Sunday, September 7, 2014

সানি লিওনের সঙ্গে সেক্স রোমান্সের অপেক্ষায় তুষার

শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে তুষার কাপুরের। অনেক দিন ধরেই তিনি চাইছিলেন সানি লিওনের সঙ্গে পর্দাপ্রেমে মেতে উঠতে। এবার ‘মস্তিজাদে’ নামে একটি সেক্স কমেডি ছবিতে সানি লিওনের সঙ্গে রোমান্স করবেন তিনি।
এর আগে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ ছবির একটি আইটেম গানে সানির সঙ্গে পারফর্ম করেছিলেন তুষার। কিন্তু রোমান্সে মেতে ওঠার সুযোগ হয়নি। এবার তা হতে যাচ্ছে। সাংবাদ মাধ্যমে  দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তুষার জানিয়েছেন, এই ছবিতে সানিকে নেয়ার জন্য তিনি বেশি আগ্রহী ছিলেন, এমনকি নিজের বোন ও ছবির প্রযোজক একতা কাপুরের সঙ্গে এ কারণে বেশ মনোমালিন্যও হয়েছিল তার। শেষ পর্যন্ত ভাইয়ের চাওয়াকেই প্রধান্য দেন একতা। উল্লেখ্য, এর আগে ‘ক্যায়া কুল হ্যায় হাম’ ও ‘ক্যায়া সুপার তুল হ্যায় হাম’ ছবির মতো  সেক্স কমেডিতে অভিনয় করেছেন তুষার এবং সেসব ছবিতে তার পারপরমেন্স বেশ প্রশংসিত হয়। এবার দেখা যাক ‘মস্তিজাদে’ ছবিতে সানির সঙ্গে কতোটা রোমান্স জমাতে পারেন তুষার। আর তুষার নিজেও বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন সানি লিওনের সঙ্গে রোমান্সে মেতে ওঠার জন্য।

অর্থনীতি- আমাদের আবাসন খাতের বুদবুদ by ফারুক মঈনউদ্দীন

পাঠকদের স্মরণে থাকার কথা, গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকার গৃহায়ণ খাতের বুদ্বুদ থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা কীভাবে বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। জনগণের ঋণ গ্রহণকে উৎসাহী করার জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে শুরু করলে মানুষের মধ্যে ভোগ ও বিনিয়োগের স্পৃহা বেড়ে যায়। এর প্রতিফলন ঘটে আবাসন ঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা থেকে। ব্যাংকগুলোও সুদের হার কমিয়ে আবাসন ঋণের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করে, ফলে জনগণ অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঘরবাড়ি কিনতে থাকে। কিছু ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এসব ঋণ ডিসকাউন্টে কিনে নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করে ডিবেঞ্চার ও শেয়ারবাজারে ছেড়ে দিতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি হোম লোনের পোর্টফোলিও নগদ বিক্রি হয়ে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে নতুন ঋণ দেওয়ার জন্য আবার তহবিলের সংস্থান হয়ে যায় এবং তারা নিত্যনতুন কায়দায় যোগ্য-অযোগ্য সব ধরনের মানুষকেই হোম লোন বিলাতে থাকে। এর ফল ফলতে খুব বেশি দেরি হয়নি।

২০০৬ সালেই দেখা যায়, হোম লোনগুলো প্রথম কিস্তি থেকেই খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। কারণ, এসব ঋণ অনুমোদনের সময় গ্রহীতার কোনো যোগ্যতা যাচাই করা হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সুদের ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হার, সে কারণে মূল ঋণের মাসিক কিস্তির অঙ্ক বাড়িয়ে দিতে হয় ব্যাংকগুলোকে, অথচ দুর্বল ঋণগ্রহীতারা এই বাড়তি আকারের কিস্তির জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না। এভাবে পরপর ঋণখেলাপের ঘটনা ঘটতে থাকলে ব্যাংকগুলো বন্ধকীকৃত বাড়ি বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করে। ফলে বাড়িঘরের দরপতন ঘটতে থাকে। এর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর দেশে দেশে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোয় পড়তে থাকে শেয়ারের দাম। কারণ, ওয়াল স্ট্রিটের বড় কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে এনে ঘর সামলানোর চেষ্টা করে। মার্কিন অর্থনীতিতে ‘সাব-প্রাইম মর্টগেজ’ নামের এই বালাইটার কারণে সৃষ্ট বিশ্বমন্দা কাটতে বহু সময় লেগেছিল।

সৌভাগ্যবশত বাংলাদেশে ঠিক এ রকম ঘটনা ঘটেনি। এ দেশে এ রকম চৌকস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার নেই এবং এ রকম কোনো আর্থিক পণ্যও নেই, যার মাধ্যমে হাউজিং লোনকে নতুন মোড়কে ছোট ছোট টুকরা করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা যায়। কিন্তু অন্য রকমভাবে হলেও এ দেশের রিয়েল এস্টেট খাতে এ রকমই একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক পুঁজিবাজারের মতোই একধরনের মূল্য বুদ্বুদ সৃষ্টি হয়েছে আমাদের রিয়েল এস্টেট খাতে। এই উপসর্গের একাধিক কারণ চিহ্নিত করা যায়। প্রথম কারণটি ভূ-সম্পত্তির প্রতি আমাদের সহজাত লোভ, মাত্র কয়েক ফুট জায়গার জন্য খুনোখুনির ঘটনাগুলোই তার প্রমাণ। দ্বিতীয়ত, দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো অগণিত আবাসন কোম্পানির উদ্ভব। কোনো ধরনের যোগ্যতাবিবর্জিত এসব ভুঁইফোড় নামসর্বস্ব কোম্পানি কেবল প্রতিষ্ঠিত ডেভেলপারদের কাছে ফ্ল্যাটের বুকিং দিয়ে পরবর্তী সময়ে চড়া দামে বিক্রি করে দিয়ে বাজারে সৃষ্টি করেছে কৃত্রিম মূল্যস্ফীতি। তৃতীয়ত, দেশের সম্ভাব্য সব জায়গায় জমি কিনে বা দখল করে আবাসন প্লট তৈরির নামে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করার হিড়িক। কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো জায়গায় বাহারি নামের আবাসন প্রকল্পের আত্মপ্রকাশ এই দৌরাত্ম্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরগুলোর আশপাশের প্রতি ইঞ্চি খালি জায়গাই আজ ডেভেলপারদের দখলে। এমনকি আবাসন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের ফলে বিভিন্ন নগরের পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে কখনো কখনো আদালতের হস্তক্ষেপও প্রয়োজন পড়ছে। চতুর্থত, আবাসন প্রকল্প তৈরির জন্য পর্যাপ্ত উপযুক্ত জমির অভাবের বিপরীতে অতিরিক্ত চাহিদা। এবং সবশেষে আবাসন প্রকল্প এবং জমি ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য ব্যাংকগুলোর দরাজ হাতে ঋণ বিতরণ।

মূলত ২০০৫-০৬ সাল থেকে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার ও আবাসন খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করতে থাকে। শেয়ারবাজারে উন্মত্ত বিনিয়োগের অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে ২০১০ সালের শেষে শেয়ারবাজারের বদ্বুদ বিস্ফোরিত হয়। শেয়ারবাজারের এমন বিপর্যয়ের আগ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর দ্বিতীয় নির্ভরশীলতা ছিল আবাসন খাতের ওপর। এ সময় (২০০৭) বাংলাদেশ ব্যাংকও নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের আবাসন চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে ৩০০ কোটি টাকা দিয়ে একটা পুনঃ অর্থায়ন তহবিল চালু করে, যা ২০০৯ সালে ৭০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। এই স্কিমের অধীনে একজন গ্রহীতার জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৫ লাখ টাকা ঋণসুবিধা। তবে এই ক্ষুদ্রাঙ্কের ঋণ প্রকল্প বুদ্বুদ তৈরিতে কোনো বড় ভূমিকা রাখেনি। আবাসন ব্যবসার রমরমা অবস্থা এবং এই খাতে ঋণের প্রাচুর্য ওপরে উল্লেখিত কারণগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে সৃষ্টি করে আরেক বুদ্বুদ। অবশ্য আবাসন খাতে এই বিনিয়োগস্ফীতি লক্ষ্য করে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে এক সার্কুলার জারি করে জমিজমা কেনার জন্য সব ধরনের ব্যাংকঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ইতিমধ্যে গৃহায়ণ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিমের অধীনে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়ে গেছে। কেবল জমি কেনার জন্য সরাসরি ব্যাংকঋণ বন্ধ করলেও ধারণা করা যায়, এই খাতে ব্যাংকঋণের টাকার অঘোষিত ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ঋণ বন্ধ হয়নি, তা হওয়া উচিতও নয়। আজ যে বহু বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকের তারকাখেলাপি হয়ে স্ফীত করেছে ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণের ঝুড়ি, তারাও বাণিজ্যিক ও শিল্পঋণের একাংশ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ করেছে স্থাবর সম্পদে।

এসব প্রবণতার কারণে আবাসন খাতের ঘোষিত ঋণের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান সূত্রে পত্রিকার খবরে জানা যায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে দেওয়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১৩ হাজার ৪০০ কোটি, অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ আটকে গেছে বিভিন্ন মেয়াদে। এর মধ্যে আট হাজার ১০০ কোটি টাকা মন্দ, দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা সন্দেহজনক ও তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা নিম্নমান হিসেবে শ্রেণীকৃত। অথচ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মন্দ-শ্রেণিভুক্ত ছিল চার হাজার কোটি টাকা, পরের বছর ছিল পাঁচ হাজার কোটি। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের মাথায় মন্দশ্রেণির ঋণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

আবাসন খাতে বিতরণ করা ঋণের এই প্রবণতা ব্যাংকিং খাতে যোগ করবে সংকটের নতুন মাত্রা। কারণ, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য বন্ধকীকৃত জমি বা আবাসিক ভবন নিলামে তুললেও কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে ব্যর্থ হবে, কারণ জমি ও নির্মাণের উচ্চমূল্য এবং ক্রেতাসাধারণের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় এসবের ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না, ঠিক যেমনটি ঘটেছিল আমেরিকার আবাসন বুদ্বুদের ক্ষেত্রে। রিহ্যাবের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ২২ হাজার তৈরি অ্যাপার্টমেন্ট অবিক্রীত পড়ে আছে। সংগঠনটির দাবি, আশির দশকে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এটাই অবিক্রীত অ্যাপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

এ দেশে কোনো একটা লাভজনক ব্যবসার ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া গেলে মানুষ হিসাব-নিকাশ না করে সেখানে হামলে পড়তে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই ব্যবসার নাভিশ্বাস ওঠে। শুধু আবাসন ব্যবসা নয়, সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার, টেলিভিশন চ্যানেল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়—এ রকম আরও বহু উদাহরণ উপস্থিত করা যাবে, যেখানে নবাগতদের ধাক্কায় মূল ব্যবসা লাটে ওঠার উপক্রম। একই প্রবণতায় মানুষের আবাসন চাহিদার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ও ভুঁইফোড় মিলিয়ে সহস্রাধিক ডেভেলপার কোম্পানি ব্যাংকঋণের সাহায্যে এই খাতে যে সংকট সৃষ্টি করেছে, তার স্বাভাবিক সহজ সমাধান হতে পারত যদি একটা ভালো বাজার, ক্রেতাদের আগ্রহ ও সক্ষমতা থাকত। সেটা অনুপস্থিত বলে দেশের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী এই সংকট উত্তরণের জন্য সরকারের কাছেই সমাধান চাওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের গোড়ায় রিহ্যাব নেতারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে, সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের তৈরি অ্যাপার্টমেন্টগুলো কেনার জন্য এক অঙ্কের সুদে আবাসন ঋণ পায়, তার জন্য তিন হাজার কোটি টাকার একটা তহবিল গঠন এবং আবাসন খাতের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের জন্য কোনো ধরনের ডাউন পেমেন্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার দাবি তুলেছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহায়ণ খাতকে অনুৎপাদনশীল আখ্যায়িত করে এই খাতে ঋণদান নিরুৎসাহিত করেছে বলে রিহ্যাব এই খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণার দাবিও তুলেছে। দাবি আদায়ের জন্য অর্থনীতির সূত্র পাল্টে দেওয়ার এ রকম আবদার একমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভব।

এ সমস্যার একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করা উচিত। তা না হলে এই খাত ব্যাংকিং খাতের জন্য বয়ে আনবে বড় ধরনের সংকট। আর এই সমাধানের জন্য কোন পক্ষ কতখানি ছাড় বা সুবিধা দেবে, সেটাও নির্ধারণ করতে হবে। আবাসন ব্যবসায়ীদের ছাড় দিতে হবে বেশি, কারণ তারা নিজেরাই বেশি মুনাফার লোভে যত্রতত্র বিনিয়োগ করেছে মানুষের প্রকৃত চাহিদা যাচাই না করে। তা ছাড়া সব ব্যবসায় লাভ-লোকসান যেহেতু আছে, কখনো কখনো সেই লোকসানও মেনে নিতে হয়। ব্যাংকগুলোকেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কিছুটা ছাড় দিতে হবে সুদের হারে, তবে তা কখনোই আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে নয়।

ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার৷
fmainuddin@hotmail.com

‘রাজনৈতিক থমথমে পরিস্থিতি বড় ঝড়ের পূর্বাভাস’ -মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম by কাজী সুমন

লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারার জন্য দুই জোট অহেতুক বিতর্কিত বিষয় সামনে আনছে। আসল সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে তারা। রাজনৈতিক এই থমথমে পরিস্থিতি আসন্ন বড় ঝড়ের পূর্বাভাস বলে মন্তব্য করেছেন কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে সঙ্কট অব্যাহত আছে। সেই সঙ্কট হলো অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং নৈতিক। সঙ্কটগুলো হ্রাস না পেয়ে ক্রমাগত গভীর হচ্ছে। দেশের এই থমথমে ভাবটা আসন্ন একটা বড় ঝড়ের পূর্বাভাস বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের মনে রাজনীতি নিয়ে সংশয় এখনও দূর হয়নি। নানা সঙ্কটের আবর্তে দেশ নিমজ্জিত। দেশের অবস্থা হলো- সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দেবো কোথায়। দু-একটি জায়গায় মলম লাগিয়ে ব্যথা নিরসনের চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু সমাজ-দেহে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে সেটা দেশবাসীর জন্য অসহনীয় যন্ত্রণার। আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতারা পরস্পরকে খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করার ব্যাপারে সিপিবি সভাপতি বলেন, এই দুটি দল রাজনীতি ও অর্থনীতির দিক দিয়ে একই গোত্রভুক্ত। তারা রাজনীতির আদর্শ এবং নীতিকে নিচে ঠেলে দিয়ে যেনতেন উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো- দেশকে লুটপাটের ধারায় নিমজ্জিত করে তার বড় ভাগীদার হওয়া। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব হলো লুটপাটের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে। আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বের মূল কারণও একই। তিনি বলেন, দু’দলের নেতারা কিছু বিতর্কিত বিষয় সামনে এনে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করছেন। সেজন্য ইতিহাসের নানা বিষয় নিয়ে অহেতুক বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছেন। একপক্ষ আরেকপক্ষকে বিতর্কে উস্কে দিচ্ছে। তারা দেশের মৌলিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি কি হবে সেই বিষয়ে বিতর্ক করেন না। সেলিম বলেন, বিএনপি এখনও ইতিহাসের মিথ্যাচার করে চলেছে । স্বাধীনতা ও এর পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা দেশের জনগণকে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ইতিহাসকে পরিশুদ্ধ করার নামে যা করছে তাও সঠিক করেনি। সেখানে একতরফাভাবে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রকাশ হচ্ছে। ইতিহাসে কোন সত্যকে অতিরঞ্জিত করে লাভ হবে না। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা সম্পর্কে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সংবিধানে রয়েছে, একটা সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু সরকার সেটি না করে কোন পয়েন্ট দিয়ে খর্ব করা যায় সে চেষ্টা করছে। এর কারণ হলো- ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকারের সমালোচনা যাতে কম হয় সে চেষ্টা করছে তারা। এছাড়া সম্প্রচার নীতিমালা কার্যকর করার জন্য যে কমিশন গঠন করা প্রয়োজন সেটা না করে যখন আগে নীতিমালা করা হয় তখনই মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। গণতন্ত্রকে অগ্রসর না করে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে সরকার। এই গোটা ব্যাপারটা নিয়েই মানুষের মনে ক্ষোভ জন্ম দিয়েছে। বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নেয়ার সরকারের চেষ্টা সম্পর্কে সেলিম বলেন, সরকার বলছে, ’৭২ সালের সংবিধানে ছিল, তাই এটাকে আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। কিন্তু সরকারের কাছে আমি প্রশ্ন করতে চাই- ’৭২ সালের সংবিধানে তো আরও অনেক বিষয় ছিল- সেগুলো আপনারা ফিরিয়ে আনছেন না কেন। ৩৮নং অনুচ্ছেদে ছিল- ‘ধর্মের নাম ব্যবহার কোন রাজনৈতিক দল করা যাবে না।’ সেটা কেন হুবহু ফেরত আনছে না। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে অভিশংসনের কথা বলছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচারক নিয়োগের দায়িত্বটা সর্বত্রভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে- এই ব্যাপারে ’৭২ সালের যে বিধান সেটা নিয়ে সরকার কথা বলছে না। তাই গোটা ব্যাপারে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকে যায়। আরও গুরুতর মৌলিক একটা তর্ক হাজির করেছে সরকার। সেটা হলো- বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগ। রাষ্ট্রের এই তিনটা স্তম্ভ কার চেয়ে কে কর্তৃত্ববান, কার কাছে কে জবাবদিহি করবে- এ ব্যাপারে একটা বিতর্ক সুপ্ত হয়ে আছে। সংবিধানে বলা আছে, জনগণ সব ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু জনগণের সার্বভৌমত্ব কি কারও কাছে হস্তান্তর করা যায়। সুতরাং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তার কাছে এর ক্ষমতা দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। সরকারের কালা-কানুনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার কথা জানিয়ে সিপিবি সভাপতি বলেন, এই ইস্যুগুলো বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করবে সিপিবি। এর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে আরও জোরালো কর্মসূচি পালন করা হবে। বিরোধী জোটের সঙ্গে সিপিবি একত্রে যুগপৎ আন্দোলন করবে কিনা এ ব্যাপারে সেলিম বলেন,  বিএনপি সরকারের বিরোধিতা করে দক্ষিণপন্থি অবস্থান থেকে। আর আমরা বিরোধিতা করি বামপন্থি অবস্থান থেকে। কিন্তু মুক্তবাজার অর্থনীতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বিএনপির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এই দু’দলের নীতি একই। তিনি বলেন, বিএনপি হলো দুই নম্বর বিরোধী দল। তারা গদির বিরোধিতা করে। নীতির বিরোধিতা করে না। আর প্রকৃত বিরোধী দল হলো সিপিবি। আমরা গদিরও বিরোধিতা করি নীতিরও বিরোধিতা করি। আমরা আমাদের বামপন্থি অবস্থান থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করবো। রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে শিগগিরই সংলাপের কোন সম্ভাবনা দেখছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু’পক্ষই দেখবে কোনটা করলে তাদের ক্ষমতায় যাওয়াটা নিশ্চিত হয়। সেখানে কোন নীতিগত অবস্থান তারা অনুসরণ করবে বলে আমার মনে হয় না। তবে সরকার ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বলেছিল- নিয়ম রক্ষার জন্য এই নির্বাচন করা হচ্ছে। ১০ম নয়, একাদশ সংসদ নিয়ে আলোচনা করবো। তখন একটা স্বাভাবিক নির্বাচন হবে। কিন্তু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই কথা থেকে দূরে সরে গেছে। তাই শিগগিরই উভয় জোটের মধ্যে সংলাপের কোন সম্ভাবনা নেই বলে মনে হচ্ছে।

কেন্দ্রের কারণে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি না -সাক্ষাৎকারে মানিক সরকার by সোহরাব হাসান

মানিক সরকার ভারতে পরিচ্ছন্নতম ও দরিদ্রতম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত মানিক সরকার ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ১৯৯৮ সাল থেকে। ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তাঁর স্থাবর সম্পত্তি নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংকে নগদ আছে ১০ হাজার ৮০০ টাকা। পার্টির সিদ্ধান্ত মতে, তিনি তাঁর বেতন-ভাতা দলীয় তহবিলে দান করেন, বিনিময়ে পার্টি তার পরিবার পোষণের জন্য মাসে পাঁচ হাজার রুপি দেয়। গত সপ্তাহে তাঁর সরকারি দপ্তরে প্রথম আলো প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন ভারতের একমাত্র বামপন্থী মুখ্যমন্ত্রী

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান
প্রথম আলো : প্রথমে বিজেপি সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপর ১০ বছর ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। আবার বিজেপি শাসন শুরু হলো। মৌলিক কোনো পার্থক্য লক্ষ করেছেন কি?
মানিক সরকার : নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তার বয়স তিন মাসের কিছু বেশি। কাজেই এখনই সব বিষয়ে চূড়ান্ত উপসংহারে আসা সমীচীন হবে না। কিন্তু শুরুতেই লক্ষ করছি, এরা মূলত একচেটিয়া পুঁজি, দেশি-বিদেশি করপোরেট হাউস, ভূস্বামীদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর। গরিব, বিশেষ করে শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুরসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। কংগ্রেসের শাসনের সঙ্গে বিজেপি শাসনের মৌলিক ফারাক নেই। তবে বিজেপি শাসনের সবচেয়ে বিপদের দিকটি হলো, গত লোকসভা নির্বাচন এবং কেন্দ্রে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পর সারা দেশে ৩০–৩৫টি দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্নাটক প্রভৃতি রাজ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, যাদের মধ্যে মুসলমান, শিখরাও রয়েছেন। আরও বিপজ্জনক দিক হলো, রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান ভারত না বলে হিন্দুস্তান বলেন। তাদের দাবি, হিন্দুস্তানে বসবাসকারী সবাই হবে হিন্দু। তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতার অবশিষ্ট কী থাকল? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বড় ধর্ম, ছোট ধর্ম বলে কিছু নেই। ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার, সেখানে রাষ্ট্রের কিছু বলার নেই। মূলত আরএসএসই বিজেপি সরকারকে পরিচালিত করছে।

প্রথম আলো : বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর ত্রিপুরায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শান্তি বিরাজ করলেও মোদি সরকারের এই ধর্মীয় ভাবনার প্রভাব উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যে পড়ছে কি না?
মানিক সরকার : আসামকে বাদ দিলে অন্যান্য রাজ্যে তেমন পড়েনি। আসামে অভ্যন্তরীণ জটিলতা আছে। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আরএসএসের প্রচারণা কাজ করেছে। ধর্মের ভিত্তিতে মেরুকরণ ঘটেছে। তার ফলও বিজেপি ঘরে তুলে নিয়েছে। আসামে ১৪টি আসনের সাতটিই তারা পেয়েছে। কংগ্রেসের আসন তিন।

প্রথম আলো : ত্রিপুরায় কি বিজেপির উত্থানের সম্ভাবনা আছে?
মানিক সরকার : ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে ত্রিপুরার মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে ত্রিপুরায় যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রাখতে আমরা সচেষ্ট থাকব।

প্রথম আলো : পশ্চিমবঙ্গেও তো বামফ্রন্ট শাসনামলে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় ছিল, সেখানে বিজেপির উত্থান ঘটেছে।
মানিক সরকার : বিজেপি তথা আরএসএস ও বজরং দলের যেসব শাখা ত্রিপুরায় আছে, তাদের কার্যক্রম ও ভাবাদর্শ সম্পর্কে এখনকার মানুষ সজাগ। এটি যদি অব্যাহত রাখা যায় তাদের ধর্মান্ধ ভাবাদর্শ প্রতিহত করা কঠিন হবে না।

প্রথম আলো : উত্তর-পূর্ব ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। মোদি সরকার একজন প্রতিমন্ত্রীকে এ অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছেন। এটি কি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আভাস?
মানিক সরকার : আগের সরকারেও একজন প্রতিমন্ত্রীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেদিক থেকে এটি পরিবর্তন বলে মনে হয় না। তা ছাড়া একজন মন্ত্রী আলাদা করে তো কিছু করতে পারেন না। সবটাই নির্ভর করে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

প্রথম আলো : ২০১১ সালে প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আপনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ও সীমান্ত প্রটোকল বাস্তবায়িত হবে। ২০১৪ সালে এসে দেখি সেটি হয়নি। কারণ কী?
মানিক সরকার : কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার সমস্যা সমাধানে আগ্রহী ছিল। তিস্তার বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের সরকারের কারণে আটকে আছে। বর্তমান সরকারও বলছে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অন্যদিকে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউপিএ সরকার রাজ্যসভায় বিল পেশ করেছিল। তখন বিজেপি এর বিরোধিতা করে। আবার বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরে গিয়ে দুটো সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে অশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ভারতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিরোধী দলে থাকলে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁরা যে অবস্থান নেন, ক্ষমতায় গেলে তা পরিবর্তন করেন। এখন বিজেপি যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে, সেটি সদার্থকই হবে। ত্রিপুরা সরকার চায় দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হোক।

প্রথম আলো : সংসদে যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বলে ইউপিএ যে অজুহাত দেখিয়েছে, এখন তো সে সুযোগ নেই। সংসদে বিজেপির যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে।
মানিক সরকার : তবে সমস্যা একটি আছে। লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকলেও রাজ্যসভায় তারা সংখ্যালঘিষ্ঠ। সে ক্ষেত্রে তারা উচ্চ ও নিম্নকক্ষের যৌথ অধিবেশন করে সীমান্ত বিল পাস করিয়ে নিতে পারে।

প্রথম আলো : পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষতি স্বীকার করেই এ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি তার ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে সরবরাহ করতে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো বিদ্যুৎ পায়নি।
মানিক সরকার : কেন্দ্রীয় সরকারের নেতিবাচক ভূমিকার কারণেই সেটি হয়নি। আমরা তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছি, এই কেন্দ্র থেকে আমরা যে বিদ্যুৎ পাই, তার সবটা কাজে লাগছে না। বলেছি, আমাদের অংশ থেকে বাংলাদেশকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে চাই। কিন্তু আমরা চাইলেই তো দিতে পারি না। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। বাংলাদেশ সহায়তা না করলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হতো না। তা ছাড়া বিদ্যুৎ তো তারা মাগনা চাইছে না। পয়সা দিয়ে কিনে নেবে। তাহলে আমাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কেন তাদের দেব না? সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকেও আমি বিষয়টি তুলেছি, বলেছি, আমরা বিদ্যুৎ দিতে চাই কিন্তু পররাষ্ট্র ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কেন বিরোধিতা করছে? কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিলে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প দূরত্বে বিদ্যুৎ লাইন টানা সম্ভব। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা চাই দ্রুত বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দেওয়া হোক।

প্রথম আলো : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যবৈষম্যের বিষয়টি বহুলালোচিত। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ত্রিপুরায় ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছে, এ জন্য শুল্ক নেওয়া হয়নি।
মানিক সরকার : এই সহায়তার জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আর বাণিজ্যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধাটি দীর্ঘদিনের। আমরা ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলেছি, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করতে হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে। তাদের সঙ্গে পণ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শুল্ক বাধা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন অশুল্ক বাধাগুলো তুলে নেওয়া জরুরি।

প্রথম আলো : ট্রানজিটের বিষয়টি আটকে গেল কেন?
মানিক সরকার : আমরা এখন ট্রানজিট বলছি না, ট্রান্সশিপমেন্ট (বাংলাদেশের ভেতরে বাংলাদেশের যানবাহনেই পণ্য পরিবাহিত হবে) চাইছি। এতে দুই দেশই লাভবান হবে। বাংলাদেশ তো ত্রিপুরার জানালা। আমাদের বের হওয়ার এটাই পথ। ভারতের অনেক দূর থেকে ত্রিপুরায় পণ্য আনতে হয়। সেখানে যদি বাংলাদেশ থেকে পণ্য আনলে সস্তায় পাওয়া যায়, আমরা সেটাই আনব। গুণে-মানেও ভালো।

প্রথম আলো : প্রস্তাবিত আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ কোন অবস্থায় আছে?
মানিক সরকার : আখাউড়া-আগরতলা রেল যোগাযোগের জন্য জরিপ করার কথা। ভারতের অংশে জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো কাজটি শেষ হয়নি। আমরা ভারত সরকারকে বলেছি, দ্রুত টাকা ছাড় করলে আমরা জমি অধিগ্রহণের কাজটি শুরু করতে পারি। আগরতলা-কলকাতা সরাসরি বাস সার্ভিস নেই। এখন ঢাকায় গিয়ে একবার এবং পশ্চিমবঙ্গে গিয়েও আরেকবার বাস পরিবর্তন করতে হয়। আকাশপথেও আমাদের যোগাযোগ স্থাপন করা দরকার। টেলিযোগাযোগও উন্নত করতে হবে।

প্রথম আলো : আপনারা বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কি সেটি সম্ভব?
মানিক সরকার : কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কারণ সন্ত্রাসবাদীদের দৌরাত্ম্য। অন্য কোনো কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি। একসময় বাংলাদেশে ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি ছিল। তারা এখানে অঘটন ঘটিয়ে ওখানে গিয়ে আশ্রয় নিত। সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ করতেই আমরা ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম।

প্রথম আলো : বাংলাদেশ সরকার কি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি?
মানিক সরকার : নিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিচ্ছে। এ জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানাই। সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা পুরো বন্ধ হয়ে গেলে হয়তো কাঁটাতারের বেড়ার প্রয়োজন হবে না।

প্রথম আলো : সন্ত্রাসবাদীদের দমনে শেখ হাসিনার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা কি আপনি যথেষ্ট মনে করেন না?
মানিক সরকার : কিন্তু সমস্যাটি অনেক আগের। বাজপেয়ি সরকারের সময়েই কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রথম আলো : বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত। আবার ত্রিপুরার তিন দিকে বাংলাদেশ। ত্রিপুরাকে কি বাংলাদেশ দ্বারা অবরুদ্ধ মনে করেন?
মানিক সরকার : ভাবনার দিক থেকে নয়। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান তো অস্বীকার করা যাবে না।

প্রথম আলো : ফেনী নদীর পানি সমস্যার সমাধান হলো না কেন?
মানিক সরকার : তিস্তার কারণেই আটকে আছে।

প্রথম আলো : বলা হয়েছিল, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে বাংলাদেশ লাভবান হবে। কিন্তু কয়েক বছর বাড়তির দিকে থাকলেও গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে।
মানিক সরকার : ওটি ছিল বাংলাদেশে ভোটের বছর। ৮৪ দিন ধর্মঘট হয়েছে। শিল্পপতি-ব্যবসায়ীরা পণ্য পাঠাবেন কীভাবে? ব্যবসা, যানবাহন সবই বন্ধ ছিল। রুপির অবনয়নও কিছুটা গতি থামিয়ে দিয়েছে।

প্রথম আলো : ভারতে বামপন্থার ভবিষ্যৎ কী?
মানিক সরকার : কেবল ভারতবর্ষ নয়, সারা পৃথিবীতেই বামপন্থীর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। গত লোকসভা নির্বাচনের ফল দিয়ে বামপন্থার প্রাসঙ্গিকতা বা শক্তি নিরূপণ করা ভুল হবে। ভারতে নতুন সরকার এসেই যে একটার পর একটা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধে প্রথম প্রবল প্রতিবাদ বামপন্থীরাই করেছে। শ্রেণি বিভক্ত সমাজ ও বৃহৎ জাতি ও ভূস্বামীদের স্বার্থের প্রতিভূরা যত দিন দেশ শাসন করবে, তত দিন বৃহত্তর জনগণের সমস্যা-সংকট থাকবেই। অতএব বামপন্থীদের গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না। বামপন্থীরা আছেন, থাকবেন।

অনলাইনে উগ্রপন্থিদের ভয়ঙ্কর প্রচারণা by নুরুজ্জামান লাবু

জিহাদের নামে ইন্টারনেটে ভয়ঙ্কর প্রচারণা চালিয়ে আসছে উগ্রপন্থি ধর্মীয় একাধিক গ্রুপ। কোরআন-হাদিসের নানা রকম ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে তারা  সবাইকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, বোমা তৈরি থেকে শুরু করে অস্ত্র চালনা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার নানা কৌশল বাতলে দিচ্ছে নিজস্ব ব্লগ ও ওয়েব সাইটে। এমনকি টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে সবার চোখ এড়িয়ে কিভাবে হত্যা করা যায় তার বিষদ বিবরণ প্রচারণা করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য মতে, বাংলাদেশে জিহাদ করা ফরজ হয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই জিহাদের নামে যেভাবে ইন্টারনেটে প্রচারণা চলছে তারপর আবার সম্প্রতি আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির ঘোষণায় উগ্রপন্থিরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হতে পারে। এ কারণে এসব প্রচার-প্রচারণা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ইন্টারনেটে এ রকম প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করতে সবসময় নজরদারি করা হয়। ইতিমধ্যে কিছু কিছু ওয়েসাইট ও ব্লগ বিটিআরসি’র সহায়তায় বন্ধও করা হয়েছে। কিন্তু বন্ধ করার কয়েক দিনের মধ্যেই তারা আবার নতুন নামে ওয়েবসাইট খুলে প্রচারণা চালায়। মনিরুল ইসলাম বলেন, আল-কায়েদা ঝিমিয়ে পড়া জঙ্গি কার্যক্রমকে চাঙ্গা করার জন্য নতুন ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশে যেন আল-কায়েদা তাদের কোন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইন্টারনেটে উগ্রপন্থিদের এমন কয়েকটি ব্লগ ও ওয়েবসাইট রয়েছে যাতে প্রতিনিয়ত জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার কথা জানিয়ে নানারকম পোস্ট আপলোড করা হয়। এমনকি এসব ব্লগ ও ওয়েবসাইটে বাংলাদেশে জিহাদ কেন ফরজ হয়ে পড়েছে কোরআন-হাদিসের আলোকে তার নিজস্ব ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বোমা তৈরির কৌশল, ক্ষুদ্রাস্ত্র থেকে ভারি অস্ত্র চালনার কৌশল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ফোন ও কম্পিউটার আইপি ট্র্যাকিং করে ধরা না পড়ার কৌশল বিস্তারিত তুলে দেয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উগ্রপন্থিদের মতে এটিকে তারা প্রাথমিকভাবে অনলাইন জিহাদ নামে প্রচারণা চালাচ্ছে। ইন্টারনেটে খোঁজ করে এমন একটি ওয়েবসাইট পাওয়া গেছে, যেখানে ‘একটি বোমা তৈরি করো তোমার মায়ের রান্নাঘরে’ শিরোনামে বোমা তৈরির কৌশল ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ম্যাচের কাঠির মাথায় থাকা বারুদের সঙ্গে চিনির মিশ্রণে দাহ্যবস্তু তৈরি করে লোহার পাইপের মাধ্যমে কিভাবে বোমা বানানো যায় তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সহজলভ্য উপাদান তৈরি এই বোমা দিয়ে কমপক্ষে দশ মানুষকে সহজেই হত্যা করা সম্ভব। এছাড়া টেবিল ঘড়ি ও ব্যাটারি দিয়ে টাইম বোমা তৈরি ও প্রেসার কুকার দিয়ে বোমা তৈরির বিষয়গুলো চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এভাবে সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে বোমা তৈরির কলা-কৌশল প্রচার করা হলে যে কেউ অতি উৎসাহিত হয়ে নিজেই এসব তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এতে নিজেরও যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি উগ্রপন্থিদের কথা মতো কথিত জিহাদি গ্রুপের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হয়ে যেতে পারে। উগ্রপন্থিদের ব্লগ ও ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা যায়, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র একে-৪৭-এর ব্যবহার, চালনাসহ নানারকম নির্দেশনামূলক পোস্ট দেয়া রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, যারা জিহাদে শামিল হতে আগ্রহী তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে অবশ্যই আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে হবে। জিহাদের প্রশিক্ষণ নামের ওই ফেসবুক পেজে পুলিশের গুলি থেকে বাঁচতে টিনের বা লোহার ঢাল তৈরি করা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহনের চাকা ফুটো করে দেয়ার পদ্ধতি, তীরের মাধ্যমে পেট্রল বোমা ছোড়ার পদ্ধতি, পুলিশের অস্ত্র লুটের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশী জিহাদিদের একটি ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, সেখানে মোবাইল ফোন, রিমোট কন্ট্রোল ও ওয়াকিটকি দিয়ে ডেটোনেটর তৈরির ভিডিও ক্লিপ, বিভিন্ন রাসায়ানিক উপাদান মিশিয়ে কিভাবে সুপার পাওয়ার বিস্ফোরকদ্রব্য তৈরি করা যায় তার ভিডিও ক্লিপ, গ্রেনেড, হাত বোমা, ককটেল তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র তৈরির বর্ণনা ও চিত্রের সাহায্যে পেট্রল বোমা তৈরির পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। শুধু অস্ত্র তৈরির কৌশলই নয়, এসব ব্লগ ও ওয়েবসাইটে শারীরিক প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা ও ভিডিও ক্লিপও তুলে ধরা হয়েছে। অপর একটি ওয়েব সাইট ঘেটে দেখা যায়, সেখানে নীরবে হত্যার কৌশল শিরোনামে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কিভাবে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে সহজেই হত্যা করা যায়, শরীরের ঠিক কোন অংশে আঘাত করতে হবে এবং কিভাবে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়তে হবে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য হওয়ার জন্য হাদিসের আলোকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
উগ্রপন্থিদের একটি ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে নানারকম কৌশলের কথা বলা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মোবাইল ও কম্পিউটারের আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাকিং করে ধরতে পারে উল্লেখ করে কি করলে মোবাইল ব্যবহার করেও এবং কম্পিউটার ব্যবহার করেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেক কম সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ছদ্মবেশে চলাফেরা করতে এবং তথ্য-আদান প্রদানের জন্য নানা রকম পদ্ধতির কথাও বলা হয়েছে এসব ওয়েব সাইটে।

পর্নো ছবিতে অভিনয়ের চাপ স্বামীকে খুন করেছেন তামিল অভিনেত্রী

পর্নো ছবিতে কাজ করতে চাপ দেয়ায় নিজের ব্যবসায়ী স্বামীকে খুন করেছেন এক তামিল অভিনেত্রী। এমনটাই ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। বেশ কিছু তামিল ও কন্নড় ছবিতে কাজ করা শ্রুতি চন্দ্রলেখা নামের ওই অভিনেত্রী ও তার দুই সন্দেহভাজন সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, শ্রুতি আরও দু’জন মিলে খুন করেছেন এস রোনাল্ড পিটার প্রিঞ্জোকে। এরপর তার লাশ আরও ৫ জনের সহযোগিতায় অন্য এক জায়গায় সমাহিত করা হয়। শ্রুতি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, নিজের ব্যবসায় বিশাল আর্থিক ক্ষতি হওয়ায়, প্রিঞ্জো পর্নো ছবি বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সেখানে অভিনয় করার জন্য শ্রুতিকে ক্রমাগত চাপ দেয়। শ্রুতি আরও বলেন, পর্নো দাবিতে গ্রুপ সেক্সে অভিনয় করতে তাকে চাপ দিতে থাকে প্রিঞ্জো। কিন্তু তিনি তা করতে রাজি হননি। তদন্তকারীদের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন, এ কারণে প্রিঞ্জোকে হত্যা করার পরিকল্পনা নেন তিনি। এ হত্যায় প্রিঞ্জোর সাবেক দুই ব্যবসায়িক সহযোগী উমাচন্দ্রন ও প্রিনসনের সহযোগিতাও গ্রহণ করেন শ্রুতি। এ দু’জন মনে করতেন, প্রিঞ্জো তাদের প্রতারিত করেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় শ্রুতির। তার সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গেলে তিনি প্রিঞ্জোকে বিয়ে করেন। ঠিক সে সময় উমাচন্দ্রন ও প্রিনসনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে বিকিকিনির একটি অনলাইন দোকান খোলেন প্রিঞ্জো। কিন্তু সেটি ব্যর্থ হয়। এরপর তার কাছ থেকে নিজেদের লগ্নিকৃত টাকা ফেরত চান উমাচন্দ্রন ও প্রিনসন। কিন্তু প্রিঞ্জো কোন টাকা দিতে অস্বীকার করে বেঙ্গালুরু গিয়ে আরেকটি ব্যবসা খোলেন। তাই তারা প্রিঞ্জোর ওপর প্রতিশোধ নিতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। এরপর থেকে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন তারা দু’জন। বাগে পেয়ে যান প্রিঞ্জোর স্ত্রী শ্রুতিকে। এরপর শ্রুতি তার স্বামীর খাবারে বিষ মেশান। তারপর উমাচন্দ্রন ও প্রিনসনসহ আরও কয়েকজন গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে প্রিঞ্জোকে। হত্যা করার পর লাশ গাড়িতে করে আসিরভাথা নগরে নিয়ে মাটিচাপা দেয়া হয়। নিজেদের মধ্যে ৭৫ লাখ টাকা সমমূল্যের জিনিসপত্র ভাগ-বাটোয়ারাও করে নেয় তারা। ঘটনার ১৫ দিন পর শ্রুতি পুলিশের নিকট নিজের স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে প্রিঞ্জোর ভাই জাস্টিনও স্থানীয় পুলিশের কাছে একই রকম অভিযোগ করেন। জাস্টিন একদিন দেখতে পান, তার ভাই প্রিঞ্জোর গাড়ি ব্যবহার করছে প্রিনসন। প্রিনসন ও প্রিঞ্জোর মধ্যকার বিরোধের কথা জানতেন জাস্টিন। তাই দ্রুত পুলিশকে সতর্ক করে দেন তিনি। পুলিশ প্রিনসন ও তার বন্ধুদের ১০ই মে গ্রেপ্তার করে। ২ দিন পর খোঁজ পাওয়া যায় প্রিঞ্জোর মৃতদেহ। কিছুদিন আগে শ্রুতিকে বেঙ্গালুরু থেকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশের বিশেষ বিভাগ। তবে উমাচন্দ্রন এবং তার সহযোগী এলিসা ও বিনোদ নির্মলকে খুঁজছে পুলিশ।

হাসিনা-আবে বৈঠক -নিরাপত্তা পরিষদে জাপানকে সমর্থন বাংলাদেশের

জাপানকে সমর্থন দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ থেকে বাংলাদেশ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা সফররত জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এ ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল দুপুরে ১৬৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সস্ত্রীক ঢাকায় আসেন বাংলাদেশে উন্নয়ন অংশীদার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। বিমানবন্দরে লাল গালিচায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন তিনি। ফেরার পথে তিনি ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। হোটেল সোনারগাঁওয়ে পৌঁছে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা করেন আবে। বিকালে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখানে শুরুতে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং পরে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার পর যৌথ ঘোষণায় সই করেন হাসিনা-আবে। অংশ নেন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা ও বলিষ্ঠ সমর্থনের প্রেক্ষিতে ২০১৬-১৭ মেয়াদে জাতিসংঘের অস্থায়ী সদস্য পদে জাপানের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন ও বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। জবাবে শিনজো আবে তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের ওই সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি জাপানের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের প্রতি সংহতি ও একাত্মতা জানিয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদ নির্বাচনে জাপানের প্রার্থিতা সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধু জাপানের জন্য নিজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও নিয়েছে। জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি দেশ স্থায়ী সদস্য, যাদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। তারা হলো- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন ও ফ্রান্স। বাকি ১০টি পদে ভোটাভুটি করে সদস্য নির্বাচিত হয়, যার একটি পদে ২০১৬-১৭ মেয়াদে নির্বাচনে কয়েক বছর আগেই প্রার্থিতা ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ২০১১ সালে জাপানও একই গ্রুপ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের আলোচনা চলে। ওই আলোচনার প্রেক্ষিতে জাপান বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয়ার অঙ্গীকার করেন। বাংলাদেশকে আগামী ৪-৫ বছরে ৬০০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে জাপান: বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে জাপানি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে জাপান সরকার। সফরের প্রথম দিনে হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক বক্তৃতায় একথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশন (জেট্রো) ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিল বিনিয়োগ বোর্ড ও এফবিসিসিআই। শিনজো আবে বলেন, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ, সেটাকে জাপান স্বাগত জানায়। বিগ-বি (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন শিনজো আবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মে মাসে জাপান সফর করেন। বিষয়টি উল্লেখ করে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় তিনি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও উন্নত করার আহ্বানও জানান। ঢাকা সফরের প্রথম বক্তৃতায় জাপানকে এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন শিনজো আবে। ১৪ বছর পর জাপানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় আসা আবে তার দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নিজের নীতি তুলে ধরেন। মন্দাক্রান্ত জাপানি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আবে যে নীতি গ্রহণ করেছেন, তা ‘আবেনোমিকস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাপানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আমি আবেনোমিকসের প্রয়োগ ঘটাচ্ছি। এ জন্য জাপানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি আজ বাংলাদেশ সফর করছি। বঙ্গোপসাগরের তীরে বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট-বিগ বি) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অগ্রাধিকারে থাকবে বলে জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘ভাই-বোনের’ সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করে দুই দেশের উন্নয়নে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এক্ষেত্রে নিজের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ব্যবসায়ীদের অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় আবে শেখ হাসিনার টোকিও সফরের চার মাসের মধ্যে নিজের ঢাকা সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, এই বছরটি বাংলাদেশ ও জাপানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হলো।
কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে জাপানি সহায়তার কথা উল্লেখ করেন আবে। বাংলাদেশকে সহযোগিতায় জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয় দেশের পণ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়। জাপানের অবকাঠামো নির্মাণ, গার্মেন্টস, মেডিকেল, খাদ্যপণ্য, নিরাপদ পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করতে যান। এরপর হোটেলে ফিরে সংসদে বিরোধী দলের নেতা ও রাজপথের বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। রাতে সোনারগাঁও হোটেলে শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। আজ সকালে ঢাকা ছাড়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করার কথা রয়েছে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইয়োশিরো মোরির পর আবেই ঢাকায় এলেন। ২০০০ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এসেছিলেন মোরি।
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর জন্য রওশনের ক্রেস্ট: ঢাকা সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেরের সঙ্গে গতকাল বৈঠক করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। রওশনের পক্ষ থেকে জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকটি ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক হয়। বৈঠকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপস্থিত না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে দেয়া ডিনারে ছিলেন। বৈঠক শেষে সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচন নিয়ে শিনজো আবের কোন আলোচনা করেননি। আমরাও আগ্রহ দেখাইনি। আমরা মনে করি দেশে কোন সঙ্কট নেই। তবে গার্মেন্ট, টেক্সটাইল সেক্টরের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের উন্নয়নের জন্য জাপান বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। আশা করি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভাল খবর পাওয়া যাবে। এদিকে জাপা সূত্র জানায়, সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেরের সঙ্গে বৈঠক শুরুর একঘণ্টা আগেই রওশন এরশাদ সোনারগাঁও হোটেলে পৌঁছেন এবং অপেক্ষা করেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সেলিম উদ্দিন এমপি, রওশন আরা মান্নান এমপি, নূরে হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি ও বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ।

বীর শহীদদের প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এদিকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, গতকাল দুপুরে ঢাকা পৌঁছানোর পর সফরসঙ্গীদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। দুপুর আনুমানিক ২টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তিনি। পরে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দুপুর সোয়া ২টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন শিনজো আবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় দর্শনার্থীদের প্রবেশ। এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

সাক্ষাৎকার -বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন বাড়ছে by উৎপল রায়

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেছেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘাতময় রাজনীতির মধ্যেই অবস্থান করছে। এদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা শুধু হতাশাই বাড়াবে। এরা অহিংসার বাণী ছড়িয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হয়। একারণেই দ্বি-দলীয় দুর্বৃত্তায়িত-দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার গণচাহিদা 
ক্রমাগত বাড়ছে। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সমপ্রচার নীতিমালা শাসকের সঙ্গে দেশের জনগণের দূরত্ব বাড়াবে। এছাড়া, বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়া সংসদের হাতে চলে গেলে বিচার বিভাগে রাজনীতিকরণ আরও বাড়বে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম কিভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নে খালেকুজ্জামান বলেন, জনমত ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসা এবং জনকল্যাণ সাধনের প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির দিকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার সনাতন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেছে বলে তারা (সরকার) মনে করেন। তাই ক্ষমতায় এসে জনমত ও জনসমর্থন লাভ করার বিকল্প পদ্ধতির এক বিরল দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছেন। এ কারণে প্রতি মুহূর্তে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি প্রচার করছে সরকার। জনগণের চোখের সামনে উন্নয়ন তৎপরতার চিত্র হাজির রাখার এ অনন্ত প্রয়াস চলছেই। সে জন্য সমপ্রচার, বিচার-আচার, প্রথা-প্রতিষ্ঠান সব কিছুকে তারা তাদের মতো করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে চাইছে। কিন্তু কয়লা ঘষে কালিমা দূর করার এ ব্যর্থ প্রয়াস শাসকদের কতটা ক্ষতি করবে তার পরিমাপ করা গেলেও দেশ ও জনগণের ক্ষতির পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এক্ষেত্রে রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা কতটুকু সফল বলে মনে করেন- এমন প্রশ্নে বাসদের এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা বিএনপির সফলতা, আর বিএনপির ব্যর্থতা আওয়ামী লীগের সফলতা- বিষয়টা এক রকম হলেও একে কাজে লাগাবার দক্ষতা বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের বেশি। বিগত সময়ে (২০১৪) ক্ষমতা দখলের চূড়ান্ত লড়াই-এ বিএনপি হেরে গেছে। বিএনপির ব্যর্থতাকে পুঁজি করে সমগ্র গণআন্দোলনের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে তাদের শাসন-শোষণকে নিরাপদ রাখতে সময় পার করছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি আওয়ামী লীগকে সেই সুযোগ যেমন তৈরি করে দিচ্ছে, তেমনি জনজীবনের সমস্যাকে শক্ত হাতে ধরে জনগণের নিকটবর্তী হওয়ার পথও পরিহার করে চলেছে। অতীতের ভ্রান্ত রণকৌশল, হামলা-মামলা, দলীয় অভ্যন্তরীণ সংহতিতে ঘাটতি ও জনআস্থা কুড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াবার সামর্থ্য বিএনপি অর্জন করতে পারছে না। এ কারণে এখনও সামগ্রিক দুরবস্থা বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি কাটিয়ে উঠতে পারছে না।
সরকারের করা সমপ্রচার নীতিমালা নিয়ে খালেকুজ্জামান বলেন, সমপ্রচার নীতি গণমুখী হতে পারে আবার গণবিরোধীও হতে পারে। নীতিটি জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার সমপ্রসারণের উদ্দেশ্যে যেমন হতে পারে আবার তা সঙ্কুচিত বা খর্ব করার জন্যও হতে পারে। ফলে একটা সমপ্রচার নীতি হচ্ছে বলেই তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যেতে পারে না। কি ধরনের সরকার কোন সময়ে, কি পদ্ধতিতে, কোন উদ্দেশ্যে (গোপন এবং প্রকাশ্য) নীতিমালার রূপরেখা প্রণয়ন করেছে, তা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিগত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন জনগণের সন্তুষ্টি ও অংশগ্রহণে হয়নি। সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যতজন নির্বাচিত প্রতিনিধি দরকার হয় তার চেয়ে বেশি সদস্য বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। ফলে ভোটারদের মধ্যে অতৃপ্তির প্রশ্নবোধক চিহ্ন ক্ষতচিহ্নের মতো অস্বস্তি তৈরি করেছে। যতক্ষণ না জনগণের সন্তুষ্টি ও অংশগ্রহণে আরেকটি নির্বাচন না হচ্ছে এই অতৃপ্তি ঘুচবে না। এই পরিস্থিতিতে সমপ্রচার নীতিমালাতে যেভাবে বিধি-নিষেধের ডালপালা ছড়ানো হয়েছে তা জনগণের সঙ্গে শাসকদের দূরত্ব বাড়াতে সাহায্য করবে।
সমপ্রচার নীতিমালা অপরিহার্য ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে খালেকুজ্জামান বলেন,  রেডিও, টিভি ইত্যাদির লাইসেন্স দলীয় ও স্বার্থ-সুবিধার বিবেচনায় যে ভাবে বিগত দিনে দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে যোগ্যতার একটা মানদণ্ড ও আইনগত ভিত্তি দেয়া দরকার ছিল যা এই নীতিমালাতে নেই। তাছাড়া, আরও সমপ্রচার মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মীবাহিনীর বেতন কাঠামো, চাকরির স্থায়িত্ব ও আইনানুগ সুবিধা, অধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং জীবনের নিরাপত্তা বিধানে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ইত্যাদির কোন উল্লেখ যেখানে নেই সেখানে তা এমনিতেই অর্থহীন হয়ে যায়। ফলে সরকারের দিক থেকে প্রয়োজন দেখা দিলেও জনগণ এবং সমপ্রচার সম্পৃক্ত মহলের কাছে এর কোন প্রয়োজন কিংবা অপরিহার্যতা ছিল না বলা যায়।
বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়া কি বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণ করবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ দলীয় রাজনীতিকরণের শিকার এমনিতেই হয়ে আছে। নিম্ন আদালত প্রত্যক্ষভাবে নির্বাহী কর্তৃত্বের অধীনে। উচ্চ আদালতও পরোক্ষ কর্তৃত্বাধীন। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ১০ বছরের ওকালতি কিংবা ১০ বছরের জজিয়তি ছাড়া যোগ্য বিচারক নিয়োগের কোন মানদণ্ড কিংবা আইন নেই। এর জন্য আলাদা কোন সচিবালয়ও নেই। এখন অভিশংসনের অর্থ দাঁড়াবে, আমরা দলীয় বিবেচনায় বিচারকের নিয়োগ দিচ্ছি ভবিষ্যতে দলীয় বিবেচনায় ছাঁটাই করার ব্যবস্থাপত্র থাকবে।
দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বাইরে বাম বলয় গড়ে তুলতে বামদলগুলো কতটা সক্রিয়- এমন প্রশ্নে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা সক্রিয় অনেকদিন থেকেই। এটা শুভ ইঙ্গিতবহ। বাম গণতান্ত্রিক শক্তি ও গণআন্দোলনের শক্তি বিকাশের সম্ভাবনাকে দৃশ্যমানতায় নিয়ে আসা এখন সময়ের ব্যাপার। তিনি বলেন, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সংলাপ হলে এক চেয়ারে দু’জনের এক সঙ্গে, একই সময়ে বসার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়তো করা যাবে কিন্তু স্থান সংকুলান হবে কিভাবে? সকালের সরকার আর বিকালের  সরকার, এভাবেও তো সরকার গঠন কিংবা চালানো সম্ভব নয়। আর একজনের বিনাশকে যদি আরেক  জনের অস্তিত্বের শর্ত বানিয়ে ফেলি তাহলে সংলাপ আর প্রলাপ সমার্থক হয়ে পড়ে। ক্ষমতা ছাড়বো না আর ক্ষমতায় থাকতে দেবো না- এই মনোভাবের তালগাছ মার্কা সংকল্প না ছাড়া পর্যন্ত কার্যকর সংলাপ বা সংলাপের পরিস্থিতি তৈরি করা কঠিন।
আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমঝোতায় না আসা আগামীদিনের রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তারা আবার পরস্পরের প্রতি দোষারোপের ধুলা উড়িয়ে জনজীবনের সমস্যাকে অদৃশ্য করে রাখবে। উভয় পক্ষের রাজনীতিকে এভাবেই তারা চাঙ্গা করে রাখতে চাইবে। সংঘাতময় পরিস্থিতি পাল্টাতে হলে বিকল্প শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি ও গণজোয়ারের প্লাবন সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের দৃষ্টিকে এখন সেদিকে নিয়ে যেতে হবে।

নওয়াজকে ক্ষমতাচ্যুত করার চাপের নেপথ্যে

সরকারবিরোধী আন্দোলনে পাকিস্তানে উত্তেজনা এখনও বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর ১১ কোর কমান্ডারের মধ্যে ৫ শীর্ষ কর্মকর্তা বেঁকে বসেন। তারা বিশ্বাস করেন, এখনই তাদের হস্তক্ষেপ করা ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতাচ্যুত করার উপযুক্ত সময়। সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এমন এক মন্ত্রী বলেছেন, আগস্টের শেষের দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজধানী ইসলামাবাদ কাঁপছিল। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বাসভবনে প্রবেশের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। সে সময়ে গ্যারিসন শহর বলে পরিচিত রাওয়ালপিন্ডিতে বৈঠকে বসেন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা। সেখানে এই উত্তেজনাকর অবস্থা নিয়ে চার ঘণ্টা গোপন বৈঠক চলে। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও একবার ঝুঁকির মুখে পড়ে। কারণ, সেনাবাহিনী আর একবার ক্ষমতা দখলের বিষয়টি বিবেচনা করতে থাকে। পাকিস্তানে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ার চেয়ে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের ঘটনা বেশি। যখন ওই গোপন বৈঠক থেকে সেনা অভ্যুত্থানের পক্ষে মত দেয়া হলো তখন সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ সিদ্ধান্ত  নেন বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য এটা যথার্থ সময় নয়। এক্ষেত্রে তিনি তীক্ষ্ণদৃষ্টির পরিচয় দিয়ে ঘোষণা করলেন, শক্তি প্রয়োগ নয়, সঙ্কটের সমাধান করতে হবে রাজনৈতিক উপায়ে। এর কিছু পরেই সেনাবাহিনী একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেয়। তাতে বলা হয়, তারা গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মাধ্যমে ধরে নেয়া হয় যে, সামরিক অভ্যুত্থানের হুমকি আপাতত কেটে গেছে। সেনাবাহিনীর ভিতরকার এসব তথ্য যে মন্ত্রী দিয়েছেন তিনি বলেন, সঙ্কট সমাধানের জন্য অধিক কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সেনাবাহিনীর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিলেন কমপক্ষে ৫ জন জেনারেল। তারা বোঝাতে চাইছিলেন, সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ থাকা অথবা চুপ করে থাকার সময় শেষ হয়ে গেছে। মন্ত্রীর দেয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সেনাবাহিনীর দু’সূত্র। সিনিয়র এক নিরাপত্তা বিষয়ক সূত্র বলেছেন, রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপে আগ্রহী নন জেনারেল রাহিল শরিফ। ফলে ট্যাংক নামছে না। সেনাবাহিনী সমঝোতায় বিশ্বাস করে। গোপন ওই বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছে সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা। তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সেনাবাহিনী একটি একক প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাতে একটিই মত- তাহলো তারা গণতন্ত্রকে সমর্থন করে। যদিও নওয়াজ শরিফ সেনাবাহিনীর সমর্থনে ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরির পৃথক দু’টি আন্দোলন থেকে রক্ষা পান তাহলেও তার ভাবমূর্তি হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে পছন্দের বিষয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি। নওয়াজ শরিফের ভাবমূর্তি হ্রাস পাওয়ার ফলে এসব নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্র সেনাবাহিনীর অধিকতর নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। হোঁচট খাওয়া অর্থনীতিও ব্যাপক হারে বিদ্যুতের ঘাটতির মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো ব্যাপক জনরোষের মুখে ফেলে দেবে বেসামরিক শাসনকে। আগস্টে সরকারের ভিতরের একটি সূত্র বলেছেন, নওয়াজ শরিফকে সেনাবাহিনী নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে, তাকে পদত্যাগ করতে বলা হবে না। হবে না কোন সামরিক অভ্যুত্থান। কিন্তু এর বিনিময়ে সেনাবাহিনীর জন্য তাকে ছাড় দিতে হবে। নওয়াজ শরিফ তালেবানদের বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু করেছেন, প্রতিপক্ষ ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক সূচনা করেছেন এবং এ বছরের শেষের দিকে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার করার পর পাকিস্তানের ভূমিকা কি হবে- এসব নিয়ন্ত্রণ করছিলেন নওয়াজ শরিফ। কিন্তু সেনাবাহিনীর সঙ্গে ওই বোঝাপড়ার কারণে এসব ইস্যুতে এখন তাকে কাজ করতে হবে জেনারেলদের সহায়তায়। এ মাসে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজকে সমর্থন করে। এই সমর্থন থাকায় সেনাপ্রধান সতর্ক একটি অবস্থানে রয়েছেন। গত বছর  ক্ষমতায় আসেন নওয়াজ শরিফ। ফলে সেনাবাহিনীতে এখন যে সব কমান্ডার আছেন তাদেরকে নওয়াজ শরিফ সঙ্গে পেয়েছেন তার পূর্বসূরির কাছ থেকে। এসব কমান্ডারই নওয়াজের অবস্থানকে বেশি অনিরাপদ করে তুলেছেন। ওই শীর্ষ ৫ কমান্ডার আগামী মাসে অবসরে যাচ্ছেন। এরপর নওয়াজ শরিফ ওই পদগুলোতে তার পছন্দের লোক বসাতে পারেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছেন, গণ্ডগোলটা সেখানেই। সেনাবাহিনী মনে করতে পারে নওয়াজ শরিফ যাদেরকে নিয়োগ দেবেন তারা বর্তমানদের শতভাগ সমর্থন দেবে না। এতে সেনাবাহিনী শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারবে না যে পুরো টিম সেনাপ্রধানকে সমর্থন করছেন। বর্তমানে যে সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে অথবা আরও ভয়াবহ কিছু ঘটাতে পারেন সেই সেনাপ্রধানকে কল্পনা করা কঠিন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র বলেন, আগামী মাসেই জেনারেল রাহিল শরিফ তার কোর কমান্ডারদের মধ্যে নতুন কমপক্ষে চারজনকে পাচ্ছেন। এমনকি তার মধ্যে থাকবে তার নিজস্ব গোয়েন্দা প্রধান। এবার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যারা এবার সেনাপ্রধানকে চাপ দিচ্ছেন তাদের একজন গোয়েন্দা প্রধান জহিরুল ইসলাম। পাকিস্তান ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির নাম উল্লেখ করে একটি সূত্র বলেছেন, সেনাবাহিনী নয়, নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ দাবিতে ইমরান খানকে সমর্থন দিচ্ছে আইএসআই। তবে এমন অভিযোগের জবাবে আইএসআই’র এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে আইএসআইকে জড়িত করার কথা ভিত্তিহীন। পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ২০১৩ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হন নওয়াজ শরিফ। তিনি যে এমন বিপদে পড়বেন- এমনটা খুব কম মানুষই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন।

পারুল বলেছিল ‘প্রতারক মনিরের শাস্তি চাই’

অভাবী পারুল স্বপ্ন দেখেছিল সুন্দর জীবনের। চেয়েছিল একটু সুখ ও শান্তি। তাই সরল বিশ্বাসে দেহ, মন উজাড় করে দিয়েছিল গৃহকর্তার ছেলে মনিরকে। কিন্তু দিনের পর দিন মনির তাকে অবৈধ সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করেছে। যখনই পারুল বিয়ের জন্য মনিরকে চাপ দেয় তখনই তার আসল রূপ প্রকাশ পেতে থাকে। জানায় এ মুহূর্তে বিয়ে করা সম্ভব নয়। একদিকে প্রেমিকের প্রতারণা ও সম্ভ্রম হারানো। অন্যদিকে লোকলজ্জার ভয়। হতাশ ও অভিমানী পারুল চেষ্টা চালায় আত্মহত্যার। বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় নিজেই নিজের গায়ে কেরোাসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। মুমূর্ষু অবস্থায় পারুলকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। তিন দিন অসহনীয় যন্ত্রণায় সয়ে গতকাল সকালে সেখানেই মারা যায় পারুল। আগুনে পারুলের মুখ, হাত, বুক, পেট ঝলসে যায়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, পারুলের শরীরের ৬০ শতাংশ আগুনে পুড়েছে। পুড়েছে শ্বাসনালী। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে ভর্তির সময় হতভাগী পারুলের পাশে কেউ ছিল না। মৃত্যুর পরেও কেউ আসেনি। লাশের দাবিদারও কেউ নেই। তাই পারুলের লাশ পড়ে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের মর্গে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে লাশের দাবিদার কেউ না থাকলে দু’দিনের মধ্যে তা আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের কলাবাগান ইটাহাটা এলাকার মুন্সীর বাড়িতে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পাইকুড়া গ্রামের জামশেদ মিয়া ও মা রিজিয়া বেগমের কন্যা পারুল আক্তার। পিতামাতা ছিলেন হতদরিদ্র। কয়েক বছর আগে তারা মারা যান। পিতামাতা হারা ছোট্ট পারুলকে তারই সৎ বোন রিনা আক্তার নিয়ে আসে গাজীপুরে। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ দেয় জয়দেবপুরের কলাবাগান ইটাহাটা এলাকার মুন্সীর বাড়ির ব্যবসায়ী মকবুল মিয়ার বাড়িতে। ছোট্ট পারুল বিগত এক দশক ধরে এ বাড়িতেই থাকে। প্রতারক প্রেমিক মনিরের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু এখানেই। গত বুধবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দোতলায় হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে দুই নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন যন্ত্রণায় কাতর পারুল এ প্রতিবেদককে জানায়, ছোটবেলা থেকেই একই বাড়িতে থাকার ফলে মনিরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছর দুয়েক আগে সে মনিরের সঙ্গে ভালবাবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। মনির তাকে আশ্বাস দেয় বিয়ের। বাধ্য করে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে। পারুলও সরল বিশ্বাসে মন প্রাণ দেহ উজাড় করে দেয় মনিরকে। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে পারুল। এলাকায় চলে কানাঘুষা। গাজীপুরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে তার গর্ভপাত করায় সুচতুর মনির। এভাবে আরও অন্তত তিন তিনবার অন্তঃসত্ত্বা হয় পারুল। প্রতিবারই তার গর্ভপাত করায় প্রতারক প্রেমিক মনির। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় পারুলের। বিয়ের জন্য চাপ দেয় মনিরকে। কিন্তু কিছুদিন ধরেই বদলে যেতে থাকে মনির। সম্পর্ক অস্বীকার করে বিয়ে করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। প্রেমিকের প্রতারণায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া পারুল গত মঙ্গলবার মনিরকে শেষবারের মতো বিয়ের জন্য চাপ দিলে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। মনির তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে পারুল বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। নিজের গায়ে নিজেই কেরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার চিৎকারে আশপাশের অনেকেই এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে ওই দিন মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ন ইউনিটে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় মনিরের স্বজনরা। পারুল জানায়, মনিরের আশ্বাসে সরল বিশ্বাসে সে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। কিন্তু তার প্রতারণায় দু’চোখে অন্ধকার দেখি। মৃত্যু ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। একদিকে নিজের সম্ভ্রম হারিয়েছি অন্যদিকে লোকলজ্জা তাই মৃত্যুকেই আমি শ্রেয় মনে করেছি। এজন্যই এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যন্ত্রণাক্লিষ্ট কণ্ঠে পারুল বলেছিল, আমি বাঁচতে চাই। বেঁচে থেকে প্রতারক মনিরের বিচার দেখতে চাই। লম্পট মনিরের যেন শাস্তি হয়। কিন্তু সকল যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে পারুল চলে গেছে না ফেরার দেশে।

‘আবে অর্থনীতি’ কাজ করছে কি? by কোইচি হামাদা

জাপান সরকার গত এপ্রিলে ভোক্তা কর ৫ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করেছে, ব্যাপারটা বহুপ্রতীক্ষিত ছিল। ২০১৫ সালের মধ্যে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে, ফলে এটা এই কর বাড়ানোর প্রক্রিয়ার দুটি ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপ। এই কর বৃদ্ধি আসলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ‘আবে অর্থনীতির’ একটি বিশেষ দিক। জাপানের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে আবে ত্রিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছেন। দেশটির আর্থিক খাত সংহত করা আবের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, এই কর বাড়ানো সেটারই অংশ। কিন্তু এতে জাপানের সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বড় ধাক্কা লেগেছে।

২০১১ সালের সুনামিতে জাপান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে। তদুপরি, ভোক্তা ব্যয়ও রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে (মুদ্রাস্ফীতি ধরার পরও), গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছর তা ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কম। কিন্তু ব্যাপারটা সর্বাংশে নেতিবাচক নয়। আবে তাঁর ত্রিমুখী কৌশলের দ্বিতীয় ধাপে যে প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছেন, তাতে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় সমাজে একরকম ভারসাম্য এসেছে, জিডিপির সংকোচনমুখী প্রবণতাও কমে প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে।

এসব তথ্য-উপাত্ত থেকে দুটি বিপরীতমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। অনেক অর্থনীতিবিদই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকের নেতিবাচক ধারায় মুদ্রাস্ফীতির হার কমে যাবে, ফলে আবে যে প্রবৃদ্ধির আশা করছেন, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে ব্যাংক অব জাপান তার মুদ্রানীতির ইতিবাচক ফলাফলের কথা বলে এই সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে ইতস্তত করছে।

প্রথমোক্ত ধারাটি সঠিক হলে, ব্যাংক অব জাপানকে মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া রোধে মুদ্রানীতি আরও শিথিল করতে হবে। আর ব্যাংক অব জাপানের অবস্থান সঠিক হলে তাদের এই অবস্থান বজায় রাখা দরকার। সরকারকে এই ভোক্তা কর বৃদ্ধি স্থগিত করতে হবে বা দুই ধাপে ১ শতাংশ করে বাড়াতে হবে, একবারে ২ শতাংশ বাড়ানো ঠিক হবে না।
অবশ্যই এই কর বাড়ানোর ফলাফল দেশটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল না আসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সেই পরিসংখ্যান থেকে আসলে বোঝা যাবে, দ্রুত হারে কর বাড়ালে জাপানের অর্থনীতিতে তা কী ফল বয়ে আনবে। সুসংবাদ হচ্ছে, আবে ঠিক এটাই করতে চাচ্ছেন।

যাই হোক, মুদ্রানীতির এই সফলতা অস্বীকার করার উপায় নেই। মুদ্রাস্ফীতির হ্রাসের ব্যবধান কমে এলে মুদ্রানীতির সামগ্রিক প্রভাব কমে যাবে। কারণ, এটা ক্রমবর্ধমান হারে শুধু মূল্যের ওপরই প্রভাব ফেলে, পরিমাণের ওপর নয়।
সময় এসেছে, জাপানের নেতাদের এখন চাহিদামুখিনতার জায়গা থেকে সরবরাহমুখিনতার দিকে যেতে হবে, সেটা হবে আবের ত্রিমুখী কৌশলের তৃতীয় দিক—প্রবৃদ্ধির এক নতুন কৌশল। অর্থনীতিতে সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে গেলে চাহিদা বাড়াতে হয়, এ ছাড়া কোনো গতি নেই। তার মানে, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের ব্যবধান ব্যাপকভাবে কমে না গেলে প্রবৃদ্ধিতে জোর দেওয়া সমীচীন নয়। আবের কৌশলের এই তৃতীয় দিকটি প্রথাগত শিল্পনীতিবিষয়ক কোনো ব্যাপার নয়। বরং এটা শ্রমবাজারের সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিল ও করপোরেট কর হার কমানোয় জোর দিচ্ছে।
আবের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, শ্রমশক্তি বাড়ানো। এটি একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জই বটে, কারণ জাপানে বুড়ো মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বিদেশ থেকে শ্রমশক্তি আমদানি করা এর একটি যৌক্তিক সমাধান হতে পারে। কিন্তু সেটা করতে গেলে অভিবাসন হতে হবে, আর তা করতে গেলে আবের সরকারকে ব্যাপক সামাজিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।

যে কর্মক্ষম নারীরা গৃহিণী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের একত্র করে শ্রমশক্তির ঘাটতি সহজে পূরণ করা যেতে পারে। নারীদের কাজ করার ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে সেগুলো দূর করে জাপান সরকার অনায়াসে নারীদের শ্রমে অংশগ্রহণের হার বাড়াতে পারে: শিশু সেবা ও সামাজিক বাধা। ফলে দেশটি আপৎকালের জন্য শ্রমশক্তি সঞ্চয় রাখতে পারে।
জাপানের সরকারি নিয়মকানুন বেশ ঝামেলাপূর্ণ, দেশটির প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হলে এসব দূর করতে হবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় একটি নতুন মেডিকেল স্কুল স্থাপন করতে ৩৪ বছর লেগে গেছে। সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রয়াসে এটা করা সম্ভব হয়েছে।

আবের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করতে হবে। সেগুলোর নিয়মকানুন শিথিল রাখতে হবে, প্রতিটির আবার আলাদা লক্ষ্য থাকতে হবে। যেমন নতুন কোনো মেডিকেল প্রযুক্তি গ্রহণ বা বিদেশি ব্যবসা আকৃষ্ট করার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। কর্তৃপক্ষের নজরদারিরর ধরনটা কোনো কাজের কিছু নয়, বরং সেটা বাস্তব কাজে বাধার সৃষ্টি করে। উল্লিখিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে এই প্রক্রিয়ার রাশ টেনে ধরা যাবে। একই সঙ্গে, সরকার দেশটির ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করলে শ্রমবাজারের দক্ষতা ও ধারণক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
পরিশেষে, আবের পরিকল্পনা সফল করতে হলে করপোরেট কর কমাতে হবে। এতে উল্টো কর সংগ্রহের পরিমাণ বাড়বে, কারণ এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সব দেশই বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। করপোরেট কর কমানো হলে জাপানে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

এসব পদক্ষেপ নিতে গেলে জাপানের আমলারা বাদ সাধতে পারেন, পাছে তাঁদের প্রভাব–প্রতিপত্তি কমে যায়। বিশেষত, নিয়মকানুন শিথিল করতে গেলে এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু আবে ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইওশিহিদে সুগা যত দিন লক্ষ্যের ব্যাপারে অবিচল থাকবেন, তত দিন জাপানের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
কোইচি হামাদা: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।

ইব্রাহিমের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা by মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

যে মহৎ কর্মোদ্যোগ দেশ ও জাতির সীমানা পেরিয়ে মানবসমাজ ও সভ্যতার জন্য অনুপম আস্থা ও সেবার আদর্শ হিসেবে প্রতিভাত হয়, তা আবার নিজেই একটা ভাবাদর্শ নির্মাণ করে থাকে। জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম (জন্ম ৩১ ডিসেম্বর ১৯১১-মৃত্যু ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯) এমন এক ভাবাদর্শের সাধক এবং উদ্গাতা, যা বিশ-একুশ শতকের বাংলাদেশে এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানবভাগ্যে আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচ্য। গতকাল ছিল ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মৃত্যুদিবসকে ডায়াবেটিক সেবা দিবস হিসেবে পালন করে কৃতজ্ঞ দেশ ও জাতি এই মহান ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধায়।
মানবতাবোধ দ্বারা তাড়িত গতিশীল জীবনের অধিকারী মো. ইব্রাহিম ছিলেন বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে এমন একজন প্রতিভাধর ব্যক্তি, যাঁর মধ্যে নিহিত ছিল বহুমুখী মানবীয় গুণের সমাহার। তিনি আজীবন নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের ব্যক্তি ও সমাজ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে তাঁর এমন একটি মর্যাদাশীল আসন তৈরি হয়েছে, যা অর্জন অন্য কোনো চিকিৎসা সমাজবিদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তার প্রধানতম সাফল্য চিকিৎসা পেশাকে চিকিৎসা সমাজসেবায় রূপান্তরিত করা।
ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং জাতীয় জনসংখ্যা কাউন্সিলকে পরিবার পরিকল্পনা নীতিমালা ও জাতীয় কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ন্ত্রকের কার্যকর ভূমিকায় দাঁড় করান। তিনি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে দেশের ১ নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বহুকৌণিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে মৌলিক পরিবর্তন আনয়নে প্রয়াস পান। তাঁর নীতিমালার মূল ভিত্তি ছিল উদ্বুদ্ধকরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম ছিল সরাসরি লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক।
একই সঙ্গে স্বপ্ন দেখা ও সর্বাঙ্গসুন্দরভাবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার মোহনীয় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন ডা. ইব্রাহিম। মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত মহানুভব মানুষটি মানবতার মহান উচ্চ আদর্শের প্রতি ছিলেন আজীবন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও নিবেদিতচিত্ত। বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক সময় এই জাতীয় মানুষের মধ্যে বাস্তব বুদ্ধির কিছুটা ঘাটতি থাকে, যার ফলে তাঁদের আদর্শবাদ জাগতিক উপযোগিতার ক্ষেত্রে আপাতসাংঘর্ষিকতায় হয়তো কাঙ্ক্ষিত কোনো অবদান প্রত্যক্ষভাবে রাখতে পারে না। বিস্ময়ের ব্যাপার ডা. ইব্রাহিম ছিলেন এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি সেবার যে উচ্চ আদর্শ তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত সঞ্চারিত করতে সচেষ্ট ছিলেন, তা ছিল বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।
কর্তব্য যে ধর্ম, তা অধ্যাপক ইব্রাহিম তাঁর নিজের জীবনে প্রতিফলিত করেছিলেন। তিনি ধর্মপরায়ণ ছিলেন, কিন্তু ধর্মীয় ব্যাপারে তাঁর কোনো গোঁড়ামি ছিল না। তাঁর সফলতার ক্ষেত্রে অন্যান্য গুণের সঙ্গে সঠিক নেতৃত্বই মূল ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর সব উদ্দেশ্যের মধ্যে সততা ছিল, ছিল অন্তরভরা মমতা। তাই তাঁর একক প্রয়াস বহুল সাধনার ধন হয়ে উঠেছিল। ডা. ইব্রাহিমের কর্মজীবনের অসামান্য সাফল্যের পেছনে ছিল তাঁর গভীর সাধনা। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কঠোর পরিশ্রম ও সততাই ছিল তাঁর একমাত্র বিত্ত।
ডাক্তার ইব্রাহিম জন রাস্কিনের (৮ ফেব্রুয়ারি ১৮১৮-২০ জানুয়ারি ১৯০০) অর্থনৈতিক দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধাবলি আনটু দিজ লাস্ট (১৮৬০) বইটির ছাঁচে তাঁর সমগ্র কর্মজীবন গড়ে নিয়েছিলেন, যে বইয়ে রাস্কিন দেখিয়েছেন, ‘অর্থ ও বিত্ত মানুষের সত্যিকারের মূল্যায়ন করে না, মানুষের মূল্যায়ন হয় অন্য মানুষের তার ওপর আস্থার ভিত্তিতে...একজন লোক ধনী কি নির্ধন, সেটা নির্ধারিত হওয়া উচিত সেই লোকটির প্রতি অন্য কতজন লোকের আস্থা রয়েছে, সেটার ভিত্তিতে। যাকে দেখলে মানুষ আনন্দ হেসে উঠবে। মনে করবে তাদের পরম হিতৈষী চলে এসেছে, এবার সব সমস্যার সমাধান করে তাদের দুশ্চিন্তামুক্ত করবে সে। তাকে দেখামাত্রই সবাই উল্লসিত মনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পথ ছেড়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ, মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং অবস্থাই ধনী-নির্ধন পার্থক্যের মাপকাঠি।’
যে দেশ ও সমাজে সীমাহীন সার্বিক (অর্থনৈতিক, চিন্তা-চেতনার, সহনশীলতার, সাধনার) দারিদ্র্যের কারণে বড় কিছু করা যায় না, মহৎ কিছু গড়ে ওঠে না, যেখানে চিন্তার দীনতা, উদ্যম-উদ্যোগের অভাব এবং ত্যাগ স্বীকারের অনীহা অন্যতম প্রতিবন্ধকতা, সে দেশে ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমাণ করে দিয়েছেন, উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয়, লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, প্রচেষ্টা যদি আন্তরিক হয়, তবে স্বল্পোন্নত দেশেও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, তথা বারডেমের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়। ১৯৫৬ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডায়াবেটিস চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রথম বছরে মাত্র ৩৯ জন রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছিল। সেখানে এখন শুধু বারডেমেই চিকিৎসাধীন নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি। শুধু ঢাকা শহর এবং এর উপকণ্ঠে নয়, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ডায়াবেটিক চিকিৎসাকেন্দ্র আজ দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সততা থাকলে অঙ্কুর কী করে মহামহিরুহের রূপ লাভ করতে পারে, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠান শাহবাগের বারডেম এটির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
বারডেম এখন শুধু দেশে নয়, বিদেশেও বিস্ময়করভাবে সমাদৃত, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক এর একটি সহযোগী কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন বাংলাদেশের ডায়াবেটিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিক চিকিৎসার মডেল বা অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে গণ্য করে। আর ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার সঙ্গে আমেরিকার জসলিন, ইংল্যান্ডের লরেন্স ও বাংলাদেশের ইব্রাহিমের নাম জড়িয়ে রয়েছে।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ: সরকারের সাবেক সচিব এবং এনবিআরের চেয়ারম্যান। বর্তমানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির চিফ কো-অর্ডিনেটর।

পরিশ্রম করো, খেলে ঘাম ঝরাও

নরেন্দ্র মোদি
নবীন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পেছনে কঠোর পরিশ্রম আর খেলাধুলাসহ ঘাম ঝরানোর পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জীবন গঠনের লক্ষ্যে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর উদ্দেশে গতকাল শুক্রবার আলোচিত এই দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছেন তিনি। খবর এনডিটিভির। ভারতে প্রতিবছর ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষাবিদ ও সাবেক রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন উপলক্ষে শিক্ষক দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। রাজধানী নয়াদিল্লির মানেকশ মিলনায়তনে ৭০০ স্কুলশিশুর উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে ওই ভাষণ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি প্রশ্ন করারও সুযোগ পায়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশজুড়ে ১৮ লাখ স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এতে। অনুষ্ঠানে প্রেরণা নামের এক শিক্ষার্থী মোদিকে প্রশ্ন করে, ‘লোকে বলে, আপনি একজন প্রধান শিক্ষকের মতো। কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হয়, আপনি যেন আমাদের বন্ধু। আসলে আপনি কেমন ধরনের মানুষ?’—এর জবাবে মোদি বলেন, ‘আমি অন্যদের নির্দেশনা দিয়ে কাজ করাই। কিন্তু তাই বলে নিজে কঠোর পরিশ্রম করি না তা নয়।’ ইমফল থেকে আরেক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ছিল, ‘আমি কীভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারি?’
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সহাস্য জবাব ছিল, ‘২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করো।’ একটু থেমে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এটাও যে ওই সময় পর্যন্ত (প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে) আমার জন্য আর কোনো হুমকি থাকল না।’ এ রকম নানা প্রশ্ন আর মোদির শিশুসুলভ ভঙ্গিতে কৌতুক করে দেওয়া জবাবে অনুষ্ঠানস্থলে মাঝেমধ্যেই হাসির রোল ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে তারা যেন দিনে অন্তত চারবার কঠোর পরিশ্রম, শ্রমসাধ্য খেলাধুলা ও প্রচুর ঘাম ঝরানোর কাজ করে। শিক্ষার্থীদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনীগ্রন্থ পড়া এবং প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি। নরেন্দ্র মোদি বলেন, সার্চ ইঞ্জিন ‘গুগল গুরু’ দিয়ে এখন সব কাজ করা যায়। এটা তথ্যের জোগান দিতে পারে, কিন্তু জ্ঞানের জোগান নয়। শিক্ষক দিবসে স্কুলপড়ুয়াদের উদ্দেশে ভাষণ ও তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ব্যাপারে মোদির ইচ্ছা বাস্তবায়িত করতে রাজ্যগুলোতে আগেই নির্দেশনা পাঠায় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে দেশে ব্যাপক বিতর্ক হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা এই বলে সমালোচনা করেন যে এটা মোদি-মাহাত্ম্য তুলে ধরারই এক নতুন ছক। স্কুলপড়ুয়াদের মনে তিনি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে চান। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, এটা উত্তর কোরিয়ার নেতাদের কায়দায় স্বেচ্ছাচারী কাজ।

আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া জোট গঠন

যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসন গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, ইরাক ও সিরিয়া থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের দমনে তারা জোট গঠন করেছে। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের বাইরে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, তুরস্ক, ইতালি, পোল্যান্ড ও ডেনমার্ক। এই জোট আইএস দমনে দুটি দীর্ঘ কৌশল নিয়েছে। এগুলো হলো ইরাক ও সিরিয়ায় জোটভুক্ত দেশগুলোর ভূমিতে যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানো আর এ সময় বিমান থেকে জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বোমা বর্ষণ। আইএস বিলুপ্ত হওয়া না পর্যন্ত এই কৌশলে যুদ্ধ চলবে। গতকাল নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। এদিকে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইএস জঙ্গিদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সম্মত হয়েছে ইরান। ইরাকের উত্তরে আইএস জঙ্গিদের মোকাবিলায় প্রচেষ্টা জোরদার করতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন।
মার্কিন সেনাদের সঙ্গে এই প্রচেষ্টার সমন্বয় করতে রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। অগ্রবর্তী বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত: ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত ‘হস্তক্ষেপের’ জবাবে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন ২৮ দেশের এই সামরিক জোটের নেতারা। যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে চলমান সম্মেলনে ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডারস ফগ রাসমুসেন গতকাল এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গৃহীত পরিকল্পনার আওতায় একটি ‘অগ্রবর্তী’ বাহিনী গঠন করা হবে, যেটি দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। এই বাহিনীর জন্য ন্যাটোর নতুন সদস্য পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে সামরিক অস্ত্র-সরঞ্জাম এমন অবস্থায় রাখা হবে, যাতে সংকটকালে সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে কাজে লাগানো যায়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ‘আগ্রাসী’ তৎপরতায় শঙ্কিত পূর্ব ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তিন বাল্টিক রাষ্ট্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া। সাড়ে তিন হাজার সেনা দেবে যুক্তরাজ্য: ন্যাটোর নতুন বাহিনীর জন্য সাড়ে তিন হাজার সেনাসদস্য দিতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গতকাল এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সদস্যদেশগুলোকে এমন একটি অগ্রবর্তী বাহিনী গঠনের বিষয়ে সম্মত হতে হবে, যেটি দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো স্থানে মোতায়েন করা যাবে।... সবাই এ বিষয়ে একমত হলে যুক্তরাজ্য সাড়ে তিন হাজার সেনা দেবে।’