Saturday, June 22, 2019

হংকং বিক্ষোভ: পুলিশ সদরদপ্তর ঘেরাও হাজারো মানুষের

হংকংয়ে সাময়িক বিরতির পর ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বিক্ষোভের আগুন। বৃহস্পতিবার বিতর্কিত প্রত্যাবর্তন আইন বিষয়ক বিল বাতিলের দাবিতে পুলিশ সদরদপ্তর ঘেরাও করেছে হাজারো মানুষ। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে পিছু হটতে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। বলেছে, তাদের এমন কার্যক্রমে জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হবে। তবে তাদের দাবিতে সাড়া দেননি বিক্ষোভকারীরা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিতর্কিত বিলটির বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভ করেছে লাখ লাখ মানুষ। পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছেন তারা।
আহত হয়েছেন অনেকে। জনতার অব্যাহত চাপের মুখে বিলটি নিয়ে সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন হংকং কর্তৃপক্ষ। জানিয়েছে, এ বিল নিয়ে তাদের আরো চিন্তা করা দরকার। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হননি বিক্ষোভকারীরা। তারা জানিয়েছেন, বিতর্কিত ওই প্রত্যাবর্তন বিল বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।
বিতর্কিত ওই আইন অনুসারে, প্রত্যাবর্তন চুক্তি না থাকলেও হংকং থেকে যেকোনো আসামিকে চীনসহ যেকোনো দেশে পাঠানো যাবে। এরমধ্যে রয়েছে চীনও। বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, আইনটি পাস হলে হংকংয়ে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে সরকারের ভাষ্য ছিল, হংকং যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়, সেজন্যই এই আইন প্রয়োজন। তবে গত শনিবার ল্যাম জানান, আমাদের কাজের মধ্যে থাকা ঘাটতি ও অন্যান্য বিষয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আমি এ বিষয়ে গভীরভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত। তিনি জানান, তার সরকার আপাতত আইনটি সমপর্কিত সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখে এ বিষয়ে ফের চিন্তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরো জানান, আইনটি সমপর্কে জনগণকে দেয়া ব্যাখ্যা ও যোগাযোগ পর্যাপ্ত ছিল না।
ল্যাম আগে জানিয়েছিলেন, বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিতে আইনে বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক মামলা এই আইনের আওতাভুক্ত হবে না। তিনি আরো বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে এই প্রস্তাবিত আইন সঙ্গতিপূর্ণ। শুধু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সমপৃক্ত ব্যক্তিবিশেষকেই এই আইন প্রয়োগ করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বিবেচনা করা হবে।
আইনটির সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এই আইনের কারণে স্বায়ত্তশাসিত এই শহরের ৭৩ লাখ বাসিন্দা, এমনকি এই শহরের বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ব্যক্তিবিশেষ চীনের সরকার-প্রভাবিত আদালতের নির্দেশের আওতাভুক্ত হয়ে যেতে পারেন।
নতুন করে কেন বিক্ষোভ?
হংকংয়ের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারকের প্রত্যাবর্তন বিলটি প্রত্যাহার করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। বৃহসপতিবার ওই সময় শেষ হয়েছে। এরপর শুক্রবার বিক্ষোভে নেমেছেন তারা।
শনিবার বিলটি স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি বিক্ষোভকারীরা। যদিও আগের তুলনায় বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অনেক কমেছে। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, বিলটি প্রত্যাহার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এটি পাস হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই না থাকে। আগে বিলটি নিয়ে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন তারা। এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। গত ১২ই জুন পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক সহিংস সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ। এতে আহত হন ৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী, গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে। বিক্ষোভকারীরা, পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবারের বিক্ষোভে অনেককে ‘পুলিশি মাস্তানির প্রতি নিন্দা’ বলে স্লোগান দিতে শোনা গেছে। উল্লেখ্য, ১৮৪১ সাল থেকে বৃটিশ কলোনির অধীন ছিল হংকং। প্রথম অপিয়াম যুদ্ধের পর বৃটিশদের কাছে দ্বীপটি সমর্পণ করে দিয়েছিল চীন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে সার্বভৌমত্ব অর্জনের পর ‘ওয়ান কান্ট্রি, টু সিস্টেম’ শর্তের আওতায় ফের চীনের কাছে হস্তান্তরিত হয় হংকং। এতে চীনের অধীনে থাকলেও নিজস্ব শাসনব্যবস্থা থাকবে হংকংয়ের। তখন থেকে বর্তমান পর্যন্ত এটিই ছিল এই শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের একটি।

তিউনিসিয়া ফেরত ১৭ বাংলাদেশীকে জিজ্ঞাসাবাদ

কাদের সহায়তা নিয়ে ইউরোপ পারি দেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে ছিলো, তিউনিসিয়া ফেরত ১৭জনের কাছে সেটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন বিভাগ। শুক্রবার দিবাগত রাতভর বিমানবন্দরে একটি কক্ষে তাদের রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
সেইসাথে তাদের ঠিকানা ভেরিভিকশনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাতে বার্তা পাঠিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের এরাইভাল হতে আরও সময় লাগে বলে জানিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
তিন সপ্তাহ ধরে তিউনিসিয়ার সাগরে নৌকায় ভাসা ৬৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১৭ জন শুক্রবার দেশে ফিরেন। ওইদিন বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর-৬৩৪ ফ্লাইটে করে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর পরপরই বিমানবন্দরে একটি কক্ষে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হেড শরিফুল হাসান গতকাল জানান, তিন সপ্তাহ ধরে তিউনিসিয়ার সাগরে ভেসে থাকা ৬৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে রাজি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জন শুক্রবার বিকেলে কাতার এয়ারওয়েজের বিমানযোগে তিউনেশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছেন।
তিন সপ্তাহ ধরে তিউনিসিয়ার সাগরে একটি নৌকায় ভাসছিলেন ৭৫ জন, যাদের মধ্যে ৬৪ জনই বাংলাদেশি। নৌকাটি তিউনিয়ার উপকূলের কাছে পৌঁছলেও কর্তৃপক্ষ তীরে নামার অনুমতি দেয়নি।
তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের শরণার্থী কেন্দ্রে আর জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। ফলে ওই নৌকাটি উপকূলীয় জারজিস শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সাগরে ভাসতে থাকে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সেখানে যান।
শরিফুল হাসান বলেন, ভূমধ্যসাগর দিয়ে এভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবার আরও নজরদারি দরকার। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, শুক্রবার আসা ১৭ জনের মধ্যে ৮জনই মাদারীপুরের। বাকি ৯ জনের মধ্যে ৪ জন চারজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। বাকি ৫ জনের বাড়ি শরীয়তপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায়। এ ধরনের মানবপাচার যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।
এদিকে রেডক্রিসেন্ট সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, আটকে পড়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে যাবেন, দূতাবাসের পক্ষ থেকে তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষকে এমন নিশচয়তা প্রদানের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ১৮ জুন সন্ধ্যায় জারজিস বন্দরে নামার অনুমতি দেয়। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনোক্রমেই তাদের জারজিস বা মেডেনিনে থাকার অনুমতি প্রদান করেনি। এমতাবস্থায় উদ্ধার বাংলাদেশিদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তিউনিসে এনে রেড ক্রিসেন্ট ও আইওএম এর যৌথভাবে পরিচালিত শেল্টার হাউজে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেশে পাঠানো হচ্ছে।
এর মধ্যে প্রথম দফায় ২০ জনকে টিকিট দিলেও ৩জন আসতে রাজি হননি। বাকি ১৭ জন শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় আসেন।
জানা গেছে, ৩ জন দেশে আসতে রাজি না হওয়ার বিষয়টি নতুন দুশ্চিন্তার কারণ। একইভাবে শেল্টার হাউজে অবস্থানরত আরও কিছু বাংলাদেশি এ মুহূর্তে দেশে আসতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। বিষয়টি অত্যন্ত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা সবাইকে দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রাজি করানোর পরই তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষের নিকট নিশ্চয়তা দেয়া হয়।
দূতাবাসের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, কাপড়চোপড় এবং তিউনিসে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া তাদের সবার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেশে কথা বলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ধার সবাই দেশে ফিরে না আসলে পরবর্তীতে এরকম দুর্ঘটনায় তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ভারতের ৫ মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড

পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতি বসু, সিকিমের পবন চামলিং, অরুণাচলের গেগং আপাং, ত্রিপুরার মানিক সরকার এবং ওডিশার নবীন পট্টনায়ক। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, অরুণাচল, ত্রিপুরা ও ওডিশা—এই পাঁচ রাজ্যের পাঁচ মুখ্যমন্ত্রীর দুই দশক ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড রয়েছে। ওই পাঁচ মুখ্যমন্ত্রীর একজন শুধু ক্ষমতায় রয়েছেন। আর একজন প্রয়াত হয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড থাকার কারণে প্রায়ই আলোচনায় আসে তাঁদের নাম।
ওই পাঁচ মুখ্যমন্ত্রী হলেন পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতি বসু, সিকিমের পবন চামলিং, অরুণাচলের গেগং আপাং, ত্রিপুরার মানিক সরকার এবং ওডিশার নবীন পট্টনায়ক। এর মধ্যে শুধু জ্যোতি বসু প্রয়াত হয়েছেন। আর ক্ষমতায় টিকে রয়েছেন নবীন পট্টনায়ক।
এবার ভারতের ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য সিকিম রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে ঘটেছে বড় অঘটন। এই রাজ্যে ২৫ বছর ধরে চেয়ার আঁকড়ে থাকা মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিং হেরে যান। তিনি ছিলেন সিকিমের শাসক দল সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এসডিএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। একই সঙ্গে সিকিমের একমাত্র লোকসভা আসনেও পরাজিত হয় পবন চামলিংয়ের দল। জয়ী হয় সিকিম ক্রান্তিকারী মোর্চা (এসকেএম)।
সিকিমে রয়েছে রাজ্য বিধানসভার ৩২ আসন। এবার এই নির্বাচনে পবন চামলিংয়ের দল পেয়েছে ১৫টি আসন আর এসকেএম পেয়েছে ১৭টি আসন। ফলে, বিরোধী দলের এই জয়ে অবসান ঘটে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিংয়ের ২৫ বছরেরও বেশি একটানা শাসনের।
পবন চামলিংই ভারতের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যিনি একটানা ২৫ বছর গদিতে থাকার রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম–দলীয় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একটানা ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতে ইতিহাস গড়েছিলেন।
জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৭ সালের ২১ জুন থেকে ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত, প্রায় ২৩ বছর। আর পবন চামলিং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২৩ মে পর্যন্ত, প্রায় ২৫ বছর।
এই দুই মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ক্ষমতায় থাকার দুই দশকের রেকর্ড রয়েছে আরও তিন মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁরা হলেন অরুণাচল প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং, ত্রিপুরার সিপিএম–দলীয় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং ওডিশার বিজেডি–দলীয় মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক।
অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং ক্ষমতায় আসেন ১৯৮০ সালের ১৮ জানুয়ারি। ক্ষমতায় থাকেন ১৯৯৯ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১৯ বছর। তিনি পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালের আগস্ট মাসে ফের মুখ্যমন্ত্রী হন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোট ক্ষমতায় থাকেন ২৩ বছর। আপাং প্রথমে অরুণাচল কংগ্রেস দলের নেতা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি গড়েন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)।
ত্রিপুরা রাজ্যে সিপিএম–দলীয় মানিক সরকার মুখ্যমন্ত্রী হন ১৯৯৮ সালের ১১ মার্চ। ক্ষমতায় থাকেন ২০১৮ সালের ৮ মার্চ পর্যন্ত ২০ বছর।
আর ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক মুখ্যমন্ত্রী হন ২০০০ সালের ৫ মার্চ। এবার বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ওই পদে বহাল রয়েছেন তিনি। তিনি ওডিশার বিজু জনতা দল (বিজেডি) নেতা। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিলেন বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার খনিমন্ত্রী।
একমাত্র নবীন পট্টনায়েক ছাড়া আর কেউ এখন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে নেই। তাঁদের মধ্যে শুধু জ্যোতি বসু প্রয়াত হয়েছেন।

তিউনিশিয়া থেকে ফিরলেন ১৭ বাংলাদেশি

বিমানবন্দরে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। আবার আত্মীয়স্বজনদের দেখা পেয়ে জড়িয়ে ধরেন কেউ কেউ। এ যেন সাগর পাড়ি দিয়ে আরেক জীবনে ফেরা। লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিশিয়ার উপকূলে ভাসতে থাকা ৬৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১৭ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গতকাল বিকাল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকা আসেন। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিউনিশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসা ১৭ জনের মধ্যে শুধু মাদারীপুর জেলার নয়জন রয়েছেন। এছাড়া বাকি আটজনের মধ্যে চারজনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বাকি পাঁচজন নোয়াখালী, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মৌলভীবাজারের বাসিন্দা।
দেশে ফিরে আসা এই ১৭ জনের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ।
সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অভিবাসী হতে চেয়েছিলেন তারা। এরা হলেন, মাদারীপুরের মোহাম্মদ লাদেন মাতব্বর (২০), রাসেল মাতব্বর (৩০), রাজীব মাতব্বর (২০), জুয়েল শাহজালাল (৩৪), আজাদ রহমান (২৭), পিয়ার আলী (২৯), আকমন মাতব্বর (২০), মীর আজিজুল ইসলাম (৩৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবু বকর সিদ্দিক (২৩), শাহেজুল খাদু (২৫), ইদ্রিস জমাদ্দার (২৪), নিয়ামত শিকদার (১৮), নোয়াখালীর রফিকুল ইসলাম (২৮), চাঁদপুরের শফিকুল ইসলাম (৩৩), শরীয়তপুরের রাকিব হোসেন (২১), মৌলভীবাজারের জিল্লুর রহমান (৩৫) ও সুনামগঞ্জের শিপন আহমেদ (২১)। গতকাল বিকালে ঢাকার শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পুলিশের বিশেষ শাখা, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ানসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার সদস্যরা প্রাথমিকভাবে তাদের সাথে কথা বলেন। পরে জিজ্ঞাসবাদ শেষে সন্ধ্যার দিকে তাদের বিমানবন্দর থেকে যার যার বাড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেয়া হয়।
পৃথক সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে পাচারের শিকার এসব ব্যক্তিরা জানান, স্থানীয়ভাবে দালালদের মাধ্যমে কয়েকটি রুটে তারা লিবিয়া পৌঁছান। সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থানের পর লিবিয়ার ত্রিপোলি উপকূল থেকে তিউনিশিয়া উপকূল হয়ে ইতালি পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এসব বিষয়ে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, এই ধর?নের মানবপাচার যে কোনো মূ?ল্যে বন্ধ কর?তে হবে। স্থানীয় দালালদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জা?তিক বি?ভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তিউনিশিয়ার সাগরে এক?টি নৌকায় ভাস?ছি?লেন ৭৫ জন শরণার্থী, যা?দের ম?ধ্যে ৬৪ জনই বাংলা?দে?শি। নৌকাটি তিউনিশিয়ার উপকূলের কাছে পৌঁছালেও কর্তৃপক্ষ তীরে নামার অনুমতি দেয়নি। তিউনিশিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের শরণার্থী কেন্দ্রে আর জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। ফলে ওই নৌকাটি উপকূলীয় জারজিস শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সাগ?রে ভাস?তে থাকে। প?রে বাংলা?দেশ দূতাবা?সের কর্মকর্তারা সেখানে যান। লিবিয়ার বাংলা?দেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গে?ছে, আটকে পড়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে যাবেন, দূতাবাসের পক্ষ থেকে তিউনিশিয়ার কর্তৃৃপক্ষ এমন নিশ্চয়তা প্রদানের পর দেশটির দায়িত্বশীল কর্তৃৃপক্ষ তাদেরকে ১৮ই জুন সন্ধ্যায় জারজিস বন্দরে নামার অনুমতি দেয়। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনক্রমেই তাদেরকে জারজিস বা মেন্ডিনে থাকার অনুমতি দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধার করা বাংলাদেশিদের কঠোর নিরাপত্তায় তিউনিসে নিয়ে গিয়ে রেড ক্রিসেন্ট ও আইওএম’র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থে?কে পর্যায়ক্রমে সবাই?কে দেশে পাঠা?নো হচ্ছে বলে জানিয়েছে লিবিয়ার বাংলাদেশে দূতাবাস। এর ম?ধ্যে প্রথম দফায় ২০ জন?কে ঢাকায় আসার টিকিট দি?লেও তিনজন আস?তে রা?জি হন?নি। লি?বিয়ার বাংলা?দেশ দূতাবাস বল?ছে, তিনজন দে?শে আস?তে রা?জি না হওয়ার বিষয়?টি নতুন দু?শ্চিন্তার কারণ। একইভা?বে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত আরো কিছু বাংলাদেশি এই মুহূর্তে দেশে যেতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। বিষয়টি বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, তাদের সকলকে দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রাজি করানোর পরই তিউনিশিয়ার কর্তৃপক্ষের নিকট নিশ্চয়তা দেয়া হয়। দূতাবাসের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, কাপড়চোপড় এবং তিউনিসে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়াও তাদের সকলের আত্মীয়স্বজনের সাথে দেশে কথা বলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবাই দেশে ফিরে না গেলে পরবর্তীতে এই রকম দুর্ঘটনায় তিউনিশিয়ার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলেও জানান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা।
সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ৪৩৪ জন শ্রমিক
এদিকে, সৌদি আরব থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ৪৩৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিক ফিরে এসেছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা তিন মিনিটের দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসবি৩৮০৪ ফ্লাইটে করে রিয়াদ থেকে ঢাকায় ফেরত আসেন এসব বাংলাদেশি। বিমানবন্দর এপিবিএন’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক মানবজমিনকে এমন খবর নিশ্চিত করেন। এদিকে, কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দেশে ফেরত আসা চার শতাধিক বাংলাদেশির বেশির ভাগই সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে জেল খেটেছেন। দেশটিতে অবস্থানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। কারাভোগ শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের আউটপাস নিয়ে এসব শ্রমিক অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয় সৌদি সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছাড়া বিপাকে ট্রামপ প্রশাসন মার্কিন ড্রোনের ছবি প্রকাশ করলো ইরান

কঠিন এক সময় পার করছে পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যখন যুদ্ধ লাগে লাগে অবস্থা তখন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নেই কোনো মন্ত্রী। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান পদত্যাগ করেছেন। এরপর থেকে মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম এবং বর্তমান সময়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ নেই।
নিউ ইয়র্কের ডেমোক্রেট দলের সিনেটর চাক শুমার বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কঠিন সময়। ইরানের সঙ্গে যা চলছে এবং উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কেউ না থাকা হতাশাজনক। তিনি আরো দাবি করেন, এই অবস্থা প্রমাণ করে যে ট্রামপ প্রশাসনের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। তাদের অনেক পদ শূন্য পড়ে রয়েছে।
এর মধ্যে সব থেকে স্পর্শকাতর অবস্থা প্রতিরক্ষা বিভাগে দেখা যাচ্ছে।
শানাহানের স্থানে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে সেনা সচিব মার্ক এস্পারের। তারা উভয়ই ইরান ইস্যুতে হওয়া হোয়াইট হাউসের বৈঠকগুলোতে অংশ নিচ্ছেন। সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ধ্বংসের পর ইরানের বিরুদ্ধে কেমন হামলা চালানো হবে সে বিষয়ে যে জরুরি সভা ডেকেছিলেন ডনাল্ড ট্রামপ তাতেও অংশ নেন শানাহান ও এস্পার।
আগামী রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এস্পার। এরপর মঙ্গলবার ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি। কিন্তু এখানেই আসল চ্যালেঞ্জ তার সামনে। তাকে মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে বুঝাতে হবে যে তিনিই দায়িত্বে আছেন এবং ট্রামপ প্রশাসন নিরাপত্তা ইস্যুতে স্থিতিশীল রয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতি মিত্রদের সমর্থন আদায় করাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হবে।
ছবি প্রকাশ
প্রথমবারের মতো মার্কিন চালকহীন বিমান আরকিউ-৪এ’র ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের পর দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি একে ভূ-পাতিত করে। এরপর শুক্রবার এর ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করে তেহরান। আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স স্থানীয় সময় দুপুর বেলা আরকিউ-৪এ’র ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে, ধংস হওয়া ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে উড়ছিল। তবে ইরান জানিয়েছে, এই চালকহীন বিমানটি ইরানের উপকূলের আট মাইল দূর দিয়ে উড়ছিল। উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ইরানের জলসীমা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে, মার্কিন স্বার্থ দেখার দায়িত্বে নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূতকে শুক্রবার সকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। তার কাছে দেয়া প্রতিবাদপত্রে ইরান জানিয়েছে যে, তেহরান কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয়। তবে আগ্রাসন চালালে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে। এ ছাড়া মার্কিন ড্রোনটি যে ইরানের আকাশসীমা দিয়ে উড়ছিল তার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ধংস হয়ে যাওয়া ড্রোনটি ইরানের জলসীমা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে।

ইরানে ট্রাম্পের কৌশল যে কারণে ব্যর্থ হতে পারে

১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। এরপরেও তৎকালীন বিশ্বের দুই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বৃটেন ইরানে হামলার হুমকি দেয়। ইরান সম্ভাব্য সংকটের গভীরতা উপলব্ধি করার পরেও সোভিয়েত ও বৃটিশ হুমকির কাছে নতি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানায়। রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে অসহায় আত্মসমর্পণ করার চেয়ে প্রতিরোধ ও সামরিক পরাজয়কে তাদের কাছে বেশি যৌক্তিক মনে হয়।
সৈন্যের সংখ্যা ও সামরিক সরঞ্জামের বিচারে অনেক এগিয়ে থাকা সোভিয়েত-বৃটিশ শক্তির কাছে ইরানের সেনাবাহিনী খুব অল্প সময়েই পরাজিত হয়। কয়েক বছরের জন্য দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় বিজয়ী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেও তেহরান তাদের সার্বভৌমত্ব ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম চালিয়ে যায়। এবং বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র এক বছরের মধ্যেই তারা অসামান্য বীরত্ব দেখিয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করে। দখলদার সোভিয়েত ও বৃটিশরা ইরান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
ইরানের ইতিহাসে এ ছাড়াও আরো অনেক ঘটনা পাওয়া যায়, যা বুঝিয়ে দেয় যে, ইরানী রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি মৌলিক দিক হলো প্রতিরোধ। আর এটি ইরানের বৈদেশিক নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তির ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হুমকি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের শিকার হচ্ছে। তাদের সার্বভৌমত্ব নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এবারের সংকটেও তারা পূর্বের নীতির অনুসরণ করবে, তা অনেকটাই স্পষ্ট।
গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে যে, ইরানী তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকার যে সুবিধা ভোগ করছিল, যুক্তরাষ্ট্র ওই সুবিধা আর নবায়ন করবে না। একই সঙ্গে যেসব দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানী তেল কেনা চালিয়ে যাবে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তখন থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক হুমকি ও বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
এক্ষেত্রে ডনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল হলো অস্তিত্বগত হুমকির মুখে ইরানীদের জন্য টিকে থাকাটা সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, দেশটির অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিলে তা ইরানীদেরকে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বাধ্য করবে। আর এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। ওয়াশিংটনের আশা, তাদের এই কৌশল ইরানকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়বে। একপর্যায়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র্রের শর্ত মেনে নিয়ে সমঝোতায় উদ্যমী হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার ছাড়া আর কোন সুযোগ না রাখার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ ইরানী নাগরিকদের মত হলো, যা-ই ঘটুক না কেন, ইরান তা প্রতিরোধ করবে। দেশটির নেতারা সাধারণ জনগণকে এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোন কৌশলের কাছে নমনীয় মনোভাব দেখানো তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করারই নামান্তর। সে অনুসারে ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হুমকি-পাল্টা হুমকি দিয়ে চলেছে। যা এখন পর্যন্ত ভালোই কাজে দিচ্ছে।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ইরানীদের সরকার-বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থাকার কথা ছিল। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ বল-প্রয়োগের কৌশল’ ইরানীদেরকে এই সংকটকালীন সময়েও তাদের জাতীয় পতাকা ঘিরে সমাবেশ করতে বাধ্য করছে।
যে নেতা সবচেয়ে বেশি বিদেশী চাপ প্রতিরোধ করতে পারবে, ইরানী জনগণের কাছে তারা তত বেশি জনপ্রিয়তা পাবে। মার্কিন চাপের মুখে ইরানের অব্যাহত প্রতিরোধের পেছনে এটাও অন্যতম কারণ। দেশটিতে দশকের পর দশক ধরে চলা এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ইরানের কোন রাজনৈতিক নেতা কখনোই বৈরি দেশের সঙ্গে সমোঝাতায় যাবে না, তা অনেকটাই নিশ্চিত।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হুমকি ও চাপ-প্রয়োগের মুখে ইরানও নিষ্ক্রিয় থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ও এর মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায়। কোন সামরিক সংঘাতে না গিয়ে, কোন খরচ ছাড়াই ইরান মধ্যপ্রাচ্যে এই মার্কিন স্বার্থকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যা চুড়ান্তভাবে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বিঘœ সৃষ্টি করবে।
যা হোক, যুক্তরাষ্ট্র যদি সর্বাত্মকভাবে ইরানের সঙ্গে কোন সংঘাতে লিপ্ত হয়, দেশটি ইরানকে তাদের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করতে পারবে এমনটি ভাবা কঠিন। বৈশ্বিক পরিমন্ডলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়া অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও ইরানের প্রতিরোধ-সংগ্রামে সমর্থন দেবে। কেননা এই দুই দেশই ট্রাম্পের এশিয়ানীতি ও সাম্প্রতিক বাণিজ্য যুদ্ধে চরমভাব বিরক্ত। ইরানের সঙ্গে মার্কিন সংঘাত বাধলে সেটিকে এই দুই শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দেয়ার বড় সুযোগ হিসেবে নিতে পারে।
এটা সুস্পষ্ট যে, চীন বা রাশিয়া কোন দেশই সরাসরি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামবে না। কিন্তু তাদের কৌশলগত সমর্থনের গুরুত্ব অনেক। ট্রাম্পকে থামানোর জন্য ও নিজেদের সীমান্তকে বিপদমুক্ত রাখার জন্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে এ দু’দেশের স্বার্থ রয়েছে। সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানকে রাজনৈতিক সহায়তা দিতে পারে।
আর ট্রাম্প যদি চুড়ান্তভাবে কোন যুদ্ধে জড়িয়েই পড়েন, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। বিশ্ববাসী যখন অব্যাহতভাবে ট্রাম্পের আগ্রাসী পদক্ষেপগুলোর বিরোধিতা করছে, কৌশলগত ধৈর্য্য ও পারমাণবিক চুক্তির প্রতি একনিষ্ঠতা ধরে রাখার কারনে ইরান এখন পর্যন্ত নিজেদের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ধরে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তার পুরনো অনেক মিত্রর সমর্থন না পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরাক যুদ্ধের তুলনায় বিপর্যয়কর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের পূর্ণ সামরিক ক্ষমতার বিষয়ে সচেতন না। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা অস্ত্র না পেয়ে ইরান দেশের অভ্যন্তরে অস্ত্রের কারখানা গড়ে তুলেছে। যেসব অস্ত্রের ক্ষমতা বহির্বিশ্বের কাছে এখনো অজানাই রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হবে। যা নিশ্চিতভাবেই ইরানকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
২০০৩ সালে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের সেনাবাহিনীকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গুড়িয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দুর্বল হলেও তা সাদ্দাম হোসেনের ওই সেনাবাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ইরানের বাহিনী অনেক বেশি সংগঠিত ও আদর্শিকভাবে দায়বদ্ধ। পাশাপাশি ইরানের পর্বতময় ভূ-পৃষ্ঠ  যে কোন যুদ্ধে ইরানকেই এগিয়ে রাখবে। আক্রান্ত হলে প্রতিবেশী দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের ভালো মতোই আছে। একই সঙ্গে বহির্বিশ্বে তেল সরবরাহে বিঘœ ঘটানো ইরানের জন্য সময়ের ব্যাপারমাত্র। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে কোন সংঘাতেই জড়িয়েই পড়ে, সে যুদ্ধ শেষ করার সক্ষমতা তাদের নেই।
(আল-জাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধের ভাবানুবাদ)

মুরসি'র হত্যাকারীদের নাম জানালেন তার ছেলে আব্দুল্লাহ

মিশরের ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির ছেলে আব্দুল্লাহ বলেছেন, তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আস সিসি জড়িত রয়েছেন।
তিনি এক টুইটার পোস্টে লিখেছেন, তার বাবাকে হত্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সিসি ও তার সহযোগীরা জড়িত। বিশেষকরে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ তওফিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগদি আব্দেল গাফফার জড়িত রয়েছেন।
আব্দুল্লাহর মতে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও যারা জড়িত তারা হচ্ছেন বিচারপতি শিরিন ফাহমি, বিচারপতি শাবান আশ-শামি, বিচারপতি আহমেদ সাবরি, অ্যাটর্নি জেনারেল নাবিল সাদেক ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান আব্বাস কামাল। তবে এখন পর্যন্ত মুরসির ছেলের এই অভিযোগের বিষয়ে মিশরের সরকার কোনো মন্তব্য করে নি।
এর আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদোগানও অভিযোগ করেছেন, মুরসির মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
গত ১৭ জুন মিশরের একটি আদালতের এজলাসে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তৃতা দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোহাম্মাদ মুরসি। এর আগে তিনি আদালতে বলেছিলেন, তার জীবন হুমকির মুখে।

ভারতের সংসদে তালাক বিল পেশ, বিরোধিতায় কংগ্রেস ও ‘মিম’

ভারতের সংসদে তাৎক্ষণিক তালাকবিরোধী বিল পেশ করেছে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার। এরফলে একসঙ্গে কেউ তিন তালাক দিলে তার তিন বছরের সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিতর্কিত ওই বিলের বিরোধিতা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (‘মিম’)। শুক্রবার বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি বলেন, মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছে আইন প্রণয়নের জন্য। মুসলিম নারীদের অধিকার সুরক্ষিত করবে ওই বিল।
যদিও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা শশী থারুর ওই বিলের বিরোধিতায় সংসদে সোচ্চার হন। ওই বিলে মুসলিম নারীদের কোনও কল্যাণ হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ‘মিম’ প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তালাক বিলের তীব্র বিরোধিতায় সোচ্চার হন। তিনি তার সাফাইতে বলেন, ‘যদি কোনও অমুসলিম  স্বামীকে ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাহলে তার জন্য এক বছরের সাজার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু মুসলিমের বেলায় তিন বছরের সাজা কেন? এটা সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদের অবমাননা নয় কী? যদি তিন বছর স্বামীকে কারাগারে থাকতে হয় তাহলে ওই পরিবারের দেখভাল কীভাবে হবে? আপনারা দেখভাল করবেন? আপনাদের যদি মুসলিম নারীদের প্রতি এত ভালোবাসা থাকে তাহলে কেরালার হিন্দু নারীদের প্রতি ভালোবাসা নেই কেন যারা সবরীমালা মন্দিরে যেতে চান।’
জবাবে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, এটা রাজনীতি, উপাসনা, পূজা, ধর্ম বা প্রার্থনার প্রশ্ন নয়। এটা নারীদের প্রতি সুবিচার ও নারীর মর্যাদার বিষয়।

যুদ্ধের কিনারায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: শেষ মুহূর্তে হামলার হুকুম থেকে সরলেন ট্রাম্প

নতুন মোড় নিয়েছে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা। হামলার অনুমোদন  দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে হামলার উদ্দেশ্যে আকাশে উড়ছিল মার্কিন যুদ্ধবিমান। সাগরে অবস্থান নিয়েছিল জাহাজ। মিনিট কয়েক দেরি হলেই শত্রুবধের উদ্দেশ্যে ছোড়া হতো ক্ষেপণাস্ত্র। এমন সময় আচমকা হামলার অভিযান বাতিল করলেন ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বনেতারা বলছেন, যুদ্ধের কিনারে আছে দুই দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানকে যুদ্ধে লিপ্ত হতে বাধ্য করার অভিযোগও ওঠেছে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে হরমুজ প্রণালীতে এক মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে ইরান। এর জবাবেই দেশটিতে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। কিন্তু অল্পের জন্য শুরু হয়নি যুদ্ধ। শুরু হলে অচিরেই তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রুপ নিতে পারতো। তবে যেকোনো মুহূর্তে পাল্টে যেতে পারে পরিস্থিতি।
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে হামলা চালানোর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তখন আচমকাই নিজেই হামলার নির্দেশ বাতিল করে দেন ট্রাম্প। ঠিক কী কারণে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প সে বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার ইরান দাবি করে, তারা একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি ছিল, ইরানের জলসীমায় ঢুকে পড়েছিল ড্রোনটি। দেশের নিরাপত্তার কারণেই সেটাকে ভূপাতিত করা হয়। এদিকে, পেন্টাগন তাদের ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার খবর স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, এটি ছিল টহল ড্রোন। আর এটি আন্তর্জাতিক জলসীমার উপরেই ছিল।
কতদূর প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী?
বৃহস্পতিবারের ড্রোন হামলার পর থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা ইরানের ওপর হামলা হতে পারে এমনটা প্রত্যাশা করছিলেন। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে হোয়াইট হাউসে বৈঠক বসেন দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা। বৈঠকে তাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, ট্রাম্পের শীর্ষ নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তা, কংগ্রেস নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো অভিযানটির প্রস্তুতি নিয়ে ফেলে সামরিক বাহিনী। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানে হামলা চালাতো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। এর মধ্যে আচমকাই সামরিক বাহিনীকে অভিযানটি বাতিল করতে বলেন তিনি। ততক্ষণে আকাশে সকল প্রস্তুতি নিয়ে উড়ছিল যুদ্ধবিমান, সমুদ্রে ঠিকঠাক অবস্থান নিয়ে ফেলেছিল যুদ্ধজাহাজ। কিন্তু ছোড়া হয়নি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র।
অভিযান অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো তৃতীয় হামলা হতো এটি। এর আগে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে সিরিয়ায় হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। শেষ মুহূর্তে কী কারণে নিজের মত পাল্টেছেন তিনি সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাইলে কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। একইরকম প্রতিক্রিয়া দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও।
হামলায় সম্মতি ছিল সিআইএর
ড্রোনে হামলার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিশোধমূলক হামলার গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু এ বিষয়ে বিভক্ত ছিলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টারা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন ও সিআইএর পরিচালক জিনা হাসপেল সামরিক হামলার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ কর্মকর্তারা বিমুখ ছিলেন। সতর্ক করেছিলেন, ইরানে হামলা চালালে তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। হামলার বিষয়ে জ্ঞাত ছিলেন কংগ্রেস নেতারাও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন ড্রোনে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে ইরান। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে চারটি সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, এই হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ইরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই ঘটনার পর থেকেই নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা। অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা ও রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ড্রোন হামলা
ইরানের দাবি, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পরই মার্কিন ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ডস বলছে, আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক নামের ওই ড্রোনটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমোজগানে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। ড্রোনটিকে রেডিও সিগনালের মাধ্যমে বারবার সতর্ক করা হলেও সে সতর্কতা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ফলস্বরূপ সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে, নিজেদের ড্রোন ধ্বংসের কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাদের দাবি এটি একটি নজরদারী ড্রোন। আর এটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল, ইরানের না। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বলেন, তার সন্দেহ যে, ইরানের কোনো ব্যক্তি বড় ধরনের ভুল করেছে। যদিও ইরান ড্রোনটি ধ্বংস করার দায় স্বীকার করেছে। উভয় দেশ জানিয়েছে যে, স্থানীয় সময় ভোর ৪:০৫ মিনিটে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিয়ে। এতে অবাক হয়েছেন অনেক আমেরিকান কর্মকর্তা। কেননা, ওই ড্রোনটি তৈরি করা হয়েছিল এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার হামলা-বিরোধী হিসেবে। তারা বলছেন, এতে প্রমাণ হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই বেশ কঠিন হবে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করে যে, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে, ছবিটি যখন তোলা হয়েছিল তখন ড্রোনটি চলমান ছিল। যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সেখানে তোলা না। ইরান পরবর্তীতে ড্রোনটি যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সেখানকার সঠিক স্থানাঙ্ক প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায় যে, ড্রোনটি এমন স্থানে অবস্থান করছিল যেটিকে ইরান নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। ড্রোনটি ইরানের উপকূল থেকে ৮ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। যেখানে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ইরানের ভূখণ্ড হিসেবে ধরা হয়।
এদিকে, রেভুলিউশনারি গার্ডসের প্রধান হুসেইন সালামি বলেন, আমরা যুদ্ধে জড়াতে চাই না। তবে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। এই ঘটনা ঠিক এই বার্তাটিই প্রমাণ করে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, আকাশসীমা হচ্ছে ইরানের ‘রেড লাইন’। কেউ এই রেড লাইন অতিক্রম করলে এর কঠিন জবাব দেয়া হবে। ইরান এর আগেও একই কাজ করেছে বলে তিনি জানান। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের অবকাশে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। আলী শামখানি বলেন, আমরা বারবারই বলছি ইরান নিজের আকাশসীমা ও জলসীমা সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করবে। কাউকে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের সুযোগ দেয়া হবে না। (ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী) কোনো বিমান বা ড্রোন যে দেশেরই হোক না কেন তা ভূপাতিত করা হবে ও কঠিন জবাব দেয়া হবে।
ইরানের আকাশে মার্কিন বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ
এদিকে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিচালনা কর্তৃপক্ষ এফএএ জানিয়েছে, ইরান নিয়ন্ত্রিত সমুদ্র ও স্থলপথের আকাশসীমায় মার্কিন বিমান উড্ডয়ন বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা আরোপিত অঞ্চলের মধ্যে স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর রয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এফএএ’র বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিধ্বস্ত ড্রোনের প্রায় ৪৫ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে সবচেয়ে কাছের বেসামরিক বিমান অবস্থান করছিল। ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার সময় ওই এলাকায় অনেক বেসামরিক বিমান চলাচল করছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে বিমানের নিরাপত্তায় এফএএ উদ্বিগ্ন।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত উস্কানির অভিযোগ এনেছে রাশিয়া। বলেছে, তারা ইরানকে যুদ্ধের কিনারে নিয়ে এসেছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিণতি কী হতে পারে তা ভাবা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা খুবই ভয়ঙ্কর হবে।
এদিকে, যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা বারবার উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছি। ইরানের কার্যক্রম নিয়ে আমাদের অবস্থানও আমরা বহু আগেই স্পষ্ট করেছি। উত্তেজনা কোনোভাবেই সুবিধাজনক নয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি।
জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল বলেন, ট্রাম্পের ব্যাপারে আমি এটি বলতে পারি যে, তিনি চেষ্টা করবেন সামরিক আগ্রাসন এড়াতে। আমরা সে সিদ্ধান্তকে স্বাগতম জানাই। এ ছাড়া তিনি উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, উভয়পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘও। সংগঠনটির মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমার এক্ষেত্রে একটিই পরামর্শ রয়েছে- ইস্পাতের মনোবল ধারণ করুন। এর আগে ড্রোন ধ্বংসের খবরে গুতেরেস জানান, তিনি ইরান-আমেরিকা পরিস্থিতি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।
উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরান-বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। ২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের সনে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে। আরোপ করেছেন নিষেধাজ্ঞা। তবে চুক্তি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে এর অন্যান্য অংশীদাররা। ইরান হুমকি দিয়েছে, ২৭শে জুনের মধ্যে চুক্তির অন্যান্য অংশীদাররা যদি ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারে তবে তারা চুক্তি লঙ্ঘন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে। এতে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। প্রসঙ্গত, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করা যায়। আর ট্রাম্প প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না। সমপ্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের দামামার মধ্যে মধ্যে অতিরিক্ত ১০০০ সেনা সদস্য মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধ অকল্পনীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে- পুতিন

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ হলে যে বিপর্যয় ডেকে আনবে তা হবে অকল্পনীয় এক পরিণতি। অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের রণপ্রস্তুতির খবরে এমন হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে। শুক্রবার ইরানে হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়ার পরও সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার এ সিদ্ধান্তকে যথার্থ বলে মন্তব্য করেছেন জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্টার্ন পলিটিক্স বিষয়ক প্রফেসর তৃতা পারসি। তিনি ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সাবেক সভাপতিও। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সহ উপদেষ্টাদের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য অনেকটাই দায়ী করা যায়।
তার ভাষায়, আমরা এমন একটি অবস্থায় আছি, যা অত্যন্ত ভয়াবহ। হামলার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠিক কাজটিই করেছেন। এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, তাকে তার উপদেষ্টারা ভুলপথে পরিচালিত করেছিলেন। যেমনটা ঘটেছিল ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে। তাতে ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে অত্যন্ত আগ্রাসী নীতি নিতে উদ্বুদ্ধ কর াহয়েছে। এ জন্য তৃতা পারসি উভয় পক্ষকে বিরত থেকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান। তবে যতক্ষণ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ থাকবে ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ইরান সাড়া দেবে বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু সংযম দেখিয়েছে শুক্রবার তাই ইরানের উচিত বুদ্ধিদীপ্ত শান্ত সাড়া দেয়া। ইরানিদের উল্লাসিত হওয়া উচিত নয়। তাদের কিছু বলাও উচিত নয়। তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত যে, ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

আল কায়দার নয়া কৌশল

বিশ্বে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম আল কায়েদা। তারা ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিল সারা দুনিয়া। সেই থেকে আলোচনায় আল কায়েদা। এর প্রধান নিহত জঙ্গিনেতা ওসামা বিন লাদেন। তিনিই এর প্রতিষ্ঠাতা। এখন থেকে আট বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নেভি সিলের অভিযানে নিহত হন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে। আল কায়েদায় এক সময় হাজার হাজার যোদ্ধা ছিল। এ সংগঠনকে বর্ণনা করা হতো সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জিহাদি সংগঠন বলে। তবে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর আস্তে আস্তে ক্ষয়ে এসেছে এ সংগঠনের শক্তি, ক্ষমতা। পাশাপাশি উত্থান ঘটেছে আরেক ভয়ঙ্কর জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস। সম্প্রতি আল কায়েদা যতটুকু আলোচনায় তার চেয়ে বেশি আলোচনায় এই আইএস। এ নিয়ে যখন সারাবিশ্বে লেখালেখি হচ্ছে তখন আল কায়েদা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা সমমনা আঞ্চলিক জোটগুলোর সঙ্গে জোট তৈরি করছে। এর মধ্য দিয়ে তারা নিঃশব্দে ফিরে আসছে বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, এ বিষয়ে সম্প্রতি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইউএস ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স জোট। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সংগঠনের কাঠামো জোরদার করছেন আল কায়েদার শীর্ষ নেতারা। তারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে পশ্চিমা দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে। বিবিসি লিখেছে, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের হুমকির ওপর জাতিসংঘ এ বছরের গোড়ার দিকে একটি রিপোর্টে বলছে, আল-কায়েদা ‘আগের চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে, সংগঠনটি এখনও অনেক অঞ্চলে তৎপর রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটা নিজেকে আরো বেশি করে পরিচিত করতে চাইছে।’ এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে বৃটেনের গোয়েন্দা প্রধান অ্যালেক্স ইয়াংও আল-কায়েদার পুনরুত্থানের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি জানিয়েছিলেন।
কেমন করে সংগঠিত হচ্ছে আল কায়েদা: আল কায়েদা নতুন কৌশলে সংগঠিত হচ্ছে। এর কারণ একদিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত ড্রোন হামলা, শীর্ষ নেতাদের হত্যা ও আইএস গোষ্ঠীর চ্যালেঞ্জ। এ জন্য তারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে অগ্রসর হচ্ছে। এ জন্য বেছে নিয়েছে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া। বিবিসি লিখেছে, এই সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ের কিছু জঙ্গি দল যারা কোনো দেশের মধ্যে গোপনে তৎপর এবং যারা আল কায়েদার নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। আইএস যেমনটা করছে, আল কায়েদা কখনই স্থানীয় জনগণের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করেনি। এর নতুন একটি কৌশল হচ্ছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে আত্মনিয়োগ করা। ২০১৩ সালে আল কায়েদা যে ‘জিহাদের সাধারণ নিয়মাবলী’ প্রকাশ করেছিল তাতে সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ওই দলিলে আরো বেশি সংযত আচরণের কথা বলা হয়েছিল এবং সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছিল। তাদের যোদ্ধাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তারা এমন কিছু যেন না করে ‘যাতে তাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়। আল কায়েদা এখন দুর্নীতি আর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করার মতো বিষয়ের দিকে নজর দিচ্ছে’- বলছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পেমব্রোক কলেজের শিক্ষক ড. এলিজাবেথ কেনডাল, ‘বিশ্বব্যাপী জিহাদের এজেন্ডায় তারা এসব বিষয় ঢুকিয়ে দিয়েছে।’ ‘এর মধ্য দিয়ে তারা স্থানীয়ভাবে মানুষের সামনে ‘উদ্ধারকর্তা’ হিসেবে হাজির হচ্ছে এবং আইএস-এর নিষ্ঠুরতার বিপরীতে ‘ভাল জিহাদি’ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।’ বিবিসি বলছে দ্য আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আল-কায়েদা তার সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের নানা দেশে মোট ৩১৬টি হামলা পরিচালনা করেছিল। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আল কায়েদা ইন দ্যা ইসলামিক মাগরেব (একিউআইএম)। আলজেরিয়া ভিত্তিক একটি জঙ্গি দল এটা চালু করে। আলজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে এটি সাহেল এবং পশ্চিম আফ্রিকার দিকে সরে যায়।
আল কায়েদা ইন দ্যা অ্যারাবিক পেনিনসুলা (একিউএপি) প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে। ইয়েমেন এবং সৌদি আরবে তৎপর দুটি আন্তর্জাতিক জিহাদি নেটওয়ার্ক এক হয়ে এই সংগঠনটির জন্ম দেয়।
বিবিসি লিখেছে, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে তৎপর। এটি ২০১৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।
জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) আল-কায়েদার একটি সহযোগী সংগঠন। মালি এবং পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন মিলে এটি তৈরি করেছে।
আল-শাবাব সোমালিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকাতে তৎপর। এটি ২০১২ সালে আল কায়েদার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছে।
হায়াত তাহ্‌?রির আল-শাম (এইচটিএস) তৈরি হয়েছে সিরিয়ার কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে। এইচটিএস এখন উত্তর সিরিয়ার ইডলিব প্রদেশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
আল-কায়েদা ইন ইজিপ্ট মিশরের সিনাই মালভূমিতে সক্রিয়। আল-কায়েদার সমর্থক বেশ কয়েকটি দল মিলে এই গোষ্ঠীটি তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যতের নেতৃত্ব?
গত ২০১৫ সালে আল-কায়েদার বর্তমান নেতা আইমান আল-জাওয়াহিরি এক তরুণকে বিন-লাদেনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের গোষ্ঠী থেকে আসা ‘একটি সিংহ’ হিসেবে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই তরুণের নাম হামজা বিন লাদেন। তিনি ওসামা বিন লাদেনের এক ছেলে। মনে করা হচ্ছে তিনিই আল-কায়েদার ভবিষ্যৎ নেতা। মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হামজাকে বিশ্ব সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আল কায়েদাপন্থি ওয়েবসাইটগুলোতে ৩০-বছর বয়সী হামজা বিন লাদেনকে উঠতি তারকা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। লন্ডনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের লিনা খতিবের মতে, ‘আইএস খিলাফতের পতনের পর আল কায়েদা তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে। তারা এখন বেশি নির্ভর করছে এমন এক নেতার ওপর যিনি কৌশলে দক্ষ। আল-কায়েদার নেতার পদে তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে এটা হামজাকে বেশ সাহায্য করছে।’

১০ বছর বয়সী শিশুর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড?

মুর্তজা কুয়েরিস
আরবের দুর্নীতিপ্রবণ ও জনবিরোধী শাসকদের বিরুদ্ধে যখন বসন্তের ঢেউ খেলে গিয়েছিল, সে সময় সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল ১০ বছর বয়সী এক শিশু। মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি শিশুদের মতো গুলতি কিংবা ছুরিতে সশস্ত্র হয়েও নয়, অন্যান্য কয়েকজনের সঙ্গে নিরস্ত্র অবস্থায় সাইকেল নিয়ে অহিংস প্রতিবাদে নেমেছিল মুর্তজা কুয়েরিস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সম্প্রতি তাদের এক বিশেষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে সক্ষম হয়, সুদীর্ঘ নিপীড়ন ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তার মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। সবশেষে শান্তিপূর্ণ সরকার বিরোধিতার শাস্তি হিসেবে ওই শিশুর মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, তাকে ‘বিচারিক হত্যা’র বলি বানানোর অপেক্ষায় রয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এই মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে তৎপর হয়েছে সংস্থাটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরে গেছে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিন্দা আর প্রতিবাদে।
আরবের সর্বব্যাপী স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা, প্রবল জনবিরোধিতা আর ভয়াবহ দুর্নীতিগ্রস্ত রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে শুরু হওয়া গণজাগরণকে পশ্চিমা সাংবাদিকরা নাম দিয়েছিলেন আরব বসন্ত (আরব স্প্রিং)। তিউনিসিয়ার এক শিক্ষিত মুদি দোকানি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন, সেই আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল মিশর, সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ প্রায় সমগ্র আরব ভূখণ্ডে। এমনকী সৌদি আরবও বাদ যায়নি। ২০১১ সালে ‘আরব বসন্ত’র ঢেউ লেগেছিল সৌদি রাজতন্ত্রের জনবিরোধিতা ও তাদের  নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সেসময় দেশজুড়ে যে গণবিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল, তার অংশ হিসেবেই ১০ বছর বয়সী মুর্তজা তার বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে সাইকেলে চড়ে প্রতিবাদে নেমেছিল। সে অপরাধেই পরবর্তীতে তাকে রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। সৌদি আরবের দাবি, তারা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়েছিল।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভারী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলতি (ঢিল) আর ছুরি হাতে প্রায়শই নামতে দেখা যায় সেখানকার শিশু প্রতিবাদীদের। ওই শিশুদেরকে সন্ত্রাসী তমকা লাগিয়ে ‘বিচারিক সন্ত্রাস’ জারি রেখেছে সেখানকার জায়নবাদী সরকার। তবে ২০১১ সালে ১০ বছর বয়সে সৌদি শিশু মুর্তজা যখন প্রতিবাদে নেমেছিল, তখন তার হাতে কোনও গুলতি কিংবা ছুরি ছিল না। পায়ে একটি সাইকেল ছিল। সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-এ প্রচারিত সামাজিক মাধ্যমের এক ভিডিওতে দেখা যায়. সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের এক ধুলোমলিন রাস্তায় বাইসাইকেলে জড়ো হয়েছে একদল বালক। সাইকেলের পেডেলে পা রেখে প্রায় ৩০ বালকের ওই দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল ১০ বছর বয়সী মুর্তজা কুয়েরিস। মনে হচ্ছিল কোনও প্রতিযোগিতা করার জন্য জড়ো হয়েছে বালকের দল। সৌদি আরবের দাবি,  তারা সে সময় সরকারবিরোধী শ্লোগান দিচ্ছিলো। ঘটনার দায়ে  মুর্তজাকে আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
সাইকেল রাইডে ১০ বছর বয়সী কুরেইরিস ও তার বন্ধু-বান্ধব
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মুর্তাজাকে গ্রেফতার দেখায় সৌদি কর্মকর্তারা। সে সময় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়। মুর্তাজার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগগুলো হচ্ছে: সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া, আন্দোলন করতে গিয়ে নিহত হওয়া নিজ ভাইয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’তে যোগ দেওয়া, পুলিশ স্টেশনে ককটেল নিক্ষেপ ও গুলি চালানো। ২০১৬ সালের নভেম্বরে বিধিবহির্ভূত আটক নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ দল জানায়, এমন একজনকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন মুর্তজার সঙ্গে যার হুবহু মিল রয়েছে। তাকে অনেক শারীরিক নির্যাতন করে আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। ২০১৭ সালের মে মাসে তাকে প্রাপ্তবয়স্কদের কারাগার আল-মাবাবেখে স্থানান্তর করা হয়। তবে তখনও তার বয়স ছিলো ১৬ বছর। আটকাবস্থায় থাকার পুরোটা সময়জুড়ে তাকে কোনও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে তাকে বিশেষ আদালতের সামনে হাজির করার পর প্রথমবারের মতো আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায় মুর্তজা। ২০০৮ সালে মানবাধিকার কর্মী ও আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য এই বিশেষ আদালত গঠন করেছিল রাজতন্ত্রের শাসকরা।
মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণার পর এখন পরবর্তী বিচারকার্যের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়ে আছে মুর্তজা। অথচ সৌদি আরব জাতিসংঘের সেই সদস্য দেশগুলোর একটি যারা সংস্থাটির শিশু অধিকার বিষয়ক সনদে স্বাক্ষর করেছে। সেই সনদ অনুযায়ী, ’১৮ বছর বয়সের নিচে কাউকে তার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না’। তবে এ ধরনের সাজা দেওয়ার ঘটনা সৌদি আরবের জন্য নতুন কিছু নয়।  মুর্তজা ছাড়াও ২০১২ সালে আটককৃত আলি আল নিমর, আব্দুল্লাহ আল জাহের এবং দাউদ আল মারহুন নামে তিন কিশোরকেও ১৮ বছর হওয়ার আগের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মৃত্যুদণ্ড আদতে সরকারের শিয়াবিরোধী দমন অভিযানের অংশ। ২০১৫ সালে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এই শিয়াবিরোধী অভিযান জোরালো করেন, চলতে থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উৎখাত। গত এপ্রিলে এক শিয়া মতানুসারীসহ দুই শিশুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। শিয়া শিশু আব্দুল কারিমকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৬ বছর বয়সে আটক করা হয়েছিলো। একই দিনে তার সঙ্গে আরও ৪৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা জানায়, সৌদি সরকার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে রাজনৈতিক আন্দোলন দাবিয়ে রাখতে চায়।
সিএনএন প্রকাশিত বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুর্তজার বিচারে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। তাকে ক্রুশবিদ্ধ কিংবা শিরোশ্ছেদ করা হতে পারে। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনও খুনের অভিযোগ নেই। প্রসিকিউটরদের দাবি অনুযায়ী, দেশটির ইসলামি শরীয়াহ আইন মোতাবেক, ‘রাষ্ট্রদোহের বীজবপন’ সবচেয়ে বড় অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে সৌদি আরব ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তাদের মধ্যে ৫৪ জনের বিরুদ্ধে কোনও সহিংসতার অভিযোগ নেই। বেশিরভাগেরই শিরোশ্ছেদ করা হয়েছে। কখনও কখনও তা জনসমক্ষেই। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষণা পরিচালক লিন মালুফ বলেন, ‘কোনও সন্দেহ নেই যে সৌদি আরব নিজেদের জনগণের ওপর যেকোনও মাত্রায় চড়াও হতে পারে। এমনকি শিশু অবস্থায় আটককৃতদের মৃত্যুদণ্ড দিতেও তারা সদাসর্বদা প্রস্তুত।’
১০ বছর বয়সে আটক সৌদি কিশোর মুর্তজার মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণার বিপরীতে নিন্দায় ছেয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। টুইটারে সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন তারকা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, অ্যাকটিভিস্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। সৌদি আরবে মুর্তজাই সর্বকনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্দি। যু্ক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুলা জেব্রায়েল এক টুইটে বলেন, '১০ বছর বয়সে আটক শিশুকে এখন মৃত্যুদণ্ড দিতে চাইছে সৌদি আরব। দেশটির সর্বকনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্দি সে।' মাহমুদ মুরসালিন নামে এক জন টুইট করেন, 'কথিত অপরাধের সময় মুর্তজার বয়স ছিলো মাত্র ১০ বছর। গ্রেফতারের সময় ছিলো ১৩ বছর। তাকে কীভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়? আমার প্রশ্ন ইসলাম কি এটা সমর্থন করে?'  এছড়া এই মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবিতে অনলাইনে পিটিশন খুলেছেন অনেকে। চেঞ্জ ডট ওআরজিতে খোলা ওই পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন অনেকে। সেই লিংক টুইট করেও সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
১০ বছর বয়সী মুর্তজা কুরেইরিস

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িতদের বিরুদ্ধে রায়

তুরস্কে ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার সাথে জড়িতদের মামলার রায় দিয়েছে দেশটির একটি বিশেষ আদালত। এতে সামরিক বাহিনীর ২৪ জন জেনারেলকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছে। তাদের শাস্তির মেয়াদ আমৃত্যু কারাদণ্ড। অর্থাৎ তাদের মৃত্যু পর্যন্ত জেলেই কাটাতে হবে।
তবে তাদের মধ্যে আবার ১৭জনকে বিভিন্ন অভিযোগে ১৪১ বার করে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৪১টি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তাদের প্রত্যেকের জন্য। এই শাস্তিতে কোন জামিন বা প্যারোলে মুক্তির বিধান নেই। তুরস্ক ২০০২ সালে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিধান করে।
এদিন রায়ে মোট ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি ঘোষণা করা হয়। রাজধানী আঙ্কারার সিনকান কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন বৃহস্পতিবার। এদের মধ্যে কয়েক জন পলাতক আছেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সশস্ত্র বাহিনীকে বিপথগামী করা, প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টা ও ২৪৯ জনকে হত্যার অভিযোগে এই রায় দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
২০১৬ সালের ১৫ জুলাই রাতে তুরস্কে অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালায় সামরিক বাহিনীর একটি গ্রুপ। এই গ্রুপটির আদর্শিক নেতা যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন। অভ্যুত্থান প্রক্রিয়া শুরু হলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেয়া টিভিতে প্রচারিত প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের একটি বক্তব্যের পর রাস্তায় নেমে এসে জনতা এই সেনাদের প্রতিহত করে অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেয়।
রায়ে আজীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন তুর্কি বিমান বাহিনীর তৎকালীন কমান্ডার আকিন ওজতুর্ক। সরাসরি ঘটনাস্থলে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অভ্যুত্থান চেষ্টার। এছাড়া প্রেসিডেন্ট এরদোগানের তৎকালীন সামরিক উপদেষ্টাও আছেন শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে। গুলেনের পর এই দুজনকেই সে দিনের অভ্যুত্থান চেষ্টার নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সেনাপ্রধানকে বন্দী করে তারা সেনা সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। বিমান থেকে পার্লামেন্ট ভবনসহ কিছু জায়গায় বোমাও ফেলেছিল তারা; কিন্তু সাধারণ জনতা ও পুলিশের কিছু সদস্য তাদের প্রতিহত করে। রাস্তায় নেমে আসা সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক ও সাজোঁয়া যান ব্যর্থ হয় নিরস্ত্র জনতার স্রোতের মুখে।
লেফট্যানেন্ট কর্নেলসহ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ ২৬জন কর্মকর্তা আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি পেয়েছেন। এছাড়া ওই ঘটনার কিছুদিন আগে অবসরে যাওয়া ৪ জন মেজর জেনারেলও একবার করে আজীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। আলজাজিরা, আনাদোলু, ডেইলি সাবাহ

দিনে ৩৭০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন বিশ্বে

বিশ্বজুড়ে গত বছর বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ, নির্যাতন ও সংঘাতের কারণে এসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে ৭০ বছরের মধ্যে বাস্তুচ্যুতের এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালের শেষের দিকে সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতনের ফলে ঢলের মতো রোহিঙ্গারা এসে আশ্রয় নিতে থাকে বাংলাদেশে। ইউএনএইচসিআর তার বার্ষিক প্রতিবেদন গ্লোবাল ট্রেন্ডস-এ বলছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ৮ লাখ। এর মধ্যে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা মানুষের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ লাখ বেশি। ২০ বছর আগে যে রেকর্ড ছিল এক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটি দ্বিগুন হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে গড়ে ৩৭০০০ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
ইউএনএইচসিআরের হাই কমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি বলেছেন যুদ্ধ, সংঘাত ও নির্যাতন থেকে নিরাপত্তা প্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রবণতা নিশ্চিত হচ্ছে। শরণার্থী ও অভিবাসীদের ভাষা আলাদা হওয়া সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাচ্ছি আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের মধ্যে উদারতা ও সংহতি। তারা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে।
তবে শরণার্থীর এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে। কারণ, ভেনিজুয়েলা ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই। বিভিন্ন হিসাবে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভেনিজুয়েলাবাসীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। তাদেরকে যেসব দেশ আশ্রয় দিচ্ছে তাদের দেয়া হিসাবের ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলা হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ বাস্তুচ্যুত মানুষদের অন্যতম হয়ে উঠেছেন ওই দেশের শরণার্থীরা।
বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করেছে ইউএনএইচসিআর। এর প্রথমটি হলো, ওই সব মানুষ, যারা সংঘাত, যুদ্ধ অথবা নির্যাতনের কারণে নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৮ সালে এই শ্রেণির বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই কোটি ৫৯ লাখ। ২০১৭ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৫ লাখ বেশি। এর মধ্যে রয়েছেন ৫৫ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী। দ্বিতীয় গ্রুপে রয়েছেন ৩৫ লাখ আশ্রয়প্রার্থী। এরা হলেন সেইসব মানুষ, যারা তাদের জন্মভূমির বাইরে এবং তারা আছেন আন্তর্জাতিক প্রটেকশনে। তবে তাদের শরণার্থীর মর্যাদা এখনও গৃহীত হয় নি। তৃতীয় গ্রুপে আছে আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ (আইডিপি)। এসব মানুষ নিজের দেশের ভিতরেই বাস্তুচ্যুত। তাদের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার।
বিশ্বজুড়ে মোট যে পরিমাণ শরণার্থী রয়েছেন তার মধ্যে কমপক্ষে দুই তৃতীয়াংশ সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়ার। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি শরণার্থী সিরিয়ার। তাদের সংখ্যা ৬৭ লাখ। এর পরে রয়েছে আফগানিস্তান। সেখানকার শরণার্থী ২৭ লাখ। ২০১৮ সালে মাত্র ৯২ হাজার ৪০০ শরণার্থীর আশ্রয়ের মীমাংসা হয়েছে। এখনও থিতু হতে পারেন নি অথবা এখনও সমাধানের অপেক্ষায় আছেন যেসব শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী এ সংখ্যা তার শতকরা ৭ ভাগেরও কম।
২০০৯ সালে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩৩ লাখ। সেখান থেকে ক্রমশ এই সংখ্যা বাড়ছেই। বিশেষ করে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সিরিয়া যুদ্ধে এই সংখ্যা ফুলে ফেঁপে ওঠে। এ ছাড়া অন্যান্য স্থানে চলমান যুদ্ধও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। যেমন ইরাক ও ইয়েমেন। এ ছাড়া রয়েছে কঙ্গো, দক্ষিণ সুদানের সংঘাত।

'আরকিউ-৪এ ভূপাতিত হওয়ায় আমেরিকার বড় মাপের ক্ষতি হয়েছে'

মার্কিন চালকহীন বিমান আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ভূপাতিত করার মধ্য দিয়ে আমেরিকার বড় মাপের ক্ষতি হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি মার্কিন চালকহীন বিমান ভূপাতিত করাকে কেন্দ্র করে এ মন্তব্য করেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা ।
গত প্রায় দেড় যুগ ধরে আকাশ থেকে গোয়েন্দা তৎপরতা চালালেও এই প্রথমবার এটিকে ভূপাতিত করা হলো। মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস এ প্রসঙ্গে লিখেছে, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরকিউ-৪এ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় হতচকিত হয়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। গোয়েন্দা তৎপরতার জন্য তৈরি এ চালকহীন বিমানকে এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রকে ফাঁকি দেয়ার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছিল।
পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক ইউরোপীয় পরিষদের ড্রোন বিশেষজ্ঞ উলরিকা ফ্রাংক বলেছেন, এটি একবার ব্যবহার উপযোগী কম দামের চালকহীন বিমান নয় যে এর ভূপাতিত হওয়ার ক্ষতি সহজে ভুলতে পারবে না আমেরিকা। তিনি এ চালকহীন বিমানকে 'উড়ন্ত ডাটা' সংগ্রহকারী হিসেবে অভিহিত করেন।
ভূপাতিত হওয়ার ক্ষতি কেনও আমেরিকা ভুলতে পারবে না সে কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। কেবল দামি বলেই এটি হারানোর ক্ষতি ভুলতে পারবে না আমেরিকা তা নয় বরং এটি অনেক উঁচু দিয়ে ওড়াওড়ি করে। এতে অনেক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায় আরকিউ-৪এ। কিন্তু ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শ্যেন চক্ষু ফাঁকি দিতে শোচনীয় ভাবে ব্যর্থ হয়েছে এটি সে দিকে ইংগিত করেই এ কারণ তুলে ধরেন তিনি।
এরই মধ্যে এ ড্রোন ইরাক, আফগানিস্তান, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশে আড়াই লাখ ঘণ্টার বেশি উড়েছে। আরকিউ -৪এ'র নির্মাতা সংস্থা নর্থথ্রোপ গুরুমম্যানের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রতিটি আরকিউ-৪এ'র দাম প্রায় ১২কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ লকহিড মার্টিনের তৈরি করা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ লাইটেনিং ২'এর চেয়েও এর দাম পড়ছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি।
৪৭ ফুট লম্ব জেট-পরিচালিত আরকি-৪এ'র ডানার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ ফুট। বোয়িং বিমানের চেয়ে বড় ডানাওলা এ ড্রোন ৬৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি উড়তে পারে। গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নেয়ার জন্য এতে বসানো থাকে অত্যাধুনিক এবং স্পর্শকাতর নানা যন্ত্র।
মার্কিন ড্রোন ঘাতক রা'দ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা

দ্রুত পানিশূণ্য হয়ে পড়ছে ভারত

রাজধানী নয়াদিল্লী, ব্যাঙ্গালুরু, চেন্নাই এবং হায়দ্রাবাদসহ ভারতের অন্তত ২১টি শহরে ২০২০ সালের মধ্যে ভূ-গর্ভস্থ পানি শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে পানি সঙ্কটের মুখে পড়বে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষ।
ভারতের নিউজ নেটওয়ার্ক এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ খাবার পানি পাবে না। দেশের প্রধান পরিকল্পনা সংস্থা – ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়ার (নিতি আয়োগ) এক রিপোর্টে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ পরিবর্তনের ব্যপারে অন্যতম একটা উদ্বেগজনক ভবিষ্যদ্বানী হলো দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের হার কমে যাবে। গত পাঁচ বছরে, এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত গড়ের চেয়ে কমে গেছে। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ৮৬ শতাংশ কম হয়েছে।
এ বছরের বর্ষা মওসুম বিলম্বিত হওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রলম্বিত তাপপ্রবাহের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অন্ধ প্রদেশ থেকে নিয়ে বিহার পর্যন্ত মওসুমি মেঘের বিলম্বের কারণে প্রতিদিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে।
চেন্নাইয়ে পানি নেই
তামিল নাড়ুর চেন্নাই শহর এখন কার্যত পানিশূণ্য। গত ১০ দিনের মধ্যে নয়দিনই এখানকার তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। ১০ জুন তামপাত্রা ছিল ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুনে এই শহরের গড় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ রেকর্ড হলো ৪৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দক্ষিণ তামিল নাড়ুতে বহু মিলিয়ন মানুষকে পানিবাহী ট্রাকের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। এই রাজ্যে গত বছর মওসুমী বৃষ্টিপাত ৬২ শতাংশ কম হয়েছে।
তামিল নাড়ুর মৎস মন্ত্রী ডি জয়কুমার বলেছেন, ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের ঘাটতির কারণে যে শূণ্যতা তৈরি হয়েছে, সেটা পূরণের চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, উত্তরপূর্বাঞ্চলের মওসুম পর্যন্ত সরকার এই সঙ্কট সামলাতে পারবে। এই মওসুমে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্য বৃষ্টিপাত হয়।
মন্ত্রী বলেন, চেন্নাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় ৪০০টি পানির গাড়ি ৯০০০ ট্রিপ দিয়ে পানি সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, “এমন একটা সময়, যখন এমনকি প্রকৃতিও তাদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না, সেখানে আমরা মেত্তুর থেকে নিয়ে ভিরানাম পর্যন্ত বিভিন্ন লেক থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট পানি তুলছি এবং সেখান থেকেই শহরে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে”।
২০১৭ সালে উত্তরপূর্ব মওসুমের বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং ২০১৮ সালে এক মওসুমে বৃষ্টিপাত প্রায় না হওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানির লেভেল অনেক নেমে গেছে এবং বড় বড় পানির উৎসগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। চেন্নাইয়ের আশেপাশের চারটি প্রধান লেক – চেম্বারাম্বাক্কাম, পুনডি, রেড হিলস ও শোলাভারাম – সবগুলোই প্রায় শুকিয়ে গেছে।
ভারতের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশই কৃষির উপর নির্ভর করে। জমি চাষের জন্য যে পানির দরকার, এর মধ্যে ৭৫ শতাংশই আসে দক্ষিণপশ্চিম মওসুম থেকে। রিজার্ভগুলোতে যে পানি সংরক্ষণ করা হয়, সেটা চাষের জন্য এবং পানের জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না এবং নলকূপ বসিয়ে পানি উঠানোটা এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন পানি সঙ্কট মন্ত্রণালয়
ক্রমবর্ধমান পানি সঙ্কট মেটানোর জন্য ভারত সরকার নতুন একটা মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। দেশের ১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ খামার ও মওসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল।
ভারতের প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোভিন্দ বলেছেন, নতুন গঠিত মিনিস্ট্রি অব ওয়াটার পাওয়ার পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করবে। রয়টার্স বার্তা সংস্থা বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
কোভিন্দ পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন যে, পানি সংরক্ষণের প্রথাগত সিস্টেম হারিয়ে গেছে কারণ পুকুর ও লেকগুলো বাড়ি নির্মাণের জন্য ভরাট করা হয়েছে।

অকেজো কিডনি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন তুরিন আফরোজের মা

তুরিন আফরোজ ও তার মা শামসুন নাহার তসনিম
৬০ শতাংশ অকেজো কিডনি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের গর্ভধারিণী মা শামসুন নাহার তসনিম। তার অভিযোগ, দুই বছর তিন মাস ঊনিশ দিন ধরে তিনি তার নিজ বাসার বাইরে। স্বামী মারা যাওয়ার আঠারো দিন পর মেয়ে তুরিন আফরোজ তাকে উত্তরার নিজ বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তুরিন আফরোজের বৃদ্ধা অসুস্থ মা শামসুন নাহার তসনিম। এ সময় তুরিন আফরোজের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশিরও উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের মা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার ৬০ শতাংশ কিডনি অকেজো। এ অবস্থায় বাড়ি ভাড়ার টাকাসহ চিকিৎসার টাকাও নিয়ে গেছেন তার মেয়ে।
শামসুন নাহার তসনিম বলেন, ‘আজ দুই বছর তিন মাস ঊনিশ দিন আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার আঠারো দিন পরে তুরিন আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। আমার দোষ তার (তুরিন আফরোজ) কিছু অনৈতিক আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন- আমাদের ভাড়াটিয়াদের থেকে সবসময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়িভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার, ওষুধ খরচ চলতো। এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়। অপরিচিত লোকদের রাত-বিরাত ঘরে প্রবেশ নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে তার সঙ্গে প্রায়ই লাগতো (ঝগড়া)। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে ডিজিএফআই, র‌্যাব, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ভয় দেখাতো এবং বলতো ওরা সবাই তার বন্ধু। কোনো কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করার ভয় দেখাতো। আমি তো ধারা বুঝি না। আরও বলতো, পৃথিবীর যেখানেই থাকো সেখান থেকেই ধরে নিয়ে আসবো।’
তিনি বলেন, গানম্যান দিয়ে ভয় দেখাতো তুরিন। গ্রামের বাড়ি নীলফামারী যেতে পারি না, সে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে জমিজমা ও বাড়ি নিজের নামে কুক্ষীগত করেছে। প্রতিবাদ করলে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম করেও হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এসব জানাতে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে ব্যর্থ হই। ভেবেছিলাম তিনি একজন মা। ওনার ঘরে এমন হলে উনি কী করতেন? আমরা জানি উনি অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেবেন না। আমি চাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। আমি আজ মিডিয়ার মাধ্যমে ওনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমার শরীর ভীষণ খারাপ। ৬৫ শতাংশ কিডনি অকেজো (এই বলে কাঁদতে থাকেন তিনি)। সঙ্গে আবার ডায়াবেটিসও। ওষুধ কেনার পয়সা বাড়িভাড়া থেকে পেতাম সেটাও সে কেড়ে নিয়েছে। দেশে থাকার জায়গা নেই এখানে-সেখানে থেকে বেড়াই। আমি আমার দেশ ছেড়ে এ বয়সে কেন বিদেশে পড়ে থাকবো? এ দেশ আমার জন্মস্থান ও আমার ৪৮ বছরের সংসার। আমি তো এখানেই থাকতে চাই। আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
তুরিনের ভাই শাহনেওয়াজ শিশির বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আমাকে এবং আমার মাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে আসছে। তার কারণ একটি আর তা হলো, দেশে আমাদের সম্পদ কুক্ষীগত করা। চক্ষু লজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল করে রেখেছি। আমি ও আমার অভাগিনী মা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাইনি। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমার বাসা থেকে আমাদের বের করে দেয়ার পরও রাজউক কর্তৃক কর ও ভূমি কর আমি নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার অনুপস্থিতিতে নিজ স্বার্থ কাজে লাগিয়ে তুরিন আফরোজ ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে সংবিধানবহির্ভূত কাজে বাধ্য করে আমাদের মা-ছেলের ক্ষতি করছে। ব্যারিস্টার তুরিন শুধু ঢাকাতেই নয় নীলফামারীতেও আমাদের চাচাতো ভাই ও বোনদের জমিজমা জিম্মি করে রেখেছে।’
তাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, নিজের বাড়িতে ঢুকতে না পেরে আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মা ও ভাই। মা শামসুন নাহার তসনিম ও ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশিরকে বাড়িতে ঢুকতে না দেয়ায় গত ১৪ জুন তুরিনের বিরুদ্ধে এ জিডি করা হয়।
এর আগেও ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে থানায় জিডি (জিডি নম্বর- ১১৮৮) করেছিলেন তার মা। এছাড়া গত ১ জানুয়ারি ঢাকার প্রথম যুগ্ম জজ আদালতে বাড়ি দখলের অভিযোগে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ২ মার্চ পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মা শামসুন নাহার এবং অন্য ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে বের করে দেন তুরিন আফরোজ। নিজেকে বাড়ির মালিক দাবি করে তুরিন বাড়ি ও জমির দলিলপত্রও দখলে নেন।

উত্তর কোরিয়া: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কারা সাহায্য করছে?

চীনের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শী জিনপিং প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া সফর করছেন। শি গত ১৪ বছরের উত্তর কোরিয়া সফর করা প্রথম কোন চীনা রাষ্ট্রনেতা।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে যে, কোরিয়ান উপদ্বীপের উত্তেজনা নিয়ে উভয়পক্ষ আলাপ আলোচনা করবে। যদিও চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক সহযোগী দেশ।
অনাবৃষ্টি আর মন্দা ফসলের কারণে জরুরি ভিত্তিতে উত্তর কোরিয়ার খাদ্য সহায়তা দরকার।
সুতরাং, কারা এখন তাদের সহায়তা করতে যাচ্ছে? আর পিয়ংইয়ংয়ের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার ওপরে তার কী প্রভাব পড়বে?
তীব্র ঘাটতি
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, দেশটি গত কয়েক দশকের ভেতর সবচেয়ে বেশি খরার মধ্যে পড়েছে।
জাতিসংঘ ধারণা করছে, প্রায় এক কোটি মানুষ- যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অন্তত ৪০ শতাংশ, তারা বড় ধরণের দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে চলেছে।
জাতিসংঘের একটি হিসাব মতে, উত্তর কোরিয়ার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য প্রতিদিন মাত্র ৩০০ গ্রাম খাবার বরাদ্দ থাকে।
১৯৯০ সালের দিকে ভয়াবহ একটি দুর্ভিক্ষে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
কারা সাহায্য পাঠাচ্ছে?
চীন অবশ্যই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় দাতা দেশ, কিন্তু ঠিক কতটা ব্যাপকভাবে তারা সাহায্য করে, সেটা নির্ণয় করা কঠিন।
কারণ জাতিসংঘের বাইরে গিয়েও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে চীন উত্তর কোরিয়াকে সাহায্য করে থাকে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে চীন ২ লাখ ৪০ হাজার টন খাদ্য সাহায্য পাঠিয়েছিল, যা ইউরোপীয় কমিশনের পাঠানো সাহায্যের প্রায় আশি গুণ বেশি।
২০১৬ সালে বেইজিং ঘোষণা দিয়েছিল, তারা উত্তর কোরিয়ার জন্য তিন মিলিয়ন ডলার মূল্যের মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে যাচ্ছে। দেশটি বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করতে না পারায় চীন ওই ঘোষণা দিয়েছিল।
মার্কিন কংগ্রেসে ২০১৪ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ''চীন, যাদের বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় খাদ্য সহায়তাকারী দেশ বলে মনে করা হয়, কিন্তু তাদের ওপর এ বিষয়ে কোন নজরদারির ব্যবস্থা নেই।''
অন্য দেশগুলো জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা করে থাকে।
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ সংকট মোকাবেলায় ১২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এ সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে যে, জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচীর মাধ্যমে তারা ৫০ হাজার টন চাল উত্তর কোরিয়ায় পাঠাবে।
জুনে যে ৮ মিলিয়ন ডলারে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, এই সাহায্য তার বাইরে।
রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ৪ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত হিসাবে ৪ হাজার টন গম পাঠাবে।
জাতিসংঘের অনুরোধে সাড়া দিয়ে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, কানাডা, নরওয়ে, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
উত্তর কোরিয়ার ওপর বর্তমানে যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে মানবিক সহায়তার ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।
তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক হ্যাজেল স্মিথ।
তিনি বলছেন, ''২০১৬ সালের জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার কাছে তেল বা গ্যাস ভিত্তিক দরকারি কৃষি সরঞ্জাম বিক্রির ওপর নিষেধ রয়েছে, যার ফলে দেশটিতে সার, কীটনাশক বা সেচের মতো কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।''
''তেল নির্ভর সরঞ্জামের অভাবে উৎপাদনের হার কমে যায় এবং অনেক কম খাদ্য উৎপাদিত হয়।''
দাতা সংস্থাগুলো বলছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
এ মাসেই ফিনিশ একটি দাতব্য সংস্থা তাদের খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচী আগেভাগেই বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ তারা বলছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা 'অসম্ভব' হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাহায্য কমে যাওয়া
গত কয়েক দশক ধরে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বাকি বিশ্বের কূটনৈতিক দূরত্বের কারণে সাহায্যের পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছে।
২০১২ সালে জাতিসংঘ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার জন্য যতখানি তহবিল দরকার আর যে পরিমাণ অর্থ সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে ফারাক বেড়েই চলেছে।
সেই সঙ্গে জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচীর খাবার সরবরাহের সংখ্যাও কমছে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উত্তর কোরিয়ায় সরকারিভাবে বা এনজিওর মাধ্যমে সাহায্য পাঠানোর হার ছিল সামান্য। তবে বর্তমান সংকটের দেশটি থেকে অনেক মানবিক সহায়তার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি সহায়তাকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
২০১৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার পাওয়া খাদ্য সহায়তার অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেয়া হয়েছে।
এরপরেও বিক্ষিপ্তভাবে উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করা হয়েছে। কিন্তু দেশটির পারমাণবিক আর মিসাইল পরীক্ষার কারণে সেই সহায়তার হার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০১৭ সালে, প্রায় ছয় বছর পর, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপক বন্যার সময় দেশটির জন্য সহায়তা হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র এক মিলিয়ন ডলার ইউনিসেফকে দিয়েছে।

মিয়ানমারের ২০০ বৌদ্ধ শরণার্থীকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত

মিয়ানমারের অন্তত ২০০ বৌদ্ধ শরণার্থীকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত। মিজোরাম সরকারের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিব লালবাইয়াকজামা গত বুধবার আইজলে সাংবাদিকদের জানান, ভারত সরকার বৌদ্ধধর্মাবলম্বী মিয়ানমারের নাগরিকদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম থেকে চলতি মাসেই তাদের ফেরত পাঠানোর কথা। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের দুই শতাধিক বৌদ্ধ শরণার্থী মিজোরামে বসবাস করছে। রোহিঙ্গাদের মতো তারাও শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়।
চলতি মাসের প্রথম দিকেই এ বিষয়ে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠায় বলে জানান লালবাইয়াকজামা। সেই নির্দেশের ফলে জুন মাসেই তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
মিজোরামের লৌংতলি জেলার মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এই জেলার সঙ্গে বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমারের সীমান্তও রয়েছে মিজোরামের। লৌংতলির জেলা শাসক শশাঙ্ক আলাও সাংবাদিকদের জানান, মিয়ানমারের শরণার্থীদের পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই তাদের ফেরত পাঠানো হবে।
গত বুধবার আট রোহিঙ্গা কিশোরীকে উদ্ধার করেছে মিজোরাম পুলিশ। তাদের দাবি, এই আটজনকে পাচারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাদের কাছে কোনো বৈধ নথিপত্র না থাকায় আটক করা হয়।
মিজোরামের উত্তরাঞ্চলের ডিআইজি এল খিয়াংতে জানান, বাংলাদেশের সাবুলায়ারা এলাকার কুতুপালং শরণার্থীশিবির থেকে ১৯ এপ্রিল ওই আটজন মেয়েকে ভারতে নিয়ে আসে পাচারকারীরা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চম্পাই জেলা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাদের সমাজকল্যাণ দপ্তরের আবাসিক গৃহে রাখা হয়েছে।
তবে পাচারকারীদের বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য জানায়নি। খিয়াংতে জানান, পাচারকারী চক্রকে ধরার স্বার্থে এখনই কিছু বলতে চান না তাঁরা​।

‘ডপকি’ শারমিনে যে ক্ষোভ সিলেটে by ওয়েছ খছরু

নাম শারমিন। ওরস গানের জগতে নাম ‘ডপকি’ শারমিন। গান গাইলে হাতে থাকে ডপকি। নিজেও বাজান ডপকি। এ কারণে নাম দেয়া হয়েছে ডপকি শারমিন। এই ডপকি শারমিনকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সিলেটের বাউলদের মধ্যে কানাঘুষার অন্ত নেই। দেখা দিয়েছে ক্ষোভও। গানে ‘বিতর্কিত’ বিষয় তুলে  আনায় তার বিরুদ্ধে ক্ষেপেছেন কেউ।
ডপকি শারমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিলেটের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে গত বুধবার স্মারকলিপি দিয়েছেন বাউল কল্যাণ ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ফকির শাহ তোফাজ্জুল হুসেন ভাণ্ডারি। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরেরও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ডপকি শারমিন সিলেটের উরস উপলক্ষে আয়োজিত গানের আসরে এক পরিচিত নাম। মাজারকেন্দ্রিক গানের আসর হলেই ডাক পড়ে তার। এ কারণে অনেকের কাছে তিনি পরিচিত। মূল বাড়ি নরসিংদীতে। পিতার সূত্র ধরে অনেক দিন তারা মৌলভীবাজারে বসবাস করেছেন। তার আরেক বোন নার্গিসও গান গাইতেন। বেহায়াপনার গানের জন্য নার্গিসও বিতর্কিত হন মৌলভীবাজারে। সিলেটের বাউল সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, ডপকি শারমিন এখন মৌলভীবাজার ছেড়ে নরসিংদীতে চলে গেছেন। গত এক বছর ধরে সিলেটের উরসে এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামে গান গাইতে আসেন ডপকি শারমিন। প্রায় সময় তাকে নিয়ে নানা কথা-বার্তা শোনা যায়। সর্বশেষ গত ১৫ই জুন প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর পয়েন্টে রুবেল সাউন্ড সিস্টেমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে শিল্পী হিসেবে দাওয়াত দেয়া হয় ডপকি শারমিনকে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউল কল্যাণ সমিতি, সিলেট বিভাগীয় সভাপতি কামাল উদ্দিন রাসেল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর গান গাইতে উঠেন ডপকি শারমিন। এ সময় তিনি ধর্মীয় বিতর্কিত বিষয় নিয়ে গান গাওয়া শুরু করেন। একই সঙ্গে মঞ্চে অশ্লীলতা শুরু করেন বলে জানিয়েছেন বাউল কল্যাণ সমিতি, সিলেট বিভাগীয় সভাপতি কামাল উদ্দিন রাসেল। তিনি উপস্থিত থাকায় ডপকি শারমিনকে বিতর্কিত বিষয় নিয়ে গান পরিবেশন না করার আহ্বান জানান। এ নিয়ে অনুষ্ঠানে কিছুটা হট্টগোল দেখা দেয়। পরে রাত ২টার দিকে অশ্লীলতার অভিযোগ থাকায় জগন্নাথপুরের প্রশাসন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। এদিকে, অনুষ্ঠানের পর থেকে ডপকি শারমিনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলেন সিলেটের বাউলরা। এই আলোচনার ফাঁকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কারণে ডপকি শারমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বাউল কল্যাণ ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ফকির শাহ তোফাজ্জুল হুসেন ভাণ্ডারি এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- ‘ডপকি’ শারমিন সিলেটের বিভিন্ন মাজার, উরস ও স্টেজ অনুষ্ঠানে গানের নামে দেওয়ানবাগীর বিতর্কিত মতবাদ প্রচার করে যাচ্ছেন। এতে সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ডপকি শারমিনের সিলেটে আসা এবং গান গাওয়া থেকে বিরত রাখারও অনুরোধ জানানো হয়। বাউল কল্যাণ সমিতি সিলেট বিভাগীয় সভাপতি কামাল উদ্দিন রাসেল গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জগন্নাথপুরের অনুষ্ঠানে গিয়ে আমি তার সম্পর্কে জানতে পারি। এবং তার বিতর্কিত মতবাদ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। বিষয়টি আমি গানের মাধ্যমে শোনার পর আহত হয়েছি। ডপকি শারমিনের বিরুদ্ধে তারা শিগগিরই মামলা দায়ের করবেন বলে জানান। এরই মধ্যে তিনি মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। বাউলরা জানিয়েছেন- মৌলভীবাজার, নবীগঞ্জ, সিলেটের শেরপুর, গোয়ালাবাজার, বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ডপকি শারমিনের নিয়োজিত এজেন্টরা রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই ডপকি শারমিন সিলেটে আসে। এবং তার মতবাদ প্রচার করে। যা নিয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে জগন্নাথপুরের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে কামাল উদ্দিন রাসেল তার নিজের ফেসবুক আইডিতে ওই দিনের ঘটনা তুলে ধরেছেন। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি শুধু কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে যাইনি, এসব অনুষ্ঠান থেকে আমার অনেক কিছু জানার বা শিখার আছে সেই আগ্রহ নিয়ে আমি এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হই। এই শিল্পী গান পরিবেশনের ফাঁকে ফাঁকে কাপড় তুলে দর্শকদের কী দেখাতে চায় তাও বুঝলাম না। সেই আগ্রহ নিয়ে আমি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলাম। বাউল শিল্পী নামধারী ডপকি শারমিন আসলে কে? সে কার মিশন বাস্তবায়ন বা প্রচার করতে বাউল গানকে বেছে নিয়েছে তা আমি প্রমাণসহ আপনাদের সামনে যেকোনো সময় তুলে ধরবো ইন্‌শাআল্লাহ।’ স্ট্যাটাসে তিনি আরো উল্লেখ করেন- আমি জানি, তার নিজ মুখে যে বক্তব্য দিয়েছে এবং যার প্রশংসা করে তার নাম প্রচার করেছে তাকে উপমহাদেশের গোটা আলীম সমাজ কাফির ফতোয়া দিয়েছে। সে আসলেও আমার দৃষ্টিতে কাফের, আর ডপকি শারমিন হলো সেই কাফেরের অনুসারী। সে কি করে বাউল শিল্পী হয় তা আমার বুঝে আসছে না। এই অনুষ্ঠানে তাকে আমি সর্বপ্রথম দেখি ও সে আসলে কে তাও আমি জানতে পেরেছি।’ তার পোস্টের জবাবে সিলেটের অনেক বাউল শিল্পী এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।

ব্যাংক থেকে এত টাকা গেল কোথায় by সানাউল্লাহ সাকিব

একদিকে বিশাল অঙ্কের বাজেট, অন্যদিকে টাকাশূন্য ভল্ট। একদিকে ব্যয়ের ব্যাপক আয়োজন, অন্যদিকে টাকার জন্য হাহাকার। এ রকম এক বিপরীত অবস্থার মধ্য দিয়েই নতুন অর্থবছরের জন্য নতুন বাজেট দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রাণ নেই ব্যাংক খাতে। বিনিয়োগের জন্য নেওয়া শিল্পঋণ যেখানে পুরোটাই ব্যাংক খাতনির্ভর, সেখানেই চলছে তীব্র অর্থসংকট। সবার মনেই প্রশ্ন, তাহলে ব্যাংকের এত টাকা গেল কোথায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণের টাকা ফেরত আসছে না ব্যাংক খাতে, খেলাপি ঋণ কেবল বাড়ছেই। পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের টাকা। এতে আস্থার অভাবে নতুন আমানত আসছে না এখানে। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাত এখন মহাবিপদে।
বাংলাদেশ অটোরি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস সমিতির চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেনেরও একই প্রশ্ন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমার অবাক লাগে, আসলে টাকা যাচ্ছে কোথায়। সরকারের এটা খুঁজে দেখা উচিত। কালোটাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।’
দেশের অর্থনীতি এখন বেসরকারি খাতনির্ভর। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও মূল ভরসা তারা। অথচ ব্যাংক খাতে নগদ অর্থ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। নতুন ঋণ পেতে যেমন সমস্যা হচ্ছে, আবার তা পেলেও সুদহার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর পুরোনো উদ্যোক্তারাও ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে পারছেন না চাহিদামতো টাকা ও ডলারের অভাবে।
ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ীরা চাইলে ঋণ পাচ্ছেন কি না, জানতে চাইলে মানোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘না। বড় বা মাঝারি, কেউই টাকা পাচ্ছে না। আমরা চলতি মূলধনও পাচ্ছি না। এটা সত্যিই একটা গুরুতর পরিস্থিতি।’ অর্থনীতি সচল থাকলে, উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটলে তবেই রাজস্ব খাতে আদায় বাড়ে। কিন্তু ব্যাংক খাত সংকটে পড়ায় এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এই ব্যাংক খাত চাঙা করাই হবে নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান এ নিয়ে বলেন, ব্যাংকে ঋণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে সেটার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি গত ডিসেম্বর থেকে কমছে। সুদের হার বাড়ছে। এসব দিক বিবেচনায় অর্থনীতি একটু কঠিন অবস্থায় আছে বলা যায়। তিনি মনে করেন, বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে আগামী বাজেটেই বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
সুদহারে বিশৃঙ্খলা
টাকার সংকটে এখন আমানতের পেছনে ছুটছেন বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ থেকে শাখা পর্যায়ের ব্যাংকাররা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি ব্যাংক থেকে টাকা ধার করেই দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো।
ব্যাংকগুলোর মে মাসভিত্তিক তারল্য পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ছাড়া হাতে গোনা কয়েকটি ব্যাংকের হাতে বিনিয়োগ করার মতো টাকা আছে। এমন পরিস্থিতিতে তারল্য সংগ্রহে রীতিমতো আগ্রাসী আচরণ করছে কোনো কোনো ব্যাংক। যেমন সাড়ে পাঁচ বছরে টাকা দ্বিগুণ করার আশ্বাসে আমানত সংগ্রহ করছে বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক)। যাতে সুদহার পড়ছে ১৪ শতাংশের বেশি। অথচ টাকা দ্বিগুণ করতে নয় বছর সময় নিচ্ছে বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংক, যাতে সুদহার পড়ছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ফলে একই বাজারে কেউ ৭ শতাংশ, আবার কেউ ১৪ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণের সুদহার প্রতিনিয়ত বাড়ছেই, যা ১৬-১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকেছে।
ব্যাংক খাতের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তারল্যের ২৬-২৭ শতাংশ সঞ্চয়পত্রে চলে গেছে। বেশি সুদ ও কর ছাড়ের কারণে সবাই সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন। আবার আমদানি যে হারে বাড়ছে, সে হারে রপ্তানি বাড়েনি। এ কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। আবার খেলাপি ঋণের কারণে অনেক টাকা আটকা পড়েছে। বর্তমান যে তারল্যসংকট চলছে, তা দূর করতে খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। পাচার করা টাকা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগে করতে হবে।
*একই বাজারে কেউ ৭ %, কেউ ১৪% সুদে আমানত নিচ্ছে।
*এতে ঋণের সুদহার ১৬-১৭% পর্যন্ত ঠেকেছে।
*প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রাণ নেই ব্যাংক খাতে।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
ঋণ পাচ্ছে কারা
ব্যাংকগুলোর খাতভিত্তিক ঋণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন বছরে নির্মাণশিল্প ও ঠিকাদারদের কাছেই সবচেয়ে বেশি ঋণ গেছে। সরকারের মেগা প্রকল্পে যেসব ঠিকাদার কাজ করছেন, তাঁরাই মূলত ঋণ পাচ্ছেন। ব্যাংকগুলোও এসব ঋণে আগ্রহী, কারণ সহজেই সরকারি বিলের টাকায় এসব ঋণ শোধ হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে নির্মাণশিল্প ও ঠিকাদারদের কাছে ঋণ ছিল ৪৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে যা বেড়ে হয় ৫৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা। ২০১৮ সাল এসব খাতে ঋণ বেড়ে হয়েছে ৬১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়কের চার লেনসহ বেশ কয়েকটি বড় নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। আবার জেলা পর্যায়েও বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব অনেক প্রকল্পের সরাসরি ঠিকাদার বিদেশি হলেও স্থানীয় ঠিকাদারেরা বেশির ভাগ কাজ করছেন। আবার স্থানীয়রা সরাসরি অনেক কাজ করছেন। তাঁরাই এখন ব্যাংকের মূল গ্রাহক।
ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সব ব্যাংকই ঠিকাদারদের ঋণ দিতে আগ্রহী। কারণ, সরকারি প্রচুর কাজ হচ্ছে। সরকারি বিল হলেই ঋণ শোধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ঠিকাদারই এর সঙ্গে যুক্ত।
আবারও করের টাকা ব্যাংকে
বেসরকারি ব্যাংকে টাকা নেই, আর সরকারি ব্যাংকের নেই পর্যাপ্ত মূলধন। ফলে সরকারি ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে প্রায় করের বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ২২ হাজার কোটি টাকা। আর এসব ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছরই দেওয়া হচ্ছে জনগণের করে টাকা। গত ছয় বছরে এভাবে দেওয়া হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ও বেসিক ব্যাংকই পেয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও তার আগের ১০ বছরে এ ব্যাংকগুলোকে দিতে হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের মতো আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ও ব্যাংকগুলোর জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দর্শকের ভূমিকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাংক খাতের তীব্র এই সংকটের সময়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। উপরন্তু ঋণ খেলাপিদের সুবিধা দিতে দফায় দফায় নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে ১১টি শিল্প গ্রুপের ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত করার বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুটি গ্রুপ ছাড়া আর কেউ টাকা পরিশোধ করেনি।
সামগ্রিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থাও। ফলে নানা ধরনের অনিয়ম করেও শাস্তি পাওয়ার উদাহরণও কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংক খাতে অনেক সমস্যা চলছে। এ জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে হলেও একটা ব্যাংক কমিশন করা যেতে পারে। এভাবে ব্যাংক খাতের সমস্যার সমাধান হতে পারে।

তীব্র পানি সংকটে অচল হয়ে পড়েছে চেন্নাই

তীব্র পানি সংকটে ভুগছে চেন্নাইবাসী। সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে গেছে ভারতের ষষ্ঠ জনবহুল শহরটির প্রধান চারটি জলাধার। প্রকট এই সংকট সমাধানে জরুরি সমাধান খুঁজছে শহর কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো আশা জাগানিয়া পদক্ষেপ নিতে পারেনি তারা। কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে চেন্নাইকে এই সংকট থেকে বাঁচাতে পারে কেবলমাত্র বৃষ্টি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতের ষষ্ঠ জনবহুল শহর চেন্নাই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সেখানে চলছে এই পানি সংকট। শহরবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরকারি ট্যাংক থেকে পানি পাওয়ার আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
পানির অভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বহু রেস্টুরেন্ট।
শহরের জলাধারগুলো যখন শুকাতে শুরু করে তখনই সাময়িকভাবে বন্ধ কর দেয়া হয় ব হু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। এ ছাড়া, রেলস্টেশনগুলোতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এয়ারকন্ডিশন ব্যবস্থা। পানি খরচ কমাতে অনেক অফিসের কর্মীদের বাড়িতে বসেই কাজ করতে বলা হয়েছে।
চেন্নাইয়ের আইটি কর্মীদের এক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিনোথ কালিগাই জানিয়েছেন, বেশকিছু সংস্থা তাদের কর্মীদের বাড়িতে বসে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, কিন্তু বাড়িতেও ফুরিয়ে আসছে পানি সরবরাহ। এখন আমরা কী করতে পারি?  এদিকে, পানি সংকট শহরের বাসিন্দাদের ধৈর্য্যের পরীক্ষাও নিচ্ছে। প্রায়ই সহিংসতার খবর মিলছে। ঘটেছে খুনের ঘটনাও। পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে শহরের এক এলাকায় পানি বণ্টন নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এক ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এতে এক ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা পানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে এখনো সফলতার মুখ দেখেন নি। ছোট ছোট কূপ থেকে পানি উত্তোলন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। খনন করা হচ্ছে নতুন কূপ। তবে জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। স্থানীয় সমাজকর্মী নাকীরান বলেন, এই অবস্থার উন্নতি একমাত্র ভূ-জল বৃদ্ধির মাধ্যমের সম্ভব। পূর্বেও আমরা শুষ্ক মৌসুম পার করেছি। তখন ভূ-জলই আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল। এদিকে, এই সংকট চেন্নাইয়ের পানি বিভাগের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। পুরো শহরজুড়ে তারা পানি বিতরণ করছে। কিন্তু এমনটা কতদিন সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। এক কর্মকর্তা জানান, ধ্বংসযজ্ঞ কেবল শুরু হয়েছে। এ বছর যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হয় তাহলে আমরা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবো।

ইন্দোনেশিয়ায় দিয়াশলাই কারখানায় আগুন, শিশুসহ নিহত ৩০

ইন্দোনেশিয়ার একটি বাড়ি কাম দিয়াশলাই ম্যাচ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পরে মেঝেতে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া একটি লাশের ওপর আরেকটি স্তূপাকারে রাখা হয়েছে। টিভি ফুটেজে উত্তর সুমাত্রার বিনজাই শহরের বাড়িটি থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
উত্তর সুমাত্রার দুর্যোগ সংস্থার প্রধান রিয়াদিল লুবিস বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। আগুন নিভে গেছে। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। আমরা সেখানে অগ্নি নির্বাপণ দল পাঠিয়েছি। অগ্নিকাণ্ডের সময় মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা বুডি জুলকিফলি। তিনি বলেন, যখন আমি জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম, তখনই এই বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। কিন্তু কী বিস্ফোরিত হয়েছে, তা জানতে পারিনি।
বিনজাই পুলিশ প্রধান নুগরোহো থ্রি নুয়ান্তো বলেন, একটি গ্যাস ক্যানিস্টার বিস্ফোরিত হয়ে সম্ভবত এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আমরা এখনো হতাহতদের শনাক্ত করে যাচ্ছি। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। আগুন থেকে তিন ব্যক্তি পালিয়ে বেঁচেছেন। কিন্তু সেখানে শিশুরা কেন ছিল, তা জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান ইরওয়ান শেয়ারি বলেন, সম্ভবত শিশুদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। নিহতদের শরীর এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তাদের শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে জাকার্তার বাইরে ২০১৭ সালে একটি আতশবাজি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহত ও কয়েক ডজন ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। এএফপি