Wednesday, September 4, 2013

জার্মানিতে নির্বাচনের গরম হাওয়া

জার্মানিতে নির্বাচনী হাওয়া দিন দিন গরম হচ্ছে। রোববার মার্কেল আর স্টাইনব্র“কের টিভি বিতর্কের মাধ্যমে এ হাওয়া জোরালো হল। বিতর্ক পরবর্তী জরিপ থেকে অবশ্য পুরো স্পষ্ট নয়, কে জিততে যাচ্ছেন ২২ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে।জার্মানির প্রধান দুটি দল খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়ন বা সিডিইউ এবং সামাজিক গণতন্ত্রী বা এসপিডি। তবে সরকার গঠনে বরাবরই দেখা যায় তৃতীয় বা চতুর্থ কোন দলের সঙ্গে জোট গঠন করেছে এ দুটি দল। এমনকি প্রধান দুটি দলের একসঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠনের ইতিহাস রয়েছে জার্মানিতে। তাই জার্মানির রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার রাজনীতি মূলত জোটের রাজনীতি। তবে বরাবরই স্পটলাইটে থাকেন সিডিইউ এবং এসপিডি দলের চ্যান্সেলর প্রার্থীরা। জার্মানিতে গত দুই মেয়াদ ধরে চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। সিডিইউ দলের প্রধান হিসেবে এবারও তিনি চ্যান্সেলর প্রার্থী। তার বিকল্প হিসেবে এ মুহূর্তে সিডিইউ দলে কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। পেয়ার স্টাইনব্র“কের ব্যাপারটি আলাদা। দলের প্রধান তিনি নন। তবে এসপিডি দলের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনে শতকরা ৯৪ ভাগ সদস্য তাকে আগামী নির্বাচনে চ্যান্সেলর পদে প্রার্থী হিসেবে ভোট দেয়।
তাই বছর চারেক আগে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও নাটকীয়ভাবে আবারও ফিরে আসেন সাবেক অর্থমন্ত্রী স্টাইনব্র“ক। রোববারের টিভি বিতর্কটি ছিল দুই চ্যান্সেলর পদপ্রার্থীর একমাত্র বিতর্ক। তাই আগামী তিন সপ্তাহের নির্বাচনী প্রচারণায় এ বিতর্কের একটি বড় প্রভাব থাকবে বৈকি। পাঁচটি টিভি চ্যানেল ম্যার্কেল-স্টাইনব্র“কের বিতর্কটি সরাসরি সম্প্রচার করে। মোট ১৭ মিলিয়নের বেশি মানুষ এ বিতর্কটি দেখেছে। তবে বিতর্কের পর জরিপের ফলাফল থেকে স্পষ্ট কিছু বোঝা যাচ্ছে না। জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ জানায়, জরিপ সংস্থা ফোরসার ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ দর্শক ম্যার্কেলের পক্ষে, স্টাইনব্র“কের পক্ষে ৪৩ শতাংশ। টিভি চ্যানেল এআরডির জরিপে ৪৯ শতাংশ দর্শক স্টাইনব্র“কের পক্ষে রয়েছেন, আর ম্যার্কেলের পক্ষে রয়েছেন ৪৪ শতাংশ। নির্বাচনী জরিপ সংস্থা এফগে ভালেন বলছে, স্টাইনব্র“কের চেয়ে সাত শতাংশ বেশি সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান চ্যান্সেলর মার্কেল। তবে আগামী নির্বাচনে সেই প্রার্থী বিজয়ী হবেন যিনি মনস্থির না করা ভোটারদের ভোটটি নিজের ঝুলিতে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষক ইয়ুর্গেন ফাল্টার। ফাল্টার জানান, এদিক থেকে মার্কেলের চেয়ে স্টাইনব্র“ক কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। বিবিসি।

হত্যার উসকানির অভিযোগে কাঠগড়ায় মুরসি

হত্যা ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে বিচারের মুখোমুখি করছে দেশটির সেনা সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার। তবে কবে থেকে তার বিচার শুরু হচ্ছে তা জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, একই অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডের আরও ১৪ জন শীর্ষ নেতাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার আল জাজিরা এ খবর জানায়।
এর পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার করার জন্য ইসলামপন্থী সদস্যদের প্রায় বাদ দিয়ে একটি সাংবিধানিক পরিষদ গঠন করেছে সরকার। কাজ শেষ করতে পরিষদকে ৬০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে সাবেক প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের সঙ্গে সরকার বিরোধীদের প্রাণঘাতী সংঘাতের দায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসিকে তার মুসলিম ব্রাদারহুডের অপর ১৪ সহযোগীসহ ‘হত্যা ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার’ অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এর আগে ২০১১ সালে জেল ভেঙে পালানোর দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। ৩ জুলাই মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকে অজ্ঞাত একটি স্থানে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। মুরসির পাশাপাশি তার যেসব সহযোগীকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ব্রাদারহুডের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আল বেলতাগি এবং ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির উপপ্রধান এসাম এল এরিয়ান রয়েছেন। গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট মুরসির ক্ষমতা বৃদ্ধি করে জারি করা একটি প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি ও ইসলামপন্থীদের তৈরি করা সংবিধানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে কয়েক হাজার মুরসিবিরোধী কায়রোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে জড়ো হয়।