Tuesday, December 9, 2014

বেগম রোকেয়ার তত্ত্ব এনজিও প্রজেক্টে রূপ নিয়েছে -একক বক্তৃতায় অধ্যাপক মালেকা বেগম

সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মালেকা বেগম বলেছেন, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নারীবাদী তত্ত্ব আজ দাতাদের সাহায্যে পরিচালিত এনজিও প্রজেক্ট, গবেষণামূলক কাজ এবং জেন্ডার তত্ত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি অর্থের বিনিময়ে পেশাদারি রূপ পেলেও তৃণমূল পর্যায়ে আশানুরূপ পরিবর্তন হয়নি। দারিদ্র্য দূর হয়নি। ক্ষমতায়ন হয়নি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অবস্থান পাল্টায়নি।
আজ মঙ্গলবার রোকেয়া দিবস উপলক্ষে একক বক্তৃতায় মালেকা বেগম এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে বাংলা একাডেমি এই বক্তৃতার আয়োজন করে।
‘রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ও নারী আন্দোলন’ শীর্ষক বক্তৃতায় মালেকা বেগম বলেন, ‘এখনো রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের যুগের পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্যেই আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি। উত্তরণ এবং গুণগত পরিবর্তনের শুভ সূচনা করতে হবে।’
তবে বাংলাদেশের নারী আন্দোলন, সরকারের নারী উন্নয়ন নীতি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নারী আন্দোলনের নারীবাদী তত্ত্বের রূপায়ণ ঘটাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মালেকা বেগম।
বক্তৃতায় নারী নেত্রী ও গবেষক মালেকা বেগম বলেন, রোকেয়া ১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মারা যান ১৯৩২ সালে। সেই যুগের অবরোধের ঘেরাটোপে বন্দী রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামের শত শত নারীর মতো রোকেয়া স্রোতে ভেসে যাননি। যে সময় ও পরিবেশে শুধু মুসলিম নয়, হিন্দু সমাজেও পর্দা-অবরোধের চাপ এবং শিক্ষা-নিষেধাজ্ঞায় মেয়েদের জীবন পরমুখাপেক্ষী, পরনির্ভর, নির্যাতিত, বঞ্চিত, বৈষম্যপীড়িত ছিল; সে সময় আলোকবর্তিকা হিসেবে উঠে এসেছিলেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তিনি মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন।
বক্তৃতায় মালেকা বেগম রোকেয়ার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বিভিন্ন বই, কবিতা এবং চিঠিপত্রে রোকেয়া মানবমুক্তি, নারীমুক্তিসহ যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন, তা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া রোকেয়ার পরে যাঁরা নারী আন্দোলনকে একটি পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন, সেই নারীদের কথাও উল্লেখ করেন।
মালেকা বেগম বলেন, শত বছর পরও অবিসংবাদী নেত্রী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের শ্রদ্ধাভাজন হয়ে আছেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। কাজেই ফ্রয়েডীয় এবং নারীর স্বাতন্ত্র্যবোধ ব্যাখ্যার নামে অবান্তর গবেষণা গ্রহণযোগ্য নয়। রোকেয়া বিশ্বের নারী আন্দোলনের অগ্রদূতদের অন্যতম এবং বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অগ্রদূত।
মালেকা বেগম বলেন, রোকেয়ার নারীশিক্ষা, পেশা, মুসলিম পারিবারিক আইন, বিবাহ, বহুবিবাহ, পর্দা, অবরোধ ইত্যাদি বিষয়ে নারীবাদী তত্ত্ব মূলত মানবাধিকারের ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তি থেকে উৎসারিত। তিনি যা ভেবেছেন, তা বলেছেন। যুক্তি-বিশ্লেষণ-সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি যা বলেছেন, তা বলেছেন সামাজিক বিকাশের জন্য, যার সঙ্গে নারী পুরুষ উভয়েই সম্পৃক্ত।
মুসলিম নারীকে জাগানো ও উদ্বুদ্ধ করার জন্য রোকেয়া কোনো পূর্বসূরি পাননি। বাঙালি মুসলিম নারীর অগ্রদূত হিসেবে রোকেয়া নিজেকে যে কতভাবে তৈরি করেছেন, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা এখনো হয়নি বলে উল্লেখ করেন মালেকা বেগম।
বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, শুধু নারীর জন্য নয়, পুরো সমাজের কল্যাণের জন্যই রোকেয়া প্রাসঙ্গিক থাকবেন।
রণজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, যে দেশের বেশির ভাগ নারী রাঁধার পরে খাওয়া আর খাওয়ার পরে রাঁধার চক্করে বাঁধা, সে দেশে রোকেয়াকে আলোচনা করতেই হবে। নারীরা পুরুষের সমতুল্য, এ বিষয়টি যতদিন স্পষ্ট না হবে, ততদিন নারীকে নারী হিসেবেই দেখা হবে। নারীকে কেউ আর মানুষ ভাবতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, সাংসদ কবি কাজী রোজী, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, লেখক-গবেষক নিলুফার বেগম প্রমুখ।

‘বাংলাদেশে নারীর সম–অধিকার নিশ্চিতে কাজ করবে নরওয়ে’

(পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে মহিলা পরিষদে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেতো লুনডেমো। ছবি: এ কে এম ফয়সাল) বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেতো লুনডেমো বলেছেন, তাঁর সরকার নারীর সম-অধিকারে বিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করতে মহিলা পরিষদের সঙ্গে নরওয়ে কাজ করে যাবে ও মহিলা পরিষদের প্রতি তাঁদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মেরেতো লুনডেমো এসব কথা বলেন। দুই দিনের সফরে আজ দুপুরে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় যান মেরেতো লুনডেমো। সেখানে তিনি স্থানীয় মহিলা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় বাংলাদেশে নরওয়ে দূতাবাসের উন্নয়ন প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক মোর্শেদ আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে তিনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা মতবিনিময় সভা করেন মেরেতো লুনডেমো। কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। আগামীকাল বুধবার সকালে মেরেতো লুনডেমো পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা সফর করবেন।

সাময়িক নিষিদ্ধ লুৎফর

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কর্ণধার লুৎফর রহমান ও ক্লাবটির সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম টিটুকে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিসিডিএমের চেয়ারম্যান আ জ ম নাসির।  কদিন আগে বিসিবি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আম্পায়ারিং নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন লুৎফর। অনেকের নাম উল্লেখ করে বিরূপ মন্তব্যও করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কটূক্তির বিষয়টি বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জানিয়েছে সিসিডিএম। লুৎফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি ডিসিপ্লিনারি কমিটি। সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে যেকোনো ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি। এর আগে পুরো বিষয়টির অবসান চেয়ে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের মন্তব্যের জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন লুৎফর। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কর্ণধার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ‘আমার মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ায় ক্রিকেট অঙ্গনের কেউ যদি দুঃখ ও কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে সেদিনের সেই আবেগপ্রবণ মন্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ মাঠে গড়ানোর পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জানিয়ে আসছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কর্ণধার । গত ২৯ নভেম্বর লুৎফর মাঠ, আম্পায়ারসহ বহু অভিযোগ-সংবলিত একটি চিঠি পাঠান বোর্ড সভাপতিকে। এরপর প্রাইম ব্যাংকের কাছে হারের পর রীতিমতো ফুঁসে ওঠেন তিনি। বোর্ডের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্লাবের কর্ণধার হুমকি দেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার।
ঘটনা প্রবাহিত হয় ভিন্ন দিকে। তাঁর বিরুদ্ধে উত্তাল হয় বিসিবি প্রাঙ্গণ। গতকাল তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া হয় আক্রমণাত্মক ও অশালীন স্লোগান। স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ ছেয়ে যায় প্রকাশ-অযোগ্য নানা ব্যানারে। আজ সিসিডিএম জানিয়ে দিল, সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে লুৎফরকে।

২০ বছর বয়সেই ফেসবুকে ২ কোটি রুপির চাকরি!

(ফেসবুকের কাছ থেকে বছরে দুই কোটি ১০ লাখ রুপির চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন ২০ বছর বয়সী আস্থা আগারওয়াল। ছবি: পিটিআই) দিল্লির ট্যাক্সিতে নারী ধর্ষণ নিয়ে যখন সমালোচনা ভারতজুড়ে, তখন অপর এক নারী দিলেন সুখবর। সেই নারীকে বছরে দুই কোটি রুপির চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে ফেসবুক। ২০ বছর বয়সী এই নারীর নাম আস্থা আগারওয়াল, বাড়ি ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে।
আস্থা ২০০৯ সালে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলেন। তখন আস্থা ভাবেননি মার্ক জাকারবার্গের ফেসবুকের কাছ থেকেই একদিন চাকরির প্রস্তাব পাবেন। অথচ ছয় বছরের মাথায় ফেসবুকে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে গিয়েই দক্ষতা দেখিয়ে পেলেন বছরে দুই কোটি ১০ লাখ রুপির চাকরির প্রস্তাব। সে প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন প্রকৌশলী কন্যা। এনডিটিভি এবং হিন্দুস্থান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মুম্বাইয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন আস্থা। তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় এ বছরের মে-জুন মাসে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেসবুকের প্রধান কার্যালয় মেনলো পার্কে। তাঁর কাজের দক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে পড়াশোনা শেষে আস্থাকে পূর্ণকালীন কর্মী (সফটওয়্যার প্রকৌশলী) হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এ প্রস্তাবে বলা হয়, শুরুতেই আস্থাকে বেতন দেওয়া হবে বছরে দুই কোটি ১০ লাখ রুপি!
এ খবর শুনে উচ্ছ্বসিত আস্থা। শীতের ছুটিতে আস্থা এখন আছেন নিজ শহর জয়পুরে। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ভীষণ আনন্দিত এবং উত্তেজিত। আমার চতুর্থ বর্ষের শেষ সেমিস্টার (অষ্টম) শেষ হলেই আগামী বছরের অক্টোবরে ফেসবুকে যোগ দেব।’

আস্থার বাবা অশোক আগারওয়াল রাজস্থান বিদ্যুৎ বিভাগের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। বড় বোনও প্রকৌশলী। শিক্ষাজীবনে এরই মধ্যে নানা বিষয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন আস্থা। জাতীয় পর্যায়ের ন্যাশনাল ট্যালেন্ট সার্চের পরীক্ষায় সপ্তম হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে রুপার মেডেল জেতেন তিনি। ২০০৯ সালে জুনিয়র সায়েন্স আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেন।

মাদক গ্রহণের সন্দেহে মেসি!

মাদক গ্রহণের সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে রাখা হলো লিওনেল মেসির নাম। এমনটাই ঘটেছে বার্সেলোনার এ আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের সঙ্গে। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামীকাল বার্সেলোনা মাঠে নামবে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)-এর বিপক্ষে। এর আগে সোমবার বার্সেলোনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের মাদক গ্রহণের সন্দেহে তালিকা করে ইউয়েফার মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এইটিএসএডি (স্প্যানিশ এজেন্সি ফর প্রটেকশন অব হেলথ ইন স্পোর্টস)। সংস্থার কর্মকর্তারা বার্সেলোনার অনুশীলনে হাজির হয়ে লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ইভান রাকিটিচ, ক্লদিও ব্রাভো ও জর্বি আলবার প্রসাব ও রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেন। এতে খুবই অবাক হয়েছেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার মেসি। তিনি পরে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘মাদক পরকীক্ষা! সন্দেহের তালিকায় আমাদের পাঁচজনকে রাখা হয়। এরমধ্যে একমাত্র আমারই প্রসাব ও রক্তের নমুনা নেয়া হয়েছে। খুবই অবাক করা কথা নয় কি?’ শনিবার স্প্যানিশ লা-লিগায় এস্পানিওলকে ৫-১ গোলে হারাতে মেসি করেছেন ক্যারিয়ারের ২১তম হ্যাটট্রিক। মওসুমে শুরুতে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও সম্প্রতি দারুণ ফর্মে ফিরেছেন তিনি। লা-লিগায় ১৩ ম্যাচে ১৩ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গ্রুপ পর্বে ৫ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল।

পুত্র সন্তান জন্ম দেয়ায় গৃহবধূকে যৌনপল্লীতে প্রেরণ

পর পর তিনবার পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়ায় কলকাতার এক গৃহবধূকে শ্বশুর বাড়ীর  লোকজন জোর করে রেখে এসেছিল সোনাগাছির যৌনপল্লীতে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করার পর পুলিশ এখন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওই গৃহবধূ অভিযোগ করছেন, শ্বশুর বাড়ীর লোকজন তার গর্ভে কন্যা সন্তান হবে বলে আশা করেছিলেন। তারা চেয়েছিলেন কন্যা সন্তান বড় হলে তাদের যৌন পেশায় নিয়োজিত করে উপার্জন করা যাবে। কিন্তু তৃতীয় বারও পুত্র সন্তানের জন্ম হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে যৌনপল্লীতে রেখে আসে। কলকাতার পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি এবং উদ্ধার পাওয়া গৃহবধূর কাছ থেকে এই চাঞ্চল্যকর কাহিনী জানা গেছে। কলকাতায় বিবিসি বাংলার অমিতাভ ভট্টশালী এই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলেন। তিরিশ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী এই নারী জানিয়েছেন, তার শ্বাশুড়ি এবং ননদসহ শ্বশুরবাড়ীর অন্তত পাঁচ জন মহিলা যৌন পেশায় জড়িত। তবে বিয়ের আগে পর্যন্ত এই বিষয়টি স্বামী তার কাছে গোপন রেখেছিলেন। তাদের আদি বাড়ী মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলায়। তবে বহু বছর ধরে কলকাতাতেই থাকেন। তিনি জানিয়েছেন, পর পর পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে থাকায় শ্বশুর বাড়ীতে তাকে নানা রকম নির্যাতন-লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। তের মাস আগে তৃতীয় বার পুত্র সন্তান হওয়ার পর এর মাত্রা আরও বেড়ে যায়। কয়েকদিন আগে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন তাকে জোর করে কলকাতার যৌনপল্লী সোনাগাছিতে রেখে আসে। সেখান থেকেই দুর্বার মহিলা সমিতি তাকে উদ্ধার করে। ভারতে পুত্র সন্তানের আশায় বধু নির্যাতনের ঘটনা অহরহই ঘটে। অনেক পরিবারেই কন্যা শিশুকে অবাঞ্ছিত হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু পুত্র সন্তান জন্ম দেয়ায় নির্যাতিত হওয়ার এই ঘটনা একেবারেই অভিনব।

দুদক ও পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে জনগণ : সাবেক প্রধান বিচারপতি

সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, দিন দিন দুদক এবং পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন জনগণ। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে  দুদকের উচিত জনগণকে দৃশ্যমান অ্যাকশন দেখানো। মঙ্গলবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে দুদক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মাকসুদুল হাসান খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিনু, দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, ডাকাতির ঘটনার পরেও মানুষ পুলিশের কাছে যেতে চায় না। কারণ ডাকাত যা নেবার তো নিয়েছে, এখন আবার পুলিশকে দিতে হবে এবং নতুন করে নানা হয়রানির শিকার হবার ভয়ে পুলিশকে এড়িয়ে যেতে চায়। একইভাবে বড় বড় দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আসার পরও যখন তারা ছাড়া পেয়ে যায় এবং ন্যায়বিচার জনগণ দেখতে পায় না, তখন জনগণ স্বাভাবিক কারণেই দুদকের প্রতি আর আস্থা রাখতে পারছে না।
এ বি এম খায়রুল হক বলেন, মানুষ পুলিশের কাছে যেতে যেমন ভয় পায়, তেমনি দুদকে আসতেও ভয় পাচ্ছেন। ফলে জনগণ দুদকের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা দেখতে চায়। আর এ স্বচ্ছতার স্বার্থে দুদকের কার্যক্রম ওয়েভ সাইটে দেয়া উচিত। মানুষের সঙ্গে আচরনে দুদককে ডিগনিটি বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি মুক্ত ও আলোকিত দেশ গড়তে হলে, আগে নিজেদের দুর্নীতি মুক্ত হতে হবে। দুর্নীতিবাজরা কখনো দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে পারবে না।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানকে পরামর্শ দিয়েছিলাম আদালতে কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ বেঞ্চ অফিসারকে ধরার জন্য। কিন্তু ভয়ে এ বিষয়ে অগ্রসর হননি দুদকের সাবেক চেয়ারম্যন। তিনি বলেন, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা এবং আদালতে পিপিদের গাফেলতির কারণে বেশির ভাগ মামলা খারিজ হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ দুদকের মামলা দায়ের, আদালতে চার্জশিট দাখিলে নানা অসংগতির এবং দীর্ঘসূত্রিতায় ন্যায় বিচার পাচ্ছে না ভিকটিমরা। এমনকি দীর্ঘসূত্রতার ফলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে আসেন না।
দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, টিআইবি কোনো বিশেষ গোষ্ঠির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এরা ঘরের শক্র বিভীষণ। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দুদককে যে দায়মুক্তি কমিশন বলে আখ্যায়িত করেছেন তার প্রমাণ আপনাকে দিতে হবে। তিনি খালেদা জিয়াকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনার আমলেই বিশ্বে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চাম্পিয়ন হয়েছিল।
এর আগে সকালে দুদক কার্যালয়ের সামন থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে কাকরাইল, নয়াপল্টন মোড়, বিজয়নগর, জাতীয় প্রেসকাবের সামনে গিয়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

গণমাধ্যমকে আত্মনিয়ন্ত্রণ শিখতে হবে : গওহর

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, গণমাধ্যমকে আত্মনিয়ন্ত্রণ শিখতে হবে। নিজেদেরকে নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে অন্যরা নিয়ন্ত্রণ করবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদেরও নিজেদের নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রফেশনের এথিকসের বাইরে গিয়ে কোনো সংবাদকর্মীর কাজ করা ঠিক নয়। এর ব্যত্যয় ঘটলেই নিজের উপর আঘাত আসে। সংবাদকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরো বলেন, সত্য যেদিকে নিয়ে যাবে, তাদের সেদিকে যেতে হবে। ড্রাম্যাটিক নিউজ দিলেই হবে না। তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। তথ্য না থাকলে ওই সংবাদ প্রপাগান্ডা হয়ে যাবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০১৪ প্রদান এবং ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতার সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
টিআইবি ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে আজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় আরো বক্তৃতা করেন টিআইবি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বার্তা প্রধান খালেদ মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক আলমগীর স্বপন, বাংলা ভিশনের বার্তা সম্পাদক শারমিন রিনভী ও ৭১’ টেলিভিশনের প্রতিবেদক নাদিয়া শারমিন।
ড. রিজভী বলেন, গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র টিকবে না। সরকারের জবাবদিহিতা একমাত্র গণমাধ্যমই নিশ্চিত করতে পারে। তবে কোনো ধরণের হুমকি বা ভয়ের কাছে সারেন্ডার না করে সংবাদকর্মীদের কাজ করে যেতে হবে।
তিনি বলেন, সভ্যতার ভিত্তি হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এতে বাধা দিলে কোন সমাজ উন্নত হতে পারে না। তাই কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরকার বা অন্য কারো বাধা দেয়ার অধিকার নেই। প্রয়োজনে ওই মতামতের উপর অন্য কেউ চ্যালেঞ্জ করে দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু বাধা দেয়ার অধিকার নেই।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়কে আঘাত দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করার অধিকারও কারো নেই।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে মিডিয়াকে ব্যবহার করে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যা এ প্রফেশনের এথিকসে কাম্য নয়। আর এ ঘটনায় তখন অনেক সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
ড. রিজভী বলেন, মিডিয়ার স্বাধীনতা এখন মালিকদের স্বাধীনতা হয়ে গেছে। মালিকদের স্বার্থ রা না করলে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরি হারাতে হয়। কোন সুবিধা ছাড়াই যখন-তখন তাদের বের করে দেয়া হয়। এটা মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা।
তিনি বলেন, করপোরেট মালিকরা এভাবে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে সরকারের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে চায়। সরকার এখানে কিছু করতে পারে না। কিছু করতে গেলে গণমাধ্যমের উপর হস্তেেপর অভিযোগ আনা হয়। তাই গণমাধ্যমকেই উদ্যোগ নিতে হবে কীভাবে করপোরেটদের কন্ট্রোল কমানো যায়।
আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি গওহর রিজভী সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তিন সংবাদকর্মী ও তিন ক্যামেরা পারসনকে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন।
এ বছর টিআইবির সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পুরস্কার পেয়েছেন এইচএম আলাউদ্দিন (দৈনিক পূর্বাচল), অরূপ রায় (প্রথম আলো) ও সাজ্জাদ পারভেজ (যমুনা টিভি)।
সূত্র : বাসস।

তাঁকে খেল না অ্যানাকোন্ডা

পল রোজোলি
ইচ্ছা ছিল অ্যা​নাকোন্ডার খাবার হয়ে ঢুকবেন তার পেটে। সারা বিশ্ব দেখবে সেই দৃশ্য। কিন্তু হল না, অ্যানাকোন্ডা খেল না তাঁকে। ধ্বংসের হাত থেকে আমাজন বন রক্ষায় বিশ্ববাসীকে আগ্রহী করতে এমন উদ্ভট পরিকল্পনায় করেছিলেন মার্কিন প্রকৃতিবিদ পল রোজোলি। পরিকল্পনা মতো জীবন্তই অ্যানাকোন্ডার পেটে ঢুকতে প্রস্তুত হলেন রোজোলি। পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণের প্রস্তুতিও নেওয়া হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে পেটে ভরেনি অ্যানাকোন্ডা। ফলে ওই সাপের জীবন্ত মানুষ ভক্ষণের দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে দর্শকেরা। তবে সাপের সঙ্গে রোজোলির ভয়ংকর সংগ্রামের দৃশ্য দেখার সুযোগ পেয়েছে তারা। খবর এএফপির। (অ্যানাকোন্ডার সঙ্গে পল রোজোলির ধস্তাধস্তির একটি মুহূর্ত। তাঁর ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি)
সাপটি রোজোলিকে গিলে ফেলার পরিবর্তে তাঁর পুরো শরীর পেঁচিয়ে ধরে। সাধারণত কোনো খাবার শিকার ধরে পেটে ভরার আগে এটাই করে থাকে অ্যানাকোন্ডা। পেঁচিয়ে ধরায় রোজোলির জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কারণ, তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর ডাকে সহযোগীরা চলে আসায় রোজোলি প্রাণে বেঁচে গেছেন।
রোজোলি জানিয়েছেন, আমাজন রক্ষায় এক দশক ধরে কাজ করতে গিয়েই তাঁর মাথায় ওই পরিকল্পনা আসে। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সবাই জানে আমাজন শেষ হয়ে যাচ্ছে। সবাই বলবে, এই বনের গুরুত্ব কত। কিন্তু আজ পর্যন্ত লোকজন এদিকে যথেষ্ট দৃষ্টি দিচ্ছে না।’
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রোজোলির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দম বন্ধ হওয়া এড়াতে তাঁকে কার্বন ফাইবার ব্যবহার করে বিশেষভাবে নির্মিত স্যুট দিয়ে মুড়িয়ে দেন বিশেষজ্ঞরা। তার সঙ্গে যুক্ত ছিল শ্বাস গ্রহণের ব্যবস্থাও। আরও ছিল কয়েকটি ক্যামেরা এবং সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি পদ্ধতি।
সরঞ্জামগুলো সঙ্গে নিয়ে আমাজনে অ্যানাকোন্ডার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে রোজোলির দলটি। টানা ৬০ দিন হন্যে হয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে একটি স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা পান তাঁরা, যেটি লম্বায় ছিল ২০ ফুট। রোজোলি বলেন, ‘আমি যখন সাপটির কাছে গেলাম, সেটি আমাকে খাওয়ার চেষ্টাই করল না। বরং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। আমি যখন কিছুটা উসকানি দিলাম; কিছুটা শিকারির মতো আচরণ করলাম, তাতে কাজ হলো। সাপটি ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করল।’
এরপর সাপটি রোজোলিকে আক্রমণ করে। তবে তাঁকে পুরোপুরি গিলে না ফেলে তাঁর পুরো শরীর পেঁচিয়ে ধরে। রোজোলি জানান, সাপটি তাঁকে এত শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে যে, একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল তাঁর হাত ভেঙে যেতে পারে। পাশাপাশি রোজোলির শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল এবং হৃৎস্পন্দন কমে আসছিল। ভয় পেয়ে গিয়ে তিনি সহযোগীদের কাছে সাহায্য চান। তাঁরা এলে সাপটি রোজোলিকে ফেলে পালিয়ে যায়।

সোহেলের সঙ্গে ‘অন্য’ আফ্রিদি!

নিউজিল্যান্ডের রানের চাকা মূলত টেনে ধরেছিলেন দুজন—হারিস সোহেল ও শহীদ আফ্রিদি। দুজনের কিপ্টে বো​লিংয়ে নি​উজিল্যান্ড ২৫০ রানও করতে পারেনি। ২৪৭ রান তাড়া করতে গিয়ে দলের বিপর্যয়ে হাল ধরলেন ওই দুজনই। সোহেল-আফ্রিদির ৭ম উইকেট জুটিই দুবাইয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তান ৩ উইকেটে হারাল কিউইদের। (সোহেল-আফ্রিদির ৭ম উইকেট জুটি হারাল নিউজিল্যান্ডকে। ছবি: এএফপি) ১২৪ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানের দরকার ছিল ১১৮ বলে ১২৩। কিউইদের জয়ের স্বপ্ন বেশ উজ্জ্বল। এ মুহূর্তেই জ্বলে উঠলেন ওই দুজন—সোহেল ও আফ্রিদি। তবে আজ আফ্রিদি ঠিক ‘বুম-বুম’ নয়; বরং শান্তভাবেই এগোলেন! ধারাভাষ্যকারেরাও বারবার বলছিলেন, ‘দায়িত্বশীল’ ব্যাটিং করছেন আফ্রিদি। শান্তভাবে এগোলেও স্ট্রাইকরেট ঠিকঠাকই ছিল। ৪৭ বলে ফিফটি তুলে নিলেও তখনো আফ্রিদির পাশে একটা ছক্কাও নেই! পরিসংখ্যান জানাল, ছক্কা বিহীন ফিফটি—আফ্রিদির ক্যারিয়ারে একবারই ঘটেছে, ১৯৯৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আফ্রিদির যোগ্য সঙ্গ পেয়ে সোহেলও তুলে নিলেন ওয়ানেডেতে প্রথম ফিফটি। দুজনের ৭ম উইকেট জুটিতে তোলা ১১০ রানই হারাল নিউজিল্যান্ডকে। টেলরের সরাসরি থ্রোতে রান আউটে কাটা পড়ার আগে আফ্রিদির সংগ্রহ ৬১ রান। তবে সোহেল ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরেছেন। ম্যাচসেরাও তিনি।
এর আগে টসে জিতে নিউজিরল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠায় পাকিস্তান। রস টেলরের অপরাজিত ১০৫ রানেই ২৪৬ রানের লড়ার মতো রান তোলে ব্লাক ক্যাপরা। টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেন টেলর। ওয়ানডেতে এমন কীর্তি আছে আর পাঁচজনের—জহির আব্বাস, সাঈদ আনোয়ার, হার্শেল গিবস, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও কুইন্টিন ডি কক। ভারতের বিপক্ষে হ্যামিল্টন ও ওয়েলিংটনের পর টেলর ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেলেন দুবাইয়েও।
পাকিস্তানের বোলাররা ভালো একটা শুরুই এনে দিয়েছিলেন, ৯৯ রানেই পড়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ৪ উইকেট। তবে এক প্রান্ত আগলে ছিলেন টেলর। শুরুতে একটু অসুবিধা হলেও পরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ১৩২ বলে। ষষ্ঠ উইকেটে রঙ্কিকে নিয়ে যোগ করেছেন ৪৪ রান। ইউনিস খানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে রঙ্কি ফিরে যাওয়ার পর রানের চাকাটা সচল রেখেছিলেন ভেট্টোরি। শেষ পর্যন্ত নাথান ম্যাককালামকে নিয়ে টেলর ভালো একটা পুঁজি এনে দিলেও চূড়ান্তভাবে পরাজয় এড়াতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। টেন ক্রিকেট, ক্রিকইনফো।

যুক্তরাজ্যে এমপি হতে প্রবাসীদের পাশে চান টিউলিপ

(বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক বলেন, ‘আপনারা আমার নানাকে সাহায্য করেছেন, আমার মা ও খালাকে সাহায্য করেছেন। আশা করছি, ব্রিটিশ এমপি পদে লড়াইয়ে আপনারা এবার আমাকেও সাহায্য করবেন।’) যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির এমপি প্রার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা আমার নানাকে সাহায্য করেছেন, আমার মা ও খালাকে সাহায্য করেছেন। আশা করছি, ব্রিটিশ এমপি পদে লড়াইয়ে আপনারা এবার আমাকেও সাহায্য করবেন।’
গতকাল রোববার নিজের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ এ অনুরোধ জানান। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্ট ভেন্যুতে এই তহবিল সংগ্রহের ভোজসভা হয়। এতে বিভিন্ন শহর থেকে বাংলাদেশিরা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রথম ও একমাত্র ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি এমপি রুশনারা আলী। উপস্থিতি ছিলেন টিউলিপের স্বামী ক্রিস পার্সি এবং তাঁর ক্যাম্পেইন দলের সদস্যরা।
টিউলিপ লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার দলের এমপি প্রার্থী। আসনটিতে ১৯৯২ সাল থেকে লেবার পার্টির প্রার্থী গ্লেনডা জ্যাকসন টানা এমপি নির্বাচিত হন। বার্ধক্যের কারণে তিনি অবসরের ঘোষণা দিলে এই আসনে লড়ার মনোনয়ন পান টিউলিপ।
গত নির্বাচনে কনজারভেটিভ প্রার্থী ক্রিস ফিলিপ এই আসনে মাত্র ৪২ ভোটে গ্লেনডার কাছে হেরে যান। এবার কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী স্থানীয় কাউন্সিলর সায়মন মার্কাসের সঙ্গে লড়বেন টিউলিপ ।
২০১৫ সালের ৭ মে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া লেবার পার্টি।
টিউলিপ নিজেকে অভিবাসীর সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো অভিবাসীরা যুক্তরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। যুক্তরাজ্যের নিম্নবিত্ত মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য লেবার পার্টির বিকল্প নেই।
আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে দেশটিতে বসবাসকারী সকল বাংলাদেশি প্রবাসীদের সমর্থন চান টিউলিপ। টিউলিপকে অসাধারণ মেধাবী ও পরিশ্রমী প্রার্থী বলে প্রশংসা করেন রুশনারা আলী।

ধূমপানে হারিয়ে যাচ্ছে পুরুষ!

ধূমপানের কারণে পুরুষের রক্তকোষ থেকে ওয়াই ক্রোমোজোম হারিয়ে যেতে পারে। সুইডেনের গবেষকেরা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য পেয়েছেন। গবেষকেরা দাবি করছেন, তাঁদের এই গবেষণা ধূমপানে নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণ জানতে সাহায্য করবে। ফিনল্যান্ডের গবেষকেদের একটি দল এরই মধ্যে দেখিয়েছে, যেসব পুরুষের রক্তকোষের ওয়াই ক্রোমোজোম হারিয়ে যায়, তাঁদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে এটা ঘটে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো বের করতে পারেননি তাঁরা।  (ধূমপানের কারণে পুরুষের রক্তকোষ থেকে ওয়াই ক্রোমোজোম হারিয়ে যাচ্ছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন সুইডেনের গবেষকেরা।)
সাম্প্রতিক গবেষণাসংক্রান্ত এ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স সাময়িকীতে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ছয় হাজারের বেশি পুরুষের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছেন তাঁরা। এ ছাড়াও জীবনযাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়, বয়স, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা মদ্যপানের অভ্যাসের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা গবেষণা করেছেন।
গবেষকেরা বলছেন, পুরুষ যত বেশি ধূমপান করেন, ততই তাঁদের রক্তকোষ থেকে ওয়াই ক্রোমোজোম হারিয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু যাঁরা ধূমপান ছেড়ে দেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আবারও ওয়াই ক্রোমোজোম ফিরে আসতে থাকে।
সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লার্স ফর্সবার্গের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এই আবিষ্কার ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ জোগাবে।’
বংশগতিতে (ডিএনএ) ওয়াই ক্রোমোজোম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াই ক্রোমোজোমের উপস্থিতির কারণেই একজন পুরুষ বলে নির্ধারিত হন। ক্রোমোজোমের কাজ হলো বাবা-মার কাছ থেকে জিন সন্তান সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ন² রাখে। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।
জীবকোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নিউক্লীয় প্রোটিন জাতীয় পদার্থ নির্মিত জটিল তন্তুই ক্রোমোজোম, যার মাধ্যমে জীব তার সব ধরনের বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে পরিবাহিত করে নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। ক্রোমোজোম সূত্রাকার ক্রোমাটিন দ্বারা গঠিত। নির্দিষ্ট প্রজাতির জীবের কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্দিষ্ট। প্রতিটি ক্রোমোজোম বহুসংখ্যক জিন দ্বারা গঠিত। নারীর দুটি ক্রোমোজোমই এক্স আর পুরুষের ক্রোমোজোম এক্স ও ওয়াই।
ফিনল্যান্ডের গবেষকেদের মতে, ওয়াই ক্রোমোজোম পুরুষ হরমোনের উৎপাদন ছাড়াও ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরকে সমর্থ করে।
গবেষকেরা দাবি করছেন, শুধু ওয়াই ক্রোমোজোমই নয়, সাধারণভাবে পুরো ডিএনএর ক্ষতি করছে ধূমপান। অবশ্য এ ক্ষেত্রে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
সুইডেনের গবেষকেরা বলছেন, অধূমপায়ী পুরুষের চেয়ে ধূমপায়ী পুরুষের ক্রোমোজোম তিনগুণ দ্রুত হারিয়ে যায়। ওয়াই ক্রোমোজোম হারানোর সঙ্গে মানুষের আয়ু কমার সম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রমাণ পেয়েছেন তাঁরা। (এনবিসি নিউজ ও ডেইলি মেইল)

যৌন নির্যাতনের হুমকি দিয়েছে সিআইএ

আটক বন্দী, বিশেষ করে জঙ্গি সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য বের করতে নিষ্ঠুর সব কৌশল ব্যবহার করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তাঁদের যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছে, না ঘুমাতে দিয়ে দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে। কোনো তথ্য না পেয়েও বন্ধ হয়নি নির্যাতন। সিনেট ইনটেলিজেন্স কমিটির এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সংস্থার এসব নির্যাতনের খবর জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, আজ কমিটির ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে ২০ জন বন্দীর সঙ্গে করা সিআইএর নির্যাতনের কথা জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন ২০০০ সালে বোমা হামলার ঘটনায় আটক জ্যেষ্ঠ আল-কায়েদা নেতা আবদেল রহমান আল নাসিরি। আরেক বন্দী হলেন ওসামা বিন লাদেনের আল-কায়েদা দলের সদস্য সন্দেহে আটক ফিলিস্তিনি আবু জুবায়দাহ। কোনো বিরতি না দিয়ে তাঁকে পাঁচ দিন ধরে জাগিয়ে রাখা হয়। একটুও ঘুমাতে না দিয়ে চলতে থাকে জিজ্ঞাসাবাদ। এ সময় নানা অত্যাচার চলে তাঁর ওপর। প্রতিবেদনে আরও এক বন্দী বর্ণনা দিয়েছেন, কীভাবে সিআইএ কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তাঁকে যৌন নির্যাতন করার হুমকি দেন।
প্রতিবেদনটি ছয় হাজার পৃষ্ঠার। এর মধ্যে ৫০০ পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট বলেন, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মর্যাদাহানিকর। ৯/১১-এর হামলার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আটক জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় এসব আচরণ করার অনুমতি দেন। বুশের অনুমোদনেই হোয়াইট হাউস ও সিআইএ বন্দীদের ওপর এসব অত্যাচার চালাত বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পক্ষে মত দেন।
সিআইএর নিপীড়নের এ খবর প্রকাশের বিরুদ্ধে ছিলেন রিপাবলিকানরা। এ ব্যাপারে রিপাবলিকান ও সিআইএ প্রবল আপত্তি জানায়। তবে ইনটেলিজেন্স কমিটির বেশির ভাগ সদস্য ডেমোক্র্যাট। তাঁরা এই প্রতিবেদন প্রকাশ করার পক্ষে মত দেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট বলেন, ২০০৯ সালে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এসব অত্যাচার বন্ধ করার পক্ষে মত দেন।
২০০৯ সালে ওবামা জিজ্ঞাসাবাদের এসব কৌশল বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, এসব কঠোর কৌশল প্রয়োগ করেও বন্দীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পায়নি সিআইএ। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মূলবোধকে নষ্ট করে এমন কৌশল বাদ দেওয়া উচিত।

‘ব্যাঙের ছাতার মতো ভুয়া মানবাধিকার সংগঠন হচ্ছে’

সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো ভুয়া মানবাধিকার সংগঠন গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মানবাধিকার–বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় মিজানুর রহমান এসব কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল রিসার্চ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (অ্যালার্ট) নামের একটি সংগঠন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন আলোচক মানবাধিকার রক্ষায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সচেতন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁরা এ ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে পদক্ষেপ নিতে বলেন। তাঁদের এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এমনিতেই অনেক ভুয়া সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠন বিভিন্ন সময়ে কমিশনের নাম ব্যবহার করে। তাই এই মুহূর্তে সচেতন কমিটি গঠন করার সুযোগ নেই।’
‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন’ ও ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট কমিশন’ নামের দুইটি সংগঠনের কারণে বাইরের বিভিন্ন দেশ বিভ্রান্তিতে পড়ে বলে জানান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সারা বিশ্বে আদর্শ বিচারের উদাহরণ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘যারা ড্রোন দিয়ে মানুষ হত্যা করে, বিচার নিয়ে তাদের সমালোচনা গ্রহণ করব কি না, আমাদের তা বিবেচনা করতে হবে।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রানা দাশগুপ্ত, সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান, অ্যালার্টের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান প্রমুখ।

কোনো মেয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

(প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বছরের বেগম রোকেয়া পদকজয়ী দুজন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়। ছবি: ফোকাস বাংলা) কোনো মেয়ে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রতিটি নারী শিক্ষিত হবে। বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনোই এমন পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হবে না, যাতে নারীরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস এবং বেগম রোকেয়া পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষা বিস্তার, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য অধ্যাপক মমতাজ বেগম এবং মিসেস গোলাপ বানুর হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দেন। খবর বাসসের। শিশু ও নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বেগম রোকেয়া পদক পাওয়া মমতাজ বেগম ও গোলাপ বানু তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়া স্বপ্ন দেখতেন, সমাজের অবহেলিত নারীরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হবে। তাঁর এই স্বপ্নের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রতিটি শিক্ষিত নারীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন এবং বেঁচে থাকবেন।
বেগম রোকেয়া সমাজে একটি বিপ্লব এনেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়ার জন্ম না হলে এবং তিনি শিক্ষার পথ না দেখালে দেশের অগ্রগতি হতো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের অনেক নারী স্বাধীনতার জন্য এবং নারীর সম্মান ও তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজে নারী-পুরুষের সম–অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পুনরায় আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনসংখ্যার অর্ধেককে পেছনে রেখে সমাজের অগ্রগতি হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বেগম রোকেয়া পদক-২০১৪ বিজয়ীদের তাঁর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নারীদের উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে এই পদক প্রদান নারীদের আরও উৎসাহিত করবে। শেখ হাসিনা বেগম রোকেয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী শিক্ষার পথিকৃৎ এবং একটি ইনস্টিটিউশন।

সিআইএ’র রিপোর্ট প্রকাশ আজ, বিশ্বজুড়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ে বন্দিদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতনের যেসব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা প্রকাশ করা হচ্ছে আজ। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে তা প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন। সিআইএ রয়েছে তৎপর। বাড়ানো হয়েছে হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা। রিপোর্ট প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে দেখা দিতে পারে অসন্তোষ। এ জন্য সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার নৌ সেনাকে রাখা হয়েছে আরও সতর্ক অবস্থায়। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা ঘাঁটিগুলোর জন্য হুমকি দেখা দিলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে মোতায়েন করা হবে ওই সেনাদের। রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর ক্ষমতাসীন ডেমক্রেট ও রিপাবলিকান শিবির একে অন্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণে জড়িয়ে পড়তে পারে। এর কারণ, ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার পর যেসব ব্যক্তিকে এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ে বুশ সরকার ৫ কোটি ডলার খরচ করেছে। বন্দিদের কাছ থেকে অকথ্য নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কৌশল হলো ওয়াটারবোর্ডিং। এ পদ্ধতিতে বন্দিকে পানিতে ফেলে তাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আজ যে রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে তা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট নয়। তবে এতে রয়েছে রিপোর্টের সারমর্ম। মূল রিপোর্ট ৬০০০ পৃষ্ঠারও বেশি। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতাসীন হওয়ার ৬ বছরের মাথায় এই রিপোর্ট প্রকাশ হতে চলেছে, যখন সিনেটে ডেমক্রেটদের দিনকাল ভাল যাচ্ছে না। কংগ্রেসে আধিপত্য বিস্তার করেছে রিপাবলিকানরা। আজকের এই রিপোর্টে থাকবে ২০টি থটনার তদন্ত রিপোর্ট, ২০টি ঘটনার পর্যালোচনা। সিনেটের ডেমক্রেট সদস্যরা আগেভাগেই বলছেন, এই কর্মসূচি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে সিআইএ। এমন ২০টি ঘটনার মধ্যে আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের অনুসন্ধান অন্যতম। যেসব দেশ সিআইএ’কে গোপন কারাগার স্থাপনে ও বন্দি হস্তান্তরে সহায়তা করেছে তাদের নাম এ রিপোর্টে পরোক্ষভাবে প্রকাশ করা হবে। তবে দেশগুলোর পুরো নাম প্রকাশ করা হবে না। রিপোর্টে সিআইএ’র কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না। কারণ, তাহলে তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারবে অন্যরা।

ভারতে যৌন হয়রানি রোধে কমিক চরিত্র

ভারতে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ তৈরির লক্ষ্যে ‘প্রিয়ার শক্তি ’ নামে একটি কমিক চরিত্র তৈরি করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান চলচ্চিত্রকার রাম দেবীনেনি। সিনেমায় নির্যাতিত মেয়েটিকে সুপারহিরো হিসেবে দেখানো হয়েছে, যিনি ধর্ষিত হবার পর আত্মহনন না করে নিপীড়কদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। কিন্তু এমন চলচ্চিত্রের সাথে ভারতের প্রথাগত চলচ্চিত্রের পার্থক্য কতটা? জানতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গের নারী অধিকার কর্মী অধ্যাপক শাশ্বতী ঘোষ বলেন, “সবাই কিন্তু হিন্দি সিনেমা দিয়ে ভীষণভাবে প্রভাবিত। হিন্দি সিনেমায় যা দেখানো হয় যে একটি মেয়ে যদি এভাবে নির্যাতিত হয় তাহলে তার সম্পর্কে হিন্দিতে যে শব্দ ব্যবহার করা হয় তা হলো জিন্দা লাশ। সে হচ্ছে একজন জীবন্ত মৃত মানুষ। সে ধরনের কথাই উঠে আসে”।তিনি আরও বলেন দেখা যায় কেউ ঘটনার শিকার হওয়ার পর সে আইনের উপর ভরসা করতে পারছেনা। বিচার ব্যবস্থা পুলিশ সবাই তাকে বিমুখ করছে। তখন সে নিজের হাতে প্রতিহিংসা তুলে নিচ্ছে। ফলে কোথাও কিন্তু আইন বা বিচার ব্যবস্থার উপর ভরসা রাখার কিছু দেখানো হয়না।মিস ঘোষ বলেন, “আমাদের দেশে ধর্ম এতোটাই গুরুত্ব পায়। কমিক চরিত্র, সেটার সাথে ধর্মীয় অনুষঙ্গ তৈরি করা গেলে সেটাও হয়তো কিছু মানুষের কাছে পৌছাতে পারে বলে মনে হয়”।
তিনি বলেন , “মানুষ তার জয়ের জন্য নিজের মধ্যকার শক্তি প্রয়োজন। আমি কোন অন্যায় করিনি, আমার সাথে অন্যায় করা হয়েছে-এই আত্মশক্তি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তারপরেও চারপাশের মানুষ, যথাযথ চিকিৎসক, বিচারক-পুলিশের কাছে পড়েন তাহলে কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত সুবিচারের আশা করেন”।
তিনি বলেন, “তার লড়াই কিন্তু তার একার না। বাকীদেরও বিশ্বাস করতে হবে যে তিনি কোন অন্যায় করেননি”।
তিনি আরও বলেন শুধু পুরুষরা নয়, মেয়েরাও অনেক সময় নিগ্রহের জন্য নিজেকে দায়ী করে। নিগৃহিতার উপর দোষারোপের পর্ব চলতে থাকে। ধর্মীয় অনুষঙ্গের মধ্যে কমিক করা হলে আপত্তি করবো তা নয়, তবে এর বাইরেও তা হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

নিখোঁজের ছয় দিন পরে স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার

নিখোঁজের ছয় দিন পরে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্কুল ছাত্র ফয়সাল আহমেদ তুহিন (৮) এর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির কাছের বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফয়সাল মাহমুদ তুহিন স্থানীয় তেতুলতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে উপজেলার ঘোষের টিকিকাটা গ্রামের কাতার প্রবাসী বাদল জমাদ্দারের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে প্রতিবেশী আশ্রাব আলীর কলেজ পড়–য়া ছেলে ও বিকাশ ব্যবসায়ী সোয়েবকে (২২) আটক করা হয়েছে। থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, তুহিন গত মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মাকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুজির এক পর্যায় সে নিখোঁজ হয়। বহু খোঁজাখুজি করেও ওই স্কুল ছাত্রের সন্ধান না পাওয়ায় তার চাচা জহুরুল ইসলাম মঠবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এলাকাবাসী জানান, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মাকে ঘরে না পেয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে মাঠে খেলতে যায়। এসময় প্রতিবেশী সোয়েব তাকে ডেকে নেয়। এর পর তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পাশে বাগানে নিখোঁজ স্কুল ছাত্র তুহিনের লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী থানায় খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠায়। এব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মল্লিক জানান, স্কুল ছাত্র নিহতর ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং ওই স্কুলছাত্রের লাশ  উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দাযের প্রস্তুতি চলছে।

তারেকের ৩ ঘণ্টা জবানবন্দি

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ‘সেভেন মার্ডার’ অভিযান শেষে র‌্যাব সদস্যদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে মেজর (অব.) আরিফকে নির্দেশ দিয়েছিলেন লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ। ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এ নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। আরিফের নেতৃত্বে ৭টি লাশ ডুবিয়ে র‌্যাব সদস্যরা ফিরে আসার পথে গভীর রাতে নৌকাঘাটে তারেক নিজেই হাজির হন। তিনি সেখানে সৈনিকদের উদ্দেশে ব্রিফ করেন। ঘটনার গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘সমস্যা নাই’। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত অপহরণ ও খুনের আদ্যোপান্ত জানতেন তিনি। মূলত তার নির্দেশেই এই অপহরণের ঘটনা ঘটে বলে আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে জবানবন্দিতে তিনি ‘কৌশলী শব্দ’ ব্যবহার করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত খোলাসা করলেও তিনি ‘খুনের নির্দেশ’ দেয়ার বিষয়টি কোথাও বলেননি। তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ৩২ দিনের রিমান্ড শেষে ১৮ জুন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কেএম মহিউদ্দীনের আদালতে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ধরে এই জবানবন্দি দেন। ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় কঠোর গোপনীয়তায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সম্প্রতি একটি বিশেষ সূত্রে তারেক সাঈদের এই জবানবন্দির কপি যুগান্তরের কাছে এসেছে। জবানবন্দির পুরো অংশ নিচে দেয়া হল।
‘আমি র‌্যাব-১১ এর কমান্ডিং অফিসার হিসেবে ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর যোগদান করি। আমি র‌্যাব-১১ কোম্পানি কমান্ডারদের সম্মেলনে নজরুলকে (প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম) গ্রেফতারের নির্দেশ দিই। ওই সম্মেলনে নজরুলকে গ্রেফতারের জন্য আমি লে. কমান্ডার রানাকে বলি সে যেন মেজর আরিফকে এ বিষয়ে সাহায্য করে। ২৭ এপ্রিল বেলা অনুমান ১১টার দিকে মেজর আরিফ আমাকে ফোন করে বলে, ‘স্যার নজরুল আজকে কোর্টে আসবে। তাকে আজ গ্রেফতার করা যাবে।’ তখন আমি নজরুলকে গ্রেফতারের জন্য আরিফকে অনুমতি দিই। দুপুর ১২টার দিকে লে. কমান্ডার রানা আমাকে ফোন করে। সে নজরুলকে গ্রেফতারের বিষয় মেজর আরিফকে সাহায্য করার জন্য আমার কাছে অনুমতি চায়। আমি তাকে অনুমতি দিই। ওইদিন আনুমানিক ২টার (দুপুর) সময় মেজর আরিফ আমাকে ফোন করে বলে, ‘স্যার টার্গেট picked up (ধরা হয়েছে)। সঙ্গে আরও ৪ জন আছে। সবাইকে নিয়ে নরসিংদী র‌্যাব ক্যাম্পে যাচ্ছি।’ তখন আমি আরিফকে বলি, ঠিক আছে যাও। বেলা আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে লে. কমান্ডার রানা আমার রুমে আসে। সে বলে, ঘটনাস্থলে একটি গাড়ি পড়ে আছে। ওই গাড়িটি সরাতে হবে। সেজন্য একজন ভালো ড্রাইভার লাগবে। তখন আমি রানাকে ব্যাটালিয়ন থেকে একজন ভালো ড্রাইভারকে নিয়ে যেতে বলি। বেলা অনুমান ৩টার সময় আরিফ আমাকে রিপোর্ট করে, সে নরসিংদী র‌্যাব ক্যাম্পে পৌঁছে গেছে। তখন আমি বলি ঠিক আছে।
জবানবন্দিতে অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল তারেক আরও বলেন, ‘ওইদিন (ঘটনার দিন) আনুমানিক ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে লে. কমান্ডার রানা আমাকে দুবার ফোন করে বলে, ঘটনাস্থল থেকে যে গাড়িটি এনেছি, সেই গাড়িটি accident করেছে এবং গাড়িতে গ্যাস কম আছে। এই গাড়ি নিয়ে ঢাকার বাইরে যাওয়া যাবে না। গাড়িটি ঢাকার কোথাও রাখতে হবে। তখন আমি রানাকে বলি গাড়ির ব্যাপারে আরিফ সব জানে। যা-ই কর আরিফকে জানিয়ে কর। ওইদিন আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে রানা আমাকে ফোন করে বলে, স্যার গাড়ির বিষয়ে আরিফের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি গাড়িটি নিকেতনে রেখে যাচ্ছি। তখন আমি রানাকে বলি ওইভাবে গাড়ি রেখে তাড়াতাড়ি নারায়ণগঞ্জে চলে আস।’
তিনি বলেন, ‘রাত ৮টার সময় আমি নজরুলের স্ত্রী ও শ্বশুরের জন্য আমার অফিসে অপেক্ষা করছিলাম। ওই সময় মেজর আরিফ আমাকে ফোন করে বলে, ‘স্যার আমার লোক বদলি করতে হবে। আপনি একটি গাড়ি দেন।’ তখন আমি আরিফকে নরসিংদী ক্যাম্পে বিশ্রাম নিয়ে একবারেই নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পে ফিরতে বলি। তখন আরিফ জানায়, সে নরসিংদী ক্যাম্পে নেই। নরসিংদী ক্যাম্প কমান্ডার সুরুজ তাকে ঠিকমতো accept (গ্রহণ) না করায়, সে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে গেছে। তখন আমি আরিফকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি ও তোমার লোকজন কোথায় খাওয়া-দাওয়া করেছ? তখন আরিফ আমাকে জানায়, ‘স্যার আমি আমার লোকদের খাইয়েছি। আসামিরা এখন ঘুমাচ্ছে। আমি আমার লোকদের খাওয়ানোর জন্য সুরুজ স্যারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।’ রাত ৮টার পর থেকে রাত ৯টার আগ পর্যন্ত আমি নজরুলের স্ত্রী, নজরুলের শ্বশুর ও নজরুলের আরও ১০-১২ জন লোকের সঙ্গে মিটিং করি। ওই সময় নজরুলের শ্বশুর ও স্ত্রী বলে, নূর হোসেন নজরুলকে অপহরণ করেছে। নূর হোসেনকে গ্রেফতার করলে নজরুলকে পাওয়া যাবে। তখন আমি বলি, তদন্ত সাপেক্ষে নূর হোসেনকে গ্রেফতার করা হবে। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আরিফ আমাকে ফোন করে বলে, ‘স্যার রাস্তায় পুলিশের কড়া চেকিং চলছে। আমি Civil (বেসামরিক) গাড়ি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ এলে চেকিংয়ে পড়ব। স্যার, তাই আমার ক্যাম্পে ফেরার জন্য নৌকা দরকার। তখন আমি আরিফকে বলি, লে. কমান্ডার রানার সঙ্গে কথা বলে তুমি Boat (নৌকা) ঠিক করে নাও। র‌্যাব-১১ এর সব বোট লে. কমান্ডার রানা তত্ত্বাবধান করতেন। এরপর আমি বোটের বিষয়ে রানা এবং আরিফ দু’জনের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমন্বয় করে নিতে বলি। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে লে. কমান্ডার রানা আমার অফিসে এসে আমার Land Phone থেকে মেজর আরিফকে দুবার ফোন করে এবং Boat Operator-কে ফোন করে মেজর আরিফ ও Boat Operator-এর মধ্যে সমন্বয় করে দেন। ওই সময় আমি রানাকে জিজ্ঞাসা করি, ‘আরিফ Boat কোথায় নিতে বলেছে? তখন রানা বলে, কাঁচপুর ব্রিজের নিচে নিতে বলেছে। রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে আরিফ আমাকে ফোন করে বলে, স্যার আমি কাঁচপুর পৌঁছে গেছি। তখন আমি বলি ঠিক আছে। আমি আমার রানারকে (বার্তাবাহক) ফোন করে বলি, তুমি আমার গাড়ি নিয়ে আস। তারপর আমি আমার ব্যাটালিয়ন Ops Officer (অপারেশন কর্মকর্তা) ASP (সহকারী পুলিশ সুপার) শাহরিয়ারকে ফোন করে বলি, মেজর আরিফের গাড়ি ও ব্যাটালিয়ন থেকে একটি মাইক্রোবাস নৌকা ঘাটে পাঠিয়ে দাও। রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আমি নৌকাঘাটে পৌঁছি। আমি নৌকাঘাটে পৌঁছার ২০-২৫ মিনিট পর মেজর আরিফ নৌকাঘাটে পৌঁছাই। ওই সময় ASP শাহরিয়ার মেজর আরিফের গাড়ি ও একটি মাইক্রো নৌকাঘাটে পাঠিয়ে দেয়। তখন আরিফ বলে, ‘স্যার আসামিদের মেরে ফেলেছি।’ তখন আমি আরিফকে বলি, ‘মেরে ফেলছ, মানে? কেন মেরেছ?’ তখন আরিফ বলে, নজরুল আমাকে চিনে ফেলেছে তাই আমি নজরুলকে মেরে ফেলেছি। অন্যরা দেখে ফেলেছে তাই ভয়ে তাদেরও মেরে ফেলেছি। ওই সময় আরিফ জানায়, মোট ৭ জনকে মেরেছি। তখন আমি বলি, ৭ জন মানে? তুমি তো গ্রেফতার করেছ ৫ জনকে, অন্য ২ জন কোথায় পেলে। তখন আরিফ আমাকে বলে, ‘স্যার আমার গাড়িতে ছিল ৫ জন। এই ৫ জনের বিষয়ে আমি আপনাকে রিপোর্ট দিয়েছি। পেছনে আর একটি গাড়িতে রানা স্যার ২ জনকে পাঠিয়েছেন। এই ২ জনের বিষয়ে আপনাকে জানানো হয়নি। ভেবেছিলাম ক্যাম্পে এসে জানাব।’ এই কথা শুনে আমি আরিফের Team-এর সৈনিকদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। তখন আমি নিচে নেমে সৈনিকদের সঙ্গে কথা বলি এবং তাদের আশ্বস্ত করি, সমস্যা নেই Officer গাড়িতে ছিল। তারপর আমি সব সৈনিকের কাছ থেকে আরিফকে মোবাইল নিয়ে নিতে বলি এবং আরিফসহ তার লোকদের গাড়িতে উঠতে বলে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে যেতে বলি। তখন ASP শাহরিয়ার কর্তৃক পাঠানো মাইক্রোবাসের ড্রাইভার এসে বলে, ‘স্যার এই গাড়ির ইঞ্জিন দুর্বল, ঢাকায় নিয়ে যাওয়া যাবে না। আমি মাইক্রোবাস নিয়ে মেসে যাচ্ছি।’ মেসে যাওয়ার পথে রাস্তায় পুলিশ আমার মাইক্রোবাস চেক করে। পরে আমার পরিচয় জানার পর পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয়। ২৯ এপ্রিল বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে আমি ও মেজর আরিফ অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপারেশনের (এডিজি অপস) অফিসে যাই। তিনি মেজর আরিফ ও নূর হোসেনের মধ্যে কথোপকথনের সিডি ও লিখিত ভার্সন আমাদের দেখান। ওই সময় অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরিফকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এছাড়া আরিফ ও নূর হোসেনের কথোপকথনের মধ্যে কিছু সাংকেতিক শব্দ থাকায় অতিরিক্ত মহাপরিচালক স্যার আরিফকে ওই বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ঢাকার ফ্ল্যাটের বিষয়ে সে বলে, ‘হ্যাঁ ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট আছে। নূর হোসেনের মাধ্যমে ফ্ল্যাটের টাকা জমা দিই। নজরুলের সঙ্গে নূর হোসেনের শত্রুতা থাকায় সোর্স হিসেবে নূর হোসেনকে ব্যবহার করি। র‌্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে বের হয়ে আমি ও আরিফ বিকালে আনুমানিক ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১ এর হেডকোয়ার্টারে চলে আসি। ওইদিন বিকাল ৫টায় আমি আরিফ ও রানা মাতৃবাহিনীতে ফেরত যাওয়ার আদেশ পাই। রাত ৮টার মধ্যে যার যার মাতৃবাহিনীতে যোগদান করি।
২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ তার প্রাইভেট কার চালক জাহাঙ্গীর, বন্ধু তাজুল, স্বপন ও লিটন এবং প্রবীণ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার প্রাইভেট কার চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে র‌্যাব। এর তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং পরদিন আরও একজনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে।

ডিসিসি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই ইসির

আগামী জানুয়ারি মাসে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এ নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে। এ খবর প্রকাশের পরে আজ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিইসি বলেন, জানুয়ারিতে এ নির্বাচন কেন করব? আমাকে সময় দিতে হবে। তফসিল ঘোষণার জন্যও প্রস্তুতির দরকার রয়েছে। তিনি বলেন, একথা খুব পরিষ্কার- আমরা অনেক আগে থেকে রেডি। কিন্তু দক্ষিণে যেমন সীমানা বাড়াতে চাইছে, তেমনি উত্তরেও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এখনও ওপরের চাপ থাকলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দ্রুত সীমানা পুননির্ধারণ করে দিয়ে আমাদের অনুরোধ জানাতে পারে। ২০০৭ সালের মে মাসে অবিভক্ত ডিসিসির নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় দুই বার নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিলেও তা করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০১১ সালের ৩০শে নভেম্বরে ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে দক্ষিণ ও ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর নামে দুই ভাগ হয় ডিসিসি।

চাঁদে মানুষ পাঠাতে রকেট বানাচ্ছে চীন

চাঁদে প্রথমবারের মতো মানুষ পাঠাতে একটি নতুন রকেট বানাচ্ছে চীন। এটা মহাকাশ নিয়ে চীনের অব্যাহত উচ্চাকাক্সক্ষারই প্রমাণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র চায়না ডেইলির এক খবরে সোমবার বলা হয়, চীন লং মার্চ-৯ নামে একটি নতুন রকেট বানাচ্ছে। এটা ২০২৮ সাল নাগাদ উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, রকেট তৈরির কাজ এখনও গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। লং মার্চ-৯ মোট ১৩০ মেট্রিক টন সামগ্রী বহন করতে পারবে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। চায়না একাডেমি অব লঞ্চ ভেইকল টেকনোলজির মহাকাশ সামগ্রীর প্রধান লি টংউ বলেন, বর্তমানে আমাদের লং মার্চ-৫সহ বেশ কয়েকটি মহাকাশযান রয়েছে। লং মার্চ-৫ শিগগিরই উৎক্ষেপণ করা হবে। এসব যান দিয়ে আগামী ১০ বছর পরিকল্পনা অনুযায়ী মহাকাশে কর্মকাণ্ড চালানো যাবে। কিন্তু দেশের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ কর্মসূচিতে এসব সক্ষমতা যথেষ্ট নয়।কারিগরি দক্ষতা জোরদার ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সাফল্য তুলে ধরতে বেইজিং মহাকাশ কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে।

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নাগরিক সংহতি by হাসান ফেরদৌস

(যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির উইনউড এলাকায় গত রোববার পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে এক ব্যক্তি। একই দিন এ রকম আরও বিক্ষোভ হয় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে l ছবি: এএফপি) একের পর এক নিরীহ ও নিরস্ত্র কৃষ্ণকায় মার্কিন নাগরিক পুলিশের হাতে নিহত হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলে বেকসুর পার পেয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আমেরিকার প্রধান প্রধান শহরে রাষ্ট্রব্যবস্থার এই স্পষ্ট বর্ণবাদী চরিত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠেছে।
রোববার, যখন এই প্রতিবেদন লিখছি, নিউইয়র্ক শহরের নানা স্থানে নাগরিক বিক্ষোভ চলছে। লোকসমাগমের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য না হলেও শহরের সব ধরনের মানুষ—সাদা, কালো অথবা বাদামি—এসব সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জানান দিচ্ছে, কালো মানুষদের বিরুদ্ধে নির্বিকার পুলিশি নির্যাতন তারা মেনে নেবে না।
অধিকাংশের ক্ষোভ ফার্গুসন, মিজৌরি ও নিউইয়র্কের স্টাটেন আইল্যান্ডে সাম্প্রতিক সময়ের দুটি ভিন্ন ভিন্ন পুলিশি ঘটনায়। প্রথম ঘটনায় ১৭ জুলাই নিউইয়র্কে স্টাটেন আইল্যান্ডে ৪৩ বছর বয়স্ক এরিক গার্নার পুলিশের হাতে শ্বাসরোধের কারণে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, গার্নার খোলা রাস্তায় চোরাচালানির সিগারেট বিক্রি করছিলেন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর গলা চেপে ধরেন। অ্যাজমা রোগী এরিক গার্নার বারবার বলতে থাকেন, আমি শ্বাস নিতে পারছি না। তা সত্ত্বেও পুলিশ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল পান্তালেও তাঁর গলা থেকে হাত সরিয়ে নেননি। ফলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গার্নারের মৃত্যু হয়। পুরো ঘটনাটি ভিডিও টেপে ধরা ছিল। প্রায় তিন মাস তদন্ত ও জুরি শুনানির পর পুলিশকে খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ঘটনায়, ৮ আগস্ট মিজৌরির ফার্গুসনে পুলিশের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির পর মাইকেল ব্রাউন নামের ১৮ বছরের এক কৃষ্ণকায় যুবক পুলিশ কর্মকর্তা ড্যারেন উইলসনের গুলিতে নিহত হন। এ সময় ব্রাউন নিরস্ত্র ছিলেন। প্রায় তিন মাস তদন্ত ও বিচারের পর মূলত শ্বেতকায় জুরি উইলসনকে নির্দোষ ঘোষণা করে।
শুধু কালো মানুষ বলেই কোনো দ্বিধা না করে পুলিশ গুলি চালায়—এ কথা এখন অনেকেই বলছে। গত সপ্তাহে এই নিউইয়র্কেই আলো-আঁধারিতে এক যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গুলি করে মেরে ফেলে এক নবিশ পুলিশ। তার একমাত্র অপরাধ, সে কালো। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে ক্লিভল্যান্ড, ওহাইও এবং সাউথ ক্যারোলাইনার ইউটাওভিল-এ। এ কথা গোপন নয় যে এ দেশে পুলিশ বর্ণভিত্তিক পূর্ব-অনুমিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যবহার করে থাকে। কালোদের বা বাদামিদের জন্য একরকম ব্যবহার, শ্বেতকায়দের জন্য অন্য রকম। শুধু কালো, এ কারণে সম্পূর্ণ নিরীহ ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ পুলিশের হাতে অপদস্ত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নামজাদা খেলোয়াড়, শিল্পী ও রাজনীতিক।
কালোদের প্রতি পুলিশি ব্যবহার যে বর্ণবাদী, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সে কথা সবচেয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও। পুলিশ কর্মকর্তা পান্তালেও বেকসুর খালাস পাওয়ার ঘটনাটি, তাঁর কথায়, নিউইয়র্কের জন্য গভীর বেদনার ও লজ্জার। গার্ডেনারের পিতার দিকে তাকিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘এ সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজের (মিশ্র বর্ণের) পুত্র দান্তের কথা ভেবেছি। দান্তের সঙ্গে আমি অনেক সময় কথা বলেছি, (কৃষ্ণ বর্ণের হওয়ার কারণে) এই শহরে তাকে কী ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।’ তাঁর এ কথার অর্থই ছিল, শুধু কালো হওয়ার অপরাধে মেয়রের পুত্র পর্যন্ত পুলিশি হয়রানি অথবা হত্যার শিকার হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া উপাত্ত অনুসারে আমেরিকাজুড়ে শ্বেতকায়দের তুলনায় কৃষ্ণকায়দের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার সম্ভাবনা ২১ ভাগ বেশি। ২০১০-১০১২ সালে সংঘটিত পুলিশের গুলিতে নিহত ১৫ থেকে ১৯ বছরের কিশোর-যুবকদের মোট সংখ্যা ১২ হাজার ১৭। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্র-পুবলিকা নামক সংবাদ গবেষণা সংস্থা জানাচ্ছে, প্রতি ১০ লাখে পুলিশি গুলিতে নিহত কালোদের সংখ্যা ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ, শ্বেতকায়দের সংখ্যা ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গুলি নিক্ষেপকারী এসব পুলিশের ৯০ শতাংশই শ্বেতকায়।
মার্কিন সরকারের তথ্য অনুসারে, আমেরিকার অধিকাংশ শহরের পুলিশ বাহিনীর সদস্যের ৮০ ভাগই শ্বেতকায়। ফার্গুসনে, যেখানে ৬৭ শতাংশ মানুষ কালো, তার পুলিশ বাহিনীতে রয়েছেন ৫৩ জন সাদা পুলিশ কর্মকর্তা। কালো পুলিশ কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র তিন। ফার্গুসনে ২০১৩ সালে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে এমন শ্বেতকায়ের সংখ্যা ৩৬, কৃষ্ণকায়ের সংখ্যা ৪৮৩।
অধিকাংশ ভাষ্যকারের ধারণা, এ দেশে পুলিশের কালোদের ব্যাপারে একধরনের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা, পুলিশ জানে কালোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে, তা যদি বেআইনিও হয়, তবু বিপদের কোনো আশঙ্কা নেই। নাগরিক অধিকার নেতা, আল শার্পটন সে কথার ব্যাখ্যা করে বলেছেন, এ দেশের বিচারব্যবস্থা দুই ধরনের—একটি শ্বেতকায় ও উচ্চবিত্তের জন্য, অন্যটি কালো ও নিম্নবিত্তের জন্য।
এই দুই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, কেউ কেউ তাকে নাগরিক বিদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বামপন্থী সাপ্তাহিক নেশন পত্রিকা লিখেছে, এ মুহূর্তে আমেরিকায় যা ঘটছে, তা শুধু প্রতিবাদ ঝড় নয়, এ এক নাগরিক ‘অভ্যুত্থান’। প্রবল শীত ও হাড়কাঁপানো বৃষ্টি উপেক্ষা করে হোয়াইট হাউসের সামনে প্রতিবাদী মানুষ জমায়েত হচ্ছে প্রতিদিন। ‘হান্ডস আপ, ডোন্ট শুট’ এই স্লোগান নিয়ে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজের ওপর মিছিল নিয়ে আসছে বিভিন্ন বর্ণ ও ধর্মের মানুষ। দিনের প্রায় সব সময়ই ছোটখাটো প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে টাইমস স্কয়ারে। কৃষ্ণ অধিকার আন্দোলন, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপলের সদস্য ও নাগরিক অধিকারকর্মীরা ফার্গুসন থেকে মিজৌরির রাজধানী জেফারসন সিটি পর্যন্ত পুরো ১২৭ মাইল হেঁটে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, ষাটের দশকে মার্টিন লুথার কিংয়ের নেতৃত্বে এ দেশে যে নাগরিক অধিকার আন্দোলন হয়েছিল, আজকের আমেরিকায় সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থেকে শহরের মেয়র, পুলিশপ্রধান, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ নাগরিক—সবাই এ ব্যাপারে একমত যে চলতি বর্ণবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। ফার্গুসনের ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে ওবামা বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি বলছি, সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নিরস্ত্র কৃষ্ণকায় যুবকদের ওপর পুলিশের ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমেরিকান হিসেবে এই ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক শহরে কিছু কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেমন: ‘রেশিয়াল প্রোফাইলিং’ নিষিদ্ধ হয়েছে, হয়রানি কমাতে পুলিশের বুকে ভিডিও ক্যামেরার ব্যবস্থা হচ্ছে। অ-শ্বেতকায় পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। তবে সবাই এ ব্যাপারে একমত যে শুধু আইন করে অথবা পুলিশ বিভাগে অ-শ্বেতকায়দের সংখ্যা বাড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। আমেরিকার বর্ণবাদী ব্যবস্থা টিকে আছে ধনী ও দরিদ্রের বিপুল বৈষম্যের ভিত্তিতে। এই ব্যবধান যত দিন না কমছে, প্রকৃত পরিবর্তন অসম্ভব।

বুকের খাঁচার অসুখ বিসুখ by ডা: ইকবাল হাসান মাহমুদ

আমাদের বুকের মাংসের নিচে হাড় দিয়ে নির্মিত একটি খাঁচা রয়েছে। হাড়ের তৈরি এই খাঁচার মধ্যেই আছে দুই ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, শ্বাসনালী এবং খাদ্যনালীসহ অনেক প্রয়োজনীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, শিরা ও ধমনি। এই খাঁচার হাড়গুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই দেখা দিতে পারে। বুকের এই খাঁচার রোগের জন্য একটি মানুষ সামনের দিকে অথবা কোনো এক পাশে ঝুঁকে যেতে পারে যাকে কাইফোস্কোলিওসিস বলে। পিঠের হাড়গুলোকে যারা শক্তভাবে বেঁধে রেখেছে তাদের মধ্যে সমস্যা হলে এই রোগ দেখা দেয়। এর কারণগুলো হলো :
১. জন্মগত দোষত্রুটি থাকলে।
২. মেরুদণ্ডের হাড়গুলোতে যদি যক্ষ্মা, হাড় লমঘয়ে যাওয়া বা অস্টিওপোরসিস এবং এনকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস দেখা দেয়।
৩. কোনো ধরনের আঘাত লাগলে।
৪. মাংসপেশি বা স্নায়ুতন্ত্রের রোগ যেমন পোলিওমাইলাইটিস হলে, সামনের দিকে সাধারণ একটু ঝুঁকে গেলে ফুসফুসে খুব একটা চাপ পড়ে না। তবে কাইফোস্কোলিওসিস বা সামনের এবং সাথে সাথে পাশের দিকে এক সাথে ঝুঁকে পড়লে ফুসফুসের ওপর চাপের মাত্রা অনেকাংশ বেড়ে যায়।
কাইফোস্কোলিওসিস যদি খুব ব্যাপক হয় তাহলে বুকের খাঁচার স্ফীতি কমে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ফুসফুসে বাতাস চলাচল বা ভেন্টিলেশন এবং ফুসফুসে রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়। এই ধরনের রোগীদের শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে যাকে রেসপিরেটরি ফেইলিওর টাইপ-২ বলে। পরবর্তী সময়ে ফুসফুসের ধমনির রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের বিপর্যয় ঘটে। ফলে রোগীর আয়ু কমে যায়। রোগের এই ধরনের বিকাশ ব্যাপকতর হয় যদি ফুসফুস এবং শ্বাসনালীতে জীবাণু সংক্রমণ ঘটে।
শিশুদের অনেক বছর হাঁপানি চলতে থাকলে তাদের বুক অনেকটা কবুতরের বুকের মতো হয়ে যায়, যাকে পিজিয়ন চেস্ট বা পেকটাস কেরিনেটাম বলে। অনেক সময় এই সমস্যা রিকেট অথবা কোনো অজানা কারণেও হয়ে থাকে। আমরা জানি ভিটামিন-ডি এর অভাব ঘটলে রিকেট নামক রোগ দেখা দেয়। বয়স্ক রোগীদের ফুসফুসের ক্যান্সারের একপর্যায়ে বুকের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে যায়।  এক্সরে করলে দেখা যায় যে, ক্যান্সারের স্থানটিতে বুকের হাড় উধাও হয়ে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো আঘাতে বুকের হাড় ভেঙে যেতে পারে। দেহের অন্যান্য হাড় ভেঙে গেলে প্লাস্টার করে রাখা যায়। কিন্তু বুকের হাড় ভেঙে গেলে চিকিৎসকের পক্ষে চিকিৎসা করা খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। উপরন্তু সেই ভাঙা হাড়গুলো শ্বাস-প্রশ্বাসের তালে তালে ফুসফুসে খোঁচা দিতে থাকে। ফলে রক্তক্ষরণ হয়ে ফুসফুসের পর্দার অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে এবং এটি খুব বিপর্যয়কর অবস্থা।
অনেক সময় মানুষের বুকটা ফানেলের মতো হয়ে যায় যাকে ফানেল চেস্ট বা পেকটাস এক্সকাভেটাম বলে। এতে বক্ষপিঞ্জরের স্টারনাম বলে যে হাড়টি আছে তার নিচের অংশ পেছনের দিকে চলে যায়। তখন হৃৎপিণ্ড বাম দিকে আরো সরে আসে। ফলে স্টারনাম এবং মেরুদণ্ডের মাঝখানে পড়ে চেপে যায়। যদিও তাতে হৃদযন্ত্রের কর্মকাণ্ডে খুব একটা ব্যাঘাত ঘটে না। পেকটাস এক্সকাভেটাম হলে বুকের খাঁচার স্ফীতি কমে যায় এবং ভাইটাল ক্যাপসিটিও কমে আসে। হৃৎপিণ্ড অথবা ফুসফুসের কর্মকাণ্ডের অসুবিধার জন্য এই রোগ হলে অস্ত্রোপচারের খুব একটা দরকার হয় না। তবে বুকের সৌন্দর্য রক্ষার প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচার করে নিতে হয়। আগেই লিখেছি, রিকেট হলে বুকের খাঁচার কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। ‘রিকেট রোজারি’ হলে কিছু উঁচু জায়গা হাতে টের পাওয়া যায় বুকের হাড়ের সামনের দিকে। এগুলো বুকের এলমহরে করলেও দেখা যায়। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা দীর্ঘ দিন ধরে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ খেলেও দেহের অন্যান্য স্থানের হাড়ের মতো বুকের হাড়গুলোও নরম হয়ে যায়। দেহের অন্যান্য স্থানে ক্যান্সার হলে সেখান থেকে ক্যান্সার কোষ বুকের হাড়ে জমা হয়ে হাড় খেয়ে ফেলতে পারে। মেরুদণ্ডের হাড়ের যক্ষ্মা তো আমাদের দেশে খুবই প্রচলিত একটি ব্যাধি। অনেক কুঁজো শিশুকে রাস্তায় দেখা যায় মেরুদণ্ডের হাড়ের যক্ষ্মা নিয়ে ঘুরছে। রাস্তায় বের হলে অনেক শিশু ভিুককে এ ধরনের সমস্যা নিয়ে ভিক্ষা করতে দেখা যায়।
যে বুকের খাঁচা আমাদের বুকের সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বর্মের মতো পাহারা দিয়ে রেখেছে। তাদের কোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করা অত্যাবশ্যক।
লেখক : অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন, এম এইচ শমরিতা মেডিক্যাল কলেজ
৮৫ ওয়্যারলেস মোড়, মগবাজার, ঢাকা
মোবা : ০১৭৪৫৯১৯৬৬৪

উইলিয়াম-কেটকে নিয়ে উন্মাদনা

তিন দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ব্রিটিশ রাজদম্পতি প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনকে রাজকীয় অভ্যর্থনায় মেতেছে নিউইয়র্ক। এখানে তিন দিন টানা ব্যস্ত কর্মসূচিতে সময় পার করছেন উইলিয়াম-কেট। (স্ত্রী কেট মিডলটনকে কী দেখাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম? ছবিটি সোমবার নিউইয়র্ক সিটির বারক্লেস সেন্টার থেকে তোলা। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় দুটি বাস্কেটবল দল ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্স ও দ্য ব্রুকলিন নেটসের খেলা দেখেন তাঁরা। ছবি: এএফপি) গত রোববার সন্ধ্যায় এই দম্পতি জে এফ কে বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই মাতামাতির শুরু। ম্যানহাটনের অভিজাত কারলাইন হোটেলে উঠেছেন তাঁরা। তাঁদের একনজর দেখার জন্য বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমিয়েছেন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এসেছেন। উইলিয়াম-কেট দম্পতিকে দেখার জন্য কনকনে শীতের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মার্কিন মিডিয়াও হামলে পড়েছে। সফরের প্রথম দিনটিতেই প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট টানা নয়টি বড় বড় কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রিন্স উইলিয়াম। বিশ্বব্যাংকের সভায় বক্তব্য রেখেছেন। সাবেক ফার্স্ট লেডি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে বৈঠক করা ছাড়াও আমেরিকার জনপ্রিয় বাস্কেট বল খেলা মাঠে গিয়ে উপভোগ করেছেন।
উইলিয়ামের মা প্রিন্সেস ডায়ানাও যুক্তরাষ্ট্রে এমন জনপ্রিয় ছিলেন। ডায়ানা নিউইয়র্কে গেলে যে হোটেলে থাকতেন, সেখানেই উঠেছে রাজদম্পতি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে সরকারের সব নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের লোকজনও এখন নিউইয়র্কে।
রাজদম্পতিকে একনজর দেখার জন্য লোকজনের দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে বিস্ময়ের কথা জানালেন রাজপরিবার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট জনসন। এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের দেখার ইচ্ছা থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় উইলিয়াম ও কেট কতটা জনপ্রিয় সাধারণ মানুষের কাছে। ডায়ানার পর ব্রিটিশ রাজপরিবারকে নিয়ে জনগণের এতটা উৎসাহ আর দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কেটসহ উইলিয়াম গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের বিখ্যাত বাস্কেটবল দল নেটসের খেলা দেখার জন্য ব্রুকলিনের বার্কলি সেন্টারে যান। মাঠের পাশ ঘিরে নির্ধারিত আসনে সাবেক বাস্কেটবল তারকা ডিকেমবি মোটম্বোকে পাশে নিয়ে খেলা দেখে রাজদম্পতি। একপর্যায়ে রাজদম্পতির উপস্থিতি ঘোষণা করা হলে মাঠভর্তি লোকজন উল্লাসে ফেটে পড়ে।
খেলা শেষে দর্শক এরিখ স্টেনকো বলেন, আজকের খেলা দেখাটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাজদম্পতির সঙ্গে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করা জীবনের মূল্যবান স্মৃতি বলে তিনি উল্লাস প্রকাশ করেন।
গতকাল বিকেলে উইলিয়াম ও কেট সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং বিল ও হিলারি ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটনের সঙ্গে। নিউইয়র্কের ব্রিটিশ কনস্যুলেট কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দিনে একফাঁকে প্রিন্স উইলিয়াম ছুটে যান ওয়াশিংটন ডিসিতে। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে ওভাল অফিসে বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রিন্স উইলিয়াম তাদের প্রথম সন্তানের জন্মকালীন সময়ের অনুভূতি নিয়ে কথা বলেন। এতই মাতামাতি ও আনন্দযজ্ঞের মধ্যে সন্তান জর্জের জন্ম হয়েছিল যে, উইলিয়াম নাকি ভুলেই গিয়েছিলেন তাঁদের ছেলে না মেয়ে হয়েছে। আগামী বছরও দ্বিতীয় সন্তানদের জন্ম নিয়ে ব্যস্ত তাকতে হবে বলে উইলিয়াম প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন।

আমেরিকার শেকড় থেকে শিরায় শিরায় বর্ণবাদ : ওবামা

আমেরিকার শেকড় থেকে শিরায় শিরায় বর্ণবাদ। আমেরিকার বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার শেকড়েই গভীরভাবে গেঁথে আছে বর্ণবাদ, সাদা-কালো বিদ্বেষ। এমন কথাই স্বীকার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। হোয়াইট হাউসে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একদল তরুণ কর্মীর সঙ্গে আলাপচারিতায় ওবামা বলেছেন, বর্ণবৈষম্য আমাদের সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত, এটা আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। সোমবার এ খবর দিয়েছে ওয়াশিটংন পোস্ট ও ডেইলি মেইল। বিইটি টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ওই বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ওবামা বলেন, আমি তাদের বলেছি, বর্ণবৈষম্য আমাদের সমাজের আদি প্রবাহ। এটা আমাদের ইতিহাস। এ বৈষম্য রোধের ব্যাপারে ওবামা বলেন, আমেরিকা আগের চেয়ে উন্নতি করেছে। এটা আমাদের এই আশা দেয় যে, ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হবে। ওভাল অফিসের ওই তরুণ নাগরিক অধিকার কর্মীদের মধ্যে ফার্গুসনের একজন বিক্ষোভকারীও ছিল। ওবামা বলেন, আমি এ ব্যাপারে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাব। এ সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে দুটো বিষয় আমি বলতে পারি। প্রথমত, আমেরিকা আগের চেয়ে উন্নতি করেছে। আর দ্বিতীয়ত, আমাদের উপলব্ধিতে এসেছে এটা অত্যন্ত অমানবিক একটা যন্ত্রণার ব্যাপার। গত ৫০ বছর ধরে যা চলছে, তা আর চলতে দেয়া যায় না।
পূর্বাঞ্চলে নতুন করে বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালির্ফোনিয়ায় দ্বিতীয় দিনেও ব্যাপক বিক্ষোভ ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। ভাংচুরের জের ধরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের। সোমবার এএফপি জানায়, কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে বার্কলি ও সিয়াটল শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর দেশটির পূর্ব উপকূলের শহরগুলোতে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনগণ ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। রোববার সারাদিনই এ এলাকায় বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। মিসৌরির ফার্গুসনে ১৮ বছরের নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে গুলি করে হত্যায় সংশ্লিষ্ট শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না আনার আদালতের সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিউইয়র্ক, শিকাগো, মিয়ামি, ডেট্রয়েট, অকল্যান্ড, ফিলাডেলফিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। শিকাগোর বিক্ষোভকারীরা আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, হাত তোল, গুলি করো না লেখা সংবলিত ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এরই মধ্যে নিউইয়র্কে পুলিশের অসর্তকতায় আরেক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রেও অপর একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতের অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্তে আগের ক্ষোভে নতুন ইন্ধন যুক্ত হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা নিউইয়র্কে রাস্তায় ফেলে ঘাড়ের পেছনে হাত দিয়ে চেপে ধরে কৃষ্ণাঙ্গ এরিক গার্নারের দেহ তল্লাশির সময় তার মৃত্যু হয়েছিল। এই দুটি ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ সব বর্ণের নাগরিকরা।

ইসরাইলে নিষেধাজ্ঞা চায় সিরিয়া

ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্বের সব দেশকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে সিরিয়া। ইসরাইলের বিমান হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘে লেখা সিরিয়ার চিঠিতে এ আহ্বান জানান হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দামেস্ক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদেশী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের প্রতি ইসরাইলের সরাসরি সমর্থনের বিষয়টি এ বিমান হামলার মধ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এ চিঠি জাতিসংঘে পাঠিয়েছে। রাজধানী দামেস্কের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নিরাপদ কিছু এলাকায় ইসরাইল বোমা হামলা করেছে বলে এক বিবৃতিতে সিরীয় সেনাবাহিনী অভিযোগ করার পর এ প্রতিবাদপত্র পাঠান হয়।
এ জাতীয় আগ্রাসনের রোধে জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত সব ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান হয়েছে এ চিঠিতে।
এদিকে ব্রিটেনভিত্তিক বিরোধী সূত্র থেকে বলা হয়েছে, সিরিয়ার দিমাস শহর থেকে অন্তত ১০টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।
২০১১ সাল থেকে সিরিয়ার বর্তমান সংকটের শুরুর পর ইসরাইল দেশটির বিরুদ্ধে কয়েক দফা বিমান হামলা করেছে। এছাড়া দেশটিতে তৎপর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে তেল আবিবের প্রশিক্ষণ ও অর্থের জোগান দেয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিকভাবে সিরিয়ার চলমান সংকট সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
তিনি বলেছেন, ‘ইরান ও রাশিয়াসহ সব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমত হবেন যে, সিরিয়া সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। রাজনৈতিক উপায়ে আলোচনার মাধ্যমেই কেবল সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের অবসান হতে পারে।’
ওয়াশিংটনে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক এক সম্মেলনে জন কেরি রোববার এসব কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে আমেরিকার গভীরভাবে জড়িত হওয়া উচিত কারণ তা না হলে আঞ্চলিক সমস্যাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় দু’মাস আগেই এমন একটি প্রস্তাব উঠেছিল কংগ্রেসে। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় শুক্রবার কংগ্রেসের ৪৫ সদস্যের একটি দল শুক্রবার ওবামাকে এ ব্যাপারে চিঠি লিখেছেন। পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি নির্মাণ অব্যাহত রাখার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন এ পরিকল্পনা করছে বলে খবর দিয়েছে ইসরাইলের প্রভাবশালী পত্রিকা টাইমস অব ইসরাইল এবং দৈনিক হারেৎজ। পত্রিকা দুটির খবরে বলা হয়েছে- গত অক্টোবর মাসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বৈঠকের পর থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা এ নিয়ে চিন্তা করছেন। ওই বৈঠকে বসতি নির্মাণ নিয়ে ওবামার সঙ্গে নেতানিয়াহুর ব্যাপক মতবিরোধ ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।
ওবামা প্রশাসন অব্যাহতভাবে বলে আসছে, অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি নির্মাণের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ হবে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা পত্রিকায় প্রকাশিত এ রিপোর্ট সম্পর্কে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জোশ আর্নেস্টের কাছে প্রকাশিত খবর নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি তখন বলেন, ‘আমি কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইছি না।’
তবে আর্নেস্ট বলেন, ইসরাইলের ওই বসতি নির্মাণ অবৈধ এবং এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এদিকে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল অধ্যাদেশ ২০১৪ তে দুই দেশের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি, গবেষণা, উন্নয়ন, বাণিজ্য, পানি ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কিছুদিন আগেই এই বিল পাস হয়েছে।

দুপচাঁচিয়ায় চাঁদা দাবিতে স্কুলে যুবলীগের হামলা

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় চাঁদা না পেয়ে উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়দানকারী আবদুস সবুর খন্দকার নামে এক ক্যাডার সোমবার সকালে আলতাফনগর ইবনে সৈয়দ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এতে শিক্ষকরা আতংকিত হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। একই ইস্যুতে শনিবার দুপুরে ক্যাডাররা প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ভাংচুর ও তাকে হুমকি দেন। রোববার সন্ধ্যায় প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুয়েল সরদার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়াও জেলা যুবলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও প্রতিকার চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। অভিযোগে জানা গেছে, ম্যানেজিং কমিটি সম্প্রতি ওই স্কুলে বিধি মোতাবেক শূন্যপদে সহকারী শিক্ষক প্রদীপ কুমার প্রামাণিককে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ নিয়োগে ডোনেশনের নামে মোটা অংকের বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সবুর খন্দকার। তিনি শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোনে প্রধান শিক্ষকের কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রধান শিক্ষক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। পরদিন শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে তালোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আমিনুর ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল খানের নেতৃত্বে ১০টি মোটরসাইকেলে ২৫-৩০ জন দলীয় ক্যাডার স্কুলে যান। তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢোকেন। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুয়েল সরদার, ইউপি সদস্য অশোক কুমার দেবসহ অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা দাবিকৃত টাকা দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ সৃষ্টি করেন। প্রধান শিক্ষক রাজি না হলে তারা টেবিলের কাচ ভাংচুর করে আতংক সৃষ্টি করেন। এ সময় উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শাহীদুর রহমান কয়েনসহ স্থানীয় লোকজন স্কুলে এলে ক্যাডারা টাকা রেডি রাখার হুমকি দিয়ে চলে যান। এতে স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুয়েল সরদার প্রতিকার চেয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া পরিচালনা কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোববার রাতে দুপচাঁচিয়া থানায় প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন।
প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, যুবলীগ-ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারীদের দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সবুর খন্দকার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দলীয় কোন্দলের কারণে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতেই অপরপক্ষের ইন্ধনে এ মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শাহীদুর রহমান কয়েন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠন যুবলীগের নামে চাঁদা দাবি করার ঘটনা খুবই লজ্জাজনক। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা নেতাদের কাছে সুপারিশ করা হবে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি গোপাল চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার রায় ফোনে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর যুবলীগ নেতাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হট্টগোলের মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ

তুমুল বাকবিতণ্ডা আর হই-হুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক বাসুদেব রায় সোমবার এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তবে চেঁচামেচির কারণে সাক্ষী তার সাক্ষ্যে কী বলেছেন তা কেউই স্পষ্ট শুনতে পাননি। এর আগে আদালতের প্রতি আস্থা নেই জানিয়ে মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা তিনটি আবেদন নামঞ্জুর করে দেন আদালত। আদালত ১৭ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।
সোমবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে এজলাসে ওঠেন বিচারক বাসুদেব রায়। এরপর কয়েক দফা বাকবিতণ্ডার মাঝেই আধা ঘণ্টার বিরতি দিয়ে দীর্ঘ চার ঘণ্টা শুনানি চলে। বেলা সাড়ে ৩টায় শুনানি শেষ হয়। শেষ মুহূর্তে সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করায় এবং আসামিপক্ষের বক্তব্য সম্পন্ন করার আগেই সাক্ষী শুরুর নির্দেশ দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। অন্যদিকে সাক্ষ্য গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও এ সময় চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বাকবিতণ্ডার মাঝেই কয়েক মিনিট সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন মামলার বাদী ও দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশীদ। পরে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, পরবর্তী তারিখে আবার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, সাক্ষী আদালতে কি বলেছেন, তা তারা বুঝতে পারেননি।
এদিকে কাঠগড়া থেকে নামার পর মামলার বাদী হারুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, এজাহার থেকে একটি প্যারা পড়ে শুনিয়েছি। কেউ শুনতে পায়নি বলে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মাইকে বলেছি, জোরে বলেছি, গলা ফাটাইয়া বলেছি। জজ নোট করেছেন। আমার বলা দরকার, বলেছি।
এদিকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে সোমবার আদালতের ভেতরে ও বাইরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। চারপাশে ব্যাপক পুলিশি প্রহরা নেয়া হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
তাদের সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান। এ ছাড়া এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট জামিল আখতার এলাহী, অ্যাডভোকেট তাহেরুল ইসলাম প্রমুখ। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান, অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল প্রমুখ।
এজলাসে বিচারক আসন গ্রহণ করলে মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে চারটি আবেদন জমা দেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। আদালতের প্রতি আস্থা না থাকায় তা পরিবর্তনের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে বিষয়টি জানিয়ে বিশেষ আদালতে কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে দুটি আবেদন করা হয়। এ ছাড়া বাকি দুটি আবেদন করা হয় নিরাপত্তা প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আদালতে না আসা প্রসঙ্গে। আদালত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির আবেদন গ্রহণ করেন। কিন্তু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি চলতে থাকে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত বলেন, খালেদা জিয়া নিরাপত্তার কারণে আসেন নি। তার আবেদন মঞ্জুর করছি। সরকারকে নিরাপত্তা পর্যাপ্ত করতে বলছি। আর মুলতবির বিষয়ে আগেও বলেছি। মুলতবির প্রার্থনা নামঞ্জুর করছি। এ সময় আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারক আরও বলেন, আদালতের পরিবেশ আপনারা রক্ষা করবেন। আইনশৃংখলা বাহিনীকে যেন দরকার না হয়। সাক্ষী উপস্থাপনের নির্দেশ দিচ্ছি। বিচারকের এমন বক্তব্যের পর সাক্ষী কাঠগড়ায় যান। এজাহার পড়ার প্রস্তুতি নেন।
এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের আরও বক্তব্য আছে। দরখাস্ত আছে। এ সময় আদালত বলেন, আমি শুনব। পেছন থেকে কথা বলবেন না। এ পর্যায়ে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনি আমাদের আবেদনের (সময় চেয়ে) ওপর আদেশ দেন। আপনি আমাদের আবেদন খারিজ করছেন। তবে তার ভিত্তি আছে কিনা তা আমাদের পরীক্ষা করার সুযোগ দেন। জয়নুল আবেদিন বলেন, সাক্ষী কাঠগড়ায় থাকলে আমাদের দ্বিতীয় আবেদন (সময়ের আবেদন পুনর্বিবেচনা) কোনো অর্থ বহন করবে না। তাই তাকে এখানে (কাঠগড়ায়) রাখা যাবে না। এ সময় বিচারককে উদ্দেশ করে জয়নুল আবেদিন আরও বলেন, আপনি যেভাবে সাক্ষী উঠাচ্ছেন এভাবে নিয়ম নেই। আজ আপনি যেভাবে সাক্ষী উঠালেন, আদালত পরিবর্তনের আবেদন করতে এটাও একটা ভিত্তি হতে পারে।
বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে আদালত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দেন।
বিরতি শেষে বেলা আড়াইটার দিকে আদালত আবার শুরু হয়। এ সময় সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আপনি মুলতবি খারিজ করে (আগের দিনের একটি আবেদনে) যে আদেশ দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে যাব। এ বিষয়ে আবেদন দিচ্ছি এবং আবার মুলতবির আবেদন করছি। এ সময় দুদকের আইনজীবী কাজল বলেন, আসামিপক্ষ বক্তব্যের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করছে। আদালতকে তিনি বলেন, আদেশ দেন, আদেশ দেন। আমরা বিচার চাই। তারা (আসামিপক্ষ) চাচ্ছেন সময়। এমন কোনো গ্রাউন্ড তারা তৈরি করতে পারে নাই যাতে সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ থাকতে পারে। এরপর আসামিপক্ষে জয়নুল আবেদিন আবার বক্তব্য শুরু করেন। মাঝপথে আদালত তাকে জিজ্ঞাসা করেন, শেষ হয়েছে আপনার? জবাবে জয়নুল আবেদিন বলেন, আমরা আদালতকে সাহায্য করতে এসেছি। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমার যা শোনা হয়েছে তা যথেষ্ট। এ সময় আদালত খালেদা জিয়ার পক্ষে করা আরও একটি আবেদন নামঞ্জুর করে বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
তার এ আদেশের পর আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তারা কার্যক্রম মুলতবি করতে আদালতের কাছে আর্জি জানাতে থাকেন। এদিকে সাক্ষ্য চালিয়ে যেতে চেঁচামেচি শুরু করেন দুদকের আইনজীবীরাও। হইচইয়ের মাঝেই সাক্ষীকে কাঠগড়ায় ওঠানো হয়। তিনি কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তার কোনো কথাই শোনা যচ্ছিল না।
এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পুলিশ সদস্যরা ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। আদালত এর মাঝেই সাক্ষীকে উদ্দেশ করে বলেন, বলতে থাকেন। এদিকে হই-চইয়ের মাঝেই দুদকের আইনজীবী রফিকুল হক বেনু সাক্ষীকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন, আপনি খালি ঠোঁট নাড়েন। পরেরটা পরে দেখা যাবে। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামক দুটি দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন এই বিশেষ জজ আদালত-৩-এ। এ মামলা খালেদা ছাড়াও তার বড় চেলে তারেক রহমানসহ নয়জন আসামি হিসেবে রয়েছেন।

জিডির তদন্তে ১৬৪ দিন

কম্পিউটারের জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ। অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো স্পর্শকাতর একটি বিভাগ থেকে তার চালিত কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তিনি ২২ জুন রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই জিডির তদন্ত শাহবাগ থানা থেকে ডিবি পুলিশের হাতে আসে। কিন্তু ১৬৪ দিন পার হলেও কোনো কূল-কিনারা হয়নি। একই সঙ্গে সিপিউর হার্ডডিস্কের সংযোগ বিচ্ছিন্নকারীদের কাউকেই এখনও গোয়েন্দা পুলিশ আইনের আওতায় আনতে পারেনি। তাই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ ঘটনার তদন্ত ঢিমেতালে হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ যুগান্তরকে বলেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক একটি বিষয় যে- একটি জিডির তদন্ত করতে আজ মাসের পর মাস পার হয়ে যাচ্ছে। অথচ কোনো কিনারা হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, আমি কম্পিউটারের জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। আমার ওই কম্পিউটারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আছে যা নখদর্পণে ছিল। অফিসে এসে অন্য কম্পিউটারে কাজ করলেও সেখানে সব ধরনের তথ্য মজুদ নেই।’
ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ যুগান্তরকে আরও বলেন, ‘আমি বিষয়টি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধানকেও জানিয়েছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’ ব্যারিস্টার ড. তুরিন বলেন, ‘আমার কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতেই সিপিউর হার্ডডিস্কের সংযোগ খোলা হয়েছিল। এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত দ্রুত করা প্রয়োজন হলেও অজ্ঞাত কারণে তা ঢিমেতালে হচ্ছে। যা রহস্যজনক বলেও মনে করেন এই আইনজ্ঞ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের ওই কম্পিউটারটি পাসওয়ার্ড দিয়ে সংরক্ষিত ছিল। তিনি ১৫ থেকে ১৯ জুন তিনি ছুটিতে ছিলেন। ছুটি শেষে ২২ জুন অফিসে যোগদান করে তার কম্পিউটর ও প্রিন্টারসহ সরঞ্জামাদি এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। ব্যারিস্টার তুরিন পরে তার অফিস স্টাফ (এমএলএসএস) আশিক ও হারুনসহ কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে সবার উপস্থিতিতে সিপিইউর হার্ডডিস্কসহ সব তার খোলা পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে জিডি করেন। ভয়াবহ ক্ষতির আশংকায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় ২২ জুন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইন্সপেক্টর ফজলুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তারা জিডির তদন্ত করছেন। কিন্তু তা এখনও তদন্তাধীন আছে। সিআইডির বিশেষজ্ঞ দলের কাছে ব্যারিস্টার তুরিনের কম্পিউটারের সিপিইউর হার্ডডিস্ক পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে এখনও কোনো ধরনের বিশেষজ্ঞ মতামত মেলেনি। তাই তদন্ত যেখানে ছিল সেখানেই আছে। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির যে টিমের কাছে ‘বিশেষজ্ঞ মতামতের’ জন্য হার্ডডিস্ক দেয়া হয় তারাই বিলম্ব করেছে। টিমের একজন সদস্য দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। এদিকে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ জানায়, এ ধরনের তদন্তে সময় লাগে। কারণ বেশি ডাটা থাকলে অ্যানালাইসিসে বেশি সময় লেগে যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) কৃষ্ণপদ রায় যুগান্তরকে বলেন, সিআইডির কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত পেলে তা তদন্তে সহায়ক হতো। এটির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। হার্ডডিস্ক থেকে তথ্য কপি বা খোয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলে আমাদের কাছে থাকা তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় এনে রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলেছে, প্রসিকিউটর তুরিনের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তার কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কপি করতে বা মুছে ফেলতে কোনো চক্র হার্ডডিস্কের সংযোগ খুলেছে। অবশ্য যুগান্তরের কাছেও এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর তুরিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কম্পিউটারে মামলাসংক্রান্ত ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি ছিল। স্পর্শকাতর বিচারাধীন মামলার তথ্য ছাড়াও জামায়াতের বিচারের জন্য সাক্ষীদের তালিকাও সংরক্ষণ ছিল সেখানে। জুন মাসে হার্ডডিস্কের সংযোগ তছনছের ৭০ দিন পর ২৭ আগস্ট রাজধানীর রাজারবাগের বাসায় খুন হন মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। তিনি জামায়াতের বিচারের সাক্ষীদের মধ্যে ইসলামিক চিন্তাবিদ তালিকায় ছিলেন।
জানতে চাইলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) রেজাউল হায়দার যুগান্তরকে বলেন, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ব্যবহত কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের প্রযুক্তিগত তদন্তে সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। টেকনোলজিকাল কারণে একটু সময় লাগছে।

এবার ব্যয় হবে তিন থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা

আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যেতে পারবেন। এর জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের খরচ হবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। হজে যেতে টাকা জমা দিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নিবন্ধনের সময় অন্তত ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা জমা দিতে হবে। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য ১০ জুন পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। অনলাইনে নিবন্ধন করার পাশাপাশি এবার হজযাত্রীদের এমআরপি পাসপোর্ট অবশ্যই থাকতে হবে। এসব বিষয়সহ হজে যেতে আগ্রহীদের জন্য দুই ধরনের প্যাকেজ অনুমোদন করেছে সরকার।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, প্রথম প্যাকেজের আওতায় হজে যেতে খরচ হবে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে খরচ পড়বে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা। এর বাইরে কোরবানির খরচ আলাদা যুক্ত হবে। গত বছর প্রথম প্যাকেজের জন্য হজযাত্রীদের দিতে হয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৬ টাকা। আর দ্বিতীয় প্যাকেজে খরচ ছিল দুই লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা। এবার ১০ হাজার হজযাত্রী যাবেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়। বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, কোরবানির খরচ হিসেবে প্রত্যেককে বাড়তি ৫০০ সৌদি রিয়াল দিতে হবে। ব্যক্তিগত খরচের জন্য সঙ্গে নিতে পারবেন সর্বোচ্চ এক হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো হজযাত্রীর কাছ থেকে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকার কম নেয়া যাবে না।
বৈঠকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন, ২০১৪-এর খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ বিষয়ে জানান, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র শিল্পকেও সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। বর্তমানে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে বিসিকের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) খাত এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ খাতের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। এখন মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি মাইক্রো শিল্প ইন্ডাস্ট্রি বা অতি ক্ষুদ্র শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া প্রয়োজন। বিসিক আইন সংশোধনের প্রধান কারণও হচ্ছে এটি।
এছাড়াও জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি) আইন, ২০১৪-এর খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানান মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন সংশোধন অধ্যাদেশ-২০১৪ খসড়া উত্থাপন করা হলেও তা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। ওই খসড়ায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের মেয়াদ ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করার প্রস্তাব ছিল।

বিশ্বব্যাংকের ৫১৬ কোটি টাকা প্রত্যাহার

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়া ও নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগে বিশ্বব্যাংক ওয়াসার একটি প্রকল্প থেকে ৫১৬ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন শীর্ষক ওয়াসার প্রকল্প থেকে সংস্থাটি এ অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক যে ঋণ দিয়েছিল তার অর্ধেকই ফিরিয়ে নেয়ায় এর ব্যয় কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকল্পের আকারও ছোট হচ্ছে। এদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়, এর সময় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ব্যয় কমিয়ে প্রকল্পেও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, রাজধানীবাসীর জন্য পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সমস্যা কমিয়ে আনতে ২০০৮ সালে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০১৩-এর জুন নাগাদ এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ১৬০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ছিল ১ হাজার ৪৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেয়ার কথা। বিশ্বব্যাংক ৫১৬ কোটি টাকা ফেরত নেয়ায় প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৬৪৪ কোটি ১২ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বিশ্বব্যাংক এ খাতে তাদের ঋণের প্রায় অর্ধেকই বাতিল করে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের তারা যে মাস্টার প্ল্যান দিয়েছিল, সেখানেও পরিবর্তন করা হয়েছে। এ কারণে ব্যয়েও হ্রাস-বৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা ছাড়াই কাজগুলো করা হয়। যে বিষয়গুলো সংযোজন বা বিয়োজন হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- স্যুয়ার মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন কাজ। মাস্টার প্ল্যানের সুপারিশ অনুযায়ী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজগুলোর নকশা প্রণয়ন, দরপত্র দলিল প্রস্তুতের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা মেহরিন এ মাহবুব বলেন,এটি স্লো মুভিং প্রকল্প হওয়ায় বাস্তবায়নে সময় কম থাকায় কিছু কিছু অংশ বাদ দেয়া হয়েছে। তবে মূল প্রকল্পের কাজ চলছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের অন্য একটি প্রধান অঙ্গ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এর আওতায় রামপুরা ও কমলাপুরে দুটি বড় ধরনের স্টর্ম ওয়াটার পাম্প স্টেশন নির্মাণ এবং নগরীর নিষ্কাশন খালগুলো পুনর্বাসন ও উন্নয়নের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে এগুলো বাস্তবায়নাধীন আছে। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী দুই ধাপের দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের কাজটি শেষ করতে ২ বছরেরও অধিক সময় লাগে। এতে কাজের গতি কমে যায়। ২০১২-এর ডিসেম্বরে কাজগুলোর চুক্তি কার্যকর হয়। এতে কাজ দুটি ১৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।
সংশোধনী প্রস্তাব বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা মহানগরীর নির্ধারিত স্থানে ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এছাড়া ঢাকার স্যানিটেশন পরিকল্পনার উন্নয়নে এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বিধায় প্রকল্পটির সংশোধন অনুমোদন বিবেচনাযোগ্য। তাই একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশনের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত নগরীর মাত্র ৩৮ শতাংশ লোককে ড্রেনেজ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। শহরের অনেক এলাকায় নিুআয়ের লোকজন এখনও পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধাদি পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০০৫ থেকে ০৮ সালে প্রজেক্ট প্রিপারেশন ফ্যাসিলিটিজের আওতায় সমীক্ষা পরিচালিত হয়।
ওই সমীক্ষার সুপারিশ ও বাস্তবতার নিরিখে ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার পুনর্বাসন ও উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন শীর্ষক মূল প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য০৮ সালের ২৩ অক্টোবর একনেকে অনুমোদিত হয় এবং ০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পটি স্যুয়ার কম্পোনেন্টের ভৌত কাজ সম্পন্ন করতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় প্রয়োজন হবে এবং তা কোনোভাবেই প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার নয়। এর ফলে স্যুয়ার কম্পোনেন্টের পরিকল্পনা খাতে কিছু বরাদ্দ রেখে মূল প্রকল্পের উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কাজ প্রকল্প থেকে বাদ দিয়ে প্রকল্পটির অনুকূলে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ১৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্ধারণ করা হয়। যাতে প্রকল্পের মেয়াদকাল নভেম্বর ০৮ হতে ডিসেম্বর ১৫ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এ অবস্থায় প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়াকরণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব প্রেরণ করেছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত মে মাসে প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে দুটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইএমইডি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) প্রকল্পটির ওপর একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন রিপোর্ট পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করে এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধানকে আহ্বায়ক করে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি প্রকল্পটির কার্যক্রমগুলো পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। পিইসি সভার সুপারিশ আইএমডির মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে প্রকল্পটির পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানুয়ারিতে ডিসিসি নির্বাচন

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রথমদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় সব ধরনের প্রস্তুতির পরও এ নির্বাচন হয়নি। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচন ঝুলে আছে। তবে সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন। নতুন বছরের শুরুতে বিভক্ত ডিসিসি নির্বাচন আয়োজনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
আরও জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরনো জেলা ময়মনসিংহকে আলাদা বিভাগ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিভাগ করার আগেই ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এতে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৪-এর খসড়া উত্থাপন করা হলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আপত্তির মুখে তা ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। আইনটিতে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের মেয়াদ ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করার প্রস্তাব ছিল।
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের পর আলোচনায় এলে প্রথমেই এর বিরোধিতা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সঙ্গে সঙ্গে তাকে সমর্থন জানান, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এরপর প্রায় সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত আইনটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রশাসকদের মেয়াদ ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করা হলে ডিসিসির বিষয়ে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তাই এটি সংশোধন না করে আগে যা ছিল তাই রাখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুমন্ত্রীর এ বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, প্রশাসকের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলে জনগণ তা ভালোভাবে গ্রহণ করবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব ডিসিসির নির্বাচন দিতে হবে। সরকারও নির্বাচন দিতে চায় বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষ যাকে ভোট দেবে সেই জিতবে। ফলাফল যাই হোক নির্বাচন দিতে হবে। এ সময় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে বিভক্ত করার ব্যাপারে যুক্তি তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, ৭০ লাখ জনসংখ্যার লন্ডন শহরে মিউনিসিপালিটি রয়েছে ৬টি। আমাদের রাজধানী ঢাকার দেড় কোটি জনসংখ্যায় ডিসিসিকে আরও কয়েকটি অংশে বিভক্ত করা প্রয়োজন। কারণ এত জনসংখ্যার চাপে ডিসিসি সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দিকে তাকিয়ে দ্রুত ডিসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার তাগাদা দেন। এ সময় আশরাফ তার সম্মতি জানান। তিনি বলেন, ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তার মন্ত্রণালয় প্রস্তুত। তবে প্রস্তাবিত এ আইনটি একটি অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য করা হয়েছে। তার মতে, মেয়রের অনুপস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেই প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন করা হয়েছে।
২০০২ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচন বর্জন করলে বিনা বাধায় বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা মেয়র হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচন না দিয়ে ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর ডিসিসিকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নির্বাচন কমিশন ২০১২ সালের ২৪ মে দুই ডিসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করে তফসিল ঘোষণা করে। কিন্তু উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের পর ওই নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ২০১৩ সালের ১৩ মে উচ্চ আদালত নির্বাচনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি।
ময়মনসিংহ আলাদা বিভাগ হচ্ছে : মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহকে পৃথক বিভাগ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি করা হলে ওই অঞ্চলের মানুষকে সব কাজের জন্য ঢাকায় ছুটে আসতে হবে না। অবশ্য ময়মনসিংহকে আলাদা বিভাগ করা নিয়ে কিছুটা হতাশাও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, যদিও অনেকেই এ কাজের বিরোধিতা করবেন। কারণ তারা ঢাকার সঙ্গেই থাকতে চান। তারপরও ময়মনসিংহকে আলাদা বিভাগ করতে হবে। বিভাগ করার আগে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম চালু করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে রসিকতা : ইরানের রাজধানী তেহরান সফরের বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, সে দেশটি বাংলাদেশের জন্য ভালো শ্রমবাজার হতে পারে। তেহরান সফরকালে তিনি এসব বিষয়ে সে দেশটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে বৈঠকে জানান। ইনু বলেন, তেহরান পারস্পরিক স্বার্থে ঢাকার সহযোগিতা কামনা করেছে। ইরান সফরকালে সেখানে ওআইসি মহাসচিবের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং মহাসচিবের একটি অনুরোধের বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কসোভোর স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিতে ওআইসি মহাসচিব অনুরোধ জানিয়েছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার আগে দেখতে হবে অন্য মুসলিম দেশগুলো কসোভোকে স্বীকৃতি দিয়েছে কিনা?
এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইরানের রাজবংশের শেষ শাহ বা রাজা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। প্রতাপশালী ওই রাজা অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৭৯ সালের ১৭ জানুয়ারি সিংহাসন ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দেশ মিসরে পালিয়ে যান। পরে ১৯৮০ সালের জুলাইয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অর্থমন্ত্রী রেজা শাহর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি জানালে এক মন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, বয়স বাড়লে যে মেমোরি বাড়ে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আপনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ রসিকতায় অংশ নিয়ে জানতে চান, সিনিয়র ও জুনিয়র কেবিনেট মিনিস্টার কে কে? তখন অন্যরা বলেন, সিনিয়র আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং জুনিয়র শাহরিয়ার আলম। পরে এটি সংশোধন করে বলা হয়, শাহরিয়ার আলম নয় জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই সময় মন্ত্রীদের কেউ কেউ আপত্তি জানান। তারা বলেন, শাহরিয়ার বা পলক কেউ নয়, কারণ তারা কেবিনেট মিনিস্টার নন, স্টেট মিনিস্টার। তখন বয়স হিসাব করে পাওয়া যায়, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জুনিয়র কেবিনেট মিনিস্টার। কিন্তু এবার বাদ সাধেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। হাসিমুখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনিসুল হক নয়, মুজিবুল হক সবচেয়ে জুনিয়র কেবিনেট মিনিস্টার। তার এই তথ্যে পুরো সভা কক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়।
সৈয়দ আশরাফকে তিরস্কার : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি খুলনায় এক অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফ যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিসা দেশাই বিসওয়াল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। নিশা দেশাই বিসওয়ালকে দুই আনার মন্ত্রী এবং ড্যান মজিনাকে কাজের মেয়ে মর্জিনা বলে সম্বোধন করলে তা গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কাও করা হয়। জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার এ ধরনের বক্তব্য কখনোই কাম্য নয়। তিনি নারীদের সম্মান দিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন আশরাফকে। শেখ হাসিনা বলেন, এতদূর থেকে তিনি (নিশা দেশাই বিসওয়াল) এসেছেন, তারপর তিনি একজন মন্ত্রী, একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। একজন নারী হিসাবেই তাকে সম্মান দিয়ে কথা বলা উচিত। সৈয়দ আশরাফকে সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হয়ে আরেক দেশের মন্ত্রী সম্পর্কে তার এ ধরনের বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি। এ সময় পুরো মন্ত্রিসভার বৈঠকে পিনপতন নীরবতা ছিল। সৈয়দ আশরাফের মুখও ছিল বেশ ভারি। তিনি কোনো যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেননি।
মালদ্বীপে পানি : মন্ত্রিসভায় সার্কভুক্ত মুসলিম দেশ মালদ্বীপে পানি পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সোমবার জাহাজে সমুদ্র পথে এ পানি পাঠানো হয়। মালের একমাত্র পানির পাম্পটি বিকল হয়ে গেলে সেখানে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দেশটিকে সহযোগিতায় এগিয়ে এলো।