Showing posts with label দিল্লি. Show all posts
Showing posts with label দিল্লি. Show all posts

Wednesday, October 21, 2026

এবার দিল্লির ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এবার প্রায় দেড় শ বছরের প্রাচীন রেসকোর্স মসজিদের নামে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হয়েছে। নথিভুক্ত ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও এবং পৌরসভার খাতায় ‘ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি’ হিসেবে উল্লেখ থাকলেও মসজিদটি ‘অবৈধ নির্মাণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দিল্লির জমি ও উন্নয়ন দপ্তর।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনসংলগ্ন এই এলাকায় বস্তি উচ্ছেদসহ ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। এর আগেও দিল্লি, উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ‘অবৈধ নির্মাণ’ আখ্যা দিয়ে বেশ কিছু মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী একটি মসজিদের কমিটির কাছে সম্প্রতি উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ অফিস নোটিশে উল্লেখ করেছে, ঐতিহাসিক এ কাঠামোটি অবৈধভাবে সরকারি জমিতে তৈরি হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ অননুমোদিত।

নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটে রেসকোর্স মসজিদটিকে ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রাচীন সৌধটির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছয় দিনের মধ্যে প্রাঙ্গণ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরবিষয়ক মন্ত্রকের অধীন এই দপ্তর।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়েইসি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে একটি গেজেটেড ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃত। দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে ওয়াক্‌ফ সংশোধন আইনের অধীনে এই ঐতিহ্যবাহী কাঠামোটি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য বলেও তিনি যুক্তি তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ভারতের সর্ববৃহৎ মুসলিম সংগঠন জামিয়াত উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল গত সোমবার রিজিজুর সঙ্গে দেখা করে মসজিদ এবং সংলগ্ন কবরস্থানটিকে সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছে। স্মারকলিপিতে তাঁরা সরকারি ঐতিহ্য তালিকায় মসজিদের নাম থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। দ্রুত বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ পুনর্বহাল করার দাবিও জানান তাঁরা।

মুসল্লিরা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছে জামিয়াত উলামায়ে হিন্দ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, তিনি এ বিষয়টি সমাধানে সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করবেন।

দিল্লির ১৫০ বছরের পুরোনো রেসকোর্স মসজিদের ফটক
দিল্লির ১৫০ বছরের পুরোনো রেসকোর্স মসজিদের ফটক। ছবি: দিল্লিভিত্তিক সংবাদকর্মী হুদা জরিওয়ালার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ভিডিও থেকে নেওয়া

Monday, October 12, 2026

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নরেন্দ্র মোদি by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্লেষণঃ এক সপ্তাহ হয়নি শাসক হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন টানা ১৩ বছর, পরের ১২ বছর দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। আরও তিন বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাটিয়ে দেবেন এবং পরের লোকসভা ভোটেও দল ও জোটের নেতৃত্ব দেবেন— এই বিশ্বাসে এখনো মগ্ন বহু মানুষ। এই সিকি শতকে দল কিংবা বিরোধী পক্ষে এমন কোনো মুখ দেখা যায়নি, যা মোদিকে ছাপিয়ে যেতে পারে। তবুও এই মুহূর্তে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন। কেননা, রাজনৈতিক ভাগ্য অথবা কর্মফল আবার তাঁকে এক মোক্ষম পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারেও তিনি উতরে যাবেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।

২৫ বছরে মোদিকে কম চ্যালেঞ্জ ও সংকটের মুখোমুখি হতে হয়নি। ২০০১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হয়েই কচ্ছের ভয়ংকর ভূমিকম্পের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। পরের বছর গোধরাকান্ড এবং গুজরাটের দাঙ্গা। দলের শীর্ষ নেতাদের প্রবল সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। অটল বিহারি বাজপেয়ীর রোষানলে পড়ে মুখ্যমন্ত্রিত্ব যখন প্রায় যায় যায়, তখন পরিত্রাতা হয়ে দেখা দিয়েছিলেন তৎকালীন বিজেপির লৌহপুরুষ লালকৃষ্ণ আদভানি। গুজরাট দাঙ্গার রেশ কম দিন চলেনি দেশে ও বিদেশে। এক ও অদ্বিতীয় ‘ম্যান ফ্রাইডে’ অমিত শাহর গ্রেপ্তারি, দাঙ্গা–সম্পর্কিত মামলা, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল করে দেওয়ার মতো অসম্মান সামাল দিয়ে ক্রমে তিনি আরও শক্তি সঞ্চয় করেছেন এতটাই যে ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের মোকাবিলায় আরএসএস তাঁকেই তুরুপের তাস হিসেবে মেলে ধরে। তারপর তো ইতিহাস।

প্রধানমন্ত্রী হয়েও মোদি যে নিস্তরঙ্গ জীবন কাটিয়ে চলেছেন, তা নয়। নিজের অজান্তে নিজেই বিপদ ডেকে এনেছেন নোটবন্দীর ঘোষণা দিয়ে। জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) চালু করা নিয়েও কম বিরোধিতা সহ্য করতে হয়নি। সীমান্তপারের বিরোধও তাঁকে তটস্থ রেখেছে। প্রথমে উরি, পরে পুলওয়ামা। আত্মরক্ষার্থে ব্যর্থ হয়েও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে কীভাবে অনুকূল করতে হয়, তা তিনি দেখিয়েছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে আরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে তিনি দেখিয়েছেন, কট্টর হিন্দুত্ববাদী প্রচার ও ইলেকশন মেশিনারি কি অসাধ্য সাধন করতে পারে। করোনা মহামারির সময় নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষেধক সরবরাহ করেন। এতে তিনি নিজেকে বৈশ্বিক নেতা হিসেবে প্রতিপন্নের চেষ্টা করেছেন। গলওয়ানে চীনের আগ্রাসনে বিধ্বস্ত হয়েও পা হড়কাতে দেননি। কৃষক বিদ্রোহে টালমাটাল হয়েছেন; কিন্তু বাধ্য হয়ে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করেছেন। বুঝিয়েছেন কোন সময় ব্রেক কষতে হয়।

২০২৪ সালের ভোটে কম আসনে জিতেও গত দুই বছরে একবারের জন্যও কাউকে বুঝতে দেননি সরকার চালাতে ও জোট অটুট রাখতে মোদিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ললাটলিখন বদলে দিয়ে সাফল্যের পথ কণ্টকাকীর্ণ থেকে কুসুমকোমল করে ফেলার নমুনা তাঁর চেয়ে ভালো এ দেশের আর কোনো জননেতা দেখাতে পারেননি এখনো।

আগের সঙ্গে এবারেও এই সংকট মোদি কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি না, হঠাৎ সেই প্রশ্ন আষাঢ়ের ঘন কালো মেঘের মতো গগন ছেয়ে ফেলেছে। সংবিধানসম্মতভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন পরিচালনা করছেন কি না, আইন মেনে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর হয়েছে কি না, বিজেপির স্বার্থে জ্ঞানেশ কমিশনকে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছেন কি না, নিরপেক্ষতার নামাবলি গায়ে চড়িয়েও তিনি মোদি–শাহর অন্ধ অনুগামী হিসেবে কাজ করছেন কি না, এসব মারাত্মক অভিযোগ এখন সরকারের সামনে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। এত দিন যেসব অভিযোগের তির সরকারের দিকে ধাবিত হয়েছে, তার প্রতিটিই এসেছে বিরোধী মহল থেকে।

এই প্রথম বিরোধীদের তোলা প্রশ্ন ও বিপক্ষের সন্দেহে ধুনো দিয়েছেন এমন দুজন, যাঁরা জ্ঞানেশ কুমারেরই সহযোগী, যাঁদের নিয়োগকর্তাও মোদি–শাহ। প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চলল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর স্টোরি ‘অসত্য’ বলে ‘জ্ঞানেশ অ্যান্ড কোং’ বিবৃতি দেননি। তিন কমিশনার এখনো সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগগুলো খণ্ডন করেননি; বরং তাঁদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকারান্তরে এটাই বুঝিয়ে দিয়েছে—সংবাদপত্রটির তোলা প্রতিটি অভিযোগই সত্য।

আগের সঙ্গে এবারের এই সংকট বা চ্যালেঞ্জের পার্থক্য রয়েছে অনেক দিক থেকে। এই প্রথম অভিযোগের তির উঠেছে সাংবিধানিক সংস্থা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, যার কর্তাদের নিয়োগপদ্ধতি মোদি সরকার নিজেদের অনুকূলে তৈরি করেছেন। সিইসি ও ইসি নিযুক্তির কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে সে জায়গায় মন্ত্রিসভার আরও এক সদস্যকে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট—সরকার তার ‘ইয়েসম্যান’দের হাতেই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিতে বদ্ধপরিকর। তিন কমিশনারকে আজীবন আইনি রক্ষাকবচ দেওয়ার সিদ্ধান্তও অভূতপূর্ব ও বিতর্কিত। এমন ইমিউনিটি বা ছাড় রাষ্ট্রপতির নেই, প্রধানমন্ত্রীর নেই, প্রধান বিচারপতিরও নেই। কেন ওই রক্ষাকবচ! কার স্বার্থে, নির্বাচন কমিশনকে কোন অপকর্মের জন্য সরকার ওই রক্ষাকবচ দিয়েছে—এই মারাত্মক প্রশ্নগুলো জনমনে তোলপাড় করছে। মোদি সরকারের কাছে এখনো এর জুতসই জবাব নেই। দুটি বিষয়ই আপাতত সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন।

এতকাল মোদির সামনে সমস্যা হাজির করেছে হয় রাজনৈতিক দল, নয়তো ব্যক্তিবিশেষ; অথবা কৃষক, শ্রমিক, চিকিৎসকদের মতো পেশাজীবী মহল ও সরকারি কর্মচারীরা। এই প্রথম মাথা তুলে সরকারের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন তুলেছে দেশের জেন–জি সম্প্রদায়। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের জেন–জি কি বিশাল পরিবর্তন ঘটিয়েছে, সবার তা জানা। অকুতোভয় এই মহলের সঙ্গে জুটি বেঁধেছে জেন আলফা। এক যুগ ধরে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের নীতি ও কাজকর্ম একধরনের রাজনৈতিক ক্লান্তি ও অবসাদ সৃষ্টি করেছে। সেখানে সরকারের প্রতি জেন–জির এই অনাস্থা বিরোধীদেরও অতি উৎসাহিত করে তুলেছে। এই আন্দোলন এখনো ঠাসবুনট নয়। বিরোধীরাও সবাই মোদি–বিরোধিতায় বরফজমাট নয়। বিজেপিও ইতিমধ্যে ঠিক করেছে, লড়াইটাকে তারা ‘দেশপ্রেমী বনাম দেশবিরোধী’, ‘রাষ্ট্রবাদী বনাম বিচ্ছিন্নতাবাদী’, ‘স্বদেশের বিরুদ্ধে বিদেশি চক্রান্তের’ তকমা দেবে। বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মোদির ভারতের অগ্রগতি যাদের চক্ষুশূল, সেই বিদেশি শত্রুরাই সরকারের বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত করছে। এই লড়াই তাই প্রকৃত ভারতীয়র সঙ্গে ভারতবিরোধীদের।

এভাবেই নরেন্দ্র মোদি সিকি শতক জয়ী হয়েছেন। তিনি কট্টর হিন্দুত্ববাদে সওয়ার হয়ে ‘হিন্দুস্তান–পাকিস্তান’–এর জিগির তুলে নির্বাচনী ভাগ্য গড়ে তুলেছেন। এই প্রথম সেই নির্বাচন কমিশন মোক্ষম প্রশ্নের মুখে। আর গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার সেই প্রশ্ন তুলেছে জেন–জি। মনে রাখতে হবে, ২০২৯ সালে ভারতে জেন–জি জনসংখ্যা হবে ৩৮ কোটি। এর সঙ্গে জেন আলফা যুক্ত হলে পরবর্তী লোকসভায় এই দুই শ্রেণির মোট ভোটার হবে ৮০ কোটি। এদের বিরোধিতা করে হিন্দুত্ববাদের পালে হাওয়া দিয়ে সুশাসনের তরি বেয়ে নরেন্দ্র মোদি পাড়ে উঠতে পারবেন কি? পারবেন কি সব রাজনৈতিক জল্পনা নস্যাৎ করে মাথা উঁচু রাখতে? সন্দেহ নেই এটাই সম্ভবত তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পুলিশের ব্যারিকেড ও চেক পয়েন্ট দিয়ে যানবাহন ও হেঁটে মানুষ পার হচ্ছেন। দিল্লির সড়কে রোববারও মানুষের আনাগোনা কম। ১১ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি
পুলিশের ব্যারিকেড ও চেক পয়েন্ট দিয়ে যানবাহন ও হেঁটে মানুষ পার হচ্ছেন। দিল্লির সড়কে রোববারও মানুষের আনাগোনা কম। ১১ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি। ছবি: রয়টার্স

Saturday, October 10, 2026

দিল্লিতে আন্দোলন, বিমান থেকে আটক অভিজিৎ দিপকে

ভারতের দিল্লিতে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই বিমান থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দিল্লি পুলিশের একটি দল বিমানে উঠে তাকে আটক করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সিজেপির আরও দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে আটকের ঘটনাটি তুলে ধরেন। তার প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দিল্লি পুলিশের সদস্যরা বিমানের ভেতরে প্রবেশ করছেন। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে হইচই শুরু হয় এবং সিজেপির সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়।

ভিডিওতে অভিজিৎ দিপকেকে নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে আসা পর্যন্ত পুলিশ অপেক্ষা করতে পারত। এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের গ্রেপ্তার করতে পারতেন। আমরা ভয় পাই না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে ভারতের দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই আলোচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে ধ্রুব রাঠির পারিবারিক বাসায় সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে প্রবেশ করেন পুলিশ সদস্যরা। তার মা দরজা খুলে দিলে পুলিশ বাসার ভেতরে যায়। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে ওই বাসার বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।

দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে ধ্রুব রাঠি দিল্লিতে এসেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু ধ্রুব নয়, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই থেকে জানা গেছে, আরেক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাব্য কর্ণাটককেও আটক করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

অভিজিৎ দিপকে। ছবি: রয়টার্স
অভিজিৎ দিপকে। ছবি: রয়টার্স

দিল্লিতে বিক্ষোভে আটক মমতা-কেজরিওয়ালসহ নেতারা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

শনিবার ( ১০ অক্টোবর) তাদের পাশাপাশি বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও অন্যান্য নেতাকেও আটক করে পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি বাসস্ট্যান্ডে বসে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তার মুখে ব্যান্ডেজ দেখা যায়।

তৃণমূলের পাঁচ সংসদ সদস্য, যাদের মধ্যে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনও ছিলেন, তাদের আটক করে পুলিশের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের বাসের ভেতর থেকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় মমতা বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে।’ তিনি আরও বলেন, মানুষের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করতে ইন্ডিয়া জোটের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, সকাল থেকেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন ঘিরে রেখেছিল দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও আটক করা হয়।

পরে ভিডিওবার্তায় কেজরিওয়াল বলেন, দেশের তরুণেরা এই দমন-পীড়নে ভয় পাবে না। ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান তিনি।

কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও সিপিএমের সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসকেও আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামের আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। যন্তর মন্তরে বিরোধীদের কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আরও কয়েকজন বিরোধী ও ছাত্রনেতা আটক হন।

নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের এই আন্দোলন। শুক্রবার ( ৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, গত দুই বছরে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করতে হবে।

বৈঠকের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানান, সোমবার ( ১২ অক্টোবর) তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেবেন। নির্বাচন কমিশনের কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার বড় কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট।

তবে রাহুল গান্ধী রাষ্ট্রপতি ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তার এই দাবি সঠিক নয়।

সূত্র: এনডিটিভি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: এনডিটিভি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: এনডিটিভি

Thursday, September 24, 2026

কুড়িয়ে পাওয়া পাথর থেকে ঘড়ি, বিক্রি হলো ৫ হাজার টাকায়

প্রকাশ ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ ইচ্ছা থাকলে রাস্তার ধারে অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকা তুচ্ছ একখণ্ড পাথর দিয়েও অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এবার সেটিই হাতে কলমে করে প্রমাণ করলেন এক উদ্যেমী কিশোর। সামান্য সৃজনশীতা আর একটু চেষ্টা থাকলে সাধারণ জিনিসকেও যে অসাধারণ করে তোলা সম্ভব, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে সে।

পরিত্যাক্ত একখণ্ড পাথর থেকে একটি ঘড়ি বানিয়ে, সেটি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে বিক্রি করে সে মুহূর্তেই রোজগার করল ৫ হাজার টাকা! এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

ইতোমধ্যেই ভিডিওটি দেখেছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ। ভিডিওর শুরুতে কিশোর প্রশ্ন করে, সামান্য একটি পাথর থেকে কি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব? এর পরপরই সে রাস্তার ধার থেকে একটি পাথর তুলে নিয়ে পরিষ্কার করে কাটিং করে নেয়। পাথরের পেছনে বর্গাকৃতির কাটিংয়ের পর তাতে একটি ঘড়ির যন্ত্র বসানোর আকার দেওয়া হয়।

এরপর পাথরটিতে রং ও পালিশ করে এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেটি প্রথম দেখায় যে কারো মনে হবে একটি দামি পাথরের টুকরো। পরে ঘড়ির যন্ত্রটি বসিয়ে কিশোর সেটিকে নিয়ে হাজির হয় দিল্লির কনট প্লেসের জনবহুল এলাকায়। প্রথম দফায় সে বিশেষ সাড়া না পেলেও, আরও দৃষ্টিনন্দন করে ফিরলে এক ক্রেতা এসে ঘড়িটির দাম জানতে চান।

ওই কিশোর তখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ৫ হাজার টাকা দাম চাইলে, অবাক করে দিয়ে ক্রেতাও রাজি হয়ে যান! মাত্র ৪৬০ টাকা খরচ করে তৈরি এই ঘড়ি বিক্রি করে তার লাভ হয় ৪ হাজার ৫৪০ টাকা। ডিলাক্সভাইয়াজি নামের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এই ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

নেটিজেনরা বলছেন, কিশোরের সৃজনশীলতার এমন দামই হওয়া উচিত। আর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দিল্লিতে। 

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

Wednesday, April 8, 2026

হার্ডডিস্কে ১৫ নারীর নগ্ন ভিডিও: প্রেমিককে খুন করলেন প্রেমিকা

একটি হার্ড ডিস্ক। তার ভেতরে প্রেমিকা সহ আরও ১৫ নারীর নগ্ন ভিডিও। এ কথা জানতে পেরে প্রেমিক রামকেশ মিনারকে হত্যা করে তার প্রেমিকা। রামকেশ ৩২ বছর বয়সী একজন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী। তাকে নৃশংস হত্যা করা হয়েছে। দিল্লির উত্তরাঞ্চলের টিমারপুরে একটি ফ্ল্যাটে গত ৬ই অক্টোবর ২০২৫ তার পোড়া দেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাটিকে প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের গল্প। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, প্রেমিকা অমৃতা চৌহানের সঙ্গে লিভ টুগেদার করতেন রামকেশ। খুনের তিন সপ্তাহ পর পুলিশ গ্রেফতার করে রামকেশের প্রেমিকা অমৃতা চৌহান, তার সাবেক প্রেমিক সুমিত কাশ্যপ এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সন্দীপ কুমারকে। অভিযোগ করা হয়, তারা রামকেশকে খুন করে আগুন লাগিয়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেছিল। অমৃতা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, রামকেশ তার সঙ্গে সম্পর্কের সময় গোপনে কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও রেকর্ড করেছিল। তা একটি হার্ড ডিস্কে সংরক্ষণ করে রাখেন। অমৃতা বারবার অনুরোধ করলেও রামকেশ ভিডিওগুলো মুছতে রাজি হননি। সেই হার্ড ডিস্ক উদ্ধার করাই ছিল হত্যার অন্যতম উদ্দেশ্য। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হার্ড ডিস্কটিতে আরও কমপক্ষে ১৫ জন নারীর ব্যক্তিগত গোপন ভিডিও আছে। এসব নগ্ন ভিডিওর বেশির ভাগই ওইসব নারীর অজান্তে ধারণ করেছিলেন রামকেশ।

তদন্ত অনুযায়ী, রামকেশকে মারধরের পর ৫ই অক্টোবর রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সুমিত ও সন্দীপ। এরপর তারা মৃতদেহে তেল, ঘি ও মদ ঢেলে আগুন ধরানোর প্রস্তুতি নেয়। সুমিত রান্নাঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এনে মৃতদেহের পাশে রাখে, গ্যাসের ভাল্ভ খুলে দেয়। সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। এরপর একটি লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল এটি হয়তো গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণ। কিন্তু ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ঘটনার অসামঞ্জস্যতা দেখে তদন্ত আরও গভীরভাবে চালানো হয়। পুলিশ ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে পায়, আগুন লাগার আগের রাতে দুই মুখোশধারী পুরুষ ভবনে প্রবেশ করে। কিছু সময় পরে একজন বেরিয়ে যায়। পরে একজন নারী ও একজন পুরুষকে বের হতে দেখা যায়। সেই নারী ছিলেন অমৃতা, রামকেশের সহবাসী প্রেমিকা।

এরপর থেকেই সন্দেহ গাঢ় হয়। অমৃতার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে সুমিত (২১ অক্টোবর) ও সন্দীপ (২৩ অক্টোবর)কেও পুলিশ ধরে ফেলে। অমৃতা ফরেনসিক বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্রী। পুলিশের ভাষায় অপরাধবিজ্ঞানে তার প্রবল আগ্রহ ছিল। এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, অবশ্যই সে তার ফরেনসিক জ্ঞান ব্যবহার করেছে। সে ও সুমিত আলোচনা করেছিল, কীভাবে ঘটনাস্থলে কোনো প্রমাণ না রেখে খুনটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো যায়। সুমিত এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কোম্পানিতে কাজ করত। সে জানত সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটতে কতক্ষণ লাগে। তারা ভেবেছিল পুলিশ কখনোই তাদের ধরতে পারবে না।

তদন্তে উদ্ধার হওয়া হার্ড ডিস্কে কমপক্ষে ১৫ জন নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার রবীন্দ্র যাদব। যদিও তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাই না। কারণ এখনো অন্য কোনো নারী অভিযোগ করেননি। তাছাড়া এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আনলে তাদের সম্মানহানি হতে পারে। নারীর সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ বা প্রচার করা ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র ৭৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অপরাধ। প্রথমবার দোষী প্রমাণিত হলে এক বছরের কারাদণ্ড। পুনরায় একই অপরাধ করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

mzamin

Friday, December 26, 2025

প্রশ্নপত্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতন প্রসঙ্গ, দিল্লিতে সাময়িক বরখাস্ত এক অধ্যাপক

মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতন নিয়ে প্রশ্ন করার কারণে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (জেএমআই) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপককে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য তিনি যে প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এরপর ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে এ সপ্তাহের শুরুতে অনুষ্ঠিত বিএ (অনার্স) সোশ্যাল ওয়ার্ক প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় আসা ১৫ নম্বরের প্রশ্নটি। ‘ভারতে সামাজিক সমস্যা’ শীর্ষক ওই প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছিল, ‘উপযুক্ত উদাহরণসহ ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নির্যাতন নিয়ে আলোচনা করো।’

এই প্রশ্নটি তৈরি করেছিলেন অধ্যাপক বীরেন্দ্র বালাজি শাহারে। অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে শিক্ষক সদস্যের পক্ষ থেকে অবহেলা ও অসতর্কতার পরিচয় হিসেবে বর্ণনা করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অধ্যাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, একাডেমিক দায়িত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সিএ শেখ সফিউল্লাহর স্বাক্ষরিত একটি আদেশ- যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে বরখাস্তের বিষয়টি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে অধ্যাপক শাহারের কর্মস্থল (হেডকোয়ার্টার) হবে নয়াদিল্লি এবং তিনি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া হেডকোয়ার্টার ত্যাগ করতে পারবেন না।

একই আদেশে ‘নিয়ম অনুযায়ী’ একটি পুলিশ এফআইআর দায়ের করা হবে বলেও উল্লেখ ছিল। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়, আপাতত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের করার ইচ্ছা নেই। এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষক সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশ মামলা করার প্রস্তাব নেই। বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে একটি কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আদেশের ভাষা থেকে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়। সোমবার প্রশ্নপত্রের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে অনেক ব্যবহারকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তারা প্রশ্নের ভাষা ও উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এতে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতের অভিযোগ করেন।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপদেষ্টা কাঞ্চন গুপ্তা এক্সে বরখাস্তের নোটিস শেয়ার করার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তিনি লিখেছেন, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। এই প্রশ্নে খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।

বরখাস্তের আদেশ ছাড়া জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি না দিলেও সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি খতিয়ে দেখবে প্রশ্নটি কীভাবে তৈরি ও অনুমোদিত হয়েছিল এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বা পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে কি না। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

mzamin

Friday, December 5, 2025

দিল্লির দূষিত বায়ুতে তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ২ লাখের বেশি মানুষ

দিল্লির বিষাক্ত বায়ু জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দিল্লির ছয়টি সরকারি হাসপাতালে তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি রোগীকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, শীত আসলেই দিল্লি ও তার উপশহরগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নেয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দিল্লির বায়ুর মান ইনডেক্স (একিউআই) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে ২০ গুণ বেশিতে অবস্থান করছে। বিশেষ করে পিএম ২.৫ কণার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। যা সরাসরি শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে ফুসফুসে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

দূষণের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। শিল্পকারখানার নির্গমন, যানবাহনের ধোঁয়া, তাপমাত্রা হ্রাস, বাতাসের গতি কমে যাওয়া এবং আশপাশের রাজ্যগুলোতে কৃষিজমির খড় পোড়ানোর মতো নানা কারণে পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির ছয়টি প্রধান হাসপাতালে ২০২২ সালে ৬৭ হাজার ৫৪টি, ২০২৩ সালে ৬৯ হাজার ২৯৩টি এবং ২০২৪ সালে ৬৮  হাজার ৪১১টি শ্বাসকষ্টের মামলা নথিভুক্ত হয়। সরকারের ভাষ্য, দূষণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক দেখা গেছে, তবে এটি সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখানো সম্ভব নয়।

গত এক দশকে বেশ কয়েকবার দিল্লির গড় একিউআই ‘গুরুতর’ ৪০০-এর উপরে উঠেছে। যা সুস্থ মানুষদের জন্যও ক্ষতিকর এবং অসুস্থদের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। বুধবার সকালে সরকারি সমর্থিত ‘সফর’ অ্যাপ জানায়, দিল্লির গড় একিউআই ছিল প্রায় ৩৮০।

গত সপ্তাহে বিবিসি জানিয়েছে, দিল্লি ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে দূষিত বায়ুর কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুদের ভিড় বাড়ছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে দায়ের করা এক পিটিশনের শুনানি বুধবার দিল্লি হাই কোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে দেশটির সুপ্রিম কোর্টও গত কয়েক বছর ধরে দিল্লির অবনতিশীল বায়ুমান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

mzamin

Saturday, November 15, 2025

দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর ভারতে আবার ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, কাশ্মীরে চলছে ধরপাকড়

ভারতের দিল্লির একটি জনাকীর্ণ সড়কে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনার ২৬ দিন আগে নওগামে একটি সবুজ শিরোনামযুক্ত প্যাম্ফলেট দেখা গিয়েছিল। নওগাম হলো ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি নিরিবিলি এলাকা। ওই পোস্টারে ভাঙা ভাঙা উর্দুতে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, পোস্টারটি ওই সংগঠনের সঙ্গেই সম্পৃক্ত।

প্যাম্ফলেটের ভাষা ছিল হুমকিতে পূর্ণ। সেখানে কাশ্মীরে অবস্থানরত ভারতীয় সরকারি বাহিনী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

প্যাম্ফলেটে লেখা ছিল, ‘স্থানীয় মানুষের মধ্যে যারা এই সতর্কবার্তা মেনে চলবে না, তাদের বিরদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

এতে শ্রীনগর ও জম্মুর মধ্যবর্তী মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী দোকানদারদেরও সতর্ক করা হয়েছিল। সরকারি বাহিনীগুলোকে আশ্রয় দিলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

একসময় এ ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়াটা সাধারণ ঘটনা ছিল। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে কাশ্মীরে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আন্দোলন যখন তুঙ্গে ছিল এবং স্থানীয় ও পাকিস্তান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাত তখন এ ধরনের ঘটনা দেখা যেত।

২০১৯ সালের আগস্টে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। রাজ্য হিসেবে এটির স্বীকৃতি বাতিল করে এবং এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে এমন পোস্টার দেখা যাওয়ার ঘটনা অনেকটাই বিরল হয়ে গিয়েছিল। সশস্ত্র সহিংসতাও কমেছিল।

দক্ষিণ এশিয়ায় হামলা নিয়ে কাজ করা সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সশস্ত্র হামলার সংখ্যা ছিল ৫৯৭। আর ২০২৫ সালে তা ১৪৫-এ নেমে আসে।

সম্প্রতি নওগামে নতুন করে প্যাম্ফলেট দেখা যাওয়ার পর তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তদন্তে বলা হয়েছিল, একাধিক ব্যক্তি হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এর মধ্যে উমর নবী নামের এক চিকিৎসকও ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গত সোমবার নয়াদিল্লিতে মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরিত হওয়া গাড়িটি তিনিই চালাচ্ছিলেন।

এ ঘটনায় এবং ভারতের অনেক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনা সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনগুলো ইসলামবিদ্বেষ ও কাশ্মীরবিরোধী মনোভাবের নতুন ঢেউ তৈরি করেছে।

নওগামে প্যাম্ফলেটের উৎস খুঁজতে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে মনোযোগ দেন। ফুটেজে যা দেখা যায়, তার ভিত্তিতে তাঁরা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেন। এর মধ্যে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলার এক ইসলামী চিন্তাবিদও আছেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা আল–জাজিরাকে এ তথ্য দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা তাঁর নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

আটক ২৪ বছর বয়সী ইসলামী চিন্তাবিদের নামে ইরফান আহমেদ। তিনি শ্রীনগরের একটি স্থানীয় মসজিদের পেশ ইমাম। আর ওই শ্রীনগরেই পোস্টারগুলো দেখা গিয়েছিল।

ইরফানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে পুলিশের সামনে আসে আরেকটি নাম: আদিল রাঠোর। তিনি কুলগামের ওয়ানপোরা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামটি শ্রীনগর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।

পুলিশ রাঠোরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পায়নি। পরে তাঁকে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করছিলেন।

পুলিশ দাবি করেছে, তারা জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে রাঠোরের লকারে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল পেয়েছে। রাঠোর ওই কলেজে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

এদিকে রাঠোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বেরিয়ে আসে আরেক সহযোগীর নাম। তিনি হলেন, আরেক কাশ্মীরি চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গণাই। তিনি দিল্লির কাছে ফরিদাবাদের অবস্থিত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

ভারতীয় পুলিশের দাবি, তারা ফরিদাবাদে গণাইয়ের নামে ভাড়া নেওয়া দুটি বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে সেখান থেকে ২ হাজার ৯০০ কেজি দাহ্য রাসায়নিক ও অস্ত্র উদ্ধার করেন।

কাশ্মীরে মোতায়েন ভারতীয় পুলিশ দাবি করছে, এ গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্য দিয়ে তারা এমন একটি ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’–কে উন্মোচন করতে পেরেছে–যারা জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ)-এর সঙ্গে যুক্ত। এজিইউএইচ হল একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, যা আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

২০১৯ সালের মে মাসে সরকারি বাহিনীর গুলিতে নিহত স্থানীয় কমান্ডার জাকির রশিদ কাশ্মীরে এজিইউএইচ নামের সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপ অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। তবে ভারতীয় পুলিশের দাবি, প্রতিবেশী পাকিস্তান থেকে আসা নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলটি আবার সক্রিয় হয়েছে।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান তদন্তের সময় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক গণাই ও রাঠোর, ইসলামী চিন্তাবিদ ইরফান আহমেদ এবং আরও চারজন।

এই চারজনের মধ্যে উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ শহরের এক নারীও রয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্ত করতে করতে উমর নবী নামে এক কাশ্মীরি চিকিৎসক সম্পর্কেও তথ্য পেয়েছিলেন তাঁরা।

তবে নবীকে গ্রেপ্তার করার আগেই গত সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীরা বলছেন, ২৯ বছর বয়সী চিকিৎসক উমর নবীই বিস্ফোরকভর্তি ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

‘কাশ্মীরে ব্যাপক অভিযান’


নয়াদিল্লির ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করেছে পুলিশ। এতে এক তরুণকে কালো মুখোশ পরে একটি গাড়ি নিয়ে দিল্লির টোল বুথ পার হতে দেখা যাচ্ছে। আরেকটি ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, একই গাড়ি ধীরে ধীরে যানজটে ভরা চৌরাস্তা দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পরই স্ক্রিনে হলুদ আলোর ঝলকানি দেখা যায়।

বিস্ফোরণের পর দেশব্যাপী নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়। কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। ১২ নভেম্বর শ্রীনগরের রাস্তায় রাস্তায় ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছে তারা।

শুধু দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলাতেই নিরাপত্তা বাহিনী ৪০০টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে এবং প্রায় ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। বারামুল্লা, পুলওয়ামা ও অবন্তীপুরেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে।

দিল্লিতে বিস্ফোরিত গাড়ির চালক উমর নবীর পরিবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার কোইল গ্রামে থাকে।

নবীর ভাবী মুজামিল আখতার বলেন, ‘গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ আমার দেবরকে নিয়ে গেল এবং পরে আমার স্বামীকেও। সংবাদমাধ্যম ও পুলিশকে এখানে দেখে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা কিছুই জানতাম না।’

মুজামিল আখতার বলেন, পুলিশ নবীর মাকেও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছে।

মুজামিল আখতার, ‘আমাদের পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। আমি শুক্রবার উমরের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সে স্বাভাবিক ছিল এবং বলেছিল তিন দিনের মধ্যে বাড়ি আসবে। আমরা সবাই তাঁর আসার খবর নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলাম। আমরা এরকম কিছু আশা করিনি।’

স্বজনেরা বলছেন, শ্রীনগরে স্কুল ও মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় নবী অসাধারণ ছাত্র ছিলেন। পরিবারের মানুষেরা উমরের কৃতিত্বের জন্য গর্ববোধ করতেন।

নবীর বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারও কম দূরত্বে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক চিকিৎসক গণাইয়ের বাড়ির অবস্থান। সেখানে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।

মুজাম্মিল গণাইয়ের বাবা শাকিল গণাই আল–জাজিরাকে বলেন, গত মঙ্গলবার পুলিশ বলেছে, তাঁদের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফরিদাবাদ থেকে কাশ্মীরে এনেছে।

শাকিল গণাই বলেন, ‘কী ঘটছে আমরা জানতাম না। এমন কিছু ঘটতে পারে বলে আমাদের ধারণাই ছিল না।’

শাকিল গণাই বলেন, মুজাম্মিল কোইল গ্রামের স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তিনি শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মির ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিসিনে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি পরে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে তিনি দুই বছর ধরে কাজ করছিলেন।

বাবা শাকিল গণাই বলেন, পুলিশ তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে এবং তার অন্য ছেলেকেও আটক করেছে।

তবে তদন্ত চলার মধ্যেই ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ইসলামবিদ্বেষ ও কাশ্মীরবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ১২ নভেম্বর ভারতের গুরুগাঁও শহরের পুলিশ হাউজিং সোসাইটিগুলোকে ডেকে কাশ্মীরি বাসিন্দাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেয়। এতে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও সম্প্রতি কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ দিল্লি ও নয়ডার মতো শহরে বসবাসকারী কাশ্মীরি ভাড়াটিয়াদের বের করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

কাশ্মীরি ছাত্র এবং অধিকারকর্মী নাসির খুয়েহামি বলেন, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কাশ্মীরি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের বর্তমান উদ্বেগ মূলত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নয়াদিল্লির বিস্ফোরণ এবং এ ঘটনার তদন্তের মধ্য দিয়ে কাশ্মীর ও সশস্ত্র গোষ্ঠী মোকাবিলায় ভারতের নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি বছরের শুরুতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এখন ‘সশস্ত্র বিদ্রোহীরা’ নতুন করে আর সদস্য নিয়োগ দিচ্ছে না। পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে কাশ্মীরে সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত সব যোদ্ধা বিদেশি নাগরিক ছিলেন।

তবে এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক।

নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের কার্যনির্বাহী পরিচালক অজয় সাহনি বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এমনটা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। এই চিকিৎসকেরা সহকর্মী ছিলেন। তাদের চিন্তাভাবনা হয়তো এক রকম ছিল বা তাঁরা হযতো ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে উঠেছিল। আমি এটিকে নিয়োগ বলব না, বরং সংগঠিত করা বলব।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-14%2F0mwik6sn%2FDelhi.jpg?rect=4%2C0%2C612%2C408&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণ স্থলে কাজ করছেন ফরেনসিক দলের সদস্য। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন উমরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী

ভারতের রাজধানী দিল্লির লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় গাড়িচালক উমর নবীর জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁকে সন্দেহ করছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী।

ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী আজ শুক্রবার বলেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার ভোরের মধ্যে সন্দেহভাজন চালক উমরের বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শেষ করা হয়েছে।

দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত চলার মধ্যে কাশ্মীর, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের একাধিক সংস্থা তথ্যের সূত্রগুলো মেলাতে কাজ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের একজন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং একজন ছাত্রসহ আরও দুজনকে উত্তর প্রদেশ থেকে আটক করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মোদি সরকার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির সব নথিপত্রের ফরেনসিক নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের দাবি, লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা কাজ করতেন।

দিল্লি পুলিশ লাল কেলার কাছে বিস্ফোরিত হওয়া গাড়িটির চালক উমর নবীর শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে। ৫০টির বেশি সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে তাঁর গতিবিধি চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে এমনকি কেন্দ্রীয় মোদি সরকার নানা অজুহাতে মুসলিমদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন মুসলিমদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় মোদি সরকার।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-14%2Fb9wouarf%2FKashmir.png?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কাশ্মীরে গুড়িয়ে দেওয়া উমর নবীর বাড়ি। দ্য হিন্দুর স্ক্রিনশট

Tuesday, November 11, 2025

গাড়িটি ধীরে ধীরে এসে থামার পরই হয় বিস্ফোরণ: দিল্লির পুলিশ কমিশনার

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিস্ফোরিত হওয়া গাড়িটি প্রথমে চলন্ত অবস্থায় ছিল। ধীরে ধীরে এসে সেটি ট্রাফিক সিগন্যালে থামার পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। দিল্লির পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা এ তথ্য জানিয়েছেন। এ দিকে রাজধানীতে গাড়ি বিস্ফোরণের পর উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে।

পুলিশ কর্মকতা সতীশ গোলচা বলেন, চলন্ত গাড়িটি সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লার কাছে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে থামে। এরপর বিস্ফোরণ হয়। এতে আশপাশের গাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে গাড়ি বিস্ফোরণে আটজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তখন দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে জানান, বিস্ফোরণটি লালকেল্লা মেট্রোস্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল ব্যাপক। অনেকে আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের পর মহারাষ্ট্রে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মহারাষ্ট্র পুলিশের জেলা পর্যায়ের সব ইউনিটের কমান্ডার ও কমিশনারদের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে দিল্লিতে বড় ধরনের হামলা হয়েছিল। সে বছর রাজধানীর দুটি বাজার এলাকায় একাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে প্রায় ২০ জন নিহত হন। ২০০৮ সালে মুম্বাইতেও ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন। আর ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বোমা হামলায় ভারতের বিভিন্ন শহরে চার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের স্থান ঘিরে রেখেছে পুলিশ
নয়াদিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের স্থান ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স

Thursday, October 30, 2025

ঢাকঢোল পিটিয়ে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টি নামাতে পারল না বিজেপি সরকার

সাত মন তেল পুড়ল, কিন্তু রাধা নাচল না। ঢাকঢোল পিটিয়ে, ধুমধাম ও বিপুল খরচ করে অনেক আশা জাগিয়ে মেঘের মধ্যে রাসায়নিক ছড়িয়ে বৃষ্টি ঝরানোর চেষ্টা চালানো হলেও সব বিফলে গেল। বৃষ্টিস্নাত হলো না রাজধানী দিল্লি।

অথচ এ জন্য দিল্লির বিজেপি সরকার খরচ করল ৩ কোটি ২১ লাখ রুপি। কানপুর আইআইটি বলছে, বৃষ্টি হয়তো হয়নি, কিন্তু অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে।

কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরিয়ে রাজধানীর তীব্র দূষণের মাত্রা কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পর সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়েছে বিজেপি সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে সাময়িক উপশমের পথে না হেঁটে সরকার বরং দূষণের উৎসে নজর দিক। যেসব কারণে প্রতিবছর হেমন্তের শুরু থেকে পুরো শীত মৌসুম দিল্লি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে, সেই কারণগুলো বন্ধ করা হোক। এভাবে কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা জলে ফেলার দরকার নেই।

দীপাবলির সময় বাজি পোড়ানো বন্ধ করতে পারেনি দিল্লির কোনো সরকারই। তবু আগের আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের একটা চেষ্টা ছিল। চেষ্টা ছিল পরিবেশ আন্দোলন কর্মীদেরও। নানাভাবে চেষ্টা হয়েছিল মামলা করে বাজি পোড়ানো বন্ধের। সেই প্রচেষ্টা জন্ম দিয়েছিল দূষণহীন বাজির। তৈরি হয়েছিল ‘গ্রিন ক্র্যাকার’। যদিও তার আড়ালে দেদার বিক্রি হয়ে এসেছে দূষণকারী বাজিও। ফলে দূষণ সৃষ্টি হয়েছে যথারীতি।

দিল্লিতে ক্ষমতাসীন হয়ে বিজেপি সরকার সেই প্রচেষ্টাতেও জল ঢেলেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাজি পোড়ানোর সঙ্গে সনাতন ধর্মকে জুড়ে প্রচার শুরু করে দেয়, যারা বাজি বন্ধের উদ্যোক্তা, তারা সনাতন ধর্মবিরোধী। সেই প্রচার প্রভাব ফেলেছিল কি না অন্য কথা, দেখা গেল সুপ্রিম কোর্টও পুরোপুরি বাজি নিষিদ্ধ করতে পারলেন না। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও দিল্লির আকাশ-বাতাস দীপাবলির পর ঢেকে গেল গভীর ধোঁয়ার আস্তরণে। দূষণ হয়ে দাঁড়াল মাত্রাছাড়া।

এই দূষণ থেকে নিস্তার পেতেই কৃত্রিম বৃষ্টির আয়োজন। এই উদ্যোগ আম আদমি সরকারও নেওয়ার কথা ভেবেছিল, কিন্তু রূপায়ণ করতে পারেনি। বিজেপি তা করে ফেলল। রাজ্য সরকার তিন কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করে এই প্রকল্পে। দায়িত্ব দেওয়া হয় কানপুর আইআইটিকে।

গতকাল মঙ্গলবার কানপুর আইআইটি দুই দফায় কয়েকবার সেসনা বিমান নিয়ে উড়ে বেড়ায় দিল্লির আকাশে। মেঘের ভেতর জলকণা সৃষ্টি করতে উড়োজাহাজ থেকে মেঘের মধ্যে ঢালা হয় ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজড লবণ ও রক সল্টের রাসায়নিক মিশ্রণ। সেই জলকণা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে রাজধানীর আকাশ থেকে।

গতকাল সেই কাজেই নেমেছিল কানপুর আইআইটি। অথচ দিনভর প্রতীক্ষাই সার হলো। দিল্লিতে বৃষ্টির ছিটোফোঁটাও দেখা পাওয়া গেল না। দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের নয়ডায় বৃষ্টি হয় শান্তিজল ছিটানোর মতো। পরিমাণ ০ দশমিক ১ মিলিলিটার।

আইআইটির বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এই ‘ক্লাউড সিডিং’, যা কিনা কৃত্রিম বৃষ্টির প্রক্রিয়া, তা শেষ হওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে বৃষ্টি হবে। কখনো কখনো ২ ঘণ্টা পরও হতে পারে। তবে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতির জন্য বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি থাকা দরকার।

তবে সারা দিন প্রতীক্ষার পরও বৃষ্টির দেখা কেন মিলল না, তার ব্যাখ্যায় কানপুর আইআইটির পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, গতকাল দিল্লির বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। অর্থাৎ খুবই সামান্য, তাই বৃষ্টি হয়নি।

মনীন্দ্র বলেন, আজও ওই প্রক্রিয়া চালানো হবে। তাঁদের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ তা বলা যাবে না। তাঁরা এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, তাঁদের পরীক্ষা একেবারেই যে ব্যর্থ, তা নয়। বৃষ্টি হয়নি ঠিকই, কিন্তু ১৫টি নিরীক্ষণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, বাতাসে মিশে থাকা সুক্ষ্ম ধূলিকণা, যাকে পিএম ২ দশমিক ৫ বলা হয়, তার পরিমাণ ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

মনীন্দ্র আগরওয়াল ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, দিল্লি দূষণের মোকাবিলার উত্তর কৃত্রিম বৃষ্টি হতে পারে না। এই ব্যবস্থা নিতান্তই সাময়িক। দিল্লিতে যে হারে দূষণ বেড়ে চলেছে, তা কমানোর একমাত্র উপায় দূষণের উৎস বন্ধ করা। একই কথা বলেছেন বিভিন্ন পরিবেশবিদ। ঘটনা হলো, কী করা দরকার, তা সবার জানা হলেও কেউই তা করতে পারছে না।

উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চল, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের খেতগুলোতে ফসলের গোড়া জ্বালানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। দীপাবলিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে বাড়ি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় দেদার বাজি পোড়ানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। নির্মাণকাজ থেকে ওড়া ধুলাবালু বাতাসে যাতে না ছড়ায়, সেই ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কলকারখানার বর্জ্য যমুনায় ফেলা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

চীন পৃথিবীর প্রথম দেশ, যেখানে ‘ক্লাউড সিডিং’ সফল হয়েছে। বেইজিংসহ শুষ্ক অঞ্চলগুলোতে তারা এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। চীন ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঝরানো হয়েছে।

পাকিস্তানও লাহোরের মতো দূষণযুক্ত শহরে এই পদ্ধতিতে কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিতে ভুলছেন না, এটা সাময়িক উপায়। বড়জোর দুই–তিন দিন এর রেশ থাকে। তারপর যে অবস্থা ছিল, তেমনই হয়ে যায়। তা ছাড়া এই ব্যবস্থা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-10-28%2F4ekf20vs%2Fcloud.jpg?rect=63%2C0%2C1368%2C912&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভারতের রাজধানী দিল্লির আকাশে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য মেঘ বুনতে উড্ডয়ন করছে একটি সেসনা বিমান। ২৮ অক্টোবর ২০২৫, কানপুর, উত্তর প্রদেশ। ছবি: এএনআই

Wednesday, April 23, 2025

দিল্লির এক নারী কবুতরবাজ by লিমা সুলতানা

দিল্লির পুরুষ শাসিত কবুতরবাজির জগতে পাখিদের প্রতি ভালোবাসার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন এক নারী। এতে তিনি অনেকের মন জিতে নিয়েছেন। তিনি পুরাতন দিল্লির একমাত্র নারী কবুতরপালক বা কবুতরবাজ। তার নাম শাহীন পারভীন। এর জন্য তাকে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে। তবে সকল বাধা অতিক্রম করে তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। শাহীন দিল্লির খাজা মির দরদ বস্তিপাড়ায় বসবাস করেন। তার ১০০টিরও বেশি কবুতর আছে। মহল্লাবাসীর কাছে তিনি তাদের প্রিয় কবুতরপালক হিসেবে পরিচিত। তবে তার এ পর্যায়ে উঠে আসা সহজ ছিল না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। উল্লেখ্য, পুরাতন দিল্লিতে মানুষ শুধু বিনোদনের জন্যই কবুতর পোষেন না। কবুতর পোষার বিষয়টি মুঘল ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির সড়কগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। অটোরিকশাগুলো লাগাতার হর্ন বাজাতে থাকে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ (আইএনপিএসিএইচ)-এর রত্নেন্দু রায় এই ঐতিহ্যকে লালন করেন। তিনি বলেন, কবুতরবাজরা তাদের কবুতর নিয়ে বেশ গর্ববোধ করেন। ‘কবুতরবাজি’ নামে কবুতর পালনের ঐতিহ্য প্রাচীনকাল থেকে শুরু হয়েছে। এর শেকড় মহাভারতে রয়েছে। ওই সময় রাজপরিবারের বিনোদনের জন্য রাজপ্রাসাদে পাখি রাখা হতো। 

লেখক ও ইতিহাসবিদ রানা সাফভি বলেন, দরবারের নারীরা বারান্দায় বসে কবুতর উড়া দেখতেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম শাসকদের অধীনে ওই বিনোদন একটি জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয়। এটি হলো- আত্ম, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আত্মীয়তার অনুভূতি। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় এই খেলা অন্য মাত্রায় পৌঁছায়। কবুতরবাজিকে সম্রাট জাহাঙ্গীর ইশকবাজির (ভালোবাসার শিল্প) সঙ্গে তুলনা করেন। কবুতর পালনের প্রথাকে অনন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দিল্লিতে কবুতর প্রশিক্ষক আনেন। উল্লেখ্য, দিল্লি শহরের হাজার হাজার কবুতর পালক ওই ঐতিহ্য পালন করে আসছেন। কবুতরবাজি বা কবুতর পালন ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের কাজ। শতাব্দী ধরে পিতার পর পুত্র এ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এর ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন শাহীন পারভীন। দিল্লিতে একমাত্র নারী কবুতর পালনকারী হিসেবে তিনি  গৌরব অর্জন করেছেন। স্ত্রী থেকে মা তার থেকে দাদি। দিনে এমন একাধিক ভূমিকা পালন করেন তিনি। যখনই একা থাকেন তিনি মই বেয়ে বাড়ির ছাদে উঠে যান। তার ১০০টির বেশি কবুতর  দেখাশোনা করেই তিনি দিন শুরু করেন। সকালে উঠে কবুতরগুলো সুস্থ আছে কিনা তা নিশ্চিত করেন। এরপর সেগুলোকে খাবার খাওয়ান। হাততালি, শিস বাজিয়ে তিনি তার কবুতরগুলোর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেন। প্রতিযোগিতার জন্য তাদের দক্ষতাও নিশ্চিত করেন। সন্ধ্যার সময় কবুতরের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করে অনেকে কবুতরগুলোকে ডাকেন। এর মধ্যে পারভীনের কণ্ঠ আলাদাভাবে শোনা যায়। যখন তিনি তার কবুতরগুলোকে ডাকেন তখন আশপাশের ছাদ আর ঘরের জানালা থেকে মানুষ উঁকি দেয় প্রিয় কবুতর পালককে এক নজর দেখার জন্য। পারভীন বলেন, কবুতর পালন একই সঙ্গে ঐতিহ্য ও আবেগের বিষয়। আমি যদি তাদের সঙ্গে সময় না কাটাই তাহলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তারা আমার বাচ্চার মতো। তবে পুরুষ শাসিত সমাজে কবুতরবাজ হওয়া পারভীনের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার জন্য তিনি তার পিতাকে কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পর আমার পিতা আমাকে ছাদে নিয়ে যেতেন এবং তার কবুতরগুলো দেখাতেন। সেখান থেকেই মূলত আমার কবুতরের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। তার ভাই পারভীনের শখের বিরোধিতা করেন। এর জন্য তাকে তার ভাইয়ের অসম্মতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়। পরবর্তীতে তিনি অন্যদের সমালোচনার সম্মুখীন হন। তবে পাখিদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি তার জিদ ধরে রাখেন। তিনি বলেন, যখন সমাজ আপনার দক্ষতার জন্য আপনার প্রশংসা করে তখন আপনি গর্বিত বোধ করবেন। আপনার বিরুদ্ধে কারা কথা বললো তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। নিন্দুকদেরকে নিন্দা করতে দিন। তিনি বলেন, যা থেকে আমি শান্তি পাই তা আমি করে যাবো। পারভীন তার প্রতিভার জন্য তার কমিউনিটি থেকে ব্যাপক সম্মান পেয়েছেন। মুখে হাসি নিয়ে তিনি বলেন, অনেক মানুষ আমার কাছে আবদার করেন আমি যাতে তাদের কবুতরগুলোকে দোয়া দেই। তবে আমি আমার নিজের কবুতরের জন্যই সময় পাই না। মহসিন উস্তাদের মতো অভিজ্ঞ কবুতর পালক মাঝে মাঝে পারভীনকে কবুতরের খাবার ও ওষুধ দিয়ে সমর্থন করে থাকেন। কারণ কিছু সময় পারভীন তার কবুতর পালনের খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খান।

mzamin

Thursday, October 31, 2024

দিল্লির চাঁদনি চকে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের মোবাইল চুরি

দীপাবলির বাজার করতে বের হয়েছিলেন। ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন দিল্লির চাঁদনি চকের বাজার। সেই সময়েই ঘটে গেলো বিপত্তি।  ফোন চুরি গেলো খোদ ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাতাউরের। ঘটনাটি ২০ অক্টোবরের। চাঁদনি চক মার্কেটের জৈন মন্দির এলাকায় কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়েরি এবং তার স্ত্রী। তখনই বিপত্তি ঘটে। ভিড়ের মধ্যে ফোন লোপাট  হয়ে যায়। দিল্লি পুলিশের কাছে অনলাইনে এফআইআর দায়ের করেন থিয়েরি । অন্যদিকে ২১ অক্টোবর রাষ্ট্রদূতের অফিস থেকে বিষয়টি জানতে পারে দিল্লি প্রশাসন। এর পর হাই প্রোফাইল ব্যক্তির মোবাইল উদ্ধারে জোরকদমে শুরু হয় তদন্ত।  রাষ্ট্রদূত তার অভিযোগপত্রে জানিয়েছিলেন, তার মোবাইল ফোনটি জামার পকেটেই রাখা ছিল। চাঁদনি চক মার্কেটের জৈন মন্দিরের সামনে ঘোরার সময়ে সেখান থেকে তা উধাও হয়ে যায়।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বাজার এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। চার জনকে সেখান থেকেই চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, চার জনেরই বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। চুরি যাওয়া মোবাইলটিও তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ভারতে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের হাতে তার হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি ফিরিয়ে দেওয়ার পর দিল্লি পুলিশ একটি বিবৃতি দিয়ে সে কথা জানিয়েছে। আটককৃতরা ট্রান্স-যমুনা এলাকার বাসিন্দা। তাদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  এই ঘটনার পর, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাতাউরে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এটি আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা, বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য।”

তিনি আরও বলেন, তিনি এই ঘটনার পরে ভারতীয় পুলিশ বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। বিশেষ করে চাঁদনি চক এলাকার মতো জনবহুল স্থানে এই ঘটনার পর, অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে, তারা এখনো বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, এই ধরনের ঘটনাগুলি ভারতীয় সংস্কৃতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

mzamin

Thursday, October 3, 2024

জাতিসংঘে ইউনূসের সফল দৌত্যে চিন্তায় নয়াদিল্লি

বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন রুখতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ বাড়ছে সাউথ ব্লকে। সে কারণে মুহাম্মদ ইউনূস চাইলেও জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে মোদীর সঙ্গে বৈঠক না হলেও আমেরিকার সিলমোহর নিয়ে সফল ভাবেই আন্তর্জাতিক দৌত্য সারলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। যা দিল্লির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সাধারণ সম্মেলনে নিজে বক্তৃতা দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউনূস। পাশাপাশি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধান এবং এডিবি-র শীর্ষকর্তার সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা হয়েছে তাঁর। এই সব আলোচনার মূল সূর একটাই। শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারি নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমি দুনিয়া এবং আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা থাকবে ভবিষ্যতে। যে সহায়তার কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। এক কথায়, ভারতের প্রতি দ্বিপাক্ষিক নির্ভরতার জায়গা সঙ্কুচিত করাই এই মুহূর্তে ইউনূস সরকারের লক্ষ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে কূটনৈতিক মহলে।

সাউথ ব্লকের চিন্তা বাড়িয়ে নিউ ইয়র্কে ইউনূসের দৌত্য তালিকা প্রসারিত হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গেও। সূত্রের খবর, সার্ক-কে জাগিয়ে তোলা ও বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে কথা হয় ইউনূস-শরিফের। কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিদেশ মন্ত্রক গত ১০০ দিনে কাজকর্মের খতিয়ানে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ না রাখলেও এই মুহূর্তে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের কৌশল রচনাই মোদী সরকারকে অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখতে হবে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বার্তা থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশ এখন তার নীতির কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীকে আরও বেশি করে রাখতে চাইছে। যা স্বস্তির নয় নয়াদিল্লির কাছে। আপাতত দু’টি বিষয় স্পষ্ট। এক, এই অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে গিয়েছে সে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে। দুই, ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আগামী দিনে এগোলে তা নিয়ন্ত্রণ করার মতোকূটনৈতিক অস্ত্র এখনও ভারতের হাতে নেই। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, জাতিসংঘে বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছেন ইউনূস। এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন, ক্ষমতার বদল হলেও তাঁকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশের জাতিসত্তার স্বকীয়তাতেই তিনি বিশ্বাসী।

সূত্র- আনন্দবাজার

mzamin

Thursday, September 26, 2024

যুবতীর কক্ষে গোপন ক্যামেরা...

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। সেখানে এক নারী ভাড়াটিয়ার বেডরুমে এবং বাথরুমে গোপন ক্যামেরা। এসব রুমে যে বা যারাই প্রবেশ করেন এবং যা-ই করেন, তা গোপনে রেকর্ড হয়ে যাচ্ছিল। সার্বক্ষণিক সবার ওপর নজর রাখা হতো। কিন্তু গোপন আর গোপন থাকেনি। ভাড়াটিয়া তা দেখে ফেলেন। তারা অনুসন্ধান শুরু করেন। এক পর্যায়ে সন্দেহ করেন বাড়ির মালিকের ৩০ বছর বয়সী ছেলেকে। তার আচরণেই ফাঁস হয়ে যায় সব। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস নাউ। এতে বলা হয়, নারী ভাড়াটিয়ার ভাড়া নেয়া এই অ্যাপার্টমেন্টে গোপন ক্যামেরা খুঁজে পাওয়ার ঘটনা বিভিন্ন শহরে একা বসবাসকারী নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নারী ভাড়াটের অ্যাপার্টমেন্টে বেআইনিভাবে গোপন ক্যামেরা বসানোর দায়ে অ্যাপার্টমেন্টের মালিকের ছেলেকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের নাম করণ। সে তিন মাস আগে ওই নারীর বেডরুম ও বাথরুমে গোপন ক্যামেরা বসিয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব দিল্লির শকরপুর এলাকায়।

ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য দিল্লির শকরপুরে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের এক যুবতী। যে অ্যাপার্টমেন্টে তিনি থাকতেন, তার উপর তলায় বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও ছেলে থাকতেন। তাদের ভালো ব্যবহার, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে ভরসা করেই ওই যুবতী বাড়ি যাওয়ার সময় চাবি দিয়ে গিয়েছিলেন। উত্তর প্রদেশ থেকে ফেরার পরই ওই যুবতী হঠাৎ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক গতিবিধি হতেই ‘লিঙ্কড ডিভাইস’ চেক করেন। সেখানে দেখেন- একটি অজানা ল্যাপটপের সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ লিংক দেখাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ল্যাপটপ থেকে লগ আউট করে দেন। এ ঘটনার পরই তার সন্দেহ হয় যে, কেউ নজর রাখছে। এরপর বাড়ি তন্ন তন্ন করে খোঁজার পর নজরে আসে, বাথরুমে লাগানো লাইট বাল্বটি একটু বাঁকা দেখাচ্ছে। খুলতেই দেখেন,  ভেতরে ক্যামেরা। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে ফোন করেন যুবতী। পরে পুলিশ এসে ফের তল্লাশি চালায়।

এবার যুবতীর বেডরুমের লাইট বাল্ব হোল্ডারের ভেতর থেকেও ক্যামেরা বের হয়। পুলিশ ওই যুবতীকে প্রশ্ন করে- তার অ্যাপার্টমেন্টে কাদের যাতায়াত ছিল। ভুক্তভোগী যুবতী জানান, প্রায় সময়ই তিনি বাড়ির মালিকের ঘরে চাবি দিয়ে যেতেন। এরপরই পুলিশ বাড়ির মালিকের ছেলেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিন মাস আগে যুবতী যখন বাড়ি গিয়েছিলেন, সেই সময় তার ঘরে ঢুকে বেডরুম ও বাথরুমে ক্যামেরা লাগিয়ে আসে সে। ক্যামেরাগুলোতে মেমোরি কার্ডও ছিল। যখন মেমোরি ফুল হয়ে যেত, তখন বিদ্যুতের কাজের নামে ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে সেই রেকর্ডিং নিজের ল্যাপটপে ট্রান্সফার করে, ফাঁকা চিপ লাগিয়ে আসতো। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে। এই ল্যাপটপের মধ্যে যুবতীর একাধিক নগ্ন ভিডিও পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

mzamin

Monday, September 23, 2024

নিজের কোনো বাড়ি নেই, দিল্লির জনগণের মধ্যেই থাকবেন কেজরিওয়াল

নিজস্ব কোনো বাড়ি না থাকায় সরকারি বাংলো ফাঁকা করে দিয়ে দিল্লির সাধারণ মানুষদের মধ্যে বসবাস করবেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আম আদমি পার্টির জাতীয় পর্যায়ের আহ্বায়ক ও সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী এমন ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। তিনি বলেছেন- আমার নিজের বলতে কোনো বাড়ি নেই। কয়েকদিনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত বাংলো ছেড়ে দেব। গত দশ বছরে আমি শুধুই ভালবাসা আর সম্মান অর্জন করেছি। লোকজন আমাকে তাদের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দিচ্ছেন। নবরাত্রিতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের পর আমি আসবো এবং আপনাদের কোনো এক বাড়িতে অবস্থান করবো। জনতা কি আদালত ভাষণে তিনি যন্ত্ররমন্তরে ভাষণ দেয়ার সময় এসব কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এর আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করেন তিনি। তবে জানান রাজনৈতিক চাপে পদত্যাগ করেননি। নৈতিক কারণে করেছেন। তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করেছি। কারণ, দুর্নীতি করার জন্য অথবা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের লোভে রাজনীতিতে আসিনি। আমি ভারত মাতার জন্য দেশের রাজনীতিকে পরিবর্তন করতে এসেছিলাম। যদি টাকা বানাতে টাইতাম, তাহলে তা করতে পারতাম- যখন ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছি। কিন্তু রাজনীতিকদের চামড়া মোটা। তারা অভিযোগের পরোয়া করেন না। কিন্তু বিজেপি যখন আমাকে চোর বা দুর্নীতিবাজ বলে, তখন আমি তা আমলে নিই। এ অভিযোগ আমার হৃদয় ভেঙে দেয়। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দুর্নীতির ধারাবাহিক কিছু অভিযোগের পর পদত্যাগ করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এর মধ্যে দিল্লি এক্সসাইজ পলিসিতে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। এসব অভিযোগ নিয়ে তিনি গভীরভাবে হতাশা প্রকাশ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপিকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন কেজরিওয়াল। কারণ, তারা আম আদমি পার্টির সুনাম ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ কেজরিওয়ালের। তিনি বলেন, আমরা সততার সঙ্গে সরকার চালাচ্ছিলাম। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, পানি এবং চমৎকার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু মোদিজি মনে করলেন আমাদেরকে পরাজিত করতে হবে। আমাদের সততাকে আঘাত করতে হবে তাকে। এ জন্য তারা সিসোদিয়া এবং আমার মতো ব্যক্তিদের জেলে ঢুকিয়েছেন। 

mzamin


Tuesday, September 17, 2024

ভারতের দ্বিতীয় নারী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন অতিশী মারলেনা

দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন অতিশী মারলেনা। আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ  নেতাদের বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তার নাম ঘোষণা করেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির উপরাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনার সঙ্গে দেখা করে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন কেজরিওয়াল। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, কেজরিওয়াল নিজেই অতিশীর নাম প্রস্তাব করেছেন। উল্লেখ্য, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর অতিশীই এ বার দেশের দ্বিতীয় মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। দিল্লির আবগারি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি কেজরিওয়াল। তিনিই দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরেই আম আদমি পার্টির প্রধান কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। গত রোববার দুপুরে দলীয় এক সম্মেলনে আম আদমি পার্টির প্রধান জানিয়েছেন, দু’দিন পরেই মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেবেন তিনি। সঙ্গে এ-ও জানিয়েছেন, পুনরায় ভোটে না জেতা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনি আর ফিরবেন না। তার পর থেকেই দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পদে কেজরিওয়ালের উত্তরাধিকারী হিসাবে পাঁচ জন আপ নেতার নাম নিয়ে আলোচনা ছিল আপের অন্দরে।

এই পাঁচ নেতা হলেন অতিশী মারলেনা, সৌরভ ভরদ্বাজ, কৈলাস গহলৌত, গোপাল রাই এবং ইমরান হুসেন। এই পাঁচ নেতা ছাড়াও আলোচনায় ছিলেন কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতাও। সে ভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও স্বামীর গ্রেপ্তারের পর সুনীতাকেই দলের সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় দিল্লির বাসিন্দাদের কাছে কারাবন্দি কেজরিওয়ালের বার্তাও তুলে ধরতেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সকলকে পিছনে ফেলে দিলেন অতিশী। উল্লেখ্য, দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কেজরিওয়াল। গত ২১ মার্চ নিজের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। ইডির মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও সিবিআইয়ের মামলায় জেলেই থাকতে হয়েছে তাকে। সিবিআইয়ের গ্রেপ্তার চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেজরি। কিন্তু সেখানে স্বস্তি মেলেনি। তার পরই সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেন আপ প্রধান। গত ৫ সেপ্টেম্বর সেই সংক্রান্ত শুনানি শেষ হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে। তার পর রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার কেজরিকে জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে জামিন দেওয়ার সময় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, জেল থেকে বেরোনোর পর কেজরিওয়াল কোনো ফাইলে সাক্ষর করতে পারবেন না। নিজের দপ্তরেও যেতে পারবেন না। এ ছাড়া, প্রকাশ্যে এই সংক্রান্ত কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না আপ প্রধান।

mzamin

Sunday, September 15, 2024

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা কেজরিওয়ালের

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় প্রায় ৬ মাস জেলে ছিলেন তিনি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শুক্রবারই তিহাড় থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে বেশ কিছু বিধিনিষেধ এবং শর্ত আরোপ করা হয় তার ওপরে। এই আবহে বিতর্কের মাঝেই পদত্যাগ করার ঘোষণা দিলেন তিনি। দুদিনে তিনি এই পদক্ষেপ নেবেন বলে আজ জানালেন আম আদমি পার্টির প্রধান।

রোববার দিল্লিতে পার্টির কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার সময় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি তিনি বলেন, 'দু'দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছি। মানুষ রায় না দেয়া পর্যন্ত আমি চেয়ারে বসব না। প্রত্যেক বাড়িতে যাব, দরজায় দরজায় পৌঁছব। মানুষের রায় না পাওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসব না।'

একইসঙ্গে দিল্লিবাসীর উদ্দেশেও কেজরিওয়ালের অনুরোধ, যদি মানুষ তাকে নির্দোষ বলে মনে করেন, যদি মানুষ ভাবেন তিনি দিল্লির জন্য কাজ করেছেন, তবে তাকে যেন পুনরায় ভোট দেয়া হয়।

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা ব্যাখ্যা করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আদালত জামিন দিয়েছে। এই মামলা চলবে। আইনজীবীদের বললাম, আদালত থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসব না। কিন্তু ওরা বললেন, মামলা  বেশ কয়েক বছর চলতে পারে। আদালত যা করতে পারত করেছে। যে আইনে জামিন হয় না, সেই আইনে আদালত থেকে জামিন পেয়েছি। কিন্তু আজ আমি জনতার আদালতে এসেছি। আপনারা বলুন, আপনারা আমাকে দোষী মনে করেন না নির্দোষ? কেজরিওয়াল সৎ না অসৎ? ‘ আপ  কর্মীদের উদ্দেশ্যে তার ভাষণে কেজরিওয়াল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বৃটিশদের চেয়েও কর্তৃত্ববাদী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র বাঁচাতে চেয়েছিলাম  বলে গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও  মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করিনি। তারা (কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী) সিদ্দারামাইয়া, (কেরলের মুখ্যমন্ত্রী) পিনারাই বিজয়ন, (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী) মমতা দিদির (ব্যানার্জি) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আমি অ-বিজেপিদের  কাছে আবেদন করতে চাই, তারা (বিজেপি) যদি আপনার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে তাহলে পদত্যাগ করবেন না। এটি তাদের নতুন খেলা।’

যদিও বিজেপির দাবি কেজরিওয়াল নাটক করছেন। বিজেপির হরিশ খুরানা প্রশ্ন তোলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা পরে কেন? তার আজই পদত্যাগ করা উচিত। অতীতেও তিনি এমন করেছেন। দিল্লির মানুষ জিজ্ঞাসা করছে, তিনি সচিবালয়ে যেতে পারবেন না, নথিতে সই করতে পারবেন না, তাহলে লাভ কী?’

বিজেপি আগাম নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে   খুরানা বলেন, ‘আজ হোক বা কাল হোক আমরা প্রস্তুত। আমরা ২৫ বছর পর দিল্লিতে ক্ষমতায় ফিরব।’

সূত্র : এনডিটিভি

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ছবি : সংগৃহীত
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ছবি : সংগৃহীত



পদত্যাগ করছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল

আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রোববার (১৫ সেপ্টেস্বর) দুপুরে দলীয় সম্মেলনে নিজেই একথা ঘোষণা করেন তিনি। এসময় তিনি জানান, পুনরায় ভোটে না জেতা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পদে আর ফিরবেন না। খবর এনডিটিভির।

সংবাদমাধ্যম বলছে, জামিনে মুক্তির পর এবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রোববার দুপুরে দলীয় এক সম্মেলনে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান জানিয়েছেন, দুদিন পরেই মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেবেন তিনি।

দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় প্রায় ৬ মাস জেলে ছিলেন কেজরিওয়াল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে গত শুক্রবার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন দিল্লির এই মুখ্যমন্ত্রী। জেলমুক্তির দুদিনের মধ্যেই এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

রোববার দুপুরে দলীয় বৈঠকে কেজরিওয়াল বলেন, দুদিন পরে আমি মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেব। যতদিন না জনতার রায় পাচ্ছি, ততদিন আমি এই আসনে আর ফিরব না। কয়েক মাস পরেই দিল্লিতে ভোট রয়েছে। আদালতে আমি বিচার পেয়েছি। এবার জনতার আদালতে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। মানুষ যে দিন চাইবে, সে দিনই আমি আবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফিরব।

একইসঙ্গে দিল্লিবাসীর উদ্দেশেও কেজরিওয়ালের অনুরোধ, যদি মানুষ তাকে নির্দোষ বলে মনে করেন, যদি মানুষ ভাবেন তিনি দিল্লির জন্য কাজ করেছেন, তবে তাকে যেন পুনরায় ভোট দেওয়া হয়।

এদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেওয়ার পর কেজরিওয়ালের আসনে কে বসবেন তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দলের মধ্যে থেকেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। তবে কে হতে পারেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন আম আদমি পার্টির এই প্রধান।

সংবাদমাধ্যম বলছে, সব কিছু ঠিক থাকলে প্রায় পাঁচ মাস পরেই দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত নির্বাচন হতে পারে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে কেজরিওয়াল দাবি জানিয়েছেন যনে সেই নির্বাচন এগিয়ে আনা হয়।

দিল্লির বিদায়ী এই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী নভেম্বরে মহারাষ্ট্রের ভোটের সঙ্গেই দিল্লিতে নির্বাচন আয়োজন করা হোক। কেজরিওয়ালের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর থেকে ভোটের আগে পর্যন্ত যেটুকু সময় পাবেন, ওই সময়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইবেন তিনি।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ছবি : সংগৃহীত
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ছবি : সংগৃহীত