Saturday, April 17, 2010

কেউ কি দায় স্বীকার করবেন by মাহমুদুর রহমান মান্না

ভারতের ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের সশস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছেন সে দেশের স্বরাষ্টমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এবং তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে। ক্রমবর্ধমান মাওবাদী ও সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার মুখে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে চিদাম্বরমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৮ এপ্রিল মঙ্গলবারের এ হামলা চিদাম্বরের ভাবমূর্তির ওপর দাগ ফেলে দিয়েছিল। সম্ভবত এটাই ছিল মাওবাদীদের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা, যাতে ৭৬ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন।
ভারতীয় গণতন্ত্রের এই একটি সুন্দর দিক। ছত্তিশগড়ের যে হামলা, এর জন্য নিশ্চয় পি চিদাম্বরম দায়ী নন। কিন্তু কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (যার ৭৬ জন সদস্য ওই হামলায় মারা গেছেন) এক বার্ষিক অনুষ্ঠানে চিদাম্বরম নির্দ্বিধায় বললেন, ‘দায়টা শেষ পর্যন্ত আমার ডেস্কেই আসে।’ আমার মনে আছে, সত্তরের দশকের প্রথম দিকে ভারতে একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যাতে এক শর বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। তখন রেলমন্ত্রী ছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। তিনি ট্রেন দুর্ঘটনার সব দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছিলেন।
এ দুজন মন্ত্রী যে পদত্যাগ করেছেন, তা নেহাতই তাঁদের বিবেকের তাড়নায়। তাঁদের যে বিবেক আছে, তা বোঝা যায় এ ঘটনা থেকে। মন্ত্রী হয়েছি ক্ষমতা উপভোগ করার জন্য, যেমন করে পারি মন্ত্রী হব কিংবা মন্ত্রী থাকব, এ রকম নয়। বরং মন্ত্রী হয়েছি বলেই দায়িত্ব আমার, তা পালন করতে পারলে থাকব, না হলে থাকব কেন? ক্ষমতা যে বড় কথা নয়, অন্তত ভারতের এই মন্ত্রীদের কাছে, পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁরা তা-ই প্রমাণ করেছেন। অবশ্য ক্ষমতার প্রশ্নে নির্মোহ থাকার বিষয়ে এর চেয়ে বড় উদাহরণ তৈরি করেছেন সোনিয়া গান্ধী স্বয়ং। কী রকম নির্বিকারভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদটি তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন! বাম রাজনীতির কিংবদন্তি প্রয়াত জ্যোতি বসু সম্পর্কেও এ কথা বলা যায়। গণতন্ত্রের বিনির্মাণের, বিশেষ করে, নেতৃত্বের এই নৈতিক ভিত্তি খবুই জরুরি।
ভারতীয় গণতন্ত্রের এই দিকটি সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখানে কী সরকার কী বিরোধী দল, উভয়ই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। এই যে চিদাম্বরম পদত্যাগপত্র পেশ করলেন, তা প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গ্রহণ করেননি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। মজার ব্যাপার, বিরোধী হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টিও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে একমত হয়েছে।
আমাদের দেশে হলে কী হতো? প্রথম কথা, আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত সোহেল তাজের ঘটনা বাদ দিলে নিজের তাগিদে কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, এ রকম উদাহরণ নেই। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বাইরে কোনো মন্ত্রী কিছু করেছেন বা ভেবেছেন, তা দৃশ্যমান নয়। তবু যদি ধরে নিই, সে রকম একটা কিছু হয়েছে, আর প্রধানমন্ত্রী ফিরিয়ে দিয়েছেন, তবে বিরোধী দল হইচই করত এই বলে যে সরকার একটা নাটক করেছে। কিন্তু ভারতে জনতা পার্টি তা করেনি। বিজেপির মুখপাত্র রাজীব প্রতাপ রুডি বলেছেন, ‘আমরা মনে করি না যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। আমাদের মাওবাদী তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’ রুডি আরেকটি কথা বলেছেন, যা আমাদের দেশের সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই শিক্ষণীয়। তিনি বলেছেন, ‘এখন ব্লেম গেমের (পরস্পরকে দোষারোপ) সময় নয়।’
মিসরের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুল নাসের ১২ থেকে ১৪ বার পদত্যাগ করেছিলেন এবং প্রতিবারই জনতার চাপে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। অনেকেই এটাকে নাসেরের স্টান্টবাজি মনে করতেন। কিন্তু ভারতের যেসব উদাহরণ আমি দিয়েছি, এর কোনোটাই স্টান্টবাজি নয়। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী পদত্যাগের পর আর মন্ত্রী থাকেননি, যদিও তিনি পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রসঙ্গক্রমে পশ্চিম জার্মানির একসময়ের অসাধারণ জনপ্রিয় চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ডের নাম বলা যায়। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় যখন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিদেশি গুপ্তচর হিসেবে ধরা পড়লেন, তখন তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১০ বছর ধরে আমার খুবই কাছে থাকা মানুষকে যখন আমি একেবারেই চিনতে পারিনি, তখন আমার ওপর দেশ পরিচালনার ভার রাখা ঠিক নয়।
দুই
বাংলাদেশে ফিরে আসি। আমাদের দেশে দায় স্বীকার করে এ ধরনের পদত্যাগের ঘটনার নজির নেই। এ কথার মানে কী এই যে ছত্তিশগড়ের মতো বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি আমাদের এখানে? কিন্তু তা-ই বা বলি কী করে? বিডিআর বিদ্রোহ এবং এর মর্মান্তিক ঘটনা তো এখনো আমাদের স্মৃতিতে কাটা ঘায়ের মতো।
এত বড় ঘটনার দায় কেউ স্বীকার করেনি। ঘটনার পরপরই জাতীয় সংসদের যে অধিবেশন বসেছে, সেখানে সরকারি দল বিরোধী দলকে প্রকারান্তরে দায়ী করেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী সংসদে অভিযোগ করেছেন, ঘটনার দিন বিরোধী দলের নেতা কালো কাচের গাড়িতে কালো চশমা পরে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন ছেড়ে কোথায় চলে গেছেন, তিন দিন আর বাসায় ফেরেননি। সংসদের ওই অধিবেশনে বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না। পরে তাদের উপস্থিতিতে সংসদ নেত্রী ও বিরোধী দলের নেতার মধ্যে যে তীব্র বাগ্যুদ্ধ হয়, সেখানেও তিনি এ অভিযোগ উপস্থাপন করেন। বিরোধী দলের নেতা এ সম্পর্কে আজ পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি। তাঁর দল এখন প্রকারান্তরে ওই ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করছে।
বিডিআর বিদ্রোহের বিচার অবশ্য ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মূল যে বিষয়, সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচারও শুরু হবে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু তার পরও এত বড় ঘটনায় সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ন্যূনতম মতৈক্য গড়ে ওঠার কোনো লক্ষণ নেই। বাংলাদেশের এই চার দশকের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এ প্রচেষ্টা বা উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি। স্বাধীনতার পরপর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ছিল। কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রস্তাবটি বিবেচ্য বলেও মনে হয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ছিল। তাই এর বিচারে অনেকেই একমত ছিল না। আজও যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে বিভেদের সুর স্পষ্ট আছে।
এ অবস্থায় আমাদের দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কী? পাকিস্তানের পরিণতি আমরা দেখেছি। একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ সম্পর্কে এতখানি নেতিবাচক ভাবনা কেউ ভাবে না। কিন্তু এ দেশে একটা নেতিবাচক রাজনীতি গড়ে উঠেছে, যা ভাবনার। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে শত্রু বিবেচনা করে। পারলে একেবারে ধ্বংস করে ফেলতে চায়। যত কিছু ভালো তা আমার আমলে হয়েছে; আর তিনি ও তাঁর সরকার গত কয়েক বছরে দেশটাকে রসাতলে নিয়ে গিয়েছিলেন, প্রায় অকার্যকর করে ফেলেছিলেন রাষ্ট্রটাকে—এ ধরনের কথা শুনতে শুনতে মানুষের কানে পচন ধরেছে।
এই নেতিবাচক রাজনীতি বিবেককে বাক্সবন্দী করে। বড় রাজনীতিবিদেরা কেউ সোনিয়া গান্ধী, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, চিদাম্বরম হতে পারেন না। তাঁরা ছাপোষা কেরানি আর বাক-বাকুম পায়রা হয়ে যান। যাঁদের ডাকে একসময় হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ জেগে উঠত, তাঁদের কণ্ঠ ম্রিয়মাণ হয়ে যায়। চাকরিজীবী আমলার মতো রাজনীতিবিদেরাও চামচা হয়ে যান। এ অবক্ষয়ের কারণে বাবার কোলে চার বছরের শিশু নওশীন দুর্বৃত্তের গুলিতে মারা যাওয়ার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখবোধ করেননি, কোনো দায়িত্ব স্বীকার করার প্রশ্ন আসেনি, নির্বিকার বলে ফেলেছেন, ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন।’

তিন
সাম্প্রতিককালে দেশে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা সুস্থ বিবেককে রীতিমতো ভাবিত করে। ঘটনাগুলো যেমন মর্মান্তিক, তেমনই হূদয়বিদারক। নিষ্ঠুরতায় ও পৈশাচিকতায় তা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে ব্যথিত করবে।
১. ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের এক অনুষ্ঠানে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলা এবং ছাত্রীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন। ঢাকঢাক-গুড়গুড় করলেও ঘটনার বিবরণ মানুষের সামনে চলে আসে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায়নি।
২. জোট সরকারের সময় ফাহিমা, মাহিমার আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটেছে। এদের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে পিংকি, ইলোরা এবং আরও দু-একটি নাম।
৩. ধর্ষণে সেঞ্চুরি করার মাঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকটি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সুতপা নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর বেরিয়েছে। মা-বাবা সরকারের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।
৪. সবচেয়ে জঘন্য অমানবিক ঘটনার খবর বেরিয়েছে ইডেন কলেজকে কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সেখানে ছাত্রীদের ইচ্ছার বাইরে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। স্বয়ং বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া এ নিয়ে কথা বলেছেন। প্রতিবাদ, অস্বীকার করে শক্তিশালী কোনো বক্তব্য দেশবাসীর সামনে আসেনি।
৫. পৈশাচিক দুটি ঘটনা ঘটেছে এরপর। প্রথমে দুই বছরের একটি শিশু এবং পাঁচ দিনের ব্যবধানে চার বছরের একটি শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষণের পর শিশু দুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার যে বর্ণনা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, তা পড়ে চোখের পানি সংবরণ করা কষ্টকর।
৬. পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, দুই যুবক আলাদাভাবে প্রেমিকার মা-বাবাকে হত্যা করেছে, প্রেমিকাকে মারাত্মকভাবে আহত করে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে গেছে।
এ রকম আরও বেশ কিছু ঘটনা হয়তো আছে, যা দেশবাসীর নজরে আসেনি। কারও কি দায় আছে এসব ঘটনার? দেশজুড়ে যে মাস্তানি ও টেন্ডারবাজি চলছে, তাতে কারও দায় নেই? বিএনপির বন্ধুরা অবশ্য প্রীত বোধ করবেন এই ভেবে যে, যেসব ঘটনার কথা আমি বলছি, তা সবই তো বর্তমান সরকারের সময়কার। তাদের আমলে কি এসব হয়নি? উভয় দলের নেতারাই কী একবার ভালো করে চোখ মেলে দেখেছেন যে ছাত্রদের মিছিলে (তা সেটা ছাত্রলীগ হোক বা ছাত্রদলই হোক) এখন আর বরকত, ছালাম, রফিক, জব্বার, আসাদ ও মতিউর রহমানদের দেখা যায় না?
একটা সন্ধিক্ষণ চলছে এখন। নীতি-নৈতিকতার ভাঙচুর চলছে। নওশীন যে মারা গিয়েছিল, এর দায় কি তৎকালীন সরকারের ছিল না? এই যে দুটি অবুঝ শিশু পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলো, এর দায় কি কারও নেই?
অনুজপ্রতিম আসিফ নজরুল লিখেছেন, এই শিশুকে ক্ষতবিক্ষত করেছে মানুষ নামধারী পশু। কিংবা পশুর চেয়েও বর্বর কেউ। উন্মত্ত পশুও ধর্ষণ করে না তাদের গোত্রের বা অন্য কোনো শিশুকে। আমাদের সমাজের একজন করেছে। এই মানুষকে খুঁজে বের করতে পারবে না পুলিশ? তাকে জামিন না দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবে না কোনো আদালত? যদি না পারে, তাহলে সেই পশুর কাছে ধর্ষিত আসলে আমরা সবাই।
আমাদের একজন চিদাম্বরমকে দরকার, যিনি দায় স্বীকার করার সাহস রাখেন। দরকার একজন রাজীব প্রতাপ রুডির, যিনি বলতে পারেন, এখন পরস্পরকে দোষারোপ করার সময় নয়।
মাহমুদুর রহমান মান্না: রাজনীতিবিদ ও কলাম লেখক।

ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম সহিংসতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে; হত্যা, রক্তপাত ও অরাজকতা প্রত্যাখ্যান করেছে; সত্ ও ভালো কাজে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে, পাপ ও নির্যাতনমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ইসলাম অনুমোদন দেয় না, বরং ঘৃণা করে। ইসলামে সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। নিরপরাধ ব্যক্তিদের হত্যা করা ইসলামের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অন্যায়ভাবে হত্যাকে সবচেয়ে বড় গুনাহ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল; আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত-৩২)
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ, গতিশীল ও শান্তিময় শাশ্বত জীবনব্যবস্থা। আরবি ‘ইসলাম’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর শব্দমূল হচ্ছে ‘সিন-লাম-মিম’ বা সালাম—যার অর্থ শান্তি। এটি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, হত্যাকাণ্ড, নৈরাজ্য এবং সামান্যতম অরাজকতার সুস্পষ্ট বিরোধী একটি শব্দ। ইসলাম কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে সায় দেয় না। ইসলামের নামে যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনৈসলামিক। ইসলাম মানুষে মানুষে হূদ্যতা ও সৌহার্দ্য স্থাপনের মাধ্যমে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির পৃথিবী গড়ার তাগিদ দিয়েছে। মানব জাতিকে উদ্দেশ করে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর তোমরা বিপর্যয় ঘটাবে না।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত-৮৫) অন্যত্র ঘোষণা করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা আল-কাসাস, আয়াত-৭৭)
ইসলাম সর্বক্ষেত্রে শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার কথা বলে। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম হলো মধ্যমপন্থার ধর্ম। চরমপন্থা, বাড়াবাড়ি, জোর-জবরদস্তি ও বল প্রয়োগ ইসলাম অনুমোদন করে না। মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তোমরা তাকে হত্যা করো না।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৩৩) হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে ‘দুনিয়া ধ্বংস করে দেওয়ার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণিত কাজ হলো মানুষ হত্যা করা।’ (তিরমিজি)
কিন্তু কুচক্রী মহল ইসলামকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদ মূলত একটা উগ্র আদর্শবাদ, যা মতাদর্শের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। কিছু বিপথগামী লোক ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ধর্মকে অবমাননা করছে। তারা তাদের হীন স্বার্থ অর্জনে পথভ্রষ্ট তরুণদের ব্যবহার করছে। এমনকি তারা সংখ্যালঘুদের বেলায়ও উগ্রবাদী। অথচ ইসলাম এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। প্রত্যেক মুসলমান ও অমুসলমানদের ধন-সম্পদ, ইজ্জত-আব্রু ও জীবন অপর মুসলমানের কাছে আমানতস্বরূপ। এ গচ্ছিত আমানতকে সংরক্ষণ করা তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘মনে রেখো! যদি কোনো মুসলিম অমুসলিম নাগরিকের ওপর নিপীড়ন চালায়, তার অধিকার খর্ব করে, তার কোনো বস্তু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি রাসুল তার বিরুদ্ধ পক্ষ নেব।’ (আবু দাউদ)
ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে ‘মসজিদুন নববী’ স্থাপন করেন এবং এ মসজিদকেন্দ্রিক একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনি বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সংবিধান সম্পাদন করেন—যা ‘মদিনা সনদ’ নামে সমধিক পরিচিত। ৪৭টি শর্তবিশিষ্ট এ সনদের প্রতিটি ধারা-উপধারায় মানবিক মূল্যবোধ সুস্পষ্ট প্রতিভাত হয়ে উঠেছে। এর প্রথম শর্তেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে রাষ্ট্র গঠনের চেতনা সুস্পষ্ট হয়েছে। এতে যার যার ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জিলহজ নবী করিম (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা শোনো, কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো কালোর ওপর কোনো সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো সাদার ওপর কোনো কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সবাই আদম থেকে এবং আদম মাটি থেকে সৃষ্ট। শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া।’
মানব জাতির শান্তি ও মুক্তির লক্ষ্যে প্রেরিত নবী-রাসুলগণ যে বিধিবিধান প্রবর্তন করেছেন, তা যখন কোনো দেশ বা সমাজ পরিত্যাগ করেছে তখন তাদের মধ্যে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিস্তার লাভ করেছে। কারণ এ বিশ্বপ্রকৃতি ও মানব সভ্যতার মূল নিয়ন্ত্রক হলেন আল্লাহ তাআলা। তিনিই মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সফলতার জন্য উপযুক্ত বিধি-ব্যবস্থা দান করেছেন। কোনো সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে তা তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মারফত মানুষকে জানিয়েছেন। এ জনকল্যাণকর পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা বা সমাধান যে সমাজে বিদ্যমান থাকবে সে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে। পবিত্র কোরআনে সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের কঠোরতম শাস্তির বিধান সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন ও তাকে লানত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-৯৩)
ইসলাম নির্যাতন, অনিষ্ট, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং খুনোখুনি করাকে মারাত্মক পাপ ও জঘন্য অপরাধ বলে গণ্য করে। ইসলাম মানবতাবিরোধী সব ধরনের রক্তক্ষয় ও অসত্ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিরীহ মানুষ হত্যাকে প্রশ্রয় দেয় না। এমনিভাবে সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ, বিপর্যয়, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করাকে হত্যার চেয়েও জঘন্যতম অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। কেউ যাতে বোমাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে সে জন্য মুসলমানদের মধ্যে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় মুসল্লিদের উদ্দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ওপর বিশেষ বয়ান প্রদান করতে মসজিদের ইমাম-খতিবদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা দরকার।
ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না—তাই মানব সভ্যতার শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলেম সমাজের করণীয় বিষয়ে অত্যন্ত গুরুদায়িত্ব রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ ইসলামবিরোধী—আর কোনো মহৎ ধর্ম সন্ত্রাসবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে না। কোনো দায়িত্বশীল গোষ্ঠী বা সমাজ সন্ত্রাসবাদের পক্ষ সমর্থন করতে পারে না। ইসলাম মানব জাতির জন্য শাশ্বত শান্তি, প্রশান্তি ও নিরাপত্তার উৎস। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে আধুনিক সভ্যতার উত্তম অর্জনগুলোকে ধারণ করার মাধ্যমে অখণ্ড সভ্যতার মূল্যবোধ থেকে ইসলামকে তুলে ধরা। এ ক্ষেত্রে ইসলাম সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য কীভাবে মানবকল্যাণ বয়ে আনবে সে পথের রূপরেখা পরিষ্কার করাও আলেম-ওলামাদের কর্তব্য। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা যাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য সারা দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী ইসলামি মহাসম্মেলনের আয়োজন করা উচিত। কারণ এ ব্যাপারে আলোচনা যত বেশি হবে, ততই মানুষ আরও স্বচ্ছ ধারণা লাভে সক্ষম হবে। এটি সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইসলামের শান্তির বাণীকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতি ও আন্তধর্মীয় সংলাপের শান্তিপূর্ণ সূচনা হতে পারে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

গাজায় দুই ফিলিস্তিনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

গাজায় দুই ফিলিস্তিনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইসরায়েলে তথ্য পাচারের দায়ে তাঁদের এ শাস্তি দিয়েছে হামাস সরকার। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, হাসপাতাল ও অন্যান্য সূত্র গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন প্যালেস্টাইনিয়ান আল-মিশনের মুখপাত্র সামির জাকুট জানান, গত বুধবার রাতে ফায়ারিং স্কোয়াডে ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। খুন, মাদক ব্যবসা ও ইসরায়েলে তথ্য পাচারের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেছে হামাস।

বিক্ষোভকারীদের আবার আলোচনায় বসার আহ্বান থাই সরকারের

থাইল্যান্ডের বিক্ষোভকারীদের গতকাল বৃহস্পতিবার আবারও আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছে সে দেশের সরকার। সরকারের মুখপাত্র পানিতান ওয়াত্তানাইয়াগর্ন বলেছেন, আলোচনার টেবিলেই রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান হতে পারে। সরকার যেকোনো সময় বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে। তবে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারের সঙ্গে তাঁরা আর বসতে রাজি নন। সরকার ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। খবর এএফপির।
গত শনিবার ব্যাংককে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সেনা ও পুলিশের সংর্ঘষে ২৩ জন নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী বিক্ষোভস্থল থেকে ব্যারাকে ফিরে গেছে। ইতিমধ্যে সেনা প্রধান পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে এ অচলাবস্থা সেনাবাহিনীতে বিভক্তি তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী অভিজিত ভেজ্জাজিভা বলেছেন, বিক্ষোভ নিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনীতে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়নি। তিনি এখনো পদত্যাগ না করার ব্যাপারে অনড় রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের নেতা নাত্তাইয়ুত সাইকুয়ার বলেছেন, সরকার যদি এখনো তাঁদের অবস্থানস্থলের দখল নেওয়ার পাঁয়তারা করে তাহলে বিক্ষোভকারীদের পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকবে না। তিনি বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই সব ধরনের ভয়ভীতিকে অতিক্রম করে এসেছেন। কোনো কিছুকেই তাঁরা আর পরোয়া করেন না।
সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে, তারা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গের জন্য কোনো শক্তি প্রয়োগ করবে না। তবে বাণিজ্যিক এলাকাগুলো থেকে তাঁদের আপসেই সরে যাওয়া উচিত। শনিবারের সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এম-১৬ এবং একে-৪৭ রাইফেলধারী সন্ত্রাসীরা ছিল বলে সরকার দাবি করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের নেতা নাত্তাইয়ুথ বলেছেন, সরকার যদি প্রমাণ করতে পারে তাঁদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাসী ছিল, তাহলে তাঁরা তার দায় নেবেন।

‘মৃত্যু উপত্যকা’ থেকে সেনা প্রত্যাহারকে বিজয় হিসেবে দাবি করল তালেবান

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর বিষয়টিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গিরা। গতকাল বৃহস্পতিবার তালেবানের একজন মুখপাত্র এ দাবি করেন। এলাকাটি ‘মৃত্যু উপত্যকা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল।
চলতি সপ্তাহে আফগানিস্তানের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কুনার প্রদেশের পর্বতসংকুল কোরেনগাল এলাকা থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ন্যাটোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে সেনা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে একজন আফগান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, সেনা প্রত্যাহারের কারণে লাভবান হবে তালেবান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, শুধু কোরেনগাল নয়, যেকোনো এলাকা ছেড়ে যাওয়া তালেবানের জন্য ভালো হবে। তারা সেখানে জড়ো হতে পারবে।
কয়েক বছরের যুদ্ধের পর জনবিরল ওই উপত্যকা থেকে বিদেশি সেনারা সরে যাওয়ার পরপরই তালেবান জঙ্গিরা এলাকাটি দখল করে নেয়। দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকা তালেবান জঙ্গিদের দখলে।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহেদ অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোনে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা বিরাট বিজয়।’

অর্থ বাঁচাতে বিভিন্ন দেশে দূতাবাস বন্ধ করে দেবে ডেনমার্ক

সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় নিরাপত্তা খরচ বেড়ে যাওয়ায় অর্থ বাঁচাতে আলজেরিয়া, জর্ডান, বসনিয়া ও নিকারাগুয়ায় দূতাবাস বন্ধ করে দেবে ডেনমার্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
আম্মান ও আলজিয়ার্সের দূতাবাস চলতি বছরের মধ্যে বন্ধ করা হবে। সারায়েভোর দূতাবাস বন্ধ করা হবে আগামী বছর। মানাগুয়ার দূতাবাস বন্ধের তারিখ এখনো ঠিক করা হয়নি। ২০১২ সালে বন্ধ করা হবে হংকংয়ে ডেনমার্কের জেনারেল কনসুলেট। তবে দেশটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে তাদের নতুন দূতাবাস খুলবে।
দূতাবাস বন্ধ করার ফলে আগামী তিন বছরে ডেনমার্কের দুই কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার বাঁচবে।
ডেনিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এ জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে আলজেরিয়ার সঙ্গে ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশেষ প্রচেষ্টা থাকবে।

‘ইরানের পরমাণু বোমা তৈরি করতে পাঁচ বছর লাগবে’

মার্কিন সামরিক বাহিনী সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরান এক বছরের মধ্যে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে, যা একটি পরমাণু বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট। তবে ব্যবহারযোগ্য পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে ইরানের আরও তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। খবর বিবিসির।
মার্কিন সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ জেনারেল জেমস কার্টরাইট বলেছেন, যদি ইরান চায়, তাহলে এক বছরের মধ্যে একটি পরমাণু বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে।
কার্টরাইট বলেন, পরমাণু বোমা তৈরির জন্য ইরানের আরও সময় লাগবে। অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, এতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগবে।

ভারতে ঘূর্ণিঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০

ভারতের উত্তরবঙ্গ, পূর্ববিহার ও আসাম রাজ্যে মঙ্গলবার রাতের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০-এ দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে ২০০ জন। তবে ঘূর্ণিঝড়ের পর বেশ কিছু প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আলীপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের পরিচালক জি সি দেবনাথের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ওই ঘূর্ণিঝড়ে বিহারের আরারিয়া, পূর্ণিয়া, কাতিহার ও কিশানগঞ্জ জেলা এবং উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর ও জলপাইগুড়ি জেলায় এক লাখেরও বেশি কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড ঝড়ে কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে উত্তর দিনাজপুরে ৩৮ জন; বিহারের আরারিয়া, পূর্ণিয়া, কাতিহার ও কিশানগঞ্জে ৬৯ জন; দাগারওয়ায় সাতজন ও আসামের ধুবরি জেলার মানকাচরে চারজন মারা গেছে।

মিয়ানমারে বোমা হামলায় নিহত ৯

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহরে বোমা হামলায় নারীসহ অন্তত নয়জন নিহত ও ৬২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। সরকারের একজন মুখপাত্র এই তথ্য দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মুখপাত্র জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও চারজন নারী রয়েছেন। ইয়াঙ্গুনের কান্দওয়াগি হ্রদের পাড়ের একটি পার্কে বোমা তিনটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অপর একটি বোমা উদ্ধার শেষে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বার্ষিক পানি উৎসব উপলক্ষে গতকাল পার্কটিতে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়। মানুষজন দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। আহত ব্যক্তিদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ বিস্ফোরণস্থলটি ঘেরাও করে রাখে।
এই হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। দেশটির পুরোনো এই রাজধানী শহরে গত কয়েক বছরে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিসম্পন্ন কয়েক দফা বোমা হামলা চালানো হয়েছে। জান্তা সরকার দাবি করে আসছে, এসব হামলায় নির্বাসিত সশস্ত্র গোষ্ঠী অথবা বিদ্রোহীদের হাত রয়েছে

পরমাণু সম্মেলনের পর বিশ্ব এখন বেশি নিরাপদ: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, বিশ্ব এখন অধিকতর নিরাপদ। পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলনে বিশ্বের ৪৭টি দেশ আগামী চার বছরের মধ্যে অরক্ষিত পরমাণু উপকরণ সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছানোর সব পথ বন্ধ করার ব্যাপারে একমত হওয়ায় তাঁরা এখন অধিকতর নিরাপত্তাবোধ করছেন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে দুই দিনব্যাপী পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি এ কথা বলেন। খবর এএফপির।
ওবামা ওই সম্মেলনে আরও বলেন, ‘আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি তার ফলে মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বিশ্বের নিরাপত্তা হবে আরও সুসংহত।’
ওবামা বলেন, ‘অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এসব গোষ্ঠীর হাতে এ-জাতীয় অস্ত্র পৌঁছালে বিশ্বে মহাবিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। তাই পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপকরণ যাতে তাদের হাতে পৌঁছাতে না পারে, সে ব্যাপারে বিশ্ববাসীকে সজাগ থাকতে হবে।’
এদিকে সম্মেলনের সমাপনী দিনে মঙ্গলবার সমবেত বিশ্বনেতারা একটি যৌথ ঘোষণা দেন। এতে তাঁদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অরক্ষিত পরমাণু সরঞ্জামের সুরক্ষায় প্রেসিডেন্ট ওবামা যে উদ্যোগ নিয়েছেন আমরা তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আমরা একযোগে কাজ করে যাব।
সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গেছে। ইউক্রেন, মেক্সিকো ও কানাডার পক্ষ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধের স্বতঃস্ফূর্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সম্মেলনের কিছু দিন আগে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার কমিয়ে আনার ব্যাপারে একটি চুক্তি করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী এ দুটি দেশ ৩৪ টন করে প্লুটোনিয়াম ধ্বংস করবে। এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির মূল উপাদান। এ পরিমাণ প্লুটোনিয়াম দিয়ে ১৭০০ পরমাণু বোমা তৈরি সম্ভব।
ওয়াশিংটন সম্মেলনে পরমাণু উপকরণ পাচাররোধে তথ্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে একে অন্যকে সহযোগিতা করারও অঙ্গীকার করা হয়।

ব্রাজিল পৌঁছেছেন মনমোহন সিং

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাজিল পৌঁছেছেন। তিনি সেখানে ব্রাজিল-রাশিয়া-ভারত-চীন (বিআরআইসি) এবং ভারত-ব্রাজিল-দক্ষিণ আফ্রিকার (আইবিসিএ) পৃথক সম্মেলনে যোগ দেবেন। এ ছাড়া দুই দিনের এই সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন।
ওয়াশিংটন থেকে গতকাল ব্রাজিলের বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে পৌঁছান মনমোহন সিং। এ সময় তাঁর স্ত্রী গুরশরণ কাউর সঙ্গে ছিলেন। বিমান থেকে নামার পর মনমোহন সিংকে ব্রাজিলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেলসন জোবিন স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
দুই গ্রুপের এই পৃথক সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে আলোচনা করবে। ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনা করা হবে বিআরআইসি সম্মেলনে। এতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা। পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে ও নানা বিষয়ে সহযোগিতা দিতে রাশিয়া, ব্রাজিল, ভারত এবং চীনের এই গ্রুপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দীর্ঘ দিন ধরে জাতিসংঘের সাধারণ সভাসহ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নিয়মিত পার্শ্ব-বৈঠক করে আসছে।
দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত আইবিএসএ গ্রুপ এবারের সম্মেলনে আজ শুক্রবার সৌরবিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি বিষয়ে দুটি চুক্তিতে সই করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবন মক্কায়

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবনের উদ্বোধন করা হবে আগামী জুন মাসে। ভবনটির উচ্চতা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার চেয়ে ১১ মিটার কম। এ ভবনে একটি ঘড়ি থাকবে, যা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়ি।
নির্মাণাধীন দ্য মক্কা রয়্যাল ক্লক টাওয়ারের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল-আরকুবি বলেন, এটি লন্ডনের বিখ্যাত ঘড়ি বিগ বেনের চেয়ে ছয়গুণ বড়।
নির্মাণাধীন ওই ভবনের উচ্চতা ৮১৭ মিটার। অন্যদিকে বুর্জ খলিফার উচ্চতা ৮২৮ মিটার।
ভবনের মহাব্যবস্থাপক আরকুবি জানান, আগামী জুনের শেষ নাগাদ ভবনের একটি অংশ খুলে দেওয়া হবে। আর পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে জুলাইয়ের শেষ দিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়িটি চালু করা হবে। জার্মানিতে তৈরি ওই ঘড়ি ৪৫ মিটার প্রশস্ত ও ৪৩ মিটার উঁচু।
তিনি জানান, ঘড়িটি রাতের বেলায় ১৭ কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যাবে। আর দিনে দেখা যাবে ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার দূর থেকে।
আরকুবি জানান, সৌদি সরকারের পক্ষে বিন লাদেন গ্রুপ ভবনটি তৈরি করছে। ভবনের ব্যবস্থাপনায় থাকবে ফেয়ারমন্ট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। ভবনের আয় খরচ করা হবে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে।

আইসল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির ধোঁয়ায় বিমান চলাচল মারাত্মক ব্যাহত

আইসল্যান্ডে একটি আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ছাইয়ের মেঘে যুক্তরাজ্যে বিমান চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। স্কটল্যান্ডের সব বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, স্টানসটেড, নিউক্যাসেল ও বার্মিংহামসহ অনেক স্থানে বিমান চলাচলব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা।
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে বিমানের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস থেকে সতর্ক করে দেওয়ার পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সার্ভিস (ন্যাটস) বিমান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরির ছাই শুধু পাইলটের দৃষ্টিএলাকা কমিয়ে দেয় না, ধোঁয়ায় যে পাথর, কাচের গুঁড়া ও বালু থাকে, তা বিমানের ইঞ্জিন অচল করে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল রীতি অনুযায়ী ন্যাটস বিধিনিষেধ জারি করার পর অ্যাবারডিন, এডিনবর এবং গ্লাসগোর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মান্যচেস্টার ও নিউক্যাসলে সব বিমানের অবতরণ বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল এমন বিমানের যাত্রা বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে। লিভারপুলের জন লেনন বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার অভ্যন্তরীণ সব রুটের বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। এতে করে লন্ডনের গ্যাটউইক, হিথ্রো ও সিটি বিমানবন্দরেও বিমান চলাচল ব্যাহত হবে।
বার্মিংহাম বিমানবন্দর থেকে জানানো হয়েছে, সেখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ইস্ট মিডল্যান্ডস, লিডস ব্রাডফোর্ড, কার্ডিফ ও ব্রিস্টল থেকেও বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বেলফেস্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জর্জ বেস্ট বেলফাস্ট সিটি বিমানবন্দরের অধিকাংশ বিমান এবং ডাবলিন বিমানবন্দরের কিছু কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ইউরোপীয় বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা ইউরোকন্ট্রোল জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির ধোঁয়ার মেঘ ভূমি থেকে ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এই মেঘ যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চল থেকে স্কটল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকে ওই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। ধোঁয়ার মেঘ পরিষ্কার হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে

পাকিস্তানের সিনেটে ১৮তম সংশোধনী বিল পাস

পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে সংবিধান সংশোধনীবিষয়ক বিলটি পাস হয়েছে। ‘১৮তম সংশোধনী বিল’ নামে এ বিল পাস হওয়ার ফলে এককভাবে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া ও প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা হারাবেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। এর আগে গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে এই বিল পাস হয়েছিল।
গতকাল সিনেটে সংশোধনী বিলের ওপর ভোটাভুটির সময় ৯০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যদের সবাই সংশোধনীর পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। পাকিস্তানের সিনেটের আসন সংখ্যা ১০০।
এই বিল পাসের ফলে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নাম বদলে যাবে। ওই প্রদেশের নাম হবে খাইবার-পাখতুনখা।
ভোটাভুটির পর প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি সিনেটে বলেন, এটা গণতন্ত্রের বিজয়। এ বিল অনুমোদন পাকিস্তানের সংবিধানের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
সিনেটে দেওয়া ভাষণে গিলানি বলেন, ১৮তম সংশোধনী বিলে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত। প্রধানমন্ত্রী গিলানি আরও বলেন, তাঁর ধারণা পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ এবং এমনকি বিরোধীরাও একই অবস্থানে ছিলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে সেনাবাহিনী। ১৮তম সংশোধনী বিল পাস করায় গোটা জাতি সিনেট নিয়ে গর্বিত।
এ বিল পাস হওয়ার ফলে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধানে পরিণত হবেন। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই কেবল জাতীয় পরিষদ ভাঙতে ও প্রাদেশিক গভর্নরদের নিয়োগ দিতে পারবেন।
১৮তম সংশোধনীতে সংবিধানের ৫৮-২(বি) ধারা বাতিল করা হয়েছে। এতে কারও তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। বিল অনুযায়ী একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে। যে কমিশন উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ দেবে।
অনেকে বলছেন, সংবিধান থেকে জেনারেল জিয়াউল হকের নাম মুছে দিয়ে বড় ধরনের মাইলফলক অতিক্রম করল সিনেট।
সংবিধান সংশোধনীবিষয়ক বিলটি এখন স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্ট জারদারির কাছে পাঠানো হবে। এর পর এটি আইনে পরিণত হবে। এ সংশোধনীর ফলে পরমাণু শক্তিধর এ দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কিরগিজস্তানে সমাবেশে গুলি পালিয়ে বাঁচলেন বাকিয়েভ

কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ওশে সমাবেশ করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন। সেখান থেকে কোনো রকমে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন। বাকিয়েভের সমর্থক অধ্যুষিত এলাকা জালালাবাদের নিকটবর্তী ওশ শহরে প্রায় দুই হাজার সমর্থকের মধ্যে তিনি বক্তৃতা করতে মঞ্চে উঠেছিলেন। এ সময় আচমকা গোলাগুলি শুরু হলে তাঁর দেহরক্ষীরা তাঁকে আড়াল করে নিরাপদে সরিয়ে নেন। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।
প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভের এক ভাই বিবিসিকে জানান, তাঁরা যেখানে সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, তার কয়েক শ গজ দূরেই অন্তর্বর্তী বর্তমান সরকারের সমর্থকেরা সমাবেশ করে। সমাবেশে বাকিয়েভ বক্তৃতা দিতে উঠলে হঠাৎ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে গুলিবর্ষণের আওয়াজ শোনা যায়। বাকিয়েভের দেহরক্ষীরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন এবং রাইফেল উঁচিয়ে একটানা ফাঁকা গুলি করতে থাকেন। উপস্থিত সমর্থকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে বাকিয়েভকে একটি গাড়িতে তুলে জালালাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি।
বাকিয়েভের ঘনিষ্ঠ সহচর রাভসান ডিঝামগিরচিয়েভ বলেছেন, এ ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উসকানি রয়েছে। তিনি জানান, বাকিয়েভ যখন বক্তব্য দিতে যাচ্ছিলেন, তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত দূর থেকে তাঁর ওপর পাথর নিক্ষেপ শুরু করে এবং গুলি চালানোর চেষ্টা করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোলোত্ শেরনিয়াজোভ বলেছেন, বাকিয়েভ ওই ঘটনায় আহত হননি। সেখানকার জনগণ তাঁকে বক্তব্যদান থেকে বিরত রাখতে চেয়েছে। তারা কারও ওপর গুলি চালায়নি। বাকিয়েভের লোকজনই গুলি ছুড়ে তাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বলেছেন, বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী পুতিন বাকিয়েভকে টেলিফোন করেছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। রাশিয়া দৃশ্যত অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করছে। নতুন সরকারকে ইতিমধ্যে তারা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক বিশকেক সফর করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী সরকারকে সাহায্যে করতে প্রস্তুত। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, তিনি কিরগিজস্তানে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করছেন।
কিরগিজস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোলোত্ শেরনিয়াজোভ তাঁর ওই হুঁশিয়ারি আমলে নিয়ে বলেছেন, গৃহযুদ্ধ এড়াতে তাঁরা শিগগিরই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করার পরিকল্পনা করেছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ গত মঙ্গলবার সরকারকে জানান, তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা দিলে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি আছেন।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান রোজা ওতুনবায়েভা তাঁর সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের কারণে বাকিয়েভ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে এখনই বাকিয়েভকে গ্রেপ্তারে তাঁরা কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবেন না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আরেক পা এগোল দিল্লি

চেন্নাই সুপার কিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আইপিএলের সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ভালোভাবে থাকল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।
১৩ ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ও দিল্লির পয়েন্ট হলো ১৪। দুদলের সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট চেন্নাই ও রাজস্থান রয়্যালসের। ম্যাচ বাকি আর একটি করে। ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এখন পর্যন্ত কেবল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।
মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাইকে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ১১২ রানে বেঁধে রাখে গৌতম গম্ভীরের দিল্লি। আশীষ নেহরা ৪ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন তিন উইকেট। চেন্নাইয়ের সর্বোচ্চ ৩০ রান বদ্রিনাথের। গোটা ইনিংসে ছক্কা মাত্র একটি। এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান বলিঙ্গার মেরেছেন সেটি।
৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ১১৩ রানের লক্ষ্যটাও কঠিন বানিয়ে ফেলেছিল দিল্লি। ৩৮ রানে চার উইকেট পড়ার পর অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর (৫৬ বলে ৫৭) আর মানহাস (৩২ বলে ২৫)।

মহিলা ক্লাব কাপ ক্রিকেটে বিকেএসপির প্রথম জয়

তিন ম্যাচের দুটিতেই জিতে মহিলা ক্লাব কাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে আবাহনী। কাল ৩৫ ওভারের ম্যাচে তারা ৯ উইকেটে হারিয়েছে কলাবাগানকে। দিনের অন্য ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ১৫৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে বিকেএসপি।
সকালে পিচ কাভার দেরিতে সরানোয় গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠের উইকেট ছিল ভেজা। খেলাও শুরু হলো একটু দেরিতে। ৪০ ওভারের ম্যাচ সে কারণেই কমিয়ে আনা হয় ৩৫ ওভারে। ম্যাচটা তার পরও শেষ দুপুর ২টার পরপরই। ২৯.২ ওভারে অলআউট কলাবাগানের ৯০ রান মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১৬.১ ওভারেই টপকে গেছে আবাহনী। মনতাহা খাতুন ৩৫ ও সুবর্ণা ইসলাম ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। আবাহনীর শারমিন সুলতানা ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।
ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নুজহাতের ৫১ ও সানজিদার ৪৩ রানের সৌজন্যে ৩৮.২ ওভারে ২৫৫ রান করেছিল বিকেএসপি। জবাবে পুরো ৪০ ওভার ব্যাট করে ৯৯ রানে অলআউট হয়েছে ওয়ান্ডারার্স। ঢাকার ডলি সরকার মাত্র ৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

লির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও শেষ

টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিই খেলবেন। সেটিতেও এখন বাদ সাধছে ইনজুরি। আইপিএলে দুর্দান্ত খেলে যেতে চেয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেই আইপিএলই ব্রেট লির বিশ্বকাপ-স্বপ্নটাকে সাঙ্গ করে দিয়েছে প্রায়। চোট নিয়ে দেশে ফিরছেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের এই অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার। আইপিএলের বাকিটা তো বটেই, এ মাসের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলা নিয়েও এখন সংশয়।
পাঞ্জাবের অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা লিকে হারিয়ে হতাশই হয়েছেন, ‘(হাতের) বুড়ো আঙুল ভেঙে যাওয়ায় ব্রেট লির জন্য টুর্নামেন্টটাই শেষ হয়ে গেল। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ও বিশ্বমানের খেলোয়াড়, আশা করছি দ্রুত ফিট হয়ে ফিরে আসবে।’
চোট-আঘাতের সঙ্গে লড়তে লড়তে ক্লান্তি এসে যাওয়াতেই বিদায় বলে দিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটকে। মাত্রই গত ডিসেম্বরে কনুইয়ে অস্ত্রোপচার করে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন লি। আইপিএলে চার ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকার পর অবশ্য প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল তাঁকে নিয়ে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলে লিকে গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করা হচ্ছে জানিয়ে কোচ টিম নিলসেন বলেছেন, ‘এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই। ক্যাম্প শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাওয়ার চার-পাঁচ দিন আগ পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি দেখব। আশা করি, এর মধ্যে ওর চোট সেরে উঠবে।’
ওদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ইনজুরি হানা দিয়েছে পাকিস্তান দলেও। বিশ্বকাপে যেতে পারছেন না ইয়াসির আরাফাত। পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি নিশ্চিত করেছেন, এই অলরাউন্ডার তাঁদের সঙ্গে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে যোগ দিতে পারছেন না। আরাফাতের পরিবর্তে শাহজিব হাসানকে দলে নিতে পারে পাকিস্তান।

শেষ পর্যন্ত সহজ জয়ই রাসেলের

৫৮ মিনিটে মরক্কান স্ট্রাইকার সালাহ মাসলোর গোল চাপমুক্ত করল শেখ রাসেলকে। কিন্তু এর স্থায়িত্ব মাত্র এক মিনিট। চট্টগ্রাম আবাহনীর তরুণ স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরী প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সহজে করে দিলেন ১-১। চট্টগ্রামের দলটি তখন বাংলাদেশ লিগের তৃতীয় শক্তির কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্নে বিভোর।
সেই স্বপ্ন ধূলিসাত্ হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত। ৮১ মিনিটে ডিফেন্ডার জহিরুল এবং দুই মিনিট পরই মরক্কান স্ট্রাইকার সামির ওমারি পেনাল্টি থেকে গোল করলেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাল বাংলাদেশ লিগের একমাত্র ম্যাচে রাসেল শেষ পর্যন্ত জিতে গেল সহজে (৩-১)।
এ নিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতল রাসেল। নতুন দুই মরক্কান খেলোয়াড় নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে রাসেল গোলও পাচ্ছে বেশ। শেষ চার ম্যাচে তাদের গোল ১৬টি।
এই ম্যাচে এক গোল করে আবার এককভাবে গোলদাতা তালিকার শীর্ষে উঠে গেলেন রাসেলের সামির ওমারি। তাঁর গোল এখন ১৩। ১২ গোল নিয়ে সামিরের পেছনে আছেন মোহামেডাননের জাহিদ হাসান (এমিলি) ও আবাহনীর শেরিফ দ্বীন মোহাম্মদ। গোলদাতা তালিকার শীর্ষে সামির উঠলেন বটে, তবে তাঁর দল পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানেই রয়ে গেছে।
মোহামেডান পয়েন্ট না হারালে দ্বিতীয় স্থানে যাওয়ারও সুযোগ নেই রাসেলের সামনে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে তাই রানার্সআপ হওয়ারই চেষ্টা করছে এখন রাসেল। ১৬ ম্যাচে রাসেলের পয়েন্ট ৩৯, মোহামেডানের ৪২। আবাহনীর ৪৬। চট্টগ্রাম আবাহনী ১৬ ম্যাচ খেলে পেয়েছে ১৭ পয়েন্ট।

এবারও উইজডেনের সেরা শেবাগ

উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাক-এর ১৪৭তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে গত পরশু। বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ জয় যথারীতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে এতে। প্রচ্ছদে ছোট্ট অ্যাশেজ ট্রফি নিয়ে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও তাঁর দলের ছবি; বর্ষসেরা পাঁচেও ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ সাফল্যের স্বীকৃতি। পাঁচজনের চারজনই ইংল্যান্ডের। স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্রাহাম অনিয়নস, গ্রায়েম সোয়ান ও ম্যাট প্রিয়রের সঙ্গে আছেন সেই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ স্কোরার মাইকেল ক্লার্ক।
উইজডেন-এর বর্ষসেরা পাঁচে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার নিয়ম নেই। ২০০৪ সাল থেকে প্রবর্তিত ‘দ্য লিডিং ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার’-এর ক্ষেত্রে সেই বাধা নেই। ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার পেয়েছেন এই স্বীকৃতি। কারণ হিসেবে উইজডেন সম্পাদক শিল্ড বেরি বলেছেন, ‘টেস্ট ও ওয়ানডেতে অন্য যেকোনো স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানের চেয়ে তিনি দ্রুতগতিতে রান করেছেন। জিনিয়াসের একটা সংজ্ঞা হলো, কেউ যা কখনো করতে পারেনি তা করা; ২০০৯ সালে শেবাগ যেভাবে ব্যাটিং করেছে, এত লম্বা সময় ধরে আর কেউ তা করতে পারেনি।’
উইজডেন নির্বাচিত ২০০৯ সালের সেরা টেস্ট একাদশেও অবধারিতভাবেই আছেন বীরেন্দর শেবাগ। তালিকায় আছেন তাঁর দুই ভারতীয় সতীর্থ মহেন্দ্র সিং ধোনি ও গৌতম গম্ভীরও। অধিনায়ক করা হয়েছে ধোনিকেই। দলে অ্যাশেজজয়ী ইংল্যান্ড দলের পাঁচজন। ব্যাটিং-অর্ডার অনুযায়ী দলটি এ রকম—১. বীরেন্দর শেবাগ ২. অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ৩. গৌতম গম্ভীর ৪. শচীন টেন্ডুলকার ৫. কুমার সাঙ্গাকারা ৬. জ্যাক ক্যালিস ৭. মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটকিপার ও অধিনায়ক) ৮. মিচেল জনসন ৯. গ্রায়েম সোয়ান ১০. পিটার সিডল ১১. জেমস অ্যান্ডারসন।

সবার আগে সেমিফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটস

টানা তৃতীয় জয়ে প্রথম দল হিসেবে এনসিএল টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলল ঢাকা ডায়নামাইটস। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল সন্ধ্যার ম্যাচে তাদের ৭ উইকেটে জয় সাকিব আল হাসানের কিংস অব খুলনাকে উপহার দিল তিন ম্যাচে দ্বিতীয় পরাজয়।
লিগে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধারাবাহিক মোহাম্মদ আশরাফুলের ঢাকা ডায়নামাইটসই। ঠিক ততটাই ‘ধারাবাহিক’ অধিনায়ক আশরাফুলের পারফরম্যান্সও— তিন ম্যাচে তাঁর রান ৭, ০ ও ৭। কিংস অব খুলনার দেওয়া ১২৫ রানের টার্গেট ১৮.৫ ওভারেই ছুঁয়ে ফেলাটা সহজ হয়েছে আশরাফুলের ওপেনিং সঙ্গী শামসুরের ৫২ বলে অপরাজিত ৫১ রানের সুবাদে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কান জীবন মেন্ডিস করেছেন ৩৫ বলে ৪৪ রান।
আশরাফুলের মতোই অবস্থা সাকিব আল হাসানেরও। আগের দুই ম্যাচে ১৮ ও ১৬ করার পর কাল মাত্র ৪ রান করেই রফিকের বলে শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ। খুলনার ১২৫ রানের সংগ্রহে দুই শ্রীলঙ্কানের অবদানই বেশি। উদয়াত্তে ১৯ বলে করেছেন ৩৩, জয়সা ১৮ বলে ২১। ফরহাদ হোসেন ২৪ বলে করেছেন ২৫ রান। ব্যাটসম্যান আশরাফুল জ্বলে উঠতে না পারলেও বোলার আশরাফুল কালও সফল। ২০ রানে ৩ উইকেট, এর মধ্যে ফরহাদ আর নূর হোসেনের উইকেট দুটি পরপর দুই বলে। ‘বোলার’ আশরাফুল প্রথমবারের মতো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও পেয়ে গেলেন এতে।

মেসি-ম্যারাডোনাকে নিয়ে কেম্পেস

বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনটি। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল করে ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল নিয়ে কিছু বলার অধিকার তো মারিও কেম্পেসের আছেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে লিওনেল মেসি সম্পর্কে একটা সতর্কবার্তাই দিলেন তিনি, ‘লিও মেসি একাই টুর্নামেন্টটি জিততে পারবে না। তার সাহায্য দরকার। কারণ একই সঙ্গে সে তো পেনাল্টি কিক, কর্নার কিক ও শট নিতে পারবে না।’
তবে সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার বার্সেলোনার মেসির খেলায় মুগ্ধ, ‘বার্সেলোনায় এখন মেসি যেটি করছে তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাবকে সে সবকিছুই জিতিয়েছে। এখন তাকে দিতে হবে তুলির শেষ আঁচড়টি অর্থাৎ বিশ্বকাপ জয়।’ কেম্পেস মনে করেন, গত মৌসুমের অর্জনটা মেসির পূর্ণাঙ্গ হতে পারে, ‘যদি দলের অন্যরা তাকে সাহায্য করে এবং সেরা ফুটবলটা খেলে।’ ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ২টিসহ মোট ৬ গোল করা স্ট্রাইকার খুব ভালো করেই জানেন, ‘একগুচ্ছ খেলোয়াড়ই একটি দল গড়ে তোলে। আর এই খেলোয়াড়েরাই টেনে নিয়ে যায় একটি দলকে।’ ‘এই দল গড়ে তোলার জন্যই ম্যারাডোনাকে বেশি করে কাজ করতে হবে’ বলে তাই পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সামর্থ্য প্রশ্নবিদ্ধ। কেম্পেসের কাছেও তাই। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে একটা দল হিসেবে গড়ে তোলাটা ম্যারাডোনার জন্য হবে খুব কঠিন কাজ।
বর্তমানে ইএসপিএনের ধারাভাষ্যকার কেম্পেস স্পেনকে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন, ‘গতিময় স্পেন দারুণ এক দল।’
বিশ্বকাপ তার ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো এমন দুর্বল কোনো স্বাগতিক দেশকে আর পায়নি। তবে কেম্পেস দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যেও দেখছেন অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা, ‘প্রতিযোগিতার স্বাগতিকেরা চমকে দিতে পারে।