Sunday, November 16, 2014

ক্রিকেটে জয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বললেন...

জিম্বাবুয়েকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের এই সিরিজে মুশফিকদের অর্জনের খাতায় উঠেছে অনেক কিছুই। এই জয়ে ফলে খুশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মুশফিক-সাকিব-তামিমদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদে ক্রিকেট দলের অর্জন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন টেস্ট খেলার যোগ্যতা পেয়েছিল, তখনো কেউ কেউ বলেছিল, আমরা নাকি তদবির করে টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে এসেছি। কিন্তু আজ প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশ যোগ্য ক্রিকেট দল। তারা জিম্বাবুয়েকে তিন টেস্টের সিরিজে পরাজিত করেছে। সিরিজে তামিম দুটো সেঞ্চুরি, সাবিক একটা সেঞ্চুরি ও ১০টা উইকেট এবং ইমরুল ও মমিনুল একটি করে সেঞ্চুরি করেছে। বাংলাদেশ যে ইচ্ছে করলে পারে, তা প্রমাণ করেছে।’

জিম্বাবুয়েকে ‘বাংলাওয়াশ’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এর আগেও জিতেছে বাংলাদেশ। নয় বছর আগেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়টা ছিল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেই প্রথম সিরিজ জয়ের গৌরব। আজ চট্টগ্রাম টেস্টে ১৮৬ রানে হারিয়ে এই প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের গৌরব নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

>>বিজয়ের বেশে মাঠ ছাড়ছে মুশফিকের দল। ছবি: শামসুল হক
৪৪৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে চতুর্থ দি​ন শেষে জিম্বাবুয়ে ১ উইকেটে ৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। চট্টগ্রাম টেস্ট কোন দিকে যাবে? বাংলাদেশ জিততে পারবে তো? প্রশ্নগুলো সামনে চলে আসে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা-সিকান্দার রাজার দ্বিতীয় উইকেট জুটি জমে যাওয়ার পর। এ জুটি তোলে ৯৩ রান। শুভাগত হোম রাজাকে ফেরালে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়। এরপর টেলর-চাকাভার চতুর্থ উইকেটে ৪৯ ও আরভিন-চাকাভার ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৪৯ রান বাংলাদেশের জয় খানিকটা বিলম্বিত করলেও তা সফরকারী দলের হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ ৩৪ রানেই জিম্বাবুয়ের অবশিষ্ট ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ায় এক সেশন হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় মুশফিকুর রহিমের দল।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়টা বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই প্রত্যাশিত। এর যেকোনো ব্যত্যয়ই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্যর্থতা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু অবস্থার বিচারে এবারের সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য ছিল যথেষ্টই চ্যালেঞ্জের। গোটা বছর জুড়েই ব্যর্থতা এমন আষ্টে-পৃষ্ঠে বাংলাদেশকে বেঁধে রেখেছিল যে এই সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও জোর গলায় হোয়াইটওয়াশের কথাটা বলতৈ পারছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু আখেরে, গোটা সিরিজে পুরো বছরের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিজেদের উজার করে দিলেন। মনের গহীনে যে প্রত্যাশাটা বাসা বেঁধে​ছিল, সেটাকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে ক্রিকে​​টপ্রেমীদের গর্বিত করলেন গোটা দেশকে।
ঢাকায় কষ্টার্জিত জয়টা আনন্দ দিলেও পুরোপুরি তৃপ্তি দিতে পারেনি। খুলনায় সাকিবের অসাধারণ পারফরম্যান্সে সিরিজটাকে ২-০ করেই প্রত্যাশার ফানুসটা ডানা মেলেছিল। জিম্বাবুয়েকে ৩-০তে হারাতে হবে। ক্রিকেট বিশ্বের সামনে প্রমাণ করতে হবে জিম্বাবুয়ের চেয়ে আমরাই এগিয়ে। চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে সেই স্বপ্নটাকেই সত্যে পরিণত করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
এনিয়ে তৃতীয়বারের মতো তিন টেস্টের সিরিজ খেলল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে পাকিস্তান আর ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজি জয়ের কথা বলারই সাহস হয়নি। এবার তৃতীয় তিন টেস্টের সিরিজে কেবল সিরিজ জয় নয় প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরবে সিক্ত বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে হয়ত আরও তিন টেস্ট সিরিজের দেখা পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম হোয়াইটওয়াশের স্মৃতি জাগরুক থাকবে আরও বহুদিনই।
চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন থেকেই আধিপত্যের ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের রেকর্ড উদ্বোধনী জুটি প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশকে রেখেছিল চালকের আসনে। এই টেস্টেই বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখেছে দুই ওপেনারের সেঞ্চুরি। স্কোরবোর্ডে ৫০৩ রান তুলে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের নিচে জিম্বাবুয়েকে চাপা দেওয়ার ব্যাপারটিও সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা গেছে প্রথম দু’দিনেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘নতুনের আবাহন’ লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেনের পাঁচ উইকেটের কল্যাণে বড়সর লিড নিয়ে শুরু করা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে আলো ছড়ালেন মুমিনুল হক। নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সামনে এমন একটা লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল, যা অন্যভাবে দেখলে গড়ে দিল বাংলাদেশের জয়ের ভিতই।
প্রথম দুটি টেস্ট যেমন ব্যক্তি পারফরম্যান্সের বন্দনা সহায়তা করেছিল বাংলাদেশের জয়ে, চট্টগ্রামে ঠিক তেমনি দলগত নৈপুণ্যে উদ্ভাসিত বাংলাদেশ দল। ব্যাটিংয়ে যেহেতু তিনজন সেঞ্চুরি পেয়েছেন, তাই চতুর্থ ইনিংসে সব বোলারই নিজেদের উজার করে দেওয়াটা কর্তব্য মনে করলেন। রুবেল হোসেন, জুবায়ের হোসেন, শফিউল ইসলাম, তাইজুলরা সাফল্য তো পেলেনই, বল হাতে অভাবনীয় দৃঢ়তায় নিজেকে প্রমাণ করলেন শুভাগত হোম। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই দলের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান উইকেটশূন্য থাকার পরেও সাফল্য হাতের মুঠোয় এসে ধরা দিল বাংলাদেশের।
আজ পঞ্চম দিনে দেশবাসী তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের স্পিনারদের দিকেই। গোটা সিরিজের মতো চট্টগ্রামেও সাফল্য আছে স্পিনারদের। জুবায়ের ও তাইজুলের পাশাপাশি শুভাগত হোম আতঙ্ক ছড়িয়ে গেছেন জিম্বাবুয়ে শিবিরে। রুবেল ও শফিউল শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করেছেন স্পিনারদের পাশাপাশি তাঁদেরও ওপরও নির্ভর করা চলে। জিম্বাবুয়ের কফিনে শেষ দুটি পেরেক ঠুঁকে দিয়ে শফিউল উদযাপন করলেন নিজের প্রত্যাবর্তনকেও। চোট-টোটের সঙ্গে লড়াই শেষে রুবেলও জানিয়ে দিয়েছেন, দেশকে দেওয়ার অনেক কিছুই বাকী আছে তাঁর।
জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য তাড়ায় ​প্রতিরোধের দেয়াল গড়েছিলেন রেগিস চাকাভা। ৮৯ রানে অপরাজিত থেকে তিনি এক প্রান্ত থেকে দেখেছেন তাঁর সতীর্থদের অসহায় আত্মসমর্পণ। সিকান্দার রাজা, ব্রেন্ডন টেলর কিংবা হ্যামিল্টন মাসাকাদজাদের মতো ব্যাটসম্যানদের আর একজন ব্যাটসম্যানের পারফরম্যান্সই আজ চট্টগ্রামের মাঠে বড় করুণভাবেই অনুভব করেছেন জিম্বাবুয়ে।
চাকাভার ৮৯ রানের পাশাপাশি সিকান্দার রাজার ব্যাট থেকে এসেছে ৬৫। তিনি হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে নিয়ে গড়ে তুলেছি​লেন দারুণ এক জুটি। তাঁদের ৯৩ রানের জুটির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি যদি ৪৯ হয়, তাহলে চতুর্থ ইনিংসে টেস্ট বাঁচানোর স্বপ্ন দেখাটা যে বৃথা, সেটা খুব ভালোভাবেই প্রমাণ করে দিয়েছেন জিম্বাবুয়ে। ৪৯ রানের জুটি অবশ্য হয়েছে দুটো। দুটোরই অংশীদার ছিলেন রেগিস চাকাভা। প্রথমে ব্রেন্ডন টেলর আর পরে ক্রেইগ আরভিনকে সঙ্গে নিয়ে এই দুটি জুটিই লড়াইয়ে রেখেছিল জিম্বাবুয়েকে।
সবকিছু মিলিয়ে দারুণ এক টেস্ট সিরিজই শেষ করল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজ উজার করেই দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকে​টকে। ব্যাটে-বলের ধারাবাহিকতায় সফল এই সিরিজ যেকোনো বিচারেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় পাথেয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

নারকীয় প্রেম

কথা ছিলো ওয়ানের সাথে বিয়ে হবে জিয়ানের। কিন্তু মাঝখান থেকে বাধ সাধলো তার ছোট বোন কিয়াও। জিয়ানকে পটিয়ে পাটিয়ে বোনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলেন তিনি। অবশেষে বিয়ে।
ঘটনাটা চীনের পূর্ব এলাকার হ্যাংজুই এর। ২৫ বছর বয়সি কিয়াও লি সুই ৩০ বছর বয়সি জিয়ানকে বিয়ে করেন দুই বছর আগে। এতে হতবাক হয়ে যান কিয়াওয়ের দুই বছরের বড় বোন ওয়ান নিউ।
এর পর একটার পর একটা হতবাক হওয়ার পালা। দুই বছর তার বাগদত্তার সাথে সংসার করার পর আরো মারাত্মক ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেললো ছোট বোন।
সম্প্রতি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পর্ক হয় ২৭ বছর বয়সি কাই চেনের সাথে। সম্পর্কটা গড়ায় প্রেমে। অবশেষে তার হাত ধরে সংসার করারও লোভ হয় কিয়ানের। তিনি ভুলিয়ে ভালিয়ে স্বামী জিয়ানকে পাহাড়ি এলাকায় পিকনিকে নিয়ে যান। সেখানে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ছুরি দিয়ে আক্রমন করে বসেন জিয়ানের বুকে। একটার পর একটা ছুরিকাঘাত করতেই থাকেন। অবশেষে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জিয়ান। একটু দূরে নতুন প্রেমিক চেনের সাথে দাঁড়িয়ে অজ্ঞান দেহটিকে দেখেন। এর পর ওটাকে টেনে তুলে ছুঁড়ে ফেলেন পাহাড়ি গর্তে। জীবন্ত সমাধি হয়ে যায় জিয়ানের।
ঘটনাটা ফাঁস হয় তিন দিন পড়। প্রেমিক চেনের ভেতর অনুশোচনা কাজ করতে থাকে। তাই তিনি নিজেই ধরা দেন পুলিশের কাছে। দেখিয়ে দেন জিয়ানের জীবন্ত কবরটিও।
পুলিশ জিয়ানের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার পেটের ভেতর মাটি ও ময়লা পাওয়া গেছে। এতেই পুলিশ নিশ্চিত হয়, কবর দেয়ার সময়ও জীবিত ছিলেন জিয়ান। তখন শ্বাস প্রশ্বাস চলতে থাকায় পেটের ভেতর মাটি ঢুকে যায়।
এ অপরাধে কিয়াওকে কারাগারে পাঠানো হয়। কিয়াওয়ের বিষয়ে তার বড় বোন ওয়ান নিউ বলেন, ও একটা শয়তান, দুশ্চরিত্রা। ওকে গুলি করা উচিত। সে আমার শান্তি নস্ট করে দিয়েছে। আমার বাগদত্তাকে ধ্বংশ করে দিয়েছে। এখন তার নতুন প্রেমিকের জীবনটাও ধ্বংশ করলো। ওর কোনো অনুতাপ নেই। অনুভুতিও নেই। আমি চাই সে নরকে পঁচুক। পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, এটা সাঙ্ঘাতিক ধরনের নারকীয় প্রেমের অপরাধ।

সূত্র: মিরর

কবীর সুমন বহুগামী : তসলিমা নাসরিন

কখনো তিনি প্রতিবাদী এমপি, কখনো বা বাংলা গানের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া গায়ক, কখনো বা তুখোড় সাংবাদিক। তিনি কবীর সুমন। তাকেই ক্ষমতালোভী, অর্থলোভী বলে নিজের ফেসবুক ওয়ালে তোপ দাগলেন তসলিমা নাসরিন। সব পরিচয় ছাপিয়ে ‘বিতর্কিত’ লেখিকার তকমাই এখন আর একমাত্র সম্বল।
তসলিমার দাবি, ‘ক্ষমতার বড় লোভ সুমনের। টাকা পয়সারও লোভ প্রচণ্ড। অথচ কী ভীষণ আদর্শবাদী বলে ভাবতাম মানুষটাকে। এখনো অবশ্য প্রচুর লোককে বোকা বানিয়ে চলছেন। অভিনয় ভালো জানেন বলে এটি সম্ভব হচ্ছে।’
এই নির্বাসিত লেখিকা দাবি করেছেন, বহু নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সুমনের। কিন্তু তসলিমার চোখে সুমন নারীবিরোধী। ফেসবুকে তসলিমা লিখেছেন, ‘সুমন বলেছেন বহুনারীর সঙ্গে সম্পর্ক তার। কিন্তু তিনি যে বড্ড নারীবিরোধী লোক। তার জার্মান বউ মারিয়াকে তিনি শুধু মানসিকভাবে নয়, শারীরিকভাবেও নির্যাতন করতেন। মারিয়া মামলা করেছিলেন সুমনের বিরুদ্ধে। ...শুনেছি ক্ষমতার লোকেরা তাকে জামিন পেতে সাহায্য করেছিলেন। মারিয়ার ফ্যাট, জিনিসপত্র- কিছুই নাকি সুমন তাকে ফেরত দেননি। মারিয়া শেষ পর্যন্ত সুমনকে ডিভোর্স দিয়ে খালি হাতে জার্মানিতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।’
যদিও তসলিমার এই অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত সুমন কোনো বিবৃতি দেননি। কিন্তু তসলিমার এ অভিযোগ কতটা সত্যি? মানুষ সুমনের অন্দরমহল কি এতটাই কদর্য? নাকি পুরনো কোনো রাগ মেটাতে তসলিমার এ অভিযোগ?

সূত্র : কলকাতা২৪।

‘দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে’ -এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, গত আট মাসে ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন। ৩শ’র বেশি মানুষ গুম হয়েছে। দেশে চলছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। আর এই প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছিল বিএনপি। রবিবার বিকালে মৌলভীবাজারে জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন উপলক্ষে সরকারী স্কুল মাঠের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদ দাবি করেন, ৮৬ সালের পর হরতাল, জ্বালাও পোড়াও শুরু হলে শান্তির জন্য গণতন্ত্রের জন্য তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেন। কিন্তু এই গণতন্ত্র আর ফিরে আসেনি। হরতাল হয়েছে। মানুষ মরেছে। এরশাদ আরও দাবি করেন, তার চলে যাওয়ারপর আর গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়নি। একদলীয় সরকার গঠন হয়েছে। দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। যা তার সময়ে ছিল না। উপজেলা বাতিল হয়েছে, উন্নয়ন হয়নি। এরশাদ বলেন, দেশের শান্তির জন্য এখন জাতীয় পার্টির শাসন দরকার। দেশে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তরুণ-যুবকরা ঝুকে পড়ছে ইয়াবা-ফেন্সিডিল সেবনে। এই তরুণ-যুবকদের সুপথে ফেরাতে হবে। তাই আগামী নির্বাচনে জাতীয় পাটির ১৫১ টি আসনের দরকার। সেই হিসাবে সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানান তিনি। মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ হান্নান, তাজ রহমান, জিয়াউল হক মৃধা, হবিগঞ্জের ইয়াহিয়া চৌধুরী, আব্দুল মুনিম চৌধুরী, সুনামগঞ্জের পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ এমপি ও যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম নূরুল প্রমুখ।

‘প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ আস্থা রয়েছে’ -এইচটি ইমাম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষা ও সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ প্রসঙ্গে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক সভায় তিনি যেসব মন্তব্য করেছেন, তার অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কোন কোন মহল এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ধুম্রজাল সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিবিসি বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মি. ইমাম জানান, এই বিতর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথা হয়েছে, এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ অনুযায়ী আগামিকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বক্তব্য বিশদভাবে তুলে ধরবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে গত ১২ই নভেম্বর এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, তাদের চাকরিসহ যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। আমি প্রয়োজনে কোচিং ক্লাস নিতে রাজি আছি। তারপরে আমরা দেখব, আগে নয়।
সরকারি চাকরি প্রার্থী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি এইচ টি ইমাম-এর এই আশ্বাস রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা মানুষের বাড়ি-ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জমি-জমা দখল করছে। এখন ইমাম সাহেবরা তাদের সরকারি চাকরি দিতে চান।
সাক্ষাৎকারে মি. ইমাম জোর দিয়ে বলেন, তার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি এমন কিছু বলেননি যাতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় কিংবা সরকার বিব্রত হতে পারে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সদস্যদের প্রতি তার বক্তব্য ছিল মূলত উপদেশমূলক।
পিএসসি-তে মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে দূর্বলতা তিনি লক্ষ্য করেছেন, সেই প্রেক্ষিতেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন বলে মি. ইমাম জানান।
পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষার পদ্ধতি এখন এতটাই স্বচ্ছ যে এধরনের কোন প্রতিশ্রুতি দেয়ার কোন সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাতাল নারীর সঙ্গে পুরুষের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

দিনদুপুরে জনসমক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছে মদ্যপানরত এক মাতাল নারী৷ বাড়ি যাওয়ার বাস খুঁজছে সে৷ কিন্তু আশেপাশের মানুষ তাকে বাসে তোলার বদলে বাড়িতে নেয়ার চেষ্টায় মত্ত৷ ইউটিউবে এমন এক ভিডিও সাড়া ফেলেছে৷ ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওটির শিরোনাম যে কাউকে দ্বিধায় ফেলতে পারে, করে তুলতে পারে ক্লিক করতে আগ্রহী৷ ড্রাঙ্ক গার্ল ইন পাবলিক শিরোনামের ভিডিওতে প্রকাশ হয়েছে আট নভেম্বর৷ আর ইতোমধ্যে দেখা হয়ে গেছে এক কোটি বারের বেশি৷ প্রাংক ভিডিওটি আসলে মাতাল নারীদের প্রতি পুরুষের মনোভাব বোঝানোর জন্য তৈরি৷ এজন্য বেছে নেয়া হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড শহর৷ ভিডিওতে বোতল হাতে মাতালের অভিনয় করা নারীটি বিভিন্ন পুরুষের কাছে নিজের বাড়ি যেতে সহায়তা চায়৷ কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য তাঁর সঙ্গে কথা বলা সব পুরুষই তাঁকে নিজেদের বাড়িতে নেয়ার নানা চেষ্টা করেছে৷

টুইটারেও ভিডিওটি শেয়ার করেছেন অনেকে৷ ভিডিওটি ফেক কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছে একটি ব্লগ৷প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে নিউ ইয়র্কে রাস্তায় হেঁটে বেড়ানো এক মেয়ের প্রতি পুরুষের মনোভাব নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়৷ দশ ঘণ্টা ধরে হাঁটার সময় ভিডিওতে অংশ নেয়া সুসানা রবার্টসের উদ্দেশ্যে অন্তত একশো বার ক্যাটকল বা শিষ বাজিয়েছে আশেপাশের পুরুষরা৷ কেউ কেউ তার সঙ্গে জোর করে কথা বলার চেষ্টা করেছেন, কেউবা কোনো কারণ ছাড়াই তাকে অনুসরণ করেছেন দীর্ঘক্ষণ৷উল্লেখ্য, ভিডিও দুটিতে পুরুষের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সেটি সামগ্রিক চিত্র না হলেও উদ্বেগজনক বৈকি৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং টুইটারে এসব নিয়ে অনেক মতামত রয়েছে৷ কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, রাস্তায় হেঁটে যাওয়া একটি মেয়েকে হ্যালো বললেও কি সেটা হয়রানি হিসেবে গণ্য হবে? ইউটিউবে সুসানা রবার্টসের ভিডিওর নিচে রয়েছে দেড় লাখের মতো মন্তব্য৷ এছাড়া এই ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে আরো কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে ইউটিউবে৷

এশিয়ার নতুন জ্বালানি সুপারপাওয়ার বাংলাদেশ?

জুলাই মাসে জাতিসংঘের সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার অধিকার জয় করেছে। নতুন অঞ্চলসহ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত এখন আনুমানিক ২০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এশিয়া-প্যাসিফিকে এটা সর্বোচ্চ। বঙ্গোপসাগরে উল্লেখযোগ্য জ্বালানির সন্ধান দেশটির অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য গড়ে দেবে। বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার আসবে। প্রগতির চাকা ঘুরতে সহায়তা করবে। দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ: এশিয়াস নিউ এনার্জি সুপারপাওয়ার?’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীর কাছে বাংলাদেশ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের স্থান। এগুলোর কারণ হলো, রাজনৈতিক উত্তেজনা, ব্যাপক দরিদ্রতা ও চরম ভর্তুকিমূলক অর্থনীতি, যা প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যয় সীমাবদ্ধ করে দেয়। বস্তিতে পূর্ণ ঢাকা ও চট্টগ্রাম, যা রিয়াদ, দোহা আর দুবাইয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল থেকে যোজন যোজন দূরে। তারপরও দর্শনধারী ভাল হওয়াটাই সবকিছু নয়। দারিদ্র্য ও সহিংসতা সত্ত্বেও তেলের বাজারে ভাল করেছে নাইজেরিয়া, চাদ ও ভেনেজুয়েলা। কিন্তু বাংলাদেশের সমস্যাগুলো হয়তো বুঝতে সাহায্য করবে বিনিয়োগকারীরা কেন এগিয়ে আসছে না। বস্তুত উল্টাটা ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস গত বছর অপর্যাপ্ত উৎপাদনকে কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র অফশোর গ্যাসক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধ করেছে। সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠান ক্রিস এনার্জির সহায়তায় এ বছরের শেষে অগভীর পানিতে খনন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সান্তোসের। অফশোর খনন অধিকারের জন্য ২০১২ সালে জাতীয় তেল প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার একটি নিলামে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান আকৃষ্ট হয়েছে। একটি ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কর্পোরেশন। অপরটি হিউস্টন ভিত্তিক কোনোকো ফিলিপস। গত এপ্রিলে পেট্রোবাংলা বিতর্কমুক্ত অফশোর তেলক্ষেত্রের জন্য নিলাম শুরু করে। কিন্তু সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ দেখা গেছে কম। তারা অনশোর ক্ষেত্রগুলোতে প্রবেশগম্যতা অভাবের অভিযোগ তুলেছে। এ বছরের শুরুতে কোনোকো এবং রাশিয়ার স্ট্যাটঅয়েল বাংলাদেশের তিনটি গভীর পানির তেলক্ষেত্রে যৌথভাবে নিলামে অংশ নেয়। তেলক্ষেত্রগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের ৩০ হাজার ফুট গভীরে। কোনোকো পরবর্তীতে আরও দুটি গভীর পানির ক্ষেত্রে চুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করে। এ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশে কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাজি ধরার জন্য এটা আদর্শ সময় হতে পারে। সমুদ্রে নতুন এলাকা জয়ের পর দেশটির আনুমানিক প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ এখন ২০০ ট্রিলিয়ন ঘটফুট। বছরের শেষ দিকে পেট্রোবাংলা ১৮টি নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের নিলাম করবে। সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের পলিসি এসোসিয়েট নেইল ভাটিয়া বলেন, বাংলাদেশ যদি পুরো এলাকা থেকে জ্বালানি উত্তোলন করতে সক্ষম হয় তাহলে তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তবে ভিন্নমত পোষণ করছেন মানার এনার্জির হেড অব কনসাল্টিং রবিন মিলস। তিনি বলছেন, নতুন জলসীমায় কি আছে তা নিশ্চিত হওয়ার কোন উপায় নেই। আমরা এখনও জানি না ১০০ নাকি ২০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট, নাকি আদৌ কোন কিছু সেখানে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের গ্যাস মজুত সম্ভাব্য, প্রমাণিত নয়। কাজেই আমাদের জানা ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৌশল তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী অনুমানের সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। এ জ্বালানি মজুত জরিপ এবং উত্তোলন করার জন্য বাংলাদেশের সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। কিন্তু গভীর পানিতে খনন করার মৌলিক সামর্থ্যরে অভাব রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের। বাংলাদেশের পেট্রোলিয়াম ও এক্সপ্লোরেশন কোম্পানি পরীক্ষামূলক গ্যাস খনন করেছে কিন্তু নতুন এলাকায় অনুসন্ধান চালাতে তাদের অর্থ এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ঘাটতি রয়েছে। এসব ঘাটতি, প্রতিবন্ধকতা, দুর্নীতির বেড়াজাল এবং রাজনৈতিক উত্তেজনায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। অধিক অর্থ অধিকতর সমস্যা নিয়ে আসে। তারপরও নতুন এলাকা বাংলাদেশকে সুবিধাজনক অবস্থানেই নিয়ে বসাচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম দুই দাতারাষ্ট্র চীন ও ভারতের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। দুটি দেশই জ্বালানির নতুন উৎসের জন্য ক্রমেই মরিয়া হয়ে উঠছে। কক্সবাজারে একটি বিমানবন্দর নির্মাণে চীন ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। উন্নয়নের অর্থ দিয়ে ভারতকে বেষ্টন করতে চীনের যে কৌশল রয়েছে সেখানে বাংলাদেশ এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আর প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোজন সে অবস্থানটা আরও সুদৃঢ় করবে। ভাটিয়া বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গ্যাসের জন্য শক্তিশালী বাজার গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তেল সম্পদ দারিদ্র্য থেকে উত্থানের সেরা সুযোগ। একই সঙ্গে সরকার ও দেশকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। এ সময়টা বাংলাদেশকে অবশ্যই লুফে নিতে হবে।

‘ইমাম সাহেব গোপন কথা বলে দিয়েছেন’ -একিউএম বদরুদ্দোজা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, গোপন কথা রইল না গোপন, ইমাম সাহেব বলে দিয়েছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে রবিবার দুপুরে ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য এ বছরের সর্ব নিকৃষ্ট উক্তি। ঘুষ নেয়া দোষের নয় তিনি এ ধরনের মন্তব্য করে জঘন্য অন্যায় করেছেন। কিছুদিন পর দেখা যাবে তিনি বার্ষিক বাজেট পাসের সময় ঘুষের বাজেটও পেশ করবেন। তিনি বলেন, সরকারের মধ্যে নানান প্রজাতির মন্ত্রীদের মাধ্যমে বিচিত্র এ মন্ত্রীসভা এখন চিড়িয়াখানায় পরিণত হয়েছে। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বিয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী ৬৭ বছর বয়সে বিয়ে করলেন, আমি এর বিরুদ্ধে নই। এ জন্য এতো পাবলিসিটি কেন? এই গায়ে হলুদ, এই বিয়ের অনুষ্ঠান, একটি ছবিও নাকি বানানো হবে! বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দয়া করে আপনারা কেউ জয়কে নিয়ে কথা বলবেন না। ভাল বাংলাও বলতে পারে না। তাকে বলতে দিন। আশার কথা শুনাবে। সে লার্নিং প্রসেসে আছে। সে বাংলাদেশে ছিল না। বিদেশে থেকেছে এমনকি বিয়েও করেছে বিদেশীনীকে। তাই সে অনেক কিছুই জানে না। তাকে শিখতে দিন, জানতে দিন। তাকে নিয়ে কেউ মন্তব্য করবেন না। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে মুক্ত বুদ্ধির রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। তার কল্যাণেই দেশের রাজনৈতিক দলগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। এমনকি আওয়ামী লীগেরও পুর্নজন্ম হয়েছিল। ৭ই নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ রুদ্ধদশা থেকে মুক্ত হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতার জন্য আসেন নাই। তিনি দেশের নেতৃত্বশূণ্যতা পূরণে দেশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি দেশের হাল ধরেছিলেন। সংঠনের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের সভাপতি আরও বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রমুখ।

টাইগারদের ইতিহাস গড়া জয় by ইশতিয়াক পারভেজ

শেষ টেস্টেও জিম্বাবুয়েকে ১৮৬ রানে হারিয়ে জয় পেল বাংলাদেশ। এই জয়ে প্রথম বার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ প্রতিপক্ষকে হোয়াইট ওয়াশ করতে সক্ষম হলো টাইগারা। সেই সঙ্গে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এটি প্রথম টেস্ট জয়ই না, দেশের মাটিতে প্রথম হোয়াইট ওয়াশ করার রেকর্ডও। সব মিলিয়ে নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাস রচনা করলো টাইগাররা। এর আগে এই স্টেডিয়ামে মোট ১২টি ম্যাচ খেলেছিল। কিন্তু ৮টি ম্যাচে পরাজয়ের লজ্জা ও ৪টি ম্যাচে ড্র’র প্রাপ্তি নিয়েই সন্তোষ্ট থাকতে হয়েছে। তবে আজ সাগরিকায় জয়ের ঢেউ আছড়ে পড়ে নতুন এক রেকর্ড গড়ে। জিম্বাবুয়েকে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে টানা ৪ বার হারালো বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ ২ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচে জিতে প্রথম কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশকে হোয়াইট ওয়াশ করেছি। এই পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩টি সিরিজে জয় পেয়েছে। তার মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় বার। শুধু তাই না রানের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ ২২৬ রানের ব্যাবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ঢাকা ৩ উইকেট ও খুলনায় ১৬২ রানের জয় দিয়ে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। সেই সুবাদে বাংলদেশ টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০ নাম্বাার থেকে জিম্বাবুয়ে পিছনে ফেলে উঠে আসে ৯ নাম্বারে। আর তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন জিম্বাবুয়ের কাছ থেকে ৩৪ রান বেশী। এই পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে জয় এসেছে ৭টিতে ড্র ১১টিতে ও হার ৭০টিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এসেছিল এই চট্টগ্রামে। ২০০৫ সালে অবশ্য সেটি ছিল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি ১৪ তম টেস্টে ৫ জয়।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে টসে জিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তামিম ও ইমরুললের জোড়া সেঞ্চুরি ৫০৪ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১২৯ রান পিছিয়ে থেকে ৩৭৪ রানে আল আউট হয়। এরপর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩১৯ রান করে ৫ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে জিম্বাবুয়ের সামনে জয়ের জন্য টার্গেট ছুড়ে দেয় ৪৪৮ রানের। চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে ১ উইকেটে তুলে জিম্বাবুয়ে ৭১ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করে। তবে ৫ম দিন কোন ভাবেই বাংলাদেশের বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্পিনারা আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরে জিম্বাবুয়েকে।
৪৪৮ রানের লিড তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেট হারিয়ে ৭১ রান। তাই আজ তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৭৮ রান। হাতে ছিল ৯টি উইকেট। কিন্তুএকের পর এক উইকেট হারিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ফিঁকে হয়ে আসে তাদের জয়ের আশা। এর আগে ব্যাট হাতে নেমে আগের দিন ৪৩ রানে সিকান্দার রাজা তার সঙ্গে ২৬ রানে অপরাজিত থাকা মাসাকাদজা খুব বেশী দূর যেতে পারেননি। জিম্বাবুয়ে জয়ের জন্য ৩৫২ রান দূরে থাকতেই হারিয়েছে দ্বিতীয় উইকেট। অভিজ্ঞ ব্যাটম্যান মাসাকাদজাকে ৩৮ রানেই ফিরিয়ে দিয়ে দিনের প্রথম উইকেট এনে দেন শুভাগত হোম। জিম্বাবুয়ে ২ উইকেট হারায় ৯৭ রান রান সংগ্রহ করতেই। তবে টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয় ফিফটি হাঁকিয়ে আপরাজিত ছিলেন সিকান্দার রাজা ভাট। তার সঙ্গে দলের হাল ধরতে এসেছিলেন দলের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। তবে রাজার এই প্রতিরোধ লড়াই বেশিক্ষণ আস্থায়ী হতে দেননি শুভাগত হোম। নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান ৭৫ বলে ৬৫ রান করা রাজাকে। রাজা ১১৬ রানের সময় সাজঘরে পথে হাটেন। ক্রিজে অধিনায়ক টেইললের সঙ্গে আছেন চাকাভা। অধিনায়ক টেইলর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনিও ব্যর্থ হন। দলের জন্য মাত্র ২৪ রানের আবদান রেখেই তিনি জুবায়েরর শিকার হয়ে হাটেন সাজঘরের পথে। চাকাভার সঙ্গে প্রথম ইনিংসে চিগুম্বুরার জুটি লম্বা হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে চাকাভাকে একা ফেলেই হাটতে হয়েছে চিগুম্বাবুরাকে। মাত্র ৫ই ছিল তার দলের জন্য অবদান। জুবায়ের দ্বিতীয় শিকার ছিলেন তিনি।
এরপর শেষ মুহুর্তে চাকাভা একাই দলের হাল ধরে থাকেন। তাকে সঙ্গ দিতে এসে একবার রিভিওতে বেঁচে যাওয়া আরভিন মধ্যানহ্ন বিরতীর পর ১৬ রানের অবদান রেখেই হাটেন সাজঘরের পথে। তবে তাকে সঙ্গ দিতে এসে কেউ দাড়াতে পারেনি টাইগারদের সামনে। দলীয় ২২৮ রানে আরভিনের বিদায়ের পর মুতাম্বিকে নিয়ে কিছু প্রতিরোধ গড়েন চাকাভা। কিন্তু তাইজুল ২ রানেই তাকে সাজঘরে পথ দেখান। এরপর স্পিনারদের সাফল্যে চুপ করে থাকেনি পেসারও। রুবেল হোসেন তার দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন পানিয়াংঙ্গারাকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে। এরপর  পেসার শফিউল ইসলাম পর পর দুই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় উপহার দেয়।

কুতুবদিয়ায় বায়তুশ শরফের চক্ষুক্যাম্প উদ্বোধন করলেন এমপি রফিক by হাছান কুতুবী

ধর্মীয় ও আর্ত মানবতার সেবায় বায়তুশ শরফের প্রতিষ্টাতা হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (রহ:) ও পৃষ্টপোষক বাহরুল উলুম মাওলানা কুতুব উদ্দিন (মা.জি.আ.) জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন। শনিবার কুতুবদিয়ায় বায়তুশ শরফের চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে কুতুবদিয়া-মহেশখালীর সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এ কথা বলেন। বায়তুশ শরফ মসজিদের উন্নয়নকাজে সহযোগীতার আশ্বাস দেন এমপি। এস.এম.কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বায়তুশ শরফ প্রাঙ্গনে অনুষ্টিত সভায় জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধূরী প্রধান অতিথি ছিলেন। অন্যান্যদের মাঝে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জেলা আ.লীগের প্রভাবশালী নেতা এড.ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী, ইউএনও মমিনুর রশীদ, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ছৈয়দ আহমদ কুতুবী, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা নুরুচ ছাফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার সেলিম চৌধূরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মাতবর, মাহবুব আলম মাতবর, কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবর, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী, কুতুবদিয়া বায়তুশ শরফের হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হক, আ.লীগ নেতা মুসলিম খাঁনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এতে আবু তৈয়ব ও আলহাজ্ব ডা.দিদারুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। পরে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে বিকালে কুতুবদিয়া ত্যাগ করেন এমপি।

রহস্যময় সেই ডুবোজাহাজের ছবি

নিজেদের জলসীমায় ঢুকে পড়া আলোচিত বিদেশি ডুবোজাহাজের ‘সোনার’ চিত্র প্রকাশ করেছে সুইডেন। এতে পানির নিচে চলমান একটি জলযানের পথরেখা দেখা যাচ্ছে। সোনার হচ্ছে শব্দতরঙ্গের সাহায্যে বিশেষ করে পানিতে নিমজ্জিত থাকা বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করার পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত নাম। খবর বিবিসির।
গত অক্টোবর মাসে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কাছের সাগরতলে একটি রহস্যময় ‘বস্তুর’ উপস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সুইডেনের সামরিক কর্মকর্তারা একে একটি ডুবোজাহাজ সন্দেহ করে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। এটি ছিল স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর থেকে দেশটির সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। তবে সুইডেন এর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত বলে দাবি করলেও যানটিকে হাতেনাতে ধরা যায়নি।
ঘটনার পর সন্দেহের আঙুল ওঠে রাশিয়ার দিকে। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই এলাকায় তাদের কোনো জলযানের ঢুকে পড়ার কথা অস্বীকার করে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় সুইডেনের উপকূলে মাঝেমধ্যে রাশিয়ার ডুবোজাহাজ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যেত। ১৯৮১ সালে একটি নৌঘাঁটির পাশে পরমাণু অস্ত্রবাহী একটি রুশ ডুবোজাহাজ আটকে পড়েছিল।
>>ডুবোজাহাজের পথরেখা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস–পরীক্ষা বন্ধ- সমাবেশ থেকে শিক্ষকের খুনিদের শাস্তি দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলামের (৫১) খুনিদের শাস্তি দাবি করেছে শিক্ষক সমিতি। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এক শোকর‌্যালিতে ওই দাবি জানানো হয়।
শিক্ষক শফিউল ইসলামকে হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা নিচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল শনিবার রাতে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে থেকে একটি শোকর‌্যালি বের করে শিক্ষক সমিতি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ঘুরে আবার সিনেট ভবনের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সারা দেশের মানুষের মধ্যে একধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে যে এখানে সব সময় খুন-খারাবি হয়। অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণ হয় যে এখানে আমরা কেউ নিরাপদ নই। বক্তারা, সরকার, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে খুনিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানান।

>>রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শফিউল ইসলামকে হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার ক্যাম্পাসে শোক শোভাযাত্রা বের করে শিক্ষক সমিতি। ছবিটি বেলা সোয়া ১১টার দিকে তোলা। ছবি: শহীদুল ইসলাম, রাজশাহী
শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার পাণ্ডের সঞ্চালনায় শোকর‌্যালিতে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ছাদেকুল আরেফিন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ওয়ারদাতুল আকমাম, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক সফিকুন্নবী সামাদী, অধ্যাপক আবুল কাশেম, অধ্যাপক জাহিদুল হাসান, অধ্যাপক শামসুল আলম সরকার, অধ্যাপক আফসার উজ জামান খান প্রমুখ।
প্রগতিশীল ছাত্রজোট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিক্ষক শফিউল ইসলামকে হত্যার প্রতিবাদে বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
আজ সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সব কার্যক্রম চলছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী চৌদ্দপায় এলাকায় নিজের বাসার কাছে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে হত্যা করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেলে শফিউল ইসলাম মারা যান। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গতকাল রাতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন আটক ব্যক্তিদের নাম জানাননি। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত কিছু বলতে পারেনি।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার পাণ্ডে জানান, শিক্ষক সমিতি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করলেও সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভর্তি কার্যক্রম নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অব্যাহত রয়েছে।
অধ্যাপক শফিউল ইসলামের প্রথম নামাজে জানাজা গতকাল রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাতেই তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হিয়াতপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আজ দাফন সম্পন্ন করা হবে।
আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ ২ নামে একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজে তাঁদের ‘মুজাহিদিনরা’ শিক্ষক শফিউল ইসলামকে হত্যা করেছে বলে দাবি করে। ক্লাসে বোরখা পরা নিষিদ্ধ করার অপরাধে শফিউল ইসলামকে হত্যা করা হয় বলে তাঁদের দাবি। তবে তাঁদের এই দাবির বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

অস্ত্রই খুঁজে নেবে হামলার লক্ষ্য

চালকবিহীন সশস্ত্র বিমান (ড্রোন) এখন যুদ্ধক্ষেত্রের হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তিবিদেরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলছেন, ভবিষ্যতে মানুষের ওপর নির্ভরতা কমে অস্ত্র নিজেই ঠিক করে নেবে কোথায় আঘাত হানতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় বোমারু বিমান বি-ওয়ান থেকে গত বছর পরীক্ষামূলক গোলাবর্ষণ করা হয়। বলা হচ্ছে, এটি যুদ্ধের নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। বিমানটির আরোহী পাইলটেরা প্রাথমিকভাবে এতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু গন্তব্যের পথে অর্ধেক পাড়ি দেওয়ার পর তা যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনটি জাহাজের মধ্যে থাকা মানুষবিহীন ২৬০ ফুট উঁচু একটি রণতরিতে আঘাত হানে।
বিজ্ঞানীরা এখন এ ধরনের বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করছেন, যেগুলো মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) প্রযুক্তিতে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে কাকে আঘাত করতে হবে, তা অস্ত্র নিজেই ঠিক করে নেবে।
লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি জাহাজবিধ্বংসী এলআরএএস ক্ষেপণাস্ত্র নতুন যুগের অস্ত্রগুলোর একটি। সমালোচকেরা বলছেন, সুবিধার পাশাপাশি অত্যাধুনিক সমর প্রযুক্তির কিছু সমস্যাও আছে। ‘নিজের মেধা’ থাকায় একসময় হয়তো অস্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের জন্যই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। নিখুঁতভাবে ব্যবহার করার ফলে বেসামরিক জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি মানুষের অসতর্কতায় সহজেই যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকবে।

>>এলআরএএস ক্ষেপণাস্ত্র l ছবি: লকহিড মার্টিন
যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল ও নরওয়ে মানুষের নিয়ন্ত্রণবিহীন রাডার, ট্যাংক বা জাহাজে হামলা করার উপযোগী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ ক্ষেপণাস্ত্র ট্যাংক ও সাধারণ গাড়ির মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারে এবং এআই প্রযুক্তির সেন্সরের সাহায্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করে আঘাত হানতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণাকেন্দ্রের পদার্থবিদ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ স্টিভ অ্যামোহুনড্রো বলেন, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়ে প্রতিযোগিতার সম্ভাব্য উত্থানে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা হবে কি না, সেখানে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে (৫১) হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতির ডাকে আজ রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গতকাল শনিবার রাতে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

>>রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শফিউল ইসলামকে হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার ক্যাম্পাসে শোক শোভাযাত্রা বের করে শিক্ষক সমিতি। ছবিটি বেলা সোয়া ১১টার দিকে তোলা। ছবি: শহীদুল ইসলাম, রাজশাহী
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন আটক ব্যক্তিদের নাম জানাননি। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত কিছু বলতে পারেনি।
এদিকে আজ সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সব কার্যক্রম চলছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী চৌদ্দপায় এলাকায় নিজের বাসার কাছে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে হত্যা করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেলে শফিউল ইসলাম মারা যান।

নকিয়ার পুনরুত্থান!

যদিও প্রত্যাবর্তন কথাটি ঠিক এখনই নকিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাচ্ছে না, কিন্তু একসময়ের জনপ্রিয় ‘নকিয়া’ ব্র্যান্ড নামটিকে কীভাবে ভোক্তা বাজারে বাঁচিয়ে রাখা যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে ফিনল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাইক্রোসফটের কাছে নকিয়া মোবাইল ফোন বিভাগটি ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারে বিক্রির কয়েক মাস না পেরোতেই ব্র্যান্ড পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে নামতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। সম্প্রতি মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ নকিয়া ব্র্যান্ড ব্যবহারের পরিবর্তে নিজস্ব ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার শুরু করেছে।
সম্প্রতি প্রযুক্তি বাজারে গুজব চলছে, আবারও মোবাইল ফোনের বাজারে আসছে বর্তমানে নেটওয়ার্কিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ফিনল্যান্ডের নকিয়া। নকিয়ার প্রধান নির্বাহী রাজিব সুরি ১৪ নভেম্বর এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের ব্র্যান্ডটি আবারও ভোক্তা বাজারে প্রত্যাবর্তন করবে—সেটা আশা করাই যায়।’
লন্ডনে বিনিয়োগকারীদের সামনে নকিয়ার প্রধান নির্বাহী বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানটি এখন ব্র্যান্ড লাইসেন্স নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক। নতুন করে নিজস্ব হ্যান্ডসেট ব্যবসা শুরুর পরিবর্তে নকিয়া ব্র্যান্ড নামটি দিয়ে ব্যবসা করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
রাজিব সুরি বলেন, ‘ব্র্যান্ড লাইসেন্সিংকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছি আমরা। দীর্ঘমেয়াদি এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারি আমরা। ভোক্তাপণ্য নির্মাতাদের কাছে আমরা নকিয়া ব্র্যান্ড নামটি ব্যবহার করার জন্য লাইসেন্স দিতে পারি। যেসব পণ্যে নকিয়ার ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করা হবে তারা নকিয়াকে লাইসেন্স ফি দেবে।’
তিনি বলেন, নকিয়া নামটিকে যে শুধু ফোনে ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে তা-ই নয়, এটি যেকোনো ইলেকট্রনিক পণ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।
প্রসঙ্গত, এ বছরের এপ্রিলে নকিয়ার মোবাইল ফোন বিভাগ কিনে নেওয়ার পর সম্প্রতি লুমিয়া ৫৩৫ নামের একটি স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। এ ফোনে নকিয়ার নামের পরিবর্তে ব্র্যান্ড নাম হিসেবে নিজস্ব নাম ব্যবহার করেছে মাইক্রোসফট।
এক সময় মোবাইল ফোনের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত থাকলেও বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারব্র্যান্ডের করা জরিপে এ বছর ব্র্যান্ড নাম হিসেবে ৯৮তম স্থানে নেমে গেছে নকিয়া। ২০০৭ সালে ব্র্যান্ড হিসেবে তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিল নকিয়া।
>>নকিয়া ব্র্যান্ডকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে

ইউনেস্কোর ৭০ বছর : ঢাকা ঘোষণা by কাজী ফারুক আহমেদ

নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও বিপরীতমুখী প্রতিকূল বিশ্বরাজনীতির মোকাবেলা করে ইউনেস্কো আজ ৭০ বছরে পদার্পণ করছে। ১৯৪৫ সালের ১৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের এ বিশেষায়িত সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা-সংকৃতির বিকাশ, শান্তির পক্ষে অবস্থান নির্মাণ, বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণা, পরিবেশ সুরক্ষায় অব্যাহতভাবে কাজ করে চলেছে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার রক্তাক্ত সংগ্রামের স্মারক মহান একুশে ফেব্র“য়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দানকারী এবং বিশ্বের ৬ হাজার ভাষাকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষাকারী ইউনেস্কো অব্যাহতভাবে তার কর্মকাণ্ডের দিগন্ত সম্প্রসারিত করে চলেছে। ১৯৮৮ সালে ইউনেস্কোর ৫ম সাধারণ অধিবেশনে দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করা হয় : ষাটের দশক থেকে বিশ্বে সূচিত বিশাল পরিবর্তনের ধারায় এ সত্য আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, শিক্ষকের মর্যাদা নির্ভর করে শিক্ষার অবস্থানের ওপর, শিক্ষার অবস্থান নির্ভর করে শিক্ষকের মর্যাদার ওপর। প্রতিষ্ঠালগ্নে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জাতিগুলোর মধ্যে অবদান রাখা এবং সেজন্য পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধন, ন্যায়বিচারের প্রতি সর্বজনীন শ্রদ্ধাবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘ সনদে স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকারগুলোর সংরক্ষণ ও বিকাশ নিশ্চিত করাকে ইউনেস্কো তার লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করে। বলা হয়, যেহেতু মানুষের মনেই যুদ্ধ-ভাবনার সূত্রপাত, তাই সেখানেই শান্তির পক্ষে অবস্থান নির্মাণ করতে হবে।
১৯৪৬ সালে ইউনেস্কোর অধিবেশনেই শিক্ষকদের নৈতিক, বৈষয়িক ও পেশাগত স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে একটি বিশ্ব শিক্ষক সনদ রচনার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা ও বৈঠকের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে সদস্য দেশগুলোর আন্তঃসরকার সম্মেলনে শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশমালা গৃহীত হয়। আবার ইউনেস্কোর সাধারণ সভার ২৬তম অধিবেশনে এ মর্মে সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৯৬৬ সালে প্যারিসে গৃহীত শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশমালার স্মরণে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হবে। সে সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।
ইউনেস্কোর সদর দফতর প্যারিসে। সদস্য রাষ্ট্র, সহযোগী সদস্য ও পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণে দুবছর পরপর অনুষ্ঠিত সাধারণ অধিবেশন এবং ৫৮ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে মহাপরিচালকের নেতৃত্বে সচিবালয়ের মাধ্যমে ইউনেস্কো তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বর্তমানে মহাপরিচালক প্রতি ৪ বছর পরপর নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে প্রথম মহাপরিচালক জুলিয়ান হাক্সলি ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ দুবছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। ইরিনা বোকোভা ইউনেস্কোর দশম মহাপরিচালক হলেও এ শীর্ষপদে তিনিই বিশ্বের প্রথম নারী। বাংলাদেশে মহাপরিচালকদের মধ্যে বেশ পরিচিত ফেডেরিকো মেয়র জারাকোজা (১৯৮৭-১৯৯৯) এবং কাইচিরো মাতসুরা (১৯৯৯-২০০৯)। বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ১০০ জন বর্তমানে এ বিশ্ব সংস্থায় কর্মরত। এর দুই-তৃতীয়াংশ প্যারিসে সদর দফতরে এবং অন্যরা বিভিন্ন দেশে ফিল্ড অফিসে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ইউনেস্কো তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করে থাকে। ইউনেস্কোর বিভিন্ন ইন্সটিটিউট ও কেন্দ্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য : প্যারিসে আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরিকল্পনা ইন্সটিটিউট, জেনেভায় আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যুরো, হামবুর্গে জীবন শিক্ষা ইন্সটিটিউট, মেলবোর্নে ওশানিয়া উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র, মস্কোতে তথ্যপ্রযুক্তি ইন্সটিটিউট, ভেনিজুয়েলায় উচ্চশিক্ষা ইন্সটিটিউট, বনে আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বুখারেস্টে ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র, নেদারল্যান্ডসে পানিসংক্রান্ত শিক্ষা ইন্সটিটিউট, ইতালিতে তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, মন্ট্রিয়ালে ইউনেস্কো পরিসংখ্যান ইন্সটিটিউট। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, পুরাকীর্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণে ইউনেস্কোর বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। তবে আমার মতে, ইউনেস্কোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি হল বিজ্ঞান চর্চা, গবেষণা, নারী-পুরুষ সমতা অর্জন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। বর্তমান মহাপরিচালক বিজ্ঞানকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের তথা সায়েন্স ডিপ্লোমেসির যে ধারণা বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরেছেন তা যথার্থই প্রণিধানযোগ্য।
জাপানে শিক্ষা সম্মেলন : ১০ নভেম্বর থেকে জাপানের এইচি নগোয়ায় শুরু হয়েছে বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলন। ইউনেস্কো ও জাপান সরকার এর যৌথ উদ্যোক্তা। আজ ১৬ নভেম্বর এ সম্মেলন শেষ হবে। এর উদ্বোধনী অধিবেশনে আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ গঠন শিরোনামে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে বর্তমান দশকে শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জন, ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে ২০১৫ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মতামত ও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ১০টি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করে শিক্ষাকে উন্নয়নের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে দেখানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়নের নীতি ও লক্ষ্য নির্ধারকদের টেকসই শিক্ষা উন্নয়নের সমর্থনে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা বাস্তবায়নে নিশ্চিত করতে হবে সুপ্রসারিত প্রত্যক্ষ ও ফলপ্রসূ পরিবেশ। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমর্থন অপরিহার্য। বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের ৭৫ জন মন্ত্রী, মন্ত্রীর মর্যাদায় ২৮ জন, ইউনেস্কোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও এনজিও প্রতিনিধি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বেসরকারি উদ্যোক্তা, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞসহ এক হাজারের বেশি প্রতিনিধি এখন এ সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিশ্বের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাই জাপানের এ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন।
৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা ঘোষণা : ইউনেস্কোর উদ্যোগ ও সহযোগিতায় মাস্কাট ও ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো এ বছর ঢাকায় আয়োজন করে দিনব্যাপী কর্মসূচি। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা এবং বিভিন্ন দেশের বেশ কজন মন্ত্রী, শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এতে অংশগ্রহণ করেন। ইরিনা বোকোভার এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় সফর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মেয়েশিশুদের অভিগম্যতা বৃদ্ধি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও অর্জনের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইউনেস্কো এ বছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপনের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেয়। আমার সৌভাগ্য, ব্যাংককে তিনটি শিক্ষা সম্মেলন ও ঢাকায় ইউনেস্কো আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। ইরিনা বোকোভার সঙ্গে মতবিনিময় করতে পেরেছি। দিনভর বিভিন্ন আলোচনা-মতবিনিময় শেষে ৮ সেপ্টেম্বর যে ঢাকা ঘোষণা প্রকাশিত হয়, তা ছিল তথ্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশক। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণার প্রায় পাঁচ দশক পর বিশ্বে সাক্ষরতার হার ৬০ শতাংশ (১৯৬০) থেকে ৮৪ শতাংশে (২০১২) উন্নীত হয়েছে। কিন্তু এখনও ৭৮ কোটি ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক, যার তিন ভাগের দুই ভাগ নারী, বিশ্বের উন্নয়ন অভিযাত্রায় অংশ নিতে পারছে না শুধু নিরক্ষরতার শৃংখলে আবদ্ধ থাকার কারণে। ১২ কোটি ১০ লাখ শিশু এখনও মৌলিক শিক্ষা শেষ করতে পারছে না। স্কুলে গেলেও ১৩ কোটি শিশু পড়তে, লিখতে ও অংক করতে জানে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা ঘোষণায় বলা হয় : আমরা বিশ্বাস করি অপচয় করার মতো সময় আমাদের কারও নেই। আসুন, সবাই একসঙ্গে কাজ করি। বর্তমান অবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে আসি। জ্ঞান অর্জন সাক্ষরতা ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করি। শিক্ষা তথা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন এবং বৈষয়িক ও নৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ইউনেস্কোর কার্যক্রমে বর্ণ, অঞ্চল, বিশ্বাস নির্বিশেষে সব দেশের সব মানুষের সহযোগিতা কাক্সিক্ষত হলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিবদমান বিভিন্ন শক্তির প্রতিযোগিতার কারণে তা কোনো কোনো সময় প্রত্যাশার সীমা স্পর্শ করতে পারে না। তারপরও ইউনেস্কোর অব্যাহত উদ্যোগ মানব প্রগতির ধারায় যে নিত্যনতুন অবদান রেখে চলেছে, তার মূল্য অপরিসীম।
অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ : শিক্ষাবিদ; ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান

কাক এখন কাকের মাংস খায়! by ইকতেদার আহমেদ

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে। অধিকাংশ পাখি গাছে বাসা বাঁধে। কিছু পাখিকে শৌখিন মানুষেরা তাদের গৃহে বা গৃহের আঙিনায় পুষে থাকে, এরা পোষা পাখি। এমন কিছু পাখি আছে যেগুলো মানুষের শেখানো বুলি আওড়াতে পারে। চড়ুই ও কবুতর- এ দুটি পাখি গাছের ডালে বাসা না বেঁধে মানুষের গৃহের চালের
কোণে বাসা বাঁধতে সচ্ছন্দবোধ করে। সব ধরনের পাখি নিজের পাড়া ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়।
এর মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম হল কোকিল।
কোকিল অত্যন্ত কৌশলে কাকের বাসা থেকে কাকের ডিম ফেলে দিয়ে সেখানে ডিম পাড়ে এবং পরবর্তীকালে কোকিলের ডিমে তা দিয়ে কাক কোকিলের জন্ম দেয়।
কাক পাখি হলেও এ পাখিটিকে কেউ পোষা পাখি হিসেবে লালন-পালন করে না। কাকের গায়ের বর্ণ কালো। আমাদের দেশে দু’ধরনের কাক দেখা যায়। এর একটি হল দাঁড়কাক এবং অপরটি পাতি কাক। দাঁড়কাক আকৃতিতে একটু বড়; তবে সংখ্যার বিবেচনায় আমাদের চারপাশে পাতি কাক অধিক পরিলক্ষিত হয়। স্বভাবগতভাবে কাক নোংরা প্রকৃতির। কাক সাধারণত ময়লা-আবর্জনা থেকে তার খাবার সংগ্রহ করে। খাওয়ার ব্যাপারে কাকের তেমন একটা বাছবিচার নেই। তবে কোনো বাছবিচার না থাকলেও কাক নিজের মাংস খায় না। এ ব্যাপারে কাকের নীতিবোধ ও নৈতিকতা প্রবল। কাকের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল, পাখিটি খুব বেশি সমব্যথী। যে কোনো দুর্ঘটনায় একটি কাকের মৃত্যু ঘটলে আশপাশের সব কাক সেটিকে ঘিরে কা কা রবে সমবেদনা জানাতে থাকে। আবার দেখা যায়, একটি কাক অন্য কোনো পাখি বা প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হলে অপরাপর কাক সম্মিলিতভাবে আক্রান্তের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে এসে আক্রান্তকারীকে প্রতিহত করতে সচেষ্ট হয়।
পৃথিবীর যে কোনো দেশে চিকিৎসা পেশায় যারা নিয়োজিত, তারা মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে পেশাটিকে বেছে নেন। চিকিৎসকদের অনেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত, আবার অনেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা করে থাকেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও অফিসের নির্ধারিত সময়ের বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোগী দেখায় বিধি-নিষেধ নেই। চিকিৎসকরা মানুষের রোগ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রেখে থাকলেও তারা নিজেরা রোগ থেকে মুক্ত, এ কথা বলা যাবে না। বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের রোগ এবং মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসক রয়েছেন। এখন অধিকাংশ মানুষ রোগ নির্ণয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎকদের দ্বারস্থ হয়। সুদূর অতীত থেকে দেখা গেছে, কোনো চিকিৎসক রোগে আক্রান্ত হলে একই পেশায় নিয়োজিত অপর চিকিৎসক তাকে বিনা পারিশ্রমিকে সেবা দিতেন। এ সেবার পরিধি থেকে অনেক সময় দেখা যায় চিকিৎসকদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পিতা-মাতা বাইরে নয়। যে নীতিবোধ ও নৈতিকতা থেকে অতীতে চিকিৎসকরা রোগ
নিরাময়ে সেবার হাত প্রশস্ত করতেন, বর্তমানে নীতিবোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে সে সেবার হাত আর প্রশস্ত নয়।
সুদূর অতীতে যারা আইন পেশায় নিয়োজিত হতেন, তাদের প্রায় সবাই নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। এমন অনেক নীতিবান ও দৃঢ় চরিত্রের আইনজীবীর কথা শোনা যায়, যারা মক্কেল কর্তৃক নিয়োজিত হওয়ার পর মামলা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত মক্কেল কর্তৃক দেয় টাকা ব্যয় করতে দ্বিধাবোধ করতেন। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় যারা নিষ্ঠাবান ও পারদর্শী হিসেবে খ্যাত, আগে তাদের জিপি বা পিপি অথবা তাদের সহযোগী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেয়া হতো। একটি জেলার আইনজীবী হিসেবে জিপি বা পিপি পদ যে কোনো আইনজীবীর জন্য সম্মানের হলেও অতীতে অনেক প্রথিতযশা ও ন্যায়নিষ্ঠ আইনজীবী নিজের আইন পেশার ক্ষতি হবে- এ বিবেচনায় জিপি বা পিপি পদের প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু অতীতের সেই আÍত্যাগ আজ খুব একটা দেখা যায় না। বিগত চার দশকের বেশি সময় থেকে দেখা যাচ্ছে, জিপি ও পিপি হওয়ার জন্য আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা হচ্ছে এবং একজন আইনজীবীর পেশাগত সততা ও দক্ষতার চেয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি তার রাজনৈতিক আনুগত্য জিপি বা পিপি নিয়োগের ক্ষেত্রে অধিক বিবেচিত হচ্ছে। একজন জিপি বা পিপি রাষ্ট্র বা সরকারের স্বার্থ সমুন্নত রাখার ব্যাপারে সদাসর্বদা সচেষ্ট থাকবেন, এটি কাক্সিক্ষত হলেও তা যে বর্তমানে প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছে, তা বোধকরি আইন পেশায় সংশ্লিষ্ট ও দেশবাসীর বোঝা হয়ে গেছে।
অতীতে একজন আইনজীবী অপর আইনজীবীর ব্যক্তিগত মামলা বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করে নীতি ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত সমুজ্জ্বল রাখতেন। বর্তমানে বিভিন্নমুখী অবক্ষয়ের কারণে সে সমুজ্জ্বলতা মলিন। এখন আইনজীবীরা যেসব রাজনৈতিক মামলা পরিচালনা করলে পদ ও ক্ষমতা পাওয়ার জন্য সহায়ক হবে, সেসব মামলা ছাড়া কদাচিৎ বিনা পারিশ্রমিকে অন্য মামলা পরিচালনা করেন। বিভিন্ন জেলায় সরকার প্রদত্ত আইনগত সহায়তা তহবিলে অসহায় মানুষের মামলা পরিচালনার জন্য সরকারের
পক্ষ থেকে সম্ভাব্য অর্থের সংস্থান করা হলেও অধিকাংশ আইনজীবী ওই তহবিলের অর্থ দ্বারা মামলা পরিচালনার
ক্ষেত্রে অনীহা দেখান। এর পেছনের কারণ, মামলা পরিচালনার ব্যয় হিসাবে যে অর্থ দেয়া হয় তা আকর্ষণীয় নয়।
আমাদের দেশে যারা বিচার কার্যে নিয়োজিত, তাদের সবাই আইন বিষয়ে ডিগ্রিধারী। এদের অনেকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভের আগে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। বিচারকরা সমাজেরই অংশ। একজন বিচারকের পারিবারিক, সামাজিক ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভের আগে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিচারকরা নিয়োগ লাভের পর যে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে পারছেন এটি আজ কোনো কোনো বিচারকের ক্ষেত্রে সত্য নয়। একজন বিচারকের প্রধান কাজ ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করা। এ সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে একজন বিচারকের কোনো ধরনের অন্যায়ের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ নেই। পেশাগত কারণে একজন বিচারকের সৎ হওয়া অত্যাবশ্যক। তাই একজন বিচারক সৎ- এ কথাটি বললে তা অপরাপর বিচারকের জন্য বিব্রতকর হিসেবে দেখা দেয়। আমাদের সমাজে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে যে অবক্ষয়ের ছোঁয়া লেগেছে, তা থেকে বিচারকসমাজ অবমুক্ত নন। একজন বিচারক জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে পড়লে তার পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার জন্য সুবিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় নীতিবান ও আদর্শ বিচারককে কখনও অনুরোধ করে থাকলে তাকে বিফল হতে হয় না। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় তখন, যখন একজন বিচারক নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হন। এরূপ বিচারক অবৈধ অর্থের মোহে সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে আইনকানুনের থোড়াই তোয়াক্কা করেন।
এদের কাছে কোনো সহকর্মী বিচারক সঙ্গত
অনুরোধ করলে তাদের বলতে শোনা যায়, এটি বিচার বিভাগ, এখানে বিচারকদের কোনো ধরনের অনুরোধ করা যায় না।
যে কোনো সমাজের অবক্ষয় হলে তা সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। মানুষকে আল্লাহপাক যে বুদ্ধি-বিবেক দিয়েছেন তা অন্য কোনো প্রাণীকে দেননি। তাই জন্মগতভাবে একটি প্রাণীর ক্ষেত্রে যা সহজাত, তা মানুষরূপী প্রাণীর ক্ষেত্রে নয়। কাক কাকের মাংস খায় না- এটি জন্মগত সহজাত গুণ হিসেবে চির সত্য। পৃথিবীতে যতদিন কাকের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন এ সত্যের অন্যথা হবে না। কিন্তু আমাদের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে যারা স্বজাতির ব্যথায় সমব্যথী বা সহমর্মী নন, বরং অন্যায় বা অনৈতিকভাবে প্রাপ্তির যোগ না থাকায় মুখ ফিরিয়ে নেন, ‘কাক কাকের মাংস খায় না’- এ প্রবাদটি তাদের ক্ষেত্রে সত্য নয়, এমনটি বলা যাবে কি? আর বলা না গেলে বলতে বাধা কোথায়- কাক এখন কাকের মাংস খায়!
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

ছাগলের জ্ঞান-বুদ্ধি মারাত্মক রকমের কম by মোকাম্মেল হোসেন

গায়ের রঙ কালো- তাই তার নাম কালু। কালুর বুকে অপরিসীম বেদনা। চোখে গভীর বিস্ময়। বিস্ময় ও বেদনার মিলিত স্রোত প্রশ্নের ঢেউ হয়ে কালুর মনের উপকূলে আছড়ে পড়ছে। সে ফিসফিস করে পালের গোদার উদ্দেশে বলল-
: ভাই, চিন্তা কইরা কুনু কূলকিনারা পাইতেছি না!
পালের গোদার শরীরজুড়ে সাদা-কালোর মিশেল। শারীরিক এ বৈশিষ্ট্যের কারণে জুনিয়ররা তাকে চক্কর-বক্কর ভাই বলে ডাকে। কালুর কথা শুনে চক্কর-বক্কর আশ্চর্য হল। এ ধরনের কথা সে আগে কখনও শুনেনি। ছাগলের চিন্তিত হওয়া শোভা পায় না। তার কাজ হল খাওয়া-দাওয়া, পাড়া বেড়ানো, লেদানো আর ঘুমানো। মাতৃকুলের ছাগলরা বাচ্চা জন্ম দেয়। বাচ্চাদের দুধ খাওয়ায়। পাঠাকুলের ছাগলরা গণপিতার কঠিন দায়িত্ব পালন করে। তাদের কেউ যদি এ ধরনের কথা বলত, তবুও শোভা পেত। বিচিকাটা ছাগল এ ধরনের কথা বলবে কেন? তার চিন্তা করার প্রয়োজন কী? চিন্তা করবে মানুষ। আল্লাহপাক মানুষকে চিন্তাশীল জীব হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। কালু খাসিকুলের ছাগল হয়ে মানুষের মতো চিন্তাশীল প্রাণী হয়ে উঠেছে- এর মানে কী? সে কি মানুষ হওয়ার ধান্ধা করছে নাকি? চক্কর-বক্কর কৌতূহলী চোখে কালুকে দেখতে থাকে। কালুর আকার-আকৃতি ছাগলের মতোই আছে। চক্কর-বক্কর কালুর লেজের উপরে-নিচে চোখ বুলাল। সেখানে কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। তাহলে সমস্যা কোথায়? সে হঠাৎ মানুষের মতো চিন্তাশীল প্রাণী হয়ে উঠল কেন? চক্কর-বক্কর কালুর পাছায় শিং দিয়ে গুঁতা মেরে বলল-
: কাইল্যা- তর সমস্যা কী?
গুঁতা খেয়ে কালু মন খারাপ করল না। আচমকা গুঁতায় শরীরের পাদদেশের যন্ত্রণা উৎপাদনকারী গুঁড়াকৃমি নিবৃত্ত হওয়ায় কালুর কিছুটা আরাম হল। পাছায় গুঁতা খাওয়ার আশায় সে পুনরায় একই কথা উচ্চারণ করল। চক্কর-বক্কর এবার অবাক হওয়ার বদলে ভয় পেয়ে গেল। তার কেবলই মনে হতে লাগল-
: ছাগল যদি মানুষ হয়ে যায়, মানুষ তাহলে কী হবে?
অনেকটা সময় কেটে গেল। চক্কর-বক্করের দিক কোনো আঘাত না আসায় কালু আগের কথার সূত্র ধরে বলল-
: ভাই, মানুষ হইল সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টির সেরা জীব হইয়া আমরার লগে এই ধরনের আচরণ করা কি ঠিক হইতেছে?
চক্কর-বক্কর হাঁফ ছাড়ল। যাক, সমস্যাটা মানুষকে নিয়ে; কালুর মানুষ হওয়া নিয়ে নয়। সে কালুর গায়ে সহানুভূতির চাদর জড়িয়ে দিয়ে বলল-
: কী হইছে!
- কী না হইছে, সেইটা আমারে কও! সারা দিন ঠনঠনা পাক্কার উফরে আমরারে বাইন্ধা রাখছে। কুনু দানা-পানির ব্যবস্থা নাই। ক্ষিধার চোটে জান কবজ হওয়ার দশা। এরা কোন জাতের মানুষ- বুঝতাম পারতেছি না!
কালুর কথায় চক্কর-বক্কর চারপাশে বিচরণশীল মানুষগুলোর জাত-বেজাত উদঘাটনের চেষ্টা করল। পারল না। এ সময় বারান্দা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একজন নতুন মানুষ পাশের কক্ষে প্রবেশ করল। চক্কর-বক্কর তার প্রতি মনোযোগী হতেই শুনতে পেল, আগন্তুক চেয়ারে বসে থাকা লোকটির উদ্দেশে বলছে-
: ওসি সাব, কেমন আছেন?
এই লোক তাহলে ওসি? ওসি কী জিনিস- চক্কর-বক্কর বোঝার চেষ্টা করল। ব্যা-ব্যা ভাষায় প্রণীত ছাগল শব্দকোষে এ ধরনের কোনো শব্দ নেই। বোঝা যাচ্ছে না, এ সুজাত, না কুজাত? নতুন কোনো সূত্র পাওয়ার আশায় চক্কর-বক্কর কান পাততেই শুনল, ওসি সাহেব হাসতে হাসতে বলছে-
: আল্লাহ মেহেরবান, অনেকের চাইতে ভালো রাখছেন।
- ভালো থাকলেই ভালো। বারান্দায় অনেক ছাগল বান্ধা দেখলাম! বিষয় কী? আপনেরা কি আইজকাইল ক্যাশ নেওয়ার পাশাপাশি ছাগল-গরুও নেওয়া শুরু করছেন নাকি?
- আরে না!
: তাইলে?
- আর বলবেন না! শালার পুলিশের চাকরি করতে আইসা কত রকম ফ্যাটাংয়ের মধ্যে যে কাল কাটাইতে হইতেছে, ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। ছাগলগুলারে অ্যারেস্ট কইরা থানায় আনা হইছে।
এবার মানুষটা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া গেল। চক্কর-বক্কর বুঝতে পারল সে পুলিশ। চক্কর-বক্কর সতর্ক হল। ছাগল-শব্দকোষে পুলিশের বর্ণনা দেয়া আছে। সেখানে পুলিশ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে বলা হয়েছে- ছাগল সম্প্রদায়কে দুইটি অতি ভয়ংকর প্রাণীর ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকিতে হইবে। প্রাণী দুইটি হইল শিয়াল ও পুলিশ। ইহাদের খপ্পরে পড়িলে জীবনসংশয় হইবার সমূহ সম্ভাবনা রহিয়াছে। কাজেই সাবধান। খুব সাবধান।
কার হাতে পড়েছে বুঝতে পেরে চক্কর-বক্করের কলিজা কালোজিরার মতো কালো হয়ে গেল। এখান থেকে মুক্তির জন্য অস্থির হয়ে ডানে-বামে তাকাতেই সে দেখল, ওসি সাহেবের কথা শুনে আগন্তুক চোখ কপালে তুলে বলছে-
: ছাগল!
- অসুবিধা কী? ক্রাইম করলে ছাগল কেন, ইঁদুর-বিড়ালকেও অ্যারেস্ট কইরা থানায় নিয়া আসার মতো শক্তি ও সাহস দেশের পুলিশ বাহিনীর আছে।
: সাবাস! ছাগলগুলা কী ধরনের ক্রাইমের সঙ্গে যুক্ত হইছে- বলা যাবে?
- বলা যাবে না কেন? ছাগল লইয়া গোপনীয়তা বজায় রাখার কিছু নাই; হারামজাদারা আর জায়গা পাইছে না, সরাসরি আমাদের এমপি সাবের বাগানে ঢুইক্যা পড়ছে।
: ঢুইক্যা পড়ার অপরাধেই ধইরা আনলেন?
- শুধু ঢুকলে কি আমাদের এতটা কঠোর হওয়ার প্রয়োজন পড়ত? বজ্জাতগুলা শুধু ঢুকে নাই- মুখও লাগাইছে।
: বলেন কী! কোন জায়গায় মুখ লাগাইছে?
- জায়গায় না, গাছে। টাউটগুলা চাটাচাটি কইরা এমপি সাবের শখের বাগানের মহামূল্যবান গাছের বদ্দিনাশ কইরা ফেলছে।
আগন্তুক এ সময় হা-হা করে হেসে উঠল। ওসি সাহেব বললেন-
: হাসলেন কেন?
- হাসলাম এই জন্য, সবাই ঢুকা পার্টি। সবাই চাটা পার্টি। প্রত্যেকেই তাদের ওজন ও আকার অনুযায়ী জায়গামতো ঢুইক্যা পড়তেছে, পছন্দের বস্তু চাটাচাটি করতেছে। ছাগল বাগানে ঢুকতেছে- বাগানের মালিক উদ্যানে ঢুকতেছে। ছাগল গাছ চাটতেছে- গাছের মালিক পুরা দেশটারেই চাটতেছে।
কিছুক্ষণের জন্য চারপাশে নীরবতা নেমে এলো। এ সময় কালু ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে করুণস্বরে ডেকে উঠতেই আগন্তুক বলল-
: ছাগলগুলারে কি কোর্টে চালান দিবেন?
ওসি সাহেবের মুখে বাঁকা হাসি দেখা গেল। তিনি পকেট থেকে দামি সিগারেটের প্যাকেট বের করে আগন্তুকের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন-
- উহুঁ! এমপি সাহেব বলছিলেন, কোর্টে চালান কইরা দেওয়ার জন্য। আমি তারে পরামর্শ দিছি- স্যার, সামনে নির্বাচন আছে। সেই নির্বাচনে আপনের কোটি কোটি টাকা খরচ হবে। ছাগলের পাল গাছ নষ্ট করায় আপনের যে কয় টাকা ক্ষতি হইছে- সেইটারে নির্বাচনী খরচ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত কইরা ফেলেন। ছাগলের জ্ঞান-বুদ্ধি মারাÍক রকমের কম। কিন্তু ছাগলের মালিক তো আর নির্বোধ না। মামলা খাইয়া সে বেজার হইলে আপনের ভোটের উপর চোট পড়বে। আমার পরামর্শ শুইন্যা এমপি সাহেব অত্যধিক খুশি হইলেন। বললেন-
: তোমার মতো চিকন বুদ্ধির পুলিশও দেশে আছে- এইটা তো জানতাম না! তোমার বাড়ি কই?
আমি তারে বাড়ির ঠিকানা বলতেই তিনি হাসতে লাগলেন। তার সঙ্গে সঙ্গে আমিও হাসতে লাগলাম। হা-হা-হা। তবে আপনেরে বলি, হাসা করি, আর হাসি করি- এর পেছনে আমার সূক্ষ্ম একটা উদ্দেশ্য আছে।
- কী রকম?
: আরে! কোর্টে চালান দিলে ছাগল হারামজাদাদের হিরো বানানোর জন্য মিডিয়া উইঠ্যা-পইড়া লাগবে। পুলিশের বগলের চিপায় থাইক্যা ছাগল হিরো হইয়া যাবে- এইটা মাইন্যা নেওয়া কঠিন।
: তাইলে কী করবেন?
- পাশে একটা খোঁয়াড় আছে। সেইখানে ট্রান্সফার কইরা দিব।
: এত সুন্দর মোটাতাজা নাদুস-নুদুস ছাগল- খোঁয়াড়ে পাঠানোর দরকার কী?
- কী করব?
: হজম কইরা ফেলেন।
- ধুর! বিষয়টা এমপি সাবের নলেজে আছে না?
- তাতে কী হইছে? ছাগলগুলারে থানার পিছনে নিয়া ঠ্যাং-ঠুংয়ে কয়েকটা গুলি মাইরা ঘোষণা দেন- ক্রসফায়ারে সব নিহত হইছে। ক্রসফায়ারের আগে-পরে ‘কেন’ প্রশ্ন নাই, এইটা এমপি, মন্ত্রীরা ভালো কইরাই জানেন। আপনে সরকারি গুলি ধুম-ধাম ফুটাইয়া শুধু এর খোসাগুলা মালখানায় জমা দিবেন। এরপর মিডিয়ার জন্য ক্রসফায়ারে নিহতদের কয়েকটা ছবি তুইল্যা রাইখ্যা হাদিস অনুসারে গলায় ছুরি চালাবেন। ব্যস! কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ছাগলের মাংস জায়গামতো এক্সপোর্ট হইয়া যাবে। পাশাপাশি চামড়া বিক্রি কইরাও কিছু পয়সা পাবেন।
: দেশে কি পয়সা খাওয়ার খাত-উপখাতের এতই অভাব যে- চামড়া বেচা পয়সা খাব?
- সমস্যা মনে করলে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান কইরা দেন। নেকি হাসিল হবে। গুলি যাবে সরকারের, ছাগল যাবে মালিকের। মাঝখান থেইক্যা নেকির পাল্লা ভারি হবে আপনার। আর দেরি কইরেন না। শ্যুট কইরা দেন।
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

ছোট খবর

ঐতিহাসিক ছবি
স্পেনের একটি ছোট শহরে কিউবার বিপ্লবী নেতা চে গুয়েভারাকে হত্যার পরপরই তোলা বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ছবির খোঁজ পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক আলোকচিত্রী ওই ছবিগুলো তুলেছিলেন। ১৯৬৭ সালের অক্টোবরে বলিভিয়ার এক সেনার গুলিতে চে গুয়েভারা নিহত হন। এর পরপরই আটটি সাদা-কালো ছবি তোলা হয়। ছবিতে দেখা যায়, নিহত চের মরদেহ একটি স্ট্রেচারে শোয়ানো এবং তার চোখ দুটো খোলা। মুখে ঘন কালো দাড়ি। খোলা বুক রক্ত ও ধুলাবালি মাখা। স্পেনের উত্তরাঞ্চলের রিক্লা শহরের কাউন্সিলর ইমানল আর্তিগার কাছে ছবিগুলো রয়েছে। তিনি তার চাচা লুই কার্তেরোর কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে ছবিগুলো পেয়েছেন। ্র১৯৬০’র দশকে লুই কার্তেরো বলিভিয়ার একটি মিশনারিতে কাজ করতেন। এএফপিওয়ারশকথা বলল লাশএক গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারে তার স্বামী। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিয়মানুযায়ী তাকে পাঠানো হয় লাশঘরে ময়নাতদন্তের জন্য। যথারীতি ডোম এসে সেই নারীর ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেয়। বুকে ছুরি বসানোর আগ মুহূর্তেই চলে যায় বিদ্যুৎ। রেখে দেয়া হয় কাজ। পরদিন সকালে ডোম এসে দেখেন ওই নারী অনেকগুলো লাশের পাশে বসে আছেন। কোলে তার ছোট শিশু! এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে পোল্যান্ডে। মৃত ভেবে ৯১ বছর বয়সী নারী জেনিনা কলভিয়েজ রাখা হয় মর্গের হিমঘরে। বিবিসি

ইবোলা রোধে ব্যর্থ হলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে

পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে জোরালো ভূমিকা রাখতে জি২০ নেতাদের প্রতি শনিবার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। তারা এ কাজ করতে ব্যর্থ হলে সেখানে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলেও জাতিসংঘ সতর্ক করেছে। ব্রিসবেনে জি২০ নেতাদের অংশগ্রহণে দুদিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতাকালে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে এ ভাইরাস মোকাবেলায় সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বান সাংবাদিকদের বলেন, এক এলাকায় ইবোলা সংক্রমণের হার কমলেও অন্যস্থানে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এ ভাইরাস মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বান বলেন, সিয়েরা লিয়ন ও লাইবেরিয়াসহ ইবোলা ছড়িয়ে পড়া পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য সংকটসহ পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মৃতদেহ গণনার কেউ ছিল না

দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবায় বন্দুকের আওয়াজে গত বছর ডিসেম্বর মাসে এক সন্ধ্যার নীরবতা ভেঙে যায়। প্রাথমিক খবরে প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক সৈন্যের মৃত্যুর কথা বলা হয়। প্রেসিডেন্ট সালাভা কিরের ক্ষমতাচ্যুত ডেপুটি রিক ম্যাচারের সমর্থকদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অনুগত সেনাদের মধ্যে তুমুল লড়াই চলতে থাকে। পরের দিনগুলোতে একটানা কয়েকদিন ধরে গোলাগুলি ও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে শহরটি কেঁপে ওঠে। সংঘর্ষের প্রথম দুদিনেই সাধারণ মানুষসহ কমপক্ষে ৫০০ লোক প্রাণ হারায়। সংঘর্ষ চলাকালে শহরের আতংকিত সাধারণ মানুষ ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা কারফিউয়ের মধ্যে নিজেদের বাড়িতেই অবস্থান করে। দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট ও তার ডেপুটির মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বটি জাতিগত সহিংসতায় রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, কিরের সমর্থক জাতিগত দিনকা সৈন্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ম্যাচারের সমর্থক জাতিগত নুয়েরদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে তাদের হত্যা করে।
রাতের বেলা অতি সতর্কতার সঙ্গে মৃতদেহগুলোকে নগরীর বাইরে ট্রাকে নিয়ে গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় বা গর্ত করে মাটিচাপা দেয়া হয়। ওই এলাকায় মৃতদেহ গণনার মতো কেউ ছিল না। খবর এএফপির এক পশ্চিমা সাহায্য কর্মী বলেন, আমাদের হিসাবে শুধু সংঘর্ষ শুরুর প্রথম সপ্তাহেই ৫ হাজার মানুষ মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, নিহতের এই সংখ্যা ৫০ হাজার না প্রায় এক লাখ তা নিশ্চিত হতে আরও কিছু করা উচিত। এরপর অন্যান্য শহরেও একই ধরনের ঘটনা বার বার ঘটতে থাকে। কোনো কোনো স্থানে লাশ গণনার লোক ছিল। কোথাও তা-ও ছিল না। সংঘর্ষ শুরু পর ১১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও দক্ষিণ সুদানে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। জুবায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশের একটি বড় অংশজুড়ে প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডের জন্ম দিয়েছে।উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ উঠেছে। উভয়পক্ষই হত্যাযজ্ঞ, গণধর্ষণ ও সংঘর্ষে শিশু সৈন্য ব্যবহার করেছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিখোঁজদের কোনো পক্ষ এমনকি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সন্ধান পায়নি। তাই তারা মারা গেছে বলে ধরা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) জানায়, এই ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫০ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

৫৬ ইঞ্চি বুকের পাটা কোথায় গেল?

সীমান্তে পাকিস্তানের গোলাগুলি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর ক্ষেপেছেন বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। আগামী নির্বাচনে সুবিধা করতে মোদির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনায় মেতেছেন তিনি। দেশের নিরাপত্তা টেনে এনে মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, আপনার ৫৬ ইঞ্চি বুকের পাটার কী হল? খবর এনডিটিভির।
বিহারে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে জিততে মরিয়া নীতিশ কুমার। এজন্য সম্পর্ক যাত্রা নামে এক জনসংযোগ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তিনি।কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার রাজ্যের গোপালগঞ্জ এলাকায় এক জনসভায় ভাষণ দেন নীতিশ। নীতিশ অভিযোগ করেন, সীমান্তে বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লংঘন করছে পাকিস্তান। চীন থেকেও আকস্মিক হামলা চালানো হয় ভারতের ভূখণ্ডে। তিনি বলেন, সীমান্তে যা ঘটছে তা নিয়ে বিশ্ব আজ হাসাহাসি করছে। কী হল আপনার ৫৬ ইঞ্চি বুকের! আপনার বুকের প্রসারতা যদি সত্যিই ৫৬ ইঞ্চি হয়, তাহলে কিছু একটা করে দেখান। বিহারকে বিশেষ মর্যাদা দিন। তাহলে আমরাও বিশ্বাস করব আপনি কথা রেখেছেন। ক্ষমতায় আসার ১৫০ দিন পার হলেও কালো টাকা ফিরিয়ে আনতে না পারায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী বিহারকে ভুলে গেছেন। অথচ গত সাধারণ নির্বাচনে বিহারের ৪০টি আসনের ২২টিতে জিতেছে বিজেপি। এদিকে, ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বন্ধ্যত্বকরণে নারীদের মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। ছত্তিশগড়ে সরকার পরিচালিত বন্ধ্যাকরণ অপারেশন করতে গিয়ে ১৩ নারীর মৃত্যুর ঘটে।রাহুল বলেন, এটি কেবল অবহেলার মামলা নয়, এটি দুর্নীতির মামলা। নকল ওষুধের মামলা- যার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। মধ্য ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর জেলার টেলিভিশনে প্রচারিত এক মন্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হল- এখানে যা ঘটেছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা।

ওবামার যুদ্ধে অর্থ ঢালবে না কংগ্রেস

ইরাক-সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে^ জড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন হোয়াইট হাউস। দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল এই যুদ্ধে অর্থের অনুমোদন দিতে আপত্তি করছে কংগ্রেস।
মাস তিনেক আগে ইরাক-সিরিয়ার যুদ্ধে অনুষ্ঠানিকভাবে নাম লিখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এখন পর্যন্ত মার্কিন কংগ্রেস যুদ্ধক্ষেত্রে দেশটির সেনাবাহিনী ব্যবহারের কোনো নীতিগত অনুমোদন দেয়নি। অর্থাৎ পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই ইরাক-সিরিয়ায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। যুদ্ধ চালানোর জন্য মার্কিন কংগ্রেস বরাবর ৫০০ কোটি ডলারের বাজেট চেয়েছে দেশটির হোয়াইট হাউস। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিতে ইতিমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে কংগ্রেস। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ওবামার যুদ্ধে তারা অর্থ দিয়ে শামিল হতে চাইছেন না। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আগে যুদ্ধের অনুমোদন প্রসঙ্গে ওবামাকে আলোচনায় বসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে বহির্দেশে অপারেশন পরিচালনা করার জন্য।যাকে দেশটির প্রশাসনিক ভাষায় বলা হয়, ওভারসিজ কনটিনজেন্সি অপারেশনস (ওসিও) অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্ট থেকে বাৎসরিক বাজেট হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রতি বছর অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু চলতি বছরে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নতুন করে ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ চাওয়ায় ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইয়াহু নিউজ।

ভারতের মানচিত্র থেকে কাশ্মীর উধাও!

ভারতের মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেছে কাশ্মীর! কাশ্মীর এখন আর সার্বভৌম ভারতের অংশ নয়! দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে প্রদর্শিত অস্ট্রেলিয়ার ডিজিটাল মানচিত্রে এমনটাই দেখা গেছে। এই অবাস্তব, বিব্রতকর, অপমানজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে এমনটি স্বপ্নেও ভাবেননি কট্টর ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী হিন্দুত্ববাদী দলের এই নেতা। শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কিউইউটি) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ভারতের ডিজিটাল মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আর এতেই প্রতিভাত হয় অনাসৃষ্টি। প্রদর্শিত মানচিত্রে কাশ্মীর দেখানো হয়নি।
অথচ কাশ্মীরের বেশিরভাগ অংশই সার্বভৌম ভারতের অংশ। এই ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কঠোর প্রতিবাদ করেছেন মোদির সফরসঙ্গী ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং। এ খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবারুদ্দিন বলেন, ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য কুইন্সল্যান্ড প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। তারা এজন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।এক টুইটার পোস্টে আকবারুদ্দিন লিখেছেন, ইয়েস! তাৎক্ষণিকভাবেই এটার প্রতিবাদ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদি এখন অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন।তিন স্বাধীনতাকামীকে বন্দুকযুদ্ধে হত্যাভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছে বলে ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে কাশ্মীরের দক্ষিণে কুলগাম জেলার চেনিগাম গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের ভয়াবহ গুলিবিনিময় হয় এবং তা সারা রাত ধরে চলে। ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ ফোর্সের মহাপরিদর্শক নলিন প্রভাত এ কথা জানান।তিনি দাবি করেন, বন্দুকযুদ্ধে দুজন স্বাধীনতাকামী এবং একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

জলবায়ু তহবিলে অর্থ দেয়ার অঙ্গীকার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জাতিসংঘ জলবায়ু তহবিলে তিনশ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশ নিয়ে প্রচারণাকারীরা।
তারা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে বিশ্ব রাজনীতির মূল এজেন্ডা হিসেবেও উল্লেখ করে। ব্রিসবেনে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে শনিবার ওবামা জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন তহবিলে এ অর্থ দেয়ার অঙ্গীকার করেন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনপিসের প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিটার বলেন, পরিবেশই বিশ্ব রাজনীতির মূল বিষয়। এমনকি চীনের জন্যও।এর মানে আমাদের জন্যও। সিডনিভিত্তিক ক্লাইমেট কাউন্সিলের টিম ফ্লেনারি বলেন, এটি খুবই স্পষ্ট বার্তা যে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে এসেছে এর মানে বাদ বাকি বিশ্বও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ পাকিস্তান

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান শনিবার অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় সূচনার অঙ্গীকার করেছে। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি গত সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার প্রথম বিদেশ সফরে ইসলামাবাদ পৌঁছান। তবে কর্মকর্তার এর একদিন আগেই ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিলেন।এ সফর প্রসঙ্গে ঘানি বলেন, ‘তিন দিনের সফরে ১৩ বছরের বিরোধ ঘুচে গেছে।’ পাকিস্তান সফর শেষে রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আফগান প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, পাকিস্তান তার দেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ’। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশা করেন, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জ্বালানি এবং বাণিজ্য প্রকল্প এবং তুর্কেমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার প্রকল্প কাবুল-ইসলামাবাদ সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা করবে। তার সরকার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আফগানিস্তান সফরের বিষয়ে পদেক্ষপ নেবে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেন, দু’দেশই মনে করে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতার ওপর ভিত্তি করে মজবুত সম্পর্ক তৈরি করা দরকার।তবে এ ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তা, পরিবেশ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও ঐক্যবদ্ধ আফগানিস্তানই হচ্ছে পাকিস্তানের মৌলিক স্বার্থ এবং এ ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। নওয়াজ শরিফ বলেন, আফগানরাই আফগানিস্তান শাসন করবেন এবং দেশটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তার দেশ সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

আমার মন পরিষ্কার, ঝাড়ু হাতে নেয়ার প্রয়োজন নেই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান সমর্থন করলেও ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামতে নারাজ বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক শাহরুখ খান। অমিতাভ বচ্চন, সালমান খানসহ বহু তারকাই ঝাড়ু জঞ্জাল সাফাইয়ে নেমেছেন। সেসব ছবি ছাপা ও প্রদর্শিত হচ্ছে খবরের কাগজে এবং টেলিভিশনের পর্দায়। শনিবার পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, শাহরুখ খান ঝাড়ু হাতে অভিযানে নামতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার হৃদয় পরিষ্কার, পরিষ্কার করার জন্য আমার ঝাড়ুর প্রয়োজন নেই।’তবে স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে যে তিনি সমর্থন করেন, তা জানিয়ে দিয়েছেন। এই অভিযানে অংশগ্রহণকারী তারকাদের প্রশংসা করেছেন শাহরুখ খান। হৃতিক রোশন, সালমান খান, অমিতাভ বচ্চন, বিবেক ওবেরয় যারা নরেন্দ্র মোদির স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে সমর্থন করে জঞ্জাল সাফাই অভিযানে অংশ নিয়েছেন তাদের প্রশংসায় শাহরুখ বলেছেন, ‘এই অভিযানে তারকাদের অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষদের অংশ নেয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করবে।’২ অক্টোবর গান্ধীজির জন্মদিন উপলক্ষে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই অভিযানে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশিষ্টদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। বলিউড তারকাদের থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াও মিলেছে।

মার্টিন লুথারকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছিল এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ মার্টিন লুথার কিং’কে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। এ উদ্দেশে কিং’কে ‘আত্মহত্যার চিঠি’ পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। সম্প্রতি ওই চিঠিটি জনসম্মুখে আসার বিষয়টি শনিবার প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। ‘আত্মহত্যার চিঠি’ (সুইসাইড লেটার) নামের ওই চিঠিতে কিং’কে ‘শয়তান’ ও ‘উন্মাদ জানোয়ার’ বলে গালিও দিয়েছিল এফবিআই। নিউইয়র্ক টাইমসে ওই চিঠিটি সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়েছে। চিঠির বিষয়টি আগেও আলোচিত হয়েছে। এই প্রথম চিঠিটি প্রকাশিত হল। ১৯৬৪ সালে শান্তিতে নোবেল পাওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ওই চিঠিটি লুথার কিং’কে পাঠানো হয়। চিঠিটি লিখেছিলেন এফবিআইয়ের তৎকালীন পরিচালক জে এডগার হুভারের ডেপুটি। এর আগে ইয়েল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ বেভারলি গেজ প্রথম এই চিঠির সন্ধান দিয়েছিলেন। হুভারের ওপর লেখা একটি বই নিয়ে গবেষণা করার সময় চিঠিটির বিষয়ে জানতে পারেন গেজ।
গেজ জানান, চিঠির ভাষা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, এফবিআই পরিচালক হুভার লুথারের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তাকে দমাতে চেয়েছিলেন। গেজ বলেন, ‘কিংয়ের যৌনজীবনকে পুঁজি করে হাইলাইট করতে চেয়েছিল এফবিআই।’ সংস্থাটি কিং’কে লিখেছিল, ‘এখন আপনার জন্য একটাই রাস্তা খোলা। জাতির কাছে আপনার অস্বাভাবিক ও প্রতারণামূলক নগ্ন চরিত্র ফাঁস করার আগেই আপনার কেটে পড়া উচিত।’প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মার্টিন লুথার কিং। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এশিয়ার নিরাপত্তা হুমকিমুক্ত হতে হবে

নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি-ধামকি ও চোখ রাঙানোর চর্চাকে পাশ কাটিয়ে চলতে হবে। এশিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা অবশ্যই হুমকিমুক্ত হতে হবে যেখানে ছোট দেশগুলোর ওপর বড় দেশগুলোর জবরদস্তি থাকবে না। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে শনিবার শুরু হওয়া জি২০ সম্মেলনে অংশ নিতে এসে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতেই হতে হবে। তিনি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মনোযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মৈত্রী গড়তে তিনি যে অঙ্গীকার করেছেন তা নিয়ে ‘কোনো প্রশ্ন’ নেই।এশিয়ার নিরাপত্তা পারস্পরিক জোটের ওপর নির্ভর করছে বলেও জনানা ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এশিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা কোনোভাবেই ক্ষমতার চাদর, গায়ের জোর কিংবা হুমকির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে না; যেখানে বড় দেশগুলো তাদের আশপাশের ছোট দেশগুলোর দিকে চোখ রাঙাবে। এর ভিত্তি হওয়া উচিত জোটের মাধ্যমে পারস্পরিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের ওপর ভিত্তি করে বিতর্কের অবসান।’সরাসরি চীনের নাম না নিলেও দক্ষিণ চীন সাগরে দখলদারিত্ব নিয়ে তৈরি বিতর্কের বিপদগুলোকে তুলে ধরেন ওবামা। সভা শুরুর আগে দেয়া এক ভাষণে ইবোলা চ্যালেঞ্জ, জলবায়ুর পরিবর্তন ও ইউক্রেন ইস্যুতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।এদিকে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার প্রতিবাদে বন্ডি দ্বীপে প্রতিবাদ জানায় প্রায় ২০০ পরিবেশবাদী। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ৭০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এমনিতেই পরিবেশবাদীদের চাপে আছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। এদিকে এবারের সম্মেলনে যোগ দিতে আসা রাশিয়া, পশ্চিমা নেতাদের কড়া সমালোচনার তোপে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনে আগ্রাসন ইস্যু ও সামরিক শক্তিমত্তা বৃদ্ধির কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়বেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। এই সম্মেলনে অর্থনৈতিক এজেন্ডা ছাপিয়ে ইউক্রেন সঙ্কট নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধের বিষয়ই প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে দু’দিনব্যাপী জি২০ সম্মেলনে ওবামা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ফেব্র“য়ারিতে জি২০ গ্রুপের অর্থমন্ত্রীরা এক বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ বাড়াতে একমত হয়েছিলেন। আর এবারের সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা ওই পরিকল্পনার আরও সম্প্রসরাণ করতে পারেন। বৈঠকের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও নেতৃবৃন্দের প্রতি মহামারী রোগ ইবোলা, জলবায়ু পরিবর্তন ও ইউক্রেনে সংঘাতের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আহ্বান জানান।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন পশ্চিমা নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা নাও পেতে পারেন। কারণ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের উস্কানি ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করার অভিযোগ করছে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ।রাশিয়া বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন শনিবার বলেন, ইউক্রেনকে অস্থিতিশীল করার হীন চেষ্টা বন্ধ না করলে রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এএফপি, বিবিসি।জি-২০ সম্মেলন শুরুর আগে ওবামার ভাষণএশিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা ক্ষমতার চাদর, গায়ের জোর কিংবা হুমকির ওপর গড়ে উঠবে না; যেখানে বড় দেশগুলো আশপাশের ছোট দেশগুলোর দিকে চোখ রাঙাবেপশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধের বিষয়ই প্রাধান্য পাবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন পশ্চিমা নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা নাও পেতে পারেনঅর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রসারণ বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। ফেব্র“য়ারিতে জি-২০ গ্রুপের অর্থমন্ত্রীরা আগামী পাঁচ বছরেপ্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ বাড়াতে একমত হয়েছিলেন।

আলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদেও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। কে পাচ্ছেন মনোনয়ন এ নিয়ে ইতিমধ্যে দলের অভ্যন্তরেও জোরেশোরে আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের শিকে ছিঁড়তে পারে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী আঁখীর।
এ আসনে উপনির্বাচনে আরও উল্লেখযোগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও শিল্পপতি লুৎফর রহমান দিলু, তাড়াশ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী আমজাদ হোসেন মিলন, কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, রায়গঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি স্বপন কুমার রায়, ঢাকা মহানগর (উত্তর) মহিলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রিটা কে আফজাল, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাদী আল মাদী জিন্নাহ এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর।আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, এ আসনে প্রাথমিকভাবে একজন নারীকে মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা করেছিল আওয়ামী লীগ এবং শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে রিটা কে আফজাল উল্লেখযোগ্য প্রার্থী। কিন্তু ইতিমধ্যে এ আসনে প্রার্থী মনোনয়নের চিন্তায় ঘটেছে নতুন মেরুকরণ। সিরাজগঞ্জ থেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হওয়া একজনের চাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে বলে সূত্রগুলো জানায়। এই সংসদ সদস্যের আশীর্বাদপুষ্ট মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন আঁখী। তবে শেষ পর্যন্ত ওই সংসদ সদস্যের মতামতই মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে বলে সূত্রগুলো মনে করছে।এছাড়া লুৎফর রহমান দিলুও শক্ত প্রার্থী। তিনি যেমন সাংগঠনিকভাবেও পরিচিত, তেমনি শিল্পপতি হওয়ায় প্রচুর টাকারও মালিক। স্থানীয় পর্যায়ে এবং কেন্দ্রীয়ভাবেও তার রয়েছে শক্ত যোগাযোগ।মনোনয়ন পেতে পারেন হোসেন মনসুরও। তার ভালোমানুষি ইমেজ এবং দেশব্যাপী পরিচিতির কারণে তিনি মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শক্তভাবে আলোচনায় রয়েছেন। তবে তার নেতিবাচক দিক হল তিনি অরাজনৈতিক ব্যক্তি এবং এলাকায় কোনো প্রভাব বলয় নেই।আলোচনায় রয়েছেন কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট এবং তাড়াশ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী আমজাদ হোসেন মিলনও। তাদের দুজনেরই সাংগঠনিক ভিত মজবুত এবং নির্বাচনী আসনেও রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। দুজনেই সংগঠনের নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে এদের একজনকে বেছে নিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।এ আসনের মনোনয়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, দলের সংসদীয় বোর্ড সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতম প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে।সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ইসহাক আলী তালুকদার ৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করলে এই আসন শূন্য হয়। এ আসনে উপনির্বাচন হবে ২৩ ডিসেম্বর। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার এ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীরা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন। ২২ নভেম্বর যাচাই-বাছাইয়ের পর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে।প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ শুক্রবার দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক করে শনি, রবি ও সোমবার দলীয় ফরম সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয় আগ্রহীদের। ১৭ নভেম্বর সংসদীয় বোর্ডে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার শেষে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে।রায়গঞ্জ-তাড়াশ উপজেলার মোট ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন গঠিত। সম্ভাব্য মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩১, ভোটকক্ষ ৬৯৫টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৯ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯৭ জন।প্রথম দিনে পাঁচটি মনোনয়ন ফরম বিক্রি : প্রথম দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন পাঁচজন। শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে এসে তারা ফরম সংগ্রহ করেন। তবে, প্রথম দিনে কোনো ফরম জমা হয়নি।আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ যুগান্তরকে জানান, প্রথম দিনে কৃষক লীগের সাখাওয়াত হোসেন সুইট, ডা. আজিজ, সিরাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ও সাইদুল ইসলাম খান মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

যশোরে বাম পা হারাতে বসেছে হাফিজুর

দুপুর গড়িয়ে বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা, তখনও ছেলের সামনে বসে ডুকরে কাঁদছেন ফাতেমা খাতুন। ছেলে হাফিজুর রহমান পুলিশের গুলিতে বাম পা হারাতে বসেছে। চিকিৎসক শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থনান্তর করেছেন তাকে। কিন্তু টাকা না থাকায় ছেলেকে নিতে পারছেন না ঢাকায়।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ছেলের শয্যার পাশে বসে ফাতেমা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ছেলেডারে অর্ধেক রাতে (মাঝ রাত) তুলে নিয়ে এসে গুলি করছে। এখন ছেলেডা পা হারাতি বসিছে। এত টাকা পাব কোনে (কোথায়)। আমার ছেলেডা খোড়া (পঙ্গু) হয়ে যাবে! পুলিশের গুলিতে আহত অপর যুবক মিজানুর রহমানের অবস্থা হাফিজুরের চেয়ে ভালো। তবে এখনও শংকা কাটেনি। তার চিকিৎসা যশোরেই সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তার পায়ের অপারেশনও হয়েছে।বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিজানুর রহমান মিজান ও হাফিজুর রহমান নামে দুই যুবককে ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়। পুলিশ তাদেরকে শহরের কালেক্টরেট ভবনের পশ্চিম পাশের নার্সারি পট্টিতে নিয়ে বন্দুক ঠেঁকিয়ে গুলি করেন। পরে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অর্থপেডিক্স কনসালটেন্ট মো. গোলাম ফারুক যুগান্তরকে জানান, হাফিজুরের বাম পা থেকে দুটি গুলি বের করা হয়েছে। তার পায়ের দুটি শিরা কেটে গেছে। শিরা জোড়া লাগাতে হবে। এ জন্য সকালে ঢাকায় স্থনান্তর করা হয়েছে। শিরা জোড়া না লাগাতে পারলে মাংশে পচন (গাংরিন) ধরতে পারে। পচন ধরলে পা কেটে ফেলতে হতে পারে। অপরদিকে মিজানের অবস্থা মোটামুটি ভালো। চিকিৎসা চলছে। তবে এখনই শংকামুক্ত বলা যাবে না।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাফিজুর রহমান জানান, বাড়ি থেকে যখন পুলিশ ধরে নিয়ে আসে গুলি করে তখন বলেছিলাম স্যার একবারে মেরে ফেলেন। কিন্তু আমার কথা শোনেনি। গুলি করে আমায় পঙ্গু করে দিল। আমার টাকা নেই। আমার চিকিৎসা হবে না।হাফিজুরের স্ত্রী সীমা খাতুন বলেন, আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গুলি করা হয়েছে। যদি অপরাধ করে ধরা পড়ে গুলি খেত তাহলে মনকে সান্ত্বনা দেয়া যেত। ওকে বাড়ি থেকে ধরে এনে পঙ্গু করে দিল ওরা। যারা আমার স্বামীর এই অবস্থা করেছে তাদের বিচার চাই।অপর যুবক মিজানুর রহমানের পিতা ইকবাল হোসেন বাবু জানান, শনিবার মিজানের পায়ে অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন কিছু দিন পায়ে টানা বাঁধা থাকবে। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে যারা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করেছে তাদের বিচার চাই।অপরদিকে, শনিবার দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় যশোরে দুই যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি, ছিনতাইকারী বানানোর নাটক পুলিশের শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। শনিবার যশোরে যুগান্তর ছিল হটকেক। সব পত্রিকা বিক্রি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় হলেও পুলিশের কর্তাদের টনক নড়েনি। পুলিশ তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন দাবি করেছেন, হাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান ছিনতাইকারী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গুলির ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি বলে জানিয়েছেন এএসপি।হাফিজুরের চিকিৎসা প্রসঙ্গে রেশমা শারমিন বলেন, হাফিজুরকে নিজের টাকায় চিকিৎসা করতে হবে। সে এখন জেলখানায় রয়েছে। পুলিশ শুধু নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।

গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার আহ্বান

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ-ভারত প্রথম হাইকমিশনার সম্মেলনে নয় দফা ঢাকা ঘোষণা গৃহীত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতে দায়িত্ব পালনকারী কূটনীতিকদের দুদিনের এই সম্মেলনের শেষ দিনে শনিবার দেয়া এই ঘোষণায় প্রতি দুবছর পরপর এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা ব্যক্ত করা হয়। পরবর্তী হাইকমিশনার সম্মেলন ২০১৬ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ-ভারত ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। এতে দিল্লিতে বিভিন্ন সময়ে হাইকমিশনার, ডেপুটি হাইকমিশনার, কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনার এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কূটনীতিকরা প্রথম দিনে শুক্রবার দিনব্যাপী আলোচনা করেন।দ্বিতীয় দিনে মূলত দুদেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ঢাকা ঘোষণা চূড়ান্ত করা হয়। দুপুরের দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমদ। এ সময় দুদেশের কয়েকজন হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জি বলেন, প্রতিশ্র“তির বাস্তবায়ন কিভাবে হবে তা উভয়েরই জানা আছে। তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ভারতের অভ্যন্তরীণ কারণে আটকে আছে। তবে এই প্রতিশ্র“তির বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। আশা করি, সেই ধারাবাহিকতায় তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের মনোভাব জানতে চাইলে দেব মুখার্জি বলেন, এই ইস্যুটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এ নিয়ে সম্মেলনে কোনো কিছু আলোচনা করিনি।ঢাকা ঘোষণায় দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্য, অভিন্ন স্বার্থ এবং লক্ষ্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। এতে পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের কথা বলা হয়। এক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অধিকার সুরক্ষার কথাও বলা হয়।ঘোষণায় সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে সমতা, সুষম, অংশীদারিত্ব এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির প্রতি জোর দেয়া হয়। দ্বিপক্ষীয় ইস্যু ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগানোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টিতে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষাবিদ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, করপোরেট খাত, পরিবেশবিদ এবং অপরাপর অংশীদারদের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রবাহ বাড়িয়ে জনগণের পর্যায়ে গভীর ও কার্যকর যোগাযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।ঘোষণায় বিনিয়োগ ও আর্থিক সেবাসহ পণ্য ও সেবার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করে দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রতি জোর দেয়া হয়। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের প্রতি সব নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।সব ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য অনুসন্ধানে সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সার্ক ও বিমসটেকসহ আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে কাজ করার জন্য সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে হাইকমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন এমন কূটনীতিকদের সমন্বয়ে একটি এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।শুক্রবার বাংলাদেশ ও ভারতের সাবেক হাইকমিশনারদের এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। ঢাকা ঘোষণার একটি করে কপি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন এই প্রকল্পের সমন্বয়কারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমদ।

খুলনায় এসপি অফিস থেকে লাফিয়ে পড়ে মৃত্যু

খুলনায় শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের দোতলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে তুষার মণ্ডল (৪২) নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট নিহত হয়েছে। তাকে শুক্রবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ধরে ডুমুরিয়া থানায় নেয়ার পর নির্যাতন করা হয়। শনিবার তাকে পুলিশ সুপারের দফতরে এনে মারধর ও রিমান্ডের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পর তুষার পুলিশ সুপারের অফিস থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ মহানগরীর বয়রা শেরের মোড়ে আসে এবং ওষুধের দোকান থেকে তুষার মণ্ডলকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। রাতভর তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শনিবার দুুপুরে তাকে খুলনায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলা ২টার দিকে তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সেখান থেকে তুষার বেরিয়ে আসে এবং তার শ্যালক অপূর্বর সঙ্গে কথা বলে। এ সময় তুষার জানায়, ভেতরে তাকে মারধর করা হয়েছে আর রিমান্ডে নেয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। এরপর তুষার দোতলা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে। বেলা ৩টার দিকে আহত তুষারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান তাকে দেখতে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় অন্য হাসপাতালে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর বিকাল ৪টার দিকে তুষার মারা যায়।তুষারের শ্যালক অপূর্ব কুমার পাল বলেন, এসপি অফিসে তার সামনেই তুষার দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। এর আগে তুষার তাকে জানায়, ভেতরে তাকে নির্যাতন এবং রিমান্ডের ভয় দেখানো হয়েছে।পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ডুমুরিয়া থানার একটি মানব পাচারের মামলার তথ্যে ছিল- একটি মেয়েকে অপহরণের পর বিকাশের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়েছে।খোঁজ নিয়ে বিকাশে গ্যারান্টার হিসেবে থাকা নম্বর থেকে তুষারকে এই মামলায় আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শনিবার দুপুরে সে অফিসের দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। তাকে নির্যাতন করা হয়নি। ময়না তদন্তের পর এ ধরনের কোনো আলামত পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে।তুষারের দূসম্পর্কের আত্মীয় ধীরেনকুমার পাল বলেন, তুষার বিকাশের এজেন্ট ছিল। সে বিভিন্ন লোককে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে দিত। আর সেখানে গ্যারান্টার হিসেবে তার আইডি ব্যবহার করত।

উপদেষ্টার বেফাঁস কথায় আওয়ামী লীগের চক্রান্ত ফাঁস by বদরুদ্দীন উমর

কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা ছাত্রলীগের এক সভায় বেফাঁস কথা বলে আওয়ামী লীগের চক্রান্তের একটা দিক ফাঁস করেছেন। বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে কোনো নীতির দ্বারা নয়, চক্রান্তের মাধ্যমে কীভাবে দেশ পরিচালনা করছে- এটা হল তারই এক উদাহরণ। দেশে আজ কী বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেটা এই ফাঁস করা চক্রান্ত থেকে বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়।
এই উপদেষ্টার নানা অপকীর্তির কথা দেশের লোকের অজানা নয়। এসব অপকীর্তির মধ্যে তার দুর্নীতির ব্যাপার উল্লেখযোগ্য। দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারে সাবেক আমলা এবং অপ্রতিনিধিত্বমূলক ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন এবং তারা মন্ত্রীদের থেকেও প্রশাসনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারাই প্রধানমন্ত্রীর বেশি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং মন্ত্রী হিসেবে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাদের কোনো প্রকৃত প্রতিনিধিত্বমূলক চরিত্র নেই, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের পরিচয় একেবারেই ভুয়া। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টাদের চরিত্র আরও অপ্রতিনিধিত্বমূলক, কারণ তারা প্রায় সবাই বা তাদের অধিকাংশই কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নন। তারা হলেন সাবেক আমলা। এদিক দিয়ে বলা চলে বর্তমান সরকার এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের থেকে আমলাদের দ্বারাই প্রধানত পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে তারা মন্ত্রীদের থেকে আরও অনেক বেশি বেপরোয়া। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বেপরোয়া কথা বলেন এবং কাজ করে থাকেন, তার সঙ্গে এসব আমলার কথাবার্তা ও কাজকর্ম অধিক সঙ্গতিপূর্ণ। যে উপদেষ্টা এমন বেফাঁস কথাবার্তা বলে সরকারকে কিছুটা বিব্রত করেছেন, সেই একই কথাবার্তা আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অন্য এক উপদেষ্টা বলেছিলেন। কাজেই এটা কোনো নতুন ব্যাপার নয়। বাস্তবত আওয়ামী লীগ যে চক্রান্তের মাধ্যমে দেশ শাসন করে
আসছে তার ধারাবাহিকতাই বর্তমান সরকারের কাজকর্মের মধ্যে দেখা যায়।
আলোচ্য উপদেষ্টা ছাত্রলীগের সভায় বেপরোয়াভাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে যে কথা বলেছেন তা হল- লিখিত পরীক্ষায় যদি তারা পাস করে তাহলে মৌখিক পরীক্ষায় তাদের কোনো অসুবিধায় পড়তে হবে না। সরকার তাদের চাকরির ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ তারা ছাড়া অন্য কারও পক্ষে সরকারি চাকরিতে ঢোকা প্রায় অসম্ভব। এটা বলা নিষ্প্রয়োজন যে, ছাত্রলীগের এ নেতাকর্মীরা মেধাশূন্য। সর্বত্র যেভাবে কারচুপি চলছে তাতে লিখিত পরীক্ষায় পাস করাও তাদের পক্ষে কোনো অসুবিধার ব্যাপার বা কঠিন নয়। এভাবে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে মৌখিক পরীক্ষায় সরকারের সহায়তা লাভ করে যারা সরকারি চাকরিতে যোগদান করবে, প্রশাসন তারাই পরিচালনা করবে এবং এর ফলে প্রশাসন হবে মেধাশূন্য। ক্ষমতা ও মেধাশূন্যতা যে দুর্নীতির জনক হবে এটা স্বাভাবিক। এ স্বাভাবিক ব্যাপারটি আজ বাংলাদেশের জনগণের জীবন কীভাবে বিপর্যস্ত করছে এ নিয়ে আলোচনার কিছু নেই।
উপদেষ্টা শুধু আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্যদের চাকরির বিষয়ে বলেই যে ক্ষান্ত হয়েছিলেন তা নয়। তিনি ছাত্রলীগের উপরোক্ত সভায় আরও বলেছেন কীভাবে বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রশাসনিক কাজে নিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগের সদস্যরা আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে দেয়ার ব্যাপারে কাজ করেছে। বিগত এ নির্বাচন যে কতখানি কারচুপির দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমগ্র নির্বাচনকে একটা প্রহসন ও ভুয়া ব্যাপারে পরিণত করেছে, এটাও হল তার এক অকাট্য প্রমাণ। এ প্রমাণ জনগণের সামনে এভাবে খোলাখুলি উপস্থিত করে উপদেষ্টা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে যে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন এতে সন্দেহ নেই। এ কারণে বিষয়টি তাদের দলীয় বৈঠকে আলোচিত হয়েছে। এর রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে (Daily Star, 15.11.2014)। এর থেকে দেখা যায় যে, প্রধানমন্ত্রী তার উপদেষ্টার বেফাঁস কথায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এ সম্ভাব্য সমালোচনা লঘু করার জন্য উপদেষ্টা এক মন্ত্রীকে অনুরোধ করায় তিনি তার পক্ষে ওকালতি করেন! এই মন্ত্রীর ওকালতির পর প্রধানমন্ত্রী নাকি তাকে বলেন, তিনি যেন উপদেষ্টাকে তার পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার পরামর্শ দেন! এটাও এক লোক দেখানো খেলা। যদি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যে, উপদেষ্টা কর্তৃক তার পদ অলংকৃত করে থাকা আর ঠিক নয়, তাহলে তিনি তার নিয়োগকর্তা হিসেবে তাকে অনায়াসে বাদ দিতে পারেন, যেটা তিনি অনেক ক্ষেত্রে করে থাকেন। সম্প্রতি তিনি লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তার এ পছন্দের উপদেষ্টা সাবেক আমলার ক্ষেত্রে মনে হয় সেটা তিনি আসলে চান না। কাজেই নিজে কোনো পদক্ষেপ এ ক্ষেত্রে না নিয়ে তিনি উপদেষ্টার উকিল মন্ত্রীকে বলেছেন তার মক্কেলকে ইস্তফা দেয়ার পরামর্শ দিতে! এসব আসলে কোনো গণতান্ত্রিক অথবা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অন্তর্গত নয়। এটা হল চক্রান্তমূলক রাজনীতি এবং দুর্নীতির শাসন অব্যাহত রাখার ব্যাপার। কাজেই এর ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতির মধ্যে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। যথা পূর্বং তথা পরং! সাবেক এক রেলমন্ত্রীর চরম ও ধরা পড়া দুর্নীতির পর শেখ হাসিনা তাকে কোনো শাস্তি না দিয়ে লোক দেখানোভাবে রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দফতরবিহীন মন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত রাখার কাজ করে তিনি দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যে উদাহরণ স্থাপন করেছেন, বর্তমানে আলোচ্য উপদেষ্টার ক্ষেত্রেও সেই উদাহরণ স্থাপন করতেই যে তিনি আগ্রহী, এতে আর সন্দেহ কী! এ সবই জনগণের জীবনে ও সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে এক মহা-আতংকের ব্যাপার। এ আতংকজনক পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের জনগণ এখন বসবাস করছেন।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

আস্থা হারাচ্ছে গুগল গ্লাস!

বছর দুই আগে ধুমধাম করে বাজারে এসেছিল গুগল সার্চ ইঞ্জিনের গ্লাস। এই গ্লাস চোখে পরলে ইন্টারনেটের সাহায্যে রাস্তার দিকনির্দেশনা ছাড়াও বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে বাজারে আসার পর বিভিন্ন কারণে এই গ্লাস জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে। এই গ্লাসে ছিল ফেসবুক, টুইটারের মতো মোট ১০০টি জনপ্রিয় অ্যাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণ অতিরিক্ত দাম ও ইন্টারনেট পরিসেবার ক্রমাগত সমস্যা। ফলে ১ হাজার ৫০০ ডলার দিয়ে গুগল গ্লাস কেনার পক্ষে অনেকেই বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সিগন্যাল ড্রপ হওয়ার ফলে গুগলের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন গ্রাহক। গুগল সার্চ ইঞ্জিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে নতুন রূপে ফের আত্মপ্রকাশ করবে গুগল গ্লাস। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে এই গ্লাসের প্রতি আগ্রহ ফের বৃদ্ধি পাবে। ওয়েবসাইট।

ভৈরবে গুদাম থেকে ৬০ হাজার বস্তা সার গায়েব

ভৈরবে বিএডিসি গুদাম থেকে ৬০ হাজার বস্তা (৩ হাজার মেট্রিক টন) বিভিন্ন জাতের সার গায়েব হয়ে গেছে। ওই সারের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ধারণা করা হচ্ছে উল্লেখিত সার গুদামরক্ষক মো. খোরশেদ আহমেদ বিক্রি করে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ওই ঘটনার সঙ্গে লেবার সর্দার মো. রতন, নরসিংদী সদর উপজেলার সার ডিলার প্রতিনিধি মো. হারিছুল হক, বেলাব উপজেলার সার ডিলার মো. সবুজ জড়িত রয়েছেন বলে বিএডিসি কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন। ভৈরব বিএডিসির ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (সার) মো. রেজাউল করিম গুদামে সার ঘাটতির বিষয়টি গত ১১ নভেম্বর তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিশোরগঞ্জ বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (সার) শেখ মো. শহিদুল্লাকে একটি অফিস চিঠির মাধ্যমে অবগত করেছেন। ওই পত্রে গুদামে ২ হাজার ৯শ’ মেট্রিক টন সারের ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিএসপি ১ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন (২৪ হাজার বস্তা) , ডিএপি ১শ’ মেট্রিক টন (২ হাজার বস্তা) ও এমওপি ১ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন (৩২ হাজার বস্তা)। ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি অনেক আগে ঘটেছে। বর্তমানে গুদামে সারের মজুদ কমে যাওয়ায় এবং ৪ জেলার ডিলারদের মাসিক বরাদ্দের সার সরবরাহ দিতে না পারায় এই ভয়াবহ সার কেলেংকারির ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে। গুদামের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালকের (সার) চিঠি পাওয়ার পর কিশোরগঞ্জ বিএডিসির যুগ্মপরিচালক এ বিষয়ে গুদামরক্ষক মো. খোরশেদ আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (সার) মো. রেজাউল করিমকে ১২ নভেম্বর পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন। তারা দু’জনেই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে এ ঘটনা তদন্তে কিশোরগঞ্জ বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (সার) শেখ মো. শহিদুল্লাহ গত শুক্রবার সকালে ভৈরব গুদামে আসেন। তদন্ত করার পর তিনি বলেন, ভৈরবের বিএডিসির গুদামে প্রায় ৬০ হাজার বস্তা বিভিন্ন জাতের সার ঘাটতি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গুদামরক্ষক মো. খোরশেদ আহমেদ এ সার আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।তবে সার গায়েবের ওই ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসককে জানানো হয়নি। শুধু বিএডিসির প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে যুগ্মপরিচালক মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।জানা গেছে, গত ১২ নভেম্বর পর্যন্ত বিএডিসি ভৈরব সারের গুদামে টিএসপি ১ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন ও এমওপি ১ হাজার ৯১৭ মেট্রিক টন সার মজুদ থাকার কথা। বর্তমান রবি মৌসুমে কৃষকদের নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে কৃষি অধিদফতর থেকে সারের ডিলারদের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী নন-ইউরিয়া সার ডিলারদের বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব বরাদ্দের সার বেসরকারি আমদানিকারক ও বিএডিসি গুদাম থেকে সরবরাহ দেয়া হয়। ভৈরব বিএডিসি গুদাম থেকে বর্তমানে কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রায় ২০টি উপজেলায় ডিলারদের বরাদ্দকৃত নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ দেয়া হয়। গুদামে এমওপি সারের মজুদ কমে যাওয়ায় কেলেংকারির এই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। কারণ অফিসের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৯১৭ মে. টন মজুদ থাকার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাস্তবে গুদামে মজুদ ছিল ২২৫ মেট্রিক টন। গত সপ্তাহে অধিকসংখ্যক ডিলার এমওপি সার নিতে এসে গুদামে সার না থাকায় অনেকেই সার নিতে পারেনি।উল্লেখ্য, ভৈরব বিএডিসি সারের গুদামটির কার্যক্রম ১৯৯৫ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ২০০৭ সালে আবার এর কার্যক্রম শুরু হলে মো. খোরশেদ আহমেদ প্রথম থেকে এখনও পর্যন্ত গুদামরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।গুদামরক্ষক মো. খোরশেদ আহমেদকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এস আলম বলেন, ‘এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কেউ আমাকে কিছুই জানাননি। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মির্জা আব্বাসের বাসায় নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সামনেই মোহাম্মদপুর-আদাবর থানা বিএনপির দুই পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ ঘটনায় কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। আব্বাসসহ সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শনিবার বিকালে আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে আব্বাস নিজের অনুসারীদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমার শাহজাহানপুরের বাসায় এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস অতীতে কেউ পায়নি। মোহাম্মদপুরের লোকজন তা করে গেল। সভায় মতিন সমর্থক বলে পরিচিত দুজনকে আব্বাস বহিষ্কারের হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।মোহাম্মদপুর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাবেক কমিশনার আতিকুল ইসলাম মতিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলে আসছে। এর আগে মহানগর বিএনপির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মতিঝিলের অফিসে এ দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মহানগর বিএনপির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ঢাকা-১৩ আসনের মোহাম্মদপুর থানা, আদাবর থানা, শেরেবাংলা নগর থানার আংশিকসহ মোট ৮টি ওয়ার্ডের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন আব্বাস।এ সময় ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমেদ, সদস্য আতিকুল ইসলাম মতিনও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, আলাল কারাগারে আছেন। দলীয় কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তার পরামর্শ নেয়া উচিত। আব্বাসের কথার মাঝে মতিন সমর্থক বলে পরিচিত মোহাম্মদপুরের যুবদলের এক নেতা বলেন, আলাল তাদের কোনো মূল্যায়ন করেনি। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তার পরামর্শের প্রয়োজন নেই। এ সময় আলাল সমর্থকরা প্রতিবাদ জানান।একপর্যায়ে আব্বাসের লোকজনরা মতিন সমর্থক ওই নেতাকে বের করে দেন। এ সময় মতিন সমর্থক অনেকেই এর প্রতিবাদ করতে থাকে। অপরদিকে আলাল সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে আব্বাসসহ সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন। বৈঠক শেষে যাওয়ার সময় আব্বাসের সিকিউরিটিকে লাঞ্ছিত করেন মতিন সমর্থকরা।মির্জা আব্বাস ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এখন কমিটি দেয়া হবে না। ঢাকা মহানগরীর একটা আসনে কমিটি না থাকলে তাতে কিছু যায় আসে না। তবে এই সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা দাবি জানান আন্দোলনমুখী কমিটি দিতে হবে।মতিন গ্রুপের মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক লিটন মাহমুদ বাবু, আদাবর থানা যুবদল সভাপতি কামাল হোসেনকে বহিষ্কারের জন্য হাইকমান্ডের কাছে সুপারিশ করবেন বলে হুমকি দেন আব্বাস।তিনি বলেন, তোমাদের বহিষ্কারের জন্য আমি হাইকমান্ডের কাছে সুপারিশ করবো। তোমরা ধরে নাও এর মধ্যে বহিষ্কার হয়ে গেছ। ১২ ঘণ্টার মধ্যে তোমরা বহিষ্কারের কাগজ পাবে।