Thursday, December 26, 2019

বরফে ঢাকা কাশ্মীর -ছবি

কাশ্মীরকে বলা হয় ভূস্বর্গ। পৃথিবীর বুকে এক টুকরো স্বর্গ। সম্প্রতি ভারী তুষারপাতে ছেয়ে গেছে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। এর মধ্যে জীবনের তাগিদে রাস্তার পাশে ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন এক ফল ব্যবসায়ী। শ্রীনগর, জম্মু-কাশ্মীর, ভারত। ছবি: এএফপি
ভারী তুষারপাতের মধ্যে সতর্ক পাহারায় থাকা এক ভারতীয় সেনা। শ্রীনগর, জম্মু-কাশ্মীর, ভারত। ছবি: এএফপি
স্বাভাবিক সময়ে এসব ছোট ছোট নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ান। তবে বরফের কারণে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। পর্যটকেরও তেমন দেখা নেই। অলস পড়ে আছে নৌকাগুলো। শ্রীনগর, জম্মু-কাশ্মীর, ভারত। ছবি: এএফপি
ভারী তুষারপাতের কারণে কাশ্মীরে পর্যটকের তেমন দেখা নেই। তাই অলস পড়ে আছে পর্যটক বহনকারী ছোট ছোট নৌকাগুলো। শ্রীনগর, জম্মু-কাশ্মীর, ভারত। ছবি: এএফপি
তুষারপাতের মধ্যে নিরাপদে নৌকা নোঙর করার চেষ্টায় ব্যস্ত মাঝিরা। শ্রীনগর, জম্মু-কাশ্মীর, ভারত। ছবি: এএফপি

হার্টের অসুখ ও ডায়াবেটিসের জন্য সুখবর!

মানুষের কেন হৃদপিন্ডের নানা রকম অসুখ হয় এবং কেন ডায়াবেটিসে আক্রন্ত হয় তার জেনেটিক কারণ অনুসন্ধানে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়েছে বৃটেনের ব্রাডফোর্ডে। সেখানে বসবাস করেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অথবা এই দুটি দেশের নাগরিক। বৃটেনে এই এলাকাতে অনেকের স্বাস্থ্যের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বৃটেনে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের যে হার, ব্রাডফোর্ডে এই হার তার চারগুণ। এ ছাড়া এসব রোগের কারণের সঙ্গে বৃটিশদের উপসর্গ হুবহু মেলে না। তাই ওই এলাকায় নতুন করে গবেষণা শুরু হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের অনলাইন দ্য টেলিগ্রাফ অ্যান্ড ড্রাগস।
এতে বলা হয়, হার্টের অসুখ কিভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিস কিভাবে বেড়ে ওঠে তার জেনেটিক কারণ অনুসন্ধানে উচ্চাভিলাষী এই গবেষণা শুরু হয়েছে ব্রাডফোর্ডে।
দক্ষিণ এশিয়ার যেসব মানুষ বৃটেনে বসবাস করেন তাদের এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের চিকিৎসার ধরণ এতে পাল্টে যেতে পারে। এ লক্ষ্যে যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে ‘বর্ন ইন ব্রাডফোর্ড’ (বিআইবি)। ব্রাডফোর্ড রয়েল ইনফারমেরির (বিআরআই) ওপর ভিত্তি করে এটা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা ১৩৫০০ শিশুর জন্মের আগে থেকে তাদের বয়ঃপ্রাপ্তি পর্যন্ত সময়কালের ওপর গবেষণা করছে। এ ছাড়া ইস্ট লন্ডন জিনস অ্যান্ড হেলথ-এর গবেষণায় স্বেচ্ছায় অংশ নিচ্ছেন ৩৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক।
ব্রাডফোর্ডে দক্ষিণ এশিয়ার ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের জিন নিয়ে বিশ্লেষণ করার পরিকল্পনা করেছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। একই কাজ করা হচ্ছে পূর্ব লন্ডনে। মানুষের জিনগত কারণে তার স্বাস্থ্য কেমন হবে সে বিষয়ে যে পূর্বাভাস দেয়া হবে, তা অঙ্গীভূত হবে বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক স্কিমে।
এ জন্য বৃটেনে বিশাল আকারের একটি গবেষণায় ইউকে বায়োব্যাংক যুক্ত করেছে ৫ লাখ মানুষ। কিন্তু তারা সবাই ভাল স্বাস্থ্যবান। সম্পদশালী এবং ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গ। এর অর্থ হলো ওই গবেষণার ফল দক্ষিণ এশিয়ানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই ব্রোডফোর্ড জিনস অ্যান্ড হেলথ বিষয়টিকে আরো ব্যাপক অর্থে নিয়েছে। তারা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জিন নিয়ে গবেষণা করছে, যাতে সব সম্প্রদায় স্বাস্থ্যসুবিধা পায়।
এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রাডফোর্ড ইন্সটিটিউট ফর হেলথ রিসার্চ (বিআইএইচআর)-এর পরিচালক প্রফেসর জন রাইট। তিনি বলেছেন, এই গবেষণা বলে দেবে জিন কিভাবে আমাদেরকে স্বাস্থ্যবান রাখে। আমরা আশা করছি, এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের জন্য নতুন ওষুধ তৈরি করতে পারবেন। আমরা পেশাগত জীবনে মাঝে মাঝেই দেখতে পাই যে, ইউরোপীয়ান শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে যে ওষুধ সফলতা দিচ্ছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের ক্ষেত্রে কাজ করছে না। তাই আমরা যেসব মানুষের দেহে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রায় ও অত্যন্ত নি¤œ মাত্রায় কোলেস্টেরল আছে তাদের জিন পরীক্ষা করতে চাইছি, যাতে হার্টের বিভিন্ন রকম রোগের কারণ ও স্ট্রোকের বিষয় জানা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানি প্রাপ্ত বয়স্কদের জিন পরীক্ষা করা হবে।
এ গবেষণায় নেয়া হবে ১৬ বছরের ওপরে বয়স এমন পাকিস্তানি, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বৃটিশ, বাংলাদেশী, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশদের। স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যা থাক বা না থাকÑ তবু তাদেরকে এই গবেষণার আওতায় নেয়া হবে।

এনএসজি সদস্যপদ পাওয়ার যোগ্যতা by ড. জাফর নওয়াজ জসপাল

ভারত ও পাকিস্তান ২০১৬ সালের জুন থেকে পরমাণু সরবরাহ গ্রুপের (এনএসজি) সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছে। উভয় দেশই বেসামরিক ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থার (আইএইএ) তদারকিতে পরমাণু প্রযুক্তি ও সামগ্রী রফতানিতে আগ্রহী। কিন্তু তারা পরমাণু বিস্তার রোধ চুক্তি (এনটিপি) বা ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তিতে (সিটিবিটি) সই না করায় গ্রুপের সদস্য হতে পারেনি। তাছাড়া তারা জেনেভার নিরস্ত্রবিষয়ক ফিসাইল ম্যাটেরিয়াল কাট অফ ট্রিটিতেও সই করেনি। এটি ৪৮টি দেশের গ্রুপ।
১৯৭৪ সালে ভারতের ‘স্মাইলিং বুদ্ধা’ ছদ্মনামের পরমাণু পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় এই গ্রুপের জন্ম হয়। বর্তমানে এই গ্রুপের সদস্য হচ্ছে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলারাস, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ফিনল্যান্ড, কানাডা, চীন, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কাজাখস্তান, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, লাতভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভানিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
কাজাখস্তানের আস্তানায় (বর্তমান নাম নুর সুলতান) গত ২০-২১ জুন এনএসজি প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। লাতভিয়ার কাছ থেকে গ্রুপের চেয়ারম্যান পদটি লাভ করে কাজাখস্তান। বৈঠকে তাদের কারিগরি, আইনগত ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে এর সদস্যপদ দিতে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে এনএসজির নির্দেশনা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা, রফতানি নিয়ন্ত্রণ নিদের্শনা অনুসরণের সামর্থ্য, পরমাণু প্রযুক্তির বিস্তাররোধের শর্তাবলী পালন করা, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধের কার্যক্রমে সহায়তা করা। এসব শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণেই ভারত বা পাকিস্তানের কেউই এনএসজির সদস্যপদ লাভ করতে পারেনি।
ভারত ও পাকিস্তান উভয়ে পরমাণু অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাদের কাছে এই অস্ত্র আছে। ভারত ১৯৭৪ সালে শান্তিপূর্ণ পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায়, তারপর ১৯৯৮ সালের মে মাসে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপাদান দিয়ে ওই বোমা বানিয়েছিল। ফলে তারা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল। আর পাকিস্তান নিজস্বভাবে তৈরি উপাদান দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।
পাকিস্তান কখনো সরবরাহকারী দেশ ও আইএইএর সাথে করা কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও সমমনা দেশগুলো ভারতকে এই গ্রুপের সদস্য করার জন্য চেষ্টা করলেও পাকিস্তানের ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করছে। এ প্রেক্ষাপটে সদস্য করার অভিন্ন নীতি প্রণয়নের দাবি ওঠেছে।
অবশ্য কয়েকটি সদস্য দেশ যেমন বেলারাস, কাজাখস্তান, চীন, নিউ জিল্যান্ড,আয়ারল্যান্ড, তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রিয়া নীতিগতভাবে পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করছে।
তারা ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের জন্য বৈষম্যহীন ও পক্ষপাতমুক্ত নীতিতে পূর্ণ সদস্যপদ দেয়ার পক্ষে। তারা ভারতকে সদস্যপদ দেয়ার জন্য বিশেষ ছাড় দেয়ার পক্ষপাতী নয়। তারা মনে করে, কোনো বিশেষ দেশকে সুবিধা দেয়া হলে তা এনএসজিকে আরো দুর্বল করে ফেলবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই এনএসজির সদস্য পাওয়ার জন্য খুবই উপযুক্ত। কারণ তাদের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি কারিগরিভাবে খুবই উন্নত। তারা এনএসজি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা বেশ কিছু আইটেম উৎপাদন করে এবং তারা আগ্রহী দেশে তা রফতানি করতে সক্ষম।
আবার পাকিস্তান কখনো আইএইএ সুরক্ষা বা এ জাতীয় কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু ভারত করেছে। তাই ভারতের চেয়ে পাকিস্তানই এনএসজির পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য বেশি উপযুক্ত।
>>>লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, স্কুল অব পলিটিক্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স, কায়েদে আযম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামাবাদ