Friday, February 13, 2015
সংঘাত-নৈরাজ্য বন্ধের আহ্বান 'নাগরিক সমাজের'
'নাগরিক সমাজের' পক্ষ থেকে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা।
তিনি বলেন, 'আগে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। পরে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে- এটাই আমাদের কথা।'
পরে এক প্রশ্নের জবাবে ড. হুদা বলেন, 'সংঘাত বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংলাপের উদ্যোগ সমান্তরালভাবেই এগিয়ে নিতে হবে। আন্দোলনের নামে যারা সংঘাতে জড়িয়েছেন তাদের কাছে একটি আশ্বাসও পৌঁছাতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে 'নাগরিক সমাজের' পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, সিএম শফি সামী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক এবং অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।
এ সময় 'নাগরিক সমাজের' পক্ষ থেকে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটির নাম কী হবে তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
কমিটির আহ্বায়ক ড. শামসুল হুদা ১৩ সদস্যের নাম ঘোষণা করে বলেন, 'এই প্রক্রিয়ায় আরও অনেককে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কমিটি হবে ২১ সদস্যের।'
তিনি আরও জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তারা ডাকের অপেক্ষায় রয়েছেন। সংলাপের উদ্যোগ কোন প্রক্রিয়ায় তাও বিবদমান দু'পক্ষকেই নির্ধারণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সন্ত্রাস বন্ধ ও আলোচনা এ দুটোই নাগরিক সমাজের মূল ভাবনা উল্লেখ করে সাবেক সিইসি বলেন, 'দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে অচলাবস্থা থেকে উত্তরণে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।'
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ড. হুদা বলেন, 'রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।' বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপের কোনো সম্ভাবনা দেখা না গেলেও তারা আশাবাদী বলে জানান তিনি।
সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণের পর সরকারের একাধিক মন্ত্রীর সমালোচনা প্রসঙ্গে ড. হুদা বলেন, 'এ থেকে বোঝা যায় সরকার আমাদের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।'
সংলাপ প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুরুতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অন্যদের যুক্ত থাকা প্রসঙ্গে শামসুল হুদা বলেন, '৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা ছিলাম আমন্ত্রিত অতিথি। সেখানে আয়োজকদের মধ্যে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ও আ স ম আবদুর রবের জেএসডিসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ছিল। আমাদের বর্তমান উদ্যোগের সঙ্গে এখন যারা রয়েছেন তারা কেউ সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন।'
সংকট নিরসনে জাতিসংঘসহ বিদেশিদের নানা উদ্যোগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এটা আমাদের জন্য মোটেই সম্মানজনক নয়।'
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে দেওয়া চিঠির সারমর্ম তুলে ধরে শামসুল হুদা বলেন, 'সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা সীমিত হলেও রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে চলমান সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতির একটি নৈতিক ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি চলমান সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন বলেই নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা।'
কমিটিতে যারা আছেন
সংবাদ সম্মেলনে এটিএম শামসুল হুদাকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, এএসএম শাহজাহান, ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, ড. আকবর আলি খান, সিএম শফি সামী, রাশেদা কে চৌধুরী, রোকেয়া আফজাল রহমান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক, ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান হাবিব মনসুর এবং সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
কমিটির এখতিয়ার প্রসঙ্গে শামসুল হুদা জানান, সন্ত্রাস বন্ধ বা সংলাপের জন্য তারা নিজেরা কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করবেন না। তারা সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগ নিলে তারা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান সাবেক এই সিইসি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশের জন্য ৯ নির্দেশনা by সাহাদাত হোসেন পরশ
৫ জানুয়ারির পর থেকে চলমান অবরোধ ও হরতালে একের পর এক পেট্রোল বোমা হামলা, ককটেল নিক্ষেপ, ট্রেনে নাশকতা করে আসছে দুর্বৃত্তরা। দগ্ধদের কান্নায় ভারি হচ্ছে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট। এ ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে।
এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সমকালকে বলেন, পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে পুলিশকে কাজ করতে হবে। পুলিশের কাজে নিরপরাধ কোনো মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, তা সর্বাগ্রে বিবেচনা করতে হয়। তাই কিছু বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, অবরোধ শুরুর পর সারাদেশে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয় বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ১২ হাজার নেতাকর্মী। রাজধানীতে গ্রেফতার হয় সহস্রাধিক। তাদের মধ্যে ৭৪০ জন বিএনপির নেতাকর্মী, বাকিরা জামায়াত-শিবিরের। পুলিশের নির্দেশনায়
বলা হয়, নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যাতে হয়রানিমূলকভাবে গ্রেফতার হয়ে থানায় সোপর্দ না হন_ এ বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা জরুরি। ব্লক রেইড বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ঘটনাস্থল থেকে কোনো ব্যক্তিকে আটকের পর স্থানীয় ডিসি, এডিসি ও এসি যাচাই করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। অন্যায়ভাবে বা কারও মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা যাবে না। প্রতিদিন থানা জিডি ও হাজত রেজিস্ট্রার পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার পর সঠিকভাবে রেজিস্ট্রারভুক্ত হয়েছে কি-না তা পর্যবেক্ষণ করবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জিডি ও হাজত রেজিস্ট্রার ছাড়া যাতে গ্রেফতার হওয়া কোনো ব্যক্তি থানা-হাজত কিংবা অন্য কোনো কক্ষে অবস্থান না করে সে ব্যাপারটি ডিসি, এডিসি ও এসিকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কোনো দল কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিসিকে জানাতে হবে। ডিসি বিষয়টি অবহিত করবেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড প্রসিকিউশন) ও যুগ্ম কমিশনারকে (ডিবি)। বেআইনিভাবে কোনো ব্যক্তিকে যাতে ডিবি কার্যালয়ে অন্তরীণ করা না হয় তা অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড প্রসিকিউশন), যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সব ডিসি নিশ্চিত করবেন। পুলিশের ভাবমূর্তি ও সরকারের সুনাম রক্ষা করতে হবে। চলমান সন্ত্রাসী ও নাশকতা দমন অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয়_ এমন কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে বিভাগীয় কঠোর শাস্তি ও ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি আইনের আওতায় নেওয়া হবে। এমনকি যুগ্ম কমিশনার এবং তার চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধীনস্থ ইউনিটে আকস্মিক পরিদর্শন করবেন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানিমূলক গ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন কি-না তা তদারকি করবেন।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, চলমান অবরোধ-হরতালের নামে সন্ত্রাসীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ কঠোর হবে পুলিশ-র্যাব ও বিজিবি। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সেই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে নৈরাজ্যকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে যাতে নিরপরাধ কেউ পুলিশের অপেশাদার আচরণের শিকার না হন সেটিও নিশ্চিত করতে চান দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, জামায়াত-শিবির প্রভাবিত ১৫ জেলায় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলছে। শিগগিরই আরও কয়েকটি জেলায় অভিযান চালানো হবে। পণ্য চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের আশপাশের জেলাগুলোতে দ্রুত গঠন করা হচ্ছে 'সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি'। এমনকি যেসব এলাকায় নাশকতা ও নৈরাজ্য বেশি হচ্ছে, সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবেলা করার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে।
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কালজয়ী সাংবাদিক by রেহানা সালাম
আমাদের বাড়িতে প্রতিদিন ভোরে চা খেতে আসতেন মানিক চাচা (তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া)। হয়তো অনেক বিষয়ে মতের যথেষ্ট অমিল থাকত তাদের, কিন্তু বন্ধুত্ব গভীর ও দৃঢ় ছিল। 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিটি ছিল একটি সাহসী চলচ্চিত্র। কিন্তু তৎকালীন সেন্সর বোর্ড এ ছবিটি প্রদর্শনের অনুমতি দিচ্ছিল না। যে সময় একদিন জহির রায়হান আর শহীদুল্লা কায়সার আমাদের ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে এসেছিলেন। ছবিটির মুক্তির জন্য তাকে খুব আন্তরিকভাবে কথা বলতে শুনেছি।
আমার মায়ের মুখে শুনেছি, ভাষা আন্দোলনের সময় আমাদের বাড়িতে তৎকালীন অনেক ছাত্রনেতা আসতেন। ইংরেজি সংবাদপত্রের সম্পাদক হওয়ার পরও আমার বাবা মনেপ্রাণে এবং কলমে অত্যন্ত জোরালোভাবে ভাষা আন্দোলনকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছিলেন। এর মূল্য তাকে দিতে হয়েছিল। তাকে কারাগারে যেতে হয়। পরেও তিনি কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।
১৯৭১-এর ডিসেম্বরে আমরা বাবাসহ তোপখানা রোডে আমার মেজ বোনের বাসায় আত্মগোপন করি। সেখানে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন একদিন বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তার কাছেই আমরা জানতে পারি, বিভিন্ন স্থান থেকে বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমাদের ধানমণ্ডির বাড়ির দায়িত্বে ছিলেন বাবার ব্যক্তিগত সহকারী লাতু মিয়া এবং আমার ফুপাতো ভাই ড. মোস্তফা। তারা তোপখানা রোডে গোপনে এসে খবর দেন_ এরই মধ্যে দু'বার আলবদর বাহিনী (পরে নাম জানতে পারি) বাবার খোঁজ নিয়ে গেছে।
স্বাধীনতার পর অবজারভারের নাম পরিবর্তন হলো। আবদুস সালামের বিরুদ্ধে দানা বাঁধল নতুন ষড়যন্ত্র। ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমসের প্রকাশনা উদ্যোগকে সফল করার জন্য প্রথমে সম্পাদক পদে আমন্ত্রণ জানানো হলো তাকে। কিন্তু তিনি সম্মত হলেন না। এর মধ্যে অবজারভারে প্রকাশিত হলো কালজয়ী সম্পাদকীয় 'দি সুপ্রিম টেস্ট'। (গণতান্ত্রিক চেতনার এক অমূল্য দলিল) সে লেখার ভুল ব্যাখ্যা হলো। সরকার আবদুস সালামকে অবজারভারের সম্পাদকের পদ থেকে অবসর গ্রহণে বাধ্য করল। আবদুস সালামের ২২ বছরের সম্পাদক জীবনের অবসান হলো। নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেন আবদুস সালাম। প্রেস ক্লাব আর বাসা_ এর ভেতরেই কেটে গেল চার-চারটি বছর। ১৯৭৬ সালে আবদুস সালাম একুশে পদক পেলেন। একই বছর তিনি লন্ডন গেলেন এবং লন্ডনে প্রেস ইনস্টিটিউটের কাজ দেখলেন। ফিরে এসে সরকারকে পিআইবির রূপরেখা দিলেন।
১৯৭৭-এর ১৩ ফেব্রুয়ারি পিআইবির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন তিনি। যত সহজে এ দিনগুলোর কথা লিখেছি, তত সহজ ছিল না দিনগুলো। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে লড়তে হয়েছে আবদুস সালাম এবং তার পরিবারকে প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে। রাজনীতি না করেও বারবার নির্যাতিত হতে হয়েছে আবদুস সালামকে তার সত্য লিখন আর গণতন্ত্রের প্রতি সীমাহীন আগ্রহের কারণে। অনেক কাছের মানুষও সবসময় তার সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। ভেতরে-বাইরে নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে তাকে বারবার, কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও তিনি সত্যচ্যুত হননি। কোনো লোভ-লালসাই তাকে আপসকামী করে তুলতে পারেনি। একজন স্নেহময় পিতা ও একজন প্রেমময় স্বামী ছিলেন আবদুস সালাম। কিন্তু সবার আগে তিনি ছিলেন সেই বিরল সাংবাদিকদের একজন, যার কাছে প্রথম ও শেষ কথাই ছিল সৎ সাংবাদিকতা এবং দেশ।
সাংবাদিক আবদুস সালামের কন্যা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বকাপ ক্রিকেট
বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মতো দল বিশ্বকাপ জয় করবে, এমন কথা কেউ বলছে না। আইসিসির চার সহযোগী দেশকে নিয়েও বাজি ধরার লোক পাওয়া যাবে না। কিন্তু খেলাটা যে সেই জন্মলগ্ন থেকেই 'গৌরবময় অনিশ্চয়তার' অভিধা নিয়ে চলছে! মাঠের খেলায় এমনকি অতি দুর্বল প্রতিপক্ষের 'সেরাদিনে' কোন মহারথী ঘায়েল হবে, কে জানে। এ কারণে বাংলাদেশকে নিয়ে কোটি কোটি মানুষের চলছে স্বপ্নের জাল বোনা।
বাংলাদেশের ক্রিকেট জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয়েছে। একমাত্র এ খেলাতেই আমরা বিশ্ব আসরে বারবার নিজেদের যোগ্যতায় অংশ নিতে পারছি। শহর ও গ্রাম সর্বত্রই কিশোর ও তরুণদের প্রধান আগ্রহের খেলা ক্রিকেট। যে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার মাঠে বিপুল দর্শকের সমাগম ঘটে। টিকিট নিয়ে চলে কাড়াকাড়ি। জাতীয় দলের সাফল্যের প্রত্যাশায় উন্মুখ থাকে গোটা দেশ। আমাদের রাজনীতিতে বিভাজন আছে। কিন্তু মাশরাফি-সাকিব-মুশফিক বাহিনীকে সবাই একাত্ম হয়ে উৎসাহ দেয় এবং খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা প্রত্যাশা করে। গণমাধ্যমেও ক্রিকেট ক্রেজের প্রতিফলন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে সংবাদপত্র এবং বেতার-টিভিতে কতই না আয়োজন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ক্রিকেটের কারণে বাংলাদেশের আলাদা এক পরিচিতি গড়ে উঠেছে। আমাদের জাতীয় দল যদি নিজের শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে পারে, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যদি ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠতে পারেন, তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে না। এজন্য চাই সংকল্প_ আমরা পারি, আমরা নিশ্চয়ই পারব। বিশ্বকাপ সফল হোক। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা আর মধুরেণ সমাপয়েতে সবাই উন্মাতাল হোক, এটাই প্রত্যাশা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন : শিবির
তিনি আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত ঢাকাস্থ দায়িত্বশীলদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক নাভিদ আনোয়ারসহ বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণ এই অবৈধ সরকারের রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি চাইলেও তারা কাপুরুষচিতভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপি এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কিছু অতি-উৎসাহী কর্মকর্তার উস্কানি ও নির্দেশে প্রতিদিনই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে জীবন দিচ্ছে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। সাধারণ মানুষও এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যা ছাত্রজনতার হৃদয়ের ক্ষতকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। অবৈধ সরকারের প্রতিটি নির্মমতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণের হিসেব কড়ায়-গণ্ডায় আদায় করবে এদেশের মুক্তিকামী ছাত্রজনতা।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও ইসলামকে রক্ষা করতে হলে অবৈধ আওয়ামী সরকারের পতন ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই। চলমান আন্দোলন এখন আর কোনো দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা সর্বস্তরের জনতার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। হত্যা, গুম, নির্যাতন, হামলা, মামলা চালিয়ে মুক্তিকামী জনতাকে দমন করতে পারবে না সরকার। সুতরাং বিজয় আসন্ন। দেশ ও ইসলাম প্রিয় জনগণ অবৈধ সরকারের কবল থেকে মুক্তির জন্য প্রহর গুনছে। শিবির নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে বাতিলের মোকাবেলা করে যাচ্ছে যা জাতিকে আশান্বিত করেছে। আর পিছনে ফেরার সুযোগ নেই। জাতির মুক্তির জন্য ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। চলমান মুক্তির আন্দোলনকে চূড়ান্ত সফলতায় নিয়ে যেতে সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ময়দানে প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাঁচার লড়াইয়ে কৃষক by প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা
স্নাতক শেষ করে চাকরিতে যোগদানের সময় কৃষিবিদদের দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হতো। ফলে চিকিৎসক এবং প্রকৌশলীদের মতো কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদা দেয়ার দাবি উঠতে থাকে স্বাধীনতার আগে থেকেই। স্বাধীনতার পরও তাদের এ দাবি অব্যাহত থাকে। ১৯৭৩ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় কৃষিবিদদের দাবি মেনে নেন। ওই দিনই কৃষিবিদদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার পদমর্যাদায় উন্নীত করেন। কালের পরিক্রমায় কৃষি গ্র্যাজুয়েটরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য তাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও ১৯৯৬ সন পর্যন্ত খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করতে পারেনি দেশ। কারণ লোকসংখ্যা সাড়ে সাত কোটি থেকে ১৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছিল। এ সমস্যা সমাধানে কৃষিবিদ ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার, বীজ, তেল ও অন্যান্য সুবিধা না দেয়ায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হয়। সার, বীজ, সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন, খাদ্য মজুদ বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাসহ কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন যুগান্তকারী পরিবর্তন সুচিত হয়। ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করে। কৃষিই কৃষ্টির মূল। বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে আমরা যতই উন্নতি করি না কেন, খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের বারবার ফিরে যেতে হয় কৃষি ও কৃষকের কাছে। আর এতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন এ দেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা ও কৃষিবিদরা। স্বাধীনতার সময় এই দেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। প্রতিনিয়তই আমাদের দেশের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বিশেষ করে শিল্প-কারখানা স্থাপন, নগরায়ন, আবাসন, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও নদীভাঙনের ফলে প্রতি বছর ৬৮ হাজার ৭০০ হেক্টর করে কৃষিজমি কমছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার কারণেও প্রতিদিন ২০ শতাংশ করে ফসলি জমি কমছে। সে সঙ্গে বাড়ছে মানুষের খাদ্যের চাহিদা। এই বিপুল পরিমাণ জনগণকে খাদ্যের চাহিদা মিটাতে কৃষিবিদরা দিন রাত পরিশ্রম করে নতুন নতুন জাত আবিষ্কার করছেন। আর এই নতুন নতুন জাত কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন কৃষিবিদরা। উন্নতজাতের বীজ, সুষম সারে ব্যবহার, সেচ সুবিধার কারণে আমাদের কৃষি উৎপাদন উল্লেখ্যযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কৃষিতে এখন বহুমুখীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ ঘটছে। সম্প্রতি লবণাক্ত পানি সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবনের ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলায় ধান চাষ আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা জলাবদ্ধতা ও খরা সহিষ্ণু জাতও উদ্ভাবন করেছে। অদূর ভবিষ্যতে আমাদের হেক্টর প্রতি ফলন আরও বেড়ে যাবে। বর্তমানে কৃষিকে কেন্দ্র করে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে । ইতিমধ্যে দেশে ডেইরি ও পোলট্রি শিল্প বিকশিত হয়েছে। এছাড়াও উন্নতমানের ফল ও রকমারি ফুলের চাষও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কৃষিকে আর কৃষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোন অবকাশ নেই। আজ কৃষি একটা শিল্প আর এ শিল্পে অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে দেশের প্রতিটি মানুষের।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘সরকার অনির্দিষ্টকাল অনড় থাকবে না’ -মান্না
তিনি বলেন, সরকারের অনেকেই বলছে ডাকাতের সাথে তারা বসবে না। কিন্তু পার্বত্য শান্তিচুক্তির সময় কি আপনারা শান্তি আলোচনার জন্য বসেননি? বিডিআর বিদ্রোহের সময় কি তাদের সঙ্গে আপনারা বসেননি? বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কি তাদের চেয়ে বড় ডাকাত হয়ে গেলেন? তিনি বলেন, এখন আওয়ামী লীগ বিএনপি যা করছে তাতে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই আমরা জাতীয় সংলাপ চাইছি। শেষ পর্যন্ত দুই বড় দলকে বিষয়টি মানতেই হবে। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটে উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না বলেন, দেশ সার্বিক ধংসের দিকে যাচ্ছে। একদিকে মানুষ মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে সন্ত্রাস দমনের নামে ক্রসফায়ার হচ্ছে। গ্রেপ্তার বাণিজ্য হচ্ছে। সমস্ত সমাজে একটা অনাসৃষ্টি তৈরি হয়েছে। বোমাবাজি হত্যার রাজনীতি বন্ধ হোক। এটা অপরাজনীতি। আমরা সন্ত্রাস সহিংসতা চাইনা। সংলাপ চাই। এর কোন বিকল্প নেই।
এই স্লোগানে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করবো। ‘সংলাপের আহবানকারীদের অনেকেই ১/১১ এর কুশীলব’ আওয়ামী লীগের এমন মন্তব্যের জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা যদি ১/১১ এর কুশীলব হয়ে থাকি তবে সরকার বিগত ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে হাইজ্যাক করেছে। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক ঐক্যের ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) এর আহবায়ক আব বকর সিদ্দিক, উত্তরের আহবায়ক শহীদুল্লা কায়সার, কেন্দ্রীয় সদস্য ইফতেখার বাবু, মোফাখ্খারুল ইসলাম প্রমুখ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুতুবদিয়ায় কুতুব শরীফ দরবারে ভয়াবহ আগুন : জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন by হাছান কুতুবী
(১৩-ফেব্রুয়ারি)
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

রাজনৈতিক সমঝোতার পথ পরিহার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিরোধীদের নিষ্ক্রিয় করে দেয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন বলে মনে হচ্ছে। ৩রা জানুয়ারি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয়ে বন্দি করেছে শেখ হাসিনার সরকার। জবাবে খালেদা জিয়া ও তার দল পরিবহন অবরোধ ও হরতাল আহ্বান করেন। দলীয় নেতাকর্মীরা সহিংস আক্রমণের মাধ্যমে অবরোধ পালন করছে। এতে ৭ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জবাবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমনপীড়ন চালাচ্ছেন শেখ হাসিনার সরকার।
সহিংসতার জন্য অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দেয়া যেখানে প্রয়োজন সেখানে শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এতে শুধু আগুনে ঘি-ই ঢালা হচ্ছে। বিএনপিকে অবশ্যই সহিংসতার লাগাম টেনে ধরতে হবে। সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে। বিরত থাকতে হবে রাজপথে শক্তি দেখানোর কৌশল থেকে। পাশাপাশি, যেসব নিরাপত্তা রক্ষাকারী নির্যাতনের জন্য দায়ী তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে সরকারকে। নির্বাচনী নিয়মকানুন সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে অবশ্যই বিরোধীদের সমঝোতায় আহ্বান জানাতে হবে সরকারকে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করছে by মনির হায়দার
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা স্টিফেন ডুজারিরক আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব খুবই উদ্বিগ্ন। এ কারণে তিনি বাংলাদেশ পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করার জন্য সংস্থার সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। তারানকো বর্তমানে রাজনৈতিক বিষয়াদির (পলিটিক্যাল এ্যাফেয়ার্স) এর দায়িত্বে না থাকা সত্ত্বেও তাকে এই দায়িত্ব (টাস্ক) দেওয়ার কারণ হলো, তিনি ইতিপূর্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে কাজ করার জন্য দেশটি সফর করেছিলেন।
এই বক্তব্যের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত তিনজন সাংবাদিক বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। এরমধ্যে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জাতিসংঘ করেসপন্ডেন্টও ছিলেন। তাদের প্রশ্নে অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো ও নিশা দেশাইয়ের বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচনা ও অগ্রগতি, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ওপর গুরুতর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং অবরূদ্ধ থাকা বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে খাবার ও পানি সরবরাহ করতে না দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ও উঠে আসে। তবে স্টিফেন ডুজাররিক এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোন জবাব না দিয়ে বলেন, পরিস্থিতির প্রতি জাতিসংঘের পূর্ণ নজর রয়েছে এবং বিষয়গুলিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তারানকো-দেশাই বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে এখনও বিস্তারিত তথ্য আসেনি, তথ্য আসার পর তা জানানো হবে।
বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাতিসংঘ
এর আগে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন। ডুজাররিক বলেন, বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাতিসংঘ। সঙ্কট উত্তরণে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দায়িত্ব দিয়েছেন সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকোকে। দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। বুধবার জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিফ্রিংয়ে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের বৈঠকের প্রসঙ্গও উঠে আসে। জানানো হয়, স্থানীয় সময় বুধবার বিকালেই তাদের বৈঠক হওয়ার কথা। তবে তারা বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। ওই বিফ্রিংয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। তাতে উঠে আসে জনদুর্ভোগ। যানবাহনে আগুন দেয়া ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। ওই ব্রিফিংয়ের বাংলাদেশ অংশ প্রশ্ন-উত্তর আকারে তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: আমি মুশফিকুল ফজল। আমি বাংলাদেশ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি জানেন যে, বাংলাদেশ অত্যন্ত সঙ্কটময় সময়ের মুখোমুখি। জনদুর্ভোগ চরমে। রাজপথে যানবাহন পুড়ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সীমা ছাড়িয়ে গেছে। গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য লড়ছে জনগণ। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি। এটা ছিল একতরফা নির্বাচন। ওই নির্বাচনের আগে সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকো বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। কিন্তু কোন ফয়সালা না হওয়ায় তিনি ফিরে যান। এরপর একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে। তাতে ভোট ছাড়াই ১৫৪টি আসনে বিজয়ী হন সরকারদলীয় সদস্যরা। এ অবস্থায় আমি আসলে জানতে চাই, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে জাতিসংঘ আসলে কি করছে? বাংলাদেশের এসব ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। আমি জানতে চাই, জাতিসংঘের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করাটাই কি যথেষ্ট বলে আপনি মনে করেন? নাকি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের আরও কিছু করা উচিত? অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আরও বেশি কিছু করা উচিত জাতিসংঘের? আপনাকে ধন্যবাদ।
উত্তর: আপনি ঠিক বলেছেন, পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স-এর ইনচার্জ সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকোকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ (লিয়াঁজো) রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন মহাসচিব বান কি মুন। তিনি সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মহাসচিব বান কি মুন। আপনি জানেন যে, অনেক ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বাংলাদেশ। আমি মনে করি, অবশ্যই অনেকবার যেমনটা আমরা বলেছি, বাংলাদেশে সহিংসতা ও প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
অন্য এক সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান- বাংলাদেশ ও পশ্চিম সাহারা নিয়ে আপনি বলেছেন। আপনি বলেছেন, অস্কার তারানকো এ বিষয়ে এখনও কাজ করছেন। আমি শুনেছি, বুধবার বিকালেই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তারানকো। কি নিয়ে ওই বৈঠক এটা কি অনুমান করা ঠিক হবে? আপনি বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন?
উত্তর: আমি মনে করি এ নিয়ে কোন কিছু অনুমান করা ঠিক নয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাড়ে তিন হাত ভূমি
মুক্তিযুদ্ধের এতদিন পর সম্ভবত কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের হাতেই অংকিত হল সেই চরিত্রের। যার কথা মনে হলেই মানসলোকে ভেসে উঠবে এমন এক মানুষের ছবি যিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে স্বাধীনতার কাক্সক্ষায় জীবনকে বাজি রেখেছেন। যিনি দেশের মাটিকে মায়ের মতোই পবিত্র মনে করেন। যিনি যে কোনো পীড়নের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদী। যিনি কাঁদতে জানেন। যিনি কাঁদতে কাঁদতেই বুকের ভেতরে অগ্ন্যুৎপাতের মতো বিস্ফোরণ জমা করেন। সাড়ে তিন হাত ভূমির প্রথম পর্ব পড়ার পর মনে হয়েছে ইমদাদুল হক মিলনের হাতে রচিত হল মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে ভিন্নমাত্রার উপন্যাস।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত উপন্যাসের কতিপয় কমন বিষয় হল গোলাগুলি, গেরিলা অপারেশনের বর্ণনা, ব্রিজ ভেঙে ফেলা, ক্লাউন সদৃশ কতিপয় রাজাকারদের খুচরা কর্মকাণ্ড ইত্যাদি। এ উপন্যাসে আমরা যেটা খুব সতর্কতার সঙ্গে লঙ্গ করি সেটা হল এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে মুক্তিযুদ্ধ কেবল গোলাগুলির বিষয় নয়। পাকিস্তানিদের বোকা বানিয়ে ব্রিজ ভেঙে ফেলে কৌতুকানন্দ লাভ করাও নয়। যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ একটা চেতনার নাম। এ চেতনার সঙ্গে জড়িত আছে দেশাত্মবোধ। রয়েছে আত্ম-অধিকারের মর্যাদাকাক্সক্ষা। রয়েছে প্রতিবাদ। রয়েছে দ্রোহ। মুক্তিযোদ্ধা রবি এসব কিছুই ধারণ করে। তার বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় তার শৈশব-কৈশরের যৌবনের বর্ণনা। পাওয়া যায় তার পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা। এভাবে তার মানসলোকের সন্ধানও পাওয়া যায়। চেতনা ধারনের সঙ্গে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কবর খুঁড়তে খুঁড়তে তার মনে পড়ছে কত কথা! এ কথার হাত ধরে ধরে কতসব চরিত্র এসে পড়ে! কিন্তু কোনো চরিত্রকেই উপন্যাসের চরিত্র মনে হয় না। মনে হয় জ্যান্ত মানুষ। ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে চোখের সামনেই। ইমদাদুল হক মিলন এমন এক কৌশল অবলম্বন করেছেন যেন টাইম মেশিনের মাধ্যমে পাঠককে পেছনে নিয়ে যাচ্ছেন। দেখাচ্ছেন সেই সময়ের চিত্র। কথক একজনই। তার দৃষ্টি তার অনুভব তার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই দেখা হচ্ছে সবাইকে সবকিছুকে। কিন্তু কী অবলীলায় তা হয়ে যাচ্ছ অন্যদেরর নিঁখুত মনোস্তত্ত্ব। হয়ে যাচ্ছে পাঠকেরও। চোখের সামনে জ্যান্ত হয়ে ভেসে উঠছে সেই সময় সেই পরিবেশ, দেখা যাচ্ছে আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে সংস্কৃতি। সবকিছু মিলিয়ে চিত্রিত হচ্ছে বাঙালির জীবনের সবচেয়ে নাজুক সময়ের। যে সময়ে দেশের প্রতিটি ধূলিকণা ছিল অনিরাপদ।
সেই অনিরাপদ ধূলিকণার প্রতিটি প্রহর আঁকতে গিয়ে লেখক বেছে নিয়েছেন রবিকে। যে সাড়ে তিন হাত ভূমি খুঁড়তে খুঁড়তে হারিয়ে যাচ্ছেন বাবার ভেতরে, দাদার ভেতরে, মায়ের ভেতরে, বোনের ভেতরে, তার স্ত্রীর ভেতরে, তার অনাগত সন্তানের ভেতরে। এ স্মৃতিচারণার ভেতর দিয়েই রচিত হচ্ছে বাংলার মানুসের মুক্তির আকাক্সক্ষার পর্যায়, বাংলার মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস, বাংলার মানুষের ওপর অত্যাচারের বিভৎস্য রূপ, সর্বোপরি বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাস। ইতিহাসের চেতনা।
নিরন্নের কাল, অধিবাস, পরাধীনতা, কালো ঘোড়া, নুরজাহানের পর কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের আরেক সাহিত্যকর্ম যা তার প্রবল শক্তিমত্তার পরিচয় বহন করে। এ প্রতিভার সচল ব্যবহার আমরা আশা করি আর পিপাসার্ত হয়ে প্রতীক্ষা করি সাড়ে তিন হাত ভূমি’র পরবতী পর্বের।
সাড়ে তিন হাত ভূমি : ইমদাদুল হক মিলন
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিজ্ঞানশকুন্তলম থেকে শুক্লা শকুন্তলা by মোস্তফা তোফায়েল
শুক্লা শকুন্তলা কাব্যনাটকটির ঘটনা ক্রমশ অগ্রগতি ও উন্নতি লাভ করতে থাকে চরিত্রায়ণের মধ্য দিয়ে। নাটকীয়তায় অংশগ্রহণ থাকে দুষ্মন্তের ও নায়িকা শকুন্তলার (সনেট ৫); দুর্বাশা মুনির (সনেট ১২); ইডেনরূপে স্বর্গের (সনেট ১৬); কোরাসের (সনেট ২৫, ২৮, ২৯); ভাষ্যকার ও দার্শনিকের (সনেট ১৫, ৩০, ৩১)। উৎকর্ষ অর্জিত হয় ভাষ্যকারের আলোক প্রক্ষেপণীয় ভাষ্যে (সনেট ১৫)। যেখানে শুনি-
স্বর্গের সাথে মর্ত্য যখন মেলে
প্রাক-অনুমতি করে না তো প্রয়োজন।
মিলন মধুর মিলনেই উপাসনা
মিলিত মানুষে অমিত সম্ভাবনা।
কাব্যনাটক শুক্লা শকুন্তলার কাঠামো বিন্যাসে এভাবে শুরু বা সূচনাপর্ব, উন্নতি, উৎকর্ষ, অভিকর্ষ ও মোক্ষম অবস্থার সৃষ্টি হয়। নাট্যপরিকল্পনায় কবি তার কাহিনীকে একটি সুনির্দিষ্ট অভীষ্টে এগিয়ে নিয়ে যান- নিজস্ব শৈলী, স্বকীয়তা ও সৃজন প্রতিভায় বলীয়ান হয়ে।
মূল নাটকেও জৈবিক তাড়না আছে, তা শুধু দৃশ্যকল্পের ইঙ্গিতময় প্রকাশভঙ্গিতে। বৃক্ষবল্কল পরিহিত শকুন্তলার নবযৌবন, দৃঢ়পিনদ্ধ থাকতে অনিচ্ছুক হয়ে, তার বুকের চারদিকে ধাক্কা মেরে মেরে বহিঃপ্রকাশে অস্থির। বনের মধ্যে শিকারীর বেশে প্রবেশকারী দুষ্মন্ত অন্তরাল থেকে সেই জাজ্বল্যমান যৌবদৃশ্য উপভোগ করেন আর তাকান বনের নবমল্লিকাঋদ্ধ পল্লব দলের প্রতি, যে পল্লব দল আলিঙ্গন করছিল অন্য বৃক্ষের কাণ্ডগুলোকে। মুহম্মদ নূরুল হুদা বহির্লোকের এই দৃশ্যকল্পকে তার কাব্যে রূপায়ণ করেন অন্তর্লোকের আবেগানুভূতিতে। কালিদাসের চক্ষুষ্মানতা এক ধাপ এগিয়ে প্রকাশ লাভ করে মানব-আকাক্সক্ষার জৈবিক ও মানসিক অভিজ্ঞতাপুষ্ট উচ্চারণে-
দেবতারা সদাশয়; তাদের চরণে
দেবে যত হৃষ্টপুষ্ট উষ্ণ বলিদান
তুষ্ট তত দেবগণ, তত পুণ্যবান
হে শীর্ণ মানব তুমি অনন্ত অঙ্গনে।
(৫)
পক্ষান্তরে, দুষ্মন্তও বিগলিত শকুন্তলার রূপের অনলে-
যে রূপে আগুন জ্বলে কামারশালায়
লৌহপিণ্ড গলে যায়; যে রূপে জ্বালায়,
যে রূপে পুরুষমাত্র হয় অন্ধকূপ।
মাধব্য দেখিনি শুধু এমন প্রতিমা,
স্পর্শে যার খানখান রাজার মহিমা। (সনেট-৬)
শুধু সন্তান কামনা করেই অপার মানবিকতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনে ক্ষান্ত নন শুক্লা শকুন্তলার রাজা দুষ্মন্ত, তিনি তার দীর্ঘ ও প্রশস্ত বক্ষ অধিকতর প্রসারিত করেন তার প্রজাদের জন্য। সে বক্ষ কালক্রমে হস্তিনাপুর রাজ্যের সমগ্র ভূখণ্ডের সমপরিমাণ হয়ে যায়; রাজা তার উদার বক্ষতলে সমমর্যাদায় উপলব্ধি করেন প্রজাদের সার্বিক অস্তিত্ব। রাজা হয়ে পড়েন প্রজাদের সমকক্ষ মানব-
ধর্মরাজ্যে ডর ভয় নেই কোনদিন
রাজা-প্রজা একপক্ষ, ভেদাভেদহীন। (সনেট ৮)
শুক্লপক্ষ আলোকউদ্ভাসিত শকুন্তলার চৌম্ব্যকস্পর্শেই রাজা দুষ্মন্তের এই মানবিক বিবর্তন, ‘শুক্লা শকুন্তলা’ কাব্যনাট্যে। পৌরাণিক কাহিনী এখানে পুনর্সৃজন ভূমিতে বিবর্তিত পরিবর্তিত। মানবসৌন্দর্যের অগ্নিপ্রভায় রাজহৃদয় স্বর্ণে পরিণত।
শুক্লা শকুন্তলার রাজা নিশ্চিত যে, তপোবনের প্রভাবেই তিনি আজ সাম্যজ্ঞানে দীক্ষিত। রাজা উচ্চারণ করেন যে, শকুন্তলার রূপচ্ছটাদীপ্ত শুভ্র তপোবনই সেই স্বর্গ বা ইডেন যে স্বর্গে উচ্চ-নিচ ভেদাভেদ অনুপস্থিত-
অতিথীপ্রবণ এই বন; যারা আছে
রাজাপ্রজা উচ্চাবচ ঋষি বা সন্ন্যাসী
সবাই স্বনিষ্ট মনে শোনে সেই বাঁশি,
উদার তরুর শীর্ষে শকুন্তেরা হাসে।
এই বনে আগন্তুক আসেন নির্ভয়ে
সৎকারের প্রশ্ন নিয়ে নেই কোনো তর্ক। (সনেট ১০)
শকুন্তলার শাস্তিভোগ, তার ত্যাগ ও তিতীক্ষা, তার একাগ্রতা, সততা ও সাধনা তাকে মোক্ষলাভ ও নির্বাণের পথে নিয়ে যায়। শকুন্তলা সে মুহূর্তে শুক্লা শকুন্তলায় পরিণত হয়-
এই গৃহ ছেড়ে আমি অন্য গৃহে যাই,
এসেছেন সম্মানিত দিব্যজ্যোতির্ময়;
প্রেমের প্রাসাদ তাও ছেড়ে চলে যাই;
এসেছেন সম্মানিত দিব্যজ্যোতির্ময়; (সনেট ২১)
সনেট ২৫-এ পাই গ্রিক নাটকের আদলে কোরাস চরিত্র। সংশয়াকুল দর্শক-পাঠকের উৎকণ্ঠা উপশমের উদ্দেশে কোরাস উচ্চারণ করে প্রোটাগোনিস্টের বর্তমান অবস্থা-
একটি চাবুক শুধু করে ফেরে তাড়া;
বাহু আছে, কিন্তু নেই বাহুর বাঁধন।
প্রতিক্ষণে জন্ম তার, মৃত্যু প্রতিক্ষণ
দুষ্মন্ত নিজেই আজ নিজের দুষ্মন। (সনেট- ২৫)
শকুন্তলা সান্ত্বনায় এগিয়ে আসে তার পিতা কণ্বমুনি। শকুন্তলার হারিয়ে ফেলা অঙ্গুরীয় উদ্ধার হয় মৎস্যশিকারীদের মাধ্যমে। দুষ্মন্তের বিস্মৃতি অতিক্রান্ত হলে তার হৃদয়ের দর্পণে ভেসে ওঠে তারই ঔরসজাত নিষ্পাপ-নির্দোষ সন্তানের কান্নার দৃশ্য-
অথচ মোহান্ত আমি, আমার অন্তর,
মাধব্য, হৃদয় জুড়ে কাঁদে কে মাসুম? (সনেট ২৭)
অতঃপর রাজা দুষ্মন্তকে কোরাস শোনায় জীবনের রূঢ় অভিজ্ঞতার কথা, উত্থান ও পতনের কথা এবং বিপর্যয় ও জয়ের কথা-
দাঁড়াতে দাঁড়াতে কেউ দাঁড়াবে না আর
কেবলি পিছলে যাবে, পিছলে কেবলি
কামক্রোধ হিংসাদ্বেষ মত্ত দলাদলি,
পথে পথে ভাঙা সেতু আর পারাপার। (সনেট ২৯)
অশেষ কান্নার শেষে অতঃপর আসে মিলন মুহূর্ত, কিন্তু তা একই সঙ্গে রচনা করে জীবনেরও অন্তিম লগ্নের শয়ন-শয্যা:
বিরহ বিব্রত করে বিরহীর মন
শুকায় মাংসপেশী শুকায় হৃদয়
কৃশকায় হয়ে ওঠে প্রফুল্ল সময়-
না, হয় না শেষ কখনও মিলন।
রবীন্দ্রনাথও বোধ করি এমনই এক মানব-পরিণতির বাণী উচ্চারণ করে গেছেন তার এক ভক্তিমূলক গানে-
“দিনের শেষে রৌদ্র জ্বালায়,
শুকায় মালা ফুলের মালায়
সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, প্রভু।”
কোনো কাব্যনাটকে যখন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যরসসমূহ উপভোগ্যরূপে প্রয়োগ হয় এবং গ্রন্থটির কাব্যদেহে অলংকারের সজ্জা হয়ে তার শোভা বর্ধন করে, তখন সে কাব্যনাটকের সাহিত্যসুধা সভামঞ্চ আমোদিত করে তোলে। পৌরা৭ণিক কাহিনীর শক্তি সম্পর্কে সচেতন কবি যখন মহাভারতের শকুন্তলা কাহিনীকে আধুনিক সাহিত্যের চারিত্র্য গুণে নবসৃজন করেন, তখন উপভোগ্য সেই সাহিত্যরসগুলো সিঞ্চন করতে থাকে নবজলধারা। শুক্লা শকুন্তলা কাব্যনাটকে আমরা উপভোগ করি অনেকগুলো সাহিত্যরস, যথা- শৃঙ্গাররস, করুণরস, বীররস, ভয়ানকরস, বাৎসল্যরস প্রভৃতি।
শুক্লা শকুন্তলা কাব্যনাটকের চরিত্র চিত্রায়নে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা কালিদাসের নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলার কাহিনী টুকুই শুধু গ্রহণ করেছেন, কিন্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঘটিয়েছেন রূপান্তর ও পুনঃসৃজন। সর্বশেষ সনেট এপিলগে কবি বাঙালি জাতিসত্তাজনিত ঐতিহ্যবিপন্নতার প্রতি ইঙ্গিত করে বিরূপ প্রভাবের প্রতি অঙ্গুলিসংকেত দান করেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিক নর-নারী সম্পর্ক গৌণ বিষয়। মুখ্য ও শাশ্বত বিষয় হচ্ছে হৃদয়জারিত প্রেম ও প্রেমের স্মারকচিহ্ন সন্তান, যা অতীত ও বর্তমানের সঙ্গে ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন রচনা করবে-
মিলন মুহূর্ত এলে কাঁপে তবু বাহু
নারী সত্য, সত্য নয় রমণীর রাহু (সনেট ২৭)
নাগরিক জীবনের ব্যক্তিক স্বার্থমগ্নতা ও শেকড়শূন্যতা কবিহৃদয়কে পীড়িত করেছে বলে তিনি এপিলগে এ প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। শ্রমহীন উপার্জন ও সাধনাহীন বিদ্যাবাগীশদের উপপ্লব তাকে ব্যথিত করেছে। উম্মূল নগরজীবনের এই অভিশাপের বিপরীতে বর্তমান কবি যে শাশ্বত প্রেম, শাশ্বত মানুষ সন্ধান করেছেন, শুক্লা শকুন্তলা কাব্যনাট্যে, তা বৃহত্তর পাঠক সমাজের মনোযোগ আকর্ষণ করবে, প্রত্যাশা রইল।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্বিধাহীনচিত্তে রক্ত ঢেলে দেয়ার নাম বর্ণমালা by মেজবাহ উদদীন
ফেব্রুয়ারি শেষ, সাহিত্যানুরাগী হিসেবে আপনার মন খারাপ। কিন্তু জ্ঞানের প্রতি আপনার ক্ষুধা যদি হয় অসীম, জানার ইচ্ছা যদি হয় সু-তীব্র, ভাবনা যদি হয় সু-গভীর, নিজের জানা পৃথিবীটাকে যদি তুলনা করতে চান বৈশিকতায়; আন্তর্জাতিক বইমেলা হতে পারে আপনার তৃপ্তির ষোল-আনা পূরণের একটি বড় উপলক্ষ।
যে পৃথিবীতে আমরা স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে খুব সহজেই যে কোনো তথ্য পেয়ে থাকি, সেখানেও কোনো বিষয়ে গভীরভাবে জানার জন্য আমাদের অনেকেই বইয়ের কাছে ফিরে যায়।
‘বই হল চির বিশ্বস্ত এবং অবিচল বন্ধু; এরা অনেক উপভোগ্য এবং বিজ্ঞ পরামর্শক, যা আমাদের ধৈর্য শিক্ষা দেয়’।
চার্লস ডব্লিউ ইলিয়ট (প্রেসিডেন্ট অব হারবার্ড ইউনিভার্সিটি)
আন্তর্জাতিক বইমেলা এমন একটি জায়গা যেখানে নতুন নতুন বই এবং লেখকের জন্ম হয়, আন্তর্জাতিক প্রকাশক এবং পরিবেশকরা নিজেদের অধিকার নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা করতে পারে। পাঠকরা পুরো পৃথিবীর বিখ্যাত বইগুলো খুঁজে নিতে পারে নিজেদের পছন্দমতো। প্রকাশক, লেখক এবং পাঠকের পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে আন্তর্জাতিক বইমেলা পৃথিবীব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আপনি যদি হোন একজন সাহিত্যপ্রেমী; বলার অপেক্ষা রাখে না, পরের অংশটুকু আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
১৪ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ নিউ দিল্লি বইমেলা দিয়ে শুরু করে নভেম্বর-ডিসেম্বরে মেক্সিকো বইমেলা দিয়ে শেষ হতে পারে আপনার এ বিশ্বভ্রমণ। মাঝখানে যেসব জায়গায় আপনি যেতে পারেন-
৩০ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল ২০১৫ বলগনা, ইটালি।
লন্ডন বইমেলা, ১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল ২০১৫।
২৩ এপ্রিল থেকে ১১ মে ২০১৫, বুয়েন্স আয়ার্স বইমেলা, আর্জেন্টিনা।
আবুধাবি আন্তর্জাতিক বইমেলা ৭ থেকে ১৩ মে, ২০১৫।
নিউইয়র্ক সিটি, অ্যামেরিকা ২৭ থেকে ২৯ মে, ২০১৫।
১৯ থেকে ২১ জুন, ২০১৫ সাউথ আফ্রিকান বইমেলা।
টকিও আন্তর্জাতিক বইমেলা, জাপান ১ থেকে ৪ জুলাই, ২০১৫।
হংকং বইমেলা ১৫ থেকে ২১ জুলাই, ২০১৫।
বেইজিং আন্তর্জাতিক বইমেলা ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট, ২০১৫।
১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ফ্যাঙ্কফুট বইমেলা, জার্মানি।
ম্যাক্সিকো বইমেলা ২৮ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর, ২০১৫।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বইমেলা হল ফ্যাঙ্কফুট বইমেলা। বই প্রকাশনায় ভালো করতে চায় এমন লোকদের অবশ্যই এখানে ভ্রমণ করা উচিত। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত এ মেলায় ১০২ দেশের ৭,২৭৫ প্রদর্শক, ৯,৩০০ সাংবাদিক, ৬৩১ সাহিত্য প্রতিনিধি এবং ১,৭০,৬৬৪ জন পেশাদার দর্শনার্থীসহ মোট ২,৭৫,৩৪২ জন দর্শনার্থী এসেছিল।
ইংলিশ লেখকরা বিশ্ব সাহিত্যকে অনেক দিয়েছেন। তাই বিশ্ব বইমেলা দেখতে গিয়ে লন্ডন বইমেলায় যাওয়া না হলে বিশ্ব সাহিত্যের অনেক কিছুই অজানা থেকে যাবে। আজকের পৃথিবীতে বিভন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বইমেলার মধ্যে ফ্যাঙ্কফুট বইমেলার পর লন্ডন বইমেলাকে দ্বিতীয় গূরুত্বপূর্ণ বইমেলা মনে করা হয়। এটাকে ইউরোপিয়ান প্রকাশক, বই বিক্রেতা, স্বত্বাধিকারী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বের মক্কা মনে করা হয়।
ইতিহাসের অনেক বড় বড় নেতা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে জানার আরেকটি সুযোগ হিসেবে নিয়েছিলেন এবং যখনই সময় পেয়েছেন নিজেদের জ্ঞানের পৃথিবীকে নিয়ে গেছেন আরও বিস্তৃত দিগন্তে। মাহাত্মা গান্ধী এবং নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণনা কেরছেন কীভাবে তারা তাদের জেলের জীবনকে বই পড়ার কাজে ব্যবহার করতেন এবং পরে নিজেদের বইতে তাদের ধারণাগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন, যা তাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য কেরছিল।
ইংরেজ কবি ক্রিস্টোফার মরলের মতে- ‘যখন তুমি কারো কাছে একটি বই বিক্রি করলে; তুমি তার কাছে কয়েক আউন্স কাগজ, কালি আর আঠা বিক্রি করনি- তুমি তার কাছে একটি নতুন জীবন বিক্রি করেছ”।
‘বইমেলায় শিশুদের বই, বাণিজ্য, সমাজ বিজ্ঞান, ব্যবসা, বৈজ্ঞানিক, খেলাধুলা এবং কৌশল সংক্রান্ত নতুন নতুন বই পাওয়া যায়। বইমেলা পাঠককে জীবনের সব রং যোগান দিয়ে যায় সময় অনুযায়ী। তাই সময় সুযোগ সব কিছু মিলে গেলে বিশ্ব সাহিত্যের আয়নায় একবার দেখে আসুন বিশ্বকে এবং ক্ষানিকা নিজেকেও।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাতৃভাষায় শিক্ষার স্বপ্ন এখনও অধরা by রাজীব নূর
পার্বত্যাঞ্চলে কর্মরত একটি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিআইপিডি) নির্বাহী পরিচালক জনলাল চাকমা বলেন, নিউজিল্যান্ডে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মাওরি শিশু মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে তারা শুধু ইংরেজিতে শিক্ষা গ্রহণকারী শিশুদের চেয়ে ভালো ফল করছে। এমন আরও অনেক গবেষণা থেকে এটা প্রমাণিত হয়েছে, মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ফলের সম্পর্ক প্রত্যক্ষ। তাই আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় আদিবাসীদের ভাষা প্রয়োগ ও প্রচলনের দাবি জানিয়ে আসছি। এর ফলে ২০১০ সালে চালু হওয়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে আদিবাসীদের মাতৃভাষা শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের আগে আদিবাসীদের মাতৃভাষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। কিন্তু পার্বত্য চুক্তির খ খ ের ৩৩ নম্বর ক্রমিকের খ (২) নম্বর উপ-অনুচ্ছেদে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের কথা উল্লেখ থাকায় বাংলা ভিন্ন অন্যান্য ভাষাভাষীর মাতৃৃভাষা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের মাতৃভাষার ভূমিকা কী হবে, এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষানীতিতে অস্পষ্টতা রয়েছে বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও নৃবিজ্ঞানী প্রশান্ত ত্রিপুরা। তিনি বলেন, সংবিধানে আদিবাসী শব্দটির ঠাঁই না মিললেও ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিতে এটি ছিল। তাই তখন আদিবাসী নেতৃবৃন্দ শিক্ষানীতিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে যে 'মাতৃভাষায় শিক্ষা'র বদলে 'মাতৃভাষা শিক্ষা'র কথা বলা হয়েছে, তা অনেকে হয়তো খেয়াল করেননি। তিনি বলেন, ছাপার ভুলে 'য়' বাদ গিয়ে 'মাতৃভাষা শিক্ষা' হয়নি, বরং কথাটা সচেতনভাবেই এভাবে লেখা হয়েছে_ এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার বলেন, আদিবাসীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষা ও মাতৃভাষায় শব্দটি নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইংরেজিতে বলা হয়েছে_ থ্রু মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ। অর্থাৎ, মাতৃভাষায়। কিন্তু বাংলায় 'য়' বাদ পড়েছে। 'মাতৃভাষা শিক্ষা' বলতে মন্ত্রণালয় মাতৃভাষায় শিক্ষাই বুঝিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু আদিবাসীরা ২০১০ সালে চালু হওয়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মাতৃভাষায় শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেখে স্বাগত জানিয়েছিল। সে অনুসারে একটি জাতীয় কমিটিও গঠিত হয়েছিল ২০১২ সালে। কমিটির প্রধান কাজ ছিল আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন উপকমিটি গঠন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক সৌরভ সিকদার নিজেও ওই কমিটির একজন সদস্য। কমিটিতে আদিবাসী নেতারাসহ ভাষাবিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিষয়ক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কয়েকজন প্রতিনিধিও ছিলেন। এ কমিটির পরিকল্পনায় প্রাথমিকভাবে ছয়টি আদিবাসী ভাষাকে চিহ্নিত করা হয়, যাদের মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হবে এবং ভাষাভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছয়টি ভাষা হচ্ছে_ চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, সাদরি, ত্রিপুরা ও মান্দি। পরবর্তীকালে লিপি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সাঁওতাল ভাষাকে সাময়িকভাবে বাদ রাখা হয়। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক তৈরি ও পাঠদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সেভ দ্য চিলড্রেনের আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়োজিত শিশুর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের পরিচালক মেহেরুন্নাহার স্বপ্না বলেন, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে গঠিত এমএলই (মাল্টি লিঙ্গুয়াল এডুকেশন) ফোরামের অ্যাডভোকেসির ফল হিসেবে সরকার ২০১০ সালের শিক্ষানীতির মধ্যে আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার স্বীকৃতি দিয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য আদিবাসী শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করা হবে। এই কাজে বিশেষ করে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে আদিবাসী সমাজকে সম্পৃক্ত করা হবে। পরে ২০১৩ সালে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা আরম্ভ করার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৪ সালে কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিল। ২০১৪ পেরিয়ে ২০১৫ সাল চলছে। এখনও সরকারিভাবে তা আরম্ভ করা হয়নি।
সরকারিভাবে মাতৃভাষায় শিক্ষা চালু করা না গেলেও ২০০৬ সাল থেকে সেভ দ্য চিলড্রেন পার্বত্য চট্টগ্রামে জাবারাং কল্যাণ সমিতিসহ স্থানীয় কিছু উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন মেহেরুন্নাহার স্বপ্না। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন ও ম্রো ভাষার ২৬ হাজার ২৮৫ শিশু কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে এবং আট হাজার ৯৫৭ শিশু প্রাক-প্রাথমিক শেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা জানান, খাগড়াছড়ির ৫০টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। তবে তিনি মনে করেন, এটি ব্যাপকভাবে সফল করার জন্য সরকারি উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় বই প্রণয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবে কেবল বই প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।আগামীকাল পড়ূন :চাকমাদের দুঃখিনী বর্ণমালা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিদেশে বাংলাদেশের বই বিপণন by জাফর আলম
আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে পশ্চিমবঙ্গের ও সেখানকার সব বাংলাভাষী অঞ্চলে (ত্রিপুরাসহ) বাংলাদেশের বই বিপণন, বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে নিুলিখিত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখছি।
পশ্চিমবঙ্গের বিদগ্ধ পাঠকরা সারা বছর বাংলাদেশের বই পড়তে ও পেতে আগ্রহী। তাই কলকাতা বই পাড়া কলেজ স্ট্রিটে একটি ‘বাংলাদেশের পুস্তক প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র’ খোলা একান্ত প্রয়োজন। এ ব্যাপারে ঢাকার ছয়টি সরকারি প্রকাশনা সংস্থা (জাতীয় গ্রন্থসহ) এবং বেসরকারি খ্যাতনামা প্রকাশকরা যৌথভাবে এ দোকান খুলতে পারে। স্থানীয়ভাবে একজন সেলসম্যান ও একজন পিওন নিয়োগ করলেই যথেষ্ট। দোকান ভাড়া ও আনুষাঙ্গিক ব্যয় যৌথভাবে সরকারি ৬টি প্রকাশনা সংস্থা ও বেসরকারি প্রকাশকরা বহন করবে। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের গ্রন্থাগারিক এ দোকানের তদারকি করতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গের বিশেষত কলকাতার পাঠকরা বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা, বই, সাময়িকী পড়তে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের সাময়িকী ও পত্রিকা সেখানে যায় না। বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে কূটনৈতিক অফিসগুলোতে পত্রিকা যায় সপ্তাহে দুই দিন। এ পুরনো পত্রিকা পার্ক সার্কাসে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রে যায়। স্থানীয় পাঠকরা পুরনো পত্রপত্রিকা পড়ে তৃপ্ত নয়। তাই বাংলাদেশের পত্রিকা দৈনিক পাঠানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। যেহেতু কলকাতায় ঢাকার সঙ্গে দৈনিক বিমানের ফ্লাইট রয়েছে। বাংলাদেশের সাময়িকীর চাহিদা রয়েছে, তাই বৈধভাবে সেখানে রফতানি করা যায়।
বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রটি পার্ক সার্কাসে পুরনো দু’তালা বাড়ির নিচতলায় তিনটি কামরায় অবস্থিত। সেখানে বই ও প্রত্রপত্রিকা (বাঁধাই করা) রখার স্থান সংকুলান হয় না। তাই ক্ষুদ্র পরিসরে স্থানীয় পাঠক গবেষকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। গ্রন্থাগারটি জরুরি ভিত্তিতে সম্প্রসারণ প্রয়োজন। কিন্তু যেহেতু বাড়িটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি (প্রয়াত শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর বাড়ি), তাই এর সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। বাড়িটির দু’তলায় উপ-দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাও বসবাস করেন। কলকাতায় রাশিয়ার গর্কি সদন, জার্মানির ম্যার্ক মুলার ভবন, যুক্তরাষ্ট্রের ইউসিস, যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং ফ্রান্সের অ্যালান্স দি ফ্রান্স রয়েছে। এদের নিজস্ব লাইব্রেরি, মিলনায়তনও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এদের নিজস্ব সাহিত্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের মানুষের কাছে তুলে ধরছে। গ্রন্থাগার পাঠক ও ছাত্রদের চাহিদা মিটাচ্ছে। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের কোনো সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই, তাই বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সেখানকার মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারছে না। আমার প্রস্তাব, বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সাহিত্য, ঐতিহ্যকে তুলে ধরার জন্য কলকাতায় একটি ‘বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতি কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করা হোক। ওই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সরা বছর বাংলাদেশের বই প্রদর্শনী, বাংলাদেশের কবিদের কবিতা পাঠের আসর, দুই বাংলার লেখকদের সাহিত্য সম্মেলন শিল্পকলা প্রদর্শনী, সেমিনার, লেখক সমাবেশ, ভিডিও প্রদর্শনী, বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কিত আলোচনা সভা, সেমিনার, দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন সম্পর্কিত গোলটেবিল বৈঠক, প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করা যেতে পারে। এর ফলে দু’দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। আমি তার সানুগ্রহ দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা নিয়ে উদ্যোগ নিলে ‘কলকাতায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিষয়টি গভীরভাবে দ্রুত বিবেচনার অনুরোধ জানাই।
পশ্চিমবঙ্গে পৃথক গ্রন্থাগার মন্ত্রণালয় রয়েছে। সেখানে সরকারি গ্রন্থাগারের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় সরকারি গ্রন্থাগার রয়েছে। তাছাড়া সরকারি গ্রন্থাগার উপ-জেলায় সম্প্রসারিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় বই পড়ায় তরুণদের উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রন্থাগার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার জন্য পৃথক গ্রন্থাগার মন্ত্রণালয় গঠন করা উচিত। তদুপরি গ্রন্থাগারিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পৃথক বেতনের স্কেল ও মর্যাদা বৃদ্ধির দাবি জানাই। বেসরকারি গ্রন্থাগার সংস্থা এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
যৌথ উদ্যোগে কলকাতা-ঢাকার নামকরা প্রকাশকরা যৌথ প্রকাশনার উদ্যোগ নিতে পারেন। মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া কলকাতা বাংলাদেশের অনেক নামকরা লেখক সুপরিচিত নন। যৌথ প্রকাশনার ফলে কলকাতায় (বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে) আমাদের লেখকদের পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বই পাঠে তারা উপকৃত হবেন।
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের বই সম্পর্কে জানার আগ্রহ মেটানোর জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র প্রকাশিত ‘বই’ পত্রিকার ব্যাপক প্রচার ও বিলিবণ্টন করা উচিত। এ জন্য কলকতায় ‘বই’ পত্রিকার এজেন্সি দেয়া যেতে পারে। পার্ক সার্কাসে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রে নিয়মিত ‘বই সাময়িকী পাঠাতে হবে যেন সেখানকার পাঠকদের চাহিদা মেটায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কলকাতা উপ-দূতাবাসে ‘বই’ পত্রিকা পাঠানো যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে বশেষত কলকাতা বইমেলায় গবেষণাধর্মী বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা সংস্থাগুলো যৌথভাবে কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করতে পারে। ফলে আমাদের শীর্ষ বিদ্যাপিঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কর্ম সম্পর্কে সেখানকার গবেষকরা জানতে পারবে এবং গবেষণাধর্মী বই ক্রয়ের সুযোগ পাবে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছি, ভারত থেকে প্রতিবছর ১০ কোটি টাকার বই (পাঠ্যবইসহ) আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বই রফতানির পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি নয়। ভারত-বাংলা বাণিজ্য ঘাটতি বিরাট। আমরা বই রফতানি করে ওই ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করতে পারি। এ ব্যাপারে ঢাকার খ্যাতনামা প্রকাশক ও সরকারি প্রকাশনা সংস্থাগুলো (৬টি) যৌথভাবে ভারতে বাংলাদেশের বই রফতানি বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ নিতে পারে। এ ব্যাপারে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তা একান্ত প্রয়োজন। আশাকরি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহল আমার উল্লিখিত প্রস্তাবগুলেঅ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন এবং পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে বাংলাদেশের বইয়ের বাজার সৃষ্টি বিপণনের ব্যাপারে এগিয়ে আসবেন। এর ফলে বিদেশে বাংলাদেশের বই বিক্রি খাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাড় দিতে হবে দুই পক্ষকেই by মইনুল ইসলাম
উপরন্তু, সংকট জিইয়ে রাখা গেলে এই রাজনৈতিক সংকটের মূল ইস্যু একাদশ সংসদ নির্বাচন-সম্পর্কীয় সংলাপ শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ার একগুঁয়েমির জন্য ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর জনগণের ক্ষোভও ক্রমেই বাড়তে থাকবে। কারণ, সরল দৃষ্টিতে অনেকের কাছেই মনে হওয়া স্বাভাবিক, সরকার সংলাপের নীতিগত ঘোষণা দিলেই বেগম জিয়া অবরোধ-হরতাল থেকে সরে আসবেন। বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকা এবং অধ্যাপক এমাজউদ্দীন এই ইঙ্গিতই দিচ্ছেন। কিন্তু বেগম জিয়ার এ ব্যাপারে খুব একটা তাগিদ না দেখালেও চলবে। কারণ, মানুষ পোড়ানোর আয়োজনটা দীর্ঘদিন অব্যাহত রাখা তাঁর জন্য মোটেও কষ্টসাধ্য হচ্ছে না। জামায়াত-শিবির যেহেতু মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত, তাদের নেতাদের ফাঁসির রায় ভণ্ডুল করার জন্য বর্তমান সংকটকে দীর্ঘায়িত করতে মরিয়া, তাই বোমাবাজি চালানোর জন্য তাদের ক্যাডারদের জিহাদি জোশ সহজে স্তিমিত হবে না। এই সরকারকে উৎখাত করার জন্য ‘গৃহযুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়াই তাদের কৌশল।
অন্যদিকে, বেগম জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন নেতা এবং তাঁদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা এহেন নির্ভেজাল পৈশাচিকতার দায়ভার সরকার ও তার লেলিয়ে দেওয়া ‘এজেন্ট প্রোভোক্যাটিয়ারদের’ ওপর যেভাবে অবলীলাক্রমে চাপিয়ে দিয়ে ‘সাধু গণতন্ত্রী’ সাজার ভান করে চলেছেন, তাতে তাঁদের অভিনয় ক্ষমতার প্রশংসা করা গেলেও তাঁদের মানবিক গুণাবলির চরম ঘাটতি থাকার বিষয়টিও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপির এক মেজর ‘মুক্তিযোদ্ধা’ এসএসসি পরীক্ষার জন্য অবরোধ-হরতাল কিঞ্চিৎ শিথিল করার অনুরোধকে ‘কিসের কী পরীক্ষা’ বলে যেভাবে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন, তাতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতাটা তাঁকে মনে করিয়ে দিতেই হচ্ছে। কবিতাটা হয়তো অনেক পাঠকেরই পড়া আছে, তবু মনে করিয়ে দিচ্ছি: কোনো এক রাজ্যের রানি তীব্র এক শীতের রাতে নদীতে সখী-পরিবৃত হয়ে স্নান সেরে প্রাসাদে ফেরার পথে শীতের কবল থেকে কিঞ্চিৎ আরাম পাওয়ার জন্য সখীদের পথের ধারের ধীবরদের কুটিরগুলোতে অগ্নিসংযোগের আদেশ দিয়েছিলেন। রানির কাছে জেলেদের জীর্ণ কুটির পোড়ানোটা বিবেচিত হয়েছিল ‘সামান্য ক্ষতি’ হিসেবে। কিন্তু তাঁর ওই আগুন পোহানোর বিলাসের খবর রাজার কানে গেলে তিনি রানির বসন কেড়ে নিয়ে রানিকে ছিন্নবস্ত্র পরিয়ে প্রাসাদ থেকে বিদায় করেছিলেন।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশটাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে এবং মানুষ পুড়িয়ে মারার মহাযজ্ঞ নির্বিকারে চলতে দিয়ে তাঁদের এই ক্ষমতার মসনদের দখল নেওয়ার কাড়াকাড়ি সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেছে। একজন বিতাড়িত রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষতার লেবাস পরে বিএনপির নেত্রীর পক্ষে বাক্যবাণ নিক্ষেপ করে চলেছেন। একবার তিনি বললেন, গুলশানের কার্যালয়ে যে তালার কারণে শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে কোকোর মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে পারেননি, ওই তালা নাকি সরকারই লাগিয়েছিল। এরপর সাবেক রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিলেন, দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটাও পুরোনো খবর, জামায়াত-শিবির ২০১৩ সালেই গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এ রকম মেকি নিরপেক্ষতার কোনো গুরুত্ব কেউ দেবে বলে মনে হয় না।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সমস্যার মূলে রয়েছে রাষ্ট্রচরিত্র। এ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পুঁজি লুণ্ঠনের মাধ্যমে ধনার্জনের লোভনীয় পন্থা হিসেবে ৪৪ বছর ধরে বহাল থাকাতেই গত ২৪ বছরের ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের নিরন্তর সংকট থেকে আমাদের নিস্তার মিলছে না। বরেণ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনিসুর রহমান বর্তমান ভোটের রাজনীতিকে ‘নির্বাচিত জমিদারতন্ত্র’ বলে চিহ্নিত করেছেন, আমি আমার কয়েকটি লেখায় তাঁকে উদ্ধৃত করেছি। দেশের সংবিধানকে যতই আমরা গণতান্ত্রিক বলে প্রশংসা করি না কেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে কেন্দ্র করে এই সংবিধানটি রচিত হওয়ায় সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক করে ফেলা হয়েছে।
১৯৯১ সালে যখন রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার থেকে আবার সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারে ফিরে আসা হয়েছিল, তখন বেগম জিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা আরও নিরঙ্কুশ করার জন্য আরও অনেক ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীকে প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘রুলস অব বিজনেস’ পরিবর্তন করে তা আরও পাকাপোক্ত করা হয়েছে। ফলে সাংবিধানিকভাবেই দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এখন একনায়কের মতোই ক্ষমতাবান হয়ে গেছেন। এর সঙ্গে যখন সংবিধানের ৭০ ধারা যোগ হয়ে গেছে, তখন প্রধান দুই দলের নেতা-কর্মীর কার ঘাড়ে কটা মাথা আছে যে কেউ দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন!
সে জন্যই বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আমি ‘নির্বাচিত একনায়কতন্ত্র’ বলে অভিহিত করে চলেছি। এ ধরনের রাষ্ট্রকে এসেমগলু এবং রবিনসন তাঁদের বেস্টসেলার বই হোয়াই নেশনস ফেইল-এ ‘এক্সট্রাকটিভ স্টেট’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন, যে রাষ্ট্রগুলোতে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী একচ্ছত্র শাসক নিজে এবং তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, দলীয় নেতা-কর্মী-মাস্তান-চাঁদাবাজ, দলবাজ আমলা, শাসকের পৃষ্ঠপোষকতাধন্য ব্যবসায়ী-ঠিকাদার এবং শাসক দলের কৃপাধন্য বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবীরা পুঁজি লুণ্ঠনের মহাযজ্ঞে শরিক হয়ে ধনার্জনের ইঁদুর দৌড়ে মত্ত হয়ে যান। আমাদের দেশেও অনুন্নয়নের রাজনৈতিক অর্থনীতির তত্ত্বের এই ‘এক্সট্রাকটিভ’ সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থার পাল্লায় পড়ে বারবার সংকটের দরিয়ায় নিমজ্জিত হয়ে চলেছি আমরা। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গেড়ে বসে থাকা পরিবারতন্ত্রের নাগপাশ থেকে যদ্দিন দেশের রাজনীতির মুক্তি না মিলবে এবং গণতান্ত্রিক সংবিধানের নামে ‘নির্বাচিত একনায়কতন্ত্র’ কায়েমের সাংবিধানিক আয়োজন জাতি বদলাতে না পারবে, তদ্দিন শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের টেকসই ব্যবস্থা আমরা অর্জন করতে পারব না।
বাংলাদেশের অনুন্নয়নে রাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে আমি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে চলেছি। এ সম্পর্কে দেশে-বিদেশে আমার বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে রোল অব দ্য স্টেট ইন বাংলাদেশ’স আন্ডার ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক একটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি রচনার দুই-তৃতীয়াংশের কাজ সম্পন্ন করেছি আমি। বইয়ের মূল হাইপোথিসিস হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রচরিত্রই এ দেশের অর্থনৈতিক অনুন্নয়নের প্রধান অনুঘটক উপাদান। মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে যে সুবা-বাংলাকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রাচুর্যময় জনপদ বলে ফরাসি পর্যবেক্ষক বার্নিয়ার ও ট্যাভারনিয়ার সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন, সেই বাংলার প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত স্বাধীন বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট হেনরি কিসিঞ্জার কেন ‘তলাবিহীন ভিক্ষার ঝুলি’ আখ্যা দিয়েছিলেন, সেটা ব্যাখ্যা করার জন্য যেমন ১৭৫৭-১৮৫৮ পর্যায়ের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔপনিবেশিক শাসন, ১৮৫৮-১৯৪৭ সালের সরাসরি ব্রিটিশ শাসন এবং ১৯৪৭-১৯৭১ সালের পাকিস্তানি নব্য ঔপনিবেশিক শাসনকে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন অনস্বীকার্য, তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৪ বছরেও এ দেশটা কেন অনুন্নয়নের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি পাচ্ছে না, সেটার সঠিক ব্যাখ্যা করতে হলেও এ দেশের রাষ্ট্রচরিত্রকেই বিশ্লেষণের মূল ফোকাসে নিয়ে আসতে হবে। এই কঠিন প্রয়াসই আমার বর্তমান গবেষণার ক্ষেত্র। গবেষণার ভিত্তিতে ওপরে সংকটের যে আসল কারণের কথা বলা হলো, সে সম্পর্কে সবাইকে ভেবে দেখতে বলি।
চলমান সংকটের ব্যাপারে প্রথম আলোয় প্রকাশিত আমার ৪ ফেব্রুয়ারির কলামে সংকট সমাধানের যে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সেটা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি: দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। দুই পক্ষের গোপন সম্মতিতে তাঁরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির একটি পদেক্ষপ আহ্বান করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁদের বঙ্গভবনে আলোচনার জন্য দাওয়াত দেবেন। দাওয়াত পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে বেগম জিয়া অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করবেন। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া উভয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করার পর একাদশ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার-সম্পর্কীয় সংলাপ শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে, বিএনপির নেতাদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং সভা-সমাবেশ-মিছিলের ওপর আরোপিত বাধানিষেধ প্রত্যাহার করা হবে। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সত্যি সত্যি সমাধান চাইলে দুই পক্ষের জন্য সম্মানজনক সাময়িক সমাধানের এই প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারেন।
মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ১২, আহত শতাধিক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চলো বাংলাদেশ, বিশ্বজুড়ে, বিশ্বকাপে... by আনিসুল হক
আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ছেলেমেয়েরা চিৎকার করে ওঠে, ‘বাংলাদেশ!’
‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা হলে?’
‘বাংলাদেশ!’
‘পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা হলে?’
‘বাংলাদেশ!’
আমরা সবাই আমাদের দেশকে খুব ভালোবাসি। আমরা সবাই বাংলাদেশের জয় চাই। দেশপ্রেম এমন একটা জিনিস, এটা জন্মমাত্রই সবারই বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে আমৃত্যু স্পন্দিত হতে থাকে।
আর বাংলাদেশে ক্রিকেটকে, ক্রিকেট দলকে আমরা একটু বেশিই ভালোবাসি। জীবনের নানা ক্ষেত্রে মার খেতে খেতে জয়ের আশায় আমরা লাইফ জ্যাকেটের মতো আঁকড়ে ধরি ক্রিকেটকে। একটা তরুণ জাতি। ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সেই জনসংখ্যার আবার বেশির ভাগই তরুণ। বিজয়ের জন্য তৃষিত হয়ে আছে, উন্মুখ হয়ে আছে।
তারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জিততে চায়। সব ক্ষেত্রেই। তবে সব জায়গায় কি আর জয় আসে? কিন্তু একটা জায়গায় আমরা বিশ্বমানের। তার নাম ক্রিকেট।
ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা আমরা এখনো অর্জন করিনি।
কিন্তু ক্রিকেটে করেছি।
সেসব দিনের কথাও কি ভোলা যায়?
কেনিয়াকে হারানোর সেই আইসিসি কাপ ফাইনাল। পুরো বাংলাদেশ রেডিও শুনছে। আর ১ রান দরকার। শেষ বলে?
শান্তর পায়ে লেগে সেই রান পেয়ে গেল বাংলাদেশ, আমরা জিতে গেলাম, হুররে, পুরো দেশ রাস্তায় নেমে গেল, আমরা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। এমনই বাঁধভাঙা উৎসব যে রাস্তায় দুজন জীবনও দিয়ে দিল!
তারপর আমরা গেলাম বিশ্বকাপ খেলতে। ১৯৯৯ সালে, ইংল্যান্ডে। স্কটল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ। হারাল পাকিস্তানকে। সেখান থেকে ওডিআই স্ট্যাটাস। আর টেস্ট স্ট্যাটাস।
বিশ্বকাপে কেমন করেছে বাংলাদেশ? একবার খুব খারাপ। ২০০৩ বিশ্বকাপে সব ম্যাচ হেরে এসেছে, এমনকি কানাডা আর কেনিয়ার সঙ্গেও।
একবার বেশ ভালো। ২০০৭ সালে। সেবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন-প্রত্যাশী ভারতকে হারিয়ে দিয়েছিল আমাদের মুশফিক-সাকিবেরা। ভারত বিদায় নিয়েছিল প্রথম রাউন্ড থেকেই। আমরা হারিয়েছিলাম দক্ষিণ আফ্রিকাকেও।
২০১১ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ। ভালোয়-মন্দয় মেশানো ফল। প্রথম খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে বিশাল রান তাড়া করা। জিততে না পারলেও আশা তৈরি হলো। দ্বিতীয় ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। পরের খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। র্যাঙ্কিংয়ে তারা তখন ছিল বাংলাদেশের নিচে। সেই বিপুল প্রত্যাশার চাপে ভেঙে পড়ল বাংলাদেশ। ৫৮ রানেই অলআউট। তারপর? না, আমরা আশা ছাড়িনি—আমরা যারা বাংলাদেশের নাছোড় সমর্থক! আমি নিজেই তো ট্রেনের টিকিট কেটে চললাম চট্টগ্রামে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলা। হারি-জিতি, আমরা বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আছি। আহা, সেই খেলায় জয়লাভ করলাম। সেদিন মাঠে সাকিব আল হাসানের চোখে জল চিকচিক করেছিল। জয়লাভ করে তারা উল্লাস না করে পরের ম্যাচের জন্য প্র্যাকটিস করতে শুরু করে দিয়েছিল। মনে করতেই চোখ ভিজে আসছে। আমরা চট্টগ্রামে সমুদ্রতীরের সেই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে আসছি। সমস্ত রাজপথ মিছিলে পরিণত হয়েছে। পুরো চট্টগ্রাম আনন্দে নাচছে। পুরো দেশ আনন্দে ভাসছে। তিন ‘ল্যান্ড’কে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। রানিং গড়ে পিছিয়ে থাকায় অবশ্য দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা হলো না।
এবার কেমন করবে বাংলাদেশ?
বলা খুব মুশকিল। বাংলাদেশের জন্য প্রধান দুশ্চিন্তা, খেলাটা অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডে। সিমারদের সহায়ক পিচ। বাংলাদেশ দলের প্রধান অস্ত্র স্পিন। এটা উপমহাদেশের সব দলেরই দুর্বলতা আর সবলতা—আমরা ফাস্ট বল খেলতেও অভ্যস্ত নই, আমরা স্পিন ভালো খেলি।
ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের সব কটিতেই হেরে বসে আছে টিম। অস্ট্রেলিয়ার দুটি সাধারণ দলের কাছে, আর পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলের কাছে।
তবু ক্রিকেট হলো অনিশ্চয়তার খেলা। ওই একটা জায়গাতেই ভরসা। আর আমাদের সাকিব আল হাসান অস্ট্রেলিয়ার ক্লাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে এক ম্যাচে চারটা উইকেটও পেয়েছেন। কাজেই স্পিন একেবারেই কাজ করবে না, তা না-ও হতে পারে।
বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার কোয়ার্টার ফাইনাল।
কিন্তু বাংলাদেশের বিগ ম্যাচ হলো প্রথমটাই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ওই খেলাটা নিয়েই ভয়ে ভয়ে আছি। এর কারণ, ক্রিকেট মনের খেলা, আর আফগানদের হারানোর কিছু নেই, কাজেই তারা খেলবে ভয়হীন ক্রিকেট। যেটা ২০০৭ সালে বাংলাদেশ খেলেছিল ভারতের বিরুদ্ধে। তবে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক ভালো দল। আমাদের তামিম, মুমিনুল, সাকিব, মুশফিক, মাশরাফিরা পারবে না, এটা হওয়ার কোনো কারণই নেই। সেই সাহসটা আমরা বাংলাদেশ দলকে দিতে চাই। তোমরা পারো, তোমরা পেরেছ, তোমরা পারবে। তোমরা যোগ্যতর দল। আর তোমাদের সঙ্গে আছে ১৬ কোটি মানুষের শুভেচ্ছা, শুভকামনা, শুভাশিস, দোয়া। তোমরা তোমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করো। ক্রিকেটীয় চেষ্টা। কোচের পরামর্শমতো অনুশীলন করো আর প্রস্তুতি নাও। ভিডিও দেখে জেনে নাও প্রতিপক্ষের সবলতা আর দুর্বলতার দিক। যতক্ষণ নেটে প্র্যাকটিস করা দরকার করো। যে রকম নিয়মকানুন মানতে হয়, তেমনই মানো। যতটা নির্ভার থাকা যায়, থাকো। নিজেকে উজাড় করে দাও। নিজের সক্ষমতার ২০০ ভাগ দাও। মাথা ঠান্ডা রাখো। কৌশলী হও। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নাও। আর ভয়হীন থাকো। বিশ্বাস রাখো যে জয় তোমাদের আসবেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রানে অলআউট হয়ে ৯ উইকেটে হারার পরেও ইংল্যান্ডকে হারানো গেছে। কাজেই আয়ারল্যান্ডের কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেই জেতার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না।
মনে রেখো, বাংলাদেশের মানুষ সমর্থক হিসেবে পৃথিবীর সেরা। তোমরা হারলেও আমরা বাংলাদেশের সমর্থক, তোমরা জিতলেও আমরা বাংলাদেশের সমর্থক। চলো, বাংলাদেশ। এগিয়ে যাও বাংলাদেশ। বিশ্বজুড়ে বাংলা, আর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিজয়যাত্রা!
গ্রামীণফোন আর প্রথম আলো আজ তাই সারা দেশের সব কটা জেলায় আয়োজন করছে ‘চলো বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।
ঢাকায় হবে তিনটায়। মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে। দেশের অন্যান্য জেলায় হবে সাড়ে তিনটায়।
আজ পয়লা ফাল্গুন। বিখ্যাত ঋতুরাজের আগমনের শুভদিন। এমন একটা দিন আমরা উদ্যাপন করতে চাই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্য কামনার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
আমরা জানি, দেশের পরিস্থিতি খুব সুবিধার নয়। হরতাল-অবরোধ চলছে। পেট্রলবোমার আতঙ্ক আছে। কবির ভাষায়, প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য, ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা, চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য, কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।
কিন্তু ক্রিকেটই পারে পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে। ক্রিকেট বাংলাদেশের বেলায় আমাদের মধ্যে আর আওয়ামী লীগ-বিএনপি ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই চাই বাংলাদেশের জয়।
বাংলাদেশ তো চির অপরাজেয় জাতি। এই কথা আমাদের বেলাতেই বারবার খাটে—জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ২০১৫ সালের ক্যালেন্ডারে এমডিজিতে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এমডিজি বা সহস্রাব্দ লক্ষ্যসমূহ অর্জনে দারুণ ফল করেছে। সময়ের আগেই দারিদ্র্য কমিয়ে ফেলেছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। ধনী-গরিবের বৈষম্যও কমিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে। ৯৭.৩ শতাংশ ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে, ঝরে পড়ার হার কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। স্কুলে ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের উপস্থিতি বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। পাঁচ বছরের নিচে শিশুর মৃত্যুর হার কমেছে ৭০ শতাংশ। জন্মের প্রথম মাসে শিশুর মৃত্যু কমেছে লক্ষণীয়ভাবে। শিশুদের টিকাদানের ক্ষেত্রে এ দেশের সাফল্য পৃথিবীতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মাতৃমৃত্যু কমেছে ৪০ শতাংশ। কমেছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। ৮৫ শতাংশ মানুষ নিরাপদ খাওয়ার পানি পায়। চারজনের তিনজনই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।
আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও।
ক্রিকেটেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
আমরা মাশরাফি বাহিনীকে বলি—তোমরা বিজয়ী হও, এই হলো আমাদের শুভ+ইচ্ছা, তোমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করো, এই হলো আমাদের আবেদন, তোমরা হারো-জেতো, আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি, এই হলো আমাদের অঙ্গীকার। গর্জে ওঠো। জ্বলে ওঠো। চলো বাংলাদেশ।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
February
(1363)
-
▼
Feb 13
(63)
- সংঘাত-নৈরাজ্য বন্ধের আহ্বান 'নাগরিক সমাজের'
- পুলিশের জন্য ৯ নির্দেশনা by সাহাদাত হোসেন পরশ
- ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে’
- কালজয়ী সাংবাদিক by রেহানা সালাম
- বিশ্বকাপ ক্রিকেট
- চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন : শিবির
- বাঁচার লড়াইয়ে কৃষক by প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা
- ‘সরকার অনির্দিষ্টকাল অনড় থাকবে না’ -মান্না
- চিটাগাং উইনার গ্রামার স্কুল মাঠ প্রাঙ্গন অনুষ্ঠানে...
- কুতুবদিয়ায় কুতুব শরীফ দরবারে ভয়াবহ আগুন : জেলা প্র...
- ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে ...
- সাড়ে তিন হাত ভূমি
- অভিজ্ঞানশকুন্তলম থেকে শুক্লা শকুন্তলা by মোস্তফা ত...
- দ্বিধাহীনচিত্তে রক্ত ঢেলে দেয়ার নাম বর্ণমালা by মে...
- মাতৃভাষায় শিক্ষার স্বপ্ন এখনও অধরা by রাজীব নূর
- বিদেশে বাংলাদেশের বই বিপণন by জাফর আলম
- ছাড় দিতে হবে দুই পক্ষকেই by মইনুল ইসলাম
- ভারতে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ১২, আহত শতাধিক
- চলো বাংলাদেশ, বিশ্বজুড়ে, বিশ্বকাপে... by আনিসুল হক
- মিয়ানমারে ৪৭ সেনা নিহত, আহত ৭৩
- ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিলে বিপর্যয় ঘটে by সিরাজুর রহমান
- একটি শান্তি-সমঝোতা স্মারকের খসড়া by তোফায়েল আহমেদ
- আল-জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহমি মুক্ত
- অধঃপতন নাকি উল্লম্ফন? by ফরহাদ মজহার
- ঘরের মানুষের কাছে সুবোধ বালক কেজরিওয়াল
- কার্টুন এঁকে রাজঠাকরের তিরস্কার
- নাচতে বাধ্য হলেন ইমামরা
- এবার পুতিনকে ওবামার হুশিয়ারি
- হাবাগোবা সেই ছেলেটি এখন দিল্লির শিরোমণি
- আফ্রিদি মনে করেন...
- স্কুলব্যাগে অস্ত্র গ্রেপ্তার ৬
- সিলেট বিভাগ- নগরে বাস চলাচল স্বাভাবিক আন্তজেলায় অর...
- রাজনীতিবিদেরা আমাদের মাথা হেঁট করাবেন না by এম সাখ...
- সৌদিতে বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগে বিলম্বের আশঙ্কা
- রংপুর বিভাগ- অর্ধেকের কম গাড়ি চলেছে by আরিফুল হক
- চট্টগ্রাম বিভাগ- দূরপাল্লার বাস কম, নগরে যানজট by ...
- দিল্লির নির্বাচন- অহঙ্কার নয়_ এটাই শিক্ষা by সিএম ...
- রঙের আঁচড়ে পথপ্রান্তরে বর্ণালি উচ্ছ্বাস by মানসুর...
- বরিশাল থেকে বাস ও লঞ্চ দুই–ই কমেছে by সাইফুর রহমান
- সার্জেন্ট জহুরুল হক চিত্রাঙ্কনে শিশুরা তুলে ধরবে ব...
- রোদন–ভরা এ বসন্ত
- হাসিনার পদত্যাগ, নতুন নির্বাচন ছাড়া সঙ্কটের সমাধান...
- কেজরিওয়ালের জয় ও আমাদের বোধোদয় by ইনাম আহমদ চৌধুরী
- কাজের সন্ধানে ঢাকায়, অতঃপর by রুদ্র মিজান
- পাঁচ তারকা হোটেলে অতিথি কমেছে ৪০ ভাগ by সিরাজুস সা...
- মুক্তিযুদ্ধের সম্প্রসারিত লড়াই by সাদেক হোসেন খোকা
- ফ্রন্টলাইন বন্ধ এবং...
- কাকে করবেন আপনার ফেসবুকের উত্তরাধিকারী?
- ২০০ বছর ধরে ধ্যানমগ্ন বৌদ্ধ ভিক্ষু
- চাচার পাঁচালি, চা-চাল by মাহবুব তালুকদার
- টকশোতে বক্তব্য দেখে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি- গণমা...
- দোহাই, বিচলিত হবেন না by রওশন আরা লীনা
- ঢাকা কারাগারে বন্দীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ গুণ by কামরু...
- রাজধানীর হরতালচিত্র- যান চলাচল প্রায় স্বাভাবিক, ত...
- বাংলাদেশের সঙ্কট নিরসনে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব উদ্যোগ নি...
- কারা ছুড়ছে পেট্রলবোমা? by ওয়ালিউল হক
- সিলেট হাসপাতাল- অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শঙ্কা
- এত নিষ্ঠুর কেন? by মো. মিঠুন মিয়া
- কালও খালেদার কার্যালয়ে খাবার নিতে বাধা- বিপাকে দিন...
- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতায় বিচলিত আওয়ামী লীগ
- গুলশানমুখী মিছিল ও বাড়াবাড়ি- রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধ...
- স্মরণ : সাংবাদিক আবদুস সালাম
-
▼
Feb 13
(63)
-
▼
February
(1363)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





















