Saturday, June 27, 2015

‘পচা গম খাই না, পচা মন্ত্রী চাই না’

বিদেশ থেকে পচা গম আমদানির সঙ্গে জড়িতদের
শাস্তির দাবিতে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে সিপিবি ও বাসদ। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশ থেকে পচা গম আমদানির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। একই সঙ্গে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি গম কেনা, যানজট-জলজট দ্রুত নিরসনের দাবি করে দল দুটি।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দল দুটির নেতারা এ দাবি করেন। সমাবেশে নেতা-কর্মীরা ‘পচা গম খাই না, পচা মন্ত্রী চাই না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। অবিলম্বে খাদ্যমন্ত্রীর অপসারণ এবং বাজার থেকে পচা ও নষ্ট গম সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালিকুজ্জামান বলেন, সরকার প্রায় চার শ কোটি টাকা ব্যয় করে বিদেশ থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন পচা-নষ্ট গম আমদানি করেছে। অন্যদিকে, দেশের কৃষকেরা গমের মূল্য পাচ্ছে না। দেশে সরকার গম কিনছে সাংসদের পছন্দসই লোকদের কাছ থেকে। তিনি অবিলম্বে গম কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি প্রদান এবং কৃষকদের কাছ থেকে গম ক্রয় এবং বিনা সুদে গম উৎপাদনের জন্য ঋণ দেওয়ার দাবি জানান।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ পচা গম আমদানির সঙ্গে জড়িত খাদ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনের আগে মেয়ররা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে তারা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। যানজট নিরসনে গণপরিবহন এবং জলাবদ্ধতা দূর করতে দখলকৃত খালগুলো উদ্ধার করে নগরবাসীর সমস্যা লাঘবে মেয়রদের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ নেতা জুলফিকার আলী। উপস্থিত ছিলেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, জলি তালুকদার, বাসদ নেতা আবদুর রাজ্জাক, খালেকুজ্জামান লিপন প্রমুখ।

‘মানুষের জন্য বেঁচে থাকতে চাই’

জন্মদিনের ভালোবাসায় সিক্ত কামাল লোহানী।
গতকাল ধানমন্ডির বাসায় l ছবি: প্রথম আলো
সকাল থেকেই ফোন পাচ্ছিলেন একের পর এক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাঁকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছিল। শুধু দেশ থেকে নয়, ফোন আসছিল দেশের বাইরে থেকেও। স্বজন ও বন্ধুবান্ধব এই বিশেষ দিনে খোঁজ নিচ্ছিলেন তাঁর। সবাই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত। বিরাশিতে পা দেওয়া কামাল লোহানী কিন্তু শুভেচ্ছার জবাব দিতে একটুও ক্লান্ত বোধ করেননি। বরং বেঁচে থাকাটা অনেক উপভোগ করছেন, সেটাই জানিয়ে দিলেন সবাইকে। গতকাল ২৬ জুন তাঁর জন্মদিনে ইফতারের পরপরই কেক কাটা হলো ধানমন্ডির বাসায়। ছিমছাম ছোট পারিবারিক আয়োজন। ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি পরিবেশন করা হলো সে সময়। এলেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, এলেন হায়দার আকবর খান রনো, আশরাফুল আলম, আশফাকুর রহমান, বুলবুল মহলানবীশ, মো. কামালউদ্দীন, শামসুল হুদা প্রমুখ। উদীচী, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ, ব্রতচারী বাংলাদেশ, স্বাধীন বাংলা বেতার কর্মী পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন এসে জানিয়ে গেল শুভেচ্ছা। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নিজে যাকে এখনো মনে করেন সংস্কৃতিকর্মী, সেই কামাল লোহানী ঘরোয়া অনুষ্ঠানে হয়ে রইলেন সবার মধ্যমণি।
কত কিছুই না ঘটল তাঁর জীবনে। পাকিস্তান আমলে বাঙালির ওপর যে শোষণ শুরু হলো, এ ভূখণ্ডের মানুষ হলো যে বঞ্চনার শিকার, তারই সাংস্কৃতিক জবাব যাঁরা দেওয়া শুরু করেছিলেন, তাঁদেরই একজন কামাল লোহানী। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁকে পাওয়া গেছে সব সময়। এখনো, এই বিরাশি বছর বয়সেও, তিনি যুবকের মতোই ছুটে চলেছেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কথায়, কাজে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, সংস্কৃতিহীনতা নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারে না জাতি। বুঝিয়ে দিচ্ছেন, নিজের শিকড় আগে আঁকড়ে ধরো, তারপর বিশ্বমানব হও।
পেশা ছিল সাংবাদিকতা। দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তায় করেছেন সাংবাদিকতা। পাশাপাশি ছিলেন দারুণ সক্রিয় ট্রেড ইউনিয়নিস্ট। সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা হিসেবে সাংবাদিক সমাজের দাবিদাওয়া নিয়ে ছিলেন সোচ্চার। আর সাংস্কৃতিক সংগঠন? ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন উদীচীর সভাপতি। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা। সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্রান্তিরও তিনি ছিলেন প্রাণ। আরও কত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আছেন!
তাঁর অর্জন নিয়ে অনেক কথাই বলা যাবে, কিন্তু সেটা বলার জায়গা এটা নয়। জন্মদিন নিয়েই কথা হোক আজ।
সন্ধ্যার কিছু পরে অভিনন্দন জানাতে আসা মানুষেরা তো ছিলেনই, কিন্তু উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়েছে সন্তানদের আগমনে। তিন সন্তান সাগর লোহানী, বন্যা লোহানী আর ঊর্মী লোহানীর স্পর্শে পিতা কামাল লোহানী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পাচ্ছিলেন প্রগাঢ়ভাবে। দুই নাতি-নাতনিও সারাক্ষণ ঘিরে থাকল তাঁকে।
জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেমন লাগছে আজ আপনার?’
‘খুব ভালো রে! খুব ভালো!’
‘কত কিছুই তো করলেন জীবনে। আরও কী কী করার ইচ্ছে আছে?’
‘হ্যাঁ, বিরাশি বছর তো বেঁচে আছি। আমি মানুষের জন্য বেঁচে থাকতে চাই। সারা জীবন যে কাজ করেছি, সে কাজ যেন করে যেতে পারি, সেটাই তো চাই। আর হ্যাঁ, দেশের দুরবস্থা, দুর্গতির বিরুদ্ধে নিজেকে যদি সক্রিয় রাখতে না পারি, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়াটাই বৃথা হয়ে যায়।’
‘আপনি খুব ভালো থাকুন। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। শতায়ু হোন।’
‘তোরাও ভালো থাকিস!’

দায় মুক্তি থাকায় বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে- ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বিতর্কিত

বাংলাদেশে বিরোধী দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিতর্কিত নির্বাচন। ওই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করতে পারে নি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কখনও কখনও গণমাধ্যম সরকারি চাপের মুখে পড়েছে। সরকার পরোক্ষভাবে হুমকি ধামকি এবং হয়রানিয় মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সেন্সর করার চেষ্টা করেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে। ২০১৪ সালের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মানবাধিকারের বড় সমস্যাগুলো হলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, অনলাইন ও মিডিয়াও ওপর বিধিনিষেধ, শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের অবস্থা নাজুক, শ্রমিক অধিকার। এতে তুলে ধরা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের হাতে সাত খুনের বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এ ছাড়া বাংলাদেশের অন্য মানবাধিকারের সমস্যার মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতন ও অন্যান্য অন্যায়, সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতি, খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার ও আটক, দুর্বল বিচারিক সক্ষমতা ও স্বাধীনতা, বিচারের আগে দীর্ঘ সময় আটক রাখা। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের ব্যক্তিগত অধিকার লংঘন করেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে ও আন্তঃদলীয় সহিংসতা গুরুত্বর সমস্যা রয়ে গেছে। বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে আইনি ও অনানুষ্ঠানিক বিধিনিষেধের মুখোমুখি হয়েছে। নারীরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। অল্প বয়েসে বিয়ে ও জোর করে বিয়ে দেয়ার ঘটনা সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক কারণে অথবা পাচারের শিকার অনেক শিশু কাজে নামতে বাধ্য হয়েছে। শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বিষেষ করে সরকারি স্কুলগুলোতে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছে তারা। আইন শৃংখলা প্রতি তোয়াক্কা না করার মানসিকতা রয়েছে ব্যক্তিবিশেষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে। এতে মানবাধিকারের লংঘন হচ্ছে, দায়মুক্তি থাকায়। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অনুসন্ধান ও তাদের বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের রয়েছে সীমিত উদ্যোগ। দীর্ঘ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিডিয়া, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলোর রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকার অথবা তার এজেন্টরা খেয়ালখুশিমতো অথবা বেআইনিভাবে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে মোট কতজন মারা গেছেন সে হিসাব যেমন সরকার প্রকাশ করে নি তেমনি ওইসব ঘটনা তদন্তে কোন সমন্বিত উদ্যোগ নেয় নি। অথচ এর আগে সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বলেছিলেন সরকার এক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা দেখাবে এবং নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করানো হবে। মিডিয়া ও স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০১৪ পুরো বছরে কোন ঘটনায়ই ফৌজদারি শাস্তি দেয়া হয় নি। দু’একটি যে ঘটনায় সরকার অভিযোগ গঠন করেছে, তাদেরকে শুধু প্রশাসনিক শাস্তি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কমপক্ষে একটি উল্লেখ করার মতো মামলা বছর শেষেও ঝুলে রয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে দেয়া হয়েছে দায়মুক্তি। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিস কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে র‌্যাব সহ নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মোট ১১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অধিকার-এর মতে, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বছরের প্রথম নয় মাসে নিহত হয়েছেন ১৩৬ জন। অন্যদিকে ২০১৩ সালে মোট বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে ১৭৯টি। এসব মৃত্যু হয়েছে ঘেরাও, গ্রেপ্তার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপারেশন চালানোর সময়। সরকার এগুলোকে বলেছে ‘ক্রসফায়ার’ ‘গানফাইটস’ অথবা ‘এনকাউন্টার কিলিংস’। গত বছরের ২৭শে এপিল প্রকাশ্য দিনের আলোতে র‌্যাব কর্মকর্তার নারায়ণগণ্ডের স্থানীয় সুপরিচিত এক রাজনীতিবিদ সহ সাত ব্যক্তিকে অপহরণ করে হত্যা করে। এসব কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার পক্ষে কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। সরকার ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য ওই কর্মকর্তাদের দায়ী করে তাদেরকে জোরপূর্বক অবসরে পাঠায় ও গ্রেপ্তার করে। বছর শেষেও এর অনুসন্ধান চলছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেছিল। কিন্তু ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর তার ইতি ঘটেনি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন ১২৪ জন। আহত হন ৬০৮৭ জন। গুম সম্পর্কে ওই প্রতিবেদনে বলা হয, গুম ও অপহরণ অব্যাহত ছিল। এর কিছু ঘটনার জন্য দায়ী নিরাপত্তা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। অধিকারের মতে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুম হয়েছেন ৩৫ জন। এর আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪। একই সময়ে আইন ও সালিস কেন্দ্রের হিসাবে গুম হয়েছেন ৮০ জন। ১৫ই মে আইন ও সালিস কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ নূর লিটন খানকে অফিস ছেড়ে যাওয়ার সময় অপহরণের চেষ্টা করে একদল মানুষ। র‌্যাবের নির্যাতনের বিষয়ে তিনি ডকুমেন্ট তৈরি করার অভিযোগে এর আগে তাকে র‌্যাব হুমকি দিয়েছিল। পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের কিছু লোক ফেব্রুয়ারি মাসে লক্ষীপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতা ওমর ফারুককে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ফারুকের পরিবারের দাবি, তাকে যে ট্রাকে তুলে নেয়া হয়েছে তাতে র‌্যাবের চিহ্ন ছিল। কিন্তু পুলিশ ও র‌্যাব দু’পক্ষই ওমর ফারুক কোথায় সে বিষয়ে জানেন না বলে জানায়। ফারুক নিখোঁজই রয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনে স্বাধীন বিচার বিভাগের কথা বলা আছে। কিন্তু সংবিধানের একটি ধারা মতে, নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা রয়ে গেছে নির্বাহী বিভাগের হাতে। সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর ফলে হাই কোটের বিচারকদের অভিসংশনের অধিকার পার্লামেন্টকে দেয়া হয় সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু নভেম্বর পর্যন্ত এ আইন বাস্তবায়নের লিখিত রূপ দেয়া হয় নি। এতে বলা হয়, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশী আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়। ওই রিপোর্টে মতপ্রকাশ এবং গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে বলা হয়, সংবিধানে মতপ্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা রয়েছে। কিন্তু সরকার কখনও কখনও এসব অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কিছু বিধিনিষেধ ও সীমাবদ্ধতা ছিল। কিছু সাংবাদিক হয়রানী ও দমনপীড়নের শঙ্কায় সরকার প্রসঙ্গে তাদের রিপোর্ট সেলফ-সেন্সর করেছে। স্বতন্ত্র গণমাধ্যম সক্রিয় ছিল এবং বিস্তৃত পরিসরে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। তবে, যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করেছে কখনও কখনও তারা নেতিবাচক সরাকরি চাপের মুখোমুখি হয়েছে। ৪ঠা আগস্ট মন্ত্রীপরিষদ একটি জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন সম্প্রচারে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন বিষয়বস্তু যা কর্মকর্তাদের মর্যাদাকে ছোট করে দেখানো হয়; বিদ্রোহ, নৈরাজ্য বা সহিংসতা প্রদর্শন করে এমন সংবাদ এবং জনস্বার্থে বা বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে হানীকর কোন অনুষ্ঠান বা সংবাদ। এ নীতিমালার প্রেক্ষিতে জনগণের তরফ থেকে ব্যাপক সমালোচনা আসে। তবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত আইনটি পাস হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। ১৯শে আগস্ট কর্তৃপক্ষ রবিউল্লাহ রবি নামের দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার বার্তা সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে। একটি অনলাইন রিপোর্টের জন্য তাকে আইসিটিএ-এর অধীনে আটক করা হয়। তার ওই রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে এক পুলিশ কর্মকর্তার অন্যায় দায়মুক্তি পাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইনকিলাব একটি নোটিশ ছাপিয়ে উল্লেখ করে যে তারা ‘যথেষ্ট সতর্কতা’ অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়েছে। রবি ও অপর দুজন সম্ভ্যাব্য ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানার মুখোমুখি হন। তবে বছরের শেষেও মামলাটির কোন সমাধা হয় নি। সরকার মালিকানাধীন একটি রেডিও ও একটি টিভি স্টেশন রয়েছে। আইন অনুযায়ী একমাত্র টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল বিটিভি থাকবে বলে বাধ্যবাধকতা দেয়া রয়েছে। দেশের জনসংখ্যার আনুমানিক ৬০ শতাংশের বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখার সুযোগ নেই। আর জরিপে উঠে এসেছে যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ টিভি থেকে তথ্য পেয়ে থাকে। বিটিভি সংসদসীয় সেশন এবং সরাকরি অনুষ্ঠানগুলো সম্প্রচার করে থাকে। কিন্তু বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি তেমনটা দেখানো হয় না। কেবল অপারেটররা সাধারণত সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই পরিচালিত হয়। সকল বেসরকারী চ্যানেলগুলোর সুনির্দিষ্ট সরকারী সংবাদ অনুষ্ঠান এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিমামূল্যে সম্প্রচার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গোয়েন্দা বাহিনীগুলো সহ কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে আঘাত, হয়রান এবং ভয়ভীতি দেখিয়েছে। অধিকারের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে এবং ১১৬ জনের ওপর হামলা এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এএসকে’র তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রধম ছয় মাসে তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, সাত জনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বা হুমকি ধামকি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ১২৩ সাংবাদিক রাজনৈতিক দলগুলো, সরকারী কর্মকর্তা বা অপরাধীদের দ্বারা হুমকি ধামকি বা হামলার শিকার হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, সরকার পরোক্ষভাবে হুমকি ধামকি এবং হয়রানিয় মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সেন্সর করার চেষ্টা করেছে। সাংবাদিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক ক্ষেত্রে সরকারী কর্মকর্তারা বেসরকারী টিভি চ্যানেলগুলোকে  বিরোধীদের কর্মকান্ড এবং বিবৃতি সম্প্রচার না করার কথা বলেছে। সুপরিচিত দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারকে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয় নি, কেননা তারা সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনামূলক প্রতিবেদন ছেপেছিল। ইন্টারনেট স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়, জনসাধারণ এবং বিভিন্ন গ্রুপ সাধারনত ইন্টারনেটে মত প্রকাশ করে থাকে। যদিও কিছু অ্যাকটিভিস্ট বলেছেন, আইটিসিএ-এর অধীনে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় তারা তাদের অনলাইনে বক্তব্য দেয়া সীমিত করেছেন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সভা করার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলা হয়, সংবিধান সমাবেশ এবং সভা করার স্বাধীনতা দেয়। সরকার সাধারণতা এসব অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং অস্থিরতার সময়ে এমন ঘটেছে যেখানে সরকারী পদক্ষেপে সমাবেশ আয়োজনের স্বাধীনতাকে সীমিত করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ বা ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা বলপ্রয়োগ করে বিরোধীদের সমাবেশ ভেস্তে দিয়েছে। ৩রা মে. সংসদ ভবনের সামনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের প্রতিবাদে আয়োজিত মানব বন্ধন বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ওদিকে রিপোর্ট প্রকাশের আগে ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তারপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী টমি মালিনস্কি। তার কাছে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল জানতে চান- এ রিপোর্টের জন্য সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরিকে ধন্যবাদ। আমি মুশফিকুল ফজল। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আমার প্রশ্ন। আপনি কি মনে করেন যে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক? বাংলাদেশ যেহেতু গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগনের অধিকার নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তার প্রশ্নের জবাবে সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী টম মালিনোস্কি বলেন, বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি নিশ্চয়ই রিপোর্টটা পড়বেন। আমি এখন যেটা বলতে পারি তা হলো- ২০১৪ সালের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপুর্তি থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছি আমরা। রাজনৈতিক অচলাবস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সহিংসতা বন্ধে আমরা তাদের আহ্বান জানিয়েছি। এ সহিংসতায় দৈনন্দিন জীবন ব্যহত হয়েছে। নিরপরাধ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে সহিংসতা ব্যবহার নিয়ে আমরা অত্যন্ত শক্ত ভাষায় নিন্দা জানিয়েছি। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকান্ড আয়োজনের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে সরকারের দায়িত্বের কথাও বলেছি। আইন শৃঙ্খলার প্রতি হুমকিগুলোর প্রতি যথাযথ মাত্রার শক্তি ব্যবহারের কথাও আমরা সরকারেরর কাছে তুলে ধরেছি।

কেইপিজেড নিয়ে অনিশ্চয়তা ভুল বার্তা দেবে -সাক্ষাৎকারে : লি ইয়ুন ইয়াং by রাহীদ এজাজ

লি ইয়ুন ইয়াং
জমির মালিকানা হস্তান্তরের সুরাহা না হওয়ায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইয়াংওয়ান গ্রুপের কেইপিজেডের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। কেইপিজেড নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেবে। ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন ইয়াং মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বিকাশ ও সুরক্ষা চুক্তিতেই এর সমাধান আছে।
গত শনিবার দুপুরে লি ইয়ুন ইয়াং তাঁর বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় দুই দেশের বন্ধুত্বের স্বার্থে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ইপিজেড প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর মত দেন।
প্রথম আলো: সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেইপিজেডের জমি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কবে, কখন জেনেছেন?
লি ইয়ুন ইয়াং: আপনাদের কাগজ পড়ে বিষয়টি জেনেছি। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানতে পারিনি। সরকারের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইব। আমার ধারণা, কেইপিজেডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বিভ্রান্তি রয়েছে। আপনি এখন সেখানে গেলে দেখতে পাবেন উন্নয়নের বাস্তবতাটা কী। কেইপিজেডকে দেওয়া আড়াই হাজার একর জমির মধ্যে আইনসম্মতভাবে ১ হাজার ২০০ একর উন্নয়নের জন্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাজার খানেক একরের উন্নয়নকাজ এর মধ্যেই শেষ হয়েছে। ৮৩ শতাংশ জমির উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে কিংবা হওয়ার পথে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বলা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জমির উন্নয়ন কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে যে অভিযোগ সরকার করছে, তা সঠিক নয়। ইতিমধ্যে সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন শুরু করেছে। সেখানে উৎপাদিত জুতা, তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য ইতিমধ্যেই রপ্তানি করা হয়েছে। এ মুহূর্তে সেখানে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছেন, যে সংখ্যা আগামী বছরের শেষে ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে কেইপিজেডের পুরো উন্নয়নকাজ শেষ হলে এক লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। আর বিশেষায়িত রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলটি থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানি করা যাবে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক উৎপাদনের জন্য চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত মানের টেক্সটাইল আমদানি করে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উন্নয়নকে টেকসই রাখতে কেইপিজেডে উন্নত মানের টেক্সটাইল কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রথম আলো: কেইপিজেডে বিভিন্ন দেশ ও তাদের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের উৎসাহের কথা শোনা যায়। এ তালিকায় কারা আছে?
লি ইয়ুন ইয়াং: দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং, এলজি ছাড়াও জাপান ও ভারতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা কেইপিজেড ঘুরে দেখার পর সেখানে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের উৎসাহের কথা জানান। বিশেষ করে সেখানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা তাঁদের আকৃষ্ট করেছে। রাষ্ট্রদূতেরাই জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের বিনিয়োগকারীদের এখানে আসতে উৎসাহিত করবেন। তাঁদের মতে, কেইপিজেডের সাফল্য বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি মডেল হতে পারে। আর এখানকার সাফল্য অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারে।
প্রথম আলো: কেইপিজেডের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত কিংবা বিনিয়োগকারীরা অনেক আগ্রহ আর উৎসাহের কথা বলছেন। কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যা তো মেটেনি। এ বিষয়টি নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেননি?
লি ইয়ুন ইয়াং: অবশ্যই তুলেছেন। যখনই কেউ আগ্রহ দেখিয়েছেন, তখনই তাঁরা জমির মালিকানা নিয়ে কথা বলেছেন। কারণ, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তো এখনো কাটেনি। দেখুন প্রজ্ঞাপনে কেইপিজেডকে জমির মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যখনই নতুন বিনিয়োগকারীকে জমি লিজ দেওয়ার বিষয়টি আসে, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে ছুটতে হয়।
প্রথম আলো: জমি নিয়ে সমস্যার জন্যই কি স্যামসাং এ দেশে বিনিয়োগ করতে আসছে না?
লি ইয়ুন ইয়াং: এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম কারণ। দেখুন, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ২০০৯-১০ সাল থেকে ভিয়েতনামে বিনিয়োগ শুরু করে। গত বছরে ভিয়েতনামের একটি কারখানা থেকেই স্যামসাং প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছিল। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, স্যামসাংয়ের সাফল্য দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক প্রতিষ্ঠানকে ভিয়েতনাম যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এ মুহূর্তে ভিয়েতনামে ৩০০০ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। গত বছর ভিয়েতনাম থেকে ১৩২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে কোরিয়ার ব্যবসায়ীরা রপ্তানি করেছে ৪০ বিলিয়ন ডলার।
প্রথম আলো: তাহলেকি স্যামসাং বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে না?
লি ইয়ুন ইয়াং: স্যামসাং বাংলাদেশে বিনিয়োগ না করার ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে স্যামসাং দ্বিধায় আছে।
প্রথম আলো: কেইপিজেডকে ঘিরে অনিশ্চয়তা অন্য বিনিয়োগকারীদের কাছে কী বার্তা দেবে?
লি ইয়ুন ইয়াং: এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত ভুল বার্তা দেবে। বিনিয়োগকারীরা অন্যের সাফল্য দেখতে চান। তবেই তাঁরা আসার কথা ভাববেন। কেইপিজেডের সঙ্গে জমি নিয়ে সরকারের যে বিরোধ, তা অন্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেবে।
প্রথম আলো: দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টিকে কীভাবে দেখতে চান?
লি ইয়ুন ইয়াং: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ৩৫ বছর ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের হাতে হাত রেখে তৈরি পোশাকশিল্পকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্জনে আমরা গর্ব বোধ করি। তৈরি পোশাকের আজকের যে সাফল্য, শুরুতে তো দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া চীন, জাপান, ভারত কেউই এগিয়ে আসেনি। তাই প্রতীকী কিংবা বাস্তবের নিরিখে যেভাবেই দেখা হোক না কেন, কেইপিজেড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাকের সাফল্যের পর কেইপিজেড দিয়ে আমরা বাংলাদেশের আরেকটি সাফল্যগাথা দেখতে চাই। কারণ ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণসহ অনেক শিল্পেই আমরা শীর্ষে রয়েছি। দুই দেশের অংশীদারত্ব আমাদের সাফল্যের নতুন পথে নিয়ে যাবে।

ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় : মোদি

জরুরি অবস্থাকে ভারতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা জারির ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টুইটে এ মন্তব্য করেন মোদি। জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করায়, দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি মোদি দাবি করেন, উন্নতির চাবিকাঠিই হল চনমনে উদার গণতন্ত্র। ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল।
গণতন্ত্র ফেরাতে জনতা পার্টির নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকার উল্লেখ করার পাশাপাশি দেশের জনগণের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন মোদি। জরুরি অবস্থা জারির সময় মোদির বয়স ছিল ২৫ বছর। সেই সময়কার স্মৃতির কথা মনে করিয়ে মোদি টুইটে বলেন, গণতন্ত্রকে ফেরানো- এ এক লক্ষ্যে বৃহত্তর ক্ষেত্রের সব রাজনৈতিক দল ও সংস্থাকে একসঙ্গে পথচলার সুযোগ করে দিয়েছিল জরুরি অবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দৌড়ে এবার এক ভারতীয়!

৪৪ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ববি জিন্দাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন বলে জানিয়েছেন। বুধবার রাতে এক টুইট বার্তায় এমন ঘোষণা দেন তিনি। জিন্দাল প্রথম ভারতীয় মার্কিন যিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার দাবিদার হলেন। বৃহস্পতিবার নিউ অর্লিয়ান্সের শহরতলি কেনারে সরকারিভাবে এ ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে। খবর এএফপির লুইসিয়ানার গভর্নর জিন্দাল যে এমন পদক্ষেপ নেবেন, সে ব্যাপারে তার সহযোগীরা নিশ্চিত ছিলেন।
যেসব প্রদেশে আগে প্রাথমিক নির্বাচন বা ‘প্রাইমারি ’ হবে সেখানে জিন্দাল গত বছরই ঘুরে এসেছিলেন। নির্বাচনি জরিপের কাজে তিনি লুইসিয়ানার বাইরে কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান প্রার্থী মনোনয়ন পর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত জিন্দাল যেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। কারণ এ দৌড়ে আগে আছেন আরও ১২ প্রার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ভাই জেব বুশ এবং বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এইচপি’র সাবেক সিইও কার্লি ফিওরিনা।

ঢাকায় সক্রিয় প্রাইভেট গোয়েন্দারা by কাজী সোহাগ

কিছুটা বিস্ময়কর হলেও ঘটনা সত্য। খোদ ঢাকাতেই সক্রিয় প্রাইভেট গোয়েন্দারা। একটি লিফলেটের সূত্র ধরে খোঁজ পাওয়া গেছে এমন একটি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের। ১৭ জনের একটি টিম নিয়ে তৈরি এ গোয়েন্দা বাহিনী। তারা সক্রিয় রয়েছেন ঢাকার অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে অলিগলিতে। প্রতিদিনই তারা কাউকে অনুসরণ করছেন অথবা কারও মোবাইল ফোন রেকর্ড করে শুনছেন। অগোচরে হয়তো ছবি কিংবা ভিডিও করছেন। ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে যে কাউকে অনুসরণের জন্য ভাড়া করা যাচ্ছে এ গোয়েন্দাদের। তবে এসব কিছু করা হচ্ছে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। কারও মোবাইল ফোনে আড়িপাততে হলে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের অনুমতি নিতে হয়। এ নিয়ে বিটিআরসির রয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। কিন্তু এসবের কোন কিছুই মানা হচ্ছে না। ফিক্স দ্য ফক্স নামে প্রাইভেট এ গোয়েন্দা সেবার ব্যবসা করা হচ্ছে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাসা থেকে। নিচতলায় এক কক্ষের ছোট্ট একটি অফিস থেকে পরিচালনা করা হয় গোয়েন্দার সব ধরনের কার্যক্রম। তবে এ নিয়ে কোন ধরনের লুকোচুরি নেই। নিজেদের কার্যক্রমের কথা জানিয়ে এরই মধ্যে রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারায় সীমিত আকারে লিফলেট লাগানো হয়েছে। সেখানে যোগাযোগের জন্য রয়েছে ফোন নম্বর। গুলশানের ফুটপাথে এ ধরনের একটি লিফলেট দেখে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে অপরপ্রান্ত থেকে সঙ্গে সঙ্গে লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। পরে অপর এক নম্বর থেকে পরিচয় গোপন করে তাদের সেবা চাইলে বিস্তারিত জানানো হয়। গোয়েন্দাদের দাবি, তারা সবাই অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিষয়ের ওপর ডিগ্রিধারী। বেশির ভাগ পড়াশোনা করেছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবস্থিত মাওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ ছাড়া কয়েকজন আছেন রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। নিজস্ব ওয়েবসাইটের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ফেসবুকসহ অন্যান্য অ্যাকাউন্ট। এসব সাইটের মাধ্যমে নিজেদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন তারা। তাদের ফেসবুকের পেইজে দেখা গেছে, বিশ্ববিখ্যাত গোয়েন্দা হিসেবে পরিচিত শার্লক হোমস ও অন্য গোয়েন্দাদের বাণী তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে আবেদন করেছেন যে কোন ব্যক্তিগত ও করপোরেট সমস্যার সমাধানে তারা সর্বদা প্রস্তুত। ২০ ধরনের সেবা নিয়ে তারা মাঠে আছেন বলে দাবি করেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা (চিফ ইনভেস্টিগেশন অফিসার) মোহা. মাহাবুব আলম বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যা নিয়ে আমাদের টিম কাজ করে। বিশেষ করে স্ত্রী কিংবা হবু স্ত্রীর গতিবিধি নজরদারি, তাদের মোবাইল ফোনে আড়িপাতা ইত্যাদি। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে এ ধরনের ব্যক্তিগত ৩৫১টি ঘটনা নিয়ে কাজ করেছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমাদের গোয়েন্দারা প্রমাণসহ (ছবি, ভিডিও ও কথোপকথনের রেকর্ড) কাস্টমারকে সার্ভিস দিয়েছে। সিনিয়র ও জুনিয়র দুই ধরনের গোয়েন্দা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গুরুত্বপূর্ণ কেস হলে সিনিয়রদের মাঠে নামানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র গোয়েন্দা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. ইমামুল হক। মানবজমিনকে তিনি বলেন, মাত্র এক মাস আগে এখানে চাকরি নিয়েছি। সব ধরনের গোপনীয়তা রক্ষা করে এখানে কাজ করা হয়। তাই নিশ্চিন্তে যে কেউ সার্ভিস নিতে পারেন।
যেভাবে কাজ করেন গোয়েন্দারা: অনুসরণ কিংবা অন্যান্য সেবা নিতে হলে প্রথমেই গোয়েন্দা সংস্থাটির নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হয়। এতে কাস্টমার ও তার শত্রু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি কি উদ্দেশ্যে অনুসরণ করতে হবে তা উল্লেখ করতে হয়। অনুসরণের ক্ষেত্রে দুভাবে তদন্ত করে গোয়েন্দা বাহিনী। একটি টিম মাঠে থাকে অনুসরণের দায়িত্বে। তারা সুযোগ বুঝে ছবি তোলে। আবার কখনও গতিবিধির ভিডিও করে রাখে। অপর টিম অফিসে বসে মোবাইলে আড়িপাতে। কখন, কার সঙ্গে কিংবা কোন নম্বরে বেশি কথা বলে তা রেকর্ড রাখে। এজন্য তারা ব্যবহার করেন অত্যাধুনিক চারটি ট্র্যাকিং প্রযুক্তি। এগুলো হচ্ছে- এন্ট্রি থেপট ড্রিপ শেপড পুল বক্স রিকয়লার, ড্রিপ শেপড এন্ট্রি থেপট পুল বক্স, রাউন্ড এন্ট্রি থেপট পুল বক্স ও নিউ স্মার্টফোন। এ ছাড়া ২১ ধরনের ডিভাইস কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করেন তারা। সাধারণত তিন দিন থেকে শুরু করে ৭ দিনের মধ্যে একটি রিপোর্ট তৈরি করেন তারা। কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ৭ দিনের মধ্যে কোন না কোন ভুল নিশ্চয় করবেন। এ নিশ্চয়তা থেকেই তারা ৭ দিনের সময়টি নির্ধারণ করে এগোন। সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকায় তারা অনুসরণের কাজটি নিয়ে থাকেন। ঢাকার বাইরে হলে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ফিস নেয়া হয়।

ঘুমের ঔষধ খাইয়ে তারা একের পর এক অত্যাচার করে -বিবিসি

“১৮দিন ছিলাম ওমানে। বাসায় কাজের কথা বলে আমাকে ছেলেদের একটি মেসে দেয়া হয়। ২২জন ছেলেমানুষ। এমন কোন অত্যাচার নাই তারা করেনাই। ঘুমের ঔষধ খাইয়ে তারা একের পর এক অত্যাচার করে।”। এভাবেই নিজের ওপর অত্যাচারের বিবরণ দিলেন যশোরের সাথী বেগম।
গত মাসে তিনি ওমানে গিয়েছিলেন বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেই। কিন্তু সেখানে গিয়ে একমাসও টিকতে পারেননি। কোনও ভাবে জীবন বাঁচিয়ে ফিরে এসেছেন দেশে। মামলাও করেছেন দালালদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস যশোর’ আয়োজিত গণ-শুনানিতে অংশ নিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন সাথী বেগম।
এই অনুষ্ঠানে নির্যাতিতদের অনেকই তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। একই সাথে তারা এজেন্সিগুলোর সঙ্গে জড়িত দালালদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি শ্রমিকদের কাজের ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইরাক থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়া আরেকজন অভিবাসী শ্রমিক লক্ষ্মীপুরের আব্দুর রাজ্জাক বিবিসিকে জানান, বৈধভাবে গেলেও দালালরা তাদের বিক্রি করে এজেন্সির কাছে।
দেশীয় এজেন্সি তাদের বিক্রি করে ইরাকের এজেন্সি বা কোম্পানির কাছে। ফলে এসব কোম্পানি তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক দেয়ার বদলে টাকা চাইলেই নির্যাতন করে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
মি: রাজ্জাক বলেন,“আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। নাজাফ থেকে বাগদাদে। পরে পালিয়ে প্রাদেশিক সরকারের দ্বারস্থ হয়ে একটি পারমিট নিয়ে দেশে ফিরে এসেছি।”
গণশুনানিতে আসা এসব শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন একটি সংগঠনের কর্মকর্তা বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।
তিনি বলেন বিদেশে কাজের নামে যারা শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান এখন এসব শ্রমিকরা।
এদিকে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার আগে সচেতন করার পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। তহালে সেখানে শ্রমিকদের কাজ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব ?
জানতে চেয়েছিলাম অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠনের কর্ণধার সৈয়দ সাইফুল হক।
তিনি বলেন, “ শ্রমিক যেখান থেকে যায় ও যেদেশে যায় দু’দেশকেই শ্রমিকদের কাজ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে কিন্তু সেটিকে আরও জোরদার করতে হবে”।
এদিকে সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগের কারণে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটতে শুরু করবে বলেই আশা করছেন কর্মকর্তারা।

ফ্রান্স, কুয়েত ও তিউনিসিয়ায় জঙ্গি হামলা, নিহত ৫২

একই দিনে তিনটি দেশে জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছে- ফ্রান্স, কুয়েত ও তিউনিসিয়ায়। হামলার সময় হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজানের পবিত্র শুক্রবার দিনটিকে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনটি হামলার মধ্যে কোন যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কেবল কুয়েতের মসজিদে হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। তিনটি হামলায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৫২ জন। এর মধ্যে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী পর্যটন শহর সাসেতে ২ বন্দুকধারীর হামলায় ২৭, কুয়েতের রাজধানীর শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৪ এবং ফ্রান্সের একটি গ্যাস কারখানায় হামলায় শিরশ্ছেদকৃত একজনের লাশ ও দুজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিউনিসিয়া ও কুয়েতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফ্রান্সের ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা সম্ভব হলেও, কুয়েত ও তিউনিসিয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তবে তিউনিসিয়ায় এক বন্দুকধারী নিহত হয়েছে।
তিউনিসিয়ায় আবার পর্যটকদের ওপর হামলা, নিহত ২৭
তিউনিসিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট সসেতে দুটি হোটেলের পাশে সমুদ্রসৈকতে এক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৭ জন। নিহতদের বেশির ভাগই বিদেশী। আহত হয়েছেন ছয়জন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক বন্দুকধারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আরেকজনকে ধরতে অভিযান চলছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। তিউনিসিয়ায় পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চে রাজধানী তিউনিসের একটি জাদুঘরে হামলা চালিয়ে বহু বিদেশী পর্যটকসহ ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এবার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট উপকূলবর্তী সসেতে হামলার ঘটনা ঘটলো। দেশটিতে ছুটি কাটাতে যাওয়া এক বৃটিশ নাগরিক বিবিসিকে জানান, পাশের একটি হোটেলে অবস্থানের সময় তিনি হামলার শব্দ শুনতে পান। কক্ষ থেকে তিনি পিস্তল সহকারে এক ব্যক্তিকে দেখতে পান। যদিও ওই ব্যক্তি হামলাকারী নাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তা বুঝতে পারেননি তিনি। কর্মকর্তারা বলছেন, হোটেল ইমেপরিয়াল মারহাবার পাশের একটি সৈকতে ঘটনাটি ঘটে। প্রসঙ্গত, আইএস জঙ্গিরা এর আগে নিজেদের অনুসারীদের ওপর পবিত্র রমজান মাসে হামলার পরিমাণ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছিল। এ ছাড়া গত মার্চের হামলার সঙ্গে আইএস জড়িত থাকতে পারে অনেকে ধারণা করেছিলেন। এবারের হামলা সমপর্কে এখন পর্যন্ত কেউই দায় স্বীকার করেনি। আগেরবারের মতো এবারও পর্যটকদের উদ্দেশে হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আরেকটি সূত্র বলেছে, হামলাকারীরা পুলিশের পোশাক পরে ছিল বলে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, কয়েক মাসের মধ্যে দুটি বড় হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তিউনিসিয়ার অর্থনীতি। কেননা, দেশটি ব্যাপকভাবে পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৪ সালে দেশটিতে প্রায় ৬১ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। পর্যটন ও ভ্রমণ খাতে দেশটিতে চাকরি করছেন প্রায় ৪৭৩০০০ জন, যা দেশের মোট কর্মসংস্থানের ১৩ শতাংশ। তিউনিসিয়ার জাতীয় প্রবৃদ্ধির মোট ১৫.২ শতাংশই আসে পর্যটন ও ভ্রমণ খাত থেকে।
কুয়েতে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত কমপক্ষে ২৪
কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে শিয়া ইমাম সাদিক মসজিদে জুমার নামাজের পর ভয়াবহ এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস জানিয়েছে, তাদেরই একটি গোষ্ঠী ওই হামলা চালিয়েছে। কুয়েতে এ ধরনের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা অনলাইন। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মসজিদের মেঝেতে ভেঙ্গে যাওয়া ইটের টুকরোর উপর বেশ কয়েকজনের শরীর পড়ে আছে। আশেপাশের সর্বত্র ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আহত অনেকের অবস্থা সংকটজনক। হামলার পর কুয়েতের আমীর সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কুয়েতের সাবেক তথ্যমন্ত্রী সাদ আল-আজমি বলেন, কোন দেশই যে সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত নয়, এ হামলাটি তারই প্রমাণ। হামলার পর জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর নাম আবু সুলেইমান আল মুয়াহেদ বলে দাবি করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ‘প্রত্যাখ্যানকারীদের একটি মন্দির’। প্রসঙ্গত শিয়া মুসলিমদের ও তাদের মসজিদকে এ নামেই বর্ণনা করে আইএস জঙ্গিরা। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় কয়েক ডজন ব্যক্তি আহত বা নিহত হয়েছে।
কুয়েতে এ ধরনের হামলা প্রথম হলেও, উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রথম নয়। কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবের দুইটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল-মুবারক আল-সাবাহ বলেন, শুক্রবারে রাজধানীতে হামলা হচ্ছে কুয়েতের জাতীয় ঐক্য নস্যাতের একটি প্রচেষ্টা। প্রসঙ্গত, তেলসমৃদ্ধ ছোট এ দেশটির জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ হলো শিয়া জনগোষ্ঠী। এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, মসজিদে জুমাহ’র নামাজ পড়তে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। নামাজের পরপরই হামলাটি চালানো হয়। একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে নিশ্চিত করে বলেন, এটি ছিল একটি আত্মঘাতী হামলা। একই ধরনের বর্ণনা এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে। তারা জানান, একজন আত্মঘাতী বোমারু হঠাত করে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটান।
ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলায় ১ জনকে শিরশ্ছেদ, আহত ২
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্যাস কারখানায় শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলায় ১ জনকে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছে আরও ২ জন। ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে আরবি ভাষায় লেখা একটি বার্তা। হামলার পরপর এক বক্তৃতায় এসব জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদে। এ খবর দিয়েছে সিএনএন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কাজেন্যুভে জানান, সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে আগে থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল, যদিও কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার প্রমাণ এর আগে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, অপরাধ সংঘটনের পরপরই বিপজ্জনকই ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার সহযোগীদের সন্ধানে তদন্ত করছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে নিজের ভাষণে শুক্রবারের ওই হামলাকে ‘পুরোপুরি সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওঁলাদে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টার একটু আগে ওই ঘটনাটি ঘটে। এ সময় উচ্চগতিতে একটি গাড়ি ঢুকে পড়ে একটি গ্যাস কারখানার অভ্যন্তরে। সেখানে একটি ভবনে রাখা ছিল বেশ কয়েকটি গ্যাস ক্যানিস্টার। সেদিকেও ঢুকে পড়ে গাড়িটি। ওঁলাদে বলেন, সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হয়, হামলা তথা বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্যই ওই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি নিজের সমবেদনাও জানান তিনি। বার্তাসংস্থা এএফপি এর আগে জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এক ইসলামী হামলাকারী কারখানার ফটকে শরীর থেকে আলাদা করা একটি মুণ্ডু ঝুলিয়ে রেখেছে। সেখানে আরবি ভাষায় লেখা বার্তাও পাওয়া যায়। এর পাশেই একটি ইসলামি পতাকা পাওয়া যায়। নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দাবি করা এক ব্যক্তি বলেন, ইসলামি পতাকাবাহী কয়েকজনের একটি দল জোর করে কারখানায় প্রবেশ করে। এরপর কারখানার এক ব্যক্তিকে শিরশ্ছেদ করে গ্যাস ট্যাঙ্কগুলোকে টার্গেট করে তারা। ফ্রান্সের লে মন্ডে পত্রিকা কয়েকটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দুই জন লোক একটি গাড়ি ঢুকিয়ে দেয় গ্যাস ক্যানিস্টার রাখা ভবনে। এর ফলে বিস্ফোরণ ঘটে সেখানে। আরবি ভাষায় লেখা একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয় ঘটনাস্থল থেকে, যদিও এর মর্মার্থ উদ্ধার করা যায়নি। প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে তাদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিভাগ কাজ শুরু করেছে।

মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হলে ফেলে দেয়া হয় সাগরে -আল জাজিরার রিপোর্ট

নির্যাতন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, মুক্তিপণ দাবি- কয়েক দশক ধরে অভিবাসীরা এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। পরোক্ষভাবে এতে আশকারাও দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানব পাচার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি সূত্র এমনটিই বলেছে। পাচারের শিকার বাংলাদেশী বা রোহিঙ্গা মুসলিমদের কাছে দাবি করা হয় মুক্তিপণ। তা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ফেলে দেয়া হয় সমুদ্রে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। প্রত্যেক বছর হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে যাত্রার উপায় খুঁজে তারা। এ মানুষগুলোই পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর কবলে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে বেশি। পাচারকারীদের এক দালাল মুনিরুল (ছদ্মনাম) আল জাজিরাকে বলেন, যে কোন যাত্রা শুরুর আগে বাংলাদেশের স্থানীয় পুলিশকে আমাদের অর্থ দিতে হয়। ৫৯ বছর বয়সী মনিরুল জানান, ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে তিনি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে কক্সবাজারে পাড়ি জমান। এরপর তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি জমান। মালয়েশিয়ায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে ৮ বছর কাজ শেষে বাংলাদেশে ফেরত আসেন। মালয়েশিয়ায় ক্লান্তিকর ও বিপজ্জনক কাজ করে তিনি খুশি ছিলেন না। সে সময় শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিয়মিত তার ওপর নির্যাতন করতো। মনিরুল মালয়েশিয়া থেকে ফেরত এলেও, তার একমাত্র ছেলে এখনও মালয়েশিয়ায় থাকে। সেখানে ট্যাক্সি চালিয়ে জীবন নির্বাহ করে সে। এরই মধ্যে মনিরুল কক্সবাজারে পাচারকারীদের দালাল বনে যায়। তার ভাষ্য, এতে সহজে টাকা বানানো যায়। আমরা কাউকে মালয়েশিয়া নিয়ে যেতে পারলে সাধারণত ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা করে পাই। এখান থেকে ২০ হাজার টাকা আমার ভাগে জোটে। মনিরুল জানায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাদের ঘুষ দিয়ে থাকে পাচারকারীরা। আমরা যদি তাদের টাকা না দিই, তাহলে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। কক্সবাজারের উপকূলে বসবাস করে, এমন প্রত্যেকে জানে যে, পুলিশ আমাদের সাহায্য করে। যদি আমরা তাদের টাকা না দিই, তাহলে তারা আমাদের গ্রেপ্তার করবে। শুধু পুলিশ নয়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীকেও টাকা দিতে হয়। আল জাজিরা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে। কিন্তু তার কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি বলে বলা হয় রিপোর্টে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানান, কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত চর্চার প্রচলন রয়েছে বলে তার জানা নেই। তার ভাষ্য, আমি এ ধরনের কথা এই প্রথম শুনেছি। পাচারকারীদের কাছ থেকে আমাদের কর্মকর্তারা অর্থ নিচ্ছে, এমন প্রমাণ পাওয়া মাত্রই আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিবাসী সংকট ছিল বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমগুলোর এ বছরের শিরোনাম। জাতিসংঘের মতে, ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীকে নৌকায় করে পাচার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জন সাগরপথেই মারা গেছেন। যারা নৌকায় উঠেছিলেন, তারা জানতেনই না, থাইল্যান্ডে নামলেই আরও প্রায় ২ হাজার ডলার মুক্তিপণ হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।
কক্সবাজারের বাসিন্দা মোহাম্মদ পাচারকারীদের অনেক নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করেন। তিনি নিজেও মালয়েশিয়ায় ঢুকতে চেয়েছিলেন। মোহাম্মদও মুনিরুলের দাবিকে সমর্থন করে জানালেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবৈধ পাচার বাণিজ্য চালাতে দেয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করে। তার মতে, মানব পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটটি মূলত তিনটি পৃথক দলের সমন্বয়ে গঠিত। প্রথম দলটি গরিব রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের প্রলুব্ধ করে। মালয়েশিয়ায় বিশাল পরিমাণ আয়ের গল্প শুনিয়ে তাদের সহজেই প্রলুব্ধ করা যায়। এরপর দ্বিতীয় একটি দলের হাতে তুলে দেয়া হয় অভিবাসীদের। এ দলটি মাছ ধরার বিভিন্ন নৌকায় অভিবাসীদের তুলে নেয়। মোহাম্মদ বলেন, অন্তত ৮০-১০০ মানুষকে প্রতিটি ট্রলারে তুলে নেয়া হয়। সমুদ্রযাত্রায় নৌকায় মানুষকে নির্যাতনও করে দ্বিতীয় এ পক্ষ। থাইল্যান্ড বা প্রতিবেশী দেশের উপকূলে নৌকা পৌঁছামাত্রই আরেকটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের। তখন তাদের বন্দি হিসেবে আটকে রাখা হয়। নির্যাতন করে দেশে আত্মীয়স্বজনকে ফোন দিতে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশে বা মিয়ানমারে দালালের কাছে আত্মীয়স্বজনরা মুক্তিপণ পরিশোধ করলেই কেবল তাদের মালয়েশিয়ার পথে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৯০ সাল থেকেই মালয়েশিয়াই অবৈধ অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু সামপ্রতিককালে মালয়েশিয়া যাত্রা হয়ে উঠেছে খুবই কঠিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণার্থী ও অভিবাসী চলাচল গবেষণা শাখার প্রতিষ্ঠাতা তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ২০১২ সালে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মানব পাচারকারীদের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। কারণ, তারা উপলব্ধি করেছিলেন, এ প্রক্রিয়ায় তারা আরও অনেক বেশি অর্থ আয় করতে পারবে। সিদ্দিকী জানান, মানব পাচারকারী ও তাদের দালালরা বাংলাদেশের এমন মানুষকে বেশি টার্গেট করে, যারা জলবায়ু পরিবর্তনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বেকার বা ভূমিহীন মানুষদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কাজের লোভ দেখিয়ে রাজি করানো হয়। তিনি আরও দাবি করেন, যদি মুক্তিপণ পরিশোধ করতে কোন ভুক্তভোগী বা তার পরিবার ব্যর্থ হয়, তাহলে তাকে স্রেফ সাগরে ফেলে দেয়া হয়। যারা শেষ পর্যন্ত বেঁচে যান, তারা বিভিন্ন বাগান বা মাছ ধরার নৌকায় কাজ করে জীবন নির্বাহ করেন। সেখানে তাদের সঙ্গে দাসের মতো আচরণ করা হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রেস্টলেস বিইং জানিয়েছে, সাগরে ও জঙ্গলের বন্দিশিবিরে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী নারী-শিশুরা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়। এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছেন। রেস্টলেস বিইংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাবরুর আহমেদ বলেন, মালয়, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মাছ ধরার বিভিন্ন নৌকার ব্যাপারে চুক্তি হয়। নৌকার দায়িত্ব মানব পাচারকারীদের হাতেই থাকে। দুই থেকে ছয়জন করে নারীদের কয়েকটি দলকে নৌকায় জোর করে তোলা হয়। সেখানে তাদের বহুদিন বন্দি করে রাখা হয়। রোহিঙ্গারা এ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় স্বেচ্ছায় অংশ নেয়। কেননা, তারা মিয়ানমারেও নির্যাতিত হয়। গণহারে গ্রেপ্তার, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, নিয়মিত নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। মাবরুর আহমেদ বলেন, আসিয়ান দেশগুলোর উচিত মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করা। যাতে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সমপ্রদায় মিয়ানমারের নাগরিকত্ব লাভ করতে পারে।

শাহ আজিজ বললেন, সালাহউদ্দিন তোমার বাবা আমার বন্ধু ছিলেন

সংসদ শুরু হলো। প্রানবন্ত সংসদ। যেমন একদিনের কথা বলি, বি. চৌধুরী সাহেব তখন সংসদের ডেপুটি লিডার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করছেন। বরিশালের মহিউদ্দিন সাহেব এমন গরম বক্তৃতা দিচ্ছেন যে, বি চৌধুরী সাহেব আর সামাল দিতে পারছেন না। তিনি আমাকে বললেন যে, আপনি চাচাকে (শাহ আজিজুর রহমান সাহেব) ডেকে নিয়ে আসেন।
জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি এ.কে.এম মাঈদুল ইসলাম মুকুল তার লেখা ‘আত্মসত্তার রাজনীতি এবং আমার ভাবনা’ শীর্ষক গ্রন্থে এসব কথা লিখেছেন। তিনি জিয়াউর রহমানের কেবিনেটের সদস্য ছিলেন।
এ.কে.এম মাঈদুল ইসলাম মুকুল আরও লিখেছেন, চাচা তখন ঘুমাচ্ছিলেন। আমি গেলাম এবং আস্তে করে চাচার মাথায় হাত দিয়ে বললাম, চাচা সংসদে ভীষণ গ-গোল হচ্ছে। তখন তিনি ঘুম থেকে উঠে মুখে একটু পানি দিয়ে সংসদে গিয়ে বসলেন। বসে তিনি এদিক ওদিক তাকিয়ে বললেন, মাননীয় স্পিকার মি. মহিউদ্দিন একজন গু-া, সে আবার কি বলে। সে একজন ননসেন্স। শাহ আজিজুর রহমান সাহেব বসলেন। সঙ্গে সঙ্গে মহিউদ্দিন সাহেব আরও ক্ষেপে গিয়ে বললেন, শালা তোর দাঁত ভেঙ্গে দেব। শাহ আজিজ আবার দাড়িয়ে বললেন, মহিউদ্দিন একজন গু-া, সে আমার বডিগার্ড ছিল, তার আবার সংসদে কিসের বক্তৃতা। মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার কাছে আমার নিরাপত্তা দাবী করছি। সংসদে হাসির রোল পড়ে গেল। তারপর স্পীকার সকল বক্তৃতা এক্সপাঞ্জ করে নিলেন।
আর একদিনের এক ঘটনা। সংসদে খুব হৈ চৈ। আমি শাহ আজিজ সাহেবকে গিয়ে বললাম যে, যে চাচা সংসদে খুব হৈ চৈ চলছে। তিনি হাতে একটা বই নিয়ে টলতে টলতে সংসদে আসলেন। তখন মেনন সাহেব বক্তৃতা করছেন। সালাউদ্দিন কাদের সাহেব , বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত প্রমুখ জাদরেল নেতৃবৃন্দ সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন, কঠিন বক্তৃতা করছেন। তখন শাহ সাহেব দাঁড়িয়ে বললেন যে, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী মেনন সাহেব যেটা বললেন সেটা ঠিক না। অন্য একটি বইয়ের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি সেটি বলে দিলেন। তখন সালাউদ্দিন কাদের সাহেব বললেন, আপনি আমাদেরকে বইটি দেন। শাহ সাহেব তখন বললেন, সালাউদ্দিন, আমার খুব দুঃখ হয়। তোমার বাবা আমার বন্ধু ছিলেন। তিনি তোমাকে ব্যারিস্টার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তুমি পড়ালেখা কর নাই। তখন মেনন সাহেবউঠে দাঁড়ালেন। শাহ সাহেব মেননের উদ্দেশ্যে বললেন, মেনন, তোমার তো সতেরটা কেস আমিই করেছি। সারা জীবন জেলখানায় ছিলে আর সেখানে শুধু কমিউনিস্টদের চটি বই পড়েছ। সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের দিকে চেয়ে বললেন, আপনি তো একজন শিক্ষিত লোক, আপনিও কি তাদের দলে নাকি? একটু কষ্ট করে পেছন দিক দিয়ে ওদিকটায় যান। সেখানে দেখবেন লাইব্রেরি লেখা একটা জায়গা রয়েছে এবং সেখানে makes parliamentary practice বইটি রয়েছে। সেখানে আপনারা তিনজন মিলে বইটি বের করে পড়ে আসুন।
এভাবে সংসদ ভালভাবেই চলতেছিল। সংসদে যখন বিরোধী নেতৃবৃন্দ, আসাদুজ্জামান সাহেব, মহিউদ্দিন সাহেব, সবুর সাহেব, আতাউর রহমান সাহেবরা ওয়াকআউট করতেন তখন আমরা তাঁদের বাসায় বাসায় যেতাম। তাঁদেরকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করতাম, বলতাম যে আমরা কোনদিন সংসদ দেখিনি। আপনারা না আসলে আমরা শিখবো কোত্থেকে। আপনাদের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখতে হবে। তখন দেখতাম, তাঁরা শাহ সাহেবকে গালাগালি করে একদিন পর আবার সংসদে যোগ দিতেন।

সু চির প্রার্থী হওয়ার সুযোগ শেষ!

নেপিডোয় গতকাল পার্লামেন্ট অধিবেশনে প্রবেশ করার জন্য নাম
নিবন্ধন করছেন মিয়ানমারের বিরোধীদলীয় নেতা ও ন্যাশনাল লিগ
ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারপারসন অং সান সু চি l ছবি: এএফপি
মিয়ানমারে সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়ে সেনাবাহিনীর ভেটোক্ষমতা থেকেই গেল। গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে এ বিষয়ক বিলটি পাস হয়নি। এটি পাস হলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথ সুগম হতো। খবর এএফপির।
নির্বাচিত এমপি ও সেনাবাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা তিন দিন আলোচনা চলার পর গতকাল খসড়া সংশোধনীর ওপরে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। বিলটি পাস হলে মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর অবস্থান দুর্বল হতো। এটি বাতিল হওয়ার ঘটনাকে সু চির আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটাভুটির এই ফলে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নিভে গেল। কারণ, মিয়ানমারের সংবিধানের একটি জায়গায় বলা আছে, কারও অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকা সন্তান থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। সু চির ছেলেরা যুক্তরাজ্যের নাগরিক।
নিয়মানুযায়ী মিয়ানমারের ৬৬৪ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টে বিলটি পাসের জন্য কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ আইনপ্রণেতার সমর্থনের দরকার ছিল। কিন্তু বিলটির পক্ষে পড়ে মাত্র ৩৮৮ ভোট। এরপর স্পিকার শোয়ে মান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, বিলটি ‘বিধিবদ্ধ হলো না’।
মিয়ানমারে ২০১১ সালে দীর্ঘদিনের প্রত্যক্ষ সামরিক শাসনের অবসান ঘটার পর নানা গণতন্ত্রমুখী সংস্কার শুরু হয়। তবে এখনো দেশটির নিয়ন্ত্রণক্ষমতা সাবেক ও বর্তমান জেনারেলদের হাতেই। পার্লামেন্টেও তাঁদের প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, দেশটির সেনাবাহিনী তার ক্ষমতা আরও কমানোর ব্যাপারে সামান্যতম ছাড় দিতে রাজি নয়।
তবে ভোটাভুটির পর সু চি মিয়ানমারের নাগরিকদের ‘আশা না হারানো’র আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী অক্টোবর বা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন থেকে বিরোধীরা পিছু হটবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ওই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিই (এনএলডি) বিরাট ব্যবধানে জিতবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে ওই নির্বাচনকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকাল পার্লামেন্টে যে খসড়া বিল উত্থাপন করা হয়, তাতে সু চির প্রার্থী হওয়ার অন্তরায়-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের ওপর কোনো বিতর্ক করার সুযোগ ছিল না। মূলত সংবিধানের ৪৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার জন্য ওই বিল তোলা হয়। ওই অনুচ্ছেদ বলছে, বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে হলে পার্লামেন্টের ৭৫ শতাংশ সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টের অনির্বাচিত সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। গতকাল তোলা বিলে সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার শর্ত ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
গতকালের ভোটাভুটিতে বিলটি যে পাস হবে না, সেটি আগে থেকেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু তারপরও ভোটাভুটির ফল প্রকাশের পর স্তব্ধ হয়ে যান আইনপ্রণেতারা।
৪৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা যুক্তি দেখিয়ে আসছিলেন পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর মনোনীত এমপিরা। গতকাল ভোটাভুটির আগেও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল টিন সান নাইং সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন ‘উপযোগী নয়’। কারণ, মিয়ানমারের গণতন্ত্র এখনো ‘সদ্যোজাত পর্যায়ে’ রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এখনো তার সংবিধানের রক্ষাকর্তার ভূমিকা আঁকড়ে ধরে রাখার পক্ষে।

তিনবিঘা করিডোরে আনন্দ উৎসব

তিনবিঘায় ভারতীয় অংশে আনন্দ মিছিল। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
তিনবিঘায় ভারতীয় অংশে আনন্দ মিছিল। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া আর দুই পাশে দুই দেশের বাসিন্দা। কিছুদিন আগেও তাঁরা কোনো দেশের নাগরিক ছিলেন না। এখন তাঁদের আছে নাগরিক পরিচয়। কেউ ভারতের নাগরিক আর কেউ বাংলাদেশের। 
এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। তিনবিঘা করিডোর আজ শুক্রবার আনন্দের বন্যায় ভেসে যায়। ভারত ও বাংলাদেশের হাজারো ছিটমহলবাসী আজ একত্র হয়েছিল এই তিনবিঘা করিডোরে। মেতেছিল আনন্দ উৎসবে। কিন্তু ছিল সেই কাঁটাতারের বন্ধনী।
স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছিল তিনবিঘা করিডোরের আকাশ। বাংলাদেশের পাড় থেকে হাজারো কণ্ঠে ধ্বনিত, ‘আর নয় ছিটবাসী, আমরা এখন বাংলাদেশি’। ভারতের পাড় থেকে ধ্বনিত ‘আর নয় ছিটমহলবাসী, আমরা এখন ভারতবাসী’। হাতে দুই দেশের জাতীয় পতাকা। বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের ৯ কিলোমিটার দূরে এই তিনবিঘা করিডোর। করিডোরের পাশেই ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার কুচলিবাড়ি সীমান্তে তিনবিঘা জমির ওপর গড়া হয়েছে এই তিনবিঘা করিডোর। এই করিডোর দিয়ে বাংলাদেশিরা যাতায়াত করেন আঙ্গুরপোতা ও দহগ্রাম ছিটমহলে।
তিনবিঘায় ভারতীয় অংশে আনন্দ মিছিল। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
তিনবিঘায় ভারতীয় অংশে আনন্দ মিছিল। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পাদনের পর আজ প্রথম দুই দেশের ছিটমহলবাসীরা একত্র হন তিনবিঘা করিডোরে। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ডাকে দুই পাড়ে হাজির হন তাঁরা। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ছিটমহলের বাসিন্দারা আনন্দের মিছিল নিয়ে যায় তিনবিঘা করিডোর দিয়ে। এরপরে মিছিল বের করেন ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহলের হাজারো মানুষ। তাদের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘ ৬৭ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হওয়ার কথা। নতুনভাবে স্বাধীনতা পাওয়ার আনন্দে তাঁরা আজ উদ্বেলিত।
তিনবিঘা করিডোরে বাংলাদেশের আনন্দ মিছিল। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
তিনবিঘা করিডোরে বাংলাদেশের আনন্দ মিছিল। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এই বিজয় ও আনন্দ মিছিল। মিছিল শেষে ভারত ও বাংলাদেশ দুই অংশেই আয়োজন করা হয় সমাবেশের। এই দুটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দুই দেশের ছিটমহল আন্দোলনের নেতারা। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সম্পাদক সৌমেন্দ্র দাস, সহসম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত, আর বাংলাদেশের সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং সভাপতি মইনুল হক প্রমুখ ভাষণ দেন। তাঁরা বলেন ছিটমহল আন্দোলনের অতীত দিনের কথা। কীভাবে তাঁরা এই আন্দোলনে নেমে আজ জয় দেখেছেন সে কথা। সমাবেশ থেকে ডাক ওঠে এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ গড়তে হবে হৃদয় দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে ছিটমহলবাসীদের।
তিনবিঘা করিডোরের কাঁটাতারের বেড়ার এপাশে ওপাশে সমাবেশের অংশ। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
তিনবিঘা করিডোরের কাঁটাতারের বেড়ার এপাশে ওপাশে সমাবেশের অংশ। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
সমাবেশে দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, এত দিন একটি ভারতের সঙ্গে ১১১টি টুকরো ভারত ছিল, আর একটি বাংলাদেশের সঙ্গে ৫১টি টুকরো বাংলাদেশ ছিল। আজ আর তা থাকল না। হয়ে গেল একটি ভারত এবং একটি বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, ৬৭ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়েছে ছিটমহলবাসী। এখন তারা স্বাধীন। এবার তারা আর থাকবে না পরদেশে পরগাছা হয়ে। হবে স্বাধীন দেশের নাগরিক। ভোগ করবেন মৌলিক অধিকার।

সিলেটের শিফার ডিভোর্স ও বিয়ে by ওয়েছ খছরু

প্রবাসী মজির উদ্দিনকে ডিভোর্স দেয়ার দিনই ড্রাইভার খালেদের সঙ্গে বিয়ের এফিডেভিট সম্পাদন করেন সিলেটের ফারজানা আক্তার শিফা। এক সন্তানকে বাড়ি রেখে আরেক সন্তানকে নিয়ে প্রেমিক খালেদের সঙ্গে অজানায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। আর পালিয়ে যাওয়ার ৬ দিনের মাথায় ১৫ই জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী আশরাফুল আলমের কাছে দুই লাখ টাকা কাবিনে খালেদকে বিয়ে করেন। অথচ ১৭ই জুন উদ্ধারের পর আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে শিফা দাবি করেছেন, খালেদ তাকে অপহরণ করেছে। আপাতত শিফার বক্তব্যের সূত্রেই এগুচ্ছে এ মামলার তদন্তকাজ- এমনটি জানিয়েছে পুলিশ। কিন্তু শিফা ও খালেদের প্রেমের ঘটনাবলী ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরেই তারা একে অপরের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। আর এ নিয়ে প্রবাসী মজির, ড্রাইভার খালেদ ও শিফা এই ৩ জনের পরিবারের মধ্যে ঘটে নানা ঘটনা। শিফা তার প্রেমিক খালেদের হাত ধরে পালিয়েছেন ৯ই জুন। এর আগে খালেদ ও শিফার প্রেম-মিলনের খবরাখবর জানাজানি হলে এক মাস পিতার বাড়ি ছিলেন শিফা। কারণ, খালেদের সঙ্গে প্রেমের খবর জানাজানি হওয়ার পর নিজের স্ক্যান্ডালের কারণে স্বামীর বাড়ি থাকা দায় হয়ে পড়েছিল তার। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, খালেদের আগে তার পিতা মজুর মিয়া প্রবাসী মজির উদ্দিনের পরিবারের ডাকে সাড়া দিতেন। ট্রিপ দিতে গাড়ি নিয়ে ছুটে আসতেন তিনি। তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই ছিলেন মজুর মিয়া। এই সুবাদে প্রবাসী মজির উদ্দিনের পরিবারের পারিবারিক গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পায় খালেদ। প্রথম প্রথম মজিরউদ্দিন যখন প্রবাস থেকে দেশে আসতেন তখনই কেবল ডাক পেতেন খালেদ। আর এই সুযোগে মজিরউদ্দিনের স্ত্রী শিফার নজরে পড়েন তিনি। এই ভাবে দুই সন্তানের জননী ফারজানা আক্তার শিফার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে খালেদের। তবে, পরিবারের কেউ এটি জানতেন না। এমনকি মজিরউদ্দিনও কখনও এ বিষয়টি টের পাননি। শিফা ও খালেদের মধ্যে যে ভাল বুঝাপড়া ছিল সেটি বুঝা গেলো গত বছরের প্রথম দিকে। ওই সময় সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে আসেন মজির উদ্দিন। তিনি দেশে আসার পর শিফা অনেকটা জোর করে খালেদের পরিবারের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দেন। এমনকি খালেদের মায়ের সঙ্গে মজিরের মাকে ‘ধর্মের বোন’ বানানো হয়। এর ফলে দুটি পরিবার সামাজিকভাবে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে। ফলে দুই মাস ছুটি কাটিয়ে মজির উদ্দিন প্রবাসে চলে যাওয়ার পর খালেদ অনেকটা সহজেই যাতায়াত শুরু করে শিফার ঘরে। পুরুষবিহীন পরিবারে রাতের পর রাত কাটিয়েছে খালেদ। এই সুযোগই তাকে করে দিয়েছে শিফা। প্রথম প্রথম বৃদ্ধ শাশুড়ির নজরে পড়ে পুত্রবধূ শিফার কীর্তি। এ সময় শাশুড়ি খালেদের কবল থেকে শিফাকে মুক্ত করতে চেষ্টা করেন। দুই সন্তানের দিকে তাকিয়ে শিফাকে এই পথ থেকে ফিরে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন তিনি। এমনকি খালেদের মা ও শিফার পরিবারের কাছেও গোপনে এই বিষয়গুলো জানানো হয়। এ অবস্থায় শিফা ও খালেদ এলাকায় আরও খোলামেলা হয়ে ওঠে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন খালেদ প্রেমিকা শিফাকে নিয়ে সিলেটে চলে আসতো। মার্কেট করতো। পার্কে ঘুরতো। তাদের এসব কর্মকাণ্ড ধরা পড়ে এলাকাবাসীর চোখেও। বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয় এলাকায়। এই অবস্থায় শিফাকে কোন ভাবেই নিবৃত করা যাচ্ছিল না। খালেদ ও শিফার পরকীয়া হয়ে উঠে বেপরোয়া। পালিয়ে যাওয়ার প্রায় এক মাস আগের ঘটনা। ওই সময় গ্রামে, হাটে সবখানেই রটে যায় খালেদ ও শিফার প্রেম কাহিনী। সবখানেই হতে থাকে তাদের নিয়ে আলোচনা। আত্মীয়স্বজনরা বাদ নেই বিষয়টি মিটমাট করতে। বারবার চেষ্টা করছেন খালেদ ও শিফাকে পৃথক করতে, কিন্তু তারা পারেননি। তিনটি পরিবারও চেষ্টা চালিয় ব্যর্থ। এই অবস্থায় এক মাস আগে পিতা আবদুল মান্নানের বাড়ি গোলাপগঞ্জের লক্ষনাবন্দ গ্রামে চলে যান শিফা। তিনি চলে যাওয়ার পর ওদিকের পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে, খালেদ বারবারই যেত শিফার পিত্রালয়ে। ওখানে তাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে। এদিকে, নিজের বাড়িতে ঘর বানানোর জন্য শিফার একাউন্টে প্রায় দেড় লাখ টাকা প্রেরণ করে মজির উদ্দিন। ওই টাকা চৌধুরী বাজারের পুবালী ব্যাংকে আসার পর ৮ই জুন শিফা পিতার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি মোগলাবাজারের কান্দেবপুর গ্রামে আসেন। আসার পথে তিনি ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা তুলে নিয়ে আসেন। পর দিন ৯ই জুন শিফা তার ছোট ছেলে শাফিকে নিয়ে খালেদের সঙ্গে পালিয়ে যায়। এদিকে কাগজপত্র পর্যালোচনা করা দেখা গেছে, ফারজানা আক্তার শিফা পালিয়ে যাওয়ার দিনই সিলেটের আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে প্রবাসী মজির উদ্দিনকে ডিভোর্স প্রদান করেন। সিলেট জেলা বারের নোটারি পাবলিক অ্যাডভোকেট আনসার খানের মাধ্যমে দেয়া এফিডেভিটে শিফা উল্লেখ করেন, ‘বিয়ের পর থেকে মজির উদ্দিনের সঙ্গে আমার মনের মিল হয়নি। সব সময় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে। সাংসারিক জীবনে আমি খুব অশান্তিতে ছিলাম। এ অবস্থায় তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে চূড়ান্ত বিয়ে বিচ্ছেদ করার লক্ষ্যে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক এবং তালাকে বাইন প্রদান করে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে আমি তার জওজিয়ত হতে মুক্ত হলাম।’ এফিডেভিটে সাক্ষী করা হয় মোগলাবাজার থানার কোনাচর গ্রামের মৃত ওয়াহিদ উল্লাহর পুত্র সিরাজ আলী ও একই গ্রামের সিরাজউদ্দিনের পুত্র দুলাল মিয়াকে। এফডেভিটের মাধ্যমে তালাক প্রদানের পর নোটারি পাবলিক অ্যাডভোকেট আনসার খানের মাধ্যমে দেওয়া অপর আরেক অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়েতে সম্মত হন খালেদ ও শিফা। এতে খালেদ ও শিফা উল্লেখ করেন, তারা একে অপরের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে পরিচিত। সেই সুবাদে তাদের চেনা জানার কারণে  পারস্পরিক ভালবাসায় রূপ নেয়। এ কারণে উভয়ের মধ্যে এই ভালবাসাকে চিরস্থায়ী ও চিরন্তন ও শাশ্বত করার জন্য আমরা উভয়েই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।’ অ্যাফিডেভিটে তারা মোহরানা হিসেবে দুই লাখ টাকা উল্লেখ করেন। এফিডেভিটে শিফা আরও উল্লেখ করেন, ‘কোন ধরনের প্রভাব, চাপ, প্রলোভন, প্ররোচনা কিংবা ভয়ভীতি ছাড়াই আমরা নিজের স্বাধীন ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত মতামতের ভিত্তিতেই উভয়ের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়।’ ওই এফিডেভিটেও সাক্ষী রাখা হয় সিরাজ আলী ও দুলালকে। ওদিকে, ৯ই জুন অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের পর গত ১৫ই জুন গাজিপুরের ৮নং ওয়ার্ডের কাজি আশরাফুল আলম দুই লাখ কাবিনমূলে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করেন। ওই কাবিনে কনের চাচা হিসেবে নুরুল আমীন ও ছেলের চাচা হিসেবে শাহজাহান মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়।
যেভাবে উদ্ধার হলো শিফা: সিলেটের মোগলাবাজার থানার এসআই স্বপন কান্তি দাশ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর মোবাইল ট্র্যাকিং শুরু করেন। কিন্তু ট্র্যাকিংয়ে জানা যায় শিফার মোবাইল সিলেটে ও খালেদের মোবাইল লালাবাজারে বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে পুলিশ মোগলাবাজারে খালেদের পরিচিতজনদের মোবাইল ট্র্যাকিং শুরু করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই স্বপন কান্তি দাশ জানিয়েছেন, মোবাইল ট্র্যাকিং করতে করতে গাজিপুরের কোনাবাড়ির কাসিমপুর কাগারের লাগোয়া গলিতেই তাদের সন্ধান মিলে। এরপর সিলেট থেকে কোনাবাড়ি পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের দুইজনকে বাচ্চাসহ একটি ভাড়াটে ঘর থেকে আটক করা হয়। ওদিকে, খালেদ ও শিফা উদ্ধারের সময় নানা ঘটনা ঘটে কোনাবাড়িতে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ঘরে তাদের পাওয়ার পরপরই মামলার বাদী আবদুল মান্নান গিয়ে মেয়ে শিফাকে মারধর করেন। এ সময় শিফা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। পুলিশ ও তার পিতাকে জানায়, খালেদকে সে ভালবাসে। তারা বিয়ে করেছে। খালেদ তার স্বামী। এই কথা শোনার পর মেয়েকে মারধর করেন আবদুল মান্নান। একপর্যায়ে তিনি খালেদকেও মারধর করেন। ঝামেলা এড়াতে পুলিশ ওই সময় তাদের দুইজনকে গাড়িতে তুলে আনে। এদিকে, শিফার দুই সন্তান আলী আকবর মাহী ও শাহি আহমদ শাফিকে মোগলাবাজার থানা পুলিশের মাধ্যমে মায়ের কাছে দেয়া হয়েছে। তারা এখন নানার বাড়িতেই আছে।

বিদেশ থেকে ঋণ নিতেই বেশি আগ্রহী উদ্যোক্তারা by সুজয় মহাজন

বেসরকারি খাতে বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। দেশের ব্যাংক খাতের পরিবর্তে অনেক উদ্যোক্তাই এখন বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণে অনেক বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বিদেশ থেকে ১৮৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি ঋণ করেছেন এ দেশের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা। ১২৬টি প্রকল্প প্রস্তাবের বিপরীতে এ ঋণ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড ‘বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন-২০১৫’ প্রকাশকালে বৈদেশিক ঋণ-সংক্রান্ত এ তথ্য দিয়েছে। গত বুধবার বিনিয়োগ বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন। বিনিয়োগ বোর্ডসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দেশীয় ব্যাংকগুলোর ঋণের ‘উচ্চ সুদ’কে দায়ী করেছেন। তাঁরা বলছেন, দেশীয় ব্যাংকগুলো থেকে চড়া সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের ঋণের যে সুদহার তা কোনোভাবেই বিনিয়োগবান্ধব নয়। তাই যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা বিদেশ থেকে কম সুদে ঋণ করছেন। রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের সুযোগ খুবই আকর্ষণীয়।
বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট ৭৫৯ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ নিয়েছেন এ দেশের উদ্যোক্তারা। মোট ৪৩২টি প্রকল্পের বিপরীতে এ ঋণ নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের পর থেকে এ ধরনের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১৪ সালে পুরো বছরে যেখানে ১৮৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ এসেছে, সেখানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ ঋণ ছাড়িয়ে গেছে প্রায় ১৪২ কোটি মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণের একমাত্র কারণ দেশীয় ঋণের উচ্চ সুদ। বাংলাদেশ ব্যাংকও এ ধরনের ঋণ গ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে। এ ধরনের ঋণের এখন পর্যন্ত কোনো খারাপ দিক নেই। তবে বিদেশ থেকে ঋণ এনে তা ব্যবসায়ীরা কোন খাতে ব্যবহার করছেন, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জোরালো নজরদারি থাকা উচিত।
সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এ ধরনের কম সুদের বিদেশি ঋণকে কোনোভাবে নির্মাণ খাতে ব্যয় করতে দেওয়া উচিত নয়। শুধু উৎপাদন খাতে এ ধরনের ঋণের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের ঋণ গ্রহণের সুবিধা সবাইকে ঢালাওভাবে দেওয়া ঠিক হবে না। যদি কোনো ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে কম সুদে ঋণ এনে তা দিয়ে দেশীয় ঋণ শোধ করেন, তাহলে তাতে কোনো লাভ হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে তা বিদেশেই বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় খাটাচ্ছেন। সেই আয় দিয়ে ঋণের সুদ মেটাচ্ছেন। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ এ ধরনের ঋণ নিয়েছে। কেউ কেউ ঋণের টাকায় জাহাজ কিনে তা বিদেশের মাটিতেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯১, ১৪৭ ও ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার। সংস্থা দুটি বলছে, এ ধরনের ঋণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সম্পূরক হিসেবেও কাজ করছে।

চার মন্ত্রী নিয়ে বিতর্কে চাপে বিজেপি, চাঙ্গা কংগ্রেস

যেন পান্তা ভাতে ঘি! হচ্ছিল স্মার্ট সিটি নিয়ে কথা। দুম করে তারই মধ্যে জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে এনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ বিতর্কের মুখ ঘোরাতে চাইলেন ঠিকই। কিন্তু বিরোধীরা ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে’ দিলেন না! বরং জাতীয় রাজনীতির বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু অনড় রইল বিজেপি-র চার মন্ত্রীর কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের প্রসঙ্গেই। বিশেষ করে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে বসুন্ধরা রাজে-র ইস্তফার দাবিতে বৃহস্পতিবার আরও চাপ বাড়ল সরকারের ওপর। একে তো বৃটিশ সরকারের কাছে পেশ করা ললিত মোদির একটি হলফনামা এ দিন ঝুলি থেকে বের করেছে কংগ্রেস। ওই হলফনামাতেও বসুন্ধরার উল্লেখ রয়েছে। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার সখ্য কতটা তা-ও হলফনামায় ব্যাখ্যা করেছেন মোদি। তা ছাড়া একটি নতুন ছবিরও উদয় হয়েছে বৃহস্পতিবার, যাতে দেখা যাচ্ছে ঠিক যে সময়ে ললিত মোদির জন্য হলফনামা পেশ করতে বিলেত গিয়েছিলেন বসুন্ধরা, তখন একই সময়ে লন্ডনে ছিলেন বিজেপি-র আরও দুই নেতানেত্রী- নিতিন গডকড়ী ও স্মৃতি ইরানি। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীর পদ থেকে স্মৃতি ইরানির ইস্তফার দাবিতে রাজধানীতে বৃহস্পতিবার তোলপাড় ফেলে কংগ্রেস ও আপ। মহিলা কংগ্রেসের সমর্থকেরা বিজেপি সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তো আপ-এর মহিলা বাহিনী স্মৃতির বাড়ি ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেন। ক’দিন আগে একই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লিতে আপ সরকারের আইনমন্ত্রী তোমরের গদি গিয়েছে এবং তিনি এখন গারদের মধ্যে রয়েছেন। তাই পাল্টা বিজেপি-রও উইকেট ফেলতে আপ আজ ৭২ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তৃতীয়ত, পঙ্কজা মুণ্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ধুন্ধুমার শুরু হয়েছে মুম্বাইতেও। সর্বোপরি বৃহস্পতিবার আবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পর্রীকরের বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছে কংগ্রেস। অভিযোগ হলো, রাজ্যসভা ভোটের সময় তার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর-এর কথা হলফনামায় গোপন করেছিলেন পর্রীকর। শুধু বাইরের এই ঝড় নয়। উথালপাথাল চলছে বিজেপি-র অন্দরেও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি তথা সরকারের মধ্যে যে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে তা বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই ধরা পড়েছে। নইলে স্মার্ট সিটি প্রকল্প আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করার সম্মেলনে কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক ভাবে জরুরি অবস্থার কথা টেনে এনে তিনি বলতেন না, ‘‘চল্লিশ বছর আগে এমন দিনে স্রেফ ক্ষমতার সুখের জন্য জরুরি অবস্থা প্রয়োগ করে গোটা দেশকে জেলখানা বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খবরের কাগজে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। রেডিও তাই বলত যা সরকার বলতে চাইত।’’ বোঝা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক তর্কের মুখ ঘোরাতে মরিয়া। কিন্তু চল্লিশ বছরের পুরনো একটি ঘটনা দিয়ে কি বর্তমান কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ চাপা দেওয়া যাবে! তা হলে? মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কেলেঙ্কারির এই অভিযোগ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী কি নীরব থাকবেন এবং ইস্তফার দাবি থেকে মুখ ফিরিয়ে বিতর্ক ঘোরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন? নাকি সত্যিই এ বার অন্তত ইস্তফা দিতে বলা হবে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াকে? বিজেপি সূত্রের মতে, এ ব্যাপারে একেবারেই দোটানায় রয়েছেন দল ও সঙ্ঘ নেতৃত্ব! মোদি-অমিত শাহরা বুঝতে পারছেন বসুন্ধরা রাজে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ অকাট্য। কিন্তু একবার বসুন্ধরাকে ইস্তফা দিতে বলা মানেই পরক্ষণে কংগ্রেস ও বিরোধীরা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পদ থেকে সুষমা স্বরাজকে অপসারণের জন্য চাপ বাড়াবে। তারপর স্মৃতি ইরানি, পঙ্কজা মুণ্ডের জন্য চাপ বাড়বে। বিজেপি-র আশঙ্কা, আইনি দিক থেকে বসুন্ধরা বা সুষমা-র বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হোক বা না হোক, কেউ একজন ইস্তফা দিলেই দুর্নীতির চিরন্তন দাগ লেগে যাবে শাসক দলের ওপর। কেননা, বর্তমান ভারতীয় রাজনৈতিক দর্শনে নৈতিক দায় নিয়ে ইস্তফার ব্যাপারটা একেবারে অর্থহীন। ইস্তফা দেওয়া মানেই তিনি দোষী। আর সেই বার্তাই গেলে দুর্নীতির প্রশ্নে মোদির রাজনীতির পুঁজিই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাবে। তবে এটা হলো সমস্যার একটা পিঠ মাত্র। অন্য পিঠ হলো, বসুন্ধরা বা সুষমার বিরুদ্ধে কিছু একটা ব্যবস্থা না নিলে সংসদের বর্ষা অধিবেশন চালানো মুশকিল হয়ে যাবে। তা ছাড়া বিহার নির্বাচনও আসন্ন। তার আগে বিজেপি-র মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে যে ভাবে রোজ কাটাছেঁড়া হচ্ছে তাতেও ভাবমূর্তি মলিন হচ্ছে। বিদেশ সফর সেরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। সূত্রের খবর, দলের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করতে বৃহস্পতিবার রাতে জেটলির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্য দিকে, বসুন্ধরা শিবিরও তাদের প্রতিরক্ষার কৌশল কিছুটা বদলেছে। প্রকাশ্যে না বললেও, বসুন্ধরা শিবিরের তরফে বৃহস্পতিবার বলা হয়, ললিত মোদির সমর্থনে হলফনামায় তিনি সই করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তা নিছক বন্ধু হিসাবে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসাবে নয়। তাই এটা কোনো অপরাধ নয়! সামগ্রিক এই অবস্থায় আচমকা লটারি পেয়ে যাওয়ার মতোই অবস্থা এখন কংগ্রেসের। দলের এক শীর্ষ নেতা বৃহস্পতিবার বলেন, অভিযোগ ওঠা মাত্রই বিজেপি যে মন্ত্রীদের ইস্তফা দিতে বলবে সেই আশা কংগ্রেসও করেনি। বরং ইস্তফা দেওয়া নিয়ে যত বিলম্ব তত দিন বিজেপি-র বিরুদ্ধে কাদা ছেটানোর সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে স্বচ্ছ প্রশাসন কায়েম করা নিয়ে মোদির ফোলানো বেলুনটাও চুপসে দেওয়া যাবে। ঠারেঠোরে এ কথাটাই বুঝিয়ে রাজস্থানের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা তরুণ কংগ্রেস নেতা শচিন পাইলট বৃহস্পতিবার ললিত মোদির হলফনামাটি প্রকাশ করেন। ওই হলফনামায় সাক্ষী হিসাবে তিন জনের উল্লেখ রয়েছে। প্রথম ব্যক্তি হলেন মোদির ভারতীয় কৌঁসুলি মহমুদ আবদি। দ্বিতীয় স্থানে বসুন্ধরা আর তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রবার্ট নিকোলাস নামে এক পেশাদারের নাম। হলফনামার মাধ্যমে বৃটিশ প্রশাসনকে মোদি এ-ও জানিয়েছেন, ‘‘রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের সঙ্গে আমার সখ্য এবং তাকে যেভাবে সাহায্য করেছি তাতেই কংগ্রেস অখুশি।’’ তার কথায়, ‘‘আমাকে বিপাকে ফেলে বসুন্ধরাকে চাপে ফেলতে চাইছে কংগ্রেস।’’ মোদির হলফনামাটি প্রকাশের পর শচিন জানান, বসুন্ধরা ইস্তফা না দিলে শুক্রবার থেকে রাজস্থানে লাগাতার আন্দোলন চলবে। তার কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে-পরে মোদিজি বার বার প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও পারদর্শিতার কথা বলতেন। তা কায়েম করার সাহস এখন কেন দেখাতে পারছেন না তিনি? বসুন্ধরা যা করেছেন, তা কোনো সাধারণ মানুষ করলে এত ক্ষণে পুলিশ কোমরে দঁড়ি বেঁধে নিয়ে যেত। তা হলে কি সাধারণ মানুষের জন্য এক আইন আর বিজেপি-র মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য পৃথক আইন? এখনও চার বছর সরকার চালাতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি কি সেটা ভুলে যাচ্ছেন!’’-ওয়েবসাইট

গতিরোধকের নিজেরই দুর্গতি by কমল জোহা খান

রক্ষণাবেক্ষণের একদিন পর কাঁটা হারিয়ে বসে
গতিরোধক যন্ত্রটি। ছবি: কমল জোহা খান
উল্টো পথে গাড়িতে চলাচল বন্ধ করতে কাঁটাযুক্ত গতিরোধক যন্ত্র বসিয়ে ছিল ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু গাড়ির চাকা ফুটো করা দূরের কথা, কাঁটাই হারিয়ে ফেলেছে যন্ত্রটি। অথচ যন্ত্রটি কিনতে ট্রাফিক বিভাগের খরচ হয়েছিল ছয় লাখ টাকা।
ভিআইপি সড়কে উল্টো পথে যান চলাচল বন্ধে ২০১৪ সালের ২৩ মে রাজধানীর হেয়ার রোডে গতিরোধক যন্ত্রটি প্রথম বসানো হয়। সেদিন এর উদ্বোধন করেন পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার। ২৮ ফুট দীর্ঘ যন্ত্রটি বসানোর সময় ট্রাফিক জানায়, সোজা পথে চলার প্রতিরোধক যন্ত্রটি যেমন যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে, তেমনি উল্টো পথে গেলেই প্রতিরোধক যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত কাঁটাগুলো বিঁধে যাবে গাড়ির চাকায়। এমনটি ঘটলে চাকা ফুটো হওয়া গাড়ি নিয়ে রাজপথেই বসে থাকতে হতে পারে চালককে।
ট্রাফিক বিভাগের দাবি ছিল, বৃষ্টির পানিতে বা ধুলোয় কাঁটাগুলোতে মরচে পড়বে না। কাঁটাগুলো অকেজো হবে না। ৪৫ মিলিমিটার পর পর প্রতিরোধক যন্ত্রে বসানো কাঁটাগুলো সব সময় রাস্তায় তিন ইঞ্চি উঁচু হয়ে থাকবে। যন্ত্রের কাঁটাগুলো আলাদা আলাদা স্প্রিংয়ের ওপর দাঁড়ানো। কেউ চেষ্টা করে এক থেকে দুটি কাঁটা নামাতে পারবে, কিন্তু অন্যগুলো ঠিকই সোজা হয়ে থাকবে। ব্যাক গিয়ারে চালানোর চেষ্টা করা হলেও প্রতিরোধক যন্ত্রটি গাড়ি চাকা ঠিকই ফুটো করে দেবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিরোধ যন্ত্রটি নির্মাণ করেছে ধোলাইখালের সোহেল মেটাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ও খরচ দুটিই বহন কবরে প্রতিষ্ঠানটি।
কিন্তু উদ্বোধনের দুদিন যেতে না যেতে যন্ত্রটি নিজেই বসে যায়। এর স্প্রিং যায় ভেঙে।
জানা গেছে, এক মন্ত্রীর গাড়ির চাকা ফুটো হয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস পরে গতিরোধকটি বসানো হয় ডিএমপি সদর দপ্তরের উল্টোদিকে। এবার অবশ্য যন্ত্রটি আরও শক্ত ও মজবুত করা হয়েছে বলে দাবি করেন যন্ত্রটির নির্মাতা সোহেল মেটাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কর্ণধার সাদিক হোসেন।
রক্ষণাবেক্ষণের একদিন পর কাঁটা হারিয়ে বসে
গতিরোধক যন্ত্রটি। ছবি: কমল জোহা খান
সাদিক হোসেন সেসময় প্রথম আলোকে বলেন, ‘১০০ টন ওজন সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে। এবার আর মরচে পড়বে না।’
তবে ‘শক্ত-মজবুত’ যন্ত্রটি এবার গাড়ির গতিরোধ করতে পারেননি। কাঁটা ভেঙে, স্প্রিং বসে গিয়ে নিজেই যেন আত্ম-সমর্পণ করে বসে। এখন কেবল কয়েকটি কাঁটা চোখে পড়ে। রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। সব শেষ ২৩ জুন রাতে এটি ঠিকঠাক করা হয়েছিল। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, পরের দিনই এর বেশ কয়েকটি কাঁটা বসে পড়ে। যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় গতিরোধক যন্ত্রটির ডান অংশটি বেশি ক্ষতি হয়েছে।
যন্ত্রটি কার্যকর হচ্ছে না—এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সাদিক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে এই সড়ক দিয়ে সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাক চলাচল করে। যন্ত্রটির সামনে এসব গাড়ি গতি কমালেই ময়লা পড়ে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানির সঙ্গে কাদা এসে জমে যন্ত্রটির ভেতর। তাই কাঁটাগুলো বসে যায়।’
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মুসলেহউদ্দিন আহমেদ জানান, যন্ত্রটি কার্যকর আছে। পরীক্ষামূলকভাবে এটি বসানো হয়েছিল। তবে রাজধানীর অন্য কোনো সড়কে এ ধরনের গতিরোধক যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা নেই।