Sunday, June 3, 2018
মানবিক সেবায় এগিয়ে গিয়ে লাশ হলেন নার্স

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাখির শব্দে মুখরিত আলিদেওনা গ্রাম by এম. সাখাওয়াত হোসেন

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাইটক্লাবে গণধর্ষিত যুবতীর মৃত্যু

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে মুসলিমদের অনেকেই অচ্ছুত

গবেষণায় যা উঠে এসেছে: এলাকার ধনী প্রতিবেশীদের বাড়িতে কোনো বিয়ে-সাদীর অনুষ্ঠানে দলিত মুসলিমদের নিমন্ত্রণ করা হয় না। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে দলিত মুসলিমদের নিমন্ত্রণ করা হলেও তাদেরকে বসানো হয় আলাদা এবং তাদেরকে খাবার পরিবেশন করা হয় উচ্চবর্ণের মুসলিমদের খাওয়া শেষে। এমনকি কোনো-কোনো জায়গায় দলিত মুসলিমদেরকে ভিন্ন ধরনের প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হয় বলেও উল্লেখ করেছেন গবেষণায় অংশ নেয়া অনেক দলিত। গবেষণায় অংশ নেয়াদের মধ্যে অন্তত ৮ ভাগ দলিত মুসলিম জানিয়েছেন যে, তাদের শিশু সন্তানদেরকেও উচ্চবর্ণের শিশুদের চেয়ে আলাদা সারিতে বসানো হয়। এমনকি স্কুলেও দুপুরের খাবার গ্রহণের সময় তাদের সন্তানেরা আলাদা সারিতেই বসে। উচ্চবর্ণের মুসলিমদের জন্য যে গোরস্থান রয়েছে সেখানে দলিতদের সাধারণত কবর দিতে দেয়া হয় না বলে উঠে এসেছে এই গবেষণায়। তাদের জন্য রয়েছে আলাদা কবরস্থান। আর যদি কোনো দলিত কাউকে উচ্চবর্ণের কবরস্থানে গোর দেয়া হয় তবে সেই লাশের জায়গা হয় একেবারে কোনো একটা কোণায়। বেশির ভাগ মুসলিম একই মসজিদে নামাজ আদায় করলেও দলিত মুসলিমদের অনেকেই বলছেন যে তারা প্রায় সময়ই বোধ করেন তাদের প্রতি অন্যদের এক ধরনের উপেক্ষা বা বৈষম্য। সাধারণত নিচু জাতের সব কাজ করাই দলিত মুসলিমদের কাজ বলেও মনে করা হয়। গবেষণায় অংশ নেয়া অন্তত ১৩ ভাগ দলিত মুসলিম জানিয়েছে যে, উচ্চ বর্ণের কোনো মুসলমানের বাড়িতে যদি তাদেরকে খাবার বা পানি দেয়া হয় তাহলে তা পরিবেশন করা হয় ভিন্ন পাত্রে। এছাড়া মুসলিম দলিতদেরকে ভিন্ন পাত্রে খাবার ও পানি পরিবেশন করার প্রবণতা হিন্দুদের মধ্যে আরো প্রকট। গবেষণার তথ্য মতে এর পরিমাণ শতকরা ৪৬ ভাগ। এছাড়া, দলিত মুসলিমদের সঙ্গে উচ্চবর্ণের মুসলিম ও হিন্দু কোনো সমপ্রদায়ের মানুষই মিশতে চায় না এবং তারা দলিত মুসলিমদের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব বজায় রেখে চলে বলেও উঠে এসেছে গবেষণায়।
শুধু ভারতীয় হিন্দু ও মুসলিম সমপ্রদায় নয় এমনকি শিখদের মধ্যেও বর্ণভেদ দেখা যায়। তবে, পার্সিরা কিছুটা ব্যতিক্রম। এই গবেষণার পর গবেষক প্রশান্ত কে ত্রিবেদী বলেছেন, দলিত হিন্দুদের মতই দলিত মুসলিম ও খ্রিষ্টানদেরকেও আলাদাভাবে কিছু সামাজিক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা উচিত। তবে, এই গবেষণার ফলাফলে যে চিত্র উঠে এসেছে তার মোদ্দা কথা দাঁড়াচ্ছে এমন যে, ভারতে কেউ হয়তো তার জাত পরিত্যাগ করার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু সে জাতকে ছাড়তে চাইলেও জাত তাকে ছাড়বে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ইয়াবা পিতাগণ’ এবং ‘দখল’! by আহসান কবির

সারাদেশে যখনই মাদকবিরোধী অভিযান চলে, যারা নাকি মাদকের সঙ্গে খুবই অল্প জড়িত, যারা নাকি পেটের দায়ে মাদকের ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়, এ পর্যন্ত নাকি তাদেরই বেশি বেশি ধরা হয়েছে। যারা মাদক চোরাচালানি বা ব্যবসার সঙ্গে পূর্ণমাত্রায় জড়িত, যারা তৈরি করে, যারা সরবরাহ করে, শতকরা নিরানব্বই ভাগ ক্ষেত্রেই তারা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা ‘ক্যারিয়ার’, যার ‘দখল’ থেকে পুলিশ মাদক উদ্ধার করে তারাই নাকি শুধু শাস্তি পায়। এই ‘ক্যারিয়ার’রাই আছে পুলিশের কাছে, আশপাশে। বড়দের পাত্তা নাই।
সক্রেটিসের একটা মূল্যবান কথা এমন– যাদের টাকা আছে (টাকাই ক্ষমতা) আইন তাদের কাছে আকাশের মতো। আর যাদের টাকা নেই আইন তাদের কাছে মাকড়সার মতো। যারা মাদকের সঙ্গে অল্পবিস্তর জড়িত আইনটা তাদের কাছে মাকড়সার মতো বলে তারা ধরা পড়েন, হয়তো শাস্তি পান। আর যারা ‘পিতৃদেব বা গডফাদার’ তারা (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, তারা থাকেন ঈশ্বরের মতো ভদ্রপল্লীতে) থাকেন সবসময়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অন্তত একজন পিতৃদেব (কেউ কেউ তার নাম দিয়েছেন ‘ইয়াবা পিতা’) আর দুইজন প্রভাবশালী মানুষ যারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত আছেন বলে পত্রিকা ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, তারা এখনও নাগালের বাইরেই আছেন। এই তিনজনের একজন বদি, একজন সাইফুল এবং অন্যজন আশরাফ। তবে মাদকের সঙ্গে জড়িত অনেকে ২০১৮ সালের মে মাসের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন, ক্রসফায়ারে মারা গেছেন একশ’র বেশি মানুষ। খবরে বেরিয়েছে, পুলিশি এই অভিযানের ভেতরই নাকি যশোরের তিন মাদক ব্যবসায়ী নিজেরা নিজেরা মারামারি করে মরেছে। এটা সত্যি নাকি ‘ক্রসফায়ার বাস্তবতার’ গল্প সেটা বিধাতাই ভালো জানেন।
বিধাতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা কিংবা স্বর্গীয় আনন্দ পেতে বিখ্যাত গায়ক কেএল সায়গল প্রায়ই মদ পান করতেন। মদপানের একপর্যায়ে তার ‘ফিলিংস’ চরমে পৌঁছাতো। তখন তিনি গানে কণ্ঠ দিতেন। সায়গলকে নিয়ে প্রচলিত গল্পটা এমন- তিনি একটি মাত্র গান দুইবার কণ্ঠ দিতে রাজি হয়েছিলেন। একবার মদপানের আগে এবং একবার মদপানের পরে। গানটি ছিল ‘যব দিল হায় টুট গায়া’। মদপানের আগের গায়কীটাই নাকি সুন্দর ছিল। যাহোক সায়গলও খুব অল্প বয়সে মারা গিয়েছিলেন। মাদক নিয়ে সবচেয়ে মূল্যবান কথাটা বোধকরি এই- ‘চাইনিজ মাল হোক আর জাপানিজ মাল হোক, দেশি খান আর বিদেশি খান, যারা মাল খায় তারা বেশি দিন টেকে না।’ (এদেশে নেশা সংক্রান্ত একটা দেয়াল লিখন চোখে পড়ে- নেশা খাবি খা, মারা যাবি যা!)
বিখ্যাতদের (এরা আবার মাদকের গডফাদারও না,অল্প বিস্তর ক্যারিয়ারও না। এরা দুনিয়াকে বদলে দেওয়া মানুষজন!) নেশা ভাং করা নিয়ে অনেক গালগপ্প প্রচলিত আছে। বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ তানসেন নাকি গাঁজা না খেলে গানের সৃষ্টিতে মেতে উঠতে পারতেন না! মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলেদের জীবন দেখতে রাতের পর রাত নাকি মাঝনদীতে জেলে নৌকায় কাটাতেন। সঙ্গী ছিল পানীয়! সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এক লেখাতে উল্লেখ ছিল– ‘আমরা যখন কফিহাউজে টুকটাক আড্ডা মারতে শিখেছি তখন একদিন জানলাম প্রথাবিরোধী খ্যাত কমল মজুমদার খালাসিটোলায় আড্ডা মারেন। সেখানে তিনি বাংলা মদ খেতেন কিন্তু কখনো তাঁকে বসতে দেখিনি। তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা মারতেন’! সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং নির্মলেন্দু গুণের লেখায় কবি অ্যালেন গ্রিন্সবার্গ (১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শরণার্থী যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের দেখতে এসেছিলেন গ্রিন্সবার্গ। এ নিয়ে তার বিখ্যাত কবিতার শিরোনাম ছিল-সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড) এবং বিট কবিদের জীবনযাপন নিয়ে অনেক মজাদার তথ্য আছে। বিট কবিদের নেশা করাটাও নাকি ছিল দেখার মতো। কবি ডিলান থমাস হার্ডসন স্ট্রিটের হোয়াইট হর্স ট্যাভার্নে বসে আড্ডা মারতেন। তার কাছে আড্ডা ও পান করা সমর্থক ছিল। মৃত্যুর আগের দিন গর্ব করে বলেছিলেন, চলে যাবো বলে এক বসায় ১৮ পেগ পর্যন্ত খেয়েছি। কবি ও’ হেনরি যেখানে আড্ডা দিতেন ও পান করতেন সেটা একসময়ে ফুলের দোকানে রূপান্তরিত হয়েছিল। ও’হেনরি তখন থেকে নাকি ফুল আর মদকে একসঙ্গে ভালোবাসতে শিখেছিলেন। আর্নেস্ট হোমিংওয়ে অনেকদিন ধরেই প্যারিসের রিজ হোটেলে আড্ডা মারতেন আর মদ গিলতেন। প্যারিসের হ্যারিস নিউইয়র্ক বারেও আড্ডা দিতেন হোমিংওয়ে। হামফ্রে বোগার্টসহ আরও অনেকে আসতেন সেখানে। কালের পরিক্রমায় রিজ হোটেলের বারের নাম এখন আর্নেস্ট হোমিংওয়ে বার। ফ্রান্সে যারা ঘুরতে যান তারা অনেকেই হোমিংওয়ে বারে যেতে ভুল করেন না। স্বাধীনতার পর ঢাকার হাইকোর্টের মাজারে নতুন এক আড্ডা জমে উঠেছিল। অনেকেই যেতেন সেখানে। গাঁজা টানাটা শিল্পে পরিণত করেছিলেন নাকি নুরা পাগলার আসরে যারা যেতেন তারা। শোনা যায় নুরা পাগলার অনেক সমঝদার ভক্ত ছিল।
রাজারা যেমন অনেকগুলো বিয়ে করার পরেও হেরেম পছন্দ করে, তেমনি বিখ্যাতদের নাকি এমন আসক্তি থাকেই। রবীন্দ্রনাথের নেশা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা না গেলেও দেশ বিদেশের যেখানেই যেতেন অনেক কলম কিনতেন। সেসব কলম দিয়ে একটুও লিখতেন না। আর লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি টাকা পেলেই পাখি কিনতেন। এরপর আয়োজন করে সেসব পাখি আকাশে উড়িয়ে দিতেন। ইদানীংকালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে যাদের ক্রসফায়ারে নেওয়া হচ্ছে তারা কি আকাশের দিকেই চলে যাচ্ছে সবাই?
প্রায় সব পত্রিকা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ‘ইয়াবা পিতা’ বলা হচ্ছে সরকারদলীয় এমপি বদিকে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে বদির ব্যাপারে তাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই! তবে ইয়াবার ব্যাপারে আরও দুজনের নামও শোনা যায়। একজন হচ্ছেন বদি সাহেবের ভাই ওয়ার্ড কাউন্সিলর মৌলভী মজিবর। আর একজন হচ্ছেন হাজী সাইফুল করিম। তিনি এসকে ট্রেডার্সের মালিক, তবে ইয়াবা ব্যবসার টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছেন ট্রলার, জাহাজ ব্যবসা ও গার্মেন্ট শিল্প। কক্সবাজারের কলাতলীতে হোটেল বানাচ্ছেন। পত্রিকার খবরে জানা যায়, থানার এক ওসি নাকি হাজী সাহেবের হোটেল নির্মাণের তদারকি করেন। একদা বিএনপির রাজনীতি করলেও হাজী সাইফুল করিমের সঙ্গে বদির সম্পর্ক খুবই ভালো। তবে দু’জনার ইয়াবা সরবরাহের রুট নাকি ভিন্ন। এই দু’জন ইয়াবা পিতাও আছেন বহাল তবিয়তে। আরেকজন ট্রলার চালক, যার নাম আশরাফ, তিনিও ইয়াবা ব্যবসায় নাম করেছেন। প্লেনে করেই মিয়ানমার যান তবে ইয়াবার চালান নিয়ে ফেরেন ট্রলারে বা জাহাজে। সৌদি আরবেও গিয়েছিলেন, গাড়ি বাড়ি সবই করেছেন। ইয়াবালোক (ভদ্রলোকের মতো যে ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সে ইয়াবালোক!) আশরাফের আসল বাড়ি মিয়ানমারের মংডুতে। উনি হয়তো আদি-অকৃত্রিম রোহিঙ্গা ইয়াবালোক। তবে ইকরাম নামে বদি সাহেবের এলাকার এক যুবলীগ নেতা ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর কয়েকটি পত্রিকা ও ফেসবুকে খবর এসেছে যে ইকরাম নাকি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। হায়, একজন নিষ্পাপ মানুষও যদি মারা যায় তার দায়ভার কে নেবে?
মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত থাকেন তাদের ওপরে আইনের প্রয়োগটাও বড় বিচিত্র। যারা মাদক তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান, যার দখলে মাদক তিনিই ধরা খান। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তামান্না নামের এক কিশোরী ৫০০ পুরিয়া হিরোইসহ ধরা পড়েছিল। সে গ্রেফতার হয়েছে কিন্তু ওই কিশোরীকে যারা হেরোইন সরবরাহ করেছিল তারা কেউ ধরা পড়েনি। মাদকের নিয়মিত বিক্রেতা মিনারার বিরুদ্ধে ১৭টি মাদকের মামলা রয়েছে। সে জেলে আসে আবার যায়। একই অবস্থা রুশিয়া বেগম ওরফে মাফিয়া চুন্নীর। ছোটখাটোদের বাদ দিলে ১৯৯৯ সালে ২৫ কেজি হেরোইনসহ ধরা পড়েছিল পাকিস্তানি নাগরিক ইব্রাহিম, রইস ও আলেফজান। ইব্রাহিম মারা গেলেও বাকি দুজনের মৃত্যুদণ্ড হয়। এদের বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানকারী। তারা যাদের জন্য হেরোইন এনেছিল তারা হচ্ছে এদেশের এরশাদ, হানিফ, দুলাল ও জাহাঙ্গীর। এই চারজন কিন্তু একই মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছিল। ২০১৪ সালের এপ্রিলে নাইজেরিয়ার নাগরিক অ্যালেফেয়ান জ্যাকভ ধরা পড়েছিল হেরোইনসহ। সেও বেকসুর খালাস পায়। হিরোইন হোটেল রুমে পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু তার দখলে ছিল কিনা তা নাকি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। জ্যাকভের মতো আরও সাত নাইজেরিযান ধরা পড়েছিল হেরোইনসহ। তারাও খালাস পেয়েছে ‘দখল’ প্রমাণ করা যায়নি বলে।
বদি সাহেবের ব্যাপারেও বোধকরি দখল প্রমাণ করা যাবে না। এছাড়াও উনি চা সিগারেট খান না, এমনকি আড্ডাও মারেন না। মাদকের সংজ্ঞাও বোধকরি বদলে ফেলতে হবে। গাঁজা আফিম ভাং মদসহ অনেক কিছুই আছে মাদকের তালিকায়, ইয়াবাটা আসলে কোন তালিকা বা নামে আছে সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।
হত্যাযজ্ঞের পর হিটলার নাকি ভায়োলিন বাজাতেন। গবেষণাকর্মে অগ্রগতি হলে নাকি পিয়ানো বাজাতেন আইনস্টাইন। মাদক ধরা পড়ার পর পুলিশ অবশ্য বিভিন্ন রঙের কাগজে সেটা উল্লেখ করতে পারেন। যেমন আলেকজান্ডার ডুমা নীল রঙের কাগজে উপন্যাস লিখতেন। গোলাপি কাগজে লিখতেন কবিতা আর পত্রিকায় লেখা পাঠাতেন হলুদ কাগজে।
একসময়ে চীনারা আফিম খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকতো। রাশানরা বুঁদ হয়ে থাকতো ভদকায়। বাংলাদেশের ছেলেপেলেরা এখন ইয়াবা খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকে।
জানি না কীভাবে আসক্তি থেকে ফিরবে তারা।
![]() |
| আহসান কবির |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঁচা-পাকা আমে ভরে উঠেছে পাহাড়ের বাজার by মো. নজরুল ইসলাম
![]() |
| বাজারে তোলার জন্য আম বাছাই করছেন চাষিরা |
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর উপজলার লাইমিপাড়া, ফারুকপাড়া, লাইলুনপি পাড়া, ব্যথনীপাড়া, গ্যাসমনি পাড়া, শ্যারণপাড়া, চিম্বুকসহ, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানছি, লামা, আলীকদমের পাহাড়ের বুকে শত শত একর পাহাড়ি ভূমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান করেছেন চাষিরা।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, বান্দরবান জেলায় এবার ৬হাজার ৯২০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে আমের বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানে আমের ভালো ফলন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮১হাজার ৮৪০ মেট্রিকটন।
বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা আমসহ বিভিন্ন ফলজ বাগানের পরিচর্যার পাশাপাশি বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে কাঁচা আম ও পাকা আমে বাজারগুলো ভরে উঠেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন আম কিনতে ওইসব এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন।
চিম্বুক পাহাড়ের আম চাষি পাইরিং ম্রো জানান, চট্টগ্রাম, কেরানিহাট, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন ভালো হয়েছে।
আম্রপালি ও রাংগোওয়া জাতের কাঁচা ও পাকা আমের চাহিদা রয়েছে সারাদেশে। এ জাতের আম রসালো ও সুস্বাদু। গত কয়েক বছরের তুলনায় জেলার ৭টি উপজেলায় আম্রপালি ও রাংগোওয়া আম চাষের মাধ্যমে কয়েক হাজার পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ায় পাহাড়ে জুমচাষের পাশাপাশি আম বাগান করার পেশায় ঝুঁকছেন পাহাড়ের চাষিরা।
বান্দরবান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চাষিরা নিজেরাই বাগানের কাঁচা ও পাকা আম পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করছেন। কাঁচা আম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। আর পাকা আম প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দামে বিক্রি করছেন তারা।
থানছির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো জানান, চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি ৫ একর পাহাড়ি জমিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আম্রপালি ও রাংগোওয়া আমের চারা সৃজন করেন। বেশ কয়েক বছর ধরে এ বাগানের আম বিক্রি করছেন। এবছরও ভালো ফলন হয়েছে।
পাইকারি আম ক্রেতা মো. জসিম উদ্দিন, মো. জাফর ও আবু তাহের বলেন, আমরা প্রতিবছর এখান থেকে কাঁচা ও পাকা আম কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকি। এতে আমাদর ভালো লাভ হয়।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ে এ জাতের আম গাছ রোপণের কয়েক বছরের মধ্যেই ফলন দেয়। এ আমে পোকা-মাকড়ের আক্রমণও কম হয়। তাছাড়া স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদা বেশি থাকায় এর চাষ প্রতিবছর বাড়ছে। ফলে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন পাহাড়ের কৃষকরা।’
![]() |
| বাগান থেকে আম নিয়ে ফিরছেন চাষিরা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রিডিং রুমে পর্নোর হানা by মরিয়ম চম্পা

একদিন অনার্স পড়ুয়া বোন বাসায় এসে দেখে ট্যাব হাতে নিয়েই কখন জানি ঘুমিয়ে পড়েছে তার আদরের ছোট ভাই। ট্যাব বন্ধ করতে গিয়ে হঠাৎ তার বোনের চক্ষু চড়কগাছ। যে ভাইকে খুব ছোট বলে এতদিন জেনে এসেছে তার ট্যাবে কিনা পর্নো সাইটের ভিডিও চলছে। অফিস থেকে মা ফেরার পর তাকে পুরো বিষয়টা জানায়। এরপর সুফির মা ছেলের সঙ্গে ফ্রি হওয়ার ভান ধরে কিছু অ্যাডাল্ট গল্পের ছলে জানতে পারে ছেলে অনেক আগে থেকেই পর্নো মুভির প্রতি আসক্ত। আর সে এসব কোথা থেকে জেনেছে জানতে চাইলে সুফি জানায়, ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন সর্বপ্রথম তার এক বন্ধুর ট্যাবে ৮-১০ বন্ধু মিলে বিদেশি বিভিন্ন পর্নো ভিডিও দেখে। এছাড়া তাদের বন্ধুদের সবচাইতে পছন্দের পর্ণ ভিডিও হচ্ছে স্পাইডার ম্যান পর্নো ভিডিও।
একইভাবে রাজধানীতে সরকারি চাকরিজীবী এক বাবা একদিন তার ইন্টারমিডিয়েটে পড়ুয়া কিশোর ছেলে রায়হানকে দেখে রুমের দরজা আটকে ওয়াইফাই কানেকশন দেয়া কম্পিউটারে বসে অ্যাডাল্ট মুভি দেখছে। ছোট সময় বাচ্চাদের মা মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করেননি বাবা সায়েম ফরায়েজী। দুই ছেলেকে নিয়েই চলছে সংসার। ছেলের এই বিপথে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি সায়েম। তাই একদিন ছেলেকে প্রচণ্ড মার দেয়ার কারণে সে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে পায় ছেলেকে। এ সময় তার বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারে স্কুল শেষ করে সারাদিন একা একা বাসায় থাকতে খুব বিরক্ত লাগার কথা সে তার আরেক বন্ধুকে জানালে সে তাকে এই অ্যাডাল্ট মুভি দেখতে পরামর্শ দেয়। তাই যখনই সুযোগ পায় তখনই পর্নো মুভি দেখে রায়হান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ‘প্রযুক্তি’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। যৌন সহিংসতার প্রতি আকৃষ্ট হয়, অশ্লীলতার চর্চা বেড়ে যায়। মা-বাবাকে অসম্মান করতে শেখে, সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়, মনে ধর্ষণের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে।
রাজধানীর স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পর্নোছবির আসক্তি। ইন্টারনেটে পর্নোসাইটের অনিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই শিশুদের ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার জগতের দিকে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে এই শিশু-কিশোররাই জড়িয়ে পড়ছে বড় বড় অপরাধের সঙ্গে।
একটি বেসরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজধানীতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৭ ভাগ কোনো না কোনো ভাবে পর্নোগ্রাফি দেখছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠা এসব শিশু পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে কঠোর হবার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি একশ’ ছেলেমেয়ের মধ্যে ৬৬ জনই যৌন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। মনোচিকিৎসকরা মনে করেন, এভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে পর্নো আসক্তি বাড়তে থাকলে আগামী দুই দশকের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ আর ধর্মীয় অনুশাসন বলে কিছু থাকবে না।
যখন থেকে মোশন পিকচারের উদ্ভব তখন থেকেই পর্নোগ্রাফি মুভি বানানোও শুরু হয়েছে। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রোথেলে দেখানো হতো এগুলো বাইরে বিক্রি করা ছিল আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের প্রভাব পড়ে মুভি তৈরিতেও। এভাবে কয়েক দশকের মাঝে পর্নোগ্রাফিক মুভি তৈরির আইনগত বাধাগুলোও ফিকে হতে থাকে। আর নব্বইয়ের দশকে ডিভিডি ও ইন্টারনেটের কল্যাণে এ ধরনের অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট পৃথিবীজুড়েই সহজলভ্য হয়ে যায়। পর্নোগ্রাফি মুভি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য বানানো হয়। সববয়সী দর্শকের জন্য না। কিন্তু উপরের দুটো কেস স্টাডিতেই উঠে এসেছে শিশু কিশোররা এ ধরনের মুভি দেখছে নিয়মিত।
বর্তমান যুগে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ইন্টারনেট। আর এ ইন্টারনেটেই যখন সহজ প্রবেশাধিকার দিয়ে ইনডেক্স করা ৪৫০ মিলিয়ন পর্নোগ্রাফিক সাইট তখন প্রিয় সন্তানের জন্য অভিভাবকের উদ্বিগ্নতা প্রশমিত করার যেন উপায় থাকে না। যখন পরিসংখ্যান বলে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সের ৩৮ ভাগই ইন্টারনেটে আসক্ত তখন অভিভাবকদের ভাবতে হয় অনেক কিছু। আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কারণে সম্পূর্ণ অপ্রতাশিতভাবে ৫ থেকে ৭ বছরের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ১২ শতাংশ এবং ৮ থেকে ১৭ বছরের ১৬ শতাংশ শিশুর সামনে ইনডেক্স করা এই ৪৫০ মিলিয়ন পেইজগুলোর সাজেশন্স চলে আসে। শিশু মন পরিচিত হয় পর্নোগ্রাফি নামক ভয়াল মানসিক বিকারের সঙ্গে। পরিসংখ্যানের এ তথ্যে, আধুনিক প্রযুক্তিকে আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হিসেবেই ধরা হয় অভিভাবকদের জন্য।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সামপ্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে দেশের ৭৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পর্নো দেখে। আর এগুলো দেখতে তারা ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবের মতো সহজলভ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। এছাড়া ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড আর ওয়াইফাই সহজলভ্য হওয়াতে এর বিস্তার বেড়েছে অনেক বেশি। বাংলাদেশে ১৮ বছরের পরে যে কেউ পর্নো দেখতে পারে। যদি না সে কোন পাবলিক প্লেসে বা প্রকাশ্য উৎপাত না করে। কিন্তু শিশু কিশোরদের জন্য পর্নো দেখা সামাজিকভাবে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সুস্থ স্বাভাবিক যৌন শিক্ষা না থাকায় শিশু কিশোরদের মনোজগতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অল্প বয়স থেকেই পর্নো মুভি দেখার ফলে নানারকম সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনা ঘটছে। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মাঝে অ্যামেচার পর্নো বানানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের করা একটি কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, মিসেস শায়লা একটি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা। ওনাকে সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। একদিন পরীক্ষার হলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে তিনি বকা দেন অসদুপায় অবলম্বন করার জন্য। এ ঘটনা তিনি ভুলেই যেতেন। কিন্তু দু’দিন পরে উক্ত শিক্ষিকার বাথরুমের বাইরের দেয়ালে খুবই আপত্তিকর এক ছবি আঁকা দেখতে পান ওই শিক্ষিকা। আর সেই ছবির নারী পুরুষের জায়গায় ওনার আর এক জুনিয়র শিক্ষকের নাম লেখা। এই ঘটনায় তিনি খুবই মর্মাহত হন আর ভেঙে পড়েন। তদন্তে বেরিয়ে পড়ে কাজটি সেই ছাত্রের করা আর এই দুজন শিক্ষক তাকে আরেকজনের খাতা দেখে লেখায় বকা দিয়েছিল। তাই সে প্রতিশোধ নিতে এমন কাজ করেছে। একটা শিশুর ভাবনার অস্বাভাবিকতা উঠে আসে এ ধরনের ঘটনায়।
শিশু কিশোর উন্নয়ন ও মনো-সামাজিক সংস্থা প্রেরণার সাধারণ সম্পাদক ও সাইকো থেরাপিস্ট এসজেড রেজিনা পারভীন বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে প্রত্যেক শিশুকেই সুস্থ আর স্বাভাবিক যৌনতা সম্পর্কে জানা উচিত। যদি না জানে তার ফলে দেখা যায় তারা পর্নোসহ বিভিন্ন অ্যাডাল্ট সাইটগুলো দেখে যৌন সম্পর্ককে অস্বাভাবিক ভাবতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে তাদের সামাজিক আচরণে। এমনকি বড় হওয়ার পরে দাম্পত্য সম্পর্কে এর প্রভাব পড়ছে। অনেক সময়ই অনেক স্বামী পর্নো মুভি যেভাবে দেখে ঠিক একইভাবে যৌন সম্পর্ক করতে চায় আর স্ত্রী রাজি না হলে শুরু করে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার।
পর্নো মুভি ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। তাই ইন্টারনেটে এগুলো খুবই সহজলভ্য। স্বাভাবিক নানা বিষয়ে সার্চ করলেও পর্নো মুভির লিংক চলে আসে। আর ইদানীং সবচাইতে ভয়ানক যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হল অডিও পর্নোর প্রচলন। এটাই এখন সবচাইতে ভয়ানক। একজন কিশোর কানে হেডফোন গুঁজে কী শুনছে তা সহজে বোঝা যাবেনা। সামনে বই খুলে বসে অডিও পর্নো শুনে শুনে আপনার আদরের শিশু বা কিশোর সন্তানটির সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত কুৎসিত ধারণা পাচ্ছে। সে তখন নিজের পরিবারের নারী ছাড়া বাকি সব নারীদের নিয়ে বাজে চিন্তা করছে আর এটাকে সে মোটেই খারাপ ভাবছে না। শুনতে শুনতে তার কান ও চোখ এটাকে স্বাভাবিক বলে ভাবতে শুরু করছে।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন পর্নোগ্রাফি অন্যান্য মাদকের মতোই একটা আসক্তি। মাদক যেমন মাদকাসক্তকে প্রভাবিত করে, নীল ছবিগুলোও মানুষের মস্তিষ্কে ঠিক সেভাবেই প্রভাব ফেলে। শিশু কিশোরদের বেলায়তো আরো একধাপ এগিয়ে। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় পর্নোগ্রাফি আসক্তি মাদকের চেয়েও ভয়ানক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই গবেষণার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষ্পাপতার দিন শেষ হয়ে গেছে। মানুষ এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক কিছুই জানতে পারে। এটা হচ্ছে ঘরে হেরোইন রেখে শিশুকে ছেড়ে দেয়ার মতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী জেফরি সেটিনোভারের মতে, আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে, পর্নোগ্রাফির আসক্তি হেরোইনের মতোই। বিজ্ঞান গবেষকদের দাবি, যারা অধিক মাত্রায় অশ্লীল দৃশ্য উপভোগ করেন, তাদের মগজের ধূসর পদার্থ উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা থেকে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে অবিরল যৌন দৃশ্য উপভোগ করলে মস্তিষ্কে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। আমরা শঙ্কিত যে আগামী প্রজন্ম একটি মেধাহীন ও অসুস্থ সমাজ উপহার দিবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, কিশোরদের প্রেমঘটিত কারণসহ নানা কারণে পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন ধরনের অন্যায় কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে সরকারিভাবে কিশোরদের পর্নোসাইটে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক দেশের সরকার এই সাইটগুলো বন্ধ করলেও আমাদের দেশে ওভাবে বন্ধ হয়নি। শিশু কিশোরদের বয়সের ডিমান্ড কমাতে বয়স এবং বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রেখে তাদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। যে বয়সে যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু সুবিধা প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এক ধরনের প্রেসার থাকতে হবে। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, কিশোরদের পর্নো আসক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে- রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক, সামাজিক উদাসীনতা। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পর্নো সাইট বন্ধ করে দিয়েছে। যেটা আমাদের দেশে এখনো ওভাবে হয়নি। দ্বিতীয়ত হচ্ছে বর্তমান সময়ে বাবা মা এতটাই ব্যস্ত সময় কাটায় যে তাদের সন্তানকে খুব একটা সময় দিতে পারে না। ফলে শিশুরা একাকী সময় কাটাতে এবং শরীর বৃত্তীয় কামনা নিবৃত্ত করতে পর্নো সাইটের আশ্রয় নেয়। এই সর্বনাশা পথ থেকে সন্তানদের ফেরাতে বাবা মা’ই পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।
সমাজবিজ্ঞানি অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, আমাদের সমাজে ফ্যামিলি বন্ডিংসটা কমে যাচ্ছে। বাবা মায়েরা অনেক বেশি ব্যস্ত থাকায় ছেলেমেয়েকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারে না। একই সঙ্গে প্রযুক্তির যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের কোনো বিষয়ে চাপ প্রয়োগ না করে তার মধ্যে এমন মনোবৃত্তি তৈরি করতে হবে যেন সে লুকিয়ে লুকিয়ে পর্নোগ্রাফি বা নিষিদ্ধ কোনো জিনিসের প্রতি আসক্ত না হয়। বাচ্চাদের এই পজেটিভ মনোবৃত্তি তৈরিতে পরিবার, বাবা-মা, শিক্ষক, গণমাধ্যম সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সস্টিটিউটের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, চীনসহ বিভিন্ন দেশে পর্নো সাইটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যেটা আমাদের দেশে বহালতবিয়তে চলছে। আমাদের সমাজে অতি আধুনিক কিছু বাবা মা তাদের সন্তানদের কিশোর বয়সেই হাতে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দিয়ে জাতে উঠতে চায়। ফলে বাচ্চারা তাদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন সাইটগুলোতে প্রবেশ করে খেয়ালখুশিমতো পার পেয়ে যাচ্ছে। এভাবেই এক্সাইটমেন্টের জায়গা থেকে কিশোররা একটু একটু করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধের দিকে পা বাড়ায়। কিশোরদের এই অতিমাত্রায় আধুনিকতা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য বিপদ বয়ে আনবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বছরে তামাকে মৃত্যু ১ লাখ ৬২ হাজার by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

সম্প্রতি এক সেমিনারে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে এবং সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে ইদানীং ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ তামাক ব্যবহার।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি। হৃদরোগজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতা এতটাই দ্রুত বাড়ছে যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে পৃথিবীব্যাপী মহামারি বা ‘প্যানডেমিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে ২০ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশে এই মৃত্যুহার ৩০ শতাংশ, যা খুবই আশঙ্কাজনক। কাজেই হৃদরোগ সমস্যার টেকসই সমাধান এবং জনস্বাস্থ্যের কার্যকর উন্নয়নের জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই।
দেহের রক্তবাহী নালিগুলো যখন কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে সরু হয়ে আসে কিংবা বন্ধ হয়ে যায়, তখনই দেখা দেয় হৃদরোগ। গবেষণায় দেখা গেছে, তামাকে থাকা নিকোটিন ও অন্যান্য প্রায় ৭০০০ উপাদান রক্তবাহী নালিগুলোর গাত্রে অযাচিত পদার্থ জমতে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করে। প্রথমত, তামাক সেবনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেহের রক্তবাহী নালিগুলো নমনীয়তা হারিয়ে শক্ত হতে শুরু করে। এর ফলে এদের সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং কোনো কারণে রক্তপ্রবাহ বেড়ে গেলে সেগুলো ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, নিকোটিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ধমনিগাত্রের এন্ডিথেলিয়াম স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং প্লাক বা অযাচিত পদার্থ জমার সুযোগ করে দেয়। তৃতীয়ত, তামাক দেহের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল ‘হাই-ডেনসিটি কোলেস্টেরল’কে কমিয়ে আনে এবং ক্ষতিকর ‘লো-ডেনসিটি কোলেস্টেরল’কে বাড়িয়ে দেয়। চতুর্থত, রক্তপ্রবাহের গতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় এবং এভাবে উচ্চ রক্তচাপ তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়া বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা নিকোটিন এবং কার্বন-মনোক্সাইড রক্তকণিকায় অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং দেহের ভেতরে রক্তকণিকায় অনাকাঙ্ক্ষিত জটের সৃষ্টি করে। ফলে দেহের অন্যান্য অঙ্গে রক্ত এবং অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যেতে পারে বা বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
তারা আরো বলেন, ধূমপায়ীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় দ্বিগুণ। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তিন গুণ, বুকের ব্যথা বা অ্যানজিনার ক্ষেত্রে ২০ গুণ এবং দেহের কোনো পেশিতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে পাঁচ গুণ। নিজে ধূমপান না করলেও কেবল ধূমপায়ীদের সঙ্গে থাকার কারণে একজন ব্যক্তি যে নিকোটিন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করেন, এতে তার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। ধূমপান বা তামাক সেবন ত্যাগ না করে কেবল পরিমাণ কমিয়ে আনলে হৃদরোগ এড়ানো সম্ভব, এ ধারণাও পুরোপুরি ভুল। কারণ, দিনে একজন একটি সিগারেট খেলেও শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ এবং স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। এছাড়া ‘লাইট’/’মাইল্ড’ কিংবা ‘লো-নিকোটিন’ নাম দিয়ে বাজারে যেসব সিগারেট বা তামাকপণ্য বিক্রয় হয়, সেগুলো সেবনেও ক্ষতি কমানো যায় না। তবে দীর্ঘদিন ধরে যারা তামাক ব্যবহার করছেন, তামাক ছেড়ে দেয়ার এক বছরের মধ্যেই তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়। আর টানা ১৫ বছর কেউ যদি তামাক সেবন থেকে বিরত থাকেন, তাহলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে একজন অধূমপায়ীর পর্যায়ে নেমে আসে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগের অবস্থান শীর্ষে। বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ৩১ শতাংশই হৃদরোগজনিত মৃত্যু এবং যার এক-তৃতীয়াংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশের জন্য দায়ি তামাক ব্যবহার এবং পরোক্ষ ধূমপান। হৃদরোগের কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপের পরেই তামাক ব্যবহারের অবস্থান। তামাক মহামারি প্রতি বছর বিশ্বের ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যুবরণ করে আরো ৯ লাখ অধূমপায়ী মানুষ। বর্তমানে বিশ্বে মোট তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১ বিলিয়ন, যার ৮০ শতাংশই বসবাস করে নিম্ন বা মধ্যম আয়ের দেশেগুলোতে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুর ১৭ শতাংশের জন্য দায়ী হৃদরোগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত হেলথ বুলেটিন ২০১৭-এর তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সময়কালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সময়কালে বাংলাদেশে অকাল মৃত্যুর কারণের তালিকায় হৃদরোগ ৭ম স্থান থেকে ১ম স্থানে উঠে এসেছে এবং এই পরিবর্তনের হার ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ। আর এই মৃত্যুর জন্য দায়ি হিসেবে তামাকের অবস্থান ৪র্থ। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ৩০ শতাংশের জন্যই দায়ি ধূমপান। বাংলাদেশে তামাকের উচ্চ ব্যবহার এই ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দেশের মোট প্রাপ্তবয়ষ্ক জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ (৪ কোটি ১৩ লাখ) তামাক ব্যবহার করেন। টোব্যাকো অ্যাটলাসের (২০১৬) তথ্য অনুযায়ী, মধ্যমসারির মানব-উন্নয়ন সূচকে অবস্থানকারী অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে মৃত্যুর হার ২৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত হৃদরোগের প্রকোপ ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রী তামাককে টেকসই উন্নয়ন অর্জনের পথে অন্যতম বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে ২০৪০ সালের আগেই বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রজ্ঞা মনে করে এক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হবে। তা হলো- পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপান, তামাকপণ্যের মোড়কে আইন অনুযায়ী সচিত্র সতর্কবার্তা মুদ্রণ, তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন-প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতাসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারাসমূহ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন; তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক খসড়া নীতিসমূহ (জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি) দ্রুত চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন; আর্টিক্যাল ৫.৩-এর আলোকে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কোড অব কন্ডাক্ট তৈরি, বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ, খোলা তামাকপণ্যের বিক্রয় বন্ধ, বিদ্যালয়-কলেজের নিকটে তামাকপণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করে আইন/নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ এফসিটিসি’র আলোকে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা; তামাকজাত পণ্যের দাম ক্রমশ জনগণের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘তামাক করে হৃৎপিণ্ডের ক্ষয়, স্বাস্থ্যকে ভালোবাসি, তামাককে নয়।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকার ২৫ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’র তালিকা নিয়ে অভিযানে পুলিশ by নুরুজ্জামান লাবু

এই ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’রা কয়েক বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হওয়ার পর তারা সবাই আত্মগোপনে চলে গেছে। তবে থেমে নেই তাদের মাদক ব্যবসা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকার শীর্ষ এই ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’রা মাদক ব্যবসা করে কেউ কেউ কোটিপতি বনে গেছে। ঢাকায় তাদের একাধিক বহুতল ভবনও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং সরেজমিন খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। চিহ্নিত যেসব মাদক স্পট রয়েছে সেগুলোতে অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের হাতে থাকা ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’দের তালিকার এক নম্বরে রয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার ৩ নম্বর পার গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা রহিমা বেগম (৪৮)। তার স্বামীর নাম হজরত আলী। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ৫টি ও গেন্ডারিয়া থানায় একটি মামলা রয়েছে।
জানা গেছে, রহিমা একজন কোটিপতি মাদক ব্যবসায়ী। ঢাকায় তার অন্তত দশটি বাড়ি রয়েছে। অন্তত বিশ বছর ধরে মাদক ব্যবসা করে আসা রহিমা একসময় গাঁজা বিক্রি করত। এখন ইয়াবা ব্যবসা করে। টেকনাফ থেকে সরাসরি ইয়াবা এনে ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করে সে। নিজে চলাফেরা করে বিলাসবহুল গাড়িতে।
তালিকার দুই নম্বরে রয়েছে সুফিয়া আক্তার ওরফে সুফি (৪৫)। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রহমান, স্বামীর নাম আক্তার হোসেন। যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদের ১০১ ওয়াসা কলোনির বাসিন্দা সুফির বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ৫টি ও শ্যামপুর থানায় একটি মামলা রয়েছে।
যাত্রাবাড়ী এলাকার অন্যতম মাদক ব্যবসায়ী সে। সুফিও একসময় গাঁজা বিক্রি করত। বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছে। ঢাকা শহরে তারও একাধিক বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে এলাকার জমিলা খাতুনের (৫০) নাম রয়েছে তালিকার তিন নম্বরে। তার বিরুদ্ধে শাহাজাহানপুর থানায় তিনটি, মতিঝিল থানায় একটি, মুগদা ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানায় একটি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি মামলা রয়েছে। জমিলা সম্পর্কে তেমন তথ্য জানা যায়নি। তবে কমলাপুর রেলওয়ে থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, জমিলা কমলাপুর এলাকায় ভাসমান হিসেবে মাদক বিক্রি করে।
সবুজবাগ থানার ৪৬ নম্বর ওহাব কলোনির বাসিন্দা শামসুন্নাহার চম্পা (৪০)। তার বাবার নাম মৃত নুরু উদ্দিন, স্বামী বাবুল ওরফে ফর্মা বাবুল। তার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় মাদকসহ ১৪টি এবং মতিঝিল থানায় একটি মামলা রয়েছে।
চম্পার মেয়ে তানিয়া বেগমও (৩০) এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। তানিয়ার স্বামীর নাম আরমান। তার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় ছয়টি ও খিলগাঁও থানায় একটি মামলা রয়েছে। শামসুন্নাহার চম্পা ও তানিয়া রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বসবাস করে। দক্ষিণখান এলাকায় তাদের ছয়তলা বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। সবুজবাগের ওহাব কলোনির আরেক ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’র নাম সুফিয়া আক্তার শোভা (৫০)। তার স্বামীর নাম আইয়ুব আলী, বাবার নাম সুলতান। ১২১নং ওহাব কলোনির বাসিন্দা শোভার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় ১০টি মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে।
গত বুধবার রাতে পুলিশ সবুজবাগের ওহাব কলোনিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু তালিকাভুক্ত এই তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীর কাউকে ধরতে পারেনি। স্থানীয়রা জানান, তারা কেউ কলোনিতে থাকে না। বাইরে থেকেই লোকজন দিয়ে কলোনির মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হলো ফারহানা আক্তার পাপিয়া ওরফে ইয়াবা পাপিয়া। ক্যাম্পের বি-ব্লকের ২৩৯ নম্বর বাসায় থাকে সে। তার স্বামীর নাম জয়নাল আবেদীন পাচু। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চারটি মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে।
জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাপিয়া মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে সুপরিচিত। স্বামী পাচুর মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় হাতেখড়ি তার। সুন্দরী তরুণীদের ব্যবহার করে ইয়াবা ব্যবসা চালায় পাপিয়া।
মাদক ব্যবসা করে পাপিয়াও কোটিপতি বনে গেছে। এর আগে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিল সে। কিন্তু গ্রেফতারের কিছুদিন পরই জামিনে বেরিয়ে এসে আগের মতো মাদক ব্যবসায় ফিরে যায়।
তালিকা অনুযায়ী, মিরপুরের ভাসানটেক এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী মোর্শেদা (৩৩)। ভাসানটেকের ১নং বস্তিতে তার বাস। তার স্বামীর নাম সোহরাব হোসেন আর বাবার নাম আব্দুল হক। ভাসানটেক থানায় তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। ভাসানটেক এলাকার আরেক মাদক সম্রাজ্ঞী হলো স্বপ্না (৩১)। তার স্বামীর নাম বাচ্চু মিয়া। ভাসানটেক এলাকার ৩নং ধামালকোটের পাশে রহিমের বাড়ির ভাড়াটিয়া সে। বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। রূপনগর এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী হলো সালেহা বেগম (৪৮)। তার স্বামীর নাম আলেকচাঁন। রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়ার ৮ নম্বর সেকশনের ১ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাসায় থাকে সে। তার বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় ২১টি ও পল্লবী থানায় একটি মামলা রয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী হলো শাহিনুর বেগম ওরফে দিনারা ওরফে মিনারা ওরফে শাহনাজ বেগম ওরফে শাহিনুর (৪২)। তার স্বামীর নাম বাবু ওরফে মোবাইল বাবু আর বাবার নাম আবুল হোসেন ওরফে সেলিম ওরফে জালাল। কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুরের বি-ব্লকের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬ নম্বর বাসায় থাকে সে। তার বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় ১৫টি মাদক মামলা রয়েছে।
কাওরানবাজার এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী হলো শিল্পী (৩০)। তার স্বামীর নাম মাসুদ। তেজগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে সে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। কাওরানবাজার এলাকার আরেক মাদক সম্রাজ্ঞী হলো আকলিমা আক্তার (২৫)। তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় ৫টি মামলা রয়েছে। শেরেবাংলা নগর থানার মাদক সম্রাজ্ঞী জোৎস্না বেগম (৩১) থাকে পশ্চিম কাফরুলের ২২৮/এ তালতলার রতন মিয়ার টিনশেড বাড়িতে। তার বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় ৪টি মাদক মামলা রয়েছে। কাওরানবাজার রেলওয়ে বস্তির আরেক মাদক সম্রাজ্ঞীর নাম মিনা (৩৫)। তার স্বামীর নাম বাদশা বেপারী। তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় ৪টি মামলা রয়েছে।
মরিয়ম বেগম কুট্টি (৩৪) নামে আরেক মাদক সম্রাজ্ঞীর স্বামীর নাম আকতার হোসেন। তেজগাঁও রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা কুট্টির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে দুটি। একই এলাকার মাহমুদা নামে আরেক মাদক সম্রাজ্ঞীর বিরুদ্ধেও তেজগাঁও থানায় মামলা রয়েছে দুটি।
কাঁঠালবাগান এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী হলো শাহনাজ (২৫)। তার স্বামীর নাম শাহজাহান সরদার। ১৬০/১ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, কাঁঠালবাগান বাজার মসজিদের গলিতে থাকে সে। তার বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় ৭টি মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
মাদক সম্রাজ্ঞী খুরশিদা বেগম ওরফে খুশি (৩১) মাদক ব্যবসা করে মিরপুর, নিউমার্কেট ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায়। মিরপুরের কালাপানি বস্তি, নিউমার্কেট ১ নম্বর গেটে ভাসমান অবস্থায় আর কামরাঙ্গীরচরের নয়াগাঁও ২৫২ নম্বর মুড়ির ফ্যাক্টরির পাশে থাকার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা করে সে। তার বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানাতেই ১৫টি মাদক মামলা রয়েছে।
নিউমার্কেট এলাকার আরেক মাদক সম্রাজ্ঞী হলো হাসি বেগম (৩৫)। তার স্বামীর নাম ওমর আলী। বাবার নাম মৃত জব্বর হাবিলদার। মিউমার্কেট ১ নম্বর গেটের সামনে ভাসমান অবস্থায় মাদক ব্যবসা করে সে। তার বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় ১২টি মাদক মামলা রয়েছে।
হাজারীবাগ এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী বীনা। তার স্বামীর নাম নুর হোসেন। হাজারীবাগ থানাধীন বৌবাজার এলাকার ১৮/বি রানা বেকারির গলিতে থাকে সে। তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।
মাদকসহ আটক হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করে সে। হাজারীবাগ এলাকার আরেক মাদক সম্রাজ্ঞীর নাম নূর নাহার নুন্নী। তার বাবার নাম খোরশেদ আর স্বামীর নাম ইউনূস। হাজারীরবাগ থানাধীন ১৬নং চড়কঘাটা রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় ৯টি মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। নুন্নীও মাদকসহ আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছে। এই এলাকার আরেক মাদক সম্রাজ্ঞী জমিলা ওরফে জামিলা ওরফে জামেলা বেগম (৪৭)। তার স্বামীর নাম সুরেশ লাল। হাজারীবাগ থানার গণকটুলী সুইপার কলোনিতে থাকে সে। তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।
পুরান ঢাকার মাদক সম্রাজ্ঞীর নাম পারুলী রানী (৩৮)। তার স্বামীর নাম সুরেশ লাল। রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ১০/১ কৈলাশ ঘোষ (বুড়িরবাগান) এলাকায় তার বাস। তার বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় ৫টি মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
খিলক্ষেত এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী হলো নাজমা বেগম (৪৮)। তার স্বামীর নাম রবিউল ইসলাম রুবেল। বাবার নাম হযরত আলী। খিলক্ষেত থানাধীন বেপারী পাড়ার খ-২১ নম্বর বাসায় থাকে সে। তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় ১৮টি ও কদমতলী থানায় একটি মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1347)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
June
(201)
-
▼
Jun 03
(9)
- মানবিক সেবায় এগিয়ে গিয়ে লাশ হলেন নার্স
- পাখির শব্দে মুখরিত আলিদেওনা গ্রাম by এম. সাখাওয়াত ...
- নাইটক্লাবে গণধর্ষিত যুবতীর মৃত্যু
- ভারতে মুসলিমদের অনেকেই অচ্ছুত
- ‘ইয়াবা পিতাগণ’ এবং ‘দখল’! by আহসান কবির
- কাঁচা-পাকা আমে ভরে উঠেছে পাহাড়ের বাজার by মো. নজর...
- রিডিং রুমে পর্নোর হানা by মরিয়ম চম্পা
- বছরে তামাকে মৃত্যু ১ লাখ ৬২ হাজার by ফরিদ উদ্দিন আ...
- ঢাকার ২৫ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’র তালিকা নিয়ে অভিযানে পুল...
-
▼
Jun 03
(9)
-
▼
June
(201)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


