Wednesday, March 22, 2017

মুসলিমদের সম্মান দিতে আদিত্য নাথকে পিতার পরামর্শ

মুসলিমদের সম্মান দিতে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার পিতা আনন্দ সিং বিস্ট। ছেলে মুখ্যমন্ত্রী। মুসলিম বিরোধী বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য তিনি সমালোচিত, বিতর্কিত। এরই প্রেক্ষিতে আনন্দ সিং তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বোরকা পরা নারীরাও তোমাকে ভোট দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। উল্লেখ্য, পুরী জেলার পাঁচুর গ্রামে বসবাস করেন আদিত্যানাথের পিতা আনন্দ সিং ও মা সাবিত্রি। আনন্দ সিংয়ের বয়স এখন ৮৪ বছর। তিনি ছেলেকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, তার ছেলের উচিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলা। তার ভাষায়, বোরকা পরা নারীরাও তোমাকে ভোট দিয়েছেন। তাই সব ধর্মকে সম্মান কর। তাদের হৃদয় জয় কর। আনন্দ সিং মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে সাক্ষাতকার দেন। তিনি বলেন, তার সন্তানের রয়েছে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার। তার ভাষায়, মুসলিম নারীরাও বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। তারা আশা করেন তিন তালাক ও অন্যান্য ইস্যুতে তারা ভোট দিয়েছে এ দলটিকে। সব ধর্মে বিশ্বাসীরা মনে করেন বিজেপি ও আদিত্যনাথ তাদেরকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাবে। এ কথাটা স্মরণ রাখতে হবে। আনন্দ সিং বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে মুখ্যমন্ত্রী তার স্টাফদের এমন ভাষা ব্যবহার না করতে বলেছেন, যা মানুষকে আঘাত করে। তিনি বলেন, তার ছেলে ‘হিন্দুতভা ক্যাম্পেইন’ বা হিন্দুত্ববাদী প্রচারণা থেকে সরে আসবে বলে মনে করেন তিনি। উল্লেখ্য, আদিত্য নাথ মুসলিম বিরোধী প্রচারণার জন্য বহুল আলোচিত।

উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ

উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে দেশটি চারটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। বুধবার নতুন করে আবারো পরীক্ষা চালাতে গিয়ে ব্যর্থ হলো। এদিকে উত্তর কোরিয়ার ওই চারটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে জাপানে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালানোর একটি মহড়া হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার সকালে উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উনসাম বন্দরের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে পিয়ংইয়ং একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালেও সেটি ব্যর্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ক্ষেপণাস্ত্রটি কি ধরনের ছিল তা আমরা বিশ্লেষণ করছি।’ উত্তর কোরিয়ার চালানো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানের কিয়োদো বার্তা সংস্থা খবর প্রকাশের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ ধরনের বিবৃতি দেয়া হলো।

ভারতেও কমছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট

বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত তিনটি পরিবেশবাদী গোষ্ঠীর এক যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গত এক বছরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও নির্মাণের পরিকল্পনা নাটকীয়ভাবে কমেছে। গ্রিনপিস, দ্যা সিয়েরা ক্লাব ও কোল সোয়ারম- এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের চালানো সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভারত ও চীনে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কমে যাওয়ার কারণেই ২০১৬ সালে মূলত এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গত এক বছরে কমেছে ৪৮ শতাংশ, আর আগের এক বছরের তুলনায় এ ধরণের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ কমেছে অন্তত ৬২ শতাংশ। আবার ইউরোপ ও আমেরিকায় পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বন্ধ করে দেয়ার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। সমীক্ষাটি এমন সময় প্রকাশিত হলো যখন বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক কালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হচ্ছে। পরিবেশবাদীদের দাবি রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সেটি সুন্দরবনের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হবে। তবে সরকার এসব সমালোচনা নাকচ করে বলেছে, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে কেন্দ্রটি সুন্দরবন ও পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হবে না।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইউনেস্কো গ্রিনপিস, দ্যা সিয়েরা ক্লাব ও কোল সোয়ারম-এর সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সরকারের নীতি পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক বিবেচনার কারণেই ভারত ও চীনে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নাটকীয়ভাবে কমছে। গত দশ বছরে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়েছে ভারত ও চীনে। কিন্তু এভাবে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের হিড়িক পড়ার দিন সম্ভবত শেষ হয়ে গেছে। বরং গত এক বছরে কয়লা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার প্রবণতাই ব্যাপকভাবে বেড়েছে। চীনে কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, ফলে অন্তত ৬০০ কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কাজ সেখানে কমপক্ষে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। আর ভারতে এ ধরণের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ স্লথ হয়ে পড়ার মূল কারণ হলো ব্যাংকগুলো আর এখানে বিনিয়োগ করতে খুব একটা আগ্রহী নয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় গত দুই বছরে অনেকগুলো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। এসব দেশে অন্তত ১২০টি বড় ধরনের কয়লাভিত্তিক ইউনিটকে উৎপাদন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে এ ধরনের রিপোর্টকে বিভ্রান্তিকর বলছে ওয়ার্ল্ড কোল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার ছাড়া এশিয়ার দেশগুলোর হাতে বিকল্প খুব কমই রয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

কয়েক সেকেন্ডেই ভেঙ্গে ফেলা হলো ১৮তলা ভবনটি! (ভিডিও)

কয়েক সেকেন্ডেই ভেঙ্গে ফেলা হলো ১৮তলার একটি ভবন। ঘটনাটি জার্মানির। বহুতল ভবনটি ছিল বন শহরের একটি ল্যান্ডমার্ক৷ ২৫০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে ভবনটিকে উড়িয়ে দেওয়া হলো রোববার৷ পড়ে থাকল ধুলোর মেঘের নীচে ভাঙাচোরা ইস্পাত আর কংক্রিট৷ বন যখন জার্মানির রাজধানী, সে আমলে জার্মানিকে বলা হতো বনের প্রজাতন্ত্র৷ ১৯৬৯ সালে নির্মিত বন সেন্টার ছিল সেই বন প্রজাতন্ত্রের এক দৃশ্যমান প্রতীক৷ চ্যান্সেলরের দপ্তরের কাছে, রয়টার ব্রিজের পাশে, রেললাইনের ধারে ৬০ মিটার উঁচু একটি ১৮ তলা বাড়ি৷ সেই ১৮ তলা বাড়ির মাথার উপরে ছিল মার্সিডিজ বেঞ্জ কোম্পানির প্রতীক সেই তারা, যা মিনিটে দু’বার করে ঘুরতো৷
বাড়ি ভাঙার আগে সবার আগে সরানো হয় বন শহরের সেই তারকা৷ বন সেন্টার বাড়িটিতে ছিল নানা দূতাবাস ও সংবাদপত্রের অফিস, এছাড়া একটি হোটেল ও অ্যাম্বাস্যাডার নামের একটি রেস্টুরেন্ট যেখানে উইলি ব্রান্ড, হেলমুট স্মিট ও হেলমুট কোল, এই তিনজন সাবেক চ্যান্সেলর খানা খেয়েছেন৷ রবিবার সকালে অকুস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সব যানবাহন বন্ধ থাকে৷ বেলা এগারোটায় একটা চাপা বিস্ফোরণের শব্দ; তারপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাত হয়ে পড়ে বন শহরের ল্যান্ডমার্ক৷ ধুলোর মেঘে সব কিছু ঢেকে যায়৷ একটি নিখুঁত ব্লাস্টিং ও ডেমোলিশান৷ এখন তার জায়গায় আসবে একটি কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, যার কেন্দ্রে থাকবে একটি ১০০ মিটার উঁচু বাড়ি৷ ইতিহাস গড়তে যা সময় লাগে, ভাঙতে ঠিক ততটা নয় – কে যেন মন্তব্য করছিলেন...?

নড়াইলে গলদা চিংড়ি চাষিদের সমাবেশ

নড়াইলে সফল প্রকল্পের গলদা চিংড়ি চাষীদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ মার্চ) দুপুরে সদরের মুলিয়া বাজার এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা মৎস্য অফিসের পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপ-পরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হরিপদ মন্ডল, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া’র কান্ট্রি ম্যানেজার সেলিম রেজা হাসান,
যশোরের এমইউসি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, জাগরণী চক্রের ডেপুটি ডিরেক্টর অদিতি আরজু, সফল প্রকল্প যশোরের অ্যাসিসটেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সত্যনারায়ন রায়, সফল প্রকল্পের কর্মকর্তা খন্দকার মাজহাব উদ্দিন, পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম, সফল প্রকল্প নড়াইল সদরের কর্মকর্তা ফরহাদ রেজা জোয়ার্দ্দার প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন মুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ আধিকারী। বক্তারা, গলদা চিংড়ির মান নির্ণয়, সঠিক ওজন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে শতাধিক চিংড়ি চাষি অংশগ্রহণ করেন।

নৌকার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভোট প্রার্থনা প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র নেই : ফখরুল

মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ভিত্তিহীন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ায় প্রমাণিত হয় যে দেশে গণতন্ত্র নেই। সেইসাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি না হলে অন্য চুক্তি অর্থহীন। আজ বুধবার সকালে জিয়া পরিষদ নামক একটি সংগঠনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল- গতকাল মঙ্গলবার মাগুরায় প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কথা ভিত্তিহীন ও অসত্য। প্রধানমন্ত্রীর নৌকায় ভোট চাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ায় প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র নেই। সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে জনসভা করছেন। সেখানে তিনি নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন। আর বিরোধীদলকে সভা-সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে বন্দি করে রাখছেন। জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় জিয়া পরিষদের কবীর মুরাদ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন

‘মানব সত্তার’ মর্যাদা পেল গঙ্গা ও যমুনা

ভারতের গঙ্গা নদীকে ‘জীবন্ত মানব সত্তার মর্যাদা’ দিয়েছেন দেশটির উত্তরাখণ্ড রাজ্যের এক আদালত। ঐতিহাসিক এ রায়ের মধ্য দিয়ে গঙ্গা নদী পেল একজন ব্যক্তির সমতুল্য অধিকার। আদালত বলেছেন, এ রায় অত্যন্ত দূষিত হয়ে পড়া নদীটিকে দূষণমুক্ত করে একে রক্ষা করায় কাজে লাগবে। আদালত গঙ্গার শাখা নদী যমুনাকেও একই ধরনের মর্যাদা দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়, নদী দুটি ‘আইনি মর্যাদা’ পাওয়ার ফলে এখন থেকে এগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বা অন্যভাবে দূষণ করা একজন মানুষের ক্ষতি করার সমতুল্য বলে বিবেচিত হবে। গঙ্গা ও যমুনা—এই দুই নদীই ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত। তা সত্ত্বেও শিল্পায়ন ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে এই নদী দুটি অত্যন্ত দূষিত হয়ে পড়েছে।
আশা করা হচ্ছে, আদালতের এ রায়ের ফলে গঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ে বেপরোয়া আচরণ কমবে। পাশাপাশি একে পরিষ্কার রাখার চেষ্টায় এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। রায়ে রাজ্যের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নদী দুটির ‘আইনি তত্ত্বাবধায়ক’ নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা নদীগুলোর প্রতিনিধিত্ব করবেন। বিশ্বে এ ধরনের প্রথম ঘটনা হিসেবে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই নিউজিল্যান্ডের ওয়াংগানুই নদীকে একজন ব্যক্তির সমান আইনি অধিকার দেওয়া হয়। নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের দীর্ঘ দেড় শ বছরের লড়াইয়ের পর তাদের কাছে পবিত্র ওই নদীকে ‘মানবীয় সত্তার’ স্বীকৃতি দেয় দেশটির সরকার।

হোয়াইট হাউসে অফিস পাচ্ছেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে অফিস পাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প। তবে তাঁর কোনো সরকারি পদ ও বেতন থাকবে না। ইভাঙ্কার আইনজীবী এ কথা জানিয়েছেন। ইভাঙ্কার আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান, হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে কাজ করবেন তিনি। তাঁর এ জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র থাকবে। সরকারের গোপনীয় তথ্যেও প্রবেশাধিকার থাকবে ইভাঙ্কার। হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংকে মার্কিন সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র ধরা হয়। ইভাঙ্কার আইনজীবী মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ইভাঙ্কার ভূমিকা হবে তাঁর প্রেসিডেন্ট বাবাকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া। ব্যক্তিগত জীবনে ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ব্যবসা রয়েছে ৩৫ বছর বয়সী ইভাঙ্কার।
তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনার ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন। এই দম্পতিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মনে। ট্রাম্প পরিবারের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যে স্পষ্ট কোনো সীমা বজায় রাখা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ব নেতাদের অনেকের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

আরেক ওয়াটারগেটের জন্ম দিচ্ছেন ট্রাম্প?

ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাচার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর অভিষেকে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক। খুব সামান্য ব্যবধানে জয়ী হলেও তাঁর দাবি ছিল, তিনি রেকর্ড পরিমাণ ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন। হিলারির পক্ষে ৩০ লাখ জাল ভোট পড়েছে, এমন দাবিও তুলেছিলেন। এসব মিথ্যা বলে পার পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রাম্প টাওয়ারে তাঁর টেলিফোনে আড়ি পাতার ব্যবস্থা করেছিলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া এই অভিযোগ তুলে শেষমেশ ফেঁসে গেলেন ট্রাম্প। সোমবার কংগ্রেসে বক্তব্য পেশের সময় এফবিআই-প্রধান জেমস কোমি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, না, এমন কোনো আড়িপাতার ঘটনা ঘটেনি। শুধু এফবিআই নয়, সরকারের বিচার বিভাগেরও একই সিদ্ধান্ত—তাঁদের কারও কাছে ট্রাম্পের উত্থাপিত অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওবামা যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগকে ট্রাম্প টাওয়ারে আড়ি পাতার অনুরোধ করেছিলেন।
সোমবার ওই শুনানিতে উপস্থিত জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির প্রধান মাইক রজারও সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন, এমন কোনো ঘটনার কথা তাঁর জানা নেই। তা ছাড়া ব্রিটিশদের কাছে এমন কোনো অনুরোধ পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। সোমবারের শুনানিতে অবশ্য তার চেয়েও বড় বোমা ফোটানোর ঘটনা ছিল মস্কোর সঙ্গে গোপন আঁতাত বিষয়ে এফবিআইয়ের তদন্ত। এদিন কোমি জানান, মস্কোর সঙ্গে ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের গোপন আঁতাত ছিল, তাঁরা এই অভিযোগ তলিয়ে দেখছেন। কোমির এই বক্তব্যের অর্থ, অপরাধমূলক কিছু ঘটেছে সেই আলামত পাওয়ার পরই এফবিআই তা নিয়ে তদন্ত করছে। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম একজন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহকর্মীরা বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, এমন অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ওয়াশিংটনের ‘ওয়াটারগেট’ নামের এক ভবনে, যেখানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদর দপ্তর ছিল, প্রেসিডেন্ট নিক্সনের নির্দেশে সেখানে তালা ভেঙে ঢোকা ও পরে সে তথ্য ধামাচাপা দিতে মিথ্যাচারের অভিযোগে ১৯৭৪ সালে নিক্সনকে চাকরি খোয়াতে হয়েছিল। বিখ্যাত মার্কিন ঐতিহাসিক ডগলাস ব্রিংকলি মন্তব্য করেছেন, ‘জেমস কোমির কথা থেকে বাতাসে আমরা রাষ্ট্রদ্রোহের গন্ধ পাচ্ছি।’ এই ঘটনা ওয়াটারগেটের চেয়ে কম মারাত্মক নয়। প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির প্রধান, রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ডেভিড নুনেস সেই কথাটা কিছুটা ঘুরিয়ে বলেন, কোমির এই বক্তব্যের ফলে হোয়াইট হাউসের ওপর ঘন কালো এক মেঘ এসে স্থির হয়েছে। এই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহের সেই কালো মেঘ দূর হবে না। তিনি যত দ্রুত সম্ভব এই তদন্ত শেষ করার তাগিদ দেন, কিন্তু কবে নাগাদ তা শেষ হবে, সে কথা জানাতে কোমি অস্বীকার করেন। কোমি জানান, এই তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে মস্কো আবার মার্কিন নির্বাচনব্যবস্থায় নাক গলাতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা ২০২০ সালে ফিরে আসবে। তারও আগে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় ২০১৮ সালে তারা ফিরে আসতে পারে। তারা হয়তো ভাবছে, একবার যখন সফল হয়েছে, পরবর্তী সময়েও মার্কিন নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে তারা সক্ষম হবে।’ কোমি মনে করিয়ে দেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনেও নাক গলাতে চেষ্টা করেছে মস্কো। রাশিয়ার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ফ্লিন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। একই অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের আরও অন্তত পাঁচ সদস্যের ব্যাপারে। এঁদের অন্যতম হলেন ট্রাম্পের সাবেক ক্যাম্পেইন ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্ট। কোমির বক্তব্যের পর ট্রাম্পের মুখপাত্র দাবি করেন, নির্বাচন প্রচারণার সময় ম্যানাফোর্ট খুব সামান্য দায়িত্ব পালন করেন, তাও খুব অল্প সময়ের জন্য। তাঁর সে কথায় সবাই মুখ টিপে হেসেছে, কারণ ট্রাম্প নিজে ক্যাম্পেইন ম্যানেজার হিসেবে ম্যানাফোর্টকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে একাধিকবার বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের ব্যাপারে কোমি যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তাতে অনেকে বিস্মিত হয়েছে।
গত বছর নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে কোমি জানিয়েছিলেন, এফবিআই হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল-সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন করে তদন্ত করে দেখছে। ডেমোক্র্যাটদের ধারণা, এফবিআই-প্রধানের সে ঘোষণার কারণেই নির্বাচনে হিলারি অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর ট্রাম্প কোমিকে এই পদে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। অনেকের ধারণা, কোমির সে ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা হিসেবেই তাঁকে এই পদটি দিতে সম্মত হয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন সম্ভবত তিনি নিজের হাত কামড়াচ্ছেন। গত সপ্তাহে বস্টনে এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় কোমি নিজেই কিঞ্চিৎ পরিহাসের সঙ্গে বলেন, আগামী ছয় বছর তাঁকে সহ্য করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রদান করলেও তাঁর চাকরি শাসনতান্ত্রিকভাবে নিশ্চিত। মেয়াদকাল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সরানো যাবে না। এফবিআই ও বিচার বিভাগের ঘোষণা সত্ত্বেও ট্রাম্প নিজে অবশ্য এখনো ওবামার বিরুদ্ধে টেলিফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ তুলে নিতে প্রস্তুত নন। রাশিয়া গত বছরের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল, এই অভিযোগ মানতেও তিনি সম্মত নন। তাঁর বক্তব্য, এসবই মিথ্যা সংবাদ—ফেইক নিউজ। আসল সমস্যা হলো অতি গোপনীয় কথাবার্তা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এফবিআইয়ের উচিত সে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা। ট্রাম্প অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন, এই তথ্য পাচারের জন্য সাবেক ওবামা প্রশাসনের সদস্যরাই দায়ী। অধিকাংশ ভাষ্যকার একমত, ওবামার আড়ি পাতার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মস্কোর সঙ্গে ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের আঁতাত বিষয়ে ‘অপরাধমূলক তদন্ত’ (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন) চলছে—কোমির উভয় তথ্যই ট্রাম্পের জন্য ভয়াবহ দুঃসংবাদ। তাঁর প্রশাসনের বয়স মাত্র ৫০ দিন। এরই মধ্যে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। জাতীয় জনমতেও সে সংকটের প্রভাব পড়ছে। গ্যালপের নেওয়া সর্বশেষ জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন করে এমন মার্কিন নাগরিক মাত্র ৩৯ শতাংশ।

নাম সাদ্দাম হোসেন, তাই...



ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের নামে নাম ভারতের একজন প্রকৌশলীর। এ জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে চাকরি দেয়া হয় নি। একটি দু’টি নয়, ৪০টি কোম্পানি তাকে চাকরি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। উপায়হীন প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন তাই এখন নিজের নাম পাল্টে ফেলেছেন। এ জন্য তিনি আদালতের স্মরণাপন্ন হন। আবেদন জানান নাম পরিবর্তনের। নতুন নাম রাখেন সাজিদ। তার নাম সাদ্দাম হোসেন হলেও ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ইংরেজি বানান ও তার নামের বানানের মধ্যে সামান্য পার্থক্য আছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! তাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে- তুমি চাকরি পাবে না। অনলাইন দ্য হিন্দুস্তান টাইমসে এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতের প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন ঝাড়খন্ডের জামশেদপুরের অধিবাসী। তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশন করেছেন তামিলনাড়ুর নূরুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি থেকে। বলেছেন, শিপিং কোম্পানিগুলো তাকে সাদ্দাম হোসেন নামের কারণে চাকরি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তার ভাষায়, লোকজন আমাকে নিয়োগ করতে ভয় পায়। ২০১৪ সালে আমি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছি। আমার সহপাঠীরা সবাই চাকরি পেয়েছে। কিন্তু নামের কারণে আমি আটকে আছি। এ বিষয়ে আমি চাকরিদাতা কোম্পানিগুলোর মানব সম্পদ বিভাগে খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের অনেকেই আমাকে বলেছেন, আমার নামেই যত্ত সমস্যা। তারা বলেছেন, এমন কোনো ব্যক্তিকে তারা নিয়োগ দেবেন না, যার নাম নিয়েই সন্দেহ ঘনীভূত হয়। অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তবে সাদ্দাম হোসেন নাম পরিবর্তন করে সাজিদ হোসেন নাম ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত তিনি চাকরি পান নি। তাকে নিরন্তর সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে একটি চাকরির জন্য। তার পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স সব কিছুতেই রয়েছে নতুন নাম। কিন্তু সমস্যা হয়েছে অন্য স্থানে। তা হলো চাকরিদাতারা তার শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র দেখতে চাইছেন। তাতে রয়েছে তার পুরনো নাম- সাদ্দাম হোসেন। এ বিষয়ে তিনি আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। সে আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা মে মাসের শুরুর দিকে। ওই আবেদনে তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদগুলোতে নাম পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমে তার মাধ্যমিক শিক্ষা সনদ পরিবর্তন করতে হবে। এরপর গ্রাজুয়েশনের কাগজপত্র। এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন ওরফে সাজিদ হোসেন বলেন, অন্যের কারণে নিরপরাধ এই আমাকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরাকের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা প্রকাশ করতে ইরাকে বহু মানুষের নাম রাখা হয়েছে সাদ্দাম। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ইরাক শাসন করেন সাদ্দাম হোসেন। এরপর ইরাক আগ্রাসনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফাঁসি দেয়া হয় ২০০৬ সালে।

জাল জামিনে ১০৬ আসামিকে মুক্ত করায় দণ্ডিত ৫

জালিয়াতির মাধ্যমে ৭৬টির মামলায় ১০৬ জন আসামিকে কারাগার থেকে মুক্ত করানোর মামলায় আদালতের দুজন কর্মচারীসহ পাঁচজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানী ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্তে গাফিলতির দায়ে আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক শফিউল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার ২ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেশকার মোসলেহ উদ্দিন, পিয়ন শেখ মো. নাঈম, উমেদার ইসমাইল, আলমগীর ও জাহাঙ্গীর। তাঁদের মধ্যে আলমগীর ও জাহাঙ্গীর পলাতক। অন্য তিনজন কারাগারে। রায় ঘোষণার সময় এ তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, পরস্পর যোগসাজশে এ আসামিরা ভুয়া জামিননামা তৈরি করে ৭৬টির মামলার ১০৬ জন আসামিকে কারাগার থেকে বের করার ব্যবস্থা করেছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে কাউকে জামিন দেওয়া হয়নি।
আদালতের কর্মচারী হয়েও এ ধরনের জালিয়াতি করে আসামিরা ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন। এ আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কাম্য। এতে আদালতের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সতর্ক হবেন। অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিউল্লাহ তদন্তে চরম অযোগ্যতা ও অবহেলা দেখিয়েছেন। এই কর্মকর্তার উচিত ছিল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে জনগণের সামনে প্রকাশ করা। অথচ তিনি তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এমন কর্মকর্তা দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে বাধ্য। আদালতের এ আদেশ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। ঢাকার ২ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ৭৬টি মামলায় ১০৬ জন আসামিকে জাল জামিননামা তৈরি করে কারাগার থেকে মুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০১৫ সালে পেশকার মোসলেহ উদ্দিন, পিয়ন নাঈমসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। গত বছরের ১৫ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচারকাজ শুরু করেন।

তিস্তা ছাড়া অন্য চুক্তি অর্থহীন: ফখরুল





বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হলে অন্য যেকোনো চুক্তি হবে অর্থহীন। তিনি দাবি করেন, সরকার নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে; যে কারণে তিস্তা চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারছে না। আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির মহাসচিব। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ভারত সফরকে ফলপ্রসূ করতে হলে বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে প্রধান সমস্যা পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিস্তা হচ্ছে সবার আগে। মানুষ আশা করেছিল, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে তিস্তাসহ অন্য সব অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। তিস্তা চুক্তি না হলে অন্য যেকোনো চুক্তি অর্থহীন হবে। আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি মানুষ মেনে নেবে না। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়েছিল—প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন, অসত্য, বানোয়াট। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এ কথাগুলো বলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কী প্রমাণ করতে চাইছেন?
বাংলাদেশের নির্বাচন কি ভারতের “র”, আমেরিকার সহযোগিতা নিয়ে হয়?’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই এ ধরনের ভিত্তিহীন অসত্য কথা বলে থাকেন। এ কথাগুলোর একেবারেই ভিত্তি নেই, অসত্য-বানোয়াট।’ ২০০১ সালে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে বিএনপি জয়লাভ করেছিল—দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) যে ক্ষমতা জবরদখল করে বসে আছে, তাহলে তারাও কি ভারতের “র” আর আমেরিকার সাহায্য নিয়ে বসে আছে?’ তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য করার আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাবা উচিত ছিল যে এ ধরনের মন্তব্য করলে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়। দেশের ক্ষতি হয়। রাজনীতির ক্ষতি হয়। প্রধানমন্ত্রী লাগামহীন উক্তি করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট চাওয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রীয় টাকায় হেলিকপ্টারে করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, অন্য দলগুলোকে ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বিএনপিকে জনসভা করারও অনুমতি দেওয়া হয় না। এখানে প্রমাণ হয়, দেশে গণতন্ত্র নেই। প্রধানমন্ত্রী গায়ের জোরে প্রচার চালাচ্ছেন। দলগুলোকে সভা-সমিতি, স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, জঙ্গিবাদের কারণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা এই ধরনের আশঙ্কা করেন না। কারণ, নির্বাচনের বিষয়টা এখনো নিশ্চিত নয়।

এফবিসিসিআই নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। আগামী ১৪ মে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ওই নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়। আবেদনের শুনানি নিয়ে নির্বাচনের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন আদালত। এফবিসিসিআই নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক। তাঁর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা। পরে আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা প্রথম আলোকে বলেন, আইনে আছে, প্রতিটি জেলা থেকে মনোনীত পরিচালকের নাম পাঠানো হবে।
২০১৫ সালে ময়মনসিংহ বিভাগ হয়। ২০১৬ সালে ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স তাদের অন্তর্ভুক্তির জন্য দরখাস্ত করেছিল। কিন্তু গত এক বছরে কিছু হয়নি। এফবিসিসিআই নির্বাচনের তফসিলের আগে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। আদালত এই মর্মে নির্দেশও দেন। পাশাপাশি আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। বদরুদ্দোজা বলেন, ইতিমধ্যে বাণিজ্যসচিব জানান, তফসিল হয়ে গেছে। অন্তর্ভুক্তির বিবেচনার সুযোগ নেই। সবশেষ ১৪ মার্চও একই কথা জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে স্থগিতাদেশ দেন আদালত।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কারাগারে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিন দিনব্যাপী এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ শীর্ষক এ প্রদর্শনী ২৫ থেকে ২৭ মার্চ পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের স্মৃতিবিজড়িত অংশে আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার বিকেলে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় পুরোনো কারাগারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। কারা মহাপরিদর্শক জানান, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জনগণের সামনে তুলে ধরতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কারা বিভাগ। ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ শিরোনামে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য নেতৃত্ব ও ঐতিহাসিক ঘটনার আলোকচিত্র স্থান পাবে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ—এ তিনটি বিষয়ভিত্তিক আলোকচিত্র পৃথক তিনটি গ্যালারিতে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কারাগারগুলোকে সত্যিকারভাবে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে নানামুখী পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। পুরোনো কারাগারের ইতিহাসকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে নানা ধরনের প্রয়াস নিচ্ছে কারা অধিদপ্তর। জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ১০০ টাকা। প্রদর্শনীতে আসা দর্শকেরা পুরোনো কারাগারের ভেতরও ঘুরে দেখতে পারবেন।

মানব পাচার: উদ্ধার ৯, আটক ৯

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও সাইপ্রাস পাচারকালে রাজধানী থেকে নয় ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের সন্দেহভাজন নয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো মোবাইল ফোনের খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। খুদে বার্তায় বলা হয়, বিমানবন্দরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় র‍্যাব-৩ এই অভিযান চালায়।
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও সাইপ্রাস পাচারকালে নয় ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। র‍্যাবের ভাষ্য, অভিযানকালে মানব পাচারকারী চক্রের নয় সদস্যকে মুক্তিপণের টাকাসহ আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট, জাল ভিসা, জাল সিল ও জাল ভিসা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি র‍্যাব। আজ দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানোর কথা।

প্রাণভিক্ষা চাইবেন মুফতি হান্নান

২০০৪ সালে সিলেটে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা ও তিনজনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নান প্রাণভিক্ষা চাইবেন। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার রায় পড়ে শোনানোর পর প্রাণভিক্ষার আবেদন করার কথা জানান তিনি। আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে মুফতি হান্নানকে রায়টি পড়ে শোনানো হয় বলে জানান গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের কারা তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রায় পড়ে শোনানোর পর মুফতি হান্নানের কাছে জানতে চাওয়া হয়—তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। তখন তিনি প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই মামলায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অপর দুজন হলেন শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপন। পাঁচ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারিক আদালত (সিলেট)-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, মুফতি হান্নান যদি প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন, তাহলে এর নিষ্পত্তি করতে যতক্ষণ সময় লাগে, তারপর দণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাইলে কারাবিধি অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করবে। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ওই তিনজনের করা আবেদন ১৯ মার্চ খারিজ করেন আপিল বিভাগ। গতকাল সকালে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ফটকের কাছে গ্রেনেড হামলায় ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীসহ ৭০ জন আহত হন, নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। ওই ঘটনায় করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান, জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ও দেলোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের আপিল ৭ ডিসেম্বর খারিজ করেন আপিল বিভাগ। এর পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১৭ জানুয়ারি প্রকাশ পায়। এরপর আসামিদের মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠানো হয় ও তা পড়ে শোনানো হয়। আসামিরা ২৩ ফেব্রুয়ারি রিভিউ আবেদন করেন, যা ১৯ মার্চ খারিজ হয়।

সংশয় শেষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোট শুরু

দেশের আইনজীবীদের অন্যতম সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৭-১৮ সালের নির্বাচনে ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোট আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে। একই সূচি অনুসারে কাল বৃহস্পতিবারও ভোট চলবে। ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ২২ ও ২৩ মার্চ সমিতির নির্বাচনের তারিখ ধার্য করা হয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচন উপকমিটির সদস্যদের তর্ক হয়। দিবাগত রাত পৌনে একটায় নির্বাচন উপকমিটির আহ্বায়ক এ ওয়াই মসিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ভোট হবে কি না, এ ব্যাপারে বুধবার সকালে সিদ্ধান্ত হবে। আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে যোগাযোগ করা হলে মসিউজ্জামান বলেন, সকাল ১০টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে। গত কয়েক বছর এই নির্বাচনের প্রচারের যে ধারা ছিল, এবার তার পরিবর্তন দেখা গেছে। আগের নির্বাচনগুলোয় নীল ও সাদা প্যানেল সামনে রেখে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতেন। এবার তেমন কিছু দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে নির্বাচন উপকমিটির আহ্বায়ক মসিউজ্জামান বলেন, সমিতির বিধিমালা অনুসারে রাজনৈতিক প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ নেই। এই উপকমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই বিধান পালনের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাই এবার প্রার্থীরা কোনো প্যানেলে প্রচারণা চালাননি। দৃশ্যত, কোনো প্যানেলের উপস্থিতি দেখা না গেলেও প্রতিবারের মতো এবারও নির্বাচনে সরকার-সমর্থক ও বিএনপি-জামায়াত জোটের সমর্থকদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে একদিকে সভাপতি পদে আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু ও সম্পাদক পদে রবিউল আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল হিসেবে পরিচিত) তাঁদের সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, সভাপতি পদে জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক পদে মাহবুব উদ্দিন খোকন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াত জোটপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (নীল প্যানেল হিসেবে পরিচিত) তাঁদের সমর্থন দিয়েছে। ১৪টি পদের বিপরীতে এবারের নির্বাচনে ৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ৫ হাজার ৮১।

চট্টগ্রামে ট্রাকচাপায় শিক্ষিকার মৃত্যু

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকায় ট্রাকচাপায় সাকেরা খাতুন নামের এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষিকার ক্ষুব্ধ সহকর্মীসহ অন্যরা প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। সাকেরা খাতুন উত্তর দিয়াং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়,
সকাল পৌনে নয়টার দিকে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকায় একটি বাস পেছন থেকে একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ট্রাকটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাকেরা খাতুনকে চাপা দেয়। আহত শিক্ষিকাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। এ দুর্ঘটনার পর সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সড়কের একটি অংশ অবরোধ করে রাখেন তাঁর সহকর্মীসহ অন্যরা। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাক ও বাস দুটি আটক করা হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জে উপনির্বাচনে ভোট চলছে

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন আজ বুধবার ভোট নেওয়া হচ্ছে। সকাল আটটায় ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। উপনির্বাচন নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল সাড়ে নয়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছিল।
কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জের সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ। জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

৯০% গাছে বিলবোর্ড ও পেরেক

রাজধানীতে পরপর দুই বছর গাছের চাপায় দুজন নিহত হন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ বা অরক্ষিত গাছের ব্যাপারে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে কোনো তথ্য নেই। মোট কত গাছ আছে শহরে, তারও হিসাব জানে না দুই সিটি করপোরেশন। পরিবেশবিদেরা বলছেন, রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ গাছেই বিলবোর্ড ও পেরেক লাগানো। গত বছরের ৭ মার্চ গাছের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্রনির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠু। ধানমন্ডির ৪ নম্বর সড়কে ফুটপাতের ওপর বিশাল আকৃতির একটি কৃষ্ণচূড়াগাছ শিকড় থেকে উপড়ে পড়ে তাঁকে বহনকারী রিকশাকে চাপা দেয়। মিঠু নিহত হন কিন্তু বেঁচে যান রিকশাচালক। এ বছরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। ১৯ মার্চ সংসদ ভবন এলাকায় একটি কৃষ্ণচূড়াগাছ পথচলতি যানবাহনের ওপর ভেঙে পড়ে। একজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন এবং আহত হন একজন সিএনজিচালক। পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনার পরেও দুই সিটি তাদের ঝুঁকিপূর্ণ বা অরক্ষিত গাছের কোনো হিসাব করেনি। এমনকি এগুলো শনাক্ত করারও কোনো ব্যবস্থা তাদের নেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কোনো গাছেরই হিসাব তাঁদের কাছে নেই। কোনো গাছ ঝুঁকিপূর্ণ বা জনদুর্ভোগ তৈরি করে কি না, তা শনাক্ত করার কোনো ব্যবস্থাও সিটি করপোরেশনের নেই। পরিবেশবিদেরা বলছেন, রাজধানীতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাজে সড়কে বা ফুটপাতে খোঁড়াখুঁড়ি চলে। এতে অনেক সময় গাছের শিকড় কাটা পড়ে। আবার ফুটপাতে উন্নয়নের ফলেও গাছের শিকড় বিস্তৃত হতে পারে না। ফলে ওপরে গাছকে সজীব দেখালেও নিচে তা দুর্বল থাকে।
এতে ঝড় হলে তা উপড়ে পড়ে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনই জানায়, আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে কোনো গাছ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে তা সম্পত্তি বিভাগকে জানায়। তখন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত গাছ কাটাবিষয়ক কমিটির অনুমতি নিয়ে তারা ব্যবস্থা নেয়। তবে ঝড়ে উপড়ানো কোনো গাছ সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে সিটি করপোরেশন তাৎক্ষণিক তা সরিয়ে নেয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামও একই কথা বলেন। তাঁদের কাছেও কোনো হিসাব নেই। তবে তিনি বলেন, অঞ্চলের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁরা কিছু ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটেছেন, সংখ্যায় কত তা জানেন না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, গাছপালা দেখার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। কোন গাছগুলো জনদুর্ভোগ তৈরি করতে পারে, সেগুলো তাদের বিবেচনায় নিতে হবে। মানুষের অত্যাচারে গাছ গোড়া থেকেই নষ্ট হচ্ছে। প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে বিলবোর্ড ও পেরেক লাগানো। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই। তিনি আরও বলেন, গুলশানের গাছগুলো মরে গেছে। সেগুলো যদি ভেঙে কারও ওপরে পড়ে, তাহলে তা দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এর দায়ভার সিটি করপোরেশনের। উন্নয়নের নামে গাছ কাটলেই হবে না, সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। গাছ রোপণের পাশাপাশি গাছ পালনও জরুরি।

প্রথম আলোর কর্মীদের শারীরিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ

প্রথম আলোর কর্মীদের জন্য শারীরিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোর কারওয়ান বাজারের কার্যালয়ে দুই ধাপে প্রায় দেড় শ কর্মী ওই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। বিপিএর সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া ফারুক স্বাগত ও পরিচিতি বক্তব্য দেন। প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ে বক্তব্য দেন বিপিএর সভাপতি দলিলুর রহমান। বর্তমান অফিসগুলোতে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার ক্ষেত্রে কী ধরনের শারীরিক জটিলতা হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। বিশেষ করে কোমরব্যথা, ঘাড়, কাঁধে ব্যথা বা শক্ত হয়ে যাওয়া (ফ্রোজেন সোল্ডার),
মাংসপেশির হঠাৎ সংকোচন ইত্যাদি কী কী কারণে হতে পারে, এসব নিয়ে কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করাকে তিনি নিরুৎসাহিত করেন এবং কর্মক্ষেত্রে করা যায়, এ রকম কিছু সাধারণ ব্যায়াম দেখিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ব্যথাগুলোকে বলা যায় মেকানিক্যাল প্রবলেম। কিন্তু অনেকে এ ধরনের ব্যথায় গাদা গাদা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নিজের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করেন। ফিজিক্যাল থেরাপি একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা।’ প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের সাতজন সদস্য প্রথম আলোর কর্মীদের উপদলে বিভক্ত করে সমস্যাগুলো শোনেন ও পরামর্শ দেন। এ সাতজন হলেন বিপিএর সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দীন, সহসভাপতি ইয়াসমিন আরা ও মাকসুদুল আলম, প্রকাশনা সম্পাদক মনোয়ারুল হক, অর্থ সম্পাদক মনিরুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া ফারুক ও নির্বাহী সদস্য মাহবুব সাকিব।

বিএনপি–জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ ধ্বংস হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের মতো অপশক্তি আবার ক্ষমতায় গেলে দেশ ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে অপশক্তি পরিহার করে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, এই বাংলার মাটিতে যারা গণহত্যা চালিয়েছে, মা-বোনের ইজ্জত লুট করেছে, যারা খুন ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। তাই তিনি আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হয়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সমবেত জনতার কাছে আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, ২০১৯ সালে যে নির্বাচন হবে সে নির্বাচনেও আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি-জামায়াত জোটের নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই জোট ওই সময় দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।
ক্ষমতায় এসে তারা দুর্নীতি, মানুষ হত্যা এবং দরিদ্র মানুষের সম্পদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে অবৈধ বিত্তবৈভবের পাহাড় গড়ে তোলে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান। এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরায় প্রায় ৩১০ কোটি টাকার ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৯টি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তাঁর উদ্বোধন করা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্প হলো ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়াম ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এ ছাড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস মাগুরা, শালিখা উপজেলাধীন বুনাগাতি থেকে বেরোইল পলিতা সড়কে নালিয়া ঘাটে ফটকি নদীর ওপর ৯৬ মিটার সেতু, একই উপজেলাধীন বরইচারা আটিরভিটা-বরইচারা বাজার সড়কে ফটকি নদীর ওপর ৬৬ মিটার সেতু, বাউলিয়া-শরশুনা সড়কে চিত্রা নদীর ওপর ৯৬ মিটার সেতু, জাতীয় মহাসড়কের মাগুরা শহর অংশ চার লেনে উন্নীতকরণ, মাগুরা পৌরসভার তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়), শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার (হাইটেক পার্ক), শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম ও শালিখা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাকিব ক্রিকেট বিশ্বের বিস্ময়
জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ক্রিকেট বিশ্বের বিস্ময় বলে উল্লেখ করে এই তারকার জন্মস্থান মাগুরার জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তাদের শততম টেস্ট ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে জয় বাংলার বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়সহ সব কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

মানাস আইল্যান্ডের বন্দীশিবিরে এক বাংলাদেশির জীবন



মানাস আইল্যান্ড। পাপুয়া নিউগিনির ছোট্ট এক দ্বীপ। গত চার বছর ধরে এই দ্বীপের এক শিবিরে প্রায় বন্দী জীবন রাসেল মাহমুদের। শুধু তিনি নন, তার সঙ্গে আছেন আরও ৭০ জন বাংলাদেশি। আছেন আরও নানা দেশের মানুষ। ইরানি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, সোমালি, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা।
যেভাবে রাসেল মাহমুদ বাংলাদেশের বগুড়া থেকে পাপুয়া নিউগিনির মানাস আইল্যান্ডের এই জীবনে এসে পড়লেন, সেই কাহিনি অনেক দীর্ঘ এবং ভয়ংকর। কিন্তু তারপরও তিনি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান না।
মানাস আইল্যান্ডে শরণার্থীদের জন্য তৈরি এক শিবির থেকে তিনি ফোন করেছিলেন লন্ডনে বিবিসি বাংলা বিভাগের দফতরে। তাঁর একটাই আকুতি, যেন তাদের অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় দেয়া হয়।আমি দেশে ফিরে যেতে চাই না। যদি আমাকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। আমি আত্মহত্যাই করবো।"
এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রাসেল মাহমুদ বর্ণনা করেছেন কিভাবে তার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার স্বপ্ন এরকম দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে।
রাসেলের বাড়ি বাংলাদেশের বগুড়ায়। সেখানে তাঁর বাবা-মা এবং এক ছোট ভাই আছেন। তিরিশ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি সেখানেই কাটিয়েছেন। পড়াশোনা করেছেন উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। এরপর কনস্ট্রাকশন খাতে ছোটখাট সাপ্লায়ারের ব্যবসা করতেন।
কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার মতো কোন দেশে যাবেন।
"অস্ট্রেলিয়ায় বা কানাডায় যেতে চেয়েছিলাম উন্নত জীবনের আশায়।"
"আমি ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার একটা উপায় আছে। অনেকেই যাচ্ছে। আমিও সেভাবে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।"
যে পথে তিনি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাকে দুঃসাহসিকই বলতে হবে।২০১৩ সালের জানুয়ারিতে রাসেল মাহমুদ বাংলাদেশ থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া যান। সেখানে এক সপ্তাহ থাকার পর যোগাযোগ হয় মানব-পাচারকারী একটি চক্রের সঙ্গে। তাদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। তাদেরকে দিতে হয় ৭ হাজার মার্কিন ডলার। এই অর্থ তিনি নিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশ থেকে।
একটি উপকুলীয় এলাকা থেকে নৌকায় করে তারা প্রথমে ইন্দোনেশিয়া রওনা হন। প্রায় ১৮ ঘন্টা নৌকায় ছিলেন। সহযাত্রীদের মধ্যে ছিলেন অনেক রোহিঙ্গা, সোমালি, ইরানি। তাদের নৌকা ইন্দোনেশিয়ার উপকুলে পৌঁছায়। মেডান শহরে তাদের একটি বাড়িতে রাখা হয় এক সপ্তাহ। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় জাকার্তায়।
জাকার্তা থেকে তাদের বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয় সুরাবায়া শহরে। সেখান থেকে আবারও নৌকায়। এবারের গন্তব্য অস্ট্রেলিয়ার উপকুল। নৌকায় ছিল প্রায় একশো মানুষ। মাঝারি সাইজের নৌকা। ঘুমাতে হতো নৌকার পাটাতনে। নয়দিন নয়রাত সাগরে ছিলেন।
একদিন সাগরের মাঝখানে দূর থেকে দেখা গেল এগিয়ে আসছে অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনির একটি জাহাজ। রাসেল মাহমুদ এবং তাদের সঙ্গীরা ছিলেন উল্লসিত। এবার তাদের নিশ্চয় উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হবে অস্ট্রেলিয়ায়।
কিন্তু তাদের ভাগ্য ছিল খারাপ।
অস্ট্রেলিয়ান নেভির শিপে উঠার পর তিনদিন বাদে আমাদের ক্রিসমাস আইল্যান্ডে নিয়ে যায়। অনেক বড় দ্বীপ। একশ ফুট উঁচু। এয়ারপোর্ট আছে। দ্বীপ বড় বড় লাল কাঁকড়া আছে।"
"সেখানে আমাদের ডিটেনশন সেন্টারে রাখে। কয়েকদিন থাকার পর আমরা যখন স্বাভাবিক হলাম, তখন আমাদের বললো তোমাদের আশ্রয় দেয়া হবে না।"আমাদের বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া সরকারের নীতি বদলে গেছে। ১৯শে জুলাই এর আগে যারা এসেছে, তাদের অস্ট্রেলিয়া আশ্রয় দিয়েছে। ১৯শে জুলাইর পর থেকে এরা আর শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে না।"
বন্দী শিবিরের জীবন:
ক্রিসমাস দ্বীপ থেকে একদিন তাদের সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় অনেক দূরে পাপুয়া নিউ গিনির এক ছোট্ট দ্বীপ মানাস আইল্যান্ডে। সেখানেই গত চার বছর ধরে তাদের বন্দী জীবন।
মানাস দ্বীপে অস্ট্রেলিয়া এই শিবির তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন আশ্রয় প্রার্থীদের আটকে রাখার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার নেভি বা কোস্টগার্ড নৌকায় করে তাদের দেশে যাওয়ার চেষ্টার সময় লোকজনকে আটক করে এখানে নিয়ে আসে। এরপর এখান থেকে তাদেরকে যার যার দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার এই কার্যক্রমের তীব্র সমালোচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তরফ থেকে।
কিভাবে এই দ্বীপে গত চার বছর কাটিয়েছেন রাসেল মাহমুদ?
"আমাদের ক্যাম্পে সবই আছে। থাকার জায়গা। খাবার জায়গা। দুই হাজার সিকিউরিটি গার্ড পাহারা দেয় এই ক্যাম্প। প্রায় এক হাজার মানুষ এখানে আটকে রাখা হয়েছে।"
গত চার বছর ধরে ক্যাম্পে রাসেল মাহমুদের জীবন একই রুটিনে বাঁধা। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাশতা। এরপর সবাইকে জিমন্যাশিয়ামে গিয়ে একটু শরীর চর্চা করতে হয়। সেখান থেকে ফিরে গোসল করে যেতে হয় ক্লাশে। সেখানে তাদের ইংরেজী শেখানো হয়। ফিরে এসে দুপুরের খাবার। বিকেলে একটু ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা। ফিরে এসে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যাওয়া।
ভালো আচরণের জন্য তাদেরকে পয়েন্ট দেয়া হয়। সেই পয়েন্ট দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারেন।
ক্যাম্পের ভেতর বিনোদনের ব্যবস্থাও আছে। টিভি, সিনেমা দেখতে পারেন।
কিন্তু তারপরও ভালো নেই রাসেল মাহমুদ এবং তাঁর সঙ্গীরা।
"আমাদের বলছে দেশে ফিরে যাও। নইলে আমরা তোমাদের জোর করে ফেরত পাঠাবো।"সবসময় টেনশনে আছি। খাওয়া দাওয়ার ঠিক নাই। যদি ডিপোর্ট করে দেশি গিয়ে কি করবো। অনেক মানসিক চাপ প্রয়োগ করছে। আমাদের মানসিক এবং শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। স্বাস্থ্যহানি হয়েছে।"
রাসেল জানান, মানাস দ্বীপের বন্দী শিবিরে এখন যে এক হাজারের মধ্যে বন্দী আছেন, তাদের মধ্যে ২০৫ জনের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে ৫০ জনের মতো বাংলাদেশি আছেন। তবে ২০ জন বাংলাদেশির আশ্রয়ের আবেদন গৃহীত হয়েছে।
রাসেল এখন কি করবেন? তিনি কি দেশে ফিরে যেতে চান?
যখন টেলিফোনে বাবা-মার সঙ্গে কথা হয়, তখন তারা দেশে ফিরে যেতে বলেন।
"আমি কিভাবে যাবো। ১২ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য। এখন কোন মুখে দেশে ফিরে যাবো? কিভাবে তাদের মুখ দেখাবো। আমি দেশে ফিরে যেতে চাই না।"
তাহলে আপনি এখন কি করবেন?
"আত্মহত্যা ছাড়া আর উপায় নেই। শুধু আমি না, আমার সঙ্গে যারা আছে, তাদেরও একই চিন্তা। আপনি লিখে রাখেন, আমি রাসেল মাহমুদ, যদি আমাকে দেশে ফেরত পাঠায়, আমি আত্মহত্যাই করবো।"
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

‘মুফতি হান্নানের রায় কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত’

মুফতি হান্নানসহ দণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসির রায় কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। বুধবার ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের যমুনা ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। কারা মহাপরিদর্শক বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্বাহী আদেশ এখনো আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। সরকারের আদেশ পেলেই  মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।  সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত থেকে তাঁর (মুফতি হান্নান) আপিল খারিজ হয়েছে। এটা আপনারা জানেন সবাই। নিয়ম অনুযায়ী এটা এখন সেন্টেন্সিং কোর্টে (বিচারিক আদালত) যাবে। সেখান থেকে ওয়ারেন্ট অব এক্সিকিউশনটা (মৃত্যু পরোয়ানা) ইস্যু হবে।’
‘তো সেটার জন্য, সেন্টেনসিং কোর্ট হলো সিলেট। সিলেটে সেটা পাঠানো হয়েছে এবং আমাদের কর্মকর্তারা সেটা মনিটর করছেন, যাতে যত শিগগিরই আমাদের হাতে ওয়ারেন্ট অব এক্সিকিউশন এসে পৌঁছায়। তার পরে আমরা জেল কোড অনুযায়ী বাকি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ এর আগে কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মুফতি হান্নান ও বিপুল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার ইংগিত দিয়েছেন। আর রিপন সিলেট কারাগারের কর্মকর্তাদের বলেছেন, তার সিদ্ধান্ত তিনি পরে জানাবেন। কারাবিধি অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে তারা ওই আবেদন করতে পারবেন। প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সরকার তারিখ ঠিক করে দেবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ আসামিদের দণ্ড কার্যকর করবে।

এখন বাকি প্রাণভিক্ষা

২০০৪ সালে সিলেটে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা ও তিনজনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জঙ্গির রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অপর দুজন হলেন শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপন। পাঁচ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারিক আদালত (সিলেট)-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, রায় কারাগারে পৌঁছানোর পরপরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে মুফতি হান্নানসহ তিনজন প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না, তা জানতে চাওয়া হবে। যদি প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন, তাহলে এর নিষ্পত্তি করতে যতক্ষণ সময় লাগে, তারপর দণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাইলে কারাবিধি অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করবে।
কারাবিধির ২১ থেকে ২৮ দিনের বিধান প্রশ্নে মাহবুবে আলম বলেন, ২১ দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে আপিল বিভাগের রায় (আপিল খারিজের রায়) যেদিন কারাগারে পৌঁছে সেদিন থেকে। এরপর মৃত্যু পরোয়ানাও জারি হয়। তবে রিভিউ করার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। রিভিউর রায় পাওয়ার পর এখন সে প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে। আগে যদি পাঁচ দিন ব্যয় হয়ে থাকে, ধরতে হবে ২১ দিনের মধ্যে পাঁচ দিন আগে ব্যয় হয়েছে। দণ্ড কার্যকরে সরকারের আলাদা নির্দেশের প্রয়োজন নেই। কেননা, কারাবিধিতে সব বিধি-বিধান উল্লেখ করা আছে। কারাগার সূত্র বলেছে, মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল কাশিমপুর কারাগারে এবং দেলোয়ার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ওই তিনজনের করা আবেদন ১৯ মার্চ খারিজ করেন আপিল বিভাগ। গতকাল সকালে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজি-প্রিজন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট,
সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক আদালত (সিলেটের) ও অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। সিলেটে ডাকযোগে রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাঠানো হয়। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ফটকের কাছে গ্রেনেড হামলায় ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীসহ ৭০ জন আহত হন, নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। ওই ঘটনায় করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান, জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ও দেলোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের আপিল ৭ ডিসেম্বর খারিজ করেন আপিল বিভাগ। এর পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১৭ জানুয়ারি প্রকাশ পায়। এরপর আসামিদের মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠানো হয় ও তা পড়ে শোনানো হয়। আসামিরা ২৩ ফেব্রুয়ারি রিভিউ আবেদন করেন, যা ১৯ মার্চ খারিজ হয়।

সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত পুঁজিবাজারে

সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। আজ বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস দৈনন্দিন লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে দুই পুঁজিবাজারে। ডিএসইতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫৭৪৫ পয়েন্টে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬৫৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। গতকাল এ সময় পর্যন্ত লেনদেনর পরিমাণ ছিল ৬৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮১টির,
কমেছে ৯২টির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪টি কোম্পানির। গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৫৭২৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে, সিএসইতে আজ দুপুর ১২টা নাগাদ সার্বিক সূচক বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট। মোট লেনদেনের পরিমাণ ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। গতকাল এ সময় পর্যন্ত লেনদেনর পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ৬৯টির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কোম্পানির।

শুরু হয়েছে চার দিনের থাই মেলা

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে চার দিনের থাই মেলা। সকালে ‘থাইল্যান্ড উইক-২০১৭’ নামের এ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মেলার উদ্বোধনকালে তোফায়েল আহমেদ থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হলে তাঁদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ করা দেওয়া হবে। এ সময় থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাই রাষ্ট্রদূত মিস পানপিমন সুওয়াননাপঙ্গি। বাংলাদেশে থাই রাষ্ট্রদূতের সহায়তায় এ মেলার আয়োজন করেছে থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ। এবারের মেলায় রয়েছে বিভিন্ন থাই পণ্য ও সেবাসমূহ। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে এই মেলা। তবে ২২ ও ২৩ মার্চ শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য এবং ২৪ ও ২৫ মার্চ সবার জন্যই মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বাড়ছে গমের চাহিদা

সকালে পান্তা ভাত খেয়ে রিকশা নিয়ে ভাড়া খুঁজতে বের হতেন মো. ফারুক। তবে চালের দাম বাড়ায় দুপুর-রাতের খাওয়া ঠিক থাকলেও সকালের ভাত বাদ দিয়েছেন। খরচ সমন্বয় করতে এখন সকালে রুটি খেয়ে বের হন তিনি। ফারুকের কথায়, চালের বদলে আটা কেনায় এখন পাঁচ সদস্যের পরিবারে মাসে কিছু টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। ফারুকের মতো নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ এখন ভাতের ওপর চাপ কমিয়ে রুটি খাচ্ছেন। আবার মধ্য ও উচ্চবিত্তদের অনেকে দুই বেলার পরিবর্তে এক বেলা ভাত খাচ্ছেন। তাঁরা খরচ সাশ্রয়ের জন্য নয়, স্বাস্থ্যসচেতনতার জন্য রুটি খাচ্ছেন। মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসায় গমের ব্যবহার বাড়ছে বেশ কিছুদিন ধরে। উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানি করেই মেটাতে হচ্ছে গমের এ চাহিদা। চলতি অর্থবছরের সাড়ে তিন মাস বাকি থাকতেই গম আমদানিতেও রেকর্ড হয়েছে। অর্থবছর শেষে গম আমদানি এবার অর্ধকোটি টনে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। খাদ্য বিভাগ ও বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, গত সোমবার পর্যন্ত এ অর্থবছরে (৮ মাস ২০ দিন) গম আমদানি হয়েছে ৪৩ লাখ ৮৬ হাজার টন। আমদানি ছাড়াও এবার গত মৌসুমের চেয়ে ১ লাখ টন বেশি বা ১৪ লাখ ৩০ হাজার টন গম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। এ হিসাবে এ অর্থবছরে গমের সরবরাহ দাঁড়াতে পারে ৬৫ লাখ টনে। খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, এর আগে সবচেয়ে বেশি গম আমদানি হয়েছিল ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। ওই বছর সরকারি-বেসরকারি ও বৈদেশিক সাহায্য থেকে আসা গমের পরিমাণ ছিল ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার টন। এ ছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তৃতীয় সর্বোচ্চ বা ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার টন এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে চতুর্থ সর্বোচ্চ বা ৩৭ লাখ ৫২ হাজার টন আমদানি হয়। গমের চাহিদা বাড়ার কারণ সম্পর্কে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মূলত আটার চেয়ে চালের দাম বেশি বাড়ায় গমের চাহিদা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরাও এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে গম আমদানি করছেন। স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ায় মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে, যা গমের চাহিদা বাড়াচ্ছে। বাজারে এখন গম থেকে তৈরি প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা দরে। সরকারি হিসাবে, মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকায়। আটা ও চালের দামের ব্যবধান প্রায় ১২ থেকে ১৪ টাকা, যা এক-দুই বছর আগেও ছিল দুই-তিন টাকা। এর ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ আটার তৈরি খাদ্যে বেশি ঝুঁকছে। আমদানি তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা যায়, বাজারে আমদানি হওয়া গমের বেশির ভাগই সাধারণ আমিষযুক্ত, যা আমদানি হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে। এ ধরনের গম ব্যবহার হয় আটা তৈরিতে, যার ক্রেতা নিম্ন আয়ের মানুষ। এই গমে আমিষের মাত্রা সাড়ে ১০ থেকে ১১ শতাংশ।
এ অর্থবছরে আমদানি হওয়া গমের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে। পরিমাণে কম হলেও মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারে গম থেকে তৈরি খাদ্যপণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। রেস্তোরাঁয় নতুন নতুন খাবার ও বেকারি পণ্য তৈরিতে উচ্চ আমিষযুক্ত গমের ব্যবহার বেশি হয়। এ ধরনের গম আমদানি হয় কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনা থেকে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এসব দেশ থেকে উচ্চ আমিষযুক্ত গম আমদানি হয়েছিল মোট আমদানির ১০ শতাংশ। তবে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। এর বাইরে দেশে তালিকাবদ্ধ ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশে এখন ডায়াবেটিক রোগী আছেন ৭১ লাখ, যাঁরা এক বেলা ভাতের পরিবর্তে রুটি খান। চাহিদা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছেন তাঁরাও। চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরাও গম আমদানিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। গম আমদানির ৯৫ শতাংশ আসছে ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। বেসরকারি খাতে সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ ও বিএসএম গ্রুপ গম আমদানিতে এক দশকের বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে। গমের চাহিদা বাড়ায় এখন এসব বড় শিল্প গ্রুপের পাশাপাশি নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান গম আমদানি ও আটা-ময়দা তৈরির কারখানায় যুক্ত হয়েছে। খাদ্য বিভাগের তথ্যেও দেখা যায়, প্রধান দুই খাদ্যশস্য চাল ও গমের মধ্যে এখনো চালের প্রাপ্যতা ৮৫ শতাংশ। তবে গমের প্রাপ্যতা দিন দিন বাড়ছে। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে গমের প্রাপ্যতা ৭ শতাংশ বেড়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য বিভাগের হিসাবে, গত অর্থবছরে জনপ্রতি গমের প্রাপ্যতা ছিল দিনে ৯৩ গ্রাম। আমদানি বাড়ায় এ বছর তা ১০০ গ্রাম ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৫৫০ একর জমি উন্নয়ন করবে ৩ কোম্পানি

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এর ৫৫০ একর ভূমি উন্নয়নের কাজ পেয়েছে দেশের তিনটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম। এ কনসোর্টিয়ামের নাম পাওয়ার প্যাক-ইস্টওয়েস্ট-গ্যাসমিন কনসোর্টিয়াম। গতকাল মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এই কনসোর্টিয়ামকে ‘লেটার অব অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলটির আয়তন হবে মোট ৩০ হাজার একর। এর মধ্যে কিছু জমি বেজা নিজে উন্নয়ন ও পরিচালনা করবে। কিছু জমি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) উন্নয়ন ও পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া আরও কিছু উপায়ে জমি উন্নয়ন ও পরিচালনা করা হবে।
পাওয়ার প্যাক-ইস্টওয়েস্ট-গ্যাসমিন কনসোর্টিয়াম জমি পেয়েছে পিপিপির ভিত্তিতে। তারা এ জমি উন্নয়ন করে পরিচালনা করবে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। তাঁকে উদ্দেশ করে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী কয়েকটি দাবি জানান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে স্থানীয় চাঁদাবাজি মুক্ত রাখতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তার জন্য সরকারি সংস্থাগুলো কাজ করছে। এরপরে অনুষ্ঠানে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রুরাল পাওয়ার কোম্পানিকে ১৬ একর জমি দেওয়ার জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি হয়।

চুক্তি হলে জুনের আগেই পেপ্যাল সেবা

অনলাইনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনব্যবস্থা পেপ্যালের সঙ্গে পারস্পরিক ব্যবস্থাপনার (ড্রয়িং অ্যারেজমেন্ট) মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরণের অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকটি পেপ্যালের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরণ করতে পারবে। এ ছাড়া ব্যাংকটি পেপ্যালের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দেশে আনার চেষ্টা করছে। এ জন্য আগামী জুনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আশা করছে ব্যাংকটি। এ নিয়ে সোনালী ব্যাংকসহ দেশের পাঁচটি ব্যাংককে এ সেবার জন্য অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুমতি পাওয়া অন্য ব্যাংকগুলো হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ও রূপালী এবং বেসরকারি খাতের সোস্যাল ইসলামী ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের পেপ্যালের জন্য ডলার-টাকায় হিসাব খোলার অনুমতি দিয়েছে। পেপ্যালের সঙ্গে আলোচনা চলছে, চুক্তির শর্তও চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে আমরা চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী। সরাসরি গিয়ে চুক্তি করা না গেলে অনলাইনে চুক্তির বিষয়েও আমরা ভাবছি।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের ফলে কী সুবিধা হলো এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘আমাদের ভাবমূর্তি ভালো হয়েছে। এ ছাড়া পেপ্যালের সঙ্গে চুক্তি করতেও আর কোনো বাধা থাকল না।
চুক্তিটি হলে আমরা সব শাখা, বিকাশ ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমেও সেবাটি দিতে পারব। পোশাকশিল্পের চেয়ে বেশি আয় হতে পারে এর মাধ্যমে।’ জানা গেছে, দেশের বাইরে থেকে রেমিট্যান্স আনার জন্য কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে হয়। রেমিট্যান্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জুম করপোরেশনের মালিকানা কিনে নিয়েছে পেপ্যাল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবার পাশাপাশি রেমিট্যান্স সেবাও দিচ্ছে। এর অনুমতিই পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবাদাতা (ওপিজিএসপি) কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন নেই। যেকোনো ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ওপিজিএসপি চালু করতে হয়। বাংলাদেশে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান এ সেবা চালু করতে পারেনি। পেপ্যালের সাহায্যে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনে অর্থ ও প্রবাসী আয় পাঠানো যায়। সেবাটি বাংলাদেশে চালু করতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ই-কমার্স ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ব্যাংকিং চ্যানেলে ছোট অঙ্কের লেনদেন অসুবিধাজনক হওয়ায় পেপ্যালে লেনদেন তথ্যপ্রযুক্তির উদ্যোক্তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

কোন দেশে কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনপ্রিয়?

১৮০ কোটির বেশি মাসিক ব্যবহারকারী নিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। সে জানা কথা। গোটা চীনেও এত মানুষ নেই। তবে জনপ্রিয়তম হলেও বিশ্বের সব দেশেই কিন্তু শীর্ষে নেই ফেসবুক। এর বড় উদাহরণ চীন। তবে চীনে ফেসবুক নিষিদ্ধ বলেই অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এগিয়ে গেছে, এমনটা ভাবারও সুযোগ নেই। ইতালীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক ভিনসেনজো কসেঞ্জা ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয়তম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো মানচিত্র আকারে প্রকাশ করে আসছেন। সূত্র হিসেবে তিনি ব্যবহার করেছেন অ্যালেক্সা ও সিমিলারওয়েবের তথ্য। এ বছরের জানুয়ারিতেও তিনি সোশ্যাল নেটওয়ার্কের বিশ্ব মানচিত্র প্রকাশ করেন। তাঁর বিশ্লেষণে রাখা ১৪৯টি দেশের মধ্যে ১১৯টিতে ফেসবুক শীর্ষে।
অথচ গত বছর ১৩৭টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করেন তিনি, ফেসবুক শীর্ষে ছিল ১২৯টিতে। অর্থাৎ নতুন ব্যবহারকারী যোগ হলেও কিছু কিছু দেশে শীর্ষ অবস্থান হারাচ্ছে ফেসবুক। এর বেশ কিছু কারণ আছে। রাশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে মেইল ডট আরইউর মালিকানাধীন ভিকনতাকতে ও আদ্‌নাক্লাসনিকি। আফ্রিকার কিছু দেশে শীর্ষে উঠে এসেছে লিংকড-ইন। অন্যদিকে বতসোয়ানা, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো কিছু দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম। চীনে শীর্ষে রয়েছে কিউজোন এবং জাপান বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হলো টুইটার।
সূত্র: ভিনসেনজো কসেঞ্জা ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম

এইচপির নতুন ল্যাপটপ বাজারে

দেশের বাজারে এইচপি ব্র্যান্ডের ৩৪৮ জি৪ সিরিজের নতুন কোর আই ফাইভ ল্যাপটপ বিক্রি শুরু করেছে স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেড। ইনটেল সপ্তম প্রজন্মের প্রসেসরযুক্ত এই ল্যাপটপকে বিজনেস সিরিজ বলা হয়। ল্যাপটপটিতে আছে ৪ জিবি ডিডিআর ফোর র‍্যাম, ১৪.১ ইঞ্চি ফুল এইচডি অ্যান্টিগ্লেয়ার ডিসপ্লে, ৪টি ইউএসবি ৩.০ পোর্ট, ডিভিডি রাইটার, ব্লুটুথ, গিগাবিট ল্যান, এইচডিএমআই ও ভিজিএ পোর্ট, ওয়াইফাই ও ফিঙ্গার প্রিন্ট।
ল্যাপটপে অন্যতম ফিচার হচ্ছে ৭২০০ আরপিএম গতির ১ টেরাবাইট হার্ডড্রাইভ। স্মার্ট টেকনোলজিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ল্যাপটপের দাম ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে দুই বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা রয়েছে। এই সিরিজের অন্য ল্যাপটপগুলো কোর আইথ্রি এবং কোর আই সেভেন প্রসেসরের।

গ্যাস-সংকটের দেশে গ্যাস রপ্তানির চুক্তি

১৪ মার্চ বিনা দরপত্রে রপ্তানির সুযোগ রেখে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের ১২ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সরকার দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি পস্কো দাইয়ু করপোরেশনের সঙ্গে উৎপাদন বণ্টন চুক্তি বা পিএসসি স্বাক্ষর করেছে। শুধু রপ্তানি নয়, বিদেশি কোম্পানির অংশীদারত্ব বৃদ্ধি, শুল্ক মওকুফ, গ্যাসের কেনা দাম বৃদ্ধিসহ আরও নানা সুবিধা দিয়ে যে চুক্তি করা হয়েছে, তা দেশের জন্য আরেকটি আত্মঘাতী জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির নজির হয়ে থাকল। এ রকম বলা হচ্ছে কারণ প্রথমত, একদিকে দেশের গ্যাস-সংকটের কথা বলা হচ্ছে অন্যদিকে সেই সংকট সমাধানের ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো রপ্তানির সুযোগ রেখে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পুরো চুক্তি প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ। বিনা দরপত্রে গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে এটি করা হয়েছে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামসহ নানা সুবিধা দিয়ে তাদের কাছ থেকে গ্যাস কেনার চুক্তি হয়েছে এবং চতুর্থত, এই ধারার চুক্তির জন্য অপেক্ষায় চীন, ভারত, মার্কিনসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি। ব্লু ইকোনমির আড়ালে, সীমানা নিষ্পত্তির সুযোগে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র সম্পদে বিদেশিদের কর্তৃত্ব কায়েম করার পথে সরকার অগ্রসর হচ্ছে। একই ধরনের চুক্তি হলে সমুদ্রের বিশাল সম্ভাবনাময় তেল-গ্যাস সম্পদ উজাড় হতে বেশি সময় লাগবে না। এর আগে ২০১৪ সালে ভারতের ওএনজিসি অগভীর সমুদ্রের ৪ ও ৯ নম্বর ব্লক, সিঙ্গাপুরের কোম্পানি ক্রিস এনার্জি এবং অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি সান্টোস যৌথভাবে ১১ নম্বর ব্লকের ইজারা পেয়েছে। দায়মুক্তি আইন, যা ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ নামে পরিচিত,
তাকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকার একের পর এক চুক্তি করছে। এই দায়মুক্তি আইন হচ্ছে অস্বচ্ছতা-দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে জবাবদিহির পথ বন্ধ করার চেষ্টা। ২০১২ সালের সংশোধিত পিএসসি মডেলে চুক্তি সই হয়েছে পস্কো দাইয়ুর সঙ্গে। কস্ট রিকভারি বা বিনিয়োগ না উঠে আসা পর্যন্ত তেল-গ্যাসের হার ৫৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের অর্ধেক পাবে পেট্রোবাংলা, যা মোট গ্যাসের ১৫ শতাংশ, বাকি অংশ কেনার দামও এবার বাড়ানো হয়েছে। প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম সাড়ে ৬ ডলার বা প্রায় ৫০০ টাকা। উপরন্তু প্রতিবছর ২ শতাংশ করে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। মার্কিন আর্থিক সংস্থা নাসদাকের বিবরণীতে, ১৯ মার্চ, ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের ভবিষ্যৎ দাম এখন ৩ মার্কিন ডলার থেকেও কম। এটা আকস্মিক নয়, কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের এই চিত্র। তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম এখনো কমের দিকেই, সর্বশেষ হিসাবে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ মার্কিন ডলারের নিচে। কয়েক বছর ধরে তেলের দামের এই নিম্নগতি। কিন্তু আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের যা দাম সে অনুযায়ী বাংলাদেশে তেলের দাম কমানো হবে না, বরং আগের বেশি দামেই বাংলাদেশের মানুষকে তেল কিনতে হবে। আর আমাদের নিজেদের প্রাকৃতিক গ্যাস বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে হবে আন্তর্জাতিক দামের দ্বিগুণেরও বেশি দামে। জ্বালানির দাম হ্রাসের সুবিধা অর্থনীতি পাবে না, উদ্যোক্তারা পাবে না, দেশের মানুষ পাবে না। বরং গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে এদের সবার ওপর বোঝা বাড়ানো চলতেই থাকবে। এটাই সরকারের ‘দৃঢ়তা’, এটাই উন্নয়ন দর্শন! বলা হয়,
তেল-গ্যাস অনুসন্ধান অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আসলে কতটা? প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে পাঁচ বছরে ১২ নম্বর ব্লকে এই কোম্পানি ৩ হাজার ৫৬০ বর্গকিলোমিটারে এক হাজার মিটার গভীর থেকে দুই হাজার মিটারে অনুসন্ধান করবে। সব মিলিয়ে এই পাঁচ বছরে পস্কো দাইয়ু করপোরেশন নিচে প্রায় ৬ কোটি এবং ওপরে প্রায় ১১ কোটি ডলার খরচ করবে। টাকার অঙ্কে তার পরিমাণ হয় নিচে প্রায় ৪৫০ কোটি এবং ঊর্ধ্বে প্রায় ৮৮০ কোটি টাকা। এসব কাজও তারা করাবে সাব কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে। সর্বোচ্চ সীমাও যদি ধরি এই ব্যয়ের পরিমাণ হয় বছরে ২০০ কোটি টাকারও কম। এই পরিমাণই বিশাল পুঁজি, যা বিরাট ঝুঁকি এবং যা বাংলাদেশের নেই? মাগুরছড়ায় মার্কিন কোম্পানি ও টেংরাটিলায় কানাডীয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল উন্নয়ন আর দক্ষতার কথা বলেই। এই দুটো ক্ষেত্রে এসব বিদেশি কোম্পানি ৫০০ বিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাস নষ্ট করেছে, যা দিয়ে দেশের বর্তমান ব্যবহারে দেড় বছরের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তার তৎকালীন দাম ধরলে ক্ষতিপূরণ আদায় করার কথা অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকার। কোনো সরকার এই ক্ষতিপূরণ দাবি করেনি, আদায়ের উদ্যোগ তো নয়ই। আর এবারের চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো কথাই নেই। কোম্পানির কারণে সমুদ্রে বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনা ঘটলে তার ক্ষতি আরও অনেক বেশি হবে, কিন্তু কোনো সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। প্রধানমন্ত্রী বরাবরই দাবি করেন, তিনি দেশে ৫০ বছরের গ্যাস মজুত নিশ্চিত না করে গ্যাস রপ্তানির বিরোধী, তাহলে এ ধরনের চুক্তি কেন? তাহলে আমাদের প্রস্তাবিত ‘খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ আইন’ প্রণয়নে অসুবিধা কী? ৫০ বছরের মজুত কি নিশ্চিত হয়েছে? গ্যাস-সংকট বহাল থাকা অবস্থায় কীভাবে গ্যাস রপ্তানি চুক্তি হয়? কীভাবে সরকারের রপ্তানি নীতিতে খনিজ সম্পদ রপ্তানিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়? বস্তুত বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট সমাধানে বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদ আগামী কয়েক দশকে প্রধান অবলম্বন হতে পারে। এই সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও ব্যবহারের যথাযথ নীতি গ্রহণ করলে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কিংবা দেশধ্বংসী রূপপুর প্রকল্পের কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। বরং গ্যাস সম্পদের ব্যবহার করে সুলভে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোও সম্ভব হয়,
উৎপাদনশীল খাতও ব্যাপক গতি পেতে পারে। অথচ সরকার উল্টোযাত্রা করছে, এই সম্পদ দেশের কাজে শতভাগ ব্যবহারের নীতিমালা গ্রহণ না করে যে দামে এবং রপ্তানির যে ধারা রেখে এই চুক্তি করা হচ্ছে, তাতে এই সম্পদ দেশের কাজে লাগানো সম্ভব হবে না বরং এই চুক্তির কারণে দেশের ওপর আরও আর্থিক বোঝা বাড়বে। সম্পদও হারাবে দেশ। সাগরের গ্যাস নিয়ে আত্মঘাতী চুক্তির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ একাধিক কর্মকর্তা মিয়ানমারের দৃষ্টান্ত টানেন। এটা ঠিক, বাংলাদেশের নিকটবর্তী প্রতিবেশী মিয়ানমার গ্যাস রপ্তানিভিত্তিক চুক্তির ওপর নির্ভরশীল থেকেছে দশকের পর দশক। তাদের গ্যাসের মজুত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তারপরও সেখানে রয়েছে বিদ্যুতের সংকট, শিল্পায়নের সংকট। দারিদ্র্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদিতে বাংলাদেশের চেয়েও পিছিয়ে সেই দেশ। সেখানে মোট রপ্তানি আয়ের অর্ধেকই আসে গ্যাস রপ্তানি থেকে। বিশ্বজুড়ে গ্যাসের দাম পড়ে যাওয়ায় সেই আয়ও কমে গেছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছে ১৮২ কোটি মার্কিন ডলার, গত বছর এই সময়কালে আয় ছিল ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। রপ্তানি দাম প্রতি হাজার ঘনফুটে ২০১৬-র মার্চ মাসে ১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে নেমে গিয়েছিল। (মিয়ানমার টাইমস, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬) নিজেদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংকট সমাধান না করে মিয়ানমার কেন তার সীমিত সম্পদ রপ্তানি করছে? করছে কারণ তার সুবিধাভোগীরই ক্ষমতা আঁকড়ে ছিল। দেশি সামরিক জান্তা, তার সহযোগী ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এবং বিদেশি কোম্পানি। নিজেদের সক্ষমতা বিকাশেও তারা নজর দেয়নি। আফ্রিকার খনিজ সম্পদ-সমৃদ্ধ অনেক দেশের অভিজ্ঞতা এ রকমই। কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে গিয়ে দেশে অগণতান্ত্রিক শাসন টিকে থেকেছে দশকের পর দশক। গোত্রীয় সংঘাত, সহিংসতার পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগ, দেশের চাকচিক্যের আড়ালে দেশের দৈন্যদশা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। বাংলাদেশ যদি মিয়ানমার বা নাইজেরিয়াকে আদর্শ বিবেচনা না করে মালয়েশিয়া, ভারত, চীন বা নরওয়ের দিকে দৃষ্টি দেয়, তাহলে জাতীয় মালিকানা, সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানের বিকাশের দিকেই তার নজর দেওয়ার কথা। এসব দেশের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে সরকারের আগ্রহ, কিন্তু এসব দেশ কীভাবে জাতীয় সক্ষমতা তৈরি করেছে, তার থেকে শিক্ষা নেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। উল্টো জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা বা বাপেক্সে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার যোগ্যতা হলো এই ঘোষণা দেওয়া যে ‘আমরা কিছুই করতে পারব না, আমাদের যোগ্যতা নেই।...এসব চুক্তি করতেই হবে।’ কদিন পরই বাংলাদেশের ৪৬তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হতে যাচ্ছে মহাসমারোহে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশে সর্বজনের বন, খনিজ সম্পদ দেশি-বিদেশি কতিপয় গোষ্ঠীর লোভের শিকার বানানো হচ্ছে, দেশকে স্বাধীন সক্ষম করে গড়ে তোলার গাছে মারা হচ্ছে কুড়াল!
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
anu@juniv.edu

খরচ অনেক বেশি পড়ছে

২৪০০ মেগাওয়াটের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২৬৫ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ভিভিইআর রিঅ্যাক্টর আছে। এর সঙ্গে আমরা যদি সম্ভাব্যতা যাচাই ও কেন্দ্র নির্মাণের খরচ হিসাবে আরও ৫৫ কোটি ডলার যোগ করি, তাহলে মোট মূল্য দাঁড়াবে ১৩২০ কোটি ডলার। দেখাই যাচ্ছে, এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে। এই অর্থ দিয়ে চারটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব।
আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুতের দরকার আছে, কিন্তু সেটা যেকোনো মূল্যে নয়। আমরা যদি বিভিন্ন আকারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচ তুলনা করি, তাহলে কিলোওয়াটপ্রতি দাম হিসাব করা সুবিধাজনক হবে। এই হিসাবে ২৪০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের জন্য ১৩২০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হলে কিলোওয়াটপ্রতি খরচ পড়বে ৫ হাজার ৫০০ ডলার। স্মরণ করা যেতে পারে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২০০৯ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সে বছরের মার্চ মাসে বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে আমি বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনকে (বিএইসি) পরামর্শ দিই, তারা যেন রূপপুরে ১০০০ মেগাওয়াটের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপন করে। তখন আশা করা হয়েছিল, ২০১৮-১৯ সাল নাগাদ এই কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে। ভারতে রাশিয়ার নির্মিত দুটি একই রকম রিঅ্যাক্টর স্থাপনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তখন ধারণা করা হয়েছিল, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খরচ কিলোওয়াটপ্রতি দুই হাজার ডলারের বেশি পড়বে না। ভারতের কুন্দনকুলানে ওই দুটি রিঅ্যাক্টর স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে, তার প্রকৃত খরচ ছিল কিলোওয়াটপ্রতি ১ হাজার ৩০০ ডলার। দুর্ভাগ্যবশত, ২০১৩ সাল পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ খুব ধীরে ধীরে এগিয়েছে। তখন বিএইসি সম্ভাব্যতা যাচাই ও কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
বাস্তবতা হলো, ২০০৯ সালে আমিসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা বিএইসিকে প্রকৌশলী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলাম। এরপর তারা সেই আলোকে কাজ শুরু করতে পারত। এত দিনে তারা বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অর্জন করতে পারত। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ সম্পর্কে অনভিজ্ঞতার কারণে তারা এ সুযোগ হারিয়েছে। পারমাণবিক কেন্দ্রের জনবল সম্পর্কে আইএইএ বলেছে, ‘যোগ্য জনবল ছাড়া কোনো পারমাণবিক কেন্দ্র যথাযথভাবে পরিকল্পনা, নির্মাণ ও পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এটা ছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না।’ এতে আরও বলা হয়েছে, ‘চুক্তিতে যা-ই থাকুক না কেন, কিছু কাজ করা খুবই জরুরি, যার দায়দায়িত্ব স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। এই কাজটা মূলত যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয় জনশক্তিকে করতে হবে।’ কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা অনুসরণ না করেই আমরা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছি। পরিষ্কারভাবেই ব্যাপারটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের মতো হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমরা শুধু বিএইসিকে দোষারোপ করতে পারি না, কারণ, তারা দিন দিন স্বায়ত্তশাসন হারাচ্ছে। অন্যদিকে রূপপুরসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত মূলত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নিয়ে থাকে। ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমায় পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটার পর অনেক দেশই, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলো, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর রাশিয়া, চীন ও ভারত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও ডিজাইনে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এতে পারমাণবিক বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।
উদাহরণস্বরূপ, কুন্দনকুলামের নতুন দুটি ইউনিটের ভিভিইআর-১০০০ রিঅ্যাক্টরের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কিলোওয়াটপ্রতি তিন হাজার ডলার, যেখানে প্রথম দুটি ইউনিটের জন্য এই রিঅ্যাক্টরের দাম পড়েছিল কিলোওয়াটপ্রতি ১৩০০ ডলার। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দেরি হওয়ায় ২০১৩ সালের মার্চ মাসে আমি পরামর্শ দিই, দুটি ভিভিইআর-১০০০ রিঅ্যাক্টরের জায়গায় একই সংখ্যক ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। আমি বেশ কিছু বিবেচনায় এই পরামর্শ দিয়েছিলাম: ক. এই দেরির কারণে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প ২০২৩ সালের আগে কার্যক্ষম হওয়ার সম্ভাবনা কম। সে সময় নিরাপদভাবেই ১২০০ মেগাওয়াটের রিঅ্যাক্টর জাতীয় গ্রিডের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। অর্থনৈতিক সূত্র অনুসারে (ইকোনমি অব স্কেল), বড় কেন্দ্রের খরচ ছোট কেন্দ্রের খরচের চেয়ে কম। খ. ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর-সংবলিত কেন্দ্রে মডুলার ও কমপ্যাক্ট ডিজাইন অন্তর্ভুক্ত করা যায়, এর মাধ্যমে খরচ ব্যাপক হারে কমানো সম্ভব। গ. ভিভিইআর-১০০০ রিঅ্যাক্টরের চেয়ে ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা-বৈশিষ্ট্য অধিকতর উন্নত। অবশেষে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন (বিএইসি) দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এর জন্য কিলোওয়াটপ্রতি সাড়ে পাঁচ হাজার ডলার খরচ পড়বে। এটা রীতিমতো ধাক্কা খাওয়ার মতো, কারণ এতে উল্লিখিত খরচ হ্রাসের ব্যাপার নেই। বাস্তবতা হলো, এর দাম কিলোওয়াটপ্রতি ৩ হাজার ডলারের বেশি হওয়ার কথা নয়। দুটি বড় শীতক টাওয়ার ও রূপপুরের মাটির নিম্নমানের কারণে রিঅ্যাক্টর নির্মাণে ভারী ভিত তৈরি করতে হবে। ফলে সব মিলিয়ে খরচ সর্বোচ্চ কিলোওয়াটপ্রতি চার হাজার ডলারের বেশি হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু সাড়ে পাঁচ হাজার ডলার একেবারেই অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ, একই জিনিস রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ ২ ও নভোভোরোনেঝ ২-এ বসাতে রূপপুরের অর্ধেক খরচ হয়েছে। এই মূল্য দেওয়ার কারণ হচ্ছে, আমাদের আলোচনাকারীদের ব্যাপারটা যথাযথভাবে নিরীক্ষণ করার প্রয়োজনীয় বিশেষ জ্ঞান নেই। কথা হচ্ছে, আমরা যদি ইউরোপ, ভারত ও বাংলাদেশে একই পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপন করি, তাহলে আমাদের দেশে খরচ অনেক কম পড়ার কথা। কারণ, আমাদের শ্রমিকের মজুরি ও উপকরণগত খরচ অনেক কম। আমরা সাধারণত বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচকে তিন ভাগে ভাগ করি: ১. যন্ত্রপাতি, ২. উপকরণ, ৩. শ্রমমূল্য। যন্ত্রপাতির খরচ স্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ ইউরোপের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, উপকরণ ও শ্রমমূল্যের সাপেক্ষে আমাদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খরচ হিসাব করা যাবে। সে হিসাবে ভারত ও বাংলাদেশে খরচ কম পড়ার কথা। এখন গুরুতর প্রশ্ন হচ্ছে, রূপপুরের খরচ কেন রাশিয়ার ওই দুটি কেন্দ্রের চেয়ে বেশি পড়বে, যেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকের খরচ রাশিয়ার শ্রমিকের খরচের ছয় ভাগের এক ভাগ। আমাদের আলোচনাকারীরা কি এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন? এ ব্যাপারে ভারতের কিছু বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা আছে। ফলে তারা কুন্দনকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর খরচের ব্যাপারে সফলভাবে আলোচনা করতে পেরেছে।
আমাদের আলোচনাকারীরা তা করতে পারেননি। এমনকি তাঁরা স্বাধীন পরামর্শক ও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেননি। তবে এখনো হয়তো বেশি দেরি হয়নি। যন্ত্রপাতি, উপকরণ ও শ্রমমূল্যের মধ্যে কিছুটা সমন্বয় এনে খরচ কমানো যায়। আমরা স্থানীয় প্রকৌশলী ও দক্ষ বা আদা-দক্ষ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নির্মাণের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারি। আমরা যদি খরচ পুনর্নির্ধারণ করে কিলোওয়াটপ্রতি চার হাজার ডলারের নিচে নামিয়ে আনতে পারি, তাহলে ৩৬০ কোটি ডলার বেঁচে যাবে। এটা আরও একটি পদ্মা বা যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য যথেষ্ট। আবার আমরা ভারতের মতো ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর বাদ দিয়ে ভিভিইআর-১০০০ রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করতে পারি। আমার যদি কিলোওয়াটপ্রতি চার হাজার ডলার ব্যয় করি তাহলেও তিনটি ১০০০ মেগাওয়াটের রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা যায়, ১২০০ কোটি ডলার খরচ করে যেখান থেকে মোট ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। অর্থাৎ ১২০ কোটি ডলার কম খরচ করে ৬০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। চুক্তি নিয়ে পুনরালোচনা সহজ নয়। কিন্তু আমাদের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় সে চেষ্টা করা বাঞ্ছনীয়। প্রথমত, আমাদের একজন স্বাধীন ও অভিজ্ঞ পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলা খুবই দরকার। দ্বিতীয়ত, সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তৃতীয়ত, বিষয়টি রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।

মোদি ও যোগী মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

কংগ্রেস যে পাঞ্জাব দখল করবে এবং বিজেপি উত্তর প্রদেশ, এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না। পাঞ্জাবে টানা ১০ বছরের শাসন অকালি দলের জনপ্রিয়তা কোন তলানিতে নিয়ে গিয়েছিল, তা বোঝার জন্য পঞ্চনদের দেশে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। দিল্লি বসে নানান সূত্রে শাসক অকালি দলের ভরাডুবির খবর আসছিল। আম আদমি পার্টি ওই রাজ্যে ভোটে দাঁড়ানোয় কংগ্রেসের আরও সুবিধে হয়।
রাজ্যের গ্রামাঞ্চল এবং শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারতের এই নবীনতম দলের প্রভাব অকালি দলের ভোটে ভাগ বসায়। ফলে শহরাঞ্চল ও অশিখ সম্প্রদায়ের সমর্থনে কংগ্রেস ড্যাং ড্যাং করে জিতে যায়। উত্তর প্রদেশের ভোট অবশ্য পাঞ্জাবের মতো এত সরল ছিল না। কিন্তু দেখা গেল, ২২ কোটি মানুষের এই রাজ্য, যাকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলে ডাকা হয়, বিজেপি জিতে নিল প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ৪০৩টির মধ্যে ৩২৫ আসন জেতার মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, বিজেপিকে কেউই বিন্দুমাত্র বেগ দিতে পারেনি। খড়কুটোর মতো ভেসে গেল সমাজবাদী পার্টি-কংগ্রেসের জোট ও বহুজন সমাজ পার্টি। বোঝা গেল, লোকসভা ভোটের সময় নরেন্দ্র মোদির নামে যে ঝড়টা রাজ্যে বয়ে গিয়েছিল, তিন বছর পরেও তার তীব্রতা বিন্দুমাত্র কমেনি। পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল প্রকাশিত হয় ১১ মার্চ। তার দুদিন আগে ৯ মার্চ টেনিসের পরিভাষা ধার করে প্রথম আলোয় উপসম্পাদকীয়তে লিখি, উত্তর প্রদেশে ‘অ্যাডভান্টেজ মোদি’। লিখেছিলাম ঠিকই, কিন্তু পাঠকদের কাছে এ কথা কবুল করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই, এই অ্যাডভান্টেজ যে ৬-১, ৬-১, ৬-১-এর মতো স্ট্রেট সেটে জেতা হবে, তা আমি ভাবিনি। শুধু আমি কেন, স্বয়ং নরেন্দ্র মোদিও সম্ভবত বুঝতে পারেননি, রাজ্যের মানুষ এমন প্রবলভাবে শুধু তাঁর জন্য বিজেপির পদ্মফুলের পাশের বোতাম টিপবে! বুঝতে পারলে প্রচারের শেষ তিনটা দিন ওইভাবে এক ডজন মন্ত্রী নিয়ে বারানসির মাটি কামড়ে তিনি পড়ে থাকতেন না। উত্তর প্রদেশের ভোট জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এবারের ভোট আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল অনেকগুলো কারণে। প্রথমত, বেশি আসনে জেতা মানে এই জুলাইয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে পছন্দসই প্রার্থীকে জিতিয়ে আনা সহজতর হবে। দ্বিতীয়ত, আগামী বছর রাজ্যসভার যে আসনগুলো খালি হবে, সেগুলোর অধিকাংশ বিজেপি জিতে বিরোধীদের সঙ্গে শাসক দলের ফারাক কমিয়ে আনতে পারবে। তৃতীয়ত, যে সিদ্ধান্তগুলো বিরোধীদের চাপে বিজেপি নিতে পারছে না, তা সহজেই নিতে পারবে। ভোট শেষে দেখা গেল, চার রাজ্যে তারা যতগুলো আসন পেয়েছে, তা এই তিনটি লক্ষ্য পূরণে সহায়ক। বিজেপির সবচেয়ে বড় লাভ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের মানুষের আস্থা যে অটুট, তা প্রমাণিত হওয়া। জাতীয় নেতা হিসেবে এ মুহূর্তে তাঁর ধারেকাছে যে কেউ নেই তা প্রতিষ্ঠিত হলো। মোদির নেতৃত্বে কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপিও একমাত্র সর্বভারতীয় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেল। বিজেপি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে নরেন্দ্র মোদির ‘কংগ্রেসমুক্ত ভারত’ গড়ার ডাক প্রায় সত্য হতে চলেছে। উত্তর প্রদেশে বিজেপির এই রেকর্ড জয়ের কারণ কী কী? আমার মতে, প্রথম কারণ, মোদির ভাবমূর্তি। তাঁর প্রতি দেশের অধিকাংশ মানুষের আস্থা এখনো নিটোল। প্রশাসক হিসেবেও তিনি দুর্নীতিমুক্ত সরকার উপহার দিতে সফল। মানুষ দেখছে, তিন বছরের রাজত্বে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে একটাও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। দ্বিতীয় কারণ, উত্তর প্রদেশের জাতপাতের বিভাজনকে দারুণভাবে ম্যানেজ করা। দলিত মানেই মায়াবতীর অনুগত এবং অনগ্রসর মানেই মুলায়ম-অখিলেশের তাঁবেদার, দীর্ঘ কয়েক দশকের এই ধারণা বিজেপি ভেঙে দিতে পেরেছে। ঘরের মধ্যে ঘরের মতো তারা গড়ে তুলেছে নিজেদের সমর্থক গোষ্ঠী। সমাজবাদী শাসন এক অর্থে যাদবদের শাসন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক যেমন দলিত উন্নয়ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল শুধুই জাটভ গোষ্ঠীর (মায়াবতীর জাত) অগ্রগতি। এই দুই জাতকে বাদ দিয়ে অন্য অনগ্রসর ও অন্য দলিতদের মধ্যে তিন বছর ধরে বিজেপি তার প্রভাব বিস্তার করেছে। লোকসভার মতো বিধানসভাতেও তাই তার সুফল তারা পেল। বিজেপির বিপুল জয়ের তৃতীয় কারণটি মুসলমান জনগোষ্ঠীর ভোট বিভাজন। বিজেপি একজন মুসলমানকেও এবার প্রার্থী করেনি, মায়াবতী প্রার্থী করেন ৯৯ জনকে। অখিলেশ-রাহুল না মায়াবতী—কাকে সমর্থন করবে সেই ধন্দে পড়ে মুসলমান ভোট গোটা রাজ্যেই বিভাজিত হলো। রাজ্যের শিয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ অটল বিহারি বাজপেয়ির সময় থেকেই বিজেপির সমর্থক। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু তিন তালাকের বিরোধিতা করায় বহু মুসলমান নারী মোদির জন্য বিজেপিকে এবার ভোট দিয়েছেন বলে প্রচার চলছে। নির্বাচন কমিশনের কোনো তথ্যে অবশ্য এখন পর্যন্ত এই প্রচারের পক্ষে সমর্থন মেলেনি। বিজেপি উত্তর প্রদেশ শাসন করেছে ১৫ বছর আগে। কংগ্রেস এই রাজ্য হারিয়েছে ২৭ বছর আগে। এই রাজ্যের ভোটার কেন্দ্র ও রাজ্যে কংগ্রেসের শাসন কেমন তা জানেন। মুলায়ম ও মায়াবতীর শাসন কেমন তা-ও জানা। অজানা বলতে দুটি বিষয়। পারিবারিক বাঁধন-ছেঁড়া অখিলেশ ও রাহুলের ওপর ভরসা রেখে তাঁদের রাজ্য শাসন করতে দেওয়া ছিল একটি পছন্দ, অন্য পছন্দ মোদির ওপর ভরসা রেখে তাঁর দলকে সুযোগ দিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির শাসনের স্বাদ নেওয়া। উত্তর প্রদেশের মানুষ দ্বিতীয় পছন্দকেই আঁকড়ে ধরেছে। এখানেও মোদি হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রধান আকর্ষণ। নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর আস্থাভাজন সভাপতি অমিত শাহ শেষ পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যাঁকে বেছে নিয়েছেন, সেটাও একটা দুর্দান্ত চমক। শুধু চমকই নয়, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শক্তির কাছে এটা এক বিরাট ধাক্কা। ৪৪ বছরের গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী যোগী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের গোরক্ষপুর কেন্দ্র থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত সাংসদ। ‘লাভ জেহাদ’-এর বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম গলা উঁচিয়েছিলেন। শাহরুখ খানকে ধমকে ছিলেনও তিনিই।
বরাবর তাঁর গরম-গরম কথা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এ হেন আদিত্যনাথকে মোদি-শাহ জুটি বেছেছেন নাকি সংঘ পরিবারের এই সিদ্ধান্ত গিলতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন, এ নিয়ে আপাতত শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সত্যি বলতে কি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আদিত্যনাথের নাম ভোটের আগে ও পরে কোনো প্রচারমাধ্যমে একবারের জন্যও আসেনি। এখন তিনিই শিরোনাম। আবার সেই টেনিসের পরিভাষা ধার করে বলা যায়, ‘ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি’ পেয়ে তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলেন! আদিত্যনাথের উত্থানে যাঁরা বিস্মিত, আমি তাঁদের দলে নই। কারণ, আমার ধারণা, অনেক ভেবেচিন্তেই বিজেপি তাঁকে পছন্দ করেছে। ঠিক যে যে কারণে মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাছা হয়েছিল, আদিত্যনাথকেও বাছা হয়েছে ঠিক সেই কারণেই। মোদির মতোই আদিত্যনাথ সুশাসক। গোরক্ষপুর থাকলে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা তাঁর বাড়িতে জনতা দরবার হয়। দলে দলে মানুষ আসে নানা রকমের সাহায্যের জন্য। হিন্দু-মুসলমান সবার জন্য তাঁর বাড়ি ও আশ্রমের দরজা খোলা। আশ্রমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত রয়েছেন মুসলমানেরা। আদিত্যনাথের একটা চিঠিতেই সমস্যার সুরাহা হয়ে যায়। মোদির মতো তাঁরও সাংগঠনিক শক্তি প্রবল। মোদি যেমন সংসারী নন, সন্ন্যাসী হওয়ায় আদিত্যনাথও সর্বত্যাগী। কাজেই স্বজন-পোষণ বা দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার বাহ্যিক কোনো কারণ তাঁর নেই। মোদির মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার যে ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতা আছে আদিত্যনাথেরও। মোদির দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও তাঁর যথেষ্ট মিল।
সফল হওয়ার যে তাগিদ ও তাড়না মোদির মধ্যে লক্ষ করা গেছে, আদিত্যনাথের মধ্যেও তা পরিলক্ষিত। মোদির মতো তিনিও কড়া ধাতের রাজনীতিক। একবগ্‌গা। ‘টাফ নাট’। উত্তর প্রদেশে বিজেপির যেসব ‘অ্যাজেন্ডা’ রয়েছে (রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা যার অন্যতম), সেগুলো ঠিকঠাক উতরোতে গেলে আদিত্যনাথের মতোই একজন শক্তপোক্ত নেতার প্রয়োজন। ২০১৯-এর লোকসভা ভোট মাথায় রেখে তাঁকে বেছে নিতে বিজেপি নেতৃত্ব ও সংঘ পরিবার তাই দেরি করেনি। আরও একটা বিষয় মনে রাখা দরকার। ২০০২ সালে গোধরার বদলায় গুজরাট দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হওয়ার সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। সম্পত্তিহানির হিসাব-নিকাশ নেই। কিন্তু তার পর থেকে আজ পর্যন্ত গুজরাটে একবারের জন্যও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি। মোদির দল সেখানে আজও ক্ষমতাসীন। ভালোবাসা ভক্তি ও ভয়—দুই দিক থেকেই আদায় করা যায়। কে বলতে পারে, কট্টর হিন্দুত্ববাদী আদিত্যনাথের অভিষেকের পেছনে এই মানসিকতা কাজ করেনি? দেশে কট্টর হিন্দুত্ববাদের প্রতিষ্ঠায় এবারের ভোট যথেষ্ট সহায়ক। বিপক্ষ ছত্রখান ও হীনবল। মোদিকে রুখতে তারা জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করবে। জোট হতেও পারে। কিন্তু কেন্দ্রে জোট সরকারের ইতিহাস মোটেই আহামরি কিছু নয়। বারবার জোট হয়েছে, ভেঙেছেও। কারণ, কোনো জোটই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে গড়ে ওঠেনি। গড়া হয়েছিল তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে। মোদির বিজেপিকে রুখতে তেমন জোট হলে দেশের মানুষ তাকে আমল দেবে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ও সংশয় থাকবেই। দুর্নীতি কল্কে না পেলে ও আর্থিক পরিস্থিতি রসাতলে না গেলে ২০১৯-এ বিজেপির রথের সারথি নরেন্দ্র মোদিকে কিন্তু রোখা কঠিন।
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।

পাকিস্তান দিয়েই ‌সিল্ক রুট হবে : চীন

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর দিয়েই যাবে নতুন সিল্ক রুট। সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল চীন। নতুন সিল্ক রুট নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল ভারত। তাতে আমল দিতে নারাজ বেইজিং। বরং জোরালোভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই ওই পথের কাজ বন্ধ হবে না। ভারতের অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর দিয়ে এই সিল্ক রুট গেলে ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। বিশেষ করে পাকিস্তান এর সুযোগ নেবে। সন্ত্রাসবাদী কার্যলাপ আরো বাড়বে। এই আশঙ্কায় জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে দরবার করেছিল ভারত। চীনের পাল্টা দাবি ছিল, মানব কল্যাণেই এই সিল্ক রুট তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে চীনের সঙ্গে ভারত–পাকিস্তান–আফগানিস্তান–তুর্কমেনিস্তান এক সূত্রে যুক্ত হবে। বাণিজ্যের উন্নতি হবে। জনজীবনে তার প্রভাবও ভালো হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিন্তু চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের এই যুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেন, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ চীনের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তার উপরে দালাই লামাকে নিয়ে ভারতের বিশেষ মনোভাবে যারপরনাই রুষ্ট হয়েছে চীন।
দালাই লামার ভারতে থাকা নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল চীন। এর মধ্যে পর পর কয়েকটি ধর্মীয় সভায় দলাই লামাকে বিশেষ অতিথি করে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। আগুনে ঘি পড়ার মতোই নতুন করে জ্বলে উঠেছে চীন। দু’‌য়ে মিলে সিল্ক রুট নিয়ে স্পষ্ট নিজেদের অবস্থানও সাফ ভারতকে জানিয়ে দিয়েছে বেইজিং। উরি ও পাঠানকোট হামলার পর সন্ত্রাস নিয়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে জিন পিং। এক মাত্র চীনই জাতিসঙ্ঘ পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার বিপক্ষে মত দিয়েছে। ফলে সম্পর্কে তিক্ততা একটু একটু করে বাড়ছিলই। এবার আরও একধাপ চড়ল। শুধু সিল্ক রুট নয়, ভারত মহাসাগর থেকে চীন পর্যন্ত নতুন সড়ক তৈরি করতে চলেছে বেইজিং। সেটি আবার অরুণাচলের গা ঘেঁষে তৈরি হচ্ছে। তাতেও অশনি সংকেত দেখছে ভারত। শিগগিরই রেলপথে ইউরোপ–এশিয়াকেও একযোগে বাঁধতে চলেছে চীন। যা কিন্তু আমেরিকারও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরান-সমর্থিত ইয়েমিনি গ্রুপের যোদ্ধারা সৌদি আরবের গভীর অভ্যন্তরে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আরবি ভাষার আনসারুল্লাহ ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও তার মিত্র যোদ্ধারা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান অঞ্চলের রাজলা সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে স্বল্প পাল্লার আসিফ-১ (টাইফুন-১) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
রাজধানী রিয়াদ থেকে ৮৪৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ওই সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মঙ্গলবার বিকেলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য বিবরণ পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের গোড়ার দিকে গ্রুপটি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছাকাছি একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল।
সূত্র : ওয়েবসাইট