Tuesday, November 2, 2010

গল্পালোচনা- 'ডান রাস্তার বামপন্থী' by কাওসার আহমেদ চৌধুরী

আমি যখন প্যারেড বা সামরিক কুচকাওয়াজ শিখতে শুরু করি, তখন আমার বয়স ছয় বছর। ওই সময়টায় আমি কুমিল্লা শহরে মুকুল ফৌজের একজন স্বল্পশিক্ষিত সদস্য।
এরপর থেকে সারাটা স্কুলজীবন কেটেছে বয়-স্কাউট হিসেবে। বিরামহীনভাবে করে গেছি_লেফট-রাইট, লেফট-রাইট-লেফট, বাম-ডান, বাম-ডান, বাম! সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় আবার থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের পূর্ণ একটা কোর্সও করে ফেললাম। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে এই দ্বিতীয় পর্বে আমি তখন সিলেটে, পিতৃগৃহে। তার আগে মাতৃহীন অবস্থায় থাকতাম বোনের সঙ্গে।যা-ই হোক, স্কাউট-জীবনে আমি যে গভীর নিষ্ঠায় শৃঙ্খলার চর্চা করে গেছি দিনের পর দিন, তার তেমন কোনো ছায়া কিন্তু আমার উত্তর-জীবনে কেউ দেখতে পায়নি। শুধু সততার একটা অনুশীলন থেকে গেছে_সম্ভবত অগি্নযুগের বিপ্লবীদের ইতিহাস, সাহিত্য পাঠের অভ্যাস, পারিবারিক পরিবেশ এবং কিছু ভালো মানুষের সানি্নধ্যই এর কারণ। আর স্কাউট চর্চাও নিঃসন্দেহে কিছু অনড় মূল্যবোধ তৈরি করে দিয়েছিল আমার চরিত্রে।

খবর- 'মারা যাবে না একটি শিশুও' -বিলগেটসপত্নী, মেলিন্ডা গেটস

মেলিন্ডা গেটস, বিলগেটসপত্নী সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে নিজেদের সেবাকর্ম নিয়ে কথা বলেছেন স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের সঙ্গে, তারই অংশবিশেষ...

১৫০ কোটি ডলারের টিকা কর্মসূচি
এই কর্মসূচি শুরু করে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে পরিকল্পিত ভাবে দরিদ্র মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে কাজ করলে ফল পাওয়া যাবেই। এ কর্মসূচি যদি ধারাবাহিকভাবে চালাতে পারি, তাহলে বিভিন্ন রোগের টিকা সরবরাহের মাধ্যমে বিশ্বে শিশু মৃত্যু হার অনেক কমে যাবে। এপর্যন্ত এই টিকা কর্মসূচির জন্য ৪৫০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছি। আমরা ঠিক করেছি এ তহবিল ১০০০কোটি ডলারে উন্নিত করার।

আলোচনা- 'সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের অঙ্গীকারঃঅপদার্থদের এই অক্ষম অঙ্গীকার আর কতকাল?' by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

আমাদের দেশের ওপর দিয়ে রাজনৈতিক ঝড়-তুফান এমন নিদারুণভাবে বয়ে গেছে যে, রাজনৈতিক চেতনা আমাদের মননে তেমন দানা বাঁধতে পারেনি।

আমাদের কাছে রাজনৈতিক চেতনার চেয়ে সাংস্কৃতিক চেতনা বরং বড়, যেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে সমাজ বড়। সেখানে সাংস্কৃতিক চেতনায় আমাদের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য বিকাশ লাভ করে। বাংলা ভাষার সংগ্রামের ফলে আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনা এমনভাবে পুষ্টিলাভ করতে শুরু করে, আমাদের সংস্কৃতির ওপর প্রতিটি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার হতে শিখি এবং প্রতিবাদ করতে শিখি। প্রতিবাদে প্রতিবাদে আমাদের সাহস সংহত হলো।

নিবন্ধ- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড-একটি দেশ একটি কবিতার জন্ম by আলীম আজিজ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম বাংলাদেশের; নতুন এক দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে এর আবির্ভাব। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে সেই সময়ে নানাভাবে সমর্থন জুগিয়েছে বিশ্ববাসী।

সে রকমই এক উদ্যোগের অংশ হিসেবে কলকাতায় আসেন কবি অ্যালেন গিনসবার্গ। বাঙালি শরণার্থী শিবিরের লাখো মানুষের দুর্দশা নিদারুণভাবে আলোড়িত করে গিনসবার্গকে। নিউইয়র্কে ফিরে গিয়ে (১৪-১৬ নভেম্বর) তিনি রচনা করেন তাঁর কালজয়ী কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।

আলোচনা- 'আরও একটি সর্বনাশা দেশ চুক্তির বোঝা' by আনু মুহাম্মদ

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১০ কেয়ার্ন এনার্জি ও (মার্কিন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিখ্যাত) হেলিবার্টনকে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির অনুমতির চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। চুক্তিতে বর্ণিত তৃতীয় পক্ষ যে কেউ হতে পারে।

কোম্পানি এখন যে কারও কাছে তাদের নির্ধারিত অর্থাৎ উচ্চতর দামে গ্যাস বিক্রি করতে পারবে। এরই মধ্যে যেসব আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানা গেছে, তাদের মধ্যে বিদেশি কোম্পানি কাফকো ও কোরীয় ইপিজেড অন্যতম।
আর্থিক জোরের কারণে রপ্তানিমুখী এসব কোম্পানি উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনতে সক্ষম হবে।

আরেক যুদ্ধ by মালেকা বেগম

এ কথা তো বলা উচিত নয় যে সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! এ কথা তো বলা সংগত নয় যে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা, রাষ্ট্রের ক্ষমতার চেয়ে সমাজের গুটিকয় বখাটে বেশি শক্তিধর হয়ে উঠেছে। সংগত না হলেও, উচিত না হলেও সেই কথাই বলতে বাধ্য হচ্ছি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ধরে বখাটে সন্ত্রাসীরা আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে বহাল তবিয়তে লুকিয়ে থাকছে, ধরা পড়লেও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে মেয়েদের পিছু নেওয়া, হয়রানি করা, অপহরণ করা ও উত্ত্যক্ত করার অপসাহস দেখায় বখাটে ছেলেরা; তাদের যারা রুখে দাঁড়ায়, তাদের খুন করছে মোটরসাইকেল চাপিয়ে। পুলিশের নাকি কিছুই করার থাকে না এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। সরকারের সবুজসংকেত দেওয়া কঠোর হুঁশিয়ারির পরই কেবল থানা-পুলিশ নড়েচড়ে ওঠে আর খুনি বখাটেদের ধরতে তৎপর হয়। এ ধরনের পুলিশ প্রশাসন ন্যায়বিচারে কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে।
প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান সত্ত্বেও বখাটে সন্ত্রাসীরা ভয় পায় না, নিবৃত্ত হয় না। তারা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে। এই প্রভাবশালীদের মধ্যে সমাজের অশুভ শক্তির প্রতিভূরা যেমন আছে, তেমনই আছে রাজনৈতিক নানা ক্ষমতাধর ব্যক্তি। গ্রাম-বাংলাজুড়ে, শহর-রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় বহু বছর ধরেই বখাটেদের উৎপাত চলেছে—এখন তা বিস্ফোরণের দাবানল ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেসব বিস্ফোরণ চ্যালেঞ্জ করার মতো প্রগতিশীল নারী-পুরুষের সামাজিক শক্তি সংগঠন-আন্দোলন থাকলেও তা শুধু খুন-হত্যা ঘটনার পর সোচ্চার হচ্ছে। খুন-হত্যা-অপহরণ-উত্ত্যক্ত করার মতো অঘটনগুলো চিরতরে নির্মূল করার জন্য প্রয়োজন প্রতিটি গ্রাম ও শহরের এলাকায় এলাকায় বখাটে নির্মূল করার জন্য প্রতিরোধ কমিটি। এই কমিটির মধ্যে থাকা প্রয়োজন নারী-পুরুষ-কিশোর-কিশোরী-তরুণ-তরুণী ও অভিভাবক-প্রশাসকদের।
এই কমিটি গঠনের জন্য প্রতিনিধিস্থানীয় প্রগতিশীল নারী আন্দোলন সংগঠনের প্রতিনিধিরা, শিশু-কিশোর প্রতিনিধিরা, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা, প্রগতিশীল ছাত্র-যুব প্রতিনিধিরা, শিক্ষাবিদ ও সব পেশার নারী-পুরুষ; শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসী জনগণ দল-মতনির্বিশেষে সংগঠিত হয়ে অতি দ্রুত প্রচার-আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে না পড়লে বখাটে রাজাকারদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ সফল হবে না। সেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছে—এখন সংগঠিত হতে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের।
শুভ পদক্ষেপ নিচ্ছেন সাংবাদিকতা পেশার ভাইবোনেরা। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খবর সংগ্রহ করছেন তাঁরা। শুধু খবর সংগ্রহই নয়, তাঁরা আন্দোলন-সংগঠকের ভূমিকাও রাখছেন। মানিকগঞ্জের সাংবাদিক অরূপ রায় যেভাবে সাহিরা শাওলিন শৈলীর ভেঙে যাওয়া বিয়ে সম্পাদনের জন্য সংগঠকের মতো ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন (প্রথম আলো, ৩০-১০-১০) এবং একই সঙ্গে শাওলিন ও তাঁর হবু স্বামীকে যে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিচ্ছিল, তা প্রতিহত করার জন্য স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্পৃক্ত করেছেন, তা সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে সহায়ক হবে। এমন ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই।
মধুখালী (ফরিদপুর) থেকে সাংবাদিক আশীষ-উর-রহমান ও পান্না বালার খবরে (প্রথম আলো, ৩০-১০-১০) বিশদভাবে জানা গেল বখাটেদের দৌরাত্ম্যের একাধিক ঘটনার কথা। তাঁদের ধন্যবাদ। চাঁপা রানীকে হত্যার ঘটনায় সরকারের আইনি শাসনের পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত আশার আলো দেখাবে কি না, তাতেও সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। এসব সংশয় চিরতরে দূর করতে হবে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সংবাদ সংগ্রহের জন্য দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকেরাই পারেন বখাটে-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নির্ভীক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে। সাংবাদিকদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা স্থানীয়ভাবে এলাকায় এলাকায় সন্ত্রাসী ও বখাটের বিরুদ্ধে সামাজিক নেতৃত্বের ভূমিকা রাখুন। সমাজে নিশ্চয়ই তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পুলিশের ভূমিকার ক্ষেত্রে সমস্যা প্রকট। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, মহিলা-শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলছেন, বখাটে ও সন্ত্রাসী দমনে ভ্রাম্যমাণ পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে; বলছেন কঠোর আইন হবে। থানা-পুলিশ বলছে, আইন দিয়ে কিছু হবে না, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার সমস্যাটি সামাজিক। অতএব, সামাজিকভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। সবাই নানা ‘পদক্ষেপের ব্যবস্থা করা হচ্ছে’ কথা পর্যন্তই থেমে থাকছেন। বখাটে-সন্ত্রাসীদের উৎপাত বন্ধে সরকারকে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
কলেজশিক্ষক মিজানুর রহমান আর চাঁপা রানীর মতো আরও অনেকে বখাটে ও সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। এঁদের যুদ্ধ ছিল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, বখাটেদের বিরুদ্ধে—সেই যুদ্ধে আমাদেরও ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
মালেকা বেগম: গবেষক, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

২০ বছর পর বাগদাদে প্রথম ইউরোপীয় বিমান

রান্সের এগলিনা এজু এয়ারলাইনসের একটি বিমান গতকাল রোববার বাগদাদে অবতরণ করেছে। ১৯৯০ সালে ইরাকের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এই প্রথম ইউরোপের কোনো বাণিজ্যিক বিমান ইরাকের মাটি স্পর্শ করল।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের চার্লস দ্য গল বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা এয়ারবাস এ৩১৯ স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় ইরাকে পৌঁছায়। বিমানটিতে ফ্রান্সের বাণিজ্যমন্ত্রী আনা মারি, ৪০ জন ব্যবসায়ীসহ ১১১ জন যাত্রী ছিলেন।
১৯৯০ সালে ইরাকের কুয়েত আগ্রাসনের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকে ফ্রান্স ও ইরাকের মধ্যে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়।

ভিয়েতনামে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাচ্ছে রাশিয়া

রশিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যে গতকাল রোববার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনাবিষয়ক ৫৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভিয়েতনামে সর্বপ্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়া আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে যাচ্ছে। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ার পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সে দেশের পরমাণু জ্বালানি কোম্পানি রোসাটোম করপোরেশনের প্রধান সেরগেই কিরিইয়েনকো এবং ভিয়েতনামের পক্ষে সই করেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ভিয়েতনামে প্রাথমিকভাবে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা হবে ১ দশমিক ২ গিগা ওয়াট।
ভিয়েতনাম ২০৩০ সালের মধ্যে তার পাঁচটি প্রদেশে আটটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এগুলোর উৎপাদনক্ষমতা হবে ১৫ গিগাওয়াট, যা সে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ।
প্রাথমিকভাবে ভিয়েতনাম চারটি কেন্দ্রের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে চায়। ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত একটি কেন্দ্র থেকে উৎপাদন চায় হ্যানয়।

আরোপিত অবরোধ হাস্যকর

ইরানের ওপর বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর আরোপিত অবরোধকে অত্যন্ত হাস্যকর ও ব্যর্থ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গত শনিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ এযাবৎকালের সবচেয়ে হাস্যকর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। প্রথম থেকেই এটি ব্যর্থ ছিল। তিনি এই অবরোধকে হঠকারী বর্ণনা করে বলেন, এটি ইরানিদের ওপর আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অবরোধ আরোপ করে আপনারা কী আশা করেন? জ্বালানি? আমরাই জ্বালানি উৎপাদন করি। বিশ্বের মধ্যে আমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি মজুদকারী দেশ।’
ইরান তার বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে না আসায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য শক্তিধর দেশ তেহরানের ওপর অবরোধ আরোপ করে। এদিকে ইরানের সঙ্গে ১৫ নভেম্বর থেকে বিশ্বের ছয়টি বৃহৎ শক্তিধর দেশ ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব এসেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে এই আলোচনা গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে আছে। আহমাদিনেজাদ বারবারই বলেছেন, আলোচনা হতে হবে অবশ্যই ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।

প্রিন্স উইলিয়ামের বান্ধবী চাকরি ছেড়েছেন

ব্রিটেনের রাজসিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়ামের বান্ধবী কেট মিডলটন চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। মা-বাবার মালিকানাধীন অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনাবিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠানে আলোকচিত্রী হিসেবে চাকরি করতেন তিনি। প্রিন্স উইলিয়াম ও কেটের মধ্যে শিগগিরই বাগদান ঘোষণা হতে পারে এমন গুঞ্জনের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। কেট সম্প্রতি তাঁর তোলা ছবির একটি প্রদর্শনীও বাতিল করেছেন।
কেটের এক বন্ধু বলেছেন, মা-বাবাকে যেকোনো সময় সাহায্য করতে প্রস্তুত কেট। কিন্তু এখন থেকে নিয়মিত আর কাজ করবেন না।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের একজন সহযোগী বলেছেন, রাজপরিবারে এর আগে এমন কেউ ছিলেন না, যিনি বিয়ের পরও চাকরি করেছেন।
কেটের মা ক্যারোল মিডলটন ও বাবা মাইকেল মিডলটন ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান পার্টি পিসেস প্রতিষ্ঠা করেন।

ইস্তাম্বুলে আত্মঘাতী বোমা হামলা আহত ২২

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্রে গতকাল রোববার আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২২ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্রের ব্যস্ততম তাকসিম স্কয়ারে ওই হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের নয় সদস্যসহ ২২ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে।
তুরস্কের একটি টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের সদস্যরা বিস্ফোরণস্থল থেকে একজন মানুষের নিষ্প্রাণ দেহ সরিয়ে নিচ্ছেন। এ সময় আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেও দেখা যায়।
গত জুন মাসে ইস্তাম্বুলের উপকণ্ঠে একটি বোমা বিস্ফোরণে এক কিশোরীসহ ছয় সেনাসদস্য নিহত হন। বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফ্যালকনস (টিএকে) ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।

ইন্দোনেশিয়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার

ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে গতকাল রোববার ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেন ত্রাণকর্মীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ত্রাণ কার্যক্রম ভালোভাবে শুরু করা সম্ভব হয়। গত সোমবার সুনামি আঘাত হানলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এত দিন দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ সম্ভব হয়নি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী সুনামিতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৪৯ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এখনো ৯৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আগুস প্রিয়েতনো বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৯৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল বেশ কিছু লোককে আমরা উদ্ধার করেছি।’
নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান চলছে উল্লেখ করে অপর কর্মকর্তা জোসকামাতির বলেন, নিখোঁজদের মারা যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। এদের বেশির ভাগই সম্ভবত বালুর নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আজকের আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত ভালো, কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। তাই আমরা দুর্গত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ শুরু করেছি। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য আরও দুটি হেলিকপ্টার যোগ হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার দুর্গম এলাকাগুলোতে রওনা হয়েছে, যেখানে সমুদ্র বা আকাশপথ ছাড়া আর কোনোভাবেই যাওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরি থেকে গতকাল রোববার আবারও ছাই ও গ্যাস উদিগরণ হয়েছে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

ইরাকের রাজনীতিবিদদের আলোচনায় ডেকেছেন সৌদি বাদশা

ইরাকের নতুন সরকার গঠন নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ। গত শনিবার তিনি এ আমন্ত্রণ জানান।
ইরাকে গত মার্চে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে কোনো জোটই পার্লামেন্টে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কিংবা নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পায়নি। সেই থেকে সাত মাস ধরে অচলাবস্থা চলে আসছে সে দেশের নতুন সরকার গঠন নিয়ে।
সৌদি বাদশা আবদুল্লাহ এক বিবৃতিতে ‘ইরাক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে’ মন্তব্য করে দেশটির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির নোংরা জাতিগত দ্বন্দ্ব নিরসনের আহ্বান জানিয়ে সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনার জন্য রিয়াদে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। তবে পবিত্র হজের পর চলতি মাসেই এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির মুখপাত্র মায়সুন আল-দামলুজি সৌদি বাদশার এ আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে আমরা সব রাজনৈতিক জোটকে এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির নেতৃত্বাধীন শিয়া জোট।

জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে না: প্রণব

ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত সেখান থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, মাওবাদীরা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়; দেশের বেশ কিছু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাকে বিপন্ন করে তুলেছে। যত দিন না ওই সব এলাকায় শান্তি ফিরে আসছে, তত দিন যৌথ বাহিনীর অভিযান চলবে। শান্তি ফিরে এলেই প্রত্যাহার করা হবে যৌথ বাহিনীকে।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে ইউপিএ সরকারের শরিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে রাজ্যব্যাপী শুরু করেছেন স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান। মমতার মতে, যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করা হলে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরে আসবে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা ‘শান্তি পরিকল্পনা’র প্রস্তাব দিতে চেয়েছেন

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগ করা প্রতিনিধিদলের কাছে ‘শান্তি পরিকল্পনা’র প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সিএএনএন-আইবিএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধিদলের প্রধান দিলীপ পদগাওকর এ কথা জানান।
দিলীপ পদগাওকর বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা দ্বিতীয়বার কথা বলতে চেয়েছেন। তাই আবার বৈঠকে বসেছি।’
দিলীপ পদগাওকর আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়বার দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে তাঁরা আমাদের কাছে শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ওই সংগঠনগুলোর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন এমন একজনই বিষয়টি আমাদের জানান।’
দিলীপ পদগাওকর বলেন, ‘তাঁদের জানানো হয়েছে, আমরা তাঁদের কথা শোনার জন্য এসেছি। কোনো প্রস্তাব দেওয়া হলে তা ভেবে দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছি। কোনো প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। আমাদের লোকজনের মধ্যেও এটা নিয়ে আলোচনা হতে হবে। এ ব্যাপারে জনগণের কাছ থেকে বার্তা পাওয়া যাবে।’
কাশ্মীরে সহিংসতা বন্ধে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সম্প্রতি তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল গঠন করে ভারত সরকার। দিলীপ পদগাওকরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রাধাকুমার ও তথ্য কমিশনার এম এম আনসারি।
কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলে কারফিউ: হুররিয়াত সম্মেলনের ডাকা ধর্মঘটের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতের পর থেকে বারমুন্ডা জেলার দিলিনা ও পালাহালান শহর, বান্দিপোড়া জেলা শহর ও কুপওয়ারা জেলার তিনটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। এর কিছু সময় পর কুপওয়ারা জেলার আরও কিছু অংশেও কারফিউ জারি করা হয়েছে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এত রমরমা ইংরেজি ভাষাও একদিন বিলুপ্ত হবে

যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত ভাষাবিদ নিকোলাস অসলার বলেছেন, এখন যতই ছড়াতে থাক, লাতিন বা সংস্কৃতের মতো ইংরেজি ভাষাও একদিন বিলুপ্ত হবে। নিজের লেখা দ্য লাস্ট লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা: ইংলিশ আনটিল দ্য রিটার্ন অব বাবেল বইতে এ বিশ্লেষণের কথা জানান তিনি।
বইটিতে অসলার আন্তর্জাতিকভাবে ইংরেজি ভাষার ভবিষ্যৎ ও এর বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিক দিক বিশ্লেষণ করেছেন। নানা বিষয় পর্যালোচনা করে তিনি এই উপসংহারে পৌঁছেছেন যে ফারসি, সংস্কৃত ও লাতিনের মতো একদা বহুল প্রচলিত ভাষাগুলো যেভাবে ক্রমে বিলুপ্ত হয়েছে, একইভাবে বিলুপ্ত হবে ইংরেজি ভাষা।
অসলার বলছেন, বিশ্ব ইতিহাসের বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ইংরেজি ভাষা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা’ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হচ্ছে এমন একটি ভাষা, যা দিয়ে সব মানুষ পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে, কিন্তু সেটি তাদের মাতৃভাষা নয়। এর আগে কমবেশি ইংরেজির মতোই বহু মানুষের জন্য লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে লাতিন, ফারসি বা সংস্কৃতের মতো ভাষা। কিন্তু সেসব ভাষা এখন বিলুপ্ত বা প্রায় বিলুপ্ত।
ফারসির বিলুপ্তপ্রায় হতে সময় লেগেছে ৭০০ বছর। আবার লাতিন টিকে ছিল এক হাজার বছরের মতো। এসব ভাষার তুলনায় ইংরেজি অনেক বেশি অঞ্চলে ও বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যবহূত হলেও এ ভাষাটিও একদিন হারিয়ে যাবে বলে ধারণা অসলারের। কারণ ইংরেজির টিকে থাকার পক্ষে কোনো বিশেষ ব্যতিক্রম খুঁজে পাননি অসলার। ইংরেজি কেন বিলুপ্ত হবে তার একগাদা কারণ ও বিশ্লেষণ নিজের বইয়ে উপস্থাপন করেছেন এই ভাষাবিদ।
ফাউন্ডেশন ফর এনডেনজারড ল্যাংগুয়েজেস নামের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি নিকোলাস অসলার।

ইয়েমেনে চিকিৎসাশিক্ষার ছাত্রী আটক

যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্যবাহী বিমান থেকে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট উদ্ধারের ঘটনায় গত শনিবার ইয়েমেনে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাশিক্ষার ছাত্রী। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ছাত্রীর মাকেও আটক করা হয়েছে। এদিকে দুবাই পুলিশ জানিয়েছে, দুবাইয়ে উদ্ধার করা বিস্ফোরকের প্যাকেটে ‘আল-কায়েদার নামের ছাপ’ দেওয়া রয়েছে।
ইয়েমেন থেকে পণ্যবাহী বিমানে করে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট পাঠানো হচ্ছিল। হোয়াইট হাউস সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিমানবন্দরে সতর্কাবস্থা জারির নির্দেশ দেয়। হামলার আশঙ্কায় ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়। পরে ব্রিটেনের ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দর ও দুবাইয়ের বিমানবন্দর থেকে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের দুটি সিনাগগের (ইহুদিদের উপাসনালয়) ঠিকানায় এসব বিস্ফোরক পাঠানো হচ্ছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানায়, আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখা বিস্ফোরক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত।
ইয়েমেনের নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, রাজধানী সানার একটি বাসা থেকে চিকিৎসাশিক্ষার ওই ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ওই ছাত্রীর মাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
ইয়েমেনের কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরকের প্যাকেট পাঠানোর জন্য পণ্যবাহী বিমান সংস্থার রসিদ নিতে হয়। সেই রসিদ থেকে ওই ছাত্রীর মুঠোফোন নম্বর পাওয়া যায়। ওই নম্বরের সূত্র ধরেই তাঁকে ও তাঁর মাকে আটক করা হয়। ওই ছাত্রীর বাবা একজন প্রকৌশলী। ছাত্রীর পরিচিতদের বরাত দিয়ে তাঁর আইনজীবী আবদেল রাহমান বারম্যান জানান, তিনি খুব শান্ত ও মনোযোগী ছাত্রী। তিনি কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত—এমন কোনো কিছু তাঁরা জানেন না। আবদেল রাহমান বলেন, ‘আমার মক্কেল এ ঘটনার শিকার। কারণ, যারা এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তারা রসিদে মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করবে—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’
এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যমতে, ওই নারীই কুরিয়ার কোম্পানি ইউপিএস ও ফেডেক্সের মাধ্যমে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট ওয়াশিংটনে পাঠাতে চেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ অঙ্গীকার করেন, তাঁর দেশ মিত্রদের সহায়তায় আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
বিস্ফোরকের প্যাকেটে ‘আল-কায়েদার নামের ছাপ’ আছে উল্লেখ করে দুবাই পুলিশ জানায়, প্যাকেটের ভেতরে কম্পিউটারের প্রিন্টারের মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক পেন্টারিথ্রিটল টেট্রানাইট্রেট (পিইটিএন) লুকানো ছিল। এ ছাড়া প্যাকেটে একটি সার্কিট বোর্ড ও মুঠোফোনের সিমকার্ড পাওয়া যায়।
ইয়েমেনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট পাঠানোর ঘটনায় তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখাই এ ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট উদ্ধারের ঘটনায় ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী বিমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন বলেন, সন্ত্রাসীদের পরিকল্পনা ছিল আকাশেই বিমান উড়িয়ে দেওয়ার। সম্ভবত ব্রিটেনের আকাশেই এটা করতে চেয়েছিল তারা।
ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় আল-কায়েদার বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ইব্রাহিম হাসান আল-আসিরির যোগসূত্র আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন তদন্তকারীরা।
নিউইয়র্ক টাইমস তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে লিখেছে, বিস্ফোরকের প্যাকেট ও এতে থাকা উপাদান থেকে বোঝা যায়, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাই এ কাজে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ছে

নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পর প্লট-গাড়ি সবকিছুরই প্রতিশ্রুতি মিলেছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য আরেকটি সুখবর—এবার বেতনটাও বাড়ছে তাঁদের।
বিসিবির আজকের টেকনিক্যাল কমিটির সভার আলোচ্যসূচির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের বেতনসংক্রান্ত আলোচনা। বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভালো পারফরম্যান্সের পর খেলোয়াড়দের বেতন বাড়াটা একরকম নিশ্চিত। বর্ধিত বেতন কেমন হবে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা। ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন আভাস দিয়েছেন, পরিবর্তন হতে পারে বেতন-কাঠামোতেও, ‘এত দিন ওরা যেভাবে বেতন পেয়ে আসছে, কাঠামোটা সে রকমই থাকবে নাকি কোনো পরিবর্তন আনা হবে, এসব নিয়েও আলোচনা হতে পারে।’ বিসিবির চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার এখন ১৮ জন। বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের বর্তমান চুক্তি শেষ হবে আগামী ৩০ নভেম্বর।
বর্তমান কাঠামোয় মোট পাঁচটি শ্রেণীতে বেতন দেওয়া হচ্ছে ক্রিকেটারদের। প্রতিটি ওয়ানডের জন্য ১ পয়েন্ট এবং টেস্টের জন্য ২ পয়েন্ট করে ধরে সে অনুযায়ী করা হয়েছে পাঁচটি শ্রেণী। চুক্তিভুক্তদের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়েরা ‘সি’ শ্রেণীভুক্ত। তাঁদের মাসিক বেতন প্রায় ৫৩ হাজার টাকা। ৩১ থেকে ৭০ পয়েন্ট পাওয়া ‘বি’ শ্রেণীর ক্রিকেটারদের বেতন প্রায় ৭১ হাজার টাকা। ৭১ থেকে ১০০ পয়েন্ট পাওয়া ‘এ’ শ্রেণীর ক্রিকেটারদের বেতন প্রায় ৯০ হাজার টাকা এবং ১০১ বা এর চেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়াদের বেতন ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। ছয় মাসের চুক্তিতে থাকা ‘রুকি’ শ্রেণীর ক্রিকেটাররা মাসে পান ৩৬ হাজার টাকা। চুক্তির বাইরের কোনো ক্রিকেটার যদি জাতীয় দলের হয়ে খেলেন, তিনিও পান ‘রুকি’ শ্রেণীর বেতন। বেতনের বাইরে জাতীয় দলের অধিনায়ক পান অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা এবং সহ-অধিনায়ক অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা।
বেতন-ভাতার বাইরে ম্যাচ ফিও আছে। প্রতিটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে খেলোয়াড়েরা পান ৩৫ হাজার টাকা করে। ওয়ানডেতে অঙ্কটা ৬০ হাজার টাকা। আর টেস্টের ম্যাচ ফি ১ লাখ। তবে কোনো টেস্ট যদি পঞ্চম দিন লাঞ্চ পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে বাড়তি যোগ হয় ৫০ হাজার টাকা।
খেলোয়াড়দের বেতন ছাড়াও টেকনিক্যাল কমিটির আজকের সভায় আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজের সূচি ও ভেন্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

পার্থে শ্রীলঙ্কার প্রথম জয়

একটি টি-টোয়েন্টি ও তিন ওয়ানডের ছোট্ট সফর। তার পরও ১০ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় গেছে শ্রীলঙ্কা। ফলটা পেয়ে গেল হাতেনাতেই। একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে কুমার সাঙ্গাকারার দল। এ বছর প্রথম ১১টি-টোয়েন্টিতে অপরাজিত অস্ট্রেলিয়া হারল বছরের শেষ চার ম্যাচ। দেশের মাটিতে এই প্রথম টি-টোয়েন্টি হার তাদের। আর যেকোনো ধরনের ক্রিকেটেই পার্থে এটি শ্রীলঙ্কার প্রথম জয়।
ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়ে যায় ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাতেই। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই বোলিং-বৈচিত্র্য আর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে কোণঠাসা করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। ‘ট্রেডমার্ক’ স্লোয়ারে ডেভিড ওয়ার্নারকে আউট করার পর অসাধারণ এক ক্যাচে মাইকেল ক্লার্ককে ফিরিয়েছেন দিলহারা ফার্নান্দো। শুরুর ধাক্কা সামলাবেন কী, বাজে শট খেলে ওয়াটসন, ডেভিড হাসি ও হোয়াইটের বিদায় আরও বিপদে ফেলে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। ১১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৫ উইকেটে ৪৫!
ষষ্ঠ উইকেটে ব্র্যাড হাডিন ও স্টিভেন স্মিথের ৪৪ বলে ৬৬ রানের জুটিতে ১০০ পেরোয় অস্ট্রেলিয়া। অভিষিক্ত দুই পেসার ম্যাকাই ও হাস্টিংসের ১৩ বলে ২৩ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত করতে পারে ১৩৩। ৪২ রানের মধ্যে জয়াবর্ধনে ও চান্দিমালকে আউট করে কিছুটা নাটকীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারা-দিলশানের ৭১ রানের জুটি নিশ্চিত করে দেয় দলের বড় জয়। ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা সুরাজ রণদিভ।
সং ক্ষি প্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৩৩/৮ (ওয়ার্নার ২, ক্লার্ক ১৬, ওয়াটসন ৪, হাসি ৭, হোয়াইট ৮, হাডিন ৩৫, স্মিথ ৩৪, হাস্টিংস ১৫, ম্যাকাই ৬*; রণদিভ ৩/২৫, পেরেরা ২/২২, মালিঙ্গা ১/২৬, ফার্নান্দো ১/২৯)। শ্রীলঙ্কা: ১৬.৩ ওভারে ১৩৫/৩ (জয়াবর্ধনে ২৪, দিলশান ৪১, চান্দিমাল ২, সাঙ্গাকারা ৪৪*, পেরেরা ১৭*; ন্যানেস ১/২৮, সিডল ১/৩৪, স্মিথ ১/৩৩)।

নিষিদ্ধই থাকছেন বাট-আমির

অনেক আশা নিয়ে দুবাই গিয়েছিলেন সালমান বাট ও মোহাম্মদ আমির। কিন্তু মরুশহর থেকে হতাশ হয়েই ফিরতে হচ্ছে দুজনকে। দুই দিনের শুনানি শেষে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দুজনের আপিলই বাতিল করে দিয়েছেন শুনানির পরিচালক মাইকেল বিলোফ কিউসি। সুতরাং বহাল থাকল দুজনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। সাময়িক নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আরেকজন মোহাম্মদ আসিফ আপিল আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন আগেই। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে নিষিদ্ধ তিন ক্রিকেটারের বিচার করবে এখন আইসিসির স্বাধীন দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনাল।
আইসিসির সদর দপ্তরে শুনানি শেষে কাল উপস্থিত সাংবাদিকদের বিলোফ জানান, ‘আপিলের সব দিক বিবেচনা করে আমি তাদের আবেদন বাতিল করে দিয়েছি। ক্রিকেটাররা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে, কিন্তু কোড অব কন্ডাক্ট কমিশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নিষিদ্ধই থাকবে। কমিশনে যদি তারা দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে নীতিমালা অনুযায়ী শাস্তি দেবে আইসিসি।’
আইসিসি বলছে, এই কমিশন গঠন করার জন্য সময়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বাটের আইনজীবী ও সাবেক ক্রিকেটার আফতাব গুল বলেছেন, ৪০ দিনের মধ্যে গঠন করতে হবে কমিশন। আপিল আবেদন বাতিল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রচণ্ড হাতাশা ছিল গুলের কণ্ঠে, ‘আবেদন বাতিল করার সিদ্ধান্তে আমরা সবাই খুব হতাশ। তবে শুনানি নিরপেক্ষ হয়েছে। কমিশনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আমাদের হাতে ৪০ দিন সময় আছে, আমরা এখন সে অনুযায়ী আমাদের কর্মপদ্ধতি ঠিক করব।’
গুল ছাড়াও বাটের আরেক আইনজীবী ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী খালিদ রাঞ্ঝা। আর আমিরের আইনজীবী ছিলেন শহীদ করিম, যিনি ২০০৬ সালের অক্টোবরে আসিফের ডোপিং মামলা পরিচালনা করেছিলেন।

গোল-খরা ঘোচাল বার্সা

জালে বল ঢুকিয়ে দিয়েই কান পাতলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গ্যালারির গর্জন ‘রোনালদো রোনালদো’ চিৎকারে ভরিয়ে দিল মন। একবার তর্জনী উঁচিয়ে কী যেন বিড়বিড় করলেন। অদৃশ্য কাউকেই কি বার্তা পাঠালেন, ‘কী, কেমন দিলাম!’
এই ছবিটার ঘণ্টা দুয়েক পর ন্যু ক্যাম্পেও একজন মেতেছেন একই রকম উদ্যাপনে। প্রকাশভঙ্গিতে অবশ্য রোনালদো-সুলভ ঔদ্ধত্য তাঁর ছিল না। কিন্তু সেই বিনম্র উল্লাসের মধ্যেও যেন লুকিয়ে থাকল তর্জনী উঁচিয়ে নীল আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি। লিওনেল মেসিও যেন বলতে চাইলেন, ‘কী, কেমন দিলাম!’
সত্যের সঙ্গে কল্পনা মিশিয়ে দিলে ওপরের ছবিটা জমে ভালো। প্রকাশ্যে তাঁদের মধ্যে কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু দুজনের মধ্যে এক অনিবার্য লড়াই চলে আসছে রোনালদো সেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকার সময় থেকেই।
ঠিকানা পাল্টে রোনালদো কাছাকাছি শত্রুশিবিরে নাম লিখিয়েছেন। গতবার ইনজুরিতে না পড়লে হয়তো গোলসংখ্যায় মেসির সঙ্গে পাল্লাও দিতেন। সেটা হয়ে ওঠেনি। এবার কিন্তু রোনালদো ভালোই জমিয়ে তুলেছেন। মেসিও ছেড়ে কথা কইছেন না। ফলাফল, স্প্যানিশ ফুটবলে দলীয় লড়াইয়ের বাইরে জমে উঠেছে দুর্দান্ত এক ব্যক্তিগত খণ্ডযুদ্ধ।
আর তাই পরশু হারকিউলিসের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রোনালদো যখন রিয়ালকে জিতিয়ে নায়কের আসনে, পরের ম্যাচেই ওই জোড়া গোলই করে মেসিও জিতলেন সেভিয়ার বিপক্ষে। এই মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন রোনালদো, ১২ ম্যাচে ১৪ গোল মেসির। দুই মৌসুম মিলে স্প্যানিশ লিগে ৩৮ ম্যাচে ৩৭ গোল রোনালদোর।
পরশু রোনালদোর দলকে জেতানোর তাগিদ ছিল। মেসির সেটা ছিল না। বার্সাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া হারকিউলিস পরশু আরেকটি দৈত্য-বধের স্বপ্ন দেখছিল। ৩ মিনিটেই ডেভিড ত্রেজেগের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল হারকিউলিস। ১০ বছর জুভেন্টাসে কাটিয়ে এসে এবার হারকিউলিসে নাম লিখেয়েছেন ত্রেজেগে। ফরাসি স্ট্রাইকার লিগে সর্বশেষ চার ম্যাচে করলেন চার গোল। পরশু তাঁর সেই গোল শোধ করতে রিয়ালকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫২ মিনিট পর্যন্ত। গোলরক্ষকের হাত ফসকে বেরিয়ে আসা বলে জোরাল শট নিয়ে সমতা ফিরিয়েছেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া।
কিন্তু কোনোভাবেই লিড পাচ্ছিল না রিয়াল। শেষ ২৫ মিনিটে হোসে মরিনহো একটা জুয়া খেলেছিলেন। ডিফেন্স থেকে পেপেকে তুলে আক্রমণভাগে নামিয়ে দিয়েছিলেন করিম বেনজেমাকে। ফরোয়ার্ডে রিয়ালের পাঁচ খেলোয়াড়কে আর সামলাতে পারেনি হারকিউলিস। ৮২ ও ৮৬ মিনিটে রোনালদোর জোড়া গোল।
জিততে জিততে হারকিউলিসের এই পরাজয় দেখে বার্সা হয়তো তেতে থাকবে। প্রথম মিনিট থেকেই সেভিয়ার গোলমুখে হামলে পড়া বার্সাকে ৪ মিনিটে এগিয়ে দেন মেসি। ২৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করা ডেভিড ভিয়ার গোলটি ছিল অসাধারণ। আগের পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল না পাওয়া স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে এই গোল এনে দেয় মুক্তির আনন্দ। এএফপি, ওয়েবসাইট।
৪৫ মিনিটে সেভিয়া ১০ জনের দল হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে হজম করে আরও তিন গোল। গোল তিনটি করেন দানি আলভেজ, মেসি ও ভিয়া। ৯ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল শীর্ষে, দুইয়ে থাকা বার্সেলোনা এক পয়েন্ট পিছিয়ে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চেলসি। আগের ম্যাচে উলভারহ্যাম্পটনের সঙ্গে নিজেদের মাঠে ড্র করা চেলসি পরশু প্রথমেই পিছিয়ে পড়েছিল ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে। ৩৯ মিনিটে আনেলকা সমতা ফেরালেও জয়সূচক গোলের দেখা পেতে চেলসিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত। অবশেষে ব্রানিসলাভ ইভানোভিচের হেডে ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে চেলসি। ওয়েস্টহামের বিপক্ষে আর্সেনালও উদ্ধার পেয়েছে ৮৮ মিনিটে অ্যালেক্স সংয়ের একমাত্র গোলে।
টটেনহামের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতলেও ম্যানইউও খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না এদিন। ৩৩ মিনিটে নেমানিয়া ভিদিচ এগিয়ে দেন। ৮৪ মিনিটে জয় নিশ্চিত করা গোলটি করেন নানি। যদিও তাঁর দ্বিতীয় গোলটি বিতর্কিত। ফ্রি-কিক পেয়েছেন মনে করে টটেনহাম গোলরক্ষক মাটিতে বল বসিয়েছিলেন। কিন্তু রেফারি আসলে কোনো বাঁশিই বাজাননি। সেই সুযোগে ডি-বক্সেই পড়ে থাকা নানি টপ করে উঠে গিয়ে বল ঢুকিয়ে দেন জালে।
ওদিকে ইতালির সিরি ‘আ’তে এসি মিলানকে তাদের মাঠেই ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দাবি আরেকবার জানিয়ে রাখল ২০০২-০৩ মৌসুমে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া জুভেন্টাস।

আরেকটি টেন্ডুলকার-রাত

ব্যাটে রানের বন্যা, পেরিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক মাইলফলক, ভারী থেকে আরও ভারী হচ্ছে অর্জনের পাল্লা। অক্টোবরের শুরুতে জিতেছিলেন আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার। পরশু সাহারা ইন্ডিয়া স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডের দ্বিতীয় আসরে শচীন টেন্ডুলকার পেলেন বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার। পুরস্কারের সময়কালে ১০ টেস্টে ১০৬৪ রান আর ১৭ ওয়ানডেতে ৯১৪ রান—প্রতিদ্বন্দ্বী মহেন্দ্র সিং ধোনি, বীরেন্দর শেবাগ ও সুরেশ রায়না সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ১৪ সদস্যের জুরি বোর্ডকে তাঁদের দিকে টলাতে পারেনি।
অর্জনের রাতে চারদিকে শুরু হওয়া কয়েকটি গুঞ্জনও দূর করতে হয়েছে টেন্ডুলকারকে। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটির পর আর কোনো ওয়ানডেই খেলেননি লিটল মাস্টার। ইতিহাস গড়েই কি তবে অরুচি চলে এল রঙিন পোশাকে! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই সিরিজের পর ডাম্বুলায় এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট এবং দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে ভারত। কিন্তু টেন্ডুলকার খেলেননি একটিতেও। যদিও এই সময়ে টেস্ট ক্রিকেট ঠিকই খেলেছেন, খেলেছেন আইপিএল ও চ্যাম্পিয়নস লিগও। এত কম ম্যাচ খেলা কি প্রভাব ফেলবে না ওয়ানডে ব্যাটিংয়ে? বিশ্বকাপের যে খুব বেশি দেরি নেই!
এত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর এসব আর কোনো সমস্যা নয়, টেন্ডুলকার সহাস্যে জানিয়েছেন, ‘সর্বশেষ দুটি ওয়ানডে সিরিজ না খেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে একেবারে শেষ মুহূর্তে, আগে থেকে ঠিক ছিল না। আমার কিট ব্যাগে রঙিন প্যাড সব সময়ই থাকে। ক্রিকেটটা আমি অনেক দিন ধরেই খেলছি। এত দিন খেলার পর এক সংস্করণ থেকে আরেক সংস্করণে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়, আমার ভালোই জানা আছে। আমার শরীরটাকেও আমি ভালো জানি। বিশ্বকাপের জন্য যা যা করতে হবে, আমি সব করব।’
গত দুই বছরে টেন্ডুলকার নিজেকে যেমন নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়, তেমনি নতুন উচ্চতায় উঠেছে তাঁর দেশও। ভারত এখন টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষ দেশ। তবে এতেই সন্তুষ্ট নন টেন্ডুলকার, আসল চ্যালেঞ্জটা নাকি এখনই, ‘গত কয়েক বছরে দল হিসেবে আমাদের অর্জন অসাধারণ। এই ধারাটা আমরা ধরে রাখতে চাই। টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার অনুভূতি দারুণ, তবে এটা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শীর্ষে টিকে থাকতে হলে আমাদের ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে। আমি নিজেও আরও পরিশ্রম করতে চাই। সংখ্যা গুনতে আমার ভালো লাগে না। সংখ্যা গোনার চেয়ে বলকে কাছ থেকে দেখাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
বোঝাই যাচ্ছে, টেন্ডুলকার আরও অনেক দিন ভোগাবেন বিশ্বের সব বোলারকে!

ডব্লিউটিএ শিরোপা ক্লাইস্টার্সের

২০০৯ সালের ইউএস ওপেনের ফাইনালে কিম ক্লাইস্টার্সের কাছে হেরে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জেতার স্বপ্ন ধূলিসাত্ হয়ে গিয়েছিল ক্যারোলিন ওজনিয়াকির। আবারও সেই একই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটল ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। আরও একবার ওজনিয়াকিকে শিরোপা জয়ের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করলেন ক্লাইস্টার্স। ফাইনালে ওজনিয়াকিকে ৬-৩, ৫-৭, ৬-৩ সেটে হারিয়ে ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতে নিয়েছেন বেলজিয়ামের এ তারকা।
সেরেনা উইলিয়ামসকে সরিয়ে মেয়েদের টেনিসে শীর্ষস্থানটার দখল নিয়েছেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। এক নম্বর হিসেবে বছর শেষ করাটাও নিশ্চিত করেছিলেন কয়েক দিন আগে। ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপাটা জিততে পারলেই স্বপ্নের মতো করে শেষ করতে পারতেন বছরটা। কিন্তু ওজনিয়াকির সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেননি কিম ক্লাইস্টার্স।
এ নিয়ে তিনটি ডব্লিউটিএ শিরোপা জমা হলো ক্লাইস্টার্সের ট্রফি কেসে। তবে জয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশের থেকে ওজনিয়াকিকেই বেশি উত্সাহ দিয়েছেন তিনি। ‘ক্যারোলিন খুবই ভালো খেলেছে। সে এখন যেভাবে খেলছে, সেভাবে খেলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেক সাফল্য পাবে। আর অবশ্যই সে গ্র্যান্ড স্লাম জিতবে’, বলেছেন ক্লাইস্টার্স।

ফুটবলে আশার আলো

কাজী সালাউদ্দিন থেকে শুরু করে গোলরক্ষক আমিনুল। আলী আকবর পোরমুসলিমি থেকে জোরান কার্লেভিচ। বাফুফে সভাপতি, জাতীয় দলের গোলরক্ষক, আবাহনী ও শেখ জামালের দুই বিদেশি কোচ—কারও সঙ্গেই কারও মিল নেই। তবে একটা জায়গায় সবাই একমত। পরশু শেষ হওয়া গ্রামীণফোন ফেডারেশন কাপ ফুটবল দেশের ফুটবলে একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
গত বছর সুপার কাপের ফাইনাল শেষেও সবার মুখে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাই ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ লিগে অসংখ্য পাতানো ম্যাচ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব আবার সেই আগের অবস্থানে নিয়ে যায় ঘরোয়া ফুটবল। সেটি মনে রেখেও সব মহল থেকেই বলা হচ্ছে, এবারের ঘরোয়া মৌসুমটা শুরু হলো সত্যিই একটা পরিবর্তনের হাওয়া ছড়িয়ে।
সালাউদ্দিনের যেমন সবচেয়ে ভালো লেগেছে, ‘এই টুর্নামেন্টে খেলার মান বেশ ভালো ছিল। আগের ফুটবলের চেয়ে অনেক ব্যবধান। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়েছে অনেক, যেটা আগে ছিল না। খেলায় গতি ছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ফুটবলের উন্নয়নে যে কাজ করছি, এই টুর্নামেন্ট তারই প্রমাণ। দর্শক মাঠে এসে সেই স্বীকৃতিই দিয়েছে।’
স্টেডিয়াম-ভর্তি ১৫ হাজার দর্শক। ফাইনালে ৮ গোল। একটি বাদে বাকি গোলগুলো দেখার মতো। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সুন্দর মাঠ—সবকিছু মিলিয়ে ভালো ফুটবলের জন্য আদর্শ পরিবেশ। শুধু ফাইনাল নয়, টুর্নামেন্টের আগাগোড়াই খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, যা আগের সব আয়োজনে তেমন দেখা যায়নি। খেলাও দর্শকদের কাছে সেভাবে আকর্ষণীয় ছিল না।
একজন দর্শক হিসেবে মোহামেডান কোচ শফিকুল ইসলাম (মানিক) বলছেন, ‘এই টুর্নামেন্ট আমাদের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তা এনেছে। পাতানো খেলার অশুভ ছায়া না থাকলে আসন্ন লিগও জমবে। সুপার কাপও ভালো হবে। এটার একটাই কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে মানুষ খেলা দেখে আনন্দ পায়। মাঠে আসে।’
আর মাঠে যাঁরা খেলেন, তাঁরা কী বলেন? জয়-পরাজয় এক পাশে থাকুক। ফাইনালে পরাজিত শেখ জামালের অধিনায়ক আমিনুল কাল সারা দিন বিষণ্ন থাকলেও ফেডারেশন কাপের প্রভাব নিয়ে বলতে গিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিতই ছিলেন, ‘ফুটবলে নিরপেক্ষ দর্শক দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে চায়। ঠিক এই জিনিসটা পাওয়া গেছে এবারের ফেডারেশন কাপে। সামনের দিকে ফুটবলের এই ধারাবাহিকতা থাকবে আশা করি।’
এই আশাবাদ দেখছেন দুই ভিনদেশিও। আবাহনীর ইরানি কোচ আলী আকবর ফাইনাল শেষে বলছিলেন, ‘বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল এত জমজমাট হতে পারে আমার ধারণা ছিল না। এখানে এসে বুঝলাম এ দেশে ফুটবলের প্রতি টান আছে মানুষের।’
জোরান জর্জেভিচের সহকারী হিসেবে কাজ করে যাওয়ায় বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে ধারণা আগেই পেয়েছেন কার্লেভিচ। তবে এবার ঘরোয়া ফুটবলের সামগ্রিক মান, দর্শক আগ্রহ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখে তাঁর মন্তব্য, ‘এখনো অনেক কাজ করতে হবে। সবকিছু আরও পেশাদার করা দরকার। তবে এই টুর্নামেন্ট বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। আমার দল শেখ জামাল চ্যাম্পিয়ন হলে আরও ভালো লাগত।’
একজনের কিন্তু ‘ভালো’ লাগেনি ফাইনাল দেখে! জাতীয় দলের কোচ বরার্ট রুবচিচের ভালো না লাগার কারণও আছে। অলিখিত জাতীয় দল শেখ জামালের ৫ গোল খাওয়া তাঁকে তীরবিদ্ধই করেছে। মাঝমাঠ এবং রক্ষণে শেখ জামালের নড়বড়ে অবস্থা প্রকারান্তরে এই ক্রোয়েশিয়ান কোচের দুশ্চিন্তার বড় কারণই হলো। সামনে যে এশিয়ান গেমস।
এশিয়াডগামী অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দল ৪ নভেম্বর গুয়াংজু যাত্রা করছে। হাতে সময় নেই। আজ থেকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শুরু করছেন রুবচিচ। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ান কোচের একটাই চিন্তা, ‘ফাইনালটা ভালো হলেও খেলোয়াড়েরা বেশ নার্ভাস ছিল। শেখ জামালের খেলোয়াড়েরা অনেক ভুল করেছে, যেটা আমি আশা করিনি।’
‘আমি অবশ্য ভিন্ন কৌশল ও পদ্ধতিতে খেলাব। তা হোক, আমার চিন্তাটা কিন্তু বেড়ে গেল। খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়’—আরও যোগ করেছেন তিনি। আর সবার সঙ্গে একটা জায়গায় একমত রুবচিচ, ‘দুজন বিদেশি কোচের ট্যাকটিকসই ভালো ছিল। ভবিষ্যতে এটি অব্যাহত থাকলে খেলা আরও ভালো হবে। ফুটবল জমবে।’

গল্পালোচনা- হতাশার বিষচক্র থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে by আবুল মোমেন

বাংলাদেশে দৈনন্দিন জীবনে ইদানীং যেসব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে থাকি আমরা, তা সাধারণত সুখকর নয়। দৈনিক পত্রিকার পাতায় প্রতিদিন দেশের যে সমাজচিত্র ফুটে ওঠে,

তাতেও নেতিবাচক খবরই থাকে বেশি। এ ঘটনাগুলোকে এক জায়গায় এনে বিচার করলে দেখা যাবে, এসবের পেছনে ইন্ধন হিসেবে কাজ করছে কোনো কোনো ব্যক্তির অপরিমিত লোভ, যে লোভ তাকে বেপরোয়া হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়। এই বেপরোয়া উচ্চাভিলাষী মানুষ কাজ হাসিল এবং সেই সঙ্গে আত্মরক্ষা করতে দুটি কাজ করে—সম্পদ গড়ে তোলে, বৈধ-অবৈধ বাছবিচার বাদ দিয়ে এবং দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করে, এ ক্ষেত্রে নীতি-আদর্শের বিবেচনা থাকে গৌণ কিংবা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। এভাবে সমাজে অনেক ক্ষমতাবান ধনীর সৃষ্টি হয়েছে, যাঁরা বৈধ-অবৈধ এবং নীতি-আদর্শের বিবেচনা সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছেন।

আলোচনা- 'বেঁচে থাকার জীবন্ত পোট্র্রেট' by বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

অসংখ্য জীবন আমাদের জীবনে প্রবেশ করে আছে। তা থেকে তৈরি হয় আশা কিংবা হতাশা কিংবা স্টাইল।

বশীরের স্টাইল হালকা হাওয়ায় উড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বশীর যেসব কাজ করেছে, সেসব থেকে তৈরি হয়েছে তার স্টাইল। যেন সব এক ধরনের এলিগ্যান্স। সব কিছু সত্ত্বেও তার কাজে একটা মেলোডি খুঁজে পাওয়া যায়। এ মেলোডিটাই তার স্টাইল। তার ভেতর থেকে আসে কিংবা তৈরি হয়। সে জন্য স্টাইল স্বপ্নের কাছাকাছি, স্টাইল সজীবের খুব কাছের। বশীর যেসব মেয়েকে ভালোবেসেছে :

খবর- চলন্ত ট্রেনের নিচে মেয়েকে নিয়ে মা'য়ের আত্মহত্যা

‘ট্রেন ছাড়তে না-ছাড়তেই বাচ্চা কোলে মেয়েটি প্লাটফর্ম থেকে নেমে পড়লেন। ইঞ্জিনটা খুব কাছাকাছি ছিল। দ্রুত বাচ্চাকে শুইয়ে দিলেন রেললাইনের ওপরে, এরপর রাখলেন নিজের মাথা। দেখলাম, খুব ধীরগতিতে ইঞ্জিনটা...।’

এটুকু বলেই দুই হাতে চোখ-মুখ ঢেকে কথা আর শেষ করতে পারলেন না শাহরিয়ার আলম।
গত ১ নভেম্বর ২০১০  সোমবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে শিশুসন্তানসহ মা শাহানা ইসলামের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন শাহরিয়ার। ৬ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ঘিরে ধরা মানুষের সামনে এভাবেই ঘটনার বিবরণ দিচ্ছিলেন তিনি। রেললাইনের ওপরে তখনো পড়ে ছিল মা ও সাড়ে তিন মাসের মেয়ের খণ্ডিত দেহ।

গল্প- 'সেদিন অফিসে যায়নি আন্দালিব' by হাবিব আনিসুর রহমান

ডান দিকে মোড় নিয়ে আবার থেমে যায় বাস। সামনে গাড়ির লম্বা লাইন। সিগন্যাল পার হতে পারলে সামনে পান্থপথ। পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট এভাবে কুৎসিত সময় গড়ায়।

গাড়ির ছাদ ক্রমেই তেতে ওঠে। সূর্য তেরচা হয়ে তার শরীরের বাম দিক উত্তপ্ত করে। সকাল দশটা হলেও অসহনীয় গরম। যাত্রীদের মুখে কোনো কথা নাই। কী হবে বলে? প্রতিদিন এভাবেই মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায় রাস্তায়। রুমাল বের করে হাত-মুখের ঘাম মোছে কেউ কেউ। আন্দালিবের চোখ পড়ে বাম পাশের বিলবোর্ডের ওপর। সামনের হোটেলের পিৎজা আর পাস্তার বিশাল বিজ্ঞাপনচিত্র। যেন এইমাত্র পরিবেশন করা হলো। টাটকা পিৎজার নিচে লাল অক্ষরে লেখা_হ্যাভ নেভার বিন সো ফ্যাবিউলাস। যেন সুগন্ধ ছড়ায়, জিবে পানি আসার অবস্থা।

বিজ্ঞান আলোচনা- মানবযকৃৎ উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা সফল

যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছে, তারা পরীক্ষাগারে মানবযকৃৎ উদ্ভাবনে সফল হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর ২০১০ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে

এক সম্মেলনে ওয়াক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির ব্যাপ্টিস্ট মেডিকেল সেন্টারের গবেষকেরা এ ব্যাপারে তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আখরোট আকৃতির এই যকৃৎ একটি অনন্য উদ্ভাবন। তবে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি পূর্ণ আকৃতির যকৃৎ পাওয়া সম্ভব কি না। সাম্প্রতিক সময়ে মানবদেহে প্রতিস্থাপনের জন্য যকৃতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে যকৃৎ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা দেহের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোষপ্রযুক্তির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

খবর- দিলমা রুসেফ । নারী গেরিলা থেকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

৫৬ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন দিলমা রুসেফ। ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এই লৌহমানবী। তাঁর দৃঢ়চেতা মনোভাবের জন্য দেশটির গণমাধ্যম তাঁকে ‘লৌহমানবী’ আখ্যা দিয়েছে।

নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ঘোষণার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দেশ থেকে দারিদ্র্য বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন রুসেফ। তিনি বলেছেন, ‘আমি আবারও আমার মূলনীতি পুনর্ব্যক্ত করছি। ব্রাজিলীয়রা ক্ষুধামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ঘুম নেই। দারিদ্র্য দূর করাই আমার লক্ষ্য। এ ব্যাপারে আমি সেসব লোকের সহযোগিতা চাই, যারা কিনা ব্রাজিলকে একদিন উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়।’

আলোচনা- 'সকল গৃহ হারালো যার' by তসলিমা নাসরিন

জীবনের অনেকগুলো বছর পেরিয়ে যখন দেখি পিছনের দিনগুলো ধূসর ধূসর, আর সেই ধূসরতার শরীর থেকে হঠাৎ হঠাৎ কোনও ভুলে যাওয়া স্বপ্ন এসে আচমকা সামনে দাঁড়ায় বা কোনও স্মৃতি টুপ করে ঢুকে পড়ে আমার একাকী নির্জন ঘরে,

আমাকে কাঁপায়, আমাকে কাঁদায়, আমাকে টেনে নিয়ে যায় সেইসব দিনগুলোর দিকে- তখন কী জীবনের সেই অলিগলির অন্ধকার সরিয়ে সরিয়ে কিছু শীতার্ত স্মৃতি কুড়িয়ে আনতে আমি না হেঁটে পারি! কী লাভ হেঁটে? কী লাভ স্মৃতি কুড়িয়ে এনে! যা গেছে তা তো গেছেই। যে-স্বপ্নগুলো অনেককাল মৃত, যে-স্বপ্নগুলোকে এখন আর স্বপ্ন বলে চেনা যায় না, মাকড়সার জাল সরিয়ে ধুলোর আস্তর ভেঙে কী লাভ সেগুলোকে আর নরম আঙুলে তুলে এনে! যা গেছে, তা তো গেছেই। জানি সব, তবুও আমার নির্যাতনের নির্বাসনের জীবন আমাকে বারবার পিছনে ফিরিয়েছে, আমি আমার অতীত জুড়ে মোহগ্রস্তের মতো হেঁটেছি।