Tuesday, September 7, 2010

জিতেছেন শুধু নিয়াজ

আগের রাউন্ডে ড্র করেছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ। আইজিবি দাতো আর্থার তান মালয়েশিয়া ওপেন দাবার সপ্তম রাউন্ডে কাল হারালেন ভিয়েতনামের তন দেট নু তংকে। নিয়াজ জিতলেও ড্র করেছেন বাংলাদেশের আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও আবদুল্লাহ আল সাইফ। জিয়া ইন্দোনেশিয়ার লাকসানা অগাস্টার সঙ্গে ও সাইফ নিউজিল্যান্ডের স্পিলার পলের সঙ্গে ড্র করেছেন। সাত খেলায় নিয়াজ ও জিয়া পেয়েছেন ৫ পয়েন্ট করে। সাইফের পয়েন্ট আড়াই।

পিটারসেনের জরিমানা

টুইটারে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করার পর শাস্তি পাওয়াটা একরকম নিশ্চিতই ছিল কেভিন পিটারসেনের। পিটারসেন তাঁর মন্তব্যের কারণে শর্তহীন ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন উল্লেখ করে গতকাল ইসিবির এক বিবৃতিতে জানানো হলো, সাবেক এই অধিনায়ককে ‘অপ্রকাশিত পরিমাণে’ জরিমানা করা হয়েছে। এএফপি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার আগেই টুইটারে জানিয়ে দিয়েছিলেন পিটারসেন। সঙ্গে প্রকাশের অযোগ্য গালিও দিয়েছিলেন। এরপর দফায় দফায় ক্ষমা চেয়েছেন।
পরে সারের হয়ে ধারে খেলতে নেমে রান-খরা কাটিয়ে সেঞ্চুরিও করেছেন। কিন্তু জরিমানার হাত থেকে রেহাই পেলেন না।

লাইলাতুল কদর’ হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ রজনী by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আল্লাহ তাআলা যে মহিমাময় রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন, যে একটি মাত্র রজনীর ইবাদত-বন্দেগিতে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, উম্মতে মুহাম্মদীর পরম সৌভাগ্য যে কালপরিক্রমার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর মাহে রমজানে সেই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর পুনরায় কল্যাণ, শান্তি ও মুক্তির সওগাত নিয়ে মুসলমানদের জীবনে ফিরে আসে। ‘লাইলাতুল কদর’ আরবি শব্দ। এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্ব্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুন’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। এ রাত্রিকে ‘লাইলাতুল কদর’ হিসেবে নামকরণ করার কারণ হলো, এ রজনীর মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীর সম্মান বৃদ্ধি করা হয়েছে বা এ রাতে মানব জাতির তাকদির পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
এ রাতের শ্রেষ্ঠত্ব মাহাত্ম্য ও মর্যাদার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এ গৌরবময় রজনীতে অবতীর্ণ হয়েছে মানব জাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ মহাপবিত্র ঐশীগ্রন্থ ‘আল-কোরআন’। একদা নবী করিম (সা.) বনী ইসরাঈলের শামউন নামক একজন আবিদ-জাহিদের দীর্ঘকালের কঠোর সাধনা সম্পর্কে বলছিলেন। সেই মহৎ ব্যক্তি এক হাজার মাস লাগাতার দিবাভাগে সিয়াম ও জিহাদে রত থাকতেন এবং সারা রাত জেগে থেকে আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতেন। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম আল্লাহর এই নেক বান্দার কঠোর সাধনার কথা শুনে বলতে লাগলেন, ‘হায়! আমরাও যদি ওই লোকটির মতো দীর্ঘায়ু পেতাম তাহলে আমরাও ওই রকম ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে দিবস-রজনী অতিবাহিত করতে পারতাম।’ এমন সময় সূরা ‘আল-কদর’ নাজিল হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।’ (সূরা আল-কদর, আয়াত ১-৫)
শবে কদরের যাবতীয় কাজের ইঙ্গিত দিয়ে এ রাতের অপার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, ‘হামীম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) এক মুবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ (সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ১-৪) কদরের রাতে অজস্র ধারায় আল্লাহর খাস রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে ফেরেশতাগণ ও তাদের নেতা হজরত জিবরাঈল (আ.) পৃথিবীতে অবতরণ করে ইবাদতরত সব মানুষের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতে থাকেন। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অনন্য শান্তি বিরাজ করতে থাকে। লাইলাতুল কদরে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাদের লিখে দেওয়া হয়।
লাইলাতুল কদরে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে মাগফিরাত, নাজাত ও ক্ষমা পাওয়ার পরম সুযোগ লাভ করা যায়। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তার পূর্বেকৃত সব গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন।’ অন্য একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে আত্মসমর্পিত হূদয় নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাবে, আল্লাহ তার ইজ্জত ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন।’্র
লাইলাতুল কদরের রজনীতে যে বা যারা আল্লাহর আরাধনায় মুহ্যমান থাকবে, মহান স্রষ্টা তার ওপর থেকে দোজখের আগুন হারাম করে দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সমস্ত রজনী আল্লাহ তাআলা লাইলাতুল কদর দ্বারাই সৌন্দর্য ও মোহনীয় করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা এ বরকতময় রজনীতে বেশি বেশি তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাক।’ অন্য হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের কবরকে আলোকিত পেতে চাইলে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর রাতে জেগে রাতব্যাপী ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দাও।’
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হয়, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম) হজরত্রআয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমজানের শেষ ১০ রাতে শবে কদর সন্ধান করো।’ (বুখারি ও মুসলিম) আরেকটি হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে কদর সন্ধান করো।’ (বুখারি)
সুতরাং কিয়াম করা, ইবাদত বা সাধনা করা দ্বারা এ রাতে তারাবি-তাহাজ্জুদসহ অধিক নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির, একাগ্রচিত্তে দোয়া এবং অতীত পাপমোচনে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য পরিবার-পরিজনকে উদ্বুদ্ধ করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সিজদায় বান্দা তার প্রভুর অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। তাই তোমরা অধিক দোয়া কর।’ (মুসলিম) হজরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে রাসুলুল্লাহ! আমি যদি লাইলাতুল কদর পাই তখন কী করব? তিনি বললেন: তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন, তুহিব্বুল আফ্ওয়া ফা’ফু আন্নি’ অর্থাৎ হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন।’ (তিরমিজি)
লাইলাতুল কদর বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ এনে দেয়। এ রাতে অবতীর্ণ মানব জাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ পবিত্র কোরআনের অনুপম শিক্ষাই ইসলামের অনুসারীদের সার্বিক কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, ইহকালীন শান্তি ও পারলৌকিক মুক্তির পথ দেখায়। অতএব, আসুন! অফুরন্ত নিয়ামতের আধার এ লাইলাতুল কদর তালাশ করতে সচেষ্ট হই এবং এর সম্ভাব্য রাতগুলোতে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দিই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে সৌভাগ্য অর্জনের তাওফিক দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

কংগ্রেস: একেক নেতার কণ্ঠে একেক সুর

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ১২৫ বছরের ইতিহাসে দলটির মধ্যে কখনোই সেভাবে শৃৃঙ্খলা ছিল না। কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই-এম) ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মতো সুসংগঠিত দলও তারা নয়। যখন-তখন যা ইচ্ছে তাই বলার ক্ষেত্রে খুবই পটু দলটির নেতারা। কাজেই নেপথ্যের অনেক শক্তিশালী নেতার মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন ইস্যুতে যে ভিন্ন ভিন্ন মত দেবেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের ব্যবহূত শব্দ ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’, শিক্ষা বিল, কমনওয়েলথ গেমস ও মাওবাদীদের বিষয়ে সরকারি নীতি নিয়ে সম্প্রতি ভিন্ন ভিন্ন মত দিচ্ছেন কংগ্রেস নেতারা। এর আগে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল কংগ্রেস। দলীয় সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, কমিউনিস্টদের ওই চুক্তির বিরোধিতা করার যুক্তি আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পুরোপুরি চুক্তির পক্ষেই ছিলেন।
অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়েও কংগ্রেসের মধ্যে দুটি ধারা আছে। ১৯৯১ সালে কংগ্রেসই এই সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছিল। বস্তুত, এই সংস্কার কর্মসূচির কারণেই ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের অনেক সদস্য পরাজিত হয়েছিলেন।
এখন কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ (হিন্দু জাতীয়তাবাদ প্রচারের লক্ষ্যে সন্ত্রাস) কথাটি নিয়ে। বিজেপি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, গেরুয়া রংটি ভারতের আধ্যাত্মিকতাকেই তুলে ধরে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগ্বিজয় সিং বিজেপির সঙ্গে একমত। তবে দিগ্বিজয় পরে তাঁর অবস্থান কিছুটা নমনীয় করে বলেন, সন্ত্রাসকে কোনো সম্প্রদায়, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করা ঠিক নয়।
কয়েক দিন আগে দিগ্বিজয় সিং পত্রিকায় একটি নিবন্ধে মাওবাদীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরমের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেন। জবাবে চিদাম্বরম বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে তিনি আরও বেশি সক্ষম, তাহলে এই পদ গ্রহণে তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছি।’
বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কংগ্রেসের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণ প্রথমত, দলটি সমন্বিত কোনো নীতি গ্রহণ করতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, উপদলীয় বিভেদ বেড়ে গেছে।
এদিকে কংগ্রেসকে যখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামলাতে হচ্ছে, বিজেপি তখন চেষ্টা চালাচ্ছে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের। দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সমালোচনা করেছেন বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদী। মোদীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে কংগ্রেসের এমপি মনি শঙ্কর আয়ার বলেছেন, গেমস যদি সফল হয়, তাহলে তিনি খুবই কষ্ট পাবেন।
শিক্ষা বিল ছাড়াও নির্যাতন প্রতিরোধ বিল ও প্রস্তাবিত শত্রু সম্পত্তি আইন সংশোধনসহ অনেকগুলো বিল স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। এতে সরকারের সমালোচনা করে বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি বলেছেন, সরকার খেই হারিয়ে ফেলছে।
বিজেপির সমর্থন নিয়ে সরকার এ পর্যন্ত একটি কাজই সফলভাবে করতে পেরেছে, তা হলো পরমাণু দায় বিল পাস। যদিও এটা খুব বেশি অপ্রত্যাশিত ছিল না।
এত কিছুর পরও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কিন্তু একেবারে চুপচাপ। প্রধানমন্ত্রীর এই নীরবতার সমালোচনা করে সিপিআই-এমের নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও ভোপাল ট্র্যাজেডির মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে বক্তব্য দেননি। কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও অনেক ইস্যুতে চুপ থাকেন।

ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত নিউজিল্যান্ডে বেশ কয়েকটি পরাঘাত

ভূমিকম্পে ক্রাইস্টচার্চে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরুপণ করার চেষ্টা করছেন নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তারা। এদিকে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প-পরবর্তী পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জন কি বলেছেন, কমপক্ষে ৯০টি ভবনের উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ভবনের অনেকগুলো হয়তো ভেঙে ফেলতে হবে।
রেডিও নিউজিল্যান্ড জানায়, ক্রাইস্টচার্চ থেকে রাত্রীকালীন কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে শহরের কেন্দ্রস্থল এখনো ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জন বলেন, শহরের দিকে ধেয়ে আসা ঝড়ের কারণে আরও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ঝোড়ো বাতাসের কারণে দুর্বল হয়ে ভবন আরও ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শহরের মেয়র বব পার্কার ক্ষয়ক্ষতিকে অপরিমেয় হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ভূমিকম্পে কেউ মারা যায়নি। এটা ‘সম্পূর্ণ অলৌকিক’ ঘটনা।
গত শনিবার ভোররাতে নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ সময় বেশির ভাগ মানুষই ঘুমাচ্ছিল।
নিউজিল্যান্ডের সরকারি গবেষণা সংস্থা জিএনএস সায়েন্স জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ক্রাইস্টচার্চের ১৩ মাইল পশ্চিমে।
সিভিল ডিফেন্সের হিসাবে ভূমিকম্পে পাঁচ শতাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্রাইস্টচার্চের বেশির ভাগ জায়গায় বিদ্যুতের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে শহরের বিশাল একটি অংশে এখনো পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ক্রাইস্টচার্চ ও আশপাশের এলাকার স্কুলগুলো অন্ততপক্ষে আগামী বুধবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ভূমিকম্পে ভবনগুলোর অবকাঠামোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন প্রকৌশলীরা।
ভূমিকম্পের কারণে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৩০০ লোক জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

নেপালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের চেষ্টা ষষ্ঠবারও ব্যর্থ

নেপালের পার্লামেন্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো ব্যর্থ হয়েছে। পার্লামেন্টের স্পিকার শিগগিরই একটি নতুন সরকার গঠন করা না হলে দেশ সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।
নতুন প্রশাসনে মাওবাদীদের ক্ষমতা ভাগাভাগির চাপের মুখে গত ৩০ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ করার পর থেকে দেশটিতে সরকার নেই। তখন থেকে রাজনৈতিক নেতারা নতুন একটি সরকার গঠন করে একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে গতকাল রোববার পর্যন্ত ছয়বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো।
২০০৮ সালের নির্বাচনে মাওবাদীরা সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও দেশ শাসনের কর্তৃত্ব পায়নি। প্রচণ্ড নামে পরিচিত মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল পার্লামেন্টের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল মধ্যপন্থী নেপালি কংগ্রেস চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র পৌদেলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু কোয়ালিশন সরকার গঠনে কোনো প্রার্থীই প্রতিপক্ষের সমর্থন আদায় করতে পারেননি।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললেন বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া চারজন

১৯৭২ সালে আন্দিজ পর্বতমালায় এক বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া উরুগুয়ের চার নাগরিক গতকাল চিলির খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে গত শনিবার তাঁরা সান জোসে খনিতে যান। ভিডিওলিংকের মাধ্যমে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁরা শ্রমিকদের মনোবল চাঙ্গা রাখার আহ্বান জানান।
উরুগুয়ের সাবেক রাগবি খেলোয়াড় জোসে ইনসিয়ার্তি বলেন, ‘ওরা শিগগিরই পৃথিবীর আলো দেখবেন। গোটা পৃথিবী ওদের সঙ্গে আছে।’ তিনি বলেন, প্রকৌশলীরা একটি বিকল্প সুড়ঙ্গ খননের আগ পর্যন্ত তাঁদের অপেক্ষা করতেই হবে। তাঁরা বেঁচে যাবেন।
উরুগুয়ের নাগরিকেরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণার জন্য তাঁরা এসেছেন। ৩৮ বছর আগে তাঁদের উদ্ধার করার জন্য তাঁরা চিলির সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া পেড্রো আলগোর্তা বলেন, ‘এটা প্রমাণিত হয়েছে, মানুষ সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকতে পারে। শ্রমিকেরাও বাঁচবেন। আর তা ছাড়া সবচেয়ে ভয়ানক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই তাঁরা মোকাবিলা করেছেন।’
আন্দিজ পর্বতে ওই বিমান দুর্ঘটনার শিকার ১৬ যাত্রীকে উদ্ধার করে চিলিতে আনার আগ পর্যন্ত অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
আটকে পড়া শ্রমিকেরা শনিবার ক্লোজ সার্কিট ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা গতকাল খনির কূপের মুখে হর্ণ ও বাঁশি বাজিয়ে শ্রমিকদের আটকে পড়ার এক মাস পূর্তি পালন করেন।
৫ আগস্ট রাজধানী সান্তিয়াগোর প্রায় ৭২৫ কিলোমিটার উত্তরে কোপিয়াপো শহরের কাছে সান জোসে খনিতে এক দুর্ঘটনায় খনির প্রধান কূপে তাঁরা আটকা পড়েন। ১৭ দিন পর ২২ আগস্ট তাঁরা প্রথম বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগে সক্ষম হন। কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, শ্রমিকদের উদ্ধারে আরও অনেক সময় লাগবে।

বিহারে অপহূত তিন পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দিয়েছে মাওবাদীরা

বিহারে মাওবাদীদের হাতে অপহূত চার পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজনকে হত্যা করে বাকি তিনজনকে গতকাল রোববার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মাওবাদীদের মুখপাত্র অবিনাশ গতকাল সকালে এক বিবৃতিতে জানান, তাঁদের হাতে বন্দী তিন পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ খবর একটি স্থানীয় টিভি চ্যানেলেও সম্প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়, বেলহা জঙ্গলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক নীলমণি এখনো এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ওই তিন পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার খবর তাঁরা পাননি।
এর আগে মাওবাদীরা হুমকি দিয়েছিল, বিহার জেলে বন্দী আট মাওবাদীকে মুক্তি না দেওয়া হলে বাকি তিন পুলিশ সদস্যকে তারা হত্যা করবে। মাওবাদীদের এই মুক্তিপণের সময়সীমা শুক্রবার সকাল ১০টায় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সময়সীমা না বাড়িয়েই মাওবাদীরা রোববার ভোরে নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দেয় অপহূত ওই তিন পুলিশ সদস্যকে। তাঁরা হলেন অভয়প্রসাদ যাদব, রূপেশ কুমার সিনহা ও মহম্মদ এহসান।
গত রোববার ভারতের বিহার রাজ্যের লখিসরাই জেলার জঙ্গলমহলের রামতলনগর গ্রামে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের এক বন্দুকযুদ্ধে সাতজন নিরাপত্তাকর্মী মারা যান। আহত হন ১০ জন। এ সময় মাওবাদীরা চার পুলিশ সদস্যক অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গে জনসাধারণ কমিটির নেতা গ্রেপ্তার: পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী-অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় মাওবাদীদের ছত্রচ্ছায়ায় গঠিত পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ মাহাতোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার মনোজ ভার্মা মাওবাদীনেতা মনোজ মাহাতোকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মনোজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একটি পিস্তল, গোলাবারুদসহ। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে ।

সরকার উৎখাতের পরিকল্পনায় বাহরাইনে ২৩ শিয়া অভিযুক্ত

বাহরাইনের আইনজীবীরা সুন্নি-নিয়ন্ত্রিত সরকার উৎখাত পরিকল্পনার অভিযোগে বিরোধী দলের ২৩ শিয়াকর্মীকে অভিযুক্ত করেছেন। মধ্য-আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়া ওই কর্মীরা একটি ‘স্পর্শকাতর সন্ত্রাসীচক্রের’ সদস্য হিসেবে ‘সহিংসতা ও নাশকতামূলক তৎপরতা’ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে আসছিলেন। এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
আইনজীবীদের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে শিয়াধর্মীয় প্রখ্যাত নেতা ও মানবাধিকার কর্মীও আছেন।
বাহরাইনের পাবলিক প্রসিকিউশন কর্মকর্তা আবদুল রহমান আল সাইদ এক বিবৃতিতে বলেন, স্পর্শকাতর সন্ত্রাসীচক্রের এই সদস্যরা সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করছিলেন। সহিংসতা ও নাশকতামূলক তৎপরতার মাধ্যমে তাঁরা বাহরাইনের জাতীয় নিরাপত্তা দুর্বল করতে চেয়েছিলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন। সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা ও উসকানি দেওয়া, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার ও সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা ছিল অন্যতম।
উপসাগরীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটিতে ২৩ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে শিয়াদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাতের বেলা নিরাপত্তা বাহিনী ও শিয়া বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া, পেট্রল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনের চিত্র। বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়ারা দীর্ঘদিন থেকে বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ করে আসছে। সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উপসাগরীয় আরব অঞ্চলের দেশ কুয়েত ছাড়া একমাত্র বাহরাইনে নির্বাচিত পার্লামেন্ট আছে।
আরব উপদ্বীপের সব রাষ্ট্রের মধ্যে এই দেশেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ৬৫ শতাংশ শিয়া বাস করে। কিন্তু ক্ষমতায় আছেন সুন্নিরা।
কূটনীতিকেরা বলছেন, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলকে চাপে রাখতে শিয়াকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য বিশ্লেষকেরা একে প্রায় এক দশক আগে বাহরাইনের বাদশাহর গৃহীত সংস্কার কর্মসূচি বন্ধের ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছেন। ওই কর্মসূচির ফলে শিয়া সহিংসতা কমে গিয়েছিল।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে হক মুভমেন্ট ফর লিবার্টি অ্যান্ড ডেমোক্রেসির প্রধান আবদ আল-জলিল সিঙ্গেসকে আগস্ট মাসে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রবল বর্ষণে ভূমিধস গুয়াতেমালায় ১৮ জনের প্রাণহানি

গুয়াতেমালায় কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার ভূমিধসে একটি বাস চাপা পড়ে কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি নিহত হয়। সরকার বলছে, কয়েক দিনের বন্যা ও ভূমিধসে দেশটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় সরকার দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, গতকাল সকালে গুয়াতেমালার রাজধানী থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে আন্ত-আমেরিকা মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বাসটি ভূমিধসে চাপা পড়ে। এতে ১০ ব্যক্তি নিহত ও ২৫ জনেরও বেশি আহত হয়। তবে চাপা পড়া বাস থেকে ২০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে উদ্ধারকর্মীরা জানান। অন্য দিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কুয়েৎজালটেনানগোরে ভূমিধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধসে কমপক্ষে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
প্রশান্ত মহসাগর ও মেক্সিকো উপসাগরে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গুয়াতেমালা ও মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মেক্সিকো উপসাগরীয় ত্যাবাস্কো অঙ্গরাজ্যে বন্যায় হাজার হাজার মানুষ ঘর ছাড়া হয়েছে।

ব্লেয়ার ও ব্রাউন ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন

ব্রিটেনের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার রিচার্ড ডোনান্ট অভিযোগ করেছেন, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে নিয়োজিত ব্রিটিশ সেনাসদস্যদের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং তাঁর অর্থমন্ত্রী (পরে প্রধানমন্ত্রী) গর্ডন ব্রাউন প্রতারণা করেছিলেন। তাঁদের কারণেই ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্বরত ব্রিটিশ সেনাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল। নিজের লেখা ‘লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’ বইয়ে ডোনান্ট এ অভিযোগ করেন। সানডে টেলিগ্রাফ গতকাল রোববার থেকে ধারাবাহিকভাবে বইটি প্রকাশ করতে শুরু করেছে।
রিচার্ড ডোনান্ট অভিযোগ করেন, যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিশ্চিত করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে অযাচিতভাবে গর্ডন ব্রাউন হস্তক্ষেপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের দেওয়া ঘোষণা সত্ত্বেও ব্রাউন হতাহত সেনাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিতে গড়িমসি করেছেন। ডোনান্ট বলেন, নিজের অধীনস্থ মন্ত্রীকে নির্দেশ পালনে বাধ্য করার মতো ‘নৈতিক মনোবল’ ব্লেয়ারের ছিল না।
২০০৯ সালের শেষ দিকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে ডোনান্ট অবসর নেন। সামরিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি কনজারভেটিভ পার্টির প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। তবে গত মাসে তিনি ঘোষণা করেন, কনজারভেটিভ পার্টি থেকে ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ওই দলের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিয়েছেন।
ডোনান্ট বলেন, ২০০৩ সালে ইরাকের হাতে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে বলে যেসব তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, তা যুদ্ধাভিযানে নেমে পড়ার মতো যথেষ্ট যুক্তিপূর্ণ ছিল না। এ ছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কার্যত তা শোচনয়ীভাবে ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, অন্য একটি দেশে ব্রিটেনের অভিযান বৈধ ছিল কি না, তা সময়ই বিচার করবে। তবে ব্রিটিশ সেনাদের অর্থ সরবরাহে সরকার রাজি থাকার পরও অর্থমন্ত্রী হিসেবে এ ব্যাপারে গর্ডন ব্রাউনের অস্বীকৃতি সেনাদের মধ্যে তীব্র হতাশার সৃষ্টি করেছে, এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত।

কঙ্গোয় নৌদুর্ঘটনায় ৭০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২০০

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোয় পৃথক দুটি নৌদুর্ঘটনায় অন্তত ৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজ হয়েছে অন্তত ২০০ জন। খবর বিবিসি অনলাইনের।
গত শনিবার রাতে এঙ্গোলার সীমান্তবর্তী কাসাই নদীতে তেলের ড্রামসহ প্রায় ৩০০ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকায় আগুন ধরে গেলে তা ডুবে যায়। কঙ্গোর তথ্যমন্ত্রী ল্যাম্বার্ট মেন্ডি ওমালাঙ্গা বলেন, নৌকাটি তেলের ড্রাম বহন করছিল, এতে কোনো যাত্রী বহন করার কথা ছিল না।
একই দিনে আরেকটি দুর্ঘটনায় ইকুয়েটর প্রদেশের রুকি নদীতে ১০০ জন যাত্রীবাহী একটি নৌকা ডুবে যায়। রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলো ছাড়া নৌকা চলাচলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রাতের বেলা নৌকাগুলো কেন বিনা আলোয় চলাচল করছিল, তা তদন্ত করে দেখছেন কর্মকর্তারা।

আবাহনী আসাম যাচ্ছে আজ

নকআউট পদ্ধতির টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে গেছে ২ সেপ্টেম্বর। কিন্তু আসামের ৫৮তম বরদুলই ট্রফিতে ৯ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ দিয়ে সরাসরি গ্রুপ পর্বে খেলবে আবাহনী। এই টুর্নামেন্টে খেলতে আজই গুয়াহাটির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। আবাহনীর চার বিদেশি খেলোয়াড় সামাদ ইউসুফ, আউডু ইব্রাহিম, ইউসুফ আমিন ও থুয়াম ফ্রাঙ্ক এক দিন পরে গিয়ে যোগ দেবেন দলের সঙ্গে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের ভিসা কাল হয়ে গেলেও বিদেশিদের ভিসা আজ হতে পারে।
এবার অন্তত ফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে দেশ ছাড়ছে আবাহনী। দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস (রুপু) কাল বলেছেন, ‘গতবার আমরা সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে হেরেছিলাম। এবার অন্তত ফাইনালে খেলতে চাই।’ গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচ খেলবে ক্লাবটি।

শুধু আর্সেনাল নিয়েই ভাবছেন ফ্যাব্রিগাস

আপাতত বার্সেলোনা-অধ্যায়টা ভুলে যেতে চাইছেন সেস ফ্যাব্রিগাস। শুরু হয়ে গেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। একজন পেশাদার ফুটবলারের মতোই ফ্যাব্রিগাস বলছেন, এখন তাঁর ভাবনায় শুধুই আর্সেনাল, বার্সেলোনায় ফেরার কথা ভুলে মনোযোগ দিতে চান নিজের খেলায়।
বার্সেলোনার আবিষ্কার বলেই হয়তো ক্লাবের প্রতি একটা টান থাকারই কথা ফ্যাব্রিগাসের। বিশ্বকাপ জিতে স্পেনে ফেরার পর দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পুয়োলরা তাঁর গায়ে ক্লাবের জার্সিও চড়িয়ে দিয়েছিলেন। ধারণা ছিল ফ্যাব্রিগাস বার্সেলোনায় ফিরবেনই। ক্লাবের পক্ষ থেকে চেষ্টারও কোনো ত্রুটি ছিল না। কিন্তু আর্সেনালের সেই এক গোঁ—কমপক্ষে আরও এক মৌসুম এমিরেটসেই থাকতে হবে; তাই বার্সেলোনায় ফেরা হয়নি ফ্যাব্রিগাসের। তবে কি এই মৌসুমটা শেষ হলেই পুরোনো ঠিকানায় ফিরে যাবেন এই স্প্যানিয়ার্ড? প্রশ্নটা ফ্যাব্রিগাস এড়িয়ে গেলেন কূটনৈতিক ‘দক্ষতা’য়, ‘আমি এখন আর কোনো কিছু নিয়ে ভাবছি না। যদি ভাবি তাহলে বর্তমান থেকে ফোকাসটা সরে যাবে আমার এবং বছরটা বাজে কাটবে।’
একজন পেশাদার হিসেবে ফ্যাব্রিগাস শুধু আর্সেনালের কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু জাতীয় দলের কথাও মাথায় রাখতে হয় তাঁকে! এই যে একের পর এক সাফল্য পেয়ে যাচ্ছে স্পেন। ২০০৮ সালে ইউরো জয়। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ। সাফল্যের রেশ ধরে রেখেই ২০১২ ইউরো বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিকটেনস্টাইনকে। কিন্তু আকাশে উড়তে থাকা এমন রমরমা দিন কত দিন টিকে থাকবে? দিন সবার সমান যায় না। এক দিন স্পেন এই অজেয় রূপটা হারিয়ে ফেলবে বলেই মনে করেন স্পেনের হয়ে ৫৬টি ম্যাচ খেলা ফ্যাব্রিগাস।

অবশেষে কেপির সেঞ্চুরি

দল থেকে বাদ পড়াই তাহলে দরকার ছিল? তাই তো প্রমাণ করলেন কেভিন পিটারসেন। ১৮ মাস ধরে যে পিটারসেন তিন অঙ্কের মুখ দেখেন না, সারের হয়ে ধারে খেলতে গিয়েই তিনি দ্বিতীয় ম্যাচে খেলে ফেললেন ১১৬ রানের ইনিংস।
পিটারসেনের এই ইনিংসেও সারে ম্যাচ জিততে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাদের করা ২৪০ রানেই থেমেছে সাসেক্সের ইনিংস; ম্যাচ টাই হয়েছে। তাতে পিটারসেনের ক্ষতি হয়নি, সেঞ্চুরি করে হয়েছে লাভ। সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে টুইট-জনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভাবমূর্তি একটু হলেও ফিরে এসেছে।
বিতর্কে পড়ে অধিনায়কত্ব হারানোর পর থেকেই ব্যাটে বড় খরা যাচ্ছিল পিটারসেনের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে থাকলেও টেস্ট-ওয়ানডেতে বড় ইনিংস ছিল না। রান-খরার কারণেই দল থেকে বাদ পড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। ‘টুইটার পোস্টে’ আগাম দল জানিয়ে দিয়ে, নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন গালি জুড়ে দিয়ে।

নিলসেনের কাছেও এসেছিল বাজিকর

গত সপ্তাহেই শেন ওয়াটসন, ব্র্যাড হাডিনরা বলেছেন। এর আগে গত বছর দাবি করেছিলেন ব্রেট লি ও মিচেল জনসন। অস্ট্রেলিয়া দলকে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত করার চেষ্টা কম চলছে না। এবার খোদ কোচ টিম নিলসেন বললেন, তাঁর কাছে কিছু লোক ‘অন্যায় উদ্দেশ্যে’ দলীয় কিছু তথ্য জানতে চেয়েছিল।
এমনিতে দল সম্পর্কে কিছু খুঁটিনাটি জানতে চাওয়াটা সমর্থকদের স্বাভাবিক ব্যবহার বলে মনে হয় নিলসেনের কাছে, ‘মানুষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে, কোচের সঙ্গে কথা বলতে, দল সম্পর্কে টুকটাক জানতে পছন্দ করে।’ কিন্তু এ রকম জানতে চাওয়া লোকদের মধ্যে কারও কারও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিলসেন সঙ্গে সঙ্গে সেটা জানিয়ে দেন দলের ম্যানেজারকে।
এত দিন এসব কথা প্রকাশ্যে বলার প্রয়োজন মনে করেননি। কিন্তু আজ পাকিস্তানি তিন ক্রিকেটার যখন ‘স্পট ফিক্সিং’ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন তখন আর কথা না বলে উপায় কী? বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জেতা সিডনি টেস্টটি নিয়েও তো কথা উঠেছে।
যে টেস্টটিকে কঠিনতম একটি টেস্ট মনে হয়েছিল, সেটিই পাতানো—এমন আলোচনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না নিলসেন, ‘সিডনি টেস্টের সময় একটা মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি, ম্যাচটা পাতানো। ছেলেরা বরং মনে করছিল, তাদের জীবনের কঠিনতম টেস্ট খেলছে তারা।’
সব মিলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের একটা দোলাচলে দুলছেন নিলসেন। তিনি বুঝতে পারছেন না, এভাবে ক্রিকেটটা কীভাবে টিকে থাকবে, ‘সবকিছু নিয়ে আমি বিস্মিত হয়ে যাচ্ছি। মানুষ কেন এসব করে? এর পরও খেলাটা কীভাবে টিকে থাকবে? খেলাটা যে এখনো সততার সঙ্গে খেলা হচ্ছে এটা দর্শকদের আমরা কীভাবে বিশ্বাস করাব?’

রবিনহোর সিটি-আক্ষেপ

৫৩ ম্যাচে ১৬ গোল! ম্যানচেস্টার সিটিতে একদমই নিজের প্রতিভার মূল্য দিতে পারেননি রবিনহো, অথচ যে মূল্য শোধ করতে গিয়ে ব্রিটিশ ট্রান্সফারের রেকর্ডই ভেঙে দিয়েছিল সিটি। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে সোয়া ৪ কোটি ইউরো খরচ করে কিনে এনেছিল তাঁকে। এরপর সান্তোসে ফিরে গিয়ে কিন্তু ঠিকই ভালো খেলেছেন। ভালো খেলেছেন বিশ্বকাপেও। কিন্তু সিটিতে কেন এমন নিষ্ফলা সময় কেটেছে তাঁর?
সদ্যই এসি মিলানে নাম লেখানো এই ব্রাজিল স্ট্রাইকার জানালেন, রিয়াল থেকে চেলসিতে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি ছিলেন, কিন্তু ক্লাব তাঁকে বেঁচে দিল সিটির কাছে। মনকে বুঝিয়ে সিটিতে এলেন ঠিকই, কিন্তু সিটির তখনকার কোচ যে বুঝলেন না তাঁকে। ‘আসলে হিউজ কিংবা মানচিনি কেউই আমাকে বুঝতে পারেননি’—বলেছেন রবিনহো। সিটির পরিবেশটাও ঠিক ক্লাবের মতো নয় বলেও মন্তব্য তাঁর, ‘ক্লাবের সঙ্গে খেলোয়াড়দের যোগাযোগ ছিল না। অনেকটা অফিসের মতো। অনুশীলন করলেন, এর পর গুডবাই। ম্যাচ খেললেন, এর পর গুডবাই। আমি ব্রাজিলিয়ান। আর ব্রাজিলিয়ানরা জীবনের সব দিক দিয়ে সুখে থাকতে না পারলে কখনোই সেরাটা দিতে পারে না।’
রিয়ালে সুখেই ছিলেন। মনে করেন স্প্যানিশ ক্লাবটি ছেড়ে আসা তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তবে সেই ভুলের জন্য অনুশোচনা নিয়ে পড়ে থাকছেন না। মিলানের হয়ে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। রবিনহোর বিশ্বাস, এবার ইউরোপের ফুটবল শাসন করবে এসি মিলানই।

ত্রিমূর্তি নিষিদ্ধ ড্রেসিংরুমে

সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির আর মোহাম্মদ আসিফের পায়ের তলের মাটি সরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। যে পাকিস্তানি হাইকমিশনার এত দিন তাঁদের আড়াল করার প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই ওয়াজিদ সামসুল হাসান পর্যন্ত বলে দিলেন, দোষী প্রমাণিত হলে তিন ক্রিকেটারকে আজীবন নিষিদ্ধ করাই হবে যুক্তিযুক্ত।
এদিকে পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বলে দিলেন, ত্রিমূর্তি যেন পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে না ঘেঁষে। দলের জন্য সেটি হবে অস্বস্তিকর। ‘কঠিন একটা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে আমরা যাচ্ছি। সেটি কঠিনতর হয়ে উঠুক এটা কেউই চায় না। দল কিংবা ড্রেসিংরুমে ওই তিনজনের থাকাটা উচিত হবে না বলে মনে করি। তাদের বাইরে রাখাটাই হবে সবচেয়ে ভালো’—জিয়ো টিভিকে বলেছেন আফ্রিদি।

ইয়াসিরের মুখে নতুন ‘বোমা’

আরও একটি বোমা ফাটিয়েছে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড। তাদের আগের ভিডিওটি বানোয়াট—পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ঠারেঠোরে যখন এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, সেই সময় প্রমাণ হিসেবে পাকিস্তানেরই এক খেলোয়াড়কে হাজির করেছে ইংলিশ ট্যাবলয়েডটি। ইয়াসির হামিদকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লিখেছে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা নাকি প্রায় প্রতিটি ম্যাচই পাতানোর চেষ্টা করে। পাকিস্তানি ওপেনার নিজেও একটা ম্যাচ পাতানোর জন্য দেড় লাখ পাউন্ড ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছিলেন।
হামিদ পরে অবশ্য নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর (এনওটিডব্লু) এই দাবি অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, কোনো সাংবাদিককেই তিনি এ ধরনের কোনো কথা বলেননি, ‘এনওটিডব্লুর সঙ্গে আমি কখনোই কোনো কথা বলিনি। আর এ ধরনের কথা তো কারও সঙ্গেই বলিনি। আমি এখন পুরোপুরি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি। অন্য কিছু নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আমার নেই।’ হামিদ জানিয়েছেন, একটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের প্রতিনিধি পরিচয়ে একজন তাঁর সঙ্গে আলাপ করেছিল। ওই আলাপে ম্যাচ পাতানো সংক্রান্ত তিনি যা বলেছেন, সবই ছিল এনওটিডব্লুরই ছাপা হওয়া খবরের প্রতিক্রিয়া।
অবশ্য পত্রিকাটির কাছ থেকে পাওয়া গেছে অন্য ছবি। এনওটিডব্লুর এক ছদ্মবেশী সাংবাদিকের সঙ্গে নটিংহামের একটি পানশালায় নাকি আলাপে মশগুল হয়ে পেটের কথা সব ফাঁস করে দেন এই ৩২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। পত্রিকাটিতে ছাপা হওয়া হামিদের উদ্ধৃতিটি এমন, ‘ওরা এখন ধরা পড়েছে। ধরা পড়ার পর এখন ওদের অসৎ বলা হচ্ছে। অথচ ওরা এই কাজটা (ম্যাচ পাতানো) প্রায় প্রতি ম্যাচেই করছে। খোদাই জানেন ওরা কী কী সব করেছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তো ওদের পেছনে সেই কবে থেকেই লেগে আছে।’ ওই ছদ্মবেশী সাংবাদিককে নিজের ক্ষোভের কথাও বলেছেন লর্ডসের দুই ইনিংস মিলে ৫ রান করা হামিদ, ‘ওদের কাজকর্মে আমার খুব রাগ হয়। আমি আমার জান দিয়ে খেলছি, অথচ ওরা কি না চেষ্টা করছে ম্যাচ হারার।’
হামিদ অবশ্য স্বীকার করেছেন, নটিংহামের বেশ কিছু পার্টিতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। তবে এও জানিয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে ওই পার্টিগুলোয় সময় কাটিয়েছেন, তাঁরা সবাই তাঁর চেনা। এনওটিডব্লু হামিদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারের প্রমাণ হিসেবে গোপন ক্যামেরায় তোলা একটি ছবিও ছেপেছে। তবে তিনি বলছেন, ‘নিজের সতীর্থদের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা তো দূরের কথা, আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
তাঁর যুক্তি, ‘ধরুন, আপনি আমার সামনে বসে আছেন। হুট করে বললেন, “আমি কালকের ম্যাচটা পাতাতে চাই।” এখন এ ধরনের কথাবার্তাগুলোকেও যদি আপনি গুরুত্বের সঙ্গে নেন, তাহলে বলতে হবে, আমি এই জীবনে অসংখ্য ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছি এবং তার প্রতিটিই নাকচ করে দিয়েছি। যদিও ওরা আমাকে অনেক টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল।’
পাকিস্তান দলের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হলেও এনওটিডব্লু কিন্তু হাল ছেড়ে বসে নেই। পত্রিকাটি বলেছে, মাজহার মাজিদের ভিডিওটি যে লর্ডস টেস্টের পরে নাটক করে সাজানো হয়নি, বরং সেটি আগের—এটি সিসিটিভির তারিখের রেকর্ড দিয়ে তারা প্রমাণ করে দেবে। এও জানানো হয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে ম্যাচ পাতানো নিয়ে তদন্ত করে তারা যেসব প্রমাণ পেয়েছে, তার সবই শিগগিরই তাদের ছাপার সংস্করণে প্রকাশ করা হবে।
কিছু চমক তাই জমা করে রাখুন ভবিষ্যতের জন্য। আরও চমক হয়তো আসছে!

এখানেও ফেদেরার-সোদারলিং

গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টের আসল উত্তেজনাটা নাকি অঘটন শুরু হলে! পাঁচ দিন প্রায় সরল হাঁটার পর অবশেষে ষষ্ঠ দিনে এসে ইউএস ওপেনের গায়ে লাগল অঘটনের আঁচড়। পরশু সেই অঘটনের আঁচড়ে নীল চতুর্থ বাছাই ইয়েলেনা জাঙ্কোভিচ।২০০৮ ইউএস ওপেনের রানারআপ এবং সাবেক ১ নম্বর জাঙ্কোভিচের যাত্রা তৃতীয় রাউন্ডেই থামিয়ে দিয়েছেন কাইয়া কানেপি। ৬-২, ৭-৬ (৭-১) গেমে জিতে এস্তোনিয়ার ৩১তম র‌্যাঙ্কধারী কানেপি প্রথমবার পা রাখলেন ইউএস ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে।দিনের বাকি ম্যাচগুলোর হয়েছে প্রত্যাশিত সমাপ্তি। রজার ফেদেরার, নোভাক জোকোভিচ, রবিন সোদারলিং, মহিলা এককের শীর্ষ বাছাই ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, মারিয়া শারাপোভা, সভেৎলানা কুজনেৎসভা—অঘটনকে দূরত্বে রেখেই পেরিয়েছেন তৃতীয় রাউন্ডের বাধা।সেরেনার অনুপস্থিতি ওজনিয়াকিকে ইউএস ওপেনে নামিয়েছে শীর্ষ বাছাইয়ের খেতাব পরিয়ে। শীর্ষ বাছাইয়ের মর্যাদাটা কোর্টেও দিয়ে যাচ্ছেন ড্যানিশ-কন্যা। প্রথম দুই ম্যাচের মতো তৃতীয় রাউন্ডেও জিতেছেন সহজে, তাইওয়ানের চ্যান ইয়ং-জানকে হারিয়েছেন ৬-১, ৬-০ গেমে।তিন ম্যাচে মাত্র তিনটি গেমে হার, চতুর্থ রাউন্ডে ওঠার পথে ১৯৭৬ সালের পর ইউএস ওপেনে এটাই সেরা পারফরম্যান্স। ১৯৭৬ সালে তিন ম্যাচে গ্রেট ক্রিস এভার্ট হেরেছিলেন দুটি গেম। শুধু ইউএস ওপেনেই নয়, ১৯৯৪ সালের পর গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টেই প্রথম তিন ম্যাচে এটা সেরা পারফরম্যান্স।তবে এই সহজ যাত্রার পরও ওজনিয়াকির চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। চতুর্থ রাউন্ডেই যে দেখা হয়ে যাচ্ছে ২০০৬ ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন শারাপোভার সঙ্গে! কঠিন এই দ্বৈরথে নামার আগে শারাপোভা এবারের ইউএস ওপেনের ‘মার্কিন বিস্ময়’ বিয়াত্রিস ক্যাপ্রাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে এসেছেন তৃতীয় রাউন্ডে, জয় ৬-০, ৬-০ গেমে।আজ সোমবার প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে ওজনিয়াকি-শারাপোভা দুজনেই বেশ সতর্ক। দুজনেই প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন। ওজনিয়াকি বলেছেন, ‘সে অসাধারণ খেলোয়াড়। কাছেই কঠিন ম্যাচ আসছে। দেখি, সোমবার কী ঘটে।’ একই সুর রুশ তারকার কণ্ঠেও, ‘এটা হবে কঠিন এক ম্যাচ। আমি তাকিয়ে আছি সামনের দিকে।’ব্যক্তিগত দ্বৈরথের উত্তেজনা একটু একটু টের পেতে শুরু করেছেন রজার ফেদেরার ও সুইডিশ রবিন সোদারলিংও। ড্রয়ের পরই জানান, ফেদেরার-সোদারলিংকের দেখা হবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই পথে পরশু আরেক ধাপ এগিয়েছেন দুজনেই। ফেদেরার ফ্রান্সের পল অঁরি ম্যাথিউকে হারিয়েছেন ৬-৪, ৬-৩, ৬-৩ গেমে এবং হল্যান্ডের থিয়েমো দে বাকেরের বিপক্ষে ৬-২, ৬-৩, ৬-৩ গেমে জিতেছেন সোদারলিং।জোকোভিচ যুক্তরাষ্ট্রের জেমস ব্লেককে ৬-১, ৭-৬ (৭-৪), ৬-৩ গেমে, ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন কুজনেৎসভা স্বদেশি মারিয়া কিরিলেঙ্কোকে হারিয়েছেন ৬-৩, ৬-৪ গেমে। ইসরায়েলের শাহার পিরকে ৭-৬ (৭-৩), ৬-৩ গেমে হারিয়ে প্রথম তারকা হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন ভেনাস উইলিয়ামস।

ফ্রান্সকে নিয়ে মালুদার সত্যোপলব্ধি

বিশ্বকাপের কলঙ্কিত অধ্যায়কে পেছনে ফেলে ফ্রান্স ফুটবলে শুভ্র ভাবমূর্তি ফিরিয়ে দেবেন বলেই দায়িত্ব নিয়েছেন ’৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য লরাঁ ব্লাঁ। কিন্তু পথে নেমেই ধাক্কা। নতুন কোচ ব্লাঁর নেতৃত্বে ফ্রান্স দুই ম্যাচ খেলে হেরেছে দুটিতেই। নরওয়ের কাছে হারের পর গত শুক্রবার ইউরো বাছাইপর্বও তারা শুরু করল বেলারুশের কাছে হেরে।
ঘরের মাঠে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭৮ নম্বর দল বেলারুশের কাছে পরাজয়ে দেশবাসী ভীষণ হতাশ। হতাশ ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা। হতাশ অধিনায়ক ফ্লোরেন্ত মালুদাও। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তিনি এটা বুঝতে পারছেন, এই যন্ত্রণা যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যাওয়াই মঙ্গল।
বেলারুশের কাছে পরাজয়ে ইউরো বাছাইপর্ব উতরানোর পথটা কঠিন হয়ে গেছে। এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে নতুন উদ্যমে পুনর্গঠিত হওয়াই একমাত্র পথ। মালুদা তাই বলছেন, ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের অবশ্যই ‘পরাজয়ের ঘৃণা’ ঝেড়ে ফেলে এককাট্টা হতে হবে। শুধু বেলারুশের ম্যাচ নয়, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেই হতাশ নতুন অধিনায়ক, ‘ফিফা র‌্যাঙ্কিংই বলছে ব্যর্থতার গল্প। আমরা বিশ্বের ২১ নম্বর দল! আমরা নামছি এবং খুবই হতাশাজনক পারফরম্যান্স করছি।’
ফ্রান্সের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার ও বর্তমানে উয়েফার প্রেসিডেন্ট মিশেল প্লাতিনি বলেছেন, ফ্রান্স দলে বর্তমানে খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় নেই, নেই মানসম্পন্ন খেলোয়াড়। মালুদাও একমত। ফ্রান্স দল এখন তারকাশূন্য!
আগের বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স এবার প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছে। একেবারেই কলঙ্কিত বিদায়, স্ট্রাইকার নিকোলাস আনেলকা কোচকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করে বহিষ্কৃত হয়েছেন, পরে তাঁর খেলোয়াড়েরা করেছেন বিদ্রোহ। এমন পতনের ধারায় নরওয়ে ও সর্বশেষ বেলারুশের কাছে হার। সেই ১৯৩৭ সালের পর এই প্রথম টানা চার ম্যাচে হারল ফ্রান্স।
তবে মালুদাদের এই শোক নিয়ে পড়ে থাকলে চলছে না। কারণ আজ বাদে কালই আবার ইউরো বাছাইয়ে নামতে হচ্ছে তাদের। প্রতিপক্ষ ‘ডি’ গ্রুপের অন্যতম সেরা দল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। একে তো কঠিন প্রতিপক্ষ, তার ওপর ফ্রান্সকে খেলতে হবে প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে। উচ্চাশায় বুক বাঁধতে পারছেন না কোচ ব্লাঁ। তবে একটা স্বস্তির সংবাদ আছে। বেলারুশ ম্যাচ মিস করলেও কোচ চাইলে কাল মাঠে নামাতে পারবেন করিম বেনজেমা, সামির নাসরি, জিমি ব্রায়ান্ড, লুইস সাহাদের।