Tuesday, October 1, 2019

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘গুরুতর’ মনে করেন বেশিরভাগ আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিকই মনে করেন নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপ দেওয়ার যেই অভিযোগ উঠেছে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, তা গুরুতর। এবিসি ও ইপসোসের করা এক জরিপের এই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতাই মনে করেন, এই অভিযোগ ‘অত্যন্ত গুরুতর।’ ২১ শতাংশ মনে করেন ‘কিছুটা গুরুতর।’ মাত্র ১৭ শতাংশ বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

খবরে বলা হয়, মূলত গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এক কর্মীর অভিযোগ ও খোদ হোয়াইট হাউজের প্রকাশিত ফোনালাপের বিবরণীর ভিত্তিতে বর্তমানে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত চলছে।

ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার কয়েকদিন পর ২৫শে জুলাই ডনাল্ড ট্রাম্প আলাপ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। সেখানে তিনি নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপ দেন। এমনকি এ বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জিলানি ও মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের সঙ্গে কাজ করারও পরামর্শ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, জো বাইডেন যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন তার ছেলে হান্টার বাইডেন ছিলেন বুরিজমা নামে ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির বোর্ড সদস্য। ট্রাম্পের অভিযোগ, বুরিজমা তথা নিজের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে তিনি তৎকালীন ইউক্রেনিয়ান প্রধান কৌঁসুলিকে বরখাস্ত করতে চাপ দেন।
অন্যথায়, মার্কিন সাহায্য বন্ধ হয়ে যাবে বলে হুমকি দেন।

বাইডেন যে ওই কৌঁসুলির পদত্যাগের জন্য চাপ দিয়েছিলেন, সেটি তিনি নিজেও অস্বীকার করেন না। কিন্তু তখন পশ্চিমা অন্যান্য দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ওই কৌঁসুলির অপসারণ দাবি করছিলেন। বাইডেন নিজের ছেলের জন্য কোনো অনৈতিক কাজ করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। এছাড়া তখন ওই কৌঁসুলির অধীনে বুরিজমা সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চললেও, মূলত ওইসব তদন্ত জোর দিয়ে না করা ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগেই পশ্চিমা দেশগুলো তার উপর ক্ষুদ্ধ ছিল।

অনেক পর্যবেক্ষকই তাই মনে করেন, ইউক্রেনকে দিয়ে বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালু করাতে পারলে ট্রাম্প একে সামনের নির্বাচনে আক্রমণ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

তবে ট্রাম্পের ফোনালাপের বিস্তারিত প্রকাশ হওয়ার পর, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেট স্পিকার ন্যান্সি প্যালোসি এতদিন এই বিষয়ে দ্বিধান্বিত থাকলেও, ইউক্রেনের ঘটনার পর তিনিও এই প্রক্রিয়ায় সমর্থন দিয়েছেন। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট মার্কিন করদাতাদের অর্থকে পুঁজি করে বিদেশী সরকারকে দিয়ে নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে তদন্ত করানোর জন্য চাপ দিয়েছেন, এই অভিযোগ সকল সীমা অতিক্রম করেছে।

সম্রাটকে নিয়ে কেন এত আলোচনা?

ক্যাসিনো ডন ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকেই আলোচনায় তিনি। গ্রেপ্তার হওয়াদের মুখেও ঘুরে ঘুরে আসছে তার নাম। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ ক্যাসিনো বসিয়ে তিনি শ’ শ’ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। র‌্যাবের অভিযানে সিলগালা করে দেয়া সব কটি ক্যাসিনোর নেপথ্যে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অভিযান শুরুর পরও নিজের ক্ষমতার দাপট দেখান সম্রাট। কাকরাইলের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে হাজারো নেতাকর্মীর শোডাউন করেন সেখানে। তখন থেকেই আলোচনা ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ গ্রেপ্তার হচ্ছেন নাকি তিনি অভিযানের বাইরে থাকছেন। এখন অবশ্য এই প্রশ্ন আর নেই।
তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরেই আছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন গুঞ্জনও আছে। ক্ষমতার বলয়ে দীর্ঘ দিনে সম্রাটের মতো অনেকের উত্থান হয়েছে। কিন্তু এই মূহুর্তে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন সম্রাট। কিন্তু কেন তাকে নিয়ে এতো আলোচনা? দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, যুবলীগের নেতা হয়ে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করা শুরু করেন। গড়ে তুলেন তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। এর মাধ্যমে নানাভাবে অবৈধ অর্থ আয় শুরু করেন। বিপুল এই অর্থ নিজের কব্জায় রাখতে তিনি সখ্য গড়ে তুলেন দলের প্রভাবশালী নেতা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে। সম্রাট তাদেরকে নিজের আয়ের অংশের ভাগ দিতেন। তাকে গ্রেপ্তার করলে তার কাছ থেকে সুবিধা নেয়াদের বিষয়টি প্রকাশ পাবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন এ কারণে সম্রাটকে গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ন। এছাড়া যারা তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন তারাও আছেন নাম প্রকাশ হওয়ার ভয়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, সম্রাট একটি গোয়েন্দা সংস্থার হেফাজতেই আছেন। তাকে হেফাজতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যই তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত আসলেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে। আর এই সংকেত পাওয়া যেতে পারে প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সংগঠনের পদ বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের পর ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, লোকমান হোসেন, শফিকুল আলম ফিরোজের মুখ থেকে বের হয়ে এসেছে সম্রাটের নাম। এত অভিযোগের পরও কেন সম্‌্রাটকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এ নিয়ে এখন দেশজুড়ে আলোচনা।
অপরাধ ও রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, সম্রাট একা নন। পর্দার আড়ালে আরও অনেক নায়ক আছেন। যাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগীতায় সম্রাট আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হয়েছেন। সম্রাট তার অপকর্ম নিয়ন্ত্রণে সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সংগঠন ও সংগঠনের বাইরের প্রভাবশালী নেতা, পুলিশ, কথিত সাংবাদিক নিয়ে বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। তাদের কাছে তালিকা করে মাসে মাসে টাকার ভাগ পাঠাতেন। ইতিমধ্যে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে সব মহলের বড় ধরনের একটি তালিকা পৌঁছেছে। এই তালিকায় যাদের নাম এসেছে তারাই এখন সম্রাটকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তাকে বাঁচাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলে লবিং চলছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থা সম্রাটকে গ্রেপ্তারের জন্য নজরদারিতে রেখেছিলো। এমনকি গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু একটি মহল তার গ্রেপ্তার এড়াতে নানা ফন্দি কষছেন। বোদ্ধারা মনে করছেন সম্রাটের কাছে এমন তথ্য আছে যেটাতে ফেঁসে যেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তি।
সম্রাটের বাড়ি ফেনির পশুরামপুরে। সেখানে তার পরিবারের কেউ থাকেন না। তার বাবা সাবেক রাজউক কর্মকর্তা ফয়েজ আহমদ চৌধুরী মারা গেছেন গত বছরের ডিসেম্বরে। তার মা সাহেরা খাতুন সম্রাটের সঙ্গে থাকেন না। তার বড় ভাই ফরিদ উদ্দিন আহমদ বাদল চৌধুরীর সঙ্গে তিনি ঢাকায় থাকেন। বাদল সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশুনা করতেন। বাদল ছাড়াও সম্রাটের ছোট আরেক ভাই আছেন। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির উপ সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। এদিকে অনেকটা নিস্তব্ধ হয়ে গেছে ক্যাসিনো ডন সম্রাটের কাকরাইলের অফিস। যেখানে রাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা নেতাকর্মীদের পদচারণায় ব্যস্ত থাকত। এই অফিস থেকেই সম্রাট তার সকল অপকর্মের ছক কষতেন। চাঁদাবাজি, ক্যাসিনোসহ নানা খাত থেকে প্রতি রাতেই টাকা আসত এই অফিসে। ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে যুবলীগ দক্ষিণের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।
ওই রাতেই তিনি সহস্রাধিক নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান করেন কাকরাইলের অফিসে। সেখান থেকেই তিনি বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি। দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে চিঠি দিয়ে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আশ্রয় নেন সরকারদলীয় এক প্রভাবশালী নেতার বাসায়। এখন ওই নেতার বাসায়ও তিনি নেই। স্ত্রী নিয়ে সম্রাট থাকতেন মহাখালী ডিওএইচএসের বাসায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সম্রাট বাসায় যাননি। সম্রাটের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি কয়েকদিন ধরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

রেনিটিডিনে ক্যান্সার ঝুঁকি: যেসব দেশ ঔষধটি প্রত্যাহার করেছে

বুকজ্বালা-পোড়ার জন্য যে ঔষধটি অনেকে নিয়মিত খেয়ে থাকেন সেই রেনিটিডিনের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে, এমন আশংকায় বিশ্বের অনেক দেশে ঔষধটি বাজার থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি খুচরো বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিভিএস এটির বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।
ক্যানাডা এবং ফ্রান্স এরই মধ্যে জ্যানটাক নামে বিক্রি হওয়া রেনিটিডিন বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই ঔষধটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তদন্ত শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা এবং এসব দেশের কর্তৃপক্ষ বলছেন, ঐ ঔষধটি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোন ঝুঁকি নেই। তবে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রেনিটিডিনের বিকল্প হিসেবে অন্য কোন ঔষধ গ্রহণ করতে বলছেন।

কেন এই সন্দেহ

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এবং ইউরোপের 'ইউরোপীয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) গত ১৩ই সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, রেনিটিডিন ঔষধটিতে 'এন-নাইট্রোসোডিমিথাইলামিনের (এনডিএমএ) উপস্থিতি পরীক্ষা করে দেখছে তারা ।
এনডিএমএ নামের এই উপাদানটি মানুষের দেহে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়। এই উপাদানটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করে এরকম একটা ধারণায় উপনীত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পানি, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, শাক-সব্জি সহ আরও অনেক খাবারে এনডিএমএ আছে স্বল্প মাত্রায়। তবে খুবই স্বল্পমাত্রায় এনডিএম মানুষের শরীরে সেরকম কোন সমস্যা তৈরি করে না।
রেনিটিডিন ঔষধটি মূলত যারা পাকস্থলীর আলসার বা বুকজ্বালা-পোড়ার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য।
যে কোন ঔষধের দোকান থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এটি কেনা যায়।

কারা কারা এটি প্রত্যাহার করেছে

যুক্তরাষ্ট্রে সিভিএস ছাড়াও এর আগে ওয়ালমার্ট, ওয়ালগ্রিনস এবং রাইট এইডের মতো কোম্পানি এর আগে রেনিটিডিন বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
ক্যানাডা এবং ফ্রান্সে ফার্মেসির তাক থেকে এগুলো তুলে নেয়া হয়েছে।
ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও এটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
স্যান্ডোজ, যেটির আসল মালিক নোভারটিস, তারাও কয়েকটি ব্যাচের রেনিটিডিন বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসিকে।
অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্যানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, হাঙ্গেরি, মেসিডোনিয়া, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে এটি হয় বাজার থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে বা তুলে নেয়া হয়েছে।
গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনও ভারত এবং হংকং থেকে জ্যানটাক নামে বাজারজাত করা রেনিটিডিন তুলে নিচ্ছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।
রেনিটিডিনের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে

জুয়া: আইন কী বলে? by রাশিম মোল্লা

প্রকাশ্য জুয়া আইন। ১৮৬৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের শাসনাধীন এলাকায় প্রকাশ্য জুয়া খেলার অপরাধে শাস্তি এবং সাধারণ ক্রীড়াভবনের ব্যবস্থা করার জন্য আইনটি প্রণয়ন করা হয়। এরপর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ আইন থাকা স্বত্বেও গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ক্যাসিনো সিলগালা ও বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কারো বিরুদ্ধেই ‘জুয়া  খেলার’ অপরাধে মামলা হয়নি। সব মামলা হয়েছে মাদক, মানি লন্ডারিং ও অস্ত্র আইনে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, ভিন্ন আইনে মামলার মূল কারণ জুয়া খেলা বন্ধে প্রচলিত আইনটি  দেড়শ বছরেরও অধিক পুরনো। ওই আইনে ‘ক্যাসিনো’ বলে কোনো শব্দই নেই। এ কারণে আইনটির কোনো কার্যকারিতাও নেই। তবে, ৭২’-এর সংবিধানে জুয়া নিষিদ্ধের ব্যাপারে বলা আছে। তাই জুয়া ঠেকাতে প্রয়োজন কার্যকরী ও কঠোর আইন। এ ব্যাপারে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ক্যাসিনো জুয়া ব্যাপকতা লাভ করেছে। তাই জুয়া খেলা বন্ধে বিদ্যমান আইনটি দ্রুত সংশোধন করে একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে থাকবে যাবজ্জীবন কারদন্ডের বিধান। ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনোর লাইসেন্স দেয়ার যুক্তিকতা প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বলেন, যুব সমাজ ধ্বংসকারী ক্যাসিনোর লাইসেন্স দেয়া কোনো মতেই সঠিক হবে না। লাইসেন্স দেয়া হলে এটি হবে সংবিধান বিরোধী। জুয়া বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রুলটি নিষ্পতি করতে এটর্নী জেনারেল অফিসের উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা দরকার ছিল বলে তিনি মনে করেন। রুলটি নিষ্পত্তি হলে হয়তো আদালতের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা আসত। এটা হলে ক্যাসিনোর মতো জুয়া হয়তো এতটা ব্যাপকতা লাভ করতো না। একই কথা বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জুয়া শাস্তি যোগ্য অপরাধ। যেহেতু জুয়া খেলার ধরন পাল্টাচ্ছে, সেহেতু আইনটিকে যুগোপযোগী করতে হবে।  ক্যাসিনো জুয়ার লাইসেন্স দিতে হলে অবশ্যই সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কেননা, সংবিধানে জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে বলা হয়েছে।    

২০১৩ সালে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জুয়াখেলার অনুমতি চেয়ে করা একটি রিট খারিজ করে রায় দেয়। কিন্তু ওই রায়ের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জুয়া খেলা দন্ডনীয় অপরাধ। ফলে গ্রামের দরিদ্র শ্রেণির মানুষ জুয়া খেলতে পারছেন না। তবে শহরের ধনীরা আইনের ফাকফোকরকে কাজে লাগিয়ে এখনো চলছে জুয়া। চলছে জুয়ার আপডেড ভার্সন ক্যাসিনো খেলা।

কী আছে বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইনে? এই আইনের ১ ধারায় সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,  এই আইন প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ নামে অভিহিত হবে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে। ‘জুয়া’ খেলা শব্দ দ্বারা জুয়া বা বাজি ধরা বোঝাবে (কেবল ঘোড়দৌড়ের জন্য ধরা বা জুয়া খেলা ব্যতীত)। খেলার কাজে ব্যবহৃত যে কোনো হাতিয়ার বা সামগ্রী ‘ক্রীড়াসামগ্রী’ শব্দের অন্তর্গত। ৩ ধারায় বলা আছে, এ ধরনের জুয়া খেলা দন্ডনীয় অপরাধ। যে কোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদন্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন। এ রকম কোনো ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যে কোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে জুয়ারত বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদন্ড বা ১০০ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।

আইনের এসব ধারা ও যুক্তি তুলে ধরে ২০১৬ সালে জুয়াখেলা বন্ধের দাবিতে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সামিউল হক ও রোকন উদ্দিন মো. ফারুক দুই আইনজীবী একটি রিট মামলা দায়ের করেন। ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি নামিদামি ক্লাবে সব ধরনের জুয়াখেলার ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ক্লাবগুলোয় এ ধরনের জুয়াখেলা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং জুয়াখেলার আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে ১-১২ নং বিবাদীদের ওপর রুল জারি করেন। বিবাদীরা হলো- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা ডেপুটি কমিশনার, চট্রগ্রাম ডেপুটি কমিশনার, খুলনা ডেপুটি কমিশনার, সিলেট ডেপুটি কমিশনার, নারায়নগঞ্জ ডেপুটি কমিশনার।   কিন্তু ঢাকা ক্লাবের এক আবেদনে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। যদিও আপিল বিভাগ জুয়া খেলা বন্ধে হাইকোর্টের জারি করা রুল ৮ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সকল পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৪১ সপ্তাহ পার হলেও রুলটি নিষ্পত্তি হয়নি।

এরফলে, আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা নিয়েই অভিজাত ওই ক্লাবগুলোতে চালানো হচ্ছে জুয়া খেলা। ক্লাবগুলো হচ্ছে- ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, বনানী ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, ঢাকা লেডিস ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, খুলনা ক্লাব ও সিলেট ক্লাব। রিটের পক্ষের আইনজীবী রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ওই সময় বিবাদীদের রুলের জবাব দেয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিবাদীরা এখনো রুলের জবাব দেননি। হাইকোর্টের দেয়া রুলটি নিষ্পত্তি হলে এবং জুয়া বন্ধে রায় আসলে ১৩ ক্লাবসহ কোনো ক্লাবে ক্যাসিনোর মতো জুয়া চালানো সম্ভব হতো না। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্লাবগুলোতে জুয়া খেলা চলছে। অবকাশের পর এ রিটের চূড়ান্ত শুনানির উদ্যোগ নেব। অপরদিকে, ঢাকা ক্লাব ও উত্তরা ক্লাবের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আপিল বিভাগের আদেশের পরে হাইকোর্ট বেঞ্চটি ভেঙে যায়। এ কারণে রুলটি নিষ্পত্তি হয়নি। আর ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। দীর্ঘদিনেও বিষয়টি শুনানির উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়নি সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, সরকার জুয়া খেলাকে বৈধতা দিয়েছে। কেননা সরকার জুয়া বন্ধ করতে চাইলে দ্রুত রুলটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতো। ৩৩ মাসেও শেষে হলো না কেন? রুলটি নিষ্পত্তি হলে ১৩ ক্লাবসহ অন্যরাও জুয়া খেলা চালিয়ে যেতে পারত না। সরকার ক্লাবগুলোতে ক্যাাসিনো খেলা বন্ধে এখন অভিযান পরিচালনা করছে।  ওই সময় যদি জুয়া খেলা বন্ধের রুলটি নিষ্পত্তি করতে পারতো তাহলে আজ ক্লাব গুলোতে ক্যাসিনো খেলার আয়োজন করতে পারতো না।

সমাজ এবং আমাদের দায়িত্ববোধ by মাহবুব এ রহমান

বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন ‘মানুষ সামাজিক জীব’। মানুষ কখনো একা বাস করতে পারে না। মানবসভ্যতার আদিকাল থেকেই মানুষ একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে বা সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে সমাজের। কিছুসংখ্যক মানুষ একই উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে বসবাসের নামই হলো সমাজ।

সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার সমাজের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে সামাজিক সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ‘যে সব সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে আমরা জীবনধারণ করি, সেসব সম্পর্কের সংগঠিত রূপ হলো সমাজ।’

সমাজবিজ্ঞানী জিসবার্টের সংজ্ঞানুযায়ী, ‘সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের জটিল জাল, যে সম্পর্কের দ্বারা প্রত্যেক মানুষ তার সঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত’ মোটকথা আমরা এসব কথা বিশ্লেষণ করলে পাই যে, মানুষের পক্ষে একা বাস করা বা জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। ফলে ধীরে ধীরে মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য সমাজ সভ্যতা গড়ে তুলেছে। সমাজে মানুষ এমন সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকা উচিত যাতে একজনের সুখে-দুখে অন্যজন অংশীদার হতে পারে। একজনের বিপদে অন্যজন পাশে এসে সাহায্যের হাত প্রসারিত করতে পারে। সমাজের এবং দেশের একজন সুনাগরিক হতে হলে সমাজের প্রতি রয়েছে দায়-দায়িত্ব বা কর্তব্যবোধ। একজন সুনাগরিক শুধু নিজের জন্য বা নিজের ভালোর জন্য চিন্তা করেন না, শুধু নিজের অগ্রগতি কিংবা উন্নতি চিন্তা করে না বরং নিজের অগ্রগতির পাশাপাশি সমাজের অন্য মানুষদেরকেও এগিয়ে নেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালান। পুরো সমাজকে এগিয়ে নিতে, উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে চেষ্টা করেন। আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সমাজে বসবাস করি। প্রত্যেকই কোনো না কোনো সমাজের নাগরিক। একটি সমাজের নাগরিক হিসেবে সেই সমাজের প্রতি আমাদেরও রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ। সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে সবার উচিত শুধু নিজের কথা না ভেবে, শুধু নিজের ভালোর কথা চিন্তা না করে সমাজের ভালো চাওয়া এবং সমাজের উন্নতি কামনা করা। অনেক সময় সমাজের সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে নিজের একার ভালো বা উন্নতি বিসর্জন দিতে হয়। সমাজের জন্য ত্যাগ করতে হয়। তবেই একজন সুনাগরিক হওয়া সম্ভব। নচেত্ আমরা যে যেই সমাজেই বসবাস করি না কেন সমাজের প্রতি যদি দায়বোধ না থাকে তাহলে কোনোক্রমেই একজন সুনাগরিক কিংবা সামাজিক হওয়া সম্ভব নয়। একটি সমাজে সব ধরনের লোক থাকে। উঁচু-নিচু, চেনা-অচেনা কিংবা বিত্তবান বা বিত্তহীন। সকলের প্রতি বিবেক জাগ্রত রেখে কাজ করে যেতে পারলে তবেই সমাজের উন্নতি সম্ভব। সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে সমাজের সবাইকে নিয়ে ভাবা উচিত। সবার উন্নতি এবং মঙ্গলের কথা চিন্তা করা কর্তব্য। নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যদেরও এগিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করা উচিত। সমাজের সকল মানুষ এগিয়ে গেলে তবেই সমাজ এগুবে। সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার মাধ্যমেই আমাদের পক্ষে একজন প্রকৃত সামাজিক হয়ে ওঠা সম্ভব।

>>>লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

ইতিহাসে প্রথম ব্ল্যাক হোলে নক্ষত্র পতনের দৃশ্য ধারণ

এ ধরনের একটি দৃশ্য ধারণ করা অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিন। কিন্তু মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সেটিকে সম্ভব করেছে। কৃত্রিম উপগ্রহ ও রবোটিক টেলিস্কোপের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংস্থাটি একটি নক্ষত্রের ব্ল্যাক হোলে পতনের দৃশ্য ধারণ করেছে। কৃষ্ণ গহ্বর বা ব্ল্যাক হোলে নক্ষত্রের মৃত্যু অতি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও সে মুহূর্ত ধারণ করা মানব ইতিহাসে এটিই প্রথম।
সুপারম্যাসিভ ওই ব্ল্যাক হোলটি আমাদের সূর্য্য থেকে অন্তত ৬০ লাখ গুণ বেশি ভরের। এটি পৃথিবী থেকে ৩৭৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে। ব্ল্যাক হোলটি তার গ্যালাক্সির একদম কেন্দ্রে অবস্থিত। যেই নক্ষত্রটিকে গ্রাস করে ওই ব্ল্যাক হোলটি সেটির আকৃতি আমাদের সূর্য্যের সমান।
যখন একটি নক্ষত্র ব্ল্যাক হোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় তখন এটিকে শোষণ করে নিতে থাকে ব্ল্যাক হোল। গবেষক দল ৪২ দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে ওই মুহূর্তটি ধারণ করেছেন।

যে কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমছে by মিনাম শাহ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বেশির ভাগ সময়ই দক্ষিণ এশিয়া, এ বছরের শুরু পর্যন্ত, শান্ত ছিল। এ সময়ে এ অঞ্চলের দুই প্রধান যুদ্ধংদেহী প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান তো পারমাণবিক যুদ্ধের ভিতর প্রায় প্রবেশ করেছিল। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আধা সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে ‘ডগফাইট’ হয়। এর ফল হিসেবে ভারতীয় একজন পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। সীমান্তের ওপাড় থেকে কিভাবে সন্ত্রাসীদের হামলায় মদত দেয়া হচ্ছে, তার জবাবে ভারত কি অবস্থান নেবে, এই এপিসোডটি তারই একটি বড় বার্তা বহন করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছিল সে সময়ের পর এবারই প্রথম সীমান্ত অতিক্রম করেছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। আর তা বোমা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডে।
স্বভাবতই, এটা প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, এ অঞ্চলে বিরোধ নিস্পত্তিকারী যুক্তরাষ্ট্র এই উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করবে। কিন্তু ১৯৯০ এর দশকের শুরুর পর থেকে এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র এই সঙ্কট সমাধানে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখে নি।
এর আগে ১৯৯০ সালে যখন কাশ্মীরে সবেমাত্র বিদ্রোহ এবং একটি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে তখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ দক্ষিণ এশিয়ায় তার সিআইএ পরিচালককে পাঠিয়েছিলেন আঞ্চলিক নেতাদের মাথা ঠান্ডা করতে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর এক বছর পর ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধ বন্ধে এককভাবে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। একইভাবে ২০০১-২০০২ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। ওই সময় ভারতীয় পার্লামেন্টে হামলার পর দুই দেশই তাদের সেনাদের মোতায়েন করতে থাকে। তখন ১০ মাস স্থায়ী সেই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার ইতি ঘটাতে মধ্যস্থতা করে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে (বাফার) আমেরিকার ভূমিকা দৃশ্যত স্থায়ী হয়ে ওঠে যখন তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিসা রাইস পরিমড়ি করে এ অঞ্চলে ছুটে আসেন ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর একটি সম্ভাব্য সামরিক যুদ্ধ প্রতিরোধে। যুক্তরাষ্ট্র শুধু যুদ্ধ থামানোর ভূমিকা নিয়েছে এমন নয়। তারা বিভিন্ন সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বৈরি এই দেশ দুটিকে শান্তি আলোচনায় বসতে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের সেই ভূমিকা তেমন কার্যকর হয় নি। কারণ, যেমন ভারত, তেমন পাকিস্তান- তারা কেউই চায় নি তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বাইরের কেউ প্রভাব বিস্তার করুক। তারা এক্ষেত্রে একপক্ষ অন্যপক্ষের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। তবুও সর্বোপরি শান্তি ও যুদ্ধÑ  উভয় ক্ষেত্রেই ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কেন্দ্রীয় অবস্থানে চলে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
কিন্তু সাম্প্রতিক সঙ্কট থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেছে, তার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে তারা। পূর্বেকার মতো ঘটে নি এবার। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সিনিয়র কর্মকর্তাকে ফুলেফেঁপে ওঠা সঙ্কট নিয়ন্ত্রণে পাঠানো হয় নি। সর্বোচ্চ যা ঘটেছে তা হলো, হামলার সময়ে দু’বার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তিনি ‘আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ভারতের’ অধিকার আছে বলে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এমনকি এর মধ্য দিয়ে এই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, এটা হলো ভারতের সামরিক হামলার একটি কৌশলগত অনুমোদন। বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে হামলা চালাতে ভারতকে বিরত রাখতে যথেষ্ট উপায় অবলম্বন করে নি। এমন প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে দেখা যেতে পারে সঙ্কট থেকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে নিজেদের সরিয়ে নেয়া হিসেবে। খারাপ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র কম শক্তিসম্পন্ন একটি দেশ পাকিস্তানকে ভারতের বিমান হামলার প্রতিশোধমূলক জবাব দেয়া থেকে প্রতিরোধ করতে পারে না। দৃশ্যত, যুক্তরাষ্ট্র শুধু তখনই হস্তক্ষেপ করেছে যখন পাকিস্তান হামলার জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার পূর্ব পর্যন্ত তারা ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি অনুসরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নীতির সমর্থকরা বিষয়টিকে প্রধানত চারটি যুক্তির সঙ্গে দেখেন। অতি সাম্প্রতিক একটি দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হলো অতিমাত্রায় বিস্তৃত ও অতিমাত্রায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। এটা সত্য যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র সারাবিশ্বে অতিমাত্রায় জড়িত বা সংশ্লিষ্ট। তিনি মনে করেন, বিশ্বের এসব প্রতিশ্রুতি থেকে তার সরে যাওয়া উচিত। কিন্তু এই অবস্থান এমন অনুভূতি সৃষ্টি করে যে, এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণের রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে। যাহোক, দক্ষিণ এশিয়া, প্রতিশ্রুতির সমস্যার চেয়ে নীতিগত দিক দিয়ে প্যারালাইসিস হয়ে আছে বলেই নিজেকে তুলে ধরে। ভারত বা পাকিস্তান কোথাও যুক্তরাষ্ট্র তার উল্লেখযোগ্য ‘ফিজিক্যাল’ উপস্থিতি প্রদর্শন করে নি। এক্ষেত্রে বড় যা করা হয়েছে তা হলো, গত বছরে পাকিস্তানকে দেয়া আর্থিক সহায়তার বড় কর্তন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি ক্ষমতায় এসে যে ‘ক্র্যাক ডাউন’ করেছেন তাতে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরিবর্তে সমস্যা যেটা তা হলো, এ অঞ্চলটি ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকার নি¤েœ অবস্থান করছে। সর্বশেষ সঙ্কটের বিষয়টিই জোরালোভাবে তুলে ধরা যাক। এ সময়ে একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত তো পরের কথা, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্থায়ী রাষ্ট্রদূতই নেই, যিনি সঙ্কটকালে পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে রয়েছে ক্রমবর্ধমান অসংলগ্নতা। ইরানের অশোধিত তেল আমদানি করে ভারত। তাই ভারতের মতো দেশগুলো আর ‘ওয়েভার’ সুবিধা পাবে না বলে গত মাসে ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। একইভাবে, ২০১৭ সালের পর ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আর কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয় নি। সহসাই হবার সম্ভাবনাও কম।
দ্বিতীয় ও অধিক বিশ্বাসযোগ্য যুক্তিটি হলো, চীনকে দমিয়ে রাখতে ভারতকে প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের। এক্ষেত্রে, ভারতের পক্ষ নেয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। যেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের রয়েছে জেনুইন ক্ষোভ। উভয় বিষয়ই সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক। ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে এবং কেন্দ্রাভিমুখি স্বার্থের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের কৌশলগত একটি আবেদন আছে। অভিন্ন এসব বিষয় চিন্তা করুন; অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূলবোধ, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইসলামপন্থি উগ্রবাদীদের বিষয়ে উদ্বেগ, চীনের আগ্রাসী উত্থান, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত ও ইন্দো-প্যাসিফিকে ভূরাজনৈতিক রূপরেখা প্রণয়ের বিষয়। দুই দেশের মধ্যেই এসব হচ্ছে কেন্দ্রাভিমুখী কৌশলগত ক্রমবর্ধমান স্বার্থ।
তবে পাকিস্তানের গুরুত্বকেও খাটো করে দেখা যাবে না। চীনকে কাউন্টার দিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেমন ভারতকে প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন পাকিস্তানকে পাশে রাখা। ভারত পূর্বমূখী নীতিতে জোর দিয়েছে, তবে তাদের প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল পশ্চিমা ফ্রন্ট, যাতে পাকিস্তানের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য লিভারেজ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে পাকিস্তানের ওপর অতিমাত্রায় চাপ প্রয়োগ করার প্রকৃত অর্থ হতে পারে উল্টোমুখী। এতে পাকিস্তান আক্ষরিক অর্থেই চীনের বৃত্তে চলে যাবে। এমন একটি প্রেক্ষাপট যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত কারো কাছে কাঙ্খিত নয়।
তৃতীয় যুক্তিটি হলো, উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকে দেখা হয় পাকিস্তানের খারাপ আচরণের নিন্দা জানানো হিসেবে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে হস্তক্ষেপ করেছে তা হলো নয়া দিল্লির প্রতি তাদের সহানুভূতি। ইসলামাবাদকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সমর্থন বন্ধ করতে আহ্বান জানায় নয়া দিল্লি। তার অর্থ হলো প্রতিবারই দিল্লিকে সহানুভূতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যা ঘটে তা হলো, পাকিস্তান বিরোধী ভারতীয় উদ্বেগকে বৈধতা দিয়ে আন্তর্জাতিকীকরণকে সহায়তা করা।
শেষ দফায়, দৃশ্যত মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে সুবিধাজনক অবস্থান হলো, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে দিচ্ছে যে, পাকিস্তানের আগ্রাসনের জবাব সে কিভাবে নিতে চায় সে সিদ্ধান্ত তার, যেমনটা দেখা গেছে সাম্প্রতিক সঙ্কটের সময়। কিন্তু এক্ষেত্রে চিরস্থায়ী একটি সম্ভাব্যতা আছে। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার ও অন্য রাষ্ট্রগুলোতে মধ্যস্থতার শূন্যস্থান পূরণে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উদাসীনতা দ্বিধার সৃষ্টি করবে।
সম্প্রতি এ বিষয়টিই দৃশ্যমান হয়েছে, যখন উত্তেজনা প্রশমনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া ও চীন। উত্তেজনা কিছুটা কমে আসার পর এক সাক্ষাতকারে পাকিস্তানের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, যদি আমি বলি অন্যদের মধ্যে রাশিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তাহলে তা মোটেও বাড়িয়ে বলা হবে না। একইভাবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একইভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছে চীন। উপরন্তু, খুব সম্ভবত চীন থেকে আসা চাপের কারণে ভারতীয় আটক পাইলটকে ফেরত দিয়েছে পাকিস্তান।
পক্ষান্তরে, ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের থেকে অভিন্ন নয় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। এসব শক্তিধর দেশ ভারতের অবস্থানকে অনুমোদন দিয়েছে এবং তারা চুপচাপ বসে থাকার নীতি নিয়েছে। এমন প্রবণতায় বিশ্বজুড়ে শুভ প্রচেষ্টায় দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপরন্তু সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের পক্ষকে সমর্থন করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মূলত দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এমন কি বাইরের গঠনমূলক প্রভাব থেকে কম সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যাগুলো। তবু, দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরত রাখা উচিত নয়। সবার আগে যা বলতে হয় তাহলো, এ অঞ্চলের বিষয়কে শুধু ইন্দো-পাক দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দেখা বন্ধ করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। এমন দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশের সঙ্গে গুরুত্বকে খাটো করে দেখা হয়। এ দুটি দেশ এ অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক স্বার্থের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খুব সহায়ক। বিশেষ করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে এবং তার দায় স্বীকার করেছে আইসিস সমর্থনপুষ্ট একটি গ্রুপ, সেই হামলা অধিক গুরত্বপূর্ণ একটি মাত্রা যোগ করেছে। আফগানিস্তানে আইসিসের উপস্থিতি মিলেয়ে দক্ষিণ এশিয়া দ্রুত আইসিস নেতৃত্বাধীন একটি জোটের নতুন ফ্রন্ট হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এসব হুমকি মোকাবিলার জন্য আঞ্চলিক এসব সক্রিয় অংশীদার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের।
পাকিস্তান প্রসঙ্গে, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শুধু মৌখিক হুমকি যথেষ্ট নয়। সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের সমর্থনের কারণে দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তিমূলক সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থনৈতিক সঙ্কট যখন ঘনিয়ে আসছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র অতি প্রয়োজনীয় আইএমএফের বেইলআউট থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তানকে উচ্চ মাত্রায় প্রিমিয়াম দিতে পারে। একইভাবে, ফিনান্সিয়াল একশন টাস্ক ফোর্স এরই মধ্যে পাকিস্তানকে ‘গ্রে লিস্টে’ তালিকাভুক্ত করেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অর্থায়নে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য এমনটা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে যায় সেক্ষেত্রে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে কাশ্মিরে ভারতের কঠোরতার বিষয়টিও চেক দিতে দেয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। গত বছর জাতিসংঘ প্রথমবার কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। তবে কাশ্মির ইস্যুতে বাইরের প্রেসক্রিপশন নিতে সব সময়ই বিরোধিতা করে এসেছে ভারত। এক্ষেত্রে কাশ্মির সমস্যাকে নমনীয়তার সঙ্গে মোকাবিলার জন্য ভারতকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
সাদা চোখে এটা মেনে নিতে হবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজেকে সরিয়ে নেয়ার যে ভূমিকা নিয়েছে তাতে অধিক থেকে অধিক হারে এখানে শিকড় গাঁড়বে চীন অথবা রাশিয়া। সম্প্রতি জাতিসংঘ মাসুদ আজহারকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে আগে যে বিরোধ ছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে চীন। ফলে ভারতের শুভকামনা অর্জন করেছে দেশটি। আর এর মধ্য দিয়ে ইন্দো-পাক গতিবিধিতে নিজেদেরকে সফলভাবে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে চীন ও রাশিয়া। সঙ্কটের সময়ে তারা প্রতীকী অর্থে পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। একইভাবে এ অঞ্চলে পাকিস্তানের সঙ্গে শীতল যুদ্ধের সময় যে বিরোধ ছিল তা থেকে সাবধানে নিজেকে বের করে এনেছে ক্রেমলিন এবং দেশটির সঙ্গে তারা সম্পর্ক উন্নত করেছে। ভারতের সঙ্গে তাদের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে, তাতে এর প্রভাব লাগতে দেয় নি রাশিয়া। বেইজিং এবং মস্কো দু’পক্ষই দক্ষিণ এশিয়ার বৈরিদের মধ্যে কখনো সমাপ্ত হবে না এমন এই সঙ্কট কিভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে সমতাভিত্তিক উদ্যোগ প্রদর্শন করেছে, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই শিখতে হবে।
এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে মেনে নিতে হলে এসব সুপারিশ গ্রহণযোগ্য। যারা এটার পক্ষে যে, ওয়াশিংটন এমন ভূমিকা থেকে নিজের ভূমিকাকে খর্ব করলে তাতে শক্তির একটি কি ভয়াবহ শূন্যতা সৃষ্টি হবে, তারা তা জানেন। এ অঞ্চলে রয়েছে আফগানিস্তানে শাস্তি প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উচ্চাকাঙ্খা। এ অঞ্চলের এসব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। এই বিষয়টিকে অনুধাবন করে তাদেরকে আঞ্চলিক সম্পর্ক, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কে অনেক বেশি করে জড়াতে হবে। সেটা যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চল উভয়ের ভালোর জন্য।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এই উপমহাদেশ সফরে এসেছিলেন। তার সেই সফরের সময় তিনি যুদ্ধবিরতি রেখা (চিজফায়ার লাইন), যা ভারত ও পাকিস্তানকে বিভক্ত করেছে, সেই রেখাকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক স্থান হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বিষয়টি সেরকম সত্য আজও। যাহোক, ট্রাম্প প্রশাসনের সচেতনার অভাব আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে, যখন সাম্প্রতিক সঙ্কট আমাদেরকে এমন এক বিপদের মুখে ফেলে যায়, যেখানে এ অঞ্চলকে ফেলে রাখা হয় তার নিজস্ব বিবেচনার ওপর।
(মিনাম শাহ কাশ্মিরভিত্তিক আন্তর্জাতিক রাজনীতির ছাত্র এবং এশিয়ান পিস রিভিউ-এর সম্পাদক। অনলাইন ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ডট অর্গ-এ প্রকাশিত তার লেখার অনুবাদ)

ওয়ান ইলেভেন পুনরায় ঘটবে না: যদি কোনো অনিয়ম থাকে আমি ব্যবস্থা নেবো -প্রধানমন্ত্রী

দেশে ১/১১ (ওয়ান ইলেভেন)-এর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা বলাই যায় যে, ওয়ান ইলেভেন পুনরায় ঘটবে না। যদি কোন অনিয়ম থেকে থাকে, আমি ব্যবস্থা নেব, আমরা ব্যবস্থা নেব এবং সে যেই হোক, এমনকি আমার দলের লোক হলেও ছাড় দেবো না।

যদি দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিতে চাই তা তার নিজ ঘর থেকেই শুরু করতে হয়- মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় রোববার রাতে নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে বাংলাদেশ মিশনে আয়োজিত সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগে থেকেই ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে ১/১১-এর মতো কোনো ঘটনা দেশে আর ঘটতে না পারে। শেখ হাসিনা বলেন, কিছু মানুষ আছে, যারা ধনসম্পদ দেখাতে অভ্যস্ত, যা তারা হঠাৎ করে পেয়েছে। সমাজের এমন লোকদের একটা ধাক্কা দেয়া প্রয়োজন। জনগণের কল্যাণের জন্য তিনি রাজনীতি করেন জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছি।
সর্বদা তাদের কল্যাণ নিয়েই ভাবছি। দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার কারণে তার দল যাতে সমাজে কোনো খারাপ প্রভাব ফেলতে না পারে এ জন্য সতর্ক রয়েছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি এটিকেও সামাল দিতে চাই। এ জন্যই আমি এই অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযানের কারণে একাংশ অসন্তুষ্ট হতে পারে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি এটার পরোয়া করি না। কেননা আমার ক্ষমতা এবং সম্পদের প্রতি কোন মোহ নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য কোন বিশেষ কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই। দুর্নীতির তথ্য পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি, আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সেল গঠন করেছি এবং তাদের সময় মত নির্দেশনা প্রদান করছি। অভিযান চলতে থাকবে, এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ সমাজকে বিষাক্ত করবে এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি নিজে এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, অভিযানে যারা অখুশি তাদের জন্য আমার কোনো মায়া নেই। কারণ, দেশের প্রতিটি মানুষ সুখী হোক এবং আরও উন্নত জীবন যাপন করুক- এটাই আমি চাই। খেলাধুলার সামগ্রী আমদানির নামে জুয়া খেলার যন্ত্রপাতি দেশে প্রবেশ করতে পারে- এমনটি তার কাছে অকল্পনীয় ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প প্রস্তুতি থেকে শুরু করে কাজ পাওয়ার জন্য অর্থ বিতরণের সুযোগ নিয়ে কিছু লোক বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছে। এই অর্থ চটের বস্তাতেও লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে যে কোন ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতা রোধে সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা প্রায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে। এখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে বহু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ওই সব প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হবে এবং এসব কাজও সম্পন্ন হবে নির্বিঘ্নে।

রোহিঙ্গা ইস্যু
এদিকে রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার এ সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং তাদেরকে এর দায়ভার বহন করতে হবে। মিয়ানমার যা-ই বলুক না কেন, সমস্যার সমাধান তাদেরই দিতে হবে। রাখাইনে ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার দাবি নাকচ করে জাতিসংঘে দেয়া মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের নেতার বক্তৃতার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নাগরিক অন্য দেশের শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে, এটা মিয়ানমারের জন্য লজ্জার, অসম্মানের। একই সঙ্গে এটা তাদের দুর্বলতা। আমাদের কাছে খুব বড় প্রশ্ন যে, কেন তারা তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে না? শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে তাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে মিয়ানমারের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে, যেন তারা বাসভূমিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যায়।

ট্রাম্পকে দেয়া ফাইল প্রসঙ্গে
ওদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দেয়া ফাইল বা চিঠি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন যে, তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যাহ্নভোজে ডনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী জাতির পিতার খুনীদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার ওই চিঠি মূলত এ সম্পর্কিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় সোচ্চার। তাহলে কী করে এই দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) জাতির পিতা, নারী ও শিশু হত্যাকারীরা থাকতে পারে? এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, একজন খুনী কানাডায় রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে। আমরা খুনীদের ফেরত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট সব দেশকে অনুরোধ করেছি। এই খুনীরা ওইসব দেশের জন্যও নিরাপদ নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দেশগুলো বঙ্গবন্ধুর খুনীদের প্রত্যার্পণ করলে আদালতের রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।

ঋণ খেলাপী ও শেয়ার বাজার প্রসঙ্গ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে ঋণ খেলাপি চর্চা শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর জিয়াউর রহমান বলেছিলেন অর্থ কোন সমস্যা নয় এবং তিনি ঋণ পরিশোধ না করার সংস্কৃতি চালু করেছিলেন। শেখ হাসিনা আরো বলেন, এই সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ব্যাংকে উচ্চ সুদের হারের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের অধিক সুদের কারণে অনেকের পক্ষে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে তারা ঋণ খেলাপি হয়। অনেকে মনে করেন যে, ঋণ পরিশোধ করার প্রয়োজন নেই। অনেক কোম্পানী রয়েছে যারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু তারা ঋণ পরিশোধ করছেন না। সমপ্রতি আপনারা দেখেছেন যে, গ্রামীণ ফোন কি করছে? তারা কর পরিশোধ করে না এবং যখন করের পরিমাণ বিপুল হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা বলে আসুন আলোচনা করি। আপনি একবার বা দু’বার তা করতে পারেন। কিন্তু বারবার তা করতে পারেন না। শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটি সমস্যা রয়েছে। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার সময় অনেক ব্যবসায়ী ঋণ খেলাপি হয়েছে। কারণ, তারা সেই সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন বা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে একটা সুযোগ দিয়েছিলাম যাতে তারা তাদের শিল্প কারখানা চালাতে পারেন এবং ব্যবসা বাণিজ্য বিঘ্নিত না হয় যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন।

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যাতে ঋণ খেলাপি সৃষ্টি না হয় সে লক্ষে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ব্যাংকের সুদের হার এককের ঘরে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছি এবং রাষ্ট্রচালিত ব্যাংকগুলো এই নির্দেশ অনুসরণ করছে। স্টক মার্কেট সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এতে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদেরকে অবশ্যই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে। তাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে কোন শেয়ার লাভজনক আর কোনটি নয়। এসব বিবেচনা করেই তাদের শেয়ার ক্রয় করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেকবার শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে আবার ঘুরেও দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে, লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে তার অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাইড লাইনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক, আলোচনা ও মতবিনিময়ের বিস্তারিত তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিানিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন। সরকার প্রধানের সফরসঙ্গীরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

চাকরির প্রলোভনে দুই বছর ধরে তরুণীকে ধর্ষণ পল্টনের ওসির

কলেজ পড়ুয়া এক তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিল পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হকের। পরিচয়ের পর থেকে তিনি তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। সময় সুযোগ পেলে দেখাও করতেন। এভাবে তিনি ওই তরুণীর কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। লেখাপড়া শেষ করে ওই তরুণীর প্রয়োজন হয় একটি চাকরির। পরে চাকরি পাইয়ে দেবার কথা বলে ঢাকার একটি হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন ওসি মাহমুদুল। এভাবে মাসের পর মাস তিনি তাকে ধর্ষণ করেন। এক সময় ওই তরুণী অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েন।
পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাচ্চাও নষ্ট করান। এরপর তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে না করে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। যোগাযোগ করলে ওসি তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করেন। উপায়ন্তর না পেয়ে তরুণী প্রথমে ডিএমপি কমিশনার ও পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত রিপোর্ট ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে জমা দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএমপি থেকে এই প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে পুলিশ সদরদপ্তরে।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হকের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। একটি সরকারি কলেজে পড়ালেখার সময় তার সঙ্গে আমার পরিচয়। ফোনে কথা এবং দেখাও হত। এরই মধ্যে আমি লেখাপড়া শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন তিনি আমাকে চাকরি পাইয়ে দেবার কথা বলে ২০১৭ সালের ২১ শে সেপ্টেম্বর ঢাকা নিয়ে আসেন। থাকার জন্য আমাকে পল্টনের ক্যাপিটাল হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে আমার জন্য হোটেল বয়কে দিয়ে স্যুপ আনান। আমি সেই স্যুপ খেতে চাইনি। কিন্তু তিনি আমাকে জোর করে সেই স্যুপ খাওয়ান। এরপর আমি কখন যে ঘুমিয়ে পড়ি মনে নাই। রাত ২টার দিকে যখন আমার ঘুম ভাঙ্গে তখন দেখি আমার পাশে ওসি মাহমুদুল শুয়ে আছেন। আমার বুঝতে আর বাকি ছিল না যে ঘুমন্ত অবস্থায় আমি ধর্ষণের শিকার হয়েছি। কেন এমনটা করেছেন তার জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেন ‘ আমাকে তিনি ভালবাসেন’ আমাকে তিনি বিয়ে করতে চান। সরাসরি প্রস্তাব দিলে হয়তো আমি রাজি হব না কারণ তার বউ আছে। আর তার বউয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল না। তিনি আমাকেই বিয়ে করবেন বলে এমনটা করেছেন। নিরুপায় হয়ে আমি তখন সবকিছু মেনে নেই। এরপর থেকে প্রতি সপ্তাহে আমাকে ঢাকা এনে ওই হোটেলে রেখে শারীরিক সম্পর্ক করতেন।
গত বছরের ২০শে অক্টোবর আমি অন্তঃস্বত্তা হয়ে যাই। আমি বাচ্চা নিতে চাইলে তিনি আমাকে নিষেধ করেন। এই নিয়ে আমাদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি হয়। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে আমাকে বাধ্য করে। আমি তাকে বিয়ের চাপ দিতে থাকি। কিন্তু ২রা এপ্রিল থেকে হঠাৎ করেই আমার সঙ্গে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। উপায়ন্তর না পেয়ে আমি তার কর্মস্থল পল্টন থানায় যাই। সেখানের অনেকেই বিষয়টি জেনে যায়। পরে তিনি আমাকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং যোগাযোগ রেখে খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করার আশ্বাস দেন। ঢাকা থেকে ফিরে তার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আমি আমার বাবাকে জানাই। বাবা বিষয়টি মেনে নেন। অথচ কয়েকদিন পরে মাহমুদুলের বাবা আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমি যদি তার ছেলের জীবন থেকে না সরে যাই তবে আমার ব্যবস্থা নিবে এবং আমার চাকরি বাতিলের ব্যবস্থা করবেন।
ওই তরুণী বলেন, আমি যখন দেখি তার বাবা আমার বিপক্ষে চলে গেছেন তখন আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেই। ১২ই এপ্রিল আমি ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার পরিবারের লোকজন আমাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করায়। ওই রাতে আমার ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি উল্টো হুমকি দেন আর বলেন, আমরা যেন তার ছেলেকে বিরক্ত না করি। বিরক্ত করলে ক্ষতি আমাদেরই হবে। সুস্থ হয়ে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলি আমাকে বিয়ে না করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবো। কিন্তু তিনি উল্টো আমাকে হুমকি দিয়ে টাকার গরম দেখিয়ে বলেন তিনি পল্টন থানার ওসি। তার অনেক চেনা জানা আছে। অনেক কিছু ধামাচাপা দিতে পারেন। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, পরে আমি বাধ্য হয়ে মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমনকে বিষয়টি জানাই। তিনি বিষয়টি মিমাংসা করে দিবেন বলে জানান। মাহমুদুলের বাবাকে আবার সমাধানের জন্য বলি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে আমি আইজিপি বরাবর অভিযোগ করি। তরুণী বলেন, আমি ঢাকার বাইরে চাকরি করি। সেখানে তিনি ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন। হোটেলে থাকাকালীন দুজনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কের অনেক ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয়েছে। যেগুলো তার কাছে আছে বলে ওই তরুণী জানান।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পহেলা আগস্ট ওই তরুণী আইজিপি বরাবর অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব পান ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোনালিসা বেগম। তিনি তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পান। প্রতি মাসেই ক্যাপিটেল হোটেলে ওসির নামে হোটেল বুকিংয়ের তথ্য মিলেছে। হোটেলের তথ্য মতে সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ই মার্চ ওই হোটেল থেকে চেক আউট করেন ওসি। এছাড়া কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ওই তরুণীকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছেন ওসি। তদন্ত কর্মকর্তা মোনালিসা বেগম একটি তদন্ত প্রতিবেদন ডিএমপি হেডকোয়াটার্সে গত বুধবার জমা দিয়েছেন। ডিএমপি থেকে সেটি আবার পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন পুলিশ সদরদপ্তর তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিবে।
অভিযোগের বিষয়ে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আর তদন্ত কর্মকর্তা এডিসি মোনালিসা বেগম জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগের তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ওসির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ওসি মাহমুদুল হক ২০০১ সালে এসআই পদে পুলিশে যোগ দেন। তার বাড়ি নওগাঁ জেলায়। চাকরি জীবনে তিনি একটি গুরুদণ্ড এবং ২২টি লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০১৭ সালের ২রা জুলাই তিনি পল্টন থানার ওসি হিসাবে যোগ দেন। স্ত্রী ও এক সন্তানের জনক তিনি।

চীনে অগ্রগতি হলেও মানবাধিকারের রেকর্ড নাজুক: কমিউনিস্ট শাসনের ৭০ বছর পূর্তি

জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কমিউনিস্ট শাসনের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে চীন। ট্যাংক, সশস্ত্র ইউনিট, ড্রোন এমনকি মনুষ্যবিহীন পানির নিচে চলমান যান প্রদর্শন করছে তারা। এর মধ্য দিয়ে প্রদর্শন হচ্ছে চীনের সামরিক শক্তিও। ৭০ বছর আগে চীনে কমিউনিস্ট শাসনের শুরু হলে প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে সেখানকার অর্থনীতি। কিন্তু মানবাধিকারের রেকর্ড খুবই নাজুক। এমন অবস্থায় এই প্রদর্শনীকে হংকংয়ে বড় বিক্ষোভের বিরুদ্ধে একটি শক্তি প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কমিউনিস্টরা রক্তাক্ত একটি গৃহযুদ্ধে জয় পাওয়ার পর ১৯৪৯ সালের ১লা  অক্টোবর মাও দেজং বা চেয়ারম্যান মাও গণচীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই থেকে চীনে উন্নতি হতে থাকে অসাধারণ গতিতে।
কিন্তু উন্নতির নিচে চাপা পড়তে থাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি। মানবাধিকারের রেকর্ড মোটেও ভাল নয় সেখানে। বিশেষ করে উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তাদেরকে ধরে নিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে।

এমন বন্দি মুসলিমের সংখ্যা কয়েক লাখ। এসব নিয়ে মানবাধিকার বিষয়ক সম্প্রদায় সোচ্চার হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এরই মধ্যে রাজধানী বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কুচকাওয়াজ হচ্ছে। তিয়ানআনমেন স্কয়ারে এতে অংশ নিচ্ছেন ১৫ হাজার সেনা। সেখানে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত কোনো শক্তিই চীনা জনতা ও জাতির অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে পারে নি।
অনলাইন বিবিসি বলেছে, যে স্থানে দাঁড়িয়ে মাও চীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক সেই জায়গায় মাওয়ের মতো স্যুট পরে বক্তব্য রাখেন শি জিনপিং। প্রতরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজকের কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করা হচ্ছে ৫৮০টি সামরিক সরঞ্জাম। আকাশে  উড়পবে ১৬০টি এয়ারক্রাফট। এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের বানানো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র, স্টিলথ ও মনুষ্যবিহীন যন্ত্রের সক্ষমতার  প্রদর্শনী।

কীভাবে নাজমুলের সম্পদের পাহাড়

সিদ্দিকী নাজমুল আলম। ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। প্রায় ৪ বছর ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব পালন করে নাজমুল হয়েছেন বিপুল সম্পদের মালিক। দায়িত্ব পালনের সময় ছিলেন নানা সমালোচনার কেন্দ্রে। দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি সামনে আসে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালেই তিনি বেশ কয়েকটি দেশে নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। ওইসব দেশে তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়ান সেই সময় থেকে। সিদ্দিকী নাজমুলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ক্ষুব্ধ হন তার প্রতি।
সাধারণত ছাত্রলীগের বিদায়ীরা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ বা মূল দলে দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। কিন্তু নাজমুল এখন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বাইরে। লন্ডনে তিনি ব্যবসায়িক ভিসায় অবস্থান করে সেখানে ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। সেখানে ব্যবসা পরিচালনা ও তার আলিশান চলাফেরা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে।
সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমে লন্ডনে সিদ্দিকী নাজমুল আলমের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকে তাকে নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাজমুল তার নামে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী সিদ্দিকী নাজমুল লন্ডনে চারটি কোম্পানীর মালিক। তিনি বিনিয়োগকারীর ভিসায় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেখানে বিনিয়োগকারীর ভিসা পেতে হলে কমপক্ষে দুই লাখ পাউন্ড যা বাংলাদেশি টাকায় দুই কোটিরও বেশি বিনিয়োগ করতে হয়। সূত্রের দাবি, ব্রিটিশ সরকারের কাছে নাজমুলের কোটি কোটি টাকার নিবন্ধিত বিনিয়োগ রয়েছে। তার নামে ব্রিটেনের কোম্পানি হাউজে আবাসন, গাড়ির অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেইম ম্যানেজমেন্ট, পণ্যের পাইকারি বিক্রেতা, বিজ্ঞাপন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরণের ছয়টি কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানির পরিচালক পদে তার নাম নেই। বাকি চারটি কোম্পানির মধ্যে একটির একক পরিচালক এবং আরও তিনটি যৌথ পরিচালক হিসেবে নাজমুল রয়েছেন। ফ্লেক্সফগ লিমিটেড, এলিট সিটি লিমিটেড, নাজ ইউকেবিডি প্রোপার্টিজ লিমিটেড, এসএনবি অটোস লিমিটেড, এসএনআর ইউকে বিডি লিমিটেড ও কার মিউজিয়াম লিমিটেড নামে ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ইস্ট লন্ডনের কেনন স্ট্রিট রোডে নাজ ইউকেবিডি প্রোপার্টিজ নামের আবাসন ব্যবসার একক পরিচালক তিনি। যার মূলধন দেখানো হয়েছে সাড়ে আট লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি টাকায় যা ১০ কোটি টাকার সমান। কোম্পানিটি ২০১৮ সালের ১০ জুলাই ব্রিটিশ সরকারের কোম্পানি হাউজে ১১৪৫৮১৯৯ নম্বরে নিবন্ধিত হয়। এখানে ব্যবসার ধরন হিসেবে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়। নিজস্ব প্রোপার্টি কেনাবেচা, লিজ অথবা নিজস্ব প্রোপার্টি ভাড়া দেয়া এবং পরিচালনা করা, রিয়েল এস্টেট এজেন্সি এবং চুক্তি অথবা ফির মাধ্যমে প্রোপার্টি পরিচালনা করা। টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন রোডের পাশে পান্ডারসন গার্ডেনে রয়েছে ফ্লেক্সফগ লিমিটেড নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস। যেটি ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি কোম্পানি হাউজে ০৮৮৬৮৬৮১ নম্বরে নিবন্ধন করা হয়। এই ব্যবসার ধরন দেখানো হয়েছে নন স্পেশালাইড হোলসেল ট্রেড, অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সি এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সেবা। যা আগে লিঙ্কমোর ইউকে লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। এই কোম্পানিতে সিদ্দিকী নাজমুল আলম এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। কোম্পানিতে আরও দু’জন পরিচালক রয়েছেন। তৃৃতীয় কোম্পানি এলিট সিটি লিমিটেড। এটি সেন্ট্রাল লন্ডনের বসওয়েল স্ট্রিটে অবস্থিত। এই কোম্পানিটি ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট কোম্পানি হাউজে ১১৫২১৪৭৩ নম্বরে নিবন্ধিত হয়। এই কোম্পানির ব্যবসার ধরন হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট প্লেসমেন্ট এজেন্সি ও টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি এক্টিভিটিস। এই কোম্পানির জন্মলগ্ন থেকে সিদ্দিকী নাজমুল আলম মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে যৌথ পরিচালক হিসেবে আছেন। চতুর্থ কোম্পানি এসএনবি অটোস লিমিটেড বেথনাল গ্রিনের ২৫ পান্ডারসন গার্ডেনে অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ১০১৩৭১৫১ নম্বরে কোম্পানি হাউজে নিবন্ধিত হয়। এই কোম্পানির ব্যবসার ধরন হিসেবে বলা হয়েছে রেন্টিং অ্যান্ড লিজিং অব কারস্‌ অ্যান্ড লাইট মোটর ভেহিক্যাল। শুরু থেকে এই প্রতিষ্ঠানেরও পরিচালক হিসেবে আছেন নাজমুল এবং মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এছাড়া এসএনআর ইউকে বিডি লিমিটেডে (১০৫১৭৩৫৮ কোম্পানি নম্বর) ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর নাজমুল পরিচালক হিসেবে যোগ দিলেও ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন। একইভাবে কার মিউজিয়াম লিমিটেডে (১০২৫৪৪২২ কোম্পানি নম্বর) ২০১৬ সালের ২৮ জুন পরিচালক পদে যোগ দিয়ে তিন দিনের মাথায় ২০১৬ সালের ১ জুলাই পদত্যাগ করেন তিনি।
ব্যাংক উদ্যোক্তা নাজমুল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিদ্দিকী নাজমুল আলম ছিলেন অতি সাধারণ একটি পরিবারের সন্তান। সেই নাজমুলই ২০১১ সালে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে বসার এক বছর পর একটি প্রাইভেট ব্যাংকের ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা বোর্ডের অন্যতম পরিচালক বনে যান। হঠাৎ করে নাজমুলের এতো টাকার উৎস নিয়ে আলোচনা হয়েছে ব্যাপক। আবার এটি ছিল ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারায় বলা হয়েছে, বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও চাকরিতে নিয়োজিত কোনো ছাত্র-ছাত্রী ছাত্রলীগের নেতা হতে পারবেন না। জানা গেছে, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া দ্য ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ৩৯ ব্যক্তি উদ্যোক্তার একজন ছিলেন সিদ্দিকী নাজমুল। প্রতিষ্ঠাকালেই ব্যাংকটির ১০ লাখ শেয়ারের মালিক হন তিনি। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হিসাবে ফারমার্স ব্যাংকের মূলধনে ছাত্রলীগের এ সাবেক সাধারণ সম্পাদক জোগান দিয়েছেন ১ কোটি টাকা।
বঙ্গতাজের পরিবার নিয়ে কুটূক্তি: চলতি বছরের জুনে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভের নিখোঁজ হওয়া ও উদ্ধার হওয়া নিয়ে সোহেল তাজের তৎপরতার সমালোচনা করে সিদ্দিকী নাজমুল আলম স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, সোহেল তাজ চাইলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তাঁর আপন বোন সিমিন হোসেন রিমিও বর্তমানে এমপি। সংসদ অধিবেশনেও যাচ্ছেন। চাইলেই প্রধানমন্ত্রী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু ফেসবুক লাইভে বার বার এসে কেন এসব করছেন বুঝতে পারছিনা। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে এবং ওনাদের সমস্যাটা কি বুঝতে পারছিনা। নিজে পদত্যাগ করলেন। ওনার বাবা তাজউদ্দীন আহমেদও বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তার চাচা আফসার উদ্দিনও শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ওনার মা জোহরা তাজউদ্দীনও গণফোরামে যাই যাই করছিলেন। এবং শারমিন আহমেদও বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কিত করে বই লিখেছেন। সিমিন হোসেন রিমি এমপিও প্রথম আলোতে এই রকম অনেক কলাম লিখেছেন। অথচ বঙ্গবন্ধু কন্যা ওনাদেরকে সবসময় সম্মান করে যাচ্ছেন।’ সিদ্দিকী নাজমুল আলমের এ স্ট্যাটাস নিয়ে সে সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা।
ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রীও: সিদ্দিকী নাজমুলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাও। গত বছর এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের মাঝখানে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নাম ঘোষণা করায় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অবস্থায় বক্তব্য শেষ না করেই মঞ্চ ত্যাগ করতে বাধ্য হন সিদ্দিকী নাজমুল আলম।
‘সাংবাদিকরে ক্ষমা করে দিয়েছি: এদিকে লন্ডনে সিদ্দিকী নাজমুলের ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি লেখেন, ‘তামাশা? লন্ডনে একটা কোম্পানি খুলতে খরচ হয় ১২ পাউন্ড ৪ টি কোম্পানি খুলতে খরচ হয়েছে ৪৮ পাউন্ড বাংলা টাকায় প্রায় ৪৯০০ টাকা যা সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স খুলার চাইতেও কম। আর অপরিশোধিত মূলধন হিসেবে চাইলে আপনি যা ইচ্ছা দেখাতে পারবেন তারপরও আমার কোন কোম্পানির অপরিশোধিত মূলধনের পরিমান ৫/৭ হাজার পাউন্ডের বেশী নয় অথচ কি কাল্পনিক নিউজ? আর কোম্পানী যুক্তরাজ্যে চাইলে যে কেউ খুলতে পারে জাস্ট ২০ মিনিট সময় লাগে অনলাইনে। আমার কোম্পানিগুলোর নাম তো সবাই পেলেন। এখানে গিয়ে দেখলেই বুঝবেন সংবাদের সত্যতা কতটুকু। আরেকটা কথা যুক্তরাজ্যে চাইলেই কেউ কোটি কোটি পাউন্ড ইনভেস্ট করতে পারেনা। আর যে কোম্পানির কথা বলছেন ১০ কোটি টাকার সেটা এখন ঐ সাংবাদিকের কাছে বিক্রি করতে চাই বিনামূল্যে যদি কোন মায়ের বুকের দুধ খেয়ে থাকেন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। আমি বললাম তো ঐ কোম্পানীতে এক টাকাও বিনিয়োগ করা হয়নি। শুধু নাম দিয়ে কোম্পানী খুলে রেখেছি। মামলা করলে এদেশে কি পরিনতি হয় তা তো জানেন পন্ডিত সাহেব? দিলামনা আপনার পেটে লাত্থি। কারণ হয়তোবা এস্যাইলাম মেরে থাকতেছেন এই দেশে হাজার মাইল দূরে রেখে আসা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। আমি চাইলেই পন্ডিত মহাশয়কে আইনের মাধ্যমে শায়েস্তা করতে পারি। আবারও মাফ করে দিলাম কারণ অভ্যাস হয়ে গেছে।

সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকায় বানানো চোখধাঁধানো শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ

শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন মসজিদ রয়েছে। প্রায় সবক’টির স্থাপত্যশৈলী নয়নাভিরাম। মনোমুগ্ধকর এসব মসজিদ দেখতে বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা ভিড় করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে চোখধাঁধানো আবুধাবির শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা।
শ্বেত মার্বেলে নির্মিত শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ আমিরাতের সর্ববৃহৎ ও পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ। আমিরাতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের নামানুসারে এর নামকরণ হয়েছে। মসজিদের পাশেই তার সমাধি।
মসজিদটির নকশা করেছেন সিরিয়ার স্থপতি ইউসুফ আবদেলকি। ১৯৯৬ সালে ৩০ একর জায়গায় এর নির্মাণকাজ শুরুর পর শেষ হয় ২০০৭-এ। এজন্য খরচ হয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। পারস্য, মোগল ও আলেকজান্দ্রিয়া মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে গড়া হয়েছে এটি। কেন্দ্রীয় চত্বরের নকশা মরক্কোর বাদশা দ্বিতীয় হাসান মসজিদ ও পাকিস্তানের বাদশাহি মসজিদের শৈলীতে অনুপ্রাণিত।
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪২০ মিটার, প্রস্থ ২৯০ মিটার। এতে ছোটবড় সাত আকারের ৮২টি গম্বুজ ও ১০৭ মিটার উঁচু চারটি মিনার রয়েছে। মিনারগুলোর নিচের ভাগ মিসরীয় মামলুক ধারার চৌকো আকৃতির, মধ্যভাগ উত্তর আফ্রিকার ফাতিমি আমলের ষড়ভুজ আকৃতির এবং ওপরের ভাগ তুরস্কের উসমানীয় আমলের গোলাকৃতির। মসজিদের নকশার একটি ডামি প্রবেশমুখে কাচের বাক্সে রাখা আছে। এটি দেখলে একনজরে পুরো মসজিদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
আলোকিত মসজিদটিতে রয়েছে ইরান থেকে আনা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কার্পেট (৬০ হাজার ৫৭০ বর্গফুট) ও সর্ববৃহৎ রঙিন ঝাড়বাতি (১০ মিটার ব্যাস ও ১৫ মিটার উঁচু)। পুরো মেঝেতে ১৭ হাজার বর্গমিটারের চোখধাঁধানো মার্বেল মোজাইকের কারুকাজ। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ চওড়া মার্বেল মোজাইক বলে স্বীকৃত। মসজিদের খুঁটি, দেয়াল, মেঝে, সিলিংসহ অভ্যন্তরীণ কারুকাজে ব্যবহার হয়েছে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা সোনা, মার্বেলসহ মূল্যবান পাথর।
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। নারীদের জন্য রয়েছে নামাজের আলাদা ব্যবস্থা। এখানকার প্রার্থনাকক্ষ তিনটি। প্রধান প্রার্থনাকক্ষ ছাড়া বাকি দুটি কক্ষ ছোট আকারের। এর মধ্যে একটি কক্ষ নারীদের জন্য। এগুলোতে ২৪ ঘণ্টা কোরআন তেলওয়াত হয়।
মসজিদের শৌচাগার ও ওজুখানা অত্যাধুনিক। ওজুখানায় রয়েছে গরম ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা। বাইরে চারদিকে ফোয়ারা, ফুল ও খেজুরসহ বিভিন্ন গাছের সারিতে মনোরম পরিবেশ। সবুজের সমারোহে ঘেরা গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গার পাশাপাশি বেজমেন্টেও গাড়ি রাখা যায়।
সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের মানুষের জন্য খোলা এই মসজিদ। এটাই এর বিশেষত্ব। তাই আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়ে মুখর থাকে অপরূপ কারুকাজ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ। দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক প্রতিদিন এটি দেখতে যান। এর সৌন্দর্যে বিস্মিত হন অনেকে। আবুধাবির পর্যটন শিল্পের বিকাশে এর ভূমিকা অপরিসীম।
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ
>>>সূত্র: ইন্টারনেট

ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ by মাসুদ মিলাদ

• জাহাজ নির্মাণশিল্প রক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকঋণ পরিশোধের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।
• ঋণের সুদের ওপর ৪ শতাংশ হারে ভর্তুকি দেওয়া হবে।
• ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ইউরোপের আর্থিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণশিল্পে মন্দা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। একটানা পাঁচ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে স্থবির হয়ে পড়েছিল এ খাত। ২০১৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে মন্দা কাটতে শুরু করলেও বাংলাদেশে রপ্তানি খাতে গতি ফেরেনি। এর বড় কারণ ঋণের জালে আটকে পড়েছিল দেশীয় রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো। ঠিক এমন সময়ে আটকে থাকা ঋণ দীর্ঘ মেয়াদে পরিশোধের সুযোগ দিয়ে এ খাতকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের হিসাবে, গত বছরের জুন পর্যন্ত ২৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জাহাজ নির্মাণশিল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ পরিশোধের চাপে জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কার্যাদেশ নিতেও হিমশিম খাচ্ছিল। দেশে ব্যবহারের ছোট জাহাজ নির্মাণ করে এবং কর্মী ছাঁটাই করে খরচ কমিয়েও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।
এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর হয়ে আসে সরকারি নীতি ও আর্থিক সহায়তা। তিন বছর কোনো ডাউনপেমেন্ট পরিশোধ ছাড়া এবং ১০ বছর মেয়াদে (ত্রৈমাসিক কিস্তিতে) ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব তফসিলি ব্যাংককে এ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গত জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে বেশির ভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। আবার এ খাতে নেওয়া ঋণের সুদের ওপর ৪ শতাংশ হারে ভর্তুকি দেওয়ারও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুদের ওপর ভর্তুকি প্রদান কার্যকর হলে এই শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করেন উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশের আগে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জাহাজ নির্মাণশিল্প সুরক্ষা দিতে নানা পদক্ষেপ নেয়। যেমন ভারত সরকার ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জাহাজের রপ্তানি মূল্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা অনুমোদন করেছে। চীনের উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণের পাশাপাশি নিজেদের কাঁচামাল ব্যবহারে ভর্তুকি পাচ্ছে। মন্দা থেকে এই ভারী শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয় দেশগুলোতে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক খবিরুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি উদ্যোগ খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে নীতি সহায়তার পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণশিল্পকে এগিয়ে নিতে আলাদা সংস্থা গঠন করা উচিত। তাহলে এই খাতের সমস্যা সময়মতো গুরুত্ব দিয়ে দেখা সম্ভব হবে। এখন হয়তো এক-দুটি প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করছে। জাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা থাকার পরও এই খাত যেন এক-দুটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি দেখতে হবে।
জাহাজ নির্মাণ খাতের সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশে এমন সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যখন বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের রিভিউ অব মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টের ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটানা পাঁচ বছর শ্লথগতির পর ২০১৭ সালে জাহাজ নির্মাণশিল্পে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে গ্যাস পরিবহনকারী জাহাজে। বিশেষায়িত এই জাহাজের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি। প্রবৃদ্ধিতে এর পরেই রয়েছে জ্বালানি তেল পরিবহনকারী জাহাজ।
জাহাজ নির্মাণে মান তদারককারী সংস্থা ফ্রান্সভিত্তিক ব্যুরো ভেরিতাসের বাংলাদেশের প্রধান কর্মকর্তা মো. হারুনর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, মন্দার পর ২০১৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণশিল্পে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।
রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের (এইওএসআইবি) তথ্যানুযায়ী, দেশে রপ্তানিযোগ্য জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১০টি। গত ১০ বছরে ১৭ কোটি ডলারের ৪০টি জাহাজ রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ১১ কোটি ডলারের জাহাজ রপ্তানি হয় মন্দার আগে। বিশ্বের ১২টি দেশে এসব জাহাজ রপ্তানি করেছে তারা।
উত্থান-পতন
এ খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে জাহাজ রপ্তানি শুরু হয় ২০০৮ সালে। ঢাকার আনন্দ শিপইয়ার্ড ডেনমার্কে এমভি স্টেলা মরিস নামের ছোট আকারের একটি জাহাজ রপ্তানি করে। এর পরেই যুক্ত হয় চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। তারা জার্মানির গ্রোনা শিপিং কোম্পানির কাছ থেকে ৮৫ মিলিয়ন ডলারের আটটি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। এ দুটি প্রতিষ্ঠান যখন জাহাজ রপ্তানিতে যুক্ত হয়, তখন জাহাজ নির্মাণের বিশ্ববাজার ছিল চাঙা। রপ্তানির বাজার ধরতে তখন এগিয়ে আসে দেশীয় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। শুধু ২০০৮ সালে ৫০টি জাহাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।
তবে পাঁচ বছরের মাথায় ইউরোপে আর্থিক সংকট শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশে উঠতি শিল্পটি বৈশ্বিক মন্দার কারণে আক্রান্ত হয়। কারণ, এই শিল্পে বড় রপ্তানি আদেশ আসত ইউরোপের দেশগুলো থেকে। আর্থিক সংকটের কারণে এ সময় ইউরোপের ব্যাংকগুলো জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়। ফলে ইউরোপের আমদানিকারকেরা বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও তাদের অনেক রপ্তানি আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
তবে রপ্তানি–বাণিজ্যের এ ধাক্কা সামাল দিতে রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বাজারের জন্য জাহাজ নির্মাণে ঝুঁকে পড়ে। কর্মী ছাঁটাই করে খরচ কমিয়ে আনে। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারের বদলে আফ্রিকার বাজার ধরার চেষ্টা করে তারা। মধ্যপ্রাচ্যের জাহাজ রপ্তানির বাজারেও প্রবেশ করে। এ সময় চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে জাহাজ রপ্তানির বেশ কিছু কার্যাদেশ পায়। এরপরও ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি কেউ। তবে সরকারি নীতি সহায়তায় এই খাত এখন ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
জানতে চাইলে এইওএসআইবির সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি উদ্যোগের কারণে এই শিল্পের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপ থেকেও এখন রপ্তানি আদেশ আসা শুরু হয়েছে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার চারটি বিশেষায়িত জাহাজের রপ্তানি আদেশ পাওয়ার কথা জানিয়ে এ উদ্যোক্তা বলেন, এখন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার পর জাহাজ নির্মাণের জন্য ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ দরকার। ব্যাংকগুলো এগিয়ে এলে নতুন নতুন রপ্তানি আদেশ পেতে সমস্যা হবে না।
নরওয়েতে রপ্তানির জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে উচ্চপ্রযুক্তির মাছ ধরার ট্রলার, যার রপ্তানি মূল্য প্রায় ১৭২ কোটি টাকা। জাহাজটির নির্মাণকাজ শেষ করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। গতকাল চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে। ছবি: সৌরভ দাশ

এক রাতের জন্য ৪০ হাজার পাউন্ড প্রস্তাব

সেলিব্রেটি তারকাদের অনেকের জীবনের বাঁকে বাঁকে থাকে থাকে অন্ধকার ইতিহাস। তাতে অনেকেই তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। অন্ধকারে সেই সম্পর্ক স্থাপন করে খদ্দেররা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর ওই তারকা উপার্জন করে নেন বড় অংকের অর্থ। এমনই দু’জন তারকার কাহিনী আজ তুলে ধরা হলো।
সেলিব্রেটি তারকা লরা গডজার। ২০১৪ সালে সাবেক প্রেমিক জ্যাক ম্যালিনের সঙ্গে তার ৬ সেকেন্ডের একটি সেক্স টেপ ফাঁস হয়ে পড়ে। তিনি তখন ছিলেন দুবাইয়ে। এমন ঘটনার পর তিনি সেখান থেকে দ্রুত ফিরে যান নিজের দেশ বৃটেনে।
কিন্তু তার আগেই তাকে দুবাইয়ের এক ধনকুবের এক রাতের জন্য ৪০ হাজার পাউন্ড প্রস্তাব করে বসেন। এ বিষয়টি ওই বছরই রিয়েলিটি টিভি শো সেলিব্রেটি বিগ ব্রাদারে নিজেই প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, দুবাইয়ের এক যুবক আমাকে বলল, আমি এক রাতের জন্য তোমাকে ৪০ হাজার পাউন্ড দেব। এ কথা তুমি কাউকে বলবে না। লরা বলেন, ওই যুবকের সেই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ওদিকে বৃটিশ মডেল সোফি অ্যান্ডারটন তো নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি উচ্চ পর্যায়ের একজন পতিতা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে যখন তার খ্যাতিতে ধস নামে তখন তিনি এ কাজে লিপ্ত হন। এ সময় তিনি ছিলেন মাদকাসক্ত। এ ঘটনার জন্য সম্পদশালী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ১৫ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে তিনি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন। সোফি অ্যান্ডারটন বৃটিশ একটি পত্রিকাকে বলেছেন, একেবারে প্রথমবার আমাদের এমন সম্পর্ক মাত্র দুই মিনিটে শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম- এটাই কি সব? ১৫ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে এতটুকু?
৪২ বছর বয়সী সোফি তখন প্রতি রাতে পান করতেন পুরো এক বোতল ভদকা। আর দিনের বেলা ব্যবহার করতেন কোকেন। তার বয়ফ্রেন্ড ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলকিপার মার্ক বোসনিক। সোফি এত বেশি মাদকাসক্ত হওয়ায় তিনি তাকে ফেলে যান। সোফি বলেন, আমার কোকেন শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমার ক্যাশকার্ড প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছিল। আমার ডিলাররা অর্থ দাবি করে ফোন করতে শুরু করেন। তখন আমি জানতাম যে করেই হোক আমাকে অর্থ উপার্জন করতে হবে।
এমন সময়ে একজন কলগার্লের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। সেই কলগার্ল তাকে এমন পোশাক পরতে বলেন যাতে পুরুষরা আকৃষ্ট হয়। শরীর দাবি করলে তাকে প্রতি ঘন্টার জন্য ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার পাউন্ড দাবি করতে পরামর্শ দেন ওই কলগার্ল। এর ফলে সোফি অ্যান্ডারটন মোট ৫ জন পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হয়েছেন। তা থেকে আয় করেছেন ৫০ হাজার পাউন্ড। তা দিয়ে মাদকের বাকি অর্থ ও ফ্ল্যাটের কিস্তি শোধ করেছেন। তাই তিনি মডেলিং ক্যারিয়ারকে দায়ী করেন। তার মতে, ওই ক্যারিয়ারই তাকে পতিতাবৃত্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে। সোফি অ্যান্ডারটন তাই জোরালো কণ্ঠে বলেন, এই পথে যে আমি একাই গিয়েছি এমন না। এটা হলো মডেলিং দুনিয়ার অন্ধকার দিক। আমার জানা মতে, কমপক্ষে দু’জন সুপারমডেল এই পথে রয়েছেন।

পৃথিবীতে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো এইডস রোগী সুস্থ হলেন: এই চিকিৎসা কি সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব

দ্বিতীয় ব্যক্তিকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করার বিষয়টি বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানে আশার আলো জাগিয়েছে।
পৃথিবীতে এইডসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো একজন এইচআইভি আক্রান্ত রোগীকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এটিকে প্রাণঘাতী এইডস ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই রোগীর নাম, পরিচয়, বয়স বা জাতীয়তা, সবই গোপন রাখা হয়েছে।
তবে যেহেতু যুক্তরাজ্যে তাঁকে এই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সেকারণে তাঁকে শুধু 'লন্ডন রোগী' নামে ডাকা হচ্ছে।
এরসাথে এটুকুই বলা হয়েছে এই রোগী পুরুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এইচআইভি সংক্রমণের বিরুদ্ধে এই পদ্ধতি পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু এর ধারাবাহিকতায় একদিন এই ভাইরাস থেকে পুরোপুরি নিরাময়ের জন্য বাস্তবসম্মত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
কিভাবে এইডস ভাইরাসমুক্ত করা সম্ভব হলো?
'লন্ডন রোগী' নামে ডাকা ব্যক্তির দেহ এইডস ভাইরাসমুক্ত করা হয়েছে স্টেম সেল বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে।
আর এই অস্থিমজ্জা আরেকজন ব্যক্তির দেহ থেকে নেয়া হয়েছে।
যিনি তার দেহ থেকে অস্থিমজ্জা দান করেছেন, তিনি ছিলেন এইচআইভি প্রতিরোধী একজন সুস্থ ব্যক্তি। যাতে এই সুস্থ ব্যক্তির দেহ থেকে নেয়া অস্থিমজ্জা এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা জিনগত রুপান্তরের মাধ্যমে লন্ডন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করেছিলেন তিন বছর আগে।
শেষপর্যন্ত চিকিৎসকরা তাকে ভাইরাসমুক্ত করতে পেরেছেন সফলভাবে।
দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তার দেহেএই ভাইরাস আর দেখা যায়নি।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, ইমপেরিয়াল কলেজ, ক্যামব্রিজ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই চিকিৎসা ও গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন।
'লন্ডন রোগী' কি পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে?
চিকিৎসকরা বলেছেন, এই রোগী এখন এইচআইভি'র পুরোনো চিকিৎসা নিচ্ছেন না। তার রোগ উপশম হয়েছে।তবে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন, তা বলার সময় ওখনও আসেনি।
এই রোগীর দেহে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০০৩ সালে।
২০১২ সালে তার এক ধরণের ব্লাড ক্যান্সার শণাক্ত হয়।
এরপর চার বছর ধরে স্বাভাবিক চিকিৎসা চালিয়ে ঐ রোগী ক্যান্সারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তখন তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে চিকিৎসকরা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা নেন। সে অনুযায়ী অস্থিমজ্জার দাতা খোঁজা হয় এবং শেষ পর্যন্ত দাতা পাওয়া গেলে প্রতিস্থাপন করা হয় তিন বছর আগে।
এই রোগীর আগে প্রথম একজন রোগীকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করা হয় ২০০৭ সালে জার্মানির বার্লিনে।
তার দেহেও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একইভাবে ভাইরাসমুক্ত করা হয়েছে।
প্রথম এইডস ভাইরাসমুক্ত করা রোগীকে 'বার্লিন রোগী' নামে ডাকা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সেই বার্লিন রোগী এখনও ভাইরাসমুক্ত আছেন।
প্রথম সেই রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে ভাইরাসমুক্ত করা হলো।
এই চিকিৎসা কতটা সম্ভবনা তৈরি করছে?
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগ সংক্রমণ বিভাগের ড. অ্যানড্রু ফ্রিডম্যান বলেছেন, "এই পদ্ধতিকে একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলা যায়। তবে বিশ্বে লক্ষ লক্ষ এইচআইভি আক্রান্ত বা এইডস রোগীর জন্য এই চিকিৎসা সুবিধাজনক হবে না। কারণ এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল, জটিল এবং ঝঁকিপূর্ণ। এটি একেবারে টেকসই ব্যবস্থা নয়।"
তবে তিনি এতে আশার আলো দেখছেন।
তিনি মনে করছেন, এখন এইডস এর বিরুদ্ধে সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি বের করতে সুবিধা হবে।
এইচআইভি নিয়ে সচেতনতামূলক ব্যজ

কাবিননামার ৫ নম্বর কলাম নারীর জন্য অপমানজনক by সুহাদা আফরিন

মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে কাবিননামার ৫ নম্বর কলামে বিয়ের কনে কুমারী, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত কি না তা জানতে চাওয়া হয়। তবে ছেলে বা বরের বেলায় এমন কিছু উল্লেখ নেই। নারী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নারীর জন্য অপমানজনক এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বিষয়টি গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) পক্ষ থেকে কাবিননামার ৫ নম্বর কলামের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

১৬ জুলাই হাইকোর্টে এ রিটের শুনানি হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিবের মতামত জানতে চান। আদালত আজ ২২ জুলাই খতিবকে হাজির করে মতামত জানতে চেয়েছেন।

কাবিননামার এই ফরমটি মুসলিম পারিবারিক বিবাহ আইন ১৯৬১ সালের অরডিন্যান্সের আলোকে করা হয়েছে।

ব্লাস্টের পক্ষে শুনানিতে থাকা আইনুন নাহার সিদ্দিকা বললেন, ‘একজন মেয়ে কুমারী, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত কি না, এটা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এটা কাবিননামায় লেখার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। আমাদের কাবিননামায় ছেলেদের এ রকম কোনো কিছু লিখতে হয় না। শুধু নারীদের বেলাতেই এটা করা হয়েছে। তাই এটি চরম বৈষম্যমূলক। নারীদের জন্য অপমানজনক তো বটেই।’

আইনুন নাহার সিদ্দিকা বললেন, ‘মুসলিম বিবাহ হচ্ছে একটা চুক্তি। দুপক্ষ সমান হলে তখনই একটা চুক্তি হয়। সেখানে একজনের ব্যক্তিগত তথ্য কেন কাবিননামার মতো একটা পাবলিক ডকুমেন্টসে দেওয়া হবে? ছেলেদের বেলায় দিতে হচ্ছে না। তাই এটি জেন্ডার বৈষম্যের একটি উদাহরণ। এই যুগেও কাবিননামায় এটি বিদ্যমান থাকবে তা মানা যায় না।’

ব্লাস্টের আরেক আইনজীবী বেলায়েত হোসেন ৫ নম্বর কলামের বিষয়ে আলেমদের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। যেখানে আলেমরাই বলেছেন, কাবিননামায় এটা রাখার কোনো দরকার নেই। আলেমদের ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া গেছে। এখন শুধু চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা।

দেশের বাইরের উদাহরণ দিয়ে আইনুন নাহার বললেন, পাকিস্তান ও ব্রিটেনের ফরমে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই জানাতে হয় বিবাহিত না অবিবাহিত। কিন্তু কুমারী বা তালাকপ্রাপ্ত কিনা তা জানাতে হয় না। ব্লাস্টের পক্ষ থেকে এই বৈষম্য নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মকর্ত সাজিয়া আফরিন বললেন, কাবিননামার এই কলামের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ছেলে বা মেয়ে যেকোনো মানুষের জন্যই এটা অসম্মানজনক।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বললেন, এই যুগেও কাবিননামায় এ ধরনের কথা লেখা থাকার বিষয়টি খুব অপমানজনক। সভ্য দেশে এগুলো থাকে না। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং চরম বৈষম্যমূলক।

কাশ্মিরের বিলাসবহুল এক হোটেল এখন ‘রাজনৈতিক কারাগার’

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের জাবারওয়ান পর্বতমালার পাদদেশে দৃষ্টিনন্দন মনোরম ও বিলাসবহুল চার তারকা হোটেল সেঞ্চাউর লেক ভিউ। উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে একে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার পর গ্রেফতার হওয়া রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের একাংশকে আটক রাখা হয়েছে ওই হোটেলে। সাম্প্রতিক বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে সাউথ এশিয়ান মনিটরের এক প্রতিবেদনে হোটেলটিকে ‘রাজনৈতিক কারাগার’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর কাশ্মিরে গণগ্রেফতার চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কাশ্মিরি রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্টও রয়েছেন। তাদের একাংশকে কাশ্মির উপত্যকার অস্থায়ী কারাগারগুলোতে রাখা হয়েছে। বন্দিদের মধ্যে আবদুল্লাহর ছেলে ও নাতিও রয়েছেন। অস্থায়ী কারাগারগুলোর একটি হোটেল সেঞ্চাউর লেক ভিউ। এর ২৫২টি কক্ষের মধ্য প্রায় ৫০টিকে কারাকক্ষে পরিণত করা হয়েছে। ওই কক্ষগুলোতে পর্যটকের স্থানে থাকছেন বন্দি, শেফদের কাজ করছেন কারা-পাচকেরা। আর পুলিশ অফিসারেরা কার্যত জেল সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। ভেতরে নেতারা তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে উদ্বিগ্ন চেহারায় বসে আছেন।
প্রায় ৩৫ বছর আগে নির্মিত হোটেলটির মালিক হোটেল করপোরেশন অব ইন্ডিয়া। এটি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কাশ্মিরের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর পরিকল্পনায় নির্মাণ করা হয় এটি। কাশ্মির উপত্যকার জাবারওয়ান পর্বতমালার পাদদেশে ১৩ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত হোটেলটি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীসহ তিন স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকত সবসময়। তবে গত সাত সপ্তাহ ধরে এটি অস্থায়ী কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিমসটেকে জোর বাংলাদেশের; অগ্রযাত্রা ব্যাহত করবে ‘নেগেটিভ ফোর্স’, মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের by শফিক রহমান

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত প্রধান এবং প্রথম আঞ্চলিক জোট সার্ক-এ এখন আর স্বপ্ন দেখছে না বাংলাদেশ। বরং সার্কের প্রস্তাবক এই দেশটি দৃশ্যমান কোন কারণ ছাড়াই সার্ককে আড়ালে রেখে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশকে নিয়ে গঠিত আন্তঃআঞ্চলিক জোট বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) চাঙ্গা করায় ব্যস্ত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এক্ষেত্রে নিজেদেরকে ‘সুবিধাজনক অবস্থানে’ দেখছেন। তারা বলেন, ‘বিমসটেকের সচিবালয় ঢাকায়। তাই আমরা সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ।’

যদি বিমসটেকে বাংলাদেশের ‘সুবিধাজনক অবস্থানে’ থাকার বাস্তব কোন প্রমাণ মিলছে না। দীর্ঘ দিন ধরে ঝুঁলে থাকা রোহিঙ্গা সমস্যাটি তার বড় প্রমাণ। বিমসটেকেরই আরেকটি সদস্য রাষ্ট্র মিয়ানমারের নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। যাকে স্রেফ ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের নানা দেশ এবং নানা সংস্থা ও সংগঠন। কিন্তু বিমসটেকের কার্যকর কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যখন বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তখনও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা ঝড়-বৃষ্টি আর পানি-কাদায় মানবেতর জীবনযাপন করছিল। কিন্তু রাষ্ট্র প্রধানদের ওই সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা পর্যন্ত হয়নি।

এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও সফল কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে। কিন্তু সেই চুক্তি বাস্তবায়নে এখন গড়িমসি করছে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর চীন সফরে ইস্যুটিকে তুলতে হয়েছে। চীন বলেছে, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানামার সরকারকে রাজি করাতে চেষ্টা করবে। গত ৪ জুলাই বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আশ্বাস দিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। কেকিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গত ১ জুলাই পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চীন যান শেখ হাসিনা।

এদিকে বিমসটেক যাত্রা শুরু করে ১৯৯৭ সালে। ওই বছরের ৬ জুন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে নতুন এই আন্তঃআঞ্চলিক জোটটি গঠন করা হয় এবং সভায় অংশগ্রহণকারী মূল আলোচক দেশ কয়টির নামের অদ্যাক্ষর অনুযায়ী জোটের নাম করণ করা হয় বিআইএসটি-ইসি (বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ড ইকনমিক কোঅপারেশন।

মিয়ানমার ওই সভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিলেও ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর দেশটিকে পূর্ণ সদস্য পদ প্রদান করা হয় এবং জোটটির নাম পরিবর্তন করে বিআইএমএসটি-ইসি করা হয়। এর পরের বছর ১৯৯৮ সালে ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে নেপালকে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে নেপাল ও ভূটানকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

২০০৪ সালের ৩১ জুলাই জোটটির প্রথম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম রাখা

২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় অবস্থিত বিমসটেকের সদরদপ্তর উদ্বোধন করেন। আর বিমসটেকের ১৪টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ব্যবসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পর্যটন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।

কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২২ বছরে বিমসটেক কোন ক্ষেত্রেই দৃশ্যত কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি। বরং সার্ক এসব খাতের বেশ কয়েকটিতে অনেক আগেই সাফল্য অর্জন করেছে। আর এই সাফল্যের পথ ধরেই ঢাকায় অবস্থিত সার্ক কৃষি সেন্টারটিকে (এসএসি) ‘দ্য সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসাবে’ ঘোষণার কথা বলা হচ্ছে।

তারও আগে ২০০৫ সালে ঢাকায় অবস্থিত সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রটিকে (এসএমআরসি) ‘দ্য সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৫ সালে ঢাকায় শুরু হওয়া এই সেন্টারটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি, টর্নেডো, কৃষি আবহাওয়াসহ নানা বিষয়ে গবেষণায় ও প্রকাশনায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে। কিন্তু সার্ক প্রোগ্রাম কমিটির ৪৬তম সভায় গৃহীত এক সিদ্ধান্ত বলে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রটিকে বন্ধ করে ভারতের সার্ক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের (এসডিএমসি) সঙ্গে মালদ্বীপের সার্ক কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এসসিজেডএমসি) এবং ভুটানের সার্ক ফরেস্ট্রি সেন্টারকে (এসএফসি) একীভূত করা হয়। ফলে চাকরি হারায় আবহাওয়াবিদসহ ২৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারি। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে বাংলাদেশ হারায় গবেষণার একটি ক্ষেত্র।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে ২০০৫ সালে ১.২২ একর জমির ওপর যে কার্যালয় গড়ে তুলেছিল সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র, সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা গেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়েরই ‘বাংলাদেশ পীসবিল্ডিং সেন্টার’ নামের আরেকটি কেন্দ্রের কার্যালয়।

এদিকে ওই সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছিল সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রটিকে টিকিয়ে রাখার। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরে আলাদা করে কোনো আবহাওয়া-জলবায়ু বিজ্ঞান গবেষণার ব্যবস্থা না থাকার কারণে চারটি দেশের চারটি সেন্টারকে একীভূত করে যে সার্ক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এসডিএমসি) গঠন করার সময় সেটিকে ঢাকায় রাখার দাবি উঠেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দাবি আর বাস্তবায়ন হয়নি। কেন্দ্রটি ভারতেই চলে যায়।

সম্প্রতি এসডিএমসি’র কার্যক্রম সম্পর্কে ধারনা পেতে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েব সাইটে ঢুকতে চাইলে ঢোকা যায়নি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারতে থাকা সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালো চলছে কিন্তু এসডিএমসি’র কাজে কোন গতি নেই।

সার্কের বাকি তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে সার্ক এনার্জি সেন্টার পাকিস্তানে, সার্ক যক্ষা ও এইচআইভি এইডস সেন্টার নেপালে এবং সার্ক কালচারাল সেন্টার শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত। এছাড়া সার্কের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্ট্যানডার্ড অর্গানাইজেশন (এসএআরএসও) ঢাকায় অবস্থিত।

সবগুলো কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের কাজের ধারাবাহিকতার একটি চিত্র পাওয়া যায়। গত ২ জুলাই থেকে শ্রীলঙ্কায় শুরু হয় সার্কভুক্ত দেশগুলোর চলচ্চিত্র নিয়ে ৬ দিনব্যাপী ‘৯ম সার্ক চলচ্চিত্র উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘ফাগুন হাওয়ায়’ দুটি পুরস্কার অর্জন করেছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন তৌকীর আহমেদ। পুরস্কার দুটির মধ্যে একটি পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহকের জন্য এনামুল হক সোহেল ও শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনার পুরস্কার পেয়েছেন রিপন নাথ।

তবে সার্কের কাজের শ্লথগতির কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এ জন্য সার্ক সামিট না হওয়াকেই দায়ি করছেন। তারা বলেন, রেগুলার কাযকর্ম চলছে। কিন্তু সার্ককে আরো সক্রিয় করতে নতুন নতুন যে নির্দেশনা এবং উদ্দীপনা দরকার সেটার ঘাটতি রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর কাঠমান্ডুতে সার্কের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপরে ২০১৬ সালের ১৫ ও ১৬ নভেম্বর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও ভারতসহ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা অংশগ্রহণে অসম্মতি জানালে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। এখনও ঝুলে আছে সেই সম্মেলন।

এদিকে শুধু শীর্ষ সম্মেলনই নয় মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং সচিব পর্যায়ের বৈঠকও হচ্ছে না। এমনকি কোন কোন বছর প্রোগ্রাম কমিটির বৈঠক যেখানে সার্কের বাজেট বরাদ্দ থেকে অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেই বৈঠকও অনিশ্চিত হয়ে পরে। তখন সার্কের আঞ্চলিক কেন্দ্র ও সংস্থাগুলোয় অর্থ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। নিকট অতীতে ২০১৭ সালেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

এসব ঘটনাকে সার্ককে গালাটিপে হত্যার সামিল বলে উল্লেখ করেছেন সার্ক সংশ্লিষ্ঠরা। বাংলাদেশকে সে প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে দেখে তারা আরও বিস্মিত।

সার্কের তুলনায় বিমসটেকের গুরুত্ব কতখানি তা জানতে চাওয়া হয়েছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে। তাদের একজন কোন রাখঢাক ছাড়াই বললেন, ‘পাকিস্তান ইস নট দেয়ার’।

এই ধারনাটিকেই বিমসটেকের ‘নেগেটিভ ফোর্স’ হিসেবে উল্লেখ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, বিমসটেক যখন শুরু হয়েছে তখন কয়েকটি ‘নেগেটিভ ফোর্সকে’ নিয়ে শুরু হয়েছে। একটা হলো ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব। ভারত ভেবেছে সার্কের বাইরে যদি কিছু করা যায় তাহলে এই অঞ্চলে হয়তো কিছুটা অগ্রগতি হতে পারে। আরেকটা নেগেটিভ ফোর্স হলো চীনকে বাদ দেয়া। অথচ, এই এশিয়ায় অন্ধ না হলে চীনকে বাদ দেয়া যায় না। কারণ, ৭টি দেশের প্রতিটির আলাদাভাবে বড় বাণিজ্য অংশীদার হলো চীন। এমনকি ভারতের তাই। তাহলে চীনকে কেন বাদ দিচ্ছি?

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি নেগেটিভ দিয়ে শুরু হলে তা সামনে বেশিদূর এগুতে পারে না। ভবিষ্যতে পাকিস্তান এবং চীনকে যদি বিমসটেকের সঙ্গে যুক্ত করা হয় তাহলে কিছু হতে পারে। আপাতত আমি বিমসটেকের ভবিষ্যৎ দেখছি না।’

আর সার্কের চলমান স্থবিরতার জন্য ভারতের একগুঁয়মিকে দায়ি করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, ভারতকে বরাবরই একটি ‘হেজিমনিক স্টেট’ হিসেবে দেখা যায়। সে চায় প্রতিবেশি দেশগুলোর ওপর কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব। কিন্তু নেতৃত্বতো জোর করে আদায় করা যায়না। এর জন্য আস্থা অর্জন করতে হয়। ভারতের সেই জায়গায় ঘাটতি আছে।

সার্ক বনাম বিমসটেকের বাস্তবতা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, সার্ক যখন শুরু হয় তখনই ভারতের দাবির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক এবং দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোকে বাদ দিয়ে অরাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক পথগুলোকে বেছে নেয়া হয়েছিল। যেই দেশটির জন্য শুরুতেই এতবড় ছাড় দেয়া হলো তারা এখনও যদি এ ধরনের আচারণ করে তাহলে বিমসটেক চলবে কিভাবে?

তিনি বলেন, বিমসটেকের ধারনাতো আরও কঠিন। ওখানে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারতো কূটনীতির ন্যূনতম শিষ্টাচারও মানছে না। তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করেছে কিন্তু সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না।

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‍মুখে সার্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য জোড়ালো বক্তব্য শুনেছি। আমি মনেকরি প্রধানমন্ত্রীর পথই সঠিক পথ।”

ময়নামতির কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি: বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত ও স্মৃতি by আবদুস সালাম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বর্তমান মিয়ানমারে সংঘটিত যুদ্ধে প্রায় ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন। তাদের জন্য বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে ৯টি সমাধিক্ষেত্র স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশে দুটি সমাধিক্ষেত্র—কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে। কুমিল্লার ময়নামতির কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রিটি ১৯৪৬ সালে নির্মাণ করা হয়। এখানে অবিভক্ত ভারত, জাপান, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের শহীদ সৈনিকের সমাধি আছে। মোট সমাধির সংখ্যা ৭৩৬টি। ছায়া-সুনিবিড় সমাধিক্ষেত্রটি কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন (সিডব্লিউজিসি) পরিচালনা করে। ছবিগুলো গত ১৫ এপ্রিল ২০১৯ শনিবারের। @প্রথম আলো,
কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রিতে সারিবদ্ধ সমাধি।সমাধির ফলকে নাম, মৃত্যুর তারিখ ও পদবির পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতীকও রয়েছে।বিমান সৈনিকদের গণকবর।উঁচু বেদি, বেদিতে ক্রুশ প্রতীক।উপর থেকে দেখা সমাধিক্ষেত্র।৭৩৬ জন শহীদের মধ্য ১৩ জনের পরিচয় জানা যায়নি।নাম না জানা এক জাপানি সৈনিকের সমাধি ফলক।