Saturday, October 2, 2010

জাপানের তিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে চীন

চীন গতকাল বৃহস্পতিবার জাপানের তিনজন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে। এই তিন ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান চীনে আটক অন্যজনকেও মুক্তি দিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জাপানের বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান বলেন, ‘চীনে আটক অন্যজনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

নাইজেরিয়ায় অপহূত শিশুদের উদ্ধারে সেনা মোতায়েন

নাইজেরিয়ার আবিয়া প্রদেশের নাইজার ডেল্টা শহরে গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর শত শত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বন্দুকধারীদের হাতে জিম্মি ১৫ জন স্কুলশিশুসহ একটি বাস উদ্ধার করতে এসব সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সাঁজোয়া যান নিয়ে প্রায় ৪০০ সেনাসদস্য নাইজার ডেল্টা শহর ঘিরে রেখেছেন। গত সোমবার আবিয়া প্রদেশ থেকে ১৫ জন শিশুসহ ওই স্কুলবাস ছিনতাই করে বন্দুকধারীরা।
একজন বাসিন্দা জানান, সেনাসদস্যরা সব জায়গায় অবস্থান করছেন। তাঁরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছেন।

চীনের ধনীদের কাছে দারুণ সাড়া পেলেন গেটস ও বাফেট

জনসেবামূলক কাজে সম্পদ দানের ক্ষেত্রে চীনের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী বিল গেটস ও মার্কিন বিলিয়নিয়ার ওয়ারেন বাফেট। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়ারেন বাফেট এ কথা জানান।
বেইজিংয়ে গত বুধবার গেটস ও বাফেট আয়োজিত এক ভোজসভায় চীনের অন্যতম ৫০ জন ধনী ব্যক্তি যোগ দেন। বাফেট বলেন, ‘আমরা আশাতীত সাড়া পেয়েছি। ওই ভোজসভায় অন্তত ৫০ জন যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে আমরা কেমন অভ্যর্থনা পাব, সে ব্যাপারে আমার তেমন ধারণা ছিল না। কিন্তু যা পেয়েছি, এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না।’
বিল গেটস জানান, আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের দুই-তৃতীয়াংশই ভোজসভায় যোগ দেন। তাঁরা প্রচুর উপহার নিয়ে এসেছিলেন। তবে উপহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
গেটস ও বাফেট গত জুন মাসে জনসেবামূলক কাজে ধনী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারকে সম্পদ দানের অঙ্গীকার করতে ‘গিভিং প্লেজ’ চালু করেন। এতে গেটস ও বাফেট ছাড়াও ৪০ জন মার্কিন ধনী ব্যক্তি জনসেবার জন্য সম্পদ দানের অঙ্গীকার করেছেন। বাফেট বলেন, চীনের জনগণ এ বিষয়টিকে কীভাবে নেয়, এর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তিনি জানান, সেদিনের ভোজসভায় অংশ নেওয়া অনেকেই সম্পদ দানের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের এই উদ্দেশ্যকে কেউ কেউ ভুল বুঝতে পারেন।

ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহ পথ বন্ধ করে দিল পাকিস্তান

আফগানিস্তানে যুদ্ধরত ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহের একটি গুরত্বপূর্ণ পথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজাতি-অধ্যুষিত পাকিস্তান সীমান্তের খুররাম এলাকায় ন্যাটো বাহিনীর হেলিকপ্টার হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান এ পদক্ষেপ নেয়। ওই হামলায় পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীর তিন সেনা নিহত ও অপর তিনজন আহত হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে আফগান সীমান্তসংলংগ্ন পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়। ওই হামলার পরও পাকিস্তান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁরা ন্যাটোর সরবরাহ পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। পেশোয়ারের উত্তরে তোর্কহাম সীমান্তপথে ন্যাটো বাহিনীর ট্রাক ও তেল ট্যাংকারগুলো আটকে আছে। এ পথ কবে নাগাদ খুলে দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তালেবান ও আল-কায়েদা জঙ্গিদের নির্মূলের জন্য আফগানিস্তানে বর্তমানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর এক লাখ ৫২ হাজার সেনা অবস্থান করছেন। তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ পাকিস্তানে খাইবার ও তোর্কহাম সীমান্ত পথ দিয়ে আফগানিস্তানে পাঠানো হয়।

ইরানের আট কর্মকর্তার ওপর ওবামার নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত বুধবার গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের শীর্ষস্থানীয় আটজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর জানিয়েছে, ওই আটজন ইরানি কর্মকর্তার ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, তাঁদের সম্পদও জব্দ করা হবে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া সাম্প্রতিক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, মানবাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নৈতিক বিষয়। তারা এর কার্যকারিতারও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। কাজেই ইরানে যারা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।
যেসব ইরানি কর্মকর্তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন: রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী জাফরি, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বর্তমানে কল্যাণ ও নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাদেক মাহসুলি, গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে প্রসিকিউটর জেনারেল গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই, তেহরানের সাবেক প্রসিকিউটর জেনারেল সাঈদ মুরতাজাভি, গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডবিষয়ক মন্ত্রী হায়দার মুসলেহি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা মোহাম্মদ নজর, জাতীয় পুলিশের উপপ্রধান আহমাদ রেজা রাদান ও গোয়েন্দাবিষয়ক উপপ্রধান হোসেন তায়েব।
এই আটজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০০৯ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মীদের তাঁরা মারধর ও হত্যা করেছেন। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পর সরকারি হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লাখ লাখ ইরানি নাগরিক গণবিক্ষোভে অংশ নেয়। ১৯৭৯ সালে সে দেশে সংঘটিত ইসলামি বিপ্লবের পর এই বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম ঘটে।
এ সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অভিযান চালায়।
এ ঘটনায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও ইরানের বিরোধী দলগুলো সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়ন ও হাজার হাজার ইরানিকে বিনা অভিযোগে আটক করার অভিযোগ তোলে। ঘটনার পরবর্তী ছয় মাসে কমপক্ষে ৪০ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়।
ইরানের বিরোধী দলগুলোর দাবি, ইরানের নিরাপত্তারক্ষীরা ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেন।

উলফার সঙ্গে শান্তি আলোচনা হতে পারে সরকারের

ভারতের আসামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই মাসের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি এই আভাস দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। একই কথা বলেন সরকারনিযুক্ত আলোচনার মধ্যস্থতাকারী সাবেক গোয়েন্দা প্রধান পি সি হালদার।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তি আলোচনায় উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি। আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসংগত একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পি সি হালদার উলফা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। এ সপ্তাহে হালদার দুবার গুয়াহাটি কারাগারে গিয়ে উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পরেশ বড়ুয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উলফার ২৮ ব্যাটালিয়নের তিন শীর্ষ কমান্ডার মিয়ানমারের শিবির ছেড়ে আসামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। মূলত চিকিৎসার জন্য মিয়ানমার শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত মোহন, ব্যাটালিয়নের দ্বিতীয় শীর্ষ কমান্ডার হরেন ফুকন ও প্রশিক্ষক কাঙ্গাকান গোঁহাই আসাম আসছেন। তাঁরাও শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।

মেক্সিকোতে ভূমিধসে ১৮ জন নিহত

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে গত বুধবার ভূমিধসে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে কমপক্ষে ১৬ জন। ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের এ ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
দেশটির সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত চিয়াপাস অঙ্গরাজ্যের গণপূর্ত প্রধান গুইলার্মো কাস্টেলানোস জানান, প্রদেশের রাফোর্মা গ্রামে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের আটজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকিরা শিশু। নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই গ্রামে এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে একই অঙ্গরাজ্যের নুয়েভা কলম্বিয়া গ্রামে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নারী, দুটি শিশুসহ তিনজন নিখোঁজ হয়েছে।
এদিকে ওয়াক্সাকা অঙ্গরাজ্যের শান্তা মারিয়া তালাহুইলটোলটেপেক শহরে একই ঘটনায় দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছে নয়জন।

চীনের বুট ক্যাম্পে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চীনের হুনান প্রদেশের রাজধানী চ্যাংশায় একটি বুট ক্যাম্পে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনা পত্রিকা বেইজিং টাইমস-এ প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়। বুট ক্যাম্প হচ্ছে এমন এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে উচ্ছৃঙ্খল বা ইন্টারনেটে আসক্ত কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার তালিম দেওয়া হয়। চীনে এ ধরনের শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণের ধরন নিয়ে বিতর্ক চলছে।
নিহত কিশোরের নাম চেন শি (১৬)। জিয়াংসু প্রদেশে তার বাড়ি। মারা যাওয়ার দুই দিন আগে চ্যাংশার বুট ক্যাম্প বেইতেং বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় সে। প্রশিক্ষণ চলাকালে সে প্রশিক্ষকের নির্দেশমতো দৌড় দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বেদম পিটুনি দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশিক্ষক ও তাঁর দুই সহযোগী প্লাস্টিকের নল, হাতকড়া ও বেত দিয়ে চেন শিকে পেটান। এতে মারা যায় সে।
শি তার বন্ধুদের বলেছিল, তার মা তাকে এ কথা বলে ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করান যে, সেখানে সে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়তে পারবে। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর আশা পূরণ না হওয়ায় তার মন খারাপ হয়ে যায়।
মা তাং ইউলিন জানান, চেন শি শ্রমবিমুখ ছিল। তার ইচ্ছাশক্তি দুর্বল ছিল এবং আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট ছিল না। এসবের উন্নতি ঘটাতে তিনি ছেলেকে ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক কর্মকর্তা মিথ্যা কথায় ভুলিয়ে তাঁর ছেলেকে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।

টাইমস স্কয়ারে দ্বিতীয় হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন ফয়সাল

মার্কিন আইনজীবীরা বলেছেন, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বোমা হামলার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ফয়সাল শাহজাদ স্বীকার করেছেন, তিনি টাইমস স্কয়ারে আরেকটি বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু গ্রেপ্তারের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তিনি আরও বলেন, প্রথম বোমা হামলার ঘটনায় অন্তত ৪০ জন ব্যক্তি মারা যাবে বলে তিনি মনে করেছিলেন।
আইনজীবীরা জানান, ৫ অক্টোবর ফয়সাল শাহজাদের বিচারের রায় ঘোষণা করা হবে। তাঁরা ফয়সালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেছেন।
গত জুন মাসে ফয়সালের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসম্পর্কিত সব অভিযোগ স্বীকার করেন। আদালতে দাখিল করা কাগজপত্র থেকে জানা যায়, ফয়সাল ২০০৯ সালে বোমা বানানো ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।
এদিকে একটি ভিডিওচিত্রে ফয়সালকে বলতে দেখা গেছে, ৯/১১-এর ঘটনার পর থেকেই তিনি জিহাদে অংশ নেওয়ার চেষ্টা চালান। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এ উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগও করেন তিনি। ৪০ মিনিটের এ ভিডিওচিত্র গত বুধবার মার্কিন আইনজীবীরা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছে, অভিযোগ স্বীকার করার সময় ফয়সালকে অনুশোচনা করতে দেখা যায়নি। তিনি বেশ গর্বের সঙ্গে অভিযোগ স্বীকার করেন। আইনজীবীরা বলেন, এ থেকে প্রমাণিত হয়, নিউইয়র্কের কেন্দ্রস্থলে শক্তিশালী সন্ত্রাসী হামলা চালানোর সব পরিকল্পনা ছিল ফয়সালের।

নির্বাচনের পরই সু চিকে মুক্তি দেওয়া হবে!

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে আসন্ন নির্বাচনের পরেই মুক্তি দেওয়া হবে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। ৭ নভেম্বর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা বলেছেন, ১৩ নভেম্বর সু চির চলমান গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ শেষ হবে। এর পরই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে। কর্মকর্তারা বলেন, ‘মিয়ানমারের জন্য নভেম্বর মাসটি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন ও সু চির মুক্তির কারণে তখন আমাদের খুবই ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে।’
গত দুই দশকের মধ্যে এটাই হবে মিয়ানমারের প্রথম নির্বাচন। সর্বশেষ নির্বাচনে সু চির নেতৃত্বাধীন দল বিশাল ব্যবধানে জয়ী হলেও তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়নি। তখন থেকে বেশির ভাগ সময় গৃহবন্দী অবস্থায় কাটিয়ে আসছেন সু চি।

শত শত কোটি মানুষ পানিসংকটে

পৃথিবীর প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। এসব মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করে, যেখানে হয় খাওয়ার পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, না হয় সেখানকার পানি দূষিত। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ন্যাচার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
বিশুদ্ধ পানির অভাব, দূষণসহ বেশ কিছু পানিসংক্রান্ত সংকট নিয়ে গবেষকেরা একটি সূচক তৈরি করেছেন। তাতে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৩৪০ কোটি লোক চরম সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে রয়েছে।
গবেষকেরা বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্বে বিশাল বিশাল জলাধার ও বাঁধ তৈরি করে পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন উপকৃত হলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য তা সহায়ক নয়। তাঁরা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এসব পশ্চিমা উদ্যোগ অনুসরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বাঁধ, খাল, নর্দমা বা পাইপলাইন তৈরির পেছনে অর্থ ব্যয় না করে সরকারগুলোর প্রকৃতিবান্ধব পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করা উচিত।
গবেষকেরা বলেছেন, জলবায়ুর ক্রমপরিবর্তন ও মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে পানির সংকট আরও বাড়বে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু মানুষের কারণে বিশ্বের বড় বড় মিঠা পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৪৭টি নদীর মধ্যে ৩০টির নাব্যতা কমে গেছে এবং সেগুলো দূষিত হয়েছে।
গবেষক দলের অন্যতম বিজ্ঞানী চার্লস ভোরোসমার্টি বলেছেন, যেসব উন্নত দেশে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কথা নয়, সেখানেও পানির সংকটপূর্ণ এলাকা রয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রেখে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পানি সংরক্ষণ করলে এ সংকট থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

চমকে দেওয়ার অপেক্ষায় বেনেট

ক্যান্টারবুরির এক পেসারকে জাতীয় দলের কোচ মার্ক গ্রেটব্যাচ এসএমএস করেছেন ফোন করার জন্য। সেই পেসার ভাবলেন, তাহলে কি ‘এ’ দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে যাওয়ার সুযোগ আসছে? ফোন করলেন, মিনিট দশেক কথা হওয়ার পর হঠাৎ কোচ বললেন, ‘যাবে নাকি বাংলাদেশে?’ জীবনে এতটা অবাক কখনো হননি হামিশ বেনেট। ক্যান্টারবুরির ২৩ বছর বয়সী পেসার হাসেন, ‘বলুন, এমন প্রস্তাবে না করা যায়!’
গল্পটা পুরোনো মনে হচ্ছে না? মনে হচ্ছে না কোথায় যেন শুনেছেন! হওয়ারই কথা। এ বছরের শুরুতে ঠিক একই রকম একটা ফোন বদলে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের আরেক পেসারের জীবন। এমনই আনকোরা এক পেসারকে গ্রেটব্যাচের ফোন, বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার প্রস্তাব। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষিক্ত পেসার অ্যান্ডি ম্যাকাই এবার বাংলাদেশেও এসেছেন। সঙ্গী তাঁর মতোই চমকে যাওয়া আরেকজন, বেনেট।
মিল আছে আরও। ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন কোনো পারফরম্যান্স ছিল না কারোরই। তবে একটা অমূল্য জিনিসে মিল—বলের গতি। শেন বন্ড ক্রিকেট ছাড়ার আগে থেকেই গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে হন্যে হয়ে আরেকজন ‘বন্ড’ খুঁজছে নিউজিল্যান্ড। সেই অনুসন্ধানেরই ফসল এই ম্যাকাই আর বেনেট।
৬টি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ম্যাকাই-দর্শন হয়ে গেছে। আগ্রহের কেন্দ্রে এখন বেনেট, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ‘সর্বেসর্বা’ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি স্বয়ং যাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। অধিনায়কের দাবি, বেনেট নাকি ১৪৫ কিলোমিটারের আশপাশে নিয়মিতই বল করতে পারেন। বেনেট অবশ্য মাথা চুলকে জানাচ্ছেন, নিজের দ্রুততম বলটা কত গতির সেটি তাঁর জানা নেই। হঠাৎ পাদপ্রদীপের আলোয় এসে খুশি, তবে তাঁকে নিয়ে অধিনায়কের এত উচ্ছ্বাসেও বেনেটের মাথা ঘুরে যায়নি, ‘অধিনায়ক আপনাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলে ভালো তো লাগবেই। তবে আমি খুব বেশি ভাবছি না, দৃষ্টি খুব বেশি দূরে নয়। স্রেফ নিজের মতো খেলতে চাই।’
বন্ডকে আদর্শ মেনেই বড় হয়েছেন। ছেলেবেলায় স্বপ্ন ছিল নিউজিল্যান্ডের রাগবি দলে খেলা। খেলতেন বাস্কেটবলও। ক্রিস কেয়ার্নস, ক্রিস হ্যারিস, জিওফ অ্যালটদের ক্যান্টারবুরির হয়ে খেলতে দেখে মজে গেলেন ক্রিকেটের প্রেমে। বন্ডকে দেখার পর থেকে শুধু বন্ডই হতে চেয়েছেন। দুজনের তুলনা করতেই অবশ্য প্রায় ‘হায় হায়’ করে উঠলেন, ‘বন্ডি ছিল গ্রেট। আমি যদি ওর অর্ধেকও হতে পারি, তাহলেই খুশি থাকব।’ বন্ড মানে ইনজুরিও। চোটের কাছে হার মেনেই তো ক্রিকেট ছাড়তে বাধ্য হলেন। ‘বন্ডের উত্তরসূরি’ অবশ্য নিজেকে চোট থেকে বাঁচানোর একটা উপায় বের করেছেন, ‘অফ সিজনের ট্রেনিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর রানিং করতে হবে, জিমে যেতে হবে নিয়মিত। আশা করি, আমি নিজেকে ফিট রাখতে পারব।’
বাংলাদেশ দল সম্পর্কে সামান্য কিছু ধারণাও আছে। গত নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের নেটে বোলিং করেছিলেন, ভারতের এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে একসঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেনের সঙ্গে। তূণে খুব বেশি অস্ত্র এখনো নেই, বাউন্সটাই মূল অস্ত্র। সে ক্ষেত্রে অবশ্য অভিষেকের জন্য বাংলাদেশ খুব একটা আদর্শ জায়গা নয়।
‘বন্ডের উত্তরসূরি’ অপেক্ষা করছেন স্রেফ একটা সুযোগের। নিজে যেমন চমকে গেছেন, সুযোগ পেলে সেভাবেই চমকে দিতে চান ক্রিকেট-বিশ্বকে।

ম্যারাডোনা এখনো লক্ষ্যভেদী

ঘাসের সবুজ চাদর বিছানো ফুটবল মাঠ নয়। কিন্তু সত্যিকারের শিল্পী যিনি, যেকোনো ক্যানভাসেই আঁকতে পারেন ছবি। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা শিল্পী আবারও সেটি প্রমাণ করে দিলেন। ৫০ বছর বয়সেও নিজের ফুটবল প্রতিভার কিছু ঝলক দেখিয়ে দাতব্য কাজের জন্য তুলে দিলেন ৫ লাখ ডলার।
পরশু রাশিয়ায় মস্কোর একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ছাদে আয়োজিত হয় ম্যারাডোনার এই তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান। আয়োজক ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হাবলট। ১৬ গজ দূর থেকে বিভিন্ন লক্ষ্যে ১০টি শট নিয়েছেন ম্যারাডোনা। ওই লক্ষ্যগুলোয় লেখা ছিল ২৫ থেকে ৩ লাখ ডলারের বিভিন্ন অঙ্ক। কথা ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যারাডোনা যে কটা লক্ষ্যে বল লাগাতে পারবেন, ওই পরিমাণ টাকা দান করা হবে তহবিলে।
শট নেওয়ার শুরুতেই ম্যারাডোনা রুশ ভক্তদের জানিয়ে দেন, তাঁর বয়স এখন ২০ নয়, ৫০। ফলে বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না। কিন্তু দ্বিতীয় শটটাতেই তিনি বল লাগান ৩ লাখ ডলারের বোর্ডে। লাফিয়ে চিৎকার করে ওঠেন শিশুতোষ আনন্দে। সবগুলো শট ঠিকমতো লাগাতে পারলে ১০ লাখ ডলার উঠত। ম্যারাডোনা ঠিক অর্ধেক তুলে দিয়েছেন। এই টাকা ব্যয় হবে শিশুদের চিকিৎসায়।
‘এখানে আসতে পেরে আমার ভালো লাগছে। মস্কো আমার প্রিয় শহরগুলোর একটি। আমি আসলে চেয়েছিলাম আরও বেশি টাকা তুলতে। এটা তো শিশুদের জন্য ব্যয় হবে। আর শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ’—অনুষ্ঠান শেষে বলেছেন ম্যারাডোনা।
এদিন আরেক আর্জেন্টাইনও নেমেছিলেন মাঠে। লিওনেল মেসির বার্সেলোনা অবশ্য জেতেনি। তবে ম্যারাডোনা এর আগেই মেসিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। বর্ষসেরা পুরস্কারটি যে আবারও মেসির হাতে ওঠা উচিত, জানিয়ে দিয়েছেন সেই দাবিও।

ইতোর রাতে বার্সার ড্র

ক্লিক, ক্লিক, ক্লিক...। ঝড়ের গতিতে ক্যামেরার শাটার টিপে যাচ্ছিলেন স্যামুয়েল ইতো। সতীর্থরা ছুটে যাচ্ছিলেন তাঁর গোল উদ্যাপন করতে, দৃশ্যটা ক্যামেরাবন্দী করে রাখতে চাইলেন ইন্টার মিলানের ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার।
পরশু আসলে ক্যামেরাবন্দী হয়ে গেল স্যামুয়েল ইতোরই অসামান্য এক কৃতিত্ব। ইন্টার মিলানের জার্সি গায়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। ভেরডার ব্রেমেনের বিপক্ষে দলকে পরশু এনে দিয়েছেন ৪-০ গোলের বিধ্বংসী জয়।
হ্যাটট্রিক গোলটি ইতো করেছেন ৮১ মিনিটে। কিন্তু যতক্ষণ মাঠে ছিলেন প্রশস্ত একটা হাসিই ছড়িয়ে ছিল তাঁর মুখে। শেষ বাঁশি বাজার পর বলটি বগলদাবা করে সহাস্যে মাঠ থেকে বেরোলেন। যে বলটি দিয়ে ইন্টারে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছেন, সেটি হয়তো রেখে দেবেন নিজস্ব সংগ্রহশালায়!
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে ইতো আরও খোলামেলা, ‘দারুণ এক ম্যাচ ছিল এটা। আপনি যখন জিতবেন, অবশ্যই আনন্দ হবে আপনার। আর দলের জয়ে যখন আপনি গোল করবেন, তখন আনন্দটা বেশিই হবে।’
শুরুর ১০ মিনিট যা একটু লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে ব্রেমেন। ম্যাচের বাকি সময় ইন্টার ব্রেমেনকে নিয়েই খেলেছে। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোর বুদ্ধিদীপ্ত পাসে প্রথম গোলটি করেছেন ইতো। দ্বিতীয় গোলটি লুসিওর এক লম্বা পাস থেকে। এরপর ইতোরই ডিফেন্স চেরা পাসে ব্যবধান ৩-০ করেন ওয়েসলি স্নাইডার। ৮১ মিনিটে ইতো তাঁর হ্যাটট্রিক গোলটি করেছেন গোলরক্ষক টিম ভিজাকে কাটিয়ে।
যাঁর জন্য ইন্টার এমন জয় পেল, ডিয়েগো মিলিতো চোটের কারণে খেলার বাইরে না থাকলে সেই ইতোর কিন্তু সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলাই হতো না। নতুন কোচ বেনিতেজও তাঁর পূর্বসূরি হোসে মরিনহোর মতো ইতোকে মাঝে না খেলিয়ে একটু বাঁয়ে খেলাচ্ছিলেন। তাহলে তাঁদের কৌশলটা কি ভুল প্রমাণিত হলো? বেনিতেজ ইতোর প্রশংসার পাশাপাশি নিজের কৌশলকে যৌক্তিক বলেই তুলে ধরলেন, ‘যখন বাঁয়ে খেলে তখনো স্যামুয়েল গোলের কাছাকাছিই থাকে।’ দাবিটা আরও যুক্তিসিদ্ধ হয়ে যায় ইতোর এ মৌসুমে ৯ ম্যাচে ১১ গোল পাওয়ায়।
গোল পাচ্ছে বার্সেলোনাও। তবে রুবিন কাজান সামনে পড়লেই যেন গোল করতে ভুলে যায় পেপ গার্দিওলার দল। রাশিয়ার এই ক্লাবটি যেন দুষ্টগ্রহের মতো এসে দাঁড়ায় বার্সার সামনে। গত মৌসুমে নিজেদের মাঠে হেরেছিল তারা কাজানের কাছে, কাজানের মাঠ থেকে ফিরেছিল গোলশূন্য ড্র নিয়ে। এবার দুই ম্যাচের প্রথমটিতে কাজানের মাঠে ড্র করল বার্সেলোনা (১-১)।
এই ড্রতে বার্সা অবশ্য খুশিই হতে পারে। ম্যাচের শুরুতে পেদ্রোর শট পোস্টে প্রতিহত হওয়ায় বার্সা ৩০ মিনিটে পিছিয়েই পড়ে নবোয়ার পেনাল্টি গোলে। ৬০ মিনিটে ডেভিড ভিয়ার পেনাল্টি গোলে ম্যাচে ফেরে এক মৌসুম আগে ছয়টি শিরোপাজয়ী বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে একটি পয়েন্ট পাওয়াকেই বড় প্রাপ্তি মেনেছেন ভিয়া, ‘প্রথমার্ধের পেনাল্টিটি আমাদের জন্য ম্যাচটি কঠিন করে তুলেছিল। ওরা খুব ভালো রক্ষণ করেছে। তবু একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছি।’
রুবিন কাজান বার্সাকে ঠেকাতে নিয়েছিল অতি রক্ষণাত্মক কৌশল। দ্বিতীয়ার্ধে তো ৭-৮ জনকে রক্ষণে নামিয়ে দেয় তারা। বদলি হিসেবে নামা লিওনেল মেসির জাদুও তাদের সেই জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। তবে বার্সার বল দখল ছিল অবিশ্বাস্য, শতকরা ৭৫ ভাগ!
এদিকে স্পেন থেকে কোনোরকমে জয় নিয়ে ফিরেছে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুই তরুণ প্রতিভাই বাঁচিয়েছে ‘অল রেড’দের। রেঞ্জার্সের পর আরেকটি গোলশূন্য ড্রর দিকে এগোতে থাকা ম্যানইউ ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি পেয়েছে ৮৫ মিনিটে। মাচেদার পাসে গোলটি করেছেন মেক্সিকান স্ট্রাইকার হাভিয়ের হার্নান্দেজ।
৮ বছর পর আবার স্পেন থেকে জয় নিয়ে ফেরা ম্যানইউ কোচ ফার্গুসন কষ্টার্জিত এই জয়েই খুশি, ‘এটা আমাদের জন্য দারুণ এক ফল।

তামিমেই যেন শেষ হয়!

কেউ চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়েছেন। কেউ পা ছড়িয়ে মেঝেতেই বসে। অপেক্ষা—কখন মাঠে নামার অনুমতি মিলবে, শুরু হবে অনুশীলন। কাল নিউজিল্যান্ড দল প্র্যাকটিস করে চলে যাওয়ার পর তাদের খালি ড্রেসিংরুমটা দখল করে নিয়েছিল বিসিবি একাদশের ক্রিকেটাররা।
মাঠে জাতীয় দলের প্রস্তুতি চলায় কোচ সারোয়ার ইমরান শেষতক অনুশীলন না করেই বিসিবি একাদশের ক্রিকেটারদের নিয়ে ছেড়ে গেছেন মাঠ। একটু পর বিকেএসপি থেকে আসা খবরটা শুনে অবশ্য ফালতু পরিশ্রম করতে না হওয়ার স্বস্তি পেতে পারেন তিনি। বৃষ্টিতে অনুপযুক্ত বিকেএসপির মাঠ যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিলই করে দিয়েছে! কাল দল ঘোষণা হলেও সংশয় আছে আগামী পরশুর দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটি নিয়েও।
কাল দুপুরের পর বৃষ্টি হয়েছে মিরপুরেও। তবে সেটা বাংলাদেশের অনুশীলন বিঘ্নিত করার মতো জোরালো হয়নি। বরং বেলা ১টা থেকে বিকেল প্রায় ৫টা পর্যন্ত মাঠের মাঝখানের উইকেট আর নেট মিলিয়ে তুমুল অনুশীলন চলল নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য। প্রায় চার ঘণ্টার অনুশীলনের মাঝে দুই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেনের ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়ার দৃশ্য আলাদা করেই চোখে পড়ল।
অনুশীলনে ৫ ওভার বল করার পর পিঠের পেশিতে টান লাগে মাশরাফির। ফিজিও ‘ও কিছু নয়, সামান্য ব্যথা’ বলে উড়িয়ে দিলেন। মাশরাফিও বললেন তাই, ‘পুরোনো ব্যথাতেই আবার একটু লেগেছে। সমস্যা যাতে না বাড়ে, সে জন্য আর বল করিনি। তবে বড় কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে না।’ খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি না হলেও মাশরাফির তুলনায় রুবেলের হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যাটা বেশি। কাল ৫ ওভারের বেশি বল করতে পারেননি তিনিও। আগামী দু-এক দিন তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত হলেও কোচ জেমি সিডন্স বলেছেন, ‘ও একটু নার্ভাস, ব্যথাও ছিল। তবে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফিজিও আশাবাদী। আমিও আশা করি ও ঠিক হয়ে যাবে।’ তবে নাজমুল হোসেনকে আজ থেকে দলের সঙ্গে যোগ দিতে বলাটা রুবেলের সমস্যাটাকে খুব সাধারণ মনে করতে দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ দলে এর বাইরেও টুকটাক চোট-আঘাতের সমস্যা আছে। জুনায়েদ সিদ্দিকের যেমন হাঁটুতে ব্যথা, জহুরুল ইসলামের পাঁজরে। ওপেনার ইমরুল কায়েস এখন ঠিক হয়ে গেলেও দিন দুয়েক আগেও কুঁচকির সমস্যায় ভুগেছেন। মাশরাফি অবশ্য নিজের পিঠের ব্যথার মতো কোনোটিকেই এমন গুরুতর কিছু মনে করছেন না।
অধিনায়কের আশাবাদ সত্যি হলেই ভালো। তামিম ইকবালকে হারানোর বিষম আঘাত এসেছে সিরিজের আগেই। অন্য কেউও তাঁর সঙ্গী হলে নিউজিল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানোর স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যাবে। তামিমকে হারানোটাকে বড় ক্ষতি বলে মেনেও সিডন্স অবশ্য আশাতেই বসত গড়ছেন, ‘তামিমের জায়গায় যে (শাহরিয়ার নাফীস) এসেছে, তাঁর ব্যাটিংয়ে আমি খুশি। তামিম নেই, আশরাফুলও বাজে ফর্মের কারণে বাইরে। তাতে ব্যাটিং লাইনআপটা অন্যরকম হয়ে গেলেও আমি আশাবাদী।’
দুই দিন ধরে মোহাম্মদ আশরাফুলের নামের সঙ্গে ‘বাজে ফর্ম’ শব্দ দুটিই বেশি আসছে। সিডন্সের আগে পরশু ভেট্টোরিও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন সেটা। বিসিবি একাদশের অধিনায়ক আজকের প্রস্তুতি ম্যাচেই শুরু করতে পারতেন ফর্ম ফিরে পাওয়ার লড়াই। তবে ম্যাচটা হচ্ছে না বলে তাঁর কোনো দুঃখ নেই। ফর্ম ফিরে পেতে জাতীয় লিগের দিকেই তাকিয়ে তিনি, ‘জাতীয় লিগে পাঁচ ম্যাচে ১০টা ইনিংস...যদি তিন-চারটা সেঞ্চুরি করতে পারি...।’
আশরাফুল যখন কথাগুলো বলছিলেন, মাঠে অনুশীলন চলছিল মাশরাফি-সাকিবদের। দলে ফেরার আশাবাদের সঙ্গে একটা দুঃখের বীণাও কি বেজে উঠল সেদিকে তাকিয়ে! ‘এটা তো মেনে নিতেই হবে। আমি প্রায় এক বছর ভালো খেলিনি। সিরিজ চলবে, আর আমি বাইরে বসে থাকব, এটা আমার প্রাপ্যই’—নিরুত্তাপ কণ্ঠে বললেন কথাগুলো, কিন্তু হাহাকারটা ঠিকই টের পাওয়া গেল আশরাফুলের কথায়।
নিউজিল্যান্ড বলেই দুঃখটা আরও বেশি হওয়ার কথা। দুই বছর আগে নিউজিল্যান্ডের সর্বশেষ সফরে তিনি ছিলেন অধিনায়ক। প্রথম ওয়ানডেতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েই জিতিয়েছিলেন দলকে। মাঝের দুই বছর আশরাফুলের ক্যারিয়ারে যে সেই পুরোনো জোয়ার-ভাটার খেলা! এখন চলছে ভাটার টান। বিশ্বকাপের আগে কি আর আসবে জোয়ার?