Tuesday, September 23, 2014
ষোড়শী বা সুইট সিক্সটিন by সৈয়দ আবুল মকসুদ

সেকালে ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে প্রায় সব বাঙালি মেয়ের বিয়ে হতো সাত-আট থেকে ১০ বছরের মধ্যে। যেসব পরিবারের অভিভাবকদের কিছুটা কাণ্ডজ্ঞান ছিল, তাঁরা রজঃবতী না হওয়া পর্যন্ত পুত্রবধূকে শাশুড়ি, দাদিশাশুড়ি বা বিধবা পিসির কাছে শুতে দিতেন। তবে কাণ্ডজ্ঞান ও বিবেচনাসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বাঙালি সমাজে চিরকালই বিরল। প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বউমাকে ছেলের ঘরে ঠেলে দিত। বাঙালি বালিকা-কিশোরীর আর্তনাদ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছালেও শ্বশুর-শাশুড়ি রাখতেন কানে তুলা গুঁজে।
আলোচ্য ঘটনাটি ঘটে কলকাতার এক গলির মধ্যে। সেটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ। এক হৃষ্টপুষ্ট যুবক বছর আটেকের এক বালিকাকে, বস্তুত শিশুকে, ধুমধাম করে বিয়ে করে আনে। নির্মম অভিভাবকেরা তাকে বাসরঘরে ঠেলে দেন। কিছুক্ষণ পর মেয়েটির আর্তচিৎকারে মধ্যরাতেই পাড়া-পড়শিরা সে বাড়ির সামনে এসে ভিড় করে। নিরুপায় হয়ে বাড়ির লোকজন বালিকাটিকে নিয়ে যায় কলকাতা মেডিকেল কলেজে। পরদিন হতভাগিনী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে। খবরটি কাগজে আসে। বোধ করি ছেলেটি ও তার বাবা-মায়ের সামান্য শাস্তি হয়েছিল।
পত্রিকায় খবরটি ফলাও করে আসায় ইংরেজ কর্মকর্তাদের তা দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, ঋতুমতী হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হবে। এই নির্মম ঘোষণা বাঙালি পুরুষেরা মানবেন কেন? তাঁরা তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন এবং প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। ১০০ বছর আগে এখনকার মতো যানবাহন ছিল না। থাকলে তাঁরা মোটরযান ভাঙচুর করতেন, বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দিতেন, অথবা উপড়ে ফেলতেন রেললাইন। কিন্তু যা করেছিলেন, তা হলো সারা বাংলায় প্রতিবাদ সভা। তেমনই একটি বা একাধিক হয়েছিল ঢাকা জজকোর্টের আঙিনায়। তাতে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই যোগ দেয়। কিশোরী বধূর চেয়ে মধুর এ জগতে আর কিছু নেই।
বিয়ের বয়স কমতে পারে, বাল্যবিবাহে সাজা বাড়ছে উল্লিখিত বালিকাটি আরও অনেকের মতো নীরবে মারা গেলে কোনো ঝামেলা হতো না। মেয়েটি ঝামেলা বাধায় চিৎকার করে কেঁদে। বিশেষ করে, পাড়ার লোকজন জড়ো হওয়ায়। অভিভাবকেরা বলতে পারেননি, বউমা রাতে শৌচাগারে গিয়েছিল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। তাকে সাপে কেটেছে। আমাদের বাড়িতে অনেকগুলো গোখরা সাপ আছে। সাপুড়ে ডেকে মারব মারব করছিলাম, এর মধ্যে বউমা-ই চলে গেল। বাঙালি যেকোনো ব্যাপারে বানিয়ে বানিয়ে সত্যি কথা বলতে অভ্যস্ত। এবং দেশসুদ্ধ লোককে ঘাড় ধরে বা গলায় গামছা দিয়ে হলেও তা বিশ্বাস করাতে সে বাধ্য করে।
মন্ত্রিপরিষদ কয়েক দিন আগে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের খসড়া-২০১৪ অনুমোদন দিয়েছে। তাতে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ এবং ছেলেদের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সী ছেলেদের বিয়ের অনুমোদন নেই। যদিও এই বঙ্গভূমিতে সব আইন অগ্রাহ্য করার মতো এ আইনকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাবালক-সাবালিকা হওয়া মাত্রই দেরি করেন না অনেকের অভিভাবক।
বাঙালি জাতীয়তাবাদী সরকার বাংলা কবিতা থেকে অফুরন্ত প্রেরণা পেয়ে থাকে। এবং তা শুধু সাংস্কৃতিক ব্যাপারে নয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারেও। ষোড়শী শব্দটি কয়েক শ বছর ধরে বাঙালি কবিদের ছিল খুবই প্রিয়। আমাদের জাতীয় কবিও তাঁর সেরা সৃষ্টিতে বলেছেন: ‘আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি।’ কবি ১৬ বছর বয়স্কার সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি ও প্রেমপিরিত করে ধন্য হবেন, আর বাংলার ছোকরারা, যারা প্রথম ভোটার, বসে বসে আঙুল চুষবে, বাঙালি জাতীয়তাবাদী মহাজোট তা বসে বসে দেখবে, তা হয় না। তাই তারা মেয়েদের বিয়ের বয়স ষোলোতে নামিয়ে আনছে।
মেয়েদের ১৬ বয়সটির প্রতি শুধু কামাতুর বাঙালি পুরুষদেরই লোভ, তা নয়। ইংরেজরাও কম যায় না। তারা ষোড়শী না বলে বলে সুইট সিক্সটিন—মিষ্টি ষোলো। তা ছাড়া, আমাদের দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাদের ১৬ সংখ্যাটির প্রতি বিশেষ দুর্বলতা থাকাই স্বাভাবিক। ওদিকে ১৬ তারিখটি জেনারেল নিয়াজিরও আমৃত্যু ভোলা সম্ভব হয়নি।
মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স ১৮ বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার নির্ধারণ করেনি। তা অনেক দিন আগের সরকারের করা। সারা দুনিয়ায়
১৮ বছরের নিচের মানবসন্তানদের গণ্য করা হয় অপ্রাপ্তবয়স্ক বা ‘শিশু’ হিসেবে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদে তা-ই বলা আছে। আমাদের মহাজোট শুধু খালেদা জিয়াকেই যে পরোয়া করে না, তা-ই নয়, বান কি মুন বা জন কেরিকেও তোয়াক্কা করে না।
আমার ভয় ছিল, বাঙালি মেয়ের বিয়ের বয়স ১০-এ নামিয়ে আনা না হয়। কারণ, বাঙালির শ্রেষ্ঠ কবি ভবতারিণী ওরফে মৃণালিনী দেবীকে যখন জোড়াসাঁকোর বাড়িতে তোলেন গৃহিণী হিসেবে, তখন তাঁর বয়স ১০ বছর। সুতরাং কবির প্রতি সম্মান দেখাতে সরকার নতুন আইন করতেই পারে। অবশ্য আইন প্রণয়নে এই সরকার ক্লান্তিহীন। এরপর যদি আইন হয় ছেলেদের খতনা দিতে হবে আটে এবং পরবর্তী ১০টি বছর সে পাবে বিয়ের প্রস্তুতির সময়। এখন বিয়ের বয়সের নীতিগত সিদ্ধান্তটি হয়েছে। যখন আইন হবে, তখন তাতে গায়েহলুদের বিষয়টিও থাকবে। গায়েহলুদে কত লোক খাওয়ানো যাবে, বরের পক্ষ থেকে সর্বনিম্ন কত কেজি মিষ্টি আনতে হবে, স্থানীয় কলেজের ‘ছাত্রনেতাদের’ কী পরিমাণ চাঁদা দিতে হবে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও বউভাত সম্পর্কেও থাকবে নির্দেশনা। বিয়ে বিষয়ে আরও নির্দেশনা থাকতে পারে। কোনো এক পক্ষ যদি রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানপন্থী হয়, সে ক্ষেত্রে বিয়ে বন্ধ থাকবে না৷ শুধু খেয়াল রাখতে হবে, রাজাকার পক্ষের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার ওপরে কি না!
মন্ত্রিপরিষদ কাম উপদেষ্টা পরিষদের যে বৈঠকে কিশোরী বিবাহের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়, তার সব পুরুষ সদস্যেরই একটি প্রবাদ মনে পড়ে থাকবে: বাঙালি নারী কুড়িতেই বুড়ি। সুতরাং বুড়িতে পরিণত হওয়ার চার বছর আগে তাকে স্ত্রী হিসেবে পাওয়ার অধিকার তার আছে।
আমাদের সুরসিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সভাতেই বিয়ের সর্বোচ্চ বয়স নিয়েও কথা তোলেন। একটি লাল পাঞ্জাবির দিকে চোখ পড়তেই তিনি সর্বোচ্চ বয়স নিয়ে কথা তোলেন। সিক্সটিফাইভ-থার্টিফাইভ অর্থাৎ ৬৫-৩৫ (ক্ষেত্রবিশেষে ৬৮-৩২)। দম্পতির বয়সের যোগফল হানড্রেড বা ১০০। বঙ্গীয় মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬-তে নামানোর তাৎপর্য হলো এই: মাননীয় মন্ত্রীর কনের বয়স যদি হয় ৩২, আমজনতার বউয়ের বয়স হবে তার অর্ধেক অর্থাৎ ১৬।
এখন থেকে বাঙালি নারী মা হবেন ১৬ বছর নয় মাসে। দুই সন্তানের জননী হবেন ১৭ বছর ১০ মাসে। মৃণালিনী দেবীর মতো ২২ বছর বয়সের আগেই চার-পাঁচ ছেলেমেয়ের মা হবেন। আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বাঙালি মেয়ে ১৭-তে মা, ৩৩-এ শাশুড়ি ও ৩৪-এ নানি হবেন। ৫০ বছর বয়সে নানিশাশুড়ি। ৫১-তে নাতবউয়ের কোলে পুতি দেখে তাঁর চোখ জুড়াবে।
এখন তো বাংলাদেশে জনগণ খুব পাতলা। ১৬/১৮ আইন হলে বাচ্চাকাচ্চায় ভরে যাবে দেশ। ২০২১ সালে হবে ২১ কোটি। ২০৪১-এ মহাজোটের মেয়াদ পূর্তিকালে হবে ৪১ কোটি। সরকার আমলা থেকে বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত সবারই মনোবাঞ্ছা পূরণে বদ্ধপরিকর। তবে আমাদের মতো বেকুবদের মনে হয় কোনো আইন করার আগে দেশের ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা অবশ্যকর্তব্য।
দিনবদলের সরকার দিন না বদলে বদলাচ্ছে বিয়ের বয়স আর মন্ত্রণালয়ের নাম। আর বদলাচ্ছে জীবনের জরুরি বিষয়ের সংজ্ঞা: রাজনীতির সংজ্ঞা, গণতন্ত্রের সংজ্ঞা।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক টাকা আসলে এক টাকা নয় by সামছুর রহমান

এক টাকার বদলে লজেন্স দেওয়ার পেছনে অবশ্য দোকানিদের ব্যবসায়িক স্বার্থটাই টনটনে বলে মনে হলো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি চা-সিগারেটের দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১০০ লজেন্সের একটি প্যাকেট তাঁরা কেনেন মানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। চা বা সিগারেটের ক্রেতাদের এক টাকার বিনিময় পণ্য হিসেবে ১০০ লজেন্স গছিয়ে দিতে পারলে লাভ হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা!
বাসে এই চিত্রটা কেমন? মিরপুর ১ নম্বর থেকে নিউ ভিশন পরিবহনে ফার্মগেট পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হয় ১৩ টাকা। আর মতিঝিল পর্যন্ত ২৩ টাকা। নিউ ভিশনের একটি বাসের সহকারী মো. ফারুক বলছিলেন, ‘যাত্রীরা হয় ১২, না হয় ২২ টাকা দেয়। এক টাকার লাইগ্যা খ্যাঁচখ্যাঁচ করতে ভালো লাগে না।’
আবার যাত্রী কাজল শাহর অভিজ্ঞতা ভিন্ন। ৩ নম্বর বাসে ফার্মগেট থেকে এয়ারপোর্ট স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া ১২ টাকা। কিন্তু ১৫ টাকা দিলে কন্ডাক্টর ফেরত দেন দুই টাকা। মানে, ভাড়া নিয়ে নেন ১৩ টাকা। এক টাকা কি তবে তুচ্ছ হয়ে গেছে? নাকি বাজারে এক টাকার সরবরাহ না থাকায় ভাংতির আকাল পড়েছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা অবশ্য বলছেন, সরবরাহের কোনো সংকট থাকার কথা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাজারে এক টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েন ছেড়েছে ২০০ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২টি। আর এক টাকার কাগুজে নোট ছেড়েছে ৪২ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার ৬২১টি।
খোঁজখবরে দেখা গেল, এক টাকার লাপাত্তা হওয়ার পেছনে নোট আর কয়েনের দ্বন্দ্বও একটা কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক এক টাকার নোটের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি কয়েন বাজারে ছেড়েছে। সামনে আরও কয়েন ছাড়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য চাহিদা মেটানোর মতো এক টাকার কয়েন মজুত আছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, কয়েনের চেয়ে নোট ছাপার খরচ বেশি। আবার বেশি ব্যবহারের কারণে এক টাকার নোট অল্প দিনেই ছিঁড়ে-ফেটে যায়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক আর এক টাকার কাগুজে নোট ছাপাতে চায় না।
কিন্তু যেকোনো মূল্যমানের কয়েনই নাকি বাজারে কম চলে। শুভংকর সাহা বলছেন, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই ছোট মূল্যমানের টাকার বদলে কয়েন ব্যবহার করা হয়। সেসব দেশে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে পণ্য বা টিকিট কিনতে ওই কয়েন কাজে লাগে। বাংলাদেশে সেই ব্যবস্থা নেই। কয়েনের প্রয়োজনীয়তাও তাই কম।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে তাদের টাকা জমা রাখে। ফেরত নেওয়ার সময় প্রতি ১০০ কোটি টাকার এক লাখ নিতে হয় কয়েনে। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ বলছে, সেসব কয়েন তাদের গুদামেই (ভল্ট) পড়ে থাকে।
ঢাকা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় দায়িত্বরত নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহকেরা কয়েন নিতে চান না। বিশেষত এক টাকা, দুই টাকার নোটই তাঁরা পছন্দ করেন। তাঁর মতে, গ্রাহক চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত কয়েনের বদলে ছোট মূল্যমানের নোট বাজারে ছাড়া।
নোট বনাম কয়েনের এই টানাপোড়েন মৃতপ্রায় এক টাকাকে আরও অচল করে দিচ্ছে বলেই বাজার ঘুরে মনে হলো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এক টাকা ছাড় দেওয়ার কারণে পণ্য বা সেবার দাম এক টাকা বেড়ে যাচ্ছে। এটা মূল্যস্ফীতি তৈরি করছে। মুদ্রানীতি নিয়ে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান এম এ তসলিম বললেন, পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি হতেই থাকে। এতে লেনদেনের চলতি একক বা ইউনিট একটা সময়ে গিয়ে মূল্যহীন হয়ে পড়ে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহার মতে, লেনদেনে এক টাকা ছাড় দেওয়ার যে চর্চা গড়ে উঠেছে, তা পাল্টানো দরকার। একদিকে অনেক কয়েন মানুষের ঘরে পড়ে থাকছে। অন্যদিকে, সবাই এক টাকা করে ছাড় দিতে দিতে অনেক বড় অঙ্ক লেনদেনের হিসাব থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা- লাল ফিতার বাঁধন খুলছে না by সালমান ফরিদ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধিমালার খসড়া প্রণয়নকারী কমিটির সদস্য সচিব এবং ন্যাশনাল টোব্যাকো কন্ট্রোল সেলের সমন্বয়কারী আমিন-উল-আহসান বলেন, বিধিমালা বিষয়ে আমরা এখন আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়কে একটি তাগাদাপত্রও দেয়া হয়েছে। বিধিমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের ওপরই এখন নির্ভর করতে হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ একটি ধারা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের জোর আপত্তি। এটি হচ্ছে বিধিমালা কার্যকরের ৯ মাস পর নাকি ১৮ মাস পর তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে ছবিসহ সতর্কবাণী যুক্ত করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৯ মাসের প্রস্তাব করলেও আইন মন্ত্রণালয় ১৮ মাসের কথা বলেছে। চলতি বছরের ১২ই মার্চ গণমাধ্যমকে না জানিয়ে তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইন সচিব বৈঠক করেন। এরপরই এ ধারা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিরা নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ১৮ মাসের প্রস্তাব দেন। আইন মন্ত্রণালয় সেটিকে আমলে নিয়ে বিধিমালায় তা সংযুক্তির সুপারিশ করে। গত জুলাইয়ে ওই সুপারিশের সঙ্গে আরও কিছু প্রস্তাবনা যোগ করে আইন মন্ত্রণালয় এটি ফেরত পাঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাতে সম্মত হয়নি। তারা আগের ধারা রেখেই একই মাসের শেষ দিকে আবার সেটি পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়ে। এখনও সেটি রয়েছে সচিবের টেবিলে। অ্যান্টি টোব্যাকো আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, কঠোর বিধি ছাড়া আইনের প্রয়োগ সম্ভব না-ও হতে পারে। আর বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা বলছেন, আইনটিকে যাতে সর্বত্র এবং সব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা যায় সে জন্য নানা দিক বিবেচনা করে খসড়া প্রণয়ন হচ্ছে। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় কিছুু ধারা দুর্বল এমনকি তামাক কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে আইন পাসের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি প্রস্তাবিত বিধিমালা। যদিও গত বছরের মাঝামাঝির দিকে একটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন মিয়া জানিয়েছিলেন, নভেম্বরে (২০১৪) বিধিমালাটি প্রকাশ করা হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য তাইফুর রহমান বলেন, আমরা বিধিমালাটি যথেষ্ট শক্ত ও অ্যান্টি টোব্যাকোতে দারুণভাবে ভূমিকা রাখতে পারে- এমনভাবে খসড়া প্রণয়নের চেষ্টা করেছি। এতে ভুক্তভোগীর স্বার্থ রক্ষা রয়েছে। তবে এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত বিধিমালায় সেটি কেমন থাকে।
প্রণয়ন কমিটি সূত্র জানিয়েছে, বিধিমালা আইন বাস্তবায়নের সব ক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চিহ্নিত করে তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে। খসড়া বিধিমালায় ১৮ বছর বয়সের নিচে কারও কাছে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্য বিক্রি না করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া তামাকজাত সব পণ্যের মোড়কের অন্তত অর্ধেক জায়গাজুড়ে ভিক্টোরিয়াল ছবিসহ সতর্কবাণী সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। কোথাও ফুসফুসে কালো দাগ পড়ার ছবি, আবার কোথাও থাকবে মুখ বা চোয়ালের ক্ষতের ছবি। তার সঙ্গে তো সতর্কবাণী থাকবেই। ছবি সংযোজনের জন্য কোম্পানিগুলোকে প্রথমে ৬ মাসের সময় দেয়া হয়। পরে তা ৯ মাস করা হয়। এর মধ্যে তারা তা না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার। বিধিমালায় তামাকের সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাক ব্যবসায়ীরা আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে জনহিতকর কাজ করে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের আনুকূল্য পেতে নানা পদক্ষেপ চালাতে দেখা যায়। ‘প্রবাহ’, ‘দীপ্ত’, গণমাধ্যম বা বড় ইভেন্টের স্পন্সর ইত্যাদি উপায়ে তারা কৌশলে বিজ্ঞাপন অথবা নিজেদের প্রসারের প্রচেষ্টা করে। এসব ফাঁকফোকর এবং আইনের কিছু স্পর্শকাতর বিষয়েও সমাধান দেয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তামাক কোম্পানি তাদের নাম, লোগো ও রঙ ব্যবহার করতে পারবে না।
বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা জানান, এটি কার্যকর হলে পাবলিক প্লেস বা পরিবহনে ধূমপান করলে মালিককে জরিমানা করা যাবে। আইনে বলা আছে, এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রত্যেক পাবলিক প্লেস বা পাবলিক পরিবহনের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক, নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যবস্থাপক বিধি দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ এ সব স্থানে কেউ ধূমপান করলে সংশ্লিষ্ট স্থান বা পরিবহনের মালিক শাস্তি বা জরিমানার আওতায় আসবেন। বিধিটি পাস না হওয়ার কারণে তা এখনও প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর তামাক ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের ১২ লাখ লোক ৮টি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এ সব রোগীর মাত্র ২৫ শতাংশ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১১,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। তামাক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫৭,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। পঙ্গুত্ববরণ করছে ৩ লাখ ৮২,০০০ লোক। ২০০৯ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী ৪ কোটি ১৩ লাখ লোক তামাক সেবন করে, যা মোট জনসংখ্যার ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আর পুরুষদের মধ্যে তামাক সেবনের হার ৫৮ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে এ হার ২৮ দশমিক ৭।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খুলনাজুড়ে ইয়াবার থাবা by রাশিদুল ইসলাম

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশী পরিচারিকাকে নির্যাতন গৃহকর্ত্রীর জেল

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাবলুর মারপ্যাঁচে পদ হারালেন শেঠ by মহিউদ্দীন জুয়েল

সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউদ্দিন বাবলুর সফর বেড়ে যায় বন্দর নগরীতে। আর তার হাত ধরেই দল গোছানোর কাজ পান বর্তমান এমপি মাহজাবীন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সোলায়মান আলম শেঠ। তিনি বিষয়টি নিয়ে এরশাদকে জানাতেই দূরত্ব তৈরি হয় জিয়াউদ্দিন বাবলুর সঙ্গে। সর্বশেষ জাপায় বড় ধরনের রদবদলের পর চট্টগ্রামে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভেদ তৈরি হয়। একটি পক্ষ ব্যারিস্টার আনিস ও জিয়াউদ্দিন বাবলুকে সমর্থন করে। আর তার এ সমর্থন আদায়ের কাজটি করেন রাতারাতি আস্থাভাজন হন মাহজাবীন মোরশেদ। সম্প্রতি সোলায়মান আলম শেঠকে দল থেকে জোরপূর্বক অব্যাহতি দেয়ার ঘটনায় তোপের মুখে পড়েন জিয়াউদ্দিন বাবলু। তাকে দলে ফিরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাওসহ চারদিনের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বিদ্রোহীরা।
চলতি বছরের গত আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। পরে যুগ্ম আহ্বায়কদের এক সভায় নগরীর ১৫ থানা ও ৪১ ওয়ার্ডের সকল ধরনের সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোন ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করতে পারেনি মাহজাবীন সমর্থিত কমিটি। আর দলীয় এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জাপার রাজনীতিতে ঢুকতে ফের মরিয়া সোলায়মান আলম শেঠ। এজন্য তিনি একাধিকবার জিয়াউদ্দিন বাবলুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু বারবারই বাবলু তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে আলাপকালে জানান। তিনি জানান, চট্টগ্রামে জাপার রাজনীতিতে দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সক্রিয় রয়েছেন। ২০০৪ সালে নগর কমিটির আহ্বায়ক হন। ২০১৩ সালে এসে সভাপতির পদ পান। বর্তমানে তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে তা তিনি জানেন না। তবে এই ক্ষেত্রে তিনি জিয়াউদ্দিন বাবলুর ভূমিকাকে বড় করে দেখছেন। সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, মহাসচিব বাবলুর জন্য আমি চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি আসনটি ছেড়ে দিয়েছি। অথচ তিনি আমার ওপর যে আচরণ করেছেন তা একজন নিবেদিত নেতা হিসেবে মেনে নেয়া সত্যিই কষ্টকর। কি কারণে এমনটি করেছেন তা জানি না। শুনেছি আগামী ২৮ তারিখ আমাকে দলে ফিরিয়ে নিতে একটি বৈঠক হবে। তবে আমি এরশাদ স্যারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি দলের ভেতর এমন রাজনীতি হলে আমি আর জাপায় নেই।
শেঠ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জিয়াউদ্দিন বাবলু সাহেবের ছোট বোনের হাজব্যান্ড আমার বন্ধু। সে হিসেবে তিনি আমার পূর্বপরিচিত। অথচ তিনি আমাকে কোণঠাসা করে যাদের চট্টগ্রামে দায়িত্ব দিয়েছেন তারা কতটুকু দক্ষ তা সবাই দেখেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ক্ষুব্ধ। তাই সামনের মেয়র নির্বাচনে দলের বাইরে থেকে আমি দাঁড়াবো।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, দলীয় মহাসচিবের সঙ্গে সোলায়মান আলম শেঠের এমন দূরত্বে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তৃণমূলে। ইতিমধ্যে মহাসচিবের আস্থাভাজন মাহজাবীনের অনুসারীদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। কৌশলে শেঠকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর এ দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। শেঠপন্থিরা তার আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করবেন। পরদিন বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল, ২রা অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি থেকে গণপদত্যাগ করবেন বলে জানান।
সাবেক প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, মহাসচিবের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে শেঠ সাহেবকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। অন্যদিকে তাকে বাদ দিয়ে এমপি মাহজাবীনকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে। এ নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে তা শিগগিরই কেটে যাবে বলে মনে করছি। দলীয় হাইকমান্ড সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মাহজাবীন মোর্শেদ মানবজমিনকে বলেন, পার্টির মহাসচিব বলেছেন জাপাকে নতুন করে সাজানো হবে। সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে তৃণমূলদের নিয়ে দল গোছাবেন। যারা বাদ পড়েছেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় পার্টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আগের কমিটি দল চালাতে পারছিল না। তাই মহাসচিব বাবলু সাহেব নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
সূত্র জানায়, মাহজাবীন মোরশেদ জাপার ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হয়ে কাজ করছেন পুরো চট্টগ্রামে। অন্যদিকে কোটিপতি সোলায়মান আলম শেঠ নগর শাখার সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। তবে দুই নেতা দু’টি পদে থাকলেও বর্তমানে কেউই কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টিতে আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠ এরশাদপন্থি ও মাহজাবীন ব্যারিস্টার আনিস-জিয়াউদ্দিন বাবলুপন্থি হিসেবে পরিচিত। দু’জনের দ্বন্দ্বটা শুরু হয় জাপার কমিটি গঠন নিয়ে। গত বছরের ৩০শে মার্চ মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে সোলায়মান আলম শেঠ সভাপতি ও তপন চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষিত হয় ১১১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি। মাহজাবীন মোরশেদ ওই সময় অভিযোগ করেন, সোলায়মান আলম শেঠ কমিটি গঠনের আগে ৮ যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে ৭ জনকে সম্মেলনের ব্যাপারে কিছু বলেননি। কোন ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া তার একক সিদ্ধান্তে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
পরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভাল। সাংসদ মাহজাবীন মোরশেদ এখন নিষ্ক্রিয়। তিনি বহিষ্কৃত লোকদের নিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কার্যকলাপ করে যাচ্ছেন। আমি বিষয়টি দলের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।
তিনি বলেন, মাহজাবীন মোর্শেদ এসব বন্ধ না করলে আমরা চট্টগ্রাম থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবো। বিগত সময়ে উনাকে আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি কখনও আসেননি। এমনকি মহানগর অফিসেও তিনি কখনও যাননি। অভিযোগ প্রসঙ্গে মাহজাবীন মোরশেদ বলেন, আমার সঙ্গে যারা কাজ করছেন তারা জাতীয় পার্টির নিবেদিতপ্রাণ। এসব নেতা-কর্মীকে কখনওই বহিষ্কার করা হয়নি। সোলায়মান আলম শেঠ গায়ের জোরে সব কিছু করতে চাইছেন। নতুন মহাসচিব হওয়ায় তিনি কেন জানি বেশ আতঙ্কে আছেন। আর সে কারণে আবোল তাবোল বকছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫০০ সন্ত্রাসীর নয়া তালিকা ঢাকায় by নুরুজ্জামান লাবু
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মার্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একের পর এক খুন-ছিনতাইরের ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে না পারার বিষয়টি ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। এছাড়া অনেক সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বা প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হলেও পুরনো তালিকায় তাদের নাম ছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক অপরাধ কর্মকাণ্ডে নতুন নতুন মুখও দেখা গিয়েছে। অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড করে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা জরুরি হয়ে পড়ে। সূত্র জানায়, এসব কারণেই রাজধানীর ৪৯টি থানা ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী হালনাগাদ তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। হালনাগাদ তালিকায় পৃথক পৃথক ক্যাটিগরি রয়েছে। ভাড়াটে খুনি থেকে শুরু করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, বোমাবাজসহ কয়েকটি ক্যাটিগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের বর্তমান ঠিকানা, অবস্থান, আশ্রয়দাতা বা গডফাদার, রাজনৈতিক পরিচয় সব কিছুই ওই তালিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীতে এলাকা ভিত্তিক অপরাধীরা সাধারণত নিজ নিজ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে অপরাধ কর্মকাণ্ড করে থাকে। বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় সবাই শাহাদতের নাম ব্যবহার করে। এছাড়া পুরান ঢাকায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ডাকাত শহীদের নামে, ফার্মগেট এলাকায় সুব্রত বাইনের নামে, মগবাজার-মালিবাগ এলাকায় জিসানের নাম ব্যবহার করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কোন যোগাযোগ নেই। ভীতি সৃষ্টি করার জন্য তারা পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে। এরা উঠতি সন্ত্রাসী। আগের তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম থাকলেও উঠতি সন্ত্রাসীদের নাম ছিল না। নতুন তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীদের তালিকা অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হবে। এরই মধ্যে তালিকাগুলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম জোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে প্রায় প্রতিদিনই খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এলাকা ভিত্তিক এসব অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সন্ত্রাসীদের কোন না কোনভাবে সংযোগ থাকে। এ কারণে ঘটনার পরপরই ওই থানা এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকার খোঁজ করা হয়। কিন্তু পুুরনো তালিকাটি হালনাগাদ না থাকায় সমস্যায় পড়তে হতো। গোয়েন্দা পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, এখন কোথাও কোন অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধের ধরনের সঙ্গে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড মিলিয়ে অনুসন্ধান করা হলে সন্ত্রাসীদের সহজেই শনাক্ত করা যাবে। এছাড়া তালিকাভুক্ত এসব সন্ত্রাসীর সবাইকে আগেভাগে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও কোণঠাসা করে রাখা যাবে।
সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীদের হালনাগাদ তালিকায় ডিএমপির ৮টি ক্রাইম জোন মিরপুর, উত্তরা, গুলশান, তেজগাঁও, লালবাগ, ওয়ারী, মতিঝিল ও রমনা পৃথকভাবে সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, মিরপুর বিভাগের ছয়টি থানা এলাকায় ৫২ জন সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে। এরা হলো মিরপুর মডেল থানা এলাকার এম এ কাইয়ুম, মারুফ হাসান স্বপন, সেলিম আজাদ, আক্কাস আলী, ইমদাদুল হক, সোহেল ওরফে রাজীব ও এমিল। পল্লবী থানা এলাকার মজিবর রহমান ওরফে জামিল, মশিউর ওরফে মশু, আতিক ওরফে সবুজ, শরিফুল্লাহ ওরফে ভোটা শরীফ, মনসুর ওরফে ভৈরব মনসুর, আওলাদ হোসেন লাক্কু, আফাউল্লাহ, শফিকুল ইসলাম সফু, সাইদুর রহমান ওরফে টেইলার্স সহিদ, আবুল কালাম ওরফে ভাণ্ডারী কালাম, আজিজুল হক রনি, রুস্তম, মুন্না, রবি ও রনি (২)। কাফরুলের মাসুদ ওরফে হাতকাটা মাসুদ, আবু তাহের ওরফে ভাইস্তা বাবু, সজীব, ইব্রাহীম ও লিটন ওরফে কুত্তা লিটন। দারুসসালাম থানা এলাকার জগলুল পাশা ওরফে পাভেল, আজম, এনামুল করিম ওরফে বোমা খোকন, কালু, আমজাদ, সুমন ওরফে পাগলা সুমন, রাসেল ও ইকবাল হোসেন সেন্টু। শাহআলী থানা এলাকার লেলিন, আমজাদ হোসেন, কার্টুন মাসুদ, মনির হোসেন ওরফে বোমা মনির, আমিনুল ইসলাম ওরফে আঙ্কেল, মনির হোসেন ওরফে কিরণ, শাহাদত আলী, ইকবাল, পাংকু বাবু, সাজেদ হোসেন মিশু, সুজন, রানু, ভন্ড রনি, চিকু রনি, গাজী সুমন ও আবদুস সাত্তার। মিরপুর ছাড়া অন্য ক্রাইম জোন এলাকার প্রতিটিতে ৫০ থেকে ৭০ জনের করে নাম রয়েছে। গড়ে প্রতিটি থানা এলাকায় ১২-১৩ জন করে সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নতুন এই তালিকায় ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ-সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। মিরপুর বিভাগের তালিকায় ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরীর (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রনি ও ঢাকা মহানগর যুবলীগের (উত্তর) সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আওলাদ হোসেন লাক্কুর নামও রয়েছে।
এদিকে ডিএমপির একজন কর্মকর্তা জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের করা সন্ত্রাসীদের এই তালিকাভুক্তরা সবাই মাঝারি থেকে শীর্ষ পর্যায়ের সন্ত্রাসী। ছোটখাটো সন্ত্রাসীদের নাম এই তালিকায় নেই। তালিকাভুক্তরা সবাই একাধিক খুন-ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণ মামলার আসামি। এর পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম জোন থেকে পৃথক আরেকটি ডিজিটাল সন্ত্রাসী তালিকা করা হচ্ছে। যেখানে থানা পর্যায়ের বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক ছিঁচকে চোর থেকে শুরু করে সব ধরণের সন্ত্রাসীদের ডাটা সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিটি থানায় ডিজিটাল ডাটা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, সন্ত্রাসীদের ডিজিটাল তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে। এই তালিকা হলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর তাদের চিহ্নিত করা সহজ হয়ে যাবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার -মিট দ্য প্রেসে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ by সাযযাদ কাদির
এ সপ্তাহে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ও কাতালুনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনা’য় তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কাতালুনিয়া’র ‘জেনারালিতাত’ (আঞ্চলিক সরকার)-এর প্রেসিডেন্ট আরতুর মাস ই গাভারো (৫৮) বলেছেন, ‘সংবিধান ব্যবহার করে স্তব্ধ করা যাবে না কাতালুনিয়ার মানুষকে।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৯ই নভেম্বরকে স্বাধীনতার জন্য গণভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করে এক ডিক্রি জারি করতে যাচ্ছেন তিনি। আরতুর মাস বলেন, গত ১৯শে সেপ্টেম্বর কাতালুনিয়া’র পারলামেন্টে গণভোটের ব্যাপারে যে আইন পাস করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সাংবিধানিক। ওদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এখন অপেক্ষায়- কখন ওই ডিক্রিতে স্বাক্ষর করা হয় আর কখন ওই প্রকাশ-প্রচার করা হয় আনুষ্ঠানিক ভাবে, তাহলেই তাঁরা নালিশ ঠুকতে যেতে পারেন সাংবিধানিক আদালতে। যদি তাঁদের নালিশ শুনতে রাজি হয় আদালত তাহলে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আর গণভোট অনুষ্ঠানের আয়োজনে এগিয়ে যেতে পারবে না কাতালুনিয়া।
স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হওয়ায় অনেক কাতালান হতাশ হলেও আরতুর মাস বলেন, ‘ওই ভোটের কোনও প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পড়বে না আমাদের ভোটে।’ স্পেন সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁকে নিশ্চেষ্ট রাখতে। ২০শে সেপটেম্বর উপ- প্রধানমন্ত্রী সুরাইয়া সায়েঞ্জ দে সানতামারিয়া আন্তন (৪৩) বলেছেন, ‘যাঁরা কোনও কিছু শাসন-নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁদের উদ্দেশ্যে আমাদের বলার কথা একটাই- আইন মেনে চলুন। কোনও সিদ্ধান্তের পক্ষে স্বাক্ষর করা বা না করার আগে তাঁকে ভাবতে হবে- তিনি ওই অঞ্চলের সকল মানুষের প্রেসিডেন্ট; সেখানকার অনেকে এ রকম ভাবেন তো অনেকে আবার ও রকম ভাবেন।’ পরদিনই এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আরতুর মাস। বলেছেন, ‘জনগণ কথা বলতে চায়। তাদের এই কথা বলা বন্ধ করতে সংবিধানের ব্যবহার করা কি উচিত? কাতালান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস রয়েছে সুদীর্ঘকালের, সংবিধানের পাশাপাশি তা-ও দাবি রাখে বিবেচনার। আমি কাতালুনিয়া সরকারের ১২৯তম প্রেসিডেন্ট। স্পেনের ১৯৭৮ সালের সংবিধানের বহু আগে থেকেই অস্তিত্ব রয়েছে এ সরকারের।’ ওই দিনই স্বাধীনতা-বিরোধী ‘ইউনিয়ন, প্রোগ্রেস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’র নেত্রী রোজা মারিয়া দিয়েজ গনজালেজ (৬২) অভিযোগ করেন, মি. মাস লুকোচুরি খেলছেন। বলছেন না কবে স্বাক্ষর করবেন ডিক্রিতে, কবে প্রকাশ করবেন সংশ্লিষ্ট আইন। দেশের বেশির ভাগ মানুষকে তিনি রেখেছেন অনিশ্চয়তায়, সৃষ্টি করেছেন এক আইনগত নিরাপত্তাহীনতা।’ এ অভিযোগের কারণ- আদালত অবৈধ ঘোষণা করতে পারে এই আশঙ্কায় গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আগে যথেষ্ট অনীহা দেখিয়েছেন মাস, কিন্তু তাঁর ওপর গণভোটের ব্যাপারে প্রবল চাপ ছিল বরাবরই। স্বাধীনতাকামী কাতালানদের বড় অভিযোগ, তাঁদের রাজস্বের প্রায় পুরোটাই নিয়ে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার; উপরন্তু তাঁদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে কোণঠাসা করে রাখে সব দিক থেকে। কেন্দ্রীয় সরকার বলে, স্পেনের সঙ্গে যুক্ত থাকাতেই আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটছে কাতালুনিয়ার; আর সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পর্র্যায়েই স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছেন কাতালানরা। ফুটবলের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা’র ঐতিহ্যিক লড়াই রাজনীতি ও স্বাধীনতার ইতিহাসে কি রূপ নিয়ে দেখা দেয় এখন তা-ই ভাবনার বিষয় সকলের।
২২.০৯.২০১৪
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1432)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
September
(447)
-
▼
Sep 23
(10)
- ষোড়শী বা সুইট সিক্সটিন by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- এক টাকা আসলে এক টাকা নয় by সামছুর রহমান
- তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা- লাল ফিতার বাঁধন খুলছে না...
- খুলনাজুড়ে ইয়াবার থাবা by রাশিদুল ইসলাম
- বাংলাদেশী পরিচারিকাকে নির্যাতন গৃহকর্ত্রীর জেল
- জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদার অনুপস্থিতিতে স...
- বাবলুর মারপ্যাঁচে পদ হারালেন শেঠ by মহিউদ্দীন জুয়েল
- ৫০০ সন্ত্রাসীর নয়া তালিকা ঢাকায় by নুরুজ্জামান লাবু
- হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার -মিট দ্য প্রেসে মালয়েশিয়া...
- বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ by সাযযাদ কাদির
-
▼
Sep 23
(10)
-
▼
September
(447)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...