Showing posts with label জীবনযাপন. Show all posts
Showing posts with label জীবনযাপন. Show all posts

Monday, August 24, 2026

ভাই–বোন না থাকলে জীবনের যে ৭টি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন by আবৃতি আহমেদ

জীবনে যে সংকটই আসুক, ভাই-বোন পাশে থাকলে সবকিছুই সহজ হয়ে যায়। যদিও অনেক ক্ষেত্রে ভাই বা বোনটি মুখে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করবে যে আপনার কোনো ক্ষতি হলে তাদের কিছুই আসে যায় না। তাদের সেই সামান্য খোঁচা মারা কথা কিন্তু মুহূর্তেই আপনাকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে। ভালোবাসা, বিশ্বাস ও জীবন নিয়ে আপনাকে সে এমন কিছু শিক্ষা দিতে পারে, যা অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়।

১. নিঃসংকোচ সত্যবাদিতাই সত্যিকারের ভালোবাসা

‘রেড ফ্ল্যাগ! ভুলে যাও’—কোনো কিছু না ভেবে সরাসরি এমন কথা শুধু ভাই-বোনেরাই বলে। আপনার পছন্দের মানুষটির ব্যাপারে কোনো দ্বিধা ছাড়াই আপনাকে সে সাবধান করবে। বলবে, ‘ও ছেলে বা মেয়েটি তোমার জন্য নয়।’ ভাই-বোনেরা কখনো মিষ্টি কথা বলে আপনাকে সান্ত্বনা দেবে না। তাদের সেই নির্মম সত্যবাদিতায় বিরক্ত হয়ে মাঝেমধ্যে নিজের অস্তিত্ব গোপন করতে ইচ্ছা করলেও মন তো ঠিকই জানে যে এটা আসলে একধরনের গভীর ভালোবাসা।

২. উচ্চবাচ্য না করেও অনুগত হওয়া যায়

হয়তো সে আপনার জন্মদিন ভুলে যাবে, কিন্তু আপনার মন ভেঙেছে শুনে ঠিকই রাত তিনটায় আপনার কাছে হাজির হবে। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে ঘুরতে যাওয়া বাতিল করলেও দেখবেন বাসায় আপনার পছন্দের খাবার হাতে নিয়ে ফিরবে। ভাই-বোনেরা শেখায়, আনুগত্য কোনো দেখানোর জিনিস নয়, এটা আসলে অভ্যাস। এটা সেই নিশ্চয়তা দেয় যে কেউ একজন সব সময় আপনার পাশে আছে।

৩. হিংসা করে, আবার উৎসাহও দেয়

একসঙ্গে বড় হওয়ার দরুন অনেক পরিবারেই ভাইবোনদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কাজ করে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এতে মাঝেমধ্যে হিংসা ভাব আসাও স্বাভাবিক। কেউ প্রকাশ না করলেও একজনের ভালো ফল, ভালো চাকরি অন্যজনকে সাময়িকভাবে অপ্রস্তুত করে। তবে এমন মনোভাব দ্রুত কাটিয়ে উঠে ভাই–বোনের সাফল্যে আনন্দিত হই আমরা। নিজে সংগ্রাম করলেও অন্যের সাফল্যে হাসিমুখে আনন্দ করতে এবং উৎসাহ দিতে শিখি।

৪. ক্ষমা করতে শেখায়

প্রিয় পোশাক নষ্ট করেছে কিংবা আপনার সবচেয়ে গোপন কথাটি হয়তো মা–বাবাকে সে-ই বলে দিয়েছে। রাগ করে ‘আর কোনো দিন কথা বলব না’ ঘোষণা দিয়েও ঠিক পরদিনই কিন্তু তার সঙ্গে আবার কথা বলছেন। ক্ষমা যে কোনো নাটকীয় অঙ্গভঙ্গি নয়; বরং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার এবং স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি কৌশলমাত্র, ভাই–বোনের সম্পর্ক আমাদের তা–ই শেখায়।

৫. সবকিছু ভাগ করে নেওয়া

শোবার ঘর থেকে জন্মদিনের কেক, টিভির রিমোট থেকে শুরু করে মানসিক আঘাত—ভাই–বোনের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই চলতে থাকে ভাগাভাগির এই শিক্ষা। কীভাবে আলোচনা করতে হয়, আপস করতে হয় এবং মিটমাট করতে হয়, সবই শেখায় এই সম্পর্ক।
৬.ভালো সম্পর্ক গড়তে একমত হওয়া জরুরি নয়

সম্পূর্ণ ভিন্ন মতামত নিয়ে ঝগড়া করেও কীভাবে একসঙ্গে থাকা যায়, একে অপরকে ভালোবাসা যায়, এই শিক্ষা আপনি আপনার ভাই–বোনের কাছেই পেয়ে থাকেন। সম্পর্ক রাখার জন্য যে সব সময় একই মানসিকতা থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।

৭. ভালোবাসার অনেক রূপ

সব ভালোবাসার ভাষা কাব্যিক নয়। কখনো কেকের বড় টুকরা রেখে দেওয়া, মায়ের বকা থেকে বাঁচানো, কখনো আবার খুনসুটি, গুঁতোগুঁতির মধ্যেও ভালোবাসা লুকানো থাকে। ভালোবাসা প্রকাশের যে অনেক রূপ হতে পারে, তা প্রথমত ভাই-বোনই শেখায়।

সূত্র: ফেমিনা

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2023-10%2Fee94a397-609e-48d8-94a1-b2df66f21832%2F_SY_7375.JPG?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভাইবোনের মতো মধুর সম্পর্ক পৃথিবীতে আর নেই। ছবি: অধুনা

কেবল গ্লুটেন নয়, ফ্রুকটানের জন্যও হয় হজমের সমস্যা—জানিয়েছে দ্য ল্যানসেট সাময়িকী by রাফিয়া আলম

রুটি বা পাউরুটি খেলে হজমের সমস্যায় ভোগেন, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। সাধারণভাবে ধারণা করা হয় যে গ্লুটেনে সংবেদনশীলতার কারণে এ ধরনের সমস্যার উৎপত্তি। খাদ্যতালিকা থেকে গ্লুটেনসমৃদ্ধ খাবার বাদ দিতে বলা হয় তখন। মেনে চলতে হয় গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট। তবে কেবল গ্লুটেন নয়, ফ্রুকটানের মতো উপাদানের কারণেও কারও কারও হজমের সমস্যা হয়। এমনটাই জানিয়েছে দ্য ল্যানসেট সাময়িকী।

ফ্রুকটান কী

ফ্রুকটান হলো গমে থাকা শর্করাজাতীয় উপাদান। এই উপাদান অন্ত্রে পানির পরিমাণ বাড়ায়। কারণ, ফ্রুকটানের বৈশিষ্ট্যই হলো পানি ধরে রাখা।

মানবদেহে ফ্রুকটান হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় সব এনজাইম না থাকায় তা খাওয়ার পর ভাঙে না। এ অবস্থায় ফ্রুকটান যখন বৃহদান্ত্রে পৌঁছায়, তখন সেখানে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এই ফ্রুকটানের ফারমেন্টেশন বা গাঁজন হয়। তাই সেখানে বেশি পরিমাণ গ্যাসও তৈরি হয় এই ফ্রুকটানের কারণে।

অবশ্য কেবল গম নয়, পেঁয়াজ, রসুন, তরমুজ, আঙুর, আনার, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, রাই, বার্লি প্রভৃতিতেও থাকে ফ্রুকটান।

যে সমস্যা হয়

ফ্রুকটানের এমন সব বৈশিষ্ট্যের কারণে পেটব্যথা ও বদহজম হতে পারে। ঢেকুর উঠতে পারে। অতিরিক্ত গ্যাস হতে পারে। কারও কারও মলত্যাগের ধরনেও আসে পরিবর্তন। তবে সবারই এমন সমস্যা হয় না।

যাঁদের ফ্রুকটানে সংবেদনশীলতা আছে, কেবল তাঁদেরই এমন সমস্যা হয়ে থাকে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের ফ্রুকটানের মতো উপাদানে সংবেদনশীলতা থাকতে পারে।

কেবল গ্লুটেনই দায়ী নয়

গমের তৈরি খাবার খেলে যাঁদের হজমজনিত কোনো সমস্যা হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই ধারণা করা হয় যে সমস্যাগুলো গ্লুটেনের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে হচ্ছে। তখন গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট মেনে চলা হয়। এটা ঠিক যে গ্লুটেনের প্রতি সংবেদনশীলতার জন্যও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে যে গ্লুটেনই দায়ী নয়, তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

গম ও নানা ধরনের শস্যদানা এবং আরও কিছু খাবার ও পানীয়তে গ্লুটেন থাকে। তাই গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট মেনে চলতে গেলে খাদ্যতালিকা থেকে আপনাকে অনেক কিছুই বাদ দিতে হবে। অথচ সবার ক্ষেত্রে এত নিষেধাজ্ঞার আদতে প্রয়োজন নেই। কারণ, অনেকের ক্ষেত্রে তো কেবল ফ্রুকটানের জন্যই সমস্যাগুলো হয়।

ফ্রুকটানে সংবেদনশীলতায় করণীয়

ফ্রুকটানসমৃদ্ধ খাবার খেলে যাঁদের সমস্যা হয়, তাঁদের যে এসব খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে, তা নয়। তবে পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে এসব খাবারের মাত্রা নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত। দীর্ঘ মেয়াদে একইভাবে ফ্রুকটানের মাত্রা কম রাখারও প্রয়োজন হয় না এবং সেটা উচিতও নয়।

সূত্র: দ্য ল্যানসেট, ওহাইও স্টেট হেলথ অ্যান্ড ডিসকভারি, হেলথলাইন, ওয়েবএমডি, সায়েন্সডিরেক্ট

ফ্রুকটান হলো গমে থাকা শর্করাজাতীয় উপাদান, যা অন্ত্রে পানির পরিমাণ বাড়ায়
ফ্রুকটান হলো গমে থাকা শর্করাজাতীয় উপাদান, যা অন্ত্রে পানির পরিমাণ বাড়ায়। ছবি: পেক্সেলস

Sunday, August 23, 2026

মেটার চশমা দিয়ে ছবি তোলা, ফোন করা, কম্পিউটার চালানোসহ আরও যা যা করা যাবে by কাজী আকাশ

টনি স্টার্কের চশমার কথা মনে আছে? ‘আয়রন ম্যান’ সিনেমার দৃশ্যে টনি স্টার্ক চশমার দিকে তাকালেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সব তথ্য। ওসব এখন আর সিনেমার গল্প নয়। মার্ক জাকারবার্গের মেটা আর বিখ্যাত চশমা কোম্পানি রে-ব্যান যৌথভাবে সেই ভবিষ্যৎ আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। না, হাতের মুঠোয় বলার চেয়ে চোখের সামনে এনে দিয়েছে বললে বোধ হয় জুতসই! ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মেটা তাদের নতুন রে-ব্যান ডিসপ্লে গ্লাস নিয়ে হাজির হয়েছে। এই চশমার দাম ৭৯৯ ডলার, মানে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯৫ হাজার টাকা। দাম শুনেই চমকে গেলে চলবে না। কারণ, এই দামের পেছনে যে প্রযুক্তি লুকিয়ে আছে, সেটা জানলে আরও বেশি অবাক হবেন।

তবে আসল মজা কিন্তু চশমায় নয়; বরং ধূসর রঙের রিস্টব্যান্ডে। মেটার এই চশমার সঙ্গে আছে একটা বিশেষ ব্যান্ড। ঘড়ি পরার মতোই এই ব্যান্ড পরাও সহজ। তবে এই ব্যান্ড পরলে একটু হালকা বিদ্যুৎ স্পর্শের অনুভূতি পাবেন। ভয়ের কিছু নেই, এই ঝাঁকুনির সাহায্যে ব্যান্ডটি জানান দেয়, ব্যান্ড চালু হয়ে গেছে।

এই ব্যান্ডের নাম নিউরাল ব্যান্ড। এটা আপনার হাতের মাংসপেশি থেকে বের হওয়া বৈদ্যুতিক সংকেত ধরতে পারে। মানে আপনি আঙুল নাড়ালে বা হাতের নির্দিষ্ট অংশ নড়াচড়া করলে, ব্যান্ড সেটা বুঝে ফেলে এবং চশমাকে নির্দেশ দেয়। এই পুরো প্রযুক্তির নাম ইএমজি টেকনোলজি। বিজ্ঞানীরা প্রায় দুই লাখ মানুষের ওপর গবেষণা করে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। ফলে প্রায় সবার হাতেই এটা ঠিকমতো কাজ করে।

এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে
খুব সহজ। আপনি হাত মুঠো পাকিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনীর ওপর ঘষলে চশমার স্ক্রিনে মেনু স্ক্রল হবে। মুঠোফোনের টাচপ্যাডে আমরা যেভাবে আঙুল ঘুরাই, অনেকটা সে রকম। বুড়ো আঙুল আর তর্জনী একসঙ্গে চেপে ধরলে নির্দিষ্ট অ্যাপ খুলে যাবে। অনেকটা কম্পিউটারে মাউস ক্লিক করার মতোই।

আবার দুই আঙুল ঘুরিয়ে আলতো করে নাড়ালে গানের ভলিউম বাড়ানো-কমানো যায়। পাশ থেকে আপনাকে কেউ দেখলে মনে হবে, অদৃশ্য কোনো স্টেরিও নব ঘোরাচ্ছেন।
নিউরাল ব্যান্ডের ব্যাটারি এক চার্জে ১৮ ঘণ্টা চলে। সারা দিন ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট। আর এটা পানিরোধী, তাই বৃষ্টিতে ভিজলে বা ওয়ার্কআউট করার সময় ঘাম হলেও কোনো সমস্যা নেই। এর চার্জিং কেসে প্রায় ২৪ ঘণ্টার চার্জ মজুত থাকে।

চশমার জাদু
এবার আসি চশমার কথায়। দেখতে একদম সাধারণ চশমার মতো। কিন্তু ডান চোখের কাছে একটা ছোট্ট ডিসপ্লে লাগানো। চশমা পরলেই ডান গালের ঠিক নিচে একটা পর্দা ভেসে ওঠে চোখের সামনে। এটা অনেকটা মুঠোফোনের পর্দার মতো, তবে স্বচ্ছ। মানে আপনি চারপাশ দেখতে পাবেন, আবার একই সঙ্গে সেই পর্দাও দেখতে পাবেন।

যাঁরা এই চশমা পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাঁরা বলছেন, প্রথম প্রথম একটু অদ্ভুত লাগে। কোথায় ফোকাস করতে হবে, তা চোখ বুঝতে পারে না। বাইরের রাস্তাঘাটও ভেসে থাকে পর্দায়। পর্দাটা খুব পরিষ্কার হলেও আশপাশের উজ্জ্বল আলোর সঙ্গে মিশে গেলে লেখা পড়তে একটু সমস্যা হয়।

তবে এটা মনোরঞ্জনের জন্য নয়, দৈনন্দিন কাজের জন্য। যেমন মেসেজ পড়া, ছবি তোলার আগে প্রিভিউ দেখা, স্পটিফাইয়ে গানের তালিকা দেখাসহ এ রকম কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

আরও জাদু
এই চশমার সবচেয়ে মজার বৈশিষ্ট্য এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। মেটা এআই নামের এই সহকারী আপনার চারপাশ বুঝতে পারে এবং সাহায্য করতে পারে নানাভাবে। সেসবের কয়েকটা নিয়ে আলোচনা করা যাক।

লাইভ ক্যাপশন ও অনুবাদ
ফিচারটা সত্যিই কাজের। সামনের কেউ কথা বললে চশমার পর্দায় লেখা হয়ে ভেসে ওঠে। ঠিক যেমন সাবটাইটেল দেখা যায়। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার, অন্য ভাষায় কথা বললে সেটা অনুবাদ করে দেখাতে পারে এই চশমা। ধরুন, আপনি জাপানি কারও সঙ্গে কথা বলছেন, কিন্তু কিছু তো বুঝবেন না। তখন আপনার চোখের সামনে তার কথাগুলো বাংলায় ভেসে উঠবে।

ক্যামেরা ভিউফাইন্ডার
এই প্রযুক্তির সাহায্যে আপনি ছবি তোলার আগেই দেখতে পারবেন, ছবিটা কেমন আসবে। চশমা পরে সামনে তাকালেই পর্দায় দেখা যাবে ক্যামেরা কী দেখছে। অনেকটা টিভিতে পিকচার-ইন-পিকচার যেমন হয়, সে রকম। জুমও করা যায় সরাসরি।

মেসেজ চালাচালি
এই সুবিধা বেশ গোপনীয়। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ইনস্টাগ্রামের মেসেজ সরাসরি চশমার পর্দায় দেখা যায়। বারবার মুঠোফোন বের করার দরকার হবে না।

নেভিগেশন
এই ফিচারের সাহায্যে রাস্তা চেনা যাবে। হয়তো নতুন কোথাও যাচ্ছেন, কিন্তু পথ ঠিকভাবে জানা নেই। চশমা আপনাকে মানচিত্র দেখিয়ে পথ বলে দেবে।

ভিডিও কল
চশমা থেকেই এখন ভিডিও কল করা যাবে। মিটিংয়ে বসে স্ক্রিন শেয়ার করাও সম্ভব এই চশমার সাহায্যে।

আরও মজার ব্যাপার হলো, এআই আপনার অভ্যাস শিখে ফেলবে। আপনি সাধারণত কোন সময় কী করেন, তা বুঝে আগেভাগেই এআই সাজেশন দেবে। যেমন কোনো মিটিংয়ে গেলে সেখানে উপস্থিত লোকজনের নাম বলে দেওয়া, রাস্তায় হাঁটলে কাছের রেস্তোরাঁ বা বাসস্ট্যান্ডের খবর জানানো ইত্যাদি। কোন বিল্ডিংয়ের নাম কী, সেখানে কী কাজ হয়, তা–ও চশমায় দেখা যাবে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যদি একটা ভাস্কর্য চোখে পড়ে, তাহলে সেই ভাস্কর্যের ব্যাপারেও তথ্য জানা যাবে এই চশমার সাহায্যে।

পাশাপাশি কোনো কিছুর ছবি তুলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এটা কী? এআই চিনতে পারবে এবং আপনাকে সে সম্পর্কে তথ্য দেবে ও বিষয়টা কী, তা বুঝিয়ে দেবে। যদিও এই ফিচার পরীক্ষার সময় ঠিকমতো কাজ করেনি বলে এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন।

গোপনীয়তা নিয়ে চিন্তা
চশমায় ক্যামেরা থাকলে তো গোপনীয়তার প্রশ্ন আসবেই। মেটা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছে। ক্যামেরা চালু হলে একটা এলইডি বাতি জ্বলে ওঠে। মানে কেউ যদি আপনাকে দেখে, সে বুঝতে পারবে আপনি ছবি বা ভিডিও করছেন।

ভিডিও আর তথ্যগুলো যতটা সম্ভব চশমার ভেতরেই প্রসেস হয়। মেটার সার্ভারে পাঠানোর আগে সেসব এনক্রিপ্ট বা সাংকেতিক করা হয়। এআই ফিচার চালু করার আগে আপনার অনুমতি চাওয়া হবে। তবু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিসরে বা অফিসে এই চশমা পরলে মানুষ অস্বস্তি বোধ করতে পারে। তাই ব্যবহারকারীদের সামাজিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আসল অভিজ্ঞতা কেমন
যাঁরা এই চশমা পরে দেখেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা মিশ্র। কেউ কেউ একে সেরা স্মার্ট চশমার তকমা দিয়েছেন। কারণ, এর পর্দা পরিষ্কার, হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ এবং এআই ফিচার আছে। তবে সবাই এর সঙ্গে একমত হতে পারেননি। সেটাই স্বাভাবিক।

এই চশমার কিছু সমস্যাও আছে। চশমাটা আগের মডেলের চেয়ে একটু ভারী। প্রথমবার হাতের ইশারায় কাজ করাতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়। যেমন ক্যামেরা অ্যাপ খুলতে বুড়ো আঙুল আর তর্জনী একসঙ্গে চেপে ধরতে হয়। কিন্তু সঠিক তাল আর সময় না মিললে কাজ হয় না। মাউস ক্লিক করা যত সহজ, আঙুল চেপে ধরা তত সহজ নয়।

আর সবচেয়ে বড় সমস্যা এর দাম। ৭৯৯ ডলার মানে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা। একটা চশমা কেনার জন্য টাকা হয়তো সবার পকেটে নেই। তবে যাঁরা নতুন প্রযুক্তি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটা আকর্ষণীয় হতে পারে।

এই চশমা কোথায় পাওয়া যাবে
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ সেপ্টেম্বর এই চশমা বিক্রি শুরু হয়েছে। বেস্ট বাই, লেন্সক্র্যাফটার্স, সানগ্লাস হাট ও রে-ব্যান স্টোরে এই চশমা পাওয়া যাচ্ছে। চশমাটির দুই ধরনের আকার—স্ট্যান্ডার্ড ও লার্জ। যাঁরা চশমা পরেন, তাঁরা চাইলে পাওয়ার লেন্সও লাগিয়ে নিতে পারবেন। চশমার ওজন ৬৯-৭০ গ্রাম। একে হালকাই বলা যায়। ট্রানজিশন লেন্স দেওয়া আছে, যেটা ঘরে ও বাইরে আলোর সঙ্গে মানিয়ে নেয়।

২০২৬ সালের শুরুতে কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি আর যুক্তরাজ্যেও এই চশমা বিক্রি শুরু হবে। তবে বাংলাদেশে কবে আসবে, সেটা এখনো জানা যায়নি। প্রযুক্তি যে কত দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এই চশমা তার প্রমাণ। হাতের সামান্য নড়াচড়ায় কম্পিউটার চালানো, চোখের সামনে ভেসে ওঠা পর্দা, কথা বললে সেটা লেখা হয়ে যাওয়া—এসব কিছুদিন আগেও সিনেমার দৃশ্য ছিল, এখন বাস্তব।

সূত্র: সিএনবিসি, টেকপয়েন্ট ও মেটা

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-26%2Fzoojeh96%2Fhq720.jpg?rect=54%2C0%2C579%2C386&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মেটা তাদের নতুন রে-ব্যান ডিসপ্লে গ্লাস নিয়ে হাজির হয়েছে। ছবি: ইউটিউব চ্যানেল মিস্টারহুজদ্যবস থেকে

আপনি কি কোনো ঘটনা বা ব্যক্তিকে ভুলে যেতে চান? জেনে নিন ৬টি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

আমাদের জীবনে না চাইতেও এমন মানুষ আসে, যাকে একটা সময় আমরা ভুলে যেতে চাই। জীবনে এমন ঘটনা ঘটে, যা আমাদের ভেতর থেকে ক্রমাগত পোড়ায়। আপনি কি এমন কোনো ব্যক্তি বা ঘটনা চেষ্টা করেও ভুলতে পারছেন না? কী করবেন? আসলে কোনো মানুষ বা ঘটনাকে মস্তিষ্ক থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা খুবই কঠিন। কেননা, আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতি ধরে রাখে। তবে স্মৃতির প্রভাব কমানো, মনোযোগ অন্যদিকে সরানো এবং আবেগের তীব্রতা হ্রাস করা সম্ভব। নিচে ছয়টি সহজ, কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত মনস্তাত্ত্বিক উপায় দেওয়া হলো।

১. কল্পনার দরজার সামনে দাঁড়ান

চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন, আপনি পৃথবীর একেবারে শেষ প্রান্তে একটা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। সেই দরজার বাইরে ওই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে বা দরজার ওপাশে ঘটনাটি ঘটেছে। আপনি এবার কল্পনায় ওই দরজা বন্ধ করে দিন ও নিজের পৃথিবীতে মনোনিবেশ করুন।

এই কৌশল আমাদের মস্তিষ্কে এই বার্তা দেয় যে আপনার বর্তমান পৃথিবীতে ওই ব্যক্তি বা ঘটনাটি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফলে মস্তিষ্ক ওই স্মৃতি ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেয় না। আপনিও তাই ওই ব্যক্তি বা ঘটনা ধীরে ধীরে ভুলতে শুরু করেন।  

২. স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলুন

ওই ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত জিনিস; যেমন ছবি, ভিডিও, টেক্সট বা গান—সব ডিলিট করে দিন। সামাজিক মাধ্যমে ভুলেও তাকে স্টক করবেন না। ওই ব্যক্তির কোনো কিছুই যেন আপনার চোখের সামনে না পড়ে, সেই ব্যবস্থা করুন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে যেখানে যেখানে ঘুরতে গেছেন, আপাতত সেসব জায়গায় যাওয়ার দরকার নেই।

সাময়িক বিরতি নিন। পরে সেসব জায়গায় গিয়ে নতুন স্মৃতি তৈরি করুন, যাতে ওই স্থানের পুরোনো স্মৃতি চাপা পড়ে যায়। তার দেওয়া উপহার কাউকে দিয়ে দিন। দেখবেন, এর ফলে তাকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কম মনে পড়ছে।    

৩. জার্নালিং থেরাপি

যে মানুষ বা ঘটনা থেকে আপনি মুক্তি পেতে চাইছেন, তা একটা ডায়েরিতে গুছিয়ে বিস্তারিত লিখে ফেলুন। এতে আপনার মস্তিষ্ক থেকে ঘটনা বা স্মৃতিটি কাগজের পাতায় স্থানান্তরিত হলো। লেখা শেষে পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলুন, আগুনে পুড়িয়ে ফেলুন বা টয়লেটে ফ্ল্যাশ করুন।

এতে আপনি অনেকটাই হালকা হবেন। মন হালকা করতে বন্ধু, আপনজন বা পেশাদার কারও সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারেন।

৪. জোর করে ভোলার চেষ্টা করবেন না

আপনি কোনো ঘটনা যতই জোর করে ভোলার চেষ্টা করবেন, ততই বেশি করে আপনার মস্তিষ্কে ঘটনাটি উঠে আসবে। মস্তিষ্কও সেই স্মৃতি গুরুত্ব দিয়ে ধরে রাখবে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের জন্য বা ঘটনার জন্য নিজেকে মোটেও দায়ী করবেন না।

‘কেন এমন হলো বা কেন ভুলতে পারছি না?’—নিজেকে এই প্রশ্ন করবেন না। এভাবে নিজেই নিজেকে চাপে রাখলে ভুলে যেতে আরও সময় লাগবে। নিজেকে একটু সময় দিন। মেডিটেশন করুন, নতুন কোনো শখে ডুব দিন বা সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করুন। নতুন রুটিন তৈরি করে নতুন কিছু শিখুন। প্রকৃতির সংস্পর্শে সময় কাটান।

৫. কাউন্টিং থেরাপি

আপনার যখনই ওই ব্যক্তি বা ঘটনার কথা মনে পড়বে, তখনই মনে মনে সংখ্যা গুনুন। মনে করুন, সকালে আপনার মনে পড়ল। মনে মনে বললেন, ‘এক, দুই।’

আবার বিকেলে মনে পড়ল। মনে মনে বললেন, ‘তিন, চার।’

রাতে মনে পড়ল। মনে মনে বললেন, ‘পাঁচ, ছয়।’

এভাবে ওই ব্যক্তি বা ঘটনাটি নয়, বরং শেষবার কত গুনেছিলেন, সেটি মনে রাখার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনার মস্তিষ্ক ব্যক্তি বা ঘটনাটিকে ‘বোরিং’ হিসেবে ধরে নেবে আর সহজে মুছে ফেলার চেষ্টা করবে।

৬. মস্তিষ্ককে পুনঃ প্রশিক্ষণ দিন (রিফ্রেমিং)

ঘটনাটিকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করুন। ‘এই ঘটনা আমাকে কী শিখিয়েছে’, ‘এই ঘটনা কীভাবে আমাকে আরও ভালো মানুষ বানাতে ভূমিকা রাখতে পারে’ এভাবে দেখলে কষ্ট কমে।
মনে রাখবেন

কেউ রাতারাতি কোনো কিছু ভুলে যায় না। বিশেষ করে যা কিছু আমাদের ভেতরে গভীর ক্ষত, দাগ তৈরি করে, সেসব ভোলা সত্যিই কঠিন। তবে প্রতিদিন একটু একটু করে প্রভাব কমে যায়। একটা নির্দিষ্ট সময় পার করে বুঝবেন, আর ব্যথা নেই।

ওই ব্যক্তি বা ঘটনার কোনো নেতিবাচক প্রভাবই আপনার ভেতরে নেই; বরং সেটিকে আপনি এখন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচকভাবেই দেখতে পারছেন।

সূত্র: বেটার হেল্প ও প্যারেড ডটকম

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-26%2Ffekzuewz%2FSumon-YusufAdhuna-56.JPG?rect=0%2C0%2C5760%2C3840&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
আমাদের জীবনে না চাইতেও এমন মানুষ আসে, যাকে একটা সময় আমরা ভুলে যেতে চাই। মডেল: দোয়েল। ছবি: সুমন ইউসুফ

Friday, August 21, 2026

ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা কাঁধের ব্যথা বারবার ফিরে আসে কেন, সমাধান কী by ডা. সাকিব-আল-নাহিয়ান

জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা কাঁধের ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ কম। অনেকের কাছে ব্যথা যেন জীবনেরই একটি অংশ।

ব্যথা হলে আমরা একটি ব্যথানাশক ওষুধ খাই, কিছুদিন বিশ্রাম নিই, ব্যথা কমে গেলে আবার আগের জীবনে ফিরে যাই।

কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় একই ব্যথা আবার ফিরে এসেছে, কখনো আরও বেশি তীব্র হয়ে ফিরে আসে। প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা ব্যথার কারণ নয়, শুধু উপসর্গের চিকিৎসা করি। ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন) চিকিৎসার এমন একটি ধরন, যা শুধু ব্যথা কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যথার কারণ খুঁজে বের করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।

ব্যথা সব সময় রোগ নয়, একটি সংকেত। ব্যথা অনেকটা অ্যালার্মের মতো। এটি শরীরের কোনো সমস্যার সতর্কবার্তা। কোমরের ব্যথা হতে পারে দুর্বল কোর মাংসপেশির কারণে।

ঘাড়ের ব্যথা হতে পারে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে। হাঁটুর ব্যথা হতে পারে ওজন বৃদ্ধি বা ভুলভাবে হাঁটার কারণে। শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও মূল সমস্যা থেকে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাংসপেশি ও হাড়-জোড়ের রোগ বর্তমানে কর্মক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ।

পুনর্বাসন চিকিৎসা আসলে কী

অনেকেই মনে করেন রিহ্যাবিলিটেশন মানেই ফিজিওথেরাপি; বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। একজন ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ রোগীর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেন।

ব্যথার উৎস, মাংসপেশির শক্তি, অস্থিসন্ধির (জয়েন্ট) কার্যক্ষমতা, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি, দৈনন্দিন অভ্যাস ও মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।

চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে—জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নির্দিষ্ট ব্যায়াম, ভঙ্গি সংশোধন করা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ, ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট, ফিজিওথেরাপি অকুপেশনাল থেরাপি, পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ।

শুধু ব্যথা-বেদনা নয়, স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ব্রেন ইনজুরি, সেরিব্রাল পালসি, পারকিনসনস ডিজিজ, অঙ্গচ্ছেদ, খেলাধুলাজনিত আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি বাতরোগ, ক্যানসার–পরবর্তী দুর্বলতা, এমনকি হার্ট ও ফুসফুসের রোগের ক্ষেত্রেও রিহ্যাবিলিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চলাফেরা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ। সঠিকভাবে পরিচালিত শারীরিক কার্যক্রম ও ব্যায়াম নিজেই একটি শক্তিশালী চিকিৎসা। নিয়মিত ব্যায়াম শুধু ব্যথা কমায় না; এটি পেশি শক্তিশালী করে, জয়েন্ট সচল রাখে, হাড় মজবুত করে, হৃদ্​যন্ত্র ভালো রাখে ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।

তবে সব ব্যায়াম সবার জন্য নয়। বয়স, রোগ এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা জরুরি।

* ডা. সাকিব-আল-নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা

ঘাড় ও মেরুদণ্ডের জয়েন্টের একটি রোগ সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস। নানা কারণে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে
ঘাড় ও মেরুদণ্ডের জয়েন্টের একটি রোগ সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস। নানা কারণে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। ছবি: প্রথম আলো

Tuesday, August 18, 2026

হার্ভার্ডের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি কুদসিয়া হুদা, বিস্তারিত জানুন তাঁর সম্পর্কে

জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের কুদসিয়া হুদা। তিনি পাবলিক হেলথ প্র্যাকটিসে পেয়েছেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড। প্রতি বছর অ্যালামনাই উইকেন্ডে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের সাবেক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ বছর অ্যালামনাই উইকেন্ড অনুষ্ঠিত হবে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে কুদসিয়া হুদা বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদর দপ্তর জেনেভায় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট কুদসিয়া হুদাকে নিয়ে ‘অনেকেই বলেছিল ক্যারিয়ার হবে না, সেই কুদসিয়াই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা বিভাগের প্রধান’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়েছিল প্রথম আলোয়।

অনেকেই বলেছিল ক্যারিয়ার হবে না, সেই কুদসিয়াই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা বিভাগের প্রধান

কঙ্গো থেকে ইন্দোনেশিয়া, ইরান থেকে ইয়েমেন, ভারত থেকে জর্ডান—যেখানে মানবিক বিপর্যয়, সেখানেই ছুটে যান কুদসিয়া হুদা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বিভাগের তিনি প্রধান। তাঁর ছুটে চলা জীবনের গল্প শুনেছেন তানজিনা হোসেন

২০০৪ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ইরানের কেরমান প্রদেশের অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। মারা যান ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নেন গৃহহারা হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকায় ছুটে যান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ কুদসিয়া হুদা। একদিন এক আশ্রয়শিবিরে ছোট্ট এক মেয়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ। চার বছরের ফুটফুটে মেয়েটির সঙ্গে ওর বাবা ও ভাইও আছেন। আলাপের একপর্যায়ে কুদসিয়ার কাছে মেয়েটার আবদার, ‘তুমি কি আমার মাকে এনে দিতে পারবে?’

‘কোথায় তোমার মা?’ জানতে চান কুদসিয়া।

জবাবে মেয়েটি আর তার বাবা যা বললেন, শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান কুদসিয়া। শেষ রাতে যখন ভূমিকম্পে সবকিছু কেঁপে ওঠে, মেয়েকে কোলে করে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন মা। আর তার বাবা হাত ধরে টেনে এনেছিলেন ছেলেকে। খানিকটা পথ আসার পর ছোট মেয়েটা কাঁদতে শুরু করে। কারণ, তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী খেলনা পুতুলটা ঘরে ফেলে এসেছে। মুহূর্ত না ভেবেই মেয়েকে বাবার কোলে দিয়ে মা বলেছিলেন, ‘তোমরা যাও, আমি এক্ষুনি পুতুলটা নিয়ে আসছি। যাব আর আসব।’

সেই যে গেলেন, আর ফিরে এলেন না মা!

কুদসিয়ার হৃদয়-আয়নায় নিজের মেয়ের ছবিটা ভেসে ওঠে। দূর দেশে এই মেয়ের বয়সী সন্তানকে রেখে এসেছেন তিনি। বুকটা হু হু করে ওঠে। এক মায়ের সন্তানবৎসল হৃদয়কে উপলব্ধি করে চোখে পানি আসে। চোখের পানি মুছে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে কুদসিয়া বললেন, ‘নিশ্চয়ই একদিন মায়ের সঙ্গে তোমার দেখা হবে। সেদিন তুমি মাকে জানিও যে তুমি তাকে কত মিস করেছ। আর এ জন্য নিজেকে দায়ী কোরো না।’

ভূমিকম্পের ওই বছরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেন কুদসিয়া। এরপর মা-হারা সেই মেয়েটার মতো দেশে দেশে আরও অনেকের সঙ্গেই দেখা হয়েছে। সেই যে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে সুনামিতে সবাইকে হারানো নারী, কুদসিয়ার মাথায় হাত দিয়ে যিনি আশীর্বাদ করেছিলেন।

আফগানিস্তানে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করা এক চিকিৎসকের অসহায় মুখ, দায়িত্ব পালনের সময় জানতে পারেন বোমার আঘাতে উড়ে গেছে তাঁর পুরো পরিবার। আর সুনামিতে আক্রান্ত এলাকায় সব হারানো সেই তরুণ, আশ্রয়শিবিরে গান গেয়ে যিনি শিশুদের আনন্দ দিতেন।

বর্তমানে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তরে ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন) বিভাগের প্রধান কুদসিয়ার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমা আছে এমন অনেক মানুষের মুখ, হৃদয়স্পর্শী সত্য গল্প।

কোনো কোনো গল্প তাঁকে যেমন ঘুমাতে দেয় না, তেমনি কোনো গল্প এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও দেয়। সেদিন আলাপের সময় তেমনি কিছু আশ্চর্য গল্পের ঝাঁপিই খুলেছিলেন কুদসিয়া হুদা।

নিজেও পড়েছেন বিপদে

মিসরে কর্মরত অবস্থায় ২০১১ সালে একবার স্বামী-সন্তানকে কায়রোতে রেখে অফিসের কাজে ওমান গেছেন কুদসিয়া। মাসকাটে বসেই শোনেন আরব বসন্ত শুরু হয়ে গেছে। উত্তাল কায়রো আর ততোধিক উত্তাল তাঁর অতি পরিচিত তাহরির স্কয়ার।

একসময় স্বামী-সন্তানের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এদিকে মাসকাট থেকেও কিছুতেই আর কায়রোতে ফিরতে পারছিলেন না। তারপর কী কষ্ট আর কত ঝামেলা করেই না অগ্নিগর্ভ কায়রোতে পৌঁছালেন।

কারফিউয়ের মধ্যে পথে পথে কূটনৈতিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে স্বামী-সন্তানের কাছে গেলেন। তারপর পুরো পরিবার গৃহবন্দী। সে এক অদ্ভুত সময়। চারদিকে সামরিক ট্যাংক বহর ঘুরছে, থরথর করে কাঁপছে পুরো বাড়ি।

বন্দী অবস্থায় আরও কিছুদিন থাকার পর বিশেষ বিমানে জাতিসংঘের অন্য কর্মীদের সঙ্গে মিসর ছাড়তে সক্ষম হন।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বহুবার এমন ঝুঁকির মুখে পড়েছেন কুদসিয়া। আফগানিস্তানে কাজ করার সময় প্রাচীরঘেরা সুরক্ষিত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ভূমিকম্পে সব ভেঙে যেতে থাকল।

সুরক্ষিত জায়গাটাই তাঁদের জন্য হয়ে উঠল মরণফাঁদ। ঠিক একইভাবে ইরাকে কাজ করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ভবনে আকস্মিক বোমা হামলা থেকে স্রেফ কপালগুণে বেঁচে গিয়েছিলেন।

আরাম দেয় লেখালেখি

দুর্গত মানুষেরা যেমন মানসিক কষ্টে ভোগেন, তেমনই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতরাও নানা রকম ট্রমার শিকার হন। বিপর্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে গিয়ে অনেকে অস্বাভাবিক হয়ে পড়েন।

কুদসিয়া হুদা বলেন, ‘আমাদের এ জন্য নানা রকম প্রশিক্ষণ নিতে হয়। তারপরও মাঝেমধ্যে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হয়ে পড়ে।’

এ জন্য এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে কুদসিয়া হুদা শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করেন, নিয়ম করে ধ্যানও করেন। মন ভালো না হলে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু আমার বরের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করেও আমি অনেক স্বস্তিবোধ করি। তবে সবচেয়ে যে জিনিসটা আমাকে প্রশান্তি এনে দেয় তা হলো, লেখালেখি। আমার স্ট্রেস দূর হয় এতে।’

কুদসিয়া হুদার লেখক নাম দীপা ফিরোজ। তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। ছোটবেলায় শেখা গানের চর্চাও ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিপজ্জনক আর চ্যালেঞ্জিং পেশায় কাজ করতে গিয়েও প্রিয় পোশাক শাড়ির প্রতি ভালোবাসা হারাননি। জেনেভায় নিজের অফিসে প্রতিদিন শাড়ি পরেন। যেকোনো দেশে বিপর্যয়ের খবর পেয়ে উড়াল দেওয়ার সময় স্যুটকেসে অন্তত একটা শাড়ি নিতে ভোলেন না কখনো।

ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সম্মেলন, জলবায়ু সম্মেলনে পুরোপুরি বাঙালি বেশভূষায় হাজির হন কুদসিয়া।

পৃথিবীর নানা ভাষা আর সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করতে সমস্যা হয় না। তিনি বলেন, ‘যে দেশ বা যে কমিউনিটিতে কাজ করি, তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার জন্য দরকার তাদের জীবনযাত্রার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।

যেমন ইরানে কাজ করার সময় লম্বা পোশাক পরতে হতো, আমার দীর্ঘ চুল তখন পিন দিয়ে আটকে স্কার্ফে মাথা ঢাকতে হতো। এত সব কাজের মধ্যেও আমাকে মাথার স্কার্ফ সামলে চলতে হতো। ইয়েমেন, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইরাকে কাজের সময় পরতে হতো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট আর হেলমেট।

আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণে কাজ করার সময় পরতে হতো জীবাণুরোধী পোশাক। কাজ চালানোর মতো ফরাসি, আরবি ও ফারসি ভাষা শিখেছি। একজীবনে বিচিত্র ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মের মানুষের আপনজন হয়ে ওঠা—এ এক পরম পাওয়া।’

অনেকেই বলেছিলেন, কুদসিয়ার ক্যারিয়ার হবে না

কুদসিয়া হুদার বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা ঢাকায়। ছোটবেলায় গান শিখেছেন, নেচেছেন, ছবি এঁকেছেন, স্কুলে পড়ার সময় ফুটবলও খেলেছেন। ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে এসএসসি আর হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি।

এরপর ভর্তি হয়েছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। মেডিকেলে তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। প্রথম সন্তানের জন্ম চতুর্থ বর্ষে পড়ার সময়। বিয়ের পর অনেকে বলেছিলেন, কুদসিয়াকে দিয়ে পড়াশোনা হবে না। সন্তান হওয়ার পর তাঁরাই বলতে থাকলেন, তাঁকে দিয়ে আর ক্যারিয়ার হবে না।

সবার কথাই ভুল প্রমাণ করেছেন কুদসিয়া। ১৯৯১ সালে এমবিবিএস পাস করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যোগ দেন। কাজ করতে করতেই স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিসিএস দিয়ে পঞ্চগড়ে যোগ দেন।

সেখানে প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে কাজ করেছেন। জনস্বাস্থ্য বিষয়টি তখন প্রিয় বিষয় হয়ে ওঠে। তাই পরে এসে যোগ দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে। পরবর্তীকালে এই বিষয়েই উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যান যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।

হার্ভার্ডে পড়তে পড়তেই একটি মাস্টার্স কোর্সে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান। সেটি ছিল হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ, টাফট বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি সমন্বিত কোর্স।

আমন্ত্রণ পেয়েও দ্বিধায় ছিলেন কুদসিয়া। ছোট ছোট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হার্ভার্ডে পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। যাদের একজন তখনো দুগ্ধপোষ্য শিশু। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে একা বোস্টনে থাকা, স্কুলে ও ডে কেয়ারে রাখা, আনা-নেওয়া, রান্নাবান্নাসহ সব কাজ করে পড়তে বসতেন গভীর রাতে।

কুদসিয়া ভাবলেন আবেদন করে কী হবে, এত কিছু তিনি সামাল দিতে পারবেন না। কিন্তু তাঁর পরামর্শক রিচার্ড ক্যাশ পরামর্শ দিয়ে বললেন, ‘কেন তুমি আবেদন করবে না? মাত্র ২০ জনকে এই সুযোগ দেওয়া হবে। আরেকটা কথা মনে রেখো, তোমার এই সন্তানেরাই তোমার শক্তি। আমার বিশ্বাস, তুমি দুটো মাস্টার্স প্রোগ্রাম করতে পারবে।’

রিচার্ড ক্যাশের কথাটাই এখনো বিশ্বাস করেন কুদসিয়া। আসলে যা যা মানুষ প্রতিবন্ধকতা, বাধা বা দুর্বলতা মনে করে, প্রতিটিই জীবনে শক্তিদায়ী রূপে দেখা দিতে পারে। জনস্বাস্থ্যে পড়াশোনা শেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেন ২০০৪ সালে। এরপর সংস্থাটির নানা পদে কাজ করেছেন।

কুদসিয়া বললেন, মা-বাবার পর সব সময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন তাঁর স্থপতি স্বামী আর সন্তানেরা। একজন বিবাহিত নারীর এমন যাত্রায় বরের ভূমিকা অনেক। বোঝাপড়া না হলে সবকিছু সামলানো কঠিন!

কুদসিয়ার দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দক্ষিণ ভারতের কোদাইকানাল, মিসরের কায়রো থেকে বিলেত—নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে বড় হয়েছেন। দুজনই এখন প্রতিষ্ঠিত। বড় মেয়ে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে এনার্জি সেক্টরে কাজ করেন, আর ছোট মেয়েটি বাবার মতো স্থাপত্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

কুদসিয়া হুদার কাছে জানতে চাই, ‘আপনি একজন এশীয়, তার ওপর বাংলাদেশি নারী। এই পরিচয়গুলো বৈশ্বিক সমাজে কি আপনার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কখনো?’ কুদসিয়া হুদা হেসে বলেন, ‘যেসব বিষয় নিয়ে আমি কাজ করি, যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়, তা একজন বাংলাদেশির চেয়ে ভালো আর কে বুঝতে পারে? বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, লঞ্চডুবি—এসব দেখেশুনে আর মোকাবিলা করেই বড় হই আমরা।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বিভাগের  প্রধান কুদসিয়া হুদা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বিভাগের প্রধান কুদসিয়া হুদা। ছবি: সংগৃহীত

Sunday, August 16, 2026

ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে কোন কোন খাবারে by মো. ইকবাল হোসেন

বিশেষ কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এমনটাই বলছে গবেষণা। কারসিনোজেন বৈশিষ্ট্য থাকা খাবারগুলোই মূলত ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। যেসব উপাদান, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও অণুজীব মানবদেহ বা কোষের ডিএনএর জিনগত পরিবর্তন ঘটায়, সেগুলোকেই কারসিনোজেন বলে।

কারসিনোজেন কিসে থাকে

১. প্রক্রিয়াজাত মাছ-মাংসে ক্যানসার সৃষ্টির অন্যতম উপাদান থাকে। হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন হলো এমন সব রাসায়নিক যৌগ, যা মাছ–মাংস উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় তৈরি হয়। বিশেষ করে মাংস গ্রিল করা, আগুনে ঝলসিয়ে কাবাব বানানো ও ভাজার সময় এগুলো বেশি তৈরি হয়। এই যৌগগুলো কারসিনোজেন হিসেবে বিবেচিত এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) সমৃদ্ধ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত করা খাবারে অনেক বেশি কারসিনোজেন যৌগ থাকে। শর্করাকে উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা বা সেঁকা হলে অ্যাক্রিলামাইড নামক কারসিনোজেন যৌগ তৈরি হয়। এমন খাবারগুলো হলো ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ক্র্যাকার, চিপস, তেলেভাজা বিস্কুট, চানাচুর। এমন খাবারগুলো নিয়মিত খেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার ও কোলন ক্যানসারে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

৩. ট্রান্সফ্যাট (ক্ষতিকর চর্বি) সমৃদ্ধ খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। চিপস, চানাচুর, শিঙাড়া, পেঁয়াজু, পিৎজা, বার্গার ইত্যাদি ফাস্ট ফুড ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ। ট্রান্সফ্যাট শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ কলোরেক্টাল, ওভারিয়ান ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৪. প্রিজারভেটিভ সমৃদ্ধ খাবার ক্যানসারের জন্য দায়ী—বিশেষ করে নাইট্রেট ও নাইট্রাইটস সমৃদ্ধ প্রিজারভেটিভ। এগুলো সসেজ, হ্যাম, বেকন, হটডগসহ বিভিন্ন ফাস্ট ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসে ব্যবহার করা হয়। এটি উচ্চ তাপের সংস্পর্শে কারসিনোজেন গঠন করে, যা পাকস্থলীর ক্যানসারে ভূমিকা রাখে।

৫. তামাক বা তামাক জাতীয় পণ্য থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তামাকের ধোঁয়ায় নাইট্রোসামিন নামক কারসিনোজেন উৎপন্ন হয়। এটি মুখের ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে।

৬. বর্তমানে ভেজাল খাবারের পাশাপাশি শাকসবজিতে কীটনাশকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। কীটনাশকে হেভি মেটাল (ভারী ধাতু) ও অর্গানোফসফেটসহ অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা হয়। অর্গানোফসফেট কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করলে তা শাকসবজি ও ফলমূলে কিছুটা অবশিষ্ট থাকতে পারে। এই শাকসবজি নিয়মিত খেলে পাকস্থলী ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৭. অ্যালকোহল পানের ফলে শরীরে অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি হয়। এটি ক্যানসার সৃষ্টিকারী জিনকে সক্রিয় করে। তাই নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে পরিপাকতন্ত্রের ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

* মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

বিশেষ কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়
বিশেষ কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। ছবি: পেক্সেলস

কেন জাপানের এই দুটি শহর বিশ্বের অন্যতম বাসযোগ্য

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় সপ্তম হয়েছে ওসাকা, দশম টোকিও। শীর্ষ ১০-এ দুটি শহর নিয়ে জায়গা করে নেওয়া এশিয়ার একমাত্র দেশ জাপান।

একটি শহরকে সত্যিকার অর্থে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে আকাশচুম্বী ভবন, পর্যটন আকর্ষণ কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শহরে ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য আরও জরুরি কিছু সাধারণ বিষয় আছে। গাড়ি ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়া যায় কি না, হেঁটে বাজার করা যায় কি না, হুইলচেয়ারে রেলস্টেশন ব্যবহার করা যায় কি না, কিংবা বেবি স্ট্রলার (শিশুর ঠেলাগাড়ি) নিয়ে ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে চলা যায় কি না—এসবই শহরের বাসযোগ্যতার বড় মাপকাঠি।

এই সাধারণ বিষয়গুলোতেই এগিয়ে জাপানের শহরগুলো। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় সপ্তম হয়েছে ওসাকা, দশম টোকিও। শীর্ষ ১০-এ দুটি শহর নিয়ে জায়গা করে নেওয়া এশিয়ার একমাত্র দেশ জাপান।

সূচকে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় পূর্ণ নম্বরের পাশাপাশি শক্তিশালী অবকাঠামো জাপানের শহরগুলোকে এগিয়ে রেখেছে। তবে বাসিন্দা ও নগর–পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও কিছু সুচিন্তিত ব্যবস্থা দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তুলেছে। এর মধ্যে চারটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

১. রোজকার জীবনকে কেন্দ্র করে শহর

জাপানের শহরগুলোতে পাড়ার মধ্যেই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ রয়েছে। এর বড় উদাহরণ ‘শোতেনগাই’। সরু সড়কের দুই পাশে ছোট ছোট দোকানপাটে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা। সাধারণত এসব সড়কে ডেলিভারি ভ্যান ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে না, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাবারের দোকানই বেশি থাকে। শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, শোতেনগাই স্থানীয় মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনস্থলও। পুরোনো শোতেনগাইয়ের অনেকগুলো বড় মন্দির বা উপাসনালয়ের পথে গড়ে উঠেছে, আর আধুনিকগুলো রেলস্টেশন বা জনসমাগমের স্থানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। জাপানের শহর ও শহরতলিতে ছড়িয়ে থাকা এসব শপিং স্ট্রিট দেশটির স্থানীয় জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয় বহন করে।

১৮ বছর ধরে টোকিওতে বসবাসকারী পাওয়ার হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী জশ গ্রিসডেল বলেন, ছাদঢাকা ব্লকের মধ্যেই সবজির দোকান, পুরোনো কফিশপ, ক্লিনিক, ১০০ ইয়েনের দোকান এবং রাতের খাবারের নানা ব্যবস্থা পাওয়া যায়।

২. সবার জন্য পরিবহন

সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য জাপানের গণপরিবহন বিশ্বজুড়ে পরিচিত। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী গ্রিসডেলের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের প্রায় যেকোনো স্টেশনে আগাম পরিকল্পনা ছাড়াই যাওয়া যায়। লিফট নষ্ট থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা থাকে।

এর পেছনে রয়েছে ২০০৬ সালের ‘ব্যারিয়ার-ফ্রি’ আইন। এরপর দুই দশক ধরে দেশজুড়ে গণপরিবহনব্যবস্থা প্রতিবন্ধীবান্ধব করা হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে ব্যস্ত রেলস্টেশনগুলোর ১০টির মধ্যে ৯টির বেশি এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে সিঁড়ি ব্যবহার না করেও চলাচল করা যায়।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হলুদ উঁচু রেখাযুক্ত পথের উদ্ভাবনও জাপানে। ১৯৬৭ সালে প্রকৌশলী সেইইচি মিয়াকে দৃষ্টিশক্তি হারাতে থাকা এক বন্ধুকে সাহায্য করতে এটি তৈরি করেন।

৩. জায়গার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা

আধুনিকতা মানেই পুরোনো সবকিছু সরিয়ে ফেলা নয়—জাপানের শহরগুলোতে এরও উদাহরণ রয়েছে। ওসাকার কাছে কায়াশিমা স্টেশনের ছাদ ভেদ করে বেড়ে ওঠা প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো কর্পূরগাছটি তার একটি উদাহরণ।

শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাতেও পুরোনো মন্দির, ছোট রেস্তোরাঁ, গাছপালা ও স্থানীয় জীবনের উপস্থিতি ধরে রাখা হয়েছে। ফলে আধুনিক শহরের মধ্যেও মানুষ নিজের জায়গার সঙ্গে একটি সম্পর্ক অনুভব করতে পারে।

৪. গণপরিসরে শিষ্টাচার

শুধু অবকাঠামো নয়, বাসযোগ্য শহর তৈরিতে বাসিন্দাদের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো, ট্রেনে নীরবতা বজায় রাখা, অগ্রাধিকার আসন ছেড়ে দেওয়া, যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা কিংবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা—এসব অভ্যাস শহরের জীবনকে শান্ত রাখে।

জাপানের বাসযোগ্য শহরের গল্প তাই শুধু উন্নত রেলব্যবস্থা, লিফট বা সুন্দর রাস্তার গল্প নয়। বরং শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলার গল্প, যেখানে দৈনন্দিন জীবন সহজ, চলাচল সবার জন্য উন্মুক্ত, পুরোনো ও নতুনের সহাবস্থান রয়েছে এবং নাগরিকেরাও গণপরিসরের প্রতি দায়িত্বশীল। শহরকে বাসযোগ্য করে তোলার এই চার সহজ নিয়মই হয়তো ওসাকা ও টোকিওকে বিশ্বের সেরা শহরগুলোর কাতারে নিয়ে গেছে।

সূত্র: বিবিসি

জাপানের টোকিও শহর
জাপানের টোকিও শহর। ছবি: পেক্সেলস

Sunday, July 26, 2026

বারান্দা ও বাগানের টবে বিটরুট ফলাবেন যেভাবে by এম এ হান্নান

ফুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রঙিন বিটরুট চাষ করতে পারেন আপনার ছাদ কিংবা বারান্দা–বাগানে। লালচে–সবুজ পাতার গোড়ায় লালচে–বেগুনি রঙের বিটরুট চমৎকার হয়ে ধরা দেবে আপনার বাগানে। এর জন্য খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না এবং অল্প যত্নেই বেডে বা টবে চাষ করা যায়। বাড়েও খুব দ্রুত। একসময় পাবেন চোখধাঁধানো রঙিন বিটরুট, সঙ্গে পুষ্টিকর সবুজ শাক। আপনার ফলানো বিটরুট নতুন স্বাদ ও পুষ্টি যোগ করবে প্রতিদিনের খাবারে। সালাদ হিসেবে, সবজি হিসেবে, এমনকি জুস বানিয়েও খেতে পারেন পুষ্টিকর বিটরুট। বিশেষত হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য বিটরুট দারুণ উপকারী। শীতের এ সময়টাই বিটরুট ফলানোর মোক্ষম সময়। তাই জেনে রাখুন বিস্তারিত।

উপযুক্ত টব নির্বাচন

১০-১২ ইঞ্চি গভীরতার টব বেছে নিন, এতে বিটরুটের শিকড় দ্রুত ছড়াবে আর যথেষ্ট বড় হওয়ার সুযোগও পাবে। একেকটি বিটরুট ২০০–৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। টবে অতিরিক্ত পানি জমে শিকড়ে পচন ধরতে পারে, তাই টবের নিচে পানিনিষ্কাশনের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। মাটির টব বা জিও ব্যাগ বিটরুট চাষের জন্য ভালো।

উর্বর বেলে দোঁআশ মাটি ব্যবহার করুন

বিটরুটগাছ জৈব পদার্থসমৃদ্ধ উর্বর বেলে দোঁআশ মাটিতে ভালো হয়। বেলে দোঁআশ মাটি, গোবর সার বা ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো কম্পোস্ট সার এবং কোকোপিট মিশিয়ে টবের মাটি প্রস্তুত করুন। পরে প্রতি সপ্তাহে অল্প করে কম্পোস্ট সার যোগ করলেই বিটরুট তার বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে যাবে।

সঠিকভাবে বীজ বপন করুন

বিটরুটের বীজ প্রায় ১ ইঞ্চি গভীরে এবং ৩-৪ ইঞ্চি দূরে দূরে বপন করুন। ১০-১২ ইঞ্চি ব্যাসের টবে সর্বোচ্চ চারটি গাছ রাখতে পারেন। শুরুতে পাশাপাশি দুটি করে একই টবে মোট ৮টি গর্ত করুন। গর্তের গভীরতা হতে হবে ২-৩ সেন্টিমিটার।

বীজ অঙ্কুরোদ্‌গম হতে যা সাধারণত ৫–১০ দিন সময় নেয়। এ সময় মাটির আর্দ্রতা ঠিক রাখতে মাঝেমধ্যে পানি স্প্রে করে টবের মাটি ভিজিয়ে দিন।

চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর, পাশাপাশি থাকা দুটি চারার মধ্যে সবচেয়ে সুস্থ–সবল চারাটি রেখে অন্যটি তুলে ফেলুন। এভাবে জন্মানো ৮টি গাছ থেকে একটি টবের জন্য ৪টি চারা রাখুন। সুস্থ–সবল এই চারা থেকে ভালো ফলন আশা করা যায়।

বীজ থেকে চারা করা কষ্টসাধ্য মনে হলে নিকটবর্তী নার্সারি থেকে চারা এনেও সরাসরি রোপণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে চারা রোপণের পর প্রথম ১০ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন। চারার বৃদ্ধি খেয়াল করে রোদে দিন।

সূর্যালোকের প্রাপ্যতা

বিটরুটের বাল্ব বা কন্দ গঠনের জন্য প্রতিদিন চার-ছয় ঘণ্টা রোদের প্রয়োজন। সকালের মিষ্টি রোদ আমাদের মতো গাছের জন্যও ভালো। যদি খেয়াল করেন দুপুর রোদের তীব্রতায় গাছের পাতা নেতিয়ে পড়ছে বা শুকিয়ে যাচ্ছে, তখন ওপরে কাপড় বা তেমন কিছু দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।

নিয়মিত পানি দিন সাবধানে

সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্দ্রতা ধরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত পানি দিলে বিটরুটের কন্দে ফাটল ধরতে পারে, ছত্রাকের সংক্রমণে পচন ধরতে পারে। তাহলে উপায়? উপায় হলো মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে এলে তবেই পানি দেওয়া।

বাগানের শুকনা পাতা দিয়ে মাটির ওপরের অংশ ঢেকে দিতে পারেন। এভাবে মালচিং করলে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

ফসল তোলার সঠিক সময়ে

জাতের ওপর নির্ভর করে বিটরুট তোলার সময়। জাতভেদে বীজ বপন থেকে শুরু করে বিটরুট তোলা পর্যন্ত ৭০-১০০ দিন সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া বিটরুটের বৃদ্ধি আপনি নিজেই দেখতে পাবেন। কতটা বড় হওয়া পর্যন্ত টবের মাটিতে রাখবেন, সে–ও আপনার ওপর নির্ভর করে।

সাধারণত কন্দের আকার টেনিস বল বা গলফ বলের সমান হলে নিখুঁত আকার ধরে নেওয়া যায়। বিটরুট খুব বড় হলে তা শক্ত আর আঁশযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সবে তোলা বিটরুটগুলো বাজার থেকে কেনা বিটরুটের তুলনায় তরতাজা হয়, স্বাদ হয় মিষ্টি ও রসালো।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-24%2Fqf39lw3o%2Fbeetroot-pot-webuse-NHTG20277.jpg?rect=0%2C0%2C940%2C627&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ফুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রঙিন বিটরুট চাষ করতে পারেন আপনার ছাদ কিংবা বারান্দা–বাগানে। ছবি: দ্য রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি

Saturday, July 18, 2026

বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো

প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০২৫ঃ ‘প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি-প্রথম আলো কৃতী শিক্ষার্থী উৎসব’। এইচএসসি পরীক্ষায় যাঁরা জিপিএ–৫ পেয়েছেন, মূলত তাঁদের নিয়েই এ আয়োজন। ঢাকা অঞ্চলের উৎসবটি হয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডমে, গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫। সেখানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন ডা. অন্তর সাহা। ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—তিনটিতেই ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথা অনুপ্রাণিত করেছে শিক্ষার্থীদের। পড়ুন তাঁর কথামালা।

স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি ডাক্তার হব। ছোটবেলায় প্রথমে পদার্থবিজ্ঞানী, পরে প্রকৌশলী হতে চেয়েছি। আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ছিল বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়)। বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো! প্রতিদিন যখন সামনে দিয়ে যাই, মাঝেমধ্যেই হার্টবিট মিস হয়। জীবনে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন শুনতে হয়েছে, তা হলো, ‘আমি কেন ডাক্তার হলাম?’ উত্তর একটাই—মা-বাবা চেয়েছেন তাই। আমি মূলত প্রকৌশলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পরে একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যাই।

মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর মনে হতো এত বিদঘুটে পড়াশোনা কীভাবে মনে রাখব। এত পড়া আমাকে দিয়ে হবে না। পাসটা করে নিই, এরপরই একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। ভেবেছিলাম, বিসিএস দিয়ে ক্যাডার চেঞ্জ করে ফেলব। পরে বিসিএস জটের কারণে এফসিপিএস পরীক্ষা দিই। পার্ট ওয়ান পাসও করে ফেলি। পরে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পাই। শেষমেশ যেটা বুঝলাম, ডাক্তারি থেকে আমার মুক্তি নেই! সৃষ্টিকর্তা আমাকে ডাক্তার হিসেবেই দেখতে চান। শুধু তা–ই নয়, মেডিকেলের জন্য আমি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছি, যাঁদের মধ্যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখন বিভিন্ন মেডিকেলে পড়াশোনা করছে এবং অনেকে ডাক্তার হয়ে গেছে।

তোমরা যারা জিপিএ–৫ পেয়েছ, জেনে রেখো, এটাই তোমাদের সাফল্যের শেষ নয়, বরং একটি নতুন শুরু। আমি পাঁচটি পয়েন্ট বলব, যেগুলো শুধু ভর্তি পরীক্ষার ফলই নয়, তোমাদের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

প্রথমত, লক্ষ্য পরিষ্কার করো। যদি তোমার লক্ষ্য পরিষ্কার না হয়, তাহলে পথ কখনো পরিষ্কার হবে না। ঠিক করো তুমি কোন জীবন চাও। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত পড়ো। অল্প পড়লেও প্রতিদিন পড়ো। ধারাবাহিকতা সেই শক্তি, যা প্রতিভাকেও হার মানায়। তৃতীয়ত, সঠিক রিসোর্স বেছে নাও। বই-প্রশ্নব্যাংক-গাইড—সবকিছু বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্বাচন করো। ভুল রিসোর্স সঠিক মেধাকেও থামিয়ে দিতে পারে। চতুর্থত, মানসিক শক্তি ধরে রাখো। চাপ আসবে, ভয় আসবে। কিন্তু মনে রাখবে, জেতার আগে হার মানা যাবে না। তোমার বিশ্বাসই তোমার শক্তি। পঞ্চমত, সময়ের মূল্য বুঝো। তোমরা এখন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়ে আছ। এক ঘণ্টা নষ্ট মানে এক ধাপ পিছিয়ে পড়া।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তোমার স্বাস্থ্য। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেই দেখবে আজ ঢাকা, কাল খুলনা, পরের দিন চট্টগ্রামে পরীক্ষা হচ্ছে। শরীর ও মনের জোর না থাকলে এত পরীক্ষা দিয়ে ভালো করা সত্যিই কঠিন। বর্তমানে ভাইরাল জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। সব সময় মাস্ক ব্যবহার করবে, মশা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে, পুষ্টিকর খাবার খাবে, পর্যাপ্ত পানি পান করবে।

যেকোনো যুদ্ধ জেতার সবচেয়ে ভালো কৌশল হচ্ছে প্রতিপক্ষকে জানা। এ ক্ষেত্রে তোমার প্রতিপক্ষ কিন্তু তোমার বন্ধুরা নয়, প্রতিপক্ষ হচ্ছে সেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো। একটা ভালো প্রশ্ন ব্যাংক নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। তাহলে সবচেয়ে কম সময়ে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে পারবে। পড়াশোনা তো সবাই করবে, কিন্তু তোমাকে একটু কৌশলী হতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় যখনই আমার খারাপ লাগত, একটা ডায়েরি হাতে নিতাম। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ামাত্রই কী করব, কোথায় ঘুরতে যাব—এগুলো লিখতাম। মনকে এভাবে সান্ত্বনা দিতাম—আর মাত্র কয়েকটা দিন। এরপরই ‘আগুনের দিন শেষ হবে একদিন, ঝরনার সাথে গান হবে একদিন।’

ধরো, তুমি মেডিকেলে পড়বে, এ জন্য কি শুধু মেডিকেলের ফরম তুললেই হবে? মোটেই না। তুমি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলবে, যেগুলোর সঙ্গে মেডিকেলের প্রশ্ন পদ্ধতির মিল আছে। এতে অনেকগুলো অপশন তৈরি হবে এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার দিন দেখবে নিজেকে অনেকটাই নির্ভার লাগছে। আমি নিজে ১৬টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলেছিলাম।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তিনটি বিকল্প মাথায় রাখতে পারো:

১. মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;

২. ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিট।

এতে তোমার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এত কিছুর পরও যদি চান্স না-ই পাই, তাহলে কি হেরে যাব? আমার পরিচিত অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার পরও দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করেছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তোমাকে শুধু খুঁজে নিতে হবে, তোমার মেধা কোথায় লুকিয়ে আছে।

আমরা যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি, তাদের জীবনপথ অনেকটা নির্ধারণ হয়ে গেছে। আমাদের এই জীবনে হয়তো চাইলেও অনেক বেশি কিছু করে ফেলার সুযোগ এখন আর নেই। কিন্তু তোমরা জানো না, তোমাদের সামনে কত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। হয়তো একদিন তোমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই আমার কয়েক দিন আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখতে হবে। তোমাকে শুধু পরিশ্রম করে সেই জায়গাটায় একবার পৌঁছাতে হবে, সেই বিশ্বাসটা মনে ধরে রাখো মনে।

এ কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের সমর্থন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি তোমার কাছে তোমার মা-বাবার সমর্থন থাকে, তাহলে তুমি এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষগুলোর একজন। অভিভাবক, যাঁরা আমার কথা শুনছেন, তাঁরা অবশ্যই সফলতা ও ব্যর্থতায় আপনার ছেলেমেয়ের পাশে থাকবেন। আপনার একটি ইতিবাচক কথাও আপনার ছেলেমেয়েকে বিশ্বসেরা বানাতে পারে।

ধরো, পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলে। এরপর যে বন্ধুটি সুযোগ পায়নি, তার পাশে থাকার দায়িত্ব কিন্তু তোমার। সে হয়তো সংকোচে তোমার কাছে আসবে না, তোমাকেই এগিয়ে যেতে হবে সেই বন্ধুর কাছে। তোমার একটি কথাও তার মনে যেন আঘাত না দেয়, এটা তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে। দেখবে কদিন পরই কে কত ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেল, এ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। তুমি সব সময় নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবে, তবে অহংকার নিয়ে নয়। নিজের প্রতিষ্ঠানকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবে, সেটা তুমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে, যে বিষয়েই পড়ো না কেন।

তোমার আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রমের মাধ্যমেই তুমি জয় করে ফেলতে পারো যেকোনো বাধা। তোমাদের সবার জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে দোয়া ও শুভকামনা।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-23%2Fjmv1xmz4%2FDH188820251119HK8A1033-1.jpg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ডা. অন্তর সাহা। ছবি: প্রথম আলো

Monday, July 13, 2026

শিশুকে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কী হয় by ডা. মানিক মজুমদার

জ্বর হলে দোকানি বা প্রতিবেশীর পরামর্শে শিশুকে কয়েক ডোজ অ্যান্টিবায়োটিক দিলেই তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়—এই প্রবণতা বাংলাদেশে খুবই পরিচিত। কখনো জ্বর তিন–চার দিনের বেশি হলে মা–বাবারাই চিকিৎসককে অ্যান্টিবায়োটিক লিখতে চাপ দেন। তবে এই প্রবণতা কি ভালো?

রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় প্রভাব

শিশুকে অপ্রয়োজনে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো তার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এতে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো শিশুর হজমশক্তি স্বাভাবিক রাখা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে জরুরি। বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে শিশু ঘন ঘন অসুস্থ হয়। সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গেও শিশুর ইমিউন সিস্টেম লড়াই করতে পারে না।

ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স। অপ্রয়োজনে বা অসম্পূর্ণ কোর্সে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে শিশুর শরীরের ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে সেই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে যখন শিশু সত্যিকারের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হয়, তখন অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না। এ পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর তা কল্পনারও অযোগ্য।

মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব

অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর ডায়রিয়া, বমি, অ্যালার্জি বা ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। গবেষণায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য—শিশুর জীবনের প্রথম দিকে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। মনোযোগের ঘাটতি, অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও নানা আচরণগত সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

করণীয়

প্রথমত, কখনো নিজ থেকে বা দোকানির পরামর্শে শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না। কেবল নিবন্ধিত চিকিৎসক বা শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শে খাওয়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, মনে রাখবেন—ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি, কাশি বা জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। সঠিক যত্নে এসব কিছুটা সময় নিয়ে এমনিতেই সেরে যায়। শিশুর পুষ্টি ও বিশ্রামের দিকে নজর দিন। তৃতীয়ত, চিকিৎসক যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেন, পুরো কোর্স শেষ করুন। মাঝপথে বন্ধ করলে ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে। চতুর্থত, স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে শিশুকে সঠিক সুষম পুষ্টিকর খাবার দিন। সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি ও হাঁচি–কাশির শিষ্টাচারের দিকে লক্ষ রাখুন।

* ডা. মানিক মজুমদার, কনসালট্যান্ট (শিশুরোগ) পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি. ময়মনসিংহ

বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না
বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না। ছবি: পেক্সেলস

Thursday, July 9, 2026

বড়দেরও কি নিয়মিত কৃমির ওষুধ প্রয়োজন by ডা. তাসনোভা মাহিন

আমাদের দেশে শিশু–কিশোরদের প্রতিবছর কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কৃমি সংক্রমণের কোনো উপসর্গ না থাকলেও কেবল প্রতিরোধের ব্যবস্থা হিসেবেই তাদের দেওয়া হয় এই ওষুধ। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও তো কেউ কেউ ভোগেন কৃমির সমস্যায়। তাহলে কি সব বয়সেই কৃমি প্রতিরোধে ওষুধ খাওয়া জরুরি? স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

কৃমি এবং অন্যান্য বহু জীবাণু প্রতিরোধের উপায় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। খাবার প্রস্তুত, পরিবেশন এবং খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাসের বিকল্প নেই। বাসনকোসন ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং কাঁচা খাওয়া যায়—এমন খাবার ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি।

শৌচকর্মের পর ভালোভাবে হাত ধোয়ার গুরুত্বও সবারই জানা। খালি পায়ে মাটিতে হাঁটলে কৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ ব্যাপারও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

শিশু–কিশোরদের জন্য কেন বাড়তি সতর্কতা

সব বয়সেই কৃমি প্রতিরোধের জন্য এসব বিষয় মেনে চলা উচিত। তবে বাস্তবতা হলো, শৈশব-কৈশোরে স্বাস্থ্যরক্ষার অনেক দিক সব সময় মেনে চলা সম্ভব না-ও হতে পারে। ঘাসের ওপর দৌড়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য সুন্দর অনুভূতি থেকে আপনিও নিশ্চয়ই আপনার সন্তানকে বঞ্চিত করতে চাইবেন না।

কিন্তু বাড়ন্ত বয়সের আনন্দের মধ্যে পুষ্টিহীনতার কারণ হয়ে উঠতে পারে কৃমি। পুষ্টির ঘাটতিতে বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে প্রতিবছর নিয়মমাফিক তাদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানোই ভালো। বড়দের জন্য আলাদাভাবে এমন নিয়ম নেই।

বড়দের মধ্যে কারা নেবেন কৃমির ওষুধ

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের কৃমি সংক্রমণ ও সংক্রমণজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেশি, সংক্রমণের উপসর্গ না থাকলেও তাঁদের প্রতিবছর কৃমির ওষুধ খেতে বলা হয়।

বাকিদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের উপসর্গ না থাকলে কৃমির ওষুধ তেমন প্রয়োজনীয় নয়। জেনে নিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বড়দের মধ্যে কারা আছেন ঝুঁকিতে।

* যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম (যেমন ৬৫ বছর পেরোনো ব্যক্তি, কেমোথেরাপি বা দীর্ঘ মেয়াদে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তি)

* খালি পায়ে মাটিতে হাঁটেন বা কাজ করেন, এমন ব্যক্তি (যেমন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি)

* গর্ভধারণ করতে সক্ষম, এমন নারী (গর্ভাবস্থায় নয়)

* যে এলাকায় কৃমির প্রাদুর্ভাব বেশি, সেই এলাকায় বসবাসরত যেকোনো বয়সী নারী-পুরুষ (কখনো কখনো সরকারি উদ্যোগেও কোনো এলাকার সবাইকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর কর্মসূচি হতে পারে)

একটি ওষুধ খেলেই চলবে?

সাধারণত কৃমি প্রতিরোধে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বছরে একবার ৪০০ মিলিগ্রামের একটি অ্যালবেনডাজল ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। তবে আমাদের দেশে যেসব কৃমির প্রাদুর্ভাব আছে, সেসব প্রতিরোধ করতে এরই সঙ্গে আরেকটি ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন। ওষুধটির নাম আইভারমেকটিন।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওজনের ওপর নির্ভর করে আইভারমেকটিনের ডোজ নির্ধারণ করতে হয়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ২০০ মাইক্রোগ্রাম। তাই সঠিক ডোজ জেনে নিতে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

কখন খাওয়া ভালো

দিনে নাকি রাতে, খাওয়ার আগে নাকি পরে—কখন কৃমির ওষুধ খাওয়া ভালো, এ নিয়ে দ্বিধায় পড়বেন না। আপনি নিজের সুবিধামতো সময়েই কৃমির ওষুধ খেতে পারেন। তবে যেকোনো দুই বেলার খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে কৃমির ওষুধ খাওয়া ভালো।

এক বেলার খাবার খাওয়ার দু-তিন ঘণ্টা পর খেতে পারেন, যার দু–এক ঘণ্টা পর আরেক বেলার খাবারের সময় হয়ে যায়। অনেকে আবার রাতে কৃমির ওষুধ খান। মৃদু কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে সেই সময় বিশ্রাম নিলে তা উপশম হতে পারে। রাতে কৃমির ওষুধ খাওয়ার কোনো আলাদা উপকারিতা নেই।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানা থাক

কৃমির ওষুধ খাওয়ার পর সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই। এ ধরনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

* বমি ভাব

* বমি

* পেটে হালকা ব্যথা

* পাতলা পায়খানা

* মাথা ঘোরানো

* মাথাব্যথা

* একটু ঘুম ভাব

* মৃদু বা মাঝারি জ্বর

* পেশিতে হালকা ব্যথা

তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ধরনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

* তীব্র পেটব্যথা

* চোখ বা প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া

* ত্বকে গোটা সৃষ্টি হওয়া

ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই খেয়াল রাখুন

* গর্ভাবস্থায় কৃমির ওষুধ খেতে নেই। কৃমির ওষুধ খাওয়ার আগে ও পরে (এক মাস পর্যন্ত সময়) গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এমনকি গর্ভধারণ হয়েছে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ থাকলেও কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

* কোনো কৃমির ওষুধে অ্যালার্জি থাকলে তা খাওয়া যাবে না।

* অন্য কোনো ওষুধ চলমান থাকলে বা কোনো রোগের উপসর্গ থেকে থাকলে কৃমির ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ওষুধ খাওয়ার আগেই কৃমি সংক্রমণ হয়ে থাকলেও ভিন্ন ডোজ বা ভিন্ন ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

* যে মা সন্তানকে দুধ খাওয়ান, তাঁর ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রয়োজন।

সাধারণত কৃমি প্রতিরোধে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বছরে একবার ৪০০ মিলিগ্রামের একটি অ্যালবেনডাজল ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন
সাধারণত কৃমি প্রতিরোধে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বছরে একবার ৪০০ মিলিগ্রামের একটি অ্যালবেনডাজল ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। ছবি: পেক্সেলস

Wednesday, July 8, 2026

বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব পাবেন যেসব দেশের by আনিকা তায়্যিবা

জন্মসূত্রে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে বিশ্বায়নের যুগে সম্ভাবনার দ্বার খুলতে অনেকেই চান নিজ দেশের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকুক। এ ক্ষেত্রে অনেকেই ভিনদেশি মানুষকে বিয়ে করে নাগরিকত্ব নেন। একসময় চিঠিই ছিল যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। মানুষ পত্রমিতালির মাধ্যমে খুঁজে নিতেন বন্ধু বা প্রিয়জন। দিন বদলেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে আজকাল ভিনদেশি মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা কিংবা জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়া কঠিন কিছু নয়। এ ছাড়া বিদেশে পড়তে যাওয়া বা কাজের সূত্রে অন্য দেশে ভ্রমণের ফলে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। যা গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে, যেসব দেশের নাগরিকদের বিয়ে করলে পেয়ে যাবেন সেই দেশের নাগরিকত্ব। কোনো কোনো দেশে এটি হয় খুব সহজ প্রক্রিয়ায়, আবার কোনো দেশে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই মেলে নতুন পাসপোর্ট। চলুন, জানা যাক এমনই কয়েকটি দেশ সম্পর্কে, যেসব দেশ তাদের নাগরিককে বিয়ে করার মাধ্যমে বৈধ উপায়ে নাগরিকত্ব দেয়।

কেপ ভার্ড
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্ড। এটি এমন একটি দেশ, যেখানকার নাগরিককে বিয়ের পরই আপনি সেই দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন, কোনো কালক্ষেপণ না করে। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধভাবে কেপ ভার্ডের নাগরিককে বিয়ে করতে হবে। নাগরিকত্বের যোগ্যতা অর্জনের জন্য দেশটিতে বসবাসের পূর্বশর্তও নেই। কাজেই প্রক্রিয়াটি সহজ ও সময় সাশ্রয়ী।

স্পেন
দক্ষিণ ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ স্পেন, যেখানে আপনি কেবল এক বছরেই পেতে পারেন নাগরিকত্ব। স্পেনের আইনে বলা আছে, স্প্যানিশ নাগরিককে বিয়ে করলে তাঁর সঙ্গে এক বছরের বসবাসেই আপনি স্পেনের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। একবার এই দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে গেলে এর পাশাপাশি আপনি পাবেন লাতিন আমেরিকা, ফিলিপাইন, পর্তুগাল ইত্যাদি দেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা। নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য আপনার লাগবে স্প্যানিশ নাগরিককে বিয়ের বৈধ সনদ ও একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ। এ ছাড়া স্প্যানিশ ভাষার প্রাথমিক দক্ষতা ও তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানও অনেক সময় কাজে লাগে।

আর্জেন্টিনা
ফুটবলপ্রেমী অনেকের কাছেই এক আবেগের নাম আর্জেন্টিনা। স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পেয়ে যেতে পারেন, যদি বিয়ে করেন আর্জেন্টিনার কোনো নাগরিককে। মাত্র দুই বছর পরই আপনি নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বৈধ বিয়ের প্রমাণের পাশাপাশি লাগবে সেই দেশে কোনো অপরাধ না করার প্রমাণ ও সাধারণ স্প্যানিশ ভাষার জ্ঞান।

মেক্সিকো
মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী, একজন মেক্সিকান নাগরিককে বিয়ে করলে তাঁর সঙ্গে মাত্র দুই বছর বসবাস করলেই আপনি দেশটির নাগরিকত্ব পেতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার থাকতে হবে স্প্যানিশ ভাষার মৌলিক দক্ষতা, বিয়ের বৈধ সনদ ও একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, মেক্সিকোর নাগরিকত্ব পেলেও আপনি আগের দেশের পাসপোর্ট রাখতে পারবেন। এই দেশে জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক কম এবং দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও নিকটবর্তী।

তুরস্ক
অনেকের কাছেই ‘ড্রিম ডেসটিনেশন’ বা স্বপ্নের গন্তব্য তুরস্ক। অপরূপ তুরস্কে বিয়ের পর তিন বছর একসঙ্গে থাকলেই মেলে নাগরিকত্ব। মজার বিষয় হলো, লাতিন আমেরিকা বা ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো তুরস্কের নাগরিকত্বের জন্য সেই দেশের ভাষা বা সংস্কৃতি জানার প্রয়োজন নেই। তিন বছর একসঙ্গে বৈধভাবে দাম্পত্য জীবন কাটালেই করতে পারবেন নাগরিকত্বের আবেদন। এ ছাড়া তুরস্কের নাগরিক হলে আপনি পাবেন এক বিশেষ সুবিধা। তুরস্কের পাসপোর্ট দিয়ে পৃথিবীর ১১০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া যায়।

সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ড সাধারণভাবে কঠোর অভিবাসন নীতির দেশ হলেও বৈধ বিয়ের মাধ্যমে দেশটিতে নাগরিকত্বের সুবিধা পাওয়া যায়। প্রক্রিয়াটি বেশ সহজও বটে। আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি সুইস নাগরিক হন এবং আপনারা যদি তিন বছর একসঙ্গে থাকেন, তাহলে পাঁচ বছর বসবাসের পর আপনি নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন। আপনি যদি দেশের বাইরেও থাকেন, তারপরও ছয় বছরের বিবাহিতকাল অতিক্রান্ত হলেই আবেদন করতে পারবেন নাগরিকত্বের জন্য। সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া সাধারণত বেশ দ্রুত সম্পন্ন হয়। একবার এই দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে গেলে আপনি পাবেন ইউরোপে বসবাসের সুযোগও। আবেদনের জন্য লাগবে সুইস সমাজে ভালোভাবে মিশে যাওয়ার প্রমাণ; যেমন সুইজারল্যান্ডের ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে জানা; যেকোনো অপরাধমূলক কাজে যুক্ত না থাকার রেকর্ড ও বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় আছে, এমন প্রমাণ।

বৈধভাবে বিয়ে হলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে
বৈধভাবে বিয়ে হলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে। ছবি: পেক্সেলস

Monday, July 6, 2026

যে কারণে রাতে খাওয়ার পর থালাবাসন না মেজে ফেলে রাখবেন না by আলিয়া রিফাত

আপনি হয়তো সারা দিন ঘরে–বাইরে কাজ করে ক্লান্ত। রাতে খাওয়ার পর একটু বিশ্রামের জন্য তর সইছে না। এ অবস্থায় খাওয়ার পর বাসনকোসন, হাড়িপাতিল সব মেজে ফেলার কথা চিন্তাও করতে পারছেন না। কিন্তু এই কষ্টটুকু রাতে করে ফেলাই আখেরে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। অণুজীববিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা এমনটিই বলছেন।

নোংরা থালাবাসন সিঙ্কে জমিয়ে রাখলে সমস্যা কী

আপনার কিচেন সিঙ্কটি দেখতে কত নিরীহ, তাই না? কিন্তু না, ওই সিঙ্ক আসলে ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পরিপূর্ণ। বিশেষ করে যদি আপনি মাছ-মাংস ধোয়ার কাজটি সিঙ্কে করে থাকেন।

‘দ্য জার্ম কোড’ ও ‘দ্য জার্ম ফাইল’ বই দুটির লেখক জেসন টেট্রো আরও জানিয়েছেন, সিঙ্কের জীবাণুগুলোর মধ্যে ই কোলাই, স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস ইত্যাদি বেশি দেখা যায়। ধরুন, আপনি কোনো একটি পাত্রে কাঁচা মুরগি রেখেছিলেন। তারপর সেই পাত্র সিঙ্কে ধুয়ে ফেললেন। এ অবস্থায় সালমোনেলার মতো জীবাণুও আপনার সিঙ্কে থাকতে পারে।

সিঙ্ক এমন বিপজ্জনক হয়ে ওঠার মূল কারণ কী

আমরা যেসব খাবার খাই, সেসবের অধিকাংশে ব্যাকটেরিয়া থাকে। ফলে ধোয়ার সময় সিঙ্কেও ঠাঁই পায়। আর ব্যাকটেরিয়া থাকে বলেই খাবারগুলো রান্না করে খেতে হয়। কিন্তু সিঙ্ক বাসার সবচেয়ে জীবাণুপূর্ণ স্থান হয়ে ওঠার আরেকটি কারণ আছে।

সেটি হলো, এঁটো থালাবাসন সেখানে ফেলে রাখা। ব্যাকটেরিয়া উষ্ণ, স্যাঁতসেঁতে জায়গায় দ্রুত বংশবিস্তার করে। এঁটো থালাবাসনের কারণে আপনার সিঙ্ক হয়ে ওঠে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর একটি আদর্শ স্থান।

এঁটো বাসন শুকনা নাকি ভেজা

এঁটো বাসন শুকনা রেখে দেওয়ার চেয়ে উষ্ণ, জীবাণুতে পরিপূর্ণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা একটু বেশিই ক্ষতিকর। মোটের ওপর, উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বেশি জন্মায়। তবে এর মানে এই নয় যে শুকনা সিঙ্ক নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুকনা পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করতে পারে না। কিন্তু বেঁচে ঠিকই থাকতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বংশবিস্তার করতে পারে। আর এঁটো বাসনে যেহেতু খাবার লেগে থাকে, পোকামাকড় সহজেই সেসবের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং ব্যাকটেরিয়া রান্নাঘরের অন্যান্য জায়গায়ও ছড়িয়ে পড়ে।

এই অভ্যাস কি অসুস্থতার কারণ হতে পারে

ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ পানি সিঙ্কে জমিয়ে রাখলে আপনি অসুস্থ হতেই পারেন। ই কোলাই এবং সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং পেটের বিভিন্ন অসুখবিসুখের জন্য দায়ী।

এসব রোগ মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে, এমনকি আপনার কিডনিকেও রোগাক্রান্ত করতে পারে। স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস ত্বকে ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি গ্লাভস না পরে থালাবাসন ধুয়ে থাকেন।

ত্বকে ছোটখাটো কাটাছেঁড়া থেকে সংক্রমণ হওয়ার যে আশঙ্কা থাকে, গ্লাভস ছাড়া থালাবাসন মাজলেও সেই পরিমাণ সংক্রমণ হতে পারে।

সিঙ্কের ব্যাকটেরিয়া ঠিক কীভাবে রোগ সৃষ্টি করে

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা না জেনেই স্পঞ্জ, হাত কিংবা পানির বোতলে জীবাণু ছড়িয়ে দিই। সিঙ্কের ব্যাকটেরিয়া সহজেই আশপাশে এবং খাবারে স্থানান্তরিত হয়। নোংরা পানির ছিটা থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়।

নোংরা পানিতে ভেজা হাত দিয়ে জিনিসপত্র ধরার কারণেও আমাদের হাত থেকে জীবাণু ছড়ায়। সিঙ্কের কল থেকে আপনি যদি একটি গ্লাসে বা কলসিতে পানি ভরেন এবং ঠিক সেই মুহূর্তে সিঙ্কে এঁটো বাসনকোসন পড়ে থাকে, আপনার শরীরে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

সিঙ্কে যত বেশি এঁটো বাসন জমিয়ে রাখবেন, সিঙ্কটিকে জীবাণুমুক্ত করা ততই কঠিন হবে। যদি বাসনকোসন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ায় ডুবে থাকে, তাহলে পরিষ্কারের সময় সব ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

নোংরা বাসনকোসন নিয়ে তাহলে কী করা উচিত

যদি আপনার থালাবাসন ধোয়ার আধুনিক যন্ত্র থাকে, তাহলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আপনার বাসনকোসন পরিষ্কার করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। ডিশওয়াশারগুলোয় তাপমাত্রা সেট করে দেওয়া যায়। তাই ডিশওয়াশার নিশ্চিত করে যে আপনার নোংরা পাত্র, প্লেট ও বাসনপত্র সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত থাকবে।

কিছু বাসনকোসন ডিশওয়াশারে ধোয়ার উপযুক্ত নয়। কোনো সমস্যা নেই। এ ক্ষেত্রে কেবল গরম সাবান-পানি দিয়ে সাবধানে সেসব জিনিস পরিষ্কার করে বাতাসে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। থালাবাটি ধোয়ার স্পঞ্জগুলোও ভালোভাবে পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। এটি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আরেক প্রশ্ন সামনে এসে যায়, এঁটো বাসনকোসন কিছুক্ষণের জন্য ভিজিয়ে রাখা যাবে কী? উত্তর হলো—‘না’।

হাতে সময় না থাকলে কী করবেন

হয়তো আপনার শিশুসন্তানকে ঘুম পাড়াতে হবে, কাউকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে, অথবা জরুরি ই-মেইলের উত্তর দিতে হবে, কিংবা একসঙ্গে তিনটিই—এ অবস্থায়ও কি কড়াইয়ে লেগে যাওয়া পোড়া তরকারি ওঠানোর জন্য সেটিকে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা যাবে না?

এ রকম পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে না হলেও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার বাসনকোসন পরিষ্কার করে ফেলুন।
থালাবাসন রেখে দিলে সিঙ্ক পরিষ্কার করবেন কীভাবে

রান্নাঘরের সিঙ্ক পরিষ্কারে ও জীবাণুমুক্ত করার একটি সহজ উপায় আছে। সাবান-পানি দিয়ে সিঙ্ক পরিষ্কার করুন। তারপর একটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কিংবা ব্লিচযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করুন। স্প্রে করে সঙ্গে সঙ্গেই ধুয়ে ফেলবেন না। স্প্রের সুফল পুরোপুরি পেতে চাইলে ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

রাতে আপনি যখন বিশ্রাম নেন, ব্যাকটেরিয়ারা তখনই কাজে নেমে পড়ে, এ কারণেই রাতে খাওয়ার পর এঁটো বাসনকোসন সিঙ্কে ফেলে রাখা যাবে না
রাতে আপনি যখন বিশ্রাম নেন, ব্যাকটেরিয়ারা তখনই কাজে নেমে পড়ে, এ কারণেই রাতে খাওয়ার পর এঁটো বাসনকোসন সিঙ্কে ফেলে রাখা যাবে না। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

Sunday, July 5, 2026

হাঁটার চেয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা কতটা ভালো ব্যায়াম, জানেন?

হাঁটার চেয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় ক্যালরি খরচ হয় অনেক বেশি। আর যেকোনো জায়গায়ই এটা করা যায়। চিকিৎসকেরাও সিঁড়ি ভাঙাকে ‘দারুণ কার্ডিও ব্যায়াম’-এর স্বীকৃতি দিয়েছেন।

সিঁড়ি ভাঙা কি আসলেই ভালো?

হ্যাঁ। যাঁরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় অংশ নেন, তাঁরাও নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙার ব্যায়াম করেন।

পারসোনা হেলথের ফিটনেস ট্রেইনার শাহিনূর চৌধুরী বলেন, ‘নগরবাসীর জন্য এটি হতে পারে হাঁটার ভালো বিকল্প। লিফট বা এস্কেলেটর বাদ দিয়ে সিঁড়ি ভাঙলে হৃৎপিণ্ড দ্রুত কাজ করা শুরু করে। তাই লো-ইমপ্যাক্ট ব্যায়াম হিসেবে এটি দারুণ।’

হাঁটার চেয়ে সহজেই এটি করা যায়, কারণ অফিস হোক বা বাসা—শহরের প্রায় সবখানেই সিঁড়ি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে শহরে হাঁটার পরিবেশ পাওয়া কঠিন। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে উঠলে হাঁটার চেয়ে ক্যালরি খরচ হয় অনেক বেশি।

কেউ যদি অল্প সময়ের জন্যও সিঁড়ি ভাঙেন, তা থেকেও উপকার মিলবে। বিশেষ করে হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা, ওজন কমানো ও দীর্ঘায়ুর মতো স্বাস্থ্যকর নানা সুবিধা পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পোর্টস মেডিসিনের চিকিৎসক ক্যারি জাওরস্কি জানাচ্ছেন, প্রতিদিন যাঁদের সিঁড়ি বাইতে হয়, তাঁদের কাছে এটা সহজ মনে হলেও এতে শরীরের অনেকগুলো অংশ একই সঙ্গে কাজ করে। কারণ, সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় আপনাকে বারবার শরীরটা মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে ওপরে তুলতে হয়।

ক্যারি বলেন, ‘হৃৎপিণ্ড শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আর সিঁড়ি দিয়ে উঠলে সেই হৃৎপিণ্ডের ব্যায়াম হয়। পাশাপাশি সিঁড়ি দিয়ে ওঠার অভ্যাস পায়ের পেশি গড়তে সাহায্য করে।’

ক্যারির কথাকে সমর্থন করে নিউইয়র্কভিত্তিক আরেক স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. স্টুয়ার্ট চার্নি বলেন, ‘সিঁড়ি ভাঙা সত্যিই অসাধারণ এক কার্ডিও। এতে অনেকগুলো মাংসপেশি একসঙ্গে কাজ করে, ফলে শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় আর ক্যালরিও বেশি খরচ হয়।’

সিঁড়ি ভাঙার সময় মূলত ঊরুর সামনের পেশি, পেছনের পেশি, পা ও নিতম্বের পেশি একসঙ্গে কাজ করে।

কত ক্যালরি খরচ হয়

সিঁড়ি বাইলে কার কতটা ক্যালরি পুড়বে, সেটা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কেননা আপনি কত দ্রুত সিঁড়ি ভাঙছেন, সেটার ওপর নির্ভর করে কত ক্যালরি পুড়বে। তবে হাঁটার চেয়ে অনেক বেশি ক্যালরি খরচ হয় সিঁড়ি বেয়ে উঠলে। চিকিৎসকেরা ধারণা করেন, হাঁটার চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি ক্যালরি পোড়ে সিঁড়িতে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের এক নিবন্ধ থেকে জানা যায়, সিঁড়ি ভাঙা এমন একটি সহজ কার্যকলাপ, যা জিমে না গিয়েও প্রচুর ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।

দেশটির উইসকনসিন ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ সার্ভিসের হিসাবে, একজন প্রায় ৭০ কেজি ওজনের ব্যক্তি যদি এক ঘণ্টা দৌড়ে সিঁড়ি ভাঙেন, তবে ১ হাজার ৫০ ক্যালরির বেশি খরচ হবে। আর যদি হাঁটার মতো করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠেন, তবে প্রায় ৫৬০ ক্যালরি খরচ হবে।

সেই তুলনায় সমতলে মাঝারি গতিতে এক ঘণ্টা হাঁটলে মাত্র ২৪৬ ক্যালরি খরচ হয়। অনভ্যাসে বেশির ভাগ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সিঁড়ি ভাঙতে পারেন না। তবে যেহেতু এতে অনেক বেশি শক্তি খরচ হয়, তাই অল্প সময় করলেও এটি খুব কার্যকর ব্যায়াম।
সতর্কতা

* যেকোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

* যাঁদের ভারসাম্যে সমস্যা বা হাঁটুর ব্যথা আছে, তাঁদের বিকল্প ব্যায়াম বেছে নেওয়াই ভালো।

* সিঁড়ি বেয়ে ওঠার ব্যায়াম করলে হার্ট রেটে সব সময় খেয়াল করতে হয়। কারণ, সিঁড়ি ভাঙলে হঠাৎ করে পালস অনেক বেড়ে যেতে পারে, যেটা ঝুঁকিপূর্ণ।

সূত্র: টুডে ডটকম

সিঁড়ি দিয়ে নামার চেয়ে ওঠায় বেশি উপকার মেলে
সিঁড়ি দিয়ে নামার চেয়ে ওঠায় বেশি উপকার মেলে। মডেল: সিফাত। ছবি: কবির হোসেন

Thursday, July 2, 2026

ইমোশনাল অ্যাবিউজের মাধ্যমে শিশুর যে ক্ষতি করেন বড়রা by হুমায়রা মাহজাবিন

ছোট একটি বাক্য একজন মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। লাঠি বা পাথর মানুষের হাড় ভেঙে ফেলতে পারে; কিন্তু কথা দিয়ে মানুষের মনোবল ভেঙে ফেলা সম্ভব। আর কারও আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়া শারীরিক আঘাতের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন (ইমোশনাল অ্যাবিউজ) শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় ব্যাঘাত ঘটায়।

সাধারণত একজন ব্যক্তি আরেকজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা থেকে ইমোশনাল অ্যাবিউজ করে। অনেক পরিবারে বড়দের দ্বারা এমন আচরণের শিকার হয় শিশুরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন শারীরিক নির্যাতনের মতোই ভয়াবহ। ছোটবেলার এসব মানসিক নির্যাতন শিশুর বিকাশে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের প্রভাবই ফেলতে পারে।

শাসন যখন মানসিক নির্যাতন

সন্তান বড় করতে গিয়ে মা–বাবারা অনেক ধরনের নিয়ম বেঁধে দেন। অনেক অভিভাবক মনে করেন, এতে শিশুদের ভালো হবে। কঠোর ভালোবাসা এসব বেঁধে দেওয়া নিয়মের অন্যতম। কিন্তু এ পদ্ধতিটি শিশুদের ভালো তো করেই না, বরং তার মধ্যে হীনম্মন্যতা, ভয় এবং নিজের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করে। অনেক সময় দেখা যায়, মা–বাবা তাঁদের সন্তানকে নিয়মিত কারও সঙ্গে তুলনা করছেন। সন্তানকে অযোগ্য কিংবা কিছুই পারে না বলে বারবার তিরস্কার করলে শিশুটির মধ্যে একধরনের বিশ্বাস গড়ে ওঠে যে আসলেই সে কিছু পারে না, তাকে দিয়ে কিছুই হবে না। নিজের শক্তি আবিষ্কারের বদলে সারাক্ষণ সে হীনম্মন্যতায় ভুগতে থাকে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো অনেক অভিভাবক এ ধরনের নির্যাতনকে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য মনে করেন। নিজের অস্বাভাবিক আচরণকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে অনেকে শিশুর সামনে ব্যাখ্যা হাজির করেন। অভিভাবকেরা আবার যখন ‘আমি তোমার ভালোর জন্যই করছি’ বলে নিজের কাজকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, সেটা শিশুর ওপর চাপ তৈরি করে। আবেগজনিত নির্যাতন একটি শিশুকে তার সুস্থ ও স্বাভাবিক ব্যবহার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে।

মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের দীর্ঘ প্রভাব

মানুষ স্বভাবতই নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে মনে রাখে বেশি। শৈশবে পাওয়া মৌখিক আঘাতে বড়বেলায়ও ভুগতে পারে শিশু। দীর্ঘদিন ধরে একই কথা শোনার ফলে শিশুদের মনে কথাগুলো পাকাপাকিভাবে গেঁথে যায়। একটি এমআরআই পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মা–বাবার অবমাননাকর বা নির্যাতনমূলক কথাবার্তা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশপ্রক্রিয়াই বদলে দিতে পারে। তারা এই নেতিবাচক কথাগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করে এবং ভুলভাবে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল রপ্ত করে। ফলে নিজের অজান্তেই তারা অন্যদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন প্রয়োগ করে। যারা শৈশবে মানসিক বা আবেগজনিত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তাঁরা উদ্বেগ, হতাশা, আত্মসম্মানের ঘাটতিতে ভোগেন। একই সঙ্গে এমন মানুষেরা স্বাস্থ্যকর ও স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে দ্বিধায় ভোগেন।

সূত্র: ফিজিওলজি টুডে

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-19%2Fw0ibaxuq%2FKabir-Hossain2.JPG?rect=280%2C0%2C3266%2C2177&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা হতে পারে মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন। মডেল: ভুবন ও বর্ণ। ছবি: কবির হোসেন

Saturday, June 27, 2026

৬ মাস পার হলেই কি শিশুকে মাংস খাওয়ানো যাবে? by রাফিয়া আলম

ছয় মাস পেরোনোর পর মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে দিতে হয় সম্পূরক খাবার। পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেক অভিভাবকই এই বয়স থেকেই খিচুড়ির সঙ্গে শিশুকে মাংস দিয়ে থাকেন।

মাংস থেকে আমিষ, আয়রন, ভিটামিন বি১২, জিংক ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে এসব উপাদান কাজে লাগে। ছোট্ট শিশুকে মাংস খাওয়ানো প্রসঙ্গে পরামর্শ দিলেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান।

অভ্যস্ততা

ছয় মাস বয়স পার হলেই মুরগির মাংস দেওয়া যায়। তবে হাঁস, গরু বা খাসির মাংস এক বছর পার হলে খাওয়ানো ভালো। এসব মাংস হজম হতে একটু বেশি সময় লাগে। সব ধরনের মাংস সব শিশুর সহ্য না-ও হতে পারে।
যেকোনো নতুন খাবারে শিশু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। মাংসের বেলাতেও তা–ই। শিশুকে যেকোনো নতুন খাবারই খুব অল্প পরিমাণে শুরু করতে হয়। অনেক বাড়িতেই ছোট্ট শিশুকে সুজি ও নরম খিচুড়ির মতো খাবার দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে শিশু পরিবারের সাধারণ খাবারের স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
শিশুকে শুরুতেই নরম খিচুড়ি বা নরম ভাতের সঙ্গে অল্প পরিমাণে মাংস মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে মাংসের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

খেয়াল রাখুন

* শিশুকে মাংস দিলে অবশ্যই খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। আধসেদ্ধ মাংস দেওয়া যাবে না।

* শিশুকে মাংস দেওয়ার পর সে তা খেতে পারছে কি না, তা–ও দেখতে হবে।

* যে শিশু মাত্র খেতে শিখেছে, তাকে মিহি করে মাংস দিতে হবে। শুরুর দিকে ব্লেন্ড করে দেওয়া যেতে পারে।

* সেদ্ধ করার পর হাত দিয়ে চটকে নরম করে দিলেও ছোট শিশু তা খেতে পারবে।

* মুরগি আর সবজি দিয়ে পুষ্টিকর স্যুপও করে দিতে পারেন।

* মাংসের শক্ত টুকরা বা হাড়ের টুকরা দেওয়া যাবে না। এসব অংশ শিশুর গলায় আটকে যেতে পারে।

* যেকোনো মাংসের চর্বি বা শক্ত চামড়ার অংশ ফেলে দিন। ফার্মের মুরগিতেও চর্বি থাকে।

* যেকোনো নতুন খাবার শুরু করার তিন দিনের মধ্যে অন্য আরেকটি খাবার শুরু না করাই ভালো। শিশুর কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকলে এভাবে তা বোঝা সহজ হয়।

* শিশু একটু বড় হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। এতে সে নানান রকম খাবারের প্রতি আগ্রহী হবে। এভাবে সে অল্প অল্প করে মাংসের নানান পদে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।

* যে বয়সে শিশু নিজ হাতে খাবার ধরতে পারে, সেই বয়সে হাতে মুরগির লম্বা হাড় তার হাতে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে সে একটু একটু করে চুষে খেতে শিখবে। উৎসাহও পাবে।

শিশুকে যেকোনো নতুন খাবারই খুব অল্প পরিমাণে শুরু করতে হয়
শিশুকে যেকোনো নতুন খাবারই খুব অল্প পরিমাণে শুরু করতে হয়। ছবি: পেক্সেলস

শরীরে পটাশিয়াম কেন বেড়ে যায়, নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী by অধ্যাপক ডা. এ কে এম মূসা

পটাশিয়াম শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট বা খনিজ। পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা এবং হার্টের ছন্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যাবশ্যক। সাধারণত রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা লিটারে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৫ মিলিমোল। যখন এটি ৫ দশমিক ৫-এর ওপরে চলে যায়, তখন একে হাইপারক্যালেমিয়া বলা হয়। এটি একটি জরুরি অবস্থা, দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

রক্তের সেরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা করে এটি বোঝা যায়। ইসিজি-হাইপারক্যালিমিয়ার কারণে কিছু ইসিজির নির্দিষ্ট পরিবর্তন পাওয়া যায়, যা চিকিৎসায় সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রস্রাবের পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও অসমোলারিটি রোগ নির্ণয়ে দেখা হয়।

পটাশিয়াম বাড়ার কারণ

* কিডনির অকার্যকারিতায় পটাশিয়াম প্রস্রাবের সঙ্গে নির্গত না হয়ে শরীরে জমতে থাকে। দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ, বিশেষ করে স্টেজ ৪ ও ৫, হঠাৎ করে সৃষ্ট কিডনি ফেইলিওর, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট-পরবর্তী জটিলতায় বা ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি হলে এমন হয়।

* গুরুতর আঘাতে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে ও রক্তকোষ ভেঙে গেলে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যেমন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির রোগ হলে।

* কিছু ওষুধ যেমন উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসিই ইনহিবিটরস, এআরবি, পটাশিয়াম-স্পেয়ারিং ডাইইউরেটিকস এবং ব্যথানাশক ওষুধ রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ।

লক্ষণ কী

* পটাশিয়াম বেড়ে গেলে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে বুক ধড়ফড়, বুকে ব্যথা বা হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। পেশিতে দুর্বলতা, অবশ ভাব বা খিঁচুনি, বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি হতে পারে।

* হাইপারক্যালিমিয়ার জটিলতা-কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট অর্থাৎ হৃদ্‌যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। পক্ষাঘাত।

খাবার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

* যেসব খাবার খাওয়া যাবে না—ডাবের পানি, কলা, আলু, টমেটো, আরও কিছু ফল ও শাকসবজি।

* যেসব সবজি খাওয়া যাবে—ঝিঙে, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া, পটোল, ডাঁটা, লাউ, মুলা, শসা, শিম।

* যেসব ফল খাওয়া যাবে—পেয়ারা, পেঁপে, আপেল, নাশপাতি, আনারস, বেল, জামরুল।

* যেসব শাক খাওয়া যাবে—ডাঁটাশাক, লাউশাক, কলমিশাক, লালশাক।

তবে একজন ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শে খাদ্য গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। কোনো ওষুধের কারণে হাইপারক্যালিমিয়া হলে, তা পরিবর্তন করতে হবে।

* অধ্যাপক ডা. এ কে এম মূসা, মেডিসিন বিভাগ চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা

পটাশিয়াম বেড়ে গেলে বুকে ব্যথা বা হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে
পটাশিয়াম বেড়ে গেলে বুকে ব্যথা বা হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

রংপুরে ‘লিভিং ব্লু’র কারখানায় তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক নীল রং by রয়া মুনতাসীর

একসময় নীল চাষ ছিল কৃষকের বঞ্চনা ও নিপীড়নের গল্প। এখন সেটাই হয়ে উঠেছে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় উপকরণ। এই উপকরণ নিয়ে বাংলাদেশে যে কটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তার মধ্যে ‘লিভিং ব্লু’ অন্যতম। চাষের মাধ্যমে পাওয়া রং দিয়ে তারা শাড়ি, স্কার্ফ, স্টোলসহ নানা ধরনের পণ্যে আনছে টাই–ডাইয়ের নকশা।

রাজেন্দ্রপুরে যখন পৌঁছালাম, রোদের তাপে চারদিক তখন ঝলসে যাচ্ছিল। কোনো দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। গাড়ি থেকে নামতেই চোখে পড়ল ছোট ছোট মাচা। তার ওপর পাতা ট্রেতে নীল রঙের গাদের দিকে তাকিয়ে চোখ যেন আরাম পেল।

এই আরাম মনকেও ছুঁয়ে গেল যখন নীল রঙের নকশা করা শাড়িগুলো দেখলাম। কারখানার একদিকে নীল পাতা জাগ দেওয়া হচ্ছে, আরেক পাশে বড় চুলায় নীল জ্বাল দিচ্ছেন কর্মীরা। আরেক দিকে গাদটাকে ট্রেতে করে রোদে শুকানো হচ্ছে।

চারদিকে চলছে পোশাকে প্রাকৃতিকভাবে টাই-ডাই করার প্রস্তুতি। গোছানো, ছিমছাম এই পরিবেশেই বানানো হচ্ছে অভিজাত নানা পণ্য।

বাংলাদেশে অনেক বছর ধরেই টাই-ডাই নিয়ে কাজ হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সুনামও কুড়িয়েছে। ‘লিভিং ব্লু’ তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৮ সালে কেয়ার বাংলাদেশের একটি প্রজেক্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে লিভিং ব্লু।

বর্তমানে এটি স্বতন্ত্র উদ্যোগ। রংপুরের রাজেন্দ্রপুরের গোয়ালপাড়া এলাকায় তাদের নিজস্ব কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক নীল রং।

একসময় এই নীল ছিল কৃষকের বঞ্চনা ও নিপীড়নের উৎস। সেটাই এখন হয়ে উঠেছে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় এক উপকরণ। তবে নীলের বাইরেও নানা রং ব্যবহার করে লিভিং ব্লু।

কারখানায় টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরের ভেতর রাখা বড় বড় ট্রাংকগুলো খুলতেই তার কিছু ঝলক দেখা গেল, যখন ‘নকশা’র ফটোশুটের জন্য নানা রঙের শাড়ি, স্কার্ফ, স্টোল, কাঁথা বের করছিলেন শিল্পীরা।

লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর এলাকার প্রায় ২০০ শিল্পী শুধু টাই-ডাইই নয়, বুনে চলেছেন নানা নকশার কাঁথা। রপ্তানি হচ্ছে ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায়। জানা গেল কাঁথা, স্টোল, স্কার্ফ, পোশাক, শাল, টোট ব্যাগের পাশাপাশি নীলের কেক বা গুঁড়াও বিক্রি করা হয় নিয়মিত।

ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি থেকে গ্রাহকেরা নিয়মিত কেক বা ডাস্ট আকারে কেনেন নীল। এ বছর এখন পর্যন্ত এক হাজার কেজি নীল বিক্রি হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর এলাকার শিল্পীদের কাজের ভাগ করা আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কাঁথা স্টিচিংয়ের মধ্যে ‘সাদার ওপর সাদা’ কাঁথার কাজ দিনাজপুর এলাকায় করা হয়।

সেখানকার সাইতারা ইউনিয়নের শিল্পীরা এ কাজের জন্য বিখ্যাত। সাদা কাপড়ের ওপর কাজ করার জন্য তাঁরা বিশেষ ব্যবস্থা নেন, যাতে কোনো দাগ না পড়ে কাজ করার সময়। কাঁথার ওপর ডব্লিউ ডব্লিউ ডিজাইন ভালো করে লালমনিরহাটে।

রংপুরের শিল্পীরা আবার বহুমুখী। এখানে দাবার নকশা, শিবরির ডিজাইন, শাড়ির ওপর সব ধরনের কাঁথা স্টিচ করা হয়। এখান থেকে ফরমাশ দিয়ে পণ্য বানিয়ে নেন দেশীয় নামীদামি বেশ কিছু দোকান।

পণ্যের ওপর নকশাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করেন? উত্তরে লিভিং ব্লুর চিফ কো-অর্ডিনেটর গোলাম রাব্বানী জানান, ‘লিভিং ব্লু যে পণ্যই বানায়, সেখানে বাংলাদেশ থাকে। বিশেষ করে দেশের বাইরের পণ্যগুলোতে ঐতিহ্যবাহী নকশার ওপর প্রাধান্য দিই আমরা। বেশির ভাগ সময় আমাদের দেওয়া নকশাই পছন্দ করেন বাইরের গ্রাহকেরা। কিছু সময় আমরা তাঁদের দেওয়া নকশার ওপর কাজ করি।’

কথা বলতে বলতেই বারান্দার এক কোণে বসা শিল্পীদের ওপর চোখ চলে যায়। পা ছড়িয়ে গুটগুট করে গল্প করতে করতে সুই-সুতায় ৩২ গজের সাদা কাঁথার ওপর ফুল, লতাপাতার নকশা ফোটাচ্ছিলেন তাঁরা। এ নকশা যে অনেক চিন্তাভাবনা করে সব সময় আসে, তা–ও নয়। কাজের অভিজ্ঞতায় হাতের টানেও চলে আসে অনেক সুন্দর নকশা।

আছে আরও ১১ রং

লিভিং ব্লুর কাজের অনেক বড় একটা অংশজুড়ে থাকে নীল। তবে এই নীলের বাইরে আরও ১১টি রং নিয়ে তারা কাজ করে। মেরুন, সবুজ, কালো, লাল, কমলা, জলপাই, সোনালি, ছাই, বেগুনি ইত্যাদি রং আছে। প্রতিটি রঙের উপকরণই প্রাকৃতিক। যেমন ডালিমের খোসা আর হরীতকী থেকে পাওয়া যায় সোনালি রং।

নীলের হরীতকী ও ডালিমের খোসার মিশ্রণে পাওয়া যায় সবুজ রং। সবুজ রঙের যেকোনো পণ্য বানাতে এ কারণে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়, জানালেন রাব্বনী। কারণ, এখানে তিনবার ডাই করতে হয়। মঞ্জিষ্ঠার ডাল থেকে পাওয়া যায় মেরুন রং।

পেঁয়াজের খোসা থেকে আসে বাদামি রং। মঞ্জিষ্ঠার ডাল আর নীল রং থেকে আসে কালো রং। কলার মোচা থেকে পাওয়া যায় ছাই রং।

কাজের জন্য সাধারণত নানা কাউন্টের সুতায় বানানো রাজশাহী সিল্ক আর কুমিল্লার খাদি বেছে নেওয়া হয়। নতুন যোগ হয়েছে টাঙ্গাইলের নরম সুতির শাড়ি। প্রচ্ছদের ছবির জন্য সায়রা আক্তার জাহানকে সেটাই পরানো হলো।

সুতির শাড়িটি এতই হালকা যে দুপুরের কড়া রোদেও পরে আরাম পেলেন। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছবি তুললেন নীলের গাদ বিছানো ট্রের সামনে দাঁড়িয়ে।

অর্থনীতি

কারখানার পাশেই ধানখেত। নীলের গাদ ছাঁকার পর যে পানি বের হয়, সেটা নাকি এখানে দিয়ে দেওয়া হয়। ভালো সার হিসেবে কাজ করে। কোনো রকম কেমিক্যাল ডাই ব্যবহার করা হয় না বলেই জানা গেল। প্রতিষ্ঠানটিতে স্থায়ী কর্মী আছেন ৩০ জন। কাজের ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা ২০০-ও ছাড়িয়ে যায়।

শিল্পীরা ছাড়াও ২০০ কৃষক পরিবার পাতা সংগ্রহের কাজ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ, বিশেষ করে নারীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি, স্থানীয় ঐতিহ্য ও নকশাকে পুনর্জাগরিত করা, প্রাকৃতিক উপায়ে কাজ করা এবং কারিগর-কৃষক—সবার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয় লিভিং ব্লু।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-18%2F60skqs1i%2F040A7906.jpg?rect=312%2C0%2C2954%2C1969&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সুতির শাড়ি আর সিল্কের স্কার্ফে ইন্ডিগোর নকশা। মডেল হয়েছেন সায়রা আকতার জাহান। শাড়ি: লিভিং ব্লু, সাজ: শাহানাজ মেকওভার, রংপুর, স্থান: লিভিং ব্লুর কারখানা, রাজেন্দ্রপুর, রংপুর। ছবি: সুমন ইউসুফ

Wednesday, June 24, 2026

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বললেই অনেকে সবার আগে গ্রিন টি-র কথা ভাবেন। স্বাস্থ্যের জন্য এই চায়ের নানা গুণের কথা সবারই জানা।

তবে পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রিন টি ছাড়াও এমন কিছু ঘরোয়া পানীয় রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি এই পানীয়গুলো খেলে হৃদ্‌যন্ত্র বা হার্ট ভালো থাকে। চলুন, জেনে নিই পানীয়গুলো কী কী।

তবে মনে রাখা জরুরি, কোনো পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের মূল ওষুধের বিকল্প নয়।
উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ দীর্ঘ সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি শরীরের বড় ক্ষতি করে দেয়। তাই ওষুধের পাশাপাশি এগুলোকে স্বাস্থ্যকর জীবনের অংশ করে নেওয়া যেতে পারে।

জবা ফুলের চা (হিবিস্কাস টি)
যাদের ক্যাফেইনে সমস্যা আছে, তারা গ্রিন টি-র বদলে জবা ফুলের চা বেছে নিতে পারেন। এই চা ঠাণ্ডা বা গরম— দুইভাবেই খাওয়া যায়।
জবা ফুলে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই চা রক্তচাপের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) কমাতে সাহায্য করে। বেদানার রস রক্তনালি সচল রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস না খেয়ে, বাড়িতে তৈরি করা খাঁটি বেদানার রস খাওয়া বেশি কার্যকরী।

বিটের রস
বিট হলো ‘ডায়েটারি নাইট্রেট’-এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এই রস শরীরে যাওয়ার পর নাইট্রেট উপাদানটি ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ পরিণত হয়। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই রস যেমন উপকারি, তেমনই এটি শারীরিক কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রেশার মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন করা জরুরি।

সূত্র : আনন্দবাজার

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়