Saturday, July 2, 2016

শবে কদর কোরআন নাজিলের রজনী

রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস। শবে কদর কোরআন নাজিলের রাত। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়। কোরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। আসমানি ১০০ সহিফা ও চারখানা কিতাবসহ মোট ১০৪টি কিতাবের মধ্যে কোরআনই সেরা। কারণ, এই কিতাব নাজিল হয়েছে আখেরি নবী, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, নবীগণের ইমাম, রাসুলদের সরদার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মাদ মুস্তফা আহমদ মুজতবা (সা.)-এর প্রতি। এই কোরআনের স্পর্শ বড়ই সৌভাগ্যের। হজরত জিবরাইল (আ.) এই কোরআন বহন করেই ফেরেশতাদের সরদার হওয়ার গৌরব লাভ করেছেন।
মরুর দেশ ‘জাজিরাতুল আরব’ এই কোরআনের স্পর্শেই পবিত্র আরব ভূমির সম্মান লাভ করেছে। অলক্ষুনে ও দুর্ভোগালয় খ্যাত ‘ইয়াসরিব’ এই কোরআনের বরকতেই পুণ্য ভূমি ‘মদিনা মুনাওয়ারা’র সম্মানে ধন্য হয়েছে। পাপের আকর শির্ক ও কুফরের শীর্ষ তীর্থস্থান ‘বাক্কা’ এই কোরআনের তাজাল্লিতে পবিত্র মক্কা নগরীতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই কোরআনের ছোঁয়ায় সাধারণ কাঠের ‘রেহাল’ সম্মানের চুমু পাচ্ছে। সর্বোপরি কোরআনের সংস্পর্শে একটি সাধারণ রাত ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবে কদর’ রজনীর সম্মানে বিভূষিত হয়েছে। কোরআনের সঙ্গে যার যতটুকু সম্পর্ক ও সান্নিধ্য থাকবে, তিনি ততটুকু সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী হবেন। প্রিয় হাবিব (সা.) বলেন, ‘কোরআনওয়ালা-ই আল্লাহওয়ালা এবং তাঁর খাস ব্যক্তি।’ (বুখারি) হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যার অন্তরে কোরআনের সামান্যতম অংশও নেই, সে যেন এক বিরান বাড়ি।’ (বুখারি ও মুসলিম)।
কোরআন নাজিল সম্পর্কে কোরআনের বর্ণনা
আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারিরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও বলেন: উজ্জ্বল কিতাবের শপথ! নিশ্চয় আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি ছিলাম সতর্ককারী, যাতে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয় আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি। এ হলো আপনার প্রভুর দয়া, নিশ্চয় তিনি সব শোনেন ও সব জানেন। তিনি নভোমণ্ডল-ভূমণ্ডল ও এ উভয়ের মাঝে যা আছে সে সবের রব। যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করো; তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন, তিনিই তোমাদের পরওয়ারদিগার আর তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও। তবু তারা সংশয়ে রঙ্গ করে। তবে অপেক্ষা করো সে দিনের, যেদিন আকাশ সুস্পষ্টভাবে ধূম্রাচ্ছন্ন হবে। (সুরা-৪৪ দুখান, আয়াত: ১-১০)।
কোরআনে শবে কদরের ফজিলতের বর্ণনা
শবে কদর ও কোরআন অবতরণ এবং এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে দয়াময় আল্লাহ কোরআনে ‘সুরা কদর’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করেছেন। তাতে বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাইল (আ.) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সকল বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষার উদয় পর্যন্ত। (সুরা-৯৭ কদর, আয়াত: ১-৫)।
শবে কদরের একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত
মুহাক্কিক ইমামগণ বলেছেন, আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয়ে নয়টি হরফ বা আরবি বর্ণ রয়েছে; আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয় তিনবার রয়েছে; নয়কে তিন দিয়ে গুণ করলে সাতাশ হয়, তাই (ছাব্বিশ দিবাগত) সাতাশে রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবলভাবে বিদ্যমান রয়েছে। (তাফসিরে মাজহারি)।
শবে কদরের দোয়া
উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি লাইলাতুল কদর বা শবে কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন; তুমি বলবে, ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজা, সহিহ-আলবানি)।
রমজানের মাসআলা: সুন্নত ইতিকাফ ও নফল ইতিকাফ
রমজানের শেষ দশক তথা ২০ রমজান সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদের চাঁদ তথা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ৩০ রমজান পূর্ণ হয়ে ওই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত (৯ দিন বা ১০ দিন) ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ কিফায়াহ। কোনো মসজিদ মহল্লায় কয়েকজন বা কোনো একজন আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবে। আর কেউই না আদায় করলে সবাই দায়ী থাকবে। তবে আদায়ের ক্ষেত্রে যিনি বা যাঁরা আদায় করবেন, শুধু তিনি বা তাঁরাই সওয়াবের অধিকারী হবেন। (মাজমুআ ফাতাওয়া)।
দশ দিনের কম যেকোনো পরিমাণ সময় ইতিকাফ করলে তা নফল ইতিকাফ হিসেবে গণ্য হবে। নফল ইতিকাফও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল; তাই সম্পূর্ণ সুন্নত ইতিকাফ পালন করতে না পারলে যত দূর সম্ভব নফল ইতিকাফ করাও গুরুত্বপূর্ণ। নফল ইতিকাফ বছরের যেকোনো সময়ই করা যায়। ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত; কিন্তু স্বল্প সময় (এক দিনের কম সময়) ইতিকাফ করলে তার জন্য রোজার শর্ত নয়। নফল ইতিকাফ মানত করলে বা আরম্ভ করে ছেড়ে দিলে, তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। এর জন্য রোজা শর্ত এবং এটি এক দিনের (চব্বিশ ঘণ্টা) কমে হবে না। ইতিকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শবে কদর প্রাপ্তি; রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ করলে শবে কদর প্রাপ্তি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ইতিকাফের মূল কথা হলো সবকিছু ছেড়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যাওয়া। পুরুষদের মসজিদে ইতিকাফ করতে হয়; নারীরা নির্দিষ্ট ঘরে বা নির্ধারিত কক্ষে ইতিকাফ করবেন। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া)।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
smusmangonee@gmail.com

ঘুষ বিনে সেবা নেই!

সরকারি সেবা খাতে ঘুষের লেনদেনের সংস্কৃতি নতুন নয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, ঘুষের পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ১৫ হাজার খানা বা পরিবারের ওপর জরিপ চালিয়ে যে প্রাক্কলিত হিসাব সম্প্রতি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তিন বছরে সেবা খাতে ঘুষের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। টিআইবির জরিপ বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে পাসপোর্ট অফিসে, যদিও বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এই জরিপকে ‘গ্রহণযোগ্য’ নয় বলেছেন। কিন্তু সাধারণভাবে এটা সুবিদিত যে পাসপোর্ট তৈরির সময় মানুষকে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়, যা এড়ানোর উপায় ঘুষ দেওয়া। এটা বহু বছর ধরেই চলে আসছে। পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। তিন বছরের ব্যবধানে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া সেই নির্দেশ করে।
ভূমি অফিসের হয়রানি ও দুর্নীতির সমস্যাটি প্রাচীন। ঘুষ ছাড়া ভূমি অফিসে কোনো কাজ সমাধা করা যায় না—এমন অভিযোগ প্রচুর শোনা যায়। এখানে দুর্নীতি যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। টিআইবির সাম্প্রতিক জরিপটি থেকে দেখা যাচ্ছে, ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে এই খাত অন্য সব খাতের ওপরে আছে। দুর্নীতিগ্রস্ত সেবা খাতগুলোর মধ্যে আরও আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, শিক্ষা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বিচারিক সেবা ও স্বাস্থ্য। প্রকৃতপক্ষে সরকারি সেবা খাত সামগ্রিকভাবেই অতিমাত্রায় অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার, যা সুশাসনের দীনদশা তুলে ধরে। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চায়। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পরে তারা এই বিষয়ে আর দৃষ্টি দেয় না। দুর্নীতি দমন কমিশন নামে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু সরকারি সেবা খাতের দুর্নীতির দিকে তাদের দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না।
এভাবেই কি চলবে? সরকার কি দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার ভুলেই থাকবে?

জিম্মি করতে চেয়েছিল হামলাকারীরা

আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবারের
বিস্ফোরণস্থলের কাছে গতকাল ভারী অস্ত্রে সজ্জিত
পুলিশের বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক পাহারা। এএফপি
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাকারীরা সেখানে লোকজনকে জিম্মি করার পরিকল্পনা করছিলেন বলে সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন। গতকাল শুক্রবার তুরস্কের একটি সরকারপন্থী সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার তুরস্কের পুলিশ ১৬ জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জন সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিকে আটক করার পরদিন গতকাল আরও ১১ জনকে ধরা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইস্তাম্বুলের বিমানবন্দরে গত মঙ্গলবার রাতে চালানো ভয়াবহ হামলায় ৪৪ জন নিহত ও প্রায় আড়াই শ মানুষ আহত হয়। ওই হামলা এ বছর ইস্তাম্বুলে সংঘটিত কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। সরকারপন্থী সাবাহ পত্রিকা বলেছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগে হামলাকারীরা বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। পরিকল্পনা করে বেশ কিছু যাত্রীকে জিম্মি করার। কিন্তু এ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়লে একপর্যায়ে হামলা চালানো শুরু করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘হামলাকারীরা বিস্ফোরক দ্রব্য লুকিয়ে রাখার জন্য গরমের মধ্যেও যে কোট পরেছিল,
তা এক পুলিশ কর্মকর্তা ও কয়েক ব্যক্তির নজরে পড়ে যায়।’ তুরস্কের কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই হামলা ও হত্যাযজ্ঞের পেছনে আইএস দায়ী। তবে গতকাল পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষ তিনজন হামলাকারীকে রাশিয়া, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানের নাগরিক বলে চিহ্নিত করার দাবি করেছে। তুর্কি গণমাধ্যমের খবরে গতকাল বলা হয়, তিনজনের একজন রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা আহমেত চাতায়েভ। হুরিয়াত পত্রিকার খবরে দাবি করা হয়, তিনিই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। এতে বলা হয়, আইএসের ইস্তাম্বুল শাখার প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। চলতি বছর ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্রের পর্যটন এলাকা সুলতান আহমেত ও প্রধান বিপণি এলাকা ইস্তিকলালের কাছে দুই দফা বোমা হামলার ঘটনাও তিনিই সংঘটিত করেন বলে বলা হচ্ছে। বিমানবন্দরের সিসিটিভির ধারণকৃত দৃশ্যে দেখা যায়, গাঢ় রঙের পোশাক পরা তিন ব্যক্তি ঘোরাফেরা করছেন। তাঁদের দুজনের মাথায় বেসবল খেলার টুপি।
হুরিয়াতের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনার আগে হামলাকারীরা ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতেন। এ এলাকায় অনেক সিরীয় ও অন্যান্য আরব দেশের নাগরিকেরা থাকেন। এক বছরের ভাড়া বাবদ হামলাকারীরা অগ্রিম ২৪ হাজার তুর্কি লিরা (৮ হাজার ৩০০ ডলার) পরিশোধ করেন। হামলার পর ওই ফ্ল্যাটটিতেও অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এদিকে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার সংগঠকদের একজন নিহত হয়েছেন বলে গতকাল কর্মকর্তারা জানান। কুর্দি-অধ্যুষিত তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ওই ব্যক্তি নিহত হন। আঙ্কারার ওই হামলায় নিহত হয়েছিলেন অন্তত ২৮ জন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারির হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেহমেত সিরিন কায়া নামের ওই ব্যক্তি। দিয়ারবাকির এলাকার লাইস নামের স্থানে অভিযানে তিনি নিহত হয়েছেন।

ঐক্য-সৌহার্দের প্রতীক সেফটি পিন

 সংহতি প্রকাশ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এক্সেটার
কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভের কর্মীরা। ছবি টুইটার
আলোচিত গণভোটের পর হঠাৎ করেই যেন বেশ কিছুটা বদলে গেছে ব্রিটিশ সমাজ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না-থাকা নিয়ে গত ২৩ জুনের গণভোটে বেশির ভাগ ভোটার রায় দিয়েছে ইইউ ছেড়ে বেরিয়ে আসার। কিন্তু সেটা মেনে নিতে পারছে না বাকিরা। এমন প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু বর্ণবাদী আক্রমণ ও দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যে। এমন বর্ণবাদী কার্যকলাপ ও আচরণের বিরুদ্ধে মানুষকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করছে সেফটি পিন। সামান্য এ জিনিসটি যে মানুষে মানুষে বন্ধন তৈরির এত বড় সহায়ক হয়ে উঠতে পারে, তা এক সপ্তাহ আগেও হয়তো কারও কল্পনায় ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-টুইটারে বিপুল সাড়া ফেলেছে বর্ণবাদবিরোধী এই প্রচার। এর মূল কথা হলো, ‘আপনার অবস্থান যদি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে হয়ে থাকে, আপনি যদি অভিবাসীদের পক্ষে দাঁড়াতে চান, তবে পোশাকের ওপর কেবল একটা সেফটি পিন লাগিয়ে রাখুন। এর মাধ্যমে প্রকাশ পাবে সব ধর্ম,
বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের জন্য আপনি একজন নিরাপদ মানুষ, আপনি তাদের বন্ধু।’ যুক্তরাজ্যে এত দিন অশ্বেতাঙ্গ কিংবা মুসলিমদের প্রতি বর্ণবাদী আচরণের কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও গণভোটের পর থেকে ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশ থেকে আসা শ্বেতাঙ্গ অভিবাসীরাও এ ধরনের আচরণের শিকার হচ্ছেন। খোদ পশ্চিম লন্ডনে পোল্যান্ডের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দেয়ালে পোলিশদের যুক্তরাজ্য থেকে বিদায় হওয়ার বার্তা দিয়ে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। ম্যানচেস্টারে একটি ট্রেনে বর্ণবাদীদের আক্রমণের কবলে পড়েন অবসরপ্রাপ্ত এক মার্কিন সেনা। বেইজিংস্টোক শহরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়েছেন বিবিসির সাংবাদিক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সিমা কোটেচা। উগ্রবাদী ব্রিটিশ শ্বেতাঙ্গরা অভিবাসীদের বলছেন, ‘আমরা ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছি, তোমরা এখন বিদায় হও।’ ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার চার দিনের মধ্যে বর্ণবাদী আক্রমণের ঘটনা ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অবস্থায় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে পোশাকে সেফটি পিন লাগিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে গত রোববার প্রথম একটি টুইট (@Cheeahs) করা হয়। এক দিনের মাথায় ৩০ হাজার বারের বেশি সেই বার্তা রিটুইট (টুইটারে একই বার্তা আবার ছাড়া) হয়। ক্রমে তা বাড়তে থাকে। দ্য ব্রিটিশ বেক অফ বিজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়া হোসেনও এই প্রচারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে টুইটারে তাঁর ৯৫ হাজার অনুসারীর কাছে এই বর্ণবাদবিরোধী বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অভিনব ঐক্যের এই ভাবনা যাঁর মাথায় এল, তাঁর সঙ্গে কথা হয় টুইটারে। তাঁর নাম কেবল অ্যালিসন লেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিজেও একজন অভিবাসী, মার্কিন নাগরিক। থাকেন লন্ডনে এবং পেশায় ফ্রিল্যান্স লেখক ও সম্পাদক। অ্যালিসন বলেন, তিনি শ্বেতাঙ্গ এবং ইংরেজিভাষী হওয়ার কারণে তাঁকে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হচ্ছে না। তবে অভিবাসীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার খবরে তিনি অতিষ্ঠ। এ বিষয়ে কিছু একটা করার তাগিদ থেকে এই অভিনব প্রচার শুরু করেন তিনি।