Sunday, April 17, 2016

নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে, থানায় স্বজনদের জিডি

সাভারে রানা প্লাজা থেকে উদ্ধার করা ২৯১ মৃতদেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। অথচ নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ছে।দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভবনধসের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা এখনো সাভার ছাড়েননি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য জানতে তাঁরা ঘটনাস্থলসহ সাভার উপজেলা পরিষদে এসে ভিড় করছেন। নিখোঁজদের সন্ধান পেতে অনেকে সাভার মডেল থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করছেন।গত ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এর পর থেকে স্বজনদের অপেক্ষায় হন্যে হয়ে ঘুরেছেন শত শত লোক। একপর্যায়ে মর্গ-হাসপাতাল আর ঘটনাস্থলেও স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে তাঁরা ঠাঁই নেন সাভার অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে। ওই বিদ্যালয়ের মাঠেই প্রথম লাশ আনা হয়েছিল। বিদ্যালয়ে স্থাপিত জেলা প্রশাসনের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকেই শনাক্ত মৃতদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার অভিযান শেষে ১৪ মে অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ গুটিয়ে ফেলা হয়। এর পর থেকে উপজেলা পরিষদে গিয়ে ভিড় করছেন সবাই। স্বজনদের দাবির মুখে উপজেলা প্রশাসন থেকে নতুন করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করা হয়।সাভার উপজেলা প্রশাসন গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩১৬ জন নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা তৈরি করেছে। এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আর গতকাল বুধবার রাত সোয়া নয়টা পর্যন্ত জিডি হয়েছে ৮৭টি। এর মধ্যে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৩৪টি জিডি নথিভুক্ত করা হয় সাভার থানায়।নিখোঁজ ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনেরা মনে করছেন, থানায় জিডি করলে অন্তত একটি প্রমাণ থাকবে, যা পরবর্তী সময়ে কাজে লাগবে।থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক তাহমিনা বেগম বলেন, গত সোমবার থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জিডি নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পর থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৮৭টি জিডি হয়েছে। আরও অনেকেই জিডি করার জন্য থানায় এসে ভিড় করছেন।ধসে পড়া রানা প্লাজার তৃতীয় তলার নিউ ওয়েব বটমস লিমিটেডে কাজ করতেন জামালপুরের ইসলামপুরের সহিজল মিয়ার মেয়ে নার্গিস আক্তার (২০)। ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। হাসপাতাল, মর্গ ও অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে খোঁজাখুঁজি করে মেয়ের মৃতদেহের সন্ধান না পেয়ে তিনি গতকাল সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (নম্বর-১০৭৬) করেন।
সহিজল মিয়া প্রথম আলোকে অভিযোগ করে বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন। তাঁদের স্বজনদের বকেয়া বেতনসহ কোনো সাহায্য দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা থানায় জিডি করছেন। এতে অন্তত একটি প্রমাণ রয়ে গেল।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গন্ডফা গ্রামের আজিজুল হকের মেয়ে রেখা খাতুনকে না পেয়ে তাঁর মা মর্জিনা বেগম গতকাল সাধারণ ডায়েরি করেন সাভার মডেল থানায়। এর আগে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে নিখোঁজের তালিকায় নাম তুলে আসেন।
মর্জিনা বেগম বলেন, ‘কত জায়গায় তো নাম লেখাইলাম। ঢাকায় গিয়া রক্তও দিয়া আইলাম। তাঁর পরেও আমার মেয়েরে পাইলাম না। লাশটা পাইলেও মনেরে বুজাইবার পারতাম, তাও পাইলাম না। এহন জিডি করলাম, দেহি পুলিশ কী করে।’
জয়পুরহাটের নিখোঁজ মাহেদুলের মা ফেরদৌসি বেগম বলেন, ‘থানা-পুলিশ ও উপজেলায় নাম লেহাইয়াও যদি আমার বাবার লাশ না পাই, তয় আমিও সাভারেই লাশ অইয়া যামু।’ তিনি রানা প্লাজার সামনে গিয়েও ভবনমালিক সোহেল রানাকে অভিশাপ দেন, তাঁর বিচারের দাবি করেন।
গতকাল সন্ধ্যায় নিখোঁজ মেয়ে আসমাকে খুঁজে পেতে থানায় জিডি করতে এসে মা ঝিনাইদহের বেবি খাতুন থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা তাহমিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মা, আমার মরা মেয়াডারে খুঁইজা বাইর করাবার চেষ্টা কইরো। আল্লাহ তোমাগো ভালো করবো।’আসমা কাজ করতেন রানা প্লাজার পোশাক কারখানায়। তাঁর ছোট বোন ময়নার স্বামী হান্নানও কাজ করতেন তাঁর সঙ্গে। ১৩ দিন পর হান্নানের গলিত মৃতদেহ পাওয়া গেলেও আসমার কোনো খোঁজ মেলেনি।সাভার উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে, রানা প্লাজার ভবনধসের পর জীবিত ও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তিন হাজার ৫৫৩ জনকে। এর মধ্যে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক হাজার ১১৫ জনকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ১২ জন। স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ৮৩৬টি মৃতদেহ। অবশিষ্ট ২৯১টি মৃতদেহ অশনাক্ত হিসেবে দাফন করা হয়েছে জুরাইন কবরস্থানে।সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, উপজেলায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের যে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, তা ডিএনএর তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। চূড়ান্ত তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে, তাঁদের পরিবারই সহায়তা পাবে।পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, রানা প্লাজার নিচে শতাধিক দোকান ছিল। দোকানগুলোতে অনেক কর্মচারী থাকতেন। তা ছাড়া সেদিন ভবনের নিচতলায় মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল। ভবনধসে তাঁদের অনেকেই মারা গেছেন। তাঁরাই হয়তো নিখোঁজ।শহিদউল্লাহ আজিম আরও বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেয়েছি। বিমা কোম্পানি ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তালিকাটি করা হয়েছে। তার পরও কোনো শ্রমিক নিখোঁজ থাকলে বিজিএমইএর তরফ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হবে। অশনাক্ত সব লাশের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। বিজিএমইএ কর্মকর্তারা সেটিও নজরদারি করছেন।

দরিদ্রবান্ধব-উৎপাদন-কর্মসংস্থানমুখী বাজেট চায় সিপিডি

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আগামী বাজেট হওয়া উচিত দরিদ্র ও দুস্থবান্ধব, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী, বৈশ্বিক পরিস্থিতি সচেতন ও সংস্কারমুখী। আগামী বাজেটকে সামনে রেখে আজ রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নতুন অর্থবছরের (২০১৬-১৭) বাজেট কেমন হওয়া উচিত—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। অর্থাৎ, বাজেটে গরিবের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকতে হবে। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সংস্কারের ব্যবস্থাও রাখতে হবে আগামী বাজেটে। এ ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির কোনো অভিঘাত যাতে হঠাৎ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত হানতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার কথা বলেছে সিপিডি। এতে সিপিডির লিখিত সুপারিশগুলো তুলে ধরেন অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এ সময় সিপিডির গবেষণা দলের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সিপিডি বলছে, বাজেটের আকার বাড়ানোর চেয়ে বাজেট কাঠামোর গুণগত মান বাড়ানোর দিকে বেশি নজর দিতে হবে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে দাবি সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে, সেটিকে টেকসই রূপ দিতে হবে। বাজেট বাস্তবায়ন ও প্রাক্কলনের মধ্যে ঘাটতি বা তারতম্য ক্রমেই বাড়ছে। এটি হচ্ছে মূলত প্রাক্কলিত অর্জনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রাক্কলন করার ফলে। তাই সিপিডি মনে করছে, বাজেটের প্রাক্কলনের ভিত্তি হওয়া উচিত বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও বাস্তবতার নিরিখে।সিপিডি মনে করে, বর্তমান বাজেট কাঠামোতে সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে দেখা যাচ্ছে, একদিকে মানুষের আয় বাড়ছে আবার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, অথচ আয়কর আদায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সাধারণ নিয়মে আয় বাড়লে তার সঙ্গে সংগতি রেখে আয়কর আদায়ও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।

রাজনীতিতে হঠাৎ অস্থিরতা by সাজেদুল হক

এক জায়গায় এসে স্থির দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি। ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বিরোধীদের শোরগোল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আগেই। সরকারও ধরপাকড়ে কিছুটা লাগাম টেনেছিল। একে একে জামিন পাচ্ছিলেন বিরোধী প্রভাবশালী নেতারা। বিএনপি ইউপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত আর সরেনি। এক দিনে আদালতে হাজির হয়ে ৫ মামলায় জামিন পান খালেদা জিয়া। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নামও ঘোষণা হতে শুরু হয় ধীরে ধীরে। এরইমধ্যে মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব আর সাংগঠনিক সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কমিটিতে তরুণ নেতাদেরই প্রাধান্য দিয়েছেন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগের মহানগর কমিটিতেও প্রাধান্য পায় নতুন নেতৃত্ব।
কিছু সামাজিক ইস্যুতে তোলপাড় তৈরি হলেও সরকার তা ভালোভাবেই সামাল দিতে সক্ষম হয়। বাঁশখালীর ঘটনা দক্ষতার সঙ্গে ট্যাকল করে প্রশাসন। ইলিশের ভিড়ে হারিয়ে গেছে তনু হত্যাকাণ্ড ইস্যুটিও। এ অবস্থাতেও দুটি বিষয় অনেকের মাথা ব্যাথা তৈরি করে। ১. ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়। বিশেষ করে ক্রাইসিস গ্রুপের রিপোর্ট পশ্চিমা দেশগুলোর নীতিগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢাকায় চাউর আছে, জেনারেল মইন রাষ্ট্রক্ষমতা নিতে চাইলেও ক্রাইসিস গ্রুপের নেতিবাচক রিপোর্টের কারণেই তা নিতে সক্ষম হননি। ২. বিএনপি সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে উঠুক তাও অনেকে দেখতে চান না। মূলত এ দুটি বিষয়কে সামনে রেখেই নতুন করে বিরোধীদের ওপর ক্র্যাকডাউন শুরু হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এমএ মান্নান সুপ্রিম কোর্টের আদেশে মেয়র পদে ফেরার সুযোগ পেলেও তাকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাড়িতে অগ্নিসংযোগের তাজা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও প্রথমে বলা হয়েছিল, ওই গাড়িতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লেগেছে। প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেপ্তার বিরোধী শিবিরে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। প্রখ্যাত এই সাংবাদিক অনেকদিন ধরেই বিএনপিকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছিলেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয় দেখভাল করছিলেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে বিএনপির পক্ষ থেকে যারাই কূটনীতিকদের সঙ্গে সংযোগের কাজ করছিলেন তাদের কারও কারও ওপর হামলা হয়েছে। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাপের মুখে কেউ কেউ বিএনপি ত্যাগও করেছেন। এরই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ শিকার হতে পারেন শফিক রেহমান।
৮২ বছর বয়স্ক শফিক রেহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে খ্যাতিমান সাংবাদিকদের একজন। তিনি বিবিসিতে কাজ করেছেন। টিভি উপস্থাপক হিসেবেও পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। তবে শফিক রেহমানের সবচেয়ে বেশি পরিচিতি সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেই। এরশাদের জমানায় বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল পত্রিকাটি। একইসঙ্গে ঝড় তুলেছিলেন শফিক রেহমান। তাকে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়। প্রবীণ এ সাংবাদিককে রিমান্ডে নেয়া অনেকেই মধ্যে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। বিএনপির পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং সাংবাদিক শওকত মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরেই কারাগারে আটক রয়েছেন। এক মামলায় জামিন হলে তাদের আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এরইমধ্যে খবর চাউর হয়েছে, বিরোধী শিবিরের ওপর আরেক দফা ক্র্যাকডাউন চালানো হবে। বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী এবং দলটিকে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকেন তাদেরকেও গ্রেপ্তারের বাইরে রাখা হবে না। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য। বিরোধীরা ভয়ে থাকলে শাসনে সুবিধা হয়।

মিডল্যান্ড ব্যাংক ও নির্বাচন কমিশনের চুক্তি

মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। ১১ এপ্রিল ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এ চুক্তি হয়। চুক্তির ফলে এখন থেকে মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ডেটাবেইস ব্যবহার করে গ্রাহকদের দাখিলকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপির সঠিকতা যাচাই করতে পারবে। মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. আহসান-উজ জামান এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দিন।

মিডল্যান্ড ব্যাংক ও নির্বাচন কমিশনের চুক্তি

মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। ১১ এপ্রিল ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এ চুক্তি হয়। চুক্তির ফলে এখন থেকে মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ডেটাবেইস ব্যবহার করে গ্রাহকদের দাখিলকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপির সঠিকতা যাচাই করতে পারবে। মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. আহসান-উজ জামান এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দিন।

স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে লিডসের কর্মশালা

‘আমাদের পরিবেশ আমাদের সম্পদ’ বিষয় নিয়ে তৃতীয় পর্যায়ে ৯ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা লিডস আয়োজিত এ কর্মশালায় আর্থিক সহায়তা দেয় এনভয় গ্রুপ। ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলসহ ঢাকা শহরের কিছু স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। স্বনামধন্য নাট্যকার ইনামুল হক, লিডসের চেয়ারম্যান এ এস এম কবির, নির্বাহী পরিচালক রুমিনা দেওয়ান এতে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন।

চীনের ক্যান্টন ফেয়ারে ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন

চীনের গুয়াংজু প্রদেশে গত শুক্রবার শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী ১১৯তম আন্তর্জাতিক ক্যান্টন ফেয়ারে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছে ওয়ালটন গ্রুপ। এ জন্য ওয়ালটনের ২৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এখন রয়েছে চীনে। মেলায় ওয়ালটনের মেগা প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ওয়ালটন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, রিচার্জেবল ফ্যান, ইলেকট্রিক সুইস, সকেট, ইন্ডাকশন কুকার, ব্লেন্ডারসহ অন্যান্য পণ্য। দুই শতাধিক দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা ক্যান্টন ফেয়ারে যান। ক্যান্টন ফেয়ার বা চীনা আমদানি-রপ্তানি মেলা দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গুয়াংজু প্রদেশে ৫৯ বছর ধরে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মুনাফা কমলেও ঋণের গুণগত মান বেড়েছে

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য
দেন প্রাইম ব্যাংকের এমডি আহমেদ কামাল খান চৌধুরী
বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক ২১ পেরিয়ে আজ রোববার ২২ বছরে পা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠার আরেকটি বছর পেরিয়ে এসে বেসরকারি খাতের এই ব্যাংক এখন চাইছে, ঋণ বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে। পাশাপাশি শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনে ঋণ মান পরিস্থিতিও উন্নত পর্যায়ে রাখতে চায় ব্যাংকটি। ২০১৫ সাল শেষে প্রাইম ব্যাংকের শ্রেণীকরণ ঋণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ শতাংশে। ২১ বছর পেরিয়ে ২২ বছরে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে প্রাইম ব্যাংক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ কামাল খান চৌধুরী। এ সময় তিনি ব্যাংকটির দীর্ঘ যাত্রায় অর্জিত বিভিন্ন সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। রাজধানীর মতিঝিলের একটি হোটেলে গতকাল শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির পাঁচজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে করপোরেট, এসএমই ও রিটেইল ঋণের জন্য পৃথক ইউনিট গঠন করেছে প্রাইম ব্যাংক। এর মাধ্যমে ঋণ তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গত বছর ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা আগের বছরের চেয়ে কমলেও ঋণের গুণগত মান উন্নত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমডি আহমেদ কামাল খান চৌধুরী বলেন, ১৯৯৫ সালের ১৭ এপ্রিল ‘একটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাংক’ স্লোগান নিয়ে প্রাইম ব্যাংক যাত্রা শুরু করেছিল। গত ২১ বছরে সৃজনশীল নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই প্রমাণও রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে ১০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রাইম ব্যাংকের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২৯ কোটি টাকা। গত বছর ব্যাংকের মুনাফা কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে আহমেদ কামাল খান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত বছর অনেক ভালো গ্রাহকও খেলাপি হয়ে পড়েছেন। এসব ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে ব্যাংকের মুনাফা কিছুটা কমেছে। তবে এ সময়ে ঋণের গুণগত মান আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আজ রোববার
সকালে আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ
জজ আদালত-৩-এ এই মামলার বিচারকাজ চলছে
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আজ রোববার আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালেদা জিয়া আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। তাঁর আগমনের আগেই আদালতে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৩-এ এই মামলার বিচারকাজ চলছে। ৭ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার। ওই নির্দেশ অনুযায়ী আজ আদালতে হাজির হলেন খালেদা জিয়া। ৭ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হননি। তাঁর পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

হেলে পড়া ভবনে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম

ভূমিকম্পে হেলে পড়া চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার সিদ্দিক
শপিং কমপ্লেক্স (ডানে)। ঝুঁকি উপেক্ষা করে ভবনটির
বেশির ভাগ দোকান গতকাল বিকেলে খোলা ছিল
ভূমিকম্পে হেলে পড়া চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট এলাকার বহুতল ভবন সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্সে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলছে। ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তবে এ অবস্থাকে নিরাপদ মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প প্রকৌশল গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, হেলে পড়া ভবনগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থেই আপাতত অবস্থান করা উচিত হবে না। ভবনগুলো ঝুঁকিমুক্ত কি না, এ-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সবার অপেক্ষা করা উচিত। গত বুধবার রাতের ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় একটি, নিউমার্কেট এলাকায় দুটি, এনায়েতবাজারে একটি, হালিশহর আবাসিক এলাকায় একটি, ওয়াসা মোড়ে একটি, ঝাউতলায় একটি, জিইসি মোড়ে একটি ও রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভবন হেলে পড়ে। এই নয়টি ভবনের মধ্যে আবাসিক তিনটি, বাণিজ্যিক পাঁচটি ও একটি ভবনে কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। ভবনের নিচতলায় জুতার দোকানে কেনাকাটা করতে দেখা যায় ক্রেতাদের। শো প্যালেসের মালিক আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভূমিকম্পে এই ভবনের কিছুই হয়নি। কোনো সমস্যা থাকলে আমরা কি এখানে ব্যবসা করতাম?’ হেলে পড়া ভবনে ব্যবসা করতে কোনো আতঙ্ক কাজ করছে কি না—জানতে চাইলে অ্যাডিডাস শুজের মালিক আবদুর রহিম বলেন, ‘না, এই ভবনে কোনো ঝুঁকি নেই।’ স্ত্রীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আসিফ হোসেন বলেন, এই মার্কেট ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। ভূমিকম্পে নগরের এনায়েতবাজার এলাকায় পাঁচতলা ও তিনতলাবিশিষ্ট দুটি ভবন একটি অপরটির সঙ্গে লেগে গেছে। তিনতলা ভবনের নিচতলায় স্যানিটারি দোকান, দোতলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও তৃতীয় তলায় বাসাবাড়ি রয়েছে। পাঁচতলা ভবনে ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। তিনতলা ভবনের মালিক মোহাম্মদ জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, আগে থেকেই ভবন দুটি জোড়া লাগানো অবস্থায় আছে। এই ভবনের নিচতলার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ মাসুদ ও মো. মোস্তাফিজ বলেন, ‘ঝুঁকি থাকলে তো দোকান খুলতাম না।’ পাঁচতলা ভবনে থাকা একটি বিমা কোম্পানির শাখা ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভূমিকম্পে ভবনগুলো হেলে পড়েছে বলে মনে হয় না।’ তাঁর কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের মধ্যে কোনো ভীতি নেই বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অথরাইজড কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম প্রথম আলোকে বলেন, চুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল হেলে পড়া ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এরপর সেখানে লোকজন থাকতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ রোববার সিডিএর সঙ্গে চুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

রানি এলিজাবেথের জন্মদিনের কেক বানাচ্ছেন নাদিয়া

নাদিয়া হোসেইন
ব্রিটিশ বেকিংয়ের চ্যাম্পিয়ন হয়ে খ্যাতি কুড়িয়েছেন এরই মধ্যে। এবার রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৯০তম জন্মদিনের কেক বানানোর ডাক পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়া হোসেইন। খবরটা নিজেই প্রকাশ করেছেন তিনি। বিবিসি টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’ প্রতিযোগিতায় গত বছর চ্যাম্পিয়ন হন নাদিয়া। গত ৭ অক্টোবর ওই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। নাদিয়া হোসেইন জানান, রানির জন্য তিনি একটি কমলা রঙের ঝুরঝুরে কেক তৈরি করবেন। সেটি করা হবে কমলা দধি ও কমলা মাখন দিয়ে। এ খবর জানিয়ে আইটিভির লুজ উইমেনকে নাদিয়া বলেন, রানির জন্য বানানো সেই কেকের স্বাদ-গন্ধ হবে ‘একেবারে লেবুর মতো’। তিনি প্রথমে একটি ফলের কেক বানানোর চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু পরে ভাবেন একটা ভিন্ন কিছু করা দরকার। আগামী বৃহস্পতিবার রানির ৯০তম জন্মদিনে উইন্সডর ক্যাসলের গিল্ড হলে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে নাদিয়ার তৈরি কেকটি।

আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে শফিক রেহমান গ্রেপ্তার: জয়

সজীব ওয়াজেদ জয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে সজীব ওয়াজেদ তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক শফিক রেহমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশ তাঁকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে সকালে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সজীব ওয়াজেদ তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘কত হরহামেশা আপনি এমন কোন লোককে পাবেন যে আপনাকে হত্যার চেষ্টা করছে? আমার ক্ষেত্রে, আপাতদৃষ্টিতে আমার জানার বাইরেও এটা প্রায়শই হচ্ছে। আমি অপরাধী বা কোন খারাপ মানুষও নই যে এমনটা হবে। এটা শুধু এ জন্য ঘটছে যে আমার মা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আছেন এবং আমি সময়ে সময়ে তাঁকে সাহায্য করি। এটা এ জন্যও যে আমাদের বিরোধী দল যারা বিশেষত সহিংস অপরাধমূলক কাজে নিমজ্জিত এবং দেশের শীর্ষ মৌলবাদী দল যারা সরাসরি আইএসআইএসের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সঙ্গে জোটভুক্ত।’ সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘অন্য প্রসঙ্গে আসি। যুক্তরাষ্ট্রে আমাকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সিনিয়র সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা শফিক রেহমানকে আজ আমাদের সরকার গ্রেপ্তার করেছে। একজন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতার ছেলে, একজন সাবেক এফবিআই এজেন্ট এবং এই দুজনের অন্য একজন আমেরিকান বন্ধু; এরা সবাই এই ষড়যন্ত্রের কারণে সাজা ভোগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের প্রেস রিলিজ থেকে আপনি এই মামলার বিষয়ে সরাসরি পড়তে পারবেন। ‘‘খ্যাতিমান’’ অংশটির বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই কিন্তু সেখানে উল্লেখ করা ‘‘বাংলাদেশের নাগরিক’’ হচ্ছি আমি।’ সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘“সাংবাদিক” শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি সরাসরি এ মামলা থেকে এসেছে। লক্ষ্য করুন, আমি সাংবাদিক শব্দটি উদ্ধৃত করেছি কারণ, যখন আপনি অপহরণ ও হত্যার চেষ্টায় যুক্ত হবেন তখন আমার বিশ্বাস আপনি আপনার পেশার ধরন পরিবর্তন করে সাংবাদিক থেকে অপরাধী হয়ে গিয়েছেন। বিএনপি এসব কাজের জন্য একটি মধ্যবর্তী পেশার কার্যধারা পরিচালনা করে।’ এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

ইলিয়াস–আনসার ফিরবেনই বিশ্বাস দুই পরিবারের by তানভীর সোহেল ও উজ্জ্বল মেহেদী

একদিন ঠিকই পরিবারের কাছে ফিরবেন বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী। বনানী থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার চার বছর পরও এই বিশ্বাসে চিড় ধরেনি ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও আনসারের স্ত্রী মুক্তা বেগমের। আশায় বুক বেঁধে স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। তিন সন্তানকে নিয়ে তাহসিনা থাকেন ঢাকার বনানীতে। আর এক সন্তান এবং স্বামীর মা ও ভাইবোনদের নিয়ে মুক্তা থাকেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের গমরাগুল গ্রামে। চার বছর আগে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট) ইলিয়াস আলী নিজ বাসায় যাওয়ার পথে বনানী থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর সঙ্গে গাড়িচালক আনসারও নিখোঁজ হন। আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলেও একই এলাকার হওয়ায় ইলিয়াসকে চাচা বলে ডাকতেন আনসার। ইলিয়াসও তাঁকে ভাতিজা বলে ডাকতেন। সম্প্রতি বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন কোনো পদে নেই ইলিয়াস আলী। ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার। গতকাল শনিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বামী ফিরে আসবেন, এটা তিনি বিশ্বাস করেন। ইলিয়াস আলীর এলাকার মানুষও এটা বিশ্বাস করে। তিনি এ-ও বলেন, ‘বাস্তব পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন, অনেকের কাছে অনেক কিছু মনে হতে পারে, তবে বিশ্বাস করি একদিন না একদিন সে ফিরবেই।’ ৩২ বছরের যুবক আনসার টানা ২০ বছর ইলিয়াস ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। দুই বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আনসারের স্ত্রী মুক্তা বেগম তাঁর গ্রামের একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘যেখানেই আছেন আনসার, ইলিয়াসের সঙ্গেই আছেন। তাঁরা জীবিত আছেন, একদিন ঠিকই ফিরবেন।’ ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তাঁর স্ত্রী। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে ইলিয়াসের খোঁজ চেয়ে রিটও করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে পুলিশ কয়েকবার প্রতিবেদন দিয়েছিল। এখন কী অবস্থায় আছে, সে খবর আর রাখেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘মামলা তো পুলিশ নিল না। এখন জানি না পুলিশের অগ্রগতি কী?’
ইলিয়াস ও তাঁর গাড়িচালকের নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করে বনানী থানা-পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ২৪টি তদন্ত প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে দাখিল করেন থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম। যদিও এসব প্রতিবেদনে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার আগের অবস্থান ও গাড়ির বিবরণগুলো ঘুরেফিরে এসেছে। বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়াহিদুজ্জামান গতকাল বলেন, এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। ওই প্রতিবেদনগুলোর পর আর কোনো প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য নেই। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্তের ফাইল তাঁর কাছে আসেনি। ইলিয়াসের কাজগুলোও করছেন তাহসিনা: বনানী সিলেট হাউসের সবকিছু আগের মতোই আছে। নেই শুধু ইলিয়াস আলী। বাড়ির নিচের তলায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর। এর আগে এটি ছিল না। চাকরি, তিন ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খবর রাখা, সম্পত্তি দেখাশোনো করতে হয় তাহসিনাকে। এত কিছুর পরও ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা ও গ্রামের বাড়িতে যেতে ভুল করেন না। গত সপ্তাহেও এই এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। থানার কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তাঁর ভূমিকা থাকছে। সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না হলেও ইলিয়াসের নির্বাচনী এলাকার সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। অবশ্য সেখানকার নেতা-কর্মীরাও ইলিয়াসের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রীকে সবকিছুতে ডাকেন। তাহসিনা রুশদীর বললেন, ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিতই যান তিনি। সেখানকার নেতাদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখেন। তাঁরা কাউন্সিল, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজে অংশ নিতে বলেন। যেহেতু এগুলো ইলিয়াস আলীর কাজ, তাই তাঁর সাময়িক অনুপস্থিতিতে সেগুলো করেন। ইলিয়াসের দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে আবরার ইলিয়াস যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি কলেজে আইন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ছোট ছেলে লাবিব সারার এইচএসসি পাস করেছেন। একমাত্র মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। আনসারের মুঠোফোনে এখনো ফোন করেন স্ত্রী: আনসার আলীর বাবা নেই। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। পরিবারে মা, স্ত্রী, ভাইবোন ছাড়াও রয়েছে তাঁর একমাত্র কন্যাসন্তান। নিখোঁজ হওয়ার সময় মেয়ে মারিয়া মাহজাবিনের বয়স ছিল তিন বছর, সে এখন সাত। প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে সে। আনসারের মা নূরজাহান বেগম (৬০) বলেন, তাঁর ছেলের বেতনের টাকা প্রতি মাসে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দেন। চার বছর ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। এ টাকা আর ছেলের বউয়ের শিক্ষকতার বেতনে চলে সংসার। সংসারে অভাব, টানাপোড়েনের চেয়ে আনসারের কোনো খোঁজ না পাওয়াই স্ত্রী ও মায়ের কাছে সবচেয়ে কষ্টের। স্ত্রী মুক্তা বেগম বলেন, গাড়িচালকের চাকরি পাওয়ার পর আনসার ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্বামী নেই, বিষয়টি মানতে নারাজ তিনি। বললেন, হয়তো সরকার বদল হলে তাঁদের খোঁজ মিলবে। মুক্তা বলেন, প্রায়ই তিনি আনসার আলীর মুঠোফোনে ফোন দেন। কখনো বন্ধ আবার কখনো খোলা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘গত পরশু আমার ননদ ফোন দিছইন। আমরা সবাই হুনছি রিং অয়রও, পরে আরেকবার কল দিয়া বন্ধ পাইছি।’
আর মায়ের বিশ্বাস, ‘একটা ঝড়ে আমার পুতরে নিছে। আরেকটা ঝড়ে ফিরাইয়া দিব,এই বিশ্বাস আমার আছে, থাকবই।’

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক চার মাসের বেশি নিখোঁজ

মো. আবদুল হান্নান
‘তোমার সন্তানদের তুমি ভালোবাসো না? ওদের জন্য হলেও তো তোমাকে বাঁচতে হবে।’ গত ৭ ডিসেম্বর নিখোঁজ হওয়ার আগে স্বামী মো. আবদুল হান্নানের সঙ্গে আফরোজা সুলতানার এই ছিল শেষ কথা। সেদিনই তেজগাঁও কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এই সহসভাপতি নিখোঁজ হন। চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আবদুল হান্নানের খোঁজ মেলেনি। মন্ত্রী-দলীয় সহকর্মী-কর্মস্থল-পুলিশ—কারও কাছ থেকে স্বামীর সন্ধান পাননি আফরোজা। ৭ ডিসেম্বর আবদুল হান্নান ট্রাউজার ও ফুলশার্ট পরে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। ইন্দিরা রোডে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষকদের আবাসিক ভবনে সপরিবারে থাকতেন তিনি। স্ত্রী আফরোজাও একই কলেজের শিক্ষক। যাওয়ার আগে মুঠোফোনটি বাসায় রেখে যান আবদুল হান্নান। সকালে দুই সহকর্মী তাঁকে চন্দ্রিমা উদ্যানের দিকে যেতে দেখেছেন। এর বেশি আর কোনো তথ্য পরিবারের কাছে নেই। আবদুল হান্নান নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর ৮ ডিসেম্বর আফরোজা সুলতানা শেরেবাংলা নগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। গতকাল শনিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডায়েরি করার পর থেকে আমিই থানায় ফোন করে খবর নিয়েছি কোনো খোঁজ আছে কি না। র্যাব-২-এ অভিযোগ করেছি। কোনো দিন পুলিশ বা র্যাবের পক্ষ থেকে কেউ এসে আমার সঙ্গে কথা বলেনি।’ তেজগাঁও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় সাংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আফরোজা একাধিকবার তাঁর কাছেও গেছেন বলে জানান। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোপাল গণেশ বিশ্বাস গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। তবে আমরা জেনেছি, উনি প্রায়ই এ রকম বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন।’ আফরোজা যাঁদের কাছে যাচ্ছেন, তাঁরা সবাই আবদুল হান্নানের শারীরিক অসুস্থতার প্রসঙ্গ টানছেন। আফরোজা বলেন, ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হান্নানের মাথার সামনের দিকে একটি স্প্লিন্টার ঢুকেছিল। তবে কলেজের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে লম্বা সময় ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি। কলেজ সূত্র জানায়, ২০১১ সালে তেজগাঁও কলেজ বিজ্ঞাপন দিয়ে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়। আবদুল হান্নান সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই পদে নিয়োগ পান। মাস দুয়েক পর কলেজের দুজন শিক্ষক ওই নিয়োগের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একপর্যায়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেন, পরিচালনা পর্ষদ যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা-ই চূড়ান্ত। কিন্তু আবদুল হান্নানের পরিবর্তে ওই পদে নিয়োগ পান কলেজের অধ্যক্ষের ভাই হারুন অর রশীদ। কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ ও মো. আবদুল হান্নান দুজনের বাড়িই জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে। দুজনেই সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। চার-পাঁচ দিন আগে আবদুর রশীদ তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ পেয়েছেন। তাঁর ভাই হারুন অর রশীদ সরিষাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। জানা গেছে, মো. আবদুল হান্নান দুঃখ করে অনেককেই বলেছিলেন, দল ক্ষমতায় থাকার পরও তাঁকে সরে আসতে হলো, এ বিষয়টি তিনি মানতে পারছেন না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত দীর্ঘদিন। তিনি আশা করেছিলেন তাঁর সমস্যার সুরাহা হবে। দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে বহুবার ধরনাও দিয়েছেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘উপাধ্যক্ষ পদ নিয়ে আবদুল হান্নানের কোনো ক্ষোভ ছিল না। মামলা-মোকদ্দমা ছিল। সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। আমার ভাই উপাধ্যক্ষ হয়েছে, কারণ সে মেধাবী, ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট।’ তবে আফরোজা সুলতানার দাবি, তাঁর স্বামী এত অসুস্থ ছিলেন না যে হারিয়ে যাবেন। তিনি নিয়মিত আত্মীয়স্বজন, কলেজের সহকর্মী, দলের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অনেক সাংসদের ফোন নম্বরও তাঁর মুখস্থ ছিল। প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন আবদুল হান্নান। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিচিতদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল।

জামদানি ফজলি আম নকশিকাঁথা তুমি কার? by ইফতেখার মাহমুদ

খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ বছর আগে প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্র বইতে ঢাকাই মসলিন ও জামদানির কথা উল্লেখ করেছেন। ১৪ শতকের মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতার লেখায়ও ঢাকার অদূরে সোনারগাঁয়ে জামদানি তৈরির কথা লিপিবদ্ধ আছে। অথচ এই বাংলাদেশের মাটি, পানি ও মানুষের সৃজনশীল উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত জামদানি শাড়ি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতীয় পণ্য হিসেবে। এই স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক নাম জিওগ্রাফিক্যাল ইনডেক্স (জিআই) বা ভৌগোলিক নির্দেশক। উপাধ্যায় জামদানি নামে একটি পণ্যের জিআই নিবন্ধন নিয়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ। শুধু তা-ই না, আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব প্রতিষ্ঠান বা ওয়াইপিওতে নকশিকাঁথার জিআই নিবন্ধন পেয়েছে ভারত। নিবন্ধন পেয়েছে তিন প্রকার আম—ফজলি, হিমসাগর ও লক্ষ্মণভোগের, যেগুলো বাংলাদেশের রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাত বলে আমরা জানি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো এই পণ্যগুলো নিজেদের দাবি করে নিবন্ধন চাওয়া হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে এগুলোর আদি উৎপত্তিস্থল ভারত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তবে দেরিতে হলেও টনক নড়েছে বাংলাদেশের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো খুব দেরি হয়ে যায়নি। কেননা, নিবন্ধনদাতা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সালিস বসিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যের ইতিমধ্যে হাতছাড়া মালিকানা ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ জামদানি শাড়িকে নিজেদের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিতে চাইছে। সরকারের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই শেষে ওই দাবির পক্ষে একটি গেজেট প্রকাশের জন্য ছাপাখানায় পাঠানো হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রিপস চুক্তিতে বিশ্বের সবগুলো দেশকে তার ভূমিতে উৎপাদিত পণ্য, বস্তু ও জ্ঞান নিবন্ধন করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এগুলোকে বলা হয় ওই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই)। মেধাস্বত্ব-বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা ওয়াইপিওর নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই নিবন্ধন দেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরকে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রতিটি দেশকে নিজেদের আইন ও বিধিমালা তৈরি করতে হয়। বাংলাদেশ দেরিতে হলেও সেই আইন করেছে ২০১৩ সালে। আর বিধিমালা করা হয়েছে ২০১৫ সালে। এরপর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জিআইয়ের জন্য আবেদন চাওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের কী কী পণ্য জিআই হতে পারে, এখন পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তার কোনো জরিপই হয়নি। প্রতিটি সংস্থা নিজস্ব জ্ঞান ও উদ্যোগে জিআই আবেদন করছে। বিপরীতে ভারত ১৯৯০ সাল থেকে জিআই নিবন্ধন শুরু করে দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আইন ও বিধিমালা অনুমোদন হওয়ার পর তাঁরা সবগুলো সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন। জেলার ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে জিআই নিবন্ধন দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জামদানি ও নকশিকাঁথা এবং ফজলিসহ আমের বেশ কিছু জাত ভারত নিবন্ধন দেওয়া বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ভারত নিবন্ধন নেওয়াতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা ওই পণ্যগুলোর নাম কিছুটা পরিবর্তন করে বাংলাদেশের নামে নিবন্ধন দিব।’ পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের কাছে সুগন্ধি চাল কালিজিরা ও কাটারিভোগকে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। ব্রি আরও ১৮টি দেশি ধানের জাত এবং বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর ইলিশ মাছের জিআই আবেদনের প্রস্তুতিও শেষ করে এনেছে। পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ডব্লিউটিও, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জিআই) মহিউদ্দিন আল ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘জিআই আবেদন করতে পারে এমন সবগুলো সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছি আমরা। তাদের সঙ্গে এখনো নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এর ফলাফল হিসেবেই জামদানির জিআই আবেদন চূড়ান্ত করে আমরা গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছি। কালিজিরা ও কাটারিভোগ ধানের নিবন্ধনের গেজেটও দ্রুত প্রকাশ করা হবে।’
মেধাস্বত্ব-বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা ওয়াইপোর পরামর্শক ও বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক কবি নুরুল হুদা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ৩৫ পণ্য ও জ্ঞানের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের জিআইয়ের সম্ভাব্য তালিকা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে ওই তালিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া বা ওই তালিকাকে ভিত্তি করে একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়নি। ওয়াইপিওর নিয়ম অনুযায়ী জিআই হিসেবে আবেদনের পর তা যাচাই-বাছাই করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। গেজেট প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে দেশের ভেতরে অন্য কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠী ওই পণ্যের জিআই হিসেবে দাবিদার না হলে তা চূড়ান্ত নিবন্ধন বা অনুমোদন পেয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভারত ইতিমধ্যে ২১৮টি পণ্যের জিআই নিবন্ধন করেছে। ওই পণ্যগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি পণ্য বাংলাদেশেও ঐতিহাসিকভাবে উৎপাদিত হয় বলে বেশ কয়েকটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে কবি নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক দিন থেকে বাংলাদেশের জিআই আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বলে আসছি। এর মধ্যে ভারত একে একে জামদানি, ফজলি আম চালসহ অনেক কিছুর জিআই নিয়ে গেছে। ফলে আমাদের আর দেরি না করে বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করে এমন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা উচিত, যারা সরকারকে জিআই কার্যক্রমে সহায়তা দেবে।’ মেধাস্বত্ব গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘আমাদের গ্রাম’-এর পরিচালক রেজা সেলিম এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, জিআই বিষয়ে আমাদের একটি আইন ও বিধিমালা হয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক দিক। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেভাবে দ্রুতগতিতে তাদের পণ্যের জিআই নিবন্ধন দিচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশকে এগোতে হবে। নয়তো আমাদের আরও অনেক পণ্যের জিআই হাতছাড়া হয়ে যাবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ফল, শাক-সবজি, কন্দালজাতীয় ফসলের মোট ২০০টি জাত ও বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর ইলিশ মাছের জিআই নিবন্ধন আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জীবন্ত কোনো কিছুর জিআই নিবন্ধন করাতে এর আঙ্গিক ও কৌলিক পরীক্ষা করতে হয়। বারি থেকে ইতিমধ্যে আমের আটটি জাতের আঙ্গিক বা মরফোলজিক্যাল মূল্যায়ন হয়ে গেছে। কৌলিক মূল্যায়ন এখনো বাকি আছে। তবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) থেকে দুই বছর ধরে আমের ১২টি জাত, মরিচের চারটি, লিচুর পাঁচটি, কলার চারটি জাতের জিআই নিবন্ধন নেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছে। তবে এখনো তারা জিআই পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে আনতে পারেনি। ভারত যে ফজলি, লক্ষণভোগ ও হিমসাগরের জিআই নিবন্ধন নিয়েছে, সেই একই জাতের নিবন্ধন পেতে বারি থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারির মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফজলি আম যে ভারত নিবন্ধন করেছে, তা আপনার কাছ থেকে প্রথম শুনলাম। তবে আমরা শুধু ফজলি আম না, অন্য আরও ১২টি আমের জাতের নিবন্ধন পাওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছি।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রির পরিচালক (প্রশাসন) শাহজাহান কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব জাতের কয়েক হাজার ধানের জাত আছে। পর্যায়ক্রমে আমরা সবগুলো জিআই নিবন্ধন করাব। প্রাথমিকভাবে আমরা ওই ২০টি জাতের নিবন্ধন আবেদন করছি।’
মৎস্য অধিদপ্তরের জাটকা প্রকল্পের পরিচালক জাহিদ হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ইলিশের জিআই আবেদনের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি। খুব দ্রুতই তা শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেব।’

শফিক রেহমান গ্রেপ্তার, পাঁচ দিনের রিমান্ডে

সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গতকাল ঢাকা
মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়
বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল আটটার দিকে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে গত বছরের পল্টন থানার একটি হত্যা পরিকল্পনার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনায় পুলিশ গত বছরের আগস্টে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে তা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সেই মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল নিউইয়র্কে। সেখানে এই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মামলার রায়ে সেখানকার বিএনপি নেতার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের ৪২ মাসের কারাদণ্ড হয়। এ ছাড়া ঘুষ লেনদেনের জন্য এক এফবিআই এজেন্টের বন্ধুর ৩০ মাসের কারাদণ্ড হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনায় শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের কললিস্ট চেক করে এ ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের সঙ্গে শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানের ফোনে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শফিক রেহমানকে নিয়ে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পর তাঁকে আটকের কথা স্বীকার করে পুলিশ। দুপুরে শফিক রেহমানকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পল্টন থানার পুলিশ। বিচারক মাজহারুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শফিক রেহমানের স্ত্রী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডেমক্রেসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান সাংবাদিকদের বলেন, ডিবির তিনজন সদস্য বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাসায় আসেন। এত সকালে সাংবাদিকদের বাসায় আসার খবর শুনে তাঁর একটু সন্দেহ হয়েছিল। শফিক রেহমানের বাসার তত্ত্বাবধানকারী আবদুল মতিন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ছয়টার দিকে বাসার মূল গেটে প্রথমে দুজন ধাক্কা দেন। তারপর আরেকজন আসেন। তাঁরা একটি টিভি চ্যানেল থেকে এসেছেন বলে জানান। তাঁরা বলেন, ওই টিভিতে শফিক রেহমানের অনুষ্ঠান আছে। তাঁকে নিয়ে যেতে এসেছেন। মতিন বাসার পেছনে তিনতলা ভবনের নিচতলায় তিনজনকে বসান। তিনতলায় থাকা শফিক রেহমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তাঁদের নাশতা দিতে বলেন। তাঁরা তিনজন নাশতা খান। শফিক রেহমানের নামতে দেরি হলে সকাল আটটার দিকে তাঁরা বাসার বাবুর্চি আলীকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে ওপরে যেতে বলেন। আলী উঠতে থাকলে ওই তিনজনও পিছু পিছু দোতলা পর্যন্ত উঠে যান। এ সময় শফিক রেহমান নিচে নামছিলেন। আবদুল মতিন বলেন, শফিক রেহমান দোতলায় নামার পর ওই তিনজন ডিবি থেকে এসেছেন জানিয়ে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনেন। এ সময় বাবুর্চি আলী ও তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁরা ডিবি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘তুই আসবি না’। এরপর বাসার সামনে দাঁড়ানো মাইক্রোবাসে করে সকাল আটটার দিকে শফিক রেহমানকে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিবি কার্যালয়ের পরিচয় দিয়ে শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমানের কাছে একটি ফোন আসে। তালেয়া রেহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, শফিক রেহমানের জন্য নাশতা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ডিবি কার্যালয় থেকে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো পাঠানো হয়েছে। তিনি কোলেস্টরেল আধিক্যজনিত সমস্যা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দুপুর ১২টার দিকে তালেয়া রেহমান মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে যান। শফিক রেহমানের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব রয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ডিবি পুলিশের গ্রেপ্তারের বিষয়টি ঢাকায় ব্রিটিশ দূতাবাসকে জানানো হয়েছে। ‘শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’: মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনা মামলা তদন্ত করছে ডিবি। এতে শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । মারুফ হোসেন বলেন, শফিক রেহমান ২০১৩ সালে একবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তখনই জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পেরেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক সাক্ষ্য গ্রহণের একপর্যায়ে এ ঘটনায় শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু গতকাল রাতে বিবিসি বাংলাকে বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ফাঁস হলে সেই মামলায় দেশে-বিদেশে বিভিন্ন রকম তদন্ত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে কিছু তথ্য আছে। এত দিন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করেছে, পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখেছে। সেই মামলার সঙ্গে শফিক রেহমানের সম্পর্ক আছে মনে করেই কর্তৃপক্ষ তাঁকে আদালতে পেশ করেছে। প্রাথমিক অভিযোগকারী নাম না দিলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের মধ্য দিয়ে বহু অজানা তথ্য পান এবং তার ভিত্তিতে অনেক দোষী ব্যক্তি সামনে চলে আসে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। এ ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ উঠবে কি না, প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি ভিন্নমত দমনের নীতি থাকত এবং পত্রপত্রিকা সরকারের সমালোচনামুখর না হতো, তাহলে আপনার অভিযোগ আমি গ্রহণ করতাম। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মাধ্যম সরকারের সমালোচনায় মুখর এবং হাসিমুখে আমরা তা সহ্য করছি।’ সাংবাদিক শওকত মাহমুদ ও আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন আটক রাখা প্রসঙ্গে হাসানুল হক ইনু বলেন ‘এটা গণমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ না। এটা ব্যক্তির অপরাধজনিত ঘটনা।’শফিক রেহমান দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাবেক প্রকাশক ও সম্পাদক। বর্তমানে তাঁর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক মৌচাকে ঢিল বের হচ্ছে। তিনি বিএনপির কূটনৈতিক বিভাগের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সর্বশেষ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।খালেদা জিয়ার বিবৃতি: শফিক রেহমানের গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অবৈধ’ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে এখন যুদ্ধ শুরু করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সাজানো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সম্পাদকদেরও গ্রেপ্তার এবং নির্যাতন করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, শফিক রেহমান সত্য উচ্চারণে অবিচল ও সাহসী এক কলমযোদ্ধা। সে কারণে তাঁকে কবজা করতে না পেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটি সরকারের চরম স্বেচ্ছাচারিতারই বহিঃপ্রকাশ। শফিক রেহমানকে আটকের খবর পেয়ে তাঁর ইস্কাটনের বাড়িতে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পরে নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘টিভির নাম দিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন এভাবে তুলে নিয়ে যাবে। এটা কোন দেশ!’ রিজভী বলেন, ‘দেশের বিশিষ্ট গুণীজনদের যদি এই পরিণতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।’ ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থানরত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘শফিক রেহমান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশের লোকজন সাদাপোশাকে তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণিত এ দেশে কথা বলার স্বাধীনতা নেই, লেখার স্বাধীনতা নেই।’ সাংবাদিক নেতাদের নিন্দা: শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (বিএফইউজে)-এর একাংশ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এর মধ্য দিয়ে ভিন্নমতের প্রতি সরকারের অসহিষ্ণুতা প্রকাশ পেয়েছে।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্যও দীর্ঘ অপেক্ষা

কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন মেলেনি ১৭ দিনেও। নানা প্রশ্নের জন্ম দেওয়া প্রথম ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনটি জমা পড়েছিল হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিন পর, ৪ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় তিন সদস্যের একটি দল কাজ করছে। কিন্তু প্রতিবেদনের খবর নেই। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ এই প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করে আছে। সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে পেলেই তাঁরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সত্যিই সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করতে পারবে কি না বা এর ভিত্তিতে তদন্ত সংস্থাগুলো কতটা কী করতে পারবে, সে নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তনুর মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। এরই মধ্যে প্রথম ময়নাতদন্তের অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তনু হত্যার প্রকৃত অপরাধীকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনা হলে সবার ভাবমূর্তি উন্নত হবে। কোনো জজ মিয়া নাটক বা ঘটনা ভিন্ন দিকে নেওয়া হলে তা কেউ গ্রহণ করবে না। গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর লাশ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে পান বাবা ইয়ার হোসেন। ২১ মার্চ দুপুরে তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক শারমিন সুলতানা। ওই দিন সন্ধ্যার পর কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে তাঁকে দাফন করা হয়। রাতে এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভিসেরা প্রতিবেদন এলেই দ্রুত দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও তনুর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক কামদা প্রসাদ সাহা। গতকাল শনিবার দুপুরে তিনি তাঁর দপ্তরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তনুর শরীর থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব কটি নমুনার প্রতিবেদন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পৌঁছেনি। ওই নমুনাগুলো পৌঁছালেই প্রতিবেদন দাখিল করব। যেকোনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেওয়ার সময় সম্ভাব্য সকল বিষয় বিবেচনা করা হয়। আগে একটি ভিসেরা প্রতিবেদন আসতে মাস ও বছর গড়িয়ে যেত। এটার ক্ষেত্রে দেরি হবে না।’ গত ৩০ মার্চ তনুর লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সময় দাঁত, শরীর থেকে টিস্যু, স্পর্শকাতর স্থানের নমুনা নেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থা নমুনা সংগ্রহ করেছে। সেসব নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই নমুনার প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই গত ২৮ মার্চ পুলিশ কবর থেকে তনুর লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে লাশ দাফনের নয় দিন পর ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর লাশ তোলা হয়। ওই দিন দুপুরে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহাকে প্রধান করে ওই বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অপর দুই সদস্য হলেন একই কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধান করুণা রানী কর্মকার ও ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক মো. ওমর ফারুক। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিনের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুজ্জামান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব। তবে ভিসেরা প্রতিবেদন পেতে কিছুটা সময় লাগে। ঢাকায় প্রায় এক মাস সময় লাগে।’ কুমিল্লা থেকে নমুনার ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। চট্টগ্রামে ঢাকার মতো এত ভিড় থাকার কথা নয়। তবে ওই গবেষণাগারের সক্ষমতা কতটুকু সে সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে কিছু বলা ঠিক হবে না। জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সারা দেশ তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে। এই প্রেক্ষাপটে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দীর্ঘসূত্রতা তদন্তের ওপর আস্থা তৈরি করে না। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৭০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ: পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. নাজমুল করিম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আমাদের প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্তকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। তনুকে হত্যা করা হয়েছে, এটা নিশ্চিত। তবে হত্যাকাণ্ডে কতজন ছিল সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি।’ ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এ মামলায় অন্তত ৭০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মামলার অগ্রগতি ও ময়নাতদন্ত নিয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘ময়নাতদন্ত ও মামলা নিয়ে কী বলব, সবই আল্লাহ দেখছেন।’ ২১ মার্চ মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত তনু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি। ইতিমধ্যে দুই দফা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিভাগ পরিবর্তন করা হয়েছে।

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

দুর্ঘটনায় ভেঙেচুরে গেছে গাড়িটি
নাটোর সদরের পিটিআই মোড়ে যাত্রীবাহী একটি হিউম্যান হলার ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন। আজ রোববার সকাল পৌনে সাতটার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের নাটোর বাইপাসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন খলিল ব্যাপারী (৫০), শ্যামাপদ (৫৫)। আহত ব্যক্তিরা হলেন জনাব আলী (৭০), ইয়াসিন (৪৫), আল আমিন (৪০) ও শামীম (৩০)। তাঁরা নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের মধ্যে জনাব আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিদের সবার বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায়। হাসপাতালে আহত ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা সবাই বড়াইগ্রাম থেকে রসুন বিক্রি করতে নাটোরের চৌবাড়িয়া হাটে যাচ্ছিলেন। পথে সংঘর্ষ হয়। দুই গাড়ির চালক পলাতক রয়েছেন। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান দুর্ঘটনার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ব্যক্তিদের লাশ নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে তিনি জানান।

অবশেষে ময়লা পানি অপসারণ

কামরাঙ্গীরচরের ছাতা মসজিদ সড়কের সৃষ্টি স্কুলের সামনের পয়োনিষ্কাশন
লাইনের সেই ময়লা পানি অপসারণ করা হয়েছে৷ এখন বিদ্যালয়ে আসা-
যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হয় না৷ ছবিটি গতকাল তোলা
কামরাঙ্গীরচরের ছাতা মসজিদ সড়কের সৃষ্টি স্কুলের সামনের পয়োনিষ্কাশন লাইনের ময়লা পানি অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু পয়োনিষ্কাশন লাইনটি এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। বেশি বৃষ্টি হলে আবার সড়কে জলাবদ্ধতা হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পয়োনিষ্কাশন লাইন বন্ধ হয়ে এই সড়কে প্রায় ১০ মাস ধরে ময়লা পানি জমে ছিল। প্রতিদিন তা মাড়িয়েই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হতো শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। ৩ এপ্রিল ‘সেই স্কুল ফটকে ১০ মাস ধরে জলাবদ্ধতা’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর কয়েক দিন পরই পানি অপসারণে পাইপ বসান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম। গতকাল শনিবার সাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছাতা মসজিদ সড়ক এলাকায় পয়োনিষ্কাশন লাইনের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন সড়কের পানি অপসারণের জন্য সাময়িকভাবে এই পাইপ বসানো হয়েছে। পয়োনিষ্কাশন লাইনটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই তা সম্পন্ন করা হবে। সরেজমিন দেখা যায়, সৃষ্টি স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে সেই পয়োনিষ্কাশন লাইনের কোনো ময়লা পানি নেই। একটি পাইপ দিয়ে পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে ময়লা পানির ছাপ লেগে আছে। বেলা দুইটার দিকে স্কুল ছুটির পর সড়কে হেঁটে বাসায় যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পথচারীরাও যাতায়াত করছে স্বচ্ছন্দে। তবে ভাঙাচোরা সড়কে উড়ছে ধুলাবালি। ছাতা মসজিদ সড়কের বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, আগে এই সড়কে ময়লা পানি মাড়িয়েই স্কুলের শিক্ষার্থীসহ সবাই চলাচল করত। প্রায়ই রিকশা উল্টে ঘটত দুর্ঘটনা। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫টি দোকান দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। অবিলম্বে এই সড়কের পয়োনিষ্কাশন লাইন ও সড়কটি সংস্কার করতে হবে।
এই ময়লা পানি মাড়িয়েই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া
করতে হতো শিক্ষার্থীদের৷ ছবিটি গত ৩০ মার্চের
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক বছর আগে পয়োনিষ্কাশনের লাইন বন্ধ হয়ে এই সড়কে পানি জমতে থাকে। প্রায় ছয় মাস আগে সড়কের পানি সেচ দিতে একটি পানির পাম্প দেন সাইদুল ইসলাম। এই পাম্প দিয়ে দিনে অন্তত সাত থেকে আটবার পানি সেচ দিতে হয়। তা না করা হলে আশপাশের বাসাবাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে ময়লা পানি। গত ২৫ মার্চ সড়কের এই ময়লা পানি অপসারণ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা রিকশাচালক মো. জসিম। গত ৩০ মার্চ নিহত জসিমের স্ত্রী কুলসুম বেগমের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছিল৷ তিনি বলেছিলেন, সৃষ্টি স্কুলের সামনেই তাঁদের বাসা। সড়কের পানি বেড়ে যাওয়ায় গত ২৫ মার্চ সেচ দিতে গিয়েছিলেন জসিম। তখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। তাঁদের দুই ছেলে। বড় ছেলে রবিউল ইসলাম ওই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সৃষ্টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বি এম মনির হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে ময়লা পানি থাকায় প্রায় দেড় শ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। বছরের শুরুতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও আগের তুলনায় অর্ধেক। কিন্তু এখন আর বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পয়োনিষ্কাশন লাইনটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা দরকার।

বেহাল সড়ক, মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ মানুষ

সংস্কারকাজের জন্য পো​স্তগোলার রাস্তার
ফুটপাত এভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে
সড়কের পিচ-কংক্রিট উঠে ভেতরের ইট বেরিয়ে গেছে, কোথাও হা করে আছে বড় বড় গর্ত। ভেতরে বারোয়ারি বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর পশ্চিমে পোস্তগোলা এলাকার এই সড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে আছে মশার উৎপাত, ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সমস্যাও।  গতকাল শনিবার বিকেলে এলাকায় গিয়ে নাগরিক দুর্ভোগের এসব চিত্র চোখে পড়ে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত পোস্তগোলার এই সড়কপথেই যাতায়াত করে করিমুল্লার বাগ, ফরিদাবাদ হয়ে সূত্রাপুর-শ্যামবাজারমুখী ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন। পোস্তগোলার মোড়েই ঢাকা কটন মিল হাইস্কুল। শুষ্ক মৌসুমে ধুলা আর বৃষ্টি হলে কাদায় মাখামাখি হয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায়। বছরের পর বছর সড়কটির এই বেহাল দশা।  সড়কের এক ধারে দুলালের চায়ের দোকান। তিনি জানান, চোখের সামনেই ছাত্রছাত্রী, পথচারীদের হোঁচট খেয়ে পড়তে দেখেন। রিকশা-অটোরিকশা উল্টে যায়। দিনের পর দিন এ ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি এখন সবার কাছে চক্ষু সওয়া হয়ে গেছে।  দোকানে চা-বিস্কুট খাচ্ছিলেন এলাকার রিকশাওয়ালা ফজল মিয়া। থাকেন শ্মশানঘাট রোডে। বললেন, ‘ভোটের সমে নেতারা কইছিল সব সমস্যার সমাধান কইরা দিব। তয় এই রাস্তা কী দোষ করছে?’  খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ডিএসসিসির রাস্তা-ফুটপাত-নর্দমা উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় এই সড়কটির নাম নেই। কেন? জানতে চাইলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাসুদ বলেন, ইচ্ছা থাকলেও সড়কটির সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, এই সড়কসহ দোলাইরপাড় পর্যন্ত পুরো সড়ক মেরামতের দায়িত্ব নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।  ছুটির দিন বলে সওজের স্থানীয় কার্যালয় গতকাল বন্ধ ছিল। মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, সড়কটির মেরামতের জন্য দুটি ভাগে মোট ৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।  সড়কের ধারে এখানে-সেখানে জমে আছে পানি। সে পানিতে মশা। আলমবাগ, করিমুল্লার বাগ, কবরস্থান রোড, শ্যামপুর সব স্থানেই নালা-নর্দমাগুলো পরিণত হয়েছে মশার প্রজননক্ষেত্রে। করিমুল্লার বাগের বাসিন্দা শামসুল আলম বললেন, ‘মশার আর দোষ কি, নালা নর্দমা পরিষ্কার করে না। মশা জন্মানোর জায়গা ঠিক কইরা রাখছে সিটি করপোরেশনই।’ আলমবাগের দোকানি শহীদুল্লাহ, শ্মশানঘাট রোডের গ্রিল মিস্ত্রি আক্কাস আলীসহ অনেকেরই এক কথা, মাস খানেক হচ্ছে এলাকায় মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি তাঁরা।  অস্বীকার করলেন না ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাসুদও। বললেন, সিটি করপোরেশন থেকে যে ওষুধ দেওয়া হয়, তা তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়। এক-দেড় মাসের আগে আর পাওয়া যায় না। এর ফলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়।  ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হয়, প্রতি ওয়ার্ডে দৈনিক গড়ে ২৫ লিটার ওষুধ দেওয়ার কথা। বর্তমানে ওষুধের মজুত ফুরিয়ে আসছে। তাই বরাদ্দও হচ্ছে কম।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকায় কিছুদিন আগেও গ্যাস ও পানির সমস্যা ছিল। বর্তমানে নেই। তবে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে।

তুলে নেয়ার পর লাশ মিলেছে ২৩ জনের by রোকনুজ্জামান পিয়াস

তুলে নেয়ার পর  মিলেছে লাশ (ফাইল)
ছেলের চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মা। দেখেন- ছেলের হাতে হাতকড়া। পাশে দুটি মোটরসাইকেল। চালকের আসনে দুজন। আরও দুজন আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে আছেন তার একমাত্র ছেলেকে। মা কিছুই বোঝেন না। জড়িয়ে ধরেন ছেলেকে। আর্তনাদের সঙ্গে আগন্তুকদের জিজ্ঞেস করেন তোমরা আমার ছেলেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? অনুনয়-বিনয় করে বলেন, আমার ছেলেকে রেখে যাও। কিন্তু সেই মায়ের আর্তনাদ আর অনুনয়-বিনয়ে মন গলেনি তাদের। নিজেদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়ে মোটরসাইকেল বাহিনী। পরে ২৬ দিন নিখোঁজ থাকার পর ছেলের গুলিবিদ্ধ লাশ মিলেছে বুধবার। এ ধরনের ঘটনা এখন নিয়মিতই ঘটছে ঝিনাইদহে।
গত ১৮ই মার্চ। দুপুর বেলা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী গ্রামে এই মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিখোঁজ হন আবুজার গিফারী নামে অনার্সপড়ুয়া ছাত্র। শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন সেই মা-ও শয্যাশায়ী। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মা এখন পাগলপ্রায়। বাবা নূর ইসলাম কালীগঞ্জ বাজারের সেলুন ব্যবসায়ী। তিনিও ভেঙে পড়েছেন একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে। লাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত সারাক্ষণ ডুবে ছিলেন ছেলের চিন্তায়। ছুটেছেন প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে। যে যা বলেছেন তাই শুনেছেন। তবুও লাভ হয়নি কোনো। এদিকে একইদিনে একই ভাগ্যবরণ করেছেন অনার্সপড়ুয়া আরও এক মেধাবী ছাত্র শামীম। তার বাড়ি একই উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামে। তার পরিবারও বিপর্যস্ত। গত ২৪শে মার্চ নিখোঁজ হয়েছিলেন শামীম। তার গুলিবিদ্ধ লাশও মিলেছে আবুজার গিফারীর সঙ্গেই। এই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গত তিন বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর লাশ হয়েছেন আরও ২১ জন।
২৭ অপহরণ, মিলেছে ২৩ জনের লাশ: ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে যাদের লাশ পাওয়া গেছে তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম (৩৭), ইউসুফ আলী বিশ্বাস (৪০), উজ্জ্বল হোসেন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩০), মফিজুল হক, এনামুল হক বিশ্বাস (৫৫), ইউপি সদস্য হাফেজ আবুল কালাম (৩৮), হাদিউজ্জামান হাদি (৪০),  সোহাগ সরদার (৩০), মইনুদ্দিন, গোলাম আজম ওরফে পলাশ (২৮), দুলাল হোসেন (২৯),  মিরাজুল ইসলাম, তৈমুর রহমান তুরান (৩৫), ছব্দুল হোসেন (৪৫), এনামুল হোসেন (২৩), রবিউল ইসলাম রবি (৪৭), শরিফুল ইসলাম নজু, আবু হুরাইরা (৫২), হাফেজ জসিম উদ্দীন। একজনের লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ লাশ পাওয়া যায় আবুজার গিফারী ও শামীম মাহমুদ নামে অনার্সপড়ুয়া দুই ছাত্রের। নিখোঁজ রয়েছেন আইয়ুব, আজাদ হোসেন এবং মোফাজ্জেল হোসেন এবং একাদশ শ্রেণির ছাত্র মহিউদ্দিন সোহান।
আতঙ্কের জনপদ: এ অবস্থায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে পুরো জেলা। এসব অপহরণ বা তুলে নেয়ার ঘটনা বেশির ভাগ প্রকাশ্যে ঘটলেও ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না। চাপালী গ্রামের আবুজার গিফারী যশোর এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের ছাত্র। তিনি এবার ৩য় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগেই এই ঘটনার শিকার হলেন। গিফারীর পিতা মো. নূর ইসলাম জানান, ঘটনার দিন (১৮ই মার্চ) জুমার নামাজের পর বাড়ি ফিরছিল। বাড়ির কাছাকাছি এলে দুই মোটরসাইকেলে করে চার ব্যক্তি তার ছেলেকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাতকড়া পরায়। এ সময় সে চিৎকার দিলে বাড়ির ভেতর থেকে তার মা বেরিয়ে আসেন। ছেলেকে এই অবস্থায় দেখে তিনি জড়িয়ে ধরেন। তাকে ধাক্কা দিয়েই অস্ত্রধারীরা গিফারীকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়। নূর ইসলাম বলেন, এ ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি থানায় যান। কিন্তু তারা অস্বীকার করে। পরদিন জিডি করতে গেলে তারা জিডির কপি রেখে দেয়। ডিউটি অফিসার জানান, ওসির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু জিডি এন্ট্রি করেনি। পরে ওসির কাছে গেলে তিনি জানান, বিষয়টি নলেজে আছে। এদিকে অসহায় ওই পিতা ছেলেকে ফিরে পেতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এ ঘটনায় তিনি এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। ছেলেকে ফেরত পেতে তিনি ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে আবেদনও করেছিলেন। আশ্বাসও পেয়েছেন কোনো কোনো জায়গা থেকে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে অবেশেষে মিলেছে লাশ। গত ২৫শে মার্চ একই কায়দায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র বাকুলিয়া গ্রামের শামীমকে। শামীমের পিতা রুহুল আমিন জানান, ঘটনার দিন তার ছেলে মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের পাশে একটি ফার্নিচারের দোকানে পত্রিকা পড়ছিল। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চার ব্যক্তি এসে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর থেকে নিখোঁজ ছিল ছেলে। রুহুল আমিন বলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে জানিয়েছেন, তাদের কোমরে পিস্তল এবং সাদা চেইন ছিল। পরে তিনি থানা পুলিশের কাছে গেলে থানা ডিজি নেয়নি। র‌্যাব অফিসেও খোঁজ নিয়েছেন। তারাও জানিয়েছিলেন এ বিষয়ে কিছু জানে না। এদিকে রোববার একই উপজেলার ইশ্বরবা গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে মহিউদ্দিন সোহানকে তার নিজ গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়দানকারীরা। এলাকাবাসী জানায়, ইজিবাইকে করে চার ব্যক্তি এসে তাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।
জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চাইলে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলতে চাননি। তিনি বলেন, এখানে স্থানীয় সাংবাদিক আছে। আপনি যেকোনো ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আপনার সঙ্গে কেন আমি কথা বলবো? সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে কালিগঞ্জের তিন শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলেই তিনি বলেন, আমি কিছু বলতে পারবো না। এই বলে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।