Monday, April 22, 2019

বলকিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক; জোট গঠনের প্রস্তাবসহ ৬টি সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশ ও ব্রুনেইয়ের মধ্যে কৃষি, সংস্কৃতি ও শিল্প, যুব ও ক্রীড়া, মৎস্য, পশু সম্পদ, জ্বালানি খাতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া দু’দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড়া ভ্রমণ বিষয়ে একটি কূটনৈতিক নোট বিনিময় হয়েছে।
আজ (সোমবার) দুপুরে ব্রুনেই সুলতানের সরকারি বাসভবনে সুলতান হাসানাল বলকিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই ও নোট বিনিময় হয়।
কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও ব্রুনেইয়ের প্রাইমারি রিসোর্স ও পর্যটনমন্ত্রী হাজি আলি বিন আপং।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের সম্পদ সেক্টরে সহযোগিতা বিষয়ে দু’টি সমঝোতা স্মারক সই করেন বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু ও হাজি আলী বিন আপং।
শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রের সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতায় সই করেন বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এবং ব্রুনেইয়ের সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হাজি আমিনুদ্দীন ইহসান।
যুব ও ক্রীড়াখাতের সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও হাজি আমিনুদ্দীন ইহসান। এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ব্রুনেইয়ের জ্বালানি, জনশক্তি ও শিল্পমন্ত্রী হাজি মাত সানি।
বলকিয়া-শেখ হাসিনা বৈঠক
এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সুলতান বলকিয়ার বৈঠক হয়। এতে অংশ নিতে সকাল ১১টায় সুলতান হাসানাল বলকিয়ার সরকারি বাসভবন ইস্তানা নুরুল ইমানে পৌছান প্রধানমন্ত্রী। দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রথা ভেঙে শেখ হাসিনাকে প্রাসাদের করিডোরে এসে স্বাগত জানান সুলতান বলকিয়া এবং ক্রাউন প্রিন্স আল-মুহতাদি বিল্লাহ বলকিয়া।
ইস্তানা নুরুল ইমান প্রাসাদে সুলতান বলকিয়া ও রাজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সুলতান হাসানাল বলকিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়, তিনি ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশ নিয়ে একটি অর্থনৈতিক জোট গড়ার প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।
বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশ নিয়ে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গড়ে তোলার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন। দেশগুলো হলো, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও ইন্দোনেশিয়া।
এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনসহ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। রোববার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রুনাইয়ের সেরি বেগাবান বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ব্রুনাইয়ের যুবরাজ হাজী আল-মুহতাদী বিল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানান।

এবার স্ত্রীর স্বীকৃতি চাওয়ায় তরুনীকে পুড়িয়ে হত্যা, ইউপি সদস্যসহ আটক ৪

স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে লক্ষ্মীপুরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া তরুণী শাহেনুর আক্তার মারা গেছেন। আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত তরুনী শাহেনূর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সোনাগাজি গ্রামের জাফর আলমের মেয়ে।
এর আগে গতকাল বিকালে জেলার কমলনগর উপজেলার চরফলকনের আইয়ুবনগর এলাকার একটি সয়াবিন ক্ষেত থেকে দগ্ধ অবস্থায় তরুনীকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে প্রথমে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ  সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান শাহেনুর আক্তার।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল (রোববার) রাতেই চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন ও একই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবু তাহের এবং অভিযুক্ত সালাউদ্দিনেরসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সদর হাসপাতালে ওই তরুণীকে দেখতে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, তরুনী নিজে গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে না অন্য কেউ লাগিয়ে দিয়েছে কিনা, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন ও গ্রাম পুলিশসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
তবে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে শাহেনুর জানিয়েছিলেন, মোবাইল  ফোনে সালাউদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। একপর্যায়ে প্রায় দেড় বছর আগে কাজী অফিসে তাদের বিয়ে হয়। প্রায় ৬ মাস আগে জানতে পারে সালাউদ্দিন বিবাহিত। এ কথা শুনে কিছুদিন আগেও কমলনগর আসেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর স্বীকৃতি পান নি। ফের শুক্রবার আবার লক্ষ্মীপুরে আসেন। কিন্তু এবারও স্ত্রী স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি বলেন, স্ত্রীর স্বীকৃতি চাওয়ায় আমার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় সালাউদ্দিন। অভিযুক্ত সালাউদ্দিন স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে গ্রামে বসবাস করেন। সালাউদ্দিন পেশায় রিকসা চালক। তার বাবার নাম মহর আলী।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ই এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ করায় তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় স্ত্রী স্বীকৃতি চাওয়ায় লক্ষীপুরের কমলনগরে নৃশংস এই ঘটনা ঘটলো।

সড়কে নিরাপত্তা: হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কতটুকু? by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

হাইকোর্টের নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে? বিভিন্ন সময় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে  কিংবা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কতটুকু আন্তরিক? বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় বিভিন্ন সময় দেয়া রায় কিংবা নির্দেশনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? এসব খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাজ্জব হতে হয়। ২০০৭ সালে স্বপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্ট সারা দেশে প্রতিটি গাড়িতে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশ দেন। কিন্তু  রায় ঘোষণার এক যুগেও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের ১১ই ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ঢাকা সিটি কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আফরিন সূচি। দুর্ঘটনায় সূচির মৃত্যু গোটা দেশকে নাড়া দেয়। এরপরই স্বপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্ট প্রথমে রুল এবং পরে এ রায় দিয়েছিলেন। 
শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ এবং ভুয়া লাইসেন্স জব্দ করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এ নির্দেশনার চারবছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই। উল্টো গতবছর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় সংসদে লাইসেন্সবিহীন গাড়িচালকের যে তথ্য দিয়েছেন তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী গত বছরের জুন পর্যন্ত লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখের কাছাকাছি। ওদিকে ২০১৭ সালে রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বিচারপতি কাজী  রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  এই আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ও ট্রাফিক পুলিশ কমিশনারসহ চারজনকে এ আদেশ বাস্তায়নে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। অথচ এ রায়ের দুই বছর পরেও রাজধানীতে হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। ্‌বিন্দুমাত্র কমেনি হাইড্রোলিক হর্নের আধিপত্য।
একই বছর সারা দেশের মহাসড়কে অবৈধ নসিমন, করিমন ও ভটভটি চলাচল বন্ধে সার্কুলার জারি করতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন  হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ১০ জেলার মহাসড়ক থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত তিন চাকার বাহন নসিমন, করিমন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল এর পরের একসপ্তাহের মধ্যে এসব যানবাহন প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এই নির্দেশনা প্রথম সপ্তাহে কিছুটা কার্যকর দেখা গেলেও গত দুই বছরে সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়নি মহাসড়কগুলোতে।
এদিকে ২০০১ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেয়া রায়ে বলা হয়েছিল ঢাকার ফুটপাত ও চলাচলের পথকে জনসাধারণের ব্যবহার এবং পথচারীদের জন্য অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও উন্মুক্ত রাখতে হবে। ওই রায়ে আরও বলা হয়েছিল, অবৈধ স্থাপনা অপসারণে সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়ে বন্ধ করতে হবে । সড়কের ফুটপাত ও চলাচলের পথে নির্মাণসামগ্রী রাখা যাবে না। হাইকোর্টের এই রায় ঘোষণার পরে কেটে গেছে ১৮ বছর। এ রায়ের পর ফুটপাত আংশিক দখলমুক্ত করতে পারলেও পুরোপুরি দখলমুক্ত হয়নি। এছাড়া ফুটপাত দখল থাকায় প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পথচারীরা দুর্ঘটনায় পড়ছেন ও নিত্যদিনের যানজট প্রকট হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট আইন থাকলেও ঢাকার ফুটপাত দখল মুক্ত না হওয়ায় জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ বছর আগে রায়ে বেশকিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। তৎকালীন বিচারপতি আবু সাঈদ আহম্মেদ ও বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর বেঞ্চের ওই রায়ে ঢাকার ফুটপাত পরিচ্ছন্ন ও অবৈধ দখলমুক্ত রাখার নির্দেশনার পাশাপাশি জনস্বার্থে সব রায় ও আদেশ বাস্তবায়নে একটি তদারকি সেল গঠন করতে বলা হয়। ১৮ বছর পরও এ রায়ের কোনো অগ্রগ্রতি নেই।
২০১২ সালে হাইকোর্ট বিভাগ ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করেন।  ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালালে চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে নির্দেশও দেন হাইকোর্ট। এ রায়ের সাত বছর পরে রাজধানীতে অ্যাপসভিত্তিক যাত্রীসেবার ফলে মোটরসাইকেল বেড়েছে কয়েকগুন। ফলে রাজধানীর ফুটপাতগুলো প্রায়ই দখলে থাকে মোটরবাইক চালকদের।
২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কের পাশের অনুমোদনহীন সব স্থাপনা অপসারণ ও কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনাসহ কয়েকটি নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০০১-এর ৮ বিধি অনুসারে মহাসড়কের পাশে ১০ মিটারের মধ্যে স্থাপনা তৈরিতে সরকারের অনুমতি দেয়ার বিধান বাতিল করতে হবে। পাঁচবছর পর থেকে চালকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস নির্ধারণ করতে হবে। রোড ডিভাইডার তৈরি ও পথচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় আন্ডারপাস নির্মাণ এবং স্কুলের সিলেবাসে ট্রাফিক নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে গত ২৭শে মার্চ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ফিটনেস ও নিবন্ধনহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সহীন চালকের তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ শে এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ  স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। বিআরটিএ চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকার ট্রাফিক পুলিশের উত্তর ও দক্ষিণের ডিসি ও বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাহবুব-ই-রাব্বানীকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালককে আগামী ৩০ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কতগুলো যানবাহনের নিবন্ধন ও চালকের লাইসেন্স নবায়নের জন্য জমা আছে, কেন যথাসময়ে নবায়ন করা হচ্ছে না? সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুসারে,  দেশে গত বছর ৫৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫৪৬৬ জন। সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, সড়ক-মহাসড়ক ও রাস্তাঘাটের নির্মাণ ক্রটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পড়া, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা, ফুটপাত বেদখলে থাকায় রাস্তার মাঝপথে পথচারীদের যাতায়াতসহ নানা কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সর্তক করে হাইকোর্ট অনেক আগে থেকেই নির্দেশনা দিয়ে আসছে। কিন্তু এসব নির্দেশনা নিয়ে নেই কারো কর্ণপাত। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের আইনজীবী মনজিল মোর্শেদ বলেন, কিছু কিছু নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে। আবার নানা চাপের কারনে কিছু নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তবে যেসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না এগুলো চিহ্নিত করে কাজ করা উচিৎ। এবং এসব ক্ষেত্রে যাদের গাফিলতি সেটাও খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কেন বাস্তবায়ন করা যচ্ছে না সেটা খুঁজে বের করা জরুরি। দেশের সব্বোর্চ আদালতের রায় মানতে সবাই বাধ্য।

নুসরাত হত্যা: কে এই রুহুল আমিন by জিয়া চৌধুরী

ফেনী জুড়ে আলোচনায় এখন রুহুল আমিন। প্রাইমারি স্কুল উতরাতে না পারা রুহুল এখন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শুক্রবার পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা, সমালোচনা। গত শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পেছনে অন্যতম কারিগর এই রুহুল আমিন। একসময় পেটের তাগিদে সৌদি আরব চলে যান। সেখানে ট্যাক্সি চালিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন। কোন রকমে চলতো তার সংসার।
আর এখন তিনি কোটিপতি। বিতর্কিত এই আওয়ামী লীগ নেতা ও সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির (সদ্য বাতিলকৃত) সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশ জাতীয় পার্টির হাত ধরে।  অল্পদিনে তিনি দল পরিবর্তন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ দখল করেন।
এক পর্যায়ে সভাপতির অনুপস্থিতিতে বাগিয়ে নেন দলের উপজেলা শীর্ষ পদ। চাঁদাবাজি, বালু মহালের নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে দলের নেতা-কর্মীরাও তার রোষানলের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। নুসরাত হত্যার ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে রুহুল আমিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয় লোকজন। উঠে আসছে তার অপকর্মের ইতিহাস। গতকাল শনিবার সোনাগাজীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, মাদরাসার একাধিক শিক্ষক-অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় রুহুল আমিনের অঘোষিত রাজত্বের ফিরিস্তি। সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উচিয়াঘোনা কেরানী বাড়ির কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন। পড়াশোনা করেছেন মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বড় ভাই আবুল কাশেম স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরেক ভাই আবু সুফিয়ানও আমেরিকায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, এক সময় জাতীয় পার্টির সদস্য ছিলেন রুহুল আমিন। ১৯৯৭ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল কবিরের হাতে এক সমাবেশে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০০১ সালে চলে যান সৌদি আরব। সেখানে দীর্ঘ ৯ বছর ট্যাক্সি চালিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ফের সোনাগাজীতে ফিরে আসেন রুহুল আমিন। দেশে ফিরেই দলে সক্রিয় হতে তৎপরতা চালান। ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে কাউন্সিলর মনোনীত হন। অনেকটা আকস্মিকভাবে ২০১৫ সালে সোনাগাজী ছাবের পাইলট হাই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হন।
এখান থেকেই শুরু হয় তার নানা অপকর্ম। ডালপালা বিস্তার শুরু করে ক্ষমতার প্রভাব বলয়। রুহুল আমিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি থাকা অবস্থায় দলের সভাপতি ফয়েজুল কবিরের উপরও চলে নানা নিপীড়ন। এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়েন রুহুল আমিন। এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ফয়েজুল কবির এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে অবস্থান নেন। ২০১৮ সালের শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে দলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সোনাগাজী উপজেলায় আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পদ পাওয়ার পর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। রুহুল আমিন গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। ছোট ফেনী নদীর সোনাগাজীর মুহুরী প্রকল্প অংশের একটি বালু মহাল ও ছোট ফেনী নদীর সাহেবের ঘাট এলাকায় আরেকটি বড় বালু মহাল দখলে নেন। বালু মহল দুটি থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রুহুল আমিন চক্র। যদিও একসময় এ দুটি বালু মহাল ছিল সদ্য সাবেক এমপি রহিম উল্যাহর লোকজনের নিয়ন্ত্রণে।
রহিম উল্যাহ মানবজমিনকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ছয় একর জায়গা প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নেয়ার পরও আমাকে জোর করে উচ্ছেদ করে দেয়া হয়। আমার বালু মহাল দখলে নেয় রুহুল আমিন ও তার ক্যাডার বাহিনী। ওই বালু মহালে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বালু ছিল, সেগুলোও লুটে নেয় তারা। এসবের প্রতিবাদ করায় আমার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা সময়ে হামলা করা হয়েছে। আমার গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল, বাড়ি ও জমিতে হামলা করা হয়। সোনাগাজী, জিরো পয়েন্ট ও নানা জায়গায় হামলা হয়েছে। মানুষ এখনো সেসবের সাক্ষী। রুহুল আমিনের হামলা-নির্যাতনে আমি এখন এলাকা ছাড়া। এসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার ভাই ও ভাতিজাকে হারাতে হয়েছে। প্রবাস জীবনের কষ্টের টাকায় সোনাগাজীতে প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদ কিনেছি। ভয়ে এলাকায় যেতে পারি না। রুহুল আমিনের হামলা-নির্যাতনের বিষয়ে কখনো অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে রহিম উল্যাহ মানবজমিনকে বলেন, বারে বারে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কেউ আমার বিচার করে নাই। আমি এখন আর কারো কাছে বিচার চাই না।
আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া আসলে আমার আর কিছু করারও নেই। শুধু আল্লাহর কাছেই এখন বিচার চাই। সোনাগাজী উপজেলার পশ্চিম চরচান্দিয়া এলাকায় ছোট ফেনী নদীর উপর নির্মানাধীন সাহেবের ঘাট ব্রীজ এলাকায় ইজারা এলাকার বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট বিকালে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরীন ফেরদৌসী অভিযান চালায়। সে সময় ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনকারী কাউকে না পেয়ে ড্রেজার মেশিনটি ধ্বংস করা হয়। একটি ড্রেজার মেশিনের সংযোগ তার কেটে দেয়া হয় এবং ড্রেজার মেশিনের ইঞ্জিনে এক কেজি লবণ ও এক কেজি চিনি ঢেলে দিয়ে অকেজো করে দেন। ওই ঘটনার পরদিন ফেনীর সোনাগাজীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল পারভেজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরীন ফেরদৌসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বালু মহাল ইজারাদার মো. রুহুল আমিন।
বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিনটি অকেজো করে দেয়ার অভিযোগ এনে আনুমানিক ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেয়। মামলার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে আদালতের হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তাতের ঝড় উঠলে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ও জেলা প্রশাসকের মধ্যস্ততায় মামলা প্রত্যাহার করে নেয় রুহুল আমিন। দলের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নেতা হলেও তার সাথে সখ্য রয়েছে স্থানীয় বিএনপি-যুবদলের নেতাদের সাথেও। রুহুলের চাচাতো ভাই-চরচান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়াধন, বিএনপি নেতা খুরশিদ আলম, ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক দুলাল ওরফে বাটা দুলাল, ইয়াবা বিক্রেতা হেলাল, সিরাজ ওরফে সিরাজ ডাকাত, আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মাঝি, ফকির বাড়ির গোলাপ, আব্দুল হালিম সোহেল, সাবমিয়াসহ বেশ কয়েকজন তার ঘনিষ্ঠ।
রুহুল আমিনের ২০/২৫ জনের ক্যাডার বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময় নিপীড়নের শিকার হয়েছে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য আবুল কালাম বাহারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে তার ক্যাডাররা। মতিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, চরদরবেশ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমেদ, সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা স্বপনসহ অনেকেই বিভিন্ন সময় হামলা-মারধরের শিকার হন। সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনাগাজী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মামুন ওই মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু ৬ থেকে ৭ মাস আগে নানা কৌশলে শেখ মামুনকে সরিয়ে দিয়ে রুহুল আমিন সদস্য মনোনীত হন। এক্ষেত্রে সিরাজের নানা অপকর্ম ঢাকতে এবং নিজের আধিপত্য ও প্রভাব বলয় বাড়াতে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজই তাকে সদস্য হবার সুযোগ করে দেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই সহ-সভাপতি বনে যান রুহুল আমিন।
মাদরাসার মার্কেটের ১২টি দোকান, ভেতরের বিশাল পুকুরের মাছ চাষ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা উপায়ে আদায় করা বাড়তি টাকারও ভাগ পেতেন সহ-সভাপতি রুহুল ও আরেক সদস্য সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মকসুদ। ক্যাম্পাসের বাইরেও মাদরাসার রয়েছে জমিসহ কোটি টাকার সম্পদ। মাদরাসাটির একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবজমিনকে জানান, সিরাজ তাদের প্রায়ই বলতেন ‘রুহুল, মকসুদ এরা সবাই অশিক্ষিত। এরা থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। ওরা সবসময় আমাদের পক্ষে থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘রুহুল ও মকসুদ মাঝে মাঝে ওই মাদরাসা ক্যাম্পাসের চারতলা ভবনের দোতলায় সিরাজের কক্ষে সময় কাটাতেন’। দলীয় একটি সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফয়েজ কবির স্বপদে বহাল থাকা অবস্থায় রুহুল আমিন কীভাবে সভাপতি হলেন তা অনেকেই জানেন না। ফয়েজ কবির উপজেলা সভাপতি হিসেবে ফেনী জেলা পরিষদে প্রথমে সদস্য ও পরে প্যানেল চেয়ারম্যান পদ পান।
তিনি বলেন, ‘আমি পদ থেকে পদত্যাগও করিনি, আবার আমাকে বাদও দেয়া হয়নি। তাহলে অন্য কেউ কীভাবে এ পদের পরিচয় দিতে পারে-তা বোধগম্য নয়।’ এর বাইরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় শালিস বাণিজ্য ও তদবির বানিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। নাসির উদ্দিন অপু নামে এক নেতা এক্ষেত্রে তার এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সাবেক এমপি রহিম উল্যাহ বলেন, ‘আমি ও ডাক্তার গোলাম মাওলা সোনাগাজী শহীদ ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু সোনাগাজী বাজারের পশ্চিম দিকের একটি পক্ষ হঠাৎ করে রুহুল আমিনকে সেখানে নিয়ে যায় এবং অভিভাবক সদস্যসহ কয়েকজন সদস্যকে চাপ প্রয়োগ করে তাকে সভাপতি করতে বাধ্য করে।
কিন্তু তৎকালীন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আমাকে সভাপতি মনোনীত করলেও রুহুল ও তার ক্যাডারদের দফায় দফায় হামলা করায় আমি সভাপতির চেয়ারে বসতে পারিনি।’ সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে হত্যার ঘটনায় গত রোববার মামলার আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে এজাহারের বাইরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৩ থেকে ১৪ জনের নাম উঠে আসে। নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার পর শাহাদাত হোসেন শামীম মোবাইল ফোন থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে ফোনে ‘কাজ হয়ে যাবার’ কথা জানায়। এসময় রুহুল বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও।’ নির্দেশ পাওয়ার পর আরো দু’একদিন তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
এরপর নুর উদ্দিন ময়মনসিংহের ভালুকা ও শামীম ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় চলে যায়। শুরুতেই একটি চক্র হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করে। এটি সমন্বয় করেন ওসি মোয়াজ্জেম ও আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন। সহযোগিতা করেন কাউন্সিলর মকসুদ। এ কাজে ৫ থেকে ৬ জন স্থানীয় সাংবাদিককে দায়িত্ব দেয়া হয়। এদের প্রত্যেককে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। এদের দায়িত্ব ছিল নিজ নিজ গণমাধ্যমে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে নিজ নিজ আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো। এদের মধ্যে তিনজন জাতীয় দৈনিকের উপজেলা সংবাদদাতা ও অন্য তিনজন স্থানীয় গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী। ঘটনার কিছু সময় পর নিজের ফেসবুক আইডিতে নুসরাতের আত্নহত্যা বলে পোস্ট দেন একটি দৈনিকের উপজেলা সংবাদদাতা। আদালত সূত্রের মতে-ঘটনার পর রুহুল ও শামীমের ৬ থেকে ৭ সেকেন্ডের ফোনালাপের নিশ্চিত তথ্য পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে।
সোনাগাজীর স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়-ঘটনার পর মিডিয়া এবং পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সামনে যেন ওই মাদরাসার কোন শিক্ষার্থী বা শিক্ষক মুখ খুলতে না পারেন-সেই চেষ্টাও করেন রুহুল আমিন ও তার সহযোগিরা। এর অংশ হিসেবে ঘটনার পরদিন অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল ফয়েজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে আগেই ঘটনাকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বর্ণনা করতে কয়েকজন সাংবাদিক ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে মাদরাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫দিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে ৫ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক মসজিদকে নাইট ক্লাব বানাল ইসরাইল

ইসরাইল ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক একটি মসজিদকে নাইট ক্লাব ও বারে পরিণত করেছে। উত্তর ফিলিস্তিনে অবস্থিত ত্রয়োদশ শতাব্দীর ওই মসজিদটির নাম আল-আহরাম। ইসরাইলের সাফেদ নগর কতৃপক্ষ এই ঐতিহাসিক আল-আহমার মসজিদকে নাইট ক্লাব ও বারের পাশাপাশি ও ইভেন্ট ভেন্যুতে রুপান্তর করেছে। আল-কুদুস আল-আরাবি পত্রিকা বরাতে এমটাই জানিয়েছে মিডলইস্ট মনিটর।
ঐতিহাসিক এই মসজিদটি ১৯৪৮ সালে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে দখল করে নেয়। প্রথমত তারা এখানে ইহুদি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। এরপর লিকুদ পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্প ও পরবর্তীতে কাপড়ের গোদাম হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। সর্বশেষ তারা এটিকে নাইট ক্লাবে রূপান্তর করে।
গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, মসজিদটিকে একটি বারে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়াও এটাকে একটি হল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেখানে বিয়ে বা বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে। তারা মসজিদটির নাম আল-আহমার পরিবর্তন করে খান আল-আহমার নামকরণ করে।
সাফেদ ও তিবেরিয়াস ইসলামিক বৃত্তিপ্রদান সংস্থার সচিব খায়ের তাবারি বলেন, আমরা নেজারেত কোর্টে এর বিরুদ্ধে আবেদন করেছি এবং কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় আছি।
তিনি আরো জানান, মসজিদের মালিকানার সব কাগজপত্র প্রমাণ স্বরুপ উপস্থাপন করা হয়েছে।
১৯৪৮ সালে ইসরাইলের দখলের আগে এখানে ১২ হাজার ফিলিস্তিনি বসবাস করত।
তাবারি জানান, ঐতিহাসিক এই মসজিদটি এখন ছাড়া অন্য যেকোন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মা মরে ৩ মাসের কঙ্কাল, তবু ছেড়ে যাচ্ছে না

যুগে যুগে আল্লাহ তার বান্দাহকে বিভিন্ন নিদর্শন দিয়ে হেদায়েত দান করেছেন। যেমন প্রথম মৃতদেহ কিভাবে স‌তকার করতে হবে। তা শেখালেন পাখিদের নিদর্শন দিয়ে।
ধার্মিক হোক আর প্রকৃতিবাদী হোক সকলেই একবাক্যে শিকার করেন যে, এমন অনেক উদাহরণ আছে আমাদের আশে পাশে যা আশরাফুল মাকলুকাত হয়েও বিভিন্ন নিম্নশ্রেণীর প্রাণী থেকে শিক্ষা নিয়ে থাকি।
মানুষ সেই শিশুকাল থেকেই ভালো মন্দ শিখতে শিখতে মানুষ হবার চেষ্টা করে। কতটুকু সফল তার বিচার সহজ নয়। কিন্তু পশুর কিছু কার্যক্রম জন্মগতভাবেই পেয়ে থাকে। আর এই পশু এবং গাছপালা এক কথায় প্রকৃতি থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের। তাদের প্রভুত্ব, মমত্ব থেকেও শিক্ষণীয় আছে। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে কলকাতার শ্যামবাজারে।
ঘটনাটি একটি বিড়ালের। বিড়ালটি মাকে হারিয়েছে প্রায় তিন মাস হলো। মায়ের মৃতদেহটা এখন কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে সেই কঙ্কাল আঁকড়েই দিন কাটছে ছানাটির।
সেই বিড়াল ছানার এমন একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিটিতে দেখা যায়, বিড়ালছানাটি মাটিতে পড়ে থাকা তার মায়ের কঙ্কালটি আঁকড়ে ধরে পড়ে আছে।
ছবিটি তুলেছেন কলকাতার রাজীব সরকার। তিনিই ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ভারতের কলকাতার শ্যামবাজার থেকে ছবিটি তুলেছিলেন।
মোটরসাইকেল চাপায় নিহত হয় মা বিড়ালটি। রাজিব জানান, কলকাতার শ্যামবাজারের রাধামাধব গোস্বামি লেনের ঘটনা এটি।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় তিন মাস মাকে সে হারিয়েছে। এখনো ভুলতে পারেনি তাকে। রাতে প্রায়ই বিড়ালছানাটির গোঙানি শোনা যায়।
মায়ের প্রতি এমন মমত্ব, ভালোবাসা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় আছে অনেককিছু।

চীনে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান প্রশ্নে বিভক্ত দক্ষিণ এশিয়া

চীনের আলোচিত ড্রিম প্রজেক্ট বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ- এর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। ভারত গোড়া থেকেই ওই উদ্যোগ-প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সম্মেলনে যোগদান দূরের কথা। অবশ্য বাংলাদেশ, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে। ওই ৪ দেশ আগে থেকেই বহুল আলোচিত প্রকল্পটির সঙ্গে রয়েছে। বাকি ছিল ভুটান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি এলামনাই ডা. লোটে শেরিংয়ের সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সফরের পর মনে করা হয়েছিল দেশটি অবস্থানে কোন  পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু না, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বিমান ওঠার কয়েক ঘন্টার মধ্যে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে দিল্লির পথেই হাঁটছে থিম্পু।
ভুটান ওই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না এমন ধারণাই দিয়েছে দিল্লির সংবাদ মাধ্যম।
আগামী ২৬ এবং ২৭শে এপ্রিল বেইজিংয়ে শীর্ষ সম্মেলনটি হওয়ার কথা। চীনের বেল্ট এন্ড রোড উদ্যোগ-প্রকল্প একটি মেগা আন্তর্জাতিক প্রকল্প যা বিশ্বের সকল মহাদেশকে সড়ক পথে যুক্ত করবে। ২০১৭ সালের মে মাসে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে বেইজিংয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা মিলিত হয়েছিলেন। এর পর থেকে দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে চীনকে একটি বিশেষ সক্রিয় কূটনীতিতে অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। চীনা রাষ্ট্রদূতরা এর আগে সার্ক রাজধানীগুলোতে যে কোন ধরনের সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের পুরনো ভাবমূর্তি ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর গত ২৩শে জানুয়ারি বলেন, বেল্ট এন্ড রোড উদ্যোগ নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বরং সকল দেশের স্বার্থে ভারত তাতে অংশ নিতে পারে। সোমবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন মানবজমিনের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে বলেন, বাংলাদেশ এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে। চীন সরকারের তরফে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একাধিক মন্ত্রীর সেখানে বিশেষ আমন্ত্রণ রয়েছে। সম্মেলনে মন্ত্রী পর্যায়ের এক বা একাধিক প্রতিনিধি যোগ দিতে পারেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে কোন মন্ত্রী নেতৃত্ব দেবেন তার নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ভারত ও ভূটানের অবস্থান সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের একাধিক লোককে তারা দাওয়াত দিয়েছে। তাই আমরা যাচ্ছি এটা নিশ্চিত।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশ্লেষণ: এদিকে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বেল্ট এন্ড রোডে ইনিশিয়েটিভ বিষয়ক সর্বশেষ যে রিপোর্ট করেছে তাতে জানিয়েছে, আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান প্রশ্নে ভারত ‘না’ বলার পর এখন ভুটানও সেই ‘না’-এর পথ অনুসরণ করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও ভুটান একদিকে, অন্যদিকে রয়েছে নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশ। শেষের চারটি দেশ ‘হ্যা’ বোধ অবস্থানে। অর্থাৎ ওই ৪ দেশ চীন সম্মেলনে যোগ দেবে। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত প্রতিবেদনে চীন ও ভারতের টানাপোড়েনের মধ্যে দুটি দেশের প্রতিবেশীদের দ্বারা একটি নতুন ধরনের মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলেছে। রিপোর্ট বলছে, ১৪ই এপ্রিল ভারত যখন চীনের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে তখন তার বেশিরভাগ প্রতিবেশী মালদ্বীপ শ্রীলংকা নেপাল ও বাংলাদেশ ওই সম্মেলনে যোগ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করে।
ওই সম্মেলনে চল্লিশটির মতো দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান অংশ নিচ্ছেন। এত বড় ওই আয়োজনে ভুটানের অংশ না নেয়ার বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশ্লেষণ হচ্ছে- চীনের সঙ্গে ভুটানের কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তার পরেও চীন দেশটিকে তার একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে দেখছে। এবং তার এটাও ভালো জানা আছে যে, ভারতীয় স্টাবলিশমেন্ট তাদের সঙ্গে কোনো রকমের বোঝাপড়া মেনে নাও নিতে পারে। ২০১৭ সালে ভুটান বেল্ট অ্যান্ড রোডের উদ্যোগ নাকচ করে দেয়। কারণ জম্মু এবং কাশ্মীরের পাকিস্তন নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান চীন ইনোমিক করিডোর যাওয়ার অর্থই হবে ভারতের সার্বভৌমত্বকে খাটো করা। গত ১২ মাস ধরে চীন ভুটানের নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে একটা সম্পর্ক তৈরি করতে কোন চেষ্টাই বাকি রাখেনি। চীনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভুটানকে ভারতীয় প্রভাব বলয় থেকে যতটা সম্ভব বের করে আনা। কিন্তু তা হয়নি।