Sunday, January 5, 2025

ভিসা বৈধকরণের হিড়িক: প্রতিদিন গড়ে ২৫০ বিদেশির আবেদন by মরিয়ম চম্পা

বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ বৈধকরণে রীতিমতো হিড়িক লেগেছে। ভিসা বৈধকরণের জন্য প্রতিদিন গড়ে ২৫০টিরও বেশি আবেদন পড়ছে। এর মধ্যে মোট ৩৩ ক্যাটাগরির ভিসাধারী রয়েছেন। যাদের অধিকাংশ আবেদনকারীর ভিসার মেয়াদ শেষ। অর্থাৎ অবৈধ বলে জানিয়েছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পাসপোর্ট অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র। পাসপোর্ট কার্যালয় সূত্র জানায়, আবেদনকারীদের মধ্যে বেশির  ভাগই বাংলাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি নাগরিক, ফুটবলারসহ নানা কাজ করছেন। এসব অবৈধ নাগরিককে প্রতিদিন গুনতে হবে ৩ হাজার টাকা জরিমানা। সেই হিসেবে ৯০ দিন অতিক্রান্ত হলে ৯১ দিনের জন্য ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এমনিতে বিভিন্ন উৎসব, পালাপার্বণ-ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দীর্ঘ ছুটি উপলক্ষে ভিসা বৈধকরণের চাপ বেশি থাকলেও ডিসেম্বর মাসে এটা তুলনামূলক বেশি ছিল। এবং জানুয়ারিতে এটা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে দাবি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ গত ৪ঠা ডিসেম্বর জরিমানার বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বৈধ ভিসায় আসা বিদেশি নাগরিকরা অবৈধভাবে অবস্থান করলে প্রথম ১৫ দিনের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা জরিমানা। ১৫ দিনের বেশি হলে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন ২ হাজার টাকা অর্থাৎ ৯০ দিনে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা। এবং অবৈধভাবে অবস্থানের মেয়াদ ৯০ দিনের বেশি ৯১ দিন থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হবে। এবং একই সঙ্গে এসব বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টের (১৯৪৬ সালের ৩১ নম্বর আইন) আওতায় সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করা যাবে। এসব মামলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও বিশেষ শাখা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক অথবা বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশি স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের অবৈধ অবস্থানের জরিমানা মওকুফ করা যাবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের ৩ মাস পর্যন্ত অবৈধ অবস্থানের জন্য জরিমানা মওকুফ করা যাবে। তিন মাসের বেশি হলে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হবে।

এক্ষেত্রে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অবৈধভাবে অবস্থান করা ব্যক্তি বাংলাদেশি সিভিল সার্জন, অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপক কর্তৃক দেয়া চিকিৎসা সনদ বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে পাঠালে তারা যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উপযুক্ত সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগে পাঠাবেন। এটা পাঁচদিনের বেশি হলে হাসপাতালে ভর্তি আছে এমন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে অবৈধ অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিক মহাপরিচালক এবং পরিচালকের স্বাক্ষরসহ জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া ৩০ দিন পর্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টধারী বিদেশি নাগরিককে বিমান-স্থল বন্দরে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর-ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জরিমানা, সার্ভিস চার্জ এবং ভিসা ফি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করা রসিদ জমা দিয়ে দেশ ত্যাগ করতে হবে। এই জরিমানার আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, ফ্লাইট বাতিল ইত্যাদি কারণে কেউ অবস্থান করলে তাকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে না। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই পরিপত্র কার্যকর হওয়ার পর ইতিপূর্বে এ বিষয়ে জারিকৃত সকল পরিপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ এর আগে ১৫ থেকে ৯০ দিন এবং এর বেশি সময় অবস্থান করলে সর্বোচ্চ জরিমানা ছিল মাত্র ৩০ হাজার টাকা। সেটা বর্তমানে বাতিল করা হয়েছে। এদিকে গত ২৪শে ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকদের আগামী ৩১শে জানুয়ারির মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে বৈধতা অর্জন করতে বলা হয়েছে। ৩১শে জানুয়ারির পর অবৈধ অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাসপোর্টের প্রধান কার্যালয় (পাসপোর্ট, ভিসা ও পরিদর্শন) পরিচালক নাদিরা আক্তার মানবজমিনকে বলেন, আমাদের কাছে প্রতিদিন অসংখ্য বিদেশি নাগরিক ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করার আবেদন করেন। তাদের মধ্যে যাদের অবৈধ বা ভিসার মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে তারাও আবেদন করেন। তাদেরকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে আবেদন করতে হয়।

mzamin

হামাসকে যুদ্ধবিরতির চাপ, ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রি: বিদায়ী বাইডেন প্রশাসন

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে চাপ দিচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন চুক্তিতে সই করতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে হামাসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ চুক্তিতে হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কারবি গত শুক্রবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

কারবি বলেন, কাতারের দোহায় হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ আলোচনা চালিয়ে যেতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দোহায় আরেকটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে। হোয়াইট হাউস ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ সময়ে এসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের এ প্রচেষ্টার মাধ্যমে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাইডেন প্রশাসন একদিকে যেমন হামাসকে চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে আবার ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও চূড়ান্ত করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের কাছে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জো বাইডেন প্রশাসন অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে বিষয়টি জানিয়েছে।

দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করেছে, তার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও শত্রুকে আক্রমণ করতে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারের সামরিক রসদ রয়েছে। এ ছাড়া গোলা ও যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশেই নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তালিকায় রয়েছে।

অস্ত্র বিক্রির এই প্যাকেজের মধ্যে ছোট ডায়ামিটার বোমা ও ওয়্যারহেড রয়েছে বলেও অ্যাক্সিওসের খবরে জানানো হয়। তবে ইসরায়েলের কাছে এসব অস্ত্র বিক্রি করতে হলে আগে বাইডেন প্রশাসনের এ প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন পেতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট (বাইডেন) পরিষ্কার করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী ইসরায়েলের নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার এবং ইরান ও তাদের ছায়া সংগঠনগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করার অধিকার রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলায়নি

বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করে আসছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের যুদ্ধবিমান ও অন্য সামরিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়। বাইডেন প্রশাসন বলে আসছে, ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিদের কাছ থেকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য তারা সহায়তা করছে। আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখেও ইসরায়েলের গাজা হামলার সময় তাদের সমর্থন করে আসছে ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৭১৭ পার হয়েছে। এ ছাড়া অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পর থেকে ১৫ মাস ধরে চলা এ হামলা ঠেকানোর কূটনৈতিক নানা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী ওয়াশিংটন এর আগে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতির খসড়ায় ভেটো দিয়েছে।

২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর ক্ষমতায় বসবেন গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাইডেন ও ট্রাম্প দুজনই কট্টর ইসরায়েলপন্থী। ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে গাজা যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নেবেন।

ইসরায়েলি হামলায় আহত এক নারীকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। শনিবার গাজায়
ইসরায়েলি হামলায় আহত এক নারীকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। শনিবার গাজায়। ছবি : এএফপি

‘সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়ে গেছে, গৃহযুদ্ধের দিকে দেশ’ -ফরহাদ মজহার

২০২৪ সালের বিদায়লগ্নে গণঅভ্যুত্থান, রাজনীতি, সংবিধান, রাষ্ট্র ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার৷

ডয়চে ভেলে: ২০২৪ তো আমাদের জীবনে একটি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। এখন রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দেখছেন?

ফরহাদ মজহার: রাজনীতিতে যে গুণগত পরিবর্তন হয়েছে সেটা আমরা চূড়ান্ত রূপে দেখতে পারবো কিনা সেটা নির্ভর করে জনগণের যে সার্বভৌম ক্ষমতা, সেটা আমরা ক্ষমতার দ্বারা রুপান্তর করতে পেরেছি কিনা। একটা গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। সেই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ ক্ষমতায় যেতে পারেনি- যেটা হওয়া উচিত ছিল। যদি জনগণ ক্ষমতায় যেতে পারতো, তাহলে বাংলাদেশকে আমরা নতুনভাবে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে পারতাম। গণআন্দোলন থেকে গণশক্তি। গণশক্তি থেকে গাঠনিক ক্ষমতা। এই রূপান্তরটুকু আমরা করতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। এজন্য আমি এটাকে সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব বলছি। আইনের কথা বলে জনগণের অভিপ্রায়কে নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে। পুরনো সংবিধানের অধীনে, ফ্যাসিস্ট সংবিধানের অধীনে আমরা নিয়ে গিয়েছি পুরো গণঅভ্যুত্থানকে। উচিৎ ছিল এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা বলবেন,  ‘‘আমাদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হলো বাংলাদেশের জণগণকে একটি নতুন সংবিধান উপহার দেয়া। সেটা হয়নি। ফলে গণঅভ্যুত্থানটা একটা সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবের মধ্য দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তবে লড়াইটা চলবে। এই লড়াইটা কীভাবে শেষ হয়, কে কীভাবে ভূমিকা রাখে সেটা দিয়েই আগামীর বাংলাদেশ, রাজনীতি ঠিক হবে। ফলে সামনে বেশ কিছু সময় আমাদের অস্থিরতার মধ্যে কাটবে। যে গণঅভ্যুত্থানটা সফল হলো না। সেটাকে সফল করাই এখন আমাদের বড় কাজ।

বিপদের দিকটা হলো সরকার ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলের কাছে নতজানু হয়ে গেছে, পরাজিত হয়ে গেছে। তারা ইতিমধ্যে কোনো সংস্কার ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে বসিয়ে দিয়েছে এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার কি তাহলে চার সাড়ে চার মাসে সংস্কার প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে পেরেছে?

অবশ্যই পেরেছে। সবগুলো নস্যাৎ করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। আমরা সম্পূর্ণ বিজয় করতে পারিনি। ড. ইউনূসকে পূর্ণ ক্ষমতা না দিয়ে আমরা একটা উপদেষ্টা সরকার বানিয়েছি। তাকে দোষ দিয়ে তো লাভ নাই। এটার জন্য সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক দলগুলো দায়ী। রাজনৈতিক দলগুলো গণঅভ্যুত্থানের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের কথা বলা মানেই আওয়ামী লীগ ১৫ বছর ধরে লুপপাট করেছে, এবার আমরা লুটপাট করবো। নতুন গঠনতন্ত্র (সংবিধান) প্রণয়ন মানে আমরা তাকে রাজনৈতিক দল বলবো কিনা এটাও সিদ্ধান্ত নেয়া।

এই সরকার কি সেই ম্যান্ডেট পেয়েছে?

অবশ্যই পেয়েছে, রক্ত দিয়ে পেয়েছে। আপনি যে প্রশ্নটি করলেন সেটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এটার জন্য কি লোক শহিদ হয়নি? একটা প্রশ্নের জবাব দেন, আমরা কি দেশ স্বাধীন করার ম্যান্ডেট পেয়েছি? তাহলে আমরা একাত্তরে স্বাধীন হলাম কী করে?  মুক্তিযুদ্ধ করেন নাই? লোক মরে নাই?

রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, এটা তো নির্বাচিত সরকার নয়- সম্মতির সরকার...

আমি তো বললাম, রাজনৈতিক দলগুলো বদমাশ। আপনারা  কীভাবে এত বিভ্রান্ত! আপনারা তো এখনো বুঝতে পারছেন না যে, তারা(অন্তর্বর্তী সরকার) জনগণের রক্ত দিয়ে নির্বাচিত। বর্তমান সরকার রক্তের বিনিময়ে জনগণের অভিপ্রায়ে দায়িত্ব নিয়েছে। আর কী, আর কীভাবে নির্বাচিত হবে? ভোট কী? ভোট তো ফ্যাসিস্ট সংবিধানের। জনগণ তো সংবিধান ফেলে দিয়েছে। সংবিধান অনুসারে হয়েছে নাকি?

তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো এই সরকারকে কত সময় দেবে?

এটা তো রাজনৈতিক দলগুলো ঠিক করবে। রাজনৈতিক দলগুলো তো গণঅভ্যুত্থান করে নাই, জনগণ করেছে। ছাত্ররা তো মাঠে আছে। তারা তো মাঠ ছাড়ে নাই। কাজেই আগামীতে এটা দেখবো তারা করতে পারে কী।

আইন-শৃঙ্খলা আর দ্রব্যমূল্য- এগুলো সাধারণ মানুষের কনসার্ন। এগুলো এই সময়ের মধ্যে ঠিক করা যেতো?

খুবই সম্ভব ছিল। কিন্তু আপনি তো কোনো ক্ষমতাই দেননি। এই উপদেষ্টা সরকারকে রাজনৈতিক দল তো কোনো ক্ষমতাই দেয় নাই। তাহলে কী করে তারা সিন্ডিকেট ভাঙবে? সিন্ডিকেট ভাঙতে তো পাওয়ার লাগবে। তাদের তো কোনো পাওয়ারই নাই। সে তো সংবিধান দ্বারা বদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলো তো সমস্ত জায়গাগুলো, পদগুলো দখল করে ফেলেছে। আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটগুলোর জায়গায় তাদের সিন্ডিকেট বসিয়েছে। আপনারা তো এখন কাকে নির্বাচিত বলে, কাবে বলে না- এই প্রশ্ন তুলে সমস্যা তৈরি করছেন।

তাহলে তো সংবিধানই নতুন করে লেখার কথা।

কথা নয়, সংবিধান নতুন করে লেখা হবে। লিখতে হবে।

সেই প্রক্রিয়াই তো এখানো দেখছি না।

এটা তো তারা করবে না, জণগণ করবে। জনগণ যদি দেখে, পূর্ণ বিজয়ে যায়নি, তাহলে অবশ্য জনগণ সংগঠিত হবে। ছাত্ররা সংগঠিত হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে আরেকটা লড়াই হবে। আপনি এড়াতে পারবেন না।

ছাত্ররাও তো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবে। তারাও তো রাজনৈতিক দলের দিকেই যাচ্ছে।

তাতে অসুবিধা কী? তারা তো নতুন গঠনতন্ত্রের (সংবিধান) দাবি তুলেছে। এটা একটা পলিটিক্স। পলিটিক্সটা দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। জনগণ নতুন গঠনতন্ত্র চায়। নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়তে চায়। আর রাজনৈতিক দলগুলো চায় না, তারা জনগণকে ক্ষমতায় আসতে দেবে না। তারা আগের লুটেরা, মাফিয়া গ্রুপের ক্ষমতা বজায় রাখবে। এটার মীমাংসা তো রাজনৈতিকভাবে হবে। আর তো কোনো পথ নাই।

সেটি কি এভাবেই হবে, না গণভোটের মাধ্যমে হবে?

-কেন গণভোট হবে? গণভোট করে কি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে? এটা হলো পলিটিক্যাল অর্গ্যানাইজেশন। জনগণ যদি ক্ষতায় থাকে, তারা জিতবে আর জনগণ যদি না পারে তো জিতবে না। তবে আগামী দিনে চোখের সামনে একটা গৃহযুদ্ধ দেখতে পাচ্ছি। এবং এটার জন্য সাংবাদিকরাও দায়ী। গণমাধ্যম দায়ী। কারণ, বাংলাদেশে যে মূল প্রশ্নগুলো, তা আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি। আপনারা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রশ্ন আমাদের করছেন। জনগণ তো বলেই দিয়েছে তারা কী চায়। জনগণের কথা তো আপনারা বলছেন না।

রাজনৈতিক দলগুলো তো বলছে তারা এই আন্দোলনে এই গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক অংশগ্রহণ করেছে।

তারা অংশগ্রহণ করেনি। জনগণ অংশগ্রহণ করেছে। দল এবং জনগণ এক কথা না। জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কারা রাজনৈতিক দল, কারা রাজনৈতিক দল না। নতুন সংবিধান কি সেটা বলবে না?

তাহলে এরা(অন্তর্বর্তী সরকার) সংবিধানের অধীনে শপথ নিলো কীভাবে?

ভেরি গুড। আমি তো প্রথম থেকেই বলছি তারা ভুল করেছে। এটাকে কারেক্ট করেন আপনারা। সাংবাদিকরা সঠিক কথাটা বলেন।

অন্তর্বর্তী সরকার একদিকে সংবিধানের কথা বলছে। আবার...। এখানেই তো সংকট রয়ে গেছে। সেটা স্পষ্ট না করে...

না না, স্পষ্ট তো হয়েছে। আমরা তো বলেছি। আপনারা খেয়াল করেননি। সেজন্যই তো লড়াই চলছে। প্রোক্লেইম করা হয়নি যে, আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি, আমাদের কথায় দেশ চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত নতুন শাসনতন্ত্র হয়। যারা তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, তারা এখানে রাজনীতি এবং আইনের সম্পর্ক -এটা বোঝে না। এইজন্য এখানে সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়ে গেছে। এরজন্য প্রধানত দায়ী গণমাধ্যম। ছাত্ররা পরিস্কারই  এটা বলেছে যে, ছাত্রদের পক্ষে গণমাধ্যম কোনো ভূমিকা রাখেনি।

গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গণহত্যার বিচার তো হতেই হবে। সেই প্রক্রিয়াটি কি সঠিকভাবে হচ্ছে?

গণহত্যার বিচার যে কমিটি হয়েছে, যে আইনে হচ্ছে, সেটা তো ফ্যাসিস্ট সরকারের আইনে হচ্ছে। ওই আইনে জামায়াত নেতাদের ঝুলানো হয়েছে, যেটা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। ওটাকে বলা হয়, জুডিশিয়াল মার্ডার। আপনি যদি সেই একই আইনে বিচার করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকে এটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জনগণকে যদি ক্ষমতা দিতেন, তাহলে জনগণ সংক্ষিপ্ত আদালতে বিচার করে রায় দিয়ে দিতো।

তাহলে সংবিধান নতুন করে না লিখে আপনার মতে কিছুই করা ঠিক হচ্ছে না। তারা অনেকগুলো সংস্কার কশিন করেছে। তাহলে তারা কিসের সংস্কার করছে?

ভালো প্রশ্ন। ঢাল নাই, তলোয়ার নাই, নিধিরাম সর্দার। তাহলে সংস্কার কীভাবে করবে তারা। আর আমি তো সংস্কারের কথা বলি নাই। আমি তো গঠন করার কথা বলেছি। আপনি ঘরই বানাননি, সংস্কার কী করবেন?

যারা দায়িত্ব নিয়েছেন, তাদের যদি ক্ষমতার লোভই না থাকে, তাহলে তারা দেখছেন যে কিছুই হচ্ছে না, তারপরও তারা কেন চালাচ্ছেন?

তারা তাহলে কী করবেন? আপনার পরামর্শ কী?

তারা জাতির কাছে বলবেন, বলুক তারা কীভাবে সঠিক জায়গায় যেতে পারবেন, এটা করা দরকার, নয়তো আমরা গেলাম।

হ্যাঁ, আপনার সাথে আমি একমত। রাইট জায়গায় যেতে হলে কী করতে হবে আপনারাও আমার সঙ্গে বলেন। অবিলম্বে তাদের পূর্ণ ক্ষমতা দেয়া হোক। সংবিধান বাতিল করা হোক। চুপ্পুকে সরিয়ে দেয়া হোক। ছাত্ররা তো এই দাবি করেছে। আপনারা তো সেগুলো প্রচার করছেন না। সে প্রক্রিয়া তো এরা পারবে না। সেটা তো আমি আপনি করবো।

সেজন্যই কি আপনি গৃহযুদ্ধের কথা বলছেন?

নিশ্চয়ই। সেদিকেই তো যাচ্ছে।

সেই গৃহযুদ্ধে পক্ষ হবে কারা?

জনগণ বনাম বিদেশী শক্তি এবং তাদের দালালরা।

এখন যে প্রক্রিয়া চলছে সেটা চলতে থাকলে আপনি কি আবার ফ্যাসিবাদের ক্ষমতায়নের আশঙ্কা দেখেন নাকি?

ফ্যাসিবাদ তো, আপনিও ফ্যাসিবাদী। গণমাধ্যম যেভাবে প্রশ্ন তোলে সেটা ফ্যাসিজমের আরেকটি প্রকাশ মাত্র৷

গণমাধ্যমের ব্যাপারে সরকার ইমিডিয়েটলি কি করতে পারে ফ্যাসিবাদী আচরণ বন্ধ করতে?

কিছুই করতে পারে না। এটা যেহেতু জনগণ। গণমাধ্যমকে জনগণ হতে হবে আগে। এটা সরকার কিছু করতে পারবে না। ছাত্রদের দাবি-দাওয়া তো গণমাধ্যমে প্রাধান্য পাচ্ছে না। রাজনৈতিক দল কী বলে, মির্জা সাহেব কী বলে, জামায়াত কী বলে এগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে।

এই ধরনের গণমাধ্যম আবার কোনো কোনো স্টুডেন্ট বা সমন্বয়ক দখল করে কী লাভ করতে চান?

ওরা কোথায় দখল করছে, একটা বলেন না?

সময় টিভিতে শেয়ার চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আবার জোর করে চাকরিচ্যুত করানো হয়েছে।

তারা তো ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের মধ্যে আসছে না। আপনি কি মনে করেন না যে, যেসব গণমাধ্যম ফ্যাসিস্ট ভূমিকা পালন করেছিল, সেগুলোর চলে যাওয়া উচিদ?

সেটা কি সিঙ্গেলভাবে হবে, না একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হবে?

না, একমত, একমত। আমি সিঙ্গেলভাবে বলছি না। এটাই তো গৃহযুদ্ধের আলামত। এটা তো পলিটিক্যাল রিজলভের মধ্য দিয়ে হবে। সেটা হলে কী হতো, রিকনসিলিয়েশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন। রাজনৈতিক দলগুলো তো কোনো নৈতিক আলোচনায় যাচ্ছে না। দেশটাকে আমরা কীভাবে গঠন করবো? অনেক জায়গায়ই তো এখনো ফ্যাসিবাদ আছে।

ড. ইউনূস নিজে কি ফ্যাসিবাদের বাইরে?

ওনাকে তো আমরা নির্বাচিত করেছি। ব্যক্তি তো ঠিক করবে না।

আমরা ঠিক করি আর যা-ই করি, উনি কি ফ্যাসিবাদের বাইরে যেতে পেরেছেন?

ইয়েস এবং নো দুইটাই। আমরা যারা গণঅভ্যুত্থান করেছি, আমরা যদি তাকে আমাদের গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি মনে করি, তাহলে ডেফিনিটলি তিনি ফ্যাসিবাদের বাইরে। আর যদি মনে করি, উনি সংবিধানের ভিতরে ঢুকে গেছেন, তাহলে সে ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হলে আমাদের কাজ শেষ হয়ে গেল। দোষটা তো তার নয়, দোষটা তো আমাদের।

আমরা যারা সাধারণ, অমরা যারা ‘স্থূল' চিন্তা করি, দ্রব্যমূল্যের কথা বলি, সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলি। সংখ্যালঘু নির্যাতন তো হয়েছে, সেটা সংখ্যায় কম বা বেশি হোক। আবার  বান্দরবানে ত্রিপুরা আদিবাসী গ্রামে আগুন দেয়া হয়েছে। এগুলো তো সরকারকে দেখতে হবে...

আপনার সঙ্গে আমি একমত। একটা হলো রাষ্ট্র এবং আরেকটা সরকার। রাষ্ট্র যদি আমরা গঠন করতে না পারি, তাহলে তো সরকার গঠিত হয়নি। সরকারের তো ক্ষমতা নাই। একথা আপনি বলতে পারবেন যদি একটি রাষ্ট্র বানিয়ে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতাবান করে আপনি বসান।

(সূত্র -ডয়চে ভেলে)

mzamin


আজিমপুরে কান্না আরশিনগরের হালচিত্র by আরিফুল ইসলাম

কবরস্থানে এলেই মনে পড়ে কতো মানুষ ক্ষমতাধর ছিল। এখন তারা মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছে। টাকা-পয়সা কিচ্ছু না, রাতে নিশ্চিন্তে যে ঘুমটা দেই এটাই সব আমার। এভাবেই নিজের কথা জানাচ্ছিলেন কবরস্থানে ঘাস কাটতে আসা জয়নাল আবেদিন। তিনি বিক্রমপুরের বাসিন্দা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আজিমপুর কবরস্থানে আসেন আগাছা ও গরুর খাবারের জন্য ঘাস কাটতে। দিনভর এগুলো কেটে ৪/৫ বস্তা হলে, সেগুলো পরিচিত গরুর খামারিদের কছে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি যান। বস্তাপ্রতি পুরাতন কাস্টমার ১৩০ টাকা, নতুন হলে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। জয়নালের ৭ সদস্যদের সংসারে রয়েছে ৫ জন মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী। তিনি বলেন, ঘাস কেটে বিক্রি করে সংসার চলে। এটাই আমার আয় রোজগারের উৎস।

জয়নাল আবেদিন বলেন, আজিমপুর কবরস্থান থেকেই ঘাস সংগ্রহ করি। অন্য কোথাও যাই না। কারণ অনেকে ঘাসের মধ্যে সার ও বিষ দিয়ে থাকেন। সেগুলো খেয়ে যদি গরু মারা যায়। তখন খামারিরা আমাকে বিশ্বাস করবে না। ঘাস কিনবে না।

কাউকে কোনো টাকা-পয়সা বা চাঁদা দিতে হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো আমার কাছে কেউ চাঁদা বা টাকা-পয়সা দাবি করেনি। আমি নিজেই গরিব মানুষ, কে আর আমার কাছে টাকা চাইবে। চাইলেও তো আমি দিতে পারবো না। চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমার দিনগুলো।

শুক্রবার আজিমপুর কবরস্থানে সরজমিন দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা গেছে, প্রবেশ পথের ১ নম্বর ও ২ নম্বর গেটে ভিক্ষুকদের কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কেউ আবার মেডিকেলের কাগজ নিয়ে সাহায্যের জন্য হাত পাতছেন। অনেক মহিলা কোলে বাচ্চা নিয়ে বসে রয়েছেন সাহায্যের জন্য। এভাবে বৃদ্ধ থেকে শুরু করে যুবক বয়সের নারী ও পুরুষের দেখা মিলবে প্রবেশ পথের রাস্তা ধরে যতদূর যাবেন। অনেকে মৃত মানুষের কবর জিয়ারত করতে আসছেন। কেউ আসেন মা-বাবার কবরে, কেউ ছেলে-মেয়ের, কেউ বা নিকট আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করতে। শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষজন বেশি আসেন।

লালবাগের বাসিন্দা তারিক হোসেন মায়ের কবরে এসেছেন। তিন বছর আগে তার মা স্ট্রোক করে মারা যান। প্রতি শুক্রবার তিনি জুমার নামাজ পড়ে আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে এসে দোয়া করেন। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে করতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জাকি উদ্দীন রুপু নামে একজন বলেন, ভাবীর কবরে এসেছি দোয়া করতে। ভাতিজা আর আমার ছেলেকে নিয়ে এসেছি যেন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কবর ভুলে না যায়। এখন থেকে কবরস্থানে এনে দোয়া করা শিক্ষা দিলে ভবিষ্যতে তারা এই ধারা বজায় রাখবে।

বাবুল হোসেন এসেছেন মিরপুর থেকে। তিনি সাহায্যের জন্য মানুষের কাছে অন্য সবার মতো হাত পাতছেন না। তিনি কিছু মানুষের কাছে গিয়ে তার পেটে টিউমারের অপারেশনের মেডিকেলের কাগজপত্র দেখিয়ে সাহায্য চাচ্ছেন। সানি নামে পুরান ঢাকার এক যুবক বলেন, এখানে টাকা একটু বেশি দিলেই সামনের দিকে কবর দেয়া যায়। আমি এক বছর আগে বাবার কবরের জন্য জায়গা দেখতে চাইলে আমাকে পিছনের দিকে নতুন কবরস্থানের শেষের দিকে একদম দেয়া হয়। তবে এই কবরস্থানের একজন বলেন যদি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেশি দেন। তাহলে একদম সামনের সারিতে কবর দিতে পারবেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজিমপুর কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা নাজমুল হুদা বলেন, এখানে কবরের জন্য ১ হাজার ৬৯২ টাকা পরিশোধ করতে হয়। কবর ইট দিয়ে প্লাস্টার করতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিস থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। সরকারি কবরস্থান হওয়ায় এখানে বিধিনিষেধ তেমন দেয়া হয় না।

উল্লেখ্য, ২৭ একর জমির ওপর আজিমপুর কবরস্থান ঢাকার পুরানো কবরস্থান। মোগল যুগে শায়েস্তা খাঁর আমলে সপ্তদশ শতাব্দীতে কবরস্থানটি চালু হয়। কবরস্থানটি পাশাপাশি দুইটি স্থানে রয়েছে। পুরাতন কবরস্থানটির জায়গা ছোট। নতুন কবরস্থানটি অনেক বড়। নতুন কবরস্থানে এখন কবর দেয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দরপত্রের মাধ্যমে প্রতি বছর একজন ঠিকাদার নিযুক্ত করে কবর দেয়ার কাজটি করে। কবর দেয়ার জন্য ব্যবহৃত বাঁশ ও চাটাই নির্দিষ্ট ঠিকাদার সরবরাহ করে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে বাঁশ ও চাটাইয়ের মূল্য ঠিকাদারকে পরিশোধ করতে হয়। এজন্য সিটি করপোরেশন থেকে বাঁশ ও চাটাইয়ের একটি মূল্য বেঁধে দেয়া হয়েছে। 

mzamin

আয়নাঘরে মাইকেল চাকমা: ৫ বছরে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা by রাশিম মোল্লা

মাইকেল চাকমা। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতা। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ঢাকা থেকে গুম হন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আয়নাঘরে কাটে। এ সময় তার সঙ্গে ঘটে ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা। ৭-৯ বর্গফুটের একটি রুমে তাকে আটকে রাখা হয়। খাবার পানি হিসেবে টয়লেটের কলের পানি ব্যবহার করতে হতো। ঠিকমতো ঘুমাতে দিতো না। যখন ঘুমাতে চেষ্টা করতেন তখন ফ্যান বন্ধ করে দেয়া হতো। গরমের সময় যে ফ্যান চালু করলে বেশি গরম লাগে সে ধরনের ফ্যান চালু করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো হতো। পচা-বাসি খাবার অনুপযোগী খাবার দেয়া হতো। বাধ্য হয়ে সেগুলোই খেতে হতো তার। আয়নাঘরে গত পাঁচ বছর এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। গত ৫ই আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের দু’দিন পর আয়নাঘরের বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান মাইকেল চাকমা। গত ১৮ই ডিসেম্বর পলাতক হাসিনার বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মাইকেল চাকমার অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মাইকেল চাকমার তথ্য মতে, ২০১৯ সালে ঢাকার কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সিভিল ড্রেস পরিহিত ৫/৭ জনের একটি দল তাকে তুলে নেয়। দীর্ঘ ৫ বছর ৩ মাস ২৭ দিন গুম থাকার পর মুক্তি পান তিনি।

যেভাবে গুম হন মাইকেল চাকমা: ২০১৯ সালের ৯ই এপ্রিল ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে বাসে ধানমণ্ডির কলাবাগানে নামেন। এরপর সেখান থেকে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে নামেন। মেইন রোড পার হয়ে ফোনে উক্ত ব্যবসায়ীর নির্দেশনা মতো যেতে থাকি। হঠাৎ একটা ছোট্ট চায়ের দোকানে বসা এক ভদ্রলোক তার নাম ধরে ডাকে। এমন সময় ৫-৭ জন  লোক তাকে জাপটে ধরে। তাকে ধরার সঙ্গে সঙ্গে লম্বা এক লোক (সাদা শার্ট পরিহিত) তাড়াতাড়ি গাড়ি পাঠান, তাড়াতাড়ি গাড়ি পাঠান বলে অন্য একজনকে ফোনে নির্দেশ দিতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে একটা মাইক্রোবাস চলে আসে। মুহূর্তেই তাকে গাড়িতে তুলে হাতকড়া পরায় এবং কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে।

৭-৯ বর্গফুটের রুমে অবর্ণনীয় অত্যাচার করতো:
বিভিন্ন রাস্তায় চক্কর দিয়ে সন্ধ্যায় তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন এটি থানা হবে। পরে বুঝতে পারেন এটি থানা না। একদম নীরব নিস্তব্ধ। ৭-৯ বর্গফুটের একটি রুমে তাকে আটকে রাখা হয়। রুমের ভেতরে হাতকড়া ও চেখের বাঁধন খুলে দেয়। রুমের ভেতরে ছোট্ট একটি  টয়লেট ছিল। টয়লেটের কাছে একটি পানির কল ছিল। ওই কল ব্যবহার করেই সবকিছু করতে হতো।  সেখানে পাশাপাশি তিনটা রুম ছিল। শেষের  কোণার রুমে একজন লোক ছিল। ওই লোককে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে উল্টো দিকে ঘুরে বসে থাকতে বলা হয়। রাত ৯টার দিকে একজন লোক এসে আবার কালো কাপড় দিয়ে তার চোখ বেঁধে দেয়। তার উপর একটা কালো কাপড়ের লম্বা টুপিও পরিয়ে দেয়। তার উপর আরেকটা কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে দেয়। এরপর কাছাকাছি অন্য একটি রুমে নিয়ে একটা চেয়ারে বসতে দেয়া হয়। তার ডান পাশে এবং সামনে ৩-৪ জন লোক বসা ছিল। সেখানে তাকে বিশৃঙ্খলভাবে একেকজন একেকটা প্রশ্ন করতে থাকে। ইউপিডিএফ সম্পর্কে বেশ কিছু প্রশ্ন করার পর আবার তাকে রুমে নিয়ে আসা হয়। পরের দিন ১০ই এপ্রিল সকালে নাস্তা খাওয়ার পর আবারো চোখ বেঁধে, লম্বা কালো টুপি পরিয়ে পাশের একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের খাবার খেয়ে ১৫-২০ মিনিট পর রাতের আজান হয়। এরইমধ্যে হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে তাকে ঘুম থেকে তুলে আবারো হাতকড়া লাগিয়ে চোখ বেঁধে কালো টুপি পরিয়ে দেয়। হঠাৎ বাইরে একটি গাড়ির শব্দ শুনতে পাই। আমাকে ওই গাড়িতে তোলার পর খুলে দেয়া হয় মাথার কালো টুপি। তবে কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা টুপি পরিয়ে চোখ বেঁধে দেয়। এরপর কিছুক্ষণ পর আমাকে অন্য একটা গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় গাড়িতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়। গানের উচ্চ শব্দে বাইরের কোনো আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল না। ভাঙাচোরা, উঁচু-নিচু ও আকা-বাঁকা পথ দিয়ে এক ঘণ্টার মতো সময় চলার পর গাড়িটি থামে। চারদিক নীরব, নিস্তব্ধ। আমাকে একটি ঘরে নিয়ে যায়। আমি উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে আমাকে এখানে আনার কারণ জানতে চাই। এ সময় তারা আমার সঙ্গে কথা না বললেও শারীরিক নির্যাতন করে। একজন একটি শক্ত লাঠি দিয়ে আমার পেটে গুঁতো দেয়। আরেকজন কথা বলতে গেলে মুখের ভেতর ৫-৬ ইঞ্চি বাঁশের মতো লম্বা কিছু ঢুকিয়ে দিতো। একপর্যায়ে তারা চলে যায় এবং আমাকে রুমে নিয়ে যায়। অনেক পুরোনো ভবন, টিনশেডের ছাউনি। ওই রুমে আমার জন্য ৩/৭ ফিটের একটি চকি রাখা ছিল। শরীর অনেক ক্লান্ত থাকায় ঘুমিয়ে পড়ি। তিনদিন পর পাশের অন্য একটি বন্দিশালায় নেয়া হয়। ভবনটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। রুমের দেয়ালগুলো অসমান, ছোট ছোট বিশৃঙ্খল ঢেউয়ের মতো। এই ভবনে দশটির মতো রুম ছিল। একটা রুমে একজনকেই রাখা হতো। পাশের রুমে অন্য বন্দির শব্দ শোনা যেতো। এই ভবনের ১১৩ ও ১১৬ নম্বর রুমে আমাকে এক বছরের অধিক সময় রাখা হয়। আমার চুল-দাড়ি বড় হয়ে যায়। আয়নাঘরে (গোপন বন্দিশালায়) প্রথম দিকে খাবার কিছুটা ভালো থাকলেও পরবর্তীতে খাবারের মান খুব খারাপ হয়। বাসি-পচা খাবারও দিতো। মাসের পর মাস খাবার অনুপযোগী তরকারি দেয়া হয়েছে। সে সময় তরকারি ছাড়া শুধু ভাত খেয়ে দিন পার করেছি। ঠিকমতো ঘুমাতে দিতো না। যখন ঘুমাতে চেষ্টা করতাম, তখন ফ্যান বন্ধ করে দিতো। গরমের সময় যে ফ্যান চালু করলে বেশি গরম লাগে সে ধরনের ফ্যান চালু করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতো। লোহার দরজায় বাড়ি দিয়ে ঘুম ভেঙে দিতো। এভাবে কয়েকটা বছর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে ভীষণ অত্যাচার চালিয়েছে। শুধু তাই নয় ডিউটিম্যানদের দিয়ে খারাপ ব্যবহার করানো হতো। প্রতিকার চাইলে আরও বেশি অত্যাচার করতো। ওই সময়ের দিনগুলো ভয়ঙ্কর রকমের অসহনীয় ছিল। ওখানে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু অনেক শ্রেয় মনে করতাম। প্রায়ই মৃত্যুর প্রতীক্ষায় থাকতাম। শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি।

গত ৬ই আগস্ট মধ্য রাতের পর আনুমানিক ৩টার দিকে আমাকে ঘুম থেকে তোলা হয়। হাতকড়া ও চোখ বেঁধে গাড়িতে তোলা হয়। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি থামে। আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরে জোরে হাটিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি শুয়ে পড়তে বলে। আধা ঘণ্টার আগে ওঠার চেষ্টা করলে গুলি করার হুমকি দেয়। আধাঘণ্টা শুয়ে থাকার পর বসার চেষ্টা করি। ভয় ছিল এই বুঝি এক্ষুনি গুলি করে মারবে। কিন্তু গুলি করছে না। সাহস করে চোখের বাঁধন খুলি। পাঁচ বছর তিন মাস পর এই প্রথম বাইরের আলো দেখা, পৃথিবী দেখা। চতুর্দিকে তাকিয়ে দেখি। কিন্তু কাউকে দেখতে পাই না। সামনে শুধু সেগুন গাছের বন। এভাবেই মুক্ত হন তিনি।  

mzamin

২০২৪: সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমালোচিত ‘পুলিশ’ by সুদীপ অধিকারী

বাংলাদেশ পুলিশ। সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে সমাজের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামঞ্জস্য রাখতে সবচেয়ে বেশি কাজ করে এই বাহিনী। তবে বিগত সরকারের সময় বিরোধী মত দমনে ব্যবহার হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনার স্বীকার হতে হয়েছে পুলিশ সদস্যদের। গত জুলাই-আগস্টে সরকার পতন আন্দোলনের মধ্যদিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠেছে এই বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে। নিজ থানা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যেতে হয়েছে তাদের। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনোই দেখা যায়নি। মানুষ এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে যে, জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে ফুটওভার ব্রিজে লাশ উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখে, আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় থানা। পুলিশ প্রধান থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত একের পর পুলিশ সদস্যদের নামে মামলা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মন থেকে হারানো সেই আস্থা ফিরে পেতে ঢেলে সাজানো হয়েছে পুরো বাহিনীকে। এরপরও তিন মাসের মাথায় আবারো পরিবর্তন করা হয় পুলিশ প্রধান, ডিএমপি প্রধানসহ বড় বড় কর্তাব্যক্তিদের। চলছে পুলিশ-জনতার আলোচনা সভা, লোগো পরিবর্তনসহ চলছে নানা কর্মসূচি। তবুও এখনো সাধারণ মানুষের কাছে পুরোপুরি আস্থা ফিরে পায়নি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা।  

বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, তানভির আলম, মো. হোসাইন, বেসরকারি চাকরিজীবী ইফতেখার হোসেন, মো. আলতাফ, চা দোকানি মোনোয়ার হোসেন, বাহারুল আলম, ব্যবসায়ী নাসির হোসেন, মাসুদ আলম, জুয়েল হাসান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আব্দুল মালেক, মো. হাফিজ, ইফতেখার হোসেন, জিয়ায়ুল হকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির অন্তত অর্ধশত মানুষ বলেন, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে গত বছর জুড়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। প্রথমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ও  র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব শেষে ২০২০ সালের ১৫ই এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা বাবদ মোট ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা উপার্জনের কথা থাকলেও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের, স্ত্রী ও দুই সন্তানের নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। গোপালগঞ্জ জেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামে তিনি ৬০০ বিঘার সাভানা ইকো রিসোর্ট পাশাপাশি পার্কের চারপাশে আরও ৮০০ বিঘা জমির মালিক বেনজীর। যার পরিচালনার দায়িত্বে নাম ছিল বেনজীর স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিস্তা বিনতে বেনজীর এবং ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরসহ পরিবারের সদস্যদের। রাজধানীর গুলশানে একদিনে একসঙ্গে চারটি ফ্ল্যাট কিনেন এই পুলিশ মহাপরিদর্শক। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গড়েছেন বাগান বাড়ি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠে তার স্ত্রীর নামে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। দেশের বাইরেও রয়েছে সম্পদের পাহাড়। দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হওয়ার পরও পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় বিদেশে পাড়ি জমায় সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সমালোচিত আরেক পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদ। চাওর আছে ডিবি হারুন সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রভাব খাটিয়ে নিজ এলাকায় প্রেসিডেন্ট রিসোর্টসহ নামে বেনামে দেশ ও দেশের বাইরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। সাধারণ মানুষের ভাষ্য, ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া বাহিনীর অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন তিনি। এজন্যই ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে তাকে। এ ছাড়াও পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন,  সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এসবি) মনিরুল ইসলাম, পিবিআই’র সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশীদ, সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অতিরিক্ত আইজি ওয়াই এম বেলালুর রহমান, শিল্প পুলিশের প্রধান মাহবুবুর রহমান, ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার খন্দকার নূরুন্নবী, এসএম মেহেদী হাসানসহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে অন্তত দুইশত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে কেউ কেউ আটক হয়ে কারাগারে থাকলেও বেশির ভাগ রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

উপরন্তু গত জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশ সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় পুরোপুরি ভেঙে পরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। লুটপাট, ডাকাতি, ছিনতাই নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে ওঠে নগরবাসীর কাছে। থানায় পুলিশ না থাকায় ডাকাত আতঙ্কে প্রতিটি এলাকায় মানুষ দলবদ্ধ হয়ে মহল্লায় মহল্লায় পাহারা পর্যন্ত বসিয়েছে। দিনে-দুপুরে বেলা খোদ রাজধানীতেই ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লুটে নেয়া হয়েছে সর্বস্ব। বাসার বাইরে বের হয়ে নিজের গেটের সামনে থেকেই নারীর ওড়না টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দিয়ে কেড়ে নিয়েছে যাওয়া হয়েছে ব্যাগ। একের পর এক মানুুষকে রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। থানা লুটের অস্ত্র নিয়ে দু’গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধ চললেও পুলিশ কর্মকর্তারা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। তাইতো পুলিশ সদস্যদের চাঙ্গা করতে ঝড়ের গতিতে চলছে বদলি ও পদায়ন। গত ৫ই আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যের কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশেরই ১৮ হাজারের বেশি সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। এরপরও আগের মতো পুলিশকে কাছে পাচ্ছে না মানুষ। সাধারণ মানুষের ভেতরে সেই আগের আস্থা ফেরাতে পারেনি পুলিশ সদস্যরা।

এসব বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, জুলাই-আগস্টের ঘটনা পুলিশের জন্য লজ্জার। এ লজ্জাজনক ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের ৭২ ঘণ্টা আগেও যদি তখনকার নেতৃত্বে থাকা পুলিশ অফিসাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন, তাহলে অনেকের জীবন রক্ষা হতো। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরও জীবন রক্ষা হতো। কিন্তু এরূপ সিদ্ধান্ত তখন নেয়া হয়নি। পুলিশে গত ১৫ বছরে যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তারা কি ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা কি কর্মকাণ্ড করলেন যে, এ দেশের মানুষ পুলিশের প্রতি এত ত্যক্তবিরক্ত হলো। যার বহিঃপ্রকাশ ৪৪ পুলিশ সদস্যকে জীবন দিতে হলো, শত শত সহকর্মীকে নানাভাবে ক্ষতবিক্ষত হতে হলো। সঙ্গে পুলিশের থানা, ফাঁড়ি, অস্ত্র লুট হয়ে গেল। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের পুলিশ অফিসার পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছি। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে এরূপ পুলিশ এ দেশের মানুষ দেখতে চাননি। আন্দোলনে হাজার ছাত্র-জনতার মৃত্যু দুঃখের গাঁথা রচনা করেছে। আমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ। কী কারণে মানুষের এত ক্ষোভ পুলিশের ওপরে? পুলিশ এখনো এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। এই ট্রমা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। বের হয়ে আসার জন্য একটাই উপায়, নিজেদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষকে সেবা দিতে হবে। সেবা দেয়ার মাধ্যমেই একমাত্র পুলিশের হারানো ইমেজ বা গৌরবকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো।

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ সদস্যরা একটি ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে পুলিশকে এমন কঠিন অবস্থায় আর কখনো পড়তে হয়নি। ৫ই আগস্টের আগে পুলিশ হয়ে পড়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের লাঠিয়াল। অতীতের কতিপয় উচ্চাভিলাষী কর্মকর্তার কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আর এজন্যই পুলিশকে জনরোষের শিকার হতে হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বস্তর ভেঙে পড়ে এবং জন আস্থা থেকে ছিটকে পড়ে। সাধারণ মানুষ তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এ ছাড়াও বদলি হওয়া পুলিশের রাজধানীর বস্তি, ঘুপচি ও অলিগলি না চেনা ছাড়াও পরিচিত লোকদের মাধ্যমে অপরাধ জগতে তারা নতুন সোর্স এখনো তৈরি করতে পারেনি। ফলে সোর্স নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে। ফলে আসামি ধরা বা মামলার তদন্তে একধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই আমরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একজন কনস্টেবল পর্যন্ত যোগাযোগ বাড়িয়েছি। তাদের মনোবল ফেরানোর চেষ্টা করছি। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুলিশকে সুসংগঠিত করা, তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনা ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। প্রত্যেকটি থানায় নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, রাজনীতিবিদসহ অনেকেই কাজ করছেন। পুলিশ যাতে আর কখনো জনবিরোধী অবস্থানে ফিরে যেতে না পারে, সেই লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.)  মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ঢাকার প্রায় সব পুলিশকে আমরা চেঞ্জ করছি। তাদের কিন্তু অলিগলি চিনতে সময় লাগবে। তাদের ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগছে।

mzamin

‘আমাদের কথা মনে রাইখেন’: জাতিসংঘে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত

‘যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, গল্পটা সে-ই বলবেন। আমরা যতটুকু পেরেছি, করেছি। আমাদের কথা মনে রাইখেন।’ হৃদয়স্পর্শী এই কথাগুলো লেখা ছিল গাজার আল আওদা হাসপাতালের সাদা একটি বোর্ডে, যে বোর্ডে সাধারণত রোগীর অস্ত্রোপচারটা কীভাবে করা হবে, তা লেখা থাকে। চারপাশে যখন মুহুর্মুহু হামলা চলছে, মৃত্যু যখন নিশ্চিত, সেই মুহূর্তে এই কথাগুলো লিখেছিলেন চিকিৎসক মাহমুদ আবু নুজাইলা। ২০২৩ সালে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন তিনি।

আবু নুজাইলার লেখা কথাগুলো গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পড়ে শোনাচ্ছিলেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি রিয়াদ মনসুর। এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন (জেনোসাইড) বন্ধে পদক্ষেপ নিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান।

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারসের (এফএলডি) তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক আবু নুজাইলা একজন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী ছিলেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের একজন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হিসেবেও কাজ করতেন তিনি।

২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আল আওদা হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় আবু নুজাইলাসহ আরও দুজন চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মী নিহত হন। এফএলডির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতার সময় অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে নিজের জীবন বাজি রেখে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিয়েছিলেন আবু নুজাইলা।

শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মনসুর গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন (জেনোসাইড) বন্ধ করতে পরিষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘(গাজায়) এই নরকের অবসান ঘটানোর দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে আমাদের। যে জাতিগত নিধন চলছে, তা বন্ধ করার সম্মিলিত দায়িত্ব আমাদের।’

    "We owe them more than remembrance."

    Palestinian Ambassador to the UN Riyad Mansour broke into tears during a session of the UNSC, quoting a message left by Dr. Mahmoud Abu Nujaila on a whiteboard in Al Awda hospital shortly before he was killed by an Israeli strike on the… pic.twitter.com/23pIcWFTFB
    — TRT World (@trtworld) January 4, 2025

গত সপ্তাহে কামাল আদওয়ান হাসপাতালে অভিযান চালানো হয় এবং হাসপাতালটির পরিচালক হুসাম আবু সাফিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই এ বৈঠক হলো।

রিয়াদ মনসুর আরও বলেন, ‘জীবন বাঁচানোর বাধ্যবাধকতা আপনাদের রয়েছে। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিলিস্তিনের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা সেই কাজটা হৃদয় দিয়ে করছেন। তাঁরা ভুক্তভোগী মানুষগুলোকে (হামলার শিকার) ছেড়ে যাননি। (আপনারাও) তাঁদের ছেড়ে যাবেন না। ইসরায়েলকে দায়মুক্তি দেওয়া বন্ধ করুন। জাতিগত নিধন বন্ধ করান। নিঃশর্তভাবে এখনই এই আগ্রাসনের পরিসমাপ্তি ঘটান।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, তখন থেকে উপত্যকাটিতে ৪৫ হাজার ৬৫৮ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮৩ জনের বেশি। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও নারী। বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, গাজায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি।

গাজার ফিলিস্তিনিদের ওপর এই নৃশংসতার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গতকাল শুক্রবার কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গতকাল শুক্রবার কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। ছবি: টিআরটি ওয়ার্ল্ডের ভিডিও থেকে নেওয়া