Saturday, March 24, 2018

একাত্তরে পাকিস্তান দখল করে নিতে চেয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী -অশোক পার্থসারথীর বইয়ে তথ্য

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান দখল করে নিতে চেয়েছিলেন ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাতে সায় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট লিওনিদ ইলিচ ব্রেজনেভের। তিনি এ জন্য ইন্দিরা গান্ধীকে একটি গোপন টেলিগ্রামও পাঠিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিতে ছিল ভারতের সেনাবাহিনী। ‘জিপি: ১৯১৫-১৯৯৫’ শীর্ষক একটি বইয়ে এসব কথা লিখেছেন অশোক পার্থসারথী। এ বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। অশোক পার্থসারথী তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপদেষ্টা জি পার্থসারথীর ছেলে ও সাবেক সরকারি নীতিনির্ধারক। তার পিতা জি পার্থসারথীর বিভিন্ন নোটের ওপর ভিত্তি করে তিনি এ বইটি লিখেছেন। বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে মার্চের শেষের দিকে। ভারতের অনলাইন ডিএনএ সেই বইয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৬ই মার্চ। এদিন বিশেষ বৈঠক বসে ভারতের কেবিনেট কমিটি অন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স (সিসিপিএ)। ওই বৈঠকে উপস্থিতরা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরিকল্পনায় সম্মতি দেন। তাতে বলা হয়, ভারতের সেনাবাহিনীকে সরাসরি পেশোয়ারে পাঠানো হবে। এর মধ্য দিয়ে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তান দখল করে নেয়া হবে। ওই বইয়ে বলা হয়েছে, পিএন হাকসার ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর মুখ্য সচিব। তিনি বাদে সিসিপিএ’র সব সদস্যই দেশভাগের বিরোধী ছিলেন। অর্থাৎ তারা পাকিস্তান দখল করে পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে ছিলেন।
১৬ই ডিসেম্বর। ঢাকায় পাকিস্তান আত্মসমর্পণের ১৬ ঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় রাত একটায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অফিস সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভের একটি অত্যন্ত গোপন টেলিগ্রাম পায়। এর পরই ইন্দিরা গান্ধী তার সেনাপ্রধান স্যাম মানেকশর সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন অশোক পার্থসারথী। তিনিও তার পিতার সঙ্গে সিসিপিএ’র ওইদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি লিখেছেন, সেনাপ্রধানকে ইন্দিরা গান্ধী বলেন ‘স্যাম, পেশোয়ার পৌঁছাতে আপনার কত সময় লাগবে?’
এর জবাবে স্যাম মানেকশ বলেন, ‘তিন দিন ম্যাডাম’।
এরপর ইন্দিরা গান্ধী তাকে আবার বলেন, ‘আপনাকে খুব আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে’
স্যাম মানেকশ বলেন, ‘ম্যাডাম আমরা পূর্ব পাকিস্তানের পতন দেখেছি। সেনা সদর দপ্তরে আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে, আপনি এবং আপনার সহকর্মীরা আমাদের কাছে এই প্রশ্নটিই করবেন, যেটা আপনি আমাকে করেছেন। তাই আমরা আগেভাগেই হোমওয়ার্ক করে রেখেছিলাম। আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিতে আছি।’
মন্ত্রীরা, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ ও সার্ভিসের প্রধানরা যারা উপস্থিত ছিলেন সিসিপিএ’র বৈঠকে তারা সবাই চেয়েছিলেন পাকিস্তান দখল করে নিতে। তবে এক্ষেত্রে পিএন হাকসারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছিলেন। তিনি জানতে চাইছিলেন, ভারত কি পশ্চিম পাকিস্তান শাসন করবে কিনা। তখন হাকসার বলেছিলেন, যদি তাই হয় তাহলে প্রথমেই পশ্চিম পাকিস্তানের সব মানুষকে আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। স্লোগান দিতে হবে ‘ইয়াহিয়া খানের পতন হোক, টিক্কা খানের পতন হোক’। হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই। কিন্তু ছয় মাস পরে ওই একই জনগণ স্লোগান দেবে ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর পতন হোক, হিন্দুরা ফিরে যাও’।
এক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভের টেলিগ্রাম ইন্দিরা গান্ধীকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাছাড়া ইন্দিরা গান্ধীর এমন সিদ্ধান্তের প্রতি তার সমর্থনও প্রকাশ পেয়েছিল। তবে পিএন হাকসারের মন্তব্যের জবাব দিয়েছিলেন তখনকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবন রাম। তিনি বলেছিলেন, তিনি পশ্চিম পাকিস্তান দখল করতে চান না। তবে দখলীকৃত জম্মু ও কাশ্মীর অংশ ফেরত চান।
ওই বৈঠকে সবার কথা শোনার পর ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, এ বিষয়ে তিনি চিন্তা করবেন। এক পর্যায়ে বৈঠক শেষ হয়। অশোক পার্থসারথী লিখেছেন, এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা  গান্ধীর সঙ্গে তার বাসভবনে যান এবং প্রধানমন্ত্রীকে তার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
ইন্দিরা গান্ধীকে এ সময় অশোক পার্থসারথী বলেন, ‘ইতিহাসে আমরা এমন আর কোনো সুযোগ কখনো পাবো না’।
জবাবে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, এটি হবে একটি স্মরণীয় সিদ্ধান্ত।
কিন্তু রাত ৮টায় অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে একটি ঘোষণা দেয়া হলো। তাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেয়া হলো। ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পেশোয়ারমুখী অভিযানের সম্ভাবনা চূর্ণ হয়ে গেল। উল্লেখ্য, অশোক পার্থসারথীর পিতা গোপাল পার্থসারথী হলেন ভারতের বহুমুখী জনপ্রিয় একজন কূটনীতিক, সাংবাদিক। তিনি জিপি নামেই বেশি পরিচিত। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী স্যার গোপালস্বামী আয়াঙ্গারের পুত্র গোপাল পার্থসারথী। ওই বইয়ে তার সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর গোপনে শ্রীনগর সফরে গিয়েছিলেন আয়াঙ্গার। তখন তিনি ডোগরা কিং হরি সিংকে ভারতের পক্ষে আনতে সফল হয়েছিলেন।
১৯৭১ সালে জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর বানানো হয় গোপাল পার্থসারথীকে।

আমদানিকৃত চীনা পণ্যের ওপর ট্রাম্পের শুল্কারোপ

চীন থেকে আমদানি করা ৬ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি আদেশপত্রে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এতে করে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে চলা বাণিজ্য যুদ্ধে যেন সরাসরি আঘাত হানলেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন আরো পদক্ষেপ নেয়া হবে। চীনের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ এনে এমন পদক্ষেপ নিতে চলেছেন তিনি। ট্রাম্প প্রত্যাশা করছেন তার এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরো সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করে তুলবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন  পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে আমদানি করা শুকরের মাংস, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল পাইপ, ফল, ওয়াইন ইত্যাদি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের চিন্তা করছে চীন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
হোয়াইট হাউজকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, ট্রাম্প ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) বা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়কে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত শুল্ক আরোপ করা যায় এমন পণ্যের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিবেন। ইউএসটিআর ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে ৪৮০০ কোটি ডলার সমমূল্যের ১৩০০ পণ্য চিহ্নিত করে রেখেছে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুনচিন’কে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা যায় এমন নিষেধাজ্ঞার একটি তালিকা তৈরি করতেও বলেছেন ট্রাম্প। চীনের সঙ্গে ৩৭৫০০ কোটি ডলার বাণিজ্য ঘাটতির কারণে আমেরিকান কর্মসংস্থান কমেছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। সেদিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এটা পৃথিবীর যে কোনো দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি। এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে শুক্রবার এমন পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, চীন বাণিজ্য যুদ্ধ চায় না। কিন্তু কোনো যুদ্ধে জড়াতে ভয়ও পায় না।  ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় আমদানিকৃত ৩০০ কোটি সমমূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার চিন্তা করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, অর্থনৈতিক সহযোগিতাই ‘একমাত্র বিকল্প’। বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হওয়ার আগে যেসব বিষয়ে বিরোধ আছে তা নিয়ে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে তারা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে পাল্টা দুই স্তরের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানায় মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত না হতে পারলে তাজা ফলমূল, বাদাম, ওয়াইনসহ ১২০টি মার্কিন পণ্যে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে তারা। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক পর্যালোচনা শেষে দ্বিতীয় স্তরের পদক্ষেপ নেয়া হবে; এক্ষেত্রে বন্দর ও অ্যালুমিনিয়াম স্ক্র্যাপের মতো অন্তত ৮টি পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসবে।
চীনের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত ইস্পাতের ওপর ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প। এই শুল্ক আরোপের শিকার হবে চীনও। তবে ইউএসটিআর রবার্ট লাইঠিজার বৃহস্পতিবার বলেন, ইউরোপীয় দেশ, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে এই শুল্ক আরোপ থেকে প্রাথমিকভাবে ছাড় দেয়া হবে। তবে, লাইঠিজার জানান যে, ট্রাম্প আপাতত ওই শুল্ক আরোপ স্থগিত রাখার চিন্তা করছেন। শুল্ক আরোপ করা হবে এমন দেশের তালিকায় আরো কয়েকটি নাম যোগ করার চিন্তা করছেন তিনি। এসব দেশের সঙ্গে আলোচনা করে তারপর ঠিক করা হবে দেশগুলোর নাম তালিকায় যোগ হবে কিনা। এমন দেশের মধ্যে রয়েছে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও কোরিয়া।

আতিয়া মহলে অভিযানের ১ বছর by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

রাতটিকে বৃহস্পতিবার হিসেবে ধরা হলেও ঘড়ির কাঁটার হিসেবে শুক্রবারে ঢুকে গেছে। আর তারিখ হিসেবে ছুঁয়ে দিয়েছে ২৪শে মার্চকে। ২০১৭ সালের এমনই এক সন্ধিক্ষণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহলে। পাঁচতলা ও বাড়ির নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে মধ্যরাতে খবর পায় পুলিশ। চট্টগ্রামের সিতাকুণ্ড থেকে আটক হওয়া দুই জঙ্গির কাছে এ খবর পায় পুলিশ। সে রাতেই বাড়িটি ঘেরাও করে আইন শৃঙ্ক্ষলা বাহিনী। রাত ভোর না হতেই আতিয়া মহলের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো সিলেটে-সিলেট ছেড়ে পুরো বাংলাদেশে- দেশ পেরিয়ে সারা বিশ্বে। ১১১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়কতার পর নারীসহ ৪ জঙ্গির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় অভিযান। সফল এ অভিযানে দুঃখ হয়ে উঠে র‌্যাব ও পুলিশের ৩ সদস্যসহ ৭টি প্রাণের ক্ষয়।
২৪শে মার্চ সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পায় আতিয়া মহলের নিচ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকা জঙ্গিরা। সকাল ৭টার দিকে ভেতর থেকে বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে থাকে। সকালে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় র‌্যাব, পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), বিশেষ শাখা (এসবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। আতিয়া মহলের চার তলাবিশিষ্ট ভবনের বারো ফ্ল্যাটের সকল বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু পাঁচ তলাবিশিষ্ট ভবনটির নিচ তলায় জঙ্গি আস্তানা থাকায় ওই ভবনের বাকি ২৯টি ফ্ল্যাটে থাকা বাসিন্দাদের সরিয়ে আনার ঝুঁকি নেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সকাল থেকেই পুলিশ হ্যান্ড মাইকে ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। তবে জঙ্গিরা সাড়া দেয়নি সে আহ্বানে। উল্টো বিস্ফোরক ছুঁড়ে তারা নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে থাকে। পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় বিকালে ঢাকা থেকে আসে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী ‘সোয়াত’। পুরো ভবন ঘিরে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা। রাত ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিটের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফিরে যায়। রাত কাটে উৎকণ্ঠায়। ২৫শে মার্চ সকাল ৮টার দিকে ভারি ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনীর শতাধিক সদস্যের প্যারা কমান্ডো টিম আসে ঘটনাস্থলে। ৯টার দিকে শুরু হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামের রুদ্ধশ্বাস অভিযান। অভিযানের শুরুতেই পাঁচতলা ভবনে ২৯টি ফ্ল্যাটে আটকা পড়া ৭৮ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়। দুপুর ২টার দিকে শুরু হয় মূল অভিযান। দফায় দফায় গুলি আর বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শিববাড়ি এলাকা। অভিযান যখন চলছিল তখন উৎসুক জনতা ঘিরে রেখেছিলেন চারপাশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার তাদের সরিয়ে দিচ্ছিল, বারবারই তারা ফিরে আসছিলেন। আতিয়া মহল থেকে আড়াই শ’ গজ দূরে এমনই এক জটলার মাঝে প্রচণ্ড শব্দে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ হয়। সে বোমার বিস্ফোরণে নিহত হন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) গোয়েন্দা ইউনিট প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, পুলিশের দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ও চৌধুরী মো. আবু কায়সারসহ ৭ জন।
পরদিন ২৬শে মার্চ। স্বাধীনতা দিবস। সিলেটের মানুষের কাছে অন্য এক রূপ নিয়ে ধরা দেয়। আতঙ্ক-উৎকণ্ঠার সে দিনটিও শুরু হয় বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দে। পরদিনও একই চিত্র। তবে এক সময় শান্ত হয়ে আসে আতিয়া মহল। ভগ্নদশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল আতিয়া মহল। আর বাড়ির ভেতরে পড়ে ছিল চার জঙ্গির মৃতদেহ। ওই দিনই দুই জঙ্গির মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২৮শে মার্চ বিকালে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয় আতিয়া মহল। শেষ হয় ৬ দিনব্যাপী সেনা কমান্ডোদের ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। ভবনটিকে ঝুঁকিমুক্ত করে ১১ই এপ্রিল থেকে ভাড়াটিয়াদের ঢুকতে দেয় র‌্যাব।
আতিয়া মহল এখন ফিরে এসেছে অনেকটাই আগের রূপে। এজন্য বাড়ির মালিক উস্তার মিয়াকে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মতো খরচ করতে হয়েছে। আগের মতোই উজ্জ্বল সবুজ বর্ণ লেগেছে আতিয়া মহলের ভবন দুটোর গায়ে। তবে দুঃসহ স্মৃতির চিহ্ন হয়ে এখনও বাড়ির সামনে পড়ে আছে ইঁট পাথরের স্তূপ। সকলেরই প্রাণপণ চেষ্টা সে স্মৃতি ভুলে যাওয়ার। আগের মতোই প্রাণ ফিরে এসেছে আতিয়া মহলে। ৩০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৮টিতেই এখন ভাড়াটে রয়েছে। ৫ তলা ভবনের যে ফ্ল্যাটটিতে জঙ্গিরা ঠিকানা গেঁড়েছিল সে ফ্ল্যাটেই এখন নূরজাহান বেগমের সংসার। ৩ মাস হয়েছে তারা এ ফ্ল্যাটটিতে উঠেছেন। ফ্ল্যাটটির অতীতের গল্প তার জানা থাকলেও তিনি সেটিকে পাশে রেখেই সাজিয়ে নিয়েছেন নিজের সংসার।
আতিয়া মহলের মালিক উস্তার আলী কিছুতেই ভুলতে পারছেন না এক বছর আগের স্মৃতিটিকে। তবে সব কিছু তিনি ভুলে যেতে চান। গ্লানিময় স্মৃতি মুছে দিতে তিনি আতিয়া মহলকে অনেকটাই আগের রূপে ফিরিয়ে এনেছেন। সেনাবাহিনীর অভিযানে আতিয়া মহল একেবারে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল। সংস্কারে তার খরচ হয় ৬০ লাখ টাকার মতো। তবে তার দুঃখ নেই। তার বাড়িতে যে প্রাণ ফিরে এসেছে এতেই তিনি সন্তুষ্ট।

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে টেকসই উত্তরণে যত চ্যালেঞ্জ by মিজানুর রহমান

স্বল্পোন্নত দেশের সারি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উত্তরণে ব্যাপক সম্ভাবনার হাতছানির পাশাপাশি রয়েছে একগাদা চ্যালেঞ্জ। এমনটাই বলছেন পেশাদার কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদরা। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরাও তা মানছেন। তাদের মতে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দুনিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে চলমান   সুবিধাগুলো পাবে। কিন্তু তাতে কী- এখনই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। তা না হলে ২০২৭ সালের পর বাংলাদেশকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। এ নিয়ে সম্প্রতি এক আলোচনায় কোনো রকম রাখঢাকা না করেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, অর্থনৈতিতভাবে এখনও আমরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছি। আমাদের চ্যালেঞ্জ বহুমুখী। ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা আমাদের ঘাড়ে। আন্তর্জাতিক বন্ধু, উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলেছি। এ চ্যালেঞ্জের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আমাদের উত্তরণ। এটি একদিকে যেমন সুসংবাদ তেমনি চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে। ওই ধাপে উত্তরণের তিনটি সূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। মাথাপিছু আয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২৩০ ডলার, কিন্তু আমাদের রয়েছে ১২৭২ ডলার এবং পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি অনুযায়ী ১৬০০ ডলারের ওপরে। মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ছিল ৬৬ বা অধিক পয়েন্ট এবং আমাদের রয়েছে ৭২ দশমিক ৮ পয়েন্ট। এ ক্ষেত্রে পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মাধ্যমিক পর্যায়ে এনরোলমেন্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুর সক্ষমতা বিষয়ে ৩২ বা তার নিচে পয়েন্টের বিপরীতে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ২৪ দশমিক ৮ পয়েন্ট। এসব সম্ভাবনা। কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ২০২৭ সালের পর ইউরোপে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে না। এ বিকল্প নিয়ে এখনই আমাদের ভাবতে হবে। মন্ত্রী বলেন, টেকসই অগ্রগতির জন্য সরকারের তরফে সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে। তার মতে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে তার পরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড পাবে। ইইউ জোটে বাংলাদেশ এখন যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পায়, তা থাকবে না। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বৃত্তি ও প্রশিক্ষণের মতো অন্যান্য সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। মোটা দাগে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর বাংলাদেশ প্রতি বছর রপ্তানি খাতে প্রায় ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার হারাবে বলেও জানান মন্ত্রী মাহমুদ আলী। তবে তিনি বলেন, এতে হাতাশ হওয়ার কিছু নেই। দেশের আরো অগ্রগতির জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাত রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতেও কাজ করে যাচ্ছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা মতে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার পর্যায়েই একটি দেশকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এটি সামলে নেয়ার কৌশল প্রণয়নের ওপর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে একটি দেশের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চ্যালেঞ্জ বিষয়ে সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের ভাষ্য হচ্ছে- এলডিসি থেকে বের হলে উচ্চসুদে ঋণ নিতে হবে। আবার বাণিজ্যসুবিধা কমে গেলে তা পুষিয়ে নিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যখন এলডিসি থেকে বের হচ্ছে, তখন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিবেশ অনুকূলে নয়। তাই এখনই একটি উত্তরণকালীন কৌশল ঠিক করা উচিত। খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির বর্তমান চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানের মতে, এ পর্যন্ত যতগুলো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছে তার মধ্যে ছোট দ্বীপদেশগুলো শুধু সংখ্যার অর্জন দিয়ে উত্তরণ হয়েছে। কিন্তু উত্তরণ কতটা টেকসই হলো, সেটাই মূল বিষয়। অনেক দেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে সমস্যায় পড়েছে এমন নজিরও রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেসব দেশ এলডিসি থেকে বের হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি দেশও পাওয়া যাবে না, যাদের উদ্যোক্তা শ্রেণি আছে এবং একটি সক্রিয় শ্রমশক্তি আছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী মূল্যায়ন হচ্ছে- প্রাথমিক বিবেচনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো করেছে। কিন্তু তার পরও এখানে বৈষম্য বাড়ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে অনবরত চেষ্টা হচ্ছে- কিন্তু পুরোপুরি এটি বিমোচন হচ্ছে না। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এমন একসময়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ হতে যাচ্ছি, যখন অনিশ্চয়তা আছে। কিন্তু তাই বলে আমাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের আঘাত পড়বে। সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনায় বাজারসুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। তবে তাদের সবার প্রায় অভিন্ন বক্তব্য হচ্ছে- উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের জন্য অতি-দারিদ্র্য, বৈষম্য ও দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল নিয়ে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। সে কাজের মধ্যে বাংলাদেশকে যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দিতে হবে তা হলো-  রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার সন্ধান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদের উন্নয়ন, সম্পদের সঠিক ব্যবহার অর্জন, উৎপাদনশীলতায় উন্নতি এবং উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈদেশিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
জুনের মধ্যে শ্রম আইন সংশোধন চায় ইইউ: এদিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করলেও আগামী জুনের মধ্যে শ্রম আইন ও রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল আইন সংশোধন চেয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। তা না- হলে ইউরোপের দেশগুলোয় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে সুবিধা পায় তা-ও হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করে ২৮ রাষ্ট্রের এ জোট। ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনসিয়া তিরিঙ্ক বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০১৫’ এবং খসড়া ‘রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল আইন’ আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ সংগঠন করার অধিকার এবং দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য আলোচনা করার অধিকার সংক্রান্ত দুটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন অনুমোদন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের আইন তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায়, এর প্রভাব ইউরোপের বাজারে পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘আগামী জুন মাসে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ওই আইন দুটি সংশোধন করতে হবে।’ অন্যথায় ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারে এর প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এরপর শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, পরিবেশ এবং সুশাসন বিষয়ে ২৭টি কনভেনশন বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে সেটি পরীক্ষিত হতে হবে।’ তাহলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত বাজার পাবে বাংলাদেশ।

বয়স জালিয়াতি করে ফেঁসে যাচ্ছেন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ by নূর মোহাম্মদ

চাকরিতে প্রবেশের বয়স জালিয়াতি করে ফেঁসে যাচ্ছেন বরিশালের সরকারি হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ সচীন কুমার রায়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে বয়স  জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত তথ্য পিডিএস জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়কে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জাকিয়া খানম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তার পিডিএস চাওয়া হয়।
জানতে চাইলে হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ সচীন কুমার রায় বলেন, এ ব্যাপারে আমি ফোনে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনি আমার কলেজে আসেন; সব ধরনের ডকুমেন্ট আপনাকে দেখানো হবে। আমার কাছে এর পক্ষে ১৬ ধরনের কাগজপত্র আছে।
জানা গেছে, একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে মাউশি ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ ইউসুফ, মাউশির উপ-পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন সরকার ও এইআরএম ইউনিটের সহকারী পরিচালক আশেকুল হক এ তদন্ত করেন। তদন্তকালে কলেজের অধ্যক্ষের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য ছাড়াও যশোর শিক্ষাবোর্ডের পুরো ফাইল খুঁটিনাটি করে তদন্ত করেন। তদন্তে সূত্রে জানা গেছে, সচীন কুমার রায় সপ্তম বিসিএস দিয়ে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেন ১৯৮৭ সালে। চাকরিতে যোগদানের সময় সব কাগজপত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮। ২৭ বছর ধরে এভাবেই চলে আসছিল। ২০১৪ সালে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদোন্নতি ও পদায়নের সময় তার জন্ম তারিখ বদল হয়ে ১৯৬০ দেখানো হয়। পদোন্নতির কাগজপত্রে তার জন্ম তারিখ দেখানো হয় ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯৬০। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, তিনি দুর্নীতি করে তার বয়স ২ বছর কমিয়েছেন; যাতে সরকারের বিরাট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় যে বয়স উল্লেখ করেন তা কোনো অবস্থায় পরিবর্তন করা যায় না। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস রুল বিধি-৯ অনুযায়ী তিনি বয়স সংশোধন করতে পারেন না। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষা ক্যাডার, যশোর শিক্ষা বোর্ড- এমনকি ওই কলেজে চলছে তুমুল আলোচনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচীন কুমার রায় বলেন, এটি মীমাংসিত বিষয়। ২৯ বছর আগেই এটি শেষ হয়ে গেছে। আমি চাকরিতে যোগদানের আগে বয়স পরিবর্তন করার আবেদন করি। আমি ১৬ ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বোর্ডে জমা দিই। সেই কাগজপত্রের ভিত্তিতে বোর্ড আমার বয়স কমিয়েছে। বোর্ডের কাগজপত্রের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় আমার বয়স কমিয়েছে। এটি নিয়ে নতুন বিতর্ক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বয়স কমানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করার সময় অফিস সহকারী ভুলে আমার বয়স দুই বছর বেশি লেখে। পরে আমার বাবা সংশোধনের উদ্যোগ নেন।
জানা গেছে, সচীন কুমারের বয়স আগেই কমানো হলেও মন্ত্রণালয় তা সংশোধন করেছে গত বছর। ওই বছর অবসরে যাওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের স্ত্রী সচীন কুমারের চাকরির ব্যাচমেট। সেই সূত্র ধরে তিনি যখন ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পান, তখন তার ফাইলটি অনুমোদন করিয়ে দেন। এরপর থেকে এটি নিয়ে মন্ত্রণালয়, মাউশি- এমনকি বরিশালের সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে তোলপাড় চলছে।
এ ব্যাপারে যশোর শিক্ষা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এটি তো অনেক আগের ঘটনা। ওই সময় যারা তার বয়স সংশোধন করেছিলেন, তারাই এর প্রকৃত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তবে বয়স কমানোর ব্যাপারে বোর্ড সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকে। হাজারো আবেদন থেকে যথেষ্ট প্রমাণ থাকার পরও দু-একটি আবেদনের বয়স হয়তো কমে। সেটিও করা হয় বয়স যদি ১ থেকে ১১ মাস কমানোর আবেদন করা হয়। আর চাকরিতে যোগদান করার পর কারো বয়স কমানোর ইতিহাস আমার জানা নেই। আর যশোর বোর্ডের সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন বলেন, এটি নিয়ে বরিশালে অনেক কিছু হচ্ছে বলে আমরা শুনেছি। বোর্ডের এ মুহূর্তে কিছুই করার নেই। তবে মন্ত্রণালয় বা আদালত যদি তদন্ত করতে বলে আমরা সেই মোতাবেক তদন্ত করতে প্রস্তুত।
তদন্তে সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে এপিট-ওপিট (বয়স কমানোর দালিলিক প্রমাণ) গ্রহণযোগ্য নয়। এটি জেনেও তিনি চাকরিতে যোগদানের পর বয়স কমিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি অতিরিক্ত আরও দুই বছর চাকরি করতে চান। এ ছাড়া তিনি যে প্রক্রিয়ায় বয়স কমিয়েছেন, পুরোটাই সন্দেহজনক। প্রথমত এসএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত বোর্ড একজন শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণ করে ১৪ থেকে ২০ বছর। এর মধ্যে কেউ যদি বয়স কমানোর আবেদন করে, সেখানে সর্বোচ্চ ১ থেকে ১১ মাস পর্যন্ত কমানো হয়। এর বেশি হলে সব কাগজপত্র থাকার পরও বাতিল বলে ধরে নেয়া হয়। দ্বিতীয়ত ওই কর্মকর্তা এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পাস করার পর বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এবং চাকরিতে যোগদান করেন। বয়স কমাতে এই দীর্ঘসময় লাগার কথা নয়। তা ছাড়া চাকরিতে এপিট-ওপিট শর্তজুড়ে দেয়া ছিল। তৃতীয়ত বয়স কমার পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিসাবরক্ষক (এজি) অফিসকে তা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনা বা বয়স কমানো কখনো এজি অফিস গ্রহণ করে না। সমস্যা শুধু এখানেই নয়, তিনি যখন অবসরে যাবেন, তখন তার জন্ম সাল কোনটা ধরবে ১৯৫৮ নাকি ১৯৬০।

স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ -জার্মানভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্কের গবেষণা

বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশে এখন আর গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড মানা হচ্ছে না। ২০১৫’র ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭’র জানুয়ারি পর্যন্ত করা   এক গবেষণায় এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। এতে বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘নির্বাচনের মানে অবনতি ঘটায়, এক সময়ের পঞ্চম বৃহৎ গণতন্ত্রের এ দেশটি ফের স্বৈরতন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।’
জার্মান থিঙ্কট্যাংক বারটেলসম্যান স্টিফটাং’র গবেষণায় এসব কথা বলা হয়েছে। এতে, নতুন স্বৈরতন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত অপর দেশগুলো হলো লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডা। ‘এই পাঁচটি দেশ ওই সীমা অতিক্রম করেছে যার দিকে এগুচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের ছয়টি দেশ- হন্ডুরাস, হাঙ্গেরি, মলডোভা, নাইজার, ফিলিপাইন ও তুরস্ক। অবশ্য এ ছয়টি দেশের নিম্নগামী হওয়ার মাত্রায় তারতম্য রয়েছে।’
গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও সুশাসনের মান এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। এমন অবনতির সিংহভাগ হচ্ছে উন্মুক্ত সমাজগুলোতে যেখানে সরকারগুলো ক্রমশই স্বেচ্ছাচারী শাসন চালাচ্ছে।
বারটেলসম্যান স্টিফটাং বলছেন, ২০১৬ সালে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনের পর গণতন্ত্রকরণে সব থেকে বেশি পশ্চাদধাবন করেছে তুরস্ক। ২০১৬ সালে দেশটিতে ব্যর্থ গণঅভ্যুত্থান চেষ্টার পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দমনমূলক পদক্ষেপের মধ্যে ছিল ‘মত প্রকাশ, গণমাধ্যম ও সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতায় মারাত্মক কড়াকড়ি।’
গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৩৩০ কোটি মানুষ স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে বাস করছে। ২০০৬ সালে জার্মান ভিত্তিক এই গবেষণা গ্রুপ তাদের জরিপ শুরু করার পর থেকে এ সংখ্যা এবারই সবচেয়ে বেশি। পক্ষান্তরে গণতন্ত্র উপভোগ করছে আনুমানিক ৪২০ কোটি মানুষ।
১২৯টি দেশের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বারটেলসম্যানের প্রতিবেদনে ৭১টি দেশকে গণতান্ত্রিক ও ৫৮টি দেশকে স্বৈরতান্ত্রিক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য পরিণত গণতন্ত্রের দেশগুলোকে এ গবেষণায় বাদ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়, ‘স্বৈরতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা সামান্য বৃদ্ধি হওয়াটা অত বেশি উদ্বেগজনক নয়। বড় সমস্যাটা হলো নাগরিক অধিকার সঙ্কুচিত হচ্ছে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও আইনের শাসন খর্ব হচ্ছে। একসময়ের গণতন্ত্রের বাতিঘরগুলোও সবচেয়ে অবনতি হওয়া দেশের তালিকায় যেমন- ব্রাজিল, পোল্যান্ড ও তুরস্ক’। পোল্যান্ডকে নিয়ে বলা হয়, ‘এখনো অনেক দূরে থাকলেও, ধীরে ধীরে তারা নিচের দিকে যাচ্ছে।’
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ব এখন ‘ক্রমাগত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আপন করে নেয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত অবনতি’ প্রত্যক্ষ করছে।
‘ক্রমেই আরো বেশি সংখ্যক দেশে, সরকারি নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য (চেকস অ্যান্ড ব্যালান্স) খর্ব করছে, যার কাজ হলো নির্বাহীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে ওই নেতারা নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখে তা-ই নয়; তারা পৃষ্ঠপোষকতার  ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করেন।’
রিপোর্টে আরো বলা হয়, ‘রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা অব্যাহতভাবে তীব্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমনটা হওয়ার পেছনে কঠোর স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোতে অত্যধিক দমনপীড়ন প্রাথমিক কারণ হলেও, এই গবেষণায় সার্বিকভাবে অপেক্ষাকৃত উন্নত রূপান্তরমুখী দেশ রয়েছে যেখানের সরকারগুলো কর্তৃত্বপরায়ণতার দিকে ঝুঁকছে।’
রিপোর্টে কিছু সফলতার গল্পও রয়েছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে আর্জেন্টিনা, মরিশাস ও উরুগুয়ে।
বারটেলসম্যান স্টিফটাং’র গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, প্রতি পাঁচ দেশের মধ্যে একটি গণতন্ত্রের মূলভিত্তিগুলো এবং বাজার অর্থনীতি বজায় রাখতে বা আরো শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে বতসোয়ানা, চিলি, এসতোনিয়া ও তাইওয়ানের কথা।
বুরকিনা ফাসো এবং শ্রীলঙ্কা এখন ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের তালিকায়, যারা ২০১৬ সালের রিপোর্টে চিহ্নিত হয়েছিল মাঝারি স্বৈরতন্ত্র (মডারেট অটোক্র্যাসি) হিসেবে।

সবজি ও রসুনের দাম বাড়ছে

রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। এর পাশাপাশি আমদানি করা রসুনের দামও বেড়েছে। সবজিতে বেড়েছে ৫-১০ টাকা। আর রসুনের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১০ টাকা। তবে পিয়াজের দাম আরো কমেছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সবজির দাম সপ্তাহ দুয়েক আগে বেশ খানিকটা কমে যায়। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো বাড়তে শুরু করেছে পণ্যগুলোর দাম। বিশেষ করে শীত ফুরিয়ে যাওয়ায় বাজারে আসছে গ্রীষ্মকালীন সবজি। টমেটো, সিম, কপিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমতে থাকায় দামও বেড়েছে। তাই গেলো সপ্তাহের চেয়ে এসব সবজি কেজিতে বেড়েছে ৫-১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মৌসুম শেষ হওয়ায় রাজধানীতে শীতকালীন সবজির দাম খানিকটা বাড়লেও অন্য শাক-সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালেই রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সব থেকে বেশি দাম বাড়ে শীতের অন্যতম সবজি ফুলকপি, টমেটো ও শিমের। এই সবজিগুলোর সেই বাড়তি দাম এখন আর নেই। তবে কমে আবারো বাড়ছে। গত সপ্তাহ পাকা টমেটো বিক্রি হয়েছে মানভেদে ১৫-২০ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহ ঘুরে সেই টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০-৪০ টাকায়। বাজারে এখন ছোট আকারের প্রতিপিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা দরে। পাতাকপিও পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। শিম ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা দরে। ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া করলা বাজারে ৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া বেগুন (কালো) ৩০ টাকা ও বেগুন (সাদা) ৪০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা ও ঢেঁড়শ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
হাতিরপুল বাজারে আসা শফিক বলেন, কিছুদিন আগেও তো সব সবজির দাম ছিল আকাশছোঁয়া। মনে করছিলাম দাম আরো কমবে না। তবে এখন দেখছি দাম কমেছে। সবজির দাম এমন থাকলে মোটামুটি স্বস্তিতে থাকা যায় বলে জানান তিনি।
কাঁচমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে। দুই সপ্তাহ আগে এই পণ্যটির দাম ছিল ৮০ টাকা বেশি। এদিকে নতুন দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা পিয়াজের কেজি ৩০-৩৫ টাকা। গত সপ্তাহেই দেশি ও আমদানি করা পিয়াজের দাম কিছুটা কমেছিল।
কাওরান বাজারের পিয়াজ ব্যবসায়ী আমিনুল বলেন, আমরা আড়ত থেকে এখন কম দামে পিয়াজ আনতে পারছি। সে কারণে কম দামে বিক্রি করতে পারছি। এখন বাজার নতুন পিয়াজে ভরপুর। তাই দাম কমে গেছে। তিনি বলেন, ভালো মানের দেশি পিয়াজ আগের সপ্তাহের মতই ১৭০-১৮০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) দরে বিক্রি হচ্ছে। আর সব থেকে ভালো মানের ভারতীয় পিয়াজের পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। তবে ভরতীয় পিয়াজ মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে বাজারে আমদানি করা রসুনের কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকা। মানভেদে ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে দেশি রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকায়। আর আমদানি করা রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি দাম ছিল ৯০-১২০ টাকা।
এদিকে চালের বাজার ঘুরে দেখে গেছে, মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১-২ টাকা। কিন্তু চিকন চালের দাম রয়েছে আগের মতই। বাজারে স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকা কেজি দরে। যার গত সপ্তাহের বাজার মূল্য ছিল ৪৩-৪৫ টাকা। পায়জাম ৪৮ টাকা, বিআর২৮ কেজি প্রতি ৫০-৫২ টাকা কেজি। এ ছাড়া ভালো মানের নাজিরশাইল ৬৫ টাকা, ইন্ডিয়ান নাজিরশাইল ৬২ টাকা এবং সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এ ছাড়া মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬ কেজির অধিক ওজনের প্রতি কেজি রুই মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, একই ওজনের কাতল ৫০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০-২০০, গলদা চিংড়ি ৬০০-৮০০ টাকা এবং আকারভেদে প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৮০০ টাকা দরে।
সপ্তাহের ব্যবধানে মাংসের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা, খাসি ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে বিএনপিপন্থিদের নিরঙ্কুশ বিজয়

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত (নীল প্যানেল)  প্রার্থীরা। নির্বাচনে সভাপতি, সম্পাদকসহ ১০টি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপ্যানেল প্রার্থীরা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের মোর্চা  সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল) সমর্থিত প্রার্থীরা ৪টি পদে জয় পেয়েছেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ শেষে গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। 
এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে নীল প্যানেলের প্রার্থী জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ২ হাজার ৩৬৯ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন  পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৫ ভোট। জয়নুল আবেদীন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৫৪ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের প্রার্থী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন পেয়েছেন ২ হাজার ৬১৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাদা প্যানেলের শেখ মো. মোরশেদ পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৫ ভোট। মাহবুব উদ্দিন খোকন ৪৪১ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতি হলেন জয়নুল আবেদীন। অন্যদিকে টানা ষষ্ঠবারের মতো সম্পাদক নির্বাচিত হলেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। নির্বাচনে সহসভাপতির দুটি পদে জয় পেয়েছেন নীল প্যানেলের প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা ও মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া। কোষাধ্যক্ষ পদে  নির্বাচিত হয়েছেন নীল প্যানেলের প্রার্থী নাসরিন আক্তার। সহ-সম্পাদকের দুটি পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছেন নীল প্যানেলের প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। সহ-সম্পাদকের অন্য পদে জয় পেয়েছেন সাদা প্যানেলের প্রার্থী মো. আবদুর রাজ্জাক। সাতটি সদস্য পদের মধ্যে তিনটি সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন সাদা প্যানেলের তিন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- আশরাফুল হাদী, শাহানা পারভীন ও শেখ মো. মাজু মিয়া। অন্য চারটি সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের চারজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- মাহফুজ বিন ইউসুফ, মো. আহসান উল্লাহ, মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মেহেদি হাসান। নির্বাচিত এই কার্যনির্বাহী কমিটি আগামী এক বছর দেশের শীর্ষ আদালতের আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব দেবে। 
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে (২০১৮-২০১৯ মেয়াদে) সভাপতি একটি, সহসভাপতি দুটি, সম্পাদক একটি, কোষাধ্যক্ষ একটি,  সহ-সম্পাদক দুটি, সদস্য সাতটি পদসহ মোট ১৪টি পদে এক বছর মেয়াদের জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাদা ও নীল প্যানেলের ২৮ জন ও স্বতন্ত্র হিসেবে ৫ জনসহ মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ ও শাহ খসরুজ্জামান। সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল বাসার ও সদস্য হিসেবে তাপস কুমার দাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে, স্বতন্ত্র ৫ জন প্রার্থীর কেউই জয়ের দেখা পাননি। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার (২১ ও ২২শে মার্চ) দুই দিন ব্যাপী সুপ্রিম কোর্টে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষে রাতে ভোট গণনা শুরু হয়। গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে নির্বাচন উপকমিটির আহ্বায়ক এ ওয়াই মসিউজ্জামান সমিতির দক্ষিণ হলে এই  প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করেন। দুই দিনের নির্বাচনে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৫ ভোট পড়ে। ভোটার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৫২।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনের হাওয়া উল্টানোর জন্য সরকারের প্রভাবশালী নেতারা চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘জিয়া নাগরিক ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি। মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের অনেক প্রভাবশালী নেতারা চেষ্টা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের হাওয়া উল্টাতে এবং জয়লাভ করতে। কিন্তু তারপরও তাঁরা পারেননি। সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে। মানুষ কি ভাবছে তা পরিষ্কার হয়েছে। কারণ, এখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। উৎসবের মধ্য দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি এমন উৎসবপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয় তাহলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটের অনুপাত হবে ৭৫ ও ২৫ শতাংশ। এটাই বাস্তবতা। সরকার ২৫ শতাংশের বেশি ভোট পাবে না।

সরকার ইতিহাসকে বিকৃত করছে- আ স ম আবদুর রব

সরকার ৭ই মার্চ, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করছে। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখে নাই, যুদ্ধ করে নাই তারা অসত্য ইতিহাস বানিয়ে জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ স ম আবদুর রব এসব কথা বলেন। সরকারকে উদ্দেশ্য করে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক আবদুর রব বলেন, ফরমায়েশি ইতিহাসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস তৈরি করে বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে কষ্ট দেবেন না। জাতির পিতা কবর থেকে বলছে- এসব মিথ্যা কথা থামাও। তা না হলে আমি আত্মহত্যা করবো। ৭ই মার্চের ঘটনা কোনো ব্যক্তিক উদ্যোগ ছিল না। ভাষণটি সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘদিনের রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। আবদুর রব বলেন, সোহরাওয়ার্দীতে হঠাৎ করে ১০ লাখ মানুষের সমাগমে এবার সংগ্রাম ঘোষণা আসেনি। আসাদ, ফারুক হত্যা, মওলানা ভাসানীর জনসম্পৃক্ততা ও সিরাজুল আলম খান না থাকলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে উন্মাদ করা যেত না। জন উন্মাদের কারণেই পাকিস্তানী কারফিউ বন্ধ করে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের উন্নয়নকে দুঃশাসন আখ্যা দিয়ে আ স ম আবদুর রব বলেন, সরকার রাজনীতির নামে দুঃশাসন কায়েম করছে। একদলের সমাবেশ অধিকার নিষিদ্ধ করে জনগণের টাকায় চালিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে মিছিল-সমাবেশ করানো হচ্ছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে ভাড়ায় সমাবেশে লোক আনছে। ব্যাংক লুটপাট ও বছরে শত শত বাচ্চা ধর্ষিত হচ্ছে। উন্নয়নের নামে এসব মিথ্যাচার। এই দুঃশাসনকে ছুড়ে ফেলতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিরাজুল ইসলাম খানের ১৪ দফা দেশ উন্নতির কর্মসূচি শীর্ষক আলোচনা সভায় মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক শামসুদ্দীন সাচ্চুর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন মুক্ত রাজনৈতিক সংগঠনের সভাপতি স্বরূপ হাসান শাহীন। সংগঠনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রেহেনা পারভীনের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল মাইনুল।

বাবার পর চলে গেলেন মা-ও, কী নিয়ে বাঁচবে তানজীদ by মহিউদ্দিন অদুল

দাদা পাইলট ছিলেন। বাবাও। বাবার সঙ্গে বিমান চালানোর স্বপ্ন ছিল ষোল বছর বয়সের তানজীদ বিন সুলতানের। কিন্তু এই কিশোরের সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে গত ১২ই মার্চ। নেপালের ত্রিভুবনে বিমান দুর্ঘটনায়। পরদিন মারা যান তার আহত পিতা পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান। পিতার শূন্যতা ভুলে স্বাভাবিক হতে চেয়েছিল সে। মাকে আঁকড়ে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু স্বামী আবিদের শোকে দু’বার ব্রেইন স্ট্রোক করেন তার মা। মায়ের সুস্থ হয়ে ফেরার প্রার্থনায় ছিল প্রত্যাশাও। তাই পিতৃবিয়োগের কষ্ট ভুলতে গতকাল মোটর শোতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তানজীদের। কিন্তু তা আর হয়ে উঠলো না। তার আগেই গতকাল সকাল সাড়ে ন’টার দিকে তাকে একা রেখে না ফেরার দেশে চলে গেছে তার মা আফসানা খানম টপি। পিতার পর মায়ের এমন বিয়োগে এতিম তানজীদ একেবারে পাথর হয়ে গেছে। হয়ে গেছে বাকরুদ্ধ। শুকিয়ে গেছে চোখের অশ্রু। এ অবস্থায় গতকাল তার হারানো শেষ অবলম্বন মা’কে বাবার পাশে বনানীর সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করে এলো কিশোর তানজীদ। ৯ দিনের ব্যবধানে বাবা-মা হারিয়ে এতিম হয়ে যাওয়া তানজীদ এখন কী নিয়ে বাঁচবে- এমন আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে উত্তরার বাসার পরিবেশ। 
দশ মাস আগে আবিদ পরিবার নিয়ে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ওই বাসায় উঠেন। এর আগে দীর্ঘদিন ছিলেন ৬ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাসায়। পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকতেন বয়োবৃদ্ধ স্নেহময়ী শাহানা রহমানের পরিবার। গতকাল তিনিও যান কন্যাতুল্য টপিকে শেষ বিদায় জানাতে। তার কাছে আবিদ ও টপির কথা জানতে চাইতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুধারায় ভিজতে থাকতে কপোল। কান্না সংবরণ করে তিনি বলেন, আবিদের বাবাও পাইলট ছিলেন। তার ছেলে তানজীদও পাইলট হতে চায়। আল্লাহ্‌ তার স্বপ্নপূরণ করুন। ছেলেটা একেবারে এতিম হয়ে গেল। এখন বাবার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মাও চলে গেল। এখন কী নিয়ে বাঁচবে ছেলেটা। অবশ্য যার কেউ নেই তার আল্লাহ্‌ আছেন। আল্লাহ্‌ই তাকে দেখবেন।
আবিদ-টপির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাত বা ভোরে অফিসের গাড়ি নিতে আসলে আবিদ রাস্তায় বের হতো। বাসায় বিদায় নিয়ে আসার পর বেলকনিতে আসা টপিকে রাস্তা থেকে হাত নেড়ে আবার বিদায় জানাতো। আমি ভাবতাম ছেলেটা বিমান চালাতে যাচ্ছে, ফিরতে পারবে কিনা অনিশ্চয়তা আছে। তাই হয়তো শেষবারের মতো আবারও স্ত্রীকে বিদায় জানাচ্ছে। আর তা-ই আমাদেরকে দেখতে হলো।
২০০৭ সালে কেজি-২তে ভর্তির পর থেকে প্রায় একযুগ ধরে উত্তরার মাস্টারমাইন্ড স্কুলে তানজীদের সঙ্গে পড়ছে শাহরিয়া জালাল মীম। বন্ধুর মা’কে শেষ বিদায় জানাতে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের মসজিদ পর্যন্ত আসা মীমের কাছে তানজীদের কথা জিজ্ঞেস করতেই সেও কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অশ্রুতে ছল ছল করতে থাকে দু’চোখ। জড়িয়ে যাচ্ছিলো কথা। নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে মীম বলে, তানজীদের স্বপ্নও ছিল পাইলট হওয়া। সে তার বাবার সঙ্গে বসে বিমান চালানোর স্বপ্ন দেখতো। নতুন মডেলের খেলনার গাড়ি সংগ্রহ করে। তার বাসায় জমা হয়েছে অনেক গাড়ি। পড়াশোনায়ও সে খুব ভালো। আগামী মে’তে অনুষ্ঠিতব্য ও’লেভেলের পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার বাবার মৃত্যুর কষ্ট ভুলে থাকতে চেয়েছিল। কষ্ট ভুলতে আজ (শুক্রবার) বসুন্ধরায় মোটর শো-দেখতে যাওয়ার কথা বলেছিল।
তানজীদের অপর বান্ধবী ঐশ্বরিয়া খান ঐশী গতকাল সহপাঠীকে সমবেদনা জানাতে ছুটে যায় উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাসায়। সেখানে ঐশী মানবজমিনকে বলে, আংকেল মারা যাওয়ার পর তানজীদ সিরিয়াস হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। বলেছিল পরীক্ষা দিতে হবে। প্রস্তুতি নিতে হবে। তার স্বপ্নও পাইলট হওয়া। সে উড়োজাহাজ প্রকৌশল শিক্ষা ইনস্টিটিউট অ্যারোনটিক্যাল ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে পড়তে চায়। 
আবিদের পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হাসানুজ্জামান আকন্দ স্বপন বলেন, তানজীদ ১০ দিনের মধ্যে বাবা-মা দু’জনকেই হারালো। সবাই তাকে সামলে রাখার চেষ্টা করছে। সে থাকবে তার চাচা প্রফেসর ডা. খোরশেদ মামুদ বাবুর কাছে। তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে কর্মরত। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৮ মার্চ থেকে টপিকে সেখানেই চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার।
ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র আবিদ সুলতান এক সময় বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের পাইলট ছিলেন। পরে ইউএস-বাংলায় যোগ দেন। ছিলেন প্রশিক্ষকও। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগরে। তার পিতা এমএ কাশেমও ছিলেন ছিলেন পাইলট।
আফসানার চাচা ইয়াদ আলী সাংবাদিকদের বলেন,  ভোরেই আমরা জানতে পারি ওর অবস্থা খারাপের দিকে। আমরা হাসপাতালে যেতে যেতে ওর অর্গানগুলো অকার্যকর হতে থাকে। পরে সাড়ে ৯টায় মারা যায়।
ইউএস-বাংলার ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফ্‌টটি গত ১২ই মার্চ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। বাংলাদেশ, নেপাল, চীন ও মালদ্বীপের ৬৭ যাত্রীসহ ৭১ আরোহীর ৫১ জন এতে প্রাণ হারায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী আফসানা খানম টপি। পরে আবিদ বেঁচে রয়েছেন জেনে তিনি আশ্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন ১৩ মার্চ মারা যান আবিদ। এতে ভেঙে পড়েন আফসানা। অবনতি হতে থাকে তার অবস্থার। একপর্যায়ে স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে গত ১৮ই মার্চ স্ট্রোক করেন। এরপর তাকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে নেয়া হয় শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে। পরে আরো একটা মারাত্মক স্ট্রোক করেন। তখন থেকে তাকে রাখা হয় আইসিইউতে। হয় অস্ত্রোপচার। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর গতকাল বেলা ১টা ৩৯ মিনিটে তার লাশ নেয়া হয় তাদের উত্তরার ভাড়া বাসায়। আসরের আগে লাশবাহী এম্বুলেন্স নেয়া হয় উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের মসজিদে। আছরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। জানাজা শেষে লাশ নিয়ে এম্বুলেন্স রওনা দেয় বনানীর সামরিক কবরস্থানের দিকে। ১৯শে মার্চ ওই কবরস্থানে সমাহিত হওয়া আবিদের পাশে গতকাল সমাহিত হলো তার প্রিয়তমা আফসানা খানম টপি। বাবার পর মাকেও কবরে রেখে স্বজনদের সঙ্গে ফিরলো তাদের একমাত্র সন্তান তানজীদ বিন সুলতান।
দুর্ঘটনায় নিহত আরো তিনজনের শেষ বিদায়: এদিকে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলদেশির মধ্যে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করে গত বৃহস্পতিবার দেশে আনা হয় মোল্লা আলিফুজ্জামান, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়ের মরদেহ। গতকাল খুলনার গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হয় মোল্লা আলিফুজ্জামানের লাশ। রাজশাহীতে নিজ গ্রামে সমাহিত হলেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। আর বরিশাল সদরের শ্মশানঘাটে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয় সদ্য এমবিবিএস পরীক্ষা শেষ করা পিয়াস রায়ের।

শ্রমিকদের জন্য দেশে প্রথম বিশেষায়িত হাসপাতাল by দীন ইসলাম

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে শ্রমিকদের জন্য দেশে প্রথম বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় অবস্থিত শ্রম অধিদপ্তরের শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের ১০১ শতাংশ জমিতে এই হাসপাতাল নির্মিত হবে। শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় ৩০০ শয্যার এই হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শ্রম অধিদপ্তর এবং এএফসি হেলথ লিমিডেট ও ফর্টিস হেলথকেয়ার। শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে নদীবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা স্থাপনের ফলে সেখানকার শ্রমিকদের মধ্যে পেশাগত কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে চলেছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল হওয়ায় অনেককেই দূরবর্তী হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এ অঞ্চলে বর্তমানে প্রতি দুই হাজার রোগীর জন্য একটি শয্যা ও একজন ডাক্তার রয়েছেন। এসব রোগীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পেশাগত কারণে রোগে আক্রান্ত। বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা চাহিদা পূরণ ও আরো উন্নত সেবা প্রদানের জন্য ৩০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের প্রস্তাবনা করা হয়েছে, যার মধ্যে আক্রান্ত শ্রমিকদের জন্য ১০০টি শয্যা সংরক্ষিত থাকবে। প্রস্তাবনায় বলা হয়, বর্তমানে দেশে ছয় কোটি শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে অনেকে বিভিন্ন শিল্প যেমন- পোশাক, চামড়া, নির্মাণ, পরিবহন, পাট, চা, তামাক, ওষুধ প্রভৃতিতে মজুর হিসেবে কাজ করছেন। বেশিরভাগ পেশাই কায়িক শ্রমভিত্তিক। তাতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি জড়িত। পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপযুক্ত বা প্রত্যাশিত চিকিৎসাও পান না। তাই সুস্থ শ্রমিকের অপ্রতুলতার কারণে শিল্প ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। এজন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন কল্যাণকেন্দ্র পরিচালনা করে। এই কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরা সেবা নিয়ে থাকেন। এসব কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে বেশ কয়েকটিকে স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আরো উন্নত করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

হলি আর্টিজানে হামলার আগেই বাড়ি ছেড়েছিল সাগর

হলি আর্টিজানে হামলার অনেক আগেই বাড়ি ছেড়েছিল জেএমবি সদস্য হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে আবু ওয়াক্কাস। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে  ২০১৩/১৪ সালে জেএবি নেতা তামিমের হাত ধরে জেএমবিতে নাম লেখায় সাগর। গ্রামের মানুষের কাছে একজন ভালো ছেলে হিসাবে পরিচিত ছিল সাগর। যদিও গ্রামে সাগর নামে তাকে কেউই চিনে না। বুধবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে কখনো ধরা পড়েনি সে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার পলিকাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রামের পল্লি চিকিৎসক হারুনুর রশিদ ও মা আছিয়া খাতুনের ৫ সন্তানের মধ্যে সাগর দ্বিতীয়। গ্রামের মাদরাসায় দাখিল পাস করে আলিম ফেল করে সে। অভাবের সংসারে টানাপড়েন লেগেই থাকত। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সাগর। যাওয়ার সময় বাড়িতে আর ফিরবেনা বলেও জানিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঢাকায় একটা কোম্পানিতে চাকরি করে বলে পরিবারকে জানায়, মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসত। কিন্তু বাবা-মা’কে কোনো টাকা পয়সা দিত না সে। এক পর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সাগর। 
গ্রামেই একটা ছোট মুদির দোকান চালায় মা আছিয়া খাতুন আর বাবা কাদোয় মোড়ে একটা ছোট ওষুধের দোকান করে। যদিও প্রতিবন্ধী হিসাবে তেমন চলাফেরাও করতে পারেন না সাগরের বাবা ডাঃ হারুন। সাগরের মা আছিয়া খাতুন জানায় তার দুই ছেলের কেউই তাদের দেখাশুনা করে না। তারপরেও সাগরকে অনেক খুঁজেছে তারা। ২০১৬ সালে পুলিশ সাগরের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে এবং বেশকিছু তথ্য নেয় তার কাছ থেকে। ছেলের নিখোঁজে থানায় জিডিও করে সাগরের মা আছিয়া খাতুন। কিন্তু পুলিশ কোনো সন্ধান দিতে পারেনি তার। তবে মাঝে মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের বাড়িতে আসত এবং বিভিন্ন ধরনের কথা-বার্তা বলত। কেউ কেউ টাকা পয়সাও দাবি করত বলে জানায় সাগরের মা।
সাগরের চাচী কবিতা খাতুন জানান, সাগর সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকত। প্রতিবেশী ইসতামুল, আঃ সবুরসহ কয়েকজন জানান, হাদিসুর খুব শান্ত ছেলে, নিয়মিত নামাজ পড়ত এবং সকলের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করত। সে জেএমবি সদস্য এমন কোনো কাজ বা আচরণ কারো সঙ্গে করেনি সে। সংবাদ মাধ্যমে তারা জানতে পারে হাদিসুর জেএমবি সদস্য এবং পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। জেএমবি সম্পৃক্ততা আছে এমন কোনো  তথ্যই দিতে পারেনি কেউ। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার দেখে অনেকেই হতবাকও হয়েছেন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায় হাদিসুর বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর কুষ্টিয়া এলাকায় বসবাস করে এবং পাবনাতে বিয়ে করে। তার মা জানায় একবার ছেলের বউকে নিয়ে এসেছিল সাগর তাও অনেক আগে। বর্তমানে সে কোথায় থাকত, কি করত কিছুই জানায়নি।
বেশ ক’বছর ধরেই পুলিশ এলাকা থেকে নিখোঁজ সন্তানদের একটা তালিকা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে। কিন্তু কারো কোনো খবরই বের করতে পারেনি তারা। হাদিসুর ধরা পড়ার আগে তার সম্পর্কে কোনো তথ্যই ছিল না পুলিশের কাছে। তবে সে যে জঙ্গি দলের সদস্য সেটা অনেক আগেই নিশ্চিত হয় পুলিশ।
জয়পুরহাটের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, হাদিসুরের সম্পর্কে তারা অনেক আগেই অনুমান করেছিল সে জঙ্গি দলে আছে। তবে খুঁজে বের করতে পারেনি তারা। পুলিশ হাদিসুরের বাবা ডা. হারুনকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে হাদিসুর জেএমবি দলে যোগ দিতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ছিল না।
দীর্ঘদিন থেকে পলাতক হাদিসুর হলি আর্টিজানে হামলার সমন্বয়ক এবং অস্ত্র জোগানদাতা হিসাবে স্বীকৃত। ২১ মার্চ রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে জেএমবি নেতা তামিমের হাত ধরে জেএমবিতে যোগ দেয় সাগর। বিভিন্ন সময় নাম পরিবর্তন করায় তাকে কেউ চিনতে পারেনি। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি জেলা থেকে তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যমতে সাগরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সন্ত্রাস ও মাদক বিস্তারে ন্যাটো: কেন আফিম-ক্ষেত তেলখনির চেয়েও বেশি প্রিয় ওদের কাছে?

মার্কিন মদদে আফগানিস্তানে বাড়ছে আফিম চাষ
আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ফলে দেশটিতে যে কেবল সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংখ্যাই বেড়েছে তা নয়, একইসঙ্গে মাদকদ্রব্য উৎপাদনও বেড়েছে বিপুল মাত্রায়।
বলা হচ্ছে আফগানিস্তানে আফিমের ক্ষেতগুলো আমেরিকার কাছে জ্বালানী তেলের কুপগুলোর চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন সরকার এখন পরাজিত তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের (আইএস) সন্ত্রাসীদের মোতায়েন ও পুনর্বাসন করার জন্য নতুন নতুন অঞ্চল প্রস্তুত করছে যাতে এ  অঞ্চলে সন্ত্রাস আরও বেশি ছড়িয়ে দেয়া যায়।
১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আফগানিস্তানে সন্ত্রাস দমন ও মাদক নির্মূলের অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন সরকার দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু দেখা গেছে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনারাই সেখানে আফিম চাষ বিস্তারের সবচেয়ে বড় হোতায় পরিণত হয়েছে। অবৈধ আফিম চাষ থেকে যে বিপুল মুনাফা আসে তার লোভ সামলাতে না পেরে পশ্চিমা সরকারগুলো আফগানিস্তানকে পরিণত করেছে অবৈধ মাদক ব্যবসার  সবচেয়ে বড় কেন্দ্রে। এভাবে মানুষের মৃত্যুর পণ্য তৈরি করে অবৈধ ব্যবসা করছে মানবাধিকারের কথিত দাবিদার পশ্চিমা শক্তিগুলো।
আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে চোরাই পথে পাঠানো হয় আফিম থেকে তৈরি মাদকদ্রব্য হেরোইন। প্রতি এক কেজি খাঁটি বা শতভাগ বিশুদ্ধ হেরোইন বিক্রি করা হয় তিন হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার মূল্যে। আর ইউরোপে যেসব হেরোইন পাচার করা হয় তার মাত্র ত্রিশ শতাংশ খাঁটি। সেখানে এই হেরোইনের মূল্য গ্রাম-প্রতি ৭০ মার্কিন ডলার।
ব্রিটেনের দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে লিখেছে: আফগানিস্তানের মাদক ব্যবসা থেকে যে অর্থ আসে তা মাদক চোরাকারবারে জড়িত আশপাশের কয়েকটি দেশের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের তথ্যে দেখা যায় ২০০৮ সালে আফগানিস্তানে আফিম উৎপন্ন হয়েছিল ২০০টন। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে আফিম উৎপাদনের পরিমাণ নয় হাজার টন।
মাদক ও অপরাধ মোকাবেলা বিষয়ক  জাতিসংঘ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে মাদক উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে মাদক উৎপাদন বৃদ্ধি সারা বিশ্বের জন্য বিপদ-ঘণ্টা বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইরানকেও মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মাদক চোরাচালান দমন অভিযান চালাতে গিয়ে ইরানে নিহত হয়েছেন প্রায় চার হাজার নিরাপত্তা কর্মী এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার।
মাদক বিষয়ে গত ডিসেম্বরে মস্কোয় বিশ্বের সাংসদদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ইরানের সংসদ স্পিকার আলী লারিজানি জানান, আফগানিস্তানে হেরোইন উৎপাদনে জড়িত রয়েছে ৪০০টি ল্যাবরেটরি। তিনি প্রশ্ন করেন: ন্যাটো জোট কি এইসব চিহ্নিত ও সুনির্দিষ্ট ঠিকানার ল্যাবরেটরিতে বোমা ফেলতে পারে না? অথচ এই জোট কিভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে বোমা বর্ষণ করে?
আফগানিস্তানে ইঙ্গ-মার্কিন ও ন্যাটো জোটের মদদে সন্ত্রাসের পাশাপাশি আফিম চাষেরও বিস্তার!

ইস্টার্ন ঘৌটায় ‘নাপামে’ পুড়ে নিহত ৩৭

সিরিয়ার ইস্টার্ন ঘৌটায় সরকারি বাহিনীর নিক্ষেপ করা দাহ্য তরলে পুড়ে মারা গেছেন অন্তত ৩৭ জন। এতে দগ্ধ হয়েছেন আরো ৮০ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করেছেন, শুক্রবার সরকারি বাহিনী ইস্টার্ন ঘৌটার আরবিন শহরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘নাপাম’ নিক্ষেপ করেছে। এটি এমন দাহ্য তরল যা তার সংস্পর্শে থাকা সব কিছুকে ভস্মীভূত করে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, শুক্রবার সরকারি বাহিনী ও এর মিত্ররা আরবিন শহরের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিমান হামলা চালায়। তারা এগুলোর ওপর ‘নাপাম’ নিক্ষেপ করে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হোয়াইট হেলমেট বলেছে, নাপামে পুড়ে মারা গেছে অন্তত ৩৭ জন। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ইজ্জেত মুসলিমানি বলেন, গত রাত্রে আরবিনের একটি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায় সরকারি বাহিনী। সেখানে প্রায় ১২৫ জন বেসামরিক অধিবাসী আশ্রয় নিয়েছিল। হামলায় এদের প্রায় সবাই আক্রান্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে ৩৭ জন। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। অপ্রতুল চিকিৎসাসেবার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের আরেক মানবাধিকারকর্মী জাহের হোসেন আরবিনের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে নাপাম হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আরবিনে ‘ক্লোরিন গ্যাস’ ও ‘ফসফরাস’ হামলা চালিয়েছিল সরকারি বাহিনী।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার সরকার বিরোধীরা ২০১৩ সাল থেকে ইস্টার্ন ঘৌটায় নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে। ১৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে সেখানে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে সরকারি বাহিনী ও এর মিত্ররা। তারা অব্যাহতভাবে ঘৌটায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেখানে দেড় হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এদিকে, সরকারি বাহিনীর হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে অধিবাসীরা ইস্টার্ন ঘৌটা ছেড়ে যাচ্ছে। এরা সরকার নিয়ন্ত্রিত অন্য শহরগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম ‘সানা’র খবরে বলা হয়েছে, প্রতিদিন শত শত অধিবাসী ইস্টার্ন ঘৌটা ত্যাগ করছে। বৃহস্পতিবার ছয়টি বাসে করে ইস্টার্ন ঘৌটার কয়েকশ অধিবাসী উত্তরাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে পাড়ি জমিয়েছে।

সৌদি বিমান বন্দরগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হল মুসলমানদের শত্রু ইসরাইলকে

সৌদি রাজার নতুন এক ফরমান অনুযায়ী সেদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের হাতে। ইসরাইলের জিফোরএস কোম্পানির হাতে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে।
সৌদি আরব পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুঃসময় পার করছে। রাজ পরিবারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এ কঠিন সময় মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সৌদি পররাষ্ট্র নীতিতে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। তবে তার মধ্যে পাশ্চাত্য যেভাবে ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে রিয়াদের এ পদক্ষেপ তার অন্যতম ফল।
বৃহৎ শক্তিগুলো বিশেষ করে আমেরিকা দখলদার ইসরাইলের সহযোগিতায় ইরানভীতি ছড়ানোর যে চেষ্টা করছে তার পেছনে দু'টি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা এবং দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এরই আলোকে পাশ্চাত্য এবং রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইল ও সৌদি আরবের স্বার্থকে এক ও অভিন্ন বলে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আমেরিকা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আরব দেশগুলোকে উৎসাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মার্কিন সাংবাদিক টমাস ফ্রেডম্যান বলেছেন, "যুবরাজ সালমানের নেতৃত্বাধীন টিম অনেক ছোট এবং তিনি কাণ্ডজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। যেমন ইয়েমেন, লেবানন ও কাতারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে তিনি চরম নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই আমেরিকার উচিত অত্যন্ত সতর্কভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে কথাবার্তা বলা।"
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক উন্নয়নের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, রিয়াদ লক্ষ্য করেছে গত দুই দশকে মধ্যপ্রাচ্যে গঠনমূলক ভূমিকার কারণে ইরানের জনপ্রিয়তা ব্যাপক বেড়েছে এবং এ অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য ইরানের পক্ষে চলে গেছে। এ কারণে সৌদি শাসকদের ধারণা ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হয়তো এ অঞ্চলে ইরানের শক্তি ও প্রভাব ঠেকানো যাবে।
ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ সংকট ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান পরবর্তী রাজা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যাও কম নয়। যুবরাজের ধারনা পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকার সমর্থন নিয়ে তিনি সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে পারবেন। ওয়াশিংটনে ইহুদিবাদী লবিং গ্রুপের প্রভাবের বিষয়টিও সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান অবহিত আছেন। তাই তার ধারণা বায়তুল মোকাদ্দাস দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদিকে যেমন আমেরিকার সমর্থন পাওয়া যাবে অন্যদিকে পরবর্তী রাজা হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হবে।
এরই আলোকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব ইসরাইলের হাতে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে। কাতারের দৈনিক আশ্‌ শারকুল আওসাত এ ব্যাপারে লিখেছে, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত অন্য যুবরাজরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সৌদি রাজা এ পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন।
যাইহোক, প্রকৃতপক্ষে সৌদি আরবে ক্ষমতার যে দ্বন্দ্ব চলছে তার কারণে সৌদি রাজা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমনকি সৌদি ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা গোপনে সাক্ষাতে মিলিত হচ্ছেন। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে কোনো আরব সরকারের নিরাপত্তা বাড়েনি বরং ওই সরকারের পতন ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের উদাহরণ হয়ে আছে।

চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামীর দু’পক্ষে তুমুল উত্তেজনা

বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমীর মাওলানা সাদ কান্ধলভীর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এনে ৮ সদস্যের শুরা কমিটি গঠন নিয়ে কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামীর দুপক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা চলছে। এ নিয়ে গতকাল পুলিশি পাহাড়ার মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম লাভলেইন এলাকার মাদানী মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছে মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এ মসজিদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, লাভলেইন মাদানি মসজিদ তাবলিগ মারকাযে দুপক্ষের উত্তেজনায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় মসজিদের বর্তমান শুরা কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও আবদুল হালিম আইনি সহায়তা চেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে আবেদন করেন। ফলে সন্ধ্যা থেকে মসজিদে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনা না কমায় শুক্রবার জুমার নামাজে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়।
আবুল কালাম আজাদ জানান, হাটহাজারী মাদরাসার মাওলানা আহমেদ শফির আহ্বানে বুধবার (২১শে মার্চ) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমীর মাওলানা সাদ কান্ধলভীর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এনে ৮ সদস্যের শুরা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে লাভলেইন মারকাযের মজলিসে শুরার বর্তমান সদস্যবৃন্দের সঙ্গে সংযুক্ত করতে বলা হয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি থাকার কারণে সবার শ্রদ্ধেয় আল্লামা শফি হুজুর লাভলেইন মাদানী মসজিদ মারকায কেন্দ্রিক একটি শুরা কমিটি করা হয়। একইসঙ্গে সবাইকে মিলেমিশে দাওয়াতি কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
কিন্তু এ কমিটি নিয়ে অপর একটি পক্ষ বিরোধিতা করে তা প্রতিহত করার কথা বললে উত্তেজনা ছড়ায়। ফলে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ ও আবদুল হালিম।
তারা বলেন, পুলিশের তড়িৎ পদক্ষেপে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জুমার নামাজের সময় পুলিশের শক্ত অবস্থান ছিল। উনারাও বয়ানে হাজির ছিলেন। বিরোধী পক্ষের মাওালানা নাদের শাহ আল মাদানী বলেন, মাওলানা সাদের যে বক্তব্যের কারণে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সে ব্যাপারে ইতিপূর্বে তিনি লিখিত ও মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যে আস্থাশীল হয়ে ইতিমধ্যে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার মোহতামিম (অধ্যক্ষ) আবুল কাসেম নোমানী মাওলানা সাদকে চিঠি দিয়েছেন। এরপরও একটি পক্ষ দেওবন্দ মাদরাসার দোহাই দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, যত দিন পর্যন্ত দারুল উলুম দেওবন্দ মাওলানা সাদ সাহেবের ব্যাপারে লিখিত আস্থা প্রকাশ করবে না, ততদিন নিজামুদ্দীন মারকাযের ব্যাপারে কোনো আলোচনা করা যাবে না এবং নিজামুদ্দীনে কাউকে পাঠানোও যাবে না।
উল্লেখ্য, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে তাবলিগ জামাতে বিভক্তির ঢেউ চট্টগ্রাম মহানগরীর লাভলেইন তাবলিগ মসজিদেও এসে পড়ে। এ মসজিদের আগের শুরা সদস্যরা মাওলানা সাদ কান্ধলভী সমর্থিত নিজামুদ্দীন মারকাযের।
আর মাওলানা সাদ কান্ধলভীর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এনে ৮ সদস্যের শূরা কমিটি গঠন করে কওমি মাদরাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠক হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আহমেদ শফির অনুসারীরা। যাদের লাভলেইন মাদানী মসজিদে প্রবেশের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় বৃহস্পতিবার বিকালে।
ওইদিন বাদ আছর থেকে মারকাযের উলামা-মাশায়েখ এবং তাবলিগী সাথীদের জোড় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়ে তাতে সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ সম্বলিত রেজুলেশন বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
এ অবস্থায় লাভলেইন মারকাযের মজলিসে শুরা সদস্য ও তাদের অনুসারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তারা পুলিশ কমিশনারের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে লাভলেইন মাদানি মসজিদের সামনে ও আশপাশে পুলিশ এসে অবস্থান নেয়।
জানা যায়, ভারতের দিল্লির মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী (রহ.) ১৯২০-এর দশকে তাবলিগ জামাতের সূচনা করেন। এর উদ্দেশ্য ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধের প্রচার। বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে তাবলিগে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয় না। এর মূল মারকাজ দিল্লিতে। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর মৃত্যুর পর তার ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ নেতৃত্বে আসেন। তার মৃত্যুর পর ইউসুফের ছেলে মাওলানা সাদ কান্ধলভী আমির হন।
মাওলানা সাদ ১৯৮৯ সাল থেকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় আসা শুরু করেন। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি ইজতেমায় বয়ান করে আসছেন। গত দুই বছর তিনি আমবয়ানের পাশাপাশি আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন।
হজরত মুসা (আ.) এবং কোরআন শিক্ষার বিনিময় নেয়া নিয়ে মাওলানা সাদ-এর দুটি বক্তব্যের অভিযোগে এবার তার নেতৃত্ব নিয়ে তাবলিগ জামাতকেন্দ্রিক আলেম সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই বিভক্তির প্রকাশ ঘটে এবার বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে তার ঢাকায় আসার পর। বিভক্ত গ্রুপ বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদের অংশগ্রহণ ঠেকানোর ঘোষণা দেন। একপর্যায়ে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ গ্রহণ না করে ঢাকা থেকেই দিল্লিতে ফিরে যেতে বাধ্য হন মাওলানা সাদ।

নগর ছেড়ে গ্রামের ভোটে কামরান

নগর ছেড়ে গ্রামে সক্রিয় সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। অসুস্থ শরীর নিয়েও ভোটের মাঠে তিনি নৌকার পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে ভোটারের কাছে করছেন ভোট প্রার্থনা। গত দুই দিন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নে ভোটের মাঠ চষে বেড়িয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর ফেঞ্চুগঞ্জের গ্রামে ভোট উৎসব হচ্ছে। নানা জটিলতায় ওই পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট হয়নি। এবার আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর নির্বাচন কমিশন ভোট উৎসবের আয়োজন করেছে। ২৯শে মার্চ অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। এ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন কামরান। গত বৃহস্পতিবারই তিনি পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত ১০ স্থানে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সভা করেছেন। সভায় দেশের উন্নয়ন স্বাভাবিক রাখতে তিনি নৌকার পক্ষে ভোট চান। চলতি মাসে কামরানের হার্টে তিনটি রিং প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন তিনি। এখন তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাও। এ কারণে নৌকার পক্ষে তাকে ভোট প্রার্থনা করতে ছুটে যেতে হচ্ছে গ্রামে গ্রামে। কামরান বলেন- আইনি জটিলতা থাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর এই উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত ছিল। আইনি জটিলতা শেষ হওয়ায় আগামী ২৯শে মার্চ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। তাই বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে তিনি গ্রামে ছুটে যাচ্ছেন। কামরান গতকাল ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাশার আহমদ শাহ’র সমর্থনে, ২নং মাইজগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জুবেদ আহমদ চৌধুরী শিপু’র সমর্থনে ও ৩নং ঘিলাছড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজি লেইছ চৌধুরীর সমর্থনে আয়োজিত পৃথক পৃথক আটটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলীর সভাপতিত্বে ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান জাহাঙ্গীরের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুহেল, মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এআর সেলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, যুগ্ম সম্পাদক মহিব উদ্দিন বাদল, আওয়ামী লীগ নেতা গৌছ সুলতান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফছার আজিজ, সহ-সভাপতি ডিএম ফয়সল, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদ ইকবাল সুনাম, মুজিবুর রহমান জকন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মিসবাহ আহমদ চৌধুরী, শহিদুর রহমান রুমান, মঈন উদ্দিন, আব্দুল মালিক শাইস্তা, এনাম আহমদ, রাজু আহমদ রাজা, মামুন আহমদ নেওয়াজ, রিকেশ চন্দ্র দে, মির শাখাওয়াত হোসেন তরু, লোকমান আহমদ লসমান, মনহর আলী, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আতাউর রহমান রুনু, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি আবু মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিজন কুমার দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল কয়েছ, কামরানুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা ইশতিয়াক আহমদ জর্দান, তৌয়িবুর রহমান, সাইদুর রহমান, মিনহাজ আহমদ, মাহবুবুল ইসলাম চৌধুরী মিসলু, পারভেজ আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুনেদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ফারহান সাদিক প্রমুখ।
১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ, মাইজগাঁও বাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণ, মাইজগাঁও ইউনিয়নে পালবাড়ী, ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা প্রাঙ্গণ, বিয়ালীবাজার, ঘিলাছড়া ইউনিয়নে মণিপুর চা-বাগান, ঘাটেরবাজার ও নয়াবাজারে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভাগুলোতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাশার আহমদ শাহ, জুবেদ আহমদ চৌধুরী শিপু ও হাজি লেইছ চৌধুরী নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করে বক্তব্য রাখেন।

'ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিরক্ষার অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলাই ইয়েমেনের লক্ষ্য' -হুথি

ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ নেতা আবদুল মালেক বাদরেদ্দিন আল-হুথি বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিরক্ষার অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলাই ইয়েমেনের লক্ষ্য । এ ছা্ড়া, ইরাক এবং সিরিয়ার মতোই ইয়েমেনেও ব্যর্থ হবে সৌদি আরব।
লেবাননের আরবি দৈনিক আল-আকবরে আজ(শুক্রবার) প্রকাশিত একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ইয়েমেন বিষয়ক সৌদি নীতি অবশ্যই ব্যর্থ হবে। তিনি আরো বলেন, রিয়াদের শাসকগোষ্ঠী হাজার হাজার নারী শিশুকে হত্যা করা, ব্যস্ত বিপণন কেন্দ্রে এবং ঘন বসতি এলাকার ওপর বোমা বর্ষণ করা বন্ধ করেনি। এ ছাড়া, স্কুল, মসজিদ এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের ওপরও বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে তারা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ভেবেছিল আগ্রাসন শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই ইয়েমেনের মানুষ আত্মসমর্পণ করবে; কিন্তু ইয়েমেনিরা দৃঢ়তার সঙ্গে সব ধরণের আগ্রাসনের মোকাবেলা করছে আর এতে তারা  হতচকিত হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। সৌদি আরব নজিরবিহীন ধ্বংসের মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রিয়াদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামরিক বিষয়ক সংকট ক্রমেই বাড়ছে। সৌদি আরবকে আমেরিকা  দুধাল গাইয়ের মতো দোহন করছে বলেও জানান তিনি।
এ সময়ে তিনি ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ইয়েমেনের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।  তিনি বলেন, ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র এখন  শত্রুদের হৃদপিণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। এ ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদ এবং আবু ধাবি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা একান্ত ভাবেই মার্কিনিদের তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু ইয়েমেনের বুরকান-২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের আল-ইয়ামামাহ্‌ প্রাসাদে আঘাত হেনেছে এবং তার চেয়েও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হাতে পারবে বলেও জানান তিনি।

মিথ্যা বলার সত্যিকারের সমস্যা by নিাজমুস সাদাত পারভেজ

‘সদা সত্য কথা বলিবে’ ‘মিথ্যা বলা মহাপাপ’- এ কথাগুলো জীবনের একদম প্রারম্ভে, শিশুকালেই আমাদেরকে শেখানো হয়। কারণ, মিথ্যে মানেই বিভ্রান্তি, ছলনা। মিথ্যার বিভীষিকা সমপর্কে বলতে গিয়ে প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘মিথ্যারও মহত্ত্ব আছে। হাজার হাজার মানুষকে পাগল করে দিতে পারে মিথ্যার মোহ। চিরকালের জন্যে সত্য হইয়াও থাকিতে পারে মিথ্যা’। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে দেখতে গেলে, প্রায় প্রতিটি ধর্মগ্রন্থে মিথ্যা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। নীতিগতভাবে ভাবতে গেলেও, মানবজীবনে মিথ্যার গ্রহণযোগ্যতা নেই। তবুও, জীবনের নানা ক্ষেত্রে অনেকেই ছোটখাটো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এটি নিয়ে খুব বেশি বিচলিতও হন না। এ নিয়ে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে: ‘মিথ্যা জীবনের সত্যের একটা অংশ’। অনেকেই প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মিথ্যার আশ্রয় নেই। কারণ হিসেবে বলি, সত্যের আঘাত থেকে বাঁচার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিলে মন্দ কী? তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সত্যি কী আসলেই কখনো কখনো ঝামেলা তৈরি করে? যদি করেও, তা কি মিথ্যে বলার ঝামেলার চেয়ে বেশি? জীবনলব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে বিচার করলে দেখা যায়, মিথ্যা আরো বেশি নেতিবাচক ফলাফল ডেকে আনে। এর কারণে বিশ্বাসে ফাটল তৈরি হয়, সম্পর্কে জটিলতা আসে, গোলযোগ বাধে জীবনে। তবুও মানুষ মিথ্যা বলে। কেন বলে? অধিকাংশ মানুষ মিথ্যা বলেন নিজেদের ভালো কিংবা নির্দোষ প্রমাণ করতে। কেউ কেউ হয়তো অন্যকে কষ্ট না দেয়ার জন্য কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্জন বা ধরে রাখার জন্য মিথ্যা বলেন। কারণ, যা-ই হোক, মিথ্যার আশ্রয় নেয়াটা কখনোই আদর্শ কাজ নয়। সামপ্রতিককালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মিথ্যা বলা ব্যক্তির নিজের জন্যই চরম অমঙ্গলকর। ছোটখাটো মিথ্যার আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিও এক সময় ধীরে ধীরে মিথ্যা কথা বলায় আসক্ত হয়ে পড়েন! বৃটেনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের একদল বিজ্ঞানী গবেষণায় খুঁজে পেয়েছেন যে, মিথ্যা কথা বলা ব্যক্তির মস্তিষ্ক এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। প্রতিটি মিথ্যা কথার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির মিথ্যা কথা বলা সংক্রান্ত অপরাধবোধ অবলুপ্ত হতে থাকে। মস্তিষ্কে তৈরি হয় মিথ্যা বলার গ্রহণযোগ্যতা। এর ফলে ব্যক্তি ধীরে ধীরে মিথ্যা কথা বলার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। আর এর সবই হয় ব্যক্তির অজান্তে। গবেষকগণের একজন- ড. টালি শ্যারন বলেন, শুনতে অদ্ভুত হলেও সত্যি যে, প্রতিটি ছোটখাট মিথ্যা আমাদের মস্তিষ্ককে বড় ধরনের মিথ্যা বলার জন্য প্রস্তুত করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার প্রখ্যাত মনোবিদ বেলা ডিপাউলো বলেন, একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- বেশির ভাগ মানুষ দিনে গড়ে এক থেকে দুটি মিথ্যা কথা বলেন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, বৈশ্বিকভাবে প্রতিদিন আমাদের মস্তিষ্ক একটু একটু করে মিথ্যায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ বড় ভয়ের কথা। কারণ, সামগ্রিকভাবে এই প্রবণতা কেবল অমঙ্গল ডেকে আনবে।
সুতরাং, যারা সত্যবাদী এবং সৎ জীবনযাপন করতে চান, তাদের উচিত মিথ্যা থেকে দূরে থাকা। মনে রাখতে হবে, প্রাত্যহিক জীবনের ছোটখাটো যেসব অসত্যকে ‘নিষ্পাপ বা ক্ষতিহীন মিথ্যা’ নাম দিয়ে স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দিচ্ছেন, সেটিই একসময় আপনাকে বড়সড়ো মিথ্যাবাদীতে পরিণত করে দিতে পারে। জানি, আমরা কেউ-ই ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা হতে চাই না। তবে ভয়ের কথা হচ্ছে, মিথ্যা বলার অভ্যাস আপনার অজান্তেই আপনাকে ঠেলে দেবে মিথ্যের ঝামেলাপূর্ণ জগতে। এটাই মিথ্যে বলার সত্যিকারের সমস্যা।

যুবরাজের সফর ও ট্রাম্পের সৌদি গাভী দোহন অব্যাহত থাকার রহস্য

মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে সৌদি যুবরাজসহ কয়েকজন রাজকীয় কর্মকর্তা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি যুব রাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সফর অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন অস্ত্র কেনা তার এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু বলা হচ্ছে এ সফরে কথিত সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সৌদি-মার্কিন ঐক্য  এবং ইরানের হুমকি মোকাবেলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন সালমান। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নৈশ-ভোজে যোগ  দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের কাছে একটি  বড়  কাগজ দেখান যেখানে ছিল রিয়াদের কাছে বিক্রি-করা মার্কিন অস্ত্র-শস্ত্রের ছবি। এইসব অস্ত্র বিক্রির ফলে কতজন মার্কিন নাগরিকের চাকরি সৃষ্টি হবে তা ব্যাখ্যা করেন ট্রাম্প। সৌদি অর্থের একটা অংশ যেন মার্কিন অস্ত্র কেনায় ব্যয় করা হয় যুবরাজকে সেই অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওদিকে ২০১৯ সাল থেকে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর ৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে চাচ্ছে রিয়াদ। এইসব শেয়ারের মূল্য হবে ১০ হাজার কোটি ডলার। এর আগে কখনও সৌদি সরকার এত বেশি মূল্যের শেয়ার বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেয়নি।
দৈনিক রাই আল ইয়াওম-এর সম্পাদক আবদুল বারি আতওয়ান  সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের কাছ থেকে ট্রাম্পের অর্থ আদায়কে চাঁদাবাজির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এই দৈনিকে লিখেছেন: এর আগেও ট্রাম্প সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণের জবাবে বলেছিলেন, রিয়াদে আমার সফরের শর্ত হল সৌদি সরকারকে হাজার হাজার কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র কিনতে হবে এবং আমেরিকায় সৌদি অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। সৌদিরা শর্ত মানায় ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর প্রথম বিদেশ সফরের স্থান হিসেবে বেছে নেন রিয়াদকে। ওই সফরেই রিয়াদের কাছে ১১ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
ট্রাম্প এর আগে একবার বলেছিলেন, সৌদি আরবসহ ধনী আরব সরকারগুলো হচ্ছে আমাদের জন্য দুধ দানকারী গাভী। ওরা যতদিন দুধ দেয় ততদিন ওদেরকে পুষতে হবে।
এটা স্পষ্ট ধনী আরব দেশগুলোকে দোহন করা মার্কিন সরকারের কাছে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের চেয়েও বেশি জরুরি! তাই সৌদি সরকার স্বদেশে কিংবা ইয়েমেনে নিরীহ মানুষের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিল কিনা সেটা ওয়াশিংটনের দেখার বিষয় নয়! অর্থ আছে বলে সৌদি আরব যেন গণতন্ত্রের সূতিকাগার!
চলতি বছরের এক রিপোর্টে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল লিখেছে: সৌদি আরবে আধুনিকায়ন ও সংস্কার নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতা হল সেখানে সরকার-বিরোধী যে কোনো ডাক ও বক্তব্যকে গলা চিপে ধরা হয়।
এ সংস্থার কর্মকর্তা নিনা ওয়ালশ বলেছেন, ময়দানের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে মার্কিন, ব্রিটিশ ও ফরাসি অস্ত্র দিয়ে ইয়েমেনের বেসামরিক জনগণকে হত্যা করছে সৌদি সেনারা। এভাবে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ-অপরাধ ও অমানবিক তৎপরতা চলতে থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সমাজ কোনো শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না এবং অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
সৌদি রাজসরকারের অর্থ ও পেট্টো-ডলার হয়তো কিছুকালের জন্য বিন সালমানের অশুভ তৎপরতা বা ষড়যন্ত্রগুলোকে এগিয়ে নেবে। কিন্তু এ অবস্থা চিরকাল থাকবে না।  আর ভবিষ্যতই তা বলে দেবে।

'পাকিস্তানকে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি শনাক্ত করার শক্তিশালী ব্যবস্থা দিল চীন'

চীন পাকিস্তানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের নজরদারি ও গতিবিধি শনাক্ত করার কাজে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম বিক্রি করেছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে পরিবেশিত খবরে এ দাবি করা হয়েছে।
অবশ্য, এ খাতে আর্থিক লেনদেনের কোনো হিসাব খবরে দেয়া হয়নি। এতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ যখন  সক্রিয়ভাবে সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে তখন এ ব্যবস্থা পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করা হলো। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে আরো দাবি করা হয়েছে, এ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা পাকিস্তানের কাছে বিক্রির মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে।
চীনা দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাত দিয়ে এ খবরে আরো বলা হয়েছে, পাকিস্তান এরইমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন এবং পরীক্ষা চালানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এটি মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারত ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫'র পরীক্ষা চালানোর মাত্র দু'মাসের মাথায় এ ব্যবস্থা পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করল চীন। অগ্নি-৫ দিয়ে বেইজিং ও সাংহাইয়ের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া,  রাজস্থানের পোখরানে ভারত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র 'ব্রাহ্মস'র পরীক্ষা চালানোর মাত্র একদিন পর এ খবর প্রকাশিত হয়।
অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দূরপাল্লার  আইসিবিএম ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে ভারত। কিন্তু একযোগে স্বতন্ত্র কয়েকটি লক্ষ্যে পরমাণু আঘাত হানতে সক্ষম এমআইআরভি নামের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

দু’বোনকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন

তারা দু’বোন রিধি বাল্মিকী ও রাই বাল্মিকী। প্রথম জনের বয়স ৫ বছর আর ছোট বোনের বয়স মাত্র আড়াই বছর। দু’বোনই মারাত্মক চোখের ক্যানসার রেটিনোব্লাস্টমা রোগে ভুগছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই রোগে আক্রান্ত বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। জন্মের ৪৫ দিনে মাথায় বড় বোনের এবং একইভাবে জন্মের ৬ মাসের মাথায় রাই এই রোগে আক্রান্ত হয়। তাদের পিতা স্বপন কুমার বাল্মিকী। প্রতিদিন তাদের চিকিৎসার পিছনে প্রচুর টাকা ব্যয় হচ্ছে তার। তাদের দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা কোনোক্রমে সম্ভব হচ্ছে না।  কোমলমতি কন্যা শিশু দু’টির চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তাদের দরিদ্র পিতা। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের অতিরিক্ত ৬ নম্বর শয্যার চিকিৎসক অলিয়া শারমিনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছে তারা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অনেকটা কষ্টসাধ্য পড়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার জাম মল্লিকপুরে। তাদের বাবা কন্যাদ্বয়ের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। মেয়েদের চিকিৎসায় দানশীল বা বিত্তবানরা একটু এগিয়ে এলে তিনি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন। নিম্নের ঠিকানায় সাহায্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। হিসাব নম্বর:০২১০১০১১৩৭১২৭, পূবালী ব্যাংক লি.,  সুনামগঞ্জ শাখা।  বিকাশ নং-০১৭৪৫৯৫৯৬৯০। বিজ্ঞপ্তি

মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টায় পরিবর্তন: ম্যাকমাস্টারের বিদায়, আসছেন জন বল্টন

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বদলেছেন ট্রাম্প। এইচআর ম্যাকমাস্টারকে বরখাস্ত করে তার জায়গায় নিয়ে আসছেন বুশ-আমলের প্রতিরক্ষা নীতির সমর্থক ও জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনকারী জন বল্টনকে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে এক টুইটের মাধ্যমে বরখাস্ত করার কয়েকদিন পরেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকেও হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায় জানালের ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, জেনারেল ম্যাকমাস্টারকে বিদায় জানিয়ে টুইটারে একটি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। টুইটে তিনি ম্যাকমাস্টারকে নিয়ে বলেন, তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন আর তিনি সবসময়ই আমার বন্ধু থাকবেন। এদিকে নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক বল্টনও। বল্টন জানান, তিনি আমেরিকাকে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে সুরক্ষিত করে তুলতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার টিমের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফক্স নিউজকে বল্টন জানিয়েছেন, তার কাজ হবে প্রেসিডেন্টের জন্য সকল ধরণের বিকল্প রাস্তা নিশ্চিত রাখা।
ট্রাম্প প্রশাসনে হোয়াইট হাউজ থেকে বরখাস্ত হওয়া সর্বশেষ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ম্যাকমাস্টার। গত সপ্তাহে এক টুইটের মাধ্যমে রেক্স টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। তার জায়গায় সাবেক সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও’কে বসানোর চিন্তা করছেন তিনি। তবে তার জন্য সিনেট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু বল্টনের ক্ষেত্রে মার্কিন সিনেট কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন পরবেনা। প্রসঙ্গত, এই নিয়ে দুইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা পাল্টিয়েছেন ট্রাম্প। ১৪ মাসে বল্টন হবেন প্রেসিডেন্টের তৃতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি আগামী ৯ই এপ্রিল থেকে কাজে যোগ দেবেন।

ইস্টার্ন ঘৌটা ছাড়ছে বিদ্রোহীরা

পরিবারসহ সিরিয়ার ইস্টার্ন ঘৌটার একটি প্রধান শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে বিদ্রোহীরা। সরকারের সঙ্গে এক চুক্তির আওতায় শহর ত্যাগ করছে তারা। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইস্টার্ন ঘৌটার হারাস্তা শহর ত্যাগ করেছে ৮৮ বিদ্রোহী ও ৪৫৯ বেসামরিক নাগরিক। চুক্তি অনুসারে, বিদ্রোহী আহরার আল-শাম গোত্রের ১ হাজার ৫০০ যোদ্ধা ও ৬ হাজার বেসামরিক নাগরিককে হারাস্তা থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিদ্রোহী অধ্যুষিত ইদলিব প্রদেশে সরিয়ে নেয়ার কথা রয়েছে সরকারের। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, এক মাস আগে ইস্টার্ন ঘৌটায় হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি করে রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়া সরকার। পর্যবেক্ষগণ সংস্থার তথ্য অনুসারে, তখন থেকে এখন পর্যন্ত বিমান ও কামান হামলায় নিহত হয়েছে ১ হাজার ৫০০ বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া গৃহহীন হয়েছে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ। পায়ে হেঁটে শহর ছেড়ে পালিয়েছেন তারা। তবে সমপ্রতি সরকারি বাহিনী ইস্টার্ন ঘৌটার ৭০ শতাংশেরও বেশি এলাকা দখল করে নেয়ার পর অঞ্চলটি ছেড়ে যেতে সম্মত হয় বিদ্রোহীরা। সরকারের সঙ্গে করা এক চুক্তির আওতায় ধীরে ধীরে হারাস্তা ছেড়ে যাচ্ছে তারা। এই চুক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে সিরিয়া সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। বৃহস্পতিবার থেকে কয়েদি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হয়।
রাষ্ট্র পরিচালিত টিভি চ্যানেলে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীদের হাতে বন্দি থাকা ১৩ সেনাকে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্ট বিদ্রোহী ও বেসামরিক নাগরিকদের শহর ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংস্থাটি জানায়, সংস্থাটির কর্মীরা হারাস্তায় প্রবেশ করেছে। তারা বেসামরিক নাগরিকদের বাসে ওঠার ছবি পোস্ট করেছে অনলাইনে। বার্তা সংস্থা সানা অনুসারে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টার ভেতরে, হারাস্তা ত্যাগ করে মোট ৫৪৭ জন মানুষ।
হারাস্তা নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্রোহী দল আহরার আল-শাম বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি ইদলিবে নিরাপদ উত্তরণের শর্তে লড়াই বন্ধ করতে রাজি হয়েছে।