Wednesday, July 4, 2018

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনেই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ফের একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন। বলেছেন, অহিংস পরিস্থিতিতে (নন-ভায়োলেন্স) অনুষ্ঠেয় অবাধ  ও বিশ্বাসযোগ্য একটি নির্বাচন, যাতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে- এমন নির্বাচনেই যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রদূত এ-ও বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের শেষ লগ্নে এসে তিনি বাংলাদেশ সরকার এবং এ দেশের জনগণকে সেই আহ্বানটিই জানাতে চান, যেটি তিনি তার নিজের দেশের সরকার এবং জনগণকেও বলে থাকেন।
গতকাল বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দূতাবাসে অনুষ্ঠিত ওই কূটনৈতিক পার্টিতে বার্নিকাট বলেন, ‘এ বছরের শেষ ভাগে আমাদের উভয় দেশেই এসব মূল্যবোধের একটা পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। উভয় দেশের নাগরিকেরাই ব্যালটবাক্সে নিজেদের মতের প্রতিফলন ঘটাবে, যা হবে স্বশাসনের সত্যিকারের বহিঃপ্রকাশ।’ বাংলাদেশি জনগণের প্রজ্ঞা এবং প্রত্যয় দ্বারাই একটি স্বাধীন, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্ম সম্ভব হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাতচল্লিশ বছর পর সেই একই প্রজ্ঞা আর প্রত্যয় এখন মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন সম্ভব করেছে।
আমি বিশ্বাস করি সেই একই প্রজ্ঞাও প্রতিটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করবে। বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে কষ্ট হবে উল্লেখ করে এখানে প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্বপালনকারী মার্কিন দূত বলেন, আমার দায়িত্বকাল সম্পন্ন করে নিশ্চিতভাবেই ফিরে যাবো। তবে আমি এ দেশে বেড়াতে আসার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই নিয়ে নিয়েছি। আমি যখন বেড়াতে আসব তখন একেবারেই ভিন্ন একটি বাংলাদেশ দেখার প্রত্যাশা করি। সেটি হবে আরও অগ্রসর, আরও উন্নত এক বাংলাদেশ। তবে সে বাংলাদেশে থাকবে স্বাধীনতার জন্য সেই একই সংকল্প ও আবেগ, যা ১৯৭১ সাল থেকে এ দেশের মানুষের মনে জাগরুক।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে দ্রুতগতির অভিযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, চলতি বছর বিশ্ব বাংলাদেশকে নাসা ও স্পেসএক্স-এর সহায়তায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করতে দেখল। বাংলাদেশি জনগণের অদম্য সংকল্প আর সৃষ্টিশীলতার একটি খাঁটি নজির এটি। তিনি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, এই দৃঢ়সংকল্প আর প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য এই উচ্চাভিলাষই আমেরিকান ও বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করেছে। আমাদের উভয় দেশের সংবিধানে এই ধারণা সন্নিবেশিত আছে যে, সব মানুষ জন্মগতভাবে সমান। তাদের চিন্তা, উদ্ভাবন আর নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ ও স্বাধীনতা দেয়া হলে অপার সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

৩ সিটিতে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হবে না

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, আমরা অতীতের ভুল-ভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে পথ চলতে চাই। খুলনা ও গাজীপুরে যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে যেসব ভুল-ভ্রান্তি ছিল সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। আগামীদিনে যে তিন সিটিতে নির্বাচন রয়েছে সেখানে যেন ওইসব ভুলের এবং যেসব অনিয়ম হয়েছে সেসব অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না হয়- এ বিষয়টি আমরা দৃষ্টিতে রাখব। গত দুই সিটির নির্বাচনের সঙ্গে পরবর্তী তিন সিটি নির্বাচনের তুলনা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গতকাল নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন। খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন কেমন হয়েছে সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, আমি অতীত টেনে আনতে চাই না। তবে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানান মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইসির কী ভূমিকা ছিল তা তুলে ধরার জন্য কাজ করা হচ্ছে। প্রতিবেদন তৈরি হলেই এ বিষয়ে জানা যাবে। তিন সিটিতে পুলিশের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের সহায়ক শক্তি। ইসির এমন সক্ষমতা নেই যে নিজেদের লোক দিয়েই নির্বাচন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। দুই সিটি নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা কী ছিল তাও তদন্ত চলছে। প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু নির্বাচন চান উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, তার কথা মেনে নিয়ে আমরা কেন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারব না? কেন আমরা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করব? এটা বুঝতে পারি না।
তিনি বলেন, গাজীপুরে বিভিন্ন কেন্দ্রে ২০ ভাগের কম ভোট এবং ৮০ ভাগের বেশি ভোট কেন পড়লো সে বিষয়টি অনুসন্ধান চলছে। এছাড়া গণমাধ্যমে যেসব অনিয়মের খবর এসেছে তার সত্যতা খুঁজে বের করা হবে। কারণ, অনেক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য এসেছে। আমরা তৃণমূলে গিয়ে এর সত্যতা যাচাই করতে চাই। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার জানান, বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়ে জানতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সাত দিন সময় দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রতিবেদন পেলে দশ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেই প্রতিবেদন কমিশন সভায় উপস্থাপনের পর সিদ্ধান্ত হবে কমিশন কী করবে। ওই নির্বাচন ভালো হয়েছে, না খারাপ হয়েছে এক তরফাভাবে এধরনের মন্তব্য গ্রহণ করতে চান না সাবেক এই আমলা। তিনি বলেন,  নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কোনো প্রতিবেদন দেননি কেন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পর্যবেক্ষকরা কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সেগুলোও যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, গাজীপুর ও খুলনায় নির্বাচনে নিশ্চয়ই কিছু অনিয়ম হয়েছে।
এজন্য কিছু কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। এর বাইরে যেসব ঘটনা আছে সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দিয়ে আইন প্রণয়নের সময় বিরোধিতা করে আপত্তি জানিয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার। পরবর্তীতে এরকম আপত্তি জানাবেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু পথে অগ্রসর হয় তাহলে আমাকে কোনো নোট অব ডিসেন্ট দিতে হবে না। আর যদি দেখি আমার বিবেকে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তবে একটা কেন, দশটা নোট অব ডিসেন্ট দেব। এরকম পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনে চেয়ার ছেড়ে যাব। চেয়ার তো আমার হাতে না। চেয়ার ছাড়ার প্রশ্ন উঠছে কেন? আমি এমন যোদ্ধা আমি যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হতে পারি। কিন্তু যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে, আত্মরক্ষা করে বেঁচে থাকার কোনো কারণ দেখি না।

কেন ও কীভাবে ইরানি যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস করেছিল আমেরিকা?

আজ থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৮৮ সালের এই দিনে ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস করে দেয় মার্কিন নৌবাহিনী। পারস্য উপসাগরে ইরান উপকূলের সমুদ্রসীমায় ঢুকে ‘ভিনসেন্স’ নামের একটি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ওই সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ফলে বিমানটির ২৯৮ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারান। বিমানটিতে ছিল ৬৬টি শিশু ও ৫৩ জন মহিলা । বিদেশি নাগরিক ছিল ৪৬ জন। পশ্চিমা মদদে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে তখন পরাজিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল সাদ্দাম বাহিনী। সাদ্দাম বাহিনীকে রক্ষা করতেই ইরানি ওই যাত্রীবাহী বিমানটি ভূপাতিত করা হয়।
সেদিন ইরানের বন্দর নগরী ‘বন্দর আব্বাস’ থেকে ইরান এয়ারের ৬৫৫ নম্বর ফ্লাইটের মাধ্যমে মাত্র ত্রিশ মিনিটের এক নিয়মিত যাত্রায় দুবাই যাওয়ার জন্য ওই বিমানে আরোহন করেন ২৯৮ জন নিরপরাধ মানুষ। বিমানটি আকাশে উড়ার কিছু সময় পরই মার্কিন ভিনসেন্সের ক্যাপ্টেন ইরানের ঐ যাত্রীবাহী বিমানের ওপর মিসাইল ছোঁড়ার আদেশ দেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি আকাশেই বিধ্বস্ত হয়।  ইরান এয়ারের বহু মূল্যবান এয়ার বাস এ-৩০০ বিমানটি যখন ধ্বংস হয় তখন তার ভেতরে ৫৩ জন মহিলার কোলে ছিল তাদের মাসুম বাচ্চারা।
বিশ্ববিবেক যুক্তরাষ্ট্রের এই অপরাধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু ওই হামলার বিষয়ে মার্কিন নেতারা কখনও কোনো দুঃখ প্রকাশতো করেইনি বরং অমানবিক অবস্থান নিয়ে তারা ওই অপরাধের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। মার্কিন নেতারা একটা দায়সারা গোছের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, ভুলক্রমে ঘটনাটি ঘটেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তারা যাত্রীবাহী বিমানটিকে ভুল করে ইরানের বিমান বাহিনীর এফ-১৪ জঙ্গিবিমান ভেবেছিল।
এই দাবি যে কতখানি মিথ্যা তা আমেরিকার অত্যাধুনক রাডার ব্যবস্থা এবং তাদের যুদ্ধজাহাজে স্থাপিত অতি উন্নত যান্ত্রিক যুদ্ধসরঞ্জামের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমান করা যায়। খালি চোখেও যেখানে জঙ্গিবিমান এবং যাত্রীবাহী বিমানে পার্থক্য বোঝা যায়, সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ভুল করবে- এটা হতেই পারে না।
পরবর্তীতে এটা জানা গেছে যে, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের যেই সেনাকে যাত্রীবাহী ইরানি বিমান টার্গেট করে ক্ষেপণা্স্ত্র ছুঁড়তে বলা হয়েছিল সে প্রথমে ওই অমানবিক নির্দেশ শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছিল কারণ, জাহাজের সবার কাছেই এটা স্পষ্ট ছিল যে, ইরানি বিমানটি ছিল একটি যাত্রীবাহী বিমান  এবং তাই সে ওই নির্দেশ মানতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু এরপর যখন তাকে সামরিক আদালতে বিচার করার হুমকি দেয়া হয় তখন সে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ পালন করে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রয়োজন

কেবল মানবিক সহায়তা দিয়ে নয়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরি। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে গতকাল ঢাকায় তিনি এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশে আসার আগে তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য সফর করেন। আইসিআরসি’র ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিটার মাউরি বলেন, মানবিক সহায়তাই কেবল সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এ সংকট সমাধানে বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত যারা তাদের বসতভিটা, ক্ষেতখামার সহায়-সম্পদ সবকিছু ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
বাংলাদেশে আসার পর মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক সমাধান, পরিবেশগতভাবে টেকসই অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের প্রয়োজন। মাউরি বলেন- বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই  দেশ সফর করে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, এ সংকট সমাধানে দুই  দেশেরই আন্তরিকতা রয়েছে। তিনি বলেন- আজ সর্বজন স্বীকৃত যে, এখানে একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। এতে কারো দ্বিমত বা ভিন্নমত নেই। তার মতে, এই আন্তরিকতার বাস্তবায়নে ‘দায়িত্বশীল’ নেতৃত্ব বা ভূমিকা প্রয়োজন।
মিয়ানমার সফরের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাখাইনে তিনি একটি গ্রাম দেখে এসেছেন, যেখানে তিন-চতুর্থাংশ মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। মাউরি বলেন, আমি এখানে কার কী দোষ, তা বলতে আসিনি। আমি শুধু বলতে চাই- এই সংকট সমাধানের উদ্যোগে কারো কোনো কমতি দেখিনি। দুই  দেশের সরকারই তাদের তরফ  থেকে সংকট সমাধানের যথেষ্ট চেষ্টা করছে এবং তাদের সদিচ্ছা নিয়ে আমি নিশ্চিত। আইসিআরসি  প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, একমাত্র মানবিক সহায়তা এই সংকটের সমাধান দিতে পারবে না। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন তাদের সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সমাধান। টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং  আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার বজায় রাখার অঙ্গীকারই কেবল স্থায়ীভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে মুরার বলেন, মিয়ানমারে সমপ্রদায়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সম্পৃক্ততার জন্য আমরা প্রস্তুত। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয় দেশের এই মানবিক সংকট  মোকাবিলায় আইসিআরসি তাদের যথাযথ সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। মাউরির মতে, প্রত্যাবাসনের শর্তগুলো শুধু মানবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নয়। চলাফেরার স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, রাখাইনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাজারে প্রবেশাধিকারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর রাজনৈতিক পদক্ষেপের জন্যও এটি প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফেরত যাওয়া  রোহিঙ্গাদের মাঝে তাদের দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট জানান- মিয়ানমার সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি, জেনারেল কমান্ডার-ইন-চিফ অব ডিফেন্স সার্ভিসেস মিন অং হ্লায়িংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কফি আনান কমিশনের চমৎকার সুপারিশ  দেখেছি। এটি সমর্থন করি। মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের দুঃখকষ্ট কমানোর জন্য যথাসাধ্য করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সকল আলোচনা ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অবস্থার খুব সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে। আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা লাঘবে টেকসই সমাধানের জন্য মানবাধিকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষের জরুরি অগ্রগতির ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন- আমাদের সকলকে একযোগে সর্বোত্তম প্রচেষ্টা চালিয়ে এই সংকটময় পরিস্থিতি দূর করতে হবে। এর পেছনের কারণগুলো সমাধান করতে হবে। বর্ষা মৌসুমে  রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আইসিআরসি বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য সরবরাহ দ্বিগুণ করেছে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আইসিআরসি’র বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্রধান ইখতিয়ার আসলানোভসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো সংবাদ সম্মেলনের সচিত্র বক্তব্য আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ারও করেছেন।

আরিফ ডেইরি ফার্ম ও কামরান বালু ব্যবসায়ী by ওয়েছ খছরু

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান   দু’জনই ব্যবসায়ী। আরিফ হচ্ছেন ডেইরি ফার্ম আর কামরান বালু ব্যবসায়ী। নির্বাচন কমিশনে দেয়া সম্পদের হিসাব ও হলফনামায় আরিফ ও কামরান দুজনই এ তথ্য দিয়েছেন । এদিকে- আরিফের স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী ও কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানেরও সম্পদ রয়েছে। গত ৫ বছরে তাদের দুই জনের সম্পদ বেড়েছে। কামরানের সম্পদ রয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার ও আরিফের রয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার।
আরিফ ডেইরি ফার্ম ব্যবসার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক। কামরান বালু ব্যবসার পাশাপাশি পাথর ব্যবসাও করেন। হলফনামা অনুযায়ী, সিসিকের সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩২ টাকা। তার কাছে নগদ ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৯৬৭ টাকা,  বৈদেশিক মুদ্রা আছে ১১ লাখ ২৫ হাজার ৭৭ টাকা মূল্যের। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে ৭৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৩ টাকা গচ্ছিত আছে।
আরিফের ৭৮ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৫ টাকা মূল্যের বন্ড ও ঋণপত্র, ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও ধাতু, দেড় লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, এক লাখ টাকার আসবাবপত্র, ৮.৫৩ একর কৃষি জমি, ৫.৫৯ একর অকৃষি জমি রয়েছে আরিফের নামে। তার নামে একটি ডেইরি ফার্ম, ২টি দালান ও ৩টি সেমিপাকা দালান রয়েছে। ‘সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন ও ডেইরি ফার্ম ব্যবসায়ী’ হিসেবে আরিফ বছরে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ১২০ টাকা আয় করেন। তার নামে পূবালী ব্যাংকে ৭৭ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সিটি ব্যাংকে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩ টাকা ঋণ রয়েছে। আরিফের স্ত্রী শ্যামা হকের নগদ ১৩ লাখ ১৫ হাজার ২২২ টাকা, পোস্টাল সেভিংসে ২ লাখ টাকা, ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের পিকআপ, ১ লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যের অলঙ্কার, ৪৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৫০ টাকার আসবাব, ০.০৮ একর অকৃষি জমি, একটি সেমিপাকা দালান রয়েছে। শ্যামা হকের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩০০ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। আরিফের অস্থাবর সম্পত্তি পরিমাণ এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩২ টাকা। সিসিকের গত নির্বাচনে তার দাখিলকৃত হলফনামায় এই সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার ৩৬০ টাকা। গত পাঁচ বছরে তার সম্পত্তি কমেছে ৯৩ লাখ ১১ হাজার ১৬৮ টাকা। ২০১৩ সালে তার স্ত্রী শ্যামা হকের সম্পত্তি ছিল ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৫০৪ টাকা।
এবার তার সম্পদ ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ২৯ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭২ টাকা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেশায় ‘বালু পাথর সরবরাহকারী ও কমিশন এজেন্ট’। হলফনামায় দেয়া তথ্য মতে- গত পাঁচ বছরে কামরানের সম্পদ বেড়েছে। তার স্ত্রী আসমা কামরানের সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। কামরানের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি। কামরানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ ৭৩১ টাকা। পেশা থেকে কামরানের আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে বছরে তার আয় ২৩ লাখ ৯১ হাজার ৪০৩ টাকা। বৈদেশিক মদ্রা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কামরানের নামে এক কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার ৯২৯ টাকা আছে। তার কাছে নগদ ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫২ টাকা এবং স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে দেড় লাখ টাকা মূল্যের।
অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে কামরান ৪৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমির কথা উল্লেখ করেছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে কামরানের। সোনালী ব্যাংকে কামরানের ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ রয়েছে। এদিকে, কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানের নামে বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২০০ টাকা আছে। আসমা কামরানের নামে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের বন্ড ও ঋণপত্র, ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলের একটি জিপ গাড়ি, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার অলঙ্কার, নগদ ৮৪ হাজার ৩৩১ টাকা, ৩১ লাখ ৪ হাজার ৮০১ টাকার অকৃষি জমি এবং ৩ কোটি ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৯ টাকা মূল্যের একটি ভবন রয়েছে। কামরান ও তার স্ত্রীর নামে  ২ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে।
স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ ৭৩১ টাকা। সিসিকের তৃতীয় নির্বাচনে ২০১৩ সালে মেয়র প্রার্থী হিসেবে কামরান যে হলফনামা দাখিল করেছিলেন, সেখানে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ছিল এক কোটি ৮৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৯৫ টাকা। এ হিসেবে গত পাঁচ বছরে তার সম্পত্তি বেড়েছে ৩৪ লাখ ৭২ হাজার ২৩৬ টাকা। কামরানের চেয়ে গত পাঁচ বছরে তার স্ত্রীর সম্পত্তি বেড়েছে অনেক বেশি। এবার তার স্ত্রী আসমা কামরানের সম্পত্তির মূল্য ৫ কোটি ৭৫ লাখ ১৪ হাজার ৯২১ টাকা। ২০১৩ সালে আসমা কামরানের সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৯ টাকা। এ হিসেবে তার সম্পত্তি বেড়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৩২ টাকা। কামরানের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পত্তি ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৪ হাজার ১৯০ টাকা বেশি। ২০১৩ সালের হলফনামায় কামরানের কোনো ঋণের তথ্য ছিল না।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্বাচন প্রস্তুতি জানতে চেয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব by মিজানুর রহমান

একাদশ জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চেয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ঢাকা সফরের প্রথম দিন রোববার সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন নির্বাচন প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। আসন্ন নির্বাচনে সব দল  অংশ নেবে এবং এটি অবাধ, সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সরকারি সূত্রগুলো বলছে- বৈঠকে সরকার প্রধান বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের অংশ না নেয়া এবং নির্বাচন ঠেকানোর ‘যড়যন্ত্রে’ দেশব্যাপী বিরোধীদের জ্বালাও-পোড়াওয়ের বিশদ বর্ণনা দেন।  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম’র যৌথ ওই সাক্ষাৎ-বৈঠকে বিরোধীদের বাধা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ফের সরকার গঠন এবং গত সাড়ে ৪ বছরে উন্নয়ন-অগ্রগতির ফিরিস্তিও তুলে ধরা হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ের আধঘণ্টার পূর্ব নির্ধারিত ওই সাক্ষাৎ-বৈঠকটি সোয়া এক ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হয়। সেখানে রোহিঙ্গাদের সংকট, বিশেষত তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুতদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা এবং লাখো রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরে ওই এলাকার দ্রুত উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ মহাসচিবসহ অন্যরা এটি অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে শুনেন। সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন কম, শুনেছেন বেশি। নির্বাচন বিষয়ে হাসতে হাসতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও হাসতে হাসতেই জবাব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী একনাগাড়ে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগের পরিস্থিতিকে ফোকাস করেছেন। সেই সময়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে নির্বাচনে আনতে সরকারি দলের তরফে এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন, তার বিস্তারিত বলেছেন। সরকারি উদ্যোগের বিপরীতে সেই সময়ে বিএনপি জোট ২০১৩ সালের শেষে এবং ’১৪ সালের শুরুর দিনগুলোতে এমনকি পরবর্তী বছরে (নির্বাচনের বছরপূর্তিতে) আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী যেসব নেতিবাচক কার্যক্রম চালিয়েছে তা তুলে ধরেন। সূত্র মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে সরকার প্রধানের দীর্ঘ বর্ণনার পর জাতিসংঘ মহাসচিবের সম্পূরক কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বৈঠক এবং অনুষ্ঠানে মহাসচিব দুটি বিষয়ে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তা হলো- বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। একটি শব্দে মহাসচিব এটাকে ‘মিরাকল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত: তিনি বাস্তুচ্যুতদের জন্য বর্ডার এবং হার্ট খুলে দিয়ে বাংলাদেশ যে মহানুভবতা দেখিয়েছে তার প্রশংসা করেছেন। মহাসচিবের ভাষায়- বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেই তিনি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ঢাকায় পা রাখার পর থেকে বিদায়ের আগ পর্যন্ত অন্তত ৪টি অনুষ্ঠানে মহাসচিব এ বিষয়টি বলেছেন জানিয়ে সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন- গুতেরেস আগে শরণার্থী সংস্থার প্রধান ছিলেন। তিনি বলেছেন- বিশ্বে অনেক উন্নত দেশ যখন শরণার্থীদের জন্য দরজা বন্ধ করছে, উন্নয়নশীল রাষ্ট্র বাংলাদেশ তখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তার সীমান্ত এবং হৃদয় উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এটি সত্যিই বিশ্বে অনন্য উদাহরণ। সংকটের টেকসই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ ইস্যুতে বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর বিদ্যমান বৈশ্বিক চাপ আরো বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সূত্র জানায়- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কেবল অ্যান্তোনিও গুতেরেস নন, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনিও বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বৈঠকের সমাপনীতে ১৯৭৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ দেয়ার একটি ছবি শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন জাতিসংঘ মহাসচিব।