্তবতার মুখোমুখি হোন। চরম বিপর্যয়ের আগে জনগণের দাবি মেনে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। জনগণকে তাদের পছন্দমতো সরকার বেছে নিতে সুযোগ দিন।' গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের একদিন পর এ প্রতিক্রিয়া জানালো বিএনপি। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই আগামী নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বিরোধী দলকে অংশ নিতে হবে। বিএনপি আগে থেকে বলে আসছে, দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাতিল করা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের দাবিতে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা আন্দোলন করে আসছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া একই দাবি জানিয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল বলেন, 'দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার অতীতের মতো জোর করে দেশকে এক অনিশ্চয়তা, অস্থিতিশীলতা ও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।'
'প্রধানমন্ত্রী বারবার বিরোধীদলীয় নেতাকে এবং তাঁর দুই ছেলেকে অসংসদীয় ভাষায় গালাগাল করছেন। এটা সব রাজনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত। একই মামলায় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও প্রধানমন্ত্রীর মামলাগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দেওয়া হয়েছে', বললেন বিএনপির এই নেতা।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'তিনি বলেছেন, টক শোতে সবাই মিথ্যা কথা বলে। বিএনপি জানতে চায় প্রধানমন্ত্রী কি সত্যকে জানার ইচ্ছাটুকু হারিয়ে ফেলেছেন। সমালোচনা শোনার নূ্যনতম সৎ সাহস তাঁর নেই। তাহলে গণতন্ত্রের মানসকন্যা হবেন কী করে?'
সমালোচনা বন্ধের জন্যই বেসরকারি সম্প্রচার নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং বাকশালী কায়দায় সম্পাদকদের জেলে পোরা হচ্ছে_এ অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, 'সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। দেশের জনগণের কোনো অংশই সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দিতে একমত হয়নি। এমনকি যে আদালতের দোহাই দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও আগামী দুই মেয়াদে নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার রায় দিয়েছেন। তাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান বিএনপি ও জনগণের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'রাজনীতি করলে ওনাকে (বিরোধীদলীয় নেতা) নির্বাচনে আসতেই হবে। গণতন্ত্রের প্রতি ওনার (প্রধানমন্ত্রী) এমনই কমিটমেন্ট যে অন্য রাজনৈতিক দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তিনি ডিক্টেট করছেন। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে। তিনি গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও আলোচনা-সমঝোতা বিশ্বাস করেন না। এটা আওয়ামী লীগের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। অতীতেও একই কারণে তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল।'
সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন দুটি আলাদা বিষয়। আমরা এ দুটি বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি।'
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান, নাকি অবাধ নির্বাচন : সুরঞ্জিত

ওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক তত্ত্ব বাদ। সংবিধান অনুযায়ী দেশে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে যথাসময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এ নিয়ে পানি ঘোলা করে লাভ হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চান, নাকি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চান?'
গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু মঞ্চ আয়োজিত 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালি জাতির ঐতিহ্য' শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সুরঞ্জিত।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলো এর বিরোধিতায় আন্দোলনে নেমেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সমাবেশে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল করার দাবি জানান। তিনি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ারও ঘোষণা দেন।
সংবিধান সংশোধনে গঠিত কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন সুরঞ্জিত। তিনি বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আর আলোচনার সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। সংবিধানের শিষ্টাচার মেনে এ নিয়ে সংসদে এসে আলোচনার সূত্রপাত আপনাকেই (বিরোধী দলীয় নেতা) করতে হবে। এ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।'
প্রবীণ এই সংসদ সদস্য বলেন, বিশ্বে রাষ্ট্র পরিচালনা করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। সে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। গণতন্ত্রে সংঘাতের পথ নেই। সংঘাতের পথ পরিহার করে সৌহার্দ্যের পথে ফিরে আসুন।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে সুরঞ্জিত বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার আপনাদের ক্ষমতায় বসাবে সেই দিন আর নেই। এ নিয়ে মাঠ গরম করে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যাবে না। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। সে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।'
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে জানিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, সংবিধান সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদলীয় নেত্রীও এই শপথ নিয়েছেন। সংবিধান সুরক্ষিত রাখা সবার দায়িত্ব। 'আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হবে। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন কারা ও কিভাবে সেখানে বসবে', বলেন তিনি।
বিরোধী দলের ফাইনাল খেলার হুমকির জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, এ ফাইনাল খেলা মোকাবিলা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দরকার হবে না। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এটা মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, 'গণতন্ত্রের মাঠে আপনাদের ফাইনাল খেলার লোক নেই, আপনাদের শক্তিও নেই। আপনাদের ফাইনাল খেলার জবাব দিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগই যথেষ্ট।'
বঙ্গবন্ধু মঞ্চের চেয়ারম্যান নিয়াজ মুহাম্মদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সহ-সভাপতি মুকুল চৌধুরী প্রমুখ।

বাবার ট্রাক্টরের নিচে পড়ে প্রাণ গেল ২ মেয়ের

বাড়ির পাশে নিজের ধানি জমিতে ট্রাক্টরে হালচাষ করছিলেন কৃষক কাবুল উদ্দিন। জমির আলে দাঁড়িয়ে ছিল তাঁর মেয়ে আশা (৬) এবং আশার কোলে রানী (৩)। একসময় আশা বায়না ধরল বাবার সঙ্গে ট্রাক্টরে চড়ার। তখন আশার পাশেই ছিলেন কাবুলের স্ত্রী, অর্থাৎ আশার মা। মেয়ের পীড়াপীড়ি ও স্ত্রীর অনুরোধে দুই মেয়েকে ট্রাক্টরে নিজের পেছনে তুলে নেন কাবুল আর তাঁর স্ত্রী চলে যান বাড়ির ভেতর।
দুই মেয়ে বাবার পেছনে ট্রাক্টরে উঠতে পেরে যেন অন্য রকম আনন্দে ভাসছে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। হঠাৎ ট্রাক্টরের ঝাঁকিতে তাল সামলাতে না পেরে পেছন থেকে নিচে জমিতে পড়ে যায় দুই মেয়ে। বাবা কাবুল ট্রাক্টর থামিয়ে নামার আগেই ট্রাক্টরের লোহার ফলা তাঁর দুই মেয়ের শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। আর লোহার ধারালো ফলার আঘাতে দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় আশা ও রানী। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিলি্ল দিয়াড়াপাড়া গ্রামে গতকাল সোমবার বিকেলে।
এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন মণ্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রব্বানী, কলমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ (ময়না)সহ আশা-রানীর স্বজন ও এলাকাবাসী। গতকাল রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানায় তানোর থানার পুলিশ। নিহত আশা বিলি্ল দিয়াড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় রুবেল আলী, রেজাউল ও বাবুল বলেন, বিলি্ল দিয়াড়াপাড়া গ্রামের ইলিয়াস উদ্দিনের ছেলে কাবুল উদ্দিনের পেছনে ট্রাক্টরে বসেছিল তাঁর মেয়ে আশা ও রানী। হঠাৎ তারা দুজন ট্রাক্টর থেকে নিচে পড়ে যায়। প্রথমে কাবুল তা টের পায়নি। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ও আমাদের চিৎকারে যখন তিনি টের পেয়েছেন তখন ট্রাক্টরের ফলায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে দুই মেয়ের দেহ। তখন মেয়েদের এ অবস্থা দেখে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন কাবুল।
এ প্রসঙ্গে তানোর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতে দুই মেয়ের দাফন সম্পন্ন হবে বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে।
ওসি বলেন, যেহেতু বিষয়টি একটা দুর্ঘটনার মাধ্যমে ঘটেছে, এ জন্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে।

শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছে আজ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের বৈঠকে এই প্রস্তাবনা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এ সময় জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের ২৬ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিন মাস্টার, পাটকল শ্রমিক লীগের সভাপতি মোতাহার উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল এ সময় উপস্থিত থাকবেন।
নতুন বেতন ২০০৯ সাল থেকে কার্যকর করা হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
বর্তমানে একজন শ্রমিকের নূ্যনতম মূল বেতন দুই হাজার ৪৫০ টাকা। এখন এই স্কেল বদলে চার হাজার ২৫০ টাকা হবে। প্রথম গ্রেডের শ্রমিকদের জন্য নতুন নিয়মে মূল বেতনের সঙ্গে চিকিৎসা ভাতা ৭০০ টাকা, বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সুবিধা যোগ হয়ে নূ্যনতম বেতন হবে আট হাজার ৯৬০ টাকা।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিতে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন শ্রমিক নেতা রয়েছেন। তাঁরা হলেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিন মাস্টার, পাটকল শ্রমিক লীগের সভাপতি মোতাহার উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল খান। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে আরো আছেন জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের চেয়ারম্যান মাহে আলম, এনপিওর পরিচালকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মজুরি নির্ধারণে গঠিত কমিটি ছয় মাস ধরে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নানামুখী সুপারিশমালা তৈরি করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে বেতন বৃদ্ধি একটি অন্যতম বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের প্রায় দেড় লাখ শ্রমিকের জন্য এ নতুন বেতন কাঠামো ২০০৯ সাল থেকে কার্যকর হবে।
মজুরি নির্ধারণ কমিটির সদস্য ন্যাশনাল প্রোডাক্টভিটি অর্গানাইজেশনের (এনপিও) পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। চলতি মাসের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সব দাপ্তরিক কাজ শেষ করা হবে বলেও তিনি জানান।
মজুরি বৃদ্ধি কমিটির আরেক সদস্য জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিন মাস্টার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি আশা করি, শ্রমিকরা নতুন এ বেতন কাঠামোতে খুশি হবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পর বেসরকারি শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবি করবেন বলেও জানান এই শ্রমিক নেতা।
মতিন মাস্টার আরো বলেন, মজুরি কমিশন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১৯৮৪ সালে একজন শ্রমিকের বেতন ৫০০ টাকা, ১৯৯৭ সালে এক হাজার ৫৫০ টাকা, ২০০৫ সালে দুই হাজার ৪৫০ টাকা ছিল। ২০০৯ সালের জুন মাসে পে-কমিশন ঘোষণা করা হলেও মজুরি কমিশন ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সচিব থেকে সরকারি ছোট-বড় কর্মকর্তা সবার বেতন বাড়লেও গত দুই বছরে সরকারি কারখানার শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি।

শামীম-আইভীকে সমঝোতায় আসার নির্দেশ দলের

শামীম ওসমান, না ডা. সেলিনা হায়াত আইভী_কে হবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া না হলেও বোঝাপড়া করে যাতে দুজন সিদ্ধান্ত নেন, এ জন্য দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের দুই প্রার্থীর বিরোধপূর্ণ নয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান চায় আওয়ামী লীগ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, তদবিরে এগিয়ে রয়েছেন শামীম ওসমান। তবে দুজনই জোর তদবির অব্যাহত রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার শামীম ও আইভীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ
আলোচনা করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। গতকাল সোমবার এ নিয়ে শেখ হাসিনা গণভবনে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলেও শামীম ও আইভীকে সমঝোতায় আসতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে প্রার্থীদের নিজেদের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রার্থীরা সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড দলীয় প্রার্থী কে হবেন, তা ঘোষণা করবেন। তবে অপর একটি সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে প্রার্থীদের কার কেমন জনপ্রিয়তা তা যাচাই-বাছাই করছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ কালের কণ্ঠকে জানান, প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে আসতে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। বিরোধপূর্ণ অবস্থানে না গিয়ে সমঝোতায় আসতে উভয় প্রার্থীকে আরো কয়েক দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রার্থীদের মধ্যে এখনো আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে শামীম ওসমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। সংবাদ মাধ্যমে কথা বলা নিষেধ আছে বলে জানান তিনি। ডা. সেলিনা হায়াত আইভীও কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
শামীম ওসমান ও ড. আইভী এখনো মাঠে রয়েছেন। নিজেদের গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। শেষ পর্যন্ত একজন দলীয় সমর্থন পাবেন জেনেও শামীম ওসমান যেমন আশাবাদী তেমনি সেলিনা হায়াত আইভীও।

অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৫ অক্টোবর

গামী ২৫ অক্টোবর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ঠিক করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১১ আসামির উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক এবং চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মজিবুর রহমান।
এ দিন সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
মামলার কার্যক্রমের শুরুতে আসামি এনএসআইয়ের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন এবং চোরাচালানি দীন মোহাম্মদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কামাল উদ্দিন বলেন, 'উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ২৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।' তিনি বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ১০ আইনজীবী কারাফটকে দেখা করার অনুমতি চাইলে আদালত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন।'
উপস্থিত আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) সাহাবুদ্দিন, উপপরিচালক মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন খান, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলের সাবেক এমডি মোহসীন তালুকদার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এনামুল হক, ট্রলার মালিক দীন মোহাম্মদ এবং চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান। এদের মধ্যে দীন মোহাম্মদ ও হাফিজুর রহমান মূল চার্জশিটভুক্ত এবং অন্যরা সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত আসামি।
শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনজুর আহমেদ আনসারী অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য এক মাসের সময় দেওয়ার আবেদন জানান। আইনজীবী এস ইউ নূরুল ইসলাম আদালতের কাছে লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে কারাগারে ১০ আইনজীবীর সাক্ষাতের অনুমতি চান। কিন্তু এর বিরোধিতা করেন পিপি।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী আসামি দীন মোহাম্মদের জামিনের আবেদন জানিয়ে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার আসামি জজ মিয়ার প্রসঙ্গ তুললে উভয় পক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ সময় বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করে 'জজ মিয়ার সৃষ্টিকারীরা এখানেই আছেন' বলে মন্তব্য করলে এর প্রতিবাদ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় মহানগর পিপি কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'সম্পূরক চার্জশিটে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে কোনো জজ মিয়া নেই। সব আসামির বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে।'
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৭(৬) ধারায় এ মামলার পলাতক দুই আসামি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নূরুল আমিনকে হাজির হওয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ।
এতে পলাতক আসামিদের মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় গতকাল সোমবার পলাতক আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় নির্ধারিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলের জেটিতে খালাসের সময় ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়েছিল।

রাজনৈতিক সংঘাতে ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত

ণমানে ভালো অবস্থান, আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি, বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া, চীনে শ্রমের দাম বেড়ে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি_সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে বিরাট সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। বাংলাদেশে অর্থনীতির সূচকগুলো যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে মধ্য আয়ের দেশ হতে বেশি বছর বাকি নেই।
দেশের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সমস্যার সমাধান হলে দেশে ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে। এ লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে।
জাপান এ দেশে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা গড়ে তোলার জন্য জমি চেয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম স্পোর্টস সু প্রস্তুতকারক নাইকি, রিবক ও এডিডাস বাংলাদেশে কারখানা করতে চায়। কিছুদিন আগে থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা এ দেশে এসে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ওয়েলস রাজ্যের ব্যবসায়ীদের একটি দলও বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করে গেছে কিছুদিন আগে।
তবে এত সম্ভাবনার মধ্যে দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া বা না-হওয়া নিয়ে প্রধান দুই দলের বিপরীতমুখী অবস্থানে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। প্রধান দুই দলকে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি বাধার মুখে পড়ে এমন কোনো অবস্থা সৃষ্টি করা উচিত নয়। ব্যবসায়ীরা সংসদ ও সংসদের বাইরে সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনা চান। আর এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা বড় বলে মনে করেন তাঁরা।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চীনে শ্রমের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন বহুজাতিক কম্পানি তাদের কারখানা সেখান থেকে সরিয়ে অন্য দেশে নেওয়ার কথা ভাবছে। উদার বিনিয়োগনীতি, সস্তা শ্রম ও বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার কারণে তাদের পছন্দের তালিকায় শুরুতে আছে বাংলাদেশ। দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস ও মুডিসের ঋণমানে স্থিতিশীল অবস্থানও এগিয়ে রাখছে বাংলাদেশকে। বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগের কেন্দ্র হওয়ার সুযোগটি বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করবে মাত্র পাঁচ বছর। এর মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উঠে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দিতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের বদলে কম্বোডিয়া, লাওস অথবা ভিয়েতনাম হবে বিনিয়োগকারীদের গন্তব্য।
দেশীয় রপ্তানিকারকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে বিশ্বে আরেকটি মন্দা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার বাড়ছে। ঋণ সংকটে ডুবতে বসেছে ইউরোজোনের পাঁচটি দেশের অর্থনীতি। যার প্রভাব পড়ছে ইউরোপের অন্য দেশে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা। সেখানে মন্দার নেতিবাচক প্রভাব দেশের রপ্তানি খাতে পড়েবে। রপ্তানিকারকদের শঙ্কার বড় কারণ ২০০৭-০৮ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময় বাংলাদেশের রাজনীতি মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এবার মন্দা যখন আঘাত হানবে, তখন রাজনীতিও থাকবে সংঘাতময়। এ দুইয়ের ধাক্কায় অর্থনীতি বিপর্যস্ত হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি গত রবিবারও বলেন, 'যেকোনো উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করার আগে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনায় রাখে। এ দুটি বিষয় ঠিক থাকলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে।' তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের তিন কোটি লোক বেকার। প্রতিবছর ২০ লাখ লোক শ্রমবাজারে আসছে। এদের কাজের ব্যবস্থা করতে পারে কেবল বেসরকারি খাত।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'রাজনীতি সংঘাতময় হলে অবশ্যই অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অতীতে দেখা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রচুর হরতাল হয়। হরতাল দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করে। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।' তিনি বলেন, 'অনেক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান চীনের পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে ভাবছে। তারা এ দেশের রাজনৈতিক সংঘাতের খবর পেলে নিরুৎসাহিত হবে। তাদের বিনিয়োগ বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবে লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতে।'
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির দুরবস্থা ও ইউরোজোনে ঋণ সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মন্দা শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমার জানামতে, অনেক অর্ডার বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ অবস্থা চলবে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে, রেমিট্যান্স কমছে, ডলারের বিপরীতে টাকার মান পড়ে যাচ্ছে। এমন সময় বাংলাদেশের রাজনীতিও সংঘাতপূর্ণ হলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।'
সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনিসুল হক এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি থাকার সময় দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি সফল হননি। আলোচনার ওপর আবারও গুরুত্ব দিয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের একটি স্বচ্ছ ও উদার বিনিয়োগনীতি আছে। তবু এ দেশে কাঙ্ক্ষিত হারে বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি। এর প্রধান কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। তিনি আরো বলেন, 'রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলে অর্থনীতি অবশ্যই দুর্ভোগে পড়বে। যখনই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখনই বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বিকল্প খোঁজার প্রবণতা তৈরি হয়। এ ধরনের প্রবণতা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।' আলোচনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, 'সংঘর্ষে কারো উপকার হয় না। দুই দলকেই এ বিষয়টি বুঝতে হবে। সরকারের কাছে দেওয়ার জন্য বেশি থাকে। তাই সরকারকেই বেশি সহানুভূতিশীল হতে হবে।'
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। সংসদ ও সংসদের বাইরে আলোচনা হওয়া উচিত। অন্যদিকে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এখনো বিশ্বাস করেন, দেশের সরকার ও বিরোধী দল এমন অবস্থা তৈরি করবে না, যাতে অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি বলেন, 'তারা একই অবস্থানে থেকে দেশের সেবা করে। আমরাও আরেকটি অবস্থানে থেকে দেশের সেবা করি। আমাদের লক্ষ্য একই। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি, তারা এমন অবস্থা তৈরি করবে না, যাতে অর্থনীতির ক্ষতি হয়।'
বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্র্যান্ডিং হয়েছে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হরতাল হলে বাংলাদেশ সম্পর্কে ক্রেতাদের নেতিবাচক ধারণা জন্মায়। কারণ, তারা বাংলাদেশের রাজনীতির টিপিক্যাল দিকগুলো সম্পর্কে জানে না। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

আজ সাকার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে

কাত্তরে যুদ্ধকালে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী ৩২টি অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল সোমবার তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সূত্রে জানা যায়, ১১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে সাকার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও এসব অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণাদিসহ প্রায় আট হাজার পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি গতকাল ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। যাচাইবাছাই শেষে প্রতিবেদনটি আজ চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবেন।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, হত্যা, লুটপাট, অগি্নসংযোগসহ ২০টি অভিযোগ এনেছেন ট্রাইব্যুনাল। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি) এবং ৩(২)(এইচ) ধারায় এ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩০ অক্টোবর। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হলো সাঈদীর বিরুদ্ধে। ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই প্রথম বিচার শুরু হলো।
সাঈদী অবশ্য নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে নাটক মঞ্চায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমি কোনো দিন রাজাকার ছিলাম না। ১৯৮০ সালে জামায়াতে ইসলামীর মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আমার বিরুদ্ধে রাজাকার হিসেবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। মূলত ভারতীয় রাজাকাররাই আমাকে রাজাকার বলছে।'
বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। আগামী ৩০ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষীদের একটি তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে সাঈদীর আইনজীবীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশের পর সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এ সময়কে অপ্রতুল দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের পর আসামিপক্ষকে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কমপক্ষে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, ৯ জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগি্নসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর এবং এক শ থেকে দেড় শ হিন্দু লোককে ধর্মান্তরে বাধ্য করাসহ মোট ৩১টি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও ট্রাইব্যুনাল ২০ অপরাধে অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগ গঠনের পর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শাহিনুর ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, অভিযোগ গঠনের আদেশের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হলো। তিনি বলেন, 'ট্রাইব্যুনাল মনে করেন, কথিত সময়ে ও স্থানে ১৯৭৩ সালের আইনের ৩(২) ধারার অভিযোগগুলো সংঘটিত হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই সব অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়। ট্রাইব্যুনাল আরো মনে করেন, কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ছাড়া অভিযোগ গঠন পর্যায়ে শুধু ট্রাইব্যুনালের সামনে থাকা কাগজপত্র ও দলিলাদি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।'
রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ও প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুরে ২০ অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
গতকাল সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন প্রশ্নে আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। এ জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাঈদীকে পুরনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। সাড়ে ১০টায় বিচারকরা এজলাসে বসেন। এর কয়েক মিনিট আগেই সাঈদীকেও বিচারকক্ষে নেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল প্রথমে এর কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করায় নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। এরপর সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষীদের নিরাপত্তা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা একটি আবেদন উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। তবে আবেদনটি নথিতে থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। এর আগে আবেদনটি পুরোপুরি খারিজের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী আপত্তি জানানোর পর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আদেশ দেন। এরপর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া শুরু করেন।
অভিযোগ গঠন করার মতো যথেষ্ট উপাদান রয়েছে : শুরুতেই ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হওয়া, মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তান সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন, অগণতান্ত্রিক আচরণ তুলে ধরেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। এর পরই রাষ্ট্রপক্ষ ও সাঈদীর আইনজীবীর বক্তব্যের মূল অংশ সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল নিজের যুক্তি তুলে ধরে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা দলিল ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযোগ গঠন করার মতো যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সপক্ষে যথাযথ যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে তাদের আবেদন আমলে নেওয়ার কারণ নেই।
সাঈদী রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন : ট্রাইব্যুনাল আরো বলেন, আসামিপক্ষ আন্তর্জাতিক আইন বা রীতিনীতি মেনে চলার যে যুক্তি দেখিয়েছে, তা মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়। সুনির্দিষ্ট ২০টি ঘটনা উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী সাঈদী রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ, হিন্দুদের জোর করে ধর্মান্তর করানো, লুটতরাজসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অপরাধ সংঘটিত হয় তৎকালীন বরিশাল জেলার পিরোজপুর মহকুমায়, যা বর্তমানে পিরোজপুর জেলা।
অভিযোগগুলো ইংরেজিতে পড়ার পর ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর বক্তব্য জানতে চান। ওই সময় সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম দাঁড়িয়ে তা বাংলায় পড়ার আবেদন করে বলেন, ২০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাই বোঝার জন্য তাঁকে সময় দিতে হবে। তাজুল ইসলামের এ আবেদনে ট্রাইব্যুনাল বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, 'এ কী বলছেন!' কয়েক মিনিট উভয়ের মধ্যে কথোপকথন চলার পর সাঈদীকে সামনে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর সাঈদীকে আসামির কাঠগড়া থেকে দুই পুলিশ সদস্য ধরে নিয়ে সাক্ষীর কাঠগড়ায় একটি চেয়ারে বসিয়ে দেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ বাংলায় পড়া শুরু করেন। তবে সাঈদী বলেন, 'বাংলায় বলার প্রয়োজন নেই। আমি ইংরেজি বুঝেছি।'
এরপর ট্রাইব্যুনাল কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সাঈদীকে বলেন, 'বলুন, আপনি দোষী কি না?'
সাঈদী বলেন, 'আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই।' এ পর্যায়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই জানানোর পর তিনি কিছুক্ষণ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চান আদালতের কাছে। আবেদন গৃহীত হলে প্রায় আট মিনিট বক্তব্য দেন সাঈদী।
সব মিথ্যা, মিথ্যা এবং মিথ্যা : সাঈদী বলেন, 'এ আদালতে আমাকে প্রথম যেদিন আনা হয়, সেদিনই আমি বুঝেছি, আমি শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচারের শিকার হয়েছি। সেদিন আমার নাম বিকৃত করে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছিল।' তিনি বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো অভিযোগ আসেনি। ১৯৮০ সালে জামায়াতের মজলিশে শুরার সদস্য হওয়ার পর এটা আসতে শুরু করে। যখনই এ ধরনের অভিযোগ এসেছে, আমি প্রতিবাদ করেছি, সংসদে বলেছি, মামলা দায়ের করেছি, যার অনেকগুলো এখনো বিচারাধীন।' তিনি বলেন, 'মানবতাবিরোধী অপরাধ করা তো দূরে থাক, বিগত অর্ধশতাব্দী ধরে দেশে-বিদেশে মানবতা রক্ষায় কাজ করেছি।' তিনি আরো বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে চার সহস্রাধিক পৃষ্ঠার একটি মিথ্যা রচনা তৈরি করা হয়েছে। এর প্রতিটি লাইন মিথ্যা, প্রতিটি শব্দ মিথ্যা। এটি সব মিথ্যা, মিথ্যা এবং মিথ্যা।' তিনি বলেন, 'রাজাকারের কমান্ডার হওয়া তো দূরে থাক, তাদের সঙ্গে আমার কোনোই সম্পর্ক ছিল না। আমি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলাম না, রাজাকার ছিলাম না। পাক বাহিনীর সঙ্গে আমি এক মিনিটের জন্যও বৈঠক করিনি।'
ওই সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, 'অভিযোগ গঠন মানে আপনি অপরাধী, বিষয়টা এমন নয়।' এরপর ট্রাইব্যুনাল ২০টি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করেন।
গতকাল প্রসিকিউশনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান, সৈয়দ হায়দার আলী, জেয়াদ আল মালুম, আলতাফ উদ্দিন, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী প্রমুখ।
সাঈদীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমীন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সিনিয়র নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি ও আবদুল আলীম কারাগারে আটক আছেন।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে এক মামলায় সাঈদীকে গত বছর ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গত বছর ২ নভেম্বর তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্তকালে এ বছরের ১২ মে ধানমণ্ডির সেফহোমে নিয়ে তাঁকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করে। ৩১ মে সাঈদীর বিরুদ্ধে চার হাজার ৭৪ পৃষ্ঠার ১৫ খণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। গত ১১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করে। এরপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ১৪ জুলাই ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। গত ২৩ আগস্ট সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন প্রশ্নে শুনানি শুরু হয়। কয়েক দফা মুলতবি শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষ হয়।

খা খা করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা কমপ্লেক্স

ড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৯টা। সরকারি অফিস শুরুর সময়। অথচ শ্রীবরদী উপজেলা কমপ্লেক্সে তখন সুনসান নীরবতা। বেশির ভাগ সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলছে। দু-একটির দরজা খোলা পাওয়া গেলেও ভেতরে উঁকি দিয়ে কর্মকর্তাদের দেখা মিলল না। শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে গতকাল সোমবার সকালের দৃশ্য ছিল এমন।
স্থানীয় লোকজন জানান, বেশির ভাগ সরকারি কর্মকর্তা কর্মস্থল শ্রীবরদীতে থাকেন না। তাঁরা নিজেদের মর্জিমাফিক অফিসে আসা-যাওয়া করেন।
কর্তাব্যক্তিদের দেখাদেখি অধস্তন কর্মচারীরাও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে ঢোকেন। সব মিলিয়ে শ্রীবরদী উপজেলা কমপ্লেক্স সরব হতে হতে সকালের সূর্য চলে আসে প্রায় মাথার ওপর। জানা গেছে, অনেক দপ্তরে কর্মকর্তার পদও শূন্য রয়েছে। আর এসব কিছুর মাসুল শেষ পর্যন্ত সীমান্তবর্তী উপজেলার লোকজনকেই গুনতে হচ্ছে। শ্রীবরদী উপজেলা কমপ্লেক্সে ঢুকতেই হাতের বামপাশে পড়বে পল্লী ভবন। সেখানে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিস।
গতকাল সকাল ৯টায় গিয়ে পল্লী ভবনের সব কক্ষই তালাবদ্ধ দেখতে পাওয়া যায়। পল্লী ভবন থেকে সামনে এগোলেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মূল অফিস ভবন। এ ভবনের নিচতলায় হাতের বাম দিকে প্রথমেই আছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিস। সেটি পার হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিস। সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত এ দুই অফিসে জনমানব দেখা যায়নি। ঘড়ির কাঁটা সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের ঘর ছোঁয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে চড়ে অফিসে আসেন পিআইও মো. লুৎফর রহমান। কিন্তু সহকারী রুহুল আমিন তখনো না আসায় তিনি নিজের কক্ষে ঢুকতে পারেননি।
ভবনটির দোতলায় ওঠার সিঁড়ির হাতের ডান দিকে উপজেলা প্রকৌশলীর অফিস। সেখানে ৯টার দিকে এক নারী দুটি কক্ষের তালা খুলে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। তখনো কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অফিসে আসেননি। দোতলায় ইউএনওর অফিস কক্ষ খুলে অফিস সহকারীরা বসে ছিলেন। সোয়া ৯টার দিকে ইউএনও গুলশান আরা তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের হিসাবরক্ষক মো. নুরুজ্জামান আসেন। তখনো সহকারী প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীরা আসেননি। মো. নুরুজ্জামান জানান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক কুমিল্লার বার্ডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আর তিনি অফিসে এসেছেন ঝিনাইগাতীর তিনানী এলাকা থেকে। পথে পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা হওয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে।
ইউএনওর ভবনের উল্টোদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর অফিস সকাল ৯টায় খোলা হয়। এর প্রায় ৪২ মিনিট পর সেই অফিসে গেলে নলকূপ মেকানিক মো. বুলবুল মিয়া জনান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব হজে যাওয়ার কারণে ছুটিতে আছেন। শেরপুর সদরের প্রকৌশলী নেজামুল হক অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি তিন থানার দায়িত্বে থাকায় সব দিন আসেন না। তবে সকাল ১১টায় ফের ওই অফিসে গিয়ে প্রকৌশলী নেজামুল হককে দেখা যায়। তিনি বলেন, 'এখানে জনবল সংকট রয়েছে। কোনো অফিস সহকারী নেই। মেকানিককে দিয়ে অফিসের কাজ চালানো হচ্ছে।'
সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষ তালাবদ্ধ। অফিস সহকারী মোতালেব হোসেন ও পাঁচ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষ খোলা। কিন্তু তাঁরা তখন পর্যন্ত পেঁৗছাননি। সেখানকার এমএলএসএস মাজহারুল ইসলাম জানান, সাড়ে ৯টার দিকে কর্মকর্তারা আসবেন। অবশ্য সাড়ে ১০টায়ও ওই অফিসে কোনো কর্মকর্তা বা আর কোনো কর্মচারীকে দেখা যায়নি। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব জামানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি শেরপুর যাচ্ছি, জেলা অফিসে মিটিং আছে।'
সোয়া ৯টার দিকে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসটিও ছিল তালাবদ্ধ। অন্যদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে গিয়ে জানা যায়, কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন শেরপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবযানী ভট্টাচার্য পূজার ঐচ্ছিক ছুটিতে থাকায় তাঁর অফিসের সহকারীও দায়িত্ব থেকে 'ছুটি' নিয়েছেন। নতুন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রবিবার কাজে যোগ দিয়েছেন। গতকাল তিনি অফিসে না আসায় দুই পরিদর্শককেও দেখা যায়নি।
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পিডিবির উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক প্রকৌশলী ছোরহাব আলী নেই। সেই সঙ্গে উধাও অফিস সহকারী আনিসুর রহমানও। অফিসের এলডিএ মো. ইদ্রিস আলীর কাছে তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আবাসিক প্রকৌশলী নষ্ট ট্রান্সফরমার পরিবর্তনের জন্য গতকাল (রবিবার) ঢাকায় গেছেন। আর অফিস সহকারী এখনো এসে পেঁৗছাননি।' ওই অফিসে বসা একটি বেসরকারি কলেজের একজন প্রভাষক বললেন, 'পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আর অফিস সহকারী তো অফিসই করেন না। তিন দিন এসে আমি তাঁদের পাইনি।'
উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের অফিস দুপুর ১টা পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা ভূমি অফিসের এসি ল্যান্ড পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শ্রীবরদী উপজেলার আরো কয়েকটি সরকারি দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়সারা কাজ করতে দেখা যায়। তাঁদের কেউ সরকার নির্ধারিত অফিস সময়সূচি মানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক কামরুজ্জামান আবু কালের কণ্ঠকে বলেন, 'অফিসের কর্মকর্তারা আসেন অন্তত এক ঘণ্টা দেরিতে আর চলে যান এক ঘণ্টা আগে। এটাই এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। আবার অনেক পদে কর্মকর্তা না থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।'
শ্রীবরদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম ওবায়দুর রহমান বলেন, ইউএনওসহ মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা সময়মতো অফিস করেন। শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র মো. আবদুল হাকিম বলেন, 'ইউএনও ছাড়া অন্য সরকারি কর্মকর্তারা সময়সূচি মেনে অফিসে যাচ্ছেন না। এখানে অনেক কর্মকর্তাই বাইরে থেকে আসেন। যে কারণে সরকারি বন্ধ হয়ে যায় সপ্তাহে তিন দিন। বৃহস্পতিবার আধা বেলা থাকতে থাকতেই অনেকে চলে যান আবার রবিবার আধা বেলার পর অফিসে আসেন।' উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, 'কয়েকজন অফিসার ছাড়া সবাই মর্জিমাফিক অফিস করেন। এটাই এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।'
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুলশান আরা অবশ্য দাবি করেন, কর্মকর্তারা যথাসময়েই অফিস করছেন। তবে নির্বাচন অফিসসহ কয়েকটি অফিসে কাজ এ মুহূর্তে কম থাকায় কেউ কেউ হয়তো কিছুটা দেরিতে আসছেন। তিনি বলেন, 'উপজেলা কোয়ার্টার জরাজীর্ণ হওয়ায় অনেকের কষ্ট হচ্ছে। তার পরও অনেকেই এখন উপজেলায় বাসা নিয়ে থাকছেন। অনেক সময় কর্মকর্তারা সন্ধ্যার পরও কাজ করেন।'

৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ!

বৈধভাবে সরকারি চাকরি করছেন প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। সরকারের বিভিন্ন সমাপ্ত প্রকল্পের এই লোকবলকে বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজস্ব খাতে। 'অসাধু বাণিজ্যের' মাধ্যমে শুধু স্থায়ী সরকারি চাকরি বাগানোই নয়, মোটা অঙ্কের টাকাও হাতানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কমপক্ষে পাঁচ বছরের মাথায় রাজস্ব বাজেটের অধীনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।
এই মধ্যবর্তী সময়কে নিয়মিত চাকরি বা চাকরিকাল গণনা করে তাঁদের বকেয়া বেতনও ধরা হয়েছে। আর এই বকেয়া বেতন বাবদ সরকারের রাজস্ব খাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা। এভাবে 'চতুর অনিয়মের' মাধ্যমে সরকারের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের স্থায়ী পদে চাকরি ও উপরি বাগানোর ঘটনা বর্তমান মহাজোট সরকার আমলে জনপ্রশাসনের সবচেয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি বলে আলোচিত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ না দেওয়ায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা করে নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা। আর পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও তা না করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নির্ধারিত অর্গানোগ্রামেও। এমনকি রাজস্ব খাতে নিয়োগ-সংক্রান্ত সব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য নীতিনির্ধারণকারী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের (সাবেক সংস্থাপন) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর বিধান থাকলেও তা পাশ কাটিয়ে সেই প্রস্তাব সরাসরি অনুমোদন করিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে লোকবল স্থানান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের। ২০০৫ সালের জুন মাসে এ-সংক্রান্ত বিধিমালা (এসআরও নম্বর ১৮২) জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল থেকে ১৯৯৭ সলের ৩০ জুনের মধ্যে শুরু হওয়া সরকার অনুমোদিত উন্নয়ন বাজেটভুক্ত প্রকল্পের জনবল রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা যাবে।
সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে লোক নিয়োগের ব্যাপারে তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ১৯৯৭ সালে একটি পরিপত্র জারি করে, যেটি অদ্যাবধি কার্যকর রয়েছে। ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, '১ জুলাই ১৯৯৭ থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পে জনবল সাকুল্য বেতন ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান রয়েছে। শর্ত অনুযায়ী প্রকল্পের জনবলের অনকূলে দেওয়া নিয়োগপত্রই প্রকল্প শেষে অব্যাহতিপত্র অর্থাৎ প্রকল্প শেষে জনবল আর কর্মরত নেই বলে গণ্য হবে।' এ পরিপত্রের ফলে ১ জুলাই ১৯৯৭ থেকে শুরু হওয়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের লোকবলকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের সুযোগ নেই।
এ ছাড়া ১৯৯৭ সালের ১ জুলাইয়ের পর থেকে শুরু হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের লোকবলকে রাজস্ব বাজেটে সরাসরি স্থানান্তর না করার বিষয়ে ২০০৫ সালে আরেকটি বিধিমালা (এসআরও নম্বর ১৮৩) জারি করা হয়। এ বিধিমালা মতে, শুধু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন চাকরি হিসেবেই রাজস্ব বাজেটের চাকরিতে ঢুকতে পারবেন উন্নয়ন বাজেটের কর্মীরা। এ ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির বয়সসীমাও শিথিলের সুযোগ থাকবে সমাপ্ত প্রকল্পের প্রার্থীদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত আড়াই বছরে এসব বিধিমালা বা পরিপত্রের বিধান অনুসরণ না করেই ১৯৯৭ সালের ১ জুলাইয়ের পর থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী সময়ে শেষ হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের তিন হাজার ৯৪০ জনকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনেই বিভিন্ন প্রকল্পের লোকবলের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্পগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে রাজস্ব বাজেটে নিয়োগ পাওয়া পর্যন্ত সময়কে চাকরিকাল দেখানো হয়েছে। এতে কাজ না করেও অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন বাবদ সরকারকে গচ্চা দিতে হচ্ছে ১৬৭ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার ৫০৮ টাকা। ইতিমধ্যেই মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পের লোকবলকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তর করায় বকেয়া বেতন বাবদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এসব ক্ষেত্রে নিয়মের তোয়াক্কা না করে সাবেক সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পেতে সরাসরি প্রস্তাব দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। 'সংশ্লিষ্ট সব পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিশেষ বিবেচনায়' অনুমোদন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় সেসব প্রস্তাবে। জানা গেছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের 'ম্যানেজ' করার মাধ্যমে নির্বিঘ্নে অনুমোদন পেয়ে যায় মন্ত্রণালয়গুলো। নিয়োগের আগে পদ সৃষ্টির বিধান থাকলেও নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয় আগেই। এ নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অর্গানোগ্রামে সৃষ্টি হয়েছে নানা জটিলতা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একরকম বাধ্য হয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব মো. ইকবাল মাহমুদ গত রবিবার সকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি বলব, এসব নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে।' জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব না পাঠানো এবং পদ সৃষ্টি না করে নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে জিজ্ঞেস করুন।' উল্লেখ্য, রবিবার সন্ধ্যায় ইকবাল মাহমুদকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদে বদলি করা হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিয়োগের কথা স্বীকার করে গত রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে বসে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'শুধু আমার মন্ত্রণালয়ই নয়, একই ধরনের নিয়োগ অন্য মন্ত্রণালয়েও হয়েছে। সমাপ্ত প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তর করা জরুরি ছিল বলেই এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।' পাশাপাশি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও এ ব্যাপারে সুপারিশ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে না পাঠিয়ে সরাসরি নিজ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের বিষয়ে বিধিনিষেধ আছে, তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে সেটি বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এ জটিলতা এড়ানোর জন্যই নিজ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের বৈধ অনুমোদনের পরই লোকবল স্থানান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পদ সৃষ্টি না করে লোকবল নিয়োগের প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠন করে বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন আরো বলেন, সমাপ্ত প্রকল্পের লোকবল রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। তাঁরা বেকার অবস্থায় রাস্তায় নেমে ছিলেন। বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১ জুলাইয়ের পর থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী সময়ে শেষ হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের লোকবলের সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। এর মধ্যে বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্থায়ী চাকরি পেয়েছেন প্রায় চার হাজার জন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকবর আলি খান কালের কণ্ঠকে বলেন, অবশ্যই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিপত্র বা বিধিবিধানের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয়।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ 'খাদ্য নিরাপত্তাহীন দরিদ্র মহিলাদের উন্নয়ন' নামের সমাপ্ত প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর হয়েছেন এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি তাঁর বকেয়া বেতন পেয়েছেন। চাকরি পেতে কোনো টাকা খরচ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'দয়া করে এসব বিষয় নিয়ে কোনো কিছু লেখালিখি করবেন না। পেটে লাথি দেবেন না। ভাই, অনেক পথঘাট পেরিয়ে রাজস্ব বাজেটে ঢুকেছি। চাকরি হারালে পথে বসব। আর বাংলাদেশে এ ধরনের কাজ কি সহজে পাওয়া যায়? টাকা খরচ হওয়াটা কি স্বাভাবিক না?' ক্ষমতাসীন দলের চ্যানেল এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করতে যেটা প্রয়োজন, সেটাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি। যাঁরা তা করতে পারেননি, তাঁদের ভাগ্যে রাজস্ব বাজেটের চাকরি জোটেনি।
এ কর্মকর্তার মতো প্রায় একই সুরে কথা বললেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন সমাপ্ত প্রকল্প থেকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তর হওয়া একাাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এক প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা প্রায় সবাই একমত পোষণ করে বলেন, এ বিষয় নিয়ে আলোচনা উঠলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হবে। যাঁদের চাকরি হয়নি, তাঁরা আবার নতুন করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন। এতে তাঁদের চাকারি হারানোরও আশঙ্কা থাকবে। তবে কেউ কেউ মনে করেন, তাঁদের চাকরি এখন সম্পূর্ণ বৈধ। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, সেটি সরকারের; তাঁদের নয়। তাঁদের চাকরির ওপর যদি হাত দেওয়া হয়, তাহলে প্রয়োজনে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

চা-বাগানের বাংলা শকুন by আ ন ম আমিনুর রহমান

ত এপ্রিলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিচিকিৎসার (ডিভিএম) ছাত্রদের পরীক্ষা নিতে গিয়েছিলাম। এত কাছে এসে লাউয়াছড়া দেখা হবে না, তা কি হয়? তাই পরীক্ষা শেষে মৌলভীবাজারের বন্য প্রাণী আলোকচিত্রী তানিয়া খান ও মুনির খানের বাসার উদ্দেশে রওনা হলাম। রাতে আলাপকালে তাঁরা জানালেন, দেওরাছড়া চা-বাগানে একসঙ্গে ৩৭টি গ্রিফন শকুন দেখেছেন। খুব ভোরে স্কুটার এল। শকুনের ঝাঁকের কথা শোনার পর থেকেই ছবি তোলার বেশ লোভ হচ্ছিল। তাই মুনির ভাইকে বললাম দেওরাছড়া হয়ে যেতে।

শ্রমিক-ব্যবস্থাপনার তিনটি শিল্প নেতাদের হাতে জিম্মি by রফিকুল ইসলাম

শিল্পনগর টঙ্গীতে শ্রমিক-ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়া তিনটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শ্রমিকনেতাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই নেতারা দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল অওয়ামী লীগ ও বিএনপি-সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের। শিল্প তিনটি হচ্ছে অলিম্পিয়া টেক্সটাইল, মন্নু কটন মিলস ও মেঘনা টেক্সটাইল। লক্ষ্য ছিল, শ্রমিকদের যৌথ ব্যবস্থাপনায় শিল্পগুলো লাভজনক হবে। শ্রমিকেরা লাভজনক তিনটি শিল্পের মালিক হবেন। দেখিয়ে দেবেন যে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প নামমাত্র দামে বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের বিকল্প আছে। শ্রমিকদের যৌথ ব্যবস্থাপনা ও মালিকানাই হতে পারে সেই বিকল্প।

ভিসা নিয়ে কড়াকড়িঃ সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ির কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন ঢাকার তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন গোপন তারবার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে। ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর ওই তারবার্তাটি ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়। তারবার্তায় রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা ভিসার আবেদন করার পর সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি ওপিনিয়ন (এসএও) থেকে সময়মতো অনাপত্তিপত্র পাচ্ছেন না।

বিমানে না চড়ার পণ বোয়িং কর্মকর্তার

ড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবরঃ বাংলাদেশ বিমানের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির জন্য ঢাকায় এসেছিলেন বোয়িং কোম্পানির বিক্রয় শাখার পরিচালক মিগুয়েল সান্তোস। কিন্তু বিমানের যাত্রীসেবা ও উড্ডয়ননিরাপত্তা নিয়ে ওই কর্মকর্তা এতই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, তিনি তখন বলেছিলেন, বিমানই তাঁদের একমাত্র ক্রেতা, যাদের উড়োজাহাজে তিনি চড়বেন না।

বিমানবাহিনীর উচিত বিষয়টি ব্যাখ্যা করা by মিজানুর রহমান খান

কটা গল্প বলি। এটা জরুরি অবস্থার সময়ের ঘটনা। ঢাকার সাবেক জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মোবারকের কাছ থেকে শোনা। বর্তমান সরকারের আমলে তিনি আইন কমিশনে অবৈতনিক সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। থাকেন মগবাজারে। ১৮ তলা ভবনের ১৭ তলায়। বিগত জরুরি অবস্থায় হঠাৎ তিনি বিচলিত হলেন। কারণ তিনি জানতে পেরেছেন, বিমানবাহিনী ও সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি অভিমত দিয়েছে যে ঢাকা শহরের উঁচু উঁচু দালানগুলো বিমান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যেসব ভবন ১৫ তলার চেয়ে বেশি উঁচু, সেগুলো ভেঙে ফেলতে হবে।

বিমানবাহিনীর আপত্তিতে ঘুরছে মেট্রো রেলপথ by আনোয়ার হোসেন

বিমানবাহিনীর আপত্তির কারণে বিজয় সরণির পরিবর্তে খামারবাড়ির সামনে দিয়ে মেট্রো রেলপথ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। নতুন এ পথের বিষয়টি জাপানি ঋণদানকারী সংস্থা জাইকাকেও জানিয়েছে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড (ডিটিসিবি)। বিমানবাহিনীর আপত্তির কারণে মেট্রোরেলের পথ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় জাইকার অর্থায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সংস্থাটি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মেট্রোরেলের পথ ঠিক করে তা জানানোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে। জাইকা বলেছিল, এ সময়ের মধ্যে পথ ঠিক করতে না পারলে এ অর্থবছরে ঋণ বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। গত বৃহস্পতিবার জাইকাকে চিঠি দিয়ে নতুন পথের কথা জানায় ডিটিসিবি।

প্রশাসনে বদল চান দুই প্রার্থী, আপত্তি নেই শামীমের by শরিফুল হাসান ও আসিফ হোসেন

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সব মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বেড়েছে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা। সেনা মোতায়েন চান তৈমুর। আইভী চান ভোটারদের স্বাভাবিক ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা নবগঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর উৎসাহের সঙ্গে আস্তে আস্তে যুক্ত হচ্ছে উদ্বেগও। নাগরিক সমাজের পাশাপাশি খোদ সম্ভাব্য দুই মেয়র প্রার্থী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা প্রশাসনে রদবদল ও সেনা মোতায়েনের দাবি করেছেন।

শিশুটির কোলজুড়ে নবজাতক

য়স কত হবে? ১১ বা ১২ বছর। এই বয়সে তার হাতে থাকার কথা পুতুল; খেলার কথা কানামাছি ভোঁ ভোঁ। বেণি বেঁধে সখিদের সঙ্গে দল বেঁধে স্কুলে যাওয়ার কথা যে শিশুটির, তার কোলজুড়ে এখন এক নবজাতক। এটি তারই সন্তান!
এক লম্পট পুরুষের লালসার শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয় সে। গত শনিবার সে প্রসব করেছে একটি ছেলেসন্তান। ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার দেওগাঁ চেরাডাঙ্গী গ্রামের।

রাজশাহীতে র‌্যাবের হাতে তিন অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক

রাজশাহীতে র‌্যাবের অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ তিন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। র‌্যাব বিনোদপুর ক্যাম্পের একটি দল গত শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে শিবগঞ্জ থানার কানসার্ট বাজার এলাকার অস্ত্র ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ওরফে আলমগীর (৩২), রোকন (২৩) এবং কালুপুর গ্রামের মোস্তফাকে (৫০) আটক করে। গতকাল রবিবার সকালে র‌্যাব রাজশাহীর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে তাদের হাজির করা হয়। এ সময় আটককৃতরা অস্ত্র ব্যবসার কথা স্বীকার করে।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, রাজশাহীর রেলওয়ে কলোনি ক্যাম্পের একটি অপারেশন দল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার কানসার্ট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোপালনগর ইলিয়াস মেমোরিয়াল হাসপাতালের মেইন গেটের পাশ থেকে অস্ত্র ব্যবসায়ী আলমগীর, রোকন ও মোস্তফাকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব আরো জানায়, সম্প্রতি ওই এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আসছে_এ ধরনের তথ্য পাওয়ার পর র‌্যাবের গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।