Friday, April 8, 2011

২২ গজি সম্পর্কের সেতু by এ কে এম জাকারিয়া

পারভেজ মোশাররফ তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, ২০০৫ সালের ঘটনা। দিল্লিতে পাকিস্তান-ভারত ক্রিকেট ম্যাচ। সেখানে গিয়ে খেলাটি দেখার শখ মোশাররফের। ভারতের উদ্দেশে খোলাখুলিভাবেই বললেন, আমন্ত্রণ পেলে খেলা দেখতে যেতে চান তিনি। কী করবে ভারত? দুই দেশের সম্পর্ক তখন খুবই খারাপ। সেখানকার গণমাধ্যমে তখন এ নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। প্রায় মাসখানেক আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর মোশাররফকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। এই ‘ক্রিকেট কূটনীতি’ খেলা দেখতে মোশাররফের দিল্লি যাওয়াকে ভারত-পাকিস্তান শীর্ষ বৈঠকের রূপ দিয়েছিল। মনমোহন সিং তখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীর সীমান্তে তখন যুদ্ধ-পরিস্থিতি। শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা তখন সেই সীমান্ত খুলে দিতে রাজি হয়েছিলেন।
এবারের উপলক্ষও ক্রিকেট, তবে এবারের এই কূটনীতিকে ক্রিকেট কূটনীতি না বলে ‘মনমোহনীয় কূটনীতি’ হিসেবেই দেখতে চাইছেন অনেকে। কূটনীতি নিয়ে যাদের কাজকারবার সেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকাই ছিল না এতে। এমনকি তারা জানতও না বিষয়টি। এবারের বিশ্বকাপে যখন ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনালের বিষয়টি নিশ্চিত হলো, আর খেলাটিও ভারতে, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিজের উদ্যোগেই খেলা দেখতে আমন্ত্রণ জানালেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এই ‘সুযোগ’ গ্রহণ করতে ভুল করেননি। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা জড়িত—এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর দুই দেশের যোগাযোগের দরজাটিতে সিটকানি তুলে দেয় ভারত। দীর্ঘদিন পর সেই দরজার অন্তত সিটকানি খুলতে দেশ দুটি একমত হয়েছিল এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ক্রিকেট অথবা ‘মনমোহনীয় কূটনীতি’—যা-ই বলি না কেন, ভারত-পাকিস্তানের খেলা দরজাটি পুরো খোলার একটি সুযোগ এনে দিল। ‘এটা অত্যন্ত সময়োপযোগী একটা সুযোগ। এখানে দুই দেশের সরকার সারা দুনিয়াকে দেখাতে পারবে যে তারা একসঙ্গে যেমন খেলা দেখতে পারে, তেমনি একই সঙ্গে বসে এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারে, যার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ জড়িত।’ ভারত সফরের আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার সময় এমন বক্তব্য দিয়ে মনমোহন সিংকে ধন্যবাদ জানান গিলানি। বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থেই এই সুযোগ নিতে চাইছি।’
গিলানি সে সুযোগ নিয়েছেন। মনমোহনের সঙ্গে তিনি মাঠে নেমেছেন। দুই প্রধানমন্ত্রী হাত মিলিয়েছেন দুই দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে। এরপর মহেন্দ্র সিং ধোনি ও শহীদ আফ্রিদি যখন ক্রিকেট লড়াই শুরু করে দিয়েছেন মোহালির মাঠে তখন পাশাপাশি বসে মনমোহন ও গিলানি। ভারত-পাকিস্তান বিরোধের নানা দিক সরিয়ে রেখে তাঁরা হাত মিলিয়েছেন, দুই দেশের জাতীয় সংগীতের পর তালি বেজেছে দুজনের হাতেই। টিভির পর্দায় ভারতের ‘সবচেয়ে ক্ষমতাধর’ সোনিয়াকে দেখা গেছে সাধারণ গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে, কিন্তু এর আগেই তিনি কথাবার্তা ও দেখা-সাক্ষাৎ সেরে এসেছেন গিলানির সঙ্গে। ছিলেন রাহুলও। রাতে নৈশভোজ। পুত্র রাহুলকে নিয়ে সেখানেও উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া। মনমোহন ও সোনিয়া দুজনকেই পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালেন গিলানি। নৈশভোজের ভাষণে আশার কথাই শোনালেন মনমোহন। ‘অতীতের বিদ্বেষ ভুলে আমাদের বর্তমান সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে। আমাদের ধৈর্য আছে, ইচ্ছাশক্তিও আছে। এখন আমাদের উচিত পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। একটা স্থায়ী সমাধানের সূত্র বের করা, যাতে আমরা সম্মানের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারি।’ ভারত থেকে দেশে ফেরার পথে গিলানিও ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো’ নিয়ে ‘ইতিবাচক’ আলোচনার কথা জানিয়ে গেছেন।
‘ক্রিকেট কূটনীতি’র আপাতত অগ্রগতি এটুকুই। ‘কূটনীতি হচ্ছে দুটি গোষ্ঠী বা দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সমঝোতার একটি আর্ট ও চর্চা’—কূটনীতির একটি সাধারণ সংজ্ঞা অনেকটা এ রকম। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবস্থাটা এমনই যে ‘সাধারণ কূটনীতি’ এখানে সব সময় কাজ করে না। সাধারণ কূটনীতি শুরুর আগে তাই মাঝেমধ্যে ক্রিকেট কূটনীতির ওপর সওয়ার হতে হয়। ২০০৫ সালে মোশাররফ-মনমোহন ক্রিকেট কূটনীতির আগেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে আরও এক দফা ক্রিকেট কূটনীতি হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। সেই কূটনীতির দুই নেতা ছিলেন জিয়াউল হক ও রাজীব গান্ধী। তখনো সীমান্তে দুই দেশের সেনারা ছিল অনেকটা মুখোমুখি অবস্থায়। ক্রিকেট কূটনীতি তখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রেখেছিল।
এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে আবার স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে একমত হয় দেশ দুটি। সেই অনুযায়ী মোহালির এই খেলার আগেই সফলভাবে শেষ হয়েছে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠক শুরুর আগেই সবাই জেনে গিয়েছিল যে ভারতে আসছেন গিলানি। বৈঠকের যা ফলাফল তাতে এটা মানতেই হবে যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে আসার সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলেছিল আলোচনায়। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার ঘটনা তদন্তে পাকিস্তানে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন পাঠানোর যে প্রস্তাব ভারত অনেক দিন ধরেই দিয়ে আসছিল, তাতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। এ ছাড়া হামলার সঙ্গে জড়িত পাকিস্তানে ঘাঁটি গাড়া জঙ্গিদের কণ্ঠস্বরের নমুনা ভারতকে দেওয়ার ব্যাপারে আদালতের কাছে যাওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে পাকিস্তান। আলোচনার পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জঙ্গি হামলা নিয়ে দ্রুত তথ্যবিনিময় করতে ‘হটলাইন’ চালুর প্রসঙ্গটিও স্থান পেয়েছে। ভারতের জন্য এগুলো পাকিস্তানের কাছ থেকে বড় পাওয়া। বিনিময়ে ভারতও সমঝোতা এক্সপ্রেসে (ভারতে দিল্লি ও পাকিস্তানের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেন) ২০০৭ সালে ঘটা বিস্ফোরণের ব্যাপারে পাকিস্তানকে তথ্য দিতে রাজি হয়েছে। শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ভারতের জেলে বন্দী ২৯ পাকিস্তানি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে গিলানি ভারত পৌঁছানোর আগেই। দুই দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের এই বৈঠকের পর ভারতে কূটনৈতিক সূত্রে বলা হয়েছে, এমন ইতিবাচক আলোচনা ও যৌথ বিবৃতি সাম্প্রতিক সময়ে হয়নি। সচিব পর্যায়ের এই বৈঠক আগেই ঠিক করা ছিল, কিন্তু এ ধরনের একটি বৈঠকের পরপরই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের কোনো যোগাযোগের বা দেখা-সাক্ষাতের সম্ভাবনার কথা এর সপ্তাহখানেক আগেও কেউ ভাবেনি। ক্রিকেট সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির কাছে ক্রিকেট পিচের ২২ গজ তো এখন বিবেচিত ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সেতু’ হিসেবে।
ক্রিকেট কূটনীতি নিয়ে যাঁরা আশাবাদী তাঁরা বলছেন, এটা দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ তৈরি করল। এই প্রক্রিয়া অবশ্য আগেই শুরু হয়েছিল। আগের সময়সূচি অনুযায়ী এ মাসেই বাণিজ্যসচিব পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা। এরপর পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে। এসব শেষ হলে পাকিস্তান যাবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মনমোহন-গিলানি আলোচনায় ঠিক হয়েছে আরও কিছু বিষয়। ভারত ও পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল করবে সফরবিনিময়। দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও গতি আনতে রাজি হয়েছেন দুজন। মনমোহন ও সোনিয়ার সঙ্গে গিলানির সাক্ষাৎ, নৈশভোজে সোনিয়া ও রাহুলের উপস্থিতি, মনমোহন ও সোনিয়াকে পাকিস্তান সফরে আমন্ত্রণ—এগুলো সামনের ভারত-পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বাড়তি প্রভাব ফেলবে, এমন আশা করা কি খুব বেশি হবে? তবে ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট কূটনীতি আর নতুন কোনো বিষয় নয়, সে অভিজ্ঞতা বলছে, এই কূটনীতির মেয়াদ খুবই কম। ‘ক্রিকেট কূটনীতি মানে এমন নয় যে একসঙ্গে বসে খেলা দেখলেন আর সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন। তবে সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।’ ক্রিকেট কূটনীতি নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের বোধোদয় এমনই। কোনো কূটনীতি যদি সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি করে দেয় সেটাই বা কম কিসে!
খেলাকে উপলক্ষ মেনে কূটনীতি নতুন কিছু নয়। টেবিল টেনিস খেলার ‘পিং-পং কূটনীতি’ সত্তর দশকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এই কূটনীতি তখন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের চীন সফরের পথ তৈরি করে দিয়েছিল। তবে ‘ক্রিকেট কূটনীতি’ এখন একান্তই এই উপমহাদেশের একটি বিষয়। ক্রিকেট বিষয়টিই যেন এখন অনেকটা উপমহাদেশীয় হয়ে উঠেছে। ‘ক্রিকেট একটি ভারতীয় খেলা, যা ঘটনাচক্রে আবিষ্কৃত হয়েছে ইংল্যান্ডে। এটা অনেকটা মরিচের মতো, যা আবিষ্কৃত হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকায়, সেখান থেকে ভারতে এসেছিল মধ্যযুগে। এখন ভারতীয় খাবারের অন্যতম অনুষঙ্গ এই মরিচ। ভারতে ক্রিকেটকে বিদেশি খেলা হিসেবে দেখতে পান শুধু ইতিহাসবিদ আর ভারতবিদ্যার বিশেষজ্ঞরা। অধিকাংশ ভারতীয়র কাছে ক্রিকেট এখন ইংলিশদের চেয়ে বেশি ভারতীয়’ (দ্য তাও অব ক্রিকেট: অন গেমস অব ডেস্টিনি অ্যান্ড দ্য ডেস্টিনি অব গেমস, আশিষ নন্দী)। ভারতের রাজনৈতিক মনোবিশ্লেষক ও সমাজতাত্ত্বিক আশিষ নন্দীর কাছে ক্রিকেট এখন পুরোপুরি ‘ভারতীয়’ খেলা। আমরা আরও একটু উদার হয়ে ক্রিকেটকে ‘উপমহাদেশীয়’ খেলা বলে দাবি করতে পারি। ‘ক্রিকেট কূটনীতি’ এখন শুধু এই উপমহাদেশে কার্যকর থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। রাজীব গান্ধী-জিয়াউল হক, বা মনমোহন- মোশাররফ ক্রিকেট কূটনীতির পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দশা দেখে যাঁরা এই কূটনীতির ওপর খুব ভরসা রাখতে পারছেন না তাঁদের একটি বিষয় ধরিয়ে দিতে চাই। জিয়াউল হক ও মোশাররফ দুজনই ছিলেন সামরিক শাসক, স্বৈরশাসকও। এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। গিলানি ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট কূটনীতিতে জড়ালেন একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। এ যাত্রায় কিছু ভিন্ন ফল তো আমরা আশা করতেই পারি।
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

যুক্তরাষ্ট্র কখন সশস্ত্র সংগ্রাম পছন্দ করে

লিবীয় বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবেই। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তা ‘সশস্ত্র সংগ্রামে’ পরিণত হলো। বিন্দুমাত্র দেরি না করেই যুক্তরাষ্ট্রও বিদ্রোহীদের পূর্ণোদ্যমে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করল এবং বিদ্রোহটা পরিণত হলো পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধে। অথচ এই একই আমেরিকা ৩৪ বছরের ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ সশস্ত্র আত্মরক্ষাকে সরকারিভাবে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে কলঙ্ক-দাগ দিয়ে রেখেছে।
যে ওবামা লিবীয় বিদ্রোহীদের অস্ত্র সাহায্য দিচ্ছেন, সেই ওবামাই কিন্তু মাস খানেক আগে মিসরীয় বিদ্রোহীদের শান্তিবাদী স্লোগান ‘সিমিলিয়া সিমিলিয়া’র প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ মিসরে তিনি সশস্ত্র বিদ্রোহের বিপক্ষে, কিন্তু লিবিয়ায় তাঁরা অস্ত্রের ব্যবহারই দেখতে চান। ওবামা বলেছিলেন, ‘মিসরীয়রা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং তারা সেটা করেছে সহিংসতার মাধ্যমেই সুবিচার পাওয়া সম্ভব এমন ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে...। অহিংস আন্দোলনের নৈতিক শক্তিই ইতিহাসের মোড় সুবিচারের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।’
২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে ওবামাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলে তিনি একে তাঁর অর্জনের তুলনায় বেশি পাওয়া এবং ‘কর্মের ডাক’ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। এরই দুই বছরের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আফগান যুদ্ধকে আরও তীব্রতর করেন, যুদ্ধটাকে পাকিস্তানেও প্রসারিত করেন। কার্যত ইরাকেও তিনি জর্জ বুশের যুদ্ধ কর্মসূচি অনুসরণ করে যান। আর এখন লিবিয়ায় তৃতীয় একটি রণাঙ্গনের জন্ম দিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁর প্রশাসন যেকোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা বাতিল করে দেয়, সংঘাতটাকে আন্তর্জাতিক করে তোলে এবং মীমাংসার সব প্রচেষ্টা, বিশেষত আফ্রিকান ইউনিয়নের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জনবসতিপূর্ণ দেশ চীন কিংবা সবচেয়ে বড় মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ার শান্তি প্রস্তাবেও তিনি কান দেননি।
ওবামা বলেছেন, লিবিয়ায় এক ‘বিরল পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে। সেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের সমর্থন জোগানো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির স্বাভাবিক প্রকাশ নয়, এটাও এক ব্যতিক্রম। এই ‘অস্বাভাবিক ও বিরল’ অবস্থার দোহাই দিয়েই তিনি ‘অস্বাভাবিক ও বিরল’ দ্রুততার সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে, মার্কিন জনমতের সামনে তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা না দিয়ে একতরফাভাবে নতুন একটি যুদ্ধ শুরু করে দিলেন। অথচ অনেক দূরের এই সংঘাতকে কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি বলে দেখানো সম্ভব নয়।
২০০৬ সালে প্রকাশিত তাঁর আশার ঔদ্ধত্য বইয়ে ওবামা লিখেছেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও যেনতেনভাবে একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফল অনিশ্চিত। কেন উত্তর কোরিয়া বা মিয়ানমারে হামলা না করে ইরাকে হামলা করা হলো? কেন বসনিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হলো অথচ দারফুরে কিছুই করা হলো না?’ এখন মনে হচ্ছে, লিবিয়া বিষয়ে তড়িঘড়ি করে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে তাঁর কোনো অসুবিধা নেই।
আরব এবং বিশেষত ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর আগের আহ্বানগুলো মনে রাখলে কোনো আরব বা ফিলিস্তিনি আর আশা করে না যে তিনি প্রশ্ন তুলবেন: কেন লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আমেরিকা আগ বাড়িয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করল, যেখানে সাধারণ মানুষ আত্মরক্ষার স্বার্থে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। তাহলে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দখলদারির মধ্যে বন্দী ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের আগ্রাসন ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার লড়াই চালালে কারও কোনো সাহায্য পাবে না?
ওবামার যুক্তি মানলে লিবিয়ার ‘বিরল’ পরিস্থিতি ইসরায়েলের মতো নয়। ইসরায়েলের ফ্যাসিস্ট আচরণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ফিলিস্তিনিদের অপরাধটা কী? পশ্চিমা জোট এখন বিদ্রোহীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। কার্যত যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা দল ইতিমধ্যে লিবিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে বিদ্রোহীদের কাকে অস্ত্র দেওয়া হবে আর কাকে দেওয়া হবে না, তা ঠিক করে দিচ্ছে। অথচ ঠিক সেই একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিশ্বের চোখের সামনে গাজা উপত্যকায় আরেকটি সর্বাত্মক যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের শেকড় উপড়ে ফেলার। ইসরায়েলের একটানা আগ্রাসন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরাও কি মানবিক হস্তক্ষেপ আশা করতে পারে না?
কিছু আরব রাষ্ট্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ সালের একটি সিদ্ধান্তের নামে তারা এমন একটি আগ্রাসী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে লিবিয়ার ওপর, যেখানে বিশ্বের প্রধান প্রধান শক্তি যথা: রাশিয়া, চীন, জার্মানি, ভারত ও ব্রাজিল রাজি ছিলনা। এই যুদ্ধ তাই বৈধ নয়। এখন ন্যাটোর হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার যে কথা ওবামা বলছেন, তার জবাব জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বল্টনের কথাতেই আছে, ‘ওবামাই সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি যিনি জানেন না যে আমরাই, যুক্তরাষ্ট্রই ন্যাটো চালায়।’
প্যালেস্টাইন ক্রনিকল থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ ফারুক ওয়াসিফ।
>>>নিকোলা নাসের: ফিলিস্তিনি সাংবাদিক।

গুজরাট উপকূলে ১৪ পাকিস্তানি গ্রেপ্তার

বেআইনিভাবে ভারতের জলসীমায় প্রবেশ করার অভিযোগে ১৪ জন পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুজরাটের পশ্চিম উপকূলের কুচ জেলার ঝাখাউয়ের কাছে তাদের আটক করা হয়। ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ডের (আইসিজি) কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানান।
কর্মকর্তারা জানান, আইসিজি টহল দল গত সোমবার সন্ধ্যায় ১৪ জন যাত্রীসহ আল-আনোয়ারি নামক একটি পাকিস্তানি নৌকাকে আটক করে। এরপর ওই ১৪ জন পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করে ওখা উপকূলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
গত মাসেও দুটি পৃথক ঘটনায় কোস্টগার্ড ১৪ জন পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করেছিল। মাছ ধরা নৌকা নিয়ে বেআইনিভাবে ভারতীয় সীমায় প্রবেশের অভিযোগে ঝাখাউ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

ইয়েমেনে দুই সেনার লাশ উদ্ধার

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে উপজাতীয়দের হাতে অপহূত দুই সেনার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আবিয়ান প্রদেশে আল-কায়েদার একটি শক্ত ঘাঁটি থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, আল-কায়েদার জঙ্গিরা যেভাবে মানুষকে হত্যা করে সেভাবে সেনা দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী গত মাসে সংগঠনটির ছয় সন্দেহভাজন সদস্যকে হত্যা করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার দুই সেনাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়।

জাপানে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে টেপকো

জাপানের ফুকুশিমায় ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিপর্যস্ত দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) গতকাল মঙ্গলবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে আর্থিক সহায়তা দিতে শুরু করেছে। ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার পর বিস্ফোরণের ঘটনায় কেন্দ্রটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া একটি চুল্লির ফাটল থেকে তেজস্ক্রিয় পানি কাছে সাগরে গিয়ে মিশছে। এতে লোকজনকে ওই এলাকা থেকে দূরে গিয়ে নিরাপদ স্থানে থাকতে হচ্ছে। টেপকো ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশও করেছে।
গতকাল থেকে টেপকো স্থানীয় সরকারের কাছে এই অর্থ দিতে শুরু করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করবে। টেপকোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তাকাশি ফুজিমোতোহে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে সহায়তা হিসাবে আমাদের কত অর্থ দিতে হবে, সরকারি সহায়তা হিসাবে আমরাই বা কত পাব—এ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তিনি জানান, তেজস্ক্রিয়তার ভয়ে পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশের এলাকা থেকে যেসব লোকজন সরানো হয়েছে, তাদের সহায়তায় টেপকো দুই লাখ ৩৮ হাজার মার্কিন ডলার (দুই কোটি ইয়েন) দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় চুল্লির নিচে থাকা কংক্রিটের ধারকের ফাটল বন্ধ করতে প্রকৌশলীরা গতকাল তরল কাচ ব্যবহার করেন। এ ব্যাপারে জাপানের নিউক্লিয়ার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি এজেন্সির উপমহাপরিচালক হিদেহিকো নিশিয়ামা বলেন, আমরা কাঠের গুঁড়া, পত্রিকা ও কংক্রিট মিলিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে ওই ফাটল বন্ধ করা চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু মিশ্রণ ওই ফাটল দিয়ে ঢুকছে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা এখনো জানতে পারিনি কীভাবে দ্বিতীয় চুল্লি থেকে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পানি নির্গত হচ্ছে।

আর্কটিকে ওজোন স্তর রেকর্ড পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

চলতি বছরের শীতকালে আর্কটিকে ওজোন স্তর রেকর্ড পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে অত্যধিক ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গতকাল মঙ্গলবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ডব্লিউএমওর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলতি বছর শীতকাল শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসের শেষ নাগাদ আর্কটিকের ৪০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ৩০ শতাংশ। ওজন স্তর পৃথিবীতে জীবসত্ত্বা টিকে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি জীবনের জন্য ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি বাইরে থেকে পৃথিবীতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। আর্কটিক অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো বিভিন্ন উপাদান এখনো বিরাজ করছে। একই সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়া রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে আগামী সপ্তাহগুলোতে আর্কটিক অঞ্চলে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হবে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব মাইকেল জারাউড বলেন, ‘ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর। এ বছর যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা একধরনের সতর্কসংকেত। সামনের বছরগুলোতে আমরা আর্কটিক অঞ্চলের ওজোন স্তরের ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখব।’

মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্র থেকে ১০০ অবৈধ অভিবাসীর পলায়ন

মালয়েশিয়ার একটি আটককেন্দ্র থেকে ১০০ জনেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য গতকাল মঙ্গলবার থেকে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা পুলিশ প্রধান সাইফুল আজলি বলেন, লেংগেং অভিবাসী আটককেন্দ্র থেকে এসব অবৈধ অভিবাসী পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ, অভিবাসন কর্মকর্তা ও আধাসামরিক স্বেচ্ছাসেবীদের ২০০ জনের একটি দল নেগরি সেমবিলান প্রদেশের মধ্যাঞ্চলে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে বেশির ভাগই মিয়ানমারের নাগরিক। এ ছাড়া তাঁদের মধ্যে ইরান ও নাইজেরিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।
সাইফুল আজলি আরও জানান, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জনকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আটককেন্দ্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে বড় ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।
সেরেমবান শহরের বাইরে অবস্থিত এই আটককেন্দ্রটি আয়তনে ছয়টি ফুটবল মাঠের সমান। সেখানে চারটি ভবন রয়েছে।

ইয়েমেনে আবার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি, নিহত ২

ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী আবারও গুলি ছুড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। এর আগে গত সোমবার তায়েজে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়।
কর্মকর্তারা জানান, ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর পদত্যাগের দাবিতে তায়েজে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে গভর্নরের প্রধান কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছুড়লে দুজন নিহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের হটাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি ছোড়েন। এ সময় সাদা পোশাক পরা অস্ত্রধারীরাও গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার জবাবে বিক্ষোভকারীরাও তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আলোচনার আহ্বানে ইয়েমেন সাড়া দিয়েছে। সংকট নিরসনে ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি) ইয়েমেন সরকার ও বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিদের রিয়াদে আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান জানায়। তবে আলোচনার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ইয়েমেনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুবকর আল কিরবি বলেন, ‘আমরা জিসিসির আমন্ত্রণকে স্বাগত জানিয়েছি।’

হাইতির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী মিশেল মারটেলি

হাইতির দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ‘সুইট মিকি’ নামে পরিচিত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিশেল মারটেলি। দেশটির প্রাদেশিক নির্বাচন পরিষদ (পিইসি) গত সোমবার এ কথা জানিয়েছে।
পিইসি জানিয়েছে, প্রাথমিক ফলে মারটেলি প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ফার্স্ট লেডি ও সাবেক সিনেটর মারলান্দে ম্যানিগাত পেয়েছেন ৩২ শতাংশ ভোট। মারটেলি তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে বলেছেন, ‘আমরা হাইতিবাসীর জন্য কাজ করে যাব। আর এ কাজ আমরা একসঙ্গে করতে পারি।’
পিইসি ১৬ এপ্রিল চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আশা করছে। গত ২০ মার্চ নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফা ভোট গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ওই নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট রেনে প্রিভালের মেয়াদ শেষ হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি।

নাৎসিরা বিষপ্রয়োগে মিত্রবাহিনীর সেনাদের মারতে চেয়েছিল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুপক্ষের সেনাদের বিষাক্ত কফি, চকলেট ও সিগারেট দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল নাৎসি বাহিনী। মুক্ত ইউরোপে সন্ত্রাসবাদী অভিযানের অংশ হিসেবে ওই পরিকল্পনা করা হয়। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫-এর প্রকাশিত নতুন নথিপত্র থেকে এ কথা জানা যায়।
নথি বলছে, হাতব্যাগের আয়নায় লুকানো বিপজ্জনক জীবাণু ব্যবহার করে মিত্রবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের হত্যার জন্য নারী গোয়েন্দা পাঠানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, জার্মানের আটক গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিলেন, সিকিউরিটি সার্ভিস আরএসএইচএর একটি ইউনিট গুপ্তহত্যা ও বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ ইঙ্গ-মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রপক্ষের দেশগুলোতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল।
যেসব জার্মান গোয়েন্দার কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন। ১৯৪৫ সালের মার্চে প্যারাস্যুট দিয়ে ফ্রান্সের একটি স্থানে অবতরণ করেন তাঁরা।
জার্মান গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিলেন, তাঁদের সহকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের বিষ বহন করছেন। তাঁদের কাছে বিষ মাখানো অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ছিল। কেউ বিষাক্ত ওই ট্যাবলেট খেলে মিনিট দশেকের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটবে।
নাৎসিদের পরিকল্পনা ছিল এ রকম, বিশেষভাবে তৈরি সিগারেট খাওয়ার পর শুরু হবে মাথাব্যথা। এরপর তাকে অ্যাসপিরিন ওষুধ খেতে রাজি করানো হবে। প্রকাশিত নথিপত্রে বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দাও ধূমপান করবেন। কিন্তু তিনি খাবেন কৌটা থেকে একটি বিষমুক্ত অ্যাসপিরিন।
এ ছাড়া দরজার হাতল, বই ও টেবিলে বিষ মাখানো পাউডার মেখে দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল জার্মানরা।

খালিদ শেখের বিচার হবে গুয়ানতানামোয়

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে গ্রেপ্তার খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার কিউবার গুয়ানতানামোর সামরিক আদালতে হবে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এ কথা ঘোষণা করে। খালিদের সঙ্গে একই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার আরও চারজনের বিচারও একই আদালতে হবে।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিতর্কিত কারাগার গুয়ানতানামো বে বন্ধ ও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিচার বেসামরিক আদালতে করার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত এর পরিপন্থী। খালিদ শেখকে ২০০৩ সালে পাকিস্তানে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে গুয়ানতানামো কারাগারে রাখা হয়েছে।
৯/১১ হামলার সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিচারে সরকারের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানের ব্যাপারে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে সফলভাবে এ বিচার করা যেত। কিন্তু কংগ্রেসের কারণে তা করা যাচ্ছে না। গুয়ানতানামো বন্দীদের বিচার যুক্তরাষ্ট্রে করার ওপর কংগ্রেস বাধা সৃষ্টি করেছে। এর আগে ২০০৯ সালে হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা করা হয়, এসব সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর বিচার বেসামরিক আদালতে হবে। আর এই যুগান্তকারী বিচার শুরু হবে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে। হামলার ঘটনাস্থল থেকে আদালতটি একেবারে কাছে। কিন্তু কংগ্রেসে রিপাবলিকান সদস্যদের বিরোধিতার মুখে ওবামা এই অঙ্গীকার পূরণের সুযোগ পেলেন না। কিন্তু নিউ ইয়র্কবাসীর পক্ষ থেকে জোরালোভাবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয়। নগরের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গও প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে তদন্ত কমিশনের তদন্ত অনুযায়ী আল-কায়েদার ৯/১১ হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী খালিদ শেখ।

‘সেবিকার সঙ্গে গাদ্দাফির অবৈধ সম্পর্ক ছিল না’

ইউক্রেনের একজন সেবিকা লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির রক্ষিতা ছিলেন বলে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন গাদ্দাফির অপর একজন সেবিকা। এই সেবিকা গতকাল মঙ্গলবার বলেন, গাদ্দাফিকে তাঁরা ‘পাপা’ বলে ডাকতেন এবং লিবিয়ার এই নেতা তাঁর কর্মীদের প্রতিবছর সোনার ঘড়ি উপহার দিতেন।
রাশিয়ার বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র কমসোমোলস্কায়া প্রাভদাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাদ্দাফির সেবিকা ওকসানা বালিনস্কায়া এসব কথা বলেন। যে সেবিকাকে গাদ্দাফির রক্ষিতা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, তাঁর নাম গালিনা কোলোতনাইতস্কা।
ওকসানা বালিনস্কায়া বলেন, অন্য সেবিকারা যে কাজ করতেন, কোলোতনাইতস্কা ঠিক একই কাজ করতেন। তিনি দাবি করেন, গাদ্দাফির সঙ্গে কোলোতনাইতস্কার কথিত সম্পর্কের বিষয়ে যে খবর বেরিয়েছে, তা সত্য নয়।
বালিনস্কায়া বলেন, ‘তারা গালিনা কোলোতনাইতস্কা সম্পর্কে যা লিখেছে, তা বানানো গল্প।’ তিনি বলেন, প্রতিবছর নিজের ক্ষমতা গ্রহণের বার্ষিকীতে গাদ্দাফি তাঁর কর্মীদের সোনার ঘড়ি উপহার দিতেন।
বালিনস্কায়া বলেন, গাদ্দাফি একজন সহূদয় ব্যক্তি। বিদেশ সফরের সময় তাঁর নির্দেশে সেবিকাদের ভাতা দেওয়া হতো, যাতে সেবিকারা কেনাকাটা করতে পারেন। তিনি বলেন, তাঁরা গাদ্দাফিকে ‘পাপা’ বা ‘বাবা’ বলে ডাকতেন।
বালিনস্কায়া বলেন, তিনি লিবিয়ায় সেবিকা হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে তিনি জানতেন না যে গাদ্দাফির সেবিকা হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছেন। গাদ্দাফি যখন ব্যক্তিগতভাবে নতুন নিয়োগ পাওয়া সেবিকাদের অভ্যর্থনা জানাতে আসেন, তখনই তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।
লিবিয়ায় গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি মাসে লিবিয়া ত্যাগ করেন কোলোতনাইতস্কা।

শেয়ারবাজার থেকে বিশেষ সুবিধা নিতে নতুন কৌশল

নতুন কৌশলে শেয়ারবাজার থেকে বিশেষ সুবিধা তুলে নিতে নর্দার্ন পাওয়ার সল্যুউশন ৫০ ভাগ রূপান্তযোগ্য বন্ড ছাড়ার অনুমোদন চেয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) আবেদন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কোম্পানিটি তাদের মূলধন আরও ১৭৫ কোটি টাকা বাড়াতে এসইসিতে এই আবেদন করেছে। বর্তমানে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি টাকা। এসইসি আজ বুধবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানা গেছে।
নর্দার্ন পাওয়ারের উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী-৪ আসনের সরকারি দলের সাংসদ এনামুল হক, তহুরা হক ও বেক্সিমকো গ্রুপের বেক্সটেক লিমিটেড। বেক্সটেক্সকে প্রতিনিধিত্ব করছেন সালমান এফ রহমান।
সূত্রগুলো বলছে, নিয়ম অনুসারে ৫০ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করতে হলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। কিন্তু নর্দার্ন পাওয়ার প্রাথমিক শেয়ারের গণপ্রস্তাবে (আইপিও) না গিয়ে বন্ড (এক ধরনের ঋণ) ছেড়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আপাতত তাদের মূলধন আরও ১৭৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই বন্ডের ৫০ ভাগ বছরভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ চার বছরে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হবে। সব বন্ডই সম্পূর্ণ হস্তান্তরযোগ্য হবে।
অন্যদিকে এসইসির আইনে বাধ্যবাধকতা থাকায় কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং এর জন্য একপর্যায়ে গণপ্রস্তাবেও যেতে হবে নর্দার্নকে। কিন্তু ততদিনে বন্ডের একটা অংশ সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হয়ে যাবে।
এই বন্ডের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ শতাংশ এবং কোনো কারণে সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ১৯ শতাংশ হারে তা পরিশোধ করবে কোম্পানিটি। কোম্পানি রাজশাহী জেলার কাটাখালীতে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করবে। এর জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছ থেকে পাঁচ বছরের জন্য লিটারপ্রতি ২৬ টাকা ধরে জ্বালানি তেলের নিশ্চয়তাও পেয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে বিক্রি করা হবে। এসব কারণে সাধারণভাবেই ধরে নেওয়া যায়, কোম্পানিটি আইপিও বা শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত লোভনীয় হবে।
সূত্রগুলো বলছে, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এই বিবেচনাতেই মূলত কৌশল করে এখনই আইপিওতে যাচ্ছে না। এখনই আইপিওতে গেলে কোম্পানি অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি দর নিতে পারবে না ‘গ্রিনফিল্ড’ (স্থাপিতব্য কোম্পানি) হওয়ায়। কিন্তু কার্যক্রম চালিয়ে লাভ দেখাতে পারলে মোটা প্রিমিয়ামসহ (অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে) গণপ্রস্তাব করা যাবে। আবার একই সঙ্গে সে সময় বর্তমান রূপান্তরযোগ্য বন্ডের একটা অংশ সাধারণ শেয়ারে (অভিহিত মূল্যে) পরিণত হওয়ায় তা বাজারদরে বিক্রি করেও মোটা অঙ্কের মুনাফা তুলে নেওয়া যাবে।
যোগাযোগ করা হলে সাংসদ এনামুল হক বলেছেন, গ্রিনফিল্ড হওয়ায় তাঁরা আইপিওতে এখনই যাচ্ছেন না। এক বছর পরই তাঁরা আইপিওতে যাবেন। তিনি অবশ্য বলেন, তাঁরা ব্যাংক ঋণ পাচ্ছেন না বলেই বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করছেন।
সূত্রগুলো বলছে, এই বন্ডের প্রস্তাবটি এসেছে আসলে আগের মতো প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্ট শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার সুযোগ না থাকায়। বিগত কয়েক বছরে এই প্রাক-আইপিও শেয়ার দিয়ে বাজারে শেয়ারমূল্যে কারসাজি হয়েছিল। এখন নতুন আদলে রূপান্তরযোগ্য বন্ড প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্টের জায়গায় কৌশলী প্রস্তাব আকারে আসছে।
এসইসিতে নর্দার্ন পাওয়ারের আবেদনে কারা রূপান্তরযোগ্য বন্ডটি নেবে তার তালিকা পাঠানো হয়নি। সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি নর্দার্ন পাওয়ারের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘কমিশনের সভায় আগামীকাল (আজ বুধবার) নর্দার্ন-এর বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু তথ্য এখনো না পাওয়ায় সেটা হবে না। আমরা বরং তথ্যগুলো চাইব। তারপর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব কী করা যায়।’

পাঁচ দিন পর বাজারে আবার দরপতন



টানা পাঁচ দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে কয়েক দিন ধরেই দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা নতুনভাবে সক্রিয় হতে শুরু করেন। এতে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণও বাড়তে থাকে।
তবে গতকাল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শেয়ারবাজারের কারসাজি খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বাজার কারসাজিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে এমন কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে মনে করেন, এটি বিনিয়োগকারীদের অনেককেই অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাই তাঁদের অনেকেই গতকাল বাজারে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁরা শেয়ার বিক্রি করেছেন বলেও জানা গেছে। মূলত এসব কারণেই গতকাল বাজারে সূচক কমেছে।
অবশ্য কারও কারও মতে, টানা পাঁচ দিন অব্যাহতভাবে দর বাড়ার ফলে অনেকে মুনাফা তুলে নেওয়ার জন্য শেয়ার বিক্রি করেছেন, যা বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দরপতন ঘটাতে ভূমিকা রেখেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে গতকালের লেনদেন শুরু হয়। তবে পাঁচ মিনিটের মাথায় সূচক নিম্নমুখী হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সূচক আবার ৩০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের পর সূচক আবার নিম্নগামী হয়। এরপর একাধিকবার ওঠানামা করে সূচক। দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৮০ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৪৫৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক ৫৮ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬২টির, কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১১০ কোটি টাকার শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হাতবদল হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৪টির, কমেছে ১৫৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল মোট এক হাজার ১৪৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৮৮ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো আফতাব অটোমোবাইলস, কনফিডেন্স সিমেন্ট, বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, গোল্ডেন সন, তিতাস গ্যাস ও বিডি ফিন্যান্স।
দাম বাড়ার শীর্ষে ছিল সেন্ট্রাল ইনস্যুরেন্স, প্রগতি ইনস্যুরেন্স, এমবি ফার্মা, জুট স্পিনার্স, ফার্মা এইড, রহিম টেক্সটাইল, বঙ্গজ, জেমিনি সি ফুড, সোনারবাংলা ইনস্যুরেন্স ও ঢাকা ইনস্যুরেন্স।
সবচেয়ে বেশি কমেছে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংক, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, সমতা লেদার, সমরিতা হাসপাতাল, মুন্নু জুটেক্স, যমুনা অয়েল, ইসলামিক ফিন্যান্স ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট দাম কমে যাওয়ার শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।

দুই এক্সচেঞ্জে বেড়েছে শতাধিক শেয়ারের দাম

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আজ বুধবার দিনভর সূচকের ওঠানামা ছিল চোখে পড়ার মতো। আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেড়েছে তালিকাভুক্ত দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। তবে সূচক ও লেনদেন কিছুটা কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমলেও বেড়েছে শেয়ারের দাম।
আজ ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ১.৭৬ পয়েন্ট কমে ৬,৪৫৪.০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ লেনদেন হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৪টির, কমেছে ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের। মোট লেনদেন হয়েছে ৮১৯ কোটি টাকার; যা গতকালের চেয়ে ৩২৯ কোটি টাকা কম।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটো, কনফিডেন্স সিমেন্ট, বেক্সিমকো, কেয়া কসমেটিকস, পিএলএফএসএল, বেক্সটেক্স, গোল্ডেন সন, ইএইচএল ও ফু ওয়াং সিরামিকস।
ডিএসইতে আজ সূচক কমার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের আট মিনিটের দিকে সূচক ৪৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবে ১৫ মিনিটের দিকে সূচক কিছুটা বাড়ে। এরপর আবার সূচক কমে যায়। এভাবে দিনভর সূচক ওঠানামা করে।
সিএসইতে আজ দিনের লেনদেন শেষে সূচক চার পয়েন্ট বেড়ে ১১,৬৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ লেনদেন হওয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের। মোট লেনদেন হয়েছে ৮২ কোটি টাকার; যা গতকালের চেয়ে ২৮ কোটি টাকা কম।

বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকসের আইপিও লটারি অনুষ্ঠিত

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দের জন্য বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস লিমিটেডের লটারি আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস পুঁজিবাজারে দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে মোট ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৬০ টাকা। আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
বরকতউল্লাহর আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯৬ কোটি টাকা মূল্যের এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বিপরীতে ছয় লাখ ৬৭৮টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার কারণে নয় হাজার ৪৫৮টি আবেদন বাদ পড়ে। বাকি পাঁচ লাখ ৯১ হাজার ২২০টি বৈধ আবেদনের মধ্যে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বিতরণ করা হয়। প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১২ কোটি টাকা মূল্যের ২০ লাখ শেয়ার। এর বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ২৪ হাজার ৮৩৯টি।
আবেদনকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮০ হাজার লট, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ হাজার লট ও মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ১০ হাজার লট নির্বাচন করা হয়। লটারি অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির সিএফও এবং কোম্পানি সচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রাব্বানী চৌধুরী। এ ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও ইস্যু ম্যানেজারের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী উপস্থিত ছিলেন।
লটারি পর্বটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি)।

রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স ফার্স্ট স্কিমের রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে। আজ বুধবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।
এসইসি সূত্র জানিয়েছে, ১০ বছর মেয়াদি এই মিউচুয়াল ফান্ডটির আকার হবে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট। প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা, যার মোট মূল্য হবে ৫৫ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রিআইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং আইপিওর মাধ্যমে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হবে। ফান্ডটির স্পন্সর হিসেবে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং অ্যাসেট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে এইমস অব বাংলাদেশ লিমিটেড।

নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি এসইসি

নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের ৫০ ভাগ রূপান্তরযোগ্য বন্ড ছাড়ার অনুমোদনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ বুধবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এসইসি বাজারে আসার ব্যাপারে অনুমোদন দেয়নি ।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি তাদের মূলধন আরও ১৭৫ কোটি টাকা বাড়ানোর লক্ষে ৫০ শতাংশ রূপান্তরযোগ্য বন্ড ছাড়ার ব্যাপারে এসইসিতে আবেদন করে। কোম্পানিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ কমিশনের নিয়মিত সভায় এজেন্ডা হিসেবে বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র না থাকায় এসইসি এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়নি ।
এসইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এসইসিতে জমা দেওয়া নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের কাগজপত্রের কমতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। ওই সব কাগজ পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান ।
জানা যায়, বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি টাকা। নিয়ম অনুসারে ৫০ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। কিন্তু নর্দার্ন পাওয়ার প্রাথমিক শেয়ারের গণপ্রস্তাবে (আইপিও) না গিয়ে বন্ড ছেড়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তাদের মূলধন আরও ১৭৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই বন্ডের ৫০ ভাগ বছরভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ চার বছরে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হবে। সব বন্ডই সম্পূর্ণ হস্তান্তরযোগ্য হবে।
অন্যদিকে এসইসির আইনে বাধ্যবাধকতা থাকায় কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং এর জন্য একপর্যায়ে গণপ্রস্তাবেও যেতে হবে নর্দার্নকে। কিন্তু ততদিনে বন্ডের একটা অংশ সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হয়ে যাবে।
এই বন্ডের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ শতাংশ এবং কোনো কারণে সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ১৯ শতাংশ হারে তা পরিশোধ করবে কোম্পানিটি। কোম্পানি রাজশাহী জেলার কাটাখালীতে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুত্ প্রকল্প স্থাপন করবে।

আয়ারল্যান্ড বলছে ‘হাস্যকর সিদ্ধান্ত’

২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নেবে শুধু টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো। আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ডের মতো সহযোগী দেশগুলোর সুযোগ থাকছে না। আইসিসির এই সিদ্ধান্তে সহযোগী দেশগুলোয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদমুখর সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল আয়াল্যান্ড। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ডেউট্রোম এই সিদ্ধান্তকে বলেছেন—‘নির্লজ্জতার’ চূড়ান্ত।
পরশু মুম্বাইয়ের আইসিসির নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। দিনটিকে ‘ক্রীড়াঙ্গনের কালো দিন’ আখ্যা দিয়েছেন ডেউট্রোম। বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের বিকাশের পথে বাধা। আর অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ভাষায়, ‘আইসিসির সিদ্ধান্তটি একটি কৌতুক।’
চুপ থাকেননি দলের অন্য ক্রিকেটাররাও। সঙ্গে সঙ্গেই টুইটারের উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ। পোর্টারফিল্ডই যেমন মন্তব্য করেছেন, ‘এটা অসম্মানজনক। আইসিসি কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিল! গত কয়েক বছরে আইরিশ ক্রিকেটকে পুনর্গঠিত করার জন্য আইসিসি যা করতে বলেছে আমরা সবই করেছি।’ ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে আয়ারল্যান্ড ১০ নম্বরে। জিম্বাবুয়েরও আগে। এই বিষয়টিও আইসিসির চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন পোর্টারফিল্ড, ‘বর্তমান র‌্যাঙ্কিংয়ে আমরা জিম্বাবুয়ের চেয়ে এগিয়ে আছি। এবং কোনো কারণই নেই যে আমরা আগামী বিশ্বকাপের আগে এক-দুই ধাপ এগোতে পারব না।’
ব্যাটসম্যান গ্যারি উইলসন লিখেছেন, ‘এটা এখন বিশ্বকাপ নয়, স্রেফ ১০ দলের একটা টুর্নামেন্ট।’ উইলসনের এই মন্তব্যের জবাব হিসেবে পল স্টারলিং লিখেছেন, ‘উইলসন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তুমি যে বাজে এলবিডব্লু হয়েছিলে, এই সিদ্ধান্ত তার চেয়েও বাজে!’ সাবেক অধিনায়ক ট্রেন্ট জনস্টন অবসর নিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে ‘সহযোগিতা’ করায় ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন। পরিহাসের ধন্যবাদ দিয়েছেন বয়ড র‌্যাঙ্কিনও। টুইটারে লিখেছেন, ‘আইসিসিকে ধন্যবাদ!!’
শুধু প্রতিবাদ জানিয়েই নিজেদের কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে না আয়ারল্যান্ড। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ অ্যামেচার গলফ

রানার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষণায় কাল কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ২৬তম বাংলাদেশ অ্যামেচার গলফ চ্যাম্পিয়নশিপ। খেলা শুরু হচ্ছে আজ। বাংলাদেশ ছাড়াও খেলছেন ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রায় দেড় শ গলফার। বাংলাদেশ দলে আছেন দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনাজয়ী জাকির হোসেন, দুলাল হোসেন। কাল কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের গফল এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে এই টুর্নামেন্ট।

অনুশীলন বাতিল করে বিশ্রামে অস্ট্রেলিয়া



বান্ধবীকে নিয়ে লবিতে ঘোরাঘুরি করছেন। রিসিপশনে গিয়ে কী যেন জানতে চাইলেন। মনে হচ্ছিল, বাইরে-টাইরে একটু ঘোরার খোঁজখবর নিলেন। কাল সকালেই ঢাকায় নামা বান্ধবীকে ঢাকা শহর দেখানোর একটা দায় বোধহয় ছিল তাঁর। মাঠে বল হাতে আগুন ঝরানো সেই ব্রেট লি তো? হ্যাঁ, ব্রিট লি-ই।
কিন্তু ঘটনা হলো, অস্ট্রেলিয়ার গতিতারকাকে তাড়া করছে না মিডিয়াকুল। অটোগ্রাফ বই হাতে হোটেলের ভেতরে-বাইরে অপেক্ষমাণ কাউকে চোখে পড়ল না। আর দশটা দিনের চেয়ে আলাদা ছিল না কালকের হোটেল সোনারগাঁও। অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দিল, অথচ হোটেলের লবিতে ঘণ্টা তিনেক কাটিয়ে ঠিক সেভাবে বোঝা গেল না, এখানে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল আছে! আগের তুলনায় এখন আসলে এটাই স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে গিয়েছে।
সুইমিংপুল, জিম থেকে কয়েকজন অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়কে বেরোতে দেখা গেল এক ফাঁকে। লবিতে ঘোরাঘুরি না করে সোজা রুমেই চলে গিয়েছেন। অন্যরাও রুমেই ছিলেন। ঢাকায় এসে পরের দিন দুপুর দেড়টায় মিরপুরে অনুশীলনে যাওয়ার কথা থাকলেও ঘণ্টা দুয়েক আগে সিদ্ধান্ত বদল। আজ আর অনুশীলন নয়। ছুটি।
মাত্রই ক্রিকেট-সাম্রাজ্য হারিয়ে পুরোনো সেই রাজ্যহারা জমিদারের বেশেই পরশু রাতে কয়েক ভাগে ঢাকা পৌঁছাল অস্ট্রেলিয়া। যে দলটার নাম শুনলে এই কিছুদিন আগেও ‘বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খেত’ ধরনের ব্যাপার ছিল, সেই দলের দাপট সব দিক থেকেই কমে গিয়েছে। বিশ্বকাপ-উত্তর এই সফরে আসা দলটার শরীরের ভাষায় এর স্পস্ট প্রকাশ।
পরশু রাত থেকে কাল দুপুর অবধি দলটাকে কাছ থেকে দেখেছেন, এমন একজন জানালেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সেই গরিমা দেখলাম না এবার। দলটার ভেতরে বিষণ্নতা আছে এবং সবাই কেমন জানি চুপচাপ।’ অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া রিকি পন্টিংয়ের ওপর আলোটা যে নেই, সেটা পন্টিংই বোঝাচ্ছেন নিজেকে বৃত্তবন্দী করে ফেলে। ‘রিকি আগে যেমন অগ্রভাগে থাকত, এবার তা নয়। একটু চুপচাপই আছে। বোঝেন তো, এখন তো আর তিনি অধিনায়ক নন’—বললেন তিনি।
দলটার সঙ্গে থাকা লিয়াজোঁ কর্মকর্তা সাবেক ক্রিকেটার সাইদুল ইসলামের (এফি) অভিজ্ঞতাও অনেকটা সে রকম। তাঁর কাছ থেকে জানা গেল, দীর্ঘ ভ্রমণে গোটা দলটাই ক্লান্ত। এ কারণেই কাল মাঠমুখো হয়নি দল। তা ছাড়া পরশু বৃষ্টি হওয়ায় মিরপুরের আউটফিল্ড একটু স্যাঁতসেঁতে, এমন খবরও নাকি অনুশীলন বাতিল করতে প্রভাবিত করেছে। তবে মিরপুরের আউটফিল্ড অনুশীলন উপযোগীই ছিল।
সে যাই হোক, কাল ভোরেই লন্ডন থেকে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দলের ম্যানেজার। প্রধান নির্বাচক এন্ড্রু হিলডিচ আসছেন আগামীকাল। বিশ্বকাপ ব্যার্থতার পর এই সফরটাকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। একদিন বিশ্রাম নিয়ে হয়তো নিজেদের আরও ভালোভাবে তৈরি করে নিল!

আফ্রিদি ওভাবে বলেননি

শহীদ আফ্রিদিকে উদ্ধৃত করে আগের দিন গণমাধ্যমে খবর বেরোয়, পাকিস্তান অধিনায়ক ভারতীয়দের বলেছেন, ‘ওরা বড় হূদয়ের নয়।’ সামা নিউজ চ্যানেলে আফ্রিদি ভারতীয় ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীরের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন বলে খবর বেরিয়েছিল কাগজে।
কিন্তু কাল ভারতের ‘এনডিটিভি’কে আফ্রিদি বলেছেন, তাঁর আসল বক্তব্য অন্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি মোটেও ভারত-বিদ্বেষী নন। ছিলেনও না। ‘আমি ভারতে ক্রিকেট খেলাটা উপভোগ করি এবং ভারতীয়দের ভালোবাসি। ভারতীয় সমর্থকদের কাছ থেকে আমি সব সময়ই প্রচুর ভালোবাসা এবং স্নেহ পেয়েছি। গণমাধ্যমের প্রতি আমার অনুরোধ, আরও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করুন। গণমাধ্যম ছোট বিষয়গুলো বড় বানাতে ওস্তাদ। এটা লজ্জার। আমি সব সময়ই ইন্দো-পাক সম্পর্কটাকে উন্নত করার চেষ্টা করি। আমি যা বলেছি, সেটা অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সময় নষ্ট করার মানে হয় না।’
আফ্রিদির এই দ্বিতীয় বক্তব্য পৌঁছানোর আগেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছেন। ক্ষুব্ধ হরভজন সিং যেমন বলছেন, ‘ভারতীয়রা বড় হূদয়ের না হলে তারাও সম্পর্কটা উন্নতি করতে পারবে না। আমি মনে করি, এটা অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্য। সে এই দেশের প্রতি যে আচরণ করেছে তাতে এটা পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জনে সাহায্য করবে না।’
এই বিতর্ক এক পাশে রেখে আফ্রিদিকে অবশ্য এখন প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য। ব্যক্তিগত কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবেন না বলে জানালেও সিদ্ধান্ত পাল্টে ক্যারিবীয় সফরে যাচ্ছেন আফ্রিদি। গতকালই তাঁর লাহোর গিয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা।
‘আমি এই সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ, আমি কয়েকটা দিন বিরতি নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার, আমার পরিবার এবং বন্ধুরা চায়, আমি যেন সিদ্ধান্তটা পরিবর্তন করি। আমি বিরতি নিতে চেয়েছিলাম আমার বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায়। কিন্তু বাবা আমাকে দলের সঙ্গেই থাকতে বলেছেন।’
দলে স্থায়ীভাবে একজন ব্যাটিং কোচ চান আফ্রিদি। বিশ্বকাপে শীর্ষ রানসংগ্রাহকের ২০ জনের তালিকায় নেই কোনো পাকিস্তানি। আফ্রিদি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে আমাদের ভয় ছিল ব্যাটিং নিয়ে। সেমিফাইনালে সেই ভয়টা সত্য হয়েছে। আমি মনে করি, আমাদের একজন ব্যাটিং কোচ দরকার, যিনি ব্যাটসম্যানদের দিকনির্দেশনা দেবেন।’ সম্ভাব্য একটা নামও বলছেন আফ্রিদি, ‘ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করার জন্য আমরা জাভেদ মিয়াঁদাদকে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
এদিকে কামরান আকমলের বদলে নতুন উইকেটরক্ষক নেওয়ার দাবি উঠেছে পাকিস্তানে। কোচ ওয়াকার ইউনুসও ওই দাবির পক্ষে, ‘পাকিস্তান দলে একজন তরুণ উইকেটরক্ষক দরকার, যে আগামী কয়েক বছর দায়িত্বটা পালন করবে।’

বিসিবি একাদশের অধিনায়ক রকিবুল

তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলতে এসে অস্ট্রেলিয়া দল একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলবে কাল। ফতুল্লা স্টেডিয়ামের এই ম্যাচে মাইকেল ক্লার্কের দলের প্রতিপক্ষ বিসিবি একাদশ দল। রকিবুল হাসানকে অধিনায়ক করে কাল এই দলের ১৪ ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রকিবুল ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বিসিবি একাদশে আরও আছেন আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফেরা ব্যাটসম্যান অলক কাপালি, পেসার নাজমুল হোসেন ও নবাগত শুভাগত হোম। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগামী ৯, ১১ ও ১৩ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ দল। শেষ ম্যাচটি দিবারাত্রির।
বিসিবি একাদশ: রকিবুল হাসান (অধিনায়ক), মাইশুকুর রহমান, রনি তালুকদার, মোহাম্মদ মিঠুন, ফরহাদ হোসেন, অলক কাপালি, মার্শাল আইয়ুব, শুভাগত হোম, মাহমুদুল হাসান, সাব্বির রহমান, ফরহাদ রেজা, নাজমুল হোসেন, মাহবুবুল আলম ও শুভাশিস রায়।

আহত ‘বাঘ’কেই ভয় শাহরিয়ারের

১৬, ০, ০—ওয়ানডে সিরিজের এই তিনটি স্কোর ভুলে যাওয়ার চেষ্টা নিশ্চয়ই করেছেন। মনে রাখলে রাখতে পারেন ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে করা ১৩৮ আর চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের ৭৯ রান। কিন্তু শাহরিয়ার নাফীস পাঁচ বছর আগের এই স্মৃতিটায় ফিরে যেতে চাচ্ছেন না।
অস্ট্রেলিয়া যখন আবার বাংলাদেশে, তখন অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শাহরিয়ারও আছেন বাংলাদেশ দলে। তবে ২০০৬ সালের মতো এবারের সিরিজে কোনো টেস্ট নেই। কেবলই তিনটা ওয়ানডে। চাইলে সেবার টেস্টে ভালো খেলার স্মৃতিটাকে এবারের ওয়ানডে সিরিজেও অনুপ্রেরণা হিসেবে নেওয়া যায়। কিন্তু কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শাহরিয়ার বললেন, ‘ওই সিরিজের মতো কিছু আবার করতে পারলে খারাপ হয় না। তবে ২০০৬-এর সেই সফরের ‘ভালোটা’ পাঁচ বছর পর মনে রাখা কঠিন।’
অস্ট্রেলিয়া বলেই নয়, শাহরিয়ারের জন্য আসন্ন সিরিজ অন্য কারণেও চ্যালেঞ্জ। আইসিএল থেকে ফেরার পর জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারছিলেন না। এবার জুনায়েদ সিদ্দিক ‘এ’ দলে চলে যাওয়ায় ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বর জায়গাটির জন্য তিনিই এক নম্বর দাবিদার। দলে জায়গা ধরে রাখার সুবর্ণ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী শাহরিয়ার, ‘গত বছর মাত্র একটা সিরিজ খেলেছি। এবার পর পর দুইটা সিরিজে খেলার সুযোগ পাচ্ছি। আমার ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ এটা। আশা করি, চাপ না নিয়ে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে পারব।’
অস্ট্রেলিয়া মানেই হারার আগে হেরে যেতে হবে, কুর্নিশ করে খেলতে হবে—এসব ব্যাপার আর নেই। এই বিশ্বকাপের পর তো নয়-ই। তার পরও বিশ্বকাপের ব্যর্থতা অস্ট্রেলিয়ার শরীরে নিশ্চই আহত বাঘের রক্তকণিকা ঢুকিয়ে দিয়েছে। ২০০৬ আর এবারের অস্ট্রেলিয়া দলের তুলনা করতে গিয়ে সেই ভয়ের কথাই বললেন শাহরিয়ার, ‘২০০৬-এর দলটা অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া দলকে কখনো খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এবার তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ওরা এখন সাফল্য পাওয়ার জন্য খুবই ক্ষুধার্ত।’
বিশ্বকাপ ব্যর্থতা এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে চাপেও রাখবে বলে ধারণা শাহরিয়ারের। সঙ্গে যদি ক্লার্ক-পন্টিংদের হোম কন্ডিশনের ফাঁদে ফেলা যায়, ৯ এপ্রিল থেকে শুরু তিন ওয়ানডের সিরিজ নিয়ে আশাবাদী হতে বলছেন শাহরিয়ার, ‘নিজেদের কাছে প্রত্যাশার দিক থেকে ওরা অবশ্যই চাপে থাকবে। কন্ডিশন এবং আমাদের শক্তির সর্বোচ্চটা যদি ব্যবহার করতে পারি, অস্ট্রেলিয়াকে বিপদে ফেলা সম্ভব।’ উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়া দলের অনভিজ্ঞতাকেও বাড়তি সুবিধা হিসেবে নিচ্ছেন শাহরিয়ার, ‘ব্রেট লি ছাড়া ওদের বোলিং আক্রমণ এই কন্ডিশনে অভ্যস্ত নয়। ওদের বিশ্বমানের স্পিনার নেই, আর আমাদের দলে তিন তিন জন স্পিনার।’
কিন্তু বিশ্বকাপ কি কেবল অস্ট্রেলিয়াকেই চাপে ফেলেছে? বাংলাদেশের ৫৮ আর ৭৮ রানে অলআউটের লজ্জাও নিশ্চই এত দ্রুত ভুলে যায়নি কেউ! শাহরিয়ার সেটা স্বীকার করেও বলছেন, ‘ওই দুটি ম্যাচকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলেই আমাদের জন্য ভালো হবে। এই সিরিজে ভালো খেললে হয়তো ওই দুটি ম্যাচ আমরা ভুলিয়ে দিতে পারব।’
৫৮ আর ৭৮ একদিকে রাখলেও বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচগুলোতেও খুব ভালো ব্যাটিং করেনি বাংলাদেশ। শাহরিয়ারের দৃষ্টিতে কারণটা উইকেট, ‘সব দল যেটা করে...গত এক বছর ধরে আমরাও চেষ্টা করছি হোম কন্ডিশন ব্যবহার করতে। এ কারণে বেশির ভাগ সময় আমরা স্লো এবং টার্নিং উইকেটে খেলছি। এ ধরনের উইকেটে ২৮০-৩০০ রান করা কঠিন। ২২০-২৩০ করলেই জেতার মতো রান হয়ে যায়।’
কথাটা কি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সত্যি হবে?

টেন্ডুলকারের ভাবনায় শুধুই বর্তমান

ক্যারিয়ারে একমাত্র অতৃপ্তি হয়ে থাকা বিশ্বকাপ জিতেছেন। অনেকেই মনে করেছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটটা এবার ছেড়ে দিতে পারেন শচীন টেন্ডুলকার। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্যেই টেন্ডুলকার জানিয়ে দিয়েছেন, টেস্টের সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটও চালিয়ে যাবেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি ২০১৫ বিশ্ব্বকাপও খেলবেন টেন্ডুলকার? উত্তরে টেন্ডুলকার বলছেন, তিনি মনে করেন না ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন।
এই এপ্রিলেই পূর্ণ হবে ৩৮। ২০১৫ বিশ্বকাপ আসতে আসতে পৌঁছে যাবেন ৪২-এ। ক্রিকেটীয় সামর্থ্য থাকলেও বয়স যে একটা দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে সেটা ঠিকই অনুমান করতে পারছেন টেন্ডুলকার।
আজন্ম স্বপ্ন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে এখন প্রতিটি মুহূর্তই তাঁর কাছে রঙিন। বিজয়ানন্দ তাই টেন্ডুলকার ভাগ করে নিচ্ছেন সবার সঙ্গে। ‘আপনি কি ২০১৫ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে আছেন?’—ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডিএনএর এই প্রশ্নে টেন্ডুলকারের উত্তর, ‘আমি অত দূর ভাবছি না। আমি মনে করি না, ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলতে পারব। আমি পুরোপুরি এই বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবছিলাম। ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু ভাবতে চাই না।’
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে উল্লাসে ফেঠে পড়া, এই স্বপ্নটা টেন্ডুলকার কখন থেকে দেখছেন জানেন? ২০০৭ বিশ্বকাপে বিধ্বস্ত হওয়ার পরই! টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘২০০৭ বিশ্বকাপে হারের পর থেকেই আমি এই (বিশ্বকাপ জয়) স্বপ্নটা দেখতে শুরু করি। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম।’
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ২০০৭ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছিল ভারত। মুম্বাইভিত্তিক পত্রিকা মিড ডেকে টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘যখন আমরা জানতে পারলাম, পরের আসরটি (বিশ্বকাপ) হবে ভারতে এবং ফাইনাল হবে মুম্বাইয়ে, তখনই আমি অনুভব করতে শুরু করি, এটা হবে সেই জায়গা যেখানে আমরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরব।’
টেন্ডুলকারের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে গত শনিবার, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারানোর পর। ২০০৭ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ে টেন্ডুলকারও হতাশ হয়ে পড়েছিলেন, এই জীবনে হয়তো আর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া হবে না। এই শুভক্ষণে টেন্ডুলকারের মনে পড়ছে ফেলে আসা সেই হতাশাময় দিনের কথা, ‘ওটা ছিল সত্যিই কঠিন এক সময়। ওই সময় আমার পরিবার এবং বন্ধুরা আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছে। সম্ভবত এটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়। আমি সত্যিই মনোবল হারিয়ে ফেলেছিলাম।

স্টামফোর্ড দুর্গ জিততে আসছে ম্যানইউ

‘স্টামফোর্ড ব্রিজ’টা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য হয়ে যায় ‘স্টামফোর্ড ক্যাসল’। দুর্গ। অজেয় এক দুর্গ। গত প্রায় এক দশকে চেলসির মাঠে এসে ম্যাচ জেতা হয়নি অ্যালেক্স ফার্গুসনের দলের। কখনো হয়নি বলে যে কখনোই হবে না—এমন তত্ত্ব তো আর কেউ দেয়নি। কে জানে, চেলসির দুর্গ আজই জয় করবে ‘রেড ডেভিলরা’। এমনিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল, স্নায়ুর চাপ; তাতে বাড়তি রং চড়াচ্ছে ‘সর্ব ইংরেজ’ লড়াই। তা ছাড়া চেলসির সময়টাও খুব একটা সুবিধার নয়।
শেষ আটের প্রথম লেগে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা আর শাখতার দোনেৎস্কও। ম্যানইউর জন্য গত এক দশকের রেকর্ড তুলনায় কাজটা যত কঠিন মনে হচ্ছে, দোনেৎস্কর জন্য কাজটা তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি কঠিন। শক্তির ব্যবধানে আক্ষরিক অর্থেই স্পেন-ইউক্রেনের দূরত্ব। কিন্তু তার পরও দোনেৎস্ক মাথা উঁচু করেই আজ মাঠে নামতে পারে। ২০০৮-০৯, বার্সেলোনার সেই ছয় শিরোপা জেতার অপ্রতিরোধ্য মৌসুমেও কিন্তু এই দোনেৎস্কই তাদের ন্যু ক্যাম্পেই ২-৩ গোলে হারিয়ে গিয়েছিল!
দোনেৎস্কে নিয়ে পেপ গার্দিওলার দুশ্চিন্তা থাকাই স্বাভাবিক। অবশ্য বার্সা কোচকে এর চেয়েও বেশি ভাবাচ্ছে মূল স্ট্রাইকার ডেভিড ভিয়ার পড়তি ফর্ম। গত ছয় ম্যাচে ক্লাবের হয়ে গোলের দেখা পাননি। অথচ জাতীয় দলের হয়ে কিন্তু ঠিকই গত ম্যাচে জোড়া গোল করে স্পেনের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন। ভিয়া আশ্বস্ত করছেন, এই বার্সার জার্সি গায়েও তা দেখা যাবে।
গার্দিওলার আরেকটি দুশ্চিন্তা, এই ম্যাচে সেরা একাদশ না পাওয়া। চোটের কারণে দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে লিগের গত ম্যাচে খেলানো হয়নি। গুরুতর কিছু নয়। কিন্তু এই মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৪৩ ম্যাচে ৪৫ গোল করা মেসিকে নিয়ে সামান্য ঝুঁকিও বার্সা নিতে নারাজ। আজ মেসি খেলবেন এটা নিশ্চিত। তবে প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, এটি নিয়ে দুই রকম খবরই পাওয়া গেছে। রক্ষণেই বেশি সমস্যা। অধিনায়ক কার্লোস পুয়োল এ ম্যাচেও থাকছেন না। সার্জিও বুসকেটসকে আজ তাই নিচে নেমে গিয়ে জেরার্ড পিকের সঙ্গে জুটি বাঁধতে হবে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকাটা আর্জেন্টিনা অধিনায়ক হাভিয়ের মাচেরানোর কাঁধেই থাকছে।
তা ছাড়া সামনে পর পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে বার্সেলোনার। ১২ এপ্রিল কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগ। ১৬ এপ্রিল রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে গিয়ে খেলে আসতে হবে লিগ ম্যাচ। ২০ তারিখ কোপা ডেল রের ফাইনাল, এখানেও প্রতিপক্ষ রিয়াল। হিসাব কষেই এগোতে হবে আবারও শিরোপাত্রয়ীর পেছনে ছোটা বার্সেলোনাকে।
শিরোপাত্রয়ীর সম্ভাবনা আছে ম্যানইউরও। লিগে গত সপ্তাহে তাদের সব শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বীই পয়েন্ট খুইয়েছে। যেটি ম্যানইউর জন্য বেশ সুবিধারই হয়েছে। মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে ফার্গুসনও স্বরূপে আবির্ভূত। কথার লড়াই এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। যেমন আজকের ম্যাচের আগে দাবি করলেন, রেফারিরা আনুকূল্য না দেখালে স্টামফোর্ড ব্রিজে চেলসি তাদের বিপক্ষে এক দশক ধরে অপরাজিত থাকতে পারত না। একটু ভাগ্যের ছোঁয়াও নাকি পেয়েছে চেলসি। প্রমাণ হিসেবে এ মাঠে দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচটার কথাই তুলে আনলেন ফার্গুসন। যে ম্যাচে ৫৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও ম্যানইউ শেষ পর্যন্ত হেরেছে। জয়সূচক গোলটি আবার এসেছে পেনাল্টি থেকে!
রেফারি পক্ষে নেই। ভাগ্য, এক দশকের রেকর্ডও। না, রেকর্ড পক্ষে আছে। গত দুবারই ‘অল-ইংলিশ’ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগটা জিতেছে সফরকারী দলই!

ইলিয়াস-ইজাজের সেঞ্চুরি

আগের দিনই সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছিলেন। ৯৪ রানে অপরাজিত সিলেটের ব্যাটসম্যান ইজাজ আহমেদ কাল ঠিকই পেয়ে গেলেন সেঞ্চুরি—করলেন ১০৩ রান। তাঁর অপরাজিত সেঞ্চুরিতে সিলেট প্রথম ইনিংস ঘোষণার আগে ৭ উইকেটে তুলল ৪২৫ রান।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডে কাল ছিল তৃতীয় দিন। এদিন বরিশালের বিপক্ষে ১৫৩ রান করেছেন ঢাকার ব্যাটসম্যান ইলিয়াস সানি। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়া ঢাকা ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে দ্বিতীয় ইনিংসে। ৭ উইকেটে ৪৭৩ রান তোলার পর কাল ইনিংস ঘোষণা করেছে তারা। প্রথম ইনিংসে ২৩০ করা বরিশালের সামনে এখন জয়ের লক্ষ্য ৩৭৭ রান। দিন শেষে ১ উইকেট ৩১ রান তুলেছে বরিশাল।
বগুড়ায় বোলারদের দাপটে চট্টগ্রামের বিপক্ষে মাত্র দুই দিনেই জয় তুলে নেয় রাজশাহী। কিন্তু রাজশাহীতে শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে খুলনা-সিলেট ম্যাচ গড়াল চতুর্থ দিনে। এই মাঠে উজ্জ্বল সিলেটের ব্যাটসম্যানরা। ওদিকে সিলেটে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন ঢাকার ব্যাটসম্যানরাও। তিন হাফ সেঞ্চুরিসহ একটি সেঞ্চুরি করেছেন সিলেটের ব্যাটসম্যানরা। আগের দিন ৫৩ রানে অপরাজিত ইলিয়াস সানি করলেন আরও ১০০ রান। তাঁর সেঞ্চুরি এসেছে ২৩৬ বলে। ১৫ চারে ১৫৩ করেছেন ৩৩০ বলে। ইলিয়াসের পর তৈয়বুরের হাফ সেঞ্চুরিতে (৫২) রানপাহাড় গড়েছে ঢাকা। বরিশালের ফজলে রাব্বি নিয়েছেন ৩ উইকেট।
সিলেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অবশ্য রান তুলতে পারছে না খুলনা। ১৫৮ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলেছে ৬ উইকেট। খুলনার সর্বোচ্চ ৪২ রান তুষার ইমরানের।

কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে পূর্বসূরিকেই অনুসরণ করলেন কুমার সাঙ্গাকারা। বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনের মতোই হঠাৎ জানিয়ে দিলেন, শ্রীলঙ্কার অধিনায়কের পদে আর থাকছেন না। আপাতত ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। অন্তর্বর্তী অধিনায়ক হিসেবে বোর্ড চাইলে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দুটিতে থাকবেন। অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও তিন ধরনের ক্রিকেটেই সক্রিয় থাকছেন এই ৩৩ বছর বয়সী।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক হিসেবে তিলকরত্নে দিলশান এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের কথা ভাবা হচ্ছে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে উঠে আসছে থিলান সামারাবীরার নাম। বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক সাঙ্গাকারা দলকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখলেও ওই ম্যাচের একাদশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়েন।
কাল তাঁর বিবৃতিতে অবশ্য সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে এই সমালোচনা নয়; সাঙ্গাকারা দলের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের কথাই বলেছেন। ২০১৫ বিশ্বকাপে অধিনায়ক থাকতে পারবেন না—এই বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন। ফলে নতুন অধিনায়ক চার বছর ধরে পরিকল্পনা করার সুযোগ যেন পায়, সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন সাঙ্গাকারা।
সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাটা আকস্মিকভাবে এলেও সেটি আগেই নিয়ে রেখেছিলেন বলেও জানিয়েছেন, ‘আমি এটা ২০১১ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ভেবে রেখেছিলাম। পরের বিশ্বকাপের সময় আমার বয়স হয়ে যাবে ৩৭। তখন দলে আমার জায়গা পাকা থাকবে কি না, নিশ্চিত নই। পরের বিশ্বকাপের সময় ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকবে এমন একজনের নেতৃত্বেই দল থাকা উচিত।’
২০০৯ সালের মাঝামাঝি থেকে নেতৃত্ব কাঁধে নিয়েছেন সাঙ্গাকারা। তাঁর নেতৃত্বে ৪৫ ওয়ানডের ২৭টি জিতেছে শ্রীলঙ্কা, হেরেছে ১৪টি। ১৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে জয় এনে দিয়েছেন ৫টি, পরাজয় ৩টি; বাকি ছয় ম্যাচ ড্র। ২১টি টি-টোয়েন্টিতেও অধিনায়ক ছিলেন। এর মধ্যে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফাইনালে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
এই দুই বছরের অভিজ্ঞতাকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অংশ বলেও মনে করছেন এই বাঁহাতি, ‘গত দুই বছরে নিজের দেশকে অধিনায়কের ভূমিকায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার জন্য ছিল বিরাট সম্মান ও গৌরবের। ফাইনাল শেষ পর্যন্ত আমরা জিততে পারিনি। এটি তিক্ত অভিজ্ঞতা অবশ্যই। তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।’
নতুন অধিনায়কের প্রতিও পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা দেবেন বলেও জানালেন সাঙ্গাকারা, ‘নির্বাচকদের সঙ্গে সোমবার দেখা করে আমার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করেছি। আশ্বস্ত করেছি, নতুন অধিনায়ককে থিতু হতে সব রকম সাহায্যই করব। এমনকি নির্বাচকেরা যদি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়টায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ আমারই অধিনায়ক থাকা উচিত, আমি সেই দায়িত্ব পালন করব। অবশ্য আমার অবসর নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। যে রকম ফিটনেস আছে তাতে আমি সব ধরনের ক্রিকেটেই আপাতত খেলে যেতে চাই।’

মিয়াঁদাদের প্রত্যাশায় পাকিস্তান

ব্যাটিংটাই যে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের দুর্বলতার জায়গা—সেটা প্রমাণিত হয়ে গেছে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অর্জন বলুন আর সাফল্য, সবই বোলিংয়ের কল্যাণে। বোলিং যদি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাফল্য অনুষঙ্গ হয়, তাহলে ব্যাটিং ব্যর্থতার উপকরণ। বিশ্বকাপ শেষে তাই এ বিভাগটি নিয়ে একটু আলাদাভাবেই ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ম্যানেজমেন্ট।
এ ভাবনার অংশ হিসেবেই পাকিস্তান দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে টিম ম্যানেজমেন্ট কাজে লাগাতে চাচ্ছে সাবেক ব্যাটিং কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদকে। ব্যাপারটি একটি বার্তা সংস্থার কাছে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি নিজেই।
আফ্রিদি বলেছেন, ‘আমি নিজে জাভেদ মিয়াঁদাদকে অনুরোধ করেছি দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে যোগ দিতে। আনুষ্ঠানিকভাবেও তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি রাজি হলেই কাজ শুরু করা যাবে।’
জাভেদ মিয়াঁদাদ এখনো পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ব্যাটসম্যান হিসেবে ইতিহাসে চিরঞ্জীব। ২০০৯ ও ২০১০ সালেও আরও দুবার তিনি পাকিস্তানি দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে কয়েক দফা তিনি দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
আফ্রিদির মতে, এ মুহূর্তে পাকিস্তান দলের মিয়াঁদাদের মতো ব্যাটিং কিংবদন্তির সাহায্য খুবই দরকার। তিনি মনে করেন, মিয়াঁদাদ অবশ্যই এ প্রস্তাব গ্রহণ করবেন।
এদিকে জাভেদ মিয়াঁদাদও নাকি ব্যাটিং পরামর্শক হওয়ার এ প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন।
পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে মিয়াঁদাদ বলেছেন, ‘আমি পাকিস্তান দলের ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।’
বিশ্বকাপে ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়া পাকিস্তান দল এখন প্রস্তুত হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে পাকিস্তান দুটি টি-টোয়েন্টি, পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্টম্যাচ খেলবে।
আফ্রিদি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পাকিস্তান দলে বেশ কয়েকটি নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে তরুণ প্রতিভাবানদের এক্সপোজার দেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে নিয়েছি।’

খেলবেন না মাশরাফি

নিয়তি, নাকি অদৃষ্টের অবিচার? ফিজিও ‘আনফিট’ বলে দেওয়ায় বিশ্বকাপের দলে ছিলেন না। মাঝখানে চলে গেছে প্রায় দুই মাস। এখন যখন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে সুযোগ পেলেন, এবার নিজেকে নিজেরই মনে হচ্ছে ‘আনফিট’! অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল থেকে তাই সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুধু এই সিরিজই নয়। শিগগিরই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করাবেন বলে ২০১১ সালটাই বোধহয় হারিয়ে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ার থেকে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে না খেলার সিদ্ধান্ত একরকম নিয়েই ফেলেছেন মাশরাফি। অনুশীলনে দুর্বল বোধ করছেন। লাইন-লেংথে খুব একটা সমস্যা না হলেও বোলিংয়ে পাচ্ছেন না পূর্ণ গতি। এ অবস্থায় দলে থেকে যাওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামা উচিত হবে কি না, তা নিয়ে খোদ মাশরাফিই দ্বিধাদ্বন্দ্বে। স্ট্যান্ডবাই বোলার নাজমুল হোসেনকে তাই নিজ থেকেই বলেছেন খেলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে। কথা বলেছেন কোচ জেমি সিডন্সের সঙ্গেও। সব শুনে এবং অনুশীলনে মাশরাফির অবস্থা দেখে কোচ তাঁকে বলেছেন, সমস্যা মনে করলে দল থেকে সরে যাওয়াই ভালো। আর যদি মাশরাফি আত্মবিশ্বাসী থাকেন, এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে খেলা সম্ভব, তাহলে দলে থাকতে পারেন। তবে সিদ্ধান্ত যেটাই হোক, সেটা মাশরাফিকেই নিতে বলেছেন সিডন্স। খেলতে চাইলে দল তাঁকে স্বাগত জানাবে, খেলতে না চাইলে বিকল্প ভাববে। এর আগে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গেও এসব নিয়ে কথা হয়েছে মাশরাফির।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে ডাক পাওয়ার পর মাশরাফি বোর্ডকে জানিয়েছিলেন, পুরোপুরি ফিট না হলে তিনি সিরিজটা খেলবেন না। গত ২৯ মার্চ থেকে দলের সঙ্গে অনুশীলন করে এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ফিটনেসের সমস্যাটা ধরতে পারছেন নিজেই। প্রায় দেড় মাস ধরে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের বাইরে, শারীরিক শক্তি তাই পুরোপুরি পাচ্ছেন না। বিশেষ করে বোলিংয়ের সময় ডান হাঁটুতে শক্তি পাচ্ছেন কম, এক ধরনের শব্দও হচ্ছে। এই হাঁটুর ইনজুরির কারণেই বিশ্বকাপে খেলা হয়নি মাশরাফির।
এ অবস্থায় অনুশীলন চালিয়ে গেলেও মাশরাফি আজ দলের সঙ্গে হোটেলে উঠবেন না। আগামীকাল অনুশীলনে নিজের অবস্থাটা শেষবারের মতো বুঝে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সিদ্ধান্তটা ‘না-বোধক’ হওয়ার আভাস মাশরাফির কথায়ও আছে, ‘১৩০-১৩৫ কিমি গতিতে বল করতে পারলে ভালো হতো। এখন সম্ভবত ১২৫-এর বেশি উঠছে না। একটু দুর্বলতাও অনুভব করছি। এ অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলা কঠিন। তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
ফিটনেস সমস্যার সঙ্গে স্ত্রী আর নবজাতক সন্তান নিয়েও কঠিন সময় পার করছেন মাশরাফি। শারীরিকভাবে কারও অবস্থাই এখনো পুরোপুরি ভালো নয়। এ অবস্থায় পরিবারকে সময় দেওয়াটাও জরুরি। কিন্তু সিরিজ খেললে থাকতে হবে দলের সঙ্গে হোটেলে। অসুস্থ স্ত্রী-সন্তান ফেলে সেটা মানসিকভাবে কতটা স্বস্তির হবে, ভেবে দেখতে হচ্ছে সেটিও। আর যদি থাকেনও, দলকে কি দিতে পারবেন শতভাগ? সবকিছু ভেবে মাশরাফি হয়তো কালকের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন বোর্ডকে।
তবে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন এর মধ্যেই। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলুন আর না-ই খেলুন, অস্ট্রেলিয়া গিয়ে এ মাসের মধ্যেই করে ফেলবেন হাঁটুর অস্ত্রোপচার। অস্ত্রোপচারের পর পুরোপুরি সুস্থ হতে ছয় থেকে আট মাস সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে আগামী জুলাই-আগস্টে জিম্বাবুয়ে সফর এবং এরপর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজটাও কাটাতে হবে মাঠের বাইরে বসে। যদি নভেম্বরের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, এ বছর তার জন্য অবশিষ্ট থাকবে কেবল ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ।
মাশরাফি অবশ্য সব হিসাব-নিকাশ করেই নিয়েছেন অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত, ‘অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। দু-এক দিনের মধ্যে বোর্ডকে সেটা জানাব। এ বছর খেলা একটু কম আছে, সে জন্যই চাচ্ছি সময়টা কাজে লাগাতে। এ মাসের ২০-২২ তারিখেও যদি অপারেশন করতে পারি, আশা করি, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটা খেলতে পারব।’
তাহলে আবার শুরু হচ্ছে মাশরাফির জন্য অপেক্ষা!

ধোনিতে মুগ্ধ গিলক্রিস্ট

অ্যাডাম গিলক্রিস্টের আইপিএল স্বপ্নযাত্রা এবার ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষে বড় বড় তারকারা যেখানে ভারতের ঘরোয়া এই টি-টোয়েন্টি আসরে ব্রাত্যজনে পরিণত সেখানে গিলক্রিস্টকে এবার নতুনভাবে কিনেছে প্রীতি জিনতার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এ আসরের নিলামে অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক মহাতারকা বিক্রি হয়েছেন নয় লাখ মার্কিন ডলারে। সৌরভ গাঙ্গুলি ও ক্রিস গেইল কিছুটা ঈর্ষান্বিত হলেও হতে পারেন। গত বছর ডেকান চার্জার্সকে চ্যাম্পিয়ন করার পুরস্কারটা খুব ভালোভাবেই পেয়েছেন গিলক্রিস্ট।
অস্ট্রেলিয়া দলকে কখনোই নেতৃত্ব দেননি। বরং প্রথমে স্টিভ ওয়াহ ও পরে রিকি পন্টিংয়ের অধীনে নির্ভার থেকেই খেলে গেছেন প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়া অজস্র ইনিংস। ব্যাটের পাশাপাশি উইকেট রক্ষার দস্তানা হাতে পড়ে দেশকে এনে দিয়েছেন একের পর এক ডিসমিসাল। একসময়ে শেন ওয়ার্নের সঙ্গে তাঁর জুটিটা তো ইতিমধ্যেই ক্রিকেটে কিংবদন্তিতে পরিণত।
নিজের সঙ্গে সাদৃশ্য বলেই কি না ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির দিকে সব সময়ই আলাদা দৃষ্টি ‘গিলি’র। তিনি বলেছেন, ‘ধোনির সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ, তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন।’ ধোনিকে তিনি একজন ‘দুর্দান্ত খেলোয়াড়’ ও ‘চিন্তাশীল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মহেন্দ্র সিং ধোনি যেকোনো চাপের মুখে দলের স্বার্থে দুর্দান্ত সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করেন গিলক্রিস্ট। ‘ধোনি কখনোই দলের স্বার্থে সাহসী সব সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয় না।’ গিলক্রিস্টের অভিমত।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ইনফর্ম যুবরাজ সিংকে পরে নামিয়ে ব্যাট হাতে ধোনির নিজেরই নেমে পড়াটাকে এমনই এক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন গিলক্রিস্ট। তাঁর মতে, ‘ফাইনালে ধোনি যদি ব্যর্থ হতো, তাহলে সে দারুণ সমালোচিত হতো। কিন্তু, সবকিছুকে উপেক্ষা করে দলের প্রয়োজনে একজন কান্ডারির মতোই সে আগে নেমেছে। আর নেমে সে কী করেছে, তা তো সবারই জানা।’
ফাইনালে ধোনি চাপের মুখে চ্যাম্পিয়ন স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনকে যেভাবে মোকাবিলা করেছেন, তাও গিলক্রিস্টের সপ্রশংস দৃষ্টি এড়ায়নি।
ধোনির বৃহস্পতিকে তুঙ্গে বলাই যায়, বিশ্বকাপ জিতলেন, গিলক্রিস্টের মতো তারকার স্তুতিও এখন তাঁর পিছু ছাড়ছে না।

ধোনিতে মুগ্ধ গিলক্রিস্ট

অ্যাডাম গিলক্রিস্টের আইপিএল স্বপ্নযাত্রা এবার ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষে বড় বড় তারকারা যেখানে ভারতের ঘরোয়া এই টি-টোয়েন্টি আসরে ব্রাত্যজনে পরিণত সেখানে গিলক্রিস্টকে এবার নতুনভাবে কিনেছে প্রীতি জিনতার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এ আসরের নিলামে অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক মহাতারকা বিক্রি হয়েছেন নয় লাখ মার্কিন ডলারে। সৌরভ গাঙ্গুলি ও ক্রিস গেইল কিছুটা ঈর্ষান্বিত হলেও হতে পারেন। গত বছর ডেকান চার্জার্সকে চ্যাম্পিয়ন করার পুরস্কারটা খুব ভালোভাবেই পেয়েছেন গিলক্রিস্ট।
অস্ট্রেলিয়া দলকে কখনোই নেতৃত্ব দেননি। বরং প্রথমে স্টিভ ওয়াহ ও পরে রিকি পন্টিংয়ের অধীনে নির্ভার থেকেই খেলে গেছেন প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়া অজস্র ইনিংস। ব্যাটের পাশাপাশি উইকেট রক্ষার দস্তানা হাতে পড়ে দেশকে এনে দিয়েছেন একের পর এক ডিসমিসাল। একসময়ে শেন ওয়ার্নের সঙ্গে তাঁর জুটিটা তো ইতিমধ্যেই ক্রিকেটে কিংবদন্তিতে পরিণত।
নিজের সঙ্গে সাদৃশ্য বলেই কি না ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির দিকে সব সময়ই আলাদা দৃষ্টি ‘গিলি’র। তিনি বলেছেন, ‘ধোনির সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ, তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন।’ ধোনিকে তিনি একজন ‘দুর্দান্ত খেলোয়াড়’ ও ‘চিন্তাশীল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মহেন্দ্র সিং ধোনি যেকোনো চাপের মুখে দলের স্বার্থে দুর্দান্ত সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করেন গিলক্রিস্ট। ‘ধোনি কখনোই দলের স্বার্থে সাহসী সব সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয় না।’ গিলক্রিস্টের অভিমত।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ইনফর্ম যুবরাজ সিংকে পরে নামিয়ে ব্যাট হাতে ধোনির নিজেরই নেমে পড়াটাকে এমনই এক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন গিলক্রিস্ট। তাঁর মতে, ‘ফাইনালে ধোনি যদি ব্যর্থ হতো, তাহলে সে দারুণ সমালোচিত হতো। কিন্তু, সবকিছুকে উপেক্ষা করে দলের প্রয়োজনে একজন কান্ডারির মতোই সে আগে নেমেছে। আর নেমে সে কী করেছে, তা তো সবারই জানা।’
ফাইনালে ধোনি চাপের মুখে চ্যাম্পিয়ন স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনকে যেভাবে মোকাবিলা করেছেন, তাও গিলক্রিস্টের সপ্রশংস দৃষ্টি এড়ায়নি।
ধোনির বৃহস্পতিকে তুঙ্গে বলাই যায়, বিশ্বকাপ জিতলেন, গিলক্রিস্টের মতো তারকার স্তুতিও এখন তাঁর পিছু ছাড়ছে না।

শ্রীলঙ্কান নির্বাচকদের পদত্যাগ

অল্পের জন্য বিশ্বকাপ ঘরে ওঠেনি, শ্রীলঙ্কা পেয়েছে রানারআপের মর্যাদা। লঙ্কানদের বিশ্বকাপ অভিযানের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। এর পরও আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে। আগের দিন নাটকীয়ভাবে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা। আজ সরে দাঁড়িয়েছেন সহ-অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে। দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন শ্রীলঙ্কান নির্বাচকেরাও।
অরবিন্দ ডি সিলভার নেতৃত্বের নির্বাচক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ এপ্রিল। কিন্তু আগে-ভাগেই পদত্যাগের কারণ হিসেবে এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ক্রিকেটের স্বার্থে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে নতুন নির্বাচকদের সুযোগ করে দিতেই পদত্যাগ করেছেন নির্বাচকেরা।
শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পেশ করা পদত্যাগপত্রে প্রধান নির্বাচক অরবিন্দ ডি সিলভা লিখেছেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমাদের লক্ষ্য ছিল, আরও সুসংহত একটা দল উপহার দেওয়া। দেশবাসীকে বিশ্বকাপ এনে দিতে না পারায় আমরা চরমভাবে হতাশ। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেও আমরা যে লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়েছি, এতেই খুশি আমরা।’

কলিংউডের আইপিএল শেষ!

আইপিএলের দামামা ইংলিশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক পল কলিংউডের জন্য দুঃসংবাদ নিয়েই এসেছে। অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘ অ্যাশেজ সফর এবং বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও বন্ধুর যাত্রার পর তিনি খেলতে পারছেন না এ লোভনীয় ও আকর্ষণীয় আসরে।
ডান হাঁটুর ইনজুরি তাঁর আইপিএল স্বপ্নকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। জানা গেছে, অবিশ্রান্ত ক্রিকেটের পর এই ইংলিশ অলরাউন্ডার আক্রান্ত হয়েছে অস্থিতন্তুর ইনজুরিতে। এবং এই ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে একটি অস্ত্রোপচার অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
ইংলিশ ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের মহাব্যবস্থাপক (যোগাযোগ) অ্যান্ড্রু ওয়ালপোলের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিকেল স্টাফদের পরামর্শ অনুযায়ী কলিংউড অতিদ্রুত তাঁর ডার হাঁটুর অস্থিতন্তুর অস্ত্রোপচার করাবেন। এ কারণে, তাঁকে বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে বিশ্রামে কাটাতে হবে। এতে আইপিএলের চতুর্থ আসরে তাঁর খেলার সম্ভাবনা এক অর্থে শেষই হয়ে গেছে। পুরো ব্যাপারটিই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজ রাজস্থান রয়েলসের ম্যানেজমেন্টকে।
ইনজুরির কারণে কলিংউডের আইপিএল অভিযানের অপমৃত্যু এ আসরকে ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য ‘অপয়া’ করেই তুলছে। কারণ, এর আগে ডেকান চার্জার্সের ‘বহুমূল্য’ কেভিন পিটারসেন হার্নিয়া সমস্যার কারণে আইপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে সুরক্ষা দেওয়াই উদ্দেশ্য!

বিশ্বকাপের পরিধি কমিয়ে ১০ দলে নামিয়ে আনায় সমালোচনা চলছে। কেউ বলছে আইসিসির এই সিদ্ধান্ত ‘লজ্জাকর’, আর কেউ বলছেন হাস্যকর। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য ‘রহস্য’ খুঁজে পেয়েছেন ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান রুডি স্মিথ। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মতো দলকে সুরক্ষা দিতেই সহযোগী দেশগুলোকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
‘আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর চেয়ে অস্ট্রেলিয়া, ভারতের মতো দল স্পষ্টত এগিয়ে, এ নিয়ে বিতর্ক করবে না কেউ। তবে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর তলানির দিকে থাকা বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে, এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সহযোগী দেশগুলোর চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে নেই। মূলত এই দলগুলোকে সুরক্ষা দিতেই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি’—বিবিসি রেডিও স্কটল্যান্ডকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন স্মিথ।
সহযোগী দেশগুলোর কল্যাণে রুডি স্মিথের প্রস্তাব, সহযোগী দেশগুলোকে নিয়ে একটা মিনি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে আইসিসি। এখান থেকে দুই ফাইনালিস্টকে অন্তত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।