Sunday, October 20, 2013
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রত্যাশায় by কামরুল ইসলাম চৌধুরী

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ২০১১ সালে জলবায়ু সম্মেলনে গৃহীত ডারবান প্লাটফর্মের কথা স্মরণ করিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানালাম, ডারবানের সফলতার পেছনে ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশের, বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনকে সফল করতে হবে। সেসব দেশকে আবার অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশ ইতিমধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়েছে। দেখিয়েছে কার্বন ব্যবহার কমানো যায়। এতে অর্থনীতির চাকাও সচল থাকে, কর্মসংস্থান কমে না; বরং বাড়ে। অর্থনীতি সবুজ, সতেজ হয়। বললাম, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য দেশগুলোকে ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন ব্যবহার আরও কমানোর ঘোষণা দিতে হবে। তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অন্য দেশগুলোর ওপরও কার্বন কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে। তবেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড়-দুই ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা সম্ভব হবে। নইলে আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের পঞ্চম অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তারা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা ৯৫ ভাগ নিশ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুততর হচ্ছে। কার্বন ব্যবহার জরুরিভাবে কমাতে হবে বিশ্বজুড়ে। নইলে কোনো খাপ খাওয়ানোর কৌশলেই কাজ হবে না। বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব বাড়বেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকে অর্থনীতি, জীবন-জীবিকা হবে বিপন্ন। খাদ্য, কৃষি ও পানি নিরাপত্তা হবে বিপন্ন। জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়াবে কোটি কোটি।
বাংলাদেশ নেগোশিয়েশন টিমের জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. এম আসাদুজ্জামান তুলে ধরলেন জলবায়ু পরিবর্তনের নানা তথ্য-উপাত্ত। কীভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন জলবায়ুর কষাঘাতে তলিয়ে যেতে পারে, সে শংকার কথাও তিনি জানালেন। জলবায়ুতাড়িত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরলেন ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ।
আসন্ন ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষয় ও ক্ষতি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা চালুর ব্যাপারে ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন চাইলে ফরাসি উপদেষ্টা ইতিবাচক সাড়া দেন। বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নে ফ্রান্সসহ ইউর অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন জোরদার, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তহবিল আর অ্যাডাপটেশন ফান্ডে অর্থায়নের জোর দাবি জানালে তিনি আশ্বস্ত করেন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয় ও ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে কার্যকর আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনে তার সমর্থনও আমরা কামনা করলাম। ফরাসি উপদেষ্টা বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সমর্থন চাইলেন।
পরদিন ফরাসি পরিবেশ, টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জলবায়ু, পররাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক চলে। জলবায়ু দরকষাকষি, নয়া জলবায়ু চুক্তির আদল, অর্থায়ন, অভিযোজন আর ক্ষয় ও ক্ষতি নিয়ে চলে বিস্তারিত আলোচনা। কথা হয় পুরনো বেশ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে অনেকটা খোলাখুলিভাবে।
প্রত্যাশা রইল, প্যারিসের সামগ্রিক আলোচনার ইতিবাচক ফল আমরা নভেম্বরে ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলনে খানিকটা হলেও দেখতে পাব। ২০১৫ সালে হয়তো আমাদের দেখা মিলবে প্যারিস প্রটোকলের- যে চুক্তিতে থাকবে কার্বন ব্যবহার দ্রুত কমানোর বাধ্যবাধকতা। অভিযোজন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা আর ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির আইনগত কাঠামো থাকতে হবে সেই প্যারিস প্রটোকলে।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী :জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন কমিটির সদস্য, জলবায়ু নেগোশিয়েশনে স্বল্পোন্নত ৪৯টি দেশের অন্যতম শীর্ষ দরকষাকষিকারী
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে নাগরিক অধিকার হরণের আশংকাই বেশি by ইকতেদার আহমেদ

যে কোনো আইন সাধারণ বা বিশেষায়িত যে ধরনের হোক না কেন, তা প্রণয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ প্রণয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিষয়ে বলা হয়েছে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আইনগত বৈধতা ও নিরাপত্তা প্রদান এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে আইনটি প্রণীত হয়েছে।
সমাজে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সময় ও যুগের চাহিদানুযায়ী আইন প্রণয়ন করা হয় এবং আইন প্রণয়ন পরবর্তী সমাজের গতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সময় ও যুগের চাহিদানুযায়ী আইনকে সময়োপযোগী করার আবশ্যকতা দেখা দিলে সংযোজন, বিয়োজন ও প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয় এবং অনেক সময় নির্ধারিত বিষয়ে আইন না থাকলে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে পুরনো আইন সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ প্রণয়ন পরবর্তী ৭ বছর অতিক্রান্তের আগে প্রথমে অধ্যাদেশ এবং পরবর্তী সময়ে আইনের মাধ্যমে আইনটির ৫৪, ৫৬, ৫৭, ৬১ ও ৭৬- এ পাঁচটি ধারায় সংশোধনী আনা হয়। সংশোধনীগুলো বিল আকারে সংসদে উত্থাপনকালে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ও প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধের জন্য আইনটি যুগোপযোগী করে বাস্তবতার আলোকে কতিপয় ধারা ও উপধারার পরিমার্জন ও সংশোধনের প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় বিলটি প্রণয়ন করা হল।
২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন প্রণয়নকালে এ আইনের অধীন অপরাধগুলোর বিষয়ে বলা ছিল অ-আমলযোগ্য হবে এবং জামিন বিষয়ে জামিনযোগ্য অথবা অ-জামিনযোগ্য- এ প্রসঙ্গে কোনো কিছু উল্লেখ ছাড়াই বলা ছিল, রাষ্ট্রপক্ষকে না শুনে জামিনের আদেশ প্রদান করা যাবে না।
যে কোনো আইনে বর্ণিত কোনো অপরাধ অ-আমলযোগ্য হলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিরেকে একজন আসামিকে আটক করতে পারেন না। অপরদিকে অপরাধটি আমলযোগ্য হলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিরেকে আটকের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
ফৌজদারি কার্যবিধিতে জামিনযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য এ দুটি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া থাকলেও উভয় ক্ষেত্রে একজন বিচারক স্বীয় পরিণামদর্শিতা, বিচক্ষণতা ও স্ববিবেক দ্বারা তাড়িত হন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ প্রণয়নকালে এ আইনের ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১- এ চারটি ধারায় অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। কিন্তু অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ চারটি ধারায় কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং ন্যূনতম ৭ বছর করা হয়। অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা হলে কারাদণ্ড বিষয়ে একই বিধান অক্ষুণœ রাখা হয়। উল্লেখ্য, আগের আইনে মামলা করার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি গ্রহণের আবশ্যকতা ছিল। কিন্তু আইনটিতে প্রথমে অধ্যাদেশ ও পরবর্তীকালে সংশোধন আইনের মাধ্যমে সংশোধনী এনে উপরোক্ত চারটি ধারার অপরাধ আমলযোগ্য করায় পুলিশ অপরাধ আমলে নিয়ে মামলা করার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণের আবশ্যকতার আর কার্যকারিতা নেই।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দেশের সুশীল সমাজ, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক ও সচেতন জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং অধ্যাদেশ থেকে বাক-স্বাধীনতা হরণের ৫৭ ধারা বাতিল করে জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশটি অননুমোদনের দাবি জানানো হয়। তাছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া পুলিশকে আটকের ক্ষমতা প্রদানেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়।
আইনটির ৫৪ ধারা কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ইত্যাদির অনিষ্ট সাধন সংক্রান্ত; ৫৬ ধারা কম্পিউটার সিস্টেমের হ্যাকিংয়ের অপরাধ সংক্রান্ত; ৫৭ ধারা ইলেকট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অপরাধ সংক্রান্ত এবং ৬১ ধারা সংরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশের অপরাধ সংক্রান্ত।
মূল আইনের ৭৬ ধারায় সংশোধনী এনে উপরোক্ত ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারায় বর্ণিত অপরাধগুলো আমলযোগ্য অর্থাৎ এসব অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করতে পারবে এবং এসব অপরাধকে অ-জামিনযোগ্য করা হয়েছে। এ ধারায় অনুচ্ছেদ (২) প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, (ক) ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১- এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হবে এবং (খ) ৫৫, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬২, ৬৩, ৬৪ ও ৬৫- এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য হবে।
আইনটির ৫৭ ধারা অবলোকনে প্রতীয়মান হয় ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এ কার্য হবে একটি অপরাধ।
কম্পিউটার বিষয়ে যাদের বিশেষ জ্ঞান আছে তারা নিশ্চয়ই অবগত যে, কম্পিউটারে একজন প্রকৃত ব্যক্তির নামে তার অজ্ঞাতে সহজেই ফেসবুক আইডি খোলা যায় এবং সেই ফেসবুক আইডিতে তথ্য বা ছবি আপলোড করা যায়। এমনও দেখা যায়, প্রকৃত ব্যক্তির অজান্তে তার নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক আইডিতে অবমাননাকর সংবাদ ও অশ্লীল ছবি প্রকাশ করে তার জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, যদিও এসব বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা বা সংশ্লেষ ছিল না। এমন একটি ঘটনায় যদি পুলিশ ৫৭ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া আটকপূর্বক আদালতে সোপর্দ পরবর্তী মেজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধটি অ-জামিনযোগ্য বিধায় জামিন অগ্রাহ্য করার কারণে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধ না করা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তিকে কিছুদিন কারাবাসে থাকতে হয়, সেক্ষেত্রে তার প্রতি এ অন্যায়ের প্রতিবিধান কোথায়?
অনুরূপভাবে ৫৪, ৫৬ ও ৬১ ধারার অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্তকালীন পর্যাপ্ত সাক্ষ্যের অভাবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া আটকপূর্বক আদালতে সোপর্দ পরবর্তী অপরাধগুলো অ-জামিনযোগ্য হওয়ায় জামিন অগ্রাহ্যের কারণে অহেতুক কারাবাসের যে কারণ ঘটবে, তার প্রতিকারের ব্যবস্থা কী?
দেশবাসী নিশ্চয়ই অবগত, কম্পিউটার প্রযুক্তিকে অবলম্বন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি মামলায় স্কাইপ কেলেংকারি ও রায় ফাঁস কেলেংকারির যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, এর প্রথমোক্তটির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদন্তপূর্বক দোষীদের চিহ্নিতকরণের বিষয়ে অদ্যাবধি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আর দ্বিতীয়টির তদন্ত বিষয়ে দেশের দুটি বহুল প্রচারিত পত্রিকায় যেসব প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে তাতে অনুমিত হয় সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারার অপরাধগুলো আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য করায় আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে আর নিরীহ, নির্দোষ ও শান্তিপ্রিয়দের অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারার অপরাধগুলো বিশেষায়িত প্রযুক্তি জ্ঞান সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে যে কোনো নিরীহ, নির্দোষ ও শান্তিপ্রিয় লোকের অহেতুক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে হয়রানির সম্মুখীন হওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে। অতএব, আইনটির ৭৬ ধারাটি সংশোধনী পূর্ববর্তী যে অবস্থায় ছিল এবং অপর চারটি ধারার আগের সাজার পরিমাণ বহাল এবং অ-আমলযোগ্যতা অক্ষুণœ রাখা হলে সার্বিক বিবেচনায় প্রতীয়মান হয়, এর ফলে ন্যায়পরতা সমুন্নত হবে। তাই এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, আইনটিকে সংশোধন পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হলেই কেবল নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে, অন্যথায় হরণের কারণ উদ্ভবের আশংকা থেকেই যায়।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জিন্দেগানি মেঘের পানি ভাইস্যা যাবে দরিয়ায়... by মোকাম্মেল হোসেন

আবদুর রশিদের জানাজা শেষ করে বাড়িতে এসেছি, লবণ বেগম বলল-
: তাসিনের আব্বা, একটা জিনিস ভুল হইয়া গেছে!
লবণ বেগমের মুখে ভুল শব্দটি উচ্চারিত হতে শুনে ছন্দ মেলানোর লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। সুর করে বললাম-
ভুলে ভুলে জীবন গেল-
কন্যা, প্রথম যেদিন তোমার সঙ্গে দেখা হল
সেটাও একটা ভুল ছিল।
ভুলে ভুলে জীবন গেল-
ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে
আবার তোমার ভুল হল।
ভুলে ভুলে জীবন গেল-
জীবনখাতার প্রতি পাতায়
ভুলের কাব্যই লেখা হল।
ভেবেছিলাম, ছন্দ শুনে লবণ বেগমের ঠোঁটের কোনায় হাসি ঝিলিক দিয়ে উঠবে। তার বদলে সে নির্বাক হয়ে আমার দিকে চেয়ে রইল। লবণ বেগমের দু’হাত ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললাম-
: আরে পাগলি, ভুল মানুষেরই হয়। শয়তান কোনো ভুল করে না। এইবার বল- নতুন কইরা আবার কী ভুল করলা!
স্বাভাবিক হতে লবণ বেগমের আরও কিছুটা সময় লাগল। এক পর্যায়ে সে বলল-
: তোমারে মোরব্বা আনার কথা বলতে ভুইল্যা গেছিলাম।
- মোরব্বা দিয়া কী হবে?
: জর্দা রান্না করব।
- জর্দার প্রয়োজন কী? মিষ্টির আইটেম হিসেবে সেমাই আর পায়েস তো আছে!
: সেমাই-পায়েস আর কয়জনরে দেওয়া যাবে! মানুষ তো শুধু আমরা একলা না। পাড়া-প্রতিবেশী আছে, গরিব-মিসকিনরা আছে। ঈদের দিন তাদের সামনে একটা কিছু না দিলে কেমন দেখায়!
ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। সবার সঙ্গে খুশি ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলে তবেই ঈদ সার্থক হয়। কাজেই লবণ বেগমের কথা অগ্রাহ্য করি কী করে!
বাড়ি থেকে বের হচ্ছি- হঠাৎ আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি নামল। বৃষ্টির তেজ কিছুটা কমলে হেঁটে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে জয়বাংলা বাজারে পৌঁছার পর মুক্তাগাছার বাসে উঠে বসেছি, লবণ বেগম ফোন করে জিজ্ঞেস করল-
: তুমি কই?
- বাসে।
: বাসে কেন!
- মুক্তাগাছা যাইতেছি।
: এই কাদা-বৃষ্টির মধ্যে মুক্তাগাছা যাইতেছ কীজন্য!
- মোরব্বা আনতে।
: আরে পাগল! মোরব্বা আনতে তোমারে মুক্তাগাছা যাইতে বলছে কে! আমি আরও ভাইব্যা বইসা রইছি- অষ্টধার বাজারে গেছ তুমি!
- মোরব্বা হইল বেকারির আইটেম। অষ্টধার বাজারে তো কোনো বেকারি নাই। সেই জন্য মুক্তাগাছা যাইতেছি...
মুক্তাগাছা ঢোকার পথে হাতের ডানপাশে প্রাচীন জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে মারা যাওয়া আবদুর রশিদের কথা মনে পড়ল। মৃত্যু এমনই এক ফয়সালা যে, বিশাল জমিদারিত্বও এর থাবা থেকে জমিদারকে রক্ষা করতে পারেনি। কপর্দকহীন আবদুর রশিদ যে পথের পথিক হয়েছে, প্রতাপশালী জমিদারকেও সেই একই পথের পথিক হতে হয়েছে।
ঈদের দিন আগেভাগে ঈদগাহ মাঠে পৌঁছে প্রথম কাতারে জায়নামাজ পেতে বসা আব্বার অনেক দিনের অভ্যাস। এ ঈদেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আব্বার সঙ্গে চাঁনপুর শের মাহমুদ সরকার ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়তে গেছি। সবাই উঠে দাঁড়ানোর পর ইমাম সাহেব মাইকে ঈদের নামাজের নিয়ম বলে দিচ্ছেন। একটু পরেই নামাজ শুরু হবে। এমন সময় মহিষমারির ফরাজি বাড়ির একজন এসে কাঁদতে কাঁদতে বলল-
: হুজুর! আমার আব্বা নামাজের জন্য উঠে দাঁড়ানোর পরপরই স্ট্রোক করেছেন। তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছি। আমি আমার আব্বার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই...
পিতার বেঁচে থাকা নিয়ে সন্তানের এই যে আকুলতা- তা সর্বজনীন। কিন্তু মৃত্যু এমনই এক বিধান যে, সে ছেলেমেয়ের কাছ থেকে মা ও বাবাকে কিংবা মা-বাবার কাছ থেকে ছেলেমেয়েকে, স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে অথবা স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে, ভাইয়ের কাছ থেকে বোনকে বা বোনের কাছ থেকে ভাইকে কেড়ে নেয়। মায়ার বাঁধনে, স্নেহের সিন্দুকে, শ্রদ্ধার আসনে ও ভালোবাসার পিঞ্জরে বন্দি করেও মানুষ কোনোভাবেই আরেকজন মানুষকে ধরে রাখতে পারে না।
নামাজের পর বাড়িতে এসে চুপচাপ কোরবানির আয়োজন শুরু করলাম। কোরবানি নিয়ে আজকাল এ দেশে নানারকম মাতামাতি চলে। অনেকের কাছেই কোরবানি মানে ত্যাগ নয়, বরং তুমুল প্রতিযোগিতা। নামাজ শেষে ফেরার পথে দেখলাম, অনেকেই রাস্তার পাশে কোরবানির পশু বেঁধে রেখেছে। এর পেছনে প্রচ্ছন্ন রয়েছে বিজ্ঞাপন-মানসিকতা। যেন তারা বলতে চাচ্ছে- হে লোকজন, দেখ- আমার কোরবানির ষাঁড় কত বড়। তার ঠ্যাং কত মোটা। তার কুঁজ কত উঁচু। অথচ আল্লাহপাক কোরবানির পশুর আকার-আয়তন ও ওজন দেখেন না, দেখেন শুধু কোরবানিদাতার ঈমান ও নিয়ত। তার দরবারে কোরবানির পশুর হাড়-গোশত-রক্ত-চামড়া কিছুই পৌঁছে না, পৌঁছে শুধু ত্বাকওয়া। আফসোস! যে জিনিস ত্যাগের, যে বস্তু দানের- তা নিয়ে মানুষ তোকাব্বরি করে, অহংকার করে। অহংকারীকে আল্লাহপাক পছন্দ করেন না। তারপরও মানুষ তার রূপ-যৌবন, ধনদৌলত, ক্ষমতা এবং জ্ঞান-গুণ নিয়ে অহংকার করে। জ্ঞান নিয়ে গরিমা করতে গিয়ে আমি একবার ভয়ানক রকম অহংকারী হয়ে উঠেছিলাম। ঘটনাটা ঘটেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই। মহসিন হলের একটা গণরুমে দশ-বারোজন মিলে থাকি। একদিন আড্ডায় সিনেমার প্রসঙ্গ উঠল। সেই সূত্র ধরে সত্যজিৎ রায়ের নাম উচ্চারিত হতেই সাতক্ষীরার খোকন বলল-
: সত্যজিৎ রায় কে?
খোকনের প্রশ্ন শুনে আমার চোখ কপালে উঠে গেল। সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে গড়গড় করে লম্বা একটা লেকচার দেয়ার পর ভর্ৎসনার সুরে খোকনকে বললাম-
: ব্যাটা বলদ! এই জ্ঞান-বুদ্ধি লইয়া ভার্সিটিতে পড়তে আসছস? যা, হল থেইক্যা বাইর হইয়া যা।
এ ঘটনার পর রাতে ঘুমোতে গিয়ে দেখি ঘুম আসছে না। অনুশোচনার আগুনে অহংকারের শেষ কণাটি পুড়ে ছাই না হওয়া পর্যন্ত ছটফট করে কাটালাম। এর পর মাঝরাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খোকনকে বললাম-
: তোমার সঙ্গে আজ আমি যে আচরণ করেছি, তা ঠিক হয়নি। আমি দুঃখিত। খুবই দুঃখিত ও লজ্জিত। এ জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী...
খোকনের ঘটনা আমাকে সাধু-সন্তে পরিণত করেনি সত্য, তবে আমার ভেতরের অহমিকাবোধের বৃক্ষটিকে সমূলে উপড়ে ফেলতে সাহায্য করেছে। আমি যখন অফিস-আদালতে পদ-পদবিওয়ালা লোকজনকে অহংকারে ফেটে পড়তে দেখি, বিত্তশালীর ধন-গরিমা প্রত্যক্ষ করি, জ্ঞানীর জ্ঞান-গরিমা অবলোকন করি- নীরবে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে শুধু এ মিনতি জানাই- রাব্বুল আলামিন, তুমি মানুষের বিবেক জাগ্রত কর। তাদের উপলব্ধিবোধের প্রসার ঘটাও। আমার এ অবস্থা দেখে আব্বা ঠাট্টা করে মাঝেমধ্যে বলেন-
: যুগ পাল্টাইয়া গেছে। এখন কারও ঘাড়ে ধইরা এইটা আন, ওইটা কর- না বললে কোনো কাজ হয় না। যে যুগের যে বাও- সেই বাওমতন না চইল্যা তুমি ভদ্রলোক সাজতে গেলে পদে পদে ঠকবা!
ঠকলে ক্ষতি নেই, কিন্তু আমি অহংকার করব কিসের ভিত্তিতে? দম্ভ করব কোন ভরসায়? আমার এ জিন্দেগানি হচ্ছে মেঘের পানির মতোই ক্ষণস্থায়ী। দরিয়ার পানি বাষ্প হয়ে মেঘ হয়। সেই মেঘ তিন দিনের বাহাদুরিকে সম্বল করে আকাশে ভেসে বেড়ায়। পরে বাতাসের ধাক্কায় পুনরায় দরিয়ার বুকেই ফিরে আসে। কত দিল্লিশ্বর-বঙ্গেশ্বর, কত রাজা-মহারাজা, কত বাদশাহ-সম্রাট-সুলতান পৃথিবীর বুকে দম্ভভরে পদচারণা করেছে, কিন্তু কালসে াতে ভেসে যাওয়ার নিয়তি থেকে কেউ রেহাই পায়নি। আমিও পাব না।
ঈদের একদিন পরেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিতে হল। মোগলরা বাংলা মুল্লুককে ‘দোজখ’ বলে অভিহিত করত। তাদের কথিত সেই দোজখ ছিল খাদ্যে পরিপূর্ণ। তাই দোজখ হলেও এর মায়া তারা ত্যাগ করতে পারত না। বর্তমানে ঢাকা শহরও আমার কাছে নরকতুল্য। নরকতুল্য হলেও এ শহর আমার রুটি-রুজির সংস্থান করছে। কাজেই না ফিরে উপায় নেই। ফিরছি রেলগাড়িতে চড়ে। রেল নিয়ে ইতিমধ্যে বিস্তর বলা হয়েছে। আর কিছু বলার প্রয়োজন মনে করি না। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, আমি ছাড়তে চাইলেও রেল তো আমাকে ছাড়ে না! এর প্রমাণ পেলাম টয়লেটে ঢুকতে গিয়ে। টয়লেটের দরজা একটু ফাঁক করেই সাপ দেখে ভয় পাওয়া মানুষের মতো পিছিয়ে এলাম। পিছিয়ে এলেও নিস্তার নেই। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাওয়াটা খুবই জরুরি। পকেট থেকে রুমাল বের করলাম। রুমাল দিয়ে আমাকে দু’চোখ বাঁধতে দেখে পাশ থেকে একজন বলে উঠল-
: ঘটনা কী ভাই! আপনে চোখে রুমাল বান্ধতেছেন কেন?
- রেলের সঙ্গে কানামাছি খেলব।
কথা শুনে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন হেসে উঠল। এবার অন্য একজন বলে উঠল-
: আপনে চোখ বাইন্ধা ট্রেন থেইক্যা লাফ দিবেন না তো?
আমি তাকে আশ্বস্ত করে বললাম-
: না রে ভাই! রেলের অবস্থা এখনও এতটা খারাপ হয় নাই যে, তা দেইখ্যা মনে লাফ দেওয়ার বাসনা জাগবে। আমি যাব টয়লেটে।
- তাইলে চোখে রুমাল বান্ধার প্রয়োজন কী!
: প্রয়োজন আছে। বোবার যেমন কোনো শত্র“ নাই, তেমনি যে চোখে দেখে না, তার কোনো শরম নাই। টয়লেটের ভেতরে শরম পাওয়ার মতো কিছু পদার্থ আছে। সেইটা যাতে দেখতে না হয় সেজন্য চোখ বাইন্ধ্যা অন্ধ সাজছি।
টয়লেট থেকে বের হয়ে সিটে বসতে যাব- এমন সময় আমার সামনের আসনে বসা যাত্রীর মাথার উপর ঘুরতে থাকা ফ্যান নাট-বল্টুসহ ভেঙে তার কাঁধে পড়ে গেল। আমি তাড়াতাড়ি উঠে তাকে জিজ্ঞেস করলাম-
: ভাই, ব্যথা পাইছেন?
আতংকে ভদ্রলোকের চেহারা কালো হয়ে গেছে। তিনি কোনোমতে বললেন-
: না, না। তেমন কিছু হয়নি।
ভাওয়াল গাজীপুর রেলস্টেশনে পৌঁছার পর বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি ট্রেনের সঙ্গে ক্রসিং হওয়ায় আমাদের ট্রেন অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি করল। ট্রেন থেকে নামলাম। ভাওয়াল গাজীপুর নামের সঙ্গে ভাওয়াল রাজার ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ভাওয়াল রাজার ইতিহাস যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি বেদনাবিধুর। রানী ও তার ভাই সম্পত্তির লোভে রাজাকে বিষ খাওয়ানোর পর থেকেই মূলত এ উপাখ্যানের শুরু।
ভাওয়াল রাজার উপাখ্যান নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমার শ্বশুরবাড়ির দরজার উপরে টাঙিয়ে রাখা একটা কাচের ফ্রেম চোখের সামনে ভেসে উঠল। সাদা কাপড়ের ওপর রঙিন সুতা দিয়ে কাজ করে আমার শাশুড়ি তাতে লিখেছেন-
এ সংসার মরুময়
কেহ কারও নয়
জ্ঞাতি বন্ধু ভ্রাতা যত
পথের পরিচয়।
জীবন মানেই পথচলা। জন্মের মধ্য দিয়ে জীবনপথের পথিক মানুষ তার পথচলা শুরু করে। আর তার পরিসমাপ্তি ঘটে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। চলার পথে অনেকের সঙ্গেই পরিচয় হয়। সখ্য হয়। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে মানুষ আসলে একা। সে একা পৃথিবীতে আসে। আবার একাই তাকে চলে যেতে হয়।
বাঁশি শুনে ট্রেনে উঠে বসলাম। বাঁশির এ সুর কখন কার কানে জীবনের শেষ বাঁশির সুর হিসেবে ধ্বনিত হবে- আমরা কেউ কি তা জানি?
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমঝোতা প্রস্তাবের নামে রাজনৈতিক প্রহসন by বদরুদ্দীন উমর

আশির দশকে এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শেষে নব্বই দশক থেকে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা শুরু হওয়া সত্ত্বেও গণতন্ত্রের কোনো প্রকৃত চর্চা এদেশের শাসকশ্রেণীর পক্ষে সম্ভব হয়নি। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বিএনপি যে শাসন কায়েম করেছিল, তাকে বলা চলে গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র। অল্প দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগ সংসদ বর্জন করে যে রাজনৈতিক তাণ্ডব শুরু করে, তার মধ্যেও গণতন্ত্রের কোনো উপাদান ছিল না। কাজেই সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ে মিলে স্বৈরতন্ত্রের এমন এক ঐকতান সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে বাংলাদেশে নতুনভাবে গণতন্ত্র চর্চার পরিবর্তে শুরু হয়েছিল বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত এদিক দিয়ে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথম থেকেই বাংলাদেশে শাসক দলের নেতৃত্বে ও পরিচালনায় যে নতুন শাসকশ্রেণী গড়ে উঠেছিল, তার মূল লুণ্ঠনজীবী চরিত্রের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা রুদ্ধ হয়েছিল। ১৯৭২ সালের সংবিধানে গণতন্ত্রকে শাসন ব্যবস্থার চার খুঁটির অন্যতম বলে ঘোষণা করা হলেও গণতন্ত্রের সেই তথাকথিত খুঁটি ধ্বংস করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বাকশাল নামে সরকারি এক ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল। জরুরি অবস্থার অধীনে সব বেসরকারি দল, সব বেসরকারি পত্রপত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নির্যাতনের এক রাজত্ব বাংলাদেশে কায়েম হয়েছিল। সেই নির্যাতক শাসনকে প্রচার করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের ‘দ্বিতীয় বিপ্লবের’ সূচনা হিসেবে! এর থেকে বড় মিথ্যা এবং জনগণের জন্য বড় বিপদ আর কিছুই ছিল না। সেই দুঃশাসনের অবসানের পর জিয়াউর রহমান সব রাজনৈতিক দল ও পত্রপত্রিকার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও শেখ মুজিবের যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি বাংলাদেশে স্বৈরশাসনের ঐতিহ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনেক অবদান রেখেছিলেন। জিয়াউর রহমানের পর এরশাদ এসে যা করেছিলেন, তাকে জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
শেখ মুজিবের স্বৈরতন্ত্র, জিয়াউর রহমান ও এরশাদের সামরিক শাসন পার হয়ে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলেও ১৯৭২ সাল থেকে এদেশে যে রাজনৈতিক ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাকে পরিবর্তন ও অতিক্রম করা কোনো দলের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। এদিক দিয়ে বলা চলে, লাখ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সে রাষ্ট্রে জনগণ কোনোদিনই প্রকৃত গণতন্ত্রের দেখা পাননি। ১৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে যে সমঝোতা ফর্মুলা উপস্থিত করেছেন, তার মধ্যেও স্বৈরতান্ত্রিক উপাদান ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বলেছেন নির্বাচনের আগে এক নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কথা, যা বর্তমান জাতীয় সংসদের সদস্যদের নিয়েই গঠিত হবে। এই মন্ত্রিসভা হবে সর্বদলীয়। এজন্য তিনি বিরোধী দলের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তাদের কয়েকজন দলীয় সংসদ সদস্যের নাম তাকে দেয়ার জন্য, যারা মন্ত্রিসভার সদস্য হবেন! কে সেই মন্ত্রিসভার প্রধান হবেন, কতজন মন্ত্রিসভার সদস্য হবেন, কোন দল থেকে কতজন নেয়া হবে, কখন এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে- এসব কথা তার বক্তৃতায় পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে যেভাবে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাতে মনে হয় যে, শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং বিএনপিসহ বিরোধী দলের কয়েকজনকে তিনি তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করবেন! বিরোধী দলের কয়েকজনকে নিজের মন্ত্রিসভায় স্থান দিলেই যে সেই মন্ত্রিসভা কোনো নিরপেক্ষ জাতীয় সরকার হবে এটা মনে করার থেকে অর্বাচীন চিন্তা আর কী হতে পারে? এই প্রস্তাব যে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষে কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য হবে না, এটা জেনেশুনেই কি শেখ হাসিনা তার এই অদ্ভুত ও অকার্যকর প্রস্তাব ঢাকঢোল পিটিয়ে হাজির করেননি? বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী এবং বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী জোট সরকারের এমনই করুণ অবস্থা যে, অন্য কোনো রকম রাজনৈতিক খেলা দেখানোর ক্ষমতা তাদের নেই।
শেখ হাসিনা ১৮ তারিখে যে প্রস্তাব উপস্থিত করেছেন, এর মধ্যেও কোনো নতুনত্ব নেই। তিনি এ প্রস্তাব আগেও তার নানা বক্তৃতায় দিয়েছেন এবং তা বিএনপি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যা হওয়ারই কথা। কাজেই যে প্রস্তাব ইতিমধ্যে বিরোধী দলের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, সে প্রস্তাব আবার নতুন করে হাজির করার মধ্যে সততা ও আন্তরিকতার লেশমাত্র যে নেই, এটা বোঝা কারও পক্ষে কঠিন নয়। সব থেকে বড় কথা হল, শেখ হাসিনার এই ঘোষণা সবার কাছেই এমনভাবে বোধগম্য যে, এর দ্বারা আওয়ামী লীগের কোনো লাভ হয়নি। উপরন্তু এর মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার স্বাক্ষরই ভালোভাবে রেখেছেন।
বর্তমান সরকার অথবা শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ‘সর্বদলীয়’ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না। এ ধরনের কোনো নির্বাচনের চেষ্টা করলে তাতে দেশে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ছাড়া অন্য কিছুই হবে না। মূলত একই অবস্থান গ্রহণ করে ১৯৯৬ সালে বিএনপি তার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হলেও এবার আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচন এককভাবে করার চেষ্টা করলে সে নির্বাচন তারা করতে পারবে এটা মনে হয় না। এ পরিস্থিতিতে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিন ধরনের একটি বেনামি সামরিক সরকারের ক্ষমতায় আসার পথই শেখ হাসিনা বেশ জেনেশুনেই তৈরি করছেন, যদিও তিনি এ ধরনের সরকারের বিরোধী এমন ভাব দেখিয়ে কথাবার্তা বলছেন। আওয়ামী লীগ যতই বিগত পাঁচ বছরে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করে বক্তব্য প্রচার করুক, তাদের নির্বাচন জয়ের কোনো সম্ভাবনা যে নেই এটা তারা ভালো করেই বোঝে। এ অবস্থায় শেখ হাসিনা নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গের চেষ্টাতেই নিয়োজিত আছেন। তার ১৮ অক্টোবরের বক্তৃতার মাধ্যমেও তিনি সেই চেষ্টাই করেছেন।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরল গরল- শেখ হাসিনার একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ by মিজানুর রহমান খান
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সময়চিত্র- কে হবেন ‘সর্বদলীয় সরকারের’ প্রধান? by আসিফ নজরুল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেশায় বুঁদ পাইপ জীবন by সোহেল সরওয়ার
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ার অর্ধেক অস্ত্রাগার পরিদর্শন শেষ
শান্তি সম্মেলনের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি : সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সম্মেলনের তারিখ নভেম্বরের ২৩-২৪ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সিরিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করলেও সহ-আয়োজক রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করেছে। প্রকাশিত তারিখের বিষয়ে সিরিয়াবিষয়ক জাতিসংঘ শান্তিদূত লাখদার ব্রাহিমির এক মুখপাত্রও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সিরিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী কাদরি জামিল মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে ওই তারিখের কথা জানিয়েছিলেন।
নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অস্ত্র পরিদর্শকরা : অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল ওয়েপন্স বা ওপিসিডাব্লিউ বলছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিবিসি এ খবর জানায়। ওপিসিডাব্লি’র একজন মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তার আশ্বাস না পাওয়ার কারণে তারা নির্ধারিত একটি অস্ত্র এলাকায় যেতে পারেননি। আমেরিকা ও রাশিয়ার সমঝোতা অনুসারে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার কাজ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম এ ধরনের ঘটনা ঘটল। তিনি জানান, রাজধানী দামেস্কে তারা যে হোটেলে অবস্থান করছেন, তার কাছেই বুধবার রাতে মর্টার হামলা হয়েছে।
শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত : সিরিয়ার শীর্ষস্থানীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে বিদ্রোহীরা। দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলো বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সদ্য সংবাদে জানানো হয়, ‘দেইর এজ্জরে সিরিয়া ও এর জনগণের নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জাতীয় দায়িত্ব পালনের সময় মেজর জেনারেল জাম্মা শহীদ হয়েছেন।’ জাম্মা নিহত হওয়ার ব্যাপারে সিরিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার পরিচালক রামি আবদেল রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক প্রতিবেদন দেখে মনে হচ্ছে দেইর এজ্জর সিটির রাশদিয়া জেলায় একজন গুপ্তঘাতক জাম্মাকে গুলি করে হত্যা করেছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিরাপত্তা পরিষদ থেকে সৌদি আরবের নাম প্রত্যাহার
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1400)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
October
(362)
-
▼
Oct 20
(9)
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রত্যাশায় by কামরুল ইসলাম ...
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে নাগরিক অধিকার হরণের ...
- জিন্দেগানি মেঘের পানি ভাইস্যা যাবে দরিয়ায়... by মো...
- সমঝোতা প্রস্তাবের নামে রাজনৈতিক প্রহসন by বদরুদ্দী...
- সরল গরল- শেখ হাসিনার একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ by মিজ...
- সময়চিত্র- কে হবেন ‘সর্বদলীয় সরকারের’ প্রধান? by ...
- নেশায় বুঁদ পাইপ জীবন by সোহেল সরওয়ার
- সিরিয়ার অর্ধেক অস্ত্রাগার পরিদর্শন শেষ
- নিরাপত্তা পরিষদ থেকে সৌদি আরবের নাম প্রত্যাহার
-
▼
Oct 20
(9)
-
▼
October
(362)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

