Sunday, September 7, 2014
সানি লিওনের সঙ্গে সেক্স রোমান্সের অপেক্ষায় তুষার

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অর্থনীতি- আমাদের আবাসন খাতের বুদবুদ by ফারুক মঈনউদ্দীন

২০০৬ সালেই দেখা যায়, হোম লোনগুলো প্রথম কিস্তি থেকেই খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। কারণ, এসব ঋণ অনুমোদনের সময় গ্রহীতার কোনো যোগ্যতা যাচাই করা হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সুদের ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হার, সে কারণে মূল ঋণের মাসিক কিস্তির অঙ্ক বাড়িয়ে দিতে হয় ব্যাংকগুলোকে, অথচ দুর্বল ঋণগ্রহীতারা এই বাড়তি আকারের কিস্তির জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না। এভাবে পরপর ঋণখেলাপের ঘটনা ঘটতে থাকলে ব্যাংকগুলো বন্ধকীকৃত বাড়ি বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করে। ফলে বাড়িঘরের দরপতন ঘটতে থাকে। এর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর দেশে দেশে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোয় পড়তে থাকে শেয়ারের দাম। কারণ, ওয়াল স্ট্রিটের বড় কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে এনে ঘর সামলানোর চেষ্টা করে। মার্কিন অর্থনীতিতে ‘সাব-প্রাইম মর্টগেজ’ নামের এই বালাইটার কারণে সৃষ্ট বিশ্বমন্দা কাটতে বহু সময় লেগেছিল।
সৌভাগ্যবশত বাংলাদেশে ঠিক এ রকম ঘটনা ঘটেনি। এ দেশে এ রকম চৌকস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার নেই এবং এ রকম কোনো আর্থিক পণ্যও নেই, যার মাধ্যমে হাউজিং লোনকে নতুন মোড়কে ছোট ছোট টুকরা করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা যায়। কিন্তু অন্য রকমভাবে হলেও এ দেশের রিয়েল এস্টেট খাতে এ রকমই একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক পুঁজিবাজারের মতোই একধরনের মূল্য বুদ্বুদ সৃষ্টি হয়েছে আমাদের রিয়েল এস্টেট খাতে। এই উপসর্গের একাধিক কারণ চিহ্নিত করা যায়। প্রথম কারণটি ভূ-সম্পত্তির প্রতি আমাদের সহজাত লোভ, মাত্র কয়েক ফুট জায়গার জন্য খুনোখুনির ঘটনাগুলোই তার প্রমাণ। দ্বিতীয়ত, দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো অগণিত আবাসন কোম্পানির উদ্ভব। কোনো ধরনের যোগ্যতাবিবর্জিত এসব ভুঁইফোড় নামসর্বস্ব কোম্পানি কেবল প্রতিষ্ঠিত ডেভেলপারদের কাছে ফ্ল্যাটের বুকিং দিয়ে পরবর্তী সময়ে চড়া দামে বিক্রি করে দিয়ে বাজারে সৃষ্টি করেছে কৃত্রিম মূল্যস্ফীতি। তৃতীয়ত, দেশের সম্ভাব্য সব জায়গায় জমি কিনে বা দখল করে আবাসন প্লট তৈরির নামে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করার হিড়িক। কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো জায়গায় বাহারি নামের আবাসন প্রকল্পের আত্মপ্রকাশ এই দৌরাত্ম্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরগুলোর আশপাশের প্রতি ইঞ্চি খালি জায়গাই আজ ডেভেলপারদের দখলে। এমনকি আবাসন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের ফলে বিভিন্ন নগরের পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে কখনো কখনো আদালতের হস্তক্ষেপও প্রয়োজন পড়ছে। চতুর্থত, আবাসন প্রকল্প তৈরির জন্য পর্যাপ্ত উপযুক্ত জমির অভাবের বিপরীতে অতিরিক্ত চাহিদা। এবং সবশেষে আবাসন প্রকল্প এবং জমি ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য ব্যাংকগুলোর দরাজ হাতে ঋণ বিতরণ।
মূলত ২০০৫-০৬ সাল থেকে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার ও আবাসন খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করতে থাকে। শেয়ারবাজারে উন্মত্ত বিনিয়োগের অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে ২০১০ সালের শেষে শেয়ারবাজারের বদ্বুদ বিস্ফোরিত হয়। শেয়ারবাজারের এমন বিপর্যয়ের আগ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর দ্বিতীয় নির্ভরশীলতা ছিল আবাসন খাতের ওপর। এ সময় (২০০৭) বাংলাদেশ ব্যাংকও নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের আবাসন চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে ৩০০ কোটি টাকা দিয়ে একটা পুনঃ অর্থায়ন তহবিল চালু করে, যা ২০০৯ সালে ৭০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। এই স্কিমের অধীনে একজন গ্রহীতার জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৫ লাখ টাকা ঋণসুবিধা। তবে এই ক্ষুদ্রাঙ্কের ঋণ প্রকল্প বুদ্বুদ তৈরিতে কোনো বড় ভূমিকা রাখেনি। আবাসন ব্যবসার রমরমা অবস্থা এবং এই খাতে ঋণের প্রাচুর্য ওপরে উল্লেখিত কারণগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে সৃষ্টি করে আরেক বুদ্বুদ। অবশ্য আবাসন খাতে এই বিনিয়োগস্ফীতি লক্ষ্য করে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে এক সার্কুলার জারি করে জমিজমা কেনার জন্য সব ধরনের ব্যাংকঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ইতিমধ্যে গৃহায়ণ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিমের অধীনে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়ে গেছে। কেবল জমি কেনার জন্য সরাসরি ব্যাংকঋণ বন্ধ করলেও ধারণা করা যায়, এই খাতে ব্যাংকঋণের টাকার অঘোষিত ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ঋণ বন্ধ হয়নি, তা হওয়া উচিতও নয়। আজ যে বহু বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকের তারকাখেলাপি হয়ে স্ফীত করেছে ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণের ঝুড়ি, তারাও বাণিজ্যিক ও শিল্পঋণের একাংশ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ করেছে স্থাবর সম্পদে।
এসব প্রবণতার কারণে আবাসন খাতের ঘোষিত ঋণের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান সূত্রে পত্রিকার খবরে জানা যায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে দেওয়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১৩ হাজার ৪০০ কোটি, অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ আটকে গেছে বিভিন্ন মেয়াদে। এর মধ্যে আট হাজার ১০০ কোটি টাকা মন্দ, দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা সন্দেহজনক ও তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা নিম্নমান হিসেবে শ্রেণীকৃত। অথচ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মন্দ-শ্রেণিভুক্ত ছিল চার হাজার কোটি টাকা, পরের বছর ছিল পাঁচ হাজার কোটি। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের মাথায় মন্দশ্রেণির ঋণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
আবাসন খাতে বিতরণ করা ঋণের এই প্রবণতা ব্যাংকিং খাতে যোগ করবে সংকটের নতুন মাত্রা। কারণ, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য বন্ধকীকৃত জমি বা আবাসিক ভবন নিলামে তুললেও কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে ব্যর্থ হবে, কারণ জমি ও নির্মাণের উচ্চমূল্য এবং ক্রেতাসাধারণের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় এসবের ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না, ঠিক যেমনটি ঘটেছিল আমেরিকার আবাসন বুদ্বুদের ক্ষেত্রে। রিহ্যাবের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ২২ হাজার তৈরি অ্যাপার্টমেন্ট অবিক্রীত পড়ে আছে। সংগঠনটির দাবি, আশির দশকে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এটাই অবিক্রীত অ্যাপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এ দেশে কোনো একটা লাভজনক ব্যবসার ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া গেলে মানুষ হিসাব-নিকাশ না করে সেখানে হামলে পড়তে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই ব্যবসার নাভিশ্বাস ওঠে। শুধু আবাসন ব্যবসা নয়, সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার, টেলিভিশন চ্যানেল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়—এ রকম আরও বহু উদাহরণ উপস্থিত করা যাবে, যেখানে নবাগতদের ধাক্কায় মূল ব্যবসা লাটে ওঠার উপক্রম। একই প্রবণতায় মানুষের আবাসন চাহিদার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ও ভুঁইফোড় মিলিয়ে সহস্রাধিক ডেভেলপার কোম্পানি ব্যাংকঋণের সাহায্যে এই খাতে যে সংকট সৃষ্টি করেছে, তার স্বাভাবিক সহজ সমাধান হতে পারত যদি একটা ভালো বাজার, ক্রেতাদের আগ্রহ ও সক্ষমতা থাকত। সেটা অনুপস্থিত বলে দেশের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী এই সংকট উত্তরণের জন্য সরকারের কাছেই সমাধান চাওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের গোড়ায় রিহ্যাব নেতারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে, সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের তৈরি অ্যাপার্টমেন্টগুলো কেনার জন্য এক অঙ্কের সুদে আবাসন ঋণ পায়, তার জন্য তিন হাজার কোটি টাকার একটা তহবিল গঠন এবং আবাসন খাতের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের জন্য কোনো ধরনের ডাউন পেমেন্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার দাবি তুলেছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহায়ণ খাতকে অনুৎপাদনশীল আখ্যায়িত করে এই খাতে ঋণদান নিরুৎসাহিত করেছে বলে রিহ্যাব এই খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণার দাবিও তুলেছে। দাবি আদায়ের জন্য অর্থনীতির সূত্র পাল্টে দেওয়ার এ রকম আবদার একমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভব।
এ সমস্যার একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করা উচিত। তা না হলে এই খাত ব্যাংকিং খাতের জন্য বয়ে আনবে বড় ধরনের সংকট। আর এই সমাধানের জন্য কোন পক্ষ কতখানি ছাড় বা সুবিধা দেবে, সেটাও নির্ধারণ করতে হবে। আবাসন ব্যবসায়ীদের ছাড় দিতে হবে বেশি, কারণ তারা নিজেরাই বেশি মুনাফার লোভে যত্রতত্র বিনিয়োগ করেছে মানুষের প্রকৃত চাহিদা যাচাই না করে। তা ছাড়া সব ব্যবসায় লাভ-লোকসান যেহেতু আছে, কখনো কখনো সেই লোকসানও মেনে নিতে হয়। ব্যাংকগুলোকেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কিছুটা ছাড় দিতে হবে সুদের হারে, তবে তা কখনোই আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে নয়।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার৷
fmainuddin@hotmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘রাজনৈতিক থমথমে পরিস্থিতি বড় ঝড়ের পূর্বাভাস’ -মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম by কাজী সুমন

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন্দ্রের কারণে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি না -সাক্ষাৎকারে মানিক সরকার by সোহরাব হাসান

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান
মানিক সরকার : নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তার বয়স তিন মাসের কিছু বেশি। কাজেই এখনই সব বিষয়ে চূড়ান্ত উপসংহারে আসা সমীচীন হবে না। কিন্তু শুরুতেই লক্ষ করছি, এরা মূলত একচেটিয়া পুঁজি, দেশি-বিদেশি করপোরেট হাউস, ভূস্বামীদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর। গরিব, বিশেষ করে শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুরসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। কংগ্রেসের শাসনের সঙ্গে বিজেপি শাসনের মৌলিক ফারাক নেই। তবে বিজেপি শাসনের সবচেয়ে বিপদের দিকটি হলো, গত লোকসভা নির্বাচন এবং কেন্দ্রে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পর সারা দেশে ৩০–৩৫টি দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্নাটক প্রভৃতি রাজ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, যাদের মধ্যে মুসলমান, শিখরাও রয়েছেন। আরও বিপজ্জনক দিক হলো, রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান ভারত না বলে হিন্দুস্তান বলেন। তাদের দাবি, হিন্দুস্তানে বসবাসকারী সবাই হবে হিন্দু। তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতার অবশিষ্ট কী থাকল? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বড় ধর্ম, ছোট ধর্ম বলে কিছু নেই। ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার, সেখানে রাষ্ট্রের কিছু বলার নেই। মূলত আরএসএসই বিজেপি সরকারকে পরিচালিত করছে।
প্রথম আলো : বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর ত্রিপুরায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শান্তি বিরাজ করলেও মোদি সরকারের এই ধর্মীয় ভাবনার প্রভাব উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যে পড়ছে কি না?
মানিক সরকার : আসামকে বাদ দিলে অন্যান্য রাজ্যে তেমন পড়েনি। আসামে অভ্যন্তরীণ জটিলতা আছে। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আরএসএসের প্রচারণা কাজ করেছে। ধর্মের ভিত্তিতে মেরুকরণ ঘটেছে। তার ফলও বিজেপি ঘরে তুলে নিয়েছে। আসামে ১৪টি আসনের সাতটিই তারা পেয়েছে। কংগ্রেসের আসন তিন।
প্রথম আলো : ত্রিপুরায় কি বিজেপির উত্থানের সম্ভাবনা আছে?
মানিক সরকার : ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে ত্রিপুরার মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে ত্রিপুরায় যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রাখতে আমরা সচেষ্ট থাকব।
প্রথম আলো : পশ্চিমবঙ্গেও তো বামফ্রন্ট শাসনামলে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় ছিল, সেখানে বিজেপির উত্থান ঘটেছে।
মানিক সরকার : বিজেপি তথা আরএসএস ও বজরং দলের যেসব শাখা ত্রিপুরায় আছে, তাদের কার্যক্রম ও ভাবাদর্শ সম্পর্কে এখনকার মানুষ সজাগ। এটি যদি অব্যাহত রাখা যায় তাদের ধর্মান্ধ ভাবাদর্শ প্রতিহত করা কঠিন হবে না।
প্রথম আলো : উত্তর-পূর্ব ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। মোদি সরকার একজন প্রতিমন্ত্রীকে এ অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছেন। এটি কি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আভাস?
মানিক সরকার : আগের সরকারেও একজন প্রতিমন্ত্রীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেদিক থেকে এটি পরিবর্তন বলে মনে হয় না। তা ছাড়া একজন মন্ত্রী আলাদা করে তো কিছু করতে পারেন না। সবটাই নির্ভর করে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।
প্রথম আলো : ২০১১ সালে প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আপনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ও সীমান্ত প্রটোকল বাস্তবায়িত হবে। ২০১৪ সালে এসে দেখি সেটি হয়নি। কারণ কী?
মানিক সরকার : কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার সমস্যা সমাধানে আগ্রহী ছিল। তিস্তার বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের সরকারের কারণে আটকে আছে। বর্তমান সরকারও বলছে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অন্যদিকে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউপিএ সরকার রাজ্যসভায় বিল পেশ করেছিল। তখন বিজেপি এর বিরোধিতা করে। আবার বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরে গিয়ে দুটো সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে অশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ভারতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিরোধী দলে থাকলে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁরা যে অবস্থান নেন, ক্ষমতায় গেলে তা পরিবর্তন করেন। এখন বিজেপি যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে, সেটি সদার্থকই হবে। ত্রিপুরা সরকার চায় দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হোক।
প্রথম আলো : সংসদে যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বলে ইউপিএ যে অজুহাত দেখিয়েছে, এখন তো সে সুযোগ নেই। সংসদে বিজেপির যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে।
মানিক সরকার : তবে সমস্যা একটি আছে। লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকলেও রাজ্যসভায় তারা সংখ্যালঘিষ্ঠ। সে ক্ষেত্রে তারা উচ্চ ও নিম্নকক্ষের যৌথ অধিবেশন করে সীমান্ত বিল পাস করিয়ে নিতে পারে।
প্রথম আলো : পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষতি স্বীকার করেই এ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি তার ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে সরবরাহ করতে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো বিদ্যুৎ পায়নি।
মানিক সরকার : কেন্দ্রীয় সরকারের নেতিবাচক ভূমিকার কারণেই সেটি হয়নি। আমরা তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছি, এই কেন্দ্র থেকে আমরা যে বিদ্যুৎ পাই, তার সবটা কাজে লাগছে না। বলেছি, আমাদের অংশ থেকে বাংলাদেশকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে চাই। কিন্তু আমরা চাইলেই তো দিতে পারি না। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। বাংলাদেশ সহায়তা না করলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হতো না। তা ছাড়া বিদ্যুৎ তো তারা মাগনা চাইছে না। পয়সা দিয়ে কিনে নেবে। তাহলে আমাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কেন তাদের দেব না? সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকেও আমি বিষয়টি তুলেছি, বলেছি, আমরা বিদ্যুৎ দিতে চাই কিন্তু পররাষ্ট্র ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কেন বিরোধিতা করছে? কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিলে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প দূরত্বে বিদ্যুৎ লাইন টানা সম্ভব। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা চাই দ্রুত বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দেওয়া হোক।
প্রথম আলো : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যবৈষম্যের বিষয়টি বহুলালোচিত। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ত্রিপুরায় ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছে, এ জন্য শুল্ক নেওয়া হয়নি।
মানিক সরকার : এই সহায়তার জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আর বাণিজ্যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধাটি দীর্ঘদিনের। আমরা ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলেছি, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করতে হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে। তাদের সঙ্গে পণ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শুল্ক বাধা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন অশুল্ক বাধাগুলো তুলে নেওয়া জরুরি।
প্রথম আলো : ট্রানজিটের বিষয়টি আটকে গেল কেন?
মানিক সরকার : আমরা এখন ট্রানজিট বলছি না, ট্রান্সশিপমেন্ট (বাংলাদেশের ভেতরে বাংলাদেশের যানবাহনেই পণ্য পরিবাহিত হবে) চাইছি। এতে দুই দেশই লাভবান হবে। বাংলাদেশ তো ত্রিপুরার জানালা। আমাদের বের হওয়ার এটাই পথ। ভারতের অনেক দূর থেকে ত্রিপুরায় পণ্য আনতে হয়। সেখানে যদি বাংলাদেশ থেকে পণ্য আনলে সস্তায় পাওয়া যায়, আমরা সেটাই আনব। গুণে-মানেও ভালো।
প্রথম আলো : প্রস্তাবিত আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ কোন অবস্থায় আছে?
মানিক সরকার : আখাউড়া-আগরতলা রেল যোগাযোগের জন্য জরিপ করার কথা। ভারতের অংশে জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো কাজটি শেষ হয়নি। আমরা ভারত সরকারকে বলেছি, দ্রুত টাকা ছাড় করলে আমরা জমি অধিগ্রহণের কাজটি শুরু করতে পারি। আগরতলা-কলকাতা সরাসরি বাস সার্ভিস নেই। এখন ঢাকায় গিয়ে একবার এবং পশ্চিমবঙ্গে গিয়েও আরেকবার বাস পরিবর্তন করতে হয়। আকাশপথেও আমাদের যোগাযোগ স্থাপন করা দরকার। টেলিযোগাযোগও উন্নত করতে হবে।
প্রথম আলো : আপনারা বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কি সেটি সম্ভব?
মানিক সরকার : কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কারণ সন্ত্রাসবাদীদের দৌরাত্ম্য। অন্য কোনো কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি। একসময় বাংলাদেশে ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি ছিল। তারা এখানে অঘটন ঘটিয়ে ওখানে গিয়ে আশ্রয় নিত। সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ করতেই আমরা ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম।
প্রথম আলো : বাংলাদেশ সরকার কি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি?
মানিক সরকার : নিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিচ্ছে। এ জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানাই। সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা পুরো বন্ধ হয়ে গেলে হয়তো কাঁটাতারের বেড়ার প্রয়োজন হবে না।
প্রথম আলো : সন্ত্রাসবাদীদের দমনে শেখ হাসিনার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা কি আপনি যথেষ্ট মনে করেন না?
মানিক সরকার : কিন্তু সমস্যাটি অনেক আগের। বাজপেয়ি সরকারের সময়েই কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শুরু হয়েছে।
প্রথম আলো : বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত। আবার ত্রিপুরার তিন দিকে বাংলাদেশ। ত্রিপুরাকে কি বাংলাদেশ দ্বারা অবরুদ্ধ মনে করেন?
মানিক সরকার : ভাবনার দিক থেকে নয়। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান তো অস্বীকার করা যাবে না।
প্রথম আলো : ফেনী নদীর পানি সমস্যার সমাধান হলো না কেন?
মানিক সরকার : তিস্তার কারণেই আটকে আছে।
প্রথম আলো : বলা হয়েছিল, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে বাংলাদেশ লাভবান হবে। কিন্তু কয়েক বছর বাড়তির দিকে থাকলেও গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে।
মানিক সরকার : ওটি ছিল বাংলাদেশে ভোটের বছর। ৮৪ দিন ধর্মঘট হয়েছে। শিল্পপতি-ব্যবসায়ীরা পণ্য পাঠাবেন কীভাবে? ব্যবসা, যানবাহন সবই বন্ধ ছিল। রুপির অবনয়নও কিছুটা গতি থামিয়ে দিয়েছে।
প্রথম আলো : ভারতে বামপন্থার ভবিষ্যৎ কী?
মানিক সরকার : কেবল ভারতবর্ষ নয়, সারা পৃথিবীতেই বামপন্থীর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। গত লোকসভা নির্বাচনের ফল দিয়ে বামপন্থার প্রাসঙ্গিকতা বা শক্তি নিরূপণ করা ভুল হবে। ভারতে নতুন সরকার এসেই যে একটার পর একটা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধে প্রথম প্রবল প্রতিবাদ বামপন্থীরাই করেছে। শ্রেণি বিভক্ত সমাজ ও বৃহৎ জাতি ও ভূস্বামীদের স্বার্থের প্রতিভূরা যত দিন দেশ শাসন করবে, তত দিন বৃহত্তর জনগণের সমস্যা-সংকট থাকবেই। অতএব বামপন্থীদের গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না। বামপন্থীরা আছেন, থাকবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনলাইনে উগ্রপন্থিদের ভয়ঙ্কর প্রচারণা by নুরুজ্জামান লাবু
উগ্রপন্থিদের একটি ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে নানারকম কৌশলের কথা বলা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মোবাইল ও কম্পিউটারের আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাকিং করে ধরতে পারে উল্লেখ করে কি করলে মোবাইল ব্যবহার করেও এবং কম্পিউটার ব্যবহার করেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেক কম সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ছদ্মবেশে চলাফেরা করতে এবং তথ্য-আদান প্রদানের জন্য নানা রকম পদ্ধতির কথাও বলা হয়েছে এসব ওয়েব সাইটে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পর্নো ছবিতে অভিনয়ের চাপ স্বামীকে খুন করেছেন তামিল অভিনেত্রী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসিনা-আবে বৈঠক -নিরাপত্তা পরিষদে জাপানকে সমর্থন বাংলাদেশের
বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে জাপান: বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে জাপানি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে জাপান সরকার। সফরের প্রথম দিনে হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক বক্তৃতায় একথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশন (জেট্রো) ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিল বিনিয়োগ বোর্ড ও এফবিসিসিআই। শিনজো আবে বলেন, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ, সেটাকে জাপান স্বাগত জানায়। বিগ-বি (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন শিনজো আবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মে মাসে জাপান সফর করেন। বিষয়টি উল্লেখ করে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় তিনি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও উন্নত করার আহ্বানও জানান। ঢাকা সফরের প্রথম বক্তৃতায় জাপানকে এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন শিনজো আবে। ১৪ বছর পর জাপানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় আসা আবে তার দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নিজের নীতি তুলে ধরেন। মন্দাক্রান্ত জাপানি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আবে যে নীতি গ্রহণ করেছেন, তা ‘আবেনোমিকস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাপানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আমি আবেনোমিকসের প্রয়োগ ঘটাচ্ছি। এ জন্য জাপানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি আজ বাংলাদেশ সফর করছি। বঙ্গোপসাগরের তীরে বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট-বিগ বি) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অগ্রাধিকারে থাকবে বলে জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘ভাই-বোনের’ সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করে দুই দেশের উন্নয়নে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এক্ষেত্রে নিজের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ব্যবসায়ীদের অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় আবে শেখ হাসিনার টোকিও সফরের চার মাসের মধ্যে নিজের ঢাকা সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, এই বছরটি বাংলাদেশ ও জাপানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হলো।
কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে জাপানি সহায়তার কথা উল্লেখ করেন আবে। বাংলাদেশকে সহযোগিতায় জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয় দেশের পণ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়। জাপানের অবকাঠামো নির্মাণ, গার্মেন্টস, মেডিকেল, খাদ্যপণ্য, নিরাপদ পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করতে যান। এরপর হোটেলে ফিরে সংসদে বিরোধী দলের নেতা ও রাজপথের বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। রাতে সোনারগাঁও হোটেলে শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। আজ সকালে ঢাকা ছাড়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করার কথা রয়েছে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইয়োশিরো মোরির পর আবেই ঢাকায় এলেন। ২০০০ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এসেছিলেন মোরি।
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর জন্য রওশনের ক্রেস্ট: ঢাকা সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেরের সঙ্গে গতকাল বৈঠক করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। রওশনের পক্ষ থেকে জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকটি ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক হয়। বৈঠকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপস্থিত না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে দেয়া ডিনারে ছিলেন। বৈঠক শেষে সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচন নিয়ে শিনজো আবের কোন আলোচনা করেননি। আমরাও আগ্রহ দেখাইনি। আমরা মনে করি দেশে কোন সঙ্কট নেই। তবে গার্মেন্ট, টেক্সটাইল সেক্টরের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের উন্নয়নের জন্য জাপান বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। আশা করি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভাল খবর পাওয়া যাবে। এদিকে জাপা সূত্র জানায়, সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেরের সঙ্গে বৈঠক শুরুর একঘণ্টা আগেই রওশন এরশাদ সোনারগাঁও হোটেলে পৌঁছেন এবং অপেক্ষা করেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সেলিম উদ্দিন এমপি, রওশন আরা মান্নান এমপি, নূরে হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি ও বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ।

বীর শহীদদের প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এদিকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, গতকাল দুপুরে ঢাকা পৌঁছানোর পর সফরসঙ্গীদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। দুপুর আনুমানিক ২টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তিনি। পরে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দুপুর সোয়া ২টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন শিনজো আবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় দর্শনার্থীদের প্রবেশ। এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাক্ষাৎকার -বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন বাড়ছে by উৎপল রায়
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম কিভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নে খালেকুজ্জামান বলেন, জনমত ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসা এবং জনকল্যাণ সাধনের প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির দিকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার সনাতন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেছে বলে তারা (সরকার) মনে করেন। তাই ক্ষমতায় এসে জনমত ও জনসমর্থন লাভ করার বিকল্প পদ্ধতির এক বিরল দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছেন। এ কারণে প্রতি মুহূর্তে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি প্রচার করছে সরকার। জনগণের চোখের সামনে উন্নয়ন তৎপরতার চিত্র হাজির রাখার এ অনন্ত প্রয়াস চলছেই। সে জন্য সমপ্রচার, বিচার-আচার, প্রথা-প্রতিষ্ঠান সব কিছুকে তারা তাদের মতো করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে চাইছে। কিন্তু কয়লা ঘষে কালিমা দূর করার এ ব্যর্থ প্রয়াস শাসকদের কতটা ক্ষতি করবে তার পরিমাপ করা গেলেও দেশ ও জনগণের ক্ষতির পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এক্ষেত্রে রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা কতটুকু সফল বলে মনে করেন- এমন প্রশ্নে বাসদের এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা বিএনপির সফলতা, আর বিএনপির ব্যর্থতা আওয়ামী লীগের সফলতা- বিষয়টা এক রকম হলেও একে কাজে লাগাবার দক্ষতা বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের বেশি। বিগত সময়ে (২০১৪) ক্ষমতা দখলের চূড়ান্ত লড়াই-এ বিএনপি হেরে গেছে। বিএনপির ব্যর্থতাকে পুঁজি করে সমগ্র গণআন্দোলনের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে তাদের শাসন-শোষণকে নিরাপদ রাখতে সময় পার করছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি আওয়ামী লীগকে সেই সুযোগ যেমন তৈরি করে দিচ্ছে, তেমনি জনজীবনের সমস্যাকে শক্ত হাতে ধরে জনগণের নিকটবর্তী হওয়ার পথও পরিহার করে চলেছে। অতীতের ভ্রান্ত রণকৌশল, হামলা-মামলা, দলীয় অভ্যন্তরীণ সংহতিতে ঘাটতি ও জনআস্থা কুড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াবার সামর্থ্য বিএনপি অর্জন করতে পারছে না। এ কারণে এখনও সামগ্রিক দুরবস্থা বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি কাটিয়ে উঠতে পারছে না।
সরকারের করা সমপ্রচার নীতিমালা নিয়ে খালেকুজ্জামান বলেন, সমপ্রচার নীতি গণমুখী হতে পারে আবার গণবিরোধীও হতে পারে। নীতিটি জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার সমপ্রসারণের উদ্দেশ্যে যেমন হতে পারে আবার তা সঙ্কুচিত বা খর্ব করার জন্যও হতে পারে। ফলে একটা সমপ্রচার নীতি হচ্ছে বলেই তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যেতে পারে না। কি ধরনের সরকার কোন সময়ে, কি পদ্ধতিতে, কোন উদ্দেশ্যে (গোপন এবং প্রকাশ্য) নীতিমালার রূপরেখা প্রণয়ন করেছে, তা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিগত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন জনগণের সন্তুষ্টি ও অংশগ্রহণে হয়নি। সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যতজন নির্বাচিত প্রতিনিধি দরকার হয় তার চেয়ে বেশি সদস্য বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। ফলে ভোটারদের মধ্যে অতৃপ্তির প্রশ্নবোধক চিহ্ন ক্ষতচিহ্নের মতো অস্বস্তি তৈরি করেছে। যতক্ষণ না জনগণের সন্তুষ্টি ও অংশগ্রহণে আরেকটি নির্বাচন না হচ্ছে এই অতৃপ্তি ঘুচবে না। এই পরিস্থিতিতে সমপ্রচার নীতিমালাতে যেভাবে বিধি-নিষেধের ডালপালা ছড়ানো হয়েছে তা জনগণের সঙ্গে শাসকদের দূরত্ব বাড়াতে সাহায্য করবে।
সমপ্রচার নীতিমালা অপরিহার্য ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে খালেকুজ্জামান বলেন, রেডিও, টিভি ইত্যাদির লাইসেন্স দলীয় ও স্বার্থ-সুবিধার বিবেচনায় যে ভাবে বিগত দিনে দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে যোগ্যতার একটা মানদণ্ড ও আইনগত ভিত্তি দেয়া দরকার ছিল যা এই নীতিমালাতে নেই। তাছাড়া, আরও সমপ্রচার মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মীবাহিনীর বেতন কাঠামো, চাকরির স্থায়িত্ব ও আইনানুগ সুবিধা, অধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং জীবনের নিরাপত্তা বিধানে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ইত্যাদির কোন উল্লেখ যেখানে নেই সেখানে তা এমনিতেই অর্থহীন হয়ে যায়। ফলে সরকারের দিক থেকে প্রয়োজন দেখা দিলেও জনগণ এবং সমপ্রচার সম্পৃক্ত মহলের কাছে এর কোন প্রয়োজন কিংবা অপরিহার্যতা ছিল না বলা যায়।
বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়া কি বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণ করবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ দলীয় রাজনীতিকরণের শিকার এমনিতেই হয়ে আছে। নিম্ন আদালত প্রত্যক্ষভাবে নির্বাহী কর্তৃত্বের অধীনে। উচ্চ আদালতও পরোক্ষ কর্তৃত্বাধীন। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ১০ বছরের ওকালতি কিংবা ১০ বছরের জজিয়তি ছাড়া যোগ্য বিচারক নিয়োগের কোন মানদণ্ড কিংবা আইন নেই। এর জন্য আলাদা কোন সচিবালয়ও নেই। এখন অভিশংসনের অর্থ দাঁড়াবে, আমরা দলীয় বিবেচনায় বিচারকের নিয়োগ দিচ্ছি ভবিষ্যতে দলীয় বিবেচনায় ছাঁটাই করার ব্যবস্থাপত্র থাকবে।
দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বাইরে বাম বলয় গড়ে তুলতে বামদলগুলো কতটা সক্রিয়- এমন প্রশ্নে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা সক্রিয় অনেকদিন থেকেই। এটা শুভ ইঙ্গিতবহ। বাম গণতান্ত্রিক শক্তি ও গণআন্দোলনের শক্তি বিকাশের সম্ভাবনাকে দৃশ্যমানতায় নিয়ে আসা এখন সময়ের ব্যাপার। তিনি বলেন, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সংলাপ হলে এক চেয়ারে দু’জনের এক সঙ্গে, একই সময়ে বসার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়তো করা যাবে কিন্তু স্থান সংকুলান হবে কিভাবে? সকালের সরকার আর বিকালের সরকার, এভাবেও তো সরকার গঠন কিংবা চালানো সম্ভব নয়। আর একজনের বিনাশকে যদি আরেক জনের অস্তিত্বের শর্ত বানিয়ে ফেলি তাহলে সংলাপ আর প্রলাপ সমার্থক হয়ে পড়ে। ক্ষমতা ছাড়বো না আর ক্ষমতায় থাকতে দেবো না- এই মনোভাবের তালগাছ মার্কা সংকল্প না ছাড়া পর্যন্ত কার্যকর সংলাপ বা সংলাপের পরিস্থিতি তৈরি করা কঠিন।
আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমঝোতায় না আসা আগামীদিনের রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তারা আবার পরস্পরের প্রতি দোষারোপের ধুলা উড়িয়ে জনজীবনের সমস্যাকে অদৃশ্য করে রাখবে। উভয় পক্ষের রাজনীতিকে এভাবেই তারা চাঙ্গা করে রাখতে চাইবে। সংঘাতময় পরিস্থিতি পাল্টাতে হলে বিকল্প শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি ও গণজোয়ারের প্লাবন সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের দৃষ্টিকে এখন সেদিকে নিয়ে যেতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নওয়াজকে ক্ষমতাচ্যুত করার চাপের নেপথ্যে
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পারুল বলেছিল ‘প্রতারক মনিরের শাস্তি চাই’

মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের কলাবাগান ইটাহাটা এলাকার মুন্সীর বাড়িতে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পাইকুড়া গ্রামের জামশেদ মিয়া ও মা রিজিয়া বেগমের কন্যা পারুল আক্তার। পিতামাতা ছিলেন হতদরিদ্র। কয়েক বছর আগে তারা মারা যান। পিতামাতা হারা ছোট্ট পারুলকে তারই সৎ বোন রিনা আক্তার নিয়ে আসে গাজীপুরে। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ দেয় জয়দেবপুরের কলাবাগান ইটাহাটা এলাকার মুন্সীর বাড়ির ব্যবসায়ী মকবুল মিয়ার বাড়িতে। ছোট্ট পারুল বিগত এক দশক ধরে এ বাড়িতেই থাকে। প্রতারক প্রেমিক মনিরের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু এখানেই। গত বুধবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দোতলায় হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে দুই নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন যন্ত্রণায় কাতর পারুল এ প্রতিবেদককে জানায়, ছোটবেলা থেকেই একই বাড়িতে থাকার ফলে মনিরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছর দুয়েক আগে সে মনিরের সঙ্গে ভালবাবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। মনির তাকে আশ্বাস দেয় বিয়ের। বাধ্য করে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে। পারুলও সরল বিশ্বাসে মন প্রাণ দেহ উজাড় করে দেয় মনিরকে। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে পারুল। এলাকায় চলে কানাঘুষা। গাজীপুরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে তার গর্ভপাত করায় সুচতুর মনির। এভাবে আরও অন্তত তিন তিনবার অন্তঃসত্ত্বা হয় পারুল। প্রতিবারই তার গর্ভপাত করায় প্রতারক প্রেমিক মনির। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় পারুলের। বিয়ের জন্য চাপ দেয় মনিরকে। কিন্তু কিছুদিন ধরেই বদলে যেতে থাকে মনির। সম্পর্ক অস্বীকার করে বিয়ে করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। প্রেমিকের প্রতারণায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া পারুল গত মঙ্গলবার মনিরকে শেষবারের মতো বিয়ের জন্য চাপ দিলে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। মনির তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে পারুল বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। নিজের গায়ে নিজেই কেরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার চিৎকারে আশপাশের অনেকেই এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে ওই দিন মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ন ইউনিটে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় মনিরের স্বজনরা। পারুল জানায়, মনিরের আশ্বাসে সরল বিশ্বাসে সে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। কিন্তু তার প্রতারণায় দু’চোখে অন্ধকার দেখি। মৃত্যু ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। একদিকে নিজের সম্ভ্রম হারিয়েছি অন্যদিকে লোকলজ্জা তাই মৃত্যুকেই আমি শ্রেয় মনে করেছি। এজন্যই এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যন্ত্রণাক্লিষ্ট কণ্ঠে পারুল বলেছিল, আমি বাঁচতে চাই। বেঁচে থেকে প্রতারক মনিরের বিচার দেখতে চাই। লম্পট মনিরের যেন শাস্তি হয়। কিন্তু সকল যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে পারুল চলে গেছে না ফেরার দেশে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আবে অর্থনীতি’ কাজ করছে কি? by কোইচি হামাদা

২০১১ সালের সুনামিতে জাপান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে। তদুপরি, ভোক্তা ব্যয়ও রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে (মুদ্রাস্ফীতি ধরার পরও), গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছর তা ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কম। কিন্তু ব্যাপারটা সর্বাংশে নেতিবাচক নয়। আবে তাঁর ত্রিমুখী কৌশলের দ্বিতীয় ধাপে যে প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছেন, তাতে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় সমাজে একরকম ভারসাম্য এসেছে, জিডিপির সংকোচনমুখী প্রবণতাও কমে প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে।
এসব তথ্য-উপাত্ত থেকে দুটি বিপরীতমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। অনেক অর্থনীতিবিদই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকের নেতিবাচক ধারায় মুদ্রাস্ফীতির হার কমে যাবে, ফলে আবে যে প্রবৃদ্ধির আশা করছেন, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে ব্যাংক অব জাপান তার মুদ্রানীতির ইতিবাচক ফলাফলের কথা বলে এই সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে ইতস্তত করছে।
প্রথমোক্ত ধারাটি সঠিক হলে, ব্যাংক অব জাপানকে মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া রোধে মুদ্রানীতি আরও শিথিল করতে হবে। আর ব্যাংক অব জাপানের অবস্থান সঠিক হলে তাদের এই অবস্থান বজায় রাখা দরকার। সরকারকে এই ভোক্তা কর বৃদ্ধি স্থগিত করতে হবে বা দুই ধাপে ১ শতাংশ করে বাড়াতে হবে, একবারে ২ শতাংশ বাড়ানো ঠিক হবে না।
অবশ্যই এই কর বাড়ানোর ফলাফল দেশটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল না আসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সেই পরিসংখ্যান থেকে আসলে বোঝা যাবে, দ্রুত হারে কর বাড়ালে জাপানের অর্থনীতিতে তা কী ফল বয়ে আনবে। সুসংবাদ হচ্ছে, আবে ঠিক এটাই করতে চাচ্ছেন।
যাই হোক, মুদ্রানীতির এই সফলতা অস্বীকার করার উপায় নেই। মুদ্রাস্ফীতির হ্রাসের ব্যবধান কমে এলে মুদ্রানীতির সামগ্রিক প্রভাব কমে যাবে। কারণ, এটা ক্রমবর্ধমান হারে শুধু মূল্যের ওপরই প্রভাব ফেলে, পরিমাণের ওপর নয়।
সময় এসেছে, জাপানের নেতাদের এখন চাহিদামুখিনতার জায়গা থেকে সরবরাহমুখিনতার দিকে যেতে হবে, সেটা হবে আবের ত্রিমুখী কৌশলের তৃতীয় দিক—প্রবৃদ্ধির এক নতুন কৌশল। অর্থনীতিতে সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে গেলে চাহিদা বাড়াতে হয়, এ ছাড়া কোনো গতি নেই। তার মানে, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের ব্যবধান ব্যাপকভাবে কমে না গেলে প্রবৃদ্ধিতে জোর দেওয়া সমীচীন নয়। আবের কৌশলের এই তৃতীয় দিকটি প্রথাগত শিল্পনীতিবিষয়ক কোনো ব্যাপার নয়। বরং এটা শ্রমবাজারের সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিল ও করপোরেট কর হার কমানোয় জোর দিচ্ছে।
আবের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, শ্রমশক্তি বাড়ানো। এটি একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জই বটে, কারণ জাপানে বুড়ো মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বিদেশ থেকে শ্রমশক্তি আমদানি করা এর একটি যৌক্তিক সমাধান হতে পারে। কিন্তু সেটা করতে গেলে অভিবাসন হতে হবে, আর তা করতে গেলে আবের সরকারকে ব্যাপক সামাজিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
যে কর্মক্ষম নারীরা গৃহিণী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের একত্র করে শ্রমশক্তির ঘাটতি সহজে পূরণ করা যেতে পারে। নারীদের কাজ করার ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে সেগুলো দূর করে জাপান সরকার অনায়াসে নারীদের শ্রমে অংশগ্রহণের হার বাড়াতে পারে: শিশু সেবা ও সামাজিক বাধা। ফলে দেশটি আপৎকালের জন্য শ্রমশক্তি সঞ্চয় রাখতে পারে।
জাপানের সরকারি নিয়মকানুন বেশ ঝামেলাপূর্ণ, দেশটির প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হলে এসব দূর করতে হবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় একটি নতুন মেডিকেল স্কুল স্থাপন করতে ৩৪ বছর লেগে গেছে। সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রয়াসে এটা করা সম্ভব হয়েছে।
আবের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করতে হবে। সেগুলোর নিয়মকানুন শিথিল রাখতে হবে, প্রতিটির আবার আলাদা লক্ষ্য থাকতে হবে। যেমন নতুন কোনো মেডিকেল প্রযুক্তি গ্রহণ বা বিদেশি ব্যবসা আকৃষ্ট করার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। কর্তৃপক্ষের নজরদারিরর ধরনটা কোনো কাজের কিছু নয়, বরং সেটা বাস্তব কাজে বাধার সৃষ্টি করে। উল্লিখিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে এই প্রক্রিয়ার রাশ টেনে ধরা যাবে। একই সঙ্গে, সরকার দেশটির ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করলে শ্রমবাজারের দক্ষতা ও ধারণক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
পরিশেষে, আবের পরিকল্পনা সফল করতে হলে করপোরেট কর কমাতে হবে। এতে উল্টো কর সংগ্রহের পরিমাণ বাড়বে, কারণ এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সব দেশই বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। করপোরেট কর কমানো হলে জাপানে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।
এসব পদক্ষেপ নিতে গেলে জাপানের আমলারা বাদ সাধতে পারেন, পাছে তাঁদের প্রভাব–প্রতিপত্তি কমে যায়। বিশেষত, নিয়মকানুন শিথিল করতে গেলে এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু আবে ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইওশিহিদে সুগা যত দিন লক্ষ্যের ব্যাপারে অবিচল থাকবেন, তত দিন জাপানের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
কোইচি হামাদা: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইব্রাহিমের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা by মোহাম্মদ আবদুল মজিদ
মানবতাবোধ দ্বারা তাড়িত গতিশীল জীবনের অধিকারী মো. ইব্রাহিম ছিলেন বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে এমন একজন প্রতিভাধর ব্যক্তি, যাঁর মধ্যে নিহিত ছিল বহুমুখী মানবীয় গুণের সমাহার। তিনি আজীবন নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের ব্যক্তি ও সমাজ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে তাঁর এমন একটি মর্যাদাশীল আসন তৈরি হয়েছে, যা অর্জন অন্য কোনো চিকিৎসা সমাজবিদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তার প্রধানতম সাফল্য চিকিৎসা পেশাকে চিকিৎসা সমাজসেবায় রূপান্তরিত করা।
ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং জাতীয় জনসংখ্যা কাউন্সিলকে পরিবার পরিকল্পনা নীতিমালা ও জাতীয় কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ন্ত্রকের কার্যকর ভূমিকায় দাঁড় করান। তিনি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে দেশের ১ নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বহুকৌণিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে মৌলিক পরিবর্তন আনয়নে প্রয়াস পান। তাঁর নীতিমালার মূল ভিত্তি ছিল উদ্বুদ্ধকরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম ছিল সরাসরি লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক।
একই সঙ্গে স্বপ্ন দেখা ও সর্বাঙ্গসুন্দরভাবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার মোহনীয় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন ডা. ইব্রাহিম। মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত মহানুভব মানুষটি মানবতার মহান উচ্চ আদর্শের প্রতি ছিলেন আজীবন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও নিবেদিতচিত্ত। বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক সময় এই জাতীয় মানুষের মধ্যে বাস্তব বুদ্ধির কিছুটা ঘাটতি থাকে, যার ফলে তাঁদের আদর্শবাদ জাগতিক উপযোগিতার ক্ষেত্রে আপাতসাংঘর্ষিকতায় হয়তো কাঙ্ক্ষিত কোনো অবদান প্রত্যক্ষভাবে রাখতে পারে না। বিস্ময়ের ব্যাপার ডা. ইব্রাহিম ছিলেন এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি সেবার যে উচ্চ আদর্শ তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত সঞ্চারিত করতে সচেষ্ট ছিলেন, তা ছিল বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।
কর্তব্য যে ধর্ম, তা অধ্যাপক ইব্রাহিম তাঁর নিজের জীবনে প্রতিফলিত করেছিলেন। তিনি ধর্মপরায়ণ ছিলেন, কিন্তু ধর্মীয় ব্যাপারে তাঁর কোনো গোঁড়ামি ছিল না। তাঁর সফলতার ক্ষেত্রে অন্যান্য গুণের সঙ্গে সঠিক নেতৃত্বই মূল ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর সব উদ্দেশ্যের মধ্যে সততা ছিল, ছিল অন্তরভরা মমতা। তাই তাঁর একক প্রয়াস বহুল সাধনার ধন হয়ে উঠেছিল। ডা. ইব্রাহিমের কর্মজীবনের অসামান্য সাফল্যের পেছনে ছিল তাঁর গভীর সাধনা। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কঠোর পরিশ্রম ও সততাই ছিল তাঁর একমাত্র বিত্ত।
ডাক্তার ইব্রাহিম জন রাস্কিনের (৮ ফেব্রুয়ারি ১৮১৮-২০ জানুয়ারি ১৯০০) অর্থনৈতিক দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধাবলি আনটু দিজ লাস্ট (১৮৬০) বইটির ছাঁচে তাঁর সমগ্র কর্মজীবন গড়ে নিয়েছিলেন, যে বইয়ে রাস্কিন দেখিয়েছেন, ‘অর্থ ও বিত্ত মানুষের সত্যিকারের মূল্যায়ন করে না, মানুষের মূল্যায়ন হয় অন্য মানুষের তার ওপর আস্থার ভিত্তিতে...একজন লোক ধনী কি নির্ধন, সেটা নির্ধারিত হওয়া উচিত সেই লোকটির প্রতি অন্য কতজন লোকের আস্থা রয়েছে, সেটার ভিত্তিতে। যাকে দেখলে মানুষ আনন্দ হেসে উঠবে। মনে করবে তাদের পরম হিতৈষী চলে এসেছে, এবার সব সমস্যার সমাধান করে তাদের দুশ্চিন্তামুক্ত করবে সে। তাকে দেখামাত্রই সবাই উল্লসিত মনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পথ ছেড়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ, মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং অবস্থাই ধনী-নির্ধন পার্থক্যের মাপকাঠি।’
যে দেশ ও সমাজে সীমাহীন সার্বিক (অর্থনৈতিক, চিন্তা-চেতনার, সহনশীলতার, সাধনার) দারিদ্র্যের কারণে বড় কিছু করা যায় না, মহৎ কিছু গড়ে ওঠে না, যেখানে চিন্তার দীনতা, উদ্যম-উদ্যোগের অভাব এবং ত্যাগ স্বীকারের অনীহা অন্যতম প্রতিবন্ধকতা, সে দেশে ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমাণ করে দিয়েছেন, উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয়, লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, প্রচেষ্টা যদি আন্তরিক হয়, তবে স্বল্পোন্নত দেশেও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, তথা বারডেমের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়। ১৯৫৬ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডায়াবেটিস চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রথম বছরে মাত্র ৩৯ জন রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছিল। সেখানে এখন শুধু বারডেমেই চিকিৎসাধীন নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি। শুধু ঢাকা শহর এবং এর উপকণ্ঠে নয়, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ডায়াবেটিক চিকিৎসাকেন্দ্র আজ দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সততা থাকলে অঙ্কুর কী করে মহামহিরুহের রূপ লাভ করতে পারে, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠান শাহবাগের বারডেম এটির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
বারডেম এখন শুধু দেশে নয়, বিদেশেও বিস্ময়করভাবে সমাদৃত, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক এর একটি সহযোগী কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন বাংলাদেশের ডায়াবেটিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিক চিকিৎসার মডেল বা অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে গণ্য করে। আর ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার সঙ্গে আমেরিকার জসলিন, ইংল্যান্ডের লরেন্স ও বাংলাদেশের ইব্রাহিমের নাম জড়িয়ে রয়েছে।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ: সরকারের সাবেক সচিব এবং এনবিআরের চেয়ারম্যান। বর্তমানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির চিফ কো-অর্ডিনেটর।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরিশ্রম করো, খেলে ঘাম ঝরাও
![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া জোট গঠন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
September
(447)
-
▼
Sep 07
(14)
- সানি লিওনের সঙ্গে সেক্স রোমান্সের অপেক্ষায় তুষার
- অর্থনীতি- আমাদের আবাসন খাতের বুদবুদ by ফারুক মঈনউদ...
- ‘রাজনৈতিক থমথমে পরিস্থিতি বড় ঝড়ের পূর্বাভাস’ -মুজা...
- কেন্দ্রের কারণে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি না -...
- অনলাইনে উগ্রপন্থিদের ভয়ঙ্কর প্রচারণা by নুরুজ্জামা...
- পর্নো ছবিতে অভিনয়ের চাপ স্বামীকে খুন করেছেন তামিল ...
- হাসিনা-আবে বৈঠক -নিরাপত্তা পরিষদে জাপানকে সমর্থন ব...
- সাক্ষাৎকার -বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন বাড়ছে b...
- নওয়াজকে ক্ষমতাচ্যুত করার চাপের নেপথ্যে
- পারুল বলেছিল ‘প্রতারক মনিরের শাস্তি চাই’
- ‘আবে অর্থনীতি’ কাজ করছে কি? by কোইচি হামাদা
- ইব্রাহিমের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা by মোহাম্মদ আবদুল...
- পরিশ্রম করো, খেলে ঘাম ঝরাও
- আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া জোট গঠন
-
▼
Sep 07
(14)
-
▼
September
(447)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


