Tuesday, September 21, 2010

পৃথিবীতে নাইট্রোজেনের দূষণ বাড়ছে by মুশফিকুর রহমান

আমাদের কৃষক জমির উর্বরতা বাড়াতে বিপুল ব্যয়ে যে পরিমাণ ইউরিয়া বা নাইট্রোজেন সার জমিতে প্রয়োগ করছেন, দুর্ভাগ্যক্রমে তার মাত্র ৩০ শতাংশ ফসলের কাজে লাগছে। বাকিটা বায়ুমণ্ডল ও জলাভূমিতে গিয়ে দূষণ করছে।
জীবনচক্র অব্যাহত রাখতে নাইট্রোজেনের ওপর আমাদের নির্ভরতা ব্যাপক। ছয় বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়া পৃথিবীর মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়ার জন্য নাইট্রোজেন সারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। কেবল উদ্ভিদের বৃদ্ধি নয়, প্রাণীর টিস্যু বা কলা গঠনেও নাইট্রোজেনের ওপর নির্ভরতা প্রাকৃতিক জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন গ্যাসীয় অবস্থায় বিদ্যমান থাকলেও অধিকাংশ প্রাণী ও উদ্ভিদের পক্ষে গ্যাসীয় নাইট্রোজেন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাস সংযুক্ত হয়ে অ্যামোনিয়া গঠন করে, যা পানির সঙ্গে মিশে অ্যামোনিয়াম আকারে মাটিতে নাইট্রোজেন সারের জোগান দেয়। প্রকৃতিতে বজ্রপাত ও কিছু ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদের গ্রহণ-উপযোগী অক্সাইডে রূপান্তর করে। পরে উদ্ভিদ সেই নাইট্রোজেন যৌগকে প্রথমে অ্যামাইনো এসিড ও পরে প্রোটিনে রূপান্তর করে, যা প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তির উন্নয়ন মানুষকে নাইট্রোজেন সার উৎপাদন ও তার ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে। এতে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষিতে ব্যবহূত রাসায়নিক সারের ব্যাপক অংশ জুড়ে রয়েছে ইউরিয়া বা নাইট্রোজেন সার। ১৯০৮ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রিট্জ হাবার বাতাসের নাইট্রোজেন গ্যাসকে অ্যামোনিয়ায় রূপান্তর করার কৌশল এবং পরে সুলভে নাইট্রোজেন সার তৈরি করার প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন। প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, পৃথিবীতে বছরে কৃষিজমিতে প্রায় ৮০ মিলিয়ন মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া সার ব্যবহূত হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ১৭ মিলিয়ন টন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যবহূত এবং অবশিষ্ট অংশ অপচয় হয়। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বছরে ২২০ মিলিয়ন টন নাইট্রোজেন সার কৃষিজমিতে ব্যবহূত হবে। কিন্তু পরিবেশের সহনক্ষমতা অনুযায়ী পৃথিবীতে নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার বছরে ৩৫ মিলিয়ন টনের মধ্যে সীমিত রাখার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে নেচার পত্রিকার এক নিবন্ধে।
ফসলের মাঠে ব্যবহূত রাসায়নিক সার, বিশেষত নাইট্রোজেন সারের বিপুল অংশ সন্নিহিত পুকুর, খাল, নদী ও জলাভূমিতে গিয়ে পড়ছে। কৃষিতে যত বেশি মাত্রায় রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহূত হচ্ছে, তত বেশি জলদূষণ ঘটছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহূত নাইট্রোজেন সারের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং চীনের ধানখেতে ব্যবহূত নাইট্রোজেন সারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিজমি থেকে জলাশয়ে গিয়ে কেবল দূষণ করছে না, সঙ্গে সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিতভাবে জলজ উদ্ভিদ ও শ্যাওলা বিস্তারে সাহায্য করছে। এতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবন বিপন্ন হচ্ছে। প্রধান নাইট্রোজেন সার ব্যবহারকারী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া অন্য দেশের কৃষি থেকেও বিপুল পরিমাণ নাইট্রোজেন সার প্রতিনিয়ত জলাভূমি ও নদীতে গিয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদীবাহিত রাসায়নিক সার (প্রধানত নাইট্রোজেন সার) গালফ অব মেক্সিকোর মিসিসিপি নদীর মোহনায় প্রায় আট হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার জলজ মাছ, প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবনধারণের পরিবেশ বিপন্ন করায় কার্যত তাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে। রাসায়নিক সারের দূষণে কেবল গত বছরই পৃথিবীর দুই লাখ ৪৫ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত অনুরূপ প্রায় ৪০০ ‘মৃত উপকূলীয় এলাকা’ চিহ্নিত করা হয়েছে।
শিল্প-কারখানা ও মোটর গাড়ির চলাচল বাড়ার সঙ্গে বাতাসে নাইট্রোজেন অক্সাইডের দূষণও দ্রুত বাড়ছে। মূলত, উচ্চতাপে জীবাশ্ম জ্বালানির দহন থেকে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের অক্সাইড দূষণ ঘটছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে যেসব জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, তার দুই-তৃতীয়াংশেরই নাইট্রোজেন অক্সাইড অপসারণের ব্যবস্থা নেই। প্রস্তাবিত নতুন পরিবেশ আইনের সংশোধনী গৃহীত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে নাইট্রোজেনের অক্সাইড দূষণ ৯০ শতাংশ হ্রাস করার সুযোগ তৈরি হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এ লক্ষ্যে বিভিন্ন তৎপরতা চলছে।
বিষাক্ত এই নাইট্রোজেনের গ্যাস অপর বিষাক্ত গ্যাস ওজোন উৎপাদনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুমণ্ডলে সৃষ্ট ওজোন গ্যাস মানুষের হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের কারণ হয় এবং উদ্ভিদের জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। ঊর্ধ্বাকাশে (স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে) নাইট্রোজেনের অক্সাইড মহাজাগতিক ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে রক্ষাকারী ওজোন স্তর ধ্বংস করে। তা ছাড়া নাইট্রোজেনের অক্সাইড গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টিকারী গ্যাস। আবার প্রধান গ্রিন হাইস গ্যাস কার্বন ডাই-আক্সাইডের তুলনায় নাইট্রোজেনের অক্সাইড ৩০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে। বায়ুমণ্ডলে ভাসমান নাইট্রোজেনের অক্সাইড এসিড বৃষ্টি আকারে মাটি ও জলাশয়ে নেমে আসে। এসিড-বৃষ্টি জমির উর্বরতা এবং জলাভূমির প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন বিপন্ন করে। এসব কারণে নাইট্রোজেনের অক্সাইডকে পৃথিবীর জন্য অন্যতম প্রধান দূষণ সৃষ্টিকারী ও হুমকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কৃষিতে নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার যৌক্তিকীকরণ এখন গবেষকদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বিভিন্ন গবেষণায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস করে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, মাটির গুণাগুণ যথাযথভাবে পরিমাপ করে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ, জমিতে একবারের বেশি সার প্রয়োগ করার বদলে অল্প অল্প করে কয়েকবারে জমির প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার প্রয়োগ, কৃষি জমি ও জলাশয়ের মাঝখানে খানিকটা বাফার জোন বা খালি জায়গা রেখে দেওয়া, গাড়ি কম চালানো, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে মাংস কম খাওয়ার অভ্যাস গড়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেননা মাংসনির্ভর খাদ্যের জোগান দিতে বেশি মাত্রায় নাইট্রোজেনের দূষণ অবধারিত [একজন গড় মার্কিন নাগরিকের মাংসনির্ভর প্রতিদিনের খাদ্যের জোগান দিতে বছরে প্রায় ১২০ পাউন্ড (প্রায় ৫৪ কিলোগ্রাম) নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করতে হয়। শস্য ও শাকসবজিনির্ভর সমপরিমাণ খাদ্য জোগান দিতে প্রায় ৭০ পাউন্ড (প্রায় ৩২ কিলোগ্রাম) নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করতে হয়]।
আমাদের দেশে ১৯৫১ সালে ২৬৯৮ টন অ্যামোনিয়াম সালফেট আমদানির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রাসায়নিক সারের ব্যবহার। সেই থেকে সারের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে রাসায়নিক সারের চাহিদা বছরে প্রায় চার মিলিয়ন টন। উচ্চফলনশীল ধান ও অন্যান্য ফসলের চাষ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নাইট্রোজেনসহ অন্যান্য রাসায়নিক সারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। দেশে ব্যবহূত রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া বা নাইট্রোজেন সার শীর্ষে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোয় জমিতে ব্যবহূত নাইট্রোজেন সারের প্রায় ৭০ শতাংশ অপচয় হয়। এ অপচয় রোধ করতে ২০০৭ সালে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত ‘ইউরিয়া ব্রিকেট’ তৈরি করে তা জমিতে ব্যবহার করার প্রযুক্তি দেশে ও আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল, ভিয়েতনাম, লাওসসহ বিভিন্ন দেশে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বাংলাদেশে এ প্রযুক্তির কল্যাণে ৪০ শতাংশ কম ইউরিয়া ব্যবহার করে ২০ শতাংশ বেশি ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো সহজ এই প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দেওয়া।
ড. মুশফিকুর রহমান: পরিবেশবিষয়ক লেখক।

থাইল্যান্ডে ‘লাল শার্টের’ বিক্ষোভ সমাবেশ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যংকক এবং চিয়াং মাই শহরে গতকাল রোববার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সরকারবিরোধী লাল শার্ট বিক্ষোভকারীরা। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার উৎখাতের চতুর্থ বর্ষপূর্তি এবং মে মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে তাঁরা এই বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
জরুরি অবস্থার মধ্যে লাল শার্টদের এই বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে সহিংসতার আশঙ্কা না করলেও নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। দুই শহরেই সমাবেশস্থল ও স্পর্শকাতর এলাকায় টহল দেয় সেনাবাহিনী আর হাজার হাজার পুলিশ।চিয়াংমাইয়ের সমাবেশে দশ হাজার বিক্ষোভকারী যোগ দেয়। চিয়াংমাই থাকসিন-সমর্থকদের অন্যতম ঘাঁটি।চিয়াংমাই থেকে সাংবাদিকেরা জানান, বিকেলের দিকে কয়েক হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে। তাদের বহন করা ব্যানারে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।ব্যাংককে সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। গত মে মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্মরণে তারা এক হাজার লাল বেলুন ওড়ায়।
সুনাই নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বিক্ষোভের সময় নিহত এক লাল শার্ট বন্ধুর স্মরণে আমি এখানে এসেছি। লাল শার্টরা কখনো মরে না।’ তবে বিক্ষোভের সময় সহিংসতা পরিহার করতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান থাকসিন সিনাওয়াত্রা। দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড এড়াতে তিনি এখন বিদেশে আছেন।বিক্ষোভের আগের দিন গত শনিবার প্রায় ৮০টি গাড়ির একটি বহর নিয়ে চিয়াংমাই সফর করেন লাল শার্ট নেতা সোমায়ত প্রুয়েকসাকাসিমসুক।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বার্লিনে বিক্ষোভ

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর
বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের একাংশ
দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলো আগামী এক দশক বা আরও বেশি দিন সচল রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জার্মানির হাজার হাজার মানুষ শনিবার বিক্ষোভ করেছে। রাজধানী বার্লিনে এ বিক্ষোভের সময় চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের কার্যালয় ঘেরাও করা হয়। তারা পার্লামেন্টের সামনে গিয়েও বিক্ষোভ করে।
বিক্ষোভকারীরা পরমাণু প্রযুক্তিবিরোধী ব্যানার বহন করে। কর্মসূচির আয়োজকদের দাবি, এক লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু চুল্লিতে দুর্ঘটনার পর এ ধরনের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ এটি। তবে জার্মানির পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভ-কারীদের সংখ্যা ৩৭ হাজারের কাছাকাছি ছিল।
জার্মান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির ১৭টি পরমাণু শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জীবনকাল আগের সময়সূচির চেয়ে গড়ে ১২ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হবে। সে অনুযায়ী সর্বশেষ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করতে ২০৪০ সাল লেগে যেতে পারে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষোভকারীদের জড়ো করতে বিশেষ ট্রেন ও দেড় শটি বাস ভাড়া করা হয়। জার্মানিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ নতুন না হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এত সক্রিয় বিরোধিতা এর আগে দেখা যায়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, ‘আমরা প্রতারিত হয়েছি। পরমাণু বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে এবং আমরা এখনো জানি না, এগুলো দিয়ে কী করা হবে। কোম্পানিগুলোর সামনে নতজানু হয়ে পড়েছে সরকার।’
আয়োজকেরা জানান, উৎপাদন প্রক্রিয়ার শেষে যে বর্জ্য জমা হয়, তা থেকে দূষণ এবং উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ভয়াবহতাকে স্মরণ করিয়ে দিতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল থেকেই লোকজন এই সমাবেশে যোগ দিতে শুরু করে। তারা পার্লামেন্ট এবং চ্যান্সেলর ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পার্লেও সেখানকার একটি পরমাণু শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দাবিতে হাজারখানেক মানুষ বিক্ষোভ করেছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেশির ভাগ নাগরিক এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে।
বিরোধী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ও পরিবেশবাদী গ্রিন দলের নেতারা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিকল্প নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সহজলভ্য না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে পর্যটকদের বাসে হামলা, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গতকাল রোববার অস্ত্রধারীরা পর্যটকদের একটি বাসে হামলা চালিয়েছে। এতে দুই বিদেশি পর্যটক আহত হয়েছেন। দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমস শুরুর দুই সপ্তাহ আগে এই হামলা চালানো হলো। এ জন্য দিল্লিজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র রজন ভগত জানান, গতকাল সকালে দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের কাছে বন্দুকধারীরা পর্যটকদের বাস লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তারা একটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এতে তাইওয়ানের দুই পর্যটক গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের দিল্লির জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তিদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
ওই মুখপাত্র আরও জানান, কমনওয়েলথ গেমস শুরুর আগে এ ঘটনায় ভারতীয় প্রশাসন দিল্লিজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। এ ছাড়া অপরাধীদের ধরতে পুলিশ চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আটক ইরানি নাগরিকদের মুক্তির আহ্বান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ যুক্তরাষ্ট্রে আটক আট ইরানি নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর তিনি এ আহ্বান জানান।
এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমাদিনেজাদ বলেন, অবৈধভাবে আটক আট ইরানিকে মুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিকতার পরিচয় দেওয়া উচিত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আটক ইরানিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।
কয়েক দিন আগে ইরানে আটক মার্কিন নারী পরিব্রাজক সারাহ শোর্ডকে মুক্তি দেওয়া হয়। গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে শোর্ডসহ আরও দুই মার্কিন পরিব্রাজককে ইরানে আটক করা হয়।
ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডজনখানেক ইরানিকে আটক রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ওয়শিংটনের অনুরোধে অন্যান্য দেশে আটক রাখা হয়েছে। কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে আটক ইরানি বিজ্ঞানী শাহরাম আমিরিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বাগদাদে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত ২৯

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গতকাল রোববার দুটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৯ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
কর্মকর্তারা জানান, গতকাল বাগদাদের উত্তরাঞ্চলীয় এডেন স্কয়ার ও পশ্চিমাঞ্চলীয় মানসুর জেলায় স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে বিস্ফোরণ দুটি ঘটে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৯ জন ব্যক্তি নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। তবে এডেন স্কয়ারে হতাহতের সংখ্যা বেশি বলে সূত্র জানায়।
এডেন স্কয়ারের ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী আবু আবদুল্লাহ জানান, সেখানে একটি মিনিবাস থামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণস্থলে ১০ ফুটের মতো একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার সড়কে রক্ত, ছেঁড়া কাপড় ও লোহার টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া পুলিশের একটি অফিস ও কয়েকটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানসুর জেলায় বিস্ফোরণের পর সড়কে কয়েকটি মৃতদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি ভবন ও বেশ কয়েকটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই দিন পশ্চিম বাগদাদের গজালিয়ায় বোমা হামলায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়। সূত্র আরও জানায়, বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে তিনটি মর্টার আঘাত হানে। তবে সূত্রটি ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিবরণ জানায়নি।

সর্বোচ্চ সংযম দেখানো হচ্ছে বলে পুলিশের দাবি

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত তিন মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শিশুসহ শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। তবে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, সহিংস বিক্ষোভের সময় তারা ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখিয়েছে।
গত জুন মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৭ বছরের এক ছাত্র নিহত হওয়ার পর নতুন করে ফুঁসে ওঠে কাশ্মীর। এর পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১০৫ জন নিহত হয়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ।
কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। গত মাসে পুলিশপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বলেন, ‘অহিংস পন্থায় গণবিক্ষোভ সামাল দেওয়ার জন্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মপন্থা সংশোধন করা প্রয়োজন।’
অন্য দেশে বড় বড় মিছিল-সমাবেশে বিক্ষুব্ধ লোকজনের ওপর হামলা না করে তাদের শান্ত করতে পুলিশ কী ধরনের পদ্ধতি কাজে লাগায়, সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সব দেশের পুলিশের কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনা করে সুপারিশ জমা দিতে বলেন তিনি।
কাশ্মীরে গত তিন মাসে নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ মারা গেছে পুলিশ বা আধাসামরিক বাহিনীর সরাসরি গুলিতে। আর বেশির ভাগই আহত হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং রাবার বুলেটে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া শাখার পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, বিক্ষোভ একটি পর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে কিন্তু এর পরও নিরাপত্তা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা মেনেই কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজন ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের ওপর বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
কাশ্মীরে গত তিন মাসে বিক্ষোভের সময় পুলিশ বা সেনাসদস্যদের গুলিতে নিহতদের বেশির ভাগই কিশোর ও শিশু।
তবে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) মুখপাত্র প্রভাকর ত্রিপাঠি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছি।’
প্রভাকর ত্রিপাঠি বলেন, ‘সহিংস বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে এবং হতাহতের সংখ্যা কমাতে আমরা এমনকিছু অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করেছি, যাতে তেমন ক্ষতি হয় না।’
গত ১১ জুন শ্রীনগরে বিক্ষোভের সময় ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রের নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে কাশ্মীরে নতুন করে এই সহিংসতার শুরু হয়। ওই ছাত্র নিহত হয়েছিল পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলের আঘাতে। শটগানের ছোট গুলিও মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে গতকাল রোববারও বিক্ষোভকারী তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার এবং এর আগে কাশ্মীরের পৃথক তিনটি জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংষর্ষে আহত হয়েছিলেন তাঁরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তাঁরা মারা গেছেন।
রাজধানী শ্রীনগরের আশপাশের এলাকা গতকাল পুলিশ কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়। পুলিশ তাদের গাড়ি থেকে লাউড স্পিকারে ঘোষণা দেয়, কেউ কারফিউ ভঙ্গ করলে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
শ্রীনগরের প্রধান হাসপাতালে অনেকে রোগীদের জন্য ওষুধ ও পানি আনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি চায়। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কথায় কোনো কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জার্মানির হাসপাতালে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চারজন নিহত

জার্মানির একটি হাসপাতালে গতকাল রোববার গুলিবর্ষণের ঘটনায় হামলাকারীসহ চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে।
হাসপাতালটি ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড সীমান্তবর্তী জার্মানির লোরাচ শহরে অবস্থিত।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, ওই শহরের এলিজাবেথ ক্রানকেনহাস হাসপাতালে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় একজন নারী এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে হামলাকারী নারীও রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কিম জং ইলের উত্তরসূরি হিসেবে সরকারি নথিতে ছোট ছেলের নাম

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং ইলের উত্তরসূরি হিসেবে সরকারি নথিতে তাঁর ছেলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল রোববার জাপানের দৈনিক টোকিও শিম্বুন এ তথ্য প্রকাশ করে।
টোকিও শিম্বুুন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আগস্টে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাদের প্রশিক্ষণের সময় ওই নথি ব্যবহার করা হয়। নথিতে ৬৮ বছর বয়সী কিম জং ইলের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে জং ইউনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নথিতে ইউনের ছবিও রয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ে দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রেসিডেন্টের উত্তরসূরি হিসেবে ইউনের নাম প্রচারও করেছেন। ২০ বছর বয়সী ইউন প্রেসিডেন্ট কিমের ছোট ছেলে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট কিমের যোগ্য উত্তরসূরি হওয়ার জন্য জং ইউন তাঁর বাবার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছেন।

বিরোধীদের প্রতি আপসের আহ্বান গিলার্ডের

নবগঠিত দুর্বল জোট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত না করার জন্য রক্ষণশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। গত শনিবার রাতে দলীয় সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিরোধীদলীয় নেতা টনি অ্যাবোটের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি। গতকাল রোববার খনিজ সম্পদ আহরণের ব্যবসার ওপর কঠোর করারোপ এবং যন্ত্রণাহীন মৃত্যুবরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে গ্রিন পার্টি।
গত ২১ আগস্টের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হন গিলার্ড। পরে তিনজন স্বতন্ত্র ও গ্রিন পার্টির একজন পার্লামেন্ট সদস্যের (এমপি) সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা হয়। সরকার গঠনের পরপরই বিরোধীদলীয় নেতা টনি অ্যাবোট দাবি করেন, গিলার্ডের জোটের দেশ শাসনের ম্যান্ডেট নেই। একসময়ের অজনপ্রিয় নেতা অ্যাবোট ও তাঁর দল এবারের নির্বাচনে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি আসনে জয়ী হন।
নির্বাচনের পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে অ্যাবোটের দাবির প্রসঙ্গ টেনে গিলার্ড বলেন, ‘স্বল্প মেয়াদের জন্য দলীয় স্বার্থ বিবেচনা করা ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদের অগ্রগতির কথা বিবেচনা করুন। পার্লামেন্ট এখনো বসেনি অথচ অ্যাবোট এখনই বলতে শুরু করে দিয়েছেন, কীভাবে তিনি সরকারকে গদিচ্যুত করবেন।’
লেবার পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে গিলার্ড বলেন, ‘এই (সরকারের পতন ঘটানো) পন্থায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, সহজ এই পথ বেছে নিলে আমাদের এখানকার বেশির ভাগ নাগরিকই অসন্তুষ্ট হবেন।

স্পেন সরকারের সঙ্গে বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার আহ্বান ইটিএর

স্পেনের সরকারের সঙ্গে বিরোধ নিরসনে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত বাস্ক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ইটিএ’। গতকাল রোববার বাস্কপন্থী পত্রিকা গ্যারায় এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে একতরফাভাবে ঘোষিত অস্ত্রবিরতিকে দুই সপ্তাহ আগে ‘অপর্যাপ্ত’ অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে মাদ্রিদ। তারা বলেছে, সংগঠনটিকে অবশ্যই চিরতরে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।
স্বাধীনতার দাবিতে ইটিএর এই আন্দোলনে ১৯৬৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮০০ জন নিহত হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে একতরফা অস্ত্রবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু মাদ্রিদ বিমানবন্দরে একটি বোমা হামলায় দুজন নিহত হওয়ার পর ওই অস্ত্রবিরতি ভেঙে দেয় স্পেন সরকার।
পত্রিকাটিতে প্রকাশিত ওই আহ্বানে বলা হয়, ‘ফ্রান্স ও স্পেন সরকারের একগুঁয়েমির পরিপ্রেক্ষিতে এই সংঘাতের একটি গণতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছাতে নতুন সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইটিএ। এ ব্যাপারে একটি স্থায়ী, ন্যায়সংগত ও গণতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলফ্রেদো পেরেজ রুবালকাবা বলেন, এটা এত বেশি অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে যে তাদের বিশ্বাস করা কঠিন। নিঃশর্ত ও সুনির্দিষ্টভাবে ইটিএর সহিংস কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান তিনি।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় শুক্রবার

ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামী শুক্রবার ঘোষণা করা হবে। মামলার রায় দেবেন উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষেৗ বেঞ্চ। রায় দেওয়াকে ঘিরে গোটা দেশে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে রায় প্রকাশ-পরবর্তী সময়ে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা না ছড়াতে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতে যাতে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ সমুন্নত থাকে, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এদিকে ভারতের জাতীয় সম্প্রচার সমিতি (এনবিএ) গত শনিবার এক নির্দেশ জারি করেছে। নির্দেশে বলা হয়, রায় প্রকাশের আগে কোনো টিভি চ্যানেল সম্ভাব্য রায়সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রচার করবে না। এমনকি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কোনো ছবিও প্রকাশ করা যাবে না। এনবিএ মনে করে, এসব সংবাদ বা ছবি প্রদর্শন মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল নির্দেশ মানছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে এনবিএর কর্মকর্তারা। নির্দেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে রায় প্রকাশের পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উত্তর প্রদেশের সরকার রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এদিকে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতারা দেশবাসীর প্রতি সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত শনিবার আহমেদাবাদে বিজেপির নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি বলেছেন, রায় যে পক্ষেই যাক না কেন, মামলা ফের সুপ্রিম কোর্টেই যাবে। তাই রায় দেওয়ার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আফগানিস্তানে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দেশটির স্বাধীন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা বলেছে, ব্যাপক অনিয়মের কারণে নির্বাচনের ফলাফল ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তারা ‘খুবই উদ্বিগ্ন’। আফগান নির্বাচনী নালিশ কমিশনও একই অভিযোগ করে বলেছে, নির্বাচনে বড় ধরনের অন্যায় ও অনিয়মের কথা তারাও শুনেছে। গত শনিবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে ন্যাটো বলেছে, গত বছরের তুলনায় এবারের নির্বাচনে সহিংসতা কম হয়েছে। এ কারণে হতাহতের ঘটনাও কম ঘটেছে। এবার সর্বমোট ৪৮৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৯৪টি হলো জঙ্গি হামলার ঘটনা। অথচ গত নির্বাচনে জঙ্গি হামলার ঘটনাই ঘটেছে ৪৭৯টি। ন্যাটো দাবি করেছে, শনিবারের নির্বাচনী সহিংসতায় ২২ জন নিহত হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫৭ জন।
ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন ফাউন্ডেশন অব আফগানিস্তান (এফইএফএ) নামের ওই নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থাটি নির্বাচনোত্তর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, অন্তত ৩৮৯টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হয়েছে। প্রার্থীদের পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। অনেক ভুয়া ভোট জমা পড়েছে ব্যালট বাক্সে। অপ্রাপ্ত বয়স্করা পর্যন্ত ভোট দিয়েছে। ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তারা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন।
নির্বাচনী নালিশ কেন্দ্র ‘ইলেক্টোরাল কমপ্লেন্টস কমিশন’ বলেছে, তাদের কাছেও নানা ধরনের অভিযোগ এসেছে। দেরিতে ভোটকেন্দ্র খোলা হয়েছে অনেক জায়গায়। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ভুয়া ভোট পড়েছে অনেক। নিবন্ধন কার্ডের অপব্যবহার হয়েছে। কেউ কেউ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেন, তাঁদের ভোট আগেই দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিম্নমানের কালি ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ব্যালট পেপারের টানও পড়েছে।
এফইএফএ আরও বলেছে, কুনার, খোস্ত ও কান্দাহার প্রদেশে বেশকিছু ভোটকেন্দ্র বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লাঘমান, কুন্দুজ ও বাদগিজে ভোটকেন্দ্র দখল করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অনেক স্থানে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, কিছু কিছু স্থানে প্রার্থী, তাঁর সমর্থক ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরাসরি সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটদান-প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন।
পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, ভোট দিতে যে কালি ব্যবহার করা হয়েছে, তা মানসম্পন্ন ছিল না। অনেক স্থানে ভোটাররা পানিতে কালি মুছে আবার ভোট দিয়েছেন। এ কারণে প্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এই সুযোগে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সমর্থকদের দিয়ে একাধিক ভোট দিয়েছেন।
এফইএফএ জানায়, ভোট নেওয়ার শেষ দিকে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোট নেওয়া বন্ধ করে ভোট গণনা শুরু করা হয়। এ কারণে অনেকে ভোট দিতে পারেননি। কোনো কোনো স্থানে ভোট নেওয়ার দীর্ঘ সময়ের পরও ভোট গণনা শুরু করা হয়নি। আবার কিছু স্থানে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ায় ভোটই দিতে পারেননি অনেকে।
এসব অনিয়ম ও অন্যায় বিবেচনা করে এফইএফএ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ-পরবর্তী বাকি কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি এসব অনিয়মের তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। এফইএফএ বলেছে, তারা অনিয়মের আরও নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে।
এদিকে অপহূত তিনজন নির্বাচনী কর্মকর্তার লাশ গতকাল রোববার দেশটির উত্তরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নির্বাচনের দিন তাঁদের বালখ প্রদেশ থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

সীমান্তে অস্ত্র মজুদ বাড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া: সিউল

অর্থনৈতিক দুরবস্থা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত বরাবর অস্ত্র মজুদ বাড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানিয়েছে, সুরক্ষিত সীমান্ত বরাবর আরও ২০০ বহুমুখী রকেট লঞ্চার বসিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
২৪০ মিলিমিটারের এই রকেট লঞ্চার প্রতি ৩৫ মিনিটে সর্বোচ্চ ২২টি রকেট ছুড়তে পারে এবং তা ৬০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। ফলে ওই রকেটের আওতার মধ্যে পড়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল। এ জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে এটি একটি উদ্বেগের বিষয়।
কমিউনিস্ট শাসিত দেশ উত্তর কোরিয়ার এ হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে মার্কিন সেনারা সেখানে আছে। অস্ত্রবিরতি চুক্তির মধ্য দিয়ে ওই যুদ্ধের সমাপ্তি হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার ওই সূত্র আরও দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়া সীমান্তে আরও দুই হাজার ১০০ কামান ও ৩০০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে ১০ হাজার ৫০০ কামান ও চার হাজার ২০০ ট্যাংক আছে।
দুই বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার কাছে আট হাজার ৫০০ কামান ও তিন হাজার ৯০০ ট্যাংক আছে।
ওই সূত্র দাবি করে, নাজুক অর্থনীতি ও খাদ্যঘাটতি সত্ত্বেও সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধির ফলে এটাই প্রমাণিত হয় যে উত্তর কোরিয়ার সামরিক উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া তাদের সেনাবাহিনীর আকারও বিশাল। সেনাসদস্যের সংখ্যা ১২ লাখ, যা বিশ্বের অন্যতম বড় সেনাবাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়া গত মার্চে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধজাহাজে হামলা এবং ৪৬ সেনাকে হত্যার অভিযোগ করার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে আরও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উত্তর কোরিয়া ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সম্পর্কের ফাটল আরও বাড়তে থাকে।
উত্তেজনা প্রশমনে নিজেদের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে দুই কোরিয়া। সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে শিগগির। আলেচানার প্রস্তাব দিয়েছে পিয়ংইয়ং। তবে এ ক্ষেত্রে একটু সময় নিতে চাচ্ছে সিউল। তবে গতকাল রোববার সিউলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বর এ আলোচনা হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, আলোচ্যসূচির মধ্যে আমাদের জাহাজে হামলা এবং পীতসাগর উপকূলের উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ও থাকতে হবে।

প্রবাসীদের মালিকানায় নতুন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক আসছে

আরও একটি নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে যাচ্ছে। এই ব্যাংকের উদ্যোক্তারা হবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রাথমিকভাবে এই ব্যাংকের নামকরণ করা হচ্ছে এনআরবি ব্যাংক।
সরকারের সদিচ্ছায় দেশে স্থাপিত অন্য ব্যাংকের আদলে এই প্রবাসী ব্যাংকের প্রাথমিক নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শিগগির এই ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের জন্য নীতিমালা সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। প্রবাসীরা যাঁরা এই ব্যাংকের উদ্যোক্তা হবেন, তাঁদের মালিকানার টাকা বিদেশে কর পরিশোধ করা আয় হতে হবে।
প্রস্তাবিত এই ব্যাংকের নীতিমালাটি খসড়া হিসেবে শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, এনআরবি ব্যাংক হবে একটি লিমিটেড কোম্পানি। এর পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকার কম হবে না। ব্যাংকটিকে দুই বছরের মধ্যে শেয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৫০ ভাগ অর্থ উত্তোলন করতে হবে।
কাউকে উদ্যোক্তা হতে হলে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার শেয়ারের মালিকানা থাকতে হবে। তবে এর পরিমাণ কোনো অবস্থাতেই পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
উদ্যোক্তা বা তাঁর পরিবারের সদস্য একক বা যৌথভাবে পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে পারবেন।
পরিবার বলতে ব্যাংক কোম্পানি আইনে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। সে অনুসারে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যাসহ উদ্যোক্তার ওপর নির্ভরশীলদের বোঝানো হয়।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন যদি ৪০০ কোটি টাকা হয় তবে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৪০ কোটি টাকার শেয়ার কোনো ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার ধারণ করতে পারবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যবসায় শুরুর তিন বছরের মধ্যে কোনো উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া তাঁর শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন না। উদ্যোক্তা প্রবাসীদের অর্থ ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আসতে হবে এবং সেই অর্থ দেশের কোনো ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকতে হবে।
উদ্যোক্তাকে সংশ্লিষ্ট দেশের কর বিভাগ থেকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁর বিনিয়োগ করা অর্থের আয়কর দেওয়া আছে। প্রস্তাবিত ব্যাংকের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সংগৃহীত অর্থ যে কোথাও থেকে ধার করে আনা হয়নি—এ ব্যাপারেও প্রত্যয়ন করা থাকতে হবে। অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে ধার করে এনে সেই টাকায় এনআরবি ব্যাংকের উদ্যোক্তা হওয়া যাবে না।
আইপিওর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে পুঁজি উত্তোলনের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে, ব্যাংক ব্যবসায় শুরু করার দুই বছরের মধ্যে।
আবেদন করার পরপরই উদ্যোক্তাদের যোগ্যতা মূল্যায়ন ও যাচাই করা হবে। এর মধ্যে তাঁদের সততা, অতীত কর্মকাণ্ড, আদালত কর্তৃক দোষী হয়ে জেল খাটা ইত্যাদি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তার পরের ধাপ হচ্ছে প্রস্তাবিত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার দিক। অন্য কোনো ব্যাংকের পরিচালক বা কর্মকর্তা প্রস্তাবিত ব্যাংকের পরিচালক হতে পারবেন না। কোনো পরিচালক ইচ্ছে করলে বিকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে পারবেন, তবে এই সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। বিকল্প পরিচালকদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে।
আর প্রস্তাবিত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) আর্থিক খাতের ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাবর অফেরতযোগ্য ১৫ হাজার ডলারের ড্রাফট জমা করতে হবে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, সিইওর বেতন, শেয়ারহোল্ডারদের সভার কার্যপত্র, মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং মেমোরেন্ডাম অব আর্টিক্যালসের খসড়া ইত্যাদি জমা দিতে হবে।
ব্যাংকটিকে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন নিতে হবে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে। এই আবেদন মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনোনীত একটি নির্বাচক প্যানেল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী এনআরবি ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা করা হয়েছে।
তবে নীতিমালাটি এখনো খসড়া। অনুমোদনের জন্য নীতিমালাটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

ফ্লাওয়ারের কাছে সিরিজটাই এখন অর্থহীন

দেশের মাটিতে স্মরণীয় একটা গ্রীষ্ম কাটাচ্ছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতেছে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজও এগিয়ে আছে ২-১-এ। কিন্তু ম্যাচ পাতানোর কালো থাবা এতসব অর্জনের পরও হাসি ফোটাতে পারছে না অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের মুখে। ইংল্যান্ড কোচের কাছে বরং পাকিস্তানের বিপক্ষে পুরো সিরিজটাই মূল্যহীন মনে হচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজের বাকিটা খেলার কোনো অর্থও খুঁজে পাচ্ছেন ফ্লাওয়ার।
লর্ডসে আজ চতুর্থ ওয়ানডে জিতলেই ওয়ানডে সিরিজ জিতে যাবে ইংল্যান্ড। কিন্তু ইংল্যান্ডের জিম্বাবুইয়ান কোচের ভাবনায় সেটা আছে সামান্যই, ‘খোলামেলাভাবে বললে, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আমাদের টেস্ট সিরিজ জয়কে মূল্যহীন করে দিয়েছে, ওয়ানডে সিরিজকেও করছে। অবশ্য ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, এসব ঘটনা খেলাটার জন্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আইসিসি পুরো ব্যাপারটার তলানিতে পৌঁছাতে পারবে, আমি শুধু এটুকুই আশা করতে পারি।’ একের পর এক বিতর্ক দুই দলের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক, ‘আমি সব কিছু খোলাসা করতে চাই না, তবে এটুকু বলতে পারি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দলের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

তবু অসন্তুষ্ট গার্দিওলা

জরিমানা করা হয়েছিল ১৫ হাজার ইউরো। কিন্তু মাত্র এক হাজার ৫০০ ইউরো গুনলেই পার পেয়ে যাচ্ছেন বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলা। এক আপিলেই জরিমানা কমেছে ১৩ হাজার ৫০০ ইউরো। তবুও খুশি নন বার্সা কোচ, বরং অসন্তুষ্ট।
জরিমানা কমানোর পরপরই গার্দিওলা বলেছেন, ‘ভাববেন না, তাঁরা আমার পক্ষে কাজ করেছে। আমি নিশ্চিত, কী বলেছিলাম আমি। আমি নই, ভুলটা করেছে তাদেরই একজন। ক্যামেরা তাদের, সবকিছুই ছিল তাদের।’
ঘটনাটা এ বছরের ৬ মার্চের। আলমেরিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে রেফারিকে অপমান করার অভিযোগে বার্সেলোনা কোচকে বহিষ্কার এবং জরিমানা করা হয়। গার্দিওলার দাবি, মিথ্যা বলছেন রেফারিরাই।

মুশফিকুরকে নিয়ে কোনো ভয় নেই

গত শুক্রবার ফিল্ডিং প্র্যাকটিস করতে গিয়ে কাঁধে ব্যথা পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। কাল সেই মুশফিকুর রহিমকেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দেখা গেল হাসিমুখে। কারণ ততক্ষণে তিনি জেনে গেছেন, কাঁধের ইনজুরিটা বাধা হচ্ছে না নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলায়!
প্রাথমিক এমআরআই রিপোর্টে আগের দিনই জানা গিয়েছিল, মুশফিকুর শঙ্কামুক্ত। কাল চূড়ান্ত রিপোর্টও তাই বলল। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী জানিয়েছেন, মুশফিকুরের চোট বড় কিছু নয়—এটা নিশ্চিত করেছে চূড়ান্ত এমআরআই রিপোর্ট, ‘গুরুতর কোনো সমস্যা ধরা না পড়ায় ওর নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলা নিয়ে সংশয় নেই। আশা করছি, শিগগিরই সে মাঠের অনুশীলনে ফিরতে পারবে। তার আগে ৭২ ঘণ্টার একটা পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাকে।’

সাকিব ফিরলেন সুখবর নিয়ে

কোচের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন। সাকিব আল হাসান অনুশীলনে যোগ দেবেন ২৬ সেপ্টেম্বর। তবে পরশু গভীর রাতে দেশে ফিরে কাল সকালেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন উস্টারশায়ারের সাকিব। প্রায় দুই মাস পর জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে ফিরে সতীর্থদের সঙ্গে বিনিময় করেছেন ইংলিশ কাউন্টির অভিজ্ঞতা।
কাউন্টি ক্রিকেট থেকে সুখবর নিয়েই ফিরেছেন জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। নিজে ভালো খেলে উস্টারের প্রথম বিভাগে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য আরও প্রসারিত হবে কাউন্টির দরজা, ‘আমার পারফরম্যান্স আরও ভালো হতে পারত। তবে যা হয়েছে তাতেও আমি সন্তুষ্ট। আমি যেটা বুঝেছি বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও ওদের ধারণা বদলেছে। আমার বিশ্বাস, আমাদের আর অন্তত একজন হলেও পরেরবার কাউন্টিতে খেলবে। সে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ সাকিব না বললেও জানা গেছে, আগামী মৌসুমে তার দল উস্টারশায়ারই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য পেতে আগ্রহী বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবালকে।
সুন্দর এই সম্ভাবনার সঙ্গে একটা অতৃপ্তি নিয়েও ফিরেছেন সাকিব। কাউন্টিতে নিজের প্রথম ম্যাচেই যে সেঞ্চুরি মিস করেছেন ১০ রানের জন্য! ‘যদি জিজ্ঞেস করেন কাউন্টিতে আমার অতৃপ্তি কী, তাহলে বলব সেঞ্চুরি না পাওয়াটাই। এটা ছাড়া সবই হয়েছে। সেঞ্চুরিটা হলে আরও ভালো লাগত। হয়তো পরেরবার হবে’—বলেছেন সাকিব।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলে এখনো যোগ না দিলেও ইংল্যান্ডে বসেই সাকিব জেনেছেন, এবার অনুশীলনটা হচ্ছে বেশ কঠোর। নিউজিল্যান্ড সিরিজে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি, ‘দল এখন বেশ ভালো অবস্থায় আছে, যত দূর জানি অনুশীলনটাও এবার বেশ কঠোর হচ্ছে। সিরিজের এখনো দুই সপ্তাহ বাকি। আশা করব, নিউজিল্যান্ড সিরিজে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’
একই আশা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজারও। বিশেষ করে বোলিং কোচ যোগ হওয়ায় বাড়তি হাওয়া লাগছে তাঁর আশার পালে, ‘নতুন বোলিং কোচ পেস বোলারদের কিছু ব্যাপারে উন্নতি আনতে চান। নিউজিল্যান্ড সিরিজে হয়তো সেসব সম্ভব না। তবে এই জিনিসগুলো যদি আমরা শিখতে পারি, খুব ভালো হবে।’ জাতীয় দলের অনুশীলনে কাল থেকেই কাজ শুরু করেছেন নতুন বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট।

দুজনের ‘প্রথম’ জেতাল রিয়ালকে

৩৩১ মিনিট পর প্রতিরোধ ভেঙে গেল। এ মৌসুমে এতটা সময় গোল না খেয়ে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস। ৩৩১ মিনিট পর পরশু রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে খেলেন মৌসুমের প্রথম গোল। তাতে অবশ্য কোনো সমস্যা হয়নি। অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মৌসুমের প্রথম গোল করে জিতিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদকে। এ দুজনের গোলে সোসিয়েদাদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে হোসে মরিনহোর রিয়াল।
রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছেন আগের মৌসুমে। রিয়ালের হয়ে অনেক গোল এরই মধ্যে করেছেন। তবে এ মৌসুমে ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে রিয়ালে নাম লেখানো আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ডি মারিয়া পরশু রিয়ালের জার্সি গায়েই করেছেন প্রথম গোল। তাঁর উচ্ছ্বাসও তাই একটু বেশিই ছিল, ‘ভালো একটি দলের বিপক্ষে প্রথম গোল পাওয়া এবং সেই সঙ্গে পুরো পয়েন্ট পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার।’
শক্তির বিচারে রিয়াল মাদ্রিদের পাশে রিয়াল সোসিয়েদাদ দাঁড়াতেই পারে না। তবে সোসিয়েদাদ এ মৌসুমে দুর্দান্ত খেলছে। পরশুর আগ পর্যন্ত কোনো ম্যাচও হারেনি তারা। শুরুর ১৫-২০ মিনিট বাদ দিলে পরশু রিয়ালের বিপক্ষে প্রথমার্ধটাও দুর্দান্ত খেলেছে সোসিয়েদাদ। সব মিলিয়ে ডি মারিয়া যে সোসিয়েদাদকে ভালো দল বললেন, সেটা যথার্থই।
প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলেও গোল পায়নি সোসিয়েদাদ। দুই দলই যখন গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল, তখনই রিয়ালকে এগিয়ে দেন ডি মারিয়া। তাঁর ৫১ মিনিটের গোলটি ১০ মিনিট পর পরিশোধ করে দেন রাউল তামুদো। এরপর যখন ম্যাচটি একবার সোসিয়েদাদের দিকে, আরেকবার রিয়ালের দিকে ঝুঁকছিল, তখন রিয়ালকে এগিয়ে দেন রোনালদো। ফ্রি-কিকটা ছিল দারুণ, কিন্তু ভাগ্যের ছোঁয়া পেয়েই তা থেকে গোল হয়েছে ৭৫ মিনিটে।
এদিকে ইতালিয়ান লিগে ফিলিপ্পো ইনজাগির গোলে কাতানিয়ার বিপক্ষে বেঁচেছে এসি মিলান। নিজেদের মাঠে ম্যাচের ২৭ মিনিটে কাপুয়ানোর গোলে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল মিলান। ৪৫ মিনিটে দারুণ এক গোল করে মিলানকে ড্র এনে দিয়েছেন ‘সুপার পিপ্পো’ ইনজাগি (১-১)। ম্যাচ শেষে রোনালদিনহো অবশ্য জিততে না পারার জন্য দুষলেন কাতানিয়ার অতি রক্ষণাত্মক মনোভাবকে, ‘যখন কোনো দল এত রক্ষণাত্মক খেলে তখন জয় পাওয়া কঠিন।’
পরশু ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল আর্সেনাল ও বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। আর্সেনালের ১-১ গোলের ড্রটা সান্ডারল্যান্ডের সঙ্গে। সেস ফ্যাব্রিগাসের ১৩ মিনিটের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আর্সেনাল। কিন্তু ইনজুরি সময়ে সান্ডারল্যান্ডকে ড্র এনে দেন ড্যারেন বেন্ট। কোলনের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখের ড্রটি অবশ্য গোলশূন্য।

বারবেতভের হ্যাটট্রিকে জিতল ম্যানইউ

আমি বারবেতভের প্রতিভার অপচয় করেছি।’ স্বীকারোক্তিটা খোদ অ্যালেক্স ফার্গুসনের। বারবেতভ নিজে কি করেননি? গত মৌসুমে তো লিগে মাত্র ১২ গোল তাঁর। ফার্গুসন তাঁর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে এই বুলগেরিয়ান স্ট্রাইকারকে আক্রমণভাগের আরও ওপরে তুলে দিয়েছেন। ওয়েইন রুনির নিষ্প্রভতাকে কাজে লাগিয়ে বারবেতভও যেন নতুন করে চেনাচ্ছেন। লিগে ছয় ম্যাচে ছয় গোল। এর মধ্যে কাল লিভারপুলের বিপক্ষে বড় ম্যাচে করলেন হ্যাটট্রিক। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই ঘুরে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত লিভারপুল হারল ৩-২ গোলে। লিভারপুলের দুটি গোলই করেছেন অধিনায়ক জেরার্ড।
জয়যাত্রা অব্যাহতই রেখেছে চেলসি। লিগে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিতে ব্ল্যাকপুলকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে তারা। মালুদা দুটি এবং সলোমান কালু ও দ্রগবা একটি করে গোল করেছেন। জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটিও। কার্লোস তেভেজ ও ইয়াইয়া তোরের গোলে উইগানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে জয় দিয়েই হারকিউলিস দুঃখ খানিকটা মুছে ফেলেছিল বার্সেলোনা। বাকিটুকুও মুছে ফেলল কাল। মেসি ও পিকের গোলে লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জয়ের পরও একটা দুঃখ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বার্সেলোনাকে। ইনজুরি সময়ে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছেড়েছেন ১১ মিনিটে দলকে প্রথম লিড এনে দেওয়া মেসি। তবে তাঁর চোট গুরুতর কি না, তা জানা যায়নি।
আগের ম্যাচে বার্সাকে ধাক্কা দিলেও কাল নিজেরাই ধাক্কা খেয়েছে হারকিউলিস। তাদেরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ভ্যালেন্সিয়া।
ব্যর্থতা ভুলে ইতালিয়ান সিরি ‘আ’তে জিতেছে ইন্টার মিলান। স্যামুয়েল ইতোর জোড়া গোল টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ইন্টারকে পালেরমোর বিপক্ষে এনে দিয়েছে ২-১ গোলের জয়। উদিনিসের বিপক্ষে জুভেন্টাস জিতেছে ৪-০ গোলে।

মহিলা কাবাডির সেরা বাংলাদেশ আনসার

খেলাটা কেন পল্টন কাবাডি স্টেডিয়ামে হলো না তা নিয়ে আক্ষেপ ছিল অনেক খেলোয়াড়ের। তবে সব আক্ষেপ মুছে ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ইনডোরে মিজান এডিবল অয়েল মহিলা কাবাডির শেষ দিনটা গেল আনন্দমুখর। ইনডোর মাতিয়ে রেখেছিলেন বাংলাদেশ আনসারের বিভিন্ন খেলার ক্রীড়াবিদেরা। শেষ পর্যন্ত হাসিমুখেই ঘরে ফিরেছেন তাঁরা। কাল ফাইনালে নবাগত দল বিজেএমসিকে ১৮-৭ পয়েন্টে হারিয়ে মহিলা কাবাডির চ্যাম্পিয়ন হলো আনসারই। এর আগে সেমিফাইনালে মাগুরাকে হারিয়ে আনসার ও গাজীপুরকে হারিয়ে বিজেএমসি ওঠে ফাইনালে।
এটা জানাই ছিল, এবার টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গড়েছিল আনসার। জাতীয় দলের ১০ জনকে নিয়ে গড়া দলটি হেসেখেলেই চ্যাম্পিয়ন হলো। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন জাতীয় দলের রেইডার শাহনাজ পারভীন মালেকা। খেলা শেষে স্টার স্পোর্টসের পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া হয় ট্রফি ও ৫ হাজার টাকা। চ্যাম্পিয়ন আনসার ১০ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার পেয়েছে। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও ট্রফি তুলে দেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান মিজান এডিবল অয়েলের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের সোয়েব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

আজ শুরু বাংলাদেশের অভিযান

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন কোচ চলে গেলেন বিদেশে! শ্রীলঙ্কায় কোচদের সেমিনারে অংশ নিতে কোচ গোলাম রব্বানির (ছোটন) যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল টুর্নামেন্ট শুরুর সংবাদ সম্মেলনে। প্রশ্ন উঠল অপর্যাপ্ত অনুশীলন নিয়েও। মাস দেড়েকের প্রস্তুতিতে বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে বাংলাদেশ? কোনো বিদেশি দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলা হয়নি। তাহলে স্বাগতিক হয়ে লাভ কী? এসব বিতর্ক আর সমালোচনা মাথায় নিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ফুটবল বাছাইপর্বের অভিযান শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের।
ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে কাল শেষ বিকেলে শেষবারের মতো অনুশীলন করলেন মাইনু মারমা, সাবিনা, অনন্যারা। জর্ডান সম্পর্কে তাঁদের জানার পরিধিটা সামান্যই। তার পরও বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে। ‘কোচ আমাদের জর্ডানের ম্যাচের ভিডিও সিডি দেখিয়েছেন’—জানালেন মিডফিল্ডার অনন্যা। অ্যাথলেট ছেড়ে বছরখানেক ধরে ফুটবল খেলা লেফটব্যাক মিরোনার কথা, ‘এই দলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন। আমিও গত ইন্দো-বাংলা গেমসে খেলেছি। বিদেশি কোনো দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলতে পারলেও আমরা আত্মবিশ্বাসী। চাইব, মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে।’ অধিনায়ক মাইনুও ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রতি ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে জেতা।’ তবে দলের বর্তমান কোচ মাহমুদ আলম জয়ের ব্যাপারে অতটা জোর দিতে পারলেন না, ‘এই দলের বেশির ভাগই নতুন। প্রথমে এদের বেসিক শেখাতে হয়েছে। মাত্র দেড় মাসের অনুশীলনে তবু এদের আধুনিক ফুটবলের কলাকৌশল শেখাতে পেরেছি। এই টুর্নামেন্টকে কিন্তু হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’ জর্ডানের কোচ মাহের আবু হান্ডোস অবশ্য বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবছেন না। তিনি ভাবছেন ইরান ও ভারতকে নিয়ে। হান্ডোসের কাছে কঠিন প্রতিপক্ষ গ্রুপের এই দুই দলই, ‘ভারত ও ইরান একই রকম ফুটবল খেলে। ওদের সঙ্গে লড়াইটা কঠিন হবে।’
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আজ উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে ইরান। ভারতের বাঙালি কোচ শুক্লা দত্ত, ভারতের মহিলা দলের অধিনায়কও ছিলেন একসময়। জানালেন, তাঁদের প্রস্তুতি হয়েছে লক্ষেৗতে। নানা প্রদেশ থেকে উঠে আসা মেয়েদের নিয়ে দলটা গড়া হলেও সবার মধ্যে আছে দারুণ বোঝাপড়া। ঢাকা আসার আগে তাঁরা ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৩ দল ও উত্তর প্রদেশের বিপক্ষেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে এসেছেন। অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার কমলা দেবী গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ারই আশায় রয়েছেন, ‘চূড়ান্ত পর্বে উঠতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ওই চ্যালেঞ্জটা নিতে উদগ্রীব হয়ে আছি।’

মাহমুদের বিকল্প চান সিডন্স

নাকের ডগাটা লাল হয়ে উঠেছে। একটু ক্ষতের মতোও আছে। কী হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ‘স্কিন ক্যানসার।’ উত্তরটা জেমি সিডন্স এত অবলীলায় দেন যে ত্বকের ক্যানসারটাকে সর্দি-কাশির মতো মামুলি কোনো অসুখ মনে হতে বাধ্য।
অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য ব্যাপারটা সে রকমই আসলে। সিডন্স যে ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত, আবহাওয়াগত কারণেই নাকি অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য সেটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এই ক্যানসার আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নয়। এর আগেও দুবার শরীরের ক্যানসার-আক্রান্ত অন্য জায়গায় অস্ত্রোপচার করিয়েছেন সিডন্স। এবারেরটা নাকি কী একটা ক্রিম লাগালেই ভালো হয়ে যাওয়ার কথা।
ত্বকের ক্যানসার নিয়ে চিন্তিত না হলেও সিডন্সকে আবারও চিন্তা করতে হচ্ছে তাঁর কোচিং প্যানেল নিয়ে। ফিল্ডিং কোচ ও বোলিং কোচ যোগ হওয়ায় জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলের চেহারা যখনই একটা পরিপূর্ণ রূপ পেল, তখনই সহকারী কোচের পদ থেকে খালেদ মাহমুদের সরে দাঁড়ানোর ধাক্কা। সিডন্স চান না বিশ্বকাপের আগে জায়গাটা খালি থাকুক। মাহমুদের জায়গায় শিগগিরই নতুন কাউকে চাইছেন এই অস্ট্রেলিয়ান।
‘ও (খালেদ মাহমুদ) চলে যাওয়ার পর সহকারী কোচ হিসেবে আমার এখন আরেকজন স্থানীয় কোচ দরকার। কোচিং প্যানেলে এই জায়গাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’—বলেছেন জেমি সিডন্স। শুধু অনুশীলনে সাহায্যের জন্যই নয়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিদেশি কোচদের ভাষাগত ব্যবধান দূর করার জন্যও দলে একজন স্থানীয় কোচ প্রয়োজন বলে মনে করছেন কোচ।
সিডন্সের ওপর অভিমান করেই সরে দাঁড়িয়েছেন মাহমুদ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ককে নাকি সহকারী কোচ হিসেবে সিডন্স সেভাবে ব্যবহারই করতেন না। সহকারী কোচ তো নয়, কোচদের সহকারীই হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সিডন্স-মাহমুদের ব্যক্তিত্বের সংঘাতটা চরমে ওঠে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। একই দলে থেকেও তখন থেকেই দুজন মুখোমুখি। এমনও শোনা যায়, সিডন্স নাকি কখনো কখনো খেলোয়াড়দের সামনেই অপদস্থ করতে চেয়েছেন মাহমুদকে। এ প্রসঙ্গে সিডন্স অবশ্য বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে এত দিনে একবারই মাত্র ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল এবং সেটাও বড় কিছু না।’
তবে সহকারী কোচ হিসেবে মাহমুদকে সেভাবে কাজে না লাগানোর ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন সিডন্স। এ ব্যাপারে পরিষ্কার ব্যাখ্যাও আছে তাঁর, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, একজন সাবেক খেলোয়াড় হয়েও সুজন (মাহমুদ) এখনো কোচিংয়ের কোনো জায়গাতেই বিশেষজ্ঞ নয়। এ কারণেই জাতীয় দলের কোচিংয়ে বোর্ড বা আমি তাকে নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব দিইনি। যত যা-ই বলুন, আমরা একটা আন্তর্জাতিক দল। সামর্থ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে সম্ভাব্য সেরা কোচদেরই প্রয়োজন খেলোয়াড়দের।’ মাহমুদের অনুশীলনে কোচ হিসেবে ভূমিকা রাখতে না পারার হতাশাটাকে তাই যৌক্তিক মনে করছেন সিডন্সও। সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘সহকারী কোচরা প্রায়ই মনে করে তাদের হয়তো আরও বেশি কিছু করার আছে। কিন্তু তাদের এটাও জানা উচিত, যে কাজটা তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে, কোচিং-কাঠামো আর দলের সাফল্যে সেটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটা হয়তো খুব চটকদার কিছু নয়, প্রচারের আলোও অতটা পায় না। তবে জীবনে হাঁটতে শেখার আগে তো আপনাকে হামাগুড়ি দিয়েই এগোতে হবে।’
একজন আদর্শ সহকারী কোচ ঠিক কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কেও আছে সিডন্সের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, ‘সাধারণভাবে একজন সহকারী কোচের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা থাকতে হয়। কোনো একটা জায়গার দুর্বলতা দূর করতে প্রধান কোচই তাঁকে বেছে নেন। সহকারী কোচ সব সময় প্রধান কোচকে সমর্থন করবেন, সব কাজে সব রকম উৎসাহ দেবেন।’ সহকারী কোচকে যে সব সময় প্রধান কোচের মতো ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিং নিয়েই কাজ করতে হবে, সিডন্স সেটা মনে করেন না। তাঁর মতে, নেট বোলার থেকে শুরু করে অনুশীলনের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও সহকারী কোচের কাজের মধ্যে পড়ে।
মাহমুদের ব্যাপারে একটা জায়গায় সিডন্সের আপত্তির কথা শোনা যায়—বিসিবি মাহমুদকে জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল সিডন্সের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই। জাতীয় দলের কোচ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও কোচিং প্যানেলে মাহমুদের উপস্থিতিটা শেষ দিকে প্রয়োজনীয়ই মনে হয়েছে তাঁর কাছে, ‘সুজনই আমার লজিস্টিক ব্যাপারগুলো দেখত। আমার সঙ্গে আলোচনা করে দৈনন্দিন পরিকল্পনা লিখত সে। এসব ক্ষেত্রে সে দারুণ। অনেক অভিজ্ঞ হয়ে উঠছিল, কোচ হিসেবেও প্রতিদিনই উন্নতি করছিল। কঠোর পরিশ্রম করতে পারে ও, বলতে পারেন মাহমুদ জাতীয় দলের জন্য একটা সম্পদেই পরিণত হয়েছিল।’
জেমি সিডন্সের শেষ কথাগুলোকে কীভাবে নেবেন মাহমুদ?