Wednesday, January 24, 2018
ট্রাম্প কেন বিপজ্জনক

জোয়েরজেন মোয়েলার : সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস ইউসুফ ইসহাক ইন্সটিটিউটের জ্যেষ্ঠ ভিসিটিং ফেলো
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিউরে ওঠার মতো হত্যা

১২ বছর বয়সী গৃহকর্মী আল আমিনের ওপর গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা কল্পনাকেও হার মানায়। বুধবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গৃহকর্মী আল আমিনের কাজে সামান্য ভুল হলেই নির্মমভাবে নির্যাতন করা হতো তার ওপর। সামান্য ভুলের কারণে যারা শিশুটির ওপর নির্যাতন করত- সেই গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর অমানবিকতার কোনো ক্ষমা হয় না। এক পুলিশ কর্মকর্তার একটি বাক্য থেকেই বোঝা যায় কী নির্মমতার শিকার হয়েছে শিশুটি। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য- তাকে দেখে মনে হয়েছে একটি কঙ্কালের ওপর চামড়া লাগিয়ে দেয়া হয়েছে! রাজধানীর আদাবরে নির্মমতার শিকার আল আমিন গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে। আল আমিনের ওপর যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তাতে মনে হয় গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর মধ্যে মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীর অভাব প্রকট। এই বর্বরতার কঠোর শাস্তিই কাম্য। দেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। পরিবারের সদস্যদের আদর-যত্নে যে শিশুর বড় হওয়ার কথা সেই শিশুটি গৃহকর্মী হওয়ায় সারাদিনের অমানুষিক পরিশ্রমের পর তার ভাগ্যে জুটত পচা খাবার। এ অখাদ্য খেয়ে বড় হওয়ার সুখও আল আমিনের কপালে সইল না।
হতভাগ্য আল আমিন গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুকে যেভাবে বরণ করেছে, তা যে কোনো মানুষের বিবেককে নাড়া না দিয়ে পারে না। মৃত্যুর আগে শিশুটি মানবিকতা শব্দটির সঙ্গে পরিচিতই হতে পারল না! আল আমিনের মতো শিশুদের যাতে গৃহকর্মী পেশায় নিযুক্ত হওয়ার প্রয়োজন না হয় এজন্য সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। অসহায় শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে একসময় তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। পাশাপাশি গৃহকর্মীরা যাতে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পায়, এ ব্যাপারে সমাজের সবারই সোচ্চার হওয়া উচিত। ক্রমাগত নির্যাতনের মাধ্যমে আল আমিনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে- এমন পরিণতি যাতে আর কোনো শিশুকে বরণ করতে না হয়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন অদম্য মাইশার অন্যরকম গল্প

অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করি মানুষটি তার শারিরীক প্রতিবন্ধকতা কীভাবে জয় করেছে! মাইশা মরিয়ম সায়েদের কথা মনে পড়লেই মনে পড়ে এক অতিমাত্রায় মেধাবী, প্রগতিশীল এবং মুক্তমনা নারীর কথা। সাদা মনের মানুষের কথা। একজন লেখিকা এবং চিন্তাবিদের কথা। কখনোই মনে পড়েনা তার শারিরীক প্রতিবন্ধকতার কথা। হ্যা, জন্মগত শারিরীক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এই নারীর। তবে তার সব গুণ, যোগ্যতা এবং চর্চা ছাপিয়ে গেছে সবকিছু। ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্রী মাইশা মরিয়ম। মা একজন ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপিকা, বাবা রাজশাহী শহরের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী । ছোট ভাই রয়েছে মাইশার, সেও সঙ্গীত চর্চা করে। সবমিলে ছোট, সুখী এবং শৈল্পিক পরিবার তার। রাজশাহীতেই বসবাস। তবে মাইশার চর্চা রাজশাহীর গন্ডী পেরিয়ে সবকূল ছাপিয়ে যায়। বন্ধুদের ভীষণ প্রিয় মাইশা। আড্ডা, শিল্প, বন্ধু এবং যত ইতিবাচক চিন্তায় দিন কাটে তার। জয় করেছে দেশের অনেক গন্যমান্য শিল্পীদের হৃদয়। সে স্বপ্ন দেখে একটি প্রগতিশীল সমাজের। আর তার লেখনি ও চিন্তারা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে দেশের স্বার্থে। মাইশা মরিয়ম সায়েদ একজন অনুপ্রেরণা, একজন শক্তি এবং একজন দৃষ্টান্ত। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দোহাই দিয়ে বিষন্নতা উদযাপন করে না যে, বিষন্নতা ছড়িয়ে দেয় না যে, কেবল ছড়িয়ে দেয় স্বপ্ন। শেখায় কোন বাঁধাই বাঁধা নয়। কোন ব্যথাই বিলাসিতা নয়। বরং শক্তি। মাইশা আজ দেশের কাছে কেবলই মেধাবী মাইশা হিসেবে পরিচিত; আর কিছু নয়। আর এটিই তার অর্জন। মাইশা মরিয়ম একজন শিক্ষা। আর তার পরিবার তো বটেই। তার গুণগুলোকে সম্মানিত করেছে তারা, আর উৎসাহ দিয়ে চলেছে। তাই অনেক কিছুই শেখার রয়েছে এই পরিবারটির কাছ থেকে। ইতিবাচক চিন্তাই পারে সব বাঁধা দূর করতে।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসপাতালে বাচ্চা বদল

দ্বিতীয়ত: একেবারেই ভিন্ন রকমের দুটো পরিবারে তাদের জন্ম। একটি শিশু উপজাতি এক হিন্দু পরিবারে আর অন্যটি মুসলিম। কিন্তু তারপর কি হলো? কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘ সংগ্রামের পর তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করে যে পরিবারে তাদের জন্ম তাদেরকে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত ওই দুটো শিশু যে পরিবারে বড় হয়েছে তাদেরকে ছেড়ে নিজের জন্মদাতা পিতামাতার কাছে ফিরে যেতে রাজি হয়নি। পরে ওই দুটো দম্পতি আদালতের শরণাপন্ন হয় এবং নিশ্চিত করেন যে তারা একে অপরের সন্তানকে লালন পালন করবেন। এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে। শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান তিনি তার স্ত্রী সালমা পারভীনকে মঙ্গলদাই হাসপাতালে নিয়ে যান ২০১৫ সালের ১১ই মার্চ সকাল ৬টার সময় এবং তার এক ঘণ্টা পরেই তাদের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পরের দিনই তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। `এক সপ্তাহ পর আমার স্ত্রী বললো এই বাচ্চা আমাদের না। আমি বললাম, কি বলছো তুমি? একটি নিষ্পাপ শিশুর ব্যাপারে তোমার এভাবে কথা বলা ঠিক না। আমার স্ত্রী বললো প্রসূতি কক্ষে নাকি একজন বোড়ো মহিলা ছিলো এবং তার মনে হচ্ছে ওই মহিলার বাচ্চার সাথে আমাদের বাচ্চা বদল হয়ে গেছে।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মৃত সেজে হাতি থেকে প্রাণরক্ষা

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাঠদানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে সাপ

About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভিয়েনায় যেভাবে বিদেশিনীর প্রেমে পড়েছিলেন সুভাষ বসু

প্রেমপত্র বিনিময় পর্ব
ইতিহাসলেখক রুদ্রাংশু মুখার্জী সুভাষ চন্দ্র আর জওহরলাল নেহরুর জীবন নিয়ে একটি তুলনামূলক আলোচনা করেছেন তার বই 'নেহরু এন্ড বোস - প্যারালাল লাইভস'-এ। ওই বইতে একটু অনুচ্ছেদ রয়েছে 'টু উইমেন এন্ড টু বুক্স' নামে। সেখানে নেহরু আর সুভাষ চন্দ্রের জীবনে তাঁদের দুজনের পত্নীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন রুদ্রাংশু মুখার্জী। মুখার্জী লিখেছেন, "সুভাষ এবং এমিলি দুজনেই একেবারে গোড়ার দিকেই মেনে নিয়েছিলেন যে তাদের সম্পর্কটা আর পাঁচটি সম্পর্কের মতো হবে না। সেখানে নানা অসুবিধা আসবে। একে অন্যকে যেসব চিঠি লিখেছিলেন, সেগুলোতে সংবোধন করার ধরণ দেখেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এমিলি সম্বোধন করতেন 'মিস্টার বোস' বলে, আর সুভাষ চন্দ্র লিখতেন মিস শেঙ্কল বা পার্ল শেঙ্কল।" পরিচয় গোপন করার বাধ্যবাধকতা আর যুদ্ধের সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলিতে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য সাহায্য পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপের মধ্যে সুভাষচন্দ্র নিজের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতেন। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও সুভাষচন্দ্র এমিলির জন্য কতটা চিন্তা করতেন, তার প্রমাণ একটা চিঠিতে পাওয়া যায়, যেটাকে সুভাষ চন্দ্রের প্রেমপত্রও বলা যেতে পারে। এই চিঠি অবশ্য প্রথমে এমিলিকে লেখা সুভাষ চন্দ্রের চিঠিগুলির সংগ্রহে ছিল না। কিন্তু এমিলি নিজেই এই চিঠিটা তুলে দিয়েছিলেন শরৎ চন্দ্র বসুর ছেলে, ডা. শিশির বসুর স্ত্রী কৃষ্ণা বসুর হাতে।
৫ মার্চ, ১৯৩৬ সালে লেখা চিঠিটা শুরু হয়েছিল এইভাবে :
"মাই ডার্লিং, কখনও সখনও হিমবাহও গলে যায়। আমার মনে এখন অনেকটা সেরকমই অবস্থা। আমি যে তোমায় কতটা ভালবাসি সেটা জানাতে এই চিঠিটা লেখা থেকে নিজেকে সম্বরণ করতে পারলাম না। 'মাই ডার্লিং', আমাদের নিজেদের মতো করে কী বলতে পারি, যে তুমি আমার হৃদয়ের রাণী?" সুভাষ চন্দ্র ওই চিঠিতেই লিখছেন, "আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে। হতে পারে, পুরো জীবনটাই হয়তো জেলে কাটাতে হবে, অথবা আমাকে গুলি করে দেয়া হতে পারে, কিংবা ফাঁসিও হতে পারে। এও সম্ভব যে তুমি হয়তো আমাকে কখনও আর দেখতেই পাবে না, অথবা আমি হয়তো কখনও তোমাকে চিঠিও লিখতে পারব না। কিন্তু ভরসা রেখ, তুমি চিরকাল আমার হৃদয়ে থাকবে, আমার মনে, আমার স্বপ্নে থাকবে। যদি এই জীবনে সম্ভব না হয়, তাহলে পরের জীবনে তোমার সঙ্গেই থাকব আমি।" "আমি তোমার অন্তরে থাকা নারীত্বকে ভালবাসি, তোমার আত্মার সঙ্গে আমার প্রেম। তুমিই আমার জীবনে প্রথম প্রেম," এমিলি শেঙ্কলকে লিখেছিলেন সুভাষ চন্দ্র। একেবারে শেষে ওই চিঠিটা নষ্ট করে ফেলতে বলেছিলেন সুভাষ। কিন্তু এমিলি সেটাকে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন।
গোপন বিবাহ
বোঝাই যাচ্ছে যে সুভাষ চন্দ্র বসু এমিলি শেঙ্কলের প্রেমে রীতিমতো হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তখন। এই বিষয়ে সুভাষ চন্দ্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং রাজনৈতিক সহযোগী এ সি এন নাম্বিয়ার সুগত বসুকে জানিয়েছিলেন, "সুভাষ একজন প্রকৃত আদর্শবাদী ব্যক্তি ছিল। তার ধ্যানজ্ঞান ছিল দেশের স্বাধীনতা। কিন্তু যদি কোনও বিচ্যতির কথা বলতে হয়, তাহলে সেটা হয়েছিল তিনি যখন এমিলির প্রেমে পড়লেন, সেই সময়ে। খুবই ভালবাসতেন এমিলিকে। একেবারে প্রেমে ডুবে যাওয়া যাকে বলে, সেইরকম।" সেই সময়ে সুভাষচন্দ্রের মনের অবস্থা কীরকম ছিল, সেটা বোঝা যায় আরেকটি চিঠিতে। ১৯৩৭ এর এপ্রিল বা মার্চ মাসে এমিলিকে লেখা ওই চিঠির পুরোটাই ইংরেজী ক্যাপিটাল অক্ষরে লেখা। "গত কিছুদিন যাবত তোমাকে চিঠি লেখার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আশা করি তুমি বুঝতে পারবে যে তোমাকে নিয়ে আমার মনের মধ্যে কী চলছে, সেটা লিখে বোঝানো কঠিন। তোমাকে শুধু এটাই বলতে চাই, আমি আগেও যেরকম ছিলাম এখনও সেরকমই আছি।" এই চিঠি দেয়া নেয়ার পালার পরে প্রথম যেবার এমিলি আর সুভাষ চন্দ্রের দেখা হয়েছিল, তখনই তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ড. কৃষ্ণা বসুকে এমিলি বলেছিলেন, ১৯৩৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়েছিল অস্ট্রিয়ার বাদগাস্তিনে। দুজনেরই পছন্দের রিসর্ট ছিল ওটা। তবে দুজনেই নিজেদের বিয়ের ব্যাপারটা গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কৃষ্ণা বসু বলছেন, নিজের বিয়ের তারিখটা ছাড়া আর কোনো কিছুই বলতে চাননি এমিলি। তবে সুভাষ চন্দ্র আর এমিলির মেয়ে অনিতা বসু তার মায়ের কাছ থেকে যা শুনেছেন, তার ভিত্তিতেই বলেছিলেন ভারতীয় নববধূর মতো বিয়ের সময়ে তার মাথায় সিঁদুর পরানো হয়েছিল।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেতৃত্ব-ইটন-ফৌজদারহাট by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম

মিশ্র কথন
বুধবার ১৭ জানুয়ারি নয়া দিগন্তে আমার কলামের শেষ অনুচ্ছেদটি ছিল ফৌজদারহাট নিয়ে। ফৌজদারহাট মানে এফসিসি। আমার লেখা একাদশতম বইয়ের নাম ‘মিশ্র কথন’। সেই বইটি প্রখ্যাত দোকানগুলোতে যেমন পাওয়া যায়, তেমনি অনলাইন বিক্রেতাদের কাছেও এবং ই-বুক হিসেবেও পাওয়া যায়। সেই বইয়ে তৃতীয় অধ্যায়ের নাম : ‘জীবনের ভিত্তি ক্যাডেট কলেজ অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়’। আমার বইয়ের ৩৭ থেকে ৮২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ক্যাডেট কলেজ শিক্ষার ওপরই তথা এফসিসির শিক্ষার ওপরে আলোচনা আছে। এর এক জায়গায় ইংল্যান্ডের ইটন নামক স্থানে অবস্থিত পাবলিক স্কুল এবং বাংলাদেশের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অতি সংক্ষিপ্ত পরিপূরক আলোচনা করেছি।
ইটন ও ডিউক অব ওয়েলিংটন
ইটন স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত; তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ১৮ জুন ১৮১৫ সালে সংঘটিত ওয়াটারলু যুদ্ধে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ানের নেতৃত্বাধীন ফরাসি বাহিনীকে পরাস্তকারী, ব্রিটিশ সেনাপতি যার নাম ছিল আর্থার ওয়েলেসলি। যুদ্ধ জয়ের পর, পুরস্কার ও সম্মানের অংশ হিসেবে, ব্রিটিশ রাজকীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে, তৎকালীন ব্রিটিশ সম্রাট ওয়েলেসলিকে ‘ডিউক অব ওয়েলিংটন’ হিসেবে মনোনীত করেন। বলে রাখা ভালো, ওয়েলিংটন তৎকালীন ইংল্যান্ডেরই একটি জায়গার নাম। আভিজাত্য ও গুরুত্বের ক্রমবিন্যাসে সম্রাটের পরেই হলেন প্রিন্স এবং প্রিন্সের পরে হলেন ডিউকেরা। বর্তমান ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ফিলিপ হলেন ডিউক অব এডিনবরা’। স্কটল্যান্ডের রাজধানী নগরীর নাম এডিনবরা। যুদ্ধজয়ী সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলি হলেন প্রথম ডিউক অব ওয়েলিংটন এবং পরে তিনি হয়েছিলেন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ তথা স্টেটসম্যান। ওয়াটারলুর যুদ্ধজয়ী সেনাপতির মূল নাম সবাই ভুলে গেছে; ‘ডিউক অব ওয়েলিংটন’ নামটি ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত। ওয়াটারলুর যুদ্ধের পরে, সেই ডিউক অব ওয়েলিংটন বলেছিলেন : ‘দি ব্যাটল অব ওয়াটারলু ওয়াজ ওয়ান অন দি প্লেইং ফিল্ডস অব ইটন।’ অর্থাৎ ওয়াটারলুর যুদ্ধ জয় হয়েছিল ইটনের খেলার মাঠেই। বাক্যটিকে প্রতীকী বা রূপক অর্থে গ্রহণ করতে হবে। ব্যাখ্যাটা এরূপ : ইটনে অবস্থিত স্কুলে লেখাপড়া করার সময় আর্থার ওয়েলেসলি যে গুণাবলি অর্জন করেছিলেন, ইটনের শিক্ষার মাধ্যমে যেসব বৈশিষ্ট্য তার চরিত্রে স্থান পেয়েছিল, সেগুলোর সুবাদেই তিনি প্রখ্যাত সেনাপতি নেপোলিয়ানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছিলেন।
ফৌজদারহাট ও ইবরাহিম
ইটন ও ডিউক অব ওয়েলিংটনের আলোচনার পর ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ তথা এফসিসির আলোচনা করব। আমি নিতান্তই একজন নগণ্য ব্যক্তি, সাবেক সৈনিক, সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী, একজন সাধারণ সাংসারিক ব্যক্তি। ওয়াটারলুর যুদ্ধের মতো কোনো যুদ্ধে সেনাপতিত্ব করিনি। কিন্তু জীবনের যুদ্ধক্ষেত্রে যে কয়টি স্থানে জয়ী হতে পেরেছি, এর পেছনে অবদান আছে এফসিসির শিক্ষার; এ ওই আমলের শিক্ষকদের। আমি নবম ব্যাচের ছাত্র। ছাত্রদের মধ্যে যাদের পিতা মাসিক উপার্জনে দরিদ্র ছিলেন, তাদের মধ্যে আমার পিতা অন্যতম। তৎকালীন সরকার প্রত্যেক ক্যাডেটের পেছনে মাথাপিছু ব্যয় করত ৪০০ টাকা মাসিক। তার মধ্যে ক্যাডেটদের কাছ থেকে আদায় করা হত সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। আমার পিতা দিতেন মাত্র ২৫ টাকা, বাকিটা স্কলারশিপ। বহু ছাত্র বা বন্ধুই একদম বিনামূল্যেও পড়েছেন, অর্থাৎ পূর্ণ স্কলারশিপ। ১৯৬২ সালে ঢুকেছিলাম, ১৯৬৮ সালে বের হয়েছি। ওই বছর ইন্টারমিডিয়েট বা এইচএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলাম। কিন্তু আমি প্রায় নিশ্চিত, যদি ক্যাডেট কলেজের ছাত্র না হতাম অর্থাৎ যদি চট্টগ্রাম বন্দর হাইস্কুলেই থেকে যেতাম, তাহলে প্রথম স্থান অধিকার করতাম না। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি, কাকুল থেকে ২৪তম ওয়ার কোর্সের সেরা বা প্রথম স্থান অধিকারকারী বা সর্বোত্তম ক্যাডেট হিসেবে কমিশন পেয়েছিলাম। পুরস্কার হিসেবে ঐতিহ্যবাহী কমান্ডার ইন চিফস কেইন আমার হাতে তুলে দেয়া হয়। ওই আমলের মিলিটারি একাডেমিতে, দুই বছর মেয়াদি বা লং কোর্সে সর্বোত্তম ক্যাডেটের পুরস্কার হতো সোর্ড অব অনার; ৯ মাসব্যাপী ওয়ার কোর্সে সর্বোত্তম ক্যাডেটের পুরস্কার হচ্ছে কমান্ডার ইন চিফস কেইন। পাকিস্তানের ২৩ বছরের ইতিহাসে মাত্র একজন বাঙালি সোর্ড অব অনার পেয়েছিলেন এবং তিন জন বাঙালি কমান্ডার ইন চিফ’স কেইন পেয়েছিলেন; অর্থাৎ মোট চারজন বাঙালি নিজ নিজ আমলে, সর্বোত্তম ক্যাডেট বিবেচিত হয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার, ১১৫ পাউন্ড ওজনের শ্যামলা বর্ণের বাঙালি ছেলে ইবরাহিম ওই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছিল ফৌজদারহাটের শিক্ষার জনই। ১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যাপী মহান মুক্তিযুদ্ধে যতথাসাধ্য সম্ভব ততটুকু অবদান রেখেছি। স্বাধীন বাংলাদেশে ২৭ বছরের চাকরি জীবনে যতটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন সম্ভব ততটুকু করেছি এবং সাফল্যের সাথেই করেছি। সময়ের আগেই বাধ্যতামূলক অবসর পেয়েছি সত্য, কিন্তু অবসর জীবনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি পূর্ণোদ্যমে। ‘কাজে লাগানো’ বলতে, নিজের জন্য যত না, তার থেকে শতগুণ বেশি দেশের জন্য ও মানুষের জন্য। প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশে টিকে আছি; টেলিভিশনে বক্তব্য রাখি, পত্রিকায় কলাম লিখি, রাজপথে হাঁটি- এ সবকিছুর পেছনেই ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার অবদান আছে। এই কলামের পাঠক আমার শুভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে কেউ যেন ভুল না বোঝেন; মহান আল্লাহর দয়ায় তথা মহান আল্লাহর রহমতেই সবকিছু হয়েছে এবং হচ্ছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু জাগতিক উসিলা বা জাগতিক কাঠামো বা মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ এবং লক্ষণীয়। মহান আল্লাহ তায়ালাই এই উসিলা, এই কাঠামো, এই মাধ্যম এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে দেন।
ক্যাডেট কলেজ সমাচার
১৯৫৪ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের হাসান আবদাল নামক শহরে প্রথম ক্যাডেট কলেজ স্থাপিত হয়েছিল। তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ, জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খানের আগ্রহে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও একটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়। ২৮ এপ্রিল ১৯৫৮ সালে সে সময়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে ১০ মাইল উত্তরে, ফৌজদারহাট নামক স্থানে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রাংক রোডের পূর্ব পাশে, অনুচ্চ পাহাড় সারির পাদদেশে এই কলেজ চালু হয়; নাম ছিল দি ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ। আইয়ুব খানের উদ্যোগেই প্রথম প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ফেলো অব দি রয়েল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি, লেফটেন্যান্ট কর্নেল উইলিয়াম মরিস ব্রাউন, জন্মসূত্রে নিউজিল্যান্ডবাসী এবং চাকরিসূত্রে বিলাতি। কর্নেল ব্রাউনের অবদান ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং তার আমলের সব ছাত্রের ইতিহাসে ও মানসপটে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ছয় বছর পর ১৯৬৪ সালে, রাজশাহীর সারদাতে, বর্তমান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এবং তৎকালীন যশোরের ঝিনাইদহে আরো তিনটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপিত হয়। ফলে প্রথমটির নাম বদলিয়ে রাখতে হয় ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। ক্যাডেট কলেজের শিক্ষা চালুর পেছনে যে ধারণাটি কাজ করেছিল, সেটি ছিল : দেশের ও জাতীয় জীবনের সর্ব আঙ্গিকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি সৃষ্টি করা। এই কলামে বিস্তারিত বিবরণ দেয়া সম্ভব নয়; কিন্তু নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে, দেশে এবং বিদেশে বহু পেশায় ও কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ও দর্শনীয় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্ররা তথা ক্যাডেট কলেজগুলোর ছাত্ররা। আমার পরিবারে, আমার থেকে বারো বছর ছোট ভাই সৈয়দ মুহাম্মদ মইনুদ্দিন, এফসিসির ২১তম ব্যাচের ক্যাডেট। মইনুদ্দিন জাপান থেকে পিএইচডি করেছেন নিউরো সার্জারিতে, আমেরিকার আরকানসাস থেকে তিন বছর অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণ নিয়েছেন; এখন নিউরো সার্জারির প্রফেসর। আমার ছেলে সৈয়দ ফজলুল করিম মুজাহিদ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের ১২তম ব্যাচের ছাত্র। আমার তৃতীয় ছোটভাই প্রথিতযশা শিল্প উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী সৈয়দ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিনের ছেলে রায়াত বিন নাসির, বর্তমানে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের ছাত্র। পুরনো অনেক সাবেক ক্যাডেটের ছেলেও ‘সাবেক ক্যাডেট’ হয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে। এমনকি, অনেক সাবেক ক্যাডেটের নাতিরাও ক্যাডেট কলেজগুলোতে পড়ছে। তবে অবশ্যই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলে রাখি যে, বাংলাদেশী সমাজের যেকোনো স্তরের যে কোনো ইনকাম গ্রুপের, যেকোনো স্বচ্ছ পেশার, যেকোনো ধর্মের ও ভাষার যেকোনো পরিবারের সন্তানদের জন্য ক্যাডেট কলেজে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত। ঢোকার পরীক্ষা বা পরীক্ষার ধাপগুলো অতি কঠিন, অতি স্বচ্ছ এবং পাস করার জন্য প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।
ক্যাডেট কলেজের মৃত্যুদণ্ড ও রক্ষা
১৯৭২ সালের গোড়ার দিকে, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তির আগ্রহে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সব ক্যাডেট কলেজে ওই পদ্ধতির শিক্ষা বন্ধ করে দেয়া হবে এবং ওই কলেজগুলোর ক্যাম্পাসকে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা হবে। তখন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের কিছু সাবেক ক্যাডেট (যাদের ‘ওল্ড ফৌজিয়ান’ বলা হয়) সংগঠিত হয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন ক্যাডেট কলেজ রক্ষার জন্য (‘সেইভ ক্যাডেট কলেজ’ মুভমেন্ট)। আমার লেখা বই মিশ্রকথনের যথাস্থানে এর বিস্তারিত বিবরণ আছে। ওই আন্দোলনকারী ওল্ড ফৌজিয়ানরা, তৎকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাহায্য কামনা করেন এবং সেই সাহায্য পেয়েছেন। জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে, তারা মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধান সেনাপতি ও পরে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর সাহায্য কামনা করেন এবং সাহায্য পান। জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল ওসমানী ছাত্রদের ধৈর্যসহকারে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। মূলত জেনারেল ওসমানীর কারণেই বঙ্গবন্ধু ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দেন যে, ক্যাডেট কলেজগুলো বহাল থাকবে।
রি-ইউনিয়ন বা পুনর্মিলনী
বলছিলাম ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের। ২৮ এপ্রিল ১৯৫৮ থেকে ২৮ এপ্রিল ২০১৮ সময়কাল হচ্ছে ৬০ বছর। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থার কারণে ক্যাডেট কলেজগুলোতে পুনর্মিলনী বা রি-ইউনিয়ন অনুষ্ঠিত হয় প্রতি চার বছর অন্তর। ঘটনাক্রমে ২০১৮তে কলেজের হীরকজয়ন্তীর (ডায়মন্ড জুবলি) সঙ্গে রি-ইউনিয়নের বছর মিলে যায়। ফলে ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০১৮ তিন দিনব্যাপী রি-ইউনিয়ন হলো। প্রায় দুই হাজার সাবেক ছাত্র ও তাদের স্ত্রী পরিবার অংশ নেয়। অতীতের মতো এবারো রি-ইউনিয়ন খরচের ৯০ ভাগই বহন করেছে সাবেক ক্যাডেটরা তথা ওল্ড ফৌজিয়ানরা এবং তারা এটা সংগ্রহ করেন বিভিন্ন দানশীল বা শিক্ষা-অনুরাগী বা ক্যাডেটকলেজ-বান্ধব ব্যক্তি এবং করপোরেট সংগঠনগুলো থেকে। উদাহরণস্বরূপ শুধুমাত্র বলছি, মোট ছয়টি ব্রেকফার্স্ট, লাঞ্চ ও ডিনার এর প্রত্যেকটি স্পন্সর করা হয়েছে। সোলস এবং এলআরবি গিয়েছিল, সেটাও স্পন্সর করা হয়েছে এবং স্পন্সরদের সাথে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওল্ড ফৌজিয়ানরা জড়িত; অথবা ধনী ও উদার ওল্ড ফৌজিয়ানরা নিজেরাই স্পন্সর করেছেন। প্রত্যেকবার রি-ইউনিয়নের সময় যে ফান্ড সংগ্রহ করা হয়, সেখান থেকে একটি বড় অংশ কলেজকে অনুদান হিসেবে দিয়ে দেয়া হয়। তিন-চার বছর আগে এরূপ অনুদান দিয়ে, সব ক্যাডেটের শোয়ার খাট বদলানো হয়েছিল। আরো কিছু টাকা তহবিলে জমা রাখা হয়েছিল। সরকার অনুমতি দিয়েছে, সাবেক ক্যাডেটরা ইচ্ছা করলে, ক্যাডেট কলেজের ভৌতকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে বা সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে অনুদান দিতে পারেন। কিন্তু এটা কারো ব্যক্তিগত নামে হবে না, এটা ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের নামে হবে বা কোনো ফাউন্ডেশনের অথবা কোনো ফান্ডের নামে হবে। এটা সব ক্যাডেট কলেজের জন্য প্রযোজ্য। অতীতের বছরগুলোতে কলেজের নতুন আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট সেন্টার নবায়ন করা, লাইব্রেরি নবায়ন করা, কম্পিউটার সেন্টার সমৃদ্ধ করা এবং এবারে জিমনেসিয়াম নবায়ন করা হয়েছে। ওল্ড ফৌজিয়ান আর্কিটেক্ট কর্তৃক শুভেচ্ছার বিনিময়ে নকশা বানানো হয়েছে এবং নির্মাণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মারক স্তম্ভ এবং কলেজের প্রবেশমুখে হীরকজয়ন্তী গেট; এগুলোর সম্পূর্ণ খরচ ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশন বহন করেছে। বৃহদাকারের একটি রেস্ট হাউজ তথা গেস্ট হাউজ নির্মিত হবে; সেখানেও অর্ধেক খরচ অনুদান হিসেবে দেবে ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশন। ক্যাডেট কলেজের অতীত ও বর্তমান শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ওয়েলফেয়ার ফান্ড সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আরো করা হবে। কলেজের বাইরে, শীতকালে বা বর্ষাকালে এবং সাইক্লোনের সময় দুস্থদের পাশে সবসময়ই সব ক্যাডেট কলেজের ওল্ড ক্যাডেটরা দাঁড়ান। রোহিঙ্গাদের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে; সরকারি মাধ্যমে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ন্যাশনাল সলিডারিটি ফর দি রোহিঙ্গা নামে আহ্বান জানিয়েছি এবং এখনো আহবান করে যাচ্ছি। এবারের রি-ইউনিয়নটি ছিল আনন্দদায়ক এবং সাফল্যমণ্ডিত। ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয়, ঢাকা চ্যাপ্টার, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার নেতাদেরকে, বিশেষ আহ্বায়ক কমিটিকে এবং স্পন্সরদেরকে এ জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অন্যান্য প্রথিতযশা স্কুল ও কলেজের সাবেক ছাত্ররাও এভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অবদানের বৃত্ত গড়ে তুলেছেন অথবা ভবিষ্যতে গড়ে তুলবেন।
সাবেকদের পদচারণা
দেশের সব ছাত্র ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুযোগ পাবে না; এটাই বাস্তবতা। ক্যাডেট কলেজে পড়লেই মাত্র দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর এসএসসি বা এইচএসসির মেধা তালিকায় স্থান পাবে- এমনও কোনোমতেই নয়। শুধু ক্যাডেট কলেজে পড়লেই বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন পাওয়ার সময় মেধা তালিকায় উপরের দিকে থাকবে, এমনও নয়। ক্যাডেট কলেজে পড়েননি এমন ছাত্র বা ব্যক্তিদের সংখ্যা, কলেজে পড়ুয়াদের তুলনায় হাজার গুণ বেশি। সামরিক বাহিনীতে জেনারেল বা অ্যাডমিরাল বা এয়ার মার্শাল, সরকারে সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর, ব্যাংকগুলোতে ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, পুলিশে এসপি, বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজের ক্যাপ্টেন বা ইঞ্জিনিয়ার, তাবলিগ জামাতে মুরুব্বি, বড় বড় হাসপাতালের বড় বড় ডাক্তার, শিল্প উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশে পার্লামেন্ট সদস্য যতজন হবেন বা হচ্ছেন, তার মধ্যে ক্ষুদ্র অংশ মাত্র সাবেক ক্যাডেটরা; সব ক্যাডেট কলেজের। কিন্তু আচরণে, দক্ষতায়, বৈশিষ্ট্যে এই ক্ষুদ্র অংশ তথা মাইনরিটি, উল্লেখযোগ্য এবং স্মরণীয়। একটি কথা না বললেই নয়; নভোমণ্ডলে তারকা বা গ্রহ যেমন কক্ষচ্যুত হয়, ট্রেন লাইনের ট্রেন যেমন লাইনচ্যুত হয়, তেমনি শুধু ফৌজদারহাট বলে নয়, সব ক্যাডেট কলেজেরই সাবেকদের মধ্যে কোনো না কোনো সাবেক ক্যাডেট কক্ষচ্যুত, পথচ্যুত, লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারেন; সামাজিক প্রক্রিয়ায় এটাকে স্বাভাবিক ধরে নিতে হবে। তাই আমরা সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সংখ্যাকে আলোচনা আর না। আমরা আলোচনার বিষয় করাচি তাদেরকেই, যারা ইতিবাচক অবদান রেখেছেন বা রেখেই যাচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও ফৌজিয়ানরা
এফসিসির সাবেক ছাত্রদের (১৯৫৮-১৯৭১) মধ্যে ৪৭ জন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন; তাদের মধ্যে আটজন শহীদ। এই ৪৭ জনের মধ্যে একজন বীর উত্তম (প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের) লেফটেন্যান্ট আনোয়ার যাঁর নামে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে স্কুল আছে, একজন বীর বিক্রম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র এবং সুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকার ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ সদস্য) বদিউল আলম। ওই ৪৭ জনের মধ্যে জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান (অব:) এ এস এম লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসিম বীর বিক্রম, সাবেক রাষ্ট্রদূত (অব:) মেজর জেনারেল সাইদ আহমেদ বীর প্রতীক, বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীর বিক্রম এবং মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও টিভি ব্যক্তিত্ব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক।
একটি বক্তৃতা
এফসিসির সদ্য সমাপ্ত রি-ইউনিয়নে উদ্বোধনী সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এবং সকালের উদ্বোধনী প্যারেডে সালাম গ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান। উভয়েই উদ্দীপনাপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। প্রধান দিবসে সন্ধ্যাবেলা রি-ইউনিয়ন স্পিকার ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিবাসী (বাংলাদেশে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করেন) প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী-গবেষক প্রফেসর মুহাম্মদ আতাউল করিম। বৃহত্তর সিলেটের বড়লেখার সন্তান আতাউল করিম ফৌজদারহাটের ১২তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তিনি এসএসসির পর কলেজ থেকে চলে গিয়েছিলেন। ৩৫ মিনিট দীর্ঘ বক্তব্যে, তিনি তরুণদের জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত উদাহরণ উপস্থাপনা এবং প্রণোদনা প্রদান করেন। তার দীর্ঘ বক্তব্য থেকে যদি আমাকে কিছু কথা বেছে নিতে হয়, তাহলে আমি বলবো, এক. জীবনে লক্ষ্য স্থির করতে হয়, কিন্তু এই কাজটি করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। দুই. ধীরেসুস্থে বিবেচনার পর লক্ষ্য স্থির হয়ে গেলে সেটা অর্জনের জন্য দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ হতে হয়।
লেখক : মেজর জেনারেল (অব.); চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেতৃত্ব-ইটন-ফৌজদারহাট by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম

মিশ্র কথন
বুধবার ১৭ জানুয়ারি নয়া দিগন্তে আমার কলামের শেষ অনুচ্ছেদটি ছিল ফৌজদারহাট নিয়ে। ফৌজদারহাট মানে এফসিসি। আমার লেখা একাদশতম বইয়ের নাম ‘মিশ্র কথন’। সেই বইটি প্রখ্যাত দোকানগুলোতে যেমন পাওয়া যায়, তেমনি অনলাইন বিক্রেতাদের কাছেও এবং ই-বুক হিসেবেও পাওয়া যায়। সেই বইয়ে তৃতীয় অধ্যায়ের নাম : ‘জীবনের ভিত্তি ক্যাডেট কলেজ অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়’। আমার বইয়ের ৩৭ থেকে ৮২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ক্যাডেট কলেজ শিক্ষার ওপরই তথা এফসিসির শিক্ষার ওপরে আলোচনা আছে। এর এক জায়গায় ইংল্যান্ডের ইটন নামক স্থানে অবস্থিত পাবলিক স্কুল এবং বাংলাদেশের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অতি সংক্ষিপ্ত পরিপূরক আলোচনা করেছি।
ইটন ও ডিউক অব ওয়েলিংটন
ইটন স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত; তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ১৮ জুন ১৮১৫ সালে সংঘটিত ওয়াটারলু যুদ্ধে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ানের নেতৃত্বাধীন ফরাসি বাহিনীকে পরাস্তকারী, ব্রিটিশ সেনাপতি যার নাম ছিল আর্থার ওয়েলেসলি। যুদ্ধ জয়ের পর, পুরস্কার ও সম্মানের অংশ হিসেবে, ব্রিটিশ রাজকীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে, তৎকালীন ব্রিটিশ সম্রাট ওয়েলেসলিকে ‘ডিউক অব ওয়েলিংটন’ হিসেবে মনোনীত করেন। বলে রাখা ভালো, ওয়েলিংটন তৎকালীন ইংল্যান্ডেরই একটি জায়গার নাম। আভিজাত্য ও গুরুত্বের ক্রমবিন্যাসে সম্রাটের পরেই হলেন প্রিন্স এবং প্রিন্সের পরে হলেন ডিউকেরা। বর্তমান ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ফিলিপ হলেন ডিউক অব এডিনবরা’। স্কটল্যান্ডের রাজধানী নগরীর নাম এডিনবরা। যুদ্ধজয়ী সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলি হলেন প্রথম ডিউক অব ওয়েলিংটন এবং পরে তিনি হয়েছিলেন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ তথা স্টেটসম্যান। ওয়াটারলুর যুদ্ধজয়ী সেনাপতির মূল নাম সবাই ভুলে গেছে; ‘ডিউক অব ওয়েলিংটন’ নামটি ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত। ওয়াটারলুর যুদ্ধের পরে, সেই ডিউক অব ওয়েলিংটন বলেছিলেন : ‘দি ব্যাটল অব ওয়াটারলু ওয়াজ ওয়ান অন দি প্লেইং ফিল্ডস অব ইটন।’ অর্থাৎ ওয়াটারলুর যুদ্ধ জয় হয়েছিল ইটনের খেলার মাঠেই। বাক্যটিকে প্রতীকী বা রূপক অর্থে গ্রহণ করতে হবে। ব্যাখ্যাটা এরূপ : ইটনে অবস্থিত স্কুলে লেখাপড়া করার সময় আর্থার ওয়েলেসলি যে গুণাবলি অর্জন করেছিলেন, ইটনের শিক্ষার মাধ্যমে যেসব বৈশিষ্ট্য তার চরিত্রে স্থান পেয়েছিল, সেগুলোর সুবাদেই তিনি প্রখ্যাত সেনাপতি নেপোলিয়ানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছিলেন।
ফৌজদারহাট ও ইবরাহিম
ইটন ও ডিউক অব ওয়েলিংটনের আলোচনার পর ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ তথা এফসিসির আলোচনা করব। আমি নিতান্তই একজন নগণ্য ব্যক্তি, সাবেক সৈনিক, সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী, একজন সাধারণ সাংসারিক ব্যক্তি। ওয়াটারলুর যুদ্ধের মতো কোনো যুদ্ধে সেনাপতিত্ব করিনি। কিন্তু জীবনের যুদ্ধক্ষেত্রে যে কয়টি স্থানে জয়ী হতে পেরেছি, এর পেছনে অবদান আছে এফসিসির শিক্ষার; এ ওই আমলের শিক্ষকদের। আমি নবম ব্যাচের ছাত্র। ছাত্রদের মধ্যে যাদের পিতা মাসিক উপার্জনে দরিদ্র ছিলেন, তাদের মধ্যে আমার পিতা অন্যতম। তৎকালীন সরকার প্রত্যেক ক্যাডেটের পেছনে মাথাপিছু ব্যয় করত ৪০০ টাকা মাসিক। তার মধ্যে ক্যাডেটদের কাছ থেকে আদায় করা হত সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। আমার পিতা দিতেন মাত্র ২৫ টাকা, বাকিটা স্কলারশিপ। বহু ছাত্র বা বন্ধুই একদম বিনামূল্যেও পড়েছেন, অর্থাৎ পূর্ণ স্কলারশিপ। ১৯৬২ সালে ঢুকেছিলাম, ১৯৬৮ সালে বের হয়েছি। ওই বছর ইন্টারমিডিয়েট বা এইচএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলাম। কিন্তু আমি প্রায় নিশ্চিত, যদি ক্যাডেট কলেজের ছাত্র না হতাম অর্থাৎ যদি চট্টগ্রাম বন্দর হাইস্কুলেই থেকে যেতাম, তাহলে প্রথম স্থান অধিকার করতাম না। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি, কাকুল থেকে ২৪তম ওয়ার কোর্সের সেরা বা প্রথম স্থান অধিকারকারী বা সর্বোত্তম ক্যাডেট হিসেবে কমিশন পেয়েছিলাম। পুরস্কার হিসেবে ঐতিহ্যবাহী কমান্ডার ইন চিফস কেইন আমার হাতে তুলে দেয়া হয়। ওই আমলের মিলিটারি একাডেমিতে, দুই বছর মেয়াদি বা লং কোর্সে সর্বোত্তম ক্যাডেটের পুরস্কার হতো সোর্ড অব অনার; ৯ মাসব্যাপী ওয়ার কোর্সে সর্বোত্তম ক্যাডেটের পুরস্কার হচ্ছে কমান্ডার ইন চিফস কেইন। পাকিস্তানের ২৩ বছরের ইতিহাসে মাত্র একজন বাঙালি সোর্ড অব অনার পেয়েছিলেন এবং তিন জন বাঙালি কমান্ডার ইন চিফ’স কেইন পেয়েছিলেন; অর্থাৎ মোট চারজন বাঙালি নিজ নিজ আমলে, সর্বোত্তম ক্যাডেট বিবেচিত হয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার, ১১৫ পাউন্ড ওজনের শ্যামলা বর্ণের বাঙালি ছেলে ইবরাহিম ওই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছিল ফৌজদারহাটের শিক্ষার জনই। ১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যাপী মহান মুক্তিযুদ্ধে যতথাসাধ্য সম্ভব ততটুকু অবদান রেখেছি। স্বাধীন বাংলাদেশে ২৭ বছরের চাকরি জীবনে যতটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন সম্ভব ততটুকু করেছি এবং সাফল্যের সাথেই করেছি। সময়ের আগেই বাধ্যতামূলক অবসর পেয়েছি সত্য, কিন্তু অবসর জীবনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি পূর্ণোদ্যমে। ‘কাজে লাগানো’ বলতে, নিজের জন্য যত না, তার থেকে শতগুণ বেশি দেশের জন্য ও মানুষের জন্য। প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশে টিকে আছি; টেলিভিশনে বক্তব্য রাখি, পত্রিকায় কলাম লিখি, রাজপথে হাঁটি- এ সবকিছুর পেছনেই ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার অবদান আছে। এই কলামের পাঠক আমার শুভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে কেউ যেন ভুল না বোঝেন; মহান আল্লাহর দয়ায় তথা মহান আল্লাহর রহমতেই সবকিছু হয়েছে এবং হচ্ছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু জাগতিক উসিলা বা জাগতিক কাঠামো বা মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ এবং লক্ষণীয়। মহান আল্লাহ তায়ালাই এই উসিলা, এই কাঠামো, এই মাধ্যম এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে দেন।
ক্যাডেট কলেজ সমাচার
১৯৫৪ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের হাসান আবদাল নামক শহরে প্রথম ক্যাডেট কলেজ স্থাপিত হয়েছিল। তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ, জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খানের আগ্রহে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও একটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়। ২৮ এপ্রিল ১৯৫৮ সালে সে সময়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে ১০ মাইল উত্তরে, ফৌজদারহাট নামক স্থানে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রাংক রোডের পূর্ব পাশে, অনুচ্চ পাহাড় সারির পাদদেশে এই কলেজ চালু হয়; নাম ছিল দি ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ। আইয়ুব খানের উদ্যোগেই প্রথম প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ফেলো অব দি রয়েল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি, লেফটেন্যান্ট কর্নেল উইলিয়াম মরিস ব্রাউন, জন্মসূত্রে নিউজিল্যান্ডবাসী এবং চাকরিসূত্রে বিলাতি। কর্নেল ব্রাউনের অবদান ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং তার আমলের সব ছাত্রের ইতিহাসে ও মানসপটে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ছয় বছর পর ১৯৬৪ সালে, রাজশাহীর সারদাতে, বর্তমান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এবং তৎকালীন যশোরের ঝিনাইদহে আরো তিনটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপিত হয়। ফলে প্রথমটির নাম বদলিয়ে রাখতে হয় ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। ক্যাডেট কলেজের শিক্ষা চালুর পেছনে যে ধারণাটি কাজ করেছিল, সেটি ছিল : দেশের ও জাতীয় জীবনের সর্ব আঙ্গিকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি সৃষ্টি করা। এই কলামে বিস্তারিত বিবরণ দেয়া সম্ভব নয়; কিন্তু নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে, দেশে এবং বিদেশে বহু পেশায় ও কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ও দর্শনীয় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্ররা তথা ক্যাডেট কলেজগুলোর ছাত্ররা। আমার পরিবারে, আমার থেকে বারো বছর ছোট ভাই সৈয়দ মুহাম্মদ মইনুদ্দিন, এফসিসির ২১তম ব্যাচের ক্যাডেট। মইনুদ্দিন জাপান থেকে পিএইচডি করেছেন নিউরো সার্জারিতে, আমেরিকার আরকানসাস থেকে তিন বছর অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণ নিয়েছেন; এখন নিউরো সার্জারির প্রফেসর। আমার ছেলে সৈয়দ ফজলুল করিম মুজাহিদ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের ১২তম ব্যাচের ছাত্র। আমার তৃতীয় ছোটভাই প্রথিতযশা শিল্প উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী সৈয়দ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিনের ছেলে রায়াত বিন নাসির, বর্তমানে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের ছাত্র। পুরনো অনেক সাবেক ক্যাডেটের ছেলেও ‘সাবেক ক্যাডেট’ হয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে। এমনকি, অনেক সাবেক ক্যাডেটের নাতিরাও ক্যাডেট কলেজগুলোতে পড়ছে। তবে অবশ্যই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলে রাখি যে, বাংলাদেশী সমাজের যেকোনো স্তরের যে কোনো ইনকাম গ্রুপের, যেকোনো স্বচ্ছ পেশার, যেকোনো ধর্মের ও ভাষার যেকোনো পরিবারের সন্তানদের জন্য ক্যাডেট কলেজে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত। ঢোকার পরীক্ষা বা পরীক্ষার ধাপগুলো অতি কঠিন, অতি স্বচ্ছ এবং পাস করার জন্য প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।
ক্যাডেট কলেজের মৃত্যুদণ্ড ও রক্ষা
১৯৭২ সালের গোড়ার দিকে, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তির আগ্রহে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সব ক্যাডেট কলেজে ওই পদ্ধতির শিক্ষা বন্ধ করে দেয়া হবে এবং ওই কলেজগুলোর ক্যাম্পাসকে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা হবে। তখন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের কিছু সাবেক ক্যাডেট (যাদের ‘ওল্ড ফৌজিয়ান’ বলা হয়) সংগঠিত হয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন ক্যাডেট কলেজ রক্ষার জন্য (‘সেইভ ক্যাডেট কলেজ’ মুভমেন্ট)। আমার লেখা বই মিশ্রকথনের যথাস্থানে এর বিস্তারিত বিবরণ আছে। ওই আন্দোলনকারী ওল্ড ফৌজিয়ানরা, তৎকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাহায্য কামনা করেন এবং সেই সাহায্য পেয়েছেন। জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে, তারা মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধান সেনাপতি ও পরে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর সাহায্য কামনা করেন এবং সাহায্য পান। জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল ওসমানী ছাত্রদের ধৈর্যসহকারে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। মূলত জেনারেল ওসমানীর কারণেই বঙ্গবন্ধু ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দেন যে, ক্যাডেট কলেজগুলো বহাল থাকবে।
রি-ইউনিয়ন বা পুনর্মিলনী
বলছিলাম ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের। ২৮ এপ্রিল ১৯৫৮ থেকে ২৮ এপ্রিল ২০১৮ সময়কাল হচ্ছে ৬০ বছর। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থার কারণে ক্যাডেট কলেজগুলোতে পুনর্মিলনী বা রি-ইউনিয়ন অনুষ্ঠিত হয় প্রতি চার বছর অন্তর। ঘটনাক্রমে ২০১৮তে কলেজের হীরকজয়ন্তীর (ডায়মন্ড জুবলি) সঙ্গে রি-ইউনিয়নের বছর মিলে যায়। ফলে ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০১৮ তিন দিনব্যাপী রি-ইউনিয়ন হলো। প্রায় দুই হাজার সাবেক ছাত্র ও তাদের স্ত্রী পরিবার অংশ নেয়। অতীতের মতো এবারো রি-ইউনিয়ন খরচের ৯০ ভাগই বহন করেছে সাবেক ক্যাডেটরা তথা ওল্ড ফৌজিয়ানরা এবং তারা এটা সংগ্রহ করেন বিভিন্ন দানশীল বা শিক্ষা-অনুরাগী বা ক্যাডেটকলেজ-বান্ধব ব্যক্তি এবং করপোরেট সংগঠনগুলো থেকে। উদাহরণস্বরূপ শুধুমাত্র বলছি, মোট ছয়টি ব্রেকফার্স্ট, লাঞ্চ ও ডিনার এর প্রত্যেকটি স্পন্সর করা হয়েছে। সোলস এবং এলআরবি গিয়েছিল, সেটাও স্পন্সর করা হয়েছে এবং স্পন্সরদের সাথে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওল্ড ফৌজিয়ানরা জড়িত; অথবা ধনী ও উদার ওল্ড ফৌজিয়ানরা নিজেরাই স্পন্সর করেছেন। প্রত্যেকবার রি-ইউনিয়নের সময় যে ফান্ড সংগ্রহ করা হয়, সেখান থেকে একটি বড় অংশ কলেজকে অনুদান হিসেবে দিয়ে দেয়া হয়। তিন-চার বছর আগে এরূপ অনুদান দিয়ে, সব ক্যাডেটের শোয়ার খাট বদলানো হয়েছিল। আরো কিছু টাকা তহবিলে জমা রাখা হয়েছিল। সরকার অনুমতি দিয়েছে, সাবেক ক্যাডেটরা ইচ্ছা করলে, ক্যাডেট কলেজের ভৌতকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে বা সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে অনুদান দিতে পারেন। কিন্তু এটা কারো ব্যক্তিগত নামে হবে না, এটা ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের নামে হবে বা কোনো ফাউন্ডেশনের অথবা কোনো ফান্ডের নামে হবে। এটা সব ক্যাডেট কলেজের জন্য প্রযোজ্য। অতীতের বছরগুলোতে কলেজের নতুন আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট সেন্টার নবায়ন করা, লাইব্রেরি নবায়ন করা, কম্পিউটার সেন্টার সমৃদ্ধ করা এবং এবারে জিমনেসিয়াম নবায়ন করা হয়েছে। ওল্ড ফৌজিয়ান আর্কিটেক্ট কর্তৃক শুভেচ্ছার বিনিময়ে নকশা বানানো হয়েছে এবং নির্মাণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মারক স্তম্ভ এবং কলেজের প্রবেশমুখে হীরকজয়ন্তী গেট; এগুলোর সম্পূর্ণ খরচ ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশন বহন করেছে। বৃহদাকারের একটি রেস্ট হাউজ তথা গেস্ট হাউজ নির্মিত হবে; সেখানেও অর্ধেক খরচ অনুদান হিসেবে দেবে ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশন। ক্যাডেট কলেজের অতীত ও বর্তমান শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ওয়েলফেয়ার ফান্ড সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আরো করা হবে। কলেজের বাইরে, শীতকালে বা বর্ষাকালে এবং সাইক্লোনের সময় দুস্থদের পাশে সবসময়ই সব ক্যাডেট কলেজের ওল্ড ক্যাডেটরা দাঁড়ান। রোহিঙ্গাদের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে; সরকারি মাধ্যমে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ন্যাশনাল সলিডারিটি ফর দি রোহিঙ্গা নামে আহ্বান জানিয়েছি এবং এখনো আহবান করে যাচ্ছি। এবারের রি-ইউনিয়নটি ছিল আনন্দদায়ক এবং সাফল্যমণ্ডিত। ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয়, ঢাকা চ্যাপ্টার, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার নেতাদেরকে, বিশেষ আহ্বায়ক কমিটিকে এবং স্পন্সরদেরকে এ জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অন্যান্য প্রথিতযশা স্কুল ও কলেজের সাবেক ছাত্ররাও এভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অবদানের বৃত্ত গড়ে তুলেছেন অথবা ভবিষ্যতে গড়ে তুলবেন।
সাবেকদের পদচারণা
দেশের সব ছাত্র ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুযোগ পাবে না; এটাই বাস্তবতা। ক্যাডেট কলেজে পড়লেই মাত্র দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর এসএসসি বা এইচএসসির মেধা তালিকায় স্থান পাবে- এমনও কোনোমতেই নয়। শুধু ক্যাডেট কলেজে পড়লেই বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন পাওয়ার সময় মেধা তালিকায় উপরের দিকে থাকবে, এমনও নয়। ক্যাডেট কলেজে পড়েননি এমন ছাত্র বা ব্যক্তিদের সংখ্যা, কলেজে পড়ুয়াদের তুলনায় হাজার গুণ বেশি। সামরিক বাহিনীতে জেনারেল বা অ্যাডমিরাল বা এয়ার মার্শাল, সরকারে সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর, ব্যাংকগুলোতে ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, পুলিশে এসপি, বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজের ক্যাপ্টেন বা ইঞ্জিনিয়ার, তাবলিগ জামাতে মুরুব্বি, বড় বড় হাসপাতালের বড় বড় ডাক্তার, শিল্প উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশে পার্লামেন্ট সদস্য যতজন হবেন বা হচ্ছেন, তার মধ্যে ক্ষুদ্র অংশ মাত্র সাবেক ক্যাডেটরা; সব ক্যাডেট কলেজের। কিন্তু আচরণে, দক্ষতায়, বৈশিষ্ট্যে এই ক্ষুদ্র অংশ তথা মাইনরিটি, উল্লেখযোগ্য এবং স্মরণীয়। একটি কথা না বললেই নয়; নভোমণ্ডলে তারকা বা গ্রহ যেমন কক্ষচ্যুত হয়, ট্রেন লাইনের ট্রেন যেমন লাইনচ্যুত হয়, তেমনি শুধু ফৌজদারহাট বলে নয়, সব ক্যাডেট কলেজেরই সাবেকদের মধ্যে কোনো না কোনো সাবেক ক্যাডেট কক্ষচ্যুত, পথচ্যুত, লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারেন; সামাজিক প্রক্রিয়ায় এটাকে স্বাভাবিক ধরে নিতে হবে। তাই আমরা সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সংখ্যাকে আলোচনা আর না। আমরা আলোচনার বিষয় করাচি তাদেরকেই, যারা ইতিবাচক অবদান রেখেছেন বা রেখেই যাচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও ফৌজিয়ানরা
এফসিসির সাবেক ছাত্রদের (১৯৫৮-১৯৭১) মধ্যে ৪৭ জন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন; তাদের মধ্যে আটজন শহীদ। এই ৪৭ জনের মধ্যে একজন বীর উত্তম (প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের) লেফটেন্যান্ট আনোয়ার যাঁর নামে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে স্কুল আছে, একজন বীর বিক্রম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র এবং সুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকার ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ সদস্য) বদিউল আলম। ওই ৪৭ জনের মধ্যে জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান (অব:) এ এস এম লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসিম বীর বিক্রম, সাবেক রাষ্ট্রদূত (অব:) মেজর জেনারেল সাইদ আহমেদ বীর প্রতীক, বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীর বিক্রম এবং মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও টিভি ব্যক্তিত্ব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক।
একটি বক্তৃতা
এফসিসির সদ্য সমাপ্ত রি-ইউনিয়নে উদ্বোধনী সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এবং সকালের উদ্বোধনী প্যারেডে সালাম গ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান। উভয়েই উদ্দীপনাপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। প্রধান দিবসে সন্ধ্যাবেলা রি-ইউনিয়ন স্পিকার ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিবাসী (বাংলাদেশে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করেন) প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী-গবেষক প্রফেসর মুহাম্মদ আতাউল করিম। বৃহত্তর সিলেটের বড়লেখার সন্তান আতাউল করিম ফৌজদারহাটের ১২তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তিনি এসএসসির পর কলেজ থেকে চলে গিয়েছিলেন। ৩৫ মিনিট দীর্ঘ বক্তব্যে, তিনি তরুণদের জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত উদাহরণ উপস্থাপনা এবং প্রণোদনা প্রদান করেন। তার দীর্ঘ বক্তব্য থেকে যদি আমাকে কিছু কথা বেছে নিতে হয়, তাহলে আমি বলবো, এক. জীবনে লক্ষ্য স্থির করতে হয়, কিন্তু এই কাজটি করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। দুই. ধীরেসুস্থে বিবেচনার পর লক্ষ্য স্থির হয়ে গেলে সেটা অর্জনের জন্য দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ হতে হয়।
লেখক : মেজর জেনারেল (অব.); চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইতালিতে হিজাব পরা আইনজীবীকে আদালত থেকে বহিষ্কার

বোলোগ্নার একটি আঞ্চলিক প্রশাসনিক আদালতে শুনানি চলাকালে বিচারক জিয়ানকার্লো মোজজারেলি মুসলিম আইনজীবী আসমে বেলফাকিরকে তার মাথার হিজাব খুলতে বলেন। অন্যথায় তাকে আদালতের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে আসমে বেলফাকির বলেন, ‘ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সব আইনজীবীর সঙ্গে আমিও আদালতের কক্ষে প্রবেশ করি। হঠাৎ বিচারক বলতে শুরু করলেন : ‘আপনি কি খুলতে পারেন?’ তিনি হিজাবের কথা উল্লেখ করেননি এবং আমার দিকে তাকানওনি। আমি ভেবেছিলাম তিনি কাউকে তার বা তাদের কোট খোলার জন্য বলছেন। আমি কল্পনাও করতে পারছিলাম না যে তিনি আমাকে বলছিলেন। তারপর আমি তার দিকে তাকালাম এবং বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলাম।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন ট্রাম্পকন্যার by মাইকেল উলফ

[পর্ব-৮]
অভিবাসন আইন পাস হওয়ার একদিন পর রোববার এমএসএনবিসির প্রভাতী অনুষ্ঠান, মর্নিং শোয়ের উপস্থাপক জো স্কারবরো ও সহউপস্থাপক মিকা ব্রেজিজিনস্কি ট্রাম্পের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউজে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নিতে আসেন। দিনটি ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের নবম দিন। স্কারবরো ফ্লোরিডার পেনসাকোলা এলাকার সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য। আর ব্রেজিজিনস্কির বাবা ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা ও জিমি কার্টারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। মর্নিং শো একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক টক শো। এই দুই উপস্থাপকের কারণে টিভি চ্যানেলটাও অনেকটা ট্রাম্পপন্থী অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প খুব আগ্রহ নিয়ে এই জুটিকে পুরো হোয়াইট হাউজ ঘুরিয়ে দেখালেন। একপর্যায়ে বেশ উৎফুল্ল মেজাজে তাদের কাছে জানতে চান, প্রেসিডেন্সির প্রথম সপ্তাহটি কেমন কাটলো বলে মনে হয় আপনাদের? সারা দেশে যখন (নতুন অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে) বিক্ষোভ চলছে, সে সময় ট্রাম্পের এমন প্রশ্ন শুনে যেন বোকা হয়ে গেলেন স্কারবরো। কিছুটা সঙ্কোচ নিয়ে বললেন, ‘ভালো, ইউএস স্টিল বিষয়ে আপনার পদক্ষেপ এবং হোয়াইট হাউজে ইউনিয়ন নেতাদের আগমনের বিষয় আমার ভীষণ ভালো লেগেছে’ (অপ্রিয় সত্য কথাটি বলতে চাইলেন না তিনি)। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পাইপলাইনগুলোতে দেশে তৈরি স্টিল ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছেন এবং ইমারত ও স্টিল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের হোয়াইট হাউজে ডেকে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এ কাজ ওবামা কখনোই করেননি। কিন্তু ট্রাম্প আবারো প্রশ্নটি করলেন। স্কারবরো বুঝলেন, প্রথম সপ্তাহটি যে ট্রাম্পের জন্য কতটা খারাপ গেছে, সে ব্যাপারে তাকে কেউ কিছুই বলেনি। তিনি ভাবলেন, স্টিভ ব্যানন ও রেইন্স প্রিবাস শুধু অফিসে আসা যাওয়াই করেছেন, আর ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন তিনি সফল একটি সপ্তাহ পার করেছেন।’ এরপর অভিবাসী ইস্যুটি আরো কতটা ভালোভাবে মোকাবেলা করা যেত, সে বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন জো স্কারবরো। ট্রাম্প এতে অবাক হয়ে বলেন,‘ জো মনে করছে না যে, সপ্তাহটি আমাদের ভালো কেটেছে’।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ

এসব দেশ তাদের কর্তৃত্ববাদী ছাঁচের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি বিশ্ব গড়ার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলের প্রভাব এ অঞ্চলের ছোট দেশগুলোর ওপর পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক যতটা তিক্ত রূপ নিচ্ছে, ততটাই নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্পষ্টতই পাকিস্তান এবং চীন ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। অপর দিকে, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির নেতৃস্থানীয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ভারতের সাথে শুধু পাকিস্তান নয়, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্কের ওপরেও এর প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের এক সময়ের অতি ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রধান অস্ত্রসরবরাহকারী দেশ ছিল রাশিয়া। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে শান্তি, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অপর দিকে, ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর বাইরে, দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল পাকিস্তান। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর পরই দেশটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মস্কোর ওপর নজরদারির জন্য ১৯৫০ সালে পাকিস্তানের পেশোয়ার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি পায় যুক্তরাষ্ট্র। লাহোরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা অফিস স্থাপনের অনুমতিও দেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট নিক্সনের চীন সফরে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোল্ড ওয়ারের পুরো সময়ে পাকিস্তান সামরিক ও বেসামরিক বিপুল সাহায্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আফগান যুদ্ধের পর, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর আবার পাকিস্তানের সামরিক গুরুত্ব বেড়ে যায়। কিন্তু পাকিস্তানের অভ্যন্তরে মার্কিন ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে সে দেশে মার্কিনবিরোধী জনমত তীব্র হয়ে ওঠে। আফগানিস্তানে তালেবানরা নতুন করে সংগঠিত হতে থাকে। আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ী হওয়ার অনিশ্চয়তা যতটা বাড়ছে, পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের ততই অবনতি ঘটছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর দুই দেশের মিত্রতার সম্পর্ক দ্রুত বদলে যেতে থাকে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই কুজুগোতোভিচ শোয়গু পাকিস্তান সফর করেন। ৪৫ বছরের মধ্যে এটাই ছিল প্রথম কোনো রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইসলামাবাদ সফর।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ সফরের ফলাফল দৃশ্যমান হয়ে ওঠে ২০১৫ সালের আগস্টে পাকিস্তান ২০টি রাশিয়ার এমআই-৩৫ হেলিকপ্টার কেনার ঘোষণা দেয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ২০১৬ সালে পাকিস্তানে দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালে আরব সাগরে হয়েছে যৌথ নৌ-মহড়া। সামরিক সম্পর্কের বাইরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক জ্বালানি সহযোগিতা ও পাইপলাইন নির্মাণের চুক্তিও হয়। রাশিয়ার একজন কূটনীতিক সম্প্রতি ইসলামাবাদে ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিউক্লিয়ার্স সাপ্লায়ার্স গ্রুপে (এনএসজি) পাকিস্তানের সদস্য পদের জন্য রাশিয়া সমর্থন দিতে পারে। ভারত দীর্ঘ দিন ধরে এনএসজির সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে। চীন প্রবলভাবে এর বিরোধিতা করছে। ভারতের সদস্যপদের ব্যাপারে রাশিয়ার সমর্থন আছে বলে মনে করা হলেও পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। রাশিয়ার সাথে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার নেপথ্যে চীনের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। কারণ, চীনের সাথে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একাধিক চুক্তি রয়েছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ পরিকল্পনার অন্যতম সহযোগী দেশ পাকিস্তান। চীন ও রাশিয়ার সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, দেশটির ওপর মার্কিন চাপ ততই বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নতুন বছরের শুরুর দিন পাকিস্তান নিয়ে এক টুইট বার্তা প্রকাশ করেছেন। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক বেশ উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় বলেনÑ ‘যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতোই পাকিস্তানকে গত ১৫ বছরে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিয়েছে। এর বিপরীতে তারা আমাদের মিথ্যা ও শঠতা ছাড়া কিছুই দেয়নি। তারা আমাদের নেতাদের বোকা ভাবছে।’ ট্রাম্পের অভিযোগÑ ‘আমরা আফগানিস্তানে যেসব সন্ত্রাসীকে তাড়া করছি, তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে পাকিস্তান। আমাদের কোনো সহযোগিতা করছে না। আর না।’ ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর পাকিস্তান কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘আমরা এমন একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যখন আফগান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে পাকিস্তানের মাটিতেই যুদ্ধ শুরু হবে।’ তার দাবি, সেটাই যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া। তবে ইসলামাবাদ কখনো দেশের মাটিকে আফগান যুদ্ধের ময়দান হতে দেবে না।’ পাকিস্তান সংক্রান্ত নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তন বা কঠোর অবস্থানের পেছনে আফগানিস্তানকে ঘিরে এ অঞ্চলে প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও অন্যতম কারণ। যেখানে চীন ও পাকিস্তানের সাথে রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন ইস্যুতে চীন ও রাশিয়া বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি তালেবানদের সাথে বিভিন্ন ধরনের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন চীনা কর্মকর্তারা। ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে মতবিরোধ দূর করতে চীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। আফগানিস্তানে চীনা প্রভাব নিয়ে পেন্টাগনের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেইজিং সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বাড়িয়ে তুলছে। এর মধ্যে গত ২৬ ডিসেম্বর বেইজিংয়ে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে ৫৭ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর আফগানিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, আফগানিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার সাথে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে তার দেশ খুবই আগ্রহী। আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন রব্বানী বলেছেন, আফগানিস্তানের চিরদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু চীন। দেশটির বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে সংযুক্ত হওয়ার জন্য আফগানিস্তান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যদি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর খাইবার পাস হয়ে আমুদরিয়ার তীর পর্যন্ত যদি সম্প্রসারিত হয়, তাহলে বাস্তবিক অর্থে নতুন সিল্ক রুটের পুনরুজ্জীবন ঘটবে। তখন মধ্য এশিয়া হয়ে এর সাথে খুব সহজেই রাশিয়া সংযুক্ত হতে পারবে। ইতোমধ্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত ডিসেম্বরে একসাথে নয়াদিল্লি সফর করেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পে ভারতকে সংযুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি পাকিস্তানের সাথে রাজনৈতিক বিরোধে এ ধরনের অর্থনৈতিক প্রকল্প সম্পৃক্ত না করার কথাও বলেন। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে রাশিয়া নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাইছে মূলত কৌশলগত কারণে। বালুচিস্তানের গোয়াদর বন্দর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আরব সাগরের উষ্ণ পানিতে পা ভেজাতে পারবে রাশিয়া। আফগানিস্তান এবং সিপিইসিকে ঘিরে চীন ও রাশিয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পাকিস্তানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপের নেপথ্য কারণ খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছে চীন। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইট বার্তার পর চীনের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের পূর্ণ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দেয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা পারস্পরিক শ্রদ্ধার সাথে করছে বলে আমরা খুশি। আসলে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানকে পুরোপুরি জড়িয়ে ফেলতে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে আনতে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল যে পাকিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হবে, তা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। তিনি এ কারণে বলছেন, ইসলামাবাদ কখনো দেশের মাটিকে আফগান যুদ্ধের ময়দান হতে দেবে না। পরিহাস হচ্ছে, এক সময় আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের জন্য পাকিস্তান থেকে যে সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে, একই ধরনের সুবিধা চীন ও রাশিয়াও পেতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগের মার্কিন নীতি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান আরো বেশি চীন ও রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়বে। ইতোমধ্যেই তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে তিক্ততার কারণে পাকিস্তান যদি আফগান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি আফগানিস্তানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এ দিকটি সম্ভবত জেমস ম্যাটিস উপলব্ধি করতে পারছেন এবং পাকিস্তানের সাথে ‘সামরিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে’ বলে জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি এশিয়ায় মার্কিন প্রভাব আরো খর্ব করতে পারে। একমাত্র ভারত ছাড়া এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র নেই। জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলপত্র প্রকাশের অনুষ্ঠানে জেমস ম্যাটিস বলেছেন, আমাদের সামরিক বাহিনী এখনো শক্তিশালী; কিন্তু আকাশ, স্থল, সাগর, মহাশূন্য ও সাইবার স্পেস- যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সুবিধাজনক অবস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে। রাশিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা যদি আমাদের চ্যালেঞ্জ করো, তাহলে তা হবে তোমাদের জন্য দীর্ঘতম খারাপ দিন।’ দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল- সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, আফগানিস্তানে বিদ্রোহ দমনে অভিযান, ইরাক ও সিরিয়া। কিন্তু এখন জোরালোভাবে তা আবার আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে মোড় নিচ্ছে; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও চীনের দিকে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। চীন স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আরো সক্রিয় হয়ে উঠবে। নেপালের রাজনীতিতে ভারতকে পাশ কাটিয়ে চীন এখন সামনের সারিতে চলে এসেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পক্ষে চীন ও রাশিয়া সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশের নীতির বিপরীতে অবস্থান নিয়ে মিয়ানমারকে সমর্থন দেয়ার পরও ভারতের ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন সত্ত্বেও ভারত বেশ চাপ অনুভব করছে। যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠাতে রাজি হয়নি ভারত। চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান যেভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তাতে আগামী দিনে এ অঞ্চলে ভারতকে সম্ভবত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
alfazanambd@yahoo.com
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
January
(1086)
-
▼
Jan 24
(12)
- ট্রাম্প কেন বিপজ্জনক
- শিউরে ওঠার মতো হত্যা
- একজন অদম্য মাইশার অন্যরকম গল্প
- হাসপাতালে বাচ্চা বদল
- মৃত সেজে হাতি থেকে প্রাণরক্ষা
- পাঠদানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে সাপ
- ভিয়েনায় যেভাবে বিদেশিনীর প্রেমে পড়েছিলেন সুভাষ বসু
- নেতৃত্ব-ইটন-ফৌজদারহাট by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম
- নেতৃত্ব-ইটন-ফৌজদারহাট by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম
- ইতালিতে হিজাব পরা আইনজীবীকে আদালত থেকে বহিষ্কার
- প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন ট্রাম্পকন্যার by মাইকেল উলফ
- দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ
-
▼
Jan 24
(12)
-
▼
January
(1086)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...