Wednesday, June 11, 2025

মাথায় কাটা চিহ্নের সূত্র ধরে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন খুনি by নজরুল ইসলাম

জামালপুরের বকশীগঞ্জের বান্দেপাড়া এলাকার পাটখেত থেকে গত ১৬ মে এক নারীর পোড়া লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মুখমণ্ডল পুড়ে যাওয়ায় ওই নারীর নাম-ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। ওই ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করতে পারছিল না পুলিশ। শেষ পর্যন্ত ওই নারীর মাথায় আগের কাটা চিহ্নের সূত্র ধরে তাঁর নাম-ঠিকানা নিশ্চিত হয়ে হত্যায় জড়িত অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই নারীর নাম নবিরন খাতুন (৫২)। বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চেংটিমারী পূর্ব এলাকায়। পেশায় পোশাকশ্রমিক এই নারী থাকতেন রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত জামালপুরের পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকার দুই সন্ত্রাসীকে ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া করে নবিরনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন তাঁর জামাতা আবু তালেব মণ্ডল (৪৭)। লাশ যাতে চেনা না যায়, সে জন্য পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় লাশটি পাওয়া যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ৪ জুন রাতে ঢাকার সাভারের একটি এলাকা থেকে আবু তালেবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জামালপুরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।

কাটা চিহ্নের সূত্র ধরে যেভাবে পরিচয় শনাক্ত

পাটখেত থেকে উদ্ধার নবিরনের লাশটির মুখ, গলা ও বুক পোড়া ছিল। ওই ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনিছুর রহমান বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, ১৫ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে ওই নারীকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছেন।

মামলার তদন্ত তদারকের সঙ্গে যুক্ত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আঙুলের ছাপ মিলিয়েও নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। হত্যাকাণ্ডের তেমন কোনো সূত্র ছিল না পুলিশের কাছে।

তদন্তের এক পর্যায়ে স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক পুলিশকে জানান, গত মে দিবসের দিন এক নারীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন আবু তালেব। আর পুলিশের করা সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, নিহত নারীর মাথায় ছয় ইঞ্চি গভীর কাটা চিহ্ন রয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ওই নারী বকশীগঞ্জের একটি ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু আবু তালেবকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলের কাছ থেকে আবু তালেবের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পুলিশ অনুসন্ধান করে জানতে পারে, নবিরনের একমাত্র মেয়ে বিলকিস বেগম রাজধানীর খিলগাঁওয়ে থাকেন। তাঁর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পারে, অনেক দিন ধরে তাঁর মা নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে তাঁর মায়ের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছিলেন আবু তালেব। তখন পুলিশের কাছে বিষয়টি অনেকটা পরিষ্কার হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তখন বিলকিসের কাছ থেকে আবু তালেবের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যায় অংশ নেওয়া অপর দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাওয়ায় হত্যার পরিকল্পনা

জিজ্ঞাসাবাদে নবিরনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করে আবু তালেব পুলিশকে বলেন, এ জন্য তিনি ঢাকা থেকে দুজন সন্ত্রাসী ভাড়া করেন। ভাড়া করা দুজনসহ মিলে তাঁরা নবিরনকে ছুরিকাঘাত হত্যা করেন। লাশ যাতে শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর তিনি সাভারে গিয়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। কিন্তু সেটি কাউকে জানাতেন না।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবু তালেব বলেন, ‘আমার স্ত্রী বিলকিসকে নিয়ে যাতে সংসার করতে না পারি, সে জন্য যা যা করার দরকার, সবই শাশুড়ি (নবিরন) করতেন। আর আমার স্ত্রীও তাঁর মায়ের কথা শুনতেন। আমার স্ত্রী আমাকে ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। পরে আমার সন্তানদেরও আমার শাশুড়ি ঢাকায় নিয়ে যান। এতে আমি ক্ষুব্ধ হয়ে অমার শাশুড়িকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিই। আমার শাশুড়িকে মেরে ফেলার জন্য ঢাকায় দু্ই সন্ত্রাসীকে ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া করি।’

আবু তালেব আদালতকে বলেন, ‘গত ১৫ মে আমার শাশুড়ি ঢাকা থেকে জামালপুর আসেন। এই খবর পেয়ে ভাড়া করা দুই সন্ত্রাসীও জামালপুরে আসেন। ওই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমার শাশুড়ি স্থানীয় বাজারে মুঠোফোন কিনতে যাচ্ছিলেন। তখন আমি তাঁকে বলি, চলেন আমি আপনাকে সোজা পথে নিয়ে যাব। এ কথা বলে ভাড়া করা দুই সন্ত্রাসীসহ আমি এবং আমার শাশুড়ি একটি রিকশায় (রিকশাভ্যান) উঠি। কিছু দূর যাওয়ার পর ভ্যান থেকে নেমে পড়ি এবং চালককে ভ্যান নিয়ে চলে যেতে বলি।’

আবু তালেব জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘এরপর তাঁকে (শাশুড়ি) একটি প্লটে নিয়ে যাই। তখন আমরা তাঁকে ঘিরে ধরি। তখন শাশুড়ি বলেন, তাঁর কাছে টাকা ও চেক আছে। এগুলো নিয়ে যেতে অনুরোধ করে বলা হয়, তাঁকে যেন মেরে না ফেলা হয়। তখন দুই সন্ত্রাসী আমার শাশুড়ির গলায় ওড়না লাগিয়ে পেঁচিয়ে ধরেন। এঁদের একজন মাথা, হাত ও পায়ে ছুরিকাঘাত করেন। তাঁরা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। তখন আমার শাশুড়ির মুখ চেপে ধরি আমি।’

আবু তালেব আরও বলেন, ‘এ সময় আমি দুজনকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিই। বাকি টাকা পরে দিতে চাই। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ পাটখেতে নিয়ে আগুন ধরিয়ে আমরা চলে যাই।’

তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নবিরনকে ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বকশীগঞ্জের কামালের বাত্তি তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নবিরনকে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি। এআই দিয়ে তৈরি

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: হিমালয়ান পিংক সল্ট ব্যবসায়ীদের কী হবে

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরের ব্যবসায়ী বিপান কুমার তিন দশক ধরে পাকিস্তান থেকে হিমালয়ান পিংক সল্ট এনে ভারতে বিক্রি করেন। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান সর্বশেষ সংঘাতের পর চরম বিপদে পড়েছেন তিনি।

কারণ, ওই সংঘাতের পর নয়াদিল্লি পাকিস্তান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে—এমনকি তৃতীয় দেশ হয়েও পাকিস্তানি পণ্য আমদানি করা যাবে না।

এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে গুলি করে ২৬ পর্যটককে হত্যার পর সংঘাতে জড়ায় দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। ভারতের অভিযোগ, ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়—পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সর্বশেষ সংঘাতে দুই দেশেই বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

বিপান কুমারের বয়স ৫০ বছর। তিনি পাঞ্জাবের অমৃতসরে বসবাস করেন। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, পাকিস্তানি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে তাঁর ব্যবসা রাতারাতি বন্ধ হয়ে গেছে।

অথচ বিপান সাধারণত প্রতি তিন মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টন পিংক সল্ট বিক্রি করতেন।

বিপান বলেন, ‘লাভের পরিমাণ খুবই কম, কিন্তু প্রচুর পরিমাণে বিক্রির কারণে ব্যবসাটা টিকে ছিল। এখন নিষেধাজ্ঞার ফলে পিংক সল্টের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জানি না কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

হালকা গোলাপি রঙের খনিজ লবণ ‘পিংক সল্ট’ নামে পরিচিত। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই লবণে লৌহের মতো খনিজ উপাদান থাকে, রান্না ছাড়াও ঘর সাজানোর বাতি এবং সৌন্দর্য চর্চায় ব্যাপকভাবে পিংক সল্টের ব্যবহার হয়।

পিংক সল্টের দ্বিতীয় বৃহৎ খনি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত। সবচেয়ে বেশি পিংক সল্ট পাওয়া যায় কানাডার অন্টারিওর সিফটো সল্ট খনি থেকে। পাকিস্তানের খেওড়া লবণ খনিটি লাহোর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে।

এই খনি থেকে অপ্রক্রিয়াজাত লবণ ভারতে যায় এবং সেখানে লবণ প্রক্রিয়াজাত করে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। ভারতে সবচেয়ে বেশি পিংক সল্ট আমদানি হয় পাকিস্তান থেকে।

পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

পেহেলগাম হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুই দেশ একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। চার দিন ধরে সীমান্তে এবং আকাশপথে লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

যুদ্ধ উত্তেজনা হ্রাস পেলেও এর জেরে যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা এখনো অব্যাহত আছে। ভারতের লবণ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ থাকায় তাঁদের ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটেছে, বাজারে লবণের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

অমৃতসরের লবণ ব্যবসায়ী গুরভীন সিং বলেন, মাত্র এক মাস হলো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, এর মধ্যেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। যাঁদের কাছে লবণের মজুত আছে, তাঁরা এখন সেগুলো চড়া দামে বিক্রি করছেন।

লবণ আমদানি করতে না পেরে ভারতীয় আমদানিকারকেরা হায় হায় করলেও পাকিস্তানি রপ্তানিকারকেরা ভিন্ন কথা বলছেন। তাঁরা বলেছেন, পণ্য আমদানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা তাঁদের রপ্তানির বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানের লবণ নিজেদের নামে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে বিক্রি করেন।

করাচিভিত্তিক আরএম সল্টের কর্মকর্তা ফৈজান পাঞ্জওয়ানি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা আমাদের ব্যবসা আরও বিস্তারে সহায়তা করবে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে যে প্রতিযোগিতা, সেটা আর থাকছে না।’

পাকিস্তানের লবণের বড় বাজার ভারত—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই বলে মত এই কর্মকর্তার। তবে পাকিস্তান থেকে ভারতে অপ্রক্রিয়াজাত লবণ রপ্তানি হয়।

ফৈজান বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ভারত একটি বড় বাজার এবং এখানে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমরা লবণ অপ্রক্রিয়াজাত অবস্থায় নয়, বরং মূল্য সংযোজন করে রপ্তানি করতে চাই। বিশ্বব্যাপী আগে থেকেই আমাদের লবণের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’

২০১৯ সালে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কমে গেছে। পুলওয়ামায় ওই হামলায় ৪০ সেনা নিহত হন।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত ৪৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি করেছে—একই সময়ে পাকিস্তান থেকে আমদানি করেছে মাত্র ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের পণ্য।

২০২৪ সালে ভারত প্রায় ৬৪২ মেট্রিক টন পিংক সল্ট আমদানি করেছে। ২০১৮ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন—উচ্চ শুল্কের কারণে ২০১৯ সাল থেকে ভারতে পাকিস্তানের পণ্য আমদানি অনেক কমে গেছে।

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: হিমালয়ান পিংক সল্ট ব্যবসায়ীদের কী হবে

কেন বন্যপ্রাণী হত্যা করতে চায় কেরালাবাসী

সবুজ বনজঙ্গল ও জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত রাজ্য কেরালা। রাজ্যটিতে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত ক্রমবর্ধমান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে মানুষের প্রাণহানি, আঘাত, ফসল ধ্বংস এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। ফলে রাজ্যটিতে বন্যপ্রাণী হত্যায় বৈধতা দিতে আইন সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (০৯ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের এ সংকট মোকাবিলায় কেরালা সরকার ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন (ডব্লিউএলপিএ) সংশোধনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করছে। এতে মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য হুমকিস্বরূপ কিছু বন্যপ্রাণীকে নিয়ন্ত্রিতভাবে হত্যার আইনি বিধান চালু করার কথা বলা হয়েছে।

কেরালার বন ও বন্যপ্রাণী বিভাগকে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পাওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনে বন্য শুকরের মতো প্রাণী, যারা জননিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য হুমকি, তাদের হত্যার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। মাতৃভূমির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন সচিবকে আইন সচিবের সঙ্গে পরামর্শ করে এই বিষয়ে একটি আইনি প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন কেরালা এই পরিবর্তন চায়? কেরালা ভৌগোলিকভাবে প্রায় ৩০ শতাংশ ভূমি বনাচ্ছাদিত। ফলে মানুষের বসতি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের কাছাকাছি। দ্রুত নগরায়ণ, আবাসস্থলের অবক্ষয়, কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন এবং বন্যপ্রাণীর জনসংখ্যার আঞ্চলিক ওঠানামা মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতকে তীব্র করেছে।

২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে কেরালায় ৯১৯ জনের মৃত্যু এবং ৮ হাজার ৯৬৭ জন আহত হয়েছেন। রাজ্যের ৯৪১টি গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থার মধ্যে ২৭৩টিকে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কেন এই সংঘাত? মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত: হাতি, বাঘ, বন্য শূকর, ম্যাকাক বানর, ময়ূর এবং বাইসনের মতো প্রাণীদের সঙ্গে ঘন ঘন মুখোমুখি হওয়ায় মানুষের প্রাণহানি এবং সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।

ফসলের ক্ষতি: হাতি এবং বন্য শুকরের মতো প্রাণীরা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে, যা কৃষকদের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে।

জননিরাপত্তার উদ্বেগ: বানর এবং শজারু মতো প্রাণী মানুষের বসতিপ্রধান এলাকায় উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২ কী অনুমতি দেয়? ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মূল ভিত্তি। এ আইনে বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ করে এবং প্রজাতি ও তাদের আবাসস্থলের সংরক্ষণ নিশ্চিত করে। এই আইনে হুমকিস্বরূপ প্রাণীদের মোকাবিলার বিধান রয়েছে, তবে প্রক্রিয়াটি ধীর এবং আমলাতান্ত্রিক।

কেন কেরালা বর্তমান আইনকে অপ্রতুল মনে করে? কেরালার মতে, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের কঠোর নিয়ম এবং কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের সময়োপযোগী সমাধানে বাধা দেয়। প্রধান বন্যপ্রাণী প্রহরীর একচেটিয়া কর্তৃত্ব বাধার সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়ানাডের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করা জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

২০২২ সালে কেরালা স্থানীয় সংস্থাগুলোকে ফসল ধ্বংসকারী বন্য শূকর মারতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শুটার ব্যবহারের ক্ষমতা দেয়। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত শুটারের অভাব এবং অবাস্তব নির্দেশিকা এই ব্যবস্থাকে ব্যর্থ করে।

রাজ্যের বনমন্ত্রী এ কে শশীন্দ্রন বলেন, বন্য শুকর মারার আগে তা গর্ভবতী কিনা পরীক্ষা করতে হবে। এমন অবাস্তব নির্দেশিকা উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের জীবনের জন্য হুমকি রোধে বন্যপ্রাণীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। 

বন্যপ্রাণী। ছবি : সংগৃহীত
বন্যপ্রাণী। ছবি : সংগৃহীত

বেলস পালসি বা ফেশিয়াল পালসি—যে রোগে মুখ বেঁকে যায় by ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী

মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে আসা ৭ নম্বর ক্রেনিয়াল নার্ভের নাম ফেশিয়াল নার্ভ। এটি মুখের পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এই নার্ভ যদি কোনো কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে প্যারালাইসিস হয়ে যায়, তবে তাকে বলে বেলস পালসি। স্কটিশ অ্যানাটমিস্ট চার্লস বেলের নামানুসারে রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে বেলস পালসি।

এই রোগের মূল কারণ আজও অজানা। তবে কিছু কিছু ভাইরাস সংক্রমণ এ জন্য দায়ী বলে প্রমাণ মিলেছে। যেমন হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস ও হার্পিস জোস্টার ভাইরাস। এ ছাড়া সারকোডোসিস, লাইম ডিজিজের কারণেও হতে পারে বেলস পালসি।

এই ভাইরাসগুলো সাধারণত মৌসুমভিত্তিক আক্রমণ করে। শীতের পরে গরম অথবা গরমের পর শীতকালে মানে মৌসুম পরিবর্তনের সময় এসব ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির কাল। দেখা যায়, এই সময়গুলোতেই বেলস পালসি বেশি হয়।

বেলস পালসি দুই ধরনের হতে পারে। দুটো ধরনের কারণও ভিন্ন।

১.    কপাল থেকে শুরু করে থুতনি মানে মুখের গোটা একটা পাশ যদি প্যারালাইসিস বা অবশ হয়ে পড়ে, তবে তাকে বলে লোয়ার মোটর নিউরন টাইপ অব ফেশিয়াল পালসি।

২.    কপালের অংশ বাদে চোখ থেকে নিচের অংশ প্যারালাইসিস হলে সেটাকে বলে আপার মোটর নিউরন টাইপ অব ফেশিয়াল পালসি।

কী হয়

সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষ হঠাৎ সকালে উঠে দেখতে পারেন যে তার মুখ একদিকে বাঁকা হয়ে গেছে। চোখ একটা বন্ধ হচ্ছে, আরেকটা ঠিকমতো হচ্ছে না। কুলি করতে গেলে বা পানি খেতে গেলে পানি একদিকে পড়ে যাচ্ছে।

বেশির ভাগ মানুষ প্রথমেই মনে করেন স্ট্রোক করেছে। বেলস পালসির সঙ্গে স্ট্রোকের পার্থক্য হলো, স্ট্রোকে মুখ ছাড়াও অন্যান্য অঙ্গ আক্রান্ত হয়। কোনো এক দিকের হাত–পাও অবশ হয়ে যায়, কখনো স্ট্রোক আক্রান্ত রোগী অচেতন হয়ে পড়েন বা অসংলগ্ন কথা বলেন। বেলস পালসিতে এসব হয় না, বেলস পালসির প্রধান উপসর্গ মুখের যেকোনো একদিক বাঁকা হয়ে যাওয়া। ডান দিকে বেলস পালসি হলে মুখ বাঁ দিকে এবং বাঁ দিকে হলে ডান দিকে বাঁকা হবে। এক চোখ বন্ধ হলে অন্যটি বন্ধ হবে না। খাবার খেতে গেলে বেলস পালসিতে আক্রান্ত পাশের খাবার আটকে থাকবে। খাবার চিবিয়ে খেতে পারবে না, আটকে যাবে। কুলি করতে গেলে মুখের এক পাশ দিয়ে পানি বের হয়ে যাবে।

কেন হয়

আমাদের ব্রেনের ভেতর নিচ দিকে ব্রেন স্টেম নামের জায়গা থেকে ফেশিয়াল নার্ভের কোষ বা নিউরনের উৎপত্তি। ব্রেন থেকে বেরিয়ে একটি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মুখে এসে পৌঁছায় ফেশিয়াল নার্ভ। এই পথপরিক্রমার নানা স্থানেই আক্রান্ত হতে পারে এই নার্ভ। ফেশিয়াল নার্ভ আক্রান্ত হলে মুখের পেশি আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও কেউ কেউ কানে বেশি শুনতে পায়। মেডিকেলের ভাষায় একে বলে হাইপারঅ্যাকিউসিস। কারণ, ফেশিয়াল নার্ভের সঙ্গে কানের নার্ভের যোগ আছে, তাই ফেশিয়াল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কানের নার্ভও আক্রান্ত হয়। ফেশিয়াল নার্ভের আরেকটি কাজ হলো জিবের কিছু কাজ নিয়ন্ত্রণ। তাই যে পাশের নার্ভ আক্রান্ত হয়, সেই পাশের জিবে স্বাদও একটু কম পাওয়া যায়।

চিকিৎসা

চিকিৎসাপদ্ধতি খুবই সহজ। চিকিৎসার দুটি ভাগ—মেডিকেল চিকিৎসা এবং ফিজিওথেরাপি।

ফেশিয়াল নার্ভের ফোলা ভাব বা প্রদাহ কমাতে স্বল্প মেয়াদে উচ্চমাত্রার প্রদাহরোধী ওষুধ স্টেরয়েড দেওয়া হয়। এতে দ্রুত উপসর্গ কমতে থাকে। অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও ব্যবহার করা হয়। তবে মূল চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি। সঠিক পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি আর সময়মতো স্টেরয়েডের স্বল্পমেয়াদি কোর্সে দুই–তিন সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সেরে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। তরুণেরা অপেক্ষাকৃত দ্রুত সুস্থ হয়। তবে ৯০ শতাংশ পুরোপুরি সুস্থ হলেও ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা থেকে যেতে পারে। যেমন মুখ কিছুটা বাঁকা থেকে যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ফিজিওথেরাপি দিতে পারলে বাঁকাভাবও ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। সঠিক চিকিৎসা পেতে হলে অবশ্যই একজন রোগীকে নিউরোলজিস্টদের কাছে যেতে হবে।

প্রতিকার কী

এই ভাইরাস প্রতিরোধের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো থাকলে ভাইরাস সংক্রমণ কম হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একটু হলেও কমে। বেলস পালসির প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:

১.    ঠান্ডা ও ঠান্ডা বাতাস থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। ঠান্ডা বাতাস বা এসির সরাসরি সংস্পর্শে বেশি সময় থাকবেন না। রাতে ঘুমানোর সময় জানালা খোলা রাখলে ঠান্ডা বাতাসে স্নায়ু আক্রান্ত হতে পারে।

২.    ভাইরাল সংক্রমণ প্রতিরোধ করুন। হার্পিস ভাইরাসসহ (HSV-1) বিভিন্ন ভাইরাস বেলস পালসির সঙ্গে জড়িত। ঠান্ডা, ফ্লু বা অন্য ভাইরাসজনিত অসুস্থতা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

৩.   ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কারণ, এই দুটি শারীরিক সমস্যা থাকলে বেলস পালসির ঝুঁকি বেশি থাকে।

৪.    মুখে বা কানে ইনফেকশন হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নিন। কানের ইনফেকশন অনেক সময় স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করে।

জটিলতা কী

৫ শতাংশ মানুষের বেলস পালসির কিছু জটিলতা হতে পারে। মুখের এক অংশ কিছুটা দুর্বল থাকে। অনেক সময় ফেশিয়াল নার্ভের মূল নিউরন বেলস পালসিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে চোখ আক্রান্ত হয়। খাওয়ার সময় নার্ভের জটিলতার কারণে চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। এই অদ্ভুত সমস্যার নাম ক্রোকোডাইল আই বা কুম্ভীরাশ্রু। কারও কারও ক্ষেত্রে এমনটা ঘটতে পারে।

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতাল, আগারগাঁও, ঢাকা

বেলস পালসির প্রধান উপসর্গ মুখের যেকোনো একদিক বাঁকা হয়ে যাওয়া
বেলস পালসির প্রধান উপসর্গ মুখের যেকোনো একদিক বাঁকা হয়ে যাওয়া। মডেল: আন্জুমান। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরেক সাংবাদিক নিহত, সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২৭

ফিলিস্তিনের গাজায় নিহত সহকর্মীর রক্তাক্ত ভেস্ট নিয়ে সংবাদকর্মীদের আহাজারি
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও এক সাংবাদিক ও তিনজন প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে উপত্যকাটিতে যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত মোট ২২৭ সাংবাদিক নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর।
গাজা নগরে সর্বশেষ নিহত সাংবাদিকের নাম মোয়ামেন মোহাম্মদ আবু আল–আউফ। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তিনি ফটোসাংবাদিকের কাজ করতেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা শুরুর পর থেকে সেখানে এ পর্যন্ত ২২৭ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর।

ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরায়েল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ

ত্রাণবাহী জাহাজ থেকে আটক হওয়া সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ফ্রান্সগামী একটি ফ্লাইটে  ইসরায়েল ছেড়েছেন। আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, গ্রেটা থুনবার্গ ফ্রান্স হয়ে সুইডেনগামী একটি ফ্লাইটে করে ইসরায়েল ছেড়েছেন। ওই পোস্টের সঙ্গে থুনবার্গের দুটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে থুনবার্গকে উড়োজাহাজে উঠতে দেখা গেছে।

২২ বছর বয়সী গ্রেটা থুনবার্গ একজন সুপরিচিত পরিবেশকর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উড়োজাহাজে ভ্রমণ এড়িয়ে চলেছেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে একটি জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য সমুদ্রপথে যাত্রা করার মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন গ্রেটা।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বাহো আজ মঙ্গলবার বলেন, সোমবার ম্যাডলিন নামের জাহাজটি থেকে গ্রেটা থুনবার্গের সঙ্গে আটক হওয়া অন্তত পাঁচজন অধিকারকর্মী স্বেচ্ছায় ইসরায়েল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁদের বিতাড়িত করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘গত রাতে আমাদের কনসাল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে আটক ছয়জন ফরাসি নাগরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হন। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় ইসরায়েল ছাড়তে সম্মত হয়েছেন এবং আজই দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অপর পাঁচজনকে বিতাড়িত করা হবে।’

সোমবার ইসরায়েলে আটক হওয়া ফরাসি নাগরিকদের মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রিমা হাসানও আছেন।

গতকাল সোমবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মুখপাত্র ডেলফিন কলার্ড বলেন, ‘গত কয়েক দিন ও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। ম্যাডলিন জাহাজে থাকা রিমা হাসান ও তাঁর সঙ্গীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ যোগাযোগ রাখেন তিনি।

এর আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, যাঁরা বিতাড়নসংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি হবেন না এবং ইসরায়েল ছাড়তে চাইবেন না, তাঁদের বিতাড়িত করার অনুমতি পেতে বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হবে।

গ্রেটাসহ ১২ জন অধিকারকর্মী গাজা অভিমুখী একটি ত্রাণবাহী জাহাজে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) পরিচালিত জাহাজটি ফিলিস্তিনের গাজার ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ নিয়ে ইতালি থেকে রওনা করেছিল। স্থানীয় সময় গত রোববার মধ্যরাতে গাজা থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটি আটকে দেয় ইসরায়েলের নৌবাহিনী। জাহাজে থাকা অধিকারকর্মীদেরও আটক করা হয়। পরে গ্রেটা থুনবার্গকে ইসরায়েল থেকে বিতাড়িত করতে তেল আবিব বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

‘ম্যাডলিন’ জাহাজে থুনবার্গ ছাড়াও যে ১১ জন অধিকারকর্মী ছিলেন তাঁরা হলেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান, জার্মানির ইয়াসেমিন আচার, ফ্রান্সের ব্যাপতিস্ত আন্দ্রে, ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা, ফ্রান্সের ওমর ফায়াদ, পাস্কাল মৌরিয়েরাস, ইয়ানিস মোহামদি, তুরস্কের সুলাইব ওর্দু, স্পেনের সার্জিও তোরিবিও, নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফন রেনেস ও ফ্রান্সের রিভা ভিয়া।

২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। এমন অবস্থায় অনাহারে ভুগে বেশ কয়েকটি শিশু মারা যায়। ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ‘ম্যাডলিন’ নামের এ জাহাজ ১ জুন ইতালির সিসিলির কাতানিয়া শহর থেকে যাত্রা শুরু করে।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গাজার মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে যেসব সহায়তা দরকার, সেগুলো জাহাজটিতে ছিল। এর মধ্যে আছে চিকিৎসার সরঞ্জাম, ময়দা, চাল, শিশুদের দুধ, ডায়াপার, নারীদের স্যানিটারি পণ্য, পানি বিশুদ্ধকরণ কিট, ক্রাচ ও শিশুদের কৃত্রিম অঙ্গ।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রেটা থুনবার্গের এ দুটি ছবি প্রকাশ করেছে
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রেটা থুনবার্গের এ দুটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবি: রয়টার্স

গাজায় যুদ্ধ শেষ করতে নিজ দেশেই চাপের মুখে নেতানিয়াহু

দিন যতই গড়াচ্ছে চাপের মুখে পড়ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশের অভ্যন্তরে তার পদত্যাগের দাবি প্রকট হচ্ছে। দেশটির বামপন্থী জোট ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন নেতানিয়াহুর সরকার এখন আর বেশির ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা অবিলম্বে গাজা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি বিলও নেতানিয়াহুর সরকার পতনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির বিরোধী দল।

ইসরাইলের বামপন্থী নেতা ইয়ের গোলান সোমবার গাজা যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার এখন আর বেশিরভাগ ইসরাইলিদের প্রতিনিধিত্ব করে না। ইয়ের ইসরাইলের ডেমোক্রেট পার্টির নেতা এবং সাবেক সেনাপ্রধান। সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় তিনি বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গত ২০ মাস যাবৎ গাজায় নেতানিয়াহুর সরকার যে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে তা এখনই বন্ধ করা উচিত। ইসরাইলের সংসদে বামপন্থী জোটের একটি হচ্ছে গোলানের দল। যারা সংসদে ১২০ টি আসনের মধ্যে চারটি আসনের প্রতিনিধিত্ব করছে। পার্লামেন্টে তাদের অবস্থান ছোট হলেও দেশে বৃহৎ জোট গড়ে তুলতে তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ বিষয়টি নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সরকারের কট্টোর দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে। যার মধ্যে হারেদি ধর্মীয় দল শাসও রয়েছে। আইন প্রণেতারা সতর্ক করেছেন যে, এই সপ্তাহে যদি কোনো চুক্তি না হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।
সূত্র: দ্য আরব উইকলি।

mzamin

ইসরায়েলি মন্ত্রী স্মোট্রিচ ও বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য

গাজা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ইসরায়েলের চরমপন্থী দুই মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে তাঁদের কোনো সম্পদ থাকলে, তা জব্দ করা হবে।

ল্যামি বলেন, এই দুই মন্ত্রী ‘ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং উগ্রবাদী সহিংসতা উসকে দিয়েছেন’।

যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার জবাবে ইসরায়েল বলেছে, ‘নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়’।

ইসরায়েলের দুই মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। তাই, দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা এখনই ব্যবস্থা নিয়েছি।’

ল্যামি বলেন, ‘আমরা গাজায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি চাই, হামাসের হাতে থাকা বাকি ইসরায়েলি বন্দীদের দ্রুত মুক্তি চাই। গাজার শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকতে পারবে না। আমরা আরও সহায়তা বৃদ্ধি ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ খুলে দিতে চাই।’

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার হুমকি দিয়ে বলেছেন, আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভা বৈঠক করে এই ‘অগ্রহণযোগ্য’ সিদ্ধান্তের জবাব দেওয়া হবে।

গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার মধ্যে দেশটির নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিল যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের মতো মিত্রদের সঙ্গে আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।’

এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য বলেছে, স্মোট্রিচ ও বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা ‘গাজার ঘটনাবলি থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। সেখানে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে’।

ইসরায়েলের উগ্রবাদী দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (বাঁয়ে) ও বেজালেল স্মোট্রিচ
ইসরায়েলের উগ্রবাদী দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (বাঁয়ে) ও বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি: এএফপি

শিক্ষিকার যৌনতার ক্ষুধা, অতঃপর...

আরও এক বিকৃত রুচির শিক্ষিকার সন্ধান মিলেছে। তিনি শারীরিক ক্ষুধা মেটাতে তারই এক ছাত্রকে শিকারে পরিণত করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের হ্যামিলটন কাউন্টিতে অবস্থিত সেন্ট জাভিয়ার হাই স্কুলে। আজ মঙ্গলবার এ মামলায় রায় দেয়ার কথা বিচারকের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিনসিনাতি। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষিকা আরও শিক্ষার্থীকে যৌনতায় উদ্দীপ্ত করেছেন।

২০২৪ সালের অক্টোবরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই স্কুলের লার্নিং সেন্টারের প্রধান এমিলি নাটলি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এমিলির বয়স ৪২ বছর। তিনি বিবাহিত। সন্তান আছে। এমিলি নাটলি ওই স্কুলের একটি প্রোগ্রামের সমন্বয়ক। এই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষাদানে সহায়তা করে। ওই স্কুলের স্টাফরা এ বিষয়টি সব ক্যাথোলিক হাইস্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে এমিলি সম্পর্কে রিপোর্ট করেন। এসব কথা বলা হয়েছে আদালতে দাখিল করা ডকুমেন্টে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৭ই অক্টোবর ওই বালকের মা শিক্ষার্থী বিষয়ক ডিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে সে সম্পর্কে পিতামাতার কাছে সব বলেছে তার টিনেজ ছেলে। পরের দিন ছিল সোমবার। এদিন ওই টিনেজ বালক স্কুল অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বলেন, এমিলি নাটলি অবাহতভাবে তাকে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠাতেন। নিজের নগ্ন ছবি পাঠাতেন। কমপক্ষে চারবার তাদের মধ্যে সরাসরি শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। ওই সময় এই টিনেজারের বয়স ছিল ১৭ বছর। ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রথম তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে এমিলি নাটলির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু এ কথা শুনে এমিলি আত্মহত্যা করার হুমকি দেন। বালকটি যাতে মুখ বন্ধ করে রাখে এ জন্য তাকে অর্থ দিতেন এমিলি নাটলি। আভ্যন্তরীণ তদন্তের পর ২০২৪ সালের ১১ই অক্টোবর স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, এমিলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর তিন সপ্তাহ পরে বেশ কিছু অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। এ বছর এপ্রিলে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করেন তিনি। আজ ১০ই জুন এমিলি নাটলিকে জেলে পাঠানো হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা হ্যামিলটন কাউন্টি কমন প্লিয়াস বিচারক জেনিফার ব্রাঞ্চ। ওহাইওর আইন অনুযায়ী এমিলি নাটলির ১০ বছরের জেল হতে পারে। তবে সেখানে জেল একেবারে বাধ্যতামূলক নয়।

ওদিকে ৯ই জুন প্রসিকিউটররা স্থানীয় বেশ কিছু মামলার রায়ের বিষয় আদালতের কাছে তুলে ধরেছেন। তাতে স্কুলে নিয়োজিত ব্যক্তিদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে জেলে পাঠানোর নজির তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ক্যালিরিয়ান হাই স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষিকা জুলি হাটজেরোয়েডারকে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে দুই বছরের জেল দেয়া হয়। ২০১৪ সালে ডাটের হাউ স্কুলের একজন স্পেশাল শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক মাউকেল জনসনকে তিন বছরের জেল দেয়া হয়। বাটলার কাউন্টিতে অবস্থিত নিউ মিয়ামি হাই স্কুলের একজন শিক্ষক জাস্টিন ম্যাডেনকে ২০১৫ সালে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং অন্য একজনকে রগরগে ম্যাসেজ দেয়ার অভিযোগে তিন বছরের জেল দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে এমিলি নাটলি মাত্র ১৭ বছর বয়সী একটি ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। এসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাকে জেল দেয়ার আবেদন করা হয়েছে। তার শিকার শিক্ষার্থী, তার পিতামাতা এবং সেন্ট জাভিয়ার হাই স্কুলের কর্মকর্তারা চান এমিলি নাটলিকে ১০ বছরের জেল দেয়া হোক।

mzamin

গাজা নিয়ে গ্রেটা থুনবার্গ কি পশ্চিমের চোখ খুলতে পারবেন by ওয়েন জোনস

একটি পরিস্থিতি কল্পনা করুন: গত সপ্তাহান্তে ব্রিটেন গাজার মানুষের দুর্দশায় এতটাই মর্মাহত হয়েছিল যে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও সংস্থাগুলোকে পাত্তা না দিয়ে তারা নিজেদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে গাজার বন্দরগুলোতে খাদ্য, শিশুখাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে।

না, বাস্তবে এমনটি ঘটেনি; বরং এই কাজ করেছেন কিছু সাহসী ত্রাণকর্মী। তাঁরা ‘ম্যাডলিন’ নামের একটি জাহাজে করে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁদের দলে ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও। তাঁদের লক্ষ্য ছিল গাজার অবরোধ ভেঙে প্রতীকীভাবে সাহায্য পাঠানো এবং সেখানকার ‘অনাহারের সংকট’ সম্পর্কে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

সোমবার ভোররাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করে এই জাহাজে হামলা চালায়। জাহাজের ক্রুদের গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলের একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ত্রাণকর্মীদের আইনজীবীরা ইসরায়েলের এই অভিযানকে ‘অতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে এই দমন-পীড়ন ২০১০ সালের ঘটনার তুলনায় কিছুটা হালকা ছিল। সে বছর ইসরায়েল একটি ত্রাণবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ১০ জন ত্রাণকর্মীকে হত্যা করেছিল।

গত সপ্তাহের ঘটনার পর ইসরায়েল তাদের প্রচারণাযন্ত্র সর্বশক্তিতে চালু করেছে। তারা ‘ম্যাডলিন’ জাহাজকে ‘সেলফি ইয়ট’ বলে উপহাস করেছে। অনেক পশ্চিমা মিডিয়াও ইসরায়েলের এই বক্তব্য তুলে ধরেছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘গাজায় সাহায্য পাঠানোর অন্য উপায় আছে, সেলফি তোলার দরকার নেই।’ অথচ বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলই বারবার সেই উপায়গুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘ম্যাডলিন’ জাহাজের পেছনে থাকা ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ আন্দোলনটি ২০১০ সালেই শুরু হয়েছিল; অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অনেক আগে থেকেই আন্দোলনটি সক্রিয় ছিল।

গাজায় মানুষের চলাচল ও জিনিসপত্রের ওপর ইসরায়েলের অবরোধ প্রায় দুই দশক ধরে চলছে। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের একজন উপদেষ্টা একবার বলেছিলেন, ‘আমরা চাই, ফিলিস্তিনিদের ডায়েটে রাখতে, কিন্তু যেন তারা না মরে, সেদিকেও আমরা খেয়াল রাখছি; অর্থাৎ অনাহারে গণহারে মৃত্যু না ঘটিয়ে গাজাবাসীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষুধার কষ্ট দেওয়াই ইসরায়েলের উদ্দেশ্য।

২০১২ সালে ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ একটি ফাঁস হওয়া সরকারি নথি প্রকাশ করে। সে নথির তথ্য অনুযায়ী, একজন মানুষকে অনাহারে না মেরে তাঁকে কোনোরকম বাঁচিয়ে রাখতে কত ক্যালরি খাবার প্রয়োজন, তা ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হিসাব করে দেখেছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, গাজার জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলা। কিন্তু কাজটি তাঁরা এমনভাবে করতে চান, যাতে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিবাদ না হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের এক বছর আগেই বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছিল, গাজার অর্ধেকের বেশি জনগণ ‘চরম খাদ্যসংকটে’ রয়েছে। গত ২০ মাসে ইসরায়েল এই অবরোধ আরও কঠোর করেছে। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টও (যিনি দীর্ঘদিন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য ছিলেন) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতিকে ‘ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ’ বলে নিন্দা করেছেন।

২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর ইসরায়েলি জেনারেল গাসান আলিয়ান (যিনি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন) ঘোষণা করেন, ‘গাজার নাগরিকদের সমষ্টিগত দোষ রয়েছে। এরা মানুষের চেহারার জানোয়ার। সে অনুযায়ীই তাদের সঙ্গে আচরণ করা হচ্ছে। ইসরায়েল গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ জারি করেছে—বিদ্যুৎ, পানি কিছুই দেওয়া হবে না। তাদের জন্য শুধু ধ্বংস থাকবে। তোমরা জাহান্নাম চেয়েছিলে, তোমরা জাহান্নাম পাবে।’ ইসরায়েলের দিক থেকে গণহত্যা চালানোর সপক্ষে যতগুলো বক্তব্য এসেছে, এটি ছিল তার একটি।

পশ্চিমা দেশগুলো এই বিষয়গুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছে। ২০২৪ সালের মার্চে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন একটি চিঠিতে স্বীকার করেন, ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিচ্ছে। তিনি ওই চিঠিতে বলেছিলেন, স্থলপথ সীমিত করে দিয়ে, অতিরিক্ত তল্লাশি চালিয়ে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া জটিল করে তোলার মাধ্যমে ইসরায়েল এই কাজ করছে। ব্রিটিশ-অর্থায়নকৃত ত্রাণ তিন সপ্তাহ ধরে সীমান্তে আটকে ছিল। এরপরও ব্রিটেন ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেনি।

২০২৪ সালে প্রোপাবলিকার একটি রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শীর্ষ মানবিক সংস্থা নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় খাদ্য ও ওষুধের প্রবেশ বন্ধ করেছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এই ঘটনা ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে গেছে।

১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী, গণহত্যার একটি সংজ্ঞা হলো ‘কোনো গোষ্ঠীর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জীবনযাত্রার শর্ত চাপিয়ে দেওয়া, যা তাদের শারীরিক ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।’ গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এই সংজ্ঞার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। ইতিমধ্যে সেখানে ৪৫২ জন ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে; সহায়তাকাজে নিয়োজিত পুলিশ অফিসারদের টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে; কৃষিজমির ৯৫ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রায় সব গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।

ইসরায়েল গাজার প্রধান মানবিক সংস্থা আনরাকে নিষিদ্ধ করেছে এবং এর পরিবর্তে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) তৈরি করেছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ স্বীকার করেছেন, জিএইচএফের লক্ষ্য হলো গাজায় যতটুকু না হলেই নয়, সেই পরিমাণ ত্রাণ দেওয়া, যাতে ‘বিশ্ব যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ না আনে’।

এর আসল উদ্দেশ্য কী? স্মোত্রিচ প্রকাশ্যে বলেছেন, ইসরায়েল গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে বের করে দেবে। এটিই আসলে এর মূল উদ্দেশ্য।

ইসরায়েলি সৈন্যরা ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের গুলি করে হত্যা করছে। এটিকে ব্রিটিশ এমপি কিট ম্যালথাউস ‘একটি শুটিং গ্যালারি, একটি কসাইখানা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

‘ম্যাডলিন’ জাহাজ গাজায় পৌঁছাতে পারেনি, কিন্তু এর ক্রুদের প্রচেষ্টা পশ্চিমা বিশ্বের নাগরিকদের চোখ খুলে দিয়েছে। একদিন তাঁরা নিশ্চয়ই তাঁদের সরকারকে ইসরায়েলকে সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করতে বাধ্য করবে। তখনই ইসরায়েলের পরাজয় নিশ্চিত হবে।

* ওয়েন জোনস দ্য গার্ডিয়ানের কলাম লেখক
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত

ম্যাডলিন জাহাজে ফিলিস্তিনি ‘কেফিয়াহ’ পরে ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে গ্রেটা
ম্যাডলিন জাহাজে ফিলিস্তিনি ‘কেফিয়াহ’ পরে ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে গ্রেটা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্রেম পরিণতি, কুপিয়ে স্বামীকে হত্যা: ক্ষণে ক্ষণে বাঁক পরিবর্তন

ইন্দোরের নববিবাহিতা যুবতী সোনমের বিরুদ্ধে তার স্বামী রাজা রঘুবংশীকে হানিমুনে নিয়ে মেঘালয়ে হত্যার অভিযোগে তোলপাড় ভারত। এই ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রে রয়েছে সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা। পুলিশ বলছে, এই প্রেমিক ও তিনজন ভাড়াটে খুনির সহায়তায় সোনম তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেন। দিন যত যাচ্ছে, এ ঘটনায় তত চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। মুহূর্তে মুহূর্তে ঘটনা বাঁক পরিবর্তন করছে। বিয়ের মাত্র কয়েকদিন পরেই হানিমুনে গিয়ে এভাবে স্বামীকে হত্যার ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে সব মানুষকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এ মামলায় সোনম, তার প্রেমিক রাজ এবং তিন ভাড়াটে খুনি-  বিকাশ, আনন্দ ও আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুরো ঘটনার সবচেয়ে শিউরে ওঠা অংশ হলো-  রাজ কুশওয়াহাকে দেখা গেছে সোনমের মৃত স্বামী রাজা রঘুবংশীর শেষকৃত্যের সময় সোনমের পিতাকে সান্ত্বনা দিতে।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, সোনমের পিতা দেবী সিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাজ। এ সময় রাজার মরদেহ বাড়িতে নেয়া হয়। রাজার প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সার বোন শ্রষ্টি, যার প্রায় ৪ লাখ অনুসারী রয়েছে ইনস্টাগ্রামে- তিনি এই ঘটনাগুলো নিয়ে ক্রমাগত পোস্ট করে চলেছেন। তিনি ভাইয়ের বিয়ে, হত্যার পরবর্তী তদন্ত এবং সোনমের গ্রেপ্তারের ভিডিও-ছবি পোস্ট করেছেন। একটি ভিডিওর ক্যাপশনে শ্রষ্টি লিখেছেন, রাজ কুশওয়াহা রাজার বাড়িতে, সোনমের পিতার সঙ্গে দেখা গেছে।

রাজার মা উমা রঘুবংশীও জানান, সোনমের বিয়েতে রাজকে উপস্থিত দেখা গিয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি পুত্রবধূর ওপর দোষারোপ করেননি। তবে প্রশ্ন তোলেন- সে কেন ওকে ওখানে (মেঘালয়ে) একা রেখে এল? কেন বাঁচানোর চেষ্টা করল না?

ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় শ্রষ্টি বলেন, আমার ভাই সাত জন্ম একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিল সোনমের সঙ্গে। কিন্তু সাত দিনও কাটাতে পারল না। সে কী অপরাধ করেছিল যে তার এমন পরিণতি হলো? সোনমের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তুমি পালিয়ে যেতে পারতে, যদি কাউকে ভালোবাসতে। খুনের কী দরকার ছিল?

ঘটনার সূত্রপাত ১১ই মে রাজা ও সোনমের বিয়ের মাধ্যমে। ২০ মে তারা হানিমুনে মেঘালয়ে যান। ২৩ মে একটি পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার পথে তারা নিখোঁজ হন। এরপর ২রা জুন রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয় - তার দেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ৮ই জুন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে সোনমের খোঁজ মেলে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার মূল পরিকল্পনাকারী সোনম ও রাজ।

মেঘালয় পুলিশ জানায়, সোনম-রাজ তিনজন ভাড়াটে খুনি ভাড়া করে রাজাকে হত্যা করেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে, শেষকৃত্যে খুনির উপস্থিতি ও মৃতের পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে- প্রেম, প্রতারণা, হত্যাকাণ্ড এবং বিশ্বাসঘাতকতার এক নির্মম চিত্র যেন ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়। এখন সবার দৃষ্টি আদালতের দিকে - কী শাস্তি পায় সোনম ও তার প্রেমিক রাজ, সেটাই দেখার বিষয়।

mzamin

ট্রাম্প-মাস্ক শত্রুতা কত দূর গড়াবে by সালেহ উদ্দিন আহমদ

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের বৈরিতা যেভাবে গত কয়দিনে তির্যক রূপ ধারণ করেছে, তা ভাবতেই অবাক লাগে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যেটিকে ‘ট্রাম্প-মাস্ক কোপ্রেসিডেন্সি’ বলা হচ্ছিল, তা এখন চরম শত্রুতায় রূপ নিয়েছে।

ছোট একটি বিষয় নিয়ে মতানৈক্যের শুরু। ট্রাম্পের নতুন বাজেট (যাকে ট্রাম্প তাঁর স্বভাব সিদ্ধ ভাষায় ‘অতি সুন্দর বাজেট’ বলে অবহিত করেছেন) নিয়ে মাস্ক তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই বাজেট ‘জঘন্য ও ন্যক্কারজনক’।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই ইলন মাস্ককে ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি’ বা সংক্ষেপে ‘ডজ’ (বাংলায় বলা যেতে পারে—‘সরকারি দক্ষতা অর্জন বিভাগ’)-এর দায়িত্ব দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার জন্য মাস্ক যেসব পদক্ষেপ নেন তার মধ্যে ছিল ব্যাপক হারে ফেডারেল কর্মচারী ছাঁটাই এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় কর্মসূচিতে কাটছাঁট। আর এর জন্য মাস্ককে অপ্রীতিকর সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

মাস্ক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে যথেষ্ট রাজনৈতিক কভার বা সহযোগিতা দেননি। তাঁর মতে, ট্রাম্প সরকারের খরচ কমানোর ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন না এবং বিনা কারণে ট্রাম্প তাঁকে কাদায় নামিয়েছিলেন।

মাস্ক মনে করেন, নতুন বাজেটে ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকদের অহেতুক প্রজেক্টকে অন্তর্ভুক্ত করে খরচ বাড়িয়েছেন।

ট্রাম্পের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি’-তে কাজ করতে গিয়ে মাস্ককে অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে। এতে তাঁর অনেক সময় ব্যয় হয়েছে এবং তাঁর টেসলার পরিচালনা কাজে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। তাঁর প্রিয় গাড়ি কোম্পানি টেসলার লাভ গত কয় মাসে বেশ কমেছে।

কোম্পানিটি লভ্যাংশের ৭১ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছে। গত বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ১৩ শতাংশ। টেসলার শেয়ারের দামও দিন দিন কমে যাচ্ছিল। মাস্ক যখন ‘ডজ’ ও ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বিযুক্ত হয়ে টেসলায় ফিরে যান, তখন তিনি ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার ওপর বাজেটে খরচের বাড়াবাড়ি মাস্ককে আরও ক্রুদ্ধ করে।

মাস্ক ট্রাম্প সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি একজন অকৃতজ্ঞ লোক’। মাস্কের এই ধারণার কারণও রয়েছে। ২০২২ সালে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেন, তখন তাঁর চার পাশটায় কোনো বিশ্বস্ত নামকরা রাজনীতিবিদ বা বড় আর্থিক সাহায্যকারী কেউ ছিল না।

ট্রাম্পের বিষয়ে ধরে নেওয়া হয়েছিল ‘বুড়ো ঘোড়া’ যাঁর হোয়াইট হাউসে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। রিপাবলিকান পার্টির নেতারা তাঁকে এড়িয়ে চলছিলেন; সিলিকন ভ্যালির পয়সাওয়ালারা তাঁকে পাত্তা দিচ্ছিলেন না।

সে সময় পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী লোক ইলন মাস্ক এগিয়ে আসেন ট্রাম্পের সাহায্যে। তিনি আমেরিকা বা সারা বিশ্বে ট্রাম্পের চেয়েও কম পরিচিত ছিলেন না। আমেরিকার টেকনোক্র্যাট ও অর্থশালীদের কাছে তাঁর প্রভাব সব সময় ছিল অনেক উঁচুতে।

ট্রাম্পকে মাস্কের সমর্থন দেওয়ার পর অন্যান্য অর্থশালীরাও ট্রাম্পের জন্য তাঁদের অর্থের ভান্ডার খুলে দেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে যাঁরা কট্টর ট্রাম্পবিরোধী ছিলেন, তাঁদের বলা হতো ‘নেভার ট্রাম্পি’। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নতুন সংগৃহীত অর্থ ঢেলে ‘নেভার ট্রাম্পিদের’ কয়জনকে রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচনে হারিয়ে দিলেন।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইরাক যুদ্ধখ্যাত প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির মেয়ে লিজ চেনি। অন্যান্য রিপাবলিকান নেতা যাঁরা ট্রাম্পকে এড়িয়ে চলতেন, তাঁরা ভয় পেয়ে ট্রাম্পের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলন মাস্ক ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা। তিনি নিজে দিয়েছিলেন ২৯১.৫ মিলিয়ন ডলার। অন্য অনেকে মাস্কের প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসেন ট্রাম্পকে সাহায্য করতে।

প্রকৃতপক্ষে ইলন মাস্কই ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার নির্বাচনী ইঞ্জিন চালু করেছিলেন এবং তাঁর ‘কো-পাইলট’ ছিলেন। তাই মাস্ক যখন বলেন ‘অকৃতজ্ঞ’, তখন বোঝা যায়, তাঁর মধ্যে অনেক ক্ষোভ ও ব্যথা রয়েছে।

এক এক্স বার্তায় মাস্ক লিখেছেন, ‘আমাকে ছাড়া ট্রাম্প ২০২৪ নির্বাচনে হেরে যেতেন, এবং হাউস ও সিনেটেও রিপাবলিকানরা জয় পেতেন না।’ তাঁর এই কথায় সত্যতা আছে।

এক সাংবাদিক মাস্ককে প্রশ্ন করেছিলেন, ট্রাম্পকে কি ‘ইমপিচ’ করে ‘শাস্তি দিয়ে প্রেসিডেন্সি থেকে বাদ’ দেওয়া উচিত? ইলন মাস্কের উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ’।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আর ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন না। তিনি হুমকি দিয়েছেন, মাস্কের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে মার্কিন সরকারের সব চুক্তি তিনি বাতিল করে দেবেন। মাস্কের কোম্পানি ‘স্পেস এক্স’ পেন্টাগন ও নাসার বড় বড় প্রজেক্টগুলোর সঙ্গে জড়িত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন স্টার এক্সের এই সব চুক্তি বাতিল করা নাসা ও পেন্টাগনের পক্ষে অনেকটা অসম্ভব। কারণ মাস্কের বিভিন্ন টেকনোলজি এই দুই সংস্থার চালিকাশক্তি।

উদাহরণ স্বরূপ, পেন্টাগন স্টারলিংকের উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত ডেটা বা তথ্য দিয়ে তাদের প্রতিরক্ষানীতি ও যুদ্ধজাহাজ অবস্থান পরিচালনা করে থেকে।

আরেকটা উদাহরণ, নাসাকে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট সরবরাহ করে একমাত্র ‘স্পেস এক্স’। ইলন মাস্কও জানেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনেক সংস্থা তার টেকনোলজি ছাড়া অচল। তাই তিনি ট্রাম্পের হুমকির মুখে বলেছেন, ‘তাঁর যা খুশি তাঁকে করতে দিন।’

যাঁরা ভাববেন, ট্রাম্প-মাস্কের এই দ্বন্দ্বে পুরা রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্পের পক্ষে, তাঁরা ভুল করবেন। তাঁর অর্থনৈতিক রক্ষণশীল চিন্তাধারা ও নিপুণ কর্মদক্ষতার জন্য রিপাবলিকান দলে ইলন মাস্কের বিপুলসংখ্যক গুনগ্রাহী রয়েছেন। তাঁরা এখনো বুঝতে চেষ্টা করছেন, কেন এমন হলো এবং আর এর শেষ কোথায়?

রুপার্ট মারডকের ‘ফক্স নিউজ চ্যানেল’ হলো রিপাবলিকানদের অতি প্রিয় সংবাদ চ্যানেল। গত কয়দিন ধরে তাদের নামকরা পণ্ডিতেরাও বুঝতে পারছেন না, কীভাবে ট্রাম্প ও মাস্কের দ্বন্দ্ব তাঁরা ব্যাখ্যা করবেন তাঁদের দর্শকদের কাছে; কারণ এদের দুজনেই সমান প্রিয় তাঁদের কাছে।

তাঁদের প্রাইম টাইম হোস্ট গ্রেগ গার্টফিল্ড বলেছেন, ‘এটাকে মিটিয়ে নাও। নিজেদের ঝগড়াঝাঁটি বাড়িয়ে ট্রাম্পের এই স্বর্ণযুগটা নষ্ট করে দিয়ো না।’ সম্ভবত রিপাবলিকান দলের সব লোকই এইভাবে ভাবছে।

এদিকে ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। নিউজ উইক সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, ইলন মাস্ক এক অনলাইন জরিপ শুরু করেছেন, যেখানে তিনি জনগণের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘এখনই কি সময় একটা নতুন দল বানাবার?’

এই পর্যন্ত যত লোক ভোট দিয়েছে, তার ৮৩.৪% লোক নতুন দল গোড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আগেও তৃতীয় রাজনৈতিক দল গড়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো সফল হয়নি। অবশ্য তখন ইলন মাস্ক ছিলেন না। আর মাস্ক এই পর্যন্ত কোনো প্রজেক্টে হার স্বীকার করেননি। তা ছাড়া ডেমোক্রেটিক পার্টির এখন যে দুরবস্থা, তাতে তারা ট্রাম্পকে কোনো কিছুতেই দমাতে পারছে না।

তাই ডেমোক্র্যাটস যাদের মূল লক্ষ্য ট্রাম্পকে বিরোধিতা করা, তারাও এগিয়ে আসবেন মাস্কের নতুন উদ্যোগের সমর্থনে।

তবে মাস্ক নতুন দল গড়লেও তিনি সেই দল থেকে কোনো দিন প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াতে পারবেন না। কারণ তিনি জন্মগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তবে তিনি কংগ্রেস ও সিনেটের নির্বাচিত সদস্যদের মাধ্যমে অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তা ছাড়া আরও রয়েছে প্রক্সি প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা।

তবে এই সব অনেক দূরের ভাবনা। এখন সবাই উন্মুখ হয়ে চেয়ে আছে, এই দুই ক্ষমতাধরের যুদ্ধ কত দূর গড়াবে।

* সালেহ উদ্দিন আহমদ প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
- ই-মেইল: salehpublic711@gmail.com

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যেটিকে ‘ট্রাম্প-মাস্ক কোপ্রেসিডেন্সি’ বলা হচ্ছিল, তা এখন চরম শত্রুতায় রূপ নিয়েছে
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যেটিকে ‘ট্রাম্প-মাস্ক কোপ্রেসিডেন্সি’ বলা হচ্ছিল, তা এখন চরম শত্রুতায় রূপ নিয়েছে। ছবি: এএফপি

গ্রেটা থুনবার্গ হলেন কম বয়সী রাগী তরুণী: ট্রাম্প

গ্রেটা থুনবার্গকে অদ্ভুত, কম বয়সী ও রাগী বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া ম্যাডলিন জাহাজে করে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর গ্রেটার প্রচেষ্টারও নিন্দা করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি একজন অদ্ভুত মানুষ। তিনি একজন কম বয়সী রাগী তরুণী। এক্সে এক ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তবে আমি জানিনা তিনি আসলেই রাগান্বিত কিনা, বিশ্বাস করা কঠিন। যেখানে দেখা যায়, ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটকের পর সুইডেন সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছেন থুনবার্গ। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ইসরাইলি দখলদার বাহিনী তাকে অপহরণ করেছে। তবে তার এমন অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে তেল আবিব। এদিকে ট্রাম্প বলেছেন,  আমার মনে হয় গ্রেটার রাগ নিয়ন্ত্রণের ক্লাস করা উচিত। এটিই তার জন্য আমার প্রাথমিক পরামর্শ। উল্লেখ্য, ১১ জন সহকর্মীকে নিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশে রওনা দেন গ্রেটা থুনবার্গ। তবে সোমবার ইসরাইলি বাহিনী তাদেরকে আটক করে।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সোমবার ৪০ মিনিটের ফোনালাপ করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইসরাইল অন্য যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। তবে ওই ফোনালাপে থুনবার্গের বিষয়ে আলাপ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু খোলাসা করেননি ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের তিরস্কার করেন থুনবার্গ। ওই ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। তার ওই ভাষণটি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে দেয়া হয় বলে জানা যায়। এদিকে এক পর্যায়ে থুনবার্গকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেছেন, তাকে দেখে একজন হাসিখুশি মেয়ে মনে হয়। তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যত। 

ফ্রান্সগামী বিমানে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ

অবশেষে ফ্রান্সগামী ফ্লাইটে ইসরাইল ছাড়লেন সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে গ্রেটা ও তার সহকর্মীদেরকে আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জঁ নোয়েল বাহো জানিয়েছেন, সোমবার গ্রেটার কমপক্ষে পাঁচজন সহকর্মী স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, গত রাতে আমাদের কনসাল ইসরাইলি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছয় ফরাসি নাগরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে একজন সেচ্ছায় ফিরে আসতে রাজি হয়েছেন। বাকি পাঁচজনকে প্রত্যাবর্তন করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। সোমবার ইসরাইল যে ফরাসি নাগরিকদের আটক করে তাদের মধ্যে একজন হলেন রিমা হাসান। তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য। সোমবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন মুখপাত্র ডেলফাইন কোলার্ড বলেছেন, বিগত কয়েক দিন ও কয়েক ঘণ্টা যাবৎ রিমা হাসানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট।

এর আগে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা নির্বাসন সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানাবে তাদেরকে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হবে এবং তাদের প্রত্যাবর্তন অনুমোদন করা হবে। ম্যাডিলিন হলো ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) নামের সংগঠন গাজায় ইসরাইলের অবরোধ ভাঙ্গা ও গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ম্যাডলিন জাহাজ পাঠায়। এফএফসির তরফে বলা হয়েছে, ইসরাইল বেআইনিভাবে ম্যাডিলিনে আক্রমণ করেছে। এদিকে অধিকারকর্মীদের আটকের নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এক বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যরাতে ম্যাডলিনকে আটকানো এবং অবরুদ্ধ করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। এছাড়া জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। 

mzamin

নির্বাচিত সংসদে সংস্কার নয়, সংস্কারের ভিত্তিতেই নতুন সংসদ দরকার by সারোয়ার তুষার

বিগত কয়েক সপ্তাহের জল্পনাকল্পনার শেষে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঈদুল আজহার আগের সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। দীর্ঘ ভাষণে তিনি নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের বহুল কাঙ্ক্ষিত রোডম্যাপের পাশাপাশি তিনি তাঁর সরকারের গত ১০ মাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর ও করিডর নিয়ে যে অপরাজনীতি ঘটেছে, তার জবাবও তিনি দিয়েছেন।

সংগত কারণেই প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের দিকে সারা দেশের মানুষের নজর ছিল। বিএনপি ও বিএনপিমনা কিছু রাজনৈতিক দল অনেক দিন ধরেই নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়ে আসছে। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে তারা রোডম্যাপে নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করেছে। যদিও ড. ইউনূস বারবার নিশ্চয়তা দিয়েছেন, কোনোভাবেই নির্বাচন আগামী বছরের জুন মাসকে অতিক্রম করবে না, তবু বিএনপির দাবি ছিল ‘সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ’। ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে—এই প্রতিশ্রুতি কেন রোডম্যাপ নয়, বিএনপির তরফে অবশ্য তার বিপক্ষে জোরালো যুক্তি মেলেনি।

অবশেষে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জানালেন, আগামী বছরের এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুনির্দিষ্ট মাস ঘোষণার পরও অবশ্য বিএনপিকে সন্তুষ্ট করা যায়নি। তারা এ বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন দাবি করে এসেছে। একটা মাসের ব্যাপারে অনড় থেকে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করার কী অর্থ, তা অবশ্য স্পষ্ট হয়নি।

যা হোক, এত দিন বিএনপি নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়ে এলেও প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক নির্বাচনের মাস ঘোষণার পর তারা এখন বলছে, এপ্রিলে নির্বাচনের মাস ঘোষণা নাকি ‘জাতির প্রত্যাশা’ পূরণ করতে পারেনি।

নির্বাচন ডিসেম্বর নাকি এপ্রিলে হবে—এই ডামাডোলে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক রীতিমতো তলিয়ে গেছে। টক শোগুলোতে এত দিন আলোচনা হতো নির্বাচনকে ঘিরে ‘অনিশ্চয়তা’, ‘টানাপোড়েন’, ‘ষড়যন্ত্র’ ইত্যাদি বিষয়ে।

নির্বাচনের মাস ঘোষণার পর টক শোগুলোতে নির্বাচনের মাস হিসেবে এপ্রিলের সঠিকতা-বেঠিকতাই প্রাধান্য পাচ্ছে। অথচ প্রধান উপদেষ্টা যে তাঁর সরকারের গত ১০ মাসের কাজের ফিরিস্তি দিলেন, সে বিষয়ে মিডিয়ায় পিনপতন নীরবতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষত গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে নেট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এই জরুরি অর্থনৈতিক তথ্যও মূলধারার মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারেনি। অথচ বারবার বলা হচ্ছিল, দেশে ‘অনির্বাচিত’ সরকার থাকলে কোনো বিনিয়োগ আসবে না।

বর্তমান নিবন্ধে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করব। সেটিও নির্বাচনের মাসকেন্দ্রিক অর্থহীন আলোচনার তলে চাপা পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যের দিক বিবেচনায় বিষয়টি অতিগুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেছেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাই, আপনারা সকল রাজনৈতিক দল এবং আপনাদের এলাকার প্রার্থীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার আদায় করে নেবেন, যেন আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যেসব সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, তা কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া ছাড়াই যেন তাঁরা অনুমোদন করেন।’

প্রধান উপদেষ্টার এ বক্তব্য উদ্বেগজনক। তিনি আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের হাতে সংস্কার অনুমোদনের গুরুদায়িত্ব সোপর্দ করতে যাচ্ছেন, তাঁর বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এতে পুরো সংস্কার উদ্যোগই একধরনের অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে পড়েছে।

অন্তত দুটি কারণে আগামী নির্বাচিত সংসদের হাতে সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া যায় না। প্রথম কারণটি ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাজনিত। দ্বিতীয় কারণটি পদ্ধতিগত। এ ছাড়া যেসব জনগুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সুপারিশে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হবে না, সেসব সংস্কারের পরিণতি কী হবে, সেই প্রশ্নও থেকে যায়। ‘যেসব সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে’—কেবল সেগুলোই যদি আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনে ওঠানো হয়, তাহলে ঐকমত্য হয়নি, অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ সংস্কার জনগণের মতামত ছাড়াই খরচের খাতায় চলে যাচ্ছে।

জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দেয় ঠিকই, কিন্তু জনগণ ও রাজনৈতিক দলের পার্থক্য ভুলে যাওয়া উচিত নয়। ভোট দিয়ে জনগণ প্রতিনিধি পাঠানোর মানে এই নয় যে ‘জনগণ’ ওই সংসদে বিলীন হয়ে গেছে। বরং জনগণ সর্বদাই বিরাজ করে। কারণ, ওই সংসদ যখন স্বৈরাচারী বা একনায়কতান্ত্রিক আচরণ করে, তখন ‘জনগণ’ ধারণার বলেই আবার বিদ্রোহ বা আন্দোলন সংঘটিত হয়। জনগণ সংসদে বিলীন হয়ে গেলে তা আর সম্ভব নয়। দার্শনিক জুডিথ বাটলারের মতে ‘জনগণ’ একটি আইনাতিরিক্ত (এক্সট্রা পার্লামেন্টারি) শক্তি, যাকে ছাড়া আবার সংসদীয় রাজনীতি কল্পনা করা যায় না। কাজেই জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়কে জনগণের প্রতিনিধিত্বে সংকুচিত করা উচিত হবে না।

ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা বলছে, সংসদের হাতে সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিলে তা মূলত সরকারি দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ভিন্ন ভিন্ন তিনটি রাজনৈতিক জোট রাজপথে একই দিনে একই ঘোষণা পাঠ করেছিল। তারা তিন জোটের রূপরেখা হিসেবে পরিচিত ওই ঘোষণা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে সরকারে এসে বিএনপি তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়ন করেনি।

ওই রূপরেখায় নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, মিডিয়া ক্যু ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করা হয়। ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ব্যক্ত করা হয় দৃঢ় সংকল্প। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, নব্বই-পরবর্তী নির্বাচনী অভিযাত্রার প্রথম ধাপে তৎকালীন বিএনপি সরকার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীন নির্বাচনের অঙ্গীকার থেকে সরে আসে।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দলীয় সরকারের অধীন একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসে। কিন্তু আন্দোলনের চাপে দেড় মাসের কম সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনে বাধ্য হয় তারা। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনে জেতে আওয়ামী লীগ।

তিন জোটের রূপরেখায় দেশে ‘স্থায়ী গণতান্ত্রিক ধারা’ ও ‘প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার’ অঙ্গীকারও করা হয়েছিল। কোনো দল বা গোষ্ঠী কর্তৃক অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা দখলের অবসান ঘটিয়ে সাংবিধানিক পন্থায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার হাতবদল ও হস্তান্তর নিশ্চিত করাও আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল। মৌলিক অধিকারবিরোধী কোনো আইন করা যাবে না, এমন অঙ্গীকারও ছিল। গত প্রায় তিন যুগের অভিজ্ঞতা বলছে, ক্ষমতায় গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের করা অঙ্গীকার নিজেরাই ভঙ্গ করেছে।

শুধু তা-ই নয়, অন্যের প্রস্তুত করে দেওয়া সুপারিশও কি রাজনৈতিক দলগুলো বাস্তবায়ন করে? প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার (ডিসেম্বর ১৯৯০—মার্চ ১৯৯১) প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার সাধনের লক্ষ্যে ২৯টি টাস্কফোর্স গঠন করেছিল। টাস্কফোর্সগুলোর উদ্দেশ্য ছিল অর্থনীতি ও প্রশাসন প্রক্রিয়ার নানা রকম সমস্যার সমাধান করা।

বিগত সামরিক স্বৈরাচার আমলে ঘনীভূত হওয়া সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে দেশের আড়াই শতাধিক সেরা পেশাদার প্রতিভাবান ব্যক্তি ২৯টি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব রেখেছিলেন। সাহাবুদ্দীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং টাস্কফোর্স গঠন প্রক্রিয়ার সংগঠক অধ্যাপক রেহমান সোবহান জানাচ্ছেন, ‘টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনগুলো এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল, যেন ১৯৯১ সালের মার্চের নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার ও সংসদে বিরোধী দল উভয়কেই পেশ করা যায়। দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার প্রতিবেদনগুলো সামান্যই কাজে লাগিয়েছিল।’

আরও উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় নীতি ও সংস্কারের প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৬০ জন পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়ে ১৬টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনগুলোকেও তৎকালীন নির্বাচিত সরকার কোনো গুরুত্ব দেয়নি। (রেহমান সোবহান, ১২ নভেম্বর ২০২৪, প্রথম আলো)

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংস্কার সুপারিশ পরবর্তী সংসদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে, তারা যে সেই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

দ্বিতীয় কারণটি পদ্ধতিগত। এ কথা সবাই মানেন, বর্তমান বাহাত্তরের সংবিধানের একব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিকতার বীজ নিহিত। সংগত কারণেই সংবিধান সংস্কার কমিশন আনীত সংস্কার সুপারিশগুলোর মূল লক্ষ্য এই স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামোর নির্মূল এবং স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পত্তন। তথা বিদ্যমান সংবিধানকেই চ্যালেঞ্জ করা বর্তমান সংস্কারের প্রধান এজেন্ডা।

বিদ্যমান সংবিধানের অধীন গঠিত সংসদ দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যদের সমর্থনে ঠিক সেই সংশোধনীগুলোই আনতে পারে, যা বিদ্যমান সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ‘অসাংবিধানিক’ মনে করে এমন যেকোনো সংশোধনী আদালত বাতিল করে দিতে পারে কিংবা পরবর্তী সংসদ একই ধরনের দুই-তৃতীয়াংশের জোরে বাতিল করার সক্ষমতা ধারণ করে। অর্থাৎ সংসদে আনীত সংশোধনী স্থায়ী ও টেকসই নয়।

সংসদে ততটুকুই সংশোধনী আনা যায়, যতটুকু সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। অন্যদিকে জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছা তথা গাঠনিক ক্ষমতার দ্বারা সমর্থিত ও বৈধতাপ্রাপ্ত মৌলিক সংস্কার চাইলেই সংসদ বা বিচার বিভাগ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না। মৌলিক সংস্কারই বরং রাষ্ট্রের উল্লিখিত দুই বিভাগের বৈধতা ও ক্রিয়াশীলতার ভিত্তি হয়।

একদিকে যদি ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকে, অন্যদিকে সরকারি দলের হাতে যদি দুই-তৃতীয়াংশ আসন থাকে (যা আবার মোট প্রদত্ত ভোটের ৪০-৪৫ শতাংশের বেশি নয়); সে ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনীগুলো মূলত দলীয় প্রধানের ইচ্ছা-অনিচ্ছাতেই ঘটে। কারণ, ৭০ অনুচ্ছেদ মোতাবেক দলীয় সংসদ সদস্যরা দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না।

দুই-তৃতীয়াংশ আপনাকে সংবিধানের যেমন খুশি তেমন পরিবর্তনের ক্ষমতা দেয়, ৭০ অনুচ্ছেদ আপনাকে দলের সংসদ সদস্যদের মুখ বন্ধ রাখার ক্ষমতা দেয়। এই দুই ক্ষমতা মিলে এক প্রকাণ্ড সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র কায়েম হয়। এ কারণে সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ যেন কার্যকর না হয় তথা দলীয় সংসদ সদস্যরা যেন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন—বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য সব দল ও সুশীল সমাজ এমন মত রেখেছে।

সরকার এ বছরের জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করতে চায়। সেখানে কী কী সংস্কার হবে, তা লিপিবদ্ধ থাকবে। গণপরিষদ গঠন অথবা গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ ও সম্মত সংবিধান সংস্কারের খসড়া বিল সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সাধারণ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে জনসম্মতি আদায় করে নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্কারবাদী সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নাগরিক কোয়ালিশন। এ পদ্ধতিও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা উচিত।

তিন জোটের রূপরেখার পরিণতি এড়াতে পুনর্লিখিত/সংস্কারকৃত সংবিধানের পরিশিষ্ট হিসেবে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিএনপি সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। যদি তারা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তাহলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়ে পরিণত হবে।

একই ভুল বারবার করলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। এক দলের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ঝুলে থাকতে পারে না। তাই প্রধান উপদেষ্টা বর্ণিত সময়কালের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে ধরে নিয়ে এর আগেই সংস্কার বাস্তবায়ন করে পরবর্তী সংসদ যেন তা মান্য করার আইনি বাধ্যবাধকতা অনুভব করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী সংসদ সংস্কারের বৈধতা দেবে, তা নয়। বরং সংস্কারই হবে আগামী সংসদের বৈধতার ভিত্তি।

* সারোয়ার তুষার যুগ্ম আহ্বায়ক ও কো-অর্ডিনেটর সংস্কার সমন্বয় কমিটি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
*মতামত লেখকের নিজস্ব

নির্বাচিত সংসদে সংস্কার নয়, সংস্কারের ভিত্তিতেই নতুন সংসদ দরকার

আমাদের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো কবে হার্ভার্ডের মতো সাহসী হবে by রউফুল আলম

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অনেক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিলিয়ন ডলার ফেডারেল ফান্ড বন্ধ করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন। ট্রাম্পের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্ট হার্ভার্ডের ফান্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেননি।

ট্রাম্প তাঁর আগের মেয়াদেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন। হার্ভার্ড ও এমআইটি মিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের জুলাই মাসে মামলাও করেছিল। এলিট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে বিভিন্ন বিশ্লেষক বিভিন্নভাবে দেখছেন।

যদিও ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ‘ইহুদিবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অ্যান্টিসেমিটিজম’ বেড়ে গেছে। বস্তুত এ কথা প্রচার করে মানুষের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন। তবে স্কলার সমাজে এই যুক্তি তেমন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো তাদের দেশের প্রেসিডেন্টকে সাধারণত আলাদা করে গুরুত্ব দেয় না; বলা চলে, আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি নেই। প্রেসিডেন্টরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে যান না।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির বেশির ভাগ বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো হলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। হার্ভার্ড, এমআইটি, প্রিন্সটন, স্ট‍্যানফোর্ড, কলোম্বিয়া, ইয়েল, ইউপ‍্যান ইত‍্যাদি সবই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বলতে যা বোঝায়, সেগুলো বস্তুত রাজ‍্য বা স্টেটের প্রতিষ্ঠান।

যেমন ইউনিভার্সিটি অব ক‍্যালিফোর্নিয়া-বার্কলে (ইউসি-বার্কলে), মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি—এমন অনেক প্রতিষ্ঠান। প্রাইভেট হোক কিংবা পাবলিক, বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোয় প্রেসিডেন্ট কিংবা ফেডারেল সরকারের সরাসরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ বা সংস্কৃতি নেই।

ফলে বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত। এমনকি ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো অনেক বেশি স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীন।

একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকলেও ফান্ড বা আর্থিক অনুদান এবং গবেষণানীতিতে প্রভাব রাখে। ফেডারেল সরকারের ফান্ড বা অর্থায়ন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই কমবেশি বরাদ্দ থাকে।

সেই ফান্ড বণ্টন ও প্রদানে ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো ফেডারেল সরকারের ফান্ড ছাড়াও প্রাইভেট ফান্ড, স্টুডেন্টদের টিউশন ফি ও ডোনেশন পেয়ে থাকে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের গবেষণা কার্যক্রম থাকে। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেক টাকা পায়।

তা ছাড়া অনেক ধনী পরিবার থেকে ডোনেশন পায়। পাবলিক বা স্টেট ইউনিভার্সিটিগুলো রাজ‍্য সরকার থেকেও অর্থ পায়। যেমন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এনডোর্মেন্ট বা আর্থিক তহবিল ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। পৃথিবীর যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে তাদের আর্থিক তহবিল বেশি।

সুতরাং ট্রাম্প যে ফান্ড বন্ধ করেছেন, তাতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কার্যক্রম ব‍্যাহত হবে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে না। ট্রাম্প বস্তুত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেল ফান্ড বন্ধ করেছেন, প্রাইভেট ফান্ড বন্ধ করতে পারবেন না।

ট্রাম্প তাহলে কোন ক্ষমতাবলে হার্ভার্ডের ফান্ড বন্ধ করলেন? রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টেরও অনেক প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে। নির্বাহী আদেশ বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে অনেক কিছু করার ক্ষমতা রাখেন।

সেই ক্ষমতাবলেই তিনি এই কাজ করেছেন। হার্ভার্ড প্রশাসনও চুপ করে হাত গুটিয়ে বসে নেই। কারণ, প্রেসিডেন্টের কাজের বিরুদ্ধেও মামলা করার অধিকার এ দেশের প্রতিষ্ঠানের আছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট (উপাচার্য–তুল‍্য) এলেন গার্বার লড়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে ও আইনি লড়াই চলছে।

ট্রাম্প চার বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, কিন্তু হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থাকবে। ট্রাম্প হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ফান্ড বন্ধ করতে পারবেন, কিন্তু সেটা কত দিন টিকবে, সময়ই বলে দেবে।

চলমান আইনি লড়াইয়ে যদি ট্রাম্প জিতেও যান, তাতেও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির উজ্জ্বলতা বাড়বে। চার বছর পর হার্ভার্ড হয়তো আরও প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু এই যে একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথিবীর শক্তিশালী একটি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে লড়তে পারে—এর নামই ব‍্যবস্থাপনা, এর নামই সাহস।

এই ব‍্যবস্থাপনা যেসব সমাজে গড়ে উঠেছে, সেসব সমাজ সহজে ভেঙে পড়ে না। সব দিক দিয়ে ভেঙে পড়ে না। আর একটা প্রতিষ্ঠানের এমন সাহস, স্বতন্ত্রতা অন‍্য প্রতিষ্ঠানকে শক্তি দেয়। অন‍্য প্রতিষ্ঠানকেও স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোর উপাচার্য (অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রেসিডেন্টও বলা হয়) নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রি এই নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। সার্চ কমিটি গঠনের মধ‍্য দিয়ে উপাচার্য পদের জন‍্য আবেদন চাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে সেরা প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন‍্যদিকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোয় রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী, এমনকি দলের অন্য নেতাদেরও প্রত্যক্ষ সুপারিশ থাকে।

এ জন্য একজন উপাচার্য কখনোই সরকারের অনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেতে চান না। কারণ, তাঁর চাকরি হারানোর ভয় থাকে। উপাচার্য যতটা দলীয় হয়ে উঠতে পারেন, চাকরির নিশ্চয়তা তাঁর ততই বেশি থাকে।

আহমদ ছফা ৩০ বছর আগে তাঁর গাভী বিত্তান্ত বইয়ে এমনই উপাচার্যের চরিত্র তুলে ধরেছেন এবং দুর্ভাগ‍্যজনকভাবে সেই চর্চা থেকে, সেই মানের উপাচার্যদের বলয় থেকে দেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো মুক্ত হয়নি আজও।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো দেশের যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে জ্ঞান–গরিমায় ভিন্ন। সেখানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পণ্ডিত, বিশ্লেষক, গবেষক, লেখক, অধ‍্যাপক থাকেন। বিশ্ববিদ‍্যালয়ই যদি ক্রমে সরকারের হুকুমের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে, তাহলে আর অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কি করে মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়াবে?

যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে যায়, সে দেশের অন্য বহু প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই সরকারের অনুগত প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে, উঠতে বাধ্য।

দুর্ভাগ‍্যজনক হলো, আমাদের সরকারগুলো বিশ্ববিদ‍্যালয়কে তাদের হুকুম বা ইচ্ছার বলয়ের মধ্যেই রাখতে চায়। ফলে ইচ্ছা করেই সরকারের পছন্দমতো উপাচার্য, সহ–উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ রাখাই সরকারের মূল লক্ষ‍্য থাকে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় মূলত সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে এবং ক্ষমতা থেকে সরাতে বেশ ভূমিকা রাখে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে যে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটে গেছে, সেই সরকার ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

এ দেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো তাই রাজনৈতিক মাঠে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে যতটা ভূমিকা রেখেছে, জ্ঞান-গবেষণায় ততটাই পিছিয়েছে। এটা আমাদের জন‍্য ঐতিহাসিক এক অভিশাপ বলেই আমি বিবেচনা করি। এবং এই জটিলতা থেকে উত্তরণের চেষ্টা কোনো সরকারই করেনি; বরং নিজেদের দলের ছাত্রদের নগ্নভাবে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে গেছে। দলীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।

শিক্ষক সমিতিগুলো ছিল সরকারের মুখপাত্র। আর ছাত্রসংসদগুলোতে নির্বাচন না দিয়ে দলীয় ছাত্রদের দিয়ে ক‍্যাম্পাস, হল দখল একটা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সবই এখন প্রতিষ্ঠিত চর্চা এবং এই চর্চার মধ‍্যে থেকে আগামীর তরুণেরাও বেরিয়ে আসতে পারছেন না।

সরকারকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা কী আশা করে। কেন্দ্রীয় ক্ষমতার বলয় থেকে মুক্ত হতে না পারলে দেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো কোনো দিনই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠবে না।

ট্রাম্প যখন প্রথম ক্ষমতায় আসেন, আমি তখন ইউনিভার্সিটি অব প‍েনসিলভানিয়াতে (ইউপ‍্যান) পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করছিলাম। তখন ইউপ‍্যানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এমি গুটম‍্যান।

বর্তমানের মতো তখনো ট্রাম্প সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইমিগ্রেশন–বিষয়ক বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করেছিলেন। ইউপ‍্যানের প্রেসিডেন্ট এমি গুটম‍্যান সেসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেন। তাঁর সেসব প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতো। সরকারের বিভিন্ন নিয়মনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা ব‍্যক্ত করতেন।

আমি অবাক হয়ে ভাবতাম, এ দেশের একজন উপাচার্য দেশের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও তার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান! এই সব দেশে যেন বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই একটি রাষ্ট্রতুল‍্য প্রতিষ্ঠান! দেশের ভেতর যেন এক আলাদা দেশ। সরকারের পালাবদলের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক রূপ বদলায় না।

আমাদের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো কি কখনো এমনভাবে গড়ে উঠবে? এতটুকু না হোক অন্তত কাছাকাছি? আমরা চাই, আমাদের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোর মেরুদণ্ড কিছুটা হলেও হার্ভার্ডের মতো হোক। বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো হোক তারুণ‍্যের ও দেশের মানুষের আলোকবর্তিকা।

* রউফুল আলম টেকসই শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক লেখক
- Rauful.alam15@gmail.com

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির আর্থিক তহবিল ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তাই ট্রাম্প যে ফান্ড বন্ধ করেছেন, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কার্যক্রম ব‍্যাহত হবে, তবে তা বন্ধ হয়ে যাবে না।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির আর্থিক তহবিল ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তাই ট্রাম্প যে ফান্ড বন্ধ করেছেন, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কার্যক্রম ব‍্যাহত হবে, তবে তা বন্ধ হয়ে যাবে না। ছবি: সংগৃহীত