Wednesday, April 8, 2026
হার্ডডিস্কে ১৫ নারীর নগ্ন ভিডিও: প্রেমিককে খুন করলেন প্রেমিকা
এতে বলা হয়, প্রেমিকা অমৃতা চৌহানের সঙ্গে লিভ টুগেদার করতেন রামকেশ। খুনের তিন সপ্তাহ পর পুলিশ গ্রেফতার করে রামকেশের প্রেমিকা অমৃতা চৌহান, তার সাবেক প্রেমিক সুমিত কাশ্যপ এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সন্দীপ কুমারকে। অভিযোগ করা হয়, তারা রামকেশকে খুন করে আগুন লাগিয়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেছিল। অমৃতা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, রামকেশ তার সঙ্গে সম্পর্কের সময় গোপনে কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও রেকর্ড করেছিল। তা একটি হার্ড ডিস্কে সংরক্ষণ করে রাখেন। অমৃতা বারবার অনুরোধ করলেও রামকেশ ভিডিওগুলো মুছতে রাজি হননি। সেই হার্ড ডিস্ক উদ্ধার করাই ছিল হত্যার অন্যতম উদ্দেশ্য। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হার্ড ডিস্কটিতে আরও কমপক্ষে ১৫ জন নারীর ব্যক্তিগত গোপন ভিডিও আছে। এসব নগ্ন ভিডিওর বেশির ভাগই ওইসব নারীর অজান্তে ধারণ করেছিলেন রামকেশ।
তদন্ত অনুযায়ী, রামকেশকে মারধরের পর ৫ই অক্টোবর রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সুমিত ও সন্দীপ। এরপর তারা মৃতদেহে তেল, ঘি ও মদ ঢেলে আগুন ধরানোর প্রস্তুতি নেয়। সুমিত রান্নাঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এনে মৃতদেহের পাশে রাখে, গ্যাসের ভাল্ভ খুলে দেয়। সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। এরপর একটি লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল এটি হয়তো গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণ। কিন্তু ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ঘটনার অসামঞ্জস্যতা দেখে তদন্ত আরও গভীরভাবে চালানো হয়। পুলিশ ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে পায়, আগুন লাগার আগের রাতে দুই মুখোশধারী পুরুষ ভবনে প্রবেশ করে। কিছু সময় পরে একজন বেরিয়ে যায়। পরে একজন নারী ও একজন পুরুষকে বের হতে দেখা যায়। সেই নারী ছিলেন অমৃতা, রামকেশের সহবাসী প্রেমিকা।
এরপর থেকেই সন্দেহ গাঢ় হয়। অমৃতার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে সুমিত (২১ অক্টোবর) ও সন্দীপ (২৩ অক্টোবর)কেও পুলিশ ধরে ফেলে। অমৃতা ফরেনসিক বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্রী। পুলিশের ভাষায় অপরাধবিজ্ঞানে তার প্রবল আগ্রহ ছিল। এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, অবশ্যই সে তার ফরেনসিক জ্ঞান ব্যবহার করেছে। সে ও সুমিত আলোচনা করেছিল, কীভাবে ঘটনাস্থলে কোনো প্রমাণ না রেখে খুনটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো যায়। সুমিত এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কোম্পানিতে কাজ করত। সে জানত সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটতে কতক্ষণ লাগে। তারা ভেবেছিল পুলিশ কখনোই তাদের ধরতে পারবে না।
তদন্তে উদ্ধার হওয়া হার্ড ডিস্কে কমপক্ষে ১৫ জন নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার রবীন্দ্র যাদব। যদিও তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাই না। কারণ এখনো অন্য কোনো নারী অভিযোগ করেননি। তাছাড়া এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আনলে তাদের সম্মানহানি হতে পারে। নারীর সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ বা প্রচার করা ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র ৭৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অপরাধ। প্রথমবার দোষী প্রমাণিত হলে এক বছরের কারাদণ্ড। পুনরায় একই অপরাধ করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

Friday, December 26, 2025
প্রশ্নপত্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতন প্রসঙ্গ, দিল্লিতে সাময়িক বরখাস্ত এক অধ্যাপক
এই প্রশ্নটি তৈরি করেছিলেন অধ্যাপক বীরেন্দ্র বালাজি শাহারে। অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে শিক্ষক সদস্যের পক্ষ থেকে অবহেলা ও অসতর্কতার পরিচয় হিসেবে বর্ণনা করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অধ্যাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, একাডেমিক দায়িত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সিএ শেখ সফিউল্লাহর স্বাক্ষরিত একটি আদেশ- যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে বরখাস্তের বিষয়টি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে অধ্যাপক শাহারের কর্মস্থল (হেডকোয়ার্টার) হবে নয়াদিল্লি এবং তিনি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া হেডকোয়ার্টার ত্যাগ করতে পারবেন না।
একই আদেশে ‘নিয়ম অনুযায়ী’ একটি পুলিশ এফআইআর দায়ের করা হবে বলেও উল্লেখ ছিল। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়, আপাতত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের করার ইচ্ছা নেই। এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষক সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশ মামলা করার প্রস্তাব নেই। বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে একটি কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আদেশের ভাষা থেকে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়। সোমবার প্রশ্নপত্রের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে অনেক ব্যবহারকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তারা প্রশ্নের ভাষা ও উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এতে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতের অভিযোগ করেন।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপদেষ্টা কাঞ্চন গুপ্তা এক্সে বরখাস্তের নোটিস শেয়ার করার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তিনি লিখেছেন, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। এই প্রশ্নে খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।
বরখাস্তের আদেশ ছাড়া জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি না দিলেও সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি খতিয়ে দেখবে প্রশ্নটি কীভাবে তৈরি ও অনুমোদিত হয়েছিল এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বা পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে কি না। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

Friday, December 5, 2025
দিল্লির দূষিত বায়ুতে তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ২ লাখের বেশি মানুষ
এতে বলা হয়, শীত আসলেই দিল্লি ও তার উপশহরগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নেয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দিল্লির বায়ুর মান ইনডেক্স (একিউআই) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে ২০ গুণ বেশিতে অবস্থান করছে। বিশেষ করে পিএম ২.৫ কণার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। যা সরাসরি শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে ফুসফুসে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
দূষণের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। শিল্পকারখানার নির্গমন, যানবাহনের ধোঁয়া, তাপমাত্রা হ্রাস, বাতাসের গতি কমে যাওয়া এবং আশপাশের রাজ্যগুলোতে কৃষিজমির খড় পোড়ানোর মতো নানা কারণে পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির ছয়টি প্রধান হাসপাতালে ২০২২ সালে ৬৭ হাজার ৫৪টি, ২০২৩ সালে ৬৯ হাজার ২৯৩টি এবং ২০২৪ সালে ৬৮ হাজার ৪১১টি শ্বাসকষ্টের মামলা নথিভুক্ত হয়। সরকারের ভাষ্য, দূষণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক দেখা গেছে, তবে এটি সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখানো সম্ভব নয়।
গত এক দশকে বেশ কয়েকবার দিল্লির গড় একিউআই ‘গুরুতর’ ৪০০-এর উপরে উঠেছে। যা সুস্থ মানুষদের জন্যও ক্ষতিকর এবং অসুস্থদের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। বুধবার সকালে সরকারি সমর্থিত ‘সফর’ অ্যাপ জানায়, দিল্লির গড় একিউআই ছিল প্রায় ৩৮০।
গত সপ্তাহে বিবিসি জানিয়েছে, দিল্লি ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে দূষিত বায়ুর কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুদের ভিড় বাড়ছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে দায়ের করা এক পিটিশনের শুনানি বুধবার দিল্লি হাই কোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে দেশটির সুপ্রিম কোর্টও গত কয়েক বছর ধরে দিল্লির অবনতিশীল বায়ুমান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

Saturday, November 15, 2025
দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর ভারতে আবার ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, কাশ্মীরে চলছে ধরপাকড়
প্যাম্ফলেটের ভাষা ছিল হুমকিতে পূর্ণ। সেখানে কাশ্মীরে অবস্থানরত ভারতীয় সরকারি বাহিনী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
প্যাম্ফলেটে লেখা ছিল, ‘স্থানীয় মানুষের মধ্যে যারা এই সতর্কবার্তা মেনে চলবে না, তাদের বিরদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’
এতে শ্রীনগর ও জম্মুর মধ্যবর্তী মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী দোকানদারদেরও সতর্ক করা হয়েছিল। সরকারি বাহিনীগুলোকে আশ্রয় দিলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
একসময় এ ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়াটা সাধারণ ঘটনা ছিল। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে কাশ্মীরে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আন্দোলন যখন তুঙ্গে ছিল এবং স্থানীয় ও পাকিস্তান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাত তখন এ ধরনের ঘটনা দেখা যেত।
২০১৯ সালের আগস্টে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। রাজ্য হিসেবে এটির স্বীকৃতি বাতিল করে এবং এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে এমন পোস্টার দেখা যাওয়ার ঘটনা অনেকটাই বিরল হয়ে গিয়েছিল। সশস্ত্র সহিংসতাও কমেছিল।
দক্ষিণ এশিয়ায় হামলা নিয়ে কাজ করা সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সশস্ত্র হামলার সংখ্যা ছিল ৫৯৭। আর ২০২৫ সালে তা ১৪৫-এ নেমে আসে।
সম্প্রতি নওগামে নতুন করে প্যাম্ফলেট দেখা যাওয়ার পর তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তদন্তে বলা হয়েছিল, একাধিক ব্যক্তি হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এর মধ্যে উমর নবী নামের এক চিকিৎসকও ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গত সোমবার নয়াদিল্লিতে মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরিত হওয়া গাড়িটি তিনিই চালাচ্ছিলেন।
এ ঘটনায় এবং ভারতের অনেক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনা সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনগুলো ইসলামবিদ্বেষ ও কাশ্মীরবিরোধী মনোভাবের নতুন ঢেউ তৈরি করেছে।
নওগামে প্যাম্ফলেটের উৎস খুঁজতে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে মনোযোগ দেন। ফুটেজে যা দেখা যায়, তার ভিত্তিতে তাঁরা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেন। এর মধ্যে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলার এক ইসলামী চিন্তাবিদও আছেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা আল–জাজিরাকে এ তথ্য দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা তাঁর নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
আটক ২৪ বছর বয়সী ইসলামী চিন্তাবিদের নামে ইরফান আহমেদ। তিনি শ্রীনগরের একটি স্থানীয় মসজিদের পেশ ইমাম। আর ওই শ্রীনগরেই পোস্টারগুলো দেখা গিয়েছিল।
ইরফানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে পুলিশের সামনে আসে আরেকটি নাম: আদিল রাঠোর। তিনি কুলগামের ওয়ানপোরা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামটি শ্রীনগর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
পুলিশ রাঠোরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পায়নি। পরে তাঁকে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করছিলেন।
পুলিশ দাবি করেছে, তারা জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে রাঠোরের লকারে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল পেয়েছে। রাঠোর ওই কলেজে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
এদিকে রাঠোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বেরিয়ে আসে আরেক সহযোগীর নাম। তিনি হলেন, আরেক কাশ্মীরি চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গণাই। তিনি দিল্লির কাছে ফরিদাবাদের অবস্থিত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
ভারতীয় পুলিশের দাবি, তারা ফরিদাবাদে গণাইয়ের নামে ভাড়া নেওয়া দুটি বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে সেখান থেকে ২ হাজার ৯০০ কেজি দাহ্য রাসায়নিক ও অস্ত্র উদ্ধার করেন।
কাশ্মীরে মোতায়েন ভারতীয় পুলিশ দাবি করছে, এ গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্য দিয়ে তারা এমন একটি ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’–কে উন্মোচন করতে পেরেছে–যারা জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ)-এর সঙ্গে যুক্ত। এজিইউএইচ হল একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, যা আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
২০১৯ সালের মে মাসে সরকারি বাহিনীর গুলিতে নিহত স্থানীয় কমান্ডার জাকির রশিদ কাশ্মীরে এজিইউএইচ নামের সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপ অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। তবে ভারতীয় পুলিশের দাবি, প্রতিবেশী পাকিস্তান থেকে আসা নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলটি আবার সক্রিয় হয়েছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান তদন্তের সময় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক গণাই ও রাঠোর, ইসলামী চিন্তাবিদ ইরফান আহমেদ এবং আরও চারজন।
এই চারজনের মধ্যে উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ শহরের এক নারীও রয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্ত করতে করতে উমর নবী নামে এক কাশ্মীরি চিকিৎসক সম্পর্কেও তথ্য পেয়েছিলেন তাঁরা।
তবে নবীকে গ্রেপ্তার করার আগেই গত সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীরা বলছেন, ২৯ বছর বয়সী চিকিৎসক উমর নবীই বিস্ফোরকভর্তি ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
‘কাশ্মীরে ব্যাপক অভিযান’
নয়াদিল্লির ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করেছে পুলিশ। এতে এক তরুণকে কালো মুখোশ পরে একটি গাড়ি নিয়ে দিল্লির টোল বুথ পার হতে দেখা যাচ্ছে। আরেকটি ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, একই গাড়ি ধীরে ধীরে যানজটে ভরা চৌরাস্তা দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পরই স্ক্রিনে হলুদ আলোর ঝলকানি দেখা যায়।
বিস্ফোরণের পর দেশব্যাপী নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়। কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। ১২ নভেম্বর শ্রীনগরের রাস্তায় রাস্তায় ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছে তারা।
শুধু দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলাতেই নিরাপত্তা বাহিনী ৪০০টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে এবং প্রায় ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। বারামুল্লা, পুলওয়ামা ও অবন্তীপুরেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে।
দিল্লিতে বিস্ফোরিত গাড়ির চালক উমর নবীর পরিবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার কোইল গ্রামে থাকে।
নবীর ভাবী মুজামিল আখতার বলেন, ‘গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ আমার দেবরকে নিয়ে গেল এবং পরে আমার স্বামীকেও। সংবাদমাধ্যম ও পুলিশকে এখানে দেখে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা কিছুই জানতাম না।’
মুজামিল আখতার বলেন, পুলিশ নবীর মাকেও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছে।
মুজামিল আখতার, ‘আমাদের পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। আমি শুক্রবার উমরের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সে স্বাভাবিক ছিল এবং বলেছিল তিন দিনের মধ্যে বাড়ি আসবে। আমরা সবাই তাঁর আসার খবর নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলাম। আমরা এরকম কিছু আশা করিনি।’
স্বজনেরা বলছেন, শ্রীনগরে স্কুল ও মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় নবী অসাধারণ ছাত্র ছিলেন। পরিবারের মানুষেরা উমরের কৃতিত্বের জন্য গর্ববোধ করতেন।
নবীর বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারও কম দূরত্বে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক চিকিৎসক গণাইয়ের বাড়ির অবস্থান। সেখানে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
মুজাম্মিল গণাইয়ের বাবা শাকিল গণাই আল–জাজিরাকে বলেন, গত মঙ্গলবার পুলিশ বলেছে, তাঁদের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফরিদাবাদ থেকে কাশ্মীরে এনেছে।
শাকিল গণাই বলেন, ‘কী ঘটছে আমরা জানতাম না। এমন কিছু ঘটতে পারে বলে আমাদের ধারণাই ছিল না।’
শাকিল গণাই বলেন, মুজাম্মিল কোইল গ্রামের স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তিনি শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মির ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিসিনে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি পরে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে তিনি দুই বছর ধরে কাজ করছিলেন।
বাবা শাকিল গণাই বলেন, পুলিশ তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে এবং তার অন্য ছেলেকেও আটক করেছে।
তবে তদন্ত চলার মধ্যেই ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ইসলামবিদ্বেষ ও কাশ্মীরবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১২ নভেম্বর ভারতের গুরুগাঁও শহরের পুলিশ হাউজিং সোসাইটিগুলোকে ডেকে কাশ্মীরি বাসিন্দাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেয়। এতে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও সম্প্রতি কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ দিল্লি ও নয়ডার মতো শহরে বসবাসকারী কাশ্মীরি ভাড়াটিয়াদের বের করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
কাশ্মীরি ছাত্র এবং অধিকারকর্মী নাসির খুয়েহামি বলেন, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কাশ্মীরি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের বর্তমান উদ্বেগ মূলত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নয়াদিল্লির বিস্ফোরণ এবং এ ঘটনার তদন্তের মধ্য দিয়ে কাশ্মীর ও সশস্ত্র গোষ্ঠী মোকাবিলায় ভারতের নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি বছরের শুরুতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এখন ‘সশস্ত্র বিদ্রোহীরা’ নতুন করে আর সদস্য নিয়োগ দিচ্ছে না। পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে কাশ্মীরে সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত সব যোদ্ধা বিদেশি নাগরিক ছিলেন।
তবে এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক।
নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের কার্যনির্বাহী পরিচালক অজয় সাহনি বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এমনটা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। এই চিকিৎসকেরা সহকর্মী ছিলেন। তাদের চিন্তাভাবনা হয়তো এক রকম ছিল বা তাঁরা হযতো ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে উঠেছিল। আমি এটিকে নিয়োগ বলব না, বরং সংগঠিত করা বলব।’
![]() |
| দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণ স্থলে কাজ করছেন ফরেনসিক দলের সদস্য। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি |
দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন উমরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী
ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী আজ শুক্রবার বলেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার ভোরের মধ্যে সন্দেহভাজন চালক উমরের বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শেষ করা হয়েছে।
দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত চলার মধ্যে কাশ্মীর, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের একাধিক সংস্থা তথ্যের সূত্রগুলো মেলাতে কাজ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের একজন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং একজন ছাত্রসহ আরও দুজনকে উত্তর প্রদেশ থেকে আটক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মোদি সরকার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির সব নথিপত্রের ফরেনসিক নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের দাবি, লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা কাজ করতেন।
দিল্লি পুলিশ লাল কেলার কাছে বিস্ফোরিত হওয়া গাড়িটির চালক উমর নবীর শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে। ৫০টির বেশি সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে তাঁর গতিবিধি চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে এমনকি কেন্দ্রীয় মোদি সরকার নানা অজুহাতে মুসলিমদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন মুসলিমদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় মোদি সরকার।
![]() |
Tuesday, November 11, 2025
গাড়িটি ধীরে ধীরে এসে থামার পরই হয় বিস্ফোরণ: দিল্লির পুলিশ কমিশনার
পুলিশ কর্মকতা সতীশ গোলচা বলেন, চলন্ত গাড়িটি সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লার কাছে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে থামে। এরপর বিস্ফোরণ হয়। এতে আশপাশের গাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে গাড়ি বিস্ফোরণে আটজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তখন দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে জানান, বিস্ফোরণটি লালকেল্লা মেট্রোস্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল ব্যাপক। অনেকে আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের পর মহারাষ্ট্রে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মহারাষ্ট্র পুলিশের জেলা পর্যায়ের সব ইউনিটের কমান্ডার ও কমিশনারদের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে দিল্লিতে বড় ধরনের হামলা হয়েছিল। সে বছর রাজধানীর দুটি বাজার এলাকায় একাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে প্রায় ২০ জন নিহত হন। ২০০৮ সালে মুম্বাইতেও ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন। আর ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বোমা হামলায় ভারতের বিভিন্ন শহরে চার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
![]() |
| নয়াদিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের স্থান ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স |
Thursday, October 30, 2025
ঢাকঢোল পিটিয়ে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টি নামাতে পারল না বিজেপি সরকার
অথচ এ জন্য দিল্লির বিজেপি সরকার খরচ করল ৩ কোটি ২১ লাখ রুপি। কানপুর আইআইটি বলছে, বৃষ্টি হয়তো হয়নি, কিন্তু অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে।
কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরিয়ে রাজধানীর তীব্র দূষণের মাত্রা কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পর সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়েছে বিজেপি সরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে সাময়িক উপশমের পথে না হেঁটে সরকার বরং দূষণের উৎসে নজর দিক। যেসব কারণে প্রতিবছর হেমন্তের শুরু থেকে পুরো শীত মৌসুম দিল্লি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে, সেই কারণগুলো বন্ধ করা হোক। এভাবে কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা জলে ফেলার দরকার নেই।
দীপাবলির সময় বাজি পোড়ানো বন্ধ করতে পারেনি দিল্লির কোনো সরকারই। তবু আগের আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের একটা চেষ্টা ছিল। চেষ্টা ছিল পরিবেশ আন্দোলন কর্মীদেরও। নানাভাবে চেষ্টা হয়েছিল মামলা করে বাজি পোড়ানো বন্ধের। সেই প্রচেষ্টা জন্ম দিয়েছিল দূষণহীন বাজির। তৈরি হয়েছিল ‘গ্রিন ক্র্যাকার’। যদিও তার আড়ালে দেদার বিক্রি হয়ে এসেছে দূষণকারী বাজিও। ফলে দূষণ সৃষ্টি হয়েছে যথারীতি।
দিল্লিতে ক্ষমতাসীন হয়ে বিজেপি সরকার সেই প্রচেষ্টাতেও জল ঢেলেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাজি পোড়ানোর সঙ্গে সনাতন ধর্মকে জুড়ে প্রচার শুরু করে দেয়, যারা বাজি বন্ধের উদ্যোক্তা, তারা সনাতন ধর্মবিরোধী। সেই প্রচার প্রভাব ফেলেছিল কি না অন্য কথা, দেখা গেল সুপ্রিম কোর্টও পুরোপুরি বাজি নিষিদ্ধ করতে পারলেন না। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও দিল্লির আকাশ-বাতাস দীপাবলির পর ঢেকে গেল গভীর ধোঁয়ার আস্তরণে। দূষণ হয়ে দাঁড়াল মাত্রাছাড়া।
এই দূষণ থেকে নিস্তার পেতেই কৃত্রিম বৃষ্টির আয়োজন। এই উদ্যোগ আম আদমি সরকারও নেওয়ার কথা ভেবেছিল, কিন্তু রূপায়ণ করতে পারেনি। বিজেপি তা করে ফেলল। রাজ্য সরকার তিন কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করে এই প্রকল্পে। দায়িত্ব দেওয়া হয় কানপুর আইআইটিকে।
গতকাল মঙ্গলবার কানপুর আইআইটি দুই দফায় কয়েকবার সেসনা বিমান নিয়ে উড়ে বেড়ায় দিল্লির আকাশে। মেঘের ভেতর জলকণা সৃষ্টি করতে উড়োজাহাজ থেকে মেঘের মধ্যে ঢালা হয় ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজড লবণ ও রক সল্টের রাসায়নিক মিশ্রণ। সেই জলকণা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে রাজধানীর আকাশ থেকে।
গতকাল সেই কাজেই নেমেছিল কানপুর আইআইটি। অথচ দিনভর প্রতীক্ষাই সার হলো। দিল্লিতে বৃষ্টির ছিটোফোঁটাও দেখা পাওয়া গেল না। দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের নয়ডায় বৃষ্টি হয় শান্তিজল ছিটানোর মতো। পরিমাণ ০ দশমিক ১ মিলিলিটার।
আইআইটির বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এই ‘ক্লাউড সিডিং’, যা কিনা কৃত্রিম বৃষ্টির প্রক্রিয়া, তা শেষ হওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে বৃষ্টি হবে। কখনো কখনো ২ ঘণ্টা পরও হতে পারে। তবে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতির জন্য বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি থাকা দরকার।
তবে সারা দিন প্রতীক্ষার পরও বৃষ্টির দেখা কেন মিলল না, তার ব্যাখ্যায় কানপুর আইআইটির পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, গতকাল দিল্লির বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। অর্থাৎ খুবই সামান্য, তাই বৃষ্টি হয়নি।
মনীন্দ্র বলেন, আজও ওই প্রক্রিয়া চালানো হবে। তাঁদের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ তা বলা যাবে না। তাঁরা এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, তাঁদের পরীক্ষা একেবারেই যে ব্যর্থ, তা নয়। বৃষ্টি হয়নি ঠিকই, কিন্তু ১৫টি নিরীক্ষণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, বাতাসে মিশে থাকা সুক্ষ্ম ধূলিকণা, যাকে পিএম ২ দশমিক ৫ বলা হয়, তার পরিমাণ ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
মনীন্দ্র আগরওয়াল ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, দিল্লি দূষণের মোকাবিলার উত্তর কৃত্রিম বৃষ্টি হতে পারে না। এই ব্যবস্থা নিতান্তই সাময়িক। দিল্লিতে যে হারে দূষণ বেড়ে চলেছে, তা কমানোর একমাত্র উপায় দূষণের উৎস বন্ধ করা। একই কথা বলেছেন বিভিন্ন পরিবেশবিদ। ঘটনা হলো, কী করা দরকার, তা সবার জানা হলেও কেউই তা করতে পারছে না।
উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চল, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের খেতগুলোতে ফসলের গোড়া জ্বালানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। দীপাবলিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে বাড়ি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় দেদার বাজি পোড়ানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। নির্মাণকাজ থেকে ওড়া ধুলাবালু বাতাসে যাতে না ছড়ায়, সেই ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কলকারখানার বর্জ্য যমুনায় ফেলা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
চীন পৃথিবীর প্রথম দেশ, যেখানে ‘ক্লাউড সিডিং’ সফল হয়েছে। বেইজিংসহ শুষ্ক অঞ্চলগুলোতে তারা এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। চীন ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঝরানো হয়েছে।
পাকিস্তানও লাহোরের মতো দূষণযুক্ত শহরে এই পদ্ধতিতে কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিতে ভুলছেন না, এটা সাময়িক উপায়। বড়জোর দুই–তিন দিন এর রেশ থাকে। তারপর যে অবস্থা ছিল, তেমনই হয়ে যায়। তা ছাড়া এই ব্যবস্থা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ।
![]() |
| ভারতের রাজধানী দিল্লির আকাশে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য মেঘ বুনতে উড্ডয়ন করছে একটি সেসনা বিমান। ২৮ অক্টোবর ২০২৫, কানপুর, উত্তর প্রদেশ। ছবি: এএনআই |
Wednesday, April 23, 2025
দিল্লির এক নারী কবুতরবাজ by লিমা সুলতানা
লেখক ও ইতিহাসবিদ রানা সাফভি বলেন, দরবারের নারীরা বারান্দায় বসে কবুতর উড়া দেখতেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম শাসকদের অধীনে ওই বিনোদন একটি জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয়। এটি হলো- আত্ম, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আত্মীয়তার অনুভূতি। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় এই খেলা অন্য মাত্রায় পৌঁছায়। কবুতরবাজিকে সম্রাট জাহাঙ্গীর ইশকবাজির (ভালোবাসার শিল্প) সঙ্গে তুলনা করেন। কবুতর পালনের প্রথাকে অনন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দিল্লিতে কবুতর প্রশিক্ষক আনেন। উল্লেখ্য, দিল্লি শহরের হাজার হাজার কবুতর পালক ওই ঐতিহ্য পালন করে আসছেন। কবুতরবাজি বা কবুতর পালন ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের কাজ। শতাব্দী ধরে পিতার পর পুত্র এ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এর ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন শাহীন পারভীন। দিল্লিতে একমাত্র নারী কবুতর পালনকারী হিসেবে তিনি গৌরব অর্জন করেছেন। স্ত্রী থেকে মা তার থেকে দাদি। দিনে এমন একাধিক ভূমিকা পালন করেন তিনি। যখনই একা থাকেন তিনি মই বেয়ে বাড়ির ছাদে উঠে যান। তার ১০০টির বেশি কবুতর দেখাশোনা করেই তিনি দিন শুরু করেন। সকালে উঠে কবুতরগুলো সুস্থ আছে কিনা তা নিশ্চিত করেন। এরপর সেগুলোকে খাবার খাওয়ান। হাততালি, শিস বাজিয়ে তিনি তার কবুতরগুলোর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেন। প্রতিযোগিতার জন্য তাদের দক্ষতাও নিশ্চিত করেন। সন্ধ্যার সময় কবুতরের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করে অনেকে কবুতরগুলোকে ডাকেন। এর মধ্যে পারভীনের কণ্ঠ আলাদাভাবে শোনা যায়। যখন তিনি তার কবুতরগুলোকে ডাকেন তখন আশপাশের ছাদ আর ঘরের জানালা থেকে মানুষ উঁকি দেয় প্রিয় কবুতর পালককে এক নজর দেখার জন্য। পারভীন বলেন, কবুতর পালন একই সঙ্গে ঐতিহ্য ও আবেগের বিষয়। আমি যদি তাদের সঙ্গে সময় না কাটাই তাহলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তারা আমার বাচ্চার মতো। তবে পুরুষ শাসিত সমাজে কবুতরবাজ হওয়া পারভীনের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার জন্য তিনি তার পিতাকে কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পর আমার পিতা আমাকে ছাদে নিয়ে যেতেন এবং তার কবুতরগুলো দেখাতেন। সেখান থেকেই মূলত আমার কবুতরের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। তার ভাই পারভীনের শখের বিরোধিতা করেন। এর জন্য তাকে তার ভাইয়ের অসম্মতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়। পরবর্তীতে তিনি অন্যদের সমালোচনার সম্মুখীন হন। তবে পাখিদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি তার জিদ ধরে রাখেন। তিনি বলেন, যখন সমাজ আপনার দক্ষতার জন্য আপনার প্রশংসা করে তখন আপনি গর্বিত বোধ করবেন। আপনার বিরুদ্ধে কারা কথা বললো তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। নিন্দুকদেরকে নিন্দা করতে দিন। তিনি বলেন, যা থেকে আমি শান্তি পাই তা আমি করে যাবো। পারভীন তার প্রতিভার জন্য তার কমিউনিটি থেকে ব্যাপক সম্মান পেয়েছেন। মুখে হাসি নিয়ে তিনি বলেন, অনেক মানুষ আমার কাছে আবদার করেন আমি যাতে তাদের কবুতরগুলোকে দোয়া দেই। তবে আমি আমার নিজের কবুতরের জন্যই সময় পাই না। মহসিন উস্তাদের মতো অভিজ্ঞ কবুতর পালক মাঝে মাঝে পারভীনকে কবুতরের খাবার ও ওষুধ দিয়ে সমর্থন করে থাকেন। কারণ কিছু সময় পারভীন তার কবুতর পালনের খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খান।

Thursday, October 31, 2024
দিল্লির চাঁদনি চকে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের মোবাইল চুরি
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বাজার এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। চার জনকে সেখান থেকেই চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, চার জনেরই বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। চুরি যাওয়া মোবাইলটিও তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের হাতে তার হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি ফিরিয়ে দেওয়ার পর দিল্লি পুলিশ একটি বিবৃতি দিয়ে সে কথা জানিয়েছে। আটককৃতরা ট্রান্স-যমুনা এলাকার বাসিন্দা। তাদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাতাউরে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এটি আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা, বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য।”
তিনি আরও বলেন, তিনি এই ঘটনার পরে ভারতীয় পুলিশ বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। বিশেষ করে চাঁদনি চক এলাকার মতো জনবহুল স্থানে এই ঘটনার পর, অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে, তারা এখনো বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, এই ধরনের ঘটনাগুলি ভারতীয় সংস্কৃতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

Thursday, October 3, 2024
জাতিসংঘে ইউনূসের সফল দৌত্যে চিন্তায় নয়াদিল্লি
সাধারণ সম্মেলনে নিজে বক্তৃতা দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউনূস। পাশাপাশি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধান এবং এডিবি-র শীর্ষকর্তার সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা হয়েছে তাঁর। এই সব আলোচনার মূল সূর একটাই। শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারি নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমি দুনিয়া এবং আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা থাকবে ভবিষ্যতে। যে সহায়তার কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। এক কথায়, ভারতের প্রতি দ্বিপাক্ষিক নির্ভরতার জায়গা সঙ্কুচিত করাই এই মুহূর্তে ইউনূস সরকারের লক্ষ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে কূটনৈতিক মহলে।
সাউথ ব্লকের চিন্তা বাড়িয়ে নিউ ইয়র্কে ইউনূসের দৌত্য তালিকা প্রসারিত হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গেও। সূত্রের খবর, সার্ক-কে জাগিয়ে তোলা ও বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে কথা হয় ইউনূস-শরিফের। কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিদেশ মন্ত্রক গত ১০০ দিনে কাজকর্মের খতিয়ানে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ না রাখলেও এই মুহূর্তে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের কৌশল রচনাই মোদী সরকারকে অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখতে হবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বার্তা থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশ এখন তার নীতির কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীকে আরও বেশি করে রাখতে চাইছে। যা স্বস্তির নয় নয়াদিল্লির কাছে। আপাতত দু’টি বিষয় স্পষ্ট। এক, এই অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে গিয়েছে সে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে। দুই, ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আগামী দিনে এগোলে তা নিয়ন্ত্রণ করার মতোকূটনৈতিক অস্ত্র এখনও ভারতের হাতে নেই। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, জাতিসংঘে বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছেন ইউনূস। এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন, ক্ষমতার বদল হলেও তাঁকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশের জাতিসত্তার স্বকীয়তাতেই তিনি বিশ্বাসী।
সূত্র- আনন্দবাজার

Thursday, September 26, 2024
যুবতীর কক্ষে গোপন ক্যামেরা...
ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য দিল্লির শকরপুরে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের এক যুবতী। যে অ্যাপার্টমেন্টে তিনি থাকতেন, তার উপর তলায় বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও ছেলে থাকতেন। তাদের ভালো ব্যবহার, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে ভরসা করেই ওই যুবতী বাড়ি যাওয়ার সময় চাবি দিয়ে গিয়েছিলেন। উত্তর প্রদেশ থেকে ফেরার পরই ওই যুবতী হঠাৎ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক গতিবিধি হতেই ‘লিঙ্কড ডিভাইস’ চেক করেন। সেখানে দেখেন- একটি অজানা ল্যাপটপের সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ লিংক দেখাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ল্যাপটপ থেকে লগ আউট করে দেন। এ ঘটনার পরই তার সন্দেহ হয় যে, কেউ নজর রাখছে। এরপর বাড়ি তন্ন তন্ন করে খোঁজার পর নজরে আসে, বাথরুমে লাগানো লাইট বাল্বটি একটু বাঁকা দেখাচ্ছে। খুলতেই দেখেন, ভেতরে ক্যামেরা। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে ফোন করেন যুবতী। পরে পুলিশ এসে ফের তল্লাশি চালায়।
এবার যুবতীর বেডরুমের লাইট বাল্ব হোল্ডারের ভেতর থেকেও ক্যামেরা বের হয়। পুলিশ ওই যুবতীকে প্রশ্ন করে- তার অ্যাপার্টমেন্টে কাদের যাতায়াত ছিল। ভুক্তভোগী যুবতী জানান, প্রায় সময়ই তিনি বাড়ির মালিকের ঘরে চাবি দিয়ে যেতেন। এরপরই পুলিশ বাড়ির মালিকের ছেলেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিন মাস আগে যুবতী যখন বাড়ি গিয়েছিলেন, সেই সময় তার ঘরে ঢুকে বেডরুম ও বাথরুমে ক্যামেরা লাগিয়ে আসে সে। ক্যামেরাগুলোতে মেমোরি কার্ডও ছিল। যখন মেমোরি ফুল হয়ে যেত, তখন বিদ্যুতের কাজের নামে ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে সেই রেকর্ডিং নিজের ল্যাপটপে ট্রান্সফার করে, ফাঁকা চিপ লাগিয়ে আসতো। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে। এই ল্যাপটপের মধ্যে যুবতীর একাধিক নগ্ন ভিডিও পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Monday, September 23, 2024
নিজের কোনো বাড়ি নেই, দিল্লির জনগণের মধ্যেই থাকবেন কেজরিওয়াল
এর আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করেন তিনি। তবে জানান রাজনৈতিক চাপে পদত্যাগ করেননি। নৈতিক কারণে করেছেন। তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করেছি। কারণ, দুর্নীতি করার জন্য অথবা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের লোভে রাজনীতিতে আসিনি। আমি ভারত মাতার জন্য দেশের রাজনীতিকে পরিবর্তন করতে এসেছিলাম। যদি টাকা বানাতে টাইতাম, তাহলে তা করতে পারতাম- যখন ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছি। কিন্তু রাজনীতিকদের চামড়া মোটা। তারা অভিযোগের পরোয়া করেন না। কিন্তু বিজেপি যখন আমাকে চোর বা দুর্নীতিবাজ বলে, তখন আমি তা আমলে নিই। এ অভিযোগ আমার হৃদয় ভেঙে দেয়। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দুর্নীতির ধারাবাহিক কিছু অভিযোগের পর পদত্যাগ করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এর মধ্যে দিল্লি এক্সসাইজ পলিসিতে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। এসব অভিযোগ নিয়ে তিনি গভীরভাবে হতাশা প্রকাশ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপিকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন কেজরিওয়াল। কারণ, তারা আম আদমি পার্টির সুনাম ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ কেজরিওয়ালের। তিনি বলেন, আমরা সততার সঙ্গে সরকার চালাচ্ছিলাম। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, পানি এবং চমৎকার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু মোদিজি মনে করলেন আমাদেরকে পরাজিত করতে হবে। আমাদের সততাকে আঘাত করতে হবে তাকে। এ জন্য তারা সিসোদিয়া এবং আমার মতো ব্যক্তিদের জেলে ঢুকিয়েছেন।

Tuesday, September 17, 2024
ভারতের দ্বিতীয় নারী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন অতিশী মারলেনা
এই পাঁচ নেতা হলেন অতিশী মারলেনা, সৌরভ ভরদ্বাজ, কৈলাস গহলৌত, গোপাল রাই এবং ইমরান হুসেন। এই পাঁচ নেতা ছাড়াও আলোচনায় ছিলেন কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতাও। সে ভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও স্বামীর গ্রেপ্তারের পর সুনীতাকেই দলের সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় দিল্লির বাসিন্দাদের কাছে কারাবন্দি কেজরিওয়ালের বার্তাও তুলে ধরতেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সকলকে পিছনে ফেলে দিলেন অতিশী। উল্লেখ্য, দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কেজরিওয়াল। গত ২১ মার্চ নিজের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। ইডির মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও সিবিআইয়ের মামলায় জেলেই থাকতে হয়েছে তাকে। সিবিআইয়ের গ্রেপ্তার চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেজরি। কিন্তু সেখানে স্বস্তি মেলেনি। তার পরই সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেন আপ প্রধান। গত ৫ সেপ্টেম্বর সেই সংক্রান্ত শুনানি শেষ হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে। তার পর রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার কেজরিকে জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে জামিন দেওয়ার সময় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, জেল থেকে বেরোনোর পর কেজরিওয়াল কোনো ফাইলে সাক্ষর করতে পারবেন না। নিজের দপ্তরেও যেতে পারবেন না। এ ছাড়া, প্রকাশ্যে এই সংক্রান্ত কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না আপ প্রধান।

Sunday, September 15, 2024
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা কেজরিওয়ালের
রোববার দিল্লিতে পার্টির কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার সময় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি তিনি বলেন, 'দু'দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছি। মানুষ রায় না দেয়া পর্যন্ত আমি চেয়ারে বসব না। প্রত্যেক বাড়িতে যাব, দরজায় দরজায় পৌঁছব। মানুষের রায় না পাওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসব না।'
একইসঙ্গে দিল্লিবাসীর উদ্দেশেও কেজরিওয়ালের অনুরোধ, যদি মানুষ তাকে নির্দোষ বলে মনে করেন, যদি মানুষ ভাবেন তিনি দিল্লির জন্য কাজ করেছেন, তবে তাকে যেন পুনরায় ভোট দেয়া হয়।
কেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা ব্যাখ্যা করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আদালত জামিন দিয়েছে। এই মামলা চলবে। আইনজীবীদের বললাম, আদালত থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসব না। কিন্তু ওরা বললেন, মামলা বেশ কয়েক বছর চলতে পারে। আদালত যা করতে পারত করেছে। যে আইনে জামিন হয় না, সেই আইনে আদালত থেকে জামিন পেয়েছি। কিন্তু আজ আমি জনতার আদালতে এসেছি। আপনারা বলুন, আপনারা আমাকে দোষী মনে করেন না নির্দোষ? কেজরিওয়াল সৎ না অসৎ? ‘ আপ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তার ভাষণে কেজরিওয়াল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বৃটিশদের চেয়েও কর্তৃত্ববাদী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র বাঁচাতে চেয়েছিলাম বলে গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করিনি। তারা (কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী) সিদ্দারামাইয়া, (কেরলের মুখ্যমন্ত্রী) পিনারাই বিজয়ন, (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী) মমতা দিদির (ব্যানার্জি) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আমি অ-বিজেপিদের কাছে আবেদন করতে চাই, তারা (বিজেপি) যদি আপনার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে তাহলে পদত্যাগ করবেন না। এটি তাদের নতুন খেলা।’
যদিও বিজেপির দাবি কেজরিওয়াল নাটক করছেন। বিজেপির হরিশ খুরানা প্রশ্ন তোলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা পরে কেন? তার আজই পদত্যাগ করা উচিত। অতীতেও তিনি এমন করেছেন। দিল্লির মানুষ জিজ্ঞাসা করছে, তিনি সচিবালয়ে যেতে পারবেন না, নথিতে সই করতে পারবেন না, তাহলে লাভ কী?’
বিজেপি আগাম নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খুরানা বলেন, ‘আজ হোক বা কাল হোক আমরা প্রস্তুত। আমরা ২৫ বছর পর দিল্লিতে ক্ষমতায় ফিরব।’
সূত্র : এনডিটিভি
![]() |
| দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ছবি : সংগৃহীত |
পদত্যাগ করছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল
সংবাদমাধ্যম বলছে, জামিনে মুক্তির পর এবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রোববার দুপুরে দলীয় এক সম্মেলনে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান জানিয়েছেন, দুদিন পরেই মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেবেন তিনি।
দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় প্রায় ৬ মাস জেলে ছিলেন কেজরিওয়াল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে গত শুক্রবার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন দিল্লির এই মুখ্যমন্ত্রী। জেলমুক্তির দুদিনের মধ্যেই এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
রোববার দুপুরে দলীয় বৈঠকে কেজরিওয়াল বলেন, দুদিন পরে আমি মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেব। যতদিন না জনতার রায় পাচ্ছি, ততদিন আমি এই আসনে আর ফিরব না। কয়েক মাস পরেই দিল্লিতে ভোট রয়েছে। আদালতে আমি বিচার পেয়েছি। এবার জনতার আদালতে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। মানুষ যে দিন চাইবে, সে দিনই আমি আবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফিরব।
একইসঙ্গে দিল্লিবাসীর উদ্দেশেও কেজরিওয়ালের অনুরোধ, যদি মানুষ তাকে নির্দোষ বলে মনে করেন, যদি মানুষ ভাবেন তিনি দিল্লির জন্য কাজ করেছেন, তবে তাকে যেন পুনরায় ভোট দেওয়া হয়।
এদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেওয়ার পর কেজরিওয়ালের আসনে কে বসবেন তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দলের মধ্যে থেকেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। তবে কে হতে পারেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন আম আদমি পার্টির এই প্রধান।
সংবাদমাধ্যম বলছে, সব কিছু ঠিক থাকলে প্রায় পাঁচ মাস পরেই দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত নির্বাচন হতে পারে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে কেজরিওয়াল দাবি জানিয়েছেন যনে সেই নির্বাচন এগিয়ে আনা হয়।
দিল্লির বিদায়ী এই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী নভেম্বরে মহারাষ্ট্রের ভোটের সঙ্গেই দিল্লিতে নির্বাচন আয়োজন করা হোক। কেজরিওয়ালের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর থেকে ভোটের আগে পর্যন্ত যেটুকু সময় পাবেন, ওই সময়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইবেন তিনি।
![]() |
| দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ছবি : সংগৃহীত |
Friday, September 13, 2024
জামিন পেলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল
নিম্ন আদালতে না গিয়ে প্রথমেই কেন দিল্লি হাই কোর্টে গিয়েছেন কেজরি, সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সেই প্রশ্ন তোলেন সলিসিটর জেনারেল। ওই যুক্তিতেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছিল সিবিআইয়ের তরফে। তবে কেজরির জামিন আটকাল না। কেজরির গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে সিবিআইয়ের অতিসক্রিয়তাকে এদিন তোপ দেগেছে সুপ্রিম কোর্ট। কেজরির মুক্তির পরে আপের বার্তা, 'হি ইজ ব্যাক'। তবে বেশ কয়েকটি শর্তে কেজরি -কে জামিন দেওয়া হয়েছে। জেল থেকে বেরোনোর পর তিনি কোনও ফাইলে সই করতে পারবেন না। নিজের দফতরেও যেতে পারবেন না। এ ছাড়া, প্রকাশ্যে এই সংক্রান্ত কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।ইডির হেফাজতে থাকাকালীনই, ২৬ জুন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। এর আগে ১২ জুলাই দিল্লির আবগারি নীতি কেলেঙ্কারির অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ইডি যে মামলা দায়ের করেছিল, সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন কেজরিওয়াল। গত ২১ মার্চ লোকসভা ভোটের ঠিক আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে তার বাসভবন থেকেই গ্রেপ্তার করে ইডি। এদিন সিবিআই-এর মামলাতেও জামিন পাওয়ায় ছয় মাস পর অবশেষে জেল থেকে বের হচ্ছেন আপ প্রধান।
সূত্র : এনডিটিভি

Monday, November 19, 2018
বায়ুদূষণে কেমন আছেন দিল্লির রিক্সাওয়ালা!

সঞ্জয় জানান, পাঁচ বছর আগে তিনি চাকরির খোঁজে বিহার থেকে দিল্লিতে যান।
কিন্তু চাকরি না পেয়ে অবশেষে পেটের দায়ে আর পরিবারের কথা ভেবে রিক্সা চালানো শুরু করেন। রিক্সা চালিয়ে তিনি যা আয় করেন তা দিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকা সম্ভব নয়। তাই তিনি ফুটপাতে থাকতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, আমি বিছানায় ঘুমানোর আশা করি। কিন্তু জানি সেটা অনেক দূরের স্বপ্ন। আমি ভালো খাবার আশা করি। কিন্তু সেটাও দু®প্রাপ্য। এসব কিছু না হোক, কমপক্ষে বিশুদ্ধ বায়ুতে নিঃশ্বাস নেবার আশা করতেই পারি। কিন্তু শীতের সময়টাতে সেটাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আপনার আরামদায়ক একটি বাড়ি আছে। আর আমাকে তো সব সময় রাস্তাতেই থাকতে হয়।

দিল্লির বায়ু দূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পার্শ্ববর্তী রাজ্য পাঞ্জাবের কৃষকরা ফসলি জমি পরিষ্কার করার জন্য আগুন লাগিয়ে দেবার কারণে বায়ু দূষণের মাত্রা আরো খারাপ হয়ে যায়। এছাড়া দিওয়ালিতে বাজি পোড়ানোর কারণে বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস মিশে দূষণ আরো তীব্রতর করে।
সঞ্জয় কুমারের মতো আরো এক রিক্সাচালক জয় চাঁদ যাদব। পশ্চিম বাংলা থেকে সাত বছর আগে দিল্লিতে গেছেন। বলছিলেন, বিরতি নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমি দিনে ৩০০ রুপি আয় করি। তার কিছু অংশ দিয়ে পরিবারের জন্য খাবার কিনি, আর বাকিটা সঞ্চয় করি। আমার পরিবার আমার উপর নির্ভরশীল। তাই নিঃশ্বাস নিতে যত কষ্টই হোক না কেন, কাজ চালিয়ে যেতেই হবে।
তিনি আরো বলেন, আমি মাঝেমধ্যে না খেয়েই রিক্সা চালাই। আমি সেটা কোনোভাবে চালিয়ে নিতে পারি। কিন্তু বায়ুর অবস্থা এতোটাই খারাপ যে, আমার মনে হয় বুকের উপর ৫০ কেজি নিয়ে আমি রিক্সা চালাচ্ছি।

সঞ্জয় কুমার আর জয় চাঁদ যাদবের মতো দিল্লিতে হাজার হাজার রিক্সাচালক রয়েছেন। শীতকালে দিল্লির বায়ু দূষণের মাত্রা গ্রহণযোগ্য মাত্রা থেকে ৩০ গুণ দূষিত হয়ে পড়ে। আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রিক্সাচালকরা। রিক্সা চালানোর সময় শ্বাসযন্ত্রে বেশি চাপ পড়ে। এতে করে বাতাসে মিশে থাকা পিএম২.৫ নামের বিষাক্ত ক্ষুদ্র কণা শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যায়। এতে করে তাদের শারীরিক পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টি আমলে নিয়েছে। রায়ু দূষণ স¤পর্কে সম্প্রতি এক শুনানিকালে আদালত সরকারকে বলেছেন, ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া কোনো সমাধান নয়। রিক্সাচালকদের এটা বলা সম্ভব নয় যে, বাইরে কাজ করতে যাওয়া নিরাপদ নয়। আপনাকে ঘরে থাকতে হবে। এটি খুবই সংকটময় পরিস্থিতি। বিচারক বলেন, যত রিক্সাচালককে আমি দেখেছি, তারা সবাই কাঁশছে অথবা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করছে। কিন্তু এসব কিছুর পরও রিক্সাচালকরা এখনও রাস্তাতেই রয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন বিষাক্ত বায়ুর মধ্যেই রিক্সা চালাচ্ছে।
Friday, March 23, 2018
আপ বিধায়কদের সদস্যপদ বহাল দিল্লি হাইকোর্টে: স্বস্তিতে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ
![]() |
| দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল |
আজ (শুক্রবার) আদালতের রায়ের পর দিল্লি বিধানসভার স্পিকার রামনিবাস গোয়েল ২০ বিধায়ককে বর্তমান বাজেট অধিবেশনে অংশ নেয়ার জন্য সম্মতি দিয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের ফলে আপ বিধায়করা স্বস্তি পাওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার বড় ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পুনরায় শুনানি করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আপ বিধায়কদের বিভিন্ন দফতরের পরিষদীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় তারা লাভজনক পদে আছেন- এমন অভিযোগে নির্বাচন কমিশন গত জানুয়ারিতে দলটির ২০ বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করে। প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ নির্বাচন কমিশনের সুপারিশে সম্মতি দেয়ায় আপের ওই বিধায়কদের সদস্য পদ বাতিল যায়।
দলীয় বিধায়কদের অসাংবিধানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো শুনানি ছাড়াই ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে সেসময় অভিযোগ করা হয়। এরপরেই আম আদমি পার্টি দিল্লি হাইকোর্টে এনিয়ে চ্যালেঞ্জ জানালে আজ (শুক্রবার) দিল্লি হাইকোর্ট আপের ২০ বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দিয়েছে। বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি আইনত ঠিক নয় বলে আদালত জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে পুনরায় শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে।
দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আপ প্রধান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। দিল্লির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেআইনিভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দিল্লি হাইকোর্ট জনগনের পক্ষে রায় দিয়েছে।’
এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ও কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি সম্পূর্ণ একটি অভারতীয় দল, যারা ভারতের সংবিধানের উপরে শুরু থেকেই আস্থা রাখে না। তারা মনে গায়ের জোরে, অস্ত্রের জোরে ও তাদের লোকেদের জোরে সবকিছু করবে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট যেহেতু আর এস এসের লোক সেজন্য তারা ভেবেছেন সবকিছুতে তাদের ইচ্ছাই স্থান পাবে। তাই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আপের ২০ বিধায়কের সদস্য পদ খারিজ করে দেয়া হয়েছিল। আজকে হাইকোর্টের রায় তাদের ওপরে একটা চপেটাঘাত। দিল্লি হাইকোর্ট প্রমাণ করেছে সবার ওপরে ভারতের সংবিধান সত্য, সবার ওপরে ভারতের গণতন্ত্র সত্য এবং ভারতের বিচার ব্যবস্থাকে এত সহজে দমিয়ে ফেলা যাবে না।
Monday, March 13, 2017
ঢাকার আগ্রহ তিস্তায় দিল্লির চোখ প্রতিরক্ষায় by মিজানুর রহমান

সমপ্রতি হিন্দুস্তান টাইমসসহ দিল্লি ডেটলাইনে প্রকাশিত গণমাধ্যমের খবরে এটি বেশ খোলাসা হয়েই জনসমক্ষে এসেছে। সেগুনবাগিচার কর্মকর্তারাও এ নিয়ে এখন আর রাখঢাকা করছেন না। তারা অবশ্য এটাকে ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ না বলে ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমেঝোতা স্মারক বা এমওইউ’ বলাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল তিস্তা, গঙ্গা বা প্রতিরক্ষা-ই নয়, হাই প্রোফাইল ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তত ২০’র বেশি চুক্তি, সমঝোতা ও ডকুমেন্ট সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। যার মধ্যে- নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, নিউক্লিয়ার, স্পেস, স্যাটেলাইট, বাণিজ্য সহযোগিতা ও বর্ডার হাট স্থাপন এবং উভয় দেশের জনগণের পর্যায়ে মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। ঢাকার কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি কোনো শর্ত নয়, তারপরও প্রতীক্ষিত চুক্তিটি সইয়ে ব্যাপক আশাবাদী ঢাকা। এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। চুক্তির কাঠামোও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। এটি যে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের একান্ত চাওয়া সেটি দিল্লির নেতৃত্বও বুঝেন। ঢাকার তরফেও সময়ে সময়ে সেই বার্তা স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে দিল্লির নেতৃত্ব তার দেশের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বোঝাপড়া শেষ করে চুক্তিটি সইয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে পারবে বলেও আশাবাদী বাংলাদেশ। দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আগামী ৭-১০ই এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফর করবেন, এটি প্রায় চূড়ান্ত। আমরা এই সফরের দুই দেশের মধ্যেকার ঝুলে থাকা বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি চাইব। সেখানে তিস্তা আমাদের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি বিদেশি সহযোগিতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় থাকা গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পে সহায়তার বিষয়ে দিল্লির স্পষ্ট ঘোষণা আদায়ের চেষ্টা থাকবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানির সুষম ব্যবহারে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অঙ্গীকারের বিষয়টি আরো স্পষ্ট করতে মনোযোগ রয়েছে ঢাকার। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের ফিরতি সফরে এবার দিল্লি যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। নানা কারণে হাই প্রোফাইল ওই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এর রাজনৈতিক তৎপর্য রয়েছে বলেও মনে করছেন পেশাদার কূটনীতিকরা। ওই সফর নিয়ে আলোচনায় গত নভেম্বরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক দিল্লি সফর করেছেন। আর গত মাসে ঢাকা সফর করেছেন দিল্লির বিদেশ সচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। ওই দুই সফরের মাঝে তড়িঘড়ি করে ঢাকা সফর করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকর। ভারতের কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এটাই ছিল প্রথম বাংলাদেশ সফর। দিল্লির ডেটলাইনে মনোহর পারিকরের ঢাকা সফরের যে বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ-চীন বিদ্যমান সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে এর একটি যোগসূত্র খোজা হয়েছে। বলা হয়- প্রতিরক্ষা ইস্যুতে চীনের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা চুক্তি জরুরি ভিত্তিতে সেরে ফেলতে চায় ভারত। এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরেই এটি সই করতে চায় ভারত। এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, আলোচনার অগ্রগতিও আছে, তবে এখনো সেই চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি। মানবজমিনের জিজ্ঞাসার জবাবে ঢাকার কর্মকর্তারাও গতকাল এমনটাই বলেছেন। তাদের ভাষায়- আলোচনা চলছে, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়। কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, সমন্বিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি এমওইউ সইয়ের প্রস্তুতি রয়েছে। এটি সই হলে প্রশিক্ষণ, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দু’দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। দিল্লির সূত্রগুলো অবশ্য বলছে, ঢাকার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার জন্য ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিতেও আগ্রহী ভারত। এ নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব সমঝোতায় পৌঁছালে তা হবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা খাতে ভারতের দেয়া সব থেকে বড় অঙ্কের ঋণ। ভারতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্টে গত বছর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর এবং সেই সময়ে দুদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিও সমঝোতাগুলোর উদাহরণও টানা হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে সম্পাদিত চুক্তি মতে, বাংলাদেশে ২৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে চীন।
গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণে ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, মেঘা প্রকল্প গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে সহযোগিতায় ভারতের পূর্ণ সমর্থন জরুরি। এটি নির্মাণে চীন জাপানসহ অনেকেই সহযোগিতায় আগ্রহী। তবে বড় ওই প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে দিল্লির ইতিবাচক মনোভাব দেখতে চান বন্ধু রাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগীরা। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা মনে করেন এ ব্যারাজ নির্মাণ হলে অববাহিকা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের সমীক্ষার জন্য একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দল সমপ্রতি বাংলাদেশ সফর করেছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লির সফরের আগেই ভারতীয় টিম তাদের মূল্যায়ন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় উপস্থাপান করবে। এটি বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে আশা করে তিনি বলেন, সরকার প্রধানের সফরে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা এবং স্পষ্ট ঘোষণা মিলবে বলেও ঢাকা আশাবাদী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ভারত সফরে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো মেগাপ্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। এ সফরে প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজের জন্য (কিছু অংশ) দেশটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। কর্মকর্তাদের মতে, শেখ হাসিনার এবারের সফরে লাইন অব ক্রেডিট বা ঋণ চুক্তির বদলে প্রকল্পভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় থাকছে। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে ২২টি চুক্তি, সমঝোতা ও ডকুমেন্ট সই হয়েছিল। ঐতিহাসিক ওই সফরে ‘নতুন প্রজন্ম, নয়া দিশা’ শীর্ষক যৌথ ঘোষণাও সই হয়েছিল। পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সঙ্গত কারণেই অতীতে শীর্ষ পর্যায়ের সফরগুলো বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদির গত বছরের বাংলাদেশ সফরে সম্পাদিত চুক্তি, সমঝোতা ও ঘোষণার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা হবে শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফরে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাদের পরিবারকে সম্মাননা: স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী (শহীদ) ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পরিবারকে সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে বাংলাদেশের। এ নিয়ে অনেক দিন ধরে কাজ চলছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে, ১৬৬৮ জন শহীদের নাম পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই তালিকা ধরে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পররাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওই তালিকায় থাকা ৭ জন শহীদ যুদ্ধবন্ধুর পরিবারকে সম্মাননা জানাতে চায় বাংলাদেশ। সীমিত পরিসরে হলেও শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়ার আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এটি হবে শহীদ পরিবারগুলোকে বাংলাদেশের সম্মাননা জানানোর আনুষ্ঠানিক সূচনা। বাকিদের পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগে সম্মাননা জানাবে বাংলাদেশ।
সম্ভাব্য সফরসূচি: কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দেয়া তথ্য মতে, সেখানে আগামী ৯ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি হতে পারে। সেখাবেই শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফরের দিন-তারিখ ঠিক হলেও গতকাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকের সময়ক্ষণ ঠিক হয়নি বলে দাবি করে এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সফরটি হবে ৩ দিনে। ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির অতিথিশালায় থাকবেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীকে এবারই ওই বিরল সম্মাননা জানাবে ভারত। সফরকালে প্রেসিডেন্ট মুখার্জির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে। এছাড়া, দিল্লির রাজঘাটস্থ গান্ধী সমাধিও পরিদর্শন এবং আজমীর শরিফ জেয়ারতে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
Thursday, March 5, 2015
কুৎসিত লড়াই দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে : কেজরিওয়াল
উল্লেখ্য, দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ্র কেজরিওয়ালকে আম আদমি পার্টি (এএপি) থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। এএপি নেতা সঞ্জয় সিং নয়াদিল্লিতে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এর মধ্যেই দলটিতে বড় ধরনের বিভক্তির আশংকা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি এএপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটির সদস্য যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষাণ দলের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন এবং পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে দলের ভেতরে দুটি পক্ষের ভেতর চিঠি চালাচালির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। একই সঙ্গে গোপনে ফোন রেকর্ডে ভূষাণের এএপি-বিরোধী অবস্থান প্রকাশিত হয়েছে। এরপরই যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষাণকে দল থেকে বহিষ্কারের গুঞ্জন ওঠে। এএপির দিল্লি সচিব দিলীপ পান্ডের লেখা একটি চিঠিতে দলকে দুর্বল করতে যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষাণ ও শান্তি ভূষাণ কাজ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। এতে বলা হয়, তারা কেজরিওয়ালের পরিবর্তে যাদবকে প্রধান করার চেষ্টা করছেন। গত ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠিত দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৭টি পেয়েছে এএপি।
‘বিদ্রোহী ত্রয়ীর উচ্ছেদে’ আজ বৈঠক : অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর কিছু ফাঁস হয়ে চিঠি, এ নিয়েই ব্যতিব্যস্ত আম আদমি পার্টি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে তড়িঘড়ি আজ বুধবার এএপির জাতীয় এক্সিকিউট কমিটির বৈঠক বসতে চলেছে। এই বৈঠকে দলের অন্যতম দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নেতা যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষাণের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে। এই বৈঠকে দলের রাজনীতিবিষয়ক কমিটি থেকে যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণকে ছেঁটে ফেলতে প্রস্তুত কেজরির অনুগামীরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই কমিটি থেকে দলের এই দুই সদস্যকে সরিয়ে দিতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না তাদের। দলের মধ্যে বেকায়দায় পড়েছেন, এমন পরিস্থিতি টের পেয়ে ইতিমধ্যে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছেন যোগেন্দ্র যাদব। সোমবার সন্ধ্যায় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন কেজরিওয়ালই এএপির শীর্ষ নেতা। তাকে জাতীয় আহ্বায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
বিরাট জয় নিয়ে দিল্লি বিধানসভার ক্ষমতায় আসার এক মাস না পেরোতেই এএপিতে গৃহবিবাদ শুরু হয়ে গেছে। দলের দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রবীন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণ এএপির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈঠকে দলটির দুই ভিন্নমতাবলম্বী নেতা প্রশান্ত ভূষণ ও যোগেন্দ্র যাদবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, এ দুজনকে দলটির কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এমনকি দল থেকেও বাদ পড়তে পারেন তাঁরা। দুই নেতার কথিত ষড়যন্ত্র, এ-সংক্রান্ত চিঠি উদ্ধার এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে এএপির অন্তর্দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আজকের বৈঠকে কেজরিওয়াল থাকবেন না। তিনি চিকিৎসার উদ্দেশে ১০ দিনের জন্য বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






