Monday, June 17, 2013

তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ২১ দেশে হামলা নস্যাৎ করা হয়েছে

মার্কিন শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করছেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসএ) মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচির বদৌলতেই যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ২১টি দেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। তা ছাড়া সংগৃহীত এসব তথ্য-উপাত্ত পাঁচ বছর পর পর ধ্বংস করে দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা অবশ্য ওই সব দেশের নাম বা কথিত হামলার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। তাঁরা আরও দাবি করেন, লাখ লাখ টেলিফোন কলের তথ্য-উপাত্ত প্রতিদিন সংগ্রহ করা হলেও যাচাই করে দেখা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩০০ টেলিফোনের তথ্য। এটি সমালোচকদের অভিযোগের তুলনায় নিতান্তই কম। তা ছাড়া আইন মেনেই এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রসংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান। এনএসএর প্রধান জেনারেল কিথ আলেক্সান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। তাই এসব তথ্য আগেই আংশিকভাবে প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। কর্মকর্তারা বলেন, ২০০৯ সালে আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা নিউইয়র্ক নগরের সাবওয়ে (পাতালরেল) উড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। টেলিফোনের তথ্য ঘেঁটে ওই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আল-কায়েদার কর্মী নাজিবুল্লাহ নাজির ফোনালাপের রেকর্ড কাজে লেগেছিল। এনএসএর সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন সম্প্রতি জনসাধারণের ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর মার্কিন গোয়েন্দাদের গোপন নজরদারিসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করে আলোড়ন তোলেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকার কাছে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। আইএএনএস, এএফপি ও রয়টার্স।

কোয়েটায় আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেন একজন নারী

পাকিস্তানের কোয়েটায় গত শনিবারের বোমা ও সশস্ত্র হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে দেশটির সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-জাংভি। সংগঠনটি বলেছে, একজন নারী আত্মঘাতী হামলাকারী কোয়েটার বাসে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। ওই হামলায় ১৪ জন নারী শিক্ষার্থী নিহত হন। বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় সরদার বাহাদুর খান উইমেনস ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের বাস ও একটি হাসপাতালে ওই হামলা চালানো হয়। বাসে বোমা হামলার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কোয়েটা শহরের বোলান মেডিকেল কমপ্লেক্সের ভেতরে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। সেখানে বাসে বোমা হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মেডিকেল কমপ্লেক্সে সশস্ত্র জঙ্গি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলিতে আরও অন্তত ১১ জন নিহত হন। আত্মঘাতী ও সশস্ত্র হামলার পরপরই লস্কর-ই-জাংভির মুখপাত্র আবুবকর সিদ্দিক কোয়েটার পত্রিকা অফিসগুলোতে ফোন করে বলেন, ‘আমাদের এক বোন বাসে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বাসে উঠে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন।’ মুখপাত্র বলেন, ‘এরপর আমরা হাসপাতালে দ্বিতীয় হামলা চালাই। আমাদের যোদ্ধারা সেখানে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে। খারোতাবাদে নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের কয়েকজন যোদ্ধা ও তাঁদের স্ত্রীকে হত্যা করায় আমরা এ হামলা চালিয়েছি।’ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী গত ৬ জুন কোয়েটার পার্শ্ববর্তী খারোতাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে কমপক্ষে তিন জঙ্গি ও দুজন নারী নিহত হন। কর্মকর্তারা জানান, নিহত ব্যক্তিরা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সদস্য ছিলেন। পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে লস্কর-ই-জাংভির যোগসাজশ রয়েছে। এএফপি, বিবিসি।

ম্যান্ডেলার গুণমুগ্ধ প্রতিবেশীরা

নেলসন ম্যান্ডেলার স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি তখনো হয়নি। তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হঠাৎ করেই হাজির হতেন কেকানা মাংকুয়াম্বি। দুই পুরোনো বন্ধু মিলে আড্ডা দিতেন নানা বিষয় নিয়ে।  বিখ্যাত প্রতিবেশীর প্রেমজীবন নিয়েও খুনসুটি করতে ছাড়তেন না মাংকুয়াম্বি। তিনি ৯৪ বছর বয়সী ম্যান্ডেলার মাত্র দুই বছরের ছোট। বর্ণবাদী শাসকদের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ম্যান্ডেলা একবার কিছুদিনের জন্য ফিরে এসেছিলেন তাঁর গ্রাম কুনুতে। সেখানেই কেটেছিল তাঁর শৈশব। মাংকুয়াম্বির সঙ্গে বন্ধুত্বের শুরুটাও হয়েছিল এখান থেকেই। নিজের কুঁড়েঘরের দাওয়ায় বসে মাংকুয়াম্বি এএফপির সাংবাদিককে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে সময় কাটাতাম। সাধারণত আমি রাতেই দেখা করতে যেতাম। গিয়ে বলতাম, হে বান্ধবীহীন মানুষ, জেগে ওঠো, হাসো, দাঁড়াও, হাত মেলাও! তারপর আমরা বসে গল্প করতাম, কখনো সারা রাত। সে (ম্যান্ডেলা) শুধু আমার বন্ধুই নয়, তার চেয়ে বেশি কিছু। সে আমার ভাইয়ের মতো।’ বর্ণবাদ-উত্তর যুগে একটি বিভক্ত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরে গোটা বিশ্বের কাছে শান্তির এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছেন ম্যান্ডেলা। তবে কুনু ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় তিনি একই সঙ্গে একজন প্রতিবেশীও। বিশ্বজুড়ে বিপুলভাবে শ্রদ্ধাভাজন ম্যান্ডেলা সবকিছুর পরও একজন মাটির মানুষ। তিনি গ্রামের যে কারও বাড়িতে চলে যেতেন হাঁটতে হাঁটতে। দেখে মনেই হতো না তিনি একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। স্থানীয় তরুণ মাসিভিউয়ে গেলেদোয়ানা একাধিকবার ম্যান্ডেলার সঙ্গে আলাপ করেছেন। মাসিভিউয়ে বলেন, ‘ম্যান্ডেলা একজন নায়ক। তিনি অনেকটা দেবতার মতো। তিনি আমাকে বলেছেন, একজন মানুষ হয়ে উঠতে চাইলে সবাইকে সম্মান করতে হয়। সব মানুষকে, তারা যেখান থেকেই আসুক না কেন, সমান বিবেচনা করতে হয়।’ ৫৪ বছর বয়সী জো এমলাংগাজি বলেন, তাঁর বাড়িতে একজন সাধারণ মানুষের মতোই এসে দেখা করেছিলেন ম্যান্ডেলা। তাঁরা চান ম্যান্ডেলা নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসুন। তাঁকে সবাই খুব অনুভব করে। কারণ তিনি সবার জীবন বদলে দিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ম্যান্ডেলার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হলেও তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। কুনু গ্রামবাসী তাঁর আরোগ্য ও প্রত্যাবর্তন কামনা করছে। এমলাংগাজি বলেন, ‘আমরা তাঁকে দেখতে চাই এবং বলতে চাই, তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন।’ এএফপি।

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা সৌদির

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা ডের স্পিগেল গতকাল রোববার এ খবর দিয়েছে। বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের মিত্র সৌদি আরবের এ পরিকল্পনার কথা জানা গেল। ডের স্পিগেল জানায়, জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা বিভাগ এবং সরকার গত সপ্তাহে একটি গোপন প্রতিবেদন পেয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য দেশটির বিদ্রোহীদের ভূমি থেকে আকাশে বা কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তুলনামূলকভাবে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান বা হেলিকপ্টার ধ্বংস করা যায়। ১৯৮০-এর দশকে তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগানিস্তানের মুজাহিদদের এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। আসাদ সরকারকে হটাতে দুই বছরের বেশি সময় ধরে লড়াই করছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। তাদের অন্যতম মিত্র সৌদি আরব। দেশটি অনেক দিন ধরেই বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের পক্ষে কথা বলছে। সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ বিদ্রোহীদের ছোট পর্যায়ে হালকা অস্ত্র দিয়েছে বলেও খবর আছে। গত বৃহস্পতিবার কিছুটা আকস্মিকভাবে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দেয়, আসাদ বাহিনী যে বিরোধীদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করবে তার দেশ। যদিও এখন পর্যন্ত বিদ্রোহীদের ছোটখাটো অস্ত্র দেওয়ার কথাই বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কোনো অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তারা এখনো জানায়নি।
এর আগে গত মাসে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর ফলে দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ করতে চায়, এমন পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য আর কোনো বিধিনিষেধ নেই। আজ সোমবার থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে শুরু হওয়া জি-৮ সম্মেলনে সিরিয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দেওয়ার পর এ বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থন আদায় করার চেষ্টা করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি মন্তব্য করেছেন, সিরিয়া সংকটের রাজনৈতিক সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে। আসাদ সরকার বিরোধীদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশ জর্ডান। সিরিয়ার বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কাছ থেকে অস্ত্রের জোগান পেলে প্রতিবেশী দেশটির যুদ্ধপরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এএফপি ও রয়টার্স।

এনডিএ ছাড়লেনই নীতিশ

রত্যাশামতোই এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে এল জনতা দল (সংযুক্ত)। কয়েক দিনের চূড়ান্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা শেষে গতকাল রোববার দুপুরে রাজ্যপাল ডি ওয়াই পাতিলের সঙ্গে দেখা করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। রাজ্যপালকে নীতিশ কুমার আরও জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় থাকা বিজেপির ১১ সদস্যকেও বরখাস্ত করছেন তিনি। নীতিশ কুমার এ অবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে ১৯ জুন রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধও করেছেন রাজ্যপালকে। বিজেপির পক্ষ থেকে কেউ কেউ বিধানসভা ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি জানালেও দলের রাজ্য সভাপতি সুশীল কুমার মোদি বলেছেন, আস্থা ভোটের আগের দিন তাঁরা সারা রাজ্যে ‘বিশ্বাসঘাত দিবস’ পালন করবেন। গতকাল রোববার দিনভর বিহারের রাজনীতি ছিল সরগরম। বেলা সাড়ে ১১টায় নীতিশ কুমার মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকে স্বাভাবিক কারণেই বিজেপি সদস্যরা গরহাজির ছিলেন। এক ঘণ্টা পর জেডিইউ নেতৃত্ব বৈঠক করে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিকতার সিলমোহর দিয়ে দেন। বেলা দুইটায় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিজেপির গোয়া-সিদ্ধান্ত আমদের এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।’ নীতিশ কুমার বলেন, তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন কিন্তু বিজেপির মন্ত্রীরা কাজ করতে অস্বীকার করায় তাঁদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জনতা দলের (সংযুক্ত) এই ঘোষণার পর বিহার ও গোটা ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও মেরুকরণ সৃষ্টি হতে চলেছে। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নীতিশকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শক্তি হিসেবে জাহির করেছে। কংগ্রেস যে এ অবস্থাকে কাজে লাগাতে চায়, শনিবার কাশ্মীরে কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর মন্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়েছিল। পরে দলের মুখপাত্র ভক্তচরণ দাসও বুঝিয়ে দেন, নীতিশ তাঁদের জোটে স্বাগত। নীতিশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়তে ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সীতারাম ইয়েচুরিরা উদ্যোগী হয়েছেন। নীতিশের এই জোট ছেড়ে যাওয়ায় বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘গোয়ায় এত তাড়াহুড়ো করে মোদিকে আবাহন করা না হলে এভাবে এত দিনের এক বন্ধুকে হারাতে হতো না।’ আদভানি এই আক্ষেপের কথা বলেছেন দলের সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের কাছে। বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজও এই বিচ্ছেদকে দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা দুজনই মোদিবিরোধী বলে পরিচিত। নীতিশ কুমার ও দলের সভাপতি শারদ যাদব কেউ-ই কিন্তু এই নেতাদের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি। মনে করা হচ্ছে, মোদির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এনডিএতে ভবিষ্যতে অন্য রকম ভাবনা হলে নীতিশেরা বিকল্প চিন্তার সুযোগটা খোলা রাখছেন। এই মুহূর্তে নীতিশের বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্যে একাধারে বিজেপি ও লালু প্রসাদের মোকাবিলা করে উন্নয়নের রাস্তা মসৃণ রাখা। পাশাপাশি জাতপাতভিত্তিক এই রাজ্যে নিজের কুর্মী সম্প্রদায়ের ৫ শতাংশ ভোটের বাইরে মুসলিমদের ১৮ শতাংশ ভোটের বেশিটা টেনে আনা। এ কাজে তাঁর পথের কাঁটা যে লালু প্রসাদ, তা নীতিশ জানেন। মোদিকে নিয়ে যেমন বিজেপি বাজি খেলেছে, তেমনই এনডিএ ছেড়ে এসে জনতা দলও (সংযুক্ত) এক বিরাট ঝুঁকি নিল।

উইলিয়ামের জ্ঞাতি ভাইবোন খোঁজা হবে ভারতে!

প্রিন্স উইলিয়ামের পূর্বপুরুষের শরীরে ভারতীয় রক্ত থাকার কথা প্রকাশিত হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা এখন ভারতে তাঁর দূরসম্পর্কের জ্ঞাতি ভাইবোনদের অনুসন্ধানে নামছেন। তাঁদের লক্ষ্য, গুজরাটের সুরাটে থাকা উইলিয়ামের ওই সম্ভাব্য স্বজনদের বের করা। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার জিন বিশেষজ্ঞ ও ‘ব্রিটেনস ডিএনএ’ প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানী জিম উইলসন বলেন, উইলিয়ামের মা ডায়ানার বেশ কয়েক পুরুষ আগের এক নারী পূর্বসূরি এলিজা কেওয়ার্ক দুটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৮১২ সালে জন্ম নেন ক্যাথরিন স্কট ফোর্বস। তাঁর মেয়ের দিকে কয়েক পুরুষ পরে জন্ম নেওয়া ডায়ানার গর্ভে জন্ম উইলিয়ামের। এলিজার দ্বিতীয় সন্তান আলেকজান্ডার বড় হয়ে ভারতে ফিরে যান। সে কারণে সুরাটে আজও তাঁর বংশধর থাকতে পারে।

ইরাকজুড়ে শিয়াদের ওপর হামলায় নিহত ২৭

ইরাকের বিভিন্ন স্থানে মূলত শিয়া মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র এ কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরাকে আবার পুরোদমে সাম্প্রদায়িক লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা আরও তীব্র হলো। জাতিসংঘের হিসাবমতে, জঙ্গিদের হামলায় গত মে মাসে এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। ২০০৬-০৭ সালের সাম্প্রদায়িক হত্যাযজ্ঞের পর এটিই ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী মাস। বাগদাদ থেকে ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর বসরায় দুটি পৃথক গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। নাজাফ, নাসিরিয়া, কুত, হিলা, তুজ কুরমাতো এবং দক্ষিণ বাগদাদের মাহমুদিয়ায়ও শিয়াদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া উত্তরের শহর মসুলের কাছে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি করে একটি চেক পয়েন্টের ছয়জন পুলিশকে হত্যা করে। এ বছরের শুরু থেকে জঙ্গি সুন্নি বিদ্রোহী ও ইরাকের আল-কায়েদা বাহিনী এ ধরনের হামলার ঘটনা বাড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, সাম্প্র্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধিই এর লক্ষ্য। প্রতিবেশী সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সেখানে সুন্নি বিদ্রোহীরা শিয়া অধ্যুষিত ইরান-সমর্থিত নেতা বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাকের অনেক সুন্নি ও শিয়া দুই পক্ষে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করার জন্য সিরিয়া যাচ্ছে। সে দেশের প্রেসিডেন্ট বাশার নিজে আলাবি শিয়া গোষ্ঠীর মানুষ। রয়টার্স।

এবার যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার প্রস্তাব দিল উত্তর কোরিয়া

প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এ আলোচনার লক্ষ্য হবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা হ্রাস। গতকাল রোববার কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটির সরকারি গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থা (কেসিএনএ) বলেছে, উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে আমরা উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তাব করছি।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘উত্তর কোরিয়া বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক। বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যও এর মধ্যে থাকবে।’ বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়, এ অঞ্চলে সত্যিই শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে না এ আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো পূর্বশর্ত দেওয়া। উত্তর কোরিয়া বলছে, তারা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের নিজেদের পরমাণু অস্ত্রসম্ভার ‘মার্কিন সামরিক ও পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকির’ বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার উপায় মাত্র। বিবৃতিতে বলা হয়, বাইরের পারমাণবিক হুমকির ‘পুরোপুরি অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রধারী দেশের মর্যাদা বহাল রাখা হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সব ধরনের ‘হুমকি’ বন্ধ করে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত তাদের সব নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়। বেশ কিছুদিন বিরতির পর দুই কোরিয়ার মধ্যে ১২ ও ১৩ জুন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রটোকল-সংক্রান্ত বিসংবাদের জের ধরে তা বাতিল হয়ে যায়। এএফপি।

রুহানিতে মুক্তি খুঁজেছেন ইরানিরা

বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক অবরোধ ও কঠোর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে হাঁপিয়ে উঠেছে ইরানের সাধারণ মানুষ। গত শুক্রবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁরা ব্যালটের মাধ্যমে এ অবস্থা থেকে মুক্তির দাবি ছুড়ে দিয়েছেন। নির্বাচিত করেছেন মধ্যপন্থী ধর্মীয় নেতা হাসান রুহানিকে।  ভোট শেষে শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবারের বেশির ভাগ সময় দেশে ও বিদেশে থাকা ইরানিরা হাসান রুহানির জয়ে উল্লাস করেছেন। তাঁদের সেই উল্লাসের সঙ্গে একধরনের মুক্তির আনন্দ মিশ্রিত ছিল। রুহানির জয়ে তাঁদের মনে হয়েছে, এর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মাহমুদ আহমাদিনেজাদের আট বছরের ‘দুঃসহ শাসনের’ অবসান হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অনুগত প্রার্থীকে রুহানি চরমভাবে পরাজিত করায় অনেক রক্ষণশীলই ধাক্কা খেয়েছেন। তবে আসল চমকের বিষয় হলো, ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবারের নির্বাচন হয়েছে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, চার বছর আগে বিতর্কিত নির্বাচনের পর ইরানে যে বিক্ষোভ হয়েছিল এবং আহমাদিনেজাদ যেভাবে বিক্ষোভকারীদের দমন করেছিলেন, তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে সমালোচনার মুখে ফেলে দিয়েছিল। রুহানির জয়ের মাধ্যমে সেই ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তিকে ঠিক করা যাবে এবং সংস্কারপন্থী দলগুলো এখন ভালোভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাবে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সভাপতি ত্রিতা পারসি এ বিষয়ে বলেন, ‘যদিও ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল চালিকাযন্ত্রগুলো এখনো কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তবু এ নির্বাচনের মাধ্যমে সংস্কারপন্থীরা প্রমাণ করতে পেরেছেন, জনগণের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁদেরও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এর মাধ্যমে ভোটাররা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে তাঁদের বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছেন। রুহানি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি যে ধরনের নীতি অনুসরণ করছেন, তা ইরানকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ কারণে তাঁর জয়ে তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বন্দ্ব কমবে। কেউ কেউ মনে করেন, রুহানি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। তবে খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক হিসেবে বহাল থাকায় এ বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে রুহানিকে অনেক সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করতে হতে পারে। রক্ষণশীল পার্লামেন্ট সদস্য আহমদ তাভাকোলি বার্তা সংস্থা ইসনাকে বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলে রুহানি তাঁর অনুগত লোকজনকে বসাবেন এবং অবশ্যই তাঁর প্রভাব দৃশ্যমান হবে। তবে অন্যান্য সাধারণ নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে খামেনির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং রুহানিও খামেনিকে সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকবেন। রুহানি ‘নাগরিক অধিকার সনদ’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নারী এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছেন অনেক আগে থেকেই। এসব প্রতিশ্রুতির কতটুকু তিনি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারবেন, সেটাই দেখার বিষয়।

এই বিজয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে: হাসান রুহানি

ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মধ্যপন্থী নেতা হাসান রুহানি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উদার পন্থার জয় হয়েছে। এ বিজয় প্রজ্ঞা, উদারতা ও পরিপক্বতার। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাসান রুহানি ৫০ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গত শনিবার হাসান রুহানিকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করার পর তাঁর লাখো সমর্থক রাজধানী তেহরানের পথে নেমে আসে। তারা ‘রুহানি দীর্ঘজীবী হোন’ বলে স্লোগান দেয়। রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতেও স্লোগান দেওয়া হয়। ফল ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে রুহানি বলেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র, পারস্পরিক লেনদেন ও মুক্ত আলোচনার প্রতি যাদের গভীর শ্রদ্ধা আছে, এ বিজয় তাদের জন্য নতুন সুযোগ এনে দিল।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্কতার সঙ্গে রুহানিকে স্বাগত জানিয়েছে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে গত শনিবার এক বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ পালনের জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানান। ইরানের ‘জনগণের মঙ্গলের স্বার্থে’ রুহানি ও তাঁর সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জাতিসংঘের মহাসচিব। এদিকে, ইরানের ভোটে ‘স্বচ্ছতার অভাব’, গণমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং মতপ্রকাশের ‘সীমাবদ্ধতার’ সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে ইরানের জনগণের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রুহানিকে স্বাগত জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তিনি আশা করেন, তেহরানের সঙ্গে রাশিয়ার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে। গতকাল রোববার ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট বন্ধুপ্রতিম দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী। এদিকে, ইসরায়েল মধ্যপন্থী রুহানির বিজয় সত্ত্বেও দেশটির নতুন সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। শুক্রবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইরানের প্রায় পাঁচ কোটি ভোটারের মধ্যে ৭২ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে মোট তিন কোটি ৬৭ লাখ চার হাজার ১৫৬ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। প্রার্থী ছিলেন মোট ছয়জন। রুহানি পেয়েছেন এক কোটি ৮৬ লাখ ১৩ হাজার ৩২৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রার্থী ও তেহরানের মেয়র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ পেয়েছেন ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ২৯২ ভোট। আগামী ৩ আগস্ট দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নির্বাচনের ফল অনুমোদন করবেন। এরপর হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্লামেন্টে শপথ নেবেন। হাসান রুহানির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি হলো, দেশটির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক অবরোধ শিথিল করা। তিনি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পাশ্চাত্যের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে চলা উত্তেজনা প্রশমনে আগ্রহী। অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতির অবস্থা বেহাল। বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, মুদ্রার মান পড়ে গেছে ও ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স।

ব্যক্তিত্ব-মোহামেদ এলবারাদি

শুধু মিসরের নয়, আন্তর্জাকিতভাবে তিনি একজন কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) মহাপরিচালক হিসেবে মোহামেদ এল বারাদি বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন।

পবিত্র কোরআনের আলো-পার্থিব সুখ-সম্পদে পরকাল ভুলে যাওয়া যাবে না

৫৭. ওয়ালা আজরুল আ-খিরাতি খাইরুল লিল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া কা-নূ য়াত্তাকূনা। ৫৮. ওয়া জা----আ ইখওয়াতু য়ূসুফা ফাদাখালূ 'আলাইহি ফা'আরাফাহুম ওয়া হুম লাহূ মুনকিরূনা।

গণরায়ের বিরুদ্ধে ইঞ্জিনিয়ারিং করা যায় না

দেশের চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়কে গণজোয়ার হিসেবে উল্লেখ করে খুলনা এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, গণরায়ের বিরুদ্ধে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করা যায় না।

সিটি নির্বাচনের ফলাফল এবং জাতীয় রাজনীতি by তারেক শামসুর রেহমান

এটা এখন একটা 'ওয়ান মিলিয়ন ডলার' এর প্রশ্ন- সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা কিভাবে মূল্যায়ন করব? দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে এ ধরনের একটি নির্বাচনে যখন সরকারি দলের সমর্থকরা হেরে যান, তখন হাজারটা প্রশ্ন এসে ভিড় করে।

কারিগরি বিদ্যালয়-কর্মমুখী শিক্ষার জন্য অপরিহার্য

কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। তার পরও এর বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা স্পষ্ট।

সিটি নির্বাচনে গণরায়-শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অনন্য দৃষ্টান্ত

রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল- চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত সব প্রার্থী। পরাজিত ও বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল উল্লেখযোগ্য।

ভিন্নমত-শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হলো ইংরেজি অঙ্ক ও বিজ্ঞান by আবু আহমেদ

আমাদের ছাত্ররা অনেক কিছুই পড়ছে। কিন্তু তাদের সব পড়া কাজে লাগে না। এর কারণ হলো অনেক শিক্ষা তারা বাধ্য হয়ে শিখছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিভাবকরা ভুল করে তাদের ভুল শিক্ষা গ্রহণ করতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

যেমন সরকারের দরকার

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই মেরুতে দুই দল। এক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার-পদ্ধতির পক্ষে, অন্য দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। মাঝখানে যথারীতি চিড়েচ্যাপটা ম্যাংগো পাবলিক। সবার মঙ্গলের জন্য সমঝোতা জরুরি।

ফেসবুক কর্নার গ্রন্থনা: পাভেল মহিতুল আলম

স্পট ফিক্সিং
রাকিব: কিরে শামীম, তুই কই?
শামীম: দোস্ত, আমি তো স্পট ফিক্সিং করতেছি।

গুণীজন কহেন

আমার থেরাপিস্ট আমাকে বললেন, নিজের অভ্যন্তরীণ শান্তি খুঁজে পাওয়ার উপায় হলো যা শুরু করা হয়, তা শেষ করা। এখন পর্যন্ত আমি দুই ব্যাগ এম অ্যান্ড এম এবং একটা চকলেট কেক শেষ করেছি। ইতিমধ্যে আমার বেশ ভালো লাগছে।

অহেতুক কৌতুক

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় সমস্যাগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। বাইরে থেকে দেখলে আমরা কাঁঠালের মতোই শক্ত। ভেতরটাতে সবাই নানা সমস্যায় আঠা দিয়ে লেগে আছি। কিন্তু তার পরও আমাদের মনটা কাঁঠালের বীজের মতো শক্ত। ভেজে খাওয়া যায়।

অল্পদৈর্ঘ্য নাটক ফিক্সিং কিং কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ: খায়রুল বাবুই চিত্রপ্রদান: জুনায়েদ

চরিত্র
শামসু: সভাপতি, টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটি
আরিফ: মালিক, ঢাকা কাউ টিম

অনলাইন থেকে-সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি

অনেকের মতো আমিও তুরস্কের ঘটনাবলি অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে অবলোকন করেছি। তুরস্ক কোনো সাধারণ দেশ নয়। গত কয়েক দশকে, এমনকি দমনপীড়ন চালানো সরকারগুলোও ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ তীরের এই দেশে শক্ত অবস্থা তৈরি করেছে।

বাজেট কি উচ্চাভিলাষী ও নির্বাচনমুখী by সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

আগামী অর্থবছরের জন্য (২০১৩-১৪) যে বাজেট পেশ করা হয়েছে সেখানে রাজস্বপ্রাপ্তি, বৈদেশিক অনুদানসহ আয় দেখানো হয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকা এবং ব্যয় দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা।

রাজনীতির বিবর্তন ও এলিট শ্রেণী by ড. মীজানূর রহমান শেলী

ইংরেজি 'এলিট' কথাটির সঠিক বাংলা নিয়ে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক। আভিধানিক সংজ্ঞায় অভিজাত; ক্ষমতা, প্রতিভা অথবা সুযোগ-সুবিধার কারণে সমাজের উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত শ্রেণী। সাধারণ অর্থে জীবনের যেকোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ বা অগ্রণীদের এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হয়।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বিএনপিতে মানুষ নির্ভরতা খুঁজছে by খন্দকার মোশাররফ হোসেন

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জনগণ ও গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে by ওবায়দুল কাদের

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জাতীয় সংসদে শিশু বিল ২০১৩ পাস সন্ত্রাসী কাজে শিশুদের ব্যবহার করলে মৃত্যুদণ্ড

কোনো ব্যক্তি যদি শিশুকে সন্ত্রাসী কাজে নিয়োজিত করেন, তবে তাঁর বিচার হবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিধান রেখে গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে শিশু বিল, ২০১৩ পাস হয়েছে।

ব্যাংকের যোগসাজশে হল-মার্কের আরেক জালিয়াতি by অনিকা ফারজানা

রুগ্ণ শিল্প দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের সুদ মওকুফ করে দিয়েছে জনতা ব্যাংক। আর সেই প্রতিষ্ঠানটি কিনে নিয়েছেন বহুল আলোচিত হল-মার্ক গ্রুপের তানভীর মাহমুদ। তিনি প্রতিষ্ঠানটি কিনেছেন আবার জালিয়াতি করা অর্থ দিয়ে।

চার সিটি নির্বাচন ২০১৩: উত্তরণের উপায় খুঁজছে আওয়ামী লীগ ক্ষোভের প্রকাশ ব্যালটে

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এ ফলাফলে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাস কয়েক আগে এ পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলেছে দলটিকে।