Sunday, July 31, 2011

'ত্যাগের' মূল্যায়ন ও মুক্তকণ্ঠ তারুণ্য by অজয় দাশগুপ্ত

মাদের রাজনীতিবিদরা বইয়ের মনোযোগী পাঠক নন বলেই জানি। তবে অনেকেই সংবাদপত্রের নির্বাচিত অংশ নিয়মিত পাঠ করেন। দেশের হাল-হকিকত বুঝতে তাদের ভরসা সংবাদপত্র। তবে তরুণ প্রজন্ম কী ভাবছে সেটা বোঝার জন্য তাদের বিভিন্ন সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ এবং বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকের কমিউনিটি পেজ ভিজিট করার অনুরোধ করতে চাই। সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণের বিভিন্ন সংবাদ ও কলামের ওপর পাঠকদের প্রচুর মন্তব্য থাকে। ব্লগে থাকে অনেকের নানা কারেন্ট ইস্যুতে ভাবনা। এসব পাঠ করলে তাদের ভাবনা-চিন্তাগুলো জানা যাবে সহজেই, যা সাধারণত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে থাকে না বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলে অনেক অনেক নেতা ও কর্মী থাকেন। তাদের সবাই মন্ত্রী-সাংসদ হন না।

মূল সংবিধান সংরক্ষণে সরকারের ইউটার্ন by সিরাজ উদ্দীন আহমেদ

সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃস্থাপনে যে সাহসী ভূমিকা রেখেছে তাকে সম্মান না দেখিয়ে আওয়ামী লীগ সংবিধানের পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনীর পথে চলছে। আমরা বিশ্বাস করি, মহাজোট সরকার সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর, বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা, ব্যর্থ মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে যোগ্য মন্ত্রী নিয়োগ করলে জনগণ সরকারের পক্ষে থাকবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবল্পুব্দকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক সরকার ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সংবিধানকে ১৯৭২ সালে ফিরিয়ে নিতে পারেনি।

তুরস্কে জেনারেলদের পদত্যাগ কেন? by গুল তায়িসুজ ও সাবরিনা তাভনিস

সামরিক বাহিনী ১৯৬০ সাল থেকে তুরস্কের চারটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। অতীতের মতো এখন আর সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর অবস্থা নেই। এখন সেনা কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান জানান দেওয়ার শেষ চেষ্টা হিসেবে পদত্যাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তারা গত শুক্রবার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তুরস্কের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। বিশ্ল্নেষকদের ধারণা, সেনাবাহিনী তাদের ক্ষয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ক্ষমতা রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ছোট দলগুলো ফুরফুরে মেজাজে! by শাহেদ চৌধুরী ও লোটন একরাম

ছোট দলগুলো নিয়ে বড় ব্যস্ত বড় দলগুলো। তাদের দলে টানতে নীতি-নৈতিকতার প্রসঙ্গ এবারও উহ্য থেকে যাচ্ছে। এহেন বাস্তবতায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছোট দলগুলোর নেতারা। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চারদলীয় জোটের পরিধি বাড়াতে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আবার এ দুই নেতার কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। রমজানে তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে।

কোচিং ব্যবসা এবং শিক্ষার বেহাল দশা by সুলতান মাহমুদ রানা

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের পাঠদান প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে পালনের ব্যবস্থা করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে। সরকারের উচিত হবে, আইন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া অথবা নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা কিংবা শর্তারোপ করা। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কোচিং সেন্টার কিংবা প্রাইভেট হোম। কোচিং সেন্টারের নামে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমাজের জন্য কতটুকু কল্যাণকর তা সবারই কম-বেশি জানা।

চাই রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন by বদিউল আলম মজুমদার

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সরকার একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কথা ভাবছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে উত্থাপন করবে। আর রাষ্ট্রপতি সেই তালিকা থেকে নিয়োগ দেবেন (প্রথম আলো, ২৮ জুলাই ২০১১)। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের মতো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে সরকারকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করব।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের প্রেক্ষাপটে সরকার নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বলে আসছে। কিন্তু সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করলেই কি কমিশন শক্তিশালী হয়ে যাবে? আর শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এককভাবেই কি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে?
সার্চ কমিটির মাধ্যমে বাছাই করা হলে নিঃসন্দেহে সৎ, যোগ্য, দলনিরপেক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের পথ সুগম হবে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এটাই একমাত্র করণীয় নয়। এর জন্য কমিশনকে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন করতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে কমিশনের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য একটি যথার্থ আইনি কাঠামো। নির্বাচনী আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য কমিশনকে সহায়তা প্রদান এবং কমিশনের ক্ষমতার প্রতি সংশ্লিষ্ট সবার শ্রদ্ধাশীলতা প্রদর্শনও এ লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন-সংক্রান্ত অনেকগুলো আইনের ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ১১ দলের পক্ষ থেকে ১৫ জুলাই ২০০৫ সালে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত সংস্কারের রূপরেখা এসব আইনে বহুলাংশে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতিফলিত হয়েছে ‘সুজন’সহ কয়েকটি নাগরিক সংগঠনের অনেক প্রস্তাব। আর এসব আইনি সংস্কার গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সৌভাগ্যবশত নবম সংসদ ২০০৭-০৮ সালে জারি করা নির্বাচন-সংক্রান্ত সব অধ্যাদেশই অনুমোদন করেছে, যদিও কিছু পরিবর্তনসহ।
জাতীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো হলো: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও); ভোটার তালিকা আইন, ২০১০; নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০১০; রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১; জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪; নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন বিধিমালা। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হলে এসব আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আবশ্যক। সংস্কারের একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কমিশন এরই মধ্যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে। কমিশনের আলোচ্যসূচিতে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কিছু নতুন আইনের খসড়া।
প্রসঙ্গত, বৈঠকের তারিখ একাধিকবার পরিবর্তন করলেও আওয়ামী লীগ শিগগির কমিশনের সঙ্গে বসবে বলে জানানো হয়েছে। তবে কয়েকবার আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিএনপি কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে নারাজ। কমিশনের আমন্ত্রণে সাড়া না দেওয়ার বিএনপির বর্তমান সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, এমনকি তা দায়িত্বহীনতার পর্যায়ে পড়ে। আমরা বিএনপিকে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানাই।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যথাযথ আইনি কাঠামো সৃষ্টি করলেই হবে না, নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন করতে হবে। তাদের আর্থিক স্বাধীনতা দিতে হবে, যাতে ক্ষমতাসীনরা কমিশনকে, গ্রামবাংলার ভাষায়, ‘হাতে না মারতে পারলেও, ভাতে না পারতে পারে’। অনেকেরই স্মরণ আছে যে গত চারদলীয় সরকারের আমলে কমিশনারদের বেতনভাতার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। আর বর্তমান সরকার সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও কমিশনকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজন থেকে বিরত রেখেছে। এ ছাড়া নাগরিক সমাজের দাবি সত্ত্বেও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কমিশনকে সব নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
যথাযথ আইনি কাঠামো সৃষ্টিই যথেষ্ট নয়, এগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কমিশনকে সহযোগিতা এবং আইনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাশীলতাও প্রদর্শন করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, এ ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর অতীত ভূমিকা কালিমালিপ্ত। উদাহরণস্বরূপ, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিলুপ্তি, বিদেশি শাখার অবসান, দলের তৃণমূলের সদস্যদের সুপারিশের আলোকে তৈরি প্যানেলের ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদান প্রভৃতি হলো নির্বাচন কমিশনের অধীন রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এসব শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি সংসদে অনুমোদনের সময় আইনগুলোতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও এনেছে। যেমন: দলের নেতা-কর্মীদের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি প্যানেল থেকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের বাধ্যবাধকতা আইন অনুমোদনের সময় রহিত করা হয়েছে, ফলে এখন দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডকে এসব সুপারিশ শুধু বিবেচনায় নিতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, এ ধরনের ক্ষমতাহরণ সত্ত্বেও দলের নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো উচ্চবাচ্যই নেই।
নবম সংসদে পাস করা আইনগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু সহযোগিতার অভাবই নয়, অনেক ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে রীতিমতো বাধাও দেওয়া হচ্ছে। যেমন: নিবন্ধনের শর্ত পূরণের জন্য দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বিলুপ্ত করার প্রশ্ন তুললে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলের রক্তচক্ষুর সম্মুখীন হতে হয়। কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তোলা হয়।
তাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা অবশ্যই ‘নেসেসারি’ বা প্রয়োজনীয়, কিন্তু ‘সাফিসিয়েন্ট’ বা যথেষ্ট নয়। কারণ, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশন একটি পক্ষ মাত্র। অন্য গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলো হলো—প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও তাদের মনোনীত প্রার্থী। এদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
উদাহরণস্বরূপ, একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১০ লক্ষাধিক সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রয়োজন হাজার হাজার আনসার, পুলিশ, বিজিবি, এমনকি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা। দুর্ভাগ্যবশত, দলতন্ত্রের যে সর্বগ্রাসী উন্মত্ততায় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো লিপ্ত, তাতে এসব ব্যক্তির কাছ থেকেই নিরপেক্ষ আচরণ আশা করা যায় না।
এ কথা কারও অজানা নয় যে নির্বাচনী অসদাচরণের মূল হোতা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা। তারাই মনোনয়ন-বাণিজ্যে লিপ্ত হয়, দল কেনাবেচায় জড়িত হয়, টাকা দিয়ে ভোট কেনে, দুর্বল প্রতিপক্ষকে হুমকি দেয় এবং অনেক সময় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে বিরত রাখে, ভোটারদের নির্বাচনকেন্দ্রে আসা থেকে বিরত রাখে, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে, সহিংসতায় লিপ্ত হয়, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ইত্যাদি ইত্যাদি। রাজনৈতিক দলগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এসব অপকর্ম বন্ধ করলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথের অধিকাংশ বাধাই দূর হয়ে যাবে। যেসব দেশে নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটেছে, সেসব দেশে রাজনৈতিক দলের সদাচরণ বহুলাংশে নিশ্চিত হয়েছে এবং তারা নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা গড়ে তুলেছে। আমাদের দেশেও নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখায় একটি আচরণবিধি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার ফলে দলগুলো সংযত আচরণ করেছিল। তাই একানব্বইয়ের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। তখন অবশ্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দলবাজি ও ফায়দাবাজিতে লিপ্ত ছিল না।
তাই এটি সুস্পষ্ট যে সুষ্ঠুও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, তাদের মনোনীত প্রার্থীরা এবং দল ও প্রার্থীদের যেকোনো মূল্যে ও বৈধ-অবৈধ যেকোনো পন্থায় নির্বাচনে জেতার মানসিকতা। দলতন্ত্রের লাগামহীন বিস্তারের ফলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা হতে হবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। একইভাবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য অবশ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার নাগরিকদের প্রতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হুমকিরও অবসান ঘটাতে হবে।
আমাদের জন্য একটি অপূর্ব সুযোগ এসেছিল বহু আলোচিত মাগুরার উপনির্বাচনের পর। সেই উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল কারচুপির আশ্রয় নিয়েছিল, নির্বাচন কমিশন তা ঠেকাতে পারেনি। তাই তখন সর্বাধিক প্রয়োজন ছিল রাজনৈতিক দলের সংস্কার ও রাজনীতিকে ‘ঠিক’ করা এবং কমিশনের সংস্কার। কিন্তু মূল সমস্যাগুলো কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রেখে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো জিকির তোলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের, যার দায়িত্ব মূলত নির্বাচনের সময়ে ‘পাহারাদারের’ ভূমিকা পালন করা। সমস্যা এড়িয়ে গেলে সমস্যা দূর হয় না, তাই ঘর পোড়া গরুর মতো এ স্লোগানটির পরিণতি সম্পর্কেও আমরা সন্দিহান।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন সবকিছুর দায়িত্বে থাকবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। কিন্তু কমিশনের পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব। কারণ, নির্বাচন-সংক্রান্ত যে বিশাল কর্মযজ্ঞ, তা পরিচালনা করতেই কমিশনকে হিমশিম খেতে হয়। তাদের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার সময় কোথায়? এ ছাড়া নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে ‘ক্যাট অ্যান্ড মাউস’ বা বিড়াল-ইঁদুরের খেলায় কমিশনকে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকতে হয়। উপরন্তু এটি তাদের সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্বের অংশও নয়। তবে আমরা চিন্তিত হয়েছি প্রথম আলোর (২০ জুলাই ২০১১) একটি সাম্প্রতিক হেডলাইন দেখে: ‘চার মন্ত্রণালয় নিজের দায়িত্বে রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন’।
পরিশেষে এটি সুস্পষ্ট যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে বাছাই কমিটির মাধ্যমে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কমিশনার নিয়োগের পাশাপাশি আরও অনেকগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে। আর নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হলে জাতিকে ভবিষ্যতে আরও অনেক লীলাখেলা দেখতে হবে বলে আমাদের আশঙ্কা, যার পরিণতি অমঙ্গলকর হতে বাধ্য। তাই আজ জরুরি ভিত্তিতে আমাদের প্রধান দলগুলোকে আলোচনায় বসতে হবে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

কোচিংনির্ভর শিক্ষা আর কত দিন? by ফজলুল হক

যে কয়টি কারণে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অবনতির মুখে পড়েছে, কোচিং-বাণিজ্য এর মধ্যে অন্যতম। এই বাণিজ্যে যাঁরা জড়িত, তাঁদের অনেকেই পেশায় শিক্ষক; আবার কেউ অন্য কোনোখানে চাকরি না পেয়ে এতে নেমেছেন। একেবারেই শিক্ষাসংশ্লিষ্ট না হয়েও কেউ কেউ চালাচ্ছেন অপ্রতিরোধ্য শিক্ষা-বাণিজ্য। বাণিজ্য চলছে তিনভাবে—ভর্তি কোচিং, একাডেমিক কোচিং ও বিসিএস কোচিং নামে। ভর্তি কোচিং চালু রয়েছে শিশুশ্রেণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত, একাডেমিক কোচিং চলে শ্রেণীকক্ষের পাঠ ও পরীক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব পর্যায়েই আর পাবলিক সার্ভিস কমিশনে পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরি লাভের প্রস্তুতির জন্য চলছে বিসিএস কোচিং।
ভর্তি কোচিং শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবার জন্য বাড়তি ব্যয়, টেনশন, আর প্রচুর ঝামেলা বহন করে চলেছে। অঞ্চলভেদে জনসংখ্যা অনুযায়ী স্কুল প্রতিষ্ঠা আর সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অভিন্ন পাঠব্যবস্থা ও অবকাঠামোয় দাঁড় করাতে পারলে অবুঝ শিশু এবং তাদের অসহায় অভিভাবককে ভীষণ পীড়া থেকে মুক্তি দেওয়া যায়। প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষালাভের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমুন্নত রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের; তাকে কেন জীবনের শুরুতেই নামতে হবে প্রতিযোগিতা নামক মহাসমুদ্রে! পৃথিবীর নানা দেশে যখন মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্র পালন করছে প্রধান ভূমিকা, সেখানে আমরা ডুবে আছি অনগ্রগতির অতল অন্ধকারে। যে রাষ্ট্র এখনো দুর্নীতির অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পাচ্ছে না; যেখানে এখনো বিদ্যুতের উৎপাদন আর চাহিদার বিরাট ফারাক; শিক্ষা যেখানে এখনো পণ্য; নারী যখন ভয়াবহ অবহেলা আর নির্যাতনের শিকার, সেই রাষ্ট্রে তো শিশুকে প্রবল প্রতিযোগিতায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে জীবনযুদ্ধে! কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নামক প্রহসনের আড়ালেও লুকিয়ে আছে শত অপরাধের চালচিত্র। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অর্জিত ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন-অনুপাতে ভর্তি নীতিমালা তৈরি করা গেলে এই যন্ত্রণা থেকে জাতিকে রেহাই দেওয়া যায়। তা পারলে শহরমুখী মানুষের চাপ আর ভর্তি-বাণিজ্য এড়িয়ে চলা যায়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয় করে গড়ে উঠছে শিক্ষা-প্রতিকূল মানসিকতা; নষ্ট হচ্ছে শিক্ষকের নৈতিকতা; শিক্ষার্থীরা হারাচ্ছে আস্থা ও আশা।
নামকরা স্কুল-কলেজকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে কোচিং-বাণিজ্যের মহোৎসব; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাই কোচিংয়ের মালিক। অধিকাংশ শিক্ষকের বাড়িই এখন একেকটি কোচিং সেন্টার, যেন বাড়িতেই বসে গেছে স্কুল। রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরে চালু হয়েছে এসি-ননএসির ব্যবস্থা; এসি রুমে পড়লে বেশি ফি দিতে হয়। চিকিৎসককে যেমন তাঁর মূল কর্মস্থলে পাওয়া দুষ্কর, তেমনি ভালো স্কুলের শিক্ষককেও বেশির ভাগ সময়ই পাওয়া যায় প্রাইভেট পড়ানোর টেবিলে। মেডিকেল কলেজ বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কিংবা স্কুল তাদের প্রয়োজনে পায় না চিকিৎসক বা শিক্ষককে। প্রেসক্রিপশনে লিখে দেওয়া প্যাথলজি থেকে টেস্ট না করালে কিংবা পছন্দের দোকান থেকে ও পছন্দের কোম্পানির ওষুধ না কিনলে যেমন খুশি হন না চিকিৎসক, তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওই সব সেন্টারে না পড়লে আম-ছালা দুটোই হারাতে হয়।
কী পাঠ দেওয়া হয় কোচিং সেন্টারে? কেন এত অপবাদ সত্ত্বেও ছাত্র ও অভিভাবকদের এমন নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের দিকে আকর্ষণ? কারণ আর কিছু নয়, শুধু শিক্ষার্থীকে ‘দরকারি’, ‘অতিদরকারি’, ‘বিশেষ দরকারি’ নামে আখ্যায়িত করে পাঠ্যবিষয় চিহ্নিত করে দেওয়া; ওই বিষয়গুলোর রেডিমেড নোট দেওয়া। তারপর সেগুলো কণ্ঠস্থ করে হুবহু পরীক্ষার খাতায় উগড়ে আসার ব্যবস্থা করা। কেবল নোট আর পরীক্ষা। শিক্ষার্থীর সুবিধা হলো—পুরো বই পড়ার দরকার হয় না; নিজের নোট করার শ্রম লাগে না; পরীক্ষার জন্য বাছাইকৃত প্রশ্ন বা বিষয় ছাড়া বাড়তি কিছু পড়ার পরিশ্রম থাকে না। অর্থাৎ এসব সেন্টারের লক্ষ্য হচ্ছে বেশি নম্বর পাইয়ে ফলাফলে চমক দেখানো। পাঠে অনুশীলন, চিন্তা-চেতনার পরিশীলন, শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিক জ্ঞানচর্চার তৃষ্ণা সৃষ্টি করা নয়; স্রেফ পরীক্ষা আর অতি ভালো নম্বর লাভ করে কৃতিত্ব প্রদর্শন করা।
এমনিতেই অবজেকটিভ পড়াশোনার নামে আমরা জলাঞ্জলি দিয়েছি নিবিড় পাঠ; চারটির মধ্যে আন্দাজে একটিতে টিক দিলেও চলে; টেক্সট পড়ার আনন্দ থেকে দূরে সরে পড়েছে শিক্ষার্থী সমাজ। প্রকৃত জ্ঞানার্জনে সন্তানকে ব্রতী করার ব্যাপারে আমরা বুঝি বিভ্রান্ত। আমরা তার পরীক্ষার ফলাফলের চমকেই মোহিত ও তৃপ্ত। হু-হু করে বেড়ে চলেছে মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। কৃতীর ভাগীদার (!) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জৌলুশও বাড়তে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা অধিকতর সমৃদ্ধ করার মওকা বাড়ে; সে সঙ্গে ব্যবসাও ওঠে ফুলে-ফেঁপে।
শিক্ষকের সৃজনশীলতা, শিক্ষার্থীর উপস্থাপন দক্ষতা আর প্রতিষ্ঠানে ও রাষ্ট্রে শিক্ষাব্যবস্থাপনা বর্তমান সময়ের চিন্তাধারায় অত্যন্ত কার্যকরী। শিক্ষক কিংবা পাঠ-নির্দেশক হয়তো গাইডলাইন দিতে পারেন, কিছুতেই গাইডবই-নির্ভরতার প্রতি আকৃষ্ট করতে পারেন না। বিস্ময়ের ব্যাপার, গাইডবই প্রকাশনার সঙ্গে অনেক শিক্ষকেরই নাম জড়িয়ে রয়েছে। মূল বই আর সহায়ক বইয়ের পার্থক্যের জটিলতা মুছে ফেলে কেবল নোট-গাইড জায়গা করে নিয়েছে আমাদের ভাবনার ভুবনটি।
শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি ও মননশীলতা বিকাশে সৃজনশীল রচনা লিখন ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের পাঠব্যবস্থার জন্য বিশেষজ্ঞ শিক্ষক কিংবা সৃজনমুখী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ভেবে দেখা যায়। শিক্ষার্থীর স্বপ্ন আর চিন্তার জগৎটিকে শাণিত করার জন্য, সক্রিয় রাখার জন্য বিনোদনমূলক পরিসর স্থাপনের কথাও ভাবতে হবে। শিশুকে জোর করে ভাত খাওয়ানোর মতো করে যেন সৃজনশীলতা নামক ট্যাবলেট গিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি না হয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। আর প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর দায় শিক্ষকের। উভয় পক্ষের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকাঠামোর ব্যবস্থাপনায়।
নোটবই-গাইডবই রচনা-প্রকাশ-প্রচার-বাজারজাতকরণ-প্রদর্শন ও পাঠ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। লোক দেখানো আর চোখ ধাঁধানো অভিযান-বক্তৃতা দিয়ে বেশি দিন জনতার দৃষ্টিতে ধুলা দেওয়া যায় না; সত্যটা একদিন বেরিয়ে পড়েই।
ফজলুল হক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।

এবার কামতাপুরকে পৃথক রাজ্য ঘোষণার দাবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের ছয়টি জেলা নিয়ে পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবি উঠেছে। কামতাপুর ডেমোক্রেটিক লিবারেশন অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে এই দাবি এর মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কামতাপুরকে পৃথক রাজ্য ঘোষণার পাশাপাশি কামতাপুরের ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। কামতাপুর ডেমোক্রেটিক লিবারেশন অর্গানাইজেশন ১৯৯৫ সালে কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবি তোলে।
গত ১৮ জুলাই দার্জিলিং চুক্তি সম্পাদনের পর সশস্ত্র আন্দোলনের পথ ছেড়ে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ডাক দেন কামতাপুর ডেমোক্রেটিক লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নেতা পুলভ বর্মণ।

বেন আলী ও তাঁর জামাতার ১৬ বছরের কারাদণ্ড

তিউনিশিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবিদিন বেন আলী ও তাঁর জামাতাকে ১৬ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়ার একটি আদালত দুর্নীতির দায়ে তাঁদের এই সাজা দেন।
আদালতটি বেন আলী ও একসময়ের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শাকের আল-মাতেরিকে নয় কোটি ৭০ লাখ দিনার করে জরিমানা করেন। বেন আলীর মেয়ে নাসরিনকেও আট বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
আসামিদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় দেন আদালত। এটি ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অগিযোগগুলোর তৃতীয় বিচারের রায়। এতে সাবেক প্রেসিডেন্টকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হতে অস্বীকার করেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান বেন আলী।
এর আগে গত মাসে বেন আলী ও তাঁর স্ত্রী লাইলা ত্রাবলসিকে ৩৫ বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। নগদ অর্থ ও বিশাল অঙ্কের মূল্যবান অলংকার আত্মসাতের দায়ে তাঁদের দণ্ডিত করা হয়। এর আগে মাদক ও ক্ষেপণাস্ত্র রাখার অভিযোগে বেন আলী দোষী সাব্যস্ত হন।

কায়রোতে ফের বিক্ষোভ

মিসরের কায়রোর তাহরির স্কয়ারে আবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেখানে লোকসমাগম ঘটতে থাকে।
মিসরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে আগামী ৩ আগস্ট রাজধানী কায়রোতে শুনানিতে হাজির করা হবে। স্বাস্থ্যসমস্যাজনিত কারণে শুনানির মুলতবি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে সংস্কারকাজে ক্ষমতাসীন সেনা পরিষদের মন্থর গতির প্রতিবাদে ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী ১৮ জুলাই থেকে তাহরির স্কয়ারের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভের আয়োজকেরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে হোসনি মোবারককে পদত্যাগে বাধ্য করার ওই ‘ঐকবদ্ধ’ আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখার ব্যাপারে ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামি গোষ্ঠীগুলো মতৈক্যে পৌঁছেছে। অভিন্ন লক্ষ্যে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে ভোট পেছাল

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ঋণের অনুমোদিত সীমা বাড়াতে আনা প্রস্তাবের ওপর প্রতিনিধি পরিষদের ভোটাভুটি পিছিয়েছে। রক্ষণশীল রিপাবলিকান প্রতিনিধিদের বিরোধিতার কারণে ভোট পেছানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই ভোট হওয়ার কথা ছিল।
বাজেটে আগামী ১০ বছরে ৯১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় কাটছাঁট এবং ঋণসীমা ৯০০ বিলিয়ন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার রিপাবলিকান নেতা জন বোয়েনার। কিন্তু কট্টর রিপাবলিকান নেতারা ব্যয় আরও কাটছাঁট করে ঘাটতি হ্রাসের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে স্পিকার বোয়েনারের সঙ্গে ওই নেতাদের তুমুল বিতর্ক হয়।
বোয়েনারের বিলের ওপর ভোট কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। বোয়েনার এবং তাঁর পক্ষের আইনপ্রণেতারা চেষ্টা করেন রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের সমর্থন পাওয়ার জন্য। কিন্তু একপর্যায়ে রিপাবলিকান প্রতিনিধি কেভিন ম্যাকার্থি জানিয়ে দেন, বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হবে না।
আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ঋণসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব পাস না হলে মার্কিন সরকারের ব্যয় নির্বাহ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়বে।
সিনেটে ডেমোক্রেটিক নেতা হ্যারি রিড মনে করেন, প্রতিনিধি পরিষদে এই বিল পাস হলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে হবে না। কেননা, সেখানে ডেমোক্র্যাটরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কাসাবের আপিল

ভারতের মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি মোহাম্মদ আজমল আমির কাসাব তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। গতকাল শুক্রবার একজন সরকারি কৌঁসুলি এ কথা জানিয়েছেন।
সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকাম বলেন, কারা পক্ষের মাধ্যমে কাসাব ওই আবেদন করেছেন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট কবে নাগাদ কাসাবকে আইনি সহায়তা দেবেন ও আপিল আবেদন গ্রহণ করবেন, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়।
গত বছরের মে মাসে মুম্বাইয়ের হাইকোর্ট ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াসহ গণহত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কাসাবকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট কাসাবের আপিল আবেদন খারিজ করে দেন।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল তাজমহল প্যালেস হোটেল, প্রধান রেলওয়ে স্টেশন ও ইহুদিদের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
ওই হামলায় ১৬৬ জনের প্রাণহানি হয়। পাকিস্তানি নাগরিক কাসাব ও তাঁর সহযোগীরা মুম্বাইয়ের প্রধান রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে ৫২ জনকে হত্যা করেন।

আন্না হাজারে অনশনের অনুমতি পেলেন না

ভারতের প্রবীণ সমাজকর্মী আন্না হাজারেকে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকায় অনশন কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে তাঁর আবেদন নাকচ করে গত শুক্রবার একটি চিঠি দিয়েছে দিল্লির পুলিশ। চিঠিতে বলা হয়, যেহেতু ওই সময় সংসদ অধিবেশন চলবে, তাই যন্তর-মন্তর এলাকায় কোনো ধরনের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যাবে না। তবে আন্না হাজারে ও তাঁর অনুসারীরা চাইলে শহরের প্রান্তে কোনো স্থানে অনশন করতে পারেন। অথবা আন্দোলনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলে তাঁদের অবস্থান ধর্মঘটের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
পুলিশ ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি আদেশের দোহাই দিয়ে হাজারের আবেদন নাকচ করে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় লোকপাল বিলের খসড়া অনুমোদন হয়। আন্না হাজারে ও সুশীল সমাজের মতে, খসড়াটি ত্রুটিপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে এই বিলের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ওই অনশন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্না হাজারে। মহারাষ্ট্রের একটি শহরে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এ কর্মসূচি কেবল তাঁর একার আন্দোলন নয়, বরং সমগ্র দেশের জনগণের।
আন্না হাজারের দেওয়া মূল প্রস্তাবনাগুলো অন্তর্ভুক্ত না করেই গত বৃহস্পতিবার লোকপাল বিলের খসড়া অনুমোদন করে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় তদন্ত করতে পারবে লোকপাল। এতে একজন সভাপতি ও আটজন সদস্য থাকবেন। লোকপালের অর্ধেক সদস্য নেওয়া হবে বিচারপতিদের মধ্য থেকে। তদন্ত ও মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ লোকপালের নিজস্ব দল থাকবে।
প্রত্যাখ্যান করেছে সিপিআই (এম): মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত লোকপাল বিলটি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই-এম)। বিলটিকে ‘দন্তহীন’ হিসেবে উল্লেখ করে গতকাল শুক্রবার দলটি বলেছে, দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে এটি ফলপ্রসূ হবে না। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে লোকপালের আওতামুক্ত রাখার প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

বিমান দুর্ঘটনার জন্য রাশিয়াকে আংশিক দায়ী করল পোল্যান্ড

প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কিকে বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য রাশিয়াকে আংশিক দায়ী বলে চিহ্নিত করেছে পোল্যান্ড। তারা বলছে, পাইলটের ভুলই ছিল দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ। কিন্তু রুশ বিমানবন্দর ও তাদের কন্ট্রোলাররাও এ জন্য দায়ী ছিলেন।
গত বছরের এপ্রিলে রাশিয়ায় সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টসহ ৯৬ জন নিহত হন।
ঘটনাটি তদন্তে গঠিত পোল্যান্ড সরকারের তদন্ত কমিটি গতকাল শুক্রবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটির পাইলটরা ঘন কুয়াশার মধ্যে বিমান অবতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ওই সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দেরি করে ফেলেছিলেন। তাঁদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণও ছিল না। এতে বলা হয়, রাশিয়ার বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রকেরা বিমানবন্দর থেকে দূরত্বের বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করেছিলেন।
রাশিয়ায় তৈরি তুপোলেভ বিমানটিতে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কাচজিনস্কি, তাঁর স্ত্রী মারিয়া, পোলিশ সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার ও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ ৯৬ জন নিহত হন। তাঁরা সবাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর হাতে নিহত পোলিশ বন্দীদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পশ্চিম রাশিয়ার স্মলেনস্কে পরিত্যক্ত এক বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

তুরস্কে সামরিক প্রধানদের একযোগে পদত্যাগ

তুরস্কে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান গতকাল শুক্রবার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তবে তাঁদের পদত্যাগের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তুরস্কে প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সরকারের সঙ্গে দেশের সামরিক বাহিনীর গত কয়েক বছরে তেমন কোনো দ্বন্দ্বের কথা জনা যায়নি।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ইসিক কোছানার জানিয়েছেন, তাঁর কাছে মনে হয়েছে, পদত্যাগ করা প্রয়োজন। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি নির্ধারণ করে সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিল। আগামী সপ্তাহে কাউন্সিলের বৈঠক আছে।
জানা গেছে, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তার চলমান বিচারকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দূরত্ব বেড়েছে।
২০০৩ সালে সেনাবাহিনীর একটি সেমিনারে তথাকথিত ‘স্লেজহামার’ অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়। এরদোগানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির বিরুদ্ধে দেশের অসাম্প্রদায়িক সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রের অনেকগুলো অভিযোগের এটি একটি।
সমালোচকেরা দীর্ঘদিন থেকেই বলছেন, একে পার্টির কোনো গোপন ইসলামি লক্ষ্য আছে। তবে এই অভিযোগ বেশ জোরালোভাবে অস্বীকার করে এসেছে দলটি।
জেনারেল কোছানার মাত্র এক বছর আগে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু স্লেজহামার ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে তাঁর নিয়োগ নিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্যের সৃষ্টি হয়।
এই অবস্থায় সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে জেনারেল হাসান ইগসিজের নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেটো দেন রাজনীতিকেরা। প্রাথমিকভাবে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হলেও স্লেজহামার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে তাঁর নিয়োগ বন্ধ করা হয়।
একে পার্টি ক্ষমতা নেওয়ার পর পরই ইস্তাম্বুলে ফার্স্ট আর্মির ঘাঁটিতে ওই ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে বলা হয়ে থাকে। ষড়যন্ত্র অনুযায়ী, মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রিসের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এতে করে দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সেই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে পারবে।

ব্রেইভিককে আবার জেরা

নরওয়ের আলোচিত বোমা হামলা ও নির্বিচারে গুলি করে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিককে গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় জেরা করেছে পুলিশ। পুলিশ বলেছে, গত কয়েক দিনে ব্রেইভিককে জেরা করে এবং তদন্ত চালিয়ে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা নিয়েই তাঁকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অসলোর পুলিশ কর্মকর্তা পল ফ্রেডরিক হোর্ট এ ব্যাপারে শুধু বলেন, গত কয়েক দিনে ব্রেইভিক ‘বিস্তর তথ্য’ দিয়েছেন। তিনি এর বেশি কিছু বলেননি। ব্রেইভিক ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে নিজে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিম অভিবাসীদের উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারে ইউরোপের সরকারগুলোর সহায়তার প্রতিবাদে ওই হামলা চালিয়েছেন।
গতকাল ইলা নামের উচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থাসংবলিত কারাগার থেকে কড়া পাহারায় ব্রেইভিককে অসলোর পুলিশ সদর দপ্তরে আনা হয়। সেখানে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে জেরা করেন। এ সময় কয়েকজন মনোচিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। কৌঁসুলিরা বলেছেন, ২০১২ সালের আগে ব্রেইভিকের বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে না।
ব্রেইভিকের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথমবারের মতো একজনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইয়েমেনে সেনাসহ নিহত ৭৫

ইয়েমেনের রাজধানী সানার উত্তরাঞ্চলীয় একটি সেনাঘাঁটিতে গত বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধীরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৪০ সেনা এবং ৩৫ জন সরকারবিরোধী নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিনহুয়ার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকালশুক্রবার ইয়েমেনের আল-কায়েদাপ্রধান কাসিম আল রিমি এক অডিও বার্তায় সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামি ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণকারীসাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ কথা জানায়।
অডিও বার্তায়কাসিম বলেন, ‘সৌদি পণ্ডিত ব্যক্তিদের আমি এ কথা বলতে চাই যে আপনাদের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ, তাঁর উত্তরসূরি প্রিন্স, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ছেলে মোহাম্মদ আমাদের কাছে স্বধর্মত্যাগী বলে বিবেচিত। তাঁদের অবশ্যই হত্যা করা হবে।’
ইয়েমেনের রিপাবলিকান গার্ডসের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, সরকারবিরোধী আদিবাসী সশস্ত্র জোট জয়েন্ট মিটিং পার্টিজ (জেএমপি) বৃহস্পতিবার প্রদেশের সামা সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়। এ সময় ওই ঘাঁটিতে থাকা রিপাবলিকান গার্ডসের অন্তত ৪০ সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া সরকারবিরোধীরা ৫০ সেনাকে অপহরণ করেছে।
খবরে বলা হয়, একপর্যায়ে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়ে সরকারবিরোধীদের ওই সেনাঘাঁটি এলাকা থেকে হটানো হয়। এ সময়ের মধ্যে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন সরকারবিরোধী নিহত হয়।
এর আগে ক্ষমতাসীন পার্টির ওয়েবসাইটের এক খবরে বলা হয়, সামা সেনাঘাঁটিতে আল-কায়েদা ও সরকারবিরোধী আদিবাসী গোষ্ঠীর সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় সরকারবিরোধী অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, স্বপক্ষত্যাগী ফার্স্ট আরমারর্ড ডিভিশন অস্ত্র ও লোকবল দিয়ে বিরোধীদের সহায়তা করছে। প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর সৎভাই মেজর জেনারেল আলী মোহসেন আল-আহমার ওই ডিভিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সরকারবিরোধী জেএমপি সামা সেনাঘাঁটি দখলের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সানার উত্তরাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রবেশপথ অবরোধ করে রেখেছে বিরোধীরা। সালেহর বড় ছেলে আহমেদ আলী আবদুল্লাহ সালেহ সরকারের এলিট রিপাবলিকান গার্ডসের নেতৃত্বে রয়েছেন।
আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর সূত্রের বরাত দিয়ে সিনহুয়া জানায়, একই দিন সরকারবিরোধীদের আস্তানা লক্ষ্য করে আরহাব এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামে যুদ্ধবিমান থেকে বেশ কয়েক দফা হামলা চালানো হয়।
আরহাব গোষ্ঠীর শেখ হামিদ আসেমের বরাত দিয়ে জিনিউজের এক খবরে বলা হয়, আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছে।
গতকাল জিনিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আল-শাহর শহরে সরকারবিরোধীদের বিক্ষোভে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে অন্তত একজন বিক্ষোভকারী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে। জ্বালানি তেল ও খাদ্যসামগ্রীর ঘাটতির প্রতিবাদে বিরোধীরা ওই বিক্ষোভ করছিল।

ফাইনালে বাংলাদেশ

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক বাস্কেটবলের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আজ ফাইনালে তাদের মুখোমুখি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দল। ধানমন্ডি ইনডোরে কাল ছিল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় মালদ্বীপ ৮২-৮১ পয়েন্টে হারিয়েছে মালয়েশিয়াকে। অথচ প্রথমার্ধে মালয়েশিয়া এগিয়ে ছিল ৩৪-৩০ পয়েন্টে।

সেই মারাকানাতেই ফাইনাল

‘সকার সিটি’ থেকে ‘সকার কান্ট্রি’। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে। ১১ জুলাইয়ের ওই ফাইনালের পর থেকেই আরেকটি ফাইনালের অপেক্ষা। সকার সিটি থেকে বিশ্বকাপ ফিরছে সকার কান্ট্রি, মানে ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে। ঠিক হয়ে গেছে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যুও—মারাকানা স্টেডিয়াম।
সেই মারাকানা, ১৯৫০ বিশ্বকাপে যেখানে আশার সমাধি হয়েছিল ব্রাজিলিয়ানদের। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে ফেবারিট ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছিল উরুগুয়ে।
ব্রাজিল পরে পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে ঠিক, কিন্তু ১৯৫০ থেকেই ‘মারাকানা’ ব্রাজিলিয়ানদের কাছে অভিশপ্ত এক নাম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম মারাকানা আরও অনেক কারণেই বিখ্যাত। ১৯৫৭ সালে এ মাঠেই জাতীয় দলের হয়ে পেলের প্রথম গোল; ১৯৬৯ সালে ক্যারিয়ারের সহস্রতম গোলও তাঁর এখানেই।
পরশু ফিফা মহাসচিব জেরম ভালক ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করেছেন মারাকানাকে। দুটি সেমিফাইনাল ও উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু ঠিক হবে পরে। ভেন্যু তো মোট ১২টি। মারাকানা অবশ্য আগের রূপে নেই। ২০১৪ বিশ্বকাপ উপলক্ষে মারাকানাকে ভেঙেচুরে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। ব্রাজিলিয়ানরাও আশার মশাল জ্বালছেন নতুন করে।
আজই রিও ডি জেনিরোতে হয়ে যাবে ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ড্র। এ উপলক্ষে বিশ্বের ১০০০ রথী-মহারথী উপস্থিত হয়েছেন ব্রাজিলে।
২০৩টি দেশ বাছাইপর্বে খেলবে মোট ৮২৪টি ম্যাচ। এই দীর্ঘ পথের শেষে ২০১৩ সালের নভেম্বরে জানা যাবে কোন ৩১টি দেশ পাবে ব্রাজিল-যাত্রার টিকিট। ইউরোপ থেকে ১৩টি দল, আফ্রিকা থেকে ৫টি, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সাড়ে ৪টি, এশিয়া থেকে সাড়ে ৪টি, উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে সাড়ে ৩টি এবং ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে ‘আধখানা’ দল পাবে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। এ ছাড়া স্বাগতিক ব্রাজিল তো খেলবেই। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পঞ্চম ও উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের চতুর্থ দলের প্লে-অফের জয়ী দল এবং এশিয়া অঞ্চলের পঞ্চম দলের সঙ্গে ওশেনিয়া অঞ্চলের শীর্ষ দলের প্লে-অফের বিজয়ী দল যাবে ব্রাজিলে।
টুর্নামেন্টের দিনক্ষণও চূড়ান্ত—১২ জুন শুরু হয়ে ব্রাজিল আসরের মশাল নিভবে ১৩ জুলাই ২০১৪।

সবার জন্যই উন্মুক্ত টেস্ট দল

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে চলছে ‘নাথান লিওন’ ঝড়। মাত্র ৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা অফ স্পিনারকে শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলে নেওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সমালোচনার মিছিল। সেই মিছিলে যোগ দিলেন এমন একজন, যাঁর নামটি চমকে ওঠার মতো। শুধু এখনো খেলছেন বলেই নয়, তিনি যে অস্ট্রেলিয়ার একটি দলের অধিনায়কও! অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ক্যামেরন হোয়াইটের আক্ষেপ, যে কাউকে ধরে এনে টেস্ট খেলতে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে!
শেন ওয়ার্নের উত্তরসূরি খোঁজার তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন লিওন। ২০০৭ সালে ওয়ার্নের অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া ১২তম স্পিনার এই ২৩ বছর বয়সী। টেস্ট দলের আরেক স্পিনার মাইকেল বিয়ার, লিওনের আগে ঝড় উঠেছিল যাঁকে নিয়ে। অ্যাশেজের শেষ টেস্টে নেওয়া হয়েছিল মাত্র ৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা বাঁহাতি স্পিনারকে। শ্রীলঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার দুই স্পিনারের প্রথম শ্রেণীর অভিজ্ঞতা ১৭ ম্যাচ! দলে জায়গা পাওয়া ফাস্ট বোলার টেন্ট কোপল্যান্ড প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৭টি। টেস্ট ক্যাপটা এত সহজলভ্য দেখে হতাশ হোয়াইট, ‘মনে হচ্ছে, যারা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে খেলছে, তাদের সবার জন্যই টেস্ট দলের দরজা উন্মুক্ত। জানি না কাজটা ঠিক হচ্ছে কিনা।’
এই নির্বাচন-নীতি নিয়ে প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ এবং আরেক নির্বাচক ও ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজার গ্রেগ চ্যাপেলের ব্যাখ্যাটাও অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত রীতির পুরো উল্টো। নির্বাচকদের ভাবনা হলো, অনেককে সুযোগ করে দেওয়া, তাঁদের মধ্যে শুরুতেই যাঁরা সম্ভাবনার ছাপ রাখতে পারবেন, তাঁদের লম্বা সময় ধরে গড়ে তোলা হবে। যেটাকে বলা যায় সম্ভাবনা দেখে দলে নেওয়া নয়, বরং দলে নিয়ে সম্ভাবনা আছে কি না দেখা! অথচ সর্বশেষ যখন অস্ট্রেলিয়াকে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তখন প্রক্রিয়াটা ছিল ভিন্ন। প্রতিভাবান একদল তরুণ ক্রিকেটার বাছাই করে অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডারের নেতৃত্বে তাঁদের গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিল স্টিভ ওয়াহ, ডিন জোনস, জিওফ মার্শ, ডেভিড বুন, ক্রেইগ ম্যাকডারমটের মতো ক্রিকেটাররা। ওয়েবসাইট।
কোচ টিম নিলসন অবশ্য নির্বাচকদের নীতির পক্ষেই, ‘আমরা এমন একজন স্পিনার খুঁজছি যে তিন ধরনের ক্রিকেটেই দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারবে। সত্যি বলতে আগে যাঁদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কেউ সুযোগটা লুফে নিয়ে জায়গাটা পাকা করতে পারেনি।’

স্বপ্নভঙ্গের পর বোধোদয়

জিতেও পরশু ড্রেসিংরুমে আনন্দের ঢেউ ছিল না। হবেই বা কেন! এশিয়া থেকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মূল পর্বে যে ওঠা হলো না বাংলাদেশের। ঢোকা হলো না এশিয়ার সেরা বিশে। লেবাননকে ২-০ গোলে হারানোর পরও তাই আকাশে ওড়েননি ফুটবলাররা। ম্যাচের পরই কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি এমিলি-মিঠুনদের বলেছেন, পরের রাউন্ডে উঠলেই আনন্দ করা যেত। বাস্তবের মাটিতে পা রাখা কোচের উপলব্ধি, আরও বেশি করে আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে হবে। গতকাল ছুটি নিয়ে মেসিডোনিয়ায় যাওয়ার আগেও সেটাই বললেন, ‘আমার এখন একটাই চাওয়া, প্রতি মাসে যেন অন্তত দুটি করে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারি।’
বাংলাদেশের পরের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আগামী ডিসেম্বরে—সাফ ফুটবল। কোচ ছুটি নিয়েছেন এক মাসের। তবে যাওয়ার আগে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে দিয়ে গেছেন কয়েকটি প্রস্তাব।
এশিয়ার সেরা বিশে ঢোকার এমন সোনালি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর চারদিকে শুধুই আফসোস। এখান থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনের দিকে এগোতে চান কর্মকর্তারা। জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় বললেন, ‘আমাদের বসে থাকার সময় নেই। সামনেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা, সাফ ফুটবল ডিসেম্বরে। এর জন্য কয়েক দিন পরই প্রস্তুতি শুরু করব। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে যদি ভালো কিছু খেলোয়াড় পাই, তাহলে তাঁদের সাফ ফুটবলে খেলানোর চেষ্টা করব। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলার চিন্তাভাবনাও করছি।’
কর্মকর্তাদের মতো আক্ষেপ খেলোয়াড়দেরও। জয়ের অন্যতম নায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘খারাপ তো লাগছেই। কিন্তু কী আর করা! আবার চার বছর পর বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে হবে।’ জাতীয় দলের প্রস্তুতিটা যেন অনেক দিনের হয় সেটাই প্রত্যাশা, ‘এবার যেন অনেক দিনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ভালো প্রস্তুতি নিয়েই এমন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া উচিত।’ লেবানন জয়ের আরেক নায়ক মিঠুন চৌধুরী অ্যাওয়ে ম্যাচের দুর্বলতাই বড় করে দেখছেন, ‘বাইরে খেলতে গেলে অনেক সমস্যা হয় আমাদের। এসব ম্যাচ খেলার আগে তাই বিদেশে গিয়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা উচিত।’
তরুণ গোলরক্ষক মামুন খান পরশু ম্যাচ শেষ করেই গেছেন গ্রামের বাড়ি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগ দিয়েছেন ভাইয়ের বিয়েতে। কোচের দেওয়া চ্যালেঞ্জ উতরে গেছেন, এখন তাঁর চোখ সাফ ফুটবলে, ‘কোচ প্র্যাকটিসেই বলতেন যে তোমাকে খেলাতে চাই। আমি আমার সাধ্যমতো কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে চেষ্টা করেছি। এখন আমার চিন্তাভাবনা সাফ ফুটবল নিয়ে।’
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হক মনে করেন, খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের কাউন্সেলিং দরকার। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কেমন টেম্পারমেন্ট, কী মানসিকতা নিয়ে খেলা উচিত, সেটা জানা নেই। মূল কথা, আমরা যেন হারার আগে হেরে না বসি। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অবশ্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা।’
বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী কালকের খেলা দেখে খুশি, ‘আমাদের সমস্যা হলো, আমরা অনেক সময় বাজে গোল খেয়ে বসি। কালকের খেলায় সেটা ছিল না। দল ছিল গোছানো। সবার মধ্যে ভালো বোঝাপড়া ছিল। একসঙ্গে ১৫-২০টা পাসও খেলেছে ওরা। অনেক ছোট ছোট পাসে খেলেছে। এটাই ধরে রাখতে হবে। আর একটা ব্যাপার, বেশি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিষয়টি ভাবতে হবে আমাদের।’
প্রতিবারই কোনো টুর্নামেন্ট শেষে এমন বোধোদয় হয় বাফুফের। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। দেখা যাক, এবার কী হয়!

হিনার ক্রিকেট কূটনীতি

প্রথম সফরেই ভারত মাত করে দিয়েছেন হিনা রব্বানি খার। সৌন্দর্য, পোশাক সচেতনতা, বুদ্ধিমত্তা—সবদিক দিয়েই দারুণ নজর কেড়েছেন পাকিস্তানের কনিষ্ঠতম ও প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও চলছে ৩৪ বছর বয়সী হিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা, কোনো কোনো পত্রপত্রিকায় তাঁকে বলা হচ্ছে ‘স্টাইল আইকন।’ দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কিছুটা হলেও গলার ইঙ্গিত হিনার এই সফরের সূত্রে। সুযোগ বুঝে আলোচনায় ক্রিকেটকেও টেনে এনেছেন হিনা, চাইছেন আবার চালু হোক দুই দেশের টেস্ট সিরিজ। আবার জোড়া লাগুক দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ক।
২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর থেকেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ। তবে গত মাসে হংকংয়ে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় ক্রিকেট সম্পর্ক আবার জোড়া লাগাতে আলোচনা করেছেন দুই দেশের ক্রিকেট-কর্তারা। গত বুধবার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণার সঙ্গে বৈঠকে ইন্দো-পাক টেস্ট সিরিজ আবার চালুর প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন হিনা। কৃষ্ণা জানান, ভারতও এ ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী। দুজনের যৌথ বিবৃতিতে অবশ্য ক্রিকেট-প্রসঙ্গ আলাদা করে আসেনি, তবে ক্রীড়া সম্পর্ক আবার চালুর কথা বলা হয়েছে।
বুধবার রাতেই পাকিস্তানি হাইকমিশনের নৈশভোজে বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গেও কথা বলেছেন হিনা। রাজীব কথা দিয়েছেন, আগামী মাসে বিসিসিআইয়ের নির্ধারিত সভায় অবশ্যই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করা হবে। নিকট ভবিষ্যতে সত্যিই যদি আবার চালু হয় দুই দেশের ক্রিকেট সিরিজ, হিনার জন্য নিশ্চয়ই সেটা হবে বড় সাফল্য!

স্বস্তি হয়ে এল হারারের মিঠে রোদ

প্রায় মধ্যরাতে হোটেলে ঢুকে এক দিন পরই নেমে পড়তে হচ্ছে ম্যাচ খেলতে। এটা যদি অস্বস্তির কাঁটা হয়, স্বস্তির সুবাতাস বয়ে এনেছে হারারের মিঠে রোদ।
গ্রীষ্মকে বিদায় জানিয়ে জিম্বাবুয়ে শীতকালে ঢুকে পড়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। দেশে থাকতেই সেই শীতের কাঁপুনি আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল ক্রিকেটারদের। প্রথম আলোয় লেখা নিজের কলামে ‘ঠান্ডায় আমাদের বড় সমস্যা হয়’ জানিয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, জিম্বাবুয়ের চেয়েও আবহাওয়াকে কম বড় প্রতিপক্ষ মনে করছেন না।
বৃহস্পতিবার রাতে হারারে বিমানবন্দরে নামার সময় ‘মাটিতে তাপমাত্রা এখন ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস’ ঘোষণাটা তাই বড় মধুর শুনিয়েছে সবার কানে। কাল দুপুর যায়-যায় বিকেলে শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে অনুশীলনের সময় ঠান্ডা নিয়ে দুশ্চিন্তাটা মোটামুটি উধাও। সন্ধ্যার পর পারদ একটু নামবে, তবে দুপুরে সেটি ২৩-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। স্টুয়ার্ট ল যেটিকে বলছেন, ‘ক্রিকেট খেলার জন্য আদর্শ তাপমাত্রা।’
একটা দুশ্চিন্তা আপাতত গেল। তবে দেশ থেকে বয়ে নিয়ে আসা আরেকটি এখনই নয়। কুঁচকির সমস্যা তামিম ইকবালকে প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলতে দিচ্ছে না। কাল সকালে সাকিব নিশ্চিত করেছিলেন তামিম খেলবে। কিন্তু টেস্টের জন্য ঝুঁকি হয়ে যাবে ভেবে পরে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। অপ্রত্যাশিত দিক থেকে ধেয়ে আসা দুশ্চিন্তা অবশ্য পুরো যাত্রাপথেই তাড়া করে ফিরেছে বাংলাদেশ দলকে। দোহা বিমানবন্দরে আটকে পড়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ হয়ে যেতে যেতে শেষ মুহূর্তে বিমানে ওঠার অনুমতি মিলেছে। আটকে দিয়েছিল কাতার এয়ারওয়েজ। তবে দোষটা তাদের নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। বছর খানেক আগে থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে জিম্বাবুয়ে যেতে যে ট্রানজিট ভিসা লাগে, সেই খবরটা না রেখে দলকে বিমানে তুলে দেওয়া যদি বিসিবির অপেশাদারি মনোভাবের প্রমাণ না হয়, তাহলে শব্দটার অর্থ নতুন করে জানতে হবে।
শেষ পর্যন্ত উদ্ধার মিলেছে প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎপরতায়। জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে ট্রানজিট ভিসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এসেছিলেন দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা। তরুণ সেকেন্ড সেক্রেটারি শাহাব-বিন-আহমেদ জানালেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যাচ্ছে, সেটি তাঁরা জানতে পেরেছেন সকালে দল দোহায় আটকা পড়ার পর। তিনিই জানালেন, ভিসার ঝামেলা থাকলে মন্ত্রী-টন্ত্রীকেও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সকালে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একটা সভা ছিল বলে বাঁচোয়া।
২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় থেকে এই ট্রানজিট ভিসার নতুন নিয়মটা হয়েছে। আফ্রিকার অন্য কোনো দেশে যেতে সমস্যা নেই। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে প্রতিবেশী ছয় দেশ জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, মোজাম্বিক, সোয়াজিল্যান্ড ও লেসোথো যেতে ট্রানজিট ভিসা লাগবেই। নিয়মটা করা হয়েছে ‘আফ্রিকা মহাদেশের আমেরিকা’ দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে। অনেকে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে এসব দেশে গিয়ে সুযোগমতো আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় ঢুকে যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এমন কিছু করতে পারেন—এই সন্দেহ অবশ্যই কেউ করেনি। কিন্তু নিয়ম নিয়মই। সেটি তুমি আবদুর রহিম হও বা সাকিব আল হাসান!
আজ শুরু তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল অবশ্য একটু নিয়ম ভাঙতে চায়। টেস্ট ম্যাচের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ। কিন্তু এটিকে টেস্টের সম্ভাব্য একাদশের প্রস্তুতির বদলে একাদশ গড়ার প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক ও কোচ। ইচ্ছা সব ব্যাটসম্যান যেন ব্যাটিং করার সুযোগ পান, সব বোলার বোলিং। বাংলাদেশের জন্য সফরটিকে যতটা সম্ভব কঠিন করার চেষ্টা করে আসা জিম্বাবুয়ে এই ইচ্ছা পূরণ করবে কি না, সেটি কাল বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশ দল কদিন আগে আসতে চেয়েছিল, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বাড়তি কদিনের জন্য অবিশ্বাস্য একটা অঙ্ক দাবি করে আসতে দেয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যেকোনো সফরেই ‘ওরা গেলে আমরা কী করি, আর ওরা আমাদের কী করছে’ অনুযোগ শোনা যায়। আতিথেয়তার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে বিসিবি ইংল্যান্ড দলকে টেস্ট ভেন্যুতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেয়। নিউজিল্যান্ডকে অনুশীলন করতে দেয় সেন্টার উইকেটে। বিমানবন্দরে সাদর অভ্যর্থনার ব্যাপারটা তো আছেই। পরশু বাংলাদেশ দলকে ‘বরণ’ করতে বিমানবন্দরে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের একজন মাত্র কর্মকর্তা। টেস্ট ভেন্যুতেই প্রস্তুতি ম্যাচ শুনে সকালে খুবই সন্তোষ প্রকাশ করা স্টুয়ার্ট ল দুপুরেই জেনেছেন, হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে নয়, ম্যাচটা হবে একাডেমির মাঠে।
একটা ব্যাপার অবশ্য খেলোয়াড়দের সকালেই পরিষ্কার বলে দিয়েছেন নতুন কোচ। দীর্ঘ যাত্রাপথ, এক দিন পরই ম্যাচ খেলতে নেমে পড়া—কেউ যেন ভুলেও এসবকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা না করে। ‘তুমি পেশাদার ক্রিকেটার, তোমাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে সেরাটা দিতে হবে’—বাংলাদেশ দলের এই মন্ত্রটা সাকিব আল হাসানও সাংবাদিকদের শুনিয়ে গেছেন এর আগেই। প্রথম কোনো দলের হেড কোচের দায়িত্ব পাওয়া স্টুয়ার্ট ল-কে স্বাভাবিকভাবেই খুব রোমাঞ্চিত মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের সবাইকে নামে চেনার কাজটা যা ভেবেছিলেন তার চেয়ে সহজে করে ফেলতে পেরেও খুব খুশি মনে হলো তাঁকে। ‘শ্রীলঙ্কান প্লেয়ারদের সবাইকে চিনতে আমার ছয় সপ্তাহ লেগেছিল। ওরা নিকনেমে একে অন্যকে ডাকে, হঠাৎ বলে আসল নামটা। খুব সমস্যা হয়েছিল।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সবার মুখে কোচের ‘ইতিবাচক মনোভঙ্গি’র সুনাম। সেটির প্রমাণ পাওয়া গেল ৪০ ঘণ্টার বেশি পথে কাটানো প্রসঙ্গেও। ল হাসতে হাসতে জানালেন, গত বছর শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে মায়ামি হয়ে জিম্বাবুয়ে পৌঁছাতে ৫৮ ঘণ্টা লেগেছিল!

দুঃখ ভুলতে পারছেন না মেসি

মিশন কোপা আমেরিকা শেষ হয়েছে চরম ব্যর্থতায়। কিন্তু দুঃখটা এখনো ভুলতে পারেননি লিওনেল মেসি। সেই হতাশাই ঝরে পড়ছে তাঁর কণ্ঠে। অবশ্য ভবিষ্যতের দিকেও তাকাচ্ছেন এই বলে, ‘আমি আসলেই বেদনাহত। কোপায় আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যতের দিকেই তাকাতে হবে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচ আসছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্যও প্রস্তুত হতে হবে।’
মেসির জন্য এখন প্রস্তুত হওয়াটা তাঁর ক্লাবের জন্যও। গত মৌসুমে ৫৩ গোল করা মেসি অবশ্য বার্সেলোনার প্রাক-মৌসুম সফরে যোগ দেননি। এর বদলে চিলিতে গেছেন প্রীতি ম্যাচ খেলতে। চিলিরই উঠতি তারকা আলেক্সিস সানচেজ যোগ দিয়েছেন বার্সায়। নতুন সতীর্থ সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘ব্যক্তিগতভাবে ওকে সেভাবে চিনি না। তবে খেলোয়াড় হিসেবে ও কী করতে পারে, সেটা ইতালির ক্লাব ফুটবলে আর চিলি জাতীয় দলে খেলার সময়েই দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের জন্য সে অনেক কিছু এনে দেবে। ও শিগগিরই মানিয়েও নিতে পারবে। ওকে সই করানোটা আমাদের জন্য দারুণ হয়েছে।’

লোকিটর চার সোনা

বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে সোনালি একটি রাত গেল যুক্তরাষ্ট্র ও রায়ান লোকিটর। কাল আরও দুটি সোনার পদক জয়ের পথে যুক্তরাষ্ট্রকে ২–২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল রিলেতেও জিতিয়েছেন দুই বছর পর সাঁতারে প্রথম বিশ্ব রেকর্ড করা লোকিট। কালকের দুটিসহ এবার এখন পর্যন্ত চারটি সোনা জেতা হয়ে গেল এই মার্কিনের। এখনো একটি ইভেন্ট হাতে আছে তাঁর।
লোকিট কাল রিলেতে যুক্তরাষ্ট্রকে টানা চতুর্থ বিশ্ব শিরোপা এনে দেওয়ার আগে ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকেও জেতেন। তবে জিতেও খুশি হননি, কারণ টাইমিংটা যে ভালো হয়নি। ১ মিনিট ৫২.৯৬ সেকেন্ড সময় লাগায় অসন্তুষ্টই তিনি, ‘আমার মনে হয় না, এটা আমার জন্য ভালো সময়। আমি জানি, আমি আরও অনেক দ্রুত সাঁতরাতে পারি। হাতে আরও এক বছর সময় আছে (অলিম্পিকের জন্য), আশা করছি, এ সময়ের মধ্যেই আরও উন্নতি করতে পারব।’
কাল দিনের শেষ ইভেন্ট ২–২০০ মিটার রিলে জিততে যুক্তরাষ্ট্রকে পড়তে হয় ফ্রান্সের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে। মাইকেল ফেল্প্স, পিটার ভানডারকায়, রিচার্ড বেরেনস ও লোকিটর সমন্বয়ে গড়া যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে ছিল অর্ধেক দূরত্ব পর্যন্ত। তৃতীয় ল্যাপে লোকিটই প্রথম লিড এনে দেন। যুক্তরাষ্ট্রকে কাল বাকি সোনাটি এনে দিয়েছেন রেবেকা সনি। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের পর ২০০ মিটারেও জিতে সাংহাইয়ে ডাবল করলেন এই মার্কিন।
এদিকে মেয়েদের ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে সমান সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন বেলারুশের আলিয়াকসান্দ্রা হেরাসিমেনিয়া ও ডেনমার্কের জেনেট ওটেসন। দুজনই সময় নিয়েছেন ৫৩.৪৫ সেকেন্ড। বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০ বছরের ইতিহাসে এটি তৃতীয়বারের মতো যৌথভাবে সোনা জেতার ঘটনা। এবারই হলো দুবার। গত মঙ্গলবার ছেলেদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে দুই ফরাসি ক্যামিলে ল্যাকোর্ট ও জেরেমি স্ত্রাভিয়াস যৌথভাবে প্রথম হয়েছিলেন। রয়টার্স, এএফপি।
তবে কাল রাতটি ভালো কাটেনি এথেন্স ও বেইজিংয়ে ব্রেস্টস্ট্রোকের ডাবলজয়ী কোসুকে কিতাজিমার। এই জাপানি হেরে গেছেন হাঙ্গেরির ড্যানিয়েল গিউত্রার কাছে।

বাতিস্তার পর সাবেলা

আর্জেন্টাইন দল নিয়ে কাজ তিনি আগেও করেছেন। ছিলেন ড্যানিয়েল পাসারেলার সহকারী। এবার আর সহকারী হয়ে নয়, জাতীয় দলের প্রধান কোচ হয়েই ফিরলেন আলেজান্দ্রো সাবেলা। পরশু ৫৬ বছর বয়সী এই কোচের নাম ঘোষণা করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা (এএফএ)।
আর্জেন্টিনায় খুবই সমাদৃত পাসারেলার সহকারী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন ইতালির ক্লাব পার্মা, উরুগুয়ের জাতীয় দল, মেক্সিকোর একটি ক্লাব, ব্রাজিলের করিন্থিয়ানস আর আর্জেন্টিনার রিভার প্লেটেও। পাসারেলার সঙ্গে দীর্ঘ এই সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রধান কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ২০০৯ সালে। শুরুতেই সাফল্য। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে সম্মানজনক ক্লাব-শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট কোপা লিবার্তোদোরেস জেতা এস্তুদিয়ান্তেসকে। পরের বছর জিতিয়েছেন লিগও। কিন্তু দ্রুতই ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন সাবেলা।
কদিন আগে আরব আমিরাতের সফল ক্লাব আল-জাজিরার দায়িত্ব নিচ্ছেন বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু চুক্তির শেষ মুহূর্তে সরে যান। কারণ জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব আকস্মিকভাবে এসে দাঁড়ায় তাঁর দুয়ারে। সাবেলা সেই চ্যালেঞ্জটাই নিলেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারটা থেমে গিয়েছিল অল্প কটা ম্যাচেই। কোনো শিরোপা জেতা হয়নি। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। মেসি-আগুয়েরো-তেভেজ-পাস্তোরেদের মতো এ সময়ের অন্যতম সেরা তারকাদের মতো একটা দল কেন সফল হতে পারছে না—সাবেলা হয়তো খুঁজে পাবেন সেই উত্তরও।
রোমানিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় সাবেলার কোচ হিসেবে অভিষেক হতে পারে ভারতে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে। এর পরের ম্যাচটিই বাংলাদেশে—আর্জেন্টিনা খেলবে নাইজেরিয়ার সঙ্গে।

টেন্ডুলকারের আরেকটি ‘সেঞ্চুরি’

ট্রেন্টব্রিজে একটা সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন শচীন টেন্ডুলকার। ভাবছেন, তাহলে তো বহু প্রত্যাশিত সেই সেঞ্চুরির সেঞ্চুরিটা হয়েই গেল! নাহ...ওটার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। এই সেঞ্চুরি মাঠে নামার। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ডটা গত বছরের আগস্ট থেকে তাঁর ঝুলিতে, বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ডটা আছে আরও আগে থেকেই। এবার বিদেশের মাটিতে ১০০ টেস্ট খেলা প্রথম ক্রিকেটার হয়ে গেলেন টেন্ডুলকার। তবে কি অপেক্ষাটা ছিল উপলক্ষেরই? বিদেশের মাটিতে শততম ম্যাচে হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শততম সেঞ্চুরি?