Tuesday, May 11, 2010

আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত - ধর্মঘট ও জনদুর্ভোগ

শুক্রবার সকাল থেকে হঠাৎ আংশিক নৌ-ধর্মঘট শুরু হয়। রোববার থেকে শুরু হয় পেট্রলপাম্প মালিক-শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। ইতিমধ্যে পেট্রলপাম্প ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে এবং হয়তো অচিরেই নৌ-ধর্মঘটের অবসান হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হবে, তা অবর্ণনীয়। এর আগে ১৬ থেকে ২০ মার্চ নৌ-ধর্মঘট হয়েছে। এরপর শ্রমিক-মালিক ও সরকারপক্ষের মধ্যে আলোচনায় একটা মীমাংসা হয়। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বেতনকাঠামো নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। মূলত মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত ছিল। আলোচনা ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা থাকতে পারে। কিন্তু সেটা হবে নিতান্তই সহায়তাকারীর ভূমিকা।
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার নিজেই মূল সিদ্ধান্তকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, শ্রমিকদের বেতন ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ, বাড়িভাড়া ১৩৩ শতাংশ ও ধোলাই-ভাতা ১৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ মজুরিকাঠামো ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং এটা পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে জানানো হয়েছে। শ্রমিকেরা এতে সন্তুষ্ট নন। বেতন-ভাতা এত বাড়ানোর পরও যদি সেটা যথেষ্ট না হয়ে থাকে, তাহলে আরও আলোচনা করা যেত। কিন্তু তা না করে সরকার পুলিশি ব্যবস্থা নিতে গেল কেন? সরকারি দলের সমর্থক শ্রমিকদের সাহায্যে ধর্মঘট ভাঙার চেষ্টা করে হয়তো আংশিক লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব, কিন্তু এটা কোনো সমাধান নয়।
বেতন-ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, সেটা বড় কথা নয়। এ বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের মোট প্রাপ্তি কত এবং সেটা চলতি বাজারদরে একটি পরিবারের মোটামুটি খেয়ে-পরে চলার মতো কি না, তা দেখতে হবে। এখানে বল প্রয়োগ পরিস্থিতিকে খারাপের দিকেই ঠেলে দেবে। মন্ত্রী মহোদয়ের কথায় মনে হয়, সরকার একটি পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। মন্ত্রী বলছেন, চাপ দিলে মালিকেরা ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন, এর ফল ভোগ করতে হবে যাত্রীদের। এ ধরনের কথায় মালিকেরা ভাড়া বাড়ানোর অজুহাত পান। অযৌক্তিকভাবে ভাড়া যেন না বাড়ানো হয়, সেটা সরকারকেই দেখতে হবে। একই সঙ্গে ভাড়া কম বা আয় কম—এ ধরনের কথা বলে শ্রমিকদের যেন অযৌক্তিকভাবে কম মজুরিতে শ্রম দিতে বাধ্য করা না হয়, সেটাও সরকারকে দেখতে হবে।
বারবার ধর্মঘট শুধু যাত্রীদেরই ভোগায় না, শ্রমিকদেরও পথে বসায়। এ কথাটা শ্রমিকদের চেয়ে আর কেউ ভালো বোঝে না। তাই তাঁদের গ্রেপ্তার না করে বরং আলোচনার টেবিলে আনা দরকার। শ্রমিকদেরও বোঝা দরকার যে আলোচনার পথেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
পেট্রলপাম্প মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের ব্যাপারটাও অনেকটা সে রকম। মূলত জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বাড়ানোর কথা বলে তাঁরা ১২ এপ্রিল বলেছিলেন, দাবি না মানলে ধর্মঘট। তাঁদের অন্য কিছু দাবিও আছে। কিন্তু সরকার এত দিন কী করল? ধর্মঘট কেন অবধারিত করে তোলা হলো? পেট্রলপাম্প বন্ধ মানে বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের একটি বড় অংশই বন্ধ। এতে যে শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ে তা নয়, পণ্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হয়। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে।
পরিবহন খাতে কোনো ধরনের ধর্মঘট কাম্য নয়। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।

ছাইয়ের কারণে ইউরোপে ফের ফ্লাইট বিপর্যয়

আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরি এয়াকিউয়াতলুয়োকুটলের অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ছাইয়ের কারণে ইউরোপে আবারও ফ্লাইট বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার থেকে ফের অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের কারণে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। শুধু স্পেনেরই ২০টি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে গতকাল রোববার থেকে স্পেনের বিমান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে অগু্ন্যৎপাত শুরু হওয়ার পর ওই দিনই আয়ারল্যান্ড ও ফারো আইল্যান্ডের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়।
ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, ছাইয়ের কারণে নাইস বিমানবন্দরের ২০টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের অধিকাংশই ব্রিটিশ কোম্পানি ইজিজেটের।
পর্তুগালের উত্তরাঞ্চলের শহর পোর্তো অভিমুখে সব ফ্লাইট গতকাল স্থগিত করা হয়।

নিউইয়র্কে ব্যর্থ বোমা হামলার সঙ্গে পাকিস্তানি তালেবান জড়িত

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিখ হোল্ডার বলেছেন, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্যর্থ গাড়িবোমা হামলার পেছনে হাত ছিল পাকিস্তানি তালেবানের। এ সংক্রান্ত প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। গতকাল রোববার এবিসি টেলিভিশনের একটি টক শোতে তিনি এ কথা বলেন।
হোল্ডার জানান, ওই জঙ্গি সংগঠনটি বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে। সম্ভবত অর্থের জোগানদাতাও ছিল তারা। মুসলিম জঙ্গিদের দমনে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পাকিস্তানকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে—নিউইয়র্ক টাইমস-এ যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের হুঁশিয়ারির কথা প্রকাশিত হওয়ার একদিনের মাথায় হোল্ডার এ কথা বললেন। তিনি আরও বলেন, ব্যর্থ বোমা হামলার তদন্তের ব্যাপারে পাকিস্তান যেভাবে সহযোগিতা করছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা তাতে সন্তুষ্ট।

ইরানে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরান গতকাল রোববার একজন মহিলাসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তাঁরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য। কয়েকটি বোমা হামলায় অংশ নেওয়ার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁদের এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর জানিয়েছে।
ইরনা জানায়, তেহরানের ইভিন জেলখানায় শিরিন আলামহাওলি নামের এক নারীসহ আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বোমা হামলা চালিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কয়েকজন ইরানির সম্পত্তির ক্ষতি করায় তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

প্রিন্স হ্যারিকে আল-কায়েদার হুমকি

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারিকে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, প্রিন্স হ্যারি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারে করে আফগানিস্তান গেলে তাঁকে অপহরণ করা হবে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
ব্রিটিশ পত্রিকা সানডে এক্সপ্রেসের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, আল-কায়েদা বলেছে, ‘প্রিন্স হ্যারিকে বহনকারী অ্যাপাচি হেলিকপ্টারকে ভূপাতিত করে তাঁকে অপহরণ করা হবে। হ্যারিকে অপহরণের বিষয়টা হবে দারুন।’ আল-কায়েদার আরবি ভাষার একটি ওয়েবসাইটে এ কথা বলা হয়েছে।
সংগঠনটির আরেকটি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘প্রিন্স হ্যারিকে মুজাহিদরা আটক করার বিষয়টা হবে বিশাল।’
হেলিকপ্টারে করে শত্রুপক্ষের ওপর হামলা চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সেনাবাহিনী প্রিন্স হ্যারিকে অনুমোদন দিয়েছে। গত শুক্রবার তারা এ অনুমোদন দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রিন্স হ্যারির সামরিক প্রশিক্ষণের এই উচ্চাভিলাষই আল-কায়েদাকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
আল-কায়েদার ওয়েব ফোরাম সংগঠনটির ব্রিটিশ অনুসারীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এই অনুসারীরা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে পাকিস্তানভিত্তিক তালেবানের একজন মুখপাত্র সম্প্রতি নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্যর্থ গাড়িবোমা হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ‘সবচেয়ে বড়’ গাড়ির কারখানা উদ্বোধন করলেন আহমাদিনেজাদ

ইরানে গতকাল রোববার একটি গাড়ির কারখানা উদ্বোধন করেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। সরকারের পক্ষ থেকে সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় গাড়ির কারখানা বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত অটোমোবাইল কোম্পানি ‘সাইপা’ কারখানাটি গড়ে তুলেছে। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা গতকাল এ কথা জানিয়েছে।
ইরনা বলেছে, মধ্যাঞ্চলীয় এলাকা কাশানে নির্মিত মধ্যপ্রাচ্যের ‘সবচেয়ে বড়’ এ কারখানা থেকে বছরে দেড় লাখ গাড়ি তৈরি করা হবে।
কারখানাটি স্থাপনে খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার। এতে প্রায় চার হাজার কর্মী কাজ করবেন। এখানে মূলত নিম্নআয়ের লোকজনের ক্রয়সাধ্য ‘তিবা’ ব্র্যান্ডের গাড়ি তৈরি হবে। এর দাম হবে আট থেকে নয় হাজার মার্কিন ডলার। ইরানের নিজস্ব ডিজাইনার ও প্রকৌশলীদের সহায়তায় এ ব্র্যান্ডের গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে।
গতকাল আহমাদিনেজাদ এমনই একটি গাড়ির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘তিবা আমাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এর মাধ্যমে ইরানিরা দেখিয়ে দিয়েছে, শত্রুরা দীর্ঘদিন অবরোধ করেও ইরানের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি।’
প্রসংগত, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রস্তুতকারী দেশ। গত বছর তারা ১৪ লাখ গাড়ি তৈরি করেছে।

ব্রাউনকে নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান লেবার এমপির

পার্লামেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর গর্ডন ব্রাউনকে লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দলটির একজন এমপি।
ব্রিটেনে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর লেবার পার্টির কোনো এমপি এই প্রথম ব্রাউনকে এ আহ্বান জানালেন।
ইংল্যান্ডের কেন্দ্রস্থল বাসেটলরের এমপি জন মান শনিবার এক বিবৃতিতে বনে, ‘আগামী কয়েক দিন যা-ই ঘটুক না কেন, গর্ডন ব্রাউনের ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত হবে না। তাঁর উচিত লেবার পার্টির পরবর্তী সম্মেলনের আগেই পদত্যাগ করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রচারণায় আমি দেখেছি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেবার পার্টির দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক জনসমর্থন ছিল। কিন্তু গর্ডন ব্রাউনের আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সমর্থন ছিল খুবই কম।’
পরে চ্যানেল ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন মান বলেন, নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের আসল কারণ হচ্ছে, জনগণ ব্রাউনকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতে চায়নি।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি ২৫৮ আসনে জয় পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩০৬ আসনে জয়ী হয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি। তবে সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি তারা।
সরকার গঠন করতে হলে ৬৫০ আসনের ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ন্যূনতম ৩২৬টি আসন প্রয়োজন।
নির্বাচনে মধ্য বামপন্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দল ৫৭ আসনে জয়ী হয়েছে। জোট সরকার গঠনে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কনজারভেটিভ পার্টি।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ‘পরোক্ষ’ শান্তি আলোচনা শুরু

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে পরোক্ষভাবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার এ ঘোষণা দেয়। শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ ১৭ মাসের অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ আলোচনা শুরু হলো।
ফিলিস্তিনি আলোচক সায়েব এরেকাত দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জর্জ মিশেল আগামী চার মাসে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আলোচনার টেবিলে আনার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবেন।
সায়েব এরেকাত বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন বন্ধ করাই হবে প্রত্যক্ষ আলোচনার মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইসরায়েল বসতি স্থাপন বন্ধ না করলে তিনি সরাসরি কোনো আলোচনায় অংশ নেবেন না। তবে আব্বাসের এ ঘোষণার পরপরই ইসরায়েল ফিলিস্তিনের দাবি করা ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন সাময়িকভাবে কমাতে রাজি হয়েছে।
মার্কিন দূত মিশেল চূড়ান্ত আলোচনার লক্ষ্যে গত পাঁচ দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দুবার এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন। তিনি সর্বশেষ গতকাল ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেকর্ড সংখ্যক এশীয় এমপি

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে এবার রেকর্ডসংখ্যক এশীয় বংশোদ্ভূত সদস্যের (এমপি) প্রতিনিধিত্ব দেখা যাবে। যুক্তরাজ্যের গত বৃহস্পতিবারের সাধারণ নির্বাচনে ১৮ জন এশীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী জিতেছেন। এদের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত রয়েছেন আট জন। বাকি ১০ জনের মধ্যে বেশির ভাগ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। আর এবারই প্রথম কোনো এশীয় নারী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে নারী দুজন। এ ছাড়া বাকি এশীয়দের মধ্যে একজন বাংলাদেশিসহ তিনজন মুসলিম নারী রয়েছেন। নির্বাচনে এঁরা সবাই লেবার পার্টির প্রার্থী ছিলেন। আর ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই নারী এমপির মধ্যে একজন লেবার ও অন্যজন কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
এই আট ভারতীয় বংশোদ্ভূত জয়ী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন কিথ ভাজ। লেস্টার ইস্ট আসন থেকে তিনি ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। আগের বারের যেকোনো বারের চেয়ে এবার বেশি ভোটও পেয়েছেন তিনি। তাঁর বোন ভ্যালেরি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ওয়ালসল সাউথ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন। উইথহ্যাম আসনে কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন আরেক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী প্রীতি পাতিল। কিথ ভাজ ও ভ্যালেরি প্রথম ভাই-বোন যাঁরা একই মেয়াদে হাউস অব কমন্সে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে গত শনিবার কিথ ভাজ বলেন, ‘লেস্টার ইস্টের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য পুনর্নির্বাচিত হওয়াটা সত্যিই একটি সম্মানের ব্যাপার। ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব আমি। ভ্যালেরি নির্বাচিত হওয়ায় আমি খুবই খুশি। পার্লামেন্টে আমরা একসঙ্গে বিতর্কে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’
অন্য ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে রয়েছেন ইলিং সাউথহল আসনে নির্বাচিত লেবার পার্টির বীরেন্দ্র শর্মা ও ব্র্যাডফোর্ড ওয়েস্ট আসনে নির্বাচিত একই দলের প্রার্থী মার্শা সিং, কেমব্রিজশায়ার নর্থ ওয়েস্ট আসন থেকে নির্বাচিত কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী শৈলেশ ভারা, একই দলের রেডিং ওয়েস্ট আসন থেকে নির্বাচিত প্রার্থী আওক শর্মা ও উলভারহ্যাম্পটন সাউথ ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত পল উপল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরেকজন উল্লেখযোগ্য সাবেক এমপি ও মন্ত্রী লেবার পার্টির পরমজিৎ ধন্দ এবার নিজ আসন গ্লস্টারে পরাজিত হয়েছেন।
এ ছাড়া রয়েছেন লেবার দলের বেথনাল গ্রিন ও বো আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী, বোল্টন সাউথ ইস্ট আসনে জয়ী ইয়াসমিন কোরেশি ও বার্মিংহাম লেডিউড থেকে শাবানা মাহমুদ।
হাউস অব কমন্সে (ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) নির্বাচিত প্রথম এশীয় পুরুষ ছিলেন ভারতের দাদাভাই নওরোজী। তিনি ১৮৯২ সালে মধ্য লন্ডনের ফিন্সবারি থেকে নির্বাচিত হন। এত দিন পর একজন এশীয় নারী এমপি হলেন।
এবার বাকি এশীয় বংশোদ্ভূত নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী ও লেবার পার্টির সাদিক খান (দক্ষিণ লন্ডনের টুটিং আসনে), একই দলের খালিদ মাহমুদ (বার্মিংহ্যাম পেরি বার আসনে), আনাস আনোয়ার (গ্লাসগো সেন্ট্রাল) ও চুকা উমুন্না (স্ট্রেটহ্যাম আসনে); কনজারভেটিভ পার্টির সাজিদ জাভিদ (ব্রমসগ্রোভ আসনে), রেহমান চিস্তি (জিলিংহ্যাম আসনে) ও নাদিম জাহাবি (স্ট্র্যাফোর্ড আসনে)।

মাত্র ১৬ হাজার ভোটের খেসারত দিচ্ছে টোরিরা!

যুক্তরাজ্যের গত সপ্তাহের নির্বাচনে মাত্র ২০টি আসনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি কনজারভেটিভ পার্টি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৯টি আসনে মাত্র ১৬ হাজার ভোট বেশি পেলে রক্ষণশীলদের এ অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না।
যুক্তরাজ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটের পার্লামেন্টের ৬৫০ আসনের মধ্যে ৩২৬ আসন দরকার। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩০৬টি আসন। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি পেয়েছে ২৫৮ আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ৫৭টি আসন।
ভোটের সংখ্যায় টোরিরা বড় ব্যবধানেই জয়ী হয়েছে। লেবার পার্টির চেয়ে তারা ২০ লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছে। সানডে টাইমস-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণে প্লিমাউথ ইউনিভার্সিটির নির্বাচনী কেন্দ্রের পরিচালক কলিন র‌্যালিংস ও মাইকেল থ্র্যাশার বলেন, ‘ডেভিড ক্যামেরন চূড়ান্ত বিজয়ের খুবই কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। হেরে যাওয়া ১৯টি আসনে টোরিরা জয়ের দ্বারপ্রান্তেই ছিল। কিন্তু মাত্র ১৬ হাজার ভোটের কারণে তা হলো না। এই ভোটগুলো টোরিরা পেলে সরকার গঠনের জন্য আমাদের আর অপেক্ষা করতে হতো না; নানা গুঞ্জনও ছড়াত না।’
বিশ্লেষক দুজন বলেছেন, ফলাফল থেকে দেখা যায়, লেবার দল অব্যাহতভাবে এক ধরনের ‘পক্ষপাতমূলক’ এই নির্বাচনী ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছে। কম ভোটারের ‘ইনার সিটি’ আসন ও কম ভোট পড়েছে এমন এলাকায় ভালো করেছে তারা। বৃহস্পতিবারের ভোটে ১৯৭৪ সালের পর থেকে প্রথম ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হয়েছে যুক্তরাজ্যে। এ ঘটনায় দেশটির ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ নির্বাচনী পদ্ধতি আবার আলোচনায় উঠে আসে। এই পদ্ধতিতে একটি আসনে একটি নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট যে আগে পাবেন, তাঁকে বিজয়ী ধরা হয়।
বিশ্লেষণে র‌্যালিংস ও থ্র্যাশার আরও বলেন, লেবার পার্টি যেসব আসনে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, সেসব আসনের ৩৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই তারা জয়ী হয়েছে। কিন্তু একই সংখ্যক ভোট পেয়ে টোরিরা জয়ী হয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা। তারা দেশব্যাপী শুধু ‘নষ্ট ভোট’ কুড়িয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ভোট পাওয়া প্রতি আট আসনের মাত্র একটিতে জয়ী হয়েছে লিভ ডেম।
এবার ৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোটারের রায় গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরোধী দল ইউনাইটেড কিংডম ইনডিপেন্ডেন্স পার্টিতে (ইউকেআইপি)। বিশ্লেষকদ্বয়ের মতে, এই ভোট কনজারভেটিভ পার্টি পেলে নির্বাচনের ফল অন্যরকম হতে পারত। যে ১৯টি আসনে কনজারভেটিভ পার্টি অল্পের জন্য হেরে গেছে, সেখানে ইউকেআইপির পাওয়া অর্ধেক ভোটও তারা পেলে ডেভিড ক্যামেরন অন্তত দুটি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারতেন।
দুই নির্বাচনী বিশ্লেষক আরও বলেছেন, চলমান অচলাবস্থা নিরসনে যদি নতুন করে নির্বাচন হয় এবং লেবার পার্টির ১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার তাঁদের মত পাল্টান, তাহলে কনজারভেটিভ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে। আর ২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার মত পরিবর্তন করলে টোরিরা ২০টি আসন বেশি পাবে।

আবাহনীর জয়ের অর্ধশতক

একটা মাইলফলকে পা রাখল আবাহনী ফুটবল দল। পেশাদার ফুটবল লিগে কাল তারা পেয়েছে ৫০তম জয়। ব্রাদার্সের বিপক্ষে অনেক সুযোগ নষ্ট করেও ৪-০ ব্যবধানের জয়টা আবাহনীর হ্যাটট্রিক শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করে দিল।
২১ ম্যাচে ৬১ পয়েন্টের মালিক আবাহনীর বাকি তিন ম্যাচে দরকার চার পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের পয়েন্ট ৫২। সমীকরণ দাঁড়াচ্ছে, শেষ তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে শুধু শেষ ম্যাচে মোহামেডানকে হারালেই আবাহনী চ্যাম্পিয়ন।
অত অপেক্ষার দরকার হবে না, যদি মোহামেডান তাদের শেষ চার ম্যাচের প্রথম তিনটিতে চার পয়েন্ট হারায়, তাহলে শেষ তিন ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পেলেও শিরোপা আবাহনীরই থাকবে।
আবাহনী তাই মাঠে অনেকটা নির্ভার। এবারের লিগটা এমন হচ্ছে, ছোট দলগুলোর সঙ্গে আবাহনী জিতছে হেসেখেলে। ফিরতি পর্বে তো আবাহনী ‘দুর্বার’, গোলও করছে বেশি। প্রথম পর্বের ১২ ম্যাচে গোল মাত্র ২২, খেয়েছে ১টি। ফিরতি পর্বে ৯ ম্যাচেই ৩৪ গোল, খেয়েছে ৩টি।
এই আবাহনীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে না ব্রাদার্স, এটাই স্বাভাবিক। আগের ম্যাচেই অবনমন এড়ানো (২০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট ছিল) নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঢাকঢোল এনে ‘বিজয় উৎসব’ করেছে ব্রাদার্স। এ ম্যাচ হারলেও ক্ষতি নেই—এটা ভেবেই তারা ছিল স্বস্তিতে। আর মাঠে নেমেছে যতটা সম্ভব কম গোল খেতে।
গরমের মধ্যে খেলতে নেমে কিছু সময় পরই হাঁফিয়ে উঠল ব্রাদার্স। আবাহনীকে রুখে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের ছিল না। টেকনিক ও স্কিলে আবাহনী বুঝিয়ে দিয়েছে দুই দলের তফাৎটা।
শেরিফ, এনামুল, ইব্রাহিম—তিন স্ট্রাইকারের মধ্যে সফল শেরিফ। এদিন দুই গোল করে নিজের গোল-সংখ্যা নিয়ে গেছেন সর্বোচ্চ ১৮তে। এক গোল করা এনামুলেরও ১৮ গোল হলো। আবাহনীর বাকি গোলটি করেছেন আবুল। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ৮০ মিনিটে ৪-০ করে দেন দলে অনিয়মিত হয়ে পড়া এই মিডফিল্ডার।
আবাহনীকে ১১ মিনিটে প্রথম গোল এনে দেন শেরিফ। গড়ানো শটে সহজ গোল। ১৮ মিনিটে প্রায় একইভাবে এনামুলের কল্যাণে ২-০। বিরতির খানিক আগে শেরিফ ৩-০ করলেন আতিকুরের ক্রসে হেড করে।
এবারের লিগে ২১ ম্যাচে আবাহনীর এটি ২০তম জয়। প্রথম পেশাদার লিগে ২০ ম্যাচের মধ্যে আবাহনী জিতেছিল ১৪ ম্যাচ। ড্র ৫, হার এক। দ্বিতীয় পেশাদার লিগে তাদের অবস্থান ছিল ১৬ জয়, ২ ড্র, ২ হার। আবাহনী টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত। মোহামেডান পেশাদার লিগে ৬০ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৪০ ম্যাচ, ড্র ১৭, হার ৩।
আবাহনীর এখন সুখের সময়। মাঠে চাপ নেই, ব্রাদার্সের বিপক্ষে একপর্যায়ে তো দুই সেরা অস্ত্র শেরিফ আর ইব্রাহিমকে তুলে নেওয়া হলো। পরশু থেকে ঢাকায় শুরু চার দলের তৃতীয় প্রেসিডেন্টস কাপ আয়োজন নিয়েছে এখন ব্যাস্ত আবাহনী।
শুকতারার ড্র: ইদ্রিসের দুই গোলে এগিয়ে যাওয়া রহমতগঞ্জকে কাল নিজেদের মাঠে রুখে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ শুকতারা (২-২)। রেজাউল আর মেহেদির দুই গোলে মূল্যবান পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠল শুকতারা। ২০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৪, সমান ম্যাচে রহমতগঞ্জের ২০।

ফেদেরারের আরেকটি হার

অধরা ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপাটা পেয়েছেন গতবার। কিন্তু ক্লে-কোর্টে সাম্প্রতিক যা পারফরম্যান্স, সে সাফল্য ধরে রাখতে পারবেন কি না, শঙ্কা এখন তা নিয়েই। গত মাসে রোম মাস্টার্সের প্রথম রাউন্ডেই হেরেছিলেন, এবার এস্তরলি ওপেনে হারলেন র‌্যাঙ্কিংয়ের ৩৪-এ থাকা স্পেনের আলবার্ট মনটানেসের কাছে।
৬-২, ৭-৬ (৭-৫) সেটে জেতা মনটানেসের কাছে চারবারের দেখায় এই প্রথম হারলেন ফেদেরার। ফাইনালে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মনটানেসের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বদেশি গুইলেরমো গার্সিয়া-লোপেজ। স্পেনের আরাঞ্জা পারা সান্টোনিয়াকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ সেটে হারিয়ে মেয়েদের শিরোপা জিতেছেন লাটভিয়ার আনাস্তাসিয়া সেভাস্তোভা।
ওদিকে দুই মাস পর কোর্টে ফিরেই হার দেখলেন মারিয়া শারাপোভা। মাদ্রিদ মাস্টার্সের প্রথম রাউন্ডেই কাল ৬-৪, ৬-৩ গেমে হেরে বিদায় নিলেন লুসি শাফারোভার কাছে।

বাংলাদেশ ‘এ’ হারছেই

১২ মে বাংলাদেশ ‘এ’ দল আরও একটা ম্যাচ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে। তবে সেটি হবে কেবলই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার। টানা তিন ম্যাচ হেরে ত্রিপক্ষীয় সিরিজ থেকে কাল বিদায়ই হয়ে গেছে স্বাগতিকদের। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পরাজয়টা ৬ উইকেটে।
৪৯.২ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২৪৩ রান—টস জিতে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের রানটা। তবে এটা আরও বড় হতে পারত যদি ব্যাটসম্যানরা তাঁদের সুন্দর শুরুটাকে টেনে নিতে পারতেন। দলের ছয়জন ব্যাটসম্যান ২০-এর ওপরে রান করেছেন অথচ মোটামুটি ভালো স্কোর বলা যায় কেবল ওপেনার নাজিমউদ্দিনেরটাকেই। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৮৯ রান করার পর কাল করলেন ৬৪ বলে ৬১।
অধিনায়ক শামসুর রহমানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৫৬ রান, মার্শাল আইয়ুবের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে আরও ৫৬—বাংলাদেশের ইনিংসটা সুন্দর সম্ভাবনা জাগিয়েই শুরু করেছিলেন নাজিমউদ্দিন। কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানটা যে রকিবুল হাসানের ৩৭! ফয়সাল হোসেনের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়ে রকিবুলও ফিরে যাওয়ার পর শুরুর সম্ভাবনাটা ম্লান হয়ে যেতে থাকে আস্তে আস্তে। দলীয় ১৯৪ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফয়সালের বিদায় দিয়ে শেষ বিপর্যয়ের শুরু, মাত্র ৪৯ রানেই পড়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের শেষ ৬ উইকেট।
ওপেনার স্টিয়ান ফন জিলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্কোরটা এক ওভার আর ৬ উইকেট হাতে রেখেই টপকে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। ১৫৪ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকা ফন জিল ওপেনিং জুটিতে ফন উইকের সঙ্গে করেছেন ৫৫ রান। ১৩৮ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর ফন জিল আসল কাজটা করেছেন ডিন এলগারের (৫৭) সঙ্গে। পঞ্চম উইকেট জুটিতে তাদের ১০৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ‘এ’: ৪৯.২ ওভারে ২৪৩ (নাজিমউদ্দিন ৬১, রকিবুল ৩৭, ফয়সাল ২৭, ধীমান ২৭, মার্শাল ২৪, শামসুর ২১, নাজমুল ১৯। এলগার ২/৩৯, তোতসোবে ২/৪৯)। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৪৯ ওভারে ২৪৬/৪ (ফন জিল ১০৯*, এলগার ৫৭*, ফন উইক ৩১, ইনগ্রাম ২২। সাকলাইন ১/৪১, নাবিল ১/৪৪, নূর হোসেন ১/৫১, শামসুর ১/৫৪)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: স্টিয়ান ফন জিল।

হোয়াইট জেতালেন অস্ট্রেলিয়াকে

টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ক্যামেরন হোয়াইটের কল্যাণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৮১ রানের বড় জয় তুলে নেয় তারা। ৩০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ৬৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া । এরপর মাইক হাসিকে (২৬ বলে ৩৯) নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান হোয়াইট। ষষ্ঠ উইকেটে ১০১ রান করেছেন তাঁরা। হোয়াইটের ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৫ রানে (৬টি চার, ৬টি ছয়) ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান তোলে মাইকেল ক্লার্কের দল। জবাবে ১৬.২ ওভারে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানে তদন্ত কমিটি প্রস্তুত!

১৩৪ রানের লক্ষ্যের দিকে ছুটে ১৩২ রানে থেমে গেছে পাকিস্তানের ইনিংস। যদি আবদুর রেহমান ২টি রান নিতে পারতেন, যদি বাট শেষ বলটা খেলতে পারতেন; অনেক ‘যদি’ এখন খুঁজে পেতে পারেন সমর্থকেরা। কিন্তু শেষ বিচারে সত্য এটাই—পাকিস্তান ১ রানে হেরেছে নিউজিল্যান্ডের কাছে।
কার্যত টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। জটিল সমীকরণের ওপর টিকে আছে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল-স্বপ্ন। তার মানে আরও একটি টুর্নামেন্ট থেকে মাথা নিচু করে পাকিস্তানের বিদায়?
ক্রিকেটের অনুসারী মাত্রেই অনুমান করতে পারেন, এখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। একটু ভুল হলো। ‘করবে’ নয়, তদন্ত কমিটি গঠন হয়ে গেছে!
‘বিপর্যয়ের’ কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের ক্রীড়াবিষয়ক সিনেট কমিটির প্রধান গাফফার কোরেশি, ‘এমন পারফরম্যান্স কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু আমরা মোটেও সেভাবে খেলিনি। আমরা অবশ্যই সর্বশেষ এই বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করব। কারণ, এখনো পাকিস্তানের ক্রিকেটে কিছু বড় সমস্যা রয়ে গেছে।’
কোরেশি একই সঙ্গে জানিয়েছেন, দেশে ফিরলেই এই বিপর্যয়ের কারণ দর্শানোর জন্য দলের কোচ-ম্যানেজার ও অধিনায়ককে ডেকে পাঠানো হবে। তবে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যর্থতার দায় তাঁর নয়, নির্বাচক কমিটির।
চিরকালের ঠোঁটকাটা, সাবেক পেসার সরফরাজ নওয়াজ বলছেন, অধিনায়ক-কোচ শুধু নয় পুরো বোর্ডকেই বহিষ্কার করা দরকার, ‘আমি বলি, বোর্ডকেই বহিষ্কার করুন। এই বোর্ডই ইউনুস খানের মতো এক নিবেদিত খেলোয়াড়কে বের করে দিয়েছে। যেসব খেলোয়াড় নিজেদের স্বার্থে দলের সম্মান বিসর্জন দিচ্ছে ওদের আরও শাস্তি দেওয়া দরকার।’