Wednesday, June 4, 2014
শেখ হাসিনাকে ড. কামাল হোসেনের জবাব

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আদালতের সীমানা by মিজানুর রহমান খান
সাবেক সচিব ও কলাম লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি আমাকে ভারতের একটি অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিলেন। বললেন, সেখানেও বিচারকদের সীমানা অতিক্রম করা উচিত নয় বলে কথা উঠল। আর তখন দুটো শব্দ নজরে এল। একটি জুডিশিয়াল ওভাররিচ, অন্যটি এক্সিকিউটিভ আন্ডাররিচ। আসলে প্রথম কথাটি চয়ন করেছিলেন ভারতের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং৷ ২০০১ সালে প্রধান বিচারপতিেদর এক সম্মেলন হলো৷ সেখানে তিনি বললেন, ‘বিচারকেরা বড় বেশি দূর চলে যােচ্ছন৷’ প্রখ্যাত ভারতীয় আইনবিদ ফলি এস নরিম্যান তখন লিখলেন, কিছু জনস্বার্থ মামলায় আদালতের বদনাম হয়েছে বটে, তবে ‘বেশি দূর’ যাওয়ার সঙ্গে আমি দ্বিমত করি৷ নরিম্যান যুক্তি দিলেন ‘এক্সিকিউটিভ আন্ডাররিচ’, ‘জুডিশিয়াল ওভাররিচ’ ডেকে আনে৷ তবে আরেক ভারতীয় সমালোচক আরও উত্তম বলেছেন: ‘সংসদ ও নির্বাহী বিভাগ আইন তৈরি এবং তা প্রয়োগে বড় বেশি ঘাপলা করছে৷ এরপর বিচার বিভাগ যখন বলতে শুরু করেন এটা কেরা, ওটা করো না৷ খেতের শস্যদানা এটা লাগাও, ওটা লাগিয়ো না৷ কোন প্রকল্প দেশের জন্য ভালো, কোনটা ভালো নয়৷ টুজি/থ্রিজি (ফোন) লাইসেন্স কেবল নিলাম করেই দিতে হবে! তখন বিচার বিভাগ ‘ওভাররিচের’ দায়ে অভিযুক্ত হয়!’

এই কথাটি মনে রাখলে নারায়ণগঞ্জের সাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নির্বাহী বিভাগের সক্রিয়তার বিরাট ঘাটতি বিস্মৃত হওয়া চলে না। সোমবার সশস্ত্র বাহিনীর একজন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আমার সঙ্গে দেখা করে বললেন, তাঁর বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। অথচ তাঁর বিচার করা হয়নি। তিনি তাঁর বিচার চান। তাঁকে চাকরিচ্যুত করার ওই আদেশটি দেখে নারায়ণগঞ্জের তিন সেনা কর্মকর্তা, যাঁদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে তাঁদের সরানোর প্রক্রিয়া মনে পড়ল। তাঁদের আদেশে অপরাধের বিবরণ বা কারণ নেই বলে জানি। এটি খুঁটিয়ে দেখলাম। এতে লেখা আছে...অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত পর্ষদের সুপারিশ অনুযায়ী কোর্ট মার্শালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান কিংবা প্রশাসনিক আদেশে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা সম্ভব হতো। কিন্তু কর্মকর্তার চাকরিকাল, বয়স, এবং সর্বোপরি তাঁর ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে কোর্ট মার্শালে বিচার কিংবা প্রশাসনিক আদেশে চাকরি থেকে বহিষ্কার না করে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়।’
সেনা আইনে যে কাউকে কোনো কারণ না দেখিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরদানের ঔপনিবেশিক আইন বাংলাদেশ কঠোরভাবে আঁকড়ে আছে। গণতান্ত্রিক দেশগুলো এ থেকে বেরোনোর চেষ্টা করছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা হয়েছে। ভারতও তাকে অনুসরণ করছে৷ বাংলাদেশ বধির হয়ে আছে।
নারায়ণগঞ্জে ভূমিকম্পসম একটি ট্র্যাজেডি ঘটে যাওয়ার পরে সরকার অভিযুক্ত র্যাব ১১-এর অধিনায়কসহ তিন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল। ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কালে গণমাধ্যমে যে ধরনের খবরাখবর আসছে, তাতে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহ-সংশয় ঘনীভূত হয়ে চলেছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগকে ইঙ্গিত করে ধারাবাহিকভাবে মন্তব্য করে চলেছেন। ওই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়াটা হাইকোর্ট বিভাগের সমীচীন ছিল কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার সংবিধান রাষ্ট্রকে দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, কী প্রক্রিয়ায় এই অধিকারের অনুশীলন করা হচ্ছে সেটা নিয়ে। মন্ত্রীদের বাক্স্বাধীনতা অনুশীলন ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার ধারণাকে শাণিত করছে না।
কোনো রাষ্ট্র যদি তার পাবলিক সার্ভেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু না করে তাঁকে চাকরি থেকে সুযোগ-সুবিধাসহ অকালে বাড়িতে ফেরত পাঠায়, তাহলে আইনের শাসনের মৌলিক শর্তের ব্যত্যয় ঘটে। আর এই ক্ষেত্রে দৃশ্যত সেটাই ঘটেছে।
গ্রেপ্তারের যে আদেশ হাইকোর্ট বেঞ্চ দিয়েছেন, তার যথার্থতা নিয়ে কথা বলার অধিকার নিশ্চয় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছেন যে র্যাবের তিন কর্মকর্তাকে আদালত গ্রেপ্তারের নির্দেশ কেন দিলেন, এটা তাঁর বোধগম্য নয়। জজ সাহেবদের কাছে তথ্যপ্রমাণ চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেঞ্চই এখন ব্যবস্থা নিক।’ কিন্তু সেটা তো আদালতের কাজ নয়। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে যখন সুষ্ঠুভাবে তদন্ত চলছিল, তখন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের এমন নির্দেশ সমস্যার সৃষ্টি করেছে।’ কী সমস্যার সৃষ্টি করেছে সেটার ব্যাখ্যা আমরা আশা করি। কারণ, আমরা বুঝতে পারি না। হয়তো হয়েছে। কিন্তু সেটা কী।
‘এ কথা বলায় আদালত অবমাননা হতে পারে’ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমরা তা মনে করি না। আমরা বরং মনে করি, এতে মানবতা ও জনতার অবমাননা ঘটে থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রী কেবল আইনি পয়েন্টে তাঁর সমালোচনা সীমিত রাখতে পারছেন না। তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করায় বিচারপ্রার্থী জনগণ, যাঁরা নারায়ণগঞ্জের বিয়োগান্ত ঘটনায় ব্যথিত ও বিহ্বল, তাঁরা বিস্মিত ও বিচলিত। কারণ, যেদিন তিনি সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন, সেদিনই খবর বেরোয়, সাত খুনের মামলায় রিমান্ডে থাকা র্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
সুতরাং তাঁরা আইনের টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে বাহাস করছেন এমন একটি প্রেক্ষাপটে, যখন জনগণের কাছে এটা ক্রমশ স্পষ্ট যে তিন সন্দেহভাজন সেনা কর্মকর্তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে নির্বাহী বিভাগ রাজি ছিলেন না। জনগণ এখন আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে চাইবেন যে আদালত যদি নির্দেশ না দিতেন, তাহলে তাঁদের গ্রেপ্তার আদৌ সম্ভব হতো কি না। সরকারি সমালোচনা গ্রহণযোগ্যতা পেত, যদি ইতিমধ্যে রিমান্ডে থাকা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো তথ্য না বের হতো। তাঁদের নির্দোষ থাকার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেলে আদালতকে বরং লজ্জায় পড়তে হতো। কিন্তু সেটা তো ঘটেনি; বরং যখন মানুষের কাছে তাঁদের গ্রেপ্তারই সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে, তখন খোদ প্রতিরক্ষা ও আইনমন্ত্রীর তরফে আদালতের প্রতি অনবরত অসন্তোষ প্রকাশ কাম্য নয়। এতে নির্বাহী বিভাগের অপরিণামদর্শিতাই ফুটে উঠছে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নীতিগতভাবে অযৌক্তিক বলেননি যে বিচারকদের এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে করে বিচারিক নৈরাজ্য তৈরি হয়। অবশ্য আদালতের কাছ থেকে যখন যে বিরোধী রাজনীতিক বা দল সুবিধা পান, তখন তাঁরা তাতে আদালতের স্বাধীনতা দেখেন। আর সরকার সুবিধা পেলে বলে, আইন আপন গতিতে চলে। আর না পেলে কী প্রতিক্রিয়া হয় সেটাই এখন দেখছি।
গত ২৫ এপ্রিল ভারতের বর্তমান প্রধান বিচারপতি পি. সত্যশিবমের একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে দ্য হিন্দুতে। জুডিশিয়াল ওভাররিচ নিয়ে সমালোচনার উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা প্রতিটি মামলার তথ্যের ওপর নির্ভর করে। আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ—এই তিনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকেই তাদের সীমানা এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। আমি কিছুটা একমত যে কতিপয় ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল ওভাররিচ পরিহার করা উচিত হবে।’ নারায়ণগঞ্জ একটি ব্যতিক্রম, এটা পরিহার না করার কোনো ক্ষতিকর প্রভাব আমরা দেখিনি৷ এ প্রসঙ্গে আমরা আইরিশ দার্শনিক এডমন্ড বার্কের উদ্ধৃতিটি বিবেচনায় নিতে পারি৷ ‘মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ভয়ধ্বনি আপনাকে ঘুম ভাঙিয়ে বিরক্ত করতে পারে, কিন্তু তা আপনাকে রাতে পুড়ে মরা থেকে বাঁচিয়ে রাখে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিনী কুমার স্মারক বক্তৃতায় সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তাফা কামাল বলেছিলেন, তিনটি স্তম্ভ নিজ নিজ সীমানায় থাকবে ঠিকই, তবে এমন কতগুলো অবস্থা আসবে যখন ‘ওভারল্যাপিং’ হবে। হাইকোর্টের ওই গ্রেপ্তার আদেশ নিয়ে আইনগত ভিন্নমত থাকতে পারে। যার যা কাজ তা-ই তার করা উচিত। আমরা ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারণ, ব্যতিক্রম বা অসাধারণ প্রতিকার মেনেও আসলে কোথায় যাচ্ছি তা জানি না। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা কী? ওই আদেশকে ‘ওভারল্যাপিং’ ধরলেও আজ যে তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাতে আইনের শাসনই জয়ী হয়েছে। কারও মনে বিদ্বেষ বা অন্য কিছু হিসাব-নিকাশ না থাকলে, আইনের শাসনকে জয়ী হতে দিলে কারও অসন্তুষ্ট হওয়ার কথা নয়। নির্বাহী বিভাগের সম্ভবত উচিত হবে এই অসামান্য গ্রেপ্তার আদেশের যথার্থতা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনায় অধিকতর সংযত ও সতর্ক হওয়া।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এডিপির সংস্কার কি অসম্ভব? by মাহফুজ কবীর

প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনীতির যে ক্ষতি গত বছর হয়ে গেছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচিকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। এরই সঙ্গে মনে রাখতে হবে যে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম ফলদায়ক গতানুগতিক এডিপির কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের এমন একটি মধ্যমেয়াদি সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচির দিকে যেতে হবে, যা আমাদের টেকসই ও উঁচু প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারবে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এডিপির মধ্যে যেহেতু প্রকল্পগুলো বেশ কয়েক বছরব্যাপী বিস্তৃত এবং এমটিবিএফে মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অনুযায়ী প্রকল্পসমূহ দেখানো থাকলেও কেন এ রকম একটি মধ্যমেয়াদি সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি প্রণয়ন করা দরকার? এরই মধ্যে অবশ্য আমরা এডিপির সম্পদ ব্যয়, ফলাফল ও কার্যকারিতা নিয়ে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। এডিপিকে এমনিতে একটি ‘কৃষ্ণগহ্বর’ও বলা হয়েছে এটা বোঝানোর জন্য যে টাকা শুধু খরচই হয় কিন্তু তা কাজে আসে না।
দীর্ঘদিন ধরে এডিপির এ রকম হতাশাব্যঞ্জক ফলের কারণ কী? কারণ মূলত তিনটি। প্রথমত, দিন দিন এটি একটি বিরাট আকারের জাহাজে পরিণত হয়েছে, যার মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরে এক হাজারটির মতো অনুমোদিত এবং প্রায় ৮০০ অনুমোদনহীন প্রকল্প রয়েছে। অনুমোদনহীন প্রকল্পগুলোকে ‘সবুজ পাতায়’ রাখা হয়েছে অর্থবছরের যেকোনো সময় একনেক থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার আশায়। এর মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত চেষ্টায় তৈরি হওয়া অনেক রাজনৈতিক প্রকল্প। আর তা হবেই না বা কেন? তাঁরা তো এডিপি প্রণয়ন–প্রক্রিয়ায় তাঁদের সংসদীয় এলাকার জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের সুপারিশ করার আনুষ্ঠানিক সুযোগ পান না। তাই এডিপিকে আপাতদৃষ্টিতে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ মনে হলেও এতে এত বেশিসংখ্যক সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প থাকে যে এদের সঠিক ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা একটি দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ত, এডিপি প্রকৃত অর্থে ‘প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১’ এবং ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলোকে ধারণ করতে অনেকখানি ব্যর্থ হয়েছে৷ যদিও মুখে বলা হচ্ছে যে প্রেক্ষিত ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুসারে এডিপির প্রকল্পগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, সম্পদের ঊর্ধ্বসীমা ও ব্যয়ের লক্ষ্য অনুযায়ী বার্ষিক বরাদ্দের কারণে প্রতি অর্থবছরের শেষ দিকে অর্থ ব্যয়ের হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, যাকে ‘চতুর্থ প্রািন্তক ব্যাধি’ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত তিন অর্থবছরে ৪০ শতাংশের ওপর এডিপির অর্থ ব্যয় হয়েছে চতুর্থ প্রািন্তকে, আর শুধু জুন মাসেই খরচ হয়েছে এক-চতুর্থাংশের মতো। আর ঘুষ-দুর্নীতির উপস্থিতির কারণে ফি বছর বিরাট আকারে সরকারি অর্থের অপচয় হয় বলে ধারণা করা হয়, যা কিনা মধ্যমেয়াদি সরকারি বিনিয়োগের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ব্যয় করলে অনেক ভালো ফল বয়ে আনতে পারত।
বর্তমানে বাংলাদেশে দ্বৈত বাজেটিং হচ্ছে, যার কারণ মূলত পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগের মধ্যে যথেষ্ট আলাপ-আলোচনার অভাবে এডিপি ও এমটিবিএফের মধ্যে সৃষ্ট দুর্বল সংযোগ। এডিপির প্রক্রিয়ায় মধ্যমেয়াদি কাঠামো না থাকার কারণে সম্পদ বরাদ্দে ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমটিবিএফে যেহেতু খাতওয়ারি পরিকল্পনা নেই, তাই খাতওয়ারি বাজেট বলতে মূলত কতগুলো মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের সমষ্টিই বোঝায়, যেগুলো কিনা মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পরিকল্পনা শাখা থেকে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উদ্দেশ্যগুলো বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়িত হতে পারে না। আশ্চর্য হলেও সত্য, ‘দৃশ্যকল্প ২০২১’ অনুযায়ী দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে চাইলেও উন্নয়ন কর্মসূচির কোনো গুণগত পরিবর্তন দেখা যায়নি। সেই সত্তরের দশকের ১৭টি খাতের যে কাঠামো এডিপিতে রাখা হয়েছিল, তার মধ্যেই আমরা আটকে আছি।
এডিপির প্রক্রিয়ায় এ ধরনের একটি বড় সংস্কার আনতে চাইলে শুরুটা আসতে হবে নীতিগত ঘোষণার মধ্য দিয়ে। অর্থমন্ত্রী তাঁর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় শুধু কয়েকটি বাক্য যোগ করেই এটি করতে পারেন। অবশ্য সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে সিদ্ধান্তটি আসতে হবে।
বাংলাদেশের জন্মলগ্নে উন্নয়নের একটি ঐতিহাসিক গুরুদায়িত্ব নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের জন্ম হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয় পরিকল্পনার প্রাণকেন্দ্রে নিয়ে যেতে চাইলে এর কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস দরকার। এখন এর ভূমিকা হতে হবে মন্ত্রণালয়সমূহকে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং জাতীয় ও খাতওয়ারি অগ্রাধিকার অনুসারে নির্দেশনামূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন। এ জন্য এর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয়গুলোর পরিকল্পনা শাখার দক্ষতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে, যাতে করে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে না আসতে পারে।
পরিশেষে, পরিকল্পনা এজেন্সিসমূহ এবং বাইরের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি মধ্যমেয়াদি অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা দরকার, যাতে করে সরকারি এজেন্সিগুলোর পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দক্ষতা ও কৃৎকৌশল হস্তান্তর করা যায়। এতে করে একটি ফলপ্রসূ মধ্যমেয়াদি সরকারি বিনিয়োগ-কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
ড. মাহফুজ কবীর : অর্থনীতিবিদ; ঊর্ধ্বতন গবেষণা ফেলো, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ।
mahfuzkabir@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোটের রাজনীতিতে তারকারা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

আগেই বলেছি, তারকাদের রাজনীতিতে আসার দুটো দিক রয়েছে। ইতিবাচক দিক হচ্ছে: চিত্রতারকা বা অন্য জগতের তারকারা জীবনের একটা পর্যায়ে ‘দেশের সেবা’ করার জন্য মন স্থির করেছেন। অন্য দশজন সাধারণ নেতার চেয়ে তারকারা অনেক কার্যকরভাবে দেশের সেবা করতে পারবেন। কারণ, তাঁদের কথা মানুষ শুনবে। তাঁরা সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি প্রভাবিত করতে পারেন। রাজনীতি বা নির্বাচনে যুক্ত না হলে তাঁরা শুধু অবসর সময়ে তারকা খ্যাতির রোদ পোহাতেন, অথবা ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতেন (যদি থাকে)। অভিনয় বা খেলোয়ািড় পেশার মধ্য সময়ে কেউ রাজনীতি বা নির্বাচনে যুক্ত হন না। সাধারণত অবসর নেওয়ার পরে তাঁরা রাজনীতি ও নির্বাচনে যুক্ত হন।
নেতিবাচক দিকটাই আমাদের প্রধান আলোচ্য। রাজনীতি করাকে আমরা দেশসেবা বলে বিবেচনা করি। আশা করি, ভারত বা পশ্চিমবঙ্গেও সেভাবেই বিবেচনা করা হয়। রাজনীতি একটা প্রক্রিয়া ও শৃঙ্খলা। একটা দলের ভেতর থেকে রাজনীতি করতে হয়। কিন্তু দেশসেবা বা সমাজসেবার জন্য কোনো দলের প্রয়োজন হয় না। একটা ছোট ক্লাব করেও সমাজসেবা করা যায়। এমনকি একক উদ্যোগেও তা করা যায়।
এবার ভারতের লোকসভার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের অনেক তারকা বিভিন্ন দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অনেকে জয়লাভও করেছেন। যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন: জাদুকর পিসি সরকার (জুনিয়র), অভিনয়শিল্পী মুনমুন সেন, সন্ধ্যা রায়, শতাব্দী রায়, তাপস পাল, দেব, জর্জ বেকার, কণ্ঠশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন, বাপ্পী লাহিড়ী, বাবুল সুপ্রিয়, ফুটবল তারকা বাইচুং ভুটিয়া, নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষ প্রমুখ। এর আগে অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়, কণ্ঠশিল্পী কবীর সুমনও নির্বাচন করেছিলেন। কবীর সুমন নির্বাচিতও হয়েছিলেন। এবারও অনেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও কয়েকজন জনপ্রিয় তারকা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়া, দল করা আর পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া এক কথা নয়। হাজার হাজার ব্যক্তি প্রতিবছর রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন। বড় দলগুলোর রয়েছে লাখ লাখ সমর্থক ও সদস্য। সেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন মাত্র কয়েক শ ব্যক্তি। নির্বাচনে মনোনয়নদানের ব্যাপারটি নানা কারণে এখন কলুষিত হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে যেমন তেমনি ভারতবর্ষেও। ভারতের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক খুনি, সন্ত্রাসী, গডফাদারও নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে থাকেন। এমনকি অনেকে নির্বাচিতও হয়েছেন।
চিত্রতারকা বা অন্য জগতের তারকারা যদি রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে না দিতেই নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে যান, তাহলে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীদের মনোনয়ন পাওয়া সামনে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। একজন রাজনৈতিক নেতার লক্ষ্য থাকে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। সেই লক্ষ্যে তিনি বহু বছর ধরে দলের জন্য কাজ করে যান। সেখানে হঠাৎ মুনমুন সেন বা দেব যদি নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে যান, তাহলে ত্যাগী নেতাদের হতাশ হওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না। আমাদের দেশেও এই প্রবণতা জেঁকে বসতে পারে।
চিত্রতারকা বা অন্য জগতের তারকাদের রাজনীতি করা বা নির্বাচনে দাঁড়ানো দোষের নয়। যাঁরা রাজনীতি করতে চান বা নির্বাচন করতে চান, তাঁদের উচিত সমাজের জন্য কাজ করা। দলের জন্য কাজ করা। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করা। বছরের পর বছর সেই কাজ করা উচিত। নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ গড়ে তোলা উচিত। অন্তত ১০ বছর এ রকম কাজ করলে তিনি নির্বাচন করার যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের আইনে নানা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক তারকা নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এ রকম একটা আইন থাকা উচিত ছিল: ‘প্রার্থীকে নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।’ শহরের নেতা যেন গ্রামে গিয়ে প্রার্থী হতে না পারেন। এ রকম একটা আইন থাকলেই আমাদের নির্বাচন, পার্লামেন্ট ও রাজনীতিতে অনেক গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হতো।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবার অনেক ‘তারকা’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ ব্যাপারে পশ্চিম বাংলার মানুষ সবাই খুশি হননি। অনেকে এতে বিরক্ত হয়েছেন। তারই প্রকাশ দেখি পাক্ষিক দেশ পত্রিকার চিঠিপত্র বিভাগে (১৭ এপ্রিল ২০১৪)। কয়েকটি উদ্ধৃতি: পাঠকেরা লিখেছেন: ১. ভোটের রাজনীতিতে যেসব সেলিব্রিটি অবতীর্ণ হয়েছেন, তাঁরা রাজনীতির চর্চা বা শিক্ষানবিশি, কোনোটাই গুরুত্বসহকারে করেননি। এ যেন ক্রিকেট আইপিএলের রাজনৈতিক সংস্করণ। ২. যদি রাজনীতিজ্ঞানশূন্য প্রার্থীরা নির্বাচকমণ্ডলীর আবেগ ব্যবহার করে বাজিমাত করে ফেলেন, তা কি গণতন্ত্র বিকাশের পক্ষে সহায়ক হবে? সাংসদ ও বিধায়কেরা যদি ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ আর ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে রাজনীতিটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। সিরিয়াস পলিটিকস বলে আর কিছু থাকে না। ৩. এদিকে যাঁরা বছরভর মানুষের আপদে-বিপদে শামিল হয়ে মানুষের জন্য কাজ করেন, মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগী হয়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রাতদিন এক করে ফেলেছেন, তাঁরা দলে অপাঙ্ক্তেয় হয়ে পড়েছেন। তাঁদের ফলানো ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বসন্তের কোকিলেরা।
এই কয়েকটি মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় পশ্চিম বাংলার মানুষ তারকাদের নির্বাচন করাকে কীভাবে দেখেছেন।
আমাদের দেশের সংসদে ৪৫টি ‘সংরক্ষিত মহিলা আসন’ রাজনীতিকে আরও দূষিত করেছে বলে মনে করি। এই আসনগুলোতে মনোনয়ন দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি নেই। দলের নেতা বা নেত্রীর ইচ্ছায় বা দলের নীতিনির্ধারকদের ইচ্ছায় এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সাংবাদিক শফিক রেহমান তাঁর যায়যায়দিন সাপ্তাহিকে (অধুনালুপ্ত) একদা একে অভিহিত করেছিলেন: ‘ত্রিশ সেট অলংকার’ নামে। (তখন আসনসংখ্যা ৩০ ছিল।) এই সংরক্ষিত মহিলা আসন আমাদের সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে প্রধান দলগুলো নির্বিকার।
আমাদের দেশেও আজকাল বড় দুই-তিনটি দলে টাকার বিনিময়ে ও আত্মীয়তার জোরে অনেকে নির্বাচনে মনোনয়ন পান। এটা ‘মনোনয়ন–বাণিজ্য’ নামে অধিক পরিচিত। এই প্রবণতার কারণে অনেক ‘তারকা’ দলের জন্য কাজ না করে বা নির্বাচনী এলাকায় কাজ না করে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এটা সুস্থ প্রবণতা নয়। এই প্রবণতা পরিহার করা উচিত।
আমাদের দেশে চিত্রতারকাসহ নানা ক্ষেত্রে অনেক তারকা রয়েছেন। তাঁরা যদি সমাজসেবায় এগিয়ে আসতেন, দেশের অনেক উপকার হতো। কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, চিত্রনায়িকা ববিতা, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এ ব্যাপারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁদের কাজের কথা আমরা অনেক দিন থেকে জানি। হয়তো আরও অনেক তারকা নীরবে-নিভৃতে কাজ করছেন, আমরা জানি না। গ্রামে আত্মীয়দের মধ্যে দান-খয়রাত করাকে এখানে আমরা ‘বড় কাজ’ হিসেবে দেখছি না। বড় কাজ হলো সেটাই, যা বহু মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনে। ব্যাপক মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। অনেক চিত্রতারকা সমাজসেবা করার কথা ভাবেন। কিন্তু জুতমতো কাজের সন্ধান পান না। তাঁদের বুদ্ধি দিয়ে সহযোগিতা করা উচিত।
বহু পথ আছে সমাজসেবার। সব সমাজসেবার লক্ষ্য রাজনীতি বা নির্বাচন নয়। তবে যাঁরা দীর্ঘদিন যাবৎ বড় মাপের সমাজসেবা করছেন, রাজনীতি বা নির্বাচন করার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তাঁরাই রাজনীতি ও নির্বাচনের যোগ্য। ‘উড়ে এসে জুড়ে বসার’ নির্বাচনী সংস্কৃতির আমরা বিরোধিতা করি। এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ একটা খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই কুদৃষ্টান্ত দ্বারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও তারকারা যেন প্রভাবিত না হন।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়ন কর্মী৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বার্তা উপেক্ষিত, বার্তাবাহক কাঠগড়ায় by আলী ইমাম মজুমদার

এটা স্বীকৃত যে টিআইবি বিদেশি অনুদানপুষ্ট একটি সংস্থা। আর এ অনুদান আসে সরকারের সম্মতি নিয়ে। তা ছাড়া সংস্থাটির আয়-ব্যয়ের ওপর যেকোনো সময় অনুসন্ধান চালানোর ক্ষমতা দুদকের রয়েছে। এ জন্য কোনো ‘উপযুক্ত সময়ের’ অপেক্ষায় থাকার আবশ্যকতা অনেকের কাছে বোধগম্য নয়। আশার কথা, টিআইবিও এ ধরনের যেকোনো তদন্ত অনুষ্ঠানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় যে একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য টিআইবিসহ দেশের সুশীল সমাজ সব সময় সোচ্চার ছিল। উন্নয়ন-সহযোগীরা বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির সঙ্গে স্বাধীন দুদক গঠনকে শর্তাধীন করেছিল একপর্যায়ে। সময়াবদ্ধ করেছিল তাদের শর্তের প্রতিপালন। বর্তমান রূপে দুদক প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত অল্প দিন আগের কথা। দুদক গঠনের পরও একে শক্তিশালী করতে সেই উন্নয়ন-সহযোগী আর দেশের সুশীল সমাজ বরাবর সক্রিয় অবদান রেখে চলছে। দুদকের ক্ষমতা খর্বের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছে তারা। তবে দুদকের ব্যর্থতা কিংবা সীমাবদ্ধতা নিয়ে টিআইবি কিংবা সুশীল সমাজ কিছু কথা বললে তা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে যায় না; বরং সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে দুদকের জন্য সহায়ক হয়। দুদক অতীতে কখনো সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত ছিল না। এটা বাস্তব। আর এখনো তা নেই। এটাকেও অসত্য বলার সুযোগ দেখা যায় না। তদন্তাধীন এ বিষয়ে দায়িত্বশীল মহলের আগাম মন্তব্য তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করেন। দুদক বিষয়টি অস্বীকার করলেও বাস্তবতা তাই। আলোচ্য বিতর্কের সূচনা দুদককে একটি প্রায় অকার্যকর সংস্থা হিসেবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক গবেষণা প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনে যে মতামত এসেছে, তা অপ্রিয়; সন্দেহ নেই। তবে অসত্য কি না, সেটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করতে গিয়ে অসহিষ্ণু সমালোচনার কোনো আবশ্যকতা আছে বলে মনে হয় না। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটাই ঘটে চলেছে দুদক ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে।
নবম জাতীয় সংসদের কার্যক্রম বিশ্লেষণ নিয়ে টিআইবির এরূপ একটি প্রতিবেদন আলোচনার ঝড় তুলেছিল গত মার্চের মাঝামাঝি। তারা সেই বিশ্লেষণসূচক প্রতিবেদনটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করেছিল। বিতর্ক হয়েছিল সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। প্রতিবেদনে বলা হয় যে সাংসদেরা আইন প্রণয়নে খুব কম সময় ব্যয় করেছেন। তথ্যে উল্লেখ করা হয়, এ সংসদ এক হাজার ৩৩২ ঘণ্টা অধিবেশনে মিলিত হয়। এর মধ্যে ২৭১টি আইন পাস করতে সময় ব্যয় করেছে ৫৪ ঘণ্টা। বলা হয়, ৩৫০ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে মাত্র ৫৭ জন এতৎসংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেন।
দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি আইন পাস করতে গড়ে ১২ মিনিট সময় লেগেছে। এ বিষয়ে জানা যায়, যুক্তরাজ্য ও ভারতে আইন পাস করতে তাদের আইনসভার মোট কর্মঘণ্টার অর্ধেকের বেশি ব্যয় হয়। টিআইবির প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে, সেই সংসদের অধিবেশনগুলোতে কোরাম–সংকটে ২২২ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। অপব্যয় হয়েছে ১০৪ কোটি টাকা। এতে আরও জানা যায়, বর্তমান সংসদে ‘প্রকৃত প্রস্তাবে’ কোনো বিরোধী দল নেই। এ অবস্থায় সরকারকে দায়বদ্ধ করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত।
প্রতিবেদনটি প্রকাশকালে টিআইবি বর্তমান সংসদকে সাময়িক বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা আশা করছে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের। টিআইবির প্রতিবেদনটিতে নবম সংসদের শুধু নেতিবাচক চিত্রই আসেনি। এসেছে অষ্টম সংসদের তুলনায় ইতিবাচক কিছু চিত্র। যেমন, অষ্টম সংসদে কোরাম–সংকটে সময় নষ্ট হয়েছিল ২২৭ ঘণ্টা। সেই সংসদে সদস্যদের উপস্থিতির হার ছিল ৫৫ শতাংশ। নবম সংসদে তা ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তেমনি বিরোধী দলের নেতারা অষ্টম ও নবম সংসদে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে ৪৫ ও ১০ দিন। তদুপরি প্রথমবারের মতো নবম সংসদে প্রথম অধিবেশনে সব সংসদীয় কমিটি গঠন করা উৎসাহজনক বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রতিবেদনটি নির্ভরযোগ্য তথ্যবহুল। বিভ্রান্তির সুযোগ খুব কম। আর মতামতের ভিন্নতা তো থাকতেই পারে।
এ-জাতীয় তথ্য প্রকাশের পর আশা করা যায়, স্বাভাবিক দায়িত্বশীল মহল বিচ্যুতি দূর করতে যত্নবান হবে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া বরাবরের মতোই উল্টো দেখা গেল। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বললেন, প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট। কেউ টিআইবির এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুললেন। এ ক্ষেত্রেও সংস্থাটির অর্থায়নের উৎস এবং তা জিঙ্গবাদ পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যয় করা হয় কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি ওঠে। আরও দািব ওঠে সুশীল সমাজের সদস্যদের আয়ের উৎস খুঁজে দেখার। টিআইবি-সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব তারাই দিয়েছে। আর সুশীল সমাজ সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাবও দুদক দেখতে পারে যেকোনো সময়। বর্তমান সংসদে বিরোধী দল প্রকৃত অর্থে নেই বলে টিআইবির মন্তব্যে সংসদ ও এর বাইরে প্রতিবাদ হয়েছে। আমাদের বর্তমান সংসদের বিরোধী দল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নতুন কোন সূত্রে গ্রহণযোগ্য, আর কতটা জনসমর্থিত, তার কিছুটা প্রমাণ এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে নিয়ে এল। আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। সংসদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দািবটিও অভিনব নয়। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে এটা করা হয়েছে বলে মনে হয়।
সংসদে আলোচনার পরদিনই ১৪-দলীয় জোটের সভা শেষে এর আহ্বায়ক একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, টিআইবি ও সুজন দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তিনি এও বলেন যে দেশে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার অভিলাষে সংস্থা দুটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের দািব জানাচ্ছে। এদের আয় ও ক্ষমতার উৎস তল্লািশ করা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শেষোক্ত দাবিটির বিরোধিতার কোনো অবকাশ নেই। সরকার তা করতেই পারে। তবে সংস্থা দুটি দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিংবা অসাংবিধানিক সরকার আনতে কখনো সচেষ্ট ছিল, এ বক্তব্যের সমর্থনে কোনো তথ্য আছে কি না?
২০০৭-এ সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিআইবি আর সুজনের প্রচেষ্টার ফল নয়। কিছুসংখ্যক রাজনীতিবিদের বিরতিহীন সহিংস কোন্দলে সৃষ্ট অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এরূপ একটি সরকার আসা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল বলেই অনেকে মনে করেন। টিআইবি, সুজনসহ এ ধরনের সংস্থার প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। ক্ষমতায় থাকলে এক নীতি আর না থাকলে ভিন্ন, এ বৈপরীত্য আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রাপথকে কণ্টকিত করছে। দুর্নীতির সূচক নিয়ে বিগত সরকারের সময়ে টিআইবির প্রতিবেদনগুলো বর্তমান সরকাির দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে অবলীলায়। আর এখনকার প্রতিবেদনে উৎসাহী আগের সরকাির দল। তারাও ক্ষমতায় থাকাকালে এসব প্রতিবেদন নিয়ে বিপরীত আচরণই করেছিল।
১৪ দলের মুখপাত্র টিআইবির প্রতিবেদন-সম্পর্কিত আলোচনা প্রসঙ্গে সুজনকেও যুক্ত করেছেন। কোথাও তাদেরও কোনো বিচ্যুতি থাকলে অবশ্যই সমালোচনা করা যায়। তবে অনেকের মতে, সুজন শাসকশ্রেণির বিরাগভাজন হওয়ার প্রধান কারণ নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ নিয়ে। তাদের প্রকাশিত তথ্যাদিতে পাঁচ বছর আগে প্রার্থীদের সম্পদের সঙ্গে বর্তমান সম্পদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হচ্ছে। আর এ ধরনের তথ্যাদি প্রার্থীদের হলফনামামূলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া বিবরণী থেকে নেওয়া। সুজন সেগুলো সংকলন করে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন করতে সহায়তা করছে। আর এ কাজটা করতে গিয়ে কারও ‘চরিত্রহনন’ হলে সে দায় তাদেরই, সুজনের নয়। এ জন্য সংস্থাটিকে দায়ী করা নৈতিক দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য।
মনে হচ্ছে, বার্তাটির দিকে কেউ নজর দিতে ইচ্ছুক নন; বরং পাশ কাটিয়ে যেতে চান। দায়ী করতে থাকেন বার্তাবাহককে। সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। অথচ সমালোচকের বক্তব্যকে বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ থাকে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে সচরাচর তা ঘটে না। কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় বার্তাবাহককে। বার্তা থেকে যায় উপেক্ষিত।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকা–টোকিও: লেনদেনের হিসাব-নিকাশ by মনজুরুল হক

শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বাইরে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান সম্প্রসারণ ও নাগরিক পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সর্বোপরি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপান যে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাংলাদেশের এযাবৎকালে পাওয়া একক বৈদেশিক সাহায্য থোকের মধ্যে সর্ববৃহৎ। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিনিময় দলিলে উল্লেখ থাকা এক হাজার ২০০ কোটি ইয়েন ঋণ-সাহায্যের বাইরে চলতি বছর থেকে শুরু করে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে জাপান ছয় হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬০ কোটি ডলার সাহায্য বাংলাদেশকে দেবে৷ এর পুরোটাই আসবে ঋণ-সাহায্য হিসেবে, অর্থাৎ বাংলাদেশকে এই অর্থ একসময় ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে জাপানের ঋণ-সাহায্যের অংশবিশেষ দেশটি একসময় গ্র্যান্ট বা অনুদান সাহায্যে রূপান্তরিত করে নেয়, যার অর্থ হলো, গ্রহীতা দেশকে সেটা আর ফেরত দিতে হয় না। এ ক্ষেত্রেও যে তেমনটা হবে না, তা বলার কোনো কারণ নেই। বৈদেশিক উন্নয়ন সাহায্যের যে তিনটি ভিন্ন অংশ রয়েছে তা হলো অনুদান, ঋণ ও কারিগরি সহায়তা।
জাপানের নতুন ঋণ-সাহায্যের সিংহভাগ খরচ করা হবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানি পুঁজির প্রবেশপথ সম্প্রসারণে বঙ্গোপসাগরীয় বলয়ের শিল্প প্রবৃদ্ধি অঞ্চলের নতুন যে ধারণা শীর্ষ বৈঠকের মধ্যে দিয়ে প্রচারিত হয়, সেটার বাস্তবায়নে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন জাপান বাংলাদেশের দিকে এতটা উদার সহায়তার হাত সম্প্রসারিত করছে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে জাপানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অগ্রগতি, পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি এবং সার্বিকভাবে নতুন ভূরাজনৈতিক বিভাজনের দিকে নজর দেওয়া দরকার। জাপানের অর্থনীতিতে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি পূর্ব এশিয়ায় হঠাৎ করে উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আলোকে বিকল্প বাজার ও উৎপাদন ভিত্তির খোঁজ করা জাপানের জন্য আবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ভূখণ্ডগত বিরোধ নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টির মুখে এবং দেশের ভেতরে ক্রমেই উচ্চকণ্ঠ হয়ে উঠতে থাকা জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর অব্যাহত চাপের সামনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে বাগাড়ম্বরপূর্ণ যেসব বক্তব্য তুলে ধরতে দেখা যায়, চীনের তাতে অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত বোধ করার যথেষ্ট কারণ আছে৷ আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উসকানি দেওয়ার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীনকে দায়ী করছেন এবং সুযোগ বুঝে চীনের হাত কামড়ে দিতেও তিনি যে পিছপা হবেন না, তার প্রমাণ তিনি তুলে ধরেছেন কদিন আগে সিঙ্গাপুরে শাংগ্রিলা সংলাপে রাখা ভাষণে।
চীন-জাপানের রাজনৈতিক সম্পর্কে বৈরী হাওয়ার মুখে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে এখন পর্যন্ত এর ক্ষতিকর প্রভাব সেভাবে লক্ষ করা যায়নি। তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে যে খুব বেশিদিন প্রভাবমুক্ত রাখা যাবে না, জাপানের নীতিনির্ধারকেরা সে বিষয়ে সচেতন। ফলে জাপানি পুঁজির বিকল্প একাধিক যে গন্তব্যের কথা তাঁরা এখন ভাবছেন, সেই তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি আমাদের জন্য অবশ্যই সুখবর। তবে জাপানি পুঁজির গন্তব্যকে সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত করে তুলতে হলে বাংলাদেশের এখনো বেশ বড় এক পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে এবং সেই গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ করে দেওয়া হচ্ছে জাপানের প্রাথমিক লক্ষ্য। যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশের করণীয় সম্পর্কে অবকাঠামো, এবং বিশেষ করে জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বলা যেতে পারে, সে রকম এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য সামনে রেখেই এতটা উদার সাহায্যের হাত জাপানের সম্প্রসারিত করা। তবে এর একটা রাজনৈতিক দিকও অবশ্যই আছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার বাসনা অনেক দিন থেকেই জাপান পোষণ করে আসছে। তবে এখন পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের আলোকে সে পথ অনেকটাই যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য থেকে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বদরবারে উপস্থিত থাকাকে জাপানের নীতিনির্ধারকেরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ গণ্য করছেন। চলতি বছর শরৎকালে নির্ধারিত নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুটি দেশ হচ্ছে জাপান ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলে জাপান নির্বাচনে জয়লাভ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছে না৷ চীনের সঙ্গে বিরোধময় সম্পর্কের বাইরেও তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ এবং সেই সঙ্গে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন ও ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে ভোট টেনে নেওয়া বাংলাদেশের পক্ষে সহজ হতে পারে বলে জাপানে অনেকের ধারণা। আর তাই বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা থেকে সরে গেলে জাপানের নিরাপত্তা পরিষদে প্রবেশ খুব সহজ হয়ে উঠবে। সেদিক থেকে উদার সাহায্য প্রদান করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে সে রকম প্রতিশ্রুতি আদায় হচ্ছে জাপানের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা বাংলাদেশের সামনে তাই বলা যায় অনেকটা যেন অযাচিত এক দুয়ার খুলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, জাপানের কোনো কোনো মহল বাংলাদেশের এই ভোট কেনার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সন্তুষ্ট হতে পারছে না। জাপানের বৈদেশিক উন্নয়ন সাহায্যবিষয়ক এক গবেষক বলেছেন, বিশাল অঙ্কের যে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা জাপান প্রত্যাশা করছে, সেই অর্থ বাংলাদেশের জনগণের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে খরচ হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না বলে সরকারের সেই পদক্ষেপে তিনি সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, যৌথ ঘোষণার প্রায় সবটা জুড়েই আছে আমলাতান্ত্রিক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক খাতের মধ্যকার যোগাযোগ সম্প্রসারণের বাসনা, যা থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে লাভবান হবে জাপানের বিনিয়োগ খাত এবং বাংলাদেশের মধ্যস্বত্বভোগীরা। একই সঙ্গে আবার পরমাণু বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতার বিষয়টিও যৌথ ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পরমাণু জ্বালানি নিয়ে জাপানজুড়ে উদ্বেগের এই সময়ে উন্নয়নশীল বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বিতর্কিত সেই জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে জাপানের উপস্থিত হওয়াকে তিনি বিপজ্জনক বলেও মনে করেন। তবে সে রকম মতপার্থক্য সত্ত্বেও সফরের সার্বিক ফলাফলে বাংলাদেশের অতৃপ্তি বোধ করার কোনো কারণ নেই। নাগরিক পর্যায়ে জাপানের সঙ্গে যোগাযোগের চমৎকার একটি মাধ্যম যে এখন হয়ে উঠেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য সম্মানিত জাপানি নাগরিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা, জাপান সফরের একেবারে সূচনায় তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ সেই প্রমাণ রাখছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনও ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, দুই দেশের মৈত্রীর সম্পর্ক আরও জোরদার করায় নিজের আন্তরিকতার প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী যেখানে তুলে ধরতে পেরেছেন।
তবে পুরো সফরসূচির সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ অধ্যায়টি ছিল নাগরিক সংবর্ধনার নামে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মঞ্চজুড়ে অবস্থান গ্রহণ। নামে সেই আয়োজনকে নাগরিক সংবর্ধনা বলা হলেও এমনকি সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূতের জন্যও মঞ্চে রাখা হয়নি কোনো আসন। ফলে সেই নাগরিক সংবর্ধনা হয়ে উঠেছে বিশুদ্ধ অর্থেই আওয়ামী সংবর্ধনা। প্রবাসে রাজনৈতিক দলের এ রকম বাড়ন্ত উপস্থিতি শুধু দুটি দেশের বেলাতেই চোখে পড়ে। সেই দেশ দুটি হচ্ছে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান। অন্য কোনো দেশের বেলায় এ রকম কিছু দেখা যায় না, এমনকি ভারতের বেলায়ও নয়। তাই আমরা যা দেখছি তা হলো, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করলেও এই একটি দিক থেকে আমরা এখনো পাকিস্তানের বস্তাপচা নীতির অনুসারী রয়ে গেছি। ফলে অন্য সব রাষ্ট্রের কাছে পরিত্যক্ত, প্রবাসে নিজস্ব রাজনৈতিক দল ধরে রাখার এই বাসনা নিজেদের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এখন গুরুত্বের সঙ্গে সেই চিন্তাভাবনা করে দেখা দরকার।
মনজুরুল হক: শিক্ষক ও সাংবাদিক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্যরকম কারাগার

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আসুন নাক গলাই by শামীমুল হক

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওসমান পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি শামসুজ্জোহার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন অসহায় অবস্থায়, আমরা যখন ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিই। ’৭৮ সালে জেলখানা থেকে মুক্ত হয়ে জোহা কাকা কাকীকে আর পরিবারের সদস্যকে নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন। অল্প যে কয়েকজন আমাদের খবর নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে জোহা কাকা একজন। ’৭১-এর স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে চলে এসেছিলেন ১৮ নম্বরের ওই বাড়িতে, যে বাড়িতে আমাদের বন্দি করে রাখা হয়েছিল। জোহা কাকাসহ কয়েকজন ১৮ নম্বর রোডে যান। বাড়ির ছাদ থেকে গুলি চালায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। জোহা কাকা গুলিতে আহত হন। ১৫ই আগস্টের আগের দিন নাসিম ওসমানের বিয়ে হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, নবপরিণীতা বধূকে ফেলে রেখে এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে নাসিম চলে যান। কোন টান তাকে আটকাতে পারে নাই। তিনি জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ নেবে। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছে এই ওসমান পরিবারে। এখানে দল গঠন থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি হয়েছে। রাজনীতির নীতি আদর্শ নিয়ে চলতেন জোহা কাকা। এই পরিবারের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল সব সময়। যদি তাদের প্রয়োজন হয় দেখাশোনা করবো।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনি মোশ্তাক ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে। আর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুক ও রশিদ বিবিসিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছে, এই হত্যাকা-ের ষড়যন্ত্রের কথা তারা জিয়াকে জানিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের ষড়যন্ত্রে জিয়ার পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার কথা ফারুক-রশিদরা নিজেরাই বলে গেছে। তিনি বলেন, সেই ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়ে যায়নি। দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে এখনও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এ ব্যাপারে তিনি দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
গতকাল দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অর্থাৎ বাজেট অধিবেশনের শুরুর দিনে এই সংসদেরই নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শোক প্রস্তাবের ওপর আরও আলোচনা করেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, মশিউর রহমান রাঙ্গা ও প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছোট ভাই সরকারি দলের এমপি শামীম ওসমান। এসময় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ উপস্থিত থাকলেও তারা আলোচনায় অংশ নেননি। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। এরপরে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, পুরো ওসমান পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর শামসুজ্জোহা খান আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন। এখনও তার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করে যাচ্ছেন। নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টি করলেও বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রতিরোধকারী ছাত্রনেতাদের একজন ছিলেন নাসিম ওসমান। বাংলাদেশে এখন যা চলছে তা কি ওসমান পরিবারের সঙ্গে অন্য কারও দ্বন্দ্ব? বঙ্গবন্ধুর ঐতিহ্য যারা লালন করেছে, ওই পরিবারের সঙ্গে যাদের সাহচর্য ছিল তাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র চলছে। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আড়াইবারের প্রধানমন্ত্রী বলে মন্তব্য করলে সরকারদলীয় এমপিরা এর প্রতিবাদ জানান। তারা চিৎকার করে বলেন, এ কথার অর্থ কি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় এমপিদের চুপ থাকার নির্দেশ দেন। পরে মন্ত্রী তার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, আগে দু’বার। আর এখন কয়েক মাস হয়েছে এ জন্য বলেছি আড়াইবার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কিলিং মিশনে অংশ নেয় ২২ জন by বিল্লাল হোসেন রবিন
মোট কথা সাতজনকে অপহরণ ও হত্যাকা- এবং কিলিং মিশনের সঙ্গে জড়িতদের সকল তথ্য-উপাত্ত মামলার তদন্তকারী টিমের হাতে। এখন শুধু সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। সিগন্যাল মিললেই তৈরি হবে চার্জশিট। তদন্ত সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, তিন র্যাব কর্মকর্তা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেই দ্রুত চার্জশিট দেয়া সম্ভব হবে। কিন্তু তারা জবানবন্দি দেবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
যেভাবে অপহরণ ও হত্যা: অপহরণ ঘটনার ২ প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ চেকপোস্টের দুই কর্মকর্তা ও রিমান্ডে তিন র্যাব কর্মকর্তার দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের দিনক্ষণ আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ২৭শে এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় স্থায়ী জামিন নিতে নজরুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসবে। এ সম্পর্কে মেজর (অব.) আরিফ হোসেন নিশ্চিত হন। নিশ্চিত হয়েই সকালেই অপহরণ পার্টিকে বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড় করানো হয়। সাদা পোশাকে একটি টিম নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়। তারা সার্বক্ষণিক মেজর আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। নজরুল ইসলাম সেদিন তার গাড়ি না এনে তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়ি ব্যবহার করেন। স্বপনের সাদা রঙের এক্স করোলা প্রাইভেটকার যোগে নজরুল ইসলাম আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে আদালত থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকার যোগে নজরুল ইসলাম বের হওয়ার পরপরই মেজর আরিফের কাছে খবর পৌঁছে দেয় আদালতের আশপাশে অবস্থান নেয়া সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা। নজরুলের সঙ্গে একই গাড়িতে নজরুলের সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম। গাড়ি ড্রাইভ করে স্বপনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহাঙ্গীর। নজরুলদের গাড়ির পেছনে ছিল আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। নজরুলদের বহনকারী গাড়িটি নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড হয়ে উত্তর দিকে যাওয়ার পথে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সন্নিকটে (ময়লা ফেলার স্থান) পৌঁছার পর মেজর আরিফের নেতৃত্বে গাড়ির গতি রোধ করা হয়। নজরুলের গাড়ির পেছনে ছিল আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। পরে দু’টি গাড়ি থেকে ৭ জনকে র্যাবের দু’টি গাড়িতে তুলে নেয়া হয় অস্ত্র দেখিয়ে। গাড়িতে তাদের ওঠানোর পর একে একে প্রত্যেকের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করা হয়। অচেতন হওয়া সাতজনকে কয়েক ঘণ্টা তাদের গাড়িতেই রাখা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীতে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিকল্পনা মতে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালু-পাথর ব্যবসাস্থল জনমানুষ শূন্য করার জন্য নূর হোসেনকে ফোন দেয় মেজর (অব.) আরিফ হোসেন। গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর র্যাবের গাড়ি ওই স্থানে পৌঁছায়। গাড়ির ভেতরই অচেতন প্রত্যেকের মাথা ও মুখম-ল পলিথিন দিয়ে মোড়ানো হয়। পরে গলা চেপে ধরার পর একে একে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায় সাতজন। পরে সাতজনের নিথর দেহ গাড়ি থেকে নামানো হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫নং ঘাট থেকে র্যাবের নির্দিষ্ট নৌকা নিয়ে যাওয়া হয় কাঁচপুর ব্রিজের নিচে। লাশগুলো নৌকায় উঠিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে যাওয়ার পথে ‘নির্দিষ্টস্থান’ থেকে লাশ গুমের উপকরণ নৌকায় তোলা হয়। নৌকার মধ্যেই একে একে প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ইট বাঁধা হয়। একটি করে ফুটো করে দেয়া হয় নাভির নিচে- গ্যাস বের হয়ে যাতে লাশ ভেসে না ওঠে। তারপর শীতলক্ষ্যা নদীর নির্দিষ্ট স্থানে লাশগুলো ফেলে দেয়া হয়।
পুরো অপারেশনে র্যাবের ৩ কর্মকর্তাসহ ২০ জন অংশ নেয়। লাশ ফেলে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন ঘাট দিয়ে উঠে শহরের ভেতর দিয়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছার পথে শহরের হাজীগঞ্জে পুলিশ চেকপোস্টে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ পুলিশের মুখোমুখি হয়। এসময় তারেক সাঈদ দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, আমরা আপনাদের মতো ‘ওদের’ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছি। তখন পুলিশ আর কিছু বলেনি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডে ফতুল্লা মডেল থানার এক কর্মকর্তার মুখোমুখি হয় মেজর আরিফ হোসেন। মেজর আরিফকে দেখে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আর কিছু বলেননি।
ঘটনা স্পষ্ট হওয়ার পরই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: এদিকে অপহরণের পর হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্পষ্ট হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫ই মে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেনকে সেনাবাহিনী থেকে এবং নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সাবেক প্রধান লে. কমান্ডার এম এম রানাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ১৬ই মে রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও আরিফ হোসেন (অব.)কে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৭ই মে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। একইদিন রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লে. কমান্ডার (অব.) এমএম রানাকে। ১৮ই মে আদালত তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২২শে মে তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেনকে সাত খুনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৬শে মে এম রানাকেও সাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জর করেন। ৮ দিন রিমান্ড শেষে ৩০শে মে তারেক সাঈদ ও আরিফকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে ৮ দিনের রিমান্ড শেষে এম এম রানাকে সোমবার আদালতে হাজির করে তৃতীয় দফায় ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তৃতীয় দফায় তিন র্যাব কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে আরাম আয়েশে রেখেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
৭ খুন: তদন্ত কমিটির সামনে জেলার ৯ পুলিশ কর্মকর্তা: নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি জেলার ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে এ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। সাক্ষ্য দিতে আসা ৯ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, শহীদুল ইসলাম, মো. জাকারিয়া, আজিবুল হাসান (সার্কেল এ), জীবনকান্তি সরকার (সার্কেল জি), আবদুল্লাহ আল মাসুম (এএসপি, ফতুল্লা মডেল থানা), জেলা বিশেষ শাখার পরিদর্শক মইনুর রহমান, সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের পিপিএম, বন্দর থানার ওসি আকতার মোর্শেদ। এর মধ্যে ওসি আকতার মোর্শেদ ছাড়া বাকি ৮ পুলিশ কর্মকর্তা অপহৃতদের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা কমিটির সদস্য। ২৭শে এপ্রিল সাতজন অপহরণ হওয়ার পরদিন ২৮শে এপ্রিল জেলা পুলিশ প্রশাসন উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অপহৃতদের উদ্ধারে কমিটি কি ভূমিকা নিয়েছিল তা জানতেই মূলত তাদের গণ-শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। এ ছাড়া ওসি আকতার মোর্শেদকে ডাকা হয়েছে লাশ উদ্ধারের সময়ের ঘটনা জানার জন্য। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল।
তদন্ত কমিটির প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে কমিটি তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
এর আগে, ২৫শে মে নারায়ণগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মনোজ কান্তি বড়াল ও পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। ২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ২৯শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের এসপি ও ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়। ৩০শে এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
এরপর ওই ঘটনা তদন্তে আদালতের নির্দেশে ৭ই মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নিহতের স্বজনদের বক্তব্য নেয়াসহ কয়েক দফা গণ-শুনানি করেছে।
আইনজীবীদের ক্ষোভ: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, ৭ খুনের মামলার তদন্তকাজ নিয়ে আমরা শৈথিল্য প্রদর্শন দেখতে পাচ্ছি। তদন্ত নিয়ে কোন টালবাহানা, গড়িমসি সহ্য করা হবে না। ঘটনার ৩৬ দিনেও প্রধান আসামি গডফাদার নূর হোসেন, এজাহারভুক্ত বাকি আসামি ও তার সহযোগীদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। গডফাদার নূর হোসেনকে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী শামীম ওসমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। মন্ত্রীর জামাতা তারেক সাঈদকে রিমান্ডে জামাই আদরে রাখা হয়েছে। মন্ত্রীপুত্র দিপু চৌধুরীকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, খুনিরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সারা দেশে গুম, খুনের বিরুদ্ধে দুর্বার গণ-আন্দোলন শুরু করা হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে চলমান আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সমিতির ভবনের সামনে মানববন্ধনে এ বক্তব্য দেন তিনি। মানববন্ধনে আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ খুনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে আদালতপাড়া মুখরিত করে তোলেন আইনজীবীরা। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, মাহবুবুর রহমান মাসুম, সরকার হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গহিন বনে বিপুল অস্ত্র by রেজওয়ান আহমদ, আবুল কালাম আজাদ ও সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন

র্যাবের মিডিয়া উইং কমান্ডের প্রধান কর্নেল হাবিবুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব হেডকোয়ার্টার ও র্যাব-৯-এর এর সদস্যরা রোববার রাত ১টার দিকে অভিযান শুর করে। র্যাব-৯-এর অধিনায়ক সানা শাহীনুর রহমানের নেতৃত্বে আড়াই শতাধিক র্যাব সদস্য উপজেলার সাতছড়ি বনবিটের অভ্যন্তরে এবং টিপরা পল্লীতে এ অভিযানে নামেন। অভিযানে র্যাব সদস্যরা টিপরা পল্লীতে দুটি এবং পল্লীর অদূরে গভীর জঙ্গলে একটি টিলায় ৩টি বাংকারের সন্ধান পায়। ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর এসব বাংকারের মুখে আরসিসি ঢালাই করা। ৫টি বাংকারের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র একটি বাংকারে বিপুল পরিমাণ রকেট লঞ্চার ও ৩টি মর্টার শেলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। ৪টি বাংকারে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তের মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি বনবিট। এখান থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে অস্ত্র পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যানুযায়ী এ বনবিটের গভীর অরণ্যে একসময় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘ক্যাম্প’ ছিল। এসব ক্যাম্পে আস্তানা ছিল উলফা, এটিটিএফ এবং এনএলএফটির। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে ২০০৫ সালের পর এদের আনাগোনা আর চোখে পড়েনি। তাছাড়া ২০০৩ সালে সাতছড়ি থেকে পাঠানো বিশাল অস্ত্র, গোলাবারুদের চালান আটক হয়েছিল বগুড়ার কাহালুতে। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পর সাতছড়ি এলাকা গোয়েন্দাসহ প্রশাসনের দৃষ্টিতে চলে আসে। পরবর্তীকালে সাতছড়িতে বেশ কয়েকবার ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তারা সাতছড়ি ত্যাগ করে। তবে মাঝে মাঝে তাদের আনাগোনা ছিল এমন কথা বলছেন কেউ কেউ। সাতছড়ির গহিন অরণ্যে থাকা ত্রিপুরা পল্লীর লোকজন জানান, ২০০৭ সালের পর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আর দেখা যায়নি।
র্যাবের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন কয়েক সপ্তাহ ধরে সাতছড়ি বনবিট ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় সাদা পোশাকে ঘোরাফেরা করেন। এ সময় তারা পল্লীর ত্রিপুরা সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং চা বাগানের চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন সাতছড়ি জঙ্গলে উলফা কিংবা এটিটিএফ সদস্যদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। এমনকি বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে এ জঙ্গলে। বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত হয়েই র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে জানানো হয় র্যাব-৯-এর কমান্ডার সানা শাহীনুর রহমানকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকালে সাতছড়িতে র্যাবের একটি গোয়েন্দা দল আসে। রাত ১টার দিকে র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে বিপুল পরিমাণ র্যাব সদস্য সাতছড়ি পল্লী ঘিরে ফেলে। র্যাব-৯ এর অধিনায়ক সানা শাহীনুর রহমান, হেডকোয়ার্টারের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মুফতি মাহমুদ খানের নেতৃত্বে প্রায় ২শ’ র্যাব সদস্য এ অভিযানে নামে। প্রথমে তারা পল্লীতে তল্লাশি চালায়। এ সময় পল্লীতে অবস্থানরত সব পুরুষ লোক ভয়ে পালিয়ে যায়। চিত্ত দেববর্মা নামে পল্লীর হেডম্যান ওই রাত থেকে পলাতক রয়েছে। র্যাব পল্লীর পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে দুটি সেমিপাকা ঘরের নিচে দুটি বাংকারের সন্ধান পায়। কিন্তু এসব বাংকার খুঁড়ে কাউকে কিংবা কোনো গোলাবারুদ পায়নি। পরে তারা চলে যায় পল্লীর প্রায় ৫ গজ দূরে জঙ্গলের অভ্যন্তরে। সেখানে খুঁজে পায় আরও দুটি বাংকার। এসব বাংকারে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ দেখে তারা খবর পাঠায় র্যাবের ডিজিকে। এদিকে বাংকারের সন্ধানে র্যাব সদস্যরা কাছাকাছি সব টিলায় অভিযান চালায়। কিন্তু সোমবার দিনভর তল্লাশি করে আর কোনো বাংকার খুঁজে পায়নি। মঙ্গলবার সকালে একই টিলায় খুঁজে পায় আরও একটি বাংকার। এ বাংকারেই রয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় অস্ত্র উদ্ধারের কাজ। প্রায় ৩ ঘণ্টার অভিযানের পর একটি বাংকার থেকে উত্তোলন করা হয় বিপুল পরিমাণ রকেট লঞ্চার, ৩টি মর্টাল শেল, মর্টালের ক্লিনার, ওয়েলসহ বিপুল পরিমাণ ছোট ছোট রকেট লঞ্চার। এক পর্যায়ে শুরু হয় অঝোরে বৃষ্টি। এ বৃষ্টির মধ্যেই ব্রিফিং দেয়া হয়। ব্রিফিংয়ে হাবিবুর রহমান বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমাদের অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আরও কয়েকদিন এ জঙ্গলে আমাদের সদস্যরা অভিযান চালাবে। কারা কি উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র এখানে রেখেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে র্যাব আটক করতে পারেনি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি জড়িতদের খুঁজে বের করার।
এদিকে সাতছড়ির গভীর জঙ্গলে এবং র্যাবের এ অভিযান অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে চালানোর কারণে সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়নি। বিপুুলসংখ্যক র্যাব সদস্যের আনাগোনায় মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ খবরে সকালে হেলিকপ্টারে করে সাতছড়ি ছুটে আসেন র্যাবের সহকারী ডাইরেক্টর জেনারেল কর্নেল জিয়াউল হাসান, মিডিয়া উইং কমান্ডের প্রধান কর্নেল হাবিবুর রহমান, ব্যাটালিয়ন কমান্ডার মুুফতি মাহমুদ খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে ছুটে যান মিডিয়া কর্মীরা। দুপুরে র্যাবের পক্ষ থেকে ব্রিফিং করেন কর্নেল হাবিবুর রহমান।
র্যাবের সাতছড়ি অভিযানের ব্যাপারে অত্যন্ত গোপনীয়তার আশ্রয় নেয়া হয়। এমনকি খোদ স্থানীয় পুলিশও বিষয়টি জানত না। অভিযানের ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে আগাম অবগত করেনি র্যাব। পুলিশ পরে অভিযানের খবর জেনেছে। এমন বক্তব্য চুনারুঘাট থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরীর।
সাতছড়ি বনবিটে র্যাবের বিপুল পরিমাণ রকেট লঞ্চার ও মর্টার শেল উদ্ধারের পর সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গেছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ জয়নাল আবেদিন, পুলিশ সুপার কামরুল আমীন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের ও উপজেলা নির্বাহী কর্মবকর্তা মোঃ মাশহুদুল কবীর। তারা এ সময় র্যাব কমান্ডার সানা শাহীনুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকতার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন। জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিন পুলিশ সুপার কামরুল আমীন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য চুনারুঘাট থানার ইনচার্জ অমূল্য কুমার চৌধুরীকে নির্দেশ দেন।
উদ্ধারকৃত রকেট লঞ্চার ও গোলাবারুদ চুনারুঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। র্যাব সিজার লিস্ট করে মালামাল শ্রীমঙ্গল র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে এগুলো চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন চুনারুঘাট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি জানান, এগুলো বিস্ফোরক হওয়ার কারণে হেড কোয়ার্টার বোমা ডিসপোজাল বিভাগে পাঠানো হতে পারে। তবে র্যাব এ বিষয়ে পরবর্তীতে থানায় মামলা দেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুকিয়ে রাখার সঙ্গে সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লীর লোকরা জড়িত থাকতে পারে বলে র্যাব সন্দেহ করছে। কারণ যে ৫টি ব্যাংকারের সন্ধান পাওয়া গেছে তার দুটো ত্রিপুরা পল্লীতে। বাকি ৩টি পল্লীর একটু দূরে। ২০ থেকে ২৫ ফুট গর্ত করে আরসিসি ঢালাই ও ইট দিয়ে যখন এসব ব্যাংকার তৈরি করা হয় তখন ত্রিপুরা পল্লীর লোকজন এ ঘটনা জানত বলে র্যাব ধারণা করছে। পল্লীতে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্যরা এসব ব্যাংকার তৈরি করে অবস্থান করলেও পল্লীর কেউ বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন কিংবা গোয়েন্দাদের জানায়নি। তাদের জ্ঞাতসারেই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এসব কাজ করেছে বলে র্যাব মনে করছে।
উদ্ধারকৃত ১৮৪টি রকেট লঞ্চার, ৩টি মর্টার শেল, বিপুল পরিমাণ রকেট লঞ্চার চার্জার ও অস্ত্র ক্লিনারে মরিচা পড়ে গেছে। এসব লঞ্চার ও শেল ৭-৮ বছর মাটির নিচে পড়ে থাকার কারণে মরিচা ধরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কাহালুতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের চালান আটক হয়েছিল ১০ বছর আগে।
২০০৩ সালের ২৭ জুন বগুড়ার কাহালু উপজেলায় আনারসের ট্রাকে ১৭৪ কেজি বিস্ফোরক এবং প্রায়
১ লাখ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র উদ্ধারের পর সাতছড়ি আলোচনায় আসে। তদন্তে উঠে আসে সাতছড়ি থেকেই এসব গোলাবারুদ ও অস্ত্র পাচার হয়ে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় পুলিশের হাতে আটক এ গোলাবারুদ ও অস্ত্র আটকের পর অবশিষ্ট এসব অস্ত্র থাকতে পারে। পরবর্তীতে এসব অস্ত্র সুযোগ না থাকায় তারা সরিয়ে নিতে পারেনি বলে মনে করা হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশ শাসনের পূর্ণ অধিকার মোদির রয়েছে
![]() |
| লন্ডনে অমর্ত্য সেন |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন লক্ষ্যে ভারত
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ২০১৪, অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
যশোবন্ত সিং: ভারতের সাবেক অর্থ, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিষ খাওয়ানো বন্ধ করুন
ড. রুশাদ ফরিদী: সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়৷
rushad@econdu.ac.bd
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
June
(460)
-
▼
Jun 04
(14)
- শেখ হাসিনাকে ড. কামাল হোসেনের জবাব
- আদালতের সীমানা by মিজানুর রহমান খান
- এডিপির সংস্কার কি অসম্ভব? by মাহফুজ কবীর
- ভোটের রাজনীতিতে তারকারা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
- বার্তা উপেক্ষিত, বার্তাবাহক কাঠগড়ায় by আলী ইমাম ম...
- ঢাকা–টোকিও: লেনদেনের হিসাব-নিকাশ by মনজুরুল হক
- অন্যরকম কারাগার
- আসুন নাক গলাই by শামীমুল হক
- ওসমান পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- কিলিং মিশনে অংশ নেয় ২২ জন by বিল্লাল হোসেন রবিন
- গহিন বনে বিপুল অস্ত্র by রেজওয়ান আহমদ, আবুল কালাম ...
- দেশ শাসনের পূর্ণ অধিকার মোদির রয়েছে
- নতুন লক্ষ্যে ভারত
- বিষ খাওয়ানো বন্ধ করুন
-
▼
Jun 04
(14)
-
▼
June
(460)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
