Showing posts with label কুতুবদিয়া নিউজ. Show all posts
Showing posts with label কুতুবদিয়া নিউজ. Show all posts

Monday, September 28, 2015

কুতুবদিয়া হবে লবণ শিল্প নগরী

কুতুবদিয়াকে লবণ শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ইতোমধ্যে এ নিয়ে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজও শুরু হবে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত লবণ চাষীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ কথা জানান।
লবণ শিল্প নিয়ে অতীতের কোনো সরকার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি উল্লেখ্য করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার নীতিগতভাবে লবণ আমদানির পক্ষে নয়। কিন্তু এ মওসুমে বিশেষ কারণে যে লবণ আমদানি করার কথা ছিল তার এক-তৃতীয়াংশ লবণ আমদানি করা হতে পারে। তবে তাও চূড়ান্ত নয়।’
লবণ চাষীদের মান উন্নয়নে চাষীদের জন্য প্রশিক্ষণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। লবণ চাষীরা যাতে নায্য মূল্য পায় তার দিকে নজর রেখেছে। তিনি চাষীদের আরও বেশি লবণ উৎপাদনের পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
এর আগে একই স্থানে বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি সংক্রান্ত একটি বিশেষ বৈঠক। বৈঠকে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী কথা বলেন।
এসব বৈঠকে এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমমু সরওয়ার কমল, আওয়ামী লীগ নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Saturday, January 31, 2015

কুতুবদিয়া চ্যানেলে ট্রলারডুবি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মাঝির ঘাট থেকে মাছ ধরার ট্রলারে করে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ৮০ জনেরও বেশি আরোহী নিয়ে একটি ট্রলার মহেশখালীর অদূরে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুতুবদিয়ার খুদিয়ার টেক এলাকায় ট্রলারটি ডুবে যায়। অর্ধডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে থাকা এবং ভাসমান অবস্থায় কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় জেলেরা ওই ট্রলারের ৪২ আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করলেও অন্তত ৩৫-৪০ জন আরোহী নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা নাগাদ কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ডুবে যাওয়া ট্রলারটি কুতুবদিয়া উপকূলে টেনে নিয়ে যায়। তবে ট্রলারের ভেতরে তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি চালিয়ে জীবিত বা মৃত কাউকে পাওয়া যায়নি বলে কোস্টগার্ড নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের ভাষ্যমতে, ওই ট্রলারে ৮০ জনেরও বেশি আরোহী ছিলেন। ৪২ জন উদ্ধার হলেও আরও ৩৫ থেকে ৪০ জন আরোহী নিখোঁজ রয়েছেন। এদের সলিল সমাধি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওভারলোডিংয়ের কারণেই ট্রলারটি ডুবে যায় বলে উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা অভিযোগ করেন। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর চারটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও চারটি মেটাল সার্ক উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে সাতজনকে অসুস্থ অবস্থায় কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চার দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে কুতুবদিয়া থানায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়া থানার ওসি এএস থোয়াই মারমা।
কোস্টগার্ড কুতুবদিয়ার কন্টিনজেন্ট কমান্ডার তারেক মোস্তাফা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে জানান, কুতুবদিয়া চ্যানেলে ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পর তিনি একটি কান্ট্রিবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় তারা ৪২ আরোহীকে উদ্ধার করেন। তারা কেউ কেউ সাগরে ভেসেছিলেন কেউবা ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে ছিলেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি টেনে বিকাল ৫টার দিকে কুতুবদিয়া উপকূলে ভেড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। উদ্ধার হওয়া আরোহীদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তাদের ভাষ্যমতে, আরও অন্তত ৩৫-৪০ জন আরোহী নিখোঁজ রয়েছেন। তবে কোনো লাশ তারা পাননি বা ডুবে যাওয়া ট্রলারের ভেতরেও কোনো লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপরও সাগরে তারা নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রাখবেন।
কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মাঝির ঘাট থেকে ৭৫-৮০ জন যাত্রী নিয়ে এফভি ইদ্রিস নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে। মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত দালালরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজনকে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য চট্টগ্রামে এনে মাছ ধরার ট্রলারে তুলে দেয়। ট্রলারটি মহেশখালীর মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়ার অদূরে বঙ্গোপসাগরের খুদিয়ার টেক এলাকার কুতুবদিয়া চ্যানেলে হঠাৎ ডুবে যায়। ধারণক্ষমতার অধিক লোক তোলার কারণেই চ্যানেলে গিয়ে মাঝি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারায় ট্রলারটি ডুবে যায়। এর আরোহীরা অর্ধডুবন্ত ট্রলারের ওপর, কেউবা সাঁতরে আশপাশের অন্য জেলে নৌকায় ওঠে প্রাণ রক্ষা করেন। ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ডের কুতুবদিয়া কন্টিনজেন্ট কমান্ডার তারেক মোস্তাফা একটি কান্ট্রিবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিজেদের টিম ছাড়াও স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ১০ জনকে উদ্ধার করেন। পরে সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী জাহাজ ‘তৌহিদ’ ও ‘তানভির’ এবং নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘অপরাজেয়’ ও ‘অতন্দ্র’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অতন্দ্র নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন ওই জাহাজের সিইও লে. কমান্ডার হামজা। নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজের পাশাপাশি চারটি মেটাল সার্ক বা দ্রুতগামী এক ধরনের উড়ন্ত স্পিডবোটও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। দুপুর দেড়টার মধ্যে যৌথ অভিযানে অর্ধডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা এবং সাগরে ভেসে থাকা আরও ৩২ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় জেলে ও কোস্টগার্ডের হাতে উদ্ধার হওয়া একজন হলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মো. কাওসার (৪২)। যুগান্তর প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, রিটন ও রহিম নামে দুই দালাল তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য প্রচুর অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। মাঝির ঘাট থেকে একটি ট্রলারে তাদের তুলে দেয়া হয়। আগাম কোনো টাকা-পয়সা না নিলেও মালয়েশিয়া যাওয়ার পর প্রত্যেকে ২ লাখ টাকা করে দালালদের দেয়ার জন্য প্রতিশ্র“তিবদ্ধ হন। ছোট্ট একটি ট্রলারে ৮০ জনের বেশি লোককে গাদাগাদি করে তোলা হয়। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার দিকে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের মাঝে গেলে হঠাৎ কাত হয়ে ডুবে যায়। এ সময় তারা প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার শুরু করেন। ট্রলারটি উল্টে ভেসে থাকলে অর্ধডুবন্ত ট্রলারের ওপর ওঠে ভেসে থাকেন অনেকে। কেউ কেউ সাঁতরে আশপাশে থাকা জেলে নৌকা ও ট্রলারে ওঠে প্রাণ বাঁচান। তাকে কোস্টগার্ড ও জেলেরা উদ্ধার করেন। কাওসার বলেন, তারা সাতজন আড়াইহাজার উপজেলার কলাগাছিয়া থেকে আসেন এবং ওই বোটে ছিলেন। কিন্তু ৫ জন উদ্ধার হলেও তাদের সঙ্গী মাহফুজ ও সাদ্দামের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যশোরের পণ্ডিতপুর থেকে দালালের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ওই ট্রলারে ওঠেন ১১ জন। ইয়াসিন জানান, তারা ৫ জন উদ্ধার হলেও সঙ্গী আরও ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনিও দাবি করেন, ডুবে যাওয়া ওই ট্রলারে কমপক্ষে ৮০ জন আরোহী ছিলেন। তাদের বঙ্গোপসাগরে নিয়ে অপর একটি জাহাজে তুলে দেয়ার কথা ছিল বলে জানান ইয়াসিন। ট্রলারের আরোহীদের অধিকাংশরই বাড়ি নারায়ণগঞ্জ, যশোর, বগুড়া, মাদারীপুর ও নরসিংদী বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের খরুশকুলের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ, ওবায়দুল হক, ইসমাইল ও ইয়াসিন মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। উদ্ধার হওয়া আরোহীদের সঙ্গে এই চার দালালও ছিল। আরোহীরা তাদের দালাল হিসেবে শনাক্ত করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। যদিও এ চারজনও নিজেদের অন্যদের মতো মালয়েশিয়াগামী যাত্রী বলে দাবি করছে।
সূত্র জানায়, আগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে এভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া মানব পাচারের ঘটনা ঘটলেও সেখানে অভিযান জোরদার হওয়ায় পাচারকারীরা রুট পরিবর্তন করে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এর আগে নগরীর বিভিন্ন হোটেল ও বাসাবাড়ি থেকে এভাবে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এনে জড়ো করা লোকজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বৃহস্পতিবার নগরীর সদরঘাট থানাধীন মাঝির ঘাট এলাকা থেকে কর্ণফুলী নদীপথে মাছ ধরার ট্রলারে উঠিয়ে দেয়া হয় এসব লোকজনকে।

Wednesday, November 26, 2014

ইভটিজিং যৌতুকপ্রথা বাল্যবিবাহ্ ও নারী নির্যাতন বন্ধের আহবান -কুতুবদিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবসের সভা অনুষ্টিত by হাছান কুতুবী

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধসহ তাদের অধিকার প্রতিষ্টায় সমাজের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধায় তাদেরকে সমহারে অধিকার দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন প্রকার বৈষম্য কুরআন-হাদিসসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন বলে বিবেচিত হবে। ইভটিজিং, যৌতুকপ্রথা, বাল্যবিবাহ্ ও নারী নির্যাতন বন্ধে পুলিশ প্রশাসনসহ সর্বস্তরের নাগরিককে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ব নারী দের সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালীত্তোর আলোচনা সভায় কুতুবদিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
কুতুবদিয়া থানার আয়োজনে বুধবার সকাল ১১টায় এক বর্নাঢ্য র‌্যালী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে থানা কম্পাউন্ডে ওসি মুহাম্মদ আলতাফ হোছাইনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এতে উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডা.শাহাবুদ্দিন, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি কামাল হুসেন, সাধারণ সম্পাদক হাছান কুতুবী, নির্বাহী সদস্য আরিফুল ইসলাম, সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সজল দাশ বিশেষ অতিথি ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন থানার উপ-পরিদর্শক এ.বি.এম.কামাল আহমদ, বসু মিত্র, কামরুজ্জামান, গন্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী।

Thursday, September 11, 2014

বিলীন হচ্ছে কুতুবদিয়া by আব্দুল কুদ্দুস

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আয়তন ষাটের দশকে ছিল ১২০ বর্গকিলোমিটার। তখন পুরো দ্বীপটা চরধুরুং, উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, লেমশীখালী, কৈয়ারবিল, বড়ঘোপ, আলী আকবর ডেইল, রাজাখালী, খুদিয়ারটেক নামে নয়টি মৌজায় বিভক্ত ছিল। এখনকার দ্বীপের মানচিত্রে খুদিয়ারটেক ও রাজাখালী মৌজা নেই। চরধুরুংসহ অন্যান্য মৌজার জমিও সাগরে বিলীন হচ্ছে। এখন দ্বীপের আয়তন ৪০ বর্গকিলোমিটারের মতো। দ্বীপের চতুর্দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ থাকলেও তার মধ্যে প্রায় ১৭ কিলোমিটার ভাঙা। ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে দ্বীপের অন্তত ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। এতে দ্বীপের আয়তন ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। কিন্তু দ্বীপটি রক্ষার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নিয়ে কারও যেন মাথাব্যথা নেই।
২৪ আগস্ট সকালে দ্বীপের উত্তর ধুরুং গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ ও জমি জরিপকারক মুহাম্মদ আবু মুছা এসব কথা তুলে ধরেন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের উচ্চতা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কুতুবদিয়া দ্বীপ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাউবো বেড়িবাঁধের চেয়ে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় বাঁধ টপকে লোনাপানি গ্রামে ঢুকে পড়ছে। কয়েক হাজার একর ফসলি জমি লোনাপানিতে ডুবে গেছে। বিলীন হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি। গৃহহীন মানুষ কত যে কষ্টে আছে, তা সরেজমিনে না গেলে বোঝানো কঠিন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের ধাক্কায় বেড়িবাঁধ ভেঙে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহারপাড়া, তাবলরচর, আনিচের ডেইল, বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোিন, মিয়ার ঘোনা, আমজাখালী, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মতির বাপেরপাড়া, বিন্দাপাড়া, মহাজনপাড়া, মফজল ডিলারপাড়া, পরান সিকদারপাড়া, মলমচর, লেমশীখালী ইউনিয়নের পেয়ারাকাটা, গাইনেকাটা, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ফয়জনির বাপেরপাড়া, সতরউদ্দিন, চরধুরুং, আকবর বলীপাড়া, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের বাতিঘরপাড়া, আলী ফকির ডেইলসহ ৪৫ গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এসব গ্রামের গৃহহীন প্রায় দুই হাজার পরিবার বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অনেকে ঠিকমতো খেতেও পারছে না।
১৭ আগস্ট দুপুরে উত্তর ধুরং ইউনিয়নের কাইছারপাড়া, নয়াকাটা, চরধুরং, আকবর বলীপাড়ার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন এবং গৃহহীন মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে হতবাক হন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ সময় মন্ত্রী সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলে স্থানীয় লোকজন স্লোগান দেন, ‘আমরা রিলিফ চাই না, জানমাল রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই।’
এরপর মন্ত্রী ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বীপের চতুর্দিকে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে এই দ্বীপের ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তখন দ্বীপের চতুর্দিকে বেড়িবাঁধ ছিল, ছিল উপকূল রক্ষার প্যারাবন। আর এখন আরেকটা ঘূর্ণিঝড় হলে দ্বীপের দেড় লাখ মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ, এখন দ্বীপের চতুর্দিকে নড়বড়ে এরং ভাঙা বেড়িবাঁধ।
সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ১৯৬৯ থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ২০ হাজারের অধিক ঘরবাড়ি সাগরে হারিয়ে গেছে।
পাউবো কুতুবদিয়ার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে (নভেম্বর-ডিসেম্বরে) ভাঙা বাঁধের নির্মাণ শুরু হবে।

Wednesday, August 13, 2014

পূর্ণিমার জোয়ারের ফুঁসে ওঠা পানিতে কুতুবদিয়া সয়লাব: বসতঘর ও ফসল বিনষ্ট by আহমদ কবির বাবুল

উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় রবিবার সাগরের পানি ঢুকে কয়েকশ’ একর আউশ ফসলসহ কয়েক হাজার বসতঘর পানির নীচে তলিয়ে গেছে। পূর্ণিমার চোরা জোয়ারে বঙ্গোপসাগরে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বীপ-রক্ষাবাঁধের একাধিক ভাঙ্গা অংশসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সমুদ্রের লবনাক্ত পানি ঢুকে পড়েছে। পবিত্র রমজান মাসে বহু  মানুষ গৃহহারা হয়ে কষ্টের কোন সিমা নেই। ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় জরুরী বাঁধ সংস্কারের টেন্ডার হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট টিকাদারের অবহেলায় এই দূর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীসহ কুতুবদিয়া বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আ.স.ম.শাহরিয়ার চৌধূরী অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উত্তর ধূরুংয়ের চরধূরুং, আকবরবলী পাড়া, নজুমিয়া বাপের পাড়া, ফয়জানি বাপের পাড়া, দক্ষিণ ধূরুংয়ের মদন্যা পাড়া, অলি পাড়া, বাতিঘর পাড়া, লেমশীখালীর পেয়ারাকাটা, কৈয়ারবিলের মলমচর, বিন্দাপাড়া, বড়ঘোপের দক্ষিণ মুরালিয়া, আলী আকবর ডেইলের তাবালেরচর এলাকায় শনি ও রবিবার ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে অনবরত সমুদ্রের পানি ঢুকে পড়ছে। লবণাক্ত পানির কারণে কয়েকশ’ একর আউশ ফসল বিনষ্ট হয়েছে। গেল জোর পানি নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট কাজের টিকাদারের নিয়োগকৃত সাব টিকাদার নামমাত্র মাটির কাজ করে বরাদ্ধের সমুদয় টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন। বেড়িবাধের বাইরে থাকা প্রায় ৯শ’পরিবারের পুনর্বাসন দাবী করেন কৈয়ারবিলর ইউপি চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবর। দ্বীপটির ৪০কি.মি. বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায়  ১৫ কি.মি. অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দূর্গত মানুষের প্রায়োজনীয় সহায়তা জরুরী বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুমিনুর রশিদ জানিয়েছেন। এদিকে বারবার যোগাযোগ করেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে পাওয়া যায়নি।

Friday, January 3, 2014

অবরোধে কুতুবদিয়ায় উৎপাদিত লবন অবিক্রিত পড়ে আছে by আরিফুল ইসলাম

হরতাল-অবরোধের কারণে নতুন অর্থ বছরের কুতুবদিয়ায়  উৎপাদিত প্রায় ১০ লক্ষাধিক মন লবন বিক্রি বন্ধ হয়ে আছে। দ্বীপ উপজেলায় হরতাল-অবরোধ পালিত না হলেও নৌ-পরিবহন সম্যায় পড়েছে লবন ব্যবসায়িরা।
চট্টগ্রামে লবনের সরবরাহ চাহিদা না থাকায় চাষিরা মাঠেই জমা করছে নতুন উৎপাদিত লবন। গত ১ মাস ধরে লবন উঠতে শুরু হরলেও বেচা-বিক্রি নেই। চাষিরা জানান,উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে গত এক মাসেই অন্তত: ৫ লাখ মণ লবন উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়া বেশি দামের আশায় চাষিরা গত বছরের উৎপাদিত লবনের প্রায় ৫ লাখ মণ জমা রাখে মাঠের গর্তে। তবে এই আশায় গুড়েবালি পড়েছে। মাঠ পর্যায়ে লবনের দাম মাত্র ১০০ টাকা প্রতিমণ।

কৈয়ারবিল সিকদার পাড়ার হাজী আছাদ উল্লাহ খানের লবন শ্রমিক সামসুদ্দোহা বলেন, মাঠে লবনের দাম নেই। সরকারি নির্ধারিত প্রতিমণ ১৬০ টাকা থাকলেও হরতাল-অবরোধের ফলে মাঠের লবনের দাম মাত্র ১০০ টাকা। লবন ব্যবসায়িদের লাগিয়ত জমি না হলে ১২৫ টাকা দর উঠছে। সস্তা লবনের চাহিদাও নেই চট্টগ্রাম,ঢাকায়। যে কারণে মাঠে বাধ্য হয়েই গর্তে জমা করা হচ্ছে লবন। লেমশীখালীর লবন ব্যবসায়ি আব্দু রহিম বলেন, পরিবহন বিপর্যায়ে থাকায় ঢাকা,চট্টগ্রামের মিল গুলোতে লবন সরবরাহ বন্ধ। তার নিজের অধিনে নতুন লবন মাঠে পড়ে আছে প্রায় ৫ হাজার মণ। দাম না থাকা ও হরতাল-অবরোধের ফলে  লবন পরিবহন হচ্ছেনা। তিনি আরো জানান উপজেলায় অন্তত: শতাািধক লবন ব্যবসায়ি রয়েছে। সবারই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সে হিসেব অনুযায়ি নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক মণ লবন অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে কৃষকের মাঠেই। অনেকে শ্রমিকের বেতন দিতে পারছেনা লবনের দাম পড়ে যাওয়ায়। লবন উৎপাদনের শুরুতেই এমন দরপতন পরিস্থিতির শিকার হওয়ায় চাষিরা পড়েছে বিপাকে। তেমনি বিপাকে পড়েছে লবন ব্যবসায়িরা। নৌপথে অবরোধ থাকায় বোট মালিকগন অনিহা প্রকাশ করছেন লবন পরিবহনে। এ ভাবে লবন পরিবহন বাধা ও দরপতনে বিপর্যায়ে দিকে চলে যাচ্ছে দ্বীপাঞ্চলের লবন শিল্প।আগামিতে লবন চাষে অনিহাও প্রকাশ করেন অনেক চাষি।