Thursday, June 9, 2011

দুই নেত্রীর আপিল বিভাগ ও সংসদ অবমাননা by মিজানুর রহমান খান

আওয়ামী লীগ আপিল বিভাগের রায়ের অপব্যাখ্যা ব্যাখ্যা করেছে। বিরোধী দলও রায়ের সঠিক ব্যাখ্যা করেনি। তারা কেউ পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় থাকার দরকার মনে করেনি। বিশেষ কমিটিও নয়। উভয় দল পানি ঘোলা করছে। তবে যদি বলা হয়, ঠিক এই পর্বের দায় কার কাঁধে বেশি চাপবে, তাহলে সেটা সরকারি দলের কাঁধেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দুটোতেই দুটি মুদ্রিত কপি ছিল, এর বাইরে ছিল প্রশ্নোত্তর। এই দুটো কপি দুটি অকাট্য প্রমাণ। মাত্রাভেদে এ দুটিতেই রয়েছে আপিল বিভাগ অবমাননার উপকরণ। দুটোতেই ত্রয়োদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়কে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
আপিল বিভাগের ছয় বিচারক বিভক্ত রায় দিয়েছেন। আমরা জানি না কতজন মিলে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু হয়েছেন। ছয় বিচারক স্বাক্ষরিত সংক্ষিপ্ত আদেশটি অবিকল এ রকম: ‘(১) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে বিনা খরচায় আপিলটি মঞ্জুর করা হইল। (২) সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন ১৯৯৬ ভাবিসাপেক্ষে (প্রসপেক্টিভলি) বাতিল ও সংবিধানবহির্ভূত ঘোষণা করা হইল। (৩) দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন সুপ্রাচীন নীতিসমূহ, যা অন্যবিধভাবে বৈধ নয়, প্রয়োজনের কারণে বৈধ, জনগণের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন—এর ভিত্তিতে উল্লিখিত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধানের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। যা হোক জাতীয় সংসদ অন্তর্বর্তীকালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি কিংবা আপিল বিভাগের বিচারপতিদের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিধান বাদ দিয়ে স্বাধীনভাবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে পারে। রায়ের বিস্তারিত বিবরণ অনুসরণীয়। সংশ্লিষ্ট সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ৫৯৬/২০০৫ এতদ্দ্বারা নিষ্পত্তি করা হইল।’
১০ মে ওই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ছয়জন বিচারক ছয়টি বাক্যে সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়েছেন। এটা হলো রায়ের চুম্বক অংশ। ওই আদেশের তিনটি দফাকে বিচ্ছিন্নভাবে পড়া বা তেমনভাবে মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই; বরং এ ধরনের দাবি করা প্রলাপের নামান্তর।
পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা যে করতেই হবে, সে বিষয়টিও কিন্তু আপিল বিভাগ স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু নেতা-নেত্রীরা কেউ পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করেননি। অথচ কয়েকটি বিষয় জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছে মর্মে গণমাধ্যমে যেভাবে বড় শিরোনাম করেছিল, সেটা বিভ্রান্তিকর অন্তত সংক্ষিপ্ত আদেশের মতে। এর কারণ, আমাদের অনুমান সত্যি হলে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ‘ডকট্রিন অব প্রসপেক্টিভ ওভাররুলিং’ প্রয়োগ করে রায় লেখা হয়েছে। এর আগে সংবাদপত্রের রিপোর্টের ভিত্তিতে লিখেছিলাম, এটা দেখা গুরুত্বপূর্ণ যে মূল রায়ে কখন থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল বলে গণ্য করা হবে বলা হয়। ভয়েড, মানে গোড়া থেকে বাতিল। আমাদের দেশে সামরিক শাসনসংশ্লিষ্ট পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী এবং সংসদের করা অষ্টম সংশোধনীকে গোড়া থেকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ত্রয়োদশ সংশোধনীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রসপেক্টিভ অর্থাৎ ভবিষ্যৎ থেকে রহিত করা হয়েছে। এটা যে দেশের বিচার বিভাগে এই প্রথম, সেটুকু ব্যারিস্টার রফিক-উল হক রোববার আমাদের নিশ্চিত করেন। তবে এখনই হলফ করে কিছু বলব না। কারণ, সাম্প্রতিক কালে আমরা দেখেছি, রায় ঘোষণার দিনে যে ধরনের আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে, পরে পূর্ণাঙ্গ রায়ের পরে তা বিস্ময়করভাবে বদলে গেছে।
ভবিষ্যৎকালে সংবিধানের সংশোধনী বাতিলে আদালতের ক্ষমতাও আইনে লেখা নেই। এটা এক কল্পনাপ্রসূত লিগ্যাল ফিকশন। মৌলিক কাঠামোর মতো এই ডকট্রিনও একটা ফিকশন। বিশেষ কমিটির রিপোর্টে মৌলিক কাঠামোর উল্লেখ দেখে আমরা হতবাক। কোনো সংবিধানে এটা দেখিনি। যাক, কোনো আইন ভবিষ্যৎকালে বাতিলে অভিনবত্ব ও চমৎকারিত্ব দুই-ই আছে। এর প্রথম উন্মেষ ঘটে আমেরিকায়। ভারতের প্রধান বিচারপতি সুভা রায় ১৯৬৭তে ‘গোলকনাথ’ মামলায় এর প্রথম প্রয়োগ করেন। সাংবিধানিক পণ্ডিতদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ প্রবল। কারণ, আদালতের এ ধরনের ‘কল্পনাপ্রসূতা’ চূড়ান্ত অর্থে সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে সংকুচিত করতে পারে। ভারতে এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম হয়নি। বিখ্যাত মণ্ডল মামলায় বিচারপতি জীবন রেড্ডি রায় দিয়েছিলেন যে, রায়ের কার্যকারিতা রায় ঘোষণার দিন থেকে আগামী পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর বলবৎ হবে।
আমরা তো কল্পনায় ভাসতে পারি না। নবম ও দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হলে পরেই তবে বাতিল কথাটি কার্যকর হবে, সেটা পূর্ণাঙ্গ রায়ে থাকবে বা থাকবে না, তা ধরে নেওয়ার বিষয় নয়। অথচ বিশেষ কমিটি আদালতের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক-ব্যবস্থা বলি দিল। তাদের দুরভিসন্ধি না থাকলে রায়ের দোহাই দিত না।
অন্যদিকে আপিল বিভাগ যদি নিঃশর্তে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলই করবেন, তাহলে তারা কি দুই ও তিন নম্বর দফা যুক্ত করলেন বেহুদাই? বাতিল জিনিসের আবার প্রয়োজনীয় সংশোধনী কী। সে জন্য সংসদকে ‘লিবার্টি’ দেওয়ার মানে কী। এই লিবার্টি তো স্ট্যাচু অব লিবার্টি নয়।
তবে যা-ই ঘটুক না কেন, আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশ যেটি আমাদের হাতে রয়েছে, তার যে অপব্যাখ্যা করে বিশেষ কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে ও ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ হরতাল হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই বললেই চলে।
আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের বক্তৃতা-বিবৃতি শুনে আইনবিদ্যায় যাঁদের অ আ ক খ জ্ঞান আছে, লজ্জায় তাঁরা হয়তো মাটিতে মিশে যাচ্ছেন। গত বছর সংসদ নেতার মোশনে বিশেষ কমিটি হয়। তারা দুই নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়। এটা পকেট কমিটি ছিল না। এর রিপোর্ট যাবে সংসদে, যেকোনো সিদ্ধান্ত সংসদের ফ্লোরে হওয়ার কথা। কিন্তু তা হতে দেওয়া হলো না। এর মাধ্যমে স্পষ্টতই শুধু আদালত নয়, সংসদেরও অবমাননা ঘটেছে। আজ যদি সংসদের নেতা, প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি তিনটি আলাদা মাথা থাকত, তাহলে হয়তো এমনটা ঘটত না।
প্রধানমন্ত্রী সাফ বলেছেন, আদালতে বাতিল হওয়ার কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা ডাহা মিথ্যাচার করছেন। হয়তো ‘মে’ শব্দটি থেকে ফায়দা নিচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, দুই মেয়াদের নির্বাচন কথাটা নাকি অবিটার ডিকটা। লাতিন এ শব্দের মানে বাতকিবাত, পর্যবেক্ষণ। তবে এর কোনো দাম নেই—এটাও ডাহা মিথ্যা। যদি ধরেও নিই, এটা অবিটার ডিকটা। তাহলেও বলব, আওয়ামী লীগ অসত্য বলছে। ১৯৬০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় আছে, অবিটার ও পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের হলে তা বাধ্যতামূলকই। ভারতের প্রধান বিচারপতি এ এম আহমেদির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ, যেখানে জে.এস. ভারমার (পরে প্রধান বিচারপতি) মতো বরেণ্য বিচারক ছিলেন; ১৯৯৫ সালে তাঁরা বলেন, অবিটার ডিকটার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং তা মেনে চলাটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। নেহাত শুনানিকালে মার্কিন প্রধান বিচারপতি ওয়েটারের একটা মামুলি উক্তি পরে একটি নন্দিত ডকট্রিনে পরিণত হয়েছিল।
আমাদের শাসকগোষ্ঠীকে এসব বলে লাভ নেই। আমরা পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে। বিরোধী দলের নেতা (অভ্যাসগত সংসদ অবমাননাকারী) বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ৪ জুনের সংবাদ সম্মেলনে ১৭১৯ শব্দের একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের প্রতি তাঁর রাগ বোধগম্য। ওই বিবৃতিতে রায়সংক্রান্ত ৩৪৮ শব্দের একটি প্যারাগ্রাফ আছে। সেখানে আছে, ‘বিতর্কিত এ রায়টি আইন ও সংবিধানসম্মত নয়। পরস্পরবিরোধী, দুর্বল, যুক্তিহীন ও বিতর্কিত। সরকারের অনুগ্রহভাজন এই ধরনের বিচারপতির রায়ের ছুতা ধরেই আজ সংবিধান বদল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে।’ অবশ্য এ কথাও আছে যে, ‘এই বিতর্কিত রায়ের একটি অংশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আরও দুই মেয়াদ বহাল রাখা যাবে বলে যে মত দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার এখন সেটিও এড়িয়ে যেতে চাইছে।’
পূর্ণাঙ্গ রায় পাঠে তাঁর আগ্রহ নেই। তাঁদের দরকার অস্থিতিশীলতার মসলা। ক্ষমতাসীনেরা চেয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক-ব্যবস্থা বাতিল করতে। এই আকাঙ্ক্ষা তাদের গোড়াতেই প্রকাশ পায়। সেটা তারা রায় অপব্যাখ্যা করে, কালবিলম্ব না করে উসুল করেছে। আর বিএনপি-জামায়াত চেয়েছিল ‘জনসমর্থিত’ জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির ফিতাকাটা। এ উপলক্ষটি পেয়ে তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। সেটাও ওই রায়ের ছুতোয়, বিশেষ করে লাভবান হয় জামায়াত। তারা প্রথমবারের মতো ‘গণমুখী’ হরতাল ডাকতে সক্ষম হয়। বিএনপি নেত্রীর মলিন ভাবমূর্তির ছেলেদের জন্য হরতাল দিতে তাঁরা মওকা পায়নি। কদিন পরেই জামায়াতের নতুন পাখনা গজাবে। সাঈদী ও সাকা চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের বিচারের জন্য ৪৭ অনুচ্ছেদ শোধরানোর সুপারিশ এলেও ধর্মভিত্তিক দলগুলো তো বেঁচে গেল। জামায়াত নিষিদ্ধের রাজনীতি আওয়ামী লীগই নিষিদ্ধ করল।
আমরা আপিল বিভাগের কাছে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ রায় আশা করি। দ্ব্যর্থক নয়, পষ্টাপষ্টি। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যারা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ধরে নিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণসহ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপায় বাতলাচ্ছেন, তাঁদের আশু করণীয় রায়ের সঠিক ব্যাখ্যার বিষয়ে কলম ধরা। ক্ষমতাসীনেরা সংবিধান ও আদালতের রায় কাকে বলে—যা কিছুই ঠিক করে দিচ্ছেন, সেটাই কোনো না কোনোভাবে কল্কে পাচ্ছে। সংবিধান পুনর্মুদ্রণ পর্বে আমরা অসহায় বোধ করেছি, বিশেষ করে আদালত যখন এই নীতি নেন যে তাঁরা রায় অপব্যাখ্যার বিষয়ে নীরব থাকবেন। যে যা বুঝে সারতে পারে। তবে ক্ষমতাসীনের বোঝাটাই সার।
পাদটীকা: ৫ জুন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মানবজমিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি স্ববিরোধী। আপিল বিভাগের ওই সংক্ষিপ্ত আদেশের সঙ্গেও তা সংগতিপূর্ণ নয়। ‘বিতর্ক এড়াতেই দুই মেয়াদে নির্বাচন রেখেছি’ বলার পরে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে গেছে। এখন আর তা নেই’, এটা কীভাবে যৌক্তিক হতে পারে?’ পঞ্চম সংশোধনীর রায় অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে একটি রিট হয়েছে। গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এক সপ্তাহ সময় নিয়েছে। ১৩ জুন শুনানি হবে। এ লড়াইটা চালাতে হবে। এটা এক নতুন লড়াইয়ের ক্ষেত্র। শুধু রাজনীতিকেরাই এর কুশীলব নন।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

নির্বাচনে বিপর্যয় সত্ত্বেও বামফ্রন্ট ভাঙবে না

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী জোট বামফ্রন্টের শরিক কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় সত্ত্বেও বামফ্রন্ট ভাঙবে না। গতকাল সোমবার রাজ্য দপ্তর ভূপেশ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুকুমার মজুমদার এ কথা বলেন।
গতকাল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ব্যাপক বিপর্যয় নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন সিপিআইয়ের রাজ্য কমিটির নেতারা। বৈঠকে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এ সময় পরাজয়ের দায় পরোক্ষভাবে বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিএমের ওপর চাপানো হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জুকুমার বলেন, মূলত বামফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএম ও রাজ্য সরকার সমার্থক হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনে বামফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে। তিনি এও স্বীকার করেন, বামফ্রন্ট সরকারের জমিসংক্রান্ত নীতি ছিল ভ্রান্ত। উন্নয়ন সম্পর্কে রাজ্যবাসীকে সঠিক ধারণা দিতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। তবে তিনি জানান, বামফ্রন্ট ভাঙবে না। শরিকদের মধ্যে এখনো ঐক্য অটুট। বামফ্রন্টের কোনো বিকল্প নেই। এখনো বামফ্রন্টের বিকল্প বামফ্রন্টই।

সেধে কেন হরতাল ডেকে আনা?

হরতাল পরিবেশবান্ধব। গাড়িঘোড়া নেই, ধুলাবালি নেই, শব্দ নেই। এ জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে অভিনন্দন’
(বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে রসিকতার সুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা)
সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়। এই বিষয়ে নীতিগল্পের অভাব পৃথিবীতে কখনো ছিল না। নীতিবাক্যও আছে অফুরান। যেমন—যা তুমি আজ করতে পারো, তা কালকের জন্য ফেলে রেখো না। এই বাক্যটাকে আমরা সংশোধন করে নিয়েছি, যা তুমি কাল করতে পারো, বোকার মতো তা তুমি আজ করতে যাচ্ছ কেন?
পরের কাজ আগে করাও ঠিক না। পরের কাজ আগে করতে গিয়ে বিপদে পড়েছে এমন লোকের অভাবও তো গল্পকাহিনিতে কখনো ঘটেনি। কর্তা বললেন, বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করবে। তোমাকে বলেছি, আমরা এখানে রান্না করে খাব, যাও, চাল-ডাল কিনে আনো, তুমি শুধু চাল-ডালই কিনবে, এখানে চুলা বানাতে হবে, চুলার লাকড়ি কে আনবে, আর হাঁড়ি-পাতিলই বা কই পাব, সেসব কিনবে না, তেল-নুন-হলুদ-মরিচ কিনতে আরেকবার বাজারে যাবে, গাধা কোথাকার? এরপর বাড়ির কর্ত্রীর জ্বর। কর্তা বললেন, যাও, ডাক্তার ডেকে আনো। ভৃত্য ডাক্তার তো আনল আনলই; কাফনের কাপড়, লাশ বহনকারী খাটিয়া, গোসল করানোর লোক, মায় জানাজা পড়ানোর হুজুর নিয়ে হাজির হলো। কর্তার নির্দেশ, সব কাজ আগে-ভাগে বুদ্ধি খাটিয়ে করতে হবে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের কেবল দুই বছর পাঁচ মাস চলছে। হেসেখেলে তাঁর আরও দুই বছর সাত মাস ক্ষমতায় থাকার কথা। তারপর আসবে নির্বাচন। সেই নির্বাচন সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শমতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেও হতে পারে, আবার রাষ্ট্রের গণপ্রজাতন্ত্রী চরিত্র ধরে রাখার জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত সরকারের অধীনেও হতে পারে। কিন্তু এই মামলা তো এখনকার নয়। আরও দুই বছর পরের। দুই বছর পরেই এই প্রসঙ্গ আসতে পারত যে ছয় মাস পরে যে দেশে নির্বাচন হবে, সেটা কীভাবে করা যাবে, এই সরকারের অধীনে, নাকি সংবিধানের আগের রীতি অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তখন বিরোধী দল বলত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। তখন প্রশ্ন আসত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান কে হবেন, সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি নাকি অন্য কেউ? এই নিয়ে বিরোধ যে দেখা দিত, তা অবশ্যম্ভাবী। কারণ, দেশে আছে দুটি জোট, একটা সরকারি জোট, আরেকটা বিরোধী জোট, বিরোধী জোটের কাজই বিরোধিতা করা। তারা বিরোধিতা করবেই।
কিন্তু সরকারি জোটও কম যায় না। তারা রাজনীতির ভেতরে সব সময়ই একটা জিলিপির প্যাঁচ খেলে দেন। আর তাই নিয়ে বিরোধী দল ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকটা কান নিয়েছে চিলের মতো। সেই যে গল্প আছে না, আমি কিছুই করি নাই, একটু গুড় লাগিয়ে দিয়েছি মাত্র। তাতে কী হয়েছে? গুড়ের লোভে পিঁপড়া এসেছে, পিঁপড়া মারতে তেলাপোকা এসেছে, তেলাপোকা মারতে বিড়াল এসেছে, বিড়াল মারতে কুকুর এসেছে, কুকুর মারতে বিড়ালের মালিক এসেছে, কুকুর রক্ষা করতে কুকুরের মালিক এসেছে, তারপর এ-পাড়ার সবাই এক পক্ষ, ও-পাড়ার সবাই আরেক পক্ষ, তা থেকে কুরুক্ষেত্র।
শেখ হাসিনা কিছুই বলেননি, তিনি আইনের শাসনে বিশ্বাসী, সংবিধানের মহান রক্ষক সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানতে তিনি বাধ্য, সে কথাটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন, আর তাতেই লেগে গেছে লঙ্কাকাণ্ড। বিরোধী দল হরতাল আহ্বান করেছে।
বিরোধী দল হরতাল আহ্বান করেছে, তাতে বাস পুড়েছে গোটা দশেক, ককটেল ফুটেছে কয়েক ডজন, একজন রিকশাচালক ককটেলের বারুদে পুড়ে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে, আর কাতরাচ্ছে আমাদের মুমূর্ষু অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতির চাপে যার জিভ বের হয়ে আসার জোগাড় হয়েছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনা কেন দুই বছর পরের হরতালটাকে দুই বছর আগে সেধে ডেকে আনলেন? ৬ জুন ২০১১ প্রকাশিত নিউ এজ-এর একটা খবর থেকে এই প্রশ্নের একটা উত্তর পাওয়া গেল। ঢাকার বাতাস পৃথিবীর সব বড় শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিষাক্ত। এর ফলে প্রতিবছর ১০ হাজার মানুষ এই শহরে অকালে প্রাণ হারাবে। ২০১১ সালের জানুয়ারি ১৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৫ পর্যন্ত এই এক মাসের জরিপের ফলে দেখা যাচ্ছে, এই শহরের বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড আর নাইট্রোজেন অক্সাইডের পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে ঢের ঢের বেশি। এই খবরের উৎস হলো সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
এখন আমাদের কাছে ব্যাপারটা পরিষ্কার। গত পরশু ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ঢাকার বাতাসে যাতে ক্ষতিকর গ্যাস না থাকে, সে জন্য দরকার ছিল যানবাহন, কলকারখানা, অফিস-আদালত বন্ধ রাখা। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, আমরা তো আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারব না। তিনি জানতেন, এই কথা বললেই বিরোধী দল হরতাল ডেকে বসবে। তা-ই হলো। বিরোধী দল হরতাল ডাকল। ঢাকার রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা ছিল হরতালের দিন। ওই দিনই ছিল পরিবেশ দিবস। পরিবেশ দিবসে ঢাকার পরিবেশ ছিল অনাবিল সুন্দর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আমাদের আকুল আবেদন, আপনি এই রকমের বাণী আরও দিন। বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান, প্রধানমন্ত্রীর বাণী উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনারা হরতাল আহ্বান করুন। পরিবেশ বাঁচান। প্রতিবছর ১০ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু কেবল হরতাল ডেকেই রোধ করা যায়।
শুধু দেখলাম, ফেসবুকে একজন নাগরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন, সরকারি দল কী চায় আমরা শুনছি, বিরোধী দল কী চায়, কী চায় না, তা-ও আমাদের জানা। কেবল, আমরা দেশের মানুষ, দেশের মালিক যারা, তারা কী চাই, কেউ শুনতে চাইল না!
দেশের মালিক আপনারা? আমজনতা? ধৃষ্টতা বৈকি! দেশের একজন নগণ্য নাগরিক নিজেকে দেশের মালিক বলে দাবি করেছে, এর প্রতিবাদে বিরোধী দল কি একটা হরতাল ডেকে বসতে পারে না? কিংবা তাকে ক্রসফায়ারে নেওয়া যায় না? সাহস কত! এই ধরনের বিষবৃক্ষ অঙ্কুরেই কি বিনষ্ট করে দেওয়া উচিত নয়?
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

ঘোষণা
অনিবার্য কারণে আজ টেলিফোনে নাগরিক মন্তব্যের বাকি অংশ প্রকাশ করা গেল না বলে আমরা দুঃখিত। বাকি অংশ আগামীকাল ছাপা হবে।—বি. স.

ক্রাইস্টচার্চে আবার ভূমিকম্প

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ নগরে গতকাল সোমবার আবারও ভূমিকম্প হয়েছে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
গত ২২ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে ক্রাইস্টচার্চে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে ১৮১ জন প্রাণ হারায়। ভূমিকম্পের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায় শত শত ভবন।
গতকাল সোমবার সকালে ক্রাইস্টচার্চে দুবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। একটি ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৫.০। এতে কয়েকটি সুপার মার্কেটের তাক থেকে পণ্য নিচে পড়ে যায়। ভেঙে যায় অনেক জিনিসপত্র। শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানায়, সর্বশেষ এই ভূকম্পনের কেন্দ্র ছিল ক্রাইস্টচার্চের ১৪ মাইল পশ্চিমে, দুই মাইল গভীরে।
একটি সুপার মার্কেটের একজন কর্মী বলেন, তাঁর দোকানের অনেক জিনিস ভেঙে গেছে। ভূকম্পনের সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।
মদের দোকান হেনরিস ইন রোলস্টোনের ব্যবস্থাপক ফে বারসন বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের ভূমিকম্পের চেয়ে এবারের ভূকম্পনে সম্ভবত তাঁদের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কেননা, তাঁর দোকানের অনেক বোতল ভেঙে গেছে।

জার্মানির মন্ত্রিসভায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের বিল অনুমোদন

২০২২ সালের মধ্যে দেশের সবগুলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়াসংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা এ বিল অনুমোদন করে। গত মার্চে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি।
জার্মান পরিবেশমন্ত্র্রী নরবার্ট রোটগেন বার্লিনে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক বলে তিনি মনে করেন।
গত সপ্তাহে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল ঘোষিত সময়ের চেয়ে দ্রুততর সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের এ পদক্ষেপ। বিলটিতে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে ১৭টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
আঙ্গেলা মেরকেল গত বছর জার্মানির ১৭টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে ১২ বছর করে চালু রাখার কথা বলেছিলেন। ২০৩০ সাল পর্যন্ত সেগুলো চালু রাখার ওই সিদ্ধান্ত পছন্দ করেনি দেশটির জনগণ।
বিলটিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে কিছু বিকল্প উপায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিকল্পগুলো হলো, কয়লা ও গ্যাসচালিত নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ, বায়ু ও সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা, দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহার হ্রাস প্রভৃতি।

সৌদি আরবে সালেহর শরীরে সফল অস্ত্রোপচার

সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর শরীরে গত রোববার সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। গত শুক্রবার সানায় নিজ প্রাসাদে বিস্ফোরণে তিনি আহত হন। প্রেসিডেন্ট আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বলে সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট সালেহর বুকে ও ঘাড়ে দুবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তাঁর বুক থেকে বোমার স্প্লিন্টার বের করে আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট সালেহর সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে। এরপর তিনি সানায় ফিরে যাবেন।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ভেতরে এক বিস্ফোরণে আহত হওয়ার পর গত শনিবার সালেহকে সৌদি আরবে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এ খবরে সরকারের পতন হয়েছে ধরে নিয়ে সালেহবিরোধীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
এদিকে প্রেসিডেন্টের সুস্থতা কামনা করে তাঁর অনুগত হাজার হাজার মানুষ গতকাল সোমবার রোজা রেখেছে।
প্রেসিডেন্ট সালেহ ইয়েমেনে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে ইয়েমেনের উপ-তথ্যমন্ত্রী আবদুল আল-জানাদি বলেন, প্রেসিডেন্ট সালেহ দেশে ফিরবেন। তিনি আরও বলেন, সালেহর শারীরিক অবস্থা এখন ভালো। তিনি একদিন হয়তো ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন, তবে তা হবে সাংবিধানিক পন্থায়।
প্রেসিডেন্ট সালেহর অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদেল-রাব্বো মনসুর হাদি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডেও রয়েছেন তিনি। তবে মনসুর হাদির হাতে ক্ষমতা সামান্যই। কারণ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর দায়িত্বে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট সালেহর ছেলে ও তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা।
এদিকে ইয়েমেনের প্রধান বিরোধী জোট দ্রুত দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। জয়েন্ট মিটিং পার্টিজ নামে ওই জোট গতকাল সোমবার এক বৈঠকে বলেছে, ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি তারা মেনে নেবে। আর তা না হলে তারা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের চেষ্টা চালাবে। জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিল ও একটি জাতীয় পর্ষদ গঠনের জন্য কাজ শুরু করতে সব জাতীয় ও রাজনৈতিক শক্তির প্রতি তারা আহ্বান জানাচ্ছে।
মিসর ও তিউনিশিয়ার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রেসিডেন্ট সালেহর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু তীব্র আন্দোলনের মুখেও ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান সালেহ

পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় ১৮ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে গতকাল সোমবার মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১৮ জঙ্গি নিহত হয়েছে। গত কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তানে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ড্রোন হামলা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মোট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। প্রথম হামলাটি চালানো হয় দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ওয়ানা শহরের ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে শালাম রাঘজাই এলাকায়। এখানে জঙ্গিদের একটি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এতে সাত জঙ্গি নিহত হয়।
দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয় ওয়ানা থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ওয়াচা ডানা এলাকায়। এখানে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে আটজন জঙ্গি নিহত হয়।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানের ব্রে নিশতার এলাকায় তৃতীয় হামলাটি চালানো হয়। মার্কিন ড্রোন থেকে জঙ্গিদের বহনকারী একটি গাড়িতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র চালালে তিন জঙ্গি নিহত হয়।

জার্মানির খামারের শিমের অঙ্কুর থেকে ছড়িয়েছে ই. কোলাই?

জার্মানির একটি খামারের শিমের বীজ থেকে বের হওয়া অঙ্কুর ঘাতক ব্যাকটেরিয়া ই. কোলাইয়ের বিস্তারের কারণ হতে পারে। গত রোববার দেশটির আঞ্চলিক কৃষিমন্ত্রী গার্ট লিন্ডারম্যান এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে জার্মান কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার এসব অঙ্কুর পরীক্ষা করেছে। তবে এর ফলাফল জানা যায়নি।
রোববার জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ লোয়ার-স্যাক্সনির কৃষিমন্ত্রী গার্ট লিন্ডারমান বলেন, এমন একটি ছোটখাটো খামার শনাক্ত করা হয়েছে, যারা এক ধরনের অঙ্কুর উৎপাদন করে বিক্রি করে থাকে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ঘাতক ব্যাকটেরিয়াটির মূল উৎস এসব অঙ্কুর হতে পারে।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দানিয়েল বার নিশ্চিত না হয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। জার্মানির স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধান প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট থেকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়। টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বার বলেন, ‘কিছু সময়ের জন্য আমরা প্রাথমিক ধারণা থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকছি।’
অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্ত দিয়ে এর মধ্যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে জার্মানির। গত সপ্তাহে হামবুর্গের কিছু কর্মকর্তা নিশ্চিত না হয়েই ঘোষণা করেন, স্পেন থেকে আমদানি করা শসার মাধ্যমে ই. কোলাইয়ের বিস্তার ঘটেছে। এতে স্পেনের সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে।
বার বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার আভাস পেয়েছি, ইলসেন এলাকার একটি খামার ই. কোলাইয়ের বিস্তারের মূল উৎস। তবে পরীক্ষাগার থেকে ফলাফল না জানানো পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
জার্মানির ফেডারেল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট ইনস্টিটিউটের প্রধান আন্দ্রেয়াস হেনসেল বলেন, ‘ওই খামারের অঙ্কুরই ই. কোলাইয়ের বিস্তারের কারণ কিনা—এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই।’
জার্মানির গায়ের্টনারহফ বিয়েনেনবুয়েটেল খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্লাউস ফেরবেকের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, তাঁর খামারে শিমের বীজ থেকে অঙ্কুর উৎপাদনে কোনো সার ব্যবহার করা হয় না। তাঁর খামারে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর মতো প্রাণীও নেই। তিনি বলেন, সালাদের উপকরণ হিসেবে এই অঙ্কুর উৎপাদনে কেবল শিমের বীজ ও পানি ব্যবহার করা হয়। তাঁর খামারের অন্য কোনো অংশেও ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর মতো কোনো গোবর সার ব্যবহার করা হয় না। এর পরও ওই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তারে তাঁর খামারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে কেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে এ পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই জার্মানির নাগরিক। ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ায় এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে।

নারীদের ব্যবহার্য সামগ্রীর দোকানে শুধু নারীরা কাজ করবেন

সৌদি আরবে নারীদের ব্যবহার্য সামগ্রীর দোকানে শুধু নারীরাই কাজ করবেন মর্মে দেশটির বাদশাহ আবদুল্লাহ একটি অধ্যাদেশ জারি করেছেন। নারীদের বেকারত্ব দূর করার জন্য এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। গতকাল সোমবার সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এ কথা জানায়।
বার্তা সংস্থাটি জানায়, নারীদের ব্যবহার্য সামগ্রী বিক্রিতে এখন থেকে শুধু সৌদি নারীরা কাজ করবেন। এ ছাড়া ওষুধ উৎপাদনসহ বিভিন্ন কারখানায় নারীদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
পুরুষ বিক্রেতাদের কাছ থেকে নারীদের ব্যবহার্য সামগ্রী কিনতে গিয়ে সৌদি নারীদের অনেকে বেশ অস্বস্তিতে পড়েন। তাই দীর্ঘদিন ধরে এ কাজে নারীদের নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা।
নারীদের অধিকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন ফাতিমা গারুব নামের এক নারী। বাদশার অধ্যাদেশ জারিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে অন্তত ছয় হাজার নারীর বেকারত্ব দূর হবে।’
সৌদি আরবে ৩০ শতাংশ নারী বেকার। অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নের জন্য দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়কে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক চলছেই

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক চলছেই। সাবেক নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের অনেকেই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনের সঙ্গে একমত নন। আবার অনেকে মনে করছেন বিবিএসের প্রাক্কলনই সঠিক।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, সরকারের প্রাক্কলিত জিডিপির প্রবৃদ্ধি যৌক্তিক নয়। প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী বিনিয়োগ হয়নি।
অন্যদিকে বিনিয়োগ পরিস্থিতি, নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সঠিকই রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন।
গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুল আয়োজিত ‘অর্থনীতির অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক সংলাপে তাঁরা এ রকম বিপরীতধর্মী মত দেন। বিজনেস স্কুল মিলনায়তনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হেড অব গ্লোবাল মার্কেটস আলমগীর মোর্শেদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি পারভীন মাহমুদ, ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের পরিচালক মামুন রশীদ প্রমুখ। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক সৈয়দ এম হাশেমী।
মির্জ্জা আজিজ বলেন, গত কয়েক বছরে জিডিপিতে বিনিয়োগ অনুপাত একই রকম থাকা সত্ত্বেও গত এক বছরের মধ্যে উৎপাদনশীলতা এত বাড়ল কীভাবে? বিবিএসের উপাত্তের ওপর বেশি নির্ভর করা যায় না।
মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, এ বছর সরকারি বিনিয়োগ কমেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আয়তন কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। উচ্চহারে রপ্তানি হলেও তার তুলনায় আমদানি প্রবণতা বেশি। আবার প্রবাসও কমেছে যা ভোক্তা চাহিদা কমিয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়?
তবে বিনায়ক সেন বিবিএসের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সঠিক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। আর এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সমালোচনারও সমালোচনা করেন তিনি।
বিনায়ক সেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে একই হারে বিনিয়োগ হচ্ছে। শুধু এ বছরই কম বিনিয়োগ হয়নি। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে কৃষিবহির্ভূত খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো এসব খাতে বিনিয়োগ করছে। আর শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। আগে মোট শ্রমমক্তির ১৫ ভাগ ছিল নারী, এখন তা ৩০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এসব কারণে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।
তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি কতটা জরুরি—এ প্রসঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন বিনায়ক সেন। তাঁর মতে, উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। এতে শিল্প বর্জ্য বাড়ছে, পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি আয় বৈষম্য বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলে সামগ্রিকভাবে দারিদ্র্য কমে। দারিদ্র্য কমার বিষয়টি আঞ্চলিক পর্যায়ে দেখলে হবে না। সবার আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ হারে দারিদ্র্য বিমোচন করব নাকি নিম্ন প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পদের সুষম ব্যবহার করে দারিদ্র্য কমাব।’
বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ রয়েছে। উচ্চ আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আর পুঁজিবাজার বিশৃঙ্খলভাবে চলছে।
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, সার, জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ভর্তুকির জন্য সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে রয়েছে। এ ধরনের ভর্তুকি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে কতটা কাজে লাগে তা এখন বিবেচনা করার সময় এসেছে।

জিডিপি নিরূপণে কোনো দুর্বলতা নেই: বিবিএস

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারের প্রাক্কলন নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) যে প্রশ্ন তুলেছে, সে প্রসঙ্গে কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
গতকাল সংবাদপত্রে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে বিবিএস বলেছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সিস্টেম অব ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টসের-১৯৯৩ (এসএনএ-৯৩) আলোকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় হিসাব তথা জিডিপি ও এর প্রবৃদ্ধি নিরূপণ করে থাকে এবং প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়মিত মিশন তা পর্যবেক্ষণ করে। সুতরাং, জিডিপি নিরূপণের ক্ষেত্রে বিবিএসের কোনো দুর্বলতা নেই। তবে ইনফরমাল বেইজড ইকোনমির কারণে আমাদের দেশে হালনাগাদ উপাত্তের অভাব রয়েছে।
বিবিএস আরও বলেছে, প্রতিবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে বিগত অর্থবছরের চূড়ান্ত ও চলতি বছরের প্রাক্কলিত হিসাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে প্রকাশ করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় এবারও মে মাসে বিগত ২০০৯-১০ অর্থবছরের চূড়ান্ত এবং ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বিভিন্ন উপাত্তের (৬ থেকে ৮ মাসের) প্রাপ্যতা সাপেক্ষে এ হিসাব নিরূপণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর অর্থনীতির প্রকৃত গতিধারার ওপর ভিত্তি করে হিসাব চূড়ান্ত করার সময় তা বর্তমান প্রাক্কলিত হারের বেশি বা কম হতে পারে।
২০০৯-১০ অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলিত হার ছিল ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা চূড়ান্ত হিসাবে হয় ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ।
প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিপিডির পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গত ৫ মে প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়। এটির উল্লেখ করে বিবিএস বলছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি চতুর্থবার সংশোধনের তথ্যটি সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। কেননা, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব সংশোধন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আবার ২০১০-১১ অর্থবছরের সাময়িক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেশি করে দেখানোর বিষয়টি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করে বিবিএস বলেছে, এবার আউশ ও আমনের প্রকৃত ফলন হ্রাস না পেয়ে বরং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিবিএস আরও বলেছে, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পখাত বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের প্রবৃদ্ধি, নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন খাতের প্রবৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে সাময়িক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে।
এ ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের উপাত্ত যথাসময়ে না পাওয়া এবং সন্নিবেশিত না হওয়া চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ক্ষুদ্রশিল্পের উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই আগের সময়ের প্রবৃদ্ধি ব্যবহার করে এই উপখাতের উৎপাদন প্রাক্কলন করা হয়েছে।
বিবিএসের মতে, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রাক্কলিত হিসাবের সঙ্গে বিবিএসের পার্থক্য হতেই পারে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ব্যবহূত উপাত্তের ভিন্নতা।
বিবিএস আশা করছে, তাদের এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধিসংক্রান্ত সব বিতর্কের অবসান হবে।

বিভিন্ন দাবিতে বিনিয়োগকারীদের অবস্থান কর্মসূচি

পুঁজিবাজারবান্ধব বাজেট, অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ, সূচকের স্থায়ী ভিত্তি নির্ধারণ ও বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিনিয়োগকারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
আজ বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ডিএসই কার্যালয়ের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে দায়ী করে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কারণ জানতে চাওয়ার উত্তর দিয়েছে আট কোম্পানি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আট কোম্পানির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। ওই আটটি কোম্পানি আজ মঙ্গলবার তাদের উত্তর দিয়েছে।
কোম্পানিগুলো হলো প্রিমিয়ার ব্যাংক, এনবিএল, উত্তরা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ইউসিবিএল ও বিডি ওয়েল্ডিং।
আজ মঙ্গলবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, সম্প্রতি শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কোম্পানিগুলোর কাছে নেই।

বিলম্বিত শুরু

১৯৩১ সালে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান টেস্ট নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হয়েছিল। কারণ বেলের মাপ ঠিক ছিল না! মাঠেই নতুন এক জোড়া বেল বানানোর পরই শুরু হয় খেলা।

উল্টো লিড পেল ইংল্যান্ড

কার্ডিফই কি তবে ফিরে আসছে লর্ডসে? চতুর্থ দিনের শুরুতেই শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের শেষটা যেভাবে হলো, তাতে এমনটা মনে হতেই পারে। দিনের শুরুতে তিলকরত্নে দিলশান বলেছিলেন, ‘লক্ষ্য, বড় একটা লিড নিয়ে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলা।’ ইংল্যান্ডের রান পেছনে ফেলতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১৫, হাতে ৭ উইকেট। অধিনায়কের প্রত্যাশাটা অযৌক্তিক কিছু ছিল না। বড় লিড তো পরের কথা, উল্টো ইংল্যান্ডই পেয়েছে ৭ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড স্ট্রাউস ও ট্রটকে হারিয়ে ১৪৯ রান তুলে লিডটাকে দিনশেষে নিয়ে গেছে ১৫৬ রানে।
আগের দিন বিকেলের সেশনের মতো কাল প্রথম সেশনটাও খেয়ে নিয়েছে বৃষ্টি। সবচেয়ে বড় ভরসাকে দিনের শুরুতেই হারায় শ্রীলঙ্কা। লর্ডসে হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির প্রত্যাশায় থাকা মাহেলা জয়াবর্ধনে ফিরে যান হাফ সেঞ্চুরি থেকে ১ রান দূরে। দুই বল পরে আউট আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান থিলান সামারাবীরাও। উজ্জীবিত ইংলিশ বোলাররা দ্রুত ফিরিয়ে দেন ফারভিজ মাহারুফকেও। কার্ডিফের সেঞ্চুরিয়ান প্রসন্ন জয়াবর্ধনে চেষ্টা করেছিলেন পাল্টা আক্রমণ করার। কাল শ্রীলঙ্কার ১০৭ রানের ৫৭-ই এসেছে প্রসন্ন ও হেরাথের সপ্তম উইকেটজুটিতে। কিন্তু ১২ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে লিড আর পাওয়া হয়নি তাদের।

ওয়েলিংটনের কোচ হলেন সিডন্স

বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর খুব বেশি দিন বেকার থাকতে হলো না জেমি সিডন্সকে। ওয়েলিংটনের কোচ হচ্ছেন বলে আলোচনা ছিল মাস খানেক ধরেই। আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা এল গতকাল। তিন বছরের চুক্তিতে নিউজিল্যান্ডের দলটির কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ। কাজ শুরু করবেন আগামী মাস থেকে। সিডন্স স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সাবেক নিউ সাউথ ওয়েলস-সতীর্থ অ্যান্থনি স্টুয়ার্টের। সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলসেরই কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন স্টুয়ার্ট।
দায়িত্বটা কিন্তু খুব সহজে পাননি সিডন্স। আবেদন করেছিলেন মোট ২৮ জন, বেছে বেছে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল ৭ জনের। শেষে সিডন্সের সঙ্গে লড়াইটা ছিল সাবেক ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান ম্যাথু ম্যানার্ডের। ক্রিকেট ওয়েলিংটনের প্রধান নির্বাহী গেভিন লারসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার জন্যই শেষ পর্যন্ত সাবেক বাংলাদেশ কোচকে বেছে নিয়েছেন তাঁরা। সাবেক এই পেসারের আশা, ওয়েলিংটনের ক্রিকেটে নতুন যুগ আনবেন সিডন্স।

কারস্টেন-ডি ভিলিয়ার্স জুটি দক্ষিণ আফ্রিকায়

বিশ্বকাপের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক থাকবেন না। গ্রায়েম স্মিথের জায়গায় কাল এ দুই সংস্করণের ক্রিকেটের জন্য এবি ডি ভিলিয়ার্সকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়ক ঘোষণা করেছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। সহ-অধিনায়ক হাশিম আমলা। টেস্ট অধিনায়ক থাকবেন স্মিথই।
কাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন কোচের নামও। গ্যারি কারস্টেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ওপেনার দুই বছরের জন্য দলের দায়িত্ব নেবেন আগামী আগস্টে, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজের আগে।
সহকারী হিসেবে তিনি পাচ্ছেন ওয়ারিয়র্সের সাবেক কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডকে। বিশ্বকাপ জয়ের পর বিসিসিআই ভারতের কোচ হিসেবে চুক্তি বাড়াতে চাইলেও কারস্টেন রাজি হননি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হয়ে তিনি খুশি, ‘এই নিয়োগে আমি খুশি। এটা অনেক বড় সম্মান।’ খুশি এবি ডি ভিলিয়ার্সও, ‘আমি খুবই রোমাঞ্চিত। চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’

সেপ ব্ল্যাটারের ‘বিচক্ষণ পর্ষদ’

নির্বাচনের আগেই ফিফায় নানাবিধ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় হয়েছে বিশ্বময়। দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে নির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়াতে হয়েছে বিন হাম্মামকে। প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সেপ ব্ল্যাটারের দায়িত্ব এখন ফিফা থেকে সব অনিয়ম দূর করা, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাকে সব অপবাদ থেকে মুক্তি দেওয়া। সে লক্ষ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছেন ব্ল্যাটার ইতিমধ্যে।
ব্ল্যাটার তিনজন ভুবন বিখ্যাত ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠন করেছেন একটি ‘বিচক্ষণ পর্ষদ’ যাঁদের কাজ হবে ফিফাকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা। এই পর্ষদের সদস্য হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার, অপেরা কিংবদন্তি প্লাসিডো ডোমিনগো ও টোটাল ফুটবলের জনক হিসেবে খ্যাত ডাচ ফুটবল কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ।
গতকাল সোমবার সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে ব্ল্যাটার বলেছেন, ‘এই তিন বিখ্যাত ব্যক্তি কম-বেশি ফিফার উপদেষ্টা হিসেবেই কাজ করবেন।’
কিছুটা রসিকতার সুরেই ব্ল্যাটার আরও বলেন, ‘এই তিন ব্যক্তি নিজেরাও বিচক্ষণ। উপদেষ্টার কাজের পাশাপাশি তাঁরা এই সংস্থায় স্বচ্ছতা আনতেও কাজ করবেন।’
‘ফিফার ইমেজ পুনরুদ্ধারে তাঁরা কাজ করবেন। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের অগ্রাধিকার।’ ব্ল্যাটারের মন্তব্য।
প্লাসিডো ডোমিনগোর পরিচয় তিনি ১৯৯০ সাল থেকে টানা চারটি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশ করেছিলেন। হেনরি কিসিঞ্জারের পরিচয় অবশ্য নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিশ্বময় পরিচিত। কিসিঞ্জার অবশ্য এখনো ফিফাকে জানাননি যে তিনি এই পর্ষদে যোগ দেবেন কিনা। ডোমিনগো অবশ্য এরই মধ্যে আনন্দের সঙ্গেই এই দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আর ক্রুইফ তো ফুটবলেরই লোক।
ব্ল্যাটার বলেছেন, নতুনভাবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি ফিফাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে তাঁর মনোভাবে একেবারে কঠোর।’
দেখা যাক, নতুন এই বিচক্ষণ কমিটি কতটা বিচক্ষণতার সঙ্গে ফিফাকে কলঙ্কমুক্ত করতে পারেন!

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে খুশি রায়না

অধিনায়ক হিসেবে নতুন যাত্রাটা ভালোভাবেই করেছেন সুরেশ রায়না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা জেতার পর ওয়ানডে সিরিজের শুরুটাও করেছেন জয় দিয়েই। গতকাল ৪ উইকেটের সহজ জয়ের পর দলের অলরাউন্ড পারফরমেন্স নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ভারতীয় অধিনায়ক ফিল্ডিংয়ে আরও ভালো করার জন্য সতীর্থদের আহ্বান জানিয়েছেন ।
কুইন্স পার্ক ওভালের বোলিং সহায়ক উইকেটে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ২১৪ রানেই আটকে ফেলে জয়ের ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররাই। পরে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শেখর ধাওয়ানের ৫১ ও রোহিত শর্মার হার না মানা ৬৮ রানের অনবদ্য ইনিংসটির সুবাদে ৩১ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ৫০ বলে ৪৩ রানের অধিনায়কোচিত এক ইনিংস খেলে রায়নাও দলের এই জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন একেবারে সামনে থেকে। চার উইকেটের দারুণ এক জয়ের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বোলাররা খুবই দারুণ বোলিং করেছে। পরে রোহিত আর শেখর ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়েছেন। উইকেটটা খুব বেশি ব্যাটিং সহায়ক ছিল না। কিন্তু আমরা খুব অনায়াসেই জয় তুলে আনতে পেরেছি। তবে ফিল্ডিংয়ে আমাদের আরও একটু ভালো করা উচিত ছিল। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোতে আমরা আমাদের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিতে পারব।’

গেইলের অভাব বোধ করছি: সারওয়ান

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ক্রিস গেইলের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলে তাঁর এই বিধ্বংসী মূর্তি দেখা গেছে বেশ ভালো মতোই। ব্যাট হাতে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান তার । v বল হাতেও ৮ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা। কিন্তু এই চোখ ধাঁধানো পারফরমেন্স দিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্বাচকদের মন গলাতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ভারতের বিপক্ষে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজে জায়গা মেলেনি উইন্ডিজ দলে। কিন্তু এখন তাঁর অভাবটা হাড়ে হাড়েই টের পাচ্ছে ক্যারিবিয়ানরা। আর সেটা একেবারে খোলাখুলিই স্বীকার করেছেন রামনরেশ সারওয়ান।
ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৬ রানের হার স্বীকার করতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। গতকাল পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও স্বাগতিকরা হেরে গেছে ৪ উইকেটে। ম্যাচ শেষে গেইলের অনুপস্থিতি সম্পর্কে সারওয়ান বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমরা সত্যিই তাঁর অভাবটা খুব ভালো মতোই অনুভব করছি। তাঁর মতো ক্রিকেটারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। সে বর্তমান ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যমত বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান। কিন্তু এখন আমাদের কিছুই করার নেই। নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই আমাদের রণকৌশল সাজাতে হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলার সমস্যাটা খুব ভালো মতোই টের পাওয়া গিয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে। এবার ভারতের বিপক্ষেও সেই পুরোনো সমস্যাটাই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে ক্যারিবিয়ানদের। গতকাল সুরেশ রায়না, হরভজন সিং, অমিত মিশ্রদের ঘূর্ণিতে বেশ ভালোই নাকানি চুবানি খেয়েছেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। তবে আগামী ম্যাচগুলোতে ভুলত্রুটিগুলো অনেকখানিই শুধরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সারওয়ান। তিনি বলেছেন, ‘ভারতীয় স্পিনাররা খুবই ভালো বোলিং করেছে। তবে আমাদের পারফরমেন্স কিছুটা হতাশাজনক। আমরা একে অপরকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, আগামী ম্যাচগুলোতে আমরা কিছুটা উন্নতি করতে পারব।’ ক্রিকইনফো।