Tuesday, July 18, 2017

বংশের বাতি না আসায় মেয়েকে জঙ্গলে ফেলে দিলেন মা!

বংশে বাতি দেয়ার জন্য পুত্র সন্তান না হওয়ায় সদ্যোজাত দ্বিতীয় মেয়েকে জঙ্গলে ফেলে এসেছেন খোদ জন্মদাত্রী মা। আর এমন ন্যাক্কারজনক কাজে জন্মদাত্রী মাকে সহায়তা করেছেন তার নিজ মা! সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার এ ঘটনায় এখন অফলাইন ও অনলাইনে তুলেছে তুমুল ঝড়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার মেয়ে হওয়ার পর থেকেই মন খারাপ ছিল ওই মায়ের। তার উপরে ডাক্তারবাবুরা বলে দিয়েছেন, সদ্যোজাতের পায়ের টিউমার খারাপ দিকে গড়াতে পারে। এ অবস্থায় ১০ জুলাই বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বন্ড দিয়ে শিশুকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান মা। পরে সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে সদ্যোজাত মেয়েকে জঙ্গলে ফেলে আসেন। শ্বশুরবাড়ি ফিরে স্বামী-সহ সকলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন মেয়ে মরে গিয়েছে। তবে মেয়েটি মারা যায়নি। জঙ্গলের জন্তু-জানোয়ারেরাও তার ক্ষতি করেনি। পরে ১২ তারিখ ভোরে ওন্দার আমড়াতলা শাল জঙ্গলে ফল, কাঠ সংগ্রহে গিয়ে বাচ্চার কান্না শুনে ছোট্ট মেয়েটিকে উদ্ধার করেন কয়েকজন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারী। পরে আবারও মেয়েটিকে বাঁকুড়া মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক ও জেলা প্রশাসনের চেষ্টায় খুঁজে বের করা হয় মেয়েটির মা ও বাবাকে। পরে প্রশাসনের লোকদের মা জানান, 'ছেলে চেয়েছিলাম। আবার মেয়ে হল। তার উপরে অসুস্থ। সহ্য হচ্ছিল না। তাই ফেলে এসেছিলাম।' ভারতে মেয়ে শিশুদের রক্ষায় কন্যাশ্রী, বেটি বাঁচাও-এর মতো রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্প চালু আছে। সেই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রচারণায় মেয়েদের রক্ষায় কাজ চলছে। তবু হরহামেশাই মেয়ে ভ্রুণ ও শিশু হত্যার ঘটনা ঘটছে দেশটিতে।

রাশিয়ায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির আশংকা

রাশিয়ার কামাচাতকা উপকূল ও আলাস্কার এল্যুশিয়ান দ্বীপে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবারের শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা এ বছরের দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্প। মার্কিন ভূ তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো কামচাতকা উপকূল থেকে ১২৫ মাইল দূরে। ভূমিকম্পটি প্রথমে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ছিলো। এরপর কমে ৭.৪ মাত্রার হয়। পরে বেড়ে হয় ৭.৮ মাত্রার। মার্কিন প্রশান্ত মহসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানায়, 'ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল উপকূলের ১৮৬ মাইলের মধ্যে হওয়ায় সুনামির আশংকা রয়েছে।'

যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাপটপ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী যাত্রীদের ল্যাপটপ বহনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়েছে। সোমবার দেশটির ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করে। খবর রয়টার্সের। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনটি বিমান সংস্থার ওপর থেকে ল্যাপটপ বহনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ তিনটি বিমান সংস্থা হচ্ছে- সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস এয়ারলাইন্স, তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি আরবের সৌদিয়া। এর আগে ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন গত মার্চে জর্ডান, মিসর, তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সোমালিয়াসহ আটটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটের কেবিনের ভেতর ল্যাপটপ, ট্যাবসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
অবশ্য ল্যাপটপসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি উড়োজাহাজের মূল লাগেজে নেয়া যেত। উগ্রবাদীরা ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতির ভেতরে বোমা বহন করে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে টার্গেট করবে এমন আশঙ্কায় এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাজ্যও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছিল নয়টি বিমান সংস্থার ফ্লাইট। এগুলো হল- রয়াল জর্ডানিয়ান, ইজিপ্ট এয়ার, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স, কুয়েত এয়ারওয়েজ, রয়্যাল এয়ার মারোক, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক ও উত্তর আফ্রিকার এসব দেশ থেকে প্রতিদিন যাত্রীবাহী প্রায় ৫০টি ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বাইরে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে নতুন পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

বসিরহাটের দাঙ্গায় জামায়াত দায়ী: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বসিরহাটের দাঙ্গা প্রসঙ্গে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গেল বাংলাদেশের জামায়াতের নাম। তিনি বলেছেন, রাজ্যে অশান্তি পাকাতে বাংলাদেশ থেকে জামায়তের লোক ঢোকানো হয়েছে। ভারতীয়র একাধিক গণমাধ্যম মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়, জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশই নয়, সরকারের হাতে নথি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন মমতা। রাজ্যের গোয়েন্দা দফতর তেমনই রিপোর্ট দিয়েছে। বাংলার ওই সীমান্তবর্তী এলাকায় গোষ্ঠী সংঘর্ষ বাধাতে জামায়াতের লোকজনকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে খবর পান গোয়েন্দারা। তবে সরকারিভাবে তা স্বীকার করা হয়নি। সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজের ভোট দেয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে গোয়েন্দাদের কাছে সেই রিপোর্টই প্রকাশ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফেক পোস্ট করে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই সঙ্গেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাতক্ষীরা থেকে জামায়াতের লোক কী করে ঢুকল? সীমান্ত কারা খুলে দিয়েছিল, কেন খুলে দিয়েছিল? এ ব্যাপারে বিস্তারিত কাগজপত্র সরকারের হাতে রয়েছে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের সময় জামায়াতের নাম উঠে এসেছিল। জামায়াতের অস্তিত্ব রয়েছে বলে দাবি জানিয়ে বিজেপি আক্রমণ করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে। এখন সেই ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ। এবার বসিরহাটের দাঙ্গাতেও জামায়াতের নামই শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সব জানেন। এত দিন মুখ খোলেননি। এখন বুঝে গেছেন বিজেপি সব ফাঁস করে দেবে। রাজ্যের মানুষও বুঝে গিয়েছে কোথায় কারা গোলমাল পাকাচ্ছে। সত্যকে যে বেশি দিন চেপে রাখা যায় না সেটাই বুঝিয়ে দিলেন মাননীয়া। আর বিএসফকে দোষ না দিয়ে বসিরহাটে তার পুলিশ কী করছিল সেই জবাব দিন মুখ্যমন্ত্রী।

করাচিতে ভবন ধসে বহু হতাহতের আশংকা

পাকিস্তানের করাচিতে ভবন ধসের ঘটনায় তিনজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভবনটির আরও আট বাসিন্দা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন উদ্ধার কর্মীরা। খবর এবিসি নিউজের। মঙ্গলবার ভোর রাত তিনটার দিকে ভবনটির বাসিন্দারা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে উদ্ধার কর্মীরা ভবনটিতে আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভবনটির বাসিন্দারা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালে দুর্ঘটনা হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। করাচির ডেপুটি কমিশনার ফরিদ উদ্দিন জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ভবনটি পুরাতন ও জীর্ণ হয়ে পড়ার জন্যই ধস হতে পারে।

ভেনিজুয়েলায় ‘গণভোটে’ মাদুরোকে প্রত্যাখ্যান

ভেনিজুয়েলায় সরকারবিরোধীদের আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী গণভোটে ৭০ লক্ষাধিক ভোটার ভোট দিয়েছে। ৯৮ শতাংশ ভোটার প্রতীকী এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার সংবিধান পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মাদুরোবিরোধীরা রোববার নির্বাচনটির আয়োজন করে। গণভোটের তদারককারীদের বরাত দিয়ে বিবিসি ও এএফপি এ খবর দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর সেসিলিয়া গার্সিয়া আরোচা বলেন, ‘এ ভোটের মাধ্যমে ভেনিজুয়েলা প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও বিশ্বকে একটি পরিস্কার বার্তা দিল।’ তিনি জানান, ভেনিজুয়েলার নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৮১ জন দেশের অভ্যন্তরে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৯ জন প্রবাসী ভোটার বিদেশের ভোট কেন্দ্রগুলোয় ভোট দেয়। তবে এ গণভোটের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এদিকে গণভোট চলাকালে রাজধানী কারাকাসে বন্দুকধারীদের হামলায় ভোটের লাইনে দাঁড়ানো এক নারী নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে আরোহী বন্দুকধারীরা উন্মুক্ত গুলি করে।
এতে ৬১ বছর বয়সী জিওমারা সোলেদাদ স্কট নামে এক সেবিকা নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দুকধারীরা ভোট দেয়ার অপেক্ষায় থাকা লোকজনের ওপর গুলি চালালে চারজন আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর পরই জিওমারা মারা যান। সরকারবিরোধীরা এ হামলার জন্য ‘আধাসামরিক’ বাহিনীর সদস্যদের দায়ী করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এ হামলার ঘটনা খতিয়ে দেখছেন। ২০১৯ সালে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই নতুন নির্বাচনের দাবিতে বিরোধীরা এ গণভোটের আয়োজন করে। তবে মাদুরো এ গণভোটকে ‘অর্থহীন’ অ্যাখ্যা দেন। ৩০ জুলাই দেশটিতে আনুষ্ঠানিক এক গণভোট হওয়ার কথা। পুরনো সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নতুন সংসদের প্রস্তাব করা হয়েছে, যারা সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির এখতিয়ার রাখবে। সমালোচকরা বলছেন, নতুন এ সাংবিধানিক অ্যাসেম্বলি মাদুরোর ‘একনায়কতন্ত্র’কে আরও দীর্ঘায়িত করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভেনিজুয়েলা গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটকাল অতিক্রম করছে। বিরোধী দলগুলো প্রেসিডেন্ট মাদুরোর শাসনের অবসানে তুমুল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শুধু রাজনৈতিক সংঘর্ষেই দেশটিতে ১০০ জনেরও বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আরও সন্তান চান শতাধিক ছেলেমেয়ের বাবা

কফি আসিলেনু। বয়স ৮০ বছর। স্ত্রী ১২ জন। সন্তান রয়েছে শতাধিক। আরও সন্তান চান তিনি। কফি ঘানার একটি ছোট্ট গ্রাম আমানকরমের বাসিন্দা। খবর বিবিসির। কফির ভাষ্য, তার কোনো ভাইবোন বা চাচা নেই। এ কারণে বড় পরিবার চেয়েছিলেন তিনি। কফি বলেন, তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা যাতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাকে সমাধিস্থ করতে পারে, এমনটাই চান তিনি। কফি জানান, তার জন্মস্থানে সন্তান জন্ম দেয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। এসব কারণে বেশি সন্তানের জনক হতে চেয়েছেন তিনি। কফি যে গ্রামে থাকেন সেখানে মোট জনসংখ্যা ৬০০ জনের মতো। সেই হিসাবে গ্রামটির মোট জনসংখ্যার ছয় ভাগের এক ভাগেরও বেশি কফির সন্তান। শতাধিক সন্তানের বাবা কফিকে শারীরিকভাবে এখনও শক্ত সামর্থ্যই মনে হয়। তিনি এখানেই থামতে চান না। আরও সন্তান জন্ম দেয়ার আশায় আছেন তিনি। সংসার বড় হওয়া সত্ত্বেও কফির ১২ স্ত্রী ভালোই আছেন। তারা সবাই সুখী। যেমনটি বলছিলেন কফির প্রথম স্ত্রী নিয়োমে আসিলেনু, ‘আমাদের বিয়ের পর তিনি আবার বিয়ে করতে চাইলেন। আমি তাকে বাধা দিইনি। কারণ আমাদের সবাইকে দেখভাল করার সামর্থ্য আছে তার। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারেন। সবাই স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী। তাই তার একাধিক বিয়েতে ভুল কিছু দেখছি না।’ কফির পরিবারে স্বভাবতই বহু খরচ। তার সম্পদের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে। কফি জানান, সন্তান লালন-পালনের মতো সামর্থ্য রয়েছে তার। সন্তানরাও বড় হয়ে তাকে বেশ সাপোর্ট দিচ্ছে। তাই আরও সন্তান জন্ম দিলেও সমস্যা হবে না। প্রসঙ্গত, ঘানায় বহুবিবাহের প্রচলন আছে। দেশটিতে বহু সন্তানকে সম্পদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব সিউলের

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনার মধ্যে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের সরকার বিরল এ প্রস্তাব দিয়েছে। উত্তর কোরিয়া এতে রাজি হলে ২১ জুলাই এ আলোচনা হতে পারে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আগের তুলনায় আরও বেশি চাপ দিতে আলোচনা প্রয়োজন- মুনের এমন বক্তব্যের সপ্তাহখানেক পর আনুষ্ঠানিক এ প্রস্তাব এলো। খবর বিবিসির। মে’তে ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও মুন উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনার ব্যাপারে তার আগ্রহের কথা জানান। একই দিন দক্ষিণ কোরিয়ার রেডক্রস দু?ই কোরিয়ার মধ্যে পারিবারিক পুনর্মিলনী বিষয়েও পৃথক এক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এখন দুই দেশ যদি আলোচনার জন্য এগোয় এবং তাদের মধ্যে আলোচনা হয়, তাহলে তা হবে ২০১৫ সালের পর সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের কোনো বৈঠক। দক্ষিণ কোরিয়ার জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, আলোচনা হওয়া উচিত কোরীয় সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য দায়ী সব শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার উদ্দেশ্যে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন চাইছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক যতদূর সম্ভব ভালো করার। তবে সিউলের প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি বার্লিনে এক অনুষ্ঠানে মুন বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ হলে তা হবে সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। মুন আরও বলেন, যারা চান উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম শেষ হোক, তাদের জন্য এ চুক্তি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, বিশেষ করে সম্প্রতি তাদের আন্তঃমহাদেশীয় বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষার মাধ্যমে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের এ পদক্ষেপকে তাদের প্রতিবেশী ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী সুহ চু-সুক গণমাধ্যমকে জানান, দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিক অঞ্চল পানমুনজামে উত্তর কোরিয়ার টঙ্গিলগাক ভবনে এ আলোচনা হতে পারে। আগে অনেকবার এ ধরনের আলোচনা সেখানে হয়েছে। তিনি প্রস্তাব দেন, ‘২১ জুলাই আলোচনা হতে পারে। আমরা উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা করছি।’ দুই কোরিয়ার মধ্য কী কী বিরোধপূর্ণ সামরিক কর্মকাণ্ড আছে, তার বিস্তারিত বলেননি সুহ। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণমন্ত্রী চো মাইওয়ুং-গায়োন দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগের হটলাইনগুলো আবার চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত বছর উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। এদিকে, রেডক্রস ও দক্ষিণ কোরিয়া আরেকটি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য হবে ১৯৫৩ সালে শেষ হওয়া কোরীয় যুদ্ধে দুই কোরিয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া স্বজনদের মধ্যে পুনর্মিলনীর বিষয়ে কথা বলা।

ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সোমবার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যদের ভোটে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটির নতুন রাষ্ট্রপতি। এবারের রাষ্ট্রপতি পদে লড়াই হচ্ছে দ্বিমুখী। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ’র প্রার্থী বিহারের সাবেক রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দ। অন্যজন বিরোধী দল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ’র প্রার্থী লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমার। নির্বাচনে কোবিন্দ বড় জয় পেতে যাচ্ছেন বলে অগ্রিম ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর এনডিটিভির। রাজনীতির এ খেলায় প্রধান দুই জোটই এবার প্রার্থী বেছে নিয়েছে দলিত সম্প্রদায় থেকে। ফলে ১৯৯৭-২০০২ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা কেআর নারায়ণের পর এবার দ্বিতীয় দলিত রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দিল্লির পার্লামেন্ট ভবন এবং সব রাজ্যের বিধানসভায় সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২০ জুলাই (বৃহস্পতিবার)। ২৪ জুলাই ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হবে। এর পরদিন ২৫ জুলাই শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন দিল্লির রাইসিনা হিলে উঠবেন নতুন রাষ্ট্রপ্রধান। ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলোর বিধায়ক সংখ্যা ধরে হিসাব করলে ৭১ বছর বয়সী কোবিন্দের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। এ ছাড়া অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা নীতিশ কুমার এবং বিহারে ক্ষমতাসীন তার জনতা দল ইউনাইটেড, বিজু জনতা দল, এআইএডিএমকে এনডিএ’র প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় বিরোধী শিবির বড় ধাক্কা খেয়েছে। সোমবার সকালে পার্লামেন্টে প্রথম ভোট দিয়ে নরেন্দ্র মোদি কোবিন্দকে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এ সময়টা ঐতিহাসিক। সম্ভবত প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরেক প্রার্থী কোনো ধরনের মর্যাদাহানিকর ও অনায্য মন্তব্য করেননি।’ বিজেপির একটি সূত্র বলছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, কোবিন্দ ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হতে যাচ্ছেন। ভারতের ইতিহাসে প্রথম রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদ কেবল দুই মেয়াদে ওই পদে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। প্রণব মুখার্জিকে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি করার যে প্রস্তাব কোনো কোনো বিরোধী দল দিয়েছিল, বিজেপি তা মানেনি। হিন্দুত্ববাদীদের সমর্থনে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিজেপি এই প্রথম নিজেদের আদর্শের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পেয়েছে। সে বিষয়টি ইঙ্গিত করেই কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী রোববার বলেন, এ নির্বাচন পরিণত হয়েছে আদর্শের লড়াইয়ে। এদিন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মীরা, উপ-রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী গোপালকৃষ্ণ গান্ধী এবং কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সোনিয়া। এ বৈঠক গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতারা বলেন, কংগ্রেস সভানেত্রী ভোট দেয়ার সময় দল নয়, বিবেকের কথা শোনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের ফল আমাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে। তবে লড়াই কঠিন হতে হবে।’ সোনিয়ার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, তাদের প্রার্থীর পরাজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে মোদি শিবির তাদের প্রার্থী কোবিন্দের নিশ্চিত জয়ের আশা করছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি : সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে একটি ভোটের মূল্য এক। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদাতাদের ভোটের মূল্য এক জটিল পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যদের একেকজনের ভোটের মূল্য ৭০৮, রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের ভোটমূল্য নির্ধারিত হয় সেই রাজ্যের বিধানসভার মোট আসন ও জনসংখ্যার নিরিখে। সবচেয়ে বেশি ভোটমূল্য উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের, ২০৮। সবচেয়ে কম সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের বিধায়কদের, ৮। রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্যরা এই ভোটে অংশ নিতে পারেন না। এবারের ভোটে অংশ নিয়েছেন লোকসভার ৫৪৩ ও রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্য এবং দেশের মোট ২৯টি রাজ্য এবং দিল্লি ও পদুচেরি দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৪ হাজার ১২০ জন বিধায়ক। সব ভোটদাতার ভোট ধরলে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটমূল্য ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯০৩। এর মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটমূল্য ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৮ এবং বিধায়কদের ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৫।

হত্যার অভিযোগে ৪ পুলিশসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হত্যার অভিযোগে সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া ক্যাম্পের ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম ও তিন কনস্টেবলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন সাভারের শ্যামপুর গ্রামের মৃত ইসমাইলের স্ত্রী মোছা. লিমা। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি এজহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সাভার মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামি অপর তিন পুলিশ সদস্য হলেন- কনস্টেবল বাবুল, মো. মহসিন ও মো. শামিম। মামলার আর্জিতে লিমা উল্লেখ করেন, গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১০টায় আসামিরা তার স্বামী ইসমাইলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন তার স্বামীকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি আসামিদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা কোনো জবাব দেয়নি। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পান। তার স্বামী একজন ফুল ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানান লিমা।

ডিবি কার্যালয়ে ফরহাদ মজহার

কবি, কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে অপহরণ ঘটনায় ফের তার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। এর আগে সকালে তিনি মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে যান। ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন গণমাধ্যমকে জানান, অপহরণ ঘটনায় দেয়া তার জবানবন্দির বক্তব্য সঠিক কি না- তা খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এসময় তিনি আরও জানান, তথ্য দিয়ে পুলিশকে কেউ বিভ্রান্ত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে ১৩ জুলাই এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ফরহাদ মজহার নিখোঁজের ঘটনাকে নাটক মনে হয় বলে মন্তব্য করেন পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক। গত ৩ জুলাই ভোর ৫টায় রাজধানীর শ্যামলীর নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। এরপর তার মোবাইলফোন থেকে বেশ কয়েক দফায় ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়া থেকে উদ্ধার হন ফরহাদ মজহার। নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব। ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন।

বিচার বিভাগকে কোণঠাসা করে দেশের মঙ্গল হয় না: প্রধান বিচারপতি

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, একদিন আপনি থাকবেন না, আমিও থাকবো না, বিচার বিভাগ থাকবে। জুডিশিয়ারি সবার। মনে রাখবেন যে, এটা (সুপ্রিম কোর্ট) দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর প্রতি সবার দায়িত্ব আছে। জুডিশিয়ারিকে কনার্ড (কোণঠাসা) করে দেশের মঙ্গল হয় না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানিকালে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। এদিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি করেন আপিল বিভাগ। সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত আপিল শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেন সর্বোচ্চ আদালত। গত ১১ মে পৃথক তিনটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪ মে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে আবেদন নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এরপর ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি কার্যতালিকায় আসলে ওইদিন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করার আদেশ দিয়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ ২ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিলেন। এরপর দুই দফায় এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল বিভাগ চার সপ্তাহ সময় দিলেন।

সার্জেন্টকে মারধরের ঘটনায় মামলা

উল্টোপথে বাস যেতে না দেয়ায় রাজধানীর বাংলামোটরে পুলিশ সার্জেন্টের ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হামলা ও মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রমনা থানায় সার্জেন্ট কায়সার হামিদ বাদী হয়ে এ মামলা (মামলা নং-২৬) করেন। মামলায় দায়িত্বপালন কালে শিক্ষার্থীদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগ আনেন তিনি। মামলায় তিনটি দোতলা বাসের চালক, চালকের সহকারী ও অজ্ঞাতনামা ছাত্রদের আসামি করা হয়েছে। এর আগে সোমবার বিকাল ৫টায় শাহবাগের দিক থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দোতলা বাস বাংলামোটর মোড়ে গিয়ে থামে। এ সময় কয়েকজন ছাত্র কারওয়ান বাজারের (সোনারগাঁও ক্রসিং) দিক থেকে শাহবাগগামী গাড়িগুলোকে থামিয়ে দোতলা বাস দু'টিকে উল্টো দিকে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন সেখানে কর্তব্যরত সার্জেন্ট উল্টো পথে যেতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাস থেকে আরও কয়েকজন ছাত্র নেমে সার্জেন্টকে মারধর শুরু করে। অবশ্য কিছু শিক্ষার্থী হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করে। এসময় আরেক সার্জেন্ট দ্রুত মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করলে ছাত্ররা বাসে ফিরে যান। তখন বাস দু'টি সোজা পথেই কারওয়ান বাজারের দিকে চলে যায়।

দুই বছরেও চাকরি পাননি ৭০ খাদ্য পরিদর্শক

দুই বছরেও খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ পাননি ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ৭০ জন। ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট তাদের খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। নিয়োগবিধি না থাকার অজুহাতে তাদের নিয়োগ দিচ্ছে না খাদ্য অধিদফতর। প্রক্রিয়া শেষে কবে নাগাদ কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন এমন কোনো তথ্য দিতে পারছে না মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। নিয়োগ পেতে খাদ্য মন্ত্রণালয় আর অধিদফতর ঘুরে ঘুরে এখন সময় কাটছে তাদের। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা। জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি শতভাগ সত্য। ১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনামলে করা নিয়োগ বিধিমালা এখন অকার্যকর। এটি না থাকায় তাদের নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। নিয়োগবিধি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই তা সচিব কমিটিতে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।’ দুই বছরেও কেন নিয়োগবিধি তৈরি হয়নি- জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটার জন্য কর্মকর্তাদের ‘প্রেসার’ (চাপ) দেয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। নানা জটিলতা, আজ এই কমিটির মিটিং কাল ওই কমিটির সভা। নানা কারণেই বিলম্ব হচ্ছে।’ ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট এই ৭০ জনকে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি। একই বিসিএসে উত্তীর্ণ আরও ৯১২ জনকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি, যারা সবাই এরই মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু খাদ্য পরিদর্শকের ১৫০টি পদ এখনও শূন্য থাকলেও তারা নিয়োগ পাচ্ছেন না। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পিএসসির সুপারিশের মাত্র ৩৪ দিনের মাথায় সামরিক শাসনামলে করা নিয়োগ বিধিমালা অকার্যকর হয়ে যায়। নতুন নিয়োগবিধি না হওয়ার কারণেই এ নিয়োগ আটকে আছে। তবে এরই মধ্যে ওই ৭০ জনের পুলিশ যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগ বিধির খসড়া তৈরি করে সচিব কমিটির অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীরা দাবি করছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চাইলেই তাদের নিয়োগ দিতে পারে। প্রার্থীদের একজন মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, তিনি নিয়োগ না পেয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও এ নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। বয়স না থাকায় নতুন করে সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টাও করতে পারছেন না। তাই অনেকটা নিরুপায় হয়েই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। একটি নিয়োগ বিধির অপেক্ষায় আমরা দুই বছর পার করে দিয়েছি।
প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, নিয়োগবিধির অজুহাতে তাদের নিয়োগ আটকে থাকলেও খাদ্য অধিদফতরের পদোন্নতি, বদলিসহ অন্য সব কাজই হচ্ছে। শুধু তারা ৭০ জনই দুই বছর ধরে বেকারত্বের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। দুই বছরেও নিয়োগ না পাওয়ায় এদের বেশিরভাগেরই সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স পার হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, পিএসসি তাদের নিয়োগের সুপারিশ করার কারণে তারা নতুন বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগও হারিয়েছেন। এই অবস্থায় তারা চাকরিতে যোগ দেয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদফতর এবং পিএসসিতে দিনের পর দিন ঘুরছেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। হাতের নাগালে চাকরি পেয়েও সেই চাকরিতে যোগ দিতে না পারায় হতাশায় ভুগছেন এই ৭০ যুবক। নিয়োগ না পাওয়া ইসমাইল হোসেন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বেকারত্বের বোঝা আর টানতে পারছি না। জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে নিয়োগের সুপারিশ চেয়েছিল, পিএসসি তা করেছে। কিন্তু সুপারিশের পরও কেন নিয়োগ হচ্ছে না, সেটা মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরই ভালো বলতে পারবে। কোনো কারণে নিয়োগ না দেয়া গেলে সেটা দ্রুত সুরাহা করা প্রয়োজন। তবে প্রার্থীদের সঙ্গে এমন দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়।’ চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়ে এক চিঠিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘নিয়োগ বিধিমালা না থাকার অজুহাতে যদি এই প্রার্থীদের চাকরি না দেয়া হয়, তবে তারা যেমন হতাশ হবেন, তেমনি দেশ মেধাবী কর্মকর্তাদের পাবে না। খাদ্য অধিদফতরের পরিদর্শক পদে শূন্যতার কারণে মন্ত্রণালয়েরও সমস্যা হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে ওই ৭০ জনকে দ্রুত নিয়োগ দেয়া উচিত।’

আদুরী নির্যাতন মামলায় গৃহকর্ত্রীর যাবজ্জীবন

গৃহকর্মী আদুরীকে নির্যাতন ও ডাস্টবিনে ফেলে দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। এই টাকা আদুরীকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।  সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নওরীন জাহান নদীর মা’র বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন আদালত। পটুয়াখালীর মেয়ে আদুরীর শরীরের ক্ষত চিহ্নগুলো এখনও স্পষ্ট হয়ে আছে। ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিন থেকে নির্যাতনের শিকার অর্ধমৃত অবস্থায় আদুরীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন এ নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠির কৌরাখালি গ্রামের মৃত খালেক মৃধার ছোট মেয়ে আদুরী। অভাবের কারণে মা সাফিয়া বেগম ৯ সন্তানের সবাইকে গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠান। আদুরীকে প্রতিবেশী চুন্নু মীরার সহযোগিতায় রাজধানীর গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর বাসায় পাঠানো হয়।
তবে নানান অজুহাতে নদীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয় সে। দুই বেলা খাবারের বদলে তার মুখে মরিচের গুঁড়ো ঢেলে দেয়া হতো। এছাড়াও নির্যাতনে ব্যবহার করা হতো খুন্তি, গরম ইস্ত্রি, চাকু ও ব্লেড। সুস্থ হওয়ার পর এমন তথ্য দেয় আদুরী। নির্যাতনের একপর্যায়ে নদী ও তার মা ইসরাত জাহান পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিনে তাকে ফেলে দিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুই নারীকর্মী অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করে আদুরীকে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হলে ৩ নভেম্বর তাকে তুলে দেয়া হয় পরিবারের কাছে। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর আদুরীর মামা মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে নদী ও তার মাকে আসামি করে নির্যাতনের ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নদীকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালতে তিনি নির্যাতনের দায় স্বীকার করেন। ১০ অক্টোবর নদী ও তার মাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আজ গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে এই মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত। আদুরী বর্তমানে জৈনকাঠি ছালিয়া দাখিল মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। আদুরীর মা সাফিয়া বলেন, ব্যথায় প্রতি রাতে মেয়ে ডাকচিৎকার করে। এখন প্রয়োজন সুচিকিৎসা। অভাবের কারণে আদুরীর চিকিৎসা ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

আরও দুই সপ্তাহ চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলাবর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত আপিল শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেন সর্বোচ্চ আদালত। এর আগে গত ২ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন। সে সময় শেষে আপিলে আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আবারও সময় আবেদন করলে সর্বোচ্চ আদালত তা মঞ্জুর করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসান এম এস আজিম।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, এতে করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আরও দুই সপ্তাহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। গত ১১ মে পৃথক তিনটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪ মে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে আবেদন নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এরপর ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি কার্যতালিকায় আসলে ওইদিন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করার আদেশ দিয়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ ২ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিলেন। এরপর দুই দফায় এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ চার সপ্তাহ সময় নিলেন।

শিক্ষার্থীদের টাকায় ভোগবিলাস

খেলাধুলা খাতে শিক্ষার্থীদের দেয়া ফির অর্থ নানাভাবে লুটপাট হচ্ছে। বছরে আয়োজন করা দুটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আড়ালেই চলে এসব। গরিব ছাত্রছাত্রীর দেয়া টাকা কিছু কর্মকর্তার ভোগবিলাসে চলে যাচ্ছে। যুগান্তরের অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের অর্থ হরিলুট হলেও এ খাতে তাদের ওপর ফি আগের চেয়ে প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক এবং জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান যুগান্তরের কাছে দাবি করেন, ‘এই খাতে ব্যয়ের আগে বাজেট নির্ধারণ হয়। প্রতিবছর একটি ফার্ম আয়-ব্যয় অডিট করে। অডিটে অস্বাভাবিক ব্যয় বা কোনো আপত্তি নেই। আসলে ছাত্রছাত্রীদের অর্থ অপচয় বা লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই।’ মাউশি’র অধীনে গঠিত ক্রীড়া সমিতি ‘গ্রীষ্মকালীন’ ও ‘শীতকালীন’ নামে দুটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সারা দেশে প্রতিযোগিতা করে বিজয়ী শিক্ষার্থী বা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন খেলার সরঞ্জামও দেয়া হয় চ্যাম্পিয়নসহ সেরা তিন প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু পুরস্কারের মান নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন আছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এ অভিযোগ করেন। তবে ভয়ে কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। আবার যাদের জন্য এই আয়োজন সেসব শিক্ষার্থীকে কোনো হোটেলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় না। গরম বা শীতের মধ্যে মশার কাপড় খেয়ে কোনো স্কুল বা মাদ্রাসায় দুটি বেঞ্চ একত্র করে প্রতিযোগিতাস্থলে রাত কাটে শিক্ষার্থীদের। তাদের খাবারেরও ঠিক থাকে না। এসব কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও আছে। অথচ কর্মকর্তারা বেশ আরাম-আয়েশে থাকেন। শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত টাকায় বিলাসবহুল হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউস বা সার্কিট হাউসে হয় তাদের থাকার স্থান। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রীতি সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও মূলত তা কর্মকর্তাদের ভোজ উৎসবে পরিণত হয়। ঢাকার বাইরে এক একটি প্রতিযোগিতা হলেও তাতে ঢাকা থেকে কর্মকর্তারা অতিথি হয়ে যান। ফেরার সময়ে নিয়ে আসেন বিশেষ সম্মানীর খাম। আবার প্রতিযোগিতাস্থলে না গেলেও পরবর্তীতে তালিকাভুক্ত কোনো কর্মকর্তার কাছে সম্মানীর টাকা পৌঁছে দেয়ার অভিযোগও আছে। নাম প্রকাশ না করে একাধিক শিক্ষা বোর্ডের কয়েক সিনিয়র কর্মকর্তা এবং প্রধান শিক্ষক যুগান্তরকে জানান, যখন যে অঞ্চলে জাতীয় পর্যায়ের খেলা হয়, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রতিযোগিতার সার্বিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। এক্ষেত্রে ঢাকা থেকে অতিথি ও স্বেচ্ছাসেবক যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থে সম্মানী দেয়া-নেয়ার জন্যই অপ্রয়োজনে অনেককে দাওয়াত করে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া অর্থের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সন্তুষ্টির কাজে খরচ করা হয়। এ প্রসঙ্গে মাউশি মহাপরিচালক বলেন, যেসব কর্মকর্তার প্রতিযোগিতা উৎসবে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকে কেবল তারাই গিয়ে থাকেন। অপ্রয়োজনে কাউকে দাওয়াত দেয়া হয় না। আবার অনুষ্ঠানে না যাওয়া কাউকে সম্মানী দেয়ার কথাও নয়। এমনটি ঘটলে অডিট রিপোর্টে ধরা পড়ত। জানা গেছে, সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষ হওয়ার দুই মাস আগে ৩৩ লাখ টাকায় একটি মাইক্রোবাস কেনা হয়। অথচ এই সমিতির আগে থেকে আরেকটি মাইক্রোবাস আছে। এ কারণে নতুন কেনা মাইক্রোবাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়টাকে ভোগবিলাস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে মাউশি সহকারী পরিচালক ও ক্রীড়া সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সালাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হলে যাতায়াতে গাড়ির দরকার। তাই আগের গাড়িটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় নতুন গাড়িটি কেনা হয়েছে। সমিতির বিদায়ী অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের ওপর সম্প্রতি একটি বেসরকারি ফার্ম দিয়ে অডিট করানো হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে দেখা যায়, ৪৫তম গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগিতায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ৪৬তম শীতকালীন খেলায় ব্যয় হয়েছে ৫৭ লাখ টাকা। শীতকালীন খেলায় বাজেটের চেয়েও প্রায় ৬৩ হাজার টাকা বেশি ব্যয় করা হয়। মোট ১৭ খাতে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৬০৯ টাকা খরচ করা হয়েছে। এসব খাতে বরাদ্দের (বাজেট) চেয়েও ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বেশি খরচ করা হয়। ২৫ লাখ টাকার মাইক্রোবাস কেনার কথা ছিল। কিন্তু আরও ৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা বেশি খরচ করা হয় এ খাতে। ব্যয় বাজেটে ‘আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়’ নামে অদ্ভুত একটা খাত আছে। এ খাতে অনিয়মের শেষ নেই বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। তথ্যানুসন্ধানে এর বিস্তর প্রমাণ মিলেছে। এ প্রসঙ্গে সমিতির সভাপতি ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সম্মানী আর বাসস্থান ব্যক্তির পদমর্যাদা অনুযায়ী হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় তাদের অবস্থান অনুযায়ী হয়ে থাকে, অনুরূপভাবে কর্মকর্তাদের ব্যয়ও হয়। এ কারণে ব্যয়ের অংকের পার্থক্য বড় মনে হয়। এই ব্যয় বাস্তবসম্মত। জানা গেছে, সমিতির একটি এফডিআর আছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তাতে ১ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে সুদসহ তা ১ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৭৫ টাকায় দাঁড়ায়। এর থেকে প্রায় ৭ লাখ ২২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। বাকিটা ফের এফডিআর করা হয়। কিন্তু উত্তোলনকৃত টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলতে চাননি। প্রসঙ্গত, প্রতিবছর নবম ও একাদশ শ্রেণীতে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোতে রেজিস্ট্রেশন করার সময়ে ক্রীড়া ফি পরিশোধ করে। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০ টাকা করে নেয়া হয়। তবে গত ১০ জুলাই এক বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফি ৫০ টাকা করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুমোদনে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও ৩শ’ টাকা করে অধিভুক্তি ফি হিসেবে নেয়া হয়। এই দুই খাতে গেল অর্থবছরে দশ শিক্ষা বোর্ড থেকে ক্রীড়া সমিতি ১ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ৮১৭ টাকা নিয়েছে। অপরদিকে বোর্ডগুলো দুই খাতে ৫ কোটি টাকা আদায় করে। জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যা যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠান থেকে যে ফি আদায় করা হয় তা ৫ ভাগ করে উপজেলা পর্যায়ে পর্যন্ত পাঠানো হয়। ক্রীড়া ফি বাবদ প্রাপ্ত মোট অর্থের আরও এক ভাগ (২৫ শতাংশ) প্রত্যেক বোর্ড রেখে দেয়। বাকি অর্থকে একশ’ ভাগ ধরে এর ২৫ শতাংশ জাতীয় পর্যায়ে ব্যয়ের জন্য সমিতিকে দেয়া হয়। এদিকে আগামী ২৩ জুলাই ৪৬তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। ওইদিন স্কুল-মাদ্রাসা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা/থানা, জেলা, উপ-অঞ্চল (সারাদেশ ৯ ভাগ), অঞ্চল শেষে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হবে। এর জন্য ইতিমধ্যে ৪০ লাখ ৭২ হাজার ৩২০ টাকা বাজেট করা হয়েছে। এতেও লুটপাট হতে পারে এমন বিশাল ব্যয়-প্রস্তাব দেখা গেছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ‘ওয়ার্মআপ’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়াতে যাচ্ছে ছয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও গাজীপুর সিটির নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের ‘ওয়ার্মআপ’ (প্রস্তুতি) হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকসহ সাধারণ ভোটাররা। সংসদ নির্বাচনের আগে এসব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলেও মনে করছেন তারা। এ ওয়ার্মআপে যারা ভালো করবে, তারা বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে। তাই নির্বাচনগুলোর ফল নিজেদের পক্ষে আনতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। এতে দুই দলের মাঠপর্যায়ের শক্তির একটা মহড়া দেখা যাবে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের এ ছয়টি নির্বাচনের পর পরই জাতীয় নির্বাচনের কর্মকৌশল চূড়ান্ত করবে বড় দুই দল- এমন আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের জন্যও এটা মর্যাদার লড়াই। এ নির্বাচনের কতটুকু অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারে, তার ওপর ইসির ভাবমূর্তি অনেকটাই নির্ভর করছে। সংসদ নির্বাচনের আগে এ ছয় সিটি নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্য দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও সবার আস্থা অর্জনে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে নতুন ইসিকে। সিটি নির্বাচন ইসির সামনে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মোক্ষম সুযোগ। তাই একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ইসির জন্যও এটি একরকম ‘অগ্নিপরীক্ষা’ বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে ছয় সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে বড় দুই দলের হাইকমান্ড এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন। অন্যদিকে প্রকাশ্যে না থাকলেও প্রস্তুতিতে ঘাটতি নেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও এবারও বিএনপি সিটি নির্বাচনে যাচ্ছে, এটা নিশ্চিত।
২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল এবং ৬ জুলাই গাজীপুর সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় রংপুর সিটির নির্বাচন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিধিমালা অনুযায়ী, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসাবে চলতি বছরের শেষ থেকে শুরু করে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে পর্যায়ক্রমে ছয় সিটিতে ভোট হতে পারে। আগামী বছর ১৮ মার্চ রংপুর সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে। রংপুর সিটির নির্বাচন দিয়েই এ ছয় সিটির ভোটের হাওয়া শুরু হবে। জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছয়টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মদক্ষতা ও নিরপেক্ষতার কিছুটা আঁচ করা যাবে না। ছয় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্ যুগান্তরকে বলেন, ছয় সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে রংপুরে আগে নির্বাচন হয়েছিল। এ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হবে। কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কমিশন সচিবালয়। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ক্ষমতাসীনরা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এখন থেকেই দলটির হাইকমান্ড নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য কয়েক প্রার্থীকে সবুজ সংকেতও দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামার আগে দলীয় কোন্দল মেটাতে চায় দলটি। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বিগত সিটি নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তাই এবার নির্বাচনের আগেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে মাঠে নামতে চান তারা। কুমিল্লা সিটিতে পরাজয়ের পর থেকেই এ নিয়ে কাজ করেছেন দলটির হাইকমান্ড। সূত্র জানায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এসব সিটিতে জিততে চায় আওয়ামী লীগ। কারণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সংসদ নির্বাচনে, যা দলের জন্য শুভ হবে না।
তাই এসব বিবেচনা মাথায় রেখে নির্বাচনী ছক কষছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে আমরা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। বড় সিটিগুলোতে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী এবং সর্বাত্মক চেষ্টা করব। ভোটাররা আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবর্তনের পার্থক্যটা বুঝতে পারবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আওয়ামী লীগ বড় রাজনৈতিক দল। এখানে অনেক প্রার্থী রয়েছে। তারপরও এদের মধ্য থেকে যোগ্য এবং ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়- এমন নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। এসব নির্বাচন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। বিএনপি সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও আগামীতে এসব সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দলটি। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন বার্তাও দেয়া হয়েছে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরাও মনে করেন, বিএনপি সিটি নির্বাচনে যাচ্ছে। কারণ অতীতে তারা সবক’টি নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে। এছাড়া অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচন দলটির কাছেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সাংগঠনিক অবস্থাটাও এর মধ্য দিয়ে ঝালাই করার সুযোগ পাবে। বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, বেশ কিছু কারণেই সিটি নির্বাচন আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এসব নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। পাশাপাশি ধানের শীষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে- এমন একটি বার্তাও সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছবে, যা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এসব বিষয় মাথায় রেখে এসব সিটিতে ভালো ব্যবধানে জয়ের পরিকল্পনা করছে তারা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বারবার বহিষ্কার, সরকারের নানা ব্যর্থতা, গুম, খুন, বিদেশে টাকা পাচার, চালসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি- এসব বিষয় সামনে রেখে জনমত তৈরিতে মাঠে সরব হবেন তারা। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের কোনোটাতেই বিশ্বাস করে না সরকার। জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কথায় কথায় বরখাস্ত করতে পারতেন না। তিনি বলেন, নির্বাচন তো হবে, আর রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পক্ষে নির্বাচনে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখনও বর্জন করিনি।
তবে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ। ভোটাররা যাতে বলতে পারে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অতীতের মতো এসব সিটিতে ধানের শীষের বিপুল বিজয় হবে। কারণ, সরকারের অন্যায় অত্যাচার, গুম-খুন, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের বিপক্ষে রায় দিতে তারা মুখিয়ে আছে। স্থানীয় জনগণ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। কারা প্রার্থী হচ্ছেন, বর্তমান মেয়রদের বারবার বরখাস্তসহ নানা বিষয় উঠে আসছে তাদের আলোচনায়। অনেকে মনে করেন, জনপ্রতিনিধিদের ঠিকমতো কাজ করতে দিলে তাদের নানা ভুল হতে পারত। একই সঙ্গে দুর্নীতিও ধরা পড়ার আশঙ্কা ছিল। এতে তারা ইমেজ সংকটে পড়তেন। যার সুবিধা ক্ষমতাসীনদের পক্ষেই যেত। আবার কেউ কেউ মনে করেন, বারবার বরখাস্তের কারণে বর্তমান মেয়ররাই ভবিষ্যতে এ সুবিধা পাবেন। তারা সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনেও এসব প্রতিনিধিদের ভোট দিতে পারেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ করে এবং ছয় বিভাগের যুগান্তরের ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ছয় সিটির বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হল-
রংপুর : ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি কর্পোরেশনে প্রথম ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেয়র পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু জয়লাভ করেন। আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এ সিটির দ্বিতীয় নির্বাচনের ক্ষণ গণনা। নির্বাচন করতে হবে ছয় মাস অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সিটিতে ক্ষমতাসীনরা বর্তমান মেয়রের হাতেই নৌকা প্রতীক তুলে দিতে পারেন। রংপুর শহর একসময় জাপার ঘাঁটি থাকলেও বর্তমানে দলটির সাংগঠনিক চিত্র ততটা ভালো নয়। দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। মহানগর জাপার সভাপতি দল থেকে মনোনয়ন পাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। এ সিটিতে বিএনপির সাংগঠনিক চিত্র ততটা ভালো নয়। নেই যোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য একক প্রার্থীও। এ সুযোগে দলের কয়েক নেতাই মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অন্য সিটিতে ফলাফল যাই হোক রংপুরে নৌকার জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
রাজশাহী : ২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে হারিয়ে মেয়র হন বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। আগামীতে এ দু’জনের হাতেই তুলে দেয়া হতে পারে নৌকা ও ধানের শীষ। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার হাইকমান্ডকে ভাবিয়ে তুলছে। মহানগর ও জেলা বিএনপির মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ শেষ পর্যন্ত ফয়সালা না হলে ভোটের মাঠে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা। বিএনপির কোন্দলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীনরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কাউকে নির্বাচনে দাঁড় করাতে পারেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
খুলনা : বর্তমান মেয়র বিএনপি মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি আবারও নির্বাচন করবেন। মনির কাছে পরাজিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এবারও নির্বাচন করতে চান। তবে আওয়ামী লীগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা শেখ আবু নাসেরের ছেলে শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। আর জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে মুশফিকুর রহমান মুশফেককে ইতিমধ্যে মনোনয়ন দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এবারও মূলত নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
সিলেট : গত নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবারও দলের মনোনয়ন পেতে পারেন। হাইকমান্ড ইতিমধ্যে তাকে সবুজ সংকেতও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে মনোয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আসাদ। আর বিএনপি সমর্থিত বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীই পেতে পারেন বিএনপির মনোনয়ন। যদিও দুই দলের অনেকেই মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, গতবারের চেয়ে এবারও আরিফুল হক কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতে পারেন। দীর্ঘদিন কারাভোগ এবং ঠুনকো অজুহাতে দুই দফা সাময়িক বহিষ্কার করায় সাধারণ ভোটাররা তার প্রতি কিছুটা সহানুভূতি দেখাতে পারেন।
বরিশাল : আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র শওকত হোসেন হিরণকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির আহসান হাবিব কামাল। আগামী সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে অনেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাকে মনোনয়ন দিতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাদিক স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালের বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ রয়েছে। দলের বড় একটি অংশ তার বিপক্ষে। এ ক্ষেত্রে বরিশালের প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় এক নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। স্থানীয়রা জানান, দুই দলের প্রভাবশালী দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হলে নির্বাচন অনেকটা মর্যাদার লড়াইয়ে রূপ নেবে।
গাজীপুর : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলে বারবার বরখাস্ত ও কারাগারে পাঠানোয় বিএনপির একটি অংশ তার প্রতি আস্থাশীল। তবে বিএনপির প্রভাবশালী আরেক নেতা হাসান উদ্দিন সরকারও মেয়র পদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অতীতের মতোই গৃহবিবাদে বিপর্যস্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ। মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লা খানের পাশাপাশি মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমও মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

আস্থা অর্জনের এখনই সময়

সাধারণত পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রচলিত বাক্য হচ্ছে, ‘সকালের সূর্য বলে দেয় দিনটি কেমন যাবে।’ সূর্য যেমন সারাদিনের আগাম বার্তা দেয়, তেমনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাও রোববার একটি বার্তা দিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বার্তা। তার এ বার্তা জনগণকে শঙ্কিত করে তুলেছে। সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবাধ নির্বাচনের আশায় মানুষ যে প্রহর গুনছেন তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ এখনও তফসিল ঘোষণা হয়নি। অথচ সরকারি দল আওয়ামী লীগ অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ করে ভোট চাচ্ছেন। অন্যদিকে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ভোট চাওয়া দূরের কথা, সভা-সমাবেশ করার অনুমতিই পাচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে বসতে চাইলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। এসব রোধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার এখতিয়ারের প্রশ্ন তুলে বাস্তব অবস্থা আড়ালের চেষ্টা করছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এসব রোধে তফসিল ঘোষণার আগে তারা কিছুই করতে পারবেন না। প্রশ্ন উঠেছে, কমিশন কবে পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তফসিল ঘোষণার আগে যদি তাদের কিছু করার না থাকে, তবে তো দুই-তিন মাসের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করলেই হয়। ২-৩ মাসের জন্য গঠিত কমিশন নির্বাচনের তফসিল দেয়ার আগে নির্বাচন নিয়ে কোনো দল বা অন্য কেউ কোনো কথা বলবেন না। কোনো তৎপরতা চালাবেন না। ইসি তো সেভাবে চলছে না। তারা দেড় বছর আগে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করছে।
তফসিল ঘোষণার আগে কেন রোডম্যাপ দিচ্ছেন। আসলে তারা অনেক কিছুই করছেন। শুধু মাঠের বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশে পুলিশি বাধা বন্ধ করতে পারবেন না বলে বার্তা দিয়েছেন। এসব কারণেই মূলত জনগণ সিইসির বার্তায় ভয় পাচ্ছে। তাদের শঙ্কা তবে কি ফের ৫ জানুয়ারির স্টাইলে নির্বাচন হবে। দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যুগান্তরকে এসব কথা বলেন। সংবিধান ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে তবে নির্বাচন কমিশনের কাজ কি তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোট গ্রহণ এবং ফল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোট পর্যন্ত সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে ইসি। সে ক্ষেত্রে কি সরকারি দল এখন থেকে তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত সভা-সমাবেশে ভোট চাওয়া বন্ধ রাখবে। তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ নিবন্ধিত দলগুলো একসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে নামবে। তাদের মতে, প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে এটা সম্ভব নয়। অতীতে কোনো নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর দলগুলো প্রচারে নামেনি। দলগুলো মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড়-দু’বছর আগে থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে। এবারও সরকারি দল সেই কাজই করছে। শুধু বাধা দেয়া হচ্ছে বিএনপিসহ অন্যান্য দলকে। নির্বাচন কমিশনকেই এটা বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে আইনগত পরামর্শ নিতে হবে।
নির্বাচনের মাঠ সবার জন্য সমান করতে হলে এসব উদ্যোগ নেয়া জরুরি। তবেই মানুষ বিশ্বাস করবে নির্বাচন কমিশন সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। ইসি সবার জন্য চেষ্টা করছে। তাদের পক্ষে ভালো একটি নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য এসব পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে। কাজগুলো শুরু করার এখনই সময় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘সিইসির কথায় মনে হয়েছে তারা ৯০ দিনের ঘেরাটোপে বন্দি থাকতে চাইছেন। এর মধ্য দিয়ে আসলে তারা সুকৌশলে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চান।’ তিনি আরও বলেন, ‘সকাল দেখে যেমন দিনটি কেমন যাবে বোঝা যায়, তেমনি সব দলের অংশগ্রহণভিত্তিক নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ করার অধিকার, প্রভাবমুক্ত নির্বাচন, নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি প্রভৃতি ইস্যুতে ইসির মনোভাবও কিছুটা আঁচ করা যাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এখন থেকেই ইসিকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা আছে, নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। এই সহায়তা শুধু তফসিল ঘোষণার পরপরই করতে হবে, তা বলা নেই। তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচন কমিশন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বাধাগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরতে পারে। এসব বাধা-বিপত্তি দূর করতে সরকারের সহায়তা চাইতে পারে নির্বাচন কমিশন।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণা করে সিইসি বলেছেন, তফসিল ঘোষণার আগে তাদের কিছু করার নেই। এ অবস্থায় প্রশ্ন হচ্ছে- সত্যিই কি তাদের কিছু করার নেই? তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের যদি কিছু করার না থাকে, তাহলে তো দু-তিন মাসের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করলেই হতো। ওই তফসিলের আগে নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো কথা বলবেন না। কোনো তৎপরতা চালাবেন না।’ অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য ইসিকে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় ইসি বিতর্কে জড়িয়ে পড়বেন। এর সঙ্গে যোগ হবে অনেক প্রসঙ্গ। যেমন- সিইসি শপথ নেয়ার পর ছড়িয়ে পড়েছিল তিনি ‘জনতার মঞ্চের লোক’। মাঠের বিরোধী দলগুলোকে এখন থেকেই সমান সুযোগ দিতে না পারলে সিইসির বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগ প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি যে জনতার মঞ্চের লোক, সরকারের লোক, তা প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষ বলার সুযোগ পাবে যে, এ জন্যই ইসি মাঠে বিরোধী দলগুলোকে সুযোগ দিচ্ছেন না। এ ইসির অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, সবকিছুই আইনে লেখা থাকে না। আইনের বাইরেও অনেক বৈধ বিষয় আছে। অধিকাংশ সময় আমরা যা মেনে চলি। বিরোধী দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সিইসির এখতিয়ার বা আইনের অজুহাতের প্রয়োজন নেই। প্রথা, ঐতিহ্য, বাস্তব অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনায় নিলেই অনেক কিছু সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ইসি বিরোধী দলগুলোর জন্য সেই সহজ রাস্তা অনুসরণ করলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘সিইসি ঘোষিত রোডম্যাপই বলে দিচ্ছে, আগামী দেড় বছর ধরেই কমিশন নির্বাচন সংক্রান্ত কাজগুলো করে যাবে। এর মধ্যে সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সংলাপ অন্যতম। এসব কাজ যদি ইসি দীর্ঘ সময় নিয়ে করতে পারে তাহলে আগেভাগেই নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে তারা কেন কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সংলাপ ইত্যাদি করার উদ্যোগ নিয়েছে, তাও তো নির্বাচনী আইনে লেখা নেই। নির্বাচনী আইনে আছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে এবং নির্বাচন পরিচালনা করবে। নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে তারা যদি রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতা আদায় করতে পারে, তবে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করার জন্য সরকারকে কেন বলতে পারবে না।’ এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘কেউ নির্বিঘ্নে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে। আর কেউ ভয়ে ঘরে বসে থাকবে। তাহলে কিভাবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে?’ তিনি বলেন, সিইসি বলছেন, ‘এ মুহূর্তে সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে ও রাজনৈতিক কর্মপরিবেশের বিষয়গুলো তাদের এখতিয়ার নয়। সরকারের কর্মকাণ্ডে এখনই কমিশন হস্তক্ষেপ করবে না।
তার (সিইসি) এই বক্তব্য সঠিক নয়। সরকারি দল সারা বছর সরকারি টাকায় সভা-সমাবেশ করবে আর বিরোধী দলগুলো ভোটের আগে এক মাস সময় পাবে, তা হলে তো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হল না। সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হলে এখন থেকে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে ইসিকে। এ জন্য প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন উচ্চ আদালতেরও নিদের্শনা নিতে পারে।’ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিসহ সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনে নিবন্ধিত। সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকার সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না, তার জন্য কমিশন উচ্চ আদালতের নিদের্শনা নিতে পারে। তা না করতে পারলে শুধু রোডম্যাপ ঘোষণা দিয়ে কিছুই হবে না।’ সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে কমিশনের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা প্রদর্শন করা আরও বেশি জরুরি। সেখানে রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এটা করতে না পারলে দেশের জন্য ক্ষতিকর।’

উল্টো পথে বাস যেতে না দেয়ায় সার্জেন্টকে মারধর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দুইটি বাসকে উল্টো পথে যেতে বাধা দেয়ায় পুলিশের এক সার্জেন্টকে পিটিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। সোমবার বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারপিটের শিকার ওই সার্জেন্টের নাম কায়সার হামিদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে শাহবাগের দিক থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দোতলা বাস বাংলামোটর মোড়ে গিয়ে থামে। এ সময় কয়েকজন ছাত্র কারওয়ান বাজারের (সোনারগাঁও ক্রসিং) দিক থেকে শাহবাগগামী গাড়িগুলোকে থামিয়ে দোতলা বাস দুটিকে উল্টো দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে।তখন সেখানে কর্তব্যরত সার্জেন্ট উল্টো পথে যেতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাস থেকে আরও কয়েকজন ছাত্র নেমে সার্জেন্টকে মারধর শুরু করে। এ সময় অবশ্য কিছু শিক্ষার্থী হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করে। আরেক সার্জেন্ট দ্রুত মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করলে ছাত্ররা বাসে ফিরে যান। তখন বাস দুটি সোজা পথেই কারওয়ান বাজারের দিকে চয়ে যায়। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের রমনা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. আলাউদ্দীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস বাংলামোটর থেকে উল্টো পথে যেতে চাইলে কর্তব্যরত সার্জেন্ট কায়সার হামিদ বাধা দেন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা সার্জেন্টের ওপর চড়াও হন, কিছু ধাক্কাধাক্কি করেন। পরে অবশ্য বাস দুটি সোজা পথেই পাঠানো হয়েছে।

নবাবগঞ্জে চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ঢাকার নবাবগঞ্জে ছুরিকাঘাতে সবুজ মণ্ডল (২৬) নামে এক অটোচালককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের চকযন্ত্রাইল এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সবুজ উপজেলা সদর কলাকোপা ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের অজিত মণ্ডলের ছেলে। তিনি ব্যাটারি চালিত ইজি বাইক চালিয়ে জীবনধারণ করতেন। স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল ৮টায় ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সবুজ। সন্ধ্যার পর বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে চকযন্ত্রাইল এলাকার পাটক্ষেতে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে সবুজের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন। তবে তার ব্যবহৃত অটোবাইকটি পাওয়া যায়নি। নিহত সবুজের মা দূর্গা মণ্ডলের দাবি,  যারা আমার ছেলেকে  হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আশিকুর রহমান জানান, সবুজকে হত্যার পর লাশ এখানে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। লাশের শরীর ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, মাদক সক্রান্ত ঘটনার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।

গোবিন্দগঞ্জে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হল- একই গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মুসা মিয়া (৬) ও তার ছোটভাই রেজাউল হকের মেয়ে রিয়া মনি (৪)। রামনাথপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক জান্নাতুল ইসলাম দুলা জানান, বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি ডোবার ওপর শিশু মজনু মিয়া চাচাতো বোন রিয়া মনির সঙ্গে খেলা করছিল। খেলার এক পর্যায়ে রিয়া মনি ওই ডোবার পানিতে পড়ে যায়। এসময় রিয়া মনিকে উদ্ধারের জন্য মজনু ডোবায় নামলে দুইজন পানিতে ডুবে মারা যায়।

সিরাজগঞ্জে ২ পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শরিফুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কুমার চাকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কারাগারে পাঠানো পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাইনুল হক ও সলঙ্গা থানার এএসআই মতিউর রহমান। এর আগে এক ট্রাক মালিকের করা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। বিমল কুমার চাকী জানান, গত ১৪ জুলাই একজন পরিবহন ব্যবসায়ী বাদী হয়ে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি মামলায় করেন। এরপর ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেয়। সোমবার বিকালে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

৯ শিশুর মৃত্যু: দায়িত্বে অবহেলায় ৬ স্বাস্থ্যকর্মীকে বদলি

টিকাদান কর্মসূচিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ির ত্রিপুরাপাড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের ছয় মাঠকর্মীকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ-সংক্রান্ত বদলি আদেশটি সই করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে সীতাকুণ্ডের ছয় মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। তাই ডিজির (মহাপরিচালকের) নির্দেশে তাদের বদলি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপাড়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রথমে অজ্ঞাত রোগে মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়েছে হামের সংক্রমণে সীতাকুণ্ডের ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতা ওই মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে। পাশাপাশি কুসংস্কারের কারণে সময়মতো আধুনিক চিকিত্সা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে হামে আক্রান্ত এলাকার ৮৫টি পরিবারের মোট ৩৮৮ জন মানুষ। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ ঘটনার পর এলাকায় টিকা দেয় হয় না বলে অভিযোগ করেন ত্রিপুরাপাড়াবাসী। এর প্রেক্ষিতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তাদের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলে।

বিএনপি নেতা দুলু হাসপাতালে

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার রাতে হার্টের সমস্যার কারণে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে আইসিইউতে ডাক্তার শাহাবুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুলুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মনি যুগান্তরকে বলেন, বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি (দুলু) অসুস্থ। জ্বর অনুভব করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার বুকে ব্যথা অনুভব করায় তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। তার আশু রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের দোয়া চেয়েছেন দুলুর পরিবার।

মানিকগঞ্জে মাঝি হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বাহাদুরপুর এলাকার মাঝি আব্দুর রাজ্জাক হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান খান এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত  তিন আসামির উপস্থিতিতে আদালত এ রায় প্রদান করেন। আসামিরা হলেন- মনিরুল ইসলাম(রুবেল), রাশেদ মোল্লা ও কার্তিক  হাওলাদার। এদিকে দ্বণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আসামি মনিরুল ইসলাম (রুবেল মোল্লা) ও কার্তিক হাওলাদারকে পেনাল কোডের ২০১/৩৪ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা ও অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। অপর দিকে আসামি কার্তিক হাওলাদারকে পেনাল কোডের ৩৮৫ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান অনাদায়ে আরো ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী ছিলেন আব্দুস সালাম। অন্যাদিকে আসামি পক্ষের কৌশলী ছিলেন শ্রিপা রানী সাহা। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর মাঝি আব্দুর রাজ্জাককে তার ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করে ওই দ্বণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি। এক পর্যায়ে আসামিরা ওই মাঝিকে ভাড়া করে পদ্মায় ঘুরতে বের হয়। পরে ওই তিন আসামি মাঝিকে খুন করে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে হরিরামপুর থানায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ছাত্রলীগ কর্মী খুনে মামলা, গ্রেফতার ৪

সিলেটের বিয়ানীবাজারে সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ কর্মী লিটু খুনের ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে বিয়ানীবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত লিটুর বাবা খলিল উদ্দিন। এদিকে রাতভর অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেফতার হলো চারজন। অপরদিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে একটি রিভলভার এ একটি রামদা। বিয়ানীয় বাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী যুগান্তরকে জানান, রাতে খালেদ আহমদ লিটুর লাশ দাফনের পর তার বাবা খলিল উদ্দিন বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন-  কামরান, ফাহাদ , এমদাদুর , দেলোয়ার হোসেন মিষ্টু, সাহেদ, শিপু এবং কাউসার। তারা সবাই পাভেল গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী। ওসি জানান, এদের মধ্যে ঘটনার পরই আটক কামরান, ফাহাদ ও এমদাদুরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া মামলার পরই আসামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় গ্রেফতার করা হয় দেলোয়ার হোসেন মিষ্টুকে। আর বাকীদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে সাহেদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রামদা উদ্ধার এবং রাতে অভিযানের সময় কলেজের সামনের এক সবজি বিক্রেতার মাচাংয়ের নীচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লিটু খুনের ঘটনায় এই রিভলবার ব্যবহার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয় পুলিশ। ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী যুগান্তরকে জানান, ময়না তদন্তের সময় লিটুর মাথা থেকে উদ্ধার করা বুলেটটি পুলিশের হাতে আসলেই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ আদালতে আনা হবে বলে জানান তিনি। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার দুপুরে সরকারি কলেজের শ্রেণীকক্ষে গুলি করে খালেদ আহমদ লিটুকে হত্যা করা হয়।  এর আগে ক্যাম্পাসে পাভেল ও পল্লভ  গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়। নিহত লিটু ওই কলেজের ছাত্র নয়। সে পেশায় একজন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের কর্মী। কলেজটি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত। আর নিহত লিটু শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর এলাকার একটি কলেজের শ্রেণিকক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়ায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। লিটু কলেজের ছাত্র না হয়েও কী করে শ্রেণীকক্ষে অবস্থান করছিল, সে প্রশ্নও এখন অনেকের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

টঙ্গীতে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী নিহত

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী রেল জংশনে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। টঙ্গী রেলওয়ে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) এসআই মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই নারী রেললাইন পার হওয়ার সময় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থালেই নিহত হন। পরে রেলওয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত ওই নারীর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তার পরনে ছিল সবুজ সুতি শাড়ি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবহন ধর্মঘট চলছে

নিষিদ্ধ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ ও মহাসড়কের দু'পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ৬ দফা দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবহন ধর্মঘট চলছে মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘট আহ্বান করে। এদিকে সকাল ৬টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর ও মেড্ডা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও লোকাল কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ধর্মঘটের কারণে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্রাগ্রাম ও দেশের পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর জেলা সিলেটের সঙ্গে বাস মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া জানান, ৬ দফা দাবিতে সকাল থেকে জেলায় ধর্মঘট চলছে। দাবি না মানা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ে জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বেলা ১২টায় পরিবহন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে শহরের মেড্ডা বাসস্ট্যান্ডে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক জরুরি সভা থেকে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

খুলনায় 'বন্দুকযুদ্ধে' যুবক গুলিবিদ্ধ

খুলনার দৌলতপুরে 'বন্দুকযুদ্ধে' দেলোয়ার হোসেন (৩০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতপুর কল্পতরু মার্কেট মাঠে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ দেলোয়ার হোসেন দৌলতপুর থানার আঞ্জুমান রোডের নুরু পাটোয়ারীর ছেলে। দৌলতপুর থানার ওসি মো. হুমায়ূন কবির জানান, দিবাগত রাতে দেলোয়ারসহ ৭-৮ জনের একদল ডাকাত কল্পতরু মার্কেট মাঠে ডাকাতির পরিকল্পনা করছে এমন গোপন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযানে যায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে দেলোয়ারের পায়ে গুলি লাগে। এসময় অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে দেলোয়ারকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলি, দুটি রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি আরো জানান, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি ও মাদকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর আগে সোমবারও খুলনায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী আদুরীর মামলার রায় আজ

রাজধানীর পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকায় গৃহকর্ত্রীর হাতে নির্যাতনের শিকার সেই আদুরীর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলাবার। ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার এ রায় ঘোষণা করবেন। পটুয়াখালীর মেয়ে আদুরীর শরীরের ক্ষত চিহ্নগুলো এখনও স্পষ্ট হয়ে আছে। ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিন থেকে অর্ধমৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠির কৌরাখালি গ্রামের মৃত খালেক মৃধার ছোট মেয়ে আদুরী। অভাবের কারণে মা সাফিয়া বেগম ৯ সন্তানের সবাইকে গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠান। আদুরীকে প্রতিবেশী চুন্নু মীরার সহযোগিতায় রাজধানীর গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর বাসায় পাঠানো হয়। তবে নানান অজুহাতে নদীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয় সে। নির্যাতনে সহযোগিতা করেন নদীর মা ইসরাত জাহান। দুই বেলা খাবারের বদলে তার মুখে মরিচের গুঁড়ো ঢেলে দেয়া হতো। এছাড়াও নির্যাতনে ব্যবহার করা হতো খুন্তি, গরম ইস্ত্রি, চাকু ও ব্লেড। সুস্থ হওয়ার পর এমন তথ্য দেয় আদুরী। নির্যাতনের একপর্যায়ে নদী ও তার মা পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিনে তাকে ফেলে দিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুই নারীকর্মী অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করে আদুরীকে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হলে ৩ নভেম্বর তাকে তুলে দেয়া হয় পরিবারের কাছে। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর আদুরীর মামা মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে নদী ও তার মাকে আসামি করে নির্যাতনের ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নদীকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালতে তিনি নির্যাতনের দায় স্বীকার করেন। ১০ অক্টোবর নদী ও তার মাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আজ এ মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে জানান আদুরীর মা। আদুরীর মা সাফিয়া বলেন, ব্যথায় প্রতি রাতে মেয়ে ডাকচিৎকার করে। এখন প্রয়োজন সুচিকিৎসা। ১৮ জুলাই (আজ) মামলার রায় হবে। আমরা তাই ঢাকা যাচ্ছি। আদালত সত্যের পক্ষে রায় দেবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। আদুরী বর্তমানে জৈনকাঠি ছালিয়া দাখিল মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। অভাবের কারণে আদুরীর চিকিৎসা ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছেন না বলে জানান আদুরীর মা।

পাবনায় তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যা

পাবনার আটঘরিয়ায় অজ্ঞাত পরিচয়ে এক তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলা বাওইকোলা এলাকা থেকে ওই তরুণীর মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। আটঘরিয়া থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, সকালে উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বাওইকোলা গ্রামে চাটমোহর-পাবনা সড়কের পাশে এক তরুণীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওসি আরো জানান, তরুণির নাম পরিচয় জানা যায়নি। বয়স হবে ২০-২২ বছর। পরনে রয়েছে থ্রি-পিস। গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশের ধারণা, অন্য কোনো স্থানে তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মৃতদেহ এখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সাভারে আ'লীগ নেতার বাড়িতে ডাকাতি

সাভারের আশুলিয়ায় আওয়ামী লীগ ইউপি’র সভাপতির বাস ভবনে ডাকাতি হয়েছে। এসময় ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের বেঁধে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয় ডাকাতরা। রোববার রাতে আশুলিয়ার বলিভদ্র তালপট্টি এলাকায় আওয়ামী লীগের ধামসোনা ইউপি’র সভাপতি আব্দুল লতিফ মণ্ডলের নিজ বাসভবনে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তবে এসময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এ ব্যাপারে ইউপি সভাপতি লতিফ মণ্ডল বলেন, রাতে ১৫/২০ জনের ডাকাতদল তার ভবনের নিজ তলায় এসে গেটের সিকিউরিটি ম্যান এমদাদকে জানায়, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক। বাসায় ইন্সপেকশনের জন্যে এসেছেন।
এসময় তাদের হাতে ফাইল ছিল। এক পর্যায়ে সিকিউরিটি এমদাদকে ধরে ৫ম তলা ভবনের ৩য় তলার ফ্লাটে লতিফ মণ্ডলের দরজা খুলে ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে কাপড় দিয়ে বেঁধে বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে লতিফ মণ্ডলের স্ত্রী, মেয়ে এবং পুত্রবধূকে বেঁধে ফেলে। এ সময় তাদের শারিরিকভাবে নির্যাতন করা হলে তিনজন আহত হন। পরে আহতদের সাভারের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। কোনও শব্দ করলে অস্ত্র দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ডাকাতরা। এসময় ডাকাতরা বিভিন্ন কক্ষের ৫টি আলমিরা ও ওয়াল কেবিনেট খুলে ৫ লাখ টাকা এবং ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তাদের ফ্লাটে ডাকাতরা এ তাণ্ডব চালায়।   খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তার ভবনের প্রহরী এমদাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় নিয়ে আসে। আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। ভবনের সিকিউরিটি ম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আনা হয়েছে।

ভিক্ষুকের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য চিৎলা গ্রামের লুৎফর মল্লিকের বিরুদ্ধে ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধীদের কাছ থেকে ভিজিএফের কার্ড করে দেয়ার নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদার চিৎলা পশ্চিম পাড়ার ভূমিহীন ভিক্ষুক জহুরা বেগম (৫৫) প্রতিবন্ধী স্বামী মোতালেবকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে জীবনযাপন করে আসছে। দরিদ্রদের সরকারের বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার কথা জানতে পেরে ইউপি সদস্য লুৎফরের কাছে সাহায্যের জন্য লুৎফর জহুরা বেগমের কাছে ভিজিএফের কার্ড করে দেয়ার নামে দুই হাজার টাকা দাবি করে। একপর্যায় জহুরা বেগম খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্ট করে ২ হাজার টাকা জোগাড় করে লুৎফর মেম্বারের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু সুবিধা ভোগী লুৎফর মেম্বার কার্ড না করে দিয়ে দীর্ঘদিন জহুরা বেগমকে ঘুরাতে থাকে। এ বিষয়ে লুৎফর মেম্বার জানান, জহুরা বেগমের কাছে কার্ড দেয়ার নামে কোনো টাকা নেয়া হয়নি। দামুড়হুদা ইউএনও রফিকুল হাসান জানান, যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খোকন সাহা-মালার অডিও রেকর্ড ফাঁস

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদা মালার কথোপকথনের ‘গালিগালাজপূর্ণ একাধিক অডিও রেকর্ড ফাঁস’ হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ একাধিক নেতা। এমনকি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার ভাইরাল হওয়া ওই অডিও রেকর্ড নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। জানা গেছে, ফাঁস হওয়া অডিও মোট পাঁচটি। এর মধ্যে চারটি হচ্ছে খোকন সাহা ও মাহামুদা মালার বিভিন্ন সময়ের কথোপাকথন, যেগুলো কেউ রেকর্ড করে ফাঁস করেছেন। এ কথোপকথনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের গালিগালাজ করা হয়েছে। অন্য অডিওটি ছাত্রলীগের এক নেতাকে মোবাইল ফোনে মাহামুদা মালার গালাগালির। দলের দু’জন দায়িত্বশীল নেতার ফাঁস হওয়া অডিও সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, এতে তারা স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। তারা ভাবতেই পারছেন না খোকন সাহা ও মাহামুদা মালা তাদেরই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীকে অকথ্য, অশ্রাব্য ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে কথাবার্তা বলেছেন। এসব অডিও ফাঁস হওয়ায় তাদের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছে। তারা বলেছেন, আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ সঠিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিভিন্ন থানা কমিটির নেতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করলে তারা বলেছেন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলকে ধন্যবাদ জানাই। তাদের দ্রুত সিদ্ধান্তে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ও সম্মান রক্ষা করেছেন। যে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে এমন কথাবার্তা হতে পারে, তাদের পক্ষেই সম্ভব সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নারীদের যুব মহিলা লীগে স্থান দেয়ার অপচেষ্টা করা। বিশেষ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যাকে সভানেত্রী বানাতে সুপারিশ করেছেন ও যার পক্ষে এখনও অবস্থান নিয়েছেন সেই নারীর সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ক্রসফায়ারে নিহত মমিনুল্লাহ ডেভিডের সুসম্পর্ক ছিল। ওই নারী পরবর্তীতে জাতীয় পার্টিতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও সেখানে তার স্থান হয়নি। আর সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদা মালা যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সেই নারীকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ভুইগড়, জালকুড়ি ও শিবু মার্কেট এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা সত্ত্বেও এমন প্রশ্নবিদ্ধদের যুব মহিলা লীগের শীর্ষ পদে জায়গা দেয়ার চেষ্টার নেপথ্য কারণ তারা বুঝে গেছেন। এদিকে ফাঁস হওয়া অডিও প্রসঙ্গে বক্তব্য নেয়ার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদা মালার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি।

ঝিনাইদহে কলেজের সভাপতিকে পেটালেন সংসদ সদস্য

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বিরুদ্ধে কলেজের সভাপতি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। ভিকটিম শিপন মৃধা বারবাজার ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ উপজেলা শিক্ষা অফিসে ঢুকে তাকে প্রথমে চড়-থাপ্পড় ও পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন। সোমবার দুুপুরে এমন ঘটনা নিয়ে কালীগঞ্জে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ভিকটিম শিপন মৃধা প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার যুগান্তরকে বলেন, শিপন মৃধা ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে কলেজের সভাপতি হয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি ডিও লেটারও দিয়েছেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তাকে বাদ দিয়ে অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলামকে ওই কলেজের সভাপতি করা হয়। কিন্তু শিপন মৃধা রবিউল ইসলামকে একের পর এক হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি আমার নামেও নানা আজেবাজে কথা বলে বেড়াচ্ছেন। সোমবার এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে শিপন মৃধা আমার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন এবং প্রকাশ্যে হুমকি দিতে থাকেন। এ সময় তাকে আমি কয়েকটি চড় দিয়েছি। তবে লাঠি দিয়ে পেটানোর ঘটনা সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে শিপন মৃধা উল্লেখ করেন, আমি বারবাজার ডিগ্রি কলেজের নির্বাচিত সভাপতি। দীর্র্ঘ ৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত ৩০ মে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার আমি সভাপতি থাকা সত্ত্বেও তার নিজস্ব ডিও লেটারের মাধ্যমে স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত মো. রবিউল ইসলামকে বারবাজার ডিগ্রি কলেজের সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আমি বিষয়টি জানার পর একজন আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করি। ওই আবেদেনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্থগিত আদেশ প্রদান করেন। সোমবার আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করি। এ সময় ওই রুমে প্রবেশ করেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। এ সময় আমি দাঁড়িয়ে তাকে সালাম দিই। কিন্তু হঠাৎ করে সংসদ সদস্য আমার প্রতি উত্তেজিত হয়ে বলেন ‘তোর এত বড় সাহস, আমার বিরুদ্ধে কথা বলিস? এই বলে আমাকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।’

বিয়ানীবাজার কলেজ কক্ষে গুলিতে নিহত ১

সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শ্রেণীকক্ষে গুলি করে খালেদ আহমদ লিটু (২৩) নামে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ক্যাম্পাসে বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়। নিহত লিটু ওই কলেজের ছাত্র নয়। সে পেশায় একজন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের সমর্থক। কলেজটি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত। আর নিহত লিটু শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিপক্ষ গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর এলাকার একটি কলেজের শ্রেণীকক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়ায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে লিটু কলেজের ছাত্র না হয়েও কী করে শ্রেণীকক্ষে অবস্থান করছিল, সে প্রশ্নও এখন অনেকের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ঘটনার পর বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ কামরান, ফাহাদ ও এমদাদুর নামের তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তারা পাভেল গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে। কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, লিটু নিহত হওয়ার আগে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপ ও পল্লব গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি-সংঘর্ষ হয়। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কলেজে পরীক্ষার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সকালে হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুর ১২টার দিকে ইংরেজি বিভাগের কক্ষে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। দ্রুত সেখানে গিয়ে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় কক্ষটিতে কেউ ছিল না।’ ডিউটিতে থাকা পুলিশের অপর এক সদস্য জানান, গুলির শব্দের পরপরই জিআই পাইপ হাতে তিন যুবককে দৌড়ে পালাতে দেখেছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ যুগান্তরকে বলেন, ‘লিটু কলেজের ছাত্র নয়। দুপুরের দিকে হঠাৎ ইংরেজি বিভাগে গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত এক যুবক পড়ে আছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর কলেজ কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে পরীক্ষা যথারীতি চলবে।’ এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ পরস্পরকে দায়ী করছে। জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক পাভেল মাহমুদ নিহত লিটুকে তার গ্রুপের কর্মী দাবি করেছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘পল্লবের ক্যাডাররাই লিটুকে হত্যা করেছে। বেলা ১১টায় পল্লব গ্রুপের সঙ্গে তার নেতাকর্মীদের ঝগড়া হয়। এ সময় পল্লব গ্রুপের ক্যাডার শাহেদ অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। পরে সিনিয়রদের নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দুপুরের দিকে শুনতে পাই, প্রতিপক্ষের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে লিটু মারা গেছে।’ জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পল্লব গ্রুপের সমর্থক শাহেদ আহমদ বলেন, ‘প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ঘটনার সময় আমি কলেজ ক্যাম্পাসেই ছিলাম না। দুটি স্ট্যান্ডের বিরোধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় পুলিশ প্রশাসনের ডাকা বৈঠকে আমি ছিলাম। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আসলে পাভেল গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হয়েছে লিটু।’ তিনি দাবি করেন, ‘ফাহাদ, কালো কামরান ও এমদাদের নেতৃত্বেই লিটুকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর ফাহাদকে অস্ত্র হাতে পালিয়ে যেতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।’ জানতে চাইলে সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব যুগান্তরকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সময় আমি মোল্লাপুর ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত ছিলাম। পরে জানতে পারি, কলেজের কক্ষে একজন নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে নানা বক্তব্য দেয়ায় আমি বিস্মিত।’ তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।’ জানতে চাইলে নিহত খালেদ আহমদ লিটুর বাবা ফয়জুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, লিটু আমার একমাত্র ছেলে। সে সম্পূর্ণ নির্দোষ, তার কোনো দোষ ছিল না। লিটু রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিল না। তারপরও তাকে খুন করা হল।’ তিনি জানান, লিটুর বন্ধু-বান্ধবরা পাভেল গ্রুপ করত। নিহত লিটুর মামাতো ভাই রুবেল আহমদ জানান, বিয়ানীবাজারের নোয়াগ্রাম রোডে এসএস মোবাইলশপ নামে লিটুর একটি দোকান রয়েছে। সে সরাসরি কোনো রাজনীতি করত না। বন্ধুরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ওকে খুন করা হতে পারে। বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, লিটুকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিগগির লিটুর হত্যাকারী চিহ্নিত ও রহস্য উদ্ঘাটন হবে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে মামলা হয়নি বলে তিনি জানান। সিলেট সফরে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বিয়ানীবাজারে নিহত লিটুকে ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করে যুগান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া ছাত্রলীগ এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারে না। যারা এসব করে, তাদের কোনো দল নেই। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের জিরো টলারেন্স। বিয়ানীবাজারের ঘটনা যে বা যারাই ঘটিয়ে থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এদিকে নিহত খালেদ আহমদ লিটুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরেই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ রাতেই বিয়ানীবাজারের নোয়াগ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব এবং জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক পাভেল মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আর দুটি গ্রুপের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গ্রুপের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। পাভেল  ও পল্লব মন্ত্রীবিরোধী হওয়ায় উভয় গ্রুপের মধ্যে সুসম্পর্কও রয়েছে। তাই এই খুন নিয়ে বিয়ানীবাজারবাসীর মধ্যে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর এলাকায় এবং কলেজের কক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া অভিভাবকদেরও উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নিয়ে অভাজনের ভাবনা

আওয়ামী লীগ নামের দলটির বাঘা বাঘা প্রাজ্ঞ নেতার দল পরিচালনা ও সরকার পরিচালনা নিয়ে মন্তব্য করা, আলোচনা করা বা পরামর্শ দেয়ার মতো যোগ্যতা ও ধৃষ্টতা আমার নেই। বরঞ্চ কিঞ্চিৎ ভীতি থাকতে পারে। এর হাজার কারণের একটি হিসেবে ৭ জুলাইয়ের রাতের একটি টিভি রিপোর্টিং উল্লেখ করা যায়। জানা গেল এবং ছবিতে দেখা গেল ময়মনসিংহে এর আগের দিন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি এক যুবলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পুলিশের এই ঔদ্ধত্যে ক্ষেপে গেছে যুবলীগ নেতাকর্মীরা। তারা চড়াও হয়েছে পুলিশের ওপর। আসামি সতীর্থকে ছিনিয়ে নিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ‘অপরাধী’ পুলিশের শাস্তি দিতে পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণ করে তছনছ করে দিয়েছে যুবলীগের কর্মীরা। অসহায় পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে ভয়ার্ত চোখে। যেখানে স্থানীয় ছোট নেতাদেরই এমন দাপট, সেখানে বড়দের কাজের সমালোচনা করি কোন সাহসে! কিন্তু একেবারে নিশ্চুপ থাকাও কঠিন। মুক্তিযুদ্ধ কাছে থেকে দেখেছি। পাকবাহিনী আর বিহারিদের ধ্বংসলীলায় আমার বিপর্যস্ত পরিবারের মুখ সেই কিশোর বয়সে যেভাবে বুকে রেখাপাত করেছিল তা এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি। বঙ্গবন্ধু কীভাবে বাঙালির রক্তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন তা তো মুছে ফেলার নয়। তাই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগ ছাড়া আমাদের রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জায়গা আর কোথায় আছে? তাই আমরা যেহেতু অতি সাধারণ এবং দলবাজ নই, দেশপ্রেম আমাদের একমাত্র শক্তি- এ কারণে আমরা চোখ বন্ধ করে ‘দল জিন্দাবাদ’ বলতে পারি না। জানি জাতির ত্রাণের জন্য রাজনৈতিক শক্তিই প্রধান ভূমিকা পালন করে। এ কারণে রাজনীতি নিন্দার নয়, অতি জরুরি বিষয়। রাজনীতিকগণ কষ্ট করে, সংগ্রাম করে, নানা ঝড়ঝাপ্টা মোকাবেলা করে আমাদের জন্য সুখ এনে দেবেন আর নিরাপদ আশ্রয়ে বসে আমরা তা আকণ্ঠ পান করব এমন সুবিধাবাদী হতে চাই না। কিন্তু আমাদের মতো অতি সাধারণদের রাজনীতিতে অবদান রাখার পথ কি খোলা আছে? ন্যায়নিষ্ঠ আদর্শ নিয়ে যারা মাঠ পর্যায়ে রাজনীতি করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন আজ তাদের অবস্থান কোথায়? ভুইফোঁড় আওয়ামী লীগারের অভাব নেই। নতুন আওয়ামী লীগার হতে অর্থ-বাণিজ্য লাগে আর পুরনো আওয়ামী লীগার দলের মৌলিক আদর্শ ভুলে বড় ব্যবসায়ী হয়ে যান। প্রভাব খাটিয়ে নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নেন। জমি দখল করেন, অবৈধ চিংড়ি ঘের বানান। যারা নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগের নেতা, আওয়ামী লীগের মৌলিক আদর্শকে ধারণ করতে চান, এসব দেখে তাদের অন্তর কাঁদে ঠিকই; কিন্তু অবস্থা পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারেন না। আমরা বহুবার বলেছি-লিখেছি বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র আওয়ামী লীগই আছে, যে দল সুস্থ রাজনীতির ধারা ফিরিয়ে আনতে পারে। আওয়ামী ঘরানায়-পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধায় নিবেদিত এমন সৎ মানুষদের বন্ধু বানানো উচিত আওয়ামী লীগের। ভালোর জোয়ারে মন্দ হারিয়ে যাবে। একদিনে নয়, বহু বছরে। আমরা সবাই নগদ ফল ভোগ করতে চাই। ভবিষ্যতের জন্য ফলগাছ রোপণে আনন্দ কম নয়। যদিও আমরা শেষ পর্যন্ত একটি দমবন্ধ করা রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি। এ কারণে আওয়ামী লীগ পথ হারালে বুকের ভেতর হায় হায় করে ওঠে। তারপরেও পর্দার অন্তরালে থেকে আমরা শুভ কামনা করি আওয়ামী লীগের জন্য। আসলে যা লিখতে যাচ্ছি এর একটি উৎস রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একজন সহকর্মীর মন্তব্য আমাকে বেশ ভাবিয়ে দিয়েছে। একটি জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে আমাদের একজন প্রবীণ অধ্যাপক এসেছিলেন। তিনি আমার মতোই ঢোঁড়াসাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে কখনও যুক্ত থাকেননি। কিন্তু এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই, তিনি মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগের সমর্থক। এক বিশ্ববিদ্যালয়েই আমরা পড়াশোনা করেছি। তিনি আমার সিনিয়র ভাই। তিনি বিরক্ত হয়ে বর্ণনা করছিলেন তার কষ্টের অভিজ্ঞতা। বেশ কয়েকটি কাজ নিয়ে ঢাকা গিয়েছিলেন। যানজট, বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় জলজট, খোঁড়াখুঁড়ি আর ভাঙাচোরা রাস্তায় তিনি এখন কোমর নাড়াতে পারছেন না ব্যথায়। হয়তো টাটকা দুর্ভোগ পোহানোর কারণে তার ক্ষোভটাও বেশি ছিল। তারপরেও তিনি যেভাবে সরকারের সমালোচনা করলেন তা খুব হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। অধ্যাপক সাহেব বললেন, আওয়ামী লীগ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিকতা ও চেষ্টায় দেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু তা কি মানুষকে স্বস্তি দিতে পারছে? যারা সমালোচনার দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করেন তারা বলছেন, কৃষকের ঘাম ঝরানো উৎপাদনে এবং প্রবাসী কর্মজীবীদের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। সরকারের অবদান কতভাগ তা নির্ণয় করলে প্রকৃত ছবি ভেসে উঠবে। আমি মনে করি সরকারের অবদান একেবারে খাটো করলে ঠিক হবে না। উন্নয়নের সড়ককে গতিশীল করায় অবশ্যই সরকারের ভূমিকা আছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা না থাকলে হয়তো পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হতো না। সেতুটি হয়ে গেলে উন্নয়নের অনেকগুলো পথ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই খুলে যাবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি তো দৃশ্যমান। কিন্তু এসব কৃতিত্বের ফসল কি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ঘরে তুলতে পারবে? ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসী এবার অতি বৃষ্টিতে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে ব্যর্থ হতে দেখেছে। বছর ধরে উন্নয়নের নামে পরিকল্পনাহীন খোঁড়াখুঁড়িতে বেহাল-বিধ্বস্ত নগরবাসী। ওয়াসার পানি ও গ্যাসের সংকট তো নিত্যসঙ্গী। যানজটে নাকাল নগরবাসী। শহরতলীতে রাস্তাঘাট আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা। প্রাকৃতিক জলাধারগুলো একে একে দখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি দলের ছত্রছায়ায়। এসবের ওপর কোনো দলীয় বা রাষ্ট্রীয় শাসন নেই। হাওর এলাকাসহ দেশের নানা অঞ্চলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় দুর্নীতির চিত্র সামনে চলে এসেছে। সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের ওপর সাধারণ মানুষের কতটা আস্থা রয়েছে তা কি দায়িত্বশীলরা খোঁজ করেছেন কখনও? ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা তসরুপ হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ দেখছে সরকারি দলের তকমাধারীরা কিভাবে ঋণ খেলাপি হয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। সব ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির বাড়বাড়ন্ত দশা। ছাত্রলীগের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ ভুক্তভোগীরা। সেদিন পত্রিকায় রিপোর্ট বেরোল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে যথেষ্ট বিত্তশালী বলে অভিযোগ করছে। সাধারণ মানুষের নিশ্চয়ই অজানা নয় এসব তথ্য। কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে বলতেই হবে, সুশাসনের অভাব সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। অতীত ইতিহাস সামনে নিয়ে এলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভূমিকা আছে তা বলার উপায় নেই। জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই ত্যাগী-পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতাদের কোণঠাসা করে ভুইফোঁড় ব্যবসায়ীদের দিয়ে দল গড়া আর খালেদা জিয়ার সময় তরুণ অথচ ‘বড় নেতা’ তারেক রহমানের গড়া হাওয়া ভবনের দুর্নীতির কথা মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়েছিল। ২১ আগস্টের পৈশাচিক গ্রেনেড হামলাকেও সহজে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না। সবশেষে ২০১৪-এর নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত-বিএনপির অমানবিক ছবি তো এখনও স্পষ্ট। ফলে বিএনপির কাছ থেকে সাধারণ মানুষ সুশাসন প্রত্যাশা করে না। এমন এক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তারপরও এই জায়গায় এসে এখন মানুষের অস্বস্তি অনেক। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার দম্ভ স্থানীয় ও বড় নেতাদের অনেককে পেয়ে বসেছে।
এমপি-মন্ত্রীদের অনেকেই সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষদের সঙ্গে তেমন একটা সম্পৃক্ততা তৈরি করেননি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, আওয়ামী লীগ- সব লীগের পেশিশক্তি মানুষকে শঙ্কিত করে তুলছে। এদের অনেকের সৃষ্ট সন্ত্রাস, দখলবাণিজ্য, দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে কোনো না কোনোভাবে ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব কারণে অন্যদের কথা বাদ দেই, আওয়ামী লীগের শুদ্ধ নেতারাই হতাশ। এ অবস্থা নির্বাচনে প্রভাব না ফেলে পারে না। প্রতিপক্ষ দুর্বল ভেবে আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্ত মানসিকতার নেতাকর্মীরা যদি নিজেদের না শুধরে এখনও দাপটে বেড়ান, আর দল পরিচালকরা মহানন্দে শীতঘুম দেন, তবে দুঃস্বপ্ন দেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নির্বাচনের মাঠে কি শুধু বিএনপি থাকবে? এখানে জাতীয় পার্টির জোট, তৃতীয় ধারার জোট- সবার অনেক বিকল্প প্রার্থী থাকবে। এ সময়ের বাস্তবতায় আমাদের মনে হয় অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ ভোটারের বড় অংশ যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে পছন্দ করত, তাদের অনেকেই এবার মার্কাকে ভোট দেবে না। পছন্দের মার্কা কপালের তিলক হলেও প্রার্থী পছন্দ না হলে সেদিকে ভোটার ফিরে তাকাবে না। ভুক্তভোগী এবং বিতৃষ্ণ মানুষ দল নির্বিশেষে পছন্দের প্রার্থীই বেছে নেবে। নির্বাচনে আমাদের দেশের বিশেষ গণতান্ত্রিক বাস্তবতায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলে একটি কথা সবাই জানে। এ সময়ের বাস্তবতায় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিসীমায় এবার ব্যাপকভাবে এই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভাব ফেলতে পারবে বলে আমাদের মনে হয় না। আমাদের বিশ্বাস আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবার পরিশুদ্ধ নির্বাচনই প্রত্যাশা করেন। ফলে জনগণের কাছে যাওয়ার বিকল্প নেই। আগেই বলেছি, উন্নয়নের ঔজ্জ্বল্য নানা অন্যায়ের ধুলোবালিতে মানুষের মনে এখন আর ততটা জ্বলজ্বল করছে না। ফলে নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ শতভাগ ফসল ঘরে তুলতে পারবে না। সরকারের সুশাসনের অভাবটাই ভুক্তভোগী মানুষ এখন বড় করে দেখছে। সামনের দেড় বছরে সরকার সুশাসনের পথে হাঁটাকে কিছুটা দৃশ্যমান করতে পারে। আর এর সুফল মানুষ যদি কিছুটা ভোগ করতে পারে, তবে আবার আস্থার জায়গাটি অনেকটা ফিরে আসবে। বিশ্বাস রাখতে হবে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিদান দিতে জানে। অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সব নির্বাচনে এদেশের ভোটার বরাবরই সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com

পাঁচ প্রকল্পের টাকা ফেরতে বিশ্বব্যাংকের চাপ

পাঁচ প্রকল্পে অব্যয়িত অর্থ ফেরতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চাপ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এসব প্রকল্প থেকে দফায় দফায় বিভিন্ন পরিমাণ টাকা ‘ইনইলিজেবল এক্সপেনডিচার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এ অর্থ ফেরত দেয়নি। অর্থ ফেরতে জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। কিন্তু সে সময়ও পার হয়ে গেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। অর্থ ফেরত না দেয়াটাকে অনিয়ম হিসেবেই দেখছেন অনেকে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অ্যাকশন হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের অন্য প্রকল্পে অর্থছাড়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক কম বা বেশি সেটি বড় মনে করা হয় না। একবার ‘মিসপ্রকিউরমেন্ট’ বা ‘ইনইলিজেবল এক্সপেনডিচার’ ঘোষিত হলে সেই টাকা আদায় যেমন বিশ্বব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যায়, তেমনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদেরও দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় টাকা ফেরত দেয়াটা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর দায়িত্বে চরম অবহেলা রয়েছে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এদিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থ ফেরত নিয়ে জটিলতা কাটাতে বৈঠকে বসছে ইআরডি। আগামী ২৪ জুলাই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও এর বিশ্বব্যাংক অনুবিভাগের প্রধান মাহমুদা বেগম। বৈঠকে উপস্থিত হতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) চিঠি দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে মাহমুদা বেগম যুগান্তরকে বলেন, শুধু কেনাকাটায় অনিয়ম হলেই যে বিশ্বব্যাংক টাকা ফেরত চায় সেটি বলা যায় না। কেননা অনেক সময় দেখা গেছে প্রকল্পে টাকা খরচ হয়নি। বেঁচে যাওয়া টাকাও তারা ফেরত চায়।
তাছাড়া সরকারের ক্রয় গাইডলাইন ও বিশ্বব্যাংকের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটলেও মিসপ্রকিউরমেন্ট ঘোষণা করা হয়। তবে এসব টাকা যেহেতু বাধ্যতামূলক ফেরত দিতেই হবে সে ক্ষেত্রে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের উচিত দ্রুত ফিরিয়ে দেয়া। আমরা চেষ্টা করছি, এসব টাকা যাতে তাড়াতাড়ি ফেরত দেয়া যায়। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয় সূত্র জানায়, ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রজেক্ট থেকে প্রথম পর্যায়ে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি ইনইলিজেবল ঘোষিত এক হাজার ১২৫ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে) প্রায় ১ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর ইনইলিজেবল ঘোষিত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ৮৮ লাখ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রকল্প থেকে ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি ফেরত চাওয়া হয় ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৯ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ডিজঅ্যাবেলিটি অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাট রিস্ক প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে ২০১৪ সালে ফেরত চাওয়া হয় ১৭ হাজার ৯৬০ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪০০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ফেরত চাওয়া হয় ৩০ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম থেকে প্রথম পর্যায়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ফেরত চাওয়া হয় ১৭ হাজার ৪৫০ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৫ সালে ফেরত চাওয়া হয় ৮ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ টাকা। এ ছাড়া উইল্ড লাইফ প্রটেকশন প্রকল্প থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ফেরত চাওয়া হয় ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৫ টাকা। ইআরডির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, অনিয়ম তো অনিয়মই। এ ক্ষেত্রে ছোট বা বড় বলে কিছু নেই। সরকারি তহবিলের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্প হলে কর্মকর্তারা নানাভাবে ফাঁকফোকর গলিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। মনে করা হয়, অল্প টাকার বিষয় তাই অনেক কিছুই ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু উন্নয়নসহযোগীদের টাকার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হলেই আর ছাড় দেয়া হয় না। কেননা তাদের মতে, অল্প টাকা হলেও তা জনগণের করের টাকায় সরকারকে পরিশোধ করতে হয়। জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। কেননা প্রকল্পে অনিয়ম হলে যে উদ্দেশ্যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয় তার কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায় না। যত কম টাকাই হোক এরকম ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটতে থাকলে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পলিসি গ্রহণে নতুন করে ভাবতে পারে। এর আগে দুর্নীতির কারণে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। সেরকম পরিস্থিতি কারও কাম্য নয়।’ প্রসঙ্গত, এর আগেও বেশকিছু প্রকল্প থেকে টাকা ফেরত চেয়েছিল বিশ্বব্যাংক। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইমপ্র“ভমেন্ট প্রজেক্ট, সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম প্রজেক্ট-২, ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট প্রকল্প, হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি ইমপ্র“ভমেন্ট প্রজেক্ট, সেকেন্ড রুরাল ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট এবং রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রজেক্ট। এসব প্রকল্পে টাকা ফেরত দিতে দেরি হওয়ায় বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে অর্থ প্রক্রিয়াকরণ বাধাগ্রস্ত করার হুমকিও দেয়া হয়।