Showing posts with label আন্দোলন. Show all posts
Showing posts with label আন্দোলন. Show all posts

Saturday, October 10, 2026

দিল্লিতে আন্দোলন, বিমান থেকে আটক অভিজিৎ দিপকে

ভারতের দিল্লিতে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই বিমান থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দিল্লি পুলিশের একটি দল বিমানে উঠে তাকে আটক করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সিজেপির আরও দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে আটকের ঘটনাটি তুলে ধরেন। তার প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দিল্লি পুলিশের সদস্যরা বিমানের ভেতরে প্রবেশ করছেন। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে হইচই শুরু হয় এবং সিজেপির সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়।

ভিডিওতে অভিজিৎ দিপকেকে নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে আসা পর্যন্ত পুলিশ অপেক্ষা করতে পারত। এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের গ্রেপ্তার করতে পারতেন। আমরা ভয় পাই না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে ভারতের দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই আলোচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে ধ্রুব রাঠির পারিবারিক বাসায় সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে প্রবেশ করেন পুলিশ সদস্যরা। তার মা দরজা খুলে দিলে পুলিশ বাসার ভেতরে যায়। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে ওই বাসার বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।

দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে ধ্রুব রাঠি দিল্লিতে এসেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু ধ্রুব নয়, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই থেকে জানা গেছে, আরেক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাব্য কর্ণাটককেও আটক করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

অভিজিৎ দিপকে। ছবি: রয়টার্স
অভিজিৎ দিপকে। ছবি: রয়টার্স

দিল্লিতে বিক্ষোভে আটক মমতা-কেজরিওয়ালসহ নেতারা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

শনিবার ( ১০ অক্টোবর) তাদের পাশাপাশি বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও অন্যান্য নেতাকেও আটক করে পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি বাসস্ট্যান্ডে বসে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তার মুখে ব্যান্ডেজ দেখা যায়।

তৃণমূলের পাঁচ সংসদ সদস্য, যাদের মধ্যে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনও ছিলেন, তাদের আটক করে পুলিশের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের বাসের ভেতর থেকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় মমতা বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে।’ তিনি আরও বলেন, মানুষের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করতে ইন্ডিয়া জোটের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, সকাল থেকেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন ঘিরে রেখেছিল দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও আটক করা হয়।

পরে ভিডিওবার্তায় কেজরিওয়াল বলেন, দেশের তরুণেরা এই দমন-পীড়নে ভয় পাবে না। ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান তিনি।

কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও সিপিএমের সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসকেও আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামের আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। যন্তর মন্তরে বিরোধীদের কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আরও কয়েকজন বিরোধী ও ছাত্রনেতা আটক হন।

নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের এই আন্দোলন। শুক্রবার ( ৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, গত দুই বছরে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করতে হবে।

বৈঠকের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানান, সোমবার ( ১২ অক্টোবর) তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেবেন। নির্বাচন কমিশনের কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার বড় কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট।

তবে রাহুল গান্ধী রাষ্ট্রপতি ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তার এই দাবি সঠিক নয়।

সূত্র: এনডিটিভি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: এনডিটিভি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: এনডিটিভি

Thursday, October 8, 2026

ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে যেভাবে বাড়ছে ব্রিটিশদের অংশগ্রহণ

ফিলিস্তিন ইস্যুতে আগে কখনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না, এমন বহু ব্রিটিশ নাগরিকও এখন গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। কেউ রাস্তায় নেমেছেন, কেউ সংসদ সদস্যদের চিঠি লিখেছেন, আবার কেউ ফিলিস্তিনি সহায়তা কার্যক্রমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এর জেরে কেউ কেউ গ্রেপ্তার ও আইনি জটিলতার মুখেও পড়েছেন।

আর সংখ্যাটি দিন দিন বাড়ছে। আলজাজিরার বুধবারের বিশদ এক প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কটল্যান্ডের এডিনবরার কাছাকাছি গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী ৫২ বছর বয়সী ক্লেয়ার ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীদের একজন। পেশায় প্রশাসনিক কর্মী ক্লেয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না। কুকুর, বই পড়া ও রান্নাবান্না নিয়েই ছিল তাঁর শান্ত জীবন। তিন বছর আগেও নিজেকে রাজনৈতিক মানুষ হিসেবে ভাবতেন না তিনি।

এখন ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর প্রতি সমর্থন দেখানোর অভিযোগে তাঁর সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আলজাজিরাকে ক্লেয়ার বলেন, এর আগে কখনো কোনো আইনি ঝামেলায় পড়েননি তিনি। তবে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোরও ইচ্ছা নেই।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ক্লেয়ারের আগ্রহের শুরু ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে। সে সময় তিনি গাজার ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ইজ্জেলদিন আবুয়াইশের লেখা ‘আই শ্যাল নট হেট’ বইটি পড়েন। ২০০৯ সালে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণে তার তিন মেয়ে নিহত হওয়ার ঘটনা বইটিতে উঠে এসেছে।

বইটি পড়ার পর ৭ অক্টোবরের হামলা ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তিনি অনলাইনে অনুসরণ করতে থাকেন। ক্লেয়ারের ভাষায়, শুরুতে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছিল, সেখান থেকে দ্রুতই তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।

২০২৩ সালের আর্মিস্টিস ডেতে তিনি প্রথমবার ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুদ্ধবিরতির দাবি জানানো হয়। ওই সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান এসব বিক্ষোভকে ‘বিদ্বেষের মিছিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় ক্ষুব্ধ হন ক্লেয়ার।

এরপর তিনি নিয়মিত বিক্ষোভে অংশ নিতে থাকেন। সংসদ সদস্যদের কাছে চিঠি লেখার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় বিভিন্ন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগেও যুক্ত হন।

২০২৫ সালের আগস্টে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন তিনি। সংগঠনটি নাগরিক অবাধ্যতার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। ২০২৫ সালে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থন জানানোর অভিযোগে তিন হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে সন্ত্রাসবাদ আইনের দুটি ধারায় ক্লেয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হওয়া এবং অন্যদের ওই সংগঠনে যোগ দিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ক্লেয়ারের মতো একইভাবে ফিলিস্তিন আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন ৭০ বছর বয়সী মারজিও। কোলচেস্টারে বসবাসকারী মারজি বলেন, ২০২৩ সালের আর্মিস্টিস ডের আগে জীবনে কখনো কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি তিনি। ওই দিন হাতে ‘এখনই যুদ্ধবিরতি’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিলে অংশ নেন।

বিক্ষোভকে ‘বিদ্বেষের মিছিল’ বলা নিয়ে তারও আপত্তি ছিল। মারজির বাবা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তার শ্বশুর ছিলেন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সদস্য এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হাতে যুদ্ধবন্দী হয়েছিলেন।

মারজির ভাষায়, তাদের বাবা-মায়ের প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। এখন ব্রিটেনই ব্রিটিশ আইন ভঙ্গ করছে বলে তিনি মনে করেন।

আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন কাজ করা মারজি ও তার স্বামী এখন অবসরপ্রাপ্ত। গত জুলাইয়ে ওয়েস্টমিনস্টারে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে সন্ত্রাসবাদ আইনের একটি ধারায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে কি না, সে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

এই পরিস্থিতি তাদের পারিবারিক জীবনেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মারজি বলেন, পুলিশ যেকোনো সময় বাড়িতে এসে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে নাতি-নাতনিদের তাদের সঙ্গে রাখা নিরাপদ কি না, সেটিও ভাবতে হচ্ছে।

তবে সন্তানরা তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তার ধারণা, ভয় থাকলেও সন্তানরা তাদের নিয়ে গর্বিত।

ব্রিটেনের বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীতেও গত তিন বছরে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ও উদ্যোগের বিস্তার ঘটেছে। শিল্পী, শ্রমিক, রেলকর্মী, আর্থিক খাতের কর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক পেশাজীবীদের অনেকেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদে ব্রিটেনে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের কাছে ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রি বন্ধ, কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করারও দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ফলে গাজা যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেই নয়, ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নাগরিক আন্দোলনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। আগে রাজনীতির বাইরে থাকা বহু মানুষ এখন ফিলিস্তিন প্রশ্নে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আর তাদের কেউ কেউ সেই অবস্থানের কারণে পেশাগত, সামাজিক ও আইনি ঝুঁকিও গ্রহণ করছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ থেকে আটক করা হচ্ছে এক নারীকে। ছবি: রয়টার্স
লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ থেকে আটক করা হচ্ছে এক নারীকে। ছবি: রয়টার্স

Wednesday, October 7, 2026

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষক, অভিভাবক ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কয়েক শ মানুষ আহতও হয়েছেন। আর দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এ পরিস্থিতিকে কয়েক দশকের মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবর রয়টার্সের।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার কয়েক ডজন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে আড়াই লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। তবে আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার। প্যারিস, স্ত্রাসবুর, রেন ও তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সোমবারের সংঘর্ষে এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার সংসদে লেকর্নু জানান, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন কিশোর ও ৮৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, কয়েক দশকের মধ্যে শিক্ষা খাতকে এমন প্রাণহানি ও হতাহতের মুখে পড়তে হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবারের সহিংসতায় ৭০০-এর বেশি পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এদিন ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মী।

প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো প্রায় ৩০০ জনের অধিকাংশই মুখ ঢাকা বা মুখোশ পরা ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর বাইরে অধিকাংশ বিক্ষোভ অবশ্য শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে কয়েকটি দোকানের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দরিদ্র উপশহরগুলোতে এ বিক্ষোভের শুরু। পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক সংকট, অর্থের অভাব এবং অবকাঠামোর বেহাল দশা দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও পানি চুইয়ে পড়ছে, কোথাও আবার ইঁদুরের উপদ্রবের মতো মৌলিক সমস্যাও রয়েছে।

উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন জানিয়েছে, দেশের অর্ধেকের বেশি উচ্চবিদ্যালয় মঙ্গলবার অবরুদ্ধ ছিল অথবা সেদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। কিছু এলাকায় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ স্কুল সময় পুনর্বিবেচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানো। পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের দাবিও রয়েছে।

এদিকে, বিক্ষোভের কারণে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার লেকর্নু ও সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেন। লেকর্নু মন্ত্রীদের শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রাথমিক প্রস্তাব দিতে বলেছেন।

তবে সরকারের এসব উদ্যোগে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সন্তুষ্টি দেখা যায়নি। প্যারিসের একটি স্কুলের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অভিভাবক এমিলি লোম বলেন, সরকারের বক্তব্যে বাস্তব জীবনে তাদের সন্তানদের পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।

মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সংগঠনগুলো অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, আন্দোলনটি কিছু বহিরাগত ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং কয়েকটি এলাকায় তা নগর সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন অভিযোগে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ফ্রান্সের চলমান অর্থনৈতিক সংকটও আন্দোলনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং বাজেট ঘাটতি কমানোর চাপের মধ্যে শিক্ষা খাতে নতুন অর্থ বরাদ্দ করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার সাময়িকভাবে ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের ওপরে উঠে যায়।

শিক্ষায় সরকারের ব্যয় মূল্যস্ফীতির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক শিক্ষাগত পারফরম্যান্সে ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত (ওইসিডি) অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভকে অভিবাসন ও ইসলাম প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসনের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফ্রান্সে আগামী বসন্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে দেশটির রাজনীতিতে ডান ও বাম উভয় ধারার জনতুষ্টিবাদী দলগুলোর সমর্থন বাড়ছে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সরকারকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেছে।

বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিচ্ছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স
বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিচ্ছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স

Tuesday, October 6, 2026

ভারতে নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্থা, আবারো নতুন কর্মসূচির ডাক ককরোচ পার্টির

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। পুলিশের বাধা, আটক ও নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে আন্দোলন আরো জোরালো হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ১০ অক্টোবর আবারো দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন।

২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তী দুই দিনও অব্যাহত থাকে। বিক্ষোভকারীদের অনেকে চলমান কর্মসূচিকে ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে এবার দিল্লি পুলিশ আগের তুলনায় আরো কঠোর অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীদের কাউকেই যন্তর-মন্তরে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি।

রোববার দিল্লিতে সাধারণ মানুষ, সমাজকর্মী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ইন্ডিয়া গেট থেকে যন্তর-মন্তর পর্যন্ত ‘সিটিজেন্স মার্চ’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এর আগের দিন দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে কয়েকজন নারী সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর রোববার আন্দোলন আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

এর মধ্যে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কয়েকটি কলেজ ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তার দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে যন্তর-মন্তরে পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভের বিষয়টি একাকার হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দুই প্রতিবাদের বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ছাত্র সংগঠন আইসার নেত্রী নেহা বোরা অভিযোগ করেন, পুলিশ যে গাড়িতে তাকে নিয়ে যায়, সেখানে কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন না। পরে তাকে যন্তর-মন্তর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের নারেলা এলাকায় নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আইসার অভিযোগ, ওই সময় নেহা বোরার কাছে তার মোবাইল ফোনও ছিল না।

আন্দোলন চলাকালে আরো কয়েকজন নেতা দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন। আম আদমি পার্টির কর্মীরাও বিপুলসংখ্যায় ইন্ডিয়া গেট এলাকায় বিক্ষোভে যোগ দেন। দলের দিল্লি প্রদেশ সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজকেও আটক করে পুলিশ।

পরে এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওতে সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেন, ইন্ডিয়া গেটে তাকে পুলিশ উল্টো করে ঝুলিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, যাতে ক্যামেরায় তার মুখ ধরা না পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও পুলিশের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর-মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাদের জোর করে আটক করা হয়েছে। তার ভাষ্য, এটি এক দিনের প্রতীকী প্রতিবাদ নয়; জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

রোববার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মিছিল করে। ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করে সংগঠনটি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা যন্তর-মন্তর আবার মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা এবং জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচির কথা জানায়।

অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে ‘গর্জনা মোর্চা’ আয়োজন করে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)। কর্মসূচিতে দুই ঠাকরে নেতাই অংশ নেন।

এর আগে ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে বড় বিক্ষোভ হয়। পুলিশ অনুমতি না দিলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, সরকার এতটাই অযোগ্য যে দুই মাসের মধ্যে তাদের দ্বিতীয়বার বিক্ষোভে নামতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গান্ধী যদি ভারতের আত্মা হন, তবে আম্বেদকর দেশটির মেরুদণ্ড। তার দাবি, ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুই ভারতের জনগণকে ভোটাধিকার দিয়েছেন।

মুম্বাইয়ের ওই কর্মসূচিতে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং সুরকার-গায়ক বিশাল দাদলানিও উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধব ঠাকুরের শিবসেনাও এতে সমর্থন জানায়।

এদিকে মুম্বাইয়ের কর্মসূচির পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ফের বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছি, আপনিও গুছিয়ে নিন, দিল্লি রওনা হতে হবে।’

দিল্লিতে যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লি মেট্রোও ১০টির বেশি স্টেশন বন্ধ করে দেয়। এরপরও বিপুলসংখ্যক মানুষ যন্তর-মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। নেহা বোরা, প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব, সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিংসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হলেও কাউকেই বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সকালে এক্সে পোস্ট করে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে বাদ পড়া নামগুলো পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় ভোটার তালিকা যাচাই, বাদ পড়া ভোটারদের শনাক্ত করা এবং তাদের ফর্ম-৬ পূরণ করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, বুথ লেভেল কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। তরুণ ভোটারদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং বুথ পর্যায়ে বিশেষ শিবিরও আয়োজন করা হবে।

কেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি?

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়া অপর দুই নির্বাচন কমিশনার গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের জানানো হয়নি। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং কথিত ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ পদক্ষেপ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী আপত্তি তুলেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো করেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে এবং কমিশনের প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপন করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ প্রয়োজন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ভারতে নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্থা, আবারো নতুন কর্মসূচির ডাক ককরোচ পার্টির
রোববার নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

Monday, October 5, 2026

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, বন্ধ ৫০০ স্কুল

শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দেশটির প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ক্লাস বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভি।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, এই সংখ্যা ফ্রান্সের মোট প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। বিক্ষোভের কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্যারিস অঞ্চলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত সপ্তাহে আরও জোরালো হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ, স্কুল ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন।

প্যারিস ঘিরে ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সেখানে ১৬০টির বেশি উচ্চবিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা ছিল। এদিন প্যারিসে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি ঘটনাও ঘটে। রাজধানীর ভোকল্যাঁ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথের কাছে সকালে তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রথম আগুনের খবর স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পুলিশকে জানান। পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে যায় এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ভবনের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়। পরে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীকে স্কুলটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, প্যারিসের তুরগো উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সোমবার ভোরে আবর্জনার বাক্স, বেড়া ও বিভিন্ন সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রবেশপথ অবরোধ করে।

স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর গ্রেপ্তার ও আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের অপ্রাপ্তবয়স্ক।

শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭৮ কর্মী এবং প্রায় ৬০০ পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭০ বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশের সাধারণ পরিদর্শক দপ্তর পাঁচটি তদন্তও শুরু করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রু পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন। অক্টোবরের শেষ নাগাদ সংকট নিরসনে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তার সরকার।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, বন্ধ ৫০০ স্কুল
ছবি: সংগৃহীত।

Monday, September 28, 2026

ইমরান খানের মুক্তি কোন পথে, আন্দোলন স্থগিতের পর কী করছে পিটিআই

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কারাগারে থাকা ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। এর আগে ইমরানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। একই সময়ে ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সড়ক অবরোধ এবং পিটিআই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।

ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে আদিয়ালা কারাগারে আটক আছেন। তার দল ও পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দাবি করে আসছে। সরকার অবশ্য ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, একাকী বন্দিত্ব বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আগস্টে জানিয়েছিল, ইমরান একজন দণ্ডিত বন্দি হিসেবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিরোধের সর্বশেষ বড় ঘটনা ঘটে আগস্টে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ জানানো হলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ১৮ আগস্ট তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া, ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসায় যুক্ত করা, নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত একটি বহুবিষয়ক চিকিৎসক বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করার কথাও বলে।

তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। পাকিস্তান সরকার ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে ইসলামাবাদের সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) রাতে চিকিৎসা পরীক্ষা করিয়ে পরদিন ভোরে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠায়। সরকারের বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসকেরা তাকে পরীক্ষা করে কারাগারে ফেরত পাঠানোর উপযোগী বলে মত দিয়েছেন।

এরই মধ্যে ইমরানের পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে আসছিল, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার নির্দেশ দেয়। আদালত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইমরানের ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করতে বলে।

আগস্টে অবশ্য দীর্ঘ বিরতির পর ইমরান তার বোন নোরিন এবং স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার তার বোনদের সাক্ষাৎ আটকে দেওয়া হয় বলে পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইমরানের বোনেরা আবারও তাকে দেখতে পারেননি।

ইমরানকে ঘিরে সর্বশেষ বড় উত্তেজনা তৈরি হয় পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে। দলটি ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে বড় ধরনের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। মূল দাবি ছিল ইমরান খানের মুক্তি। এর আগে সরকার রাজধানীর প্রবেশপথে কনটেইনার বসানো, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং বিভিন্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। ইসলামাবাদে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শত শত পিটিআই কর্মীকে আটক করা হয়।

ইসলামাবাদ হাইকোর্টও পিটিআইয়ের প্রস্তাবিত দীর্ঘমার্চ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালত বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দল, নেতা বা প্রাদেশিক সরকার এমনভাবে রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক বা প্রবেশপথ দখল করতে পারে না, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল, চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইমরানের তিন বোনকে আটক করা হয়। প্রথমে আলিমা খানকে লাহোরে আটক করা হয়। এরপর উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও আটক করে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার’ আইনের অধীনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়। পিটিআই ও তাদের আইনজীবীরা আটককে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেন। লাহোর হাইকোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে আটকাদেশ স্থগিত না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।

ইমরানের বোনদের গ্রেপ্তারকে পিটিআই তাদের নেতার ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের কারণে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। পিটিআই ২৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করে, ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহাইল আফ্রিদি জানান, নতুন নির্ধারিত তারিখে পেশোয়ার থেকে দীর্ঘমার্চ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীমুখী দীর্ঘমার্চের বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে।

মার্চ পিছিয়ে দেওয়ার আগে পিটিআই ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে একাধিক যোগাযোগের খবরও এসেছে। গত চার-পাঁচ সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে অর্ধডজনের বেশি ব্যাকচ্যানেল বৈঠক হয়েছে। সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয় হিসেবে পিটিআইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এসব তথ্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে আলোচনায় ইমরানের চিকিৎসা ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির অবস্থান নিয়েও সম্ভাব্য ছাড়ের কথা উঠেছিল। তবে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে।

ইমরানের ছেলে কাসিম খানও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে তিনি সমর্থকদের আদিয়ালা কারাগারের কাছে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা ছিল, কারাগারের কাছে বড় জমায়েত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং তার বাবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খান নিজে কারাগারে থাকলেও তাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত থামেনি। বরং তার স্বাস্থ্য, কারাগারে সুযোগ-সুবিধা, পরিবারের সাক্ষাৎ, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি—সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে।

এখন পিটিআইয়ের সামনে নতুন তারিখ ৪ অক্টোবর। ওই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকার রাজধানীতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে এবং ইমরানের পরিবার ও দলের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি হয় কি না—এসবই আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমরান খান এখনো আদিয়ালা কারাগারেই আছেন এবং তার মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, জিও নিউজ, ডন, দ্য নিউজ পাকিস্তান, আরব নিউজ, এপি নিউজ, দ্য ইকোনমিক টাইমস, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান

ইমরান খানের মুক্তি কোন পথে, আন্দোলন স্থগিতের পর কী করছে পিটিআই

Tuesday, August 25, 2026

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে আবারো উত্তাল ভারত

বিহারের রাজধানী পাটনায় নিয়োগ পরীক্ষা ও চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ডাক বাংলো মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।

মঙ্গলবার বিপুলসংখ্যক বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) চাকরিপ্রার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে পূর্বঘোষিত মিছিল শুরু করেন। পরে তারা ডাক বাংলো মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয় এবং একপর্যায়ে তারা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশ জলকামান ছুড়লে আন্দোলনকারীদের অনেকে ভিজে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাটনার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডাক বাংলো মোড়ে অতিরিক্ত বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

যেসব দাবিতে আন্দোলন

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে পাটনার গার্দানিবাগ এলাকায় অবস্থান ও বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এক ধাপে নেওয়া, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিহার স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (বিএসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন এবং হিন্দি মাধ্যমের প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষাটি বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার কামাখ্যা নারায়ণ সিং বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আলোচনার ফল ইতিবাচক। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসবেন, তাদের থামানো হবে এবং সামনে যেতে দেওয়া হবে না।

সরকারের সঙ্গে সংলাপের দাবি

বিক্ষোভস্থলে কংগ্রেস নেতা সুশীল কুমার বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় এক ধাপের ব্যবস্থা এবং নেগেটিভ মার্কিং বাতিলসহ বিপিএসসি, বিএসএসসি ও সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে অনশন করলেও সরকার তাদের সঙ্গে কার্যকর সংলাপে বসেনি। মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে চলমান বিপিএসসি পরীক্ষাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন বিহারের বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি উপেক্ষা না করে তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

তেজস্বী যাদবের দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। এছাড়া রেভল্যুশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, এসএসএআই ও ছাত্র যুব সংগ্রাম মোর্চাসহ ১৪টি ছাত্র ও যুব সংগঠনও বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানাতে ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’


বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ হিসেবে মাসিক ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতি মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব শিবির আয়োজন করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সরাসরি নিজেদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

এ ছাড়া অনলাইনে অভিযোগ নিবন্ধন এবং তার অগ্রগতি অনুসরণের সুবিধাও থাকবে। এ জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল ও ১১০০ হেল্পলাইন চালুর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মন্তব্য ঘিরেও ক্ষোভ

এর আগে বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক রাজেশ কুমার বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হাতি চলে বাজার, কুকুর ভোকে হাজার’—এই মন্তব্যকে আন্দোলনকারীদের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা।

তেজস্বী যাদব ওই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, পরীক্ষায় বারবার অনিয়ম ও বাতিলের ঘটনা ঘটলেও দায় নির্ধারণ বা জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের দাবি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত সংলাপ না হলে পাটনায় আন্দোলন আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে আবারো উত্তাল ভারত

Monday, August 24, 2026

জেন-জির ক্ষোভ সামলাতে জোড়া ব্যবস্থা বিজেপির by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

শুধু জেন–জি নয়, নতুন প্রজন্মের মন জিততে বিজেপি এখন থেকে জেন আলফাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চলেছে। কারণ, আজ যারা ১৬–১৭, ২০২৯ সালে লোকসভা ভোটে তারা ভোটাধিকার পেয়ে যাবে। সংগঠনের দায়িত্ব নতুন নেতৃত্বের হাতে সঁপে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৈরি করে দেওয়া ‘রোড ম্যাপ’ অনুযায়ী বিজেপি এখন নতুন প্রজন্মের মন জেতার ওপরই বেশি করে নজর দিতে চলেছে।

সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে সদ্য গঠিত ৬৫ সদস্যের জাতীয় টিমের প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার ওই সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন, এত দিন দলীয় নেতারা সবাইকে কর্তব্য সম্পর্কে জানিয়ে এসেছেন। কী কী করতে হবে, সেসব ‘বাণী’ শুনিয়ে এসেছেন। এবার থেকে চলতে হবে নতুন করে। বাণী নয়, ভাষণ নয়, নেতাদের এবার থেকে নতুন প্রজন্মের মুখোমুখি বসতে হবে। তাঁদের প্রশ্ন করতে দিতে হবে। অভিযোগ ও চাহিদার কথা বলতে দিতে হবে। নেতাদের মন দিয়ে সেসব কথা শুনতে হবে। সেই অনুযায়ী দলকে চালনা করতে হবে। ওপর থেকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

অর্থাৎ বিজেপিতে নেতাদের একতরফা ভাষণবাজির দিন শেষ হতে চলেছে। প্রাধান্য পেতে চলেছে নয়া প্রজন্মের সঙ্গে সংলাপ শুরুর দিন।

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণও আছে। ভুঁইফোড়ের মতো গজিয়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে দেশের যুবসমাজ বা জেন–জি যেভাবে দিকে দিকে প্রতিবাদী হয়ে উঠছে, বিজেপির কাছে তা অশনিসংকেত। শুধু বিজেপিই নয়, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘও (আরএসএস) নয়া প্রজন্মের এই অসন্তোষ টের পেয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে সজাগ করে দিয়েছে। আরএসএস ও তার সঙ্গী সংগঠনগুলো, যাদের ‘সংঘ পরিবার’ মনে করা হয়, তাদের নেতারা সম্প্রতি অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপট্টনমে এক সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। সংঘ নেতৃত্বের উপলব্ধি, তরুণদের মধ্যে হতাশা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর ধারাবাহিক প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব বৃদ্ধি, উপযুক্ত চাকরির আকালসহ নানা কারণে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সরকারের ওপর তাদের আস্থা ও ভরসা টলে যাচ্ছে। সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত এই উপলব্ধির কথা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়ে বলেছেন, সরকারকে যেমন যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে, দলকে তেমন পরিচালনা করতে হবে নতুনভাবে, নতুন ভাবনায়।

একদিকে সংলাপ, অন্যদিকে প্রতিরোধ: বিজেপির সাঁড়াশি নীতি

তবে শুধু ‘ভুল শোধরানো’ নয়, তেলাপোকাদের দল সিজেপির মোকাবিলায় বিজেপি নেতৃত্ব কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নৈরাজ্য বন্ধে প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিচ্ছে এবং সেটা প্রয়োগ করা হচ্ছে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।

স্বাধীনতা দিবসের দিন, অর্থাৎ ১৫ আগস্ট থেকে সিজেপি দেশজুড়ে এক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘স্কুল ঠিক করো’। দলীয় নেতা–কর্মীরা রাজ্যে রাজ্যে সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক আছেন কি না, অবকাঠামো কেমন, শিক্ষার পরিবেশ কেমন, পড়ুয়ারা কতটা সন্তুষ্ট—এসব তাঁরা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন, যাতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। সিজেপির এই কর্মসূচির কথা জানাজানি হওয়ার পর বহু জেন আলফা স্কুলপড়ুয়া নিজেরাই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে। বিজেপি এই কর্মসূচির বিরোধিতা করছে। কোথাও সিজেপি নেতাদের মারধর করা হয়েছে। তাঁদের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোথাওবা অনধিকার চর্চার মামলা করা হয়েছে।

যেমন রাজস্থানের এক গ্রামে সিজেপির শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাংকাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কলকাতার কোথাও তাঁদের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়নি। কোথাও প্রতিনিধিদের মারধর করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, দিপকেসহ সিজেপি নেতারা ওই স্কুলে বিনা অনুমতিতে ঢুকেছিলেন। পড়ুয়াদের সঙ্গে স্কুলের হালহকিকত নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের কাজে বাধা দিয়েছেন।

বিজেপির ‘হার্ড লাইনাররা’, মানে কট্টরপন্থীরা মনে করছেন, সংলাপের প্রয়োজন আছে, কিন্তু তার পাশাপাশি সিজেপিকে হতোদ্যম করাও জরুরি। তাদের এমন কিছু করতে দেওয়া ঠিক হবে না, যাতে সমাজে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়। অরাজকতা দেখা যায়। এই কট্টরপন্থীদের কাছে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী।

নৈরাজ্য–তত্ত্ব ও রাহুল গান্ধীর দাদাগিরি

শুধু তেলাপোকারাই নয়, নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও বিজেপির শীর্ষ নেতারা তুলতে শুরু করেছেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গত ২০ জুলাই সাহিল লোচাব নামে ১৯ বছরের এক তরুণ পুলিশের ছোড়া ‘পেলেট’ বা ছররা গুলিতে আহত হন। তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ছররার কারণে লোপ পেয়েছে। সাহিলের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তিনি এফআইআর করতে পারছিলেন না। পুলিশ কোনো না কোনো উসিলায় তাঁর এফআইআর নিচ্ছিল না। ফিরিয়ে দিচ্ছিল। উপায়ান্তর না দেখে তিনি রাহুল গান্ধীর শরণাপন্ন হন।

সাহিল, তাঁর মা ও সাহিলের আইনজীবীকে নিয়ে রাহুল সম্প্রতি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে ধরনায় বসেন। পুলিশের বড় কর্তাদের তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশকে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর নিতেই হবে। কোনো অজুহাতেই তা এড়ানো যাবে না। পুলিশ টালবাহানা করলে সাহিল, তাঁর মা ও আইনজীবীকে নিয়ে রাহুল থানার সামনে ধরনায় বসে যান। তাঁদের সঙ্গ দিতে একে একে চলে আসেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, জয়রাম রমেশ, সলমন খুরশিদ, পবন খেরাসহ বহু কংগ্রেস নেতা ও কর্মী। পার্লামেন্ট স্ট্রিটে বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি চলাচল। কংগ্রেসিরা সরকারবিরোধী স্লোগানে তল্লাট মুখর করে তোলেন। সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরনার পর অবশেষে দিল্লি পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য হয়।

রাহুলের ওই প্রতিবাদী চরিত্র, থানার সামনে ধরনায় বসে যাওয়ার সমালোচনায় মুখর হন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। সাবেক সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন, রাহুল নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছেন। এইভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেও ধরনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। রবিশংকর প্রসাদ সংবাদ সম্মেলন করে রাহুলের ‘অগণতান্ত্রিক’ মনোভাবের নিন্দা করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাহুলকে তাঁরা টলাতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে কংগ্রেসিদের বলপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে থেকে তা করা যায়নি, যেহেতু আইনত পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য। রাহুলের অনমনীয়তার দরুন এত দিন টালবাহানা করা দিল্লি পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য হয়। রাহুল তারপর বলেন, এটাই প্রতিবাদের জয়। ন্যায়ের জয়। পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য। অথচ তা না নিয়ে তারাই আইন লঙ্ঘন করছিল।

বিজেপির ‘নৈরাজ্য–তত্ত্ব’ এবং মামলা দায়ের তেলাপোকাদের দমাতে পারছে না। এফআইআর করা সত্ত্বেও তারা ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি থেকে সরছে না। একইভাবে রাহুল গান্ধীও বন্ধ করছেন না ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি। গত শনিবার মহারাষ্ট্রের পুনেয় রাহুলের সমাবেশে ছাত্র–ছাত্রীদের বিপুল ভিড় দেখা যায়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও ওই সমাবেশে জেন–জি ও জেন আলফার ভিড় ছিল চমকে দেওয়ার মতো। রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস এই কর্মসূচির আয়োজন করছে।

রাহুলকে ঘিরে এই ভিড় বিজেপির বাড়তি চিন্তার কারণ। সরকারের প্রতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ জেন–জি এবং জেন আলফার সমর্থন কংগ্রেসের দিকে যাতে ঢলে না পড়ে, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিজেপি জোর দেওয়ার সেটাও একটা বড় কারণ।

ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের মিছিলে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ২০ জুলাই ২০২৬
ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের মিছিলে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ২০ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

Wednesday, August 19, 2026

ভারতে মুসলিম যুবকের পরিবারের জন্য ৪ দফা দাবি ককরোচদের

উত্তর কলকাতার ‘ভারত সভা হল’-এ নির্ধারিত ‘মিট আপ’ শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিজেপির চাপে অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।

মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আশুতোষ অভিযোগ করেন, ‘ভারত সভা হল’-এর পাশাপাশি কলকাতার আরো প্রায় ৬টি অডিটোরিয়াম তাদের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বুকিং দিতে রাজি হয়নি। তার দাবি, রাজনৈতিক চাপের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ওরা ভয় পেয়েছে।

তবে বাধা দিয়ে তাদের থামানো যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আশুতোষ। তিনি জানান, খুব শিগগিরই আরো বড় পরিসরে ‘মিট আপ’ আয়োজন করা হবে। যত আটকানোর চেষ্টা হবে, আমরা তত শক্তিশালী হব।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে বাঁকুড়ার ইন্দাসের যুবক শেখ আব্দুল হাফিজের পরিবারের পাশে থাকার কথাও জানান সিজেপির মুখপাত্র। দলটির দাবি, সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় আব্দুলের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকে হত্যা করা হয়েছে।

আব্দুলের পরিবারের জন্য চার দফা দাবি তুলে ধরেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং আব্দুলের নামে অর্থ সংগ্রহ করে পরিবারকে সহায়তা করা।

এ জন্য শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের কাছেও আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন আশুতোষ।

তবে সরাসরি নির্বাচনি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও সিজেপি অংশ নেবে না বলে জানান আশুতোষ। তিনি বলেন, আমরা প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করব। রাজনীতি করার জন্য আরো অনেকে আছে।

সূত্র: এই সময়

ভারতে মুসলিম যুবকের পরিবারের জন্য ৪ দফা দাবি ককরোচদের

অপরাধ প্রমাণ হয়নি, তবু ৬ বছর জেলে ভারতের মুসলিম ছাত্র নেতা উমর খালিদ

ভারতের স্বাধীনতা দিবস ঘিরে যখন স্বাধীনতার অর্জন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন দিল্লির তিহার কারাগারে প্রায় ৬ বছর ধরে বন্দি সাবেক জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) শিক্ষার্থী নেতা উমর খালিদের মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি এখনো কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি; এমনকি মূল মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও এখনো শুরু পর্যায়ে রয়েছে।

উমর খালিদ দিল্লির ২০২০ সালের দাঙ্গাকে ঘিরে করা ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ মামলায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, দাঙ্গা ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়ার মতো অভিযোগও আনা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনের সময় খালিদসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির দাঙ্গায় ৫৩ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম। পুলিশের দাবি, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ ছিলেন খালিদ।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন উমর খালিদ। তার দাবি, দাঙ্গার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনো ষড়যন্ত্রেও তিনি যুক্ত ছিলেন না। তার সমর্থকদের ভাষ্য, মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও ভিডিও নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

জামিনের পথেও দীর্ঘসূত্রতা

খালিদের মামলায় সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে দীর্ঘ সময় ধরে বিচারপূর্ব আটক থাকা। ইউএপিএর ৪৩ডি(৫) ধারায় জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত রয়েছে। আদালতকে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট হতে হয় যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই—যা সাধারণ ফৌজদারি মামলায় জামিনের প্রচলিত নীতির তুলনায় অনেক কঠিন।

২০২২ সালের অক্টোবরে দিল্লি হাইকোর্ট খালিদের জামিন আবেদন খারিজ করেন। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। সেখানে শুনানি দীর্ঘ সময় ধরে এগোয়নি। বিভিন্ন কারণে এক বছরেরও বেশি সময় পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নিম্ন আদালতে নতুন করে জামিনের আবেদন করেন। সেখানেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি।

২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট একই মামলার পাঁচ অভিযুক্ত—গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মোহাম্মদ সেলিম খান ও শাদাব আহমদকে জামিন দেন। তবে উমর খালিদ ও আরেক কর্মী শরজিল ইমাম জামিন পাননি। আদালত তাদের অবস্থান অন্য অভিযুক্তদের তুলনায় ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন।

এরপর দীর্ঘ বিচারপূর্ব আটক নিয়ে নিম্ন আদালতগুলো কীভাবে আইনি নজির প্রয়োগ করছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে। সেই সুযোগে খালিদ ও শরজিল ইমাম নতুন করে জামিনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তাদের জানানো হয়, জানুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কারণে ট্রায়াল কোর্ট ওই সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারবে না।

বর্তমানে খালিদ আবারো দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এটি তার অষ্টম দফা জামিন আবেদন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। পুলিশের জবাব চাওয়া হয়েছে এবং আগস্টের শেষ দিকে এ বিষয়ে শুনানির কথা রয়েছে।

‘বিচারের আগে শাস্তি’ নিয়ে প্রশ্ন

খালিদের মামলাকে কেন্দ্র করে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো মূলত একটি প্রশ্ন তুলছে—একজন অভিযুক্তকে বছরের পর বছর বিচার ছাড়াই কারাগারে রাখা কতটা ন্যায়সংগত?

মামলায় বিপুল পরিমাণ নথি ও প্রমাণ রয়েছে বলে আদালতে উল্লেখ করা হলেও সেগুলোর বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা হয়নি। এমনকি গ্রেপ্তারের কয়েক বছর পরও মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচকদের মতে, দ্রুত বিচারের সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে এত দীর্ঘ বিচারপূর্ব আটক সাংঘর্ষিক। তাদের যুক্তি, কোনো ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হন কি না, তা আদালতের বিচারের বিষয়; কিন্তু বিচার শুরুর আগেই বছরের পর বছর কারাবন্দি থাকা কার্যত শাস্তির মতো হয়ে যেতে পারে।

ইউএপিএর কঠোর জামিন বিধান নিয়েও জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও দেশীয় নাগরিক অধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, সন্ত্রাসবিরোধী এই আইনটি রাজনৈতিক মতবিরোধ, সাংবাদিকতা ও প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করা হয়েছে এবং দীর্ঘ বিচারপূর্ব আটক অনেক ক্ষেত্রে কার্যত শাস্তিতে পরিণত হয়েছে।

তবে খালিদের মামলায় আদালতের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও নেই। আদালত বিদ্যমান আইন ও তার কঠোর জামিন কাঠামোর মধ্যেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক দীর্ঘ কারাবাস ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব বিশেষ পরিস্থিতিতে জামিনের কারণ হতে পারে।

স্বাধীনতার প্রশ্নে উমর খালিদের মামলা

উমর খালিদের মামলা নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলন, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা এবং ভারতে রাজনৈতিক ভিন্নমতকে নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখার প্রবণতা—এই তিনটি বিষয়কে একই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

তার সমর্থকদের মতে, সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, তিনি গুরুতর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—যার বিচার আদালতেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।

শেষ পর্যন্ত খালিদ দোষী না নির্দোষ, সেটি নির্ধারণ করার দায়িত্ব আদালতের। কিন্তু প্রায় ছয় বছর ধরে বিচার না হওয়াই এখন তার মামলার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল্যায়ন শুধু রাষ্ট্রের অর্জন দিয়ে নয়, রাষ্ট্র তার বিরোধীদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করে—তার মাধ্যমেও হয়।

উমর খালিদের মামলা তাই শুধু একজন ব্যক্তির জামিনের প্রশ্ন নয়; এটি ভারতের বিচারব্যবস্থায় দ্রুত বিচার, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার কতটা কার্যকরভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে—সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: দ্য অবজার্ভার পোস্ট

অপরাধ প্রমাণ হয়নি, তবু ৬ বছর জেলে ভারতের মুসলিম ছাত্র নেতা উমর খালিদ

Tuesday, August 18, 2026

এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

‘তেলাপোকা’ আন্দোলনে নয়া কর্মসূচির লক্ষ্য সরকারি স্কুলঃ ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে আলোচিত ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার সরকারি স্কুলগুলোর দুরবস্থা নিয়ে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে এই কর্মসূচি শুরুর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এক আন্দোলনকর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের এই চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে ভূমিকা রাখার দাবি করে। ৩৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচির পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে গত জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

এবার সংগঠনটির নতুন কর্মসূচির নাম ‘ফিক্স দ্য স্কুলস’। এর আওতায় সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকার সরকারি স্কুল পরিদর্শন করে সেখানকার অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপদ পানীয় জল, কার্যকর শৌচাগার, বিদ্যুৎ, ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ, স্কুলের নিরাপত্তা, মধ্যাহ্নভোজ এবং শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ২৬ বছর বয়সী আবদুল হাফিজ। ওই স্কুলেই একসময় পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় হাফিজ ও তার বাবা মোহাম্মদ মাফিক আহত হন। দুই দিন পর ৫১ বছর বয়সী মাফিক মারা যান।

তবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব হামলাকারীদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে এবং ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পরও আবদুল হাফিজ জানিয়েছেন, উন্নত শিক্ষার দাবিতে তাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, শুধু ভালো স্কুলের দাবি জানানোর কারণে মানুষের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় স্কুলে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও পানীয় জলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের এক নেতা। স্থানীয় কর্মকর্তারা পরে এসব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান।

তবে রাজস্থান সরকার সরকারি স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিও ধারণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অনেক সরকারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও শিক্ষার নিম্নমানের মতো সমস্যা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এসব বিষয়কে নতুন করে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংগঠনটির কর্মীরা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তারা হামলা ও সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, বাধা যতই আসুক সরকারি স্কুলগুলোর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।

এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ
ভারতের নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে ২০২৬ সালের ১৯শে জুলাই তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছেন এবং ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে মোবাইল ফোন নাড়াচ্ছেন। রয়টার্স

চাপের মুখেও আবু সাঈদকে গুলির দৃশ্য কীভাবে টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিল, উঠে এল সেই গল্প

‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন, সেই অবস্থাতেই তাঁর বুকে গুলি করছে পুলিশ—এটি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সবচেয়ে শক্তিশালী দৃশ্যগুলোর একটি। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সেই দৃশ্যের ফুটেজ প্রথম প্রচারিত হয়েছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে।

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রবল চাপ সত্ত্বেও সেই দৃশ্য কীভাবে এনটিভিতে প্রচার করা হয়েছিল, সেই গল্প উঠে এল সাংবাদিকদের নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে এনসিপি–সংশ্লিষ্ট ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স (ডিজেএ) আয়োজিত ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সেই গল্প বলেছেন এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফকরুল আলম (কাঞ্চন)। ওই দৃশ্য ধারণ করা এনটিভির রংপুরের স্টাফ ক্যামেরাপারসন আসাদুজ্জামান আরমান এবং টেলিভিশনটির রংপুরের সিনিয়র স্টাফ করেসপনডেন্ট এ কে এম মঈনুল হকও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার সেই দৃশ্য এনটিভিতে প্রচারের গল্প বলতে গিয়ে ফকরুল আলম বলেন, ‘জুলাই বেদনার স্মৃতিতে ভরা। কারণ, যেদিন প্রথম আলোতে ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর ছাপা হয়, সেদিন বিভিন্ন টেলিভিশন দুজনের মৃত্যুর খবর প্রচার করেছিল। আমাদের কাছে অনেক ফুটেজ থাকলেও দেখানো সম্ভব হয়নি। আবু সাঈদকে যেদিন শহীদ করা হয়, সেদিন রানডাউনে (বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে) তিনি ছিলেন।’

সে সময় আন্দোলনে সংঘাত-সংঘর্ষের খবর দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল উল্লেখ করে ফকরুল আলম বলেন, ‘১৬ জুলাই সংবাদ চলাকালে আমরা দুটি জায়গা থেকে লাইভ করি। প্রথমে বরিশালে সংঘর্ষের ঘটনার লাইভ প্রচারিত হয়। এরপর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে রংপুরে লাইভে চলে গেলাম। আরমান (পাশে থাকা) সেদিন স্পটে ছিলেন। তিনি সেদিনের সুপার হিরো। মঈনুলও ছিলেন। ক্যামেরা নিয়ে দুঃসাহসী কাজটি করেছিলেন আরমান।’

শুধু এনটিভিই আবু সাঈদকে গুলি করার সেই দৃশ্য লাইভে প্রচার করেছিল উল্লেখ করে এনটিভির জ্যেষ্ঠ সংবাদ ব্যবস্থাপক ফকরুল আলম বলেন, ‘লাইভের পর আমরা নিউজরুমে হতভম্ব হয়ে পড়ি, হাত-পা কাঁপছিল। কারণ, আমি জানতাম এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। এরপর অনেক কিছু হলো—নানা রকম জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা, সরকারি কর্মকর্তা, মালিকপক্ষ ও জ্যেষ্ঠ সহকর্মীদের অনেক প্রশ্ন।’

সে যাত্রায় কীভাবে জেলে যাওয়া থেকে রেহাই পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে ফকরুল আলম বলেন, ‘সেদিন গোয়েন্দাদের বলেছিলাম—এ রকম একটি ঘটনা ঘটবে আমি তো জানি না, সংঘর্ষের ঘটনা দেখে লাইভে গিয়েছিলাম, আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে, পুলিশ তাঁকে গুলি করবে—তা আমরা জানতাম না। এ কথা বলে সেদিন রেহাই পেয়েছিলাম।’

জুলাইয়ের স্মৃতিচারণা, ক্ষোভ–হতাশা

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জুলাই অভ্যুত্থানের সংবাদ সংগ্রহ করা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা–প্রাপ্তি নিয়ে অনুষ্ঠানে কথা বলেন। তাঁদের অধিকাংশ জুলাইয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করেন। কেউ কেউ অভ্যুত্থানের পর চাকরিচ্যুতির ঘটনা উল্লেখ করেন। কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হওয়ায় কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেন।

ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জুলাইয়ে যাঁরা যাত্রাবাড়ী-রামপুরার মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে ফুটেজ নিয়েছেন, মোবাইলকে যাঁরা অস্ত্রে পরিণত করেছিলেন, গুলির পাশে দাঁড়িয়ে জুলাইকে লিপিদ্ধ করা সেই সাংবাদিকদের কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের চেয়ে বড়। আর যাঁরা জুলাইয়ের বিপক্ষে ছিলেন, ইতিহাস তাঁদের অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে।

জুলাই-পরবর্তী সময়ে কৌশলে কিছু মানুষের সুবিধা পাওয়া আর কিছু মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অভ্যুত্থানে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ। ঘৃণার সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের অ্যাসাইমেন্ট এডিটর মাকসুদ উন নবী জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংবাদ প্রচারে বিভিন্ন সংস্থার বাধার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতি বিশ্বাস উঠে যাওয়ায় অনেক ছাত্র-জনতা সাংবাদিকদের মেরেছিল।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভ্যুত্থানের সময় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করতেন। সে সময়ের অভিজ্ঞতা তুরে ধরে তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র পাওয়ায় তাঁকে টার্গেট (নিশানা) করা হয়েছিল। ২৬ জুলাই তাঁর অফিসে তাঁকে তুলে আনতে গিয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অফিসে ঢুকে তাঁর ব্যবহৃত কম্পিউটার ভাঙচুর ও নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করা হয়। মালিক–সম্পাদককে চাপ দেওয়া তাঁকে র‌্যাবের হাতে তুলে দিতে। তবে সম্পাদক দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে তাঁকে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

বর্তমানে কালের কণ্ঠে কর্মরত জাহিদুল ইসলাম অভ্যুত্থানের সময় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে কাজ করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশের আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য ছিলেন সাংবাদিকেরা।

বর্তমানে দৈনিক আগামীর সময়ের স্টাফ রিপোর্টার আমজাদ হোসেন (হৃদয়) অভ্যুত্থানের সময় ছিলেন দেশ রূপান্তর পত্রিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক। তিনি বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন, ৯ দফা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গুজব ডিবাঙ্ক (উন্মোচন) করতে ভূমিকা রেখেছিলেন সাংবাদিকেরা।

অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মহিউদ্দিন মুজাহিদ (মাহি)। সে সময় ‘কঠিন সেন্সরশিপে’ আবদ্ধ থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এখন টেলিভিশন চ্যানেল থেকে চাকরিচ্যুত বেলায়েত হোসেন নিজের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কাছে প্রশ্ন রাখেন, দায়িত্বে থাকার সময় জুলাইয়ে ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের সঙ্গে বসার কোনো তাড়না তাঁর ছিল কি না।

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান দ্য ডেইলি স্টারের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাইমা ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর অনেক সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে মালিকানা পরিবর্তন বা তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক অ্যালায়েন্সটা শিফট হয়েছে। এটা ভবিষ্যতে পীড়া দেবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে নিউ এজের নির্বাহী সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আসিফ শওকত (কল্লোল), ডেইলি স্টারের জিনা তাসরিন, টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান বাবলু, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক জুমাতুল বিদা, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক তৌহিদ হায়দার, এখন টিভির মাহমুদ রাকিব, যমুনা টিভির আহমেদ রেজা ও লামিয়া তিথি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অতিথিদের একাংশ। রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে। ১৭ আগস্ট ২০২৬
‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অতিথিদের একাংশ। রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে। ১৭ আগস্ট ২০২৬ ছবি: এনসিপির সৌজন্যে

Monday, August 17, 2026

নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি, তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ বিজেপি

ভারতের তরুণদের ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ছাত্র আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, উপনির্বাচনে পরাজয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মন জয়ের ব্যর্থ চেষ্টা—সব মিলিয়ে বিজেপিকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলে চাপ সৃষ্টি করেছে। টানা সাত সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এর পরপরই কয়েকটি উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ থেকে তরুণদের মধ্যে এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। পরে সেটিই ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়। আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ভারতের বিভিন্ন শহরে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

উপনির্বাচনে ধাক্কা

আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে দুটিতে হেরেছে বিজেপি। এর মধ্যে বিহারের ব্যাংকিপুর আসনে দলটির পরাজয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা এই আসন হাতছাড়া হওয়াকে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু উপনির্বাচনের ফল দেখে বিজেপির শক্তি কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না। ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিজেপি এখনো শক্তিশালী এবং নির্বাচনীভাবে অত্যন্ত সংগঠিত দল।

তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা

তরুণদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপিও নতুনভাবে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করেছে। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তরুণদের আকৃষ্ট করতে নতুন ধরনের প্রচারণাও চালাচ্ছে দলটি।

উত্তর প্রদেশে তরুণদের জন্য বিশেষ যোগাযোগ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপির এসব প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে উল্টো সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একসময় বিজেপি যেভাবে নিজের রাজনৈতিক বার্তা সহজে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারত, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সেই প্রভাব এখন আগের মতো নেই। ইনস্টাগ্রামের মতো বিকেন্দ্রীভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির প্রচলিত প্রচারণা কৌশল কার্যকর হচ্ছে না।

পুরোনো কৌশলও কাজ করছে না

বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী, বিদেশি অর্থায়নপুষ্ট বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তুলে ধরার পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল এবার তেমন কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে বিভিন্ন ধর্ম, জাতপাত ও সামাজিক শ্রেণির তরুণরা অংশ নিয়েছেন। এমনকি বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত উচ্চবর্ণের হিন্দু তরুণদেরও আন্দোলনে দেখা গেছে।

ফলে আন্দোলনটিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিজেপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে দুর্বল করেনি, কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে।

বিজেপি এখনো ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, শিক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।

আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের একাংশ বলছে, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের লক্ষ্য নয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীবিরোধী রাজনীতিসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার পরিবর্তন চান তারা।

তবে বিজেপি তার হিন্দুত্বভিত্তিক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে—এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বরং আগামী নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয় ও হিন্দুত্বের রাজনীতিকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনার চেষ্টা করতে পারে দলটি।

সব মিলিয়ে, ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতার ভিত ভেঙে দিয়েছে—এ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ যে মোদি সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই। 

নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি, তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ বিজেপি

Sunday, August 16, 2026

মোদিদের শত্রু সেই ‘আজাদি’ স্লোগান আবার ভারতের তরুণদের মুখে

ভারতে শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘আজাদি’ স্লোগান। একসময় যে স্লোগানকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে শিক্ষার্থী নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয়েছিল, সেই একই স্লোগান এখন জেন-জি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

২৬ জুলাই সকালে নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরের কাছে দেয়ালে আঁকা আন্দোলনের বিভিন্ন গ্রাফিতি মুছে ফেলতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কর্মীদের পাঠায়। এর একদিন আগে পরীক্ষা কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। আন্দোলনের প্রবেশপথে লেখা ছিল— “#২০২৬ জেন-জি বিপ্লব!!!” এই আন্দোলনের প্রধান স্লোগান ছিল আজাদি বা স্বাধীনতা।

আন্দোলনের সময় ২০ বছরের এক তরুণ গাছে উঠে শক্তিশালী লাউডস্পিকারে ‘আজাদি’ গানটি বাজান—‘আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও! আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও! আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও!’ গানটির সঙ্গে জনতাও সুর মেলায় এবং হাত উঁচিয়ে স্বাধীনতার দাবি জানায়। বলিউডের গলি বয় সিনেমার জনপ্রিয় এই গানটি এবার শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগীত হয়ে ওঠে।

নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিটে পুলিশ সদস্যদের শিক্ষার্থীদের মারধরের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রায় এক দশক পুরোনো গানটি নতুন করে জনপ্রিয়তা পায়। শুধু দিল্লি নয়, জয়পুর, লখনউ ও মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও ‘আজাদি’ স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে।

অথচ এক দশক আগেও দিল্লিতে ‘আজাদি’ ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত একটি শব্দ। ২০১৬ সালে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) শিক্ষার্থীদের এই স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।

গত মাসে মন্ত্রীর পদত্যাগের পর হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বাড়ি ফিরে যাওয়ায় যন্তর মন্তরের আলো নিভে গিয়েছিল। কিন্তু রাস্তা জুড়ে তখনও উজ্জ্বল হলুদ রঙের ধাতব পুলিশের ব্যারিকেডের সারি ছিল। সেগুলোর অনেকগুলোই বিক্ষোভকারীরা রং করে দিয়েছিল। যেগুলোর একটিতে লাল রঙে লেখা ছিল: ‘উমর, শারজিল, গুলফিশা তোমাদের আগে এখানে ছিল।’

এই স্লোগানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের নারীবাদী আন্দোলন ও কাশ্মীরের প্রতিরোধ থেকে, যা বর্তমানে ভারতের মূলধারার ছাত্র রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে

জেএনইউ থেকে রাজপথে

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জেএনইউতে ভারতের মৃত্যুদণ্ড ও কাশ্মীরি নেতা আফজাল গুরুর মৃত্যুদণ্ড নিয়ে একটি আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পরে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো শিক্ষার্থীদের ‘আজাদি’ স্লোগানের ভিডিও প্রচার করে ঘটনাটিকে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনাটি এভাবেই স্মরণ করেছেন উমর খালিদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অনুষ্ঠানটির অন্যতম আয়োজক বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী

মোদী সরকারের প্রতি অনুগত বলে বিবেচিত ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো এই ঘটনাটিকে একটি জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে এবং তৎকালীন জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমারের নেতৃত্বে ছাত্রদের ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়ার ফুটেজ বারবার সম্প্রচার করে।

মোদিপন্থি গণমাধ্যমগুলো ছাত্রদেরকে ‘সন্ত্রাসীদের সমর্থক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং কিছু চ্যানেল ঘটনাটি সম্পর্কে বিকৃত ক্লিপও সম্প্রচার করেছে। লাহিড়ী বলেন, বিতর্কটি ‘মাত্রাতিরিক্ত বড় আকার ধারণ করায়’ খালিদের মতো ছাত্র এবং জেএনইউ ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠে।

লাহিড়ী স্মরণ করেন, ‘তীব্র গণমাধ্যম ট্রায়াল শুরু হলো। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত প্রচারণা: আর বার্তা ছড়ানো হচ্ছিল যে দেশবিরোধী ছাত্ররা করদাতাদের টাকায় জীবনযাপন করে ।’ কয়েক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ও গ্রেপ্তার শুরু হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পরে খালিদ ও অন্যরা জামিনে মুক্তি পায়।

দক্ষিণ ভারতের হায়দ্রাবাদে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ তুলে দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলা আত্মহত্যা করার পর, সেখানকার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কঠোর দমন অভিযান চালায়।

২০১৬ সালের শুরুর দিকের এই ঘটনাগুলো একটি সরকারি অভিযানের সূচনা করেছিল, যা ধীরে ধীরে ভারতের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিন্নমত ও মত প্রকাশের পরিসরকে সংকুচিত করে দেয়। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

এরপর ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের পরিসর সংকুচিত হতে থাকে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি না দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগের অভিযোগও ওঠে।

২০১৯ সালে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় দিল্লির মুসলিম শিক্ষার্থী নেতারা জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ, যা ২০২০ সাল পর্যন্ত চলেছিল, তার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবাদের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।

পুলিশি উপস্থিতি ও তদন্ত জোরদার করা হয়েছিল; শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং গবেষণা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

আর এর ছয় বছর পর আজও, পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়া খালিদ এবং শারজিল ইমামের মতো ছাত্রনেতারা বিনা বিচারে কারারুদ্ধ রয়েছেন।

‘আজাদি’ থেকে গলি বয়

২০১৬ সালের জেএনইউ আন্দোলনের ‘আজাদি’ স্লোগানই সংগীত প্রযোজক ডাব শর্মাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি শিক্ষার্থীদের স্লোগানের সঙ্গে ইলেকট্রনিক বিট যুক্ত করে গানটি তৈরি করেন।

পরবর্তী সময়ে পরিচালক জোয়া আখতার ২০১৯ সালের গলি বয় সিনেমায় গানটি ব্যবহার করেন। মুম্বাইয়ের র‍্যাপার ডিভাইন এতে অংশ নেন। সিনেমার সংস্করণে ক্ষুধা ও বৈষম্য থেকে মুক্তির বিষয়টি থাকলেও মূল আন্দোলনের জাতপাত, পুঁজিবাদ ও ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে থাকা অনেক বক্তব্য বাদ দেওয়া হয়।

সাত বছর আগে, পুনর্নির্মিত সংস্করণে ডিভাইন আয় বৈষম্য ও রাজনীতিবিদদের সুবিধাভোগী সন্তানদের নিয়ে র‍্যাপ করেছিলেন এবং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা দখলের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন — এই সবই এখন বিশ্বজুড়ে জেন জি প্রজন্মের প্রতিবাদের মূল বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

মোদীর শাসনামলে ভারত একাধিক গণতান্ত্রিক সূচকে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়েছে। এ বছর, শর্মার নতুন করে সাজানো স্কোরটি ব্যাপকতর শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের প্রতিরোধের স্লোগানে পরিণত হয়।

‘আজাদি’ ধ্বনির সর্বপ্রথম আধুনিক রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত খুঁজে পাওয়া যায় ১৯৮০-এর দশকে জেনারেল জিয়া-উল-হকের সামরিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নারীবাদী প্রতিরোধে। প্রয়াত ভারতীয় নারীবাদী কর্মী কমলা ভাসিন স্মরণ করেছেন যে, তিনি এই ধ্বনির সাবলীলতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং এটিকে ভারতীয় প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিবাদের জন্য আহ্বানগুলোকে উপযোগী করে তুলেছিলেন।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি প্রতিরোধও এই স্লোগানটি গ্রহণ করেছিল। নয়াদিল্লির বাম উদারপন্থী আন্দোলনও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু তাদের স্বাধীনতার আহ্বান ছিল নিজ নিজ প্রেক্ষাপট-নির্ভর।

২০২১ সালে ভাসিনের মৃত্যুর এক বছর আগে, তিনি এক সাক্ষাৎকারে আজাদি স্লোগানকে “একটি জীবন্ত, স্পন্দনশীল স্লোগান” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এই স্লোগানটি প্রতিদিন বিকশিত হয়, প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। এর অর্থ অপরিবর্তনীয় নয়।

জেন-জি আন্দোলনে নতুন অর্থ

ভারতের প্রধান বিচারপতি বিতর্কিতভাবে দেশের বেকার যুবকদের তেলাপোকা ও পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করার এক মাস পর, গত জুন মাসে সেই অপমানজনক মন্তব্যটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক অভিজিৎ দীপকে এক্স-এ একটি পোস্টে সাধারণভাবে ভেবেছিলেন: “যদি সব তেলাপোকা একজোট হয়?”। এরপর তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন শুরু করেন এবং ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যান। এটি ইনস্টাগ্রামে ২২ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার অর্জন করে, যা ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ফলোয়ারের সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।

লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ছাত্রছাত্রীকে প্রভাবিত করা একাধিক পরীক্ষা কেলেঙ্কারির পর, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষা সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে একটি আন্দোলন শুরু করার অঙ্গীকার করে দীপকে ভারতে ফিরে আসেন।

এবারের আন্দোলনে ‘আজাদি’ নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে পরীক্ষার কেলেঙ্কারি ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনও যুক্ত হয়।

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) ও স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়াসহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা পালা করে আন্দোলনস্থলে অবস্থান করেন। আইনজীবী, অধ্যাপক ও কৃষকদেরও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এটি প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরে থেকেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও, মিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। প্রচলিত গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর না করে আন্দোলনকারীরাই নিজেদের বক্তব্যের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠেন।

এআইএসএর সাবেক জাতীয় সভাপতি এন সাই বালাজির মতে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দক্ষ হওয়ায় তারা নিজেদের আন্দোলনের বয়ান নিজেরাই তৈরি করতে পেরেছে। ফলে তাদের ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টাও আগের তুলনায় কম কার্যকর হয়েছে।

‘আজাদি’ কেন আবার জনপ্রিয়?

আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রতিবাদের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় তরুণদের রাজনীতি আবার রাস্তায় ফিরে এসেছে। ২০১৯ সালের নাগরিকত্ববিরোধী আন্দোলন তাদের অনুপ্রাণিত করেছে বলেও অনেকে মনে করেন।

এআইএসএর নেত্রী নেহা বোরা বলেন, ২০১৯ সালের মুসলিম নেতৃত্বাধীন নাগরিকত্ববিরোধী আন্দোলন তার মধ্যে একটি ‘বিপ্লব’ তৈরি করেছিল। তার মতে, সরকার ‘আজাদি’ শব্দটিকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলেও পুলিশি নির্যাতনের মুখে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে—এই স্লোগান আসলে মৌলিক অধিকারের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবি।

সাম্প্রতিক আন্দোলনে ‘আজাদি’ তাই শুধু পুরোনো একটি প্রতিবাদী গান নয়; বরং ভারতের নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষা, অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

মোদিদের শত্রু সেই ‘আজাদি’ স্লোগান আবার ভারতের তরুণদের মুখে
ছবি: সংগৃহীত।

Tuesday, August 11, 2026

দিল্লির চাপ সামাল দিতে ঝাড়খন্ডকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুঁজি করছে বিজেপি

দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে কোণঠাসা বিজেপিকে চাঙা করে দিল ঝাড়খন্ডে একই ধরনের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিপেটা। দিল্লির ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহির দাবিতে জেরবার বিজেপি আজ মঙ্গলবার পাল্টা মুখর হলো রাঁচিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি লাঠিপেটার ঘটনায়।

বিরোধীদের যে দাবিতে টানা তিন সপ্তাহ সংসদ অচল রয়েছে, সেই দাবিই এবার হাতিয়ার হলো কেন্দ্রের শাসকশিবিরের সদস্যদের। ঝাড়খন্ডের ঘটনার জন্য আজ কংগ্রেস নেতার রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। সংসদ চত্বর গম গম করে ওঠে সরকার ও বিরোধীদের মুখোমুখি বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানে।

এর ফলে আজও সংসদের উভয় কক্ষে স্বাভাবিক কাজ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও লোকসভা বা রাজ্যসভায় যাননি। টানা তিন সপ্তাহ সংসদে বিরোধীদের মুখোমুখি না হয়ে মোদি ও শাহ এক বিরল নজির সৃষ্টি করলেন।

সরকারপক্ষ জানিয়েছে, অমিত শাহ বিবৃতি দিতে রাজি। বিরোধীরা জানিয়েছেন, দায়সারা বিবৃতি নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, পেলেট গান ছোড়াসহ পুলিশকে অত্যাচারের নির্দেশ কে দিয়েছিল। আগামী বৃহস্পতিবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিন।

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থীরা কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতানেত্রীরা অনশন করেছিলেন, ঝাড়খন্ডে তেমনই অনশন করছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো।

নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, অপরাধীদের শাস্তিদান ও দুর্নীতির তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীরা বিধানসভা ভবন অভিযানে শামিল হন। তা ঠেকাতে ঝাড়খন্ড পুলিশ জলকামান ছোড়ে। লাঠি চালায়। আজ সংসদ ভবন চত্বরে তা নিয়ে সরব হন বিজেপি ও এনডিএ সদস্যরা। পুলিশি অত্যাচারের জন্য পাল্টা তাঁরা রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। কংগ্রেস ঝাড়খন্ডে ইন্ডিয়া জোট সরকারের শরিক। ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) নেতৃত্বাধীন মোর্চায় কংগ্রেস ছাড়াও রয়েছে আরজেডি ও বামপন্থীরা।

দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ, র‍্যাফ ও সিআরপিএফ লাঠি চালিয়েছিল, কাঁদানে গ্রাসের শেল ছুড়েছিল, পেরেক পোঁতা ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া লাঠি (শক ব্যাটন) ব্যবহার করেছিল এবং পেলেট গান থেকে ছররা গুলি ছুড়েছিল।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ সিজেপি নেতারা সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে ওভাবে শক্তি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই। সে কারণে তাঁর জবাবদিহির দাবিতে বিরোধীরা আজও সংসদ অচল রেখেছে।

বিরোধীদের দাবি, অমিত শাহকে জানাতে হবে ওই নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন কি না। না দিলে কে পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল। বস্তুত, তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও অমিত শাহ সেই দাবি মানেননি। প্রধানমন্ত্রী মোদিও শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাননি।

ঝাড়খন্ডের ঘটনা নিয়ে আজ সকালে কোণঠাসা বিজেপি ও এনডিএ জোট সরব হয়ে ওঠেন। বিরোধীদের মতো তাঁরাও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংসদ ভবনে আসেন। কংগ্রেস নেতা রাহুলের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুখর হন, যদিও রাহুল ঝাড়খন্ড সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন।

২০ জুলাই দিল্লিতে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে মোদি-শাহ এখনো মুখ খোলেননি। কিন্তু রাহুল গতকালই রাঁচিতে পুলিশি লাঠি চালনার নিন্দা করে বিবৃতি দেন। গতকালই ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘ঝাড়খন্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ভুল সিদ্ধান্ত। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। একমাত্র আলোচনার মধ্য দিয়েই সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসতে পারে।’

রাহুল রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে দ্রুত সমস্যার সুরাহা করতে।

ইনস্টাগ্রামে রাহুল গান্ধী ‘আস্ক মি এনিথিং’ নামে এক অনুষ্ঠান করছেন। তাতে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, ‘দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করছেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে। কোটা, দেরাদুন, এলাহাবাদে (প্রয়াগরাজ) আমি স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও নিপীড়নমূলক। কেন্দ্রীয় সরকার, ঝাড়খন্ড সরকার বা কংগ্রেস সরকার, সবার উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনা।’

শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে রাহুলের অবস্থান স্বচ্ছ ও স্পষ্ট হলেও সংসদ ভবন চত্বরে বিজেপি সদস্যরা তাঁকেই আক্রমণের লক্ষ্য করে তোলেন। ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুখর হন। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকেন বিরোধীরাও। তাঁরাও মুখর নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে। এক সময় ওইখান দিয়ে আসতে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরাকে। বিজেপি সদস্যরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন রাহুল কেন চুপ। জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুল পুলিশি অত্যাচারের নিন্দা করেছেন। ঝাড়খন্ডের পড়ুয়াদের সঙ্গেও দেখা করেছেন।

ঝাড়খন্ডের অনশনকারী ছাত্র নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো গতকাল বিধানসভা অভিযানে শামিল হন অ্যাম্বুলেন্সে চেপে। পরে শরীর খারাপ হয়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেবেন্দ্র ১০ দিন ধরে অনশন করছেন। গতকাল গভীর রাতে তাঁকে ভিডিও কল করেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে।

পরে দিপকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘দেবেন্দ্র মাহাতোর সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশের লাঠিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। যন্তর মন্তর হোক বা ঝাড়খন্ড, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা অমানবিক। সিজেপি দৃঢ়ভাবে দেবেন্দ্র ও তাঁর সংগ্রামের পাশে আছে। তিনি একজন প্রকৃত বীর। তাঁর সাহস ও শক্তিকে কুর্নিশ করি।’

ঝাড়খন্ড সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, ৯৮ শতাংশ দাবি মানা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যে দুই দাবি মানতে সরকার নারাজ তার একটি হলো দুর্নীতির তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া। অন্যটি হলো ঝাড়খন্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) ও কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (সিজিএল) পরীক্ষা দুটি বাতিল করার।

এই দুই দাবি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। রাজ্যে বিজেপি বিরোধী পক্ষ। তারা ছাত্রদের সমর্থনে ও পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে আজ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

সিজেপির সমর্থকদের ওপর পুলিশের দমন–পীড়ন ও রামমন্দিরের অর্থ লোপাটের প্রতিবাদের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য অভিনেত্রী জয়া বচ্চনসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেন। ১১ আগস্ট ২০২৬, নয়াদিল্লি
সিজেপির সমর্থকদের ওপর পুলিশের দমন–পীড়ন ও রামমন্দিরের অর্থ লোপাটের প্রতিবাদের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য অভিনেত্রী জয়া বচ্চনসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেন। ১১ আগস্ট ২০২৬, নয়াদিল্লি। ছবি: এএনআই

Sunday, August 2, 2026

তিউনিসিয়ায় জনরোষ তীব্র, দানা বাঁধছে আরব বসন্তের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা

পাঁচ বছর আগে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের ক্ষমতা দখলের পর আপাত শান্ত তিউনিসিয়ার ভেতরে জমে উঠছে জনঅসন্তোষ। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, ক্রমাবনতিশীল অর্থনীতি, ভেঙে পড়া জনসেবা এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ও পানি সংকট দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে।

২০১১ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার প্রায় সব অর্জনই এখন ম্লান হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নতুন সংবিধান ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে জনগণের অংশগ্রহণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা কার্যত বিলীন হয়ে গেছে। একসময় টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে রাজনৈতিক বিতর্কের যে প্রাণচাঞ্চল্য ছিল, তার জায়গা নিয়েছে খেলাধুলা ও বিনোদনভিত্তিক অনুষ্ঠান।

সম্প্রতি রাজধানী তিউনিসে হাজারো মানুষ প্রেসিডেন্ট সাইদের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং জীবনযাত্রার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেন। একই সময়ে সাইদের সমর্থকরাও পাল্টা সমাবেশ করে বিরোধীদের ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে তাদের কারাবন্দি করার দাবি জানান।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তিউনিসিয়া পরিচালক সালসাবিল শেল্লালি বলেন, সরকারবিরোধী যেকোনো সমালোচনা এখন কার্যত অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, পাঁচ বছর আগে কাইস সাইদ তিউনিসিয়ার গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সমাপ্ত করে দেশকে আবার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আইনের শাসন দুর্বল করা, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তার শাসনে কোনো সমালোচকই নিরাপদ নন।

তাপপ্রবাহে উন্মোচিত অব্যবস্থাপনা

তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলে তিউনিসিয়ায় প্রায় ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। ইতালি ও আলজেরিয়ার সহায়তা সত্ত্বেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস কোম্পানি এসটিইজি এ পর্যায়ক্রমিক লোডশেডিং চালু করেছে। এতে কৃষিজ ফসল নষ্ট হচ্ছে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক এলাকায় টানা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তিউনিসীয় বিশ্লেষক বলেন, গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা বাড়বে এটা সবাই জানে। কিন্তু তিউনিসিয়ায় নেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, নেই বিনিয়োগ, নেই অর্থ। তিনি আরো বলেন, সমস্যা শুধু অবকাঠামোর নয়; জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পরিকল্পনারও চরম অভাব রয়েছে।

বিরোধীদের কারাবন্দি, গণমাধ্যমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

দেশটির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারবিরোধী নেতা হয় কারাগারে, নয়তো নির্বাসনে রয়েছেন। একসময়কার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এন্নাহদার অধিকাংশ শীর্ষ নেতা বন্দি। দলটির ৮৫ বছর বয়সী নেতা রাশেদ ঘানুশিও কারাগারে রয়েছেন। গত মাসে অসুস্থ হয়ে কারাগারে অজ্ঞান হওয়ার পর থেকে তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ‘ভুয়া খবর’ দমনের নামে প্রণীত কঠোর আইনের মাধ্যমে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ব্যঙ্গবিদ হাইথেম এল মেক্কিকে তিন বছর আগের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কারণে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের গবেষক হামজা মেদদেব বলেন, সবখানেই সেন্সরশিপ চলছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে গবাদিপশু মারা যাচ্ছে, রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অসুস্থ মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন, এমনকি বয়স্কদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

তার মতে, মানুষের ক্ষোভ কখনও রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও পানি কোম্পানির দিকে, কখনও সরকারের দিকে গেলেও, প্রকৃত ক্ষমতাকেন্দ্র প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে দায়ী করতে মানুষ ভয় পাচ্ছে।

সংস্কারের আশা ক্ষীণ

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট সাইদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক সমর্থনের কারণে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুর চেয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিউনিসিয়া সরকারের সঙ্গে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে তারা।

প্রতিবেশী আলজেরিয়া ও লিবিয়াও সীমান্তে অস্থিতিশীলতা এড়াতে সাইদ সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন সম্প্রতি তিউনিসিয়ার স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক রিকার্দো ফ্যাবিয়ানি বলেন, প্রেসিডেন্ট সাইদ এমন একটি মানসিকতায় পরিচালিত হচ্ছেন, যেখানে দেশের সব সমস্যাকেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন। তার মতে, তিউনিসিয়ার প্রায় সব আন্তর্জাতিক অংশীদারই এখন দেশটির সংস্কারের আশা ছেড়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

তিউনিসিয়ায় জনরোষ তীব্র, দানা বাঁধছে আরব বসন্তের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা
চলতি বছরের শুরুতে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অবসান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বিরোধীরা বিক্ষোভ করেন

Friday, July 31, 2026

এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ চাইল ‘ককরোচ’

ভারতে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি হামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই হয়েছিল বলে অভিযোগ করছেন ‘ককরোচ জনতা পার্ট সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি। দীপকে বলেন, ‘ছাত্রদের উপর যে ভাবে আক্রমণ হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের রক্ত ঝরেছে, তা অমিত শাহের নির্দেশ ছাড়া হতে পারে না।’

আগের দিন বুধবার প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধী বিল নিয়ে বিতর্কের সময় ভারতের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, গত ২০ জুলাই পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ‘ককরোচ’দের সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ শাহের নির্দেশেই করা হয়েছিল। লাঠি চালানোর পাশাপাশি ছোড়া হয়েছিল কাঁদানে গ্যাস, পেলেট। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফাও দাবি করেছিলেন রাহুল।

এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেল সিজেপির প্রধানের মুখে। ২০ জুলাইয়ের পুলিশি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের দিকেও অভিযোগের তোলেন তিনি।

এসময় দীপকে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জন্য সিজেপি বিদেশি অর্থ-সাহায্য পেয়েছে বলে অভিযোগও খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিই আমরা বিদেশি অর্থ পেয়ে থাকি, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলালয়ের দায়িত্বে থেকেও অমিত শাহ তা আটকাতে না পারেন, তবে সেটাও তারই ব্যর্থতা। তা হলে নিজেকে কি তিনি ‘চাণক্য’ বলবেন? সে ক্ষেত্রেও তো তার পদত্যাগ করা উচিত।’

সেই সঙ্গে দীপকে অভিযোগ করেন, ২০ জুলাই দিল্লি পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাত তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, ‘২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরের একটি ট্রাকে করে পাথর এবং একটি ভাঙাচোরা গাড়ি আনা হয়েছিল, যাতে পুলিশি অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরা যায়। তিনি আরো বলেন, পাথর নিক্ষেপের পুরো ঘটনাই দিল্লি পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে ঘটিয়েছে। বিজেপির লোকজন এসে পাথর ছোড়ে, অথচ দোষ চাপানো হয় ছাত্রদের উপর।’

প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের জেরে গত ২৫ জুলাই মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। আন্দোলনের সাফল্যের পর বুধবার নিজের মহারাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরে দফায় দফায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন দীপকে।

তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্ব সামলানোর বদলে নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে নিজেকে বেশি স্বচ্ছন্দ মনে করেন। দীপকের কথায়, “আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এখন ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তিনি ভাল কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে অন্য কোনও নেতাকে দেশের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া উচিত।”

সেই সঙ্গে ‘ককরোচ’ প্রধানের অভিযোগ, বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেও কেন্দ্র এবং বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের সরকার আন্দোলনকারীদের খুঁজে বার করে হয়রানি করছে।

তিনি বলেন, ‘সিজেপি আন্দোলন তুলে নেওয়ার পর বিভিন্ন রাজ্যের সরকার আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে হয়রানি করছে। সরকার অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করুক। না হলে আগামী নির্বাচনে আন্দোলনকারীরাই এর জবাব দেবে।’

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কমেনি জানিয়ে দীপকে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে যে ভাবে পদত্যাগ করানো হয়েছে, তেমনই প্রয়োজনে সরকারও বদলে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বড় পরিসরে হবে।’

সূত্র: আনন্দবাজার

এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ চাইল ‘ককরোচ’
ছবি: সংগৃহীত।

মোদি সরকারকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার হুঁশিয়ারি, ‘কথা না শুনলে সরকারই বদলে দেব’

‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে আরো বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে উঠবে।

দিল্লিতে মাসব্যাপী আন্দোলন শেষে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিপকে এসব কথা বলেন। তার অভিযোগ, ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘সংসদ অভিযান’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ছররা গুলি ব্যবহার করে এবং এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

ওই প্রবল গণআন্দোলনের জেরে ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা ও কর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। দেওয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তারির কড়া হুমকি। পরিবারের সদস্যদেরও অহেতুক হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের এ দমনপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। আন্দোলনকারীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

পুলিশি হেনস্তা অবিলম্বে বন্ধ না হলে দেশের যুবসমাজ আগামী দিনে সরকারকেই বদলে দেবে দাবি করে তিনি আরো বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ না করে সরকারের উচিত সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে, এমনটা ভাবলে মস্ত বড় ভুল হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বলপ্রয়োগের নির্দেশ যেই দিয়ে থাকুন না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নামও উল্লেখ করেন।

তিনি মনে করিয়ে দেন, ছাত্ররোষের কারণেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ঠিক একইভাবে সরকার যদি নিজেদের শুধরে না নেয়, তবে আগামীকাল তারা এ সরকারকেই বদলে দেবেন।

এদিকে আন্দোলন ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক ও আইনি মহলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশটির সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কোনোভাবেই ছররা গুলি ব্যবহার করা যাবে না। অন্যদিকে বিরোধী দল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও কেন্দ্রীয় সরকার তা অস্বীকার করেছে। শাসক দল বিজেপি পুলিশের পদক্ষেপকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ বলে দাবি করে। আর সিজেপি জানিয়েছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার না হলে তারা দেশব্যাপী আরো বৃহত্তর ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পথে হাঁটবে।

‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত এক মাস ধরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের এ স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে নিছক আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল করবে সরকার। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে ভারতের শাসক দলকে হয়তো দীর্ঘমেয়াদে এর বড় রাজনৈতিক মূল্য চুকাতে হবে।

মোদি সরকারকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার হুঁশিয়ারি, ‘কথা না শুনলে সরকারই বদলে দেব’
ছবি: সংগৃহীত

Tuesday, July 21, 2026

যন্তর মন্তরে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন চলবে, সরকারের কাছে তাদের তিন দাবি কী

সংসদ ভবন অভিযান চলাকালে গতকাল সোমবার বিকেলে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ধরনামঞ্চ ভেঙে দিয়েছিল। আজ মঙ্গলবার ভোরে সেখানেই ফিরে এসেছেন আন্দোলনকারী নেতারা। সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরেই তাঁরা ধরনা চালাবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই থাকবেন। তবে নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানে শামিল যাচ্ছেন না।

আজ সকালে ধরনামঞ্চে ফিরে এসে অভিজিৎ দিপকে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক তাঁরা দিচ্ছেন না। কারণ, তাতে পুলিশের উদ্দেশ্য সফল হবে। পুলিশ আবার শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করবে। তাঁদের বদনাম করবে। সে সুযোগ পুলিশকে তাঁরা দেবেন না।

অভিজিৎ বলেন, সরকারের মুখ পুড়েছে। তারা চাইলে এমন ঘটনা ঘটত না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করলে এই আন্দোলনের প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু সরকার নির্লজ্জ। বিজেপির নেতারা উদ্ধত।

সিজেপির আন্দোলনে সাড়া দিয়ে সংসদ ভবন অভিযানে শামিল হওয়া আহত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে অভিজিৎ আজ সকালেই এক বার্তা দেন। এক্সে সেই বার্তায় তিনি লেখেন, ‘পুলিশি বর্বরতায় আপনারা আহত হয়েছেন। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অমানবিক দিল্লি পুলিশের নৃশংসতা থেকে আপনাদের রক্ষা করতে পারিনি।’

অভিজিৎ লিখেছেন, একজন ধর্মেন্দ্র প্রধান, যিনি ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের রক্তাক্ত করল। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের প্রত্যেকের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আপনাদের সবার স্বার্থে এই লড়াই জারি থাকবে।’

গতকালের ঘটনার জন্য দিল্লি পুলিশ যেমন আন্দোলনকারীদের দায়ী করছে, আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ ও বিরোধীরা তেমন দায়ী করছেন পুলিশ ও সরকারকে। সিজেপি ও বিরোধীরা বলছেন, পুলিশ লাঠি না চালালে, কাঁদানে গ্যাস না ছুড়লে এমন হতো না। তারা ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে চাইল বলেই হিংসা ছড়াল। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ছাত্ররা তাদের আক্রমণ করেছে।

গতকালের ঘটনায় পুলিশ ৫টি এফআইআর দাখিল করেছে। ৭০ জনের বেশি ছাত্রছাত্রীকে আটক করেছে। পুলিশ দেখতে চাইছে, এই আন্দোলনের পেছনে বৃহত্তর কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না। শান্তি–শৃঙ্খলা নষ্ট করার মধ্য দিয়ে অন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে কি না।

পুলিশের দাবি, তাদের ১১৮ জন কর্মী জখম হয়েছেন। সিজেপির দাবি, শতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কয়েকজনের আঘাত গুরুতর।

সংসদমুখী যাত্রা যে এমন মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, সেই অনুমান দিল্লি পুলিশ করতে পারেনি। সরকারও নয়। সরকারি এক সূত্র স্বীকার করে, আন্দোলনকারীরা এত বিপুল সংখ্যায় জড়ো হবেন, চারদিক থেকে সংসদের দিকে এগিয়ে যাবে, পুলিশি প্রতিরোধে ভয় পাবে না—এ ধারণা সরকার ও পুলিশের ছিল না। নিঃসন্দেহে এটা গোয়েন্দা ব্যর্থতাও।

ওই সূত্রের মতে, পুলিশ ভেবেছিল, হয়তো কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী জড়ো হবেন। ব্যারিকেড ভেঙে তাঁরা এগোবেন না। কিন্তু হাজারে হাজারে তরুণ–তরুণী এভাবে চলে আসবেন, কল্পনা করা যায়নি। পুলিশি হিসাবে গতকাল কম করেও ৫০ হাজার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশ স্বীকার করছে, গত ৪০ বছরে কোনো আন্দোলন এভাবে সংসদ ভবনের এত কাছে চলে আসতে পারেনি। পুলিশের গাড়ি দখল করতে পারেনি। পুলিশের গাড়ি ওল্টায়নি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র আজ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলনের পক্ষে ছাত্রসমর্থন দেখা যাচ্ছে। তাঁরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

কর্ণাটকের বিজেপি নেতা কে সুধাকর গণমাধ্যমে বলেছেন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে যেমন ঘটেছে, এখানেও তেমনই একটা ঘটানোর চক্রান্ত চলছে। এই আন্দোলন তারই অংশ। তবে সেটা হবে না। কারা ঠিক পথে রয়েছে, কারা ভুল পথে, তা দেশের মানুষ জানে।

ছাত্র আন্দোলন ও সংসদ অভিযানে পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব প্রতিটি বিরোধী দল। গতকালের মতো আজও সংসদ অচল থাকে। রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এ নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। সংসদ ভবন চত্বরে গণমাধ্যমকে রাহুল বলেন, অবাক কাণ্ড, স্পিকার বলছেন আলোচনার জন্য সরকারের অনুমতি চাইবেন!

রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। এত দিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, এক দিনও তিনি কথা বলেননি। কোনো মন্তব্য করেননি। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উইয়ে খাওয়া কাঠের মতো ফোঁপড়া হয়ে গেছে। গোটা দেশ তা জানে। আন্দোলন তার বিরুদ্ধেই। অথচ প্রধানমন্ত্রী নীরব। গতকাল যা ঘটল, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত।

আজ সকালে রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে গিয়ে আহত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন অভিজিৎ দিপকে ও সিজেপির অন্য নেতারা। হাসপাতালে যান আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, আতিশি, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জয় সিংসহ অন্য নেতারা।

সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা ভদ্রও আরএমএল হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন। আহত ব্যক্তিদের সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাও।

নাড্ডার সঙ্গে গতকাল দেখা করেছিলেন সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকা। সরকারের কাছে তাঁরা তিনটি দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেন। দাবিগুলো হলো শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হোক, সোনম ওয়াংচুককে নিঃশর্তে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হোক এবং যে ২০ জন ছাত্রছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে দেওয়া হোক।

গণমাধ্যমকে সিজেপি নেতারা বলেন, সরকার এখনো কিছুই জানায়নি। মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পাঁচ ঘণ্টা সময় শুধু নষ্ট হয়েছে। তাঁরা বলেন, নাড্ডা বলেছেন, নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন। কিন্তু কিছুই জানানো হয়নি।

আজ এনডিএ সংসদীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠক শেষে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু গণমাধ্যমকে বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি হবে। ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়। সেটাই সরকারের লক্ষ্য।

রিজিজু বলেন, ‘ছাত্রদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভুল পথে যাওয়া খুব সহজ। সঠিক পথে থাকা কঠিন। ছাত্রদের ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই আমাদের কর্তব্য।’

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যন্তর মন্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। ২১ জুলাই ২০২৬, নয়াদিল্লি
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যন্তর মন্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। ২১ জুলাই ২০২৬, নয়াদিল্লি। ছবি: এএনআই