Wednesday, September 30, 2015

ইইউ’র উদ্বেগ, ইতালির রেড নোটিশ : প্রধানমন্ত্রীর উষ্মা

ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাবেলাকে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত ইতালির নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছ দেশটি। ইতালিয়ান দূতাবাসের এক রেড নোটিশে এ সতর্কতা জারি করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদরদপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাবেলা কাজ করতে ছিলেন বাংলাদেশের স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে। ইউরেপীয় ইউনিয়ন এ কাজ করে যাচ্ছে এবং করে যাবে। বার্তায় তাবেলার পরিবার ও ইতালির প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় ইইউ’র পক্ষ থেকে।
এদিকে ইতালি দূতাবাসের এক লাল বার্তায় বাংলাদেশে অবস্থানরত দেশটির নাগরিকদের হোটেল, ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বিদেশী নাগরিকদের সমাগম হয় এমন স্থানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এতে বলা হয়, তাবেলা হত্যার মোটিভ এখনও পরিস্কার হয়নি। আইএস দায় স্বাকীর করে যে বিবৃতি দিয়েছে এর সত্যতাও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পশ্চিমাদের রেড এলার্টে প্রধানমন্ত্রীর উষ্মা
ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিক হত্যার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, একজন বিদেশি নাগরিক মারা যাওয়ায় আমরা সত্যিই দুঃখিত। তবে এ হত্যাকা-ের পর বাংলাদেশে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে রেড এলার্ট জারি করায় উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কেই আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিকে হত্যা করা হয়েছে। তখনতো কোন দূতাবাস রেড এলার্ট জারি করেনি।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিক হত্যার পরপরই দূতাবাসগুলো রেড এলার্ট জারি করলো। আর আমরা বিএনপির এক নেতাকে তৎপর দেখলাম। তাতে সন্দেহ হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। ঢাকায় ফিরেই এই ব্যবস্থা আমি নিবো।
বাংলাদেশে আদৌ কোন বিরোধী দল আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী যারা জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বসছেন তারাই সত্যিকারের বিরোধী দল। তবে আমাদের দেশে আরেকটি দল আছে যারা নির্বাচনে যায়নি, নির্বাচনের পথ ছেড়ে দিয়ে যারা জঙ্গিবাদি, সন্ত্রাসী, জ্বালাও-পোড়াও করেছে তারা রাজনৈতিক দল হতে পারে না। তারা জঙ্গিবাদি দল।  ২০১৯ সালের আগে জাতীয় সংসদের আগাম কোন নির্বাচনের সুযোগ বা সম্ভাবনা আছে কিনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আগাম নির্বাচন কেন? আমরা যে উন্নয়ন করছি এটি পছন্দ হচ্ছে না? হ্যাঁ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন পছন্দ করবে না তারাই আগাম নির্বাচনের জন্যে চিৎকার করবে। আর আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে উন্নয়নের গতিও বাড়তে থাকবে। তাই জনগণ কোনটি চাইছে সেটি জণগণকে জিজ্ঞাসা করতে বলবেন। শেখ হাসিনা বলেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই সামনের নির্বাচন হবে। এ নিয়ে কোন চিন্তার কারণ নেই।
বাংলাদেশে আইএস’র অস্তিত্ব আছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে দেশে একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠি মানুষ পুড়িয়ে মারে, মানুষ হত্যা করেই যারা দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরী করতে চায়, এমন কিছু লোকতো বাংলাদেশে রয়েছে। তারাতো চাইবেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সে শ্রেণীর লোকদেরই কর্মকান্ড এগুলো। একজন মানুষ মারা গেছে সেটি আমরা জানি। এজন্যে আমরাও দু:খিত এবং এটি অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা। তবে আইএস এ হত্যাকান্ড চালিয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে সেটি আমরা যদ্দুর জানি, শিকাগো থেকে একটি মেসেজ দেয়া হয়েছে যে, এটি আইএস করেছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কেউ এমন দাবি করেছে বলে এখন পর্যন্ত কোন মেসেজ পাইনি। তবে বাংলাদেশই শুধু নয়, এখন বিশ্বব্যাপী এমন সন্ত্রস্ত পরিস্থিতি তৈরীর একটা চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা কোন জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানও আমরা চাই না।

ঢাকায় ‘আইএস’ হানা, দুশ্চিন্তা বাড়ছে দিল্লির

গুলশানে দুবৃত্তদের গুলিতে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যা এবং এর পরবর্তী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের এই সময় পত্রিকা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানীতে প্রকাশ্য রাস্তায় এক বিদেশিকে গুলি করে মারল আইএস জঙ্গিরা৷ সিজার তাভেলা নামের ৫০ বছরের ওই ইতালীয় নাগরিক একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷ কলকাতা শহর থেকে মাত্র ৩২৮ কিলোমিটার দূরে, খাস ঢাকার গুলশন এলাকার কূটনৈতিক অঞ্চলে এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ আইএস ঘটনার দায় স্বীকার করার পরই ঢাকা শহরে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নিজেদের নাগরিকদের চলাফেরার উপর নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে৷
ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে আইএস যে ভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে তা দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে দিল্লির৷ বছর দেড়েক আগে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক ও সিরিয়ার বেশ কিছু এলাকা দখল করে নতুন করে খিলাফতের ঘোষণা করেছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস)৷ কিন্ত্ত অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নৃশংসতা ও অত্যাচারের মাত্রায় আল কায়দাকেও পিছনে ফেলে দেয় তারা৷ এর আগে পশ্চিম এশিয়ায় ত্রাণের কাজ করতে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করে নৃশংস ভাবে খুন করেছে আইএস৷ সে সমস্ত হত্যার ভিডিয়ো নিয়মিত ইন্টারনেটে পোস্ট করেছে তারা৷ ভারতের নানা রাজ্য থেকে আইএস-এ যোগ দিতে তরুণদের মধ্যে প্রবণতা বাড়ছে৷ পশ্চিমবঙ্গ, অসমের মতো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে এই প্রবণতা যে বাড়ছে তার প্রমাণ আগেও দেখা গিয়েছে৷
গত মাসেই দিল্লিতে ডিজি সম্মেলনে আইএস সম্পর্কে সব রাজ্যকেই সতর্ক করা হয়েছিল৷ ঢাকার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাননি রাজ্যের পুলিশ কর্তারা৷ স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় ঢাকার ঘটনাটি নিয়ে আলাদা ভাবে কিছু না বললেও জানিয়েছেন আইএস-এর তত্পরতা নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ওয়াকিবহাল৷ তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সব কটি নিরাপত্তা এজেন্সিকেই নিয়মিত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়৷ কলকাতায় বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ অসমের রাজ্য পুলিশের ডিজি খগেন শর্মা মঙ্গলবারই এক সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, রাজ্যে আইএস তত্পরতার উপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ-প্রশাসন৷ তাঁর কথায়, অসম থেকে এখনও পর্যন্ত কেউ আইএস-এ যোগ দিয়েছে বলে খবর নেই৷ তবে অনেকেই নিয়মিত ওই জঙ্গি সংগঠনের ওয়েবসাইটে যান৷ জম্মু-কাশ্মীর ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো অসমেও তরুণদের মধ্যে আইএস সম্পর্কে কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে৷
সোমবার রাতে, ঢাকার গুলশন এলাকায় জগিং করতে বেরিয়েছিলেন ৫০ বছরের সিজার৷ আচমকাই মোটরবাইকে চড়ে তিন জন এসে তাঁর উপর গুলি চালিয়ে পালায়৷ গুরুতর আহত অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিত্সকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন৷ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক রিকশাচালক বলেন, আততায়ীরা গুলি চালিয়েই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়৷ সিজারের মানিব্যাগ বা মোবাইল ফোন জিনিস ছিনতাই করার চেষ্টা হয়নি৷ ঢাকার পুলিশ কমিশনার ওহিদুজ্জামান মিয়াঁ বলেন, কে খুন করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ তবে ছক কষে খুনের জন্যই হামলা চালানো হয় সিজারের উপর৷ এই ঘটনায় এখনও কেউ ধরা না পড়লেও তদন্তে বিশেষ দল গড়েছে পুলিশ৷
এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেদের ওয়েবসাইটে আরবিতে একটি বিবৃতি জারি করে জঙ্গি সংগঠন আইএস৷ সেখানে ঘটনার দায় স্বীকার করে বলা হয়, মুসলিম রাষ্ট্রগুলিতে বিধর্মী জোটের কোনও নাগরিকই সুরক্ষিত নয়৷ বাংলাদেশে আইএস-এর এটি প্রথম হামলা বলে মনে করা হচ্ছে৷ যদিও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি আইএস যোগ মানতে চাননি৷ তবে হামলার কিছু ক্ষণের মধ্যেই আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার দূতাবাস সে দেশের নাগরিকদের চলাফেরার উপর নিয়ন্ত্রণ জারি করে৷ সোমবারই ইংল্যান্ড ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছিল বাংলাদেশে পশ্চিমি দুনিয়ার বাসিন্দা এবং প্রতিষ্ঠানের উপর জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে৷ মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের যে কোনও জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে৷
এই ঘটনায় সারা বিশ্বে নিন্দা ও সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার৷ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে আসন্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে৷ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও৷ ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলেন, নৃশংস এবং কাপুরুষোচিত এই ঘটনার নিন্দার ভাষা নেই৷ মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা৷
আর দু-দিন পরেই বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণের এক বছর পূর্ণ হবে৷ ওই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল মুজাহিদিনের৷ তার আগেই ঢাকার এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের রক্তচাপ বাড়াবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ গত এক বছরে বাংলাদেশে চার জন ব্লগারকে খুনের ঘটনাতেও চরমপন্থী সংগঠনগুলির সক্রিয়তা বেড়েছে বই কমেনি৷ এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা সরকারের পাশাপাশি দুর্ভাবনা বাড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও৷

সালাউদ্দিন ও মুজাহিদের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ‘আজ থেকেই দিনগণনা শুরু’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিন থেকে আসামিপক্ষ রিভিউয়ের (পুনর্বিবেচনা) জন্য ১৫ দিনের সময় পাবে। যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মুজাহিদের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে, সেহেতু আজ থেকেই রিভিউয়ের দিন গণনা শুরু হবে। রায় প্রকাশের পরই রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আরও বলেন, তবে রাষ্ট্রপক্ষ এ সময়ে বসে থাকবে না। তারা রায় কার্যকরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে। আগামী ১লা নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বেঞ্চের ছুটি রয়েছে- সাংবাদিকরা এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, অবসরকালীন বেঞ্চ এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে পারবেন।

অস্বস্তি বাড়ছে সরকারে by মাসুদ করিম ও সৈয়দ আতিক

সন্দেহভাজন এই লোকটিকেই খুঁজছে আইনশৃংখলা বাহিনী
(১নং ছবিতে পেছন ও ২নং ছবিতে সামনে থেকে)।
মোটরসাইকেলে অপেক্ষায় খুনিদের বহনকারী এক সহযোগী
এবং তার পেছনে এসে বসে এক খুনি (৩নং ও ৪নং ছবি)।
সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিতে গোল চিহ্নিত
বিদেশীদের নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিদেশীরা জঙ্গি হামলার টার্গেট বলে আশংকা ব্যক্ত করেছে প্রভাবশালী একাধিক দেশ। দেশগুলো দাবি করছে, তাদের কাছে হুমকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট খবর আছে। কিন্তু তারা সরকারকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই দিচ্ছে না। সোমবার রাতে গুলশানে ইতালির নাগরিক খুন হওয়ার পর থেকে প্রভাবশালী দেশগুলো দূতাবাস ও মিশন থেকে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের আশংকার কথা প্রচার করছে। জঙ্গি সংগঠন আইএস সোমবার রাতেই দাবি করে তারাই সিজারি তাভেল্লাকে খুন করেছে। এদিকে মার্কিন দূতাবাস মঙ্গলবার ঐচ্ছিক ছুটি ছিল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমেরিকান ক্লাব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর আশংকাই সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইতালির নাগরিক খুনের সঙ্গে আইএসের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিদেশী নাগরিক ও তাদের স্বার্থের ওপর জঙ্গি হামলা বিষয়ে কোনো হুমকি ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। সম্প্রতি জঙ্গি হামলার আশংকায় বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল তাদের সফর স্থগিত করে। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ কিছু জানতে পেরেছে কিনা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা কিছুই জানাতে চায়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, কোনো দেশ যদি জেনে থাকে অন্য একটি দেশে হামলা হতে পারে তখন সে দেশের উচিত হুমকিতে থাকা দেশকে তা জানানো। কারণ, বিশ্বায়নের সুযোগে জঙ্গিদের সক্রিয়ভাবে দমন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। ইতালিতে আইএসের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্য দেশে যেভাবে আইএস সক্রিয় ইতালির ক্ষেত্রে তেমনটা এখনও দেখা যায়নি।
তিনি বলেন- আমি মনে করি, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট রাজনীতির সঙ্গে নতুন করে জঙ্গি নিয়ে শংকা তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এর সুবিধা নেয়ার সুযোগ খুঁজছে। বিশেষ করে এর মাধ্যমে প্রচারিত হল নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে বিদেশী প্রতিনিধি আসতে ভয় পাবে, শংকা তৈরি হবে। আর এর সঙ্গে ইতালিয়ান নাগরিক খুনের ঘটনা যোগ করে সেই শংকাকে ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের দেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব এখনও পাইনি। তবে তাদের কিছু সমর্থক আছে- যেমন নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও হিজবুত তাহরির সেই ধাঁচের। জেনারেল রশীদ বলেন, পাকিস্তান বা আমেরিকায় যেভাবে জঙ্গিরা হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে, বাংলাদেশে এ ধরনের হামলার মতো জঙ্গিদের শক্তি-সামর্থ্য নেই। কারণ, আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনী যথেষ্ট সতর্ক এবং জঙ্গিদের দমনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, আইএস এখন সর্বত্র আতংক ছড়াচ্ছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, বাংলাদেশসহ ১০১টি দেশে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামী স্টেট রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, ইতালীয় নাগরিককে হত্যা প্রসঙ্গে আইএসের স্বীকারোক্তির কথাটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। আইএসের নামে এ স্বীকারোক্তিটির কথা যদি আমরা ধরি সেটা তাদের একটি শাখা হতে পারে। তারা যদি ধরা পড়ে তা হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, এটা আইএসেরই একটা অংশ কিনা। যদি আইএসের অংশ হয় তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য বড় ভয়ের কারণ আছে। এখানে প্রশ্ন উঠবে যে, তাহলে আমরা বিগত সময় জঙ্গি দমনে কি করলাম। আইএস কর্তৃক এ হত্যাকাণ্ড হলে বোঝা যাবে বাংলাদেশের সিকিউরিটি ব্যর্থতা আছে। আর এটা যদি সত্য হলে বুঝতে হবে সরকারের ব্যর্থতা আছে।
বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থে জঙ্গিরা হামলা করতে পারে বলে শুক্রবার আশংকা প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দফতর। এরপরই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আসে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দল। তারা ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃংখলা বাহিনী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি) বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি এ বিষয়ে তাদের মত জানাবে এমন ধারণা করা হচ্ছিল। ঠিক এমন সময় ইতালির সাহায্যকর্মী সিজারি তাভেল্লা খুন হন। এরপর দলটি কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়েই বাংলাদেশ ত্যাগ করে। এ ঘটনার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, অস্ট্রেলিয়া তাদের আগের অবস্থানে স্থির আছে। ‘ফক্স স্পোর্টস’ জানিয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানের কূটনৈতিকপাড়ায় সিজারি তাভেল্লা নামে ইতালির এক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। ফলে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে আসন্ন সিরিজটি। দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে জঙ্গি গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলার আশংকা করা হয়। ফলে শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়ে যেতে পারে।
এদিকে ইতালির এই সাহায্যকর্মী নিহত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য বলেছে, বাংলাদেশে পশ্চিমা স্বার্থে হামলা হতে পারে। এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য তাদের হাতে আছে। ইতালির নাগরিক হত্যার ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় বইছে। ইইউ ও যুক্তরাজ্য এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ বাংলাদেশে তাদের দেশের নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, ঢাকায় ইতালির নাগরিককে হত্যার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। তবে তিনি এ ঘটনায় আইএস জড়িত থাকার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আইএসের হত্যার ধরন এমন নয়। তারা প্রথমে অপহরণ করে, মুক্তিপণ চায় এবং তারপর হত্যা করে কিংবা ছেড়ে দেয়। কিন্তু আইএস বাংলাদেশে এমনটা করতে যাবে কেন সেটাও বোঝা যাচ্ছে না’।
তিনি আরও বলেন, ‘ইতালির নাগরিককে কেন হত্যা করা হয়েছে তার একটা স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই হত্যার ঘটনা জঙ্গি হামলা কিনা সেটা জানি না। তবে এ ঘটনার প্রভাব বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য খুবই ক্ষতিকর। এখন অনেক প্রভাবশালী দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে’।
বাংলাদেশে জঙ্গি ভাবমূর্তির ব্যাপারে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যকে দায়ী করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সারাক্ষণ জঙ্গি জঙ্গি করছে। বিদেশী দূতাবাসগুলো এ বিষয়ে নোট নিচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল আর আসবে না। ক্রিকেট দলের সফরের সিদ্ধান্ত ক্রিকেট দল নিজেরা নেয় না। সরকারের পররাষ্ট্র দফতর থেকে নেয়া হয়’।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত আরও বলেন, ‘অনেকে বলেন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটা মুখে বললে হবে না। সেই ষড়যন্ত্রেরও একটা প্রমাণ থাকতে হবে। সব ঘটনাকে রাজনৈতিক কালার দেয়াও সমীচীন নয়’। তিনি এ ঘটনা তদন্তে ইতালির গোয়েন্দা সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জানতে চাইলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালির একজন নাগরিক খুন হয়েছেন। এ বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর অবগত আছে। আমরা নিহতের পরিবারবর্গ, বন্ধুবান্ধব ও ইতালির প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই। মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করেছে। এই তথ্য মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলা এবং বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত হুমকির বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মধ্যে আছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে উগ্রবাদবিরোধী লড়াইয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।’ ঢাকায় নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ইতালির নাগরিক খুনের নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।
ইতালির নাগরিক সিজারি তেভেল্লা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়ারে মায়াডোন। মঙ্গলবার ঢাকায় ইইউ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকায় নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিওতে কর্মরত ইতালীয় সাহায্য কর্মী সিজারি তেভেল্লার বর্বর হত্যাকাণ্ডে ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াডোন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি অপরাধীদের বিচার করারও দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, সিজারি তাভেল্লা হতদরিদ্র মানুষদের সহায়তা করতে এসেছিলেন। তার ওপর এই অপরাধ ঘটনাকে আরও অনেক বেশি ভয়াবহ করেছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইতালীয় সাহায্য কর্মী সিজারি তেভেল্লাকে সহিংস হত্যাকাণ্ডে তিনি ক্ষুব্ধ। এটা হল একজন সাহায্য কর্মী যিনি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সবচেয়ে দুস্থ অংশের জন্য কাজ করছিলেন তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর এবং কাপুরোষিত অপরাধ। তিনি তেভেল্লার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিমা স্বার্থে হামলার আশঙ্কার মাধ্যমে নিরাপত্তা হুমকির পর বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তার আপডেটে বলা হয়, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রসহ অপরাপর বিদেশীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন সতর্কতায় বলা হয়, সন্ত্রাসী গ্রুপ দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা, নাগরিক কিংবা স্বার্থের ওপর হামলা করতে পারে। এমন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের সব কর্মকর্তাকে বড় ধরনের জনসমাগমস্থলে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া বিদেশীরা অবাধে চলাচল করে যেমন- হোটেল, রেস্তোরাঁ এমন স্থানে যাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে দ্য আমেরিকান অ্যাম্বাসি এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের (এইইএ) ব্যবস্থাপনা বিভাগ মঙ্গলবার সকালে ক্লাবের সদস্যদের প্রতি সতর্কতামূলক একটি ই-মেইল পাঠিয়েছে। আমেরিকান দূতাবাসের পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়েছে, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমেরিকান ক্লাব বন্ধ থাকবে।
কানাডার সতর্কতা বিষয়ক ওয়েবসাইটে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের হুমকি এবং ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে তাদের দেশের নাগরিকদের সতর্ক হয়ে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়ার বৈদেশিক ও বাণিজ্য দফতর। এই দফতর বলেছে, ‘নির্ভরযোগ্য তথ্য মোতাবেক, জঙ্গিরা বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছে।’ এই তথ্য পাওয়ার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে আগমন বিলম্বিত করা হয়।

কাবায় সৌদি আরবের অভিভাবকত্ব হুমকিতে

মুসলমানদের কেবলা পবিত্রতম কাবা শরিফ তাওয়াফে হজ করতে সৌদি আরবে আসেন সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু মিনায় ভয়াবহ পদদলনে শত শত হাজীর নিহত হওয়ার ঘটনায় হজ ব্যবস্থাপনাসহ কাবা শরিফে সৌদির রক্ষণাবেক্ষণ ও অভিভাবকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণজমায়েত ব্যবস্থা ও মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে জড়িত প্রিয় স্থান আল্লাহর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের যোগ্যতা সৌদি সরকারের নেই। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইরান প্রযুক্তি ও উন্নয়নের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও দেশটির শিয়া জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে তারাও পিছিয়ে রয়েছে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে। ১৯২৪ সালে হাশেমি শাসকদের থেকে মক্কা দখলে নেন ইবনে সাউদ। তখন থেকেই কাবার রক্ষণাবেক্ষণ হজের সময় হাজীদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একচ্ছত্রভাবে পালন করে আসছে সৌদি আরব। কিন্তু তাদের এ দায়িত্বে সম্মতি নেই গোটা মুসলিম বিশ্বের। সাউদের মক্কা জয়ের পর কাবার নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছিলেন স্বঘোষিতভাবে। মুসলিম জাতিগুলো নিয়ে সম্মেলন হলেও কেহ সেচ্ছায় স্বীকৃতি দেয়নি।
ফলে আজও একক দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধই রয়ে গেছে। সৌদি আরব জাতীয় দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এক মরুভূমিসুলভ দেশটির নিচে থাকা তেল সমুদ্রের ব্যবস্থাপনা। দুই মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় প্রাণকেন্দ্র কাবার হেফাজত। প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে সৌদির আদৌ কাবার হেফাজত ও তেল সম্পদ ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা আছে কিনা। গত বৃহস্পতিবার মিনায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করার সময় যে মর্মান্তিক দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে তা এ প্রশ্নের সমুচিত উত্তর। এছাড়া ২০০৬ ও ১৯৯০ সালেও প্রায় একই ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন হাজীরা। অন্যদিকে গত মাসে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত একটি দানবীয় ক্রেন ধসে অনেক হাজী নিহত ও আহত হয়। এসব ঘটনার পেছনে মূলত অব্যবস্থাপনাই দায়ী। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার চাবি হাতে নিতে ব্যাকুল ইরান এসব যুক্তি উপস্থাপন করেছে। দাবি করেছে এ দায় মাথায় নিয়ে সৌদিকে ক্ষমাও চাইতে হবে বলে। বাস্তবে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয় দুটিতে দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করার যোগ্যতা নেই। ইতিমধ্যে দেশটির তেলের মূল্য তলায় ঠেকেছে। আড়ম্বর পূর্ণতায় ডুবে থাকা রাজকীয় পরিবার খাপখাওয়াতে পাড়ছে না এ অর্ধগামী গতির সঙ্গে। যাতে তাদের নিত্য ব্যয়ের চাকা সচল থাকলেও স্থির হয়ে পড়ছে মধ্য ও নিুবিত্ত নাগরিকদের জীবনব্যবস্থা। অন্য দিকে লেবাননে হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোয় আরও বিপদের বোঝা মাথায় চাপিয়েছে দেশটি। সব মিলিয়ে নেতৃত্ব প্রদানে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের যে সব উপাদান প্রয়োজন তার কোনোটিই নেই।
যাও আছে সেগুলো একেবারেই ভঙ্গুর। অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার স্বপ্নবিলাসী ইরান নানা রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় সৌদির এ অযোগ্যতা বিশ্বের সামনে সুচারু রূপে তুলে ধরছে। চেষ্টা করছে সৌদির অবস্থান নড়বড়ে করে নিজের গদির শেকড় ছড়াতে। কিন্তু স্বপ্ন সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়। শিয়া অধ্যুষিত হওয়ায় এ অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নিদের করায়ত্ব করতে পারবে না দেশটি। সবমিলিয়ে আগে-পাছে কূটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রাখছে ইরান ও সৌদি আরব। যার মূলে রয়েছে এ অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখা। এ সুবাদেই কাবার দায়িত্ব নিয়ে সৌদির প্রতি প্রশ্ন ছুড়ছে ইরান। কাবাকে ঘিরে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সৌদি পদক্ষেপ নিলেও বাগড়া দিয়ে বসেছে ইরান। পদদলিত হয়ে মিনায় নিহত ৭৬৯ জনের মধ্যে ইরানের নাগরিক রয়েছে ১৪০ জন। যে জন্য রাজনৈতিক দৃষ্টি বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে তেহরান। একক তদন্তে পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে বলে এ বিরোধিতা করেছে তারা। মক্কার এ ট্র্যাজেডিকে আঞ্চলিক আধিপত্যে ভাগ বসানোর একটি কলকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। কিছুটা সফল হলেও নিজের অযোগ্যতায় এ লড়াইয়ে টিকতে পাড়বে না সেও। তাই প্রশ্ন রয়েই গেল সৌদি-ইরান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করবে কে? কে নেবে কাবার দায়িত্ব? নেতৃত্ব প্রদানে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের যেসব উপাদান প্রয়োজন তার কোনোটিই নেই সৌদির। অন্যদিকে শিয়া অধ্যুষিত হওয়ায় এ অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নিদের করায়ত্ত করতে পারবে না ইরান

যেখানে বেমালুম হারিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা

ব্যানারে মেক্সিকোর একটি এলাকা থেকে হারিয়ে
যাওয়া মেয়ে ও নারীদের ছবি। ছবি: রয়টার্স
প্রতিদিন দেশটির কোথাও না কোথাও একাধিক কিশোরী বেমালুম নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। তাদের ফিরে আসার ঘটনা বিরল। বেশির ভাগেরই কোনো খোঁজ মেলে না। তাদের যে কেবল অপহরণ করা হয়—এমন নয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমন ফাঁদ পাতা হয়, সেই ফাঁদে পা দিয়ে অনেক কিশোরী ঘরছাড়া হয়। পাচারকারীদের পাল্লায় পড়ে জীবনটাই শেষ হয়ে যায় তাদের।
সম্প্রতি বিবিসি অনলাইনের খবরে উঠে এসেছে মেক্সিকোর হারিয়ে যাওয়া এসব মেয়ের কথা। দেশটিতে হাজারো মেয়ে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাচ্ছে, কোথাও আর তাদের সন্ধান মেলে না।
ফিরে পাওয়া এক কিশোরীর জীবনের গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। মেয়েটির নাম কারেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে সে যখন হারিয়ে যায়, তার বয়স ছিল ১৪ বছর। মেক্সিকোয় প্রতি বছর নিখোঁজ হওয়া হাজারো মেয়ের একজন সে। অন্যদের চেয়ে সে অবশ্য ভাগ্যবতী। বাবা-মায়ের তৎপরতায় সে আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পেরেছিল।
কারেনের মা এলিজাবেথ জানালেন সেই আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার দিনগুলোর কথা। তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৫ মিনিটে তাঁর কিশোরী মেয়ে হারিয়ে যায়। এটা জানার পর প্রচণ্ড কষ্টে ভুগছিলাম আমি। আগে কখনো এত কষ্ট পাইনি। রাস্তায় রাস্তায় মেয়েটাকে খুঁজলাম। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে ফোন করলাম। কিন্তু কোনো আশার আলো দেখতে পেলাম না। কেউ আমার মেয়েকে দেখেনি। আমার মেয়ে বাইরে একটি শৌচাগারে গিয়েছিল। তার সঙ্গে কিছুই ছিল না। টাকাপয়সা, মোবাইল ফোন, বাড়তি কোনো কাপড়—এসব কিছুই ছিল না।...তখন ধরে নিলাম মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে।’
মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর এলিজাবেথ বিষয়টি পুলিকে জানায়। তবে পুলিশ বিষয়টি নথিভুক্ত করেনি। মেক্সিকোতে কেউ নিখোঁজ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পার না হলে পুলিশ তা নথিভুক্ত করে না। এমনকি শিশু হলেও না। তাই কারেনের মা এলিজাবেথ ও বাবা আলেজেন্দ্রো নিজ উদ্যোগে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রথমেই তাঁরা মেয়ের সামাজিক যোগাযোগের অ্যাকাউন্টগুলোতে ঢোকেন।
এলিজাবেথ বলতে থাকলেন, ‘আমরা যখন মেয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকলাম, তখন দেখলাম চার হাজারেরও বেশি বন্ধু আছে তার। ওই বন্ধু তালিকায় থাকা একজনের বিষয়ে সন্দেহ জাগল। অনেক মেয়ের সঙ্গে ওই ব্যক্তির ছবি। এসব মেয়ে আমার মেয়ের বয়সী। টের পেলাম, সে আমার মেয়েকে পটিয়েছে। আমার মেয়ে বুঝতেও পারেনি—কী বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে সে।’
কারেনের বাবা আলেজান্দ্রো বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁর মেয়েকে নানা কথা বলে পটিয়েছেন। মেয়েকে বলেছে, শিগগিরই তিনি তার (কারেন) সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনগুলোতে তাদের ঘন ঘন যোগাযোগ হয়েছে। ওই ব্যক্তি মেয়েকে স্মার্ট ফোন দিয়েছে, যাতে যোগাযোগ রক্ষায় কোনো সমস্যা না হয়। এর কিছুই বাবা-মা জানতেন না।
মেয়েকে বেশি দূর নিয়ে যাওয়ার আগেই সন্ধান পেতে এলিজাবেথ-আলেজান্দ্রা পুলিশের কাছে যান। তাদের চাপে, পুলিশ মেক্সিকো শহরের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও জনবহুল স্থানে নিখোঁজ কারেনের সন্ধান চেয়ে ছবি এঁটে দেয়। টেলিভিশন ও রেডিওতেও এই নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করা হয়।
নিখোঁজের ১৬ দিন পর কারেনকে একটি বাস টার্মিনালে পাওয়া যায়। কারেন ও আরেকটি নিখোঁজ মেয়েকে সেখানে ফেলে যায় কেউ। তাদের নিউইয়র্কে পাচার করার ফন্দি আঁটা হয়েছিল, কারেন নিজেই পরে সেটা বলেছে।
আলেজান্দ্রো বলেন, ওই ব্যক্তি তাদের মেয়েকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, অর্থ দেওয়া, সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা ও খ্যাতির চূড়ান্ত সীমায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। সেই ফাঁদে পড়ে মেয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে চলে যায়।
উদ্ধার হওয়ার পর কারেন প্রথমে তার বাবা-মায়ের ওপর খুব ক্ষিপ্ত ছিল। তখন বাবা-মা তাকে পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়েদের নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর কারেন বুঝতে পারে, কী ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে সে রক্ষা পেয়েছে।
২০১১ ও ২০১২ সালে মেক্সিকো সিটিতে এক হাজার ২৩৮ নারী নিখোঁজ হয়। এদের মধ্যে ৫৩ শতাংশের বয়স ১৭ বছরের নিচে। তবে এদের মধ্যে কতজনকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, সে কথা কেউ জানে না। এটা নারীদের জন্য খুবই বিপজ্জনক শহর। শুধু নারী নয়, সবার জন্যই শহরটি বিপজ্জনক। কারণ, গত এক দশকে এখানে কমপক্ষে দুই হাজার ২২৮ জন খুন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, প্রতি বছর মেক্সিকোতে ২০ হাজারের মতো মানুষ পাচারের শিকার হয়। পাচার হওয়া বেশির ভাগ নারীকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ বলছে, সম্প্রতি ইন্টারনেটের সুযোগ ব্যবহার করে অপরাধীরা অধিক সংখ্যক মেয়েকে টোপে ফেলে পাচার করছে।
কর্তৃপক্ষের এই দাবির সত্যতা মেলে সায়মা পাজ লেমুস নামের হারিয়ে যাওয়া এক মেয়ের জীবনের গল্প শুনে। সায়মা শান্তশিষ্ট এক মেয়ে। ভালোবাসত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যাট করতে, অনলাইনে গেমস খেলতে। এভাবে অনলাইনে থাকতে থাকতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সায়মার সম্পর্ক হয়ে যায়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে ব্ল্যাকমেল করে। বলে, তার সঙ্গে না গেলে জীবন বিষিয়ে ফেলা হবে। ওই ব্যক্তির কাছে থাকা নানা গোপনীয় ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
মেয়েটি পরিবারের কাউকে কিছু না বলে একদিন ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। রেখে যাওয়া একটি চিঠিতে সে সব বলে যায়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করে, ছোট বোনটির দেখভাল করতে। তাকে সুন্দর একটি উপহার কিনে দিতে, যেন ওই উপহারটি দেখে ছোট বোন তার কথা স্মরণ করতে পারে।
অনেক দিন হয়ে গেল, সায়মার কোনো খোঁজ নেই। তবে তার পরিবার আশাবাদী। কারেনের ফিরে আসা তাদের আশান্বিত করে। যদিও পরিবারটি জানে, ফিরে আসা সহজ নয়। অল্প বয়সী মেয়েরা যেখানে নিজের ঘরেও নিরাপদ নয়, সেখানে ফিরে আসার কথা ভাবা অনেকটাই দুরাশা।

দেশের ২৪ হিমাগার এখন বন্ধ, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় হিমাগার শিল্পে সংকট বৃদ্ধির আশঙ্কা by আবুল হাসনাত

দেশের ২৪টি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) বন্ধ হয়ে গেছে। আলু, বীজ, সবজিসহ পচনশীল পণ্য সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত এসব হিমাগার নিজেরাই এখন রুগ্ণ।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাওয়া, মালিকানাগত জটিলতা, ঋণখেলাপি হয়ে পড়া, চলতি মূলধনের অভাব ও সংরক্ষণ উপযোগী পর্যাপ্ত আলু না পাওয়ার কারণেই হিমাগারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের সাম্প্রতিক দাম বৃদ্ধি। সরকারের এ সিদ্ধান্তে দেশের হিমাগার শিল্প হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন হিমাগারের মালিকেরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর কারণে ও ব্যাংকঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় প্রতিটি হিমাগার ঋণের ভারে জর্জরিত ও রুগ্‌ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে। ২৪টি কোল্ড স্টোরেজ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আরও কোল্ড স্টোরেজ বন্ধ হয়ে যাবে।
হিমাগার সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি হিমাগার বন্ধ হয়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলায়। এ জেলার পাঁচটি হিমাগার এখন বন্ধ। এগুলো হলো পিজেন্ট ট্রেডিং কোল্ড স্টোরেজ, চান কোল্ড স্টোরেজ, মৌসুমী কোল্ড স্টোরেজ, মীরকাদিম কোল্ড স্টোরেজ ও ময়নামতি আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ।
এরপরই বেশি হিমাগার বন্ধ হয়েছে রংপুরে, চারটি। এগুলো হলো ভরসা স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ, আরভি কোল্ড স্টোরেজ, আজি ভরসা কোল্ড স্টোরেজ ও মাওলানা বশির কোল্ড স্টোরেজ।
কুমিল্লায় বন্ধ হয়েছে তিনটি হিমাগার। এগুলো হলো মডার্ন কংশনগর কোল্ড স্টোরেজ, প্রিমিয়ার কোল্ড স্টোরেজ ও বন্দিশাহী কোল্ড স্টোরেজ।
এ ছাড়া ঢাকার মুন্না কোল্ড স্টোরেজ ও আরগোছী কনজার্ভস, গাজীপুরের ইরিনা অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ, টাঙ্গাইলের মালতি কোল্ড স্টোরেজ, লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মীপুর কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড আইস প্ল্যান্ট, হবিগঞ্জের পাইওনিয়ার কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড আইস প্ল্যান্ট, সিলেটের সুরমা কোল্ড স্টোরেজ, খুলনার খুলনা আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ, কুষ্টিয়ার কুষ্টিয়া কোল্ড স্টোরেজ, বরগুনার মধুমতি কোল্ড স্টোরেজ, সিরাজগঞ্জের শাহ মুখদুমিয়া কোল্ড স্টোরেজ ও দিনাজপুরের উত্তরা হিমঘর বন্ধ হয়েছে।
এই বন্ধ ২৪টিসহ দেশে এখন হিমাগার আছে ৪০৪টি। এর মধ্যে ২২টি হিমাগার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি)। সেখানে শুধু বীজ সংরক্ষণ করা হয়। দেশের সব হিমাগারে বছরে ৫০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য সংরক্ষণ করার সক্ষমতা আছে।
হিমাগার সমিতি বলছে, দেশে উৎপাদিত আলুর প্রায় অর্ধেকই হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। এ বছর হিমাগারে আলু এসেছে ৩৫ লাখ টন। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ আলুই বাজারে সরবরাহ করা হয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ বিলে রেয়াত পায় না হিমাগার: হিমাগার শিল্প পুরোপুরিই কৃষিভিত্তিক শিল্প। তবে হিমাগার সমিতির অভিযোগ, জাতীয় অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখলেও এ খাত কৃষিভিত্তিক অন্যান্য খাতের মতো সুবিধা পাচ্ছে না।
হিমাগারের মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ছাড়া হিমাগারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আলু থেকে প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদিত খাদ্য (যেমন ফ্লেক্স, চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাই ইত্যাদি) প্রস্তুতকারী শিল্পকে বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সংস্থা বিএডিসির আওতাভুক্ত ১৭টি হিমাগারও অনেক আগে থেকেই এ সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বেশি সংরক্ষণ করেও বেসরকারি হিমাগারগুলো তা পাচ্ছে না।
একজন হিমাগারের মালিক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘বীজের মোট চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ বিএডিসি সংরক্ষণ করে। কিন্তু সংস্থাটি বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রেয়াত পাচ্ছে। অথচ বেশির ভাগ বীজ আলু সংরক্ষণের পরও আমরা তা পাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ রেয়াত দেওয়ার আইন থাকলেও হিমাগার শিল্পকে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। এটা না পেলে সবগুলো কোল্ড স্টোরেজই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, এবারের বাজেটে হিমাগারের বিদ্যুৎ বিলের ওপর থেকে ৫ শতাংশ মূসক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করায় হিমাগারের মালিকেরা আশান্বিত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন বিদ্যুতের দাম নতুন করে বাড়ানোয় তাঁরা হতাশ।

ভারত-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল 'অবরুদ্ধ' নেপাল

নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে ক্রমশ ঘোরালো হচ্ছে ভারত-নেপাল সম্পর্ক৷ সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুর কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভকারীরা পোড়ালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা৷ তাদের অভিযোগ, ভারত নেপালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা করা ছাড়াও আর্থিক অবরোধ করে সে দেশের সাধারণ মানুষকে অসুবিধায় ফেলেছে৷ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একজন, নার্সিংয়ের ছাত্রী অমৃতা বারাল ভারতীয় দূতাবাস যাওয়ার পথে বলেন, 'আমরা ভারতকে অনুরোধ করছি, সীমান্ত খুলে দিন আর নেপালের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত হোন৷' ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি৷
গত সপ্তাহে, নতুন সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ নেপালের তরাই অঞ্চলে এর বিরোধিতায় শামিল হয়েছেন মদেশি ও থারু সম্প্রদায়৷ এদের অভিযোগ, সংবিধানে তাদের যথেষ্ট অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব মেলেনি৷ এই আন্দোলনের ফলে জ্বালানি, সব্জি ও ইমারতি দ্রব্য বহনকারী বহু লরির সীমান্তে আটকে পড়ে৷
সমস্যার তীব্রতা সম্পর্কে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লক্ষ্মীপ্রসাদ ঢাকাল বলেন, 'আর্থিক অবরোধের জন্য, শেষ চার দিনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কোনো ট্রাক নেপালে ঢোকেনি৷ সোমবার অবশ্য গাড়ির জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের কয়েকটি কনসাইনমেন্ট প্রবেশ করেছে৷'
এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নেপাল অয়েল কর্পোরেশন সোমবার গাড়ির জ্বালানিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে৷ প্রতি সপ্তাহে মোটরবাইকের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে তিন লিটার আর চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ লিটার৷ এর ফলে বহু পেট্রল পাম্পে এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে৷ আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলিকেও বলা হয়েছে তাদের বিমানগুলি যেন অন্য দেশে জ্বালানি ভরে তবেই নেপালে অবতরণ করে৷
ভারতের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্যিক সীমান্ত পাঁচটি৷ এ গুলি হলো রক্সৌল, কাকরভিট্টা, বিরাটনগর, ভৈরাওয়াহা ও নেপালগঞ্জ৷ নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রক্সৌল-বীরগঞ্জ সীমান্তে গোলমালের খবর এলেও বাকিগুলোতে অবস্থা শান্তিপূর্ণ ছিল৷ তবু ভারতের শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা মালবাহী লরি যাতায়াতের বিরোধিতা করেন৷
নেপাল তার প্রযোজনীয় পণ্যের ৭০ শতাংশই আমদানি করে ভারত থেকে৷ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে, ভারতের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে, নেপাল চীন সীমান্তের দুটি পথ আবার খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এ বছরের এপ্রিলের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে এ দুটি বন্ধ রাখা হয়েছিল৷
অন্য দিকে, সংবিধান বিরোধী দল ও গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে আলোচনার জন্য নেপালের তিন প্রধান বিরোধী দল- নেপাল কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল ও ইউসিপিএন মাওবাদী- তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে৷ প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে অন্যান্য দলের শীর্ষনেতাদের এক বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
নেপাল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দইবা বলেছেন, 'আমার আশা, এই কমিটি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করার পর এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পারবে৷'
'নেপালে ভারত সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ শুরু করেছে'
নেপাল ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টির (কৃষক-শ্রমিক দল) প্রধান নারায়ন মান বিজুকাচে বলেছেন, ভারত নেপালের সাথে সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ শুরু করেছে।
সোমবার ভক্তপুরে একটি অনুষ্ঠান পুরস্কার বিতরণকালে তিনি বলেন, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভারত নেপালে সাম্প্রদায়িক ও গোত্রীয় যুদ্ধ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ভারত উদ্দেশ্যমূলকভাবে মদেশি সম্প্রদায়কে ব্যবহার করেছে। এ লক্ষ্যে ভারত পরোক্ষভাবে সীমান্তে অবরোধ আরোপ করেছে, যা নেপালের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আচরণ।
তিনি জরুরি প্রয়োজন মেটাতে চীন থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং বাংলাদেশ থেকে গ্যাস আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের উচিত উত্তর দিক থেকে সীমান্ত খোলার উদ্যোগ নেয়া।
সূত্র : কাঠমান্ডু পোস্ট

ঢাকায় কম দামেই চামড়া বিক্রি: ঠকেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী লাভবান ট্যানারি মালিক by আবুল হাসনাত

ঢাকার পোস্তা এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়ায়
লবণ দিয়ে সংরক্ষণের কাজ করছেন শ্রমিকেরা
কোরবানির পশুর চামড়া এবার বিক্রি হয়েছে খুবই কম দামে। এতে ট্যানারি মালিকেরা লাভবান হলেও ঠকেছেন পাড়া-মহল্লার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে খুব বেশি দামে চামড়া কেনেননি আড়ত মালিক ও ট্যানারি মালিকেরা। সে কারণে বেশি দাম দিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন ঠিকই, কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন। অনেকেই কেনা দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করেছেন।
অন্যদিকে ভালো দাম পাওয়ার আশায় চামড়া নিয়ে এ জায়গায়, ও জায়গায় ঘোরাঘুরি করা এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে ২০ শতাংশ চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার ঢাকায় কোরবানি হওয়া গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়া ৫০-৫৫ আর ঢাকার বাইরের গরুর চামড়া ৪০-৪৫, খাসির চামড়া ২০-২২ ও বকরির চামড়ার দাম ঠিক করা হয় ১৫-১৭ টাকা।
বিশ্ববাজারে প্রস্তুত চামড়ার দাম কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম দাম নির্ধারণ করে ট্যানারি মালিকদের দুই সংগঠন বাংলাদেশ প্রস্তুত চামড়া, চামড়া পণ্য ও জুতা রপ্তানিকারক সমিতি (বিএফএলএলএফইএ) ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এবং কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছরই কোরবানির সময় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার বাজারটা অস্থির করে ফেলেন। তাঁরা মনে করেন যে দামেই কিনুক না কেন সেটা তো আমরা কিনবই। কিন্তু এবার আমরা নির্ধারিত দামের বাইরে খুব একটা যাইনি। তাই লাভের কথা ভেবে যাঁরা বেশি দামে চামড়া কিনেছেন, তাঁরা লোকসান দেবেন।’
দাম কম হওয়ায় খুশি ট্যানারি মালিকেরা। বিটিএর সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, এবার যে দামে চামড়ার বেচাকেনা হয়েছে তা ঠিকই আছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তো লোকসান দিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক না। কারণ তাঁরাও কম দামেই কেনেন।’
দাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি: ঈদের দিন রাজধানীর গ্রিন রোডের ল্যাবএইড হাসপাতালের মোড়ে কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর চামড়ার দাম ২০০-৩০০ টাকা কম। ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছ থেকে চামড়াও কিনছেন কম।
রাজধানীর গ্রিন রোডের ইকরাম কবির প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘গত বছর একটু বড় গরুর চামড়া ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এবার তা ২০০০ টাকাও বলছেন না কেউ। চামড়া ব্যবসায়ীরা মনে হয় সিন্ডিকেট করছেন।’
তবে লালবাগের পোস্তার আড়ত মালিকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় এবার চামড়ার দাম কম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেভাবেই চামড়া কিনতে বলা হয়েছে। বেশি দামে চামড়া কিনলে তাঁদের কাছ থেকে ট্যানারি মালিকেরা এই চামড়া কিনবেন না। তাই তাঁরা হিসাব করে চামড়া কিনছেন।
এতেই কপাল পুড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। তাঁরা যে চামড়া ২০০০ টাকায় কিনেছেন বিকেল থেকে ঘুরে ঘুরে, শেষ পর্যন্ত রাতে ওই চামড়া ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে তাঁদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের দিন দুপুরের দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও জিগাতলায় কয়েকজন ব্যবসায়ী মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামেই চামড়া কেনেন। কিন্তু বিকেলে ওই একই ব্যবসায়ীর কাছে চামড়া নিয়ে গেলে তিনি আর আগের মতো বেশি দামে চামড়া কিনতে রাজি হননি।
রাজধানীর পোস্তায় গতকাল রোববার গরুর ছোট আকারের চামড়া ৫০০-৮০০, মাঝারি চামড়া ১২০০-১৫০০ ও বড় চামড়া ১৮০০-২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বড় আকারের ভালো মানের কিছু চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৪০০-২৫০০ টাকায়। ঈদের পরদিন শনিবারও প্রায় একই দামে চামড়ার বেচাকেনা চলেছে।
এবার ৫০-৫৫ লাখ গরুর চামড়া এবং ৩০-৩৫ লাখ মহিষ-ছাগল-খাসির চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আসবে ১০-১২ লাখ গরুর চামড়া।
তবে ঢাকা থেকে এবার গত বছরের চেয়ে ৫-৭ শতাংশ কম চামড়া সংগৃহীত হবে বলে ধারণা করছেন আড়তদারদের সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তাঁর মতে, ঢাকায় গরু কম কোরবানি হয়েছে। অবশ্য ঈদের দিন থেকে এ পর্যন্ত পোস্তায় তিন লাখের বেশি চামড়া এসে গেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চামড়ার চাহিদার ৪৮ শতাংশ সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদে।

নতুন আইফোন পেতে এ কী কাণ্ড!

নতুন আইফোন কিনে না দেওয়ায় প্রেমিকের
সামনে দিগম্বর হয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন প্রেমিকা।
চীনে আইফোন দারুণ জনপ্রিয়। নতুন আইফোন হাতে পাওয়ার জন্য অনেক সময় অদ্ভুত কাণ্ড করে বসেন সেখানকার কেউ কেউ। এর আগে নতুন আইফোন কিনতে কিডনি বিক্রি করার কথা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। এবারে চায়না নিউজের এক খবরে আইফোন নিয়ে আরেক অদ্ভুত কাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে চীনের একটি বাজারে। প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যে তর্কবিতর্ক ও শেষ পর্যন্ত দিগম্বর হওয়ার ঘটনাটি সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। পরে ওই ভিডিওটি অনলাইনে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
এবিপি নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে আইফোন নিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত। প্রেমিক নাকি আইফোন কিনে দিতে চেয়েছিলেন! সেটি কিনে না দেওয়ায়, রাগে-ক্ষোভে জনসম্মুখেই অভিনব প্রতিবাদ করে দিগম্বর হতে শুরু করেন প্রেমিকা। হতবিহ্বল—বেচারা প্রেমিক তাকে শত বুঝিয়েও কাজ হয়নি।
নতুন আইফোন হাতে পাওয়া নিয়ে এ রকম পাগলামির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এ মাসের মাঝামাঝিতে চায়না ডেইলির এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আইফোনের নতুন সংস্করণ ৬ এস বাজারে আসার পর কিডনি বিক্রি করে তা কেনার চেষ্টা করেন দুজন। উয়ু নামের এক ব্যক্তি নতুন আইফোন কেনার ইচ্ছার কথা তাঁর বন্ধু হুয়াংকে জানান। কিন্তু আইফোন কেনার সামর্থ্য না থাকায় কিডনি বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে অবৈধ অঙ্গ-প্রত্যক্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগও করেন। তাদের নানজিংয়ের এক হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য আসতে বলা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে এসে দেখেন সে প্রতিনিধি আসেনি। তখন উয়ু তার কিডনি বিক্রির পরিকল্পনা বাদ দিলেও হুয়াং সিদ্ধান্ত বদলাননি। বন্ধুর কিডনি বিক্রি ঠেকাতে উয়ু পুলিশকে ফোন করেন। তারপর থেকে পলাতক আছেন হুয়াং।
আইফোন কেনার ক্ষেত্রে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মরিয়া হয়ে ওঠার লক্ষণ অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১২ সালে চীনের এক তরুণ আইফোন ও আইপ্যাড কেনার জন্য নিজের কিডনি বেচতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা দিয়েছিল। এ কাজে জড়িত থাকার দায়ে সাতজনের কারাদণ্ড হয়।
২০১৩ সালে চীনের এক দম্পতির বিরুদ্ধে আইফোন ও বিলাসী পণ্য কিনতে নিজেদের কন্যাশিশুকে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, ঝাং ও তেং দম্পতি প্রায় ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের কন্যাশিশুকে বিক্রির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। ইন্টারনেট, আইফোন ও অন্যান্য বিলাসী পণ্য কিনতে তারা এই টাকার সিংহভাগ খরচ করেছে। ওই দম্পতির ব্যাংক হিসাব ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনেও এর প্রমাণ রয়েছে।
সম্প্রতি ভারতেও এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পায় পুলিশ। দেশটির উত্তর প্রদেশে শুধু একটা স্মার্টফোন আর যৎসামান্য বাড়তি অর্থের জন্য তিন কিশোর রক্ত বিক্রি করতে গিয়েছিল। মাত্র ৫০০ রুপিতে প্রতি ব্যাগ রক্ত বিক্রি করতে সম্মত হয়েছিল তারা। ৭ আগস্ট রক্ত বিক্রির সময় ভারতের উত্তর প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ৬ এস ও ৬ এস প্লাস নামের দুটি মডেলের আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। অ্যাপলের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আইফোন ৬ এসের ১৬ জিবি মডেলটির দাম ৬৪৯ মার্কিন ডলার, ৬ এস প্লাসের দাম ৭৪৯ মার্কিন ডলার।
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আইফোন বিক্রি শুরুর পর এখন পর্যন্ত এক কোটি ৩০ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি হয়েছে যা এক সপ্তাহের মধ্যে আইফোন বিক্রির একটি রেকর্ড। নতুন আইফোন চীনের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারী ও ক্ষতিকর যেসব খাবার

আমরা শরীরের জন্য কত কিছু করি। ভালো ত্বকের জন্য, ভালো চুলের জন্য, ফ্ল্যাট অ্যাবসের জন্য। কিন্তু যেখান থেকে আমাদের শরীরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, সেই মস্তিষ্ক নিয়ে আমরা ক'জন ভাবি! জানেন কি, মগজেরও খাদ্য প্রয়োজন। সেটা অবশ্যই আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে থেকেই। তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা মস্তিষ্কের বিশেষ ক্ষতি করে থাকে। এগুলো খাওয়া বন্ধ না করলে অদূর ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্স বা ডেমেনশিয়া-র মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। দেখে নিন কী সেই খাবারগুলো:
১) প্যাকেটবন্দি চিজ : যেকোনো ধরনের প্রক্রিয়াকরণ করা চিজ, আমেরিকান চিজ, মোজারেলা স্টিকস ব্রেনের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকারক। এগুলো খাওয়ার পর শরীরে এমন কিছু প্রোটিন উৎপন্ন যা ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্সের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
২) বিয়ার : প্রতিদিন বিয়ার পান করা খুবই খারাপ। আজকে বাজারে যে সমস্ত ব্র্যান্ডের বিয়ার মেলে সে সবেই নাইট্রাইট থাকে। স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটা বিরূপ প্রভাব ফেলে। তার সঙ্গে এটা অ্যালঝাইমার্সের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
৩) মাইক্রোওয়েভে বানানো পপকর্ন : দুর্ভাগ্যবশত, বাড়িতে বসে বা সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখার সময় আপনার পছন্দসই স্ন্যাক্সটিও স্মৃতিশক্তি দুর্বল করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা থাকে। এতে ডায়েসেটিল থাকে। এটা এক ধরনের রাসায়নিক যা শরীরে অ্যামিলয়েড প্লাক তৈরি করে। এই প্লাক দীর্ঘ দিন ধরে ব্রেনের মধ্যেই বাসা বেঁধে থাকে। এটা অ্যালঝাইমার্স এবং ডেমেনশিয়ার মতো রোগের অন্যতম কারণ।
৪) টিনের মাংস : সাধারণত, যেকোনো প্রসেসড্ খাবারই শরীরের পক্ষে খারাপ। হ্যাম, বেকন, সসেজ প্রভৃতি খুবই সুস্বাদু। কিন্তু এটা আপনার ব্রেনের যা ক্ষতি করে তা জানলে এগুলো থেকে দূরেই পালাবেন। প্রক্রিয়াজাত মাংসে নাইট্রো সেমাইন নামক এক ধরনের রাসায়নিক দেয়া হয়। খাওয়ার পর এই রাসায়নিক বিষাক্ত এক ধরনের ফ্যাট উত্‍পন্ন করে যা আপনার ব্রেনকে বিষিয়ে তোলে।
কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন সেটা তো দেয়া হলো। এ বার দেখে নিন কী কী খাবার ব্রেনের পক্ষে অত্যন্ত উপকারি:
১) যেকোনো ঠান্ডা পানির মাছ, বিশেষত স্যামন।
২) সবুজ পাতাযুক্ত সব্জি।
৩) সে সমস্ত ফল, যার উপরিভাগ গাঢ় রঙের। যেমন, রাস্পবেরি, জাম।
৪) ক্যাফেনযুক্ত খাদ্য এবং পানীয়। যেমন চকোলেট, দিনে ১-২ কাপ কফি।

আরো কয়েকটি ব্যাপার মাথায় রাখতে পারেন। রান্নার সময় সামান্য অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এ সমস্ত খাবারে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন থাকে। সঙ্গে থাকে দরকারি ভিটামিন এবং মিনারেল যা ব্রেনকে তার প্রয়োজনীয় খাদ্যের যোগান দেয়।

কুনদুজ ফিরে পেতে মরিয়া আফগান বাহিনী

কুনদুজ শহর পুনরুদ্ধারে এগিয়ে যাচ্ছে আফগান সেনাবাহিনী
আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবান জঙ্গিদের কাছ থেকে উত্তরাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কুনদুজের দখলের ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার পাল্টা হামলা শুরু করেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী এতে তাদের সহায়তা করছে।
শহরটি তালেবান জঙ্গিরা গতকাল সোমবার দখল করে নেয়। ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তালেবানের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হলো কুনদুজ শহর দখল করে নেওয়া।
কুনদুজ প্রদেশের রাজধানী শহর তালেবান দখল করে নেওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার। কারণ আজই আশরাফ গনির ক্ষমতা গ্রহনের এক বছর পূর্ন হলো। সেনারা কুনদুজ পুনর্দখল করবে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আফগান সরকার একটি দায়িত্বশীল সরকার। এই শহরের ভেতরে থাকা জনগনের ওপর আমরা বোমা মারবো না।’
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী শিগগিরই কুনদুজের দখল ফিরে পাবে। ইতিমধ্যে সেনারা নগরের কারাগার ও প্রাদেশিক পুলিশের সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। কুনদুজের কারাগার তালেবানের দখলে চলে যাওয়ার পর জঙ্গিসহ শত শত বন্দীকে সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেছেন, তালেবান যোদ্ধারা রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি নিয়ে টহল দিচ্ছে। শহরের হাসপাতাল, ব্যাংক ও সরকারি অন্যান্য ভবন সোমবার থেকে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে। শহরটিতে আজ তালেবান যোদ্ধার সংখ্যা বেড়েছে।
এদিকে ন্যাটোর একজন মুখপাত্র বলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে কুনদুজ শহরতলি এলাকায় জঙ্গিদের কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে আজ হামলা চালানো হয়েছে।
তালেবানের নতুন নেতা মোল্লা আখতার মনসুর শহরটি দখলের খবরে আনন্দ প্রকাশ করে এক বিবৃতি দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে নির্ভয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মোল্লা ওমরের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জুলাইয়ে তালেবানের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মনসুর।
চলতি বছরের শুরুতে ন্যাটোর বেশির ভাগ সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়ে যায়। সাবেক তালেবান সরকার পাঁচ বছরের শাসনামলে ইসলামি আইনের কঠোর প্রয়োগ চালু করেছিল। মূলত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এ সংগঠন ২০০১ সালে মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বে চালানো সামরিক অভিযানে ক্ষমতা হারায়। যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ নাইন-ইলেভেন সন্ত্রাসী হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। ক্ষমতাচ্যুত তালেবান যোদ্ধারা তখন থেকে পাল্টা লড়াই করে চলেছে।

Tuesday, September 29, 2015

বাতিল হতে পারে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফর -ব্রিটিশ দৈনিকের প্রতিবেদন

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বৈঠকরত
অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা
ঢাকায় এক ইতালীয় নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার সতর্কতা জারি করায় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘোষণা আসতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্রিটিশ ও মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতার মাত্রা বৃদ্ধির পর এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
সোমবার অস্ট্রেলীয় দলের ঢাকা আসার কথা থাকলে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে ‘নির্ভরযোগ্য তথ্য’ রয়েছে তাদের কাছে।
এরপরই ওই সফর স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশে আসেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারোলসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর যখন দেশ বাংলাদেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখনই সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার কূটনৈতিক পাড়া গুলশানে ইতারীয় নাগরিক তাভেলা সিজার।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারোল, টিম ম্যানেজার গ্রাভিন ডোভি এবং টিম নিরাপত্তা ম্যানেজার ফ্র্যাঙ্ক ডিমাসি।
বুধবার তারা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন। এরপর বুধবারই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট এবং খেলোয়াড়দের সাথে বৈঠকে বসবেন তারা।
গার্ডিয়ান জানায়, বাংলাদেশে মার্কিন ও ব্রিটিশ নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারির বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার সফরকে প্রভাবিত করতে পারে।

খুব কাছ থেকে ৩টি গুলি করা হয় তাভেলাকে

ইতালির নাগরিক চেসারে তাভেলাকে খুব কাছ থেকে তিনটি গুলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ডা. কাজী মোহাম্মদ আবু সামা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চেসারে তাভেলার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন আছে। দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বের হয়ে যায়। একটি গুলি শরীরে পাওয়া গেছে। গুলিগুলো রিভলবার দিয়ে এবং খুব কাছ থেকে করা হয়।
এর আগে, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষ করেন গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাব্বির রহমান।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, চেসারে তাভেলার ডান হাঁটুর উপর এবং ডান হাতের কনুইতে থেঁতলানো জখমের চিহ্ন আছে। এ ছাড়া বাম হাতের পেছনে ও ভেতরের দিকে একটি; বাম বগলের নিচে, পিঠের বামপাশে ঘাড় বরাবর একটি এবং ঘাড়ের দুই ইঞ্চি নিচে গুলির ছিদ্রের চিহ্ন আছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে হাঁটার সময় তিন মোটরসাইকেল আরোহী ইতালীর নাগরিক চেসারে তাভেলাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নাম ও ছবি মুছে ফেলার অপরাজনীতি by সোহরাব হাসান

আগে ছবি ওঠানো-নামানো ও নাম মুছে ফেলার রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনীতিকদের একচেটিয়া সম্পত্তি থাকলেও ইদানীং এর সংক্রমণ প্রতিবেশী ভারতেও মহামারি রূপে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি ওরফে এনডিএ জোট ক্ষমতায় আসার পর ভারতের মনোরাজনৈতিক জগতে যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, তাকে স্বাভাবিক ঘটনা বলা যায় না। এর পেছনে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের সহযোগী আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দর্শনই কাজ করেছে। কংগ্রেস যেহেতু সেক্যুলার রাজনীতির কথা বলে, সেহেতু তারা ভারতের রাজনৈতিক দর্শন ধারণ করে না—এটাই বিজেপি জোটের দাবি।
ক্ষমতায় আসার দেড় বছরের মাথায় নরেন্দ্র মোদি সরকার সরকারি ডাকটিকিট থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর ছবি ও নাম ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেস সরকারের আমলে আধুনিক ভারতের নির্মাতা হিসেবে আরও কয়েকজনের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর ছবিসংবলিত ডাকটিকিট ছাপে, যা এত দিন ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। নরেন্দ্র মোদি সরকার বলছে, এখন থেকে ডাকটিকিটে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর নাম থাকবে না। নামের সঙ্গে পরিচয়ের পরিবর্তনও লক্ষণীয়। কংগ্রেস বলেছিল, এঁরা আধুনিক ভারতের নির্মাতা। বিজেপি বলছে, ভারত-নির্মাতা। আধুনিকতার ব্যাপারে তাদের আপত্তিটা অবোধগম্য নয়।
কংগ্রেস সরকার ২০০৮ সালে আধুনিক ভারতের নির্মাতা নামে যেসব নেতার নামে ডাকটিকিট ছেপেছিল, তাঁদের মধ্যে ইন্দিরা ও রাজীব ছাড়াও ছিলেন মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, বি আর আম্বেদকার, হোমি ভাবা, জে আর ডি টাটা, সত্যজিৎ রায় ও মাদার তেরেসা। নরেন্দ্র মোদি সরকার সেই তালিকায় অদলবদল এনে ইন্দিরা ও রাজীবের সঙ্গে সি ভি রমণ, হোমি ভাবা, জে আর ডি টাটা ও সত্যজিৎ রায়কেও বাদ দিয়েছে।
সত্যজিৎ রায়কে বাদ দেওয়া! যিনি ভারতের চলচ্চিত্রকে বিশ্বসভায় পরিচিত করিয়েছেন, অস্কারের লাইফটাইম অ্যাসিভমেন্ট পুরস্কার পেয়েছেন, বিজেপি সরকারের কাছে তাঁর কোনো গুরুত্বই নেই। অথচ এই সত্যজিৎ রায় অসুস্থ থাকাকালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরা কলকাতায় এসে তাঁর হাতে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দিয়ে গিয়েছিলেন। মিতেরা সত্যজিৎ রায়কে চিনতেন, কিন্তু নরেন্দ্র মোদি চেনেন না। মোদির কাছে ভারতের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার হওয়াই যথেষ্ট নয়; তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে হিন্দুত্ববাদের মিশেল থাকতে হবে। সত্যজিৎ রায় বা সি ভি রমণের স্থলে তিনি বেছে নিয়েছেন ছত্রপতি শিবাজি, মহারানা প্রতাপ, বাল গঙ্গাধরকে। এটাই বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে খাপ খায়। বিজেপি সরকারের নতুন তালিকায় আরও আছেন হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়; ১৯৪৭ সালে যিনি ভারত ভাগ না হলেও বাংলা ভাগ করতে হবে বলে গোঁ ধরেছিলেন।
দুই.
বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের কেন্দ্রীয় নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, ‘আমরা ইন্দিরা ও রাজীবের প্রতি সরকারের এই উদ্যোগ ও মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানাই।’ দিল্লিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে কংগ্রেস নেতা শোভা ওঝা সস্তা রাজনীতি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সূর্যওয়ালার দাবি, নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, দুই ধরনের ডাকটিকিট ছাপানো হয়। একটি কোনো স্থানের বা ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখিয়ে স্মারক, আরেকটি হলো নির্দিষ্ট বা দৈনন্দিন ব্যবহারের ডাকটিকিট। ইন্দিরা গান্ধীর ওপর চারবার ও রাজীব গান্ধীর ওপর দুবার স্মারক ডাকটিকিট ছাপানো হয়েছে। তাই আর ছাপানো যাবে না। কিন্তু সাম্প্রদায়িক নেতা বাল গঙ্গাধর ও শ্যামা প্রসাদের নামে ডাকটিকিট ছাপতে কোনো বাধা নেই। এরপর হয়তো বিজেপি সরকার বাল ঠাকরের নামেও ডাকটিকিট ছাপবে এবং সেটি ভারতের জনগণকে ব্যবহার করতে বাধ্য করবে।
ডাকটিকিটের সঙ্গে চিঠির খামের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সরকার ইন্দিরা গান্ধীর ছবিসংবলিত খামের পরিবর্তে যোগব্যায়ামের ছবিযুক্ত খাম ছাড়ার চিন্তাভাবনা করছে মোদি সরকার। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে যোগব্যায়াম চলে আসছে। কিন্তু বিজেপি নেতারা এটিকে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসেবে ব্যবহার করছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক যোগব্যায়াম বা ইয়োগা দিবস পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বিজেপি নেতারা বলছেন, জাতীয় নেতা শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীন দয়াল উপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভ ভাই, ছত্রপতি শিবাজি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ভগবৎ সিং, বাল গঙ্গাধর, জয়প্রকাশ নারায়ণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাম মনোহর লোহিয়া, বিবেকানন্দ, মাদার তেরেসা ও মহারানা প্রতাপের স্মরণে নির্দিষ্ট ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। বিজেপির দাবি, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও ভারত নির্মাণে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের সবাইকে সম্মান জানানো উচিত। একটি পরিবারে এটি সীমিত রাখা যায় না। নির্বাচনের আগে মোদি ভারতকে কংগ্রেসমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর সরকার ভারতকে সেকু৵লারমুক্ত করার কাজটি জোরেশোরে শুরু করেছে।
স্বাধীনতার বহু বছর পর বিজেপি গঠিত হলেও দলের নেতারা এখন স্বাধীনতাসংগ্রামে ভাগ বসাতে চাইছেন। বিজেপি নেতারা বলছেন, স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় বিজেপি না থাকুক, আরএসএস ও হিন্দু মহাসভা ছিল। তাহলে কংগ্রেস স্বাধীনতার একমাত্র হকদার হবে কেন? এই যুক্তিতেই মোদি সরকার ইতিহাসের পরিত্যক্ত পাতা থেকে হিন্দু মহাসভা ও আরএসএস নেতাদের খুঁজে বের করছে।
তিন.
বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কেন্দ্রীয়ভাবে এবং বিভিন্ন রাজ্যে ছবি ওঠা-নামা এবং নাম পরিবর্তনের মহড়া চলছে। নাম বদলের এই পাঠ তারা বাংলাদেশ থেকে নিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। উপমহাদেশের সব দেশেই এখন রাজনৈতিক অবক্ষয় চলছে। ক্ষমতাসীনেরা সামনে তাকানোর কথা বলে দেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। হিন্দুত্ববাদ, তথা ধর্মীয় জাগরণের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসাকে বিজেপি সরকার নৈতিক দায়িত্ব মনে করছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় পাঠ্যবই পরিবর্তনসহ সবকিছু গৈরিকীকরণ চলছে। অটল বিহারি বাজপেয়ি ক্ষমতায় থাকতেও হিন্দুত্ববাদের প্রসার ঘটানো হয়েছিল। তবে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু বিপুল ভোটে বিজয়ী নরেন্দ্র মোদি নব ভারত নির্মাণের যে হিন্দুত্ববাদী পথ নিয়েছেন, তা কেবল ভারত নয়, উপমহাদেশের জন্যই বিপজ্জনক।
কেবল ডাকটিকিট বা চিঠির খাম নয়, বিজেপি সরকার জাদুঘরসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনায় হাত দিয়েছে বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা বলেছেন, এসব জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য যাতে আরও বেশি কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি সমসাময়িক উপাদানগুলো সন্নিবেশিত করা হবে। বিজেপি সরকার নেহরু স্মৃতি জাদুঘর ও লাইব্রেরি, ত্রিমূর্তি ভাবনসহ ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে সাজাতে চাইছে। নেহরু স্মৃতি জাদুঘরে নাকি কেবল একটি পরিবারের কীর্তি তুলে ধরা হয়েছে।
কংগ্রেস বলেছে, সরকারের এই পরিকল্পনা একরকম ‘শয়তানি’। সরকার মানুষের মৌলিক চেতনা ও চরিত্র ‘দুর্বল ও নিষ্প্রভ’ করে দিচ্ছে। দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং বলেছেন, ‘আমাদের জাতি গঠনে আরএসএস ও বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই। এখন তারা আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের গৌরবময় ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বিকৃত করার শয়তানি শুরু করেছে।’ নেহরু স্মৃতি জাদুঘর ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের সংগ্রামের স্মারক; এটি ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রতীকও বটে। আর স্বাধীনতার পর সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের গড়ে ওঠার প্রতীক হিসেবেও দাঁড়িয়ে আছে এই নেহরু স্মৃতি জাদুঘর। আরএসএস, বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও দেশের অন্যতম সেরা সন্তান পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে খাটো করার চেষ্টা করলেও সফল হবেন না, মানুষ সেটা গ্রহণ করবে না।
চার.
দেড় বছর আগে নরেন্দ্র মোদি নতুন ভারত নির্মাণের যে স্বপ্ন দেশবাসীকে দেখিয়েছিলেন, সেটি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? প্রথম বছরটিতে তিনি জনপ্রিয়তা মোটামুটি ধরে রাখতে পারলেও দ্বিতীয় বছরে এসেই তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। তাঁর ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগানও খুব সাড়া জাগাতে পারেনি। কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ছিল দুর্নীতি, অনুন্নয়ন ও বেকারত্ব নিয়ে। কিন্তু গত এক বছরে খুব কম ক্ষেত্রেই বিজেপি সাফল্য দেখাতে পেরেছে। মন্ত্রীরাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। গত দেড় বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা। একমাত্র মহারাষ্ট্রেই গত এক বছরের ১ হাজর ৩০৬ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, যা আগের এক বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি এক সমাবেশে বলেছেন, ‘কৃষকেরা এখন নরেন্দ্র মোদিকে গালাগাল দিতে শুরু করেছেন।’ অন্যদিকে উচ্চ বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করেছেন। মোদি সরকারের আমলে শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমেছে। শিক্ষা খাতে আগের সরকারের আমলে বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৭৭১ কোটি রুপি, মোদি সরকার নামিয়ে এনেছে ৬৯ হাজার ৭৪ কোটিতে। নৈতিক শিক্ষা, ইতিহাস সংশোধনের নামে হিন্দুত্ববাদের পুনর্জাগরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছেন বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন জওহরলাল ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক জয়া হাসান।
পাঁচ.
বহু বছর আগে কবি আবদুল হাসান লিখেছিলেন—
দালান উঠছে তাও রাজনীতি, দালান ভাঙছে তাও রাজনীতি,
দেবদারু কেটে নিচ্ছে নরম কুঠার তাও রাজনীতি,
গোলাপ ফুটছে তাও রাজনীতি, গোলাপ ঝরছে তাও রাজনীতি!
মানুষ জন্মাচ্ছে তাও রাজনীতি, মানুষ মরছে তাও রাজনীতি!
এখন দালান ওঠা আর দালান ভাঙা রাজনীতি নয়। রাজনীতি হলো ছবি ওঠানো। ছবি নামানো। ছবি সরানো। বাংলাদেশে ছবি নামানোর রাজনীতি শুরু হয়েছিল ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার করার পর। ছবিই–বা বলি কেন, একসময় তাঁর নাম নেওয়াও ছিল অপরাধ। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা হলো, যারা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
তাই বাংলাদেশ ও ভারতের যাঁরাই ছবি-ডাকটিকিট-খাম-জাদুঘর নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদের আয়নায় একবার নিজেদের মুখ দেখতে বলব। ‘অন্যের চক্ষে ধূলি নিক্ষেপ করিয়া’ নিজের মহিমা বাড়ানো যায় না। ইতিহাসে যাঁর যেটুকু অবদান আছে, স্বীকার করুন। ইতিহাস যাঁরা গড়েন, ইতিহাস নিয়ে তাঁদের টানাটানি করতে হয় না। এই সরল সত্য ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতিকেরা মনে রাখবেন আশা করি।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab০3@dhaka.net

মিনা ট্রাজেডিতে সৌদি-ইরান বাকযুদ্ধ

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মিনায় পদদলিত হয়ে ৭৬৯ জন হাজী নিহতের ঘটনায় মুখোমুখি বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব ও ইরান। মিনা ট্রাজেডিতে ১৩৬ জন ইরানি নাগরিক নিহত ও তিন শতাধিক নিখোঁজ রয়েছে। এতে রিয়াদের অব্যবস্থপনা ও অবহেলাকে দায়ী করছে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব বলেছে, ইরান হজ নিয়ে রাজনীতি করছে। সিরীয় ও ইয়েমেন সংকটকে কেন্দ্র করে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে চলা উত্তেজনার মধ্যে দু’দেশের মধ্যে নতুন করে এ বিতর্ক দেখা দিল
সৌদির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব : ইরান
সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে কয়েকশ’ হাজী নিহতের ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রিয়াদের অব্যবস্থাপনায় ১৩৬ জন ইরানিসহ ৭৬৯ জন হাজী নিহত হয়েছে দাবি করে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ইসনা নিউজ এজেন্সির বরাতে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস জানায়, দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, ‘হাজীদের সঙ্গে যে অন্যায় করা হয়েছে, তার জন্য সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা আন্তর্জাতিক আদালত ও সমমনাদের প্রতি আহ্বান জানাব।’ ইব্রাহিম রাইসি দাবি করেন ‘এটা অপরাধ’। তিনি সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিনা থেকে জামারার দিকে পাথর নিক্ষেপ করতে যাওয়া মুসল্লিদের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সৌদি যুবরাজের বহরকে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। তবে সৌদি আরব এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সৌদিকে ক্ষমা চাইতে হবে-সর্বোচ্চ নেতা : ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনি বলেছেন, পবিত্র হজের সময় সংঘটিত দুর্ঘটনার জন্য সৌদি শাসকদের অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, সৌদি সরকারের দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খামেনি বলেন, ‘এ ঘটনা পবিত্র ঈদুল আজহাকে মুসলিম উম্মার কাছে শোকের অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে।’ হজের সময়কার দুর্ঘটনার কথা মুসলিম বিশ্বের কেউ ভুলে যাবে না বলেও উল্লেখ করেন সর্বোচ্চ নেতা।
তদন্তের দাবি রুহানির : মিনায় পদদলিত হয়ে কয়েকশ’ হাজীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। মিনার ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। শনিবার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে রুহানি এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। নিহত হাজীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
ইরান হজ নিয়ে রাজনীতি করছে : সৌদি
পবিত্র হজ নিয়ে ইরান রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের উদ্দেশে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জুবেরি বলেন, ‘বেদনাদায়ক এ ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করার চেয়ে ইরানিদের জানা উচিত হজপ্রত্যাশীদের পবিত্র হজ সম্পাদন সফল করতে সৌদি আরব কি পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যময় ইতিহাস।’ সৌদি পররোষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এটি নিয়ে রাজনীতি চলে না। আমি আশা করি ইরানি নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও চিন্তাশীল হবেন। তদন্তের ফলাফল না জানা পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে।
ইরানিদের নিয়ম লংঘনেই মিনায় পদদলন : প্রায় ৩০০ ইরানি হাজীদের একটি দল নিয়ম লংঘন করে উল্টো পথে হাঁটা শুরু করায় মিনায় পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে মিনায় অন্তত ৭৬৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যেই ইরানি হজ মিশনের এক কর্মকর্তা এ কথা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘৩০০ ইরানির একটি দল নিয়ম লংঘন করে মুজদালিফা থেকে জামারাতের দিকে হাঁটা শুরু করলে দুর্ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। তারা নিয়মানুযায়ী নিজেদের ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে ২০৩নং স্ট্রিটে উল্টো দিকে হাঁটতে থাকে।’
এ দুর্ঘটনা ‘মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে’-গ্র্যান্ড মুফতি : সৌদি আরবের প্রধান ধর্মীয় নেতা বলেছেন যে মক্কার মিনায় পদদলিত হয়ে ৭৬৯ হজযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ‘মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ ছিল। হজের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সৌদির আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। শুক্রবার মিনায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফের সঙ্গে এক বৈঠকে গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ আল-শেখ বলেন, ‘যা ঘটেছে তাতে আপনারা (সৌদি সরকার) দায়ী নয়। যেসব ঘটনা মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তার জন্য আপনাদের দোষারোপ করা যায় না।’

পোপ আমার প্রেমে পড়েছে : ম্যাডোনা

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান নেতা পোপ ফ্রান্সিস মার্কিন পপ কুইন ম্যাডোনার প্রেমে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন এ বিশ্বখ্যাত তারকা। ফিলাডেলফিয়ায় এক কনসার্টে ম্যাডোনা এ মন্তব্য করেন। পোপ ফ্রান্সিস প্রথম সফরে এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ম্যাডোনা তার কনসার্টের একটি অংশ ব্যয় করেন পোপকে উৎসর্গ করে। কনসার্টে অনেক নারী পারফর্মার সন্ন্যাসিনীর পোশাক পরে নৃত্যে অংশ নেয়। ম্যাডোন বলেন, ‘রুলস আর ফর ফুলস (বিধিবিধান বোকাদের জন্য)। এ কারণে আমি নতুন পোপকে পছন্দ করি। তাকে বেশ মুক্তমনা মনে হয়।’
পোপ ফ্রান্সিস চলতি সপ্তাহান্তে ফিলাডেলফিয়া সফরের মাধ্যমে তার যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করবেন। এর আগে ম্যাডোনা নিউইয়র্কে কনসার্ট করেন যেখানে এখনও অবস্থান করছেন ফ্রান্সিস। একথা উল্লেখ করে ম্যাডোন বলেন, ‘পোপ আমাকে চুপিসারে অনুসরণ করছেন। হয় তিনি আমাকে অনুসরণ করেছেন না হয় তিনি গোপনে আমার প্রেমে পড়েছেন।’ এরপর ৫৭ বছর বয়সী ম্যাডোনা উত্তেজক পোশাকে একটি টেবিলের ওপর ওঠেন এবং বলেন, ‘আমি এটা করেছি। পোপ কি এটা করতে পারবেন?’ রোমান ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম নেয়া ম্যাডোনা বিভিন্ন সময় ভ্যাটিকানকে ক্ষুব্ধ করেছেন। ১৯৮৯ সালে তার ‘লাইক এ প্রেয়ার’ গানটিতে ক্রস পোড়ানোসহ নানা দৃশ্যের মাধ্যমে ধর্ম অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্মীয় নেতারা। এপি।

শিক্ষকদের অসন্তুষ্টি কারও কাম্য নয় -শিক্ষামন্ত্রী by শরিফুজ্জামান

বেতনবৈষম্য ও মর্যাদার প্রশ্নে শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে শিক্ষাঙ্গনে চলছে একধরনের অস্থিরতা। এই অবস্থায় সরকারের করণীয় সম্পর্কে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলো'র বিশেষ প্রতিনিধি শরিফুজ্জামান
প্রথম আলো: এখন বছরের শেষ ভাগ। এক-দেড় মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমাপনী পরীক্ষা ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা। এরপর বার্ষিক পরীক্ষা। শিক্ষক আন্দোলনে শিক্ষার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কি?
নুরুল ইসলাম: শিক্ষকেরা শিক্ষার নিয়ামক শক্তি। তাঁরা অসন্তুষ্ট থাকুক, এটা কারও কাম্য নয়। ক্লাস বা পরীক্ষা না হলে শিক্ষার ক্ষতি তো হবেই। সেই ক্ষতির যুক্তি বা প্রয়োজন আছে কি না, তা বিবেচনা করার অনুরোধ করব। তাঁদের দাবি কীভাবে পূরণ করা যায়, সরকার সেই পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
প্রথম আলো: সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলছেন, আন্দোলন ও আলোচনা একসঙ্গে চলবে। এ প্রসঙ্গে সরকারের মনোভাব কী? তাঁদের মধ্যে কি আস্থার অভাব রয়েছে বলে আপনার মনে হয়?
নুরুল ইসলাম: আন্দোলন, আবেগ ও উত্তেজনার আর প্রয়োজন নেই। তবে আলোচনার আরও প্রয়োজন আছে। সরকার শিক্ষকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই মন্ত্রিসভার যে বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন হয়েছে, সেই বৈঠকে বেতনবৈষম্য নিরসনসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। আর তাঁদের মধ্যে আস্থার অভাব আছে কি না, এটা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাঁদের বলেছি যুক্তিসংগত প্রস্তাব দিতে। সেটি দিয়ে তাঁরা সরকারকে সহায়তা করবেন, না আন্দোলন করবেন—এটাও তাঁদের বিবেচ্য বিষয়।
প্রথম আলো: ২১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে শিক্ষকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন?
নুরুল ইসলাম: শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা যায় এবং কীভাবে এগোনো যায়, প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে কথা বলেছেন। তা ছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বেতনবৈষম্য নিরসনসংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক না হলে তো এই কমিটি হতো না।
প্রথম আলো: শিক্ষকেরা তাঁদের দাবি পূরণে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের। কত দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান মিলতে পারে?
নুরুল ইসলাম: শিক্ষকেরা কেন এমন আশঙ্কা করছেন, সেটি তাঁরা বলতে পারবেন। তবে কিছুটা সময় তো দিতেই হবে। জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন হওয়ার পর বেতন বুক তৈরির কাজ চলছে। এটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে এ কাজের জন্য আমরা বসে থাকছি না। ওই কাজও চলবে, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বেতনবৈষম্য নিরসনের কাজটিও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রথম আলো: আপনি বলছেন, সরকার শিক্ষকদের দাবির প্রতি আন্তরিক। কিন্তু সেই আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটাতে একটু বেশি সময় লাগছে কি না।
নুরুল ইসলাম: শিক্ষকদের দাবির প্রতি আন্তরিকতা না থাকলে তো আর নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হতো না। বলা হতো, মন্ত্রিসভা যেটা অনুমোদন করেছে সেটাই চূড়ান্ত। তা কিন্তু বলা হয়নি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, শিক্ষকেরা কিন্তু এখনো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। সবার মতো তাঁদেরও বেতন বা অন্য সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। গ্রেড পরিবর্তন বন্ধ হওয়া বা মর্যাদা অবনমন হওয়ার কারণে তাঁরা আর্থিকভাবে এখনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এমনটি নয়। আর পৃথক বেতন স্কেল না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান সব সুবিধাই তাঁরা পেতে থাকবেন। কিন্তু এসব বিষয় চট করে সমাধান করা যায় না। এ জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে।
প্রথম আলো: বিসিএস (শিক্ষা) শিক্ষকেরা এরই মধ্যে কয়েক দিন ধর্মঘট করেছেন, আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁদের বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবনা কী?
নুরুল ইসলাম: বিসিএস শিক্ষকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবিদাওয়া পেশ করার আগেই ধর্মঘট করলেন। ট্রেড ইউনিয়নও কিন্তু ধর্মঘটের আগে সরকারকে সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু সরকারি শিক্ষকেরা ধর্মঘট করার আগে আমরা ভালোভাবে তাঁদের দাবিদাওয়া জানতে পারলাম না। পরে অবশ্য খোঁজখবর নিয়ে জানলাম, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল না থাকায় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা এ বিষয়টি নিয়েও মন্ত্রিসভা কমিটিতে আলোচনা করব।
প্রথম আলো: শিক্ষার অন্য স্তরের দাবিদাওয়াগুলোর কী হবে?
নুরুল ইসলাম: বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাও গত জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন পাবেন। তাঁদের মধ্যে এখন আর অসন্তুষ্টি নেই। প্রাথমিক শিক্ষকদের বিষয়গুলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবে। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের যে সমস্যা হবে, তা নিয়েও পর্যালোচনা হচ্ছে।
প্রথম আলো: শিক্ষকদের প্রতি আপনার শেষ কথা কী?
নুরুল ইসলাম: শিক্ষা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে শিক্ষকদের বলব, আমাদের কাজ করার সুযোগ দিন। আপনাদের দাবি পূরণে আমাদের সহযোগিতা করুন, পরামর্শ দিন। আমরাও চেষ্টা করছি, করে যাব। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান।

মেয়ররা কতটুকু সফল হবেন? by হারুন-আর-রশিদ

গত ২৮ এপ্রিল তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিন কোনো-না-কোনো টিভি চ্যানেলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দেড় শতাধিক ওয়ার্ডের ওপর নানা সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছিল। কেমন আছেন দেশের বড় দু’টি শহরের প্রায় তিন কোটি মানুষ? মেয়র ও কমিশনার প্রার্থীরা মানুষের কাছে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- নির্বাচিত হলে এলাকার চেহারা পাল্টে দেবেন। নির্বাচন এলেই ভোটের প্রয়োজনে দেয়া এসব প্রতিশ্রুতির কথা প্রার্থীরা কেউ আর মনে রাখেন না। এলাকায় কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে বসে দু-একটি কথা বলে দায় সারেন বছরে দু-একবার এসে। নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক ব্যালান্স, আপনজনের ফরমায়েশি কাজে তাদের সময় কেটে যায়। নির্বাচন ও লোক দেখানো অনুষ্ঠানে যোগদান করা ছাড়া জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা বলতে গেলে নগণ্য।
ঢাকা মহানগরীর প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ যে কত কষ্টে আছে, সেসব লিখতে গেলে তা একটি বড় গ্রন্থে রূপ নেবে। ১৯৪টি রাষ্ট্রের রাজধানী শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায় সর্বনিম্নে। জাতিসঙ্ঘ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়নচিত্রে এসব কথা উঠে এসেছে। তার পরও দেশের নীতিনির্ধারকদের টনক নড়ছে না। একসময়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকারী ঢাকার অবস্থান স্বাধীনতার ৪৫ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে এত দুর্বল অবকাঠামো ও বর্জ্যরে শহর হিসেবে আন্তর্জাতিক লজ্জা অর্জন করার কথা ছিল না। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নিয়ে টকশো, নানা বিবৃতি ও আলোচনা সভা ছাড়া চেতনার আসল বিষয়গুলো নিয়ে কেউ ভাবছেন বলে মনে হয় না। প্রকৃত চেতনার সুফল হলো- উৎকর্ষ।
আমরা এক অসুস্থ সমাজে বাস করছি। ঢাকার বাতাসে বিষ, খাদ্যে বিষ, এমনকি পানিও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। স্কয়ার হাসপাতালের একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা শুনতে হয়েছে। জিজ্ঞেস করেছিলাম- হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে কেন? তখন তিনি ওই উত্তরটি দিলেন। আরো বললেন, ‘ঢাকাকে যদি ডিসেন্ট্রালাইজড করা না হয়, তাহলে রোগব্যাধি আরো বহুমুখী রূপ নেবে। বসবাসের অযোগ্য হবে ঢাকা।’ তাই বলছিলাম- নির্বাচনের সময় এলেই জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে একটি ভোটের জন্য যেভাবে বিনম্রচিত্তে আসেন, সেই ধার সারা বছর চালু রাখতে পারলে স্থানীয় সরকারের দায়িত্বটি পালনের যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন। মানুষ চায় তাদের দুঃখদুর্দশার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে। জনপ্রতিনিধিরা উপলব্ধি করুক তারা কিভাবে নগরীতে দিন অতিবাহিত করছে। আজ লোকাল গভর্নমেন্টকেও দলীয় খাঁচায় বন্দী করা হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার গত বছর ৫ জানুয়ারি যেভাবে হরণ করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এখন জনগণের নাগরিক অধিকারগুলোও খর্ব করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় যে মনোভাব নিয়ে মানুষের কাছে ধরনা দেন, সেটা পরবর্তী সময়ে আর দেখা যায় না। নির্বাচনকালে প্রতিটি ওয়ার্ডে টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার ছড়াছড়ি, প্রার্থীদের আনাগোনা এবং এলাকাবাসীর সাথে ডায়ালগ- এসব দেখলে মনে হয়, এরা কত দেশদরদি। মনে হয়েছিল, ঢাকাকে যত শিগগির সম্ভব তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করে ফেলবেন। কিন্তু ঢাকা শ্বাসরুদ্ধকর একটি নগরীতে পরিণত হয়েছে। কোথাও বিশুদ্ধ বাতাস নেই। ঢাকা মহানগরী ঘিরে চারটি নদী এখন ‘মৃত্যুকূপে’ রূপ নিয়েছে। পানি যেমন দূষিত, তেমনি দখলি রাজত্বে নদী এখন মৃতপ্রায়। নদীর যদি বাকশক্তি থাকত, তাহলে জোরগলায় এর প্রতিবাদ করত। সেচ, মৎস্য ও যাতায়াতে নদী দিচ্ছে সেবা, আর আমরা করছি দূষণ ও দখল। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীকে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, বিশ্বের পর্যটকেরাও জানেন ও চেনেন সিটিদ্বয় বর্তমানে যান, জন ও জলজটের শহর। অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা বিশ্বের কোনো শহরে হয় না- যেটা ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবলোকন করা যায়। ঢাকা শহরে শুধু নতুন এয়ারপোর্ট থেকে গণভবন ও বঙ্গভবন সংলগ্ন সড়ক দু’টি মোটামুটি চলনসই। বহির্বিশ্ব থেকে আগত মেহমানদের যাতে দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য ভিআইপি খ্যাত সড়ক দু’টি টেকসই করে তৈরি করা হয়েছে। বাকি সড়কগুলোর কোনোটির অবস্থা মানুষের নিরাপদ চলাচলের উপযোগী নয়। রাস্তায় ময়লাবাহী কনটেইনার পড়ে থাকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। প্রায় সব ওয়ার্ডে এই দৃশ্য দেখা যাবে। বায়ুদূষণের মূল কারণ যথাসময়ে, অর্থাৎ কাকডাকা ভোরে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না করা। প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকছে বছরে কয়েকবার খোঁড়াখুঁড়ির চরম অব্যবস্থা। স্থায়ী সড়ক নির্মাণের যে নিয়ম উন্নত বিশ্বে চালু রয়েছে, সেটি ২১ শতকেও বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারেনি। অবৈধ অর্থ আয়ের পথটি যাতে সারা বছর চালু থাকে, সে কারণেই সরকারি ইচ্ছায় কাজটি দলীয় লোকজনদের অবৈধ ভরণপোষণের জন্য চালু রাখা হয়েছে। এর ফলে যে নাগরিক সুবিধা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, সেটা সরকারের সুনজরে আসেনি। ভোগান্তি বাড়ছে এসব কারণে। প্রায় ওয়ার্ডেই রাস্তা ভাঙা নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে। আবর্জনা সড়কপথের দুই পাশে পড়ে থাকে। পানি যা পাওয়া যায়, তাও ময়লামিশ্রিত থাকার কারণে পানযোগ্য নয়। বিদ্যুতের যন্ত্রণা ছাড়াও যানজটে স্বাস্থ্যহানি ও বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। নিয়মিত ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসী দানবদের খুনখারাবি নগরীকে গ্রাস করেছে। অপরিকল্পিত নির্মাণ, অবৈধ স্থাপনা, নিম্নমানের স্যুয়ারেজ পাইপের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি উপচে পড়া। মহানগরীর প্রায় এলাকাবাসীর অভিমত, নগরীর প্রধান সমস্যা এই পয়ঃব্যবস্থা। বর্তমানে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষিত পানির সাথে যোগ হয়েছে স্তূপীকৃত আবর্জনা ও ট্যানারি বর্জ্য। সদরঘাট বা ওয়াইজঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের মুখে রুমাল দিয়ে লঞ্চে উঠতে হয়। বিশ্বের কোনো রাজধানী শহরে এ রকম দূষিত নদী আছে বলে আমাদের জানা নেই। আমরা বসবাস করছি বর্তমান ডিজিটাল সরকারের পশ্চাৎপদ চরম অ্যানালগ মহানগরীতে।
কিভাবে বলি ডিজিটাল সরকার? এখনো ডিজিটাল শব্দটির অর্থ আমরা জানি না। এশিয়ায় ডিজিটাল দেশ বলতে গেলে চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াকে বোঝায়। বাকিগুলো এখনো ডিজিটাল পূর্ণমাত্রায় অর্জন করতে পারেনি। ঢাকাকে দ্বিখণ্ডিত করা হলো- উত্তর ও দক্ষিণের নামে। মানুষ খণ্ডিত ঢাকা দেখতে চায়নি। এ দিকে দুর্নীতির রাস্তা আরো প্রসারিত হলো। ঢাকায় যে গণপরিবহনগুলো চলে, এমন যান বিশ্বের কোনো রাজধানী শহরে আছে বলে জানা নেই। ৪৫ বছর সময় একটি দেশের জন্য কম নয়। ঢাকা শহরটিকেই এখনো আধুনিক ছিমছাম শহরে আমরা পরিণত করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতে হবে। স্থানীয় সরকারকে যারা দলীয় সরকারে রূপ দিয়েছেন, তারা চরম ভুল করেছেন। কারণ, স্থানীয় সরকার বলতে আমরা বুঝি- এলাকার মানুষদের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার সরকার। সেটা এখন আর নেই দলীয় খাঁচায় বন্দী হওয়ার কারণে। দলীয় লোকদের ‘সেবাদান’ করেই তাদের সময় কেটে যাবে। জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনারও সময় পাবেন না দলীয় খাঁচায় বন্দী হওয়া মেয়র ও ওয়ার্ড কমিশনাররা। অনেকেই তাই ভাবছেন ভোট দিয়ে লাভ কী?
দলীয় মোড়কে আবদ্ধ নগরীর জনপ্রতিনিধিদের পরিচয় একটিÑ তারা বিশেষ দলের লোক। তাই দলীয় চরিত্রের বাইরে ভূমিকা পালন করা অসম্ভব। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকছে না বিধায় জনগণের কল্যাণসাধন অনেকটাই কঠিন করে তোলা হয়েছে।
‘পরিবর্তন সম্ভব, পরিবর্তন চাই’- এটা বাস্তবে রূপ নেবে না বর্তমান পরিস্থিতিতে। দলীয় নেতাদের মনোনীত প্রার্থীরা অনেকটাই ধার করা প্রার্থীর মতো। জনগণের পছন্দের প্রার্থী এবং দলের পছন্দের প্রার্থী এক না-ও হতে পারে। তিন সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের জবাবদিহিতার বিষয়টিও প্রকারান্তরে ছিনতাই করা হলো। মূল কথা হলো- তিন সিটি করপোরেশনের প্রার্থীরা যেসব চমক লাগানো ব্যানারে নগরবাসীর কাছে ভোটের জন্য হাজির হয়েছিলেন এবং ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন- তা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, সেটা বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে থাকছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব প্রশ্নের জবাব জনগণ খুঁজে নেবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী আনিসুল হক (ব্যবসায়ী নেতা) ১১ এপ্রিল ইশতেহার ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করেছিলেন পরিচ্ছন্ন সবুজ, আলোকিত ও মানবিক ঢাকা গড়ে তোলার কথা। সে কথা তার মনে আছে কি?
১১ এপ্রিল নিজের মালিকানাধীন জাদুটিভির কার্যালয়ে আনিসুল হক নির্বাচিত হলে পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা উত্তর ‘নির্দিষ্ট একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে নাগরিকদের সামনে দৃশ্যমান’ হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করেন। এ রকম চমক লাগানো ইশতেহার মেয়র হানিফ, মেয়র সাদেক হোসেন খোকাও ঘোষণা করেছিলেন ঢাকাকে সত্যিকার তিলোত্তমা নগরী হিসেবে জনগণকে উপহার দেবেন বলে। কার্যত আমরা উপহার পেলাম ইট-পাথরের বস্তির নগরী। খেলার মাঠও দখল হয়ে গেছে। দখল হয়ে গেছে ঢাকার ঐতিহ্য, শতাধিক খাল। যানজট ও জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে গেছে গোটা শহর। দখল হয়েছে ফুটপাথও। মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে পুরো মহানগরী। দলীয় সরকারের মেয়ররা জনগণের খেদমত বেশি করতে পারেন না, তার প্রমাণ বিগত আমলের দুই দলের প্রভাবশালী মেয়রদ্বয়। মেয়ররা জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করলে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে পরিচিতি পেত না। কবে এ দেশের নেতৃত্বদাতারা মানবিক মূল্যবোধে পূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনে সক্ষম হবেন? তা হলেই নগর-বন্দর-শহর, গ্রামগঞ্জ, জেলা, উপজেলা তথা গোটা বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে বিশ্বের দরবারে সুশৃঙ্খল জাতি আর উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদায় সমাসীন হবে।
লেখক : গ্রন্থকার ও গবেষক
Em.harunrashid@g.mail.com