Wednesday, January 25, 2012

আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের কনটেইনার জাহাজ নেই

ন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ৫৭টি সাধারণ কর্গো জাহাজ থাকলেও কোনো কনটেইনার জাহাজ নেই। দেশীয় মালিকানাধীন যে পাঁচটি কনটেইনার জাহাজ ছিল সেগুলোও প্রত্যাহার করা হয়েছে বিভিন্ন রুট থেকে। গত আড়াই বছরে দেশীয় মালিকানাধীন ৩৩টি জাহাজ পণ্য পরিবহনে যুক্ত হলেও কোনো নতুন কনটেইনার জাহাজ এই বহরে আসেনি।

মাঠে ফিরেছেন আগের মাশরাফিই

মন বিশাল ছক্কা এর আগে কেউ দেখেনি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। মোহামেডানের বাঁহাতি স্পিনার অমিতাভ নয়নের বলে সেই ছক্কা উড়ে গিয়ে লাগল গ্র্যান্ড স্টান্ডের ছাদের কার্নিশে। খেলা শেষে মাশরাফি বিন মুর্তজাও বললেন, ‘এত বড় ছক্কা আগে মারিনি।’

অ্যাডিলেড টেস্ট-ভারতের দুঃস্বপ্ন সেই পন্টিং-ক্লার্ক

দারুণ এক স্ট্রেট ড্রাইভ ও পুল খেললেন ইনিংসের শুরুতেই। খানিক পর একটা ব্যাকফুট পাঞ্চ—তাঁর সেরা সময়ের ‘ট্রেডমার্ক’। ওই শটে যা ইঙ্গিত ছিল, সেটাই পরিপূর্ণতা পেল সারা দিনে। দারুণ সব শট খেলে বুঝিয়ে দিলেন, শেষের গান গাইবার সময় এখনো আসেনি। দিন শেষে অপরাজিত সিরিজের দ্বিতীয় আর ক্যারিয়ারের ৪১তম সেঞ্চুরি করে।

শেখ জামাল ৩: ১ বিজেএমসি-শীতে জামালের বসন্ত উৎসব

গোটা কুড়ি বাস ভরে সমর্থক এনেছে শেখ জামাল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পূর্ব দিকের অনেকটা অংশ হলুদ হয়ে থাকল। বসন্তের প্রতীক হলুদ। সেটি রাঙিয়ে দিল শেখ জামাল ফুটবল দলকে। প্রথমবার ফেডারেশন কাপ ঘরে তোলার স্বপ্নপূরণ। হলুদের আবাহন এই শীতে যেন বসন্তের উৎসবে ভাসাল আমিনুলের দলকে।

ধবল-ধোলাই এড়ানোর লড়াই ভারতের

অ্যাডিলেড টেস্টে ভারতের হারানোর কিছুই নেই। কিন্তু পাওয়ার আছে অনেক কিছু। ধবল-ধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যাপার তো আছেই। আরও আছে গোটা অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের হারিয়ে ফেলা আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের বিষয়টি। সেই সঙ্গে দেশবাসীর জন্য কিছুটা হলেও মুখরক্ষার ব্যাপার-স্যাপারগুলো সঙ্গে নেওয়া।

স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে বন্ড ব্যবস্থাপনা

স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে বন্ড ব্যবস্থাপনা। ফলে ব্যবসায়ীরা বন্ডেডওয়্যার হাউসের লাইসেন্সসহ শুল্কায়নের আনুষঙ্গিক কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে পরোক্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে পোশাক খাতের সরঞ্জাম ও প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক সমিতি ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) পেতে যাচ্ছে।

সাড়ে আট হাজার ডাকঘর ই-কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে

ডাকঘরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে। ওয়েব ক্যামেরার সাহায্যে বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। আর তাৎক্ষণিকভাবে চিঠিপত্র, দলিলাদিও পৌঁছে যাবে গ্রাহকের কাছে।

কোনো বিক্ষোভ হয়নি-আরও পড়ল বাজার

ড় দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বা ১৩৩ পয়েন্ট কমেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৪৪০ পয়েন্ট।

আইএসআইয়ের প্রধানের সঙ্গে মোশাররফের ‘গোপন বৈঠক’

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান আহমেদ সুজা পাশা দেশটির সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে দুবাইয়ে গোপন বৈঠক করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমের খবরে এ কথা জানিয়ে বলা হয়, সুজা পাশা মোশাররফকে দেশে না ফেরার উপদেশ দিয়েছেন।

বনি ওয়ালিদ দখল করল গাদ্দাফিপন্থী যোদ্ধারা

লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত যোদ্ধারা গুরুত্বপূর্ণ বনি ওয়ালিদ শহরটি দখল করে নিয়েছে। পরে তারা সেখানে সাবেক স্বৈরশাসকের দীর্ঘ ৪২ বছরের শাসনের প্রতীক সবুজ পতাকা টানিয়ে দেয়। নতুন করে গাদ্দাফিপন্থীদের এই অগ্রগতিকে দেশটির বর্তমান শাসক ‘ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এনটিসির জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

সব হারিয়ে দিশেহারা কাসিম

নাম মুহাম্মদ কাসিম। আফগান এই নাগরিক পেশায় একজন কসাই। পেশাগত কারণে অসংখ্য পশু জবাই করেছেন তিনি। পশুর রক্ত দেখে কোনো সমস্যা হয়নি তাঁর কখনো। কিন্তু গত মাসে বোমা হামলায় স্ত্রীসহ নিকটজনকে হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি।

টিএইচওর অপসারণ দাবি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

পজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং একজন চিকিৎসককে হত্যার হুমকিদাতাকে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে মাদারীপুরের কালকিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা গতকাল বিক্ষোভ ও তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন।

‘মাছ না ধুরতে পারলি খাব কী?’ by কল্যাণ ব্যানার্জি

মা এক এনজেওর কাজে গেছে, তার ইকার আয়তি সুংসার চলে না। তাই ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে নদীত মাছ ধরতি যাতি হয়। আমাগের এদিক কোনো কাজ নি। মাছ না ধুরতে পারলি খাব কী?’ কথাগুলো বলতে বলতে হাতেটানা জাল নিয়ে খরাস্রোতা খোলপেটুয়ার নদীর বুকে ঝাঁপ দিয়ে পড়ল ১১ বছরের বয়সী শিশু সাথীমনি।

এবার জলাধারের মুখ বন্ধ করে ইটভাটা

লাধারের মুখ বন্ধ করে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের নাঙ্গলভাঙা জলায় তৈরি করা হচ্ছে ইটভাটা। বালুরচর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল হাসান মজুমদার এক মাস ধরে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি ভরাট করছেন। তাই এলাকাবাসী এর প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

ফল পুনর্মূল্যায়ন করবে না নৃবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পরীক্ষার ফল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে না। গত সোমবার বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ডেনমার্কের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক-গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাস ও কার্বন-বাণিজ্যে সহায়তা

লবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শহরাঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো এবং কার্বন-বাণিজ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে ডেনমার্ক সরকার। ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম) প্রকল্পের আওতায় এই দুই দেশ একযোগে কাজ করবে।

জবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ সিকৃবিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ



স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ২০ জন। সংঘর্ষে ব্যবহার করা হয় রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র। তাণ্ডব চালানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভাঙচুর করা হয় ক্যান্টিন ও শ্রেণীকক্ষ। এ ঘটনায় ১৭ কর্মীকে বহিষ্কার করা    পৃষ্ঠা ১৫ কলাম ১
 হয়েছে। জবি রিপোর্টার জানান, উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরে উপর হামলা চালায়। গতকাল দুপুরে দু’গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় ১৭ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার ও ২ জনকে শোকজ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আকন্দের পক্ষের কর্মী নয়ন সোমবার রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন আরামবাগ হোটেলে সভা চলাকালে মাগুরা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন। যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আরিফুজ্জামান পক্ষের কর্মীরা তাতে বাধা দেন। এতে নয়নের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল বেলা ১১টায় খন্দকার আরিফুজ্জামানের কর্মীরা ক্যাম্পাসে শোডাউন করে। দুপুর ১২টার দিকে সাইফুল পক্ষের শতাধিক কর্মী ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়া শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আরিফুজ্জামানের কর্মীরা সাইফুল ইসলামের কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে। পরে সাইফুল গ্রুপের কর্মীরা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাটুয়াটুলি সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করে দা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও অনান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আরিফ গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া করলে পুনরায় দু’গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আরিফ গ্রুপের সৌরভ আলামিন, সিব্বির, সোহাগ, ওলিউর, জাহিদ, হিরম্ব কুমার বাবু, রিশাদ, রেজওয়ান ও তরিকুল এবং সাইফুল গ্রুপের কাওছার, তমাল, জামাল, রুবেল টনি, নিহার রাজিব, শিপলুসহ দু’গ্রুপের অনন্ত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বেলা ২টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ক্যাম্পাসে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের ব্যাপারে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ছাত্রলীগের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আপসহীন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যে শাখার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি কিংবা সংগঠনবিরোধী কোন কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ পাচ্ছি সে শাখা কমিটি বাতিল করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংঘর্ষের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ছাত্রলীগ কর্তৃক ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির নিন্দা জানিয়েছেন।
১৭ কর্মী বহিষ্কার: সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত থাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ.এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম গতকাল ১৭ কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃতরা হলো- সৌরভ, তমাল, আগুন, নান্নু, টনি, নয়ন, ইউনুস, রেদওয়ান, হিরন্ময় বাবু, সিব্বির, দীন ইসলাম, জাহিদ, ফয়সাল, রফিক, আলাউদ্দিন, কাওসার ও সোহাগ। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জবি শাখার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আকন্দ ও যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আরিফুজ্জামানকে কেন বহিষ্কার করা হবে না এ মর্মে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সিকৃবিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ
সিলেট অফিস জানায়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। এ অবস্থায় গতকাল বিকালে এক প্রজ্ঞাপনে বিশ্ববিদ্যালয় সিকৃবি কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ওদিকে সিলেটের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও বিরাজ করছে অস্থিরতা। ১১ই জানুয়ারি হল দখল নিয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা লড়াই হয়। এ লড়াইয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় ছাত্রশিবির। প্রায় ১৫ বছরের কর্তৃত্ব হাতছাড়া হয় ছাত্রশিবিরের। বর্তমানে শাবির শত শত শিবিরকর্মী ক্যাম্পাসছাড়া। এ অবস্থা ক্লাস চালানো হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিন দফা দাবিতে ছাত্রশিবিরের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের পরও প্রতিদিন চলছে ক্লাস। চলাচল করছে বাসও। বেশ কয়েকটি অনুষদের বিভাগীয় প্রধান নিজ উদ্যোগে ক্লাস নিচ্ছেন। তবে আতঙ্ক কাটাতে ক্যাম্পাসে প্রচুরসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওদিকে, সোমবার বাস ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল আরও ৭ শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সভাপতি মোজাহিদ রুমি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাদের প্রায় ৪০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সে কমিটি আদৌ গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। সুতরাং, তারা ধর্মঘট থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ আহ্বায়ক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমন জানান, শিবির ক্যাম্পাসের বাইরে সন্ত্রাস চালালেও ভেতরের পরিস্থিতি শান্ত। তিনি জানান, ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। সোমবার শেষ বারের মতো হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে আরও পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে এ মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। ওদিকে, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজ করছে চরম অস্তিরতা। শর্ট সেমিস্টার চালু ও ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে সিকৃবির ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছে। বুধবার রাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। রাতের আঁধারে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় ৩ ছাত্রকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে সিন্ডিকেট। এছাড়া আরও ২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হচ্ছে ফারুক, নিজামউদ্দিন ও শিপলু। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জুলুম-নির্যাতনবিরোধী ব্যানারে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে পুনরায় আন্দোলন শুরু করে ক্যাম্পাসে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত টানা তিন দিন তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান ধর্মঘট ও র‌্যালি করে। ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক হতে না পারলেও শর্ট সেমিস্টার চালুর আন্দোলনে তারা সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে আন্দোলনের পরিধি দিন দিন বড় হচ্ছে। আন্দোলনের কারণে সিকৃবিতে গত ৫ দিন ধরে কোন ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে না। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গতকাল আবারও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুপুর পর্যন্ত তারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালায়। কিন্তু দুপুরের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠগুলোর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল বিকালে এ নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ কথা জানানোর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাস ছেড়ে হলে অবস্থান নেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে প্রচুরসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকতা গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সিন্ডিকেটের সভায় বেশ কয়েকটি গুরুপূর্ণ সিদ্বান্ত গ্রহণ করেছেন। এ সিদ্ধান্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় গতকাল থেকে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।

দ্য হিন্দু’র সম্পাদকীয়- বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান

মানবজমিন ডেস্ক: সীমান্তে বাংলাদেশীকে বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশের কাছে নয়াদিল্লির নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত। গতকাল ভারতের অনলাইন দ্য হিন্দু এক সম্পাদকীয়তে এ আহ্বান জানায়। এর শিরোনাম ‘ব্রুটালিটি অন দ্য বর্ডার’। ‘সীমান্তে নৃশংসতা’। এতে বলা হয়, সমপ্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে নৃশংস নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে এক বাংলাদেশীর ওপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর। এ ঘটনায় বাংলাদেশের কাছে নয়া দিল্লির  পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৪
নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত। বিস্মিত হওয়ার কোন কারণ নেই যে, ওই ভিডিওটি বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি এ ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে না তুলতে মন্তব্য করেছেন। একই মন্তব্য প্রতিধ্বনিত হয়েছে বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীর কণ্ঠে। এতে ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে মনে হয় এবং শেখ হাসিনার সরকার ভারতপন্থি বলে বিরোধীরা প্রচারণায় ঝড় তুলেছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ভারতবিরোধী কিছু কর্মকর্তার সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে তারা। প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে অনিচ্ছাকৃত কারণ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে নয়া দিল্লির আরও দূরদৃষ্টি দেয়া উচিত। গত মাসে বিএসএফ দু’টি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সীমান্তে তিন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। এরপর থেকেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব তুঙ্গে। ২০১১ সালের মার্চে দুই দেশ সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্তদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়ে চুক্তি করে। তারপর থেকে হত্যার ঘটনা কমে এসেছে। কিন্তু ওই ভিডিওটিই এখন অকাট্য প্রমাণ হয়ে উঠেছে যে- বিএসএফ অন্য উপায়ে সহিংসতা চালানোর ক্ষেত্রে বাধাহীন। এ থেকে একটি সত্য বেরিয়ে এসেছে যে, কার্যক্ষেত্রে এই সব নির্যাতনের জন্য যারা দায়ী তাদের মানসিকতা যদি পরিবর্তন করা না যায় তাহলে জটিল সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় এ রকম চুক্তি মূল্যহীন। ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, ১১ দশমিক ৫৬ মিনিটের যে বেদনাদায়ক ভিডিও ফুটেজটি ইউটিউবে প্রচারিত হয়েছে তা পরিষ্কার একটি প্রামাণ্য ভিডিও। তাতে দেখা গেছে, বাংলাদেশী ওই যুবককে নগ্ন করে বিএসএফ সদস্যরা তার হাত ও পা বেঁধে ফেলেছে। তারপর তাকে নির্দয়ভাবে পিটাচ্ছে। এ সময় তারা ওই যুবকের ওপর আর কি কি ধরনের নির্যাতন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছিল। ওই বাংলাদেশীকে গরুচোর হিসেবে সন্দেহ করা হয়। উল্লেখ্য, সীমান্ত গবাদিপশু পাচারের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত। বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ওই বাংলাদেশী যুবককে বিএসএফ সদস্যরা শাস্তি দিচ্ছিল তাদেরকে ঘুষ না দেয়ার কারণে। ওই বিএসএফ সদস্যদের দেখে মনে হয়েছে, তাদের যেন কোন শাস্তি হবে না বলে তারা ধরে নিয়েছে এবং সে জন্য তারা নির্দয় প্রহার করেছে। তবে এ বেদনাদায়ক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএসএফ তার ৮ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে। নির্দেশ দিয়েছে তদন্তের। এখন এই আধা-সামরিক এই বাহিনীকেই প্রমাণ করতে হবে যে, এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ রকম ঘটনায় যে দায়মুক্তি দেয়া হয় তার সার্বিক বিষয়ে তদন্তকারীদের গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়োগকালে কোন প্রশিক্ষণে কোন বিষয়ে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে কিনা, যে জন্য তারা এরকম বর্বরতা চালায় তা বিএসএফকেই বের করতে হবে। এটা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটা শুধু বিএসএফের দুর্নাম বয়ে আনছে তা-ই নয়, একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবি-দাবি না মানলে আমরণ অনশন করবেন নার্সরা

ড়াই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও নার্স নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়নের দাবিতে এবার আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন।

সংসদ অধিবেশন শুরু আজ, যোগ দিচ্ছে না বিএনপি

সংসদ রিপোর্টার: আজ শুরু হচ্ছে নবম জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশন। বছরের প্রথম অধিবেশন হওয়ায়  পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৩
 প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান সন্ধ্যা ৬টায়
ভাষণ দেবেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট অধিবেশনে যোগ দিচ্ছে না। স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে বিকাল সাড়ে তিনটায়। সংসদ টিভি অধিবেশনের কার্যক্রম সরাসরি সমপ্রচার করবে। এদিকে সংসদ চলবে আগামী ৮ই মার্চ পর্যন্ত। এর মধ্যে কার্যদিবস হয় ২৭টি। গতকাল সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক মানবজমিনকে জানান, দলের নীতি-নির্ধারকদের পক্ষ থেকে আপাতত সংসদে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না। এর আগে দলটির পক্ষ থেকে একাধিকবার সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দেয়া হয়। চলতি সংসদের ১১টি অধিবেশনের মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ অধিবেশ বর্জন করে বিরোধী দল। টানা ৭৪ দিন সংসদ বর্জনের পর গত বছরের ১৫ই মার্চ বিএনপি দু’দিনের জন্য সংসদে ফিরেছিল। ২৪শে মার্চের পর থেকে আবার তারা সংসদ বর্জন করে। এরপর বিরোধী দল আর সংসদে ফেরেনি। এদিকে বিরোধীদলীয় এমপিদের সামনে সংসদ সদস্য পদ টিকিয়ে রাখতে আরও ৩৭টি কার্যদিবস রয়েছে। এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ একাধিক সংসদ সদস্যের টানা অনুপস্থিতি ৫৩ দিন পার হয়েছে। ফলে এবারের শীতকালীন অধিবেশন ৩৭ কার্যদিবস চললেই সদস্যপদ হারানোর মতো ৯০ দিনের টানা অনুপস্থিতির রেকর্ড হয়ে যাবে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে। সংসদ বর্জন প্রসঙ্গে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বিরোধী দল সব সময় সংসদে যেতে প্রস্তুত। তবে সরকারি দল সংসদের পরিবেশ তৈরি করছে না। চাপ বা কৌশলের কাছে আত্মসমর্পণ করে বিএনপি সংসদে যাওয়ার মত দল নয়। বরং আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করলেই বিষয়টি আরও ফলপ্রসূ হবে। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে সংসদে ফেরাতে হলে সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার প্রমাণ রাখতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে গিয়ে তার আন্তরিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। এখন সরকারকে দেখাতে হবে তারা কতটুকু আন্তরিক। এ সময় তিনি স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, স্পিকার নিজেও অসহায়। কার অঙুলি নির্দেশে সংসদ পরিচালিত হচ্ছে তা কেউ জানে না। এসব দূর করে সরকারি দল আগে পরিবেশ তৈরি করুক তারপর সংসদে যোগ দেয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। সরকার দলীয় চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ বলেন, সাধারণত শীতকালীন অধিবেশন লম্বা হওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কারণ, নতুন বছরের শুরুতে সংসদে প্রেসিডেন্ট ভাষণ দিয়ে থাকেন। ওই ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তাই অধিবেশনটিকে অনেকদিন পর্যন্ত টেনে নেয়া হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সব সময় চাই বিরোধী দল সংসদে যোগ দিক। কারণ, জনগণ তাদের নির্বাচিত করেছে সংসদে এসে কথা বলার জন্য। অথচ বিরোধী দল উল্টোটি করছে।
২৭ কার্যদিবসের অধিবেশন
এদিকে চলতি অধিবেশন ২৭ কার্যদিবস করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির ১৬তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রয়োজনে এ সময়সীমা বাড়ানো ও কমানোর ব্যাপারে স্পিকারকে দায়িত্ব দেয় কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন অধিবেশন শুরু হবে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে। শেষ হবে রাত সাড়ে আটটায়। এছাড়া প্রেসিডেন্টের ভাষণ সম্পর্কে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে ৪০ ঘণ্টা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, চিফ হুইপ মো. আবদুস শহীদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তোফায়েল আহমেদ, মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আলহাজ এডভোকেট মো. রহমত আলী, রাশেদ খান মেনন এবং আবদুল মতিন খসরু সভায় অংশ নেন। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এ কিমটির সদস্য হলেও তিনি বরাবরের মতো গতকালও অনুপস্থিত ছিলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন।
অধিবেশন মুলতবি হবে দুইবার
এদিকে আজ সংসদ অধিবেশন দুইবার মুলতবি হবে। সংসদীয় ইতিহাসে একইদিনে ২বার মুলতবির ঘটনা বেশ বিরল। বিধি অনুযায়ী বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হয়। আবার চলতি সংসদের কোন এমপির মৃত্যু হলে তার ওপর আনা শোক প্রস্তাব শেষে মুলতবি করা হয়। সমপ্রতি সরকারদলীয় এমপি আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যু হলে আগামী অধিবেশনে দুই ইস্যু একই দিনে পড়েছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রথমে শোক প্রস্তাব আনা হবে। এরপর ৩০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। পরে আবার অধিবেশন শুরু হলে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান তার উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এরপর ২য় বারের মত মুলতবি করা হবে অধিবেশন।

সংস্কার হয়নি হিন্দু বিবাহ আইন, ‘ইচ্ছা নেই, তবু বউ হয়ে থাকতে হচ্ছে’

কাজল ঘোষ: তৃণা দত্ত। অরূপ রায়। দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক সরস্বতী পূজায় বন্ধুদের উপস্থিতিতে তৃণাকে সিঁদুর পরিয়ে স্ত্রী সম্বোধন করে অরূপ। রাঙা বউ বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু বছর   পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১
ঘুরতেই তৃণাকে অস্বীকার করে অরূপ। দু’জনের পরিবার বিষয়টি জানলেও আইনের কারণে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সিঁদুর পরা ছবি থাকলেও নিবন্ধন না হওয়ায় তৃণা আইনি সহায়তার জন্য বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিলেও কাজ হয়নি। শাস্তি হয়নি অরূপের।
ঘটনা-২: ভারতে পড়াশোনা করার সময় পরিচয় শুভাশিস আর অর্পিতার। পরিচয় থেকে প্রণয়। দু’জনেরই পরিবার বাংলাদেশে। প্রয়োজন অপ্রয়োজনে দু’জনই একে অন্যের কাছে ছুটে আসে সুদূর প্রবাসে। একসময় নিজেদের কাছে পেতে বিয়ে করে নিবন্ধন করেই। পড়াশোনা করে দেশে ফিরে দু’জনই তাদের ভুল বুঝতে পারে। ফিরে আসতে চায় স্বাভাবিক জীবনে। শুভাশিস-অর্পিতার সম্মতি থাকলেও বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ আইন না থাকায় কেউই কাউকে ছাড়তে পারছে না। বছরের পর বছর পৃথক থাকলেও তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় নিয়েই আছে। যৌথভাবে বিচ্ছেদ চাইলেও আইন না থাকায় তারা আটকে গেছে।
ঘটনা-৩: পারমিতার সঙ্গে বিবেকের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর। বিবেক পেশায় চিকিৎসক। তাদের একটি ছেলে আছে দুই বছরের। সহকর্মী দিলারার সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করে বাসা ছাড়ে বিবেক। পারমিতার সামনে অন্ধকার। একটি সন্তান- অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে। আইনের দরবারে ধরনা দিয়েও কোন সুরাহা পায়নি সে। বিয়ে যেন একটি ছেলেখেলা বিবেকের কাছে। পারমিতার কাছে আজন্ম গ্লানির।
উল্লিখিত তিনটি ঘটনারই চরিত্র কাল্পনিক। বছরে এমন অন্তত এক থেকে দেড় শ’ দম্পতি আইনি সহায়তা চাইতে আসে আইন ও সালিশ কেন্দ্রে। হিন্দু বিবাহের কোন আইন নেই। ইচ্ছা নেই, তবু বউ থেকে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ অসংখ্য- যোগ করেন নীনা গোস্বামী। আইন সালিশ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক এই মানবাধিকার কর্মী কাজ করছেন প্রস্তাবিত খসড়া হিন্দু বিবাহ আইন নিয়ে। মানবজমিনকে তিনি বলেন, মূলত তিনটি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে হিন্দু বিবাহ আইনের খসড়া প্রস্তুত। নিবন্ধন, বহুবিবাহ আর বিবাহ বিচ্ছেদ। বর্তমানে কোন আইন না থাকায় হাজারো মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ১৯৪৬ সালের একটি ভরণপোষণ আইন আছে। তাতে দেখা গেছে, পৃথক থাকলেও স্বামী আজীবন ভরণপোষণ দিতে হবে স্ত্রীকে। স্ত্রীর মর্যাদা না চাইলেও তা বলবৎ থাকছে। এতদিন পর কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অনেকদিন থেকেই চেষ্টা চলছে। উচ্চবিত্ত শ্রেণী চাইছে হিন্দু বিবাহ আইনটি যেন বাধ্যতামূলক না হয়। তাদের ছেলেমেয়েরা দেশের বাইরে পড়াশোনা বা চাকরি করতে গেলে বিবাহের নিবন্ধন সনদ দেখাতে হয়। তারা নিজেদের স্বার্থেই এটি চাইছেন। একটি সর্বজনীন বিবাহ আইন আমাদের এখনও হয়নি। প্রস্তাবিত আইনে পৌরাণিক বা প্রচলিত নিয়ম-কানুন মেনে বিয়ের যে রীতি তা বাদ দেয়া হয়নি। নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে সামাজিক আচার যা আছে তা-ই থাকবে। ১৯৪৭ সালের পর হিন্দু বিবাহ আইনের আর সংস্কার হয়নি। একেবারেই প্রাচীন আইন অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে। এ জন্য কোর্টে যাওয়া। আইনের আওতায় আসার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা কোন সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রস্তাবিত আইন ১৯৫৫ সালের ভারতের বিবাহ আইনকে সামনে রেখেই করা হয়েছে। এতে কোন আচার-অনুষ্ঠানকেই বাদ দেয়া হয়নি। পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, হিন্দু বিবাহের নিয়ম-কানুন এবং ডিভোর্সের বিষয়গুলো খসড়ায় তুলে ধরা হয়েছে। কখন সিঁদুর পরিয়ে, কখনও মন্দিরে বিয়ে হচ্ছে। কোন ডকুমেন্ট থাকছে না। এতে বনিবনা না হলে ডিভোর্স একটা উপায়। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না থাকায় সে ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।
খসড়া আইন প্রণয়নে সমন্বয়ক ছিলেন ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’-এর অর্পিতা দাস। তিনি জানান, আশির দশকে সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে একটি কমিটি কিছু কাজ করলেও তা বেশি দূর এগোয়নি। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রিপ  ট্রাস্ট, বাঁচতে শেখা, নারীপক্ষসহ ৫০ সংগঠন নিয়ে গঠিত নাগরিক উদ্যোগ গত তিন বছর ধরে তিন হাজার ভুক্তভোগী নারীর জীবনকাহিনী নিয়ে প্রতিবেদন রচনা এবং ২০০ হিন্দু আইনজীবী ও স্থানীয় পর্যায়ের চার হাজার নারী-পুরুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তৈরি করে খসড়া হিন্দু বিবাহ আইন। খসড়া আইনটি অনুমোদনের জন্য ১২ই জানুয়ারি আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের কাছে জমা দিয়েছে নাগরিক উদ্যোগ।
বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী খসড়া আইন প্রসঙ্গে বলেন, বিবাহ নিবন্ধন নিয়ে কোন  দ্বিমত নেই। এছাড়াও নিবন্ধন আইনের ৭৬ এর-এ (বি) ধারায় এক শ’ টাকা কোর্ট ফি দিয়ে মুসলিমরা হেবা বা দান করতে পারে। সেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়। সবাই যেন সমান সুযোগ পাই এমন দাবি আমরা করে আসছি অনেকদিন থেকেই। হিন্দু বিবাহ আইন করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় দিক থেকে নানা বাধা আছে। আদিকাল থেকে একেক অঞ্চলে একেক রকম রীতি চলে আসছে এবং একটা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই ভিত্তিগুলো খুব মজবুত। একে একটি আইনি কাঠামোতে আনার পরিস্থিতি এখনও বাংলাদেশে নেই।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, খসড়াটি তিনি হাতে পেয়েছেন। প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে কিছু কিছু ভিন্নমতও রয়েছে। হিন্দু নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ৩১শে জানুয়ারি একটি বৈঠক আছে। বিবাহ নিবন্ধন আইনের উদ্যোগ নেয়া হবে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মতো কিছুই করবে না সরকার-  যোগ করেন আইনমন্ত্রী।
খসড়া হিন্দু বিবাহ আইনের
যা আছে-
৫০ সংগঠন নিয়ে গঠিত নাগরিক উদ্যোগের প্রস্তাবিত হিন্দু বিবাহ আইনের খসড়ায় হিন্দু বিবাহের শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাহের সময় বর ও কনে মানসিকভাবে আইনসঙ্গত সম্মতি প্রদানে সক্ষম হইবেন এবং তাহাদের পূর্ণ সম্মতি থাকিতে হইবে; বিবাহে কনের বয়স অন্যূন ১৮ বছর ও বরের বয়স অন্যূন ২১ বছর হইতে হইবে। কনে ও বর ‘সপিণ্ড আত্মীয় বা নিষিদ্ধ সম্পর্কের আত্মীয়’ হইতে পারিবে না; বিবাহটি অবশ্যই এই আইন অনুসারে নিবন্ধন করিতে হইবে। বিবাহে ধর্মীয় প্রথা, নিয়মাদি ও সামাজিক উৎসবাদি পালন করা যাইবে।
বিবাহ নিবন্ধন অংশে বলা হয়েছে, সরকার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রত্যেক উপজেলায় একজন হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ প্রদান করিবেন। বিবাহ রেজিস্ট্রার বর পক্ষ অথবা কনে পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বর পক্ষের দুইজন সাক্ষী ও কনে পক্ষের দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে এবং বর ও কনের সাক্ষ্য গ্রহণপূর্বক বিবাহ নিবন্ধন করিবেন। বিবাহ রেজিস্ট্রার বর পক্ষের অথবা কনে পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত ফরমে বিবাহের সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।
বিবাহ সম্পন্ন হইবার দিন হইতে ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই বিবাহ নিবন্ধন করিতে হইবে। কোন অনিবার্য কারণে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে বিবাহ নিবন্ধন না করিতে পারিলে ৩০০ টাকা বিলম্ব ফি  সহ পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে বিবাহ নিবন্ধন করা যাইবে। বিবাহ নিবন্ধনের দায়িত্ব উভয় পক্ষের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন পক্ষ বিবাহ নিবন্ধন করিতে অনীহা প্রকাশ করিলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন অথবা তজ্জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ৩ মাসের কারাদণ্ড অথবা ২০০০ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে  দণ্ডিত হইবেন। বর পক্ষ ও কনে পক্ষ কোনরূপ ধর্মীয় নিয়মাদি ও সামাজিক উৎসবাদি পালন ব্যতীত সরাসরি বিবাহ রেজিস্ট্রারের অফিসে বিবাহ নিবন্ধন করিতে পারিবেন; হিন্দু বিবাহ আইন-২০১১ পাস হইবার পূর্বে সম্পাদিত সকল বিবাহও পক্ষদ্বয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আইন পাস হইবার পর যে কোন সময় নিবন্ধন করা যাইবে।
বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে বলা হয়েছে, স্বামী অথবা স্ত্রী একজন অন্যজনের উপর শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতন করলে; যে কোন একজন যদি হিন্দু ধর্ম পরিত্যাগ করিয়া অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে; কোন একজন যদি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকেন এবং চিকিৎসা করানোর পরও যদি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে; কোন একজন যদি সংক্রামক কোন ব্যাধিতে আক্রান্ত হইয়া থাকেন যা চিকিৎসা দ্বারা ভাল হওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ অথবা ভাল হওয়ার সম্ভাবনা নাই বলিয়া চিকিৎসক সনদ প্রদান করেন; স্বামী স্ত্রীকে যদি একাধিক্রমে দুই বছর ধরে  ভরণপোষণ প্রদান না করিয়া থাকেন; অত্র আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে পৃথকভাবে সমস্যাকালে স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রদান না করিয়া থাকেন; অত্র আইনের ১১ ধারার প্রযোজ্য বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত স্বামী যদি স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করিয়া থাকেন; স্বামী অথবা স্ত্রী যদি দুই বছর ধরে  নিরুদ্দেশ থাকেন; স্বামী অথবা স্ত্রী যে কোন একজন কোন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে সাত বছর দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে; স্বামী অথবা স্ত্রী যদি একজন অন্যজনকে অপরাধমূলক কাজ করিতে বাধ্য করিয়া থাকেন; স্বামী বিবাহের সময় পুরুষত্বহীন থাকিলে এবং তাহা আবেদন দাখিল করা পর্যন্ত বহাল থাকিলে আদালতে আবেদন করলে উভয়পক্ষের মতামতের ওপর ভিত্তি করিয়া বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদান করিবেন। এক্ষেত্রে শর্ত থাকে, স্ত্রী গর্ভবতী থাকিলে সন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হইবে না।
বহু বিবাহের ক্ষেত্রে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, একজন হিন্দু নারী ও একজন হিন্দু পুরুষের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি কোন হিন্দু পুরুষ এক বা একাধিকবার অন্য কোন নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করিয়া থাকেন তাহা হইলে সেই ব্যক্তি সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন অথবা অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হইবেন। এবং দণ্ডিত হইবার পর দণ্ডিত পুরুষের স্ত্রীর বিবাহে কোন বাধা থাকিবে না।

ছাত্রলীগ নেতা সাজু হত্যার নেপথ্যে

সিরাজুল ইসলাম: ছাত্রলীগ নেতা সাজেদুর রহমান সাজু হত্যাকাণ্ডে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান খোকন এবং স্থানীয় গডফাদার কাইল্যা আমিরসহ ৫টি গ্রুপ জড়িত। ৬ মাস আগে যারা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ উল্লাহকে হত্যা করেছে তারই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সাজুর পিতা স্থানীয় বিচার কমিটির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সাঈদসহ পরবারের অন্য সদস্যরা এমনটাই অভিযোগ করেছেন। সরেজমিন সাজুর পূর্ব  পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
জুরাইনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত লোকের ভিড়। পুত্রশোকে কাতর পিতা সাঈদ। নির্বাক স্ত্রী মনি। ৩ বছরের কন্যাশিশু জেরিনের করুণ আর্তি- বাবা কোথায়। সাজুর পিতা জানান, আওয়ামী লীগ ৮৯ নম্বর ওয়ার্ডের কারাবন্দি সাধারণ সম্পাদক রায়হান খোকনের ভাড়াটে কিলার কাইল্যা আমীর, অনিক, তানভীর এবং ইকবালসহ ৭-৮ জন মিলে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। মাস ছয়েক আগে মেয়ের বিয়ে দাওয়াত দিতে যাওয়ার সময় এরাই নিজ গাড়িতে মোহাম্মদ উল্লাহ ও তার গাড়িচালক নূরুল ইসলামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। ওই গাড়িতে সাজুরও থাকার কথা ছিল। অন্য একটি জরুরি কাজের কারণে সাজু ওইদিন মোহাম্মদ উল্লাহর সঙ্গে যেতে পারেননি। এ কারণে ভাগ্যগুণে ওইদিন বেঁচে যায় সাজু। তিনি জানান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী নূর হোসেন, মোহাম্মদ উল্লাহ এবং রায়হান খোকন- এ তিনজনই সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। আমি এবং আমার ছেলে মোহাম্মদ ওল্লাহর পক্ষে ছিলাম। সাজু খুবই জনপ্রিয় ছিল। সাজু ডাক দিলে অনেক লোক সাড়া দেয়। তার মিছিলে হাজার হাজার লোক দেখে ক্ষুব্ধ হয় রায়হান খোকন। একদিন সাজুকে রায়হান খোকন তার গ্রুপে যোগ দিতে বলে। রাজি হয়নি সাজু। এর কয়েক দিন পরই খোকন জোড়া খুনের ঘটনা ঘটায়। মোহাম্মদ উল্লাহ নিহত হওয়ার পর আমরা যোগ দিই নূর হোসেনের গ্রুপে। এতে রায়হান আরও ক্ষুব্ধ হয়। এরই মধ্যে ৩ বার সাজুকে হত্যার চেষ্টা চালায়। আমাদের কাছে আগেই খবর চলে আসায় তারা সফল হতে পারেনি। মোহাম্মদ উল্লাহকে হত্যার এক সপ্তাহ আগে খোরশেদ আলী লেনের শেষ মাথায় তারা অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সাজুকে হত্যা করতে। ২ জন মহিলা এসে আমাকে বিষয়টি জানায়। আমি সাজুকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। স্থানীয় এমপিও বিষয়টি জানেন। এরপরও ওইদিন সাজুর ওপর হামলা করা হয়। সতর্ক থাকার কারণে সাজু গুলিবিদ্ধ হয়নি। আহত হয় ২ জন পথচারি। দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পায় সাজু। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রায়হান খোকনের কর্মী লিটনকে ধরে ফেলে। থানার ওসি আইয়ুবুর রহমানকে ম্যানেজ করে রায়হান খোকন তার গ্রেপ্তারকৃত কর্মীকে ছাড়িয়ে আনে। পরে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করতে মোহাম্মদ উল্লাহকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি মেয়ের বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তখন সমঝোতা হয়নি। পরেতো মোহাম্মদ উল্লাহকেই মেরে ফেলা হলো। মোহাম্মদ উল্লাহকে হত্যার পর রায়হান খোকনের কর্মী শরীফকে পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওই পিস্তলটি সাজুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই কেনা হয় বলে শরিফ স্বীকারোক্তি দেয়। একই মামলায় রায়হান খোকন কারাগারে থাকলেও শরীফ এখন জামিনে রয়েছে।
ঘটনাস্থল হাজী খোরশেদ আলী লেনের চটতলা মাঠ। স্থানটি মাঠ নামে পরিচিত হলেও প্রকৃত অর্থে এটাকে মাঠ বলা যায় না। দেড় কাঠা আয়তনের জায়গা। চারপাশে ভবন। লেনের একপাশ দিয়ে ৫০-৬০ ফুটের একটি গলি দিয়ে সেখানে ঢুকতে হয়। এজন্য পার হতে হয় দু’টি গেট। গতকাল বেলা ১২টার দিকে লেনে ঢুকতেই দেখা যায় মানুষের ভিড়। দেখা যায় মাঠের চারদিকে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। রক্ত লেগে আছে গলির দেয়ালেও। রক্ত দেখা যায় মাঠে থাকা কাঁঠাল গাছেও। মাঠে রয়েছে ২-৩টি বেঞ্চ। বেঞ্চে রয়েছে রক্তমাখা তলোয়ার। সাজু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল ওই তলোয়ারটিও। মাঠের এক কোণে রয়েছে একটি চৌকি। সেখানে বসে সব সময় আড্ডা দেয় স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। মাঠে দাঁড়িয়ে সাজুর ভাগ্নি জামাই সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৮-১০ দিন ধরে এ চাটতলা মাঠে সন্ধ্যার দিকে রেকেট খেলতে আসেন সাজেদুর রহমান সাজু। খেলার সময় গেটটি ভেতর থেকে বন্ধ রাখা হয়। গতকাল তার সঙ্গে রেকেট খেলছিল র‌্যাব-১০ এর ২ জন সদস্য। তারা চলে যাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর একজন লোক মাঠে প্রবেশ করে। তাকে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। আমিসহ কয়েক জন বসে খেলা দেখছিলাম। আমি রাজিব নামে একজনকে বলি গেটটি বন্ধ করে দিতে। রাজির গেটের কাছে যেতেই ৪-৫ জন লোক গেটে সজোরে লাথি দেয়। রাজিব ছিটকে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ৭-৮ জন মাঠে ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে ছিল চাপাতি, তলোয়ার, ককটেল, রাম দা এবং রিভলবার। রিভলবার ছিল ৪টি। রাম দা ৩টি। ঢুকেই তারা ককটেল বিস্ফোরণ শুরু করে। যারা খেলা দেখছিল তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এরপর সন্ত্রাসীরা সাজুকে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে। সাজু তাদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চায়। পুরো মাঠে ছটফট করে দৌড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে বাইরে যেতে গলিতে ঢুকে পড়ে সাজু। সেখানেও সশস্ত্র অবস্থায় ২০-২৫ জন ছিল। তারা সাজুকে দেখেই গুলি করে। সাজু আবারও মাঠে ঢুকে। পালানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সাজু মাঠের কাঁঠাল গাছে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। সেখানে তাকে ৬ রাউন্ড গুলি করা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেয়া হয় ২০-২৫টি।
সাজুর ভাই সান্টু অভিযোগ করেন- বিষয়টি নিয়ে পুলিশের গাফিলতি রয়েছে। অন্য দিন ২-১ ঘণ্টা পর পর পুলিশ এ এলাকায় টহল দিত। ঘটনার দিন টহল পুলিশ ছিল না। ঘটনার অনেক পর পুলিশ এসে কোন আলামত জব্দ না করেই চলে যান। ঘটনা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার হলেও ডিবি পুলিশ আসে রাত সাড়ে ১১টায়। ডিবি পুলিশ এসে ছুরি এবং ককটেলের খোসা উদ্ধার করে। আজ দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে তলোয়ার পড়েছিল। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে সেটা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়। সাজুর মা সুমী জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়েছে সাজু। খুনিদের সবাই চেনে। তারা একই মহল্লার। এখনই নাম বলব না। মামলায় সবার নাম উল্লেখ করব। এদিকে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি।  
এ বিষয়ে এমপি সানজিদা খনম জানান, সাজু আমার অধীনেই রাজনীতি করতো। ঘটনার পর হাসপাতালে ছুটে গিয়েছি। আমি বুঝতে পারছি না কেন এ ঘটনা ঘটলো। তবে বিষয়টি নিয়ে রায়হান খোকন, কাইল্যা আমীর এবং অনিকদের সন্দেহ করা হচ্ছে। মামলা এবং তদন্তের পর আসল ঘটনা বুঝা যাবে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর হোসেন জানান, বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর এবং সেনসেটিভ। সুষ্ঠু তদন্তের পরই কিছু বলতে পারব।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার গাজী মোজাম্মেল হক বিষয়টিকে রাজনৈতিক ক্লেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সাজু পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার নামে ৭-৮টি মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, কাইল্যা আমীর একজন গডফাদার। তিনি পলাতক। তাকেসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, সপ্তাহ খানেক আগে কাইল্যা আমীরের এক ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবি-দাবি না মানলে আমরণ অনশন করবেন নার্সরা

ড়াই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও নার্স নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়নের দাবিতে এবার আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন।

ইরানের প্রতি ওবামার হুঁশিয়ারি

ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্রে সমৃদ্ধ হতে না পারে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে ওবামা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বক্তৃতা দেয়ার একপর্যায়ে একথা বলেন। এ লক্ষ্য অর্জনে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বেশ কয়েক সপ্তাহ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সম্পর্কে যে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে, তা অবসান করা সম্ভব বলেও মনে করেন ওবামা। তিনি বলেন, এ সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান এখনও সম্ভব। তবে এজন্য ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে ও তাদের পথ পরিবর্তন করার ইঙ্গিত দেন ওবামা। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ইরানকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। প্রেসিডেন্ট ওবামা আরও বলেন, ইরান অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে এক কাতারে এখনও দাঁড়াতে পারে। মার্কিন জনগণের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটায়, যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ ও স্বার্থে হুমকি সৃষ্টি করে, এমন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে তার প্রশাসন। তিনি বলেন, ইরানের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমাদের গণতান্ত্রিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে যে বিশ্ব একদা বিভক্ত ছিল, তারা আজ এক হয়েছে। ওবামা বলেন, ইরানে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি একঘরে হয়ে পড়েছে। দেশটির নেতারা নানা ধরনের অবরোধের মুখে দাঁড়িয়ে ও যতদিন তারা তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলবে, ততদিন তাদের ওপর থেকে চাপ শিথিল করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের সন্দেহভাজন ১৫৮ সদস্য গ্রেপ্তার

নাইজেরিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় কানো শহর থেকে কট্টরপন্থি জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের ১৫৮ জন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল এক সাঁড়াশি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে গত শুক্রবার কানো শহরে পরিচালিত এক সহিংস হামলায় কমপক্ষে ১৮৫ জন নিহত হন। সে হামলার দায় স্বীকার করে বোকো হারাম। কট্টর ইসলামপন্থি এ সংগঠনটির দাবি, তারা নাইজেরিয়ার বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে সেখানে ইসলামী শরীয়াভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। এদিকে গতকালও কানোর একটি থানা এবং পুলিশের বাসভবনকে লক্ষ্য করে একটি হামলা চালায় অজ্ঞাত হামলাকারীরা। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে অনলাইন বিবিসি জানিয়েছে, প্রায় ২৫ মিনিটের বন্দুকযুদ্ধের পর হামলাকারীরা সেখান থেকে সরে যায়। এ ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তজার্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি’র এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বোকো হারামের হামলায় গত বছর নাইজেরিয়ায় প্রায় ১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠনটি নাইজেরীয় সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে। এতে বলা হয়, নাইজেরিয়ার সরকার এ ধরনের সহিংস কার্যক্রম রুখতে, তদন্ত ও বিচার করতে এবং শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

২৩শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিরিয়ায় থাকবে আরব লীগের পর্যবেক্ষক দল

আরব লীগের পর্যবেক্ষক দলের সময়সীমা বাড়ানোর ইস্যুতে সম্মত হয়েছে সিরিয়া। নতুন করে বর্ধিত এ সময়সীমার আওতায় আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিরিয়ায় তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে পারবেন আরব লীগের পর্যবেক্ষক দলের কর্মকর্তারা। সানা থেকে প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানা গেছে, আরব লীগের মহাসচিবকে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লেম সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সিরিয়ায় তাদের পর্যবেক্ষক দলকে পাঠিয়েছিল আরব লীগ। সিরিয়ায় রক্তপাত থামাতে পাঠানো হয়েছিল তাদেরকে। এদিকে সরকারবিরোধী কর্মীদের একটি দল জানিয়েছে, গতকালও সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ৬০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে, সিরিয়ায় ১০ মাসের অভ্যুত্থানে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ওদিকে সিরীয় সরকারের দাবি করেছে, এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ২ হাজার সদস্য নিহত হয়েছেন।

পাপুয়া নিউগিনিতে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত ৪০, নিখোঁজ ২০

স্মরণকালের ভয়াবহ এক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে পাপুয়া নিউগিনিতে। এ পর্যন্ত ৪০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভোরে সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখনই দুটি গ্রামে এ ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় আঘাত হানে। এ ঘটনায় ৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ২০ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। বহু মানুষ মাটিরতলায় চাপা পড়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই শিশু। উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ ভূমিধসে ১ কিলোমিটারের বেশি বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছোটখাটো বহু বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার সেন্টারের পরিচালক মার্টিন মোসি বলেন, মেনডি শহরের কাছে এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা এখন পর্যন্ত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প এঙন মবিল প্রতিষ্ঠানের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিটির এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সব সদস্যই এ ঘটনার জন্য দায়ী। এঙন মবিল প্রতিষ্ঠানটি ওই অঞ্চলে তাদের প্রকল্পের সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। হেলিকপ্টারে করে আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনে গেছেন কর্মকর্তারা। পাপুয়া নিউগিনির প্রধানমন্ত্রী পিটার ও’ নেইল এ ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

বইমেলার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত বাংলা একাডেমী by মাসুম আলী

কুয়াশাঢাকা ভোরে কাজ শুরু, চলছে বেশ রাত পর্যন্ত। বাংলা একাডেমী চত্বরে এখন নির্মাণকর্মীদের দারুণ ব্যস্ততা। আর মাত্র ছয় দিন পর ভাষাশহীদদের স্মরণে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে একাডেমী প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেল, বইপ্রেমী মানুষ আর লেখকদের প্রিয় এ মেলার প্রস্তুতিযজ্ঞ।

অমল বোসের শেষকৃত্য আজ

স্টাফ রিপোর্টার: জনপ্রিয় অভিনেতা অমল বোসের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান আজ। সকাল ৬টায় এ্যাপোলো হাসপাতালের হিমাগার থেকে মরদেহ বের করে সকাল ৮টায় নিয়ে যাওয়া হবে রামকৃষ্ণ মিশনে। সেখান থেকে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। দুপুর ১২টায় অমল বোসের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থায় (এফডিসি)। সেখান থেকে ফরিদপুরের বোয়ালমারির নিজ জন্মস্থানে। সেখানেই হবে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান। চলচ্চিত্র, বেতার, মঞ্চ ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা অমল বোস গত ২৩শে জানুয়ারি সকাল ১১টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে পরলোকগমন করেন। তার স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা কলকাতায় অবস্থান করায় অমল বোসের মরদেহ এ্যাপোলো হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। গতকাল অমল বোসের স্ত্রী ও কন্যা দেশে ফিরে আসেন।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল-হিযবুত তাহরির কোন দল সেটাই জানি না

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক রয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হিযবুত তাহরির কোন দল, সেটাই তো জানি না। এর সঙ্গে বিএনপিকে জড়ানোর কোনো কারণ নেই।’

দাম্ভিক নারী মেহজাবীন

স্টাফ রিপোর্টার: ভালবাসা দিবসের বিশেষ নাটক ‘যে পথে ভালোবাসা’তে দাম্ভিক নারীর চরিত্রে অভিনয় করবেন লাক্স সুপারস্টার খ্যাত অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তবে মানুষের রূপ নয় , তার গুণেই যে মূল পরিচয় এটি নাটকটির কাহিনীতে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ এ নাটকটি রচনা করেছেন রাশেদ শাওন  এবং পরিচালনা করছেন নাসিম সাহনিক। এতে আরও অভিনয় করবেন অনি, কল্যাণ, মম, নিলয়, রাখি প্রমুখ। এ প্রসঙ্গে নাট্যকার নাসিম জানিয়েছেন, মেহজাবীন এ নাটকটিতে সাদিয়া নামের দাম্ভিক একজন নারীর চরিত্রে অভিনয় করবেন। যে কিনা রূপের বড়াই করে এবং হবু বরকে পাশে রেখে ফেসবুকে নতুন আরেকটি ছেলেকে পটানোর চেষ্টা করে শেষমেশ নিজের ভুল বুঝতে পারে সে। মেহজাবীন জানিয়েছেন, নাটকটির গল্প খুবই চমৎকার। আশা করছি ভালবাসা দিবসের নাটক হিসেবে দর্শকরা এটি উপভোগ করবেন। আগামী ৩ ও ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ধানমন্ডিতে নাটকটির দৃশ্য ধারণ করা হবে। নাটকটি ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচার হবে।


সাবেক বয়ফ্রেন্ডকে ফিরে চান রিহানা!

খবর চাউর হয়েছে সাবেক বয়ফ্রেন্ড ক্রিস ব্রাউনকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন রিদম অ্যান্ড ব্লুজ গায়িকা রিহানা। সমপ্রতি টুইটারে ক্রিসের সঙ্গে শুধু যোগাযোগের চেষ্টা করেই ক্ষান্ত হননি রিহানা। তার সঙ্গে তিনি নাকি দেখাও করেছেন। তিনি ক্রিসকে অনেকবার ফোন করেছেন এবং মোবাইলে অসংখ্য এসএমএসও পাঠিয়েছেন। ক্রিস এবং তার বর্তমান গার্লফ্রেন্ড কারুশে ভালই আছেন। কিন্তু রিহানা তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরির খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও খবর বেরিয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্রিসের সঙ্গে ট্রানের সম্পর্ক ভাঙার জন্য সব রকম চেষ্টাও নাকি চালিয়ে যাচ্ছেন রিহানা। ২০০৯ সালে রিহানাকে মারাত্মকভাবে আঘাত করার পর থেকে ক্রিসের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় তার। একপর্যায়ে সম্পর্ক ভেঙে যায় তাদের। কিন্তু ২০১০ সাল থেকেই ক্রিসের প্রতি আবার আগ্রহী হয়ে ওঠেন রিহানা।

এখন নতুন কোন প্রজেক্ট নয়

এখন নতুন কোন প্রজেক্টে হাতে নিতে চান না বলে জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কাজল। তবে নিকট ভবিষ্যতে ভাল কোন ছবির কাজ হাতে পেলে অভিনয় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, আমি এমনই পরিকল্পনা করছি। তবে তার জন্য সঠিক সময় ও সঠিক প্রস্তাব আসতে হবে। তার আগে নয়। কাজল জানিয়েছেন, এখন ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনেক সুখে আছেন এবং তাদের সঙ্গে গল্প না করে এক মুহূর্তও থাকতে পারেন না। এ প্রসঙ্গে কাজল বলেন, আমার অসাধারণ দুটি বাচ্চা আছে। তাদের উপস্থিতি আমি খুব উপভোগ করছি। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতে পারায় অনেক সুখে আছি। আমার জীবনে এখন চমৎকার সময় যাচ্ছে। ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবির জন্য ২০১০ সালের সেরা অভিনেত্রী ক্যাটিগরিতে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন কাজল। এরপর ‘টুনপুর কা সুপারহিরো’ ছবিতে সর্বশেষ দেখা গেছে এক সময়ের পর্দাকাঁপানো এ অভিনেত্রীকে।


ফুলক্রিম মিল্ক পাউডারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

ফুলক্রিম মিল্ক পাউডারের ‘ফ্রেশ মিল্ক খেলে ভাগ্য যাবে খুলে’ কনজ্যুমার প্রমোশন প্রোগ্রামের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এফএমসিজি কার্যালয়, ফ্রেশ কটেজ, গরীবে নেওয়াজ এভিনিউ, সেক্টর-১৩ উত্তরা, ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম পর্বের বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বিজয়ীদের মোবাইল নম্বর বেছে নেন বিভিন্ন দৈনিকের সাংবাদিকেরা।

পারবেন ইমরান খান!

মানবজমিন ডেস্ক: সরকার, সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের ত্রিমুখী সংঘাতে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোদ পাকিস্তানিদের মধ্যেই নানারকম জল্পনা-কল্পনা। পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর কারণে দেশটির জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি বেসামরিক শাসন বা গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারেনি। একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সব সময়ই সেনাবাহিনীর বুটের তলায় পিষ্ট হয়েছে। অতীতে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটালে বিচার বিভাগ তার বৈধতা দেয়ার কাজটিই করেছে। কিন্তু এবারে সবকিছুই যেন বিচার বিভাগের নেতৃত্বে হচ্ছে। মেমোগেট কেলেঙ্কারি দিয়ে শুরু হয়ে বর্তমান সঙ্কট যখন গোটা দেশকে অস্থির ও বিপর্যস্ত করে তুলেছে ঠিক তখন দেশটির রাজনৈতিক আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অনেক কথাই বলতে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার টিকে থাকতে পারবে কি না আর না পারলে পাকিস্তানের ক্ষমতায় কে বা কারা বসবেন- এসব বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও সাবেক ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ (এন) এর দুর্নীতি ও দেশপ্রেমহীনতার কারণে অনেকেই তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। ফলে ঘুরেফিরে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট কিংবদন্তি ও হালের সাড়া জাগানো জনপ্রিয় রাজনীতিক ইমরান খানের নামটিই সামনে চলে আসছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার সখ্য সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছে। এই অবস্থায় ইমরান খান কি সত্যিই পাকিস্তানে আগামী দিনে ক্ষমতায় আসছেন? তিনি কি পাকিস্তানের সব সঙ্কট মোকাবিলা করে দেশকে সমানে এগিয়ে নিতে পারবেন? প্রশ্নগুলো সমপ্রতি ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। এসব প্রশ্নের সুরাহা করতেই সে দেশের প্রভাবশালী দৈনিক ডন সোমবার এক নিবন্ধে এসব কথা বলেছে। ইথান কেস-এর লেখা ওই নিবন্ধে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ পল্লী ও শহুরে গরিব জনসাধারণের স্বার্থ ও প্রত্যাশা পূরণ না করায় তারা পশ্চিমা ধরন ও পশ্চিমা ঘেষা ধর্মনিরপেক্ষ উদারতাবাদকে সমর্থন করে না। ফলে সেখানে এসব মতবাদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আর এই জায়গাতেই ইমরান খানের সমস্যা। তিনি পাকিস্তানি জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান করছেন। কারণ, তিনি পশ্চিমা মতবাদে বিশ্বাস করেন। সমপ্রতি তার সমর্থন বাড়লেও তা কেবল শহুরে এলিট শ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে ওই নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ডন প্রকাশিত নিবন্ধটিতে ওয়াশিংটনের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকবর আহমদের আল জাজিরা ডট কমে প্রকাশিত একটি লেখার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে হতাশা ও ইমরানের নেতৃত্বে তা থেকে মুক্তির বিষয় দু’টি একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর এটাও পরিষ্কার যে, হতাশা যতই বাড়ছে, একজন ত্রাণকর্তার প্রত্যাশাও ততই বাড়ছে। আকবর আহমদ তার লেখায় সতর্ক করে দিয়েছেন, অনেক নেতাই অতীতে যারা বিভিন্ন দলে কাজ করেছেন তারা এখন ইমরানের দলে ভিড় করছেন। এটা সমূহ বিপদের আলামত। এই অবস্থায় ইমরান খানের পক্ষে সততার প্রমাণ রাখা খুবই কঠিন হবে। ইমরান খান সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের এমন নেতিবাচক বক্তব্য তুলে ধরার পর নিবন্ধটিতে ইমরান খানের সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। আর এসব গুণাবলি দিয়ে ইমরান খান বর্তমানে পাকিস্তানের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্টে চলে এসেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে তিনি ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামনে এগিয়েও যেতে পারবেন। পেতে পারেন জনগণের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। ইমরানের সামপ্রতিক সময়ের লাহোর ও করাচির জনসভায় বিপুল পরিমাণে লোক সমাগমের ঘটনা তুলে ধরে নিবন্ধটিতে একে পাকিস্তানিদের নতুন কোন পরিবর্তনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নিদর্শন বলে উল্লেখ করেছে। এই পরিবর্তন তাদের কল্যাণ করবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও সে দেশে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বিদেশ তোষণনীতির কারণে পাকিস্তানি সমাজে যে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে, তা এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরিণতি পাওয়াটা ও খুব অস্বাভাবিক নয় বলে নিবন্ধকার মতো দিয়েছেন। আর ইমরান খান সেই প্রাকৃতিক ক্ষোভটা কাজে লাগিয়ে মানুষকে পরিবর্তনের দিকে ডাকছেন। বিশেষ করে তিনি যখন পাকিস্তানিদের নিজেদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের কথা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই দেশকে স্বনির্ভর করার কথা বলেন, তখন মানুষ নতুন করে আশার আলো দেখতে পায়। ফলে অদূর ভবিষ্যতে তেহরিকে ইনসাফ পার্টির নেতা ইমরান খান পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় চলে এলে অবাক করার কিছুই থাকবে না বলেও নিবন্ধে মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রমাণ দিলেন রাহুল ঠাণ্ডা মাথার রাজনীতিক



মানবজমিন ডেস্ক: ঠাণ্ডা মাথার রাজনীতিক হিসেবে সুনাম এমনিতেই রয়েছে তার। তার ওপর আরেকবার প্রমাণ দিলেন মাথা গরম করলে রাজনীতিতে টেকা কঠিন। তাইতো তাকে যে ব্যক্তি জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন তাকে আরও জুতা ছোড়ার সুযোগ দিতে বললেন ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও দলটির সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর পুত্র রাহুল গান্ধী। তাকে জুতা ছুড়ে মেরেছিল কুলদীপ সিং নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার উত্তরখণ্ডে একটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে গেলে রাহুলকে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মেরেছিল কুলদীপ সিং (৩৫)। তারপরই কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, ওই লোকটিকে ছেড়ে দিন। ওকে আমার দিকে আরও জুতা ছুঁড়তে দিন। রাহুলকে হিন্দিতে বলতে শোনা গেছে- ফেঁকো, ফেঁকো অর ফেঁকো। কর্তব্যরত পুলিশরা কুলদীপকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে গাড়িতে তুললেও রাহুল তাকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। এর আগে একবারও জানতে চাননি কেন তাকে জুতা ছুড়ে মারা হলো। এদিকে জুতা ছোড়ার পরই নিরাপত্তা কর্মকর্তা কুলদীপকে জাপটে ধরলেন। কিন্তু রাহুলের অনুরোধ, তাকে মারবেন না। কুলদীপ মঞ্চে থাকা রাহুলকে লক্ষ্য করলে জুতা ছুড়লেও সেটি রাহুলের অবস্থান থেকে ১০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশের ডিআইজি সঞ্জয় বলেন, কুলদীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিজেকে ভারতের যোগগুরু বাবা রামদেবের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে কুলদীপ। রামদেবের একটি আয়ুর্বেদিকের দোকানে বিক্রেতার কাজ করে সে। পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে সে বলেছে, অবৈধ কালো টাকার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বাবা রামদেবের উদ্দেশ্যে জুতা ছুড়ে মারার প্রতিশোধ নিতেই এ কাজ করেছে সে। ওদিকে তার এ শান্ত প্রতিক্রিয়ায় রাজনীতিকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন রাহুল।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

রিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবীনবরণ উপলক্ষে নগরের অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে সকালে প্রথম ব্যাচের ৪০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের হয়।

আরব লীগের সিরিয়া মিশন থেকে বেরিয়ে গেল জিসিসি

মানবজমিন ডেস্ক: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জিসিসি’র সদস্য দেশসমূহ সিরিয়ায় আরব লীগের পর্যবেক্ষক মিশন থেকে তাদের প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সিরিয়ার উপর নতুন করে চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে তারা বিষয়টি জাতিসংঘে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে তার সহকারীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে আরব লীগের দেয়া প্রস্তাব সিরিয়ার প্রত্যাখ্যান করার পর ছয় সদস্যের জিসিসি এই ঘোষণা দিয়েছে। সিরিয়াকে আরব লীগের দেয়া প্রস্তাব মানতে বাধ্য করতে জিসিসি’র  সদস্য দেশসমূহ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সিরিয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। তার আগে কুয়েতের প্রভাবশালী পত্রিকা আল-কাবাস সংস্থাটি তার প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের মিথ্যা সাক্ষী হোক তা আর চায় না বলে খবর পরিবেশন করেছে। দামেস্ক শান্তি উদ্যোগে তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে অভিযোগ করে জিসিসি’র সবচেয়ে বড় দেশ সৌদি আরব  রোববার আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর তাদের সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর অন্য সদস্য দেশ বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর সিরিয়া থেকে তাদের পর্যবেক্ষকদের প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা সিরিয়া সঙ্কট সমাধানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জিসিসি সদস্য দেশসমূহের এই ঘোষণাকে তারা সিরিয়ার ব্যাপারে আরব লীগে যে দ্বিধা-বিভক্তি রয়েছে তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। এছাড়া, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম আল থানি ও আরব লীগের মহাসচিব নবী আল আরাবি মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে এক বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদকে সিরিয়ায় ফিরে আসতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছেন।  উল্লেখ্য, আগে একবার  নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইলে এর স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়ার ভেটোর কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

বান্দরবনে জুয়েল-পড়শি

স্টাফ রিপোর্টার: ইতিমধ্যে নিজের দ্বিতীয় একক অ্যালবামের কাজ শেষ করে ফেলেছেন সময়ের আলোচিত নারী কণ্ঠ পড়শী। অ্যালবামের নাম রেখেছেন ‘পড়শী-২’। অ্যালবামটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ হতে যাচ্ছে জি-সিরিজের ব্যানারে। আর এই  অ্যালবামের তিনটি গানের সুর-সংগীতায়োজন করেছেন এ সময়ের ব্যস্ততম গায়ক-সংগীত পরিচালক জুয়েল মোর্শেদ জ্যু। অ্যালবামে নিজের কথা-সুর-সংগীতায়োজনে ‘শুধু তোরে’ নামক একটি রোমান্টিক দ্বৈত গানে পড়শীর সঙ্গে কণ্ঠও দিয়েছেন জুয়েল। ইতিমধ্যে গানটি এফএম রেডিওতে বেজে বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এবার এই গানটির একটি ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও নির্মিত হলো। সমপ্রতি বান্দরবনের বিভিন্ন স্থানে এই মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন জুয়েল ও পড়শী। মিউজিক ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন রম্য খান। এটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যয়বহুল একটি মিউজিক ভিডিও হিসেবেই কিছুদিনের মধ্যে প্রচার শুরু হবে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। এ বিষয়ে জুয়েল বলেন, মিউজিক ভিডিওটি’র কনসেপ্ট অনেক ভাল ছিল। আর রম্য খান বরাবরের মতোই অনেক ভাল ও ডিফরেন্ট কাজ করেছেন। পড়শী ও আমার এই মিউজিক ভিডিওটি সবারই ভাল লাগবে বলে আশা করি। পড়শী বলেন, জুয়েল ভাইয়ের সঙ্গে বান্দরবনে মিউজিক ভিডিও করলাম ‘শুধু তোরে’ গানটির। অনেক মজা করে কাজ করেছি আমরা। সবশেষে অনেক ভাল একটি কাজ হয়েছে। আমার অ্যালবামের গানগুলো ছাড়াও সবার এই মিউজিক ভিডিওটিও ভাল লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।

কাটরিনা কাইফের মতো না করায়...

বিনোদন ডেস্ক: ‘অগ্নিপথ’র মিউজিক সফলতার মুখ দেখার পেছনে মূল কারণ হলো এতে কাটরিনা কাইফের দুর্দান্ত পারফরম করা ‘চিকনি চামেলি’ গানটি। আবার এই ‘চিকনি চামেলি’র কারণেই কোথাও কোথাও বয়ে যাচ্ছে রক্তবন্যা। রোববার ভারতের মুম্বইয়ের দহিসার এলাকার একটি বারে এ গানটিকে ঘিরেই ঘটেছে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। যাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দু’জনের অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। জানা গেছে, রোববার রাতে দহিসারের একটি বারে গুপ্তা নামের এক ব্যক্তির কারণে শুরু হয় এ সংঘর্ষ। যার সূত্রপাত ‘চিকনি চামেলি’ নিয়ে। গুপ্তা বারের গায়িকাকে অনেকবার কাটরিনা কাইফের মতো করে সেক্সি আবেদন নিয়ে ‘চিকনি চামেলি’ গানটি গাওয়ার অনুরোধ করেন। যখন গায়িকা ওই অনুরোধ মানতে অস্বীকৃতি জানায় তখনই ঘটে বিপত্তি। গুপ্তা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তাকে। এ নিয়ে বারে একদল লোকের সঙ্গে তার বাকবিত া শুরু হয়। এদিকে গুপ্তার পক্ষ নিয়েও কিছু মানুষ বাকবিত ায় লিপ্ত হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং গুপ্তা রিভলবার বের করে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। এতে আহত হয় দু’জন। এখনও তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া ওই সংঘর্ষে গুপ্তাসহ আরও কয়েকজন আহত হন। তাদেরও পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং
মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৮১৮৯১৬০-৬৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: news@emanabzamin.com
Copyright © 2016
All rights reserved www.mzamin.com

তিন বছর পূর্তিতে বসুধা ঢাক ঢোল সম্মাননা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার: এটিএন বাংলার জনপ্রিয় মিউজিক্যাল শো ‘বসুধা ঢাক ঢোল’ তিন বছরের মাইলস্টোন স্পর্শ করে চার বছরে পদার্পণ করেছে। এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে গত সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সম্মাননা অনুষ্ঠানের। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং বসুধা বিল্ডার্স লি.-এর ব্যবস্থাপনা  পরিচালক আবদুল জাব্বার খান। এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান বিভাগের উপদেষ্টা নওয়াজীশ আলী খানের সভাপতিত্তে এদিন সম্মাননা প্রদান করা হয় ১৯জন জনপ্রিয় শিল্পীকে। তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। এটিএন বাংলার জনপ্রিয় মিউজিক্যাল শো বসুধা ঢাক ঢোলের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ক্লাব। সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন, রফিকুল আলম, ইভা রহমান, সুলতানা চৌধুরী, পারভীন সুলতানা, কুদ্দুস বয়াতি, এসআই টুটুল, মনির খান, রবি চৌধুরী, রিজিয়া পারভীন, আঁখি আলমগীর, মৌটুসী, বিলু সিদ্দীকি, পথিক নবী, আরফিন রুমি, তপু, সিঁথি সাহা, সুমি শবনম, রাফাত এবং রোজ। বসুধা ঢাক ঢোল অনুষ্ঠানের পরিচালক শামীম আহমেদ এ সময় উপিস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান আরও নতুন শিল্পী তৈরির ব্যাপারে পুরনো শিল্পীদের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনও দেশে অনেক শিল্পী সঙ্কট রয়েছে। একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে শিল্পী পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়। পাওয়া গেলেও তারা অনেক পারিশ্রমিক হাকেন। এ সঙ্কট কাটাতে নতুন শিল্পী তৈরিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রথমবারের মতো ছবিতে শখ-নিলয়

স্টাফ রিপোর্টার: ইতিপূর্বে বাংলালিংক দেশ-এর একাধিক বিজ্ঞাপনে একসঙ্গে মডেল হয়েছেন অভিনেত্রী শখ ও সুপার হিরো প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নিলয়। একের পর এক বিজ্ঞাপনে একসঙ্গে মডেলিংয়ের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশের সবক’টি টিভি চ্যানেলে প্রচার চলছে দু’জনের মডেল হওয়া আইটপ করলেই টাকা দ্বিগুণ-এর বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটি ইতিমধ্যেই সবার নজরে পড়েছে। সেই সঙ্গে মিডিয়াপাড়ায় আলোচনা তৈরি হয়েছে নিলয়-শখের জুটি নিয়ে। নিলয় বলেন, আমি ও শখ বাংলালিংক দেশ-এর বিজ্ঞাপন দিয়েই প্রথম একসঙ্গে জুটি হই। এরপর আমাদের জুটি একের পর এক বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছি। প্রচারিত বিজ্ঞাপনগুলোতে এ জুটি দর্শক পছন্দ করায় একাধিক নির্মাতা আমাদের নিয়ে নাটকও নির্মাণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আমাদের নিয়ে ছবি নির্মাণে আগ্রহী হয়েছেন কয়েকজন পরিচালক। আশা করছি এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। নিলয়-শখকে জুটি করে সানিয়াত হোসেন নির্মাণ করছেন ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ নামে একটি ছবি। নিলয়, শখের সঙ্গে এ ছবিতে মিশা সওদাগর, কাবিলাসহ আরও অনেকেই অভিনয় করছেন বলে জানা যায়। শখ বলেন, ছবিতে অভিনয়ে আমি বেশ চুজি। কারণ, এই একটি মাধ্যমেই আজীবন বেঁচে থাকবো দর্শক মাঝে। তাই যেনতেন ছবিতে অভিনয়ে রাজি নই আমি। গল্পপ্রধান ছবিতেই অভিনয়ে ইচ্ছা আমার। আর বিপরীতে নায়ক নিশ্চয়ই শাকিব-নিলয়ের মতোই কেউ। আশা করছি শাকিব-শখ জুটির পর আমার আর নিলয় জুটি দর্শক বেশ ভালভাবে গ্রহণ করবে। বিজ্ঞাপন, নাটকের পর ছবিতে জুটি হয়ে নিলয়-শখ পর্দা কাঁপাতে চান। তবে মিডিয়ার অনেকেরই ইতিমধ্যে কানের পর্দা ভারি হয়ে গেছে এ জুটির ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা শুনতে শুনতে। প্রতিনিয়ত ফোনালাপ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিতি আর ফেসবুকে একাধিক যুগল স্থিরচিত্রই প্রমাণ করে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি। নিলয় বলেন, সম্পর্ক তো আমাদের মধ্যে অবশ্যই আছে। তবে তা বলার জন্য আরও একটু সময় চাই। শখ বলেন, নিলয়ের সঙ্গে একাধিক কাজের সূত্রে সুন্দর একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তা স্রেফ বন্ধুত্ব।

প্রিয়াঙ্কাকে অপমান করলেন গৌরি



বিনোদন ডেস্ক: প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে অপমান করলেন শাহরুখ পত্নী গৌরি খান। সমপ্রতি জি সিনে অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে ওঠে কোরিওগ্রাফার শামক ডাবরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন গৌরি। এ সময় তার কাছে ছুটে যান প্রিয়াঙ্কা। কুশল বিনিময়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রিয়াঙ্কাকে পাত্তাই দেননি গৌরি। এমন অপ্রত্যাশিতভাবে গৌরির কাছ থেকে পাত্তা না পেয়ে দারুণ অপমান বোধ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। এর প্রেক্ষিতে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সম্ভবত শাহরুখের অফিসে রাত ৩টা পর্যন্ত প্রিয়াঙ্কার অবস্থানের খবর চাউর হওয়ার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রিয়াঙ্কাকে অপমান করলেন শাহরুখ পত্নী। উল্লেখ্য, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে শাহরুখ খানের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা কেচ্ছা-কাহিনী প্রকাশিত হওয়ায় দারুণ চটে আছেন গৌরি খান। জি সিনে অ্যাওয়ার্ডসে আবারও প্রিয়াঙ্কার ওপর নিজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন তিনি।



কুষ্টিয়ায় টুটুলের স্কুল ‘ধ্রুবতারা একাডেমী’

স্টাফ রিপোর্টার: মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন যারা। যাদের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেল এই দেশ, এসআই টুটুল ’৭১-এর সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রেখেছেন ধ্রুবতারা। টুটুল নিজেও একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সেই অনুভূতিটাকে সামনে রেখে কিছুদিন আগে তিনি তার ‘ফেস টু ফেস’ ব্যান্ডের নাম পাল্টে রাখেন ‘ধ্রুবতারা’। সম্প্রতি সেই নামটির সঙ্গে মিল রেখে একটি স্কুলও চালু করছেন তিনি। নাম ধ্রুবতারা একাডেমি। ঢাকায় নয়, এটি স্থাপিত হয়েছে টুটুলের জন্মস্থান কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়ার কমলাপুরের ১১৩ গির্জানাথ মজুমদার সড়কে টুটুলদের নিজ বাড়িতে আগামী মার্চ মাস থেকে ধ্রুবতারা একাডেমীর কার্যক্রম শুরু হবে। টুটুল জানান, ধ্রুবতারা একাডেমীতে নাচ-গান-বাদ্যযন্ত্র-চিত্রকলা-ভাষা শিক্ষার ক্লাসসহ থাকবে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ফ্রি-স্কুলিং। সব শিক্ষার্থীর জন্য থাকবে বাধ্যতামূলক ইংরেজি প্রশিক্ষণ ক্লাস। এসআই টুটুল বলেন, শিক্ষা আমাদের দেশের একটা বড় সমস্যা। এটার প্রতি অবহেলা করা কোন অবস্থাতেই উচিত নয়। আমার অনেক দিন থেকে ইচ্ছা ছিল শিক্ষা সমস্যা নিয়ে কাজ করার। এখন সেটা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছি ভেবে ভাল লাগছে। টুটুল আরও বলেন, একটা দেশের উন্নতির অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে, সে দেশের মানুষদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। একটা শিক্ষিত জাতি সে দেশের বড় একটা সম্পদও বটে। একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে শিক্ষাখাতটাকে আমার সবচেয়ে উত্তম একটা পন্থা মনে হয়েছে। মূলত এই ভাবনা থেকে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। টুটুল আরও জানান, এই একাডেমীতে নিয়মিত শিক্ষকের পাশাপাশি তিনি নিজেও সময় দেয়ার চেষ্টা করবেন। সময় পেলেই ছুটে যাবেন কুষ্টিয়ার ধ্রুবতারা একাডেমীতে।  প্রাথমিকভাবে কুষ্টিয়ায় ধ্রুবতারা একাডেমীর কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এর শাখা খোলার চিন্তাভাবনা রয়েছে এসআই টুটুলের। জানা গেছে, এরই মধ্যে ঢাকার শাখাটির জন্য কাজও গুছিয়ে এনেছেন তিনি। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তিনি ধ্রুবতারাকে ছড়িয়ে দিতে চান।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে আঞ্চলিকতা আর রাজনীতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এক সময় যাকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে ডাকা হতো। আজ শিক্ষা ব্যবস্থায় সে মৃতপ্রায়। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এশিয়ার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শিক্ষকদের রাজনীতি আর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা আজ দেশসেরা তো বটেই, এশিয়ার সেরা এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে হাস্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ছাত্ররজনীতি নামে মহাব্যাধি।

ম্যানইউ’র সঙ্গে যুক্ত হলো এয়ারটেল

স্পোর্টস রিপোর্টার: বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী মোবাইল গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রকার সেবা দিতে বিশ্বখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এয়ারটেল। গতকাল ঢাকার বনানী সোসাইটি ক্লাব মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ব্রায়ান রবসন এবং ডোয়াইট ইয়র্কের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা দেন এয়ারটেল বাংলাদেশ-এর সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস টবিট। ক্রিস টবিট বলেন, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি ফুটবল দল। বাংলাদেশে আমাদের ফুটবলপ্রেমী গ্রাহকদের জন্য এমন একটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা বেশ আনন্দিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অগণিত তরুণকে বিশ্ব ফুটবলের আরও কাছে আনতে পারার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। এই সহযোগিতার আওতায় বাংলাদেশের এয়ারটেল গ্রাহকেরা তাদের মোবাইল ফোনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সম্পর্কিত বিশেষ মোবাইল সেবা উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া এয়ারটেল গ্রাহকেরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সকার স্কুল প্রোগ্রামে (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মার্চেনডাইজিং লি. দ্বারা পরিচালিত) অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এয়ারটেল গ্রাহকেরা ওল্ড ট্র্যাফোর্ড স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা দেখার সুযোগ ছাড়াও ইউরোপে ভ্রমণ করে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। পরে রবসন ও ইয়র্ক গতবার জেতা ইংলিশ লীগের রেকর্ড ১৯তম ট্রফিটিও দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। তারা এ সময় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে এক প্রদর্শনী ম্যাচেও অংশ নেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি-নয়নের মাঝে নিয়েছো যে ঠাঁই by সুজেয় শ্যাম

নিজেকে নিয়ে অজিত রায়ের কোনো গর্ব ছিল না। সবসময় নিজের মধ্যে থাকতেন তিনি। সদা হাস্যোজ্জ্বল এ লোকটি কারও সঙ্গে কখনও কোনো ধরনের ঝামেলায় জড়াননি। তার মধ্যে কোনো রকমের হিংসা বা বিদ্বেষ কখনও দেখিনি। স্বাধীনতার পর তার সঙ্গে আমার বহুবার দেখা হয়েছে।

দুই কোচই খুশি

স্পোর্টস রিপোর্টার: গেলো মওসুমে একঝাঁক তারকা ফুটবলার সঙ্গে বিদেশী কোচ নিয়ে ফেডারেশন কাপ শুরু করেছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ফলাফল ছিল ফাইনালে আবাহনীর কাছে ৫-৩ গোলের হার। মওসুমের প্রথম শিরোপা হারানোর মাশুল দিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন সার্বিয়ান কোচ ক্রাইভিচ। এবার নেই সেসব তারকা ফুটবলার। নেই বিদেশী কোচও। মাঝারি মানের ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি শেখ জামালের দায়িত্ব এখন সাইফুল বারী টিটুর হাতে। দায়িত্ব নিয়ে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলটি একটি ইউনিটে দাঁড় করিয়েছেন টিটু। নেপালের পোখরা গোল্ডকাপে শিরোপা জিতে তার ছাপও রেখেছিলেন টিটু। এবার ঘরোয়া ফুটবলে  সেরা সেরা ক্লাবকে পেছনে ফেলে ফেডারেশন কাপের শিরোপা তুলে নিয়েছে তারা। গতকাল ফাইনালে টিম বিজেএমসিকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন এখন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। গতকাল টিম বিজেএমসিকে হারিয়ে উল্লসিত টিটু জানান, এই ম্যাচে আমার ফুটবলাররা ক্লান্ত ছিল। তাই প্রথমার্ধে দৌড়ে পারছিল না ওদের সঙ্গে। বিরতিতে একটা কথাই বলেছি, তোমরা যদি গতিতে না পারো, তবে এই ম্যাচে ওখানেই হেরে যাবো। এ কথাটায় ওরা উজ্জীবিত হয়ে খেলেছে দ্বিতীয়ার্ধে। শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করেছে। এ কারণেই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল পেয়ে গেছি। সেট পিছ থেকে পাওয়া গোলটাই টার্নিং পয়েন্ট। একগোল পাওয়ার পরে একটু হিসেবী ফুটবল শুরু করে আমার দল। শেষদিকে বিজেএমসি’র মিডফিল্ড থেকে ইকাঙ্গা অ্যাটাকে চলে যাওয়ায় ফেমিকে বসিয়ে দীর্ঘদেহী ভাসানীকে নামিয়েছিলাম। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কেস্টার গোল পেলে আমরা নিশ্চিন্ত হই।
এদিকে শেখ জামালের কাছে হেরে মোটেও  অতৃপ্ত নন বিজেএমসির কোচ জাকারিয়া বাবু। ‘পুরো ম্যাচ ডমিনেট করেছি, সুযোগও অনেক পেয়েছি। কিন্তু প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি বলে হেরেছি। সোজা কথা ভাগ্য আজ আমাদের সহায় ছিল না বললেন- বাবু। বাবুর সঙ্গে সুর মিলিয়ে একই কথা বললেন দলটির অধিনায়ক বর্ষীয়ান আলফাজ আহমেদ। ‘ভাগ্যটাই মূল বিষয়। আজকে আমরা ভাগ্যের কাছে হেরে গেছি’। ফাইনালে চাপাছিল না বলেই জানান এই ফুটবলার। ‘ফাইনাল বলে কোন চাপ ছিল না। কারণ এই দলের প্রত্যেকেরই ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বললেন আবাহনী থেকে বিজেএমসিতে নাম লেখানো এই ফুটবলার।

ঢাকায় দুই বাংলার তারকাদের ফ্যাশন শো

স্টাফ রিপোর্টার: দুই বাংলার তারকাদের অংশগ্রহণে ৩রা ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার পাঁচতারকা রেডিসন হোটেলে হতে যাচ্ছে এক জমকালো ফ্যাশন শো। ‘গ্যালারি অ্যাপেক্স লাইফ ইজ বিউটিফুল’ শিরোনামে এ ফ্যাশন শোটি সরাসরি সমপ্রচার করবে দেশটিভি। গ্যালারি অ্যাপেক্সের স্পন্সরে উপমহাদেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্র পলের ডিজাইন করা পোশাকের এ ফ্যাশন শোতে অংশ নেবেন কলকাতার তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, লকেট চ্যাটার্জি ও পাওলি দাম। আর ঢাকা থেকে অংশ নেবেন নোবেল, তিশা, বিন্দু, মিম, মমসহ আরও অনেকে। এসব তারকার বাইরেও বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন আরও ২৫ জন র‌্যাম্প মডেল। এ ফ্যাশন শো উপলক্ষে বিস্তারিত জানাতে গতকাল রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োজন করা হয় এক সংবাদ সম্মেলনের। এতে উপস্থিত ছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল, দেশটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান নূর এমপি, দেশটিভির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান ও অ্যাপেক্স অ্যাডেলকি ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। ৩রা ফেব্রুয়ারির ফ্যাশন শো সম্পর্কে অগ্নিমিত্রা পল জানান, আমি আসলে সব সময় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই বিভিন্ন শো’র আয়োজন করে থাকি। এটিও তার বাইরে নয়। কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই এখানে। আমার ডিজাইন করা পোশাকগুলো শোতে নিলাম করা হবে। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রথম আলো ট্রাস্টের অধীনে এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য সহায়তা তহবিলে দেয়া হবে’। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কলকাতা ও ঢাকার তারকাদের অংশগ্রহণে ফ্যাশন শো আয়োজন হচ্ছে। আমি মনে করি এর মধ্য দিয়ে দুই বাংলার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। উল্লেখ্য, ‘গ্যালারি অ্যাপেক্স লাইফ ইজ বিউটিফুল’ শিরোনামে এই ফ্যাশন শোটি ৩রা ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে আটটা থেকে চলবে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত। এরপর জনপ্রিয় শিল্পী রূপঙ্কর ও পিন্টু ঘোষ সংগীত পরিবেশন করবেন। পুরো আয়োজনটি দেশটিভি সরাসরি দেখাবে।

ধর্মঘটে অচল কর্ণফুলী নৌঘাট

শ্রমিকদের লাগাতার ধর্মঘটে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে কর্ণফুলী ঘাটে। কর্ণফুলী নদীতে ভাসছে শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ। সময় যত যাচ্ছে জাহাজের সংখ্যা ততোই বাড়ছে। ছোট জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজে নিয়োজিত ঘাট-গুদাম শ্রমিকরা গতকাল থেকে ধর্মঘট পালন করছে। কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে বুধবার রাতের মধ্যে আটকে পড়া লাইটারেজ জাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ধর্মঘটের কারণে ইতোমধ্যে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় নদীতে ভাসছে শতাধিক জাহাজ।  মাদার ভ্যাসেলগুলো যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে সেজন্য লাইটারেজ জাহাজগুলোকে বহির্নোঙ্গরে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠন চট্টগ্রাম ঘাট ও গুদাম শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আলমগীর শরীফ ঘোষণা দিয়েছেন, মালিক দাবি মেনে না পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

জনদুর্ভোগ-সদিচ্ছা প্রমাণের এটাই সুযোগ by এমএ হাসান

ব হাইওয়েতে স্থায়ী ও অস্থায়ী ডিভাইডার দিতে হবে। সে সঙ্গে সব ব্রিজ ও কালভার্টের দু'পাশে এবং দু'প্রান্তে লম্বা মজবুত রেলিং দিতে হবে। ব্রিজ ও কালভার্টের শুরু ও শেষে যেমন 'স্পিড ব্রেকার' থাকতে হবে, তেমনি ওজন মাপক ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি চেকপোস্টেও ওজন মাপক ব্যবস্থা, গতিরোধক বার এবং টোল ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বিকেলে শুরু হচ্ছে সংসদের দ্বাদশ অধিবেশন

সংসদের দ্বাদশ অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বিকেলে। বছরের প্রথম অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট সংসদে ভাষণ দেবেন। তার ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেবেন সংসদ সদস্যরা। এবারের অধিবেশন চলবে  ৮ মার্চ পর্যন্ত। এ অধিবেশনে ২৭ টি কার্যদিবস থাকবে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এ অধিবেশনে যোগ না দিলেও সদস্যপদ হারানোর ঝুঁকি থাকছে না। টানা ৯০ দিন সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ খারিজ হওয়ার বিধান রয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা ৫৩ দিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এর আগে ৭৪ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকার পর ২০১১ সালের ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিল তারা। বিরোধী দলের সদস্যরা ১১টি অধিবেশনের মধ্যে ৭টিতেই অনুপস্থিত। গত বছর ২৪ মার্চ তারা সব শেষ সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালে সংবিধান সংশোধনের বিল আনলে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন তারা।

১০৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার, আটক ১



ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। সেই সঙ্গে আটক করেছে মাদক ব্যবসায়ী সালাহউদ্দিনকে। সংসদ ভবন সংলগ্ন মনিপুরী পাড়া ৯৭/১ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে হাজির করা হলে সালাহউদ্দিন জানান, বাসাটির নিচতলা মাদকের স্টোর হিসেবে ব্যবহার করতো। দুই মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেন। আট মাস আগে পুরান ঢাকার ভাই ভাই হোটেলে গলাকাটা মনিরের সহযোগী বাবুলের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর তিনি এ ব্যবসায় যুক্ত হন। ফেনসিডিলগুলো ভারত থেকে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসার পর স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ঢাকা আসে। তার দায়িত্ব এগুলো পাহাড়া দেয়া। এক বোতল ফেনসিডিল ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।  ব্যবসার লভ্যাংশও তিনি পান। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইউটিউবে প্রতিদিন ‘হিট’ ৪০০ কোটি

মানবজমিন ডেস্ক: গুগলের ভিডিও ওয়েবসাইট ইউটিউবে প্রতিদিন ৪শ’ কোটি অনলাইন ভিডিও দেখা হয়। গত আট মাসে ইউটিউবে ভিডিও দেখার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে সংখ্যাটি ৪শ’ কোটিতে উঠেছে। এ কথা জানিয়েছে এই ইন্টারনেট কোম্পানি। ইউটিউবকে কম্পিউটারের আওতা ছাড়িয়ে স্মার্টফোন ও টেলিভিশনে দেখার উপযোগী করে তোলার পর থেকেই ভিডিও দেখার সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। পাশাপাশি ভোক্তাদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে উন্নতমানের ভিডিও যুক্ত করার পদক্ষেপও দর্শকের সংখ্যা বাড়ার কারণ বলে মনে করে গুগল। গুগলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মিনিটে ইউটিউবে ৬০ ঘণ্টার ভিডিও যুক্ত হচ্ছে। যেখানে গত মে মাসে প্রতি মিনিটে ৪৮ ঘণ্টার ভিডিও যুক্ত হতো। এ খবর দিয়েছে বিডিনিউজ। এতে বলা হয়, ২০০৬ সালে গুগল ইনকর্পোরেট ১৬৫ কোটি ডলারের বিনিময়ে ইউটিউবের মালিকানা কিনে নেয়। এখন সনাতন ইন্টারনেট সার্চ বিজ্ঞাপন ব্যবসার বাইরে গুগলের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে ইউটিউব। গত সপ্তাহে গুগল জানায়, বর্তমানে ইউটিউবের পৃষ্ঠায় ভিডিওর পাশে থাকা বিজ্ঞাপন বাবদ তাদের বার্ষিক আয় ৫শ’ কোটি ডলার।

পাখিটি ছাড়িল কে by জাহিরুল ইসলাম

ণ্ঠস্বরের অসাধারণ ঐশ্বর্য নিয়ে উপমহাদেশে যেসব শিল্পী জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে আবদুল আলীম অন্যতম। লোকসঙ্গীতের মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। দরাজ কণ্ঠের অধিকারী এই শিল্পী যখন গান গাইতেন তখন মনে হতো পদ্মা-মেঘনার ঢেউ এসে যেন আছড়ে পড়ছে শ্রোতার হৃদয়ে।

নতুন চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল

স্পোর্টস রিপোর্টার: তারকাদের সমন্বয় ঘটিয়ে গেলো মওসুমে ফেডারেশন কাপের শিরোপা পায়নি শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। পাতানো ম্যাচের কলঙ্ক নিয়ে শুধু লীগ শিরোপাই ছিল তাদের সম্বল। এবার নেই সে তারকা ফুটবলাররা। জাতীয় দলের ১০ ফুটবলার ক্লাব ছেড়ে আবাহনী মুক্তিযোদ্ধায় নাম লেখালে ভাঙাহাটে পরিণত হয়েছে গেলোবারের লীগ চ্যাম্পিয়নরা। গত মওসুমে তারকা ফুটবলারদের নিয়ে যা করতে পারেনি শেখ জামাল, এবার ভাঙাহাট নিয়ে তাই করে দেখালেন দলটির কোচ সাইফুল বারী টিটু। গতকাল ফেডারেশন কাপের ফাইনালে টিম বিজেএমসিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নব্য অধ্যায়ের সূচনা করে  শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রাদার্স না থাকাতে নব্য অধ্যায় সৃষ্টির সুযোগ ছিল ২৯ বছর পর ফুটবলে ফেরা টিম বিজেএমসির সামনেও। তার প্রতিফলন ঘটানোর মতোই শুরু করেছিল জাকারিয়া বাবুর শিষ্যরা। তবে পুরো ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ করেও  শেখ জামালের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। ফাইনালে জামালের মিন্টু শেখ, কেস্টার, সবুজ একটি করে গোল করেন। বিজেএমসির ইকাঙ্গা একটি গোল শোধ করেন।
বিজেএমসির উত্থান এবং শেখ জামালের ধারাবাহিক পারফরমেন্সে গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে পড়েছিল ফেডারেশন কাপের সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান ও ব্রাদার্স। কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনীকে বিদায় করে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। আর সেমিফাইনালে মুক্তিযোদ্ধাকে মাটিতে নামিয়ে আনে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মিশেলে গড়া টিম বিজেএমসি। এ কারণে উপভোগ্য ফাইনালের প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন পরে মাঠে আসে হাজার সাতেক দর্শক। শুরু থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়া আলফাজের টিম বিজেএমসি। তবে ম্যাচের প্রথম আক্রমণ শানায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ম্যাচের ৫ মিনিটে শরীফের নেয়া শট দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন বিজেএমসির গোলরক্ষক হিমেল। ম্যাচের ৪০ মিনিটে ভাগ্য সহায়তা না করায় গোল বঞ্চিত হয় বিজেএমসি। শেখ জামালের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে আলফাজের বাঁকানো শট ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টিম বিজেএমসি কিছুটা চাপিয়ে খেললেও গোলের দেখা পায় শেখ জামাল। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ফেমির ফ্রি কিক। জটলার মধ্যে এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল বক্সে দাঁড়ানো মিন্টু শেখের পায়ের সামনে পড়ে। একমুহূর্ত দেরি না করে জালে বল পাঠিয়ে শেখ জামালকে এগিয়ে নেন তিনি (১-০)। উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই শেখ জামালকে দ্বিতীয় গোল উপহার  দেন দলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড কেস্টার। সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ে কেস্টার এগিয়ে যান টিম বিজেএমসির বক্সের দিকে। ডিফেন্ডার শুভ্র কুলিয়ে উঠতে পারেননি কেস্টারের সঙ্গে। বল নিয়ে গোলরক্ষক হিমেলকে বোকা বানিয়ে গোলের গ্রাফটা আরও একধাপ উপরে নিয়ে যান এ নাইজেরিয়ান (২-০)। ৭৪ মিনিটে বেইবেকের ক্রসে ইকাঙ্গার দর্শনীয় গোলে ব্যবধান কমায় বিজেএমসি (২-১)। ৮৭ মিনিটে আবুলের ফ্রি-কিকে বাঙ্গুরার হেড ক্রস পিচে লেগে প্রতিহত হয়। এর মিনিট তিনেক পরেই উল্টো গোল হজম করে বিজেএমসি। মাঠে নেমেই গোলের দেখা পান উপেক্ষিত সবুজ। সোহেল রানার ক্রস থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ নিয়ে যান এই স্ট্রাইকার।
শেখ জামাল: আমিনুল (গোলরক্ষক), মিন্টু শেখ, ইউসুফ, ইউসুফি ঈসা, কোমল (সবুজ), শরীফ (সোহেল রানা), রাজু, ফেমি অরুনিমি (ভাসানি), মিশু,  সামনিক, কেস্টার।
টিম বিজেএমসি: হিমেল (গোলরক্ষক), শুভ্র (বিপ্লব), আশরাফুল, জনি, সাইফ (পারভেজ), বেইবেক, ইকাঙ্গা, আবুল, রশীদ, ইসমাইল বাঙ্গুরা, আলফাজ (রনি ইসলাম)।
রোল অব অনার
সাল    চ্যাম্পিয়ন    রানার্সআপ
১৯৮০    মোহামেডান ও ব্রাদার্স    -
১৯৮১    মোহামেডান    আবাহনী
১৯৮২    মোহামেডান ও আবাহনী -
১৯৮৩    মোহামেডান    আবাহনী
১৯৮৫    আবাহনী    ব্রাদার্স
১৯৮৬    আবাহনী    ব্রাদার্স
১৯৮৭    মোহামেডান    ওয়ান্ডার্স
১৯৮৮    আবাহনী    মোহামেডান
১৯৮৯    মোহামেডান    আবাহনী
১৯৯১    ব্রাদার্স     মোহামেডান
১৯৯৪    মুক্তিযোদ্ধা    আবাহনী
১৯৯৫    মোহামেডান    আবাহনী
১৯৯৭     আবাহনী    আরামবাগ
১৯৯৯    আবাহনী    মুক্তিযোদ্ধা
২০০০    আবাহনী     মোহামেডান
২০০১    মুক্তিযোদ্ধা    আরামবাগ
২০০২-০৩    মোহামেডান    মুক্তিযোদ্ধা
২০০৩-০৪    মুক্তিযোদ্ধা    মোহামেডান
২০০৪-০৫     ব্রাদার্স    মুক্তিযোদ্ধা
২০০৮    মোহামেডান     আবাহনী
২০০৯    মোহামেডান     আবাহনী
২০১০    আবাহনী     শেখ জামাল
২০১১    শেখ জামাল     বিজেএমসি
ম্যান অব দ্য ফাইনাল
ইয়কো সামনিক (শেখ জামাল)
ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট
জুলস ইকাঙ্গা (বিজেএমসি)
সর্বোচ্চ গোলদাতা
অ্যাসোগবা অ্যালেন (শেখ জামাল), আজাগুন আবদুল রশিদ (বিজেএমসি), আর্নেস্ট এমাকো (শেখ রাসেল) ও লাকী ডিভাইন (রহমতগঞ্জ)
ফেয়ার প্লে ট্রফি : ফরাশগঞ্জ

কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হোক কোচিং ব্যবসা ও ভর্তি-বাণিজ্য

শিক্ষার ক্ষেত্রে কোচিং ব্যবসা ও ভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের সমস্যাও হয়তো জনজীবনের আর দশটি সমস্যার মতো গা সওয়া হয়ে যেত, যদি না এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে রিট হতো। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার প্রতিবেদন গত সোমবার জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটির বরাতে পত্রিকায় যেসব সুপারিশের কথা এসেছে, তার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নেই।
কোচিং ব্যবসা কিংবা ভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ অদায় বন্ধ হোক—এটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবারই দাবি। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধকে কে? শিক্ষামন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন, রাতারাতি কোচিং বন্ধ করা যাবে না। পর্যায়ক্রমেই যে বন্ধ হবে, তারই বা নিশ্চয়তা কী? কোচিং ব্যবসা বন্ধ করতে হলে এর কারণগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং না করা এবং অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনধিক ১০ জন শিক্ষার্থী পড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এটি তদারক করার উপায় কী? প্রকৃত প্রস্তাবে আমাদের শিক্ষা পাঠক্রম ও পাঠদান পদ্ধতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরাই কোচিং করতে নিরুৎসাহিত হয়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
অন্যদিকে ভর্তির নামে বেশি অর্থ আদায়ের সমস্যা রাজধানীর কয়েকটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করেছে, তা ফেরত বা বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলেছে তদন্ত কমিটি। এটি কার্যকর করা মোটেই কঠিন কাজ নয়। এর মূল দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলেও অভিভাবকদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। যেকোনো মূল্যে নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানকে ভর্তি করাতে হবে—এই চিন্তা সুস্থতার লক্ষণ নয়।
উল্লিখিত দুই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরাই শুধু আশ্বস্ত হবেন না, শিক্ষার গুণগত মানও বাড়বে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে সদিচ্ছা নিয়ে কমিটি গঠন করেছে, সুপারিশ বাস্তবায়নেও সেই সদিচ্ছার প্রতিফলন থাকা চাই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম-ঘরের সমস্যা ঘরেই সমাধান সম্ভব by অভয় প্রকাশ চাকমা

পার্বত্য চুক্তিবিরোধীদের কথা আমলে নিয়ে যদি ১৯৯৭ সালে সরকার চুক্তি না করত, দেশের সামগ্রিক অবস্থা কেমন হতো? পার্বত্য চট্টগ্রামের রক্ত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ত, যুদ্ধের ভারে নাজুক হতো দেশের অর্থনীতি। লাভবান হতো কিছু যুদ্ধবাজ নেতা ও কর্মকর্তা।

সাক্ষ্য দিচ্ছেন ড. শোয়েব আহমেদ

চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. শোয়েব আহমেদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। বুধবার বেলা ১২ টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন। এর আগে বেলা কঠোর নিরাপত্তায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ মামলার মোট ১১ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ড. শোয়েব আহমেদ ছাড়াও আদালতে উপস্থিত হয়েছেন- ডিজিএফআইর সাবেক মহাপরিচালক (অব.) মেজর জেনারেল সাদেক হাসান রুমি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান (অব.) মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, এনএসআইর পরিচালক (অব.) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী এবং সিএমপির তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) আব্দুল্লাহ হেল বাকী।  মঙ্গলবার দশ ট্রাক অস্ত্র আট ও চোরাচালানের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় চট্টগ্রামের আদালতে সাক্ষ্য দেন সিএমপির তৎকালীন সহকারী-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুর রহমান। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়।

বাংলাদেশ-ভারত-প্রত্যাশার সফর by কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

মার মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি ইতিবাচক রূপ লাভ করবে, তা হচ্ছে কানেকটিভিটি। অনেকটা জুজুর ভয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহ দেখিয়েছি। জুজুর ভয় থেকেই আমরা অতীতে এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কে যোগদান থেকে বিরত থেকেছি।

ট্রেন ডাকাতি: আহত ১০

শ্যামগঞ্জ-ময়মনসিংহে জারিয়া লোকাল ট্রেনে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ যাত্রী। ডাকাতদের হামলার প্রতিবাদে ক্ষুদ্ধ যাত্রীরা রাতে ট্রেনের বগিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের ডাকাতি হওয়া ট্রেনের কর্তব্যরত গার্ড জানিয়েছেন, নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ থেকে ৩৭৫ নং জারিয়া লোকাল ট্রেনটি গৌরীপুর রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে আসার পর রাত ৯ টার দিকে কয়েকটি বগিতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা যাত্রীদের সব মালামাল নিয়ে যায়। ডাকাতির পর ট্রেনটি শম্ভুগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছুলে যাত্রীরা ১৯৩৩ নম্বর বগিতে আগুন দেয়। স্থানীয় দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ট্রেনটিতে রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মী ও জিআরপি পুলিশ না থাকায় ডাকাতরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ছুটিতে বেড়ানো-পর্যটন হোক আরামদায়ক

র্যটক বলতে সাধারণভাবে বিদেশিদের কথাই ভাবা হয়। সত্য যে বিদেশি পর্যটকদের আতিথেয়তায় লাভ বেশি। কিন্তু পর্যটনের ধারণা, শুধু বিদেশিদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠলে তা একদেশদর্শী বলেই বিবেচিত হবে। পৃথিবীর আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো বিদেশিদের আকৃষ্ট করে সত্য, কিন্তু বিদেশিদের চেয়ে স্বদেশীদেরই বেশি আকৃষ্ট করে। প্রতিবেশী ভারতে স্বদেশী পর্যটকদের জন্য সুলভ ব্যবস্থা আছে।

আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচ-বাংলাদেশে সুস্বাগতম লিওনেল মেসি

র্তমান ধরাতলে ফুটবল মাঠে অপার নান্দনিক সৌন্দর্য ছড়ানো লিওনেল মেসি এবং তার আর্জেন্টাইন জাতীয় দলকে বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর পক্ষ থেকে স্বাগতম, সুস্বাগতম। স্বাগতম সুপার ঈগল নাইজেরীয় জাতীয় দলকেও। মঙ্গলবার এ দুটি দল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলবে প্রীতি ম্যাচ, আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন বা ফিফা যাকে কিন্তু অফিসিয়াল ম্যাচ হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিরোধীরা সংসদে আসবেন শুনে ভালো লাগছে-সাক্ষাৎকার by মোঃ আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সজল জাহিদ মোঃ আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার মিটামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কিশোরগঞ্জের নিকলী জিসি হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, গুরুদয়াল কলেজ থেকে আইএ ও বিএ এবং ঢাকার সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মবীর অশ্বিনী কুমার দত্ত by শ্যামল সেন

নবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় নবজাগরণের ঢেউ জেগেছিল। ব্রিটিশ বেনিয়াদের শৃঙ্খল ভাঙতে তখন ভারতবর্ষে ক্রমশ বিতৃষ্ণা দানা বেঁধে উঠছে। এ রকম মুহূর্তে যে মহাব্রতী শিক্ষক জননেতা বরিশালের মাটিতে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন, তিনি মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত। জন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৮৫৬, তৎকালীন বরিশাল জেলার পটুয়াখালী মহকুমায় মুন্সেফ ম্যাজিস্ট্রেট পিতা ব্রজমোহন দত্তের কর্মস্থলে। পৈতৃক বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলাধীন বাটাজোর গ্রামে।

বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে নতুন যাত্রা-মিয়ানমার by ব্যারটিল লিন্টনার

মিয়ানমার অবশ্য চীনের দিক থেকে পুরোপুরি মুখ ঘুরিয়ে ফেলতে পারে না। দুই দেশের রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন হচ্ছে অনেক দূরের শক্তি। দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে গেলে মিয়ানমারকে তার নিকট প্রতিবেশী দেশকে লাগবেই। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের বেলায় সে দায় নেই।

পাকিস্তানে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম-সমকালীন প্রসঙ্গ by বদরুদ্দীন উমর

র্তমানে পাকিস্তানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার নতুন দিক হচ্ছে এই যে, সামরিক বাহিনী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকার ছাড়াও সেখানে সাধারণ জনগণ এখন মার্কিনবিরোধী হিসেবে একটি গণ্য শক্তি। যতই অসংগঠিত হোক, একে অবহেলা করার উপায় নেই, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর অল্প বিস্তর যা-ই বিস্তার করুক।

কীর্তনখোলায় বাঁধ-সব শেষ হওয়ার আগেই থামাতে হবে

কীর্তনখোলা নদীতীরের একটি চরের চারপাশে বাঁধ দিয়ে বালু ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। বরিশাল নদীবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় আতঙ্কিত হওয়ার মতো এই কাজ চলছে বলে সমকালের খবরে জানা যাচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন আইন ও পরিবেশবিরোধী কাজ চলা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

পাঁচ লাখ ভুয়া লাইসেন্স-সড়ক নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার পাক

দেশের রাস্তাগুলোতে যে চালকরা গাড়ি চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ভুয়া লাইসেন্সধারী_ এ তথ্যটি যে কাউকে উৎকণ্ঠিত করার জন্য যথেষ্ট। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াকিবহাল নাগরিকদের মনে সহজাতভাবেই এ প্রশ্ন উঠবে যে, কীভাবে এত ভুয়া লাইসেন্স তৈরি হলো আর কীভাবেই-বা ভুয়া লাইসেন্সধারীরা সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিবাদে গাড়ি চালাচ্ছেন।

অন্য ধরনের ঈদ উদযাপন! by বীরেন অধিকারী

সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সৈয়দ আবুল মকসুদের নেতৃত্বে কয়েকশ' লোক ৩১ আগস্ট জড়ো হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। আয়োজকদের একজন বলেছেন, 'এটা কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, এটা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটা বিরোধী দলের কোনো অনুষ্ঠান নয়।'

সমাজ-বিকৃতি যেভাবে জাতীয় সমস্যা হয়ে ওঠে by আলতাফ পারভেজ

ম্প্র্রতি জয়ধর, অরুণ, মেহেদী হাছান বা শাহরিয়াররা যা করছে সেসব অবশ্যই যৌন অপরাধ বা বিকৃতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এসব মানসিক অসুস্থতা মাত্র। প্রশ্ন হলো, এর চিকিৎসা কীভাবে হবে। কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া? আইনের বিধান আরও কঠোর করা? অভিযুক্তদের চাকরিচ্যুতি, চার্জশিট? হাস্যকর সব প্রেসক্রিপশন।

সময়ের কথা-ঈদে ঘরে ফেরা ও হজযাত্রী পরিবহনের অভিজ্ঞতা by অজয় দাশগুপ্ত

দে নাড়ির টানে গ্রামে যেতে চায় লাখ লাখ মানুষ। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ তাদের বিড়ম্বনার কথা সংবাদপত্রের পাতায় ফুটে উঠেছে। এখন আমরা টেলিভিশনের চিত্রে তা দেখছি। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। অনেক মানুষের গালমন্দ সহ্য করে। এ সুযোগে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে।

ঢাকায় রাতের বাতি-অন্ধকার ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

কোনো প্রজ্ঞাপন জারির আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সার্বিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। যদি লক্ষ করা না হয় তাহলে প্রজ্ঞাপন বা আদেশ জারির ফল হিতে বিপরীত হয়ে দেখা দিতে পারে। তেমনি একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এক শাখা থেকে আরেক শাখায় প্রেষণে কর্মরত সবাইকে নিজ নিজ শাখায় ফিরে যেতে হবে। সে অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশনও অফিস আদেশ জারি করেছে।

সংসদ অধিবেশন-বিরোধী দলের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হোক

জাতীয় সংসদ হচ্ছে জাতির আশা ও ভরসার জায়গা। দেশের মানুষ পাঁচ বছরের জন্য আইনপ্রণেতা ও নীতিনির্ধারক নির্বাচন করে এখানে পাঠান। নবম জাতীয় সংসদের তিন বছর পূর্তি হচ্ছে আজ। আজই বসছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন।

পবিত্র কোরআনের আলো-ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে আহরণ করা ও পুঞ্জীভূত করে রাখার শাস্তি ভয়াবহ

৩. হুয়াল্লাযী আরছালা রাসূলাহূ বিল্হুদা- ওয়া দীনিল্ হাক্কি লিইউয্হিরাহূ আলাদ্ দীনি কুলি্লহী ওয়া লাও কারিহাল মুশরিকীন। ৩৪. ইয়া-আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ ইন্না কাছীরাম্ মিনাল্ আহ্বা-রি ওয়ার্রুহ্বা-নি লাইয়া'কুলূনা আমওয়া-লান না-ছি বিল্বা-তি্বলি ওয়া ইয়াসুদ্দূনা আ'ন ছাবীলিল্লা-হি্; ওয়াল্লাযীনা ইয়াক্নিযূনায্ যাহাবা ওয়াল্ফিদ্দাতা ওয়া লা ইউনফিক্বূনাহা ফী ছাবীলিল্লাহি ফাবাশ্শিরহুম বিআ'যা-বিন আলীম।

বারটিল লিন্টনার-একটি নতুন বড় খেলা

ত ১৩ জানুয়ারি ২০০ কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়া এবং সেই সঙ্গে মিয়ানমারে ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূত পাঠানোর ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনারই পদক্ষেপ। ১৯৮৮ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণতন্ত্রকামী জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে এবং ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নিরঙ্কুশ বিজয়কে মেনে না নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রই মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় সমালোচক

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি by ড. তারেক শামসুর রেহমান

শেষ পর্যন্ত যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা-ই হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে এই সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। এর আগে বিএনপি বলে আসছিল নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃ প্রবর্তন।

চরাচর-ড. সিদ্দিকীর রোগ নির্ণায়ক সফটওয়্যার by বনরূপা

দেশে অহরহ নেতিবাচক সংবাদ শুনতে শুনতে আমরা ক্রমেই যেন হতাশ হয়ে পড়ছি। কিন্তু আশান্বিত হওয়ার মতো সংবাদও আমরা প্রায়ই পাই, যেগুলো হতাশা ছাপিয়ে নানা কারণে বড় হয়ে উঠতে পারে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি একটি সুবার্তা মিলেছে, যা অত্যন্ত আশা-জাগানিয়া। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকী আবিষ্কার করেছেন রোগ নির্ণায়ক সফটওয়্যার।

গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন by ড. মোহাম্মদ ভূঁইয়া

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কীভাবে অপসারণ করেছে, তা সবাই জানে। আমরা যারা বিদেশে থাকি, আমরা এটাও জানি যে এতে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিদ্যমান সব আইনকে উপেক্ষা করে সরকারের একটি অংশ এখন গ্রামীণ ব্যাংকের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সব নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদ নেবে, এটাই স্বাভাবিক।

গুম, খুন ও গুপ্তহত্যা বন্ধ হবে কবে? by আবুল কাসেম হায়দার

মানুষ আজ অসহায় জীবন কাটাছে। সরকারি দলের নেতা-কর্মী, এমনকি সমর্থক পর্যন্ত বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। জীবনের ভয়ে সমাজের অনেক সচেতন ব্যক্তি আজ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। প্রতিদিনের গুমের ঘটনা মানুষকে একেবারই বাক্রুদ্ধ করে ফেলেছে। অনেক গুমের খবর পত্রিকায়ও প্রকাশিত হচ্ছে না। কয়েক দিন আগে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দেশে গুম, গুপ্তহত্যা ও নির্যাতনের নানা চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেছে।

সময়ের প্রতিধ্বনি-নানা ষড়যন্ত্রে গোলমেলে রাজনীতি আইএসআই, র সক্রিয়! by মোস্তফা কামাল

বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানকে মেলানো যাবে না। এখানকার মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয়। অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতারোহণকে কোনোভাবেই মানুষ সমর্থন করে না। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েও কোনো সরকার যদি অগণতান্ত্রিক আচরণ করে, তার বিপক্ষে দাঁড়ায় এ দেশের মানুষ। তার পরও পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের কোথায় যেন মিল রয়েছে।

মেডিক্যাল কলেজে দলীয় প্রভাব-চিকিৎসাশিক্ষা বিঘ্নিত করবে মারাত্মকভাবে

চিকিৎসাশাস্ত্র শিক্ষায় বাংলাদেশের অবকাঠামো সুবিধা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আগে অল্প কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে যে হুড়োহুড়ি ছিল, এখন তা অনেকাংশে কমে গেছে। মোট ১৮টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ সেই সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। ফলে কয়েক বছর আগেও যেখানে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো, এখন আর তেমন নেই।

লোডশেডিং ও যানজট-জনদুর্ভোগের যেন শেষ নেই

বার বেহাল দেশ। লোডশেডিং বেড়েছে সারা দেশে। পাশাপাশি রাজধানীতে বেড়েছে যানজট। প্রচণ্ড গরমে অবস্থা অসহনীয়। গভীর রাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোডশেড করতে হচ্ছে। গত কয়েক দিনে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

পবিত্র কোরআনের আলো-অবাধ্য ও দুষ্কর্মকারীদের উপদেশ দেওয়া ছাড়া মুমিনদের আর কোনো করণীয় নেই

৮. ওয়া ইযা রাআইতাল্লাযীনা ইয়াখূদ্বূনা ফী আয়া-তিনা ফাআ'রিদ্ব আ'নহুম হাত্তা ইয়াখূদ্বূ ফী হাদীছিন গাইরিহি; ওয়া ইম্মা ইউনছিইয়ান্নাকাশ্ শাইত্বা-নু ফালা তাক্ব্উ'দ বা'দায্ যিকরা মাআ'ল ক্বাওমিয্ যা-লিমীন। ৬৯. ওয়া মা আ'লাল্লাযীনা ইয়াত্তাক্বূনা মিন্ হিছা-বিহিম্ মিন শাইয়িন ওয়ালা-কিন যিকরা লাআ'ল্লাহুম ইয়াত্তাক্বূন।

আর্জেন্টিনা ৩ : নাইজেরিয়া ১, বাংলাদেশ ০ : ভারত ০ by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

দের খুশি মিলিয়ে যেতে না যেতেই বাংলাদেশে দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে গেল। এর ভেতর বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনা বাংলাদেশে এসেছিল, এসেছিল আফ্রিকার সুপার ঈগল নাইজেরিয়া। বার্সেলোনার ফুটবল জাদুকর মেসিও আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে এসেছিলেন। অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের ফুটবলামোদীরা অপেক্ষায় ছিলেন এ ম্যাচটির জন্য। বিশ্ব ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার সঙ্গে পেরে ওঠার কথা ছিল না আফ্রিকান ঈগল নাইজেরিয়ার। খেলার মাঠে নেমে যা হওয়ার কথা ছিল তা-ই হলো।

চালচিত্র-মনমোহন-সফরের ফলআউট, যানজট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা by শুভ রহমান

বার যানজট। এবার আরো দুঃসহ মনে হচ্ছে। কয়েক দিন একটু স্বস্তিতে থাকার কারণেই এবার কষ্টটা আরো বেশি লাগছে। সামনে আরেকটা ঈদ পর্যন্ত তা বেড়েই চলবে। এর হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় আজও বের হলো না। অথচ ওদিকে মেট্রো রেল, দাঁতভাঙা শব্দের এলিভেটেড এঙ্প্রেসওয়ে করার শুধু পাঁয়তারা চলছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ভাদ্রের প্রচণ্ড গুমোট। তার মধ্যেই আসছে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির হুমকি।

চরাচর-বেহাল ইদ্রাকপুর কেল্লা by আলম শাইন

ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুরের অবস্থান। কাগজে-কলমে জেলাটির নাম মুন্সীগঞ্জ হলেও সর্বসাধারণের কাছে এটি এখনো বিক্রমপুর নামেই পরিচিত। এ নামে পরিচয় দিতে স্থানীয় লোকজন স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি বেশ গর্বও বোধ করেন। আসলে বিক্রমপুর হলো গোটা পরগনার নাম, যেটা এখন আর বলা হয় না।

নাইন-ইলেভেনের এক দশক by লুৎফর রহমান রনো

সপ্তাহে পত্রপত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্মরণ করা হয়েছে নাইন-ইলেভেনের মর্মান্তিক ঘটনাকে। এ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এমন একটি ঘটনা শক্তি-মদমত্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্রে ঘটে যাওয়ার কারণে পুরো বিশ্বে অবাঞ্ছিত অস্থিরতা শুরু হয়। এর পরিসমাপ্তি কী অবস্থায় ঘটবে, অথবা আদৌ এর রেশ কখনো শেষ হবে কি না_তা নির্ভর করে মার্কিন ক্ষমতাকেন্দ্রের সুদূরপরিকল্পিত চিন্তাভাবনার ওপর।

রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবর্ষ এবং জাপান by প্রবীর বিকাশ সরকার

বছর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী। বিশ্বের অনেক দেশেই তা উদযাপিত হচ্ছে, যদিওবা তেমন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ১৯৬১ সালে শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া, কানাডা, জাপান, সিঙ্গাপুর, চীন প্রভৃতি দেশ কবিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছিল। বিশেষ করে জাপানে যেভাবে সাড়ে তিন বছর ধরে নানা রকম পরিকল্পনা ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদযাপিত হয়েছিল তা এক কথায় বিরল।

চিকিৎসা-সব অসুখে ওষুধ লাগে না by নুরুল ইসলাম

ব্যবস্থাপত্রে ভরপুর দরিদ্র বাংলাদেশে অসংখ্য ব্যাধিগ্রস্ত মানুষ অসহায়ভাবে অযৌক্তিক ব্যবস্থাপত্রের শিকার হয়ে পড়ে। এতে তাদের মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি হয়, এ জন্য দায়ী শুধু ব্যবসায়ীমহল নয়, যারা ব্যবস্থাপত্র লেখেন তারাও। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা যাতে জনসাধারণের কল্যাণে আসে এটি রক্ষা করা চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত
ব্যাধিগ্রস্ত অগণিত মানুষের রোগমুক্তির জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন লেখা হয়। উদ্দেশ্য

সমকালীন প্রসঙ্গ-একটি মৃত্যু ও অনেক প্রশ্ন by তারেক শামসুর রেহমান

পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। কেননা তিনি 'অভিযুক্ত আসামি' ছিলেন। পুলিশ তার 'দায়িত্ব' পালন করেছে, সন্দেহ নেই তাতে। কিন্তু গ্রেফতারের পর কিছুটা মানবিক হলে তো ক্ষতির কিছু ছিল না। যে লোকটি এক রকম সুস্থই ছিলেন বাসাতে অর্থাৎ গ্রেফতারের সময়, তিনি গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে 'অসুস্থ' হয়ে যান কী ভাবে?

ব্যাংকের এটিএম বুথ-আধুনিক প্রযুক্তিতেও ভোগান্তি?

ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে যে কোনো সময় এবং ছুটির দিনেও টাকা তোলা যায় বলে দেশে এ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এটিএম বুথের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি করে চলেছে তেমনি রাজধানী ছাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরেও এ সেবা প্রসারিত করছে। কিন্তু নির্ঝঞ্ঝাটভাবে সব সময় কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা যায় না।

হাসপাতালে দুর্ভোগ-সেবাতেও মেলে উৎসবের পূর্ণতা

টানা ছুটিতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবিকার কম উপস্থিতির কারণে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে_ এমন খবর নতুন নয়। প্রায় প্রতি ঈদেই এমন খবর আমরা পড়ে থাকি। সাধারণ রোগী তো বটেই, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদেরও জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসাহীন পড়ে থাকতে দেখা যায়। সারাদেশ যখন উৎসবে মগ্ন থাকে, তখন হাসপাতালে তৈরি হয় করুণ চিত্র। এবার ঈদের তিন দিনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি।

স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবিবর্ণ চিত্র by ড. মুহাম্মদ আশকার ইবনে শাইখ

নিকট অতীতে কালের কণ্ঠে 'ডাক্তারদের দলবাজিতে বেতাল হাসপাতাল' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নতুন করে দেশের স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত আরো কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মানুষ মাত্রেরই জানা আছে, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে 'ড্যাব' নামক চিকিৎসকদের সংগঠনটির কারো কারো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড কী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলেও এর কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে? না, হয়নি।

সাদাকালো-হঠাৎ মমতা : হতাশ বাংলাদেশ by আহমদ রফিক

সেপ্টেম্বর ৬, ২০১১। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর শুরু। দিন কয়েক থেকেই সরকারি-বেসরকারি মহলে কর্মব্যস্ততা। টিভি চ্যানেলের চেয়েও দৈনিক পত্রিকাগুলোতে কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে প্রবন্ধ, নিবন্ধ, প্রতিবেদন, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে।

জাল সার্টিফিকেট-জালিয়াতচক্রের মূলোৎপাটন জরুরি

প্রতারণার নানা রকম জাল বিস্তৃত; বিস্তৃত প্রতারকচক্রের শাখা-প্রশাখাও। ১২ সেপ্টেম্বর 'টাকায় কেনা যায় ঢাবি, বুয়েটের সার্টিফিকেট!' শিরোনামে সহযোগী একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা শুধু বিস্ময়করই নয়, যুগপৎ প্রশ্নবোধকও। ওই প্রতিবেদনে প্রকাশ, মূলত রাজধানীর নীলক্ষেত বাকুশাহ ও গাউসুল আজম মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে জাল সার্টিফিকেট-বাণিজ্য চলে এলেও এখন তা ক্রমেই মহানগরীর অন্যত্র বিস্তৃতি লাভ করেছে।