Tuesday, September 23, 2014

ষোড়শী বা সুইট সিক্সটিন by সৈয়দ আবুল মকসুদ

পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৫৭ বছরে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান নেতারা একবারই একটি বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছিলেন। মাত্র একবার, দুবার নয়। শ খানেক বছর আগের কথা। দেশের বিভিন্ন শহরের মতো ঢাকায়ও জজকোর্ট প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভা। গিলে করা পাঞ্জাবির পকেটে ধুতির খুঁট গুঁজে হিন্দু সমাজপতিরা উপস্থিত। অনেক দিনের পুরোনো আচকান-পাজামা পরে, হাতে-মুখে মেস্ক আম্বর আতর মেখে উপস্থিত মুসলমান সমাজপতিরা। সরকারের এক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদে বসেছেন। কেবল গোঁফের রেখা দেখা দিয়েছে দুই সম্প্রদায়ের এমন নওল যুবক ও কিশোরেরা রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে তাঁদের বক্তব্য শুনছে। দুই সম্প্রদায়ের নেতারা সব ভেদাভেদ ভুলে বুকে বুক, কাঁধে কাঁধ ও হাতে হাত রেখে একটি বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন। বিষয়টি অতীব জরুরি। তাঁদের সিদ্ধান্তের ওপর বাঙালি পুরুষদের যৌনজীবনের সুখ নির্ভর করছে। রাজনীতি নয়, অর্থনীতি নয়, সমাজনীতি নয়—বাঙালি হিন্দু-মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হলো যৌন প্রশ্নে।

সেকালে ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে প্রায় সব বাঙালি মেয়ের বিয়ে হতো সাত-আট থেকে ১০ বছরের মধ্যে। যেসব পরিবারের অভিভাবকদের কিছুটা কাণ্ডজ্ঞান ছিল, তাঁরা রজঃবতী না হওয়া পর্যন্ত পুত্রবধূকে শাশুড়ি, দাদিশাশুড়ি বা বিধবা পিসির কাছে শুতে দিতেন। তবে কাণ্ডজ্ঞান ও বিবেচনাসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বাঙালি সমাজে চিরকালই বিরল। প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বউমাকে ছেলের ঘরে ঠেলে দিত। বাঙালি বালিকা-কিশোরীর আর্তনাদ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছালেও শ্বশুর-শাশুড়ি রাখতেন কানে তুলা গুঁজে।
আলোচ্য ঘটনাটি ঘটে কলকাতার এক গলির মধ্যে। সেটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ। এক হৃষ্টপুষ্ট যুবক বছর আটেকের এক বালিকাকে, বস্তুত শিশুকে, ধুমধাম করে বিয়ে করে আনে। নির্মম অভিভাবকেরা তাকে বাসরঘরে ঠেলে দেন। কিছুক্ষণ পর মেয়েটির আর্তচিৎকারে মধ্যরাতেই পাড়া-পড়শিরা সে বাড়ির সামনে এসে ভিড় করে। নিরুপায় হয়ে বাড়ির লোকজন বালিকাটিকে নিয়ে যায় কলকাতা মেডিকেল কলেজে। পরদিন হতভাগিনী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে। খবরটি কাগজে আসে। বোধ করি ছেলেটি ও তার বাবা-মায়ের সামান্য শাস্তি হয়েছিল।
পত্রিকায় খবরটি ফলাও করে আসায় ইংরেজ কর্মকর্তাদের তা দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, ঋতুমতী হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হবে। এই নির্মম ঘোষণা বাঙালি পুরুষেরা মানবেন কেন? তাঁরা তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন এবং প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। ১০০ বছর আগে এখনকার মতো যানবাহন ছিল না। থাকলে তাঁরা মোটরযান ভাঙচুর করতেন, বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দিতেন, অথবা উপড়ে ফেলতেন রেললাইন। কিন্তু যা করেছিলেন, তা হলো সারা বাংলায় প্রতিবাদ সভা। তেমনই একটি বা একাধিক হয়েছিল ঢাকা জজকোর্টের আঙিনায়। তাতে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই যোগ দেয়। কিশোরী বধূর চেয়ে মধুর এ জগতে আর কিছু নেই।
বিয়ের বয়স কমতে পারে, বাল্যবিবাহে সাজা বাড়ছে উল্লিখিত বালিকাটি আরও অনেকের মতো নীরবে মারা গেলে কোনো ঝামেলা হতো না। মেয়েটি ঝামেলা বাধায় চিৎকার করে কেঁদে। বিশেষ করে, পাড়ার লোকজন জড়ো হওয়ায়। অভিভাবকেরা বলতে পারেননি, বউমা রাতে শৌচাগারে গিয়েছিল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। তাকে সাপে কেটেছে। আমাদের বাড়িতে অনেকগুলো গোখরা সাপ আছে। সাপুড়ে ডেকে মারব মারব করছিলাম, এর মধ্যে বউমা-ই চলে গেল। বাঙালি যেকোনো ব্যাপারে বানিয়ে বানিয়ে সত্যি কথা বলতে অভ্যস্ত। এবং দেশসুদ্ধ লোককে ঘাড় ধরে বা গলায় গামছা দিয়ে হলেও তা বিশ্বাস করাতে সে বাধ্য করে।
মন্ত্রিপরিষদ কয়েক দিন আগে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের খসড়া-২০১৪ অনুমোদন দিয়েছে। তাতে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ এবং ছেলেদের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সী ছেলেদের বিয়ের অনুমোদন নেই। যদিও এই বঙ্গভূমিতে সব আইন অগ্রাহ্য করার মতো এ আইনকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাবালক-সাবালিকা হওয়া মাত্রই দেরি করেন না অনেকের অভিভাবক।
বাঙালি জাতীয়তাবাদী সরকার বাংলা কবিতা থেকে অফুরন্ত প্রেরণা পেয়ে থাকে। এবং তা শুধু সাংস্কৃতিক ব্যাপারে নয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারেও। ষোড়শী শব্দটি কয়েক শ বছর ধরে বাঙালি কবিদের ছিল খুবই প্রিয়। আমাদের জাতীয় কবিও তাঁর সেরা সৃষ্টিতে বলেছেন: ‘আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি।’ কবি ১৬ বছর বয়স্কার সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি ও প্রেমপিরিত করে ধন্য হবেন, আর বাংলার ছোকরারা, যারা প্রথম ভোটার, বসে বসে আঙুল চুষবে, বাঙালি জাতীয়তাবাদী মহাজোট তা বসে বসে দেখবে, তা হয় না। তাই তারা মেয়েদের বিয়ের বয়স ষোলোতে নামিয়ে আনছে।
মেয়েদের ১৬ বয়সটির প্রতি শুধু কামাতুর বাঙালি পুরুষদেরই লোভ, তা নয়। ইংরেজরাও কম যায় না। তারা ষোড়শী না বলে বলে সুইট সিক্সটিন—মিষ্টি ষোলো। তা ছাড়া, আমাদের দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাদের ১৬ সংখ্যাটির প্রতি বিশেষ দুর্বলতা থাকাই স্বাভাবিক। ওদিকে ১৬ তারিখটি জেনারেল নিয়াজিরও আমৃত্যু ভোলা সম্ভব হয়নি।
মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স ১৮ বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার নির্ধারণ করেনি। তা অনেক দিন আগের সরকারের করা। সারা দুনিয়ায়

১৮ বছরের নিচের মানবসন্তানদের গণ্য করা হয় অপ্রাপ্তবয়স্ক বা ‘শিশু’ হিসেবে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদে তা-ই বলা আছে। আমাদের মহাজোট শুধু খালেদা জিয়াকেই যে পরোয়া করে না, তা-ই নয়, বান কি মুন বা জন কেরিকেও তোয়াক্কা করে না।
আমার ভয় ছিল, বাঙালি মেয়ের বিয়ের বয়স ১০-এ নামিয়ে আনা না হয়। কারণ, বাঙালির শ্রেষ্ঠ কবি ভবতারিণী ওরফে মৃণালিনী দেবীকে যখন জোড়াসাঁকোর বাড়িতে তোলেন গৃহিণী হিসেবে, তখন তাঁর বয়স ১০ বছর। সুতরাং কবির প্রতি সম্মান দেখাতে সরকার নতুন আইন করতেই পারে। অবশ্য আইন প্রণয়নে এই সরকার ক্লান্তিহীন। এরপর যদি আইন হয় ছেলেদের খতনা দিতে হবে আটে এবং পরবর্তী ১০টি বছর সে পাবে বিয়ের প্রস্তুতির সময়। এখন বিয়ের বয়সের নীতিগত সিদ্ধান্তটি হয়েছে। যখন আইন হবে, তখন তাতে গায়েহলুদের বিষয়টিও থাকবে। গায়েহলুদে কত লোক খাওয়ানো যাবে, বরের পক্ষ থেকে সর্বনিম্ন কত কেজি মিষ্টি আনতে হবে, স্থানীয় কলেজের ‘ছাত্রনেতাদের’ কী পরিমাণ চাঁদা দিতে হবে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও বউভাত সম্পর্কেও থাকবে নির্দেশনা। বিয়ে বিষয়ে আরও নির্দেশনা থাকতে পারে। কোনো এক পক্ষ যদি রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানপন্থী হয়, সে ক্ষেত্রে বিয়ে বন্ধ থাকবে না৷ শুধু খেয়াল রাখতে হবে, রাজাকার পক্ষের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার ওপরে কি না!
মন্ত্রিপরিষদ কাম উপদেষ্টা পরিষদের যে বৈঠকে কিশোরী বিবাহের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়, তার সব পুরুষ সদস্যেরই একটি প্রবাদ মনে পড়ে থাকবে: বাঙালি নারী কুড়িতেই বুড়ি। সুতরাং বুড়িতে পরিণত হওয়ার চার বছর আগে তাকে স্ত্রী হিসেবে পাওয়ার অধিকার তার আছে।
আমাদের সুরসিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সভাতেই বিয়ের সর্বোচ্চ বয়স নিয়েও কথা তোলেন। একটি লাল পাঞ্জাবির দিকে চোখ পড়তেই তিনি সর্বোচ্চ বয়স নিয়ে কথা তোলেন। সিক্সটিফাইভ-থার্টিফাইভ অর্থাৎ ৬৫-৩৫ (ক্ষেত্রবিশেষে ৬৮-৩২)। দম্পতির বয়সের যোগফল হানড্রেড বা ১০০। বঙ্গীয় মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬-তে নামানোর তাৎপর্য হলো এই: মাননীয় মন্ত্রীর কনের বয়স যদি হয় ৩২, আমজনতার বউয়ের বয়স হবে তার অর্ধেক অর্থাৎ ১৬।
এখন থেকে বাঙালি নারী মা হবেন ১৬ বছর নয় মাসে। দুই সন্তানের জননী হবেন ১৭ বছর ১০ মাসে। মৃণালিনী দেবীর মতো ২২ বছর বয়সের আগেই চার-পাঁচ ছেলেমেয়ের মা হবেন। আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বাঙালি মেয়ে ১৭-তে মা, ৩৩-এ শাশুড়ি ও ৩৪-এ নানি হবেন। ৫০ বছর বয়সে নানিশাশুড়ি। ৫১-তে নাতবউয়ের কোলে পুতি দেখে তাঁর চোখ জুড়াবে।
এখন তো বাংলাদেশে জনগণ খুব পাতলা। ১৬/১৮ আইন হলে বাচ্চাকাচ্চায় ভরে যাবে দেশ। ২০২১ সালে হবে ২১ কোটি। ২০৪১-এ মহাজোটের মেয়াদ পূর্তিকালে হবে ৪১ কোটি। সরকার আমলা থেকে বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত সবারই মনোবাঞ্ছা পূরণে বদ্ধপরিকর। তবে আমাদের মতো বেকুবদের মনে হয় কোনো আইন করার আগে দেশের ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা অবশ্যকর্তব্য।
দিনবদলের সরকার দিন না বদলে বদলাচ্ছে বিয়ের বয়স আর মন্ত্রণালয়ের নাম। আর বদলাচ্ছে জীবনের জরুরি বিষয়ের সংজ্ঞা: রাজনীতির সংজ্ঞা, গণতন্ত্রের সংজ্ঞা।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷

এক টাকা আসলে এক টাকা নয় by সামছুর রহমান

শায়েস্তা খাঁর আমলে আট মণ চাল পাওয়া যেত। ৫০ বছর আগে পাওয়া যেত আস্ত একটি মুরগি। গত শতাব্দীর শেষের দিকেও মিলত মুরগির একটি ডিম। এখন বড়জোর পুঁচকে একটা লজেন্স। এক টাকার ক্রয়ক্ষমতার ধারাবিবরণীটা এমনই। বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি যা, তাতে শিগগিরই হয়তো এক টাকা চলে যাবে সিকি, আধুলি তথা ২৫ পয়সা, ৫০ পয়সার কাতারে। স্থান হবে টাকার জাদুঘরে। এক টাকার কাগুজে নোট বা ধাতব মুদ্রাটি ব্যাংক নোট নয়, এটি সরকারের। সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়ে এই টাকা বা কয়েন ছেপে বাজারে ছাড়ে। লেনদেনে এক টাকার ব্যবহার প্রায় উঠে যাচ্ছে। খুচরা দেওয়ার সময় দোকানি এক টাকার বদলে একটা লজেন্স ধরিয়ে দিচ্ছেন। বাসভাড়া, রিকশাভাড়াসহ কেনাকাটায় এক টাকা কম বা বেশি দিতে বা নিতে হচ্ছে।

এক টাকার বদলে লজেন্স দেওয়ার পেছনে অবশ্য দোকানিদের ব্যবসায়িক স্বার্থটাই টনটনে বলে মনে হলো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি চা-সিগারেটের দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১০০ লজেন্সের একটি প্যাকেট তাঁরা কেনেন মানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। চা বা সিগারেটের ক্রেতাদের এক টাকার বিনিময় পণ্য হিসেবে ১০০ লজেন্স গছিয়ে দিতে পারলে লাভ হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা!
বাসে এই চিত্রটা কেমন? মিরপুর ১ নম্বর থেকে নিউ ভিশন পরিবহনে ফার্মগেট পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হয় ১৩ টাকা। আর মতিঝিল পর্যন্ত ২৩ টাকা। নিউ ভিশনের একটি বাসের সহকারী মো. ফারুক বলছিলেন, ‘যাত্রীরা হয় ১২, না হয় ২২ টাকা দেয়। এক টাকার লাইগ্যা খ্যাঁচখ্যাঁচ করতে ভালো লাগে না।’
আবার যাত্রী কাজল শাহর অভিজ্ঞতা ভিন্ন। ৩ নম্বর বাসে ফার্মগেট থেকে এয়ারপোর্ট স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া ১২ টাকা। কিন্তু ১৫ টাকা দিলে কন্ডাক্টর ফেরত দেন দুই টাকা। মানে, ভাড়া নিয়ে নেন ১৩ টাকা। এক টাকা কি তবে তুচ্ছ হয়ে গেছে? নাকি বাজারে এক টাকার সরবরাহ না থাকায় ভাংতির আকাল পড়েছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা অবশ্য বলছেন, সরবরাহের কোনো সংকট থাকার কথা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাজারে এক টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েন ছেড়েছে ২০০ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২টি। আর এক টাকার কাগুজে নোট ছেড়েছে ৪২ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার ৬২১টি।
খোঁজখবরে দেখা গেল, এক টাকার লাপাত্তা হওয়ার পেছনে নোট আর কয়েনের দ্বন্দ্বও একটা কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক এক টাকার নোটের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি কয়েন বাজারে ছেড়েছে। সামনে আরও কয়েন ছাড়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য চাহিদা মেটানোর মতো এক টাকার কয়েন মজুত আছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, কয়েনের চেয়ে নোট ছাপার খরচ বেশি। আবার বেশি ব্যবহারের কারণে এক টাকার নোট অল্প দিনেই ছিঁড়ে-ফেটে যায়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক আর এক টাকার কাগুজে নোট ছাপাতে চায় না।
কিন্তু যেকোনো মূল্যমানের কয়েনই নাকি বাজারে কম চলে। শুভংকর সাহা বলছেন, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই ছোট মূল্যমানের টাকার বদলে কয়েন ব্যবহার করা হয়। সেসব দেশে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে পণ্য বা টিকিট কিনতে ওই কয়েন কাজে লাগে। বাংলাদেশে সেই ব্যবস্থা নেই। কয়েনের প্রয়োজনীয়তাও তাই কম।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে তাদের টাকা জমা রাখে। ফেরত নেওয়ার সময় প্রতি ১০০ কোটি টাকার এক লাখ নিতে হয় কয়েনে। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ বলছে, সেসব কয়েন তাদের গুদামেই (ভল্ট) পড়ে থাকে।
ঢাকা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় দায়িত্বরত নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহকেরা কয়েন নিতে চান না। বিশেষত এক টাকা, দুই টাকার নোটই তাঁরা পছন্দ করেন। তাঁর মতে, গ্রাহক চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত কয়েনের বদলে ছোট মূল্যমানের নোট বাজারে ছাড়া।
নোট বনাম কয়েনের এই টানাপোড়েন মৃতপ্রায় এক টাকাকে আরও অচল করে দিচ্ছে বলেই বাজার ঘুরে মনে হলো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এক টাকা ছাড় দেওয়ার কারণে পণ্য বা সেবার দাম এক টাকা বেড়ে যাচ্ছে। এটা মূল্যস্ফীতি তৈরি করছে। মুদ্রানীতি নিয়ে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান এম এ তসলিম বললেন, পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি হতেই থাকে। এতে লেনদেনের চলতি একক বা ইউনিট একটা সময়ে গিয়ে মূল্যহীন হয়ে পড়ে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহার মতে, লেনদেনে এক টাকা ছাড় দেওয়ার যে চর্চা গড়ে উঠেছে, তা পাল্টানো দরকার। একদিকে অনেক কয়েন মানুষের ঘরে পড়ে থাকছে। অন্যদিকে, সবাই এক টাকা করে ছাড় দিতে দিতে অনেক বড় অঙ্ক লেনদেনের হিসাব থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা- লাল ফিতার বাঁধন খুলছে না by সালমান ফরিদ

‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০১৩’ পাস হয় গত বছরের ২৯শে এপ্রিল। এরপর এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজন দেখা দেয় বিধিমালার। তারও খসড়া প্রণয়ন করে সরকার। কাজ শেষ হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। প্রস্তুতি ছিল নভেম্বরের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত করার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সেটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু বিপত্তি বাধে সেখানেই। একটি ধারায় আপত্তি থাকায় ফাইলটি এখন পর্যন্ত আইন সচিবের টেবিলে আটকে আছে। বিধিমালা প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও তামাকবিরোধী সংগঠনের কর্মীরা আইন মন্ত্রণালয়ের ‘গড়িমসি’র কারণে সহসা বিধিমালা আলোর মুখ হয়তো দেখবে না- এমন সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, বিধিমালা জারি যত দেরি হবে, আইন প্রয়োগ তথা বাস্তবায়নে ততটা বিলম্ব হবে। আর এটিই চাইছে তামাক কোম্পানিগুলো। এ কারণে নীতিমালা হলেও বিধিমালার অভাবে এখন পর্যন্ত অকার্যকর থেকে গেছে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধিমালার খসড়া প্রণয়নকারী কমিটির সদস্য সচিব এবং ন্যাশনাল টোব্যাকো কন্ট্রোল সেলের সমন্বয়কারী আমিন-উল-আহসান বলেন, বিধিমালা বিষয়ে আমরা এখন আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়কে একটি তাগাদাপত্রও দেয়া হয়েছে। বিধিমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের ওপরই এখন নির্ভর করতে হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ একটি ধারা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের জোর আপত্তি। এটি হচ্ছে বিধিমালা কার্যকরের ৯ মাস পর নাকি ১৮ মাস পর তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে ছবিসহ সতর্কবাণী যুক্ত করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৯ মাসের প্রস্তাব করলেও আইন মন্ত্রণালয় ১৮ মাসের কথা বলেছে। চলতি বছরের ১২ই মার্চ গণমাধ্যমকে না জানিয়ে তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইন সচিব বৈঠক করেন। এরপরই এ ধারা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিরা নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ১৮ মাসের প্রস্তাব দেন। আইন মন্ত্রণালয় সেটিকে আমলে নিয়ে বিধিমালায় তা সংযুক্তির সুপারিশ করে। গত জুলাইয়ে ওই সুপারিশের সঙ্গে আরও কিছু প্রস্তাবনা যোগ করে আইন মন্ত্রণালয় এটি ফেরত পাঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাতে সম্মত হয়নি। তারা আগের ধারা রেখেই একই মাসের শেষ দিকে আবার সেটি পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়ে। এখনও সেটি রয়েছে সচিবের টেবিলে। অ্যান্টি টোব্যাকো আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, কঠোর বিধি ছাড়া আইনের প্রয়োগ সম্ভব না-ও হতে পারে। আর বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা বলছেন, আইনটিকে যাতে সর্বত্র এবং সব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা যায় সে জন্য নানা দিক বিবেচনা করে খসড়া প্রণয়ন হচ্ছে। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় কিছুু ধারা দুর্বল এমনকি তামাক কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে আইন পাসের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি প্রস্তাবিত বিধিমালা। যদিও গত বছরের মাঝামাঝির দিকে একটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন মিয়া জানিয়েছিলেন, নভেম্বরে (২০১৪) বিধিমালাটি প্রকাশ করা হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য তাইফুর রহমান বলেন, আমরা বিধিমালাটি যথেষ্ট শক্ত ও অ্যান্টি টোব্যাকোতে দারুণভাবে ভূমিকা রাখতে পারে- এমনভাবে খসড়া প্রণয়নের চেষ্টা করেছি। এতে ভুক্তভোগীর স্বার্থ রক্ষা রয়েছে। তবে এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত বিধিমালায় সেটি কেমন থাকে।
প্রণয়ন কমিটি সূত্র জানিয়েছে, বিধিমালা আইন বাস্তবায়নের সব ক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চিহ্নিত করে তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে। খসড়া বিধিমালায় ১৮ বছর বয়সের নিচে কারও কাছে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্য বিক্রি না করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া তামাকজাত সব পণ্যের মোড়কের অন্তত অর্ধেক জায়গাজুড়ে ভিক্টোরিয়াল ছবিসহ সতর্কবাণী সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। কোথাও ফুসফুসে কালো দাগ পড়ার ছবি, আবার কোথাও থাকবে মুখ বা চোয়ালের ক্ষতের ছবি। তার সঙ্গে তো সতর্কবাণী থাকবেই। ছবি সংযোজনের জন্য কোম্পানিগুলোকে প্রথমে ৬ মাসের সময় দেয়া হয়। পরে তা ৯ মাস করা হয়। এর মধ্যে তারা তা না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার। বিধিমালায় তামাকের সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাক ব্যবসায়ীরা আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে জনহিতকর কাজ করে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের আনুকূল্য পেতে নানা পদক্ষেপ চালাতে দেখা যায়। ‘প্রবাহ’, ‘দীপ্ত’, গণমাধ্যম বা বড় ইভেন্টের স্পন্সর ইত্যাদি উপায়ে তারা কৌশলে বিজ্ঞাপন অথবা নিজেদের প্রসারের প্রচেষ্টা করে। এসব ফাঁকফোকর এবং আইনের কিছু স্পর্শকাতর বিষয়েও সমাধান দেয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তামাক কোম্পানি তাদের নাম, লোগো ও রঙ ব্যবহার করতে পারবে না।
বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা জানান, এটি কার্যকর হলে পাবলিক প্লেস বা পরিবহনে ধূমপান করলে মালিককে জরিমানা করা যাবে। আইনে বলা আছে, এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রত্যেক পাবলিক প্লেস বা পাবলিক পরিবহনের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক, নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যবস্থাপক বিধি দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ এ সব স্থানে কেউ ধূমপান করলে সংশ্লিষ্ট স্থান বা পরিবহনের মালিক শাস্তি বা জরিমানার আওতায় আসবেন। বিধিটি পাস না হওয়ার কারণে তা এখনও প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর তামাক ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের ১২ লাখ লোক ৮টি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এ সব রোগীর মাত্র ২৫ শতাংশ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১১,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। তামাক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫৭,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। পঙ্গুত্ববরণ করছে ৩ লাখ ৮২,০০০ লোক। ২০০৯ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী ৪ কোটি ১৩ লাখ লোক তামাক সেবন করে, যা মোট জনসংখ্যার ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আর পুরুষদের মধ্যে তামাক সেবনের হার ৫৮ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে এ হার ২৮ দশমিক ৭।

খুলনাজুড়ে ইয়াবার থাবা by রাশিদুল ইসলাম

খুলনায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ইয়াবার ব্যবহার। গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের পর মাদকসেবীদের নেশার তালিকায় এখন যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবার নাম সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ওই নেশার প্রথম শিকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫ হাজার পিস ইয়াবা বিকিকিনি হচ্ছে খুলনায়। অবৈধ এ ব্যবসার সঙ্গে খুলনায় ১০ জন পাইকারী এবং ২৫ জন খুচরা বিক্রেতা জড়িত রয়েছে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে। আর এসব ব্যবসায়ীদের প্রথম টার্গেটে রয়েছে স্পর্শকাতর ও জনবহুল প্রতিষ্ঠানসমূহ। পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১২ই সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার লোহার গেট এলাকা থেকে ৪২ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয় ৯নং চৌধুরী গলির বাসিন্দা কামরুল হোসেন কনি (১৯) ও পূর্ব বানিয়াখামারের ৪নং বি কে মেইন রোডের বাসিন্দা জাকিরুল ইসলাম (২২) এবং টুটপাড়া মহিরবাড়ী খালপাড় এলাকার ট্যারা পান্না নামের তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগের দিন ১১ই সেপ্টেম্বর বিকালে খালিশপুরের গোয়ালখালী এলাকা থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ মো. রাহাত শেখ (২১)কে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। সে মুজগুন্নি উত্তরপাড়ার মসজিদ রোডের বাসিন্দা। আবার গত ৮ই সেপ্টেম্বর দুপুরে কেডিএ এভিনিউ এলাকার খলিল চেম্বার সংলগ্ন ছোবা বস্তি এলাকা থেকে জামাল সরদারকে (৩৫) পুলিশ দুই পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজা সুলতানা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে সাতদিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৬ই সেপ্টেম্বর দুপুরে খালিশপুর এলাকা থেকে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ দৌলতপুরের জাহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল হোসেন রানা (২৪)কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর ৪ঠা সেপ্টেম্বর বিকালে শেরেবাংলা রোডের হিমু লেন থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয় মরহুম হাজী আবদল কাদেরের ছেলে আবুল কালাম (৪২)কে আটক করে মাদবদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরপর ২ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের কালু মিস্ত্রির চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব। এ সময় সাতক্ষীরার উত্তর ফিংড়ি হুজুরবাড়ির বাসিন্দা মৃত আবদুর রহিম সরদারের ছেলে মো. রাজু আহমেদ (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। ১লা সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রূপসা ব্রিজের পশ্চিমপাড় এলাকা থেকে ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবাসহ মো. ইকবাল হোসেন (৩২) নামের একজন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জের সাতসাইল গ্রামের ইকবাল হোসেন পুলিশকে জানায়, সে চট্টগ্রাম থেকে খুলনায় ইয়াবার চালান পৌঁছানোর দায়িত্বে ছিলেন। ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে পুলিশের কাছে খুলনা মহানগরীর কতিপয় রাজনৈতিকের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেন তিনি। গত ৫-৬ই সেপ্টেম্বর লবণচরা থানায় দু’দিনের রিমান্ডে সে পুলিশকে জানায়, প্রায় প্রতি রাতেই খুলনাতে ইয়াবার চালান নিয়ে এসেছে। তার শুধু দায়িত্ব ছিল পার্টির কাছে পৌঁছে দেয়া। সে এই চক্রের কয়েকজনের নাম প্রকাশ করলেও সূত্রটি তা জানাতে রাজি হয়নি। তবে খুলনার রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা কতিপয় ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির হোতা বলে জানিয়েছে। খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের সূত্র জানায়, নগরীর টুটপাড়া, বানিয়াখামার, নিরালা, শেখপাড়া, গল্লামারী, নতুনবাজার, লবণচরা, খালিশপুর, দৌলতপুর ও ফুলবাড়িগেট এলাকায় ১০ থেকে ১২ জন পাইকারি বিক্রেতা নিয়মিত ইয়াবা বিক্রি করছে। একই সঙ্গে প্রায় ২৫ জন খুচরা বিক্রেতা সরাসরি ইয়াবাসেবীদের কাছে সরবরাহ করছে। প্রতি মাসে গড়ে খুলনায় ৫ হাজার পিস ইয়াবা বিকিকিনি হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা সাড়ে ৩০০ টাকা হারে প্রতি পিস ট্যাবলেট বিক্রি করে বলে জানা যায়। পুলিশকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছে এমন অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে শ্রেণী-পেশার মানুষের তুলনায় উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবাসেবীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, নগরীর যেসব হোটেলগুলোতে অনৈতিক কাজ হয়, সেখানে ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবহার বেশি। সে হিসেবে ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় নিউ মার্কেটে, বৈকালি ঝুড়ির ভিটা, মুজগুন্নি স্টেডিয়ামের পাশে, ফুলবাড়িগেট ও বয়রা এলাকার একটি হোস্টেলে এবং নগরীতে অভিজাত শ্রেণীর পাশাপাশি ছোটখাট হোটেলে চলছে বেচাকেনা ও সেবনের কাজ। বড় বাজার সংলগ্ন কালীবাড়ী, হেলাতলা, থানার মোড়, ক্লে রোড ও তার আশপাশের এলাকা, পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলা, রয়েল মোড় দৌলতপুরসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ৮০টির অধিক অভিজাত ও সাধারণ হোটেলে ইয়াবা সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে পুলিশের কাছে। এ ছাড়া খুলনার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে ইয়াবা’র বেচাকেনা চলছে বলে জানিয়েছেন সূত্রটি। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গোয়েন্দা) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স লেবেলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবাসেবীর সংখ্যা বাড়ছে। খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক পারভীন আক্তার জানান, যতটুকু জানতে পেরেছি প্রতিমাসে খুলনায় প্রায় শ’খানেক মামলা হচ্ছে। মোবাইল কোর্টে সাজা না দিয়ে মামলা দায়ের হলে ৫-৬ বছর লেগে যায় নিষ্পত্তিতে। তখন অনেক অপরাধী প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। ফলে সমাজকে ইয়াবার ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশী পরিচারিকাকে নির্যাতন গৃহকর্ত্রীর জেল

হংকংয়ে কর্মরত বাংলাদেশী পরিচারিকা রোকসানা বেগমের শরীরে গরম পানি ঢেলে পুড়িয়ে দেয় গৃহকর্র্ত্রী অ ওয়াই চুন (৬১)। এ নিয়ে মামলা হলে দেশটির একটি আদালত রায়ে চুন’কে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে রায় ১৮ মাসের জন্য স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে সাউথ চাইনা মর্নিং পোস্ট। চুন হংকংয়ের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। রায় ঘোষণার সময় বিচারক পাং চুং পিং বলেন, অ ওয়াই চুন যখন রোকসানা বেগমের শরীরে গরম পানি ঢেলেছে তখন সে শহরের সুনাম ক্ষুণ্ন্ন করেছে। এতে রোকসানা বেগমের বুক ঝলসে গেছে। বিচারক চুনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হংকংয়ের চাকরিদাতাদের প্রতি বিদেশী কর্মীদের যে আস্থা রয়েছে আপনি শুধু সেটাই নষ্ট করেননি বরং তাদের সুনামেরও হানি করেছেন। চুনের শারীরিক অসুস্থতা ও তার বন্ধু, স্বজন, চিকিৎসকদের অনুরোধ বিবেচনায় বিচারক দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চুন তার বিরুদ্ধে আনীত গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেও, শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি সাধনের অপেক্ষাকৃত লঘু অভিযোগ এড়াতে পারেনি। ঘটনার দিন চুন রোকসানাকে এক কাপ গরম পানি দিতে বলেন। পানি হাতে পাওয়ার পর তা যথেষ্ট গরম নয় বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডার পর রোকসানার শরীরে ওই পানি ঢেলে দেয় চুন। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী ফার্স্ট টু সেকেন্ড ডিগ্রি বার্নের শিকার হয় রোকসানা। চুনের আইনজীবী জুডি মা আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করে, রোকসানা নিজেই নিজেকে পুড়িয়েছেন। এমন দাবির পেছনে সে যুক্তি প্রদর্শন করে, রোকসানা বাংলদেশে ফেরত যেতে চাইছিল আর চুন ও চুনের বন্ধু লিউং শের-ইং (রোকসানার চাকরি চুক্তিনামায় চাকরিদাতা হিসেবে উল্লিখিত ব্যক্তি) এর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আসায় তিনি এমনটা করেছেন। এছাড়া এমন কোন হামলা চালানোর মতো চুন শারীরিকভাবে সক্ষম নয়। আদালত মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নেয়া সাক্ষ্যে নিশ্চিত হয়েছেন বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে হাত, পা, পিঠ ও ঘাড়ে তীব্র ব্যথায় ভুগছেন চুন। সব সাক্ষ্য-প্রমাণের আলোকে বিচারক পাং বলেছেন, রোকসানার ওপর গরম পানি ঢালতে গিয়ে চুনের সাময়িক ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কিন্তু সেটা ওই হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয় না।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছেন আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দু’টি মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ গতকাল আদালতে আংশিক জবানবন্দি দেন। মাত্র ৬ মিনিটের জবানবন্দি শুনে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ই অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। হারুনুর রশীদ আলোচিত এই মামলার প্রথম সাক্ষী। এর আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা ৮টি আবেদনের মধ্যে ৪টি নামঞ্জুর, ২টি মঞ্জুর ও ২টি  রেকর্ডভুক্ত করেন আদালতের বিচারক। এর মধ্যে দু’টি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাতে দুটি, সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে মামলা দু’টির কার্যক্রম বাতিলের জন্য করা লিভ টু আপিলের শুনানি আগামী ১৪ই অক্টোবর ধার্য থাকায় এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ না করার একটি আবেদন খারিজ করেন আদালত। রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার তৃতীয় মহানগর বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে দু’টি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। গতকাল বাদীর জবানবন্দির সময় এই মামলার জামিনে থাকা চার আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল, শারফুদ্দিন আহমেদ, জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আসামির কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা দুটি মামলায় চলতি বছরের ১৯শে মার্চ অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। এর মধ্যে এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জন এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে আরো তিনজন আসামি হিসেবে রয়েছেন। এ দুই মামলায় অভিযোগ গঠনকারী বিচারকের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আপিল বিভাগে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও খালেদা জিয়া দুটি রিভিশন আবেদন করেছিলেন, যেগুলো হাইকোর্টে খারিজ হয়। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা খালেদার আবেদন বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পূর্ব নির্ধারিত আদালত বর্জন কর্মসূচির মধ্যে গতকাল খালেদা জিয়া নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে না এসে আইনজীবীদের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য আবারও আবেদন করেন। আদালতে আসতে না পারায় তিনি এদিন ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফেরও আবেদন করেন। দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টা রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে বিচারক বাসুদেব রায় সময়ের আবেদন খারিজ করে সোমবারই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করতে চাইলে হট্টগোল শুরু করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তবে এসময় খালেদা জিয়ার পক্ষে নিয়মিত মামলা পরিচালনাকারী সিনিয়র কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ (গতকাল) সারা দেশে আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলছে। এখন আমরা যদি মামলার শুনানিতে অংশ নিই তাহলে এই কর্মসূচি ও আদেশের অমর্যাদা হয়। খালেদার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার উচ্চ আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত করার আবেদন জানান। এসময় তিনি ১৪ বিএলসি (বাংলাদেশ ল’ ক্রনিক্যালস)-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন এই ধারা চলতি মামলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি বলেন, এই মামলার উদ্ভূত বিষয় নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করেছি। আগামী ১৪ই অক্টোবর  চেম্বার জজ আদালতে এবিষয়ে শুনানি ও আদেশ হবে আশা করছি। সে জন্য এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হোক। পৃথক আরেকটি আবেদনে তিনি বলেন, এই মামলার আসামি বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনি একজন বয়স্ক মহিলা। তার নিরাপত্তার স্বার্থে আজ তিনি আদালতে হাজির হতে পারছেন না। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তার আবেদন গ্রাহ্য করে সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করা হোক। শুনানিতে মাসুদ বলেন, হরতাল কারা দিয়েছে এটা আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো এই আদালতে একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তার অভাব। তিনি বলেন, আজকে সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত রেখে ১৪ই অক্টোবরের পরে যেকোন দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু  হোক। খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে আমি কথা দিচ্ছি পরবর্তী তারিখে মামলার আসামি বেগম খালেদা জিয়াকে সশরীরে হাজির করবো। একপর্যায়ে বিচারক বলেন, মামলাতো আজকেই শেষ হচ্ছে না। অন্তত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা যাক। শুনানিতে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, এই মামলা শুরু হয়েছে ২০১০ সালের ১৭ই জানুয়ারি। এর মধ্যে ৩৯টি তারিখ তারা মিস করেছেন। মাত্র পাঁচদিন খালেদা জিয়া হাজির থেকেছেন। এভাবে বারবার সময়ের আবেদন করা বিচারিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল। তারা (আসামি পক্ষের আইনজীবী) যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতেন তাহলে উচ্চ আদালত ও এই আদালতের কার্যক্রম একই সঙ্গে চলতে পারতো। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯ (বি) ধারার উদাহরণ দিয়ে কাজল বলেন,  প্রয়োজনে খালেদাকে পলাতক দেখিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হোক। এসময় আদালতে হট্টগোল শুরু করেন উভয়পক্ষের আইনজীবী। এরমধ্যেই  আদালত খালেদার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করে সাক্ষ্য শুরুর নির্দেশ দেন। মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ ১২টা ৩৯ মিনিট থেকে ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মাত্র ৬ মিনিটের জবানবন্দিতে মামলার প্রাথমিক ইতিহাস বলতে শুরু করার পর জবানবন্দি শুনে বিচারক বাসুদেব রায় তার খাস কামরায় চলে যান। পরে তার সহকারীর মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৩ই অক্টোবর নতুন তারিখ জানিয়ে দেন।

বাবলুর মারপ্যাঁচে পদ হারালেন শেঠ by মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রামে দলীয় মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মারপ্যাঁচে পদ হারালেন জাতীয় পার্টির অন্যতম কাণ্ডারি সোলায়মান আলম শেঠ। এরশাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এ ব্যক্তি এখন মরিয়া দলে ঢুকতে। তবে তাকে ঠেকাতে পুরোদমে মাঠে সক্রিয় মহাসচিবের সুনজরে থাকা মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও মাহজাবীন মোর্শেদ দম্পতি। মাহজাবীন বর্তমানে জাপার এমপি। সোলায়মান শেঠের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জিয়াউদ্দিন বাবলুর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল না থাকায় সোলায়মান শেঠের ওপর খড়গ চলছে বলে গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনের কাছে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সব বৈঠক ভেস্তে গেছে বলে স্বীকার করেন।

সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউদ্দিন বাবলুর সফর বেড়ে যায় বন্দর নগরীতে। আর তার হাত ধরেই দল গোছানোর কাজ পান বর্তমান এমপি মাহজাবীন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সোলায়মান আলম শেঠ। তিনি বিষয়টি নিয়ে এরশাদকে জানাতেই দূরত্ব তৈরি হয় জিয়াউদ্দিন বাবলুর সঙ্গে। সর্বশেষ জাপায় বড় ধরনের রদবদলের পর চট্টগ্রামে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভেদ তৈরি হয়। একটি পক্ষ ব্যারিস্টার আনিস ও জিয়াউদ্দিন বাবলুকে সমর্থন করে। আর তার এ সমর্থন আদায়ের কাজটি করেন রাতারাতি আস্থাভাজন হন মাহজাবীন মোরশেদ। সম্প্রতি সোলায়মান আলম শেঠকে দল থেকে জোরপূর্বক অব্যাহতি দেয়ার ঘটনায় তোপের মুখে পড়েন জিয়াউদ্দিন বাবলু। তাকে দলে ফিরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাওসহ চারদিনের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বিদ্রোহীরা।
চলতি বছরের গত আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। পরে যুগ্ম আহ্বায়কদের এক সভায় নগরীর ১৫ থানা ও ৪১ ওয়ার্ডের সকল ধরনের সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোন ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করতে পারেনি মাহজাবীন সমর্থিত কমিটি। আর দলীয় এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জাপার রাজনীতিতে ঢুকতে ফের মরিয়া সোলায়মান আলম শেঠ। এজন্য তিনি একাধিকবার জিয়াউদ্দিন বাবলুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু বারবারই বাবলু তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে আলাপকালে জানান। তিনি জানান, চট্টগ্রামে জাপার রাজনীতিতে দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সক্রিয় রয়েছেন। ২০০৪ সালে নগর কমিটির আহ্বায়ক হন। ২০১৩ সালে এসে সভাপতির পদ পান। বর্তমানে তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে তা তিনি জানেন না। তবে এই ক্ষেত্রে তিনি জিয়াউদ্দিন বাবলুর ভূমিকাকে বড় করে দেখছেন। সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, মহাসচিব বাবলুর জন্য আমি চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি আসনটি ছেড়ে দিয়েছি। অথচ তিনি আমার ওপর যে আচরণ করেছেন তা একজন নিবেদিত নেতা হিসেবে মেনে নেয়া সত্যিই কষ্টকর। কি কারণে এমনটি করেছেন তা জানি না। শুনেছি আগামী ২৮ তারিখ আমাকে দলে ফিরিয়ে নিতে একটি বৈঠক হবে। তবে আমি এরশাদ স্যারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি দলের ভেতর এমন রাজনীতি হলে আমি আর জাপায় নেই।
শেঠ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জিয়াউদ্দিন বাবলু সাহেবের ছোট বোনের হাজব্যান্ড আমার বন্ধু। সে হিসেবে তিনি আমার পূর্বপরিচিত। অথচ তিনি আমাকে কোণঠাসা করে যাদের চট্টগ্রামে দায়িত্ব দিয়েছেন তারা কতটুকু দক্ষ তা সবাই দেখেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ক্ষুব্ধ। তাই সামনের মেয়র নির্বাচনে দলের বাইরে থেকে আমি দাঁড়াবো।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, দলীয় মহাসচিবের সঙ্গে সোলায়মান আলম শেঠের এমন দূরত্বে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তৃণমূলে। ইতিমধ্যে মহাসচিবের আস্থাভাজন মাহজাবীনের অনুসারীদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। কৌশলে শেঠকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর এ দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। শেঠপন্থিরা তার আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করবেন। পরদিন বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল, ২রা অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি থেকে গণপদত্যাগ করবেন বলে জানান।
সাবেক প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, মহাসচিবের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে শেঠ সাহেবকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। অন্যদিকে তাকে বাদ দিয়ে এমপি মাহজাবীনকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে। এ নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে তা শিগগিরই কেটে যাবে বলে মনে করছি। দলীয় হাইকমান্ড সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মাহজাবীন মোর্শেদ মানবজমিনকে বলেন, পার্টির মহাসচিব বলেছেন জাপাকে নতুন করে সাজানো হবে। সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে তৃণমূলদের নিয়ে দল গোছাবেন। যারা বাদ পড়েছেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় পার্টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আগের কমিটি দল চালাতে পারছিল না। তাই মহাসচিব বাবলু সাহেব নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
সূত্র জানায়, মাহজাবীন মোরশেদ জাপার ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হয়ে কাজ করছেন পুরো চট্টগ্রামে। অন্যদিকে কোটিপতি সোলায়মান আলম শেঠ নগর শাখার সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। তবে দুই নেতা দু’টি পদে থাকলেও বর্তমানে কেউই কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টিতে আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠ এরশাদপন্থি ও মাহজাবীন ব্যারিস্টার আনিস-জিয়াউদ্দিন বাবলুপন্থি হিসেবে পরিচিত। দু’জনের দ্বন্দ্বটা শুরু হয় জাপার কমিটি গঠন নিয়ে। গত বছরের ৩০শে মার্চ মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে সোলায়মান আলম শেঠ সভাপতি ও তপন চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষিত হয় ১১১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি। মাহজাবীন মোরশেদ ওই সময় অভিযোগ করেন, সোলায়মান আলম শেঠ কমিটি গঠনের আগে ৮ যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে ৭ জনকে সম্মেলনের ব্যাপারে কিছু বলেননি। কোন ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া তার একক সিদ্ধান্তে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
পরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভাল। সাংসদ মাহজাবীন মোরশেদ এখন নিষ্ক্রিয়। তিনি বহিষ্কৃত লোকদের নিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কার্যকলাপ করে যাচ্ছেন। আমি বিষয়টি দলের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।
তিনি বলেন, মাহজাবীন মোর্শেদ এসব বন্ধ না করলে আমরা চট্টগ্রাম থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবো। বিগত সময়ে উনাকে আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি কখনও আসেননি। এমনকি মহানগর অফিসেও তিনি কখনও যাননি। অভিযোগ প্রসঙ্গে মাহজাবীন মোরশেদ বলেন, আমার সঙ্গে যারা কাজ করছেন তারা জাতীয় পার্টির নিবেদিতপ্রাণ। এসব নেতা-কর্মীকে কখনওই বহিষ্কার করা হয়নি। সোলায়মান আলম শেঠ গায়ের জোরে সব কিছু করতে চাইছেন। নতুন মহাসচিব হওয়ায় তিনি কেন জানি বেশ আতঙ্কে আছেন। আর সে কারণে আবোল তাবোল বকছেন।

৫০০ সন্ত্রাসীর নয়া তালিকা ঢাকায় by নুরুজ্জামান লাবু

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের নতুন একটি তালিকা তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ তালিকায় অন্তত পাঁচ শতাধিক সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে। যাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে। থানাভিত্তিক এ তালিকায় সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটিগরিতে ভাগ করা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের হালনাগাদ এই তালিকা মোতাবেক অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ির কারণে খুন-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। এ কারণে পুরানো তালিকার সূত্র ধরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসীদের এ তালিকাটি হালনাগাদ করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেসব সন্ত্রাসীর নাম আগের তালিকায় ছিল না তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক অনেক উঠতি সন্ত্রাসী নানারকম অপরাধ কর্মকাণ্ড করছে। তাদের নাম তালিকাভুক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মার্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একের পর এক খুন-ছিনতাইরের ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে না পারার বিষয়টি ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। এছাড়া অনেক সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বা প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হলেও পুরনো তালিকায় তাদের নাম ছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক অপরাধ কর্মকাণ্ডে নতুন নতুন মুখও দেখা গিয়েছে। অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড করে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা জরুরি হয়ে পড়ে। সূত্র জানায়, এসব কারণেই রাজধানীর ৪৯টি থানা ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী হালনাগাদ তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। হালনাগাদ তালিকায় পৃথক পৃথক ক্যাটিগরি রয়েছে। ভাড়াটে খুনি থেকে শুরু করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, বোমাবাজসহ কয়েকটি ক্যাটিগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের বর্তমান ঠিকানা, অবস্থান, আশ্রয়দাতা বা গডফাদার, রাজনৈতিক পরিচয় সব কিছুই ওই তালিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীতে এলাকা ভিত্তিক অপরাধীরা সাধারণত নিজ নিজ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে অপরাধ কর্মকাণ্ড করে থাকে। বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় সবাই শাহাদতের নাম ব্যবহার করে। এছাড়া পুরান ঢাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ডাকাত শহীদের নামে, ফার্মগেট এলাকায় সুব্রত বাইনের নামে, মগবাজার-মালিবাগ এলাকায় জিসানের নাম ব্যবহার করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কোন যোগাযোগ নেই। ভীতি সৃষ্টি করার জন্য তারা পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে। এরা উঠতি সন্ত্রাসী। আগের তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম থাকলেও উঠতি সন্ত্রাসীদের নাম ছিল না। নতুন তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীদের তালিকা অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হবে। এরই মধ্যে তালিকাগুলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম জোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে প্রায়  প্রতিদিনই খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এলাকা ভিত্তিক এসব অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সন্ত্রাসীদের কোন না কোনভাবে সংযোগ থাকে। এ কারণে ঘটনার পরপরই ওই থানা এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকার খোঁজ করা হয়। কিন্তু পুুরনো তালিকাটি হালনাগাদ না থাকায় সমস্যায় পড়তে হতো। গোয়েন্দা পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, এখন কোথাও কোন অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধের ধরনের সঙ্গে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড মিলিয়ে অনুসন্ধান করা হলে সন্ত্রাসীদের সহজেই শনাক্ত করা যাবে। এছাড়া তালিকাভুক্ত এসব সন্ত্রাসীর সবাইকে আগেভাগে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও কোণঠাসা করে রাখা যাবে।
সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীদের হালনাগাদ তালিকায় ডিএমপির ৮টি ক্রাইম জোন মিরপুর, উত্তরা, গুলশান, তেজগাঁও, লালবাগ, ওয়ারী, মতিঝিল ও রমনা পৃথকভাবে সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, মিরপুর বিভাগের ছয়টি থানা এলাকায় ৫২ জন সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে। এরা হলো মিরপুর মডেল থানা এলাকার এম এ কাইয়ুম, মারুফ হাসান স্বপন, সেলিম আজাদ, আক্কাস আলী, ইমদাদুল হক, সোহেল ওরফে রাজীব ও এমিল। পল্লবী থানা এলাকার মজিবর রহমান ওরফে জামিল, মশিউর ওরফে মশু, আতিক ওরফে সবুজ, শরিফুল্লাহ ওরফে ভোটা শরীফ, মনসুর ওরফে ভৈরব মনসুর, আওলাদ হোসেন লাক্কু, আফাউল্লাহ, শফিকুল ইসলাম সফু, সাইদুর রহমান ওরফে টেইলার্স সহিদ, আবুল কালাম ওরফে ভাণ্ডারী কালাম, আজিজুল হক রনি, রুস্তম, মুন্না,  রবি ও রনি (২)। কাফরুলের মাসুদ ওরফে হাতকাটা মাসুদ, আবু তাহের ওরফে ভাইস্তা বাবু, সজীব, ইব্রাহীম ও লিটন ওরফে কুত্তা লিটন। দারুসসালাম থানা এলাকার জগলুল পাশা ওরফে পাভেল, আজম, এনামুল করিম ওরফে বোমা খোকন, কালু, আমজাদ, সুমন ওরফে পাগলা সুমন, রাসেল ও ইকবাল হোসেন সেন্টু। শাহআলী থানা এলাকার লেলিন, আমজাদ হোসেন, কার্টুন মাসুদ, মনির হোসেন ওরফে বোমা মনির, আমিনুল ইসলাম ওরফে আঙ্কেল, মনির হোসেন ওরফে কিরণ, শাহাদত আলী, ইকবাল, পাংকু বাবু, সাজেদ হোসেন মিশু, সুজন, রানু, ভন্ড রনি, চিকু রনি, গাজী সুমন ও আবদুস সাত্তার। মিরপুর ছাড়া অন্য ক্রাইম জোন এলাকার প্রতিটিতে ৫০ থেকে ৭০ জনের করে নাম রয়েছে। গড়ে প্রতিটি থানা এলাকায় ১২-১৩ জন করে সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নতুন এই তালিকায় ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ-সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। মিরপুর বিভাগের তালিকায় ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরীর (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রনি ও ঢাকা মহানগর যুবলীগের (উত্তর) সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আওলাদ হোসেন লাক্কুর নামও রয়েছে।
এদিকে ডিএমপির একজন কর্মকর্তা জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের করা সন্ত্রাসীদের এই তালিকাভুক্তরা সবাই মাঝারি থেকে শীর্ষ পর্যায়ের সন্ত্রাসী। ছোটখাটো সন্ত্রাসীদের নাম এই তালিকায় নেই। তালিকাভুক্তরা সবাই একাধিক খুন-ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণ মামলার আসামি। এর পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম জোন থেকে পৃথক আরেকটি ডিজিটাল সন্ত্রাসী তালিকা করা হচ্ছে। যেখানে থানা পর্যায়ের বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক ছিঁচকে চোর থেকে শুরু করে সব ধরণের সন্ত্রাসীদের ডাটা সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিটি থানায় ডিজিটাল ডাটা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, সন্ত্রাসীদের ডিজিটাল তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে। এই তালিকা হলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর তাদের চিহ্নিত করা সহজ হয়ে যাবে।

হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার -মিট দ্য প্রেসে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নরলিন বিনতে ওথম্যান বলেছেন, যে কোন গণতান্ত্রিক দেশে হরতাল যে কারও গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এটি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধক। বিএনপির ডাকা হরতাল প্রসঙ্গে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, নির্বাহী সদস্য কাজী রওনক হাসানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সুবিধার অপর্যাপ্ততা তুলে ধরে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, এদেশে বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের সমস্যা বিদ্যমান। হরতালও এগুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রশ্নে নরলিন বলেন, অনেকদিন আগেই ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করতে বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাব দেয়া আছে। কিন্তু এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে কোন সমঝোতা নেই। সরকারের সাড়াও কম। তবে শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে এ ধরনের একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে পারেন বলে জানান তিনি। সেকেন্ড হোম সুবিধা নিয়ে মালয়েশিয়াতে ২৯২৩ জন বাংলাদেশী ব্যবসা করছেন বলে জানান নরলিন ওথম্যান। তিনি বলেন, এরা সবাই ব্যবসায়ী। মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবসা বিস্তৃত। তারা বাংলাদেশ থেকে কোন অর্থ মালয়েশিয়াতে নিয়ে যান না। বাংলাদেশী শ্রমিকরা যাতে মালয়েশিয়ার কোন কোম্পানির দ্বারা প্রতারিত না হন, সেজন্য শুধুমাত্র জি টু জির মাধ্যমে শ্রমিক নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশটির সরকার। নরলিন জানান, শুধুমাত্র জি টু জির মাধ্যমে যাওয়া শ্রমিকদের দায় নেবে মালয়েশিয়া সরকার। এ শ্রমিকদের কমপক্ষে ৩০০ ডলার বেতন, মেডিকেল সুবিধা দিতে বাধ্য কোম্পানিগুলো। এর ব্যত্যয় ঘটলে নিয়ম অমান্যকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন এ প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট ধীরগতির হলেও মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির চাহিদার ভিত্তিতেই এ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক যাচ্ছেন। তাই, অতিরিক্ত শ্রমক গিয়ে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ কম। বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নেয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন নরলিন। বাংলাদেশ ছাড়া আরও ৬টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া শ্রমিক নেয় জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, এসব দেশের মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গে জি টু জি চুক্তি আছে।  দেশটিতে অবস্থান করা অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার জন্য অ্যামনেস্টি সুবিধা দেয়ার কথাও বলেন তিনি।

বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ by সাযযাদ কাদির

প্রথমে কানাডা’র কুইবেক, তারপর যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড, এখন স্পেনের কাতালুনিয়া। তারিখ ৯ই নভেম্বর ২০১৪। স্বাধীনতার জন্য গণভোট। তবে কানাডা ও যুক্তরাজ্য যেমন রাজি ছিল পক্ষে-বিপক্ষে ভোটে, তেমন রাজি নয় স্পেন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে যাবেন সাংবিধানিক আদালতে। সেখানে রায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষেই যাবে বলে নিশ্চিত ধারণা করা যায়, কারণ কোনও প্রদেশের কোনও ভাবে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই স্পেনের সংবিধানে। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডে গণভোট এবং নিজেদের দ্বারাই স্বাধীনতার উদ্যোগ পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সেখানে। স্পেন ১৭টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত। প্রতিটি অঞ্চলের আছে ব্যাপক ভিত্তিতে আইন, বিচার ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন এবং নিজস্ব পার্লামেন্ট ও আঞ্চলিক সরকার,  তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে যথেষ্ট তারতম্য আছে অঞ্চলভেদে। দু’টি অঞ্চল বাস্ক ও নাভারে’র আছে পূর্ণ আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, চারটি ঐতিহ্যিক জাতিসত্তা আনদালুসিয়া, বাস্ক, কাতালুনিয়া ও গালিসিয়া-কে এর বাইরেও দেয়া হয়েছে অধিকতর ক্ষমতা। তাদের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট যে কোনও সময় নির্বাচনের সময়-তারিখ ঘোষণা করতে পারেন পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে। এছাড়া, তাদের আছে নিজস্ব পুলিশ বাহিনী। কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যবস্থাকেই বলেন পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। তাঁদের দাবি, সরকার-প্রশাসনের এত বিকেন্দ্রীকরণ নেই পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে।
এ সপ্তাহে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ও কাতালুনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনা’য় তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কাতালুনিয়া’র ‘জেনারালিতাত’ (আঞ্চলিক সরকার)-এর প্রেসিডেন্ট আরতুর মাস ই গাভারো (৫৮) বলেছেন, ‘সংবিধান ব্যবহার করে স্তব্ধ করা যাবে না কাতালুনিয়ার মানুষকে।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৯ই নভেম্বরকে স্বাধীনতার জন্য গণভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করে এক ডিক্রি জারি করতে যাচ্ছেন তিনি। আরতুর মাস বলেন, গত ১৯শে সেপ্টেম্বর কাতালুনিয়া’র পারলামেন্টে গণভোটের ব্যাপারে যে আইন পাস করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সাংবিধানিক। ওদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এখন অপেক্ষায়- কখন ওই ডিক্রিতে স্বাক্ষর করা হয় আর কখন ওই প্রকাশ-প্রচার করা হয় আনুষ্ঠানিক ভাবে, তাহলেই তাঁরা নালিশ ঠুকতে যেতে পারেন সাংবিধানিক আদালতে। যদি তাঁদের নালিশ শুনতে রাজি হয় আদালত তাহলে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আর গণভোট অনুষ্ঠানের আয়োজনে এগিয়ে যেতে পারবে না কাতালুনিয়া।
স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হওয়ায় অনেক কাতালান হতাশ হলেও আরতুর মাস বলেন, ‘ওই ভোটের কোনও প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পড়বে না আমাদের ভোটে।’ স্পেন সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁকে নিশ্চেষ্ট রাখতে। ২০শে সেপটেম্বর উপ- প্রধানমন্ত্রী সুরাইয়া সায়েঞ্জ দে সানতামারিয়া আন্তন (৪৩) বলেছেন, ‘যাঁরা কোনও কিছু শাসন-নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁদের উদ্দেশ্যে আমাদের বলার কথা একটাই- আইন মেনে চলুন। কোনও সিদ্ধান্তের পক্ষে স্বাক্ষর করা বা না করার আগে তাঁকে ভাবতে হবে- তিনি ওই অঞ্চলের সকল মানুষের প্রেসিডেন্ট; সেখানকার অনেকে এ রকম ভাবেন তো অনেকে আবার ও রকম ভাবেন।’ পরদিনই এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আরতুর মাস। বলেছেন, ‘জনগণ কথা বলতে চায়। তাদের এই কথা বলা বন্ধ করতে সংবিধানের ব্যবহার করা কি উচিত? কাতালান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস রয়েছে সুদীর্ঘকালের, সংবিধানের পাশাপাশি তা-ও দাবি রাখে বিবেচনার। আমি কাতালুনিয়া সরকারের ১২৯তম প্রেসিডেন্ট। স্পেনের ১৯৭৮ সালের সংবিধানের বহু আগে থেকেই অস্তিত্ব রয়েছে এ সরকারের।’ ওই দিনই স্বাধীনতা-বিরোধী ‘ইউনিয়ন, প্রোগ্রেস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’র নেত্রী রোজা মারিয়া দিয়েজ গনজালেজ (৬২) অভিযোগ করেন, মি. মাস লুকোচুরি খেলছেন। বলছেন না কবে স্বাক্ষর করবেন ডিক্রিতে, কবে প্রকাশ করবেন সংশ্লিষ্ট আইন। দেশের বেশির ভাগ মানুষকে তিনি রেখেছেন অনিশ্চয়তায়, সৃষ্টি করেছেন এক আইনগত নিরাপত্তাহীনতা।’ এ অভিযোগের কারণ- আদালত অবৈধ ঘোষণা করতে পারে এই আশঙ্কায় গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আগে যথেষ্ট অনীহা দেখিয়েছেন মাস, কিন্তু তাঁর ওপর গণভোটের ব্যাপারে প্রবল চাপ ছিল বরাবরই। স্বাধীনতাকামী কাতালানদের বড় অভিযোগ, তাঁদের রাজস্বের প্রায় পুরোটাই নিয়ে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার; উপরন্তু তাঁদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে কোণঠাসা করে রাখে সব দিক থেকে। কেন্দ্রীয় সরকার বলে, স্পেনের সঙ্গে যুক্ত থাকাতেই আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটছে কাতালুনিয়ার; আর সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পর্র্যায়েই স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছেন কাতালানরা। ফুটবলের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা’র ঐতিহ্যিক লড়াই রাজনীতি ও স্বাধীনতার ইতিহাসে কি রূপ নিয়ে দেখা দেয় এখন তা-ই ভাবনার বিষয় সকলের।
২২.০৯.২০১৪